রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

তোমায় আমার প্রয়োজন (২য় খণ্ড) – Bangla Romantic Valobashar Golpo

তোমায় আমার প্রয়োজন (শেষ খণ্ড) – Bangla Romantic Valobashar Golpo: একটা বেশ্যা চিনাবে আমাকে আমি কিভাবে কথা বলবো, যে বিয়ের পর স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্বামীর বন্ধুর সাথে বাজে সম্পর্কে লিপ্ত থাকে। ঘর থেকে বের হয়ে অবৈধ বাচ্চা পয়দা করে ফেলে, সে দিচ্ছে আমায় ভালো মন্দের জ্ঞান।


পর্ব ১৫

সুইজারল্যান্ডের এর Bern এ এই মুহুর্তে প্রচুর ঠান্ডা পড়ছে। টেম্পারেচার ~8, জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর তাওহীদ এর সাথে একজন কালো পরী বসে আছে। যেহেতু গাড়ি আছে সাথে তাই ট্রামের ঝুঁকি টা নেয় নি তাওহীদ। তনুর চোখ যেইদিকে যায় সেই দিকেই সাদা আর সাদা। পুরো শহর টাই যেনো বরফে ঢাকা।

প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাওহীদ তনুকে নিয়ে যায়। যেখানে অজস্র গাছপালা আর পুরো area টা বরফে ঢাকা। গাড়ি থেকে নেমে তনু চারপাশের দিকে নজর করে দেখে শুধু সাদা আর সাদা। অম্ভব সুন্দর লাগছিলো। আজ কেন যেনো তনুর খুব খেলতে ইচ্ছা করতেছে। খেলতে ইচ্ছা করছে এই বরফ গুলোর সাথে। দৌড়াতে ইচ্ছা করছে বরফ পথে। তাওহীদ ঠিক বুঝে নিয়েছে তনুর চোখের ভাষা। তখনই তনুকে কমফোর্ট করতে নিজেই বলে উঠে।

~ খেলতে চাও?

তাওহীদের তনু বেশ অবাক হয়। তাহলে কি আজ কাল তাওহীদ তার মনের কথা টুকুও বুঝতে শিখে গেছে। কিছুক্ষন গভীর নয়নে তাকিয়ে আছে সে তাওহীদের দিকে। কিন্তু কি করে বলবে সে। তারও যে খুব ইচ্ছা করছে এখন খেলতে। আর তাওহীদ দেখছে তার বাচ্চা বউকে। সময়ের সাথে সাথে তাওহীদের মনে ও ব্রেনে দুই জায়গাতেই কব্জা করে বসেছে তনু। তাওহীদ তাকিয়ে আছে তো তাকিয়েই আছে। যেনো মনে হচ্ছে তার সামনে কেউ ব্ল্যাক কালারের ড্রেস পড়া কোন পুতুল বসে আছে।

~ কি হলো, খেলতে চাইছো, তাই না?
~ হুম।
~ যাও গিয়ে খেলো।
~ আর আপনি?
~ আমি আছি।
~ যাবো?
~ হু যাও।

তনু গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে মাঝে চলে যায়। গ্লাবস পড়া হাত দিয়ে বরফ গুলো ধরছে। এই সিচুয়েশান টা হয়তো অনেকটা বাচ্চামো হয়ে গেছে কিন্তু অশান্ত মন টাও যে অনেক সময় শান্ত হতে এক এক বার বাচ্চা হয়ে ওঠে। এটাই হয়তো তার প্রমান। তাওহীদ গাড়ি থেকে দেখছে তনুকে। পরক্ষনেই তনু হাত দিয়ে ইশারা করে তাওহীদকে। তাওহীদও নেমে তনুর কাছে যায়।

~ থ্যাংকস।
~ কেন?
~ আমাকে এখানে আনার জন্য।
~ খুব তো বলেছিলে যাবো না যাবো না, না আসলে মিস হয়ে যেত না?

