রিলেশনশিপ

ছায়া হয়ে থাকবো পাশে – প্রেমিকার জন্য রোমান্টিক কথা

ছায়া হয়ে থাকবো পাশে – প্রেমিকার জন্য রোমান্টিক কথা: ওয়াও হোয়াট এ নাইস নেম। আহান চারু কথা শুনে চারুর কপালে একটা চুমু খেয়ে চারুকে আর বাচ্চাটাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।


পর্ব ১

চার বছর পর নিজের বাসায় ফিরছে আহান।
বাসার কলিংবেল বাজাতেই সাথে সাথে একটা মেয়ে দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিল।
দরজার সামনে অপরিচিত কাউকে দেখতে পেয়ে কিছু বলতে যাবে হঠ্যাৎ আহান খেয়াল করলো।
মেয়েটির পুরো শরীর ময়দা দিয়ে মাখা মাখি।

মনে হচ্ছে একটু আগেই ময়দা দিয়ে গোসল করে উঠেছে।
আহানঃ এই মেয়ে তুমি কে? (কৌতুহল হয়ে)
মেয়েটিঃ আমার কথা বাদ দেন। আগে সেটা বলুন আপনি কে(কোমড়ে হাত রেখে)
আহানঃ তুমি জানো না আমি কে। তাই আমাকে এই ভাবে প্রশ্ন করার সা্হস পাচ্ছো। এখন দরজা সামনে থেকে সরো।

আমায় যেতে দাও ভিতরে। (রাগি কন্ঠে)
মেয়েটিঃ ইস রে মামা বাড়ির আবদার। উনি বললেন আর আমি যেতে দিলাম। (মুখ ভেংচি কেটে)
মেয়েটির কথা শুনে বেশ রাগ আসে আহানের।

তাই মেয়েটির পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঠুকতে নিলে।
মেয়েটি শক্ত করে জরিয়ে ধরে আহানকে।

আহানঃ এই মেয়ে কি করছো কি। ছারো আমায়।
মেয়েটি আহানের কথা শুনে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
মেয়েঃ কাকি মা জলদি আসো। চোর ঠুকেছে বাসায়।
আহানঃ ওয়াট চোর। তা আবার আমি।

মেয়েটির ডাক শুনে সাবিনা খান দৌড়ে আসলেন ছাড়ু হাতে নিয়ে।
সাবিনাঃ কই কই চোর কই। (চারু)
চারুঃ এইতো শক্ত করে ধরে রেখেছি। তুমি তারাতারি করে পুলিশকে খবর দাও।

আহানঃ মা।
মিসেস সাবিনা তার ছেলের কন্ঠ শুনে চমকে উঠলেন। হাত থেকে ছাড়ু ফেলে দিয়ে –
দরজার সামনে গিয়ে দেখলেন ছেলেটি আর কেউ নয় তার আদরের ছোট ছেলে আহান।
সাবিনা খান চারুর থেকে নিজের ছেলেকে ছাড়িয়ে সজোরে ওর গালে একটা থাপ্পড় মেরে বসলেন।

থাপ্পড় টা এতোই জোড়ে ছিলো যে চারু তাল সামলাতে না পেরে দেয়ালে সাথে ধাক্কা খায় যার কারনে চারুর কপাল বেয়ে রক্ত পরতে থাকে।
সাবিনাঃ তোর সাহস কি করে হয় হতভাগিনি আমার ছেলেকে চোর বলার।

আহানঃ উফফ মা তুমি ওকে বকে তোমার প্রেসার বারিয়ো না তো। আর তাছাড়া মেয়েটি কে মা?
সাবিনাঃ বোঝা ছারা আর কিছুই না। তুই তো জানিস তোর বাবার স্বভাব। তার কোন বন্ধু নাকি রোড এক্রিডেনট করে মারা গেছে তাই তোর বাবা তার মেয়েকে আমাদের ঘরে এনে রেখেছেন।
চারু সাবিনার কথা শুনে সইতে না পেরে কান্না করতে করতে চলে যায় সেইখান থেকে।

আহান অপলক দৃশটিতে চেয়ে থাকে চারুর চলে যাওয়ার দিক এ।
সাবিনাঃ চল বাবা ঘরে চল। ফ্রেশ হয়ে আস। তারপর সবাই মিলে ডিনার করবো।
আহান তার মায়ের কথা মতো তার রুমে চলে যায়।
ফ্রেশ হতে।

ডায়নিক টেবিল এ
সবাই বসে ডিনার করলে হঠাৎ সাবিনা জোড়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন কি রে চারু কোথায় মরে গেলি রে।
সাবিনা ডাক শুনে চারু দৌড় দিয়ে রান্না ঘর থেকে ছুটে আসলো।
চারুঃ জ্বি কাকিমা বলুন।
এই বার আহান চারুর দিক এ ভালো ভাবে তাকালো।

চারুকে দেখে কোনো ভাবেই নিজের চোখ ফেরাতে পারছেন আহান। হা করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
আহানঃ কোনো মেয়ে এতো সুন্দর হয় কিভাবে।

মনে হচ্ছে আল্লাহ নিজ হাতে মেয়েটিকে বানিয়েছে। (মনে মনে) হঠ্যাৎ মার কথা শুনে ধ্যান ভাঙে আহানের।
সাবিনাঃ কি রে নবাবজাদি খাবার বেরে দিবে কে শুনি।

মিরাজ খান তার বউ এর কথা শুনে উফফ সাবিনা তুমি সব সময় এতো বেশি বাড়াবারি করো কেন বলোতো।
মিরাজঃ চারু মা বসো আমাদের সাথে ডিনার করো।

চারু মিরাজ সাহেব এর কথা শুনে একটা চেয়ার নিয়ে যেই বসতে যাবে।
তখনি মিসেস সাবিনা বলে উঠলেন এই মেয়ে তোর তো সাহস কম বড় নয় সে বললো আর তুই বসে পরলি মায়ের কথা শুনে বেশ রাগ আসে আহানের কিন্তু নিজের রাগ কন্টোল করে সে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে।
আহানঃ মা আমার একটা জরুরি ফোন করতে হবে তাই ডিনার নিজের রুমেই করবো।

আহান চারুর দিক এ তাকিয়ে এই মেয়ে মা কি বললো শুনতে পাওনি।

চেয়ারে বসে না থেকে আমার রুমে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসো। কথাটি বলে চলে যায় আহান কিছুক্ষণ পর চারু খাবার নিয়ে আহানের রুমে সামনে আসলে। খাবার হাতে নিয়ে
চারুঃ ভাইয়া আসবো।
আহানঃ হুম আসো।

অনুমতি পেয়ে চারু আস্তে আস্তে আহানের রুমে প্রবেশ করে।
চারুঃ ভাইয়া খাবার। এন্ড সরি সকালের জন্য। আমি বুজতে পারিনি। আপনিই আহান। (মাথা নিচু করে)
আহানঃ খাবার টেবিলে রাখো।

চারু আহানের কথা মতো খাবার টেবিল এ রেখে যেতে নিবে ঠিক তখনি আহান বলে উঠে,
এই মেয়ে আমি তোমাকে যেতে বলেছি?
চারুঃনা মানে ভাইয়া।
আহান চারুর সামনে গিয়ে চারুকে সোফায় বসিয়ে দেয়।

আলমারি থেকে ফাস্ট এট বক্স বের করে চারুর সামনে হাটু গেড়ে বসে ব্যান্ডেজ করতে নিবে।
চারু বলে উঠে,
ভাইয়া কি করছেন কি

আহানঃ দেখতে পাচ্ছো না ব্যান্ডেজ করছি। কতো খানি কেটে গেছে। চারুর কপালে হাত রেখে।
চারু আহানের হাত ওর কপাল থেকে সরিয়ে
ভাইয়া আমি করে নিবো।
আহানঃ এই মেয়ে চুপ করে বসো। না হলে থাপ্পড় মেরে সব দাত ফেলে দিবো।

চারু আহানের কথা শুনে ভয় পেয়ে চুপ হয়ে থাকে।
তারপর আহান চারুর কপালে ব্যান্ডেজ করে দেয়।
আহানঃ খাবার টা কে বানিয়েছে? (শান্ত গলায়)
চারুঃ আমি।

চারুর কথা শুনে মুচকি হেসে আহান খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে খাবার খেতে শুরু করে।
এক লানা ভাত মুখে দিয়ে-
আহানঃ ইয়াক ছি। কথাটি বলে মুখ থেকে খাবার ফেলে দেয় আহান।
এইটা খাবার নাকি বিশ।

এই মেয়ে কি বানিয়েছো তুমি। এই সব খাবার মানুষ খায়? এইগুলা খাইয়ে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে?
চারুঃ ভাইয়া আমি সব সময় যেভাবে রান্না করি সেইভাবে করেছি। (কান্নার কন্ঠে)
আহানঃ তুমি এক বার খেয়ে দেখো। এইটা খাবার না অন্য কিছু।
চারু আহানের কথা মতো এক লানা ভাত নিজে খেয়ে দেখলো।

চারুঃ ভাইয়া খাবার তো ঠিকই আছে। নিন আপনি আরেকটু খেয়ে দেখুন।
আহানঃ ওয়াট তোমার মুখের ভাত আমি খাব?

মাথা ঠিক আছে তোমার। এই ভাত এখন তুমি খাবে।
তারাতারি খেয়ে বের হও আমার চোখের সামনে থেকে।


পর্ব ২

আহানঃ ওয়াট। তোমার মুখের ভাত আমি খাবো।
মাঁথা ঠিক আছে তোমার?

এই ভাত এখন তুমি খাবে। তাড়াতাড়ি খেয়ে বের হও আমার চোখের সামনে থেকে (চিল্লান দিয়ে)।
চারু আহানের থমক শুনে অত্যন্ত ভয় পেয়ে যায়।

তাই কথা না বাড়িয়ে বাধ্য মেয়ের মতো খাওয়া শুরু করে
আর আহান চারু দিকে অপলক দৃশটিতে চেয়ে থাকে।

চারু ভাত এর শেষের লোকমা টা ওর মুখে নিবে ঠিক সে সময় পিছন থেকে মিসেস সাবিনা চারুর চুলের মুঠি ধরে
কিরে হারামজাদি আমার ছেলের জন্য ভাত এনে এখন দেখি তা নিজেই গিলছো।

আহানঃ উফফ মা ওর চুল ছাড়ো। তরকারি অনেক ঝাল ছিলো তাই আমার ছুটো ভাত ওকে খেতে দেই।
মিসেস সাবিনা বেশ অবাক হয় তার ছেলের কথা শুনে
চারুর চুল ছেরে। আহানের সামনে গিয়ে
আহানের মাথায় হাত রেখে
বাবা তোর তো ঝাল অনেক প্রিয়। তাই তো এই চারুকে দিয়ে বেশি ঝাল করে তরকারি রান্না করাই।

আহানঃ মা। মানুষ সময়ের সাথে বদলায়। সাথে মানুষ এর পছন্দ ও। আগে আমার ঝাল পছন্দ ছিলো
কিন্তু এখন না। আচ্ছা এই গুলা বাদ দাও।
এই চারু যা তো আমার জন্য কড়া করে একটা কফি বানিয়ে আন।

চারু আহানের কথা শুনে প্লেট হাতে নিয়ে যেতে নিবে
দূর্ভাগ্যক্রমে চারুর ওড়না বেঝে টেবিলে রাখা কাঁচের গ্লাস মাটিতে পরে ভেঙে যায়।

সাবিনাঃ হায় হায়। আমার ডিনার সেট এর গ্লাস ভেঙে দিলো। এই অলোক্ষিনী কোনো কাজ কি ভালো মত করতে পারিসনা। এই গ্লাসের টাকা কি তোর বাপে কবর থেকে উঠে আমার হাতে দিবে।

মৃত বাবার ব্যাপারে এমন কথা বলায় চারু নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না।
চারুঃ দেখুন কাকিমা আমাকে যা বলার বলুন আমার মৃত বাবার সম্পর্কে কিছু বলবেন না।
সাবিনাঃ চোরের মায়ের দেখি বড় গঁলা। কথাটি
বলে মিসেস সাবিনা চারুকে থাপ্পড় মারতে নেয়
সাথে সাথে আহান তার মায়ের হাত ধরে ফেলে।

আহানঃ উফ আম্মু তুমি ওকে থাপ্পড় মেরে তোমার এনার্জি নষ্ট করছো কেনো অযথা। আর তাছাড়া তোমার হাতে থাপ্পড় খেয়ে ওই ততোটা ব্যাথা ও পাবেনা
তুমি বরং আমার জন্য কফি নিয়ে আসো তোমার তরফ থেকে থাপ্পড় টা না হয় আমিই মেরে দিবো।

সাবিনাঃ সত্যি বলছিস বাবা
আহানঃ হ্যা মা। (মুখে হাসি রেখা টেনে)।
তুমি এখন যাও আমার জন্য কফি নিয়ে আসো।

চারুকে তার ছেলে নিজ হাতে মারবে শুনে খুশি হয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায় মিসেস সাবিনা।
মিসেস সাবিনা রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে
আহান সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসে।
কিন্তু থাপ্পড় সে চারুর গালে নয় বরং নিজের গালে মারে।

আর মিসেস সাবিনা রুমে বাইরে দাঁড়িয়ে থাপ্পড় এর আওয়াজ শুনে হাঁসতে হাসতে চলে যায় রান্না ঘরের দিক এ।
আহান নিজের গালে থাপ্পড় মারায় চারু হা করে তাকিয়ে থাকে আহানের দিক এ
আহানঃ এইভাবে হা করে থাকলে মশা ঠুকে যাবে(অন্য দিকে মুখ করে)
চারু আহানের কথা লজ্জা পেয়ে নিজের মুখ বন্ধ করে নিলো।

চারুঃআপনি আপনার গালে থাপ্পড় মারলেন কেন তা আবার এতো জোড়ে সোড়ে?
আহানঃ তোমার গালে মা থাপ্পড় মারলে আমি যে তার চেয়ে দশ গুন ব্যথা পেতাম।
তাছাড়া ভালোবাসার মানুষকে নিজ হাতে কিভাবে থাপ্পড় দেই বলো। তোমাকে থাপ্পড় দেওয়া তো দূরের কথা ফুলের টোকাও কোনো দিন দিবোনা আর না অন্য কাউকেও দিতে দিবো। তাই থাপ্পড়টা নিজ গালেই মারলাম।

আমি জানি মা থাপ্পড় এর আওয়াজ না শুনা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলো দরজার সামনে। (মনে মনে)
আহানঃ আমার গাল আমি থাপ্পড় মেরেছি তার কৌফত আমি তোমাকে কেন দিতে যাবো।
মা আসার আগে আই মিন তাড়াতাড়ি বের হও আমার রুম থেকে।

আমি এক থাকতে চাই। গো নাউ। (চিৎকার দিয়ে)
চারু আহানের৷ চিৎকার শুনে দৌড় দিয়ে ওর রুম থেকে বের হয়ে গেল
চারুর এভাবে যাওয়া দেখে বেশ হাসি পায় আহানের
আহানঃ মেয়েটা আসলেই পাগল। আই মিন পাগলি
বাট আই লাইক হার
কথাটি বলে হো হো করে হেসে উঠলো আহান।

কিছুক্ষন পর আহানের মা ওর জন্য কফি আনলে
আহান বাবা তুই কই
আহানঃ মা আমি ওয়াসরুমে।

সাবিনাঃ আমি যে তোর জন্য কফি বানিয়ে আনলাম
আহানঃ মা এখন আমার খেতে ইচ্ছে করছেনা। তুমিই খেয়ে নিয়ো
আহানের কথা শুনে মিসেস সাবিনা অবাক হয়ে চলে যায় রুম থেকে।

সন্ধাবেলা
মা আমি একটু মাকের্ট যাচ্ছি। এই চারু চল আমার সাথে।
সাবিনাঃ ওমা ওই কেনো সাথে যাবে তোর? আর আহান তোর গালটা টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে কেন?
আহানঃ ইস মশার কথা কি বলবো তোমায়।

কামড় দিয়ে দিয়ে আমার শরীরের অর্ধেক রক্ত তো খেয়েছে সাথে আমার গালটাকে লাল করে দিয়েছে।
আচ্ছা মা বাদ দাও তো এ সব কথা। এই চারু শুনতে পাচ্ছিস না কানে চল আমার সাথে।
সাবিনাঃ হাতের কাজ রেখে দে ওই টা আমি করে নিবো। তুই যা আহানের সাথে।
চারু সাবিনার কথা শুনে কাজ রেখে আহানের সাথে চলে যায়।

আহানঃ আজ রিকশা করে ঘুরবো। রাতে রিকশা করে ঘুরার মজাই আলাদা। যেটা গাড়িতে পাবোনা।
ঘুরার কথা শুনে চারু আহানের দিক এ প্রশ্নসূচক ভাবে চেয়ে থাকলে
আহানঃ আরে মানে মার্কেট যাবো। (শুকনো হাসি হেসে)
আহান একটা রিকশা ভাড়া করে উঠে পরে। চারু রিকশায় না উঠে দাঁড়িয়ে থাকলে
আহানঃ কি হলো। উঠো।

চারু আহানের কথা শুনে হুরহুর করে রিকশায় উঠে পরলো।
রিকশা উঠে আহানের পাশে বসে বেশ অসস্তিবোধ করছিলো চারু। বিষয়টি আহান বুঝতে পারলে
আহানঃ মামা রিকশা থামান।

চারু অবাক হয়ে পরে আহানের কথা শুনে
রিকশাওয়ালা আহানের কথামতো মাঝপথেই রিকশা থামিয়ে দেয়।
আহানঃ নামো চারু আমরা পায়ে হেটে মার্কেট যাবো।
চারু আহানের কথা শুনে রিকশা থেকে নেমে পরে।

রিকশায়ালাকে টাকা দিয়ে দু জনে হাটতে শুরু করে।
চারুঃআপনি রিকশা থেকে নেমে গেলেন কেন?
আহান চারুর কথা শুনে থেমে যায়।

আহানঃ কারন আমি বুঝতে পেরেছি। আমি তোমার পাশে বসায় অনেকটা আনইসি ফিল করছিলে।
আর আমি চাইনা আমার কারনে তুমি অসস্তিবোধ করো। (মনে মনে)
আহানঃ আসলে।


পর্ব ৩

কারন আমি বুঝতে পেরেছি। আমি তোমার পাশে বসায় অনেকটা আনইসি ফিল করছিলে। আর আমি চাইনা আমার কারনে তুমি অসস্তিবোধ করো। (মনে মনে)
আহানঃ আসলে কি
চারুঃ হুম বলেন শুনছি আমি।

আহানঃ হঠাৎ করে আমার হাটতে ইচ্ছে করছে তাই।
চারু আহানের কথা শুনে আর কিছু বললো না।
দুই জন এ পাশাপাশি হাটতে লাগল।

রাস্তায় ফুচকা গাড়ি দেখতে পেয়ে চারু চেচিয়ে বলে উঠল
ফুচকা।
আহান চারুর কথা শুনে ভ্রু নাচিয়ে তাকালো ওর দিক এ।
আহানঃ কি খাবা?

চারুঃ না না। আমি তো এমনি বললাম (শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
আহানঃ বাট। আমি তো খাবো। আই লাভ ফুচকা।
কথাটি বলে আহান ফুচকার গাড়ি দিক এ হাটা দেয়।
চারু ও আহানের পিছে পিছে যেতে থাকে।

ফুচকার গাড়ির সামনে এসে –
আহানঃ মামা দুই প্লেট ঝাল করে ফুচকা দিন তো।
চারু অবাক হয়ে চেয়ে থাকে আহানের দিক এ।
আহানঃ কি আমার দিক এ এইভাবে চেয়ে আছো কেন
আজ কি আমাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে?

যদিও আমাকে অলওয়েস ই সুন্দর লাগে। (এটিটিউড নিয়ে)
চারুঃ আচ্ছা আপনি না বাসায় কাকিমা কে বললেন যে আপনি এখন ঝাল খাওয়া পছন্দ করেননা। এখন ঝাল দিয়ে ফুচকা অর্ডার করলেন (সন্দেহ চোখে)
আহানঃ খাইসি ধরা। এখন কি বলবো? ভাব আহান ভাব। (মনে মনে)
আরে বললাম না বাসায়। মানুষ এর পছন্দ সময়ের সাথে সাথে বদলায়। কিছুক্ষন আগে আমার ঝাল ভালো লাগতো না। এখন ঝাল টাইপ কিছু খেতে ইচ্ছে করছে।

চারুঃ তাই বলে এতো তাড়াতাড়ি বদলায়(অবাক হয়ে)
আহানঃ কথা না বলে ফুচকা খাও। চারুর হাতে ফুচকার প্লেট ধরিয়ে। নিজেও একটা ফুচকার প্লেট হাতে নিয়ে
দুইজনে খাওয়া শুরু করলো। খাওয়ার মাঝে চারু চিল্লিয়ে বলে উঠলো পানি পানি। পানি খাবো
আহান খেয়াল করলো ঝালে চারুর চোখ মুখ পুরো লাল হয়ে আছে।

তাই নিজের খাওয়া ছেরে দিয়ে তাড়াতাড়ি একটা দোকান থেকে চারুর জন্য পানি এনে দিলো।
চারুর এতোটাই ঝাল লেগেছিল যে ঢক ঢক করে পুরো
পানি শেষ করে দেয়।

চারুর এইভাবে পানি খাওয়া দেখে আহান ওর দিক এ তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
চারুঃ সরি পুরো পানি শেষ করে দিলাম(মাথা নিচু করে)
আহানঃঃ সম্যসা নেই চলো।
তারপর আহান ফুচকার বিল পে করে আবার হাটা দেয়
দুইজন মিলে।

আহানঃ অনেক রাত হয়ে গেছে। চলো বাসায় চলে যাই।
চারুঃ আপনি বললেন মার্কেট যাবেন কোনো কাজে?
আহানঃ একদিনে কতো মিথ্যা বললাম। সরি আল্লাহ আকাশের দিক এ তাকিয়ে (মনে মনে)
কাল যাব নে। আজ অনেক ক্লান্ত লাগছে। আর বেশি হাটতে পারবো না।

দাঁড়াও driver আংকেল কে ফোন দি। কথাটি বলে আহান ফোন দেয়
আহানঃ হ্যালো। আংকেল গাড়িটা একটু নিয়ে আসো
তো
ডাইভারঃআহান বাবা একটা গাড়ি তো বড় সাহেব নিয়ে গেল কিছুক্ষন আগে। আরেকটা গ্যারেজ এ। আমি আপনার বাইকটা নিয়ে আসি?

আহানঃ বাইকে আমার পাশে বসতে তো চারু আরও বেশি আনইসি ফিল করবে। আর আমাকে বলবেওনা। (মনে মনে)
আহানঃ না আংকেল থাক লাগবেনা। রাখি।
কথাটি বলে আহান ফোন কেটে দেয়।
আহানঃ চলো চারু আজ হেটে হেটেই বাসায় যাব।
তাছাড়া বাসা তো কাছেই।

চারুঃআপনি বললেন আপনার কষ্ট হচ্ছে হাটতে?
আহানঃ তোমার জন্য এই ছোট খাটো কষ্ট আমি হেসে হেসে সইতে পারবো। (মনে মনে)
আমার মুড সেকেন্ডে সেকেন্ডে চেঞ্জ হয়। বুঝলে?
চারুঃ হুম বুঝলাম। (মুখ বাকা করে)। আজব মানুষ। (মনে মনে)।
দুইজন এ হাটতে থাকলে হঠাৎ আহান খেয়াল করলো চারু ওর পাশে নেই। পিছনে ঘুরে তাকালে দেখে চারু ভিড়ের মাঝে থাক্কা থাক্কি খাচ্ছে।

আহান তাড়াতাড়ি করে গিয়ে চারুকে ভিড়ের মাঝখান থেকে নিয়ে আসে।
এক সাইেড চারুকে দাঁড় করিয়ে
আহানঃ এই মেয়ে তোমার সম্যসা কি। মেয়ে মানুষ হয়ে পিছনে পিছনে হাটছো। কিছু হয়ে গেলে কি হবে।
যাও আমার সামনে হাটো।
কথাটা আহান একটু চেচিয়ে বললে
ভয়ে চারু কান্না করার মতো অবস্থা।

আহান তা খেয়াল করলে-
সরি সরি। আর চেচিয়ে কথা বলবো না তোমার সাথে।
প্লিজ কান্না করোনা। এই দেখো নিজের কান ধরে সরি বলছি। তুমি চাইলে আমি উঠ বস ও করতে রাজি তাও কান্না করোনা তুমি (দুই কান ধরে)
আহান এই ভাবে রাস্তায় দাড়িয়ে নিজের কান ধরায়
চারুর বেশ হাসি পায়। আর হো হো করে হেসে উঠে।

আহানও চারুর সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে থাকে।
হঠাৎ একটা দশ বারো বছর এর মেয়ে এসে-
ভাইয়া ভাইয়া একটা গোলাপ ফুল নিন না আপু মনির জন্য।
সকাল থেকে একটাও বিক্রি করতে পারিনি।

আহানঃ তাই নাকি ছোট আপু (মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে।
মেয়েটিঃ হুম। ভাইয়া। নিন না একটা।
আহানঃ তুমি আমাকে একটা নয় সব গুলোই দিয়ে দাও।
চারুঃ এই করছেন কি আমি বাসায় এতো ফুল নিয়ে গেলে আন্টি আমাকে নানান পশ্ন করবে।
আহানঃ কে বলেছে আমি ফুল গুলো তোমার জন্য কিনছি?
চারুঃমানে?

আহান মেয়েটির থেকে সব ফুল নিয়ে মেয়েটির হাতে পাঁচশ টাকা ধরিয়ে দেয়। তারপর ফুল গুলো নিয়ে একটা ফুলের থেকে একটা পাপড়ি ছিড়ে সব ফুল গুলো পিচ্চি মেয়েটার হাতে দিয়ে দেয়।
মেয়েটিঃ ভাইয়া ফুল গুলো আমায় দিয়ে দিলেন কেন?
নিবেন না আপনি? (কান্নার কন্ঠে)।

আহানঃ হুম নিলাম তো। নিয়ে একটা ছোট কিউট পরীকে গিফট করলাম। আর সেই পরীটা হলো তুমি
(মেয়েটির গাল দুটো টেনে)
আহানের কথা শুনে মেয়েটি অনেকটা খুশি হয়ে যায়।

মেয়েটিঃ ভাইয়া আপনি অনেক ভালো আর কিউট ও
আহানঃ তাই নাকি বাট তোমার চাইতে একটু কম
কথাটি বলে আহান মেয়েটির কপালে চুমু একে দেয়।
মেয়েটি চলে গেলে আহান চারুর হাত এ ফুলের পাপড়ি টা ধরিয়ে দিয়ে-
আহানঃ নাও এই ছোট পাপড়িটা তোমার জন্য।

(আমি চাইনা মা তোমার হাতের ফুল গুলো দেখে তোমাকে নানান প্রশ্ন করুক। তাই নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে একটা পাপড়িই না হয় দিলাম। )। (মনে মনে)।
চারু ফুলের পাপড়িটা নিয়ে আহানের দিক এ অপলক
দৃশটিতে চেয়ে থাকে।

আহানঃ এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন? (ভ্রু নাচিয়ে)
চারুঃ না এমনি। চলেন।
আহানঃ হুম তুমি আমার আগে আগে হাঁটো আমি তোমার পিছনে
চারু আহানের কথা মতো হাটতে শুরু করে।

এইভাবে চারু আগে আর আহান ওর পিছনে ছায়ার মতো হেটে হেটে বাসায় চলে আসে।
বাসায় এসে আহান ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসে পরলে মিসেস সাবিনা আহানের মাথায় হাত রেখে
সাবিনাঃ কি রে বাবা তোকে এতো ক্লান্ত লাগছে কেন?

আহানঃ মাকে যদি বলি বাসায় পায়ে হেটে আসছি তাহলে সে নানান প্রশ্ন করবে। (মনে মনে)
কই না তো আমি মোটেও ক্লান্ত নই। বাইরে থেকে আসছি তো তাই হয়তো আমাকে দেখে তোমার ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আচ্ছা মা আমি ওয়াসরুমে যাই ফ্রেশ হতে। কথাটি বলে চলে যায় আহান।

ডায়নিক টেবিল
সবাই ডিনার করতে বসলে চারু সবাইকে তরকারি বেরে দিয়ে চলে যেতে নিলে মিরাজ সাহেব চারুকে ডেকে
মিরাজঃ কোথায় যাচ্ছিস চারু মা। আমাদের সাথে বস।
মিসেস সাবিনা মিরাজ সাহেব এর কথা মাঝ খানে বলে উঠে শুধু ওকে ডাকছেন কেন আপনি বাসার সব চাকর বাকর কেও ডাক দেন

তারপর সব চাকর বাকরদের নিয়ে এক সাথে একই টেবিলে খাবার খাই (চোখ মুখ কালা করে)
মিরাজ সাহেব তার বউ এর কথায় রেগে মেগে উঠে।

তোমার কি মাথা ঠিক আছে সাবিনা তুমি বাসার সার্ভেনট দের সাথে চারুর তুলনা করছো?
সাবিনাঃ চারু আর বাসার চাকরদের মধ্যে পার্থক্য আছে নাকি।
আহান ওর মার বলা কথা সইতে না পেরে দাঁড়িয়ে পরে
সাবিনাঃ কিরে বাবা তুই দাঁড়িয়ে পরলি কেন
ডিনার করবিনা

আহানঃ উফ দেখো না মা। এই চারু আমার প্লেট এ গরুর মাংস বেরে রেখেছে। আর গরুর মাংস খেলে আমার এলার্জি প্রবলেম হয়।

কথাটি বলে আহান তার প্লেটটি চারুর হাত এ ধরিয়ে
আহানঃ মায় ঠিকই বলেছে আমাদের সাথে খেতে পারবিনা তুই। প্লেট টা নিয়ে সোফায় বসে খা।
সাবিনাঃ তোর আবার এলার্জি প্রবলেম হলো কবে থেকে।

আহানঃ আজ থেকে।
সাবিনা আহানের কথা শুনে ভ্রু কুচকিয়ে ওর দিকে তাকালে
আহানঃ না মানে। বলতে চেয়েছিলাম।

যে আজ থেকে কয়েক বছর আগে থেকে। দেশের বাইরে যাওয়ার পর থেকে (শুকনো হাসি হেসে)
চারু এখনো দাঁড়িয়ে আছে দেখে আহান বলে উঠল
এই মেয়ে তুমি এখনো দাঁড়িয়ে আছো। যাও এখান থেকে। (চিৎকার দিয়ে)
আহানের থমক শুনে চারু চলে যায়। আর সোফায় বসে খাবার খেতে থাকে।

সাবিনাঃ জানিস গরুর মাংসের দাম কত বেড়ে গেছে আর তুই এতো গুলার মাংসের টুকরা ওকে দিয়ে দিলি
আমাকেও তো দিতে পারতি
আহানঃ মা। আমার তো মনে হয় তুমি আমাকে ভালোই বাসোনা। সারা দিন চারুকে নিয়েই কথা বলতে থাক। ওর কথা বাদ দাও তো।

আমাকে তুমার নিজের হাতে খাইয়ে দাও আজ।
মিসেস সাবিনা তার ছেলের কথা শুনে ওকে খাইয়ে দিতে থাকে।

আহান ফাকে ফাকে আড়চোখে চারুকে দেখে যাচ্ছে বার বার।
মিসেস সাবিনা ভাতের লোকমা আহানের সামনে নিয়ে আসলে আহানের সেই দিক এ খেয়ালই নেই
সে তো চারুরকেই দেখে যাচ্ছে।

সাবিনাঃ কি রে আহান আমি হাতে ভাত এর লোকমা নিয়ে বসে আছি। তুই ও ই খানে কি দেখছিস
মায়ের কথা শুনে আহানের গলায় খাবার আটকে যায়
আর সে জোড়ে জোড়ে কাশতে থাকে। তাড়াতাড়ি এক গ্লাস পানি খেয়ে নেয় ও।
আহানঃ আসলে মা

পর্ব ৪

মায়ের কথা শুনে আহানের গলায় খাবার আটকে যায়।
আর সে জোড়ে জোড়ে কাশতে থাকে। তাড়াতাড়ি করে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেয় ও।
আহানঃ আসলে মা। আমি তো ওই দিক এ তাকিয়ে আমাদের সোফা দেখছিলাম। অনেক সুন্দর সোফা গুলা। তাইনা?

(জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)
কি বলছি আমি আবল তাবল। (মনে মনে)
সাবিনাঃ বাবা তুই ঠিক আছিস? তুই এত ক্ষন সোফা দেখে যাচ্ছিলি(অবাক হয়ে)। মানুষ ডাক্তারি পরা পরে পাগল হয়ে যায় শুনেছিলাম। আজ নিজের ছেলের মাধ্যমে বুঝতে পারলাম মানুষ এমনি এমনিই বলেনা।
তুই বাইরে থেকে ডাক্তারি পরা পরে এসে কেমন জানি বদলে গেছিস।

আহানঃ যদি আমি তোমাকে বলি আমি সোফাকে নয় সোফায় বসে থাকা মেয়েটি আই মিন চারুকে দেখে যাচ্ছিলাম এতো ক্ষন ধরে তাহলে তো তুমি আমার বারো টা নয় গুনে গুনে তেরো টা বাজিয়ে দিবে। (আনমনে)
মা ওই সব কথা বাদ দাও তো। দেখেছো মা ভাইয়া ভাবি কেমন আমি আসলাম আর তারা একবারও দেখতে আসলোনা শুধু ফোন দিয়েই খবর নিলো আমার।

সাবিনাঃ তোর ভাই এর কথা বাদ দে। আস্ত একটা বউ পাগলা। তাইতো বউ পেয়ে নিজের জন্মদাতা বাবা মাকে ছেড়ে চলে গেছে বউকে নিয়ে আলাদা হয়ে। এই কারনেই বলি ছেলেদের পছন্দ করা মেয়ে ঘরের বউ করে আনা ঠিক নয়। এই সব মেয়েরা ভুলিয়ে ভালিয়ে মা বাবার থেকে আলাদা করে দেয় তাদের সন্তানকে
মিরাজঃ আলাদা হয়েছে কি আর শখে। তুমি যে বউ মাকে উঠতে বসতে ওকে কথা শুনাও সেই কারণেই আবির তার বউকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে।

সাবিনাঃ আমি কি ওকে কথা শুনাই নাকি ওর কারণে আমাকে সমাজের মানুষ এর কথা শুনতে হয়। কত বছর হয়ে গেল বিয়ের। এখন পর্যন্ত ও নাতি নাত্নি মুখ দেখার সৌভাগ্য হলো না। (কান্নার মুখ করে)
মিরাজঃ সাবিনা তোমার উচিৎ প্রতি দিন একটু করে মধু খাওয়া। মধু খেলে হয়ত তোমার করল্লার মত মুখ কিছুটা মিষ্টি হবে।
সাবিনাঃ কি আমার মুখ করল্লার মতো তেতো(রেগে)
মিরাজঃ হুম। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয় আমার বউ সাবিনা খান নয় রিনা খান। রিনা খানকে ও হার মানাবে (হেসে হেসে)
সাবিনাঃ এই তুমি কিন্ত বেশি বলছো। দেখ না আহান তোর বাবা আমাকে কি সব কথা শুনাচ্ছে। আমি নাকি রিনা খান!
আহানঃ বাবা তো ভুল কিছু বলেনি।

সাবিনা তার ছেলের কথা শুনে তার ছেলের দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে।
আহানঃ ও মা রাগ করছো কেন। আমি তো তোমাকে রিনা খান বলছিনা। আমি বলছি যে। সমাজের মানুষ তো কতো কথাই বলে। তাই বলে কি তাদের কথা গুরুত্ব দিতে হবে। আর কিছু মানুষ এর স্বভাবই এমন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কথা বলা। তাই বলে সমাজের মানুষ এর কথায় তুমি ভাবিকে কথা শুনাবে। আমাদের তো উচিৎ এইসব মানুষ থেকে নিজের আপনদের আগলে রাখা। তাছাড়া সন্তান হওয়া তো একমাএ আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যে দিন চাইবে সেই দিন ই হবে।
আর তুমি দেখো খুব জলদি আল্লাহ আমাদের বাসায় ফুটফুটে একটা বেবি পাঠাবে।

সাবিনা তার ছেলের কথা শুনে কিছু বললো না কিন্তু তাকে দেখে বুঝাই যাচ্ছে সে আহানের কথা এক কান দিয়ে শুনেছে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে।
চারু খাওয়া শেষ করে প্লেট হাতে নিয়ে যেই রান্না ঘরে যেতে নিবে। মিসেস সাবিনা তার সব রাগ চারুর উপর ঝেড়ে দেয়।
সাবিনাঃ এই যে নবাবজাদি। খুব মজা করেই তো গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেলেন। এখন হাত ধুয়ে বাকি কাজ গুলো করে ফেলুন কষ্ট করে।

মিরাজঃ ওও করতে যাবে কেন বাসায় এতো সার্ভেনট থাকতে।
সাবিনাঃ কেন এই নবাবজাদিকে কি বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো। (চেচিয়ে)
আহানঃ বাবা ঠিকই তো বলেছে মায়। ওকে কি বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো আমরা? তাছাড়া কাজ করলে তো শরীর ফিট থাকে। এই চারু তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে আমার রুমে আয়। আমার কতো গুলো ময়লা কাপড় আছে সেগুলো ধুয়ে দিবি। কথাটা বলে আহান চলে যায় নিজের রুমে।

মিসেস সাবিনা আহানের কথা শুনে বেশ খুশি হয়।
আর মিরাজ সাহেব রাগ করে চলে যায় সে খান থেকে।
চারু ওর হাত ধুয়ে আহানের রুমে এসে দরজায় নক দিলে-
আহানঃ ভিতরে আসো। চারু
চারু আহানের পারমিশন পেয়ে রুমের ভেতরে প্রবেশ করে
চারুঃ দিন ভাইয়া কাপড়গুলো আমি ধুয়ে দিচ্ছি।

আহান আলমারিতে থাকা কাপড় গুলা নারা চাড়া করে
আহানঃ উফ কাপড় গুলা যে কই রেখেছি আমি খুজেই পাচ্ছিনা।
থাক খুজে পেলে পরে তোমাকে ডাকবো নে। এখন তুমি যাও
চারু আহানের কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে জ্বী ভাইয়া বলে রুম থেকে চলে যেতে নিলে আহান ওকে পিছন থেকে ডাক দেয়।
আহানের ডাক শুনে চারু ঘুরে তাকিয়ে –
চারুঃ জ্বী ভাইয়া কিছু বলবেন।

আহানঃ হুম। ভূতের মতো এই দিক ওই দিক ঘুর ঘুর করবেনা। সোজা নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পরবে
বুঝেছো কি বললাম।
চারু আহানের কথায় মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে চলে গেল।
পরের দিন দুপুরে আহান সবার জন্য আইস্ক্রিম কিনে আনলে সবাইকে একটা করে আইস্ক্রিম দেয়।
যেইনা চারুকে দিতে যাবে মিসেস সাবিনা থপ করে আহানের হাত থেকে আইস্ক্রিম টা নিয়ে –
সাবিনাঃ চারু আইস্ক্রিম খেলে ওর ঠান্ডা লেগে যাবে আহান। তাই ওর আইস্ক্রিম টা আমিই খাই। সারা দিন কতো কাজ করি। অনেক ক্লান্ত হয়ে পরেছি। দুইটা আইস্ক্রিম খেলে একটু ভালো লাগবে আমার। কথাটি বলে দুই হাতে দুইটা আইস্ক্রিম নিয়ে চলে যায় নিজের রুমে।

আহানের বাবা চারুকে তার আইস্ক্রিম দিতে চাইলে চারু মানা করে দেয়।
চারু নিজের রুমে চলে যেতে নিলে-
আহানঃ দাড়া চারু আমার একটু গলা ব্যথা করছে। তাই আইস্ক্রিম খেলে স্যমসা হবে তুই আমারটা খেয়ে নে
কথাটি বলে আহান নিজের আইস্ক্রিম টা চারুকে দিয়ে দেয়। আইস্ক্রিম আর ফুচকা চারুর খুব প্রিয়। কেউ দিলে ও সহজে না করেনা। তাই আহানের দেওয়া আইস্ক্রিম হাতে নিয়ে মনের সুখে খেতে থাকে ও
হঠাৎ আহানের মোবাইলে ফোন বেজে উঠে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো ওর ভাবি দিশা ফোন দিয়েছে।
আহান তাড়াতাড়ি করে ফোনটা রিসিভ করে।

আহানঃ হ্যালো আসসালামু আলাকুম ভাবি
দিশাঃওয়ালাইকুম আসসালাম আমাদের আদরের দেবর।
আহানঃ হয়েছে রাখো। আর পাম দিতে হবেনা। যদি আদর করতে তাহলে আমার সাথে দেখা করতে আসতে।
দিশাঃ তুমি তো জানো আমি কেন আসি না। আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও। তুমি আমাদের বাসায় কয়েকদিন এর জন্য বেড়াতে আসো। আমি আর তোমার ভাই খুশি হবো তুমি আসলে। আসবেন্না ডাক্তার সাহেব এই গরিবের বাসায়?
আহানঃ কি যে বলোনা ভাবি অবশ্যই
দিশাঃ হুম কালই চলে আইসো।

আহানঃ কি বললে চারুকেও সাথে করে নিয়ে আসবো?
চারু আহানের কথা শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ওর দিক এ
দিশাঃ এই কথা কবে বললাম আমি? (কনফিউজড হয়ে)। (মনে মনে)
আচ্ছা ভাইয়া তুমি চারুকেও সাথে করে নিয়ে এসো।
আহানঃ দাড়াও ভাবি একটু হোল্ড করো ফোনটা
তারপর চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে তার মাকে ডাকতে থাকে মা মা।

মিসেস সাবিনা আহানের ডাক শুনে দৌড়ে রুম থেকে চলে আসে।
সাবিনাঃ কি হলো আহান এই ভাবে গলা ফাটিয়ে ডাকছিস কেন?
আহান ওর মোবাইলটা স্পিকার এ দিয়ে-
আহানঃ হ্যা ভাবি আবার বলো তো কি জানি বলছিলে
দিশাঃ কি বলছিলাম?
আহানঃ আরে লাস্ট এর কথাটা আবার রিপিট করো।
দিশাঃ ওও। চারুকেও তোমার

পর্ব ৫

আহান ওর ফোনটা স্পিকারে দিয়ে-
আহানঃ হ্যা ভাবি আবার বলো কি জানি বলছিলে তুমি?
দিশাঃ কি বলছিলাম(কনফিউজড হয়ে)?
আহানঃ আরে লাস্ট এর কথাটা আবার রিপিট করো!
দিশাঃ ও হ্যা মনে পরছে। কাল চারুকেও নিয়ে এসো তুমার সাথে করে।

আহানঃ আচ্ছা ভাবি কাল আমি আর চারু সময় মতো পৌছে যাবো। কথাটি বলে ফোন কেটে দেয় আহান।
ফোন কেটে আহান খেয়াল করল চারুর আইস্ক্রিম এখনো খাওয়া হয়নি।
আহানঃ মা যদি দেখে চারুর হাতে আইস্ক্রিম তাহলে তো তুমুল কান্ড হয়ে যাবে। (মনে মনে)
মা তোমার পিছনে তেলাপোকা।

কথাটি শুনার সাথে সাথে মিসেস সাবিনা পিছনে ঘুরে তাকায়। এই সুযোগে আহান চারুর হাত থেকে আইস্ক্রিম টা নিয়ে নিজের মুখে দিয়ে দেয়
সাবিনাঃ কই তেলাপোকা।
মিরাজঃ তুমি তেলাপোকা চাইতে কম নাকি।
তুমিই তো একটা জ্যান্ত তেলাপোকা।
সাবিনাঃ বেশি বলছো কিন্তু চোখ মুখ গরম করে।

কিরে আহান একটু আগে তোর হাতে তো কোনো আইস্ক্রিম ছিলো না। এখন দেখি তুই আইস্ক্রিম খাচ্ছিস?
মিরাজ সাহেব তার বউ এর কথা শুনে এই বার আহানের দিক এ তাকায়।
মিরাজঃঠিকই তো। আইস্ক্রিম তো আহান চারুকে দিয়ে দিলো। ও আবার কোথা থেকে পেলেো। আর চারুর হাতের আইস্ক্রিম টা কই। (মাথা চুলকিয়ে)
আর আহান এমন ভাবে ওর থেকে আইস্ক্রিম নেওয়ায় বেশ রেগে মেগে আছে চারু। পুরো এনগ্রি রোবট এর মতো দাঁড়িয়ে আছে
ও।

আহানঃ আরে মা। আমার হাতেই ছিলো তুমি হয়ত খেয়াল করো নি। এই সব কথা বাদ দাও। শুনলে ভাবি কি বললো ফোনে। আমাকে আর চারুকে তাদের বাসায় যেতে বলেছে। দুই তিন দিন থেকে চলে আসবো।
সাবিনাঃ যা মন চায় কর। কথাটি বলে চলে যায় তিনি
মিরাজঃ এই কোথায় যাচ্ছো আমার রিনা খান।

মিসেস সাবিনা তার হাসবেন্ড এর কথা শুনে তার দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকায়।
মিরাজঃওও সরি সরি। আই মিন মাই বিউটিফুল ওয়াইফ সাবিনা খান(জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)
মিসেস সাবিনা তার হাসবেন্ড এর কথা শুনে আরও রেগে চলে যায় নিজের রুমে।
আর মিরাজ সাহেব ও তার বউ এর পিছু পিছু চলে যায়।
আহানঃ শুনলে তো চারু ভাবি কি বললো?

তাড়াতাাড়ি করে নিজের ব্যাগ প্যাক করে নিও।
চারুঃ চুপ থাকেন। আপনি আইস্ক্রিম দিয়ে আবার আমার মুখে থেকে কেড়ে নিলেন!
এতোই যদি খেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো৷ তো আমাকে দিলেনই বা কেন?

আহানঃ মায় যদি তোমার হাতে আইস্ক্রিম টা দেখে ফেলতো তখন তো বড্ড জামেলা পেকে যেত(আনমনে)
আসলে কি (নিজের মাথা চুলকিয়ে)
চারুঃ হইসে আপনার আসল নকল আমি শুনতে চাইনা। কথাটি বলে রেগে মেগে চলে যায় ও।
আহানঃ হায়! এই মেয়ের রাগলেও কতো কিউট লাগে। কথাটি বলে আইস্ক্রিম খেতে খেতে চলে যায় নিজের রুমে।
দুপুরে লাঞ্চ করার সময় খাবারের মাঝখানে আহান বলে উঠে –
চারু খেয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিস। দেরি করে গেলে পৌছাতে পৌছাতে রাত হয়ে যাবে।
চারুঃ জ্বী ভাইয়া।

আহান রেডি হয়ে চারুর রুমে সামনে এসে দেখে দরজা লক করা। দরজায় নক করে-
আহানঃ কি রে চারু এখনো হয়নি তোর?
চারুঃ ভাইয়া আরেকটু বাকি। তুমি বাইরে আমার জন্য অপেক্ষা করো আমি এই দুই মিনিটে আসছি।
আহানঃ আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়। কথাটি বলে চলে যায় আহান।

আহান ব্লু জিন্স ব্লাক টি শার্ট আর চোখে একটা সান গ্লাস পরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে চারুর জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। কিছু ক্ষন সময় পর চারু একটা ওয়াইট ড্রেস পরে আসলে –
আহান চারুর দিক এ অপলক দৃশটিতে চেয়ে থাকে।
চারুঃ ভাইয়া এই ভাবে কি দেখছেন?
চারু কথায় ধ্যান ভাঙে আহানের আর শরম পেয়ে তাড়াতাড়ি গাড়ি ভিতর উঠে পরে ও।
আহানঃ তাড়াতাড়ি গাড়ি তে উঠ।

চারু আহানের কথা শুনে পিছনে সিট এ উঠতে নিবে-
আহানঃ ওই সামনে এসে বস। তুই পিছনে বসলে লোকে তো আমাকে ড্রাইভার ভাব্বে।
চারু আহানের কথা মতো সামনের সিট এ গিয়ে বসে পরে।
আর আহান আপন মনে গাড়ি চালাতে থাকে।
আহানঃ আজকের ওয়েদার সুন্দর না?
চারুঃ নিশ্চুপ।

আহানঃ কি হলো৷। কথা বলছিস না?
চারুঃ নিশ্চুপ।
আহানঃ ওওবুঝেছি। কাল তোর আইস্ক্রিম নিয়েছিলাম তাই এতো রাগ? পিছনে সিট এ দেখ আইস্ক্রিম এর একটা বক্স আছে। কথাটি আহানের বলতে দেরি হলেও চারুর বক্সটা নিতে দেরি হলো না।
আহানের কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে পিছন থেকে আইস্ক্রিম এর বক্স নিয়ে আইস্ক্রিম খেতে শুরু করলো
বাচ্চা দের মতো করে।

আর আহান গাড়ি চালার ফাকে ফাকে চারুকে আড় চোখে দেখে যাচ্ছিলো।
পৌছাতে পৌছাতে ওদের সন্ধা হয়ে যায়। বাসায় সামনে এসে আহান কলিং বেল বাজালে আহানের ভাবি দিশা তাড়াতাড়ি করে এসে দরজা খুলে দেয়।
দিশা দরজা খুললে আহান আর চারু একসাথে বলে উঠে – আসসালামু আলাকুম ভাবি।
দিশাঃওয়ালাইকুম আসসালাম। আসো ভিতরে আসো তোমরা। চারু আর আহান ভিতরে ডুকলে-
দিশাঃ ওগো দেখে যাও কারা এসেছে!

