ভালোবাসার গল্প

আমার তুমি আছো (সিজন ২: ১ম খণ্ড) – Moner abegi kichu kotha

আমার তুমি আছো (সিজন ২: ১ম খণ্ড) – Moner abegi kichu kotha: হঠাৎ পিয়াস এসে আমার কোমরে চিমটি কাটলো। আমি সামান্য চিৎকার করলেই পিয়াস আমার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়। আর আমার হাত দুটো পেছনে চেপে ধরে।


পর্ব ১

~ অ্যাম রিয়েলি সরি ম্যাম, আমি চাইলেও এই রুমের বাইরে যেতে পারবো না। তাই অগত্যা আমার সাথেই আপনাকে রুম শেয়ার করতে হবে। আমি জানি আপনার খুব রাগ হচ্ছে, চিন্তা করবেন না আমি আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবো না, বা আপনার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আপনাকে রেপ করবো না।

খুব বেশী দিন না এই বারোটা মাস দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এক বছরের বেশি বাবা বাঁচবেন না। একবছর পর আবার আপনি আপনার জায়গায় ফিরে যেতে পারবেন আশা করি।
থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ ম্যাম, আমার পরিবারের কথা ভাবার জন্য, আমার বাবার কথা ভাবার জন্য।

গম্ভীর গলায় একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলো পিয়াস ভাইয়া। আমি মাথার ওপর থেকে ঘোমটা সরিয়ে পিয়াস ভাইয়ার দিকে ছলছল চোখে তাকালাম। পিয়াস ভাইয়া লক্ষ করলো কি না জানি না! আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই পিয়াস ভাইয়া বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো। আমি বিছানায় স্থির হয়ে বসে শুধু পিয়াস ভাইয়াকে দেখতে লাগলাম।

সবকিছু কতো বদলে গেছে, সবাই বদলে গেছে, পিয়াস ভাইয়াও অনেক বদলে গেছে। একমাত্র বাবাই আমাকে এখনো ভালোবাসে। আর তাই জন্যই তো এই শেষ বয়সে এসে তিনি আমাকে ছেলের বউ হিসেবে দেখতে চাওয়ার আবদার করেছেন। তার জন্যই তো সবাই আমাকে এই বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছে ঠিকি কিন্তু মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। নিজের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। আমি তো এখন সবার কাছেই ঘৃণার পাত্রী।

ব্যালকেনীতে গিয়ে আকাশপানে বেশকিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। পাঁচটা বছর, এই পাঁচটা বছরে সবকিছু কেমন বদলে গেছে। কই আমি তো বদলাতে পারি নি নিজেকে! এই পাঁচটা বছরতো আমি এই মানুষগুলোর স্মৃতি নিয়েই ছিলাম। বুকের মধ্যে তো এই মানুষটার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। ভাগ্যের জোরে আমি আবার এই মানুষগুলোকে ফিরে পেলাম। পিয়াস ভাইয়াকে আবার আমার নিজের করে পেলাম। কিন্তু পিয়াস ভাইয়া কি আমাকে মেনে নিবে!

গুটি গুটি পায়ে রুমের ভিতরে এলাম। সোফার কাছে এগিয়ে গেলাম। পিয়াস ভাইয়া ঘুমাচ্ছে, কিন্তু পিয়াস ভাইয়া ভালোভাবে ঘুমাতে পারছে না বোধহয়! তার স্পষ্ট ছাপ মুখে ফুটে উঠেছে। আমি জানি তো পিয়াস ভাইয়া জড়োসড়ো হয়ে ঘুমাতে পারেনা। তারপর আবার সোফায়! আহারে খুব কষ্ট হচ্ছে।

বিছানায় শোয়ার কথা বলবো! যদি রেগে যায়! ধূরর এভাবে তো শুয়ে কষ্ট পাচ্ছে। ডাকবো কিন্তু ঘুমাচ্ছে তো, ঘুম ভাঙলে আমাকে দেখে যদি আরো বেশি রেগে যায়! যাই হোক আমি ডাকবো।
কিন্তু পিয়াস ভাইয়ার ঘুমন্ত মুখটা দেখতে আমার বেশ লাগছে। আমি হাটু মুড়ে বসে পিয়াস ভাইয়ার চুলে বিলি কাটতে লাগলাম। পিয়াস ভাইয়া বোধহয় বুঝতে পারলো না গভীর ঘুমে আছে যে।

~ ও পিয়াস ভাইয়া, ভাইয়া,
~ হুম
~ বিছানায় শুতে চলো না,
~ উহু
পিয়াস ভাইয়া নিজের দু হাত দিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো।

যাক বাবা বুক থেকে পাথরটা সরলো মনে হচ্ছে। ঘুমের মধ্যে ছিল বলেই হয়তো কোন রিএক্ট করলো না।
পিয়াস ভাইয়ার পাঞ্জাবীর বোতাম খোলা অল্প একটু উন্মুক্ত বুকটা আমাকে ভীষণ টানাচ্ছে। আমি বিছানায় এসে বসলাম। পিয়াস ভাইয়ার বুকটায় হাত বুলিয়ে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লাম। আজ কতো বছরের ইচ্ছা আমার পূর্ণতা পেলো। আমি তো সারাজীবন এই বুকটাতেই থাকতে চেয়েছি। এই বুকটাই যে আমার নিরাপদ স্থল।

সকালে ঘুম ভাঙ্গে মুখের ওপর মিষ্টি রোদ এসে পড়ায়। ভাগ্যিস কাল রাতে জানলাটা খোলা রেখেছিলাম। পিয়াস ভাইয়া এখনো ঘুমাচ্ছে, পাঁচ বছর পর কাল রাতের ঘুমটাই আমার শান্তির পরম তৃপ্তির ঘুম হয়েছে। পিয়াস ভাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। আমি খুব সাবধানে নিজেকে ছাড়াতে গেলেই পিয়াস ভাইয়া চোখ খুলে ফেলে। আমাকে জড়িয়ে আছে দেখে দ্রুত ছেড়ে দিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায়।

~ আমি তো সোফায় শুয়েছিলাম! অ্যাম সরি ম্যাম আমি বুঝতে পারছি না আমি এখানে কি করে এলাম? আমি আপনার সাথে কিছু করি নি, প্লিজ আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না।
পিয়াস ভাইয়া কথাগুলো হাতজোড় করে আমাকে বলেই ওয়াশরুমে চলে গেলো। আমি বসে পড়লাম বিছানায়। পিয়া..পিয়াস ভাইয়া এমন ব্যাবহার করছে আমার সাথে!পিয়াস ভাইয়া ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আমার দিকে না তাকিয়েই রুম ছেড়ে চলে গেলো। আমি পিয়াস ভাইয়ার যাবার পথে তাকিয়ে রইলাম। চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে এলো। বাম হাত দিয়ে মুছে নিয়ে আমি ওয়াশরুমে চলে আসলাম। এই বাড়ির কোন জিনিস বদলায় নি, বদলে গেছে শুধু মানুষগুলো।

আজও আমি গাঢ় সবুজ শাড়ীই পড়লাম। এটা যে পিয়াস ভাইয়ার প্রিয় একটা রং। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে চিরুনি বুলিয়ে চুলটা পিঠেই এলো করে ফেলে রাখলাম।
নীচে আসতেই দেখলাম পিয়াস ভাইয়া আর বড়ো ভাইয়া নাস্তা করছে, সাথে খালাম্মাও। ভাবী সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে আর ছোট বাবুটাকে খাইয়ে দিচ্ছে। আমি পিঠে কাপড় চাপা দিয়ে ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই পিয়াস ভাইয়া অর্ধেক খেয়েই উঠে চলে যায়। খালাম্মা ডাকছেন কিন্তু পিয়াস ভাইয়া কোনো কথা কানে না নিয়েই বেরিয়ে যায়। হয়তো আমি এসে গেছি তাই খাবার ছেড়ে উঠে গেলো!