~ সেই জন্যেই তো থ্যাংকস।
~ উহু থ্যাংকস এইভাবে নিবো না।
~ তাহলে।

~ কাছে আসো।
~ মানে।
~ কাছে আসো তারপর বলছি।

এই বলে তনুকে একদম নিজের কাছে নিয়ে যায় তাওহীদ। তনুও তাল সামলাতে না পেরে তাওহীদের বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তাওহীদ একভাবে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে। আর তনুও এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তাওহীদের দিকে। এই মুহুর্তে তাওহীদকে যে কতটা ভালো লাগছিল তনু বলে বুঝাতে পারবে না। লম্বা সুঠাম দেহের মানুষ টা একদিকে যেমন ফর্সা অন্য দিকে চোখ জোড়া বড়~ই তীক্ষ্ণ। ঠোঁট জোড়ায় মনে হয়েছে জেন্টস লিপ~বাপ ইউজ করা। অতুলনীয় সুন্দর লাগছিল তাওহীদকে।

~ এইবার দাও থ্যাংকস।
~ থ্যা, থ্যা, থ্যাংকস।
~ এভাবে না।
~ তো।

তাওহীদ আস্তে করে তনুর দুই গালে দুই হাত রাখে। তারপর তনুর কানের কাছে তাওহীদ মুখ এনে আস্তে করে বলে উঠে,

~ থ্যাংকস টা মুখে না বলে কাজে করে দেও।
~ বুঝলাম না।
~ এই ঠোঁট জোড়া আমার চাই তনুশা, দিবে।

তনু আর কিচ্ছু বলতে পারে নি। সাথে সাথে চোখ জোড়া অফ করে ফেলে, আর যেই হাত টা দিয়ে তাওহীদকে ধরে রেখেছিল সেই হাত টা মনের অজান্তেই খামছে ধরে তাওহীদের ব্লেজার কে। তাওহীদ বুঝে যায় তনুর চাওয়া পাওয়ার কথা। তাওহীদ আস্তে করে কানের কাছ থেকে তনুর মুখের কাছে আসে। আস্তে আস্তে তনুর একদম কাছে চলে যায় সে। একদম কাছে বলতে একদম কাছে, তনুর ব্যাক~সাইডে নিজের বাম হাত টা দিয়ে টাইট করে ধরে রাখে তাওহীদ।

আর তার আরেক হাত তনুর ডান গাল টা স্পর্শ করে আছে। তাওহীদের ঠোঁট জোড়া তনুর ঠোঁট জোড়া কে বড্ড টানছে। তাওহীদ নেশা সামলাতে পারছে না। যেতে যেতে একদম ঠোঁটের কাছে পৌঁছে যায় তাওহীদ তনুও তাওহীদের নিঃশ্বাস এর শব্দ পাচ্ছে। নিঃশ্বাস টা বড্ড জোড়ে উঠা নামা করছে দুইজনের। তনুর বুক কাপছে এই বুঝি ঠোঁট জোড়া ডুব দিবে তার ঠোঁটে। তাওহীদ এগিয়ে যেতে যেতে একদম কাছে। কাছ থেকেও কাছে। অতঃপর তাওহীদের ঠোঁট জোড়া তনুর ঠোঁটকে ছাড়িয়ে সোজা কপালে উঠে যায়। খুব আলতো করে চুমু খায় তাওহীদ তনুর কপালে। চোখ খুলে তাকায় তনু, দেখছে তাওহীদকে। তাওহীদ ঠোঁটে কেন কিস করলো না এই টা ভেবে পাচ্ছে না তনু।

~ থ্যাংকস টা নিয়ে নিলাম।
~ এইভাবে?
~ হ্যাঁ।
~ অন্যভাবেও তো নেয়া যেতো।
~ কিভাবে নেয়া যেতো ম্যাডাম।

~ মুখে বলে।
~ একদম বরফ গায়ে ঢেলে দিব।

~ এহহহহহ।
~ কি এহহহ, দাড়াও দেখবে দেখবে।
~ না না প্লিজ, তাওহীদ না, দিয়েন না প্লিজ।

তারপর দুইজন বরফের মাঝে খেলায় মেতে ওঠে। সেই মুহূর্তে তনু কিছু একটার আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজ টা কেমন যেনো পায়ের ছিল। তনু পিছনে তাকাতেই দেখে এক পাশে ঝোপের আড়ালে এক জোড়া পা সরে যায়। কালো বুট জুতা জোড়া স্পষ্ট দেখতে পায় তনু। ভয়ে চিৎকার দিয়ে তাওহীদকে ডাকতে থাকে তনু।

~ তাওহীদ, তাওহীদ।
~ কি হয়েছে? কি হয়েছে তনুশা?

