ছোট গল্প

সেলিব্রেটি ভাবি – জনপ্রিয় টিকটক স্টারের গল্প

সেলিব্রেটি ভাবি – জনপ্রিয় টিকটক স্টারের গল্প: কি হয়ছে ভাবি একটু কও তো কান্না কইরো না! কিন্ত ভাবির কান্না থামছেই না তিনি জাবেদ ভাইকে ফোনটা হাতে দিয়ে কাঁদতে লাগলেন!


পর্ব ১

~ অনার্স প্রথম বর্ষের পরিক্ষা শেষ করে ঢাকা থেকে বাড়ি আসাটা মুলত আমার কাকাতো ভাই জাবেদ এর বিয়ে খাওয়া! পরিক্ষা চলার কারনে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয় নাই আমার কিন্ত পিক দেখেছি ভাবির।

বিয়ে ঠিক হয়ছে দশ দিন! জাবেদ ভাই কোন রিলেশন করে নাই খুব সাধাসেধে মানুষ। অগ্রণী ব্যাংকে এ জব করে! বাড়িতে এসেই জাবেদ ভাইরের সাথে দেখা করতে যাইয়া দেখি ভাই ফোনে কথা বলতাছে! আমাকে দেখে বলল~
~ আরে রুপা কখন আসছিস আয় ভিতরে আয় তোর ভাবির সাথে কথা বলছিলাম। এই নে তুই কথা বল।

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিল জাবেদ ভাই! ওপাশ থেকে~ হ্যালো রুপা কেমন আছো তোমার কথ জাবেদ আমাকে অনেক বার বলছে! কালকে তুমি গায়ে হলুদ দিতে আইসো হ্যা! এখন রাখি বাই! আমি তো অবাক আমাকে কিছু বলতেই দিলো না মাথার তার ছিরা নাকি! অব্যশ বড় কাকি বলছে ওনি নাকি অনেক বড় টিকটক সেলিব্রেটি!

আর আমার বড় কাকি ও একটি মর্ডান টাইপের মানুষ! যাইহোক, আমি ফোনটা রেখে বাড়ি চলে আসলাম! সকালে আবার গায়ে হলুদে যেতে হবে। আমি না গেলে শোহানা তিতলি তোয়া ওরা কেউ যাবে না! রাতে সবাইকে মেহেদী দিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম! সকালে উঠে রেডি হয়ে রওনা দিলাম ভাবিদের বাড়ি। পৌছে দেখি ভাবি স্টেজ এ বসে রয়ছে দেখেই বুঝা যাচ্ছে দুই ঘন্টা লাগছে মনে হয় খালি মুখে মেকআপ করতেই!

~ আরে রুপা আসছো তোমায় অপেক্ষায় করছিলাম এসো এসো! (ভাবি)
কিছুই বুঝলাম তেমন ভালো করে কথাও হয় নাই। আর ওনি আসার সাথে সাথে আমাকে টেনে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। মেরে টেরে ফেলবে নাকি রে বাবা আমার তো ভয় লাগছে এখন!
~ আসলে রুপা তুমিতো ঢাকায় থাকো তুমি তো অনেকটা মর্ডান তাই আরকি! বলেই দেখলাম ভাবি লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আমার তো ওনার এমন ভাব হাসি থামিয়ে রাখতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো!

লজ্জা পাচ্ছেন কেন ভাবি বলেন না কোন প্রবলেম নাই আমি তো আপনার বোনের মতোই! আমি এটা বলার সাথে সাথে ওনি ফোনটা আমার হাতে দিয়ে বলল~ আসলে হয়ছে কি রুপা আমি তো টিকটক সেলিব্রেটি আর আজকে আমার গায়ে হলুদ একটা ভিডিও না করলে হয় নাকি বলো? সবাই তো ব্যাস্ত কাকে বলব বুঝতে পারছিলাম না তাই তোমাকে নিয়ে এলাম এখানে। (ভাবি)
আচ্ছা ভাবি প্রবলেম আমি শুরু করুন আমি ক্যামেরা অন করছি!

