ভুতের গল্প

প্রতিশোধ – রহস্যময় ভূতের গল্প

প্রতিশোধ – রহস্যময় ভূতের গল্প: এমডি স্যার আমার সাথে রুম্পার শারীরিক সম্পর্ক করার ব্যাপারে এত আগ্রহ কেন? এর পিছনে কোনো উদ্যেশ্য কোনো কাহিনী আছে কি? আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা। অফিসের কাজের চাপ তার ওপর…..

মূলগল্প


পর্ব ১

রাত ১২ টার সময় আমার বউকে উলঙ্গ হয়ে শাওয়ারে গোসল করতে দেখে বেশ অবাক হলাম। শরীরে কাপড়ের কোনো ছিটেফোটাও নেই। কিন্তু হঠাৎ করে এত রাতে এভাবে গোসল করছে কেন?

  • সোহানা তুমি এত রাতে এভাবে গোসল করছো কেন?

ভেতর থেকে কোনো সাড়া এলোনা। সোহানা শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে আছে। মুখটা আয়নার কাচের দিকে। আমার কথা তার কানে পৌছাছে কি বুঝতে পারলাম না। আমি দ্বিতীয়বার তাকে ডাক দিলাম। কিন্তু আবার কোনো সাড়া এলোনা। আমি বাথরুমের ভিতরে প্রবেশ করি। সোহানার কাধে হাত দিতেই সোহানা চমকে উঠে।

  • মুজাহিদ তুমি এখানে কি করছো? আর আমার কাপড় কোথায়?
  • প্রশ্ন গুলো আমি তোমাকে করবো কিন্তু তার আগে তুমিই করে দিলে।
  • মানে বুঝলাম না।
  • মানে হলো তুমি এত রাতে বাথরুমে উলঙ্গ হয়ে গোসল করছো কেন? আর কত ডাকছি সাড়া দিচ্ছোনা।
  • কি বলছো এসব? আমি তো পানি খেতে উঠেছিলাম তারপর তুমি ঘাড়ে হাত দিলে মাঝখানে কি হয়েছে কিছু মনে নেই।

আমিও আর তখন সোহানাকে আর কিছু জিগ্যেস করিনি। সোহানা কাপড় পড়ে গিয়ে শুয়ে পড়ে। আমিও শুয়ে পড়ি। কিন্তু আজকে আমার আর ঘুম আসবেনা। আজকে আমাকে অনেক ভাবাচ্ছে। কয়দিন থেকে সোহানা মধ্যে রাতে রুমে থাকছেনা। আমি ভাবছি বাথরুমে যায়। তাই এত খুজিনি। কিন্তু আজ যখন তাকে খুজতে উঠলাম ঠিক তখন দেখি সোহানা উলঙ্গ হয়ে বাথরুমে গোসল করছে।

সকালে অফিস আছে তাই বেশি না ভেবে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। নয়তো অফিস মিস হয়ে যেতে পারে। সকালে ঘুম ভাঙে দেখি সোহানা তখনো ঘুমাচ্ছে। এমনটা কখনো হয়না সোহানার আগে আমি কোনোদিন ঘুম থেকে উঠতে পারিনি। কিন্তু বেস কয়দিন থেকে আমি আগে উঠি। সোহানা পরে। তার কাপড় সব এলো মেলো থাকে। কখনো কাপড় শরীরে থাকেইনা।

কিন্তু যখন ঘুম ভাঙে সব সাভাবিক।

আমার তখন অনেকটা টেনশন হয়। প্রথম দিন এমন দেরি করে ঘুম থেকে উঠার জন্য অনেক বকা দেই। কিন্তু সোহানা আমার কোনো কথার উত্তর দেয়নি চুপচাপ শুনেছে। পরেরদিন করাতে আবার বকেছি সেদিনো শুনেছে কোনো উত্তর দেয়নি। তাই তারপর থেকে আমি আর তাকে কিছু বলিনা। খাবার ফ্রিজে থাকে। সেখান থেকে বের করে গরম করে খেয়ে অফিসে চলে যাই।

আমি অফিস শেষে বাসায় ফিরার পথে সোহানার ফেবারিট হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি কিনি। সাথে রেশমি চুড়ি আর একটা গোলাপ ফুল। সেগুলো নিয়ে বাসায় আসি কলিংবেল চাপি কিন্তু ঘর খুলছেনা। আবার চাপ দেই। তাও কোনো সাড়া শব্দ নেই। এমন তো হয়না। আমি কলিং বেল দিলে সোহানা সাথে সাথে দরজা খুলে দেয়। মনে হয় যেন আমারি অপেক্ষায় দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকে। কিন্তু আজ দরজা খুলছেনা।

আমি আবার কলিং বেল চাপ দেই। দরজা ধাক্কা দেই।

  • সোহানা দরজা খোলো। এত দেরি হচ্ছে কেন? কোথায় তুমি?
    ঠিক তখনি ভেতরে কিছু পড়ার শব্দ হয়। ঝনঝন করে উঠে। আমি শব্দটা শুনে বারবার দরজা ধাক্কা দিতে থাকি ঠিক তখন সোহানা দরজা খুলে দেয়।
    আমি হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।
  • কি ব্যপার সেই কখন থেকে কলিং বেল দিচ্ছি শুনতে পাচ্ছিলে না?
  • সরি শুনতে পাইনি।

সোহানার কপাল ঘেমে আছে। শ্বাসপ্রশ্বাস অনেক দ্রুত হচ্ছে। তার শরীরে কাপড় ঠিক নেই। আমার দিকে কেমন ভয়াল চোখে তাকিয়ে আছে।

আমি আর সোহানাকে কিছু বলিনা। দরজা আটকিয়ে দেই। তারপর সোহানাকে তার ফেবারিট খাবার রেশমি চুড়ি আর গোলাপটা দেই। সোহানা তখন অনেক খুশি হয়। আমাকে জোড়িয়ে ধরে। সোহানা আগে যখন জোড়িয়ে ধরতো তখন যতটা নিজের মধ্যে ফিলিংক্স কাজ করতো আজকে তার কিছুই হয়নি। আমি সোহানার কপালে বিনা ফিলিংক্সে চুমো দেই।

রাতে খাওয়া শেষে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। অফিসে অনেক কাজের চাপ ছিলো। শরীর ক্লান্ত তাই বিছানাতে গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়ি। পানির ঝিরঝির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানার পাশে হাত দেই। সোহানা নেই পাশে শব্দটা বাথরুম থেকেই আসছে। কিছুখন পরে সোহানা বাথরুম থেকে বেরিয়ে আমার পাশে শুয়ে পড়ে।

শরীরে অনেক সুগন্ধী দিয়েছে মনে হচ্ছে। আমাকে সোহানার কিছু কাজ অনেক ভাবাচ্ছে। সোহানা এত রাতে কি করে? গোসল কেন করে এত রাতে প্রতিদিন? সোহানা কি অন্য কোনো কাজ করে নাকি শুধু গোসল করে? কিন্তু কেন? বাড়িতে এসি লাগানো আছে। গরমো নেই যে সেজন্য গোসল করবে। আমার মাথায় তখন কিছু আসছিলোনা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আজ সোহানা বিছানায় নেই। তার মানে আজ আগে ঘুম থেকে উঠেছে। আমি ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাই ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে বাহিরে যাই দেখি কিচেনে রান্নার শব্দ হচ্ছে। আমি সোহানার কাছে কিচেনে যাই। কিন্তু এমনটা দেখবো কখনে আশা করিনি।

সোহানা পুরো উলঙ্গ হয়ে আছে। তার শরীরে কোনো কাপড় নেই। কাপড় মেঝেতে পড়ে আছে। আর উলঙ্গ অবস্থাতেই রান্না করছে। আমি সোহানাকে অনেকবার ডাকি কিন্তু কোনো সাড়া দেয়না। এক ধ্যানে রান্না করতে থাকে। আমি সোহানার কাছে যাই আর আমার দিকে তার মুখ করি আর এক থাপ্পড় দেই।

সোহানা চমকে উঠে দু হাত পিছে সরে যায়। আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে যাকে বিয়ের পর এখন পর্যন্ত গায়ে হাত তুলিনি আজ হঠাৎ তাকে থাপ্পর মারলাম। তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। কিন্তু তখন আমার মনে কোনো দুর্বলতা কাজ করছেনা।

  • তুমি উলঙ্গ হয়ে রান্না করছো কেন?

সোহানা নিজের শরীরের দিকে তাকায়। তারপর তার কাপড় খুজার জন্য পাড়াপাড়ি করতে লাগে। মেঝে থেকে কাপড় নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ যখন বেশি তাড়াতাড়ি কোনো কাজ করতে যায় তখন সেটা হতে চায়না।

সোহানা আমার দিকে ভয়ালো চোখে দেখছে আর কাপড় পড়ছে। বারবার কাপড় পড়তে গিয়ে ভুল করছে। সোহানাকে দেখে মনে হচ্ছে সে আগে কখনো কাপড় পড়েনি আজকে প্রথম কাপড় পড়ছে।
বাড়িতে আমরা দুজনেই থাকি। যদি আজ বাবা মা থাকতো তাহলে কি হতো? তাদের সামনে মুখ দেখাতাম কি করে? ভাগ্য ভালে যে বাবা মা গ্রামের বাড়িতে থাকে। আমি সেখান থেকে চলে আসি। অফিসের জন্য রেডি হই। সোহানা টেবিলে খাবার দিয়ে আমাকে খেতে ডাকে। খাবার কোনো ইচ্ছা নাই আমার। তাই না খেয়েই অফিসে চলে আসি। আমি কেবিনে বসে আছি। কাজে মন বসছেনা
ঠিক তখনি অফিসের এমডি আমার কেবিনে।

  • স্যার আপনি আমার রুমে কেন? আমাকে ডাকলেই তো চলে যেতাম।
  • মুজাহিদ তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম তুমি তো বসেই আছো।
  • স্যরি স্যার। ভুলে গেছিলাম।
  • কি হয়েছে মুজাহিদ তোমার? কিছুদিন ধরে মন মরা হয়ে বসে থাকো দেখছি।
  • না স্যার তেমন কিছুনা।
  • ঠিক আছে। শোনো আজকে একটা পার্টি আছে। তোমাকে কিন্তু থাকতে হবে।
  • স্যার বাসায় আমার স্ত্রী একা আছে। তার শরীর খারাপ পার্টিতে আমার থাকা কি খুবি জরুরী?
  • হ্যা। অনেক জরুরী। বিদেশী কোম্পানিকে নতুন প্রযেক্টটা তুমি তাদের দেখাবে।
  • স্যার তাও যদি।
  • না মুজাহিদ একদিনে কোনো সমস্যা হবেনা। তোমার থাকতে হবে।

অফিসের এমডির সাথে তো আর বেশি তর্ক করা যাবেনা। তাই রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু মনটা বাড়িতে চলে যায়। বাসায় ফিরতে দেরি হলে একা একা কি করবে তার কোনো ঠিক নেই। পুরাদিন অফিসের কাজে কেটে গেলো। সন্ধ্যার দিকে অফিসের সবাই মিলে পার্টিতে যাই।

সেখানে বিদেশী কোম্পানীকে আমাদেন প্রযেক্টের কথা বলি। তারা সবকিছু দেখে অনেক পছন্দ করে। আর আমাদের কোম্পানীর সাথে তারা চুক্তি করে। স্যার তো অনেক খুশি হয় তাতে। সবাই খুশিতে তখন ড্রিংক্স করছিলো আর ফুর্তি করছিলো। শুধু আমার মনটা বাড়িতে পার্টিতেও মন বসাতে পারছিনা। একটা বিষয়ে হঠাৎ খকটা লাগে সোহানা আমাকে এখনে একবারো ফোন দেয়নি আমি কেন দেরি করছি। বাড়িতে এখনো যাইনি কেন।

