সেলেব্রিটি – অসাধারণ একটি অনুগল্প

সেলেব্রিটি – অসাধারণ একটি অনুগল্প: দিন দিন আমাদের সমাজে ডিপ্রেশনে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তারা আমাদের মাঝেই বাস করে। কিন্তু এদের আমরা সহজে চিহ্নিত করতে পারি না। অনেকে হয়তো আমাদের কাছে অনেক কিছু শেয়ার করতে চায়।


মূলগল্প

ছাঁদের কার্নিশ ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে রুষা। নির্বাক তার দৃষ্টি আর মলিন তার মুখ। মৃত্যু তার সামনে হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে কোন ভয় নেই। সে দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস যেই না লাফ দিতে যাবে এমন সময় বা হাতে সে টান অনুভব করে। কিছু বুঝার আগেই কেউ একজন তাকে টেনে ছাদের মেঝেতে ফালিয়ে দেয়। মেঝেতে পড়ে যাওয়ার ফলে তার হাতের কুনোই বেশ ছিলে গিয়েছে। কিন্তু এতে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। রুষা মুখ তুলে তাকাতেই তার বান্ধবী মিশ্মিকে দেখতে পায়। মিশ্মি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছি সে। মিশ্মি রুষার বান্ধুবি।

তারা একই ভার্সিটিতে পড়ে। সে রুষার কাছে কিছু দরকারে এসেছিল। বাসায় গিয়ে জানতে পারে রুষা ছাঁদে। তো তাকে খুঁজতেই মিশ্মি ছাঁদে আসা। কিন্তু এইখানে এসে এমন কিছু দেখবে তা সে ভাবতেও পারে নি।

রুষা কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিশ্মি ঝড়ের গতিতে ওর সামনে এসে ওর গালে চড় বসিয়ে দেয়। রুষা এইবার ছলছল চোখে মিশ্মির দিকে তাকায়। মিশ্মি তা দেখে রাগান্বিত কন্ঠে বলে,

~ কি করতে যাচ্ছিলি তুই? আমি যদি আজ ঠিক সময়ে না আসতাম তাহলে কি হতো ভাবতে পারছিস?

রুষা কিছু না বলতে নিরব হয়ে থাকে। হুট করে চোখ দিয়ে তার অনবরত পানি পড়তে শুরু করে। মিশ্মি তা দেখে ওর সামনে হাটু গেড়ে বসে। উদ্বিগ্ন গলায় বলে,
~ কি হয়েছে রুষ? বল আমাকে। এইভাবে কানছিস কেন? কিছু কি হয়েছে? তুই কেন সুসাইড করতে যাচ্ছিলি বল আমায়।

কিন্তু রুষা কোন জবাব দেয় না। নিরবে চোখের জল বিসর্জন দিতে থাকে। মিশ্মি মৃদু গলায় বলে,
~ যতটুকু তোকে চিনি তোর বাসায় কেউ তোকে কোন প্রেশার দেয় না। সাথেই তোর বিএফও নেই যে ব্রেকাপ করেছে বলে এইসব করবি। তাহলে অন্য রিজনটা কি? কি লুকাচ্ছিস আমার কাছ থেকে বল। ওয়েট এ মিনিট! বাই রনি চান্স তুই কি ডিপ্রেশনে আছিস? কিন্তু কেন? চুপ করে থাকবি না রুষ, উত্তর দে।

রুষা এইবার মিশ্মিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। আর বলতে থাকে,
~ আমার মরে যাচ্ছিরে মিশ্মি। মরে যাচ্ছি।
মিশ্মি রুষার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে থেকে বলে,
~ কি হয়েছে তোর। প্লিজ বল আমায়।

