কষ্টের প্রেমের গল্প

প্রতারণা – valobashar dukher golpo

প্রতারণা – valobashar dukher golpo: লিমা তোমার এটা করা ঠিক হলনা কিন্তু। প্রতারকের মুখ আমি দেখতে চাই না। তাও তাকেই আমার সামনে নিয়ে আসলে। কেনো কোন মুখ নিয়ে এসেছে আমার সামনে?


পর্ব ১

আমি সুস্থ হওয়ার পর সবকিছু আবার আগের মতোই ভালো চলছিল আমাদের দিনকাল।
নীলা আর আমার ভালোবাসা অনেক গভীরে চলে যায় যা একেওপরকে ছাড়া মোটেও থাকতে পারে না।

আমি নীলাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি যা আপনাদের বলে বুঝানো আমার পক্ষে সম্ভব নয় পরস্পর নীলাও ঠিক তাই আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে। কিন্তু এ ভালোবাসা কি সারাজীবন থাকবে? হয়তো হ্যা হয়তো না
সেদিনের মতো ভুল বুঝাবুঝির পর নীলা আমাকে কখনওই আর কষ্ট দেয়নি।

অনেকটা খেয়াল রাখে সে ফোনের পর ফোনে যোগাযোগ রাখে। বিষয়টা পরিবারের সকলে জানাজানির পর আমাদের সম্পর্ক মেনে নেই এবং বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ তাই বিয়েতে কারোর মত বা বাধা নেই।
এক মাস পর আমাদের বিয়ে।
যতোই দিন যায় ততোই যেনো বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসতে থাকে।

বিয়ের কিছু দিন আগে নীলা হঠাৎ কেনো যানি পাল্টে যেতে থাকে যা আমি কখনো কল্পনা করিনি। হঠাৎ করে কথা বলা বন্ধ। ফোন করলে ফোনে বিজি কখনো বা একটু কথা বলে ফোন বন্ধ কেমন যেন এড়িয়ে চলতে থাকলো।

যে মানুষ আমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারে না। আজ সে কেমনে থাকতে পারছে না কথা বলে। এর পেছনে কি কারন থাকতে পারে?

নেক কষ্ট দিচ্ছিলো বার বার কি করবো কিছু মাথায় আসছিল না। তাই কিছু না ভেবেই বিষয়টা জানার জন্য নীলাদের বাসায় যায়।

তারপর কলিং বেল বাজাতেই নীলার মা মানে আন্টি দরজা খুলে দিলেন।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
আন্টিঃ অলাইকুম আসসালম আরে মতিউর তুমি কেমন আছো বাবা তুমি!
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আন্টি আপনি কেমন আছেন!
আন্টিঃ ভালো বাবা আসো ভিতরে আসো বসো।

আমিঃ না মানে আন্টি আসলে আমি বেশিক্ষণ বসবো না। একটু নীলার সাথে দেখা করে চলে যাবো নীলা কি বাসায় আছে আন্টি ?
আন্টিঃ হ্যা বাবা নীলা ওর রুমে আছে।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে আন্টি আমি দেখছি।
আন্টিঃ আচ্ছা যাও।

তারপর নীলার রুমে যেতেই একটা আওয়াজ শুনেই থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। নীলা কার সাথে যেনো ফোনে হেসে হেসে কথা বলছে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।

নীলা আমার আাসার উপস্থিতি ডের পেয়ে থতমত খেয়ে শুয়া থেকে এক লাফে বিছানা ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো আমি ততক্ষণে নীলার কাছে চলে এসেছি। নীলা আমাকে দেখে বিচলিত অভাক চোখে বলতে লাগলো।
নীলাঃ তু-তু- তুমি আমার বাসায় কখন আসলে!

আমিঃ কেনো তোমার বাসায় কি আসতে পারি না নাকি আসতে বারণ আছে?
নীলাঃ না মানে সেটা বলি নি তু-তুমি আজ হঠাৎ আমার বাসায় ক কি মনে করে আসলে।
আমিঃ এতো তুতলাচ্ছো কেনো কি হয়েছে তোমার আর কার সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলছিলে?

নীলাঃ কয় কিছু না তো। আআমার এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিলাম। এতো প্রশ্ন না করে এখন তাড়াতাড়ি বলো কেনো এসেছ?

আমিঃ এতো তাড়া করছো কেনো? আমি যে তোমার কাছে এসেছি সেটা কি তুমি একটুও খুশি হওনি।
নীলাঃ এতে খুশি হবার কি আছে। কি জন্য এসেছ সেটা বলো আমার কাজ আছে!

আমিঃ ওহ আমার থেকে তোমার কাজের প্রয়োজন বেশি হয়ে গেলো এখন বাহ ভালো কয়েকদিন পর আমাদের বিয়ে আর তুমি আমার সাথে এসব কেনো করছো কেনো বলো?(একটু জোরে)
নীলাঃ আমি আবার কি করলাম তোমার সাথে!

আমিঃ বাহ তুমি দেখছি আগের থেকে অনেকটা বদলে গেছো! আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে তুমি খুব ভালোই আছো তাই না।

নীলাঃ খারাপ থাকার প্রশ্নই আসে না ভালো আছি বলেই তো এতদিন বেচে আছি এখন তোমার সাথে কথা বলার সময় নেই আমার কাজ আছে তুমি এখন আসতে পারো!