পার্টি মাঝে আমি স্যারের কাছে যাই।

  • স্যার কাজ তো শেষ। আমি বাসায় যাই?
  • আরে মাত্র তো পার্টি শুরু হলো এখনি বাসায় গিয়ে কি করবে?
  • স্যার অনেক রাত হয়েছে পরে গাড়ি পাবানা বাসায় যেতে আজকে আমি গাড়ি নিয়ে আসিনি।
  • তুমি এসব নিয়ে ভেবোনা আমার ড্রাইভারকে বলে দিবোনি সে তোমাকে বাসায় রেখে আসবে।
  • স্যার বাসায় আমার বউ একা আছে।
  • মুজাহিদ তুমি কি বউ পাগল বলোতো। এখানে কত মেয়ে আছে যাও ফুর্তি করো।
  • না স্যার আমার এসব ভালো লাগেনা।
  • আরে কি বলো এসব যুবক ছেলে তুমি এখন ইন্জয় করবেনা তো কখন করবে। আচ্ছা তুমি ঐ রুমে গিয়ে বসো।

আমার পার্টিতে মেয়েদের সাথে ফুর্তি করার কোনো ইচ্ছা নেই। এমডি সাহেব একটা মেয়েকে নিয়ে একটা রুমে ঢুকে গেলো। আর তার পিএকে কি যেন বললো। বড়লোক হলে যা হয় বাসায় বউ আছে দুইটা বাচ্চা আছে তাও এসব করে।

আমি পাসের রুমে গিয়ে বসে পড়ি। এমডি আমাকে বাসায় যেতে দিচ্ছেনা। এখানে আমার একটুকু মন টিকছেনা। কিছুখন পর দেখি রুম্পা রুমে প্রবেশ করে। আমাদের কোম্পানীতেই চাকরি করে। শুনেছি সে আমাকে পছন্দ করে। রুম্পা আমার পাশে বসে।

  • কি ব্যাপার মিস রুম্পা আপনি এখানে কেন?
  • এমডি স্যার আমাকে পাঠিয়েছে। তোমার নাকি মন খারাপ তাই মন চাঙ্গা করতে এসেছি।
  • কি যাতা বলছেন আমি ঠিক আছি।

রুম্পা আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর তার বুকের কাপড় ফেলে দেয়। আমি তখন অনেকটা ভয় পেয়েগেছি। রুম্পা যথেষ্ট সুন্দরী যেকোনো ছেলের মধ্যে ফিলিংস জাগবে। কিন্তু আমি তাদের থেকে একটু আলাদা। রুম্পা তার শাড়ি খুলে ফেলে দেয়।

আমার দিকে এগিয়ে আসতেই আমি বিছানা থেকে উঠে পড়ি। রুম্পা আমার কাছে আসে আমি তাকে একটা থাপ্পর মারি।

রুম্পা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সে এমনটা আশা করেনি। তার রুপ যৌবন আমাকে বিলিয়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু আমি তা না নিয় তাকে থাপ্পর মারলাম। এমনটা হয়তো সে আশা করেনি। তার ভাবনার বাহিরে ছিলো। রুম্পা কিছু বলতে যাচ্ছিলো আমি তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসি।

কিছুখন পর অফিসের বস বেরিয়ে আসে। আমাকে বাহিরে দেখে অবাক হয়। হয়তো সেও এটা আশা করেনি। মানুষ যা সব সময় আশা করে তা সব সময় হয়না। কিছু সময় তার উল্টোটাও হয়। তাই কোনো কিছু নিয়ে বেশি আশা করা উচিত না।

  • কি ব্যাপার মুজাহিদ তুমি এখন এখানে বসে আছো?
  • ভালো লাগছিলোনা স্যার তাই এখানে বসে আছি।
  • রুম্পা কোথায়? সে তোমার তাছে যায়নি?
  • যাবেনা কেন গেছিলো আমি সেখান থেকে চলে এসেছি। আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিন প্লিজ।
  • ঠিক আছে। তুমিই একটা মানুষ যাকে ভাঙা গেলোনা।
    বলেই হাসতে থাকে বস। আমার তখন বসের হাসি বিষের মতো লাগছিলো।
    বস তার ড্রাইভারকে বললেন আমাকে যেন বাসায় দিয়ে আসে। যাবার পথে ড্রাইভারের সাথে কোনো কথা হয়নি। যখন গাড়ি থেকে নেমেছি শুধু তখন বললো,
  • স্যার এটাই আপনার ফ্লাট?
  • হ্যা এটাই আমার কিন্তু কেন?
  • না স্যার এমনি।
    বলে গাড়ি ঘুরিয়ে চলেগেলো।

আমিও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। অনেক রাত হয়েগেছে। একবারো ফোন করা হয়নি। না যানি সোহানা খেয়েছে কি না খেয়েই ঘুমিয়েছে। আমি কলিং বেল বাজালাম। দরজা খুললনা। বেশ কয়েকবার বাজালাম একি রেজাল্ট। দরজা ধাক্কা দিলাম কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ নেই। সোহানা ঘরের মধ্যে আছে তো? যদি ঘরের মধ্যে না থাকে তাহলে দরজা ভেতর থেকে আটকানো কা করে? তার মানে ঘরের মধ্যই আছে।

আমি আরো বেশ কয়েক মিনিট কলিং বেল বাজালাম দরজা ধাক্কা দিলাম কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা ভেতর থেকে। যদি সোহানা ঘুমের মধ্যেও থাকে তাহলেও এতখনে শুনতে পাওয়ার কথা। রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। আমার তখন অনেক টেনশন হচ্ছিলো। সোহানার কিছু হয়নি তো?

আমি তখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। আমার কাছে দ্বিতীয় চাবিও নেই। কি করবো বুঝতে পারছিনা। ঠিক তখন মনে পড়ে বাহিরে একটা বড় হাতুড়ি আছে। সেদিন কি কাজে যেন রেখেছিলাম পরে আর ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমি হাতুড়ি টা খুজে বারবার করলাম। তারপর সেটা দিয়ে দরজা ভেঙে ফেলি। পুরো বাড়ি অন্ধকার। কোনো আলো নেই ঘরের মাঝে।

তখন আমার কানে আশে কোনো মেয়ের মৃদু চিৎকার তা কোনো আত্মচিৎকার ছিলোনা। চিৎকারটা অন্য রকম ছিলো। কি হচ্ছে ঘরের মধ্যে?

আমি এক এক করে সব লাইট জ্বেলে দেই। তারপর আমার ঘরে যাই। সেখানে দেখি আমার বিছানায় কোনো চাদর নেই নিচে পড়ে আছে। সোহানা ফ্লোরে উলঙ্গ হয়ে শুয়ে আছে। পুরো ঘর এলোমেলো। কোন জিনিস তার জায়গা মতো নেই। কেমন ঘুটঘুটে একটা গন্ধ বের হচ্ছে ঘর থেকে।


পর্ব ২

আমি সোহানাকে ডাক দেই। কিন্তু সোহানা কোন সাড়া দেয়না। আমি সোহানার শরীর ঝাকাই তাও আমার কথায় সে সাড়া দিচ্ছেনা। হঠাৎ সোহানার শরীর মচড়াতে শুরু করে। মৃদু শব্দ করতে থাকে। সে চোখ বুজে আছে। সোহানা জিহ্বা দিয়ে ঠোটের বাহিরে চাটতে লাগে। দাত দিয়ে ঠোট কামড়ে ধরে। আর কিছুখন পর তার শরীর মচড়ানো থেমে যায়। তার অর্গাজম হয়ে যায়।

আমি এটার কিছুই বুঝলাম না। সোহানার স্বপ্ন দোষ কেন হলো? তাহলে কি প্রতিদিন রাতে গোসল করার কারন এটা? কিন্তু তার অর্গাজম হবার কারন কি? আমি তাকে ডাকছি সে আমার কথার উত্তর দিচ্ছেনা কেন? কি হচ্ছে এসব আমি কিছু বুঝতে পারছিনা। পুরো ঘর ঘুটঘুটে গন্ধতে ভরে গেছে। আমি জানালা খুলে দেই। আর সোহানার শরীর জরে জরে ঝাকি দিতে থাকি।

হঠাৎ সোহানা চোখ খুলে। আমাকে দেখেই সে উঠে বসে।

  • মুজাহিদ তুমি কখন এলে? আর ভেতরে কি করে ঢুকলে?
  • আমি অনেক আগে এসেছি। কলিং বেল দিয়ে দিয়ে যখন খুলছিলেনা তখন দরজা ভেঙে ঢুকেছি।
    সোহানা তার শরীরের দিকে তাকায়। আর বেশ অবাক চোখে আমাকে জিগ্যেস করে।
  • এসব কি করে হলো মুজাহিদ?
  • সেটা আমার থেকে তুমি ভালো জানো। এসব কি করে হলো।
  • সত্যি বলছি আমার কিছু মনে নেই। আমি এমন কেন করবো?
  • ঠিক আছে। তুমি যাও গোসল করো। কেমন গন্ধ বের হচ্ছে।

সোহানা গোসল করতে যায়। তার চোখে তখন অনেকটা ভয় ছিলো। আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলো। হয়তো আমি তাকে কিছু বলবো ভেবে ভয় পাচ্ছিলো। আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছিনা সোহানার যদি স্বপ্ন দোষ হয় তাহলে বিছানায় কাপড় পড়া অবস্থায় হবে। কিন্তু সে বিছানায় না থেকে ফ্লোড়ে পড়ে থেকে। সত্যিকারের সঙ্গম করার মতো করে তার স্বপ্ন দোষ হলো যেটা আমার চোখের সামনে। আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে।

কিছুখন পরে সোহানা গোসল করে বেড়িয়ে আসে। তার চোখে তখনো ভয় বিরাজ করছে। আমি সোহানাকে ডাক দেই। তাকে আমার পাশে বসাই।

  • আচ্ছা সোহানা তুমি প্রতিদিন উলঙ্গ হ্ও কেন?
    সোহানা কান্না করতে লাগে। আমি তার চোখের পানি মুছে দেই।
  • বিশ্বাস করো আমি এটার কিছু জানিনা। কেন উলঙ্গ হয়ে থাকি। যখন বুঝতে পারি আমার শরীরে কাপড় নেই তখন আমি অনেক মনে করার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু মনে করতে পারিনা।
    আমি বুঝতে পারলাম সোহানা নিজে থেকে তার কাপড় খুলে উলঙ্গ হয়ে থাকেনা। সে যখন এমনটা করে তখন তার হিতাহিত জ্ঞ্যান থাকেনা।
  • ঠিক আছে। এসব হয়তো মনের ভুল।
  • মুজাহিদ আমি একটা জিনিস দেখেছি আর তা মনে আছে।
  • কি দেখেছো?
  • এই বিছানায় একটা বয়স্ক লোক আর একটা মেয়ে সঙ্গম করছিলো।
  • এটা কিভাবে সম্ভব? বাড়িতে অন্য মানুষ কি করে ঢুকবে।
  • আমি জানিনা। তারা আমাকে দেখে ফেলে আর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
  • তুমি এই কথাটা আমাকে আগে বলবেনা? আর যা দেখেছো তা সত্যি না মনের ভুল?
  • তুমি যদি রাগ করো তাই বলিনি। জানিনা সত্যি কি মনের ভুল।
  • আচ্ছা ঠিক আছে। সামনে যদি এমন কিছু দেখো তাহলে অবশ্যই আমাকে বলবে।
    সোহানা নিশ্চয় স্বপ্ন দেখেছে। নয়তো এমন অপরিচিত মানুষের বাসায় অন্যকোনো মানুষ মেয়ের সাথে সঙ্গম করবেনা। তার মনের ভুল।

সোহানা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করে। ফুফিয়ে কান্না করতে থাকে। আমি তাকে কান্না থামাতে বলি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

  • মুজাহিদ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তোমাকে ছাড়া কখনো অন্য কাওকে কল্পনাও করতে পারিনা। এসব আমি নিজ থেকে কখনো করিনি।
  • আরে পাগলি আমি জানি তো আমার বউটা কেমন। এসব আর ভাবতে হবেনা তোমাকে।
  • তুমি আমাকে বিশ্বাস করতো? আমাকে ছেড়ে যাবেনা তো কখনো?

