মিষ্টি প্রেমের গল্প

মনের রঙ বদল – new premer golpo

মনের রঙ বদল – new premer golpo: থাক তার কোনো দরকার নেই এখন তো ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার কষ্ট হলে আমারো কষ্ট হবে। তখনি মিথি আমাকে ….


পর্ব ১

পাত্রী দেখার জন্য অধির আগ্রোহে বসে আছি কিন্তু পাত্রী মনে আসছে না। আমার নিজের কাছে ব্যপারটা খুব খারাপ লাগছে।

আম্মা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে এমন সময় পাত্রী এসেছে তাও আবার হাতে একটা মোবাইল নিয়ে. পাত্রীর এমন ভাবে আসবে তা আমরা কেউ কল্পনা করতে পারিনি

তবে কেনো এমন ভাবে আসছে তার কারণটা আমার আর বুঝতে আর বাকী রইলো না।

এই মেয়ের আমাকে পছন্দ হইনি তাই এমন ভাবে সামনে এসেছে। মেয়েটি সামনে চ্যায়ারে এসে বসেছে মাত্র ঠিক তখনি আমি বলি আচ্ছা আমরা কি আলাদা ভাবে কথা বলতে পারি?

মেয়েটি এসে বসা মাত্র আমার মুখ থেকে এমন কথা শোনে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

অবশেষে পাত্রীর বাবা বলেন।
পাত্রীর বাবাঃমা মিথি? যা তো বাবা নেহালকে আমাদের বাড়ীর ছাদটা ঘুরিয়ে দেখিয়ে আয়।

মেয়েটি রাগান্বিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তখনি আমি বলি। (আমি মানে আমার নাম নেহাল আহমেদ সবাই নেহাল বলে ডাকে। ছোট খাটো একটা কম্পানিতে চাকরি করি। আরো কিছু কথা আছে তবে আগে এখানের গুলি শেষ করি।

নেহালঃ আঙ্কেল যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি এখানে ওর সাথে কথা বলি। আপনারা সবাই যদি একটু কষ্ট করে বাহিরে যেতেন তাহলে খুশি হতাম।

আপুঃ নেহাল কি হচ্ছে? তখনি পাত্রীর বাবা বলেন।

পাত্রীর বাবাঃ থাক মা বরং আমরা বাহিরে যাই। আচ্ছা ঠিক আছে বাবা তাই করছি। আসেন আপনারা আসেন আমার সাথে আমরা অন্য রুমে যাই।

সবাই চলে যাচ্ছে কিন্তু আম্মু আমার এমন আচরন একদম পছন্দ করছে না। তা ঠিক বুঝতে আর বাকী রইলো না।

সবাই বাহিরে গেছে আমি উঠে দাঁড়িয়ে একদম মিথির কাছে গিয়ে বসেছি। তখনি মিথি বলে।

মিথিঃ কাছে এসে বসেছেন কেনো?
নেহালঃ আপনি তো আস্তে আস্তে কথা বলবেন! আর আমি আস্তে কথা কম শুনি তাই কাছে এসে বসেছি।

মিথিঃ আমি জোরে কথা বলবো আপনি ধূরে গিয়ে বসেন।

নেহালঃ সমস্যা নেই আমার এখানে ভালো লাগছে। মিথি এক দৃষ্টিতে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আঙুল গুলি নাড়াচাড়া করছে। বুঝতে পারছি কারো সাথে চ্যাটিং করছে তাও না বুঝার মত করে বলি। মিস মিথি আপনাকে আমার খুব ভালো লাগছে।

আপনার চুল গুলি খুব সুন্দর আর হাসিটার প্রশংসা করতে হবে। সত্যি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। আমার কথা শোনে এবার মিথি আমার দিকে মাথা তোলে তাকিয়েছে।

মিথিঃ আপনি তো আজব বোকা ছেলে।

নেহালঃ আমি জানি কেনো এমনটা মনে হলো আপনার? তবে আপনি যে আমাকে পছন্দ করেন নাই সেটা খুব ভালো করে বুঝতে পারছি।
মিথিঃ যেহেতু বুঝতে পারছেন তাও আলাদা করে কথা বলতে চাইলেন কেনো?

নেহালঃ ইচ্ছে হইছে তাই!

মিথিঃ শুধু ইচ্ছে করলে হবে আর কোনো রিজন নেই?
নেহালঃ আছে তো এত টাকা খরচ করে ভাড়া দিয়ে এসেছি সেই টাকাটা কিছুটা তো স্বার্থক করতে হবে তাই আলাদা ভাবে কথা বলছি।

মিথিঃ কি বলছেন আপনি?
নেহালঃ যা শুনছেন তাই। আপনার মত সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে কাছাকাছি বসে কথা বলতে পারাটা অনেক ভাগ্যের ব্যপার। মনে হই পয়সা উশুল হচ্ছে।

মিথিঃ ছিঃ আপনি এত ছোট মনের মানুষ। আমি এখুনি চলে যাচ্ছি বলে মিথি উঠে দাঁড়িয়েছে। তখনি নেহাল বলে।

নেহালঃ রাগ দেখিয়ে চলে যাচ্ছেন যান আমিও বলে দিবো আপনাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। আর আপনার বাবা কিন্তু এক পায়ে রাজি আমার কাছে আপনাকে বিয়ে দিতে।

মিথি এবার বসে গেছে।
মিথিঃ আচ্ছা আপনি কি বলতে চাচ্ছেন সেটা বলেন?

নেহালঃ কিছু বলবো না আপনি চলে যান যা বলার আপনার বাবাকে বলবো।
মিথিঃ দেখুন আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। আমি অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসি আর তাকেই বিয়ে করবো।

এই যে দেখুন ছেলেটা কত সুন্দর আর হ্যান্ডসাম। মিথি তার মোবাইলটা আমার দিকে এগিয়ে একটা ছেলের ছবি দেখিয়েছে।

নেহালঃ ঠিক আছে আমি আপনার বাবাকে বলবো এখন আপনি যান।
মিথিঃ কি বলবেন?
নেহালঃ আপনাকে আমার পছন্দ হইনি।

মিথিঃ ধন্যবাদ আপনাকে এবার আমি যাই। যাবার সময় মিথি এক রাস হাসি মাখা মুখ নিয়ে উঠে চলে গেছে। মিথি যাবার পর এক এক করে সবাই এসেছে মা আপু আর মিথির বাবা।

আম্মাঃ নেহাল চল আমরা উঠি আমাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে।

মিথির বাবাঃ তা আপনাদের আমার মেয়ে কেমন পছন্দ হইছে?
আম্মাঃ মেয়ে তো আমাদের পছন্দ হইছে এখন বাড়িতে গিয়ে নেহালের বাবার সাথে কথা বলে আপনাদের জানাবো।

মিথির বাবাঃ তা আপনাদের ছেলের কি মেয়ে পছন্দ হইছে? তখনি আপু আমাকে জিজ্ঞেস করে।

আপুঃ নেহাল তোর কি মেয়ে পছন্দ হইছে?
তখনি চেয়ে দেখি মিথি উকি মেরে দাঁড়িয়ে আছে দরজার পাশে আমি কি বলবো সেটা শুনার জন্য। ঠিক তখনি আমি বলি।

নেহালঃ হ্যা মেয়ে আমার পছন্দ হইছে আপনারা চাইলে বিয়ে পর্যন্ত আগাতে পারেন।

আমার কথা শোনে মিথি তো মাথায় হাত আর তার চাইতে বেশী অবাক হইছে আমার মা আর আপু।
মিথির বাবাঃ আলহামদুলিল্লাহ আমি খুশি হলাম। আমি নিজে তোমার বাবার সাথে কথা বলবো।

আম্মাঃ আচ্ছা তাহলে আমরা এখন যাই বাকী কথা নেহালের বাবা বলবে বলে আমরা সবাই উঠে চলে আসছি। মিথির জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে কিন্তু এক দিক দিয়ে খুব হাসি পাচ্ছে বেচারি কি মনে করছে আর কি হইছে। গাড়িতে বসে নিজে নিজে হাসছি তখনি আপু বলে।

আপুঃ নেহাল তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? মেয়েটা কেমন ভাবে সামনে আসছে আবার মেয়েটা নাকী প্রেম করে এমন একটা মেয়েকে যেনে শুনে বিয়ে করতে রাজি হলি কেনো?

আম্মাঃ মনে হই ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে দেখ একা একা কেমন হাসছে পাগলের মত। এই নেহাল তুই এই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হলি কি করে?

নেহালঃ আরে ধূর তোমরা ও শুরু করেছো নাকী? মেয়েটা আমাদের সবাইকে অপমান করতে চাইছে তাই আমিও সেইটার জবাব দিয়ে এসেছি।

আপুঃ মানে বুঝতে পারিনি।

নেহালঃ মানে মেয়েটা তো আমাকে পছন্দ করেনি তাই মোবাইল হাতে নিয়ে সামনে এসে বসে চ্যাটিং করছে। আর আমিও তো মেয়েকে বিয়ে করবো না তাই ওর বাবাকে বলে এসেছি ওকে পছন্দ করে আসছি। যাতে করে মেয়ের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাই।

আপুঃ আরে ঠিক বলেছিস তো। আমরা তো এইটা চিন্তা করিনি। মেয়েটা যে প্রেম করে তা আমিও বুঝতে পারছি এখন বুঝো কেমন ঠেলা। সবাই হাসা হাসি করে আনন্দ করে বাড়িতে এসেছি। যার যার মত করে রুমে গেলাম। আমি রুমে গিয়ে এক ঘুম। ঘুম থেকে উঠেছি ঘন্টা তিনেক পড়ে। নিচে গিয়ে দেখি আব্বা আম্মা আর আপু দুলাভাই সবাই বসে আছে। আমাকে দেখেই আব্বা বলে।

আব্বাঃ নেহাল তুই আজকে যে মেয়েটি দেখে আসছিস সেই মেয়েটি কি তোর পছন্দ হইছে?
নেহালঃ পছন্দ হইছে তবে। তখনি আব্বা বলেন।

আব্বাঃ যাক পছন্দ হলে তো ভালো আমার সাথে শুক্কুরের কথা হইছে। ও রাজি আছে তোর সাথে মিথির বিয়ে দিতে।
নেহালঃ আমি এই মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না।

আব্বাঃ তাহলে বলেছিস কেনো তোর পছন্দ হইছে?
নেহালঃ মেয়েটিকে উচিত শিক্ষা দেবার জন্য। আপনি মেয়ের বাবাকে বারণ করে দেন আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।

আব্বাঃ আমি শুক্কুরকে কথা দিছি সামনে শুক্রবার তোদের বিয়ে। আমি বাড়িতে সবাইকে কথাটা বলে দিছি। এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি হও। এই কথা বলে আব্বা চলে গেছে আর আপু দুলাভাই আমাকে বেষ্ট অফ লাক বলে চলে গেছে।

নেহালঃ আম্মা তুমি কিছু একটা করো?
আম্মাঃ যখন মেয়ের বাবাকে বলেছো তখন মনে ছিলোনা সামনে কি হবে সেইটার কথা? এখন যা হবে তা মেনে নিলেই ভালো হবে।
আম্মাও চলে গেছে যা এখন কি করবো? চিন্তা করছি নিজের মত করে বসে বসে হঠাত একটা আইডিয়া মাথায় আর সাথে সাথে বেরিয়ে গেলাম। বাহিরে এসে দোস্তকে ফোন করে মিথির বাপের নাম্বারটা দিছি আর বলেছি।

নেহালঃ দোস্ত এই নাম্বারে ফোন করে বলবি নেহাল খুব বাজে ওর খারাপ নেশা আছে। সারাদিন মদ আর মেয়েদের পেছনে ছুটে। দোস্তকে যেভাবে বলেছি সে ফোন করে ঠিক তা তা বলেছে। আমি বাড়িতে আসতেই দেখি আব্বার মেজাজ খরাপ যাক তাহলে প্ল্যানে কাজ করেছে।

আমি মনের সুখে গান গায়তে গায়তে রুমে গিয়ে এক ঘুম সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে এসেছি।
আব্বা নেহাল তোর সমস্যা কি?

