মিষ্টি প্রেমের গল্প

আপুর বান্ধবী যখন বউ – Heart Touching Bangla Love Story

আপুর বান্ধবী যখন বউ – Heart Touching Bangla Love Story: রূপা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো। অনেক কিছুর জন্য ক্ষমা চাইলো আমি ছাড়াতে চেষ্টা করছি কিন্তু পাচ্ছিনা। এই দিকে আরিফা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই হয়ছে। এখন দেখি আমার দিকেই আসছে।


পর্ব ১

আপুঃ ঐ তোর সমস্যা কি। তুই আমার বন্ধুদের সাথে ঝগড়া করিস কেন? বাসাটা কি তোর একার নাকি। আরেকদিন উল্টাপাল্টা কথা বললে তোর খবর আছে।

আমিঃ তোর বন্ধুদের তোর রুমে থাকতে বলবি আমার রুমের সামনে দিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে কেন? আরেকদিন যদি তোর বান্ধবীরা আমার ফুল গাছের ফুল ছিরে তাহলে তোর বান্ধবীদের চুল ছিরবো। না হয় তোর চুল ছিরব।

আপুঃ কি তোর এতবড় সাহস তুই আমার চুল ছিরবি দারা দেখাচ্ছি মজা।
আমিঃ কি করবি। তোর কোন কিছু এখন কাজ করবে না।

আপু নিজের হাতে চুল গুলো এলোমেলো করে চিৎকার দিতে শুরু করলো।
পাসের রুম থেকে আম্মু এলো।
আম্মুঃ কী হয়েছে কাঁদছিস কেন?
আপুঃ তোমার ছেলে আমাকে মারছে।

আমিঃ মিথ্যা কথা আমি মারিনি। আম্মু আপু নিজের হাতে চুল এলোমেলো করে আমার উপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আম্মুঃ ঐ তুই কোন দিন মানুষ হবি। তোর বড় বোন কে তুই মারিস। আজকে তোর খাবার বন্ধ।

আমিঃ খাবো না যাও। আমার কথা সত্য। অথচ আমার কথা বিশ্বাস করো না।
মাঃ তোর আজকে খাবার বন্ধ। আমার এখন কাজ আছে আমি কিচেনে গেলাম। তানিশা তুই আমার সাথে রান্না ঘরে চল।
আমিঃ যাও কোন ব্যাপার না।

আপনারা তো কিছুই বুঝতে পারছেন না মনে হয়।
আমি আমিরুল বাবা মায়ের আদরের সন্তান নাকি সাসনের সন্তান তাই বুঝিনা।
আপুর নাম তানিশা। সব কিছু দখল করে আছে। বাবা ব্যবসা করে। সংসারের মাথা হলো মা।
মায়ের কথাই শেষ কথা। বাবা নাকি মাকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলো বাকিটা ইতিহাস।

বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের নিয়ে আডডা দিচ্ছি।
আমার কয়েকটা বন্ধু আছে। বন্ধু বললে ভুল হবে এরা সব গুলো একেকটা কলিজার টুকরা।

মিজানঃ কিরে মামা কি হয়ছে মন খারাপ নাকি।
আমিঃ দূর এইটা কোন জীবন হলো নাকি। কলেজে সাসন বাসায় সাসন সব যায়গায় মহিলা আর মহিলা।
এই জীবন আর রেখে লাভ কি!

সাইদঃ হরে আর বাঁচতে চাইনা আমার সব গুলো গার্লফ্রেন্ড গুলো মেয়ে।
মিজানঃ আমার গার্লফ্রেন্ড গুলোও মেয়ে।
আমিঃ বালের কথা বাদদে। আমার সাথে মজা করিস নাকি। হালারা ফকিন্নি কোন হানের। তোরা কি ছেলেদের সাথে প্রেম করতে চাস নাকি।
মিজানঃ হুন তোর বালের কথা বাদদে। আজকে মহিলাদের উপর রাগ করছিস কেন সেটা বল।

আমি সবটা খুলে বললাম,
মিজানঃ আবে আমি আজকে কোন ভাবেই সাহায্য করতে পারবো না। আজকে আমার অবস্থাও একি রকম। বাসায় কে যেন বলে দিছে। আমি মামার মেয়ের সাথে প্রেম করি। মা অনেক খেপে আছে।
আমিঃ সাইদ পেটে টানপরছে কিছু খেতে হবে।
সাইদঃ আমি বেঁচে থাকতে তুই না খেয়ে থাকবি না। দারা আমি তোর জন্য খাবা আনছি।
পাঁচ মিনিট পর এক ক্লাস পানি এনে বলে এইটা খা গলাটা ভিজিয়ে নে।

আমিঃ এইটা কি।
সাইদঃ এইটা বিশুদ্ধ পানি। খাইলে শরীরে একটু জোর পাবি
আমিঃ সাইদদা বেশি রকম হয়া যাইতাছে কয়লাম।
মিজানঃ আমি জানতাম এমন কিছু হবে। সাইস খাওয়াবে তরে। ওর চৌদ্দ গুষ্টি কিপটুস।
আমিঃ তোরা থাক আমি গেলাম।
মিজানঃ চল দোকানে গিয়ে খেয়ে আসি।

আমিঃ চল।
তারপর তিনজন মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম। চা রুটি কলা কেক।
আমিঃ আমার ফোনে টাকা নাই সাইদ তোর ফোনটা একটু দে।
সাইদঃ কি করবি। বেশি টাকা নাই এক মিনিটের মধ্যেই শেষ করবি।
আমিঃ আরে বেটাদে। তুই চাইলেই দিয়ে দিবো।

তারপর মোবাইলটা দোকানদার কে দিয়ে বললাম,
এই নেন মোবাইল যখন এই খাবারের বিল দিতে পারবে। তখন মোবাইল দিয়ে দিবেন

সাইদঃ আমিরুল কাজটা ঠিক করলি না

মিজানঃ আবে শালা। খুদা লাগছে খাইছি। এখন আমাদের দুজনের জন্য নিজের এই সামান্য মোবাইলটা বন্ধক দিতে পারবি না।
আমিঃ সাইদ আজ থেকে তুই বন্ধুদের জন্য উদাহারণ হয়ে থাকলিরে পাগলা। আমরা জানি তুই তোর বন্ধুদের জন্য নিজের কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবিরে পাগলা।
সাইদঃ বালের কথা পরে বলিস এহন আমার মোবাইল দে।

আমিঃ তর মোবাইল তো তুই চাইলেই দোকানদার দিয়ে দিবে।
এমন সময় একটা মেয়ে দোকানে এসে বলে মামা একটা আইসক্রিম দেন।

মিজানঃ আমিরুল তুই গরম হয়ে গেছিস ডান্ডা একটা আইসক্রিম খা।
আমিঃ আবে আইসক্রিম আমি খাইনা। আইসক্রিম খায় ফকিন্নির গার্লফ্রেন্ড।
মেয়েটাঃ এই তদের সমস্যা কিরে!
আমিঃ ঐ ফকিন্নি তুই তুই করে বলিস কারে।
মেয়েটাঃ কানের নিচে একটা দিবো দুই ঘন্টা হা করে দাঁড়িয়ে থাকবি।

আমিঃ আবে সালী তোর এত বড় সাহস তুই আমারে থাপ্পড় দিবি। তার আগেই লাত্থি মাইরা বাত্তি নিবায়া দিমু।
মেয়েটাঃ ঐ ছেমরা তোর সমস্যা কিরে। আরেকবার উল্টা পাল্টা কিছু বললে চিৎকার দিবো বলে দিলাম।
তারপর মেয়েটা চলে গেল।
এভাবে ঘু্যাফেরা করে রাতে বাসায় গেলাম।

মাঃ সারাদিন কয় ছিলি।
আমিঃ জাহান্নামে।
গিয়ে দরজা বন্ধ করে লাইট অফ করে ঘুমিয়ে আছি।

১০ টার দিকে মা ডাকছে খাবার জন্য।
আমিঃ খাবো না। তুমি খাও আর তোমার মেয়েকে খাওয়াও।
মাঃ এখন খেলে খা। না খেলে সারারাত না খেয়ে থাকতে হবে।
আমিঃ আসতাছি।

তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে ছাদে গেলাম।
ছাদে গিয়ে দেখি আপু দাড়িয়ে আছে ইচ্ছা করছে কয়েকটা দেয়।

তাই গিয়ে পিছন থেকে একটা থাপ্পর দিয়ে বললাম কিরে ছাদে কি করিস।
আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলছে কোন শালারে।
আমিঃ একটা চিৎকার দিলাম।

মেয়েটাও একটা চিৎকার দিলো।
মেয়েটাঃ ঐ শালা তুই আমাকে ফলো করতে করতে আমার বাসায় চলে আসছিস।

আমিঃ লৌও ঠেলা। আমার পিছনে পিছনে ফলো করে আমার বাসায় চলে আসছিস। আর আমাকে বলছিস আমি তোর মত ছেসরীকে ফলো করিনা। যা ভাগ।
এমন সময় আপু ছাদে আসসে।
আপুঃ কিরে কি হয়ছে।

মেয়েটাঃ দেখতো সেই কখন থেকে ছেলেটা আমাকে ফলো করছে।
আমিঃ ঐ ফকিন্নি মুখে লাগামদে। আমি তরে ফলো করবো কেন? তুই আমাকে ফলো করছিস।
আপুঃ তোরা থামতো। তোরা কেউ কাউকে ফলো করিসনি।

মেয়েটাঃ দেখ তানিশা এই ছেলেটার কথা গুলো সুবিধার লাগছে না।
আপুঃ আরিফা এইটা আমার ছোট ভাই আমিরুল। আর আমিরুল এই আমার বান্ধবী আরিফা। আরিফা আজ থেকে আগামী একমাস এখানে থাকবে।
আমিঃ এক তর ঝালায় বাসা থেকে বাহিরে থাকতে হয় আর নতুন একটা আনছিস। আমার সাথে না পেরে এখন আমার পিছনে বান্ধবীকে লাগিয়ে দিয়েছিস।
আরিফাঃ এইটা তোর ভাই দুনিয়ার বদমাইশ। রাস্তায় আমার সাথে ঝগড়া করছে।

আমিঃ ঐ একদম চুপ।
আরিফাঃ কেন জানুক তুই কেমন ভালো ছেলে পরিবারের জানা দরকার।
আমিঃ আরেকটা কথা বললে কিস করে দিবো বললাম,
তানিশাঃ ঐ কুত্তা তোর মুখে থুথু দিবো বলে দিলাম।

আমিঃ পারলে ঢেকাইস।
তারপর চলে আসলাম আমি আমার রুমে চলে আসলাম। আর ওরা ওদের রুমে রুমের ভিতরে গিয়ে তানিশা আপু আর আরিফা আপু কথা বলছে,
আরিফাঃ তোর ভাই এত খারাপ কেন রে।

আপুঃ ঐ তুই আমার ভাইরে খারাপ বলছিস কেন?
আরিফাঃ দেখলিনা কেমন করে কথা বললো।
আপুঃ সকাল থেকে আমার উপর রাগ করে আছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সারাদিন না খাইয়ে রাখছি। তাই আমার রাগ তোর উপর জারছে। আমার উপর ততটুকু পাইছে দিছে।
আরিফাঃ তোর ভাই কি সব সময় তোর সাথে এমন করে নাকি।

আপুঃ সব সময় না যখন আমি খুচা দেয় তখন এমন করে
আরিফাঃ বাহ বেশ ভালো তো। ইস যদি আমার একটা ভাই থাকতো। দূর তোদের ঝগড়া থেকে আমারো ঝগড়া করতে মন চাইছে আগামীকাল আমি তোর ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করবো।
আপুঃ ঝগড়া করার দরকার নাই। ঝগড়া করলে সারাদিন না খেয়ে থাকে।

আরিফাঃ ও। ঠিক আছে তাহলে করলাম না। অনেক কিছু মিস করলাম রে।
আপুঃ আচ্চা তোর বাবা মা কতদিন দেশের বাহিরে থাকবে।
আরিফাঃ আগামী একমাস। আমাকেউ সংগে যেতে বলেছিল তবে আমার কাছে ভালো লাগেনি। তাই যায়নি। এই একমাস তোর সাথে থাকবো।

আপুঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। তোর যতদিন মন চায় থাক। তবে আমিরুলের কথায় কিছু মনে করিস না।
আর হ্যা এখন থেকে আমিরুলের সামনে তোকে কেউ কিছু বলতে পারবে না। এইটা আমি গ্যারান্টি দিতে পারি। আমিরুল যার সাথে ঝগড়া করে সে হয় আমিরুলের বন্ধু না হয় চরম শত্রু।
আরিফাঃ বেশ মজার তো। আচ্চা এখন ঘুমা।


পর্ব ২

আরিফাঃ বেশ মজার তো আচ্চা এখন ঘুমা।

সকাল বেলা মনে হচ্ছে আমার রুমে অনেক বৃষ্টি হচ্ছেতাই ঘুম ভেঙে গেল মাথায় আমার আগুন লেগে গেলো। সকাল বেলা ঘুমের আসল মজা মনে হচ্ছে। কাঁচা খেয়ে ফেলি।

আমিঃ কিরে ডাইনি তুই আমাকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিলি কেন?
তানিশাঃ ঐ তুই এত ঘুমাস কেন?

আমিঃ হারামি তুই আমার স্বপ্নটাই নষ্ট করে দিলি। বাস্তবে তো তোর জালার কারণে প্রেম করতে পারলাম না। অনেক কষ্ট করে স্বপ্নে একটা মেয়েকে পটালাম এখন বিয়ের কথা হচ্ছিল তুই আমার বিয়েটা ভেঙ্গে দিলি। দূর হয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে।

তানিশাঃ ঐ তুই প্রেম কর তাহলে আমার কোন চিন্তা নাই। আমি চিন্তা করি তোর পাল্লায় পড়ে কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করছিস। আর শোন মা তকে ডাকছে চলে আয়। দেরি করলে মা আসবে।
আমিঃ যা আমি আসতাছি।
তারপর ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে গেলাম।

মাঃ নাস্তা করে একটু তোর বাবার অফিসে যা আজকে না খেয়ে তোর বাবা অফিসে গেছে খাবার নিয়ে যা।
আমিঃ ঠিক আছে দাও। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাবার অফিসে খাবার নিয়ে গেলাম।
বাবাঃ তুই খাওয়া দাওয়া শেষ করে আসছিস।
আমিঃ হুম তুমি খেয়ে নাও আমি এখন কলেজে যাবো।

তারপর কলেজে চলে আসি। কলেজে এসে মিজান আর সাইদের সাথে বসে আডডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় আপু ফোন করে বলল তাদের কলেজে নাকি আজকে অনেক ঝগড়া হচ্ছে রাজনৈতিক দুই গ্রুপের মধ্যে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তাই কলেজ থেকে বাসায় ফিরে আসতে চাইছে। কিন্তু তারা দুজন অনেক ভয় পাচ্ছে।
আমিঃ তুই অপেক্ষা কর আমি আসছি তুই বাহিরে বের হবি না। আমি বললে বারান্দায় আসবি।

তারপর আপুর কলেজে গেলাম গিয়ে দেখি বেশ বড় ধরনের ঝগড়া হচ্ছে। কোন রকমে ভিতরে গিয়ে পিছনের গেইট দিয়ে বের হয়ে আসলাম।
তানিশাঃ তুই আসতে এত দেরি করলি কেন?
আমিঃ দেরি করলাম কোথায় মাত্র আধা ঘন্টা লাগছে।
তানিশাঃ হয়ছে হয়ছে এত কথা বলার দরকার নাই।
তারপর আপু মোটরসাইকেল উঠলো আর আরিফাও।
আপুঃ এবার যাবি নাকি এখানেই দাড়িয়ে থাকবি।

আমিঃ যাচ্ছি তোর মুখে অলটাইম কোরোলার মত তিতো থাকে কেন রে। তুই যেই ছেলের ঘরে যাবি সেই ঘরে গ্যাস বিল লাগবে না। তোর মাথায় হারিপাতিল রাখলেই রান্না হয়ে যাবে।
আরিফাঃ আচ্চা তানিশা তুই তোর ভাইয়ের সাথে সব সময় এমন করে কথা বলিস কেন? তোর ফোন পাবার সাথে সাথে চলে আসছে আর তুই ওর সাথে ঝগড়া করছিস। কি অদ্ভুত মানুষ মাইরি তুই।
আমিঃ এই বেন্টিলিটার আপনি আমাদের মাঝখানে আসছেন কেন?

আরিফাঃ ঐ আমি বেন্টিলিটার মুখের মাঝে এত বিষ কেন? আমি তো তোমার পক্ষ নিয়েই কথা বলছিলাম।

তারপর বাসায় চলে আসলাম।
তানিশাঃ শোন তোর জন্য কিছু টাকা রাখছি তুই আমার কাছ থেকে নিয়ে নেস।
আমিঃ কোন মতলব আছে নাকি।
তানিশাঃ থাক নিতে হবে না।
আমিঃ তুই ভিতরে যা আমি আসছি।

তারপর আমি আমার রুমে না গিয়ে সোজা আপুর রুমে গেলাম।
আমি ভিতরে গিয়ে বসে আসি এমন সময় আরিফা বাথরুম থেকে বের হয়ে আসসো।
আমাকে দেখে একটা চিৎকার দিলো
আমিও চিৎকার দিলাম
আপু বাথরুম থেকে বের হয়ে আসলো।

তানিশাঃ কিরে কি হয়েছে?
আমিঃ তোমার বান্ধবী বাথরুম থেকে। এতটুকু বলতেই আরিফা আমার মুখ চেপে ধরে।
আরিফাঃ আসলে হটাৎ করে রুমে চলে আসার কারণে আমি ভয় পেয়ে যায়। আর আমার চিৎকার শুনে তোর ভাই চিৎকার দেয়।
তানিশাঃ ও এই কথা আমি তো ভেবেছিলাম আমিরুল তোকে ভয় দেখিয়েছে নাকি।

আমিঃ আপু আমি আমার রুম যায়রে পরে আসবো।
তানিশাঃ ঠিক আছে।
আমি আমার রুমে এসে চিন্তা করছি এটা কি হলো।

আমি যে আরিফার শরীরের অনেকটাই দেখে ফেলেছি।
আমার এখন লজ্জা লাগছে আমি আর আরিফা আপুর সামনে যেতে পারবো না
একটু পর আমি বাথরুমে গিয়ে গোসল করে বের হলাম। আমার গায়ে শুধু একটা থ্রি কোয়ার্টার।
এমন সময় আরিফা আপু আমার রুমে আসলো

আরিফাঃ রুমে এসে বললো কোন মেয়ের রুমে যাবার আগে পার্মিশন নেওয়া লাগে। কথা টুকু বলে আমার দিকে তাকিয়ে একটা চিৎকার দিলো। আমিও চিৎকার দিলাম।
তারপর আমি তারাতাড়ি কাপড় পরে। আপুর রুমে গেলাম।
আমিঃ ঐ তোর বান্ধবী কোথায় রে।
তানিশাঃ মনে হয় ছাদে গেছে।
আমিঃ ঠিক আছে।

তারপর আমি সোজা ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা আপু দাড়িয়ে আছে।

আমিঃ এই যে ম্যাডাম আপনি আমার রুমে কিছু না বলে চলে গেলেন কেন?
আরিফাঃ আপনিও তো না বলেই চলে গেছেন।

আমিঃ আমাকে তো আপু যেতে বলেছিলো।
আরিফাঃ দেখেন আমি জানি এইটা একটা এক্সিডেন্ট এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু নাই।
আমিঃ ঠিক আছে। কিন্তু কাউকে কিছু বলবেন না। এমন কি আপুকেও না।

আরিফাঃ এই কথা তো আমার বলার কথা আপনি বলছেন।
আমিঃ আপনি আমার পুরো শরীর দেখেছেন তাই চিন্তাটা আমার বেশি।
আরিফাঃ হাসালেন। অনেক বিনোদন পাইলাম।

আমিঃ আপনার নাভিটা অনেক সুন্দর।
আরিফাঃ ঐ বজ্জ্বাত ছেলে।
আমিঃ আপনাকে বিনোদন দিলাম।
তারপর আমি চলে আসলাম। খাবার খেয়ে বাহিরে চলে এলাম। মিজান আর সাইদের সাথে আডডা দিলাম।
মিজানঃ দোস্ত মামার মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি ওরে ছাড়া বাঁচতে পারব না।

সাইদঃ আরে হালা মরতে হবে না। আগে ছেলের বাসা কোথায় তা খোজ খবর নে।
আমিঃ মিজান কখনো কখনো ফালতু মানুষেও ভালো বুদ্ধি দিতে পারে তার জীবন্ত প্রমাণ হলো আমাদের বন্ধু সাইদ।
সাইদঃ ঐ তুই আমারে ফালতু বললি কেন?
মিজানঃ তোরা এখন চুপ কর। আমি না হলে এখান থেকে চলে যাবো।
আমিঃ যা না তোকে কে ধরে রাখছে।

মিজান রাগের চোটে চলে গেল।
সাইদঃ মিজান তো চলে গেল এখন কি করবি। আমিও বাসায় চলে জাই।
আমিঃ আরে বেটা ধারা। মিজানের মামার বাসা চিনোস।
সাইদঃ হ্যা। কিন্তু মিজানের মামা অনেক দাপটের লোক। তাই কিছু করা যাবে না।

আমিঃ আরে বেটা আমরা আকটাবো ছেলে পক্ষকে।
তারপর দুজন মিলে মিজানের মামার বাড়ির সামনে ইচ্ছা করে মোটরসাইকেল নিয়ে একটা গাছের সাথে ধাক্কা মারি সাইদ গিয়ে পরলো রাস্তায় আমি গিয়ে পড়লাম গাছের গুঁড়ির সামনে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ ঝরো হতে লাগলো।
এটাই তো আমি চাইছিলাম।
আমি গেন হাড়ানোর নাটক করে পড়ে আছি।

সাইদঃ এই আমিরুল কথা বল কি হয়ছে তর।
তারপর সাইদ আমাকে নিয়ে মিজানের মামার বাড়িতে নিয়ে গেলো নিয়ে বললো আমার দোস্ত মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে। একটু পানি এনেদেন ওর মাথায় ডালবো।

আমি মনে মনে বলি শালায় ভালোই কাজ করছে তবে আমি যে হুসে আসি এইটা সাইদ কে বুঝানো যাবে না। তাহলে ঐ নাটকটা ঠিক মত করতে পারবে।
এমন সময় দুই জন মহিলা বাসা থেকে পানি এনে দিলো। আর আমার মাথায় ঢালতে লাগল। আমি মনে মনে বলি আরো বেশি করে ঢাল।
পাঁচ মিনিট পানি ঢালার পর আমি নাটক শেষ করলাম।
আমিঃ সাইদ আমি কয়।

সাইদঃ দোস্ত তুই যায়গা মতোই আসর।
আমিঃ আমার মোবাইলটা পাচ্ছিনা কেন?
তারপর মিজানের গার্লফ্রেন্ডের কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে আমি আমার নাম্বারে কল দিলাম।

তারপর চলে আসলাম। এলাকায় এসে আডডা দিলাম।
রাত ১০ টায় বাসায় ফিরে এলাম।
মাঃ এতক্ষণ কোথায় ছিলি।

আমিঃ একটা মিশন শেষ করে আসলাম।
বাবাঃ আবার কার ঘরে আগুন লাগানোর চেষ্টা করছিস।
আমিঃ নিজের ঘরেই লাগাবো।
মাঃ ঠিক আছে ঠিক আছে। বাবার মত হোষ না। তাহলে সারাজীবন ধরে শুধু অফিস আর বাসা বাসা আর অফিস দুটো নিয়ে জীবন শেষ করে দিবি।
বাবাঃ এখানে আবার আমাকে টানাটানি করছো কেন?

আমিঃ মা তোমাদের পার্সোনাল ঝগড়া তোমাদের রুমে গিয়ে করো।
মাঃ ঐ তুই বড়দের মাঝে কথা বলিস কেন? বাবার মত হয়ছোর।
বাবাঃ এইটা কিন্তু ঠিক না। বারে বারে আমাকে কেন টেনে আনছো। আর আমার ছেলে আমার মতই হবে। তোমার কোন সমস্যা আছে।

আমিঃ আমার খুদা লাগছে খাবার দিবা নাকি বলো।
মাঃ তোর বাবাকে বল খাবার রেডি করে দিতে।
মা চলে গেল। আসলে এটা আমাদের পরিবারের ঝগড়া না এটাই ভালোবাসা।
এমন সময় তানিশা আর আরিফা এলো। তানিশা খাবার রেডি করছে। আর আরিফা আমাদের ঝগড়া দেখে হাসছে।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম।
এমন সময় তানিশা আমার রুমে আসলো।
তানিশাঃ এইনে তোর টাকা আর শোন এগুলো আমার জমানো টাকা এই টাকা দিয়ে ভালো দেখে একটা মোবাইল কিনবি।
আমিঃ আমার মোবাইল তো ঠিক আছে মোবাইল কিনে কি করবো।
তানিশাঃ আমার এক বান্ধবী একটা মোবাইল কিনছে ঐ মোবাইলটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি চাই তুই ঐ রকম একটা মোবাইল কিন।

আমিঃ এইটা কোন কথা হলো।
এমন সময় মোবাইলের কথা বলাই আমার মনে পরলো মিজানের গার্লফ্রেন্ডের কথা। আমি আপু তুই ধারা আমি একটু কথা বলে আসি। একজনের সাথে আমার কিছু কথা আছে।
তানিশাঃ তা কথাটা কি ছেলের সাথে না মেয়ের সাথে।
আমিঃ মেয়ের সাথে।

তানিশাঃ কতদিন ধরে চলছে।
আমিঃ কি কতদিন ধরে চলছে।
তানিশাঃ মোবাইলে কতদিন ধরে চলছে।
আমিঃ আপু আমার জন্য কথা বলছি না। মিজানের জন্য কথা বলছি। ওর গার্লফ্রেন্ডের নাকি বিয়ে তাই বিয়েটা আটকানোর চেষ্টা করছি এই আর কি।
তানিশাঃ ও তাহলে তুই কথা বল আমি আসি। আর শোন আগামীকাল মোবাইল কিনবি।

আমিঃ ঠিক আছে।
তারপর ছাদে গিয়ে কথা বলছিলাম এমন সময় আরিফা ছাদে আসলো।
আমার কথা বলা দেখে আরিফা বলল কার সাথে কথা বলেন।
আমিঃ গার্লফ্রেন্ডে্য সাথে।

আরিফাঃ ভালো তা আপনার বোন বলল আপনার কোন গার্লফ্রেন্ড নাই।
আমিঃ ঠিকি বলছে আমি আমার বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছি।
তারপর মোবাইলে কথা বলে ছেলের সব খোঁজ খবর নিলাম।
তারপর আরিফাকে বললাম,

আমিঃ সরি।
আরিফাঃ কেন?
আমিঃ দুপুরের আচরণের জন্য।
আরিফাঃ কোন সমস্যা নাই। it’s ok
আমিঃ আপনি এত রাতে ছাদে কেন আসছেন।
আরিফাঃ মা একটু পর কল দিবে তাই ছাদে আসছি।

আমিঃ ও।
তারপর আরিফা তার মায়ের সাথে কথা বলল আমি দাঁড়িয়ে আছি।
কথা শেষ করে আরিফা আমার দিকে তাকালো।
আরিফাঃ একটা কথা বলবো।

আমিঃ বলেন।
আরিফাঃ আপনি সব সময় আপনার পরিবারের সবার সাথে এভাবে কথা বলেন কেন?
আমিঃ আমাদের পরিবারে সবাই সবাইকে অনেক বুঝে আর আমাদের ভালোবাসাটা এমনি। মা বাবা ভালবেসে বিয়ে করেছে। তাদের দুজনের মধ্যে অনেক মিষ্টি ঝগড়া লেগেই থাকে।
কখনো মায়ের অসুখ হলে বাবা তখন আর ঘুমায় না।

আবার বাবার অসুখ হলে মা সারারাত বাবার পাশে বসে থাকে।
আর আমার আর আপুর ঝগড়া তো অন্য রকম কখনো কিছু চাইতে হয়না।
আপুর কোন সমস্যা হলে আমি বন্ধুর মত পাসে থাকি।

আমাদের মাঝে কোন sorry বা thank you নেই।
আমাদের পরিবারে সবাই অনেক ফ্রি। একজনের সাথে ঝগড়া লাগলে তাকেই বেশি দোষারোপ করা হয়।
গতকাল সকালে আপুর সাথে ঝগড়া হয়েছে আজকে নিজের জমানো টাকা দিয়ে দিছে মোবাইল কেনার জন্য।
আমার মতে এটাই আসল ভালবাসা।
ঝগড়া লাগবে কিন্তু রাগ করে কথা না বলার কিছু নেই।

একদিন যদি বাসার কারো সাথে কথা না বলি তাহলে হয়ত সবাই টেনশন করবে কারণ তারা ভাববে আমি কি কোন কষ্ট পেয়েছি নাকি।
আচ্ছা আপনার বাবা মায়ের মাঝে ঝগড়া হয় না।

আরিফাঃ না বাবা সব সময় ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি মায়ের সাথে বেশি সময় কাটাই। তারাও যথেষ্ট পরিমাণ রোমান্টিক এই বয়সেও ঘুরাঘুরি করতে পারে।
তাই মা বাবাকে একা ছেড়ে আসছি। আর কাবাবে হাডডি হতে চাইলাম না। কিন্তু আমি একা বাসায় থাকবো এই জন্য তারা অনেক চিন্তিত ছিলেন তাই আমি তানিশার কথা বলে এইখানে আসছি। কারণ একা একা আমার ভালো লাগে না।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তুমি অনেক ঝগডাটে কিন্তু এখন বুঝলাম তোমরা সবাই আসলে ভালবাসার ঝগড়া করো।

আমিঃ আচ্চা এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন।
আরিফাঃ হ্যা।
তারপর রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো আপুর পানির কারণে।

আমিঃ এই ডাইনি তুই আমার জীবনটা শেষ করে দিলি।
তানিশাঃ তুই একটা সকালেও ঘুম থেকে সময় মত উঠতে পারিস না।


পর্ব ৩

তানিশাঃ তুই একটা দিন সময় মত উঠতে পারিস না
আমিঃ তাই বলে তুই আমার গায়ে পানি ঢেলে দিবি। আমাকে একটা দিন আরাম ছে ঘুমাতে দিবি না।

তানিশাঃ ঐ এত বকবকানি শোনার মত সময় আমার নেই। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ কর। কলেজে নিয়ে যাবি।
আমিঃ আমাকে তুই ড্রাইভার পেয়েছিস নাকি। আমি আজকে কলেজে যাবো না।

তানিশাঃ সেটা তোর ব্যাপার কিন্তু আমি যাবো আর তুই দিয়ে আসবি। এই নিয়ে কোন কথা হবে না।
আমিঃ ঠিক আছে ঠিক আছে। যাহ। তুই আমি আসছি।
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষ করে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় আরিফা আর আপু আসলো। আরিফা কে আজকে কোন রাজকন্যা মনে হচ্ছে।
তানিশাঃ কিরে তুই এভাবে কি দেখছিস।
আমিঃ কিছু না। উঠ।
তারপর আপু তার পর আরিফা দুজন উঠলো।
তানিশাঃ আজকে কি তুই সত্যিই কলেজে যাবি না।

আমিঃ না। আমি কলেজে গেলে মিজানের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
তানিশাঃ কি ক্ষতি হয়ে যাবে।
আমিঃ আজকেই মিজানের গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে আসবো তারপর ওদের বিয়ে দিবো।
আরিফাঃ এখানে কি পালিয়ে বিয়ের কথা হচ্ছে নাকি

আমিঃ আবাল কোন হানের এতক্ষণ কি বললাম তাহলে।
আরিফাঃ এই তুমি তোমার আপুর সাথে যেভাবে কথা বলো সেভাবে আমার সাথে কথা বলবে না।
আমিঃ কেন এভাবেই বলবো।

আরিফাঃ আমি তোমাদের স্পেশাল মানুষ।
আমিঃ কিভাবে।
আরিফাঃ আমি তোমাদের মেহমান।

আমিঃ ডেরস। দুই টাকার মুরগি দশ টাকার মসলা।
আরিফাঃ কি বললা।
আমিঃ বললাম আপনি অনেক ভালো।
তারপর কলেজের সামনে নামিয়ে দিলাম।

তানিশাঃ এখন কোথায় যাবি।
আমিঃ শুভ কাজটা শেরে ফেলি।

আরিফাঃ আমিরুল একটা কথা বলি।
আমিঃ বলেন
আরিফাঃ আমার না এইসব দেখতে ভালো লাগে। প্লিজ আমাকে নিয়ে যাবে।
আমিঃ আরে ধরা খেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। তখন আপনাকে নিয়ে পালাবো নাকি নিজের জীবন বাচাবো কোনকা করবো।
আরিফাঃ তুমি কি ভিতু নাকি।
তানিশাঃ আরিফা এইসব কাজ অনেক কঠিন কাজ তুই যাসনে।

আরিফাঃ আরে দূর বোকা তোর মত এত বেরসিক নাকি। জীবনের প্রথম একটা সুযোগ পাবো তাও আবার হাত ছাড়া করবো নাকি।
আমিঃ এই মিস আরিফা। আপনি কি জানেন এইসব ঘটনায় অনেক কষ্ট করতে হয়। আর ধরা পরলে মাইর একটাও মাটিতে পড়ে না। যদি দুইএকটা মাইর মাটিতে পড়ে তাহলে তা আবার উঠিয়ে পিঠে দেয়।

আরিফাঃ তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে তুমি পারবা আমি জানি। তোমার চলাফেরা দেখেই বুঝা যায়।
আমিঃ ঠিক আছে আমি যেভাবে বলবো সেভাবে থাকতে হবে।
আরিফাঃ ঠিক আছে।

তানিশাঃ তাহলে তোরা যা আমি কলেজে গেলাম। আর আমিরুল আরিফার যেন কোন ক্ষতি না হয়।
আমিঃ বেশি পেঁচাল পারবি না।
তারপর আরিফা কে নিয়ে আমাদের আডডা দেওয়ার যায়গায় গেলাম। সাইদ আগে থেকেই রেডি হয়ে আসছিলো।
সাইদঃ কিরে তুই এত দেরী করলি কেন?

