রিলেশনশিপ

তোমায় হৃদয় মাঝে রাখবো (শেষ খণ্ড) – Premer golpo new Bangla

তোমায় হৃদয় মাঝে রাখবো (শেষ খণ্ড) – Premer golpo new Bangla: আমার কপালে চুমু দিয়ে জরিয়ে নিলো। আমি জয়ের সাথে পেরে উঠবো না তাই আর কিছু বললাম না। চোখ বন্ধ করে নিলাম।


পর্ব ১৬

বিকেলে বসে আছি শাড়ি পরে সীমা কখন থেকে সাজানো শুরু করেছিল যে। আমি তো ভালো শাড়ি পরতে পারিনা তাই সীমা পরিয়ে দিয়েছে। এখন শাড়ি পরে বসে আছি সীমা আমার সামনে বসে সাজছে। আমাকে সাজিয়ে দিতে এসেছিল বেশি সাজাবে তাই ওকে বলেছি আমি একাই সাজবো। সীমাকে অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে সেজে এসে আমাকে জোর করে সাজাতে লাগল।

আমি না করছি কিন্তু তার এক কথা.. তুমি যে ইচ্ছে করে এমন সারছিস জানি সাজতে চাছ না, কিন্তু তা হবে না তোকে আমি সাজিয়ে দেবোই।
বলেই সাজাতে লাগল মনে,
~ আচ্ছা কি বলবো না কিন্তু বেশি গরজিয়াস না হালকা করে সাজাবি নয়তো যাবো না। আগে বলে রাখছি।

~ আচ্ছা বাবা আচ্ছা তাই হবে এখন সাজাতে দে সময় হয়ে এলো।
আমার জরাজরিতে হালকা করে ই সাজিয়ে দিলো কিন্তু চুল ছেড়ে দিলো।
~ একি চুল খুলছিস কেন?

~ ওইখানে গেল তো খুলবিই তাই আজ খুলেই দিলাম। যাতে আর ভাইয়ার কষ্ট করতে না হয়।
~ তোকে আমি
~কিছু করতে পারবি না যা সত্যি তাই বলেছি।

আমি কিছু বলবো ওমনি গাড়ি হণ কানে এলো তাহলে কি জ য় চলে এসেছে আমি দ্রুত বারান্দায় এসে উকি দিলাম জয়েল গাড়ি কিন্তু জয়কে কোথায় ও দেখছি না। হঠাৎ সীমা কানে ফোন ধরলো।
~ হ্যালো জানপাখি তারাতারি গাড়িতে চলে আস।
~ আপনি কোথায় আপনাকে থো দেখছি না।

~ সরি আমি তো যাই নি কি করবো বলো এদিকে সব আমাকে সামলে রাখতে হচ্ছে তাই আসতে পারি নি তুমি আর সীমা গাড়িতে চলে আস ড্রাইভার আছে। সাবধান আসবে এখন রাখছি। বাই
আমাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিল। আমি সীমার কাছে ফন এগিয়ে দিলাম।
~ কি বলল রে।
~ আসে নি আমাদের তারাতারি যেতে বলল।

~ ও চল তোকে লিপস্টিক টা দিয়ে দেয় এমনি তো একটু ও সাজলি না।
বলেই সীমা ঠোট লিপস্টিক দিয়ে দিলো লাল আমিঃ এই লাল দিলি কেন কতো গাড়ু হালকা টা দে।
সীমাঃ এটাই সুন্দর লাগছে প্লিজএভাবেই চল। আর বিরক্ত করিস না। এখন তোকে কতো সুন্দর লাগছে দেখতো আয়নার ভাইয়া তো চোখই সরিতে পারবে না।

আয়নার দিকে তাকিয়ে আছি কালো শাড়ি মুখে হালকা মেকাপ চোখে আয়লানা ঠোটে লিপস্টিক চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া সত্যি নিজেকে চিনতে পারছি না। নিজেই নিজের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি।
জয় দের বাড়ির সামনে এসে নামলাম আমি সীমা রোহান। জয় রোহানকে ও ইনভাইট করেছে আমরা রোহান কে ও মাঝ রাস্তায় থেকে নিয়ে এসেছি। গাড়ি থেকে নেমেই হা করে তাকিয়ে আছি বাড়ির দিকে এতো সুন্দর করে ডেকোরেশন করেছে যে চোখ সরানো যাচ্ছে না।

জমকালানো লাইট ফুল দিয়ে গেট সাজানো মানুষের তো অবাই নেই কতো ধরনের পোশাক পরে এসছে সবাই যে বিখ্যাত পরিবারের তাদের হাটা চলা ড্রেস আপ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সীমা তো প্রশংসা করতে করতে কান খাচ্ছে। দেখতে দেখতে দরজা দিয়ে যেই ভিতরে পা রাখবো হঠাৎ কোথায় থেকে দৌড়ে এসে আমার সামনে দাড়িয়ে কেউ হাত বাড়িয়ে দিল আমি নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম তাই তার মুখ দেখার জন্য উপরের দিকে তাকালাম আর আমার জয়ের হাসি ভরা মুখটা চোখে পরলো।

মিষ্টি হাসি দিয়ে আমার দিকে হাত বারিয়ে তাকিয়ে আছে। জয়কে দেখে কয়েক সেকেন্ড থা বলতে পারলাম না কালো ড্রেস আপ পরেছে পুরো জ য়ের গায়ের রঙ একদম ফর্সা এর মধ্যে কালো রঙ টা একেবারে এতো সুন্দর লাগেছে যেন রঙটা এর জন্য তৈরি। আমি হা হ য়ে তাকিয়ে আছি মুখে হাসিটা আর ও সুন্দর লাগছে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ কানের কাছে মুখ নিয়ে জ য় বলতে লাগল……..
~ এভাবে তাকিয়োনা জানেমন আমি তো পাগল হয়ে যাবো। তোমাকে যা লাগছে না দেখেই আমার এইখানে (বুকে দেখিয়ে) ব্যাথা করছে।
আমি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম জ য় আমার কানের কাছে মুখ এনে কথা বলছে ওর নিশ্বাস আমার শরীর শিহরিত করছে। আমি একটু পিছিয়ে গেলাম। ওমনি সীমা বলে উঠল….
~ ভাইয়া আভরা ও কিন্তু আছি আমাদের দিকে একটু নজর দিন।

~ ও হ্যা তাই তো কি করবো বলো আমার নজর তো একজনে মধ্যে সীমা বন্ধ থাকে তাই আর কাউকে চোখে পরে না।
বলেই আমাকে চোখ মারলো যে টুকু অবশিষ্ট ছিলো তাও চলে গেল। এর কি লজ্জা বলতে কিছু নেই দেখছে সীমা খেপাচ্ছে তবুও। সীমা কথা শুনিয়ে রোহানের সাথে নিয়ে ওইদিকে চলে গেল আমাকে জ য়ের কাছে রেখে। জয় আমার হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগল কাছাকাছি আসতে খেয়াল করলাম জয়ের আম্মুকে। উনার সাথে একজন মাঝবয়সী লোক দাড়িয়ে আছে। জয়ের মতো দেখতে অনেক টা আমি সিউর এটাই আন্কেল। আন্টি এমনিতেই অনেক সুন্দর আজ আর বেশি সুন্দর লাগছে জয় কে আমি যে শাড়ি চয়েজ করে দিয়েছিলাম সেটাই পরেছে অপূর্ব লাগছে দেখতে।

আমাকে তাদের সামনে নিয়ে গেল। আমি তো ভয়ে আছি জ য়ের আববু কেমন জানি না আমাকে দেখে কেমন রিয়েক্ট করবে কে জানে আর আন্টি তো ভালো কিন্তু সেদিন ওইভাবে না বলে চলে গেছি কি যে বলবে। ভয়ে ভয়ে তাদের সামনে গিয়ে দাড়ালাম জয়ের সাথে আন্টিকে সালাম করলাম নিচু হয়ে। ভয় লাগছে কিছু বলভে না তো কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে গালে হাত দিয়ে বলতে লাগল….
~ কি রে তুই সেদিন যে তোর শরীর খারাপ ছিলো আমাকে তো বলতে পারতি। কতো খুজলাম তোদের রাগ ও করেছিলাম কিন্তু জয়ের থেকে সব শুনে বুঝলাম এখন শরীর কেমন আছে তোর।
আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি আন্টির কথার মানে আমি কখন অসুস্থ হলাম। কি বলছে এসব কিছু মাথায় ঢুকছে না আমি ঘুরে জয়ের ইকে তাকিয়ে দেখি ওর ভুখে দুষ্টু হাসি সিউর ইনি কিছু বলেছে ভালোইহয়েছে আমি তো ভয়ে ছিলাম। না জানি কি বলে।

~ আববু এই হচ্ছে নিলা তোমার ছেলের হবু বউ। আর নিলা এই হচ্ছে তোমার শশুর আই মিন আমার আববু।
তার সাথে কথা বলার পর জয় আববুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। ওনি কেমন জানি গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ভয়ে ভ য়ে তাকে পায়ে ধরে সালাম করলাম। জয়ের পরিচয়ের করা দেখে আমার চোখ বের হয়ে আসার উপকম এভাবে কেউ পরিচয় করিয়ে দেয় জানা ছিলো না তাও আবার আববুর সাথে।

~ মাশআল্লাহ আমার মেয়ে পছন্দ হয়েছে। তাই তো বলি আমার ছেলৃ কার জন্য এতো পাগল হয়েছে সব সময় খালি তোমার কথা বলে আমার কান খারাপ করে দিয়েছে।
আমি লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। জয়কে এসব বলেছে ছি ছি আমার কথা বলার কি আছে ছি কি লজ্জা লজ্জা মাথা উচু করতে পারছি না।

একটু পর কেক কাটা হলো জয় আমার সামনে কেক ধরে আছে হঠাৎ সেদিন আমার জম্মদিনেদর কথা মনে পরলো। সেদিন ও জয় এভাবে কেক ধরে ছিলো কিন্তু আমার জন্য ছিলো না তাই অন্য কেউ।
~ কি হলো হা করো?
বারবার বলছে তা হা করে একটু মুখে নিলাম। হঠাৎ জুলির কথা ভাবছি আজ তো কোথায় দেখলাম না সে কি আসে নি নাকি। চারপাশে তাকিয়ে খুজতে লাগলাম হঠাৎ কেউ কোমরে হাত দেওয়ায় চমকে তাকালাম।

পর্ব ১৭

কোমরে কারো স্পর্শ পেয়ে চমকে তাকালাম দেখি জয় আমি তাকানোর সাথে সাথে নিজের সাথে মিশিয়ে ধরে রাখে। আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি পাগল হলো নাকি জয় আশে পাশে তাকালাম সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত তবুও জয় এভাবে ধরায় রেগে তাকালাম।
~ কি ব্যাপার এভাবে ধরে আছেন কেন? সবাই কি ভাববে বলেন তো ছারুন।
~ কেউ আমাদের কে খেয়াল করছে না জানপাখি তুমি চুপ করে দাড়িয়ে থাক।

~ আপনি সরে দাড়ান তো আন্টি আন্কেল এখানেই আছে যে কোন সময় দেখতে পারে আপনার কি একটু ও লজ্জা নেই।
বলেই ছুটাছুটি করতে লাগলাম কিন্তু জয় আর ও শক্ত করে ধরে রাখলো আমাকে।

~ ওফ এতো রেগ না রাগলে তোমায় আর ও বেশি সুন্দর লাগে মন চায় একেবারে খেয়ে ফেলি।
~ ছি ছি কি বললেন আপনি আমায় খেয়ে ফেলতে চান।
~ হুম শাড়িতে আমি যতটা ভেবেছিলাম তোমায় তার থেকে ও বেশি সুন্দর লাগছে।

বলেই আমার গালে ফট করে চুমু দিয়ে বসলো আমি তো ৪৪০ ভোল্টেজের শক খেলাম। নরতে ও পারছিনা একদম ফ্রিজ হয়ে দাড়িয়ে আছি। এভাবে যে জয় আমাকে কীস করবে আমার ধারনার বাইরে ছিলো। আশেপাশে তাকালাম কেউ দেখেছে কিনা কে জানে।
দুজনের খুনসুটি চলতে থাকল এদিকে একজন এগুলো দেখছে আর লুচির মতো ফুলছে।

নিলা আশেপাশে সীমাকে খুজছে একটু আগে জয়ের জরুরি কল আসায় কোথায় জানি গেল বলল খুব দরকার সীমার সাথে থাকতে তখন থেকে সীমাকে খুজছে কিন্তু তার পাত্তা ও পাচ্ছে না।
হঠাৎ দেখলো জুলি আসছে ওর দিকে আজ জুলি লং ফরক পরেছে অনেক সুন্দর লাগছে মুখে হাসি নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে আমি জুলিকে দেখে অন্য দিকে যেথে লাগলাম। কিন্তু আর যেতে পারলাম না কেউ হাত টেনে ধরলো তাকিয়ে দেখি জুলি আমি অবাক হলাম আজ ও কি অপমান করবে সবার সামনে তাই কি আটকালে। কিন্তু এতো খুশি কেন হাসি যেন সরছেই না।
হঠাৎ মুখটা মলিন করে ফেলল আর বলল,
~ কোথায় যাচ্ছে নিলা আমাকে দেখি কি সরে যাচ্ছিলে।

~ কই না তো আমি সীমাদের খুজছিলাম তাই।
~ তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে আচ্ছা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
~ জি বলেন।
~ সরি

আমি হা করে তাকিয়ে আছি হঠাৎ সরি বলছে কেন।
~ অবাক হচ্ছো তাই না।

আমি কিছু বলছি না চুপ করে আছি।
~ আই আম সরি নিলা তোমার সাথে অনেক খারাপ বিহেভ করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও তোমার সাথে এই রকম করা উচিত হয় নি আমার তুমি কি আমকে ক্ষমা করতে পারবে না।
আমি চুপ করে জুলির কথা শুনছি আর জুলি না না কথা বলে যাচ্ছে। আমি অবাক চোখে তার কথা শুনে চলেছি মুখ দেখে মনে হচ্ছে সত্যি অনুতপ্ত তাই আমি আর না করলাম না।
~ থ্যাংকস আমি জানতাম তুমি আমাকে ক্ষমা করবে।

আমি বিনিময়ে একটা হাসি গিফট করলাম। ওয়েটারকে ডেকে আমার দিকে জুস এগিয়ে দিলো।
~ না না ঠিক আছে আমি খাবো না আপনি খান।

~ কেন খাবে না তোমাকে তো আর ড্রিংকস দিচ্ছি না জুস দিচ্ছি খাও।
অনেক করে বলায় আর না করতে পারলাম না খেতে লাগলাম। জুলির খুশি আর দেখে কে ও নিলাকে খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে এবার জয় সবার সামনে হেনস্থা হবে।
~ আচ্ছা নিলা তুমি থাক আমার একটা ইমপটেনট কাজ আছে আমি যাই।
~ ওকে।

নিলা জুলির যাওয়া দিকে তাকিয়ে আছে হঠাৎ চোখ গোলা হয়ে আসে। চোখ ডল ডলে আবার তাকায়। কেমন যেন ঘুরান লাগছে সোফায় বসে পরে।
জয় কাজ শেষ করে এসেই নিলাকে খুজতে লাগে অবশেষে দেখে নিলা মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে আছে জ য় ভয় পেয়ে যায় নিলার কি শরীর খারাপ নাকি।
জয় নিলার পাশে গিয়ে নিলাকে উঠে দাড় করায়।

