রিলেশনশিপ

সিনিয়র চাচাতো বোন যখন বউ – এবার খেলা হবে

সিনিয়র চাচাতো বোন যখন বউ – এবার খেলা হবে: আমাকে জরিয়ে ধরে এখনো কাঁদছে। কিছুক্ষণ পর কাদা বন্ধ করে আমাকে এখনো জরিয়ে ধরে আছে। ভিতরে সবাই চলে আসল। আমি পড়লাম বিপদে। কারন সবাই আমাকে ভুল ভাবতে পারে।


পর্ব ১

~ I love you Nila……
~ ঠাস, ঠাস, ঠাস। তোকে কতবার বলছি যে আমি তোকে ভালোবাসিনা। আর কোনো দিনও ভালোবাসব না। তাও তুই কেন আমাকে প্রোপোজ করিস।
~ তোমাকে ভালোবাসি তাই।

~ ভালোবাসিস তাইনা। এই নে……এই বলে আরো তিনটা থাপ্পর দিলো। এখন খুশি।
~ কেন খুশি হবোনা। তুমি এতো ভালোবেসে আমাকে থাপ্পর দিলে। আমি কি রাগ করব নাকি।
~ যা তুই আমার সামনে থেকে।

~ যাচ্ছিতে এতো রাগ করো কেন। যাও তুমিও তোমার ক্লাসে যাও। ছুটির সময় দেখা হবেনে ওকে।

এই বলে আমি চলে আসলাম। কি আর করব। আমি ওকে ভালোবাসি। আর ও হলো আমার চাচাতো বোন। আমার থেকে এক বছরের বড়। ও ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। আর আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে৷ আমরা দুজন এক কলেজেই পড়ি। ওহ আপনাদেরতো আমার পীিচয় দেওয়া হলোনা। আমি আব্দুল্লাহ আল ফয়সল। সবাই আমাকে ওহী বলে ডাকে। আর ওর নাম নিলা। সবাই নিলা বলেই ডাকে।

আমি আমার ক্লাসের দিকে গেলাম। তার আগে দেখে নেই। আমাকে যে থাপ্পরটা দিলো কেউ দেখেনিতো। আশে পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। বাচা গেল। আমি আমার ক্লাসে এসে জান্নাতের পাশে বসে গেলাম। ওহ আপনাদেরতো বলাই হয়নি৷ জান্নাত আমার ফুফাতো বোন। কিন্তু ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা যাস্ট ভাইবোন। আমি ওর পাশে গিয়ে বললাম। দেখি ও খুব খুশি। আমার দিকে তাকাতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।

~ তোমাকে আজকেও মেরেছে আপু।
~ হুম। বাট ভালোবেসে মারছে।

~ হুম তাই বলে প্রতিদিন মারাতো ঠিকনা। একদিন মার না দিয়েওতো কথা বলতে পারে তাইনা।
~ হুম তাতো পারে। কিন্তু ওর মার খাইতে ভালোই লাগে এখন। আগে খারাপ লাগত।
~ বুঝতে পারছি। তাই বলে….

~ থাক কথা না বলে পড়ার দিকে মনোযোগ দাও। ওকে।
~ তাতো দিবো। একটা কথা বলার ছিলো।

~ বলো।
~ এই দেখো এখানে কতো সুন্দর সুন্দর মেয়ে আছে। তমি বললে আমি কারো সাথে কথা বলে দেখি। আর তোমাকেতো ভালোই দেখা যায় এদের মধ্যে কউতো তোমাকে অবশ্যই ভালোবাসবে।
~ না থাক। আমি নিলাকে ভালোবাসি। আর কারো কথা চিন্তা করতে পারবনা। আর এই একটা কথাও আমি শুনতে চাচ্ছিনা। বুঝলা।
~ হুম। এইতো চুপ করে থাকলাম। আর একটা কথাও বলবোনা।
~ হুম।

তারপর ক্লাস শেষ করে। আমি গেটের বাইরে চলে আসলাম। সবার আগে আমি আসি। এসে দাঁড়িয়ে থাকি কখন নিলা আসবে। আমার কারনে নিলার পিছনে কোনো ছেলেও ঘুড় ঘুড় করেনা। করলেও মারি তাদেরকে। বড়ভাই হলেও তাদের কে মারতে আমার হাত কাপেনা। কি আর করব ওকে আমি ভালোবাসি অন্য ছেলের সাথে তাকে আমি কিভাবে দেখবো।

দেখতে দেখতে নিলা চলে আসল। কিন্তু ওর সাথে ওটা কে। কোনো ছেলে ওর হাত ধরে আছে। এতো বড় সাহস। আমি কলেজে নতুন এসছি। তাও আমাকে সবাই চেনে। তার কারন নিলার পিছন পিছন যারাই ঘুরেছে তাদেরকেই আমি মেরেছি। তাই কলেজের সবাই আমার ব্যপারে জানে। বিশেষ করে মেয়েরা তাদের কেউ ছেলে ডিস্টার্ব করলে আমি আর আমার বন্ধুরা তার অবস্থা খারাপ করে দেই। আর আমি সবাইকে বলেও দিছি যে কেউ যেন নিলার পিছন পিছন না ঘুরে৷ তাহলে ও কেন।

আমি ওদের সামনে গিয়ে প্রচন্ড রেগে আছি। নিলার বান্ধবীরা ভয়ে ভয়ে আছে। পরো কলেজ স্টপ। তার কারন এখন নিশ্চই কিছু হবে। তাই সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। আর বন্ধুরা দূর থেকে মজা নিতাছে। আগে এর বারোটা বাজাই তারপর ওদের।

তখন…..
~ বড় ভাই হাত ছাড়েন।
~ কেন আমি ওর হাত ধরেছি তাতে তোর কি রে?

~ আমি আর দুইবার বলব। হাত ছাড়েন।
~ ছাড়লাম না। তুই কি করবি।
~ হাত ছাড়।
~ সাহসতো কমনা আমি তের বড় হয়ে আমাকেই তুই করে বলছিস।


পর্ব ২

তখন…..
~ বড় ভাই হাত ছাড়েন।
~ কেন আমি ওর হাত ধরেছি তাতে তোর কি রে?
~ আমি আর দুইবার বলব। হাত ছাড়েন।
~ ছাড়লাম না। তুই কি করবি।

~ হাত ছাড়।
~ সাহসতো কমনা আমি তের বড় হয়ে আমাকেই তুই করে বলছিস।
। এই বলে আমার কলার ধরল সে। আমি আর করব আচ্ছা মতো ঘুষি দিলাম। নাক ফেটে গেলো। এটা দেখে তার বন্ধুরা হয়তো আমাকে মারার জন্য আসছিলো। কিন্তু তা আর হলো না। তার কারন আমার বন্ধুরা মাঝ পথেই ওদের মেরে বুঝিয়ে দিয়েছে যে বস কে। হা হা হা। এবার আর কেউ কোনোদিন ওর হাতও ধরবেনা আর ওর পিছে পিছেও ঘুরবেনা।

নিলাকে একটু খুশি খুশি লাগছিলো। তাই আমি ওর হাতটা ধরলাম। তারপর…..
~ চলোতো এখানে থাকতে ভালোলাগছেনা।

~ আমার হাত ছাড়। তখন তুই বললি ওকে হাত ছাড়তে। আর এখন তুই আমার হাত ধরলি।
~ ওই আমি তোমাকে ভালোবাসি তাই অন্য কাউকে তোমার পাশে সহ্য করতে পারিনা বুঝলা। তাই ওকে মারছি।
~ আচ্ছা তুই আমার হাত ছাড়বি কি ছাড়বিনা।

~ না ছাড়বনা৷ আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তোমার হাত ছাড়বোনা।
~ ঠাস, ঠাস, ঠাস। এখন খুশি।

এই বলে নিলা চলে গেল। এখনতো সবাই দেখে ফেলছে। তো আমার কি দেখি সবাই কি কি জানো বলা বলি। করছে। তখন আমি বললাম ওই তোমাদের সমস্যা কি এটা আমাদের ব্যাপার আমরা যা ইচ্ছা তাই করব। আর ও আমাকে মারতে পারবেনা না কি। তোমরাওতো সেক্স করো তখন কি আমি তোমাদের কিছু বলছি। এটা বলার সাথে সাথে এইবার নিলা আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো। আমার খুব ভালো লাগল। আমাকে কিছু দূর নিয়ে যাওয়ার পর তারপর….

~ ওখানে ওইসব কথা বলার কি দরকার ছিলো
~ তো বলব নাতো কি করব। ওরা সবাই রকম কেন।
~ দেখ তোকে আগেও বলেছি আমি তোকে ভালোবাসিনা। তাও তুই আমার সাথে এরকম কেন করিস।
~ বাদ দেও। চলো বাসায় দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ও আর কথা না বলে হাটা শুরু করল। আনিও হাটছি। কিন্তু একটা বিষয় আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগছে। যে আমার মনে হয় নিলার মন খারাপ যাই হোক বাসায় পৌছে গেলাম। কিন্তু আনি না নিলা। আমার বাসা থেকে নিলার বাসা ৩০ মিনিট দূরত্। তাই প্রবলেম হয়না। আমি আমার বাসায় চলে আসলাম। এসেই নানান কথা শুনতে হয়। তখন…..
~ আজকেও তোর দেরি হলো।
~ হুম। প্রতিদিনইতো হয় তো কি হয়েছে।

~ দেরি হবে কেন।
~ কেন মানে প্রতিদিন নিলার সাথে আসি যে।
~ কিহ?