আমিঃ এমনি একটু সময় লাগছে।

সাইদঃ ধারা ধারা আমরা তো জানি তুই প্রেম করস না। তা সাথে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসছিস।
আমিঃ তুই সব সময় নেগেটিভ ভাবিস উনি আমার আপুর বান্ধবী আরিফা আপু।
সাইদঃ সরি আপু কিছু মনে করবেন না আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।
আরিফাঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। তারপর সাইদ ওর বাইক দিয়ে যাচ্ছে আমি আর আরিফা এক বাইক দিয়ে যাচ্ছি।
আরিফাঃ আমিরুল তোমার গার্লফ্রেন্ড নাই।

আমিঃ না। আমার কাছে এইসব প্রেম ভালবাসা করার মত ইচ্ছা নাই। তারপরেও হয়তো বা এক দুইটা প্রেম হয়ে যেত কিন্তু আপুর জন্য আর সম্ভব হয় না।
আরিফাঃ ও তা তানিশা তোমাকে ভালবাসতে না করে নাকি।
আমিঃ না তবে আপু মা বাবা যাকে পছন্দ করবে আমি তাকেই বিয়ে করবো। ছোটদের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ নয়।
আরিফাঃ আমিরুল আমি সত্যিই তোমাকে অনেক বাজে মনে করতাম কিন্তু তোমার মনটা অনেক ভালো।
আমিঃ ধন্যবাদ আপনাকে।

আরিফাঃ তোমার না আজকে ফোন কিনতে যাবার কথা।
আমিঃ যাব তো এই কাজটা শেষ করেই যাবো।
এসব কথা বলতে বলতে মিজানের মামার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
আমিঃ আরিফা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো আমি আসছি।
আরিফাঃ আমিও ভিতরে যাবো।

আমিঃ তুমি গেলে সব লেটাচুখে যাবে।
আরিফাঃ আমি এখানে সব কিছু দেখার জন্য এসেছি।
আমিঃ ঠিক আছে চলুন কিন্তু অতিরিক্ত কোন কথা বলতে পারবে না। আর আমি যেভাবে বলবো সেভাবেই থাকতে হবে।

আমি সাইদ আর আরিফা ভিতরে গেলাম।
আমি ভিতরে গিয়ে খালাম্মা খালাম্মা বলে চিৎকার দিতে লাগলাম। এমন সময় দুইকা মহিলা ঘর থেকে বের হয়ে এলো। আমি পায়ে সালাম করে বলতে থাকলাম।
আমিঃ খালাম্মা আপনারা গতকাল আমার জীবন বাঁচিয়েছেন আপনাদের কে একবার দেখতে এলাম।
মহিলাঃ থাক বাবা থাক বেঁচে থাকো। গতকাল তোমরা দুজন এখানে যে অবস্থায় এসেছো তাতে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোমার তো গেন ফিরছিলো না।
অন্য মহিলাঃ আসলে ভাবি আমারো ভয় লেগেছিল। আমার তো মনে হয় এই যায়গাটা ভৌতিক ভাবে প্রভাবিত।

মহিলাঃ তা তোমরা দুজন তো গতকাল আসছিলে এই এই মেয়ে তো আসেনি।
আমিঃ খালাম্মা আমি একে এর বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে এসেছি। একটু আগেই বিয়ে করেছি। আর গতকালের ঘটনা ওকে বললেই ও আপনাদের এক পলক দেখার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। তাই নিয়ে এলাম। তা খালাম্মা গতকাল একজন আপু কে দেখেছিলাম তার মোবাইল দিয়ে আমার মোবাইল খোঁজ করে পেয়েছিলাম সে কোথায়। তাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া আমার খুব প্রয়োজন।
মহিলাঃ ধারাও আমি ঠেকে দিচ্ছি দেখা করে যাও আর শোন পালিয়ে বিয়ে করা ঠিক না। এটা তুমি ভুল করেছো।

এমন সময় মিজানের গার্লফ্রেন্ড এলো।
আমি আরিফা কে বললাম যাও তুমি আপুর সাথে একটু কথা বলো আর তার জন্য আনা গিফ্টটা দাও আরিফা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমিঃ তাকিয়ে থেকো না। আমার দিকে তাদের জন্য আমার জীবন বেঁচেছে তাকে তুমি আনা গিফ্টটা দাও।
তারপর আরিফা বাহিরে নিয়ে গেলো। আমি সাইদ ওয়াশ রুমে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পিছনের দেয়াল টপকে বাহিরে চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পর আমি বলতে লাগলাম।

আমিঃ নাহ আরিফাকে দিয়ে কিছু হবে না। এতক্ষণ কি গল্প করছে।
এই কথা বলে আমি বাহিরে চলে এলাম। মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে আমরা উধাও।
আরিফা আমার পিছনে আর সাইদের পিছনে মিজানের গার্লফ্রেন্ড।
৩০ মিনিটের রাস্তা আমরা ২০ মিনিটেই কাবার করলাম।

তারপর মিজান কে ফোন করে বললাম কাজি অফিসে আয়।
মিজান কাজি অফিসে এলেই বিয়ের কাজ শেষ করে মিজান কে বললাম তোর বউ মানে ভাবিকে তোর বাসায় নিয়ে যা আর যদি তোর মা বাবা মেনে না নেয় তাহলে আমাদের বাসায় চলে আসবি কিছু দিন থাকার পর সব কিছু একটা মেনেজ করে দিবো ইনশাল্লাহ।
আর এখন চল সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া শেষ করবো।

মিজানঃ ভাই তুই আমার জীবন বাঁচিয়েছিস আমি আজকে নিয়ত করে ছিলাম ওকে না পেলে মরে যেতাম। আর তরাও গতকাল বাজে ব্যবহার করেছিলি।
সাইদঃ আবে শালা আমিরুল গতকাল যে কাহিনী করছে আমার সারাজীবন মনে থাকবো।
আমিঃ কিরে ভাই এখানেই দাড়িয়ে থাকবি নাকি। আমার পেটে ইঁদুর বাদুর বাঘ সিংহ দৌরাচ্ছে। এখন রেস্টুরেন্টে চল।
মিজানঃ চল আমারো খুদা লাগছে।

তারপর রেস্টুরেন্টে গেলাম।
মিজান আর ওর বউ একসাথে বসেছে।
সাইদ একপাসে।
আমি আর আরিফা এক পাসে।

মিজানঃ বাজেট কম। আমার দিকে একটু খেয়াল রেখে অর্ডার করিছ।
সাইদঃ হো আজকে তোর বিয়ের খাবার খাবো তো কম কেন খাবো দরকার হলে আজকে তকে বন্দক দিয়ে যাবো। তারপরেও কষ্টের প্রতিসোধ নিবো।
আরিফাঃ সমস্যা নাই তোমরা খাও যদি টাকা লাগে আমি দিবো।

মিজানের বউঃ আমার কাছে আছে আপনারা খান কোন সমস্যা নেই। আর মিজান তুমি সব সময় কিপটামি করো কেন? আমাকে কোন দিন ভালো করে খাওয়ালেনা। আজকেও খেতে দিবে না নাকি।
আমিঃ ঐ তোমরা হরতাল বন্ধ করো। যার যাহ লাগে অর্ডার করো। এরপর অর্ডার করা শুরু করলাম। খাওয়া দাওয়া শেষ ১০ হাজার বিল হয়ছে।
মিজান কষ্ট করে ৭ হাজার দিলো বাকিটা মিজানের বউ দিলো।
তারপর বাসার দিকে রওনা দিলাম

আমি আর আরিফা একসাথে আসছি।
আরিফাঃ ঐ সময় তুমি ঐ কথা বললে কেন?
আমিঃ কোন সময় কোন কথা বলছি।

আরিফাঃ ঐ সময় বললা আমি তোমার বউ। এই কথা না বলে অন্য কোন কথা বলতে পারতে।
আমিঃ যায়গা বুঝে কথা বলছি। আর সেই জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।
আরিফাঃ ঠিক আছে। তুমি তোমার বন্ধুর প্রেমের জন্য এত কিছু করো নিজে প্রেম করো না এইটা কেমন কথা।
আমিঃ কোচ কখনো মাঠে নামে না। আমি ওদের কোচ বুঝলা।

আরিফাঃ আচ্চা তুমি কি আমার বন্ধ হবে।
আমিঃ কেন?
আরিফাঃ কেন আমরা কি বন্ধ হতে পারিনা।

আমিঃ তুমি তো আমার চেয়ে বড়।
আরিফাঃ তাতে কি। আমার যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে তোমার সমস্যা হবে কেন?
আমিঃ ঠিক আছে আজ থেকে আমরা বন্ধু।
তারপর বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে একটা ঘুম দিলাম।

সন্ধ্যায় আরিফার ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
আমিঃ কি হলো ডাকছো কেন?
আরিফাঃ তুমি না মোবাইল কিনতে যাবে। আর আমারো কিছু কেনাকাটা করবে হবে


পর্ব ৪

আরিফাঃ তুমি না মোবাইল কিনতে যাবে আর আমারো কিছু কেনাকাটা করতে করতে হবে। তাই ভাবছিলাম দুজন মিলে একসাথে যাবো। যদি তোমার কোন আপত্তি না থাকে।
আমিঃ ঠিক আছে তুমি রেডি হয়ে নাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
তারপর ফ্রেশ হয়ে আরিফা কে ডাক দিলাম।

এমন সময় মা বললো,
মাঃ কি হয়েছে রে। এমন ভাবে চিৎকার করছিস কেন?

আমিঃ আরিফা আপু মার্কেটে যাবে তাই তার জন্য অপেক্ষা করছি।
মাঃ অপেক্ষা করছিস ভালো কথা চিৎকার দিলি কেন? ওদের রুমে গিয়ে ডাকদে।
আমি মনে মনে বলি রুমে গেলে যা দেখায় তা দেখে মাথা ঠিক থাকে না।
মাঃ কি হলো দাড়িয়ে আছিস কেন?

আমিঃ হ্যা যাচ্ছি। তারপর ওদের রুমে গিয়ে ডাক দিলাম।
আরিফাঃ আমিরুল তুমি ১ মিনিট বসো আমার রেডি হওয়া শেষের দিকে।
আমিঃ ঠিক আছে।
বসে আছি। আজকে শাড়ি পড়েছে অনেক সুন্দর লাগছে মনে হচ্ছে ঘাসের বুকে যেমন শিশিরের ফোটা রোদের সোনালী আলোয় মুক্তোর মত রূপালী আলো ছড়ায় ঠিক সেই রকম লাগছে।
পিছন থেকে আপু বলছে।
তানিশাঃ কিরে আমিরুল তুই আরিফার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?

আমিঃ না দেখছি। আর চিন্তা করছি।
তানিশাঃ কি চিন্তা করছিস।
আমিঃ চিন্তা করছি এই রকম একটা শাড়ি তোকেও কিনে দিতে হবে।
তানিশাঃ এইটা আমার শাড়ি। আরিফার নাকি অনেক পছন্দ হয়েছে তাই গিফট করে দিয়েছি।

আমিঃ খুব ভালো করেছিস। এইটা মহৎ একটা কাজ করেছিস।
আরিফাঃ আমিরুল চলো।
আমিঃ আপনি কি কোন বিয়ে বাড়িতে যাবেন নাকি।

আরিফাঃ পরে বলি এখন চলো।
আমিঃ ঠিক আছে চলেন।
আমি নিচে গিয়ে বাইকে বসে আছি।

আরিফাঃ বাইক রাখো। আমরা রিক্সা দিয়ে যাবো।
আমিঃ আমোর জালা বাইক রেখে আমি রিক্সা দিয়ে যাবো কেন?
আরিফাঃ আবে হালায় চিল্লাইবার লাগছো কেলা।

আমিঃ কিতা কউ তুমি পুরান ঢাকার কথা শিখলা কবে।
আরিফাঃ আবে হালায় কয় কি কয়বার লাগছো আবে আমা বাড়ি তো পুরান ঢাকা।
আমিঃ হয়ছে এখন বাইকে উঠো।

আরিফাঃ বললাম তো রিক্সা দিয়ে যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে চলো।
তারপর রিক্সা নিলাম।
আরিফা আগে উঠে বসলো। তারপর আমি উঠে বসলাম।

আরিফাঃ এত দূরে বসে আছো কেন? এভাবে কোনায় বসলে একটু ধাক্কা লাগলেই পরে যাবে।
আমিঃ না পড়বো না।
আরিফাঃ এত কথা বলার কি আছে কাছে এসে বসো।

তারপর আর কিছু বললাম না। একদম পাশাপাশি বসে আছি।
আরিফা বা আমি কেউ কিছু বলছিনা।
অনেকক্ষণ ধরে চুপ করে আছি। এমন সময় ফোন বেজে উঠল।

আমিঃ হ্যালো কে।
সাইদঃ দোস্ত আমার অবস্থা খারাপ। দুই গার্লফ্রেন্ড সাথে দেখা করতে হয়বো পকেটে টাকা নাই।
আমিঃ মর গিয়ে এইসব কাজের জন্য আমাকে ডাকবি না।
সাইদঃ দোস্ত তোর কাছে টাকা থাকলে দেন পরে দিয়া দিমু।
আমিঃ আমার কাছে কোন টাকা নাই। পারলে তুই আমারে কয়েক টাকা দে।

তারপর ফোন কেটে দিলাম।
মার্কেটের সামনে রিক্সা থামালো ভাড়া মিটিয়ে ভিতরে গেলাম।
আরিফাঃ তোমার সব চেয়ে কোন রঙ ভালো লাগে।
আমিঃ আমার কাছে সব রঙ ভালো লাগে। তোমার কোনটা দরকার।
আরিফাঃ কোন রঙের শাড়ি পছন্দ করো।

আমিঃ ইয়াং বয়সে নীল রঙের শাড়ি পড়াই ভালো। আর তোমাকে বেশ মানাবে।
আরিফাঃ আর থ্রিপিস কোন রঙের হলে ভালো হবে।
আমিঃ থ্রিপিস কালো রঙের হলে ভালো লাগবে। আর আর হলুদ রঙের হলেও ভালো লাগবে।
আরিফাঃ ঠিক আছে চলো।

তারপর প্রথমে নীল রঙের শাড়ি নিলো। এর কালো রঙের থ্রিপিস নিলো। আর হলুদ রঙের থ্রিপিস নিলো।
কিছুক্ষণ পর বললো তুমি এখানে ধারাও আমি একটু আসছি। তারপর লেডিস শপে গিয়ে ৩০ পড় আসলো।
আমিঃ এতক্ষণ লাগে।
আরিফাঃ মেচিং করে কিনলাম।

আমিঃ কি।
আরিফাঃ কিছু না।

আমিঃ এবার তাহলে বাহিরে যাওয়া যাবে।
আরিফাঃ তোমার মোবাইল কিনবে না।
আমিঃ আমার মোবাইল এখান থেকে কিনব না। অন্য দোকানে গিয়ে কিনবো।
তারপর আমার পছন্দ মত একটা মোবাইল কিনলাম।

আমিঃ চলো বাসায় যায়।
আরিফাঃ শপিং করার পর খাওয়া দাওয়া না করে আমি কোন দিন বাসায় যায়না। তাই খাওয়া দাওয়া করে বাসায় যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে চলো রেস্টুরেন্টে যায়।

তারপর খাওয়া দাওয়া করলাম। টুকটাক কথা তারপর আরিফা জোর করে বিল দিলো।
বাহিরে এসে রিক্সায় উঠলাম একটু যেতেই ফুলের দোকান দেখে আরিফা বললো।
আরিফাঃ থামেন থামেন আমার ফুল কেনার বাকি আছে।

আমিঃ এখন ফুল দিয়ে কি করবে।
আরিফাঃ গোলাপ আমার অনেক প্রিয় তুমি একটু ধারাও আমি আসছি।
এরপর অনেক গুলো ফুল নিয়ে আসলো।

তারপর আবার বাসার দিকে রওনা দিলাম।
কিছুক্ষণ পর বাসায় গেলাম।
আধা ঘন্টা পর বাসায় পৌছে গেলাম।

আমিঃ গোসল করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
একঘন্টা পর আবার তানিশা আপু ডাকতে শুরু করলো।
আমি এখন তো সকাল হয়নি এখন ডাকছিস কেন?
তানিশাঃ আরিফা তোকে ছাদে যেতে বলেছে।
আমিঃ তুই যা আমি এত রাতে যেতে পারবো না।

তানিশাঃ তুই না গেলে আমি পানি ডালবো বিছানায়।
আমিঃ আমি কি যাবো না বলেছি। আমি বলেছি একটু যাচ্ছি।
তানিশাঃ গুড এখন যা।
আমিঃ ঠিক আছে আমি যাচ্ছি।
তারপর ছাদে গেলাম গিয়ে দেখি নীল রঙের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অনেক সুন্দর লাগছে মনে হয় রাতের নীল পরী এখানে এসেছে হালকা চাঁদের আলোয় আরিফাকে আলোকিত করে রেখেছে।
আমিঃ আমাকে কি ডেকেছো।

আরিফাঃ হুম।
আমিঃ কিছু বলবে।
পিছন থেকে ফুলের তোড়া বের করে হাঁটু গেড়ে বসে বলে
আরিফাঃ I love you আমিরুল। আমি অনেক ভেবেছি কিন্তু চিন্তা করে দেখলাম আমার জীবনে তোমার মতই একজন মানুষ দরকার।
আমিঃ আমার মত বয়সে ছোট ছেলে তোমার দরকার।

আরিফাঃ বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি কিন্তু পারিনি। তোমাকে ভাল না বেসে থাকতে পারলাম না।
আমিঃ আরিফা তুমি আমার বড় বোনের বান্ধবী এইটা সমাজ পরিবার কেউ মানবে না।
আরিফাঃ তুমি মানলেই সবাই মানবে।

আমিঃ তুমি এখন উঠো‌।
আরিফাঃ না তুমি আগে আমার ভালবাসা গ্রহণ করো। আমি তোমার বোনের সাথে কথা বলেছি সে বলেছে তুমি রাজি হলে তার কোন আপত্তি নেই আর তোমার পরিবারের কারো আপত্তি থাকবে না।
আমিঃ দেখো আরিফা আমি তোমাকে আমার বোনের নজরে দেখেছি। যা শুধু আপু ডাকিনি। ঐটা আমার অনেক বড় ভুল ছিলো তোমাকে আমার আপু ডাকার প্রয়োজন ছিলো। আর শোন তুমি উঠে ঘরে যাও আর ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করো।

আরিফাঃ তুমি আমাকে গ্রহন না করলে আমি এখান থেকে যাবো না।
আমিঃ দেখো সেটা তোমার ব্যাপার।
আরিফাঃ আজকে যদি তুমি আমাকে গ্রহন না করো তাহলে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো

আমিঃ আচ্চা তুমি আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি দুই দিন পর তোমাকে আমার উত্তর দিবো।
আরিফাঃ দুই মিনিট সময় দিলাম।
আমিঃ দুই দিনের সময় কি বেশি চেয়েছি। আর বেশি তেরি বেরি করলে আমি নিজেই নিজেকে শেষ করে দিবো।
আরিফাঃ না তুমি নিজের কোন ক্ষতি করো না। আমি তোমাকে দুইদিন সময় দিলাম।

তারপর আরিফা কে রুমে যেতে বললাম,
কিছুক্ষণ পর আমিও রুমে চলে এলাম।
একটু পর তানিশা আমার রুমে এলো।
তানিশাঃ ঐ তুই কি রে মেয়েটা নিজের লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে তোকে প্রপোজ করলো আর তুই ওকে ফিরিয়ে দিলি।

আমিঃ আমি তোর কি এমন ক্ষতি করেছি রে তুই তোর বান্ধবীকে আটকাতে পারলি না।
তানিশাঃ আরিফা কে চিনি ও অনেক ভালো মেয়ে কোন ছেলের সাথে ওর আডডা নেই। কারো সাথে প্রেম করেনি। তা ছাড়া বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে।
আমিঃ সব কিছু ঠিক আছে কিন্তু আরিফা তো আমার চেয়ে বড়। তুই যেনে শুনে এমন একটা কাজ কে উৎসাহিত করলি।
তানিশাঃ ঐ তকে অনেক আগে থেকেই ভালবাসে। ঐ তোকে আরো এক বছর আগে থেকেই ভালোবাসে।

আমিঃ মজা করিস আমার সাথে। দুইদিন আগে আমাকে প্রথমবার দেখেছে আর তুই বলছিস এক বছর। শোন পাঁচ বছর হলেও আমার কিছু করার নেই। তুই আমার সাথে ওর উকালতি করতে আসিস না।
ঠাস ঠাস ঠাস। তিনটা চর দিলো তানিশা আমার গালে।
তানিশাঃ আমার মুখে তোর কথা শুনেই তকে ভালবেসে ছিলো। তুই যখন আমাকে কলেজ থেকে নিয়ে আসতি তোকে এক নজর দেখার জন্য দূরে দাঁড়িয়ে তোকে দেখতো।
আমি জানতাম ভালবাসা কি তুই তা বুঝিস না। তাই আরিফাকে প্রপ্রোজ করতে মানা করেছিলাম। কিন্তু যখন তুই মিজানের জন্য এত কিছু করলি তখন আরিফা আমার কোন কথাই মানলো না।
তাই প্রপোজ করছে।
আমিঃ ঠিক আছে আমাকে একটু চিন্তা করতে দে। আর এই কথা গুলো আমাকে ভালো করে বললেও পারতি গায়ে হাত না তুললেও হতো।

তানিশাঃ তকে আদর দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলেছি এখন মাথা থেকে নামাতে হবে তাই মারছি।
আমিঃ ঠিক আছে আজকের পর থেকে তুই আর আমার উপর কোন অধিকার খাটাতে আসবি না। ভালো করে চিনি না জানি না কিভাবে আমি একজন কে ভালবাসবো তা তুই একবার চিন্তা করলি না। দুইটা দিন কি বেশি সময় চাইছিলাম।
তানিশাঃ তোর ইচ্ছা। আমি তোর উপর কোন অধিকার দেখাবো না। যা তকে মুক্তি দিলাম।

আমি রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম।
রাস্তায় অনেকক্ষণ হেঁটে হেঁটে আবার বাসার সামনে এলাম। তারপর ছাদে গেলাম। এক কোনায় ছাদে বসে আছি।
বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারবো না।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলে নিচে যাবার সময় দেখি আরিফা দরকার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

আরিফাঃ তুমি কোথায় গিয়েছিলে একটু আগে তোমাকে তোমার রুমে পেলাম না।
আমিঃ ছাদে গিয়ে ছিলাম।
আরিফাঃ ফ্রেশ হয়ে আসো তোমাকে নিয়ে বাহিরে যাবো।

আমিঃ আমি যেতে পারব না। আমার অনেক ঘুমের ধরেছে চোখ জ্বালাপোড়া করছে পরে কোন সময় যাবো।
আরিফাঃ তুমি ঠিক আছে। কোন সমস্যা নাই। আচ্চা আগামীকাল তুমি তোমার কথা জানাবে। দয়াকরে না করো না।
আমিঃ হুম। চেষ্টা করবো। তবে আপুকে দিয়ে আমাকে অপমান না করলেও পেতে।
আরিফাঃ তানিশা তোমাকে কি বলছে।

আমিঃ কিছু না। এক বছর কারো পিছনে না ঘুরে তাকে সামনাসামনি বলে দিতে তাহলে এত কষ্ট আর নাটক করার কিছু থাকতো না।
আরিফাঃ তোমার বাবা মায়ের সাথে দেখা করলাম। আমি তোমাকে যেমন ভাবতাম তা পরীক্ষা করে দেখলাম।
আইসক্রিমের দোকানে তোমার সাথে ইচ্ছা করেই ঝগড়া করছি। আর তুমি দেখলাম আমাকে টিটকারি মারলে তাই। ভাবলাম তুমি হয়তো ইভটিজিং করো তাই আরেকটু সময় নিলাম।
আমিঃ জয় বাংলা হয়ছে কাম। আজকের পর থেকে আমার বিষয়ে কোনো কথা আপুর সাথে শেয়ার করতে পারবে না।

আরিফাঃ তানিশা কে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো। ঐ সব কিছু ব্যবস্থা করে দিলো আর ওকে কোলে কিছু জানাবো না। একা কেমন কথা।
আমিঃ শোন আগামীকাল লাগবে না। আজকেই আমার উত্তর নিয়ে নাও। আমি আপুর সাথে প্রেম করতে পারবো না। তবে যদি মা বাবা কে রাজি করাতে পারো তবে তা ভিন্ন কথা।
আরিফাঃ তোমার চেয়ে বয়সে বড় কারো সাথে প্রেম করতে পারবেনা তাহলে তোমার বাবা মাকে রাজি করানোর কি আছে।
আমিঃ আচ্ছা তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো।
আরিফাঃ নিজের জীবনের চেয়ে বেশি।

আমিঃ বিয়ের আগে আমার সাথে রাত কাটাতে পারবে।
আরিফাঃ কি বলছো এইসব তোমার মাথা ঠিক আছে।
আমিঃ হ্যা জা শুনলে তাই বলছি বিয়ের আগে আমার সাথে রাত কাটাতে পারবে।
আরিফাঃ আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি তোমাকে ভেবে বলছি।


পর্ব ৫

আরিফাঃ আমাকে দুইদিন সময় দাও আমি ভেবে বলছি।
আমিঃ তোমার যতদিন সময়। লাগে সময় নাও।

তারপর আমি আমার রুমে চলে আসি। আমারো তো একটু দেখা দরকার কেমন ভালবাসে। আবেগের বসে সে কি বিবেক কে বিসর্জন দিতে পারে কিনা।
গোসল করে একটা লম্বা ঘুম দিলাম। দুপুর বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে যাচ্ছি এমন সময় দেখি আরিফা ডাকছে।
আমিঃ কিছু বলবা।
আরিফাঃ হ্যা তোমাকে নিয়ে আমি একটু বের হতে চাই।

আমিঃ কোথায় যাবে।
আরিফাঃ তুমি রেডি হও আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি। এখন কিছু জানতে চেয়ে না তো।
আমিঃ ঠিক আছে আমি আসছি। ৫ মিনিট সময় দাও।

রেডি হয়ে নিচে গেলাম। আরিফা আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমিঃ হুম চলো।
তারপর বাহিরে গিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে যাচ্ছি। রিক্সা থেকে নামলাম একটা এতিম খানার সামনে। ভিতরে জেতেই অনেক গুলো বাচ্চা এসে আরিফার চার দিকে ভির করলো।
মনে হয় আরিফা এদের অনেক আপন।

আরিফা আমার দিকে আঙুল তুলে বলছে ঐ যে তোমাদের ভাইয়া। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাচ্চা গুলো আমার কাছে ছুটে আসলো।
তারপর বাচ্চাদের সাথে বসে সময় পার করলাম।
সন্ধ্যার দিকে একটা গাড়ি এলো গাড়ি থেকে একটা লোক এসে আরিফাকে বললো
লোক ঃ মেডাম খাবার এসে গেছে। এখন কি বাচ্চাদের কে খাবার দিয়ে দিবো।

আরিফাঃ সবাইকে খাবার দাও।
এমন সময় আরিফা আমার কাছে এসে বলল এদের সাথে বসে খেতে তোমার কোন আপত্তি আছে। দেখো এদের সাথে খেলে অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করবে অনেক শান্তি পাবে।
আমিঃ আমার কোন সমস্যা নাই। তা ছাড়া আমি প্রতি বছর এমন বাচ্চাদের সাথে বসে খাবার খায়।
আরিফাঃ তাহলে ঠিক আছে তুমি আমার সাথে বসে খাবে।
তারপর আমি আরিফার পাসে বসে বাচ্চাদের সাথে খাচ্ছি। মাঝে মাঝে আরিফার দিকে তাকিয়ে আছি। আরিফা কিন্তু একবারো আমার দিকে তাকালো না।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাহিরে বসে আছি।

আরিফাঃ এখানে বসে আছো কেন তোমার কী মন খারাপ।
আমিঃ না। অনেক ভালো লাগছে। সত্যিই অনেক আনন্দ লাগছে।
আরিফাঃ এখন চলো সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।
তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় এতিমখানার চাচা বলছে।

চাচা ঃ আরিফা মা তুমি আবার কবে আসবে।
আরিফাঃ সঠিক বলতে পারি না। তবে যদি আমি না আসতে পারি তাহলে এখন থেকে প্রতিমাসে আমিরুল আসবে।
চাচা ঃ ও তাহলে ঠিক আছে ভালো থেকো মা। ভালো থেকো বাবা।
তারপর বাহিরে এসে রিক্সা নিয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিলাম।

আরিফা আজকে প্রয়োজন ছাড়া কোন কথা বলছে না। আগের মত চঞ্চলতা তার ভিতরে আমি দেখলতে পাচ্ছি না।
তবে বাচ্চাদের সাথে অনেক হেসে হেসে কথা বলেছে। নিরবতা ভেঙ্গে আমি প্রশ্ন করলাম।
আমিঃ আরিফা এখানে তুমি কতদিন পর পর আসো।

আরিফাঃ যখন আমার মন ভালো থাকে না তখন আসি। এই এতিম খানাটা বাবা বানিয়েছে। অনেক গুলো বাচ্চা এখানে থাকে আর লেখা পড়া করে। আমাদের বাসার কেউ গেলে ঐদিন বাহির থেকে খাবার নিয়ে যাওয়া হয়। আর না হলে ওখানেই রান্না করা হয়।
পুরোটাই বাবা নিজের হাতে সামলান আমাদের সাথে ফোন করে কথা না বললেও এতিম খানার খোঁজ খবর ঠিকি রাখেন।
আমিঃ ও। তাহলে আমার মনে হয় তোমার বাবা অফিসে অনেক ভালো মানুষ।

আরিফাঃ হুম।
আরিফাঃ আচ্চা আমিরুল ঐ সময় কি কথাটা তুমি সিরিসলি বলে ছিলে নাকি মজা করেছিলে।
আমিঃ কোন কথা বলছো তুমি।
আরিফাঃ এক রাতের কথা।
আমিঃ সিরিয়াস ভাবেই বলেছি।

আরিফাঃ তাহলে আমি চিন্তা করে ফেলেছি। তোমার কথায় আমি রাজি। আমার কোন আপত্তি নেই।
আমিঃ তোমার কি মাথা ঠিক আছে।
আরিফাঃ তোমার মনের আশা পূরণ করলাম আরকি।

এমন সময় রিক্সা বাসায় এসে পড়লো।
রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে রুমে চলে এলাম।
এমন সময় মিজান ফোন করে বললো যে তার বাবা মা তাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছে। আর আগামীকাল তাদের বউভাত অনুষ্ঠান। তাই আমাকে রাতেই মেতে হবে।
আমিঃ মিজান আমি আগামীকাল সকালে আসবো এখন আশতে পারবো না।

মিজান বললো তোর বাসার দরজাটা খোল আমি বাহিরেই দাড়িয়ে আছি।
দরজা খুলে দেখি মিজান আর মিজানের বউ দাড়িয়ে আছে
আমিঃ ভিতরে আয়।

মিজানঃ শোর সামনে থেকে। ভিতরে গিয়ে চিৎকার দিতে আরিফা আপু একটু বাহিরে আসেন।
আরিফাঃ আরে মিজান কেমন আছো তোমরা।
মিজানঃ আপু আমরা একদম ভালো আছি। আমাদের দুজনের পরিবার থেকে আমাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছে। আগামীকাল আমাদের বাড়িতে অনুষ্ঠান তাই আপনাকে দাওয়াত দিতে এলাম। আপনি কিন্তু আসবেন।

তারপর আমাদের বাসার সবাই দাওয়াত দিলো।
সবাই খুশি।
মিজানঃ আমিরুল চলিরে।
আমিঃ ঠিক আছে যা ভালো থাকিস।

তারপর রুমে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে ছাদে গেলাম।
চিন্তা করছি আগামীকাল আমি মিজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবো না। আমার বাড়িতে এলো সবাইকে দাওয়াত দিলো সামনা সামনি আমাকে মোবাইলে বলল আর সরাসরি বলল না। তাই যাবো না।
এমন সময় আরিফা ছাদে আসলো।

আমিঃ কিছু বলবে।
আরিফাঃ না মন ভালো লাগছে না তাই ছাদে চলে এলাম।
আমিঃ তাহলে তুমি বসো আমি আসি।
আরিফাঃ আমার পাশে বসো।
আমিঃ না আমি ঘুমিয়ে পড়বো।

আরিফাঃ আমি রাজি তুমি যায়গা ঠিক করো।
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
আমিঃ আরিফা তুমি কি বলছো তা তুমি জানো। ৩

আরিফাঃ হুম আমি জানি। আমার কোন সমস্যা নাই। তুমি তো দেহ চাও। আর আমি তোমার মন চাই। তুমি না হয় দেহটা নিলে। তার বিনিময়ে আমাকে তোমার মনটা দিবে।
চুপ করে নিচে চলে এলাম এখানে আরিফার কোন দোষ নেই। সব টুকু আমার দোষ।

কোন চিন্তা না করে বাহিরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে দিলাম। আরিফার কথা গুলো কানে বাজতে থাকলো ( তুমি তো দেহ চাও। আর আমি তোমার মন চাই। তুমি না হয় আমার নিলে। তার বিনিময়ে আমাকে তোমার মনটা দিবে)
কথাটা বারবার কানে বাজতে থাকলো।

আমি আর কোন কিছু চিন্তা করতে পারছিনা। ২
বাসায় গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না।
তাই আবার ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা দাড়িয়ে আছে।
আমিঃ এত রাতে তুমি ছাদে কি করো।
চোখ মুছতে মুছতে আরিফা বললো।

আরিফাঃ এমনি ঘুম আসছিলো না তাই একটু ছাদের খোলা আকাশ দেখতে এলাম।
আমিঃ আকাশে মেঘ করেছে বৃষ্টি আসবে রুমে যাও।
আরিফাঃ আকাশের বৃষ্টি দেখা যায় কিন্তু মনের মাঝে তুফান এলেও তা দেখা যায়না।
আমিঃ একটা কথা বলবো।
আরিফাঃ বলো তোমার কিছু বলার বাকি থাকলে বলতে পারো।

আমিঃ না থাক। তুমি বরং রুমে যাও।
আরিফাঃ থাকবে কেন বলো কি বলতে চাও। ৬
আমিঃ না এমনি তুমি বরং ঘুমাতে যাও।

হটাৎ বজ্রপাতের আওয়াজে আরিফা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আমিও কিছুটা ভয় পেয়ে আরিফা কে ঝড়িয়ে ধরেছি।
কিছুক্ষণ পর আমি আরিফাকে ছাড়িয়ে বলি সরি আসলে আমি হঠাৎ করে এমন হবে বুঝতে পারিনি।
আরিফাঃ আমিও অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
আমিঃ তাহলে এবার রুমে যাও।
আরিফাঃ একটা কথা বলবো।

আমিঃ বলো।
আরিফাঃ মানুষ কখন মরে যায় তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। আজকে যদি বৃষ্টি হয় তুমি আমার হাত ধরে একটু ভিজতে পারবে।
আমিঃ তোমার মাথা ঠিক আছে। এত রাতে ভিজলে ১০০% ঠান্ডা লাগবে।

আরিফাঃ ঠান্ডা লাগবে না।
এমন সময় অঝোর বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো। আমি নিচের দিকে রওনা দিলাম আরিফা আমার হাত ধরে থামিয়ে দিলো।
আমি আর কিছু বললাম না।
আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিক কেমন যেন অন্ধকার হয়ে গেছে। আবার বাজের আওয়াজ। আবারো ঝড়িয়ে ধরা তার আবার ছেড়ে দিলাম।

আমি আরিফার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। ওর চোখ মনে হয় কিছু বলতে চাচ্ছে। চোখের ভিতরে মনে হচ্ছে অনেক গভির যেখানে অজানা অনুভূতি আর বুঝাতে না পারার কষ্ট। আবার হারানোর ভয়।
আমি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলাম কিন্তু পারছি না। কোন এক অজানা নেশায় আসক্ত হয়ে আছি আমি। কতক্ষণ ছিলাম তা জানিনা।
রাত ৩ টার দিকে তানিশা ছাদে এলো এসে দেখে আমি আর আরিফা চোখের দিকে দুজন তাকিয়ে আছি। কেউ কোন কথা বলছি না।
এরপর তানিশা এসে আমাকে একটা চর মেরে বললো একটা মেয়ের সর্বনাশ করতে তোর গায়ে বাঁধলো না।
আমিঃ কি সর্বনাশ করলাম রে আমি।

আরিফাঃ তানিশা তুই এখানে এলি কেন? আর আমিরুল আমার কোন সর্বনাশ করবে কেন?
তানিশাঃ এখন কয়টা বাজে। খবর আছে তোর।

আরিফাঃ ১১ টা ১২ টা হবে।
তানিশাঃ এখন রাত ৩ টা বাজে।
আমিঃ তুই আমাকে মারলি কেন?

