কষ্টের প্রেমের গল্প

আপজনের অবহেলা (২য় খণ্ড) – Koster golpo bangla

আপজনের অবহেলা – Koster golpo bangla: রিমির এমন কান্না দেখে আমার বুকের ভিতর ভীষন ব্যাথা অনুভব করলাম৷ রিমি পাগলের মত আমার পা ধরে কান্না করতে লাগল৷ আমি রিমির থেকে ছাড়িয়ে ছাদে চলে আসলাম৷ তারপর…


খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প

পর্ব ৮

কথা টা বলার সাথে সাথে তনিমার দিকে তাকালাম দেখি তনিমার চোখদিয়ে অঝর ধারাই কান্না করতে করতে বাইরে চলে গেল৷ তনিমা মনে হয় আমাকে ভালবাসে আর তনিমা মনে হয় আমার কাছ থেকে এ কথা আশা করিনি৷

আংকেলঃ তাহলে কেন তনিমাকে বিয়ে করতে পারবেনা৷ কি সমস্যা বল আমি দেখছি৷
আমিঃ অনেক সমস্যা আছে আংকেল৷ আপনি আমার পুরো কাহিনি জানেন না৷ কেন আমি ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে কেন এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে আসলাম৷ আমার একটা পুরোনা অতিত আছে৷ আর সেই অতিত শুনলে আপনি আর আমার সাথে আপনার মেয়েকে বিয়ে দিবেন না৷

আংকেলঃ তোমার একটা অতিত আছে৷ কই তুমি আমাকে তো আগে বলনি৷
আমিঃ তখন বলার মতো পরিস্থিতি ছিলনা তাই বলিনি কিন্তু আপানাদের কাছ থেকে আর লুকাবো না সব বলব আজ৷
তারপর আমি তনিমা কে ডাকলাম আর আমার অতিতের পুরো কাহীনি বলতে থাকলাম৷

তারপর আমি আমার পুরানো অতিত সব খুলে বললাম৷ দেখি তনিমা কান্না করতে করতে অন্য রুমে চলে গেল৷ আর তনিমার বাবা কোন কথা না বলে চলে গেল৷ তারপর আমি নিজের রুমে চলে আসলাম৷ দেখি আমার ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে৷ আজ মা বাবা আর রিমির কথা খুব মনে পড়ছে৷ এতদিনে হয়ত রিমি অন্য কারো সাথে বিয়ে করেছে৷ কারন রিমির কাছে তো আমি একটা খারাফ মানুষ ছিলাম৷ আর মা মনে হয় আমার উপর এখোনো রেগে আছে৷ পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে সামির পাশে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই জানিনা৷

পরের দিন সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম৷ অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি৷ কিন্তু আজ তনিমা আমাকে নাস্তা করতে ডাকল না৷ মনে আমার উপর রেগে আছে৷ কিন্তু আমি অফিসে গেলে সামির কি হবে৷ সামির বয়স ৮ মাস তাই তাকে একা রেখে যাওয়া যাবেনা৷ প্রতিদিন তনিমা সামিকে তার কাছে নিজের মায়ের মত দেখাশুনা করত৷ কিন্তু আজ কি হবে৷ আমি বিছানায় মাথা নিচু করে বসে আছি৷
তখনি তনিমা আসলো আর বললো৷ আপনি অফিসে চলে যান আমি সামির কে দেখে রাখছি৷ আসলে কাল একটু দেড়ি করে ঘুমানোর জন্য সকালে উঠতে দেড়ি হয়ে গেল৷ তাই আপনার জন্য নাস্তা তৈরি করতে পারলাম না৷ কাল থেকে আবার তৈরি করে দেব৷

আমি তনিমার দিকে তাকিয়ে দেখি তনিমার চোখমুখ ফুলে আছে আর চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে৷ মনে সারারাত কান্না করেছে৷
আমিঃ তনিমা আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও তোমাদের কাছ থেকে আমার পুরানো অতিত লুকানোর জন্য৷ যদি সেদিন সবকিছু বলে দিতাম তাহলে আজ তোমাকে কষ্ট পেতে হত না৷ কিন্তু কি করব বল আমি যে চাইলেও সবকিছু ভুলে যেতে পারব না৷

তনিমাঃ আপনি কেন ক্ষমা চাইছেন আর অন্যায় তো আমি করেছি৷ আমি আপনার সম্পর্কে সব কিছু না জেনে আপনাকে ভালবেসেছি৷ আমি আর আপনাদের মধ্যে আসব না৷ কিন্তু সামিকে আমার কাছ থেকে দুড়ে রাখবেন না৷ সামি আপনার ছেলে আমি কোনদিন ভাবিনি৷ সবসময় নিজের ছেলে মনে করে এসেছি৷ প্লিজ সামিকে আমার কাছে থেকে দূড়ে সরিয়ে দেবেন না৷
আমি তনিমার কথা চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকল৷ রিমির মধ্যে আর তনিমার মধ্যে কত পার্থক্য৷

রিমি নিজের সন্তানকে অমানুষ বলে গালাগালি করে৷ আর তনিমা সামি কিছু না হওয়া সত্বেও সামির জন্য কত ভালবাসা তার৷
আমি সামির কাছে গিয়ে সামির দুইগালে দুইটা চুমু দিয়ে সামিকে তনিমার কোলে তুলে দিয়ে চলে আসলাম অফিসে৷
এভাবে চলতে থাকলো আমার একাকিত্ব জীবন৷ এখন সামি হাটতে শিখে গেছে৷ আর সবসময় তনিমার সাথে সবসময় দুষ্টামি করে৷ তনিমা এখন আর আমার উপর তেমন অধিকার দেখাই না৷ হয়ত তনিমা বুঝে গেছে যে পাওয়ার নাই তা নিয়ে ভেবে লাভ নাই৷

আর তনিমা সামিকে সবসময় কাছে রাখে৷ খুব আদর করে সামিকে৷ একদিন অফিস থেকে বাসাই আসলাম৷ তখন তনিমা সামি কে আমার কাছে দিতে আসল৷
তনিমাঃ আজ সামি আমাকে মা ডেকেছে জানেন। (খুশি হয়ে বলল)
আমিঃ তনিমা তুমি সব জান আমার প্রতি ঘটে যাওয়া সব ঘটনা৷ আর আমি চাইনা সামি আপনাকে মা বলে ডাকুক৷ কারন আপনি তো আর সারাজীবন আর সামি কে দেখেশুনা করবে না৷ আজ না হয় কাল তোমার বিয়ে হয়ে যাবে৷ তখন আমি চাইনা সামি তার মার জন্য কান্না করুক৷ তাই তুমি ভবিৎষতের কথা চিন্তা করে এখন মানিয়ে নিলে খুশি হতাম৷
তনিমাঃ হুমমম আমি বুঝতে পারছি আমি চেষ্টা করব৷ (মন খারাফ করে)

এভাবে চলে গেল আরো 2 বছর৷ এখন সামি ভালবাবে কথা বলতে পারে৷ সামি এখন আমাকে আব্বু বলে ডাকে৷ যেদিন সামি আমাকে আব্বু বলে ডেকেছিল সেদিন যে কত খুশি হয়েছিলাম তা ভাষাই প্রকাশ করা যাবেনা৷ আর এখন সামি তনিমাকে আন্টি বলে ডাকে৷ আমি জানি এসব সব তনিমা শিখিয়ে দিছে৷
এভাবে আরো কিছুদিন যাওয়ার পর তনিমা এসে বলল বাবা আমার বিয়ে ঠিক ফেলছে৷ কিন্তু সে সামি কে ছাড়া থাকতে পারবেনা৷ বলে অঝর ধারাই কান্না করতে থাকল৷ আমি কি বলে তনিমাকে সান্তনা দেব কিছু খুজে পাচ্ছিনা কারন৷ সেই ছোট থেকে সামি কোলে তুলে নিজের হাতে খাওইয়ে বড় করছে৷ সবাইর কষ্ট হওয়ার কথা৷ কিন্তু বাস্তব টাকে মেনে নিতে হবে নইলে পরে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে৷

কিছুদিনের মধ্যে তনিমার বিয়ে হয়ে গেল৷ এই কয়দিন সামিকে ামি সবসময় কাছে নিয়ে রাখতাম৷ কারন সামি এখনো ছোট তাই কিছুদিন তনিমার থেকে দূড়ে রাখলে সামি হয়ত তনিমাকে আস্তে আস্তে ভুলে যাবে৷ তনিমা বিয়ের দিন সামি কে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করেছিল৷ যেন মা তার ছেলেকে ছিরদিনের জন্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে৷

তনিমার কান্না দেখে আমারো খুব কান্না পাচ্ছিল৷ তারপর তনিমার বিয়ে হয়ে গেল৷ কিছুদিন সামি কান্না করছিল তনিমা না দেখতে পেয়ে৷ কিন্তু সামি ছোট সে কারনে কিছুদিন পর আর কান্না করেনা৷
এখন সামি কে আমার সাথে আমার অফিসে নিয়ে যাই৷ অফিসের সবাই সামি কে অনেক ভালবাসে৷ সবাই সামি দেখে রাখে সবাই সামি আদর করে৷
কিছুদিন পর অফিস থেকে জানাল আমার ট্রান্সফার করা হয়েছে৷ আর এখন আমার অফিস ঢাকা তে পোস্টিং করা হয়েছে৷
আমিও সব কিছু মেনে নিলাম৷ তনিমার বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকাতে চলে আসলাম৷ তবে ঢাকাতে আসার আগে তনিমা কীভাবে খবর পেয়েছিল৷ আমরা একেবারের জন্য ঢাকাই চলে যাচ্ছি৷ সেদিন তনিমা এসে সামিকে কোলে তুলে অনেক আদর করে৷ আর বলে মাঝে যেন তার সাথে দেখা করি৷

তারপর আমরা ঢাকাই চলে আসি৷ তারপর দেখতে দেখতে আরো 2 বছর চলে গেল৷ এখন সামিকে একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিছি৷
আমি অফিসে যাওয়ার সময় সামিকে স্কুলে দিয়ে আসি আর স্কুল শেষে সামিকে আমার অফিসে নিয়ে আসি৷ তারপর অফিস শেষে দুজন বাসাই চলে আসি৷
একদিন সামি বলল৷ আব্বু আব্বু তুমি জান স্কুলে আমার সব বন্ধুরা তাদের আম্মুর সাথে যাই৷ তাদের আম্মু তাদের কত ভালবাসে৷ কিন্তু আমার আম্মু নেই কেন৷ ও আব্বু বল আমার আম্মু কোথায়৷
আমি সামির কথা শুনে অনেক অবাক হলাম কারন এই পাচ বছরে সামি একদিনো তার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করেনি৷ তাহলে আজ কেন তার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করল৷ মনে হয় স্কুলে তার বন্দুদের মায়ের সাথে আসতে দেখে সামিরো তার মায়ের কথা মনে পড়ছে৷
বাবা তোমার আম্মু আমারদের উপর রেগে আছে তাই আমাদের কাছে থাকেনা৷ তোমার আম্মু আমাদের ছেড়ে দূড়ে কোথাও চলে গেছে৷

সামিঃ আব্বু আমাদের উপর কি করতে রাগ করেছে৷ আমি কি ছোটবেলাই খুব দুষ্টামি করতাম আম্মুর সাথে৷
আমিঃ না বাবা তোমার আম্মু আমার উপর রেগে চলে গেছে৷ তোমার আম্মু ভালনা৷ আমার পিচ্চি বাবুটার কষ্ট বোঝেনা তাই তোমার আম্মু ভাল না৷
সামিঃ আব্বু তুমি কি বলেছিলে যে আম্মু রাগ করে চলে গেছে৷
আমিঃ আমার একটা রাজকুমারারের খুব দরকার ছিল কিন্তু তোমার আম্মু আমাকে দিতে রাজি ছিল না তাই তাই তোমার আম্মু রাগ করে চলে গেছে৷
সামিঃ আব্বু তাহলে তোমার আব্বু আম্মু কোথায় তারা কেন আমাদের সাথে থাকে না৷
আমিঃ আমার আম্মু আব্বু আমাকে খুব ভালবাসত ঠিক আমি যেভাবে তোমাকে আদর করি৷ ঠিক সেভাবে আমাকেও আদর করত৷
সামিঃ তাহলে তোমার আম্মু আব্বু কোথায় আমি তো আমার আব্বুর সাথে থাকি৷ তুমি কেন তোমার আব্বুর সাথে থাক না৷

আমিঃ তোমার আম্মুর জন্য আমার আম্মু আব্বু আমার উপর রেগে চলে গেছে৷
সামিঃ তাহলে আমার আম্মু কাছে কোনদিন যাবনা৷
আমিঃ কেন যাবেনা তুমি তোমার আম্মুর কাছে৷ তুমি তো এই মাত্ত বললে আমি আম্মুর কাছে যাব৷
সামিঃ না যাব না আম্মু খুব খারাফ অনেক পচা৷ আমার আম্মুর জন্য তোমার আম্মু আব্বু তোমার উপর রাগ করে চলে গেছে৷ পরে যদি আম্মুর জন্য তুমি যদি আমার উপর রেগে আমাকে ছেড়ে চলে যাও৷
আমিঃ না বাবা তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না৷ ( একটা চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললাম)
সামিঃ আব্বু আমি তোমার আম্মু আব্বুর কাছে যাব৷
আমিঃ কেন তুমি আমার আম্মু আব্বুর কাছে যাবে কেন৷