রুষা ফোপাঁতে ফোপাঁতে বলে,
~ তুই তো জানিস আমি লাইকি আর টিকটকে ভিডিও করি। অল্প কিছু ফ্যান ফলোয়ারও আছে। কিন্তু অন্যদের যখন এত এত ফ্যান ফলোয়ার দেখতাম আর দেখতাম তারা লাইকি আর টিকটক সেলেব্রিটি তখন হিংসে হতো। আমারও মনে ইচ্ছা জাগে এমন সেলেব্রিটি হওয়ার। এর জন্য আমি ফেমাস একটা লাইকি গ্রুপে জয়েন হওয়ার জন্য রিকুয়েষ্ট করি। তারা জানায় তাদের গ্রুপে এড হওয়ার এড ফি দিতে হবে। এড ফি দিলেই আমি গ্রুপে এড হতে পারবো আর সেলেব্রিটিও হতে পারবো। তো আমি রাজি হয়ে যাই আর এড ফিও দেই।

মিশ্মি রুষাকে নিজ থেকে সরিয়ে ওর দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বলে,
~ এড ফি কত নিয়েছিল?
~ ছয় হাজার।
মিশ্মি বড় বড় চোখ করে রুষার দিকে তাকায়৷ কিন্তু কিছু বলতে গিয়েও পারলো না। আপাতত রুষার পরিস্থিতি ভালো নয় বলে। তাই মিশ্মি সেই কথা না বলে জিজ্ঞেস করে,
~ তারপর?
রুষা বলতে শুরু করে,
~ অতঃপর এড হওয়ার পর তারা আমাকে দেখা করতে বলে। তারা নাকি একটা পুল সাইড পার্টি এরেঞ্জ করেছে যেখানে নাকি অনেক লাইকি স্টার আর তাদের ফ্যানরা উপস্থিত থাকবে। আর সেখানই তারা আমাকে তাদের নিউ মেম্বার হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিবে। তো আমিও রাজি হয়ে যাই। পরশু আমি তাদের দেওয়া ঠিকানায় যাই। একটা রিজোর্ট টাইপ এরিয়া ছিল যা ওরা পুরোটাই বুক করেছে। আমি ভিতরে গিয়ে দেখি অনেক ছেলে মেয়েই সেখানে উপস্থিত।

তারা পুলে নেমে গানের তালে নাচা-নাচি করছে। অনেক ঘনিষ্ঠ অবস্থায় নাচা-নাচি করছিল। যা দেখার সাথে সাথেই আমার গা ঘিন ঘিন করে উঠে। তাও আমি সাহস জুগিয়ে ভিতরে গিয়ে তাদের খুঁজতে শুরু করি। তখন নজরে পরে কিছু ছেলে কয়েকটা মেয়েকে জোর করে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে মেয়েগুলো সজ্ঞানে নেই। কারণ তারা তাল সামলে হাটতে পারছে না। মেয়েগুলো অস্পষ্ট সুরেই ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বলছে তাদের ছেড়ে দিতে। কিন্তু তারা শুনছে না। আমি তাদের পিছু পিছু গেলেই দেখতে পারি সেই ছেলেগুলো মেয়েদেরকে নিয়ে একেক রুমের ভিতর ঢুকে পড়ছে। আর দরজা লাগিয়ে দিচ্ছে।

আমি সেইদিকে কিছু তাকিয়ে থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। একটা রুমের কাছে যেতেই কিছু আওয়াজ শুনে থমকে যাই। একটা মেয়ের তীব্র আকুতিপূর্ণ আর্তনাদ এসে বারি খাচ্ছিল কানে। বুঝতে দেরি নি ভিতরে কি হচ্ছে। আমার হাত-পা তখন ঠান্ডা হয়ে যায়। শরীর আমার মৃদু পরিমাণে কাঁপছিল। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। কিছু যে করবো সেই বোধশক্তিটুকু ছিল না। আর করলেও হয়তো বা কোন লাভ হতো না বেশ বুঝতে পারছিলাম। তাও সামান্য চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম।