তানিশাঃ তুই আমার সাথে কোন কথা বলবি না।
আমিঃ তোর সাথে কথা আমি বলতে চাচ্ছি না। তুই আমাকে মারলি কেন?
তানিশাঃ তুই তোর কাজের জন্য মার খাইছোস।

তারপর আমি রুমে চলে এলাম অনেক ঠান্ডা লাগছে।
আর এতক্ষন কিভাবে গেল। তিন চার ঘন্টা এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম তা আমি জানি না। এটাকি কোন ঘর ছিলো। নাকি আমি আরিফাকে ভালবেসে ফেলেছি।
এইসব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকাল ১০ দিকে ঘুম ভাঙলো।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। বাসার সবাই মনে হয় কোথাও যাবে। ২
তারপর মনে পড়লো মিজানের বউ ভাত অনুষ্ঠানে যাবে মনে হয়।

আরিফাঃ আমিরুল তুমি যাবে না মিজানদের অনুষ্ঠানে।
আমিঃ না আমি যাবো না।
আরিফাঃ তাহলে আমিও যাবো না।

আমিঃ তুমি যাও। আর না গেলে মিজান মন খারাপ করবে।
আরিফাঃ তুমি না গেলে মন খারাপ করবে না।

আমিঃ না। কারণ আমি আরো পড়ে যাবো।
আরিফাঃ আমি তোমার সাথে যাবো।

এমন সময় মা বাবা তানিশা সবাই বলছে আমিরুল আরিফা তোমরা আসো।
আমিঃ আমি একটু পরে যাবো।

মাঃ তোর ফাইজলামি বাদদে এখন চল।
আমিঃ আমি তো যাবার জন্য রেডি হয়নি।
মাঃ তাহলে রেডি হয়ে চলে আসিস। আরিফা চলো আমরা যায়।
আরিফা আর কোন কথা বলল না। আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেল মায়ের সাথে।

তারপর আবার গোসল করে নীল রঙের পান্জাবী পড়ে চলে গেলাম।
গিয়ে দেখি অনেক মানুষ এসে গেছে। দুপুরের খাবার সময় খাবার খাচ্ছি এমন সময় একটা ছেলে আরিফার উরনা ধরে টান মারে। আমি ছেলেটার কাছে গিয়ে বললাম তুমি কি ইচ্ছা করে টান মারছো নাকি এমনি হয়ে গেছে।
ছেলেটা বললো কি জিনিস ভাই ইচ্ছা করেই দিছি। ২২২

আমার মাথা নষ্ট হয়ে গেল।
লাথি ঘুষি চর থাপ্পর যেভাবে পারছি মারছি।

কয়েক জন ফেরানোর চেষ্টা করছে।
আমিঃ ছেলে আর আমার মাঝে যেই খা। না। কি। র। প। ো। লা।
। আসবি ঐটারে সহ দিমু। মা।
দা। র। প। ল।

ইচ্ছা মত কিছুক্ষণ দেওয়ার পর
মিজানঃ কিরে তুই আমার মেহমান কে মারিস কেন?
আমিঃ তোর মেহমান আরিফার উরনা ধনে টান মারছে। খা। না। প। ল। র। কত বড় সাহস এর আবার আমাকে বলে যে কি জিনিস।
মিজানঃ ভাই বুঝতে পারে নাই। ছাইড়া দে। তারপর মিজান ছেলেটাকে বলল আরিফার কাছে ক্ষমা চাইতে।
ছেলেটা আরিফার কাছে ক্ষমা চাইছে
আরিফাঃ থাক ভাই আর কখনো এমন করোনা।

ছেলেটা ঃ আপু জীবনেও করবো না।
আমিঃ তুই কর চায় না করে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার পরিচিত কারো সাথে করলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা রাখবো না। ইনশাআল্লাহ।
তারপর আমি খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে ছেলেটা কে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
আসলে রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না। ঐ জন্য এমন করি।
হাসপাতাল নিলে বলে পুলিশ কেইস

আমিঃ ইভটিজিং করতে গিয়ে ধরা খাইছে। তাই এমন হয়ছে। কি কি লাগবো বলেন। আমি করে দিচ্ছি।
ডাঃ থানায় ইনফরমেশন করতে হবে।
আমিঃ এখন আপনাকে মারবো তারপর আপনি থানায় যাবেন পুলিশ আসবে তদন্ত করবে। আমি পুলিশ কে ঘুষ দিয়ে পাঠিয়ে দিবো।
তারপর আবার আরেকটা তদন্ত কমিটি গঠন হবে। যে এই কমিটি ঠিক মত কাজ করেছে কিনা। তারপর তোর চিকিৎসা হবে।
ডা ঃ বুঝতে পারছি ভাই ধারান আমি চিকিৎসা করছি।

তারপর ছেলেটা কে হাসপাতালে দিয়ে আসলাম। আসার আগে দেখলাম ছেলেটার মা আসছে এসে কান্না করছে।
তারপর আমি বললাম আমি আপনার ছেলে কে মেরেছি পারলে ক্ষমা করে দিয়েন।
ছেলেটার মাঃ আল্লাহ তোলর শরীরে কিরা পড়বে। তুই আমার ছেলেটাকে মারছিস।

আমিঃ আন্টি আপনি ধারান আমি আসছি।
তারপর এক পেক রক্ত দিয়ে চলে আসলাম

রাতে বাসায় আসলাম।
কেউ আমার সাথে কথা বলছে না। কারণ আজকেও মারামারি করছি।
আর আমি এটাও জানি আজকে আমার খাবার বন্ধ।
কি আর করবো না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

রাত ১২ দিকে আরিফা কল দিছে।
আমিঃ কিছু বলবা।
আরিফাঃ একটু ছাদে আসো।

আমিঃ কিসের জন্য।
আরিফাঃ এমনি তুমি আসো।
আমিঃ ঠিক আছে।
তারপর ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা খাবার নিয়ে ছাদে বসে আছে।

আমিঃ কি ব্যপার ছাদে আসতে বললা কেন?
আরিফাঃ খাবারটা খেয়ে নাও।
আমিঃ এইটা কার খাবার।
আরিফাঃ তোমার জন্য লুকিয়ে রাখছিলাম।

আমিঃ আমার মাথায় হাত দিয়ে বলো এইটা কার খাবার।
এইবার আরিফা বললো।
আরিফাঃ এইটা আমার খাবার। রাতে রুমে খাওয়ার কথা বলে নিয়ে আসছিলাম।
আমিঃ তুমি খাও। আমি খাবো না।
আরিফাঃ তাহলে খাবার গুলো নিচে ফেলে দেয।
আমিঃ না তুমি খাও।

আরিফাঃ যদি তুমি নিজের হাতে খাওয়াতে পারো তাহলে খাবো।
আমিঃ পারবো না।
আরিফাঃ আমার না রাতে না খেয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। তাই বলছিলাম তুমি যদি নিজের হাতে খাইয়ে দিতে।
আমিঃ তোমার হাতে কি হয়ছে।
আরিফাঃ তুমি যদি নিজের হাতে খাইয়ে দিতে পারো তাহলে তুমি তা চাইবে তাই পাবে।

আমিঃ তুমি শিউর।
আরিফাঃ হুম।
তারপর আরিফা কে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছি একটু পর আরিফাও আমাকে খায়ে দিচ্ছে। এভাবে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম।
পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করলাম।
আরিফাঃ একটা কথা বলি।

আমিঃ বলো।
আরিফাঃ ঐ ছেলেটা আমার উরনা ধরে টান দিছে তাঁর জন্য তোমার এতো খারাপ লাগলো কেন?
আমিঃ জানি না।
আরিফাঃ তুমি কি আমাকে ভালবাসবো।
আমিঃ জানি না।

আরিফাঃ আগামীকাল বাসায় চলে যাবো।
মা বাবাকে বলেছি তাই তারা একমাস না থেকেই চলে আসবে। আমি হয় তো আগামীকাল বিকালে চলে যাবো। আর একটা কথা তুমি বলছিলে না। বিয়ের আগে তোমার সাথে একরাত থাকতে আজকে আমি তোমার সাথে থাকবো।

আমিঃ আরিফা তুমি ভুল ভাবছো আমি তো এত কিছু ভেবে বলিনি।
আরিফাঃ শর্ত তো শর্তই।
আমিঃ আরিফা তুমি না একটু আগে বললা যে আমি তোমার কাছে তা চাইবো তাই দিবা তাহলে শো
ন আমি চাই তুমি সব সময় হাসি খুশি থাকো।

আরিফাঃ আমিও চায় তুমি সব সময় আমার পাশে থাকো।
তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে রুমে চলে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারলাম আরিফা সকালে তার বাসায় চলে গেছে।
আগামী এক সপ্তাহ পর তার বিয়ে।

আমাদের বাসায় আরিফার বাবা মা আসছিলো আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।
তাই আমার সাথে দেখা হয়নি।
আপুঃ নে এবার তো তোর শান্তি। আরিফা যাবার সময় অনেক কেঁদেছে মেয়েটার মুখের দিকে আমি তাকাতে পারিনি। বার বার বলে গেছে আমি আমার ভালোবাসার মানুষ কে কখনো বুঝাতে পারিনি। আমি তাকে কতটা ভালবাসি।

মাঃ আরিফা আমাকে সব কিছুই বলেছে। আর এই বিষয়টা তোর বাবাও জানে। আমরা ভেবেছিলাম তুই ওকে পছন্দ করবি কিন্তু তুই যেহেতু না করেছিস তাই আমরাও না করে দিয়েছি।
বাবাঃ জীবনে আসল ভালবাসাটা তুই হারিয়ে ফেললি। আর মাত্র সাতদিন পর মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাবে।
আমি কোন কিছু বলতে পারছিনা। কারণ নিজের অজান্তেই কখন যে আরিফাকে ভালো বেসে ফেলেসি তা আমিও জানি না। শুধু নিজের ইগোর কথা চিন্তা করে কিছু বলতে পারলাম না।
এমন সময় তানিশা একটা চিঠি দিয়ে গেল।

তানিশাঃ এই নে তোর জন্য এই চিঠিটা দিয়ে গেছে।
আমি চিঠিটা নিয়ে আমার রুমে চলে গেলাম।
চিঠিটা খুলবো কি না। তা নিয়ে মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করছে কি লিখে গেছে আরিফা।

তাই বাসা থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে বসে চিঠিটা খুললাম।
চিঠিটা তে দেখা।
প্রিয়
আমিরুল সেই কবে থেকে তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু তা বলতে পারিনি। যখন তোমাকে বললাম তখন তুমি আমাকে বললে তোমার সাথে একরাত থাকার জন্য। আমি তাতেও রাজি ছিলাম। তুমি আবার না করে দিলে।
ঐদিন বৃষ্টির রাতের কথা মনে আছে তোমার।

ঐদিন আমি তোমার চোখে ভালবাসা দেখে ছিলাম।
কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারলে না। আমি বাবার কাছে বিয়ের জন্য কিছু দিন সময় চেয়েছিলাম বাবা আমাকে দিয়েছিলো। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে আমি তোমাকে আমার করে নিতে পারিনি। এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে আমার খালাতো ভাইয়ের সাথে।

আমি জানি তুমি আমাকে বন্ধু বলে মনে করো।
তুমি পারলে আমার বিয়ের সময় এসো।
তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে আমি তোমার দিকে তাকিয়ে কবুল বলবো।

আর মনে মনে ভাববো তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়ে।
ইতি
তোমার পথের কাঁটা আরিফা


পর্ব ৬

চিঠিটা পড়ে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছে চোখের কোনে জল জমতে থাকলো।
কান্না চেপে রাখতে পারলাম না।

তাই চিৎকার দিয়ে কান্না করতে থাকলাম।
ভালবাসা কি তা আমি সত্যিই বুঝিনা। কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি। না চাইতেই যেই ভালবাসা পাওয়া যায় সেই ভালবাসাকে আমরা মূল্য দিতে জানিনা।
আমার সব অপমান সহ্য করেও যে আমার কথা ভাবতো সেই আমাকে আসলে ভালবাসে।
আমি কি করবো এখন কি আরিফা আমার কাছে আসবে বা আমি বললে সে আমার কথা মানবে।

সব কিছু কেমন যেন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে।
মেয়েটা তো কোন দিক দিয়ে খারাপ না।
দেখতে অনেক সুন্দরী। অসহায় মানুষের পাশে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। তার পরিবারো একি রকম।

না আমি আমার ভালোবাসা কে হারিয়ে যেতে দিবো না।
যেভাবেই হোক আমাকে আরিফার বিয়ে আটকাতে হবে।
মিজান সাইদ কে ফোন দিলাম দরকার হলে আরিফাকে তুলে আনবো।

তাও নিজের ভালবাসাকে হারিয়ে যেতে দিবো না।
কিছুক্ষণ পর ওরা আসলো।
সাইদঃ দোস্ত তুলে আনতে পারবো যদি আরিফা রাজি থাকে।
আমিঃ আরিফা মনে হয় রাজি হবে।
মিজানঃ কনফার্ম করে তারপর বল।

আমিঃ ঠিক আছে।
আরিফা কে ফোন দিলাম।

আমিঃ আরিফা আমি সরি।
আরিফাঃ সরি কেন বলছো।
আমিঃ তোমাকে আমি কখনো বুঝতে পারিনি।
আরিফাঃ সেটাই তো তোমার জন্য ভালো হয়েছে তবে আমার জন্য হয়েছে কষ্টের কারণ।

আমিঃ প্লিজ তুমি আমার জীবনে ফিরে আসো কখনো কোন অভিযোগ করার সুযোগ দিবো না।
আরিফাঃ এখন আবার কিছু করার নাই। বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। আমি বাবার কথার বাহিরে যেতে পারবো না।
আমিঃ তাহলে আমার কি হবে।
আরিফাঃ আমার চেয়ে বেশি সুন্দর ও ভালো মেয়ে পাবে। চিন্তা করো না। আমি তোমাকে বিরক্ত করবো না। আর তোমার কানের কাছে বকবক করবো না। তবে তোমার সাথে কাটানো দিন গুলো কখনো ভুলতে পারবো না।

আমিঃ আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।
আরিফাঃ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আর আমাকে ছেলের বাবা মা আংটি পরিয়ে দিছে। আমিও হ্যা বলে দিছি। এখন আর কিছু করার নাই।
আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম
আমিঃ আরিফা আমাকে একটাবার সুযোগ দাও।

আরিফা কান্না করতে করতে বললো
আরিফাঃ আমি তোমাকে ভালোবাসতাম। এখন বাসি না। আর শোন পারলে ক্ষমা করে দিও তোমাকে অনেক বিরক্ত করেছি।
আমিঃ ঠিক আছে। তুমি যদি না চাও তাহলে আমি কিছু বলবো না। যেভাবে তুমি ভালো থাকো সেভাবেই থাকো। আমি তোমাকে অনেক বিরক্ত করেছি। পারলে ক্ষমা করে দিও।
আরিফাঃ তুমি কি একটু আমাদের বাসায় আসতে পারবে।

আমিঃ কেন?
আরিফাঃ একটু শপিং করতে যাবো বিয়ের পর তো আর তোমার সাথে কথা বলতে পারবো না। তখন অন্ন কারো জীবনের সাথে জড়িয়ে যাবে আমার জীবন। তুমি একটু আসো।
আমিঃ ঠিক আছে আসছি।
তারপর আরিফাদের বাসায় গেলাম।
বাসাটা অনেক বড় কিন্তু পরিবারের সদস্য মাত্র তিনজন।

আরিফা তার মা বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
কিছুক্ষণ কথা বলার পর আরিফা বললো
আরিফাঃ আমিরুল চলো শপিং করতে যায়।
আমিঃ হুম চলো।

এরপর রিক্সা নিয়ে শপিং করতে গেলাম। কেউ কোন কথা বলছি না।
তবে আরিফার চোখের কোনে মুক্তার মতো জল জল করছে।
আমিঃ আরিফা তুমি কাঁদছো।

আরিফাঃ না আসলে রাস্তার ধুলো এসে চোখে পানি চলে এসেছে। তা তোমার চোখে পানি কেন?
আমিঃ আমারো একি অবস্থা রাস্তার ধুলোর কারণেই।
আরিফাঃ ভালো।
আমিঃ হুম।
কিছুক্ষণ পর মার্কেটে গেলাম।

আরিফাঃ কোন রঙের বেনারসি কিনবো।
আমিঃ তোমার যেই রঙ পছন্দ।
আরিফাঃ তুমি বলো। তোমার পছন্দের জিনিস পড়ে আমি স্বামীর বাড়ি যাবো।
আমিঃ লাল রঙের বেনারসির। পড়নে হাল্কা গয়না। আর কপালে ছোট্ট একটা টিপ। হাল্কা মেকআপ। তাহলে তোমার স্বামী তোমার উপর থেকে চোখ সরাতে পারবে না।
আরিফাঃ ঠিক আছে। তাই হবে তারপর হাল্কা কিছু কেনাকাটা করে বাহিরে এলাম।
আমিঃ আরিফা চলো রেস্টুরেন্টে যায়।

আরিফাঃ না। বাসায় যাবো।
আমিঃ শপিং করার পর তো না খেয়ে বাসায় কোন দিন যাওনি।
আরিফাঃ জীবনে অনেক কিছুই প্রথমবার হয়। নিজের অব্যাস গুলো পরিবর্তন করতে চেষ্টা করছি।
আমিঃ ঠিক আছে তাহলে চলো তোমাকে বাসায় পৌছে দেয়।
আরিফাঃ চলো।

তারপর আরিফার সাথে ওদের বাসায় গেলাম।
আরিফার মা বললো।
আন্টিঃ আমিরুল বসো আমি নাস্তা নিয়ে আসি।
আমিঃ না আন্টি আমার খিদে নেই।

আন্টিঃ তা হয় না। তোমাকে খেতেই হবে।
আন্টি নাস্তা আনলো কিন্তু আমি মুখে নিয়ে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর আন্টি বললো
আন্টিঃ আমিরুল তুমি খাচ্ছ না কেন?
আমিঃ আন্টি আমার ভিতরে নিতে পারছি না।

আন্টিঃ পানি খাও। তাহলে ঠিক হয়ে যাবে।
আমিঃ আন্টি আমি আসি আমার মাথাটা একটু ব্যথা করছে।
এরপর আর কারো কোন কথা শুনলাম না। সোজা বের হয়ে এলাম। বিষয়টা আরিফা লক্ষ্য করেছে।

বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে বাথরুমে গিয়ে একঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি। সাওয়ারের পানির সাথে চোখের জল মিশে পরছে।
একটু পাগলামী করার কারণে আজকে এই অবস্থা।
সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে বসে আছি। এমন সময় তানিশা ফোন করলো।
আমিঃ কিছু বলবি।

তানিশাঃ হ্যা। শোন। এমন কোন কাজ করিস না তার জন্য মা বাবা আর আমাকে আরিফার পরিবারের কাছে অপমান হতে হয়।
আমিঃ না। তুই নিশ্চিন্তে থাক এমন কিছু করবো না।
তানিশাঃ সব কিছুর সময় থাকে। সময় পার হয়ে গেলে আর তার কোন মূল্য থাকে না


আমিঃ যেমন।
তানিশাঃ মনে কর ঔষধ একটা জিনিস তার যতদিন মূল্য থাকে ততদিন পর্যন্ত তাকে প্রয়োজন হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তা বিষ হয়ে যায়। ঠিক তেমনি তোর ভালবাসার অবস্থা। তাই বলছি আবেগের বসে কোন সিদ্ধান্ত নিবি না। আমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করিস না।
আমিঃ এত জারি মারিস না তো। আমি এত ছোট নয়। আর ফোন রাখ। কাটা গায়ে লবনের ছিটা দিবি না। ফোন রাখ।
তানিশাঃ আমার কথাটা মাথায় রাখিস
এরপর ফোন কেটে দিল।

কোন বন্ধুকে কাছে আনতে পারছি না।
একদিকে ভালবাসা অন্যদিকে পরিবারের সম্মান।
না আর কিছু ভাবতে পারছি না।
রাতের বেলা বাসায় গিয়ে বিছানায় কতক্ষন ছটফট করে বুঝতে পারলাম ঘুম আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছে। চোখে ঘুম নাই।
সবাই অভিমান করেছে শুধু ঘুমটা ছিলো সেও অভিমান করেছে।

ছাদে গিয়ে বসে আছি। কোন কাজ হলো না তাই বাসা থেকে বের হয়ে দোকানে গিয়ে দুইপেকেট সিগারেট কিনলাম।
তারপর ছাদে গিয়ে বসে বসে একটার পর একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছি সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়ায় আমার লাল রঙের হার্টে লাগছে এভাবে কেটে গেল অনেক সময়।
দূর থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযান।

তারপর নিচে চলে এলাম।
আর মাত্র ছয়টা দিন বাকি আছে। তারপর আর ফিরে আসবে না আরিফা নামক মেয়েটা।
রুমে এসে গোসল করে বসে আছি। অনেক খুদা লাগছে। কিন্তু পেটে তো কোন কিছু যাচ্ছে না। ভিতরে নিতে পারছিনা।
এখন বুঝতে পারছি না পাওয়ার কষ্ট কাকে বলে।

সকাল ১০ টায় আরিফার কল আসলো
আরিফাঃ আমিরুল আজকে আনিছ ভাই আমাদের বাসায় আসবে। মা বাবা বলছে আমাকে ইয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে তুমি কি আমার সাথে যেতে পারবে। আমার না একা একা যেতে ভয় লাগছে।
আমিঃ আনিছ আবার কে। আর ভয় লাগার কি আছে।

আরিফাঃ আনিছ ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। আর তুমি আমার সাথে গেলে কি তোমার কোন সমস্যা আছে।
আমিঃ ঠিক আছে আমি আসছি।
আরিফাঃ একটু তাড়াতাড়ি আসো।
আমিঃ ঠিক আছে আসছি।

মেয়েটা ইচ্ছা করেই আমাকে বারবার ডাকছে আরিফা জানে এসব দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে তারপরও কেন আমাকে ডাকে আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য
তারপর আরিফার বাসায় গেলাম।
একটু পর আরিফা আসলো।

আরিফাঃ চলো কিছুক্ষণের মধ্যেই আনিছ ভাই আসবে এখন চলো।
আমিঃ হুম চলো।
তারপর ওদের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে ইয়ারপোর্টের দিকে রওনা দিলাম।
গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দিল আমার উপর।
আমিঃ আরিফা আপু একটা কথা বলি।

আরিফাঃ এতদিন পড় তুমি আমাকে আপু ডাকছো কেন?
আমিঃ সেটা আমার ভুল ছিলো।
আরিফাঃ তুমি আমাকে নাম ধরেই ডাকবে তাতে আমার কাছে ভালো লাগে। আর কি বলবে বলো।

আমিঃ আমি তোমাকে আপু বলেই ডাকবো। আর শোন এরপর থেকে আমাকে আর ডাকবে না।
আরিফাঃ আমি কবুল বলার আগে পর্যন্ত তুমি আমার সাথে থাকবে। তারপর যেখানে যেতে মন চায় সেখানে যাবে।
আমিঃ আপু আমার কাছে ভালো লাগে না।
আরিফাঃ তুমি আমাকে বন্ধু ভাবো তাহলেই আর খারাপ লাগবে না।
আমিঃ আমার সাথে তর্ক করবে না।

আরিফাঃ কেন কষ্ট হয়। ভয় পাও।
আমিঃ না। তুমি বলেছো তাই এখন আর তোমাকে ভালোবাসি না।
আরিফাঃ তাহলে সমস্যা কোথায়।
আমিঃ আমার কাছে ভালো লাগে না। তাই বলছি।

আরিফাঃ সত্যি কথা বলতে আমার কোন ছেলে বন্ধ নেই। তাই বাধ্য হয়ে তোমার সাহায্য নিতে হচ্ছে।
আমিঃ কিছুক্ষণ পর তো তোমার জীবন চলার বন্ধু কে পেয়ে যাবে তো আর নতুন করে বন্ধুর কোন প্রয়োজন হবে না।
আরিফাঃ আমি বিয়ের আগ পর্যন্ত তোমাকে পাশে চাই।

কথা বলতে বলতে ইয়ার্পোর্টে চলে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে আসলো
আরিফাঃ আনিছ ভাই কেমন আছেন।
আনিছঃ ভালো তুমি কেমন আছো।
আরিফাঃ অনেক ভালো আছি।

আনিছঃ ধারাও আমার সাথে আমার ছোট বোন এসেছে। একটু অপেক্ষা করো তারপর জাবো।
আরিফাঃ আনিছ ভাই ও আমিরুল।
আনিছঃ hi।
আমি hello।
আনিছঃ কেমন আছেন।
আমিঃ অনেক ভালো আছি। মন চাইছে খুশির চোটে বিয়ার খাই।

আনিছঃ আরে ভাই আপনি তো আমার মনের কথা বলছেন তবে আমি বিয়ার খাই না মদ খায়। নিয়তিত চলে তবে রাতের বেলা।
আরিফা আনিছের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমিঃ এখানে তো মদ পাবেন না। কারণ আপনার হবু শশুর তা এলাউ করবে না।

আনিছঃ কোন ব্যপার না আমি বাহির থেকে খেয়ে আসবো।
আরিফা মাথায় হাত দিয়ে বলে আপনি মদ কবে থেকে খান।

আনিছঃ কয়েক বছর ধরে।
আমিঃ আরে আরিফা এইটা কোন সমস্যা না। ঘরে সুন্দরী বউ থাকলে কোন পুরুষ মদ খায়না।
আনিছঃ আরে ভাই আপনারা এই কথাটা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন কেন? আমি তো মজা করছিলাম।

আরিফাঃ ও তাহলে ঠিক আছে চলেন।
আনিছঃ ধারাও আফিফা আসুক।
একটু পর একটা মেয়ে আসলো। কিছুক্ষণ কথা বলার পর লক্ষ্য করলাম মেয়েটা আগুনের মত সুন্দরী। যদি দুইটা ডানা লাগানো যেত তাহলে পরী বলে চালিয়ে দেওয়া যেত
আরিফা আর আনিছ পিছনে বসলো।
আফিফা আমার সাথে বসলো।

আমি নিজের মত করে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছি।
আফিফাঃ আমিরুল আপনি কি করেন।
আমিঃ তেমন কিছু না। পড়ালেখা করছি।
আফিফাঃ তারপর কি কলবেন।

আমিঃ বাবার ব্যবসা সামলাবো না হয় নিজের একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করবো।
আনিছঃ আরিফা তোমার কি মন খারাপ।
আরিফাঃ আমিরুল তুমি ভালো করে গাড়ি চালাও ড্রাইভ করার সময় কথা বলতে হয় না।

আনিছ গিয়ে আরিফার হাত ধরতে যাবে এমন সময় আরিফা হাত ছাড়িয়ে বলে।
আরিফাঃ আনিছ ভাই। বিয়ের আগে কোন ভাবেই আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না।
আনিছঃ সমস্যা কোথায়। আমরা তো কিছু দিন পর বিয়ে করছি।
আরিফাঃ বিয়ের পর দেখা যাবে। বিয়ের আগে আমার সাথে এত কথা বলার চেষ্টা করবেন না।
আনিছঃ তুমি কী বিয়েটা পরিবারের চাপে করছো।

আরিফাঃ আমি এখনি বিয়ে করার চিন্তা করিনি। আমি চেয়েছিলাম পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে।
আনিছঃ আরিফা আমার কি টাকার অভাব নাকি যদি তোমার কিছু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে তুমি আমার অফিস দেখা শোনা করতে পারো দুজন মিলে আমাদের অফিস দেখবো। আর বিয়ের পর এমনিতেই তোমার বাবার সবয কিছু আমাকেই দেখা শোনা করতে হবে।
আরিফাঃ আপনি একটু চুপ করবেন দয়াকরে।
আনিছঃ ঠিক আছে একদম চুপ করলাম।

এমন সময় আফিফা আমার হাত ধরতে চাইছে বারে বারে বিষয়টা আরিফা খেয়াল করছে।
আরিফাঃ আমিরুল গাড়ি থামাও।
আমিঃ কেন?
আরিফাঃ আমি বলছি গাড়ি থামাতে।
তারপর গাড়ি থামালাম।

আরিফাঃ আফিফা তুমি পিছনে এসে তোমার ভাইয়ের সাথে বসো।
আফিফাঃ আরিফা আপু। তুমি পিছনে বসো প্লিজ আমি এখানেই বসি।
আরিফাঃ আমিরুল তুমি পিছনে আসো আমি গাড়ি ড্রাইভ করি।
আফিফাঃ আপু তুমি এমন করছো কেন?
আরিফাঃ একদম চুপ। তুমি পিছনে আসো।

তারপর আরিফা আমার সাথে বসলো আর আফিফা ওর ভাইয়ের সাথে।
এতক্ষণের ঘটনা দেখে বেচারা আনিছ ভাইয়ের মুখের সব হাসি উধাও হয়ে গেছে।
তারপর বাসায় নামিয়ে দিয়ে দিয়ে আমি চলে আসি। নিজেকে অনেক হাল্কা লাগছে এখন আরিফার সাথে থাকলে অনেক ভালো লাগে।


পর্ব ৭


তারপর বাসার দিকে রওনা দিলাম।

বাসায় এসে বসে আছি।
না নিজেকে যেভাবেই হোক সামলিয়ে নিতে হবে।
বিকালে একা একা বসে আছি। এমন সময় সাইদ আসলো।
সাইদঃ কিরে একা একা বসে আছিস কেন?
আমিঃ তো কাকে নিয়ে বসে থাকবো।

সাইদঃ এখনি হেরে গেলি। নিজের সময় পিছিয়ে গেলি। অন্যের সময় তো ঠিকি এগিয়ে যাস।
আমিঃ আরিফা আমাকে পাগলের মত ভালবাসে। কিন্তু কিছু করতে পারছে না। তাই আমরা দুজন নিরব হয়ে গেছিরে।
সাইদঃ বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু বিয়ে তো হয়নি।
আমিঃ পাগলামো করে লাভ কি। আরিফা যদি আসতো তাহলে না হয় পরিবারের কাছে গিয়ে বললাম কোন কিছু একটা করতে।

সাইদঃ দোস্ত আমি বলি কি তুই বরং লাস্ট একটা চেষ্টা কর।

আমিঃ কি চেষ্টা।
সাইদঃ তুই বরং কয়েক দিনের জন্য হারিয়ে যা। মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখ। বাসার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেদে।
আমিঃ তাহলে কি হবে।
সাইদঃ তোর বাসার সবাই আরিফার মা বাবাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করাবে।
আমিঃ সেবেনআপ খেয়ে মাতাল হতে বলছিস।
সাইদঃ এছাড়া কোন উপায় নেই।

আমিঃ না থাকলে নাই। পরিবারের সাথে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবো না।
সাইদঃ তোর ইচ্ছা। নিজের কষ্টটা চেপে ধরে রেখেদে। প্রতিমাসে কষ্টের যে সুদ আসবে তা দিয়ে জীবন চালাবি।
আমিঃ সাইদ পরিবারের মান সম্মান আমার জন্য নষ্ট হওয়ার চেয়ে আমি মরে যাবো।
সাঈদ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। দেখতে পেলাম ওর চোখের কোনে হাল্কা পানি আসছে।

আমিঃ কিরে সাইদ কাঁদছিস কেন?
সাইদঃ তুই অন্যের ভালবাসার জন্য কত অভিনয় করতে পারিস আর নিজের বেলায় এত কঠিন হিসাব করতে পারিস।
আমিঃ এইসব কথা বাদদে। এমন সময় আরিফা ফোন করলো।
আরিফাঃ আমিরুল তুমি কোথায়।
আমিঃ এইতো বন্ধুদের সাথে আডডা দিচ্ছি।

আরিফাঃ ও। তুমি তো খুশি মনে হয়। তাই বন্ধুদের সাথে আডডা দাও।
আমিঃ খুশি হবার মতই কথা।
আরিফাঃ তুমি কী আমার সাথে রাগ করলা না কি।
আমিঃ আমি রাগ করলেই কী। তোমার কিছু আসে যায়।

আরিফাঃ একটু বাসায় আসো। তোমাকে নিয়ে আজকে গহনা কিনতে যাবো। সাথে আনিছ ভাই যাবে।
আমিঃ মাঝখানে আমাকে টানাটানি করছো কেন? খাবাব মে হাডডি হতে চাইনা।
আরিফাঃ তেরে কো কিসনে ভোলা কে তু কাবাব মে হাডডি হ।
আমিঃ কোয়ী নেহি ভোলা। মেনে সামাজ লিয়া।

আরিফাঃ তু ইস ওয়াক্ত কুচ জিয়াদা ছোচ লিয়া।
আমিঃ আমি আসতে পারবো না।
আরিফাঃ তাহলে আমি হাত কাটবো।

আমিঃ কাটো।
আরিফাঃ তোর হাত কাটবো।
আমিঃ তুমি আমাকে তুই তুই করে বলছো কেন?

আরিফাঃ এমনি এখন আয় তো।
আমিঃ আমি যাবো না। তুমি শপিং করবে কিন্তু মাঝখানে আমাকে কেন ডাকবে।
আরিফাঃ বিয়ের আগে যেন আনিছ ভাই আমার কাছে গেসতে না পারে। সেটার প্রোটেকশন তুমি।

আমিঃ বাহ তাহলে তো মনে হয় আনিছ ভাই অনেক রোমান্টিক। তোমাদের প্রতি বছর বাচ্চা হবে।
আরিফাঃ হুম। আমি প্রতি বছর বাচ্চা নিয়ে বাচ্চার ফ্রাম দিবো। না হয় ফিসারী দিবো।
আমিঃ হুম দিও।
আরিফাঃ অনেক হয়ছে এবার আসো তো।

আমিঃ তোমার বারান্দায় আসো। দেখো আমি চলে আসছি।
আরিফাঃ ভিতরে আসো।
ভিতরে গিয়ে বসলাম। একটু পর আফিফা আসলো।
আফিফাঃ hi আমিরুল কেমন আছো।

আমিঃ ভালো তুমি কেমন আছো।
এমন সময় আরিফা নিচে আসলো।
আফিফাঃ আমিরুল তোমার মোবাইল নাম্বারটা দিবে।
আমিঃ কেন?
আফিফাঃ কথা বলবো।
আমিঃ নাম্বার দিলাম।

আরিফা আমাদের চেয়ে আছে।
আরিফাঃ আমিরুল চলো শপিংয়ে যাবো।

আফিফাঃ আমারো কিছু কেনাকাটা করতে হবে।
আরিফাঃ আমরা তো গহনার দোকানে যাবো।

আফিফাঃ আমারো তো গহনা দরকার।
আরিফাঃ তুমি পরে গিয়ে কিনবে।
আফিফাঃ ভাইয়া তোমাদের সাথে যাবে না।
আরিফা একটু রেগে গিয়ে

আরিফাঃ তোর ভাই নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
আফিফাঃ তো তুমি যাবা ভাইয়ার সাথে আমিরুলের সাথে গেলে তোমার সমস্যা কোথায়।
আরিফাঃ ঠিক আছে চলো।

আমি মনে মনে বলি পাইছি আর কোন চিন্তা নাই। আরিফা কে দূর্বল করার যায়গা।
আফিফা হবে আমার তুরুপের তাস।
আফিফা আর আমি আবারো গাড়ির সামনে বসলাম।

আনিছ আর আরিফা আবারো পিছনে।
আফিফাঃ আমিরুল ভাই রোমান্টিক একটা গান ছাড়েন।
আমিঃ তুমি তোমার ফোন থেকে বাজাও ব্লুঠুথ চালু করে দিলাম।

আফিফা গান ছাড়লো।
তুমি আমায় এত ভালবাস সে কথা আগে তো বুঝিনি। তুমি আমার কেন কাছে আসো আমি তার মানে তো খুঁজিনি।
আফিফাঃ আমিরুল তুমি দেখতে অনেক সুন্দর।

আমিঃ তুমিও দেখতে অনেক সুন্দর। মনে হচ্ছে কোন পরী।
আফিফা একটু লজ্জা পেল।
আরিফাঃ তা পরীই যখন তখন ঢানা লাগিয়ে দাও।

আমিঃ আমার স্বপ্নের পরী আরো বেশি সুন্দর। কিন্তু আমার স্বপ্ন গুলো মনে হয় স্বপ্নয় থেকে যাবে।
আফিফাঃ আমিরুল তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে।
আমিঃ আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। তবে তাকে আটকানোর উপায় আমার জানা নেই।

আফিফাঃ দেখেন আমিরুল ভাই আমি কোটি পতি বাবার মেয়ে। আমি আমার মনের কথা চেপে রাখতে পারিনা। আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে ভাইয়ার বিয়ের পর আমি আপনাকে আমার বাবার সাথে দেখা করাতে চাই। আমি আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি। আর আপনার বিষয়ে আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলেছি। কিরে ভাইয়া তোর সাথে কথা বলিনি।

আনিছঃ হ্যা আমিরুল তোমাকে দেখে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আর দেখলাম আরিফাও তোমার ফ্রেন্ড তাই আমি আর আপত্তি করিনি।
আমি একদম চুপ করে আছি।
আরিফাঃ এই তোমরা চুপ করবা প্লিজ।

আমিঃ আনিছ ভাই গাড়িটা আপনি চালান। আমি পিছনে বসি।
আনিছঃ তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে।
আমিঃ হ্যা একটু মাথাটা ধরেছে।

আরিফাঃ কখন থেকে তোমার মাথা ব্যথা করছে।
আমিঃ এই তো কিছুক্ষণ।
তারপর পিছনে গিয়ে বসলাম।

আরিফাঃ তোমার মাথা টিপে দেয়।
আমিঃ দরকার নেই।
এরপর দেখলাম আমরা শপিং মলে এসে গেছি।

আমিঃ তোমরা ভিতরে যাও। আমি গাড়িতেই থাকি।
আরিফাঃ তুমি আমার সাথে চলো।


পর্ব ৮

আরিফাঃ তুমি আমার সাথে চলো।
আমিঃ না তুমি যাও।
আরিফাঃ আমার কথার কোন মূল্য নাই তোমার কাছে।
আমিঃ ঠিক আছে চলো।
এরপর ভিতরে গেলাম।

আনিছঃ আরিফা তুমি আমার পছন্দ করে দেয় তুমি নাও।
আরিফাঃ হয়ছে ভাই। আপনি পছন্দ করে দিলে কাজ শেষ। আমি আর আমিরুল মিলে পছন্দ করি। আপনি আপনার বোনের জন্য কিনেন।
আনিছঃ আমার কোন মূল্য নাই তোমার কাছে। তাহলে আমাকে বিয়ে করছো কেন?