~ নিলা কি হ য়েছে তোমার এভাবে এখানে বসে আছ কেন সীমারা কোথায়।
নিলা কোন কথা বলছে না ড্যাবড্যাবে করে তাকিয়ে আছে। ওর তাকানো আমার কাছে ঠিক লাগছে না।
আমি ওর গালে হাত দিয়ে জিগ্গেস করলাম।

~ কি হলো কথা বলছো না কেন?
~ (হঠাৎ নিলা ওর মুখে থেকে আমার হাত সরিয়ে দিলো তারপর নিজে পা উচু করে আমার গালে দুই হাত চেপে ধরলো। আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। কি করছে কি নিলা) এই তুই ঐতো সুন্দর কেন রে দেখ সব মেয়েরা তোর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

জয়ের তো চোখ বেরিয়ে আসার উপকম নিলা আমাকে তুই করে বলছে আবার সুন্দর ও মাই গড এমন উল্টো পাল্টা কথা নিলা কি করে বলতে পারছে। মুখ দিয়ে কেমন যেন গন্ধ আসছে তার মানে কি নিলা ডিংকস করছে। না না কি ভাবছি নিলা তো ওমন মেয়ে না ও কেন করতে যাবে।

~ নিলা ছারু আমাকে এভাবে সবাই আমাদের দেখলে তুমি লজ্জা পাবে আর এভাবে কথা বলছো কেন কি হয়েছে তোমার।
~ কি হবে আমার কিছু হয় নি। আমার না তোমাকে জরিয়ে ধরতে মন চাইছে ধরি।

বলেই নিলা জ য়কে জরিয়ে ধরে। জয় এবার নিশ্চিত নিলা ভুলে হলেও ও কিছু খেয়েছে কিন্তু এখানে থাকলে তো সবাই না না ওকে রুমে নিয়ে যায়। জোর করে নিলাকে ছারিয়ে উপরে নিজের রুমে এনে দরজা লাগিয়ে দিলো। ওফ বাচা গেল আববু আম্মুর সামনে কিছু হলে তো শেষ।

পেছনে ঘুরে দেখে নিলা লাফিয়ে যাচ্ছে। মুখে হাসি কখনো নিলাকে মন খুলে হাসতে দেখেনি জয় আজ যে কারণে ই হোক না কেন ওর হাসি দেখে জয়ের প্রচুর ভাল লাগছে। জয় দাঁড়িয়ে নিলার পাগলামো দেখছিল হঠাৎ নিলা এসে গলা জরিয়ে ধরে।
~ কি?

~ আমার না খুব ভালো লাগছে।
~ কেন?
~ জানিনা। কিন্তু আমার না খুব আদর পেতে ইচ্ছে হচ্ছে একটু আদর দাও না।
~ তুমি তুমি করে বলছো।
~ দাও না একটু আদর।

~ নিলা ছার তুমি এখন নিজের মধ্যে নেই আর আমি বিয়ের আগে কিছু করতে চাই না।
~ ওফ বিয়ে তো তোমাকে ই করবো একটু আদর করলে কি হবে করো না।
~ জান পাগলামি করো না সরে দাড়াও আমি নিজের কনটোল করতে পারবো না।
~ না আগে আদর দাও নয়তো সরবো না।

জয় এবার রেগে ধমক দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দেয়। জয় চায় না এখন কিছু করে নিলাকে কষ্ট দিতে এখন নিলা নিজের মধ্যে নেই। কিন্তু একটা টেনশন যাচ্ছই না মাথা থেকে নিলা এগুলো খাওয়ার মতো মেয়ে না তাহলে কি করে খেলো। সিসি টিভি ফোটেস দেখতে হবে। হঠাৎ কান্নার আওয়াজ পেয়ে চমকে তাকালো আর দেখলো নিলা বিছানার উপর বসে কান্না করছে আর লাফাচ্ছে।
জয় তারাতারি নিলার কাছে গিয়ে ওকে খাটে বসালো।

~ কি হয়েছে নিলা তুমি কাদছো কেন?
~ তুই আমাকে একটু ও ভালো বাসিস না সর এখানে থেকে তোর সাথে কথা বলব না।

~ কে বলল আমি তোমাকে ভালোবাসি না আমি তো আমার জানপাখি কে অনেক অনেক ভালোবাসি।
~ নাহ মিথ্যে কথা ভালোবাসলে এভাবে ধমক দিতে পারতি।
~ আচ্ছা সরি এই যে কানে ধরছি আর কখনো ধমক দেবো না এবার কান্না থামা ও।
~ না থামাবো না তুই আমায় আদর দিছ নি।

কোন জালায় পরলাম এখন আবার আদর। যে করেই হোক নিলা ঘুম পারাতে হবে নয়তো কাজ হবে না।
~ আচ্ছা আদর দেবো আগে এখানে শান্ত মেয়ের মতো শুয়ে পরো তাহলে।

~ সত্যি।
~ হুম।
নিলা শুয়ে পরে জয় ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগে।
~ এবার চোখ বন্ধ করে রাখ।

~ না তুই চিটিং করছিস আমাকে আদর না দিয়ে ঘুম পারাতে চাইছি।
বলেই উঠে যেতে লাগে জয় জোর করে শুয়ে দিয়ে কপালে একটা চুমু দেয়।
~ এতো দিলাম এবার চোখ বন্ধ করো।
~ না।

~ না কেন?
~ আমার আর চাই।
কোন জালায় পরলাম একে কি করে যে শান্ত করবো। জয় আবার গালে একটা চুমু দিলো এভাবে অনেক ক্ষণ চুমু খেতে লাগল নিলা।
পরদিন।

ঘুমের মাঝেই নিলার মাথা টা ভার হয়ে আছে। ও কোন মতে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে একটা অচেনা রুমে শুয়ে আছে এটা তো জয়ের রুম কিন্তু আমি এখানে কেন অবাক হয়ে আশে পাশে দেখছে গায়ে কালকের শাড়িটাই আছে। ওফ মাথা টা পুরো ব্যাথা হয়ে আছে। কাল রাতের কথা মনে পরলো আমি তো জয়ের বাড়িতে এসেছিলাম।
হঠাৎ দরজা খুলে কেউ ভেতলে প্রবেশ করে।
~ কি ম্যডাম আপনার ঘুম ভেঙে ছে।
~ আমি এখানে কেন?

পর্ব ১৮

গাড়িতে বসে আছি সামনে আমি আর জয় পেছনে সীমা। আমি চুপ করে ভাবছি কি করে কাল ডিংক্ম করলাম ওফ মাথায় আসছে না। আমার কাল রাতে শেষ জুলির সাথে কথা বলছিলাম আর জুস খাচ্ছি লাম এই কথাটাই মনে আছে। তাহলে কি জুলি আমাকে কিন্তু সে তো আমাকে জুস দিচ্ছি লো তাহলে দূর মাথায় কিছু আসছে না।

হঠাৎ হাতে কারো ছোঁয়া পেয়ে তাকিয়ে দেখি জ য় আদিকে তাকিয়ে আছে গাড়ি থামানো পেছনে তাকিয়ে দেখি সীমা নাই। গেল ক ই বাইরে তাকিয়ে দেখি আমরা হস্টেলে চলে এসেছি।
~ কি ভাবছো।
~ কই কিছু না তো।
~ মিথ্যা বলছো সারা রাস্তা নিরব ছিলে কি হয়েছে বলো।

~ আমার অনেক খারাপ লাগছে জয় সবাই কি ভাববে ছি ছি। এভাবে আপনাদের বাসা থাকলাম যখনই যাই কোন না কোন গন্ডগোল হয় ভালো লাগে না।
~ এই সামান্য বিষয়ে তুমি কষ্ট পাচ্ছে। ওফ নিলা তোমার মুড এমন থাকলে আমার কতো খারাপ লাগে জানো তুমি প্লিজ হাসো কেউ কিছু ভাববে না কারণে কেউ তো জানেই না তুমি ডিংকস করেছো।
বলেই জয় আমাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।
~ প্লিজ কষ্ট পেয় না।

~ বিশ্বাস করেন আমি ইচ্ছে করে ওইসব খাই নি কি করে যে হলো।
~ আমি তোমাকে বিশ্বাস করি আর জানি ও তুমি এসব করবে না কিন্তু যে করেছে তাকে তো আমি ছারবো না। যাও এবার।
বলেই জয় আমার কপালে চুমু দিলো।
জয় সোজা জুলি দের বাসায় আসে।

জুলি বসে টিভি দেখছিলো হঠাৎ জয় কে দেখে অবাক হয় সচারচর জয় এখানে আসে না।
~ হে জয় তুমি এখানে কোন দরকার নাকি।
জয় কিছু না বলে ঠাস করে চর বসিয়ে দেয় জুলির গালে জুলি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে জয়ের দিকে জ য়ের চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে এতো রাগে কেন জয় কি জেনে গেছে কথাটা।
~ জয় তুমি আমায় মারলে।

~ হুম মারলাম তোর সাহস কি করে হলো নিলাকে ডিংক্ম দেওয়ায়। তুই এমন করছিস কেন খি ক্ষতি করেছে নিলা তোর ওর সাথে কিসের শএু তা তোর বল।
~ কিসের আমি তোকে ভালোবাসি শুধুমাত্র ওর জন্য তুই আমাকে ভালোবাসিস না আমি তাই ওকে সহ্য করতে পারিনা ওকে দেখলেই আমার শরীর জলে।

~ হুয়াট
~ হুম আমি ঠিকই বলছি সব সময় তোর আশেপাশে থেকেছি তোর ভালোবাসার জন্য। কতো ছেলে আমার পেছনে পরে আছে কিন্তু কাউকে আমার ভালো লাগে না সেই কবে থেকে শুধু তোকেই ভালোবেসে আসছি তুই বুঝিজ কীনা জানি না। কিন্তু হঠাৎ এই মেয়ে আসাল পর থেকে তুই ওর জন্য সব সময় পাগলামি করছ যা আমার সহ্য হয় না আর এখন তো জানলাম ভালো ও বাসিস আমি কি করে থাকবো বল কি করে ওকে সহ্য করবো তুই পারবি তোর ভালোবাসা মানুষকে অন্য কারো সাথে দেখতে।

জয় কিছু বলছে না ও কখনো ভাবে নি যে জুলি ওকে ভালোবাসে। ও হা করে ওর কথা শুনে যাচ্ছে।
~ কি হলো কথা বলছিস না কেন তোকে কখনো তুমি ছাড়া কথা বলি নি সব সময় তোর পছন্দের মতো চলতে চেয়ে সব ছেলেদের না করেছি তোর পেছনে থেকেছি তাও বুঝিস নি আমি তোকে ভালোবাসি বল কেন নাকি বুঝে ও না বুঝার ভান করেছিস।

ওই মেয়ের প্রতি তোকে দূর্বল দেখে কতো কষ্ট পেয়েছি জানিস জানিস না কি করে জানবি কতো কেদেছি ওর সাথে দেখে তোকে। কিন্তু তুই তো প্রেমে পরে সবাই কে ভুলে গেছিস। ফ্রেন্ড সার্রকেলের সবাই জানতো আমি তোকে ভালোবাসি কিন্তু তুই জানিস না।

~ এসব কি বলছিস আমি তোকে কখনো ফ্রেন্ড আর বোন ছাড়া অন্য কিছু ভাবি নি।
~ কেন ভাবলি না বল আমি কি দেখতে খারাপ আমাকে ভালোবাসা যায় না বল না। আমি তোকে ছাড়া বাচতে পারবো না ওর সাথে দেখলে মন চায় ওই গাইয়া মেয়েকে মেরে ফেলি। তাই তো আমি এসব করেছি যাতে ওকে তুই তোর জীবনের থেকে সরিয়ে দিচ্ছ প্লিজ ওই গাইয়া মেয়েকে ছেড়ে দে ও তোর যোগ্য না।

~ জুলি (চিৎকার করে) তুই আমাকে ভালো বাসিস কি না সেটা তোর ব্যাপার আই ডোন্ট কেয়ার। কিন্তু নিলা আমার ভালোবাসা আমার সব টুকু জোরে ওর বসবাস ওর নামে আর একটা বাজে কথা বললে আমার থেকে খারাপ কিন্তু আর কেউ হবে না।

~ কেন বলল না ওর মধ্যে কি আছে যা আমার মধ্যে নেই আমি ওর থেকে যথেষ্ট সুন্দরী ইস্মাট। আর ও গাইয়া আনস্মাট ওকে জাস্ট তোর সাথে যায় না।
~ তুই আর কোনো কথা বলবি না। আর যেন তোকে নিলার ধারের কাছে না দেখি বাই।
বলেই জয় বেরিয়ে এলো রাগে শরীর কাপছে ওর জুলির কথা শুনে।

পরদিন সকালে নিলা ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য রেডি হবার পরে বেরিয়ে যাবে হঠাৎ সীমার ফোনে কল আসে।
~ এই দ তোর এলাকার নাম্বার নিশ্চয়ই আন্টি।
নিলা ফোন কানে নিলো।

এমন একটা খবর শুনবে যা নিলার পুরো পৃথিবীর উল্টো পাল্টা করে দিবে।
পাচঁ দিন হয়েছে নিলা বাড়ি এসেছে। ক্ষেতের পাশে বসে আছে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরে যাচ্ছে। না না কথা ভেবে চলেছে হঠাৎ পেছনে থেকে কেউ বলে উঠল…..
~ এক্মকিউজ মি?

নিলা চমকে পেছনে তাকাল দেখলো একটা শ্যামল বর্ণের ছেলে এমনিতে অনেক ইস্মাট ফুল ড্রেস আপ আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
~ জি বলুন?

পর্ব ১৯

আমি উঠে দাড়ালাম ছেলেটিকে দেখে।
~ অনেক ক্ষণ ধরেই দেখছি এখানে এভাবে বসে আছেন তাই ভাবলাম একটু কথা বলি।
আমি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছি এই ছেলের প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে বসে থাকতে গেলে ও তার পারমিশন নিতে হবে এমনিতেই ভালো লাগছে না আবার এর কথা তবুও ও শান্ত দৃষ্টি তে তাকিয়ে রইল আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পরে এ আবার কে।

~ এই যে মিস কি ভাবছেন এতো।
হঠাৎ কথায় ঘোর কাটলো, জি
~ আপনার বাড়ি কি এখানেই আসলে আপনাকে চিনিনা তো তাই।

আমি আর ও অবাক হয়ে তাকালাম ছেলেটির কথা বলে কী আমার এলাকায় আমাকে ই বলছে এখানেই কি না।
~ জি
~ ওহ আগে দেখেছি বলে মনে হয় না আপনি কি বাড়ি থাকেন না নাকি।
~ আমি ও তো আপনাকে আগে দেখি নি। আপনার বাড়ি কই।

~ আমার বাড়ি আমি এখানকার চেয়ারম্যানের ছেলে একমাস হয়েছে বাড়ি এসেছি। আপনার
এবার বুঝলাম এ তাহলে চেয়ারম্যানের শহরে ছেলে শুনেছি লাম কিন্তু কখনো দেখিনি আজই দেখলাম। আগে কখনো তো আসে নি বাড়িতে তার নানা বাড়ি শহরে সেও সেখানেই থাকতো।
~ আপনার বাড়ি কোন পাশে।
আমি হাতে ইশারায় দেখিয়ে দিলাম।

~ ওই দিকে তো আমার বাড়ি। কিন্তু আপনাকে তো আগে দেখি নি।
~ আমি ঢাকা ছিলাম এতো দিন।
~ ওহ তাই তো তোমার বাবার নাম টা কি?