~ শোনো মা বাবার কথায় যাকে বউ করে আনা হয়েছে তাকে বলে দিও সে শুধুমাত্র বাবার কাছেই বাড়ির বউ। আমরা তাকে কেউ মানি না। তাই সে যেনো তার লিমিট ক্রস না করে। বাড়ির বউ এর অধিকার যেনো দেখাতে না আসে।
কথাগুলো বলে বড়ো ভাইয়াও উঠে চলে যায়। আমি মাথা নীচু করে চোখের পানি ফেলতে থাকি। খালাম্মা চেয়ার ছেড়ে উঠতে গেলে ভাবী বলে, ~ কি হল মা তুমি কোথায় যাচ্ছো? খাবারটা শেষ করো আগে।

~ আমি আর খেতে পারবো না রে, আমার ছেলেগুলো যে না খেয়েই চলে গেলো আমি মা হয়ে কি করে খাই বলতো?
~ মা ওরা বাইরে কোথাও খেয়ে নিবে। আর তুমি, কেউ যদি নাও খায় তোমাকে তো খেতে হবে, এমনিতেই তোমার লো প্রেসার তোমাকে তো টাইমে খেতে হবে না কি! বাবাও অসুস্থ এখন তুমিও যদি অসুস্থ হয়ে পড়ো তাহলে কি করে হবে বলোতো?
ভাবী আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকালো।

~ আমি ওদের বলে দেবো বাইরের কারুর জন্য না খেয়ে চলে যাওয়ার দরকার নেই। তুমি খেয়ে নাও।
খালাম্মা, ভাবীর কাছে আমি এখন বাইরের কেউ। চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে, কান্নাটা যেনো গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসছে। হঠাৎ আমার হাতের আঙ্গুল গুলো ধরে কেউ টানছে।

~ চাচীমা ও চাচীমা তুমিও বসো। আমাদেল সাথে নাস্তা করো।
ছোট্ট বাবুটার মুখ থেকে কথাগুলো শুনে আমার কান্নার মধ্যে হাসি এসে যায়। মুচকি হাসি দিয়ে বাবুর হাত দুটো ধরতে যাবো ঠিক তখনি ভাবী হাতটা সরিয়ে দেয় বাবুটার।
~ তুমি কাকে কি বলছো?

~ কেনো মাম্মাম আমি তো চাচীমা কে নাস্তা করতে বলছি।
~ ও তোমার চাচী নয়।
~ কিন্তু মাম্মাম চাচ্চুর বৌ তো চাচী হয়। তুমিই তো আমায় পড়িয়েছো বইতেও তো লেখা আছে, তুমি কি ভুলে গেছো মাম্মাম!
~ তুলি! এতো বড়ো বড়ো কথা বলবে না আর কখনো। যেটা শেখাচ্ছি, শেখাবো সেটাই শিখবে। আমি যখন বলছি ওই মেয়েটা তোমার কেউ না তখন কেউ না, বুঝেছো তুমি। যাও দুধটা তাড়াতাড়ি খেয়ে পড়তে বসো।

ভাবীর ধমকের আওয়াজে ছোট্ট বাবুটা কেঁপে ওঠে। আমি আর পারলাম না মুখে আঁচল চেঁপে সিঁড়ি বেয়ে উঠে ছুটতে লাগলাম ছাদে যাবার জন্য। কিন্তু একটা কন্ঠে আমার নাম শুনতে পেয়ে থেমে গেলাম। চোখের পানি মুছে গুটি গুটি পায়ে রুমের ভিতরে এলাম।

~ আলো মা,
~ বাবাই তুমি এখন কেমন আছো? তোমার বুকের ব্যাথাটা কি একটু কমেছে? কাল রাতে তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে তুমি!
আমি হাসিমুখে বাবাইকে কথাগুলো বলে বাবাই এর পাশে বসলাম।
~ হ্যা রে মা আমি ভালো আছি। এখন তো তুই এসে গেছিস আমার সব ব্যাথা সেরে যাবে।

বাবাই আমার মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
~ আলো মা, আলোরে তুই জানিস তুই চলে যাওয়ার পর আমি কতো কষ্ট পেয়েছি। বাংলাদেশের সব জায়গায় তোদের খুঁজেছি পাইনি। একবছর পর জানলাম তুই ইন্ডিয়ায় আছিস। জানিস তোর খালাম্মা, তোর খালাম্মা ওই একটা বছর কতো কষ্টে ছিল, ঘুমাতো না সারা দিন রাত শুধু তোর নাম মুখে নিতো। বাবাই আমার হাত দুটো শক্ত করে ধরলো।

~ আলো তুই মা কথা দে তুই আর আমাদের ছেড়ে যাবি না তো বল মা! তোর এই বুড়ো বাপ টাকে ছেড়ে কোথাও যাবি না?
~ যাবো না বাবাই আমি কোথাও যাবো না। আমি সব ঠিক করে দিব বাবাই আগের মতোই।
বাবাইকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললাম।

ঘড়ির কাটায় রাত বারোটা বেজে গেলো। অথচ এতো রাত হয়ে গেলো পিয়াস ভাইয়া এখনো বাড়ি ফিরলো না! কল করেছি অনেকবার রিসিভ করেনি, সেটাই স্বাভাবিক তবু একটা চেষ্টা করে দেখলাম।
রুমের দরজা খোলার আওয়াজ পেতেই আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। পিয়াস ভাইয়া আমার কাছে এলো, একদম কাছে আসার জন্য আমি বিছানায় বসে পড়লাম।

পিয়াস ভাইয়া আমার পাশে বসলো। বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আমার ঠোঁটে স্লাইড করতে লাগলো। একসময় আমার ঠোঁটে পিয়াস ভাইয়া তার ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। আমি শকড, পিয়াস ভাইয়া কি করছে! আমি স্বপ্ন দেখছি না তো! বসা থেকে শুয়ে পড়লাম, পিয়াস ভাইয়া পুরো শরীরের ভরটা আমার ওপর ছেড়ে দিলো। ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আমার গলায় মুখ ডুবালো, আমি কেঁপে উঠলাম। কিছুক্ষন পরে পিয়াস ভাইয়া আমার গলা থেকে মুখ তুলে আমার ওপর থেকে উঠে পড়লেন। আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিছানা থেকে টেনে তুলে ধাক্কা দেয়। আমি টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে যাই। পিয়াস ভাইয়া হাত মুঠো করে আমার কাছে এগিয়ে আসতে থাকে। আর আমি ভয়ে ভয়ে পিছোতে থাকি।


