শিক্ষণীয় গল্প

উপলব্ধি – খুব চমৎকার একটি শিক্ষণীয় গল্প

উপলব্ধি – খুব চমৎকার একটি শিক্ষণীয় গল্প: ভেতরের দূর্বলতাকে নয়। দূর্বলতাকে কখনোই প্রশ্রয় দেবেনা হিয়া। তুমি এটা ভেবোনা যে তোমাকে ছেড়ে গেছে। তার যোগ্য তুমি নও বরং এটা ভাবো সে তেমার যোগ্য নয়। তাই তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে৷


মূলগল্প

তোমাকে ভালোবাসার পালা শেষ এবার অবহেলা করার পালা শুরু’ যে দিন থেকে এটা ভেবে নিজের মনকে শক্ত করে ফেলবেন সে দিন থেকেই ভালো থাকতে শুরু করবেন… কীভাবে তাহলে শুনুন গল্পটা হতে পারে এটা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। অনেক ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে আপনাকে।

প্রেমে অন্ধ হয়ে ভেসে যাওয়া থেকে ফিরে এসে আলোর পথে ফিরে আসতে পারেন। জীবনকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।

আজ থেকে আট বছর আগের কথা – তাকে ভালবাসতাম প্রচন্ড পরিমানে ভালবাসতাম। চৌদ্দ বছরের কিশোরী ছিলাম। ভালবাসার অর্থ টা তখন বুঝতাম না এটাই কাল হয়ে দাড়িয়ে ছিলো আমার জীবনে। ক্লাশ নাইন টেনের বয়সটা সত্যি খুব খারাপ বয়স। আবার এই বয়সটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ বয়স।

এই বয়সই জীবন কে আলো বা অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার বয়স। দেখতে সুন্দরী ছিলাম আহামরি কিছু ছিলাম না তবু যে কেনো সবার নজর আমার দিকে পড়তো বুঝে ওঠতে পারতাম না।

স্কুলে অনেক ছেলেই প্রোপোজ করতো পাওা দিতাম না। পাড়ার ছেলেরাও লাইন মারার চেষ্টা করতো ইগনোর করে যেতাম। পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী ছিলাম। প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ি আবার বাড়ি থেকে স্কুল। এর বাইরে কোথাও যেতাম না। একদিন স্কুল ছুটির পর আমি আর আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড বাড়ি ফিরছিলাম।

স্কুল থেকে বেরিয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু বৃষ্টির জন্য কোনো রিকশা পাচ্ছিলামনা। যাও পাচ্ছিলাম সবগুলোতেই মানুষ ছিলো৷ বৃষ্টি তে অনেকটাই ভিজে গেছি দুজন৷ যখন বৃষ্টির বেগ বেড়ে গেলো আমি আর আমার ফ্রেন্ড মালিহা এক দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম দোকানের ভিতর কয়েকজন ছেলে দাঁড়িয়ে ছিলো খেয়াল করিনি৷ ওখানে গিয়ে দাড়াতেই তাদের দেখতে পেলাম।

তিনজন ছেলে আর দোকানদার ছিলো আশে পাশের দোকান গুলোতেও মানুষ ছিলো। আরো অনেক স্টুডেন্ট রা আশে পাশের দোকানে দাড়িয়ে ছিলো। হঠাৎ দোকানের ভেতর থেকে একটি ছেলে বেরিয়ে আসলো আমার থেকে বয়সে বেশ বড়।

ছেলেটা সামনে এসে পা থেকে মাথা অবদি তাকিয়ে দেখছিলো আমি আর মালিহা খুব ইতস্তত বোধ করছিলাম। আমাদের ওভাবে দেখে ছেলেটা একটা হাসি দিলো আর বললো- তেমাদের বাসা কোথায়। আমরা কিছু বললাম না৷ ছেলেটা হঠাৎ আমার দিকে চোখ রেখে বললো তোমার নাম?

