রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ৬

রোমান্টিক প্রেমের গল্প ৬

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ৬: গত পর্বে আমরা দেখেছি মিরা কাব্যের প্রতি বেশ কেয়ারিং এবং রাতে কাব্যের কথা মনে হয় তার। তবে কি মিরা কাব্যের প্রেমে পড়েছে? নাকি সবটাই অভিনয়? চলুন রহস্য উন্মোচন করি।

মিরার আদেশ

এদিকে আমার দূর বাল এ জ্বর মনে হয় আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।
সেই কাল রাত থেকে জ্বর এসেছে কিন্তু ভালো হওয়ার কোন লক্ষন ই দেখছি না।

কিন্তু আমার এত শীত শীত লাগছে কেন?

কি আর করা, কোন রকমে প্যারাসিটামল খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে যখন ঘুম থেকে উঠলাম। তখন আমি যেন হঠাৎ আকাশ থেকে পড়লাম।

কারণ আমি আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমার প্রায় সম্পূর্ন মুখে লিপস্টিকের দাগ লেগে আছে। সেই সাথে আমার শরীরের বেশ কিছু জায়গায় কেটে যাওয়ার দাগও রয়েছে।
তবে কাটা দাগ গুলো দেখে মনে হচ্ছে কারো হাতের আঙ্গুলের বড় বড় নখের (আসটির) কারণে হয়েছে।

এসব দেখে মাথাটা কেমন যেন ভন ভন করছে। আমার এমন কি হয়েছিল রাতে?
যার কারণে আমার মুখে লিপষ্টিকের দাগ এলো আবার শরীরেও…।

অনেক ভেবেও এ রহস্যের কুল কিনারা পাচ্ছিনা। হঠাৎ কেন যেন মনে হলো আচ্ছা রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল?
কিন্তু তা কি করে সম্ভব। আমার ঘরে আবার কে আসবে? আর রাতে ঘুমানোর আগে তো ঘরের দরজা লক করেই ঘুমিয়েছিলাম।
কিন্তু কেউ যদি আমার ঘরে… (ঠিক তখনি ফোনটা বেজে উঠল)

মোবাইলের স্কিনে তাকিয়ে দেখি মিরা ফোন দিয়েছে। কল রিসিব করে কিছু বলবো তার আগেই মিরা বলতে লাগল…

মিরাঃ কিরে একটা কল রিসিব করতে এত সময় লাগে, হনুমান কোথাকার। (রাগি কন্ঠে)

কাব্যঃ মাপ কর বোন, আমি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম। তাই বুঝতে পারি নাই।

মিরাঃ কি তুই এখনো শুয়েই আছিস মানে। কুম্ভ কর্নও তো মনে হয় তোর মতো ঘুমায়না। ও তো ওর কাজ ঠিক মত করত কিন্তু তোর যে কলেজ আছে সেটা কি তোর মনে নেই।

কাব্যঃ আ আ আসলে হয়েছে কি মিরা? (কিছুটা ভয় পেয়ে যা রাগি মেয়ে ও)

মিরাঃ আমি তোর কোন কথা এখন শুনতে চাইনা তুই আধা ঘন্টার মধ্যে কলেজে আসবি। এটাই ফাইনাল।

কাব্যঃ আরে মিরা শোন তো..টু টু টু

(যা কেটে দিলো। এইরে দেরী হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি রেড়ি হয়ে নেই। এসব নিয়ে না হয় পড়ে ভাবা যাবে। তারপর রেডি হয়ে বের হবো তখনি আন্টি ডাক দিয়ে বলল..)

মিরার জ্বালাতন

এরই মধ্যে আন্টি এসে বলে- বাবা কাব্য, তোমার শরীর এখন কেমন আছে?

কাব্যঃ এইত আন্টি মোটামুটি। আচ্ছা আন্টি, আমি এখন আসি কলেজের দেরী হয়ে যাচ্ছে। তারপর হঠাৎ কি মনে করে যেন আন্টিকে বলে বসলাম আমি..!

কাব্যঃ আচ্ছা আন্টি, রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল?

আন্টি প্রথমে কিছুটা ঘাবরে গিয়ে পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগল,

আন্টিঃ কই কেউ যায় নাই তো বাবা? কেন তোমার কি কিছু হারিয়ে গেছে?

কাব্যঃ না আন্টি, এমনি বললাম আরকি। আমি এখন আসি তাহলে..

আন্টিঃ আচ্ছা!

(সালা হনুমান গাধা উল্লুকটা আসছে না কেন এখনো? আজ এক বার আয় তোকে এমন মজা দেখাবো না। মিরা মনে মনে এসব বলছে আর বার বার কলেজ গেইটের দিকে তাকচ্ছে।)

নীলাঃ কিরে মিরা তুই বিড়বিড় করে কি বলছিস? আর বার বার গেইটের দিকে তাকাচ্ছিস কেন? কাহিনি কি বলতো?