সামিঃ আমি তোমার আম্মু আব্বুর কাছে গিয়ে মাপ চাইব যেন আমার আব্বুর উপর যেন আর রেগে না থাকে৷
আমিঃ না বাবা তারা তোমার কথা শুনবে না৷ আমার উপর আমার আম্মু অনেক রেগে আছে৷
সামিঃ না আব্বু আমি যাব আর তোমার আম্মুর কাছে পা জড়িয়ে ধরে মাপ চাইব যেন তোমাকে মাপ করে দেয়৷
আমিঃ আচ্ছা বাবা তোমার পরীক্ষা শেষ হলে নিয়ে যাব ঠিক আছে বাবা৷
সামিঃ ঠিক আছে আব্বু৷
তাই বলে সামি শুয়ে পড়ল৷ আর আমি ভাবতে থাকলাম আমাকেও অনেক মা বাবাকে দেখতে ইচ্ছা করছে৷ অনেক দিন মা বাবা কে দেখিনি৷
তাই সামির পরীক্ষা শেষ হলে কিছুদিনের জন্য আবার সেই নিজের চিরচেনা শহর যশোরে যাব৷

এত দিনে মনে হয় রিমি আর একটা বিয়ে করে স্বামীর সাথে সুখে শান্তিতে সংসার করছে৷ রিমি সুখে থাকলেই ভাল আমি আর কারো প্রতি মায়া জন্মাতে দেব না৷ এক রিমি কে ভালবেসে আমার জীবন টা শেষ করে দিয়েছে৷ আমার মা বাবার কাছ থেকে আলাদা করে দিছে৷ আমি আর আমার ছেলের মাঝখানে অন্য কারো আসতে দেব না৷
তারপর পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি ঠিক খেয়াল নেই৷ তারপর সাকালে ফ্রেশ হয়ে সামিকে তৈরি করে সামির স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিস চলে আসলাম৷
এভাবে দেখতে দেখতে সামির পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল৷ আর আমারো অফিস কিছুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে আমার নিজের শহরে যাওয়ার জন্য ব্যাগ পত্ত গুছিয়ে নিলাম৷

পরের দিন রাত 12 টার সময় ঢাকা টু যশোর দুইটা টিকিট কিনে বাসে উঠে পড়লাম৷ আজ পাচ বছর পর নিজের নহরে যাচ্ছি৷ মনের মধ্যে কেমন অন্যরকম একটা ভয় কাজ করছে৷
দীর্ঘ ছয় ঘন্টা জার্নি করার পরে নিজের শহরে পৌছালাম৷ খুব ভাল লাগছে অনেকদিন পর নিজের শহরে আসলাম৷ অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে এই শহরের সাথে৷
তারপর একটা সিনজি নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলাম৷ 30 মিনিট পর আমার বাসার সামনে আসলাম৷ বাড়ি টা এখোনো আগের মত রয়েছে৷ এখবারো মনে বাড়িতে চুনকাম করা হয়নি৷ আমি দড়জার সামনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম৷ কিছুক্ষন পর দড়জা খুলে গেল৷ আর আমি……..

আরো পড়ুন – তোমার আমার বাসর রাত – ঈস! আর একটু থাকো না


ভীষণ কষ্টের প্রেমের গল্প

পর্ব ৯

এভাবে দেখতে দেখতে সামির পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল৷ আর আমারো অফিস কিছুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে আমার নিজের শহরে যাওয়ার জন্য ব্যাগ পত্ত গুছিয়ে নিলাম৷
পরের দিন রাত 12 টার সময় ঢাকা টু যশোর দুইটা টিকিট কিনে বাসে উঠে পড়লাম৷ আজ পাচ বছর পর নিজের নহরে যাচ্ছি৷ মনের মধ্যে কেমন অন্যরকম একটা ভয় কাজ করছে৷
দীর্ঘ ছয় ঘন্টা জার্নি করার পরে নিজের শহরে পৌছালাম৷ খুব ভাল লাগছে অনেকদিন পর নিজের শহরে আসলাম৷ অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে এই শহরের সাথে৷

তারপর একটা সিনজি নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলাম৷ 30 মিনিট পর আমার বাসার সামনে আসলাম৷ বাড়ি টা এখোনো আগের মত রয়েছে৷ এখবারো মনে বাড়িতে চুনকাম করা হয়নি৷ আমি দড়জার সামনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম৷ কিছুক্ষন পর দড়জা খুলে গেল৷

আমার মা দড়জা খুলে দিল৷ মা আমাকে দেখে আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে৷ মা আমাকে দেখে অঝর ধারাই কান্না করে দিল৷ আর আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করছে৷ আমিও পাচ বছর পর মাকে দেখে আমিও কান্না করে দিলাম৷

সামিঃ আব্বু তুমি কান্না করছো কেন৷ আর ইনিই কি তোমার আম্মু৷
হঠাং করে সামি ডাকে আমাদের হুশ ফিরল৷ মা আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল৷ আমার দাদু ভাই৷
আমি মাথা ঝাকিয়ে ইশারা করে বললাম হ্যা৷ এবার মা নিচু হয়ে সামির সামনে বসে পড়ল৷ আর সারা মুখে মা চুমু দিতে থাকল৷ আর জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল৷ আর বলল বাবা আহনাফ আমাকে ক্ষমা করে দে বাবা৷ তোকে না বুঝে অনেক কষ্ট আর অবহেলা করেছি বাবা৷ আমাকে তুই মাপ করে দে৷ (কান্না করে বলল)
আমিঃ মা কি বলছো তুমি ছেলের কাছে কোন মা মাপ চাই৷ তুমি আমাকে মাপ করে দাও এই পাচ বছর তোমাদের ছেড়ে দূড়ে থাকার জন্য৷

সামিঃ তুমি কাদছো কেন আব্বুর আম্মু৷ তুমি আমার আব্বু উপর এখোনো রেগে আছো৷ আমার আব্বু কে তুমি মাপ করে দাও৷
মাঃ না দাদু ভাই তোমার আব্বুর উপর আমার কোন রাগ নেই৷ তবে অনেক অভীমান রয়েছে৷ পাচ বছর আমার কথা তার একবারো মনে পড়নি৷ খুব অভীমান তোমার আব্বুর উপর৷
সামিঃ আমার উপরে কি রাগ আর অভীমান করে আছো তুমি৷ যদি রাগ থাকে তাহলে আব্বুর মত আমাকেও মাপ করে দাও৷
মাঃ না দাদু ভাই তোমার উপর কোন রাগ বা অভীমান নেই৷ তুমি তো আমার সোনা দাদু ভাই৷ (জড়িয়ে ধরে বলল)
সামিঃ তাহলে আজ থেকে আমি তোমাকে কী বলে ডাকব৷
মাঃ আমাকে দাদু ভাই বলে ডাকবে কেমন৷
সামিঃ আচ্ছা দাদু ভাই তাই বলব৷

তারপর আমরা বাসার ভীতরে ঢুকে গেলাম৷ বাসাটা ঠিক আগের মতই আছে৷ কিছু পরিবর্তন হয়নি৷ শুধু অবহেলাটা নেই৷
তারপর ব্যাগপত্ত নিয়ে আমি আর সামি উপরে উঠে রুমে প্রবেশ করলাম৷ আর তখন আমি বেশ অবাক হলাম৷ মানে প্রচন্ড অবাক হলাম৷ কারন আমি কোনদিন ভাবতে পারিনি রিমি এখানে থাকবে৷ হ্যা রিমি দেখি বিছানায় বসে আছে অন্যদিকে ফিরে৷ আমরা এসেছি হয়ত এখোনো জানেনা৷ কিন্তু রিমি এ বাড়িতে কেন৷ রিমিকে তো আমি মুক্ত করে দিয়েছি তাহলে রিমি কেন এখনো এ বাড়িতে পড় আছে৷
সামিঃ আব্বু চল দাড়িয়ে পড়লে কেন৷
সামির কথা শুনে রিমি আমাদের দিকে ফিরল৷ আমাদের দেখে রিমি সাথে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়ল৷ আর অবাক করা দৃষ্টিতে আছে আমার দিকে৷
রিমি আগের থেকে অনেক চেন্জ হয়ে গেছে৷ অনেক শুকিয়ে গেছে আর পাতলা হয়ে গেছে৷ রিমি কিছু না বলছে না চোখের পানি টলমল করছে৷ রিমি এবার দৌড়িয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল৷ আর চিৎকার করে কান্না করতে থাকল৷ রিমি আমাকে জড়িয়ে ধরে জোড়ে জোড়ে কান্না করছে৷ আর আমার গালে হাত দিয়ে আমার কপালে দুই গালে দাড়িতে পাগলের মত চুমু খেতে লাগল৷ আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে৷

রিমিঃ কোথায় ছিলে তুমি এই পাচ বছর৷ তুমি চলে যাওয়ার পর তোমাকে আমি পাগলের মত খুজেছি৷ জান তুমি চলে যাওয়ার পরে আমি পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলাম৷ তোমাকে অবহেলা করতে করতে কখন যে ভালবেসে ফেলেছিলাম নিজেই জানিনা৷ কিন্তু আমাকে কি না বলতে দিয়ে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে৷ খুব ভালবাসি তোমাকে৷ প্লিজ আমাকে আর ছেড়ে চলে যেওনা৷ (জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করে বলল)

আমি রিমি এক ঝাটকায় সরিয়ে দিলাম আর বললাম৷
আমিঃ কে আপনি আর আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন কেন৷ আর কিসব ভালবাসার কথা বলছেন৷ আমি কাউকে ভালবাসতাম এখন আর কাউকে ভালবাসিনা৷
রিমি আমার কথা শুনে যেন মনে হল রিমির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল৷ রিমি আমার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে৷
রিমিঃ প্লিজ আহনাফ আমাকে মাপ করে দাও৷ আমি তোমাকে ছাড়া বাচতে পারব না৷ আমাকে আর কষ্ট দিও না তোমার দেওয়া কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছিনা৷ প্রতিদিন রাতে তোমার কথা ভেবে অনেক কান্না করতাম৷ তুমি আসবে বলে প্রতিদিন তোমার পথের দিকে চেয়ে থাকতাম৷ তুমি আসবে আর আমাকে তোমার বুকে জড়িয়ে ধরে রাখবে৷ প্লিজ আমাকে মাপ করে দাও৷ আমি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা৷ (কান্না করে বলল )

আমিঃ হা হা হা হা হাসালে তুমি আমাকে ভালবাস তাই না৷ কোথাই ছিল তোমার এত ভালবাসা যেদিন তোমাকে একবার দেখার জন্য টানা দুইবছর তোমার পিছনে পড়ে ছিলাম৷ কোথাই ছিল তোমার ভালবাসা যেদিন আমি ভালবাসার নামে শুধু অবহেলা পেয়েছি৷ তোমার কাছে প্রতিদিন মাপ চাইতাম আমার একটা মাত্ত অন্যায়ের জন্য৷ কিন্তু আমি কি পেয়েছি৷ শুধু কিছু সুন্দর সুন্দর গালাগালি৷ আর মায়ের অবহেলা৷
তুমি কি জান আপনজনের অবহেলা কত কষ্টকর কতটা অসহ্য৷ যা আমাকে ভিতর থেকে একদম শেষ করে দিয়েছে৷ তাই আমি আর কখনো অবহেলা সহ্য করতে পারবনা৷ আর কারো প্রতি আমার কোন টান নেই বা ভালবাসা নেই৷ এখন শুধু আমি আমার ছেলেকে নিয়ে বাচাতে চাই৷ আমার পুরো পৃথিবী জুরে এখন শুধু আমার ছেলে রয়েছে৷ আমি আর কাউকে আমার পৃথিবীতে প্রবেশ করতে দেব না৷
রিমি এবার নিচে তাকিয়ে দেখে সামি দাড়িয়ে আছে৷ রিমি সামি কে দেখে আরো জোড়ে কান্না শুরু করে দিল৷ আর রিমি হাটু ভাজ করে সামির সামনে গিয়ে বসে পড়ল৷ আর জড়িয়ে ধরল সামি কে৷ সামিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকল৷ আর দুই গালে চুমু খেল৷