~ তাওহীদ ওইখানে কেউ আছে।
~ কোথায়?
~ ওইখানে, আমি দেখেছি।
~ আমি যতদূর জানি কেউ আসে না এইখানে তেমন।
~ নাহ আমি দেখেছি কেউ তো ছিল।
~ আচ্ছা দাড়াও আমি দেখে আসি।

~ নাহ নাহ দরকার নেই, আমি রুমে যাবো।
~ মানে কি? মাত্রই তো এলে।
~ নাহ আমি রুমে যাবো প্লিজ।
~ আচ্ছা চলো, গাড়িতে গিয়ে বসো।

ভয়ার্ত মনে দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে তনু। তাওহীদও গাড়ি তে গিয়ে বসে আর গাড়ি স্টার্ট করে দেয়। গাড়ি টা সেই জায়গা ক্রস করে সামনে এগুতে থাকে। আর পেছন থেকে ঝোপের আড়াল থেকে তনুর দেখা সেই এক জোড়া বুট জুতা পড়া পা বেরিয়ে আসে। সারা রাস্তা তনু একটা কথাও বলে নি তাওহীদের সাথে। তাওহীদও বুঝতে পারে নি হঠাৎ কি হলো তনুর। এমন অস্বাভাবিক আচরণ করার মানে কি। তাওহীদও আর কিছু জিজ্ঞেস করে নি তনুকে।

হোটেলে ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে নেয় তনু। তারপর কম্বল পেঁচিয়ে শুয়ে পড়ে। খায় নি পর্যন্ত মেয়েটা। তাওহীদ বেশ অবাক তনুর আচরণে। কাল টেন্ডার পাস মিটিং, অত্যন্ত জরুরী এই প্রজেক্টসিপ টা। তাওহীদ ভেবেছে কাল সব ঝামেলা শেষ করে তনুকে সব জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাই আর কথা বাড়ায় নি তাওহীদ। আল্লাহ আল্লাহ করে কাল কাজ টা হলে হয়।

পরদিন সুইজারল্যান্ড সময় বেলা দুইটা,
মিটিং টা হবে Zurich city এর financial service group of industry র সাথে। হেড কোয়াটারে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সবাই প্রজেক্ট রেডি করছে। একটু পরেই প্রেজেন্টেশন স্টার্ট হবে।

UBS AG
Fortune 500 Rank: 215
Industry: Financial services
City: Zurich
টেন্ডার টা নেয়ার জন্য দুটো ইন্ডাস্ট্রি, ১ মাহবুব গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি আর ২ তনিমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি। দুই গ্রুপই বেষ্ট, কাকে রেখে কাকে দেবে এইটা নিয়ে ভাবনায় আছেন financial Department এর অফিসার রা।

প্রেজেন্টেশন শুরু হয়ে যায়। প্রথমেই প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন the new MD of tonima group of industry
অসাধারণ ভাবনার সাথে তিনি তার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এমন ভাবে সব রেডি করেছেন যাতে সে কোন ভাবেই এই টেন্ডারসিপ টা তাওহীদের হাতে যেতে দিবেন না।
এইবার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা শুরু করে Mr Tawhid, Mahbub group of industry এর একমাত্র কর্নধার। সেও দারুন ভাবে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

দুই ঘন্টা বিরতির পর,
সমস্ত Department এক হয়ে রেজাল্ট হাতে নেয়। Fortune 500 Rank: 215 অনুযায়ী টেন্ডার পায় মাহবুব গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি। সবাই করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানায় তাওহীদকে। অন্যদিকে তনিমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি এইবার ও টেন্ডারসিপ মিস করে যায়। সব কাগজপত্র রেডি করে বিকাল ৫ টায় হেডকোয়াটার থেকে বের হয় তাওহীদ এবং জাহিদ। পিছন থেকেই কেউ একজন ডেকে ওঠে,

~ congratulations Mr Tawhid
~ thanks a lot Mr
~ এইবারেও টেন্ডার টা পাওয়া গেল।
~ এইবার থেকে টেন্ডার মাহবুব গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি ই পাবে কারন এখন থেকে তাওহীদ মাহবুব অফিস ধরেছে।

~ i am proud of you
~ Thanks
~ you are most welcome
~ ওকে বাই, রুমে যাবো।

~ কাল রাত ৯ টায় পার্টি আছে, wife সহ আসতে হবে।
~ yaaa, sure
~ ok, so see you soon
~ yes, absolutely
~ ok bye
~ bye