আমিঃ এখানে চলে যাওয়ার জন্য আসেনি তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি।
নীলাঃ কি বলতে চাও তাড়াতাড়ি বলো!

আমিঃ তুমি কি আমাকে সত্যি কারের ভালোবাসো নাকি এসব নাটক শুরু করেছ
নীলাঃ আমি কোনো নাটক করছি না।

আমিঃ তাহলে আজ এতদিন পর দেখা হলো কয় বললে না তো আমি কেমন আছি কিভাবে আছি! আমার অবস্থার কথা একবারও জানতে চাইলে না খোজ নিলে না তুমি। কেনো এমন করছো আর ফোনে কথা বলছো না কেনো? বলো জবাব দাও নীলা…

নীলাঃ নিশ্চুপ—
আমিঃ কি হলো চুপ করে আছো কেনো আমি কিছু জানতে চাইছি!
নীলাঃ বিয়ের পর সব উত্তর পাবে এখন কিছু বলতে পারবো না। আর এখন বলারও প্রয়োজন মনে করি না এখন আসতে পারো তুমি!

আমিঃ বিয়ের পরে নয় নীলা এখনি তোমাকে সবকিছু আমায় বলতেই হবে নয়তো আমি যাচ্ছি না। কেনো আমার সাথে এমন করছো তা আমাকে আজ জানতেই হবে নয়তো আমি যে শান্তি পাবো না এ কয়েকদিন।

নীলাঃ বললাম তো আমি পারবো না এখন বলতে। যদি বেশি রকম করার চেষ্টা করেছো তো এ বিয়ে বন্ধ করে দিবো আমি ভালোই ভালোই বলছি যদি তোমার ভালো চাও তো এখন আসতে পারো গুডবাই। (রেগে) এ বলে চলে গেলো!

আমিঃ নীলা দাড়াও প্লিজ আমার কথাটা একবার শুনো প্লিজ উফ চলেই গেলো এখন কি করি এখন কিছুই তো জানতে পারলাম না।
নীলা কেনো আমার সাথে এভাবে রেগে রেগে কথা বলছে আগে তো এমন ছিলো না আবার কিছু বলতে গেলেই ঝামেলা বা বিয়ে বন্ধ করে দিতে পারে তাই চলে যাওয়াটাই ভালো এর পিছনে কিছু একটা কারন আছে সেটাও বলছে না এসব করার মানেটা কি?

যাই হোক এখন মাথা না ঘামিয়ে বিয়ের পরে জানা যাবে এসবের বিষয়গুলো। তারপর না হয় দেখা যাবে কারনটা কি। তারপর না হয় বুঝাবো সেদিন এভাবে আমাকে কষ্ট দেওয়া হুম।

তারপর আন্টির সাথে কিছু কথা বলে বাসায় বাসায় চলে আসি।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসলো।

আজ আমার বিয়ে অথচ নীলা এ পর্যন্ত আমার সাথে ফোনে একটি বারের জন্যেও কথা বলেনি আমিও বিরক্ত করতে চাইনি।

সবাই বিয়েতে হাসি-খুশি থাকলেও খুশি নেই। একজনের মন তার দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে কাউকে বুঝতে দেইনি মনের গোপন কথা গুলো। জানি না আমার সাথে কি ঘটতে চলেছে।

হ্যা আমার সাথে কি ঘটতে চলেছে নিজেও জানি না আমি।

তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে ভালোভাবে বিয়েটা সম্পূর্ণ হয়ে গেলো।
এখন রাত ১২টা ছাদে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার পর বন্ধুরা সকলে মিলে জোর করে আমাকে বাসর রুমে ঢুকিয়ে দিলো। তারপর দরজা লাগিয়ে নীলার সামনে দাঁড়িয়ে আছি নীলা মাথায় বড় ঘোমটা দিয়ে খাটের মাঝখানে বসে আছে।

আমি মন ভার করে নীরবে দাঁড়িয়ে আছি তার সামনে। আমাকে এখন কি করা উচিৎ সেটা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হওয়ার পরে তো আমার খুশি হওয়ার কথা কিন্তু মন খারাপ কেনো? আর হবেই বা না কেনো তার ব্যবহার। তার অবহেলা যে আমাকে প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তে ভালো থাকতে দেইনি কি করে খুশি থাকে বলেন।

তারপর কিছু না ভেবেই ওর পাশে বসলাম। মনে কিছুটা রাগ অভিমান থাকলেও সেটা ভালোবাসার কাছে ঠিকই হার মানতে হয়।
নীলাকে ভেবেই ঘোমটা সরাতেই বড়সড় একটা শকট খেলাম। এ আমি কাকে দেখছি! তাকে দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আসলে সে.. ?


পর্ব ২

নীলাকে ভেবেই ঘোমটা সরাতেই বড়সড় একটা শকট খেলাম। এ আমি কাকে দেখছি! তাকে দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আসলে সে নীলার বোন লিমা।

আমিঃ লিমা তুমি এখানে কি করছো নীলা কোথায়? (অবাক হয়ে)
লিমাঃ নিশ্চুপ…..

আমিঃ কি হলো চুপ করে আছো কেনো?
লিমাঃ আ’আ’মি আপনার স্ত্রী!
আমিঃ স্ত্রী মানে।

লিমাঃ মানে আপনার সাথেই আমার বিয়ে হয়েছে!
আমিঃ কি বলছো কি এসব আমার সাথে নীলার বিয়ে সেই জায়গায় তুমি কেনো আসবে আজব আমি কিছু বুঝতেছি না কি এসব ঘটছে আমার সাথে।
লিমাঃ হুম নিলার সাথে হবার কথা ছিল কিন্তু…
আমিঃ কিন্তু কি থামলে কেনো!