আবিরঃ উফফ দিশা এইভাবে চিল্লিয়ে ডাকছো কেন আমাকে। কে এসেছে? (মোবাইল টিপতে টিপতে)
দিশাঃ হায়রে মোবাইল থেকে চোখটা সরিয়ে দেখ কে এসেছে।
আবির দিশা কথা শুনে সামনে তাকিয়ে আহান আর চারুকে দেখতে পেয়ে-
আবিরঃ ওরে ডাক্তার সাহেব দেখি সাথে আমাদের চারু সুন্দরী ও।
আবিরঃ কেমন আছিস আহান? আর তুমি কেমন আছো চারু?

চারুঃ জ্বী ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ। আপনি
আবিরঃ আমি তো অলওয়েসট ফাস্ট ক্লাস থাকি(হেসে)।
কি রে আহান ভাই এর সাথে রাগ করেছিস বুঝি?
কথা বলছিস না আমার সাথে?

আহানঃ তুমি চুপ থাকো। আমি আসলাম এক বারও আমাকে দেখতে আসলেনা বাসায়।
দিশাঃ যাবে কিভাবে সারা দিন ফোন নিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে তো মনে হয় আমি তার বউ না মোবাইলই তার বউ লাগে। আমার থেকে মোবাইল টাকেই বেশি সময় দেয় (কান্নার মুখ করে)
আবিরঃ ইয়েস নো ডাউট আয় লাভ মাই মোবাইল।

দিশাঃ কি আমার থেকে তুমি তোমার মোবাইলকে বেশি ভালোবাসো। তাহলে আমাকে বিয়ে করলে কেন?
ওই মোবাইলের সাথে বিয়ে করে নিতে। (রেগে)
আবির দিশার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠে যা দিশার রাগ আরও বাড়িয়ে দেয়। রেগে মেগে চলে যায় ও।
চারু ও দিশা পিছে পিছে ওর সাথে চলে যায়।
দিশা রেগে গিয়ে রুমে এসে বসলে-
চারুঃ উফফ ভাবি এই ভাবে রেগে ও খান থেকে চলে আসলে কেন?

দিশাঃ দেখলে না তোমার ভাই এর কান্ড কারখানা। আমি রেগে আছি। আর উনি হেসেই যাচ্ছিলেন।
চারুঃ ভাইয়ার কথা বাদ দাও। লেটস হেভ সাম ফান?
দিশাঃ মানে (অবাক হয়ে)
চারুঃআরে ভুলে গেলে আন্টি বাসায় না থাকলে আমরা রুমে দরজা লাগিয়ে কি করতাম?
দিশাঃ লুঈি ডান্স? (খুশি হয়ে)
চারুঃ হুম।

তুমি এক বছর ধরে বাসা থেকে চলে আসার পর আর
করা হয়নি। (মন খারাপ করে)
দিশাঃ চলো তাহলে। (খুশি হয়ে)আজ করা যাক।
তারপর দিশা আর চারু আবিরের শার্ট আর লুঈি জামার উপর দিয়ে পরে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে জোরে লুঙ্গী ডান্স গান ছেরে দুই জন এ ঘাটের
উপর উঠে উরাধুরা নাচতে শুরু করে। ভুলবশত তারা রুমের দরজা লাগাতে ভুলে যায়।

বাইরে বসে আবির আর আহান দুই ভাই মিলে গল্প করছিলো।
হঠাৎ ওদের কানে লুঙ্গী ডান্স এর সং ভেসে উঠে।
আবিরঃ কিরে তুই কি কোনো গান শুনতে পাচ্ছিস?
আহানঃ হুম। তোমার রুম থেকে আসছে মনে হচ্ছে। চলো তো দেখি গিয়ে।
আবিরঃ হুম চল।

আর ও দিকে দিশা আর চারু পাগলের মতো নেচেই যাচ্ছে।
হঠাৎ চারুর দরজার সামনে চোখ পরলে চারু জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে।
দিশাঃ কি রে চারু এ-ই ভাবে চিৎকার দিলি কেন?

চারুঃ ভাবি দরজার সামনে তাকাও
দিশা চারুর কথা শুনে দরজার সামনে তাকিয়ে আবির আর আ্হানকে দেখতে পেয়ে ওই ও জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে।
আর আবির আর আহান ওদের এই অবস্থায় দেখে হেসেই যাচ্ছে। যেমন তেমন হাসি নয় মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো হাসি।
দিশাঃ এই আপনারা এই রুমে কি করছেন? (রেগে)
বেচারি চারু তো শরমে কিছু বলতেই পারচ্ছেনা।

মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
আবিরঃ তোমাদের পাগলা ডান্স আই মিন লুঙ্গি ডান্স দেখতে আসছি (হেসে)
আহান তো কিছু না বলে চারুকেই দেখেই যাচ্ছে
আহানঃ ওরে আমার সপ্নের পরীটা এতো সুন্দর নাচতে পারে লুঙ্গি পরে জানতাম না তো। আনমনে।
দিশাঃ মোটেও ফাজলামি করবেন না। বের হন রুম থেকে (চিল্লান দিয়ে)।
আবির আর আহান দিশার চিল্লানি খেয়ে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায় রুম থেকে।
দিশা আর চারু তাড়াতাড়ি করে জামা চেঞ্জ করে নেয়।

কিছুক্ষ পর
দিশা আর চারু আবির আহানের সামনে আসলে-
আবিরঃ তাড়াতাড়ি রান্না করে খেতে দাও আমাদের বড্ড খিদে পেয়েছে।
রান্না করার এনার্জি আছে তো? যে ডান্স দিয়েছো বাবা।

আহানঃ হ্যা ভাইয়া ঠিক বলেছো। (হেসে হেসে)
আহানের হাসি দেখে চারুর মেজাজ গরম হয়ে যায়।
চারুঃ হ্যা ভাবি আজ তোমার রান্না করতে হবেনা। আমিই আজ এই দুই ভাই এর জন্য স্পেশাল কিছু রান্না করবো।
আহানঃ সত্যি? কি রান্না করবে?

চারুঃ এই তো। তেলাপোকার ফ্রাই; টিকটিকর ভুনা;
মশার চপ; মাছির বিরিয়ানি (হেসে)
আহান খাবারের আইটেমগুলোর নাম শুনে দৌড়ে ওয়াসরুমে

পর্ব ৬

আহানঃ সত্যি? কি রান্না করবে শুনি(উওেজিত হয়ে)
চারুঃ এই তো। তেলাপোকা ফ্রাই;টিকটিকির ভুনা;মশার চপ; মাছির বিরিয়ানি (হেসে)
আহান চারুর মুখে খাবারে আইটেম গুলার নাম শুনে দৌড়ে ওয়াসরুমে গিয়ে বমি করতে থাকে।
আহানের এই ভাবে যাওয়া দেখে চারু দিশা আর আবির তিন জন মিলে জোরে জোরে হাসতে থাকে।
কিছুক্ষ পর আহান ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে আসলে আহানকে দেখে তিনজন হাসতে থাকে।
আহান বেশ লজ্জা পায় তাদের হাসি দেখে।

চারু রান্না করে আহান আর আবিরকে খেতে ডাকলে আহান চিল্লিয়ে বলে উঠে –
না না আমি খাবো না। আমার খিদে নেই।
দিশাঃ আরে ভাইয়া চারু তেলাপোকা ফ্রাই মাছির বিরিয়ানি এই সব কোনো কিছু রান্না করেনি। ও তো জাস্ট মজা করছিল (হেসে)
আবিরঃ উফফ আহান ঢং করিস না তো। চল খেতে চল। খিদের জ্বালায় আমার পেটের চুহা গুলা ডিসকো ডান্স দিচ্ছে।
আহান তার ভাই এর কথা শুনে আর কিছু বলেনা।

পরে সবাই মিলে ডিনার করে নেয়।
ডিনার শেষ করার পর
দিশা চল সবাই মিলে ছাদে গিয়ে কোনো গেমস খেলি।
আহানঃ গুড আইডিয়া ভাবি।
তারপর সবাই মিলে ছাদে গিয়ে ফ্লোরে একটা মাদুর বিছিয়ে বসে পরে।
দিশাঃ কি খেলবো?
আবিরঃ গানের কলি?

দিশাঃ না। ইন্টারেস্টিং কিছু।
আহানঃ ট্রুথ এন্ড ডেয়ার গেমস টা খেলি। অনেক মজা হবে।
দিশাঃইয়েস এইটা খেলা যায়।
তারপর মাঝখানে একটা বোতল রেখে বোতল টা ঘুরালে ফাস্ট এ দিশা সাইড এ এসে থেমে যায়।
আহানঃ ভাবি truth নাকি dare?
দিশাঃ dare
আহানঃ আচ্ছা তুমি আমাদের সামনে একটা ডান্স করে দেখাও
আহানের কথা শুনে দিশা রাগি দৃশটিতে ওর দিক এ তাকিয়ে থাকে।

আহানঃ আরে ভাবি রাগ করছো কেন? আমি তো লুঙ্গি ডান্স গানে নাচতে বলছিনা। আমি এখনকার ফেমাস গানে নাচতে বলছি। আই মিন বড় লোকের বেটি গানে।
দিশাঃ ওও। ওই টা তো আমার ফেভারিট গান
আহানঃ দাড়াও আমি গানটা প্লে করছি।
আহান গানটা প্লে করলে দিশা নাচতে শুরু করে।
সেই গানের তালে তালে। দিশার নাচ শেষ সবাই জোরে জোরে তালি দিতে থাকে। দিশা নাচ শেষ করে
বোতল ঘুরালে এই বার আহানে সামনে এসে বোতল টা থেমে যায়।

আবিরঃ তো আহান বল Truth নাকি dare?
আহানঃ dare(ভাব নিয়ে)
আবিরঃ ওকে তাহলে একটা গান গেয়ে শুনা।
আহানঃ না না। অন্য কিছু বলো। গান গাইতে পারবনা
দিশাঃ উফ ভাইয়া। গাও তো। আমরা জানি তুমি অনেক সুন্দর গান পারো।

দিশার কথা শুনে আহান বাধ্য হয়ে গান গাওয়া শুরু করলো
dil ka dariya beh gaya
isq ibadat ban hi gaya
kudko muje tu sop de
meri zarorat tu ban gaya

bat e dil ki nazro ne ki
sach keh ra ha teri kasam
teri bin Ab na lange ik bi dam
tuje kitna chahne lage hum

পুরোটো গান গাওয়ার সময় চোখ বন্ধ করে আহান চারুর কথাই ভেবে যাচ্ছিলো। সবাই তালি দিলে আহানের
ধ্যান ভাঙে আর ও কল্পনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসে।
দিশা বোতল ঘুরালে এই বার বোতলটা চারুর সামনে এসে থেমে যায়।
দিশাঃ তো বলো চারু। truth নাকি dare?
চারুঃ truth
দিশাঃ আচ্ছা বলো ডু উ লাভ সামওয়ান?
আহানঃ আল্লাহ উত্তর যদি না হয়। চোখ বন্ধ করে। আনমনে
চারুঃ না।

আহান চারুর উত্তর শুনে চোখ খুলে
আহানঃ থেনক গড।
দিশাঃ আচ্ছা তুমি যাকে ভালোবাসবে ওই মানুষ টার মধ্যে কোন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে?
চারুঃ ভালো চরিএ;অনেস্ট; ভালো মনের মানুষ
আহান চারুর কথা শুনে বেশ খুশি হয়ে যায়।

আহানঃ এই গুলা কোয়ালিটি তো আমার মাঝে আছে। খুশি হয়ে। (আনমনে)
দিশাঃ আর কিছুনা?
চারুঃ হুম শ্যামলা হতে হবে। আমার শ্যামলা ছেলে অনেক বেশি ভালো লাগে।
চারুর বলা শেষ কথাটা শুনে আহানের মন কাচের মতো ভেঙে যায়।

আহানঃ আমি তো শ্যামলা না। এর মানে চারু আমাকে কখনো ভালোবাসবে না? আনমনে
বোতল আবার ঘুরানো হলে আবির এর সামনে আসলে-
চারুঃ ভাইয়া বলেন truth নাকি dare?
আবিরঃ truth। আমি সত্য বলতে ভয় পাইনা (ভাব নিয়ে)
চারুঃ তাই নাকি ভাইয়া? আচ্ছা বলুন ভাবির আগে কারও প্রেমে পরেছিলেন আপনি?
আবিরঃ হ্যা। মেয়েটা যে কি সুন্দর ছিলো না। তুমাকে বলে বোঝাতে পারবোনা। চোখ বন্ধ করলে ওই মেয়েটার ফেস ভেসে উঠে।

দিশাঃ তাই নাকি? (রাগি কন্ঠে)
আবিরঃ খাইসেরে আমি তো ভুলেই গেসি দিশা আছে এই খানে।
আসলে বেবি আমি তো জাস্ট ফান করছিলাম। তুমিই আমার প্রথম তুমিই আমার শেষ ভালোবাসা।
দিশাঃ এই ছিলো তোর মনে। বিয়ের আগে কি বলেছিলি আমিই তোর প্রথম ভালোবাসা আর এখন বউ এর সামনে বসে বলছিস চোখ বন্ধ করলে অন্য মেয়েকে দেখতে পাস (রেগে)।
কথাটি বলে দিশা রেগে মেগে সেই খান থেকে চলে যায়।

আবিরঃ আল্লাহ কি যে হবে আমার। আল্লাহ রক্ষা কইরো আমাকে। কথাটি বলে আবির ও চলে যায় ছাদ থেকে।
আবির আর দিশা এমন কিউট ঝগড়া দেখে চারুর বেশ হাসি পায়।
কিন্তু আহান চারুর শ্যামলা ছেলে পছন্দ কথাটা শুনার পর থেকে সে কখন থেকে দেবদাশ এর মতো বসে ছিলো। আবির আর দিশা মধ্যে এতো কিছু হয়ে গেলো সেই দিক এ আহানের খেয়ালই নেই।
সে যেনো অন্য কোনো জগৎে আছে।
চারুঃ আজ ভাবি ভাইয়ার বারোটা বাজিয়ে ছারবে। (হেসে)
চারু খেয়াল করলো আহান ওর কথা না শুনে অন্য ধ্যানে আছে।

চারুঃ এই যে মিস্টার! (জোরে)।
আহান চারুর ডাক শুনে চমকে উঠে।
আহানঃ হ্যা হ্যা বলো।
চারুঃ আপনি কোন দুনিয়ায় আছেন শুনি?
কখন থেকে ডেকেই যাচ্ছি। আর আপনার কোনো রিসপনস ই নেই।
আহানঃ না। আমি তো এই দুনিয়ায় ছিলাম। (জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)
আচ্ছা বাদ দাও এই সব কথা চলো নিচে চলো অনেক রাত হয়ে গেছে।
চারুঃ হুম চলেন।

তারপর দুই জন মিলে নিচে চলে যায়
রাতে বেচারার আহানের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে চারুর কথা শুনে আর ওর ভাই তো নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।
আহানঃ উফফ কি যে করি। এতো দিন শুনেছিলাম মেয়ে মানুষ রা ফর্সা ছেলে পছন্দ করে। আজ জানলাম মেয়েরা ফর্সা নয় শ্যামলা ছেলে পছন্দ করে।

উফফ আল্লাহ তুমি কেন আমাকে এতো ফর্সা বানাতে গেলে (উপরে তাকিয়ে)। একটু তো শ্যামলা বানাতে পারতেন আমাক (অসহায় মুখ করে)
আহানঃ যেই ভাবেই হোক আমাকে ফর্সা থেকে শ্যামলা হতেই হবে। বাট কিভাবে হবো? ফর্সা হওয়ার তো অনেক টেকনিক জানি কিন্তু শ্যামলা হওয়ার টেকনিক তো আমার জানা নেই। কারো থেকে জিজ্ঞেস করলে কেমন হবে? উফ বাট কাকে আস্ক করব আবির ভাইয়া তো নাক টেনে টেনে ঘুমাচ্ছে।
আইডিয়া!
আমি সোহেলকে ফোন দেই ওই নিশ্চয়ই কোনো আইডিয়া দিতে পারবে আমায়।

কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে ফোন দিয়ে বসলো আহান।
ফোন রিসিভ হলে
আহানঃ হ্যালো সোহেল।
সোহেলঃহ্যা বল দোস্ত(কান্নার কন্ঠে)
আহানঃ কি রে এই ভাবে কান্না করে কথা বলছিস কেন?
সোহেলঃ দোসত মেহেজাবিন এর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে

পর্ব ৭

ফোন রিসিভ হলে
আহানঃ হ্যালো সোহেল।
সোহেলঃ হ্যা বল। (কান্নার কন্ঠে)
আহানঃ কি রে এই ভাবে কান্না করে কথা বলছিস কেন তুই
সোহেলঃ দোস্ত মেহজাবিন এর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে দোস্ত।
মেহজাবিন আমাকে রেখে বিয়ে করে ফেলছে। (কান্না করে)।

আহানঃ বিয়ে হচ্ছে তো কি হচ্ছে? বিয়ে তো সবাই করে।
সোহেলঃ তুই ভুলে গেলি আহান। মেহজাবিন যে থাকে আমার বুকের বা পাশে। ওকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁঁচব? এ্যাাাাা
আহানঃ হায়রে কারে ফোন দিলাম। (মনে মনে)।
আচ্ছা দোস্ত তুই মন ভরে কান্না কর। আমি রাখি।
কথাটি বলে ফোনটা কেটে দেয় আহান
আহানঃমার্কেট এ তো ফর্সা হওয়ার ক্রিম পাওয়া যায়। তাহলে শ্যামলা হওয়ার ক্রিম ও নিশ্চয়ই পাওয়া যায়। আমি কালই যাব মার্কেট।

এখন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরি। কিন্তু ঘুম আসবে কিভাবে ভাইয়া যে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।
কিন্তু এখন না ঘুমালে তো কাল তাড়াতাড়ি উঠতে পারব না আমি।
কথাটি বলে আহান বিছানায় গিয়ে কানের উপর একটা বালিশ রেখে ঘুমিয়ে পরে।
সকাল হলে আহান মার্কেট যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হতে নিলে
দিশাঃ ভাইয়া কোথায় যাচ্ছ এই সাজ সকালে?
আহানঃ এই তো ভাবি একটু কাজ আছে। চারু কোথায় ভাবি?

দিশাঃ ওর কাল রাতে অনেক মাথা ব্যাথা করছিলো। তাই ঘুমাতে পারেনি। একটু আগেই ঘুম দিল।
আহানঃ কি বল ভাবি? আমি তাহলে দেখে আসি ওকে।
দিশাঃ হায়রে ভাইয়া এখন ও ঘুমাচ্ছে। তুমি রুমে গেলে ওর ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অনেক কষ্টে ঘুম আসছে বেচারির। এখন তুমি যেই কাজে জন্য বাইরে যাচ্ছিলে সেই কাজে যাও। ফিরে আসলে ওর সাথে দেখা করে নিও।
আহানঃ আচ্ছা।
তারপর আহান চলে যায় মার্কেট এর উদ্দেশ্য এ।

মার্কেট এ পৌছালে এক দোকানে গিয়ে
দোকানদারঃ জ্বী ভাইয়া কি লাগবে বলেন আমাদের দোকানে সব পাওয়া যায়। (হাসি মুখে)
আহানঃ ভাই শ্যামলা হওয়ার কোনো ক্রিম আছে আপনার দোকানে?
দোকানদারঃ কি বলল শ্যামলা হওয়ার ক্রিম। নিশ্চয়ই আমি ভুল কিছু শুনেছি। মানুষ তো ফর্সা হওয়ার ক্রিম চায় শ্যামলা হওয়ার নয়। (মনে মনে)
একটু আবার বলবেন কি বললেন?

আহানঃ আরে শ্যামলা হওয়ার ক্রিম আছে আপনার দোকানে?
দোকানদারঃ ভাই আপনি কি নেশা করে আসছেন সকাল সকাল?
আহানঃ ওয়াট ননসেনস। মাথা ঠিক আছে আপনার কি বলছেন এই সব?
দোকানদারঃ মাথা তো আপার গেসে। তাই তো এতো সুন্দর হয়েও শ্যামলা হওয়ার ক্রিম চাচ্ছেন।

আহানঃ চারু শ্যামলা ছেলে পছন্দ করে তাই তো ফর্সা থেকে শ্যামলা হতে চাচ্ছি (আনমনে)
হায়রে জিলাপির মতো কথা না পেচিয়ে বলেই তো দিতে পারেন আছে নাকি নেই?
দোকানদারঃ নাই নাই। অন্য কোথাও পাবেন না এইটাও সিউর।
দোকানদার এর কথার কোন উত্তর না দিয়ে চলে আসে আহান।
অনেক দোকানে গিয়ে শ্যামলা হওয়ার ক্রিম খুজে আহান
কিন্তু পায় শুধু নিরাশা
খুজতে খুজতে হয়রান হয়ে আহান একটা পার্কে এসে বসে।

আহান যে বেঞ্জ এ বসে ছিলো সে বেঞ্চ এ একটা লোক এসে বসে। আহানকে চিন্তিত দেখে-
লোকটিঃ ভাই কোনো সম্যসা?। আপনাকে অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছে?
আহানঃ লোকটাকে কি বলব আমার প্রব্লেম এর কথা যদি সেও আমার উপর হাসা হাসি করে অন্যান্য মানুষ দের মতো। কিন্তু আমাকে তো শ্যামলা হতেই হবে চারুর জন্য। থাক তাকে আস্ক করে দেখি যদি সে জানে কোনো ক্রিমের নাম। আনমনে
লোকটির দিক এ মুখ করে –
আহানঃ ভাই শ্যামলা হওয়ার কোন ক্রিম এর নাম জানেন?

লোকটিঃ কি ছ্যামরা হওয়ার ক্রিম?
আহানঃ এই মিয়া আমার ফেস দেখে কি আমাকে মেয়ে মানুষ মনে হচ্ছে যে আমি আপনার কাছ থেকে ছ্যামরা হওয়ার আই মিন ছেলে হওয়ার ক্রিম চাইব?
কথাটা আহান একটু জোরেই বলে যার কারনে লোকটি রেগে মেগে যায়।
লোকটিঃ ওই মিয়া এতো চেচিয়ে কথা বলছেন কেন? (কান থেকে হেড ফোনটা খুলে)
আপনার কি মনে হয় আমি কানে কম শুনি যে এতো চেচিয়ে চেচিয়ে কথা বলছেন আমার সাথে?
আর কি বলছিলেন শ্যামলা হওয়ার ক্রিম? ক্রিম ট্রিম না খুজে পাগলা মাথা টা ঠিক হওয়ার ঔষধ খুজুন গিয়ে। আপনার ওইটাই বেশি জরুরি।
আহানঃআরও কিছু?

লোকটি আহানের কথা শুনে অবাক হলে-
আহানঃ অবাক হওয়ার মতোই কিছুই নেই
আরও কিছু বলতে মন চাইলে বলে ফেলুন একবারেই।
আর এইখান থেকে যান।
লোকটিঃ ওই মিয়া বেঞ্জ টা কি আপনার? নাকি এই পার্ক টা আপনার যে আপনি বললেন আমি চলে যাব?
আহানঃ ভাই অনেক বড় ভুল হয়েছে আমার। আপনার যাওয়া লাগবেনা। আপনি এইখানে আরামসে বসুন আর আমিই চলে যাচ্ছি।

কথাটি বলে আহান চলে যেতে নিলে
লোকটিঃ কোথা থেকে যে আসে এই সব পাগল টাগল
লোকটির কথা শুনে আহানের বেশ মাথা গরম হয়।
কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়ও
আহানঃ না কিছু বলার দরকার নেই। কিছু বলতে গেলে আরও কথা শুনিয়ে দিবে আমাকে। আমি বরং কেটে পরি এই খান থেকে।
আহান চলে যেতে নিলে লোকটি ওকে ডাক দিয়ে-
এই যে মিস্টার?

লোকটির ডাক শুনে আহান থেমে যায়।
আহানঃ নিশ্চয়ই আরও কিছু শুনানোর জন্য ডাকছে আমাকে। (মনে মনে)
আহানঃ জ্বী বলুন আরও কিছু শুনানোর বাকি আছে(শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
লোকটিঃ হুম। আমার কাছে শ্যামলা হওয়ার একটা আইডিয়া আছে।
লোকটির কথা শুনে আহান খুশি হয়ে তার পাশে বসে–
আহানঃ জ্বি ভাইয়া বলুন আমাকে প্লিজ আইডিয়া টা। আমার যে শ্যামলা হওয়া অনেক বেশি দরকার।

লোকটিঃ আপনি চাইলে বাচ্চাদের কপালে দেওয়ার কাজল উইস করতে পারেন মুখে। ওই টা উইস করলে আমি ডেম সিউর আপনি কয়েক দিন এর মধ্যেই ফর্সা থেকে শ্যামলা হয়ে যাবেন
লোকটির কথা শেষ না হতেই আহান লোকটির গালে চুমু দিয়ে বসে।

লোকটিঃ এইটা কি ছিলো? (অবাক হয়ে)
আহানঃ থ্যাংকস ভাই আপনি জানেন না আপনি আমার কতো বড় উপকার টা করলেন।
লোকটিঃ বলদ একটা আমার কথা বিশ্বাস করে ফেল্ল
(আনমনে)
তারপর আহান লোকটির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মার্কেট থেকে বাচ্চাদের দেওয়া কাজলের কৌটা কিনে বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় এসে দরজায় নক দিলে দিশা এসে দরজা খুলে দেয়।

আহান ভিতরে ডুকলে-
দিশাঃ ভাইয়া কোথায় ছিলে এতক্ষন ধরে? সেই কোন সময় বের হয়েছো আর এখন আসলে বাসায়;
আবির দিশার কথা মাঝ খান দিয়ে বলে উঠে-
আবিরঃ আরে বাবা। ভাইটাকে তো একটু বসতে দিবা শান্তি তে বাইরে থেকে আসছে বেচারা। তা নয় টিচার এর মতো করে প্রশ্ন করেই যাচ্ছ আমার ভাই টাকে।

দিশাঃ কি বললে আমি টিচার এর মতো প্রশ্ন করি(কোমড়ে হাত রেখে)
আবির দিশা কে কিছু বলতে যাবে-
আহানঃ উফফ দুই জন চুপ করো তো। কি শুরু করেছ আবার।
দিশাঃ আমি শুরু করলাম নাকি তোমার ভাই শুরু করল?
আবিরঃ ইসস নিজে মনে হয় দুধের দোয়া তুলসি পাতা (ভেংচি কেটে)।

আহানঃ আল্লাহর দোহায় লাগে দুই জন চুপ কর।
আমার মাথা ধরে গেছে তোমাদের বক বক শুনতে শুনতে। আর নিতে পারছিনা আমি।
আচ্ছা ভাবি চারু কোথায় ওকে দেখছিনা যে?
দিশাঃ ভাইয়া ও তো রুমে।

আহানঃ আচ্ছা আমি ওকে দেখে আসছি। কথাটি বলে আহান চলে আসে সেখান থেকে। আর দিশা আর আবির চুহা বিল্লির মতো ওই খানে দাড়িয়েই ঝগড়া করতে থাকে
আহান রুমে আসলে দেখে দরজা খোলা। নক দিতে নিলে খেয়াল করে চারু গোসল করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওর ভিজা চুল গুলে হেয়ার ড্রায় দিয়ে শুকাচ্ছে আর বিড় বিড় করে গান গাইছে।

আহান চারুকে এইভাবে দেখে–
আহানঃ হায় মার হি ডালা (বুকের বা পাশে হাত রেখে)।
চারু আয়নায় আহানকে দেখতে পেলে পিছনে ঘুরে তাকায়।
চারুঃ ভাইয়া আপনি?
আহানঃ
চলবে
ছায়া হয়ে থাকবো পাশে

পর্ব ৮

আহান চারুকে এইভাবে দেখে-
আহানঃ হায়মার হি ডালা(বুকের বা পাশে হাত রেখে)
আহান বেশ কিছু সময় ধরে দরজার সাথে হেলান দিয়ে চারুকে এইভাবে দেখে যাচ্ছিলো।
হঠাৎ চারু আয়নায় আহানকে দেখতে পেলে-
চারুঃ ভাইয়া আপনি?

আহান চারুর কথা শুনে থতমত খেয়ে যায়।
আহানঃ হ্যা আমি।
চারুঃ বাইরে কি করছেন ভিতরে আসুন।
আহান চারুর অনুমতি পেয়ে রুমে প্রবেশ করে।
চারুঃ ভাইয়া কি জন্য আসছিলেন?
আহানঃ আসলে(মাথা চুলকিয়ে)
চারুঃ হ্যা বলুন।

আহানঃ আসলে ভাবি তোমাকে ডাকছিল তাই তোমাকে বলতে আসলাম।
চারুঃ আচ্ছা চলেন তাহলে।
চারু আর আহান ড্রয়িং রুমে আসলে দেখে আবির আর দিশা এখনো ঝগড়া করছে।
আহানঃ আল্লাহ তোমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। (হেসে)
দিশাঃ দেখেননা ভাইয়া আপনার ভাই আমাকে কখন থেকে ঝালিয়ে মারছে।
আবিরঃ হ। নিজে তো সাধু। কিছুই জানেনা।

নিজেই আমার সাথে অকারণে ঝগড়া করছে এখন আমার ভাই এর কাছে নালিশ করছে আমায় নিয়ে।
আহান হঠাৎ দাড়া থেকে বসে পরে ফ্লোরে।
আহান এই ভাবে ফ্লোরে বসায় চারু দিশা আবির বেশ অবাক হয়।
দিশাঃ ভাইয়া আপনি এই ভাবে বসে পরলেন কেন?
আহানঃ কি করব ভাবি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আপনাদের ঝগড়া দেখতে দেখতে আমার পা টা ব্যথাই হয়ে গেছে। তাই ভাবলাম বসে বসে আপনাদের ঝগড়া দেখি কি বলো চারু ঠিক বলছিনা আমি?

চারুঃ হ্যা ভাইয়া একবারে ঠিক কথা বলেছেন আপনি।
কথাটি বলে চারুও আহানের মত ফ্লোরে বসে পরে আহানের পাশে।
আহান আর চারু এ-ই ভাবে বসে পরায় বেশ শরম পায় দিশা আর আবির।
দিশাঃ সরি ভাইয়া(কানে হাত রেখে)
আর হবেনা এমন।

আহান আর চারু দিশার কথা শুনে ফ্লোর থেকে উঠে পরে তাড়াতাড়ি করে।
আবিরঃ আহানের সাথে সাথে আমাকেও সরি বলা উচিত ছিল তোমার। (মুখ বাকা করে)
দিশাঃ তোকে তো আমি পরে দেখে নিব। আজ তর বারো টা না গুনে গুনে তেরো টা বাজিয়ে দিব আমি দেখে নিশ তুই। আনমনে (আবির এর দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে)
আহানঃ ভাইয়া সরি বলার কি দরকার আবার। ভাবি তোমাকে কোনো সরি টরি বলতে হবেনা।
দিশাঃ না ভাইয়া থাক আমারই দোষ ছিল।

আবির আই এম সরি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আবিরঃ ইটস ওকে (হাসি দিয়ে)
দিশাঃ অনেক হাসি পাচ্ছে না। হাসো হাসো বেবি বেশি করে হেসে নাও। একটু পর তোমাকে কান্না করতে হবে।
আনমনে।
দিশাঃ ভাইয়া আপনি ফ্রেশ হয়ে আসেন আমি খাবার বারছি।
আহানঃ জ্বি ভাবি।

চারুঃ ভাবি চলো আমিও তোমাকে হেল্প করি।
দিশাঃ আচ্ছা আসো আমার সাথে।
তারপর দুই জন মিলে ডায়নিক টেবিল খাবার বেরে আহান আর আবিরকে ডাক দেয়।
আহান আর আবির খাবার টেবিল এসে বসলে
খাবার মুখে দিয়ে –
আহানঃ খাবার খেয়ে তো মনে হচ্ছে খাবারটা চারু রান্না করেছে। আনমনে
ভাবি খাবার টা যে কি মজা হয়েছে না। বলে বোঝাতে পারব না তোমাকে। তোমার হাতে চুমু দিতে ইচ্ছে করছে।

দিশাঃ ভাইয়া তাহলে তুমি চারুর হাতেই দিয়ে দাও। (হেসে) কারন আজ আমি রান্না করিনি চারু রান্না করেছে।
চারু দিশার কথা শুনে আহানের দিক এ তাকিয়ে বেশ লজ্জা পায়।
চারুঃ ভাবি আমার একটু কাজ আছে আমি রুমে যাচ্ছি।
দিশাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সেই খান থেকে তাড়াতাড়ি করে চলে আসে চারু।
আহানঃ উফফ কেন যে বলতে গেলাম কথাটা। শরম পেয়ে এখন না খেয়েই চলে গেল। (মন খারাপ করে) আনমনে।

ভাবি তুমি ওর খাবার এর প্লেট টা আমাকে দাও আমি গিয়ে দিয়ে আসি ওকে
দিশাঃ আগে তুমি তো খেয়ে নাও।
আমি খাবার টা খেয়ে ওকে রুমে গিয়ে দিয়ে আসব নে।
আহানঃ ভাবি আমার খাওয়া হয়ে গেছে।
দিশাঃ সে কি কথা তুমি তো কিছুই খেলে না। আর বলছো খাওয়া হয়ে গেছে।

আহানঃ আমার খিদে নেই ভাবি। তাই খেতে পারছিনা। তুমি চারুর খাবার এর প্লেট টা আমাকে দাও আমি গিয়ে ওকে দিয়ে আসি। আর তুমি আর ভাইয়া আস্তে ধিরে খাও।
আবিরঃ আরে দিশা ও যেহেতু এতো বার বলছে তাহলে দিয়েই দাও না ওকে। আহান গিয়েই দিয়ে আসুক।
দিশা আবির এর কথায় আর কিছু না বলে খাবার এর প্লেট টা আহানকে দিয়ে-
দিশাঃ নাও ভাইয়া তুমি তাহলে দিয়ে আসো খাবারটা চারু কে গিয়ে।
খাবার এর প্লেট টা নিয়ে আহান চলে যায় চারুকে দিতে।

দরজার সামনে এসে নক দিয়ে-
আহানঃ চারু আসবো ভিতরে?
চারুঃ ভাইয়া আসেন।
আহান রুমে ভিতরে ডুকে খাবার এর প্লেট টা নিয়ে চারুর সামনে দাঁড়িয়ে
আহানঃ এই ভাবে না খেয়ে চলে আসলে কেন ওই খান থেকে। নাও খাবারটা খেয়ে নাও লক্ষী মেয়ের মতো।
চারুঃ ভাইয়া আসলে আমার খিদে নেই। যখন খিদে লাগবে তখন খেয়ে নিব নে।

আহানঃ আমি তোমাকে আস্ক করছি না আমি তোমাকে অর্ডার দিচ্ছি। বেশি কথা না বলে জলদি করে খেয়ে নাও খাবারটা। আর একটা কথা বার বার রিপিট করা আমি মোটেও লাইক করিনা কিন্তু।
চারু আহানের কথা শুনে বেশ ভয় পেয়ে যায়। আহানের হাত থেকে প্লেট টা নিয়ে সোফায় বসে তাড়াতাড়ি করে খেতে শুরু করে বাচ্চাদের মতো।
আহানঃ ইসস আমার যে কি খিদা লেগেছে।
চারু আহানের কথা শুনে খাওয়া বন্ধ করে ওর দিক এ অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে।

চারুঃভাইয়া আপনি খাননি?
আহানঃ না।
চারুঃকিন্ত আপনি তো ডায়নিক টেবিল এ বসে খাচ্ছিলেন?
আহানঃ হ্যা কিন্তু হঠাৎ করে আমার ডান হাত টা প্রচুর ব্যথা করছে তাই হাত দিয়ে খেতে পারছিনা
চারুঃ তাহলে খাবারের প্লেট টা নিয়ে আসলেন কিভাবে ব্যথার হাত দিয়ে।
আহানঃ ওই টা তো আমি আমার বাম হাত দিয়ে নিয়ে আসছি। তুমি হয়ত খেয়াল কর নি। ব্যথার কারনে খাবারই খেতে পারলাম না। প্লেট ধরব কিভাবে বল?

তুমি ও সব কথা বাদ দাও তুমি খেয়ে নাও।
চারু আহানের কথা শুনে কি জানি ভাবল। তারপর
চারুঃভাইয়া আপনি কিছু মনে না করলে আমি খাইয়ে দিতে পারি আপনাকে।
আহানঃ না না তোমার কষ্ট করার কি দরকার? ব্যথা কমে গেলে আমিই আমার হাত দিয়ে খেয়ে নিব নে।
চারুঃআরে ভাইয়া আমার কোন কষ্ট হবেনা আপনাকে খাইয়ে দিতে। তাই আপনি এইখানে বসুন আমি খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।

আহান চারুর কথা খুশি হয়ে সোফায় বসে পরে।
আহান চারুর পাশে বসলে চারু আহানকে খাইয়ে দিতে থাকে নিজ হাত দিয়ে সাথে নিজেও খেয়ে নেয়।
আহানঃ ভালোবাসার মানুষ এর হাত দিয়ে খাবার খেতে মজাই আলদা।, আনমনে
সন্ধা বেলা
আবিরঃ দিশা আজ আমার জন্য ক্ষির বানিয়ে দিয়ে তো।

দিশাঃ ইসস আসছে ক্ষির খেতে আমি তো পারলে আপনাকে তেলাপোকা মারার ওষুধ খাইয়ে দেই(ভেংচি কেটে)
আবিরঃ কি তুমি আমাকে তেলাপোকা ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলতে চাও।
চারুঃ ভাইয়া আমি বানিয়ে দিব নে আপনার জন্য ক্ষির আজ।

আবিরঃ সত্যি চারু তুমি বানিয়ে দিবে।
দিশাঃ কোন দরকার নেই চারু এ-ই শয়তানটার জন্য ক্ষির বানানোর।
আবিরঃ এই তুমি বানাবে না মানলাম। চারু বানাতে চাচ্ছে ওকেও মানা করছো কেন। তুমার সম্যসা টা কি
আহানঃ
চলবে
ছায়া হয়ে থাকবো পাশে

পর্ব ৯

আবিরঃ সত্যি চারু তুমি বানিয়ে দিবে?
দিশাঃ কোন দরকার নেই চারু এ-ই শয়তানটার জন্য ক্ষির বানানোর।
আবিরঃ এই তুমি বানাবে না মানলাম। চারু বানাতে চাচ্ছে ওকে মানা করছো কেন?
তুমার সম্যসাটা কি?
আহানঃ আবার শুরু হয়ে গেল দুই জনে।

চারু তুমি রান্না কর তো।
দিশাঃ কি দরকার ভাই রান্না করার। উনি যা বলবে তাই করতে হবে নাকি। এতোই খেতে ইচ্ছে হলে সেই রান্না করে খেয়ে নিক।
আহানঃ উফফ ভাবি আমি ভাইয়ার জন্য বলছিনা আমি আমার নিজের জন্য বলেছি। আমারও ক্ষির খেতে ইচ্ছে করছে অনেক।
দিশাঃ আচ্ছা ভাইয়া তাহলে আমিই বানিয়ে দিচ্ছি।
আবিরঃ এই তোমার রান্না করতে হবেনা ক্ষির। আল্লাহই জানে খাবারের সাথে যদি বিষ মিশিয়ে আমাকে মেরে ফেল। আমি এতো পিচ্চি বয়সে মরতে চাইনা।

দিশাঃওয়াট আপনি পিচ্চি। নাইস জোক
আবিরঃ আমি পিচ্চি নয় তো কি। তুমার মতো বুড্ডি নাকি?
আবির এর কথায় শুনে বেশ রেগে মেগে যায় দিশা
রাগে ঠেলায় আবিরকে কিছু বলতে যাবে চারু চেচিয়ে বলে উঠে —
চারুঃ ভাবি তোমার রান্না করতে হবেনা। আমিই রান্না করব।
আবিরঃ হ্যা চারু তুমি রান্না করো আমার জন্য।

তাছাড়া তোমার হাতের খাবারের সাথে কারো তুলনা হয়না।
দিশাঃ তোকে তো আমি এমন উচিত শিক্ষা দিব আজ।
যে তুই এই দিন জীবনেও ভুলবিনা। (আবির এর দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে)। আনমনে
আচ্ছা চারু তুমিই রান্না কর তাহলে।
তারপর চারু রান্না ঘরে গিয়ে রান্না করতে শুরু করে।

আহান রান্না ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে ওর মোবাইল বের করে একটা গান প্লে করে
hume tumse pyar kitna
Ye hum nehi jante
Magar ji nehi sakte
Tumha re Bina aaa
সেই গানের তালে তালে আহান ও জোরে জোরে গাইতে থাকে।

দিশাঃ কি ভাইয়া কারও প্রেমে টেমে পরলে নাকি(হেসে)
দিশার কথা শুনে আহান পিছনে ঘুরে তাকায়।
আহানঃ উফফ কি লজ্জা ভাবি আমার পিছনে ছিল আর আমি বোকার মতো খেয়াল ও করিনি। আনমনে।
আহানঃ কি যে বলো না ভাবি। আমি তো এমনি গাইছিলাম।
আচ্ছা ভাবি তুমি চারুকে গিয়ে হেল্প কর আমি ভাইয়ার কাছে যাই।
কথাটি বলে চলে আসে আহান সে খান থেকে।

রুমে ভিতরে ডুকে-
ভাইয়া ভাইয়া
আহানঃ এই ভাইয়া কোথায় গেল?।
আচ্ছা ভাইয়া নেই রুমে আমি না হয় এখন ই ওই টেক টিক টা কাজে লাগাতে পারি। দেখি কোন কাজ হয় কিনা?
কথাটি বলে আহান পকেট থেকে কাজলের কৌটাটা বের করে।
কৌটা টা যখনি খুলতে যাবে-
আহানঃ এই সব বাচ্চামি করা কি ঠিক হবে আমার?

কিন্তু আমি তো চারুকে অনেক ভালোবাসি আর ওর জন্য সব পাগলামি করতে রাজি। এইটা তো কিছুই না
চারুর জন্য এ-র চেয়েও বেশি পাগলামি করতে রাজি আছি আমি। কথাটি বলে কৌটা টা খুলতে যাবে-
আহানঃ কিন্তু আমি তো চাই আমি যেমন আছি চারু আমাকে সেই ভাবেই এক্রচেপট করুক। আমার এই ফেস টাকেই ভালো বাসুক। আর আমার বিশ্বাস সেই দিন খুব জলদিই আসবে আমার জীবন এ।

কথাটি বলে আহান কাজলের কৌটা টা ডাস্টবিন এ ফেলতে যাবে সেই মুহূর্তে ওর মোবাইলে কারও ফোন আসলে আহান ভুলক্রমে কৌটা টা ড্রেসিংটেবিল এর উপর ই রেখে চলে যায় রুম থেকে বের হয়ে।
আহানকে ডাকতে দিশা রুমে আসলে খেয়াল করে আহান আবির কেউ রুমে নেই।

তাই দিশা রুম থেকে চলে যেতে নিলে হঠাৎ ড্রেসিং টেবিল এর উপর চোখ পরে ওর। ড্রেসিং টেবিলে কাজলের কৌটা টা হাতে নিয়ে-
দিশাঃ বাচ্চা দের দেওয়া কাজলের কৌটা টা এ-ই খানে আসল কিভাবে কে নিয়ে আসছে?
উফফ যেই নিয়ে আসুক তাতে আমার কি।
কথাটি বলে দিশা রুম থেকে চলে যেতে নিলে।

দিশাঃ ওয়েট দিশা ওয়েট এই কাজল টা তোর কাজে আসতে পারে। আর হয়ত এইটা কারো এখন লাগবেনা তাই এই ভাবে ফেলে রেখেছে এই খানে।
কথাটি বলে চারু কাজলের কৌটা টা নিয়ে চলে যায় রুম থেকে।
দিশা রুম থেকে বের হয়ে রান্না ঘরে আসলে-
দিশাঃ কি চারু ক্ষির রান্না করা হয়ে গেছে তোমার?
চারুঃ জ্বি ভাবি। এখন শুধু সবাইকে বেরে দেওয়া বাকি।

দিশাঃ ওও। তাহলে সেইটা আমি করে নিব নে চারু
এমনিও তুমি রান্না করতে করতে অনেক ক্লান্ত হয়ে পরেছো তাই তোমাকে আর কিছু করতে হবেনা। তুমি যাও আমি ক্ষির টা নিয়ে আসছি সবার জন্য।
চারুঃ না ভাবি আমি ক্লান্ত হই নি সত্যি বলছি।
দিশাঃ চারু। ভাবির কথা শুনবেনা? (কোমড়ে হাত রেখে)
চারুঃ হ্যা গো আমার আদরের ভাবি শুনব তোমার কথা। তুমি নিয়ে আসো তাহলে আমি যাচ্ছি।
তারপর চারু চলে আসে রান্না ঘর থেকে
চারু রান্না ঘর থেকে চলে আসলে।

দিশাঃ আজ মিঃআবির আমাকে অনেক বেশি জ্বালিয়েছে তার পাওনা তো তাকে দেয়াই লাগবে।
কথাটি বলে দিশা একটা ক্ষির এর বাটির উপর এক চামচ মরিচের গুড়া মিশিয়ে দেয়।
হি হি আজ অনেক মজা হবে বলেছিলাম না কাদিয়ে ছারব আজ।
কথাটি বলে দিশা ক্ষির নিয়ে বের হয়ে পরে রান্না ঘর থেকে।

দিশাঃ ক্ষির রেডি
আবিরঃ ইসস যেমন করে বলছে মনে হচ্ছে ক্ষির টা নিজেই বানিয়ে আনছে সবার জন্য (মুখ বাকা করে)।
দিশাঃ আমি না বানালে কি হয়েছে আমি আমার প্রিয় স্বামী কে আজ আমার নিজ হাতে খাইয়ে দিব।
কথাটি বলে দিশা মরিচের গুড়া মিশানো ক্ষির এর বাটিটা নিয়ে আবির এর সামনে গিয়ে আবির কে নিজ হাত দিয়ে খাওয়াতে যাবে –
আবিরঃ না বাবা না। তোমার হাতের কোন কিছুই খাবনা আমি। আল্লাহই জানে কি মিশিয়ে নিয়ে আসছো।

দিশাঃ আপনি কি পাগল আমি কি মিশাব ক্ষির তো চারুই রান্না করছে।
আবিরঃ জানি। কিন্তু আমি অন্য বাটির ক্ষির খাব। তোমার হাতের টা না।
কথাটি বলে আবির অন্য একটা ক্ষির এর বাটি নিয়ে খাওয়া শুরু করে।
একটু পর আহান ডায়নিক টেবিলে আসলে —
আহানঃ কি অবস্থা? সবাই দেখি আমাকে রেখেই ক্ষির খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। থিস ইস নট ফের।

দিশাঃ সবাই না ভাইয়া শুধু তোমার এই রাক্ষস ভাইটা।
আজ আমি বললাম আমি নিজ হাতে খাইয়ে দেই আপনাকে ক্ষির। সে আমাকে কতো গুলা কথা শুনিয়ে দিল(কান্নার মুখ করে)
আবিরঃ ইসস কি ভালোবাসা। নিশ্চয়ই এই ভালোবাসার পিছনে কোন ঘটলা আছে।
আহানঃ আরে ভাবি ভাইয়া তোমরা ঝগড়া করো আর আমিই মজা করে ক্ষির খাই।
কথাটি বলে আহান তাড়াতাড়ি করে দিশার হাত থেকে ক্ষির এর বাটি টা নিয়ে টেবিলে বসে পরে।
দিশাঃ আল্লাহ। বাটিটা আহান ভাইয়া নিয়ে নিল।

এই মরিচ মিক্স করা ক্ষির খেলে তো তার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।
ভাইয়া
বেচারি দিশা আহানকে থামানোর আগেই ক্ষির মুখে দিয়ে দেয় আহান
ক্ষির মুখে দিয়ে –
আহানঃ আল্লাহ আমার এমন লাগছে কেন? মনে হচ্ছে চিনির বদলে মরিচের গুড়া মিক্স করা ক্ষির এ
চারু আহানের মুখের আজব রিয়েকশন দেখে–
চারুঃভাইয়া আপনি ক্ষির খেয়ে এমন রিয়েকশন দিচ্ছেন কেন?