নেহালঃ কেনো বাবা কি করেছি?

আব্বাঃ তুই তোর বন্ধুদের দিয়ে শুক্কুর আলীকে ফোন করে উল্টা পাল্টা বলিস কেনো? শোন নেহাল বিয়ে কিন্তু মিথিকে করতে হবে আমি আর আমার দোস্ত মিলে আগে থেকে প্ল্যান করেছি।

আজকের পর যদি বিয়ে ভাঙ্গার বিন্দু পরিমার চেষ্টা করিস তাহলে কিন্তু খুব একটা ভালো হবে না

নেহালঃ ঠিক আছে বলেই কেটে পড়েছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইক নিয়ে অফিসে যাচ্ছে তখনি মোবাইলটা বেজে উঠছে। বাইকটা সাইট করে মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে দেখে আননোন নাম্বার রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে বলে।

এই ছেলে তুই কেমন বেহাইয়া রে তোর কি দুনিয়াতে মেয়ের অবাব পড়ছে? আমাকে ছাড়া কি আর কোনো মেয়ে দেখিস না? আমি ছাড়া আর কোনো মেয়ে নেই যে তুই বিয়ে করবি?

নাকী দুনিয়াতে শুধু আমি একা মেয়ে?( এবার বুঝতে পারছি এটা মিথি) শোন তুই তাড়াতাড়ি করে ক্যাফে হাউজে আয় তানা হলে তোর বিয়ে করার শখ বের করে দিবো।

নেহাল এতক্ষন চুপচাপ কথা গুলি শুনছে আর কিছু বলেনি ফোনটা ওপাশ থেকে কেটে দিছে। নেহাল বাইক নিয়ে সোজা ক্যাফে হাউজে গেছে।

নেহাল ভিতরে ঢুকে দেখে মিথি আর একটা ছেলে বসে আছে। নেহালকে দেখে মিথি ছেলেটার হাত ধরেছে নেহাল কাছে গিয়ে বলে।

তবে নেহাল রেস্টুরেন্ট ওদের সামনে গিয়ে মোবাইলের অডিও রেকডিং চালো করে নিছে। যখন কাছে গেছে তখন চেয়ে দেখে মিথি যে ছবি দেখিয়েছে সেই ছেলেটা। এর মানে মিথি ওর সাথে প্রেম করে তখনি নেহাল বলে।

নেহালঃ ফোন করেছো কেনো? তখনি মিথি বলে।
মিথিঃ কেনো করেছি জানিস না? শোন যদি তুই বিয়ে করতে রাজি হস তাহলে কিন্তু তোর খবর আছে?

নেহালঃ কি করবি? তখন মিথির সাথে বসা ছেলেটা বলে।
ছেলেঃ কি করবো মানে তুই দেখতে চাস?

নেহালঃ দেখা কি করবি?
ছেলেঃ তোকে মেরে রাস্থায় ফেলে রাখবো। ভালোই ভালোই মিথিকে বিয়ে করার ভূতটা মাথা থেকে সরিয়ে নে।
নেহালঃ সরাবো কি করে আমাদের তো বিয়ে হবেই।

মিথিঃকি বিয়ে হবে? যদি ভাগ্য ক্রমে বিয়েটা হয়ে যাই তখন বাসর ঘরে বিষ খায়িয়ে মেরে ফেলবো। যদি বিষে কাজ না হয় তখন চাকু দিয়ে গলা কেটে ইমরানের সাথে পালিয়ে যাবো।

তার মানে মিথির বয়ফ্রেন্ডের নাম ইমরান।

নেহালঃ তাই নাকী ঠিক আছে এগুল তো তোমার বাবাকে শুনাতে হবে।
মিথিঃ আমার বাবাকে বললে বিশ্বাস করবে না।

নেহালঃ হাসালে যদি প্রমান দেই।
মিথিঃ কি প্রমান আছে তোমার কাছে? তখনি নেহাল রেকডিং চালু করে দেই আর ইমরান মিথি দুজনে চুপ করে হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকে। তখনি মিথি হাত জোড় করতে থাকে যাতে ডিলেট করে দিতে বলে।

নেহালঃ ডিলেট করবো তবে আমার কিছু শর্ত মানতে হবে রাজি থাকলে হাঁ না থাকলে আমি গেলাম তোমার বাবার কাছে।
ইমরানঃ মিথি তুমি রাজি হবে না ছেলেটার মতলব সুবিধার লাগছে না। যা গিয়ে দেখা আমরা আজকেই কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নিবো।
নেহালঃ এটাও রেকডিং হইছে যাচ্ছি মিথি তোমার বাবাকে বলতে এই কথা বলে যখনি বেরিয়ে আসবো তখনি মিথি বলে।

মিথিঃ আমি রাজি বলেন কি শর্ত আপনার?
নেহালঃ শর্ত পড়ে বলছি আগে আমার সাথে এখন চলো যদি কোনো কথা বলো তাহলে কিন্তু শর্ত বারবে। মিথি চুপচাপ আমার সাথে বেরিয়ে এসেছে। মিথি বাইকে বসো। মিথি বাইকে বসেছে আর বসা মাত্র ব্রেক মিথি সোজা আমার পেছনে ধাক্কা খেয়েছে।
মিথিঃ এটা কি হলো?

নেহালঃ এটা তোমাদের প্রেম কতটা মুজবুত তা ট্রাই করেছি।
মিথিঃ তা কি বুঝলেন?
নেহালঃ বুঝলাম তোমাকে ইমরার ব্যবহার করছে আর তুমি ওর সুন্দরয্য পাগল হয়ে আছো। যাকে বলে উপরে উপরে প্রেম ভিতরে সব ফাকা কথাটা বলেই বাইক চালাতে আরম্ভ করেছে।

আর একটু পর পর ব্রেক আর মিথির অবস্থা বারোটা বাজতেছে। তখন মিথি বাধ্য হয়ে জড়িয়ে ধরে বলে।
মিথিঃ এত ব্রেক মারার কোনো দরকার নেই আমি জড়িয়ে ধরেছি এবার শান্তিতে বাইকটা চালান।
নেহাল মুচকি হেসে বাইক থামিয়ে দিছে। তখনি মিথি বলে কি হলো বাইক থামালেন কেনো?

নেহালঃ নামো তারপর বলছি। মিথি বাইক থেকে নেমেছে আর তখন নেহাল বলে। আসলে তোমার ক্যারেকটার সমস্যা আছে তোমাকে আমার সাথে নিলে আমার ক্যারেকটার সমস্যা হবে। তুমি হেটে হেটে চলে যাও। এই কথা বলে নেহাল বাইক নিয়ে সোজা চলে আসছে।


পর্ব ০২

নেহাল পাত্রী নাকী তোমার সামনে মোবাইল হাতে নিয়ে এসেছে? আবার তোমার সামনে বসে বসে মোবাইলে চ্যাটিং প্যাটিং করছে? তারপরেও নাকী তুমি মেয়েটাকে বিয়ে করতে রাজি হইছো?

অফিসে ঢুকা মাত্র আমার ম্যাডাম এসব কথা জিজ্ঞেস করতে আরম্ভ করছে। কিন্তু মনের মাঝে একটা প্রশ্ন জাগলো ম্যাডাম এই কথা জানতে পারলো কি করে? তখনি ম্যাডাম বলে।

ম্যাডামঃ নেহাল কি হলো কথা বলছো না কেনো?
নেহালঃ ম্যাডাম এই কথা আপনি জানলেন কি করে?

ম্যাডামঃ তোমার আম্মার সাথে আমার দেখা হইছে আর ওনি আমাকে বলেছি তোমাকে বুঝিয়ে বলতে। শোনো নেহাল বিয়ের ব্যপার সব কিছু চিন্তা ভাবনা করে সিদ্যান্ত নিলে ভালো হবে।

নেহালঃ ম্যাডাম আসলে মেয়েটিকে উচিত শিক্ষা দেবার জন্য বলেছি বিয়ে করবো। আসলে আমার এই মেয়েকে বিয়ে করার বিন্দু পরিমান কোনো ইচ্ছে নেই।
ম্যাডামঃ ঠিক আছে তাই যেনো হয়। আচ্ছা তাহলে তুমি ডেক্সে যাও। নেহাল আর কিছু না বলে তার ডেক্সে এসে বসেছে। নেহাল মনে মনে ভাবছে মিথিকে কি করে আরো টাইট দেওয়া যায়। সব চিন্তা এখন স্থগিত করে নিজের কাজে মনোযোগী হইছে। কাজ করছে এমন সময় মোবাইলটা আবার বেজে উঠেছে।

মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে মিথির নাম্বার নেহাল রিসিভ করেনি। মিথি আরো তিনবার কল করেছে তাও নেহাল রিসিভ করেনি। নেহাল তার হাতের কাজ গুলি শেষ করে লাঞ্চ করতে গিয়ে মিথিকে ফোন করেছে। রিং হতেই মিথি রিসিভ করে বলে।

মিথিঃ এই ছেলে তোর সাহোস তো কম না! আমি ফোন করছি তুই রিসিভ করিস না কেনো? তুই জানিস আমার সাথে কথা বলার জন্য কত ছেলে ফোন করে?

নেহালঃ তোমার যে ক্যারেক্টারে প্রবলেম আছে সেটা আমি তোমাদের বাড়ীতে গিয়ে বুঝতে পারছি। সুতরাং নতুন করে আর কোনো বুঝানোর দরকার নেই। এখন বলো কেনো ফোন করেছো?
মিথিঃ ঐ তুই নিজেকে কি মনে করিস?

নেহালঃ ব্যবহার বংশের পরিচয় মিলে। সুতরাং এমন কোনো ব্যবহার করোনা যার কারণে তোমার বংশের বদনাম হয়।

মিথিঃ কি আমার ব্যবহার খারাপ? আর নিজে একা একটা মেয়েকে মাঝ রাস্থায় নামিয়ে দিয়ে গেছো তখন কোথায় ছিলো ব্যবহার?

নেহালঃ আচ্ছা তুমি কি ঝগড়া করার জন্য ফোন করেছো?
মিথিঃ আমার ভয়ে গেছে ঝগড়া করতে। যে কারণে ফোন করেছি সেই কারণটা বলি। কান গুলি খুলে শুনে রাখুন আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। কারণ আমি ইমরানকে ছাড়া কাউকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে পারবো না।

নেহালঃ এসব ডায়লগ পুরুনো হয়ে গেছে নতুন কিছু থাকলে বলতে পারো।

মিথিঃ দেখুন বেশী বারাবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু?