সোহানা আমাকে এই কথা আগে কখনো জিগ্যেস করেনি। যদি কখনো বলতাম তোমাকে ভালোবাসিনা অন্য মেয়েকে ভালোবাসি তাকে বিয়ে করবো। তখন সোহানা বলতো করো আমার কি। আমার জামাই আমার কাছে ঠিক চলে আসবে। আমি তখন তার কথা শুনে হাসতাম। সে জানতো আমি তাকে কতটা ভালোবাসি। তাকে ছেড়ে অন্য কারো কাছে কখনোই যাবনা।

কিন্তু এবার এই কথাটা বলেছে। তার মানে সে অনেকটা ভয় পেয়ে গেছে। তার এমন কাজে সত্যি যদি তাকে আমি অবিশ্বাস করি। তাই এই কথাটা সোহানা বলেছে। সোহানার ভয়টা কমাতে হবে। তাকে আবার বুঝাতে হবে তাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবনা।

  • সোহানা রাতে খেয়েছো তুমি?
  • না খাইনি। তুমি সকালে রাগ করে না খেয়ে চলেগেলে তাই সকাল থেকেই খাইনি।
  • তুমি কি পাগল। না খেয়ে থাকতে হবে কেন? চলো খাবে এখন।

আমি সোহানার হাত ধরে খাবার টেবিলে নিয়ে যাই। তারপর খাবার প্লেটে বেড়ে তাকে খাইয়ে দেই। সোহানা খাবার খাচ্ছে আর আমার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। একবারো চোখের পলক পড়ছেনা। আমি মারিয়কে ডাক দেই।

  • তুমি খাওয়া বাদ দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছো কেন।
  • আমার বরকে আমি দেখবোনা তো কে দেখবে?
  • আচ্ছা দেখার অনেক সময় আছে। তুমি আগে খাও তারপর দেখো।

সোহানার খাওয়া হলে সে আমাকে জোর করে খাওয়ায় দেই। অনেকটা ভালোবাসে। আসি জানি সোহানা তার নিজে থেকে কাজ গুলো করছেনা। তার রহস্য আমাকে বের করতেই হবে। অনেক রাত হয়েছিলো আমরা গিয়ে শুয়ে পড়ি। সোহানা প্রতিদিনের মতো আজো আমার বুকে মাথা রেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়। আমি তার লস্বা চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়ি।

কলিং বেল বেজে উঠে। আমি দরজা খুলে দেই। দেখি একটা ২০ ২১ বছরের মেয়ে। মর্ডান পোশাক পড়া। আমি তাকে চিন্তে পারিনা। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে।

  • আরে কে আপনি এভাবে ভিতরে ঢুকছেন কেন?
    মেয়েটা আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।
  • তুমি আমাকে বলছো কে আমি? তুমি তো ফোন করে আসতে বললে।
  • আমি আপনাকে কখন ফোন দিয়ে আসতে বললাম? আমি আপনাকে চিনিনা।
  • জানু তোমার মজা ছাড়ো। আজকে পুরা রাত মজা করবো। আজকে আমি শুধু তোমার।
  • কি সব ফালতু কথা বলছেন? আমার বউ ঘরে আঝে দেখলে আমাকে ভুল বুঝবে।
  • আহ জানু রাখো তো তোমার মজা। তোমার বউ তো অন্য বাড়িতে। এবাড়িতে শুধু তুমি আর আমি।
    মেয়েটা বলে কি। আমার আবার ডাবল বাড়ি কোথা থেকে আসলো? আমি রুমের ভেতরে যাই। সত্যি রুমের মধ্যে কেউ নেই। পুরো বাড়ি তে সোহানার কোন খোজ নাই। কি হচ্ছে এসব।
    আমি আবার বাহিরে আসি। দেখি মেয়েটা নেই। বাথরুম থেকে পানি পড়ার আওয়াজ আসছে। আসি বাথরুমের কাছে যাই। বাথরুমের দরজা খোলাই আছে। মেয়েটা পুরো উলঙ্গ হয়ে গোসল করছে। আমাকে দেখে সে আয়নার দিকে তাকায় আর বলে,
  • তোমার কথা মতো জিম করে কত সুন্দর বডি বানিয়েছি।
  • আপনার মাথা খারাপ হয়েছে। আপনাকে আমি চিনিনা আর জীম করতে বলবো?
    মেয়েটা তখন আমার দিকে তাকায় আর কামনার ভঙ্গিতে সাবান দিতে থাকে শরীরে।
  • কাছে এসোনা আমার শরীরে সাবান দিয়ে দেও।
    -কি ফালতু কথা বলছেন।

হঠাৎ দেখি মেয়েটার পাশে আরেকটা মেয়ে ফ্লোড়ে পড়ে আছে। তার গলা কাটা। দুজন একি রকম মেয়ে একজন মরা আনেকজন জীবিত। জীবিত মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছেনা। গলার নিচ থেকে ফিকনি দিয়ে রক্ত আমার মুখে এসে পড়ে।
আমি ধড়ফড় করে বিছানাতে উঠে বসি। তার মানে এতখন স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু এমন স্বপ্ন কেন দেখলাম হঠাৎ করে। আমি বিছানা থেকে উঠতে যাবো ঠিক তখন দেখি বিছানাতে সোহানা নেই। ঘরের আলো বন্ধ। জানালাটা খুলে যায়। চাঁদের আলো বিছানাতে পড়ছে। ঠিক তখন পানি পড়ার শব্দ পাই। জানালা দিয়ে হুহু করে ঘরের মধ্যে বাতাস ঢুকছে।

পানি পড়ার টিপটিপ টিপটিপ শব্দ হচ্ছে। দরজা ক্যাচক্যাচ করছে। অনেক ভয়ানক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমি উঠে সুইচে টিপ দেই কিন্তু আলো জ্বলছেনা। আমি আমার ফোনটা হাতে নেই। ফ্ল্যাশ লাইটের আলোতে আমি বাথরুমের দিকে এগিয়ে যাই। বাথরুমের দরজা খোলা। ফ্ল্যাশের আলো বাথরুমের মধ্যে পড়তেই আমি চমকে উঠি। স্বপ্নে দেখা মেয়ের মতো করে সোহানা তার শরীরে সাবান মাখাচ্ছে।

আমি বাথরুমের ভিতরে প্রবেশ করতে যাই ঠিক তখন সোহানা আমার দিকে তাকায় তার চোখ তখন লাল টুকটুক করছে। হঠাৎ তার গলা থেকে ফিকনি দিয়ে রক্ত এসে আমার মুখে পড়ে। আমি অনেকটা ভয় পেয়ে যাই। সোহানার কিছু হলোনা তো।

আমি বাথরুমে ঢুকে সোহানার দুই কাধে হাত দিয়ে ঝাকি দেই। সোহানা সেন্সলেস হয়ে যায়। তার গলাতে হাত দেই। তার গলাতে কোনো ক্ষত নেই। তার মানে যা দেখেছি সব চোখের ভুল। আমি সোহানার শরীরে পানি দিয়ে ধুয়ে দেই তারপর তাকে একটা কাপড় পড়াই। সোহানাকে বিছানাতে শুইয়ে দেই। তারপর আমি অনেক ভাবতে থাকি কি হচ্ছে এসব। যার কোনো আগা মাথা কিছু বুঝতে পারছিনা যেমন স্বপ্ন দেখলাম ঠিক তেমন সোহানা করলো। এটা কি কোনো আত্মার কাজ? আমাকে সব কিছু খুব তাগাতাড়ি জানতে হবে।

পরের দিন সকালে সোহানা সম্পুর্ন স্বাভাবিক ছিলো। গতকাল রাতে তার সাথে কি হয়েছে সে কিছু বলতে পারবেনা। যখন তার সাথে এমন কিছু হয় তখন তার হিতাহিত জ্ঞ্যান থাকেনা। সে বলতে পারেনা তখন কি হয়েছে।

আমি সকালে অফিসে চলে যাই। অফিসে যেতে এখন মন চায়না। বাড়িতে এমন পরিস্থিতির সময় কার ভালো লাগে। সোহানার কিছু হলে তখন কি হবে? আমাকে সব কিছু খুব তাড়াতাড়ি জানতে হবে। বাড়িতে কোনো সমস্যা আছে কি। বাড়িটা অসিফ থেকে আমাকে দিয়েছে। ৩মাসের মতো আছি কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন থেকে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আমি এমডির কাছে যাই।

  • স্যার আসতে পারি?
  • আরে মুজাহিদ এসো এসো।

আমি ভেতরে প্রবেশ করি।

  • স্যার আপনাকে কিছু জিগ্যেস করতাম।
  • হ্যা করো কি জিগ্যেস করবে।
  • আপনি আমাকে স্পেশালি যে বাড়িটা দিয়েছেন সে বাড়িতে কোনো ভৌতিক সমস্যা আছে কি?
  • ভৌতিক সমস্যা? ? কি বলো এসব ভুত প্রেত বলে কিছু নেই।
  • না স্যারর কয়দিন থেকে কিছু প্যারানরমাল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
  • তোমার মনের ভুল হবে। েমন কোনো সমস্যা নেই বাড়িতে।
  • ঠিক আছে স্যার এজন্যই। আমি তাহলে আসি।
  • ঠিক আছে। আর হ্যা সামনে সপ্তাহে অফিসের সবাইকে নিয়ে ফ্যামিলি পার্টি দেব। তোমাকে দায়িত্ব নিতে হবে।
  • ঠিক আছে স্যার। কোন চিন্তা করবেননা।
  • আর হ্যা তোমার বউকে নিয়ে এসো কিন্তু। তুমি তো আবার বউকে নিয়ে পার্টিতে আসোনা।
    আমি কোনো কথা না বলে চলে আসি। স্যারের কথা শুনে তখন অনেকটা রাগ হচ্ছিলো। কিন্তু কিছু না বলে বেরিয়ে আসি।

আমি কেবিনে ঢুকে ভাবতে থাকি। আমাকে এ বিষয়ে কে সাহায্য করতে পারে। আমি কার কাছে সাহায্য চাইবো? আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা। ঠিক তখন মনে পড়ে স্যারের ড্রাইভার আমাকে কেমন রহস্য জনক ভাবে জিগ্যেস করেছিলো বাড়িটা আমার নাকি। তার চোখে কেমন রহস্য লুকিয়ে ছিলে। সে হয়তো আমাকে সাহায্য করতে পারে।

আমি কেবিন থেকে বেরিয়ে অফিসের বাইরে যাই। সেখানে স্যারের ড্রাইভার টিপুকে পাই। তাকে আমি ডাক দেই।

  • জি স্যার বলেন।
  • আচ্ছা টিপু আমি তোমাকে কিছু জিগ্যেস করবো সব সঠিক উত্তর দিবে।
  • ঠিক আছে স্যার বলেন।
  • তুমি আমার বাড়ি সম্পর্কে কি জানো যেটা আমি জানিনা?