ক্ষির কি মজা হয়নি? (মন খারাপ করে)
আহানঃ ভাইয়া তো স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষিরটা খাচ্ছে তাহলে আমার এমন লাগছে কেন?
উফফ গলা পুরো জ্বলে যাচ্ছে আমার।
কিন্তু চারুকে যদি বলি কিছু ও কষ্ট পাবে অনেক।
তার চেয়ে ভালো ক্ষির টা খেয়েই নেই।

আহান তোকে পারতেই হবে। এইটা তোর ভালোবাসার পরিক্ষা। আর তোকে জয়ী হতেই হবে। আনমনে।
আহানঃ কে বলেছে ক্ষির মজা হয়নি ক্ষির তো অনেক বেশিই মজা হয়েছে যা তুলনার বাইরে। (হাসি মুখে)
দিশাঃ ইস বেচারা ভাইয়া। হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিও আমার জন্য আমার আদরের দেবরটা কষ্ট পাচ্ছে। চারু মন খারাপ হয়ে যাবে বলে কিছু বলছেনা কারো সামনে। ভাইয়া কতো ভালো।
চারুঃ তাহলে ভাইয়া ক্ষির খান। থেমে গেলেন কেন?
আহানঃ হ্যা হ্যা খাচ্ছি।

কথাটি বলে আহান ক্ষির খাওয়া শুরু করে।
যতই ক্ষির খাচ্ছে ততই ওর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে।
আবিরঃ কিরে তুই ক্ষির খেয়ে কান্না করছিস কেন এমন বাচ্চাদের মতো। আর তোর ফেশ টা এমন টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে কেন?
আহানঃ খুশি কান্না ভাই খুশির কান্না। এতো টেস্টি ক্ষির আমি জীবনেও খাইনি। তাই খুশির ঠেলায় কান্না আসছে আমার।
তারপর আহান ক্ষির খাওয়া শেষ করে
তোমরা বসো আমিই একটু আসছি রান্না ঘর থেকে বাটি টা রেখে।
কথাটি বলে আহান তাড়াতাড়ি করে রান্না ঘর এর দিক এ দৌড় দেয়।

রান্না ঘরে গিয়ে-
আহান গলা কাটা মুরগীর মতো ধাপড়াতে থাকে ব্যথার জ্বালায়
গলায় হাত-
আহানঃ উফফ এই চিনি কোথায়। এই মুহূর্তে চিনি না খেলে আমি যে ঝালে মরে যাব।
দিশা রান্না ঘরে ডুকে মধু বের করে আহানের সামনে এগিয়ে দেয়।
দিশাঃ নেন ভাইয়া এইটা খেয়ে নেন জলদি করে।
গলার জ্বালা পোড়া কিছুটা কমবে।

আহানঃ তুমি কি রে বুঝলে?
দিশাঃ আসলে ভাইয়া আমিই একটা ক্ষির এর বাটিতে
মরিচের গুড়া মিক্স করে তোমার ভাইকে
আহানঃ হয়েছে ভাবি হয়েছে আর বলতে হবেনা।
তোমরা যে কি বাচ্চাদের মতো এই ভাবে ঝগড়া করো মাঝখান দিয়ে আমি ফেশে গেলাম।
দিশাঃ সরি ভাইয়া। এই রকম কাজ আর কখনো হবেনা(কানে হাত দিয়ে)।
আহানঃ আচ্ছা ভাবি। তোমাকে সরি বলতে হবেনা।

কথাটি বলে আহান দিশার হাত থেকে মধুর কৌটা টা নিয়ে মধু বের করে খেয়ে নেয়।
আহানঃ উফফ এখন কিছুটা শান্তি পেলাম
ভাইয়া ক্ষির টা খেলে কিন্তু মন্দ হতো না কি বল ভাবি? (হেসে)
দিশাঃ হ্যা এক বারে ঠিক বলেছো। (হেসে)
আবিরঃ আমাকে কি খাওয়ানোর
চলবে

(আমার মোবাইল চার্জ হয় কচ্ছপের গতিতে
আর চার্জ শেষ হয় খরগোস এর গতিতে
আশা করি সবাই বুঝবেন আমার সম্যসাকে। আর পার্ট গুলা বেশি বড় না হওয়ার কারনটাকে। ধন্যবাদ। )

পর্ব ১০

আহানঃ ভাইয়া ক্ষির টা খেলে কিন্তু মন্দ হতো না কি বলো ভাবি? (হেসে)
দিশাঃ হ্যা একবারে ঠিক বলেছো?
আবিরঃ আমাকে কি খাওয়ানোর কথা বলা হচ্ছে শুনি?
দিশাঃ মরিচের গুড়া খাওয়ার কথা বলা হচ্ছিল।

আবির চোখ রাঙিয়ে দিশার দিক এ তাকালে
দিশাঃ ওও সরি সরি। আই মিন মধু খাওয়ার কথা বলা হচ্ছিলো। আহানের হাত থেকে মধুর কৌটা টা নিয়ে।
দিশাঃ এই নাও জানু মধু খাও। মধু খেলে হয়ত তোমার তেতো মুখটা কিছুটা মিষ্টি হবে।
আবিরঃ তাহলে ওইটা তুমিই খেয়ে নাও।
চারু রান্না ঘরে ডুকে
উফফ ভাবি আর কতো ঝগড়া করবে তুমি আর ভাইয়া মিলে। তোমরা আরেক বার বাচ্চাদের মতো করে ঝগড়া করলে আহান আর আমি কিন্তু চলে যাব বাসা থেকে আর আসব না এই বাসায়।

(কথাটি বলার সাথে সাথে চারু ওর মুখে হাত রেখে)
চারুঃ খাইসে ভুলে কি বলে ফেল্লাম আমি?
চারু আহান কে আহান ভাইয়া না ডেকে শুধু আহান ডাকায় বেশ অবাক হয় দিশা আর আবির কিন্তু আহান চারুর মুখ থেকে তার নামটা শুনে তো মহা খুশি
আহানঃ আহ চারুর মুখ থেকে আমার নামটা শুনতে কতো ভালো লাগে(মুগ্ধ হয়ে চারুর দিক এ তাকিয়ে)
আহানঃ আরেকবার বলবা কথাটা।
আমি শুনতে পাইনি ভালো মতো।

চারুঃ আসলে ভাইয়া ভুলে গিয়েছি কি বলেছিলাম।
মনে পরলে বলব নে কি বলে ছিলাম।
ভাবি চল রান্না টা সেরেই নেই।
দিশাঃ হ্যা। এই তোমরা রান্না ঘর থেকে বের হও আমরা লেডিস লোক এখন রান্না করব।
আবিরঃ ইসস ইনার সাথে এই খানে দাড়াতে যেন আমার বয়েই যাচ্ছে।
কথাটি বলে চলে যায় আবির রান্না ঘর থেকে।

আহান এখনো রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে থাকলে-
দিশাঃ কি দেবরজি। আপনাকে কি আলাদা করে বলতে হবে নাকি যাওয়ার জন্য।
আহানঃ আরেকবার আহান বলে ডাকলে কিই বা হতো তোমার। (চারুর দিক এ তাকিয়ে) আনমনে।
দিশাঃ হায়রে কার সাথে কথা বলছি আমি। এই যে ডাক্তার সাহেব আপনি কোন দুনিয়ায় আছেন।
আহান দিশার কথা শুনে চারুর দিক থেকে মুখ সরিয়ে দিশার দিক এ তাকিয়ে।
আহানঃ জ্বি ভাবি যাচ্ছি। এতো চেচিয়ে বলার কি দরকার।

কথাটি বলার সাথে সাথে আহান রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে পরে।
দিশাঃ দুই ভাই একই নৌকার মাঝি। (হেসে)
চারুঃঠিক বলেছো ভাবি। কিন্তু আহান ভাইয়া কিছুটা আজব। মাঝে মাঝে তার কাজকর্ম কথাবার্তা কোন কিছুই আমার এই ছোট মাথা টায় ঠুকে না।
দিশাঃ তাই নাকি। তাহলে এই ছোট মাথায় জোর দিতে যেয়োনা। তাকে বুঝতে গেলে যদি তার প্রেমে পরে যাও(হেসে)
চারুঃআমি আবার তার প্রেমে কি যে বলোনা ভাবি তুমি।
দিশাঃ দোষ এর কি বললাম? তোমার আর ভাইয়ার জুটি টা কিন্তু সেই মানাবে চারু। নাম্বার ওয়ান জোরি।
চারুঃওরে বাবা রে। নাম্বার ওয়ান জোরি
তা আবার আমার আর আহান ভাই এর।

বুঝতে পারসি ভাবি ভাইয়ার সাথে সারা দিন ঝগড়া করতে করতে তোমার মাথা পুরো গিয়েছে।
তাই এই সব আজগবি কথা বের হচ্ছে তোমার মুখ দিয়ে।
দিশাঃ দেখে নিও তুমি এক দিন ভাইয়ার প্রেমে পরবা (হেসে)
চারুঃ আমি তার প্রেমে পরব? (অবাক হয়ে)
দিশাঃ জাস্ট পরবেই না। সাতার ও কাটবে দেখে নিও(হেসে)
চারুঃ উফ ভাবি রাখো তো তোমার এই সব কথা এখন।
চল রান্না টা সেরে নেই জলদি করে।

দিশাঃ যো হুকুম মেরে আকা(হেসে)
তারপর দুই জন মিলে রান্না সেরে আহান আর আবির কে ডাক দেয় খাবার টেবিল এ
আহান আর আবির ডায়নিং টেবিল এ আসলে
আবির গিয়ে চারুর পাশে বসতে নেয়। তখনই আহান চেচিয়ে বলে উঠে ওই সিট টা আমার।
সবাই বেশ অবাক চোখে তাকায় আহানের দিক এ
আহান আবির কে চারুর পাশ থেকে সরিয়ে দিশার পাশে বসিয়ে দেয়।

আহানঃ তোমাদের দুইজনকে বেশ মানায় এক সাথে। তাই তোমরা দুই জন পাশা পাশি বসো।
তারপর আহান চারুর পাশে গিয়ে বসে পরে।
আবির আর দিশা অবাক হয়ে আহানের দিক এ তাকালে।
আহানঃ আমার দিক এ এই ভাবে না তাকিয়ে খাওয়ার প্রতি মনযোগ দাও তোমরা।
আহান খাবারটা মুখে দিতে যাবে।

আহানঃ আ
সবাই খাওয়ার ছেড়ে আহানের দিক এ তাকায়।
দিশাঃ কি হয়েছে ভাইয়া। তুমি খাওয়ার মাঝ খান দিয়ে এই ভাবে চিল্লিয়ে উঠলে কেন?
আহানঃ আসলে ভাবি আমার হাতটা ব্যথা করছে। তাই হাতটা দিয়ে খেতে পারছিনা। (অসহায় মুখ করে)
চারুঃ ভাইয়া আপনার আবারও ব্যথা করছে?
দিশাঃ আবারও মানে?

চারুঃ হ্যা ভাইয়ার দুপুরে ব্যথা করছিল।
দিশাঃ সে কি তাহলে তুমি ক্ষির কিভাবে খেলে নিজ হাত দিয়ে।
দিশার কথা শুনে চারু আহানের দিক এ সন্দেহ চোখে তাকায়।
আহানঃ তখন ব্যথাটা কমে গিয়েছিল। এখন আবার ব্যথা করছে।
দিশাঃ তাহলে আসেন ভাইয়া আমি খাইয়ে দেই।
আবিরঃ ইসস আমাকে কেউ ভালোই বাসেনা(মুখ গোমড়া করে।
আহানঃ কিন্তু তুমি কিভাবে খাইয়ে দিবে। তুমি কোথায় বসেছো আর আমি কোথায় বসেছি?
দিশাঃ আচ্ছা চারু তুমি তো ভাইয়ার পাশে বসে আছো তুমিই না হয় খাইয়ে দাও ভাইয়াকে।
চারুঃ আমি?

আহানঃ না থাক ভাবি চারুর কষ্ট করা লাগবেনা।
আমি না হয় ব্যথা কমে গেলে খেয়ে নিব নিজ হাত দিয়ে।
চারুঃ না ভাইয়া পরে খেতে হবেনা। আমার কোন সম্যসা নেই আপনাকে খাইয়ে দিতে।
আর ভাবি তুমি আবির ভাইয়াকে খাইয়ে দাও।
দেখনা কিভাবে মুখ গোমড়া করে বসে আছে।
দিশাঃ আচ্ছা।
তারপর দিশা আবিরকে আর চারু আহানকে খাইয়ে দিতে থাকে।

খাবার এর শেষ লোকমাটা খাওয়ার সময় আবির ইচ্ছা করে দিশার হাতে কামড় বসিয়ে দেয়।
দিশাঃ উফ গেল রে আমার হাত টা।
এই আপনি আমার হাতে এই ভাবে কামড় দিয়ে বসলেন কেন?
আবিরঃ আমি কি ইচ্ছে করে দিয়েছি নাকি?
দিশাঃআমি জানি আপনি ইচ্ছা করেই কামড়টা দিয়েছেন আমায়।
আবিরঃ তাহলে তোমার জানাটা ভুল।
আহানঃ আল্লাহ আবারও শুরু হয়ে গেল
দিশাঃ উফ ভাইয়াকে তো বলেছিলাম ঝগড়া করব না।

তাই ভালো ভালোই চুপ হয়ে যাই এখন।
বাট তাকে তো আমি উচিত শিক্ষা দিবই(ডেভিল হাসি হেসে)। আনমনে
দিশাঃ আচ্ছা ভাইয়া আর কিছু বলবোনা আমি।
আপনাদের খাওয়া শেষ তো ঘুমিয়ে পরুন গিয়ে
আর আমি আর চারু খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাব।
দিশার কথা শুনে আবির আর আহান চলে যায় ঘুমাতে।

তারপর দিশা আর চারু ডিনার করে নেয় এক সাথে।
ডিনার শেষ করে ওরা রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
একটু পর দিশা ঘুম থেকে উঠে চারুর দিক এ তাকিয়ে
দিশাঃ দেখে তো মনে হচ্ছে চারু ঘুমিয়ে গেছে। যাই আমার কাজটা সেরে আসি গিয়ে।
তারপর দিশা আস্তে আস্তে মাটিতে পা ফেলে
আহান আবির এর রুমে সামনে দাঁড়িয়ে ওদের রুমে দরজা খোলা পেয়ে
উফ আজ দেখি আমার ভাগ্য আমার সাপোর্টে।

উফ লাইট টাও দেখি জালানো নেই।
ভালো হয়েছে বুদ্ধি করে মোবাইল টা সাথে করে নিয়ে আসছি। তারপর মোবাইল এর ফ্লাসলাইট টা অন করে আসতে আস্তে রুমে প্রবেশ করে দিশা।
আবির এর সামনে গিয়ে-
দিশাঃ ইস কি শান্তি ঘুম দিচ্চে গো। অনেক শান্তিতে ঘুমানো হচ্ছে তাইনা। কতো মাসুম লাগছে আমার বেবিটাকে। আরও সুন্দর লাগানো জন্য আমি নিজ হাতেই মেকাপ করে দিব এখন। (ডেভিল হাসি হেসে)
কথাটি বলে দিশা আবির এর মুখে কিছু একটা মেখে তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে পরে ওও।
সকালে আহান ঘুম থেকে উঠে আবিরকে দেখে জোড়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। বেচারা আহান এতো টাই ভয় পায় যে আবিরকে দেখে ভয়ে মাটিতে পরে যায় বিছানা থেকে।

আহানের চিৎকার শুনে আবির এর ঘুম ভেঙে যায়।
সাথে চারু আর দিশাও রুমে এসে পরে ওর চিৎকার শুনে।
আবিরঃ কিরে আহান এইভাবে চিল্লাছিস কেন সকাল সকাল।
আবিরকে দেখে চারু আর দিশা তো হেসে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
আবিরঃ এই তোমরা পাগলের মতো হাসছো কেন।
পাগল হয়ে গেলে নাকি?
চারুঃ ভাইয়া আমরা এমনি এমনি হাসছিনা। আপনি
কষ্ট করে আয়নায় নিজের মুখ টা দেখুন।

আবির চারুর কথা শুনে আয়নায় নিজের মুখ দেখে জোড়ে চিৎকার দিয়ে উঠে।
আবিরঃ এইটা কে। আই মিন আমার এই হাল কিভাবে হলো। পুরো ফেশ টা কালি দিয়ে মাখা। আমার এই সুন্দর ফেশ টার এই অবস্থা কেমন করে হল? (কান্নার কণ্ঠে)
দিশা আবির এর কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে।
আবিরঃ এইটা নিশ্চয়ই তুমি করেছো আমার সাথে।
দিশাঃ হা হা প্রমান আছে কোন।

আবিরঃ দাঁড়াও প্রমান দিচ্ছি তোমাকে।
তারপর আবির দিশার পিছু ছুটতে থাকে। আর দিশাও দৌড়াতে থাকে। শেষ মেষ দিশা আহান আর চারু পিছনে গিয়ে লুকালে-
আবির দিশাকে আহান আর চারুর পিছন থেকে ধরতে গেলে
ভুলক্রমে ধাক্কা লেগে আহান চারুর উপর গিয়ে পরে।

ফ্লোরে আহান চারুর উপর এই ভাবে পরে যাওয়ায়
দিশা আর আবির ওদের ঝগড়া বন্ধ করে আহান আর চারুর দিক এ তাকিয়ে থাকে।
আহান চারু উপর থেকে না উঠে বরং ওর
চোখে অপলক দৃশটিতে চেয়ে থাকে।
চারুঃ ভাইয়া আমার উপর

পর্ব ১১

চারুঃ ভাইয়া আমার উপর থেকে উঠেন জলদি করে। (চেচিয়ে)
আহান চারুর কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে ওর উপর থেকে উঠে পরে।
আহানঃ সরি সরি।
আহান চারুর উপর থেকে উঠে চারুর দিক এ হাত বারিয়ে দেয়
আহানঃ নাও হাতটা ধরো আর উঠো জলদি করে। কতক্ষন এই ভাবে ফ্লোরে শুয়ে থাকবে (হেসে)
আহানের কথা শুনে চারুর চরম রাগ পায়।
চারুঃদরকার নেই আপনার হাতের আমি নিজের থেকেই উঠতি পারি।
কথাটি বলে চারু নিজেই ফ্লোর থেকে উঠে পরে।

আহানঃ বাবা গো বাবা কি তেজ এই টুকু মেয়ের।
দিশাঃ ইসস রে আমাদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে দেখি তোমরাই ঝগড়া করছ এখন।
আহানঃ ভাইয়া দয়া করে তাড়াতাড়ি মুখ টা গিয়ে ধুয়ে আসুন।
না হলে যে কেউ তোমার এই ফেস টা দেখে বেহুস হয়ে পরবে(হেসে)।
আবিরঃ বেশি হাসিস না। এক দিন আমারও সময় আসবে আমিও সেই দিন শোধ উঠাব গুনে গুনে।
আহানঃ আচ্ছা ভাইয়া উঠিয়ে নিও। (হেসে)।

আবিরঃ আমার এই সুন্দর ফেস টা কি হয়ে গেল(কান্নার কন্ঠে)
আবিরকে এমন কান্না করতে দেখে আহান দিশা আর চারু হেসে উঠে জোড়ে জোড়ে।
ওদের হাসি দেখে আবির এর মেজাজ বেশ গরম হয়ে পরে। আর সে বিড় বিড় করতে করতে চলে যায় ওয়াসরুমে নিজের মুখ ধুতে।

দুপুরে খাবার এর শেষ এ
আহানঃ ভাইয়া কাল তো আমরা চলে যাব বাসায়।
তাই সবাই মিলে কোথায় গিয়ে ঘুরে আসি কি বল?
আবিরঃ আমার মনের কথা বললি রে ছোট।
আজ তাহলে আমরা সবাই মিলে বাইরে গিয়ে কোন মুভি দেখে আসব নে
আহানঃ গুড আইডিয়া ভাইয়া।
আবিরঃ আচ্ছা তাহলে সবাই জলদি করে রেডি হয়ে নাও।

তারপর সবাই মিলে রেডি হতে শুরু করে যে যার মতো
আহান একটা ব্লাক জিন্স তার সাথে ওয়াইট কালারের একটা শার্ট পরে রেডি হয়ে নেয়।
আহান রেডি হয়ে নিয়ে
চারুর রুমে পাশ দিয়ে যেতে নিলে চারুর কন্ঠ ওর কানে ভেসে উঠে।
চারুঃভাবি ভাবি
আহান চারুর ডাক শুনে থেমে যায়।
রুমের সামনে গিয়ে দেখে চারু রোবট এর মত দাঁড়িয়ে আছে রুমের এক কোনায়।

রুমে ভিতরে প্রবেশ করে
আহানঃ কিছু লাগবে চারু। ভাবি তো মনে হয় ভাইয়ার সাথে ড্রয়িং রুমে। তুমি আমাকে বল?
চারুঃ না ভাইয়া লাগবেনা।
আহানঃ তুমি বলবে? নাকি থাপ্পড় খাবে আমার হাতে(রেগে)
চারু বেশ ভয় পেয়ে যায় আহানের বকা খেয়ে।
আহানঃ ইসস ভয় পেয়ে গেছে আমার পরীটা। আমি তো জাস্ট এমনি ওকে ভয় দেখানোর জন্য বলছি।
আর ও ভাবচ্ছে আমি সত্যি সত্যি ওকে থাপ্পড় দিব
আনমনে।

চারুঃ আসলে ভাইয়া আমার জামার চেইন টা লাগাতে পারছিনা। তাই ভাবিকে ডাকছিলাম চেইন টা লাগিয়ে দেওয়ার জন্য।
আহানঃ কিন্তু ভাবি তো এখন ব্যস্ত। দাও আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।
চারুঃ কি আপনি (চমকে)
আহানঃ আরে বাবা আমি চোখ বন্ধ করে লাগাব তুমি টেনশন নিয়ো না।
চারুঃ না লাগবেনা।
আহানঃ আচ্ছা তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
আহান চলে যেতে নিলে-
চারুঃ আচ্ছা। লাগান (মুখ বাঁকা করে)
আহানঃ পিছনে তো ঘুরো। না ঘুরলে লাগাবো কিভাবে।

চারু আহানের কথা শুনে পিছনে ঘুরে।
চারু পিছনে ঘুরলে আহান চারু কাছে এসে
চোখ বন্ধ করে চেইন টা লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে
চারুঃ আরে এতো ক্ষন লাগে একটা চেইন লাগাতে।
আহানঃ আরে বাবা বন্ধ চোখ দিয়ে চেইন টা তো খুজেই পাচ্ছিনা আমি।
দাড়াও দাড়াও পেয়েছি।
বহু কষ্টে আহান চেইনটি হাতে নাগালে পেয়ে তাড়াতাড়ি করে লাগিয়ে দেয়।
চারুঃ হইসে?

আহানঃ হুম বাবা হয়েছে।
চোখ খুলতে পারব এখন?
চারুঃ হ্যা পারবেন। চোখ খুলে খোলা চোখ দিয়ে এখন বিদায় হন রুম থেকে। আমার আরেকটু সময় লাগবে রেডি হতে।
আহানঃ হায়রে মেয়ে মানুষ এর যে কেন এতো সময় লাগে রেডি হতে আল্লাহই জানে। আচ্ছা তুমি আটা ময়দা মেখে আসো জলদি করে আমি যাচ্ছি।
আহানের কথা শুনে
চারু রেগে গিয়ে বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে আহানের উপর ছুড়ে মারে।

কিন্তু আহান বালিশটি সাথে সাথে ধরে ফেলে
আহানঃ আল্লাহ আমার উপর বালিশ ফেলে মেরে ফেলতে চাইছো আমাকে।
এই বালিশ টা আমার উপর পরলে তো আজ আমি মারাই যেতাম(হেসে)
চারুঃ। হয়েছে আপনার বক বক। এখন বের হন রুম থেকে।
আহানঃ যাচ্ছি যাচ্ছি।
কথাটি বলে আহান ওর হাতের বালিশটি চারুর উপরে মেরে চলে যায় রুম থেকে।

আহান চারুর উপর বালিশ মারায় বালিশ টা সোজা গিয়ে চারুর মাথা গিয়ে লাগে।
চারুঃ উফফ রে দিল রে। (মাথায় হাত দিয়ে)
শয়তানটা। দেখতে যতটা সাধু দেখতে ততটা নয়। ভাবি আজিরাই তার সুনাম গাইছিলেন ও দিন।
উফফ চারু তার কথা বাদ দে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।
দেরি হলে বলবে আটা ময়দা মাখতে গিয়ে লেট করেছি।
তারপর চারু নিল ড্রেস এর সাথে ম্যাচিং করে ইয়ারিং আর হাতে নীল কাচের চুড়ি পরে নেয়।
আর ওর লম্বা লম্বা চুল গুলা ছেরে দেয় কোমড় অবধি।

কিছু ক্ষন পর দিশা রুমে আসলে-
দিশাঃ কি ব্যপার চারু সুন্দরী আজ দেখি আপনাকে অতি মাএায় সুন্দর লাগছে।
যে কেউ দেখলে প্রেমে টেমে পরে যেতে পারে।
যে কেউ কেন আহানভাইয়াই পরতে পারে।
চারুঃউফ ভাবি নট এগেন। তুমার পাগল দেবর এর সাথে কোন পাগলি মেয়েই মানাবে। তাই কোন পাগলি মেয়ে খুজে বিয়ে দিয়ে দাও তোমার আদরের দেবরকে।
আবির আর আহান রুমে এসে।
আবিরঃ কি গল্প হচ্ছে তোমাদের
মধ্যে?

চারুঃ কিছুনা ভাইয়া। (চেচিয়ে)।
দিশাঃ বলে দিব চারু কি বলছিলে?
চারুঃচলেন ভাইয়া লেট হয়ে যাচ্ছে তো। (কাঁপা কণ্ঠে)।
আবিরঃ হ্যা চল।
তারপর সবাই মিলে রওনা দেয়।

গাড়িতে উঠতে নিলে দিশা গিয়ে গাড়ির পিছনের সিট এ বসে পরে। সাথে চারু ও পিছনে গিয়ে বসতে নিলে-
আহানঃ এই চারু মিয়া বিবির মধ্যে কাবাব মে হাড্ডি হওয়ার অনেক শখ আছে নাকি?
চারু গাড়ি দরজা খুলতে যাবে থেমে যায় আহানের কথা শুনে আর অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আহানের দিক এ।
আহানঃ হায়রে আমার দিক এ এই ভাবে না তাকিয়ে ভাইয়াকে ভাবির সাথে পিছনে বসতে দাও আর তুমি সামনে এসে বস।
আবিরঃ তোর না হাত ব্যথা আহান
পারবি গাড়ি চালাতে।

আহানঃ হ্যা ভাইয়া। এখন ব্যথা নেই। তাই পারব আমি গাড়ি চালাতে তুমি বস গিয়ে দিশা ভাবির সাথে।
আহানের কথা শুনে আবির গিয়ে দিশার পাশে বসে পরে।
আহানঃ এই যে চারু আপনি কি উঠবেন নাকি এই খানে দাড়িয়ে থাকবেন?
চারুঃ উঠছি তো এই ভাবে চিল্লিয়ে বলার কি দরকার।
মাইক এর মতো একটা গলা তার উপর চিল্লিয়ে কথা বলে আমার কানের বাইশ টা বাজিয়ে দিচ্ছে।
আহান চারুর কথা শুনে জোড়ে হেসে উঠে।

বাইশ টা হয়না গো হয় বারো টা।
চারুঃ আমার ইচ্ছা। আমি বারো টাকে বাইশ বানাই বারোশ বানাই তাতে আপনার মাথা ব্যাথা কেন
আহানঃ না মহারানি আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এখন মেহেরবানি করে ঝগড়া না করে গাড়িতে উঠে আমাকে উদ্ধার করুন।
চারু আহানের কথা শুনে আহানের দিক এ তাকিয়ে একটা ভেংচি কেটে উঠে পরে গাড়িতে।
চারু এমন কান্ড দেখে বেশ হাসি পায় আহানের।
হাসতে হাসতে আহান ও গাড়িতে উঠে পরে।

আহানঃ এই যে আটা ময়দা সুন্দরি সিট বেল্ট টা লাগাও।
চারুঃ কি আমি আটা ময়দা সুন্দরি। (রেগে)
আহানঃ আজ আপনাকে বেশি সুন্দর লাগছে তাই ভাবলাম আটা ময়দার কামাল।
চারু আহানের কথা শুনে রাগে ফোসতে থাকে।
আহানঃ আহহ। ভালোবাসার মানুষ টাকে রাগাতে আর তার রাগানো ফেস দেখতে যে কত ভালো লাগে।
রাগলে আমার পরীটার সৌন্দর্য হাজারো গুন বেড়ে যায়।

তাই তো রাগানোর জন্য এই সব কথা বলি তোমাকে। রাগলে পুরোই চকলেট এর মতো লাগে তখন মন চায় খপ করে খেয়ে ফেলি পরী টাকে।
আনমনে।
আহান খেয়াল করল চারু সিট বেল্ট না লাগিয়ে উল্টা রাগ করে বসে আছে।
আহান নিজেই চারুর কাছে এসে সিট বেল্ট লাগাতে নিলে।
চারুঃ এইকি করছেন?

আহানঃ আরে বাবা কি করছি জাস্ট সিট বেল্ট টাই তো লাগাচ্ছি। সিট বেল্ট টা লাগিয়ে আহান সরে বসে চারু কাছ থেকে।
আহানঃ কেন তুমি কি ভাবছিলে। (চোখ টিপ দিয়ে)
চারুঃ আমি কিছুই ভাবি নি।
উফ সে আমার কাছে আসায় আমার নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছিল।
আবিরঃ কথা বন্ধ করে তাড়াতাড়ি গাড়ি চালাও।
আমি মুভির একটা সিন ও মিস করতে চাইনা।

আহান আবির এর কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে গাড়ি ইস্টাট দিয়ে গাড়ি চালাতে থাকে আপন মনে।
গাড়ির দরজার গ্লাস খোলা থাকায় বাইরে থেকে আসা বাতাসে চারুর চুল গুলো উড়তে থাকে আপন মনে।
আর চুল গুলা উড়ে বার বার বারি খায় আহানের মুখের কাছে এসে
আহান তা বেশ উপভোগ করছে।
কিছুক্ষন পর সিনেমা হলে পৌছালে তাড়াতাড়ি করে টিকেট কেটে পপকন কিনে চলে যায় ওরা হলের দিক এ।
চারু দিশার পাশের সিট এ বসতে নিলে।
আহানঃ ওই তুমি ওখানে বসলা কেন? আমার পাশে বস
চারু আহানের কথা শুনে অবাক হয়ে চেয়ে থাকে।

আহানঃ আই মিন ভাইয়াকে ভাবির পাশে বসতে দাও।
চারু আহানের কথা শুনে কোন কথা না বাড়িয়ে আহানের সিট এর পাশে গিয়ে বসে পরে।
মুভি শুরু হলে দিশা আবির চারু মুভি দেখার মধ্যেই ডুবে থাকে।
কিন্তু আহান টিভির পর্দায় দিক এ না তাকিয়ে চারুর দিক এ তাকিয়ে আছে পলকহীন চোখে।
বিষয়টি চারু খেয়াল করলে –
চারুঃ এই আপনি আমার দিক এ এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

আহানঃ কই আমি তো মুভি দেখছিলাম। কথাটি বলে চারুর থেকে চোখ সরিয়ে নেয় আহান
মুভি তে একটা ভয়ানক সিন আসলে চারু ভয়ে আহানের হাত শক্ত করে ধরে বসে।
আহানঃ ইস এই হাতটা যে কবে ধরবে ভালোবেসে।
আনমনে
সিনটা শেষ হলে চারুর হুশ আসে যে সে এতোক্ষন ধরে আহানের হাত ধরে বসেছিল।
তাই তারাতারি করে আহানের থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নেয় চারু।
মুভি শেষ হলে ওরা তাড়াতাড়ি করে হল থেকে বের হয়ে আসে।
সবাই গাড়ি তে উঠে পরলে আহান গাড়ি চালাতে থাকে আপন মনে।
হঠাৎ চারু চেচিয়ে বলে উঠে হাওয়াই মিঠায়।

আহান চারু চিৎকার শুনে গাড়ি ব্রেক করে।
আহানঃ কি?
চারুঃ কিছুনা।
আহানঃ বলবে নাকি মাইর খাবে?
চারুঃ আসলে হাওয়াই মিঠাই ছিল ওখান। (বাইরের দিক এ ইশারা করে)
আমার খেতে ইচ্ছে করছে।

দিশাঃ আরে চারু পরে খেয়ে নিও।
এখন আবার গাড়ি থামালে সম্যসা হবে। দেখো না এইখানে গাড়িগোড়া কত। আমার ভাইটাকে যদি উড়িয়ে নিয়ে যায় (হেসে)
আবিরঃ সব সময় ফাজলামো করা ভালো না দিশা(রেগে)
দিশা আবিরের কথা শুনে মাথা নিচু করে বসে থাকে।
আহানঃ উফ ভাবিকে বকোনা তো ভাইয়া।
আহানঃ দাড়াও আমি নিয়ে আসি।

কথাটি বলে আহান গাড়ি এক সাইড এ থামিয়ে রাখে আর বের হয়ে পরে হাওয়াই মিঠাই কিনতে।
পাচমিনিট গাড়িতে অপেক্ষা করার পর
চারুঃহায়। ভাইয়া দেখি তার ওয়ালেট টা গাড়িতেই রেখে গেছে ভুলে। তাহলে সে টাকা কিভাবে দিবে।
চারুঃ আমি গিয়ে দিয়ে আসি তাকে।
কথাটি বলে গাড়ির দরজা খুলে চারু ওয়ালেট টা হাতে নিয়ে বের হয়ে পরে গাড়ি থেকে।
আবির ওকে থামাতে যাবে সেই সুযোগটাও দেয়নি চারু।
হুট করেই বের হয়ে পরে গাড়ি থেকে।

আবিরঃ ইস দুইজন কি পাগল। এই জায়গা টায় হাটাচলা করা কতো টা রিস্কি। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
একটু সামনে গিয়েই চারু আহানকে দেখতে পায়।
চারুঃ ভাইয়া আমি এ দিক এ। আপনি আপনার ওয়ালেট রেখে গেছেন (নিজের হাত তুলে)
আহান চারুকে দেখতে পেয়ে।
আহানঃ এই তুমি গাড়ি থেকে বের হলে কেন।

ওই খানেই দাড়াও। আমি আসছি তোমার কাছে এক পাও নড়বেনা।
চারুঃ না ভাইয়া আমিই আসছি। কথাটি বলে চারু আহানের কাছে যেতে নেয়
চারুর সামনে দিয়ে একটা গাড়ি আসতে থাকে দ্রুতগতিতে।

বিষয়টি চারু খেয়াল না করলেও আহান খেয়াল করে।
গাড়ি এসে চারু সাথে ধাক্কা লাগার আগেই আহান দৌড়ে এসে চারুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
যার কারনে গাড়িটির সাথে আহান ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পরে রাস্তার এক পাশে
চারু দৌড়ে গিয়ে

পর্ব ১২

গাড়ি এসে চারুর সাথে ধাক্কা লাগার আগেই আহান দৌড়ে এসে চারুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
যার কারনে গাড়িটির সাথে আহান ধাক্কা খেয়ে ছিটকে
পরে রাস্তার এক পাশে।
আহানের পরে থাকা সাদা শার্ট টি রক্তে লাল হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যেই।

নিজ চোখ কে কোন ভাবেই বিশ্বাস করাতে পারছেনা চারু।
হতভম্ব হয়ে বসে আছে রাস্তার এক পাশে।
আর ওর চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পরছে আহান কে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে।
আশেপাশে হইচই শুরু হলে হুস আসে চারুর।
আশে পাশের মানুষ ঘেরাও করে আহানকে দেখতে থাকে। অথচ ওকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।
চারু দৌড়ে গিয়ে আহানের কাছে পৌছায়।

আহানের হাতে হাত রেখে–
চারুঃ ভাইয়া আপনার কিছুই হবেনা। কিছুই হতে দিব না আমি। আপনি ঠিক হয়ে যাবেন (কান্না করতে করতে)
আহান নিজের রক্তাক্ত হাত দিয়ে চারুর গালে হাত রেখে-
আহানঃ তুই ঠিক আছিস তো চারু? কোথাও লাগেনি তো তোর? আমি মারা গেলে মিস করবি তো আমাকে?
চারুঃভাইয়া প্লিজ বন্ধ করুন এসব কথা।

আপনার কিছুই হবেনা। কিছুইনা(কান্না করে)
আহানঃ কেন জানি মনে হচ্ছে এইটাই আমাদের বলা শেষ কথা।
কথাটি বলতে বলতে নিজের চোখ বুজে নেয় আহান।
আহান চোখ বুঝে নেওয়ায় চারু আহান বলে চিৎকার দিয়ে উঠে।
চারুঃপ্লিজ কেউ একটু হেল্প করুন আমাকে।
(সকলের সামনে নিজের হাত জোড় করে)
কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনা চারুকে সাহায্য করতে।

সকলেই দাঁড়িয়ে শুধু তামাশা দেখে যাচ্ছিল।
চারুঃ এই খানে কি কেউ নেই আমাকে সাহায্য করার মতো। প্লিজ কেউ আমাকে হেল্প করুন তাকে বাচাতে(কান্না করে)
ভিড়ের মাঝখান থেকে কেউ একজন বলে উঠে –
আপু আমি এম্বুলেন্স এর জন্য কল করেছি কিছুক্ষন এর মধ্যেই তারা চলে আসবে।
আপনি একটু শান্ত হন।

ওদিক গাড়িতে দিশা আর আবির বাইরে হইচই শুনতে পেলে
আবির গাড়ি দরজার গ্লাস খুলে একজন কে ডেকে জিজ্ঞেস করে।
আবিরঃ হ্যালো excuse me ভাইয়া। বাইরে এতো হইচই কেন?
লোকটিঃএকটা ছেলে গুরুত্বর ভাবে এক্রিডেনট করেছে।
কি যেন নাম বলল মেয়েটা চিৎকার দিয়ে?
ও হ্যা মনে পরেছে আহান। আহান নামের এক ছেলের এক্রিডেনট হয়েছে।
কথাটি বলে চলে যায় লোকটি।

দিশাঃ কি ভাইয়ার(কান্না জড়িত কন্ঠে)
আবিরঃ দিশা নিশ্চয়ই লোকটা ভুল কিছু শুনেছে।
দিশাঃ প্লিজ আবির আমার মন বলছে কোন বড় একটা অঘটন ঘটেছে।
তাই দেরি না করে চল যাই দেখে আসি। কি হয়েছে।
আবিরঃ হ্যা চলো।
কথাটি বলে আবির আর দিশা তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে পরে।
রাস্তায় একটা লোক কে থামিয়ে –
আবিরঃ ভাইয়া কারো নাকি এক্রিডেনট হয়েছে।

বলতে পারবেন কোথায়?
লোকটিঃ সামনে গেলেই দেখতে পাবেন। মনে হয়না ছেলেটি বাচবে।
লোকটির কথা শুনে কাপতে থাকে আবির।
দিশাঃপ্লিজ সামলাও আবির নিজেকে।

আর তাড়াতাড়ি চল আমার কেন জানি অনেক বেশি ভয় করছে।
আবির দিশার কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে হাটতে থাকে সামনের দিক এ
দিশাও আবির এর পিছনে যেতে থাকে।

একটু সামনে যেতেই অনেক মানুষ এর ভিড় দেখতে পায় ওরা। ভিড় কাটিয়ে সামনে গিয়ে দেখে আহান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পরে আছে আর চারু ওর পাশে বসে অঝোরে কান্না করছে।
নিজের আদরের ভাইকে এমন রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে আবির থপাস করে মাটিতে বসে পরে আর আহান বলে চিৎকার দিয়ে উঠে।

চারু আবির আর দিশাকে দেখতে পেলে-
চারুঃ ভাবি ভাইয়া দেখো না ইনি চোখ খুলছেন না।
বল না তাকে উঠতে।
আপনার কথা তো ঠিকই শুনবে ভাইয়া।
প্লিজ একবার তাকে উঠতে বলেন।

এম্বুলেন্স চলে আসলে —
দিশাঃ আবির চারু প্লিজ তোমরা শক্ত হও। এই সময় এইভাবে ভেঙে পরলে চলবেনা। ভাইয়াকে তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।

দিশার কথা শুনে আবির তাড়াতাড়ি করে উঠে পরে।
এম্বুলেন্সে আহানকে উঠানো হলে চারু আর দিশা আহানের সাথে বসে আর আবির ড্রাইভার এর সাথে বসে।
চারু আহানের হাত ধরে-
আহান আপনার কিছুই হবে না। খুব শীঘ্রই আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
কথাটি বলার সময় চারুর চোখ বেয়ে জল পরতে থাকে আর সেই জলের ফোটা গুলো গড়িয়ে পরে আহানের রক্তাক্ত হাতে।
দিশাঃ প্লিজ ধৈয ধর চারু। এই ভাবে ভেঙে পরলে চলবেনা। আমাদের এই সময় সবাইকে শক্ত থাকতে হবে।
চারুঃ কিভাবে শক্ত থাকি ভাবি। আমার ভুলের জন্যই তো তার আজ এই অবস্থা। দেখোনা কিভাবে নিরব হয়ে পরে আছে।
দিশাঃ উফ চারু তোমার জন্য কিছুই হয়নি।
আমাদের ভাগ্যে যা লিখা থাকে তা তো হবেই।

তুমি দেখো আল্লাহ আহান ভাইয়ার কোন ক্ষতি হতে দিবেনা।
দিশার কথা শুনে চারু দিশাকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।
কিছুক্ষন এর মধ্যে ওরা হসপিটালে পৌঁছালে আহানকে তাড়াতাড়ি করে অপারেশন থিয়েটার এ নিয়ে যাওয়া হয়।
আবির তাড়াতাড়ি করে ওর বাবা মাকে ফোন৷ দিয়ে সব ঘটনা খুলে বলে।
আহানের এক্রিডেনট এর কথা শুনে হসপিটালে দৌড়ে চলে আসেন মিরাজ সাহেব আর মিসেস সাবিনা।
হসপিটালে এসে আবিরকে তারা দেখতে পেলে–
সাবিনাঃ আবির আমার ছেলে এখন কেমন আছে।

কিভাবে হল এইসব (কান্না করতে করতে)
চারুঃভাইয়ার আজ এই অবস্থা শুধুই আমার জন্য হয়েছে। আমার ভুলের জন্য।
দেয়ালে এক পাশে গা হেলিয়ে বলতে লাগল চারু।
চারুর কথা শুনে মিসেস সাবিনার রাগ চরম পর্যায় গিয়ে পৌছায়।
আর তিনি রাগের মাথায় জোড়ে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে বসে চারুর গালে।
সাবিনাঃ অলোক্ষিনী তোর কারনে আজ আমার সোনার টুকরো ছেলেটার এই অবস্থা।

আজ যদি ওর কিছু হয়ে যায় আমি তোকে মেরেই ফেলব
কথাটি বলে সাবিনা চারুর গলা চেপে ধরে শক্ত করে।
যার কারনে চারুর শ্বাস আটকে আসে।
আবির আর মিঃ মিরাজ তাড়াতাড়ি করে চারুকে
ছাড়ায় মিসেস সাবিনার থেকে।

সাবিনা তার হাত চারুর গলা থেকে সরিয়ে নিলে
চারু জোড়ে জোড়ে কাশতে থাকে।
মিরাজঃ সাবিনা কি করছ কি পাগলের মতো।
তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? (চেচিয়ে)
সাবিনাঃ হ্যা পাগল হয়ে গেছি আমি।

পাগল হয়ে গিয়েছি। আজ একমাত্র ওর কারনে আমার
আদরের ছেলেটা মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। (কান্না করতে করতে)
সাবিনার বলা কথাগুলো চারুর বুকে তীরের মতো গিয়ে লাগছে। কিন্তু কিছুই বলার নেই ওর।
চারুঃ হ্যা সত্যিই তো বলছে আন্টি। আজ আমার ভুলের কারনে আহান ভাইয়ার এই অবস্থা।
আহান ভাইয়ার কথা শুনে সেই খানে দাড়িয়ে থাকলে আজ হয়ত ভাইয়া এই অবস্থা হতনা।

অপারেশন রুম থেকে ডাক্তার বেরিয়ে আসলে-
মিরাজ আর আবির ডাক্তার এর কাছে গিয়ে-
মিরাজঃ ডাক্তার আমার ছেলের এখন কি অবস্থা?
ডাক্তারঃ দেখুন অপারেশন হয়েছে। কিন্তু যতক্ষন না রোগীর জ্ঞান ফিরছে ততক্ষন পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারছিনা।
আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তার জ্ঞান না ফিরলে সে হয়ত আজীবন এর জন্য কোমায় চলে যেতে পারে।
তাই দোয়া করুন যাতে তার জ্ঞান ফিরে আসে এই চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে।
ডাক্তার কথা শুনে

পর্ব ১৩
ডাক্তারঃ আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তার জ্ঞান না ফিরলে সে হয়ত আজীবনের জন্য কোমায় চলে যেতে পারে।
তাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যাতে তার জ্ঞান ফিরে
এই চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই।
কথাটি বলে চলে যায় ডাক্তার।
সবাই ডাক্তারের কথা শুনে জোড়ে জোড়ে কান্না করতে থাকে
আর মিসেস সাবিনা ডাক্তারের মুখ থেকে নিজের ছেলের ব্যাপারে এমন কথা শুনে কোন ভাবেই সামলাতে পারেনা নিজেকে। কান্না করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সে।

তার চোখে মুখে পানির ছিটা দিলে হুস আসে তার।
জ্ঞান ফিরে আসলে মিসেস সাবিনা তার স্বামীকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।
কান্না জরিত কন্ঠে-
সাবিনাঃ ওগো শুনেছো ডাক্তার কি বলে গেল?
আহানের নাকি জ্ঞান না ফিরলে ও কোমায় চলে যাবে। ওর কিছু হলে যে আমি মরে যাব। বাঁচতে পারব না আমার সোনার টুকরো ছেলেটাকে হারিয়ে।
মিরাজঃ এই সব কথা বলোনা আহানের মা।
আমাদের আহানের কিছুই হবেনা।

আল্লাহ আমাদের এতো বড় ক্ষতি করতে পারেনা।
তিনি নিশ্চয়ই আমাদের ছেলেকে সুস্থ করে তুলবেন।
সাবিনাঃ যদি আমার ছেলেটার জ্ঞান না ফিরে। তাহলে যে আমি মরে যাব। নিজের ছেলেকে জ্যান্ত লাশ এর মত শুয়ে থাকতে দেখতে পারব না আমি (কান্না করে)
চারুঃ প্লিজ আন্টি এই সব কথা বলা বন্ধ করুন
ভাইয়ার কোন কিছুই হবেনা আমার বিশ্বাস।
অতি শ্রীর্ঘই তার জ্ঞান ফিরে আসবে।

চারুর কথা শুনে মিসেস সাবিনা চারুর দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকায়।
নিজের স্বামীর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায় সে।
চারুর কাছে গিয়ে আবারও চারুর গালে কষে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় ওনি।
চারু মিসেস সাবিনা হাতে থাপ্পড় খেয়ে নিজের গালে হাত রেখে অসহায় দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে তার দিক এ
সাবিনাঃ দোয়া কর আহানের যাতে জ্ঞান ফিরে আসে।
আর ও যদি সুস্থ হয়ে উঠে। ওর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজ হাতেই তোকে খুন করে মেরে ফেলব।
আস্ত রাখব না তোকে আমি।

মিরাজঃ সাবিনা তুমি কিন্তু বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছ।
সাবিনাঃ আমি বাড়াবাড়ি করছি?। ওর কারনে যে আমার ছেলে জ্যান্ত লাশ এর মত শুয়ে আছে। সেটা দেখতে পারছ না তুমি।
চারু মিসেস সাবিনা কথা শুনে শুধুই কান্নাই করে যাচ্ছে কিছুই বলতে পারছেনা ও।
দিশাঃ উফ আজ যদি আহান ভাইয়া সুস্থ থাকতেন এসব কথা শুনতে হতনা চারুর। নিশ্চয়ই তিনি চারুকে রক্ষা করতেন মায়ের এইসব অঅত্যাচার থেকে।

প্লিজ ভাইয়া আপনি তাড়াতাড়ি করে সুস্থ হয়ে উঠুন
আপনি কোমায় চলে গেলে হয়ত মা নিজের হাতেই চারুকে শেষ করে দিবে না হয়ত ওকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে বাসা থেকে। (আনমনে)
আবিরঃ ওর কোন দোষ নেই মা। কেন বেচারিকে এই ভাবে মারধর করছ? ও কি জানত নাকি এই সব কিছু হয়ে যাবে।
সাবিনাঃ ওর ওকালতি করা বন্ধ কর।
এত দিন বউ এর ওকালতি করতি এখন আবার ওর জন্য করছিস।
মায়ের মুখে এই সব কথা শুনে বেশ রাগ আসে আবির এর।

মাকে কিছু বলতে যাবে দিশা আবির এর হাত ধরে থামিয়ে দেয় ওকে।
আবিরকে এক সাইড নিয়ে যায় দিশা
আবিরঃ আমাকে এইভাবে থামালে কেন দিশা।
দেখছিলেনা কি সব বলছিল মা আমাকে
দিশাঃ আবির মা এখন অনেক কষ্টে তে আছেন।
তাই তোমার উচিত মায়ের কথায় কষ্ট না পাওয়া।
ভাইয়ার জ্ঞান ফিরলে দেখ সে তার ভুল বুঝতে পারবে।
এখন শুধু ভাইয়ার জ্ঞান ফিরার অপেক্ষা।

সাবিনাঃ কিরে বেহায়ার মত এইভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন। ধুর হ আমার চোখের সামনে থেকে।
পারলে পানিতে ডুবে মরে যা। আর আমাদের রেহাই দে।
সাবিনার বলা কথা গুলো শুনে চারুর সইতে না পেরে দৌড়ে চলে যায় হসপিটাল থেকে বের হয়ে।
মিরাজঃ আল্লাহ মেয়েটি এই ভাবে চলে গেল কেন।
কোন কিছু না আবার করে বসে সাবিনার কথা শুনে।

মিরাজ তাড়াতাড়ি করে দিশা আর আবির এর কাছে গিয়ে
মিরাজঃ দিশা
আবিরঃ কি হল বাবা তুমি এমন হাঁপাচ্ছো কেন?
মিরাজঃ দিশা জলদি যাও। তুমার মা রাগের মাথায় অনেক কথা শুনিয়ে দিয়েছে চারুকে আর ও কোন কথা না বলেই চলে গেছে হসপিটাল থেকে বের হয়ে।
আমার কেন যেন ভয় করছে ওর এই ভাবে চলে যাওয়া দেখে। দিশা তুমি তাড়াতাড়ি যাও ওর পিছনে।
ও বেশি দূরে যায়নি হয়ত
দিশা বেশ ভয় পেয়ে যায় মিরাজ সাহেব এর কথা শুনে।

ওই ও তাড়াতাড়ি করে বের হয়ে পরে হসপিটাল থেকে।
দিশা অনেক খুজতে থাকে চারুকে কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছেনা ও।
হঠাৎ দিশা খেয়াল করল রাস্তার মাঝখানে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটির আরেকটু সামনে গিয়ে খেয়াল করল মেয়েটি আর কেউ নয় চারু।
চারু এ-ই ভাবে রাস্তা মাঝখান দিয়ে দাড়িয়ে থাকায় বেশ বিরক্ত হচ্ছে গাড়ির ড্রাইভার রা। আর ক্রমাগত গাড়ির হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে কিন্তু চারুর যেন কোন হুস ই নেই।
পাথরের মতই দাঁড়িয়ে আছে ও।

দিশা তাড়াতাড়ি করে গিয়ে চারুকে রাস্তার মাঝ খান থেকে সরিয়ে আনে।
দিশাঃ কি করছিলে চারু। এখন যদি তোমার কিছু হয়ে যেত? এই টা কোন ধরনের পাগলামি?
চারুঃ নিশ্চুপ।
দিশাঃ চারু (চিৎকার দিয়ে)
চারুঃ ভাবি আমি মরে যাব। বাচতে চাইনা আমি।

সে কোমায় গেলে কোন ভাবেই আমি ক্ষমা করতে পারব না নিজেকে। তুমি কেন আমাকে নিয়ে আসলে ও খান থেকে।
কোন গাড়ির সাথে চাপা পরে মরে গেলে আমি কিছুটা শান্তি পেতাম
তাকে জ্যান্ত লাশ এর মত পরে থাকতে যে আমি কোন ভাবেই দেখতে পারব না ভাবি।
কোন ভাবেই না (কান্না করে)
দিশাঃ এখন যদি চারুকে আবারও হসপিটালে নিয়ে যাই তাহলে মা আবারও চারুকে কথা শুনিয়ে দিবে।
আর তার কথা শুনে যদি চারু আবারও কিছু করে বসে? আনমনে
না না আমি এমন কোন কিছুই হতে দিবনা।
চারুকে হসপিটালে এখন নেওয়া টা মোটেও ঠিক হবেনা। আমি বরং ওকে মা বাবার বাসায় নিয়ে যাই।
আনমনে।

দিশাঃ চারু চল বাসায় চল
চারুঃ ভাবি কি বলছ ভাইয়ার এই অবস্থা আর তুমি বাসায় যাওয়া কথা বলছ
দিশাঃ উফ চারু যা বলছি শুনো।
তারপর দিশা চারুর হাত ধরে একটা রিকশা করে চলে যায় সেই খান থেকে।
বাসায় পৌছাতে পৌছাতে এশার নামাজের আজান দিয়ে দেয়
দিশা আর চারু তাড়াতাড়ি করে নামাজ পরে আল্লাহর কাছে প্রাথনা করতে থাকে আহানের জন্য
হসপিটালে
ডাক্তার বের হলে
মিরাজঃ ডাক্তার আমার ছেলের এখন কি অবস্থা?

