কষ্টের প্রেমের গল্প

অনুতাপ – ফিরে আসার গল্প

অনুতাপ – ফিরে আসার গল্প: ওদিকে আবির চেস্টা করে যাচ্ছে অহনাকে বোঝানোর কিন্তু অহনা কিছুতেই আবিরের কথা শুনতে চাইছে না। তারপর যখন অনেক বোঝানোর পর অহনা আবিরকে বলার একটা সুযোগ দিতে চাইলো তখন আবির তাকিয়ে দেখে চারিপাশে জালালের লোকজন লুকিয়ে তাদের ফলো করছে।


পর্ব ০১

“তীব্র যন্ত্রণায়, রক্তাক্ত শরীরে, রাস্তার এক কোণে, পরে আছে অহনা।”রাস্তা অবদি গড়িয়ে অহনার রক্তের জোয়ার ভেসে আসছে। ক্ষত-বিক্ষত শরীরটা ছটফট করছে আর কাতরাচ্ছে। ঝাপসা চোখে মিটমিট করে চেয়ে আছে, যেখানে শুধুই এক নির্বাক আর্তনাদ “আমি বাঁচাব তো আদিবা?”

ওদিকে আদিবা নিজের লাল টুকটুকে রক্তে ভেজা শাড়ির আচলটা নিংরিয়ে বারংবার অহনার শরীরের রক্ত ক্ষরণ রোধের অহেতুক চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর চিৎকার করে বলছে, তোমার কিচ্ছু হবে না আপু। কেউ আছেন? প্লিজ হেল্প! আমার আপুটাকে হসপিতালে নিয়ে যেতে হবে। চারিপাশের লোকজন গুলো তাদেরকে ঘিরে দর্শকের ন্যায় উক্ত প্রেক্ষাপটটি দৃশায়ন করছে। কেউ ছবি তুলছে তো কেউবা এই ব্যাপারটাকে লাইভ ভিডিও করে ফেইসবুক ওয়ালে প্রচার করতে ব্যস্ত। একজন তো বলছে, ছরি আপু, এটা পুলিশ কেস আমরা কেউ ইনাকে স্পর্শ করতে পারব না। তাহলে আমাদেরকেই পুলিশের ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

লোকটার কথা শুনার পর যদিও কোনও সহৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে আসতো তারাও পিছপা হয়ে গেছে। এমন সময়ে কেউ একজন ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে আসে। এই মর্মান্তিক দৃশ্যটি দেখে তার চোখের কোণ ঘেষে টপ করে দুই/এক ফোঁটা অশ্রুর ধারা বেয়ে পরে। সে হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অহনার দিকে। লোকসজ্জার এমন নির্দয়মাণ আচারণে সে অনেকটা তীক্ষ্ণ দৃস্টি পোষণ করে। আর সেই পাষাণ দর্শকমহলের লোকগুলোকে ধিক্কার জানায়। অহনার কাছে এসে অহনাকে চেকাব করে, কোলে তুলে নেয়। আদিবাকে বলে, দেখুন এ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

এনার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। যত দ্রুত সম্ভব হসপিতালে নিয়ে যেতে হবে। সে আর দেরি না করেই অহনাকে নিয়ে তার গাড়িতে শুইয়ে দেয়। কি ভাবছেন? গাড়িতে উঠুন। আমি একজন ডাক্তার। আমি যানি রোগীর কিসে ভালো হতে পারে। আদিবা আর কিছু না ভেবেই গাড়িতে উঠে পড়ে। আর একটা স্বস্থির নিশ্বাস ছাড়ে। যাক! ভাবতে ভালো লাগছে পৃথিবীর থেকে সব ভালো মানুষগুলো এখনও বিলীন হয়ে যায় নি!

গাড়িতে বসে আদিবা অহনার কাপাঁকাপাঁ হাতটি স্পর্শ করে। দেখে বিরবির করে অহনা তাকে হাতের ইশারায় কাছে ডাকছে। হয়তো কিছু একটা বলতে চাই! আদিবা ঝুঁকে অহনার মুখের কাছে তার কান পেতে শুনার চেস্টা করছে।”আমি বাঁচব তো আদিবা?”
কথাটি শুনে আদিবার ভেতরটা দুমরে মুচরে যাই।

এইতো গতকাল রাতে! কতটা স্বপ্ন আর উল্লাস নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম আমি। ভেবেছিল আজকের দিনটা অনেক সুন্দর হবে কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল এটা! এখন তো বেচেঁ থাকার মানেটাই আমার কাছে বদলে গেছে। স্বপ্নগুলো ভেঙে হয়েছে চুরমার। আর আমার অহনা আপু? সে তো কোনও দোষ করে নি! তবুও কেন তার এই নির্মম পরিণতি?
আদিবা চোখের সামনে বোনের এই অবস্থা আর দেখতে পারছে না।

আমি কখনই নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না আপু। আমি তোমার অপরাধি। আমাকে বাচাঁতে গিয়েই তোমার এই অবস্থা হয়েছে। তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো আর আমাকে শাস্তি দাও। আদিবা আর কিছুই বলতে পারছে না এটুকু বলেই হাউমাউ করে কেদেঁ দেয়!
ঘন্টা ৩ আগের ঘটনা,

সকালের এলার্ম বাজতেই আদিবার ঘুম ভাঙে। আর নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। আয়নার সামনে দাড়িয়ে একটার পর একটা শাড়ি নিজের উপর ধরতেই থাকে। নাহ একটাতেও মানাচ্ছে না। তারপর বড় বোন অহনার হেল্প নিয়ে ম্যাচিং করে লাল শাড়ি, হাতে কাচের চুরি সাথে খয়েরী রংয়ের হিজাব পরে কপালে ছোট্ট একটা লালটিপ দেয়। হ্যাঁ এখন ভালো লাগছে।

কি হলো আদিবা আর কতো আয়না দেখবি?
আপু সত্যি করে বল না আমাকে সুন্দর লাগছে তো?

আরে হ্যা রে বাবাহ লাল পরীর মতো লাগছে আমার বনুটাকে। এবার চল নইলে লেট হয়ে যাবি। আর তোর ফেইক আইডি, কি যেন নাম? ও হ্যাঁ, অবুঝ বালক! তোকে খুঁজে না পেয়েই কেটে পরবে।

আপু! তুমি ওকে মোটেও ফেইক আইডি বলবা না। ওর যথেষ্ট বুদ্ধি আছে। আর ভাচ্যুয়াল জগতে সব ফেইক আইডিগুলো যে খারাপ হয় তা কিন্তু নয়!

আচ্ছা ঠিক আছে। তোকে বোঝানোর সাধ্য আমার নেই। এবার চলতো! যানিসই তো আমার এক্সাম চলছে। আব্বুর কড়া নিষেধ এক্সামের মধ্য নো ঘুড়াঘুড়ি। এখন দ্রুত বের হতে হবে নইলে আব্বুর ঘুম ভাঙলে আমার যাওয়া হয়ে যাবে! আর তুই ভালো করেই যানিস তোকে আমি একা ছাড়ব না। তো…..?