হোটেলে ফিরে এসে রুমে ইন করে তাওহীদ। দেখে তনু জানালা দিয়ে বাহির টা দেখছে। আজ তাওহীদ অনেক খুশি, এই প্রথমবার তার জন্য তার বাবা এত খুশি হয়েছে। সে আজ তার বাবার মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছেন।
এইদিকে বাংলাদেশে মাহবুব সাহেব ভিষন খুশি। তার ছেলে আজ তাই করিয়ে দেখিয়েছে যা এতদিন তিনি করে দেখাতেন। কিন্তু এইসবই তার বউমা তনুর জন্য হয়েছে। মন ভরে ছেলে আর ছেলের বউকে দোয়া করেন মাহবুব সাহেব।

অপরদিকে,
তাওহীদ আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে তনুর পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর নিজের দুই হাত দিয়ে তনুর পেট কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে উপরে তুলে ঘুড়তে শুরু করে। আচমকা এইসব হওয়াতে তনু এক চিৎকার করে ওঠে।

~ তনুশা তনুশা তনুশা, আজ আমি অনেক খুশি। তনুশা আমি টেন্ডার টা পেয়ে গেছি তনুশা।
~ সত্যিইইইইইইই
~ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, তিন সত্যি।
~ নামান আমাকে, না হয় পড়ে যাবো তো।

~ oh sorry sorry,
~ it’s ok বাবাকে জানিয়েছেন?
~ হ্যাঁ বলে দিয়েছি।
~ বাবা খুব খুশি হবে।
~ বাবা ভিষণ রকম খুশি।
~ যাক ধন্যবাদ আপনাকে, আপনি বাবার স্বপ্ন টা সত্যি করেছেন।

~ ধন্যবাদ তো তোমার আমাকে দেয়া উচিত, তুমি ছিলে বলে জীবনের মানে বুঝতে পেরেছি, ওই নেশার অন্ধকার মায়ার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বার করতে পেরেছি। আসল কাজ টা তো তুমিই করে দিয়েছো তনুশা। really Thank You so much তনুশা।
~ ধুর আমি কিছুই করি নি, ইচ্ছা শক্তি হলো বড়, আপনার ইচ্ছা শক্তি ছিল আপনি পেরেছেন।

দুইজন অনেক্ষণ কথা বলে। কথার এক পর্যায়ে তাওহীদ তনুকে কাছে টেনে নেয়।

~ কাল রাত ৯ টায় এখানে একটা পার্টি আছে। তনিমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির MD পার্টি রেখেছে। আমাকে ইনভাইট করেছে সাথে তোমাকেও।
~ যেতেই হবে

~ হ্যাঁ
~ টেন্ডার পেলেন আপনি, তাহলে তারা কেন পার্টি দিচ্ছে?
~ আরে বোকা মেয়ে, এইখানে হার~জিত থাকে না, এঞ্জয় টাই আসল।
~ আচ্ছা যাবো।
~ আর শুনো।

~ পরশু আমার আরেক স্টেটে যাবো।
~ কোথায়?
~ Davos এ
~ সেইটা কোথায়?

~ এখানকারই আরেক স্টেট, তবে সেখানে শুধু বরফ আর বরফ।
~ ওয়াও।
~ এখন ওয়াও তাই না।
~ কাল পার্টি তে হোয়াইট কালারের শাড়ি পড়বা।
~ সাদা রঙের?

~ হুম।
~ কিন্তু শাড়ি আনি নি তো তাও সাদা।
~ আপনার কাবার্ডে দেখেন।
~ কি আছে সেখানে?
~ গিয়ে দেখেন

তাওহীদের কথা মত তনু কাবার্ডে গিয়ে আরেকটা শপিং ব্যাগ পায়। তনু একবার শপিং ব্যাগের দিকে তাকায় একবার তাওহীদের দিকে তাকায়। তাওহীদ ইশারায় ব্যাগ টা খুলতে বলে তনুকে। তনু ব্যাগ টা খুলে পুরা থ হয়ে যায়। ব্যাগে খুব সুন্দর একটা হোয়াইট কালারের শাড়ি রাখা আছে আর সাথে টুকটাক অর্নামেন্টস। এত সুন্দর শাড়ি টা দেখে তনু খুব খুশি হয়।

