ভুতের গল্প

এলিয়েন রহস্য শেষ পর্ব – এলিয়েন মানবের গল্প | Alien Story

এলিয়েন রহস্য শেষ পর্ব

এলিয়েন রহস্য শেষ পর্ব – এলিয়েন মানবের গল্প: আজ হবে মহাযুদ্ধ। হয় বাঁচা নয় মরা যেকোন একটি অপশন খোলা। তাইসন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার সাথে পাল্লা দেয়া এখন সবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বুদ্ধি ও কৌশল ছাড়া শুধু শক্তি দিয়ে এই লড়াইয়ে জেতা সম্ভব নয়। চলুন দেখি কে তাইসনের সাথে লড়ে? কার জয় হয়?

লড়াইয়ের প্রস্তুতি

বর্ণের বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছিল।

ডাঃ সাদিকা এসেই যত দ্রুত সম্ভব বর্ণের বুক থেকে গুলি তুলে ফেলেছেন। চিমটার মাঝে বুলেট টি নিয়ে নেড়ে চেড়ে বর্ণর উদ্দেশ্যে বললেন, এটা তো দেখে কোন সাধারণ গুলির বুলেট মনে হচ্ছে না মি. বর্ণ।

বর্ণ চোখ বুজেই ধীরে ধীরে দুর্বল গলায় জবাব দেয়, কিভাবে মনে হবে? এটা ফিনিক্স-ম্যাক্স রিভালবার এর বুলেট, পৃথিবীতে এরকম রিভালবার আছেই মাত্র দু’টি।

  • এটা কোন রিভালবারের বুলেট তা আপনি কিভাবে জানলেন?

দম ধরে রেখে বর্ণ উত্তর দিল- কারণ রিভালবারটা আমার নিজের। এমেরিকার গভার্নমেন্ট থেকে আমাকে এওয়ার্ড হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।

  • তার মানে তুমি সুইসাইড করতে চেয়েছিলে!
  • না, আমার নিজের কাজিন আমার রিভালবার দিয়েই গুলি করেছিল আমাকে।
  • কেনো?
  • সেটার কারণ জানিনা।
  • আমি কেন গুলি করেছি সেটা পরে বলবো, ভাগ্য ভাল না হলে কপালেই লাগত। (বর্ণের বিছানার ডান পাশে দাঁড়িয়ে বলে উঠে তুরাণ)

বর্ণ এবং ডাঃ সাদিকা দুজনেই ভড়কে উঠে।

এ কামরায় তো সাদিকা এবং বর্ণ ছাড়া ভিন্ন কেউই উপস্থিত ছিলো না। রুমের দরজাটাও এমন জায়গায়, কেউ ঢুকলে তা বর্ণ বা সাদিকার চোখে পরবে সর্বপ্রথম, সেখানে বর্ণের বিছানার পাশেই একজন জলজ্যান্ত মানুষ দাঁড়ানো আছে অথচ বর্ণ বা সাদিকা কেউই তাকে ঢুকতে দেখে নি!

তুরাণের কথা বলার ধরণটাও রুক্ষ লাগল কেমন যেন।

হঠাৎ করেই বর্ণকে উদ্দেশ্য করে আবার তুরাণ বলে উঠে,

“ভাইয়া, তোমার সাথে জরুরী কথা আছে।” বর্ণ ছোখ ছোট করে তুরাণের দিকে তাকায়, হুট করে বর্ণের কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে তুরাণ বলে,

  • “ডাঃ সাদিকা কিন্তু শ্রাবণের বাসায় থাকে, যাকে তুমি ধরার চেষ্টা করেছিলে।”

বর্ণর সব থেকে বিশ্বস্ত এসিস্ট্যান্ট তুরাণ। এমন একটা সময়ে সে কোন প্রকার ভুল তথ্য দিবে না সেটা বর্ণ ভাল করেই জানে। ইনফরমেশনটি দিয়েই তুরাণ হেটে দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়।

ঠিক কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর পরই তুরাণ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আবারও প্রবেশ করে বর্ণের রুমে, এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বর্ণের পাশে বসে বর্ণের কানে কানে বলে,

  • ডাঃ সাদিকা কিন্তু শ্রাবণের বাসায় থাকে, যাকে তুমি ধরার চেষ্টা করেছিলে।”

অবাক হয় বর্ণ,

একটু আগেই তো তুরাণ এই কথাটা তাকে বলে গেল। তাহলে এখন আবার!

