রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

মনের মানুষ – Romantic Bangla Love Story

মনের মানুষ – Romantic Bangla Love Story: সে আমার বিয়ে করা বউ। আমি যদি চাইতাম জোর করে তাঁর সাথে নিজের অধিকারটা আদায় করে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি চেয়েছিলাম সে আমার প্রতি মু্গ্ধ হয়ে আমাকে ভালোবাসুক। কিন্তু আমি ব্যর্থ।


পর্ব ১

নিজের বিয়ে করা বউকে স্পর্শ করার অপরাধে যেদিন বাসর ঘরে চরম অপমান সহ্য করতে হয়েছিল সেদিনও আমি চুপ করেছিলাম। অনেক ভালোবাসা নিয়ে যখন মেয়েটার হাতে হাত রেখেছিলাম তখন মেয়েটা তাঁর হাত সরিয়ে নিয়ে বলেছিলো,

“আপনাদের মতো ছেলেদের লজ্জা বলতে কোনো কিছু নেই। মেয়ে দেখলে নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারেন না। ভালো ভাবে যে মেয়েটাকে চেনেন না, জানেন না। সে মেয়েটার অনুমতি না নিয়েই তাঁর হাতে হাত রেখে ফেললেন। তাকে ভোগ করার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন।

আচ্ছা বলেন তো বিয়ের আগের আমার সাথে আপনার তেমন কোনো পরিচয় হয়েছে কি? যে পরিচয়ে আপনি লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে আমার হাতে হাত রেখেছেন? আপনি আমাদের অনেক বড় উপকার করেছেন। সেটা আমরা কোনোদিন ভুলবো না।

কিন্তু তাই বলে বাবা যখন বলল আমার কথা তখনই বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেলেন? একটা বারও আমার কথা ভাবলেন না? আমার আপনাকে পছন্দ হবে কিনা এটা চিন্তা করলেন না? আপনি আমাকে ভুলেও স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না। আমি আপনাকে কোনোদিন নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিবো না। আপনি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন।

কথাগুলো যখন নাদিয়া বলেছিলো তখন আমি নীরবে কিছুক্ষণ অনেক অপরাধী চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তারপর বাহিরে গিয়ে অঝড় ধারায় চোখের পানি ফেলেছিলাম।

কিছুদিন পরে নাদিয়ার এক চাচাতো বোনের বিয়েতে যাই। সেখানে পরিবারের সবার সাথে যখন কথা বলছিলাম তখন নাদিয়া আমার একটা কথায় রাগ করে ফেলে। সেই রাগে সে সেখান থেকে চলে আসে। সবার অনুরোধে আমি পেছন থেকে নাদিয়াকে আটকানোর জন্য তাঁর হাত ধরে ফেলি।

আমি ভেবেছিলাম বিয়ে বাড়িতে এতো মানুষের সামনে সে আমাকে কিছু বলতে পারবে না। হয়তো পরে বলবে। তাই তাকে আটকানোর জন্য তাঁর হাত ধরলাম। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিলো। আমি যখন পেছন থেকে নাদিয়ার হাত ধরলাম তার এক সেকেন্ড পরেই নাদিয়া আমার গালে একটা থাপ্পড় মারলো।

সেদিন আমি সত্যি বোবা হয়ে গিয়েছিলাম। কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে বাড়ির সবাই নাদিয়ার ব্যবহারে অনেক অবাক হলেও আমি হয়নি। কারণ ভুলটা আমারই ছিলো। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাকে স্পর্শ করেছি। এর শাস্তি আমি পেয়েছি। লজ্জা, ঘৃণায় চুপ করে সেখান থেকে চলে আসি আমি।

ফুটপাত দিয়ে উদেশ্যেহীন ভাবে হাঁটতে থাকি আর নিজের অতীতটাকে ভাবতে থাকি।
আমার জীবনে দুঃখের তুলনায় সুখের পরিমাণ খুবই নগন্য। দশ বছর বয়সে যখন আমার মা মারা যান সেদিনই আমার জীবন থেকে সুখ নামক জিনিসটা চিরতরে হারিয়ে যায়।

নাদিয়াকে পেয়ে ভেবেছিলাম আমার দুঃখের অধ্যায় শেষ হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া সুখ আবার আমার জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু সুখ ফিরে আসেনি। বরং দুঃখ গুলো সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস এর মতো হানা দিয়েছে।

মা মারা যাওয়ার পরের দিনই বাবা বিয়ে করে নিয়ে আসেন।

প্রথম প্রথম নতুন মা পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর সে খুশি আর থাকলো না। আমি বুঝতে পারলাম আমার নতুন মা কারো সাথে সবসময় কথা বলেন। একদিন সাহস করে বাবাকে কথাগুলো বললাম। সেদিন বাবা কিছু বলেনি। শুধু বলেছিলো তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না। পড়াশোনায় মনোযোগ দাও।