লিমাঃ আসলে নিলা আপু আপনাকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না। তাই আজ সন্ধ্যার পর কার সাথে যেনো পালিয়ে যায় আমরা ঠিক জানতে পারলাম না। অনেক খুঁজা খুজির পর কোথাও পেলাম না। আপুকে তাই আমার পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্যে আমাকে প্ল্যান করে আপনাকে বিয়ে করতে বলে বিশ্বাস করেন আমি এসবের রাজি ছিলাম না। আমার পরিবারের জন্য রাজি হতে হয় দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না প্লিজ।

আমিঃ তোর আমি কোনো কথাই শুনতে চাই না। তোকে আমি স্ত্রী হিসেবে মানি না!
লিমাঃ কিন্তু!
আমিঃ কোনো কিন্তু নয়!

আমি যাদের বেশি সম্মান করতাম বিশ্বাস করতাম শেষ পর্যন্ত কি না তোর বাবা মা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারলো কেনো করলো।
আমাকে কিছু না জানিয়ে এভাবে আমার সাথে প্রতারণা করতে পারলো। কেনো করলো এমনটা আমার সাথে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই আমি এক্ষণি তোকে তোর বাসায় দিয়ে আসবো চল আমার সাথে। (অনেকটা রেগে)

লিমাঃ প্লিজ এমনটা করবেন না আপনার পায়ে পরি। প্লিজ। আপনি মাথা ঠাণ্ডা করুন আমাকে একবার বুঝার চেষ্টা করুন প্লিজ।
আমিঃ কি বুঝাবো তোকে হুম তোর বোনকে অনেকটা ভালোবাসতাম সে কি না এভাবে আমাকে ধোকা দিবে ভাবতেও পারিছি না আমি।
আমি তোকে স্ত্রী হিসেবে কখনওই মেনে নিবো না তোরা আমার সাথে প্রতারণা করেছিস তার জন্য তোদের কোনো ক্ষমা নেই!
লিমাঃ প্লিজ প্লিজ একবার আমার কথাটা শুনুন।

আমিঃ পা ছাড় বলছি সরে যা আমার সামনে থেকে তোর কোনো কথাই শুনতে চাই না কেনো আমাকে কষ্ট দিয়ে এতো বড় ধোকা দিলি তোরা আমাকে।
আমি কি এমন দোষ করেছি যার কারনে আমাকেই কষ্ট দিলো এভাবে।

নীলা আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে সে এসব কি করে করতে পারে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।
নীলাকে ফোন দিলাম ফোন বন্ধ এদিকে লিমা অনেকটা ভয়ে আমাকে কিছুই বলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে পরবে ভাবতেও পারছে না। কি করবে সে এখন?
আমিঃ ফোন বন্ধ শালি তুই আমাকে এভাবে ধোকা দিতে পারলি।

আমাকে এভাবে ধোকা দিয়ে তুই কোনোদিন শান্তি তে বেশিদিন থাকতে পারবি না। তুই আমাকে এভাবে কষ্ট দিলি এর প্রতিদান তোকে পেতেই হবে কোনো একদিন।

এই লিমা চল বাইরে।

লিমাঃ কোথায় যাবো প্লিজ এরকম করবেন না যার কারনে সবাই কষ্ট পাক।

আমিঃ কষ্ট কিসের কষ্ট হু আমাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে আমি কিন্তু চুপ থাকবো না আমি এর কিছু একটা করেই তারপর ছাড়বো কথাটা মনে রাখিস।

লিমাঃ আপনি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছেন এখন।
আমিঃ আমার ওপর দিয়ে কথা বলতে আসবি না সবাই কে এর উচিৎ শিক্ষা দিয়েই তারপর ছাড়বো!
লিমাঃ আমি থাকতে তা হতে দিতে পারি না।

আমিঃ আমার কাজে বাধা হস না নয়তো এর ফল ভালো হবে না বলছি
লিমাঃ কি করতে চাচ্ছেন!

আমিঃ তোকে আমি এই বাসর রাতেই ডিভোর্স দিয়ে তোর বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিবো এটাই তোদের সব থেকে বড় শাস্তি!
লিমাঃ না এটা আপনি করতে পারেন না আমার জীবন এভাবে নষ্ট করবেন না প্লিজ। আর বাবার এমনি অসুস্থ এসব করলে বাবা হার্টএ্যাটাক করতে পারে প্লিজ এমন করবেন না।

আমি আপনার মনের কষ্ট বুঝতে পারছি আমি কি করবো বলেন এ পরিস্থিতিতে আমাদের কিছুই করার ছিলো না। আর আমার তো এখানে কোনো দোষ নেই তাহলে কেনো আমাকে রাগ দেখাচ্ছেন কেনো আমায় ভুল বুঝছেন বলেন।

আমিঃ নিশ্চুপ……

লিমাঃ বিশ্বাস করেন এতে আমার কোনো হাত ছিল না। জানি না আমার আপু কোথায় আছে কি করছি কিচ্ছু জানি না।
আমিঃ আমি এসব কিছুই শুনতে চাই আমি যেটা বলছি সেটাই করেই ছাড়বো…

লিমাঃ খবরদার এক পা বাইরে যেতে পারবে না আমাকে নিয়ে নয়তো আমি এক্ষণি নিজেকে শেষ করে ফেলবো…
এরকম কথা শুনে খেয়াল করে দেখলাম লিমা গলাই ফল কাটা ছুরি ধরে আছে….
আমিঃ এই এটা কি করছিস তুই!