  • শুনেছি তো, তুইই বললি একটু আগে। আমি দেখছি কি করা যায়! তুই এখন যা।
  • আমি বলেছি!
  • হ্যাঁ, তুই ই বলেছিস।

বর্ণের হাত ধরে ফেলে তুরাণ। অনুনয় বিনয় করে বলতে থাকে, বিলিভ কর ভাইয়া, আমি তোমাকে গুলি করিনি।

লোড করতেই তো জানিনা। কে তোমাকে গুলি করেছে তাও জানিনা। আমি সারারাত ঘুমে ঝিমুচ্ছিলাম।

  • তুই এখন আয়, পরে কথা হবে।

বর্ণ ও তুরাণের কথোপকথন শুনে,
এতক্ষণ হা করে তাকিয়ে ছিল ডাঃ সাদিকা। বর্ণের ক্ষত স্থানে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে বিশ্রাম নেয়ার জন্য বলে যখন ডাঃ সাদিকা বের হয়ে আসতে যাবেন,
ঠিক তখন পেছন থেকে কাতর কন্ঠে তাকে ডাক দেয় বর্ণ।

এলিয়েন রহস্য ও অনুসন্ধান

ডাঃ সাদিকা বর্ণর বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ান। বর্ণ হাত বাঁড়িয়ে সাদিকার গলায় ঝুলে থাকা আইডি কার্ডটি খুলে ফেলেন। আইডি কার্ড এর এক কোনায় নখ দিয়ে খুটতেই মোবাইলের সিমের মত ছোট্ট একটা বস্তু বের হয়ে আসে। ট্রাকিং ডিভাইস। গুগল ট্রাকিং ডিভাইস। নিকটস্থ ডাক্তারকে জরুরি হায়ার করার জন্য এ ট্রাকিং ডিভাইস ইউজ করা হয়। সেটা খুলে বর্ণ তার নিজের কাছে থাকা ট্রাকিওশান লাগিয়ে দেয়।

সেই সাথে সাদিকাকে বলে দেয়, দেশের স্বার্থে যেন তার আইডি কার্ডটি সাথে সাথে রাখে।

বর্ণকে ভালোভাবেই চিনতো শ্রাবণ।

যখন গুগল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কেউ একজন ডাঃ সাদিকাকে ফোন করে বলে, বর্ণ নামের কেউ একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তার চিকিৎসা দরকার, শ্রাবণ কিছু একটা চিন্তা করে ডাঃ সাদিকাকে অনুমতি দেয় যত দ্রুত সম্ভব গিয়ে চিকিৎসা করে আবার ফিরে আসার জন্য।

স্নেহাকে বাসায় একা রেখে বাইরে যাওয়ার থেকে নিরাপদ সাদিকাকে সাথে রাখা। কখন কি ঘটে যায় তা তো আর বলা যাচ্ছে না।

এদিকে দলে দলে এ দেশ ছেড়ে বাইরের দেশে চলে যাচ্ছে সবাই।

বর্ণকেও বলা হয়েছিলো, দেশের বাইরে পারি জমাতে, তুরাণ, জহির আংকেল ও তার স্ত্রীকেও সাথে নিয়ে ইউএসএ (USA) চলে যাওয়ার কথা বলছিল বর্ণের বাবা। কিন্তু যাদের টাকা পয়সা নেই তারা তো দেশেই থাকবে তাদের এখানে ফেলে রেখে চলে যাওয়াটা বর্ণের মনে সায় দেয় নি তখন। তাই সে দেশত্যাগে সাফ সাফ না করে দেয়। বর্ণের বাবা থেমে থাকেন নি। তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পাড়ি জমান ভিন্ন দেশে। তবে মাঝে মাঝে ছেলের খোঁজ খবর নিচ্ছেন নিয়মিত।

সকাল সকাল শ্রাবণের বাসার দরজায় নক পরে।

শ্রাবণ তখনো ঘুমাচ্ছে। ডাঃ সাদিকার ঘুম ও তখনও ভাঙ্গে নি।

কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে ঘুম ভেংগে যায় স্নেহার। উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয় সে।

স্নেহাকে দেখার সাথে সাথে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে বর্ণ। পুরো পৃথিবীতে, স্নেহাকে চিনতে পারবে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

সেই বিধ্বংসী স্নেহা এখন বর্ণের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অবশ্য স্নেহার ভিতরে যে সেই কালো ধোঁয়ার অস্তিত্ব নেই সেটা খুব ভাল ভাবেই জানে বর্ণ। কারণ সেটা এখন ন্যাশের দেহ ব্যবহার করছে।

সালাম দিয়ে ভিতরে আসতে পারবে কিনা জিজ্ঞেস করে বর্ণ। ভদ্রতার খাতিরে স্নেহা বর্ণকে ভিতরে নিয়ে যায়।