আরিফাঃ বিয়ের আগ পর্যন্ত আমি কি খাবো কোথায় যাবো তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
আফিফাঃ আরিফা আপু তোমাকে শুরু থেকেই দেখছি তুমি আমাদের সাথে অদ্ভুত আচরণ করছো তোমার সমস্যা কি।
আনিছঃ তোমার যদি আমাকে বিয়ে করতে আপত্তি থাকে তাহলে বলতে পারো।

আরিফাঃ শুনুন আমি কিভাবে চলি কিভাবে চলতে আমার ভালো লাগে তা আমিই ঠিক করবো।
আমিঃ এখানে ঝগড়া করার কি আছে। আনিছ ভাই আপনি আরিফার জন্য আলাদা ভাবে গহনা কিনেন। বিয়ের পর তা উপহার দিবেন।
আফিফাঃ একদম ঠিক বলেছেন আমিরুল। এই জন্য আপনাকে প্রথম দেখাতেই ভালো বেসে ফেলেসি।

আরিফাঃ আসিফা তোমাকে একটা মাইক এনে দেয় তুমি তা পুরো শহরের মানুষকে বলো যে তুমি আমিরুল কে ভালবাসো। ৭
আমিঃ কথা বন্ধ করো এখন চলো। যার যার পছন্দ মত কিনো।
এমন সময় আনিছের একটা ফোন এলো।
ফোন আসার সাথে সাথে আমাদের থেকে সাইটে চলে গেলো।

আর বললো এখনি সে চলে যাবে ইমার্জেন্সি কাজ পরেছে।
আরিফাঃ তা আপনার কি কাজ পরেছে।
আনিছঃ একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
আফিফা কথাটা ঘুরানোর চেষ্টা করে বললো হয় তো ব্যবসার জন্য।

আনিছঃ হ্যা হ্যা আমাকে এখনি যেতে হবে।
আমিঃ ঠিক আছে আসেন। কিন্তু চলেন একটা সেলফি তুলি।
সেলফি তুলে ফেইসবুকে আপলোড দিলাম।

সাইদ কে ফোন দিয়ে বললাম তুই আরিফার বাসার সামনে যা আর আনিছ কে ফোলো কর।
গহনা কিনে আমরা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করছি। আমি আরিফাকে চোখ টিপ দিয়ে বললাম আমাকে বিরক্ত করো না। আমি আফিফার সাথে কথা বলি। আরিফা মুচকি হাসি দিয়ে বলল কোন সমস্যা নাই।
আমি আফিফার হাত ধরে বললাম,

আমিঃ আফিফা আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। I love you জানেমান। তোমাকে না পেলে তোমাকে না পেলে।
আফিফাঃ বলো আমাকে। না পেলে কি করবে।
আমিঃ তোমাকে না পেলে আমি সেভেনআপ খেয়ে আত্বহত্যা করবো। না হয় হোমুহতি ঔষধ খেয়ে শহীদ হয়ে যাবো।
আফিফাঃ তুমি সত্যিই আমাকে এত ভালবাস।

আমিঃ তুমি কি তোমার ঐ রূপ কখনো আয়নায় দেখোনি। তোমার মুখের এই হাসি আহ যেন আকাশের চাঁদ কে বলে তুমি নিভে যাও। আমি আলো ছড়াই। তোমার এই চুল আহ মনে হয় পাহাড়ের বুকে ঝর্ণার জল।
আফিফা একটু মুচকি হেসে বলল যাও তুমি বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছো।

আমিঃ তোমার জন্য লেখবো আমি হাজার হাজার কবিতা। ( কচু লেখবো) তোমার বুকে মাথা পেতে কাটিয়ে দিবো দিনের বেলা।
আফিফাঃ মিললো না তো বলো রাতের বেলা। ৬
আমিঃ না পাগলী রাতের বেলা তোমার রূপ দেখে দেখে কাটিয়ে দিবো।
আফিফাঃ তাহলে আবার প্রপ্রোজ করো।

আমিঃ আরিফা তুমি একটু বাহিরে যাও।
আরিফা বাহিরে গেলো।
আমি আফিফার হাত ধরে হাতে একটা চুমু দিয়ে বললাম I love you afifa আমি তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
আফিফাঃ আমিও তোমাকে ভালোবাসি। আচ্ছা একটা লিপ কিস দাও এখন।

আমিঃ এখানে সম্ভব না পাগলি।
আফিফাঃ না এখানেই দিতে হবে।
আমিঃ টুপপুস করে একটা লিপ কিস দিয়ে বললাম এবার হয়ছে পাগলী।
আফিফাঃ আমি তোমাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি।

আমিঃ জীবনটা তোমার কাছে রেখে দাও। ভালবাসাটা আমাকে দিয়ে দাও। আর আজকে রাতে তুমি একটু বাহিরে আসবে তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আফিফাঃ ঠিক আছে আসবো। তবে দুষ্টুমি করবে না কিন্তু। বিয়ের আগে এসব আমি পছন্দ করি না।
আমিঃ তুমি তা বলো আমি রাজি। এখনি বিয়ে করি চলো।

আফিফাঃ না আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে করবো। অবশ্য বিয়ের আগে তুমি হাল্কা বোনাস পাবে।
আমিঃ ঠিক আছে। তুমি আমাকে ভালবাস না। তা পরিষ্কার করে বললেই পারতে এত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার কি আছে।

আফিফাঃ রাগ করো না। আরিফা আপু যদি জানতে পারে তাহলে তোমার সাথে রাগ করবে।
আমিঃ আরিফা আগে থেকেই এমন। নিজেও প্রেম করবে না আমাকেও করতে দিবে না। বলো তো আফিফা আমার এই কচি শশার মত জীবন এভাবে যায়। আজ প্রথম তোমাকে কিস করলাম। আজকে তুমি আমার জীবন কে ধন্য করে দিলে।

এমন সময় আরিফা চলে আসলো। কিছুটা আমার উপর রেগে আছে তা বুঝতে পারলাম।
ওদের কে বাসায় পৌছে দিয়ে বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিবো এমন সময় আরিফা আমাকে তার রুমে যেতে বললো। রুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
আরিফাঃ এইটা কি হলো।

আমিঃ কোনটা কি হলো।
আরিফাঃ তোমার গালটা একটু এদিকে আনো।
ঠাস ঠাস ঠাস তিনটা দিয়ে দিলো।
আমিঃ এইটা কি হলো।
আরিফাঃ তুই আফিফাকে দুইটা কিস করছোর একটা হাতে একটা ঠোঁটে।
আমিঃ দুইটা কিস করছি দুইটা চর দিবা ৩ টা দিলা কেন?

আরিফাঃ আরেকটা অগ্রিম দিয়ে দিলাম। আবার যদি কিস করিস তাহলে তোর ঠোঁট আমি ছিরে ফেলবো।
আমিঃ তাই বুঝি।

আরিফাঃ হুম।
আমি জোর করে আরিফাকে কিস দিলাম পাঁচ মিনিট। তারপর জোর করে ছাড়িয়ে দিলো।
আরিফাঃ ঐ এইটা কি করলি। আমাকে মেরে ফেলবি তুই। এতক্ষণ কি কেউ কিস করে।
আমিঃ বেঁচে গেছো তুমি। আমার সাথে যদি বিয়ে হতো তাহলে একটা কিস করতাম সন্ধ্যা বেলা আর সারতাম সকাল বেলা।
আরিফাঃ লুচ্চা কোন হানের। তুই সত্যিই কডি লুচ্চা।

আমিঃ আরেকটা দিবো।
আরিফাঃ না। আর না। এখন বলো আফিফার সাথে এমন করার কারণ কি।
আমিঃ তোমার হবুবরের গার্লফ্রেন্ড আছে। না হয় বউ আছে দুইটার থেকে একটা।
আরিফাঃ তুমি কেমন করে বুঝলা।

আমিঃ যখন মোবাইল আসছিলো তখন নাম্বার সেভ করা ছিলো জানু বলে। তারপর দেখলাম আনিছ ভাইয়ের চলে যাওয়ার কথাটা আফিফা কথাটা অন্ন দিকে কাটিয়ে দিতে চাইলিলো। এই বিষয়ে আফিফা সব চেয়ে ভালো জানে ওর কাছ থেকে কথা বের করতে হবে। তাই এত নাটক করতে হচ্ছে। আর তুমি আমাকে মারলে।
আরিফাঃ সরি। দাও তোমার গালে চুমু দেয়।
আমিঃ তোমার নানীর পুটকিত চুমা দেওয়া। আমি গেলাম। অনেক কাজ আছে
আরিফাঃ এই তুমি এত খারাপ কেন?

আমিঃ অনেক কাজ আছে। রাতে কথা হবে। এখন চলি।
তারপর আফিফার সাথে দেখা করে চলে আসি।
বাসায় এসে একটা ঘুম দিলাম। মাথায় কোন চিন্তা নাই। আরিফা কে যদি আপোষে না পাই তাহলে নয় ছয় বুঝ দিয়ে বিয়েটা আটকাবোই। আর আছে পাঁচ দিন।
রাতের১২ দিকে আফিফার ফোনে ঘুম ভাঙল।

আমিঃ হাই জানু। আমার বাবুটা কি করো এখন।
আফিফাঃ তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি। তুমি যে বললা আমার সাথে রাতে দেখা করবে।
আমিঃ আমাকে আদর দিলে এখনি দেখা করবো।
আফিফাঃ যাও দুষ্ট বিয়ের আগে এসব হবে না।

মনে মনে বলি তোর কাছে কে চাইছে রে।
আমিঃ এই বয়সে দুষ্টুমি না করলে কখন করবো।
আফিফাঃ আগামীকাল দেখা করবে বলে দিলাম।

আমিঃ চেষ্টা করবো। আর শোন স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়ে ঘুমাও। না ঘুমিয়ে চেহারা খারাপ করো না। বুঝলা তাহলে কিন্তু আমার পরিবারের কেউ তোমাকে পছন্দ করবে না। আর তুমি তো পারিবারিক ভাবে বিয়ে করবে। তাই এখন ঘুমিয়ে যাও।
আফিফাঃ একটা কিস দাও আমি ঘুমিয়ে পড়বো।
আমিঃ একটু দাঁড়াও।

আরিফার ছবিটা বের করলাম এবং ছবিতে চুমু দিলাম। আর ঐদিকে আফিফা ভাবছে ওকে চুমু দিছি। কি বুদ্ধিমান ছেলে আমি। নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।
ভাবতেই বুকটা গর্বে ফুলে উঠেছে।
একটু পর সাইদ ফোন দিছে।

আমিঃ কিরে শালা এত রাতে ফোন দিলি কেন?
সাইদঃ আমিরুল তুই যার ছবি দিছোর ঐ শালা তো কাম ঘটাই ফালছে। বিয়ের আগেই বাচ্চার বাবা হয়ে গেছে। আর এখন এই বিষয় নিয়ে ঐ মেয়েটার সাথে অনেক ঝামেলা চলছে।

আমিঃ সাববাস বেটা আব্বাসের বাচ্চা। এখন তুই কোথায়।
সাইদঃ আরে বেঢা সারাদিন কোন খোঁজ খবর নিলিনা এখন বলিস কয়। আমি কিশোরগঞ্জ আসছি আনিছের পিছনে পিছনে করে। হাতে কোন টাকা নাই। অনেক খুদা লাগছে। পারলে কিছু টাকা দে বিকাশে।

আমিঃ আজকের রাতটা রেল ষ্টেশনে কাটাইদে সকালে টাকা পাঠাই দিমু।
সাইদঃ বালের আলাপ করো মিয়া। তোমার লাইগা সারাদিন খাটলাম। না খেয়ে আছি। আর তুমি কোও ষ্টেশনে রাত কাটাবো।
আমিঃ ঐ এত কেসকেস করিস না। ঐ খানে বৃষ্টি আপু নিরা আছে তার কাছে টাকা চা।

সাইদঃ এরা আবার কারা।
আমিঃ বৃষ্টি। নিরা। আমার পাঠক ওদের কাছ থেকে টাকা চা। ওরা প্রতিদিন গল্প পড়ে। আর লাইক কমেন্ট করে। ওরা তোর বিষয়ে জানে।
সাইদঃ তোর গল্প তো তেমন কেউ পড়েনা। পড়লে আরো লাইক কমেন্ট দিতো। যেখানে লাইক কমেন্ট দেয়না সেখানে দিবে টাকা হাসালি।

আমিঃ সারাদেশেই পাঠক আছে। রাজশাহীতে আছে বর্শা আপু। আরো আছে তোমার আমার ভালবাসা। আরো আছে বরিশালের এডমিন বন্ধু। আরো আছে আইনুল বন্ধু। আরো অনেকেই আছে। ওরাও টাকা দিবে। আরো আছে কলকাতার দুই আপু উনারা ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বর্ডার ভেঙে এসে লাইক কমেন্ট করে। সব চেয়ে বেশি ভালো আপু হলো সানজিদা আপু। সব চেয়ে বেশি আমার গল্প এপ্রোপ করেছে উনি। উনার বাড়ি কুমিল্লা। আজকে শুধু মেয়েদের কথা বললাম আগামীকাল ছেলেদের কথা বলবো।
সাইদঃ ভাই তুই দিলে দে না দিলে না কর।

আমিঃ তোর বিকাশের একাউন্ট চেক কর টাকা চলে গেছে। ভালো দেখে একটা হোটেলে তা রাতটা আরাম করে কাটা আরো টাকা লাগলে বলিশ। ।
দেখেন তো কেমনডা লাগে আজকা আপনারা কম লাইক কমেন্ট করার কারণে সাইদ আমাকে খোটা দিলো। এই পর্বটা পড়ার পর নিজেদের জেলার নাম লিখে কমেন্ট করবেন। আর কত নাম্বার দেওয়া যায় তা বলবেন।

যাক সাইদ বেশ কাজের ছেলে। অনেক কাজ করছে।
Sayeed Khan। ইলেকট্রিক ইংজিনিয়ার। তবে বাংলা লেখতে পারে না। এইটা ওর বড় দোষ। বাংলায় বেশ কয়েকবার ফেল করছে। তবে ছেলে ভালো ইংরেজিতে ফেল করার রেকর্ড নাই।
একটা ঘুম দিলাম।
সকালে আরিফার ফোনে ঘুম ভাঙল।

আরিফাঃ কি করো।
আমিঃ আফিফাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি।
আরিফাঃ বেশ তো দেখো আমি ফোন রাখি।

আমিঃ দাড়াও দাড়াও স্বপ্ন দেখি কিভাবে মুরগিটারে লাইনে আনা যায়।
আরিফাঃ ও এই কথা তা আগে বললেই পারতা।
আমিঃ হুম। একটা খবর আছে।

আরিফাঃ কি খবর।
আমিঃ কিছু না। পরে বলবো।


পর্ব ৯


আমিঃ কিছু না পরে বলবো।

আরিফাঃ আমি তোমাকে আগে না করেছিলাম কিন্তু তোমাকে আফিফার পাসে দেখে বুঝতে পারলাম যে আমি তোমার পাসে কাউকে সহ্য করতে পারবো না।
আমিঃ আহারে সিনিয়র আপুর কথা শোন। আমাকে অন্য কারো কাছে সহ্য করতে পারে না। কি ভালবাসারে। ভালবাসার চোটে গালে থাপ্পড় মারে।
আরিফাঃ ঐ ফাইজলামি করো না তো। পারলে আমাদের বাসায় একবার এসো।

আমিঃ অনেক গেছি গো। আপনি পারলে আজকে আমাদের বাসায় আসেন।
আরিফাঃ তোমার মা বাবাকে গিয়ে কি বলব। তারা যদি জানতে চায় কেন আসছো।
আমিঃ বলবা বিয়ের দাওয়াত দিতে আসছো।

আরিফা। বিয়ের দাওয়াত তো আগেই দিয়ে আসছি।
আমিঃ ঐ ফকিন্নি বলবি তানিশার সাথে দেখা করতে আসছিস।
আরিফাঃ ঐ তোমার মুখের ভাষা এত খারাপ কেন?

আমিঃ আমি করোলা দিয়ে বেশি ভাত খাই তাই আমার মুখের কথা তিতা। তবে গতকাল কিন্তু অনেক মিষ্টি খাইছি। তোমার ঠোঁটে যা মিষ্টি আছে। বাপরে বাপ।
আরিফাঃ আবার বাজে কথা। এইসব কথা আমার কাছে ভালো লাগে না।
আমিঃ বিয়েই তো করে এইসব করার জন্য।

আরিফাঃ সামনে পাইলে থাপ্পর দিয়ে দাত ফেলে দিতাম।
আমিঃ আচ্চা ঠিক আছে। তুমি আমাদের বাড়িতে আসো।
আরিফাঃ ঠিক আছে আমি এখন তাহলে রেডি হচ্ছি।
আমিঃ ঠিক আছে বায়। বেবি টেক্সি টেম্পু অটোরিকশা।
আরিফাঃ দূর ছাই।

আমি আরেকটু ঘুমাই পরে দেখা যাবে। কি হয়।
একঘন্টা পর আমার রুমে মনে হয় কেউ ডুকলো।
আমার বিছানার পাশে এসে বসলো।
আমি ঘুমের ভান করে আরিফার হাত ধরে ফেললাম।
আরিফা একদম চুপ করে আছে। আমি এবার ঝড়িয়ে ধরতে যাবো এমন সময়। আরিফা দিলো একটা
ঠাস করে উঠলো।

আমিঃ ( চোখ কোচলি) কী হলো মারলে কেন
আরিফাঃ ভালো ভাবে থাকলে ভালো লাগে না।
আমিঃ তুমি আমার রুমে আসলে কখন।
আরিফাঃ তুমি জানো না কখন আসছি।
আমিঃ না জানি না।

আরিফাঃ তাহলে আমি যখন রুমে আসলাম তখন তোমার বুকের হার্ট বিট এমন ধরফর করছিলো কেন? ঘুমিয়ে থাকলে এমন করে কারো।
আমি মনে মনে বলি এই মেয়েতো পুরাই সিআইডি যাওয়া উচিত।
আমিঃ এমনটা তুমি পাসে থাকলে মাঝে মাঝেই হয়। কিন্তু আজকে যে ঘুমের মধ্যেও এমন হবে তা বুঝতে পারিনি।
আরিফাঃ থাক থাক আর মিথ্যা বলতে হবে না।

আমিঃ সবি যখন বুঝতে পারো তাহলে এত ভুমিকা করো কেন?
আরিফাঃ আনিছ ভাই সম্পর্কে কোন তথ্য পাইছো নতুন করে।
আমিঃ না এখনো পাইনি পেলেই তোমাকে জানাবো।

আরিফাঃ আর কিন্তু বেশি সময় নাই খোজ খবর নাও। যদি শেষমেশ আনিছ ভাইকে বিয়ে করতে হয় তাহলে বাসর ঘরে আমার লাশ ঢুকবে।
আমিঃ এত চিন্তা করো না তোমার বিয়ের দিন সব কিছু সামলিয়ে নিবো।
আরিফাঃ সঠিক ও ভালো প্রমাণ ছাড়া আনিছ ভাইয়ের বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।
এমন সময় আফিফার ফোন এলো।

আফিফাঃ hi baby how are you।
আমিঃ হেলো আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো।
আফিফাঃ আজকে কিন্তু দুজন মিলে একসাথে লাঞ্চ করবো।
আমিঃ ঠিক আছে।

আফিফাঃ একটা কিস দাও এখন।
আমিঃ এখন না পরে দিবো। ৭
আফিফাঃ এখনি দিবা।

আমিঃ ঠিক আছে দিচ্ছি।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে আরিফার সামনে দাঁড়িয়ে আরিফার গালে একটা চুমু দিলাম।

আর ঐ দিকে আফিফা ভাবছে ওকে চুমু দিছি।
কোন কেটে দিয়ে আবার আরিফার দিকে তাকালাম। ৫
আবার একটা মারছে।
ঠাস
আমিঃ এইটা আবার কেন?
আরিফাঃ এইসব চলছে তাহলে।
আমিঃ এইটা তো মোবাইলে ছিলো।

আরিফাঃ রাখ তোর মোবাইল তূই যদি স্বপ্নেও অন্য কোন মেয়েকে কিস করিস তাহলে তোর খবর আছে।
আমিঃ এইটা তো নাটক করছি।
আরিফাঃ নাটকের নাম করে মেয়েদের কে চুমা খাওয়া।

আমিঃ বাস অনেক বলে ফেলছো। যখন তখন তোমার এই টর্চার আমার উপর আর করবে না। আমার কাছে ভালো লাগে না। ৭
৬৬ ৬
আরিফাঃ তাহলে নিজেকে একটু ভালো করে ফেলো তাহলে মারের যায়গায় কিস করবো।
আমিঃ দরকার নাই তোমার কিসের।
আরিফাঃ আহারে বাবুটা আমার রাগো করে। এই বলে একটা চুমা দিলো।

আমিঃ তাহলে কি নিয়ে যেন কথা বলছিলাম। ও চিন্তা করো না সব কিছু সামলিয়ে নিবো।
আরিফাঃ ওরে বাটপার। কিস পাবার জন্য এত নাটক।
আমিঃ আরিফা আনিছ ভাইয়ের বাসা কোথায়।
আরিফাঃ ঢাকায়।

আমিঃ কিশোরগঞ্জ কি কোন আত্মীয় বাড়ি আছে।
আরিফাঃ তেমন কেউ নেই। তবে আনিছ ভাইয়ের একটা বান্ধবী আছে সে আনিছ ভাইয়ের সাথে বিদেশে পড়াশোনা করেছে এক সময় তাদের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব ছিলো মনে হয়।
আমিঃ এখন কি হয়েছে।
আরিফাঃ এখন মনে হয় কোন যোগাযোগ নেই।

আমিঃ ও। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। তুমি বাসায় যাও।
আরিফাঃ আমি তো তোমাকে নিয়ে একটু বাহিরে যাবো বলে ভেবেছিলাম।
আমিঃ ঘুরে বেড়ানোর অনেক সময় পাবে আপাতত আমার কিছু কাজ আছে তা করতে হবে। তোমাকে নিয়ে পড়ে ঘুরতে যাবো ইনশাল্লাহ।
আরিফাঃ তোমার আবার কিসের কাজ।

আমিঃ তুমি বুঝবে না।
আরিফাঃ আসিফার সাথে দেখা করবে নাকি।
আমিঃ দেখা করবো তবে বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না। এক যায়গায় যেতে হবে।

আরিফাঃ তুমি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছো।
আমিঃ তুমি একটু ঠান্ডা হও। আমাকে একটু সময় দাও রাতে তোমার সাথে দেখা করবো।
আরিফাঃ প্রমিজ করছো তো।

আমিঃ হ্যা প্রমিজ করছি।
তারপর আমি বাসা থেকে বের হয়ে আফিফাকে ফোন দিলাম।

আমিঃ কোয় তুমি।
আফিফাঃ বাসায় কোন প্রয়োজন আছে।
আমিঃ আজকে তোমাকে একটা যায়গায় নিয়ে যাবো এখন তুমি আসো।


পর্ব ১০

আমিঃ আজকে তোমাকে একটা যায়গায় নিয়ে যাবো এখন তুমি আসো।
আফিফাঃ ঠিক আছে আমি আসছি। তুমি হাইওয়ের পাসে অপেক্ষা করো।

আমিঃ ঠিক আছে বেশি সময় নষ্ট করবে না
আফিফাঃ তুমি ঠিক আছে।
তারপর আধাঘণ্টা পর আসলো।
আমিঃ এত দেরী করলে কেন?

আফিফাঃ রেডি হতে আর রাস্তায় যে সময় টুকু গেছে সেই সময় টুকুই লেগেছে। সেই জন্য আমি সরি
আমিঃ ঠিক আছে আর কখনো দেরি করবে না।
আফিফাঃ আর কখনো দেরি করবো না। কথা দিলাম। এবার একটু হাসো তো।
আমি হি হি

আমিঃ আচ্চা তুমি কি তোমার ভাইয়ের মত আনরোমান্টিক নাকি রোমান্টিক।
আফিফাঃ আমি তো রোমান্টিক। আর ভাইয়া কোথায় আনরোমান্টিক। ভাইয়াও রোমান্টিক মানুষ।
আমিঃ সারাজীবন সিঙ্গেল থেকে এখন বিয়ে করছে এইটা কে রোমান্টিক বলে।
আফিফাঃ আরে তুমি যানো না। ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড আছে।

আমিঃ আমার সাথে মিথ্যা বলো। আরিফার সাথে তোমার ভাইয়ের বিয়ে আর বলছো গার্লফ্রেন্ড আছে মজা করো আমার সাথে।
আফিফা কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে বলে
আফিফাঃ আমি এত কিছু বলতে পারবো না।
আমিঃ ও। ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। আমি এখন আসি।

আফিফাঃ এই তো এখন এলাম আর এখনি চলে যাবে।
আমিঃ তুমি এখন বললে তুমি এত কিছু বলতে পারবে না। তাই চলে যাচ্ছি।
আফিফাঃ আমার বাবুটা রাগো করতে পারে। আচ্চা বলো কি জানতে চাও।

আমিঃ আনিছ ভাইয়া ঐদিন চলে গেল কেন? আর তার গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে আরিফাকে বিয়ে করার কি দরকার আছে।
আফিফাঃ আসলে ভাইয়া দেশের বাহিরে থাকার সময় একটা মেয়ের সাথে প্রেম ও সেই মেয়েটা ঐ দিন ফোন দিয়ে ছিলো তাই চলে গেছে।
আমি আফিফার হাত ধরে আমার বুকের উপর রেখে বললাম জান আমার ভালবাসার কসম লাগে তুমি তোমার ভাইয়ের ঘটনা টা বলো মিথ্যা বললে কিন্তু আমি মরে যাবো।
আফিফা কান্না করতে শুরু করলো।
আমিঃ কি হলো তুমি কান্নাকাটি করছো কেন?

আফিফাঃ তুমি ভালবাসার কসম দিলে এখন আমি তোমাকে মিথ্যে বলতে পারবো না। এমনটা কেন করলে।
আমিঃ তুমি কি আমার সাথে মিথ্যা বলেছো কখনো।

আফিফাঃ না।
আমিঃ আমার জান আমার কলিজার টুকরা বলো না। তোমাকে ভালোবাসি তোমার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে কিছু না জানলে কি হবে।
আফিফাঃ ভাইয়া বিদেশে একটা মেয়েকে ভালবেসে ফেলেছিলো। তারা বিয়েও করেছে কিন্তু মেয়েটাকে আমাদের পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারবে না। কারণ মেয়েটা মুসলিম না।

আমিঃ তোমাদের পরিবারের আর কে জানে যে তোমার ভাই বিয়ে করেছে।
আফিফাঃ আর কেউ জানে না। শুধু আমি জানি। ছাদে একদিন কথা বলার সময় আমার কাছে ধরা খেয়েছিল তারপর সব ঘটনা আমার কাছে বলে। এই বিয়েতে ভাইয়ার তেমন ইচ্ছা নেই।
আমিঃ তাহলে যদি কোন ভাবে এই বিয়েটা আটকিয়ে দিতে পারি তাহলে কি তোমার ভাইয়ের কোন আপত্তি আছে।
আফিফাঃ কিন্তু বাবা মা কে কিভাবে মানাবে। আর বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে আরো বেশি ভালো হতে। ভাইয়ার একটা বাচ্চা হয়েছে মনে হয়।

আমিঃ হুম ঠিক বলছো। তোমার ভাইয়ের একটা বাচ্চা হয়েছে। ঐদিন যখন চলে গিয়েছিল তখন তোমার ভাবি ফোন দিয়েছিলো। সে তার বাচ্চা দেখার জন্য আমাদের কাছে মিথ্যা বলেছিলো। আর তোমার ভাবি কিশোরগঞ্জের একটা ক্লিনিকে ভর্তি আছে।
আফিফাঃ তুমি এত কিছু জানো কিভাবে।
আমিঃ আমি আমার বন্ধুকে তোমার ভাইয়ের পিছনে পাঠিয়েছি ওই সব কিছু আমাকে বলেছে।
আফিফাঃ কিন্তু তোমার এত কিছু জেনে লাভ কি।

আমিঃ তোমাকে এখন কিছু বলতে পারব না সময় হলে সব কিছু বলবো।
আফিফাঃ তুমি কি ভাইয়া কে ফলো করছিলে।
আমিঃ হুম।

আফিফাঃ ভাইয়া কে ফলো করে তোমার কি লাভ।
আমিঃ আমি আমার লাভ ছাড়া কারো সাথে কথা বলি না আর তোমার ভাইয়ার পিছনে লোক লাগানোর যথেষ্ট কারণ আছে।
আফিফাঃ এইটা তুমি কোনভাবেই ঠিক করোনি আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করেছিলাম তুমি আমার ভাইয়ার পিছনে লোক লাগিয়ে দিয়েছো।

আমিঃ একটা মেয়ে তার পরিবার ছেড়ে সারা জীবনের জন্য চলে যাব একটা ছেলের কাছে। সেই ছেলেটা যদি বিবাহিত হয়। বা অন্য কাউকে ভালোবাসে। শুধুমাত্র ফ্যামিলির কথা চিন্তা করে বিয়ে করে। তাহলে যেই মেয়েটাকে সেই ছেলেটাকে বিয়ে করে সেই মেয়েটার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। আর আরিফা আমার খুব কাছের মানুষ আমি চাইনা ও কোনভাবে কষ্ট পাক।
আফিফাঃ তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি আমাকে না আরিফাকে ভালোবাসো।

আমিঃ তুমি ঠিক বলেছ আসলে আমি আরিফাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। কিন্তু বিয়েটা ভাঙার জন্য কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখন একটা উপায় পেলাম। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু নিজের ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছো। সেজন্য আমি অনেক দুঃখিত।
আফিফাঃ তুমি আমার সরলতার নিয়ে খেলা করেছো। ভালোবাসার নামে তুমি আমাকে ধোঁকা দিয়েছো।
কেন করলে তুমি আমার সাথে এমন কি দোষ ছিল আমার।

আমিঃ সরি আমি সত্যিই দুঃখিত আমি চাইনি তোমাকে কোন ভাবে কষ্ট দিতে। কিন্তু বিয়েটা ভাঙার আর কোন উপায় আমার কাছে ছিলো না।
আফিফাঃ তুমি তো এই কথা সবাইকে বলে দিবে তখন বাবা মা ভাইয়া কে বাসা থেকে বের করে দিবে।
আমিঃ তোমাদের পরিবারের কোন ক্ষতি হয় তা আমি কখনো করবো না।
আফিফাঃ তুমি আরিফাকে ভালবাসো আরিফা কি তোমাকে ভালোবাসে।

আমিঃ হুম অনেক ভালবাসে। কিন্তু পরিবারের দিকে তাকিয়ে নিজের ভালবাসা কে পাথর চাপা দিয়েছে।
আফিফাঃ ঠিক আছে। আমি যেহেতু তোমাকে পেলাম না। তোমার ভালবাসা পাবার সব কিছু করবো।


পর্ব ১১

আমিঃ আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিও। নিজের ভালবাসা পাবার জন্য। তোমার সাথে মিথ্যা নাটক করেছি।
আফিফাঃ তার জন্য অবশ্য তোমাকে অনেক বড় একটা দাম দিতে হবে।

আমিঃ কি দাম দিতে হবে। তার জন্য।
আফিফাঃ যেই পর্যন্ত ভাইয়া আর ভাবিকে বাবা মা না মানবে ততক্ষণ তুমি আরিফা আপু কে বিয়ে করতে পারবে না।
আমিঃ যদি তোমার মা বাবা আনিছ ভাইয়ের বিয়ে না মেনে নেয় তাহলে তো সারাজীবন অবিবাহিত হয়ে থাকতে হবে।

আফিফাঃ তাতে আমার কি। আমার সাথে নাটক করেছো তো এর সাজা ভোগ করতেই হবে। আর শোন আজ থেকে তুমি আমার বন্ধু। তবে বিয়ের আগ পর্যন্ত। আরিফা আপুর সাথে বিয়ে হলে তখন তোমাকে দুলাভাই ডাকবো।
আমিঃ ঠিক আছে। তবে তুমি আমাকে সাহায্য করবে।

আফিফাঃ তোমার যখন আমাকে প্রোয়োজন হবে তখন। বলবে। তবে হ্যা আমি তোমাকে প্রথম দেখাতেই ভালবেসে ফেলেছিলাম।
আমিঃ সরি। আর বলো না। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।
আফিফাঃ আরে শালী দুলাভাইয়ের মাঝে এমন হয়।
আমিঃ তাহলে তুমি কি আমার সাথে এখন কিশোরগঞ্জ যেতে পারবে।

আফিফাঃ কিশোরগঞ্জ এখন গেলে কি হবে।
আমিঃ তোমার ভাইয়া আর তোমার ভাবিকে ফিরিয়ে আনবো। আর তোমার ভাইয়ার সন্তান কেও।
আফিফাঃ যদি বাসায় কোন কিছু হয় তাহলে কিন্তু এর দায়ভার আমি নিতে পারবো না।

আমিঃ তুমি এত চিন্তা করো না। তো আমি সব কিছু সামলিয়ে নিবো।
তারপর আরিফা কে ফোন দিলাম।

আমিঃ আরিফা একটু হাইওয়ের মোরে আসো।
আরিফাঃ কেন? কি হয়েছে।

আমিঃ যা বলছি তাই করো।
আরিফাঃ মা বাবা তো আমাকে নিয়ে বিয়ের শপিং করতে যাবার জন্য বলছে।
আমিঃ তুমি আসবে কি আসবে না।
আরিফাঃ মা বাবা কে কি বলবো।

আমিঃ বলো আনিছ ভাই এক্সিডেন্ট করেছে।
আরিফাঃ ঠিক আছে। কিন্তু যদি মা বাবা আমার সাথে আসতে চায় তাহলে কি করবো।
আমিঃ যা তোর আসতে হবে না। তুই বিয়ে কর আর আমি আফিফা কে নিয়ে কাজি অফিসে গেলাম।

আরিফাঃ ঐ হারামী আমি আসতাছি। আর শোন আফিফার দিকে খারাপ নজরে তাকাবি না।
আমিঃ তুই আনিছ ভাইরে বিয়া করবি আর আমি কি মাইয়ারে মাইয়ারে তুই অপরাধী গান শুনবো।

আরিফাঃ দেখ উল্টা পাল্টা কিছু করলে আমি আত্বহত্যা করবো বলে দিলাম।
আমিঃ তাহলে তারাতাড়ি আসো। আর শোন কিছু টাকা নিয়ে এসো। আমার কাছে তেমন টাকা নেই।
আরিফাঃ গার্লফ্রেন্ডের টাকার উপর এত নজর কেন?