আমি তবুও কিছু বলিনি। তার কিছুক্ষন পর সামনে একটা রিকশা এলো ছেলেটা রিকশা ডাক দিয়ে আমাদের বললো যাও বাসায় যাও৷ প্রথমে খারাপ লাগলেও ঐ বিহেইভটা ভালো লাগলো তার প্রতি বেশ ভালো ধারনা হয়ে গেলো।

এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন ই ঐ ছেলেটাকে দেখতাম স্কুলের সামনে। প্রতিদিন ই আসতো ছেলেটা দেখতে বেশ ভালো ছিলো হ্যান্ডসাম। আমার কিশোরী মনে প্রথম জায়গা করে নিয়েছিলো সে। অল্প বয়স আবেগটা নিতান্তই বেশী ছিলো অল্পতেই দূর্বল হয়ে পরেছিলাম। ভাললাগাটা শুরু হয়ে গেছিলো।

ক্লাশে কিছু ছেলে ফ্রেন্ডদের কাছে শুনেছিলাম ছেলেটা নাকি ভালো না এলাকার বড় ভাই। কেডার মারামারি করে মেয়েদের পেছনে লাগে আরো কতো কি। তবে সেগুলোর কিছুই বিশ্বাস করিনি সেদিন।

কারন ওদের কোনো কথার ই মিল পাইনি। চোখের সামনে কিছুই দেখিনি। যা দেখেছি তা আমার ঐ কিশোরী মনকে দূর্বল করার জন্য যথেষ্ট। একদিন ক্লাশ শেষে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর খুজছিলাম তাকে প্রতিদিন যেখানে দাড়িয়ে থাকতো সেখানে বার বার আড় চোখে তাকাচ্ছিলাম বুকের ভিতর কেমন ছটফট অনুভূতি হচ্ছিলো সাথে ছিলো মালিহা। হঠাৎ দেখতে পেলাম আসছে ছেলেটা আমার হার্টবিট বেড়ে গেলো।

কেমন হাত পা কাপতে লাগলো তাকে দেখে। সে আমার সামনে এসে পিছন থেকে হাত নিয়ে দুহাত ভর্তি লাল গোলাপ আমার সামনে তুলে ধরে আমাকে প্রপোজ করলো৷ আমি সবার সামনে বেশ লজ্জা পাচ্ছিলাম।

সে কিছু বললো না শুধু একটা কাগজ এগিয়ে দিলো হাতে দিয়ে হাতটা মুঠ করে দিলো আর বললো এটা আমার নাম্বার উওর হ্যা হলে ফোন করবে না হলে করবে না বলেই গোলাপ গুলো রেখে চলে গেলো। আমি লোকজনের ভয়ে গোলাপ গুলো আর নিলামনা মালিহা আর আমি চলে আসলাম।

মালিহা ওর খুব প্রশংসা করলো সেওতো আমার মতোই অবুঝ ছিলো। তারপর আমি ফোন করতে চাইছিলাম না কিন্তু অবুঝ মন কোনো বাধা না মেনেই সেদিন ফোন করেছিলো রাত দশটায় আম্মুর ফোন লুকিয়ে নিয়ে ফোন করেছিলাম। সায় জানিয়েছিলাম তার প্রেমে।

এভাবে বেশ কয়েকমাস লুকিয়ে চুরিয়ে কথা বললাম ভালোই চলছিলো। কিন্তু স্কুলে গেলেই নানা রকম গুঞ্জন শুনতে পেতাম কিন্তু বিশ্বাস করতাম না। কারন সেসব আমার চোখে পড়েনি কখনো তারপর ও কেমন সন্দেহ হতো। একদিন সে বললো হিয়া চলো আমরা আলাদা কোথাও দেখা করি। তার প্রতি আমি এতোটাই দূর্বল ছিলাম তার কোনো কথা ফেরাতে পারতাম না সেদিনও পারিনি চলে গেলাম আলাদা দেখা করতে একা একা।

মালিহাকে নিতে চেয়েছিলাম তার কথা রাখতেই মালিহাকে নিয়ে যাইনি। সেদিনই প্রথম পার্কে গিয়েছিলাম তার সাথে একা মিট করতে। ভালোই গল্পসল্প হলো তার সাথে যতটুকু সন্দেহ ছিলো তাও দূর হয়ে গেলো আরো বেশী আবেগী হয়ে পড়লাম আরো দূর্বলতা বেড়ে গেলো মাঝে মাঝে সে কথার ছলে হাত ধরতো আমি ভালবাসা ভেবে লজ্জা পেতাম মুচকি হাসতাম। বুকের ভেতর অজানা ভাললাগা কাজ করতো।