লিমাঃ আমি যা বলবো তাই শুনতে হবে নয়তো এখানেই আমার লাশ দেখতে পাবেন।

তার কথা শুনে ভয় পেয়ে…
আমিঃ এই এই না না একদম এরকম করবি না। পাগল হয়ে গেছিস তুই। ছুরি টা ফেলে দে বলছি।
লিমাঃ আমার কথা শুনবেন নাকি এক্ষণি গলাই চালিয়ে দিবো।

আমিঃ হে হে শুনবো বল কি কথা।
লিমাঃ আমাকে আপনার বউ হিসেবে মেনে নিতে হবে।

আর আপনার সাথে এখন আর অতীত যা যা ঘটেছে সব ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে আমার সাথেই সংসার করতে হবে।
আমার বাবা মা এমনকি পরিবারের কাউকে অপমান করতে পারবেন না। আর আপনি আমাকেই সারাজীবন ভালোবাসতে হবে কি রাজি তো আমার কথা রাখবেন নাকি রাখবেন না?

আমিঃ নিশ্চুপ…. (এখন কি করি)

লিমাঃ কি হলো কি এতো ভাবছেন?

আমি এক দৃষ্টি তে তাকালাম লিমার দিকে কি বলবো আর কি করবো বুঝতেছি না। এখন আমাকে কি করা উচিৎ?
লিমাঃ আপনি তাহলে কথা রাখবেন না। তাই না ওকে তাহলে আমার রক্তাক্ত লাশ দেখুন আপনার সামনে আমার লাশ। বলে যেই ছুরি গলাই টান দিতে যাবে ঠিক সেই সময়।
আমিঃ এ এ না কি করছিস এসব।

এমনিতেই আমার মাথা একদম ঠিক নেই তার মাঝে তুই এরকম করছিস কেন। একদম কিছুই করবি না আমি তোর কথাই রাজি হলাম এবার তো ছুরিটা ফেলে দে প্লিজ।
লিমাঃ না আপনি আবার একই কাজ করতে পারেন তাই আপনার মায়ের কসম করে বলতে হবে যা যা বললাম সে সব মানতে রাজি!
কি চিপাই পরলাম রে!

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি মায়ের তৃপ্তি করে বললাম তোর সব কথাই আমি রাজি! তবে আমার একটা শর্ত তোকে মানতে হবে।
লিমাঃ হুম কি শর্ত?

আমিঃ তুই কখনওই দাবি করতে পারবি না আমাকে নিয়ে তোদের বাসায় যাওয়া নিয়ে। তুই তোর বাপের বাড়ি যেতে পারবি। কিন্তু আমি বেচে থাকা কালে কখনো তোদের বাসায় পা দিবো না কখনওই না।

লিমা কেঁদে ফেলল কি আর করার মেনে না নিলে যে কোনো উপায় নেই।
লিমাঃ আচ্ছা ঠিক আছে আপনি যা বলছেন তাই হবে।
এবার তো ছুরিটা ফেলে দে।

লিমাঃ হুম। ছুরি ফেলে দেওয়ার পর লিমাকে ঠাসসসস করে একটা থাপ্পড়।
লিমাঃ আপনি আমাকে মারলেন।

আমিঃ তোর কিছু হলে সবার কাছে কি জবাব দিতাম হুম।
লিমাঃ আপনি তো আমার কথা শুনছেন না তাই বাধ্য হয়ে এমনটা করতে হল সরি!
আমিঃ ওকে সরি বলতে হবে না যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।
লিমাঃ আর আপনি।

আমিঃ আমি শোফায় ঘুমাবো।
লিমাঃ আপনি কিন্তু আমার কথার খেলাফ করছেন।
আমিঃ আমি আবার কি করলাম।

লিমাঃ আপনি মায়ের তৃপ্তি করে আমাকে কথা দিয়েছেন নয়তো আপনার মা কষ্ট পাবেন!
আমিঃ ওহ আচ্ছা ঠিক আছে তার জন্য কি করতে হবে।

লিমাঃ আমার সাথেই এক সাথেই থাকতে হবে ঘুমাতে হবে।
আমিঃ আচ্ছা ওকে।
লিমাঃ হুম খুশি হলাম।

তারপর এক সাথেই শুয়ে পরলাম বিছানাই।

  • (মানুষ এতোটা নিচে নামতে পারে এতোটা বেইমান হতে পারে। কিভাবে আমি তো অবাক হচ্ছি যে আমাদের এতো দিনের রিলেশন মধুর মত পবিত্র ভালোবাসা সেই ভালোবাসা কি না সে এভাবে কোরবানি দিবে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আমার। বুকের ভিতর খুব কষ্ট হচ্ছে চিনচিন ব্যথা অনুভাবিত হচ্ছে কখন যে চোখ দিশে টপ করে চোখেরজল পড়লো সেটা লিমা বুঝতে পেরে। আমার বুকে মাথা রেখে বলল,

লিমাঃ জানি আপনার কষ্ট হচ্ছে। আপমার এ কষ্ট কি আমাকে ভাগ দিবেন। অনেকটা ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবো। আমি আর কান্না থামাতে পারলাম না লিমাকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলাম। কেনো আমার সাথে এমন হল কেনো আমায় ধোকা দিলো কেনো আমার সাথে প্রতারণা করলো। কেনো আমার স্বপ্নগুলো ভেঙে তচনচ করে দিলো?