বুঝেছি গো আপু আর বলতে হবে না; চলো।
আদিবার বড় বোন অহনা। যার সাথে আদিবা নিজের সব কথা শেয়ার করে। আদিবা যখন যা আবদার করে সাধ্যের মধ্য হলে অহনা আদিবাকে সব এনে দেয়। আজ প্রথম আদিবা তার প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা করতে যাবে। অহনা আদিবাকে একা যেতে দিবে না। একই তো ফেইসবুকে প্রেম। তার উপর অচেনা/অজানা কেউ। অথচ এসব ভাচ্যুয়াল প্রেম ভালোবাসায় অহনার বিশ্বাস নেই। আবার আদিবার মনও ভাঙতে পারবে না। তাই বলেছে আদিবার সাথে যাবে।

কিছুক্ষণ পর, পার্কের বেঞ্চটাতে বসে আছে আদিবা। এই মুহূর্তে তার মনের মাঝে শুধু উথাল-পাথাল ঢেউ বইছে। বুকের ভেতরটায় চলছে ধুপধুপানি। আর প্রিয় মানুষটার জন্য বাড়ছে হাজারও ব্যকুলতা। এতো উত্তেজনা হয়তো তার পরীক্ষার রেজাল্ট আনার সময়ও হয় নি। হবেই না বা কেন এতোদিনের সেই অচেনা অনুভুতির সাথে আজ যে প্রথমবার তার সাক্ষাৎ হবে!

সত্যি বলতে মানুষটা কেমন তা আদিবা যানে না। শুধু যানে মনটা ভালো। যার প্রতিটা কথার শব্দ চয়ন তার মন কেড়ে নেই। যখন সে কথা বলে, মন চাই শুধুই শুনে যাই। এতো সুন্দর করে গুছিয়ে কিভাবে কথা বলতে পারে একটা মানুষ?

কোনও একদিন ফেইসবুকে আলাপ হয় আদিবার সাথে তার। তারপর মেসেঞ্জারে নিয়মিত মেসেজিং। আর আস্তে আস্তে সেলফোনের কল লিস্টে তার নাম্বারটি চলে আসে। এভাবেই তাদের যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদিকে আদিবার আর তরই সইছে না। এমন বিড়ম্বনার মাঝে আদিবার ফোনে টুইং করে একটা মেসেজ চলে আসে। মেসেজটি সিন করে আদিবা থ হয়ে যায়।

ওদিকে অহনা একটু দূরেই দাড়িয়ে আছে। আর বারবার হাতের ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে। এতো সময় লাগে ছেলেটার আসতে? নাকি ঢপ দিল? দিতেও পারে। কারণ আজকাল তো ভাচ্যুয়াল প্রেম ভালোবাসাটা নিত্যদিনের ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

এসব ছেলেদের কোনও বিশ্বাস নেই। আজ দেখা করবে, কাল হাত ধরে হাজারটা মন ভোলানো কথা বলবে। আর পরসু দেখা যাবে ছেলেটাই উধাও। কথাগুলো ভাবতে গিয়ে অহনার চোখ বেঞ্চটার দিকে যায়, দেখে আদিবা নেই। ব্যাপারটা কি? মুহূর্তের মধ্যেই কোথায় চলে গেল মেয়েটা? অহনা খুব টেনশনে পড়ে যায়। এদিক ওদিক খোঁজা-খুঁজি শুরু করে। পুরো পার্কের ভেতরে কোথাও খুঁজে পাই না।

পরে পার্কের সামনের রাস্তাটার দিকে যায়। ওখানেই আদিবাকে দেখতে পায়। আদিবাকে দেখা মাত্রই দূর থেকে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করে কিন্তু আদিবার কানে সেই ডাকগুলো পৌঁছায় কিনা তা বোঝার বাইরে। আদিবা হেটেই চলেছে। হাটতে হাটতে চলে যায় মেন রোর্ডটার দিকে। মেন রোর্ডের গাড়িগুলো খুব দ্রুত গতিতে চলছে।

আদিবা বেখেয়ালি মনে আস্তে করে হেটে যখন রাস্তার মাঝখানে… ঠিক তখনই একটা ট্রাক এসে যেই আদিবাকে ধাক্কা দিতে যাবে অহনা ছুটতে ছুটতে আদিবার কাছে গিয়ে আদিবাকে ঠেলে দূরে ফেলে দেয়। আর নিজে ছিটকে পরে রক্তাক্ত শরীরে রাস্তার এক কোণে। কারণ সেই ট্রাকটা পিসিয়ে দিয়ে যায় অহনাকে।

এতো বিড়ম্বনার পর অবশেষে অহনাকে হসপিতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ডা.আবির চৌধুরী এই শহরের একজন নাম করা ডাক্তার। সে নিজে আদিবাকে কথা দিয়েছে, আপনার আপুকে আমি আমার সর্বচ্চো চেস্টা দিয়ে হলেও সুস্থ করে তুলব; ইনশাআল্লাহ্!
শুধু আল্লাহর উপর একটু ভরসা রাখুন।

তখন ঐ নার্সটাও বলে গেছে লন্ডনের থেকে অনেকগুলো ডা. ডিগ্রী নিয়ে এসেছে ডা.আবির চৌধুরী। সে নিজে যখন কথা দিয়েছে তখন টেনশন করার কোনও দরকার নেই। আপনার আপুকে উনি সুস্থ করেই ছাড়বে। কিন্তু মন কি তা মানতে চাই? আপুকে ছাড়া যে আদিবার একটা কাজও হয় না। আগোছালো আদিবাটাকে তো অহনায় সামলে রাখে। যদি অহনার কিছু হয়ে যায় তখন এলোমেলো স্বভাবের আদিবাকে কে দেখে রাখবে?

অহনা এখন ও.টি তে আছে। আদিবা ও.টির বাইরেই ২ঘন্টা যাবৎ অপেক্ষা করছে। আব্বু-আম্মুকে ফোন করে শুধু হসপিতালে আসতে বলা হয়েছে। এর থেকে বেশী কিছু আদিবা বলতে পারে নি। সাহেদ খান ও তার স্ত্রী জাহেদা বেগম ছোট মেয়ে আদিবার ফোনকল পেয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পরে। আর দ্রুত হসপিতালে ছুটে আসে। তারা কিছু ভালো ভাবে শুনে নি ঠিকই। তবে আচ করতে পেরেছে, নিশ্চয় খারাপ কিছু একটা ঘটেছে!