আমি ক্যামেরা ধরলাম কিন্ত ভাবি তিড়িং বিড়িং দেখে মনে হচ্ছিলো আমি স্টোক করব! কোন মতে ভিডিওটা সম্পুর্ন করে দিয়ে যেন আমি হাফ ছেড়ে বাছলাম! সেখান থেকে বাড়ি আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ফ্রেস হয়ে রুমে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে কতক্ষণ ফেসবুকিং করার পর হঠাৎ মনে পড়ল ভাবির টিকটক ভিডিও দেখি তো! সেলিব্রেটি ভাবি বলে কথা!

টিকটক এপস ডাউনলোড দিয়ে ওনার আইডি খুজছিলাম। আজ ভিডিও করার সময় দেখেছিলাম ভাবির আইডির নাম এন্জেল মারিয়া। অথচ তার আসল নাম মরজিনা। যাইহোক, সহজেই আইডিটা পেলাম দেখলাম ভালোই ফ্যান ফলোয়ার আছে। ভিডিও অপেন করে একটা দেখে মনে হচ্ছিলো আমি হাসতে হাসতে মরেই যাবো! হাসি থামাতে পারছিলাম না বিধায় জোরেই হাসছিলাম! হাসির শব্দ শুনে রুমে আসে আম্মু। ঝাড়ি মেরে বলে এত রাতে হাসছিস কেন বেক্কলের মতো ফোন রেখে সুয়ে পড়।


পর্ব ০২

~ আমি হাসতে হাসতে ভাবির একটা টিকটক ভিডিও অপেন করে আম্মুর হাতে দিয়ে বললাম এটা দেখো আম্মু! ভিডিও দেখে আম্মুর সেকি হাসি আমার থেকে আরো জোড়ে হাসতে লাগলো। পাশের রুম থেকে আমাদের হাসি শুনে আব্বু এসে ধমক দিয়ে বলে, এই কি শুরু করছো! তোমরা রাত বেড়াতে না ঘুমিয়ে এত হাসতেছো কেন? আব্বুর কথা শুনে আম্মু আব্বুর হাতে ফোনটা দিয়ে বলল ভিডিওটা দেখতে! ভিডিও দেখার পর আব্বুর সেকি হাসি পারলে যেন ফ্লোরে গড়াগড়ি খায় অবস্থা! আমি আব্বুরে বললাম জানো আব্বু মেয়েটা কে? আব্বু বলল কেরে মেয়েটা একদম জোকার লাগছে।

এটা আর কেউ নয় আব্বু আমাদের বড় কাকির সেলিব্রেটি বউ! বলিস কিরে এটা জাবেদ এর বউ? হ্যা আব্বু জাবেদ ভাইয়ের বউ মরজিনা ভাবি অর্থাৎ এন্জেল মারিয়া! দেখতে গিয়ে দেখেই বুঝেছিলাম মেকআপ করে বেশি কিন্ত টিকটকে আইসা এমন সং সাজে তাতো জানতাম না। অব্যশ ভাবিতো এমন সাজগোছ করা মেয়েই পছন্দ করে! তার পছন্দের মেয়েই মরজিনা!

যাইহোক, অনেক রাত হয়ছে ঘুমা এখন বলেই আব্বু রুমে চলে গেল! আম্মু হাসতে হাসতে বলল অনেক দিন পর নতুন কিছু দেখলাম রে তুই আর রাত জাগিস না ঘুমা বলেই আম্মুও রুমে চলে গেল! আমিও ফোনটা রেখে সুয়ে পরলাম। সামনে ভাবির অনেক লাইভ শো দেখতে হবে মনে হচ্ছে! উফ কি হাসি ভাবির একদম অপু ভাইরের হাসিকে হার মানাই।
পরের দিন সবার সাথে আড্ডা দিয়ে সময় ভালোই কাটলো!

সন্দ্যার দিকে জানতে পারলাম জাবেদ ভাইয়ের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ছে একটু পরেই বাড়ির দিকে রওনা দিবে! প্রায় রাত নয়টার দিকে বাড়ি এসে পৌছালো ওরা! আমরা সবাই দাড়িয়ে দেখছি ভাবিকে। আমিতো ভাবিকে দেখে পুরাই টাস্কি খাইছি! পাশে তাকিয়ে দেখি আমার বজ্জাত কাকাতো ফুফাতো ভাইয়েরাও টাস্কি খেয়ে ভাবির দিকে তাকিয়ে আছে! এই বান্দরের দল তোমরা এভাবে অন্যের বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছো কেন হ্যা? আমার কথা শুনে সূর্য ভাই বলে~ এই কিরে রুপা ভাবিতো মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব মেকআপ আজ নিজেই একাই মুখে লাগাই ফেলছে! আমি বললাম হ্যা এটা ঠিক বলছো সূর্য ভাই!