তার কিছুদিন পরেই আমার নতুন মায়ের ছোট বোন আমাদের বাড়িতে আসে। একদিন ভুল করে আমি তাকে ভেজা কাপড়ে দেখে ফেলি, তখন আমার বয়স ছিলো তেরো বছর। তখন তখনই আমি তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। কারণ সে আমার থেকে বয়সে প্রায় ছয় সাত বছরের বড়। আমি তাকে বলি আমি ইচ্ছে করে আপনার সামনে আসিনি। তারপরেও আমি ক্ষমা পাইনি।

দুইদিন পর যখন বাবা বাসায় আসলেন তখন মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,
“তোমার ছেলে লুকিয়ে লুকিয়ে আমার বোনকে গোসল করা অবস্থায় দেখেছে, আজকে আবার ভেজা কাপড়ে দেখেছে। আমি যদি ওর নিজের মা হতাম তাহলে কি আমার বোনের সাথে এই নোংরা কাজটা করতে পারতো? বল তুমি।

বাবা মায়ের চোখের পানি বিশ্বাস করেছিলো কিনা জানি না। আমাকে শুধু বলেছিলো এসব করেছিস নাকি?
আমি বলেছিলাম ভুল করে ভেজা কাপড়ে দেখে ফেলেছি। তবে..

কিছু বলার আগেই বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে পিটাতে পিটাতে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলো। আমি মায়ের বোনকে গোসল করা অবস্থায় দেখিনি এইটুকু বলার সুযোগও বাবা আমাকে দিয়েছিলেন না। সেদিন মায়ের পা ধরে কান্না করেছিলাম, বলেছিলাম।

” আমাকে বাসা থেকে বের করে দাও সমস্যা নেই। আমি খুশি মনেই চলে যাবো। কিন্তু এরকম খারাপ একটা অপবাদ আমাকে দিও না।

কেউ আমার কথা শোনে নি সেদিন। খালি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে এসেছিলাম।
তেরো বছর বয়স থেকেই আমার জীবন যুদ্ধ শুরু হয়। মামাদের বাড়িতে এক বছরের মতো ছিলাম। সেখানে বেশিদিন টিকতে পারিনি।

মাঝেই মাঝেই বাবার কাছ থেকে আমি টাকা নিতাম। বাবার কাছ থেকে টাকা নিতে অনেক খারাপ লাগতো। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য টাকার দরকার। আমি যখন বাবার কাছ থেকে টাকা নিতাম তখন নিজের প্রতি অনেক ঘৃণা হতো। যারা আমাকে এতো অপমান করলো আজ তাদের কাছেই আমাকে হাত পাততে হচ্ছে।

হঠাৎ করেই দেখলাম একটা রিকশা আমার পাশে এসে থামলো। চেয়ে দেখলাম তানিয়া। এই মেয়েটা আমার জীবনের অনেক মূল্যবান জায়গায় জুড়ে রয়েছে। ভার্সিটিতে একমাত্র এই মেয়েটার সাথেই আমি মিশতাম, কথা বলতাম।

আমার সাথে কেউ মিশতে চাইতো না। কারণ আমার টাকা ছিলো না, স্মার্ট ছিলাম না, ছাত্রও ভালো ছিলাম না। সবসময় একা একাই থাকতাম। কিন্তু আমার একাকিত্বটাকে কিছুটা হলেও দূর করেছিলো তানিয়া নামের মেয়েটা।

আমিনুল তুমি? রিকশায় উঠে এসো।
সরি তোমার বিয়েতে আসতে পারিনি।

~ ইটস ওকে।
~ তোমার বউ কোথায়?
~ বাসায়।

~ তোমার বউকে বলো ভালো করে রান্না বান্না করতে। বলো তোমার আরেকটা বউ আসছে।
তানিয়ার কথা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তাকে নাও বলতে পারবো না। আবার বাসায় নিয়ে যেতেও পারবো না।
কিছুক্ষণ পর যখন তানিয়া বলল,

“আজ না। অন্য একদিন আমি আর আমার স্বামী তোমার বাসায় গিয়ে তোমার বউকে দেখে আসবো। আজ তুমি আমার বাসায় যাবে।
তখন প্রশান্তির একটা শ্বাস নিলাম। কারণ আমি ভেবেছিলাম তানিয়া হয়তো আমার বাসায় যাবে।