রিয়াঃ আরে নীলা তুই বুঝতেছিস না কেন আমাদের দুলাভাই এখনো আসে নাই দেখে আমাদের মিরা তার জামাইকে গালি দিচ্ছে। আর ঐ দিকে বার বার তাকিয়ে দেখছে যে দুলাভাই কখন আসে।

মিরাঃ ঐ হারামির ঘরের হারামি এসব কি ফালতু কথা বলছিস?

রিয়াঃ হ্যাঁ হ্যাঁ আমি তো ফালতু কথাই বলি। তা না হলে আমাদের মিরা একটা ক্ষেতের থুক্কু ক্ষেত না এখন তো আমাদের দুলাভাই হবে। (একথা শুনে মিরা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলতে লাগল)

মিরাঃ রিয়া চুপ করবি তুই। আমি কি তোদের কখনো বলেছি যে আমি কোন ক্ষেতের প্রেমে পরেছি। (মুখে তোদের না বলছি তো কি হয়েছে আমিতো কাব্যকে সত্যি সত্যি ভালবেসেই ফেলেছি রে… কিন্তু শুধু মুখে বলতে পারছি না! হয়তো আর কোনদিন বলতেও পারবো আর না। আচ্ছা ঐ হনুমানকে কি বলতে পারবো? হয়ত পারবো কিন্তু…)

রিয়াঃ কিরে মুরা কি এত ভাবছিস।

মিরাঃ তেমন কিছু না। ভাবছিলাম, আজকে তোদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ট্রিট দিবো।

সবাই একসাথেঃ আচ্ছা, তাই নাকি!

নীলাঃ কিরে তোরা আমাকে ছাড়াই কি ট্রিট খাবি। নাকি আমাকেও সাথে নিবি।

রিয়াঃ তা তো নিবোই! কিন্তু যে আমাদের ট্রিট দিবে সে তো এখনো বললো না কি জন্য আজ হঠাৎ করে আমাদের ট্রিট দিবে।

নীলাঃ কিরে মিরা?

মিরার স্বপ্ন

মিরা একটু থেমে বলতে লাগল- আরে ভাই বলছি বলছি। তোদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে না। আমিই বলছি, শোন তাহলে-

আমি যখন গতকাল রাতে ঘুমাচ্ছিলাম তখন খুব ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখেছি। এরকম ভয়ানক স্বপ্ন আমি এর আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না আমার। আর স্বপ্নটার কথা মনে হলেই নিজেকে খুব অসহায় আর প্রচুর পরিমাণ ভয় লাগে।

নীলাঃ তা কি স্বপ্ন দেখেছিলি শুনি?

মিরাঃ হুম, তাহলে শোন আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমি বিশাল কোন জনমানবহীন একটা এলাকায় দাঁড়িয়ে আছি। যেখান যে দিকেই চোঁখ যায় সেদিকেই শুধু সীমান্ত হীন পথ আর পথ। আমি কোথায় যাবো কি করবো বুঝতেছিলাম না। যেদিকেই ছুটে যাই সেদিকেই শুধু বালি আর বালি লক্ষ করি। আর সেই সাথে আছে অসহনীয় সুর্যের তাপ। আমার এমন মনে হচ্ছিল সূর্যের তাপে যেন আমার সম্পূর্ন শরীর ঝলসে যাচ্ছে। তবুও আমি অনেক কষ্টে কোন লোকালয়ের খোঁজে ছুটতে থাকি। ছুটতে ছুটতে হঠাৎ আমি এক বিশাল খাদের কাছে এসে পরি। আর খাদের পাশেই একটা সেতু দেখতে পাই।

সেতুটা দেখে আমি যে কতটা খুশি হয়েছিলাম তা তোদের বলে বোঝাতে পারব না। সেতুটা দেখে আমার মনে হয়েছিলো যে কোন পথিক যেমন মরুভুমিতে তৃষ্ণাপ্ত অবস্থায় একফোটা পানি ফেলে যতটা খুশি হয়। আমিও মনে হয় সেতুটা দেখে ততটাই খুশি হয়েছিলাম। আর বার বার বলছিলাম এই সেতুটা পার হলে কোন লোকালয় পার। আমি সেতুটা দেখে এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে কোন কিছু না ভেবেই সেতুটার উপর উঠে পরি আর যখন আমি সেতুটার উপর মাত্র তিন পা এগিয়ে যাই। হঠাৎ করেই সেতুটা অদৃশ্য হয়ে যায়। আর আমিও খাদের গভীরে হারিয়ে যাই। তারপর কি হয়েছিলো আমার আর মনে নাই। কিন্তু যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি এমন কিছু দেখি যা দেখে আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে তা তোদোর বলে বোঝাতে পারব না।