হঠাৎ সে বলে ওঠলো একটা কিস করি। আমি চমকে ওঠলাম তাকালাম তার দিকে সে বললো গালে করবো খুব ইচ্ছে করছে। তার অমন আবদার আর চাহনি দেখে আমি তাকে না করতে পারিনি অনুমতি দিয়ে দিলাম। ভাবলাম গালেইতো ভালবাসে তাই এইটুকু ইচ্ছে হতেই পারে আর আমিও ভালোবাসি এইটুকু দিতেই পারি।

সারাজীবন এজসাথেইতো থাকবো আমরা এখন এইটুকু আবদার না রাখলে ভাববে হয়তো আমি ভালোবাসিনা।

অনুমতি নিয়ে সে আমাকে তার কাছে টেনে নিলো গালে কিস করলো তার স্পর্শ পেয়ে কেঁপে ওঠলাম ভেবে ছিলাম ছেড়ে দিবে কিন্তু না সে আমাকে আরো কাছে নিয়ে মুখটা কাছে নিলো আমি আতকে ওঠলাম কি করতে যাচ্ছে জোর করে হাত ছাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়লাম৷ সেও দাড়িয়ে পড়লো। অসহায় ভঙ্গিতে তাকালো আমার দিকে আর আমি নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম না।

ও আমাকে রিকোয়েস্ট করলো একটা প্লিজ আমি না করলাম৷ ও আমার দুহাত চেপে ধরে বললো আমি তোমায় বিয়ে করবো হিয়া খুব তারাতারি। বাড়িতে সবাইকে বলেছি আমি তোমাকে বিয়ে করবো। আমি তোমাকে আমার বউ মানি হিয়া তুমি কি আমাকে স্বামী মানো না৷

তার কথায় আমার বোকা মন গলে গেলো ভাবলাম সত্যিতো নিজের স্বামী কে তো ফেরানো উচিত নয়৷ আবার পরোক্ষনেই ভাবলাম না। আমি ওকে বললাম না বিয়ের পরই যা হওয়ার হবে। আমার কথা শুনে ও রাগ করলো আমি বুঝতে পারলাম আর একটা কথাও বললো না সেদিন।

এরপর বেশকিছুদিন আমাদের ঝগরা চললো ঝগরার বিষয় ওকে আমি ভালোবাসিনা ভালোবাসলে সেদিন ওকে ফিরিয়ে দিতাম না৷ এভাবেই কেটে গেলো বেশ কিছুদিন৷ সামনে এক্সাম কিন্তু পড়াশেনায় মন দিতে পারছিলাম না ওর জন্য। তারপর একদিন মালিহা আমাকে ফোন করে বললো হিয়া নিবিড় ভাইয়াকে সেদিন একটা মেয়ের সাথে রেষ্টুরেন্টে দেখেছি।

কথাটা শুনে আমার পুরো শরীর ঘেমে গেলো অল্প বয়স ছিলো তাই অল্পতেই খুব বেশীই ঘাবড়ে যেতাম। মালিহার ফোন কেটে সাথে সাথে নিবিড় কে কল করলাম এমন সময় কোনোদিন কল করিনা সবসময় রাতে বা খুব সকালে কথা বলি নিজস্ব ফোন ছিলনা তাই।

কিন্তু সেদিন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিলামনা পারছিলামনা রাত অবদি অপেক্ষা করতে। এিশ মিনিট ধরে কল করলাম পেলামনা কারন তার ফোন ওয়েটিং ছিলো এিশটা মিনিট আমার কাছে এিশ বছরের মতো লাগলো।

বুকের ভিতর ঝড় বয়ে যাচ্ছিলো চোখ দিয়ে পানি পরছিলো অবিরত। হাত কাপছিলো, পা কাপছিলো, কাপছিলো পুরো শরীর। এিশ মিনিট পর আবার কল ঢুকলো সাথে সাথে কেটে দিয়ে ব্যাক করলো। খুব উওেজিত হয়ে বললো তুমি এখন খুব খুশি হওয়ার ভান করলো। আমি সেসব পাওা না দিয়ে বললাম কার সাথে কথা বলছিলে সে বললো আসলে আমার ফোন দিয়ে আমার বন্ধু রাজিব তার জি এফ এর সাথে কথা বললো।