এবার আর কিছু বললাম না বেশি বেশি এতো কিছু জেনে কি করবে বাবার কথা বলতে গাল বেয়ে দু ফোটা জল বেয়ে পরলো আর না দাঁড়িয়ে সামনের দিকে হাটতে লাগলাম। ওই লোকটি অবাক হয়ে ভাবছে কি হয়েছে আমার নিজে ও দৌড়ে আমার পাশে হাটতে হাটতে বলল…..
~ এনি প্রবলেম আপনি চলে এলেন যে। আর কাদছেন কেন?

~ দয়া করে আমার পিছু ছারেন আমার ভালো লাগছে না।
~ কিন্তু কেন বাবার কথা বলা থে কাদছেন কেন?
আমি রাগি চোখে ওনার দিকে তাকালাম।

~ ওকে ওকে কিছু বলছি না। আপনার নামটাকি জানা যাবে।
~ প্লিজ এবার অনতত বলেন।
~ নিলা
উনি হয়তো আর ও কিছু বলতো আমি তারাতারি বাড়ি চলে এসেছি।

রাতে রুমে শুয়ে আছি আর চোখের জল ফেলছি বাবা আমাদের এভাবে ছেরে চলে যাবে সত্যি ভাবি নি। সেদিন আম্মা ফোনে একথায় বলে বাড়ি এসে বাবা লাশ দেখতে হয় এমন কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছিল যে আমার ফুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। জানতে পারি বাবার কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলো কিন্তু আমি টেনশন করবো বলে আম্মা আমাকে কিছু জানায় নি। আম্মা নাকি বলতে চেয়েছিল কিন্তু বাবা বলেছে পরার ক্ষতি হবে আমি ঠিকে হয়ে যাব অযথা ওকে চিন্তায় ফেলার কি দরকার।

আজ যদি আমাকে সব জানাতো তালে অন্তত বাবার সাথে শেষ বারের মতো একটা কথা বলতে পারতাম কিন্তু আমার পুরা কপাল তা কিছু ই হলো না। বাবা তুমি কেন আমাদের দুজনকে এভাবে একা ফেলে চলে গেলে এখন কে তোমার এই মেয়েকে দেখে রাখবে কে ভালোবাসবে।
পরদিন নদীর পারে বসে আছি হঠাৎ কেউ পাশে এসে বসল তাকিয়ে দেখি ওই ছেলে টা। আমি তাকাতেই হাসি মুখ করে তাকাল।
~ হাই কেমন আছ নিলা?

আমি অন্য দিকে ফিরে তাকালাম।
~ হে কিছু বলো আর আই আম সরি কাল তোমার কাছে বাবার নাম জিগ্গেস করার জন্য।
~ ইটস ওকে।
~ আমার নাম তো তুমি জান না তাই না। আমার নাম পাবেল।

আমি এক ধ্যানের পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছি ছোট পুলাপান পুকুরের গোসল করছে হাস আছে মেয়েরা ও আছে আর আমার পাশে বসে পাবেল একা নানা কথা বলে চলেছে আমি তার কথায় কান ও দিচ্ছি না। জয়ের কথা মনে পরেছ খুব কতো দিন হয়ে গেল যোগাযোগ নেই বাবা মারা যাবার পর থেকে এখানেই আছি কিছু বাবার রেখে যাওয়া টাকা ছিল যা দিয়ে কিছু মানুষ খাওয়ানো হয়েছে। আর যা আছে আম্মা বলে দিয়েছে এগুলো দিয়ে আমাকে বিয়ে দেবে। আর নাকি পরাবে না কথাটা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরেছিলো কিন্তু কি বলবো আমি আম্মা কে বলেছিলাম আমি বিয়ে করবো না পড়ালেখা করবো কিন্তু আম্মা বলে… দরকার নেই আর পরার কি হবে এত পরে… কবে দেখা সবে জয়ের সাথে জানা নেই।
পাশে পাবেল কথা বলেই চলেছে আমি উঠে বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম।
~ একি চলে যাচ্ছ কেন?

আমি অবাক চোখে তাকালাম একটু আগেই তো আপনি করে বলছিল আর এখন তুমি বলছে। ছেলের মতি গতি ভালো না আর না দাড়িয়ে চলে গেলাম।
দুইদিন আর বাড়ি থেকে বের হলাম না। সব সময় পাবেল ছেলে টা পেছনে লেগে থাকে। ক্ষেতে থেকে শাক তুলে বাড়ি যাচ্ছি হঠাৎ সামনে পাবেল কে দেখলাম।
~ হে নিলা তুমি কোথায় থাক দেখি না যে।

আমি তাকে ইগনোর করে চলে আসতে নিলে সে আমার সামনে এসে বলে।
~ কি হলো কথা বলছো না যে যানো তোমায় কতো খুজেছি কিন্তু পায় নি।
~ কেন খুজেছেন?

~ নিলা আমি ভঙিতা পছন্দ না সরাসরি বলছি। আই লাভ ইউ
আমি এটা শুনে নিরবে তার দিকে তাকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে অসতে নিলে আমার হাত ধরে ফেলে।
~ কিহলো আমার উওর না দিয়ে যাচ্ছ যে।

আমি তো রেগে তাকালাম এভাবে হাত ধরায়।
~ হাত ছারুন
~ আগে উওর দাও।
এবার আর রাগ কন্টোল করতে পারলাম না ঠাস করে চর বসিয়ে দিলাম ওনার গালে ওনি আগুন চোখে তাকালো আমি জানি সে অনেক রেগে গেছে আর না দাড়িয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে এলাম।

পরদিন
সকালে হঠাৎ আম্মা এসে আমাকে শাড়ি পরতে বলল আমি জিগ্গেস করলে ধমক দিয়ে চলে যায়। আমি কিছু বুঝতে না পেরে শারি রেখে ওই ভাবেই বসে থাকি একটু পর মা এসে আমাক বকে শাড়ি পরিয়ে মাথায় ইয়ি বড় ঘুমটা দিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। এখানে এসে দেখি চেয়ারম্যান সাহেব বসে আছে তার সাথে তার বউ ও আছে আমাকে দেখে কিছু কথা জিগ্গেস করলো কি হচ্ছে কিছু আমার মাথায় ঢুকছে না।
রাতে মা খুশি মনে আমার সাভনে এসে বলতে লাগে।

~ ওরা তোকে পছন্দ করেছে রে নিলু দুইদিন পরেই বিয়ে ঠিক করলো এতো ভালো একটা ছেলের হাতে তোকে তুলে দিতে পারবো আমি তো কল্পনা না তে ও ভাবি নি।
মার কথা শুনে আমার পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেল ভাকে জিগ্গেস করে জানতে পারলাম চেয়ারম্যান সাহেব তার ছেলের জন্য আমাকে দেখতে এসেছিল। আর দুইদিন পর বিয়ে?

পর্ব ২০

রাতে খাটে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি।
জীবনটা কি হয়ে গেল বাবার তুমি চলে গেলে আমি জীবন থেকে সমস্ত সুখ নিয়ে গেলে। এভাবে মা বিয়েতে রাজি হবে ভাবি নি কতো না করলাম কিন্তু তায এককথা এতো ভালো পাএ আর পাওয়া যাবে না একে হাত ছাড়া করি কি করে। আমার সকল ইচ্ছে অনিচ্ছে অগ্যর্য করে বিয়েতে মত দিয়েছে মা।

লেখাপড়া কথা বললে বলেছে তারা নাকি পরাবে কিন্তু তাতে আমার কী হবে আমার যে অন্য জায়গায় প্রবলেম মাকে কি করে বলবো।
যদি জয় না থাকতো আমার জীবনের নিশ্চয়ই আমি রাজি থাকতাম কিন্তু এখন যে আমি অন্য একজন কে ভালো বাসি কি করে রাজি হবো। জয় যে আমার অন্তরে মিশে আছে কি করে বলবো ওকে ছাড়া অন্য কাউকে মানা জাস্ট অসম্ভব কি মাকে এই কথা কি করে বলবো।

কিছু বুঝতে পারছি না ওই দিকে জ য় নিশ্চয়ই আমার জন্য পাগল হয়ে গেছে ওতো জানে ও না ওর নিলা কতো বড় বিপদে পরেছে কি করে খবর পৌঁছে দিবো। আর ভাবতে পারছি না মাথা ফেটে আসছে মনে চাচ্ছে চিৎকার করে কাদি। বাবা তুমি চলে গেলে এখন জয় কে ও যদি হারাতে হয় সত্যি আমার বেচে থাকাটা অসম্ভব হয়ে দাড়াবে। যে ভাবেই হোক বিয়েটা ভাঙতে হবে কিন্তু কি করে ভাঙবো ওই পাবেল ছেলেটাকে চর মেরেছি বলে জেদ করে বিয়ে করছে না তো। না যে করে ই হোক এই বিয়ে ভাঙতেই হবে কিন্তু মা তো আমার কোন কথায় শুনে না আমাকে পাবেল এর সাথেকথা বলতে হবে তাকে ওই দিনের জন্য ক্ষমা চাইবো আর বিয়ে টা ভাঙতে।
অর্ধেক রাত পযর্ন্ত এই গুলো ভেবেই কাটিয়ে দিলাম তারপর কখন ঘুমিয়ে ছি জানি না।

বিকেলে,
পুকুর ঘাটে বসে আছি। আজ পাবেলের জন্য বসে আছি যদি আসে তো কথা বলতে হবে। কিন্তু আসার নাম নেই তো সময় ধরে বসে আছি যেন তর সইছে না যে করে হোক তাকে আমার সব বলত হবে হয়তো সব জানলে আমাকে হেল্প করবে। অনেক আসা নিয়ে বসে আছি। আমার আসার জল ডেলে দিলো সে আসেনি ব্যথ হয়ে কষ্ট ভাখা মুখে করে বাড়ি ফিরে এলাম আর একটা দিন তাই না কিছু তেই না কি করবো আমি।

র্নিঘুম আরেকটা রাত কাটালাম আজকে আমি চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে গেলাম যদি আশেপাশে দেখি আমাকে তার সাথে কথা বলতেই হবে। চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে বড় মাঠ পাশে একটা পেয়ারা গাছে আমি সেখানেই দাড়িয়ে আছি যদি চেয়ারম্যান বাড়ির কেউ দেখে সর্বনাশ হবে। হঠাৎ পাবেল কে দেখলাম আমি দেখেই তাকে ডাক দিলাম। আমাকে দেখে ভূত দেখার মতো করে তাকিয়ে আছে।
~ আপনার সাথে আমার জরুরি কথা ছিলো প্লিজ আসেন একটু।
~ কি কথা যে একেবারে বাড়ি চলে এসেছো। একদিন পর তো আসবেই আজই এসে গেছো।
মুখে শয়তানি হাসি দিয়ে কথা গুলো বলল।

~ প্লিজ
~ ওকে
পুকুর পারে এসে থামলাম।
~ বলো কি বলবে।
~ প্লিজ বিয়েটা ভেঙে দিন।

~ হুয়াট
~ দয়া করে আমার কথাটা রাখুন আপনি যদি ওই দিন চর মারার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন তাহলে প্লিজ আমার জীবন টা এভাবে নষ্ট করবেন না। চাইলে আপনি আমাকে চর মারেন আমি কিছু বলবো না তবুও বিয়েটা বন্ধ কররুন।

~ অসম্ভব বিয়ে ভাঙবো না বিয়ে তো হবেই।
~ দয়া করুন আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। এই বিয়ে হলে আপনি ও সুখী হবেন না আমি ও না। তাই বিয়েটা আর এগিয়ে নিয়ে যেয়েন না।
~ ভালোবাসেন ভালো কিন্তু বিয়ের পর আমাকে বাসবে সমস্যা নাই।

আমি অবাক হয়ে কথা শুনছি যা বলি কিছু না কিছু বলে কাটিয়ে নেয় সে যে জেদের বসে বিয়ে করছে সিউর কিন্তু তার জেদে যে আমার সব শেষ হয়ে যাবে।
আজ গায়ে হলুদ আমি খাটের কোনায় বসে চোখের জাল ফেলছি। শত চেষ্টা করে ও বিএ ভাঙতে পারি নি। এখন আমার মরে যেতে মন চাইছে। খাটে শাড়ি গয়না রেখে গেছে মা আমার কিছু করতে মন চাইছে না যদি সব শেষ করতে পারতাম বার বার জয়ের মুখেরহাসি টা মনে পরছে কি করে থাকবে জয় না কিছু তেই থাকতে পারবে না। মা এসে বকে গেল তারাতারি রেডি হতে বলছে।

হঠাৎ চিৎকার করে রুমে ঢুকে এলো কেউ আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমার সাভনে ওকে দেখবো ভাবি নি সব কষ্ট ভুলে জরিয়ে ধরে হাওমাও করে কেদে দিলাম। সাথে রাগ অভিমান তো আছেই।
~ তুই আমি তো ভাবতেই পারছি না আমার সামনে তুই।
আমার হাতে চিমটি কেটে।
~ এবার বিশ্বাস হচ্ছে তো।
~ হুম।

পর্ব ২১

এতো দিন পর পুরোনো সেই মানুষকে দেখে খুশি হয়ে গেলাম অনেক। কতো দিন পর দেখা হলো আগে একটা মুহূর্তে ও যাকে ছাড়া আমার চলতো না যখন পাশে কেউ ছিলো না কলেজে একা একটা মেয়ে যেতো যে আনস্মাট বলে কোন ফ্রেন্ড ছিলো না। সবাই যাকে হে ও করে দূরে ঠেলে দিত কারণ সে ছিলো গরীব হিথে হাজার টাকা ছিলো না দামি ড্রেস ছিলো না। তখন বন্ধুতের হাত বারিয়ে দিয়েছিল নুপুর। সব সময় একসাথে থেকেছি আজ তাকে দেখে প্রচুর খুশি হয়েছি।

~ তুই
~ হুম কি ভেবেছিলি আমাকে রেখেই বিয়ে করে ফেলবি বলেছিলাম না যেখানেই থাকি বিয়ের দিন ঠিক চলে আসবো।
আমি হা করে তাকিয়ে আছি সত্যি সময় চলে গেছে কিন্তু নুপুর একটু ও বদলায় নি।
~ তুই জানলি কি করে এসব।

~ জানতে হয় তুই তো আমার খুজ ও রাখিস না ভুলেই গেছিস। কিন্তু আমি এতো সহজে কাউকে ভুলি না আর তোকে তো প্রশ্নই উঠে না।
~ ধন্যবাদ।
আমার মাথা মেরে দিব কিন্তু একটা ধন্যবাদ কি? আমি তোর ফ্রেন্ড না নাকি এখন বলবি ফ্রেন্ড না।
~ সরি।

বলেই ওকে জরিয়ে ধরলাম। দুজন অনেক গল্প করতে লাগলাম।
~ কি হলো মুখটা এমন করে আছিস কেন বিয়ের কনে?
~ কি হলো কথা বলছিস না কেন আমাকে বল আর বিয়ের মধ্যে এতো মুখ গোমরা করে রাখার কি আছে। আন্কেলের জন্য খারাপ লাগছে বুঝি কষ্ট পাস না সবাই তো আর সারা জীবন বেচে থাকেনা তাই না।
~ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে নুপু।