~ এটা পড়বেন কাল আপনি
~ কিন্তু এটা আসলো কিভাবে
~ হেটে হেটে আসছে

~ কিহহহহহহ
~ বোকা মেয়ে আমি নিয়ে এসেছি, দুইদিন লুকিয়ে রেখেছিলাম, আজ দিব বলে এখানে রেখে গিয়েছিলাম।
~ অনেক সুন্দর শাড়ি টা।
~ পছন্দ হয়েছে?
~ দারুন হয়েছে।

~ ওকে, তাহলে আমার পছন্দ আছে বলতে হয়, কি বলো?
~ আমার তো গোটা আপনাকেই ভালো লাগে তাওহীদ সাহেব
~ এই তনুশা

~ হ, হ্য,হ্যাঁ, কিছু বলেছেন।
~ কি বিড়বিড় করো।
~ কিছু না।

পরদিন সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে,
তনু ওয়াসরুমে শাওয়ার নিচ্ছে, আর তাওহীদ রুমে বসা। পানির ঝুপঝাপ শব্দটা কানে স্পষ্ট করে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তাওহীদের। অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে তাওহীদের।

একবার যদি তনুকে দেখতে পেত সে, তাহলে শান্তি পেত। কিন্তু বলবে কিভাবে? আর বললেই বা তনু কি ভাববে? এইসব ভেবে চুপ করে থাকে তাওহীদ।
অপরদিকে,
আরেক ঝামেলার সম্মুখীন হয় তনু। শুধু টাওয়াল নিয়ে ঢুকে গেছে আর কিছুই নেয় নি সে। তার যদি টাওয়াল দুটো হতো একটা নিয়ে ঢুকে পড়েছে ওয়াসরুমে। একটা দিয়ে কি হবে এখন, চুল বাধবে নাকি শরীরের ঢাকবে। ভিষণ রকম লজ্জায় পড়ে তনু।

~ ছি, ছি, ছি এ আমি কি করেছি। আজকাল মন কই থাকে আমার? এখন কিভাবে বের হবো? ওইদিকে পার্টির জন্য লেট হয়ে যাচ্ছি। এত বড় ভুল করলাম কিভাবে। আর উনিও রুমেই বসা আমি কিভাবে এখন রুমে যাবো?

এইসব ভাবতে ভাবতে প্রায় আধা ঘন্টা পার করে দেয় তনু। এইদিকে তাওহীদও ভাবছে ব্যাপার কি দেড় ঘন্টা তনু ওয়াসরুমে কি করে। তনুর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে এই ভেবে যে এই অবস্থায় তাওহীদের সামনে যেতে হবে। এখন উপায় একটাই সেটা হলো তাওহীদকে বলতেই হবে কাপড় গুলো দিয়ে যেতে। না হয় এভাবেই থাকতে হবে। পরে অনেক ভেবে চিন্তে তনু নিচু গলায় তাওহীদকে ডাক দেয়।

~ শুনছেন, এই যে আছেন?
~ হ্যাঁ, বলো
~ আপনি কি একটু বাহিরে যাবেন?
~ বাহিরে যাবো? এখন? কেন?

~ নাহ এমনি
~ এমনি কেন বাহিরে যাবো? এখন তো ভাবলাম আরো রেডি হবো আর তুমি বলো বাহিরে যেতে
~ আচ্ছা থাক যেতে হবে না
~ by the way তুমি এতক্ষন কি করো ওয়াসরুমে একটু বলবা, ৬ টা বাজতে চললো

তাওহীদের এমন কথায় তনুর মরে যাই মরে যাই ভাব। তার উপরে কাপড়ের টেনশন।

~ ওরে আল্লাহ রে, সব এক সাথে দিলা। এখন কিভাবে বলি আমি তাকে?
~ তনুশা বের হবা প্লিজ

তাওহীদের কথায় হুশ আসে তনুর। আবারও সাহস করে ডাকে তাওহীদকে

~ শুনছেন, এই যে, শুনছেন
~ হ্যাঁ রে ভাই বলো
~ একটু এইদিকে আসবেন
~ কি হয়েছে তনুশা, anything serious?
~ শুনুন না প্লিজ

তনুর এমনভাবে কথা বলায় তাওহীদের বুকে কামড় দিয়ে উঠে। তনু এইভাবে কথা বলতেছে কেন। হাতে থাকা ম্যাগাজিনের বই টা রেখে তারাতারি ওয়াসরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় তাওহীদ

~ বলো, কি হয়েছে?
~ আমি না শাড়ি টা আনতে ভুলে গেছি সাথে ব্লাউজ ও
~ তো?