আমিঃ তুই আমার গার্লফ্রেন্ড না। আমার বড় আপুর বান্ধবী।
আরিফাঃ আমি বের হয়ে গেছি আর দশ মিনিট লাগবে বড়ঝোর।
আমিঃ ঠিক আছে আসো।

ভাবছি একটু মজা করা যাক। আরিফাকে আসতে দেখে আমি আফিফার হাত ধরে কথা বলছি। আফিফাকে বললাম আরিফা কাছে আসলে পা ধরে সালাম করবো দুজন দেখি কি করে।

আরিফা দূর থেকে দেখে আগুন হয়ে কাছে আসলো।
কাছে আসতেই আমি আর আফিফা আরিফাকে সালাম করছি।
আরিফাঃ এই তুই সত্যি সত্যি আফিফা কে ভালবেসে ফেলেছিস।

আমিঃ তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আনিছ ভাই ছেলে হিসেবে খারাপ না। তাই ভাবলাম তোমাকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি। তোমার পরিবারের বাইরে তুমি যেতে পারবেনা। আমিও আমার পরিবারের বাইরে যেতে পারবো না। তাই ভাবছি বিয়েটা করে নিবো। আমাদের জন্য দোয়া করবেন আপু।
আরিফা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
আমিঃ আমাদের বিয়ের সাক্ষী পাচ্ছিনা তুমি আমাদের বিয়ের সাক্ষী হবে। আর সাইদ দুজন মিলে আমাদের জন্য দোয়া করবে। বিয়েতে বড়দের দোয়ার প্রয়োজন হয়।
আফিফাঃ আপু তুমি খুশি হওনি।

আরিফা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলছে।
আরিফাঃ আমি খুব খুশি হয়েছি।
কথাটা বলেই আমার গালে থাপ্পড় দিতে যাবে এমন সময় আফিফা আরিফার হাত ধরে ফেলে।
আফিফাঃ ছি ছি আপু। তুমি আমিরুল কে মারছো কেন?

আরিফাঃ তুই আমার সামনে থেকে সরে যা আমি আমিরুল কে খুন করে ফেলবো। শালা চিটার বাটপার।
আফিফাঃ ছি আপু বিয়ের আগে নিজের স্বামীকে এসব বলতে নেই।
আরিফাঃ নিজের স্বামী আর কোথায় থাকলো তুই তো আমার সব স্বপ্ন নষ্ট করে
দিলি।
আমিঃ আপু আপনি ঠান্ডা হন।
আরিফাঃ ঠান্ডার মাইরে বাপ হাপ লিটার সেভেনআপ। তুই হবি আফিফার বাচ্চার বাপ। আমি তরে কেমনে করি মাপ।
আফিফাঃ তোমার আমিরুল তোমারী আছে। আমরা তোমার সাথে একটু মজা করলাম।
আরিফা একটু মুচকি হেসে বলল।

আরিফাঃ কিসের মজা করিস তরা আমার মনে হচ্ছিল আমার আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে। আমি তো ভেবেছিলাম বাসায় গিয়ে আত্বহত্যা করবো।
আমিঃ এই কথা আর কখনো বলবে না। সরি আর এমন মজা করবো না।
আরিফা কোন কথা বললো না সরাসরি ঝড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকলো।
আমিঃ আরিফা ছাড়ো এখানে অনেক মানুষ আছে।

আরিফাঃ তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।
আফিফাঃ এই যে সব কিছু এখানে না করে বাসর রাতের জন্য কিছু বাকি রাখেন।
আরিফা একটু স্বাভাবিক হয়ে আমাকে ছাড়লো।
আরিফাঃ বলো কি জন্য ডেকেছো।

আমিঃ আমরা এখন কিশোরগঞ্জ যাবো।
আরিফাঃ এখন কিশোরগঞ্জ কেন?
আমিঃ আনিছ ভাইয়ের বউ বাচ্চা দেখতে যাবো।

আরিফাঃ কি বলছো এইসব আনিছ ভাই বিবাহিত।
আমিঃ একটা বাচ্চাও আছে।

আরিফাঃ আর একটু হলেই তিনটা জীবন নষ্ট হয়ে যেত।
আমিঃ জী না। চারকা জীবন। কারণ আনিছ ভাইয়ের বাচ্চা আছে।

আরিফাঃ এই কথা আমাকে আগে বলো নি কেন?
আমিঃ এখন চলো সবাই আগে গিয়ে দেখি আনিছ ভাইয়ের কি অবস্থা।

রওনা দিলাম। পুরোটা রাস্তায় আরিফা বকবক করেই যাচ্ছে। আমি এই তুমি একটু থামো তো। এখন আর ভালো লাগছে না।
আরিফাঃ এই বেশি তেরি বেরি করলে একটা দিবো গালে।
আমিঃ দাওনা অটাই আর বাকি রাখো কেন?
আরিফাঃ থাক আর মার দিবো না।

তারপর গেলাম কিশোরগঞ্জ
সাইদ কে কল দিলাম।
সাইদঃ কিরে খোঁজ নেওয়ার সময় হয়ছে তোর। আমাকে এখানে পাঠিয়ে তো আমার কথা ভুলেই গেলি।
আমিঃ দোস্ত তকে অনেক ধন্যবাদ এখন তুই একটু কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের সামনে আয়। তকে অনেক দরকার আমি আরিফা আর আফিফা আসছি।
সাইদঃ এইটা আবার কে।
আমিঃ আনিছ ভাইয়ের বোন।

সাইদঃ ও। ঠিক আছে তাহলে আমি আসছি।
তারপর সাইদ আসলো আমরা কিশোরগঞ্জ শহরের কিছু যায়গা ঘুরে দেখলাম। সত্যি বলতে কি কিশোরগঞ্জ শহর ছোট কিন্তু অনেক সুন্দর করে সাজানো। একটু পর পর ছোট ছোট ব্রীজ। কলেজের সামনে ব্রিজ সব কিছু অল্প যায়গার মাঝে। ছোট ছোট টাওয়ার আছে আট তালা উঁচু হবে হয় তো সেখানে উঠলে সব কিছু দেখা যায়।
কিছুক্ষণ পর সাইদ আসলো
তারপর ওকে নিয়ে ক্লিনিকে গেলাম।

আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,
আমিঃ আনিছ ভাই ভিতরে আসবো।
আনিছ কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো।

আনিছঃ তুমি এখানে কেন? আর কিভাবে এলে এখানে।
আমিঃ আমি একা আসিনি পুরো টিম নিয়ে এসেছি।
তারপর ভিতরে গেলাম।

আনিছঃ ভাই তুমি এখানে আসলে কেন?
আমিঃ এই তোমরা ভিতরে আসো।
তারপর ওরা ভিতরে আসলো।
আনিছ ভাই পুরাই ভয় চুপসে গেছে।

আমিঃ আনিছ ভাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা সব কিছু জানি। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
আনিছঃ আরিফা আমি সরি আসলে আমারো তেমন কোন চিন্তা ছিলো না।
আরিফাঃ ঐ সালা তুই আমার হাত ধরতে চাইছিলি কেন? তোর নামে আমি চিটিংবাজি মামলা দিবো।

আনিছের বউ ঃ দয়াকরে আমার সর্বনাশ করবেন না। আমি ওকে টাইট করবো ওর হাত দুটো ভেঙ্গে ফেলবো। আমাকে বিয়ে করছে ঘরে তুলতে পারেনি। আমি ওর জন্য নিজের পরিবার ছেড়ে চলে আসলাম। আর আজো আমি আমার শশুর বাড়িতে যেতে পারলাম না।
আমিঃ ভাবি আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাকে নেওয়ার জন্য আসছি।
আনিছঃ ভাই তোমরা আমাকে মারো কাটো যায় করো আমার সংসার ভেঙ্গে দিওনা।

আরিফাঃ তাহলে এখনি আমার মা বাবাকে বলেন আপনি বিবাহিত।
আনিছঃ আর একটু সময় দাও। আমি আর আমাদের পরিবারে যাবো না। তোমাদের সামনে কখনো যাবো না।
আমিঃ তাতো হবে না ভাই আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।

আনিছঃ কিন্তু আমার স্ত্রীর এমন সময় কিভাবে যাবো।
আমিঃ আপনি আর ভাবি এম্বুলেন্স দিয়ে যাবেন আমরা আলাদা ভাবে যাবো।
তারপর একটা গাড়ি নিয়ে আনিছ ভাই আর ভাবিকে পাঠিয়ে দিলাম।
আর আমরা চারজন একসাথে গাড়ি দিয়ে যাচ্ছি।

আমিঃ সাইদ তোকে অনেক ধন্যবাদ। তুই আমার আসলে কলিজার টুকরা।
সাইদঃ পাম দেওয়া বন্ধ কর। কলিজার টুকরা তা এত দিন খোঁজ খবর নিলিনা কেন?
আমিঃ ঐ সালা ঘরে কি বউ আছে নাকি তোর। গিয়ে তো দেখবি খালি বিছানা। এত ভাবনেস কে।

সাইদঃ ভালো করে কথা বল নয়লে। এদের সামনেই কেলাবো।
আমিঃ ঠিক আছে। খাওয়া দাওয়া শেষ করছিস।
সাইদঃ যে টাকা দিছর তা দিয়ে হোটেলের ভাড়া দিতে দিতেই শেষ। এখন পকেটে মাত্র ২০ টাকা আছে। মনে করেছিলাম আজকে বাসায় ফোন দিয়ে টাকা নিবো।
আমিঃ আমাকে বললি না কেন?

সাইদঃ দাড়া তোকে বলতে যাবো কেন? আর হোটেলের রিসিভশনের মেয়েটার সাথে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। ঐ মেয়েটাকে প্রপ্রোজ করতেই হবে।
আমিঃ আহারে কি কষ্ট।

আরিফাঃ আমিরুল তুমি এত কথা বলো কেন? সাইদ ভাই আপনার যেই মেয়েটাকে ভাল লেগেছে তার নাম কী।
সাইদঃ দূর মিয়া তোমরা চুপ করো। আমি ফোন নাম্বার আর ফেইসবুক একাউন্ট সব নিছি। আমাকে সেখাতে হবে না। তোমরা তোমাদেরটা ঠিক করো। আগেরবার আমিরুল কে বলছিলাম আমার একটা মেয়ে পছন্দ হয়েছে তখন গিয়ে মেয়েটাকে বলছে যে আমি নাকি মেয়েটাকে দেখলে মেরে ফেলবো। সেই মেয়েটা আমার সামনে আসেনি। একদিন দূর থেকে দেখে মেয়েটাকে ডাক দিছি মেয়েটা আমাকে দেখে দৌড়াতে থাকে। আর বলতে থাকে বাচাও বাঁচাও। তোমাদের কাউকে আমার দরকার নাই।
আমিঃ সাইদ তোর রেডিও বন্ধ কর ভাই।

আফিফাঃ আমিরুল ভাই আপনি আসলেই হিংসুটে মানুষ।
আরিফাঃ তুমি সাইস ভাইয়ের সাথে এমন করছিলা কেন?
আমিঃ সাইদ এইটা তোর কত নাম্বার গার্লফ্রেন্ড।
সাইদঃ ১১৩ একশত তের নাম্বার।

কথাটা বলার সাথে সাথে আরিফা আর আফিফা সাইদ কে হা করে দেখতে লাগলো।
সাইদঃ এই তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন? আমি যেই মেয়েকে দেখি সেই মেয়েকেই পছন্দ হয়ে যায় এতে আমার কি করার আছে। বলো। তা ছাড়া যার মন পরিস্কার তার কাছে সবাই কে ভাললাগে।
আমিঃ আরিফা আফিফা ওর কথা বাদ দাও।
সাইদঃ আফিফা তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে।

আফিফাঃ না। কেন?
সাইদঃ আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। এই টুকু সময়ের মধ্যে তুমি আমার মন কেরে নিয়েছো।
আফিফাঃ আপনি আমার ধর্মের ভাই। আপনি আমাকে বোনের নজরে দেখবেন।

সাইদঃ কিভাবে নিজেকে সরিয়ে রাখবো। তোমার সুন্দর চুল। গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট। মায়াবি চোখ। চাঁদের মত মিষ্টি হাসি সব মিলিয়ে আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আরিফাঃ আমিরুল সাইদ কে দেখে সেখো।

আমিঃ হুম তুমি ঠিক বলছো। কিভাবে কিভাবে মেয়ে পটাতে হয়। আমিও চেষ্টা করবো।
আরিফাঃ চোখ দুটো তুলে ফেলবো। আমি বলছি কিভাবে প্রসংশা করতে হয় তা শিখতে।
তারপর কথা বলতে বলতে চলে এলাম আরিফার বাসায়।

ভিতরে গিয়ে দেখি চেঁচামেচির আওয়াজ পেলাম। মনে হয় আরিফার বাবা চেঁচামেচি করছে।
আমরা ভিতরে যেতেই আরিফার বাবা আরিফাকে বলছে
আংকেলঃ আরিফা এ বিয়ে হবে না। আনিছ বিয়ে করেছে অনেক আগেই। তার বাচ্চা আছে।
আরিফাঃ আমি জানি।


পর্ব ১২

আরিফাঃ আমি জানি।
আংকেলঃ তুই জেনেও এই বিয়েতে রাজি ছিলি।

আরিফাঃ না বাবা। আমি একটু আগে জেনেছি। আমিরুল আমাকে বলেছে।
আংকেলঃ আনিছ তুমি এখনি আমার সামনে থেকে চলে যাও।

আমিঃ আংকেল একটু অপেক্ষা করুন। আনিছ ভাইয়ের মা বাবা আসছে। উনারা আসলে তাদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা যাবে।
আংকেলঃ এখানে আমার কোন সমস্যা নাই। আর আমি আরিফা কে এমন ছেলের হাতে তুলে দিবো না।

আমিঃ আপনাকে এমন ছেলের হাতে তুলে দিতে বলছি না। আনিছ ভাইয়ের যেন কোন সমস্যা না হয় তা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। উনার বাবা মা যেন তার সন্তান কে মেনে নেই তার ব্যবস্থা করেদেন।
আংকেলঃ আমি এর বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাইনা।

আমিঃ আংকেল আপনি যদি আনিছ ভাই ও তার পরিবার কে অপমান করেন তাহলে তো আনিছ ভাইয়ের বাবা মা তাকে বাসা থেকে বের করে দিবে। আর আপনি যদি স্বাভাবিক ভাবে কথা বলেন তাহলে তারা কিছুটা মেনে নিবে।
আংকেলঃ আমার মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তার জীবন নিজের হাতে সাজাতে আমি পারবো না।

আমিঃ এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেন আর নিজের আত্বীয়র জন্য করতে পারবেন না। যেই মেয়েটা আনিছ ভাইয়ের উপর বিশ্বাস করে নিজের বাসা বাড়ি মা বাবা আত্বীয় স্বজন কে ছেড়ে চলে এসছে তার জীবন কে আপনি নষ্ট করে দিবেন এটা আমি আপনার কাছে আশা করিনি। আংটি পড়ানোর সময় আনিছ ভাই আসেনি তারা বাবা মা এসেছিল। তখন আপনার বুঝার প্রয়োজন ছিলো।
আংকেলঃ আরিফা তুই কি বলিস।

আরিফাঃ আমার কিছু বলার নেই। তবে এখন আমি যাকে পছন্দ করি তাকে বিয়ে করবো তোমার কোন আপত্তি থাকতে পারবে না।
আংকেলঃ আমিরুল কে তোর পছন্দ তা আমি জানি। আমিরুল কি তকে পছন্দ করে।
আরিফাঃ হ্যা ওর কোন আপত্তি নেই।
আংকেলঃ আমিরুল আরিফা যা বলছে তা কি সত্যি।
আমিঃ জি আব্বা জান। আমি রাজি।

সবাই হাসা শুরু করলো এমন সময় আনিছ ভাইয়ের মা বাবা আসলো।
আনিছ ভাইয়ের মা এসেই আনিছ ভাইকে দুইটা গালে দিলো।
আফিফা তার মায়ের হাত ধরলো।

আফিফাঃ মা তুমি ভাইয়া কে মারছো কেন?
আনিছ ভাইয়ের মাঃ কি না করেছে। আমাদের কে ছোট করে দিয়ে আরিফার কাছে তার বাবা মার কাছে।
আমিঃ আন্টি এই বিয়ের সময় কি আপনি আনিছ ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে ছিলেন। সরি বিয়ে এখনো হয়নি। আনিছ ভাই কেন আংটি বদলের সময় আসেনি তা একটা বারো জানতে চাননি।

আনিছ ভাইয়ের বাবাঃ আমার আর বাঁচার কোন উপায় রাখলো না। আমি সমাজের সামনে মাথা উঁচু করে ধারাতে পারবো না। শেষ মেষ একটা অন্য ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করেছে।
আংকেলঃ তাতে কি হয়েছে তোমার ছেলে তো বিয়ে করেছে নষ্টামী তো করেনি। তা ছাড়া ভুলটা আমরাই করি কিন্তু দোষ চাপিয়ে দেয় আমাদের সন্তানদের উপর। ও যাকে নিয়ে সুখী হবে তাকে বিয়ে করেছে।

আনিছ ভাইয়ের মা। ঃ তা বিয়েটা কোন নিয়মে হয়েছে। মুসলমানদের নিয়ম অনুযায়ী না অন্য ধর্ম অনুযায়ী।
আনিছঃ মুসলমানদের নিয়ম অনুযায়ী। আর আমার বউ এখন মুসলমান।
আংকেলঃ যাও সমস্যা সমাধান হয়ে গেল। এখন তোমাদের ছেলে বউ নাতি নিয়ে বাসায় যাও। আর হ্যা আগামী কিছু দিনের মধ্যেই আমার মেয়ের বিয়ে দিবো তোমরা সবাই কিন্তু আসবে।

তারপর আরকি উনারা চলে গেল।
যাবার আগে আফিফা আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে গেলো।
আমিঃ আংকেল এখন আমি আসি।
আরিফাঃ তুমি একটু আমার রুমে আসো।

আমিঃ এখন না বাসায় যেতে হবে।
সাইদঃ বাসায় কি বউ বাচ্চা রেখে আসছিস। গিয়ে দেখবি বিছানা খালি।
আংকেল একটু গলা কাশি দিলো।
সাইদঃ সরি সরি আমি এখন আসি।
আমিঃ ধারা আমিও যাবো একসাথে যাবো।

সাইদঃ ভাই বাসায় যেতে হবে রে। আমার আবার একটু কাজ আছে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার আরেক জনের সাথে দেখা করতে হবে।
আমিঃ ঠিক আছে।
তারপর আমি আরিফার সাথে ওর রুমে গেলাম।
আরিফা দরজা লাগিয়ে দিলো।
আমিঃ দরজা বন্ধ করে দিলে কেন?

আরিফাঃ এমনি যেন কেউ বিরক্ত না করে।
আমিঃ কি বলতে চাচ্ছ তুমি।
আরিফাঃ তোমাকে আজকে নিজের করে নিবো।
আমিঃ জিনা আপু। বিয়ের পর হবে।

আরিফাঃ তোর বিয়ের গুলি মারি। আজকেই হবে।
আমিঃ বিয়ের আগে তুমি কি চাচ্ছ তা তুমি জানো। অপবিত্র হতে চাচ্ছো। আমার পবিত্র ভালবাসা কে অপবিত্র করতে চাচ্ছ।
আরিফাঃ তাহলে একটা কিস দিতে দাও।
আমিঃ ঠিক আছে দাও।

ঐ মিয়া আপনারা চোখ বন্ধ করেন।
আমরা এখন একটু ব্যস্ত।
পাঁচ মিনিট পর ছারলো।
তারপর বাসায় এলাম মা বাবা কে সব কিছু বললাম,
মাঃ এখনি বিয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। পড়ালেখা শেষ করে তারপর দেখা যাবে।

বাবাঃ আমারো একি মত। আগে পড়ালেখা শেষ কর তারপর দেখা যাবে।
আমিঃ এইটা কোন কথা হলো।
মাঃ বাসায় তোর বড় বোন আছে তাকে বিয়ে না দিয়ে তুই নিজেই আগে বিয়ে করতে চাচ্ছিস।
আমি আর মা বাবার উপর কোন কথা বললাম না।

ফোন করে আরিফাকে সব কিছু বললাম
আরিফাঃ ঠিক আছে। কোন সমস্যা নেই। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারবো। আমি বাবা মায়ের সাথে কথা বলছি।
আমিঃ তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।

তারপর আর কি একটা ঘুম দিলাম সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো সাইদের ফোনে।
আমিঃ কিরে এত সকালে কল দিলি কেন?
সাইদঃ ভাই ঝামেলায় পড়ে গেছিরে। হটাৎ করে বিয়ে করে ফেলেছি।
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
আমিঃ বুঝলাম না আবার বল।

সাইদঃ গতকাল বাসায় যাবার পর মা বাবা আমার সাথে কথা না বলে আমার খালাতো বোনের সাথে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে।
আমিঃ কেন? এমন করার তো কোন কারণ নেই।
সাইদঃ সব তোর জন্য। তুই যদি আমাকে কিশোরগঞ্জ না পাঠাতি তাহলে আজকে আমার এই সর্বনাশ হতো না।
আমিঃ তোর খালাতো বোন রাজি হলো কেন?

সাইদঃ ভাইরে তিন বছর ধরে প্রেম করছিলাম। কিন্তু মন থেকে করতাম না। কিন্তু আমার খালাতো বোন তা সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছে। দুই দিন কল ধরি নাই। তাই বাসার সব কিছু ভেঙে ফেলছে। আর বিষ খেয়েছিলো।
আমিঃ তাহলে তো তোর খালাতো বোন। মানে ভাবি তোকে অনেক ভালোবাসে।
সাইদঃ এখনি কি বিয়ে করার বয়স হয়েছে রে পাগলা এখনো তো আমি কচি শশা।
আমিঃ বাটপার বিয়ের সময় ফোন দিলি না কেন?

সাইদঃ ফোন মা কেরে নিয়ে ছিলো। এর বিয়ে না করে যদি আফিফা কে বিয়ে করতাম তাহলে বেশি ভালো হতো। কিছু মাল পানি পেতাম।
আমিঃ বেঁচে গেছিস। সব গুলো মেয়ে যদি তোর বাসায় আসতো তাহলে একটা মিছিলের মত হতো।
সাইদঃ তুই একটু আসবি আমাদের বাসায়।

আমিঃ ঠিক আছে আসছি।
তারপর সাইদের বাড়িতে গেলাম।
আমিঃ কিরে তোর বউ কোথায়।

সাইদঃ মায়ের সাথে রান্না করছে।
আমিঃ বাহ। তাহলে তো নতুন বউয়ের হাতের রান্না খাওয়া যাবে।
সাইদঃ আমার জীবনটা কচি ভাব থেকে জুনা নারিকেল হয়ে গেলো রে।
আমিঃ দোস্ত তোর বউকে ডাক দে দেখি। আমার কাজ আছে।
এমন সময় একটা মেয়ে আসলো।

মেয়েঃ আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন ভাইয়া।
আমিঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন।
সাইদঃ আমিরুল তোর ভাবি। আর কবিতা এই হলো আমার বন্ধু আমিরুল।
আমিঃ মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর বিয়ে করেছিস।

সাইদঃ হ্যা আমি ওকে নিয়ে অনেক খুশি। আমার কপাল ভালো তাই ওকে পেয়েছি।
কবিতা ঃ ভাইয়া আপনারা বসুন আমি খাবার আনছি।
আমিঃ কিরে সাইদ বউয়ের সামনে এত প্রসংশা আর আরালে এমন কথা কারণ কি।

সাঈদ ঃ আবার যদি বিষ খায় তাহলে তো আমার হাসপাতালে যেতে হবে। তাই সামনে কিছু বলতে পারছিনা। হজম করতেও পারছিনা।
আমিঃ তুই না ভালবাসতি তাহলে এমন করছিস কেন? তুই অনেক গুলো রিলেশন করেছিস। কাকে বিয়ে করবি তাদের থেকে। কার মন ভাঙ্বি তাদের মধ্য থেকে তার চেয়ে অনেক ভালো হয়ে যে তোর বাবা মার পছন্দ আর তোর অনেক গুলো জিএফ এর মধ্যে একজন কে পেলি। মন খারাপ করিস না। খুশি থাক। আমি চলি পরে আবার দেখা হবে।
সাইদঃ আমি কি ঠকেছি রে আমিরুল।

আমিঃ মোটেও না। তুই সবাইকে ভালবাসিস কারো জন্য আজ পর্যন্ত নিজের শরীরের পশম পর্যন্ত ছিরিস নি। তোর জন্য যেই মেয়ে বিষ খেতে পারে সে তোকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসে। তুই অনেক লাকি।
সাইদঃ ঠিক বলেছিস। আজ থেকে কোন মেয়ের দিকে তাকাবো না।

আমিঃ তাহলে এখন আসি।
সাইদঃ নাস্তা করে যা।
আমিঃ পরে আসবো।
সাইদঃ শোন আগামী দুইদিন পর আমার বিয়ের বউ ভাত তুই আসবি আর আরিফা তোরা দুইজন আমার প্রথম মেহমান। তোর বাসার সবাই আমি দাওয়াত দিবো কোন চিন্তা করিস না।

আমিঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই এখন আসি।
তারপর বাসায় চলে আসি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে কলেজের দিকে রওনা দিলাম।
তানিশা তো এখন একাই কলেজে যায়। আমি তো টোটো কোম্পানীর ম্যানেজার হয়ে গেছি তাই নিজেকে কলেজে গেলাম।
কলেজে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেছে নাই মিজান নাই সাইদ
কিযে করি।
এমন সময় Rabbani Hossain Ridoy আসলো
আমার এক ক্লাস জুনিয়র
রব্বানী হোসাইনঃ আমিরুল ভাই একটা সমস্যায় পড়েছি।
আমিঃ কি সমস্যা।
রব্বানী হোসাইনঃ আমি আপনার এক ক্লাস জুনিয়র এই কলেজে পড়াশোনা করি আমার বাড়ি জালাল তাইড়।
আমিঃ এইটা আবার কোন গ্রহের নাম।
রাব্বানী হোসাইনঃ এইটা আমার গ্রামের নাম। পোস্ট অফিস মহিমাগন্জ। ইউনিয়নের নাম কামালের পাড়া।
উপজেলা সাঘাটা। জেলার নাম গাইবান্ধা।
আমিঃ বুঝতে পারছি। তার মানে তোমার জেলা উত্তর অঞ্চলে।

রাব্বানী হোসাইনঃ জি ভাই।
আমিঃ আমার কাছে কি চাও।
রাব্বানী হোসাইনঃ ভাই আমার এক বন্ধু হাসপাতালে ভর্তি এখন আপনার বাইকটা একটু দরকার। আপনি যদি আমাকে নিয়ে যেতেন বা আপনার বাইক দিতেন।


১৩ পর্ব

রব্বানী হোসাইনঃ আপনি যদি আপনার বাইকটা একটু দিতেন বা আপনি যেতেন তাহলে আমার অনেক উপকার হতো।
আমিঃ আমার বাসা চিনো।
রাব্বানী হোসাইনঃ না ভাই।
আমিঃ তাহলে আমার বাইক পৌঁছে দিবে কিভাবে।

রব্বানী হোসাইনঃ ভাই একটু গেলে বেশি ভালো হতো।
আমিঃ ঠিক আছে চলো।
তারপর রব্বানী হোসাইন কে সাথে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম।
হাসপাতালে গিয়ে বললাম

আমিঃ আমি এখন আসি।
রব্বানী হোসাইনঃ ভাই এত টুকু যেহেতু আসছেন একবার আমার বন্ধু কে দেখে যান।
আমিঃ তোমরা না মিয়া। আচ্চা চলো।
তারপর হাসপাতালের ভিতরে যাচ্ছি এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন আমার কোলার ধরে টান দিলো।

আমিঃ কোন শালারে। পিছনে তাকিয়ে দেখি আফিফা
আফিফাঃ শালা না দুলাভাই শালী বলেন।

আমিঃ তুমি এখানে কেন?
আফিফাঃ ভাবি কে সাথে নিয়ে আসছি। চেকাপ করানোর জন্য।
আমিঃ বাহ এর মধ্যেই সবাই ভাবিকে নিজের করে নিলে। তা আনিছ ভাই কোথায়।

আফিফাঃ আনিছ ভাই তো ভাবিকে সাথে নিয়ে গেল। আচ্চা এখানে কোথায় আসছেন।
আমিঃ এক ছোট ভাইকে দেখতে।

আফিফাঃ আপনার সাথে এই তিন নাম্বার ছাগলের বাচ্চা আবার কে।
আমিঃ ও রাব্বানী হোসাইন। আমার জুনিয়র।
রাব্বানী হোসাইনঃ এই মেয়ে তিন নাম্বার ছাগলের বাচ্চা মানে কি।
আফিফাঃ এই যে মিস্টার আসছে কথা বলেন। আমি আমার দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলছি। আর এই হাসপাতাল।
রাব্বানী হোসাইনঃ ভাই কিছু বলছেন না কেন?

আমিঃ আচ্চা আফিফা তুমি তোমার কাজে যাও। রাব্বানী হোসাইন চলো। কোথায় তোমার বন্ধু।
আফিফাঃ আরে ধারান একটা ছবি তুলি তারপর যাবেন।
আমার কাদে হাত দিয়ে মুখ বেঁকিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে নিলো।

আমিঃ এই ছবি দিয়ে কি করবে।
আফিফাঃ ফেইসবুকে পোস্ট করবো। আর আপনাকে ট্যাগ করবো।
আমিঃ এইসব আরিফা পছন্দ করে না। আমাকে বকা শুনিও না।
আফিফাঃ ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। নিজের কাছে রেখে দিবো।

তারপর চলে এলাম।
রাব্বানীর বন্ধু কে দেখে রব্বানী হোসাইন কে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি বাসায় চলে এলাম।
এসে একটু বিছানায় নিজের শরীরটা কে এলিয়ে দিলাম।
এমন সময় আরিফা ফোন করলো।
আরিফাঃ কোথায় তুমি।

আমিঃ বাসায়।
আরিফাঃ জান একটু আমাদের বাসায় আসবে।
আমিঃ কেন তোমার বাসায় যাবো কেন?
আরিফাঃ তাহলে তোমার রুমের দরজা খুলো।

আমি গিয়ে দরজা খুললাম একি এই মেয়ে তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
আরিফা আমার রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো।
আমিঃ দরজা লাগালে কেন?
আরিফাঃ তোমাকে একটু আদর করবো।

আমিঃ কি উল্টা পাল্টা কথা বলছো।
আরিফাঃ ঐ ছেমরা আমি তরে আমার বাসায় যেতে বললাম বললি যেতে পারবি না আর আফিফা ফোন করার সাথে সাথে হাসপাতালে গেলি এক নজর দেখার জন্য।
আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম।

আমিঃ কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলছো।
আরিফাঃ আফিফা ফেইসবুকে পোস্ট করছে তোরে ট্যাগ করছে আমারে ট্যাগ করছে আমার সব বন্ধুদের কে ট্যাগ করছে। তোর শরীরে হাত দিয়ে ছবি তুলছে তোর মজা লাগছে তাইনা। আমি গায়ে হাত দিলেই গায়ে ফুসকা পড়ে তাই না।

আমিঃ আমি তো আফিফার সাথে দেখা করতে যায়নি। আমি আমার জুনিয়রের বন্ধু কে দেখতে গিয়েছিলাম।
ঠাস ঠাস ঠাস
আরিফাঃ কান ধর।
আমি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

আমিঃ তুমি আমাকে মারতে পারলে।
আরিফাঃ আমি ছাড়া অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাতে পারবি না। এখন কানদর।
আমিঃ আমি তো আফিফার সাথে দেখা করতে যায়নি।
আরিফাঃ আর নাটক করার প্রয়োজন নাই তুই কানদর।
আমি কান ধরে দাঁড়িয়ে আছি।

আরিফাঃ বল আর কোন মেয়ের দিকে তাকাবো না।
আমিঃ আর কোন মেয়ের দিকে তাকাবো না।
আরিফাঃ গুড বয় এখন কান ছাড়।
আমিঃ আরো কিছু বলবা।
আরিফাঃ এখন তোমাকে নিয়ে শপিং করতে যাবো।
আমিঃ আমার শরীর ভালো না। তুমি যাও।

আরিফাঃ আফিফার সাথে দেখা করার সময় মন ভালো থাকে।
আমিঃ আরিফা একদম চুপ করো। আমি তোমাকে কতবার বলবো যে আফিফার সাথে আমি দেখা করতে যায়নি।
আরিফাঃ আচ্চা বিশ্বাস করলাম এখন চলো শপিং করতে যাবো।
আমিঃ আমি বললাম আমি যেতে পারব না। তোমার মন চাইলে তুমি যাও। আর আমাকে একা থাকতে দাও।
আরিফাঃ ঠিক আছে না গেলে নাই। আমি মা কে ডাক দিচ্ছি।
আমিঃ যা খুশি করো। আমি যেতে পারব না।

আরিফা যাকে ডেকে আনলো।

মাঃ কি হয়েছে তোর সমস্যা কি। একটু শপিং করতে যেতে বলছে সাথে যা।
আমিঃ কিন্তু।
মাঃ কোন কিন্তু না। সোজা যা।

আমিঃ ঠিক আছে আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
তারপর মা চলে গেল।
আরিফাঃ আমি জানি কিভাবে কাকে সোজা করতে হয়।
আমিঃ তুমি আমাকে বিশ্বাস করলে না তো আফিফার উপর বিশ্বাস করলে কোন সমস্যা নাই। আমিও দেখে নিবো।

আরিফাঃ আহারে আমার বাবুটা রাগ করেছে। আসো তোমাকে আদর করে দেয়।
তারপর কিস দেবার জন্য আমাকে ধরেছে
আমি ঝটকা দিয়ে চলে গেলাম ওয়াশ রুমে।
গোসল করে আরিফার সাথে বের হয়েছি।

আরিফাঃ তুমি কিছু বলছো কেন?
আমিঃ আমার কথার কোন মূল্য নেই। অতএব আমার কথা না বলাটাই ভালো।
আরিফাঃ এমন ভাবে কথা বলছো কেন?
আমিঃ এর চেয়ে ভালো ভাবে কথা আমি বলতে পারি না।

আরিফাঃ আমার সাথে রাস্তায় খারাপ ব্যবহার করছো করো কোন সমস্যা নাই। বাসায় যাও মার কাছে সব বলবো।
তারপর কি যেন শপিং করলো আমি কিছু দেখিনি।
আমার সাথে বাসায় আসলো মায়ের হাতে কয়েকটা ব্যাগ দিয়ে বললো মা তোমার ছেলে আমার সাথে রাস্তায় খারাপ ব্যবহার করেছে।
মাঃ আমিরুল আরিফা যা বলছে তা সত্য।

আমিঃ হ্যা আমি খারাপ ছেলে তাই খারাপ ব্যবহার করেছি।
ঠাস ঠাস ঠাস।
মাঃ আগেরবার আরিফা আমাকে তোর ছবি গুলো দেখিয়েছে আমি কিছু বলিনি আরিফা না করে ছিলো। এখন দেওয়াটা খুব জরুরি ছিলো তাই দিলাম।
আমি সোজা চলে এলাম রুমে।