~ কষ্ট পাস না। আর কি রে তুই এখন ও রেডি হস নি কেন? তারাতারি চল রেডি হবি আর আমাকে দেখ কতো সেজে এসেছি কনে সাজে নাই আর আমি কিনা। চল চল আগে রেডি করে দিবো তোকে তারপর বাকি কথা সে আগের মতোই আছিস এখন কিছু শিখলি না।
নুপুর আমাকে জোর করে রেডি করিয়ে দিতে লাগল। আমি ওকে সব বলবো যে আমি বিয়েতে রাজি না সিউর ওই আমার জন্য কিছু করতে পারবে এ তো আমার কথায় শুনছে না।
~ নুপু আমার তোর সাথে জরুরি কথা আছে।

~ সব কথা পরে আগে সাজিয়ে দিয়ে নওই
~ প্লিজ খুব দরকার আগে শুনে নে প্লিজ আমার আর ভালো লাগছে না। তুই আমাকে হেল্প কর।
~ মানে কি বলছি।

~ আগে শুন
~ এই চুপ পরে শুনি তুই তো জানিস সাজানোর সময় কথা বলল আমি কতো রেগে যাই তা মুখ ওফ রাখ নরাচরা ও।
কি আর করবো চুপ করে আছি নুপুর সত্যি রেগে যাই ও যেহেতু বলেছে এখন শুনবে না। শত বলে ও শুনানো যাবে না তাইই কাজ শেষ করা টাই ভালো।
~ ওফ শেষ এবার আয়নার মধ্যে তাকিয়ে দেখতো চিনতে পারিস কিনা একে।

আমি আয়নার দিকে তাকালাম বরাবরে মতোই সুন্দর হয়েছে নুপুর আমাকে হালকা করে সাজিয়ে দিয়েছে দেখতে ও সুন্দর লাগছে। নিজেই নিজের দিকে তাকিয়ে আছি হা করে।
~ এবার তো আমার কথা গুলো শুনবি।
~ হুম বল কি কথা যা বলার জন্য ছটফট করছিস।

~ প্লিজ একটা হেল্প কর আমাকে খুব
আর বলতে পারলাম না পেছনে থেকে মা বলে উঠল,
~ কি রে রেডি করতে পারলি আর নুপুর তুমি এখন এখানে কেন যাও বরকে হলুদ দিয়ে এসো।
~ ওকে আন্টি। এই আমি যাচ্ছি হ্যা পরে তোর কথা শুনি ওকে।

বলেই নুপুর চলে গেল আর আমি হা হয়ে খেলাম। নুপুরের তো ফোন আছে একবার যদি জ য়কে ফোন দিয়ে জানাতে পারতাম।
কিন্তু কিছু তো বলতেই পারলাম না মা আসার আর সময় পেল না কি করে কি করবো আমি। বিয়ে হয়ে যাবে না না কিছু তেই না এ বিয়ে হলে জয়কে আমি সারা জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবো আর আমি জয়কে ছাড়া কিভাবে থাকবো থাকতে পারবো না।

আধা ঘন্টা পর মা এসে আমাকে আমাকে বাইরে নিয়ে এলো চেয়ারম্যান বাড়ির থেকে সবাই এসে পরেছে। কিন্তু আসে পাশে কোথায় ও নুপুর কে দেখছি না গেল কোথায় মা আমাকে ইস্টেজে বসালো সবাই একে একে এসে হলুদ দিয়ে যাচ্ছে আর আমার চোখ দিয়ে পানি পরছে।
নুপুর হঠাৎ কোথায় ওদাও হয়ে গেল ও তো আমাকে হলুদ দিতে ও এলো না।

আসে পাশে ওকে খুজে যাচ্ছি নাই কোথায় ও।
হলুদ শেষে আমি রুমে চলে এলাম শেষ আসা নুপুর ছিলো হঠাৎ কোথায় গেল আল্লাহ জানে। রুমে এসে দেখি নুপুর খাটের কোনায় বসে আছে।
~ এই তুই এখানে আমি কখন থেকে তোকে খুজছি জানিস।

বলেই ওর দিকে খেয়াল করে দেখি ওর চোখে পানি আমাকে দেখেই চোখের পানি ভুছে নিলো আড়াল করে কিন্তু আমার চোখে তা ধরা পরেছে।
~ কি হয়েছে কাদছিস কেন?
~ ক ই কিছু না তো।

~ মিথ্যে বলবি না আমি নিজের চোখে দেখেছি তোর চোখে পানি তুই কাদছিলি। কিন্তু কেন বল আমাকে?
~ নাহ কি দেখতে কি দেখেছিস।
~ আমি ঠিক দেখেছি নুপু। আড়াল করে লাভ নেই বল আমাকে কেউ কিছু বলেছে তোকে।
~ নাহ কে কি বলবে।

~ তাহলে আমাকে হলুদ দিতে গেলি না কেন
অনেক বলে ও জানতে পারলাম না। নুপুর অনেক চাপা স্বভাবের যেটা বলতে মন চাই না বলবেই না।
ওর মন খারাপ দেখে আর কিছু বললাম না।

রাতে শুয়ে আছি আমার চোখে ঘুম নেই। পাশে নুপুর আছে আর না পেরে উঠে বসলাম।
~ কি হয়েছে বসে পরলি যে।
~ আর পারছি না তোর ফোনটা দে না একটু।
~ কি বলছিস আমি তো কিছু বঝতে পারছি না।

~ ফোনটা আগে দে।
নুপুর ওর ফোন আমার দিকে এগিয়ে দিলো। খুশি ভনে ফোন হাতে নিলাম। কিন্তু বিপতি ঘটলো নাম্বার নিয়ে সেটা কোথায় পাবো।
~ কি হলো ফোন নিয়ে বসে আছিস কেন কাকে ফোন দিবি দে।
~ নাম্বার টা তো মনে নেই।

~ হুয়াট তাহলে আর কি দে আমার ফোন।
~ নাহ আমার তো ফোন দিতেই হবে যে করেই হোক এটা আমার জীবনের প্রশ্ন ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
~ মানে।

নুপুর কে সব বললাম। ও তো অবাক হ য়ে তাকিয়ে আছে।
~ রিয়েলি
~ হুম কিছু কর দোস্ত।
~ অবশেষে তুই কাউকে ভালোবাসলি। এই নোংরা ছেলের থেকে বাচলি।
~ কি
~ কিছু না এই তোকে কখন জয় নাম্বার লিখে দেয় নি।

আমি মনে করতে লাগলাম হঠাৎ মনে পরলো সীমা একবার লিখে দিয়েছিল খাতায়।
উঠে ব্যাগ থেকে খাতা বের করে খুজতে লাগলাম। পাচ্ছি না বারবার আল্লাহ কে ডাকছি প্লিজ পায়য়ে দাও অবশেষে পেলাম। তারাতারি নাম্বার উঠিয়ে কল দিলাম। বুকে টিপটিপ করছে ফোনে যত বার শব্দ হচ্ছে আমার হার্টবিট বেরে যাচ্ছে অপেক্ষা যেন আর সইছে না এতো দিন পর জ য়ের কণ্ঠ শুনবো খুশি লাগছে। পু পু করেই চলেছে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।
~ কি রে রিসিভ করেছে।

~ না
কিন্তু জয় ফোন রিসিভ করছে না একে একে কয়েকবার দিলাম কিন্তু ফলাফল শূন্য সে রিসিভ করছে না।
~ ও ফোন ধরছে না নুপু এখন কি হবে।
~ একটা মেসেজ করে রাখ হয়তো বিজি আছে।

ওর কথা শুনে মেসেজ করে রাখলাম।
সারারাত ফোন নিজের কিছে রাখলাম এই বুঝি কল দিবে কিন্তু কোন কল আসলো না। পরদিন সকালে নুপুর উঠে রেডি হএ লাগল হনতদনতহয়ে
~ কি রে ব্যাগ গুচ্ছা ছিস কেন

~ নিলু আমাকে এখন ই যেতে হবে আম্মুর পায়ে গরম পানি পরে গেছে একটু আগে ফোন দিয়েছিল।
~ যাসসনা প্লিজ তুই গেলে আমি বিয়ে আটকাবো কি করে।
~ মেসেজ করে ছিস ঠিক সময় চলে আসবে দেখিস। আর যদি ফোন দেয় আমি ফলে দেবো সব। টেনশন নিস না।

ও বললে ও আমি মানতে পারছি না। ও চলে গেল।
বউ সেজে বসে আছি রুমে জ য় তো এলো না আর কখন আসবে সব শেষ হ য়ে গেল চোখের পানি বাধা মানছে না। মা এসে বাইরে নিয়ে গেল পাবেলের দিকে আগুন চোখে তাকালাম সে সব জেনে আমার জীবন টা নষ্ট করে দিল।

কাজি সাহেব এসে আমাকে কবুল বলতে বলছে। আমি কিছু তেই বলবো না ভেবেই নিয়েছি চুপ করে বসে আছি। মা সবাই কবুল বলতে বলছে আমি শুধু কেদেই চলেছি হঠাৎ মা এসে আমার পাশে বসে আমার হাত নিজের মাথায় রাখে আর বলে, এখন কবুল না বললে আমার ভরা মুখ দেখবি।
ছলছল চোখে মার দিকে তাকিয়ে আছি ভার জন্য হলে ও আমাকে বলতে হবে সব শেষ জ য় কে হারি য়ে ফেললাম বাবা তুমি তোমার সাথে তোমার মেয়ের জীবনের সুখ নিয়ে গেছ আজ কেউ আমার গুরুত্ব দিচ্ছে না।
~ ক

পর্ব ২২

কি থেকে কি হয়ে গেল সব আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে। আমি থ মেরে বসে আছি। মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরে চলেছে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি গুটগুটে অন্ধকার ঠান্ডা বাতাস বইছে কেউ আমাকে দুইহাতে বন্ধনে আবন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু আমার তার দিকে খেয়াল নেই আমি তো এভাবে কিছু চাইনি না কোন মিথ্যে বলতে চেয়েছি মা তো আমার মুখ দেখতে চায় নি ভালোবাসি বলে কি খুব বড় অন্যায় করে ফেলেছি হয়োয় করেছি নয়তো কেন।

আর ভাবতে পারছি না ঢুকরে কেদে উঠলাম। কান্না শব্দ পেয়ে আমাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো জ য় তার দুইহাত আমার গালে রেখে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলতে লাগলো।
~ প্লিজ কেদো না তোমার কান্না আমি সহ্য করতে পারি না জানো তো।

~ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জয়। মা আমার মুখ দেখতে চায় না আমি নাকি কলঙ্কিনী তুমি বলো আমি কি করেছি।
জয় নিলা কে বুকে জরিয়ে নিলো।

~ আমার জন্য এসব হলো তাই না নিলা আমি সত্যি তোমার আম্মু সাথে তোমাকে আলাদা করতে চাইনি কিন্তু বিয়ে ভাঙার এর থেকে ভালো আর কিছু মাথায় ছিলোনা। কিভাবে কি করবো ভেবে ভেবে পাগল হয়ে যাচ্ছি লাম কি বলা উচিত আমি এতো ভাবি না শুধু তোমার বিয়েটা আটতে চেয়েছিলাম।
জয় নানা কথা বলেই চলেছে কিন্তু নিলা কিছু বলছে না জ য়কে জাপটে ধরে বুকের মাথা রেখে কেদেই চলেছে। আর জয় তাকে থামানো জন্য চেষ্টা করছে।

কিছুক্ষণ আগে
নিলা কবুল বলবে হঠাৎ জয়ের চিৎকার কানে আসে। নিলা মাথা উচু করে হনতধনত হয়ে উপরে হয়ে সামনে তাকায় জয় দাঁড়িয়ে আছে সাথে জয়ে ফ্রেন্ডরা ও আছে সাথে সীমা।
জয়কে দেখেই আতকে উঠে নিলা।
জয়কে দেখে চোখে নিচে কালি পরে গেছে যেন কতো রাত ঘুমায় নি, চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে হাতে ব্যান্ডেজ করা পা খুরিয়ে হাটছে। কি অবস্থা হয়েছে দেখে কেদে উঠে নিলা। সীমা দৌড়ে এসে নিলাকে জরিয়ে ধরে।

~ নিলা তুই ঠিক আছিস তো আর এসব কি হ্যা তুই কি করে বিয়ে করতে রাজি হলি জানিস না জ য় ভাইয়া কে দেখ কি অবস্থা করেছে নিজের।
জয়কে দেখিয়ে বলল হঠাৎ পাশে তাকিয়ে দেখি মা কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে।

মা এসে আমাকে আবার বসিয়ে দিলো।
~ কি হচ্ছে নিলু তুই দাড়িয়ে আছিস কেন বিয়ে শেষ কর আগে পরে ফ্রেন্ড দের সাথে কথা বলিস।
~ মা আমার কথা শুন।

~ কোন কথা না আগে কবুল বল বিয়ে শেষ কর।
আমি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছি মার দিকে সীমা অবাক হয়ে আছে মা সীমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল। কাজি সাহেব কবুল বলতে বলছে আমি একবার জয়ের দিকে তাকালাম ওর চোখে রাগ ফুটে উঠেছে উনা জানি কি করে বসে।

হঠাৎ পাবেল আমার হাত ধরলো
~ কি হলো বলো
আমি পাবেলের দিকে রেগে তাকানোর আগেই কেন ঝরের গতীতে হাত ছারিয়ে বুকে জরিয়ে নিলো ঘটনা এতো দ্রুত ঘটলো যে আমি কিছু বলে ও পারলাম না। এমন কাজে আশেপাশের সবাই অবাক হয়ে আছে সাথে কেউ বলেছে, বাজে কথা বলছে তাকিয়ে দেখি জয় রাগি চোখে তাকিয়ে আছে পাবেলের দিকে আর আমাকে ব্যান্ডেজ করা হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে অছে।
হঠাৎ গাড়ির থামায় বাস্তবে ফিরলাম। আমি জয়ের থেকে নিজেকে ছারিয়ে সরে বসলাম।
~ আমরা এসে গেছি।

~ নাহ
~ তাহলে থামলো যে।
~ ওই যে সামনে দোকান ঔইখানে গেছে সবাই কিছু কিনতে তুমি কি খাবে বলো আমি ওদের বলছি নিয়ে আসবে।
~ আমি কিছু খাবো না।

~ প্লিজ নিলা এমন করো না আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তোমার মুখ এমন করে রাখলে আমার খুব খারাপ লাগে প্লিজ মুড ঠিক করো তোমার মা আই মিন আমার শাশুড়ি আম্মা আমাদের খুব তারাতারি মেনে নেবে দেখো।
~ জানি না কিন্তু মার জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে আমার। বাবাকে হারিয়েছি মাকে হারাতে পারবো না আমি জয় আর না তোমাকে।

~ কেউ হারাবে না রাগ কমে গেলেই আমাদের মেনে নেবে দেখো আমরা কিছু পর আসবো এখানে।
আমি কিছু বললাম না চুপ করে আছি কিছু বলতে মন চাইছে না। জ য় জানালা দিয়ে কাউকে ডেকে কিছু বলে আবার আমার পাশে বসে আমাকে দুহাতের বন্ধনে অটকে নিলো হঠাৎ আমার চোখ যায় হাতে রক্ত বের হচ্ছে।
~ রক্ত জয় তোমার হাত রক্ত।

