রিলেশনশিপ

অতৃপ্ত প্রেমিক – গোপন কামের আশা

অতৃপ্ত প্রেমিক – গোপন কামের আশা: নিহা অনুভব করে কেউ তার কোমড় জড়িয়ে ধরে বসে আছে। সাথে একটা মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছে নিহা। স্পষ্ট মনে হচ্ছে কেউ যেনো নিহার পাশে বসে আছে। নিহা ভেতর ভেতর ভয় পেলেও চুপ করে বসে থাকে।


পর্ব ১

রাত প্রায় ১ টা নিহা গভীর ঘুমে… ঘুমের মধ্যেই তার মনে হলো কেউ যেনো তাকে পর্যবেক্ষন করছে!
হটাৎ করেই দু’চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই পাশে।

নিহাঃ কী হলো? কে ছিলো এটা? আমার তো স্পষ্ট মনে হয়েছে কেউ আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে!
নাকি মনের ভুল? না না! মনের ভুল হতেই পারে না। কিন্তু এতো রাতে আমার রুমে কে আসবে?

নিহা উঠে দরজা খুলে ড্রয়িং রুমে বের হয়।
একবার চোখ বুলিয়ে দেখে তার বাবা মা আর ছোট ভাই সোহান সবার ঘরের দরজাই বন্ধ আছে।
নিহাঃ সবাই ইতো ঘুমাচ্ছে। তাহলে কে ছিলো আমার রুমে? আমার মনের ভুলও তো হয়নি।

নিহা ড্রয়িং রুমে দাড়িয়ে ভেবে যাচ্ছে। হটাৎ মনে হলো তার পেছনে কেউ দাড়িয়ে আছে। নিহা সাথে সাথে পেছন ফিরে কাউকে দেখতে পায় না।
এবার বেশ ভয় পেয়ে যায় নিহা। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।
নিহাঃ কি হচ্ছে এসব? কে থাকতে পারে?

নিহা কিছু না ভেবে নিজের রুমে চলে আসে। এসেই কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে।
সকালে…
ঘুম ভাঙ্গতেই নিহার কাল রাতের কথা মনে পড়ে যায়।
নিহার কাছে সব কিছু কেমন অদ্ভুত লাগছে! একটা মানুষের উপস্থিতি টের পাওয়া টা বার বার নিশ্চয় ভুল হতে পারে না। আচ্ছা আদৌ কি সে মানুষ!

নিহা পাশ ফিরতেই টেবিলের উপর একটা চিরকুট দেখতে পায়। চিরকুট টা হাতে নিতেই কিছু একটা মেঝেতে পড়ে যায়। নিহা উঁকি দিয়ে দেখে একটা আংটি! নিহা উঠে আংটি টা হাতে নেয়।
কেমন অদ্ভুত রকমের ডিজাইন আংটি টার! দেখে মনে হচ্ছে খুব ছোট করে কারো মুখের নকশা আঁকা।
নিহা আংটি টা পাশে রেখে চিরকুট টা মেলে। কি অদ্ভুত!
চিরকুট টা মেলতেই মিষ্টি একটা ঘ্রান ছড়িয়ে পরে চারদিকে!

যেকোনো পারফিউম এর সেন্ট কেও হার মানাবে!
নিহা চিরকুট টা পড়তে শুরু করে যাতে লেখা ছিলো….
“আংটি টা তোমার জন্য রেখে গেলাম। আংটি টা পাওয়ার সাথে সাথে হাতে পড়ে নিবে। কখনো খুলবে না। খুললে তোমারই ক্ষতি হবে। আর হ্যা… আমি কে? সেটা ভুলেও জানার চেষ্টা করো না।
তোমার ভালোবাসা।”

নিহা চিরকুট টা পড়ে অবাক হয় সাথে ভয়ও পায়। কে হতে পারে? এমন অদ্ভুত ডিজাইন এর আংটি কে দিতে পারে? চিরকুট টায়ও এতো মিষ্টি গন্ধ! বললো পরিচয় জানতে চাইতে পারবো না! আংটি খুললে আমারই ক্ষতি হবে! শেষে লিখা আমার ভালোবাসা!
এই সবের মানে কী? কে করছে এই সব? তার মানে আমার ধারনা ভুল না। আমি কাল রাতে ঠিকই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।

আমার ঘরে কেউ এসেছিলো! কিন্তু কে সে? কি চায় আমার কাছে?
নিহা হাজারো ভাবনায় ডুবে আছে। অমনি নিহার মা ডাকতে আসে…
নিহার মাঃ নিহা.. উঠেছিস?