রিয়াঃ ঐ থাম থাম একদম ফাজলামি করবি না।

অধরাঃ না রে রিয়া, আমার তো মনে হয় না মিরা কোন ফাজলামি করছে? দেখছিস না স্বপ্নটার কথা মনে হতেই ও কেমন চুপসে গেছে। তুই একটু চুপ থাক আর মিরা তুই বল কি এমন স্বপ্ন দেখেছিস? (অধরা মিরার অন্য বান্ধবী)

মিরাঃ দেখ, আমি বুঝতে পারছি তোরা আমার কথাগুলো শুনে মজা নিচ্ছিস।

অধরাঃ ওসব বাদ দে। আর এটা বল কি দেখিছিলি তোর স্বপ্নে।

মিরাঃ আমি দেখলাম যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন দেখি কেউ আমার হাত পায়ে আগুনের ছিকল দিয়ে বেধে রেখেছে। যার কারণে আমার হাত পায়ে অসহ্যকর ব্যাথা পাচ্ছিলাম। আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছিলো না। হঠাৎ দেখি অনেক গুলো বিষাক্ত সাপ আমাকে ঘিরে ধরেছে। আর সাপ গুলো আমার দিকে খুব হিংস্র ভাবে ছুটে আসছিলো! যখন ওগুলো আমার কাছাকাছি আসে তখন সাপ গুলো আমাকে পেঁচে ধরে আমার মাথায় কামর বসাচ্ছিলো আর মাথা থেকে আমার যতো চুল ছিলো তা মাংস সহো তুলে ছুরে ফেলছিলো। ঠিক তখনি কে যেনো আমার মাথায় গরম কিছু তরল ঢেলে দিলো। যা আমার বেদনা হাজার গুন বাড়িয়ে দিয়েছিলো। আমার এমন মনে হচ্ছিলো আমার শরীরের চামরা, মাংস, হাড় সবকিছু যেনো গলে গলে এক হয়ে যাচ্ছিলো। আর ঠিক তখন আমি চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠি পড়ি।

আর ঘুম থেকে উঠেই ভাবতে থাকি এতক্ষণ আমি এ কি দেখলাম! হঠাৎ তখনি আমার মনে পরে যে আমি হাইস্কুলে থাকতে স্যার একদিন আখিরাত বা পরকাল সম্পর্কে ঠিক এমনি বলেছিলো। তাই আমি ঠিক করেছি যে আজ থেকে সব খারাপ অভ্যাস ত্যাখ কররো। সেই সাথে এতদিন যাদের সাথে বাজে ব্যবহার করেছি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবো।

(ওরা সবাই মিরার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো। আর বেশ কিছুক্ষণ নিরব ছিলো)

মিরার স্বপ্নের ট্রিট

তারপর নিরবতা ভেঙে রিয়া ও নীলা বলে উঠলো

রিয়া ও নীলাঃ আচ্ছা, তুই ও না মিরা! সামান্য কি একটা স্বপ্ন দেখলি। আর ভয়ে পেয়ে বলছিস অন্যের কাছে ক্ষমা চাইবি। একবার ভেবে দেখ মিরা তুই যদি সামন্য একটা স্বপ্ন দেখে সবার কাছ থেকে ক্ষমান চাস। তাহলে তোর আর ওদের মধ্যে পাথক্য কি থাকবে? তোর উঁচু মাথা নিচু হবে তা কি ভেবে দেখেছিলি? আর একবার শুধু একবার ভেবে দেখ মিরা। আমরা তোর বান্ধবী তাই তোর ভালো চাই!

আর একটা কথা শুন, আমার মনে হয় তুই জঘন্য কাজটার জন্য আমাদের ট্রিপ দিতে চাস? কিন্তু আমরা তোর এত বড় অধপতনের ট্রিপ নিতে পারব না। স্যরি…

মিরাঃ দেখ তোরা হয়তো আমার কথা গুলোকে বিশ্বাস করবি কিনা সেটা তোদের ব্যাপার। তবে আজকে আমি তোদের যে জন্যে ট্রিট দিতে চাচ্ছি তা হলো আমি একজনকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি।

অধরাঃ যাক, তাও একটা ভালো খবর। কিহ্ তুই প্রেমে পড়েছিস। আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।

মিরাঃ না হলে নেই। তবে এটাই সত্যি।

রিয়াঃ ছেলেটা দেখতে কেমন রে। নিশ্চয় অনেক টাকাওয়ালা মালিকের ছেলে! চলবে…

পরের পর্ব- রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ৭

Related posts

রাগী মেয়ের ভালোবাসা – অফিসের বসের সাথে প্রেম পর্ব ৩

valobasargolpo

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ১০

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!