কৌশল ও চালাকি

বর্ণ বাসাটার চারদিকে ভালো করে দেখে। ছোট্ট একটা গোছানো বাসা। কারো রুচি খুব সুন্দর না হলে বাসাকে এমন গুছিয়ে রাখা যায় না। ডাঃ সাদিকার ঘুম ভাঙ্গে একটু পরে। বর্ণকে দেখে সে হতবাক হয়ে যায়৷ মাত্র কালই শরীর থেকে বুলেট বের করে রেস্ট নিতে বলা হয়েছিলো বর্ণকে।

তাছাড়া শ্রাবণ উঠে বর্ণকে দেখলে সাদিকার উপরে ক্ষেপে যাবে এই ভয়ে সাদিকা বর্ণকে বাসা থেকে বের করে দিতে চায় খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু বর্ণ জেঁকে বসে।

সে শ্রাবণের সাথে কথা না বলে যাবে না। সাদিকার উচ্চ কন্ঠস্বরের প্রভাবে ঘুম ভেঙ্গে যায় শ্রাবণের। ঘুম জড়ানো সবুজাভ চোখ নিয়ে তাকায় সে। অন্য একটা ছেলের কন্ঠ কানে ভেসে আসে তার। একটু মনোযোগ দেয়ার পরে বুঝতে পারে এটা বর্ণের কণ্ঠ। ডাঃ সাদিকা নিজে মুক্ত হওয়ার জন্য তাহলে বর্ণকে নিয়ে এসেছে এখানে!

তাহলে তো স্নেহাকেও দেখে ফেলেছে। এখনও একটা মাত্র ফোনকল দিলে সরকারি প্রশাসনের লোকরা মিসাইল মেরে তাসের ঘরের মত এ বিল্ডিং এর পুরোটাই উড়িয়ে দিবে। শ্রাবণ খুব দ্রুত উঠে ফ্রেশ হয়ে গেস্ট রুমে আসে। সেখানের সোফাতেই বসা ছিলো বর্ণ।

শ্রাবণকে রাগী চেহারা নিয়ে প্রবেশ করতে দেখে বর্ণ একটু অপ্রস্তুত হয়ে পরে।

শ্রাবণ ঢোকার সাথে সাথে সাদিকা বের হয়ে যায় রুম থেকে। স্নেহাও সাদিকাকে অনুসরণ করে। ওরা দুজন চলে যাওয়ার পর শ্রাবণ জিজ্ঞেস করে,

  • মি. বর্ণ, সাদিকা কি আপনাকে তার ত্রান কর্তা হিসেবে খবর দিয়ে নিয়ে আসলো!

এই প্রথম শ্রাবণ এবং বর্ণের মধ্যে সামনা সামনি কথা হচ্ছে। বর্ণ নিজেকে যথাসম্ভব কুল রেখে কথা বলার চেষ্টা করছে।

  • আমাকে কি আপনার বাচ্চা মনে হয়, শ্রাবণ?

আপনার বাসা পর্যন্ত পৌঁছাতে আমার কারো হেল্প এর প্রয়োজন নেই।

কেন এসেছেন?

একটা বিষয়ে আপনার সাথে আলাপ করতে।

হুঁ, আমার মনে হয় কালো ধোঁয়ার মত মৃত্যু-অবতারটাকে থামানোর সময় এসেছে।

বুঝিয়ে বলুন।

বন্ধুত্ব ও চুক্তি

স্নেহার শরীরে যে কালো ধোঁয়াটা পজেজড করেছিলো সেটা এখন আমার বন্ধুর শরীর দখল করেছে। ওকে এখনই না থামালে পুরো দেশের জন্য হুমকি স্বরুপ হয়ে উঠবে। আপনি চাইলে আমরা একসাথে কাজ করতে পারি।

আমার সাথে একত্রে কাজ করার ইচ্ছে আসলো কেনো!

কারণ- Only a devil can stop a devil.

তাহলে আমাকে মারার জন্য আবার কোন ডেভিলের সাথে হাত মিলাবেন?

আপনাকে মারতে হবে না, শোধরাতে হবে।

ওর নাম তাইসন। ওর বাসস্থান হেলাক্স গ্রহে। দুর্বলতা, অত্যাধিক আলো।

আলোতে আর কাজ হবে না।
আমার কাছ থেকে এন্টিটর্চ নিয়ে গিয়েছে। ওটার ফর্মুলা ইউজ করে হয়ত বড় করে বানাবে ডিভাইসটি। তখন আলো থেকে অনায়েসে বেঁচে যেতে পারবে।

তবে কি করতে হবে এখন?