জ্ঞান ফিরেছে আমার ছেলের?
ডাক্তার একটা হাসি দিয়ে-
হুম আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের সকলের দোয়ায় জ্ঞান ফিরেছে আহানের।
আপনারা একটু পর ওর সাথে দেখা করতে পারবেন।
কথাটি বলে চলে যায় ডাক্তার।
মিরাজঃ আবির সাবিনা শুনেছো ডাক্তার কি বলে গেল এখন? আহানের জ্ঞান ফিরেছে।

আমার ছেলে চোখ খুলেছে
আবিরঃ আমি তাড়াতাড়ি করে দিশাকে ফোন দিয়ে জানাই খুশির সংবাদ টা।
তারপর আবির দিশাকে ফোন দেয়।
মোনাজাত ধরে দিশা আর চারু আহানের জন্য কান্না করতে থাকে।
মোবাইল এ ফোন আসলে দিশা মোনাজাত শেষ করে ফোনটা রিসিভ করে।
আবিরঃ হ্যালো দিশা আহানের জ্ঞান ফিরেছে দিশা।
জ্ঞান ফিরেছে আমার ভাইয়ের (খুশি হয়ে)
দিশাঃ সত্যি বলছ? আবির ভাইয়ার জ্ঞান ফিরেছে?

দিশার কথা শুনে চারু খুশি হয়ে যায়।
আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে নেয়।
দিশা ফোনটা কেটে
শুনলে চারু ভাইয়ার জ্ঞান ফিরেছে।
আল্লাহ আমাদের প্রাথনা কবুল করেছে চারু।
চারু দিশার কথা শুনে ওকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।

দিশাঃ এই মেয়ে পাগল নাকি তুমি? ভাইয়ার জ্ঞান ফিরেছে আর তুমি খুশি হওয়ার বদলে কান্না করছো বোকার মতো
চারু দিশার কথার উত্তর না দিয়ে কেদেই যাচ্ছে অনবরত
দিশাঃ কি হল চারু তুমি কাদছ কেন এখন তো ভাইয়া সুস্থ আছেন জ্ঞান ফিরেছে তার।
চারুঃ ভাবি

পর্ব ১৪

দিশাঃ কি হয়েছে চারু তুমি এই ভাবে কাদছ কেন?
এখন তো ভাইয়া সুস্থ আছেন
চারুঃ তাও ভাবি যতক্ষন না আমি তাকে নিজ চোখে দেখছি ততক্ষন পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না ভাবি।
প্লিজ ভাবি আমাকে নিয়ে চল তার কাছে এক বার।
আমি তাকে দেখতে চাই।

দিশাঃ এখন ওই খানে তোমার যাওয়া ঠিক হবেনা
চারু। মা আবারও তোমাকে কিছু শুনিয়ে দিবে।
চারুঃ ভাবি আমি কাকিমা কথা সহ্য করে নিব।
তাছাড়া কাকিমা তো আমাকে নতুন করে কথা শুনাচ্ছেনা। এই বাসায় আসার পর থেকেই তার তীক্ষ্ণ কথা মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছি।

আজ ও না হয় সহ্য করে যাব তার কথা। কিন্তু
তাকে না দেখা পর্যন্ত আমার মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করবে। তাই তুমি প্লিজ আমাকে নিয়ে চল
তুমি না যেতে চাইলে আমিই একা একা চলে যাচ্ছি।
কথাটি বলে চারু যেতে নিলে
দিশা ওর হাত শক্ত করে ধরে বসে।

দিশাঃ পাগলামি কর না চারু। প্লিজ আমার কথাটা একবার বোঝার চেষ্টা কর। তোমায় মা কথা শুনালে আমাদের মতো ভাইয়ার ও তা ভালো লাগবেনা। তাই প্লিজ এট লিস্ট ভাইয়ার জন্য আমার কথা শুনো।
ভাইয়াকে হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করলে তুমি তাকে দেখে নিও।
চারু দিশার কথা শুনে থেমে যায়।
চারুঃ আচ্ছা ভাবি যাব না আমি। অপেক্ষা করব তার ফিরে আসার।
দিশাঃ এইত তো লক্ষি মেয়ের মত কথা।

হসপিটালে
আহানের কেবিন থেকে একটা নার্স বের হয়ে আসলে-
আবিরঃ নার্স আমরা কখন দেখা করতে পারব আহানের সাথে?
নার্সঃ আপনারা এখন চাইলে দেখা করে আসতে পারেন। কিন্তু কিছু সময় জন্য। রোগির যাতে কোন ডিসর্টাব না হয় সেই দিক টা একটু খেয়াল রাখবেন।
আবিরঃ জ্বি আমরা খেয়াল রাখব।
নার্সঃ আচ্ছা।

তারপর নার্স আবির মিসেস সাবিনা আর মিরাজকে আহানের কেবিনে নিয়ে যায়।
মিরাজ সাহেব আহানের বেড এর সামনে গিয়ে ওর মাথায় হাত রেখে –
এখন কেমন আছিস বাবা? (কান্না জরিত কন্ঠে)
আহানঃ আমি তো অলওয়েসট ফাস্ট ক্লাস থাকি বাবা
(হেসে)

শুধু মাথায় একটু ব্যথা করছে (মাথায় হাত রেখে)
সাবিনাঃ এই তুমি দেখছো না ছেলেটার মাথায় ব্যনডেজ করা আর তুমি ওর মাথায় হাত দিয়ে আরও ব্যথা বাড়িয়ে দিচ্ছ। হাত সরাও বলছি। (ধমক দিয়ে)
নার্সঃ প্লিজ শান্তি বজায় রাখুন রোগীর সামনে এতো চেচামেচি করলে তার সম্যসা হবে।

মিসেস সাবিনা নার্স এর কথা শুনে মাথা নিচু করে ফেলে।
আহানঃ প্লিজ নার্স আপনি একটু পরে আসুন।
নার্সঃ কিন্তু স্যার! আমাকে যে আপনার দেখভাল এর জন্য থাকতে বলেছে।
আহানঃআমার দরকার পরলে আপনাকে ডেকে নিব। (ছোট করে একটা হাসি দিয়ে)
নার্সঃ ওকে স্যার।

তারপর নার্স কেবিন থেকে বের হয়ে পরলো।
সাবিনাঃ ইসস নার্স হয়ে দেমাগ কত। ডাক্তার হলে কি যে করত আল্লাহ যানে। কিভাবে আমাকে। এই সাবিনা খানকে বকছিল। (মুখ বাকা করে)
তুই একবারে ভালো করেছিস আহান ওকে রুম থেকে তারিয়ে দিয়ে।
আহানঃ উফ মা আমাদের উচিত সব মানুষ কেই সম্মান করা।। আর আমি ওকে তারিয়ে দেইনি অনেক ক্ষন ধরে কাজ করে যাচ্ছিল। ওর ও তো একটু রেস্ট দরকার তাই যেতে বলেছি।
সাবিনাঃ কি তর মাকে এতো কথা শুনিয়ে দিল।

আর তুই ওই নার্সটার জন্য ভাবছিস?
আহানঃ মা। ও তো জাস্ট ওর ডিউটি টাই পালন করছিল।
সাবিনাঃ হয়েছে হয়েছে আমি সবই বুঝি। আমাকে এইসব বুঝাতে হবেনা।
মিরাজঃআরে সাবিনা তুমি কি শুরু করলে বল তো দেখি। ছেলেটা সবেমাএ জ্ঞান ফিরল তুমি ওকে একটু রেস্ট নিতে দিবে তা না হাজারো কথা বলে ওর মাথা আরও ব্যথা করিয়ে দিচ্ছ।
আবিরঃ হ্যা মা বাবা ঠিক বলেছে আহানকে একটু রেস্ট দেওয়ার প্রয়োজন। তাই এখন আমাদের ওকে একটু রেস্ট নিতে দেওয়ার দরকার।

আহানঃ সবাই এই খানে এ-ই চারুকে তো দেখছিনা।
কেমন মেয়ে রে বাবা ওর জন্য আমি মরতে মরতে বাচলাম আর আমাকে একটুও দেখতে আসল না।
না না আহান তুই ভুল বুঝছিস চারুকে। নিশ্চয়ই কোন কারনে ও এই খানে নেই? ভালো আছে তো ওই?
নিজের সাথে নিজেই হাজারো কথা বলতে লাগল আহান। (মনে মনে)।
আবিরঃ কি রে কি ভাবছিস? আহান?

আহানঃ আসলে চারু আমাকে দেখতে আসলোনা কেন তাই ভাবছি (মন খারাপ করে)
আহানের কথা শুনে সবাই ওর দিক পশ্নসূচক দৃশটিতে চেয়ে থাকলে-
আহানঃ আসলে বলতে চেয়ে ছিলাম যে দিশা ভাবি আমাকে দেখতে আসল না। ভুলক্রমে চারু নাম মুখে এসে পরেছে।
সাবিনাঃ ভালোই হয়েছে ওই শয়তান টার কথা জিজ্ঞেস করিস নি। জানিস হসপিটাল থেকে হুর হুর করে বেরিয়ে গেল কাউকে কিছু না বলেই।

ওর জন্য যে আজ তর এই অবস্থা। কেমন মেয়ে দেখেছিস তোকে দেখার জন্য ও একটু থাকল না।
মিরাজ সাহেব কিছু বলতে যাবে মিসেস সাবিনা তার হাত ধরে থামিয়ে দিল।
সাবিনাঃ আচ্ছা অনেক কথা হয়েছে।
এখন সবাই ওকে একটু একা থাকতে দেই।
আবিরঃ মা কি সব বলে ফেলল চারুর ব্যাপারে।
মার কথা শুনে আহান না আবার চারুকে ভুল বুঝে।
ভুল বুঝারই কথা। মা যেভাবে কথা গুলো বলেছে।
আমিও সাথে সাথে বিশ্বাস করে ফেলতাম।
আনমনে।

সাবিনাঃ কি বললাম শুনলেনা তুমরা। চল এখন
আবির আর মিরাজ সাহেব সাবিনার ধমক খেয়ে তাড়াতাড়ি করে বের হয়ে পরল।
আহানঃ সত্যি কি চারু আমাকে দেখার দরকার মনে করেনি তাই চলে গেছে হসপিটাল থেকে।
না না আহান। অন্য কোন কারন হতে পারে।
আই হোপ চারু ভালো আছে।
দুইদিন পর হসপিটাল থেকে আহান ডিসচার্জ পেলে-
দিশাঃ চারু একটা গুড নিউস ভাইয়া হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ পেয়েছে।
চারুঃ সত্যি ভাবি।
উফ ফাইনালি সে আসবে। (খুশি হয়ে)আনমনে।

আহানকে বাসার নিয়ে আসার আগ মুহুর্তে
মিসেস সাবিনা চারুকে রুমে ডেকে
সাবিনাঃ আজ আহান আসছে নিশ্চয়ই শুনেছিস
চারুঃ জ্বি কাকিমা(খুশি হয়ে)
সাবিনাঃ আমি যাতে তোকে আমার ছেলের আশে পাশেও না দেখি। তর অলোক্ষিনি মুখ নিয়ে আমার ছেলের সামনে আসবিনা

সাবিনার কথা শুনে চারু চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পরল আর সে তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়
আহানকে হসপিটাল থেকে বাসায় নিয়ে আসলে-
গাড়ি থেকে আহান নামতে নিবে-
মিরাজঃ আয় আমি ধরে তোকে নামিয়ে দিচ্ছি।
তুই কেন যে এতো বাড়াবাড়ি করিস আহান। উইল চেয়ার টা আনলে কি ক্ষতি হতো তোর।
আহানঃ উফ বাবা। আমার উইল চেয়ারের কোন দরকার নেই আমি তো জাস্ট মাথায় আর হাতে আঘাত পেয়েছি পায়ে না। তাই আমি নিজে নিজে হাটতে পারব।

তারপর আহান নিজে থেকেই গাড়ি থেকে নেমে পরল।
বাসায় ঢুকলে-
আবির আহানকে ধরে ওকে ওর বেড রুমে নিয়ে যায়।
সাবিনাঃ সবাই এখন রুম থেকে বের হও।
তুই একটু রেস্ট নে আহান।
তারপর সবাই রুম থেকে বের হতে নিলে-
আহানঃ ভাবি
উফ কি করছিস আহান ভাবির কাছে চারুর কথা জিজ্ঞেস করলে সে কি না কি ভাববে আমাকে।
কিন্তু কিভাবে ওর খবর নিব আমি। ওই তো আমার সামনেই আসছেনা। ওর মোবাইল নাম্বার টাও আমার কাছে নেই। যে ওকে ফোন দিয়ে আস্ক করব কিছু।

আইডিয়া। আনমনে
ভাবি তোমার ফোনটা একটু দিবে? আমার একটা কল করার ছিল।
দিশাঃআচ্ছা নাও।
দিশা আহানকে ওর ফোনটা দিলে-
আহান তাড়াতাড়ি করে দিশার মোবাইল থেকে চারুর নাম্বার টা বের করে মুখস্থ করে নেয় চারুর নাম্বার টা।
আহানঃ নাও ভাবি হয়ে গেছে।
দিশাঃ সে কি তুমি না বললে কাউকে ফোন করবে।

আহানঃ আসলে যাকে ফোন দিব তার নাম্বার টা আমার মুখস্থ নেই। আমি আমার মোবাইল থেকে কল দিয়ে নিব নে।
দিশাঃ আচ্ছা।
তারপর দিশা আহানের রুম থেকে বেরিয়ে পরে।
দিশাঃ আবির ভাইয়া তো এখন সুস্থ আছেন। এখন আমাদের বাসায় যাওয়া উচিৎ।
আবিরঃ হ্যা ঠিক বলেছো।
মিরাজঃ সে কি কথা আবির।
আবিরঃ হ্যা বাবা। তাছাড়া আহান তো এখন ঠিকই আছে।
দিশাঃযাওয়ার আগে ভাইয়াকে বলে গেলে ভালো হয় আবির।
আবিরঃ হুম চল।

আবির আর দিশা আহানের রুমে ঢুকে –
আবিরঃ আহান আমরা চলে যাচ্ছি। তুই তোর খেয়াল রাখিস। কথাটি বলে আবির দিশা রুম থেকে চলে যেতে নিলে-
আহান আবির কে ডাক দেয়।
আবির আহানের কথা শুনে থেমে গিয়ে-
আবিরঃ কিছু বলবি?
আহানঃ ছোট ভাইয়ের একটা আবদার রাখবে ভাইয়া।

আবিরঃ হুম কেন রাখবানা। তুই বল
আহানঃ প্লিজ ভাইয়া তুমি আর ভাবি এই বাসা থেকে যাও। তোমাকে আর ভাবিকে এই বাসায় না দেখলে বাসা টা শূন্য শূন্য লাগে। প্লিজ ভাইয়া ছোট ভাইয়ের এই আবদার টা পূরন কর।
আবিরঃ তুই তো জানিস কেন আমি চলে গেছি বাসা ছেড়ে।
আহানঃ হুম জানি। আমি প্রমিশ করছি ভাইয়া। আম্মু আর কোন কথা শুনাবেনা ভাবিকে। আমি আম্মুকে সামলিয়ে নিব।
আবিরঃ কিন্তু
দিশা আবির এর ঘাড়ে হাত রেখে।
ভাইয়া এতো করে বলছে। তাই তুমি না কর না।

হ্যা ভাইয়া আমরা থাকব এই বাসায়।
আহানঃ সত্যি ভাবি (খুশি হয়ে)
দিশাঃ হুম সত্যি। একটা মাএ দেবর এর আবদার পূরন করব না সেটা কি হয়। (মুচকি হেসে)
কিন্তু আজ তো বাসায় যেতে হবে সব জরুরি জিনিসপএ নিয়ে আসতে হবে ও বাসা থেকে।
কাল আমরা সকাল সকাল চলে আসব নে।
আহানঃ আচ্ছা।

তারপর আবির আর দিশা চলে যায়।
আবির আর দিশা এই বাসায় চলে আসবে শুনে বেশ খুশি হয়ে পরে বাড়ির বাকি সদ্যসরা।
রাতে আহানের মা নিজ হাতেই ওকে খাইয়ে দেয়।
খাওয়া শেষ হলে-
আহানঃ মা এখন তুমি যাও রেস্ট কর গিয়ে।
সাবিনাঃ আমি মোটেও এই রুম থেকে বের হচ্ছিনা।
কোন সময় তোর কোনটা দরকার পরে।

কারো তো থাকা দরকার তর পাশে।
আহানঃ উফ মা আমি ঠিক আছি। দরকার পরলে তোমাকে আমি ডাক দিব নে
মিসেস সাবিনা আহানের কথা শুনে চলে যায় রুম থেকে।
আহান তাড়াতাড়ি করে ওর ফোনটা হাতে নিয়ে-
চারুকে কল দিতে নেয়-
দশটা ডিজিট মোবাইলে ডায়েল করার পর।

আহানঃ উফ শেষ এ-র নাম্বার টা কি ছিল যেন।
থ্রি নাকি সেভেন।
উফ মনে আসছেনা। থ্রিই হবে।
তারপর আহান শেষ এ থ্রি বসিয়ে কল দেয় নাম্বার টায়
ফোন রিসিভ হলে-
আহানঃ হ্যালো চারু?

মেয়েটিঃ ওই কে চারু। আমার নাম রায়না।
আপনার সাহস কি করে হল আমাকে ফোন দিয়ে আমার ঘুম নষ্ট করার। এতো রাতে মেয়ে মানুষ দের ফোন না দিলে কি হয়না। বাসায় কি মা বোন নেই?
আহানঃ সরি সরি আপু। বাসায় মা আছে বোন নেই।
আর আমি অন্য কাউকে ফোন দিতে গিয়ে আপনাকে দিয়ে ফেলেছি।
মেয়েটিঃ বুঝি তো আপনাদের চালাকি। ইচ্ছা করে মেয়ে দের ফোন দেন। আর ফোন দিয়ে বলেন ভুলে কল দিয়েছি।
আহানঃ হায়রে আপু আমি সত্যি বলছি।

মেয়েটিঃ তোর
মেয়েটি কিছু বলতে যাবে এর আগেই আহান ফোনটা কেটে নাম্বার টা তাড়াতাড়ি করে ব্লাক লিস্ট এ রেখে দেয়।
আহানঃ উফ বাবা কি সাংঘাতিক মেয়ে।
উফ এর মানে শেষ এর নাম্বার টা সেভেন ই হবে।
তারপর আহান শেষ এর নাম্বার টা সেভেন ডায়েল করে ফোন দিয়ে বসে নাম্বার টায়।
আহানঃ হ্যালো
অপর পাশেঃ হ্যালো (কান্নার কন্ঠে)
আহানঃ….

পর্ব ১৫

আহানঃ হ্যালো
অপর পাশেঃ হ্যালো। কে বলছেন? (কান্নার কণ্ঠে)
আহান ফোনে চারুর কন্ঠ শুনতে পেয়ে
আহানঃ উফ থ্যাংক গড ভুল কোন নাম্বারে কল দেইনি তাহলে।
কিন্তু চারু এইভাবে কান্না করছে কেন? (আনমনে)
আহানঃ হ্যালো চারু আমি আহান।
চারু বেশ চমকে উঠে –
ভাইয়া আপনি?

আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়? আমি তো আপনাকে কখনো আমার নাম্বার দেইনি।
আহানঃ সেইটা তোর না জানলেও হবে কিভাবে পেলাম। কার কাছ থেকে পেলাম। এখন বল কান্না করছিলি কেন এমন বাচ্চা দের মতো করে।

চারুঃ কই আমি তো কান্না করছিলাম না ভাইয়া। (কান্না করে)
আহানঃ এই মেয়ে তুই পাগল নাকি কান্না করে করে কথা বলছিস। আর বলছিস আমি কান্না করছিনা
থাপ্পড় খাবি আমার সাথে মিথ্যা বললে।

চারুঃ ভাইয়া কেন জানি আপনাকে আমার দেখতে ইচ্ছে করছে। হসপিটালে যাওয়া পর থেকে আপনার সাথে আর দেখা হয়নি আমার। আজ ও দেখা হলনা আমাদের।
আহানঃ ইস চারু আমাকে দেখতে চাইছে। এর মানে চারু ও আমাকে ভালোবাসে। আনমনে
চারুঃ কিন্তু!
আহান চারুর কিন্তু বলা শুনে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে।
আহানঃ কিন্তু কি চারু?

চারুঃ নিশ্চুপ।
আহানঃ মা আমার সামনে আসতে নিষেধ করেছে তোকে?
চারুঃ আল্লাহ সে কিভাবে বুঝল? আনমনে।
আহানঃ আমারও তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে চারু। আনমনে।
আহহ
চারুঃ ভাইয়া কি হয়েছে? আপনি ঠিক আছেন তো।
আহানঃ আমার পিপাসা পেয়েছে অনেক। ভুলে
ব্যথার হাত দিয়ে গ্লাস টা নিতে গিয়ে হাতটা আরও ব্যথা করছে আমার।
চারুঃ আপনি কেন কষ্ট করতে গেলেন।
দাড়ান আমি আসছি।

কথাটি বলে ফোন কেটে দেয় চারু। আর দৌড়ে চলে আসে আহানের রুমে।
চারু রুমে আসলে আহান তৃষ্ণার্ত চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকে চারুর দিক এ।
চারুঃ ভাইয়া আপনি ঠিক আছেন। কেন নিজ হাত দিয়ে পানির গ্লাস টা নিতে গেলেন।
আহান চারুর কথার কোন জবাব না দিলে-
চারুঃ ভাইয়া(জোড়ে)
আহানঃ এই ভাবে চিল্লাছিস কেন। আস্তে কথা বলতে পারিসনা। কেউ জেগে গেলে তোকে আমার রুমে মধ্যে দেখলে তো বাসার মধ্যে তুমুল কান্ড পেকে যাবে।

চারুঃ কি করব তাহলে আমি যে কোন সময় থেকে আপনাকে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি হাজারো প্রশ্ন। আপনি তো অন্য কোন খেয়ালেই ডুবে আছেন
আহানঃ অন্য কোন খেয়ালে না তোর নেশায় ডুবে আছি আমি। বিড় বিড় করে
চারুঃ কিছু বললেন?
আহানঃ কই না তো।
চারুঃ তো বললেন না যে আপনি কেমন আছেন।
আহানঃ আমি তো অলওয়েসট ভালোই থাকি।
চারুঃ ওও আপনি পানি খেতে চেয়েছিলেন?

দাড়ান আমি দিচ্ছি।
কথাটি বলে চারু পানির গ্লাসটা আহানকে দিতে নিলে-
আহানঃ চারু খাবার খেয়েছিস রাতের?
আহানের কথা শুনে চারু পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে থেমে যায়।
আহানঃ বুঝতে পারসি খায়নি কিন্তু নিশ্চয়ই আমাকে বলবেনা। তাই আমার ইস্টাইলেই ওকে খাওয়াতে হবে।
আনমনে।
চারু পানির গ্লাস টা রাখ আর আমার জন্য খাবার নিয়ে আয়।
চারুঃ আপনি খাননি?

আহানঃ খেয়েছি কিন্তু আবারও খিদে পেয়েছে আমার।
তুই অনেক কথা বলিস রে চারু জলদি করে খাবারটা নিয়ে আয় না। খিদের জ্বালায় কিন্তু তোকেই খেয়ে ফেলব আমি।
চারুঃ কি (ভয়ে)।
আহানের কথা শুনে ভয় পেয়ে চারু তাড়াতাড়ি করে চলে যায় রুম থেকে।
আহানের বেশ হাসি পায় চারুর এইভাবে চলে যাওয়া দেখে।
আহানঃ এক দিন সুযোগ পেলে ঠিকই খেয়ে ফেলব তোকে।
কথাটি বলে নিজে নিজেই পাগলের মতো হাসতে লাগল আহান।

রান্না ঘর থেকে খাবার নিয়ে চারু সোজা চলে যায় আহানের রুমে।
চারুঃ এই নিন খাবার। আর খেয়ে আমাকে উদ্ধার করুন। খেতে পারবেন তো?
আহানঃ কেন খেতে না পারলে কি তুই খাইয়ে দিবি আদর করে(চোখ টিপি দিয়ে)
আহান এই ভাবে চোখ টিপি দেওয়ায় বেশ লজ্জায় পরে যায় চারু। তাড়াতাড়ি করে মুখ ঘুরিয়ে নেয় অন্য দিক এ
দেখুন আপনার বা হাতে ব্যথা তো ঢং না করে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন
আমার প্রচুর ঘুম পাচ্ছে(একটা হাম দিয়ে)
আহানঃ মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর। মা তো বলল না তোর ডান হাতে ব্যথা না বা হাতে ব্যথা। ঠিকই তো নিজের হাতে খাইয়ে দিল আমায়।

চারুঃ দিচ্ছি দিচ্ছি। ইমোশোনাল ব্লাকমিল করতে হবেনা। আপনি ডাক্তার না হয়ে অ্যাকটার হতে পারতেন।
অনেক বেশি অ্যাকটিং করতে জানেন।
আহানঃ তাই নাকি চড়ই পাখি। আগে জানলে ঠিকই ডাক্তার না হয়ে অ্যাকটার হয়ে যেতাম।
কথাটি বলে জোরে জোরে হেসে উঠে আহান।
চারুঃ আপনার দাত কেলানো হয়ে গেছে? নাকি আরও বাকি?

আহানঃ কি ডেন জারাস মেয়ে রে বাবা। পুরাই রিনা খান (হেসে)
চারুঃ আমি না আপনার মা রিনা খান।
কথাটি বলে জ্বিবে কামড় দিয়ে –
চারুঃ কি বললি চারু। ছেলের সামনেই বলছিস তার মা রিনা খান। এখন তো ছেলে মিশা সওদাগর হয়ে যাবে।
আহানঃ কি বললে আমার মা রিনা খান?

চারুঃ আসলে আমি (আমতা আমতা করে)
আহানঃ আমার মাকে তুমি রিনা খান বললে। তা আবার আমারই সামনে। সাহস তো কম বড় নয় তোমার।
ভুল যেহেতু করেছো এর জন্য তোমার কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
চারুঃ কি কঠিন শাস্তি? (অসহায় মুখ করে)
আহানঃ হুম কঠিন শাস্তি (মুখ গম্ভির করে)
কানে ধর
চারুঃ কি?

আহানঃ জ্বি।
চারু আহানের কথা শুনে দুই কান ধরে।
আহানঃ নাও উঠ বস কর
চারুঃ এ্যা
আহানঃ কুইকলি (ধমক দিয়ে)
চারু আহানের ধমক খেয়ে কানে ধরে উঠ বস করতে লাগে আর বিড় বিড় করে আহানকে গালি দিতে থাকে।
চারুঃ শয়তান; কুত্তা; বিলাই;; তোকে তো আমি দেখে নিব।

আহান খেয়াল করল চারু আহানের দিক এ তাকিয়ে রাগি দৃশটিতে বিড় বিড় করে যাচ্ছে।
আহানঃ নিশ্চয়ই আমাকে গালি দিচ্ছি। আহহ অনেক দিন পর চারুর এই রাগি লুক টা দেখার সৌভাগ্য হল আমার। ভালোবাসার মানুষ টাকে রাগাতে আলাদাই একটা আনন্দ পাওয়া যায়।
চারু দশ বার উঠা বসা করলে –
আহানঃ হয়েছে আর করতে হবেনা। এই বার থামো।

চারুঃ শালা তুই আমাকে দশ বার কানে ধরিয়ে উঠ বস করিয়েছিস আম তোকে সুযোগ পেলে দশ বার নয় একশ বার উঠা বসা করাব।
আহানঃ নাও আমাকে নিজ হাত দিয়ে খাইয়ে দাও।
চারুঃ ইস যেমন করে বলছে মনে হয় আমি উনার বউ লাগি।

আহানঃ হতে আর কতক্ষন (হেসে)
চারুঃ কি বললেন?
আহানঃ কিছুনা রে বাবা। খাইয়ে দিবা?
চারুঃ দিচ্ছি।
তারপর চারু ভাত মেখে আহানের মুখা মুখি বসে ওকে খাইয়ে দিতে থাকে।

দুই লোকমা খাওয়ার পর-
আহানঃ উফ আর খেতে পারছিনা। পেট ভরে গেছে।
আরেকটু খেলে বেলুন এর মত ফুলে উড়ে যাব আকাশে।
চারুঃ তো এই ভাত খেয়ে খাবে আপনি না খেলে।
আহানঃ তুই খাবি। দেখ চারু খাবারের অপচ্য় আমি মোটেও পছন্দ করিনা। তাই এই ভাত গুলো ফেলে দেওয়ার চিন্তা মোটেও করবিনা।

চারুঃ আমি তো ভাত খেয়েছি।
আহানঃ নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে আমার সাথে। আনমনে
আমি কোন কিছুই শুনতে চাইনা আর শুনবো ও না।
তোকে এই ভাত খেতে হবে। তো হবে।
চারু আর কোন উপায় না পেয়ে খেতে শুরু করল
চারুঃ উফ আর খেতে পারছিনা।

আহানঃ মাইর না খাওয়ার আগে পুরো খাবার ফিনিশ কর।
চারু আহানের কথা শুনে ভাতের লানা মুখে নিতে যাবে এর আগেই গড় গড়ে করে বমি করে দেয় চারু।
আহান চারুর মুখামুখি বসায় পুরো বমি গুলো এসে আহানের গা এর উপর পরে।
আহানঃ এইটা কি করলি চারু?

চারু আহানের কথার উত্তর না দিয়ে আবারও বমি করে দেয় আহানের উপর।
আহান চারু দিক এ অসহায় দৃশটিতে তাকিয়ে-
আহানঃ আবারও (কান্নার মুখ করে)
চারুঃ

পর্ব ১৬

চারু আহানের কথার কোন উত্তর না দিয়ে আবারও বমি করে দেয় আহানের উপর।
আহানঃ আবারও (অসহায় মুখ করে)
চারুঃ আমার কি দোষ? সবই তো আপনার দোষ। আমি তো বলেছিলাম আমি ডিনার করেছি। তাও আপনি জোড় করে খাইয়ে দিলেন।
আহানঃ আমি তো ভেবেছি তুই মিথ্যা বলছিস
চারুঃ এতো ভাবেন কেন? কম কম ভাব্বেন বেশি ভাবলে এমনই হবে আপনার সাথে।
কথাটি বলে জোরে জোরে হাসতে থাকে চারু।

হাসি থামিয়ে-
চারুঃ আচ্ছা আমি চললাম তাহলে?
আহানঃ চললাম মানে? আমার পরা জামা চেঞ্জ করে দিবে কে? সারা রাত কি আমি বমি করা জামা পরে থাকব নাকি?
চারুঃ থাকলেও প্রবলেম নেই। আপনাকে এখন অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।
আহানঃ দেখ চারু বেশি কথা না বলে তাড়াতাড়ি করে আমার জামা চেঞ্জ করতে আমাকে হেল্প কর।
এই বমি করা জামা পরে বসে থাকতে থাকতে আমারই বমি আসছে।

চারুঃ এক শর্তে!
আহানঃ কি?
চারুঃ আপনাকে সুন্দর করে বলতে হবে আমায়।
মিস চারু ম্যাম আপনি অনেক ভালো;অনেক অনেক সুন্দর;আপনার মতো ভালো মেয়ে আমি কখন ও দেখিনি। প্লিজ আমাকে হেল্প করুন।
রাজি তো? (ভাব নিয়ে)
আহানঃ ওও আমার সাথে চালাকি দাড়াও গাচ্ছি তোমার সুনামের গান। (মনে মনে)
ওকে বলছি।
মিস চারু ম্যাম আপনি অনেক শয়তান আপনার মতো ভয়নাক ফেস আমি কখন দেখিনি আপনার মতো দজ্জাল মেয়েও আমি আমার জীবনেও দেখিনি।

প্লিজ আমাকে হেল্প করুন
এক নিশ্বাস এ কথা গুলো বলে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল আহান।
চারুর দিক এ চোখ পরলে আহান খেয়াল করল চারু ওর দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে আছে।
আহান ভয়ে ঢোক গিলে-
আমি তো জাস্ট ফান করছিলাম তোমার সাথে।
মন থেকে বলিনি। প্লিজ আমাকে হেল্প কর?
এই অবস্থায় আর কত ক্ষন থাকব বল?

চারুঃ দিচ্ছি দিচ্ছি।
তারপর চারু আহানের আলমারি থেকে একটা টি শার্ট বের করে নিল।
চারুঃ অই আপনার চোখ বন্ধ করুন।
আহানঃ কি? আমি কেন চোখ বন্ধ করব?
চারুঃ করবেন নাকি চলে যাব আমি? (চেচিয়ে)
আহানঃ করছি বাবা এতো চেচামেচি মেচি করছো কেন চড়ই পাখির মতো।
তারপর আহান নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়।
চারুঃ ইস আমার এতো লজ্জা লাগছে কেন?

চারু উ হেভ টু ডু ইট। তোর কারনেই বেচারা বমি তে গোসল হয়ে গেছে।
তারপর চারু আহানের সামনে এসে আহানের ড্রেস চেঞ্জ করতে নিলে চারুর চুলের থেকে আসা সুভাস আহানকে যেন আরও মাতাল করে তুলছে।
আহানঃ উফফ এই সময় টা যদি এই খানেই থেমে যেত। (মনে মনে)
ভুলক্রমে চারুর হাতের নখ লেগে যায় আহানের পিঠে।

আর আহান ব্যথায় চিল্লান দিয়ে উঠে
আহ
চারু সাথে সাথে ওর হাত দ্বারা আহানের মুখ চেপে ধরে।
চারুঃ এই কি করছেন টা কি। এই ভাবে চেচ্চাছেন কেন?
কেউ শুনতে পারলে তো মহা বিপদ হয়ে যাবে।

আর আপনার মা চলে আসলে আমাকে এই রুমে দেখলে আমার চোদ্দ গুসটি উদ্ধার করে ছারবে।
চারুর বলা কোন কথাই যেন কান পর্যন্ত পৌছাচ্ছে আহানের। অপলক দৃশটিতে তাকিয়ে আছে চারুর দিক এ
চারু খেয়াল করল আহান ওর কথার কোন উত্তর না দিয়ে বোকার মতো করে চারু দিক এ তাকিয়ে আছে।
চারুঃএই শয়তানটা এই ভাবে তাকিয়ে আছে কেন আমার দিক? মনে হচ্ছে আমাকে গিলে খাবে তার চোখ দিয়ে।
চারুঃ এই যে
আহান চারু কথায় কোন রিসপনস না করলে চারু আহানের গাঁ এ একটা চিমটি কেটে দেয়।

চারুর হাতের চিমটি খেয়ে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে আহান।
আহানঃ উফ (ব্যথার জায়গায় হাত দিয়ে)
এই তুমি এই ভাবে চিমটি দিলে কেন আমাকে?
চারুঃ আপনি এই ভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেন আমার দিক এ?

চারুর প্রশ্ন শুনে আহান ভ্যাবাচেকা খেয়ে –
কই আমি তো তুমার দিক এ তাকাচ্ছিলাম না। আমি তো তোমার পরা কানের দুল গুলো দিক এ তাকিয়ে ছিলাম। অনেক সুন্দর ভাবছি বিয়ে করলে নিজের বউ কে সেম এই রকম ইয়ারিং জোড়া গিফট করব?
চারুঃওওওও
আহানঃ উফফ বাবা বাঁচা গেল। একটু হলেই ধরা খেয়ে যেতাম
এরপর চারু তাড়াতাড়ি করে আহানের পরা টি শার্ট টা চেঞ্জ করে দিল।

হঠাৎ আহান আর চারু কারো গলার শব্দ শুনতে পেল
চারুঃ আল্লাহ কে আসছে? (ভয়ে)
সাবিনাঃ আহান
আহানঃ আল্লাহ মা আসছে রুমে মধ্যে তুমি তাড়াতাড়ি পালাও।
চারুঃ এই আপনি কি পাগল আমি এখন রুম থেকে বের হলে কাকিমা আমাকে দেখে ফেলবে।

আহানঃ তাহলে কি করবা একটা কাজ কর ঘাটের নিচে গিয়ে লুকাও।
চারুঃ ওয়াট? ঘাটের নিচে লুকাবো তা আবার আমি।
আহানঃ আচ্ছা ওয়াসরুমে গিয়ে লুকাও।
চারুঃ আপনি গিয়ে লুকান ওয়াসরুমে?
আহানঃ প্লিজ জান কথা শুনো আমার?

চারুঃ অই কে তর জান (কোমড়ে হাত রেখে)
আহানঃ ওও সরি সরি নার্ভাসনেস এর কারনে ভুলে বলে ফেলেছি। প্লিজ কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি যাও
মা চলে আসছে রুমের মধ্যে
চারুঃ যাচ্ছি যাচ্ছি।
তারপর চারু দৌড়ে ওয়াসরুমে চলে গেলে।
আহানঃ উফ বাচলাম।

চারু আবার দৌড়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে পরে।
আহানঃ কি হল আবার বেরিয়ে পরলে কেন?
চারুঃ আরে বমি করা শার্ট টা নিয়ে যাই।
কাকিমা দেখলে তো হাজার টা প্রশ্ন করবে।
আহানঃ ও হ্যা।

তারপর চারু বমি করা টি শার্ট টা হাতে নিয়ে–
উফফ ইয়াক কি বাজে দুর্গন্ধ।
আহানঃ নিজের বমি স্মেইল নিজেই সইতে পারছনা।
আমি তো কতক্ষন বসে ছিলাম এই টি শার্ট টা পরে।
চারুঃ হয়েছে টপিক ক্লোস। এই ব্যাপারে আর কোন কথা শুনতে চাইনা।
আহানঃ প্লিজ চারু যাওনা। মা চলে আসবে তো?

তোমাকে দেখলে মা তোমাকে কথা শুনিয়ে দিবে।
আর আমি চাইনা আমার ভালোবা
চারুঃ কি ভালোবা
আহানঃ কিছুনা আমার মা। প্লিজ গো।
চারু আহানের কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে টি শার্ট টি নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়।

আহানঃ সরি। জানি তোমার মোটেও ভালো লাগছেনা এই ভাবে ওয়াসরুমে লুকাতে। কিন্তু মা তোমাকে দেখলে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে কথা শুনিয়ে দিবে তোমাকে। আর আমি চাইনা আমার ভালোবাসার মানুষ কে কেউ আঘাত করে কথা শুনাক। আর এই সময় মাকে হেনডেল করাও সম্ভব না কারন সে অনেক রেগে আছে তোমার উপর।
সাবিনাঃ আহান।
মায়ের ডাক শুনে ধ্যান ভাঙে আহানের।
আহানঃ মা তুমি এই খানে এতো রাতে?

সাবিনাঃ তোর রুমে কোন মেয়ের গলা শুনতে পেলাম একটু আগে।
আহানঃ নিশ্চয়ই তোমার বউ মার গলা শুনতে পেয়েছো। (হেসে)
সাবিনাঃ কি বউ মা?
আহানঃ আরে মা আমি কি বিয়ে করেছি নাকি যে আমার রুমে কোন মেয়ে মানুষ এর কন্ঠ শুনতে পাবে।
আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম তোমার সাথে।
সাবিনাঃ না না। আমি আমার কানে স্পষ্ট শুনেছি কোন মেয়ের গলা।

আহানঃ হায়রে পাশের বাসার বিড়াল কখন থেকে মিঞাও মিঞাও করে যাচ্ছে। কানের বারো টা বাজিয়ে দিয়েছে আমার। তুমি হয়ত বিড়ালের ডাক শুনে ভুলে কোন মেয়ের গলা ভেবেছো।
আমার রুমে কিভাবে মেয়ে আসবে বল?
সাবিনাঃ হয়ত। আমি ভুল শুনেছি। বজ্জাদ বিড়াল আমার ছেলের ঘুম টা ভেঙে দিয়েছে। (আহানের মাথায় হাত রেখে)
চারু ওয়াসরুমে বসে আহান আর ওর মার কথা শুনে বেশ রেগে উঠে।
চারুঃ আমাকে মানুষ থেকে বিড়াল বানিয়ে দিল এই শয়তান টা। আমি নাকি বিড়াল? আমি নাকি ওর কানের বারো টা বাজিয়ে দিয়েছি।

দাঁড়া ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে নেই এক বার। বিড়ালে মতো করেই এমন খামচি মারব তোর মুখে যে তুই নিজের ফেস চিন্ততে ভুল করবি।
আহানঃ আল্লাহ মা কি বলছে এই সব। চারু শুনতে পেলে তো আমাকে মেরে বরতা বানিয়ে দিবে। (মনে মনে)
আহানঃ মা

পর্ব ১৭

আহানঃ আল্লাহ মা কি বলছে এসব চারু শুনতে পেলে তো আমাকে ভরতা বানিয়ে দিবে। (আনমনে)
আহানঃ মা আমার প্রচুর ঘুম পাচ্ছে। তুমিও তোমার রুমে ঘুমাও গিয়ে। (একটা হাম দিয়ে)
সাবিনাঃ আচ্ছা। তুই ভালো মতো ঘুমিয়ে পর।
কথাটি বলে চলে গেল মিসেস সাবিনা আহানের রুম থেকে।
মিসেস সাবিনা আহানের রুম থেকে বের হয়ে গেলে আহান বিছানার সাথে মাথাটা হেলান দিয়ে-
উফফ বাবা বাচা গেল।

হঠাৎ আহানের কানে পানির আওয়াজ আসলে-
আহানঃ কি রে এতো রাতে কে গোসল করে তা আবার আমার ওয়াশরুমের ভিতরে?
হায় হায় চারু ওয়াশরুমের ভিতরে আমি তো ভুলেই গিয়েছি।
কথাটি বলে এক লাফে বিছানা থেকে উঠে পরল আহান।
ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে–
আহানঃ এই চারু দরজা খোল এতো রাত বে রাতে গোসল করছিস কেন? ঠান্ডা লেগে যাবে তো।

কথাগুলো আহান খুব আস্তে আস্তে বলছিল যার কারনে কথাগুলো কান পর্যন্ত পৌছাচ্ছিল না চারুর।
চারু কোন রিসপনস না করলে
আহান চারুকে জোড়ে ডাক দিতে যাবে
এর আগেই চারু ওয়াশরুমের দরজা টা খুলে দেয়।
চারু ওয়াশরুমের দরজা খুললে আহান খেয়াল করে চারুর পুরো শরীর পানিতে ভিজে আছে।
আহানঃ এতোক্ষন ডাকছি আর তুই দরজা টা এখন খুললি? আর কি ব্যাপার বল তো এতো রাতে গোসল করছিস তা আবার আমার ওয়াসরুমে।
গোসল তো আমার করা দরকার।

চারু আহানের কথার কোন উত্তর না দিয়ে জোড়ে কান্না করতে শুরু করে দেয় বাচ্চা দের মতো করে।
আহানঃ তাড়াতাড়ি করে ওয়াসরুমে ঠুকে চারুর মুখ চেপে ধরে।
আহানঃ কি হয়েছে এই ভাবে কান্না করছি কেন?
কেউ শুনতে পেলে তো কিয়ামত হয়ে যাবে?
আহান এই ভাবে চারুর মুখ চেপে ধরায় কিছু বলতে পারছেনা চারু
আহান খেয়াল করল চারু কিছু বলতে চাইছে কিন্তু আহান এই ভাবে মুখ চেপে ধরায় কিছু বলতে পারছেনা ও।
আহান তাড়াতাড়ি করে চারুর মুখ থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে-
আহানঃ সরি সরি।

চারু জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগল।
চারুঃ এই ভাবে কেউ কারো মুখ চেপে ধরে।
একটু হলেই তো আমার ধম বন্ধ হয়ে যেত
আহানঃ সরি বলেছি তো।
এখন বল কান্না করছিলি কেন?

চারুঃ আসলে ভাইয়া (কান্নার মুখ করে)
আহানঃ কি? (ভ্রু কুচকিয়ে)
চারুঃ আন্টি রুম থেকে যাওয়ার পর আমি ভাবলাম টি শার্ট টা ধুয়ে দেই। কিন্তু পানিরকল টা এতো শক্ত ছিল যে ছাড়তে পারছিলাম না।
তাই জোড় দিয়ে কলটা ছাড়তে নিলে ভেঙে যায় আমার হাত থেকে।
কথাটি বলে চারু কাঁদতে লাগে বাচ্চা দের মতো করে।

আহানঃ উফফ এতো সামান্য ব্যাপারের জন্য কাঁদতে হয়?
আহান চারুর কাছে গিয়ে ওর চোখের জলগুলো মুছে দেয়।
ওর মুখে এসে থাকা ভেজা চুল গুল সরিয়ে দিয়ে
তাকিয়ে থাকে ওর দিক এ। চারু ও আহানের চোখ এর দিক এ তাকিয়ে থাকে পলকহিন ভাবে।
আর কল দিয়ে অনবরত পানি পরতেই থাকে।

সে পানিতে আহান চারু ভিজতে থাকে বেশ কিছুক্ষন ধরে।
হঠাৎ চারুর হাচ্ছি আসলে দুই জন এর ধ্যান ভাঙে।
আর সাথে সাথে চারু আহানের থেকে সরে দাঁড়ায়।
আহানঃ উফ কি করছিলাম কি আমি?
চারু আমাকে কি ভাববে?
চারুঃ আল্লাহ আমি তার দিক এ এই ভাবে তাকিয়ে ছিলাম কেন? মনে চাইছিল এই ভাবেই তার চোখ এ ডুবে থাকি আমি
না না চারু এই কি সব বলছিস তুই?