হসপিতালে এসে জাহেদা বেগম আদিবাকে ও.টির সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। সকালে এই শাড়িটাই পরে সেজেগুজে বের হয়েছিল অহনার সাথে। জাহেদা বেগম তখন কিচেনে ছিল। আসার সময় পেঁছনের থেকে দুইবোন মাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল আদিবার কলেজে কনসার্ট হচ্ছে। তাই সব বান্ধবীরা লাল শাড়ি পড়ে যাবে। আর অহনাকে ছাড়া আদিবা কনসার্টটে যেতে নাড়াজ।

তাই তাদের মাও এক প্রকার হ্যাঁ বলে দিল। তবে বলেছিল তারাতারি ফিরবে তোমাদের আব্বুকে আমি বেশীক্ষণ মিথ্যে বলতে পারব না যে তোমরা বাড়িতে নেই। খুঁজতে খুঁজতে তোমাদের রুমে চলে গেলে তখন কি হবে বুঝতে পারছো? যদি যানতে পারে এক্সাম টাইমে বাইরে ঘুড়ছো তখন তো আমাকেই বকা খেতে হবে কথাটা মুখ কালো করেই বলে।

মনে রেখ অহনা ঘুড়াঘুড়ি কর আর যাই কর এই ইয়ারেও যেন রেজাল্ট ফাস্ট ক্লাস আসে। তুমি ভেবো না এতো আম্মু, আমার আপুর মতো এতো বিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ফাস্ট ক্লাস ছাড়া অন্য কিছুই পাবে না। বলেই আদিবা মায়ের গালে একটা কিস করে আপুর হাত ধরে টানতে টানতে বেড়িয়ে পড়ে।

হসপিতালে, আদিবাকে পেছনের থেকে ডাক দেয় জাহেদা বেগম। আদিবা?
তারপর একটার পর একটা প্রশ্ন করেই যায়,
কি হয়েছে আদিবা?

তখন ঐভাবে কলটা কেটে দিলে কেন?
কতটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল আমাদের যানো?
আর এইভাবে কেউ হসপিতালে আসতে বলে?
আচ্ছা, অহনা কোথায় ওকে তো দেখছি না?

আদিবার তার মায়ের এমন কড়া প্রশ্ন শুনে দুচোখ বেয়ে এক নাগাড়ে পানি জড়তেই থাকে। কি জবাব দেবে সে আব্বু-আম্মুকে? সে তার মায়ের দিকে আস্তে করে ঘুরে দাড়ায়। তখন মায়ের চোখে আদিবার শাড়িতে লেগে থাকা রক্তের ছাপগুলো ভেসে ওঠে। মেয়েকে এমন অবস্থায় দেখে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সাহেদ খান এসে স্ত্রীকে ধরে রাখে। কিন্তু মেয়ের এমন অবস্থা দেখে সে নিজেও পাথর হয়ে যায়। আদিবা একটু একটু করে আব্বু-আম্মুর দিকে অগ্রসর হয়।

তারা খুব ভয় ভয় দৃস্টিতে তাকিয়ে আছে। আদিবা আব্বু-আম্মুকে এসে ঝাপটে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। অহনার আপুর এক্সিডেন্ট হয়েছে আব্বু। কথাটি শুনা মাত্রই সাহেদ খান ধপ করে সেখানেই বসে পরে। সে সত্যিই অনেক বড় একটা ধাক্কা পায়। কান্না জড়িত কন্ঠে বলে ও কোথায়? ও.টি তে আছে। যানো আব্বু, এক্সিডেন্টে প্রচুর রক্ত ঝড়েছে আপুর শরীর থেকে। আপুর কিছু হলে আমার কি হবে? আপুকে ছাড়া যে আমি কিছুই পারি না কাঁদছে আদিবা। আর জাহেদা বেগম আদিবার কথাগুলো শুনে “ওরে আমার মেয়ে রে” বলেই এক চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।


পর্ব ২

ফার্মেসী থেকে ইনঞ্জেকশন কিনে আদিবা হসপিতালের মধ্যে ঢুকতে যাবে তখন কিছু বখাটে ছেলে এসে তাকে ঘিরে রাখে। আর তার শাড়িতে লেগে থাকা ছোপ ছোপ রক্ত বিন্দুর দাগগুলোকে দেখিয়ে নিজেদের মধ্য চোখাচোখি করে। এই মুহূর্তে আদিবার একটুও ভয় করছে না। রাগও হচ্ছে না। তার কাছে নিজের জীবনের কোনও মূল্য নেই এখন। তবে এই ইনঞ্জেকশনগুলো নিয়ে তাকে যতো দ্রুত সম্ভব হসপিতালের মধ্য যেতে হবে। কারণ তার আম্মু অহনা আপুর এক্সিডেন্টের কথা শুনে খুবই অসুস্থ হয়ে পরেছে। তিন তিনবার জ্ঞান হারিয়েছে। আর যতোবারই জ্ঞান ফিরছে উন্মাদের মতো বিহেভ করছে।

আদিবা ছেলেগুলোর সাথে কোনও প্রকার কথা না বলেই পাশ কেটে চলে আসতে যায়। তাদের মধ্য একটি ছেলে আদিবার শাড়ির আচলটি ধরে বসে। কই যাও ফুলটুসি? কথা বলবা না? বাকি গুলো হো হো হো করে পৈচাশিক হাসি দেয়। আদিবা আশেপাশে তাকিয়ে দেখে রাস্তার মানুষগুলো নির্বাক দর্শকের মতো শুধু তাকিয়েই দেখছে কোনও প্রতিবাদ করছে না। সত্যিই সমাজটা নস্ট হয়ে গেছে। আদিবা ছেলেটির হাত থেকে শাড়ির আচলটা ছাড়িয়ে নেয়। কিছু না বলে আবার চলে যেতে লাগে।

তখন আবার একটি ছেলে আদিবার হাত ধরে বসে। তোমার কি মন খারাপ, সোনা পাখি? আসো আমরা সবাই মিলে মনটা ভালো করে দিই! এবারও আদিবা কোনও প্রতিউত্তর দেয় না। ছেলেটির থেকে নিজের হাতটি ছাড়ানোর চেস্টা করে। দস্তাদস্তিতে আদিবার পায়ের হিল গিয়ে ছেলেটির পায়ের উপর পরে আর ছেলেটি আহ্ করে পায়ে হাত দিতেই আদিবা দৌড়ে হসপিতালের মধ্যে চলে যায়।

ভেতরে গিয়ে দেখে, আব্বু আম্মুর দুই হাত চেপে ধরে বেডের উপর জোড় করে বসিয়ে রেখেছে। আম্মুর মুখটা হালকা ভাবে কাপঁছে। কাপাকাপা মুখে দুলেদুলে বলছে, আমাকে চা বানাতে হবে: যেতে…দাও! কাল অহনার পরীক্ষা: তুমি যানো না..? চা না খেলে তো ও রাত জেগে পড়তে পারবে না…। তারপর রেজাল্ট ভালো না হলে তুমিই আমাকে বলবা…তোমার মেয়ের যত্ন আমি.. ঠিক মতো নিই না। সাহেদ খান কিছুই বলছে না শুধু দুচোখে পানি টলমল করছে।

আদিবাকে দেখে নার্সটা এগিয়ে এসে ইনঞ্জেকশনগুলো নিয়ে একটা ইনঞ্জেকশন জাগহেদা বেগমকে পুশ করতেই অহনা করতে করতে সে বেডে দুলে পরে। সাহেদ খান স্ত্রীকে সোজা করে শুইয়ে দিয়ে আদিবার কাছে এসে দাড়ায়। আর আদিবা! সে তার আব্বুর চোখের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই পারে না। খুব অনুতাপ হচ্ছে তার একটা ভুলের জন্য এতোগুলো মানুষ এইভাবে শাস্তি পাচ্ছে দেখে।

ওদিকে ও.টি থেকে ডা. আবির চৌধুরী বের হয়েছে। খবরটি পেয়েই আদিবা আর তার আব্বু ছুটে যায়।