জয়ের সেদিকে খেয়াল নেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
~ আমি কিছু বলছি তোমাকে এসব কি ভাবে হয়েছে বলো।

~ এখন তোমাকে দেখতে দাও তো কতো দিন পর দেখছি আর কিছু দিন গেলে আমি মরেই যেতাম।
কথাটা আমার বুকে গিয়ে বিধলো সঙ্গে সঙ্গে আমি জয়ের মুখ চেপে ধরলাম।

~ এসব কি কথা জয় তোমার কিছু হলে আমার কি হবে আর যেন বাজে কথা না শুনি তাহলে কিন্তু আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।
~ ওকে জানপাখি।
জয় আমার মুখ কাছে এনে কপালে চুমু দিলো তারপর ঠোঁটে দিতে যাবে হঠাৎ।

~ এই ধর তোর জিনিস, ওফ সরি সরি রে আমি কিছু দেখি নি কিন্তু।
~ শালা আসার আর টাইম পেলি না।
আমি লজ্জায় অন্য দিকে তাকিয়ে আছি।

পর্ব ২৩

খাটের মাঝে বসে আছি এটা জয়ের রুম যেটা বাসর ঘরের মতো ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে আর আমার দুপাশে দুজন বসে আছে। এক নুপুর আরেক সীমা এখানে এসে নুপুর কে দেখে তো আমি ৪৪০ ভোল্টেজের শক খেয়েছি ও এখানে কেন কিন্তু সবার সামনে কিছু বলতে পারি নি এখন জয়ের রুমে আছি তিনজন আমি সন্দেহ চোখে নুপুরের দিকে তাকিয়ে আছি।
~ কি হলো তুই এখানে কি করসিস তোর মা না বলে ব্যাথা পাইছে তাই চলে এলি।

~ সরি রে দোস্ত তোকে মিথ্যে বলেছিলাম আম্মুর কিছু হয় নি।
~ কি তুই আমাকে মিথ্যা বলে এসেছিস তুই জানিস তুই চলে আসার পর কতোটা ভেঙে পরেছিলাম আমি। আর জ য়ের সাথে তোর কি সম্পর্কে তুই এখানে কেন?
~ বলছি শুন।

জয় আমার মামাতো ভাই। সেই কারণে আমি এখানে আর সকালে তোকে মিথ্যে বলতে জ য় ভাইয়াই বলেছে। আমার নাম্বার দিয়ে তুই জয় কে কল করেছিলি কিন্তু এটা দেখেস নি নাম্বার আগে থেকেই সেভ। সকালে তুই উঠার আগে কল আসে ভাইয়ার নাম্বার দেখে অবাক হয় কারণ সহজে ভাইয়া আমাকে ফোন দেয় না। সাথে রিসিভ করি।
~ ভাইয়া তুমি এতো সকালে কোন দরকার নাকি।

~ নুপুর তুই আমাকে কিসের মেসেজ দিচ্ছিস ওইটা তুই কেন দিলি আমি বুঝলাম না।
~ কই কখন আমি তো কোন মেসেজ দেয় নি।
~ দেখ আমি মেসেজ টা পেয়ে খুশি ছিলাম কিন্তু তোর নাম্বার থেকে দেখে অবাক হয়েছি।

~ আমি তত কিছু বুঝতে পারছি না কি বলছো ওয়েট আমি দেখে বলছি।
আমি মেসেজ দেখে অবাক সত্যি তো কিন্তু কে দিলো হঠাৎ তোর কথা মনে পরলো তুই তো দিয়েছিলি কিন্তু ভাইয়া কেন আমি দৌড়ে এসে তোর খাতা থেকে নাম্বার চেক করি আর অবাক হয়ে যায় কারণ নাম্বার মিলে গেছে।

ভাইয়াকে সব বলার পর জানতে পারি তুই যাকে ভালোবাসিস সি ভাই। তারপর ভাইয়া বলে ওকে নাকি এক্মিডেন্ট করার পর রুমে বন্ধি রাখে কিছুতেই বের হতে দেবে না আমাকে সাহায্য করতে বলে। আমি তাই রওনা হয়ে যায় সকালেই ভাইয়া আমার অপেক্ষা করে না বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে আসে আমি দশটার দিকে পৌঁছে দেখি ভাইয়া নেয় ফোন দিয়ে জানতে পারি সে বেরিয়ে গেছে মামা মামি রেগে আছে তাদের সব খুলে বলি আর বউ বরণ করার প্রস্তুতি নিতে বলি। তারপর একটু আগে আপনাদের বাসর সাজিয়েছি।

এক দূমে কথা বলে থামলো নুপুর।
আমি কিছু বলতে যাবে তার আগেই জ য় রুমে চলে আসে। এসে ওদের রুমে থেকে বের করে দেয়।

~ তুমি ওদের বের করে দিলে কেন?
~ তো কি ওদের সাথে নিয়ে বাসর করবো নাকি।
~ অসভ্য কি বলো এসব আমার ওদের কাছে অনেক কিছু জানার ছিলো।

~ কি জানার ছিলো জানপাখি।
বলে জয় আমার পাশে খাটে এসে বসে পরলো।
~ এই যে নুপুর এখানে কি করছে আর আপনার মাথায় ওই বাচ্চা পেটে এই বুদ্ধি কে দিয়েছে এসব।

জয় আমার পেছনে গিয়ে বসে আর দুহাত আমার পেটে রেখে কাদে থুতনা ডেকিয়ে বলতে লাগলে,
~ এতো কিছু জেনে কি করবে জানপাখি। তোমাকে যে আমি আমার করে পেয়েছি এটা কি বড় না নিলা তুমি খুশি হও নি আমার বউ হয়ে।
আমি কথা বলতে পারছি না জয়ের গরম নিশ্বাস আমার গারে পরছে অদ্ভুত শিহরিত হচ্ছে। আমি কেপে উঠছি বারবার আমি কথা বলছি না দেখে জয় আমাকে ডাকতে লাগল। পেটে থেকে হাত উঠিয়ে গারের চুল সরিয়ে আচমকা ঠোট বুলাতে লাগল আমি চোখ বন্ধ করে আছি।

~ জ য় আমার সহ্য হচ্ছে না প্লিজ ছারু।
এমন কথা হয়তো জয় আশা করে নি সঙ্গে সঙ্গে আমার থেকে দূরে সরে যায়।

~ সরি আমার এতো তারাতারি করা উচিত হয়নি। তুমি রাগ করো না প্লিজ আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা আসলে এতো দিন পর তোমাকে এতো কাছে পেয়ে নিজের কন্টেন্ট হারিয়ে ফেলেছিলাম।
জয় মুখটা ছোট হয়ে গেছে খুব খারাপ লাগছে আমার কিন্তু আমি তো জ য় কে কষ্ট দেওয়ার জন্য বলি নি। মুখ দিয়ে কথা টা বের হয়ে গেছে আমি তো জয় কে ভালোবাসি তাহলে কেন?
~ জয় আমি তোমাকে কষ্ট দেবার জন্য বলি নি তুমি কাছে আসলে আমার অদ্ভুত অনুভূত হয় যা আমি সহ্য করতে পারি না মনে হয় এতো সুখ কি আমার জন্য আমার ভ য় হয় মা আমাকে এতো কিছু বলে দিলো সত্যি কি আমি সুখি হবো না জয়। আমার তোমাকে হারানো ভয় হয়।

~ কিছু হবে জান তুমি চিন্তা করো না তো।
বলেই জ য় আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে।
আমি ও ধরে রাখি যেন ছারলেই হারিয়ে যাবে।

মার কথাটা কানে বাজছে, তুই কখনো সুখি হতে পারবি না কখনো না এভাবে আমাকে ঠকালি।
জয় শার্ট ভেজা পেয়ে আমার মাথা বুকে থেকে উঠিয়ে।,
~ আবার কাদছো তোমাকে বলছি না কাদবে না তোমার চোখের জল আমি সহ্য করতে পারি না।
~ এতো কেন ভালোবাস জয় আমাকে তুমি আমি কি এর যোগ্য।
~ চুপ করো তুমি সব কিছুর জন্য যোগ্য।

আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছি এতো ভালো কেন জ য় একটু আগেই তো কাছে আসা থেকে আটকালাম তোমায় এত একটু ও অভিযোগ নাই তোমার।
আমি আচমকা জয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলাম জ য় হয়তো এটার আর জন্য প্রস্তুত ছিলো না ও বড় ব ড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আমি চোখ বন্ধ করে আছি জয়ের দিক থেকে সারা না পেয়ে সরে আসতে নিলাম এবার জ য় আমার কোমর জরিয়ে আরো কাছে টেনে রুডলি কিস করতে লাগলো কতোক্ষণ এভাবে ছিলাম জানি না।

আমি জয়ের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছি জ য় আমার মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে প্রচুর ব্যাথা করছে মাথা।
~ জানপাখি তোমার ভালো লাগছে এখন। নাকি ডাক্তার ডাকবো।

জ য়ের দিকে তাকালাম চিন্তা হয়ে আছে না এখন আর চিন্তায় ফেলা ঠিক না এমনিতেই এক্মডেন্ট করে ওর শরীর র্দূবল।
আমি মাথা নেরে না জানালাম। জয় মুচকি হেসে আমার মাথা বুকে আর ও চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

পর্ব ২৪

মিষ্টি রোদ্রের আলু চোখে পরায় চোখ মেলে তাকালাম। সকাল হয়ে গেছে বারান্দায় দরজা হালকা খুলা সেখান দিয়ে আলো এসেছে। চোখ খুলে জয়কে দেখতে পেলাম বাচ্চাদের মতো নিষ্পাপ লাগছে ভ্রু কুচকে আছে ঘুমের মধ্যে। আমি তাকিয়ে আছি বিশ্বাসই হচ্ছে না জয়কে নিজের করে পেয়েছি। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছি জয়ের দিকে এতো সুখ কি সইবে আমার কপালে আববু যদি আজ থাকতো মা কিছু তেই এভাবে রেগে থাকতে পারত না। জ য় নরে উঠে আমার মাথা বুকে চেপে ধরলো আমি মুচকি হাসলাম ঘুমের মাঝে ও এভাবে কেউ ধরে যেন ছারলেই হারিয়ে যাবো। জয়ের খালি বুকে মিশে আছি আমি গরম অনুভব হচ্ছে আমি হাত দিয়ে জয়েকে জরিয়ে ধরলাম আমার হাত গরম হয়ে উঠছে। আমি মাথা উঠিয়ে কপালে হাত দিলাম কপাল গরম এবার চিন্তায় পরে গেলাম জয়ের কী জর হলো।

উঠে বসে পরলাম শরীরের জামা কাপড় নাই জাগায় জাগায় পরে আছে নিয়ে তারাতারি পরে নিলাম। জয়ের পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে ডাকতে লাগলাম।
আমার ডাকে চোখ মেলে তাকালো আর তাকিয়ে ই আমাকে টেনে নিজের উপর ফেলে দিয়ে গলায় ভুখ গুজলো এই জর নিয়ে ও এমন করছে আমি জোর করে উঠার চেষ্টা করলাম।
~ জয় ছারো আমাকে তোমার শরীরে জ্বর এসেছে কষ্ট হবে তোমার এখন পাগলাম করো না আমাকে ছারু ঔষধ খেতে হবে তো।

~ আমার কিছু হয় নি এই সামান্য জ্বর কালকে পরিশ্রমের জন্য হাতে আর পায়ে ব্যাথা বেরেছে বলে এটা কিছু ক্ষণ শুয়ে থাকলে এমনিতেই চলে যাবে কিন্তু তুমি এতো আগে উঠেছো কেন?
~ আগে কোথায় জয় আটটা বাজে ঘড়ি দেখে সবাই কি বলবে নতুন বউ দেরি করে উঠে আর তোমাকে এখন ই ঔষধ খেতে হবে।
~ কেউ কিছু বলবে না সবাই জানে বুঝছো কেন দেরি হচ্ছে।
~ দূর ছারু তো।

জোর করে জয়কে ছারিয়ে উঠে বসলাম। পানি এনে মাথায় জল পটটি দিতে যাবো জ য় ও ওঠে বসলো আমি ওর দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছি ও কিছু না বলে আমাকে কোলে নিয়ে হাটতে লাগল।
~ কি হচ্ছে এসব এই হাত পা ব্যাথা আবার জ্বর নিয়ে তুমি আমাকে কোলে নিয়ে কোথায় যাচ্ছো নিচে নামাও।
জয় কিছু না হাটতছে আমি নামার জন্য ছুটাছুটি করছি জ য় বাথরুমে এনে আমাকে ছারলো।

~ কি হলো তুমি বাথরুমে নিয়ে এলে কেন?
~ এখানে মানুষ কেন আসে।
~ গোছল করতে কেন?

~ আমরা ও তাই করবো।
~ একসাথে
~ হ্যা
বলেই র্ঝনা ছেড়ে দিলো।

~ না না একদম না আপনি আগে করুন আমি পরে করবো।
~ কেন
~ আমার লজ্জা করে প্লিজ।
~ কিহ লজ্জা করে?

~ হুম।
~ কাল না লজ্জা ভাঙিয়ে দিলাম এখন ও লজ্জা।
জয় কালকের কথা বলাতেই লজ্জায় লাল হয়ে উঠলাম। জ য় আমার কোমর জরিয়ে কাছে টেনে নিলো।
জোর করে জয় একসাথেই গোছল করিয়েছে। ঔষধ না খেয়ে আবার শুয়ে পরেছে বলেছে একটু রেসট নিলে নাকি সুস্থ হয়ে যাবে আমি বললাম শুনলো না আমাকে শুতে বলেছিল শুয় নি নিচে এলাম নিচে এসেই জয়ের আম্মু আই মিন আমার শাশুড়ি মার সাথে দেখা হলো সে আমার কে দেখে গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে রইল আমি তারাতারি নিচু হয়ে সালাম করলাম।

~ এতো দেরি করে কেউ যাও রান্না করো গিয়ে সবার জন্য সবাই নতুন বউয়ের হাতের রান্না খাবে।
বলেই কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল। আমি রান্না ঘর চিনি আগের বার এসে দেখেছিলাম। রান্না ঘরে গেলাম কাজের লোকেরা আমাকে দেখে বলতে লাগল, বউ মনি আপনি রান্না ঘরে কেন আপনি যান আমরা সব করছি তো।

~ না আমাকে করতে দাও আজ সবাই আমার হাতে খাবে মা বলেছে।
~ কি বলছেন আপনি রান্না করবেন।
~ হুম তোমরা কোথায় কি আছে একটু বলে সাহায্যে করো তাহলেই হবে।

সবাই মুখটা ছোট করে বলে দিতে লাগল।
~ কি রে তুই এখানে কি করিস।
হঠাৎ নুপুরের আওয়াজ পেয়ে ফিরে তাকালাম।
~ এই রান্না করছি কেন?