আমি বিশ্বাস করিনি নানা ভাবে প্রশ্ন করছিলাম তাই সে তার বন্ধু কে দিয়ে কথা বলিয়ে দিলো তারপর মালিহার বলা কথাটা বললেও বললো সেই মেয়েটা রাজিবের গার্লফ্রেন্ড ছিল। বিশ্বাস করেছিলাম তবু মনে একটা সন্দেহ ছিলই। আরো নানা রকম কাজ আমাকে আরো বেশী সন্দেহ করতে বাধ্য করতো।

পরীক্ষার চাপে একমাস এসব আর ভাবতে চাইনি কিন্তু কিছু কিছু ঘটনার জন্য না ভেবে পারছিলামনা নানা চাপের মধ্যে এক্সামটা শেষ করলাম। শেষ এক্সামে নিবিড় এসোছিলো সেদিনই প্রথম ওর ফোন নিয়েছিলাম।

মালিহা আমি নিবিড় আর রাজিব একসাথে একটা রেষ্টুরেন্টে বসে ছিলাম নিবিড় ওর ফোনে ওর বেশ অনেক গুলো ছবি দেখতে দিয়েছিলো আমিও মনের আনন্দে দেখছিলাম। তারপর ফোনটা একটু ঘাটাঘাটি করছিলাম টাচফোন তেমন বুঝিনা তারপর ও মেসেজ অপশন বুঝতাম। কল অপশন বুঝতাম।

কিন্তু মেসেন্জার কি বুঝতামনা তবু ক্লিক করেছিলাম। সেখানে ছোটো গোল আকৃতির বেশ কয়েকটা মেয়ের ছবি দেখলাম পরপর। সেখানকার একটায় ক্লিক করতেই অনেক মেসেজ চোখে পড়লো যা দেখে আমার শরীর সির সির করে ওঠলো। নিবিড় একটু বাইরে গেছে রাজিব মালিহার সাথে গল্প করছে আর আমি মেসেজ গুলো পড়ে ঘেমে যাচ্ছি বার বার। চোখ দিয়ে দুফোটা পানিও পড়লো।

কান্নাটা চেপে রাখলাম নিবিড় আসার পর আমি ফোনটা এগিয়ে দিলাম। ফোনের দিকে তাকিয়ে ওর মুখটা চুপসে গেলো। আমাকে অনেক কিছু বোঝাতে লাগলো রাজিব ভাইয়াও যোগ দিলো আমি এতোই বোকা ছিলাম সেদিনও তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে নিলাম।

ঐ মেসেজ গুলো নাকি সে করেনি তার আরেক বন্ধু করেছে আমি বোকার মতো তাই বিশ্বাস করে নিলাম। এভাবে কেটে গেলো আরো দুটা মাস কলেজে ভর্তি হলাম দিন দিন নিবিড়ের মধ্যে অনেক সন্দেহ জনক জিনিস দেখতে পেলাম। লোক মুখেও শুনলাম আগেও শুনেছি তবে আগে বিশ্বাস করিনি।

এখন বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ওর প্রতি আমি নেশার মতো আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম কোনো ভাবেই ছাড়া সম্ভব হচ্ছিলো না একদিন কথা না হলে পাগল পাগল লাগতো। দেখা না হলে মরিয়া হয়ে যেতাম। আমি যতোটা ওর প্রতি আসক্ত হয়ে পারেছিলাম ও তোতোটাই দূরে সরে যাচ্ছিলো দিন দিন ফোন ওয়েটিং থাকতে শুরু করেছিলো।

রাতে কথা বলা কমিয়ে দিয়ে ছিলো দেখা করা কমিয়ে দিয়ে ছিলো আর যতোটুকু কথা হতো সব আবোল তাবোল কথা যা ছিলো খুবই লজ্জা কর সহ্য করতে পারতাম না আবার কিছু বলতেও পারতাম না যদি দূরে সরে যায়। পাগল হয়ে গিয়েছিলাম ওর জন্য। সব ধরনের বাজে কথাই বলা শুরু করেছিলো।