রিমির এমন ঢংয়ের ভালবাসা দেখে আমার রাগটা চরমে উঠে গেল৷ রিমির সেসব বলা কথা হঠাং করে মনে পড়ে গেল৷
আমি রিমির কাছে থেকে সামি কে সরিয়ে নিয়ে সামিকে কোলে তুলে নিলাম৷
আমিঃ কি করছেন আপনি আমার ছেকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছেন কেন৷ আর ওকে এভাবে চুমু দিচ্ছেন কেন৷ কোন অধিকার নেই আমার ছেলের উপর৷
রিমিঃ কেন আমার ছেলেকে আমি জড়িয়ে ধরব তাতে অধিকারের কি আছে এখানে৷
আমিঃ হা হা হা তোমার ছেলে তাই না৷ কেউ একজন বলেছিল কোন অমানুষের বাচ্চা আমার বাচ্চা হতে পারেনা৷ তাই তাকে নষ্ট করে দিতে চেয়েছিল৷ আর আমি আমার ছেলে তো একটা অমানুষ৷ আর আমাদের মত অমানুষ কে আপনি নিজের ছেলে বলে দাবি করছেন৷ শুনে রাখুন সামি শুধু আমার ছেলে৷ আর কারো নয় কেউ যদি আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে নিতে আসে৷ তাহলে আমার থেকে কেউ খারাফ হবেনা৷

jiboner koster golpo bangla

এই বলে আমি ব্যাগপত্ত আর সামি নিয়ে আমি আগে যেই রুমে থাকতাম সেই রুমে চলে আসলাম৷
রুমটা ঠিক আগের মতই আছে৷ মনে হয় প্রতিদিন কেউ রুমটা নিজের মত করে গুছিয়ে রাখত৷
আর এদিকে রিমি কান্না করতে করতে নিচে নেমে সোজা মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকল৷
মাঃ কি হয়েছে রিমি কান্না করছো কেন৷
রিমিঃ মা আমি কি এতটায় খারাফ যে তোমার ছেলে আমাকে এতটা ঘৃনা করে৷ এমনকি আমার ছেলেকে আমি একটু জড়িয়ে ধরেছি বলে৷ তোমার ছেলে বলল আমার ছেলের উপর নাকি আমার কোন অধিকার নেই৷ তুমি বল মা আমার ছেলেকে আমি আদর করব নাতো কে আদর করবে৷ আর তোমার ছেলে বলল৷ আমি যেন আমার ছেলেকে স্পর্শ না করি৷ (কান্না করে বলল)
মাঃ আহনাফ মনে হয় আগের কথা কিছু ভুলতে পারিনি৷ এখনো মনে হয় তোর উপর রেগে আছে৷ তাই হয়ত তোর সাথে এমন ব্যাবহার করছে৷ যখন তোর প্রতি রাগ কমে যাবে তখন দেখবি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে৷ তুই শুধু আমার ছেলেকে ভালবেসে যাবি৷ দেখবি একদিন সবকিছু ভুলে তোর কাছে ফিরে আসবে৷

তারপর আমি রুমে এসে কাপড় চেন্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম৷ তারপর একটু রেস্ট নিয়ে নিচে আসলাম দুপুরের খাবার খেতে৷
আমিঃ মা বাবা এখনো আসিনি অফিস থেকে৷
মাঃ এখনি চলে আসবে আমি ফোন করে সব বলে দিয়েছি এখনি চলে আসবে৷ তুই খেতে বস৷ আর দাদু ভাই তুমি আমার কাছে আস৷ আজ খুব ভাল লাগছে৷ আজ অনেক দিন পর একসাথে এক টেবিলে খেতে বসলাম৷
তারপর সামি তার দাদির কাছে গিয়ে বসল৷ আর আমি টেবিলে বসে প্লেট নিয়ে নাড়াচাড়া করছি৷ তখনি রিমি কিচেন থেকে সবকিছু নিয়ে আসতে থাকল৷
মাঃ মা রিমি তুমি আহনাফের পাশে বসে আহনাফকে খাবার আগিয়ে দাও৷
তারপর যেই রিমি আমার পাশে বসল৷ আমি উঠে গেলাম চেয়ার থেকে৷

আমিঃ মা আমি পড়ে খেয়ে নেব এখন খেতে ইচ্ছা করছেনা৷ আর সামিকে খাওইয়ে দিয়ে সোজা আমার রুমে নিয়ে আসবে ঠিকআছে মা৷
তাই বলে আমি উপরে উঠে রুমে চলে আসলাম৷ এভাবে কিছুক্ষন রেস্ট নেওয়ার পর৷ বাসার কাজের লোক আমার রুমে খাবার দিয়ে গেল৷
খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে নিলাম৷ কিন্তু সামি এখোনো রুমে আসলনা কেন৷ আমি উঠে নিচে গিয়ে দেখি রিমি আর সামি নিচে বসে আছে৷ বলতে গেলে সামি রিমির কোলে বসে বসে খেলা করছে৷ আর রিমি মাঝে মাঝে সামি মুখে চুমু দিচ্ছে৷

আমি রিমির কাজ দেখে মাথাটা পুরো গরম হয়ে গেল৷ যখন জানতে পারে আমাদের ছেলে আসছে পৃথিবীতে তখন রিমি যতটা না আমাকে অবহেলা করছে৷ তার থেকে বেশি গালাগালি করছে আমার ছেলে টাকে৷
তাই আমি সোজা নিচে নেমে চলে আসলাম৷ আমি নিচে গিয়ে রিমির কোল থেকে নিয়ে নিলাম৷

আপনাকে বলছি না আমার ছেলের উপর কোন অধিকার দেখাতে আসবেন না৷ তারপরো কেন আমার ছেলের কাছে আসার চেষ্টা করছেন৷ আর আমি চাইনা কোন জানোয়ারের বাচ্চা আমার কাছে আসুক৷
তাই বলে আমি ওখান থেকে সামি কে নিয়ে চলে আসলাম৷ সিড়ি বেয়ে উঠতে যাব তখন দেখি মা পিছনে দাড়িয়ে এতোক্ষন সব শুনছিল৷
মায়ের মুখ টা কেমন মলিন হয়ে আছে৷ আর এদিকে রিমি অঝর দারাই কান্না করতে লাগল৷
রুমে এসে একটু রেস্ট নেওয়ার পর কেউ আমার নাম ধরে চিল্লাতে চিল্লাতে উপরে উঠে আসছে৷ আমি বাইরে আসতে দেখি বাবা আমার নাম ধরে চিল্লাচ্ছে৷
আমি গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম৷ আর ভাল মন্দ জিজ্ঞাসা করে বাবাকে রুমে নিয়ে গেলাম৷
আমিঃ বাবা তোমার দাদাভাই আমার ছেলে সামি৷

বাবা সামিকে দেখে কোলে তুলে আদর করতে লাগল৷ তারপর বাবার সাথে কিছুক্ষন কথা বলে বাবা চলে গেল৷
তারপর আমি আর সামি একটু ঘুমিয়ে বিকালে উঠে একটু বাইরে হাটতে বের হলাম৷ অনেকদিন পর এই এলাকেতে আসলাম৷ কিছু চেনা পরিচিত মানুষের সাথে কথা বলে৷ রাতে বাসায় আসলাম৷
আমি আর সামি রুমে বসে আছি তখন রিমি রুমে আসল৷ চলেন রাতের খাবার খেয়ে নেবেন৷ সবাই নিচে অপেক্ষা করছে৷
আমিঃ আমি খাবনা আর আমার খাওয়া নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে মানা করছি না৷ আর এর আগে এক বছর যখন আমার খাওয়ার কথা নিয়ে ভাবিনি৷ এখোনো না ভাবলে চলবে৷
আমি আগে যেরকম ভাবে বাইরে খেতাম এখোনো বাইরে বাইরে খাব৷ আপনি শুধু মাকে বলেন সামির খাবার টা যেন উপরে দিয়ে যায়৷
রিমি আর কিছু না বলে কান্না করতে করতে চলে গেল৷ কাদুক তাতে আমার কি৷ আমিও অনেক কান্না করেছি কেউ দেখেনি আমার কান্না৷
কিছুক্ষন পর মা রুমে আসল৷

মাঃ বাবা আহনাফ তুই কি এখোনো আমাদের উপর রাগ করে আছিস বাবা৷ যদি এখোনো রাগ করে থাকিস তাহলে মাপ করে দে বাবা৷ আমরা সবাই নিজেরদের ভুল বুঝতে পেরেছি৷ চল বাবা একসাথে খেয়ে নিই৷

আমিঃ না মা আমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না আর তাছাড়া আমার বাইরের খাবার খেয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে৷ তাই বাসার খাবার না খেলেও চলবে৷ তুমি সামি কে নিয়ে খাওয়ে দাও৷ আমি রুমে বসে আছি৷
মা আর কোন কথা না বলে সামি কে নিয়ে চলে গেল৷ যাওয়ার সময় দেখলাম মার চোখে হালাকা পানি টলমল করছে৷ খুব কষ্ট হল মায়ের চোখে পানি দেখে৷
মা কো কোন দোষ করেনি রিমির জন্যই তো মা আমাকে অবহেলা করত৷ না মাকে আর কষ্ট দেবনা৷
তারপর কিছুক্ষন পর দেখি রিমি সামিকে দিয়ে গেল৷ আর আমি সামিকে বিছানায় বসিয়ে রুমের দড়জা বন্ধ করে দিলাম৷ রিমির চোখে পানি দেখলাম৷ কাদলে কাদুক তাতে আমার কিছু করার নেই৷

আরো পড়ুন – শেষ কান্না – Student teacher relationship


ভালোবাসার কষ্টের গল্প কাহিনী

পর্ব ১০

আমি আগে যেরকম ভাবে বাইরে খেতাম এখোনো বাইরে বাইরে খাব৷ আপনি শুধু মাকে বলেন সামির খাবার টা যেন উপরে দিয়ে যায়৷
রিমি আর কিছু না বলে কান্না করতে করতে চলে গেল৷ কাদুক তাতে আমার কি৷ আমিও অনেক কান্না করেছি কেউ দেখেনি আমার কান্না৷
কিছুক্ষন পর মা রুমে আসল৷
মাঃ বাবা আহনাফ তুই কি এখোনো আমাদের উপর রাগ করে আছিস বাবা৷ যদি এখোনো রাগ করে থাকিস তাহলে মাপ করে দে বাবা৷ আমরা সবাই নিজেরদের ভুল বুঝতে পেরেছি৷ চল বাবা একসাথে খেয়ে নিই৷

আমিঃ না মা আমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না আর তাছাড়া আমার বাইরের খাবার খেয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে৷ তাই বাসার খাবার না খেলেও চলবে৷ তুমি সামি কে নিয়ে খাওয়ে দাও৷ আমি রুমে বসে আছি৷
মা আর কোন কথা না বলে সামি কে নিয়ে চলে গেল৷ যাওয়ার সময় দেখলাম মার চোখে হালাকা পানি টলমল করছে৷ খুব কষ্ট হল মায়ের চোখে পানি দেখে৷
মা কো কোন দোষ করেনি রিমির জন্যই তো মা আমাকে অবহেলা করত৷ না মাকে আর কষ্ট দেবনা৷

তারপর কিছুক্ষন পর দেখি রিমি সামিকে দিয়ে গেল৷ আর আমি সামিকে বিছানায় বসিয়ে রুমের দড়জা বন্ধ করে দিলাম৷ রিমির চোখে পানি দেখলাম৷ কাদলে কাদুক তাতে আমার কিছু করার নেই৷
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি রিমি আমাকে আগে দুচোখে দেখতে পারত না৷ আর এখন কেমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে৷ রিমির চোখে এখন আমার জন্য অন্য কিছু দেখি৷ হয়ত আমার অনুপস্থিথে আমাকে ভালবেসে ফেলছে৷ কিন্তু রিমির উপর যে এখন আমার কোনরকম ফিলিংস কাজ করেনা৷ পাচ বছর আগের কথা মনে পড়লে ভীষন রাগ আর কষ্ট হয় খুব৷
পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেই জানিনা৷ পরেরদিন সালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সামি বিছানায় নেই৷ আমি তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে চোখ মুছতে মুছতে নিচে এসে দেখি৷
সামি কে সুন্দর পোষাক পড়িয়ে নিজের কোলে তুলে খুব সুন্দর করে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে৷ আর তারা কথা বলছে৷
রিমিঃ বাবা তোমার এতোদিন মায়ের কথা মনে পড়েনি৷

সামিঃ হুমমম খুব মনে পড়তো আম্মু আমার স্কুলের সব বন্ধুদের তাদের মা স্কুলে নিয়ে যেত আবার নিয়ে আসতো৷ খুব মন খারাফ হত তখন৷ কিন্তু আব্বুকে যেই মায়ের কথা বললাম তখন আব্বু বলতো৷ আমার নাকি কোন মা নেই৷ আমার মা নাকি খুব পচা আমাকে আর আব্বুকে অনেক গালাগালি করত আর অবহেলা করত৷ কিন্তু আম্মু তুমি তো অনেক ভাল আম্মু৷ তাহলে আব্বু ওরকম কথা বলত কেন যে তুমি অনেক খারাফ পচা৷
সামির কথা শুনে রিমির মুখটা মূহুর্তের মধ্যে ফ্যাকাসে হয়ে গেল৷ কারন সে নিজেই তো তার ছেলেকে আর আহনাফ অনেক গালাগালি আর অনেক খারাফ ভাষাই কথা বলেছে৷ (ভাবতেই চোখ দিয়ে দুইফোটা নোনা জল বের হল)
আমি আর দাড়িয়ে না থেকে রিমির সামনে চলে গেলাম৷ এই যে মিস ভদ্যমহিলা আপনার লজ্জা করেনা পরেরে ছেলেকে আদর করতে৷ আর আমাদের মত পাপি নোংরা মানুষকে স্পর্শ করলে আপনার আবার সমস্যা হবে৷