তাই ছুটে যাই পুল সাইডে। খুঁজতে থাকি সেই গ্রুপ মেমবারদের। যারা আজকের এই পার্টি এরেঞ্জ করেছে। তাদের এইসব সম্পর্কে জানানো উচিৎ। তারাই পারবে মেয়েগুলোর হ্যাল্প করতে। অবশেষে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পেয়েও যাই। আমি সামনে যেতেই দেখি তারা একটা মেয়েকে আরেকটা ছেলের হাতে তুলে দিচ্ছে। সেই মেয়েটাও সজ্ঞানে নেই। মেয়েটিকে তারা সেই ছেলের হাতে তুলে দিতেই ছেলেটি কিছু টাকার নোট এগিয়ে দেয় তাদের দিকে। টাকাগুলো পেয়ে তারা অতি বিশ্রী এক হাসি হাসে। তারপর উৎফুল্ল সুরে বলে,”ইঞ্জয়। ” এই বলে পৈচাশিক হাসিতে মেতে উঠে তারা।

এইদিকে আমি সব দেখে পাথর হয়ে যাই। সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। এই লাইকি/টিকটক সেলেব্রিটিরা যে কতটা নিম্নশ্রেণির প্রাণী তা বুঝতে আমার দেরি নেই। এইখানে থাকা মানে হচ্ছে বাঘের মুখে থাকা। তাই আমি দ্রুত সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে নেই। কিন্তু পুল সাইডে আসতে কিছু ছেলে আমায় ঝাঁকড়ে ধরে। আমাকে টেনে নিয়ে যায় ডান্স ফ্লোরে। আমি যতই তাদের মধ্যে থেকে বেড়িয়ে আসতে নিচ্ছিলাম তারা ততই আমার উপরে এসে পড়ছিল। বাজে ভাবে স্পর্শ করছিল। বাজে না নোংরা ছিল সেই স্পর্শগুলো। এইখান পর্যন্ত তারা সীমাবদ্ধ ছিল না।

অতি নোংরা নোংরা কথাও বলছিল সাথে ইঙ্গিত করছিল। যা আমাকে একটু একটু করে শেষ করে দিচ্ছিল। একসময় তারা আমার হাতা ধরে টান দেয় আর আমার হাতা ছিঁড়ে যায়। আমার তখন কি হলো জানি না আমি তাদের সজোড়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দৌঁড়ে রিজোর্ট থেকে বেড়িয়ে আসি। নিজের গায়ে ভালো ভাবে ওড়নাটা জড়িয়ে নেই। কোনমতে একটা রিকশা ঠিক করে উঠে পড়ি। শরীরে রীতিমত তীব্র কম্পন দিতে শুরু করে। রাগে জিদে ঘৃণায় আমার কান্না আসছিল। কিন্তু কান্না করতে পারছিলাম না। গলা দিয়ে কোন শব্দ বেড়িয়ে আসছিল না। আমি কোন মতে বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে মেঝেতে বসে পড়ি৷ চিৎকার করে কান্না করতে থাকি।

শরীরে ওই নরপশুদের স্পর্শ আছে ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করে উঠে। রাগে ক্ষোভে নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছিল আমার। আমি কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে যাই। শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। সাবান দিয়ে নিজের গা ঘষতে থাকি৷ কিন্তু তাতেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল যেন সেই স্পর্শগুলো আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যাচ্ছে৷ বার বার চোখের সামনে সেই দৃশ্য ভাসছিল। কানে ভাসছিল সেই মেয়ের তীব্র আর্তনাদ। পারছিলাম না সহ্য করতে।

সেইদিনের পর থেকে নিজেকে ঘরবন্ধী করে নেই। দমবন্ধ হয়ে আসছিল আমার। বার বার সেই স্মৃতিগুলো তারা করছিল আমায়। নিজের প্রতি তো ঘৃণা আসছিলই। সাথে এই ভেবে আমার অপরাধবোধ করছিলাম যে আমি ওই মেয়েদের বাঁচাতে পারলাম না। সেই তীব্র আর্তনাদ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল আমায়। সেলেব্রিটি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা যে আমাকে জীবনে এমন এক ভয়াবহ স্মৃতি গড়ে তুলবে তা বুঝতে পারি নি। এই লাইকি/টিকটক সেলেব্রিটিদের সুন্দর সাবলীল চেহেরার পিছনে যে এতটা নিকৃষ্ট জীব লুকিয়ে আছে তা হয়তো তাদের এত কাছ থেকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।