পর্ব ২

আমি ভয়ে ভয়ে পিছোতে থাকি, দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ফেলি। ভয় করছে জানি না এখন কি হতে চলেছে।
পিয়াস ভাইয়া আমার কাছে এসে বসে পড়ে। দু হাত দিয়ে আমার গাল স্পর্শ করে। আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। পিয়াস ভাইয়া আমার কপালে তার কপাল ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।

~ তুই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলি? একবারো আমার কথা ভাবলি না! আমি কি নিয়ে থাকবো? আমি বার বার তোর কাছে ক্ষমা চেয়েছি, তুই আমার সাথে থাকতে চাস না সেটা বলতে পারতিস। কিন্তু তুই নিজেকে আমার থেকে কেনো লুকিয়ে রাখলি? আরে এই আলো আমি তোকে নিজের থেকেও ভালোবাসি রে অনেক ভালোবাসি।
পিয়াস ভাইয়া সশব্দে কাঁদছে। যা দেখে আমার বুকের ভিতরটা ভারী হয়ে গেলো, আমার চোখের কোণ পানিতে ভরে গেলো। পিয়াস ভাইয়া বাচ্চাদের মতো আমার কোমর জড়িয়ে বুকে মাথা রাখলো।

~ জানিস আলো আমি সবাইকে বলতাম, আমার আলোকে কেউ খুঁজে দাও না, আমার আলোকে আমার কাছে এনে দাও না।
আমি পিয়াস ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিই।
~ আমারো যে অনেক কষ্ট হয়েছে তোমাকে ছাড়া থাকতে। সবসময় মনে হতো একছুটে তোমার কাছে চলে আসি।

বেশ কিছুক্ষণ পিয়াস ভাইয়াকে জড়িয়ে কাঁদলাম। কিছু একটা ভেবে পিয়াস ভাইয়াকে ছেড়ে দিলে পিয়াস ভাইয়ার হাত দুটো আমার কোমর জড়িয়ে নেই। মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দেখলাম ঘুমিয়ে পড়েছে। ভেতর থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। আমি পিয়াস ভাইয়াকে সাবধানে তুলে দাঁড় করালাম। নিজের কাঁধে পিয়াস ভাইয়ার এক হাত রেখে বিছানায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলাম।

আমি জানি এমন কিছু একটাই হওয়ার ছিলো। পিয়াস ভাইয়া যে মদ খেয়ে ফিরেছে সেটা আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম। যাক তবু জানতে তো পারলাম পিয়াস ভাইয়ার মন জুড়ে এখনো আমিই আছি। পিয়াস ভাইয়ার বুকে মাথা দিয়ে আধবসা হয়ে শুয়ে পড়লাম।

পিয়াস ভাইয়া ওঠার আগেই আমি উঠে পড়লাম। শাওয়ার নিয়ে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে পড়লাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে হঠাৎ আমার চোখ পড়লো পিয়াস ভাইয়ার দিকে। কি মিষ্টি লাগছে পিয়াস ভাইয়াকে। নড়াচড়া দেখে চোখ সরিয়ে নিই। পিয়াস ভাইয়া উঠে ওয়াশরুমে যেতে গেলেই, থমকে দাঁড়ায়।

গুটি গুটি পায়ে আমার কাছে এগিয়ে আসে। আমি পিয়াস ভাইয়াকে আসতে দেখে আয়নার দিকে ঘুরে পড়ি। পিয়াস ভাইয়া দু হাতে আমার কোমর জড়িয়ে ধরে স্লাইড করতে থাকে। আমার পিঠে ঠোঁটের ছোঁয়া দিতে থাকে। আমার সর্বাঙ্গে শিহরণ বয়ে যায়। আমি পিয়াস ভাইয়ার দিকে ঘুরে তাকাতেই আমাকে ছেড়ে দূরে সরে যায়।

~ কেনো এমন করছো? কাছে টানছো আবার দূরে ঠেলে দিচ্ছো?
আমি পিয়াস ভাইয়ার শার্টের কলার ধরে কথাগুলো বলি। পিয়াস ভাইয়া নিজের কলার থেকে আমার হাতটা ঝনা মেরে ছাড়িয়ে দেয়।
~ কন্ট্রোল করতে পারি না তো। সাতসকালে কোমর পিঠ এভাবে উন্মুক্ত করে দেখালে কি আর কন্ট্রোল করতে পারি নিজেকে! আচ্ছা মাফ করবেন, আমি জানি আপনি অবশ্য মাফ করতে পারবেন না তবু চেয়ে নিলাম। আর হ্যা এক রুমেই যখন থাকি, তখন ওই শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ না দেখিয়ে নিজেকে ভালো পোষাকে ঢেকে রাখুন। আমি তো পুরুষ ভুলবশত কিছু করে বসলে হয়তো বলবেন আপনাকে রেপ করেছি।

~ প্লিজ পিয়াস ভাইয়া তুমি এভাবে বলো না। আমার শুনতে ভালো লাগছে না। দয়া করো তুমি, আর কেনো আমার শরীর তো অন্য কেউ দেখছে না বা আমি দেখাচ্ছি না। আমার স্বামী আমাকে দেখছে, আমাকে স্পর্শ করবে, তার অধিকার আছে আমার শরীর এর ওপর।
~ হা হা হা কি বলছেন আপনি ম্যাম। একজন রেপিস্ট আপনার স্বামী। না না না ভুল করছেন, এই তো বাবা মারা গেলে আপনি আবার চলে যাবেন।
এক বছরের নাটক করতে আসছেন তেমন কিছু না।

~ আমি কোথাও যাবো না। আমি তোমার কাছেই থাকবো তোমার স্ত্রী হয়ে।
~ আরে না কি বলছেন আপনি! আপনি একজন অফিসার হয়ে আমার মতো রেপিস্টের স্ত্রী হয়ে থাকবেন কেন?
~ আমাদের বিয়ে হয়েছে, একবার না দুবার, আমরা স্বামী স্ত্রী, আমার ওপর তোমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।

~ ওহহ প্লিজ ম্যাম এই নাটক গুলো আপনি বাবার সামনে আমাকে বলবেন। ফাঁকা মাঠে বলে লাভ নাই।
আমি কাঁদতে কাঁদতে পিয়াস ভাইয়ার পায়ে পড়ে গেলাম।
~ আরে আরে আপনি কি করছেন, উঠুন উঠুন আহা এটা আপনাকে মানায় না কি। আমার মতো সাধারণ মানুষের পায়ে আপনি পড়ছেন কেন!
পিয়াস ভাইয়া আমাকে টেনে তুলে দেয়। আমার সাথে আর একটা কথাও বলে না। আমি বিছানায় শুয়ে পড়ে বালিশ মুখ চেপে কাঁদি।

এর থেকে তো আমার কল্পনার পিয়াস ভাইয়াই ভালো ছিলো। সারা দিনের শেষে দুজন দুজনের সাথে কথা বলতাম অনেক শান্তি লাগতো। কিন্তু এই পিয়াস ভাইয়া অনেক পাল্টে গেছে।
নীচে এসে বুঝলাম নাস্তা করে ভাইয়ারা চলে গেছেন। খালাম্মা সোফায় বসে পেপার পড়ছেন।
আমার দিকে তাকিয়ে ভাবীকে বলছেন।