টিপু তখন কেমন চমকে উঠে। এক পা পিছিয়ে যায়। অনেকটা ভয় পাবার মতো হয়ে যায় তার চেহারা। সে আমতা আমতা করতে থাকে। আমি তার হাতে ১হাজার নোট ধরিয়ে দেই।

  • তোমাকে আরো টাকা দেবো। যত চাও দেবো। শুধু বলো বাড়িটা সম্পর্কে।
    এবার টিপু যা বলে তা শুনে আমি অনেকটা অবাক হই।
  • এমডি স্যারের দ্বিতীয় বাড়ি ছিলো এটা। আর এখানে এমডি স্যার মেয়ে এনে ফুর্তি করতো।
    টিপুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে আরো কিছু লুকাচ্ছে। আমি টিপুকে চিপে ধরি।
  • টিপু তোমাকে টাকা দিয়ে ভরিয়ে দেবো সব কিছু খুলে বলে বাড়িটা সম্পর্কে।
  • আমি যে আপনাকে কথাটা বলছি এটা যেন কেউ না জানে।
  • কেউ জানবেনা তুমি বলো।

টিপু এবার যা বলে তা শুনে আমার বুকটা হুহু করে কেপে উঠে।


পর্ব ৩

  • স্যার ঐ বাড়িতে মেয়ে খুন হয়েছিলো। কিন্তু কিভাবে কে খুন করেছিলো কেউ জানেনা। বড় সাহেব টাকা দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে।
  • কি বলো। আমি তো এসবের কিছু জানতামনা।
  • এটা সবাই জানেনা। শুধু সাহেবের কাছের কয়েকজন লোক ছাড়া।
  • আর কিছু জানো কি তুমি?

কিছুখন টিপু ভাবলো তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

  • ঐবাড়িটা সাহেব যাকে দেয় তার কপাল খুলে যায়। তয় কিছু নেয় সাহেব।
  • কিছু নেয় মানে বুঝলামনা। খুলে বলো।
  • স্যার এ ব্যাপরে আমি তেমন কিছু জানিনা। আপনাকে রুম্পা ম্যাডাম সাহায্য করতে পারে।
    বলেই টিপু হনহন করতে করতে চলে গেলো। রুম্পা সাহায্য করতে পারে মানে? রুম্পা কি এমন জানে যেটা টিপু জানেনা।

আমি আমার কেবিনে ফিরে আসি। ভাবতে থাকি। বাড়িতে একটা মেয়ের খুন হয়েছিলো। কিন্তু স্যার আমাকে এই কথা বলেনি কেন? আর ঐ বাড়িটা যাকে দেয় তার কপাল খুলে যায় বদলে কিছু নেয় এটার মানে কি? আমাকে সবকিছুর সমাধান করতে হবে।

আমি এসব কথা ভাবছি ঠিক তখন রুম্পা আমার কেবিনে হাজির।

  • কি খবর রুম্পা আপনার? হঠাৎ আমার কেবিনে।
  • আমি আজ থেকে আপনার এসিস্টেন্ট স্যার।
  • আপনি আমার এসিস্টেন্ট হতে যাবেন কেন? আমার এসিস্টেন্ট আছে।
  • আপনার এসিস্টেন্ট এখন আমার বসের সাথে থাকবে আমি আপনার সাথে।
  • আমার আপনাকে দরকার নাই। আগে যে ছিলো সে থাকলেই হবে।
  • আচ্ছা ঠিক আছে আমি এমডি স্যারকে ডাকছি। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
    হঠাৎ আমার এসিস্টেন্টের পরিবর্তন। কিছু বুঝলাম না কি হচ্ছে এসব? ঠিক তখন এমডি স্যার হাজির।
  • মুজাহিদ সামনে সপ্তাহে ফ্যামিলি পার্টি আছে। সেখানে অনেক কাজ থাকবে তাই রুম্পাকে তোমার এসিস্টেন্ট বানিয়েছি।
  • ঠিক আছে স্যার কোনো সমস্যা নেই।

এমডি স্যার চলে যায়। রুম্পা চেয়ারে বসে আছে। আমি আমার কাজের দিকে মনোযোগ দিলাম। আমি কাজ করছি আর রুম্পা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

  • আচ্ছা স্যার আপনার মনে আনন্দ ফুর্তি নেই?
    আমি রুম্পার দিকে ভ্রু কুচকে তাকাই। এমন প্রশ্ন করছে যেটা আমি আশা করিনি।
  • কেন থাকবেনা? কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন?
  • না সেদিন রাতে আমি আপনার কাছে নিজে সপে দিলাম কিন্তু আপনি আমার দিকে ঘুরেও তাকালেননা।
  • এসব আনন্দ ফুর্তি করার জন্য আমার ঘরে বউ আছে। আপনার থেকে অনেক বেশি সুন্দরী।
    রুম্পা চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো মনে হলো। আমি নিচের দিকে তাকিয়ে এক মনে কাজ করে যাচ্ছি। হঠাৎ রুম্পা বলে উঠে
  • আমার থেকে সুন্দরী কেউ নেই এদিকে দেখেন।

আমি রুম্পার দিকে তাকাই। অফিসের মধ্যে এমন কিছু দেখবো কখনো আশা করিনি। রুম্পা তার শরীর আচঁল ফেলে দিয়েছে। ভাগ্যেস কাপড়ের নিচে রুম্পা কিছু পড়েছিলো। নয়তো কি যে হতো।
তার বুক পেট থেকে শাড়ির আচঁল নিচে পড়ে আছে। আমি রুম্পাকে ধমক দেই।

  • কি হচ্ছে এসব? আমি আপনাকে এসব করতে বলছি।
  • আপনি আমার সৌন্দর্য নিয়ে টানাটানি করবেন কেন?
  • আমি আপনার সৌন্দর্য নিয়ে টানাটানি করিনি আমি শুধু আমার মতামত প্রকাশ করেছি সেদিন রাতে কেন আপনাকে ছেড়ে দিয়েছি।
    রুম্পা রাগে গদগদ করতে করতে কাপড়ের আচঁল ঠিক করে বাইরে চলে যায়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা রুম্পা আমার পেছনে পড়েছে কেন?

ঠিক তখন করিম চাচা কফি নিয়ে আসে। বয়স হয়েছে ভালোই কিন্তু নজর এখনো কম বয়সী পুরুষের মতো। কফিটা টেবিলে রেখে বলে উঠলো

  • স্যার এমন খাসা মালকে হাতের কাছে পেয়ে কেউ ছেড়ে দেয়?
    করিম চাচার কথায় আমি চমকে উঠি। করিম চাচার নজর খারাপ জানতাম কিন্তু তার মনটাও খারাপ আজ জানলাম।
  • আপনি কি বলতে চাচ্ছেন করিম চাচা?
  • এহ মনে হয় কচি খোকা কিছু বুঝেনা।
  • সত্যি বুঝতে পারিনি কি বলছেন আপনি।
  • রুম্পা ম্যাডামের মতো মেয়েকে কাছে পেয়েও ছেড়ে দিচ্ছেন। আমার কাছে যদি আসতো জীবনে ছাড়তাম না।

আমি করিম চাচার কথা শুনে মুচকি হাসি। বয়স হয়েছে তার কিন্তু তার যৌবনের বয়স এখনো কম।

  • আচ্ছা আপনি এসব কি করে জানলেন?
  • কফি নিয়ে বড় সাহেবের রুমে গেছিলাম। সেখান থেকে আসার সময় শুনলাম। সাহেব রুম্পা ম্যাডামকে বলছে তুমি একটা অপদার্থ মুজাহিদকে এখনো পটাতে পারছোনা। তার সাথে একবার বিছানাতে যেতে পারছোনা। রুম্পা ম্যাডাম তখন স্যার কে বলে আমি তো অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু সে রাজি হচ্ছেনা। আমার বুক পেট দেখিয়েছি তাও তার ভেতর কোনো পরিবর্তন নেই।
  • এসব কথা স্যারের রুমে রুম্পা আর স্যার বলছিলো?
  • হো স্যার এসব কথা বলছিলো।
  • আচ্ছা তুমি এখন যাও।

এমডি স্যার আমার সাথে রুম্পার শারীরিক সম্পর্ক করার ব্যাপারে এত আগ্রহ কেন? এর পিছনে কোনো উদ্যেশ্য কোনো কাহিনী আছে কি? আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা। অফিসের কাজের চাপ তার ওপর এসব ভাবনা। মাথাটা অনেক ব্যাথা করতে শুরু করে। আমি অফিস শেষ হবার আগেই স্যারেকে বলে চলে আসি।

বাসায় আসার পথে একটা ছোট বাচ্চা কালো গোলাপের তোড়া নিয়ে আমার কাছে আসে।

  • ভাইয়া এই গোলাপের তোড়াটা কিনে নেন। ভাবিকে দিয়েন অনেক খুশি হবে।
    আমি বাচ্চাটার কথায় একটু হাসলাম। তারপর তার থেকে কালো গোলাপের তোড়াটা কিনে ফেললাম। আজকে প্রথম সোহানার জন্য কালো গোলাপ নিয়ে যাচ্ছি। এর আগে কখনো তার জন্য কালো গোলাপ কিনিনি। তারপর একটা নুপুর কিনি। সোহানার এখন মন খারাপ যাচ্ছে তাকে যতটা খুশি রাখা যায় তা আমি চেষ্টা করছি। একটা ক্যাটবেরি চকলেটের প্যাকেট নেই।

বাসায় এসে কলিং বেল দিতেই মনি দরজা খুলে দিলো। মনি আমার ছোট বোন।

  • কিরে তুই কখন এলি? বাবা মা এসেছে?
  • না ভাইয়া বাবা মা তাদের পৈতৃক ভিটা নিয়েই পড়ে আছে। আর আমি দুপুরে এসেছি।
  • খুব ভালো করেছিস তোর ভাবি কোথায়?
  • ভাবি আমার জন্য বিরিয়ানী রান্না করছে।
  • আমার জন্য বছরে বিরিয়ানী রান্না করেকি তার ঠিক নাই। ননদ এসেছে অমনি রান্না করতে হবে?
  • দেখতে হবে তো ভাবিটা কার।

আমি রুমের ভেতর চলে আসি। কাপড় চেন্জ করে ফ্রেশ হই। তখনি সোহানা রুমে হাজির।

  • কি ব্যাপার কখন অফিস থেকে আসলে? আর এত তাড়াতাড়ি?
  • ঐ মাথাটা একটু ব্যাথা করছিলো তাই চলে এসেছি।
  • কই দেখি জ্বর এসেছে কি?
    বলেই সোহানা আমার মাথায় হাত দেয়। ছোট বেলায় একটু শুয়ে থাকলে মা মাথায় দিয়ে দেখতো জ্বর এসেছি এখন বউ।
  • আমার কিছু হয়নি আমি ঠিক আছি।
  • ঠিক আছে একটা নাপা খেয়ে নাও ঠিক হয়ে যাবে। আমি রান্না ঘরে গেলাম। মনির সাথে দেখা হয়েছে।
  • হ্যা হয়েছে তুমি যাও।

সোহানা রুম থেকে চলে যায়। সোহানার জন্য আনা গিফটটা আর তাকে দেয় হয়নি ভুলেই গেছি।
রাতে খাবার টেবিলে আমি কালো গোলাপের তোড়া আর চকলেট আর নুপুর নিয়ে যাই।
মনি তো এসব দেখেই আমার চুল ছিড়তে শুরু করেছে।

  • আমি যখন বলতাম তখন তো জীবনেও আনতিনা। বলতি ভুলে গেছি। এখন বউয়ের জন্য ঠিকি এনেছিস।

মনির কথা শুনে আমি হাসতে লাগি। কিন্তু সোহানা হাসছেনা। তার চোখ কালো গোলাপের তোড়ার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে গোলাপের তোড়ার দিকে।

  • সোহানা তুমি চুপচাপ কেন? কি হয়েছে।
  • আমাকে ফুলের তোড়াটা দিবে? আমার খুব পছন্দ।

আমি সোহানার কথা শুনে বেশ অবাক হই। এমনভাবে বলছে যেন তাকে আমি তোড়াটি দেবনা। সে আমার কাছ থেকে খুব মিনতি করে নিবে।

  • এভাবে বলার কি আছে এই নাও। তোমার জন্যই তো এনেছি।
    সোহানা গোলাপের তোড়াটি হাতে নিয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে। নাকের কাছে নিয়েগিয়ে শুকতে থাকে। মনে হচ্ছে সে আজ প্রথম গোলাপের সুবাশ পাচ্ছে।

