শিক্ষণীয় গল্প

উচিত রিভেঞ্জ উইথ শিক্ষা – bd valobashar golpo

উচিত রিভেঞ্জ উইথ শিক্ষা – bd valobashar golpo: আপনাদের মত মানুষদের জন্য এরাই মারা যায়। তাই আপনাদের শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিল। অন্তত এইভাবে এক এক করে হলেও আপনাদের বোঝানো যাবে।

মূলগল্প

জাব হাতো সে,
ছালাকনে না দুঙ্গা
রাজ কি বাতে না, কিসি সে কাহুঙ্গা
আবকে তুম আয়ে,
তো ওয়াদা হে মেরা/ আজ মে তুঝকো
না জানে না দুঙ্গা
চান্দনি সা বাদান তেরা/ সোনি ছি জাওয়ানি হে।
মে ইশক কা রাজা হু/ তু হুস্ন কি রানি হে।

পাত্র পক্ষ থেকে যখন গান গাইতে বলা হল রুহিকে, সে আগেই অনুমতি নিল যে যেকোনো গান চলবে কি না। পাত্র পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল চলবে। বাকি টা ইতিহাস, সরি ইতিহাস না, রুহি এই গান টা গাইল। এতেই মনে হয় শাশুড়ি টাইপ মহিলাটা ২য় বার টাস্কি খেলো।

আজ রুহিকে পাত্র পক্ষ দেখতে এসেছে। পাত্রের মা বেশ কয়েকদিন ধরেই মেয়ে খুজে চলেছে। কিন্তু মন মতো পাচ্ছেন না। তাই ঘটক যখন আরেকটা মেয়ের সন্ধান দিল, তখনই হ্যাঁ বলে দিয়েছেন।

তারপর মেয়েকে দেখতে গিয়ে যখন মেয়েকে ডাকা হল, রুহি শার্ট-প্যান্ট পরে, গলায় ভালোমতো একটা ওড়না ঝুলিয়ে হাজির হল। মুখে লজ্জা লজ্জা ভাব। দেখে প্রথমবার টাস্কি খেয়েছিলেন পাত্রের মা। তারপর গান টা পাত্রের বেশ পছন্দের একটা বিষয় হওয়ায় এই প্রশ্নই করা হয়েছিল। বাকিটা জানেনই।

~ মা রুহি,
~ জিইইই অ্যান্টি।
~ তুমি রান্না করতে পারো?

~ পারব না কেন? অবশ্যই পারি, দাঁড়ান। আম্মু আজ আমি যে রান্না করেছি সেটা আন তো।
রুহির মা মেয়ের কথা অনুযায়ী একটা প্লেট আনলেন। তাতে যেটা রান্না করা সেটাকে দেখে মনে হচ্ছে আগুনের উপর কোন হারি না রেখে সোজা আগুনেই রান্না করা হয়েছে।
~ টেস্ট করে দেখবেন অ্যান্টিইইইইই?
~ না, বাবা দরকার নেই।

~ অ্যান্টিইইইইই
~ আবার কি হল?
~ আপনি আমাকে বাবা বললেন? (ন্যাকা কান্না করে) আজ আপনি আমার লিঙ্গ পরিবর্তন করে ফেললেন? এতো বড় কাজ করেছেন? কেন? অ্যান্টি কেন? কি করে পারলেন এটা?

আমি নারী জাত, তাকেই ভুল প্রমাণিত করতে চাইছেন আপনি? তার মানে আপনি আপনার ছেলের জন্য বউ না, একটা বড় খুঁজতে চাইছেন? আয়হায়, আপনার ছেলে যে ওই টাইপের সেটা আগে বলবেন না? ইজ হি এ গে?

~ এসব কি বলছ? ছি ছি! বাদ দেও মা। আচ্ছা তুমি বাড়ির কাজ করতে পারো?
~ এইতো আসল কথা।

~ আপনি কি আমার মেয়েকে কাজের লোক হিসেবে নিজে যাচ্ছেন না কি?
চোটে গিয়ে বলে উঠলেন রুহির বাবা।
~ না না, এমনিই জানতে চাইলাম।

~ আরে আব্বু বলতে দাও না। আমি বলি শোনেন, একবার আম্মু শাড়ি ধুতে গিয়েছিলাম, তারপর থেকে সেই শাড়ি দিয়ে আম্মু ঘর মোছে।
এই কথা শুনে মহিলাটি একবার নিজের শাড়ীর দিকে তাকালেন মাথা নামিয়ে, একবার রুহির দিকে তাকালেন।

~ একবার ঘর মুছতে গিয়েছিলাম, সেদিন পাশের বাসার এক অ্যান্টি, আপনার বয়সেরই হবেন, তিনি এসে স্লিপ কেটে পড়ে গিয়েছিলেন, আরও বলি।
~ থাক আর বলা লাগবে না।

পাত্রী দেখতে এসে এমন অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় টাস্কির পর টাস্কি খেয়ে ক্লান্ত হয়ে সামনে থাকা শরবতের গ্লাস এক ঢোকে শেষ করলেন মহিলাটি। এতেই আবার টাস্কি।

ওটা করলার সরবত ছিল। দেখে না বোঝা গেলেও খেয়ে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। এবার আর শান্ত থাকতে না পেরে বলে উঠলেন,

~ এটা কি ধরণের ব্যবহার? এই শরবত এখানে কেন?
~ এটা ই তো আমরা খাই, দেখেন এইভাবে

বলে আরেকটা গ্লাস নিজে শেষ করল রুহি।
এবার মহিলাটি নিজের আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছলেন।

~ এবার তাহলে আমরা যাই।
~ আরে বললেন না তো, আমাকে আপনাদের পছন্দ হল কি না
~ সেটা পরে জানিয়ে দিব।

তারপর ওরা উঠে চলে যেতে গেল। কিন্তু সেই সময় রুহি তালি বাজাল কয়েকবার। কোথা থেকে সব বাচ্চারা এসে দরজা আটকে দাঁড়াল।
~ আমাকে দেখতে এসে টাস্কি খেলেন তো অ্যান্টিইইইই?