~ একজন কাল রাতে কিছুই খায়নি। তাকে নাস্তা করতে বল। তা না হলে আবার শুনতে হবে খাবার দিই না অভুক্ত রাখি।
খালাম্মা এভাবে কথা বলছে আমার সাথে! যখন জানে আমি কাল রাতে খাইনি, তখন আগের মতো এসে খাবার মুখে তুলে দিচ্ছেনা কেন! আমি ওখান থেকে ছুটে বাবাই এর কাছে চলে আসি। কেউ না কথা বলুক বাবাই এর সাথে তো কথা বলতে পারবো।
~ কি করে আমার বাবাই টা।

~ আলো মা আয়, কি করবো রুমের মধ্যেই হাঁটা চলা করি।
~ আচ্ছা অনেক হাঁটছো, এবার আসোতো। তোমার পা টিপে দিবো বাবাই!
~ না রে মা তোকে পা টিপতে হবে না তুই আয় আমার কাছে বস।

~ আমি রুমে শুয়ে থাকলেও সব বুঝতে পারি রে মা। আমি জানি পিয়াস তোর সাথে ভালো ব্যবহার করে না। শুধু পিয়াস কেনো, তোর খালাম্মা, ভাবী ভাইয়া কেউ তোর সাথে ভালো করে কথা বলে না।
বাবাই এর মুখে কথাগুলো শুনে আমি বাবাইকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি।

~ আমি জানি রে মা আমার ছেলে তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে। তুই ওকে বিয়ে করতে না চাইলে না করতিস। এভাবে দেশ ছেড়ে চলে গিয়ে শুধু পিয়াসকে কষ্ট দিস নি, সাথে সাথে তোর খালাম্মা আমাকে ভাবীকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছিস নিজের অজান্তেই। তুই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাস সেটা তো আমাকে বা তোর খালাম্মা কেও জানাতে পারতিস।

জানিস যখন তোর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না, তোর খালাম্মার অবস্থা কেমন ছিলো। কদিন তো গলা দিয়ে একটা খাবার এর টুকরোও যেতে দেয়নি।
বাবাই কাঁদছে, আমি বাবাই এর চোখের পানি মুছিয়ে দিলাম।
~ আমি বুঝতে পারি নি বাবাই, তোমাদের এতো কষ্ট দিয়ে ফেলবো। তুমি কেঁদো না বাবাই আমি সব আগের মতো করে দেবো দেখো।

বিকেলে যখন ছাদ থেকে শাড়ী গুলো এনে নিজের রুমে যাচ্ছি তখন আধো আধো গলার স্বর কানে আসছে,
~এ ফর অ্যাপেল, বি ফর বল,
ভাবীর রুমে উঁকি দিয়ে দেখি পিচ্চি বাবুটা পড়ছে। কিন্তু পিচ্চি টা আমাকে ঠিক দেখতে পেয়ে যায় আমি চলে যেতে গেলেই আমার শাড়ীর আঁচল খপ করে ধরে ফেলে।

~ এই তুমি জানো না কারো রুমে উঁকি দিতে নেই? তুমি যখন আমাকে দেখছো তাহলে আমার কাছে আসলেনা কেন?
আমি হাঁটু মুড়ে বসে হেসে ফেলি।
~ তুমি তো বেশ পাকা পাকা কথা বলো।
~ হুম বলি তো, এখন চলো তুমি আমার সাথে
গল্প করবে।

আমি কিছু বলার আগেই পিচ্চি টা আমাকে রুমের ভিতরে নিয়ে চলে গেলো।
~ তোমাকে খুব সুন্দর দেখতে, তোমার মুখটা না চাঁদের মতো।
~ হা হা ও মা তাই, কিন্তু তোমাকে তো আমার থেকেও দেখতে সুন্দর!
~ জানো আমার মাম্মাম তোমাকে চাচীমা ডাকতে মানা করেছে। বলেছে তুমি কেউ না আমাদের। তুমি আমার চাচ্চুকে বিয়ে করেছো তো! তাহলে চাচ্চীমা বলবো না কেন?

পিচ্চি বাবুটা করুণ দৃষ্টিতে কথাগুলো বলে আমার দিকে তাকালো।
আমার চোখের কোণ টা পানিতে ভরে ওঠে।
পিচ্চি বাবুটা আমার কোলে উঠে বসে।
~ তোমার নাম কি গো?

~ আল..আলো।
~ আমার নাম তুলি।
~ মাম্মাম তোমাকে চাচীমা ডাকতে মানা করেছে, কিন্তু আমি তোমাকে কি বলে ডাকি…
হুমম তোমাকে আমি আলো মা বলে ডাকবো। এটাই ভালো, আর জানো তোমার কাছ থেকে কেমন মা মা গন্ধ উঠছে।
এই বলে পিচ্চিটা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। আমি তার হাসি দেখে নিজেও সশব্দে হেসে উঠি। গাল দুটো সামান্য টিপে দিই।
~ পাকা বুড়ি একটা।

পিচ্চি বাবুটা আমার কোলে বসে আমাকে জড়িয়ে আছে। আমি তার মাথায় চুমু দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছি। একটা ভালো লাগা কাজ করছে।
~ তুলি!
আচমকা এমন জোর আওয়াজে কেউ ডাকতেই পিচ্চি বাবুটা চমকে উঠে আমার কোল থেকে দ্রুত নেমে যায়। আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি।

পর্ব ৩

ভাবী আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললেন।
~ শোনো তুমি আমার মেয়ের কাছে আসবে না বুঝেছো।
~ কেনো ভাবী! আমার কি অধিকার নেই।

~ না নেই অধিকার। তুমি তো আর সারাজীবনের জন্য এখানে থাকবে না। তাই শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে কি লাভ বলো?
~ ভাবী আমি কো,
~ থাক আর কিছু বলতে হবে না তোমায়। আর তুলি কাল থেকে তুমি দরজা লক করে পড়তে বসবে, আমি দরজা লক করে রাখবো।
~ না ভাবী তোমাকে দরজা লক করে রাখতে হবে না। আমি কখনো আসবো না। আমার ওপর তোমার অনেক রাগ আছে আমি জানি, কিন্তু তাই বলে ছোট্ট বাবুটাকে এভাবে শাস্তি দিও না।

~ শাস্তি না না আমি আমার মেয়েকে কোনরকম শাস্তি দিচ্ছি না। আমার মেয়েকে যাতে শাস্তি পেতে না হয় তাই জন্যই দূরে রাখছি।
~ শাস্তি পেতে হবে মানে!
~ আমার মেয়েটা ছোট যদি ভুল করে ফেলে, তুমি তো আবার ভুলের কোন ক্ষমা করো না!
~ ভাবী প্লিজ এভাবে বলো না।

~ দেখো তুমি তো এক বছরের অতিথি হয়ে আসছো, ভালো হয় তুমি তোমার মতো থাকো।
আমার মেয়েটা পড়বে তুমি এই রুম থেকে বেরিয়ে যাও।
আমি ভাবীর কথা গুলো শুনে একছুটে নিজের রুমে চলে আসলাম। মুখে বালিশ চেপে কাঁদতে থাকি।