আর সামি তোমাকে না বলছি আমাকে না কোথাও যাবেনা৷ তাহলে কেন এখানে আসছো৷ আর আমি বলেছি না তোমার আম্মু নেই৷ তাহলে কেন এই মহিলাকে আম্মু বলছো৷ আর যেন কোনদিন তোমাকে আম্মু বলতে না দেখি৷ মনে থাকবে তো আর আমিই তোমার আব্বু আম্মু মনে থাকবে তো৷
সামিঃ আব্বু কিন্তু এই আম্মু টা বলছে আমি নাকি তোমার আম্মু তাই আমি আম্মু বলে ডেকেছি৷ আর এই আম্মু আমার অনেক ভালবাসে আর আদর করে৷ আমি আম্মু বলে ডাকি৷
আমিঃ চুপ একদম চুপ আর একবার আম্মু বলে তোমাকে একটা থাপ্পড় মারব৷ (চিৎকার করে ঝাড়ি মারল)
সামি আমার ঝাড়ি শুনে ভয় পেয়ে গেল আর কান্না করতে লাগল৷
রিমিঃ প্লিজ সামি কে বকবেন না ওর কোন দোষ নেই৷ আমিই ওকে জোর করে নিয়ে আসছি৷ আর ওকে কেন পাপি নোংরা বলছেন ওতো একটা ছোট বাচ্চা৷ (কান্না করে)
আমিঃ এই কথাটা আজ থেকে পাচ বছর আগে আমার ছেলেকে বলেছিল৷ তখন ও সে একদম বাচ্চা ছিল৷ একদম নিস্ষাপ ছিল৷ এতটায় নিষ্সাপ ছিল যে তার তখন ও জন্মও হয়নি৷ তখন থেকে সে অন্যায় ভাবে নিয়মিত অমানুষ পাপি জানোয়ার বলে স্ব়কীতি পেয়েছে৷

আমার কথা শুনে রিমি এবার মাথাটা নিচু জোড়ে জোড়ে কান্না করতে করতে ফ্লোরে বসে পড়ল৷ আর কান্না করতে থাকল৷ আমি সামি কে নিয়ে চলে আসলাম উপড়ে৷ সামি কান্না করতে করতে আমার কাধের উপর ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আমি সামিকে বিছানায় রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম৷
ফ্রেশ হয়ে গুছিয়ে নিলাম একটু বাবার অফিসে যাব৷ আজ অনেকদিন পর একটু অফিসে যাব৷ কিন্তু সামি ঘুমিয়ে পড়েছে ওকে রেখে যাব নাকি সাথে নিয়ে যাব এই নিয়ে চিন্তাই পড়ে গেলাম৷
তারপর সামি কে রেখে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিলাম৷ তারপর রুম থেকে বেড়িয়ে মায়ের কাছে চলে গেলাম৷

মা আমি একটু অফিস যাচ্ছি৷ সামি ঘুমিয়ে আছে সামি জেগে গেলে তোমার কাছে রাখবে৷ আর যেন কেউ ওকে স্পর্শ করেনা৷ তাহলে আমার থেকে খারাফ কেউ হবে না৷
মাঃ বাবা আহনাফ তুই এখোনো পুরানো কথা ভুলতে পারিস নি৷ বাবা আগের সব কথা ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করা যায় না৷
আমিঃ মা আমি চাইলেও কিছু ভুলতে পারব না৷ যার জন্য আমার জীবন থেকে পাচ টা বছর কষ্ট আর অবহেলায় কেটেছে৷ পাচ বছর আমার মা বাবার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করছে৷ একটা নিষ্সাপ শিশু তার জন্য পাচ বছর মায়ের আদর ছেকে বন্চিত হয়েছে৷ কিভাবে সব কিছু ভুলে যাব বল মা৷
আমি এখানে আসতে চাইতাম না শুধু সামি তোমাদের দেখবে বলে আসছি এখানে৷ আর যদি তোমরা মনে কর৷ আমি এসে তোমার আবার বিরক্ত করছি৷ তাহলে একবার বল এখনি চলে যাব আবার চিরদিনের জন্য৷

মাঃ না বাবা যাস না তুই যেভাবে থাকিস আমরা আর কিছু বলবনা৷ কিন্তু আমাদের ছেড়ে আর যাস না৷ আর কত কষ্ট দিবি এই মা টাকে হুমমম৷
আমি কোন কথা না বলে চলে আসলাম ওখান থেকে৷ তারপর সোজা অফিসে চলে আসলাম৷ অফিসে সবার সাথে বেশ আড্ডা দিলাম৷ যারা নতুন স্টার্ফ তাদের সাথে পরিচয় হয়ে নিলাম৷
তারপর দুপুরে বসে আছি লান্স করার সময় হয়ে গেছে৷ আমি নিজের ডেক্সে বসে আছি৷ তখন বাবা আসল আর বলল চল আহনাফ লান্স করে আসি৷
কিন্তু আমি যেতে চাইলাম না শুধু সামির জন্য বাসাই আসলাম৷ বাবা কলিংবেল বাজালো৷ কিছুক্ষন পর মা এসে দড়জা খুলে দিল৷ আমি ভীতরে ঢুকে দেখি৷ সামি আর রিমি দুজনে হেসে হেসে খেলা করছে আর দুষ্টামি করছে৷
রিমি আমাকে আসতে দেখে রিমি সামি থেকে দূড়ে সরে গেল৷ মনে হয় কিছুটা ভয় পাইছে৷ আমি আর কিছু বললাম না কারন এখানে বাবা রয়েছে৷
আমি চুপচাপ সামি কে নিয়ে উপরে রুমে চলে আসলাম৷ কিছুক্ষন পর রিমি রুমে আসল৷
রিমিঃ আপনাকে নিচে ডাকছে দুপুরের খাবার খেতে৷ সবাই নিচে বসে অপেক্ষা করছে৷
আমিঃ আমি খাব না ক্ষুদা নাই বাইরে থেকে খেয়ে নিব৷ আপনি চলে যান সামনে থেকে৷

রিমিঃ কেন বাইরে খাবেন কেন আপনার জন্য খাবার রান্না তৈরি করা হয়েছে তো৷
আমিঃ এসব ঢং বাদে দেন৷ এতদিন কোথাই ছিল তোমার এসব ঢং৷ যত্তোসব ঢং দেখলে বাচিনা৷ আর একটা কথা আপনাকে না বলা হয়েছে সামির থেকে দূড়ে থাকবেন৷ কারন আমি কিছুদিনের জন্য এখানে এসেছি আবার কিছুদিন পর কাউকে না বলে হঠাং করে হারিয়ে যাব৷ তাই সামির সাথে বেশি কথা বলবেন না৷ পরে সমস্যা হবে তখন বারাবার আপনার কাছে যাইতে চাইবে৷ আর সেটা কোনদিন সম্ভব না৷ আর বিকালে আমি উকিলের কাছে যাব৷ কারন পাচ বছর আগে যেই কাজ করতে চেয়েছিলাম সেটা এখন করব৷
মানে আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে চিরদিনের জন্য মুক্ত করে দেব৷

রিমি এবার দৌড়িয়ে এসে আমার পা জড়িয়ে ধরল আর বলল৷ প্লিজ আহনাফ একবার আমাকে ক্ষমা করে দাও৷ আর কষ্ট দিওনা অনেক কষ্ট সহ্য করেছি আর পারছিনা৷ তুমি যদি চলে যাও তাহলে যাবার আগে আমাকে খুন করে যাবে৷ কারন তোমাকে আর আমার ছেলেটাকে ছাড়া আমি বাচতে পারব না৷ তুমি চলে যাবার আগে আমাকে তোমার হাত দিয়ে খুন করে চলে যাবে৷ তাহলে আমাকে আর কোনদিন কষ্টে পেতে হবে না৷ (চিৎকার করে কান্না করে বলল)
রিমির কান্না দেখে আমার খুব খারাফ লাগলো খুব কষ্ট হতে লাগল৷ কারন রিমিকে তো আমি পাগলের মত ভালবাসতাম৷ এখোনো ভালবাসি৷ কিন্তু আমার রাগ আর অভীমানের কাছে আমার ইগো টা বাড়ে বাড়ে হার মেনে যাচ্ছে৷
তখন সামি আমাদের কাছে আসলো আর সামি৷ সামি সোজা গিয়ে রিমির সামনে গিয়ে রিমির চোখের পানি মুছে দিচ্ছি৷

সামিঃ আম্মু তুমি আব্বুর পা ধরে কান্না করছো কেন৷ তুমি কেদোনা আম্মু আমিও কিন্তু কেদে দেব৷ আর আব্বু আম্মু তোমার কাছে কিসের জন্য মাপ চাইছে৷ তুমি আম্মুকে মাপ করে দাও আব্বু৷
আমিঃ সামি তুমি তোমার দাদু ভাইয়ের কাছে যাও৷ আর তুই আমার ছেলেটাকে নিজের করে নিয়েছিস৷ যে তোর হয়ে কথা বলছে৷ তোকে ক্ষমা করে দিতে পারি৷ তাহলে আমার জীবন থেকে পাচ বছর ফিরিয়ে দে৷ যেখানে আমি প্রতিনিয়ত অবহেলা পেয়েছি৷ তোর কারনে আমি পাচ বছর মা বাবার থেকে দূড়ে থেকেছি৷ তোর কারনে মায়ের কাছ থেকে যে অবহেলা পেয়ে প্রতিরাতে কান্না করেছি কষ্টে বুক ফেটে চিৎকার করে কান্না করতাম৷ দিতে পারবি সেই চোখের পানি৷

তোর জন্য আমার ছেলেটা পাচ বছর মায়ের আদর থেকে বন্চিত হয়েছি৷ ফিরিয়ে দিতে পারবি আমার জীবনের সবচেয়ে কাল অধ্যায় ভুলিয়ে দিতে৷ (রেগে চিৎকার করে বললাম)
রিমি কোন কথা না বলে ফ্লোরে বসে বসে কান্না করছে৷ আমি রুম থেকে চলে আসলাম বাইরে৷ তারপর সামিকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম৷ ভীষন রাগ হচ্ছে রিমির উপর৷ যখন আমাদের ছেলে গর্ভে ছিল তখন মনে ছিলনা এসব কথা৷ যত্তসব অাল্হাদখানি দেখলে বাচিনা৷ তারপর সোজা ভাল একটা উকিলের কাছে আসলাম৷
যেন 20 দিনের মধ্যে ডিভোর্স পেপার রেড়ি করতে পারে৷ তারপর উকিলের সাথে সব কথা বলে বাইরে চলে আসলাম৷ রাত নয়টার সময় আমি আর সামি বাইরে থেকে কিছু খাবার খেয়ে রাতে বাসাই আসলাম৷

আরো পড়ুন – বাড়িওয়ালার মেয়ের সাথে প্রেম – মামু এবার খেলা হবে


অনেক কষ্টের গল্প

পর্ব ১১

রিমির কান্না দেখে আমার খুব খারাফ লাগলো খুব কষ্ট হতে লাগল৷ কারন রিমিকে তো আমি পাগলের মত ভালবাসতাম৷ এখোনো ভালবাসি৷ কিন্তু আমার রাগ আর অভীমানের কাছে আমার ইগো টা বাড়ে বাড়ে হার মেনে যাচ্ছে৷
তখন সামি আমাদের কাছে আসলো আর সামি৷ সামি সোজা গিয়ে রিমির সামনে গিয়ে রিমির চোখের পানি মুছে দিচ্ছি৷

সামিঃ আম্মু তুমি আব্বুর পা ধরে কান্না করছো কেন৷ তুমি কেদোনা আম্মু আমিও কিন্তু কেদে দেব৷ আর আব্বু আম্মু তোমার কাছে কিসের জন্য মাপ চাইছে৷ তুমি আম্মুকে মাপ করে দাও আব্বু৷
আমিঃ সামি তুমি তোমার দাদু ভাইয়ের কাছে যাও৷ আর তুই আমার ছেলেটাকে নিজের করে নিয়েছিস৷ যে তোর হয়ে কথা বলছে৷ তোকে ক্ষমা করে দিতে পারি৷ তাহলে আমার জীবন থেকে পাচ বছর ফিরিয়ে দে৷ যেখানে আমি প্রতিনিয়ত অবহেলা পেয়েছি৷ তোর কারনে আমি পাচ বছর মা বাবার থেকে দূড়ে থেকেছি৷ তোর কারনে মায়ের কাছ থেকে যে অবহেলা পেয়ে প্রতিরাতে কান্না করেছি কষ্টে বুক ফেটে চিৎকার করে কান্না করতাম৷ দিতে পারবি সেই চোখের পানি৷