আমার মেয়ে কেমন আছে ডাক্তার?
কোনও উত্তর নেই।

কি হলো ডা. চৌধুরী আমার মেয়ে কি….? বুকের বাম পাশটাই হাত দিয়ে চেপে ধরে কেঁপে কেঁপে বলে সাহেদ খান।
আংকেল শান্ত হোন আপনি। আপনার মেয়ে একদম ঠিক আছে। ঘন্টা ২ এর মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে।

আদিবা কথাটা শুনে মনের ভেতরটায় একটু শান্তি অনুভব করল। তুমি একবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে চলো আপু তারপর আমরা নতুন করে জীবনটাকে আবার শুরু করব। আর এখন থেকে তোমার সব কথা আমি শুনবো দেখও। মনে মনে বলে কথাগুলো।

ডা. আবির আবার বলে কিন্তু একটা সমস্যা আছে আংকেল!
কথাটা শুনে মুহূর্তেই আদিবা আর সাহেদ খানের মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। আবার কি সমস্যা ডাক্তার? সাহেদ খান ভয় ভয় চোখে আবিরের দিকে তাকিয়ে জানতে চাই।

দেখুন আংকেল এক্সিডেন্টে মাথায় প্রচন্ডভাবে আঘাত পেয়েছে। অনেকগুলো সেলাই পড়ছে মাথায়। তাছাড়াও অপারেশনটা খুবই রিক্সি ছিল। আমার ধারণা মেমোরি লসের সম্ভাবনা আছে। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত আমি এই বিষয়ে সঠিক ভাবে কিছু বলতে পারব না। তবে আর কোনও সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না।

বলে আবির চলে যায়।
আদিবা তার আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে, আব্বু আপু যদি আমায় আর না চেনে? আমার কি হবে? আপুকে ছাড়া তো আমার একটা কাজও হয় না।

সব ঠিক হয়ে যাবে মা! একটু ধৈর্য রাখ ঐ সৃস্টিকর্তার উপর বলে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দেয় সাহেদ খান।

২ঘন্টা পর অহনার জ্ঞান ফেরে। আর সত্যিই কাউকে চিনতে পারে না। মাথাটার মধ্যে প্রচন্ড আকারে ব্যাথা করছে। কিছু মনে করতে গেলেই যন্ত্রণায় মাথাটা চিরে যাচ্ছে। আদিবা আর সাহেদ খান নানান ভাবে ছোটবেলার সব আনন্দ, খুশির স্মৃতিগুলো মনে করানোর চেস্টা করছে অহনাকে।

এ কি করছেন কি আপনারা? রোগীর উপর এভাবে প্রেশার কেন দিচ্ছেন? দেখছেন তো রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আগে ডাক্তার আসুক তারপর আপনারা ভেতরে আসবেন কথাগুলো বলে নার্সটা আদিবা আর সাহেদ খানকে কেবিনের বাইরে বের করে দেয়।

রাতে আবির হসপিতালে আসে। এসে দেখে অহনার কেবিনের সামনে আদিবা আর সাহেদ খান বসে আছে। আবিরকে দেখে ডা.আবির বলে দুজনেই উঠে দাড়ায়। দেখও না বাবা আমার মেয়েটা আমাদের চিনতে পারছে না সাহেদ খান কথাটি বলে তার পড়নের শার্টের হাতায় কাত হয়ে চোখের পানি মুছছে।

আদিবা বলছে, দেখুন না ডাক্তার নার্সটা আমাদেরকে আপুর কাছে যেতেই দিচ্ছে না।

আবির হাতের ইশারায় দুইজনকে বসতে বলল। আপনারা এখানে বসুন। আমি ভেতরে গিয়ে প্রেসেন্টের অবস্থা দেখে এসে আপনাদের যানাচ্ছি এখন দেখা করা যাবে কিনা!

বলে কেবিনের ভেতরে গেল। আবির কেবিনের মধ্যে ঢোকার সাথেসাথেই নার্সটা বেরিয়ে আসল।

অহনা বেডে শুয়ে আছে। আবির অহনার কাছে গিয়ে অহনার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়। কে…? অহনা উঠে বসতে যায়। আবির অহনাকে ধরে উঠিয়ে বসাই।
কে আপনি? অহনা প্রশ্ন করে আবিরকে।

আবির। আমাকে চিনতে পারছো না? আচ্ছা, এখন কেমন লাগছে তোমার?

অহনা দুহাতে নিজের মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে, আমি কে? এখানে কিভাবে এলাম? আহ্ কিচ্ছু মনে পরছে না আমার! অহনা কিছু মনে করতেই খুব উত্তেজিত হয়ে যায়। বলুন না আমি কে?

আবির অহনাকে সামলাতে চেস্টা করে। অহনার মাথা থেকে হাত দুটো নামিয়ে নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে রাখে। শান্ত হও তুমি। আমি বলছি শান্ত হও।

বলুন না আমি কে? কান্না জড়িত কন্ঠে বলে অহনা।

তুমি…তুমি মোহনা। মিসেস মোহনা চৌধুরী তুমি। আবির অহনার হাতদুটি ছেড়ে দিয়ে দুই গাল আকড়ে ধরে বলে আমার ওয়াইফ তুমি মোহনা। আমাকে চিনতে পারছো না?

অহনা শান্ত হয়ে এক ধ্যানে আবিরের দিকে তাকায় কিছু জিজ্ঞাসা বোধক চিহ্ন নিয়ে, কি বললেন আপনি? আমি বিবাহিতা? আপনি আমার স্বামী?

হ্যাঁ। আমি তোমার স্বামী।
কিন্তু তখন যে দুজন এসেছিল! তারা কে?

তারা তোমার শত্রু। তোমার স্মৃতি হারিয়েছে শুনে ছুটে এসেছে তোমার সম্পত্তি আত্তসাদ করতে।

অহনা কিছু বলতে যাবে আবির অহনার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে থামিয়ে দিল। এখন আর কোনও কথা নয়। বাকি কথা তুমি সুস্থ হলে তোমাকে আমি সব বুঝিয়ে বলব। আর শোনও ওই দুজন আবার আসতে পারে। তুমি কিছুতেই ওদের ফাঁদে পা দিবে না কিন্তু। কড়া গলায় বলে।
এখন একটু বিশ্রাম নাও তো। আমি আবার কাল সকালে আসবো। তোমাকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হবে না?
অহনা মাথা নারিয়ে হুমম বলল।

আবির অহনাকে শুইয়ে দিয়ে কেবিনের বাইরে আসলো। আবিরকে দেখে আদিবা আর সাহেদ খান এগিয়ে আসে। ডাক্তার আমার মেয়ে…?
আবির তাদের থামিয়ে দিয়ে বলল, দেখুন প্রেসেন্টের অবস্থা খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে আপনাদের দেখলে কিছু মনে করতে যাবে আর তখন হিতে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার থেকে বরং আপনার ওয়াইফের কাছে যান। তার অবস্থাও তো ভালো না।