~ আরে নিলা আপুর সাথে আসি তাই দেরি হয়।
~ ওরতো কাজ থাকতে পারে তাইনা। তাহলে তোর ওর সাথে আসা লাগবে কেন।
~ কেন মানে আমার ইচ্ছা। আমি রুমে গেলাম।

আমি আমার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাকে ফোন দিলাম। ৫,৭ বার ফোন দিলাম। কিন্তু ধরলনা৷ তার পর ধরল ধরেই….
~ ওই তুই আমাক এতো বার বার ফোন দিস কেন। আমিকি তোর কিছু লাগি নাকি।
~ হু আমার হবু বউ হও। আর কিছু বাল লাগলে। তা কি করো।
~ আমি ইচ্ছা তাই করবো তাতে তোর কি রে…..
~ আমারতো সব কিছু। আচ্ছা খাইচো।

~ আমি খাই আর নাই খাই তাতে তোর কি।
~ বাদ দেও। এখন রাখি আাচ্ছা বিকালে আসবোনি। রেডি থাকো ওকে।
~ আমি পারবনা। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাবো।
~ তা ঘুমাও প্রবলেম নাই। আমি কিন্তু আসব।

এই বলে আমি কোনো কথা না বলতে দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম। খাওয়া শেষ করে রেস্ট নিলাম। নিলাকে নিয়ে আজ পার্কে যাবো। আজ বললে ভুল হবে। তার কারন আমি প্রতিদিন নিলাকে নিয়ে পার্কে যাই। ও যেতে চায়না তাও বড়আব্বুকে বলি। আর বড়আব্বু ওকে আমার সাথে যেতে বলে। আজও যাবো। আমি রেস্ট নিয়ে রেডি হয়ে নিলাম। জানি নিলা ঘুমোচ্ছে। তাও ওকে নিয়ে যাবোই আমি। ওর বাসায় গেলাম।

বড় আব্বু-বড় আম্মু আমাকে দেখে অনেক খুশি হলো। তার কারন তাদের কোনো ছেলে নেই। তাই নিলার থেকে বেশি আমাকে ভালোবাসে। আর আমারও কোনো বোন নাই। তাই আমার আব্বু-আম্মু নিলাকে বেশি ভালোবাসে। তাই আমাদের পরিবারের মধ্যে এইটুকুই পার্থক্য। আর বড় আব্বু অনেক ভালো আমাকে অনেক কিছু দেও। বাট নিলা মাঝে মাঝে আমার জিনিস নিয়ে নেয়। কি আর করার

~ ওহী কেমন আছো।
~ এইতো বড় আম্মু ভালো আছি। তুমি কেমন আছো।
~ আমিও ভালোই আছি। নিলাকে নিতে আসছ।

~ হুম। ও কোথায়
~ দেখো রুমে আছে হয়তো।
~ আচ্ছা যাই তাহলে।
~ আচ্ছা যাও।

যেই বলা সেই কাজ। আমি ওর রুমে চলে গেলাম। দেখি ও শুয়প আছে। ওর মুখের ওপর চুল এসে পড়ে আছে। আমার কেমন জানি লাগছে। আমি চুলগুলো পিছনে দিয়ে দিলাম। ওকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো। তাই কি আর করব ওর কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিলাম। ও সাথে সাথে জেগে উঠল। আসলে ওকে কোনোদিন এরকম করিনিতো। তাই আর কি। ও ঘুম থেকে জেগে খুব লজ্জা পেল। সাথে আমিও। তার কারন ও আমার দিকে কিরকম ভাবে জানি তাকিয়ে ছিলো। আমি আর কি করব। আমার কেমন জানি লাগছিলো তাই ওকে রেডি হতে বললাম। আর আমি বাইরে ওয়েট করলাম। ও যখন বের হয়ে আসল তখন ওকে পরীর মতো লাগছিলো। কিন্তু আজকে ও আমার সাথে যেতে চাইছে কেন। মনে হয় আমাকে মেনে নিছে। এইভেবে আমি ওকে পার্কে নিয়ে গেলাম। তারপর……


পর্ব ৩

যেই বলা সেই কাজ। আমি ওর রুমে চলে গেলাম। দেখি ও শুয়প আছে। ওর মুখের ওপর চুল এসে পড়ে আছে। আমার কেমন জানি লাগছে। আমি চুলগুলো পিছনে দিয়ে দিলাম। ওকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো। তাই কি আর করব ওর কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিলাম। ও সাথে সাথে জেগে উঠল। আসলে ওকে কোনোদিন এরকম করিনিতো। তাই আর কি। ও ঘুম থেকে জেগে খুব লজ্জা পেল। সাথে আমিও। তার কারন ও আমার দিকে কিরকম ভাবে জানি তাকিয়ে ছিলো। আমি আর কি করব। আমার কেমন জানি লাগছিলো তাই ওকে রেডি হতে বললাম। আর আমি বাইরে ওয়েট করলাম। ও যখন বের হয়ে আসল তখন ওকে পরীর মতো লাগছিলো। কিন্তু আজকে ও আমার সাথে যেতে চাইছে কেন। মনে হয় আমাকে মেনে নিছে। এইভেবে আমি ওকে পার্কে নিয়ে গেলাম। তারপর আমরা পার্কে হাটছি। কিন্তু তখনকার ঘটনার কারনে কেউ কিছু বলতে পাচ্ছিনা। আমি আর নিলা একটা ব্রেন্চে বসে পড়লাম। তারপরাশেই আইসক্রিম এর দোকান সেখানে থেকে একটা আইসক্রিম কিনলাম। নিলার আইসক্রিম খেতে খুব ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগে। কিন্তু ওকে খাইতে দেখে আমার মন ভরে যায়। তারপর……
~ আচ্ছা তোকে একটা কথা বলি।

~ হুম বলো। একটা কেন হাজারটা বলো।
~ আচ্ছা তুই আমার সাথে তখন কিছু করিসনিতো। মানে আমার শরীরে হাত দিসনিতো।
~ না শুধু তোমার কপালে একটা পাপ্পি দিছি দিছি। তাছাড়া আর কিছু করিনি।
~ ঠাস ঠাস ঠাস। তাও তুই আমাকে না বলে ওটা করছিস কেন।
~ তার মানে আমি যদি বলতাম তাহলে তাহলে দিতে দিতা।

~ ঠাস। না দিতাম না।
~ বুঝতে পারছি। তাই বলে সবার সামনে আমাকে মারছ এটা কিন্তু ঠিক না।
~ ঠাস, ঠাস। তুই আমাকে এখানে নিয়ে আসছিস কেন। আমার তের সাথে থাকতে ভালো লাগেনা।
~ আমি বাসায় যাবো।

~ হুম তাতো যাবাই। আচ্ছা ওই জায়গায় গেলে হয়না।
~ না আমি তোকে কতবার বলছি যে আমি তোকে ভালোবাসিনা। তাহলে আমি কেন তোর সাথে ওখানে যাবো।
~ প্লিজ কোনোদিনতো যাইতে চাওনা। আজকে না হয় চলো।
~ ঠাস, ঠাস, বললামতো না। তুই বাসায় যাবি না হলে থাক আমি যাই।

ওকে একটা রিকশা ঠিক করে দিলাম। ও চলে গেলাম। আপনারা হয়তো ভাবছেন যে আমি ওকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলছিলাম। তাইনা। আসলে আমি আজ থেকে চার বছর আগে আমার এক পছন্দের জায়গায় ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানেই প্রোপোজ। আর তারপর থেকেই আমাকে থাপ্পর মারা শুরু। চার বছর হয়ে গেল। তাও ও একবারো আমার সাথে চায়না। কিন্তু আমি যাই। পার্কে মাত্র ১০-১৫ মিনিট থাকা হয়। তারপর নিলা চলে যাই আমি ওই জায়গায় চলে যাই। ওই জায়গায় টা আসলে জান্নাতদের। কিন্তু ওর আব্বু বিদেশ থাকে। প্রত্যেক মাসে আসে। ওই জায়গায়টা নদীর কাছে। আর কেউ আসা যাওয়াও করতে পারেনা।

আমি সেখানে চলে গেলাম। দেখি জান্নাত বসে বসে গল্পের বই পড়ছে। আমাকে দেখে খুশি হলো। আনি ওর পাশে বসে পড়লাম। ও আমাকে দেখে আবার বই পড়া শুরু করল। আমি আর কি করব। আমি ওর সাথে কথাও বলতে পারছিনা। বলললেই অনেক প্রশ্ন করবে। তাই চুপ করে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর ও নিজে থেকেই বলতে থাকল…..
~ আপু আসলনা তোমার সাথে।

~ না। আজকেও আসেনি। চার বছর হলো চেষ্টা করছি তাও আসেনা
~ সত্যি কথা বলতে কি। তুমি জানতে পেরে খারাপ লাগবে তাও বলছি যে আপু তোমাকে সত্যি ভালোবাসেনা। তুমি আপুর সাথে থাকলে নাকি আপুর একটু ও ভালোলাগেনা।
~ না না এটা হতেই পারেনা। ও তো আমাকে ভালোবাসে।
~ সেটা তুমি কেমনে জানো।

~ ও মাঝে মাঝে হাসে আমি দেখছি
~ হাসে কিসের জন্য জানো।
~ কিসের জন্য।
~ যাতে তুমি ভুল বুঝে আপুর পিছে পিছে আর না ঘোরো।

~ তুমি এইসব কেমনে জানো।
~ আমিওতো একটা মেয়ে তাইনা আমিতো বলতেই পারি। আরেকটা মেয়ের মনে কি চলছে।
~ হুম তা ঠিক। আচ্ছা আমি আজ যাই তাহলে।
~ আরে যাবে মানে। আজ আমাদের বাসায় থেকে যাও।

~ না না তা থাকতে পারবনা।
~ আচ্ছা যাও তাহলে। দেখেশুনে যাও কিন্তু
~ আচ্ছা।

আমি ওখানে থেকে চলে আসলাম বাসায়। কিন্তু আমার না নিলার বাসায় আসছি। কিন্তু কেউতে নাই নিলাই বা কোথায় গেল। আমি নিলার রুমে গিয়ে দেখি নিলা নেই। তাই ভাবলাম বড় আব্বু-বড় আম্মুর রুমের দিকে গেলাম। তারা কথা বলছে নিলার সাথে। আমি ভাবলাম এটা তাদের পরিবারের ব্যপার। তা আমি শুনে কি করব। আমি চলে যেতে লাগছিলাম। ঠিক তখনই নিলা বলে উঠল…..
~ আব্বু তুমি কি আমার সিরিয়াসলি ভাবে নিচ্ছোনা কেন।
~ আচ্ছা বল কি বলবি।

~ আমি ওকে ভালোবাসিনা।
~ কাকে?
~ ওহীকে।

~ কেন ওতো ভালোই তোর কত খেয়াল রাখে।
~ খেয়াল রাখে না ছাই৷ জানো আমি যখন ঘুমোচ্ছিলাম। তখন ও আমার শরীর টাচ করার চেষ্টা করছে।

~ আমি জানি ওরকম ও কিচ্ছুই করবেনা। ও আমাদের নিজের ছেলে না হোক। তাও এতটুকু জানি যে ও এরকম কাজ করবেইনা। তোর আম্মু নাকি বলছিলো তুই আজকে নিজে থেকে যেতে চাইছিলি।
~ আমার কি জানি হইছিলো। তাও আমি ওকে একদম ভালোবাসিনা।

ও আমার একটুকুও ভালো লাগেনা। ও আমার সামনে আসে তখন আমার খুব খারাপ লাগে আমার কান্না করতে মন চায়। আমি ওকে একদম সহ্য করতে পারিন। আর ও আজকে আমাদের কলেজের ফার্স্ট বয়। আমি ওর কাছে কিছু পড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তাও ও ওকে মারছে। পর জন্য আমি কোনো ছেলের সাথে ঠিক মতো কথাও বলতে পারিনা।
~ তাতো ভালো। ও তো তোর ভালোর জন্যই এসব করে তাও তুই ওকে ভালোবাসবিনা।
~ না আমি ওকে ভালোবাসবনা। ওকে আমার একদমই পছন্দ হয়না।

~ কিন্তু আমরাতো তোর সাথে ওর বিয়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছিলাম।

~ না আমি ওকে বিয়ে করবনা। আমি আমার পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে করব।
~ তুই যেটা ভালো মনে করিস। তাও আমরাতো তোর বাবা-মা। তোর ভালোর জন্যই বলছিলাম। তুই যদি একবার ভেব দেখতিস তাহলে একটু ভালো হয়।
~ না না। আমি ওকে নিয়ে ভাববনা। আমার সাথে আর জোর করো তাহলে কিন্তু আমি বাসা থেকে চলে যাবো।
~ আচ্ছা তোর যা মন চায় তুই তাই কর।

আমি এতক্ষণ তাদের কথা শুনছিলাম। আমি জানিনা আমার চোখ দিয়ে কেন পানি পরছে। তার মানে জান্নাতের কথাই ঠিক ছিলো। নিলা আমাকে ভালোবাসেনা৷ আমাকে পছন্দ করেনা। আমি নাকি ওর সাথে থাকলে ওর কষ্ট হয়। ওর শরীর জ্বলে। থাক ওকে আর আমি কোনোদিন দিস্টার্ব করবোনা। ও ওর মতো থাকুক। আমি এইসব বলতে বলতে সেখান থেকে চলে আসলাম। বাসায় এসে শুয়ে আছি। তখন…..