তার কাছেই প্রথম শুনেছিলাম সেক্স কথাটার অর্থ শুনে রাগে ঘেন্নায় মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু পারিনি। একদিন সে আমাকে অফার ও করেছিলো তার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করার জন্য তাহলেই সে আমাকে বিয়ে করবে আমি রাজি হয়নি তাই সে কথা বলাও অফ করে দিয়েছিলো নাম্বার বন্ধ করে রেখেছিলো সাতটা দিন আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম সহ্য করতে পারিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতাম খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম।

অসুস্থ হয়ে পড়ি সাতদিন পর তাকে ফোনে পাই হাতে পায়ে ধরে সম্পর্ক ঠিক করি। কিন্তু সে আমাকে অবহেলা করেই যাচ্ছিলো। তার মধ্যে আমি ভালবাসা দেখতে পাইনি। মালিহা বার বার আমাকে বলতো ও নাকি প্রায় প্রায়ই আলাদা আলাদা মেয়েদের সাথে দেখে আস্তে আস্তে বিশ্বাস করতে শুরু করলাম।

তারপর একদিন শুনি আমারই ফ্রেন্ড অনামিকার সাথে নাকি ওর রিলেশন দুজন ঘুরাফেরা করে ওর বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছিলো। এইটা শোনার পর আমি নিবিড়কে ফোন করে সরাসরি জিগ্যােস করতে নিবিড় সরাসরি না করে আর বলে অনামিকা ই নাকি ওকে ভালোবাসার কথা বলে বিরক্ত করছে ফোনেও বিরক্ত করে৷

কথাটা শুনে আমি রেগে অনামিকার সাথে দেখা করি তুই তুকারি করে ইচ্ছে মতো বকাবকি করি কিন্তু অনামিকা মিষ্টি করে হেসে বললো তুই তো একটা পাগল নিবিড় নিজে বলেছে আমাকে তাই তোর কথায় আমি কিছু মনে করিনি। আমি ওর কথা শুনে আকাশ ভেঙে পড়ি।

তারপর ও ওর ফোন বের করে নিবিড় আর ওর ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি দেখায় যা দেখে আমার সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছিলো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। কি করবো বুঝে ওঠতে পারছিলামনা অনামিকার পা ধরে কান্না করেছিলাম আর বলেছিলাম নিবিড়কে আমি ভালোবাসি বাঁচব না ওকে ছাড়া প্লিজ তুই সরে যা।

অনামিকা আমাকে ওঠিয়ে বলেছিলো তুই ভালোবাসিস কিন্তু নিবিড় কি তোকে বাসে৷ ওর প্রশ্নে আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম হ্যা। অনামিকা আমার সামনে নিবিড়কে ফোন করলো আর স্পিকার বাড়িয়ে দিলো।
হ্যালো জান কি করছো। (নিবিড়)

এইতো বসে আছি আচ্ছা জান তুমি কাকে ভালোবাসো? (অনামিকা)
এ আবার কেমন কথা তোমাকে. (নিবিড়)

আর হিয়া? (অনামিকা)
জান আবার ওর কথা বলছো বলেছিতো মেয়েটা পাগল ওকে আমার বাড়ির কেউ মেনে নেবেনা একটুও স্মার্ট না৷ কেমন একটা গাইয়া টাইপ। কিছু বোঝেনা।

আমি ওর কথা শুনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষন পর জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরতেই দেখি আমি মালিহার রুমে। হুহু করে কেঁদে ওঠলাম চিৎকার করে কাঁদলাম। মালিহার মা এসে এসব দেখে অবাক চোখে তাকালো।

মালিহার থেকে সবটা শুনে বন্ধুর মতো পাশে দাড়ালো। আমাকে আয়নার সামনে দাড় করিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখতে বললো- হিয়া নিজের দিকে তাকাও ভাবো তুমি কে তোমার পরিচয় কি।