নিহাঃ হ্যা মা।
নিহার মাঃ তোর হাতে ওটা কী?
নিহা তাকিয়ে দেখে নিহার হাতে চিরকুট টা৷
নিহাঃ মা দেখো না… নিহার মার কাছে চিরকুট টা এগিয়ে দেয়।

নিহার মা চিরকুট টা হাতে নিয়েই বলে উঠে…
নিহার মাঃ একি… সাদা কাগজ নিয়ে বসে আছিস কেনো সকাল সকাল? মাথা টা গেলো নাকি!
নিহা ওর মার কথা শুনে অবাক হয়ে যায়! সাদা কাগজ মানে? আমি তো চিঠি টা পড়েছি৷ অনেক কিছুই লেখা ছিলো ঐ টাতে।

তাহলে এখন মা সাদা কাগজ বলছে কেনো?
নিহার মাঃ পাগল হয়ে গেছিস নাকি? সকাল সকাল কি সব অদ্ভুত কাজ করছিস তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে নে। কলেজ যাবি না?

নিহাঃ হ্যা মা যাবো। আমি আসছি তুমি যাও।
নিহার মাঃ হ্যা আয় – বলেই চলে যায় নিহার রুম থেকে।

নিহার মা চলে যাওয়ার পর নিহা বসে চিন্তা করতে থাকে কি হলো এটা! আচ্ছা হতেও তো পারে চিঠি টায় কিছুই লেখা ছিলো না। সব আমার মনের ভুল! নাহ আরেকবার দেখি!
নিহা সাথে সাথে চিঠি টা হাতে নেয়। কিন্তু একি!
সব আগের মতোই লেখা আছে। কিন্তু মা দেখতে পেলো না কেনো?

নিহা এবার হাতের আংটি টা দেখে..
নিহাঃ এটা কি করবো? ফেলে দিবো? না না থাক… ফেলে লাভ নেই।
নিহা আংটি টা ড্রেসিং টেবিলে রেখে উঠে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে যায়৷
ফ্রেশ হয়ে কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামে…
নিহার বাবাঃ চলে এসেছো মামুনি! ঘুম কেমন হলো?

নিহাঃ ভালো বাবা।
নিহার মাঃ নে খেয়ে নে এবার। এমনি তেই তোর কলেজের অনেক লেট হয়ে যাচ্ছে।
নিহাঃ হুম।

নিহার বাবাঃ তোর কোনো সমস্যা হয় না তো কলেজে? কেউ ডিস্টার্ব করে না তো?
নিহাঃ না বাবা। (বাবাকে কি বলবো কাল রাতের ঘটনা টা? যদি কোনো সমস্যা হয় তো?….. মনে মনে)
নিহার মাঃ নিহা…. কি এতো ভাবছিস বল তো? কি হয়েছে তোর?

নিহাঃ ক..কই মা? কিছু হয়নি তো!
সোহান – আপুই তোমার তো কলেজের সময় হয়ে গেলো। খাচ্ছো না কেনো?
নিহাঃ হ্যা খাচ্ছি।

নিহা খাওয়া শুরু করে।
নিহার বাবাঃ প্রিতিশা আর রুপা আসবে তো তোকে নিতে?
নিহাঃ হ্যা বাবা আসবে।
নিহার বাবাঃ না আসলে আমায় বলো আমি পৌঁছে দিবো। একা একা যেতে হবেনা কেমন।
নিহাঃ ওকে বাবা।

নিহা খাওয়া শেষ করে উঠে যায়।
নিহাঃ বাবা আমি তাহলে আসি।
নিহার বাবাঃ আরে ওদের জন্য ওয়েট করো৷ ওরা আসুক।

নিহাঃ হ্যা বাবা বাহিরে ওয়েট করছি।
নিহার বাবাঃ আচ্ছা সাবধানে যেও।
নিহাঃ ওকে বাই বাবা… বাই মা।
নিহার মাঃ হুম আয়।

নিহা বাহিরে দাড়িয়ে প্রিতিশা আর রুপার জন্য ওয়েট করতে থাকে। অনেক খন পর ওরা দুজন কে দেখে…
নিহাঃ এতো খনে আসার সময় হলো তোদের? (কিছুটা রেগে)
প্রিতিশাঃ সরি রে দোস্ত লেট হয়ে গেছে।
রুপাঃ ঘুম থেকে উঠতে পারিনি আজ৷
নিহাঃ ওকে চল এবার।