নেহালঃ আমার মোবাইলের টাকা শেষ করে আপনার পিরিতির আলাপ শুনার কোনো ইচ্ছে নেই। এই কথা বলেই ফোন কেটে দিছি টুটু করে। ঐ দিকে মিথির মাথায় গরম হয়ে গেছে।

কেমন ছেলেরে বাবা আমার বয়ফ্রেন্ড আছে তা যেনেও আমাকেই বিয়ে করতে চাচ্ছে? ঠিক আছে আমিও দেখে নিবো কি করে বিয়ে করে। এক কাজ করি বাবাকে বারণ করে দেই বাবা আমি এই বিয়েটা করতে পারবো না। কিন্তু বাবা যে রাগি এই কথা বললে আমাকে বন্ধি করে রেখে সেইদিন বিয়ে দিয়ে দিবে।

নাহ এই ঘার তেরা ছেলে নেহালটার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আর এদিকে নেহাল বসে বসে প্ল্যান করছে কি করে মিথিকে কি করে আরো জ্বালানো যায়।

নেহাল লাঞ্চ করে আবার কাজে মনোযোগী হলো। অফিস ছুটির পর বাড়ীতে গেছে নেহালের বাড়ীতে ওর বাবা মা থাকে। নেহাল ছাড়া ওর একটা মাত্র বড় বোন আছে ওর বিয়ে হইছে একটা সরকারী চাকরিজীবী ছেলের সাথে।
নেহালের বাবার ছোট খাটো ব্যবসা আছে নেহলার এত বড় লোক নই তবে মুটামুটি সুখী পরিবার ওরা। নেহাল বাড়ীতে ঢুকে সুফায় বসেছে তখনি ওর আব্বা বলে।

আব্বাঃ নেহাল শুক্কর আলীর কাছে তোর নামে আজে বাজে রিপুট দিতেছে।
নেহালঃ শুক্কর আলীটা কে?

আব্বাঃ তোর হুব শুশ্বড় মিথির বাবা। এবার চিন্তে পারছিস?
নেহালঃ হ্যা চিন্তে পারছি।

আব্বাঃ না চিন্তে পারলে সমস্যা নেই তবে আমি চিন্তা ভাবনা করছি সামনে শুক্রবারে তোদের কাবিনের কাজটা সেরে ফেলবো। আর সামনে মাসে ভালো একটা দিন দেখে মিথিকে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে আসবো

আম্মাঃ আপনি এসব কি বলছেন? আমি তো বলেছি মেয়েটির অন্য ছেলের সাথে রিলেশন আছে। আর তাছাড়া মেয়ের চাল চলন তেমন ভালো না।

আব্বাঃ আজকালের ছেলে মেয়েদের বিয়ের আগে একটু আট্টু এমন প্রেম টেম থাকে। আর তোমার ছেলে কি দুধে দোয়া তুলশি পাতা নাকী?

আপুঃ আব্বা আপনি এসব কি বলছেন? নেহাল তো আর প্রেম করা অবস্থায় বিয়ে করতে গেছে না। আর যায় বলেন আমরা যেনে শোনে এমন মেয়েকে কি করে বাড়িতে বউ হিসাবে আনবো?

আব্বাঃ আমি এত কথা শুনতে চাইনা আর বুঝতে চাইনা। নেহাল আমি যা বলছি তাই হবে মানুষিক ভাবে নিজেকে তৈরি করে নাও।

নেহালঃ আব্বা আমাকে কিছুটা চিন্তা করতে দেন।
আব্বাঃ নেহাল সময় দিলেও আমার মতামতে কোনো পরিবর্তন হবে না। আর তাছাড়া তোর হাতে বেশ কিছুদিন সময় আছে। আর বাড়ীর সবাই ভালো করে শুনে রাখো মিথি হবে এই বাড়ির বউ।

নেহাল কাউকে কিছু না বলেই সোজা রুমে চলে গেছে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামায পড়ে নাস্তা করে রেডি হয়ে অফিসে চলে গেছে। নেহাল কাজ করছে তখনি তাহার কলিক সাবিত সাহেব বলে।

সাবিতঃ নেহাল সাহেব তা আপনার কি বিয়ে হবে এই বছরে?
নেহালঃ সেটা আল্লাহ ভালো জানে।

সাবিতঃ আল্লাহ তো ভালো জানবেই তবে ফিকির করতে হবে। যাই হোক আজকে সন্ধায় আমার সাথে যাবেন?
নেহালঃ কোথায় যাবেন?
সাবিতঃ ঐ প্রতি সাপ্তাহে যেখানে যাই সেখানে যাবো।
নেহালঃ সাবিত সাহেব আপনার তো স্ত্রী আছে তাও ঐসব বাজে জায়গাতে কেনো যান? সাবিত সাহেব এসব নেশা একদম খারাপ যা আপনার জীবন আর কেরিয়ার ধ্বংষ করে দিবে।

সাবিতঃ আরে রাখেন আপনার উপদেশ যদি যেতে চান তাহলে বলেন আজকে নতুন জিনিস আসছে। আমাকে ফোন করেছে যদি আপনি যান তাহলে নতুনটা আপনাকে দিবো।

নেহালঃ আপনি যান তো আমার সামনে থেকে। আপনার মত স্বামীদের জন্য আজ বউরা স্বামীকে বিশ্বাস করে না। সাবিত সাহেব চলে গেছে আমি কাজে মনোযোগী হলাম। সন্ধায় অফিস থেকে বেরুবো তখনি মিথি ফোন করেছে। আজকে আমি প্রথমে রিসিভ করে নিলাম। তখনি মিথি বলে।

নেহালঃ এখন তো সন্ধা হয়ে গেছে আগামীকাল দেখা করবো। আর তখনি যা বলার বলো।
মিথিঃ নাহ আমি আজকেই এবং এখুনি দেখা করবো। গতকাল যে রেস্টুরেন্ট এসেছেন আপনি ঐ রেস্টুরেন্টে চলে আসুন আমি অপেক্ষা করছি।

নেহালঃ আপনার কথামত আমি আসবো তা আপনি ভাবলেন কি করে? এমনো হতে পারে আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ড মিলে গুন্ডা ভাড়া করে রাখছেন আমাকে পেটাবার জন্য। আগামীকাল সকালে ফোন করে আমি যেখানে আসতে বলবো সেখানে আসবে? আর আগামীকাল আসলে শর্তের কথা গুলি বলে দিবো।

মিথিঃ কোন শর্ত?
নেহালঃ ভুলে গেছো এত তাড়াতাড়ি? তোমার বাবার কাছে রেকডিং পাঠাবো? তখনি মিথি বলে।
মিথিঃ আপনি এখুনো ডিলেট করেন নাই রেকডিং গুলা?

নেহালঃ আগে শর্ত গুলি মেনে কাজ করো তারপর চিন্তা ভাবনা করবো। এখন কথা না বাড়িয়ে ফোন রাখো আমি বাইক চালাবো। আর বাইক বা গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা ঠিক না।

কল কেটে দিয়েছি। মিথি তো রেগে মেগে আগুন হয়ে বসে আছে। তবে মিথি আজকে একটা প্ল্যান করেছিলো সেই প্ল্যানটা সফল হইনি। মিথি তার রাগ কমিয়ে বাড়ীতে এসেছে আর নেহাল তার বাড়ীতে পৌঁছে গেছে।

মিথির বাবা আর নেহালের বাবা দুজনে মিলে ওদের বিয়ে একদম পাক্কা করে ফেলতেছে। কিন্তু নেহাল তো মিথিকে বিয়ে করবে না। আর মিথি তো নেহালকে সহ্য করতে পারে না।

এটা ওদের বাবারা ঠিক বুঝতে পারছে কিন্তু তারা চাই যেভাবে হোক বিয়ে হয়ে গেলে একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। (আচ্ছা সত্যিই কি বিয়ের পর একটা সময় সব ঠিক হয়ে যায়?

নেহালের মাঃ নেহাল কিরে কিছুদিন যাবৎ তোকে অনেকটা চিন্তিত মনে হচ্ছে কেনো?
নেহালঃ তেমন কিছু না।

নেহালের মাঃ নেহাল তুই কি সত্যিই মিথিকে বিয়ে করতে চাস? নেহাল কিছু বলতে যাবে তখনি নেহালের বাবা এসে হাজির। তখন নেহাল কিছু না বলেই রুমে চলে গেছে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এশার নামায পড়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পরে প্রতিদের মত করে অফিসের জন্য রওনা দিবে ঠিক তখনি মিথির কথা মনে হলো। আরে মিথিকে তো আমি বলেছি আজকে সকালে দেখা করবো।

একটা ফোন করি। নাহ থাক এখন ফোন করার দরকার নেই দুপুরবেলা ফোন করবো বলে বেরিয়ে আসছি। বাহিরে এসে বাইক বাহির করেছি তখনি মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখী মিথি ফোন করেছে। রিসিভ করেছি তখনি মিথি বলে।

মিথিঃ ঐ আপনি তো বলেছেন সকালে দেখা করবেন এখন পর্যন্ত ফোন করেন নাই। আমি তো সেই সকাল থেকে অপেক্ষা করতেছি আপনার ফোনের জন্য।

নেহালঃ আমি এখন অফিসে যাচ্ছি পড়ে দেখা করবো।
মিথিঃ ঐ নাহ আমি এখুনি দেখা করবো।

নেহালঃ তাহলে রিং রোডের মোরে চলে আসো। ফোন কেটে আমি বাইক নিয়ে গেলাম। আমি তো ২০ মিনিটের মধ্যে চলে এসেছি। বাইক পার্কিং করে দাঁড়িয়ে আছি তখনি চেয়ে দেখি মিথি আজকে একা এসেছে। আমাকে দেখে কাছে এসে বলে।

মিথিঃ কেমন আছেন?
নেহালঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কি কথা বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন আমার অফিসে যেতে হবে।
মিথিঃ বলছি তবে চলেন কোথাও বসি।

নেহালঃ থাক কোনো দরকার নেই যা বলার এখানে বলো?

মিথিঃ এখানে ঠিক আছে বলছি বলে (হাতের মোবাইলটা বের করে একটা মেয়ের ছবি দেখিয়ে বলে) এই যে আমার ফ্রেন্ড ববি ওর সাথে আপনি প্রেম করেন। দেখেন ববি আমার থেকে অনেক সুন্দর।

এখন আপনি দয়া করে আমার বাবাকে বলে দেন আমাকে আপনি বিয়ে করবেন না। নেহাল মিথির আর ববির দিকে তাকিয়ে আছে।

নেহালঃ মিথি তোমার কি মাথায় প্রবলেম আছে?
মিথিঃ হ্যা আছে তো? আমি রাতে ঘুমাবার সময় হাত নাড়া চাড়া করি। আর আমার পাশে যে থাকে তাকে গলা টিপে ধরি লাথি মারি। আর আমি রাতের বেলা অনেক জোরে জোরে নাক ডাকি।

নেহালঃ সেইটা আমারো আছে! আমার পাশে কেউ শুইলে তাকে ঠাস ঠুস চর থাপ্পড় মারি। আর জোরে জোরে গ্যাস পাম করি যা অন্যের ঘুম হারাম হয় না বরং তার বমি চলে আসে।
মিথিঃ কি?