~ আরে ছোট আম্মু তুমি কেন এতো রাতে কফি নিয়ে আসতে গেলে? আমি বানিয়ে নিতাম তো।
~ কেনো এখন বুঝি ছোট আম্মুর হাতের খাবার খেতে ভালো লাগে না? বুঝেছি রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে খেয়ে আমার মেয়েটা বাড়ির খাবার এর স্বাদ ভুলেই গেছে।
~ ওহ ছোট আম্মু তুমি না! তা কেনো, কটা বাজে দেখো রাত একটা! তুমি এখন না ঘুমিয়ে আমার জন্য কফি নিয়ে আসছো, তোমার তো কষ্ট হলো তাই বলছি।

~ না কষ্ট আর কিসের, তুই যা কাজের সাথে যুক্ত কতোটুকু তোর সাথে গল্প করতে পারি বল!
~ ছোট আম্মু তুমি আমার সাথে গল্প করবে এতো রাতে!বেশ তাই হোক, আজকে সারা রাত আমরা গল্প করবো।
আমি ছোট আম্মুকে আমার বিছানায় বসিয়ে দিলাম। আমিও বসে কফির কাপে চুমুক দিলাম।

~ হুমমম দারুণ বানিয়েছো তো কফিটা!
ছোট আম্মু মুচকি হেসে আমার গালে হাত রাখে।
~ তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিলো? তুই সময় দিতে পারছিলি না বলে আমি তোকে বলতে পারি নি।
~কি বলবে বলো না।

~ হ্যা আসলে, ওই, তোর খান চাচা বলছিলো যে, পিয়াস এর বাবার ভীষণ শরীর খারাপ।
~ ওহ, তো! শরীর খারাপ যখন, তখন ডাক্তার দেখাক।
~ হ্যা ডাক্তার এর ট্রিটমেন্ট চলছে। অবস্থা ভীষণ সিরিয়াস।
~ ও।

~ আলো তোকে আমি যেটা বলছিলাম,
~ আরে কি বলবে বলো না, এতো সঙ্কোচ করছো কেন?
ছোট আম্মু আমার হাত দুটো ধরলো।
~ আসলে আলো, তোর বাবাই তোকে দেখতে চাইছেন।

~ মানে, আমাকে দেখে কি করবেন উনি।
~ এই শেষ বয়সে এসে উনি চাইছেন তোকেই ছেলের বউ হিসেবে দেখবেন। তোর নাম সবসময় করছেন।
আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম।

~ ছোট আম্মু এসব তুমি কি বলছো। তোমরাই তো আমাকে নিয়ে চলে আসছো। ওখানে যেতে আর না হয় সেই জন্যই তো এখানে চলে আসলাম। আর আমি আমার অতীত ভুলতে চাই। আমার কাছে এখন কারুর জন্য কোন সময় নেই।
~ আমি জানি আলো। কিন্তু চাইলেই কি তুই অতীত ভুলতে পারবি রে!
হুম ঠিকি বাইরে থেকে নিজেকে যতোই কঠিন দেখাই না কেন, ভেতরে যে আমার ঝড় বইছে।

~ আলো লক্ষী মা আমার, তুই কথাটা রাখ মা। মানুষটা হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবেন না।
ছোট আম্মুর কথায় আমার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কিন্তু আমি নিজেকে শান্ত রাখলাম।
~ সেটাই তো স্বাভাবিক ছোট আম্মু। মানুষকে তো মরতেই হবে।

~ আলো তুই এভাবে কথা বলিস না। তোর বাবাই এর সত্যিই অনেক শরীর খারাপ উনি হয়তো বাঁচবেন না।
~ তো এখানে আমি কি করতে পারি! আমি তো আর ম্যাজিক করে ওনাকে অমরণশীল করে তুলতে পারবো না!
~ আলো এতো বছর হয়ে গেছে এখনো তুই রাগ করে আছিস! জানিস ওনারা সবাই কত কষ্টে আছেন?
~ আচ্ছা ছোট আম্মু তাতে আমি কি করতে পারি বলোতো?

রাগ দেখিয়ে কথা গুলো বলে মোবাইল টা হাতে তুলে নিলাম। ছোট আম্মুর কথা শুনতে চাই না।
~ তুই, তুই বাংলাদেশ ফিরে চল? ওনারা অনেক কষ্টে আছেন! জানিস পিয়াস নিজে,
~ ওহহহ ছোট আম্মু তুমি কি এখন আমার সাথে এই সব কথা বলতে বসলে। আমার ভালো লাগছে না। তুমি এখন যাও তো। এমনিতেই অনেক বিরক্ত আছি আমি।

তারপর আবার ফালতু কথা গুলো নিয়ে বসলে। যাও তো তুমি এখন, ঘুমাতে দাও আমায়, সকালে উঠেই আবার আমাকে বেরোতে হবে। যত্তোসব..
ছোট আম্মুকে একপ্রকার জোর করেই আমার রুম থেকে বের করে দিয়ে মুখের ওপর দরজা দুম করে বন্ধ করে দিলাম।
উফফ এই ছোট আম্মুটা না যাতা একটা। একবার যখন চলে এসেছি তখন আবার ওখানে কি নাটক করতে যাবো!

সকালে উঠে রেডী হয়ে বেরোতে দেখি ছোট আম্মু সোফায় বসে আছেন।
~ গুড মর্নিং সুইট হার্ট।
আমি ছোট আম্মুর গলা জড়িয়ে কথা গুলো বললাম। কিন্তু আম্মু মুখটাকে পেঁচার মতো করে আমার হাতটা সরিয়ে দিলো।
আমি আর কিছু বললাম না। বেরিয়ে চলে আসলাম।

রাগ করলো তো আমার বয়েই গেলো। রাগ ভাঙাতে গেলে আবার ওইসব কথা বলবে। আমি কোনভাবেই এখন মাথা গরম করতে চাইছি না।
~ কি ভাবছো! আরে এই…
~ হুমম,
অফিসার সাগরের ডাকে আমার ঘোর কাটে। হাত থেকে ফাইলটা নামিয়ে রেখে তার দিকে তাকাই।

~ কি ব্যাপার আজ তোমাকে অন্যমনস্ক লাগছে কেনো?
~ কই, কোথায়, না তো।
~ উহু বললেই হলো.. কখন থেকে দেওয়ালের দিকে চেয়েই আছো আর একটার পর একটা ফাইলের পাতা উল্টাচ্ছো। কিছু একটা তো ভাবছো তুমি?
~ নাহ, কি আর ভাববো বলো নতুন করে।

~ আচ্ছা বেশ, চলো চা খেতে খেতে কিছুটা পথ হাঁটি।
~ নাহ চা খাবো না।
~ বেশ খেতে হবে না, আমি খাবো তুমি দেখবে।
~ না, তার থেকে বরং চলো সমুদ্রের ধারে যাই। অনেকদিন হলো যাওয়া হয় নি। একটু পর সন্ধ্যা নামবে, সূর্য ডুবে যাওয়া দেখবো, সাথে ঢেউ এর পানিতে পা ডুবাবো।