ধ্বংস।

আমাদের এমন একটা জায়গা ঠিক করতে হবে, যেখানে দিনের আলোর থেকেও বেশি পাওয়্যারফুল লাইট দিয়ে তীব্র আলো সৃষ্টি করতে হবে।

তারপর সেখানে ওর সাথে ফাইট করে ওকে ন্যাশের দেহের বাইরে নিয়ে আসতে হবে। আলোর জন্য ওর শক্তি তখন আর তেমন থাকবে না। ওকে আরো লাইট দিয়ে জড়োসড়ো করে বাক্সবন্দি করে ফেলতে হবে। আপাতত এটাই প্লান।

  • ওকে ডিল।

শ্রাবণ একটা মোটা হুডি পরে বর্ণের গাড়িতে চেপে নেমে পরে। দুজনে মিলে খুঁজে বের করে বড় একটি ফাঁকা জায়গা।

বর্ণের সাথে কাজ করলেও তাদের দুজনের ভিতরে কোথাও একটা ভীষণ দুরত্ব সৃষ্টি করে রেখেছে শ্রাবণ। একজন মানুষের সম্পর্কে দুভাবে জানা যায়, এক হলো তার উপর জোর প্রয়োগ করে, অন্যটা তার সাথে ভাব জমিয়ে। বর্ণ শ্রাবণের সাথে এ দুটির কিছুই করতে পারছে না। বেশ অনেকক্ষন খোঁজাখুঁজি করার পরে বর্ণ এবং শ্রাবণ একটি জায়গা খুঁজে বের করে।

জায়গাটি মূলত বড় একটি শ্যুটিং স্পট। পরিচিত। কিন্তু শ্রাবণ এবং বর্ণ দুজনে মিলে স্থানটির নাম দেয়, “দ্যা ডেভিল’স ইনড।”

মহা প্রলয়ের শুরু

উপরস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বর্ণ, ওর প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও দেশ বিদেশ থেকে বড় অংকের টাকা আসে। বর্ণর আন্ডারে মোতায়ন করা হয় অতিরিক্ত কিছু সেনা সদস্য ও।

স্টেডিয়ামে যে রকম বড় লাইট দিয়ে খেলাধুলা করা হয়, তার চেয়েও বেশি পাওয়ারফুল লাইট দিয়ে তৈরি করা হবে “দ্যা ডেভিল’স ইন্ড” শক্ত ইস্পাত দিয়ে তৈরি হবে লাইটের টাওয়ারগুলো।

থাকবে ওয়াচ টাওয়ার এবং মেশিন গান ও। পুরো প্রসেসটা কম্পলিট করতে সময় লাগবে ৫ দিন। অগণিত মানুষ, আদাজল খেয়ে লেগে আছে কাজটা দ্রুত কম্পলিট করার জন্য।
দেখতে দেখতে কেটে যায় তিনদিন। কিন্তু তাইসন আর ন্যাশ এর দেখা পাওয়া যায় না। সবাই একেবারেই হতবাক, তাইসন কোথায়!

এমন কখনোই হয়নি, তাইসন রাতে তার আস্তানা ছেড়ে বের হয়নি।

চারদিকের মানুষজন একটু খুশি হয়ে উঠে। তিনদিনে সবাই যেন একটু একটু করে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ফেলে সাহস জুগিয়েছে।

কিন্তু যারা বেশি খুশি হচ্ছিলো তাদের খুশিতে জল ঢেলে দিয়ে তাইসনের আবির্ভাব হলো তৃতীয় দিন রাতে।

তার এই আবির্ভাব হলো মহাপ্রলয়ের মত। সে এখননেক শক্তিশালী। তাকে দেখা যায়না। মনে হয় কোন একটা বড় গোল কালো অন্ধকার পুরো শহর চষে বেড়াচ্ছে। আর যেখান দিয়ে যাচ্ছে, সেখানের সবাই লাশ হয়ে পরে থাকছে। একটা পাঁচতলা বিল্ডিং এর সমান ব্যস নিয়ে একটি অন্ধকার বৃত্ত হয়ে উঠেছে পুরো মানবজাতির ধ্বংসের প্রতীক।

আস্তে আস্তে ঢাকা ছেড়ে আশেপাশের শহর ও গ্রামগুলোতে মৃত্যুর মিছিল বইয়ে দিচ্ছিল তাইসন। আগে তো দিনে গা ঢাকা দিয়ে থাকতো। এখন দিনেও তাকে থামানো যাচ্ছে না। এন্টি টর্চের আলোর প্রভাবে তার গায়ে আলো লাগছেনা।

দেশ বিদেশের সবাই বিমর্ষ হয়ে পরে।

একে থামানোর আর কোন রাস্তা হয়ত নেই।

শ্রাবণ মনে মনে প্রস্তুতি নেয়। যে করেই হোক থামাতে হবে তাইসন কে। কিন্তু কিভাবে কি করবে তা একদম ই মাথায় নেই তার!