তানিয়ার বাসায় গিয়ে কেনো জানি খুব খারাপ লাগলো। তবে তানিয়া আর তানিয়ার হাসবেন্ডকে দেখে অনেক ভালো লাগলো। কারণ তারা আমার সামনেই দুজন দুজনের হাত ধরে বসে ছিলো। এটাই হয়তো স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা।
আফসোস, নাদিয়া যদি একটু মায়া নিয়ে কখনো এক সেকেন্ড এর জন্যও আমার হাতটা ধরতো। তাহলে হয়তো আমার জীবনের সমস্ত বেদনা আমি ভুলে যেতাম।

আজ নাদিয়ার জন্মদিন। জন্মদিনে আমার কোনো বন্ধুকে সে দাওয়াত দেয়নি। সে হয়তো আরও খুশি হতো যদি তাঁর জন্মদিনে আমি না থাকতাম। কিন্তু সবার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে।

এমন তো হতে পারতো। নাদিয়া আমাকে পাশে নিয়ে কেক কাটতো। আমি তাঁর হাত ধরে তাকে কেক কাটাতাম। প্রথম আমাকে সে খাইয়ে দিতো। তারপর দুষ্টুমি করে আমি তার নরম গালে একটু ছুঁয়ে দিতাম। কিন্তু এরকম কিছুই হলো না। নাদিয়া তাঁর বান্ধবীদের সাথে নিয়ে কেক কাটছে। সে আমাকে তাঁর পাশে ডাকেনি। আমিও ইচ্ছে করে যাইনি।

হঠাৎ করে শুনতে পেলাম নাদিয়া কিছু বলছে।
“পৃৃথিবীর সব পুরুষই এক। যখন তারা বউ এর ভালোবাসা পাই না তখন তারা অন্য মেয়ের কাছে ভালোবাসা খোঁজে। কোনো কোনো পুরষতো আবার বউ এর সাথে বিছানায় শুতে না পেরে বাহিরের মেয়েদের সাথে রিকশায় চিপাচিপি করে ঘুরে বেড়ায়। আবার তাঁর সাথে তাঁর বাসায়ও যায়।

আমি যখন বুঝতে পারলাম কথাগুলো নাদিয়া আমাকে উদ্যশে করে বলছে। তখন আর ঠিক থাকতে পারলাম না। সবার সামনে নাদিয়ার নরম গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলাম। চড় খেয়ে সে মাটিতে পড়ে যায়।

“তোমার মনমানসিকতা যে এতোটা নিচু জানতাম না। না জেনে তুমি একটা মেয়ে সম্পর্কে এতো বাজে কথা বলতে পারলে? আসলে তোমার ভিতরটা পঁচে গেছে। তোমার শুধু বাহিরের দিকটাই সুন্দর। ভিতরে অনেক আবর্জনা জমে গেছে। যদি পারো ভিতরটাকে সুন্দর করো।


পর্ব ২

নাদিয়াকে কথাগুলো বলা একদম ঠিক হয়নি। সে না হয় না বুঝে কিছু কথা বলে ফেলেছে, তাই বলে আমি তাঁর সাথে এতো খারাপ ব্যবহার করলাম। জানালায় দাঁড়িয়ে যখন এসব ভাবছিলাম তখন নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিলো।

আমার জন্য তাকে তাঁর বান্ধবীদের সামনে অপমান হতে হলো। তাঁর বিশ বছরের জীবনে হয়তো আজকের জন্মদিনটাই সবচেয়ে খারাপ ভাবে উৎযাপন করা হলো, তাকে সবার সামনে অপমানিত হতে হলো। অথচ আজকে এই দিনটা তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ জন্মদিন হতে পারতো।

শহরটা নীরব হয়ে এসেছে। সবাই চলে গিয়েছে, বাড়িটা ফাকা হয়ে গেছে। নাদিয়া আমার সাথে কোনো কথা বলল না। এমনিতেও খুব একটা কথা বলে না সে আমার সাথে। সবসময় দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করে। কতো দিন আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরেছি তাঁর সাথে ডিনার করবো বলে, কিন্তু কোনোদিন করা হয়নি।

সে আমার জন্য কোনোদিন অপেক্ষা করেনি। কতোদিন তাঁর সাথে ব্রেকফাস্ট করবো বলে সকালে ঘুম থেকে উঠেছি কিন্তু সে আমার সাথে খেতো না। আমি চলে যাওয়ার আগে সে ঘুম থেকেই উঠতো না। আমি যাওয়ার পরে সে সকালের খাবার খেতো। বিয়ের পর থেকেই আমরা এক বিছানায় ঘুমালেও আমাদের মাঝখানের দূরত্বটা দিন দিন বেড়েই চলেছিল। সেটা হোক বাস্তব জীবনে কিংবা বিছানায়।

প্রথম দিকে আমাদের মাঝে শুধু একটা নরম তুলতুলে কোল বালিশের ব্যবধান থাকতো। আস্তে আস্তে সে ব্যবধানটা বাড়তে থাকে। একসময় দেখা যায় মাঝখানে কোল বালিশ না হলেও সমস্যা নাই। খাটের দুইপাশে দুইজন দুইদিকে মুখ ঘুরিয়ে ঘুমাতাম। কখনো কেউ কারো দিকে তাকাতাম না।