বলে কাঁদতে লাগলাম। লিমা ও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বুঝিয়ে সান্তনা দিচ্ছিলো। আমি বাচ্চার মত কেঁদেই যাচ্ছিলাম।
কাঁদছে কাঁদুক মানুষ কাদলে নাকি মনটা হালকা পাতলা হয়।

কিছুক্ষণ পর দুজনই ঘুমিয়ে গেলাম অজানা এক স্বপের রাজ্যে।


পর্ব ৩

কিছুক্ষণ পর দুজনই ঘুমিয়ে গেলাম অজানা এক স্বপের রাজ্যে।

পরের দিন সকালে যখন লিমার ঘুম ভাঙ্গলো তখন দেখলো আমি তার পাশেই নেই। দেখে লিমা ভাবলো এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে কোথায় গেলো। বাথরুমের দরজা তো খোলা তাহলে গেলো কোথায় বলে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও পেলো না। লিমাকে কিছু খুঁজতে দেখে মা বলল,

  • কিরে মা এতো সকালে উঠে কি খুঁজছিস!
  • না মানে মা আমার আগে আপনার ছেলে ঘুম থেকে উঠে কোথায় যেনো গেলো বুঝতে পারিনি তাই খুঝছিলাম।
  • ওহ তাই নাকি মা ওকে আর খুঁজতে হবে না ও এ সময় ছাদে থাকে তুমি গিয়ে দেখো ও ছাদেই আছে!
  • আচ্ছা মা ঠিক আছে।

তারপর লিমা দু’ কফি বানিয়ে নিয়ে আসলো।
আমি রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। নিলা আমাকে এভাবে ধোকা দিবে ভাবিনি কখনওই খুব কষ্ট হচ্ছে আমার যাকে ভীষণ ভালোবাসি সেই হারিয়ে যায় জীবন থেকে কেনো এমন নিজেও জানি না।

বুকের ভিতরে খুব ব্যথা করছে মনে হয় আমি আর বাচবো না সে সময় হঠাৎ কারো আসার ডের পেলাম পাশ ঘুরে দেখলাম লিমা দাঁড়িয়ে। লিমা কে কেনো জানি নিলা মতোই মনে হলো কিন্তু ভালো করে দেখলাম এটা নিলা নয় লিমা দাঁড়িয়ে।
লিমা বলল,

  • কি দেখছো ওমন করে!
  • নিশ্চুপ।
  • কি হলো কথা বলছো না কেনো!
  • নিশ্চুপ!
  • এ কি তুমি কাঁদছো কেনো (লিমা হাত দিয়ে তার চোখের জল মুছে দিয়ে)!
  • আমার খুব কষ্ট হচ্ছে লিমা আমি মনে হয় নিলাকে ছাড়া বাচবো না।
    লিমা মুখে হাত দিয়ে।
  • এসব কথা কখনওই বলবে না তোমাকে নিলাকে ভুলে যেতেই হবে আমি তো তোমার পাশেই আছি তুমি আমাকেই ভালোবাসবে বলে কথা দিয়েছিলে সেটাও কি ভুলে গেছো!
  • কিন্তু আমি তো ভুলতেই পারছি না তাকে।
  • আমি ভুলিয়ে দিবো তোমাকে দেখে নিও তুমি এ নাও কফি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে খেয়ে নাও দেখবে মন ভালো হয়ে যাবে!
    তারপর কিছুই না ভেবে কফি টা নিয়ে খেতে লাগলাম ওয়াও অসাধারণ কফি বানাতে পারো তো তুমি খুব ভালো হয়েছে কফিটা তুমি বানিয়েছ তাই না!
  • হুম (খুশি হয়ে)

লিমার দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম বুঝতেই পারিনি লিমা ও ঠিক একই ভাবেই তাকিয়ে ছিলো।
হঠাৎ মায়ের ডাকে ঘোর কাটলো।

আমরা যে একেওপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম সেটাই বুঝতে পেরে দু’জনই লজ্জাই হেসে দিলাম।
কিছুক্ষণ থাকার পর দুজন নিচে আসলাম।

সকালের খাবার খাওয়ার শেষে বাবা বলল,

  • বাবা মতিউর তোমার অবস্থার কথা আমরা ঠিক বুঝতে পারছি তাই আমি বলছি তুমি আর লিমাকে নিয়ে কথাও গিয়ে ঘুরে আসো দেখবা মন ভালো হয়ে যাবে!
  • নিশ্চুপ।