মনির আমার হাত থেকে ছো মেরে নুপুরটা নিয়ে নেয়।

  • নুপুরটা আমার।
  • আচ্ছা তুই রাখ।
    মনি হাসতে লাগে।
  • ভাবি গোলাপের তোড়াটি আমাকে কিছুখনের জন্য দিবে? আমি পরে পিক তুলবো অনেক সুন্দর তোড়া।
  • না না গোলাপের তোড়া দেয়া যাবেনা। এটা শুধু আমার।
  • দাও ভাবি প্লিজ প্লিজ।
    মনি জোর করতে লাগে। সোহানা তখন মনিকে একটা থাপ্পর মারে
  • বললামনা তোড়াটা শুধু আমার কাওকে দেয়া যাবেনা।

সোহানার কথার আওয়াজ শুনে আমি অনেক অবাক হয়ে যাই। সোহানা মনিকে অনেক ভালোবাসে। সোহানা মনিকে থাপ্পর দিলো আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। মনি কান্না করতে করতে রুমে চলে যায়। সোহানাও রুমে চলে যায়। আমি শুধু খাবার টেবিলে বসে আছি।
আমিও না খেয়ে রুমে চলে এলাম। দেখি সোহানা গোলাপের তোড়াটি হাতে নিয়ে বিছানে হেলান দিয়ে বসে আছে। একবার বুকের সাথে ধরছে একবার মুখের কাছে নিয়ে যাচ্ছে আর গন্ধ শুকছে। আর হাসছে। মনে হচ্ছে কালো গোলাপ তার খুব পছন্দ।

আগে কখনো সোহানাকে এমন করতে দেখিনি।
হঠাৎ মনি চিৎকার করতে করতে আমার রুমে চলে আসে। আমি মনিকে বিছানাতে বসাই। মনি অনেক হাপাচ্ছে। আমি এক গ্লাস পানি দেই মনিকে। মনি ঢকঢক করে সব পানি খেয়েফেলে। কিন্তু সোহানার এতে কোনো প্রতিফলন নেই। সে আগের মতোই গোলাপের তোড়া নিয়ে ব্যস্ত।

  • কি হয়েছে মনি এমন চিৎকার করলি কেন?

মনি অনেক হাপাচ্ছে। কথা বলতে তার কষ্ট হচ্ছে। আমি মনিকে শান্ত হতে বলি। মনি কিছুখন পরে শান্ত হয় তারপর বলে,

  • আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম হাত মুখ ধুতে। হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে আসি আর তখন দেখি একটা বয়স্ক লোক আর একটা কম বয়সী মেয়ে নগ্ন অবস্থায় শুয়ে আছে। আমাকে দেখে তারা দুজন উঠে বেরিয়ে আসে আমি তাদের পিছনে পিছনে আসি তারা গেট দিয়ে বাইরে চলে যায়। কিন্তু গেট তখন আটকানো। তারা দরজার মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যায়।

বলেই মনি কান্না করতে লাগে। আমি মনিকে কান্না থামাতে বলি। এসব হয়তো তার মনের ভুল। তারপর মনি বলে,

  • ঠিক তখন মনে হলো আমার ওপর তরল কিছু পড়ছে। । ওপরে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ের পা ওপরে ঝুলছে আর মুখ নিচে গলার নিচে ফুটো আর সেখান থেকে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে। কিন্তু যার লাশ ঝুলছে সেই মেয়েটা আমার রুমে নগ্ন হয়ে শুয়ে ছিলো। ভাইয়া লাশটা হেটে যাচ্ছে।
    একথা বলে মনি তার হাত দরজার দিকে ইশারা করে। মনি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে। আমি দরজার বাহিরে যাই। কিন্তু সেখানে কিছু নেই। সবকিছু ঠিক আছে।

আমার বোনটা কতদিন পরে বেড়াতে আসলো। আর তার সাথেই এমন ঘটনা ঘটা লাগবে। কিন্তু এমন ঘটনা কেন ঘটছে। মনির কথার মতো আমি স্বপ্নন দেখেছিলাম। সোহানা বলেছিলো রুমে দুটো নারী পুরুষ শারীরিক সম্পর্ক করছিলো তাকে দেখে তারা চলে যায়। কিন্তু সোহানা এটাকে বাস্তব ভেবেছিলো। কি হচ্ছে এসব।

আমি মনিকে বিছানায় শুয়ে আসে। আমি সোহানার কাধে হাত দিয়ে ঝাকি দেই। মনে হলো সোহানা এতখন কোনো ভ্রমের মধ্যে ছিলো। এখন সেখান থেকে ফিরে আসলো।

  • কি ব্যাপার মুজাহিদ আমি এখানে কেন আমি তো খাবার টেবিলে ছিলাম। আর মনি এখানে শুয়েছে কেন?

আমি আর সোহানাকে এসব কথা বলে ভয় দেখাতে চাচ্ছিনা। সোহানার সাথে এমনিতেই যা ঘটছে খারাপ ঘটছে। সোহানাকে এসব কথা বললে সে কান্না শুরু করে দেবে। তাই তাকে আর কিছু বললাম না।

  • মনি আজ আমাদের সাথেই থাকবে। একা একা থাকতে ভয় পাচ্ছিলো তাই এখানে শুয়ে পড়েছে।
  • ঠিক আছে কোনো ব্যপার না। আমার ননদ আমার কাছে থাকতেই পারে। তুমি সোফায় শুয়ে পড়।
    আমি সোহানার কথায় মুচকি হাসি। একটু আগে সোহানা মনিকে মেরেছে এটা বললে সে হয়তো বিশ্বাসী করবেনা। সোহানা মনিকে অনেক ভালোবাসে। সোহানা মনির মাথায় হাত দিয়ে চমকে উঠে।
  • মনির গায়ে তো অনেক জ্বর।
  • কি বলছো? জ্বর কখন আসলো।

আমি মনির মাথায় হাত দিয়ে দেখি হ্যা তার শরীরে অনেক জ্বর এসেছে। আমি বাথরুমে গিয়ে বালতিতে করে পানি নিয়ে আসি মনির মাথায় পানি দিতে।

কিছুখন মাথায় পানি দেবার পর মনির জ্ঞ্যান ফিরে আর তখন সে বারবার একটা কথাই বলছে লাশ লাশ লাশ।

সোহানা আমার দিকে তাকায়। আমি সোহানাকে ইশায়ার শান্ত হতে বলি। তাকে বুঝাই মনি হয়তো স্বপ্ন দেখছে। সোহানা মনির মাথায় পানি দিতে থাকে। কিছুখন পর মনির শরীর থেকে জ্বরের মাত্রা কমে যায়। সোহানা জ্বরের টেবলেট বের করে মনিকে খাইয়ে দেয়। সোহানা মনির পাশেই বসে ছিলো। মনির জ্বর কমলে সোহানাও শুয়ে পড়ে। তারো অনেক ধকল গেছে।

আমি সোফাতে শুয়ে পড়ি। অন্যরুমে জয়তো শুতে পারতাম। কিন্তু সোহানাকে একা রেখে অন্য রুসে শোয়া ঠিক হবেনি। অন্যদিনের মতো রাতে যদি রুম থেকে বেরিয়ে গোসল করতে লাগে আর মনি তা দেখে ফেলে কখন কি করবো? তাই রুমের ভেতরেই সোফাতে শুয়ে পড়ি। আমার চোখে ঘুম আসছিলনা। আমার মাথায় নানা রকম প্রশ্স বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলো।

অফিসে বসের কথার কারন খুজে পাচ্ছিনা। আবার বাড়িতে এমন সমস্যা। কোনটা নিয়ে আগে ভাববো কিছু বুঝতে পারছিনা। মাথাটা তখন আবার ঝিম ধরে যায়। তাই আর বেশি না ভেবে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনি। ঘুম ভাঙে কিছুর গোঙ্গানোর শব্দ শুনে।

চোখ খুলতেই দেখি ঘরের মাঝে কোনো আলো নেই। পুরো ঘর অন্ধকার। অথচ আমি ঘরের আলো জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিয়েছিলাম। ঘরের জানালা খোলা। জানালা দিয়ে চাঁদ দেখা যাচ্ছে। পুর্ণিমা হচ্ছে। পুরো চাঁদ দেখা যাচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় চাঁদের চারি ধারে মেঘ মাঝখানে চাঁদ। জানালার পর্দা উড়তেছে বাতাসে বারবার।

হঠাৎ গোঙ্গানির শব্দ বেড়ে যায়। আমি উঠে ঘরের আলো জ্বেলে দেই। যা দেখলাম তা আমি কখনো আশা করিনি। সোহানা মনি দুজনেই উলঙ্গ হয়ে আছে। আর সোহানা মনির ওপরে বসে আছে। মনির গলার মাঝে সোহানা একটা ছুরি চালিয়ে দিয়েছে। গলার নিচ দিয়ে গলগল করে রক্ত বের হতে থাকে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হবার কারনে সোহানার মুখ মাখিয়ে গেছে রক্তে।

সোহানা মনির রক্ত তার পুরা শরীরে মাখাতে থাকে। আমি তখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। নিজের বোনের এমন অবস্থা দেখে কোনো ভাই ঠিক ঠিক থাকতে পারবেনা। আমারর হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ সোহানা আমার দিকে তাকায়।

  • লাল রক্তে আমাকে কেমন লাগছে জান?
    সোহানার কথার মাঝে কামনা বিরাজ করছিলো।
  • তুমি আমার বোনকে মেরে দিলে?
  • ঠিক করেছি। আমি কত করে বললাম আমার সাথে সহবাস কর। কিন্তু শুনলনা। তাই তাকে ভোগ করে মেরে দিয়েছি।
  • তুমি কি বলছো এসব তোমার মাথা ঠিক আছে?

সোহানা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। তারপর হঠাৎ সে আমার কাছে চলে আসে। আর তারপর কোথা থেকে একটা দড়ি নিয়ে আমার গলায় পরিয়ে দেয়। আমি নিজেকে অনেক ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা। আমার হাত নাড়াতে পারছিনা। আমার গলায় দড়ি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয়। আমার তখন দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।

সোহানা আমার দিকে তাকিয়ে পিশাচীয় হাসি দেয়। তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আমার দম যখন প্রায় শেষ ঠিক তখন দড়িটা ফ্যান থেকে খোসে পড়ে যায়। আমি নিচে পড়ে যাই। অনেক কাশি হতে থাকে। আর একটু হলে মরেই যেতাম। হঠাৎ গুনগুন গানের আওয়াজ হতে থাকে। আর শাওয়ারের পানি পড়ার শব্দ হতে থাকে। আমি উঠতে পারছিনা। চোখটা বন্ধ হয়ে আসছে। তখন দেখলাম সোহানা গোসল করে বের হচ্ছে। আমার সামনে এসে দাড়ায় তখন আমি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলি।


পর্ব ৪

আমার জ্ঞ্যান ফিরলে দেখি আমি ফ্লোরে পড়ে আছি। আমি উঠে বসতে চেষ্টা করি। কিন্তু তখন উঠে বসতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো। গলাটা অনেক ব্যাথা হয়ে আছে। আমি অনেক কষ্টে উঠে বসি। ঠিক তখন আমার মাথায় পানি পড়ে। ভালো করে খেয়াল করে দেখি আমি বাথরুমের ফ্লোরে পড়ে আছি। আমি তো রুমে ছিলাম তাহলে বাথরুমে কি করে আসলাম।

আমি উঠে বাইরে বের হয়ে আসি। আমার শরীর তখন অনেক দুর্বল ছিল। ঠিত তখন আমার ফোনটা বেজে উঠে। পকেট থেকে বের করে দেখি মনির নাম্বার।

আমি অনেকটা চমকে উঠি। মনির নাম্বার থেকে ফোন এটা কিভাবে সম্ভব? আমি ফোনটা রিসিভ করতেই ওপার থেকে বলে,

  • ভাইয়া আমি তোর বাড়িতে যাবো। আমাকে নিয়ে যা।
    কথাটা শুনে আমার হার্টবিট দ্বিগুন হয়ে যায়। কাল রাতে যার মৃত্যু হলো আমার সামনে সে ফোনে কথা বলছে?