তাকে বোঝান আপনার মেয়ে ঠিক আছে। মেয়ের সাথে কাল সকালে দেখা করবেন। আমি নার্সকে বলে যাচ্ছি তারা যেন আপনাদেরকে আজ আমার প্রেসেন্টের কাছে না যেতে দেয়। কারণ আমি চাই না আমার প্রেসেন্টের কোনও প্রকার ক্ষতি হোক। বলেই চলে যায় আবির।


পর্ব ৩

পরের দিন সকালে অহনাকে নিয়ে আবির চলে যায়।
আদিবা আর সাহেদ খান অহনাকে পুরো হসপিটালের কোথাও খুঁজে পাই না। ওদিকে জাহেদা বেগমের অবস্থারও তেমন একটা পরিবর্তন হয় নি। মেয়ের শোকে উন্মাদ হয়ে সারাদিন আবল-তাবল বকতে থাকে। অতিরিক্ত প্রেশার আর একটার পর একটা ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে সাহেদ খান হার্ট অ্যাটাক করে।

এমন সময়ে আদিবা আব্বু-আম্মুর চিকিৎসার জন্য অসহায়ের মতোন মামার কাছে কিছু টাকা চায়তে যায়। কারণ আদিবা জানে তার মামা খুব দয়ালু। তার কাছে কেউ দোয়া চাইলে সেই দোয়া কবুল হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে আদিবা দুজন মানুষের মধ্য কথপোকথন শুনে চমকে ওঠে,

আবির, আমাদের মিশন কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অহনাকে অষুধ খাইয়ে সব স্মৃতি ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা কর। ও যেন কিছুতেই বুঝতে না পারে আমরা ওকে দিয়ে কি করাতে চলেছি।

আপনি চিন্তা করবেন না আংকেল। অহনাকে আমি এমন মেডিসিন দিচ্ছি তাতে আস্তে আস্তে ওর ব্রেন্ড থেকে সব পরিচিত, অপরিচিত আপনজনেরা মুছে যাচ্ছে।

গুড। আমার বেআইনি ব্যবসায় বন্ধ করতে চেয়েছে সাহেদ খান। এখন তারও শেষ আমি দেখে ছাড়ব। কি বলেছিল যেন আমাকে? আমি ভন্ড, প্রতারক, সাধু? জালাল বাবার মাজারের পিছনে লুকিয়ে থাকা আমার দুনম্বরি ব্যবসায়টা সমাজের চোখে আঙুল দেখিয়ে প্রমাণ করে ছাড়বে? পুলিশে দেবে আমাকে?

এখন তার মেয়েকে দিয়েই আমি এসব কাজ করাবো। এর আগেও তার জন্য আমি পাঁচ বছর জেল খেটেছি। এখন সব হিসাব আমি কড়াই গন্ডায় উসুল করবো। ওর মেয়েকে তো আমি জেলের ভাত খাওয়াবোই। সাথে ওর জীবনটাও আমি নরক করে ছাড়ব।

মামাআআআআ। আদিবা চিৎকার করে দরজার কাছ থেকে জালালকে ডেকে এগিয়ে আসে।

আদিবার চিৎকারে জালাল কেঁপে উঠে দাড়ায়। ইয়ে, মা, আদিবা! তুই এখানে? কখন এলি? বাড়িতে সবাই ঠিক আছে তো? আমতা আমতা করে জালাল কথাগুলো বলে। আর ভাবে আদিবা সব শুনে ফেললো নাতো!

তোমার এসব নাটক বন্ধ কর! আমি তোমার সব কথা শুনে নিয়েছি। বল আমার আপু কোথায়?

কি বলছিস কি মা? তোর বুঝতে কোথাও একটু ভুল হচ্ছে। আমি আসলে…

চুপ কর মামা। তোমার কোনও নাটকেই আমি পা দেব না। আমি তোমার সব কথা একদম স্পষ্ট শুনেছি। বলো আমার আপু কোথায়?
তাই নাকি? শুনে নিয়েছিস। হাহাহা অট্ট হাসিতে মেতে ওঠে জালাল।

আদিবা এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে জালালের দিকে। মনে মনে ভাবে এ আমি মামার কোন রূপ দেখছি!

শুনেই যখন ফেলেছিস তাহলে তোকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো মানেই হয় না। জালাল আদিবাকে টেনে কিচেনে নিয়ে গিয়ে সবজি কাটা বটিটা দিয়ে আদিবার পেটের মাঝখানে এক কোপঁ বসিয়ে দেই। আদিবার পেট থেকে গলগল করে রক্ত পরতে থাকে।

আবির এমন অবস্থা দেখে আদিবাকে ধরে বসে। এ আপনি কি করলেন আংকেল?

জালাল আবিরকে আদিবার কাছ থেকে ছাড়িয়ে কিচেনের বাইরে নিয়ে আসে।

দেখ তোর পরিবার এখন আমার জ্বিম্মায় আছে। যদি বেশী চালাকি করার চেস্টা করিস তাহলে সব কটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসিয়ে দেব। দাফন করবার জন্য লাশও খুঁজে পাবি না। ভালো চাইলে যেই ভাবে বলছি ঠিক সেই ভাবে কাজ কর। সজল, রনি, সাকিল এ তোরা কে কোথায় আছিস রে!

হ্যা, বাবা বলুন। ছেলে তিনটা এগিয়ে এসে বলে।

আমার কিচেনে একটা মেয়ে পরে আছে। যা ওকে রূপসা ব্রীজের মাঝ সেতুর থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে আয়।
ঠিক আছে! বাবা।

ছেলেগুলো আদিবাকে নিয়ে রূপসা ব্রীজের মাঝ সেতুর থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসে।

চৌধুরী মঞ্জীল,
আবির বাড়িতে গিয়ে দপ করে খাবার টেবিলে বসে পড়ে। জগ থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে ডকডক করে গিলে। পিছনের থেকে অহনা এসে আবিরের কাঁধে হাত রাখে।

এই ডাক্তার বাড়িতে কি ধরনের সার্ভেন্ট রাখেন যে আপনার বউকে মিনিটে মিনিটে ঠেসে ঠেসে ঔষুধ খাওয়ায়?

আবির তাকিয়ে দেখে একটি মেয়ে এক গ্লাস পানি আর ঔষুধ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা তো এবাড়িতে আগে কখনও কাজ করে নি। আবির বুঝতে পারে এটা জালালেরই লোক।

অহনা আবিরের শার্টের বোতামগুলো খুলতে থাকে। কি হয়েছে আপনার? এতো রক্ত কোথা থেকে আসলো? আবিরের বুকে আলতো হাত নারিয়ে। কিছুই হয়েছে আপনার?

ও কিছু না। ডাক্তার মানুষ তো! হসপিটাল থেকেই হয়তো কোনো ভাবে লেগেছে।
ওহহ।

আচ্ছা, দিনে কয়বার ঔষুধ খেয়েছো?
এই সাত বার। অহনা হাতের আঙুল গুনে গুনে বলে।

সেকি এতোবার ঔষুধ খাওয়ানো পেশেন্টের পক্ষে ক্ষতিকর। আপনি বরং দুইবার খাওয়াবেন সকালে আর রাত্রে তাতেই হবে। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে আবির।

মেয়েটি মাথা নারিয়ে টেবিলের উপর ঔষুধ আর পানির গ্লাসটা রেখে দিয়ে চলে যায়।

আদিবার কি হলো?