~ একটু ওইগুলো দিবেন প্লিজ
~ দেয়া লাগে নাকি তুমি এইভাবেই বেরিয়ে আসো
~ না না, আপনি দেখেন ওইখানে শাড়ি ব্লাউজ আর প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা আছে, দিন না প্লিজ
~ হা হা হা, দিব না, এভাবেই থাকো
~ প্লিজ দিন না

~ না না না না দিব না, আমি দিব না
~ প্লিজ দিন না
~ উহু
~ এখন দেরী হচ্ছে না
~ তনুশা রানী রাগতেও পারে? ওয়াও আমি তো আগে দেখে নি, রাগো রাগো প্লিজ আরেকটু রাগো, আমি তোমাকে দেখি
~ প্লিজ তাওহীদ সাহেব, এমন করিয়েন না, কাপড় গুলো দিন না প্লিজ
~ আচ্ছা, দিচ্ছি

তাওহীদ কাপড় নিয়ে যাওয়ার সময়, বেডে আরেকটা জিনিস দেখতে পায়। সম্ভবত তনুরই হবে পারসোনাল জিনিস, তাওহীদ দেখেই বুঝে গেছে। নিবে কি নিবে না ভাবছে তাওহীদ। পরে নিয়েই নেয়। ওয়াসরুমের সামনে এসে দাঁড়ায় তাওহীদ।

~ তনুশা, দরজা খুলো
~ এনেছেন?
~ হুম, নাও

~ ধন্যবাদ
~ হ্যাঁ নাও
~ কই?
~ এই যে নাও
~ আরে কই?

~ এই যে
~ কই যে, আমার হাতের নাগালে পাচ্ছি না তো
~ ওহ, এইগুলার পেতে হলে তো আগে আমার নাগালে আসতে হবে ম্যাডাম
~ মানে কি
~ মানে নাও
~ ক,ক, ক,তাওওওহীদদদদদদদ

পা পিছলে পড়ে যাচ্ছিলো তনু। একে তো টাইলস করা বাথরুম। তার উপরে যদি একবার পড়ে যায় তাহলে মাথা একদম দুই ভাগ হয়ে যাবে। তাওহীদ বুঝতে পারে নি এত টা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

~ oh shit, তনুশায়ায়া

আল্লাহ সারিয়ে দিয়েছে আজকে তনুকে। তাওহীদ খপ করে তনুর হাত টা ধরে ফেলে দরজার আড়াল থেকে। না হলে আজকে শেষ হয়ে যেত মেয়েটা। তনুকে ধরতে গিয়ে তাওহীদও তনুর সাথে ওয়াসরুমের ভেতরে ঢুকে যায়। কোন রকম তনুকে ধরে ফেললেও পড়ে যায় দুইজনেই।

পড়ে গিয়ে চোখ মুখ খিটে থাকে তনু। তাওহীদ তনুকে দেখছে। তাও এই অবস্থায় তার উপরে এই প্রথমবার। ফর্সা শরীর টা টাওয়াল দিয়ে মোড়ানো। একে তো ফর্সা তার উপর লাল হয়ে আছে, যা সুন্দর লাগছিল তনুকে যা বলার বাহিরে। মিষ্টি হেসে দিয়ে তনুর কানের কাছে গিরে ফিস ফিস করে তাওহীদ

~ আমি কিন্তু কিছু হতে দেই নি, ধরে ফেলেছি, চোখ টা খুলেন ম্যাডাম

তাওহীদের কথায় আস্তে করে চোখ মেলে তাকায় তনু। সামনেই তাওহীদকে দেখে সে। তনুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে তাওহীদ। তনুর গায়ে শুধুই টাওয়াল টা।
আর কিছুই নেই, এমতাবস্থায় তাওহীদের সামনে না যাওয়ার জন্য এত কিছু করা সেই পড়তেই হলো তাকে তাওহীদের সামনে।
হায় আল্লাহ এ কেমন ইতিহাস?