পর্ব ৪

আমি এতক্ষণ তাদের কথা শুনছিলাম। আমি জানিনা আমার চোখ দিয়ে কেন পানি পরছে। তার মানে জান্নাতের কথাই ঠিক ছিলো। নিলা আমাকে ভালোবাসেনা৷ আমাকে পছন্দ করেনা। আমি নাকি ওর সাথে থাকলে ওর কষ্ট হয়। ওর শরীর জ্বলে। থাক ওকে আর আমি কোনোদিন দিস্টার্ব করবোনা। ও ওর মতো থাকুক। আমি এইসব বলতে বলতে সেখান থেকে চলে আসলাম। বাসায় এসে শুয়ে আছি। তখন আমার ছোট বোনটা আসল এসেই আমাকে জরিয়ে ধরে বলল……
~ ভাইয়া তোমার মন খারাপ

~ নারে বোন …তুই কি কিছু বলবি
~ না পরে বলব। আগে বল তোমার মন খারাপ কেন?

~ নারে বললাম তো আমার মন খারাপ না। এখন তুই বল তুই কি কিছু বলবি।
~ হুম। আসলে আমাদের স্কুলে আমাদের সাথে একটা ছেলে পরেতো। সেই ছেলেটা আমকে ডিস্টার্ব করে।
~ ও। আচ্ছা ঠিকাছে আমি কাল দেখতেছি তুই কোন চিন্তা করিস না তুই শুধু মন দিয়ে লেখপড়া করবি ঠিকাছে।
~ আচ্ছা ঠিকাছে।

এই বলে আমার বোনটা চলে গেল। আমার কিছুই ভালো লাগচে না। কেমনে ভালো লাগবে আপনারাই বলেন যাকে এই চার বছর ধরে ভালোবেসে এসছি সেই আমকে আসলে কোনদিনও ভালোবাসেনি। আর কিছুই ভালো লাগছে না। রাত ৭ টা তখন পরতে বসলাম। তার কারন কাল নাকি আমাদের কলেজে নতুন একটা ম্যডাম আসবে। আর তাকে নাকি সব আমাকে ই বুঝিয়ে দিতে হবে। আসলে আমি কলেজে নতুন আসলেও আপাতত বুঝে গেছি কখন কি হবে। তাই সব কিছু তৈরি করে নিলাম আগেই।

রাত ৯ টা ১৫ বাজে তখন আম্মু খেতে ডাকল। খেতে গেলাম। খাওায়ার সময় আমি নিলার বেপারেই কথা বলতাম যতক্ষণ না খাওয়া শেষ হয়। কিন্তু আজ কোন কথা বললাম না এটা দেখে আব্বু আম্মু খুব অবাক হলো। খাওায়া শেষ করে নিজের রুমে এসে সুয়ে পড়লাম। এখন ঘুমালেও ঘুম ধরবেনা। রাত ১০ টা ৩০ আমার পড়া তারাতারি শেষ হয়ে যায় তাই আমি ঘুমাইয়ো দেরি করে।

নিলা রাত ১ টা ২ টা পর্যন্ত জেগে থেকে পড়ে। আর আমি শুধু অকে ফোন দিতাম। আর ও আমকে খুব বকত। আমার খুব ভালো লাগত। যতক্ষণ না পর্যন্ত ও ঘুমাচ্ছে ততক্ষণ আমি অকে ফোন দিতাম। ও মাঝে মাঝে রেগে জেত আমার রেগে গিয়ে নিজের ফোন টা অফ করে দিত। কিন্তু আমি আর অকে ফোন দিতে পারবনা।

আমি ফোনটা হাতে নিয়ে আছি। নিলার ছবি গুলা দেখছি। ওর ফোনেও ওর তত ছবি নাই যতটা আমার ফোন আছে। তাই ও প্রাই আমাকে ওর কিচু ছবি দিতে বলে। আমি সব ছবি আমার ফোন থেকে ডিলিট করে দিলাম। আপনারাই বলেন আমি কি করব। যাকে এত দিন ভালোবেসে আসলাম সেই আমকে কন দিন ভালবাসেনি।

ওর সব ছবি আমার ফোন থেকে মুছে দিয়ে ওর নাম্বার মুছার অনেক চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিচুতেই মুছতে চায়না। আর ওই দিকে নিলা ভাবছে যে এতখন তো আমাকে কল করার কথা তাহলে এখনও কল করেনি কেন। ও কল না করলেই ভালো। আর ও কল করুক আর না করুক তাতে আমার কি। এইসব ভাবতে থাকল নিলা। আর এদিকে আমি ঘুমানোর চেষ্টা করচি কিন্তু কিচুতেই ঘুম আসছেনা। অজান্তেই চোখ থেকে পানি পরতে থাকল। আমি কিছুতেই ওকে ভুলতে পারবনা। তার কারন ওর সাথে আমার অনেক সৃতি জুরে আছে। কাদতে থাকলাম। কিন্তু কেন জানিনা কাদা বন্ধই হচ্চেনা।

কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি জান্নাত। জান্নাত কেন এখানে। তাও আবার আমার রুমে। ওরতো এখন কলেজে যাওয়ার কথা। তাহলে আমার এখানে কি করছে। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি ও আমাকে কিস করলো। কিন্তু কিস করলো কেন। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি কে যেন আমার গায়ে পানি ঢেলে দিল। ঘুম থেকে উঠে গেলাম। অহ তার মানে এটা একটা সপ্ন ছিল। তাইত বলি জান্নাত তো আমার সাথে এরকম করার কথা না। কিন্তু যে আমাকে পানি ঢেলে দিছে। আমি ভাবিনি তাকে দেখতে হবে।

আপনারা হয়ত ভাবচেন আমি দেখছি। আমি জান্নাতকে দেখছি আর ওই আমাকে পানি ঢেলে দিচিল। আমি ভাবলাম যে এটাও একটা সপ্ন তাই আগের সপ্নে জান্নাদ আমাকে কিস করচে এখন আমি জান্নাত কে কিস করব। এটাত সপ্ন তাই কোন প্রবলেম হবে না। এই ভেবে আমি ওকে কিস করি। ও ভাবেও নি যে আমি ওকে কিস করব। কিন্তু কিস করার পর ভাবলাম এখন তো আমার ঘুম ভাঙ্গার কথা কিন্তু ঘুম ভাংল না কেন। টা মানে আমি জান্নাত কে সত্যি সত্যি কিস করলাম।

হায় হায় এটা কি করলামস। আমি জান্নাতকে কেন কিস করলাম। জান্নাত এখন ছুপ করে আছে। কোন কথাই বলচে না। তাই আমি…….
~ সরি জান্নাত। আমি ভাবচিলাম যে এটা সপ্ন
~ মানে
~ মানে তোমাকে সব খুলে বলছি। আমি ওকে সব খুলে বললাম। ও শুনে ওর গালটা লাল হয়ে গেলো। ও কোন কথাই বলচে না আবার। ওর আবার কি হল। আমি ওকে ধরে নারালাম। তারপর……
~ জান্নাত তোমার কি হল। তুমি কিছু বলচ না কেন।

~ না কিছুনা।
~ হুম তা তুমি আমার রুমে কেন। আর দেখ তুমি কি করে দিচ। আমিতো ভিজে গেচি। এখন আমার যদি জর এসে যায় তাহলে কি হবে।
~ হুম। তুমি তাহলে ফ্রেশ হয়ে নেও। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। আচ্ছা তুমি যা বলচ তাকি সত্যি। মানে আমি কি তোমাকে কিস করছি সপ্নে।
~ হুম কেন।
~ না এমনি আর কি।

এই বলে ওর মুখটা আবার লাল হয়ে গেলো। আমি বুঝলাম না ওর সাথে এরকম কেন হল। তাতে আমার কি। ও বাইরে চলে গেলো। আমি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম। তার কারন প্রথমে আমার বোনের সমস্যা সমাধান করতে হবে। তাই জান্নাত কেও বললাম কথাটা। কিন্তু ও বলল যে কলেজে ম্যডাম আসবে তার কি হবে। এতাও ঠিক। আমি আর কার চিন্তা করিনা। আগে আমার পরিবার তারপড় বাকিসব। আমি ওকে বললাম যে আমার সাথে গেলে যাক। আর না গেলে না যাক। আমি ওকে আটকাবোনা।

আমরা সবাই চলে গেলাম ওর স্কুলে। সবাই বলতে আমার বন্ধুরাও ছিল। আমরা ওকে মারতে যাচ্ছি না। আগে ভালো করে বলব। তারপর ওকে যা করার করব। দেখি ওর বোনটা ওকে দিতে আসছে। ওই ছেলেটার বোন যখন পিছনে তাকালও তখন………

পর্ব ৫

আমরা সবাই চলে গেলাম ওর স্কুলে। সবাই বলতে আমার বন্ধুরাও ছিল। আমরা ওকে মারতে যাচ্ছি না। আগে ভালো করে বলব। তারপর ওকে যা করার করব। দেখি ওর বোনটা ওকে দিতে আসছে। ওই ছেলেটার বোন যখন পিছনে তাকালও তখন দেখি বিন্দি। বিন্দি হচ্ছে আমাদের কলেজের সবচেয়ে সুন্দরি মেয়ে। আমি ওর সাথে অনেক বার কথা বলেছি। তার কারন ও অনেক ভালো। তার সাথে পড়াশোনাও ভালো। তাই তার সাথে প্রাই যোগাযোগ হয়। আমাকে দেখে ও খুবই চমকে গেলো। তার কারন ও আমাকে এই ভাবে দেখবে এটা ও আশা করেনি। তখন………
~ আরে ওহী। তুমি এখানে জান্নাত আর বাকি সবাই আছো দেখছি।
~ হুম। আচ্ছা তোমার সাথে এই ছেলেটা কে?