তুমি একজন ডাক্তারের মেয়ে। তোমার ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তোমার বাবার সম্মান রক্ষা করতে হবে মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠতে হবে৷ জীবনতো কেবল শুরু এখনি এইভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না।

আর মনে রাখবে যা তেমার জন্য মঙ্গল কর তাই তুমি পাবে উপরওয়ালা সেটাই দেবে তোমাকে। এই পৃথিবীতে যা কিছু হয় সব মানুষের ভালোর জন্যই হয়। হয়তো তোমার জন্য অনেক ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। হিয়া নিজেকে আগে চিনতে হবে তোমার ভেতরের শক্তি টাকে বাইরে আনতে হবে।

ভেতরের দূর্বলতাকে নয়। দূর্বলতাকে কখনোই প্রশ্রয় দেবেনা হিয়া। তুমি এটা ভেবোনা যে তোমাকে ছেড়ে গেছে। তার যোগ্য তুমি নও বরং এটা ভাবো সে তেমার যোগ্য নয়। তাই তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে৷ আমি আয়না থেকে চোখ সরিয়ে তাকালাম আন্টির দিকে৷ আন্টি চোখ বন্ধ করে আশ্বাস দিলো আমায় আর বললো দেখবে একদিন ওর থেকেও হাজারগুন ভালো কেউ তেমার জন্য আসবে।

যাকে পেয়ে তুমি নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে সুখী মনে করবে। ভুলে যাবে পিছনের অতীত তখন পিছনে তাকালে মনে হবে ওটা খুবই তুচ্ছ একটা বিষয় বা একটা খারাপ স্বপ্ন। হিয়া মা আজ থেকে নিজেকে তৈরী করো তাকে দেখিয়ে দাও তুমি কে তোমার ভেতরের শক্তিটাকে বাইরে বের করে আনো অন্ধকার জীবন পিছনে ফেলে আলোর জীবনে ফিরে আসো। জীবনকে আলোকিত করে তুলো।

সেদিন আমি এটা খুব করে বুঝতে পেরেছিলাম যা রটে তার কিছুটা হলেও বটে। সত্যি যা আমি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছিলাম। একজন দুইজন না অনেকের কাছেই নিবিড় সম্পর্কে শুনেছি কেউ ভালো বলেনি।

কিন্তু আমি অন্ধ ভাবে তাকেই বিশ্বাস করে গেছি৷ যা আমার জীবনের মস্ত বড় ভুল। তবে এটা বুঝতে পেরেছিলাম পুরো দুনিয়া যখন একদিকে তখন আমি আরেকদিকে যেতে চেয়ে নিজের ই ক্ষতি করতে চেয়েছি। সেদিন থেকে নিজেকে শক্ত করলাম। আর কোনো মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেবোনা ঠিক করলাম।

সেদিন বাড়ি গিয়ে নিবিড়ের সব স্মৃতি পুরিয়ে ফেললাম। জেদ করলাম আর কোনোদিন ওর জীবনে ফিরবনা ওকে ফিরতেও দেবোনা। কিন্তু রাতে ঠিকই নিঃশব্দে কাঁদতাম থাকতে পারতাম না। তাই একটা দুটো মেসেজ করতাম কিন্তু কোনো রিপলাই পেতাম না।

হয়তো অনামিকা না করে দিয়েছে এভাবে আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিলাম। কিন্তু ভুলতে পারছিলামনা৷ কেটে যায় একটা বছর একবছরে অনেক কিছুই জানতে পারি নিবিড়ের সব গার্লফ্রেন্ডদরে কথা। অনামিকার সাথে ফিজিকেল রিলেশন সব কিছুই জানতে পারি আর একটা হাসি দিয়ে সব ওড়িয়ে দেই।

যখনি কষ্ট হয় তখনই চলে যাই মালিহার বাসায় ওর মায়ের বলা বানীগুলো মাথায় ঢুকিয়ে চলে আসি আল্লার রহমতে ইন্টারে ভালো একটা রেজাল্ট করি। অনার্সে ভর্তি হই জীবন থেকে অন্ধকার অনেকটাই কেটে যায়। এগিয়ে যাই সফলতার দিকে বাবার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে প্রাইমারি স্কুলে চাকুরী নেই। পাশাপাশি পড়াশোনা কন্টিনিউ করে যাই। জীবনকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করতে পারি। নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরী হয়।