ধীরে ধীরে আমি ডিপ্রেশনে যেতে থাকি। পারছিলাম না সেইসব কিছু ভুলতে আর না পারছিলাম সেইসব ভুলতে। নিজের বিবেকের কাছে বার বার হেরে যাচ্ছিলাম। কোথাও শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছিলাম সামান্য মানসিক শান্তি জন্য। অতঃপর মনে হলো মৃত্যু ব্যতীত আমি আর কোথাও শান্তি পাব না। তাই আজ নিজের জীবনের ইতি টানতে চাচ্ছিলাম। শান্তির জীবন চাচ্ছিলাম।

মিশ্মি সব শুনে রেগে গিয়ে বলে,
~ আত্নহত্যা কখনোই কোন কিছুর সমাধান হতে পারে না। তুই যে শান্তির জন্য আত্নহত্যা করতে যাচ্ছিলি তুই সেই শান্তি কোনদিনও পেতি না। আর তোর কি মনে হয় সেলেব্রিটি হওয়া এত সোজা? সামান্য ফ্যান-ফলোয়ার হলেই সেলেব্রিটি হওয়া যায় না। আর এইসব লাইকি/টিকটক এপস দ্বারা তো একদমই না। এরা সকলেই হয় ভন্ড। ক্যামেরার সামনে তারা ভালো মানুষী সাজলেও অন্তর দিয়ে তারা পশুর চেয়েও অধম। তোরা তাদের সামান্য নাম,ফ্যান-ফলোয়ার দেখেই ওদের পিছে দৌঁড়ানো শুরু করোস। সেলেব্রিটি হওয়ার লোভে তাদের ফাঁদে পা দিয়ে দিস।

দেখিস নি নিউজে? কয়েকদিন আগেই তো তোর এই নাম করা টিকটক নাকি লাইকি এর কোন সেলেব্রিটি তারই ফ্যান একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে? কিভাবে করেছে জানিস? সেই মেয়েটি ওই সেলেব্রিটির ফ্যান ছিল। তো এজ আ ফ্যান সে একা চলে যায় সেই সেলেব্রিটি সাথে দেখা করতে। তাও তার বাসার সামনে। আর ওই সেলেব্রিটি কি করলো? তিনদিন পর্যন্ত মেয়েটিকে আটক রাখলো। গণধর্ষণ করলো। দোষটা এইখানে কার ছিল? মেয়েটার নাকি ছেলেগুলোর? বল?
তারপর ওই অপু আর মামুন এর কাহিনি। দুইজনের ঝগড়ার রেশ গিয়েছিল শতশত মানুষের উপর। যারা নাকি তাদেরই ফ্যান ছিল। প্রতিনিয়ত এমন কাহিনী হচ্ছে। আর এইসবের সাথে বেশিরভাগ জড়িত এই সো-কোল্ড সেলেব্রিটি।

রুষা ছলছল চোখে মিশ্মির দিকে তাকায়। মিশ্মি তা দেখে বলে,
~ ভক্ত ভালো কিন্তু অন্ধভক্ত নয়। কাউকে অনুসরণ করার আগে তার সম্পর্কে সব তথ্য জেনে নিতে হয়। চোখে দেখা সব যেমন সত্য নয় তেমনেই ভিডিও বা তাদের কয়েকটা বাণী শুনে তাদের নিয়ে ভালো ধারণা করাও ঠিক নয়। গোলাপের পাতা যতটা না মসৃণ তার কাঁটা ততটাই ধারালো।
একটা কথা মানতে আমি বাধ্য। দোষ কিন্তু তোর ছিল। তুই কেন কিছু না জেনে,খোঁজ না নিয়ে তাদের কথায় নাচতে নাচতে চলে গেলি? তারা যা যা বলবো মেনে নিলি? একটা কথা বুঝে নে, নিজের ভালো নিজের বুঝতে হয় বুঝলি। দুনিয়া এখন মুখোশধারী মানুষে ভরে গিয়েছে। কে কখন আঘাত করে বসে তার ঠিক-ঠিকানা নেই। আর শুন! সকল কিছুর এই একটা ভালো আরেকটা খারাপ দিক থাকে।