তিনজনই একসাথে কলেজে চলে যায়।
ওরা তিনজনই সেইম ইয়ারে পড়ে।
কলেজে ঢুকে দ্রুত ক্লাসে যায় তিনজন।
প্রিতিশাঃ ধুরর ক্লাস শুরু হয়ে গেলো।
নিহাঃ তোদের জন্যই তো।

রুপাঃ আচ্ছা বাবা হয়েছে এবার ক্লাসে চল। বেঞ্চ ও খালি নেই৷ লাষ্ট বেঞ্চ এ বসতে হবে মেবি।
নিহাঃ তাই তো দেখছি।
তিনজনেই গিয়ে লাষ্ট বেঞ্চে বসে পড়ে।
রুপাঃ ক্লাস তো মনে হই বেশি হয়নি।

প্রিতিশাঃ হুম৷
নিহা ক্লাসে মনযোগ দেয়। কিছুক্ষণ যেতেই নিহার মনে হলো কেউ যেনো নিহার ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে রেখেছে।
নিহা চমকে উঠে আশেপাশে তাকায়। কিন্তু প্রিতিশা আর রুপাকে ছাড়া আর কাউকে দেখে না।
নিহা আবার অনুভব করে কেউ নিহার ঘাড়ে নাক ঘষছে।

নিহা এবার বেশ ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে নিহার হাত পা কাঁপা শুরু করে।
কাউকে কিছু বলতেও পারছে না। কারন বিশ্বাস করানোর মতো কিছুই নেই নিহার কাছে।
নিহা ঘামতে শুরু করে।

রুপাঃ নিহা কি হয়েছে তোর? তুই ঠিক আছিস তো? এভাবে ঘামছিস কেনো?
প্রিতিশাঃ নিহা শরীর খারাপ লাগছে? আমাকে বল না।
নিহা কিছুই বলতে পারছে না জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে শুধু।

নিহা একটু রিলাক্স হয়ে বসে আবার অনুভব করার চেষ্টা করে। কিন্তু আবারও একি কান্ড৷ তার মানে সত্যি কেউ নিহার সাথে আছে। এটা নিহার মনের ভুল না।

নিহা প্রচন্ড ভয় পেয়ে সেন্সলেস হয়ে যায়। প্রিতিশা আর রুপাও ভয় পেয়ে যায়।
রুপাঃ কি হলো হটাৎ ওর।
প্রিতিশাঃ বোধহয় অসুস্থ। দেখছিস না আসার পর থেকেই কেমন হয়ে আছে।
এর মধ্যেই ওদের ক্লাস টিচার আসে।

~ কি হলো নিহার? ও কি অসুস্থ?
রুপাঃ জানিনা স্যার। হটাৎ সেন্সলেস হয়ে গেছে।
~ কেউ ওর চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দাও।

প্রিতিশা পানি এনে নিহার চোখ মুখে ছিটাতেই নিহা চোখ মেলে তাকায়।
প্রিতিশাঃ কি হয়েছে তোর? ঠিক আছিস তো?
নিহাঃ হ্যা।
রুপাঃ বেশি খারাপ লাগলে বল ছুটি নিয়ে বাসায় চলে দিয়ে আসি তোকে।

নিহাঃ না ঠিক আছি আমি ক্লাসে মন দে।
প্রিতিশাঃ আচ্ছা। ঠিক করে বস।
সবাই ক্লাসে মনযোগ দেয়।

ক্লাস শেষ হতেই প্রিতিশা, নিহা আর রুপা মিলে একটা কলেজ ক্যাম্পাসে বসে।
রুপাঃ নিহা চল তোকে বাসায় দিয়ে আসি। আজকে এমনিতেই তোর শরীর ভালো না। তারাতারি বাসায় চলে গেলেই বোধহয় ভালো হবে।

নিহাঃ আরে এতো ব্যাস্ত হচ্ছিস কেনো? আমি একদম ঠিক আছি। তাছাড়া বাতাস টা ভালো লাগছে এখানের তাই। একটু পরে যাবো বাসায়।

প্রিতিশাঃ আচ্ছা তাহলে বস কিছুক্ষণ।
নিহাঃ জানিস কাল রাত থেকে আমার কিছু একটা অদ্ভুত লাগছে।
রুপাঃ বলিস কী?