মনে হচ্ছে যেন সব আটাময়দা আজ একাই মেখেছে ভাবি এই জন্যই তো বলি ময়দার দাম কেন এত বাড়ে! এই মেয়েরা আটাময়দা মেখেই তো দাম বাড়িয়ে দিছে! রাকিবের কথা শুনে ওর দিকে রাগি চোখে তাকাতেই ও দিল দৌড়! যতই আমি মেকআপ না করি কিন্ত মেকআপ তো মেয়েদের জন্যই আর এটাকে কেউ আটাময়দা বললে তাতো মেনে নেওয়া যায় না! ভাবিকে বরন করছে বড় কাকি দেখে মনে হচ্ছে তিনি খুব খুশি তিনিতো এমন বউই চেয়েছেন! আমি দাড়িয়ে ভাবিকে বরন করা দেখছি এমন সময় ছোট কাকার ছেলে রাফি এসে আমার হাত ধরে একটু দুরে নিয়ে বলে~ জানো আপু আজ কি হয়ছে? আমি বললাম তুই বললেই জানতে পারব তুই বল!

বিয়ের দিন তো সব মেয়েরা শশুড় বাড়ি আসার সময় কান্না করে তাই না যেমন রুমপা আপা কান্না করেছিলো শশুড় বাড়ি যাওয়া সময়! আমি বললাম হ্যা কান্না করে তো ক্যান কি হয়ছে বলতো পিচ্ছু? জানো আমাদের ভাবি আসার সময় একটুও কাদেনি! আমি বললাম তাই নাকি বলিস কি একটুও কাদেনি? নাহ আপু একটু কাদেনি আরো বলে কি জানো কান্না করলে নাকি তার এত কষ্টে করা মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে।


পর্ব ০৩

~ রাফির কথা শুনে খুব একটা অবাক হলাম না ভাবির দ্বারাই এমন কাজ পসিবল! যাইহোক, বরণ শেষে খাওয়ার পর্ব কম্পিলিট করে ডয়িংরুমে বসে আছে সবাই আর এই দিকে আমরা বাসর ঘরটা সাজানো কম্পিলিট করে সবাই বের হয়ে গেলেও যেই আমি বের হতে যাবো ওমনি সূর্য ভাই হাত টান দিয়ে ধরে বলে এই রুপা তুই থাক বের হইস না! আমি বললাম কেন বের হবো না কেন? কারন আমরা আজ ভাবির বাসর ঘরে আড়ি পাতবো! (রাকিব)

কি বললি বজ্জাত ছেলে বড় ভাইরের বাসর ঘরে আড়ি পাতবি! এটা জাস্ট মজা আপু তুমি রাগতাছো কেন? (তোয়া)। আমি রাগছি কেন বজ্জাতের দল বড় কাকি যদি এটা জানতে পারে জানিস কি হবে? তাড়াতাড়ি বের হ না হলে আমি বড় কাকিকে কিন্ত ডেকে আনবো! আমার ধমক খেয়ে সবাই বের হয়ে যায়! আর আমিও রুমে এসে সুয়ে পরি! সকালে ঘুম ভাঙ্গে আম্মুর ডাকে!

উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে নামতেই দেখি জাবেদ ভাই মন খারাপ করে বসে আছে! মন খারাপের কারন জানতে চাইলে সে বলে~ কি আর বলবরে রুপা তোর সেলিব্রেটি ভাবি কালকেও টিকটক ভিডিও বানায়ছে আর জানিস হ্যাশ ট্যাগে লিখছে এটা তার বাসর রাতের ভিডিও! ভাবা যায় বল? কেন ভাবা যাবে না জাবেদ ভাই সেলিব্রেটি মানুষ তো ভাবি!