~ এতো আমার ছোট ভাই। কেন কি হইছে ও কি কিছু করছে নাকি।
~ হুম। এইযে আমার ছোটবোন। তোমার ভাই আমার বোনকে ডিস্টার্ব করে। তাই বলতে আসছিলাম যে ও আমার বোনকে আর কোন দিন ও ডিস্টার্ব না করে। তাহলে তুমি জানো আমি কি করতে পারি ওর সাথে।
~ ও আচ্ছা। এইবার বুঝতে পারছি। আচ্ছা ও যা বলছে তা কি সত্যি।
~ না আমিতো ওকে ডিস্টার্ব করি না। আমি একদিন স্কুলে আসিনি। তাই শুধু ওর কাছ থেকে পরাতা জেনে নিতে চাইছিলাম। ওকে জিজ্ঞাস করি। কিন্তু ও তো কিছু বলেনা। আর ও ভাবছে আমি ওকে ডিস্টার্ব করি।
~ হুম। তাও তুই আর ওর সাথে কোন কথা বলবিনা। বুঝতে পারছিস।
~ হুম।

~ সরি আমার ভাইয়ের জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি।
~ না অসুবিধা নাই। ও যদি বুঝে থাকে তাহলে ভালো। যা বোন তোর আর কোন সমস্যা হবেনা। আর কেও যদি তকে কিছু বলে তাহলে আমাকে এসে বলিস। কেমন
~ আচ্ছা।

এই বলে আমরা সেখান থেকে চলে আসলাম। আমাদের সাথে বিন্দিও চলে আসল। আরেকটা কথা বলে নেই। আমাদের সাথে মনিও আছে। আর মনি বিন্দিকে ভালোবাসে। কিন্তু ভয়ের ঠেলায় বলতে পারেনা। যাই হোক আমরা কলেজে চলে আসলাম। বোনের স্কুল থেকে আমার কলেজে জেতে মাত্র ১০ মিনিট লাগে। কলেজে এসে সবাই ক্লাসে চলে আসলাম।

দেখি সবাই আমার উপর রেগে আছে। তার কারন আমি আসতে দেরি করে ফেলেছি। শুনলাম ম্যডাম নাকি চলে আসছে। আর এসে আমাকে নাকি খুঁজে পাইনি। এখানে এর অনেক শিক্ষক আছে। তাও যত দিন এখানে ক্লাস করেছি ততদিনে সব রুল শিখে গেছি। তাই কোন কোন শিক্ষক আমার উপর রেগেও থাকে। ক্লাসে কোন নতুন শিক্ষক এলে নাকি ক্লাসের ফার্স্ট বয় নাকি তাকে সব বুঝিয়ে দেয়।

আমি ফার্স্ট বয় না। মনি ফার্স্ট বয় তাও আমাকেই সব বুঝাই দিতে হয়। ম্যডামের ক্লাস শেষ। আর ক্লাস করতে মন চাচ্ছে না। তাই বন্ধুদের নিয়ে বাইরে চলে আসলাম। কলেজের ক্যাম্পাসে বসে আছি। তখনি দেখি নিলা তার বান্ধবিদের নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে। নিলা আজ আরেকটা ছেলের হাত ধরে আছে। দেখে আমার চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল। তারা আমার সামনে দিয়ে গেলো। আমি কিছুই বললাম না।

আমার বন্ধুরা আমাকে বলল……
~ ওহী দেখ আপু আবার কার সাথে জানি যাচ্ছে। তাও আবার হাত ধরে।
~ থাক। ওকে আর কিছুই বলিস না।

~ এটা কেমন কথা বলছিস। আরে আপু আমাদের ভাবি হয়। ভাবির উপর আমাদের নজর রাখতে হবে।
~ দেখ এরকম কিছু করিস না যাতে ওর কষট হয়।

~ আচ্ছা ওহী বলত তোর আজকে কি হইছে। তুই এরকম ভাবে কথা বলছিস কেন।
~ তোরা জানতে চাস। তাইতো।
~ হুম। প্লিজ বল। কি এমন হইছে যার কারনে তুই এরকম কথা বলছিস।

~ তাহলে শোন কাল যখন আমি ওর বাসায় গেছিলাম তারপর……… .সব খুলে বললাম।
~ দোস্ত তোর ব্যাপারটা বুঝতে পারছি। তুই কাঁদিস না। আমরা ওর থেকে আরো ভালো মেয়ে খুজে নিয়ে আসব। তুই কোন চিন্তা করিস না।
~ আমি কাঁদছি। কি করব আমি ওকে যতবারই দেখি। ওর সব কথা মনে পড়ে যায় আমার। ওকে খুব ভালবাসি আমি। ওকে কমনে ভুলে যাব আমি। আমার কান্না থামচেনা। এদিকে আমার বন্ধুরা আমাকে কান্না করতে নিসেদ করছে। কিন্তু কোন কিছুই আমার কানে ধুকচে না। ম্যডাম আসল। এসে………

~ ওর কি হইছে ও কাঁদছে কেন।
~ ম্যম সত্যি কথা বলব কিছু মনে করবেন্না তো

~ না বল কিচুই মনে করব না।
~ আসলে ম্যম। আজকে আপনাকে যখন ও ক্লাসে দেখেছে তখনই আপনার উপর ক্রাস খাইছে। কিন্তু ও বলতে পারচেনা। এই ভেবে ও কাঁদছে।
~ কিহ………………ম্যডাম শুনে চুপ হয়ে গেলো। সে আর কি বলবে। সালারা আমাকে এখানে ফাশায় দিয়ে চলে গেচে। এদিকে আমার মন খারাপ। আর সালারা এইরকম একটা আকাম করে দিয়ে চলে গেলো। এম্নিতেও ম্যডাম দেখতে সেই আমার থেকে তাও ৪,৫ বছরের বড় হবে। ম্যডাম কে যেই দেখবে সেই ক্রাশ খাবে এটা ১০০% সিওর। আমি কান্না থামায়ে ………
~ ম্যম। কোথায় হারায় গেলেন।

~ না কিছুনা। আচ্ছা ওহী একটা কথা বলার দরকার ছিল।
~ বলেন কি বলতে চান।

~ আমিতো এই শহরে নতুন তাই আমি কিছুই জানিনা। এখাণকার ব্যাপারে তুমি হয়ত ভালো জানবে। তাই আমি বলে চাচ্ছিলাম যে কালতো শুক্রবার। তাহলে কাল বিকেলে আমার সাথে কি যাবে ঘুরতে।
~ মানে। কি বলতে চাচ্ছেন আপনি।
~ আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে কাল আমার সাথে একটু বেরাতে চলো। তাহলে এই জায়গা গুলো চিনায় দিলে ভালো হতো।
~ ওও বুঝতে পারছি। কিন্তু ম্যম………
~ কোন কিন্তু না আমি যা বলছি তাই হবে ……

এই বলে ম্যডাম চলে গেলো। হায় হায় ম্যডামের আবার কি হলও। যাই হোক সেগুলো পড়ে ভাবা যাবেনে। আমি আবার ক্লাসে চলে গেলাম। দেখি সালারা এমন ভাবে বসে আছে যে কিছুই হইনি। আমি জান্নাতের পাশে বসলাম। তারপর………
~ কোথায় গিয়েছিলা।

~ এইত একটা কাজে।
~ ও ও ও ও ………আচ্ছা শোন কাল আমাকে বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে। বুঝলা।
~ কিহ তোমাকেও ……
~ আমাকেও মানে। কেউ কি তোমাকে আগে বলছে নাকি?

~ না না কে আমাকে বলতে যাবে।
~ হুম। আমি আর কোন কথা শুনতে চাইনা। কাল আমাকে নিয়ে যেতে হবে ব্যাস। যদি না নিয়ে যাও। তাহলে কিন্তু আমি আর কোনদিনও তোমার সাথে কথা বলবনা………
~ আচ্ছা নিয়ে যাবো……হায় হায় এখন এখন আমি কি করি। ম্যডামকেও নিয়ে যাবো আবার জান্নাত কেও নিয়ে জাব……আমিতো শেষ। এখন আমি কি করি। একজনকে না হয় নিয়ে যাওয়া যায়। দুজনকে কেমনে নিয়ে যাবো। এইসব ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ হয়ে গেল…তখন…………

পর্ব ৬

কিন্তু ম্যডাম আমার নাম্বার কোথায় পাইল। মনে হয় সালারা নিশ্চিত দিচে। তাই আর কি করার। ম্যডামের সাথে কথা বলাই লাগবে তাছারা আর চলবে না। মানে আমার চলবে। কিন্তু ম্যডামের চলবে না। কারন ম্যডাম নিজে থেকেই ফোন দিচে। আমি বুঝতে পারছি কিসের জন্য। এখন দেখা যাক আমার ভাবনা তাই সত্যি নাকি। তারপর…….
~ হ্যালো।
~ হ্যালো ওহী। তুমি বাসায় আছো।

~ জি ম্যম। কেন কথাও আসতে হবে নাকি।
~ হুম। আমিতো কিছু শপিং করব। তুমি যদি আমার সাথে আসতে তাহলে ভালো হতো। আমিতো চিনিনা কোথায় ভালো শপিং করা যায়।
~ সরি ম্যম। আমি আসতে পারবনা। আমার জ্বর হইছে। তাই আসতে পারবনা। শরীরটা খুব খারাপ।
~ ওহ। আমিতো জানতামি না। কিন্তু স্কুলে থাকা অবস্থায়ত তুমি ভালো ছিলে তাহলে এখন আবার কি হলো।
~ বললাম তো জ্বর হইছে। আচ্ছা ম্যম রাখি তাহলে।

ম্যডামকে আর বলতে না দিয়ে আমি ফোনটা রেখে দিলাম। বাচা গেলো। কিন্তু ম্যডামের আবার কি হলো। ম্যডাম আবার আমকে নিয়ে কেন এসব করে। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি জান্নাত চলে আসছে। আমি বুঝতে বাকি রইলো না যে জান্নাত আর আজকে যাবেনা। আমার বোনটাও আগেই স্কুল থেকে চলে এসছিল। তাই ওকে আর দেখতে পাইনি। জান্নাতের সাথে ও আসলো। এসে আর কি করবে।

কাল যে ছেলেটাকে নিয়ে তার সমস্যা ছিল। আজ সেই ছেলেটা তার কারছে ভালো হয়ে গেলো। আমি বুঝিনা মেয়েদের মনে চলে কি। ও আমার রুমে আসা পর্যন্ত ওই ছেলেটার নামে এতো কিছু বলে যাচ্ছে। আমি ১০০% সিওর ওই ছেলেটাও আমার বোনের সাথে থেকে পাগল হয়ে গেছে। কি আর করার এতে আমার কিছু করার নাই। আমি সুয়ে আছি। মাথা কেমন জানি করচে।

জান্নাত এটা জানতে পেরে আমার পাশে এসে বসল। আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। খুব ভালো লাগছিলো। আমি জান্নাতের ভাব দেখে বুঝতে আর বাকি রইলো না যে জান্নাত ও আমাকে ভালোবেসে ফেলসে। তাই জান্নাতকে বলতে হবে যে আমি ওকে ভালবাসতে পারবনা। কিন্তু কেম্নে বলব। জান্নাত এতো সুন্দর করে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচে যে আমি ঘুমিয়ে গেছি।