কয়েকজন জেলে মাছ ধরতে গেলে তাদের জালে শক্ত কিছু একটা বাঁধা পরে। সকলে মিলে জালটা টেনে উপরে উঠানোর চেস্টা করলে জালের সাথে আদিবা উঠে আসে।

আদিবা বেঁচে যায়। জেলেগুলো আদিবাকে আড়াইসো বেডে নিয়ে যায়। সেখানে আদিবার টিটমেন্ট হয়। জ্ঞান ফিরলে আদিবা ছুট্টে আবিরের হসপিটালে চলে আসে। আবিরের ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে নিজের মুখ ঢেকে আব্বু-আম্মুকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু পায় না।

ফিরে আসার গল্প


পর্ব ৪

রাতে অহনাকে আবির খাইয়ে দিয়ে দুজনের মাঝে একটা কোলবালিশ রেখে শুয়ে পরে। আর ভাবে জালালের পাতা ফাঁদ থেকে কিভাবে বের হবে! ভাবতে ভাবতে আবির ঘুমিয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে আবির অহনার খুব কাছে চলে আসে। অহনা চোখ খুলে দেখে আবির তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে।

অহনা আবিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, আবিরের চুলগুলোতে বিলি দিতে থাকে। আবির কোনো মতে নরে চরে ওঠে কিছুটা খেয়াল করলে ঘুমটা ভেঙে যায়। এক লাফ দিয়ে উঠে বসে।
একি! চোখ ডলতে ডলতে বলে ঘুমাও নি এখনো?

ঘুমচ্ছিলাম তো!
আচ্ছা ঘুমাও। আবির আর কিছু না বলে বিছানা থেকে বালিশটা নিয়ে উঠে যাচ্ছে।

কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
সোফায় গিয়ে শুয়ে পরে। তুমি ঘুমিয়ে পর!
আপনি ওখানে চলে গেলেন কেন?

এমনি!
এমনি চলে গেছেন নাকি অন্য কিছু?
কি অন্য কিছু?
কিছু না ঘুমান!
দুজনেই ঘুমিয়ে পরে।

ওদিকে আদিবা সব জায়গাতে তার আব্বু-আম্মুকে খুঁজে বান্ধবী আরিয়ার বাড়িতে এসে আস্রয় নেই। তাদেরকে সব ঘটনা খুলে বলে। এই দূঃসময়ে তারাই আদিবাকে তাদের বাড়িতে থাকতে বলে। আদিবার জন্য এখন নিজের বাড়িতে যাওয়াটাও বিপদের। জালালের লোকজন চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবির জালালের পাঠানো মেয়েটির থেকে লুকিয়ে অহনার ওষুধগুলো বদলে ফেলে রেডি হয়ে হসপিটালে চলে যায়।

আবির চলে যাওয়ার পরই আদিবা হসপিটাল থেকে আবিরের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে আবিরের বাড়িতে চলে আসে। আদিবা এসে এখানে অহনাকে দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাদঁতে থাকে।

এই আপু আমাকে কি তুমি এখনও চিনতে পারছো না? যানো আব্বু-আম্মুকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আর যা যা ঘটেছে দু’দিন ধরে সবকিছু আদিবা অহনাকে খুলে বলে।

অহনা কিছুতেই আদিবাকে চিনতে পারে না। তবু্ও কেন যানি আদিবার চোখের জল অহনার বুকে তীরের মতো আঘাত করে।

এই মেয়ে তুমি এভাবে কেঁদো না। আমি যানি তুমি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছো। তোমার উদ্দেশ্য কখনও সফল হবে না। চলে যাও তুমি!
আপু!

আমি তোমার আপু নই আমার সম্পত্তির লোভে তুমি এখানে এসেছো তাই না? শুনে রাখো তোমার ফাঁদে আমি পা দেব না।

আমি তোমার সম্পত্তির লোভে এসেছি? কি বলছো কি আপু? কে বলেছে এসব কথা তোমাকে? বল আপু কে বলেছে? আদিবা অহনাকে ঝাকাতে থাকে।
আমার স্বামী বলেছে।

আদিবা অহনাকে ছেড়ে দেয়। তোমার স্বামী? কি বলছো কি আপু? তোমার বিয়ে হলো কবে?

এমন সময় জালালের পাঠানো ছদ্মবেশী মেয়েটি এসে আদিবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

আদিবা পরে গিয়ে কপালে চোর্ট লাগে। অহনা এসে আদিবাকে টেনে উঠায়। অহনার কেন যানি খুব মায়া হতে থাকে আদিবাকে দেখলেই! নিজের শাড়ির আচঁলটা দিয়ে আদিবার কপালটা মুছে দেয়। মেয়েটিকে বলে, আপনার সাহস হয় কিভাবে কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবার?

ডা.আবির বলেছে অপরিচিত কাউকে আপনার কাছে না আসতে দিতে!

তাই বলে মেয়েটাকে ফেলে দিবেন?
আদিবার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে, তুমি চলে যাও বোন। এখান থেকে চলে যাও।

আদিবা অহনাকে আরোকবার জড়িয়ে ধরে আমি চলে যাবো আপু। তবে আবার আসবো! সব প্রমাণ নিয়ে তাই আসবো। ওদের সবার আসল রূপ তোমার সামনে নিয়ে আসবো। তুমি আমার আপু! ওই আবির চৌধুরী তোমার কেউ না।

আদিবা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যায়। বান্ধবী অারিয়া ও তার মা আদিবাকে শান্তণা দেয়। বাসায় এসে আরিয়ার মা আদিবাকে খাইয়ে দিলে আদিবা শুয়ে পড়ে। আর ভাবতে থাকে কি করে আপুকে ফিরিয়ে আনবে! কিভাবে আব্বু-আম্মুর খোঁজ পাবে।


পর্ব ৫

আদিবা তার বান্ধবী আরিয়ার ফোন থেকে নিজের আইডিটা লগ ইন করে দেখে চিরচেনা সেই নাম না যানা আইডি থেকে অনেকগুলো ম্যাসেজ। ম্যাসেজগুলো ছিল এরকম,
-সরি আদিবা তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।

-আমি ভুল করেছি আদিবা।
-এটাই শেষ। আর এমন ভুল হবে না প্লিজ এবারের মতো আমার সাথে কথা বল।

-ক্ষমা কর না আদিবা আমাকে তুমি
-তুমি এ্যাক্টিভ কেন হচ্ছো না?

-আমার কিন্তু তোমাকে খুব মনে পরছে!

ম্যাসেজগুলো পরে আদিবা কোনও রিপ্লাই দেয় নি শুধু সিন করে রেখে দিয়েছে। এই মানুষটাকে আর বিশ্বাস করবে না আদিবা। ভাচ্যুয়াল জগতে এমন কথা অনেকেই বলে কিন্তু বাস্তবে প্রত্যেকেই আলাদা হয়। তখন যদি আদিবা এই ভুল দিকটায় পা না বারাতো তাহলে হয়তো আজ আদিবার সাথে তার বাবা, মা আর অহনা আপু সবাই থাকতো। এসব নিছক মায়া কাটিয়ে উঠা কঠিন হলেও আদিবাকে তাই করতে হবে।

কিরে আদিবা কি ভাবছিস? আরিয়া জানতে চায় আদিবার কাছে।

আমাকে যে ভাবেই হোক সব প্রমাণ জোগাড় করতে হবে।
কিভাবে করবি? জালাল বাবা এমন একটা নাম যাকে লোকে ফেরেশতা ভাবে। এব্যাপারে তোকে পুলিশও কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারবে না।
তাহলে আমি কি করব? আমার অহনা আপু, বাবা, মা তাদেরকে কিভাবে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবো?