এই চিন্তা ভাবনা মাথায় আনাও ঠিক না তোর জন্য।
(আনমনে)
আহানঃ এই যে ম্যাম।
আহানের কথায় ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসে চারু।
চারুঃ জ্বি।
আহানঃ সরো সামনের থেকে না সরলে আমি কল টা ঠিক করব কিভাবে?
চারুঃ ওও হ্যা।

তারপর চারু সরে দাঁড়ালে
আহান ওর প্যান্ট এর পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে ওর ডান হাত টা দিয়েই পানি বন্ধ করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু কোন ভাবেই এক হাত ব্যাবহার করে আহান পেরে উঠে না।
চারুঃ ভাইয়া সরুন আপনি পারছেননা এক হাত দিয়ে?
আহানঃ তো কি করব বল? দেখিস না বা হাতে ব্যান্ডেজ করা।
চারুঃ তাই তো বলছি আপনি সরুন আমি করছি।
আহান চারুর কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগে।

চারুঃ এই খানে হাসির কি হল যে আপনার এতো বেশি হাসি পাচ্ছে?
আহানঃ পারবি তো? (হেসে)
চারুঃ হ্যা পারব। এইটা আবার এমন কি কঠিন কাজ? যে পারবনা।
কথাটি বলে চারু আহানের হাত থেকে রুমালটা নিয়ে রুমাল দিয়ে পানি বন্ধ করার চেষ্টা চালাতে থাকে।
বার বার চেষ্টা করার পর ও চারুর হাতে আসে শুধু ব্যর্থতা।
আহানঃ হয়েছে চেষ্টা করা।
চারু আহানের কথা শুনে অসহায় দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে।

আহানঃ একটা কাজ করা যায়। দুই জন মিলে এক সাথে try করার চেষ্টা করি
চারুঃ গুড আইডিয়া।
তারপর আহান আর চারু এক সাথে মিলে চেষ্টা করতে থাকে। অনেক চেষ্টা করে পানি বন্ধ করতে সফল হয় তারা।
আহানঃ উফ ফাইনালি বন্ধ হয়েছে।
কথাটি বলে আহান চারু দিক এ তাকিয়ে জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগল।
উফ চারু তুমি তো অর্ধেক গোসল হয়ে গিয়েছো
আসো তুমাকে পুরো গোসল করিয়ে দেই।
কথাটি বলে আহান চারু কাছে এসে ওর চুলগুল জোড়ে জোড়ে ঝাপটাতে থাকে যার কারনে আহানের চুলের পানি গুলো এসে চারুর মুখে গিয়ে পরে।

চারু আহান কে থামানোর জন্য ভুলক্রমে আহানের ব্যথার হাত টা ধরে বসে।
চারুঃ সরি সরি আমি খেয়াল করিনি(কান্নার মুখ করে)।
আহানঃ ইটস ওকে বাবা। আমি ব্যথা পাইনি।
চারুঃ পানিতে আপনার হাতের ব্যান্ডেজ টা ভিজে গেছে আসেন চেঞ্জ করে দেই।
আহানঃ ওও হ্যা।
চারুঃ হুম হ্যা না করে চলেন তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করিয়ে দেই না হলে প্রবলেম হবে।
আহানঃ হ্যা বাবা চল।
তারপর আহান আর চারু ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে পরে।

ফাস্ট এড বক্স টা বের করে আহানকে বিছানায় বসিয়ে ওর সামনে হাটু গেড়ে বসে পরে চারু।
আহান শুধু এক পলকে চেয়ে থাকে ওর ভালোবাসার মানুষ টার দিক এ।
চারু আহানের হাত টা ধরে-
ইস কি অবস্থা হয়েছে হাত টার?
আপনার ব্যথা করছে?
ব্যথা না লাগলেও-
আহানঃ হুম অনেক বেশি ব্যথা করছে (অসহায় মুখ করে)
চারু আহানের কথা শুনে আহানের হাতে ফু দিতে লাগে।

চারুঃ এখন ভালো লাগছে?
আহানঃ অনেক বেশিই ভালো লাগছে আমার।
চারু আহানের কথা শুনে ভ্রু কুচকিয়ে ওর দিক এ তাকালে
আহানঃ আরে মানে বলতে চেয়েছিলাম। এখন ব্যথা একটু কম লাগছে(শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে কিছু না বলে আহানের হাতে মলম লাগিয়ে তাড়াতাড়ি করে ব্যান্ডেজ করে দেয়।
চারুঃ নেন হয়েছে ব্যান্ডেজ করা।

কথাটি বলে চারু আহানের রুম থেকে বের হতে নিলে-
আহানঃ ওয়েট চারু
চারু আহানের কথা শুনে থেমে গিয়ে পিছনে ঘুরে তাকায়।
আহান তোয়ালে টা হাতে নিয়ে চারুর ভিজা চুল গুলো মুছতে নিলে-
চারুঃ ভাইয়া আমি করে নিব। আপনার কষ্ট করার দরকার নেই।
আহানঃ চুপ একদম চুপ
চারু আহানের কথা শুনে মুখে আঙুল দিয়ে রাখে।

তারপর আহান নিজেই ওর এক হাত দিয়ে চারু ভিজা চুল গুলো মুছে দেয়।
আহানঃ হুম এখন তুমি যেতে পার। নিজের রুমে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে গিয়ে নিজের জামা টা চেঞ্জ করে নিবে। এই ভিজা কাপড়ে বেশিক্ষন থাকলে তোমার সর্দি লেগে যাবে।

চারু আহানের কথা শুনে মাথা নেড়ে রুম থেকে চলে যেতে নিলে।
আহানঃ চারু
চারুঃ আবার কি?
আহানঃ

পর্ব ১৮

চারু আহানের কথা শুনে রুম থেকে চলে যেতে নিলে-
আহানঃ চারু
চারু আহানের ডাক শুনে পিছনে ঘুরে তাকায়।
চারুঃ আবার কি?
আহানঃ না কিছুনা এমনি
চারুঃ কিছুনা না হলে ডাকলেন কেন পিছন থেকে?

আহানঃ আচ্ছা বাবা আমি অনেক বড় অপরাদ করেছি আপনাকে পিছন থেকে ডেকে৷ প্লিস আমাকে ক্ষমা করুন।
চারু আহানের কথার কোন উত্তর দিতে যাবে এর আগেই চারুর হাচ্ছি আসতে শুরু করে।
আহানঃ দেখেছো লেগে গেছে তো সর্দি।
তাড়াতাড়ি করে রুমে গিয়ে লক্ষি মেয়ের মতো জামাটা চেঞ্জ করে শুয়ে পরো গিয়ে
চারুঃ হুম যাচ্ছি।
তারপর চারু হাচ্ছি দিতে দিতে রুম থেকে বের হয়ে পরে।

চারু রুমে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে নিজের জামাটা চেঞ্জ করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরে।
হঠাৎ চারুর মোবাইলের রিংটং বেজে উঠে
চারু বিছানা থেকে ফোনটা রিসিভ করে —
চারুঃ হ্যালো (ঘুমু কন্ঠে)
আহানঃ হ্যালো চারু
আহান পুরো কথা বলতে যাবে এর আগেই চারু আহানকে থামিয়ে দিয়ে-
চারুঃ ভাইয়া আমার খুব পিপাসা পেয়েছে আমি আপনাকে পাঁচ মিনিট পরে ফোন দেই।

কথাটি বলে ফোনটা কেটে দেয় চারু।
তারপর চারু এক গ্লাস পানি খেয়ে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরে। আহানকে কল দিতে পুরো পুরি ভুলেই যায় চারু।
ওইদিক এ আহান চারুর ফোনের অপেক্ষা করতেই থাকে বোকার মতো করে।
আহানঃ উফ পাঁচ মিনিট এর বদলে তো আধা ঘণ্টা হয়ে গেল এখনো কল দিচ্ছেনা কেন?
আমি কল দিব। না না ও পরে বিরক্তবোধ করবে আমি কল দিলে। এর থেকে আমিই ওর ফোন দেওয়ার অপেক্ষা করতে থাকি।

একদিক এ চারু শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে। অন্যদিক এ আহান চারুর ফোনের অপেক্ষায় বসে আছে।
অপেক্ষা করতে করতে আহানও ঘুমিয়ে পরে।
সকালে বাড়ির দরজায় কেউ নক করলে চারু গিয়ে তাড়াতাড়ি করে দরজাটা খুলে দেয়।
সামনে তাকিয়ে দেখে একজন লোক একটা ব্যাগ কাঁদে করে দাঁড়িয়ে আছেন ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে।
লোকটিঃ ম্যাম আহান স্যার ফোন দিয়েছিল কল ঠিক করার জন্য
চারুঃওও আচ্ছা। ভিতরে আসুন।

সাবিনাঃ কে রে চারু?
লোকটিঃ ম্যাম আহান স্যার ডেকে পাঠিয়েছে আমায়। তার ওয়াসরুমের নাকি কল ভেঙে গেছে। সেইটা ঠিক করার জন্যই আমাকে আসতে বলেছেন উনি।
সাবিনাঃ ওও। আচ্ছা উপরে যান। উপরেই আহানের রুম।
লোকটি চারুর দিক এ তাকিয়ে-
ম্যাম আমাকে একটু নিয়ে যাবেন স্যার এর রুমে?
চারুঃ জ্বি চলুন।

সাবিনাঃ এই আপনি কি পাগল ওকে ম্যাম ডাকছেন কেন? ওই কি এই বাড়ির মালকিন নাকি যে ম্যাম বলে ডাকছেন। ওর সাথে আর বাসার চাকরের সাথে কোন পার্থক্য নেই বুঝলেন।
সাবিনার কথা শুনে চারুর চোখে জল এসে পরে কেউ দেখে নেওয়ার আগেই জল গুলো মুছে নেয় ও।
লোকটি চারুর দিক এ তাকিয়ে থাকলে-
সাবিনাঃ ওই চারু শুনতে পাচ্ছিসনা কিছু।
যা এই লোকটাকে আহানের রুমে নিয়ে যা। সারা দিন বসে বসে খাস একটু তো হাত পা চালা।
চারুঃ আংকেল আসেন আমার সাথে?

লোকটিঃ হুম চল
তারপর চারু লোকটিকে আহানের রুমের ভিতরে নিয়ে গিয়ে-
চারুঃ ভাইয়া কল ঠিক করার জন্য লোক এসেছে। আংকেল ওয়াসরুম টা ঔ দিক।
কথাটি বলে চারু রুম থেকে বের হতে নিলে-
লোকটি চারুকে পিছন থেকে ডাক দেয়।
লোকটিঃ এই বুয়াআমার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে আয়।
লোকটির কথা শুনে আহানের রাগ যেন সাত আসমানে পৌছায়।

রাগের মাথায় আহান লোকটির কলার চেপে ধরে
আহানঃ হাউ ডের উ। চারুকে বুয়া বলে ডাকার সাহস হল কিভাবে আপনার? ঔ জানেন কে?
চারু আহানকে ধরে-
প্লিজ ভাইয়া ইনাকে ছাড়ুন।
লোকটিঃ হ্যা স্যার আমার কলার ছাড়ুন। আমার কি দোষ আপনার মাই তো বলেছে সে এই বাড়ির বুয়া তাই তো আমি ওকে
লোকটি পুরো পুরি কথাটা বলার আগেই আহান চিৎকার দিয়ে –
ইনাফ।

আহানঃ আরেকবার ওই শব্দ টা উচ্চারণ করার মতো ভুল মোটেও করবেন না। আপনি আমার বাবার বয়সি।
তাই বয়সের রিস্পেকট করছি। তা না হলে আজ আপনার কি অবস্থা হত সেইটা আমি নিজেও জানিনা।
নাও লিভ ফ্ররোম মাই রুম
লোকটি আহানের রাগ দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়।

হুর হুর করে বেরিয়ে পরে বাসা থেকে
চারুঃ আপনার এতো রাগ করা টা ঠিক হয়নি।
আহানঃ জানি কিন্ত কি করব বল নিজের ভালোবসার মানুষ টাকে কেউ এই ভাবে ডাকলে কারই বা মাথা ঠিক থাকে। আনমনে।
মিসেস সাবিনা আহানের রুমে ভিতরে ঠুকে-
কি রে আহান লোকটি চলে গেলে কেন?
আহানঃ মা তুমি লোকটিকে কি বলেছো?

সাবিনাঃ কি বলেছি?
আহানঃ মা একটা কথা সব সময় মনে রাখবা চারু আমাদের বাসার কোন সার্ভেনট না। ও আমাদের ঘরের একজন সদস্য। তাই ভুলেও কাউকে বলার চেষ্টা করোনা যে ও আমাদের থাক বাদ দাও।
আহানের বলা কথা শুনে চারুর চোখ এ জল এসে পরে কিন্তু সেটা কষ্টের না খুশির। আহান আর মিসেস সাবিনা তা দেখার আগেই নিজের চোখের জল মুছে নেয় চারু।

তারপর আহান ওর মাকে বিছানায় বসিয়ে তার সামনে হাটু গেড়ে বসে
আহানঃ মা আশা করি তুমি আমার কথা বুঝতে পেরেছো আর বাসায় যারা কাজ করে তাদেরকেও এখন থেকে বুয়া চাকর এই সব বলে ডাকবেনা।
মিসেস সাবিনা আহানের কথা শুনে –
সাবিনাঃ আজ তোর জন্য আমার ছেলে আমাকেই শুনাচ্ছে তাইনা। এর শোধ আমি ঠিকই নিব। (মনে মনে)
সাবিনাঃ আচ্ছা আর ডাকব না (শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
কথাটি বলে চলে যায় মিসেস সাবিনা আহানের রুম থেকে।
চারুও চলে যায় আহানের রুম থেকে বের হয়ে।

চারু আর মিসেস সাবিনা রুম থেকে চলে গেলে–
আহান ওর ফোনটা নিয়ে কাউকে কল দেয়।
ফোনটা রিসিভ হলে-
লোকটিঃস্যার প্লিজ ক্ষমা করবেন
আহানঃ না আংকেল ক্ষমা তো আমার চাওয়া উচিত আপনার কাছে। আসলে আমার প্রচন্ড রাগ এসেছিল যখন আপনি
লোকটিঃ বুঝতে পেরেছি। ভালোবাসার মানুষকে কেউ এই ভাবে ডাকলে যে কেউ এমন রিয়েকট করবে।
আহানঃ আপনি কিভাবে বুঝলেন ওকে আমি?

লোকটিঃ তুমাকে দেখলে যে কেউ বলে দিতে পারে তুমি ওকে কতোটা ভালোবাসো।
আহানঃ শুধু ওই বুঝেনা। যাই হোক আমার আচরনের জন্য আমাকে নিজের ছেলের মত ভেবে মাফ করে দিবেন আংকেল
লোকটিঃ মাফ চাইতে হবেনা বাবা। আর একটা কথা। মেয়েটা অনেক ভাগ্যবর্তি বর্তমানে তোমার মতো ছেলে পাওয়া অনেক মুশকিল।
আহানঃ তাই নাকি? দোয়া করবেন যাতে আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে খুব জলদি নিজের করে নিতে পারি।
লোকটিঃ হ্যা বাবা অবশ্যই।

তারপর আহান ওর ফোনটা কেটে দিলে দেখে চারু ওর রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
রুমের ভিতরে ঠুকে-
চারুঃ

পর্ব ১৯

তারপর আহান ওর ফোনটা কেটে দিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে চারু ওর রুমের দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রুমের ভিতরে ঢুকে
চারুঃ ভাইয়া কি বলছিলেন ফোনে?
আহানঃ কি বলছিলাম?
চারুঃ মানে ফোনে আপনি কাউকে বলছিলেন যে দোয়া করবেন আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে যাতে খুব জলদি আপন করে নিতে পারি।

এর মানে আপনি কাউকে ভালোবাসেন(খুশি হয়ে)
আহানঃ হুম বাসি তো অনেক বেশি ভালোবাসি মেয়েটাকে
চারুঃ সত্যি? ভাইয়া মেয়েটা কে?
আহানঃ যদি বলি মেয়েটি আর কেউ নয় তুমি।
আহানের বলা কথা শুনে চারু চারশচল্লিশ বোল্ড এর শকড খায়।
আহান খেয়াল করে চারু আহানের বলা কথা শুনে বড় ধরনের শকড খেয়েছে।

তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য –
আহানঃ আরে আমি তো ফান করছিলাম।
চারু আহানের কথা শুনে সস্তির নিশ্বাস ফেলে।
চারুঃ উফ থ্যাংক গড সে ফান করছিল।
কিন্তু সে ফান করে কথাটা বলছে এই কথাটা শুনে আমার এতো কষ্ট হচ্ছে কেন?
মনে হচ্ছে আমার হৃদয় টাকে কেউ দাড়ালো ছুড়ি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।

তাহলে আমি তাকে
না চারু এ-ই গুলো তর মনের ভুল। এর চেয়ে বেশি কিছুনা।
আহানঃ এই যে ম্যাম আপনি বার বার কোন দুনিয়ায় চলে যান?
চারুঃ তো বললেন না মেয়েটা কে?
আহানঃ আরে বললাম তো তুমি(হেঁসে)
চারুঃ শয়তান
তারপর চারু রেগে মেগে চলে যায় আহানের রুম থেকে।

আহান চারুর চলে যাওয়ায় পর বিছানায় শুয়ে পাশে থাকা
একটা বালিশ খুব শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জরিয়ে—
আহানঃ উফফ এই মেয়ে টা কি আল্লাহ কোন কথাই বুঝে না। কোন বাচ্চা মেয়ের প্রেমে পরলি আহান।
এই মেয়ে শুধু উচ্চাতার দিক দিয়ে বড় হয়েছে।

বোঝার শক্তি এক ফোঁটাও হয়নি।
বাট আমার বিশ্বাস ও আমার ভালোবাসা ঠিক ই বুজবে যেই দিন আমি চিৎকার দিয়ে বলব –
আই লাভ উ চারু
কথাটি বলে আহান ওর বুকের সাথে জরিয়ে রাখা বালিশ টি আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরল
বাসার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলে বাসার একটা সার্ভেনট এসে দরজা টা খুলে দেয়।
সামনে তাকিয়ে দেখে আবির আর দিশা দাঁড়িয়ে আছে।

সাবিনাঃ কে এসেছে রে মরজিনা?
মরজিনাঃখাল্লামা আবির ভাইয়া আর দিশা ভাবি এসেছে(জোড়ে)।
মরজিনাঃ ভাইয়া ভাবি কেমন আছেন আপনারা(খুশি হয়ে)
দিশাঃ আলহামদুলিল্লাহ মরজিনা। তুমি?
মরজিনাঃ আপনারা চইল্লা আইসেন বাসায়। আমার তো অনেক খুশি লাগতাসে
মরজিনার হাত হ্যাচকা টান দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয় মিসেস সাবিনা।
এই খানে দাড়িয়ে না থেকে কাজ কর গিয়ে।

মিসেস সাবিনার বলা কথা শুনে মরজিনা মাথা নিচু করে থাকলে–
সাবিনাঃ কি রে এই খানেই কি দাঁড়িয়ে থাকবি?
আমার কপালে সব কাম চোর এসে ঠেকেছে।
সব গুলা শুধু বসে বসে খাওয়ার ধান্দায় থাকে।
যা কাজ কর গিয়ে।
মিসেস সাবিনার কথা শুনে মেয়েটি মন খারাপ করে চলে যায় সেই খান থেকে।
আবিরঃ মা কি দরকার ছিল মেয়েটাকে এই সব কিছু বলার?
সাবিনাঃ আরে ওর কথা বাদ দে তো।

আয় বাবা ঘরে আয়। তোকে ছাড়া এই বাড়ি টা শূন্য শূন্য লাগছিল।
আবির আর দিশা সাবিনার কথা শুনে বাসায় প্রবেশ করলে–
মিরাজ সাহেব সোফায় বসে চা খাচ্ছিলেন।
দিশা আর আবিরকে দেখে তার যেন খুশির কোন সীমানা নেই।

চা টা টেবিলে রেখে নিজের ছেলের কাছে গিয়ে বুকে জরিয়ে নিলেন উনি।
দিশা মিরাজ সাহেব এর পাঁ ছুয়ে সালাম করতে নিলে মিরাজ সাহেব দিশাকে থামিয়ে-
মিরাজঃআরে কি করছ পাঁ ছুয়ে সালাম করতে হবে না।
আমার আশীর্বাদ সর্বদা তুমার সাথে আছে মা (দিশার মাথায় হাত রেখে।

সাবিনাঃ ভালোই ভালো শ্বশুর এর পাঁ ছুয়েই সালাম করছ। শ্বাশুড়ি যে আছে সেটা তো মনে হয় ভুলেই গেছ।
মা বাবা পুরো পুরি শিক্ষা দিয়ে পাঠায়নি মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি।
সাবিনা বলা কথা শুনে বেশ রাগ আসে দিশার।
কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে চুপ হয়ে যায় সে।

দিশাঃ মা আপনাকে কি সালাম না করে পারি বলুন। আপনি তো আমার দশ টা না বারো টা না একটা মাএ শ্বাশুড়ি। (একটা হাসি দিয়ে)
তারপর দিশা মিসেস সাবিনা পাঁ ছুয়ে সালাম করলে-
সাবিনাঃ হয়েছে সালাম করতে হবেনা আমায়।
কথাটি বলে মিসেস সাবিনা দিশার থেকে সরে দাঁড়ায়।
মিরাজঃ দিশা আবির যাও নিজের রুমে গিয়ে একটু রেস্ট কর গিয়ে।

আমি অফিসে যাচ্ছি। রাতে আসলে সবাই মিলে আড্ডা দিব কেমন?
আবিরঃ বাবা আমি যাই তোমার সাথে অফিসে।
বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর আর এক সাথে অফিসে যাওয়া হয়ে উঠে না।
মিরাজঃ নো মাই সান। আজ তুমি রেস্ট নাও
আজ আমি একা সামলে নিব অফিসের কাজ।
আবিরঃ কিন্তু বাবা
মিরাজঃ কোন কিন্তু নয়। আমি যেই টা বলেছি সেইটাই হবে। বুঝেছ(মুখ গম্ভির করে)
আবিরঃ আচ্ছা বাবা যাব না আজ অফিস।
মিরাজঃগুড। আচ্ছা তাহলে আমি যাই।

কথাটি বলে মিঃ মিরাজ সাহেব চলে গেলেন অফিসে।
সাবিনাঃ আবির বাবা তুই রুমে গিয়ে বিশ্রাম কর একটু
আবিরঃ হ্যা মা আগে একটু আহানকে দেখে আসি ওর রুমে গিয়ে।
সাবিনাঃ আচ্ছা যা বাবা আহান তোকে দেখলে খুশি হয়ে যাবে।
তারপর আবির আর দিশা আহানের রুমে চলে যায় আহানের সাথে দেখা করতে।
আহানের রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দিশা আর আবির জোড়ে চিৎকার দিয়ে উঠে —
সারপ্রাইজ।

আবির আর দিশা এই ভাবে আসায় বেশ ভয় পেয়ে যায় আহান।
আহানঃ আল্লাহ তোমরা।
আমি তো ভূত ভেবে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।
আবির আর দিশা বিছানায় আহানের পাশে বসে পরে।
দিশাঃ তোমার ভাই কি ভূতের চাইতে কম নাকি? (হেসে)
আবিরঃ আমি ভূত হলে তুমি আম গাছের শাকচুন্নি। (মুখ বাঁকা করে)
চারু পিছন থেকে এসে দিশার পিছনে দাঁড়িয়ে জোড়ে চিৎকার দিয়ে
ভাবি
আচমকা চারু এ-ই ভাবে চিৎকার দিয়ে উঠায় বেশ চমকে উঠে দিশা।

দিশা রেগে মেগে চারুর কান ধরে–
অনেক শয়তানি শিখে গেছ তাইনা। ভাবিকে ভয় দেখাও।
দিশাঃ আরে ছাড়ো ভাবি আমার লাগছে তো।
আহানঃ হ্যা ভাবি ওর কানটা ছেড়ে দাও ও ব্যথা পাচ্ছে তো।
দিশাঃ ইসস রে দেবর আমার যেমন করে বলছে মনে হচ্ছে আমি উনার ভালোবাসার মানুষ টার কান ধরে বসে আছি(হেসে)
চলবে

পর্ব ২০

দিশাঃ ইসস দেবর আমার যেমন করে বলছে মনে হচ্ছে আমি তার ভালোবাসার মানুষ টার কান ধরে বসে আছি। চারুর চেয়ে কষ্ট মনে হয় ইনিই বেশি পাচ্ছেন (হেসে)
দিশার বলা কথা শুনে বেশ লজ্জায় পরে যায় আহান আর চারু। আর আবির খিল খিল করে বোকার মতো হাসতে থাকে দিশার কথা শুনে।

হঠাৎ মিসেস সাবিনা আহানের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে –
চারু আমার রুমে আয় তো একটু কাজ আছে।
দিশা মিসেস সাবিনাকে দেখে তাড়াতাড়ি করে চারুর কানটা ছেড়ে দেয়।
চারু চলে যেতে নিলে
দিশাঃ চারু ওয়েট আমিও আসছি তোমার সাথে।
তারপর দিশাও চারুর সাথে নিচে চলে যায়।

মিসেস সাবিনার রুমে চারু আর দিশা প্রবেশ করলে-
মিসেস সাবিনা দিশা কে দেখে
সাবিনাঃ আমি কি তোমাকে আসতে বলেছিলাম দিশা।
দিশাঃ না মানে মা।
সাবিনাঃ থাক বাদ দাও।

নে চারু এই লিস্ট টা। লিস্ট এ যা যা আছে সব নিয়ে আসবি বাজার থেকে কিনে। একটা জিনিস ও যেন বাদ না পরে।
চারুঃ কাকিমা ড্রাইভার আংকেলকে পাঠিয়ে বাজার টা আনা যায়না
মিসেস সাবিনা চারুর কথা শুনে ওর দিক এ চোখ রাঙিয়ে তাকালে-
চারুঃ আসলে সকাল থেকে আমার একটু খারাপ লাগছে। তাই বলছিলাম আর কি। (মাথা নিচু করে)
সাবিনাঃ তর কোন দিন ভালো লেগেছিল বলবি।

সারা দিনভর ন্যাকামি করিস।
চারু মিসেস সাবিনার কথা শুনে আর কথা বাড়ানো ঠিক মনে করল না।
চারুঃ দিন লিস্ট টা।
সাবিনাঃ এই ধর।
চারু মিসেস সাবিনার থেকে লিস্ট টা নিয়ে চলে যেতে নিলে-
দিশাঃ মা অন্য কাউকে দিয়ে বাজার টা আনলে ভালো হয়না। এমনিও চারুর শরীর টা মনে হয় ভালো নেই।
সাবিনাঃ তোমাকে মাঝ খান দিয়ে কথা বলতে বলেছি আমি? খালি তো কথাই বলতে জানো। আজ পর্যন্ত তো পারলে না আমাকে নাতি নাত্নির মুখ টা দেখাতে।

দিশা কিছু বলতে যাবে চারু দিশা কে থামিয়ে দিয়ে-
চারুঃ ভাবি প্লিজ কথা বাড়িওনা।
কথাটি বলে চলে যায় চারু সেই খান থেকে।
দিশা চারুকে থামাতে চাইলে কিছু বলার সাহস হয়না মিসেস সাবিনা কে দেখে।
রাস্তায় বের হয়ে চারু রিকশা খুজলে কোন রিকশাই খালি না পেলে পায়ে হেটে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেয় ও।
কিন্তু যতই হাটছে ততোই খারাপ লাগছে ওর।

সূর্যের তাপ যেন ঠিক ওর মাথার কাছে এসে ঠেকছে।
বহু কষ্ট করে অবশেষে বাজারে পৌছাতে সফল হয় চারু
বাসায়
আহান আর আবির মিলে আহানের রুমে বসে গল্প গুজব করতে থাকে।

হঠাৎ দিশা আহানের রুমে এসে মুখ গোমড়া করে বসে থাকে আবির এর পাশে গিয়ে।
আবিরঃ কি হল শাকচুন্নি এ-ই ভাবে মুখ প্যাঁচা মতো করে আছ কেন?
আবির এর কথা শুনে আহান হাসতে হাসতে শেষ।
দিশাঃ ফাজলামো ভালো লাগেনা সব সময়।

চারুর জন্য মন টা খারাপ লাগছে বেচারির এমনিই শরীরটা ভালো লাগছিল না। তার উপর মা ওকে লিস্ট হাতে ধরিয়ে পাঠিয়ে দিলেন বাজারে।
দিশার কথা শুনে আহানের মুখের হাসিটা শূন্যে মিলিয়ে যায়।
উতেজিত হয়ে–
আহানঃ ভাবি কোন বাজারে গেছে ও?

দিশাঃ এই তো আমদের বাড়ির সামনের বাজার টায়
আধা ঘন্টার দূরত্ব হবে।
আহানঃ থানক্সস ভাবি।
কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বের হয়ে পরল আহান।

তারপর গাড়িটা বের করে রওনা দেয় বাজারের উদ্দেশ্যে।
বাজারে আসলে গাড়ি থেকে নেমে পরে আহান।
আর পাগলের মতো বাজারের প্রত্যেক টা জায়গায় খুজতে থাকে চারুকে।
এই ভাবে অসুস্থ শরীর নিয়ে চারুকে খুজতে থাকায় বেশ ক্লান্ত হয়ে পরে আহান।

আকাশের দিক এ তাকিয়ে
আহানঃ উফ আল্লাহ কোথায় খুজব আমি মেয়েটাকে?
হঠাৎ একটা পরিচিত কন্ঠ আহানের কানে ভেসে উঠে –
আহানঃ কন্ঠ টা শুনে বাজারের সামনে দিক এ এগুলে-
দেখে একটা মেয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে দোকানদারের সাথে দরকষাকষি করছে।

মেয়েটিকে পিছন থেকে দেখে আহানের আর বুঝতে বাকি রইল না মেয়েটি কে
তাড়াতাড়ি করে চারুর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে–
আহানঃ তুমি এই খানে আর আমি তোমাকে কোথায় কোথায় খুজে বেরাচ্ছি?
চারুঃ ভাইয়া আপনি এই খানে? (অবাক হয়ে)
ওয়েট ভাইয়া আগে এই দোকানদারের সাথে বুঝা পরা করে নেই।

চারুঃ এই আপনি দিবেন?
লোকটিঃ আফা কেমনে দিমু। এক হালি লেবুর দাম পঞ্চাশ টাকা আর আপনি দুই হালি লেবু চাইতাসেন ষাট টাকা। আমি তো কিনসিই এক হালি চল্লিশ টাকা দিয়া।
চারুঃ আমি বুঝিনা এই সব কথা বলেই মানুষ কে বোকা বানান। আমি মোটেও বোকা নই তাই আমাকে বোকা বাননোর চেষ্টা করবেন না।

মিথ্যা বললে আপনার সামনে দুইটা দাঁত কাউয়া এসে নিয়ে যাবে ঠোকর দিয়ে।
আহানঃ ওয়াট? লাইক সিরিয়াসলি! কি সব উলটা পালটা বলছ?
ভাইয়া দিন তো। আপনি যেই দামে বলছেন সেই দামেই দেন।
লোকটিঃ না ভাই থাক। নেন আফা আপনার বলা
দামেই দাম রাখলাম। কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে লেবু গুলো একটা থলির মধ্যে ঠুকিয়ে চারুর হাতে দিয়ে দেয় লোকটি।
চারু দাম দিতে চাইলে আহান চারুকে দামিয়ে–
আহানঃ
চলবে৷৷

পর্ব ২১
আহানঃ তোমার দাম দেওয়া লাগবেনা। আমিই দিয়ে দিচ্ছি। তুমি গিয়ে গাড়িতে বসো গিয়ে।
চারুঃ ইসস আমাকে কি আপনার বোকা মনে হয়।
আমি কি কিছুই বুঝিনা। আমি সব বুঝি(ভাব নিয়ে)
আমি চলে গেলে আপনি লোকটাকে একশো টাকাই দিয়ে দিবেন।
লোকটি শুধু অবাক হয়ে চারুর কথা শ্রবণ করছিল।
লোকটিঃ আচ্ছা ম্যাডাম আপনেই দিয়া দেন টাকা।

লোকটির কথা শুনে চারু তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিয়ে দিল।
চারুঃ ওই খানে ষাট না পয়ষট্টি টাকা আছে।
আমার মন বিশাল বড়। তাই পাঁচ টাকা বেশি দিয়ে দিলাম।
লোকটিঃ কয় কি আমার পয়এিশ টাকা লস করাইয়া, এহন কয় আমি পাঁচ টাকা বেশি দিসি।
কার মুখ দেইক্ষা যে আজ ঘুম থেইকা উঠসিলাম।
যে সকাল সকাল এমন কাস্টমার আইসে।

(মনে মনে)
জ্বি ম্যাডাম হাচা কইসেন আপনার মন বিশাল বড়(শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
আহানঃ হয়েছে। এখন চল
চারুঃ হুম চলেন।
চারু চলে গেলে লোকটির সস্তির নিশ্বাস ছাড়ে।
চারুঃ তো বললেন না আপনি এই খানে কি করছেন।

আহানঃ আমার বউ কে নিতে আসছি(হেসে)
চারুঃ কি সবজি বাজারে? মানুষ তো বউ নিতে শ্বশুর বাড়ি যায়। (হেসে)
আহানঃ উফ আমি কেন আসলাম কি কারনে আসলাম সেই গুলো বাদ দাও।
চলো বাসায় চলো লেট হয়ে যাচ্ছে। এমনি তোমার শরীর টাও বেশি ভালো দেখাচ্ছেনা।
চারুঃ আমি আইস্ক্রিম খাব। গলাটা আমার শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
আহানঃ তাই নাকি। আচ্ছা তুমি গাড়িতে গিয়ে বসো
আমি গিয়ে নিয়ে আসি।

তারপর আহান চারুকে গাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে ওকে গাড়িতে বসিয়ে চলে যায় আইস্ক্রিম কিনতে।
কিছুক্ষণ পর আহান এসে গাড়িতে ঢুকে-
চারুর হাতে একটা ডাবের পানি ধরিয়ে দেয়।
চারুঃএইটা কি(অবাক হয়ে)
আহানঃ এইটা আইস্ক্রিম। (হেসে)
চারুঃ দেখুন মজা করবেন না। আমার আইস্ক্রিম কই?

আহানঃ আইস্ক্রিম ওর মামা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে।
তাই আপাতত তুমি এইটা খাও।
ডাবের পানি হেলথ এর জন্য অনেক ভালো।
আর তোমার সর্দি লেগেছে তাই আইস্ক্রিম টাইস্কিম খাওয়া যাবেনা।
চারুঃ এই কারনেই ডাক্তার দের সাথে থাকতে নেই।
তারা শুধু লেকচার দিতে থাকে।
আহানঃ হ লেকচার দেই। আর আমার লেকচার শুনতে তুমি বাধ্য।

চারুঃ আপনি কেন আসলেন আমাকে নিতে ড্রাইভার আংকেল কে পাঠিয়ে দিতেন। এমনি আপনার হাতে ব্যথা। গাড়ি চালাতে আপনার কষ্ট হবে।
আহানঃ তোমাকে কে বলল আমি তোমাকে নিতে আসছি? আমি তো এমনি ঘুরতে আসছি।
আমার হাতে এখন ব্যথা নেই। অনেক টা কমে গেছে।
তাই আমি ড্রাইভ করতে পারব।

কথাটি বলে আহান গাড়ি স্টাট দেয়। আর আপন মনে গাড়ি চালাতে থাকে।
চারু মুখে পাইপ নিয়ে আহানের দিক এ তাকিয়ে থাকে।
আহানঃ এই ভাবে বেশি ক্ষন আমার দিক এ তাকিয়ে থাকলে কিন্তু আমার প্রেমে পরে যাবা। (সামনের দিক এ তাকিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে বেশ লজ্জায় পরে যায়।

তাড়াতাড়ি করে অন্য দিক এ মুখ সরিয়ে নেয় ও
আহান গাড়ি চালার ফাঁকে ফাঁকে চারুকে দেখে যাচ্ছিল
পুরোই বাচ্চাদে মতো করে আওয়াজ করে ডাবের পানি খাচ্ছে চারু।
কিছুক্ষন এর মধ্যে বাড়ি পৌছালো ওরা।

দরজার নক করলে মিসেস সাবিনা এসে দরজা খুলে দেয়। চারু আর আহানকে এক সাথে দেখে
তার হাসি মাখা মুখ টা নিমিষেই ফ্যাকসে হয়ে পরে।
সাবিনাঃ আহান তুই বাহিরে গেলি কবে আর বাইরে বা গিয়েছিস কেন এই অসুস্থ শরীর নিয়ে।
আহানঃ আসলে মা(আমতা আমতা করে)
চারুঃ আসলে আন্টি ভাইয়া আমাকে নিয়ে আসতে গিয়েছিল বাজারে।
আহানঃ ধুর পাগল কি বলছিস আবল তাবল।

আমি তো একটা জরুরি কাজের জন্য বাহিরে গিয়েছিলাম। আর ভাগ্যক্রমে তোর সাথে রাস্তায় দেখা হয়ে যায়। তাই ভাবলাম তোকেও সাথে করে নিয়ে আসি।
আচ্ছা মা আমি আমার রুমে যাচ্ছি ফ্রেশ হতে।
তারপর সেখান থেকে তাড়াতাড়ি করে কেটে পরে আহান।
চারুঃ আচ্ছা কাকিমা এই বাজারের ব্যাগ টা রান্না ঘরে রেখে আসি।

চারু চলে যেতে নিলে মিসেস সাবিনা চারুর ডান হাত টা ধরে ওকে থামিয়ে দিয়ে–
সাবিনাঃ তুই কি এতো নাজক কলি যে তোকে নিয়ে আসার জন্য আরেকজন কে যেতে হয়। আমি জানি আহান আমার সাথে মিথ্যা বলেছে। আহানের বলা কথা শুনে নিজেকে ভুলেও এই বাড়ির সদস্য ভাবিস না চারু। তুই এই বাড়ির বোঝা ছাড়া আর কিছুই না।

সাবিনা চারুর হাত শক্ত করে ধরায় বেশ কষ্ট পাচ্ছে চারু।
সাবিনা তার কথা বলে চারুর হাতটা ছেড়ে চলে যায় সেই খান থেকে।
কিছুক্ষন পর
আহানঃ উফ এই চারুকে তো দেখছিনা কত ক্ষন ধরে।

তারপর নিজের রুম থেকে বের হয়ে সোজা চলে যায় আবির আর দিশার রুমে।
আহানঃ ভাবি চারুকে কোথায় দেখেছ?
দিশাঃ না কেন?
আহানঃ না এমনি
কথাটি বলে চলে যায় আহান।
বাসার পত্যেক টা রুমে চেক করে কিন্তু কোথাও খুজে পায়না আহান।

আহানঃ হয়ত চারু ছাদে আছে।
তারপর আহান ছাদে গিয়েও চারুকে খুজতে থাকে পাগলের মতো করে। কিন্তু ওর হাতে আসে শুধু ব্যর্থতা।
আহানঃ উফ আহান সব রুম চেক করলি। কিন্তু চারুর রুম টাই তো চেক করলি না।
কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে চলে যায় চারুর রুমে।
রুমের দরজা নক করলে কারো রিসপনস না আসলে-
আহান চারুর রুমের ভিতর ঢুকে পরে।

চারু চারু
বলে ডাকতে থাকে আহান।
চারুঃ আমি এইখানে ভাইয়া(কান্নার কণ্ঠে)
আহানঃ কোথায় তুমি?
চারুঃ আমি ঘাটের নিচে। (কান্নার কন্ঠে)
আহান চারুর কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে পরে।

ঘাটের সামনে নিজের হাটু গেড়ে বসে –
আহান খেয়াল করল চারু ঘাটের নিচে লম্বা হয়ে মাথা নিচু করে শুয়ে আছ।
আহানঃ এই তুমি এই খানে ঘাটের নিচে কি করছ?
চারুঃ দেখতে পারছেন না আমি কান্না করছি
(আহানের দিক এ তাকিয়ে)
আহান খেয়াল করল চারু চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে ফেলেছে কান্না করতে করতে।

আহানঃ কি হয়েছে এই ভাবে কান্না করছ কেন? সেটা তো বলবে।
চারুঃ বাবার কথা খুব মনে পরছে ভাইয়া।
সে আমাকে একা রেখে কেন চলে গেল। আমাকে কেন সাথে করে নিয়ে গেল না?
তাকে ছাড়া যে আমি বড্ড বেশি একা হয়ে গেছি।
দুনিয়াতে আমার আপন বলতে কেউ নেই(কান্না করে)
আহানঃ ঘাটের নিচে থেকে বের হও চারু।

চারুঃ আমি বের হব না
আহানঃ দেখো চারু লাস্ট বারের মতো করে বলছি বের হও। না হলে কিন্তু ভালো হবেনা (রেগে)
চারু আহানের কথা শুনে বেশ ভয় পেয়ে যায়।
তাড়াতাড়ি করে ঘাটের নিচ থেকে বের হয়ে পরে চারু।
আহান চারুর এক হাত টেনে রুম থেকে বের করে সোজা বাড়ির বাইরে এনে দাঁড় করায়।
যে যার রুমের মধ্যে থাকায় চারুকে এইভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়ায় কারো প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়নি আহানকে।
আহানঃ গাড়িতে উঠ চারু।
চারুঃ কি?

আহানঃ উফ কি কি না করে গাড়িতে উঠে বস (চেচিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে উঠে পরে।
আহান ও গাড়িতে উঠে –
আহানঃ চারু সিট বেল্ট টা লাগাও।

চারু খেয়াল করল আহান প্রচুর রেগে আছে তাই কথা না বাড়িয়ে বাধ্য মেয়ের মতো সিট বেল্ট টা লাগিয়ে নেয়
চারুর সিট বেল্ট টা লাগানো হলে আহান খুব স্পিড এ গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে।
গাড়িতে বসে চারু হাজারো প্রশ্ন করতে থাকে কিন্তু আহান শুধু মুখ টা গম্ভির করে ড্রাইভিং ই করে যায়।
একটা উচু পাহাড়ের সামনে এসে আহান গাড়ি টা থামিয়ে দিয়ে–
আহানঃ গাড়ি থেকে নামো চারু।
চারু আহানের এমন রাগান্বিত ফেস দেখে কোন কথা না বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নেমে পরে।
আহান ও গাড়ি থেকে নেমে চারুর হাত ধরে পাহাড়ের উচু চড়ায় নিয়ে দাঁড় করায়।
চারপাশে শুধু গাছগালি আর পাখির ডাক।

চারুঃ আমাকে এই খানে নিয়ে আসলেন কেন?
আমাকে মেরে ফেলার প্লেন করেছেন নাকি এই খানে এনে?
আহানঃ হুম। ঠিক ভেবেছ।
চারুঃ এ্যাাভাইয়া আমার হাত ছাড়ুন। আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাইনা।
আহানঃ সরি চারু ইটস বেরি লেটবললে না তোমার বাবা তার সাথে করে তোমাকে কেন নিয়ে যায় নি। তাই তোমার বাবার কাছেই পাঠাচ্ছি তোমাকে। চোখ টা বন্ধ কর মরতে কিছুটা কম কষ্ট হবে।

চারুঃভাইয়(কান্না করে)
আহানঃ আই সেইড ক্লোস ইউর আইস। আর কান্না করা বন্ধ কর।
চারুঃ করছি তো মরার আগে কি একটু কান্নাও করতে দিবেন না নাকি।

তারপর চারু ওর চোখ গুলো বন্ধ করে নিলে আহান চারুর দিক এ তাকিয়ে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আকাশের দিক এ তাকিয়ে নিজেও নিজের চোখ গুলো বন্ধ করে –
আহানঃ আই লাভ উ চারু(চিৎকার দিয়ে)
আহানের বলা কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে পাহাড়েরর চারপাশে ভেসে উঠে
চারুঃ

পর্ব ২২

আহানঃ আই লাভ ইউ চারু(চিৎকার দিয়ে)
আহানের বলা কথা গুলো প্রতিধ্বনি হয়ে পাহাড়ের চারপাশে ভেসে উঠে।
চারু আহানের বলা কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে নিজের চোখ জোড়া খুলে আহানের দিক এ অবাক দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে।
আহানঃ অবাক হচ্ছো তাইনা।
চারু মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক উত্তর দেয়।

আহানঃ আসলে যে দিন তোমাকে প্রথম দেখি সেই দিন ই তোমাকে ভালোবেসে ফেলি।
কিন্তু কখনোও তা বলার সাহস আর সুযোগ কোনটাই হয়ে উঠেনি।
কিন্তু আজ আমি চিৎকার দিয়ে বলতে চাই আই লাভ উ চারু।

আউ লাভ উ সো মাচ (চিৎকাার দিয়ে)
চারুঃ আসলে ভাইয়া
আহানঃ কি? বলো চারু? (চারুর গালে হাত রেখে)
চারুঃ আসলে ভাইয়া আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।

ওর ফ্যামিলির মানুষ কেউ রাজি হচ্ছেনা বিশেষ করে ওর মা। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওর কোন ভালো চাকরি হলে আমরা কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলব। আর আমার সাক্ষী হিসেবে আপনাকে আর ভাইয়া ভাবিকে সাথে করে নিয়ে যাব।
কিন্তু সত্যি আমার এমন কোন ধারণা ছিলনা যে আপনি আমাকে
না হলে আগেই আপনাকে আমার ভালোবাসার কথা বলে দিতাম।
আহানঃ তোমার কোন দোষ নেই চারু। থাক বাদ দেই ওসব কথা। আর আমি মোটেও কষ্ট পাইনি।
সত্যি বলছি একটুও কষ্ট পাইনি আমি(শুকনো একটা হাসি)।
আহানঃ আমার সাথে এমন কেন হলো আল্লাহ।

নিজের ভালোবাসার মানুষ থেকে শুনতে হচ্ছে সে আমাকে নয় অন্য কাউকে ভালোবাসে।
আমি যে নিতে পারছিনা এইসব।
কিন্তু চারুর সামনে এইভাবে ভেঙে পরলে চলবে না
ওর সামনে আমাকে শক্ত থাকতে হবে।
তা না হলে চারু গিলটি ফিল করবে। (আনমনে)।

চারুঃ কি হলো ভাইয়া?
আহানঃ কই কিছুনা তো। কিছু হয়নি
চারুঃ থ্যাংক গড আপনি কষ্ট পাননি। আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাহলে ভাইয়া বলেন আমার বিয়ের দিন আমার পক্ষে থেকে সাক্ষী হবেননা?
আহানঃ কি ভাগ্য আমার সরি ভাগ্য না দূর্ভাগ্য নিজের ভালোবাসার মানুষ এর সাক্ষী হতে হবে। আনমনে
পরের টা পরে দেখা যাবে চারু এখন বাসায় চলো।

লেট হয়ে যাচ্ছে।
চারুঃ ওয়েট ভাইয়া আপনার মতো আমিও চিৎকার দিয়ে আমার ভালোবাসার মানুষ টার নাম নিয়ে কিছু বলতে চাই।
চারুর মুখের কথা শুনে আহানের কষ্ট যেন হাজারো গুন বাড়িয়ে দিল।
আহানঃ আচ্ছা আমি গাড়িতে তোমার জন্য ওয়েট করছি। তুমি তাড়াতাড়ি করে চলো এসো।
কথাটি বলে৷ সামনের দিক এ হাটা দেয় আহান
চারু আকাশের দিক এ তাকিয়ে –
আই লাভ উ(চিৎকার দিয়ে)
চারুর কথা শুনে আহানের চোখ দিয়ে দুইফোটা জল গড়িয়ে পরে। আর ও খুব দ্রুত হাটা শুরু করে।

চারুঃ আই লাভ উ টু আহান (চিৎকার দিয়ে)
চারুর কথা শুনে আহান থেমে গিয়ে
পিছনে ঘুরে তাকায়।
আর খুব দ্রুত চারুর সামনে দাঁড়িয়ে –
আহানঃ এই কি বললা তুমি?

চারুঃ বলেছি আই লাভ উ টু আবুল(হেসে)
আহানঃ ফান করো না প্লিজ।
তুমি এইটা বলোনি তখন।
চারুঃ আহান আমি সেই দিনই বুঝে গিয়েছি আপনি আমায় কত টা ভালোবাসেন যে দিন আপনি আপনার এই রক্তাক্ত হাত আমার গাল টায় রেখে বলেছিলেন যে আমি ঠিক আছি নাকি।
একটা ভালোবাসার মানুষ ই তো একমাত্র পারে নিজে কষ্টের মধ্যে থাকার পর ও নিজের ভালোবাসার মানুষ টার কথা চিন্তা করা (আহানের হাত নিজের গালে রেখে)।

আহানঃ তো এতো দিন অ্যাকটিং করছিলে কেন না বুঝার (মুখ বাকা করে)
চারুঃ জানেন আমার ছোট কাল থেকে অ্যাকটিং করার ইচ্ছা ছিল তাই ভাবলাম একটু অ্যাকটিং করে নেই। (হেসে)
চারুঃ কিন্তু আপনিও কেমন? আমি বলেছি আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি আর আপনি?
আহানঃ ভালোবাসলে এইনা যে ওই মানুষ টাকে তোমার পেতেই হবে। ভালোবাসার মানে হলো যাকে তুমি ভালোবাসো ছায়ার মতো তার পাশে থাকা।

তার খুশির জন্য সব কষ্ট হাসি মুখে সহ্য করে নেওয়া।
আর তোমার মুখের ছোট একটা হাসি আমার কষ্টের সামনে কিছুইনা চারু।
চারুঃ হইসে কবি আপনার ডায়লগ বলা(হেসে)
আমি এই সব শুনতে চাইনা।

আহানঃ তো কি শুনতে চাও(শয়তানি হাসি হেসে)
তারপর আহান চারুর হাত দুটো নিজের হাত এ রেখে-
আই লাভ উ চারু অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায়।
সারা জীবন তোমার ছায়া হয়ে তোমার পাশে থাকতে চাই
চারুঃ হয়েছে। যতই যাই বলেন আমি আপনার থেকে বেশি ভালোবাসি
আহানঃ মোটেও না।

চারু আহানের কথা শুনে রেগে পাহাড়ের চড়ায় পা ঝুলিয়ে বসে পরে।
আহানও চারুর পাশে গিয়ে বসে পরে।
চারুঃআচ্ছা একটা গেম খেলি
আহানঃ কি? (ভ্রু কুচকিয়ে)
চারুঃআমি একবার লাভ উ বলব একবার আপনি বলবেন যে একশো পর্যন্ত যাবে সেই বেশি ভালোবাসে ঠিক আছে?
আহানঃ ওয়াট?

চারুঃ ওয়াট বলা বন্ধ করুন বলেন ওকে।
আহানঃ আচ্ছা বাবা ওকে।
চারুঃআচ্ছা আমি শুরু করি। লাভ উ
আহানঃ লাভ উ টু
চারুঃ লাভ উ থ্রি
আহানঃ লাভ উ হানড্রেড (হেসে)
চারুঃঅই আপনাকে কোন পাগলে ডাক্তার বানিয়েছে-
ওয়ান টু ও দেখি পারেননা বলতে। থ্রির পর ফোর হয়। ফোর।

আহানঃ যাই বলো আমিই কিন্তু জিতেছি (হেসে)
তাই আমিই তোমাকে বেশি ভালোবাসি।
চারুঃ এইভাবে ভালোবেসে যাবেন তো আমায়।
মাঝ পথ এ আমাকে একা ফেলে চলে যাবেন না তো কখনো? (নিজের মাথাটা আহানের ঘাড়ে রেখে।
আহানঃ হুম। কোন সুন্দরী মেয়ে চোখ এ পরলে হয়ত তোমার পিছু ছেড়ে ওই মেয়ের পিছু নিতে পারি। (হেসে)
চারুঃ

পর্ব ২৩

আহানঃ হুম কোন সুন্দরী মেয়ে চোখে পরলে তাহলে তোমার পিছু ছেড়ে ওই মেয়ের পিছু নিব
চারু বেশ রেগে উঠে আহানের কথা শুনে।
রেগে গিয়ে আহানের কলার ধরে-
চারুঃআবার বলেন কি বললেন?