আমি তাকাতাম না লজ্জায়। সে তাকাতো না হয়তো ঘৃণায়। অথচ এমনও হতো পারতো আমাদের মাঝে কোনো দূরত্ব থাকতো না, সেন্টিমিটার পর্যন্তও ব্যবধান থাকতো না। একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে পরম মমতায় হাজার হাজার রাত কাটিয়ে দিতাম। কিন্তু এমন কিছু শুধু কল্পনাতেই সম্ভব, বাস্তবে না।

আজকে হয়তো নাদিয়া মাঝখানের দূরত্বটা কমানোর জন্য কোলবালিশ দিতে ভুলে গিয়েছে। না দিলেও কিছু হবে না সে জানে। কারণ আমাদের মাঝে এতোটা দূরত্ব আর অভিমান সৃষ্টি হয়েছে যে সামান্য কোলবালিশ টা সরালেই সেটা ঠিক হয়ে যাবে এটা ভাবা ভুল। মেয়েটার ঘুম অনেক পাতলা।

মেয়েটাকে না দেখলে হয়তো বুঝতে পারতাম না একটা মানুষ এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পারে। আমার যেখানে ঘুম আসতে ত্রিশ চল্লিশ মিনিট লেগে যায়, কোনো কোনোদিন দুই তিন ঘন্টাও লেগে যায় তবুও ঘুম আসে না। কিন্তু এই মেয়েটা সবার থেকে আলাদা।

বিছানায় শুয়ে পড়ার সাথে সাথেই সে ঘুমিয়ে পড়ে। ভেবেছিলাম অন্ততপক্ষে আজকে সে এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পারবে না, কারণ তাঁর মনটা আজ ভালো না। আর মন ভালো না থাকলে ঘুমও সহজে আসবে না। কিন্তু না, অন্যদিন এর মতো আজকেও সে খুব কম সময়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

আমার সামনে একটা মেয়ে ঘুমিয়ে আছে। আমি পৃৃথিবীর সমস্ত মমতা ভরা ভালোবাসা নিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে পৃৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর আর নিষ্পাপ মানুষটা আমার সামনে ঘুমিয়ে আছে। ইচ্ছে করছে তাঁর কপালে একটু ছুঁয়ে দেই।

সিনেমা উপন্যাসে তো অনেক সময় ভালোবাসার মানুষকে জোর করে ভালোবাসে, জোর করে আদর করে। প্রথমে রাগ করলেও পরে ঠিকই আদরটা পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। সমস্ত রাগ, অভিমান ভুলে দুজন দুজনকে ভালোবাসতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইচ্ছে করছে আমার সামনে শুয়ে থাকা মেয়েটার অমৃতের মতো নরম ঠোঁটে চুমু খাই।

কি এমন ভাববে নাদিয়া? যখন দেখবে এমন একজন মানুষ তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে যে মানুষটাকে সে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। তারপর হয়তো আমাকে ধাক্কা দিয়ে অনেক দূরে ফেলে দিবে। কয়েকটা থাপ্পড় মারবে, গালাগাল করবে। আরো অনেক বেশি ঘৃণা করতে থাকবে। এসবের পরেও কেনো জানি নিজেকে সংযত রাখতে পারছি না। তাঁর ওই ঠোঁট দুটো আমাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করছে।

অনেক কষ্টে নিজেকে এসবের থেকে সংযত রাখলাম। তাঁর বাহিরের সৌন্দর্যের সাথে ভিতরের কোনো মিল নেই। বাহিরে যতটা সুন্দর ভিতরটা হয়তো এতো সুন্দর না। আফসোস ভিতরটা যদি এতো সুন্দর হতো!
পৃৃথিবীর সব মানুষই বলবে বাহিরের সৌন্দর্য এর চেয়ে ভিতরের সৌন্দর্যটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু দেখা যায় সবাই সৌন্দর্য এর পুজারি। বাহিরের সৌন্দর্যটাকেই আমরা বেশি প্রাধান্য দেই।

আমিও দিয়েছি। এই পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের স্বামী, স্ত্রী দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু তবুও তারা তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারে না। দুঃখ, বেদনা তাদের জীবনটাকে ঘিরে ফেলে। একজন আরেকজন এর প্রতি ভুলবোঝাবোঝি হয়েই শেষ মেষ জীবনটা পাড় করতে হয়।

আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যাদের বউ অনেক সুন্দরী, তারা তাদের বউকে নিয়ে যাওয়ার সময় আশেপাশের মানুষ হা করে তাকিয়ে থাকতো। এমন অনেককে জানি আমি যারা নিজের থেকে, নিজের বাবা মায়ের থেকে নিজের সুন্দরী বউকে বেশি ভালোবাসতো। বউ এর মন রক্ষার জন্য নিজের মাকে কষ্ট দিতে একবারও ভাবতো না। এতো ভালোবাসার পরেও দেখা যেতো তাদের সুন্দরী বউ তাদেরকে ছেড়ে অন্য কোনো পুরুষের সাথে চলে গিয়েছে।

এমন অনেক পুরুষকে চিনি যারা ঘরে সুন্দরী বউ থাকার পরেও প্রতিরাতে পতিতালয়ে রাত কাটায়। ভালোবাসা খুঁজে বেড়ায়। আবার এমন অনেক পুরুষকেও চিনি আমি যাদের বউ আহামরি কোনো সুন্দরী না, দেখতেও খুব একটা ভালো না।

তবুও তারা নিজের বউকে নিয়ে সুখে থাকে, নিজের বউ ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না। অনেক সুন্দরী মেয়ের চেয়ে শ্যামলা কালো বর্ণের মেয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে যায়। নিজের সৌন্দর্য দিয়ে অনেক সুন্দরী তাদের স্বামীকে মুগ্ধ করতে পারেনি। অথচ সৌন্দর্য না থাকার পরেও স্বামীকে নিজের প্রতি মুগ্ধ করেছে অনেক মেয়ে।

আমরা একটা জিনিস মনে প্রানে বিশ্বাস করলেও সেটা মানি না। আমরা জানি জীবনে সুখী হতে হলে সুন্দর চেহারার মানুষের চেয়ে সুন্দর মনের মানুষের দরকার। বাহিরের সৌন্দর্য না দেখে ভিতরটাকে দেখা উচিত। কিন্তু আমরা কেউ সেটা করি না। কথায় আছে বাহিরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট।

ঘনকালো হরিণীর মতো মায়াবী চোখের প্রেমে পড়তে পারি আমরা, বোঁচা নাকের প্রেমে পড়তে পারি, অমৃতের মতো ঠোঁঠের স্পর্শ পাওয়ার জন্য কারো প্রেমে পড়তে পারি।

আকর্ষণীয় ফিগার দেখে জীবনসাথী হিসেবে কল্পনা করতে পারি। কিন্তু মানুষের ভিতরেও যে একটা সুন্দর মন থাকতে পারে এই জিনিসটা আমরা কেউ খুঁজি না। ভিতরের সৌন্দর্য দেখে আমরা কারো প্রেমে পড়তে রাজী না। আমাদের কাছে দেহের সৌন্দর্যটায় আসল।

অফিস থেকে ফেরার পথে ফুটপাতে চোখ পড়তেই একটা জিনিস চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এক বৃদ্ধ ফুটপাতে বসে একজাতীয় পিঠা ভাঁজছেন, তাঁর বৃদ্ধ বউ তাকে অনবরত সাহায্য করে যাচ্ছেন। কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো রাগ নেই দুজন দুজনের ওপর।

আমি সেখান থেকে একটা পিঠা নিয়ে বৃদ্ধ লোকটার সাথে কিছু কথা বলে বাসার দিকে রওনা হলাম। অনেক বেশি অবাক হলা যখন জানতে পারলাম প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই ফুটপাতে এভাবে পিঠা বিক্রি করে বেঁচে আছেন তারা। এই দীর্ঘ চল্লিশটি বছরে তাদের জীবনে হয়তো অনেক ঝড়ঝাপটা এসেছে, রাগ অভিমান হয়েছে দুজনের মাঝে। কিন্তু কখনো তারা কেউ কাউকে ছেড়ে যায়নি।

এটাই বুঝি রিয়াল লাভ। অথচ আমরা এক বছর প্রেম করেই বলে বেড়াই ছেলেটাকে কিংবা মেয়েটাকে সত্যিই ভালোবাসি আমি।
বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। বাসায় এসে দেখি নাদিয়া জেগে আছে। তাঁর জেগে থাকার কারণটা বুঝলাম না আমি।

আপনার সাথে কিছু জরুরি কথা আছে আমার।
~ বলো।
~ আমার ডিভোর্স চাই।
~ এখন কি আমরা ডিভোর্স থেকে ভালো আছি?

~ আমি আপনার থেকে মুক্তি চাই।
~ আমি কি অনেক বেশি জ্বালাই তোমাকে?