ওদিকে দ্যা ডেভিলস ইন্ড তৈরি হতে দরকার আরো এক দিন।

আজ কয়েকবার প্রসব বেদনা উঠেছে লিন্ডার, প্রচন্ড ব্যাথায় কাঁতরাচ্ছে সে। ন্যাশের সাথে যোগাযোগ নেই। একটা ডাক্তর রোবট লিন্ডার আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই রোবট নিয়ে আর কতদিন! খুব একা লাগছে লিন্ডার। মেজাজ ও খারাপ হচ্ছে তার বর্ণের উপরে। কিন্তু কি-ই বা করার! কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না সে।

ডিপ্রেশনে ডুবে থাকতে হচ্ছে লিন্ডাকে।

সে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে পৃথিবীর সাথে কোনরকমে যোগাযোগ করার৷ লিন্ডা ন্যাশের মত পারদর্শী না হলেও একদম কম ও যায়না। আস্তে আস্তে টেকনিকাল জট খুলতে খুলতে বর্ণের সাথে যোগাযোগ করার একটা রাস্তা বের করে ফেলে সে।

যুদ্ধের প্ল্যান এবং প্রস্তুতি

তাইসন তার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে অগণিত, মানুষের জীবনিশক্তি নিয়ে খুব অল্প মুহূর্তেই প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে উঠে।

এদিকে বর্ণের প্রজেক্টও রেডি হয়ে যায়। শ্রাবণও মনে মনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে৷ নিঃসন্দেহে আজকে খুব কঠিন কিছুর মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

বর্ণ শ্রাবণের কাঁধ চাপড়ে সাহস দেয়,
সে যতটা সম্ভব শ্রাবণকে সাহায্য করার চেষ্টা করবে।

সাইক্লোনের মত বাতাসে ঝড় তুলে কালো একটা বিশাল বলের মত গোলাকার অন্ধকার কে ট্রাক করে বর্ণ। কিন্তু দিনে কিছুতেই আক্রমণন করা যাবে না তাইসনকে। কারণ শ্রাবণের শক্তি দিনের বেলায় প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকে। এদিকে শ্রাবণের শক্তি আরো বেশি পরিমানে বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বর্ণ।

শ্রাবণের সামনে হাজির করানো হয় হাজার হাজার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের৷ বর্ণ সহ অনেকেই শ্রাবণকে অফার করে তাদের হত্যা করে শ্রাবণ যেন নিজের শক্তি বাড়িয়ে তুলে।

শ্রাবণ সবার দিকে তাকিয়ে বলে, The power you earn today, you will lost it some day. But the power you have inside of your own, you will have it till you die.

আমি অন্যদের থেকে ধার করে নেয়া শক্তিতে যুদ্ধ জয় করতে চাইনা। আমি নিজের শক্তিতে লড়াই করব।

যে সকল মানুষ আমার হাতে মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমার অজান্তেই খুন হয়েছে। নিজের পাওয়ারের উপর আমার তখন কোন কন্ট্রোল ছিল না।

কথাগুলো শুনে উপস্থিত সকল ফাঁসির আসামি হাততালি দিয়ে উঠে৷ শ্রাবণ মুচকি হেসে বের হয়ে যায়। শ্রাবণের মুখে হালকা সবুজাভ একটি মাস্ক পরা থাকায় কেউই তার চেহারা দেখতে পায় নি। শুধুমাত্র বর্ণ স্নেহা এবং ডাঃ সাদিকা ছাড়া শ্রাবণের সম্পর্কে বাইরের তেমন কেউই জানেনা। তবুও আজ সবাই চাইবে এই অচেনা মানুষটি যেন ভালোয় ভালোয় জিতে যায়।

বর্ণর ফোনে একটা অদ্ভুত কল আসে। বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পরে বর্ণ ফোন পিক করতেই ওপাশ থেকে লিন্ডার হতবিহ্বল কন্ঠ ভেসে আসে। অনেক দিন পানি না খেয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে থাকা একজন ব্যক্তি কারো কাছে যেমন এক গ্লাস পানির জন্য কাকুতি মিনতি করে, বর্ণের কাছে লিন্ডাও তেমন কাকুতি মিনতি করতে থাকে ন্যাশের জন্য। বর্ণের ভিতরে অনেকটা অপরাধবোধ কাজ করে।