আমি দৌড়ে রুমে চলে যাই। সোহানা ফ্লোরে পড়ে আছে। বিছানাতে মনির লাশ নেই। কোনো রক্তের দাগ নেই। একদম সবকিছু কিছু ঠিকঠাক। মনে হচ্ছে কাল রাতে এখানে কিছু হয়নি। আমি কি তাহলে স্বপ্ন দেখেছি? স্বপ্ন যদি দেখতাম তাহলে রাতে দেখতাম কিন্তু মনিকে তো কাল দিনেও দেখেছি। অফিস থেকে ফেরার পর মনি দরজা খুলেছিলো।

আমার সাথে কি হচ্ছে এসব কিছু বুঝতে পারছিনা। এটা কিভাবে সম্ভব? আমি আমার গলাতে হাত দেই। হ্যা গলাতে মনে হচ্ছে কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিলো। অনেক ব্যাথা হয়ে আছে। আমার গলাতে দাগ আছে। আমি রুম থেকে বাথরুমে। মনি আমার সামনে মারা গেছে। তার গলা দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। অনেক সটফট করছিলো মনি। তাহলে মনি এখন আবার ফোন দিলো কি করে?
আমার ফোনটা আবার বেজে উঠে। আমি ফোনটা রিসিভ করি

  • কিরে ভাইয়া ফোন ধরে কথা বলছিস না কেন?
  • মনি তুই ঠিক আছিস?
  • হ্যা আমি তো ঠিক আছি। কিন্তু কেন ভাইয়া?
  • তুই কোথায় আছিস?
  • আমি তো আমার রুমে শুয়ে আছি। কলেজ অফ তাই তোকে সকাল সকাল ফোন দিলাম।
  • তোর ফোনে এমবি আছে? আমাকে ইমুতে ফোন দে।
  • হঠাৎ ইমুতে ফোন দিতে বলছিস যে।
  • কথা কম বলে যেটা বলছি সেটা কর।

তারপর মনি ইমুতে ফোন দেয়। মনিকে দেখে আমি ফ্লোরে বসে পড়ি। অনেক আদরের ছোট বোন আমার। তার কাল রাতে মৃত্যু দেখে অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম। কিন্তু এখন তাকে দেখে মনে হচ্ছে এখন আমি পৃথিবীর সব থেকে খুশি ব্যাক্তি।

  • ভাইয়া তোর মুখ এমন শুকনা দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে তোর? ভাবির সাথে ঝগড়া করছিস?
  • না না আমার কিছু হয়নি। আমার সময় হলে তোকে নিয়ে আসবনি।
  • আমাকে আজকেই নিয়ে যেতে হবে। কতদিন ভাবিকে দেখিনি। ভাবি কোথাই?
    মনির কথাতে আমি সোহানার দিকে তাকাই। এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
  • তোর ভাবি ঘুমাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠলে তোকে ফোন দিতে বলবনি।
    বলেই ফোনটা কেটে দেই। আমার মাথায় তখন অনেক গুলো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কি হচ্ছে এসব? একটার পর একটা নতুন কাহিনী ঘটে যাচ্ছে। যার কোনো কিনারা খুজে পাচ্ছিনা। আমি সোহানাকে ফ্লোর থেকে তুলে বিছানে শুইয়ে দেই। তারপর তার শরীর চাদর দিয়ে ঢেকে দেই।

আমি বাইরে বের হয়ে আসি। এক কাপ কফি বানাই। তারপর কফি খেতেখেতে ভাবছি। কাল রাতে মনির মৃত দেহ নিজের চোখে দেখেছি। আজকে মনি নিজে ফোন দিয়েছে। এটা কি করে হতে পারে। আজকে যে মনি ফোন দিয়েছে সেটা কোনো রহস্য নয়তো? এটা কি বাস্তবে মনি? নাকি এটাও কোনো গোলক ধাধা? আমার মাথায় তখন কিছু কাজ করছেনা।

আমার অফিসের টাইম হয়েগেছে। তাই আর ভাবতে পারলাম না। কোনো মতে রেডি হয়ে অফিসে চলে যাই। আমি আমার কেবিনে ঢুকতেই দেখি রুম্পা আমার কেবিনে বসে আছে।

  • কি ব্যাপার স্যারর আজকে এত লেট?

আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সত্যি ৩০ মিনিট লেট করে ফেলেছি। অফিসের মধ্যে আমি প্রতিদিন সঠিক সময়ে আসি কিন্তু আজ সবার পরে এসেছি।

  • ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিলে। তাই একটু লেট হয়েছে।
  • কি ব্যপারা স্যার আপনার চোখ গুলো লাল হয়ে আছে। মুখে আচঁড়ের দাগ। রাতে কি ভাবির সাথে বেশি রাউন্ড খেলেছেন নাকি?

রুম্পার কথা শুনে আমার অনেক রাগ হয়। তার মাঝে পজেটিভ কথা বলে কিছু নাই। সব সময় নেগেটিভ কিছু না কিছু ভাববে।

  • দেখুন আপনি আমার যাস্ট এসিস্টেন্ট তাই আপনার লিমিট ক্রস করবেননা।
    আমি এভাবে রুম্পাকে বলবো সে হয়তো এটা কোনো ভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। রুম্পা কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়।

আমি আমার মত কাজ করতে শুরু করি। কয়দিন যেসব ঘটনা ঘটছে এতে কাজে মন বসাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তাও করা লাগছে। কাজের মধ্যে হঠাৎ মনে হয় টিপু বলেছিলো আমার বাড়িতে খুন হয়েছিলো সেটা শুধু স্যারের কাছের লোক জানে। অন্যকেউ জানেনা। আর রুম্পা স্যারের অনেক কাছের মানুষ। রুম্পাকেই জিগ্যেস করতে বলেছিলো টিপু।

আমি রুম্পাকে কেবিনে ডেকে পাঠাই। রুম্পা কেবিনে আসে।

  • স্যার কিছু বলবেন?
  • হ্যা বলবো। আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো তার সঠিক উত্তর দিবেন।
  • যদি উত্তর জানি তাহলে অবশ্যই দিব।
  • আচ্ছা আমার বাড়িতে একটা মেয়ে মারা যায়। কিন্তু কিভাবে কেউ জানেনা। আপনি কতটুকু জানেন?
    রুম্পা আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়। তারপর কিছুখন নিরব হয়ে থাকে। তারপর বলে
  • স্যার মারা গেছিলো মেয়েটা বাথরুমে পা ফসকে পড়ে গিয়ে।
  • সত্যি কলছেন না মিথ্যা?
  • আপনাকে মিথ্যা কেন বলবো।

রুম্পা যে মিথ্যা কথা বলে সেটা আমি বুঝতে পারছি। আমি রুম্পাকে আরো কিছু জিগ্যেস করবো ঠিক তখন করিম চাচা হাজির কফি নিয়ে।

কফিটা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। আমি তার হাসির কারন খুজে পাইনা। কেন হাসছে সে। আমার কেবিনের চারিদিকে অনেক কর্মচারি। কথায় আছে দেয়ালেরও কান আছে। তাই রুম্পাকে সেখানে আর কিছু বললাম না। কিন্তু আমাকে সবকিছু জানতেই হবে। রুম্পার মুখ কি করে খুলবো? মাথায় কিছু আসছেনা।

  • রুম্পা আমি বলছি কি আপনার সাথে কি কোনো হোটেলে ডিনার করা যাবে? যদি আপনার কোনো সমস্যা না থাকে।

রুম্পা আমার কথা শুনে চমকে উঠে। তাকে আমি ডিনারের অফার দিচ্ছি।

  • না না স্যার আমার কোন সমস্যা নেই অবশ্যই ডিনার করা যাবে।
  • তাহলে আজকে ডিনার আমার সাথেই করছেন?
  • হ্যা স্যার আপনার সাথেই করবো আজকে ডিনার।
    তারপর আমি আমার কাজে মন দেই। অফিস শেষ হলে সোহানাকে ফোন দেই।
  • সোহানা আজকে আমার ফিরতে দেরি হবে তুমি রাতের খাবার খেয়ে নিও।
  • ফিরতে দেরি হবে কেন?
  • অফিসের কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে যাবে। (আজকে প্রথম এটা নিয়ে মিথ্যা বললাম)
  • আচ্ছা ঠিক আছে তাড়াতাড়ি এসো আমার অনেক ভয় করবে একা থাকতে।
  • ঠিক আছে।

আমি ফোনটা রেখে দেই। জানিনা আমি কাজের রহস্য বের করতে গিয়ে অন্যকোনো অন্যায় করছি কিনা। জানিনা আমি ঠিক করছি কি ভুল করছি। তবে আমাকে তার রহস্য বের করতেই হবে।
আমি অফিস শেষে বাইরে রুম্পার জন্য ওয়েট করতে থাকি। এমন সময় টিপুকে দেখি। সে স্যারকে নিয়ে বাসায় যাবে। আমাকে দেখে টিপু আমার কাছে আসে।

  • কি স্যার রুম্পা ম্যাডামের সাথে কোথাও যাচ্ছেন নাকি?
    আমি টিপুর দিকে ভ্রু কুচকে তাকাই। টিপু কি করে জানলো এ বিষয়ে?
  • তুমি কি করে জানলে যে আমি রুম্পার সাথে কোথাও যাচ্ছি?
  • আরে স্যার এটা জানা আমার কাছে কোনো বড় ব্যাপার না। তবে একটা কথা বলি আপনি আমার অনেক পরিচিত। রুম্পা ম্যাডামের দেয়া জিনিস ব্যবহার করবেননা।
  • কেন বলতো? তার জিনিস ব্যবহার করলে কি হবে?
  • সেটা তো বলা যাবেনা। আমি যতটুকু পারি বলে সাহায্য করেছি পরের কাজ আপনার।
    বলেই হোহোহো করে হাসতে হাসতে সেখান থেকে চলে যায়। এমনিতেই মাথার মধ্যে অনেক কথার উত্তর শুন্য যেগুলোর উত্তর খুজার চেষ্টা করছি। তার মাঝে টিপু আরেকটা প্রশ্নবোধক চিহৃ বসিয়ে দিলো। আমি এসব ভাবছি ঠিক তখন রুম্পা হাজির।
  • চলেন স্যার আমি রেডি।
  • ঠিক আছে চলেন।

আমি গাড়ি নিয়ে গেছিলাম। তাই গাড়িতে উঠে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। তারপর সেখানে ডিনারের অডার করি। খেতেখেতে রুম্পাকে সব কিছু জিগ্যেস করবো। তার থেকে আমাকে সব কিছু জানতেই হবে। আমরা ডিনার খাওয়া শুরু করেছি। রুম্পা মুচকি মুচকি হাসতেছে। কিন্তু আমার হাসি বের হচ্ছেনা।

  • আচ্ছা রুম্পা আমার বাড়িতে যে মেয়েটা মারা যায় সে কি সত্যি পা ফোসকে মারা যায়?
    রুম্পা খাওয়া বন্ধ করে দেয় তারপর আমার মুখের দিকে তাকায়। সে হয়তো আশা করেনি আমি তাকে আবার এমন প্রশ্ন করবো।
  • কি স্যার কোথায় ডিনার করে মজা করবো তা না আপনি সেই মরা মেয়েকে নিয়ে পড়ে আছেন।
    আমি বুঝতে পারি রুম্পা মুখ খুলবেনা। তার মুখ খুলাতে হলে তার দুর্বলতাতে হাত দিতে হবে।
    আমি চেয়ার থেকে উঠে রুম্পার কাছে যাই। তার কানেকানে বলি আপনি যদি সত্যি কথা বলেন কি হয়েছিলো সেদিন তাহলে আপনি যেটা চান সেটা পাবেন।