~ জো হুকুম, চা নয় ঢেউই বরং খাই
~ উফফ তোমার না, সব কিছুতে ফাজলামো শুধু। যেতে হবে না তুমি চা খাও
~ আচ্ছা রাগছো কেন! ওকে বাবা চলো সমুদ্রে যাই। তবে তার আগে এ সি পি স্যারকে ফাইলটা দিয়ে বলে যাই।

~ হুম। ওই তো স্যার আসছেন।
~ স্যার কেস ফাইল গুলো একবার চেক করে নিন। স্যার আমি আলোকে নিয়ে ঢেউ খেতে যাচ্ছি
~ মানে, ,
সাগরের কথা শুনে এ সি পি স্যারসহ সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আভা আর অনুরাগ মুচকি মুচকি হাসছে, আমি অপ্রস্তুতে পড়ে গেলাম।

~ স্যার ওর কথা ছাড়ুন তো। ও চা খাওয়ার জন্য বলছিলো আমি ওকে বললাম সমুদ্রের ধারে যাবো সূর্যাস্ত দেখবো, অনেক দিন যাওয়া হয় নি।
আমার কথা শুনে এ সি পি স্যার দমফাটা হাসিতে ফেটে পড়লেন তার দেখাদেখি সবাই হাসছে শুধু আমি ছাড়া।
~ ও যাও তাহলে ঢেউ খেয়ে এসো। আমাদের জন্যও ঢেউ এনো, আমরাও খাবো।
নেত্রা ম্যাম এর কথায় আবার সবাই হাসির জোর বাড়িয়ে দিলো। আমি রাগ দেখিয়ে অফিসের বাইরে চলে আসলাম। আমার পিছু পিছু সাগর চলে আসলো।

আমার চোখের সামনে বিশাল অগভীর নীল সমুদ্র। যার গভীরে নামলে সারা জীবনের মতো হারিয়ে যাওয়া যায়। মাথার ওপরে খোলা আকাশ লাল হলুদে সেজেছে। সূর্য টাকে অনেক কাছে লাগছে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।
আমি জুতো খুলে একটা বড়ো পাথরের ওপর বসি। ছোট্ট একটা ঢেউ এসে আমার পায়ের আঙুলগুলো ভিজিয়ে দিলো।

~পিয়াস ভাইয়া আমাকে সমুদ্রে ঘুরতে নিয়ে চলো না। জানো রাত্রি তার বাবা মা এর সাথে কক্সবাজার গেছে সমুদ্র দেখতে।
~ হুম আমরাও যাবো একদিন।
~ উফ তুমি নিয়ে যাবো যাবো করে নিয়েই যাও না, আর কারো সাথে যেতেও দাও না।
আমার হাতের আঙ্গুলে কারো আঙুলের স্পর্শ পেয়ে অতীত থেকে বেরিয়ে আসি। সাগর আমার পাশে বসেছে। আমার হাতের আঙ্গুলে আঙ্গুল ঢুকিয়ে আমাকে দেখছে।

~ এই কি হয়েছে বলো না।
~ ছোট আম্মু বলছিলো বাবাই এর মানে পিয়াস ভাইয়ার বাবার শরীর খারাপ।
~ ও আচ্ছা, কি হয়েছে ওনার?

~ জানি না, জিজ্ঞাসা করি নি। তবে না কি ভীষণ সিরিয়াস অবস্থা কোন চান্স নেই। ছোট আম্মু বলছিলো বাবাই চায় এই শেষ বয়সে এসে উনি আমাকে ছেলের বউ হিসেবে দেখতে চায়।
~ ও ভালো তো।
সাগর আমার হাতটা ছেড়ে দিলো। হঠাৎ কি হয়ে গেলো বুঝলাম না!

পর্ব ৪

~ কি হলো হাতটা ছেড়ে দিলে কেনো? আর মুখটাকে হুতুম পেঁচার মতো করে আছো কেন?
~ তাছাড়া আর আমি কি করতে পারি বলো তো! তোমাকে কবে থেকে বলছি আমার আর অনিতার কানেকশন টা ঠিক করে দাও। তুমি তো কোনো কেয়ারি করছো না।

~ হা হা হা ও আচ্ছা এই ব্যাপার তাহলে।
রিয়েল লাভ এর মানে বোঝো! তুমি যাকে সত্যিই ভালোবাসো মন থেকে সত্যিকারের তার কথাই ভাবো, তাহলে কেউ তোমাদের আলাদা করতে পারবে না। আমি জানি অনিতা তোমার প্রতি অনেক দূর্বল ও তোমাকে মন থেকে অনেক ভালোবাসে। তোমাদের প্রেম পরিণতি পাবেই দেখো।
~ ছাই পাবে।
~ হাউ ফানি!
~ আই নো।

বাড়িতে ঢুকতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। ছোট আম্মু কাঁদছেন, আর ছোট আব্বু মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম, কাঁপা কাঁপা পায়ে ওনাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
~ ছোট আম্মু, আব্বু কি হয়েছে!
ওনারা আমাকে কেউ কিছুই বলছেনা। যেমন ছিলো তেমনি আছে। ~ তোর বাবাই এর অবস্থা খুব খারাপ। দু বার স্টোক করেছে মানুষটার। এবার যদি তাই হয় তাহলে আর বাঁচানো যাবে না।

~ ছোট আব্বু কি বলছো তুমি?
~ হ্যা রে মা। উনি চাইছেন তোকে ওনার ছেলের বউ হিসেবে দেখতে চান। আমি জানি তুই যেতে চাস না। দেখ তোকে ছোট থেকে বড়ো ওনারাও করেছেন আদর দিয়েছেন। জানি যা কিছু হয়েছে তাতে তোর মনে যে ক্ষতো সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।

~ আমাকে কি করতে বলছো তোমরা!
~ সেদিন তুই আমাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলি। বলেছিলি আমরা যদি তোকে বিয়েটা করতে বলি তাহলে তুই করবি। আমরা তোকে অনুরোধ করছি তুই,
~ বেশ তবে তাই হবে।

~ আলো, এই আলো, ওঠ।
কান্না করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। চোখ খুলে দেখি খালাম্মা আমাকে ডাকছেন।
আমি উঠে বসে খালাম্মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি।

~ তোমরা সবাই খুব খারাপ একমাত্র বাবাই ছাড়া। যেদিন থেকে এসেছি তোমরা আমাকে সবাই দূরেই ঠেলে রেখেছো। খালাম্মা আমার মুখটা দু হাতে তুলে ধরলেন। আমার চোখের পানি মুছিয়ে দিলেন। আমি ফুঁপাতে থাকি।
~ তুমি জানো ভাবী আমাকে তার রুম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট্ট বাবুটাকে আমার সাথে কথা বলতে মানা করেছে।

~ আমরা কি তোর ওপর একটু রাগ দেখাতে পারি না! অভিমান করতে পারি না!
~ হ্যা আলো আমাদের অবহেলায় বুঝলি তো, তোর যা কষ্ট হলো আমাদের তাই হচ্ছিল রে। খুব কষ্ট পেয়েছি আমরা। আর তুই আমাদের কতো বড়ো শাস্তি দিয়েছিলি বল!আর সবচেয়ে বেশি রাগ হলো যখন বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লো তুই তো আসতেই চাইছিলি না। আমরা ভেবেছিলাম তুই আমাদের ওপর এতো রেগে আছিস যে তোর বাবাই যদি মারাও যায় তোর কোন কষ্ট হবে না।