আহান সাথে সাথে চারু গালে একটা কিস দিয়ে বললো।
আহানঃ তোমাকে অনেক আদর করতে ইচ্ছে করছে তাই বললাম। আবার বলব কথাটা?
তুমি যদি শুনতে চাও তাহলে আমি একবার কেন একশো বার বলতে রাজি এই কথাটা।
আহান আকস্মিক এই ভাবে চারুর গালে কিস করায় চারু বেশ লজ্জায় পরে যায়। আহানের বলা কথা যেন চারুর লজ্জায় আরও ঘি ঠেলে দেয়।

লজ্জায় পরে চারু সাথে সাথে আহানের কলার ছেড়ে দিয়ে অন্য দিক এ মুখ করে তাকায়।
আহানঃ কি বলব আবার? (শয়তানি হাসি হেসে)।
চারুঃ নাতো। বলার দরকার নেই। (মাথা নিচু করে)
ইসস কি সব পঁচা পঁচা কথা বলছে। শয়তান একটা।

আহান খেয়াল করল চারু বেশ লজ্জায় পরে গেছে ওর কথা শুনে। তাই চারুকে স্বাভাবিক করার জন্য আহান চারু কোলে নিজের মাথা টা রেখে —
আহানঃ এই যে কি হলো আমার চড়ই পাখির? সারা দিন তো বক বক করো এখন চুপ হয়ে আছো। কেন?
চারুঃ অই ঠিক হয়ে বসুন। এইভাবে বসলে তো পাহাড় থেকে পরে যাবেন।
আহানঃ আহহ পরে গেলে কতো ভালো হবে তাইনা।
মৃত্যুর আগে তোমার কোলে মাথা রাখার সুযোগ হলো।

চারুঃ দেখুন এইসব ফাজলামো কিন্তু ভালো লাগেনা আমার। প্লিজ উঠে বসুন।
আমার অনেক ভয় করছে।
এমনি আজ খারাপ সপ্ন দেখেছি।
আহানঃ কি দেখেছ আমি মারা গেছি(হেসে)
চারু আহানের বলা কথা শুনে বেশ রেগে মেগে উঠে।
চারু আহানকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি আহানের ফোনটা বেজে উঠে।
আহান সাথে সাথে চারুর কোল থেকে নিজের মাথাটা উঠিয়ে নিজের ফোনটা রিসিভ করে।

আহানঃ হ্যালো মা
ফোনে মিসেস সাবিনা এই কথা শুনে চারু ভয়ে কাপা কাপি শুরু করে দেয়।
সাবিনাঃ আহান তুই কই।
আহানঃ এই তো মা তুমার বউ মার সাথে পাহাড়ের চড়ায় বসে জমিয়ে প্রেম করছি(হেসে)
সাবিনাঃ দেখ আহান ফাজলামো ভালো লাগেনা সব সময়।
আহানের বলা কথা শুনে চারুর কাপুনি যেন আরও বাড়তে থাকে কিন্তু আহানের সেই দিক এ হুস নেই।
আহানঃ মা আমি একটু হাওয়া খেতে এসেছি বাইরে।

ঘরে থেকে তো ভাত খেতে পাইনা তাই ভাবলাম বাহিরে একটু হাওয়া খেয়ে আসি(হেসে)
সাবিনাঃ তুই কবে ভালো হবি আহান। বাচ্চাদের মতো শয়তানি করতে থাকিস। (রেগে)
আহানঃ উফ মা তুমি টেনশন নিয়ো না আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসছি।
সাবিনাঃ তাড়াতাড়ি চলে আয়। কি দরকার ছিল এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বাইরে যাওয়ার।
আহানঃ আচ্ছা মা আমি এই দুইমিনিট এর মধ্যেই চলে আসছি।
কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে ফোনটা কেটে দেয় আহান।

ফোনটা কেটে দিয়ে আহানের চোখ চারুর উপর পরলে
আহান খেয়াল করল চারু ভয়ে কাপছে।
আহানঃ কি হলো আমার চড়ই পাখিটা এইভাবে কাপছে কেন?
চারুঃ তড়াতাড়ি বাড়ি চলুন কাকিমা জানতে পারলে আমি আপনি এক সাথে তাহলে দুইজনকেই লবন তেল ছাড়া বরতা বানিয়ে দিবে।

আহান চারুর কথা শুনে খিল খিল করে হাসতে থাকে।
চারুঃউফ আপনি হাসা বন্ধ করুন আর তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলুন
আহানঃ হুম বাবা চলো।
তারপর আহান আর চারু তাড়াতাড়ি গাড়ি করে বাসায় চলে আসে।
গাড়ি থেকে নেমে মেইন গেট এর সামনে আসলে-
চারু হুর হুর করে বাসার কলিং বেল বাজাতে নিলে-
আহানঃ ওয়েট চারু মা হয়ত জানেনা তুমি বাইরে গেছ।

তাই আমি আগে ঢুকছি। তুমি একটু অপেক্ষা করো।
চারুঃ আচ্ছা।
তারপর চারু গেটের এক সাইডে লুকিয়ে থাকলে আহান কলিং বেল বাজায়।
মিসেস সাবিনা এসে দরজা খুলে দিয়ে আহানকে সামনে দেখলে–
সাবিনাঃ কিরে এখন আসা হলো বাসায় কখন থেকে তোর অপেক্ষায় বসে আছি
আহানঃ মা সে অনেক কথা চলো আমার রুমে গিয়ে সব কিছু খুলে বলি।

সাবিনাঃ দাড়া আগে দরজা টা তো লাগিয়ে নেই
আহানঃ বাইরে তো চারু মা দরজা লাগিয়ে দিলে ও ভেতরে আসবে কিভাবে(আনমনে)
আরে মা বাসায় এতো মানুষ থাকতে তুমি কেন করবা।
তুমি আমার সাথে রুমে চলো অন্য কেউ দরজা৷ লাগিয়ে দিবে
কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে আহান মিসেস সাবিনাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

সেই সুযোগে চারু তাড়াতাড়ি করে বাসার ভিতর ঢুকে বাসার দরজা টা লাগিয়ে জলদি করে নিজের রুমে চলে যায়
নিজের রুমে ঢুকে দরজা টা লাগিয়ে দেয় চারু
তারপর নিজের উড়না টা লুঙির মতো পরে মোবাইলে লুঙি ডান্স গান ছেড়ে খাটের উপরে উঠে উরাধুরা নাচতে শুরু করে

(সাধারনত চারু যে দিন অনেক বেশি খুশি থাকে সেই দিনই এমন লুঙি ডান্স গান ছেড়ে আপন মনে নাচতে থাকে)
রাতের বেলায়
চারু আর দিশা মিলে খাবার টেবিলে খাবার সাজাতে নিলে মিসেস সাবিনা চারুকে দেখে-
সাবিনাঃ কিরে চারু আজ সারা দিন কই ছিলি?
চারুঃ কই আর থাকব নিজের রুমেই ছিলাম।

সাবিনাঃ তো নবাবজাদি আপনি রুমে মধ্যে বসে বসে এতোক্ষন কি করছিলেন শুনি। ঘরে যে এতো কাজ পরে থাকে সেইটা কি আপনার চোখে পরেনা।
চারুঃ এই তো লুঙ্গি ডান্স দিচ্ছিলাম(হেসে)
চারু আজ এতো খুশি যে কার সামনে কি বলছে সেই দিক এ ওর হুসই নেই
সাবিনা চারু কথা শুনে রাগি লুক নিয়ে ওর দিক এ তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে
ঠিক সেই মুহূর্তে আহান এসে হাজির।

আহানঃ মা আমার অনেক বেশি খুদা লেগেছে প্লিজ তাড়াতাড়ি করে আমাকে খাইয়ে দাও নিজ হাতে
আবিরঃ আমাকেও খাইয়ে দিতে হবে তাহলে
সাবিনাঃ আচ্ছা বাবা আজ আমার দুই ছেলেকেই নিজ হাত দিয়ে খাইয়ে দিব আমি।
হঠাৎ মিরাজ সাহেব এসে চেচিয়ে বলে উঠে –
মিরাজঃ প্লিজ আমার রিনা খান আমাকেও আজ নিজ হাতে খাইয়ে দাও।

সাবিনাঃ দেখলি আহান আবির তোর বাবা কি বলছে এইসব আমাকে নিয়ে আমি নাকি রিনা খান(রেগে)
আহানঃ উফ মা বাবা তো শয়তানি করছে
একটা কাজ করো আজ তুমি নিজ হাত দিয়ে আমাদের সবাইকে খাইয়ে দাও মার হাতের খাবারের স্বাদই আলাদা
দিশাঃ হ্যা মা প্লিজ।
চারু শুধু নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারন ও জানে মিসেস সাবিনা কখনো তার নিজ হাত দিয়ে ওকে খাইয়ে দিবেনা
হঠাৎ মিসেস সাবিনা বলে উঠলেন।

আচ্ছা বাবা আমি সবাইকে খাইয়ে দিব নিজ হাতে
মিসেস সাবিনার বলা কথা শুনে চারু চমকে উঠে।
এইটা হয়ত ওর ধারণার বাহিরে ছিল যে মিসেস সাবিনা ওকে তার নিজ হাতে খাইয়ে দিবে
তারপর মিসেস সাবিনা সবাইকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে লাগল।
যখন তিনি চারুকে খাইয়ে দিতে নেয়
সাবিনাঃ আমি নিজ ইচ্ছায় তোকে খাইয়ে দিচ্ছি না। আহানের খুশির জন্য তোকে খাইয়ে দিচ্ছি।

আমি না বললে আহান কষ্ট পেত যেটা আমি চাইনা (মনে মনে)
তারপর মিসেস সাবিনা তার হাতে থাকা ভাতের লোকমাটা চারুকে খাইয়ে দেয়
চারুঃ আমি জানি কাকিমা আপনি নিজ ইচ্ছায় আমাকে খাইয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু আজ আপনি আমাকে খাইয়ে দিয়েছেন সেইটাই আমার জন্য অনেক।

জন্ম দেওয়ার সময় মা মারা যাওয়ায় মার হাতের খাবার খাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠে নি
অন্য বাচ্চাদেরকে যখন তার মা নিজ হাতে খাইয়ে দিত তখন আমার অনেক বেশি কষ্ট হতো বার বার আল্লাহ কাছে কান্না করে বলতাম আমার মা নেই কেন আমাকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য।

কিন্তু আজ আমার সেই সৌভাগ্য হয়ে উঠেছে মার হাতে খাবার খাওয়ার আর সেইটা শুধু মাএ আহানের জন্য।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চারুর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে কেউ দেখার আগেই তাড়াতাড়ি করে চারু চোখের জল মুছে নেয় কিন্তু আহান তা ঠিকই খেয়াল করে
আহানঃ

পর্ব ২৪

কিন্তু আজ আমার সেই সৌভাগ্য হয়ে উঠেছে মার হাতের খাবার খাওয়ার আর সেটা শুধুমাএ আহানের জন্য। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চারু চোখ বেয়ে দুইফোঁটা জল গড়িয়ে পরে।
কেউ দেখে নেওয়ার আগেই চারু নিজের চোখের জল গুলো মুছে নেয় কিন্তু আহান তা ঠিকই খেয়াল করে।
আহানঃ জানি মার হাতের খাবার খেতে পেয়ে খুশিতে তোমার কান্না পাচ্ছেকিন্তু আমার চড়ই পাখির চোখ এ কান্না মোটেও ভালো লাগেনাআজ হয়ত মা আমার কথার মান রাখার জন্য সবার সাথে তোমাকেও খাইয়ে দিচ্ছেকিন্তু একদিন ঠিকই মা খুশি হয়ে তোমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিবেআই প্রমিসসেই দিন বেশ দূরে নয়
(মনে মনে)
হঠাৎ আবির বলে উঠলো–
আবিরঃ উফ মার হাতের খাবারের স্বাদ ই আলাদা।

মার হাতের রান্না যে কত মিস করেছি।
এখন থেকে ভালো রান্নার খাবার খাওয়ার সৌভাগ্য হবে আমার না হলে এতো দিন যা খেয়েছি(হেসে)
দিশাঃ ওরে শয়তান আবারও শয়তানিপানা শুরু করে দিয়েছিস বুঝি রুমে যেয়ে নে বউ এর হাতের মাইর খেয়ে মাইরের স্বাদটাও তুই ভুলবিনা(আনমনে)
সাবিনাঃ ইস রে আমার ছেলেটা ভালো খাবার না খেতে খেতে শুকে কাঠ হয়ে গেছে
মিরাজঃ ইস রে কত ভালোবাসা মা ছেলের।

তোমাদের ভালোবাসা দেখে আমার চোখ এ জল আসছে (নাটক করে)
মিসেস সাবিনা বেশ রেগে যায় তার স্বামীর বলা কথা শুনে—
রেগে গিয়ে মিরাজ সাহেব কে কিছু বলতে যাবে
আহানঃ উফ মা রাগ করছ কেন এতো? বাবা তো ফান করে বলেছে কথাটা। তুমি তো জানই তোমাকে
চেতানোর জন্যই এই সব বলে
সাবিনাঃ আচ্ছা বাবা তার কথা বাদ দে
নে হা কর
আহানঃ উফফ মা আর খেতে পারব না আমি।

আরেকটু খেলে বেলুন এর মত ফুলে গিয়ে বাতাসের সাথে উড়ে যাব আমি
আহানের বলা কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠে।
রাতের ডিনার সেরে যে যার রুমে চলে যায়
চারু ও নিজের রুমে গিয়ে বিছানা করে ঘুমের জন্য যাওয়া নিলে–
হঠাৎ ওর ফোন বেজে উঠে

আহানের নাম্বার টা সেভ করে না রাখায় —
আহান ফোন করলে–
এতো রাতে আননোয়ন নাম্বার থেকে কল এসেছে ভেবে চারু বেশ বিরক্ত নিয়ে ফোনটা রিসিভ করে
চারুঃ হ্যালো কে (চেচিয়ে)
আহানঃ কে আবার আমি।

চারু আহানের কন্ঠ বুঝতে পেরেও না বুঝার ভান করে-
চারুঃ আমি কেকোন দেশের প্রাইম মিনিস্টার নাকি? নাকি ফেমাস কোন একটোর যে আপনার কন্ঠ শুনে আপনাকে আমি চিনে নিবআর এতো রাতে ফোন দিয়েছেন কেন? এখন জানেন আমার বাবু ফোন দিবে বেচারা আমাকে ফোনে বিসি পেয়ে কতই না কষ্ট পাবে(অসহায় মুখ করে)
আহানঃ এই বাবু কে?

চারুঃকে আবার আমার একমাত্র ভালোবাসা।
আহান চারুর শয়তানি বুঝতে পেরে
আহানঃ সরি আন্টি আমার জিএফ কে কল দিতে গিয়ে আপনাকে ভুলে কল দিয়ে ফেলসি। উফ বেচারি রিয়া আমার ফোনের অপেক্ষায় বসে আছে
আহানের বলা কথা শুনে চারু চরম পর্যায় রেগে গিয়ে–
চারুঃ এই রিয়া কে? আহান ভাইয়া?

আহানঃ এই তো আসলো ম্যাডাম লাইনে। আমাকে জ্বালিয়েছো? না চিনার ভান করে। এখন আমার পালা।
(মনে মনে)।
আহানঃ কে আবার আমার ভালোবাসা(হেসে)
চারু আহানের বলা কথা শুনে সাথে সাথে বাচ্চাদের মতো কান্না করে দেয়
আহানঃ আরে আরে কান্না করছ কেন বাচ্চাদের মতো। আমি তো শয়তানি করছিলাম বাবা।

কান্না দামাও প্লিস
চারুঃ সত্যি বলছেন তো ভাইয়া
আহানঃ হ্যা সত্যি বলছি আর দয়া করে আমাকে ভাইয়া বলা বন্ধ করো ভালোবাসার মানুষ থেকে ভাইয়া শুনতে কেমন লাগেউফফ
চারুঃ আমি তো অলওয়েসট আপনাকে ভাইয়া বলেই ডাকব। ভাইয়া
আহানঃ এই তুমি কি শুরু করলা ভাইয়া ভাইয়া
মাথা কিন্তু খারাপ হচ্ছে চারু(রেগে)

চারু বেশ মজা পাচ্ছে আহানকে রাগিয়ে। ওকে আরও চেতানোর জন্য –
চারুঃ আপনি তো অনেক কিউট একটা ভাইয়া আমার।
আর আমি আপনার ছটকুসা সা বোন।
আহান রেগে মেগে ওর ফোনটা কেটে দেয়
চারুঃ উফফ রেগে গেছে দেখিবেশি করে ফেললাম নাকি?।
হঠাৎ চারু সামনে তাকিয়ে দেখে আহান ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে
চারুঃ আপনি? (আমতা আমতা করে)
আহানঃ হ্যা আমি (ডেভিল হাসি হেসে)
চারুঃ আপনি এই খানে কি করছেন?

আহানঃ বয়ফ্রেন্ড কে ভাইয়া ডাকা কতো বড় পাপ জানো। তাই তোমাকে আমি শাস্তি দিতে এসেছি।
চারু বেশ ভয় পেয়ে যায় আহানের কথা শুনে–
চারুঃ ভাইয়া কাকিমা
আহান চারুর কথা শুনে পিছনে ঘুরে তাকালে সেই সুযোগে চারু আহান থেকে দূরে সরে যায়।
আহান পিছনে ঘুরে কাউকে দেখতে না পেলে বুঝতে পারে চারু ওকে ভয় দেখানোর জন্য কথাটি বলেছে।

চারুঃ উল্লু বানায়া বারা মাসা আয়া(হেসে)
আহানঃ ওরে বাবা আমার সাথে চালাকি দাড়াও দেখাচ্ছি
কথাটি বলে আহান চারুর পিছু নিতে থাকে আর চারু ও আহানের শাস্তি থেকে নিজেকে বাচানোর জন্য রুমের মধ্যে মুরগির ছানার মতো দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে
আধা ঘণ্টা মতো এইভাবে দৌড়াদৌড়ি করে দুইজনেই হাপিয়ে পরে–

আহানঃ উফফ আর শক্তি নেই এইভাবে দৌড়াদৌড়ি করার
চারুঃ হুম অনেক ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি (বিছানায় বসে)
আহান সুযোগ বুঝে চারুকে ধরে ফেলে–
আহানঃ হাতে এসেছে মুরগির ছানা। এখন দৌড়াও বাবু
চারুঃ ভাইয়া আমার হাত ছাড়ুন। আমি কিন্তু কান্না করে দিব
আহানঃ হয়েছে আর বোকা বানাতে পারবে না।

এখন তোমাকে শাস্তি দেওয়ার পালা
কথাটি বলে আহান সাথে সাথে তার দুইহাত দিয়ে চারুকে শক্ত করে ধরে ওর গালে জোড়ে একটা কিস করে দেয়
প্রায় কয়েকমিনিট পর আহান চারুকে ছেড়ে দিয়ে–
আহানঃ আবারও ডাকবে ভাইয়া বলে(হেসে)।
চারু আহানের এমন আচরনে বেশ রেগে মেগে যায় বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে আহানের উপর ছুড়ে মেরে
চারুঃ হুম একশো বার হাজার বার লাখ বার বলব ভাইয়া ভাইয়া ভাইয়া
আহানঃ হায়রে এই মেয়েটাকে তুমি কি দিয়ে বানিয়েছ আল্লাহ। উপরে তাকিয়ে
আহানঃ প্লিস ভাইয়া ডাকা অফ করো। আমাকে এইভাবে ভাইয়া বলে ডাকলে তোমাকেও আমি কাকিমা খালাম্মা বলে ডাকা শুরু করব।

চারুঃ এক শর্তে ভাইয়া বলা বন্ধ করব
আহানঃ কি শর্ত?
চারুঃআমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে এখন,
আহানঃ ওয়াট এতো রাতে
চারুঃহুম এখনই নিয়ে যেতে হবে আমায়।
না নিয়ে গেলে সারাজীবন ভাইয়া বলেই ডাকব আপনাকে
আহানঃপ্লিস চারু জিদ করো না বাচ্চাদের মতো।

এখন জানো কতো ঠান্ডা বাইরে
তোমার শরীর এমনিও ভালো নাতাই আজ না গিয়ে কাল যাব নে ঘুরতে দিনের বেলায়।
চারুঃ উফফ ইউ আর সো বোরিং পারসোন
রাতে ঘুরার মজাই আলাদাউফ ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস
ভাবলেই মনটা ময়ূরের মতো নেচে উঠে
তো আমরা এখনি যাব তো যাব(মুখ ফুলিয়ে)
আহানঃ আচ্ছা বাবা যাব আমরাআমি গাড়িটা বের করি তাহলে বাইরে গিয়ে
চারুঃ ওয়েট মিঃ আহান আজ আমরা গাড়িতে করে ঘুরবনা।

আহানঃ তো কি বাইকে করে ঘুরব আজ(উওেজিত হয়ে)। জানো আমার খুব ইচ্ছা ছিল নিজের ভালোবাসার মানুষটার সাথে বাইকে করে ঘুরার
আমি বাইক চালাব আর তুমি আমাকে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবা। (খুশি হয়ে)
চারুঃ আহহ কত সোনালি রুপালি সপ্ন আপনার।
কিন্তু মিঃ আহান আপনাকে কে বলেছে আমরা বাইকে করে ঘুরব।
আহানঃ গাড়িতে না বাইকে না তো কিসে করে ঘুরবা
তুমি? (ভ্রু কুচকিয়ে)

চারুঃসাইকেলে করে
আহান চারুর কথা শুনে চারশো চল্লিশ বোল্ড এর শকড খায়
আহানঃ ওয়াট তুমি ফান করছো আমার সাথে তাইনা সব রেখে সাইকেলে করে ঘুরতে চাইছো তুমি? মেয়েরা তো সাধারণত বাইকে উঠা পছন্দ করে আর তুমি?
চারুঃ
পর্ব ২৫

আহানঃ ওয়াটতুমি ফান করছ আমার সাথে তাইনাতুমি সব রেখে সাইকেলে করে ঘুরতে চাইছো?
মেয়েরা তো সাধারণত বাইকে উঠা পছন্দ করে আর তুমি?
চারুঃ বিকস আই এম ডিফরেনট
আমার ছোটকাল থেকেই সাইকেলে করে ঘুরতে অনেক বেশি ভালো লাগত
আর সপ্ন দেখতাম আমার সপ্নের রাজকুমারের সাথে সাইকেলে করে পুরো পৃথিবী ঘুরে বেরাব।
আহানঃ পৃথিবী ঘুরবে তা আবার সাইকেলে করে
কথাটি বলে আহান পাগলের মত হাসতে লাগল।

চারুঃ অই বএিশ টা দাত দেখানোর কি হল (রেগে)
আহানঃ তোমার জোকস শুনেআচ্ছা চড়ই পাখি পুরো পৃথিবী কেন আমি তোমাকে চাঁদের দেশ ও নিয়ে যাব সাইকেল করেযখন আমি সাইকেল কিনব তার পরআজ না হয় গাড়ি বা বাইকে করে ঘুরে আসি
চারঃ নোন নোন নোন নো
আমরা আজই সাইকেল এ করে ঘুরব। যদি আজ আমায় না নিয়ে জান তো সারা জীবন আপনাকে ভাইয়া চাচা খালু এইসব বলেই ডাকব (মুখ বাকা করে)
আহানঃ আল্লাহ একে বুঝিয়ে কোন লাভ নেই
আচ্ছা আমিও আহান খান সহজেই হেরে যাওয়ার পাএ আমি নই
চারুঃ তাই নাকি৷ চাচ্চু(হেসে)

আহানঃ হ চাচি এক ঘন্টার মধ্যেই আমি সাইকেল এনে তোমার সামনে হাজির করব
ইউ জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ
কথাটি বলে আহান চলে যায় সেইখান থেকে
চারুঃ আমিও দেখে নিব এতো কানা রাতে আপনি কিভাবে এরেঞ্জ করেন
আহান নিজের রুমে মধ্যে বসে পায়চারি করছে
আহানঃ উফফ এই রাত বারো টায় তো কোন দোকানও খোলা থাকবেনাকি যে করি?

আইডিয়া আহান।
আমি আরাফকে কল দেই
কথাটি বলার সাথে সাথেই আহান ওর ফ্রেন্ড কে কল দিয়ে–
আহানঃ হ্যালো দোস্ত
আরাফঃ হ্যালো বল আহান (ঘুমু কন্ঠে)
আহানঃ আই নিড ইউর হেল্প দোস্ত
আরাফঃ হ্যাঁ বল কি হেল্প লাগবে?

আহানঃ দোস্ত তোর সাইকেলটা একটু দিতে পারবি আমাকে বাসায় এসে প্লিজ দোস্ত না করিস না
তানাহলে যে আমার সংসারটা আয়নার মতো ভেঙে যাবে।
আরাফঃ শালা তুই বিয়ে কবে করলি? তুই এইটা কিভাবে করতি পারলি আহানআমাকে রেখেই বিয়ে করে ফেললি কত সপ্ন বুনেছিলাম তোর বিয়েতে অনেক পেট ভরে খাব দশ বারো টা রান চাবাবো
দূর শালা সব সপ্নের উপর এক বদনা জল ঠেলে দিলি
আহানঃ উফ রে কি আজাইরা কথা বলছিস কোন পাগল তোকে বলেছে আমি বিয়ে করেছি?

আরাফঃ তুই তো এখন বললি আমার সংসার ভেঙে যাবে
আহানঃ হায়রে আমার প্রেমের সংসার ভেঙে যাওয়ার কথা বলছি
আরাফঃ উরে বাবা আমাদের ভদ্র ছেলে দেখি এখন প্রেমও করে

আহানঃ হুম (নিজের মাথা চুলকিয়ে)
ওগুলো বাদ দে প্লিজ সাইকেল টা নিয়ে আয়না আমাদের বাসায়
আরাফঃ দুর শালা সাইকেল তো অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়ে বাইক কিনেছিআজকালকার মেয়ে পটানোর জন্য বাইক থাকাটা অনেক জরুরি
কারন মেয়েদের জন্য ভালোবাসার আরেক নামই বাইক
আহানঃ বাট আমারটা ভিন্ন রে
তাই তো সাইকেল এর জন্য বলছি তোকে
কিন্তু এখন কি করব বল তো?

আরাফঃ আমার এক পরিচিত আংকেল এর সাইকেল এর দোকান আছে… কিন্তু এখন তো তার দোকানও বন্ধ, তুই একটা কাজ কর কাল যেয়ে সাইকেল কিনে আনিস
আহানঃ মোটেও না দোস্ত আমি কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবনা আজ যদি চারুকে সাইকেল করে ঘুরতে নিয়ে না যাই তাহলে আজীবন ও আমাকে ভাইয়া চাচা খালু বলে ডাকবে
আরাফ আহানের বলা কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকেআরাফের হাসি দেখে আহানের বেশ রাগ উঠে পরে
আহানঃ বেশি হাসা হাসি করলে কিন্তু ফোনের ভিতরে ঠুকেই তোর বএিশ টা দাত ভেঙে গুড়ো গুড়ো করে দিব
আরাফঃ আমার তো এিশ টা দাত তুই বএিশ টা কিভাবে ভাংবি দোস্ত(হেসে)
আহানঃ দরকার পরলে তোর গার্লফ্রেন্ড এর বাসায় গিয়ে ওর সামনের দুইটা দাত ভেঙে দিয়ে আসব।

তাহলেই তো হয়ে যাবে বএিশ টা
আরাফঃ আমার গার্লফ্রেন্ড তো দেখতে এমনি ভয়ানক সামনের দুইটা দাত না থাকলে তো পুরাই শাকচুন্নি দেখাবে ওকে
আহানঃ হুর এইসব কথা বলার জন্য সময় আছে দোস্ত তুই একটা কাজ কর তোর আংলের এর বাসার এড্রেস টা আমাকে দে বাকিটা আমি সামলে নিব
আরাফঃ আর ইউ মেড তুই এতো রাতে তাদের বাসায় যাবি ভাই তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে তুই একগ্লাস পানি মাথায় ঠেলে ঘুমিয়ে পর

আহানঃ উফ তুই এড্রেস টা আমাকে না দিলে আমি কিন্তু এই কল রেকর্ডিং তোর গার্লফ্রেন্ড কে সেন্ট করব
আরাফঃ হায়রে তুই ফ্রেন্ড নাকি শএু কতো কষ্ট করে একটা গার্লফ্রেন্ড নসিব এ আসছে আর তুই কিনা
আচ্ছা আংকেল এর বাসার ঠিকানাটা তোকে সেন্ট করছি
আহানঃ জলদি
কথাটি বলে ফোনটা কেটে দেয় আহান
একটু পর ওর ফ্রেন্ড মেসেজ করে তার আংকেল এর বাসার ঠিকানাটা সেন্ট করলে
আহান তাড়াতাড়ি করে ওর গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পরে নির্দিষট গন্তব্যে
বাসায় পৌছে আহান বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালে একটা ভদ্রমহিলা এসে দরজাটা খুলে দেয়
আহানঃ আন্টি আংকেল কে একটু ডাকবেন?
মহিলাঃ এই ছেলে তোমার চোখ এ কি সম্যসা নাকি?

আমাকে কোন দিক দিয়ে আন্টি মনে হয়?
তুমি জানো এখনো হাজারো হাজারো ছেলেরা আমার পিছনে ঘুর ঘুর করে মৌমাছির মতো আমার মতো সুন্দরি মেয়ে নাকি তারা জীবনেও দেখেনি (ভাব নিয়ে)
আহানঃ ওয়াট ননসেনস এই পয়এিশ চল্লিশ বছর মহিলার পিছনে ছেলেরা নাকি ঘুর ঘুর করে তা আবার মৌমাছির মতহয়ত ওইসব ছেলেরা পাগলাঘার থেকে ছুটে আসা পাগল তাই মেয়েদের পিছনে না ঘুরে এই আন্টির পিছনে ঘুরে(আনমনে)
আহানঃ উফ কোন ছেলেই বা না ঘুরবে আপনার পিছনে বলুন? আপনাকে দেখে মনে হয় আপনার বয়শ মাএ বিশ
মহিলাঃ সত্যি আমাকে এতো ইয়াং মনে হয়?

বাই দো ওয়ে আমি তো ইয়াং ই
আহানঃ হুম ম্যাম আপনাকে দেখে আমার নায়কা মুনমুন এর কথা মনে পরে গেছে
মহিলাটি আহানের কথা শুনে রাগি লুক নিয়ে ওর দিক এ তাকালে–
আহানঃ সরি সরি ভুলে মুনমুন এর নাম নিয়ে ফেলেছি আপনাকে দেখতে পুরাই ক্যাটরিনা কাইফ এর মত লাগে
মহিলাটি আহানের কথা শুনে কাবিলা মার্কা হাসি দিয়ে—
মহিলাঃ আমাকে দেখতে ক্যাটরিনা কাইফ এর মত লাগেসত্যি?

আহানঃ হুম ম্যাম আপনি এতই সুন্দর যে ক্যাটরিনা ও ফেল আপনার সামনে (শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
মহিলাঃ তুমি বাইরে কি করছ আসো ঘরে আস কিছু খেয়ে যাও(খুশি হয়)
আহানঃ না ম্যাম আমার একটা কাজ আছে আর আমাকে শুধু মাএ আংকেল ই হেল্প করতে পারবে।
আমার চড়ই পাখি বায়না ধরেছে যে আমার সাথে করে এখন সাইকেলে করে ঘুরবে কিন্তু আমার সাইকেল নেই।
আর আংকেল এর ত সাইকেলের দোকান
আংকেল যদি আমাকে একটু হেল্প করত।
মহিলাঃকি চড়ই পাখি সাইকেল এ করে ঘুরতে চায়
কি দিনকাল আসল পাখিরা দেখি আকাশে না উড়ে এখন সাইকেল করে ঘুরতে চাইচ্ছে(গালে হাত দিয়ে)
আহানঃ আরে ম্যাম আপনি ভুল বুঝছেন
আমি আমার গালফ্রেন্ড কে ভালোবেসে চড়ই পাখি ডাকিগার্লফ্রেন্ড কে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছি কোন পাখিকে নয়

মহিলাঃ ওও লাভ সাভ কিন্তু তোমার আংকেল তো গভীর ঘুমে। হাজারো ডাক দিলে উঠবেনা
আহানঃ আপনি জাস্ট তার কাছে আমাকে নিয়ে চলুন বাকিটা আমি সামলে নিব
মহিলাঃ আচ্ছা আসো আমার সাথে
মহিলাটি আহানকে তার স্বামীর কাছে নিয়ে গেলে
আহান লোকটিকে হাজারো বার ডাক দিতে থাকে
কিন্তু লোকটি নাক ডেকে ঘুমিয়েই যাচ্ছে যেন হাজারো দিন পর ঘুমালো সে
মহিলাঃ দাঁড়াও আমি পারব তাকে উঠাতে
কথাটি বলে মহিলা জোড়ে একটা চিৎকার৷ দিয়ে বসে

মহিলার চিৎকারটা এত জোড়ে ছিল যে তার চিৎকার এর আওয়াজে আহানের কানের বারোটা বাজিয়ে দেয়
কিন্তু তার স্বামী ঘুম থেকে উঠার নামই নিচ্ছেনা
আহান তার ঘড়ি তে খেয়াল করল এক ঘন্টা হতে আর বিশ মিনিট বাকি তাই কোন উপায় না পেয়ে–
আহানঃ ম্যাম আপনাদের ওয়াসরুম টা কোথায়
মহিলাঃ ঔই তো(ওয়াসরুমের দিক ইশারা করে)

আহান তাড়াতাড়ি করে ওয়াসরুমে গিয়ে একমগ পানি এনে লোকটি মুখে হাল্কা একটু পানির ছিটা দেয়
তাতেও কোন কাজ না হলে আহান পুরো একমগ পানি লোকটার মুখে ঢেলে দেয়
সাথে সাথে লোকটি এক লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পরে —
লোকটিঃ মা মা আমি ডুবে গেলাম ডুবে গেলাম আমি
আহানঃ রেলেক্স আংকেল একমগ পানিতে কেউ ডুবে যায়না আই এম সরি আমার এমন আচরনের জন্য।
কিন্তু প্লিজ আংকেল আমাকে আজ হেল্প করতেই হবে।
আহান অনেক আকুতি মিনতি করলে লোকটা রাজি হয় তার দোকান খুলতে
পরে লোকটি আর আহান ওর গাড়ি করে খুব দ্রুত লোকটির দোকান এসে পৌছায়
লোকটি আহানকে একটা কালো কালারের সাইকেল ধরিয়ে দিলে আহান তাড়াতাড়ি করে সাইকেল টা নিজের গাড়ির মধ্যে রেখে—

লোকটাকে টাকা দিয়ে খুশিতে লোকটাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে—-
আহানঃথ্যাংকস আংকেল আপনি জানেন না কত বড় উপকার টা করলেন
লোকটিঃ উফ কি করছ কি ছাড়ো আমায়
আহানঃ সরি আসলে অনেক খুশি তো তাই(মাথা নিচু করে)
লোকটিঃ কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি যাও

আহানঃ জ্বি আংকেলকিন্তু আসেন আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি
লোকটিঃ না তুমি যাও আমি চলে যেতে পারবতোমার লেট হয়ে যাচ্ছে
আহানঃ থ্যাংকস আংকেল
কথাটি বলে আহান গাড়িতে উঠে তাড়াতাড়ি চলে যায় বাড়ির উদ্দেশ্য
বাসায় পৌছে আহান সোজা চলে যায় চারুর রুমে
সেড লুক নিয়ে চারুর সামনে দাড়ালে—
চারুঃ
চলবে
ছায়া হয়ে থাকব পাশে

পর্ব ২৬
আহান বাসায় পৌছেই সোজা চলে যায় চারুর রুমে–
সেড লুক নিয়ে চারু সামনে এসে দাড়ালে–
চারু আহানের সেড লুক দেখে–
চারুঃ কি হল পারেননি তো এরেঞ্জ করতে
কথাটি বলে চারু জোড়ে জোড়ে হাসতে শুরু করে
আহান কোন কথা না বলে তার দুই হাত দিয়ে চারুর চোখ জোড়া বন্ধ করলে–
চারুঃ কি হল? আমার চোখ এই ভা
বে ধরে আছেন কেন?

আহানঃ চুপ কোন কথা নয়জাস্ট আমার সাথে চলো
কথাটি বলে আহান চারুকে বাসার বাইরে নিয়ে যায়–
চারুর চোখ থেকে নিজের হাত জোড়া সরিয়ে—
আহানঃ সারপ্রাইজ
চারু সামনে তাকিয়ে দেখল একটা কালো রঙের সাইকেল আর সাইকেলের বাসকেট এ অনেক গুলো গোলাপ ফুল
চারু বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সাইকেল এর দিক এ
চারুঃ আপনি এতো রাতে সাইকেল কিভাবে পেলেন?

আহানঃ কিভাবে পেয়েছি কি করে পেয়েছি এই গুলা বাদ দিয়ে চল সাইকেল এ করে তুমাকে পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করাই
আহানের কথা শুনে চারু জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগলে আহানও চারু হাসির সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে শুরু করল
আহান ওর হাসি বন্ধ করে সাইকেলে উঠে —
আহানঃ চারু তাড়াতাড়ি সাইকেলে বসো
চারুঃ আপনি নামেন সাইকেল থেকে
আহানঃ কেন? (অবাক হয়ে)
চারুঃআগে নামেন তারপর বলছি
আহান চারুর কথামত সাইকেল থেকে নেমে পরলে চারু সাইকেলের সামনে বসে পরে–
চারুঃনিন এবার উঠুন
আহানঃ এই তুমি সামনে বসলা কেন?

চারুঃ কারন সাইকেল আপনি নয় আমি চালাব
আহানঃ ওয়াট (অবাক হয়ে)
চারুঃজলদি উঠুনতো
আহান কথা না বাড়িয়ে সাইকেলে উঠে পরলে চারু সাইকেল চালাতে থাকে আপন মনে
সাইকেল চালানোর সাথে সাথে গান গাইতে থাকে
চারুঃ আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
আহানঃ ওই এতো আসতে চালাচ্ছো কেন?

মনে হচ্ছে ভেলগাড়ি তে উঠে বসে আছি
চারুঃ তাই নাকি তাহলে দেখেন চারুর কামাল
কথাটি বলে চারু খুব স্পিড এ সাইকেল চালাতে শুরু করে
আহানঃ এই করছটা কি? তোমাকে একটু জোড়ে চালাতে বলেছি উড়োজাহাজের মত উড়ানোর কথা বলিনি স্পিড কমাও বলছি
চারুঃ অই আপনার সম্যসা কি?

একবার বলেন স্প্রিড বারাও এক বার বলেন কমাও
(পিছনের ঘুরে আহানের দিক এ তাকিয়ে)
আহানঃ অই তুমি আমার দিক এ না তাকিয়ে সামনে তাকাওএক্রিডেনট হবে তো
চারু আহানের দিক এ তাকিয়ে থাকার ফলে সাইকেলের উপর থেকে নিজের নিয়ন্রন হারিয়ে ফেলে যার ফলে সাইকেল ধপাস হয়ে পরে যায় মাটিতে
আর চারু আহানের উপর

চারুর এলোমেলো থাকা চুলগুলো সোজা এসে পরে আহানের মুখে
দুইজনেই এইভাবে বেশক্ষানিক ধরে একের অপরের দিক এ তাকিয়ে থাকে পলকহিন ভাবে
চারু উঠতে নিলে আহান চারুর কোমড় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে—
আহানঃ তোমাকে তো উঠে যাওয়ায় পারমিশন দেইনি আমি
চারুঃ সারা রাত কি আমরা এই ভাবেই রাস্তায় শুয়ে থাকব
আহানঃ হুম আমার তো কোন সম্যসা নেই সারা রাত তোমাকে আমার বুকের মাঝে রাখতে
চারুঃ তাই বলে রাস্তায়? অই ছাড়ুন আমাকে
আহানঃ আমি তো মোটেও ছারছিনা
চারুঃ দাড়ান কিভাবে ছাড়াতে হয় আমার জানা আছে

চারু সাথে সাথে আহানকে একটা কিস করে বসে
চারু এইভাবে কিস করায় আহান যেন পুরো পুরি শকডআহান শকড হয়ে চারুর কোমড় থেকে নিজের হাতটা সরালে চারু সেই সুযোগে আহানের উপর থেকে উঠে পরে
চারুঃ এই যে রাস্তায় কি ঘুমিয়ে থাকার পরিকল্পনা করছেন নাকি আপনি
কথাটি বলে চারু পাগলের মতো হাসতে শুরু করে
আহানঃ ওও আমার সাথে চালাকি তাই তো (মনে মনে) বলছি হঠাৎ করে আমার জন্য এতো ভালোবাসা জাগল কিভাবে
চারুঃ নেন হাতটা ধরেন আর উঠুন জলদি করে

(আহানের দিক এ হাত বাড়িয়ে)
আহান চারুর হাতটা ধরে উঠে পরে মাটি থেকে
আহানঃ উফফ সাইকেল এর তো বারোটা বেজে গেছে বাসায় যাব কি করে?

চারুঃ উড়ে উড়ে(হেসে)
আহান চারু কথা শুনে ভ্রু কুচকিয়ে ওর দিক এ তাকালে
চারুঃ আরে বাবা হেটে হেটে যাব
আহানঃ হুম চল
কয়েকমিনিট এই ভাবে হাটার পর আহান আর চারু একটা ওয়াইট কালারের গাড়ি আসছে দেখতে পেলে –
চারু গাড়িটির সামনে হাত উচু করে ইশারা করলে গাড়িটি থেমে যায়
গাড়িটির গ্লাস নিচু করে-
ড্রাইভারঃডু ইউ নিড এনি হেল্প ম্যাম?

চারুঃ ভাইয়া আমাদের একটু
কথাটি পুরো পুরি বলতে পারলনা চারু এর আগেই আহান ওর হাত হ্যাচকা টান দিয়ে সেই খান থেকে সরিয়ে আনতে নিলে
ড্রাইভারঃ ম্যাম আমার গাড়িতে আসুন আপনাদেরকে পৌছে দেই
আহানঃ নো থ্যাংকস আমরা যেতে পারব
আহানের কথা শুনে লোকটি কালো মুখ করে, তার গাড়ি নিয়ে চলে যায় সেইখান থেকে
চারুঃ কি করলেন এইটা? (রেগে)
ভালোয় ভালো লিফট দিচ্ছিল আর আপনি
আহানঃ এই ভাবে কাউকে সহজেই বিশ্বাস করতেই নেই চারু দিনকাল অনেক খারাপ।
যদি লোকটা খারাপ হতো?

চারুঃ আরে লোকটার ফেস দেখে তো বুঝাই যাচ্ছিল লোকটা মোটেও খারাপ না
আহানঃ হ মানুষ এর ফেস এ লিখা থাকে সে ভালো না খারাপ
চারুঃ হ সব জ্ঞান তো আপনারই আছে
কথাটি বলে চারু জোড়ে জোড়ে হাটা শুরু করে
আহানঃ অই কই যাও আমাকে রেখে
আহান ও চারুর পিছনে হাটা শুরু করলে
চারুঃ অই আমার পিছনে পিছনে আসবেন না
আহানঃ ওকে
কথাটি বলে আহান চারুকে কোলে তুলে নেয়
চারুঃ অই ছাড়েন আমাকে
আহানঃ মোটেও ছাড়ছিনা তোমাকে
যত ইচ্ছা লাফালাফি করো

চারু কোন উপায় না পেয়ে আহানের ঘাড় এ কামড় দিয়ে বসে
কিন্তু আফসোস তাতেও কোন কাজ হয়না
আহানঃ ওও ফাস্ট এ কিস তারপর কামড়
আজ দেখি অনেক ভালোবাসা জাগছে আমার উপর (ডেভিল হাসি হেসে)
চারুঃ হ অনেক ভালোবাসা জাগছে আপনি আমাকে নিচে নামালে আরও জেগে উঠবে
আহানঃ কি (ভ্রু কুচকিয়ে)

চারুঃ কি আবার ভালোবাসা
তো প্লিজ নিচে নামান আমাকে
আহানঃ বাসায় গিয়ে তারপর(হেসে)
এইভাবে আহান চারুকে কোলে করে নিয়ে হাটতে থাকে আর চারু ও আহানের কোল থেকে নামার হাজার চেষ্টা করলেও সফল হয়ে উঠে না চারু,
বাসায় এসে পৌছালে
চারুঃ এখন তো নামান
আহানঃ না আমি এইভাবে তোমাকে কোলে করে নিয়ে তোমাকে তোমার রুমে দিয়ে আসব৷

কথাটি বলেই আহান বাড়ির দরজার সামনে এসে দরজার দিক এ ওর চোখ পরলে
ভুতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে আহান
আহান এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকায়
চারুঃ কি হল এইভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন কেন? ভুত দেখেছেন নাকি?
আহানঃ দরজার দিক এ তাকাও চারু
চারু আহানের কথা শুনে সামনে তাকালে-
চারুঃ

পর্ব ২৭

চারুঃ কি হলো এই ভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?
ভুত দেখেছেন নাকি?
আহানঃ দরজার দিক এ তাকাও চারু(ভয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে দরজার সামনে তাকালে
খেয়াল করে ওই খানে একটা কুকুর বসে আছে খুটিসুটি মেরে
চারুঃ কুত্তা(ভয়ে)
আহানঃ তুমিও ভয় পাও আমার মতো? ,
চারুঃ তুমিও মানে?

আহানঃ আমি ছোটকাল থেকেই কুকুর প্রচন্ড ভয় পাই
চারুঃ কি একটা ছেলে হয়ে কুকুর ভয় পান লজ্জা লাগছেনা কথাটা বলতে (বিরক্তিকর স্বরে)
আহানঃ লজ্জা কেন লাগবে ছেলেরা মানুষ না?
আর ছোট কালে আমাকে একটা কুকুর কামড় দিয়েছিল এর পর থেকে কুকুর দেখলে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়(অসহায় মুখ করে)
চারু আহানের কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগে
আহানঃ অনেক হাসি পাচ্ছে যাও কুকুর এর কাছে যাও দেখো কেমন লাগে
চারুঃ অই খবরদার এই রকম চিন্তা ভাবনা মোটেও করবেননা আর আপনার কোল থেকে আমাকে নামালে আমি বিয়ের পর আপনাকে কেকা আপ্পার রেসিপি করা খাবার খাওয়াবো
আহানঃ উফ না নামলে এইটা তাড়াবো কি ভাবে?