নেহালঃ জ্বি। এখন আমার শর্ত গুলি শুনে রাখো আর সেই গুলির একটা মিস হলে সব রেকডিং তোমার বাবার কাছে চলে যাবে এরপর কি হবে তুমি তো খুব ভালো করেই বুঝতে পারছো।
মিথিঃ হ্যা বুঝতে তো পারছি বলেন কি শর্ত?

নেহালঃ শর্ত নাম্বার ওয়ান, সাতদিন নিয়মিত পাচ ওয়াক্ত নামায পড়বে। এক ওয়াক্ত নামায ছাড়া বাবা কাজা করা যাবে না। শর্ত নামার দুই, এই সাতদিন আমি যখন যা বলবো তাই করতে হবে। মানে যেখানে যেতে বলবো আমার সাথে যেতে হবে। তবে খারাপ কিছুই করতে বলবো না এটা মাথাই রেখো।

এবার শর্ত রামার তিন, এই সাতদিন ইমরানের সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করতে পারবে না। এমন কি এক মিনেটের জন্য মোবাইলে কথা বলতে পারবে না। আর দেখা তো ভুল করেও করা যাবে না। তুমি কি এই শর্ত গুলি মেনে সাতদিন চলতে পারবে?

মিথিঃ কি বলছেন আপনি এসব? আমি সব পারবো কিন্তু ইমরানের সাথে যোগাযোগ না করে থাকতে পারবো না।
নেহালঃ ঠিক আছে তাহলে আমিও বিয়ে ক্যান্সেল করতে পারবো না। আমি আজকেই তোমার বাবাকে রেকডিং শুনিয়ে দিবো।

মিথিঃ প্লিজ আপনি এমনটা করবেন না।
নেহালঃ তাহলে তুমি তিনটা শর্ত মেনে এই সাতদিন চলতে পারবে? মিথি চুপ করে আছে কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না। তখন নেহাল বলে ঠিক আছে মিথি বিয়ের জন্য তৈরি হয়ে নাও এই কথা বলে যখনি চলে আসছে তখনি মিথি বলে।

মিথিঃ আমি রাজি তবে এই সাতদিন আপনি যা বলবেন তাই হবে কিন্তু আপনাকে কথা দিতে হবে। সাতদিন পর আপনি নিজে আমাদের বাড়ীতে এসে আমার বাবাকে বলবেন আপনি আমার যোগ্য নন আর আপনি নিজেই অন্য মেয়ের সাথে লাইন করেন তাই বিয়েটা করবেন নাহ। বলেন আমার শর্তে রাজি আছেন তো?

নেহালঃ হ্যা রাজি আছি। মুচকি হেসে নেহাল চলে যাচ্ছে তখনি মিথি বলে।
মিথিঃ একটা কথা বলবো?

নেহালঃ তুমি যা বলবে তা আমি জানি তবে তুমি যেতে পারো তবে আমার মন চাইলে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিবো কি রাজি আছো?

মিথিঃ থাক তার কোনো দরকার নেই তবে আপনি বুঝলেন কি করে আমি আপনার সাথে যেতে চাইছিলাম?
নেহালঃ সেটা বুঝার ক্ষমতা আমার আছে আর যার জন্য তোমার বাবা আমার সাথে তোমার বিয়ে দিতে এতটা উঠে পড়ে লাগছে।

আচ্ছা থাকো আমি যাই বলে নেহাল এসে বাইকে বসেছে ঠিক তখনি মিথি এসে বাইকে বসে বলে।

মিথিঃ ইচ্ছে হলে নামিয়ে দিয়েন আর তানা হলে কলেজ অব্দি ছেড়ে দিয়েন কেমন? নেহাল মুচকি হেসে বাইক চালাতে আরম্ভ করছে কিছুটা পথ যাবার পড়ে বাইক থেমে গেছে আর জানতাম এমনটা করবেন এই কথা বলে মিথি নিজে থেকে নেমে হাটা দিছে!


পর্ব ০৩

বাইকটা নিজে থেকে থেমে গেছে আর মিথি মনে করেছে নেহাল ইচ্ছে করে থামিয়ে দিছে তাই নেমে হাটা দিছে। নেহাল কিছু বলতে যাবে কিন্তু বলেনি।

মিথি কিছুটা পথ যাবার পড়েই নেহালের বাইক ঠিক হয়ে গেছে। নেহাল তার মত করে অফিসে গেছে। তখনি নেহালের ম্যাডাম এসে হাজির কারণ আজকে নেহাল দেড়ি করে অফিসে এসেছে।

ম্যাডামঃ নেহাল ইদানিং দেখছি তোমার সময়ের প্রতি কোনো খেয়াল নেই। যখন মন চাইছো আসছো আবার বেরিয়ে যাচ্ছো কি ব্যাপার সমস্যা কি তোমার?

নেহালঃ সরি মেম কিছুটা দেড়ি হয়ে গেছে আগামীকাল থেকে ঠিক সময় আসবো।
ম্যাডামঃ কথাটা যেনো তোমার মনে থাকে। আর হাতের কাজটা দ্রুত শেষ করে ইমেলটা সেন্ড করো কেমন?
নেহালঃ ঠিক আছে। ম্যাডাম চলে গেছে তখনি একজন কলিক মুচকি হাসছে আর নিজে নিজে বলছে।

মনে হয় বিয়েটা যতদিন না হচ্ছে ততদিন আর শান্তি পাবেন না। নেহাল না শোনার মত করে কাজে মনোযোগী হইছে। হাতের কাজ গুলি শেষ করে কফির মগে চুমু দিছে এমন সময় মিথির ফোন। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ভাবছে রিসিভ করবে কি করবে না কিন্তু রিসিভ করে বলে। হ্যা বলো কেনো ফোন করেছো?

মিথিঃ কেনো ফোন করেছি তার তো অবশ্যই কারণ আছে। আপনি কি একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবেন?

নেহালঃ পারবোনা বলে ফোন কেটে দিছি। আমি আমার কাজ গুলি করে আজকে অফিস থেকে একটু আগেই বেরুলাম। কারন আম্মাকে ডাক্তার দেখাতে হবে। আম্মা রিকশা নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে এসেছে আমিও গিয়ে উপস্থিত।

আম্মাঃ কিরে তুই আসতে এত দেড়ি করলি কেনো?
নেহালঃ কাজ শেষ করতে দেড়ি হয়ে গেছে। আসেন আপনার সিরিয়াল মনে হয় চলে আসছে। আম্মাকে সাথে নিয়ে ভিতরে গেলাম। নাহ এখনো সিরিয়াল আসেনি। আরো একজন রুগি আছে।

আমি আম্মাকে বসিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফেসবুকিং করছি এমন সময় চেয়ে দেখি ইমরান একটা নার্ছকে বলছে।

ইমরানঃ যতটাকা লাগে দিবো তাও আপনি বাচ্চাটা নষ্ট করে দেন। (আরে কার বাচ্চা নষ্ট করবে? ইমরান তো বিয়ে করেনি তাহলে বাচ্চা আসবে কোথা থেকে? আমি ওদের ফলো করতে আরম্ভ করেছি।

কিছুটা এগিয়ে একটা রুমে ঢুকেছে আমি উঁকি মেরে চেয়ে দেখি একটা মেয়ে বসা বয়স ১৫ কি ১৬ হবে। পড়নের কাপড়টা কম দামী মনে হচ্ছে কাজের মেয়ে টেয়ে হবে। ঠিক তখনি মেয়েটা বলে)
মেয়ে! ভাইজান আমার খুব ভয় করছে।

আমার বাচ্চা নষ্ট করার কোনো দরকার নেই। আমি নিজে আপনাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো আর কোনো দিন কারো সামনে আসবো না।

ইমরানঃ আরে টিয়া তোর ভয় পাবার কিছু নেই। ভাইয়া আছি দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। নার্ছ আপা আমাদের পরিচিত ও ডাক্তারের সাথে কথা বলছে।

ইমরান টিয়াকে বুঝিয়ে রাজি করিয়ে নিছে আর এই ফাকে আমি মিথিকে ফোন করে বলে দিছি দ্রুত হাসপাতালে চলে আসতে।

মিথিঃ হাসপাতালে আসবো কেনো?
নেহালঃ তোমাকে না বলেছি কোনো প্রশ্ন করা যাবে না তাও প্রশ্ন করছো কেনো? যা বলেছি তাই করো বলে ফোন কেটে দিছি। আমি আম্মার কাছে এসেছি আর ইমরানকে ফলো করতেছি। আম্মার সিরিয়াল এসেছে আম্মাকে ডাক্তারের রুমে দিয়ে এসেছি।

আমি বাহিরে এসে দেখি ইমরান ছটফট করছে আর টিয়াকে নার্ছ তার সাথে একটা রুমে নিয়ে গেছে। আমি মুখে একটা মাক্স লাগিয়ে রাখছি যার কারণে ইমরান আমাকে চিন্তে পারছে না। কিছুক্ষণ পর মিথি ফোন করেছে আমি রিসিভ করেছি। হ্যা বলো মিথি?

মিথিঃ কোথায় আপনি?
নেহালঃ জেনারেল হাসপাতালে!
মিথিঃ হাসপাতালে তো আমিও আসছি আপনি কোন ফ্লোরে?

নেহালঃ সেগেন্ড ফ্লোরে আছি ১২ নাম্বার কক্ষের সামনে আসো।
মিথিঃ ঠিক আছে! ফোন কেটে দিছে আমি অপেক্ষা করছি তার কিছুক্ষণ পর মিথি এসেছে। আর মিথি এসে দেখে ইমরান বারান্দায় পায়চারি করছে। ইমরানকে দেখেই মিথি বলে।

ইমরান তুমি এখানে কি করছো? ইমরান মিথিকে দেখে শক খেয়েছে। ইমরান কি বলবে ভেবে না পেয়ে বলে।

ইমরানঃ কাজের মেয়েটার জ্বর আসছে তাই ডাক্তার দেখাতে আসছি। ঠিক তখনি আমি সামনে গিয়ে হাজির। মুখের মাক্সটা সারাতেই ইমরান বলে।

নেহাল তুই এখানে কেনো? ও বুঝতে পারছি তোমরা দুজন যুক্তি করে এসেছো?
নেহালঃ যুক্তি করে আসিনি তবে তোমার কিছু কুকৃর্তি দেখাবো তাই মিথিকে এনেছি।
ইমরানঃ মানে?