নিহাঃ হ্যা।
প্রিতিশাঃ কী রকম?
নিহাঃ কাল রাত থেকে মনে হচ্ছে কেউ আমার পাশে আছে। আমাকে কেউ ফলো করছে।
রুপাঃ মানে?

নিহাঃ হ্যা রে। মনে হচ্ছে কেউ সব সময় আমার সাথে থাকছে। খুব অদ্ভুত রকমের সব কিছু।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পাশের টেবিল টাতে একটা চিঠি আরেক টা রিং রাখা।
রিং টা অদ্ভুত রকমের ডিজাইন করা।

মনে হচ্ছে যেনো কারো মুখের নকশা করা। আর চিঠিতেও অনেক কিছু লেখা ছিলো। (নিহা প্রিতিশা আর রুপাকে চিঠিতে লেখা সব কিছু বলে)
প্রিতিশাঃ কি বলছিস? আমার তো শুনেই ভয় করছে। তুই আন্টি আংকেল কে জানাস নি?

নিহাঃ হ্যা সকালে মাকে দেখতে দিয়েছিলাম চিঠিটা কিন্তু মা চিঠিতে কোনো লেখা পেলো না। শুধুই একটা সাদা কাগজ ছিলো।
রুপাঃ নিহা আমার না প্রচুর ভয় করছে। কোনো কিছুই স্বাভাবিক লাগছে না।
নিহাঃ আমিও সেটাই ভাবছি৷ কি হচ্ছে আমার সাথে এসব।

প্রিতিশাঃ তুই আজই আংকেল আন্টিকে সব কিছু বলবি।
নিহাঃ হ্যা তাই করবো। একটু আগেও তো ফিল করছিলাম। তাই তো ভয় পেয়ে….
রুপাঃ হ্যা বুঝতে পেরেছি। চল বাসায় চল।

প্রিতিশাঃ হ্যা বাসায় চল। গিয়েই সবাইকে জানাবি।
নিহাঃ হ্যা আমার কেমন লাগছে জানাতেই হবে বাবা মাকে।


পর্ব ২

নিহা রুপা আর প্রিতিশার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রিকশায় উঠে যায়। কিছুদূর যেতেই মনে হলো কেউ যেনো তার পাশে বসেছে। নিহা সাথে সাথেই পাশে তাকায় কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না।
নিহা স্পষ্ট কারো বসা টা অনুভব করতে পারছে।

নিহা ভয়ে রিকশা থামাতে বলে। রিকশা থেকে নেমে যেতে নিলে সাথে সাথেই কেও তার কোমড় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
নিহাঃ কে তুমি? আমাকে এইভাবে ভয় কেনো দেখাচ্ছো?

নিহার কথা শুনে রিকশাওয়ালা বেশ অবাক হয়! কার সাথে কথা বলছেন উনি? এখানে তো কেউই নেই।
রিকশাওয়ালা – আপা আপনি ঠিক আছেন তো?
নিহা রিকশাওয়ালা ডাকে সামনে তাকায়।
রিকশাওয়ালা – রিকশা থামাতে বললেন যে? যাবেন না?

নিহা চাইছে এই মূহুর্তে রিকশা থেকে নেমে যেতে কিন্তু তার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।
নিহা চুপ করেই বসে থাকে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
রিকশাওয়ালা – আপা আপনে কান্দেন ক্যান? কি হইছে আমারে কন?
নিহা মাথা দিয়ে ইশারা করে বলে কিছু হয়নি।

হটাৎ কেউ যেনো নিহার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলছে….
~- রিকশাওয়ালাকে বলো তোমায় বাড়ি পৌঁছে দিতে। এখন কোনো ভাবেই রিকশা থেকে নামবে না বুঝেছো?
কন্ঠ শুনে নিহার সারা শরীর যেনো থরথর করে কাঁপছে। এ তো কোনো ছেলের কন্ঠ! কিন্তু আমার আশেপাশে তো কাওকেই দেখতে পারছি না।

নিহা এবার শব্দ করে কেঁদে দেয়। নিহার কান্না দেখে রিকশাওয়ালা বোকা বনে যায়।
~- কান্না থামিয়ে রিকশাওয়ালাকে যেতে বলো নিহা নয়তো তোমার দুঃখ আছে বলে দিলাম।
নিহা বেশ ভয় পেয়ে যায়। সাথে সাথেই রিকশাওয়ালাকে যেতে বলে।
রিকশাওয়ালা কিছু না বলে যেতে শুরু করে।

নিহা অনুভব করে কেউ তার কোমড় জড়িয়ে ধরে বসে আছে। সাথে একটা মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছে নিহা। স্পষ্ট মনে হচ্ছে কেউ যেনো নিহার পাশে বসে আছে। নিহা ভেতর ভেতর ভয় পেলেও চুপ করে বসে থাকে।
রিকশা নিহার বাসার সামনে থামায় নিহা তারাতারি নেমে যেতে নিলে নিহাকে আরও চেপে ধরে…
~- এতো লাফাচ্ছো কেনো? পড়ে গেলে?