~ বাড়িতে কি রান্না লোকের অবাভ পরেছে যে তোকে করতে হবে।
~ না ভা আমাকে ই করতে বলেছে সবাই আজ আমার হাতের রান্না খাবে।
~ মামি বলেছ।
~ হুম তুই যা।

~ আচ্ছা জয় কোথায়?
~ শুয়ে আছে।

~ এখন ও তুই কাজ করিস আর ওনি শুয়ে আছে দাড়া দেখাচ্ছি মজা।
~ আরে আর কি করবি
~ ওর ঘুম আমি ছুটাচ্ছি।
~ না না এমন করিস না এমনিতেই ওর শরীর ভালো না।

~ মানে
~ জ্বর
~ হুয়াট মামি কে বলেছিস।
~ নাহ।

নুপুর দৌড়ে ছুটলো আমি কিছু বুঝতে পারলাম না কেন? ওর কথা বাদ দিয়ে রান্না করতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ পর কাজের মেয়ে ময়না আমার কাছে ছোটে এলো।
~ বউ মনি হারাহারি চলেন।
~ কোথায় কি হয়েছে।

~ ছোট সাহেবের কি জানি হয়ছে কতো ডাক্তার আইছে।
কথা শুনে আমার বুক ধূক করে উঠলো কি বলল জয়ের কিছু হয়েছে আমার দুনিয়ার অন্ধকার হয়ে গেল। কেবল তো ভালো মানুষ রেখে আসলাম এর মাঝে কি হলো ওফ কেন তখন জ য়ের কথা শুনে আসলাভ আমি থাকলে হয়তো আর কিছু না ভেবে দৌড়ে লাগালাম রুমের দিকে অজানা ভ য় কালকেই জয়কে পেয়েছি আজই কি।

দরজায় দাড়িয়ে আছি জয় চোখ বন্ধ করে আছে এটা দেখে আমার হার্টবিট বন্ধ হওয়ার উপকম রুমে দুজন ডাক্তার নার্স তিনজন তারা এটা ওটা দেখছে আর কিছু বলছে সবাই চিন্তা হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি রুমে ঢুকলাম সাথে সাথে শাশুড়ি মা এসে আমাকে এক গাদা কথা শুনাতে লাগলো আমি তার কথা শুনছি না আমার মাথায় জয়ের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে এইটুর মধ্যে কি হলো আমি সবাইকে ঠেলে জয়ের পাশে বসে ডাকতে লাগলাম।

পর্ব ২৫

চোখ দিয়ে অধরে পানি পরছে আমি জয়ে ডেকে চলেছি কি হলো একটু সময়ের মধ্যে মাথায় ঢুকছে না। ডাক্তার রা আমাকে চিৎকার করতে মানা করছে কিন্তু আমি শুনছি না হঠাৎ জয় চোখ মেলে তাকালো। ভ্রু কুচকে আমি কাদছি দেখে অবাক হলো আশেপাশের সবাইকে দেখে মনে হয় অবাকে চরম সীমায় পৌছে গেল।

~ কি হয়েছে জান তুমি কাদছো কেন আর এতো লোক কেন ডাক্তার কি করছে এখানে কার কি হয়েছে। তোমার কি কিছু হয়েছে নিলা কান্না অফ করো বলো আমাকে তুমি জানো তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না।
~ জয় আমি তখন বলেছিলাম ঔষধ খাও কিন্তু তুমি আমাকে কেন মিথ্যে বললে যে তোমার কিছু হয়নি। হালকা জ্বর এমনিতেই চলে যাবে এখন কি হলো সেই বেশি হলো তো কতো ডাক্তার চলে এসেছে দেখছেন।
~ কার কি হয়েছে?

~ তোমার হয়েছে দেখ না ডাক্তার এসেছে তোমাকে দেখতে সবাই কতো চিন্তা করছিল।
~ রিলাক্ম জানপাখি আমার কিছু হয়নি আমার শরীরের হাত দিয়ে দেখ জ্বর ও নেই এখন আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম।
নিলা সত্যি মাথায় গলায় হাত দিয়ে দেখলো সত্যি জ্বর নেই শরীরে তাহলে। হঠাৎ হুরমুর করে জয় মা এসে ছেলের পাশে বসলো নিলা তাকে দেখে উঠে পিছিয়ে গেল। সে ও দেখতে লাগল অস্থির হয়ে বলতে লাগল কি হয়েছে কি হয়েছিল।

~ ওফ আম্মু আমার কিছু হয়নি হালকা জ্বর ছিলো বলে আমি তোমাদের বলি নি তোমরা তো একটুতেই বেশি হাইপাই হয়ে যাও তাই। দেখো এখন আমি পুরোপুরো সুস্থ।
মামুনি উঠে এলো আমার সামনে দাড়ালো আমি মাথা নিচু করে আছি আচমকা মামুনি আমাকে জরিয়ে ধরলো আমি অবাক হয়ে আছি।
~ সরি রে তোকে কতো কথা শুনালাম। আসলে একটা ছেলেই তো মাথা ঠিক রাখতে পারি না কিছু হলে পাগল হয়ে যায়।
~ ইটস ওকে মামুনি আমি কিছু মনে করি নি।

~ সোনা মেয়ে কাল থেকে রেগে কথা বলেছি তার জন্য ও সরি যা জয়ের পাশে থাক।
~ রান্না
~ ও সব করতে হবে না।

, ~ কিন্তু তখন যে বললেন।
~ ওইটা তো রাগ থেকে বলেছি।
মামুনি চলে গেল একে একে সবাই চলে গেল। আমি রুমে একা আছি এখন জয় উঠে আসতে নিলে আমি হাত বারিয়ে থামিয়ে নিজেই গিয়ে বসলো। মামুনির ব্যবহার নিয়ে ভাবছি কালকে এক আর আজকেই অন্য রকম কিন্তু ভালো লাগছে ভালো করে কথা বলায় আমি জয়ের পাশে বসে এগুলো ভাবছিলাম হঠাৎ ঘারে উষ্ণ ছোয়া পেয়ে ধ্যান ভাঙলো জয় আমার ঘারে ঠোট শুয়য়ে দিচ্ছে আমি ঠেলে সরিয়ে উঠে দাড়ালাম।
~ কি হলো সরে গেলে কেন?

~ এখন এসব কি সুস্থ হয়েছো যাও গোছল করে আস খাবার খাবে না।
~ তাই বলে আমার এই রোমান্টিক মুড নষ্ট করে দিলে।
~ একটু আগে কি কাণ্ড হলো আর তোমার এখন রোমান্টিক। যাও বলছি।

~ দূর।
জয় উঠে রেগে বাথরুমে চলে গেল আর আমি খুশি মনে বেরিয়ে এলাম মামুনির কথা শুনে অনেক ভালো লাগছে। কালকের পর তো ভয়ে ভয়ে ছিলাম কিন্তু এখন ভালো লাগছে। দিনটা ভালোই কাটলো।
পরদিন রিস্পেশণ পার্টি ও ভালো মতো কেটে গেল। জুলিকে এর মধ্যে একবার ও দেখি নি জয় কে জিগ্গেস কলতে চেয়ে ও জিগ্গেস করা হয়ে উঠে নি।
চার দিন পর
আমি আর জয় ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেলাম। আর দুইদিন পর জ য়ের ফাইনাল পরিক্ষা আজ স্যার দের সাথে মিট করতে যাবে আমি ও বিয়ের পর আজই প্রথম যাচ্ছি কলেজে এই কয়দিন যাওয়া হয়ে উঠে নি।

ভার্সিটিতে এসেই জয় আমার পাশে দরজা খুলে হাত ধরে বের করে আনলো তারপর হাত ধরে হাটতে লাগল আমার লজ্জা করছে এভাবে স্যার দের সামনে কিন্তু জয় বললেই স্যার রা তো জানেই আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ সমস্যা কি কিন্তু তবুও লজ্জা করে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আমার মনে হচ্ছে আমরা এলিয়ন হয়ে আসছি। এমন করে তাকিয়ে আছে আমি মাথা নিচু করে আছি হঠাৎ কোথায় থৃকে সীমা এসে জরিয়ে ধরলো আর কথার জুরি খুলে বসলো। জ য় সীমা কে দেখে আমাকে সীমার সাথে যেতে বলে ফ্রেন্ড দর কাছে চলে গেল আর ছুটির পর একসাথে যাবে তাও বলে গেল। সীমা তো সারা রাজ্যে গল্প করতে বসে গেল আমি ও বলছি সত্যি সীমা মিস করেছি অনেক সাথে রোহান ও যোগ দিলো।

ছুটির পর আমি সীমা দাঁড়িয়ে আছি জ য়ের জন্য কিন্তু জয়েকে দেগছি না আমি জোর করে সীমা কে পাঠিয়ে দিলাম কতোক্ষণ আর থাকবে সীমা থাকতে চেয়েছিল কিন্তু না করে দিয়েছি। কোথায় গেছে কে জানে রেগেই দাড়িয়ে আছি হঠাৎ কেউ ঘারে হাত দিল পেছনে থেকে তাকিয়ে আতকে উঠে কারণে পাবেল।
~ আপনি এখানে কি করছেন।

~ কেন বেবি এখানে কি থাকতে পারি না নাকি।
কিছু বলবো পাবেল আমার হাত ধরে নেয় আমি শক খায়।
~ কি হচ্ছে কি হাত ধরছেন কেন ছারুন।

~ নো বেবি তা দেখছি ভালোই আর ও সুন্দর হ য়ে গেছো বর কি খুব আদর করে নাকি।
~ ছি কি বলছেন এসব হাত ছারুন।

~ একবার হাত ধরেছিলাম বলে চর মেরে ছিলে যার জন্য বিয়ে করে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তা তো হলো না আজ সেই হিসেব নেব।
~ মানে।
~ চলো মানে বুঝাচ্ছি আমার শরীরের হাত দেওয়ার ফল।
~ দেখুন হাত ছারুন জয় কিন্তু আপনাকে ভেরে ফেলবে।

~ কে জয়।
~ আমার স্বামী
~ ওহ ওই রাসকেল টা যার জন্য আমার প্রিলান নষ্ট হয়েছে ওকে ও তো দেখে নেব। চলো বেবি।

পাবেল আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল আমি চিৎকার করে ছারতে বলছি পাবেল ও গাড়ি নিয়ে এসেছে জোর করে গাড়িতে বসিয়ে দিতে যাবে হঠাৎ কোথায় থেকে জয় এসে উরাধুরা মারতে লাগে জ য়কে থামিয়ে জয়ে ফ্রেন্ড রা মারতে লাগে জয় আমার কাছে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে আমি ভয়ে একদম জয়ের সাথে মিশে আছি।

পর্ব ২৬

জয় রেগে খাটের কোনায় বসে আছে চোখ দুটো অসম্ভব লাল যেন সব শেষ করে দেবে আমি কি বলব কি করে রাগ কমাবো পাশে দাড়িয়ে ভাবছি। পাবেল কে তো মেরেই ফেলতো আমি অনেক কষ্ট আটকে এনেছি এর জন্য তার এতো রাগ করে আছে। আমি নাকি খুব ভুল করেছি আটকে কিন্তু পাবেল যাই করুক তাকে তো মেরে ফেলতে চাই না কিন্তু জয়কে তা বুঝাবো কি করে সে তো রেগে ঠিক ভুল ষব ভুলে গেছে। জয় হাত মুঠো করে শক্ত করে বসে আছে আমি আস্তে আস্তে জয়ের পাশে গিয়ে বসলাম জয় রেগে কিছু বলতে আমার দিকে তাকাতেই ফট করে জ য়কে জরিয়ে বুকে মাথা রাখলাম। এমন কিছুর জন্য হয়তো প্রস্তুত ছিলো না অবাক হয়ে আছে তারপর মাথা উঠিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো।

~ জয় প্লিজ এতো রেগে থেক না?
~ নিলা ছারু আমার রাগ উঠছে তোমার সাথে খারাপ বিহেভ করব তার থেকে সরো।

~ওফ এতো রাগের কি আছে বলেন তো। ও কি আমার ক্ষতি করতে পেরেছে আপনি তো সময় মতো এসেছেন আর যা মেরেছেন এক সপ্তাহে বিছানা থেকে উঠতে পারবে না।
~ ছারু তুমি আমাকে তুমি থামালে কেন ওকে আমি খুন করে ফেলবো ওর সাহস হলো কি করে তোমার টাচ করার।
~ অনেক শাস্তি দিয়েছেন আমি চাইনা আমার জন্য আপনি এমন একটা কাজ করে আমাকে কষ্ট দেন।

~ মানে
~ আপনি কি খুনি হতে চান। আমি কি করে চাইবো আমার হাজবেন্ড একটা ছেলেকে খুন করেছে আমার জন্য এবং তার জন্য সারাজীবন কি আমাকে কষ্ট রাখতে চান জেলে যেতে চান। ওকে যথেষ্ট মেরেছেন এর থেকেসবেশি মারলে ও আর বাচতো না রাগের মাথায় কিছু করা মানে ভুল আমি সেই ভুল কি করে হতে দেয় বলেন।
জয় আর কিছু বলল না হয় তো কিছু বুঝেছে। আমার মাথায় চুমু দিয়ে নিজে ও জরিয়ে ধরলো।
~ কিন্তু নেক্মট যদি এমন কি করেছে ওকে আমি মরে ফেলবো।

~ যখন কার টা তখন দেখা যাবে। এবার ছারুন মাভুনির কাছে যাই দেখি কি করতেছে।
~ নাহ
~ নাহ কেন?
~ আমি আগ ধরে নি তুমি নিজে ধরেছো এখন আমার যতোক্ষণ হচ্ছে ধরে রাখবো।

বিকেলে
মামুনির সাথে বসে আছি। জয় রুমে পরছে আর একদিন আছে পরিক্ষায় হঠাৎ দৌড়ে জুলি এসে ঢুকলো আর মামুনির পাশে বসে পরলো। জুলির থেকে জানতে পারলাম ও ওর নানু বাড়ি গেছিল কিন্তু আমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকায়ে মামুনি কে জিগ্গেস করলো আমি এখানে কি করছি আমি ভাবছি বিয়ের কথা কি জানে না নাকি মামুনি আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল। জুলির দিকে তাকিয়ে দেখি র্ফসা মুখ লাল টকটকে হয়ে গেছে কিছু বুঝলাম না। জুলি উঠে চলে গেল আমার সাথে কথা তো দূরে থাক এক প্রকার রেগেই চলে গেল।

রাতে জয় পরছে আর আমি পাশে বসে আছি। ইচ্ছে করে না আমার হাত ধরে রেখেছে জয়। আমি জয়ের দিকে তাকিয়ে ওর পরা দেখছি জয় একবার ও আমার দিকে তাকায় নি এক মনে পরে যাচ্ছে।
~ এতো তাকিয়ে থেকে না জানপাখি আমি তো থাকতে পারছি না।
সঙ্গে সঙ্গে লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে মুখ করে নিলাম।

~ ছারুন আমি ঘুমাবো আপনি পরেন।
~ আহ রাগ করছো কেন জানেমান তুমি না থাকলে আমার পরায় ভন বসলে তো।
~ আমার থাকলেই পরায় ভন বসবেসভানে কি আগে কি বসে নি আমি তো ছিলাম না।

~ আগের কথা বাদ দাও এখন কার কথা বলো। এই তোমার কি ঘুম পাচ্ছে। তাহলে আস তুমি ঘুমাও।
বলেই আমার মাথা টেনে বুকের কাছে নিয়ে জরিয়ে ধরলো। আমি উঠে আসার চেষ্টা করছি।
~ কি হলো নরছো কেন ঘুমাও।