~ এসবের মানে কি? কোণ ধরণের ভদ্রতা?
~ ভদ্রতা? বাহ বাহ, এবার ভদ্রতা লেসন আমি দিব আপনাকে। বসুন তো।

দরজার বাইরে লোক জমা হয়ে এই ঘটনা দেখছে। রুহি বলতে শুরু করল,
~ জুনেইনা, ভেতরে আয়।
রুহির কোথা শুনে একটা মেয়ে ভেতরে আসলো।
~ তুমি?

অবাক হয়ে বলে উঠলেন মহিলাটি। রুহি আবার বলল,
~ হ্যাঁ, ও। এক সপ্তাহ আগে ওকে দেখতে গিয়েছিলেন আপনার ছেলের জন্য। আপনি আগে থেকেই জানতেন ওদের পারিবারিক অবস্থা। তাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে যেন আপনাদের

মেয়ে দেখতে এসে কোন সমস্যা না হয়। কিন্তু আপনি যেভাবে ওদের অপমান করলেন, তারপর ওর কি হয়েছে জানেন? আপনি তো অপমান করেই চলে গিয়েছিলেন। কিন্ত এলাকার লোকেরা রোজ ওকে খোঁটা দিত এটা ওটা বলে। ও সব মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছে। তাও

থামল না এই কোথা শোনানো। জানেন ওর মস্তিষ্কে এটা কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে? তখন তো ভাবেন নি। একজন মানুষ সব দিক দিয়ে পারফেক্ট হয় না। তাই বলে কোথা শোনাতে

হবে? তাও বাজে ভাবে? না জানি আরও কত মেয়েকে এইভাবে কথা শুনিয়েছেন। আপনাদের জন্য কত মেয়ে এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় জানেন?

তাদের মৃত্যু তো আত্মহত্যা বলে পার পেয়ে যায়। কিন্তু এটা যে ক্লিয়ার মার্ডার সেটা আপনারা জানেন? আপনাদের মত মানুষদের জন্য এরাই মারা যায়। তাই আপনাদের শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিল। অন্তত এইভাবে এক এক করে হলেও আপনাদের বোঝানো যাবে। আশা করি আর এই ভুল করবেন না। নাহলে কত মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে যাবেন আপনি, নিজেও জানতে পারবে ন না।

মহিলাটি চলে যেতে গেলে আবার রুহি বলল,
~ আমার কথা এখনো শেষ হয় নি। আপনি জানতে চাইলেন না যে ঘটক সেদিন কেন আপনার বাড়িতে আমার ছবি নিয়ে যায়?

~ মানে কি?
~ আমি আপনার ঘটককে টাকা দিয়েছিলাম, যাতে এই কাজ টা করে। আপনি আমাকে খুজেন নি। আমিই আপনাকে খুজে এই সব করেছি। যাই হোক আশা করি যেটা বুঝাতে

চেয়েছি সেটা বুঝাতে পেরেছি। আজ যদি জুনেইনার জায়গায় আপনার সাথে এমনটা হত তাহলে কি করতেন আপনি? বাসায় গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন। ঝুম্পা!

ডাক শুনেই ঝুম্পা নামের মেয়েটা এসে হাতে একটা কালো সানগ্লাস ধরিয়ে দিল। সেটা স্টাইল করে পরে বলল,

~ আর এটা এফবি তে পোস্ট করবেন ঠিক আছে। কিন্তু শুধু লাইক কমেন্ট এর জন্য না, নিজে মানবেন, অপরকে জানাবেন, আর ওরা না মানলে মানাতে বাধ্য করবেন।
বলে নিজের রুমে হাঁটা ধরল রুহি। ওর পিছে পিছে গেল ওর বন্ধুরা।

মহিলাটি তার পরিবারকে নিয়ে মাথা নিচু করে চলে গেলেন।
রুমে এসে ফ্রেন্ড রা রুহিকে প্রশ্ন করে বসল,

~ তুই তখন করলার শরবত খেলি কি করে?
~ ওটা শরবত ছিল, বাট নর্মাল টা। একটু কালার মিশিয়ে নিয়েছিলাম।
~ আঙ্কেল অ্যান্টি কিছু বলল না কেন?
~ এই প্ল্যান ওরা জানেন তাই।

~ ওয়াও, আঙ্কেল অ্যান্টি রকস। বাট শেষে সানগ্লাস পরলি কেন?
~ বাইরে থেকে একজন ফুল ভিডিও করেছে। আর এটা যে এফবি তে দিবে আমি সিউর, তাই একটু স্টাইল মারলাম।

সবাই মিলে তখন বলে উঠল,
~ উচিত রিভেঞ্জ উইথ শিক্ষা ছিল এটা।

বলেই সবাই মিলে হইহুল্লোড় এ মেতে উঠল আনন্দে। হেসে উঠল জুনেইনাও। মেয়েটা খুশি হয়েছে অনেক। কারণ ও নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রুহিই ওকে বাঁচিয়েছে।

লেখনীতে – সাদিয়া সৃষ্টি

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “উচিত রিভেঞ্জ উইথ শিক্ষা – bd valobashar golpo” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তুমি আমার মোনালিসা – Bengali valobasar golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!