এ কথা বলেই আমি চলে আসলাম ওখান থেকে! তোয়ার কাছে শুনলাম পার্লার থেকে লোক এসে এখনই ভাবিকে সাজাচ্ছে! কিন্ত প্রোগ্রাম শুরু হবে দুপুরে! যাক ওর কথা শুনে অবাক হলাম না সেলিব্রেটি মানুষ সাজতে তো সময় লাগবেই! দুপুরে ভাবি আমাকে তার রুমে নিয়ে বললো রুপা তুমি প্লিজ আমাকে একটু হেল্প করো ভিডিও বানাতে! বোঝোয় তো এত সেজেছি ভিডিও না বানালে তো চলে না! আমি বললাম হ্যা তাইতো ভাবি অব্যশই আমি আপনাকে হেল্প করব আপনি আমাদের #সেলিব্রেটি ভাবি!

শুরু করলেন ওনি ভিডিও একটা গানে সুন্দর করে হালকা নেচে নেচে ঠোট নাড়াচ্ছেন! ভিডিও শেষে আমি ভাবিকে বললাম! আচ্ছা ভাবি একটা কথা জিজ্ঞেস করি? হ্যা করো! (ভাবি)আমি বললাম আচ্ছা ভাবি আপনি স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় সেটা না গেয়ে কি শুধু ঠোট নাড়াতেন?

ভাবি বলল হ্যা তুমি কি বুঝলে? আমি বললাম নাহ এমনি আর কি! আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমি দ্রুত রুম পরিত্যাগ করলাম! মনে মনে বললাম এই জন্যই আপনি টিকটক প্রতিবন্ধী থুক্কু টিকটক সেলিব্রেটি!

ভাগ্যিস আমি স্কুলে আমি জাতীয় সংগীত গাইতাম ঠোট নাড়াতাম না! স্টেজে ভাবিকে নেওয়া হলে সেখানে গিয়ে দেখি রাকিব ভাবির কাছে দাড়িয়ে আছে! আর এ দিকে পাশে তাকিয়ে দেখি সূর্য ভাই সহ পাড়ার অনেক পুলাপাইন ভাবির দিকে ড্যাঁপড্যাপ করে তাকিয়ে আছে! আমি গিয়ে বললাম কি ভাইয়েরা এত সুন্দর মেয়ে আগে দেখো নাই বুঝি? দেখছি তবে এমন ময়দা সুন্দরী কমই দেখছি। (সাকিব) কি বললি বান্দর ছেমড়া মেকআপ কে মেকআপ বলতে শিখিস নাই এখনো! আচ্ছা তুই কতো বইন ভাবির ঠিক কতো সময় লাগছে এতো ময়দা মাখতে? (আকাশ ভাই)

তুমি ও মেকআপকে ময়দা বলছো? খাড়াও আমি বড় কাকীরে এখনি বলতাছি তার পুত্র বধুর মেকআপকে ময়দা বলছো! নাহ বইন এইডা করিস না আমাদের মর্ডান কাকিমা এটা জানতে পারলে নির্ঘাত গিলে খাবে আমাকে! (আকাশ ভাই)


পর্ব ৪

~ আকাশ ভাইদের ওখান থেকে ভাবির কাছে এসে বসতেই পাড়ার আরেক বজ্জাতের আগমন ঘটে! হ্যালো ভাবি আপনার টিকটক ভিডিও গুলো দেখে আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি। আমি কি আপনার সাথে একটা সেলফি নিতে পারি? (রিফাত)
মাইরালা রিফাতের কথা শুনে দেখি ভাবি লাজে লাজুক লতা হয়ে গেছে।

হ্যা অব্যশই! (ভাবি)
আপনি এতো বড় সেলিব্রেটি কিন্তু আপনার কোন নাই ভাবি। (রিফাত)
অহংকার করলে কি আমি পাঁচ টাকা পাবো! (ভাবি)এটা বইলা অপু ভাইয়ের হাসিকে হার মানানো এক হাসি উপহার দিলো ভাবি! অব্যশ টিকটক প্রতিবন্ধী থুক্কু সেলিব্রেটি বলে কথা এদের তো একটা আলাদা হাসি আছে! এরপর ভালোই ভালোই অনুষ্ঠানটা মিটে যায়!