আমি এদিকে ঘুমিয়ে গেছি। আর ওই দিকে নিলা আমার কথা ভাবছে। যে আমি এক্তু পর এসে ওকে ঘুম থেকে জেগে তুলব। আর তখনই ও আমাকে বকা দিবে। কিন্তু তা আর হলো না। এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। নিলা ঘুমায়নি এখনো। আমাকে বকা দেওার জন্য আমার জন্য অপেক্ষা করে আসছে। কিন্তু আমি ওর কাছে জাইনি। এমন কি ওকে একটা ফোন ও দেই নি। নিলা এসব ভাবতে ভাবতে কেদে ফেলল। কিন্তু ও জানেনা যে ও কিসের জন্য কাঁদছে।

আমার ঘুম ভাংল। দেখি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমার মাথার কাছে কে যেন বসে আছে। ভাবলাম জান্নাত হয়ত। কিন্তু না এটা জান্নাত না। আমি যখন আমার চোখ খুললাম তখন দেখি জান্নাত চুপ করে আমার সামনে বসে আছে। তাহলে আমার কাছে কে বসে আছে। তারপর আমি যখন আমার পাশে দেখার জন্য উঠছিলাম। তখন দেখি এটাতো ম্যডাম। ম্যডাম এই সন্ধ্যা বেলা কি করচে।

আর ম্যডাম তো আমার বাসা চেনেনা তাহলে ম্যডাম আসল কেমনে। আর চিনলই বা কেমনে। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি মনিরের ফোন। আমি ফোনটা ধরতেই ও পাশ থেকে বলতে লাগলো……
~ দোস্ত ম্যডাম তোর বাসা কোথায় সেটা জানতে চাইছিল। আর আমি বলেও দিছি। আচ্ছা ম্যডাম কি তোর বাসায় চলে গেছে।
~ হুম চলে আসছে। আচ্ছা তুই কি তাহলে ম্যডামকে আমার নাম্বার আর বাসার ঠিকানাটা দিছিস।
~ হুম কেন কি হইছে।

~ সালা তোকে আমি দেখে নেবো। সালা আমাকে একবার সুস্থ হতে দে। তারপর দেখ তোর কি কেই।
~ আমাকে পড়ে দেখলেও চলবে। তার আগে তুই বল তোর আবার কি হইছে। তুই আবার কিসে থেকে সুস্থ হবি।
~ ফোন রাখ।

এই বলে আমি ফোনটা রেখে দিলাম। কিন্তু ম্যডাম রেগে আছে। ম্যডামের আবার কি হলও। ম্যডাম আবার আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন। জান্নাত নিচে চলে গেলো। আম্মু ডাকছে তাকে। আমি ভয়ে ভয়ে আছি জান্নাত আমাকে একা ছেড়ে চলে গেলো। এখন আমার কি হবে। আমি ভয়ে ভয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ম্যডাম সেটা বুঝতে পেরে আমাকে বলল……
~ তখন ওটা বলার কি দরকার ছিল।
~ কোনটা ম্যম।

~ তুমি ভালো করেই জানো। আমি কিসের কথা বলছি।
~ কি করব ম্যম। সরি কিন্তু আপনি আমার নাম্বার চান। তাহলে আমাকে বলতেন আমি আপনাকে দিতাম। আপনি আমার বাসায় আসতে চান তাহলে আমাকে বলতেন আমি আপনাকে নিয়ে আসতাম। তাহলে আরেকজনকে বলার কি দরকার ছিল।

হা হা আমি মিথ্যা কথা বলছি আমি কখনই ম্যডামকে আমার নাম্বার দিতাম না। আর আমি কখনই ম্যডাম কে আমার বাসায় নিয়ে আসতাম না। ম্যডাম যাতে রাগ না করে সেই জন্য। ম্যডামকে মিথ্যা কথা বললাম। ম্যডাম শুনেত মহা খুশি। ম্যডামকে দেখে বোঝাই যাবেনা যে সে একটু আগে রাগ করে ছিল। ম্যডাম চলে গেলো। কোথায় গেলো আমি জানিনা।

রাত ৭:৩০ আমি এখন আগের থেকে এক্তু ভালো আছি। তাই পড়তে বসলাম। আর আমাকে ম্যডামই পরাচ্ছে। আমার সেফটির জন্য জান্নাতকে এখানে জ্বর করে বসিয়ে রাখছি। আমার সাথে ও পড়ছে। জান্নাত মাঝে মাঝে কোথায় যেন যায়। কিন্তু ম্যডাম তাকে কিছু বলেনা। আমি একটু নড়া চড়া করতেই ম্যডাম বকা দেয়। আর আমার দিকে কেমন ভাবে জানি তাকিয়ে থাকে।

আমি একটা কথাও কিচুতেই বুঝতে পারছিনা। ম্যডাম কেন আমাদের বাসায় এখনো আছে। এই সব ভাবতে ভাবতে আবার বকা খাইলাম। এইসবের মধ্যে থাকতে থাকতে নিলার কথা ভুলেই গেছি। আর ওকে মনে করে কি করব। ওত আমাকে সহ্য করতে পারেনা। তাহলে। এই সব চিন্তা করছি। না পড়তে ভালো লাগছে না। তাই ম্যডাম কে বললাম যে আর পরবনা। ভালো লাগচেনা।

রাত ৯ টা বাজে তখন সবাই বসে গল্প করছি। কথা থেকে জানি নিলার কথা আসলো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আমি অখান থেকে চলেই আসব তখন আম্মু খেতে বলল। আমি খেতে চাইছিলাম না। তখনই ম্যডাম জোর করে বসিয়ে দিলো। কি আর করার। ভালো লাগছেনা তাও খাইলাম। কিন্তু খাওার সময় আম্মু ম্যডামকে বলল……
~ তা তুমি কথায় থাকো।
~ এইতো আনটি এখানে একটা ম্যচে থাকি। কি আর করব আব্বু আম্মু গ্রামে থাকে। আমি এইখানে থাকি। এখানে আমার পরিচিতও কেও নাই। আমার এক বান্ধবি আছে। কিন্তু ওর বিয়ে হয়ে গেছে। তাই আমার এখানে একা একা থাকা লাগে।

~ ও তাহলে তুমিও বিয়ে করে নেও।
~ আমাকে কে বিয়ে করবে আমাকে তো ভালো সেখা যায়না।

হায় হায় এই মেয়ে বলে কি। একে নাকি ভালো দেখা যায় না।
~ ও। তাহলে আমি তোমার জন্য একটা পাত্র খুজে দেখি তাহলে। তুমি কি বলও।
~ পাত্র খুজার কি দরকার। পাত্র পেয়ে গেছি আমি।

ম্যাডাম আমার দিকে তাকিয়ে কথা গুলা বলল। আমার বুঝতে বাকি রইলো না। যে ম্যাডামও আমাকে ভালোবেসে ফেলছে। হায় হায় এখন আমি কি করি।

~ কে সে।
~ সময় আসলে বলবনি।
~ আচ্ছা। তা আজ রাত এখানেই থেকে যাও।

~ না না আনটি। আমি চলে যেতে পারবি।
~ তাতো বললে হবেনা মা। এতো রাতে তুমি কিভাবে যাবা। আর যাওয়ার সময় রাস্তায় যদি কোন অঘটন হয়ে যায় তাহলে।
~ হুম। এটাও ঠিক। তাহলে আনটি আমি এখনে থাকব কার সাথে।

~ কেন। আমার ছোট মেয়ের সাথে। আর জান্নাত আমার ছেলের সাথে সুবেনে। আমার ছেলেটা এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি। তাই ও সারারাত ওকে জলপট্টি দিবেনে।
~ না আনটি তা মনে হয় ঠিক হবেনা। তার কারন জান্নাত তো এখনো ছোট। ও না হয় শারমিনের সাথে ঘুমিয়ে যাক। আমি না হয় ওর সেবা করবনি।

হায় হায় এই মেয়ে বলে কি। এবার আমি খাইছি। মানে আমাকে খাইছে। কি আর করার। সেটাই হল। তখন………

পর্ব ৭

হায় হায় এই মেয়ে বলে কি। এবার আমি খাইছি। মানে আমাকে খাইছে। কি আর করার। সেটাই হল। তখন রাত ১০টা আমারা সবাই ঘুমাতে গেলাম যে যার রুমে। কিন্তু আমার ঘুম আসছেনা। আমি সোফায় সুয়ে আছি। তখন আমার রুমে ম্যডাম আসলো আর বলল……

~ কি হলো তুমি সোফায় সুয়ে পরলে কেন।
~ না ম্যম। বিয়ের আগে আমি আপনার সাথে সুতে পারবোনা।
~ আসো সমস্যা নাই।

~ না ম্যম সমস্যা আছে। সেটা আপনি বুঝবেন্না।
~ ওই ছেলে আমি তোমার থেকে আমি তোমার থেকে বড়। আমি এইসব তোমার থেকে ভালো বুঝি।
~ কি বোঝো তুমি আমাকেও একটু বলও।

ম্যডাম এর কথা শুনে আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছে। তখন জান্নাত আমার রুমে আসল। রুমে এসে আমাদের দেখে বলল……
~ যাক বাবা বাচা গেলো।
~ মরছিল কে যে বেচে যাবে।
~ ম্যডাম আপনি ওর সাথে সুতে পারবেন্না।

~ কেন কেন।
~ তার কারন আপনার তও ওর সাথে বিয়ে হইনি তাহলে ওর সাথে কেন সুবেন।
~ হয় নি হয়ে যাবে।

এই সব ফালতু কথা সুন্তে আমার একদমি ইচ্ছা করচেনা তাই………
~ চুপ। কেও আর একটা কথাও বলবেনা। জান্নাত তুমি ম্যডামের সাথে বস।
~ বসল ম্যডামের পাশে। দুইজনই চুপ করে আছে। তখন……
~ জান্নাত, ম্যডাম তোমরা সত্যি সত্যি একটা কথা বলতো। তোমরা কি আমাকে ভালোবাসো।
~ কেও কোন কথা বলছেনা।

~ দেখ চুপ করে লাভ নাই। আমি জানি তোমরা দুজনি আমাকে ভালোবাসো। এটা আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে কাওকে ভালবাসতে পারবোনা।
~ কেন কেন।

~ তার কারন আমি নিলাকে ভালোবাসি। আর আমি অকেই ভালবাসব। এই নিয়ে আর কেও একটা কথা বলবা না প্লিজ। তাহলে কিন্তু আমি এই বাসা ছেড়ে চলে যাবো।
~ আচ্ছা।

~ দেখো তোমরা দুজনি অনেক ভালো মেয়ে। আমার থেকে অনেক ভালো ছেলে পাবে। আমি তোমাদেরকে হাত যোর করে বলছি যে আমি তোমাদের কাওকে ভালবাসতে পারবনা। আর আমি চাইনা যে এই আর কোন কথা হোক।

এই বলে আমি রুম থেকে বের হচ্ছিলাম তখন জান্নাত বলল……

~ কোথায় যাচ্ছ তুমি।
~ আমি আমার বোনের কাছে গিয়ে ঘুমাব। তোমরা এখানে সুয়ে পরো।
~ কিন্তু।
~ কোন কিন্তু না যা বলছি তাই করো।