রুম্পা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সে হয়তো এমন অফারের কথা ভাবতে পারেনি। রুম্পা কিছুখন চুপ করে থাকে তারপর বলে,

  • মেয়াকে খুন করা হয়েছিলো। কিন্তু স্যারের অনেক টাকা ছিলো সব কিছু টাকা দিয়ে কিনে নেয়। আর মৃত্যুটাকে একসিডেন্ট বলে চালিয়ে দেয়।
  • কিভাবে মারা গেছিলো?
  • সেটা জানিনা স্যার। সেদিন আমি শফিক সাহেবের সাথে রাত কাটাচ্ছিলাম। পরে আমি সব জানতে পারি
  • এই শফিকটা কে?
  • যার মৃত্যু হয়েছিলো তার স্বামী। আমাদের অফিসেই চাকরি করতো। এখন সে জেলে আছে। আমাদের এমডিকে মারার চেষ্টা করেছিলো তখন তাকে পুলিশ ধরে।
  • এমডি স্যারকে মারার চেষ্টা কেন করেছিলো?
  • ওর বউকে খুন করা হয়েছিলো সেটা শফিক স্যার জানতে পারে তখন মারার চেষ্টা করে।
  • শফিক সাহেব কি করে জানতে পেরেছিলো?
    রুম্পা আমার দিকে তাকায়
  • স্যার এটা আমি বলতে পারবোনা স্যরি স্যার।
    -কিন্তু কেন বলতে পারবেনা?
  • আমি জানি কেন মিমিকে মারা হয়েছিলো (যে খুন হয়)
    আমি তাকিয়ে দেখি সোহানা দাড়িয়ে আছে কথাটা সে বলেছে। আমি হকচকিয়ে উঠি সোহানাকে দেখে। তাকে এখানে দেখবো আমি কখনো আশা করিনি। আমি অনেকটা ভয় পেয়ে যাই। রুম্পা সোহানাকে দেখেই কেটে পড়েছে।

আমি এখন কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা। সোহানা আমার হাত ধরে টানতে টানতে গাড়িতে নিয়ে যায়। সোহানা গাড়ি চালাতে শুরু করে। কিন্তু সোহানা গাড়ি চালাতে পারেনা। তাহলে আজকে কি করে গাড়ি চালাচ্ছে? এটা কি করে সম্ভব? আমি সোহানার মুখের দিকে তাকাতে পারছিনা। নিচের দিকে মাথা করে রেখেছি।

সোহানার কাছে আমি মুখ দেখাবো কি করে বুঝতে পারছিনা। মনে হচ্ছে আজকর পৃথিবীর সব কষ্ট ভয় আমার কাছে এসেছে।

  • সোহানা আমার ভুল হয়েগেছে। আর কখনো মিথ্যা বলবোনা।
    বলে সোহানার দিকে তাকাই। কিন্তু এটা কি গাড়িতে সোহানা নেই। ড্রাইভিং সিট ফাকা। গাড়ি একা একা চলছে। আমি অনেকটা ভয় পেয়ে যাই। সোহানা কোথায় গেলো?

আমি এসব ভাবছি ঠিক তখন গাড়িটা একসিডেন্ট করে। তারপর কি হয় আমার মনে নেই। যখন চোখ খুলি তখন দেখি আমি খাবার টেবিলের চেয়ারের ওপর বসে আছি। মনি আমাকে ডাকছে

  • ভাইয়া এই ভাইয়া তোকে কতখন থেকে ডাকছি কথা বলছিস না কেন?

আমি মনিকে দেখে অবাক হয়ে যাই। মনি এখানে? মনি কখন এলো? আমি তো গাড়িতে ছিলাম একসিডেন্ট হয়। আমি পুরা শরীরে হাত দেই কোথাও ক্ষত নেই।

  • মনি তুই কখন এলি এখানে?
  • কি বলিস ভাইয়া তোর মাথা ঠিক আছে? আমি তো বিকালে এসেছি।
  • বিকালে মানে? তোকে তো আমার আনতে যাবার কথা ছিলো?
  • কি যাতা বলছিস? আমি তো বিকালে এসেছি। আর তুই সেই তখন থেকে খাবার টেবিলেই বসে আছিস।
    আমি ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখি ১১টা বাজে। তাহলে কি আমি এতখন যা দেখলাম তা সবকিছু স্বপ্ন ছিলো? এগুলো কি সামনে হবে? মনি কি তাহলে সত্যি মারা যাবে? আমি কি তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখলাম? আমার গায়ের লম খাড়া হয়ে যায়।

পর্ব ৫ (অন্তিম)

আমার শরীর ঘামতে শুরু করে। আমি এটা কি দেখলাম? আমার সাথে কেন এমন হচ্ছে? যা দেখেছি তা যদি সত্যি হয় তাহলে আমাকে অনেক কিছু হারাতে হবে। যে করেই হোক আমাকে এটা আটকাতে হবে। । কিন্তু কিভাবে আমি এর শেষ খুজে পাবো? আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।

  • কিরে ভাইয়া আবার কোথায় হারিয়ে গেলি?
    মনির কথায় আমার ভাবনার ছেদ ভাঙে।
  • কিছুনা তুই যা রুমে গিয়ে শুয়ে পড়।
  • ঠিক আছে।

মনি চলে গেলো। আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা। যা দেখেছি তা যদি সত্যি হয়। আসলেও কি তা সত্যি হবে? নাকি সেটা শুধুই ভাবনা ছিলো?

আমি রুমে চলে আসি। দেখি ভাবনাতে দেখার মতো করে সোহানা বিছানার এক ধারে বসে আছে। আর তারকাছে কালো গোলাপের তোড়া। সে গোলাপের তোড়াটা অনেক মুগ্ধ চোখে দেখছে। মনে হচ্ছে কত আপন সেটা। আমি সোহানার পাসে বসি। কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা। একটু পরেই হয়তো মনি চিৎকার করে দৌড়ে চলে আসবে। আমার শরীর ঘামতে শুরু করে।

  • মনি চিৎকার করতে করতে এখানে আসবেনা।
    গোলাপের একটা পাপড়ি ছিড়ে নাকের কাছে নিয়ে শুকতে শুকতে সোহানা কথাটা বলে।
    আমি যে একথাটা ভাবছি সোহানা কি করে জানলো?
  • আমি যে কথাটা ভাবছি তুমি কি করে জানো?
  • আমার কাছে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর আছে। আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।
  • আমি তো তোমাকে কিছু বলিনি। তাহলে তুমি কি করে জানো সব কিছু সোহানা?
    সোহানা আমার দিকে হঠাৎ ঘুরে তাকায়। তার চোখ তখন পুরো লাল টকটকে হয়ে আছে। তার চোখ দিয়ে তরল কিছু বের হচ্ছে। কিন্তু সেটা পানিনা রক্ত বের হচ্ছে।

আমি চমকে উঠি। পিছনে সড়ে যাই। এমন রুপ আমি আগে কখনো দেখিনি।

  • আমি সোহানা না আমি মিমি। আমাকে আমার কাজে সাহায্য না করলে তোর বোন মরবে তারপর তুই তোর বউকে নিজে মারবি। তারপর আমি তোকে মারবো।
    আমি সোহানার কথা শুনে অনেকটা ভয় পেয়ে যাই।
  • তুমি এসব কিছু বলছো সোহানা?
  • বললাম না আমি সোহানা না।

কথাটা বলে সোহানা আমার কাছে চলে আসে আর গলা চেপে ধরে আমার তারপর আমাকে জাগিয়ে তোলে। এক হাত দিয়ে সোহানা আমাকে জাগিয়ে তুলেছে। যেটা সোহানার নিজের পক্ষে করা সম্ভব না।

  • আমি সোহানা না আমি মিমি। আর আমি আমার প্রতিশোধ নিতে তোর বউকে ব্যবহার করছি।
  • তুমি যেই হও মারিয়কে কেন ব্যবহার করছো সে তোমার কি করেছে?

সোহানা আমাকে নিচে ফেলে দেয়। আমি কাশতে শুরু করি। সোহানা হাসতে শুরু করে।

  • আমি যানি তুমি সোহানাকে অনেক ভালোবাসো। আর তুমি তোমার বসের ফাদে পা দিবেনা তাই তোমার বউকে ব্যবহার করছি।
  • কি বলছো তুমি এসব আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।
  • তোমাকে বুঝতে হবে সব কিছু নিজে থেকে।
  • কি করে বুঝবো? আর তুমি এখানে কি করে আছো?
  • তোমাকে সবকিছু নিজে খুজতে হবে। আমি যতটুকু জানি তোমাকে বলবো।
  • ঠিক আছে সব কিছু খুলে বলে। আমাকে সবকিছু জানতে হবে।
  • সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমি বাড়িতে একা। শফিক আমার স্বামী অফিসে চলে যায়। আর তখন তোমার বস আমার বাড়িতে এসেছিলো। আমরা তখন নতুন বাড়িতে। বস এসে আমার সাথে অনেক গল্প করে।
    তারপর তার রুপ দেখায়। আমার সাথে জোর করে যৌন মিলন করে। পুরা দিন আমার দেহকে ভোগ করে। সন্ধ্যার দিকে। তোমার বস কাকে যেন ফোন দেয়। তারপর সন্ধ্যার পর থেকে আবার যৌন নির্যাতন করতে থাকে। কিন্তু সেদিন শফিক বাড়িতে আসেনি। আমি বাড়িতে একা অনুভব করছিলাম। আমাকে সাহায্য করতে কেউ আসেনি।

তোমার বস পুরা রাত আমাকে যৌন নির্যাতন করে। সকালে আমাকে উলঙ্গ অবস্থায় ফ্লোরে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি সারাদিন উঠতে পারিনি। যখন আমার শরীরে বল অনুভব করি তখন রাত ১২টা বাজে। আমি বাথরুমে গোসল করে বাইরে আসি কিন্তু সেদিনো শফিক বাড়িতে আসেনি।

আমি এটার শোধ নিতে অনেক কষ্টে তোমার বসের পুলিশের কাছে ফোন দেই বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। পুলিশ আমার বাড়িতে আসে। কিন্তু পুলিশের সাথে তোমার বসও আসে। আমি তাকে দেখে অনেকটা অবাক হয়ে যাই। পুলিশ আর তোমার বস আমাকে পুরো দিন ধর্ষন করে। তারপর সন্ধ্যার পর আমার গলায় ফল কাটা চাকু দিয়ে গলার রক কেটে দেয়।

কথা গুলো বলে সোহানার দেহে থাকা মিমি কান্না করতে থাকে। আমি কি বলবো কিছু বুঝতে পারছিনা। অনেক অন্যায় হয়েছে মিমির সাথে।

  • তারপর কি হয়েছিলো?
  • তারপর তোমাকে বের করতে হবে। কারন আমি তখন মৃত। পরের কাহিনী তোমাকে বের করে আমাকে সাহায্য করতে হবে। করবে তো?
    মিমির কথায় অনুরোধ ছিলো।
  • হ্যা আমি তোমাকে সাহায্য করবো। কিন্তু তোমাকে কথা দিতে হবে সোহানার কোনো ক্ষতি করবেনা।
  • ঠিক আছে আমি সোহানার কোনো ক্ষতি করবোনা।
    সোহানা হঠাৎ বিছানাতে পড়ে যায়। সোহানার তখন জ্ঞ্যান ছিলোনা। আমি সোহানার ওপর চাদর টেনে দেই।