ভাবী পিচ্চি বাবুটাকে কোলে নিয়ে আমার কাছে এসে কথাগুলো বলে বসলো।
~ তারমানে, তোমরা আমার সাথে,
~ হুম আমরা একটু মজা করছিলাম তোর সাথে।
~ তোমরা না খুব পচা আমি কথা বলবো না তোমাদের সাথে।

ভাবী আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি তখনো কাঁদছি। হঠাৎ পিচ্চি বাবুটা আধো আধো গলায় বললো,
~ জানো তো আলো মা, মাম্মাম এর কথা শুনে তুমি চলে যেতে মাম্মাম খুব কান্না করছিলো।
আমি ভাবীর মুখের দিকে তাকালাম। ~ হ্যা রে আলো তোকে যতবার কষ্ট দিয়েছি তার থেকে বেশী আমিও কষ্ট পেয়েছি বিশ্বাস কর। তোর বড়ো ভাইয়া তোর সাথে ওভাবে কথা বলে নিজেও কষ্ট পেয়েছেন। আমরা কেউ মন থেকে কিছু করি নি সব কিছু অভিমান করে করেছিলাম রে। মাফ কর বোন।

~ ভাবী তুমি এভাবে বলবে না। আমি জানি তোমরা আমাকে অনেক ভালোবাসো।
~ হুম ভালোবাসি, ভালোবাসা খেয়ে কি আর পেট ভরবে। খেতে হবে তো না কি এবার। আজ সব রান্না তোর মন পচ্ছন্দের হয়েছে।
~ লাভ ইউ খালাম্মা।

আমি তো ভাবতেই পারছি না। সবাই আমার সাথে মজা করছিলো! আর পিয়াস ভাইয়া, । খালাম্মা আর ভাবীর সাথে নীচে আসলাম। দেখি বড়ো ভাইয়া ডাইনিং এ প্লেটে খাবার দিচ্ছে। আমি অবাক হয়ে চোখ বড়ো করে তাকালাম। বড়ো ভাইয়া আমাকে দেখে মুচকি হাসলো।
~ আলো ওইভাবে না দেখে আয় খেতে বস। আজকে সব রান্নাই আমি করেছি।
~ ভাইয়া কি বললে তুমি রান্না করেছো! তুমি রান্না শিখছো?

~ হ্যা রে আলো তোর ভাইয়া রান্না করেছে। জানিস তুলি যখন হয়েছিলো তখন তো মা অসুস্থ ছিলো তোর ভাইয়া সারাদিন রান্না করে আমাদের খাইয়ে ছিলো।
~ ও তাহলে তো বড়ো ভাইয়ার হাতের রান্না খেতে অনেক মজা হবে। কিন্তু পিয়াস ভাইয়া তো আসেনি এখনো!
~ আলো এখনো পিয়াস ভাইয়া বলবি!ভাইয়াটা বাদ দে মা! তা নাহলে আমার মেয়ে আবার তোকে ফুপু বানিয়ে দিবে
~ ঠিক আছে, পিয়াস
আমার কথা শুনে সবাই হেসে ফেলে।

ভাখালাম্মা আমার মাথায় হাত রাখলেন।
~ আলো যা কিছু হয়েছে ভুলে যা। তবে পিয়াসকে তুই শাস্তি দে যেভাবে পারিস। তবে আমাদের ছেড়ে যাস না তুই।
~ আমি কথা দিলাম। তবে তোমরা যখন অনুমতি দিয়েছো আমি পিয়াস ভাইয়া থুড়ি পিয়াসকে শাস্তি দিব।
~ আমার বিশ্বাস এবার যখন ঢাকা থেকে আসবি তোদের দুজনকেই যেনো খুশি দেখি। আমরা তো এটাই চাই, সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেল।

পর্ব ৫

সকালে বাবাইকে জড়িয়ে ধরে আছি। ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু কি করবো ওই উগান্ডা পিয়াস বাচ্চাটার জন্য যেতে হচ্ছে। ইচ্ছে ছিল পিচ্চি বাবুটার সাথে খেলা করবো, সময় কাটাবো, কিন্তু তা আর হলো কোথায়।
সবাইকে বিদায় জানিয়ে ঢাকা চলে আসলাম। গাড়িতে পিয়াস ভাইয়া একটা কথাও বললো না। আমারো কথা বলার কোন শখ নাই।

এখন রাত দশটা বাজে। আমি নুডলস রান্না করে রুমে নিয়ে এলাম। পিয়াস ভাইয়া থুড়ি পিয়াস এখন বিছানায় হেলান দিয়ে বসে ল্যাপটপে টাইপিং করছে। আমি বেশ কয়েকবার গলা ঝাড়া দিলাম মুখে কিছু বলা তো দূর তাকালোই না।

আমি নুডলস টা ওনার সামনে রেখে দিয়ে আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে হাত দিয়ে একটা একটা করে নুডলস খেতে শুরু করলাম।
~ এটা কি ধরনের খাওয়া! চামচ নেই? তাও আবার বিছানায় বসে! সোফা আছে যাও সোফায় গিয়ে বসে খাও।
~ আমি এখানেই খাবো।
পিয়াস আমার কথা শুনে ব্যালকেনীতে উঠে চলে গেলো। আবার ফিরে এসে নুডলস এর প্লেটটা নিয়ে চলে গেলো।

হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলে বিছানা হাতড়ে দেখলাম পিয়াস নেই। চোখ খুলে দেখি সোফাতেও নেই। আমি বেশ ভয় পেয়ে উঠে বসি। পিয়াস কোথায় গেলো! আমাকে একা এখানে রেখে দিয়ে চলে গেলো না তো! একটা গন্ধ বেশকিছুক্ষণ ধরে নাকের কাছে ঘুরাঘুরি করছে। হুম আমি নিশ্চিত এটা সিগারেট এর গন্ধ। গুটি গুটি পায়ে এসে দেখি পিয়াস ব্যালকেনীতে দাঁড়িয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে।
~ এতো রাতে না ঘুমিয়ে আলতু ফালতু জিনিস কেন খাচ্ছো?