~ এতো কিছু জানি না। আপনি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন।
আমি কিছু বললাম না, যে মানুষটা কখনো আমার ছিলো না তাকে হাজার চেষ্টা করেও আটকানো যাবে না। যে চলে যাবার সে যাবেই। তাকে শত চেষ্টা করেও ফেরানো যাবে না।


পর্ব ৩ (শেষ)

আমি ভেবেছিলাম দেরিতে হলেও নাদিয়া আমাকে ভালোবাসবে, আপন করে নিবে, নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিবে। তার সাথে প্রায় একটা বছর ছিলাম। সে আমাকে জানতে পারেনি, বুঝতে পারেনি। হয়তো বা কখনো আমাকে বুঝতেই চায়নি। ইচ্ছে করলে তাঁর সাথে আমি সবকিছুই করতে পারতাম।

সে আমার বিয়ে করা বউ। আমি যদি চাইতাম জোর করে তাঁর সাথে নিজের অধিকারটা আদায় করে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি চেয়েছিলাম সে আমার প্রতি মু্গ্ধ হয়ে আমাকে ভালোবাসুক। কিন্তু আমি ব্যর্থ। আমি তাকে মু্গ্ধ করতে পারিনি।

তাঁর জন্য নিজের প্রিয় অভ্যাস গুলোও ত্যাগ করেছিলাম আমি। যেদিন জানলাম সে নেশা করা পছন্দ করে না, সিগারেট এর গন্ধ সহ্য করতে পারে না। সেদিনই আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। যখন জানতে পারলাম তাঁর গোলাপ খুব পছন্দের তখন নিজের পছন্দের কদম ফুলটাকে অপছন্দ করতে লাগলাম।

অথচ খুব করে মনে প্রাণে স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমি যাকে ভালোবাসবো, যাকে আমি আমার রাজকন্যা বানিয়ে নিজের রাজত্বটা লিখে দিবো। তাকে কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে একগুচ্ছ কদম ফুল হাতে ভালোবাসার আবেদন জানাবো। কিন্তু আমার স্বপ্নটা সত্য হয়নি।

দীর্ঘ চব্বিশটা বছর ধরে নিজের জীবনের জমানো সমস্ত অনুভূতি দিয়ে আমার ভালোবাসার রাজকন্যা, আমার হৃদয়ের রাণী, যার জন্য আমি শত শত কবিতা লিখেছি। যেই কবিতা গুলোর প্রতি কোণায় কোণায় আমার ভালোবাসার চিহ্ন রয়েছে। আমার অনুভূতি গুলো সব আমি আমার কবিতার মধ্যে ঢেলে দিয়েছিলাম।

ইচ্ছে ছিলো কোনো এক চাঁদনি রাতে আমার লেখা কবিতাগুলো তাকে উপহার দিবো। সে খুব বেশি অবাক হবে তখন। আমার জন্য একজন মানুষ এতো এতো অনুভূতি নিয়ে, এতো এতো ভালোবাসা নিয়ে পাঁচশত এর বেশি কবিতা লিখেছে। যখন সে এটা জানতে পারবে তখন তাঁর চোখে পানি চলে আসবে। সে কিছুক্ষণ মায়া কান্না করবে। তারপর হঠাৎ করেই পাগলের মতো শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু যেদিন আমি তাকে বলেছিলাম,

“তোমাকে নিয়ে আজকে আমি একটা কবিতা লিখেছি। এরকম অনেক কবিতা তোমাকে নিয়ে লিখেছি আমি। তখন সে রাগ করে বলেছিল, তাঁর নাকি এসব কবিতা ভালো লাগে না। সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার লেখা শত শত কবিতা জলে গিয়েছে, আমার কবিতা গুলোর কোনো মূল্য তাঁর কাছে নেই। সে সাহিত্য ভালোবাসে না, সাহিত্যের বিপরীত সে।

সেদিন আমি সাহিত্য থেকে দূরে সরে আসি। যার জন্য এতো এতো অনুভূতির জন্ম হয় সেই মানুষটাই যদি আমার অনুভূতি গুলো বুঝতে না পারে তাহলে এসব কবিতা দিয়ে কি হবে?
আজ নাদিয়াকে কাগজে কলমে ডিভোর্স দিয়ে দিলাম। সে চেয়েছিল আমি যেনো তাড়াতাড়ি তাকে মুক্তি দেই, আমিও সেটাই করেছি।

সে যখন চলে যাচ্ছিলো তখন তাকে নিজের সমস্ত আবেগ দিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম কিন্তু সে আমার আবেগটা বুঝতে পারিনি। আমার আবেগটা তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছিল।
তাকে যখন বললাম,

“সত্যিই আমি চেয়েছিলাম তোমার হতে, কিন্তু আমি পারিনি। তোমার অপছন্দীয় জিনিসগুলো আমি ত্যাগ করেছিলাম অথচ তোমার অপছন্দীয় জিনিসগুলোই আমার খুব পছন্দের ছিলো। আমি নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলাম শুধু তোমার জন্য, তোমাকে আপন করে পাওয়ার জন্য, তোমার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।

কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। যখন বুঝতে পারলাম আমার আমিটাকেই তোমার পছন্দ না তখন আর চেষ্টা করিনি। আমার কোনো কিছু ভালো না লাগলে সেটা হয়তো আমি বদলে ফেলতে পারবো কিন্তু তোমার তো আমাকেই পছন্দ না। আমার আমিটাকে কিভাবে বদলাবো বলো?
যেখানেই যাও, যেভাবেই থাকো, যার সাথেই থাকো সবসময় ভালো থাকো।”

আমার কথাগুলো তাঁর হৃদয়ে দোলা দিতে পারেনি। তাঁর অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারেনি। সে কিছু না বলেই আমার কাছ থেকে বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনটা ছিন্ন করে আমার বৃত্তটাকে একলা রেখে চিরদিনের জন্য চলে গিয়েছিলো নতুন কোনো বৃত্তের সন্ধ্যানে।

অথচ আমি তাকে আমার বৃত্তটার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চেয়েছিলাম। কেন্দ্র ছাড়া যেমন কোনো বৃত্ত কল্পনা করা যায় না। তাকে ছাড়াও আমাকে কল্পনা করতে পারতাম না। কিন্তু আমার বৃত্তটা তাঁর কাছে শিকল বেড়ী মনে হয়েছিল। তাই চলে গিয়েছে নতুন কোনো বৃত্তের খোঁজে। যাওয়ার সময় শুধু ভদ্রতার খাতিরে বলেছিলো,
“ভালো থাকবেন।

তখন খুব করে বলতে ইচ্ছে করেছিল।
“যে মানুষটা ভালো রাখার দায়িত্ব নিতে পারেনি, সে মানুষটার মুখে এই কথাটা শোভা পায় না। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য বাঁধার কারণে বলতে পারিনি।

এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে ছাড়া মরে না, কষ্ট হলেও বেঁচে থাকে। আমিও ছিলাম। আমি আবার লিখালিখিতে মনোযোগ দেই। তবে আমার এবারের লেখাগুলো বিরহ কেন্দ্রিক হয়। আমার যখন খুব খারাপ লাগতো, একাকিত্ব অনুভব করতাম তখন অবনি নামের একটা মেয়েকে ফোন দিতাম।

তাঁর সাথে কথা বললে আমার কেনো জানি অনেক ভালো লাগতো। মেয়েটা আমার গল্প পড়তো নিয়মিত, আমার কবিতাগুলো অনুভব করতো। সেখান থেকেই মেয়েটার সাথে পরিচয়।

আমার স্বপ্নের রাজকন্যাকে অনুভব করে যে কবিতাগুলো লিখেছিলাম তাঁর থেকে দুএকটা কবিতা মাঝে মাঝে অবনি নামের মেয়েটাকে আমি শোনাতাম। সে মুগ্ধ হয়ে শুনতো, যেমনটা আমি আমার রাজকন্যাকে মুগ্ধ করতে চাইতাম। তেমনভাবেই সে মুগ্ধ হতো।

একসময় বুঝতে পারলাম এই অবনি নামের মেয়েটার কারণে আমি নাদিয়া নামের মেয়েটাকে ভুলে গিয়েছি। আমার এখন নাদিয়ার কথা মনে হয় না। আমি যে অবনি নামের মেয়েটাকে ভালোবাসি সেরকম কোনো কিছুও না। তবে মেয়েটা আমার ভিতরটাকে বুঝে, আমার কবিতার অস্তিত্ব গুলো অনুভব করতে পারে।

একদিন হঠাৎ করেই দেখি বই মেলায় আমার একটা কবিতার বই বের হয়েছে। আমি খুব অবাক হই। কারণ আমার লেখা কবিতাগুলো তো আমি কাউকে দেইনাই। তাহলে এটা কিভাবে হলো?
তখন জানতে পারি অবনি নামের মেয়েটা আমাকে না জানিয়ে তাকে শোনানো আমার কবিতাগুলো বই আকারে বের করেছে।

আমি যখন তাকে জিগ্যেস করেছিলাম “আমাকে না জানিয়ে এরকমটা করা উচিত হয়েছে?”
তখন সে একটু অভিমানি কণ্ঠে বলেছিলো,
” বললে কি আর আপনি বই বের করতে দিতেন? আমি চেয়েছি আপনার কবিতাগুলো মানুষ পড়ুক, মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ুক চারদিকে।

আমার কবিতার বইটা ভালো সাড়া পায়। কখনো ভাবিনি পাঠকরা এতো পছন্দ করবে আমার কবিতাগুলো। এসবের জন্য অবনি নামের মেয়েটাকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর সাথে দেখাও করি। সে হয়তো আট দশটা মেয়েদের মতো ওতো সুন্দর না তবে তাঁর চেহারার মধ্যে এক ধরণের মায়া আছে। তাঁর দিকে তাকালে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া কষ্টকর।
একবছর পর,