পর্ব ১৬

তাওহীদ বুঝতে পারে তনুর খুব ইতস্তত লাগছে। তাই নিজেকে তনুর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে যায় তাওহীদ। কাপড় গুলো দিয়ে সোজা বেডে এসে বসে তাওহীদ। বার বার তনুর লাজুক চাহনি টা তাওহীদের চোখের সামনে ঘুরাঘুরি করছে। তবুও নিজেকে সংযত করে রাখছে তাওহীদ। তনুও তারাতারি চেঞ্জ করে বেরিয়ে আসে।

তনুকে দেখে তাওহীদ তো হা হয়ে আছে। হোয়াইট শাড়ি টায় তাকে দারুন মানিয়েছে তনুকে। তনু লজ্জায় তাওহীদের দিকে তাকাতে পারছে না। তাওহীদ বুঝে গিয়েই আর বিরক্ত করে নি তনু কে।

~ তুমি রেডি হতে থাকো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসি
~ হু

তাওহীদ ওয়াসরুমে ঢুকে পড়ে। আর তনু এইদিকে রেডি হচ্ছে। চুল গুলো ভেজা, ড্রায়ার মেশিং দিয়ে চুল গুলো শুকাচ্ছে তনু। ভাবছে কিভাবে সাজানো যায় নিজেকে। শাড়ি টার পার~টায় হালকা সোনালী রঙের কাজ করা তার মধ্যে মেরুন কালারের স্টোন বসানো। যতটুকু পেরেছে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছে তনু।

গলায় চিকন একটা নেকলেস, কানে তার সাথে ম্যাচিং করা দুল, হাত ভর্তি সাদা চুড়ি সাথে গোল্ডের এক জোড়া বালা। হালকা মেক~আপ এর সাথে অনেক অনেক সুন্দর লাগছে তনুকে।

ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে আরেকটু ধাক্কা খায় তাওহীদ। আজ বার বার ধাক্কাই খাচ্ছে বেচারা। একবার ওয়াসরুমে আবার এখানে। আয়নার সামনে গিয়ে পিছন থেকে তনুকে জড়িয়ে ধরে তাওহীদ

~ লিপস্টিক টা তো মানাচ্ছেন না?
~ ভালো লাগছে না?
~ উহু, red colour এর টা ট্রাই করো তো

~ আচ্ছা

তাওহীদের কথায় ঠোঁটের লিপস্টিক টা তুলে red colour এর লিপস্টিক টা ট্রাই করে তনু। এখন স্বয়ং সম্পূর্ণ লাগছে তনুকে।

~ এখন ঠিক আছে?
~ একটা কথা ভাবছি আমি
~ কিহ

~ আজকে আমার বাচ্চা বউটা সুইজারল্যান্ডের সাদা মানুষ গুলার দফা রফা করে দিবে
~ ধুররর
~ কি ধুরররর আর ফুরররর, এটাই সত্যি

~ সবার দফা রফা করতে পারলেও একদিনের টা পারি নি আজ অবদি
~ মানে
~ কিছু না, যান রেডি হোন
~ হুম

প্রায় দুজনেই রেডি। একজনের থেকে আরেকজন কম না। একদম perfect for each other

~ যাওয়া যাক তাহলে
~ হ্যাঁ, চলুন
~ সামলাতে পারবে? ডয়েস তো পারো না
~ বোবা থাকবো

তারপর দুজনেই বেরিয়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট পর পার্টি ভেন্যু তে পৌঁছায় তারা। অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে সেন্টার টা। বাহিরের দেশের সৌন্দর্যটাই একদম ভিন্ন। দুপাশে ঝাউগাছ টাপ গাছ লাগানো তাতে fairy lights with ball, সব কিছু মিলিয়ে দারুন। সেন্টারে প্রবেশ করে তনু এবং তাওহীদ, জাহিদ ১৫ মিনিট আগে চলে আসছে।

তাওহীদ যাওয়ার সাথে সাথে সবাই মিলে তাকে ঘিরে ধরেছে। সবাই hug করছে তাকে। তনুও সাইডে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে সে। মেয়েগুলোকে দেখেছে সে, এক একজন কি সুন্দর সুন্দর। বাহ দেখেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে ছেলেদের।

এইদিকে,
তাওহীদ তনুর হাত ধরে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

~ She is my wife, tonusha

সবাই হাই হ্যালো তেই আছে। পার্টি আস্তে আস্তে জমে যাচ্ছে। এমন সময় সেখানে পা রাখে tonima group of industry র new MD যে এই পার্টি টা অরগানাইজ করেছেন।

~ hi tawhid
~ oh Hello Mr
~ কি অবস্থা?
~ একদম ফাটাফাটি, বউ কই?