আচ্ছা তুই তোর মামার বাড়ির সম্পর্কে কিছু তো যানিস? কোনও গোপন রাস্তা অথবা পথ। যেখান থেকে মাজারের মধ্যে প্রবেশ করে তার বেআইনী কাজের প্রমাণগুলো জোগাড় করা যায়।

আদিবা কিছুক্ষণ বসে থেকে মাথা ঝাকিয়ে বলে। একটা পথ আছে। মামার মাজারের পেছনে একটা গোপন দরজা আছে সেখানে অনেকবার ছোটবেলা লুকোচুরি খেলতে খেলতে চলে গিয়েছিলাম। তার জন্য অনেক বকা খেতে হয়েছিল মামার কাছে।

তাহলে আর দেরি করিস না। ছদ্মবেশে আজ রাতেই সেখানে যা। হতে পারে পুলিশকে দেওয়ার মতোন কোন তথ্য হাতে চলে আসে।
হুমমম। তবে যায় করি সাবধানে করতে হবে জালাল মামা খুবই ডেঞ্জারাস মানুষ।

ওদিকে অহনা বিছানায় অনেকগুলো শাড়ি মেলিয়ে উলোটপালোট করছে। আবির এসে অহনাকে দেখে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। অহনার নজর আবিরের দিকে যায়।

আচ্ছা ডাক্তার এখানে যতোগুলো শাড়ি আছে সবই বয়স্ক মহিলাদের শাড়ি। আমি কি এসব শাড়ি পরতাম আগে?
আবির চুপ করে আছে।

অহনা গিয়ে আবিরের সামনে একটা শাড়ি ধরে দাড়িয়ে বলে, নিন এই শাড়িটা পড়িয়ে দিন আমাকে।

আবিরের বিশুম লাগে। ভাবে অহনা বলছেটা কি?
আ-আমি?

হুমমম আপনি। কেন শাড়ি পড়াতে পারেন না বুঝি?
না আসলে…

আসলে কি? চুপচাপ শাড়িটা ধরুন আর আমাকে পড়িয়ে দিন।
আবির কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। ইমার্জেন্সি রোগী আছে বলে হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে যায়।

হসপিটালে সারাদিন আবির অহনাকে নিয়ে ভাবে। আবির বুঝতে পারে অহনার প্রতি একটা দূর্বলতা সৃস্টি হয়েছে। হয়তো ভালোবেসে ফেলেছে। তাই বাড়ি ফেরার সময় অনেকগুলো সুন্দর দেখে শাড়ি অহনার জন্য কিনা নিয়ে আসে। অহনার সামনে হাসিমুখে শাড়িগুলো ধরতেই অহনা শাড়িগুলো ফেলে দিয়ে আবিরের থেকে দূরে সরে যায়।
কেন এমনটা করেছেন? অহনা প্রশ্ন করে আবিরকে।

অহনার এমন প্রশ্ন শুনে আবির চমকে ওঠে। তাহলে কি অহনার স্মৃতি ফিরে এসেছে? হ্যাঁ, আমিই তো ওষুধগুলো বদলে কিছু গ্যাসের টেবলেট রেখে দিয়েছিলাম।
কি হলো বলুন?

আবির অহনাকে ধরে বসিয়ে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু বোঝাতে চায়। অহনা ধাক্কা দিয়ে আবিরকে ফেলে দেয়।

একদম আমার কাছে আসার চেস্টা করবেন না ডা.আবির চৌধুরী।


পর্ব ৬

প্লিজ মোহনা আমার কথাটা তো শোনো?
কে মোহনা? আমি তো অহনা।

অহনা শোনো আমি তোমাকে সব বুঝিয়ে বলছি।

কিচ্ছু শুনতে চাই না আমি। অনেক খেলেছেন আপনি। আমার সব মনে পরে গেছে। বলেই অহনা কেঁদে দেয়।

আবির নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে আর অহনা আবিরের সার্টের কলারটা টেনে ধরে।

কেন এমন করেছেন আপনি? কেন? আপনার জন্য আমি আমার ছোট্ট বোনটাকে এতোটা কস্ট দিয়েছি। আমার আব্বুকেও চিনতে পারি নি আমি।

অহনা আমাকে একটাবার নিজের কথাটা তো বলতে দাও।

কি বলবেন আপনি? আমি আর আপনার একটাও মিথ্যা কথায় কান দেব না। এক্ষুনি চলে যাব আমি। আমার আব্বু-আম্মু আর বোনের কাছে। কথাটা বলেই অহনা আবিরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতে থাকে আর আবিরও অহনার পিছু পিছু ছোটে বোঝানোর জন্য।

ওদিকে রাতের আধারে আদিবা প্রমাণ জোগাড় করতে জালাল বাবার মাজারের মধ্যে পিছনের দরজা দিয়ে লুকিয়ে ঢোকে। সেখানে অনেক খুঁজেও কিছু পাই না। তারপর যখন চলে যাবে ঠিক করল তখনই দেয়ালের সাথে মেশানো একটা দরজা দেখতে পেল। দরজাটা লক করা ছিলো।

আদিবা মাথার থেকে ক্লিপ নিয়ে দরজাটার লক খুলে ফেললো। ভেতরে গিয়ে দেখে একটা নিজের সমবয়সি মেয়ে আর একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মহিলা ও একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষ হাত মুখ বাঁধা অবস্থায় তিনজনে পরে আছে। আদিবা গিয়ে তাদের বাঁধনগুলো খুলে দেয়।

তাদের সাথে কথা বলে যানে তারা ডা.আবির চৌধুরীর বাবা-মা ও বোন। আর এটাও যানতে পারে এদেরকে বেঁধে রেখে আবিরকে ব্রাকমেইল করে ওসব করানো হচ্ছে।

আবিরের বাবা একজন সাংবাদিক। তার কাছে অনেক প্রমাণ আছে জালালের বিরুদ্ধে। জালালের সব বে আইনি কাজের ভিডিও চিপ আদিবাকে দেখালো আবিরের বাবা। আদিবা সেটা হাতে নিতেই হঠাৎ করে কারও পায়ের আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো। কেউ হয়তো চলে এসেছে। সামনে তাকিয়ে দেখে জালাল।

এখন কোনও উপায় নেই। আর না আছে পালাবার কোনও পথ। আদিবা ধরা পরে গেলো। আদিবা বেঁচে আছে দেখে জালালও শকট। জালাল তার সান্ডপান্ডদের চিৎকার করে ডাকতে যাবে তার আগেই আদিবা আর আবিরের বাবা-মা, বোন সবাই মিলে জালালের মুখ, হাত, পা বেঁধে ফেলে।