তোর জন্য আমার ছেলেটা পাচ বছর মায়ের আদর থেকে বন্চিত হয়েছি৷ ফিরিয়ে দিতে পারবি আমার জীবনের সবচেয়ে কাল অধ্যায় ভুলিয়ে দিতে৷ (রেগে চিৎকার করে বললাম)
রিমি কোন কথা না বলে ফ্লোরে বসে বসে কান্না করছে৷ আমি রুম থেকে চলে আসলাম বাইরে৷ তারপর সামিকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম৷ ভীষন রাগ হচ্ছে রিমির উপর৷ যখন আমাদের ছেলে গর্ভে ছিল তখন মনে ছিলনা এসব কথা৷ যত্তসব অাল্হাদখানি দেখলে বাচিনা৷ তারপর সোজা ভাল একটা উকিলের কাছে আসলাম৷
যেন 20 দিনের মধ্যে ডিভোর্স পেপার রেড়ি করতে পারে৷ তারপর উকিলের সাথে সব কথা বলে বাইরে চলে আসলাম৷ রাত নয়টার সময় আমি আর সামি বাইরে থেকে কিছু খাবার খেয়ে রাতে বাসাই আসলাম৷
কারন সামিকে আবার বেশি রাত পর্যন্ত বাইরে রাখা যাবে না৷ তাই বাসাই চলে আসলাম৷ বাসাই এসে রুমে একটু রেস্ট নিচ্ছি৷ তখন রিমি আসলো আমার রুমে৷
রিমিঃ আম্মু রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাকছিল৷ আপনি আসবেননা৷

আমিঃ না আমি আর সামি বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি৷ এখন আমরা কেউ ডিনার করব না৷ আর আপনাকে না মানা করছি আমাদের উপর কোন রকম অধিকার ফলাবেন না৷ তাও আপনার লজ্জা করেনা কেন বার বার নির্লজ্জের মত আমার রুমে আসেন হ্যা৷ ( কিছুটা কেগে বললাম)
রিমির চোখ দুইটা পানিতে টলমল করছে এখনি মনে হয় পানি ছেড়ে দেব৷
রিমিঃ সামি কে কেন বাইরে খাবার খাওয়ালেন৷ ও তো এখোনো ছোট বাইরের খাবার খাইলে শরীর অসুস্থ করবে৷ (করুন কন্ঠে)
আমিঃ কেউ একদিন আমাদের বলেছিল রাস্তার কুকুর৷ আর রাস্তার কুকুর রা বাইরের খাবার খাইলে কিছু হবে না৷ আর এই পাচ বছর আমরা বাইরের খাবাক খাই৷ তাই আপনি বেশি অধিকার না দেখিয়ে৷ নিজে নিজের মত থাকবে৷ আর আমরা আমাদের মতো৷
রিমি এবার কান্না করে দিল৷ কারন এখন তার বলার কিছু নেই৷ কারন এই কথা গুলো রিমিই একদিন আহনাফ কে বলেছিল৷ তাই রিমি আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে গেল৷

সামিঃ আব্বু তুমি আম্মুকে সবসময় কাদাও কেন৷ তুমি জান আব্বু আম্মু আমাকে অনেক আদর করে৷ নিজের হাতে খাইয়ে দেই৷ জড়িয়ে অনেক আদর করে আমাই৷ আব্বু আমরা এখানে সারাজীবন থাকতে পারিনা৷ আর দাদুভাই টা অনেক ভাল খুব আদর করে আমাকে৷

আমিঃ না আব্বু আমরা এখনে থাকব না৷ যদি এখানে থাকি তাহলে তোমার কাছ থেকে আমাকে আবার আলাদা করে দেবে৷ আর তুমি কি চাও বাবা যে আমি তোমার কাছ থেকে দূড়ে সরে যাই৷
সামিঃ না আব্বু তুমি আমাকে রেখে চলে যেও না৷ আমি তোমার কাছেই থাকব৷ কিন্তু আমরা যে কদিন এখানে আছি৷ সে কইদিন আমি আম্মুর কাছে একটু আদর পেয়ে নিই৷
আমি সামি কথা ভেবে কি বলব কিছু বুঝতে পারছিনা৷ কি করব ছোট বাচ্চা একটা কোনদিন মায়ের আদর পাইনি৷ এখন তাও আমি তার আদর থেকে দূড়ে সরিয়ে দিচ্ছি৷
আমিঃ না বাবা তুমি যত ইচ্ছা তোমার আম্মুর কাছে যেত পার৷ কিন্তু আমরা এখান থেকে চলে যাবার পর কিন্তু আম্মুর জন্য কান্না করতে পারবনা৷
সামিঃ আচ্ছা মনে থাকবে আব্বু৷

তাই বলে সামি একদৌড়ে নিচে চলে আসে আর তার মায়ের কোলে উঠে পড়ে জড়িয়ে ধরে৷
রিমিঃ কি হল আমার বাবা টা আজ আমার কাছে কি ব্যাপার তোমার আব্বু দেখলে যে আমাতে খুব বকবে৷
সামিঃ না আম্মু আব্বু বকবে না আব্বুই তো তোমার কাছে আসতে বলল৷ আর তোমার কাছে থেকে যেন আদর গুলো নিয়ে নিই৷
সামির কথা শুনে রিমি সামিকে জড়িয়ে ধরে বেশ কয়টা চুমু দিল৷
সামিঃ আমাকে একটু তোমার হাতে খাইয়ে দেবা৷ তুমি যখন খাইয়ে দাও তখন আমার খুব ভাল লাগে জান৷

রিমি আর কিছু বলল না কান্না করতে করতে এক প্লেট খাবার নিয়ে এসে খুব যত্ন করে খাইয়ে দিল৷
তারপর রা খাওয়া শেষে রিমি সামি কে আহনাফের রুমে দিয়ে আসতে গেল৷
রিমিঃ ধন্যবাদ আপনাকে (খুশি হয়ে)
আমিঃ হঠাং কিসের জন্য ধন্যবাদ বলছেন৷
রিমিঃ এই যে সামি কে আমার কাছে পাঠালেন তাই৷
আমিঃ আমার কোন ইচ্ছা নেই আমার ছেলেকে আপনার কাছে পাঠাব৷ সামি জেদ ধরেছিল আর আমরা আর 20 দিন এখানে আছি তাই সামি যেন সবসময় হাসিখুশি থাকে৷ সে জন্য আপনার কাছে পাঠাইছি৷

আপনি যে আবার অন্য কিছু ভাববেন না৷ আর বিশ দিন পর আমরা আবার চলে যাব৷ আর আমি উকিলের কাছে গিয়েছিলাম৷ বলছে বিশ দিনের মধ্যে ডিভোর্স পেপার রেডি হয়ে যাবে৷
রিমিঃ প্লিজ আপনি চলে যাবেন না৷ আমি সামি কে ছাড়া থাকতে পারব না৷ দরকার হলে আমি সামির আশে পাশে যাবনা৷ তবুও আপনি চলে যাবেন না৷ খুব কষ্টে কাটিয়েছি এই পাচ বছর৷ প্রতিটা রাতে আপনার জন্য কান্না করেছি৷ আর সবসময় দোয়া করেছি যেন আপনি আর আমার ছেলে সুস্থ থাকেন৷ আমি আর কোন প্রকার অধিকার দেখাবনা৷ তবুও আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন না৷
আমি আর কোন কথা না বলে ছাদে চলে আসলাম৷ এসে রিমির বলা কথাগুলো ভাবছি৷ আর সিগারেট টানছি৷

আপনারা পড়ছেন “আপজনের অবহেলা (২য় খণ্ড) – Koster golpo bangla.”

তারপর রুমে এসে দেখি সামি ঘুমিয়ে পড়েছে৷ রিমি সামি পাশে শুয়ে সামির মাথাই হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷ আমি রুমে আসার পরই রিমি বিছানা থেকে দাড়িয়ে গেল৷
আমিঃ এখন যাও অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমিয়ে পড়৷
রিমিঃ (কিছুটা করুন সুরে তাকাল আমার দিকে৷ ) আমি কি আজ সামির পাশে ঘুমাতে পারি৷ প্লিজ মানা করবেন না৷ আপনি তো আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন৷ শুধু এই কয়টা দিন আমাকে থাকতে দিন সামির পাশে৷ আর তারপরে হয়ত আর কোনদিন থাকা হবে না৷ যেখানে নিজের ছেলেকে আদর করতে পারমিশন নিতে হয়৷ আর যাই হোক সে জীবন রেখে আর লাভ নেই৷
আমিঃ কি বলছেন আমি তো একটা জানোয়ার৷ আর জানোয়ারের সাথে রাতে থাকতে পারবেন৷ যদি আপনার দূর্বলতার সুযোগ নেই৷ আর আপনিই তো একদিন বলেছিলেন আমাকে৷
রিমিঃ প্লিজ পুরানো কথা আর বলবেন না৷ খুব কষ্ট হয় পুরানো কথা মনে পড়লে৷ যা আমার মনটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে৷

আমিঃ আপনার কোন সমস্যা নাহলে থাকতে পারেন৷
রিমি সামির পাশে শুয়ে পড়ল৷ আর আমি সোফাই শুতে যাব তখন৷
রিমিঃ আপনি সোফাই শুতে যাচ্ছেন কেন৷ বিছানায় আসেন৷
আমিঃ বিছানায় ঘুমালে আবার আমাদের মত অমানুষ নিজেকে কন্টোল করতে পারবনা৷ তার তেকে আপনি বিছানায় ঘুমান আমি সোফায় ঘুমাই৷
রিমি কিছু না বলে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ল৷ রিমির খুব কষ্ট হচ্ছে৷ এতোদিন আহনাফের জন্য অপেক্ষা করল৷ যে আহনাফ কে ভালবেসে আবার সুখে শান্তিতে সংসার করবে৷ কিন্তু আহনাফ তার রাগ আর অভীমানের কাছে হার মেনে গেল৷
এদিকে আহনাফ ভাবছে রিমি এখন আর আগের মত নেই৷ রিমি অনেক চেন্জ হয়ে গেছে৷ সবসময় আমার পাশে থাকতে চাই৷ কিন্তু আমি আসতে দিই না৷ রিমি মনে হয় আমাকে ভালবাসে অনেক
পরের দিন আমার একটু তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেল৷ আমি বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখি৷ সামি রিমিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে৷

রিমির চোখ দুটো ফুলে আছে৷ মনে হয় সারারাত কান্না করেছে৷ চুল গুলো এলোমেলো ভাবে রিমির মুখের উপর আছে৷ খুব মায়াবি লাগছে রিমি কে৷
আর সামি যেন মনে হয় সব থেকে বেশি সুখি৷ কারন সামি তার মায়ের বুকে পরম যত্নে ঘুমিয়ে আছে৷ খুব ভাল লাগছে দেখে৷ মা ছেলের ঘুমন্ত চেহারা৷
আমি বাথরুমে ডুকলাম ফ্রেশ হতে৷ ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি সামি আর রিমি দুজনে দুষ্টামি করছে৷ আমাকে দেখে রিমি চুপ হয়ে গেল৷
আমি বাইরে বের হয়ে আসলাম৷ বাইরে থেকে হালকা নাস্তা করে বাসাই চলে আসলাম
বাসাই এসে দেখি রিমি মা আর সামি তিনজনে বসে বেশ আড্ডা দিচ্ছে৷
মাঃ বাবা আহনাফ সকালে নাস্তা না করে কোথাই গিয়েছিলি৷
আমিঃ বাইরে গিয়েছিলাম নাস্তা করতে৷ তাই দেড়ি হয়ে গেল৷
মাঃ বাইরে কেন নাস্তা করবি আমি তো তোর জন্য নাস্তা তৈরি করেছি৷

আমিঃ এই বাড়িতে আমার জন্য আবার নাস্তা তৈরি হল কবে থেকে৷
মাঃ এমন করে কেন বলছিস বাবা৷ মানুষ মাত্তই তো ভুল করে৷ তাই বলে তুই আমাদের ক্ষমা করে দিবিনা৷
আমিঃ আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি৷ আর বাইরের খাবার খেয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে৷ তাই বাসার খাবার ভাল লাগে না৷
আমি এই বলে রুমে চলে আসলাম৷
এভাবে কেটে গেল বিশ দিন৷ এই বিশ দিনে রিমি অামাকে অনেক ভালবেসে ফেলছে৷ তা রিমির আচরনে বুঝতে পারছি৷
রিমি এই বিশদিন প্রতিদিন আমার রুমে ঘুমাত৷ রিমি আর সামি বিছানায়৷ আর আমি সোফায় ঘুমাতাম৷ রিমি আমাকে আগের তুলনায় এখন বেশি কেয়ার করে৷ কাল বিকালে চলে যাব আবার ঢাকাই৷ কাউকে কিছু বলিনি কখন যাব৷
পরেরদিন সকালে উঠে চলে গেলাম উকিলের কাছে৷ ডিভোর্স পেপার নিয়ে বাসাই আসলাম৷ কিছুক্ষন পর রিমি আমার রুমে আসলো৷ সামি কে নিয়ে৷
আমিঃ এই যে এটা ধরুন আপনার চির মুক্তির ডিভোর্স পেপার৷ আর আমি বিকালে রওনা দেব৷
আমার কথা শুনে রিমির হাস্যযোল চেহারাটা নিমিষেয় মলিন হয়ে গেল৷ আর দৌড়িয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল৷
রিমিঃ প্লিজ আপনি এমন কাজ করবেন না৷ এত বড় অন্যায় করবেন না৷ আমি আপনাকে ভালবাসি পাগলের মত ভালবাসি৷ প্লিজ আমাকে চেড়ে চলে যাবেন না৷ দরকার হলে আমাকে নিয়ে চলেন৷ অন্তত সামির জন্য আমাকে সাথে করে নিয়ে চলেন৷ ( চিৎকার করে কান্না করে বলল)