অনেকক্ষণ হয়ে গেলো পিয়াস কিছুই বলছে না। আমি পিয়াস এর হাত থেকে সিগারেটটা কেড়ে নিয়ে ফেলে দিলাম। পিয়াস আমাকে থাপ্পড় মারতে গিয়েও মারলো না। কি যেনো সাত পাঁচ ভেবে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।
~ সিগারেটটা কেনো ফেললি আমার বুকের ভিতরের জ্বালাটা ওই সিগারেটটাই মেটাতে পারে।
~ তুমি আজ থেকে সিগারেট খাবে না। তোমার বুকের জ্বালা আমি মেটাবো।

পিয়াস আমাকে ছেড়ে ব্যালকেনীর রেলিং ধরে সশব্দে হেসে উঠলো।
~ ছেড়ে চলে গিয়েছিলি তো? কেনো ফিরে এলি? আমি তো রেপিস্ট, আমার সাথে সংসার করা যায়!
তোর একবারো ছোটবেলার কথাগুলো মনে পড়লো না! সব ভুলে গেছিস? তুই জানিস না আমি তোকে কতোটা ভালোবাসি? সেদিন রাগের মাথায় অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছি, আমি মানছি তো, ক্ষমাও চেয়েছিলাম কিন্তু তুই সেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলি। আর চলেই যখন গেলি এই দেশ ছেড়েও চলে গেলি।
পিয়াস কাঁদছে, আর এই কান্নায় অনুশোচনা
আছে। আমি পিয়াস এর হাত দুটো ধরলাম।

~ তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়ে আমিও ভালো ছিলাম না বিশ্বাস করো।
~ মিথ্যা। যদি তাই হতো একটা বার হলেও আমার সাথে যোগাযোগ করতিস। আমাকে ক্ষমা করে দে আলো।
আমি পিয়াস ভাইয়ার চোখের পানি মুছিয়ে দিলাম।

~ তুই জানিস এই পাঁচটা বছর আমি কিভাবে ছিলাম! আমার প্রতিটা রাত, প্রতিটা দিন কতোটা যন্ত্রণায় কেটেছে? আম, আমার,
পিয়াসকে আর কিছু বলতে দিলাম না। ওর ঠোঁটে আমার ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম। পিয়াস যেনো হতবাক হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর ও কে ছেড়ে দিয়ে হাঁপাতে লাগলাম। ও আমাকে কোলে তুলে নিয়ে এসে বিছানায় শুইয়ে দিলো। ওর প্রতিটা স্পর্শে আমি ভালোবাসা অনুভব করছি।

সকালে ঘুম ভাঙ্গলে দেখি পিয়াস আমার পাশে নেই। আমার শাড়িটা ফ্লোরে পড়ে আছে দেখে কাল রাতের ঘটনা মনে পড়ে যায়। আমি উঠে বসতেই দেখলাম পিয়াস সোফায় বসে আছে আর আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আমি লজ্জায় মুখ নীচু করে ফেলি।

ওয়াশরুমে গিয়ে একটা লম্বা শাওয়ার নিই। আজ আমার খুব শান্তি লাগছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছছি। হঠাৎ পিয়াস এসে আমার কোমরে চিমটি কাটলো। আমি সামান্য চিৎকার করলেই পিয়াস আমার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়। আর আমার হাত দুটো পেছনে চেপে ধরে। অনেকক্ষণ পর ছেড়ে দিলে আমি জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকি আর হাতে হাত বুলাই।

~ হাত দুটো চেপে ধরেছিলে কেন? দেখো লাল হয়ে দাগ বসে গেছে।
~ তোর হাত ধরে না রাখলে আমার দাগ বসে যেতো।
~ মানে,
পিয়াস টিশার্ট টা খুলে ফেললো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

~ চোখ বন্ধ করে আর লজ্জা পাবার ন্যাকামি করতে হবে না। দেখ তুই আমার কি অবস্থা করেছিস।
আমি চোখ খুলতেই পিয়াস ভাইয়ার উন্মুক্ত শরীরে দেখতে পাই আঁচড়ানো দাগ। ইসস এইরে কাল রাতে আমিই এই চিহ্ন গুলো দিয়েছি ভাবলেই আমার কেমন হচ্ছে।
~ আজ্ঞে হ্যা আপনি এই অবস্থা আমার করেছেন। আর নখগুলো দেখি হাতের! রাক্ষসীর থেকেও বড়ো। আপনি আজ এই নখ কাটবেন .. তা না হলে আমার বারোটা বেজে যাবে।

~ কি আমি নখ কাটবো! আর আমার এতোসুন্দর নখ গুলোকে রাক্ষসীর নখ বলছো? তুমি জানো এই নখ গুলো বানাতে আমার কতো সময় লেগেছে! আমি এই নখ কাটবো না।
~ আচ্ছা বেশ কেটো না। আমাকেই তাহলে আমার সুবিধার জন্য হাত দুটো বেঁধে কাজ করতে হবে।
~ মা, নে, মানে হাত বাঁধবে, আমি কিন্তু খালাম্মাকে বলে দেবো।

কথাটা বলেই আমি জিভ কেটে ফেললাম। ইসস আমার লজ্জা গুলো সব চলে গেলো না কি! কি বলে ফেললাম আমি! আমি সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই পিয়াস আমাকে কখন যে বিছানায় নিয়ে চলে এসেছে তার টেরই পায়নি।
আমি উঠতে গেলেই আমাকে আবার টান দিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

~ আলো তুই ছোটো থেকে একই রয়ে গেলি বল! একটুও বদলাসনি! এখন আমাদের বিয়ে হয়েছে আলো। তুই মা কে বলবি বুঝি আমি তোকে কিভাবে আদর করি!
পিয়াস কথাগুলো বলে আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো। আমি সামান্য কেঁপে উঠলাম। পিয়াস আমার নাকে নাক স্লাইড করতে লাগলো। আমি চোখ বন্ধ করে আছি। পিয়াস আমার গলায় মুখ ডোবালে আমার ঘোর কেটে যায়। আমি নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাতে পিয়াস বেশ বিরক্তির স্বরে ধমকায়।
~ ওহ আলো শান্ত থাক না ছটফট করছিস কেন?
~ ওই সকাল সকাল শুরু করে দিয়েছো।

~ কি করবো হাতের কাছে এমন মাখন পেলে ছাড়া যায় বল তো?
~ পিয়াস ভাইয়া তুমি না ভীষণ দুষ্টু হয়ে গেছো!
~ ওহ আলো আর ভাইয়া বলিস না। আফটার অল কাল রাতের পর আর এই ভাইয়াটা অন্তত বলিস না।
আমি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে পড়লাম।

~ তো কি বলবো সোয়ামি।
~ আলো থাপ্পড় খাবি, দিলি তো রোমান্সের তেরোটা বাজিয়ে ।
~ আপনার কি আপিস নেই সোয়ামি! তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নিচে আসেন সোয়ামী ।
~ তবে রে, ।

ও আমাকে ধরতে নিলেই আমি ছুটে নীচে চলে আসি। কিচেন রুমে ঢুকে ওর জন্য নাস্তা তৈরি করছি।
হঠাৎ ডোরবেল বাজার শব্দ হয়। এখন আবার কে এলো! খালাম্মা আমাকে দেখে তাকতে পারে নি তাই কি চলে এলো! সাত পাঁচ ভেবে হাত মুছতে মুছতে এসে দরজা খুললাম। একটি মেয়ে এসেছে, কিন্তু আমি তাকে চিনি না কখনো দেখিও নি! আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই সে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

~ পিয়াস কোথায়? পিয়াস, পিয়াস,
~ উনি ওপরে নিজের রুমে আছেন? কিন্তু আপনি কে?
মেয়েটা আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে কোন উত্তর না দিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো।

লেখা – সুশমিতা জানা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “আমার তুমি আছো (সিজন ২: ১ম খণ্ড) – Moner abegi kichu kotha” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – আমার তুমি আছো (সিজন ২: শেষ খণ্ড) – Moner abegi kichu kotha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!