কেও আর কোন কথা বল্লনা। বলবে কিভাবে। দুজনের মন যে আমি ভেঙ্গে দিলাম। কিন্তু আমি এতে কিছু করতে পারবোনা। আমি অদের দুজনের মধ্যে কাওকে ভালবাসতে পারবোনা। কারন আমি নিলাকে ভালোবাসি। কিন্তু ও আমাকে মেনে নিবেনা সেটা আমি জানি। আমি আমার বোনের রুমে গিয়ে দেখি। ও সুয়ে সুয়ে কি যেন বলছে। আমাকে দেখে ও অবাক হয়ে গেলো। আমি ওর পাশে সুয়ে পড়লাম। তখন……
~ কি হল ভাইয়া আমার কাছে আসলে যে।
~ কেন আমি এখানে থাকতে পারিনা নাকি।

~ আমি সেটা বলিনি। আমি বললাম যে তুমি যদি এখানে ঘুমাও তাহলে আপু কোথায় ঘুমাবে।
~ কেন আমার রুমে ঘুমাবে।
~ ওহ। বুঝতে পারছি। ভাইয়া তোমার ফোনটা এক্তু দিবা।
~ কেন রে আমার ফোন দিয়ে তুই কি করবি।
~ দেও তো দেখি কি করা যায়।
~ এই নে।

আমার ফোনটা ওকে দিয়ে দিলাম। দেখলাম ও আমার ফোনে কার্টুন দেখছে। দেখুক। আমি সুয়ে আছি। কিন্তু ভালো লাগচেনা নিলার কথা খুব মনে পড়ছে। আমি জানি নিলা এখন শুখি আছে অনেক। আমি আর ওকে জালাই না। অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো। কি আর করব ভালো লাগচেনা। বুকের মধ্যে কেমন জানো বেথা করছে।

এখন চলেন নিলা কি করছে সেটা না হয় দেখে আসি। নিলা এখন আমাকে নিয়ে চিন্তা করছে। যেহেতু নিলা দুপুরে ঘুমাইনি তাই এখন ওর খুব ঘুম ধরছে। রাত ১০ঃ৩০ নিলা জেগে আছে কখন আমি ওকে কল দেব আর ও তখন আমাকে বকা দিবে। কিন্তু না ২ ঘণ্টা হয়ে গেলো নিলা অনেক কষ্টে জেগে আছে। কিন্তু আমি ওকে আর ফোন দেইনি।

তাই নিলা আমাকে ফোন দিতেও দিতে পারেনি সে মনে মনে বলছে আমি কেন ওকে নিয়ে ওত ভাবছি। ও তো আমাকে আর কোন কষ্ট দেয়না। এইসব ভাবতে ভাবতে ও কখন ঘুমিয়ে গেছে ও নিজেও জানেনা। সকালে ঘুম থেকে ঘুম থেকে উঠে দেখে ওকে কে যেন দুইবার ফোন দিছে। নিলা অনেক খুশি ও ভাবছে আমি হয়ত ওকে কল করছি কিন্তু না আমি ওকে কল করিনি।

ওকে ওর বান্ধবি ফোন দিচিল। কারন আজকে নিলার জন্মদিন। তাই তাকে উইশ করার জন্য ফোন দিচিল। নিলা আবার ওকে কল বেক করতেই তার বান্ধবি আর ফোন দেইনি ওকে সারপ্রাইজ দেবে বলে। নিলা জানে আজকে ওর জন্মদিন। তাই ও ভাবছে আজকে ওকে সবাই সারপ্রাইজ দিবে। আর সেখানে ওহিও থাকবে। এইসব ভেবে নিলা অনেক টা খুশি হল। কিন্তু ও রাত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারলনা।

আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জান্নাত আর ম্যডাম এর চোখ লাল। বুঝতে বাকি রইলো না যে তারা সারা রাত কেদেছে। কাদুক এতে তাদের মন ও হাল্কা হবে। এইসব ভেবে ওহী অদের সরি বলল মানে আমি সরি বললাম তখন……
~ সরি বলার দরকার নাই। আমাদেরি ভুল হইছে তোমাকে ভালবাসতে গেছি।

~ এখনো মন খারাপ করে থাকবে তোমরা
~ তুমি আমাদের নিয়ে ওত ভেবনা। আমরা ঠিক হয়ে যাবনে।
~ হুম। তাহলে যাও তোমরা ফ্রেশ হয়ে নেও। তারপর খেতে বসব এক সাথে।
~ আচ্ছা জাচ্ছি।

এই বলে তারা চলে গেলো। দুই জন ই ফ্রেশ হয়ে এসছে। অস্থির লাগছে দেখে। তাই দুইজনই লজ্জা পেল আর আমাকে বলল……
~ ওই আমাদের দিকে এইভাবে তাকানো যাবেনা বুঝলা। তুমি নিলাকে ভালোবাসো তাহলে আমাদের দিকে এভাবে তাকিয়ে আসো কেন।
~ সরি।
~ অসুবিধা নাই।

তারপর আমরা সবাই খেতে গেলাম। তখন নিলা আসল………

সরি বন্ধুরা আমি আপনাদের কমেন্ট পরেছি। কিন্তু গল্পত আমাকে মিলিয়ে লিখতে হবে তাইনা। সেই ভেবে মাঝ খানে ওইটুকু দিয়েছি। আর নিলাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে তার জন্য এদের থাকা জরুরি। এখন হয়তো আপনারা বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। আর ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ হাফেজ।

পর্ব ৮

তারপর আমরা সবাই খেতে গেলাম। তখন নিলা আসল নিলা ম্যডামকে দেখে খুবই চমকে গেলো। চমকে যাওয়ারই কথা। ম্যডাম এখানে কি করছে। কেও জানেনা যে আমি আমার বোনের সাথে সুয়েছি। মানে শুধু আব্বু আম্মু জানেনা। তখন……
~ ম্যডাম আপনি এখানে কেন।
~ আরে নিলা তুমি এখানে। বস।

~ নিলা তোর ম্যডাম কাল আমাদের সাথেই ছিল। ওহীর জ্বর এসছিল। তাই ওহীর সাথে ছিল। সারারাত। ( আম্মু)

খাইছে আম্মুত আমাকে ভালভাবে ফাঁসায় দিছে। আমাকে কেও মাইরালা। ওহ আমি কেন চিন্তা করছি। নিলা তো আমাকে ভালবাসেনা। তাহলে আমি এতো চিন্তা করচি কেন। আমার তো চিন্তা করার কোন কারন নাই। নিলাও আমাদের সাথে খেতে বসে গেলো। আম্মু সবাইকে খাবার বেরে দিলো। আমার পাশে ডানে বসেছিল ম্যডাম আর আমার সামনে বসে ছিল জান্নাত। আর আমার বামে বসে ছিল নিলা।

আমি নিলাকে দেখাচ্ছি যে আমি তাকে ছাড়া অনেক খুশি আছি। আমি জান্নাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসচিলাম। আর এটা দেখে নিলার কেমন জানি খারাপ লাগছিলো। তাতে আমার কি আমি তাকে না জালালেই হল। আমি যেহেতু অসুস্থ তাই ম্যডাম কে খাওয়ায় দিতে বললাম। কেও বুঝতে পারচেনা আমি কি করছি। ম্যডাম আমাকে খাওয়ায় দিতে লাগলো। ভালই লাগছিলো।

ঠিক তখনি নিলা আমার পায়ে জোরে পারা দিলো। খুব বেথা লাগলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত আমি চিল্লাতে পারলাম না। আমি জানিনা নিলা আমার সাথে এরকম করছে কেন। ও তো আমাকে সহ্য করতে পারেনা তাহলে ও আমার সাথে এরকম করছে কেন। নিলা আমার কাজ কাম দেখেই না খেয়েই চলে গেলো। আমি আর তেমন কোন কথা বললাম না। এমন কি আমি তাকে আটকালামও না।

আমি খাওয়া শেষ করে সুয়ে আছি। তখনই জান্নাত আর ম্যডাম আসলো। তখন……
~ ওহী আমরা গেলাম।
~ কেন থেকে যাও।

~ না গো। থেকে যাবনা। কিন্তু একটা কথা বলার ছিল।
~ বলো।
~ আমার মনে হয় নিলা তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে।
~ হা হা হা হা।

~ আমি কি কোন জোক করলাম নাকি।
~ হুম এটা আই বছরের সব থেকে সেরা জোক। তার কারন নিলা আমাকে কোন দিন ভালবাসেনি। আর কোনদিনও ভালবাসবেনা।
~ তুমি ভুল বুজছ। আমিতো একটা মেয়ে তাই আরেকটা মেয়ে মনে মনে কি ভাবতে পারে সেটা আমি জানি।
~ কেমনে বুঝিয়ে বল।

~ শোন তাহলে তুমি যখন আমার সাথে মুচকি মুচকি হাসচিলে তখন নিলা দেখে খুব রেগে যায়। আর ম্যডাম যখন তোমাকে খাওয়ায় দিচ্ছিলও তখন ও আরও রেগে যায়। মনে আছে নিলা তোমাকে পায়ে লাত্থি দিলো।
~ হ্য তা দিচে ঠিকি। খুব বেথা করছে। কিন্তু তুমি কেম্নে জানলে।
~ হি হি হি সেটা বলা যাবেনা।
~ হুম। কিন্তু আমি ১০০% সিউর নিলাকে আমাকে ভালবাসেনা।
~ কেম্নে কেম্নে।

~ তার কারন হল আজ নিলার জন্মদিন। আর ওকে আমরা কেও উইশ করিনি। তাই জন্য রেগে আছে।
~ হুম তা জানি। কিন্তু তাও ও তোমাকে ভালবেসেফেলেছে।
~ বাদ দেও অসব। তা ওর জন্মদিনের জন্য কি সারপ্রইজ দিবা।
~ প্রত্যেক বার যা দি। আজও তাই হবে।

~ ও আচ্ছা।
~ হুম। আর সব কিছু কিন্তু তোমাকে দেখতে হবে।
~ সেটা পড়ে দেখা যাবেনে।
~ আচ্ছা যাই তাহলে।
~ আচ্ছা যাও।

এই বলে জান্নাত আর ম্যডাম চলে গেলো। চলে গেলো ভালই হইছে তা না হলে ম্যডাম যদি আমার সাথে থাকত তাহলে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। এইসবই ভাবছি। তখন শারমিন চলে আসলো। মানে আমার সোনা বোনটা। আমি সুয়ে আছি। তখনই আমার ফোনটা নিয়ে আবার কার্টুন দেখতে লাগলো। আমি বুঝিনা ওত কনদিন আমার ফোন দিয়ে কার্টুন দেখে না। তাহলে আজ কয়েকদিন হল ওর কি হয়ে গেলো।

তাই ওর কাছ থেকে ফোন টা কেরে নিয়ে বললাম……।
~ আচ্ছা তুই একটা কথা বলবি আমাকে।

~ বল
~ তুই আমার ফোন দিয়ে কার্টুন দেখচিশ আবার আমার সাথে সাথে থাকচিশ। কি হইছে এক্তু খুলে বলবি।
~ কিচুত না ভাইয়া। আমি কি তোমার ফোন দিয়ে কার্টুন দেখতে পারিনা।