আমার মাথায় একটা কথা বুঝতে পারছিনা বস মিমিকে ধর্ষন করেছে একদিন এক রাত। পরের রাত পুলিশের সাথে। তাহলে এতদিন শফিক কোথায় ছিলো? আমাকে জানতে হবে আমাকে একমাত্র রুম্পা সাহায্য করতে পারে। রাত তখন ১২টা আমি গাড়ি নিয়ে রুম্পার বাড়ির উদ্যেশ্যে বেড়িয়ে পড়ি।
রুম্পার বাড়ির কাছে গিয়ে রুম্পাকে ফোন দেই।

  • হ্যালো রুম্পা আমি আপনার বাসার নিচে আছি। আপনার সাথে জরুরী দরকার আছে।
  • স্যার আপনি এত রাতে আমার বাড়িতে? কি দরকার?
  • দরজাটা খুলেন তারপর বলছি।

তারপর রুম্পা দরজা খুলে দেয়। আমি তার সাথে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করি। রুম্পার ছোট বোন ছিলো বেরিয়ে আসে রুম থেকে। তারা দুবোন ছিলো।

  • স্যার বলেন কি দরকার?
  • যেদিন মিমিকে বস ধর্ষন করে তুমি কোথায় ছিলে?
  • কি বলছেন স্যার। মিমিকে বস কেন ধর্ষন করবে? আর আমি বাসাতেই ছিলাম।
    রুম্পার কথায় ভয় ছিলো।
  • সত্যি কথা বলবেন নাকি আমাকে অন্যকিছু করা লাগবে?
  • স্যার আপনি আমার বাড়িতে এসে আমাকে ধমকাতে পারেননা।
    হাহাহহাহা আমি হাসতে থাকি। আমার কাছে কোনো পথ নেই। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাকে সবকিছু করতে হবে।

আমি রুম্পাারর বোনের কাছে যাই। তার বুক থেকে উড়না টেনে নেই।
রুম্পা বোন রুম্পা দুজনেই ভয় পেয়ে যায়।

  • সত্যি কথা বলবে নাকি তোমার বোনের সাথে আমি কিছু করবো?
    রুম্পা এবার অনেকটা ভয় পেয়ে যায়। তার চোখে তখন সত্যিকারের ভয় ছিলো।
  • বলছি স্যার আমার বোনের কিছু করবেননা প্লিজ।
  • ঠিক আছে বলেন।
  • যেদিন মিমিকে বস ধর্ষন করে সেদিন আমি শফিকের সাথে রাত কাটাচ্ছিলাম। আমাকে বস অনেক টাকা দিতো। আপনি যে বাড়িতে আসেন সে বাড়িতে বস যাকে দিতো তার সাথে আমি শারীরিক সম্পর্ক করতাম আর তা ভিডিও করতাম তারপর বস তার বউকে নিয়ে মজা করতো ভিডিও থাকার জন্য বস নির্ভয়ে কাজ করতো।

কিন্তু মিমি অনেক প্রতিবাদি ছিলো তাই সে পুলিশকে ফোন করে। কিন্তু মিমির দুর্ভাগ্য পুলিশটা বসের সাথে ছিলো। তারপর বস মিমিকে মেরে ফেলে।

শফিকের আমার সাথে যৌন ক্রিয়ার ভিডিও ছিলো তাই তার বউকে ধর্ষন করাতে কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু পরে স্যারকে মারার চেষ্টা করে তখন বস তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। সে এখনো পুলিশের কাছেই আছে। আপনার সাথেও এমনটা করার প্ল্যান ছিলো কিন্তু আপনি আমার সাথে কিছুতেই বিছানায় যাচ্ছিলেননা।

আমি সবকিছু শুনে অবাক হয়ে যাই। এমনটা শুনবো আমি কখনো আশা করিনি। আমি রুম্পাকে একটা থাপ্পর মারি। রুম্পা কান্না করতে থাকে।

  • ছি আপু তুই এতটা নিচ? (রুম্পার বোন)
  • কি করবো? পরিবারকে চালাতে ঐ অফিসে যাই তারপর বস আমাকে তার বেডে নেয়। আর তা ভিডিও করে। আর বলে তার কথা মতো কাজ না করলে ভিডিও ভাইরাল করে দেবে। তাই বসের কথায় আমি সবকিছু করতাম। আমাকে মাফ করে দিস বোন।
  • তুই আমার সাথে কথা বলবিনা। তোর মতো বোন আমার দরকার নেই।
    আমি রুম্পার বোনকে শান্ত করি। তার ওড়না তাকে ফিরিয়ে দেই।
  • তোমার ওড়না নেয়ার পিছনে শুধু এটাই কারন ছিলো। যাতে তোমার বোন সবকিছু বলে।
  • স্যার আমাকে মাফ করে দিয়েন আমি আমার বোনকে নিয়ে চলে যাব।
  • আপনাকে কোথাও যেতে হবেনা। আপনি আমাকে সাহায্য করেন। তাহলে আপনার ক্ষমা হবে।
  • কি সাহায্য করতে হবে আমাকে বলেন।
  • বসের পরের প্ল্যান কি?
  • বস ফ্যামিলি পার্টির আয়োজনের কথা বলছে। সেখানে আপনি যাবার পর আপনাকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ানো হবে। তারপর বস আপনার বউ।
  • থাক আর বলতে হবেনা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি যে এটা জেনেগেছি বস যেন না জানতে পারে।
  • ঠিক আছে স্যার।

আমি রুম্পার বাসা থেকে বাড়ি চলে আসি। তাহলে তাদের এটাই প্ল্যান? আমাকে তাহলে শতর্ক থাকতে হবে। আমি বাসায় গিয়ে দেখি সোহানা তখনো ঘুমাচ্ছে। আমিও শুয়ে পড়ি। তারপর থেকে সোহানা স্বাভাবিক ছিলো। মনিকে পরেরদিন বাসায় মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেই। মনি যেতে চাচ্ছিলোনা কিন্তু জোর করে তাকে পাঠিয়ে দেই।

বস বলে এবারের পার্টিটা আমার বাড়িতে হবে। আমি তখন একটা জিনিস মিলাতে পারছিলাম না বস আমার বাড়িতে কেন পার্টি দিলো? এত মানুষের ভিতর সে তার কাজ কিভাবে করবে? যাই হোক আমাকে শতর্ক থাকতে হবে। সবকিছু বুঝে করতে হবে।

পার্টির দিন সবকিছু ঠিক ঠাক করা হয়। অনেক লোক আসে। অফসের সব লোক এসেছে। সাথে পুলিশটাও এসেছে। শিকার নিজে শিকারীর কাছে এসেছে। পার্টি চলা কালিন আমি রুম্পার সাহয্য নেই। আমি রুম্পাকে বলি পুলিশটাকে যেন সে ছাদে নিয়ে যায়।

রুম্পা পুলিশকে তার রুপের লোভ দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়। আমি যখন ছাদে যাবো তখন রুম্পার চিৎকার শোনা যায়। সবাই দৌড়ে ছাদে যাই। দেখি পুলিশের দেহে কোনো কাপড় নেই। উলঙ্গ অবস্থায় ছাদে পড়ে আছে তার গলার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।

একে মারলো কে? আমি তো নিচেই ছিলাম। ওপরে আসার আগেই মরে পড়ে আছে। ঠিক তখন বাসার সব আলো নিভে যায়। বাড়ির ওপর দিয়ে শীতল বাতাস বয়ে যেতে থাকে। চাদের চারিপাশ কালো মেঘে ঘিরে যায়। কিন্তু চাদের আলো ঠিক ছিলো অন্য দিনের থেকে আলাদা আলোর রং ছিলো।
আমরা সবাই নিচে নেমে আসি। নিচে নামার পর টিপটিপ টিপটিপ পানি পড়ার শব্দ শুনতে পাই। কোনো মেয়ে গুনগুন করে গান গাচ্ছে।

  • আমার শরীরে লাল রং কেমন লাগছে জান?

কথাটা শোনা যায়। কিন্তু অন্ধকারে বুঝা যাচ্ছেনা কে বলেছে কথাটা। তাহলে কি সোহানা?
আমি দৌড়ে বাথরুমে যাই। আর দেখি সেখানে কেউ নেই। আমি বাইরে বেরিয়ে আসি হঠাৎ তখন আবার আলো চলে আসে। আর ফ্লোরে বসের লাশ পড়ে আছে। ঠিক যেভাবে পুলিশের লাশটা পড়ে ছিলো। আর লাশের পাশে রুম্পা বসে আছে। তার হাতে একটা ফল কাটা চাকু ছিলো।

সোহানা কোথায় তাহলে? হঠাৎ রুম্পা আমার দিকে তাকায়। তার তাকানো টা অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক ছিলোনা। রুম্পা হাসতে শুরু করে। আর নিজের গলার মধ্যে চাকু চালিয়ে দেয়। গলার রগ কেটে যায়। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে আসে। রুম্পার দেহ মাটিতে লুটে পড়ার আগে শুধু বলে স্যার আমার বোন আর কিছু বলতে পারেনা। মারা যায় সাথেসাথে। সবার মাঝে তখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই অনেক ভয় পেয়ে যায়। এত কম সময়ে তিনটা খুন। কিন্তু তখন সবাই অবাক হয় যখন দেখে তাদের সামনে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। যেটা সবার অপরিচিত। তার শরীর থেকে সাদা আলোর রশ্মি বের হচ্ছে।

আসতে আসতে অন্ধকারের সাথে মিলিয়ে যায়। তখন বাড়িতে হিমশীতল বাতাসে ভোড়ে যায়। হিমহাম নিরবতা। কারো মুখে কোনো কথা নেই। কেউ হয়তো বুঝতে পারেনি এমনটা হবে। আমি বুঝতে পারছিনা এদের দুজনে কে মারলো? রুম্পা? না সোহানা?

সোহানা মারার পর মিমি কি রুম্পার দেহে যায়? নাকি রুম্পার দেহে আগেই মিমি প্রবেশ করে সবাইকে মারে? কিছু প্রশ্নেন উত্তর অজানাই থাকে। যা মানুষের কাছে সব সময় রহস্যের জালেই ঘেরা থাকে। মানুষ রহস্য উদ্ঘাটন করতে চায়। কিন্তু রহস্যের মায়াজাল গোলক ধাধার মতো ঘুরতে থাকে। যার উত্তর পৃথিবীতে নেই। মানুষ তার মনের ভাবনা দিয়ে একটা কথা ভেবে নেয়।

সোহানাকে আমার রুমে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখি। তার হাতেও তখন রক্ত লেগেছিলো।

পুলিশ আসে পরে। কিন্তু কোনো হুদিশ করতে পারেনি কে মেরেছে তাদের দুজনকে। কোনো চিহৃ খুজে পায়নি পুলিশ। পুলিশের কাছেও রহস্য হিসেবে থেকে যায়। দুটো মৃত্যু। শুধু আমিই জানি রুম্পা সোহানা দুজনের কেউ মেরেছে। রুম্পার বোনকে পরে আমার কাছেই রেখে ছিলাম। রুম্পার বোনকে সোহানা নিজের বোনের মতোই মানুষ করছিলো।

ডাইরিতে একটুকুই লিখা ছিলো। এতখন ধরে লুইচ মন দিয়ে মুজাহিদ ইসলাম রাজের লেখা পিশাচ কাহিনী ডাইরিটা পড়ছিলো। লুইচের মনে তখন তিনটা প্রশ্ন? সোহানা, মেরেছিলো? নাকি রুম্পা নিজে? নাকি মুজাহিদ নিজেই মেরেছিলো? যার উত্তর নেই। কিছু রহস্য মানুষের মধ্যে অজানাই থেকে যায়।

লেখা – সাগর ইসলাম রাজ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “প্রতিশোধ – রহস্যময় ভূতের গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – অন্তরালে – Voyonkor vuter golpo in bengali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

গল্পটি পড়তে আপনার ব্রাউজারের "Adblock" অপশনটি বন্ধ করুন।