রাতে খাবার জন্য অনেকক্ষণ ডাকার পর গেলাম।
আমিঃ বাবা আমি দেশের বাহিরে গিয়ে পড়ালেখা শেষ করতে চাই।
তানিশাঃ তোর কি মাথা ঠিক আছে। তুই যাবি দেশের বাহিরে তাও আবার পড়ালেখা করার জন্য। হাসালি।

আমিঃ বাবা তুমি ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।
বাবাঃ পড়ালেখার জন্য আমি না করবো না। কিন্তু তুই বিদেশে একা একা থাকতে পারবি।
আমিঃ খুব পারবো। আগামী মাসে আমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবে তুমি সব কিছু ব্যবস্থা করে রেখো। আমি মাস্টার্স দেশের বাহিরে করতে চাই।
মাঃ বিয়ে করে তোর বাবার ব্যবসায় হাত দে। বাজে চিন্তা মাথায় আনিশ না।

আমিঃ বাবা তুমি ব্যবস্থা করে দাও।
রাতে রুমে এসে বসে আছি এমন সময় আরিফা ফোন দিলো।
আমিঃ কিছু বলবা তুমি।
আরিফাঃ খাওয়া দাওয়া শেষ করছো।

আমিঃ হ্যা। তুমি করছো।
আরিফাঃ করছি। কি করো তুমি।
আমিঃ বসে আছি রাখি এখন ঘুমাবো। ভালো লাগছে না।
আরিফাঃ তোমার কি শরীর খারাপ হয়েছে আমি আসবো।

আমিঃ না আসার দরকার নাই। আমি একটু ঘুমাতে চাই।
এবাবে প্রতিটা দিন ঝগড়া হয়। ভালো লাগে না আর।
পরীক্ষা দিয়ে বাসায় আসলাম সব গুলো পরীক্ষা বেশ ভালো করেই শেষ হলো।

রাতে খাবার সময় হাতে একটা চিঠি দিলো।
বাবাঃ এইনে তোর ভিসা আর আর পাসপোর্ট। আগামীকাল গিয়ে টিকেট ওকে করে আসিস। আর আজকে রাত ভালো করে চিন্তা করে দেখ।
আমিঃ ঠিক আছে।

মা আর তানিশা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মা ভেবেছিল ঐদিন কথা গুলো আমি নাটক করে বলছিলাম।
তারপর রুমে আসি এসে কাগজ পত্র গুলো দেখছি।
পিছন থেকে মা রুমে এলো।

মাঃ আমার উপর রাগ করে চলে যাচ্ছিস।
আমিঃ কি যে বলো মা। তোমার উপর রাগ করবো কেন? এখানে থাকলে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়িয়ে সময়টা চলে যাবে। দেশের বাহিরে গেলে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে পারবো।

মাঃ তুই চলে গেলে আমার বাসা একদম খালি হয়ে যাবে।
আমিঃ মাত্র দুইটা বছর মা। এরপর তো চলেই আসবো।
আর তানিশা তো আছে। আরিফাও মাঝে মাঝে আসবে হয়তো।

মাঃ ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখ।
আমিঃ অনেক আগেই চিন্তা করে নিয়েছি।
এমন সময় তানিশা রুমে এলো।

তানিশাঃ তুই বিদেশে যাবি তা আমাদের বলিসনি কেন?
আমিঃ তোর সামনেই তো বাবা কে বলেছিলাম। আর হ্যা এরপর দুইদিন গিয়ে ছিলাম বাবার অফিসে আর একদিন পাসপোর্ট অফিসে।
তানিশাঃ না গেলে হয় না।

আমিঃ নারে পড়ালেখা করে আসি। জীবনে পড়ালেখা নিয়ে কখনো সিরিয়াস হয়নি। দুইটা বছর সিরিয়াস হয়ে পড়ালেখা করি।
তানিশাঃ আরিফা কি জানে যে তুই বিদেশে যাচ্ছিস।
আমিঃ না। টিকেট কেটে পড়ে বলবো এর আগে কেউ কিছু বলবে না।

তারপর একটা ঘুম দিলাম।
টিকেট কাটার সময় রাস্তায় আফিফা আর রাব্বানী হোসাইন বসে বসে গল্প করছে।
আমি গিয়ে সামনে দাঁড়ালাম।

আফিফাঃ দুলাভাই আপনি এখানে।
আমিঃ রাব্বানীর সাথে কি করো।
আফিফাঃ এমনি দেখা করছি।

আমিঃ কিসের জন্য দেখা করতে আসলে।
রাব্বানী হোসাইনঃ ভাই ঐ দিন আপনাকে ট্যাগ করে পোস্ট করেছিলো। আর আমি ওর আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে ছিলাম পরে আমরা একে অপরকে ভালবেসে ফেলেছি।

আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগলো তোমাদের কথা শুনে। তোমরা কথা বলো আমি আসি।
তারপর টিকেট কেটে বাসায় আসি।
আরিফা কে কল দিলাম।

আমিঃ আরিফা কেমন আছো তুমি।
আরিফাঃ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো। আর শোন আগামীকাল আমার সাথে দেখা করবে বলে দিলাম।
আমিঃ ঠিক আছে। আমি দেখা করতে আসবো তোমার সাথে আমার ইমার্জেন্সি দেখা করতে হবে।
আরিফাঃ সামনে তো আমাদের বিয়ে তা সেই দিকে কি তোমার কোন খেয়াল আছে।

আমিঃ কে বললো এখনো তো পড়াশোনা শেষ হয়নি।
আরিফাঃ অনার্স তো শেষ করলা আরকি।
আমিঃ মাস্টার্স কোর্স শেষ করে তারপর বিয়ে। বাদ দাও এইসব কথা আগামীকাল দেখা হচ্ছে এখন রাখি।
আরিফাঃ এত রাখি রাখি করছো কেন?

আমিঃ কিছু বলবা।
আরিফাঃ আগামীকাল আমার সাথে এতিম খানায় যেতে হবে তোমাকে।
আমিঃ ঠিক আছে যাবো।
আরিফাঃ সকাল ৯ টার সময় আমার বাসায় থাকবে বলেছিলাম।

আমিঃ ঠিক আছে।
আরিফাঃ ওকে বাবু রাখি।
আমিঃ হুম।
আগামীকাল আরিফাদের বাসায় গিয়ে আংকেল ও আন্টির কাছে বলবো দেখি উনারা কি বলেন।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে আরিফার বাসায় গিয়ে হাজির হলাম। আংকেল অফিসে যাবার জন্য বের হচ্ছেন।

আমিঃ আংকেল একটু সময় দিতে পারবেন।
আংকেলঃ বলো বাবা কি বলবে আমার আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।
আমিঃ আংকেল আগামীকাল আমি বিদেশে যাচ্ছি।
আংকেলঃ কোন দেশে পিকনিকে যাচ্ছো।

আমিঃ পিকনিকে যাচ্ছি না।
আংকেলঃ আমি জানি তো পরীক্ষা শেষ এখন বন্ধ বান্ধবী মিলে ঘুরতে যাবে। কোন সমস্যা নাই আরিফা কে নিয়ে যাও।
আমিঃ আংকেল আপনি আমাকে বলতে দেন। আমি কোন পিকনিকে যাচ্ছি না। আমি পড়ালেখা করার জন্য বিদেশে যাচ্ছি দুই বছরের জন্য।
আংকেলঃ কি সব আবোল তাবোল বলছো। সামনে তোমাদের বিয়ে এখন এইসব কথা বলছো কেন?
আমিঃ আংকেল আরিফা মেয়ে মাস্টার্স এই বছর শেষ আর আমার শুরু আমি আরিফার যোগ্য হয়ে বিয়ে

আংকেলঃ তোমার বাবা মা কি বলে।
আমিঃ মা বাবা সবাই রাজি এখন আপনি অনুমতি দিলেই মেতে পারি।
আংকেলঃ কেরিয়ার নিয়ে ভাবছো এটা একদম ঠিক ভাবনা। তবে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে।

আমিঃ দোয়া করবেন।
তারপর আংকেল চলে গেলো।
আন্টির কাছ থেকেও একি ভাবে বিদায় নিলাম।
তারপর আরিফার রুমে গেলাম।
আমিঃ ভিতরে আসতে পারি।

আরিফাঃ বলার কি আছে ভিতরে আসো।
আমিঃ নিচে তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে এখানে এলাম।
আরিফাঃ আমিও রেডি চলো।
তারপর আরিফার সাথে এতিম খানায় গিয়ে বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করে পার্কের দিকে রওনা দিলাম।

একটা যায়গায় বসলাম।
আমিঃ আরিফা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আরিফাঃ বলো।
আমিঃ আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দিবে।

আরিফাঃ আমার যা আছে সবি তোমার।
আমিঃ তা আমি জানি। আমার কথাটা শুনো নিজেকে শক্ত করো।
আরিফাঃ কি এমন কথা যার জন্য এত নাটক করছো।
আমিঃ আমি আগামীকাল কানাডায় চলে যাচ্ছি।
আরিফাঃ হা হা হা কেন?

আমিঃ পড়ালেখা করার জন্য।
আরিফাঃ পড়ালেখা নিয়ে মজা করো না তো।
আমিঃ আগামীকাল চলে যাচ্ছি। বিকালে আমার ফ্লাইট।
আরিফাঃ তুমি কি সিরিয়াস।

আমিঃ হ্যা।

আরিফা কান্না শুরু করে দিলো।
আমিঃ তুমি কান্না করছো কেন?

আরিফাঃ দেশে কি পড়ালেখা করা যায়না। বিদেশে যাওয়ার কি দরকার। তুমি যেতে পারবেনা এটাই আমার শেষ কথা।
আমিঃ আমার সব কিছু রেডি। তোমাকে জানানো আমার প্রয়োজন তাই বললাম, আর এমনিতেও আজ কাল আমার কথা তোমার বিশ্বাস হয় না। বিশ্বাস হয় আফিফার কথা। সাইদের কথা তানিশার কথা। শুধু আমার কথা ছাড়া। এই পর্যন্ত তুমি আমাকে কয়টা থাপ্পর দিছো তা তুমি নিজেও বলবে পারবে না। আগামী দুইটা বছর আমাকে কারো কাছে মার খেতে হবে না।

আরিফাঃ তার মানে তুমি আমার সাথে রাগ করে এমন করেছো।
আমিঃ আমার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিজের পায়ে দাড়াবো তারপর বিয়ে করবো।

আরিফাঃ তুমি বিয়ে না হয় পাঁচ বছর পর করো কিন্তু বিদেশে যেওনা।
আমিঃ তুমি কি চাওনা তোমার স্বামী মাথা উঁচু করে চলুক। তোমাকে এখন বিয়ে করলে মানুষে আমাকে বলবে মেয়ে মাস্টার্স পাস ছেলে অনার্স আমি আমার ভালোবাসা কে মানুষের কাছে হাসির খোরাক করতে পারবো না।
আরিফা এটাই কি তোমার শেষ কথা।
আমিঃ আমাকে যেতে দাও। এতে দুজনের ভালো হবে।


পর্ব ১৪

আমিঃ আমাকে যেতে দাও এতে আমাদের দুজনের জন্যেই ভালো হবে।

আরিফাঃ আমি আর কখনো তোমার সাথে বাজে ব্যবহার করবো না। তোমাকে আর সন্দেহ করবো। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাই তোমাকে কখনো হারাতে চাই না।
আমিঃ আরিফা তুমি এত পাগল হলে আমি যেতে পারব না। তুমি আমাকে যেতে দাও। আমি পড়ালেখা করে তোমার কাছে ছুটে আসবো।

আরিফাঃ কেন যাবে তুমি। আমার কাছে থাকো।
আমিঃ তোমার মন চাইলে তুমি কানাডায় যেতে পারো। আর আমি তোমার সাথে প্রতিদিন ভিডিও কল করে কথা বলবো। ও আর একটা কথা তুমি মনে হয় আফিফার খবর জানো না। ঐদিন যেই ছেলেকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম সেই ছেলের সাথে আফিফা চুটিয়ে প্রেম করছেন।
আরিফাঃ কোন দিনের কথা বলছো তুমি।

আমিঃ ঐ যে ফেইসবুকে যেদিন আমাকে নিয়ে ছবি পোস্ট করেছিলো। ঐ দিন রাব্বানী হোসাইন আমার সাথে ছিলো। সেই ছেলেকে আফিফা ভালবাসে।
আরিফাঃ ঐ কারণে আমি তোমাকে মেরেছিলাম। আর মাও তোমাকে মেরেছিল।
আমিঃ হ্যা কিন্তু ঐ দিন আমি বিনা কারণে মার খেয়েছিলাম।
আরিফাঃ আর মারবো না বিদেশে যেওনা প্লিজ।

আমিঃ আমার নিজেকে তোমার জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছি মাত্র দুইটা বছর তোমার কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছি। আমাকে তুমি বিশ্বাস করো না কেন?
আরিফাঃ যদি গিয়ে সাধা চামরা দেখে বিয়ে করে ফেলো তাহলে আমি কিন্তু মরে যাবো।
আমিঃ আমার সিনিয়র আপু কে রেখে কারো প্রেমে পরতেই পারি না। আর তা ছাড়া আমি জীবনে তোমাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে ভালবাসিনি।
আরিফাঃ তুমি প্রতিদিন আমাকে কল দিবে। আমি তোমার সাথে কথা বলা ছাড়া থাকতেই পারবো না।

আমিঃ তাহলে তুমি অনুমতি দিচ্ছো তো।
আরিফাঃ ওখানে অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাবে না।
আমিঃ হা হা হা ঠিক আছে।
আরিফাঃ কখন যাবে

আমিঃ বিকালে।
আরিফাঃ আমি যদি আজকে তোমাদের বাসায় থাকি তাহলে কি তুমি আপত্তি করবে।
আমিঃ তোমার ইচ্ছা। তবে আমি রাতে তোমার সাথে বসে আডডা দিতে পারবো না। আমার বাসায় অনেক কাজ আছে।
আরিফাঃ ব্যাগপত্র গুছানো হয়ে গেছে।
আমিঃ কিছুটা হয়েছে।

আরিফাঃ বাসায় চলো আমি নিজের হাতে গুছিয়ে দিবো।
আমিঃ ঠিক আছে। আন্টি আর আংকেল কে বলে নাও নয়তো বা উনারা চিন্তা করবে।
আরিফাঃ আচ্চা তুমি মা বাবাকে বলেছো যে তুমি বিদেশে যাচ্ছো।
আমিঃ হ্যা সকালে তোমার বাবা আর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি।
আরিফাঃ চলো তাহলে।

আমিঃ হুম চলো।
তারপর বাসায় এলাম। খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। সবাই মিলে আমার ব্যাগপত্র গুছিয়ে দিচ্ছে।
আমি সাইদ ও মিজান কে আসতে বললাম ওরা এলো ওদের সাথে দেখা করলাম। রাতে আবার খাওয়া দাওয়া শেষ করে ছাদে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর আরিফা ছাদে আসলো।
আরিফাঃ একা একা দাঁড়িয়ে আছো কেন?
আমিঃ এমনি। মনটা ভালো লাগছে না।

আরিফাঃ তাহলে যেওনা।
আমিঃ তোমার কথা চিন্তা করেই মন খারাপ হচ্ছে।
আরিফাঃ আমার কথা তোমার ভাবার সময় আছে তাহলে।

আমিঃ আমি ভাবছি যদি বিদেশে কোন সুন্দরী একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেলি তাহলে তোমার কি হবে।
আরিফাঃ আবার শুরু করলা। আজকে আমি তোমাকে মারতে পারব না। তাই এমন করছো।
আমিঃ আমাকে একবার ঝড়িয়ে ধরবে প্লিজ।

এই কথা বলার সাথে সাথে ঝড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো।
আমিও কান্না শুরু করলাম।
সব কিছু রাগের মাথায় করেছি কিন্তু আসলে তো আমিও আরিফা কে পাগলের মত ভালবাসি।
অনেকক্ষণ পর আমি শান্ত হলাম।

আমিঃ আরিফা। এই আরিফা এবার আমাকে ছাড়ো।
আরিফাঃ আর একটু পর এখন একটু এভাবে ধরে রাখো।
এমন সময় তানিশা গলা কাশি দিয়ে ছাদে এলো।
দুজন ঝটকা মেরে ছেড়ে দিলাম।

তানিশাঃ মনে হয় এখন ছাদে আশাটা আমার উচিৎ হয়নি।
আরিফাঃ না ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই।
আমিঃ কেন এখন ছাদে আসলে কি সমস্যা।
তানিশাঃ তোরা তো দুজন ঝড়ে ধরে পিষে ফেলছিলি তাই বললাম,

আমিঃ কয়। কিছু না তো।
আরিফাঃ আমি একটু নিচে যাচ্ছি আমার একটু কাজ আছে।
তানিশাঃ তোরা দুজন থাক আমি নিচে যাচ্ছি আর আমিরুল তোর সাথে বাবার কি জানি কথা আছে। আরিফা তোর বাবা মা এসেছে। তোদের দুইজনকে ডাকছে। আমি এই সেই বলে কিছুক্ষণ কথা বলছি তোরা কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আয়।

আমিঃ না চল এখনি যায়।
আরিফাঃ ৫ মিনিট পর যাবো তুমি এখন থাকো। এই তানিশা তুই নিচে যা।
আমিঃ পাগলামী করো না তো আংকেল আন্টি আসছে নিশ্চয় কোন জরুরী কথা আছে।
আরিফাঃ তাহলে আবার ছাদে আসবা চলো নিচে চলো।
তারপর নিচে গেলাম।

আমিঃ আসসালামুয়ালাইকুম আংকেল আন্টি কেমন আছেন।
আংকেলঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। ভালো আছি।
বাবাঃ আমিরুল তোর আংকেল বলছিলো তোর আর আরিফার বিয়েটা আজকে হয়ে যাক।
আমিঃ এটা আবার কেমন কথা। আমি এখন বিয়ে করতে পারব না।

আংকেলঃ আমরা চাই আরিফা তোমার মায়ের কাছে থাকুক।
আমিঃ এমনিতেই থাকুক কোন সমস্যা নেই। আপনি মনে হয় আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
আন্টিঃ আমিরুল আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি। তাই তোমার হাতে আমাদের একমাত্র মেয়েকে তুলে

আমিঃ পড়ালেখা শেষ না করে আমি বিয়ে করতে পারব না। বেয়াদবি নিবেন না দয়াকরে। আমি বিয়ে করে বউ বাসায় রেখে পড়ালেখা করতে পারবো না।
আংকেলঃ অসুবিধা কী বাবা তোমার কাছে রাখো আর তোমার কি টাকা পয়সার অভাব আছে যে বিদেশে গিয়ে বড় ডিগ্রি নিয়ে আসতে হবে এবং চাকরি করে সংসার চালাতে হবে।

আমিঃ আংকেল সকাল বেলা আপনি আর আন্টি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। আর এখন অন্য কথা বলছেন।
বাবাঃ দেখুন ভাই সাহেব আমি আমার ছেলের উপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারছিনা। আর আমার ছেলের চেয়ে আমার মেয়ে বড় তাই আগে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছিলাম। এখন যদি আপনারা এমন করেন তাহলে কিভাবে হবে বলেন।

আংকেলঃ তাহলে আপনি আপনার মেয়েকে বিয়ে দেন। এরপর আমিরুল পড়ালেখা শেষ করে আসুক পড়ে বিয়ে করবে।
তারপর আমি আমার রুমে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর আরিফা কল করে ছাদে যেতে বললো। এবং ছাদে গেলাম
আমিঃ আবার ছাদে আসতে বললে কেন?

আরিফাঃ আজকে বিয়েটা করলে কি এমন হতো।
আমিঃ পড়ালেখা করেই বিয়ে করবো। আর বিয়ে করবো বড় অনুষ্ঠান করে। এমন চুপ করে বিয়ে করবো কেন?

আরিফাঃ আমি মা বাবা কে অনেক রিকোয়েস্ট করে এখানে এনেছিলাম। তুমি সব কিছু নষ্ট করে দিলে।
আমিঃ ভালবেসেছি সবাইকে জানিয়ে আর বিয়ে করবো এভাবে তা তুমি ভাবলে কিভাবে।
আরিফাঃ তোর মাথা তুই যা ভালো মনে করিস তাই করিস। আমি আর বাসায় যাবো না। আজ থেকে এখানেই থাকবো।

আমিঃ তুমি তোমার বাড়িতে থাকবে। আর এখানে মাঝে মাঝে থাকতে আসবে।
আরিফাঃ আমি মাঝে মাঝে বাসায় যাবো আর সব সময় এখানেই থাকবো।
আমিঃ তোমার ইচ্ছা যা মনে করো তাই করো এখন আমি রুমে যাচ্ছি ঘুমাতে হবে।

আরিফাঃ আপনার ফ্লাইট বিকালে সকালে ঘুমাবে সারারাত আমার সাথে বসে আডডা দিবে এই নিয়ে কোন কথা হবে না।
আমিঃ ঠিক আছে কিন্তু আমি সারারাত থাকতে পারবো না। সকালে কিছু কাজ করতে হবে।
আরিফাঃ আমি কাজ করে দিবো। আচ্চা তুমি আমার হাঁটুর উপর মাথা দিয়ে এখানে ঘুমিয়ে যাও। আমি তোমার মাথার চুল গুলো বিলি কেটে দিচ্ছি।

আমিঃ ঠিক আছে।
তারপর অনেকক্ষণ এবারে আরিফার হাঁটুর উপর মাথা রেখে গল্প করলাম।
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি তা নিজেই বলতে পারব না। সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো তখন দেখি আরিফার মাথা আমার বুকের উপর। আর আমি আরিফার হাঁটুর উপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছি।
তারপর হঠাৎ করে বাবা ছাদে আসলো।

বাবাঃ কিরে তুই রাতে ঘুমাসনি।
আমি না শোনার ভান করে এভাবেই থাকলাম। বাবা কিছুক্ষণ বকবক করে নিচে চলে গেলো।
বাবা নিচে যেতেই আরিফা বলছে এই উঠো উঠো বাবা এসেছিলো।
আমিঃ আমি জানি বাবা এসেছিলো। কিন্তু লজ্জায় উঠতে পারিনি।

আরিফাঃ তুমি নিজেই ফেঁসে গেলে আমাকেও ফাসালে।
আমিঃ তুমি তো এখানে থাকতে বললে। এখন নিচে যাও ফ্রেশ হতে হবে। আর আমার কাজপত্র গুলো গুছানো লাগবে।

আরিফাঃ নিচে চলো।
তারপর নিচে গিয়ে সব কিছু গুছিয়ে নাস্তা করলাম।
বাসায় বসে বসে গল্প করছি। দুপুরের খাবার খেয়ে বিমানবন্দরের দিকে রওনা দিলাম।
এখন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে।

বাবাঃ কানাডায় গিয়ে একটা ফোন দিবি।
মাঃ ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবি।
তানিশাঃ নিজের খেয়াল রাখবি

আমিঃ হুম।
এখন আমার যেতে মন চাইছে না। কারো মুখের দিকে তাকাতে পারছিনা।
কেউ কান্না করছে না। তবে সবার চোখে পানি তা বুঝতে পারছি।

মাকে জড়িয়ে ধরে আছি।
মাঃ কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করবি না। মন চাইলে আসবি।
আমিঃ তুমি নিজের খেয়াল রেখো।
বাবা কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আরিফার বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
এইবার আরিফার সামনে গেলাম।

আমিঃ আরিফা আমি আসি দোয়া করো। মন চাইলে আমাদের বাসাতেই থেকো।
আরিফা কোন কথা না বলে ঝড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো।
আমি কিছু বলতে পারছিনা গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে গেছে। চোখের পানি পড়ছে কিন্তু মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারছিনা।
কিছুক্ষণ পর বললাম এইবার ছাড়ো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

আরিফাঃ নিজের খেয়াল রাখবে। কোন ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবে। মোবাইলে ভিডিও কল করে কথা বলবে।
আমিঃ ঠিক আছে।
আরিফাঃ কেঁদে কেঁদে বলছে আর কোন মেয়ের দিকে তাকাবে না। বিদেশে সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখে আমাকে ভুলে যেওনা। মনে রেখো তোমার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করছে।

আমিঃ হুম এখন আসি।
তারপর আসতে আসতে ভিতরে গেলাম পিছনে তাকানোর শক্তি আমি হারিয়ে ফেলেছি।
আমি জানি পিছনে তাকালে আমি আর যেতে পারবো না।
ভিতরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেরে বিমানে উঠে বসলাম।
ভিডিও কল দিয়ে সবাইকে দেখলাম। কিছুক্ষণ পর বিমান ছেড়ে দিলো আর ভিডিও কলটা কেটে গেলো।

তারপর কানাডায় দুইদিন পর আসলাম।
অনেক সুন্দর একটা দেশ।
উন্নত দেশ উন্নত জাতি।

সব কিছু থাকলেও আমার জন্ম ভূমির কাছে এসব কিছুই না। আপনারা হয়তো বা বিশ্বাস করবেন না কিন্তু যারা প্রবাসী তারা যানে দেশের মায়া কেমন। দুনিয়াতে একমাত্র প্রবাসীরাই দেশ কে বেশি ভালো বাঁশে। (এখন খারাপ সময় তাদের সাথে চলতে না পারলেও তাদের কে কষ্ট দিয়ে কোন কথা বলবেন না। এই সময়ে আমরা নিজেদের কে সচেতন করে রাখার চেষ্টা করবো গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে বাহিরে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার পাসের মানুষের খোঁজ খবর নেন। এবং আপনার অবস্থান থেকে তাদের কে সাহায্য করুন।

মনে রাখবেন হতদরিদ্র সবার কাছে হাত পাততে পারলেও মধ্যবিত্যরা তা পারে না। সম্পদ ব্যবহার করার জন্য এখন উপযুক্ত সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন। তবে সব কিছু খেয়াল রেখে করবেন নিজের জীবন কে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ইতালিতে অনেক সম্পদ শালী ব্যক্তি তাদের সম্পদ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে আর বলছে এই অর্থ সম্পদ দিয়ে কি লাভ যা আমাদের কোন কাজে আসেনি। বাঁচাতে পারেনি আমাদের আপনজনের। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমিন)

এর মা বাবা কে ফোন করলাম। আরিফা নাকি আমাদের বাসাতেই থাকবে। মেয়েটা পাগলী। এতটা পাগল অথচ ওর উপর রাগ করেই আমি চলে এলাম কাজটা আমার মোটেও ঠিক হয়নি।

যাই হোক এবার আমার রুমে গেলাম।
আমার সাথে একটা রুমমেট আছে মনে হয়।
আমি বাসার মালিকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে রুমে গেলাম দুই তলা বাসা দিতীয় তলায় আমার রুম আমার রুম বলতে আমার পাশের রুমে একজন থাকবে তার সে তার রুমে থাকলেও দুজনের একটা কিচেন একটা ওয়াশ রুম।

তারপর নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ রুমে গেলাম।
গোসল করে ঘুমিয়ে পড়লাম।

বিকালে ঘুম ভেঙে গেল। দরজায় টুকার আওয়াজে।
আমি দরজা খুলে দেখলাম একটা মেয়ে।

আমিঃ কি চাই এখানে।
মেয়েঃ আমি আপনার পাসের রুমে থাকি।
আমিঃ আপনি কি বাঙালি।

মেয়েঃ হ্যা আমি বাঙ্গালী এই বাসার মালিক বাঙালি।
আমিঃ ঠিক আছে আপনি এখন আসতে পারেন। আমি এখন ঘুমাবো।
মেয়েঃ এই যে মিস্টার ধারান। আপনার নাম কি। আপনি কানাডায় কেন আসছেন।
আমিঃ আমার নাম আমিরুল। পড়ালেখা করার জন্য আসছি।
মেয়েঃ গুড। সকালে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত বাথরুমে যেতে পারবেন না।

আমিঃ আপনার নাম কি।
মেয়েঃ আমি রূপা।
আমিঃ দেখো রূপা একসাথে থাকবে কোন জোর খাটাতে যেওনা। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে অন্য বাসা দেখতে পারো। আমার সাথে উচ্চ আওয়াজে কথা বলবে না। মেরে তকটা বানিয়ে দিবো। ১০০% ময়মনসিংহের মাল। কথাটা যেন মনে থাকে।
রূপাঃ ঐ শালা আমিও ময়মনসিংহের প্রডাক্ট এত বড় বড় কথা বলিস না মেরে মাটি চাপা দিয়ে দিবো।
সাথে ঠাস ঠাস করে দিলাম একটা গালে।

আমিঃ এখান থেকে বিদায় হো। অন্য বাসা দেখ টাকা লাগলে আমাকে বলিস।
রূপাঃ আমি তোকে জেলের ভাত খাওয়াবো।
আমিঃ তোকে মার্ডার করবো। তারপর নিজেই জেলে যাবো।

তারপর রূপা আর কোন কথা বলেনি। চলে যায়। অবশ্য রূপা চাইলে আমাকে জেলের ভাত খাওয়াতে পারতো কিন্তু তা করেনি। বরং বাড়িওয়ালা কে বলেছে আমাকে যেন বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
রাতে খুদা লাগছে। বাহিরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এলাম।
রূপাঃ এই যে মিস্টার আপনার খারাপ রুমে রাখা আছে খেয়ে নেন।

আমিঃ আমি তো বাহিরে গিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে এলাম।
রূপাঃ এখানে সহজে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না। একটা লোকের সাথে কথা বলে খাবার ঠিক করেছিলাম। সে আমাকে প্রতিদিন খাবার দিয়ে যায় আজকে বাড়িওয়ালা আপনার নাম দেখিয়ে দিয়েছে। তাই আজ থেকে আপনি ঐ খাবার খাবেন।

আমিঃ ধন্যবাদ রূপা। তখন আমার মাথা নষ্ট ছিলো তাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলাম। আমি সত্যিই দুঃখিত।
রূপাঃ ঠিক আছে আমারো তখন এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি।


পর্ব ১৫

রূপা, ঠিক আছে। আমারো তখন এবাবে কথা বলা উচিত হয়নি।

আমিঃ আপনি কি করেন এখানে কোন কলেজে পড়াশোনা করেন।
রূপাঃ আমি এখানে একটা কলেজে পড়াশোনা করি আর পার্টটাইম হিসেবে একটা শপিং মলে জব করি।

আমিঃ ও। আমি এখানে পড়ালেখা করার জন্য এসেছি। কানাডা নিউ ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি।
রূপাঃ তো। তো আপনি কি কোন পার্টটাইম জব করবেন না।
আমিঃ না। আমার জব করার খুব একটা প্রয়োজন নেই। আর আর্থিক কোনো সমস্যা নেই।
রূপাঃ এখানে মানুষ আর্থিক সমস্যার কারণে কাজ করে না। সময়টাকে কাজে লাগানোর জন্য কাজ করে।
আমিঃ পড়ালেখা ছাড়া অন্য কিছু আমার করার ইচ্ছা আপাতত নেই।

রূপাঃ আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো।
আমিঃ জি আমারো ধন্যবাদ আপনাকে।
রূপাঃ স্বাগতম আপনাকে।
তারপর আরিফা কে ফোন দিলাম।
আরিফাঃ কেমন আছো তুমি। খাওয়া দাওয়া শেষ করছো। এত সকালে ঘুম থেকে উঠলে কিভাবে।

আমিঃ আরিফা। আমি ভালো আছি। আর এখানে সকাল না। এখানে এখন রাত।
আরিফাঃ আচ্চা খাওয়া দাওয়া শেষ করছো। আর তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে সেখানে।
আমিঃ না কোন সমস্যা হচ্ছে নাহ এত চিন্তা করো না তো। খাওয়া দাওয়া শেষ করছি। তুমি নাস্তা করছো।
আরিফাঃ হ্যা আমি নাস্তা করছি। আমি তোমাকে ভিডিও কল দিয়ে।

আমিঃ ওকে দাও।
তারপর ভিডিও কল করে কথা হলো।
একটা ঘুম দিলাম। আর সকালে আবার রূপা ডাকছে।
আমিঃ কি হলো সকালে ডাকছেন কেন?