~ আমি টা বলিনাই। তুই আমাকে সত্যি সত্যি বল তুই কিসের জন্য আমার সাথে এরকম করচিশ।
~ আসলে ওই যে একটা ছেলে আমাকে ডিস্টার্ব করত। ওই দিন যে ওর সাথে ওই আপুটা এসচিল। আপুটা অনেক ভালো। আপু আমাকে অনেক চকলেট দিছে।
~ হুম বুঝতে পারছি আর বলতে হবেনা।

~ আরে পুর কথাতাত শোনইনি।
~ বললাম তো আর বলতে হবেনা আমি বুঝতে পারছই।

আমি অখান থেকে চলে আসলাম। আমি বিকেলে আমার ফোনটা নিয়ে বিন্দি কে ফোন দিলাম ওকে পার্কে আসার জন্য বলে দিলাম। ফোনে কথা বলার সময় ওকে খুব খুশি খুশি লাগছিলো। তাই আমি ও পার্কে চলে গেলাম। আজ নিলার জন্মদিন তাই আজ নিলার সাথে আমি সারাদিন থাকতাম। কিন্তু আজ আর থাকবনা। আমি থাকলে ওর সমস্যা হয়। তাই ওর যাতে প্রবলেম না হয় সেতাই দেখতে হবে।

নিলা ওর বাসায় চলে আসলো। আর এসে তার নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরে জোরে কাদতে লাগলো। বড় আব্বু বড় আম্মু দেখে কিচুই বুঝতে পারেন। ওর আবার কি হল। ও তো অহিদের বাসায় গেচিল। তাহলে ও এমন কেন করছে। তাই নিলার আম্মু নিলার রুমে গিয়ে দেখে দরজা তো খোলা। নিলা শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। তাই ওর আম্মু ওকে জিজ্ঞাস করলো যে কি হইছে।

~ নিলা তোর কি হইছে। তুই কাঁদছিস কেন।
~ জানিনা আম্মু।
~ তকে কি কেও কিছু বলছে।

~ না আম্মু। জানো আজ ও আমার সাথে একটা কথাও বলেনি।
~ কে সেটা তো বল।
~ ওই যে ওহী।

~ তুইত ওকে পছন্দ করিশ না। তাহলে ও তোর সাথে কথা না বললে তোর কি আসে যায়।
~ জানিনা আম্মু কিন্তু ও আমার কাছে না থাকলে কেমন জানি লাগে। ও আমার সাথে কথা না বললে খুব খারাপ লাগে।
~ তুই কি ওকে ভালোবেসে ফেলেছিস।
~ জানিনা আম্মু।

~ বুঝতে পারছি, তাহলে আজত তোর জন্মদিন। তুই একটা কাজ কর। তুই যখন আজ তোর কেক কাটবি। তখন প্রথমে ওকে খাওয়াবি। আর ওকে আজ রাতে বলবি যে আতুই ওকে ভালোবেসে ফেলেছিস।
~ কিন্তু ও যদি না আসে।
~ ও অবশ্যই আসবে।

~ আমি কি ওকে আমার মনের কথা বলতে পারব। আমি কি ওকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছি।
~ হুম। তুই ওকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছিস। তার কারন তুই ওকে নিয়ে ভাবছিস। আবার তুই ওকে ছাড়া থাক্তেও পারিশ না তাহলে এটা যদি ভালবাসা না হয় তাহলে এটা কি।
~ আমি জানিনা আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি কি না। কিন্তু ওর সাথে না কথা বলতে পেরে খুব খারাপ লাগছে।
~ আমিতো বললাম। আজ তুই সব মনের যত কথা আছে সব বলবি ওকে। এখন ঠিকাছে,
~ আচ্ছা।

~ হুম তাহলে যা ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে। অখানে গিয়েত কিচুই খাসনি।
~ আচ্ছা।

আমি পার্কে চলে গেলাম। দেখি বিন্দি নিল কালারের একটা শাড়ি পড়ে আছে। আমি আর কি বলব। ওকে দেখে আমার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। তখন নিলা কথা থেকে জানি আসলো…………

পর্ব ৯

আমি পার্কে চলে গেলাম। দেখি বিন্দি নিল কালারের একটা শাড়ি পড়ে আছে। আমি আর কি বলব। ওকে দেখে আমার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। বিন্দি আমাকে এ অবস্থায় দেখে খুবই লজ্জা পেলো। কিন্তু কিছু বল্লনা। আমি আর ও পাশাপাশি হাঁটছি। আমাদের মধ্যে কেউই এখনো কথা বলা শুরু করিনি। আমি ভাবচি যে ও হয়তো আমাকে কিছু বলবে। আর সেটাই হল। তখন……
~ ওহী আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।

~ আমি জানি তুমি কি বলবা। তুমি আমাকে ভালোবাসো তাইতো।
~ হুম কিন্তু তুমি কেমনে জানলা। আমিতো কাওকে বলিনি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাহলে……
~ তুমি আমার বোনকে কি বলছ।

~ আমি যা বলছি বলছি। কিন্তু আমিতো তোমার বোনকে বলি নাই যে আমি তোমাকে ভালোবাসি।
~ তুমি আমাকে যা বলছ তাতেই আমি বুঝতে পারছি যে তুমি ও আমাকে ভালোবেসে ফেলছ।
~ আমিও মানে।

~ মানে আমাকে জান্নাত ও ভালোবাসে। আর তার সাথে ম্যডামও।
~ কোন ম্যডাম।
~ কাল আমাদের স্কুলে যে নতুন ম্যডাম এসছে সেই ম্যডাম।
~ ওহ। কিন্তু এটা কেম্নে সম্ভব।

~ চুপ এই কথা কাওকে বল্বানা। ওকে।
~ তা না হয় কাওকে বলবনা। কিন্তু তুমি ওই দুইজনের মধ্যে কাকে পছন্দ করলে।
~ একটা কথা বলি। কিছু মনে করবেনাতো।
~ না বল অসুবিধা নাই।
~ পছন্দ আমি তমাকেও করি কিন্তু তাই বলে এই না যে আমি তোমাকে ভালবাসবো। আমি নিলাকে ভালোবাসি।
~ নিলাটা কে।

~ কিহ তুমি নিলার বেপারে জাননা।
~ নাতো।
~ আসলে ও আমার চাচাতো বোন।
~ ওহ। তার মানে। তুমি অকেই ভালবাসবা।
~ হুম। কিন্তু ও আমাকে ভালবাসেনা।

~ মানে।

অকেও সব খুলে বলতে হল। কি আর করব। না বললে সব বুঝবেনা। তখন দেখি নিলা কথা থেকে জানি চলে আসল। আমি ওকে না দেখার ভান করে বিন্দির সাথে কথা বলছি। আমি ভাবলাম যে নিলা আমাকে ভালোবাসে নাকি একবার টেস্ট করে দেখা যাক। আমি বিন্দি কে বললাম যে আমার হাত ধরে কথা বলতে। বিন্দি ও সেই কাজ ই করছিলো। কিন্তু এতো জোরে হাত টা ধরেছে মনে হয় এখুনি ভেঙ্গে যাবে।

এটা দেখে নিলার কি জানি হল। ও আমার কাছে এসে আমাকে একটা থাপ্পর দিয়ে চলে গেলো। আমি ভাবলাম আমাকে কেন থাপ্পর দিলো। আমিতো ওকে কিছুই করিনি। তার মানে নিলা আমাকে ভালবাসেনা। আচ্ছা ও যদি আমাকে ভালবাসত তাহলে আমাকে কি মারত মারত না। বিন্দি দেখে বলল……
~ ওটা কে ছিল।

~ নিলা।
~ ওহ তার মানে ওই সে। কিন্তু তুমি বলেচিলে যে ও নাকি তোমাকে ভালবাসেনা। থাপ্পর মারল কেন।
~ হুম। ওত আমাকে ভালবাসেনা দেখেইতো আমাকে থাপ্পড়টা মারল।
~ ওই ফাজিল। ও তোমাকে আমার সাথে দেখে ওর খারাপ লাগছিলো তাই তোমাকে থাপ্পর মেরেছে। বুঝতে পারলে। ]
~ হুম বুঝতে পারলাম। কিহ ও আমাকে ভালোবাসে। হা হা হা হা।

~ আমি কোন জোক বলি নাই যে তোমার হাসা লাগবে।
~ দেখো ও আমাকে ভালবাসেনা দেখেই ও আমাকে থাপ্পর মারল। ও যদি আমাকে ভালো না বাসত। তাহলে তো আমাকে থাপ্পর মারত না।
~ তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো আমার কথা ভুল তাইতো।
~ হুম।

~ তাহলে এই নে এখন আমার হাতেও খা……ঠাস, ঠাস,

হায় হায় এওত আমাকে থাপ্পর মেরে চলে গেলো। কিন্তু নিলাত কাদতে কাদতে গেলো। তো আমার কি অতো আমাকে ভালবাসেনা। তাই ওর কথা আমি চিন্তা করবনা। আচ্ছা পাঠকরা আপনারাই বলেন আমার কি দোষ ছিল। সবাই শুধু আমাকে মেরে চলে যায়। আমি আর কিছুক্ষণ পার্কে বসে থাকলাম। দেখি আমার বন্ধুরা সেজে কোথায় যেন যাচ্ছে আমাকে দেখে বলল……
~ কিরে ওহী তুই এখানে। জাবিনা।
~ কথায় যাবো বল।

~ আজ না নিলা আপুর জন্মদিন। প্রতিবারত তুই তো গেচিলি। আজ জাবিনা।
~ না রে ও আমাকে ভালবাসেনা। আমি গেলে ও হয়তো মন খারাপ করবে।
~ দেখ ভুলে যা না আপু কি বলছে না বলছে। চলতো আমাদের সাথে।
~ নারে তোরা যা আমি যাবনা। আমাকে জর করিসনা।

~ দেখ তোর আমাদের সাথে জেতেই হবে চল।
~ শোন এতক্ষণ আমি তোদের ভালভাবে বলছি। তোরা যদি আমার সামনে থেকে না জাস তাহলে তোদের অবস্থা খারাপ করে দিব কিন্তু।
~ আচ্ছা তুই না আসলে না আয়। আমার গেলাম। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কথা বলার দরকার ছিল।
~ কি বল।

~ তুইত আপুকে আর পছন্দ করিস না। তাইনা।
~ হুম। কেন কি হইছে।
~ তাহলে আমি আপুকে গিয়ে প্রপজ করি।

ওর কথা শুনে সবাই অবাক। তার কারন নিলার নামে কোন উলটা পাল্টা কথা বললে আমি না মেরে থাকতে পারিনা। কিন্তু এবার আর টা হবেনা।
~ আচ্ছা তুই যা ইচ্ছা তাই কর।
~ কিহ সালা আমি আপুকে প্রপোজ করব আর তুই কিচুই করবিনা আমাকে।
~ না। যা তো এখান থেকে। না হলে আমি গেলাম।