লিমা – না বাবা সে সবের দরকার নেই

  • না মা আমি ঠিক করে ফেলেছি তোমরা বাইরে গিয়ে কোথাও ঘুরে আসো তোমাদের ভালোর জন্যই বলছি।
    তারপর আমি বললাম
  • বাবা তোমার যেটা ভালো মনে হয় করতে পারো আমার কোনো আপত্তি নেই বাবা। বলেই রুমে চলে আসলাম সাথে লিমাও!
    লিমাঃ
  • কোথায় যেতে চাইছো তুমি!
  • কেনো তুমি কি যেতে চাও না!
  • না মানে বলছিলাম কি (থামিয়ে)
  • যেতে না চাইলে তোমাকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই আমি নিজেই একাই যাবো বুঝেছো!
  • আমি কি বলেছি যাবো না হুম তুমিও যেখানে যাবে আমিও সেখানে যাবো হিহিহি
  • ঢং না করে সোজা কথা বলতে কি হয়!
  • আরে রাগ করছো কেনো তুমি তো দেখছি মজা টাও বুঝো না।
  • এতো আমার বুঝার প্রয়োজন নেই!
  • ওকে ঠিক আছে! লিমা চলে যেতেই আমি বললাম
  • লিমা শোনো।
  • আবার কি হলো মশাই!
  • তুমি গিয়ে বাবাকে বলো যে তোমার ছেলে হনুমানে যাবে বলে ঠিক করেছে আগামী দু’দিনের মধ্যে সব ব্যবস্থা করে দিতে।
  • ওমা তাই সে তো ভালো কথা লিমা লজ্জা পেয়ে খুশি হয়ে চলে গেলো।

বাবাকে বললে তা খুশী মনে সব ব্যবস্থা করে ফেলে।
দু’দিন পর। আমরা লন্ডনে হনুমানে গেলাম কয়েকমাস এর জন্য। অনেক সুন্দর ভাবেই দিন কাটলো প্রথম প্রথম দিনটা ভালো না কাটলেও পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে লিমার সাথেই ভালোই লাগলো।

অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা লিমাকে নিয়ে ঘরে ঘুরে বেড়াতাম!
অনেক মজা হাসি আনন্দ। রাগ অভিমান দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি ভালোবাসা ভালোই চলতে লাগলো হে লিমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি। প্রথমে না মানলে ও পরে ঠিকই মেনে নিতে হয়।

ভালোই চলছি কয়েকটা দিন কয়েকটা মাস ভালো ভাবেই কেটে গেলো। লিমা এখন অনেক হ্যাপি আমার ভালোবাসা পেয়ে লিমা আজ অনেকটাই হ্যাপি!
যেদিন বাসায় ফিরবো সেইদিন মাঝপথে হঠাৎ বেইমান নিলার সাথে দেখা!


পর্ব ৪ (অন্তিম)

নিলার সাথে এভাবে দেখা হবে ভাবিনি।
নিলা আমার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুই বলছে না।
কেনো কি জন্যে আমার সামনে আসলো?

বিশ্বাস ঘাতক কে দেখতে চাই না বলেই মুখ অন্য দিক ঘুরে দাঁড়ালাম কিন্তু সে একটা কথাও বলছে না দেখে খুব রাগ হচ্ছে আমার।।
এ সময়ে তার কি প্রয়োজনে এসেছে এখানে। তার কাছে শুধু একটাই প্রশ্নের উত্তর জানতে খুব ইচ্ছা করছে কিন্তু জানার মোড নেই! তাই কিছুদূরে গিয়ে দাঁড়ালাম তার বোনের সাথেই একটু কথা বলুক!

লিমা তার বোনকে দেখতে পেয়ে খুশি হয়ে বলল,

  • আরে আপু তুই এখানে কেমন আছিস তুই!
  • নিশ্চুপ।
  • কি হলো আপু কথা বলছিস না কেন!
  • নিশ্চুপ
  • কি হয়েছে তোর? কোনো প্রবলেম?
  • না মানে তেমন কিছুই না!
  • তাহলে এখানে কি করছিস? তোর বর কোথায় !
  • নিশ্চুপ!
  • কি হলো একটা কথাও বলছিস না কেনো?
  • না মানে এমনি। তোর কি ওর সাথেই বিয়ে হয়ে গেছে?
  • হে রে কিন্তু তুই চলে যাওয়ার পর ও অনেক কষ্ট পেয়েছে সেই জন্য কারো সাথে কথা বলে না এমনকি আমার পরিবারের কারোর সাথে সম্পর্ক রাখবে না😢 তুই চলে গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছিস যার কারনে আমাকে বাবা মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে।
  • সরি আসলে আমারও উচিৎ হয়নি এমনটা করার আমার জন্য তোকে সবকিছু ত্যাগ শিকার করতে হচ্ছে! আমাকে তুই ক্ষমা করে দিস বোন!
  • যায় হোক বাদ দে তুই এখন বাড়ি ফিরে চল! তোর বর কোথায়?
  • নারে আমি বাসায় এখন ফিরবো না
  • কেনো ফিরবি না!
  • আমি সবার সম্মান হারিয়ে ফেলেছি সেই মুখ নিয়ে যাওয়ার সাহস নেই আমার তুই ভালো থাকিস আসিরে!
    মতিউর আমার ওপর ভীষণ রেগে আছে তাই কথা বলার সাহস পাচ্ছি না ক্ষমা চেয়ে নিবো ভাবলাম কিন্তু পারছি না তোরা ভালো থাকিস আমি আসি রে!
  • তুই শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস কেন? আমি থাকতে তোকে কিছু বলতে পারবে না। আই বলেই আমার কাছে টেনে নিয়ে আসলে আমি বললাম!
  • লিমা তোমার এটা করা ঠিক হলনা কিন্তু। প্রতারকের মুখ আমি দেখতে চাই না। তাও তাকেই আমার সামনে নিয়ে আসলে। কেনো কোন মুখ নিয়ে এসেছে আমার সামনে?
  • প্লিজ তুমি আমাকে যা ইচ্ছা খুশি বলো লিমাকে কিছুই বলো না ওর কোনো দোষ নেই। মতিউর আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও আমি যে ভুল কাজ করেছি সেটার জন্য হয়তো আমার ক্ষমা নেই। কিন্তু একটা কথা তোমাকে রাখতেই হবে!
  • নিশ্চুপ!
  • আমার সাথে না হয় সম্পর্ক রাখলে না আমাদের পরিবারের সাথে সম্পর্ক তো তোমাকে রাখতেই হবে। তাদের তো কোনো দোষ নেই মতিউর বিশ্বাস কর আমাকে!
  • বিশ্বাস ঘাতকদের কখনো বিশ্বাস করি না। তোর মতো বেইমান মানুষ পৃথিবীতে দু একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। এভাবে ভালোবাসাকে ধোকা দিয়ে কি এমন ভালো কাজ করলি তুই চলে যা আমার সামনে থেকে তোদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কবদ্ধ থাকবে না!
  • প্লিজ মতিউর তোমার পা ধরে ক্ষমা চাইছি তবুও আমার কথাটা একবার বুঝার চেষ্টা করো।
  • তুই এখান থেকে যাবি নাকি লাথি খাবি।