সে সময় নিয়ে লিন্ডাকে ধীরে ধীরে শুরু থেকে শেষটা বুঝিয়ে বলে। লিন্ডা বাকরুদ্ধ হয়ে যায় সবটা শুনে। বর্ণের কাছে জিজ্ঞেস করে শ্রাবণের সাথে যদি তাইসনের যুদ্ধ হয়, তবে ন্যাশের কোন ক্ষতি হবে কিনা! বর্ণ চুপ করে থাকে। কোন কথার উত্তর দেয়না। লিন্ডা কিছু একটা বুঝতে পেরে ফোন কেটে দেয়।

বর্ণ কিছুটা মর্মাহত হয়।

ডেভিলসের সাথে লড়াই

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শ্রাবণকে হেলিকপ্টার এ করে তাইসন এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দ্রুতগতিতে কপার উড়ে চলে তাইসনের কাছাকাছি চলে আসে।

কিন্তু ওর আশেপাশে বাতাসের বেগ এত বেশি ছিল যে কপারের উড়তে সমস্যা হচ্ছিলো। পরে সোজা না গিয়ে ঘুরে অন্য পাশ থেকে তাইসনের যাত্রা পথের সামনে চলে আসে শ্রাবণকে নামিয়ে দেয়। কপার থেকে কোন প্রকার প্যারাসুট না নিয়েই ঝাপ দেয় শ্রাবণ। তারপর অন্ধকারে হারিয়ে যায় সে। আপাতত কাজ শেষ। বর্ণ দ্যা ডেভিল’স ইনড এর দিকে উড়াল দেয়।

তাইসন সব কিছু চূর্ণ বিচূর্ণ করতে করতে এগোচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ তার গতি থামিয়ে দেয়। সামনেই তার চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ানো।

তাইসন খুব ভালো করেই জানে তার থেকে শ্রাবণের শক্তি এখন অনেক কম।

শ্রাবণের একদম সামনে এসে থেমে যায় তাইসন। এন্টিটর্চের আলো নিভিয়ে দেয় সে।

ন্যাশের দেহ নিয়ে শ্রাবণের সামনে এসে হালকা নিশ্বাস ফেলে সে, এতেই শ্রাবণের গায়ে বেশ জোরে সোরে একটা ধাক্কা লাগে। তাইসন শ্রাবণকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“তোমার সব প্লান শেষ শ্রাবণ, আমার বিপক্ষে দাঁড়াতে পারত এমন একজন শুধু তুমিই ছিলে। আজ তোমাকে মেরে ফেললে আমার বিপক্ষে দাঁড়ানোর মত আর কেউ থাকবে না। ইউ আর ফিনিশড!”

  • দাবার চাল শুধু একপক্ষ চালে না। অন্যজন চাল দেয়ার আগে জিতে যাওয়ার আশা করা ভুল।
  • পরবর্তী চাল চালার সুযোগ তোমাকে দিচ্ছিনা।

কথা শেষ হওয়ার পর,
শ্রাবণ ডান পা সামনে উঠিয়ে তাইসনের তলপেটে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করে।

তাইসন পেটে হাত দিয়ে নিচের দিকে অল্প একটু ঝুঁকে যায়।

গম্ভীর হাসি দিয়ে তাইসন মাথা তুলে তাকিয়ে শ্রাবণকে আর সামনে দেখতে পায় না। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে শ্রাবণ ছুটে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। তাইসন বুঝতে পারে শ্রাবণকে এখন হাতছাড়া করা ঠিক নয়। কারণ ভবিষ্যতে সে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে।

তাইসন শ্রাবণের পিছু নেয়। কতদূরই বা ভাগবে আর, তাইসনের হাত থেকে বাঁচা এখন শ্রাবণের কাছে অসম্ভব হয়ে পরেছে।

শ্রাবণের পিছন বেশ অনেক্ষণ ধরে বাতাসে ভেসে তাড়া করে তাইসন। প্লান অনুযায়ী শ্রাবণ দ্যা ডেভিলস ইন্ড এর দিকে ছুটে চলে। সেখানে বর্ণ ও তার টিম সব কিছু নিয়ে রেডি আছে। শ্রাবণের প্লান তাইসনকে তার পেছনে ছুটিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়া।