নেহালঃ মানেটা তো এখুনি পরিস্কার হয়ে যাবে। মিথি তুমি অপেক্ষা করো কিছুক্ষণের মধ্যে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

মিথিঃ দেখুন আপনি যা বলার ক্লিয়ার করে বলেন আমার মাথা ঘুরছে।
নেহালঃ তোমার বয়ফ্রেন্ড ইমরান তার বাসার কাজের মেয়েকে এনেছে বাচ্চা নষ্ট করতে। তখনি মিথি দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বসে পড়েছে।

ইমরান আমার কালার ধরতে চাইছে কিন্তু সাহোস হইনি। আমাদের মধ্যে তর্কবিতর্কের মধ্যেই অনেকটা সময় চলে গেছে। ইমরান মিথিকে বুঝাতে চেষ্টা করছে ঠিক তখনি নার্ছ এসে বলে।

নার্ছঃ ইমরান বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে মেয়েটার অবস্থা ততটা ভালোনা দ্রুত ওর ভালো চিকিৎসার দরকার। কি করবো এখন? ইমরান তাকিয়ে আছে তখন মিথি বলে।

মিথিঃ কি হলো চুপ করে আছো কেনো বলো উন্নত চিকিৎসা দিতে।
ইমরানঃ হ্যা যা যা করার দরকার তা তা করেন।
টিয়া যেনো সুস্থ হয়ে যাই সেই ব্যবস্থা করেন। নার্ছ ঠিক আছে বলে চলে গেছে। আর মিথি তার হাত দুইটা ইমরানের গালে বসিয়ে দিছে। ইমরান কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু মিথি বলার সুযোগ দেইনি সোজা আমার কাছে এসে বলে।

মিথিঃ আপনি কি দয়া করে আমাকে একটু বাড়িতে পৌঁছে দিবেন?
নেহালঃ আমার সাথে আম্মা আছে। একটু অপেক্ষা করো তখনি চেয়ে দেখি আম্মা এদিকে আসছে। আম্মা মিথিকে দেখে অবাক হয়ে বলে।

আম্মাঃ মিথি তুমি এখানে?
মিথিঃ হ্যা আন্টি একটু দরকার ছিলো তাই এসেছি।
নেহালঃ আম্মা আসলে আমি ফোন করে এনেছি। মিথিকে কিছু সত্যতা দেখাবার জন্য।

আম্মাঃ কি সত্যতা? তখন নেহাল সবটা খুলে বলে। নেহালের মা সবটা শুনে নেহালকে বলে। আচ্ছা ঠিক আছে তুই মিথিকে বাড়িতে দিয়ে আয়। আমি রিকশা করে চলে যাচ্ছি।
নেহালঃ ঠিক আছে আর ডাক্তার কি বলেছে?

আম্মাঃ তেমন কিছু হইনি ঐ কিছু খাবার বাছ দিছে আর হাটাহাটি বেশী করতে বলছে। এখন চল বাড়িতে গিয়ে বাকি সব কথা হবে। নেহাল মিথি সহ বেরিয়ে এসেছে। নেহাল তার মাকে একটা রিকশা ঠিক করে দিয়ে মিথিকে নিয়ে বাইকে বসেছে।

মিথিঃ আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে ইমরানের কাছ থেকে বাচানোর জন্য। নেহাল কিছু বলেনি বাইক চালিয়ে মিথিদের বাড়ির সামনে এসেছে।

নেহালঃ মিথি নামো। মিথি নেমেছে তখন নেহাল বলে। মিথি তুমি বাড়িতে যাও আগামীকাল তোমার বাবার সাথে আমি কথা বলবো। আমি বলে দিবো তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না কেমন?

মিথিঃ কিন্তু আপনার কথা মত তো সাত দিনের এখনো ছয়দিন বাকী। আর ছয়দিন শেষ না হতেই কেনো এমন কথা বলবেন?

নেহালঃ দেখো জোর করে কোনো কিছু হইনা। আমি জানি তোমার মনের উপর দিয়ে কি যাচ্ছে! আর তাছাড়া আমিও তোমাকে বিয়ে করতে চাইনা। তুমি ঐদিন মোবাইল হাতে সামনে আসছো। আর আমার রাগ হইছে তাই বলেছি তোমাকে আমার পছন্দ হইছে। আসলে আমারও কোনো ইচ্ছে নেই তোমাকে বিয়ে করার

তুমি যাও নিশ্চিন্তে থাকো আমি সবটা খুলে বলবো তোমার বাবাকে। এই কথা বলে নেহাল চলে আসছে আর মিথি নেহালে চলে যাওয়া গুলি দেখছে। মিথির কেনো জানি কথাটা শুনার পর থেকেই মন ছঠফট করছে বাড়িতে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেহালকে ফোন করেছে কিন্তু নেহাল ফোন রিসিভ করেনি। মিথি রেগে মেগে আগুন হয়ে আছে। মিথি মন ভার করে খেতে বসেছে তখনি মিথির বাবাকে বলে।

মিথিঃ বাবা আমি নেহালকে বিয়ে করতে ঠিক তখনি নেহাল মিথিদের বাড়িতে প্রবেশ করেছে। নেহালকে দেখে তো মিথির বাবা মা সবাই অনেক খুশি হইছে।

মিথির বাবাঃ আরে বাবা নেহাল কেমন আছো?
নেহালঃ ভালো। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
মিথির বাবাঃ হ্যা বলো কি কথা?

নেহালঃ আমি মিথির যোগ্য নই আর তাছাড়া আমরা গরিব। আর আমি খারাপ নেশা করি অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক আছে। আপনি আব্বাকে বলে দেন আপনার মেয়েকে আমার কাছে বিয়ে দিবেন না।
মিথির বাবাঃ আচ্ছা একটু বসো আমি এখুনি ফোন করে বলতেছি।

বলেই আব্বাকে ফোন করে বলে ভাই জশিম সাহেব আমার ছেলে নেহাল আমার মেয়ে মিথিকে বিয়ে করতে রাজি হইছে। নেহাল নিজে এসে আমাকে বলতেছে ওদের বিয়েটা যেনো আগামীকালের মধ্যে বিয়ের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে দেই।

মিথির বাবার কথা শুনে আমি তো আসমান হতে পড়েছি মনে হচ্ছে ঠিক তখনি মিথির বাবা বলে। নাও নেহাল তোমার বাবা তোমার সাথে কথা বলবে। আমি তো ওনার দিকে এতিম শিশুর মত তাকিয়ে সোজা দৌড় দিবো তখনি পেছন থেকে থাবা মেরে আমার সাট টেনে ধরছে।


পর্ব ০৪

ছেলে হিসাবে আমি একদমই ভালো না আর তাছাড়া আপনার মেয়ের যোগ্যও আমি নয়। তাই আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না। আপনি আপনার মেয়েকে অন্য কোনে ছেলের সাথে বিয়ে দেন।

এই কথা বলে যখনি চলে আসতেছি তখনি মিথির বাবা পেছন থেকে থাবা মেরে আমার সাটের ক্লার টেনে ধরে বলে।
মিথির বাবাঃ আমার মেয়ের বিয়ে আমি তোমার সাথে দিবো। তুমি যোগ্য না অযোগ্য সেটা তো আমি যাচাই বাচাই করেছি। আর বিয়েটা আজকেই হবে তোমার বাবাকে ফোন করতেছি।

হৃদয়ঃ আংকেল আপনি আমার কথাটা বুঝার চেষ্টা করেন। আপনারা জোর করে আমাদের বিয়েটা হইতো দিয়ে দিবেন কিন্তু আমরা দুজনের মধ্যে কেউ সুখী হবো না।

মিথির বাবাঃ হৃদয় কিছু জিনিস আছে যার পরিবর্তন হয়না কিন্তু মনের রঙ বদল হতে বেশী সময়ের প্রয়োজন নেই কখনো কখনো একটা মুহূর্তের দরকার হয়। আমি মিথির বাবা হয়ে তোমার কাছে রিকুয়েস্ট করতেছি তুমি বিয়েটা করে নাও।

হৃদয়ঃ যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে ঘর সংসার আর বিয়ের কথা আসে কি করে বলেন? কিছু মুহূর্তের জন্য আমি আপনাকে ভরসা দিয়ে বিয়েটা করবো কিন্তু সারাটা জীবন আমাদের সেইটা বহন করে যেতে হবে। আমাকে ক্ষমা করবেন আমি বিয়েটা করতে পারছি না।

মিথির বাবার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছি। মিথি তাকিয়ে আছে আমার দিকে কিছু বলতে চাই তার চাওয়া চোখ গুলি বলে দিচ্ছে কিন্তু সাহোসটা করতে পারছে না।

মিথির বাবাঃ হৃদয় তাহলে তুমি সেইদিন বলেছো কেনো মিথিকে তোমার পছন্দ হইছে? আর আমরা বিয়ে পর্যন্ত আগাতে পারি?

হৃদয়ঃ সেইদিন কিছুটা প্রতিশোধ আর কিছুটা ইগু ঠিক করার জন্য বলেছি। আর সেই ব্যাপারটা আমি মিথিকে বলেছি। আচ্ছা আংকেল ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ বলে বেরিয়ে এসেছি। মনটা কিছুটা খারাপ কিন্তু আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। মন খারাপ করেই অফিসে এসেছি। কারো সাথে কোনো কথা না বলেই ডেক্সে গিয়ে বসে কাজে মন দিলাম। কিছুক্ষণ পর ম্যাডাম এসেছে।

ম্যাডামঃ হৃদয় তোমার কি মন খারাপ নাকী?
হৃদয়ঃ না।
ম্যাডামঃ হৃদয় আমি বুঝি আর তোমার চেহারাটা বলে দিচ্ছে তোমার মন খারাপ। কি হইছে বলো?
হৃদয়ঃ বিয়েটা ক্যান্সেল হয়ে গেছে।

ম্যাডামঃ তাহলে তো খুশির খবর তোমার তো আনন্দ করা উচিত তুমি মন খারাপ করে রাখছো কেনো?
হৃদয়ঃ ম্যাডাম জানি না তবে কেনো জানি মিথির জন্য মাঁয়া কাজ করছে। ম্যাডাম আজকে কি আমাকে একটু ছুটি দেওয়া যাবে?

ম্যাডামঃ ঠিক আছে হাতের কাজটা শেষ করে বাসায় চলে যেয়ো কেমন?
হৃদয়ঃ ধন্যবাদ। ম্যাডাম মুচকি হেসে চলে গেছে। আমি হাতের কাজটা দ্রুত শেষ করে বেরিয়ে গেলাম। অনেকদিন ধরে ক্লাবে যাইনা আজ বড্ড বেশী ইচ্ছে করছে ক্লাবে যেতে আর কোনো কিছু চিন্তা না করেই সোজা ক্লাবে গেলাম।

মন ভালো করার জন্য মানুষ এসব জায়গা কি করে বেচে নেই ধূর মনটা আরো খারাপ হয়ে গেছে। আমি কোনো কিছু চিন্তা ভাবনা না করেই সোজা বাড়িতে এসেছি।
আপুঃ কিরে হৃদয় আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছিস?

হৃদয়ঃ হ্যা ভালো লাগছে না।
আম্মাঃ কি বলিস শরীর খারাপ নাকী? তখন আপু আমার কপালে আর গলার নিচে হাত রেখে বলে।
আপুঃ শরীর তো ভালো আছে। আমি কিছু বলিনি সোজা রুমে এসে খাটের উপরে শুয়ে পড়েছি। চোখ বন্ধ করলেই মিথির সাথে সময় কাটানো গুলি মনে পড়ে যাই।

আরে ধূর কেনো শুধু শুধু ঐ মেয়েটার কথা ভাবছি? আগে ওর নাম্বারটা ব্ল্যাক লিষ্টে ফেলি যেই কথা সেই কাজ। আজকের পর আর একবারো মনে করবো না। আমি উঠে শাওয়ার নিলাম ঘন্টা খানেক। শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেলাম।

সোহেল! কিরে তোর বিয়ের কি খবর মেয়ে কি পছন্দ হইছে নাকী?
রাজেস! আরে বোকা পছন্দ হইলে তো আমাদের বলবেই।
মিরাজ! কিন্তু হৃদয় তুই যে বলেছিস তোর মেয়ে পছন্দ হইছে ঐটার কি খবর?