~ ঘুমাবো কিন্তু এখানে না আপনি পরুন আমি বালিশে
~ চুপ করে এখানে থাক নয়তো ঘুভাতে দেবো না আর পরবো ও না কিন্তু।
~ এখানে ঘুমালে আপনার পরতে সমস্যা হবে না।
~ না তুমি আমার বুকে থাকলে পরা আর ও ভালো হবে তাই চুপ করে ঘুমিয়ে পর।

বলেই আমার কপালে চুমু দিয়ে জরিয়ে নিলো। আমি জয়ের সাথে পেরে উঠবো না তাই আর কিছু বললাম না চোখ বন্ধ করে নিলাম কখন ঘুমিয়েছি জানি না আযানের শব্দ জেগে গেলাম চোখ খুলে দেখি আমি এখন ও জয়ের বুকে আছি জয় এক হাত দিয়ে আমার জরিয়ে আছে আর অবাক করা বিষয় জ য় বসেই আছে কিন্তু ঘুমিয়ে সামনে বই খুলাই আছে জয় খাটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে।
আমি জয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি নিশ্চয়ই সারারাত পরেছে। আমি মাথা উচু করে জয়ের গালে চুমু দিলাম সঙ্গে সঙ্গে জয় চোখ মেলে তাকালো আমি যে লজ্জা পেলাম উঠে যেতে নিলে জয় আটকে ধরলো।
~ বাবাহ আমার বউ তো সেই চালাক। ঘুমের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে চুমু খায় আর আমি দিতে বলল কি আমার লজ্জা করে এ্যান ত্যান।

আমি লজ্জা মাথা নিচু করে আছি কেন যে দিতে গেলাম। দূর কি লজ্জা এখন তো জ য় আমাকে।
~কি ম্যডাম এতো লজ্জা পাচ্ছেন কেন আমি তো আপনাকে হাযে নাতে ধরেছি এখন কি শাস্তি দেওয়া যায় বলুন তো।
~ কিহ আপনি আমায় শাস্তি দেবন।

~ অফর্কোস শাস্তি তো দেবোই।
আমি অসহায় মুখ করে তাকিয়ে আছি।

~ কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেন। এভাবে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই শাস্তি পেতেই হবে।
আচমকা জয় আমার কোমরে জরিয়ে ঠোটে চুমু খেতে লাগে।
আজ জয়ে প্রথম পরিক্ষা আমি সাথে এসেছি। পরিক্ষার হলে ঢুকার আগে জোর করে হলে ও আমার থেকে চুমু খেয়েছে নয়লে নাকি তার পরিক্ষা খারাপ হবে।

দেখতে দেখা জয়ে পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল কি জালাতন যে করেছে এই পরিক্ষায়। রাতে দিনে পরার সময় তার সামনে থাকতে হবে কোন কাজে বের হতে দেয় নি আমার অবশ্য কাজ করতে হয় না তবুও মামুনি কি ভাবে কে জানে এমনকি ছেলৈ জীবনে দেখিনি।

পর্ব ২৭

অবশেষে সব গুলো পরিক্ষা শেষ করে নাক ডেকে ঘুমিয়ে পরেছে জয়। দুদিন নাকি আর উঠবে না আমাকে ও জোর করে ধরে রেখেছিল কিন্তু আমি অনেক জামেলা করে উঠে এসেছি সারাদিন কি শুয়ে থাকা যায় বুঝতে পেরে আর কিছু বলে নি। রাতে নিচে খেতে এলো মনে হয় রাজ্যের সব ঘু এখন এনার চোখে ঢুলতে ঢুলতে এসে খাবার টেবিলে বসলো মামুনিকে জোর করে বসিয়ে আমি সার্ভ করতে লাগলাম।
~ কি এখনো ঘুম কাটে নি দেখা যায় তোমার।

~ আসলে আববু
~ আর আসলে করতে হবে না তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে।
~ জি আববু বলো।
~ এখন না খেয়ে একবার আমার রুমে এসো।
~ আচ্ছা।

বলেই খেতে লাগল আমি দাড়িয়ে ছিলাম মামুনি জোর করে পাশে বসিয়ে দিলো। খাওয়া শেষ করে সব গুছিয়ে রুমে চলে এলাম জয় এখন ও আসে নি। বাবা কি বলবে ভাবতে লাগলাম একবার শুনে ছিলাম জয়ের পরিক্ষা শেষ হলে অফিসে বসতে বলবে। তাহলে কি সেটাই বলবে হয়তো বসে কথা গুলো আওরাচ্ছিলাম হঠাৎ দরজা লাগানোয় সামনে তাকিয়ে দেখি জয় মুখটা ছোট করে আসছে। এসে আমার পাশে বসলো আমি ভ্রু কুচকে ভাবছি কি হয়েছে আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে একহাতে জরিয়ে ধরলো ধরলো।

~ কি হয়েছে মুখটা এমন করে রেখেছো কেন?
~ তো কেমন করে রাখবো আববু কি বলেছে জানো তুমি?
~ আববু তোমাকে বলেছে আমি জানবো কি ভাবে?

~ হুম আববু বলেছে কালেই অফিসে যেতে কতো না করলাম শুনলো না।
~ এতে এতো রাগার কি আছে? আববু ও তো চায় একটু রেস্ট করতে তোমার এখন সব সামলানো উচিত।

আমার প্রতি বক্তে আর কিছু বলে নি জয়। পরদিন যথা রীতি অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে লাগে। আমি নিচে রান্না করতেছি ওমনি আমার ডাক এই নিয়ে তিনবার রুমে গেছি প্রতিবার ই দাড়িয়ে থেকে ফিরে আসি এবার আর যাবো না। আমি কথা কানে না নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি হঠাৎ মামুনি এলো আর বলল যেতে তাকে কিছু বলতে ও পারলাম না।
~ কি হয়েছে কিএতো ডাকছেন কেন?

~ এতো রাগছো কেন জান। আজ সারা দিন কি তোমাকে দেখতে পারবো তাই একটু আমার পাশে থাকো না।
~ দূর এর জন্য আমি যে রান্না করছি দেখছেন তাও খালি বিরক্ত করছেন মামুনি বাবা কি ভাবছে বলুন তো।
~ কিছু ভাবছে না।
~ ওফ ছারুন।
~ নাহ।

বলেই আমার কোমর জরিয়ে ধরলো।
তিনদিন পর
আমি আর জয় একসাথে বেরিয়েছি জয় যাবে অফিসে আর আমি ভার্সিটিতে। সারা রাস্তা আমার এক হাত আরেক হাতের মুঠোয় করে এনেছে জ য়।
~ এবার তো হাত ছার চলে এসেছি।

~ ছারতে ভন চাইছে না গো।
~ কেন গো তোমার কি আজ অফিসে যাওয়ার ইচ্ছে নেই নাকি কতো লেট করে ফেলল যাও।
~ তোমাকে ছেড়ে কোথায় ও যেতে মন চাই না।
~ তাই।

~ হুম
অনেক ছোটা ছোটি করে বেরিয়ে এলাম জয়ের এককেক সময়কার ছেলে মানুষি দেখলে হাসি পায়। সাথে ভালো ও লাগে কতো ভালোই না বাসে অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হাসি হাসি ভাবে সামনে এগুচ্ছি দৌড়ে সীমা এলো। হাসি দেখে সে না কতো ক্ষেপানি আমাকে কতো কথায় না বলল। দুজনে কথা বলতে বলতে ক্লাসে চলে গেলাম।
দুইটো বাজে জয় অফিস রুমে বসে আছে হঠাৎ কেউ নক না করে ঢুকে পলে একটু রেগে সামনে তাকিয়ে জুলি কে দেখে অবাক হ য়।
~ তুই এখানে?

~ তোর সাথে একটু কথা ছিলো।
~ তাই এখানে এলি বাড়িতেই তো বলতে পারতি।
~ হুম পারতাম কিন্তু ওখানে নিলা আছে।

~ তো
~ ওর সামনে বলতে চাই নি।
~ একটু সামনে পার্কে যাবি প্লিজ না করিছ না।
জ য় না করে দিলো জুলি কান্না জুরে দিলো উপায় না পেয়ে আধা ঘন্টা সময় নিয়ে বেরিয়ে গেল। পার্কে এসেই জুলি জয়ের হাত নিজের হাতে নিয়ে নিলো।
~ কি করছিস?

~ আই লাভ ইউ
~ হুয়াট হাত ছার বলছি আমি বিবাহিত।
~ আমি সত্যি তোকে ছাড়া বাচবো না তুই কেন ওই মেয়ে কে বিয়ে করলি কেন? আমি সেই ছোট থেকে তোকে ভালোবাসি তুই আমার কথা না ভাবে ওকে কেন?
~ আমি নিলাকে ভালোবাসি।

~জানি কিন্তু আমাকে কেন ভালোবাসলিনা। আমি তো তোদের একসাথে মানতে পারছি না।
~ মানতে হবে তোকে আর জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
জুলি কেদে দিলো। জয় জুলি নিজের বোনের ভতো দেখে ওর কাদা ভালো লাগছে না।
~ কাদিছ না নিজেকে সামলা আমার থেকে ভালো কাউকে তুই পাবি।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো জয় ফোন কানে নিয়ে যা শুনে রেগে যায়। ওর সাথ জুলি ছিলো খেয়াল ই নেই দৌড়ে গাড়িতে উঠে। আজকে ওই পাবেল কে ছারবো না। ওকে আমি মেরেই ফেলবো।
পাবেল বিচ্ছিরি ভাবে হাসছে নিলা ভয়ে আটষাট হয়ে গেছে কী করে বাচাবে এ কোথায় নিয়ে এসেছে। পাবেল
~ সেদিন খুব মেরেছিলি না আজ তোর এমন অবস্থা করবো যে জয় সিউরে উঠে। আমাকে মারা না এক সপ্তাহ আমি হসপিটালে ছিলাম আজ সব শোধে আসলে মেটাব।
ভয়ে নিলার হাত পা কাপেছ….. প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন এতো বড় সর্বনাশ করবেন না প্লিজ।
~ সরি আমি তো তোকে ছারতে পারবো নাহ।

বলেই শার্ট খুলতে লাগলো নিলা ঢোক গিলছে না এটা হতে পারে কি করে কি ভাবে পালাবো। পাবেল আমার কাছে এসে ধাক্কা মেরে খাটে ফেলে দিলো আমি কেদে কেদে না করছি কিন্তু পাবেল শুনছে ও না চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে আল্লাহ কে ডাকছি। অনেক ক্ষণ হয়ে গেল পাবেল এর সারা পেল না কিন্তু শব্দ কানে আসছে চোখ মেলে জয় কে দেখেই সাহস ফিরে এলো উঠে বসলো জয় বেধম মারছে পাবেলের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। আমি আজ থামাবো না একে এরে ফেলুক আমি কিছু বলবো না শরীর এখন ও কাপছে হঠাৎ পুলিশ এলো আর পাবেল কে নিয়ে গেল।

নিলা রুমে শুয়ে আছে মাথাটা বরি হয়ে আছে কয়েক দিন ধরে এমন লাগছে নরতে মন চাইনা। সারাদিন শুয়ে থাকতেই ভালো লাগে কিছু খেতে ও মন চাই না। এখন তিনটে বাজে জয় অফিসে আছে আমি একবার ভেবে ফোন দিতে যাব ওমনি হঠাৎ জয় রুমে এলো হাতে ব্যাগ এসেই বলল তারাতারি এটা পরে রেডি হয়ে আস।
আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে ওয়াশ রুমে পাঠিয়ে দিলো। নীল কালারের শাড়ি এনেছে।

জয়ের বুকে মাথা রেখে যত দূর চোখ যাচ্ছে তাকিয়ে আছি। সেই নদীর পারে নিয়ে এসেছে এখন বিয়ের আগে একবার নিয়ে এসেছিল। আমি চুপ করে সামনে তাকিয়ে আছি মার কথা মনে পরছে মা কি কখনো ভেনে নেবে না আমাকে চুপ থাকতে দেখে জয় জিগ্গেস করলো আমি বললাম মার কথা জয় আর কিছু বলল না। রেস্টুরেন্ট এসে খাবার দিলো কিন্তু কিছু খেতে পারলাম না খাবারের গন্ধ ও ভালো লাগছে না।

পর্ব ২৮

জয় অফিসে বসে ফাইল চেক করছে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো হাতে নিয়ে দেখে আম্মুর কল।
~ হ্যালো আম্মু
~ জয় তারাতারি বাড়ি আয়।
~ কেন কী হয়েছে সব ঠিক আছে তো আম্মু?
~ জানিনা কিছু আমি নিলা অজ্ঞান হয়ে পরে গেছিল আমি এসে দেখি নিচে পরে আছে। ডাক্তার কে কল করেছি তুই তারাতারি আয়।

~ আচ্ছা
জয় নিলার কথা শুনেই ওর হাটবির্ট থেমে গেছে কি হলো নিলা? ও ঠিক আছে তো না নিলার কিছু হতে পারে না আমি ওর কিছু হতে দেবনা। সব কাজ রেখে দৌড়ে বেরিয়ে যায় অফিস থেকে। অফিসের সব স্টার্ফ রা অবাক চোখে জয়ের যাওয়া দেখলো কারো মাথায় কিছু ঢুকছে না।
আজকে গাড়ি ও তারাতারি যাচ্ছে না জয় এর বুক ধুকধুক করছে। কি হয়েছে নিলাকে তো হ্যা এই কয়েক দিন ধরে একটু অন্য রকম লেগেছে কিন্তু কিছু জিগ্গেস করলে বলতো ঠিক আছে। তাহলে নিলা আমাকে মিথ্যে বলতো। রাগে জ য় লাল হয়ে উঠছে সাথে টেনশন।

বাড়িতে এসেই এক প্রকার দৌড়ে জয় উপরে উঠে যায় কাউকে আসে পাশে দেখছে না সবাই তাহশে আমাদের রুমে। ভ য়ে ভয়ে রুমে ঢুকলো কিন্তু একি নিলা বেডেশুয়ে আছে আর সবাই এমন হাসছে কেন? আমাকে দেখেই আববু জরিয়ে কনংগ্রালাস করতে লাগলো সবাই অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে আমি নিলার দিকে তাকিয়ে দেখে কেমন যেন লজ্জা পাচ্ছে। সবার বিহেভার দেখে অবাক হচ্ছি নিলা অসুস্থ আর সবাই এমন খুশি।
~ কি হচ্ছে কি আববু তুমি আর তোমরা সবাই এতো হাসছো কেন? নিলা অসুস্থ সেখানে তোমরা ওর অসুস্থতা নিয়ে খুশি হচ্ছো।

রেগেই কথা গুলো বললাম কোথায় আমি চিন্তায় শেষ আর এখানে সবাই। আম্মু এসে আমার হাত ধরে সামনে নিয়ে যা বলল তাতে আমি অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে গেলাম। নিজের কানে কি ঠিক শুনলাম আমি বাবা হতে যাচ্ছি কথা টা শুনা মাএই একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো যা আমার এর আগে কখনো হয় নি।

বাবা হওয়ার যে এমন ভালো লাগা কাজ করে আগে জানা ছিলো না শরীর কাপছে আমার একটা বাচ্চা না আমার সন্তান সে আমাকে বাবা বলবে আদো আদো গলায় ছোট ছোট হাত দিয়ে আমায় স্পর্শ করবে ভাবতেই সারা শরীরের শিহরন বয়ে গেলো।