প্লান অনুযায়ীই ঘটে সব কিছু। বেশ অনেক্ষণ ছুটে আসার পরে হঠাৎ শ্রাবণ দাঁড়িয়ে যায়। তাইসনও বাতাস থেকে ভেসে এসে শ্রাবণের সামনে দাঁড়ায়। শ্রাবণ আবারো তাইসনের উপর হামলা করার চেষ্টা করলে তাইসন শ্রাবণের হাত ধরে ফেলে। ন্যাশের এক হাত থেকে ধারালো লেজার রশ্মি বের হয়ে এসে শ্রাবণের এক হাত ছিন্ন করে ফেলে। শ্রাবণের শরীর থেকে সবুজাভ রক্ত ছিটে পরে চারদিকে।

বিচ্ছিন্ন হাতটাকে অনেক দূরে ছুড়ে ফেলে তাইসন। অন্য হাত দ্রুতগতিতে তাইসনের চোয়ালের উপরে চালিয়ে দেয় শ্রাবণ। ন্যাশের মাথার ধাতব অংশের কিছু জায়গা চ্যাপ্টা হয়ে যায়। কিন্তু তাতে তাইসনের উপর কোন প্রভাব পরে না। বরং তাইসন শ্রাবণের বুকের উপরে ধারালো লেজার দিয়ে বেশ অনেকটা গভীর ক্ষত করে ফেলে। তাইসনের পাওয়ারের সামনে খুবই দুর্বল লাগছে শ্রাবণকে। যদিও একটু পরে শ্রাবণের ক্ষতস্থান আগের মত হয়ে যায় কিন্তু ন্যাশের দেহ থেকে আসা ধারালো লেজার ও মিনি মিসাইলের আক্রমণ প্রতিহত করার মত শক্তি শ্রাবণের ছিল না।

এলিয়েন মানবের পরাজয়

ন্যাশের দেহের সাথে কম্বিনেশন ঘটিয়ে অসম্ভব শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তাইসন। ভিডিওতে সব কিছুই দেখছিলো লিন্ডা। পাশেই রোবট ডাক্তারগুলো দাঁড়িয়ে লিন্ডার পেটের চামড়ার একের পর এক স্তর কেটে ভিতরে এগিয়ে যাচ্ছে। ন্যাশ ও লিন্ডার একমাত্র সন্তান একটু পরই ভূমিষ্ট হতে চলেছে।

এদিকে শ্রাবণের অবস্থা নাজেহাল। নিজ চোখে সবকিছু ভিডিও কনফারেন্সে দেখতে পাচ্ছে লিন্ডা।

লিন্ডার মাথায় একটা কথা বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে, একটা জীবনের চেয়ে অনেকগুলো জীবন বেশি দামি। তাকেই কিছু একটা করতে হবে। ন্যাশের অবস্থা দেখে কান্নায় দু’চোখ ভেসে যাচ্ছে তার।

নিজের মনকে শক্ত করে লিন্ডা। দাঁতের সাথে দাঁত পিষে একটা লাল বাটনে প্রেস করে। সাথে সাথে লিন্ডার কানে এসে লাগে ছোট্ট একটা বাচ্চা শিশুর কান্না। নতুন একটা জীবনের আগমন ঘটলো।

এদিকে হাওয়াই বাজির মত ব্লাস্ট হয়ে গিয়েছে ন্যাশের দেহ। লিন্ডার চোখ থেকে অশ্রুকণা এবং ন্যাশের দেহের বিভিন্ন টুকরো একসাথে মাটিতে পতিত হচ্ছে। ঠিক যে মুহুর্তে ন্যাশের বাচ্চার জন্ম হয়েছে, সে মুহুর্তে ন্যাশের প্রস্থান ঘটেছে এ দুনিয়া ছেড়ে অন্য দুনিয়ায়।

লিন্ডার কাছে ন্যাশের দেহ এমার্জেন্সি ব্লাস্ট এর টুলস ছিল। সেটা প্রেস করেই ন্যাশকে বিষ্ফোরিত করে দিয়েছে লিন্ডা।

বিস্ফোরণের পরে তাইসনের দেহ উন্মুক্ত হয়ে পরে। সে ছুটে যাওয়ার জন্য বাতাসে ভেসে উপরে উঠতে শুরু করলে দুপ ধুপ করে চারদিকের লাইট গুলো জ্বালিয়ে দেয় বর্ণ।

শ্রাবণের বিক্ষত দেহ এবং তাইসনের উন্মুক্ত দেহ দুটোই উজ্জ্বল আলোর পাওয়ারে নিঃশেষ হতে শুরু করে। বর্ণের সাথের লোকরা শ্রাবণকে বাচানোর জন্য এগিয়ে যায়। কিন্তু বর্ণ নিষেধ করে।