হৃদয়ঃ তোরা কি আমার বিয়ে নিয়ে পড়ে আছিস নাকী? দেখ এই বিয়ে নিয়ে আর কোনো কথাই শুনতে চাইনা। এখন চল বাড়ীতে যাওয়া যাক রাত হয়ে গেছে। সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে এসে রাতের খাবার খেয়ে ঘুম। পরের দিন নিয়মিত নামাজ পড়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে অফিসে গেলাম। এভাবে আরো তিন চারদিন গেছে।

কিন্তু আমার কথা হলো আব্বা তো এখনো আমাকে কিছু বলেনি তাহলে কি মিথির বাবা আব্বাকে কিছু বলেনি? অফিসে যাচ্ছি আর হঠাত করে কথাটা মনে পড়ে গেলো।

তবে আগামীকাল তো শুক্রবার আজ অফিস হতে রাতে বাড়ীতে গেলেই বুঝতে পারবো। যেই মোড়ে বাইক ঘুরাবো তখনি চেয়ে দেখি মিথি দাঁড়িয়ে আছে আর আমাকে ইশারা করছে বাইক থামাতে। আমি থামাতে চাইনি কিন্তু কি মনে করে থামিয়েছি। তখনি মিথি কাছে এসেছে।

মিথিঃ কি ব্যাপার আমার নাম্বারটা ব্ল্যাক লিষ্টে কেনো ফেলেছেন?
হৃদয়ঃ আমার ইচ্ছে আমার খুশি। তা তোমাকে বলতে যাবো কেনো?
মিথিঃ আপনার সাথে আমার কথা আছে।

হৃদয়ঃ আমার কোনো কথা নেই আর তাছাড়া তোমার কথামত তোমার বাবাকে সব বলেছি এখন আবার কি কথা থাকতে পারে?

মিথিঃ কথা আছে এই কথা বলেই বাইক বসেছে।
হৃদয়ঃ আরে বাইকে বসেছো কেনো?

মিথিঃ সিট খালি আছে তাই বসেছি এখন কথা কম বলে বাইক চালান আর কোনো একটা পার্কের দিকে নিয়ে যান।
হৃদয়ঃ পার্কে যাবো কেনো? আর এখন আমার অফিস আছে। এখন কোথাও যেতে পারবো না।
মিথিঃ ঠিক আছে অফিসে যান তবে পড়ে কিন্তু আমাকে দোষারোপ করতে পারবেন না।

হৃদয়ঃ তোমার সাথে আমার আর দেখা হচ্ছে না। আজকের পর থেকে এই রাস্থা দিয়ে আর আমি যাতায়ত করছি না। তুমি এখন বাইক থেকে নামো আমার বাইকে আর আমার জীবনে তোমার কোনো জায়গা নেই।
মিথিঃ কি এত বড় কথা ঠিক আছে আমিও এর প্রতিশোধ নেবো।

হৃদয়ঃ সেটা সময় বলে দিবে এখন নেমে কথা বলো। মিথি নেমেছে আর আমি বাইক চালাতে আরম্ভ করেছে। মিথিকে নামিয়ে দিয়ে সোজা অফিসে এসেছি। আজকে কেনো জানি খুব ভালো লাগছে। কাজ করতেছি তখনি আম্মার ফোন।

আম্মাঃ হৃদয় আজকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ীতে আসতে হবে।
হৃদয়ঃ কেনো আম্মা কি হইছে?

আম্মাঃ তোর করিম চাচার মেয়ের বিয়ে হঠাত করে সব ঠিক ঠাক হয়ে গেছে। এখন তোর চাচা ফোন করে কান্না কাটি করছে যেই করে হোক আজকেই ওদের বাড়ীতে যেতে হবে।
হৃদয়ঃ তোমরা যাও আমি যাবো না।

আম্মাঃ তুই না গেলে ওরা কষ্ট পাবে এখন তোর যেতে হবে। আর বাড়ীতে একা থাকলে খাবি কোথায়? আর তাছাড়া আগামী কাল তো তোর অফিস বন্ধ থাকবে তাই কথা কম বলে চলে আসবি কেমন?

হৃদয়ঃ আচ্ছা আসবো। ফোন কেটে কাজে মন দিলাম। কিছুক্ষণ যাবার পর ম্যাডামকে বলেছি আজকে দুই ঘন্টা আগেই বেরিয়ে যাবো। ম্যাডাম রাজি হইছে তবে এটা এই মাসের শেষ আর যদি এই মাসের মধ্যে একদিন আগে বা দেড়ি করি তাহলে অন্য চাকরি খোঁজার কথা বলে দিছেন। তবে আমাকে ম্যাডাম অনেক ভালোবাসে আর নিজের ছেলের মত দেখে। যাক কাজ শেষ করে বাড়ীতে এসেছি এসে দেখি বাড়ীর সবাই সেজে গুজে তৈরি হয়ে আছে।

আব্বাঃ হৃদয় এসেছিস যাক ভালো হইছে তোর দুলাভাইকে একটা ফোন করে দেখ কতধুর আছে?
হৃদয়ঃ হ্যা ফোন করছি তখনি আপু বলে।

আপুঃ বাবা আমি ফোন করেছি ও এসে গেছে তখনি চেয়ে দেখি দুলাভাই এসে হাজির। হৃদয় যা তৈরি হয়ে আয়।
হৃদয়ঃ হ্যা যাচ্ছি। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসেছি। সবাই সুন্দর করে সাজগুজ করেছে। আব্বা একটা মাইকরো গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে এসেছে।

সবাই মিলে গাড়িতে বসেছি। আব্বা সামনে আমরা সবাই পেছনে। সবাই অনেক মজা করতে করতে যাচ্ছি কিন্তু ঘন্টা খানেক যাবার পড়ে গাড়িটা একটা কমিনিউটি সেন্টারের সামনে নিয়ে থামিয়েছে।
আব্বাঃ হৃদয় নাম গাড়ি থেকে। আমি সহ সবাই নেমেছে।

হৃদয়ঃ আব্বা আমরা এখানে কেনো এসেছি! আমরা তো চাচার বাড়ীতে যাবো।
আব্বাঃ হ্যা বাড়ীতে যাবো তবে এখানে কিছু কাজ আছে। আয় ভিতরে আয়। আমি যাচ্ছি এক পা দুই পা করে কিন্তু যখনি কমিনিউটি সেন্টারের ভিতরে গেছি তখনি দুলাভাই আমাকে বলে।

দুলাভাই! হৃদয় নাও এই ব্যাগে বরের পোষাক আছে তুমি ওয়াশ রুমে গিয়ে কাপড়টা চ্যাঞ্জ করে আসো।
হৃদয়ঃ মানে?
দুলাভাই! মানে তুমি ফেসে গেছো আজকে তোমার বিয়ে।
হৃদয়ঃ কার সাথে? আর আমার বিয়ে মানে কি বলেন আপনি?

দুলাভাই! মেয়েটা তোমার চেনা পরিচিত। আর তাছাড়া বাসর ঘরে গেলেই বুঝতে পারবে। যাও কথা কম বলে কাপড় চ্যাঞ্জ করে আসো। হৃদয় নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ওয়াশ রুমে গিয়ে কাপড় চ্যাঞ্জ করে এসেছে। হৃদয়কে নিয়ে বরের জায়গাতে বসিয়েছে।

কিছুক্ষণের মধ্যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হইছে। হৃদয় মন খারাপ করে বসে আছে কিছুক্ষণ পর চেয়ে দেখি আপু মিথিকে নিয়ে আসছে। তবে কি বিয়েটা মিথির সাথে? ঠিক আছে আমার সাথে এত বড় প্রতারনা ঠিক আছে আমিও এর শেষ দেখে নিবো। মিথির বাবা মিথির সাথে আমার কাছে এসেছে।

মিথির বাবাঃ হৃদয় বাবা আমার যা হইছে সব কিছু ভুলে তোমরা দুজনে সুন্দর করে সংসার করবে কেমন? আর আমার মেয়ে মিথিকে তুমি দেখে শোনে রেখো।

আব্বাঃ আরে রফিক সাহেব চিন্তা করেন কেনো আমরা আছি দেখো বউমা সুখে থাকবে। আচ্ছা এখন যাই সব কিছু তাড়াহুরার মাঝে হইছে। মিথি আমার হাতটা ধরে রাখছে তবে আমার কেনো জানি মিথির প্রতি এখন ঘৃনা হচ্ছে কিন্তু কেনো?

এর উত্তর আমার জানা নেই। সবাই মিলে গাড়িতে উঠেছি মিথি পাশে বসে আছে আপু দুলাভাই দুষ্টুমি করছে আমরা চুপচাপ।

কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের বাড়ীতে এসেছি। গাড়ি থেকে নেমে যার যার মত করে হেটে চলে এসেছি। মিথি নিজেই এসেছে আপু মিথিকে আমার রুমে দিয়ে আসছে আমি বসে আছি দুলাভাই আমাকে আবল তাবল বলছে আমি শুনেও না শুনার মত করে রুমে এসেছি।

আমাদের আজ বিয়ের প্রথম অর্থ্যাৎ বাসর রাততততততকককত। কিন্তু আমাদের ঘরটাতে একটাও ফুল নেই। ঘরটা বা পরিবেশটা দেখে মনে হচ্ছেনা আজকে আমাদের বাসর রাত।

আমি রুমে ঢুকে পাঞ্জাবীটা পড়নের থেকে খুলতে যাবো তখনি মিথি খাটের উপর থেকে নেমে এসে আমার পায়ের কাছে বসে সালাম করতে ছিলো আর আমি পা গুলি সরিয়ে নিয়েছি।
মিথিঃ পা সরালেন কেনো?

হৃদয়ঃ তোমার হাতের স্পর্শ আমার শরীরে লাগুক সেটা আমি চাইনা।
মিথিঃ মানে?

হৃদয়ঃ মানে স্পল! তুমি আমাকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবে। আর তাছাড়া আমি বিয়েটা এখনো মেনে নিতে পারছি না।

মিথিঃ দেখুন আগের যা হইছে সবটার জন্য ক্ষমা পার্থী দয়া করে সব ভুলে আমরা সংসার করি।
হৃদয়ঃ দেখো চাইলে সংসার করা যায়না। আচ্ছা একটা কাজ করা যায়।
মিথিঃ কি কাজ?

হৃদয়ঃ আমরা দুজনে এক সাথে থাকি কিছুদিন যাবার পরে যদি মনে হই আমাদের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হইছে তাহলে আমরা সংসার করবো। আর যদি না তৈরি হই তাহলে আলাদা হয়ে যাবো।
মিথিঃ মানে?