ভাবিদের বাড়ি থেকে লোক আসে ওনাদের নিতে তারপর ভাই আর ভাবি চলে যায় সেখানে তিনদিন থেকে আবার এই বাড়ি আসে! আমি খুবই অবাক হই একটা মানুষ সারাদিন কি করে মেকআপ করে থাকতে পারে এতে অব্যশ আমার কাকী খুব খুশি এতো মর্ডান একটা বউ পায়ছে! ভাবির সাথে আমার ভালোই খাতির জমে উঠে বিকেলে প্রতিদিনই আড্ডা দিতাম আর তার আবলামি দেখতাম! একদিন সকালে এ ভাবির রুমের সামনে যেতেই দেখি জাবেদ ভাই বাইক বের করতাছে! কোথায় যাবে এখন ভাইয়া?

তোর ভাবির নাকি তার বাড়ির কথা খুব মনে পরছে তাই নিয়ে যাচ্ছি ও বাড়ি! (জাবেদ ভাই)

দেখালাম ভাবি খুব সাজগোছ করে বের হচ্ছে! তারপর ওরা চলে যেতেই আমি রুমে এসে প্রায় দুই ঘন্টা ফেসবুকিং করার পর যেই ফোনটা রাখতে যাবো ওমনি জাবেদ ভাইয়ের কল বেজে উঠলেই আমি রিসিভ করতেই সে বলে ভাবির নাকি এক্সিডেন্ট হয়ছে হাসপাতালে এডমিট করা হয়ছে! আমি এটা শুনে যে হাসপাতালে এডমিট করা হয়ছে রাকিবকে নিয়ে সেখানে দ্রুত যাই! গিয়ে দেখি ভাইয়া আর ভাবির বাবা ভাই বসে আছে হাসপাতালের কড়িডরে! ভেতরে যেতেই দেখি ভাবির হাত পায়ে মাথায় ব্যান্ডেজ করা!

ভাইকে বললাম তুমি তো ভালো করেই বাইক চালাও তবে আজ এটা কেমন করে হলো? ভাইয়া আমাকে একটু দুরে নিয়ে গিয়ে বলে~ আর বলিস নারে বাড়ির কাছে পৌছে গেছি প্রায় এমন সময় তোর ভাবি দুর থেকে তার বাবাকে দেখে চলন্ত বাইক থেকে লাফ দিয়েই তার বাবার কাছে যেতে চাচ্ছিলো!

এই কথা শুনে কাদবো না হাসবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম! কি ইমোশন রে মাইরি! এরপর ভাবির কাছে গেলাম দেখলাম তেমন কিছুই হয়নি হাত পা ছিলে গেছে আর মাথায় একটু কেটে গেছে রাস্তায় পরে যাওয়ার ফলে! কিন্ত ভাবির কথা শুনে চরম ভাবে অবাক হলাম!

রুপা ফোনটা এনে একটু ক্যামেরা অন করে ধরে রাখো আমি একটা ভিডিও করব এক্সিডেন্ট হলাম এর একটা স্মৃতি তো রাখতে হবে আর আমার ফ্যানদের জানাতে হবে তো! (ভাবি)ও ভাই মারো মুজে মারো এই এক্সিডেন্ট নিয়েও টিকটক করা লাগবে তার! যাক কি আর করার সেলিব্রেটি মানুষ তো ক্যামেরা অন করলাম সে তার এক্সিডেন্টের কথা তার ফ্যানদের বললো উইথ স্যাড মিউজিক!


পর্ব ০৫ (অন্তিম পর্ব)

~ ভাবিকে তার পরের দিন হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় কিছুদিনের মধ্যেই একদম সুস্থ হয়ে যায়। এর পর জাবেদ ভাই যেখানে জব করে সেখানে চলে যায়। ওখানে যাওয়ার পর আমার সাথে অনেক কথা হতো ভিডিও কলে ফেইসবুকে! যাইহোক, ঢাকায় ফিরতে চাইলেও ফিরতে পারলাম না লকডাউনের চক্করে। বাড়িতে ভালোই অবসর সময় কাটাচ্ছি! এর মাঝে ভাবিও আর এ বাড়ি আসতে পারে নাই। হঠাৎ একদিন দুপুরে কাকির কান্না শুনে ঘুম ভাঙ্গে। কি হয়ছে জানতে চাইলে বলে~ এত শখ করে সুন্দরী বউ আনছি কিন্ত সে তো আমাদের খোজই নেয় না। ফোন দিলে কথা বলতে চায় না।