তার ভাষ্যমতে শ্রাবণ ও সমান ক্ষতিকারক। তাইসন বা শ্রাবণ দুজনের কেউই পৃথিবীতে থাকা ডিজার্ভ করে না। শ্রাবণের গা থেকে ধোয়া উড়ে ক্রমশ ই দেহের সব মাংস শুকিয়ে হাড়ের সাথে লেগে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। কিন্তু এর মধ্যে তাইসন চালাকি করে একপাশে পরে থাকা এন্টিটর্চ সংগ্রহ কিরে সেটা অন করে দিয়ে অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে যায়।

এলিয়েন গ্রহে নতুন জীবনের অধ্যায়

বর্ণ এতটা কাঁচা কাজ করে না। সে চারদিকে সেট করা বড় বড় পাখার ফ্যানগুলো অন করে দেয়। উন্মুক্ত অবস্থায় ধোঁয়া হিসেবে তাইসন ভেসে বেড়ায়। যার ফলে চারদিকে থেকে ফ্যান দিয়ে উচ্চমাত্রায় বাতাসের প্রবাহ সৃষ্টি করায় মাঝখানে আটকে পরে তাইসন। তার কাছ থেকে এন্টিটর্চ নিচে পরে অফ হয়ে যায়। ভিতরে লাইট সেট করা একটা কন্টেইনার হেলিকপ্টার দিয়ে তাইসনের উপর ফেলে আটকে ফেলা হয় তাকে। শ্রাবণের শরীর ও ধ্বংস করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। শ্রাবণকে উদ্দেশ্য করে পেট্রোল ঢালা হয় বর্ণর আদেশে। অতঃপর সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

এর মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয় অলিভিয়া।

এসেই সর্ব প্রথম নিজের হাতটিকে উপরের দিকে তুলে ধরে সে।

সুপারসনিক সাউন্ড ওয়েব বের হয় তার আংগুলের ডগা থেকে। অকার্যকর হয়ে যায় আশেপাশের সবার ভারী ও আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র। সবাই নিজের কান হাত দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পরে। এরপর অলিভিয়া দ্রুতগতিতে শ্রাবণের অর্ধ-বিধ্বস্ত দেহ এবং এন্টি টর্চ নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করে।

“লর্ড বাইসন, মিশন ইজ সাকসেসফুল। ও এল ভি টেন” ওভার।

  • ওয়েল ডান মাই গার্ল। উইশিং ইউ এ হ্যাপি রিটার্ন।

শ্রাবণের দেহ নিয়ে অলিভিয়া ওয়ার্মহোলে ঢুকে যায়।

সেদিনের পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি তুরাণকেও।

স্নেহাও আস্তে আস্তে জানতে পারে সব কিছুই।

একসময় ভাগ্যের পরিহাস বলে সব কিছু মেনে নিয়ে, সে শ্রাবণের বাসায়ই থেকে যায় সে।

বর্ণকে ইন্টারন্যাশনাল ডিটেকটিভ বস ঘোষণা করা হয়। বক্স বন্দী তাইসন কে সংরক্ষণ করে রাখা হয় সমুদ্রের তলদেশে বানানো গোপনীয় এক লকার রুমে। বর্ণ পরে জানতে পারে লিন্ডাদের রিভার্স ওয়ার্ল্ড এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো শ্রাবণকে।

লিন্ডা তার ছেলের নাম রেখেছে রিংকল, বাবার মত সেও অনেকটা অন্ধকারের মানুষ হয়ে উঠছে। কিছুটা রহস্য, কিছুটা গাম্ভীর্যতা নিয়ে বেড়ে উঠছে সে। ডার্ক সিটির সমস্যার সমাধান হয়েছে।

সবার জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে ধীরে ধীরে।

কিন্তু স্নেহার মনটা এখনো অস্বাভাবিক হয়ে আছে। শ্রাবণের অপেক্ষায় এখনো জানালার পাশে রাত কাটায় সে।

হয়ত কোন একদিন অন্ধকারে এসে স্নেহার গাল ছুয়ে দিয়ে বলবে, কি ব্যাপার! তোমার মন খারাপ কেনো?

~ সমাপ্ত ~
লেখকঃহাসিবুল ইসলাম শ্রাবণ

আরো পড়ুন- ভয়ানক ভৌতিক গল্প – অশুভ আত্মার প্রতিশোধ – পর্ব ১

Related posts

ভয়ানক ভৌতিক গল্প – অশুভ আত্মার প্রতিশোধ – পর্ব ১৪

valobasargolpo

ভয়ানক ভৌতিক গল্প – অশুভ আত্মার প্রতিশোধ – পর্ব ৩

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!