এই বলে আমি বাসায় চলে আসছি। বাসায় কেও নাই আমি ছাড়া। তার কারন সবাই নিলার জন্মদিনের পার্টিতে গেছে। আর আমি এখানে একা একা আছি। রাত ৭টা তখন সবাই নিলাকে উইশ করল। কিন্তু আমি অখানে ছিলাম না। নিলা খুব খুশি। আমাকে দেখবে বলে। কিন্তু আমি অখানে ছিলাম না। কিন্তু এটা নিলা জানত না। নিলা কেক কাটল। ও হয়তো ভাবছে আমি ওর আশে পাশে আছি। কিন্তু না। ও আমাকে খুজল। কিন্তু পেলো না।

তাই যাই হোক নিলার মন্টা আবার খারাপ হয়ে গেলো। কোন মতে জন্মদিনের পার্টি শেষ হল। আমি তখন অনেক কেদেছি। কারন আমি জানি নিলা হয়তো আজ অনেক খুশি। আমি কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে গেছি আমি জানিনা। আর ওই দিকে নিলা তার রুমে গিয়ে চিল্লায় চিল্লায় কাদতে লাগলো। ওর চিল্লানি শুনে ওর আব্বু আম্মু ওর রুমে চলে গেলো।

গিয়ে দেখে যে নিলা ওর হাত এ একটা ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেছে। আর হাত দিয়ে অনেক রক্ত বের হয়ে গেছে। তাই কাদতে কাদতে অজ্ঞান হয়ে গেছে। বড় আব্বু বড় আম্মু ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। এখন ওর অবস্থা খুব খারাপ। কারন প্রচুর রক্ত বের হয়ে জাবার কারনে একটা বড় সমস্যা হয়ে গেছে। তাই ওর যত তারাতারি সম্ভব অপারেশন করাতে হবে।

তারপর কি হল আমি কিছুই জানিনা। কারন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বুকে কেমন জানি বেথা করছে। মনে হচ্ছে আমার কাছ থেকে খুব বড় একটা জিনিস কেরে নেয়া হচ্ছে। আবার আমার বাসায় কেও নাই জান্নাত ছাড়া। আমি জান্নাতকে বল্লাম যে সবাই কোথায় গেছে। ও বলল যে সবাই নাকি হাসপাতালে গেছে,। কার আবার কি হল। আমি জান্নাতে কে জিজ্ঞেস করতেই দেখি জান্নাত কোন কথা বলছেনা………
~ কি হল জান্নাত বলনা কার কি হইছে।
~ আর তুই এরকম করে কাদচিশ কেন।
~ নিলা আপু, নিলা আপু।

~ কিহ নিলার কি হইছে বলনা।
~ আসলে্‌্‌্‌্‌্‌্‌্‌, ও শুধু কেদেই যাচ্ছে এবার আমিও কাদ কাদ গলায়
~ কি হইছে বলনা।
~ নিলা আপু আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে।
~ কিহ। কেন।

এই বলে আমি জোরে কাদতে লাগলাম। আমার কাদা দেখে জান্নাত ও ভয় পেয়ে গেলো। কারন আমি রাক্ষস এর মতো কাদচিলাম। আমি জান্নাত কে বললাম যে কোথায় নিলায়। জান্নাত আমাকে সেখানে নিয়ে গেলো। সেখানে গিয়ে দেখি। সবাই এখানে বসে বসে আছে। নিলার কেবিনের বাইরে। বড় আব্বু বড় আম্মু কাঁদছে। আমাকে দেখে বলল……
~ দেখ না ওহী নিলার কি যেন হয়ে গেছে। ও কোন কথা বলছে না।

~ কি হইছে আম্মু।
~ জানিনা। কিন্তু যখন থেকে ওর জান ফিরেছে তখন থেকেই ও কেদে যাচ্ছে। কিন্তু আমারা কোন কিছু জিজ্ঞাস করলে কিচুই বলছেনা।
~ কিহ।

~ তুমিত আমার মেয়েটাকে ভালোবাসো তাইনা। তাহলে আমার মেয়েটা কে ঠিক করে দেওনা।
~ আম্মু তুমি চিন্তা করোনা আমি দেখছি। ও কোথায়।
~ ও এখন ঘুমাচ্ছে।

আমি ওর কাছে চলে গেলাম। দেখি নিলা সুয়ে আছে হাসপাতালের বেডে। আমি ওর পাশে গিয়ে বসি। আর ওর হাত ধরে থাকি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেয়েটা চোখ খুলল। তারপর…………

পর্ব ১০

আমি ওর কাছে চলে গেলাম। দেখি নিলা সুয়ে আছে হাসপাতালের বেডে। আমি ওর পাশে গিয়ে বসি। আর ওর হাত ধরে থাকি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেয়েটা চোখ খুলল। তারপর ওকে দেখে মনে হচ্ছে যে ও অনেক কেদেছে। ওকে এতো কষ্ট দেওয়া আমার উচিত হইনি। কিন্তু এতে আমার কি দোষ। ও তো আমাকে পছন্দই করেনা। তাহলে হঠাথ করে আমাকে আবার ভালবাসল কেন। যাই হোক বাদ দেই এসব। ও আমার দিকে তাকালো। আমাকে জরিয়ে ধরে আবার কাদতে থাকল। তখন……
~ কি হইছে নিলা কাঁদছ কেন।

~ চুপ…।
~ কি হয়েছে কথা বলছ না কেন। কথা বলো আমিতো তোমার সাথেই আছি তাইনা।
~ চুপ।

~ এই দেখো তুমি আমাকে জরিয়ে ধরে আছো। কেঁদো না তাহলে কিন্তু আমি আবার চলে যাবো।
~ প্লিজ যেয়ো না। তুমি যা বলবে আমি তাই করব। তাও আমাকে ছেড়ে চলে যেয়ো না।
~ আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাবনা। দেখো আমি তোমার সাথেই আছি।

তাও ও আমাকে জরিয়ে ধরে এখনো কাঁদছে। কিছুক্ষণ পর কাদা বন্ধ করে আমাকে এখনো জরিয়ে ধরে আছে। ভিতরে সবাই চলে আসল। আমি পড়লাম বিপদে। কারন সবাই আমাকে ভুল ভাবতে পারে। এদিকে নিলা আমাকে জরিয়ে ধরেছে। আর এইদিকে সবাই কেমন ভাবে জানি তাকিয়ে আছে। তাও ও যে এখন ভালো আছে এতেই আমি খুশি।

নিলাকে আরো কিছু টেস্ট করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু ও আমাকে ছাড়া জেতেই চাচ্ছেনা। আমি আর কি করব। আমার ও যেতে হলো। তাছারা নিলা কথাই শুনছে না। আর ওকে কিছু বলতে গেলে কান্না করে। টেস্ট শেষে নিলাকে বাসায় নিয়ে আসলাম। মানে আমার বাসায়। ওর বাসায় ও যাবেনা। আমার সাথেই থাকবে। তাই বিকালেই আমাদের বিয়েটা হয়ে গেলো। কিন্তু আমাদের পরিবারের মধ্যে এইটা সম্পন্ন হইছে।

তাছারা কেও জানেনা যে আমার আর নিলার বিয়ে হয়েছে। আজ আমার বাসর রাত। নিলাকে অনেক কষ্টে আম্মু ওকে সাজালো। সাজিয়ে ওকে আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়েছে। আমি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কাল যে মেয়েটা আমাকে দেখতেই পারতনা। সেই মেয়েটাই আমার বউ। আমি ঘরের মধ্যে ঢুকলাম। দেখি বউ আমার বিরাট বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।

আমি ওর কাছে যেতেই ও আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। আমি ওকে থামিয়ে বললাম যে কান্না করো কেন। আজ থেকেত আমরা এক সাথে ই থাকব। তুমি যদি কান্না করো তাহলে কিন্তু আমি তোমার সাথে থাকবনা। এইটা শোনার পর ও কাদা বন্ধ করে চুপ করে আমাকে জরিয়ে ধরে আছে। ও এখনো সাভাবিক হইনি। তাই আর বাসর না হয় নাই করলাম। আগে ওকে ভালল করে তুলতে হবে তারপর।

আমি ওকে কোলে করে ছাদে নিয়ে গেলাম। ওকে নামিয়ে দিলাম। দেখি ও তাও আমার হাত ধরেই আছে। আমি ওর সাথে অনেক কথা বললাম। সত্যি কথা বলতে আমি সুধু ওকে কথা গুলা বলেছি। ও শুধু আমার কথা শুনেছে। তারপর আবার ওকে রুমে নিয়ে গেলাম। তারপর আর কি। ওকে আমার বুকে সুয়ে আছে। কোন কথা বলছেনা। কিন্তু ওর মুখে হাসিটা আছে।

যেটা আমি কোনদিনও দেখিনি। আমি সুয়ে থেকে ওর চুল টেনে দিচ্ছি আর ও চুপ করে করে আমাকে জরিয়ে ধরে আছে। আমি শুধু কথা বলে যাচ্ছে। আর শুধু শুনে যাচ্ছে। আমার কথা বলা থামছি না। তার আগেই নিলা ঘুমিয়ে গেছে। আমিও ঘুমায়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ও কিছুটা সুস্থ হয়েছে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করে আম্মুর সাথে কথা বলছে। দেখে আমার ও ভালো লাগছে।

আজ আর কলেজে গেলাম না। আজ সারাদিন নিলার সাথে ছিলাম। ও আমার সাথে অনেক কথা বলে এখন। বিকালে ওকে নিয়ে ঘুরতে যাই। আমি ওকে যে জাইগাই প্রথম প্রপোজ করেছিলাম। ওকে সেই জায়গায় নিয়ে গেলাম। ও আমার সাথে ঠিক মতো চলে গেলো। ওখানে অনেক্ষন সময় কাটানোর পর বাসায় চলে আসলাম। এসে দেখি বড় আব্বু বড় আম্মু ও আছে। আমাদের দেখে খুব খুশি হল।

কারন নিলা আস্তে আস্তে ভালো হয়ে গেলো। কি আর করার। এভাবেই আমাদের দিন কাটতে লাগলো। নিলা এখন আগের মতো হয়ে গেছে। পুরপুরি সুস্থ হয় এগেছে। আর এখন আমাকে খুব ভালোবাসে। আর মাঝে মাঝে খুব বকা দেয়……। এভাবে চলতে থাকল আমাদের জীবন।

পাঠকরা গল্প শেষ। লাইক কমেনট করতে অবশই ভুল্বেন্না। আমি গেলাম। এটা ছোটো হলেও শেষ করতে পেরেছি দেখে ভালো লাগছে। আমি আর গল্প লিখতে পারবোনা নাকি জানিনা। কারন আমার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও কেরে নেওয়া হবে। তাই আর কি। আর যদি না কেরে নেয়া হয়। তাহলে আমি আবার আসব নতুন গল্প নিয়ে।

লেখক – অচেনা পথের পথিক

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সিনিয়র চাচাতো বোন যখন বউ – এবার খেলা হবে” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – পাজরের টানে (১ম খণ্ড) – Gopon valobashar kotha bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!