ওদিকে আবির চেস্টা করে যাচ্ছে অহনাকে বোঝানোর কিন্তু অহনা কিছুতেই আবিরের কথা শুনতে চাইছে না। তারপর যখন অনেক বোঝানোর পর অহনা আবিরকে বলার একটা সুযোগ দিতে চাইলো তখন আবির তাকিয়ে দেখে চারিপাশে জালালের লোকজন লুকিয়ে তাদের ফলো করছে। আবির কিছু বলতে না পেরে পকেট থেকে রুমালটা বের করে অহনার মুখটা বাঁধে। যেন অহনা চিৎকার করতে না পারে।

তারপর অহনার হাত দুটি শক্ত করে চেপে ধরে কাঁধে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। অহনাকে রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে মুখের বাঁধনটি খুলে আবার বোঝানোর চেস্টা করে আবির। অহনা এবার আরও রেগে যায়। কিছু শুনতেই চাই না আবিরের কাছ থেকে। আবির একটা জোড়ে ধমক দিয়ে অহনাকে শান্ত করিয়ে তারপর সব খুলে বলে। অহনা সব শুনে আবিরের পরিস্থিতির কথা বোঝে।

বিশ্বাস করো অহনা! তোমার বাবা-মাকে আমি আমার কাছে রেখেছি। তারা একদম ঠিক আছে। কিচ্ছু হতে দিই নি আমি তাদের।
আর আমার বোন? আদিবা?

ওকে সেদিনই মেরে ফেলেছে জালাল বাবা!

না আমার বোন মারা যায় নি। আদিবা বেঁচে আছে। আমার বোনটা এসেছিল আমার কাছে। কিন্তু আমি ওকে চিনতে পারি নি। তারিয়ে দিয়েছি। অপমান করেছি আমি আমার বোনটাকে। না যানি এখন কোথায় আছে।

শান্ত হও অহনা। এভাবে কেঁদো না। তোমার বোন যদি বেঁচে থাকে তাহলে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তোমার বাবা-মায়ের মতো ওকেও একটা নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। আর তোমাকেও কিছুদিন অভিনয় করে যেতে হবে স্মৃতি শক্তি ফিরে না আসার।

কেন? আমাকে অভিনয় কেন করতে হবে?

কারণ বাড়িতে যতোগুলো সার্ভেন্ট আছে সব জালালের লোক। আমি চাই না ওরা তোমার কোনও প্রকার ক্ষতি করুক।


পর্ব ৭ (অন্তিম)

জালালকে বেঁধে দেওয়ার পর আদিবা কোমর থেকে একটা ছুড়ি বের করে জালালের গলার কাছে ধরে।

যদি চিৎকার করার চেস্টা কর তাহলে ছুড়িটা তোমার গলায় বসিয়ে দেব মামা। কথাটা বলে জালালের মুখ থেকে বাঁধনটা খুলে ফেলে।
এবার বল আমার বাবা-মা কোথায়?

এই..মা..আদিবা বিশ্বাস কর মা আমি জানি না। ভয়ে ভয়ে বলে জালাল।

সত্যি বলবে না তাই তো? ঠিক আছে তোমাকে এখনই আমি..
আদিবা ছুড়িটা গলায় বসাতে যাবে আবিরের বাবা আদিবার হাতটা ধরে বসে।

এ তুমি কি করছো? আইন নিজের হাতে তুলে নিও না মা। ও যা পাপ করেছে তার শাস্তি ওকে আইন দেবে। তার আগে আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে।

আদিবা ভেবে বলে ঠিক আছে। জালাল যাতে চিৎকার করে তার সান্ডপান্ডদের ডাকতে না পারে তাই আবার জালালের মুখটা বেঁধে দিয়ে দরজাটা বাইরে থেকে লক করে সবাই পালিয়ে যায়।

তারপর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জালালের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ দিলে পুলিশ গিয়ে জালালকে ও তার পোষা সান্ডপান্ডদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে এরেস্ট করে। পুলিশ জালালকে রিমান্ডে নেয়। অনেক মেরেও জালালের মুখ থেকে বের করতে পারে না আদিবার বাবা-মা কোথায়!
পুলিশ যখন আবিরের বাড়িতে যায় জালালের পাঠানো ছদ্মবেশী সান্ডপান্ডদের এরেস্ট করতে তখন অহনা আর আবির আদিবার সাহশিকতার কথা শুনে ছুটে আসে পুলিশ স্টেশনে।

অহনা ক্ষমা চায় আদিবার কাছে খারাপ ব্যবহার করার জন্য। আদিবা খুব খুশী হয় আপুর স্মৃতি ফিরে এসেছে দেখে। আবার মন খারাপ হয়ে যায় বাবা মাকে হারিয়ে ফেলেছে ভেবে।

আবির অহনাকে আর আদিবাকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যায়। আদিবা দেখে অবাক হয় বাবা-মা একদম সুস্থ। দু’জন নার্স সব সময় বাবা মাকে সেবাযত্ন করে একদম সুস্থ করে তুলেছে।

২ দিন পর,

টিভিতে জালাল বাবার কু-কর্মের ভিডিও দেখে সব মানুষ ক্ষেপে আছে। একদিন যারা জালালের ভক্ত ছিল আজ তারাই এসে জালালের মাজার ভেঙে চুরে একাকার করছে। জালালকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানেও পুলিশের গাড়িতে ঢিল ছুড়ে মানুষের আহাজারি চলছে। টিভিতে এমন নিউজ দেখে জাহেদা বেগম ভাইয়ের জন্য কাঁদছে। তারজন্য অহনা আর আদিবা মাকে শান্তনা দিচ্ছে। এমন সময় আবিরের পরিবার আসে অহনাদের বাড়িতে।

আবিরকে দেখে অহনা নিজের রুমে চলে যায়। আদিবা আর জাহেদা বেগম খুব অবাক হয় অহনার এমন আচারণে। আবিরের বাবা জাহেদা বেগমকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে যে আবিরের অহনাকে খুব পছন্দ। তারা অহনাকে পূত্রবধূ হিসেবে চাইতে এসেছে। আদিবা অহনার কাছে সম্মতি যানতে গেলে অহনা বিয়েতে রাজি বলে মাথা নাড়ায়।
কিছুদিন পর খুব ধুম ধাম করে অহনা আর আবিরের বিয়ে হয়। আদিবাকেও সাহসিকতার পুরুষকার দেওয়া হয়।

ওদিকে জালাল বাবা জেলে বসে থেকে ভাবে আপন কেউই তাকে একবারের জন্যেও দেখতে আসলো না। টাকা, পয়সা ধন দৌলত কিছুতে সুখ নেয় যদি আপন কেউ পাশে না থাকে। অর্থ-সম্পদের প্রাচ্যু্র্য গড়তে আজ পর্যন্ত অনেক পাপ করেছে। মানুষকে ঠকিয়েছে। বে আইনি কাজ করেছে।

যার জন্য আজ সত্যিই জালাল অনুতাপ করছে।

লেখা – মোছাঃ লিজা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “অনুতাপ – ফিরে আসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – স্কুল লাইফের ক্রাশ যখন অফিসের বস – Protilipi bangla premer golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button