সবসময় চেষ্টা করবি ভালোটা গ্রহণ করতে। আমি বলবো না লাইকি বা টিকটক এপস খারাপ। এইটা বিনোদনমূলক একটি এপস। কিন্তু এই এপস দ্বারাই মানুষ এখ তাদের খারাপ উদ্দেশ্য উসুল করছে। শুধু এই এপস এর বেলায় না। সকল সোসাল সাইটগুলোতে এখন এমন হচ্ছে। তাই বলছি সাবধানে থাক। নিজের নিরাপত্তা বুঝিয়ে রেখে সবকিছু ব্যবহার কর। লোভে পড়ে এমন কোন জগৎ এ পা দিস যেখানে অন্ধকার ছাড়া কোন কূল-কিনারাই নেই।

রুষা সব শুনে চুপ হয়ে যায়। মিশ্মি তা দেখে বলে,
~ আর তুই কোন আক্কেলে আত্নহত্যা করতে যাচ্ছিলি শুনি? তোকে তো বরং আল্লাহ এর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া করা উচিৎ তুই বেঁচে গিয়েছিস। তারা তোর কোন ক্ষতি করতে পারে নি। জানি তোর মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে কিন্তু অনেক সময়ে অন্যের আগে নিজের চিন্তা করতে হয়। তাদের তুই নাই বাঁচাতে পারলি কিন্তু সামনে যারা এই ফাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে তাদের তো সাবধান করতে পারিস। পরিচয় গোপন রেখে নিজের সাথে হওয়া ঘটনা মিডিয়াতে জানাতে পারিস বা তা একটা পোস্টে লিখে বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করতে পারিস। এই মুখোশধারী মানুষদের আসল চেহেরা সামনে আনতে পারিস। এতে সকলেই সাবধান হবে। সচেতন হবে। মানুষ ভুল থেকেই শিখে। কিন্তু অনেক সময় জীবনের একটি ভুলই সারাজীবনের কান্না হয়ে যায়। তাই নিজের ভালো বুঝতে শিখ। এখন এইসব মাথা থেকে বের করে নিজের জীবন গুছিয়ে নে। চল ভিতরে চল।

রুষা মিশ্মিকে জড়িয়ে ধরে। আর অসংখ্য ধন্যবাদ জানায় তাকে এইভাবে বুঝানোর জন্য। মিশ্মি ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক ঘটনা অহরহ হচ্ছে। কিন্তু তা বেশিরভাগই আমাদের অজানা। সকল তথ্য সবসময় ভাইরাল হয় না। আবার অনেক সময় আমরা এইসব নিউজ দেখেও না দেখার ভান করি। মাঝে মধ্যে হেডলাইন দেখেই নিজের মত কাহিনী বানিয়ে নেই৷ অথচ আসল ঘটনা ঘেটে দেখি না।

দিন দিন আমাদের সমাজে ডিপ্রেশনে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তারা আমাদের মাঝেই বাস করে। কিন্তু এদের আমরা সহজে চিহ্নিত করতে পারি না। অনেকে হয়তো আমাদের কাছে অনেক কিছু শেয়ার করতে চায়। কিন্তু আমরা তাদের সুযোগ দেই না। বরং তাদেরকে হাসি-ঠাট্টার মাত্র বানিয়ে দেই। অতঃপর যখন তাদের মৃত্যুর খবর আসে তখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আদৌ কি সেটা আফসোস নাকি সহানুভূতি? ডিপ্রেশনে থাকা মানুষদের একটু সময় দিলেই হয়। সে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারে। তাকে ভালো ভাবে বুঝালেই সে বুঝে। কিন্তু তাদের জীবিনে যে এই বুঝানোর মানুষটির এই বড্ড অভাব।

লেখা – আছফিয়া ইসলাম জান্নাত

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সেলেব্রিটি – অসাধারণ একটি অনুগল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তুমি আমি (১ম খণ্ড) – Valobashar romantic premer golpo bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published.