কোনো এক কুয়াশা ভেজা সন্ধ্যায় বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে অবনি নামের মেয়েটার কথা ভাবছিলাম। মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে, আমার খারাপ সময়গুলো তে পাশে থেকেছে।

কে জানতো আর কয়েকদিন পর আমি তাকে বিয়ে করে নিজের করে নিবো। আমি জানি বিয়ের পরেও সে আমাকে আগের মতোই ভালোবাসবে। এমন সময় হঠাৎ করে চেয়ে দেখি নাদিয়া এসেছে। এমন সময় তাকে দেখে একটু অবাকই হলাম।

এতোদিন পর?
~ এই একটা বছরে আমি নিজেকে চিনেছি, জেনেছি। কয়েকটা ছেলের সাথে কথা বলেছি বিয়ে করবো বলে কিন্তু হয়নি। সবাই ভোগ করতে চেয়েছে, সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে চেয়েছে।
~ তুমি তো এটাই চেয়েছিলে, কাপুরুষের অসমর্থতার স্পর্শে হয়তো মুগ্ধ হতে পারোনি তাই চলে গিয়েছিলো।

~ আমি আপনাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারিনি। এটা বলবো না যে সবসময় আপনাকে মনে করেছি। তবে আমার মনে হয়েছে আমার ভালো থাকার জন্য আপনাকে দরকার। আপনার মতো করে আমাকে কেউ ভালো রাখতে পারবে না। অনেক পরে হলেও আমি বুঝেছি। আমরা কি আবার এক হতে পারি না?

~ তোমার ওপর আমার কোনো রাগ নেই, অভিমান নেই। তবে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। আমি আর আগের মতো নেই। আমার সাথে থাকলেও আগের মতো তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না। তুমি আমার থেকে অন্য কারো সাথেই ভালো থাকতে পারবে। আমি অন্য একজন মানুষকে কথা দিয়েছি, তাকে সারাজীবন ভালো রাখার দায়িত্ব নিবো।

নাদিয়া এই প্রথম আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলো। সে হয়তো আমাকে না পাওয়ার জন্য আফসোস করছে। আমরা মানুষগুলোই এমন। যখন একটু ভালোবাসার জন্য কেউ দিনরাত প্রার্থনা করে তখন আমরা তাকে পাত্তা দেই না।

কিন্তু এক সময় সেই মানুষটাই যখন অন্য কারো হয়ে যায় তখন তাকে না পাওয়ার জন্য আফসোস করি। যেমনটা নাদিয়ার হচ্ছে। নাদিয়া জল ভরা চোখে চলে যায়। আমি তাঁর যাওয়ার পথে চেয়ে থাকি।
অবনি আমার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। আমি তাঁর নরম হাতে হাত রেখেছি।
কালতো আমাদের বিয়ে। বাসর রাতে কি করবে ভেবেছো?

~ কিছুই করবো না। তবে তোমাকে ঘুমাতে দিবো না। সারারাত জাগিয়ে রাখবো।
~ অসভ্য। সারারাত জাগিয়ে রেখে আমাকে কষ্টে দিতে বুঝি তোমার ভালো লাগবে?
~ কষ্ট দিবো কেনো? আমার কবিতাগুলো তোমাকে শুনাবো। যেগুলো আজ পর্যন্ত কাউকে শোনাই নি। আমার স্বপ্নের রাজকন্যার জন্য জমা করে রেখেছি।

~ আমি বুঝি তোমার স্বপ্নের রাজকন্যা?
~ হুম, আমাদের বাসর রাতটা হবে অন্য সবার থেকে আলাদা। না ঘুমিয়ে কাটাবো। ইতিহাস হয়ে যাবে। এই রাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে জামাই তাঁর বউকে সারারাত কবিতা শুনিয়েছে।

অবনি কিছু বলে না। আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়।
এটা কি করলে?
~ কি করলাম?
~ চুমু খেলে কেনো? খেলেই যদি, ঠোঁটে চুমু খেলে কি হতো?

~ তুমি আসলেই অনেক অসভ্য।

আমি তো এটাই চেয়েছি। কেউ একজন ভালোবেসে অভিমানি কণ্ঠে বলুক তুমি এতো অসভ্য কেনো?
ভালোবাসার মানুষের জন্য তো একটু আকটু অসভ্য হওয়াই যায়। আমারও এখন অসভ্য হতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সাহস পাচ্ছি না।

লেখাঃ আমিনুর রহমান

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “মনের মানুষ – Romantic Bangla Love Story” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – ভুল – ekti prem kahini

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!