লিমা বলল,

  • মতিউর এসব কি শুরু করলে ও তো ক্ষমা চাইছে তাকে ক্ষমা করে দিলেই তো পারতে এতো রাগার কি আছ!
  • তুই এর মাঝে লাক গলাতে আসবি না নয়তো আমার থেকে কেউ খারাপ হবে না বলে দিচ্ছি তোর বোন এখান থেকে চলে যেতে বল!
  • নিলা বলল, না মতিউর আমার জন্য আর ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমিই চলে যাচ্ছি তোমরা ভালো থেকো আর পারলে এই অপরাধীকে ক্ষমা করে দিও বলে চলে যেতেই লিমা বলল!।
  • দাড়া আপু আমিও তোর সাথেই যাবো!
  • ওর সাথে যাবে মানে?
  • তুমিই তো বললে আমাদের কারোর সাথেই সম্পর্ক রাখবে না। তাহলে আমি তোমার সাথে থেকে কি করবো? আর যখন তখন রাগ মেজাজ দেখাবে। আর আমি চুপ থাকবো তা কখনওই নয় থাকবো না তোমার সাথেই। যেদিন আমার পরিবারকে মেনে নিবে সেদিন তবুও আমি তোমার কাছে ফিরবো নয়তো না ভালো থেকো!
    বলেই দুজন চলে গেলো।

এটা কি হলো। লিমা এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারিনি। এখন কি করবো আমি?
এ কেমন নিষ্ঠুর মানুষ আমাকে একা ফেলে চলে যাচ্ছে। এটাই কি তার ভালোবাসা? হাইরে মানুষ চিনা বড়ই দায়!
পৃথিবী তে কেউ ভালো মানুষ না কাকে বিশ্বাস করবে তুমি ?

কার মনে কি খারাপ উদ্দেশ্য আছে কি করে বুঝবে তুমি?
সারাজীবন শুধুই কষ্ট পেয়েই গেলাম। কে আছে এমন শান্তনা দিবে আমায় খুব চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু পারছি না নিজেকে একটু শক্ত করলাম। আর সিগারেট ধোয়া হলো জীবনের সঙ্গী! তাই মাঝ পথে বসে সিগারেট ধোয়ার সাথে মনের জমানো কষ্ট গুলো পুড়িয়ে মারছিল! এ কেমন নিয়তির খেলা খেলছে আমার সাথে।

এদিকে নিলা লিমাকে বুঝাচ্ছে কেনো এভাবে চলে আসলি। তোর আসা উচিৎ হয়নি আরও অনেক বুঝালো কিন্তু কাজ হলো না ওর পরিবার কে মেনে নিলে তবেই ফিরবে কিন্তু আমি বেচে থাকতে ওই বাড়িতে এক পা দিবো না!

কারন তারা সবাই প্রতারক আমার সাথে প্রতারণা করেছে ধোকা দিয়েছে তাদের কি করে মেনে নিই আমি।
এক বছর পর।
দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেলো কারোর সাথে যোগাযোগ হয়নি আর করার প্রয়োজন পড়েনি

আমি যখন দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন মা বাবা আমার অবস্থা দেখে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে দেখে মা কান্না করে দিয়েছে। তাই ঠিক করলো লিমাকে এ বিষয়টি জানাবে মা ফোন করে যখন লিমাকে সব বলল তখন আর অভিমান করে থাকতে পারলো না লিমা তার ভুলের জন্য আজ তার স্বামী কে হারাতে চলেছে!