সারা বাড়ি ছোটা ছুটি করবে নানা জিনিসের বায়না করবে ওফ ভাবতেই ভালো লাগছে।
আম্মু আববু তো হইচই করতে করতে চলে গেল সারা পাড়া মিষ্টি বিতরণ করবে। কাজ লোকেরা তো আর ছোট সাহেব এন তান বলে চলে গেল রুম ফাকা হতেই আমি নিলার পাশে গিয়ে বসলাম ও লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে আমি নিচু হয়ে পেটে মাথা রাখলাম।

জয় আমার পেটে মাথা রেখে কান দিয়ে কিছু শুনার মতো করতে লাগল।
~ নিলা তুমি ভাবতে পারবে না আমি কেমন লাগছে বলো না এতো ভালো লাগছে কেন? এটাই কি সুখ বলে বাবা হওয়ার এমন অনুভূতি আমার সারা শরীর কাপছে দেখ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না কেউ আমায় বাবা বলে ডাকবে। ওফ এতো ভালো কেন লাগছে এখন তো আমার তোর সইছে না কখন ও পৃথিবীতে আসবে আর আমায় বাবা বলে আমাকে সুখ দেবে।

কথা গুলো বলেই জ য় আমার জামার উপরেই পেটে কিস করলো আমি কেপে উঠে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। জয় উঠে আমাকে বুকে জরিয়ে নিলো আমি কোন কথা বলছি তাই জয় মুখে হাত দিয়ে জিগ্গেস করলো।
~ কি হয়েছে জান তুমি কি খুশি হওনি আমাদের ছোট্ট একটা প্রিন্সেস আসবে তার জন্য এমন মুখ গোমড়া করে আছো কেন? কি হলো বলো?
~ জয় আমার অনেক খারাপ লাগছে।

~ কেন?
~ কতো দিন হয়ে গেল মার সাথে যোগাযোগ হয় হয় না খুব মিস করছি। মা কি কখনো মেনে নেবে না এতো খুশির একটা সময় কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না মার কথা বাবার কথা মনে পরছে। আজ বাবা বেচে থাকলে কতো খুশি হতো জ য়।
বলেই চোখ পানি ফেলতে লাগলো নিলা। জয় অনেক চেষ্টা করে নিলাকে শান্ত করলো।

দুইদিন পর
এই দুইদিন ধরে সবাই আমাকে পুতুল বানিয়ে রেখেছে একটু কাজে হাত দিতে না। ডয়িং রুমে বসে আছি হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো আমি উঠে যাবে মামুনি বকে বসিয়ে নিজে চলে গেল কে এসেছে দেখার জন্য। একটু পর চিৎকার করে সীমা ছোটে এসে জরিয়ে ধরলো।
~ ওফ জানু আমি ভাবতে পারছি না কি রে খুশি হয়েছি শুনা মাএ চলে এসেছি আর তুই কি রে আমাকে জানালি না। আমি খালামনি হবে এমন খবর আমার থেকে লুকিয়ে রাখলি।

~ সরি আসলে
~ কি আসলে নকলে করছিস হুম। শুধু মাএ এই পুচকো তাদের জন্য তোকে ক্ষমা করে দিলাম।
আমি হেসে উঠলাম ওর কথা শুনে পেছনে থেকে রোহান কে দেখলাম। ওদের সাথে অনেক সময় কথা বললাম বিকেলে ওরা চলে গেল। আর এ ও বলে গেছে ওদের কথা ও নাকি বাড়িতে বলবে।

পর্ব ২৯

রুমে শুয়ে আছি। আর মার কথা ভাবছি কতো দিন হলো মাকে দেখি না খুব মনে পরছে মার কথা। মার কি আমার কথা মনে পরে নাকি পরে না। এভাবে রাগ করে থাকতে পারে কিভাবে মা। কেন তুমি আমাকে মেয়েকে ক্ষমা করছো না। চোখ দিয়ে পানি পরছে প্রেন্ডন্যান্টের চার মাস চলছে আমার। এই সময় গুলো মাকে অনেক বেশি মিস করছি যদি মা পাশে থাকতো কতো ভাল হতো। হঠাৎ দরজা খুলে জয় প্রবেশ করলো। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম কেবল চারটা বাজে এখন জয়কে দেখে অবাক হয়েছি কারণ কম পক্ষে জয় তো নয়টা আটটার আগে আসে না।

আমি শুয়া থেকে উঠে বসলাম, জয় এর পেছনে আর একজন ঢুকো যাকে দেখে আমি অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে গেলাম। জয় আমার পাশে এসে মুচকি হাসছে আমি কিছু নি বলে মা বলে চিৎকার করে উঠলাম তার দৌড়ে গিয়ে মাকে জরিয়ে ধরলাম। এতো দিন পর মাকে দেখে আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না মাকে শক্ত করে ধরে কান্না করে দিলাম। মা ও কান্না করছে মাকে নিয়ে খাটে এনে বসিয়ে নানা কথা বলেই যাচ্ছি। এতো দিন কেন এতো কষ্ট দিল আমাকে কেন যোগাযোগ করেনি।

মা বলল, আমি তো সব সময় ই তোর কথা মনে করছি তুই চলে আসার পর ই বুঝতে পেরেছি আমি জোর করে তোকে বিয়ে দিতে চেয়ে ভুল করেছি। তোর মতো তোকে থাকতে দেওয়া উচিত ছিলো। আর আমি খুজ নিয়ে জয় বাবার সম্পর্কে ভালোই শুনেছি নিজেই তোকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছিলাম কিন্তু আমি তো শহরের কিছু চিনি না। কিভাবে তোর সাথে যোগাযোগ করবো। কিন্তু আজ হঠাৎ জয় বাবা গিয়ে বলল তোর কথা তোর বাচ্চার কথা। তুই নাকি আমার জন্য কষ্ট পাচ্ছিস আমাকে তাই তো নিয়ে এলো।

আমি মুগ্ধ হয়ে জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি এই মানুষ টা কতো ভালো আর কতো কিছু করবে আমার জন্য। আমি মার কথা বলছি আর সব ভুলে চলে গেছে মাকে আনতে সেদিন মা জয় কে কতো খারাপ কথা বলেছিল। কিন্তু কিছুনে রাখি নি। এতো ভালো কেন তুমি জয়। সারা বিকেলে মার সাথে গল্প করে কাটালাম এতো দিন পর মাকে পেয়ে নিজের মনের জমানো সব কথা বললাম। জয়ের থেকে জানতে পারলাম মা এখন থেকে এখানেই থাকবে কারণে গ্রামে ভার কেউ নেই একা সেখানে থাকার কি দরকার আমি তো তাই চেয়েছিলাম কিন্তু নিজের শশুর বাড়ি কি করে থাকতে বলি কিন্তু জয় বলায় একটা অন্য রকম ভরসা পেলাম।
রাতে জয় আমায় জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে আমি জয়ের বুকে মাথা রেখে আছি।

~ জ য় একটা কথা বলি?
~ একটা কেন অনেক গুলো বলো।
~ না আপাদত একটাই বলি?

~ বলো।
~ তুমি আমার মনের কথা কি করে বুঝে যাও? আমি যা চাই সেটাই কি ভাবে পূরণ করো তুমি।
জয় কিছু না বলে আমার কপালে চুমু দিয়ে জরিয়ে ধরলো।
সময় চলতে থাকলো দ্রুত গতিতে আর আমার ভ য় শুরু হচ্ছে এখন আমার সাত মাস চলছে হাটতে পারিনা বেশি পেট অনেক বড় হয়ে গেছে। জয় তো আমাক একটু ও নরতে দেয় না সারা দিন খাটে বসিয়ে রাখে নিচে ও নামতে দেয় না।

~ হ্যালো হুম কেমন আছিস?
~ ভালো। আমার সোনামনি টা কেন আছে?
~ এসে দেখে যা।

~ আসবোই তো এই শুন যার জন্য ফন দিয়েছি কাল আগে বাগেই এসে পরবি কিন্তু?
~ আমি তো আগেই বলেছি যাওতা যাবে না। জয় আমাকে নরতে দেয় বাথরুমে গেলে ও দরজায় বাইরে দাড়িয়ে থাকে এ কিছু তেই যেতে দেবে না।
~ আমি কিছু শুনতে চাই না তোকে আসতেই হবে। তুই না এলে আমি আংটি পরাবো না আগেই বলে রাখছি।
~ একটু বুঝতে চেষ্টা কর তোর বিয়ে তো থাকবোই তাই না এখন না থাকলে কি হবে।

~ নো এক্মকীউজ তুই না আসলে আমি কিছু করবো না রাখছি বাই।
কোন জালায় পরলাম। কাল সীমার এনগ্রেজমেন্ট আমাকে ছাড়া নাকি কিছু করবে না এদিকে জো তো কিছু তেই যেতে দেবে না। এতো মানুষের মাঝে নাকি ক্ষতি হয়ে যাবে।

রাতে
~ প্লিজ জয় রাজি হয়ে যাও না বেচারি কিছু করবে না বলছে।
~ না নিলা একদম ছেলেমানুষি করো না এই সময় তোমার কোথায় যাওয়া ঠিক না ডাক্তার বলছে। আমি তোমাকে নিয়ে কোন রিক্স নিতে চাই না।
~ কিছু হবে না যাবো একটু কথা বলেই চলে আসবো চলো না যাই।
~ না আমি কিছু তেই রাজি হবো না অযথা সময় নষ্ট না করে ঘুমিয়ে পরো।

~ তুমি আমার কোন কথাই শুন না জয় আমি আর কিছু বলবো না যাও।
বলেই রাগ করে শুয়ে পরলাম। প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে একটু গেলে কি হবে টেনশনে কি আছে বুঝি কথা বলবো না আমি। জয় নিলার দিকে তাকিয়ে আছে মুখ গোমড়া করে শুয়ে আছি নিলার মুখ গোমড়া থাকলে কিছু ভালো লাগে না জয় এর তাই রাজিহয়ে গেল এতে নির্লর খুশি দেখে কে।

পরদিন অনেক সাবধানে জয় এলো নিলা কে নিয়ে কিন্তু মন মানছে না ভয় করে একটু রিক্ম নিতে চাই নি শুধু নিলার হাসি মোখ দেখার জন্য।
জ য় নিলাকে সব সময় আগলে দূরে দূর রাখছে সীমার তাতে সমস্যা নেই সে তো নিলা এসেছে এতেই অনেক খুশি হয়েছে।
হঠাৎ জয়ের ফোন কল আসে।

~ নিলা এখানেই দাড়িয়ে থাকবে আমি একটু ওইদাকে গিয়ে কথা বলে আসছি অফিসের কল।
~ আচ্ছা যাও।
জয় আবার এগিয়ে এসে নিলার কপালে চুমু দিয়ে গেল। কেন যেন ভয় করছে জয়ের আরেকবার পেছনে তাকালো।

নিলা দাঁড়িয়ে আছে আশেপাশে সবাই কে দেখছে সবাই কতো মজা করছে আর আমি কিছু করতে পারছি না। হঠাৎ একটা মেয়ে আমার পাশে এসে দাড়ালো তাকিয়ে দেখি জুলি। আমি কিছু বলতে যাবো জুলি আচমকা আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো আমি পেটে হাত দিয়ে আহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি আর বাচবো না। আশেপাশের সবাই জরো হয়ে গেছে। একবার জয় বলে চিৎকার করে জয় কে খুজতে লাগলাম। নাই কোথায় জুলি ছুটে পালিয়ে গেল কেন এমন করলো। আমি তো ব্যাথা সহ্য করতে পারছি না। আর কিছু মনে নেই।

🍀
চোখ মেলে নিজেকে হসপিটালের বেডে পেলাম আমার সামনে সবাই আছে চোখ মেলতেই সবাই না না কিছু বলতে লাগলো আমার কোন কথা কানে যাচ্ছে না পেটের দিকে তাকিয়ে দেখে নিচু সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার কথা মনে পরলো। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না আমি পাগলের মতো বাচ্চার কথা জিগ্গেস করলছি হঠাৎ ছোট বাচ্চার চিৎকার কানে এলো সবাই সরে দাড়িয়ে বেরিয়ে যেতে লাগলো দরজায় কাছে জয় দাঁড়িয়ে আছে কোলে ছোট একটা শিশু কান্না করছে।

এটা কি আমার সন্তান আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি জয়ের দিকে তাকিয়ে আতকে উঠলাম কি অবস্থা হয়েছে। চুল গুলো উষকুখুষক হয়ে আছে শার্টে রক্ত জাট বেধে আছে চোখের কোণে পানি কি অবস্থা করেছে নিজের জয় এসে বাচ্চা কে দোলনার রাখলো আমি না করছি শুনলো না আমার পাশে বসে দুহাতে মুখ ধরে চুমু খেতে লাগলো পাগলের মতো করছে যেন আমি মরে গেছি। এইটুতে এই অবস্থা যদি আমি মরে যেতাম তাহলে জয়ের কি হতো ভাবতেই শিউরে উঠলাম।

~ জয় আমার বাচ্চা কি আমার কাছে দাও। ওকে দেখার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে আছি।
জয় দিলো ছোট একটা শরীর সে মিটিমিটি করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
~ ওর কতো কষ্ট হয়েছে জানো।

~মানে কেন
~ তোমার জন্য
~ আমার জন্য আমি কি করছি।
~ এই এক সপ্তাহে কি ভাবে কেটেছে তুমি জানো। পাগলের মতো তোমার কিছু হলে আমি মরে যেতাম নিলা।
~ এক সপ্তাহে মানে।

জয়ের থেকে জানে পারলাম এক সপ্তাহে আমি অজ্ঞান ছিলাম। এতো দিন ভাবতে কষ্ট লাগলো। জয় সব জানতে চাইলো কি ভাবে কি হয়েছে আমি বললাম না সতি টা জুলির কথা। জয় সন্দেহ করেছে আমি বলি নি। জয় আমাকে জরিয়ে ধরে রইলো। হঠাৎ জুলি এলো জয় আমার খাবার আনতে গেছে।
~ আই আম সরি নিলা তোমার অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমি ভেবেছিলাম তুমি মরে গেলে জয় হয়তো আমাকে মেনে নেবে কিন্তু তোমার এই জ্ঞান না থাকা সময় দেখে জ য় তোমার জন্য কতো পাগল সারা দিন তোমার হাত ধরে বসে থেকে বাড়িতে নেওয়া যায় নি খায় নি জোর করে এক লুকমা খেলে ও আর খায়নি তোমার অবস্থা দেখে ডাক্তার বলেছিল বাচবে র্ন কিন্তু জয়ের বিশ্বাস তুওকে ছেড়ে যাবে না। আমি যে তোমার অনেক ক্ষতি করলাম আমি তুমি শাস্তি দাও।

আমি জুলিকে ক্ষমা করে দিলাম। সে অপরাধ করে শিকার করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
এভাবে আমাদের সুন্দর একটা জীবন চলতে থাকতে লাগলো। জয় জেনি কে নিয়ে আমার ছোট সংসার চলতে থাকলো হাসি খুশিতে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

লেখা ~ শিলা আক্তার

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তোমায় হৃদয় মাঝে রাখবো – Premer golpo new Bangla” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তোমায় হৃদয় মাঝে রাখবো (১ম খণ্ড) – Premer golpo new Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button