আমিঃ না তা কোনদিন সম্ভব না৷ কারন আমার মনে যে ভালবাসা ছিল তা অবহেলায় পরিপূর্ন হয়ে গেছে৷ এখন আর চাইলেও সে অবহেলা কে মুছে ফেলা যাবেনা৷
রিমিঃ আমি আপনার পায়ে পড়ি আমাকে রেখে যাবেন না৷ খুব ভালবাসি আপনাকে৷ সামিকে আমার কাছ থেকে দূড়ে সরিয়ে দেবন না৷ আর আপনি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যান তাহলে আপনি যদি কোনদিন ফিরে আসেন৷ তাহলে সেদিন শুনবেন রিমি বলে এই পৃথিবীতে আর কোন হতভাগা মা থাকেনা৷ চিরদিনের জন্য চলে যাব না ফেরা দেশে৷ তখন আর কেউ বিরক্ত করবেনা৷ ( কান্না করে বলল)
রিমির এমন কান্না দেখে আমার বুকের ভিতর ভীষন ব্যাথা অনুভব করলাম৷ রিমি পাগলের মত আমার পা ধরে কান্না করতে লাগল৷

আমি রিমির থেকে ছাড়িয়ে ছাদে চলে আসলাম৷ আর ভাবতে থাকলাম এখন আমি কি করব৷ একদিকে রিমির ভালবাসা৷ অন্যদিকে মা বাবা৷ আর সামিকে তার মায়ের থেকে বন্চিত করা৷ কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না৷ আর যদি রিমি সত্যি সত্যি কিছু করে ফেলে তখন সামিকে কি উত্তর দেব৷ সারাজীবন সামির কাছে অপরাধী হয়ে থাকব৷
আমি আর কিছু ভাবতে পারছিনা৷ ব্যাগ পত্ত গুছিয়ে বাস স্টান্ডে চলে আসলাম৷ আসার সময় মা আর রিমি পাগলের মত কান্না করছিল৷ কাউকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা করছিল না৷
বাসের জন্য বাস স্টান্ডে বসে আছি৷ তখন হঠাং করে ফোনটা বেজে উঠল৷ ফোন হাতে নিয়ে দেখি বাবার নাম্মবার৷ আমি পোন রিসিভ করলাম৷ তারপর বাবা যা বলল সেটা শুনার জন্যা আমি কোন আশা করিনি৷

আরো পড়ুন – সারপ্রাইজ – Valobashar golpo bangla lekha


valobashar koster golpo bangla

পর্ব ১২

রিমির এমন কান্না দেখে আমার বুকের ভিতর ভীষন ব্যাথা অনুভব করলাম৷ রিমি পাগলের মত আমার পা ধরে কান্না করতে লাগল৷
আমি রিমির থেকে ছাড়িয়ে ছাদে চলে আসলাম৷ আর ভাবতে থাকলাম এখন আমি কি করব৷ একদিকে রিমির ভালবাসা৷ অন্যদিকে মা বাবা৷ আর সামিকে তার মায়ের থেকে বন্চিত করা৷ কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না৷ আর যদি রিমি সত্যি সত্যি কিছু করে ফেলে তখন সামিকে কি উত্তর দেব৷ সারাজীবন সামির কাছে অপরাধী হয়ে থাকব৷

আমি আর কিছু ভাবতে পারছিনা৷ ব্যাগ পত্ত গুছিয়ে বাস স্টান্ডে চলে আসলাম৷ আসার সময় মা আর রিমি পাগলের মত কান্না করছিল৷ কাউকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা করছিল না৷
বাসের জন্য বাস স্টান্ডে বসে আছি৷ তখন হঠাং করে ফোনটা বেজে উঠল৷ ফোন হাতে নিয়ে দেখি বাবার নাম্মবার৷ আমি পোন রিসিভ করলাম৷ তারপর বাবা যা বলল সেটা শুনার জন্যা আমি কোন আশা করিনি৷
বাবাঃ বাবা আহনাফ তুই যেখানে থাকিস তাড়াতাড়ি ……….. হাসপাতালে চলে আই৷
আমিঃ কেন বাবা কি হয়েছে৷ মায়ের কি কোন কিছু হয়েছে৷

বাবাঃ না তুই চলে যাওয়ার রিমি পাগলের মত চিৎকার করে কান্না করছিল৷ তারপর রিমি দৌড়িয়ে তার রুমে গিয়ে দড়জা আটকিয়ে দেয়৷ রিমি আত্তহত্যা করার চেষ্টা করেছিল৷ তুই তাড়াতাড়ি হাসাপাতালে চলে আয়৷
তাই বলে বাবা ফোন কেটে দিল৷ আমি বাবার কথা শুনে বাস স্টান্ডে একটা বেন্চে বসে পড়লাম৷ রিমি সেদিন বলেছিল যে আমি যদি চলে যায় তাহলে সে এই পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্য চলে যাবে৷ কিন্তু আমি রিমির কথা বেশি একটা গুরুত্ব দিই নি৷ রিমির কথা ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে কয়েকফোটা পানি বের হল৷
আমি তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়ে আমি আর সামি সোজা হাসপাতালে চলে আসলাম৷

হাসপাতালে এসে দেখি মা আর বাবা বসে আছে৷ আমি যাওয়া মাত্তই মা আমাকে একটা ঠাস করে চড় মারল৷
মাঃ তোর জন্য মেয়েটা আর কত কষ্ট পাবে৷ তুই এত পাষান কিভাবে হলি৷ এখন তোকে আমার ছেলে বলতেও ঘৃনা করছে৷ একজন মায়ের কাছ থেকে তুই তার বাচ্চা নিয়ে দূড়ে চলে গেছিস৷ তুই জানিস এটা কোন মা সহ্য করতে পারবেনা৷ মেয়েটা প্রতিরাতে তোর জন্য কত কান্না করেছে জানিস৷ প্রতিদিন আমাকে জড়িয়ে প্রচুর কান্না করত৷ আর বলত মা তুমি আমার ছেলে আর স্বামী কে ফিরিয়ে দিতে৷ কিন্তু আমি কিছু বলতে পারতাম না৷ আজ যদি আমার মেয়েটার কিছু হয়ে যায়৷ তাহলে চিরদিনের জন্য আমাকেও হারাতে হবে৷ (রেগে চিৎকার করে বলল)
আমি মায়ের কথা শুনে মাথা নিচু করে কান্না করছি৷ প্রচুর কষ্ট হচ্ছে রিমির এ অবস্থা দেখে৷ আজ যদি রিমির কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি সারাজীবনে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবনা৷ আর সামি কে কি বলব আমার জন্য তার এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে৷ খুব কান্না পাচ্ছে বাবাকে জড়িয়ে কান্না করতে থাকলাম৷
কিছুক্ষন পর ডাক্তার বের হয়ে আসল৷ আমি দৌড়িয়ে ডাক্তারের কাচে গেলাম৷ ডাক্তার আমার রিমি এখন কিরকম আছে৷ কি হল ডাক্তার সাহেব কথা বলছেন না কেন৷ কি হয়েছে আমার রিমির৷
ডাক্তারঃ দেখুন আমরা আমাদের বেস্ট চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু জ্ঞান না ফেরা প্রর্যন্ত কিছু বলতে পারছিনা৷

আমিঃ আমি কি একটু দেখা করতে পারি রিমির সাথে৷
ডাক্তারঃ না এখন দেখা করা সম্ভব না জ্ঞান ফিরলে কেবিনে দেওয়া হলে তখন দেকা করতে পারবে৷
আমি সামিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম৷ আমি যদি রিমিকে মেনে নিতাম তাহলে আজ এই দিনটা দেখতে হত না৷
আজ আমি আমার অভীমান আর ইগোর জন্য রিমিকে চিরতরে হারিয়ে ফেলব৷ না এ হতে পারেনা রিমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারেনা৷
আমি আস্তে আস্তে মায়ের কাছে গেলাম৷ মায়ের সামনে হাটু গেড়ে বসে পড়লাম৷ মা আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও আজ আমার জন্য রিমির এ অবস্তা৷ খুব কষ্ট হচ্ছে মা৷ মা তুমি রিমিকে বল তোমার সামি তোমার কাছে চলে এসেছে৷ তুমি রিমিকে উঠতে বল মা৷ (কান্না করে বললাম)

মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল৷ কিছু হবেনা তোর রিমির দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে এভাবে কান্না করিস না শক্ত হ বাবা৷
17 ঘন্টা পর রিমির জ্ঞান ফিরল৷ আর রিমিকে পাশের একটা কেবিনে শিফট করল৷ তারপর ডাক্তার সাহেব আমাদের একজন একজন করে দেখা করতে গেল৷
প্রথমে মা দেখা করতে গেল৷ কিছুক্ষন পর মা বের হয়ে আসল তারপর আমি আর সামি গেলাম রিমির কাছে৷ রিমি আমাকে দেখে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল৷
আমি গিয়ে রিমির একটা হাত আমার হাতের মুঠোর মধ্যে করে শক্ত করে ধরলাম৷
আমিঃ তুমি চিরদিনের জন্য চলে যেতে চাইছিলা তাই না৷ তুমি চলে গেলে তোমার ছেলের মা হবে কে৷ তোমার ছেলেকে আদর করবে কে৷ তুমি চলে গেলে সামি মা বলে কাকে ডাকবে৷ তুমি চলে গেলে এই অমানুষ কে মানুষ করবে কে৷ আমাদের কথা একবারো ভাবলে না তুমি৷ তুমি চলে গেলে আমার মা বাবাকে দেখে রাখবে কে৷ একবারো আমাদের কথা ভাবলেনা তুমি৷ (কান্না করে)

রিমিঃ আমি চলে গেলে কারো কি আসে যায়৷ ছেলে থাকেতে ছেলেকে ঠিকভাবে কাছে টানতে পারিনা৷ স্বামী থাকতে আমি একজন স্বামী হারা৷ তাই আমি আর বাচতে চাই না৷ তুমি জান তুমি যেদিন আমার দুধের বাচ্চা কে নিয়ে চলে গিয়েছিলে৷ সেদিনি আমি মরে যেতে ইচ্ছা করছিল৷ আমি আমার নিজের গর্ভের ছেলেকে গালাগালি করছি৷ প্রতিটা রাতে কান্না করছি৷ যে আমি একজন মা হয়ে কীভাবে আমার সন্তান কে অবহেলা করেছি৷ তাই আমি আর বেচে থাকতে চাইনা৷ যেখানে সব থাকতেও আমি একজন হতভাগি৷ ( ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করে বলল)
আমিঃ এই যে তোমার স্বামী আর তোমার ছেলে তোমার কাছে ফিরে এসেছে৷ আর কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাবনা৷ আর তোমার কাছ থেকে তোমার ছেলেকে আলাদা করব না৷ এখন থেকে এই দুটো অমানুষ কে মানুষ করার দায়িক্ত তোমাকে দিলাম৷ কি পারবেনা মানুষ করতে৷
রিমিঃ এই একদম আমার স্বামী আর ছেলেকে অমানুষ বলবেনা৷ আর একবার যদি ওই কথা বল তাহলে দেখেনিও আমি তোমাকে মাডার করে দেব৷
আমিঃ ওকে মহারানি আর বলবনা কিন্তু একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবাচ্ছে৷
রিমিঃ কি বিষয়ে ভাবছো তুমি দেখি৷ আমার স্বামীটা কি নিয়ে এত চিন্তা করছে৷

আমিঃ বিষয় টা হল তুমি কি খেয়ে আত্তহত্যা করতে গেছিলে যে বেচে গেলে৷ শুনলাম নাকি ফিনাইল খেয়েছিলে৷ ফিনাইল খাইলে কেউ মরে নাকি৷ বাথরুমের হারপিক খাইলে মনে হয় এতসময় সোজা উপরে উঠে যেতে৷ আচ্ছা সমস্যা নেই এবার থেকে আত্তহত্যা করতে চাইলে আমাকে বলবে আমি হারপিক নিয়ে আসব৷
রিমিঃ কুত্তা তুই আমাকে নিয়ে মজা করছিস৷ আজ দ্বাড়া তোকে আমি মেরে ফেলব৷ তাই বলে রিমি আমাকে মারতে লাগল৷
তারপর রিমিকে আমি জড়িয়ে ধরললাম৷ আর রিমিও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে আমার বুকে মাথা রাখল৷ মনে হচ্ছে রিমি তার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা পেয়ে গেছে৷ আমি রিমির মাথা উঠিয়ে রিমির কপালে একটা চুমু খেলাম৷ তারপর রিমি আবার আমাকে জড়িয়ে ধরল৷