হৃদয়ঃ মানে যা বলেছি তাই এখন ঘুম পাচ্ছে ঘুমাবো রাত অনেক হইছে বলেই শুয়ে পড়েছি।
মিথিঃ আপনি কি এখনো আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছেন? আমি কথাটা শুনেছি কিন্তু না শুনার মত করে শুয়ে রইলাম।

মিথি আমার পাশে শুয়ে পড়ছে আমি ঘুমে ভিবোর বান করে রইলাম মিথি আমার কপালে ছোট ছোট করে কিস করতে ছিলো তখনি আমি চোখ মেলেছি আর মিথি ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিছে।
হৃদয়ঃ কি করছো?

মিথিঃ একটু আদর করছি। তখনি হৃদয় বলে।
হৃদয়ঃ সত্যিই তোমার ক্যারেক্টারে সমস্যা আছে এই কথা বলে একটা বালিশ নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেছে।
তখনি


পর্ব ০৫

কি মেয়েরে বাবা কোথায় আমি ওকে কিস করতে যাবো কিন্তু উল্টা আমাকে কিস করতে আসে। সত্যই এই মেয়ের ক্যারেক্টারে সমস্যা আছে। বালিশ নিয়ে বাহিরে গেছি ওমনি আম্মার সামনে পড়েছি।
আম্মাঃ কিরে নেহাল কোথায় যাচ্ছিস বালিশ নিয়ে?

নেহালঃ কোথাও না।
আম্মাঃ নেহাল আমি তোর মা আমার চোখে ফাকি দেওয়া এতই সহজ? নেহাল তোর আর মিথির মাঝে কি কোনো ঝগড়া টগড়া হইছে নাকী?

নেহালঃ আম্মা মিথির সাথে সংসার করার আমার পক্ষে সম্ভব না। মিথি একদমই ভালো মেয়ে নই।
আম্মাঃ শোন নেহাল আমরাও প্রথমে এমনটা মনে করেছি কিন্তু গতকাল আমাদের সব ধারনা চ্যাঞ্জ করে দিছে মিথি।

শোন মিথি এখন তোকে ভালোবাসে আর মিথি নিজে আমাদের বাড়ীতে আসে। মিথি আমার কাছে আর তোর বাবার কাছে ওয়াদা দিছে সে তোকে কখনো কষ্ট দিবে না আর সাড়াটা জীবন তোর পাশে থাকবে।
নেহালঃ এটা মিথির নতুন কোনো নাটক হবে।

আম্মাঃ কোনটা নাটক আর কোনটা ভালোবাসা সেটা আমার বুঝার মত ক্ষমতা আছে। শোন তুই মিথির সাথে কোনো রকম খারাপ আচরন করবি না।

আমি বলছি মিথি এখন অনেক বদলে গেছে। মিথি তোকে মন থেকে ভালোবাসে আর ভালোবাসাটা তৈরি হতে হাজারো সময়ের প্রয়োজন নেই সেটা একটা প্রহরে তৈরি হয়ে যায়। যা নেহাল রুমে যা।
নেহালঃ হ্যা যাচ্ছি। আমি ভিতরে এসে দরজা বন্ধ করেছি।

তখনি চেয়ে দেখি মিথি হাসতেছে। মিথির হাসিটা অনেক সুন্দর লাগছে কিন্তু আমি বলি। এই পেত্নির মত হাসতেছো কেনো?

মিথিঃ আমি যদি পেত্নি হয় তাহলে তো আপনি পেত্নির বর। যাক ভালোই হইছে পেত্নির বর হতে পারছেন। তা মিষ্টার কোথাও না যেতে ছিলেন তাহলে আবার আসলেন কেনো?
নেহালঃ সেটা তোমাকে বলতে যাবো কেনো?

মিথিঃ শুনেন আপনাকে ভালোবাসি আর আপনার সাথে সংসার করতে চাই এটা না যদি বিশ্বাস করেন তাহলে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

নেহালঃ থাক আমার এসবের কোনো দরকার নেই। আমি ঘুমাবো আর যদি ঘুমের মাঝে কিস টিস করো তাহলে কিন্তু খবর আছে।

মিথিঃ আমার ভয়ে গেছে কিস করার জন্য। আপনি ঘুমান যান আমার কি কিছু দিন পড়ে যখন নিজেই আসবেন তখন কিস করবো না।
নেহালঃ দরকার নেই তোমার মত মেয়ের আদর ভালোবাসা পাবার।

মিথিঃ কি এত বড় কথা ঠিক আছে আমিও দেখবো আপনি আমাকে ভালো না বেসে থাকেন কি করে? মিথি একা একা বক বক করছে আর আমি ঘুমিয়ে গেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে একাই নিচে গেলাম। সবাই আমার দিকে হাঁ হয়ে তাকিয়ে আছে।

নেহালঃ কি হলো এমন ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো সবাই?
আপুঃ তুই একা এসেছিস মিথি কোথায়?
নেহালঃ সেটা আমি কি করে বলবো?

আম্মাঃ ঐ তো মিথি আসছে। মা মিথি এসো বসো এখানে। মিথি গিয়ে আম্মার পাশে বসেছে তবে ঠিক আমার সামনের চ্যায়ারে। হঠাত করে কে যেনো আমার পায়ে গুতা দিছে আমি পা গুলি সরিয়ে নিছি মিথি মুচকি হাসছে।

আমি কিছু না বলেই খাবার শেষ করে কাউকে কিছু না বলে বেড়িয়ে গেছি। সাড়াদিন ঘুরাঘুরি করে ঠিক সন্ধায় বাড়িতে এসেছি। তখনি আব্বার সামনে পড়েছি।

আব্বাঃ নেহাল কোথায় ছিলি সাড়াদিন আর তোর মোবাইলটা বাড়ীতে রেখে গেলি কেনো?
নেহালঃ কোথায় আবার অফিসে!

আব্বাঃ মিথ্যা বলছিস কেনো? আমি তোর অফিসে ফোন করেছি অফিস থেকে বলেছে আজকে তুই অফিস যাসনি। সত্যি করে বল কোথায় ছিলি? আমি চুপ করে আছি তখনি আম্মা বলে।
আম্মাঃ নেহাল কি হলো বল কোথায় ছিলি?

নেহালঃ রাসেদের বাড়ীতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আচ্ছা আমি যাই আমার ক্ষিদা লাগছে খাবো।
মিথিঃ আপনি ফ্রেশ হয়ে আসেন আমি খাবার দিচ্ছি।

নেহালঃ তোমার কষ্ট করার কোনো দরকার নেই আর তাছাড়া তোমার হাতের কোনো কিছু খেলে সেটা পেটে হজম হবে না।

আব্বাঃ নেহাল মিথির সাথে এমন ভাবে কথা বলিস কেনো?
নেহালঃ যে যেমন তার সাথে এমন ভাবে আচরন করতে হয়। আম্মা আমাকে কিছু ক্ষেতে দিবেন? তখনি আপু বলে।

আপুঃ আমি দিচ্ছি তুই হাত মুখ দুইয়ে আয়। আব্বা রাগি চোখে তাকিয়ে আছে আমি হাত দুইয়ে ক্ষেতে বসেছি আর মিথি দৌড়ে রুমে চলে গেছে। আব্বা কিছু বলতে চাইছে কিন্তু ক্ষেতে বসেছি তাই রাগি ভাবে তাকিয়ে চলে গেছে। খাবার খেয়ে রুমে গিয়ে দেখি মিথি কান্না করছে।

নেহালঃ এই শোনো আমি এখন ঘুমাবো এসব নেকা কান্না বাহিরে গিয়ে করো। আর রুমে যখন আমি থাকবো তখন রুমের ভিতরে কোনো রকম আওয়াজ করা যাবে না।

মিথিঃ আমি তো বলেছি আগে যা করেছি তার সব কিছুর জন্য ক্ষমা করে দেন। তাও কেনো এমনটা করছেন?
নেহালঃ তোমাকে আমি কি বলেছি তুমি শুননি? তখন মিথি চোখের পানি গুলি মুছে রুম থেকে বেড়িয়ে গেছে। আর আমি মনের সুখে ঘুম দিলাম।

এভাবে দুই সাপ্তাহ চলে গেছে। মিথি আমাকে অনেক রকম ভাবে বুঝাচ্ছে কিন্তু আমি মিথিকে কোনো রকম পাত্তা দিচ্ছি না। আজকে অফিসে যাচ্ছি তখনি আম্মা বলে।

আম্মাঃ নেহাল মিথি কতদিন ধরে বলছে ওদের বাড়ীতে যাবে। আজকে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিস আগামীকাল মিথিদের বাড়ীতে যাবি তুই সহ।

নেহালঃ না মা আমাকে এখন ছুটি দিবে না। আর মিথি যেতে চাইলে ওকে একাই যেতে বলেন এখানে আমার যাওয়ার কি দরকার?

আম্মাঃ বিয়ের পর এই প্রথম মিথি ওদের বাড়ীতে যাবে তাও আবার একা যাবে?
নেহালঃ একা না গেলে আপনি সাথে চলে যান এই কথা বলেই বেরিয়ে গেছি। মিথির মুখটা ছোট হয়ে গেছে অফিসে এসে নিজের মত করে কাজ গুলি করে নিলাম।

আজকে বাড়ীতে ফিরতে অনেক দেড়ি করেছি গিয়ে দেখি মিথি খাবার টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখে চ্যায়ারে বসে ঘুমিয়ে আছে। আমি কিছু না বলেই রুমে যাচ্ছি তখনি মিথি বলে।
মিথিঃ আরে আপনি কখন এসেছেন?

নেহালঃ এখুনি।
মিথিঃ আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন আমরা দুজনে এক সাথে খাবো।
নেহালঃ আমি বাহির থেকে খেয়ে এসেছি তুমি খেয়ে নাও। এই কথা বলে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পগেছি। মিথি রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে আমার পাশে গিয়ে শুয়েছে।

মিথিঃ আপনি কি ঘুমিয়ে গেছেন? আমি শুনে ও না শুনার মত করে চোখ বন্ধ করে রাখছি। তখন মিথি আবার বলে আমি জানি আপনি জেগে আছেন। কিন্তু আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন না। আমাকে আগামীকাল সকালে কষ্ট করে বাড়ীতে নামিয়ে দিয়েন।

আমি বুঝতে পারছি আপনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না তাই সিদ্যান্ত নিয়েছি আমি আপনার জীবন থেকে দুরে সরে যাবো। মিথি তার মত করে বক বক করে চলছে আর আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে দেখি মিথি তার ব্যাগ নিয়ে রেডি হয়ে আছে। আমাকে দেখে আম্মা বলে।

আম্মাঃ নেহাল তুই নাকী মিথিকে নিয়ে ওদের বাড়ীতে যাবি। আর সকালের নাস্তাটা নাকী মিথির বাড়ীতে গিয়েই করবি?
নেহালঃ মানে?