নিহা উত্তরে কিছু না বলে শুধু তাকায়। কিন্তু বরাবরের মতোই সে ব্যার্থ, কাউকেই দেখতে পায় না।
নিহা নিজেকে ছাড়িয়ে আনতে চেষ্টা করে কিন্তু পারছে না।

নিহা তার কপালে কারো ঠোঁটের ছোঁয়া অনুভব করে। সাথে সাথেই নিহাকে ছেড়ে দেয়।
রিকশাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে একপ্রকার দৌড়ে বাসায় ঢুকে নিহা।
বাসায় এসেই হাঁপাতে থাকে।
নিহার মাঃ কিরে হাপাচ্ছিস কেনো? তুই কি দৌড়ে বাসায় এসেছিস নাকি?

নিহা কিছু বলছে না ভয়ে চুপসে গেছে একেবারে।
নিহার মাঃ নিহা… কি হয়েছে তোর? কথা বলছিস না কেনো?
নিহাঃ ম…মা ভু…ভুত!
নিহার মা এবার রেগে যায়।

নিহার মাঃ এই ভরদুপুর বেলা তোকে ভুতে তাড়া করেছে তাই না? এখন এটাই বলবি তো?
আচ্ছা তুই কি কোনো দিন বড় হবি না? সব সময় এমন বাচ্চাদের মতো আচরণ করার মানে কী নিহা?

নিহাঃ মা আমি সত্যি….
নিহার মাঃ ব্যাস…. আর একটাও কথা না। যা নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় যা।
নিহা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারেনা। তার মার ধমক শুনে রুমে চলে আসে। রুমে এসেই দরজা বন্ধ করে কাঁদতে থাকে নিহা।
কিছুক্ষন পরই আবার নিহা অনুভব করে কেউ তার চোখের পানিটা মুছে দিচ্ছে।

নিহাঃ ক..কে তুমি? এমন কেনো করছো? (কান্না করে)
~~ নিহা তোমার মায়ের কাছে কেনো বলতে গেলে আমার কথা? আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি তাই না?
নিহাঃ আপনি কে? আমাকে ফলো করছেন কেনো বলুন তো?

~- ভালোবাসি তাই!
নিহাঃ কিহহ! ভালোবাসেন? আপনাকে দেখি নি জানিনা, চিনিনা! সবচেয়ে বড় কথা আপনি আমাদের মতো মানুষ না নিশ্চয়!
~- এতো কিছু তোমার না ভাবলেও চলবে বুঝছো? এখন আমি যা বলি মন দিয়ে শুনো আমার কথা কাউকে কিছু বলবে না মনে থাকে যেনো।
নিহাঃ ( আমি কি করছি এসব! একটা ভুতের সাথে কথা বলছি।)

নিহা কিছু না ভেবে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
নিহার বাবাঃ নিহা…. কলেজ থেকে কখন ফিরেছিস? আর তোকে এমন লাগছে কেনো কি হয়েছে?
নিহাঃ কিছু হয়নি বাবা। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।

নিহা ভয়ে ভয়ে আবার নিজের রুমে ঢুকে। এবার নিহা মনে মনে অনেক দোয়া পড়তে থাকে।
দোয়া পড়তে পড়তেই নিহা ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে আসে। এবার আর নিহা কোনো কিছু ফিল করে নি।
নিহাঃ আরেহহ বাস! এখন তো কিছুই ফিল করিনি। নিশ্চয় দোয়া পড়লে আর আমার ধারে কাছে আসতে পারবে না।
নিহার মন থেকে অনেকটা ভয় কেটে যায়।
নিহা নিচে নেমে খেতে বসে।

নিহার মাঃ নিহা আজ কলেজে কি কিছু হয়েছিলো?
নিহাঃ না মা।
নিহার মাঃ তাহলে তুই হটাৎ এরকম আচরণ করলি কেনো?
নিহাঃ এমনি মা মনের ভুল ছিলো।