চারুঃ ও হ্যা
চারু আহানের কোল থেকে নেমে পরলে–
আহান কুকুরটির একটু কাছে গিয়ে
আহানঃ ভাইয়া প্লিজ দরজা থেকে সরুনআর আমাদের বাসায় যেতে দিন
কুকুরটি আহানের কথা শুনে বসা থেকে উঠে জোড়ে জোড়ে ঘেউ ঘেউ করতে লাগল
আহানঃ উফ রে এই জল্লাদ কুকুর পারলে দেখি আমাকে মেরেই ফেলে
চারুঃ সরেন তো আমি হেনডেল করছি
আহান চারুর কথা শুনে সরে দাড়ালে-

চারুঃ অই শালা কুকুর যাবি এই খান থেকে নাকি ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিব তোর
চারুর কথা শুনে কুকুর টা আরও জোড়ে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে
আহানঃ এইটা কি করছো পাগলের মতো (অবাক হয়ে)
চারুঃ দেখছেন না কুকুর টা কি ঘাড় ত্যারা সরছেই নাউল্টো ঘেউ ঘেউ করে যাচ্ছে বেশি করে
আহানঃ একটু অপেক্ষা করি হয়ত ও নিজেই চলে যাবে
চারুঃ হুম

আহান আর চারু বেশক্ষানিক ধরে অপেক্ষা করতে থাকে কুকুরটি যাওয়ার কিন্তু কুকুরটি দরজার সামনে থেকে সরার নামই নিচ্ছেনা
চারুঃ দেখেছেন শালা কুত্তা কিভাবে তাকিয়ে আছে?
মনে হচ্ছে বাড়িটা ওর
আহানঃ বাদ দাও তো। দাড়োয়ান চাচা কেও ভুলভাল বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি যাতে তোমাকে নিয়ে বের হতে কেউ না দেখেসে থাকলে তো কুকুরটা সড়াতে পারত।

চারুঃ সারা রাত কি এইভাবেই থাকব নাকি
মশা গুলো তো আমার রক্ত খেয়ে ফেলছে
আহানঃ একটা কাজ করি গাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকি
কুকুরটা আজ সড়বেনা এই খান থেকে
চারুঃ এতো ক্ষনে বলতে হলো কথাটা জলদি চলুন
তারপর আহান আর চারু গাড়ি তে গিয়ে বসে থাকে

চারুঃ আপনার চেহারা দেখে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে আপনাকে
আহানঃ হুম অনেক ক্লান্ত লাগছে আমার
কথাটি বলে আহান চারুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরে
আহানঃ চড়ই পাখি আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও তো
চারু আহানের কথা শুনে আহানের মাথায় ওর হাত বুলিয়ে দিলে
আহানঃ আহহ কি শান্তি

চারু ওর চুল গুলা নিয়ে আহানের কানে শুড় শুড়ি দিতে থাকলে
আহানঃ অই শান্তি মতো একটু ঘুমাতে দাও তো
চারু আহানের কথা না শুনে আরও বেশি করে করতে লাগলে
আহান চারুর কোল থেকে নিজের মাথাটা উঠিয়ে চারুকে শুড়শুড়ি দিতে থাকে
চারুঃ অই করছেন টা কি প্লিজ থামুন(হেসে)

আহানঃ কেন এখন থামব কেন
কথাটি বলে আহান চারুর পেট শুড়শুড়ি দিতে থাকে
চারুঃ প্লিজ থামুন না হলে হাসতে হাসতে আমি মারা যাব
আহান চারু কথা শুনে থেমে যায়
চারুঃ উফ একটু হলেই মারা যেতাম অনেক ঘুম পাচ্ছে আমার

কথাটি বলে চারু আহানের ঘাড়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকে
আহানঃ উফফ এই সময় টা যদি এই খানেই থেমে যেততাহলে কত ভালো হতো তাইনা?
চারু আহানের কথার কোন উত্তর না দিলে-
আহান চারুর দিক এ তাকালে খেয়াল করে চারু ঘুমিয়ে গেছে
আহানঃ আল্লাহ এই মেয়ে দেখি ডোরেমন এর নোবিতাকেও হার মানাবে
কয়েক সেকেন্ডে এর মধ্যে ঘুমিয়ে গেল
আহান চারু কপালে একটা চুমু দিয়ে ওর হাতটা নিজের হাত এ রেখে ঘুমিয়ে পরে
সকালে

আহানের ঘুম ভাঙলে ও খেয়াল করে চারু এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
আহান চারুর মুখে এসে থাকা চুল গুলো কানের পিছনে গুজে দিয়ে চারুর কপালে আলতো করে ওর ঠোঁটের স্পর্শ ছুয়ালো
আহানঃ উফ সকাল হয়ে গেছে। এতক্ষনে অই কুকুরটাও চলে গেছে হয়ত
আহান চারুর কে গাড়িতে রেখেই বেরিয়ে পরে–
দরজার সামনে তাকালে দেখে কুকুরটা আর সেইখানে নেইআর বাসার দরজা টাও খোলা
দরজার সামনে কুকুরকে দেখতে না পেয়ে সস্তির নিশ্বাস ফেলে আহান
আহান গাড়ির কাছে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে চারুকে কোলে করে নিয়ে বাসায় ভিতরে ডুকে পরে
বাসার ভেতরে প্রবেশ করে আহান চারশ চল্লিশ বোলড এর শকড খায়
কারন ড্রায়নিং রুমে সবাই বসে আছে সাথে একটা মধ্য বয়স্ক মহিলা আর তার সাথে মর্ডান ড্রেস পরা একটা ইসটাইলিস
মেয়েও বসে আছে
আহান আর চারুকে আহানের কোলে দেখে সবাই যেন পুরোপুরি অবাক
সাবিনাঃ আহান এই গুলো কিচারুকে তুই কোলে নিয়ে আছিস কেন?
আহানঃ মা আসলে (আমতা আমতা করে)
সাবিনাঃ কি হলো আমার কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন আহান? (চিৎকার দিয়ে)
চারুঃ উফফ সকাল সকাল কে এমন গরুর মত চিল্লাচ্ছে একটু কি শান্তি মতো ঘুমাতেও দিবেনা আমায়।
আহানঃ চোখ খুলো চারু আর ঘুমাতে হবেনা। সামনে দেখো
চারু আহানের কথা শুনে ওর চোখ গুলো আসতে করে খুলে সামনে তাকিয়ে দেখে সবাই বড় বড় চোখ করে ওদের দিক এ
তাকিয়ে আছে
চারুঃ চারু আজ তুই শেষ (আনমনে)
চারু তাড়াতাড়ি করে আহানের কোল থেকে নেমে পরে
আহানঃ আসলে মা ভোর ছয়টায় আমার ঘুম ভেঙে গেলে ভাবলাম সকালে একটু হাটতে যাই বাইরে
একা যেতে একটু বোরিং ফিল হচ্ছিল তাই ভাবলাম ভাইয়াকে নিয়ে যাই সাথে করে কিন্তু ভাইয়াকে এতো ডাক দিলাম দরজা টা খুললোই না সে।

আবিরঃ আমাকে আবার কবে ডাক দিল (মাথা চুলকিয়ে)আনমনে
আহানঃ ভাইয়ার রুমের সামনে থেকে যেতে নিলে দেখলাম চারু ওর রুম থেকে বের হচ্ছে তাই উপায় না পেয়ে চারুকেই সাথে নিয়ে গেলাম
ও অনেক মানা করছিল যেতে কিন্তু আমিই ওকে ফোর্স করি
আর অসুস্থ শরীর নিয়ে বেশি হাটার ফলে চারু রাস্তার মধ্যেই মাথা ঘুরে পরে যায়
তাই কোন উপায় না পেয়ে ওকে কোলে করে নিয়ে আসতে হয় আমায়
চারুঃ আল্লাহ দুই সেকেন্ডে এর মধ্যে কাহিনি বানিয়ে ফেললোইনাকে তো রাইটার হওয়া উচিত ছিল
(আনমনে)

মিরাজঃ যাও চারু মা তুমি নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো
সাবিনাঃ আর কত ঘুমাবে যা চারু সবার জন্য চা বানিয়ে আন
আহান কিছু বলতে যাবে এর আগেই
চারুঃ জ্বি কাকিমা এখনি যাচ্ছি
কথাটি বলে চারু সাথে সাথে চলে যায় রান্না ঘরে
চারুর সাথে সাথে দিশাও চলে যায় রান্না ঘরে চারুকে হেল্প করতে
আহানঃ আসসালামু আলাইকুম মায়া খালামনিকেমন আছেন?
মায়াঃ ভালো আছি আহান তুই কেমন আছিস?

আহানঃ এই তো ভালো
হঠাৎ আহানের খালার পাশে বসে থাকা মেয়েটি আহানকে জড়িয়ে ধরে
মেয়েটিঃ উফফ আহান বেবি তুমি কেমন আছো কত বছর পর দেখলাম তোমায়
আহান মেয়েটি থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে–
আহানঃ রিয়া আমি ভালো আছি আর আমি তোমার ভাইয়া হই তাই ভাইয়া বলে ডাকলে বেশি খুশি হবো
রিয়া আহানের বলা কথা শুনে মুখটা কালো করে ফেলে–

মায়াঃ তুই তো জানিস ই আহান রিয়া তোকে কতটা আপন মনে করে তুই অসুস্থ শুনে সাথে সাথে রাতের ফ্লাইট এর টিকেট কেটে চলে আসল আমায় নিয়ে
আহান মায়ার বলা কথা শুনে শুকনো একটা হাসি দিয়ে
আহানঃ জ্বি খালামনি অনেক ভালো করেছেন বাসায় এসে
হঠাৎ চারু বলে উঠে
চা রেডি

এক এক করে সবাইকে চা দেওয়ার পর
চারু রিয়াকে চা দিতে নিলে চারুর হাত থেকে চায়ের কাপটা পরে যায়
রিয়াঃ ইউ ব্লাডি হেল। কি করলে এইটা আমার উপর চা ফালিয়ে দিলে
কথাটি বলার সাথে সাথে রিয়া চারুর গালে একটা থাপ্পড় মারতে নিলে—–
চলবে৷

(অনেকে বলেছে দরজার সামনে ভাবিভাই বাবা; রহিম কাকা;;রিনা খান বাট শুধু একজনই বলতে পেরেছে আন্দাজ করে দরজার সামনে কুকুর আর সেইটা হল আমার বোন
আমি শকড ও কিভাবে পারলো বলতে? 😱

পর্ব ২৯

সাবিনাঃ কি রে চারু তুই না বাহিরে গিয়ে দিশার জন্য কিছু কিনতে গিয়েছিলি? তো খালি হাতে এলি যে
চারুঃ আসলে কাকিমা দিশা ভাবি যে লিস্ট টা দিয়েছিল আমি মনের ভুলে আমার রুমেই ফেলে চলে গিয়েছিলাম(মাথা নিচু করে)
সাবিনাঃ তোর মন কই থাকে রে?
দিশাঃ কই আবার আপনার ছেলের কাছে(ফিশ ফিশ করে)
সাবিনাঃ কিছু বললে দিশা? (দিশার দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে)
দিশাঃ মা বলছিলাম অনেক তো বেলা হয়ে গেল সবার খিদে পেয়েছে তাই তাড়াতাড়ি করে খাবারটা বেরে নেই। এই চারু তুমি এই খানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি করছো চলো আমাকে হেল্প করবে।
চারুর হাতটা টেনে তাড়াতাড়ি করে সেই খান থেকে নিয়ে গেল দিশা
রান্নাঘরে

চারুঃ থ্যাংকস ভাবি আমাকে বাঁচানোর জন্য
(দিশাকে জড়িয়ে ধরে)
দিশাঃ এখন কথা বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি চলো না হলে আমাদের শাশুড়ী মা সাবিনা খান থেকে এক লাফ দিয়ে রিনা খান হয়ে যাবে(হেসে)
চারুঃ হুম চলো
ডায়নিং টেবিলে চারু আর দিশা সবাইকে খাবার বেড়ে
দিয়ে
চারু চেয়ার টেনে ডায়নিং টেবিলে বসতে নিলে-
রিয়াঃ হে ইউ কাজের মেয়ে রহিমা তুমি কি আমাদের সাথে বসে খাওয়ার সপ্ন দেখছো নাকি?

মিসেস সাবিনা আর মায়া রিয়ার বলা কথা শুনে মুচকি মুচকি হেসে উঠে
তাতে বেশ অপমামিতবোধ করে চারু
দিশাঃ এইটা কোন ধরনের বেয়াদবি রিয়াচারু আমাদের পরিবারে একজন সদ্যস্য তাই তুমি ওর সাথে এমন ভাবে কথা বলতে পারো না
মায়াঃ আপু দিশার বিয়ের কতো বছর হলো?
কি দিশা এখনো বাচ্চা নিচ্ছোনা যে? কোন সম্যসা আছে নাকি বেচারা আবির বিয়ের এতো বছর পর ও বাবা ডাক শুনতে পেলো না

মায়ার বলা কথাগুলো দিশার বুকে তীরের মতো গিয়ে লাগে
আর সে সইতে না পেরে ডায়নিং টেবিল থেকে উঠে গিয়ে সোজা চলে যায় নিজের রুমে
চারু ও দিশার পিছনে পিছনে চলে যায় ওর সাথে
সাবিনাঃ আমার মনে হয় তুই একটু বেশি বলে ফেলেছিস মায়া
মায়াঃ আরে আপু বউ দের এই ভাবে মাঝে মাঝে কথা শুনিয়ে ওদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ওরা ঘরের বউ শাশুড়ী নয়এই ভাবে কথা শুনিয়ে রাখলেই দিতৃীয় বার কিছু বলার আগে ভেবে নিবে
তোমাকে তো আগেও বুঝিয়েছি বউদের এই ভাবে টাইট দিয়ে রাখতে হয় না হলে ওরা আমাদের মাথার উপর উঠে নাচতে শুরু করে

রিয়াঃ হ্যা খালামনি মা একদম ঠিক কথা বলেছে
রিয়া আর মায়ার বলা কথা শুনে চুপ করে রয় মিসেস সাবিনা
চারু দিশার রুমে গিয়ে দেখে দিশা ওর কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে
চারু দিশার দিক এ অবাক হয়ে তাকালে
দিশা ওর কানের হেড ফোনটা খুলে—

দিশাঃ কি হলো এই ভাবে অবাক চোখ এ তাকিয়ে আছো কেন আমার দিক এ
চারুঃ তুমি যেই ভাবে ও খান থেকে আসলা আমি তো ভেবেছিলাম
দিশাঃ কি ভেবেছিলে আমি মায়া খালার কথা শুনে রুমে বসে কান্না করবো
চারু দিশার বলা কথা শুনে মাথা নেড়ে হ্যা সূচক উত্তর দেয়
দিশাঃ আমাদের সমাজ টাই এমন চারু
কেউ মা হতে না পারলে মায়া খালার মতো কিছু কিছু মানুষ রা কেন বাচ্চা হলো নাআহহ রে ছেলে টা এখনো বাবা ডাক শুনতে পারলো না

এই ধরনের কথা শুনিয়ে অনেক আনন্দ পায়
কিন্তু একবার মেয়েটার মনের কষ্ট বুঝার চেষ্টা করেনা। উল্টো তাদের কষ্ট টাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ এ থাকে তাই আমাদের উচিৎ এই সব মানুষ এর কথা কোন ইম্পরট্যান্ট ই না দেওয়া।
চারুঃ হুম ভাবি ঠিক বলেছো আর আমার বিশ্বাস আল্লাহ খুব জলদি আমার আপুটার কোলে ছটুসা একটা বেবি পাঠাবে

দিশাঃ আমি সেই দিন এর অপেক্ষাই আছি চারু।
চারু দিশার কথা শুনে৷ ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে
রাতে আহান এর বাসায় ফিরে আসতে অনেক লেট হয়ে যায়
বাসার কলিং বেল বাজালে চারু এসে দরজাটা খুলে দেয়
চারু আহানকে দেখে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে-
আহানঃ এই করছোটা কি? কেউ দেখে নিলে তো প্রবলেম হবে
চারুঃ কে দেখবে? সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছে
কাকিমা একটু মাথা ব্যাথা ছিল তাই সেও ঘুমিয়ে পরেছে। আপনি আসলে আমাকে খাবার বেরে দিতে বলেছে
আহানঃ ওওওও তাহলে তো কোন প্রবলেম নেই

কথাটি বলে আহান চারুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে –
চারু নিজেকে আহান থেকে ছাড়িয়ে —
চারুঃ অনেক লেট হয়ে গেছে চলুন খেতে চলুন
আমার অনেক খিদে পেয়েছে
আহানঃ তুমি খাওনি?
চারুঃ না খাইনি এইবার চলুন
তারপর চারু আহান দুই জনেই এক সাথে বসে ডিনার করে নেয়
ছাদে দোলনায় বসে

চারুঃ আহান আমার মনে হয়না কাকিমা আমাকে কখনিই মেনে নিবে
আহানঃ তাই নাকি বাট আমার তো মনে হয় একদিন মা নিজেই তোমাকে ঘরের বউ বানানোর জন্য পাগল হয়ে উঠবে
কথাটি বলে আহান হো হো করে হেসে উঠে
চারু কিছু না বললে আহান চারু দিক এ তাকিয়ে দেখে চারু গভীর ঘুমে
আহানঃ আল্লাহ এই মেয়ে এমন কেন, এক সেকেন্ড এর মধ্যেই ঘুমিয়ে যেতে পারে
তারপর আহান চারুকে কোলে তুলে নিয়ে চারুর রুমে গিয়ে ওকে বিছানায় শুইয়ে দেয়।
চারু কপালে একটা চুমু দিয়ে লাইট টা অফ করে চলে যায় নিজের রুমে
সকালে

আহানঃ চারু যাতো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে
সাবিনাঃ কেন আহান ও কেন রেডি হবে?
আহানঃ মা চারু অনেক সুন্দর গান গাইতে পারে
আর আমি চাই ওর এই টেলেনট টা ওয়েস্ট এ না যায়
রিয়াঃ আরে আহান একটা গান গাইতে পারলেই কেউ সিংগার হতে পারেনা (হেসে)
আহানঃ থাপ্পড় টা কি ভুলে গেছো রিয়া
রিয়া আহানের বলা কথা শুনে রেগে মেগে সেই খান থেকে চলে যায় নিজের মেয়ের পিছনে পিছনে মায়াও চলে যায় রিয়ার সাথে

আহানঃ চারু দাড়িয়ে আছিস কেন?
চারুঃ হ্যা ভাইয়া যাচ্ছি
সাবিনাঃ যা ইচ্ছা কর তোরা
কথাটি বলে মিসেস সাবিনাও চলে যায় নিজের রুমে
চারু রেডি হয়ে আসলে আহান চারুকে নিয়ে বের হয়ে পরেগাড়ি করে
গাড়ি টা একটা সংগীত একাডেমির সামনে এসে থামলে চারু বেশ ইতস্ততবোধ করে
চারুঃ প্লিজ আহান আমায় বাসায় দিয়ে আসুন
আহানঃ বেশি কথা না বলে নামো জলদি করে গাড়ি থেকে

চারু আহানের থমক খেয়ে তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পরলে আহান ও গাড়ি থেকে নেমে চারু হাত ধরে একাডেমিতে প্রবেশ করে
একাডেমিতে প্রবেশ করে দেখে একটা বয়স্ক লোক অনেক গুলা ছেলে মেয়েকে গান শিখাচ্ছে
লোকটি তার গান বন্ধ করে চারু আর আহানের দিক এ তাকালে —–
আহানঃ আসসালামু আলাকুম স্যার
লোকটিঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম
আহানঃ স্যার আমি যে কাল এসেছিলামআপনার কাছে
লোকটিঃ ওওওও হ্যা মনে পরেছে

তো নিয়ে এসেছো মেয়েটিকে তোমার সাথে করে
আমি কালই বলেছিলাম তোমায় যদি ভালো গান গাইতে পারে তাহলেই আমার একাডেমিতে নিব
আহানঃ হ্যা স্যার আমি নিয়ে এসেছি চারুকে
আর ও অনেক সুন্দর গান গাইতে পারে
চারুর দিক এ লোকটি তাকালে চারু ভয়ে ঢোক গিলে–
লোকটিঃ তো তোমার নাম কি?

চারুঃ চাচা
লোকটিঃ এই মেয়ে দেখি নিজের নামটাই বলতে পারছেনা গান কিভাবে গাইবে
লোকটির কথা শুনে বাকি সব ছেলে মেয়েরা হো হো করে হেসে উঠে
লোকটি ওদের দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকালে তাড়াতাড়ি করে হাসি বন্ধ করে নেয় ওরা
আহান চারুকে এক সাইডে নিয়ে গিয়ে–
আহানঃ উফফ চারু তুমি এতো নার্ভাস কেন হচ্ছো?

চারুঃ আহান প্লিজ আমি পারবনা
আহানঃ তোমাকে পারতে হবে চারু আমার জন্য
আমি চাই আমার চড়ই পাখি লাইফে নিজের পরিচয় বানাকতোমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চাই
প্লিজ তোমার আহানের কথা রাখবেনা?
চারুঃ হুম রাখব
আহানঃ তাহলে চলো সুন্দর করে একটা গান গেয়ে সবার হাসি বন্ধ করে দাও
তারপর আহান চারু কে লোকটি সামনে নিয়ে গিয়ে–
আহানঃ স্যার ও এখন পারবে গান গাইতে
লোকটিঃ পারলে তো ভালো এই মেয়ে তাড়াতারি গাও আমার এতো সময় নেই তোমার জন্য বসে থাকা (চিল্লান দিয়ে)।

চারু তার ধমক শুনে বেশ ভয় পেয়ে যায়।
নিজের চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে—গান গাইতে শুরু করে–
আমারো পরান ও যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো
আমারো পরান ও যাহা চায়
তোমায় ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমারো পরানও যাহা চায়

হঠাৎ সকলের তালি বাজানো শব্দ চারু কানে আসলে চারু ওর চোখ খুলে দেখে সবাই ওর দিক এ তাকিয়ে জোড়ে জোড়ে তালি বাজাচ্ছে।
লোকটিঃ মা শাহ আল্লাহ অনেক সুন্দর গেয়েছো মা
আহানঃ তার মানি ও সিলেক্টেড? আপনি ওকে গান শিখাবেন?
লোকটিঃ ওকে গান শিখাতে পারা তো আমার সৌভাগ্য এর বিষয়
লোকটির কথা শুনে আহান সাথে সাথে চারুকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে
আহানঃ দেখেছো চারু বলেছিলাম না তোমার গান শুনে আমার মতো সবাই মুগ্ধ হয়ে যাবে(কান্নার কন্ঠে)
চারুঃ আহান সবাই দেখছে ছাড়ুন আমায়(আস্তে)

চারুর বলা কথা শুনে হুস আসে আহানের। তাড়াতাড়ি করে ও ছেড়ে দেয় চারুকে
আহানঃ সরি (মাথা নিচু করে)
লোকটিঃ তো আগামী সপ্তাহ থেকে আসতে পারো তোমরা
আহানঃ থ্যাংকস স্যার
লোকটি আহানের খুশি দেখে মুচকি একটা হাসি দেয়

একাডেমি থেকে বের হয়ে আহান চারুকে বাসায় পৌছে দিয়ে সোজা চলে যায় হসপিটালে
বাসায় এসে চারু একাডেমিতে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বললে দিশা বেশ খুশি হয় চারুর কথা শুনে
কিন্তু মায়া সবিনা আর রিয়া চারুর কথা শুনে খুশি না হয়ে বরং রেগে মেগে চলে যায় যে যার রুমে
সন্ধাবেলা আহান চারুকে কয়েকবার ফোন দেয় কিন্তু ফোন রিসিভ না হলে
আহান বাধ্য হয়ে ল্যান্ড লাইনে ফোন দেয়
মিসেস সাবিনা ফোনটা রিসিভ করলে

ফোনে মায়ের কন্ঠ শুনতে পেলে–
আহানঃ হ্যালো মাআজ আমি বাসায় আসতে পারব নাজরুরি একটু কাজ আছে হসপিটালে
সাবিনাঃ সে কি? সারা রাত তুই হসপিটালে থাকবি?
আহান

মিসেস সাবিনা বলা কথা শুনে চারু নিজের কাজ রেখে তার দিক এ কৌতুহুল দৃশটিতে তাকায়
আহানঃ হ্যা মাআজ আসতে পারব না বাসায়
সাবিনাঃ আচ্ছা
কথাটি বলে ফোনটা রেখে দেয় মিসেস সাবিনা
সাবিনাঃ ইসস আমার ছেলেটা সারা রাত হসপিটালে থাকলে খাবে কি রাতে
চারুঃ কাকিমা আমি গিয়ে তাকে খাবার দিয়ে আসি?

রিয়াঃ এই তুমি কেন যাবে? খালামনি আমিই গিয়ে আহানকে খাবার দিয়ে আসি
সাবিনাঃ আচ্ছা রিয়া তুই গিয়ে দিয়ে আয়
রিয়াঃ আচ্ছা খালামনি আমি তাহলে রেডি হয়ে আসি
কথাটি বলে সাথে সাথে নিজের রুমে চলে যায় রিয়া রেডি হতে
চারু রিয়ার রুমে ঠুকে —
চারুঃ রিয়া তোমার কষ্ট করে যাওয়ার কি দরকার?

আমি গিয়েই দিয়ে আসি
রিয়াঃ এই ইউ মিডেল ক্লাস মেয়ে তোমাকে কে বলেছে আমাকে জ্ঞান দিতে? আমার রুমে থেকে বের হও না হলে আমি নিজেই তোমাকে ঘাড় থাক্কা দিয়ে বের করে দিব রুম থেকে
চারুঃ তোকে তোর ভাষাতেই বুঝাতে হবে(আনমনে)
চারু রিয়ার চুল টেনে ধরলে —

রিয়াঃ এই মেয়ে করছো কি? আমার চুল ছাড়ো বলছিনা হলে কিন্তু আমি চিৎকার দিবো
চারু রিয়ার কথা শুনে এক হাত দিয়ে রিয়ার মুখ চেপে ধরে
চারুঃআরও চেচামেচি কর?
রিয়া বেশ চেষ্টা করে নিজেকে ছাড়ার কিন্তু কোন ভাবেই পেরে উঠে না চারুর সাথে
চারু তাড়াতাড়ি করে রিয়াকে ওয়াসরুমে ভিতর এ থাক্কা দিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দেয়
রিয়াঃ দরজা খুলো চারু

চারুঃ রিয়া ডায়রিয়া ম্যালেরিয়া তুই এই খানে বসে থাক এই টাই তোর পারফেকট জায়গা
আর যত পারিস চেচামেচি কর
এই বাসার সব রুম সাউন্ড প্রুফ তাই তোর চেচামেচি বাইরে কারো কান পর্যন্ত পৌছাবে না,
তারপর চারু রিয়ার রুম থেকে বের হয়ে দরজাটা বাইরে থেকে লক করে চলে যায় নিচে
চারুঃ কাকিমা রিয়া আপু যেতে পারবেনা তার নাকি
শরীর ভালো না

সাবিনাঃ তোকে কে বললো? একটু আগেই তো ভালো ছিল
চারুঃ আমি তার রুমে গিয়েছিলাম তাকে ডাক দিতে। তখন সে বললো হঠাৎ তার নাকি পেট ব্যথা করছে। তাই আমাকেই যেতে বলেছে আহান ভাইয়ার কাছে। খাবার দিয়ে আসতে।
সাবিনাঃ
চলবেছায়া হয়ে থাকব পাশে

পর্ব ৩০

চারুঃ আমি গিয়েছিলাম তার রুমে তাকে ডাক দিতে
তখন সে বললো হঠাৎ তার নাকি পেট ব্যথা করছে,
তাই আমাকে যেতে বলেছে আহান ভাইয়ার কাছে
সাবিনাঃ আচ্ছা তাহলে তুই যা আহানকে খাবার টা দিয়ে আয়
সাবিনার বলা কথা শুনে চারু তো মহা খুশি
চারুঃ জ্বি কাকিমা এখনি যাচ্ছি
চারু টিফিন বক্স টা হাতে নিয়ে চলে যেতে নিলে—

দিশাঃ দাঁড়াও চারু আমি ড্রাইভার আংকেল কে কল দিচ্ছি সে গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে তোমায় দিয়ে আসবে
সাবিনাঃ গাড়ি দিয়ে যাওয়ার কি দরকার
অই কি কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি যে রিকশা করে গেলে ওর মানসম্মান যাবে
দিশাঃ কিন্তু মা
চারুঃ থাক দিশা ভাবি আমি রিকশা করেই যেতে পারব
মিসেস সাবিনা তার ব্যাগ থেকে টাকা বের করে –
সাবিনাঃ নে ধর আর তাড়াতাড়ি করে যা
চারু মিসেস সবিনার হাত থেকে টাকা নিয়ে চলে গেল

দিশাঃ উফফ এই মেয়েটা বেশি বাড়াবাড়ি করে (আনমনে)
মায়াঃ আচ্ছা আপু আমি রিয়াকে গিয়ে দেখে আসি ওর রুমে
সাবিনাঃ দাঁড়া মায়া আমিও যাচ্ছি তোর সাথে
মায়াঃ হুম আপু চলো
মায়ার সাথে সাথে মিসেস সাবিনাও চলে যায় রিয়ার রুমে
দিশাঃ আমি ভাইয়াকে একবার কল দিয়ে বলে দেই চারু আসছে তার কাছে৷

দিশা বেশ কয়েকবার ফোন দেয় আহানের নাম্বারে
কিন্তু আহান কাজে ব্যস্ত থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারেনা দিশার
মায়া আর মিসেস সাবিনা রিয়ার রুমে সামনে আসলে-
মায়াঃ কি ব্যাপার দরজা বাইরে থেকে লক করা কেন?

সাবিনাঃ সেইটাই তো কথা
মায়া তাড়াতাড়ি করে রিয়ার রুমের দরজাটা খুলে দেয়
মায়া আর মিসেস সাবিনা রিয়ার রুমে ঢুকে –
রুমের প্রতিটি কোনায় রিয়াকে খুজতে থাকে
সাবিনাঃ এই তোর মেয়ে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল?

হঠাৎ মায়ার ওয়াশরুমের দিক এ চোখ পরলে–
মায়া তাড়াতাড়ি করে গিয়ে ওয়াসরুমের দরজা টা খুলে দেয়
দরজা খুলে দেখে রিয়া বাথটাবে বসে কান্না করছে
মায়াঃ রিয়া তুই ওয়াসরুমে?
মায়ার কণ্ঠ শুনে রিয়া দরজার দিক এ তাকিয়ে দেখে দরজার সামনে মায়া আর মিসেস সাবিনা দাঁড়িয়ে আছে
রিয়া কান্না করতে করতে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে
ওর মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে
সাবিনাঃ রিয়া তোকে ওয়াসরুমে আটকিয়ে রেখেছিল কে?

রিয়াঃ কে আবার? চারু
তারপর রিয়া সব ঘটনা খুলে বললে–
সাবিনাঃ চারুর এতো পাখা গজিয়ে গেছে যে ও তোর চুল টেনে ধরেছে
আহান বেশি লাই দিতে দিতে ওকে মাথায় উঠিয়ে ফেলেছে এক বারে
আজ ও বাসায় এসে নিক আজ ই ওকে ঘর থাক্কা দিয়ে বের যদি না করি আমার নাম ও সাবিনা খান না
দিশা দিশা
মিসেস সাবিনার ডাক শুনে দিশা তাড়াতাড়ি করে উপরে গেলে-
দিশাঃ জ্বি মা
সাবিনাঃ এখনি ফোন করে চারুকে বাসায় আসতে বলো
দিশাঃ কেন কি হয়েছে?

সাবিনাঃ বেশি কথা না বলে ফোন দাও
দিশা তাড়াতাড়ি করে চারুকে ফোন দিলে ফোনটা সাইলেন্ট মুডে থাকায় ফোনটা রিসিভ করতে পারেনা চারু
রাস্তায়
চারুঃ উফফ কতক্ষন ধরে রিকশা খুজেই যাচ্ছি কিন্তু কোন রিক্সা খালিই পাচ্ছিনা৷৷
হঠাৎ চারু অনুভব করলো ওর পিছনে একটা ছেলে বেশ সময় ধরে ওকে ফলো করছে
চারু নিজেকে বাচানোর জন্য খুব জলদি হাটতে শুরু করে ছেলেটিও নিজের পায়ের স্পিড বাড়িয়ে চারুর পিছনে পিছনে হাটা শুরু করে

চারু হঠাৎ থেমে গিয়ে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে, —
চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করে দেয়
চারুর চিৎকার শুনে আশে পাশের মানুষ তাকালে
ছেলেটি ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় সেইখান থেকে
চারুঃ উফফ বাচা গেল না হলে আজ আমার সর্বনাশ হয়ে যেত
তারপর চারু আবার হাটতে শুরু করলে একটা ব্লাক কালারের গাড়ি চারুর সামনে এসে থেমে যায়-
চারুঃ এই কাইল্লা গাড়ি আমার সামনে এসে থামলো কেন?

গাড়ি টির গ্লাস নামিয়ে —
লোকটিঃ excuse me? আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন?
চারুঃ কে?
লোকটিঃ আরে আমি ডাক্তার মেহেদী
আহান আর আমি এক হসপিটালে কাজ করি
চারুঃ ওও হ্যা চিনতে পেরেছি
মেহেদীঃ তো আপনি কোথায় যাচ্ছিলেন?

চারুঃ এই তো হসপিটালে
মেহেদীঃ তাই নাকি? আমিও তো যাচ্ছি চলেন আপনাকে দিয়ে আসি
চারুঃ কি করব? যাব? আহান তো বলেছে সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে না
কিন্তু ইনি তো আমার পরিচিত মানুষ ই৷
তাকে তো বিশ্বাস করাই যায়আর রিকশাও তো পাচ্ছিনাআবারও যদি কোন ছেলে আমার পিছু নেয় (আনমনে)
মেহেদীঃ এতো কি ভাবছেন?

চারুঃ না কিছুনা
মেহেদীঃ তো আসুন গাড়ি তে আমি আপনাকে নিয়ে, যাই
কথাটি বলে মেহেদী তার গাড়ির দরজা খুললে-
চারু বেশি কিছু না ভেবেই ঢুকে পরে গাড়ির ভিতরে
আহান ওর ফোনে দিশার অনেক গুলা মিসকলড দেখলে তাড়াতারি করে দিশাকে কল দিয়ে বসে আহান
দিশা ফোন রিসিভ করলে—
আহানঃ হ্যালো ভাবি তুমি ফোন দিয়েছিলে?

দিশাঃ হ্যা আহান চারু তোমার হসপিটালে গিয়েছে তোমাকে খাবার দিয়ে আসতে
আহানঃ ওয়াট? ও কখন বের হয়েছে ভাবি? দাঁড়াও আমি ড্রাইভার আংকেল কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছি
দিশাঃ আসলে ভাইয়া চারু তো গাড়ি নিয়ে যায়নি? আমি বলেছিলাম গাড়ি নিয়ে যেতে কিন্তু মা
আহানঃ উফফ ভাবি তুমি কেন যেতে দিলে চারুকে?

এতো রাতে তা আবার গাড়ি ছাড়া বের হয়েছে মেয়েটা
আচ্ছা ভাবি আমি ফোনটা রাখছি
কল টা কেটে দিয়ে আহান সাথে সাথে চারুকে কল দিয়ে বসে
চারুর ব্যাগে ওর ফোনটা ভাইব্রেট করলে
চারু ওর ব্যাগ থেকে ফোনটা রিসিভ করতে নিলে-

ডাক্তার মেহেদী চারুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে সাথে সাথে গাড়ি বাইরে ছুরে ফেলে দেয়
চারু ফোনটা রিসিভ না করলে আহান আবারও কল দেয় চারুর নাম্বারে কিন্ত চারুর ফোনটা অফ পেলে–
আহানঃ কি ব্যাপার একটু আগেই তো ফোনটা বাজলো এখন অফ দেখাচ্ছে কেন?
আহান বেশি কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি করে বের হয়ে পরে হসপিটাল থেকে গাড়ি তে চারু বেশ অবাক হয়ে পরে ডাক্তার মেহেদি ওর ফোনটা ফেলে দেওয়াতে
চারুঃআপনি আমার ফোনটা ফেলে দিলেন কেন?

ডাক্তার মেহেদী চারুর বলা কথা শুনে জোড়ে জোরে শয়তানি হাসি হাসতে থাকে
চারু বেশ ভয় পেয়ে যায় তার এমন শয়তানি হাসি দেখে-
চারুঃ ড্রাইভার আংকেল গাড়ি থামান প্লিজ আমি নেমে যাব
মেহেদীঃ তুমি বললেই কি সে থামিয়ে দিবে নাকি
ডাক্তার মেহেদীর কথা শুনে ড্রাইভার টাও জোরে জোরে হাসতে থাকে
মেহেদী চারুর হাতটা শক্ত করে ধরলে

চারুঃ হাত ছাড়ুন বলছি না হলে কিন্তু খারাপ হবে(চিল্লান দিয়ে)
চারুর বলা কথা শুনে মেহেদী জোড়ে হেসে উঠে
মেহেদীঃ ছাড়বোনা কি করবে(ডেভিল হাসি হেসে)
চারু মেহেদী বলা কথা শুনে সাথে সাথে কষিয়ে একটা থাপ্পড় মেরে বসে ওর গালে
মেহেদীঃ তোর সাহস কি করে হয় আমার গালে থাপ্পড় মারার?
কথাটি বলে মেহেদী চারুর গলা থেকে উড়নাটা ফেলে দিয়ে ছাপিয়ে পরে চারুর উপর অমানুষ এর মত
চারু ওর হাতের নক দিয়ে খামচি মেরে বসে মেহেদীর মুখে
মেহেদীঃ বেশি লাফাছিস তাইনা?

চারুঃ প্লিজ ভাইয়া দয়া করে আমায় যেতে দিন
আল্লাহ দয়ায় লাগে আমার কোন ক্ষতি করবেন আমাকে ছেড়ে দিন। (কান্না করতে করতে)
মেহেদীঃ হা হা হা তোকে ছেড়ে দিব আগে তো নিজের চাহিদা মিটিয়ে নেই(হেসে)
চারু কোন উপায় না দেখে জোড়ে জোড়ে চিৎকার দিতে থাকে কিন্তু ড্রাইভার খুব জোড়ে গান ছেড়ে বসলে চারুর কান্না কারো কান পর্যন্ত পৌছায় না

মেহেদীঃ আরও জোড়ে চিৎকার দে কেউ শুনবে না তোর চিৎকার(চারুর গালে হাত রেখে)
চারু মেহেদী হাত সরিয়ে দিতে নিলে মেহেদী চারুর উপর ছাপিয়ে পরে
চারুর চিৎকার দিয়ে দিয়ে কান্না করতে থাকে কিন্তু মেহেদীর কান পর্যন্ত পৌছায় না চারুর কান্না
একসময় চারু অজ্ঞান হয়ে পরলে—
মেহেদী চারুর উপর থেকে উঠে পরে–
মেহেদীঃ মরে টরে গেল নাকি?

ড্রাইভারঃ স্যার কি বলছেন? স্যার আমি এইসব ঝামেলার মধ্যে পরতে চাইনা
মেহেদীঃ ওই ইউ জাস্ট সেট আপ মরেনি জাস্ট অজ্ঞান হয়েছে
কিন্তু একে বাচিয়ে রাখলেও আমাদের মরতে হবে।
ড্রাইভারঃ স্যার একটা কাজ করেন রাস্তায় ফেলে দেন
এইখানে অনেক গাড়ি চলাচল করে। কোন না কোন গাড়ি তে চাপা পরে মরে যাবে
মেহেদীঃ গুড আইডিয়া
তারপর মেহেদী গাড়ির দরজা টা খুলে থাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় চারুকে রাস্তায় আর সাথে সাথে চলে যায় সেই খান থেকে গাড়ি নিয়ে

আহান গাড়ি চালাতে থাকলে হঠাৎ দেখে রাস্তার মাঝ খানে অনেক মানুষ এর ভিড়
আহানঃ উফফ এই রাস্তার মাঝখানে সবাই এমন জড়ো হয়ে আছে কেন?
আহান রেগে মেগে গাড়ির হর্ন বাজাতে থাকে তাও মানুষ না সরলে–
আহান গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে–
আহানঃ এই রাস্তার মাঝে এতো ভিড় জমিয়ে রেখেছেন কেন?
রাস্তার একটা লোক বলে উঠে —
একটা মেয়ের এক্রিডেনট হয়েছে

আহান লোকটির কথা শুনে ভিড় কাটিয়ে সামনে গিয়ে দেখে চারু রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে মাটিতে
আহান সাথে সাথে চারুর কাছে গিয়ে দেখে চারুর কপালের সাইডটা অনেকটা কেটে গেছে আর ওর শরীর এর ওড়না টাও নেই
আহান সাথে সাথে ওর পরে থাকা এ্যাপন টা খুলে চারুকে পরিয়ে দিয়ে চারুকে শক্ত করে জড়িয়ে নেয় নিজের বুকের সাথে
আহানঃ চারু প্লিজ চোখ খুলো চারু
কথা বলো তোমার আহানের সাথে,
কান্না করতে করতে ভেঙে পরে আহান
চারুঃআহান খেয়াল করে চারু হালকা চোখ খুলে ওর দিক এ তাকানোর চেষ্টা করছে
আহান খুশিতে চারুর কপালে চোখ এ গালে অজ্রস চুমু দিতে থাকে
আহানঃ হ্যা চারু আহান তোমার আহান

চারুঃআহান আমার অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছেআমাকে নিয়ে চলুন এই খান থেকে
আহানঃ হ্যা চারু আমি এখনি তোমাকে হসপিটাল এ নিয়ে যাচ্ছি
চারুঃ না আহান আমায় বাসায় নিয়ে চলুন(শান্ত গলায়)
আহান চারুকে কোলে তুলে নিয়ে তাড়াতাড়ি
গাড়ি তে বসিয়ে খুব স্পিড এ গাড়ি চালাতে থাকে
বাসার এসে পৌছালে আহান কলিংবেল বাজালে দিশা দরজাটা খুলে দেয়
দিশাঃ ভাইয়া আপনি?

আহান দিশা কথার উত্তর না দিয়ে গাড়ি থেকে চারুকে কোলে তুলে নিয়ে ঢুকে পরে বাসার ভিতর এ
চারুকে এমন অবস্থায় দেখে দিশা তো পুরাই শকড
দিশাঃ ভাইয়া চারুর কি হয়েছে?
আহানঃ ভাবি উত্তর দেওয়ার সময় নেই এখন
কথাটি বলে আহান চারুকে তাড়াতাড়ি করে ওর রুমে নিয়ে যায়
দিশাও আহানের পিছনে পিছনে ছুটে চলে চারুর রুম এর দিক এ
আহান চারুকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে নিজের হাতেই চারুর কপালের কেটে যাওয়া স্থানটা ব্যান্ডেজ করে দেয়
চারুর হাত টা শক্ত করে ধরে–

আহানঃ এই গুলা কিভাবে হলো চারু? (কান্নার কণ্ঠে)
চারু আহানকে শক্ত করে ধরে জোড়ে জোড়ে কান্না করতে থাকে
আহানঃ প্লিজ চারু কিছু তো বলো
চারু কান্না করতে করতে সব কিছু খুলে বলে আহানের কাছে
আহান মাথা গরম হয়ে পরে চারুর মুখের কথা শুনে
আহানঃ ভাবি তুমি চারুকে সামলাও আমি আসছি

কথাটি বলে আহান চারুর রুম থেকে বের হয়ে পরে
চারুর রুম থেকে আহানকে বের হতে দেখে-
সাবিনাঃ কিরে আহান তুই বাসায়? কবে আসলি?
আহানঃ আজ তোমার ভুলের কারনে চারুর অবস্থা দেখলে হয়ত তুমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবেনা মা
কথাটি বলে আহান চলে যায় সেইখান থেকে
সাবিনাঃ আহান কি বলে গেল মায়া
মায়াঃ আমিও তো কিছু বুঝলাম না

সাবিনাঃ চল চারুর রুমে গিয়ে দেখে আসি কি হয়েছে
তার পর মায়া আর সাবিনা চারুর রুমে গিয়ে দেখে চারু বিছানায় শুয়ে আছে আর ওর কপালে ব্যান্ডেজ করা।
সাবিনাঃ দিশা চারুর এই অবস্থা কিভাবে হলো?
দিশা সাবিনাকে এক সাইডে নিয়ে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলে, (কান্না করতে করতে)
মায়াঃ শয়তানের বিচার হয়েছে

দিশাঃ চুপ করেন আপনার নাম মায়া কিন্তু আপনার মধ্যে মায়া দরদ তো দূরে থাক মনুষ্যত্ববোধ টাও দেখছি নেই
মায়াঃ আমাকে শুনিয়ে কি হবে ওর সাথে লেগে থাকা দাগ টাকি মুছে ফেলতে পারবে
সারা জীবন সবাই ওকে দর্ষিতা বলেই ডাকবে
আর এই মেয়ে কে কোন ছেলে ও বিয়ে করবে না
মায়ার বলা কথা শুনে চারু রুম থেকে বের হয়ে পরে
চারু এই ভাবে বের হয়ে পরায় দিশাও ওর পিছনে পিছনে চলে যায়।
চারু দিশার রুমে ভিতর ঢুকে দরজাটা লাগিয়ে দেয়।

দিশাঃ আল্লাহ এই মেয়েটা এইভাবে দরজা লাগিয়ে দিলো কেন। উল্টো পালটা না আবার কিছু করে বসে।
ভাইয়ার পারবে চারুকে কে থামাতে।
দিশা আহানকে কল দিলে
আহান ফোনটা রিসিভ করলে-
দিশাঃ ভাইয়া তাড়াতাড়ি করে বাসায় আসুন।
মায়া খালা চারুকে কথা শুনিয়ে দিয়েছে অনেক আর চারু রুমের দরজা আটকে দিয়েছে। আমার অনেক ভয় করছে,।

আহান দিশার বলা কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে গাড়ি ঘুরিয়ে খুব স্পিড এ গাড়ি চালিয়ে চলে আসে বাসায়।
আহানঃ ভাবি চারু কোথায়?
দিশাঃ ভাইয়া রুমের দরজা লাগিয়ে আছে খুলছেই না।
আহান কোন উপায় না পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে পাইপ দিয়ে বেলকনি তে উঠে রুমে মধ্যে প্রবেশ করে।
সামনে তাকিয়ে দেখে চারু ফ্যান এ উড়না পেচানোর চেষ্টা করছে।
আহান সাথে সাথে চারুর কাছে গিয়ে৷
আহানঃ কি করছো কি পাগলের মতো।

চারুঃ ছাড়েন আহান আমার থেকে দূরে সরে যান এখন আমি নোংরা হয়ে গিয়েছি।
আহান চারুর কথা শুনে ওকে থাপ্পড় মারতে নিলে নিজের হাত থামিয়ে দিয়ে শক্ত করে চারুকে জড়িয়ে ধরে।
আহানঃ তোমার সাহস কি করে হয় নিজের জীবনকে শেষ করার।
চারুঃ এখন আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন তাইনা।

আহানঃ জীবন এর শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ছায়া হয়ে তোমার পাশে থাকব।
তুমি কি করে ভাবলে তোমার আহান তোমাকে ছেড়ে দিবে। (কান্না করতে করতে)
চারুঃ কাকিমা একটা ধর্ষিতা মেয়েকে কখনি নিজের ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিবেনা আহান।
আহানঃ কেউ মেনে নিক বা না নিক আহান থেকে চারুকে কেউ আলাদা করতে পারবেনা।
তারপর আহান চারুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিয়ে–

আহানঃ এখন তুমি একটু ঘুমাও।
চারু আহানের কথা শুনে আহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
আহান চারুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে কয়েক মিনিট এর মধ্যে ঘুমিয়ে পরে চারু।
তারপর আহান রুমের দরজা টা খুলে দিলে–
দিশাঃ ভাইয়া আপনি রুমের মধ্যে কিভাবে আসলেন?
আহানঃ ভাবি তুমি একটু চারুর পাশে গিয়ে বসো।
আমি আসছি।

কথাটি বলে আহান সোজা চলে যায় মিসেস সাবিনার রুমে।
আহানঃ মায়া খালা আপনার সাহস কি করে হয় চারুকে এই সব কথা বলার। (চিল্লিয়ে)
মায়াঃ দেখেছো আপু তোমার ছেলে আমার উপর চিল্লিয়ে কথা বলছে।
রিয়াঃ মা তো ভুল কিছু বলেনি আহান।
ধর্ষিতাকে ধর্ষিতা বলতে দোষ কি।

আহান রেগে মেগে রিয়া চুল টেনে ধরে কষিয়ে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় রিয়ার গালে।
আমার চারুকে নিয়ে আবার এই সব কথা বললে তোর জ্বিব টেনে ছিড়ে ফেলবো।
আহানের বলা কথা শুনে মায়া রিয়া আর সাবিনা শকড।
সাবিনাঃ আহান তুইচারুকে ভালো।
আহান ওর মার কথার কোন জবাব না দিয়ে তার হাতটা ধরে তাকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
চারুর সামনে নিজের মাকে দাঁড় করিয়ে।
আহানঃ মা একবার তাকাও চারুর দিক।
কখনো ক্ষমা করতে পারবে নিজেকে?

তোমার ভুলের কারনে চারুর আজ এই অবস্থা।
তোমার মেয়ে হলে কি পারতে মা এতো রাতে ওকে একা ছেড়ে দিতেআজ যদি ও গাড়ি টা সাথে করে নিয়ে যেত আজ হয়ত ওর নামের সাথে ওই বাজে শব্দ টা যোগ হতো না।
মিসেস সাবিনা আহানের বলা কথা শুনে ঘুমন্ত চারুর দিক এ তাকলে তার চোখ দিয়ে দুই ফোটা জল গড়িয়ে পরে।
সাবিনা সাথে সাথে চারুর কাছে গিয়ে ওর হাত নিজের হাত এ রেখে,
সাবিনাঃ আমাকে মাফ করে দে মা

আমার কারনেই তোকে এতো কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে
হঠাৎ চারু ঘুম ভেঙে গেলে—-
চারুঃ কাকিমা
সাবিনা সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে চারুকে
সাবিনাঃ আমাকে তুই ক্ষমা করে দে মা,
আমি অনেক খারাপ আচরন করেছি তোর সাথে
আজ আমার কারনেই (কান্না করতে করতে)
চারুঃ …..

পর্ব ৩১

সাবিনা সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে চারুকে।
সাবিনাঃ আমাকে তুই ক্ষমা করে দে মা।
আমি অনেক খারাপ আচরন করেছি তোর সাথে।
আজ আমার কারনেই তোর উপর এই ঝড় বয়ে গেছে।
চারুঃ না কাকিমা প্লিজ আপনি বড় হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন না তাছাড়া আমার ভাগ্য এ যা লিখা ছিল তাই হয়েছে।

সাবিনাঃ সত্যি তুই আমায় ক্ষমা করে দিয়েছিস মা।
আহানঃ চারু ক্ষমা করতে পারলেও আমি কখনো ভুলতে পারব না মা যে আজ তোমার ভুলের কারনেই।
কথাটি বলে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আহান।
হঠাৎ আহানের ফোনটা বেজে উঠলে আহান বেলকনি তে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে।
আহানঃ হ্যালো কিছু খবর পেয়েছো মেহেদী আর ওই ড্রাইভার টার?