সামিঃ আব্বু তুমি আমাকে জড়িয়ে না ধরে আম্মুকে জড়িয়ে আছ কেন৷ আমাকে জড়িয়ে ধর নইলে আমি দাদুভাইকে সব বলে দেব কিন্তু৷
তারপর রিমি আমাকে ছেড়ে দিয়ে সামি কোলে তুলে নিয়ে পাগলের মত দুই গালে কপালে নাকে ইচ্ছামত চুমু খেতে লাগল৷ আমি মা ছেলের ভালবাসা দেখছি৷ তারপর রিমি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল৷
তারপর রিমি একপাশে সামিকে জড়িয়ে ধরল আর আমাকে অন্যপাশে জড়িয়ে ধরে রিমি কান্না করে দিল৷
রিমি আমাকে তার বুক থেকে এক ঝাটকায় সরিয়ে দিল৷
রিমিঃ আপনি কে আর আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন কেন৷ হুমমম বলেন কে আপনি যে আমার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আছেন কেন৷
আমিঃ কি বলছো এসব হুমমম ফান করনা তো৷ আজ প্রথম আমি আমার বউকে জড়িয়ে ধরলাম৷ আর তুমি আমাকে সরিয়ে দিলে কেন৷
রিমিঃ জড়িয়ে ধরতে পারি তবে একটা শর্ত আছে৷ শর্তটা মানতে পারলে তোমাকে অনেক গুলো পাপ্পি দেব৷
আমিঃ নিজের বৌকে জড়িয়ে ধরতে আবার শর্ত লাগে নাকি৷
রিমিঃ হুম আমাকে জড়িয়ে ধরতে হলে একটা শর্ত মানতে হবে৷

আমিঃ হুমমম বলেন মহারানি কি শর্ত আপনার৷
রিমিঃ আমাকে এখন এখানে প্রপোজ করতে হবে৷ আর তা না হলে আমাকে আর জড়িয়ে ঘরতে পারবেনা৷
আমিঃ যদি প্রপোজ করি তাহলে তুমি আমাকে মারবেনা তো আর গালাগালি দিতে পারবে না৷
রিমি আমার কথা শুনে হাসিমাখা মুখটা নিমিষেয় কাল হয়ে গেল৷ কারন আগে যখন রিমিকে প্রপোজ করতাম তখন রিমি আমাকে গালাগালি করত৷
আমি আর কথা না বাড়িয়ে রিমি সামনে হাটু গেড়ে বসে পড়লাম৷ কিন্তু এখন ফুল কোথায় পাব৷ তখন মনে পড়ে গেল সামির কথা৷ সামিকে দুই হাত দিয়ে উচু করে রিমির সামনে ধরলাম৷
হবে কি তুমি আমার দিনের সূর্য যা আমার জীবন কে আলোকিত করবে৷
হবে কি তুমি আমার ঐ পূর্নিমার চাদ যে আলোকিত করবে আমার রাত৷

হবে কি আমার না দেখা সপ্ন যা প্রতিরাতে তোমাকে নিয়ে দেখতে চাই৷
হবে কি আমার ছেলে সামির আম্মু৷
রিমিঃ হা হা হা হা এই প্রথম কোন ছেলে দিয়ে প্রোপজ করা দেখলাম৷ হুমমম আমি তোমার ছেলের আম্মু হব৷ তাইবলে সামি কে কোলে তুলে নিল রিমি৷
আমিঃ এখন কি আমার বৌটাকে একটু জড়িয়ে ধরতে পারি৷

রিমিঃ না এখন হবে না সামি আছে এখনে৷ আগে বাসাই যাব তারপর তোমাকে সবসময় বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখব৷ যেন আমাকে আর কষ্ট দিয়ে চলে যেতে না পার৷
আমিঃ কে বলল আমি আমার সুইট বৌটাকে রেখে চলে যাব৷ (রিমির নাক টেনে বললাম)
তারপর রিমি আর সামিকে দুই হাত দিয়ে দুজনকে জড়িয়ে ধরলাম৷ রিমি যেন আমার বুকের সাতে মিশে যেতে চাইছে৷
আমিঃ এই রিমি …………
রিমিঃ হুমমমম…(জড়িয়ে ধরা অবস্থায় বলল)
আমিঃ I LOVE U SONA
রিমিঃ I LOVE U TOO JAN.

তারপর হঠাং করে দড়জায় ঠক ঠক আওয়াজ আসল৷ আমি রিমিকে ছেড়ে দিলাম৷ দেখি মা বাবা আর ডাক্তার কেবিনে আসল৷
ডাক্তার রিমি কে একটু চেকআপ করে বলল আগামীকাল রুগীকে নিয়ে যেতে পারেন৷ তাই বলে ডাক্তার চলে গেল৷
মাঃ কি ব্যাপার আমার মেয়েটাকে অনেক খুশি খুশি লাগছে৷ আজ অনেকদিন পর মেয়েটার মুখে হাসি দেখলাম৷ দোয়া করি যেন তোরা সবসময় এমন খুশি হয়ে সুখে শান্তিতে ঘর সংসার কর৷
রিমি মায়ের কথা শুনে কিছুটা লজ্জা পেল৷ কিছুক্ষন পর একটা মহিলা এসে রিমিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল৷ রিমিও সেই মহিলাকে জড়িয়ে ধরে অঝর ধারাই কান্না করে দিল৷
আমি আস্তে আস্তে বাবার কাছে গেলাম৷ বাবা এই মহিলা টা আবার কে একে তো কোনদিন দেখিনি৷
বাবাঃ আরে বলদের বাচ্চা বলদ এটা রিমির মা৷ তোর একমাত্ত শাশুরিআম্মা হয়৷

আমিঃ কিহহহহহহ আগে বলবে তো যে ইনি আমার শাশুরি হয়৷ ( আসলে রিমির মাকে কোনদিন দেখিনি তাই চিনতে পারছিনা৷ )
আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে রিমির মার পা ধরে সালাম করলাম৷ রিমির মা আমাকে দেখে কান্না করে দিল৷
তারপর কিছুক্ষন গল্প করে সবাই কে বাসাই পাঠিয়ে দিলাম৷ মায়ের সাথে সামিকেও বাসাই পাঠিয়ে দিলাম৷ আমি সারারাত রিমির পাশে থাকব তাই সবাই কে বাসাই পাঠিয়ে দিলাম৷
আমিঃ এই তোমার ক্ষুদা পেয়েছে না৷
রিমিঃ না আমার ক্ষুদা নাই তবে কেউ যদি আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিত তাহলে একটু খাইতাম আরকি৷
আমিঃ এত ঢং না করে সোজাসুজি ভাবে বললেই হত৷
রিমিঃ কিহহহ আমি ঢং করছি৷ দাড়া ওখনে আমি আসছি৷
আমি আর দাড়িয়ে না থেকে বাইরে এসে কিছু খাবার আর ফল ার জুস কিনে রিমির কাছে আসলাম৷

তারপর রিমির হাত ধরে রিমিকে উঠালাম৷ তারপর একটু একটু করে খাইয়ে দিলাম৷
আমি রিমিকে খাওয়াচ্ছি আর রিমি আমার দিকে একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ আর চোখ দিয়ে চপটপ করে পানি পড়ছে৷
আমি রিমির চোকের পানি মুছিয়ে দিলাম৷ এই পাগলি কাদছ কেন তুমি৷
রিমিঃ তুমি আমার উপর যদি রাগ কর আবার চলে যাও আমি সেদিন সত্তি সত্তি মরে যাব৷
আমিঃ দূর পাগলি কোথাও যাব না তোমাকে ছেড়ে৷ খুব ভালবাসি তো পাগলিটাকে৷ তাই আর ছেড়ে যাব না৷

তারপর রিমি আমাকে একটু খাইয়ে দিল৷ তারপর রিমির বেডের পাশে একটা এক্সটা বেড আছে৷ আমি রিমির কপালে একটা চুমু দিয়ে৷ পাশের বেডে ঘুমাতে যাব তখন রিমি বলল৷
রিমিঃ কোথায় যাচ্ছ তুমি৷
আমিঃ কেন আমি ঘুমাব তো৷ তুমি ওখানে ঘুমাও আমি এখানে ঘুমায়৷
রিমি এবার রাগ করে কোন কথা না মুখ টা অন্যদিকে ঘুরে বসে পড়ল৷
আমি রিমির কাছে গিয়ে রিমিকে আমার দিকে ফিরিয়ে বললাম৷

এই পাগলি রাগ করছো কেন৷ হঠাং করে মুখটা বাংলা পাচের মত করলে কেন৷
রিমি আমাকে জড়িয়ে ধরে আল্লদি কন্ঠে বলল৷ আমার সাথে আমার বেডে ঘুমাবে তুমি৷ খুব জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে ইচ্ছা করছে৷ তোমার ওই বুকে একটু মাথা রেখে ঘুমাতে দেবা৷
তারপর পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম৷ পাগলিটা আমার জড়িয়ে ধরে মনে হল৷ রিমি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে খুশি৷
তারপরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রিমি রাতের মত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে৷ কিন্তু রাতের থেকে এখন বেশি শক্ত করে জড়িয়ে শুয়ে৷
তারপর রিমির কপালে একটা চুমু খেয়ে যেই উঠতে যাব তখন রিমি উঠতে দিল না৷

আমিঃ তুমি কখন জাগলে আমিতো দেখলাম তুমি ঘুমিয়ে ছিলাম৷
রিমিঃ আমি অনেক আগে উঠেছি কিন্তু ডাকিনি৷ কারন আজ সারাদিন তোমার বুকে শুয়ে থাকব৷
তারপর বাসা থেকে সবাই নিতে আসলো আমাদের৷ তারপর আমরা সবাই বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম৷ সামি তার মায়ের কোলে শুয়ে আছে৷ আর রিমি সামির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷
তারপর বাসাই এসে গোসল করে যেই বের হব তখন রিমি আবার আমার সামনে এসে জড়িয়ে ধরল৷ কি ব্যাপার আমার পাগলি বৌ টা আজ মনটা মনে হচ্ছে খুব ভাল৷
হুমমমম তুমি সবসময় পাশে থাকলে আমি সবসময় খুশি থাকব৷

আরো পড়ুন – রহস্যময়ী মেয়ে – লোমহর্ষক ভৌতিক গল্প


koster premer golpo bangla

পর্ব ১৩ (অন্তিম)

রিমি এবার রাগ করে কোন কথা না মুখ টা অন্যদিকে ঘুরে বসে পড়ল৷

আমি রিমির কাছে গিয়ে রিমিকে আমার দিকে ফিরিয়ে বললাম৷
এই পাগলি রাগ করছো কেন৷ হঠাং করে মুখটা বাংলা পাচের মত করলে কেন৷
রিমি আমাকে জড়িয়ে ধরে আল্লদি কন্ঠে বলল৷ আমার সাথে আমার বেডে ঘুমাবে তুমি৷ খুব জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে ইচ্ছা করছে৷ তোমার ওই বুকে একটু মাথা রেখে ঘুমাতে দেবা৷
তারপর পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম৷ পাগলিটা আমার জড়িয়ে ধরে মনে হল৷ রিমি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে খুশি৷
তারপরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রিমি রাতের মত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে৷ কিন্তু রাতের থেকে এখন বেশি শক্ত করে জড়িয়ে শুয়ে৷
তারপর রিমির কপালে একটা চুমু খেয়ে যেই উঠতে যাব তখন রিমি উঠতে দিল না৷
আমিঃ তুমি কখন জাগলে আমিতো দেখলাম তুমি ঘুমিয়ে ছিলাম৷

রিমিঃ আমি অনেক আগে উঠেছি কিন্তু ডাকিনি৷ কারন আজ সারাদিন তোমার বুকে শুয়ে থাকব৷
তারপর বাসা তেকে সবাই নিতে আসলো আমাদের৷ তারপর আমরা সবাই বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম৷ সামি তার মায়ের কোলে শুয়ে আছে৷ আর রিমি সামির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷
তারপর বাসাই এসে গোসল করে যেই বের হব তখন রিমি আবার আমার সামনে এসে জড়িয়ে ধরল৷ কি ব্যাপার আমার পাগলি বৌ টা আজ মনটা মনে হচ্ছে খুব ভাল৷
হুমমমম তুমি সবসময় পাশে থাকলে আমি সবসময় খুশি থাকব৷
তারপর দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় আমি রুমে বসে আছি৷ তখন রিমি রুমে আসল৷ আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম রিমি আমার মাথার কাছে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে৷
রিমিঃ একটা কথা বলব রাখবে কথা টা৷
আমি রিমির হাত জড়িয়ে ধরে বললাম হুমমম বল এতে আবার অনুমতি নেওয়ার কি আছে৷
রিমিঃ না তুমি আগে বল যে আমার কথা টা রাখবে৷
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে তোমার কথা বল এবার৷