নিহার বাবাঃ কি হয়েছে? কিসের ভুুলের কথা বলছো?
নিহার মাঃ তোমার মেয়ে নাকি আজ ভুত দেখেছে।
সোহান – সত্যিই আপু!
নিহাঃ আরে তোমরা থামবে প্লিজ।

নিহার মাঃ খেয়ে ঘুমিয়ে পড় গিয়ে। শুধু শুধু আজেবাজে চিন্তা না করে।
নিহা খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে এসে শুয়ে থাকে মনে মনে দোয়া পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যায়।
বিকেলে নিহার ঘুম ভাঙ্গতেই উঠে বসে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়!

আংটি টা নিহার আঙুলে পড়ানো!
নিহাঃ আংটি টা তো আমি ড্রেসিং টেবিলে রেখেছিলাম। হাতে তো পড়িনি। তাহলে এখন আমার আঙুলে কিভাবে আসলো?
নিহা আঙুল থেকে আংটি টা খুলে আবার ড্রেসিং টেবিলে রেখে দিয়ে উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়।

ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসে।
নিহার বাবা আর ভাই ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছিলো নিহাও ওদের সাথে যোগ দেয়৷
নিহাঃ মা আমাকে কফি দাও।

নিহার মা নিহার জন্য কফি বানিয়ে আনে। অনেকখন সবার সাথে বসে থাকে নিহা।
সন্ধার দিকে নিহা নিজের রুমে এসে বিছানার আধশোয়া হয়ে ভাবনায় পড়ে…
নিহাঃ কোনো ভুত কি আমার প্রেমে পড়লো নাকি? প্রেমে পড়েছে বুঝলাম! দেখে তো দিবে নাকি! কেমন অদৃশ্য হয়ে আছে। (নিহার ভয় হওয়ার পাশাপাশি কেমন হাসিও পাচ্ছে!)

রাতে…
নিহা খাবার খেয়ে নিজের রুমে চলে আসে। কয়েকবার মাকে বলেছিলো একা থাকতে ভয় করে নিহার মা ধমক দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দেয়। বেচারি দোয়া পড়া শুরু করে রুমে ঢুকে। যেহেতু দোয়া পড়লে কিছুই অনুভব করতে পারে না তাই এতোটাও ভয় পায় না নিহা।

রুমে এসে কিছুক্ষন ফোন নিয়ে ব্যাস্ত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে…
রাত দেরটার দিকে ঘুমের মধ্যেই পায়ে কিছু একটার খোচা পেয়ে লাফ মেরে উঠে বসে নিহা।

পা বের করে দেখে দুপায়ে নূপুর পড়া। আশ্চর্য! নূপুর আসলো কোথা থেকে? আমি তো কখনো নূপুর পড়িনি!
নিহার এবার প্রচন্ড ভয় লাগছে। চিৎকার করে মা বাবাকে ডাকছে নিহা।
নিহার মা বাবা দু’জনই দ্রুত নিহার রুমে আসে।

নিহার মাঃ নিহা কি হয়েছে তোর? এভাবে ডাকছিস কেনো এতো রাতে?
নিহাঃ মা তোমাকে বলেছিলাম না ভুত আছে। সত্যি বলছি মা আছেই। আমি ফিল করছি। সব সময় আমাকে ফলো করেই যাচ্ছে। কখনো আংটি পড়িয়ে দেয় হাতে আবার দেখো নূপুর ও পড়িয়েছে। আমি তো নুপূর পড়িনা তুমি জানোই তো। তাহলে এই নূপুর আমার পায়ে আসলো কোথা থেকে বলো?

নিহার বাবাঃ কি বলছিস এসব? নূপুর কোথা থেকে আসবে। দেখি তো তোর পা দেখি।
নিহার মা আর বাবা নিহার পা দেখে মারাত্মক রেগে যায়!
নিহার মাঃ এই তোর নূপুর তাই না? তোর পায়ে তো কিছুই নেই দেখছি। শুধু শুধু কেনো ভয় পাচ্ছিস নিহা।

নিহার বাবাঃ হ্যা আমার মনে হয় স্বপ্ন দেখেছিস। এতো ভয় পাওয়ার কি আছে বুঝলাম না। আর আমাদের বাড়িতে ভুত আছে তুই শুনেছিস কোনো দিন? এই সব কিছু না। সবই তোর মনের ভুল। ঘুমিয়ে পড় এবার।
নিহাঃ বাবা আমি সত্যি বলছি। কিছু একটা আছে।
নিহার মাঃ মাইর দিবো নিহা। চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়।