ফোনের অপর পাশের লোকটিঃ
জ্বি স্যার আপনার ধারনাই ঠিক ছিল দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্লেন করছিল কিন্তু সময় মতো ধরে ফেলেছি শয়তান গুলো কে এখন আপনি এসে দেখেন কি করবেন।
আহানঃ গুড ওদের আমি পুলিশে দেওয়ার মতো ভুল করবো না ওদের আমি নিজ হাতেই উচিৎ শিক্ষা দিবো।
আচ্ছা তাহলে আমি আসছি।

কথাটি বলার সাথে সাথে ফোনটি কেটে দেয় আহান।
বেলকনি থেকে রুমের মধ্যে এসে–
চারু মিসেস সাবিনার কোলে মাথা রেখে কান্না করতে থাকে।
আহান চারুর এক হাত ধরে।
আহানঃ উঠো চারু।

চারু বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আহানের দিক এ
আহানঃ অবাক হয়ে না তাকিয়ে চলো আমার সাথে
দিশাঃ ভাইয়া কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন চারুকে
আহানঃ ভাবি এখন বলার সময় নেই বাসায় এসে সব কিছু বলবো
চারুঃ না আমি কোথাও যাব না
আহান বেশি কিছু না ভেবে চারুকে কোলে তুলে নিয়েই বাসার থেকে বের হয়ে পরে
গাড়িতে চারুকে বসিয়ে খুব স্পিড এ গাড়ি চালাতে থাকে আহান
ফার্ম হাউস এ

মেহেদীঃ ওয়াট থা হেল কেন আমাকে বেধে রাখা হয়েছে
লোকটিঃ স্যার আসলেই বুঝতে পারবি তোকে কেন বেধে রেখেছি
কিছুক্ষনের মধ্যেই ওরা ফার্ম হাউস এ এসে পৌছালে-
আহান গাড়ি থেকে নেমে —
আহানঃ গাড়ি থেকে নামো চারু

চারুঃ আমি বাসায় যাব কেন নিয়ে এসেছেন আমাকে এই খানে
আহান চারুর কথা শুনে কিছু না বলেই চারুর এক হাত টেনে বের করে আনে গাড়ি থেকে
ফার্ম হাউসের ভিতরে ঢুকে
চারু ডাক্তার মেহেদী আর ড্রাইভারকে দেখে ভয়ে কাপতে থাকে
আহানঃ কি হলো চারু ভয় পাচ্ছো কেনআমি চাই তুমি নিজ হাতে শাস্তি দাও ওদেরকে
মেহেদী আর ড্রাইভার টা বেশ অবাক হয় চারুকে দেখে
মেহেদীঃ তুমি বেচে আছো? (অবাক হয়ে)
চারু মেহেদীর বলা কথা শুনে রেগে মেগে ওর সামনে গিয়ে নিজের পায়ের জুতা খুলে অনবরত মারতে থাকে মেহেদীর গালে

চারুঃ হ্যা বেচে আছি তোর মতো শয়তানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই আল্লাহ আমাকে এখনো বাচিয়ে রেখেছেন
মেহেদীঃ প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও সত্যি তখন আমার মাথা ঠিক ছিলো না। তাই তোমাকে অমানুষ এর মত মরার জন্য রাস্তায় ফেলে দেই
চারুঃ তুই যদি আমাকে মেরেও ফেলতি তাও এতো টা কষ্ট হতো না আমার। কিন্তু আজ তোর জন্য সারা জীবন আমাকে সবাই ধর্ষিতা বলে ডাকবে
কথাটি বলে চারু মেহেদীকে মারতে যাবে এর আগেই-
ড্রাইভারঃ ম্যাম আপনি ধর্ষিতা না

ড্রাইভার এর বলা কথা শুনে চারু আর আহান দুইজন ই শকড
চারুঃ মানে
মেহেদীঃ মানে হলো তোমার সাথে তেমন কিছুই হয়নি তোমার সাথে কিছু করার আগেই তুমি ভয়ে বেহুস হয়ে পরো। তুমি অজ্ঞান হওয়ার পর কিছুই করিনা আমি তোমার সাথে বেশ ভয় পেয়ে যাই আমি তাই বেশি কিছু না ভেবে গাড়ি থেকে ফেলে দেই তোমাকে
চারুঃ মানে তখন গাড়ি তে আমার সাথে কিছুই হয়নি?

ড্রাইভারঃ হ্যা ম্যাম কিছুই হয়নি আপনার সাথে আর আপনি বেচে ও আছেন প্লিজ আমাদের এখন ছেড়ে দেন আমরা কখনো আর এমন ভুল করবো না
আহানঃ তোদের ছেড়ে দিব এই কথা ভাবলি কিভাবে রে।
তারপর আহান মেহেদী আর ড্রাইভার কে মারতে থাকে নিজের শরীরের সব শক্তি দিয়ে
তাদের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গেলে-

চারু আহানকে থামানোর চেষ্টা করে কিন্তু আহান চারুর কথায় কান না দিয়ে মার‍তে থাকে দুইজনকেই
চারুঃ আহান আমার কসম লাগে আপনি যদি আরেকবার ওদের উপর হাত উঠান
চারুর কথা শুনে আহান চারু দিক এ অবাক দৃশটিতে তাকিয়ে–
আহানঃ তুমি ওদের বাচাতে চাইছো
চারুঃ আহান ডাক্তার এর দায়িত্ব মানুষ এর জীবন বাচানো কারো জীবন নেওয়া নাআর আমি চাইনা আপনার হাতে কেউ খুন হোকআর এদের উচিৎ শিক্ষা পুলিশ দিবে
লোকটিঃ হ্যা স্যার ম্যাম ঠিক বলেছে এদের পুলিশ এর হাতে দেওয়াই ঠিক হবে
আহান চারুর কথা শুনে —
নিজের ফোনটা নিয়ে কাউকে কল দেয়
আধা ঘণ্টা মধ্যে দুই জন পুলিশ আসলে –

পুলিশঃ ইউ আর আন্ডার এরেস্ট মিঃ মেহেদী
কথাটি বলার সাথে সাথে পুলিশ মেহেদী আর ড্রাইভারকে হেন কাপ পরিয়ে দিলে-
মেহেদীঃ অই আমাকে ছাড়ুন বলছি আমিতো কিছুই করিনি আই সেইড লিভ মাই হেনড
চারু মেহেদীর কথা শুনে সাথে সাথে একটা জোড়ে থাপ্পড় মেরে বসলো
চারুর হাতের থাপ্পড় খেয়ে মেহেদী খুব রাগি দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে চারুর দিক এ
চারু সেই দিক তোয়াক্কা না করে
মেহেদী মুখে থু থু ফেলে দিয়ে–

চারুঃ তোরা জানিস আমাদের সমাজের এক প্রকার গারবেজ
তোদের কারনেই আমাদের সমাজটা দূষিত হয়ে আছে
তোদের কারনেই মেয়েরা এখনো স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারেনারাস্তায় বের হতে গেলেই ভয়ে থাকে তোদের মত অমানুষ এর কারনে
মন তো চাচ্ছে তোকে ডুবন্ত তেল এর মধ্যে চুবিয়ে চুবিয়ে মারি। কিন্তু তোর মতো আবর্জনাকে মেরে নিজের হাতকে নোংরা করতে চাইনা

প্লিজ ইন্সপেক্টর নিয়ে যান এই শয়তান টাকে আমার চোখ এর সামনে থেকে
পুলিশ মেহেদী আর ড্রাইভার কে নিয়ে গেলে—
চারু আহানকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে
আহানঃ এখন কান্না করছো কেন এখন তো সব ঠিক হয়ে গেছে
চারুঃ আপনি ওই সময়টাতে আমার পাশে না থাকলে আজ হয়ত আমি বেচে থাকতাম না আহান। আর এই সত্যি টাও কখনো জানা হতো না যে তখন আমার সাথে কিছুই হয়নি
আহানঃ দাঁড়াও বাসায় কল দিয়ে জানিয়ে দেই বিষয় টা
আহান দিশাকে কল দিয়ে সমস্ত বিষয় খুলে বললে –

দিশা সাথে সাথে মিসেস সাবিনাকে জানিয়ে দেয় বিষয় টা
সাবিনাঃ আমি গিয়ে রিয়া আর মায়াকে বলে আসি এই ব্যাপার টা মায়ার রুমে গিয়ে
মায়াররুমে
রিয়াঃ দেখলে মা আহান আমাকে কতটা অপমান করলোতাও তুমি থাকতে চাইছো এই বাসায়
মায়াঃ হুম থাকতে চাইছি কারন সেইটা তুইও জানিস
রিয়াঃ খালামনি থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য
মায়াঃ হ্যাছোট কাল থেকেই বাবা মা আমার থেকে আপুকে বেশি আদর করতো কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার সময় যখন আমার থেকে বেশি আপুকে তার সম্পওি দিয়ে যায় তখন আপুর প্রতি ঘৃনার পরিমান টা হাজারো গুন বেড়ে যায় আমার মনের মধ্যে

তখন ই সিদ্ধান্ত নেই যে আমি যতটা কষ্ট পেয়েছি তার যে দ্বিগুণ কষ্ট আমি আপুকে দিবো আর সেইটা একমাত্র তুই করতে পারবি আহানকে বিয়ে করে
এই বাসার বউ হয়েনিবি না মা আমার প্রতিশোধ
রিয়াঃ হ্যা মা নিবো। এই বাসার বউ হলে অই সাবিনা ডায়নিকে এমন উচিত শিক্ষা দিবো
কিন্তু সেইটা হয়ত আর পসিবেল না মাকারন আহান অই চাকরানিকে ভালোবাসে
মায়াঃ টেনশন নিস না রিয়া আহান একটা ধর্ষিতা মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হলেও অই সাবিনা ডায়নি রাজি হবে না কখনো

হঠাৎ কেউ জোরে জোরে তালি বাজিয়ে মায়ার রুমে প্রবেশ করে আর সেই ব্যক্তি টা আর কেউ নয় সয়ং মিসেস সাবিনা খান
মায়া আর রিয়া বেশ ভয় পেয়ে যায় মিসেস সাবিনাকে দেখে
মায়াঃ আপু তুমি?
সাবিনাঃ আপু কেন বলছিস এতো ক্ষন তো দুই জন মা মেয়ে আমাকে ডায়নি বলে ডাকছিলি
মায়াঃ আপু তুমি নিশ্চয়ই ভুল কিছু শুনেছো।
মিসেস সাবিনা সাথে সাথে মায়ার গালে একটা থাপ্পড় মেরে বসে
সাবিনাঃ ভুল কিছু না সঠিক কথাই শুনেছি আমি

জানিস চারুর সাথে যে তখন কিছুই হয়নি সেইটা বলতে আসছিলাম তোর রুমে কিন্তু রুমের দরজার সামনে এসে তোদের এই জগন্য সত্য টা জানতে পারি
জানিস বাবা মারা যাওয়ার সময় তোকে কিছুই দিয়ে যায়নি তোর উপর রাগ করে কারন তুই দেশের বাইরে গিয়ে বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছিস এর পর বাবার আর কোন খোজ খবর রাখিস নি সে বেচে আছে নাকি মারা গেছে
তাই বাবা রাগ করে তোকে কিছুই দিয়ে যায়নি মারা যাওয়ার সময়
মায়াঃ কিন্তু আমি যখন দেশে ফিরে আসলাম তখন তো উকিল আংকেল বললো বাবা মারা যাওয়ার সময় ফোরটি পারসেন্ট সম্পওি আমার নামে লিখে গেছে

সাবিনাঃ অই টা আমিই বলতে বলেছিলাম তাকে
জানিস আমি চাইলে তোকে অর্ধেক সম্পওি দিয়ে দিতে পারতাম কিন্তু বাবাকে যে কষ্ট টা দিয়েছিস তাই
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে বাবা যা করে ছিলেন তা ঠিক করেছেন তুই কারই ভালোবাসা পাওয়া যোগ্য না
কাল সকাল সকাল দুই জন মা মেয়ে বের হয়ে যাবি এই বাসা থেকেতোদের চেহারা টাও আমি দেখতে চাইনা।
কথাটি বলে মিসেস সাবিনা বের হয়ে পরে মায়ার রুম থেকে
চারু আর আহান বাসায় এসে পৌছালে—

দিশা শক্ত করে চারুকে জড়িয়ে ধরে
দিশাঃ উফফ আমি যে কত খুশি তোমার জন্য আমি বলে বোঝাতে পারবনা চারু
হঠাৎ মিসেস সাবিনা আসলে আহান মিসেস সাবিনাকে দেখে সাথে সাথে চলে যায় সেই খান থেকে
মিসেস সাবিনা আহানের এইভাবে চলে যাওয়া দেখে মন খারাপ করলে–
চারুঃ কাকিমা আপনি মন খারাপ করবেন না
আমি আহানকে বুঝিয়ে বলবো

সাবিনাঃ ওর রাগ করাটা জায়েজ রে মা অই মেহেদী সাথে সাথে আমিও কম দোষী নই
কথাটি বলার সাথে সাথেই কান্না করতে করতে চলে যায় মিসেস সাবিনা
চারুঃ আহানকে আমার বুঝাতে হবে
চারু আহানের সাথে কথা বলার জন্য ওর রুমে গিয়ে ওকে খুজলে–
রুমে আহানকে না পেলে—
চারুঃ জানি কোথায় আছেন
তারপর চারু সোজা চলে যায় ছাদ এ

ছাদ এ গিয়ে দেখে আহান ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিক এ তাকিয়ে আছে
চারু দৌড় দিয়ে আহানকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে
আহানঃ চারু
চারুঃ হুম আমি আহান আজ আমি অনেক বেশি খুশি মন তো চাচ্ছে লুঙ্গী ডান্স দেই
চলেন আজ আপনাকে সাথে নিয়েই লুঙি ডান্স দেই
(হেসে)
আহানঃ

পর্ব ৩২

চারু আহানকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে —
আহানঃ চারু
চারুঃহুম আমি আজ আমি অনেক বেশি খুশি আহানমন তো চাচ্ছে লুঙ্গী ডান্স দেই
চলেন আজ আপনাকে নিয়েই লুঙ্গী ডান্স দেই
আহানঃ লাইক সিরিয়াসলি চারু?

তোমার এই মুহূর্তে ডান্স করতে ইচ্ছে করছে তা আবার লুঙ্গী ডান্স
চারুঃ হুম আমার তো এখন লুঙি ডান্স;পাগলু ডান্স এমনকি ডিসকো ডান্স ও করতে ইচ্ছে
কারন আজ আমি অনেককক খুশি
আহানঃ তোমার মতো অদ্ভুত মেয়ে আমি জগতেও দেখিনি চারু(হেসে)
চারু আহানের পাশে দাঁড়িয়ে চাদের দিক এ তাকিয়ে থাকে পলকহীন ভাবে
আহানঃ কি হলো আমার এফএম রেডিও হঠাৎ চুপ হয়ে রইলে কেন?

চারুঃ আহান
আহানঃ কি?
চারুঃ মানুষ এর জীবন বড়ই অদ্ভুত তাইনা?
আল্লাহ চাইলে সেকেন্ডে এর মধ্যে সবকিছু বদলে দিতে পারে কিছুক্ষণ আগে আমি আত্নহত্যা করতে নিয়েছিলাম? কিন্তু এখন?
সব কিছু আমার কাছে সপ্নের মতো মনে হচ্ছে
আহান চারুর কথা শুনে ওর হাতে জোড়ে একটা চিমটি কেটে বসলে–
চারুঃ আহহ

আহানঃ এখন তো বিশ্বাস গেলে এইটা সপ্ন না? (হেসে)
চারুঃ তাই বলে এতো জোরে চিমটি মেরে বসবেন আমাকে? (রেগে)
আহান চারুর কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে
চারুঃ আহান প্লিজ কাকিমার উপর আর রাগ করে থেকেন না সে তো জানতো না যে এমন কিছু হয়ে যাবে
আহান চারুকে কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে পানির কয়েকটা ফোটা আহানের মুখের এসে পরে
আহান আকাশের দিক এ তাকিয়ে–

আহানঃ উফফ বৃষ্টি পরছে তাড়াতাড়ি করে বাসার ভিতর এ চলো
কথাটি বলে আহান চারু হাত ধরে ছাদ থেকে নামতে নিবে
চারুঃ আমি মোটেও নামছিনা নিচে
আহানঃ তুমি কি পাগল হয়ে গেছো চারু? এই রাত বে রাতে বৃষ্টি তে ভিজলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে
চারুঃ আগে জানলে আমি কখনো ডাক্তার এর সাথে প্রেম করতাম না আপনি কতো বোরিং।
হঠাৎ বৃষ্টি আরো জোড়ে জোড়ে পরতে লাগলো খোলা আকাশ থেকে
আর সেই বৃষ্টিতে আহান আর চারু ভিজে একাকার

বৃষ্টিতে চারুর চুল গুলো কপালের সামনে এসে পরলে আহান চারু কাছে গিয়ে চারুর ভিজা চুল গুলো ওর কানের পিছনে গুজে দিলে আহানের স্পর্শ পেয়ে চারুর শরীর যেন কেপে উঠে
আহান চারু হাত দুটো নিজের হাত এ রেখে ওর সামনে হাটু গেড়ে বসে পরে
আহানঃ চারু উইল ইউ মেরি মি? তোমাকে নিজের করে সারাজীবন টা তোমার সাথে পারি দিতে চাই তোমার এই হাতটা নিজের হাত এ রেখে ছায়া হয়ে তোমার পাশে থাকতে চাই
চারু আহানের বলা কথা শুনে আহানকে ফ্লোর থেকে দাঁড় করিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আহান কে
চারুঃ আহান আপনাকে আমার জীবন এ পেয়ে আমার জীবন স্বার্থককিন্তু এক শর্তে আমি আপনার সাথে বিয়ে করতে রাজি আছি

আহান চারুকে নিজের থেকে ছারিয়ে —
আহানঃ ওয়াট? (অবাক হয়ে)
চারুঃ আপনি যদি সারা জীবন আমার সাথে লুঙ্গী ডান্স দিতে রাজি থাকেন(হেসে)
আহান চারুর বলা কথা শুনে জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে
চারুঃ কি হলো হাসছেন কেন?

আহানঃ আচ্ছা বাবা রাজি আছি
চারু আহানের বলা কথা শুনে মুচকি একটা হাসি দিয়ে আহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
আহানও নিজের বুকের সাথে নিজের ভালোবাসার মানুষ টাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলো
এই বৃষ্টি ভেজা রাতে দুইজন দুইজনকে এইভাবে জড়িয়ে ধরে বেশ সময় ধরে ভিজতে লাগলো
সকালে

চারু আর দিশা ডায়নিং টেবিলে খাবার বারতে নিলে–
চারুঃ ভাবি রিয়া আপু আর মায়া খালাকে যে দেখছিনা?
দিশাঃ হুম আমিও তো দেখেনি এখন পর্যন্ত
কোথায় হাওয়া হয়ে গেল এই দুইজন শাকচুন্নি (হেসে)
হঠাৎ মিসেস সাবিনা চলে আসলে-
চারু আর দিশা মিসেস সাবিনাকে দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায়
সাবিনাঃ কি বলছিলে দিশা (রাগি দৃশটিতে)
চারুঃ কাকিমা

সাবিনাঃ এই মেয়ে তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি? মাঝখান দিয়ে কথা বলো কোন সাহসে?
চারু মিসেস সাবিনার বলা কথা শুনে পুরাই শকড
চারুঃ আসলে (কান্না জড়িত কন্ঠে)
মিসেস সাবিনা চারুর কান্না দেখে চারুর সামনে দাঁড়িয়ে চারুকে থাপ্পড় মারতে নিলে চারু ভয়ে ওর চোখ জোড়া বন্ধ করে ফেলে

হঠাৎ চারু অনুভব করে কেউ ওকে জড়িয়ে ধরে আছে
চারু ওর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে ব্যক্তি টি আর কেউ নয় মিসেস সাবিনা খান
সাবিনা খান চারুকে নিজের থেকে ছারিয়ে —
সাবিনাঃ কি ভেবেছিলে? সাবিনা খান থেকে আবার রিনা খান হয়ে গিয়েছি?

তোমরা দুইজন এতো দিন আমাদের সামনে একটিং করেছিলে তাই ভাবলাম আমিও একটু এ্যাকটিং করে নেই (হেসে)
চারু মিসেস সাবিনার বলা কথা শুনে শক্ত করে ওনাকে জড়িয়ে ধরলো
দিশাঃ মুজে কই পেয়ার হি নেহি কারতা (মুখ বাকা করে)
মিসেস সাবিনা দিশার কথা শুনে দিশাকেও নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নিলেন
চারুঃ কাকিমা রিয়া আপু মায়া খালা কোথায়?

মিসেস সাবিনা চারুকে কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠে
চারু গিয়ে দরজা খুলে দিলে সামনে তাকিয়ে দেখে
একটা লোক মুচকি হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
চারুঃ জ্বি?

লোকটিঃ ম্যাম এই কার্ডটি আহান স্যারকে দিয়ে দিবেন
চারু লোকটি থেকে কার্ডটি নিয়ে নিলে —
লোকটি চলে যায় সেই খান থেকে
সাবিনাঃ কিরে চারু কে এসেছে
চারু দরজা টা লাগিয়ে দিয়ে

চারুঃ একটা লোক এসেছিলো কাকিমা এই কার্ডটি দিয়ে গেল
মিসেস সাবিনা চারুর হাত এ কার্ডটি দেখে-
সাবিনাঃ মনে তো হচ্ছে কারো বিয়ের কার্ড
চারুঃ জ্বি কাকিমা হয়ত আহানকে কেউ তার বিয়ের কার্ড পাঠিয়েছে
আহানঃ এইটা অন্য কারো না আমার বিয়ের কার্ড
কথাটি বলতে বলতে সিড়ি থেকে নেমে পরলো আহান
আহানের বলা কথা শুনে সবাই অবাক
বিশেষ করে চারু
চারুঃ মানে?

আহানঃ মানে হলো এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে
আর তোমরা সবাই ইনভাইটেড
দিশাঃ ভাইয়া কার সাথে?
আহানঃ কার আবার আমার ভালোবাসা
চারু আহানের বলা কথা শুনে হেসে উঠলে-
আহানঃ রিয়ার সাথে
আহানের বলা কথা শুনে চারু পা থেকে মাটি সরে যায়
আর ও ধপাস করে মাটিতে বসে পরে
চারু রাগের মাথায় কার্ডটি খুলে ছিড়তে নিলে হঠাৎ কার্ড এর উপর চারুর চোখ পরলে-
চারু খেয়াল করে কার্ড এ বড় বড় করে লিখা

Ahan weds Caru
চারু ওর কান্না বন্ধ করে-
চারুঃ আপনি আমার সাথে মজা করছিলেন (রেগে)
আহানঃ অই আমার কোন দোষ নেই সব দোষ ভাবির
ভাবিই বলেছে রিয়ার নাম নিতে
চারু দিশার দিক এ রাগি দৃশটিতে তাকালে–
দিশাঃ আরে দেবর এর হবু বউ এর সাথে একটু তো ফান করাই যায় তাইনা মা?
সাবিনাঃ

পর্ব ৩৩
দিশাঃ আরে দেবর এর হবু বউ এর সাথে তো একটু ফান করাই যায় তাইনা মা?
সাবিনাঃ হ্যা একবারে ঠিক বলেছো দিশা(হেসে)
চারুঃ কাকিমা আপনিও তাল মিলাচ্ছেন দিশা ভাবির সাথে
চারু ফ্লোর থেকে উঠে গিয়ে সেইখান থেকে যেতে নিবে আহান চারুর হাতটা ধরে–
আহানঃ কোথায় যাচ্ছে আমার চড়ই পাখিটা?
চারুঃ আমার হাত ছাড়ুন আর অই রিয়া পেত্নির সাথে বিয়ে করুন
আহানঃ সত্যি তো?

? (চোখ টিপ দিয়ে)
সাবিনাঃ হয়েছে হয়েছে আর কেউ আমার মেয়েকে রাগাবে না বলে দিলাম
আমি তো পারলে আজই তোদের দুইজন এর বিয়ে দিয়ে দেইকিন্তু আহানের বাবা আর আবির অফিসের কাজে দেশের বাইরে থাকার কারনেই এক সপ্তাহ পর বিয়ের ডেট টা ফিক্সড করা হয়েছে
দিশাঃ সম্যসা নেই মা তারা দুইদিন পরই চলে আসছে দেশে এই দুইদিন আমরা নিজেরাই বিয়ের শপিং করে নিবো
দিশাঃ ভাইয়া বিয়েতে কিন্তু আমি চারুর সাইডে থাকব বলে দিলাম
সাবিনাঃ আমিও বিয়ের সময় চারু সাইডে থাকব ওর মা হয়ে

মিসেস সাবিনার বলা কথা শুনে চারুর চোখ বেয়ে দুইফোটা জল গড়িয়ে পরে
আর ও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মিসেস সাবিনাকে
দেখতে দেখতে চারু আর আহানের গায় হলুদ এর দিন চলে আসে
চারদিকে শুধু আদন্দের হৈ হৈলাশ
চারু ওর বেড রুমে চুপ হয়ে বসে আছে আর রুমের চারদিকে শুধু বিয়ের জিনিস দিয়ে ভরা
দিশা চারুর রুমে দুইজন মেয়েকে নিয়ে এসে
দিশাঃ এই যে চারু সুন্দরী তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নাও

আর এই বিউটিশিয়ান আপুরা তোমাকে হেল্প করবে রেডি হতে
চারু দিশার বলা কথা শুনে মাথা ন্যাড়ে হ্যাবোধক উত্তর দেয়
তারপর চারুকে রেডি করাতে শুরু করে দেয় মেয়ে দুইজন
প্রথমেই চারুকে একটা গাড় হলুদ রঙের উপর সবুজ ডিজাইনের শাড়ি পরানো হয়
তারপর দুইজন বিউটিশিয়ান মিলে চারুকে সাজানো শুরু করেমেকাপ করা কম্পলিট হলে চারুরকে ফুলের গহনা পরিয়ে দেয় তারা

হটাৎ দিশা চারুর রুমে প্রবেশ করে চারুর উপর দিশার চোখ পরলে দিশা হা করে তাকিয়ে থাকে
দিশাঃ আল্লাহ তোমাকে তো আজ পুরাই রাজকুমারী লাগছে চারুআহান ভাইয়া দেখলে তো বেহুস হয়ে পরবে
চারু দিশার কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে–
আর বিউটিশিয়ান মেয়ে দুইজন হেসে উঠে চারুর লজ্জা মাখা মুখ দেখে
দিশাঃ আর লজ্জা পেতে হবেনা এখন তাড়াতাড়ি চলো বেচারা আমার দেবর টা হয়ত তোমার অপেক্ষা করতে করতে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে

তারপর দিশা আর কয়েকটা মেয়ে মিলে চারুকে নিয়ে ছাঁদ চলে যায়
চারুকে স্টেজ এর সামনে নিয়ে আসলে চারু খেয়াল করে আহান স্টেজ এ অলরেডি বসে আছে মুখে একরাশ হাসি নিয়ে
দিশা আর মেয়ে গুলো চারুকে আহানের পাশে বসিয়ে দেয়
আহানঃ আজ তো আমার চড়ই পাখিকে পুরাই হলুদ পরী লাগছে (ফিশ ফিশ করে)
চারু আহানের কথা শুনে কিছুনা না বলে মুচকি একটা হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকে
আহানঃ কিছু তো বলো?

চারুঃ নিশ্চুপ
আহান কোন উপায় না পেয়ে সবার চোখ এর আড়ালে চারু কোমড়ে হাল্কা করে একটা চিমটি কেটে বসে
আহান এইভাবে চিমটি মারায় চারু আহানের দিক এ তাকালে —
চারু হা করে তাকিয়ে থাকে আহানের দিক
সাদা পাঞ্জাবিতে আহানকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে
তার মুখের হাসিটা যেন তার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে

হঠাৎ হলুদ দেওয়ার জন্য মিসেস সাবিনা আসলে চারু তাড়াতাড়ি করে ওর চোখ জোড়া সরিয়ে নেয় আহানের থেকে
মিসেস সাবিনা চারু আর আহানকে হলুদ লাগিয়ে ওদের দুইজন এর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করে দেয় তিনি
এক এক করে সবার হলুদ লাগানো শেষ হলে সকল মেহমান নিচে চলে যায় খাওয়ার জন্য
আহানঃ দিশা ভাবি সবাই তো হলুদ লাগালো
কিন্তু আমি এখনো আমার বউকে হলুদ লাগালাম না(হেসে)
চারুঃ অই মোটেও আমাকে হলুদ লাগানোর চেষ্টা করবেন না আপনি
আহান চারুর কথায় কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের দুইহাতে হলুদ নিয়ে লাগিয়ে দেয় চারুর গালে

চারু বেশ রেগে যায় আহানের এমন কান্ড দেখে
রাগের ঠেলায় চারু হলুদ এর বাটি থেকে সব হলুদ নিজের হাত এ নিয়ে লাগিয়ে দেয় আহানের পুরো মুখে
আহান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে চারুর এমন কান্ড দেখে
আর চারু আহানের হলুদ মাখা ফেস দেখে পেটে হাত রেখে জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে
আহান আর চারুর এই সুন্দর মুহুর্তটাকে ক্যামেরাম্যান কেপচার করে ফেলেন তার ক্যামেরায়
চারুকে নিচে রুমে নিয়ে যাওয়া হলে
দিশাঃ চারু আমি এখনি আসছি তুমি একটু রেস্ট নাও
কথাটি বলে দিশা চলে যায় চারুর রুমে থেকে
চারু ওয়াসরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখে আহান দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে

চারুঃ আপনি আমার রুমে কি করছেন(কাঁপা কন্ঠে)
আহান চারুর কথার কোন উত্তর না দিয়ে শয়তানি একটা হাসি দিয়ে চারুর সামনে এগোতে লাগলো
চারুঃ অই আমার কাছে আসছেন কেন?
আহান চারুর একবারে কাছে এসে চারুর কোমড়ে হাত রেখে–
আহানঃ আমার ফেস টার কি অবস্থা করেছো তুমি তার প্রতিশোধ নিতে এসেছি

কথাটি বলে আহান চারুর গালে সাথে নিজের গাল স্লাইড করতে লাগলো আর চারু তো লজ্জায় কিছুই বলতে পারছেনাশক্ত করে আহানের পাঞ্জাবি ধরে রেখে চোখ বন্ধ করে আছে ও
আহানঃ আল্লাহ এখনই এমন লজ্জা লাগছে তোমার বাসর রাতে কি করবা? (হেসে)
চারু আহানের বলা কথা শুনে বড় বড় চোখ করে তাকায় আহানের দিক এ
আহান থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে আহান আরও শক্ত করে চারুর কোমড় জড়িয়ে ধরে
চারুঃ অই ছাড়েন বলছি আমাকে
আর কিসব পচা পচা কথা বলছেনছিঃ
আহানঃ এইগুলা পচা কথা না এই গুলাই ভালো কথা(হেসে)
হটাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলে,
চারুঃ অই তাড়াতাড়ি করে বের হন রুম থেকে
কেউ দেখে ফেললে তো লজ্জায় মরে যাবো আমি

আহান চারুর কপালে একটা চুমু দিয়ে দরজা টা খুলে তাড়াতাড়ি করে চলে যায় রুম থেকে
দিশা চারুর রুমে ঢুকে
দিশাঃ আল্লাহ কতক্ষন ধরে দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছলাম কিন্তু এতোক্ষন ধরে আপনারা কি করছিলেন শুনি? (হেসে)
চারু দিশার কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে
দিশাঃ ইসস লজ্জায় গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে
এই যে আপনি ভিতরে আসুন
দিশার কথা শুনে চারু দরজার দিক এ তাকিয়ে দেখলো একটা মেয়ে হাতে মেহেদী থালা নিয়ে রুমে প্রবেশ করছে

দিশাঃ আপু আপনি তাড়াতাড়ি করে চারুর দুই হাতে সুন্দর করে মেহেদী পরিয়ে দেন
আমি একটু নিচের থেকে আসছি
আর্টিসটঃ জ্বি ম্যাম
তারপর চারু বিছানায় বসলে মেয়েটি চারুকে মেহেদী পরাতে থাকে
এক হাতে মেহেদী পরানো শেষ হলে–

হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলে চারু আর মেয়েটি দরজার দিক এ তাকালে দেখে আহান দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আহান রুমের মধ্যে প্রবেশ করে
আহানঃ আপু আপনি যদি কিছু মনে না করেন আমি আমার হবু বউকে মেহেদী পরাতে পারি?
মেয়েটি আহানের বলা কথা শুনে
আর্টিসটঃ আপনি মেহেদী পরাতে পারেন? (অবাক হয়ে)
আহানঃ হুম ডাক্তার হওয়াতে আমি অনেক সুন্দর আর্ট করতে পারি এই যেমন ধরেন(মানুষ হৃদপিনড; মস্তিষ্ক;কঙ্কাল) এইগুলো অনেক সুন্দর করে আঁকতে পারি

আহানের কথা শুনে মেয়েটি হা করে তাকিয়ে থাকে আহানের দিকে
আহানঃ আপু মুখ টা বন্ধ করুন মশা চলে যাবে তো মুখে
মেয়েটি লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি করে নিজের মুখ টা বন্ধ করে নেয়
চারুঃ অই কি সব যাতা বলছেন আপনি তাড়াতাড়ি করে বের হন রুম থেকে(রেগে)
আহানঃ আচ্ছা বাবা ওই গুলা কিছুই আঁকব না তোমার হাতে জাস্ট আমার নাম টাই লিখব
চারুঃ সত্যি তোহৃদপিনড; মস্তিষ্ক অই গুলা আকবেন না তো আমার হাতে

আহানঃ হ্যা বাবা সত্যি
আর তুমি তোমার চোখ বন্ধ করোআপু আপনিও আপনার চোখ বন্ধ করেন
আহানের কথা শুনে চারু অবাক হলে –
আহানঃ আহ রে করো না
চারু আহানের কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়
চারু ওর চোখ বন্ধ করলে আহান চারুর হাত নিজের হাতে রেখে ওকে মেহেদী পরাতে শুরু করে
পাঁচ মিনিট হয়ে গেলে
চারুঃ কি হলো হয়নি?

আহানঃ আরে এক মিনিট দাঁড়াও
আহানঃ হয়েছে এইবার চোখ খুলো
আহানের কথা শুনে চারু আর মেহেদী আর্টিসট চোখ খুললে চারুর হাতের মেহেদী ডিজাইন দেখে ওরা দুইটা ই শকড
চারুঃ আহান আপনি এতো সুন্দর মেহেদী লাগাতে পারেন
আহানঃ সত্যি সুন্দর হয়েছে?

চারুঃ হুম অনেকআপনি এতো সুন্দর মেহেদী পরাতে পারেন?
আহানঃ হুম এই এক সপ্তাহ অনেক গুল মেহেদী ভিডিও দেখে শিখে নিয়েছি অনেক ইচ্ছা ছিল আমার চড়ই পাখিটার হাতে আমি নিজেই মেহেদী পরিয়ে দিব
আহানের বলা কথা শুনে চারু চোখ বেয়ে দুই ফোটা জল গড়িয়ে পরে
আর্টিসটঃ ম্যাম আপনি অনেক বেশি লাকি এমন একটা ছেলে পেয়েছেন
চারুঃ

পর্ব ৩৪

আর্টিসটঃ ম্যাম আপনি সত্যি অনেক লাকি এমন একটা ছেলে পেয়েছেন
চারুঃ হুম অনেক বেশি লাকি আমি যে আল্লাহ এতো মূল্যবান গিফট আমাকে উপহার দিয়েছেন

কাল …

সকাল সকাল সবাই ব্যস্ত হয়ে পরে বিয়ের কাজের জন্য
সন্ধা হলে দিশা চারুকে পার্লারে নিয়ে যায় সাজানোর জন্য
কনে সাজাতে বসে চারুর পরা লাল বেনারসি শাড়ি আর ওর গালে লজ্জার লাল রঙ যেন একদম মিলে যাচ্ছে
চারুর মেক আপ করা কম্পলিট হলে বিউটিশিয়ান রা চারুর চুল গুলো খোপা করে সেই খোপায় গোলাপ ফুল দিয়ে আবৃত করে দেয়।

হাতে অজ্রস চুড়ি; বালা; গলায় হার;
কানে বড় বড় ঝুমকো; মাথায় বড় টায়রা;পরে বধুবেশে আবিষ্কার করলো চারু নিজেকে
চারুকে সাজানো শেষ হলে চারুকে নিয়ে দিশা সোজা চলে যায় সেন্টার এর উদ্দেশ্য এ
চারুকে স্টেজ এ বসানো হলে বিয়েতে আসা অজ্রস মেহমান ব্যস্ত হয়ে পরে চারুর সাথে ছবি তুলতে
বর এসেছে বর এসেছে বলে যখন সবাই বর দেখার জন্য ছুটতে লাগলো চারুর মনের অস্তিরতা যেন হাজারো গুন বেড়ে গেল

বার বার সামনের দিক এ তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো আহানকে এক পলক দেখার জন্য
হটাৎ ভিড় এর মাঝ খান থেকে কেউ গান গেয়ে উঠে –
jab dildarakta hai
গানের আওয়াজ শুনে সবাই সাইড হয়ে সড়ে গেলে চারু খেয়াল করে আহান একটা গোল্ডেন কালারের শেরওানি পরে হাতে মাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

আহান চারুর কাছে গিয়ে ওকে স্টেজ থেকে নামিয়ে এনে চারুর সামনে হাটু গেড়ে বসে আহান আবারও গান গাইতে লাগলো —
Jab dil darakta hai
Meh soosh ai hota hai
Tum dil me kahin chupke
Baithe ho mere Janam

har sash me samil hai teri sash ki khusbu
Jata nehi yadoon se tere pyar ka mausam
Janamjanamjanamooo mere janam

গানটি গাওয়া শেষ হলে আহান চারুর হাতে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে উঠে পরে ফ্লোর থেকে
আর আহানের গান গাওয়া শুনে বিয়েতে উপস্থিত থাকা সকলেই জোড়ে জোড়ে তালি বাজাতে থাকে
এরপর সকল নিয়মনীতি অনুযায়ী ওদের বিয়ের কাজটা সপন্ন হয়ে পরে
বাড়িতে এসে পৌছালে চারু আর আহান দুইজন এক সাথে মিসেস সাবিনা আর মিরাজ সাহেবকে সালাম করে বাসার মধ্যে প্রবেশ করে

বাসর ঘরে চারু প্রবেশ করে হা করে তাকিয়ে থাকে কারন পুরো রুমটা গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো আর আহানের রুমের দেয়ালে চারু আর আহানের গায় হলুদ এর সেই ছবিটা বড় করে টাঙানো
চারু ছবিটির কাছে গিয়ে আহানের হলুদ মাখা ফেসটি দেখে নিজে নিজেই হেসে উঠে
হটাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলে চারু তাড়াতাড়ি করে বিছানায় গিয়ে গুমটা মাথায় দিয়ে চুপ করে বসে থাকে
আহান রুমের মধ্যে ঢুকে দরজাটা লাগিয়ে দিলে ভয়ে চারুর হাত পাঁ কাঁপতে থাকে
আহান বিছানায় চারুর কাছে এসে ওর গোমটা খুলতে নিলে চারু ভয়ে তাড়াতাড়ি করে বিছানায় থেকে উঠে গিয়ে দৌড় দিয়ে বেলকনি চলে যায়

চারু বেলকনি গিয়ে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকলে
আহান পিছন থেকে এসে চারুকে জড়িয়ে ধরে
আহানঃ কি হলো আমার চড়ই পাখিটা এইভাবে চলে আসলো কেন সেই খান থেকে?
চারুঃ আ আসলে
আহান চারুর কথা শুনে পিছন থেকে চারুর চুল সরিয়ে দিয়ে চারুর গাড়ে নিজের ঠোঁট এর স্পর্শ ছুয়াতে লাগলে চারুর লজ্জায় হাত পা কাঁপতে থাকে
আহান চারুকে কোলে তুলে নিয়ে চলে যায় রুমের দিক এ বিছানায় চারুকে বসিয়ে
নিজের আলমারি থেকে একটা প্যাকেট বের করে ধরিয়ে দেয় চারুর হাতে
চারুঃ এইটাতে কি?

আহানঃ এইটা দেনমোহর এর টাকা
চারুঃ এই টাকা দিয়ে আমি কি করব আহান? (অবাক হয়ে)
আহানঃ এইটা তোমার হক চারু তাছাড়া দেনমোহর না দেওয়া পর্যন্ত স্বামী অধিকার নিয়ে তোমার কাছে আসতে পারব না
চারুর আহানের কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে
আহান চারুর কাছে এসে ওর পরানো গয়নাগুলো নিজ হাতে খুলতে থাকে
আহানের স্পর্শ পেয়ে চারু যেন কেঁপে উঠছে বার বার
আহান চারুকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে চারুর উপর শুয়ে চারুর চোখ গালে ঠোঁট এ অজ্রস চুমু খেতে থাকে…
চারু সরে যেতে নিলে আহান আরও শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় চারুকে
দেখতে দেখতে তিনটা বছর কেটে যায় আর চারু আহানের সার্পোট এ নিজেকে একজন ফেমাস গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নেয়
সকালে

চারু ঘুম থেকে উঠতে নিলে আহান চারুর হাত হেচকা টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশে নেয়
চারুঃ অই কি করছেন কি ছাড়ুন আমায়
আহানঃ আরেকটু ঘুমাতে দাও তো আর তুমিও আমার বুকে মাথা রেখে চুপ করে শুয়ে থাকো
চারুঃ অই তাড়াতাড়ি করে আমাকে ছেড়ে হসপিটালে যান কয়েক দিন হলো হসপিটালে যাচ্ছেন না
আহান চারুর কথা শুনে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে চারুর পেট এ সামনে নিজের মুখটা এনে
আহানঃ আচ্ছা বাবু বলতো আমি হসপিটালে যাব নাকি যাব না?

কথাটি বলে আহান চারুর পেট এ নিজের কান রেখে-
আহানঃ বাবু বলছে হসপিটালে না গিয়ে ওর আম্মুর আর ওর পাশে থাকতে
চারু আহানের কথা শুনে আহানের দিক চোখ রাঙিয়ে তাকালে-
আহানঃ আরও কি বলছে জানোবলছে মাম্মা প্লিজ পাপা আর আমাকে একটা গান শুনাও।

চারুঃ হ আমাকে বলদ পেয়েছেন? পেটে ভিতর এ থেকে বাচ্চা কিভাবে কথা বলতে পারে
ভালোয় ভালো হসপিটালে যান বলছি
আহানঃ মোটেও না আমি তোমার ডেলিভারি হওয়ার আগ পর্যন্ত তোমাকে একা ছাড়ছিনা?
চারুঃ ডেলিভারি হওয়ার আগ পর্যন্ত মানে?

আহানঃ মানে ডেলিভারির সময় ও আমি তোমার পাশেই থাকব
চারুঃ আপনাকে ঢুকতে দিবে নাকি?
আহানঃ হা হা তুমি ভুলে গেছ আমি যে ডাক্তার?

চারু আহানের কথা শুনে রেগে মেগে আহান থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠতে নিবে
আহানঃ কোথায় যাচ্ছে আমার চড়ই পাখি?
চারুঃ ওয়াসরুমে যাচ্ছে। এখন ওয়াসরুমেও কি আসবেন নাকি?

আহানঃ তুমি কিছু না মনে করলে আমি আসতে রাজি(শয়তানি হাসি দিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে একটা ভেংচি কেটে চলে যায় ওয়াসরুমের ভিতর এ
ডায়নিং টেবিলে বসে সবাই ব্রেকফাস্ট করলে আহান নিজের হাতে চারুকে খাইয়ে দিতে থাকে
চারুঃ আর খেতে পারব না আমিআমার পেট ফুল হয়ে গিয়েছে
আহানঃ বললেই হলো আমার বাচ্চা টার এখনো পেট ভরে নি তাই ঢং না করে চুপ চাপ খাও
চারুঃ প্লিজ মা আহানকে একটু বুঝান নাসত্যি আমার অনেক খারাপ লাগছে আর খেতে ইচ্ছে করছেনা
আহানঃ হয়েছে তোমার নিত্য দিনের কাহিনি এইটা
চুপ করে জুস টা খেয়ে নাও

আহান চারুকে জোড় করে খাওয়াতে নিলে চারু পেট এ হাত রেখে ব্যথায় ছটফট করতে থাকলে
আহানঃ না খাওয়ার জন্য এমন করছো তাইনা
চারুঃ আহান সত্যি আমার অনেক বেশি খারাপ লাগছে
দিশাঃ চারু তুমি আবারও শয়তানি করছো তাইনা?

আহানঃ ভাবি আমার মনে হয়না চারু এখন না খাওয়ার জন্য এমন করছে
দিশাঃ কিন্তু ভাইয়া চারু তো আট মাস চলছে
আহান কিছু না ভেবেই তাড়াতাড়ি করে কাউকে কল দিয়ে বসলো
আহানঃ হ্যালো ডাক্তার মৌআমার মনে হয় চারুর পেইন শুরু হয়ে গেছে তাই আপনি তাড়াতাড়ি সব রেডি করে রাখুন আমি আসছি ওকে নিয়ে।

মৌঃ কিন্তু এত যলদি? ডাক্তার আহান আমি বলেছিলাম আপনাকে আর আপনার বউ কে কমপ্লিকেশন এর কথা আর এই টাও বলেছিলাম যে চারুর জানের ক্ষতি হতে পারেকিন্তু আপনার বউ তো শুনলোই না আমার কথা
আহানঃ দেখুন এইসব আজে বাজে কথা বার্তা না বলে সব কিছু রেডি করুন আমরা আসছি
চারু আহানকে কোলে তুলতে নিলে-

চারুঃ দিশা ভাবি হয়ত আমি আর ফিরে আসব না এই বাড়িতে কিন্তু আমার কিছু হয়ে গেলে আমার বাচ্চা টাকে তুমি তোমার বাচ্চার মত মানুষ করো
আহানঃ কি সব যাতা বলছো তুমি? আমি তোমার সাথে আছি না এতো ভয় পাওয়ার কি আছে

আমি কিছুই হতে দিব না
আহান তাড়াতাড়ি করে গাড়ি বের করে চারুকে নিয়ে যায় হসপিিটালে
অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হলে চারু ব্যথায় জোরে জোরে কান্না করতে থাকে
চারুর কান্না দেখে আহান চারুর হাত শক্ত করে ধরলে-
চারুঃ আহান অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে আমার
আমি হয়ত

চারু কথা শেষ করার আগেই আহান চারুর মুখে আঙুল দিয়ে-
আহানঃ চুপ বললাম না কিছুই হবেনা
চারু আহানের হাত শক্ত করে ধরে ব্যথায় আরও জোরে জোরে চিৎকার দিতে থাকে
হটাৎ নবজাত শিশুর কান্না রুমে মধ্যে ভেসে উঠে —
ডাক্তারঃ congratulations ডাক্তার আহান আপনার ফুটফুটে একটি ছেলে হয়েছে
আহান ডাক্তার হাত থেকে নিজের ছেলেকে হাতে নিয়ে খুশিতে কান্না করে দেয়
আহানঃ থ্যাংকস ডাক্তার

ডাক্তারঃ আমাকে থ্যাংকস দেওয়া উচিত আপনাকে
আপনি আপনার ওয়াইফের পাশে থেকে যদি তাকে সাহস না জোগাতেন তাহলে হয়ত আপনার ওয়াইফ কে হেন ডেল করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না
ডাক্তার এর কথা শুনে আহান একটা মুচকি হাসি দিয়ে ওর বাচ্চাকে নিজের কাছে নিয়ে আলতো করে একটা চুমু খায়
আহানঃ দেখো চারু তুমি অকারনেই ভয় পাচ্ছিলে আল্লাহর রহমতে তুমি আর আমাদের ছেলে পুরো পুরি সুস্থ আছে
ডাক্তার অপারেশন রুম থেকে থেকে বের হয়ে গেলে-
মিরাজঃ ডাক্তার?

ডাক্তারঃ congestulation আল্লাহ রহমতে আপনার ছেলের বউ এর একটা ফুটফুটে ছেলে হয়েছে
ডাক্তার এর কথা শুনে দিশা আবির সাবিনা আর মিরাজ সবাই খুশি হয়ে পরে
দিশাঃ ডাক্তার চারু কেমন আছে? ও ঠিক আছে তো?

ডাক্তারঃ হ্যা সেও ঠিক আছে। ডাক্তার আহান তার সাথে আছে আপনারা টেনশন নিয়েন না
তাকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হলে আপনারা দেখা করতে পারবেন তার সাথে
কিছুক্ষন পর চারুকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হলে
ডাক্তারঃ আপনারা এখন দেখা করতে পারবেন
ডাক্তারের পারমিশন পেলে সবাই তাড়াতাড়ি করে চারুর রুমে প্রবেশ করে দেখে দোলনায় ছোট একটি বাচ্চা তার ছোট ছোট হাত পা নাড়াচাড়া করছে

বাচ্চাটিকে দেখে সবার চোখ এ পানি চলে আসে
মিরাজ সাহেব তাড়াতাড়ি করে দোলনা থেকে বাচ্চাটিকে নিজের কোলে তুলে নেয়
মিরাজঃ দেখো সাবিনা পুরাই আহানের কার্বন কপি
সাবিনা মিরাজ সাহেব এর কোল থেকে বাচ্চাটিকে নিয়ে চুমু দিতে থাকে বাচ্চাটির কপালে
পুরাই আমার আহান
দিশাঃ আমিও নিব কোলে
সাবিনাঃ আচ্ছা নে

মিসেস সাবিনা বাচ্চাটিকে দিশার কোলে দিলে-
দিশাঃ ওরেেে কতো কিউট হয়েছে
বলতে হবে চারু তুমি অনেক লাকি ডেলিভারির সময় ও নিজের হাসবেন্ডকে পাশে পেয়েছো
ইসস আমার হাসবেন্ড যদি ডাক্তার হতো

আবিরঃ টেনশন নিয়ো না দিশা তোমার বেবি হতে আরও পাঁচ মাস বাকি এই পাঁচ মাস এ আমি ডাক্তারি পড়া পরে ডাক্তার হয়ে তোমার ডেলিভারির সময় পাশে থাকব
দিশাঃ আপনার জোকস টা শুনে আমার মোটেও হাসি আসেনিহু
আহানঃ ইসস ভাবি আমার বাচ্চা আমার কোলে দাও তো।

তোমাদের দেখা দেখি আমার বাচ্চা টাও জগড়া শিখে যাবে
আহান দিশা হাত থেকে বাচ্চাটিকে নিয়ে চারুর পাশে গিয়ে বসে
আহানঃ থ্যাংকস চারু জীবন এর সব চেয়ে মূল্যবান জিনিস আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য
আজ বাবা হয়ে অন্য একটা অনুভূতি কাজ করছে
দিশাঃ তো ভাইয়া বাচ্চাটার নাম কি রাখবেন?

আহান কিছু বলতে নিবে চারু আহানের কথা মাঝ খানে বলে উঠলো
চারুঃ অই আমি রাখবো
আহানঃ আচ্ছা তুমি বলো আমাদের বাচ্চার নাম কি হবে?

চারুঃ আপ্রান।

দিশাঃ ওয়াও হোয়াট এ নাইস নেম। আহান চারু কথা শুনে চারুর কপালে একটা চুমু খেয়ে চারুকে আর বাচ্চাটাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

লেখা – হুমায়রা খান

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ছায়া হয়ে থাকবো পাশে – প্রেমিকার জন্য রোমান্টিক কথা” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মনোপ্যাথি (১ম খণ্ড) – মেয়েদের মনের গোপন কথা