রূপাঃ আপনার খাবার এসে গেছে। তাই ডাক দিলাম।
আমিঃ ধন্যবাদ কিন্তু এত সকালে ডাক দেওয়ার কি আছে। রুমের সামনে রেখে দিলেই হত।
রূপাঃ একটা কথা বলার ছিলো যদি আপত্তি না করেন তাহলে বলি।
আমিঃ বলেন কোনো সমস্যা নাই।
রূপাঃ এই মাসের বাসা ভাড়াটা আপনি একা দিবেন আর আগামী মাসের টা আমি দিবো। আমার বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে। \

আমিঃ ভিতরে আসুন তারপর বলুন কি সমস্যা আপনার
রূপা ভিতরে এসে বলে বলতে লাগলো।
রূপাঃ আমি অনেক কষ্ট করে এই দেশে এসেছি। বাড়িতে মা আর বাবা আছে। বড় ভাই বিয়ে করে শশুর বাড়িতে চলে গেছে। প্রতি মাসে যা ইনকাম করি তা দিয়ে আমাদের সংসার আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো করেই চলে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে মায়ের অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মানতে পারলাম। কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। এখন অপারেশন করা খুব জরুরি। তাই এই মাসের বাসা ভাড়াটা আপনি দিবেন।

আমিঃ আপনার বাসা ভাড়ার টাকা দিয়ে আপনার মায়ের চিকিৎসা হয়ে যাবে নাকি।
রূপাঃ কোন রকম চিকিৎসা করতে থাকি। তারপর না হয় টাকা হলে অপারেশন করাবো।

আমিঃ ঠিক আছে। যদি আমি আপনার মায়ের অপারেশনের টাকা দেয়। তাহলে কেমন হবে।
রূপাঃ আপনি আমার মায়ের অপারেশনের টাকা দিবেন কেন? কারো দয়ার দান নিতে চাই না।
আমিঃ কোন দয়া আমি আপনাকে করছি না। আপনার পড়ালেখা শেষ হলে ভালো চাকরি পেলেই আমার টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন। অবশ্য তার জন্য আপনাকে শোধ পরিষদ করতে।

রূপাঃ কত টাকা লাভ দিতে হবে।
আমিঃ চাকরি পেলে আমাকে ভালো করে ট্রিট দিতে হবে।
রূপাঃ আর আসল দেওয়ার সময় কতদিন।
আমিঃ বললাম তো চাকরি পেলেই দিতে হবে। চাকরি পেলেই দিবেন। সাথে শোধ স্বরুপ ট্রিট।
রূপাঃ আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আপনার একাউন্ট টাকা চলে যাবে কোন চিন্তা করবেন না।
তারপর রূপা তার রুমে চলে গেল।
নাস্তা করে। কলেজের দিকে রওনা দিলাম।
কলেজে বাঙালি বলতে এক দুইজন ছাড়া তেমন নেই বললেই চলে।

শুরু করলাম পড়ালেখা ভালো করে।
এভাবে কেটে গেল ৬ মাস এখন রূপার সাথে আমার বেশ ভালো একটা সম্পর্ক।

আমরা একে অপরকে বন্ধু বলে মনে করি।
Sunday সব কিছু বন্ধ তাই শপিং করতে যাবো। এমন সময় রূপা বললো সেও শপিং করতে যাবে।
দুজন মিলে শপিং শেষ করলাম।
খাওয়া দাওয়া ঘুরাঘুলি করলাম।
তারপর বাসায়

রাতে খাবার খেলাম। এমন সময় রূপার রুম থেকে চিৎকারের আওয়াজ।
আমি ভিতরে গিয়ে খুঁজে যাচ্ছি কিন্তু পাচ্ছিনা।
আমিঃ রূপা আপনি কোথায়।
রূপাঃ আমি বাথরুমে পড়ে গেছি please help me।

আমিঃ ঠিক আছে আমি আসছি।
তারপর বাথরুমে গিয়ে দেখি রূপা পড়ে আছে। পায়ে প্রচন্ড রকমের ব্যথা পেয়েছে।
রূপাঃ আমি হাঁটতে পারছিনা কিছু একটা করুন প্লিজ। আমার পায়ে অনেক ব্যথা করছে।

আমিঃ কোন কিছু না ভেবে কোলে তুলে বাহিরে এসে টাক্সি নিয়ে হাসপাতালে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর ডাঃ বললো।
ডাঃ প্রেশেন্টের পা ভেঙ্গে গেছে এখন সে আগামী একমাস বেডরেস্টে থাকবে। আগামীকাল উনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।

আমিঃ ধন্যবাদ।
তারপর ভিতরে গিয়ে রূপা কে বললাম,
আমিঃ আপনার পায়ে এমন আঘাত পাওয়ার কি কারণ।
রূপাঃ টয়লেটের ছাদে ময়লা ছিল পরিস্কার করার জন্য চেষ্টা করছিলাম। তখন হঠাৎ করে পরে যায়।

আমিঃ আপনি যদি ছাদ পরিস্কার করতে যেতেন তাহলে টয়লেটে টুল বা চেয়ার থাকতো। আমার সাথে মিথ্যা বলেন কেন?
রূপাঃ আসলে বাথরুমে নাচানাচি করছিলাম।
আমিঃ হা হা হা হা। খুব ভালো হয়েছে।
রূপাঃ আপনার সব কিছু হয়েছে।

আমিঃ আমি আবার কি করলাম।
রূপাঃ আপনি জানেন না।
আমিঃ না।
রূপাঃ থাক আর জানার দরকার নেই।

আমিঃ আপনার ইচ্ছা। তবে আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবেন না। কারণ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
রূপাঃ আমি বিশ্বাস করি না।
আমিঃ সেটা আপনার পার্সোনাল বিষয়। এখন ঘুমিয়ে পড়েন।
রূপাঃ আপনি কোথায় থাকবেন।

আমিঃ এখানেই আসি কোন কিছুর প্রয়োজন হলে বলবেন।
রূপাঃ আপনি আমার সামনে থাকেন তাহলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন হবে না।
আমিঃ রূপা আপনি আমার বন্ধু। আপনার কাছে কোন কিছু লোকানোর কারণ নেই। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আমার জন্য একটা পাগলি মেয়ে পথের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে।

রূপাঃ থাক আর বলতে হবে না।
তারপর বাহিরে এলাম
রাতে রূপা ফোন করে বলে ভিতরে যেতে

তারপর বাথরুমে নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসতাম। কিছুক্ষণ পর আবার বিছানায় শুয়ে দিয়ে বাহিরে চলে আসি।
সকাল বেলা রূপা কে নিয়ে বাসায় এলাম।
রূপাঃ আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আমিঃ কেন?
রূপাঃ আমাকে এভাবে সাহায্য করার জন্য।
আমিঃ আমার হলেও আপনি আমাকে সাহায্য করতেন তা আমি জানি। অতএব ধন্যবাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
রূপাঃ আমার অফিসে একটু খবরটা দিবেন তাহলে হয়তো বা তারা আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিবে না।

আমিঃ ঠিক আছে আমি আপনার অফিসে খবর দিচ্ছি।
রুমে এসে গোসল করে রূপা কে খাবার দিয়ে বাহিরে চলে আসি।
কলেজে ক্লাস করে রূপার অফিসে গেলাম।

আমিঃ শুভ অপরাহ্ন।
ম্যানেজারঃ শুভ অপরাহ্ন। কিভাবে সাহায্য করতে পারি।
আমিঃ স্যার আপনার শপিং মলের একজন কর্মী গতকাল এক্সিডেন্টলি পা ভেঙ্গে ফেলেছে।
ম্যানেজারঃ নাম কী উনার।

আমিঃ উনার নাম মিস রূপা।
ম্যানেজারঃ উনাকে বলবেন উনি যেন সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরেন। আর যতদিন উনি কাজে না আসবেন ততদিন তার সেলারি বন্ধ থাকবে।
আমিঃ ধন্যবাদ কিন্তু উনার চাকরিটা যেন না জায় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন।
ম্যানেজারঃ না উনিতো ঘন্টা হিসেবে কাজ করেন। পার্টটাইম হিসেবে না করে যদি সরাসরি জব করতো তাহলে আমরা তাকে বেতন দিতে পারতাম। আপনি নিশ্চিতে থাকতে পারেন উনার চাকরি যাবে না।

আমিঃ ধন্যবাদ এখন আমি আসি।
তারপর বাসায় এসে রূপা কে বললাম এই কাহিনী।
রূপাঃ এই মাসে কি তাহলে বাসায় টাকা পাঠাতে পারবো না।

আমিঃ এই মাসের রুম ভাড়া আপনি দিবেন খাওয়ার বিল আপনি দিবেন কিভাবে দিবেন তা আমি জানি না।
রূপাঃ আমার কাছে এখন কোন টাকা নাই। কিভাবে দিবো আমি।
আমিঃ তা আমি জানি না। আচ্ছা আপনি আপনার বাসায় প্রতিমাসে কত পাঠান।
রূপাঃ ৩০ হাজার।

আমিঃ ও ঠিক আছে। আপনি এখন রেস্ট নেন।
রুমে এসে একটা লম্বা ঘুম দিলাম।
বাড়ি ভাড়া ও খাবার বিল দিয়ে আসলাম। আর রূপার বাবার নাম্বারে বিকাল করে দিলাম।
এখন বাসায় একটা ফোন দেওয়া দরকার। তাই ফোন দিলাম
আমিঃ বাবা কেমন আছো তুমি।

বাবাঃ বেশ ভালো আছি।
আমিঃ সকালের নাস্তা

বাবাঃ হুম। করছি।
কিছুক্ষণ বাবার সাথে কথা বলে মায়ের সাথে কথা বললাম,
তারপর তানিশার সাথে।
জানতে পারলাম আরিফা ওদের বাড়িতে গিয়েছে।
তারপর ফোন কেটে দিলাম।

আরিফা কে ফোন দিলাম।
আরিফাঃ কেমন আছো তুমি।

আমিঃ ভালো আছি কি করো এখন।
আরিফাঃ বাসায় আসছি। মা বাবাকে দেখার অনেক ইচ্ছা করছিলো তাই।
আমিঃ তুমি চাইলে ওখানেই থাকতে পারো। বিয়ের পর আমাদের বাড়িতে থাকতে হবে।
আরিফাঃ আহারে কি কথা। আমি এখানে কেন থাকবো আমি তো আমার শশুর বাড়ীতেই থাকবো।

আমিঃ তোমার ইচ্ছা।
আরিফাঃ এই জানো তানিশার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
আমিঃ কি বলো বাবা মাকে ফোন দিলাম মা বাবা তো কিছুই বলল না।
আরিফাঃ যদি তুমি তোমার পড়ালেখা শেষ না করে চলে আসো তাই মনে হয় বলেনি।

আমিঃ কবে বিয়ে।
আরিফাঃ আগামী মাসের প্রথম শুক্রবার।
আমিঃ ও আচ্ছা। তুমি যে আমাকে এই কথা বলেছো তা যেন মা বাবা না জানে।

আরিফাঃ ঠিক আছে।
আমিঃ এখন রাখি।
আরিফাঃ আবার রাতে ফোন দিবা কিন্তু।
আমিঃ এখানে এখন রাত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন দিবো তখন তোমাদের ওখানে রাত থাকবে।

আরিফাঃ আমিও তো তাই বললাম,
এরপর ফোন কেটে দিলাম।
মাথাটা নষ্ট হয়ে গেছে। বলেন তো কেমন লাগে। আমার বোনের বিয়ে অথচ আমি জানি না।
বাসায় আবার ফোন করে বললাম,
বাবাঃ কিরে আবার ফোন করলি যে কিছু লাগবে তোর।

আমিঃ বাবা। আজ থেকে আমার নাম্বারে ফোন দিওনা। এখানে থাকা অবস্থায় পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করতে চাই না।
বাবাঃ হটাৎ এমন কথা বলছিস কেন?
আমিঃ আমি পরিবারের থার্ড পারসন তাই যোগাযোগ করতে চাইনা।
বাবাঃ এমন কথা বলছিস কেন?

আমি ফোন কেটে দিলাম। বাসার সাথে আর যোগাযোগ করবো না। যা ইচ্ছা করুক।
এভাবে কেটে গেল আরো একটা বছর। আমার পরীক্ষা শেষের দিকে। আর দুইটা পরীক্ষা আছে। বাসার সাথে যোগাযোগ নেই।
মাঝে মাঝে আরিফার কাছ থেকে বাসার খোঁজ খবর নেয়।
আর আরিফার কাছ থেকে আমার বাসার লোকজন আমার খোঁজ খবর নিচ্ছে তা আমি ভালো করেই জানি।
রূপাঃ আমি তো কয়েক দিন পর দেশে যাবো। আপনি কি এখানে থাকবেন।

আমিঃ আমার আর দুইটা পরীক্ষা আছে পরীক্ষা শেষ হলেই দেশে চলে যাবো। অনেক দিন ধরে মা বাবাকে দেখিনা। বোনের কোন খোঁজ খবর নিতে পারিনি।
রূপাঃ আমি আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই। এখন যদি বলতে না পারি তাহলে জীবনে এই না বলাটা আমাকে একটু একটু করে কুরে কুরে খাবে আর তার জন্য সারাজীবন শুধু কেঁদেই যাবো যে একবার যদি বলতাম।
আমিঃ কি বলবা তার জন্য এত ভূমিকা করতে হচ্ছে কি বলবা বলো তো কোন সমস্যা নাই।
রূপাঃ আমি আপনাকে ভালোবাসি।
আমিঃ কিছুদিন পর আমার বিয়ে। আর আপনি আমাকে প্রপোজ করছেন।

রূপাঃ বিয়ে ঠিক করেছেন বিয়ে করেন নী।
আমিঃ আমার কথা আমি বাদ দিলাম। আমার আরিফার কথা চিন্তা করেন। মেয়েটা নিজের বাবার বাড়ি থেকে পরে আছে আমাদের বাড়িতে। অনেকেই হয় তো অনেক কথা বলে। তা সহ্য করে যেই মেয়েটা আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে তাকে ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
রূপাঃ আমি আপনাকে ভালোবাসে ফেলেছি। আমার জীবনে আপনাকে চাই।
আমিঃ আপনাকে অনেক আগেই আমি বলছি আপনি আমার কথা বুঝতে চেষ্টা করছেন না কেন?

রূপাঃ আমি ভালবাসি আপনাকে।
আমিঃ আপনাকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
রূপাঃ আপনি যদি আমাকে মেনে না নেন তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।

আমিঃ আমাকে জোর করলে আমি আত্মহত্যা করবো।
রূপাঃ তাহলে আপনি আমার সাথে এভাবে কেন থাকলেন। আমার পরিবারের এত খোঁজ খবর কেন রাখলেন। আমি অসুস্থ ছিলাম নিজের হাতে কেন সেবা করলেন। আমার পরিবার কে টাকা দিয়ে কেন সাহায্য করলেন। আমি ভেবেছিলাম আমাকে ভালবেসে আপনি এসব করেছেন। তাহলে কি আপনি আমার উপর করুনা করেছেন।
আমিঃ তুমি ভুল বুঝছো তুমি আমার কাছের বন্ধুদের মাঝে একজন। তোমাকে করুনা করার মত ক্ষমতা আমার নেই। আমার মনটা তো আগেই আরিফা কে না দিতাম তাহলে হয় তো তোমাকে ভালবাসতাম।

রূপাঃ আমি আপনার ছোট বউ হিসেবে থাকতে রাজি আছি।
আমিঃ রূপা তুমি পাগল হয়ে গেছো।
রূপাঃ হ্যা আমি পাগল হয়ে গেছি তোমার জন্য পাগল হয়ে গেছি।

আমিঃ আরিফা যদি শুনতে পায় যে আমি তোমার সাথে একি বাসায় ছিলাম তাহলে আমার অবস্থা খারাপ করে দিবে। আজ থেকে দুই বছর আগে আফিফা আমাকে সাথে নিয়ে একটা ছবি তুলে ছিলো আর সেই ছবি গুলো ফেইসবুকে পোস্ট করেছিলো সেই জন্য আমার গালে তিনটা থাপ্পর দিয়ে ছিলো।
রূপাঃ আমি এসব বুঝিনা না। তুমি আমাকে ভালবাসবে
আমিঃ ভেবেছিলাম দেশে গিয়ে তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব কিন্তু তুমি তা করতে দিবে না মনে হয়।

রূপাঃ একটাবার আমাকে বল ভালবাসি।
আমিঃ আমার ভালবাসা অন্য একজন কে ঘিরে।
রূপা আমাকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকলো
নিজেকে ছাড়িয়ে একটা দিলাম গালে ঠাস করে উঠলো।

তারপর রূপা তার রুমে চলে গেল।
মনটা অনেক খারাপ লাগছে রূপার উপর হাত তোলাকা কোন ভাবেই উচিত হয়নি।
আমি রূপার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে টোকা দিচ্ছি।
আমিঃ রূপা দরজা খুলো।
রূপাঃ আমি দরজা খুলতে পারবো না।

আমিঃ আমি দুঃখিত তোমার উপর হাত তোলাটা আমার উচিত হয়নি I am sorry এখন please দরজা খুলো।
রূপাঃ আমি মরলেই কি তোমার তো কিছু আসে যায় না।
আমিঃ আসে যায় অনেক কিছুই আসে

রূপাঃ কি আসে যায় বলো।
আমিঃ তোমার কিছু হয়ে গেলে তোমার মা বাবা কে মানুষের কাছে হাত পেতে চলতে হবে। তা আমি মেনে নিতে পারবো না। আর তুমি যদি চাও তোমার জন্য আমি নিজের ক্ষতি করবো তাহলে তাই করবো। কিন্তু আমি কাউকে ঠকাতে পারবো না। আমি আমার সমাজের কাছে ঠকবাজ হিসেবে পরিচিত হতে চাইনা।
তুমি কি চাও তোমার কারণে আমার পরিবারের কাছে ছোট হয়ে যায়। তুমি কি চাও তোমার এই একটা ভুলের জন্য তোমার পরিবারের ক্ষতি হোক। তুমি কি চাও আমার ভালোবাসার বাগান নষ্ট হয়ে যাক।

রূপাঃ আচ্চা তাহলে সারাজীবন আমার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখবে।
আমিঃ ঠিক আছে। এখন দরজা খুলো আর পড়তে বসো।

তারপর রুমে এসে পড়তে বসলাম।
আজকে পরীক্ষা শেষ হলো।
বিমানের টিকেট কেটে আসলাম।
রূপা আর আমি একি সাথে এক সাথে বসে বাংলাদেশে যাবো।

রূপাঃ আচ্চা দেশে গিয়েই কি তুমি বিয়ে করবে।
আমিঃ রূপা তোমার মাথায় কি এই কথাটাই ঘুরে।
রূপাঃ পরীক্ষা দিলাম অথচ রেজাল্ট না নিয়ে দেশে যাওয়াটা কি ঠিক হবে।

আমিঃ তুমি আরো এখানে থাকতে চাইলে থাকতে পারো। ভিসা তো আছেই কোন সমস্যা নাই। যখন মন চাইবে তখন চলে আসবে।
আমাকে তো যেতেই হবে।
রূপাঃ পরীক্ষায় যদি ফেল করি তাহলে তো আবার এসে পরীক্ষা দিতে হবে।
আমিঃ হুম তবে আমার পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে ফেল করার মত পরীক্ষা দেয়নি।

রূপাঃ আচ্চা চলো আল্লাহ ভরসা যা হয় দেখা যাবে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে দুজন মিলে শপিং মলে গেলাম। ইচ্ছা মত জিনিস কিনলাম। তারপর বাসায় এসে পেক করে রওনা দিলাম। আর বাসায় ফোন করে বলে দিলাম যে আমি আসছি।
পুরোটা রাস্তা কথা বলতে বলতে চলে এলাম।
ঢাকায় এসে নামলাম।
সব কিছু চেক করে বাহিরে এলাম। আমি আর রূপা পাশাপাশি হেটে আসছি।
দূরে আরিফা মা বাবা আংকেল আন্টি তানিশা আর তানিশার স্বামী দাঁড়িয়ে আছে।

আর তার অন্যপাসে সাইটেই রূপার মা বাবা দাড়িয়ে আছে। রূপার মা বাবা।
আমিঃ রূপা আমার মা বাবা ঐ দিকে দাঁড়িয়ে আছে।
রূপাঃ আমার মা বাবা এদিকে দাড়িয়ে আছে।
আমিঃ তাহলে তুমি তোমার মা বাবার কাছে যাও আমি আমার মা বাবার কাছে যায়।
রূপাঃ তুমি কিন্তু আমার সাথে দেখা করবে।
আমিঃ অবশ্যই দেখা করবো। আর তুমি আমার বাসায় যেও।

রূপা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো। অনেক কিছুর জন্য ক্ষমা চাইলো আমি ছাড়াতে চেষ্টা করছি কিন্তু পাচ্ছিনা। এই দিকে আরিফা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই হয়ছে। এখন দেখি আমার দিকেই আসছে।
পুলিশ দেখা যায় আরিফা কে আটকানোর চেষ্টা করেছে। কি বলে যেন চলে আসছে।

আমিঃ রূপা প্লিজ ছাড়ো তোমার পিছনে আরিফা দাড়িয়ে আছে।
আরিফাঃ এই তুই আমিরুল কে জড়িয়ে ধরে ছিস কেন?
এসেই আমার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।

আমিঃ এইটা কি করলা। আমাকে মারলে কেন?
আরিফাঃ এতদিন এই মেয়ের সাথে লটর পটর করেছিস আর বলেছিস পড়ালেখা করার জন্য বিদেশে গিয়েছিস।
রূপাঃ আপনার নাম কি আরিফা

আরিফাঃ নাম আরিফা হোক আর যায় হোক তুই আমিরুল কে ঝড়িয়ে ধরে ছিস কেন?
রূপাঃ জড়িয়ে ধরেছি আমি আর মারলেন আমিরুল কে এটা কেমন কথা।
আরিফাঃ তোর কোন কথা আমি শুনতে চাই না। আর আমিরুল তুই বাসায় চল তোকে দেখাচ্ছি মজা।
আমিঃ চলো।
রূপাঃ এক মিনিট ধারাও আরিফা আর আমিরুল তুমিও

আরিফাঃ কেন কি সমস্যা তোমার।
রূপাঃ সমস্যা আমার না আরিফা সমস্যা তোমার। তোমাকে যে পাগলের মত ভালবেসে তাকে এমন যায়গায় না মারলেও পারতে। আমি আমিরুল কে কতবার প্রপোজ করেছি তা আমি নিজেও জানি না। প্রতিবার শুধু বলেছে। আমার জন্য আরিফা অপেক্ষা করছে। তোমাকে যে পাগলের মত ভালবেসে তাকে না মারলেও পারতে। আর আমিরুল কে জড়িয়ে ধরার যথেষ্ট কারণ আছে। ঐ আমার জীবনের সেরা একজন মানুষ। অনেক বার আমাকে সাহায্য করেছে। ওর মত বন্ধু পাওয়াতেই আমি খুশি। এমন একটা ছেলে পেলে জীবন ধন্য হয়ে যাবে। তুমি না মারলেও পারতে।
আমিঃ রূপা তুমি চুপ করো। আরিফা চলো।

আরিফাঃ ধারাও। রূপা তুমি বলো।
রূপাঃ আমিরুল আর আমি একি বাসায় ছিলাম কোনো দিন বাজে কথা তো দূরের থাক বাজে নজরেও তাকায় নি।
আমিঃ রূপা প্লিজ তুমি যাও তোমার মা বাবা অপেক্ষা করছে। আর হ্যা আগামী মাসে আবার চলে যাবো। খোদা হাফেজ।

আরিফাঃ সরি। আমি তোমাকে বুঝতে চেষ্টা করিনি।
আমিঃ বাবা মা অপেক্ষা করছে এখন চলো।
তারপর বাসায় আসলাম। একটু পর তানিশা আমার রুমে এলো।

তানিশাঃ কেমন আছিস।
আমিঃ আপনি কে। আমি আপনাকে চিনি না। আমার কোন বোন নেই।
তানিশাঃ আমার উপর রাগ করিস কেন? সবটাই তো মা বাবা করেছে। আমাকে বলতে না করেছিলো তাই বলিনি।

আমিঃ তুই এখন এখান থেকে না গেলে আমি বাসা থেকে চলে যাবো। তোর দশটা পাঁচটা ভাই ছিলো না। একটা ভাই ছিলো তুই বলতে পারতি আমাকে। আর সবার ব্যবহার আমার কাছে অনেক সুন্দর লাগছে। কয়েকটা দিন এখানে আসিস না। আমি আবার কানাডায় চলে যাবো। তখন সারাজীবনের জন্য এই বাড়ি গাড়ি সব কিছু তোর হবে।
তানিশাঃ প্লিজ তুই চুপ কর। আমার আর সহ্য হচ্ছে না।
আমিঃ আমার কেমন সহ্য হয়েছে। তুই যা আমার চোখের সামনে থেকে।
আরিফা এলো আমার রুমে।

আরিফাঃ ফ্রেশ হয়ে আসো। সবাই খাওয়া দাওয়া করার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমিঃ তুমি যাও আমি আসছি।
ফ্রেশ হয়ে খাবার খাওয়ার জন্য গেলাম।

বাবাঃ তোর পরীক্ষা কেমন হলো।
আমিঃ (আসতে করে বললাম) ভালো।
মাঃ কেমন রেজাল্ট হবে বলে মনে হয়।

আমিঃ ভালো।
আংকেলঃ আমি জানি আমিরুল ভালো রেজাল্ট করবে।
আন্টিঃ এখন ভালো একটা দিন দেখে বিয়ের দিনটা ঠিক করাই ভালো।
বাবাঃ আল্লাহর দিন সব দিনি ভালো।

আংকেলঃ আগামী সপ্তাহের মাঝে একটা দিন ঠিক করেন ভাই।
আমি হাত দুয়ে চলে আসছি।
মাঃ খাবি না।
আমিঃ খিদা নেই।

আরিফাঃ কেন কি হয়েছে।
আমিঃ থাপ্পর খেয়ে পেট ভরে গেছে ভরে গেছে। আর খেতে পারবো না। আর সামনের মাসে আমি আবার চলে যাবো। দেশে আসাটা আমার উচিৎ হয়নি। সবাই দান দুভলা দিয়ে বরণ হলেও আমার বরন চর থাপ্পর দিয়েই হয়।

সবাই বড় বোনের বিয়ে থাকতে পারলেও আমার না থাকাটাই সবার কাছে বেশি ভালো মনে হয়। আমি মনে করি এখানে আমি না থাকলেই সবার জন্য অনেক ভালো হবে।
বাবাঃ এইটা কোন ধরনের বেয়াদবি করছিস।
আমিঃ কিছু করার নাই বাবা। তোমরা আমাকে বাধ্য করেছো।

আরিফাঃ সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।
আমিঃ তোমার কোন ভুল থাকতে পারে না। ঠিক এই একটা কারনেই আমি দুই বছরের জন্য দেশ ছেড়ে ছিলাম। আর এইবার ছাড়বো সারা জীবনের জন্য।
মাঃ আমরা না হয় একটা ভুল করেছি তাই বলে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হচ্ছে না

আমিঃ তোমরা তো আমাকে কাছের মানুষ ভাবো না। আর আরিফা তুমি কখনো আমাকে বিশ্বাস করেছো। আগের বার কি হলো তুমি মারলে কান ধরে উটবোস করালে তার আবার মায়ের কাছে মার খাওয়ালে। আচ্চা আমি কি তখন সত্যিই আফিফার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। নাকি রাব্বানী হোসাইনের সাথে গিয়েছিলাম

। আজকে আমার অপরাধ ছিল কি। বলো রূপা আমার সাথে দুই বছর ছিলো একবারে চলে যাচ্ছে হয়তোবা আর কখনো দেখা হবে না এই ভেবে আবেগ আপ্লুত হয়ে ঝড়িয়ে ধরেছিল। তখন আমার কি উচিত ছিলো ওকে ডাককা মেরে ছাড়িয়ে দেওয়া। আপনারা সবাই মিলে আলোচনা করে দেখেন এখন আমি রেডি কথা বলছি তা কি আমার যায়গা থেকে ঠিক নাকি ভুল।

আংকেলঃ হ্যা আমাদের অন্যায় হয়েছে। কিন্তু এখন তুমি যেই সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছো তা আরো বড় অন্যায়।
আরিফাঃ আমি তোমার পায়ে পড়ি দয়াকরে ক্ষমা করে দাও। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না। যদি আবার বিদেশে চলে যাও তাহলে নিজের হাতে মেরে ফেলো আমাকে। আমি আর থাকতে পারছি না।

আমিঃ আগে বিশ্বাস করতে শেখো তার ভালবেসো।
আরিফাঃ প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।

আমিঃ পারবো না তোমাকে ক্ষমা করে জীবনের বাকিটা সময় তোমার হাতের থাপ্পর খেতে পারবো না।
আরিফাঃ আর জীবনেও তোমাকে মারব না।
আমিঃ তার গ্যারান্টি কি।

আরিফাঃ এত গুলো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি আর কখনো হবে না।
আমিঃ ঠিক আছে। কিন্তু তানিশা তুই কখনো আমার সামনে আসবি না। আর তোর জামাই কে বলবি আমার সামনে যেন না আসে।
বাবাঃ আমিরুল আমার জামাই কে নিয়ে কোন কথা বলবি না।
আমিঃ ঠিক আছে। বললাম না। এই আমি গেলাম। আজকের পর আর আসবো না। আরিফা তুমি যাবে আমার সাথে।
আরিফাঃ কোথায়।

আমিঃ যেখানে মন চায় সেখানে।
আরিফাঃ চলো।
আংকেলঃ আমি এখনো বেঁচে আছি। আবার বাসায় চলো তোমরা।
আমিঃ চলেন। আংকেল আপনার মেয়ে কে বিয়ে করে ঘর জামাই থাকবো।
আংকেলঃ আমার কোন আপত্তি নেই।

মাঃ না। আমার ছেলে আমার বাড়িতেই থাকবে। দরকার হলে আমার জামাই যাবে আবার আমার মেয়ের জামাই যাবে।
বাবাঃ কি বলছো এসব তুমি। তোমার মাথা ঠিক আছে

মাঃ আমার মাথা একদম ঠিক আছে। বারবার বলেছিলাম আমিরুল কে ছাড়া বিয়ে দিওনা। আমার একটা মাত্র ছেলে। বিয়ে দিলে তো দিলেই একটা বার জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না। ওর কি জানার অধিকার ছিলো না।

বাবাঃ তাই বলে কি আমার মেয়ের জামাই কে কথা বলবে।
মাঃ তোমার মন চাইলে বাসা থেকে বের হয়ে যাও। আমার ছেলে আমার কাছেই থাকবে।
বাবাঃ তাহলে আমি কোথায় থাকবো।

মাঃ ফুটপাতে হাজার হাজার মানুষ থাকে তাদের সাথে থাকবে।
বাবাঃ তুমি এমন কথা বলতে পারলে।

আমিঃ থাক আর কাউকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে হবে না। আমি তোমাদের কে একটু ঝালাই তে চাইছিলাম। তোমরা সবাই ঝলেছ আর কোন কথা হবে না।
আংকেলঃ আমি আগেই বুঝতে পারছিলাম তাই তালে তাল মিলিয়ে যাচ্ছিলাম।
সবাই হা হা হা করে হাসতে লাগলো।

আমিঃ তবে আমার বিয়েতে তানিশা থাকতে পারবে না। তানিশা দেখুক কাছের মানুষদের বিয়ের সময় না থাকতে পারলে কেমন লাগে। এইটা ওর শাস্তি।
তানিশাঃ আমার কি করার আছে বাবা মা আমাকে না করেছিল।
আমিঃ এখন আমি না করছি। আসবি না।


পর্ব ১৬

তানিশাঃ সবাই কে যখন ক্ষমা করে দিলি আমাকে কেন করতে পারিস না।
আমিঃ তোর জামাই কয়।
তানিশাঃ তোর কথা শুনে লজ্জায় রুমে চলে গেছে।
আমিঃ ঠিক করছি। তোর জামাইয়ের লজ্জা আছে তাই চলে গেছে তোর লজ্জা থাকলে তুই চলে যা।

তানিশাঃ ঠিক আছে। আগামীকাল আমি ওকে নিয়ে চলে যাবো। আর কখনো আসবো না।
আমিঃ আজকেই চলে যা।
তানিশাঃ আমি চলে যেতাম কিন্তু শশুর বাড়ীতে কথা উঠবে তাই যেতে পারছি না।

আরিফাঃ আমিরুল তুমি আর আমার আগের আমিরুল নেই। অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছো।
আমিঃ সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়।
আমিঃ তানিশা আজকে যদি না যাস তাহলে।
তানিশাঃ তাহলে কি।

আমি একটু চুপ করে থাকলাম।
বাবাঃ তাহলে কি।
আমিঃ তাহলে।
আরিফাঃ তাহলে কি।

আমিঃ তাহলে ওর শাস্তি হবে ও আর ওর জামাই আমাদের বিয়ের আগ পর্যন্ত এখানে থাকবে।
সবাই যেন দম ছেড়ে বাঁচলো। আর হাসতে থাকলো।
তানিশাঃ না বিয়ের আগ পর্যন্ত থাকতে পারবো না।

আমিঃ তুই যেতেও চাস না। আবার থাকতেও চাস না। এটা আবার কোন রকমের নাটক।
মাঃ এখনো তো বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়নি।

বাবাঃ আরে তারিখ ঠিক হয়নি এখানে আমরা সবাই আছি তারিখ ঠিক করে নিতে সময় লাগবে না।
আংকেলঃ আমিরুল বিয়ের তারিখ কবে হলে ভালো হয় তোমার কাছে।
আমিঃ আমি জানি না। আপনারা ঠিক করেন।

এই কথা বলে আমি ওখান থেকে তানিশার রুমে চলে গেলাম সবার সাথে কথা বলেও দুলাভাইয়ের সাথে কথা হয়নি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমি।
আমিঃ এই যে গরু চোর ভিতরে আসতে পারি।
দুলাভাইঃ ও তুমি আসো আসো।

আমিঃ মন খারাপ নাকি।
দুলাভাইঃ তেমন কিছু না।
আমিঃ আমার উপর রাগ করে আছেন নাকি।
দুলাভাইঃ তুমি কি মনে করো।

আমিঃ বিয়ের সময় আমার কোন খোঁজ খবর নিয়েছেন।
দুলাভাইঃ আসলে এখানে তোমার পরিবারের কোন দোষ নেই। তারা তোমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে বলনি।
আমিঃ আমার চিন্তা তো আপনাকে করতে বলিনি।

দুলাভাইঃ তোমার বোন যা বলছে তুমি আসলে তেমন।
আমিঃ কি বলেছে।
দুলাভাইঃ তোমার মনটা অনেক নরম কিন্তু একটু অভিমানি।

আমিঃ ঠিক বলেছেন। দুলাভাই আমি একটু এমনি। আচ্ছা আপনার কোন বোন আছে।
দুলাভাইঃ তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে তুমি আমার বোনকে দিয়ে কি করবা

আমিঃ আপনার বোনের বিয়েতে যদি আপনাকে না রাখা হয় তাহলে কেমন লাগবে। তখন কি মুখ দিয়ে মধু বের হবে নাকি নিম পাতার রস।
দুলাভাইঃ তোমার কথা ঠিক আছে।
আমিঃ তাহলে সব কিছু ভুলে যান।

দুলাভাইঃ আমার কোন সমস্যা নাই তো। আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম তোমার বোনের কথা ভেবে ঐ তোমাকে অনেক মিস করেছে।
আমিঃ থাক পাম দিতে হবে না। এখন চলেন ছাদে যায়।
দুলাভাইঃ তোমার বোনের অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারবো না।

আমিঃ কেন যেতে পারবেন না কেন?
দুলাভাইঃ বিয়ের আগে মেয়েরা থাকে একদম সহজ সরল। কিন্তু বিয়ের পর তাদের অনুমতি ছাড়া কিছুই করা যায় না। দুদিন পর বিয়ে করছো তখন বুঝতে পারবে।
আমিঃ দিলেন তো আমার মনে ভয় ঢুকিয়ে।

দুলাভাইঃ কিছুই করার নেই। তবে তোমার জন্য রইলো শুভ কামনা।
আমিঃ ধন্যবাদ। ( গল্পের লেখক আমিরুল ইসলাম)
দুলাভাইঃ তুমি ছাদে যাও।

আমিঃ হ্যা ছাদে যাচ্ছি।
তার ছাদে গিয়ে দেখি আরিফা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।
আরিফাঃ কখন থেকে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি তুমি এত দেরী করলে কেন?
আমিঃ আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবা।

আরিফাঃ কি।
আমিঃ বিয়ের পর কি আমার ইচ্ছা মত চলতে দিবা।
আরিফা আমার হাত ধরে বলল

আরিফাঃ দুনিয়াতে কোন নারী তার স্বামীর দিবে না। স্বামীর ভাগ ছাড়া সব কিছুর ভাগ দিতে রাজি।
আমিঃ বিয়ের পর কি আমাকে মারবে।
আরিফাঃ না। আমি আমার জুনিয়র বরটা কে কিভাবে মারব তখন তো সে আমার স্বামী হয়ে যাবে।
আমিঃ ধন্যবাদ

আরিফাঃ আচ্চা। যদি আগামী সপ্তাহে বিয়ে হয় তাহলে কেমন হয়।
আমিঃ আজকে হলেও আমার কোন আপত্তি নেই। তবে বিয়েটা একটু বড় অনুষ্ঠান করে করার অনেক ইচ্ছা আমার।
আরিফাঃ আচ্চা ঠিক আছে তাহলে আগামী সপ্তাহে হোক।
আমিঃ সেটা তো বাবা মা আংকেল আন্টি ঠিক করবে।

আরিফা হাত ফোন করে বললো বাবা আগামী সপ্তাহে বিয়ে হলে কোন সমস্যা নেই।
আমিঃ এইটা কি হলো।
আরিফাঃ মা বাবা আমাকে তোমার সিদ্ধান্ত যানাতে বলেছে।

আমিঃ তার মানে আমরা এতক্ষণ যা বলেছি মা বাবা সব কিছু শুনেছে।
আরিফাঃ হ্যা কেন কি হয়েছে।
আমিঃ কাম সারছে। তুমি আমাকে বলবা না যে সব কিছু উনারা শুনছেন।

আরিফাঃ তাতে কি হয়েছে। উনারা জেনেছে তাতে আরো ভালো হয়েছে। এখন আগামী সপ্তাহে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে।
আমিঃ তুমি একটাবার আমাকে বলতে।
আরিফাঃ আহারে কি কষ্ট। কিন্তু আমি খুশি। আমি বউ সেজে থাকবো আমার বরটা রাজ কুমার সেজে আমাকে নিয়ে আসতে যাবে। আমার তো ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।
আমিঃ হয়েছে হয়েছে। এখন থামো।

আরিফাঃ তুমি আগামীকাল বের হবে দুজন মিলে শপিং করতে যাবো।
আমিঃ আমি পারবো না। তুমি। একাই করো। আমার শপিং আমার বাসার শপিং আমি কানাডা থেকে করে এনেছি।
আরিফাঃ এইটা তুমি মোটেও ঠিক করনি।
আমিঃ কেন কি হয়েছে আবার।

আরিফাঃ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল দু’জন মিলে বিয়ের শপিং করবো।
আমিঃ ঠিক আছে গায়ে হলুদের কিছুই কেনা হয়নি। তাই কিনবে।

আরিফাঃ তোমার তো মোটামোটি কেনা হয়েছে আমি তো কিছুই কেনা কাটা করিনি।
আমিঃ ও। তাও ঠিক চিন্তা করো না। তানিশা তোমাকে নিয়ে শপিং করবে।

আরিফাঃ হয়েছে হয়েছে। আমার জন্য তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। আমার শপিং আমি একাই করতে পারবো। নিজেরটা তো বিদেশ থেকে করে এসেছো।
আমিঃ কি করবো।

আরিফাঃ কিছুই করতে হবে না।
এমন সময় তানিশা হাজির।
তানিশাঃ আরিফা তকে নিচে যেতে বলছে।

আরিফাঃ কেন?
আরিফাঃ এখন তোকে তোর বাসায় যেতে হবে। আর বিয়ের আগে এখানে আসার দরকার নাই।
আরিফাঃ ঐ তানিশা হুকুম করবি না। তুই তোর স্বামীর বাড়ি যা আমি আমার স্বামীর বাড়ি থেকে যেতে পারবো না।
তানিশাঃ তাহলে আংকেল কে গিয়ে এই কথা বলি।
আরিফাঃ এই না না। আমি আসছি।

তানিশাঃ তুই আয় আমি নিচে যাচ্ছি।
আরিফাঃ দুই মিনিট পর আসছি।
তারপর তানিশা চলে গেল।

আরিফাঃ এইবার একটা কিস দাও তো।
আমিঃ এখন আবার কিসের কিস।

আরিফাঃ এই তুমি দাও আমাকে নিচে যেতে হবে।
আমিঃ আর তো মাত্র অনেকটা দিন। অপেক্ষা করো।
আরিফাঃ বুঝতে পারছি।

এই কথা বলেই ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার উপর।
আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। ছাদে পড়ে গেলাম আরিফা আমার উপর পড়ে গেলো।
আমার বুকের সাথে লেপ্টে আছে তার শরীর

কিছুক্ষণ চোখে চোখে কথা।
আমিঃ আরিফা আমার মাথায় ব্যথা করছে। মনে আঘাত লেগেছে।
আরিফাঃ কয় দেখি দেখি।

আরিফাঃ এই তোমার মাথা থেকে রক্ত পরছে।
আমি মাথায় হাত দিয়ে দেখি অনেক রক্ত ঝড়ছে।

আরিফা একটা চিৎকার দিয়ে গেন হাড়াল।


পর্ব ১৭

তারপর নিচ থেকে বাবা মা আংকেল আন্টি তানিশা দুলাভাই সবাই আসলো।
আন্টি তো চিৎকার দিয়ে কান্না করতে শুরু করেছে।
আংকেল কোন কথা বলতে না।

বাবাঃ কিরে আমিরুল কি হয়েছে। তোর মাথায় রক্ত আবার আরিফা নিচে পরে আছে কারণ কি। তোরা কি ঝগড়া করেছিস।
আংকেলঃ হাসপাতালে নিয়ে চলো। তারাতাড়ি মনে হয় ওরা দুজন মারামারি করেছে।
আমিঃ আংকেল তেমন কিছু না। আসলে হটাৎ করে আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিল তখন মাথায় আঘাত লাগার কারণে রক্ত বের হয়। আর তা দেখে আরিফা অচেতন হয়ে গেছে।

মাঃ তানিশা তুই নিচ থেকে পানি নিয়ে আয়। এদের কে নিয়ে আর পারা গেল না। এরা ছবির চেয়ে নাটক বেশি করে।
তানিশা পানি আনলো এদিকে আন্টি কেঁদেই যাচ্ছে

চোখে পানি দেওয়ার পর হুস ফিরল।
আরিফাঃ আমিরুল কোথায়।
আমিঃ এইখানেই আছি।

আরিফাঃ তোমার মাথা থেকে রক্ত পরা বন্ধ হয়েছে।
আমিঃ না এখনো একটু একটু ব্যাথা করছে আর হালকা রক্ত পড়ছে।

আরিফাঃ চলো তোমাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। আমার কারণে তোমার মাথা কেটে গেছে।
আমিঃ চুপ করো। বাসায় হালকা চিকিৎসা করলেই হবে। এত ইমার্জেন্সি না।
বাবাঃ না হাসপাতালে চল। অনেক রক্ত পরেছে।
আংকেলঃ ঠিক বলছেন।

আন্টিঃ আমার মনে হয়। আরিফা তোমাকে ধাক্কা দিছে। তখন মোবাইলে শুনলাম তো আরিফা তোমাকে মারে।
আমিঃ না আন্টি ও আমাকে মারেনি।
মাঃ তাহলে পরে যাবি কেন?