নিহার মা বাবা চলে যায়। নিহা অসহায়ের মতো নিজের পা দু’টি দেখতে থাকে।
নিহাঃ আমি তো ঠিকই দেখতে পারছি নূপুর গুলো। তাহলে মা বাবা কেনো দেখতে পারছে না। এসব কি হচ্ছে?
নিহা শুয়ে পড়ে কিছুক্ষন পরই নিহা নিজের উপর ভার কিছু অনুভব করে।

নিহাঃ ও মা গো আমার উপর কী পড়লো?
দম বন্ধ হয়ে যাইতেছে!
নিহার মনে হচ্ছে কেউ নিহার গলায় মুখ ঢুবিয়ে রেখেছে।

নিহার এরকম ভাবনার মাঝেই নিহার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। নিহা ভয় পেয়ে তাকিয়ে দেখে একজোড়া চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। নিহা চিৎকার করতেই সামনে থাকা মানুষ টা তার মুখ চেপে ধরে।
~- হুসসস….
নিহাঃ ক…কে আপনি? এখানে কি করে এলেন?

~- আমি কে? হুম বুঝতে পেরেছি এতোদিন অদৃশ্য হয়ে ছিলাম বলে ভেবেছিলে আমি ভুত। এখন কি মনে হচ্ছে? মানুষ? (মুচকি হেসে)
নিহা মনে মনে ভাবছে সত্যিই তো! এ তো মানুষ।
ফর্সা গায়ের রং, ঠোঁট দু’টো লালচে রং এর, খোঁচা খোঁচা দাড়ি, চুল গুলোও স্টাইল করা!


পর্ব ৩

নিহা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সামনে থাকা মানুষ টার দিকে।
মানুষ বললে ভুল হবে। কোনো স্বাভাবিক মানুষের আচরণ তো এমন হতে পারে না।
নিহাঃ আপনি কে?
~- আমারও অবশ্য নাম আছে। রোহান!
নিহাঃ কোন রোহান? আমি তো কোনো রোহান কে চিনি না।

রোহানঃ চিনবে ও না। আমি তো তোমার সাথে আজই প্রথম দেখা করলাম। অবশ্য আগে থেকেই তোমাকে দেখতাম। অদৃশ্য হয়ে!
নিহাঃ এটা কিভাবে সম্ভব?
রোহানঃ অবশ্যই সম্ভব। জ্বীন দের কাছে সবই সম্ভব।
নিহাঃ কিহহহহ! জ্বীন?

রোহানঃ হুম।
নিহাঃ আ..আপনি এখানে কেনো? আমাকে ফলোই বা করছেন কেনো?
রোহানঃ কারন তুমিও আমার মতোই। কেউ না জানলেও আমি সবটাই জানি।

নিহাঃ কি সব বলছেন!
রোহানঃ এটাই সত্যি! বিশ্বাস না হলে তোমার মাকে জিগ্যেস করে নিও।
আর হ্যা তোমার ১৮ বছর পরই তোমার নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো৷ আর দুইদিন পর তোমার ১৮ বছর পূরণ হবে। তখন তোমাকে যেতেই হবে।

নিহাঃ কি বলছেন এইসব? যতো আজে বাজে কথা।
রোহানঃ তোমার মা কে জিগ্যেস করে নিও কেমন? আসি আমি।

রোহান চলে যায়৷ নিহা সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি। বার বার শুধু রোহানের বলে যাওয়া কথা গুলোই কানে বাজছে।
সকালে…
নিহার মাঃ নিহা উঠ ….
নিহাঃ উঠে গেছি অনেক আগেই।

নিহার মাঃ তাহলে শুয়ে আছিস যে? শরীর খারাপ লাগছে?
নিহাঃ মা তোমাকে একটা কথা বলি?

নিহার মাঃ হ্যা বল..
নিহাঃ আমি কে?
নিহার মাঃ এ আবার কেমন কথা?