লিমা আমার অসুস্থার খবর শুনে ছুটে আসে হাসপাতালে। লিমার পরিবারের সকলে আসে নিলাও আসে সেখানে।
লিমা মাকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে মা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার জন্য তার এ অবস্থা মা।

  • কাঁদিস না মা যেটা হবার ঠিক সেটাই হচ্ছে!
  • মা মতিউর এর কি হয়েছে মা!
  • জানি না রে মা ছেলেটা সবসময় একা একা রুমে শুয়ে থাকতো ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতো না কথা বলতো না। আমি কতবার জানতে চাইলাম। কিন্তু সে কিছুই বলেনি
    লিমা মনে মনে ভাবছে আহারে বেচারি কে কত কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আমি। আমি তো এটা আসা করিনি ভেবেছিলাম আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে নিয়ে যাক কিন্তু আমার ভাবনা উল্টা হয়ে এমন পরিস্থিতি আসবে ভাবতেও পারছি না। হে আল্লাহ্‌ তুমি মতিউর কে সুস্থ করে দাও এর পর থেকে আর ভুল হবে না।

কিছুক্ষণ পর কেবিন থেকে ডাক্তার বেরিয়ে এসে বলল,

  • সরি রোগীর অবস্থা তেমন ভালো না সবসময় ধুমপান নেশা করার ফলে রোগীর দুই কিটনি নষ্ট হয়ে যায় এ অল্প সময়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় এক মাস আগে হলে হয়তো রোগী কে বাচানো যেতো আপনারা দেরি করে ফেলেছেন সেইজন্য আমাদের কোনো হাত নেই কিছুক্ষণের জন্য সে একজন অতিথি আপনারা এখন দেখা করতে পারেন।

ডাক্তারের কথা শুনে সবাই কান্না ভেঙ্গে পড়ে লিমা পাথরের মূতির মত দাড়িয়ে রইলো এটা আমি কি শুনছি এটা আমি কি করলাম।

সবাই মতিউর এর কেবিনে যায় সবাই এক এক করে দেখা করে চোখেরজল নিয়ে মতিউর অশ্রু চোখে সবাইকে দেখে নিচ্ছে লিমাকে ইশারা করে কাছেই ডেকে বললাম।

  • তুমি ভালো থেকো!

লিমা নিজেকে আর শান্ত করতে পারলো না মতিউর কে জড়িয়ে কান্না করতে করতে বলল,

  • প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার জন্য তোমার এ অবস্থা প্লিজ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।
  • স্বামীর কর্তব্য তার স্ত্রী কে ক্ষমা করে দেওয়ার। তুমি আর কোনো ভুল করনি। তুমি যা করেছো ভালোর জন্যই করেছো।
    আমার খুব কষ্ট হচ্ছে লিমা আআমি আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে আমাকে এখন যেতেই হবে তুমি ভালোই থেকো।
  • না মতিউর তোমার কিছুই হতে দেবো না আমার গর্ভে তোমার সন্তানের কি হবে বলো হাত দিয়ে দেখো দিন দিন তোমার সন্তান বড় হচ্ছে তার কি হবে বলো।
  • এটা তো ভালো কথা শুনালে কিন্তু আমার সন্তানের জন্য বাচতে ইচ্ছা করলেও আর সেটা সম্ভব নয় লিমা।
    তারপর নিলা কাছে এসে বলল,
  • মতিউর আমাকে ক্ষমা করে দাও এসবের জন্য আমি নিজেই দায়ী প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিও।
  • ক্ষমা তো সেইদিনই করে দিয়েছি যেদিন আমি এ পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবো!
  • প্লিজ এমন করে বলো না কষ্ট হয় তোমার কিচ্ছু হতে দিবো না।
  • তোমার বর কোথায় একটু ডেকে দিবে!
  • আআ আমার বর আর বেচে নেই ৪ মাস আগে এক্সিডেন্টে মারা যায়। আমার একটি মেয়ে হয়েছে নাম লিলি!
  • সেও তোমাকে ছেড়ে চলে গেলো। মন খারাপ করোনা তোমরা ভালো থেকো সুস্ত থেকো। তোমার মেয়েটা অনেক সুন্দর আমার পছন্দের নাম রেখেছো তাতেই আমি অনেক খুশি !
  • নিলা আমার একটা কথা রাখবা!
  • হুম একশো বার রাখবো বলো কি কথা!
  • আমাদের সন্তান যখন সমবয়সী হবে তখন আমার ছেলের সাথেই তোমার মেয়ের বিয়ে দিবে এতেই আমি খুশি হবো! কথা দাও নিলা!
  • নিশ্চুপ….
  • আমার খুব কষ্ট হচ্ছে কথা দাও নিলা আমাকে বিদায় দাও! আর লিমা তুমি বাবা মাকে দেখে রেখো তাদের কখনো কষ্ট দিবা না কথা দাও লিমা। আমাকে বিদায় দাও! আ আআমাকে ককথা দদাও!
    দুজন একসাথে বলল,

আমরা কথা দিলাম তোমায়। সাথে সাথেই দুনিয়াদার অন্ধকার ছেয়ে গেলো নিভে গেলো জীবনের প্রদীপ!

মতিউর চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে গেলো এ নিষ্ঠুর পৃথিবী ছেড়ে। চারদিকে কান্নার রুল পড়ে গেলো লিমা বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
সবথেকে বেশি কষ্ট পায় নিলা ও লিমা। তারা আপসোস করে। সে এসবের জন্য সেই দায়ী! কেনোই বা সেদিন চলে গেছিলাম ইত্যাদি।

কিন্তু সেই আপসোস কি আর কোনদিন কাজে লাগবে? কখনওই না। তাদের ভালোর জন্য আজ সে পৃথিবীতে নেই। ভালো থাকুক তারা সুন্দর ময় জীবন গড়ে তুলুক আগামী দিনের ভবিষ্যৎ গুলোর জীবন!

লেখা – সায়মা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “প্রতারণা – valobashar dukher golpo” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – আপুর বান্ধবী যখন বউ – Heart Touching Bangla Love Story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button