এই কবছর এ নিবিড় অনেক ফোন করেছে কিন্তু ধরিনি। কারন তার সব কির্তীকলাপ সম্পর্কে আমি জেনে গেছি। নিজের আবেগকে ধামাচাপা দিয়ে চুপ করে থাকতাম এভাবেই কেটেছে বছরগুলো। হঠাৎ একদিন মালিহা আর ওর আম্মু আমাদের বাসায় আসে।

আমার সাথে নয় বাবার সাথে কথা বলতে আসে সবার কথা বলাতে খুব করে বুঝতে পারি আমার জীবনটা আবারো নতুন কোনো মোড় নিতে চলেছে। বাবার সম্মতিতে সেদিন মালিহার বড় ভাই মাহির খান এর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়। আমার সম্মতি নেওয়ার জন্য আমার বাবা নয় আসে মালিহার মা।

সে আমায় খুব সুন্দর করে বলে আম্মু আমার ছেলেটাকে কি তুমি তোমার যোগ্য মনে করো। আমি ওনার দিকে তাকাই এই মানুষ টা হচ্ছে সেই মানুষ যে একদিন আমার পাশে বন্ধুর মতো মায়ের মতো দাড়িয়ে ছিলো। জীবনকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করতে উৎসাহ দিয়েছিলো। আজ আবারো এই মানুষটা জীবনকে আরো অন্যভাবে উপলব্ধি করাতে এসেছে তার ছেলের বউ হিসেবে চাইছে আমাকে এই মানুষটাকে কি ফেরানো যায়।

তার সেদিনের বলা বানীগুলো আজ আমার জীবনটাই পালটে দিয়েছে। আজ সেই মানুষটাকে শাশুড়ী হিসেবে গ্রহন করলে হয়তো আমার জীবনটা আরো পালটে যাবে। আমি ওনার কথায় সম্মতি দিলাম।

ওনি আমার কপালে চুমু একে দিলো আর একটা কথাই বললো তোমার আজকের এই সিদ্ধান্তের জন্য সারাজীবন মহান আল্লাহ তায়ালা কে শুকরিয়া আদায় করবে ইনশাআল্লাহ। সত্যি আমি তাই করি আজ দুবছরে আমার জীবনটা পালটে গেছে ওনার মতো শাশুড়ী, মাহিরের মতো স্বামী, মালিহার মতো ননদ পেয়ে সত্যি আমি গর্বিত। ওনাদের সবার ভালবাসায় আজ আমি পরিপূর্ণ।

এই জীবনে আর না পাওয়ার কিছুই নেই জীবনকে প্রতিদিন ই নিত্য নতুন ভাবে আবিষ্কার করি উপলব্ধি করি। মাহিরের ভালবাসায় নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ মনে হয়। আর আমার ফেলে আসা অতীতের কথা মনে পড়লে সত্যি হাসি পায়।

আমার স্বামী কে নিয়ে যখন শপিং করতে যাই ঘুরতে যাই মাঝে মাঝে দেখতে পাই নিবিড়কে। তার পরিনতি টা খুবই ভয়াবহ। আমার এই সুখের জীবনকে নষ্ট করার জন্য বার বার সে ফিরে আসতে চেয়েছে কিন্তু সেটাতো কখনোই সম্ভব হবার নয়।

কারন সে আমার প্রথম প্রেম ছিলো কিন্তু শেষ প্রেম নয়। প্রথম প্রেম আবেগ শেখায় কিন্তু শেষ প্রেম শেখায় ভালবাসা। আর আমার ভালবাসা মাহির। আমার শেষ ভালবাসা। আর খুব তারাতারি আমার আর মাহিরের মধ্যে নতুন সদস্য আসতে যাচ্ছে যে আমাকে আরো নতুন ভাবে অনেক কিছু উপলব্ধি করতে শেখাবে।

লেখা – জান্নাতুল নাঈমা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “উপলব্ধি – খুব চমৎকার একটি শিক্ষণীয় গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – নিলার স্মৃতি – অনুভূতির গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!