নিহাঃ আমি জানতে পেরেছি আমি মানুষ না। তুমিও নাকি সব জানো? কই… কোনো দিন তো আমাকে বলো নি?
নিহার মাঃ এই সব কে বলেছে তোকে?
নিহাঃ তোমাকে বলেছিলাম না কেউ আমাকে ফলো করছে। কোনো ভুত? আসলে ও ভুত না জ্বীন!
নিহার মাঃ হ্যা মা ঠিকই শুনেছিস।

নিহাঃ তার মানে সব সত্যি?
নিহার মাঃ হ্যা। তোকে আমাদের কাছে একজন হুজুর দিয়ে গিয়েছিলো। উনি বার বার বলেছে তুই আমাদের মতো মানুষ না। কিন্তু তাও তুই আমাদের কাছে বড় হয়েছিস বলে কেউ বুঝতে পারেনি।

উনি বলেছিলো তোর ১৮ বয়স পূর্ণ হলে তোকে কেউ এসে নিয়ে যাবে। হয়তো সে ফিরে এসেছে।
নিহাঃ কিন্তু মা আমি তোমাদের ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না।
নিহার মাঃ চাইলেই কি থাকা যাবে বল? তাছাড়া তোর ১৮ বছর পূর্ণ হলে তোর মাঝে অদ্ভুত সব আচরণ দেখা যাবে।
আর ২ দিন পরই হয়তো তোকে নিতে আসবে।

নিহা ওর মার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায়। চোখের কোণায় পানি চলে এসেছে ওর।
নিহাঃ মা আমি কি তোমাদের সাথে আর দেখা করতে পারবো?

নিহার মাঃ জানিনা রে মা। কিন্তু তুই অনেক ভালো থাকবি জানি। আমরাও চাই তুই তোর জায়গায় চলে যা।
নিহা কেঁদে দিয়ে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে।
নিহার মাঃ খেতে আয়।

নিহাঃ খাবো না এখন ক্ষিদে নেই।
নিহার মাঃ তা বললে কি হয় নিহা? খেতে আয়।
নিহাঃ আচ্ছা যাও তুমি আমি আসছি।

নিহার মা চলে যায়। নিহাও ফ্রেশ হয়ে খেতে আসে।
নিহার বাবা আর সোহান বুঝতে পারছে নিহার মন ভালো নেই।
নিহার বাবাঃ কি হয়েছে নিহা? মন খারাপ?
নিহাঃ না বাবা।

নিহার বাবা আর কিছু বলে না। খাওয়া শেষ করে নিহা চুপচাপ বসে থাকে নিজের রুমে।
নিহার মা প্রিতিশা আর রুপাকে ফোন করে সব বলে।
প্রিতিশা আর রুপা নিহার সাথে দেখা করতে আসে।
রুপাঃ নিহা….
নিহা কারো কন্ঠ শুনতে পেয়ে পেছন ফিরে তাকায়।

প্রিতিশা আর রুপাকে দেখে নিহা কেঁদে দেয়।
প্রিতিশাঃ নিহু তোকে আমরা কখনো ভুলতে পারবো না রে।

নিহাঃ আমি তোদের সাথেই থাকতে চাই (কান্না করে)
প্রিতিশাঃ তা তো হয় না রে।

নিহা আবারও কেঁদে দেয়।
দুইদিন পর…
নিহার জন্মদিন আজ। কিন্তু কোনো আয়োজন করা হয়নি। কারন নিহার পরিবারে জন্মদিন পালন করা নিষেধ।

প্রিতিশা আর রুপা ও এসেছে। নিহা অনেকখন ধরে ওর মাকে ধরে বসে বসে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
রাত ১১ঃ৫৭ নিহা হটাৎ করেই সেন্সলেস হয়ে যায়। নিহার মা প্রথমে কিছুটা ঘাবড়ে যায়। তারপর সবটা বুঝতে পারে।
সবাই চুপ করে দেখে যাচ্ছে। নিহাকে হারানোর কষ্টে সবার চোখেই পানি স্পষ্ট।

হটাৎ ধুঁয়ার মতো কিছু একটা এসে নিহাকে কোলে তুলে নেয়। নিহা এখনো সেন্সলেস হয়ে আছে। সবার চোখের সামনে দিয়ে ধুঁয়ার সাথে মিলিয়ে যায় নিহা!
সবার দৃষ্টি নিহার দিকেই স্থির।

নিহার মার মুখ থেকে আচমকা বেরিয়ে আসে….
“ভালো থাকিস মা”

লিখা – শিফা আফরিন

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সমাপ্ত অতৃপ্ত প্রেমিক – গোপন কামের আশা” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মেঘ মিলন – পড় ভালোবাসার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button