আপুঃ মানে নেহাল তুই যে মিথির কথা ফেলতে পারবি না সেটা আমরা ঠিকই বুঝতে পারি।
আব্বাঃ যাক তাহলে আমার সম্মানটা কিছুটা থাকবে মিথির বাবার কাছে। ঠিক আছে সাবদানে যাস।
মিথিঃ আসুন আপনার সব কিছু আমার ব্যাগে নিয়ে নিছি। বাবা মা আর আপু তোমরা আমাদের জন্য দুআ করো

নেহালঃ কি হচ্ছে এসব?
মিথিঃ যা দেখছেন। আসেন আমার সাথে বাকী কতা যেতে যেতে হবে বলেই সবার সামনে এসে মিথি আমার হাত ধরে টান দিছে আর হাতটা ছাড়িয়ে সোজা একটা থাপ্পড় দিয়েছি আমার কান্ড দেখে সবাই তো হতভাগ হয়ে গেছে।

‘ ঠিক তখনি মিথির বাবা এসে আমাদের বাড়ীতে উপস্থিত আর মিথি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


পর্ব ০৬ (অন্তিম)

মিথির বাবা দরজার সমানে এসে দাঁড়িয়েছে আর মিথি গালে হাত দিয়ে রাখছে। সবাই চুপচাপ কেউ কিছু বলছেনা। আমি মিথির বাবাকে দেখেও না দেখার মত করে চলে যাচ্ছি তখনি আব্বা বলেন।

আব্বাঃ হৃদয় তোর শ্বশুড় এসেছে ওনাকে সালাম দিয়ে কশুল বিনিময় না করেই চলে যাচ্ছিস?
মিথির বাবাঃ আরে ভাই সাহেব ছোট মানুষ এত কিছু জানে না হয়তো।
মা মিথি কেমন আছিস তুই?

মিথিঃ হ্যা বাবা আমি খুব ভালো আছি। তা বাড়ির সবাই কেমন আছে?
মিথির বাবাঃ হ্যা সবাই ভালো আছে।
আপুঃ আংকেল হাত মুখ ধূয়ে আসুন নাস্তা করবেন।

মিথির বাবাঃ না মা আমি নাস্তা করে এসেছি। এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তাই ভাবলাম মেয়েটাকে একটু দেখে যাই। আচ্ছা ভাই সাহেব তা মা মিথিকে আর জামাই বাবাকে আমাদের বাড়িতে কবে পাঠাচ্ছেন?

আব্বাঃ দুই এক দিনের মধ্যে পাঠাবো। তখনি আপু জোর করে মিথির বাবাকে ভিতরে এনে খাবার টেবিলে বসিয়ে দিছে। আর মিথিকে বলেছে খাবার সামনে দিতে। মা বাবা বসে ওনার সাথে কথা বলছে আমি গিয়ে সালাম দিলাম।

হৃদয়ঃ আস্সালামু আলাইকুম কেমন আছেন?
মিথির বাবাঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?

হৃদয়ঃ জ্বি আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আচ্ছা আংকেল আমি অফিসে গেলাম। এই কথা বলেই বেরিয়ে এসেছি। মিথি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো। আমি বুঝতে পারছি মিথি কিছু বলতে চাইছে কিন্তু আমি সেটা পাত্তা না দিয়ে সোজা অফিসে চলে এলাম।

কাজ করছি তখনি পাশের কলিক বলে।
কলিক! কি মিষ্টার হৃদয় সাহেব ভিষন্ন দেখাচ্ছে আপনাকে! ভাবির সাথে ঝগড়া হইছে নাকী? আমি কিছু বলছিনা তখন নিজে নিজে বলছে। আজকালের বিয়ের পর ছেলেদের মন মানুষিকতা কি যে হয়।

হৃদয়ঃ আপনার মনে হয় বয়স আশি ছাড়িয়ে গেছে। যতসব ফালতু কথাবার্তা বলেন। আমাকে কাজ করতে দেন তানা হলে ম্যাডামকে বলে দিবো আপনি আমাকে কাজে ডিসট্রাভ করছেন।

ওনি আর কিছু না বলেই নিজের জায়গাতে বসে কাজ করতে আরম্ভ করছে। আমি কাজে মনোযোগী হলাম তখনি চেয়ে দেখি আম্মা ফোন করছে। রিসিভ করার সাথে সাথে আম্মা বলে।

আম্মাঃ হৃদয় তাড়াতাড়ি করে মর্ডান হাসপাতালে চলে আয়। মা মিথিকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে এসেছি।
হৃদয়ঃ মিথির কি হইছে?

আম্মা কিছু না বলেই ফোন কেটে দিছে। আমি ম্যাডামকে বলেই ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। বাইকে করে যাচ্ছি আর বার বার মিথির সাথে খারাপ আচরন গুলি মনে পড়ছে।

ঘন্টা খানেক বাদে হাসপাতালে গেলাম। হাসপাতালে নিচে গিয়ে আম্মাকে ফোন করেছি আম্মা দুই তলা ২০ নাম্বার রুমে যেতে বলেছে। আমি দৌড়ে রুমে গিয়ে দেখি মিথির দুই হাত বেন্ডিজ করা আম্মা আপু দুজনে পাশে বসা আর মিথি শুয়ে আছে।

আপুঃ হৃদয় এসেছিস?
হৃদয়ঃ হ্যা! মিথির কি হইছে? হাতে বেন্ডিজ কেনো?
আম্মাঃ রুমের ফ্যান দিয়ে দুই হাত কেটে ফেলছে।

হৃদয়ঃ ফ্যান দিয়ে হাত কাটবে কি করে?
আপুঃ মিথি তার লাকেজ উপরে রাখতে গেছে কিন্তু ফ্যান বন্ধ না করেই। আর লাকেজ রেখে নামাতে গিয়েই একটু পা পিছলে দিছে। আর বাছ হাত চলন্ত ফ্যানে লেগে কেটে গেছে। আচ্ছা আমরা অনেক্ষন হইছে বাড়ি থেকে এসেছি তুই তোর বউয়ের কাছে থাক আমি আর আম্মা বাড়িতে যাবো।

হৃদয়ঃ মানে?
আম্মাঃ মানে কি মানে কি? তোর বউ তুই পাহাড়া দিবি। আর তাছাড়া কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার মিথিকে ছেড়ে দিবে। তুই বিল পরিশুধ করে মিথিকে নিয়ে বাড়িতে আয়।

মিথিঃ আম্মা থাক আমি আমাদের বাড়িতে চলে যাবো। আর তাছাড়া আমার হাত দুইটা কেটে গেছে। আমাকে সেবাযত্ন কে করবে?

আপুঃ কেনো হৃদয় করবে। কিরে হৃদয় তুই মিথিকে যত্ন করবি না?
হৃদয়ঃ হ্যা করবো।
আম্মাঃ ঠিক আছে তাহলে তুই থাক আমরা যাই।

হৃদয়ঃ আচ্ছা! আম্মা আর আপু চলে গেছে আমি মিথির পাশে গিয়ে বসেছি। মিথি তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আচ্ছা লাকেজটা উপরে তোলার কি খুব বেশী দরকার ছিলো?
মিথিঃ হ্যা দরকার ছিলো। আর তাছাড়া আমার কিছু হলে আপনার তো ভালো। যদি ফ্যানে মাথাটা লাগতো তাহলে ভালোই হত। একে বারে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতাম।

হৃদয়ঃ হ্যা ঠিকই বলেছো। তা এখন যেহেতু যওনি সেহেতু চুপ চাপ থাকো। তখনি একজন ডাক্তার এসে মিথিকে দেখে বলে।

ডাক্তার! রুগিকে চাইলে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন আর হ্যা একদম বেড রেস্ট রাখবেন কেমন?
হৃদয়ঃ ঠিক আছে। মিথি তুমি বসো আমি বিলে পেমেন্ট করে আসছি।

মিথিঃ ঠিক আছে। ক্যাশ কাউন্টারে এসে বিল পেমেন্ট করে মিথিকে নিয়ে বাড়িতে গেলাম। মিথিকে রুমে নিয়ে বসিয়ে দিয়ে বাহিরে এসেছি।

আপুঃ হৃদয় মিথিকে যেহেতু বাড়িতে আনছিস তুি কিন্তু সব কিছু দেখা শুনা করবি।
হৃদয়ঃ ঠিক আছে করবো। আপু চলে গেছে আমি মিথির সব দ্বায়িত্ব নিলাম। এক দিন দুই দিন তিন দিন করে এভাবে দশদিন চলে গেছে। আমি এই দশ দিনে মিথির প্রেমে পড়ে গেছি।

মিথিকে ছাড়া এখন আমার একদম ভালো লাগে না। এই দশদিনে আমি বুঝে গেছি মিথি আমার জীবনে কতটা প্রয়োজন। কথায় আছে না ভালোবাসা তৈরি হতে অনন্ত কালের প্রয়োজন নেই কখনো কখনো একটা পলকে ভালোবাসা তৈরি এ যতেষ্ট ।

আম্মাঃ কিরে মিথিকে নিয়ে নাকী বেরুবি কোথাও?
হৃদয়ঃ হ্যা ডাক্তারের কাছে যাবো।

আপুঃ থাক তার কোনো দরকার নেই। আমি একটা কেচি নিয়ে আসি তুই নিজেই কেটে দিস।
হৃদয়ঃ মানে কি বলছিস তুই?

আপুঃ যা বলছি তাই। ঐ মিথি এসেছে নে কেচি কাটতে থাক। আপুর কথা কিছু বুঝতেছি না। আম্মা মিথি সবাই হাসতেছে। তখন আম্ম বলে।

আম্মাঃ আরে বোকা মিথির কিছু হইনি আমি বুঝতে পারছি তুই মিথির থেকে দুরে দুরে থাকিস। তাই আমরা সবাই মিলে প্ল্যান করে এই কাজ করেছি। এখন তো তুই মিথিকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারবি না। নে রুমে গিয়ে নিজের বউয়ের সেবা কর।

হৃদয়ঃ তার মানে এতদিন চিটিং করেছো বলেই আমি রাগ করে রুমে চলে এসেছি। মিথি আমার পিছু পিছু এসেছে।
মিথিঃ কি হলো এমন ভাবে চলে আসলেন কেনো?

হৃদয়ঃ আচ্ছা তুমি এত অভিনয় করো কি করে? এত বড় মিথ্যা একটা অভিনয় করতে পারলে আমার সাথে ?
মিথিঃ তারমানে হাত কাটলে খুশি ঠিক আছে এখুনি কাটতেছি বলে হাত কাটতে ফ্যানের দিকে হাত দিতে ছিলো তখনি মিথিকে ধরে ফেলি।

হৃদয়ঃ কি করছো তুমি?
মিথিঃ সত্যি সত্যি হাত কাটতেছি।

হৃদয়ঃ থাক তার কোনো দরকার নেই এখন তো ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার কষ্ট হলে আমারো কষ্ট হবে। তখনি মিথি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে।
মিথিঃ আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি কখনো আপনাকে ছেড়ে যাবো না।

হৃদয়ঃ যদি মনের রঙ বদল হয়ে যায়।

মিথিঃ তাও আপনার সাথে থাকবো। নেহাল মিথিকে আশ্বাস দিছে শত বিপদে মিথির পাশে থাকবে। এভাবে তাদের রঙ বদল আর সংসার মনের কিছু ভিন্ন ঝগড়া আর ভালোবাসা চলছে। আপদত তারা দুজন খুব সুখেই সংসার করে যাচ্ছে।

লেখা – AL Mohammad Sourav

সমাপ্তি

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “মনের রঙ বদল – new premer golpo” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মনের মানুষ – Romantic Bangla Love Story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button