আমিঃ আরিফা দৌড়ে আমার কাছে আসছিলো তখন নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি তখন আমার উপর পরে গেছে। আর আমি মাটিতে পড়ে গেছি। এই আরকি।
তানিশাঃ আচ্চা এসব কথা বাদ দাও। এখন ডাঃ কে ফোন দিয়ে আনো আর মাথাটা ব্যেন্ডেস করো। তাহলে ঠিক হয়ে যাবে।
দুলাভাইঃ তানিশা একদম ঠিক বলছে বাবা। এখন একটু চিকিৎসা করলেই ঠিক হয়ে যাবে।

তারপর আর কথা বাড়ালাম না। ডাঃ এসে কিছু ঔষধ দিয়ে গেল। আর মাথাটা ব্যেন্ডেস করে দিলো।
সন্ধ্যায় আংকেল আন্টি আরিফা কে বলছে এখন চল বাসায় যায়।
আরিফাঃ আমিরুল কে এইভাবে রেখে যাওয়াটা ঠিক হবে না বাবা

বাবাঃ আরিফা আগে তুমি তানিশার বান্ধবী হয়ে ছিলে। কিন্তু এখন তো তোমার সাথে আমিরুলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তাই তোমাকে এখন তো বাসায় যেতে হবে।
আরিফাঃ আমি তো ভেবেছিলাম যে আমিরুল কে সাথে নিয়ে শপিং করবো।
আংকেলঃ আমিরুল দুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে তখন করিস।

আমিঃ আরিফা ধারাও।
আরিফাঃ আমি জানতাম তুমি আমাকে যেতে দিবে না।
আমিঃ তুমি একটু ধারাও আমি আমার রুম থেকে আসছি।

তারপর রুমে গিয়ে একটা লাগেজ নিয়ে এলাম।
আমিঃ আরিফা এখানে তোমার বিয়ের সব কিছু কেনা আছে।

আরিফাঃ সব কিছু মানে মেয়েদের কি কি লাগে তুমি কিভাবে জানবে।
আমিঃ শপিং করার সময় আমার সাথে একটা মেয়ে ছিলো
যেই মেয়েটার সামনে তুমি আমাকে মেরে ছিলে।

আরিফাঃ তুমি কি রূপার কথা বলছো।
আমিঃ বাহ তোমার দেখছি নামটাও মনে আছে। হ্যা রূপা ছিলো সাথে।
আরিফাঃ আমার ইচ্ছে ছিলো নিজের হাতে শপিং করবো।

আমিঃ এখানে তোমার আংকেল আন্টির জন্য সব কিছু আছে।
বাবাঃ এই ধারা ধারা তুই বিয়ের আগেই শশুর বাড়ির জন্য এত কিছু আনলী অথচ আমাদের জন্য আনলিনা।
আমিঃ আনবো না। কারণ তানিশার বিয়ের সময় তুমি আমাকে বলনি।
মাঃ তাহলে ঘরে আর দুইটা লাগেজ কার কার জিনিস এনেছিস

আমিঃ একটা আমার জন্য আরেকটা বন্ধুদের জন্য।
মাঃ কাজটা কিন্তু ঠিক করলি না।
আমিঃ তোমরাও কাজটা ঠিক করোনি।

তানিশাঃ হয়ছে হয়ছে। তোর জিনিস কেউ চাইছে নাকি।
আমিঃ আরিফা এখন বাসায় যাও।
আরিফাঃ ঠিক আছে আগামীকাল আবার আসবো।

আমিঃ না। বিয়ের আগে আর আসার দরকার নেই।
আরিফাঃ তাহলে তুমি আমাদের বাসায় যাবে।
আমিঃ সেটা দেখা যাবে।

তারপর আরিফা চলে গেলো। মনে হয় রাগ করেছে। যেতে চায়নি। এক প্রকার জোর করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাসায় গিয়ে ফোন করে বলো যে বাসায় গিয়েছে

এভাবে দুইটা দিন কেটে গেলো।
বাবাঃ আমিরুল তুই বাসায় থাক আমরা শপিং করতে যাবো।
আমিঃ শপিং করতে যাবে মানে।

বাবাঃ আমাদের তো কেনাকাটা করার প্রয়োজন তা ছাড়া আমার একটা মাত্র ছেলে সব কিছু তো চমৎকার হতে হবে।
আমিঃ ধারাও তোমাদের ব্যাগ নিয়ে যাও। এইটা তোমাদের ব্যাগ এখানে তোমাদের যা দরকার সবি আছে।
মাঃ তাহলে ঐ দিন তাহলে না করলি কেন?

আমিঃ এমনি। করেছিলাম। এখানে তানিশার দুইটা শাড়ি আর দুইটা জামা আছে সব কিছু ম্যাচিং করে কেনা। তানিশা আর আরিফার সব কিছু রূপা কিনেছে।
আর তোমাদের দুজনের সব কিছু আমি কিনেছি।

বাবাঃ গায়ে হলুদের সব কিছু কিনেছিস।
আমিঃ না। গায়ে হলুদের সব কিছু সবাই মিলে কিনবো।

বাবাঃ তাহলে সবাই মিলে গায়ে হলুদের কাপড় চোপড় তা লাগে সব কিছু কেনাকাটা করি।
মাঃ সব কিছু আবার নতুন করে কিনবো।
বাবাঃ আমিরুল যেহেতু একবার কিনেছে তাহলে আর আমার কেনার কি দরকার।

মাঃ আমি আমার ছেলের জন্য আবার সব কিছু কিনবো তোমার কোন সমস্যা আছে।
বাবাঃ ঐ ওর নিজের পছন্দ মত কিনেছে এখন আবার লাগবে নাকি।
মাঃ বেশি কথা বললে রাতের খাবার বন্ধ করে দিবো।

বাবাঃ আমি কি না করেছি। আমি বলেছি তোমার ছেলের ইচ্চাটাকে মেনে নিতে।
মাঃ টাকা খরচ করতে ভয় পাচ্ছো তা ভালো করেই জানি।

আমিঃ ঠিক আছে চলো।
মাঃ আমিরুল তুই একটু আরিফাদের ফোন করে দেখ তো ওরা কি বের হয়েছে নাকি।
আমিঃ এখানে আবার ও আসছে কেন?

বাবাঃ দুই পরিবার একসাথে শপিং করবে। তাই তো আমার চিন্তা হচ্ছে।
মাঃ এই তুমি টিপ্টামী বন্ধ করো তো।

তানিশাঃ মা আমরা রেডি চলো বের হয়।
মাঃ আমিরুল ফোন করে দেখ ওরা কখন বের হয়েছে কিনা

তানিশাঃ বের হয়েছে আমার সাথে কথা হয়েছে। তোমার ছেলেকে আরিফা ফোন দিয়েছিল নবাব জাদা ফোন ধরেনি।
আমিঃ মিথ্যা বলিস কেন আমাকে ফোন দিলো কখন।

এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো।
তানিশা দরজা খুলে দিলো।

তানিশাঃ আরে এত মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। মা আরিফা আর আংকেল আন্টি চলে এসেছে।
তারপর সবাই মিলে কথা বলছে। হাসাহাসি করছে।

আরিফা চোখে ইশারা করছে আমাকে আমার রুমে যেতে।
আমিঃ মা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।
মাঃ ও হ্যা তুই তারাতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে।

আমি আমার রুমে এলাম বাথরুমে গিয়ে গোসল করে বের হয়ে দেখি আরিফা আমার রুমে এসে বসে আছে।
আমিঃ কি ব্যপার তুমি এখানে।
আরিফাঃ ঐ তোর সমস্যা কি রে। তুই আমার ফোন রিসিভ করিস না কেন?

আমিঃ কি বলছো এসব। আমি আবার কখন তোমার ফোন রিসিভ করলাম না।
আরিফাঃ ফোন চেক কর।
আমি ফোন চেক করে দেখি ২৯ কল।

আমিঃ আসলে ফোনটা সাইলেন্ট করি ছিলো।
আরিফাঃ এবার বল তকে কি করব। মারতে পারবো না। কানধর।
আমিঃ কান ধরবো কেন?

আরিফাঃ আমি বলছি তাই। ফোন না ধরার শান্তি।
আমিঃ পারবো না।
আরিফাঃ তাহলে গালে একটা দিবো।

আমিঃ দাও দেখি তোমার কত বড় সাহস। তুমি দিবা আর আমি কানাডা চলে যাবো।
আরিফাঃ কি এত বড় সাহস আমাকে ছেড়ে কানাডা যাওয়া। যাওয়াচ্ছি।

বলেই আমাকে বিছানায় ফেলে দিলো।
ইচ্ছা মত কিস করলো।
তারপর ছাড়লো।
আমিঃ এইটা কি হলো।

আরিফাঃ এইটাই তোমার শাস্তি। আর কখনো ছেড়ে যাওয়ার কথা বললে তোমাকে জীবনের মত শেষ করে ফেলবো আর আমিও শেষ হয়ে যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে আর বলবো না। এইবার তোমার মুখ পরিষ্কার করে আসো বাথরুম থেকে মুখে তো লিপস্টিক বড়ে আছে।
আরিফা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল তোমার মুখেও।

আমিঃ তুমি আগে পরিস্কার করে আসো। আর তারপর আমি করছি।
আরিফাঃ ঠিক আছে।
তারপর রেডি হয়ে বসার রুমে এলাম।
মাঃ চলেন এবার বের হয়।

আন্টিঃ ঠিক বলছেন।
এখন গাড়িতে উঠার পালা
আমিঃ আংকেল আমরা একটা গাড়ি দিয়ে যায়। আর আপনারা একটা দিয়ে।

বাবাঃ ফাইজলামি করিস। আমরা সব বয়সী একসাথে যাবো। তরা চারজন একসাথে যা।
তানিশাঃ ঠিক বলছো বাবা তোমরা একটা দিয়ে যাও আমরা একটা দিয়ে

তারপর তানিশা প্রথমেই গাড়িতে উঠে পরে।
আমিঃ কি তানিশা তুই আরিফার সাথে বসে থাক।
দুলাভাইঃ আমি আমার বউকে ছাড়া যাবো কেন?

তানিশাঃ এই তুমি সামনে আসো। তুমি আমার পাশে বসে ড্রাইভ করবে দুজন মিলে রোমান্টিক ভাবে যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে যাও কোন সমস্যা নাই। যেতে পারো।
আরিফাঃ আমিরুল তুমি এমন করছো কেন?

আমিঃ কোথায় কেমন করছি।
আরিফাঃ এখানে চুপ করে বসো।

আমিঃ ঠিক আছে বসছি।
তারপর চুপচাপ বসে আছি কোন কথা নেই।

শপিং শুরু করলো আমার জন্য সাধা একটা পাঞ্জাবী।
আরিফার জন্য হলুদ রঙের একটা শাড়ি।
এভাবে সবার জন্য ম্যাচিং করে কিন লো।

আরিফাঃ আমিরুল তুমি পছন্দ করে একটা শাড়ি কিনে দাও।
আমিঃ তোমাকে নীল রঙের শাড়িতে বেশ মানাবে।
আরিফাঃ তাহলে কিনে দাও।

একটা শাড়ি বের করে কিনে দিলাম।
শপিং শেষ।
বাবাঃ চলো সবাই কিছু খেয়ে নেয়।
আংকেলঃ আমারো খুদা লাগছে।

আরিফাঃ সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করবো।
আমিঃ আংকেল শপিং তো এখনো শেষ হয়নি।

আংকেলঃ কেন সবার জন্য তো কেনা হয়েছে।
আমিঃ কেউ কি বাদ যায়নি।
আরিফাঃ না সবার জন্য কেনা হয়েছে

আমিঃ আপনার এতিমখানার বাচ্চাদের জন্য কিনেছেন।
আরিফাঃ সরি সরি একদম ভুলে গেছি।
আংকেলঃ আমিও ভুলে গিয়েছিলাম।

আরিফাঃ তোমরা সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাসায় চলে যাও। আমি আর আমিরুল বাচ্চাদের জন্য শপিং করে দিয়ে আসবো।
দুলাভাইঃ আমিরুল তাহলে গাড়ির চাবি তোমার কাছে রাখো।

আরিফাঃ মা বাবা তোমরা আমার এগুলো নিয়ে যাও। আমিরুল তোমার কাপড় গুলো আংকেল আন্টির কাছে দিয়ে দাও।
আমিঃ এই তানিশা কেটে ভাত খা এই গুলো তুই নিয়ে যাবি।
দুলাভাইঃ আমি নিয়ে যায়।

আমিঃ আপনারা দুজন মিলে নিয়ে যান।
এরপর আমরা আলাদা ভাবে শপিং করতে শুরু করলাম।

চার ঘন্টা পর শেষ হলো। আরিফা সব বিল দিলো।
আরিফাঃ চলো এবার কিছু খেয়ে নেয়।
আমিঃ এগুলো দিয়ে তারপর খাওয়া দাওয়া করবো।

আরিফাঃ কিন্তু এগুলো নিয়ে যাবো কিভাবে অনেক গুলো।
আমিঃ ধারাও দেখছি কি করা যায়।
তারপর মিজান কে ফোন দিলাম।
আমিঃ কিরে কয় তুই।

মিজানঃ কে আমিরুল।
আমিঃ হুম।
মিজানঃ দেশে কবে এলি।
আমিঃ কয়েকদিন হয়েছে

মিজানঃ কয়েক দিন ধরে আসছিস অথচ এখন ফোন দিলি তুই কিরে মানুষ নাকি বেইমান।
আমিঃ অপরাধ যেহেতু করেছি তো সাজা যা ইচ্ছা দিতে পারিস। তুই এখন শপিং মলে আয় আমি ট্রিড দিবো।
এভাবে সাইদ কেউ আনলাম।

সাইদঃ কিরে কেমন আছিস।
আমিঃ ভালো আছি তুই কেমন আছিস।

এমন সময় মিজান আসলো
আমিঃ তোরা এই গুলো নিতে আমাদের কে একটু সাহায্য কর।
মিজানঃ তার মানে সার্ত ছাড়া আমাদের ফোন দেসনি।
আমিঃ এই গুলো নিয়ে চল।

তারপর আর কোন কথা বলল না।
দুইটা রিক্সা নিয়ে যেতে থাকলাম।
রিক্সা থামলো।
আরিফাঃ চলেন ভিতরে যায়।

তারপর সব কিছু দেখে মিজান আর সাইদ কোন কথা বলছে না।
আমিঃ চল এখন খেতে যায়।
মিজানঃ দোস্ত তরে ভুল বুঝেছিলাম।

সাইদঃ আমি মনে মনে পুরোটা রাস্তা তরে কিস্তি দিয়ে আসছিলাম।
আমিঃ বাদদে তো।
আরিফাঃ আজকে আমি ট্রিট দিবো।

আমিঃ আমি দিবো।
সাইদঃ আপনাদের দুজনের ট্রিট আমরা গ্রহণ করলাম।
মিজানঃ আমিও খাবো।

আমিঃ মিজান আর সাইদ তরা দুজন তোদের পুরো পরিবারকে নিয়ে সামনের শুক্রবার আমাদের এখানে থাকবি। আর তার আগে তরা আমার বাসায় আসবি। আমাদের বিয়ে শুক্রবারে।
সাইদঃ তাইলে তো আজকে ডাবল ট্রিট দিবি।

মিজানঃ দুইজন খাওয়াবে তাহলে তো ডাবল হলো।
এরপর খাওয়াদাওয়া শেষ করে ওরা দুজন চলে গেলো।
আমি আর আরিফা বসে আছি।

আরিফাঃ এখন আমার হাত ধরে হাঁটবে।
আমিঃ দাও হাত দাও।

তারপর হাট হাঁটতে আরিফার বাসায় চলে এলাম। আরিফা খাওয়া দাওয়া করে যাও।
আমিঃ কি খাওয়াবে।
আরিফাঃ কি খাবে।
আমিঃ ঐটা দিবে।

আরিফাঃ এখানে কেন রাস্তায় যখন ছিলাম তখন বলতা।
আমিঃ ঠিক আছে। এখন চলি পরে কথা হবে।

আরিফাঃ এদিক সেদিক তাকিয়ে দিলো একটা কিস।
আমিঃ এবার ছাড়ো।
আরিফাঃ আরো লাগবে।

আমিঃ না। বাসর ঘর পর্যন্ত চার্জ হয়ে গেছে।
বাসায় এলাম।
মাঃ আমিরুল এদিকে আয়।
আমিঃ কি।
বাবাঃ আগামীকাল আমার সাথে আমার অফিসে যাবি।
আমিঃ কেন?

বাবাঃ ব্যবসার কাজ বুঝে নিবি তাই।
আমিঃ এখনি।
বাবাঃ দুদিন পর বিয়ে। বেকার হয়ে বিয়ে করার দরকার কি।

তানিশাঃ আমি বাবার সম্পত্তি চাই না। তবে মায়ের সম্পদ আমার জন্য ঐ টাতে হাত দিবি না। আমি সময় হলে চেয়ে নিবো।
আমিঃ মা দেখছো তোমার সম্পদ থেকে কিভাবে বঞ্চিত করছে।
মাঃ কিছুই করার নেই। তোমারটা তুমি বুঝে নাও।


পর্ব ১৮ (অন্তিম পর্ব)

মাঃ কিছুই করার নেই তোমারটা তুমি বুঝে নাও।
আমিঃ ঠিক আছে আমি রাজি

এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এলাম।
আরিফাঃ ফোন দিলো।
আরিফাঃ এই।
আমিঃ কি।

আরিফাঃ খাওয়া দাওয়া শেষ করছো।
আমিঃ হুম তুমি করছো।
আরিফাঃ হুম।
আমিঃ আচ্চা তাহলে এখন ঘুমাও

আরিফাঃ এত তাড়াতাড়ি ঘুমাবে।
আমিঃ হ্যা কারণ আমার সকালে কাজ আছে।
আরিফাঃ বাববাহ। তোমার আবার কিসের কাজ।

আমিঃ আগামীকাল থেকে অফিসের সব কাজ দেখার দায়িত্ব আমার উপর।
আরিফাঃ বিয়ের কয়েকটা দিন পর দায়িত্ব নিতে
আমিঃ বাবা যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে।
আরিফাঃ আংকেল যদি দিয়ে থাকে তাহলে আমাদের ভালোর জন্যেই করেছে।
আমিঃ হুম। আচ্চা এখন রাখি।

আরিফাঃ ঠিক আছে।
তারপর একটা ঘুম দিলাম। সকালে বেলা ঘুম থেকে উঠেই হাল্কা নাস্তা করে বাবার সাথে রওনা দিলাম।
বাবা এক এক করে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন এবং সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দিলো।
এরপর বাবা বাসায় চলে গেলেন।

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কিভাবে কি করবো।
একটু পর একজন বললো স্যার অফিসের জুনিয়র ম্যানেজার নেওয়া হবে। আপনি যদি একটু দেখতেন।
আমরা প্রাথমিক কয়েকজন কে সিলেক্ট করেছি।
আপনি ভাইভা নিলে বেশি ভালো হতো।

আমিঃ ঠিক আছে আপনি যান আমি আসছি।
একটু পরে গেলাম।
সবাই বেশ ভালো উত্তর দিচ্ছে।

একজন কে বললাম,
আমিঃ যদি দেখেন অফিসে কোন টাকা নেই তাহলে কিভাবে কর্মচারীদের বেতন দিবেন।
সে উত্তর দিলো। কর্জ করে।

আমিঃ আপনাকে কে টাকা কর্জ দিবে।
এভাবে কয়েক জন কে বলার পর একজন আসলো আমি তো বিশ্বাস করতে পারছিনা।
এইটা তো রূপা।

রূপা প্রথমে আমাকে দেখে একটু কোতুহলী হয়ে গিয়েছিল। তারপর নিজেকে সামলিয়ে নিলো।
আমিঃ যদি দেখেন অফিসে টাকা নেই তাহলে কর্মচারীদের বেতন দিবেন কিভাবে

রূপাঃ অফিসের চেক বইয়ে টাকার পরিমাণ লিখে দিবো।
এরপর দুই একজন প্রশ্ন করলো।
আমিঃ বললাম এর চাকরি কনফ্রাম করুন।

এরপর রূপা কে বললাম যাওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করে যেতে। একটু পর রূপা আসলো।
রূপাঃ ভিতরে আসতে পারি।
আমিঃ হ্যা আসো।
রূপাঃ কিছু বলবেন স্যার।

আমিঃ মজা করো আমার সাথে।
রূপাঃ এইটা অফিস তাই বললাম,
আমিঃ আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে তুমি কিন্তু আসবে।

রূপাঃ দাওয়াত যেহেতু পেয়েছি। তখন আসবো।
আমিঃ তাহলে এখন আসি। আর শোন একটা কথা বেতন পেলে আমার ট্রিট কিন্তু দিতে হবে।
রূপাঃ অবশ্যই দিবো।

আমিঃ তাহলে এখন আসি বাসায় যেতে হবে।
এমন সময় আরিফা আমার রুমে এলো।
আরিফাঃ এই রূপা তোমার অফিসে কেন?

আমিঃ ও এই অফিসে চাকরি নিয়েছে। আর আমাদের বিয়ের দাওয়াত দিলাম।
আরিফাঃ অফিসিয়ালি দাওয়াত দিলেই হতো পার্সোনাল ভাবে দেওয়ার কি আছে।
আমিঃ রূপা তুমি এখন আসো।

রূপা চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ চলল আরিফার বকবক।
আমিঃ আরিফা। তুমি কিন্তু কথা দিয়ে ছিলে আমার সাথে আর বাজে ব্যবহার করবে না।

আরিফাঃ তুমি অন্য কোন মেয়ের সাথে কথা বলবে না।
আমিঃ তুমি আমার বন্ধুদের কে অপমান করছো। আচ্চা রূপা কি ভাববে। ভাববে আমাকে ভালবাসার চেয়ে বেশি বেশি সন্দেহ করো।
আরিফাঃ কে কি ভাবলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
আমিঃ অফিসে আসসো কেন?

আরিফাঃ তুমি নাকি খাওয়া দাওয়া করোনি তাই আসছি। দুজন মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করবো।

আমিঃ ঠিক আছে বসো আমি ব্যবস্থা করছি।
এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে আরিফা কে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম।

রাতে আরিফা ফোন দিলো।
আমিঃ কিছু বলবা।

আরিফাঃ আগামীকাল গায়ে হলুদ। তুমি কি একটু বাড়িতে আসতে পারবা।
আমিঃ আজকেই তো দেখা হলো।

আরিফাঃ যখন মন চাইবে তখন দেখা করবে কোন সমস্যা আছে তোমার।
আমিঃ না কোন সমস্যা নাই। তবে আমার একটা পার্সোনালিটি আছে।
আরিফাঃ আমার সাথে তোমার কোন পারসোনালিটি চলবে না।
আমিঃ ঠিক আছে আমি চেষ্টা করবো।

একটা ঘুম দিলাম। সকালে মানুষের চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
বাড়িটা সাজানো হচ্ছে।

অনেক মেহমান আসছে।
তানিশার জামাই বাড়ি থেকে অনেক মানুষ আসছে।
মাঃ আমিরুল ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করেনে।
আমিঃ আছে।
নাস্তা করে বসে আছি।
এদিক সেদিক বাচ্চাদের ছোটাছুটি। বিয়ের আমেজ কিছুটা অনুভব করতে পারলাম।

একটু পর মিজান সাইদ ওদের বউ নিয়ে এলো।
আমি মিজান মিজানের স্ত্রী সাইদ স্ত্রী দুলাভাই তানিশা মিলে আডডা দিচ্ছি।
এমন সময় আরিফা ফোন দিলো।
আমিঃ কি হলো কিছু বলবা।
আরিফাঃ তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।

আমিঃ পাগলামী করছো কেন?
আরিফাঃ তুমি যেভাবেই হোক একটু আসবা।
আমিঃ লোকে জানলে কি বলবে।
আরিফাঃ আমি এত কিছু বুঝিনা। আর শোন আসার সময় আইসক্রিম নিয়ে আসবে।

আমিঃ তানিশা তোমার জন্য আইসক্রিম নিয়ে যাবে।
আরিফাঃ আমি বলছি আসতে তো আসবে না আসলে খবর আছে।
আমিঃ চেষ্টা করবো।

আরিফাঃ না এলে খবর করে ছাড়বো।
সন্ধ্যায় আরিফাদের ওখান গায়ে হলুদ দেওয়ার জন্য অনেক মেহমান এলোহ সাথে আফিফা আর রাব্বানীও এসেছে।
তারপর গায়ে হলুদ দেওয়া শেষ হলো।

এখন আমাদের এখান থেকে যেতে হবে।
আরিফা তো ফোনের উপর ফোন করছে।
আমিঃ আমি কিভাবে যাবো বলো। এইটা সম্ভব নয়।
আরিফাঃ আমি তো এত কিছু জানলে চাইছি না। আমি মেনে নিতে পারলে কার কি সমস্যা।

আমিঃ চেষ্টা করবো।
আরিফাঃ না এলে খবর আছে।
এরপর অনেকেই গেল কিন্তু আমি যেতে পারলাম না। আমার সাথে কিছু বাচ্চা বসে আছে।
আরিফা আবার ফোন করলো।

আমিঃ কি হয়েছে আমার সাথে অনেক বাচ্চা বসে আছে আমার কিছু করার নাই। ক্ষমা করো আর আগামীকাল তো দেখা হচ্ছে।

আরিফাঃ তোরে দেখা করতে বলছি তুই দেখা করবি। তুই আমার কোন কথা শুনিস না। তরে তো আমি খাইছি।
আমিঃ এমন পাগলামি করছো কেন?

আরিফাঃ আজকে আমার সাথে দেখা না করলে খবর আছে বলে দিলাম।
আমিঃ ঠিক আছে। একটু রাত হোক আমি সব ব্যবস্থা করছি।
আরিফাঃ ভালো করে বলি ছিলাম বাবু তখন শুনো নি এখন লাইনে আসছো তো। একটু তেরা হয়ে।

আমিঃ আল্লাহ যদি আমারে উঠাই নিতো তাহলে মনে হয় বেঁচে যেতাম।
আরিফাঃ এত সহজে ছাড়ছি না আমিও সাথে সাথে মরে যাবো আর তোমার কবরের পাশে কবর দিতে বলে যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে। দেখা যাবে।

গায়ে হলুদ দিয়ে সবাই চলে আসছে।
আমিঃ মিজান সাইদ আমার সাথে এক যায়গায় যেতে হবে।
মিজানঃ কয়।

আমিঃ আরিফা দেখা করতে বলছে।
সাইদঃ ঠিক আছে। তুই বাহিরে আয়।
তারপর বাহিরে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে এলাম।

আমি মাক্স লাগিয়ে মিজান আর সাইদের সাথে ভিতরে গেলাম।
মিজানঃ একটু আগে এখানে আমি আমার ফোনটা ফেলে গেছি কোথায় রেখেছি একটু খুঁজে দেখতে হবে। তাই এলাম।

সাইদ তুই ঐ দিকে দেখ আমি ছাদে যায়। আর তুই বউয়ের ঘরের দিকে যা।
আমি মনে মনে বলি মিজানের ভালো বুদ্ধি আছে।
এরপর আরিফার রুমে গেলাম। আমার মুখে মাক্স লাগানো থাকলেও আরিফা চিনে ফেলেছে।

আরিফাঃ তোমরা সবাই একটু বাহিরে যাও।
সবাই বাহিরে গেলে আরিফা বলে।
আমার আইসক্রিম কোথায়।
আমিঃ আনতে পারিনি গো।

আরিফাঃ কেন?
আমিঃ এখন আমি আইসক্রিম খেতে আসছি খাওয়াতে না।
আরিফাঃ ধারাও দেখাচ্ছি মজা। এই বলে আন্টিকে ডাকতে শুরু করলো।
আমিঃ এই কি করছ।

আরিফাঃ আবার চিৎকার দিলো।
আমি আর কোন কিছু না বলে কিস করে বসলাম।
আরিফা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা।
একটু পরে ছাড়লাম।

আরিফাঃ আরেকটু হলে আমি মরেই যেতাম।
আমিঃ এখন আমি আসি।
আরিফাঃ ধন্যবাদ আসার জন্য।

আমিঃ হুম চলি।
তারপর বাসায় ফিরে এলাম। আজকে আর তেমন ঘুম হলো না। সকাল বেলা নাস্তা করার পর মজা করতে সবাই ব্যস্ত আমি আরিফার সাথে কথা বলছি।
জুমার নামাজের পর বর সেজে রওনা দিলাম।
সব আজকে তো আরিফাকে দেখতে পাচ্ছি না। খাওয়া দাওয়া বিয়ের কাজ শেষ। এতক্ষণ আমি আরিফা কে দেখতে পাইনি।

সব এর যখন আসার সময় হলো তখন দেখলাম। বাপরে বাপ এইটা তো আরিফা না। মনে হচ্ছে একটা পরী। বেনারশি শাড়িতে দারুন মানিয়েছে। চোখ ফিরাতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোন পরী জগতের রানী। বিদায় নেওয়ার সময় কান্না করছে।

অনেক কান্না করলো।
ওর কষ্টটা বুঝতে পারলাম
বিদায় নিয়ে বাসায় এলাম। সবাই নতুন বউ দেখতে। কিন্তু ওকে সবাই আগেও দেখেছে। এখন অন্ন ভাবে দেখছে। এখন বউ হিসেবে দেখছে।
আমি ছাদে চলে এসেছি। রাতের ১১ দিকে দুলাভাই আমাকে নিয়ে আমার রুমে দিয়ে গেলেন।

আমি ভিতরে যেতেই সবাই রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলো।
আমি আরিফার পাসে গিয়ে বসে আছি।
আরিফাঃ তুমি গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে আসো।
আমিঃ ঠিক আছে। এরপর দরজা বন্ধ করে। খাটে গেলাম।
আরিফাঃ এবার খাটের নিচে নামো।

আমিঃ মানে কি। মজা করছো নাকি আমার সাথে।
আরিফাঃ না। তুমি নিচে যাও।
আমিঃ খাটের নিচে নামলাম।
আরিফাও খাটের নিচে নামলো।
আমিঃ কি মতলব তোমার।
আরিফাঃ একদম চুপ করো।

তারপর চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় আরিফা এসে পায়ে ধরে সালাম করলো। আমি মনে মনে অনেক খুশি হয়েছি।

তারপর আরিফা বলল তুমি এবার খাটে যাও। আমি একটু আসছি। ডেসিন টেবিলের কাছে গিয়ে গহনা গুলো খুলে খাট আসলো।
আরিফাঃ আমি আর কখনো তোমাকে তুই তুই করে বলবো না। তোমার উপর হাত তুলবো না।

আমিঃ আহ আরো আগে বিয়ে করলে এতদিন তাহলে কোন সমস্যাই ছিলো না।

আরিফাঃ তবে কোন মেয়ের সাথে কথা বললে একবারে খুন করে ফেলবো।
আমিঃ ঠিক আছে কখনো তাকাবো না। যাও এখন ঘুমাও।
আরিফাঃ ঘুমাবো মানে।

আমিঃ তুমি উত্তর দিকে তাকিয়ে ঘুমাও আমি দক্ষিণ দিকে তাকিয়ে ঘুমাই কারণ তুমি বলছো কোন মেয়ের দিকে না তাকাতে।

আরিফাঃ এই মজা করো আমার সাথে।
আমিঃ তুমি বলছ মেরে ফেলবে তাই জীবন বাঁচাতে এইটাই করতে হবে।

আরিফাঃ কোন কথার সুযোগ দিলো না আগেই ঝড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো।

তারপর, তারপর…..

কি হলো না জানলেও চলবে।

তবে…..

আজকে আমাদের বিয়ের দুই বছর হয়েছে।

আমরা দুজন মিলে ফেইসবুক থেকে একটা বাচ্চা ডাউনলোড দিছি। নাম আরিফ।

লেখা – আমিনুল ইসলাম

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “আপুর বান্ধবী যখন বউ – Heart Touching Bangla Love Story” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ)

আরো পড়ূন – মেঘমুখ – ছোট্ট মেয়ের মোবাইল প্রেম