আমিও ভাবলাম হ্যা তাইতো ভাবি কয়েকদিন ধরে আমার সাথেও তেমন কথা বলে না! বিকেলে অনেকবার কল দিলাম কিন্ত ফোন রিসিভ করলো না ভাবি। তার কিছুক্ষণ পরই ইমুতে জাবেদ ভাইয়ের কল আসে। কল রিসিভ করতেই ভাবির কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। আমি জাবেদ ভাইকে বললাম ভাবি কেন কান্না করছে ফোনটা ভাবির কাছে দাও!
কি হয়ছে ভাবি কান্না করতাছো কেন?

আমার সব শেষ হয়ে গেছে রুপা আমি শেষ হয়ে গেলাম। (কান্না কন্ঠে বলল ভাবি)
ভাবির কথা শুনে চমকে গেলাম করোনা হলো না তো আবার!

কি হয়ছে ভাবি একটু কও তো কান্না কইরো না! কিন্ত ভাবির কান্না থামছেই না তিনি জাবেদ ভাইকে ফোনটা হাতে দিয়ে কাঁদতে লাগলেন! জাবেদ ভাইরে বললাম কি হয়ছে করোনা হয়নি তো ভাবির? ভাই বলল না! আমি বললাম তাহলে কি হয়ছে ভিডিও কল দাও তো এক্ষুনি!

ভিডিও কলে দেখি একটা বন মানুষের মতো একটা মানুষ বসে আছে চুল গুলো কাকের বাসার মতো হয়ে গেছে! চেহারা কেমন জানি হয়ে গেছে একদম জঙ্গলা জঙ্গলা লাগছে! চমকে গেলাম ভাবিকে দেখে কি হালটাই না হয়ছে বেচারির! ভাইকে বললাম এমন অবস্থা কেন ভাবির?

একমাস ধরে লকডাউনের জন্য কোন পার্লার খোলে না। আর তার তো দুইদিন পর পর পার্লারে যেতে হয় তাই এই অবস্থা! (জাবেদ ভাই)
এটা শুনে মনে মনে বললাম আহারে সেলিব্রেটি মানুষটা টিকটক না করতে পাড়ার দুঃখে এতো কান্না করছে সরকারের সীমিত আকারে পার্লার খুলে দেওয়া উচিত না হলে এমন মেকআপ সুন্দিরী টিকটক প্রতিবন্ধী থুক্কু সেলিব্রেটিদের কি হবে?
ভাবিরে বললাম কেদোনা ভাবি আর সব ঠিক হয়ে যাবে।

কি হবে আমার আমি কতদিন ধরে ভিডিও করতে পারি না আমার সব শেষ হয়ে গেলো। (ভাবি)
এইতো আর কয়টা দিন তাই পার্লার খুলে দিবে ভাবি কাইন্দো না! তবুও ভাবি কেদেই চলছে কি করবে সেলিব্রেটি মানুষ ভিডিও না করতে পারার দুঃখ যে অনেক! আমি তো সীমিত আকারে সান্তনায় দিতে পারি! আর তো কিছু করার নাই!

জাবেদ ভাইরে বললাম ভাবিকে দেইখা রাইখো! আহারে আমার ভাইটা বউয়ের এমন দুঃখে কাতর হয়ে গেছে আর এই দিকে আমার কাকী তার সেলিব্রেটি বউয়ের দুঃখে মন খারাপ করে বসে আছে!

ফোনটা রেখে মনে মনে বললাম, মাননীয় শেখ হাসিনা খালাম্মা। সীমিত আকারে মেকআপ সুন্দরী টিকটক প্রতিবন্ধী থুক্ক সেলিব্রেটিদের জন্য পার্লারটা খুলে দেন প্লিজ!
(সীমিত আকারে বিনোদনের জন্য গল্পটা লেখা। আশাকরি এটা পড়ে সীমিত আকারে বিনোদন পেয়েছেন।)

লেখা – অদ্বিতীয়া রূপা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “টিকটক স্টারের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button