রিমিঃ চল নিচে চল আজ সবাই একসাথে বসে লান্স করব৷ (কিছুটা নরম সুরে বলল)
আমি রিমির কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলাম৷ এইটুকু কথা বলবে তাও আবার ভয় পাচ্ছে৷
আমিঃ আচ্ছা তোমার কথা রাখতে তবে একটা শর্ত আছে৷ তুমি যদি শর্ত টা মানতে পার তাহলে সবাই একসাতে লান্স করব৷
রিমিঃ তোমার আবার কি শর্ত৷ হুমমম বল কি শর্ত তোমার৷ (কিছুটা ভয়ার্ত চোখে বলল)
আমিঃ এখন আমাকে গুনে গুনে 20 টা পাপ্পি দিতে হবে তারপর আমি লান্স করব আর যদি না দাও তাহলে৷ আমাকে আবার কষ্ট করে বাইরে লান্স করতে যেতে হবে৷
আমার কথা শুনে রিমি লজ্জাই মাথা নিচু করে ফেলল৷
রিমিঃ যা দুষ্টু ওটা আমি দিতে পারবনা৷ কেউ দেখে ফেলবে৷
আমিঃ না কেউ দেখবেনা আর যদি না দাও তাহলে যাই বাইরে থেকে লান্স করে আসি৷
তাই বলে আমি যেই উঠতে যাব তখনি রিমি আমাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল৷ আর আমার বুকের উপর শুয়ে চার ঠোট একজায়গাই করে দিল৷

এভাবে কতক্ষন ছিলাম জানিনা৷ তবে আমার বেশ ভাল লাগছে৷ তাই আমি রিমির দুই গালে হাত দিয়ে আমার কাছে টেনে নিলাম৷
রিমি আমাকে ছেড়ে দিয়ে যেই চলে যাবে তখনি আমি আবার রিমির হাত ধরে আবার আমার বুকের উপর নিয়ে আসলাম৷
রিমি এবার আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার বুকের শুয়ে পড়ল৷
আমিঃ এই আমরা হানিমুন করতে যাব না৷
রিমিঃ উমমমম ঢং দেখলে বাচিনা৷ বুড়ো বয়সে হানিমুন তোমার বের করছি দাড়াও৷
তাই বলে রিমি আমাকে মারতে থাকল৷
আমিঃ কিহহহহহ আমি বুড়ো তাহলে তুমি আমার সুইট বুড়ি বৌ৷
রিমিঃ না তুমি বুড়ো হয়ে গেছ৷
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে এই বুড়োর সাথে তোমার থাকতে হবে না৷ আমি আবার চলে যাব৷ আগে আমি আর সামি যেখানে থাকতাম৷
রিমি আমার কথা শুনে আমাকে এবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল৷

রিমিঃ না তুমি কোথাও যাবে না৷ তোমাকে আমি কোথাও যেতে দেব না৷ তুমি চলে গেলে এবার আমি সত্যি সত্যি মারা যাব৷
আমিঃ চুপ পাগলি মরার কথা আর একবারো যেন মুখে না শুনি৷ তুমি কি ভাবছো এই পাচটা বচর তোমার কাছ থেকে দূড়ে সরে খুব খুশি ছিলাম তাই না৷ তোমার কথা প্রচুর মনে পড়ত৷ খুব কষ্ট হত তোমার মা বাবার কথা পড়লে৷
রিমিঃ তাহলে তুমি এই মাত্ত বললে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে৷
আমিঃ না তোমাদের ছেড়ে আমি কোথাও যাব না৷
রিমিঃ চল নিচে চল সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য৷
তারপর নিচে এসে সবাই একসাথে খেতে বসলাম৷ রিমি সামিকে খাওয়াই দিচ্ছে৷ কতদিন পর বাড়ির রান্না করা খাবার খাইলাম৷
খাওয়া শেষে উঠতে যাব তখন বাবা বলল৷

বাবাঃ আহনাফ তুমি কি ঢাকাই চলে যাবে নাকি এখানে নিজেদের ব্যাবসা দেখাশুনা করবে৷
আমিঃ না বাবা আমি আর ঢাকাই যাব না৷ এখানে নিজেদের ব্যাবসা দেখব৷ তবে কিছুদিন পর থেকে অফিস যাব৷ আমাকে একজায়গাই যেতে হবে৷ আর সাথে রিমি আর সামি কে নিয়ে যাব৷ আর আগামীকালই রওনা দেব৷
বাবাঃ ঠিক আছে আর সাবধানে যাস৷
তাই বলে রুমে চলে আসলাম৷ তারপর রিমি আসলো রুমে৷
রিমিঃ এই আমাদের নিয়ে তুমি কোথাই যাবে বললে না কিন্তু৷
আমিঃ কেন সেই সময় বললাম তো হানিমুনে যাব৷ আর খুব গুরুত্বপূর্ন একটা কাজ আছে ওখানে৷
রিমিঃ কি এমন গুরুত্বপূর্ন কাজ যে আমাকে বলা যাবে না৷
আমিঃ সময় হলে সবই জানতে পারবে৷

তারপর দিলাম একটা ঘুম৷ ঘুম থেকে উঠে রিমিকে বললাম গুছিয়ে নিতে৷ আজ আমরা ঘুরতে যাব৷
রিমি এতগুলো খুশি হল৷ আচ্ছা আমি কোন শাড়িটা পড়ব৷
আমিঃ তুমি একটা কাল রংয়ের শাড়ি পড়বে৷ আর সামিকে একটা কাল রংয়ের পান্জাবী পড়িয়ে দেবা৷ আর আমিও একটা কালো রংয়ের পান্জাবী পড়ব৷ সবাই একসাথে ম্যাচিং করে ড্রেস পড়ে বাই রে বের হব৷ তখন মা সামনে আসলো৷
মাঃ বাহহহ খুব সুন্দর লাগছে তোমাদের কে৷ আমারই নজর লাগছে৷

তারপর আমরা বাইরে বের হয়ে একসাথে হাটতে তাকলাম৷ সামি মাঝখানে হাটছে আর আমি আর রিমি দুপাশে সামির হাত ধরে হাটছি৷
রাস্তার সবাই যেন কিরকম ভাভে আমাদের দিকে বারবার তাকিয়ে আছে৷
এভাবে কিছুদূর যাওয়ার পর৷ আমার কিছু পুরানো বন্ধুদের সাতে দেখা হল৷
তাদের কাছে গিয়ে দাড়ালাম সব শালারা আমাদের তাকিয়ে আছে৷
আমিঃ ওই শালা এই ভাবে কি দেখিস৷

দোস্ত তোদের খুব সুন্দর লাগছে রে৷ যে দেখবেই সেই অন্যজগতে হারিয়ে যাবে৷
তারপর তাদের থেকে বিদায় নিয়ে একটা ফুসকা হাউজে ডুকে দুই প্লেট ফুসকা অর্ডার করলাম৷ আর সামির জন্য জুস নিলাম৷
তারপর হাটতে হাটতে বাসাই চলে আসলাম৷ রাতে একসাথে খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম৷ কিছুক্ষন পর রিমি সামিকে কোলে করে নিয়ে বিছানায় ঘুম পাডিয়ে দিল৷
তারপর আমি শুয়ে পড়লাম৷ রিমি সামিকে এক পাশে রেখে রিমি মাঝখানে চলে আসল৷ আর আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল৷
তারপর কিছুক্ষন গল্প করে ঘুমিয়ে পড়লাম৷ সকালে উঠে দেখি রিমি আমার বাম সাইডে আর সামি ডান সাইডে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে৷ আর শুধু দুষ্টামি করছে৷
তারপর ফ্রেশ হয়ে রিমিকে বললাম ব্যাগপত্ত গুছিয়ে নিতে৷ সকাল 10 টায় গাড়ি৷ তাই তাড়াতাড়ি বাস স্টান্ডে গিয়ে বাসে উঠে পড়লাম৷
রিমিঃ আমরা কোথায় যাচ্ছি বলবে একটু৷
আমিঃ আমরা সবাই কক্সবাজার যাচ্ছি৷
তারপর রিমি আমার কাধে মাথা রেখে আমার জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল৷ আর সামি আমার কোলে ঘুমাচ্ছে৷

আমরা ভোর 6 টার সময় চিটাগাং পৌছালাম৷ তারপর রিমি কে ডাকদিলাম৷ তারপর বাস থেকে নেমে একটা রিক্সা নিয়ে সোজা চলে আসলাম সেই চায়ের দোকানে৷ যেখানে ঠিক পাচ বছর আগে একটা বাচ্চা ছেলে নিয়ে এসেছিলাম৷
দোকানের কাচে গিয়ে দেখলাম চাচা এইমাত্ত দোকান টা খুলল৷
আমি গিয়ে চাচা কে জড়িয়ে ধরলাম৷ চাচা আমাকে দেখে খুশিতে জড়িয়ে ধরল৷ তারপর সামি আর রিমিকে ডাক দিলাম৷

আমিঃ চাচা দেখেন তো চিনতে পারেন কিনা৷
চাচাঃ ভাল করে দেখল কিন্তু সামিকে চিন্তে পারছেনা৷
আমিঃ চাচা আমার সেই ছোট ছেলে যাকে আপনি অশ্রয় দিয়েছিলেন৷
তারপর চাচা সামিকে কোলে তুলে নিয়ে খুশিতে কান্না করে দিল৷ তারপর সবাই মিলে চাচার বাসাই আসলাম৷
আজ অনেকদিন পর এই রুমে প্রবেশ করলাম৷

আমিঃ চাচা অনিকার খবর কি৷ অনিকা ভাল আছে তো৷
চাচাঃ হুমমম ভাল আছে সবাই ভাল আছে৷ তুমি একটু বস আমি অনিকাকে ফোন দিয়ে বলছি যে তোরা এসেছিস৷
তারপর চাচা অনিকাকে পোন করে বাইরে চলে গেল কিছু খাবার আনতে৷
রিমিঃ এই অনিকা কে আর তুমি তাকে কিভাবে চিন৷
আমিঃ অনিকা হচ্ছে এই চাচার মেয়ে আর সেই আমাদের সামিকে 1 বছর সামি নিজের মায়ের মত আদর যন্তে বড় করেছিল৷ তারপর এক এক করে রিমিকে সবই বলে দিলাম৷
তারপর চাচা নাস্তা নিয়ে আসলো৷ কিছুক্ষন পর অনিকা হাপাতে হাপাতে রুমে প্রবেশ করল৷
আর অনিকা সামিকে দেখে কোলে তুলে পাগলের মত চুমু দিতে লাগল৷
অনিকাঃ কেমন আছেন আপনি৷ আর এইটা কি সেই রিমি ভাবি৷

আমিঃ হুমমম আমরা ভাল আছি৷ আর এই হচ্ছে সামির আম্মু৷
তারপর রিমি অনিকার সাথে কিছু কথা বলে সবাই কে বিদায় দিয়ে আবার আমরা গাড়িতে উঠে পড়লাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্য৷
তারপর আমরা একটা হোটেল নিলাম৷ হোটেলে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম৷ এখন রাত হয়ে গেছে আর জার্নি করে শরীর একদম ক্লান্ত তাই আর সমুদ্র পাড়ে যাইনি৷
হোটোলে শুয়ে আছি সামি ঘুমিয়ে পড়েছে৷ তারপর রিমি ফ্রেশ হয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল৷
রিমিঃ এই আমার আর একটা জিনিস চাইব দিবে৷
আমিঃ হুমমম দেবনা কেন আমার সব কিছু তো এখন থেকে তোমার৷ তাহলে এখানে অনুমতি নেওয়ার কি আছে৷
রিমিঃ আমাকে আর একটা বাবু এনে দিবা৷ সামি জন্য আর একটা বোন দরকার৷
আমিঃ কিন্তু সামির মত যদি সে ও ওরকম অবহেলা পাই তাহলেতো আমি সহ্য করতে পারবনা৷
রিমি এবার আমার বুকের উপর থেকে নেমে পড়ল৷ আর অন্যদিকে মুখ করে কান্না করছে৷
আমিঃ আমার লক্ষী বৌ টা রাগ করল৷ আরে আমি তো তোমার সাথে মজা করছিলাম৷

রিমিঃ ……………(চুপ করে কান্না করছে)
আমিঃ এই পাগলি রাগ করছো কেন আমি তোমার সাথে তো ফান করলাম৷ আচ্ছা ঠিক আছে একটা না পুরো কাবাডি খেলার টিম তৈরি করব ঠিক আছে৷
রিমি এবার আমার দিখে ফিরে বলল প্লিজ তুমি আর পুরানো কথা বলবেনা৷ খুব কষ্ট হয় সেই পুরানো কথা মনে পড়লে৷ আর কখনো বলবে না ওই সব কথা৷
এবার আমি রিমিকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরলাম৷ আচ্ছা সামির জন্য একটা বোন নিয়ে আসতে হল তো অনের প্ররিশ্রম করতে হবে৷

রিমিঃ যা দুষ্টু তোমার কোন লজ্জা নেই পাঠক পাঠিকা রা তো সব দেখে ফেলবে৷ আগে লাইট নিভিয়ে আসো নইলে সবাই আবার দেখে ফেলবে৷
ভাইয়া ও আপুরা এখন আমরা সামির জন্য একটা মিষ্টি বোন নিয়ে আসতে যাচ্ছি৷ আপনারা এবার চোখ বন্ধ করেন৷ নইলে আবার আমার পাগলি বৌ টা লজ্জা পাচ্ছে৷

লেখা – শাহজান সিরাজ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “আপজনের অবহেলা – Koster golpo bangla” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – আপনজনের অবহেলা (১ম খণ্ড) – Koster bangla golpo

অবৈধ প্রেমের মিলনের গল্প


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!