~ আছে এখানেই, ওই যে, come পরিচয় করিয়ে দেই

তাওহীদ তাকে নিয়ে যায় তনুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।

~ তনু
~ জ্বি
~ তনিমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির MD
~ ওহ আসসসসসস

তনুর পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। এ কাকে দেখছে সে। ওই সময়ে কেউ একজন তাওহীদ কে ডাক দিয়ে ওঠে।

~ তোমরা কথা বলো, আমি একটু আসছি
~ yaaa sure,

সে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে। তনুর হার্টবিট প্রচন্ড জোড়ে লাফাচ্ছে। মাথা টা ঝিমিয়ে উঠে তার।

~ hello tonusha, oppsss sorry Mrs Tawhid, how are you?
~ e,e,ex, excuse me

তনু সেখান থেকে সরে গিয়ে তাওহীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ভয়ে কুকড়ে গেছে মেয়েটা। সে এখুনি হোটেলে ফিরতে চাইছে। কিন্তু বলে লাভ নেই, তাওহীদ এখন যাবে না আর না ওকে যেতে দেবে। তনু বার বার এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। খেয়াল করছে সে কোথায়?

ভয় টা এত দিন মনে মনে ছিল, আজ তা চোখের সামনে। ওয়েটার soft drink নিয়ে এসে তনুর সামনে ধরে। তনু খাবে না তারপরও একটা গ্লাস হাতে নেয়। কিন্তু কে যেন পিছন থেকে হালকা ধাক্কা দেয় আর হাতের গ্লাস টা নড়ে কিছু টা জুস শাড়িতে পড়ে যায় তনুর। বেচারি ভেবেছে এটা হয়তো এক্সিডেন্ট আসলে এটা যে প্রি~প্ল্যানিং করা বুঝতে পারে নি। দিক না পেয়ে তাওহীদের কাছে যায় তনু।

~ শুনছেন,
~ হ্যাঁ বলো
~ জুস টা পড়ে গেল
~ বেশি নষ্ট হয়েছে কি?

~ নিচের দিকটায় পড়েছে, ওয়াসরুমে গেলে ভালো হতো, ক্লিন করতে পারতাম
~ আচ্ছা দাড়াও
excuse me

তাওহীদ একজন লেডি স্টাফ কে দিয়ে তনুকে ওয়াসরুমে পাঠায়। তার সাথে তনু ওয়াসরুমের দিকে যায়। ওয়াসরুম থেকে কাজ সেড়ে বের হয়ে দেখে স্টাফ টা সেখানে নেই, তনু একা ৷ নতুন জায়গা কিছুই বুঝে না। তাই সামনের দিকে হাটা ধরে। হঠাৎ কে যেন তনুর হাত ধরে টান দিয়ে একটা রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়। তনু যখন তাকায় তখন দেখে এ আর অন্য কেউ নয় এ তো,

~ what is this?
~ what?
~ হাত ছাড়ুন আমার
~ ছাড়ার জন্য কি ধরেছিলাম

~ আহহহহহহহ, আমার লাগছে
~ লাগুক, লাগুক, এত কল এত ম্যাসেজ একটার ও আন্সার নাই কেন?
~ এমনি
~ আমি যখন কল দেই তখন তুমি কবুল বলতেছিলা, বুকটা একবারের জন্যেও কাপে নাই তোমার

~ আমি আপনাকে আগেই বলে দিয়েছিলাম আমি এইসব সম্পর্কে যেতে চাই না আর আমি চাইও নাই আপনাকে
~ এত ভালোবাসলাম তাও দাম দিলে না
~ আপনার মত জুয়ারি মদখোর মেয়েবাজ লোকের সাথে বিয়ে করার চেয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো, অনেক বেশি ভালো

এই কথা টা সে নিতে পারে নি। ধাক্কা মেরে তনুকে বিছানায় ফালায়। তারপর তনুর গায়ের উপরে উঠে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে।

~ আমি জুয়ারি আমি মদখোর আমি মেয়েবাজ, তোমার সো কলড হাজবেন্ড কি?
~ আমার লাগছে, ছাড়ুন আমায়
~ আমি ধরায় লাগছে তাই না? তোমার সো কলড হাজবেন্ড তোমাকে যখন ধরে তখন লাগে না? তাই না?

~ ছি, আমায় ছাড়ুন,
~ shut up, just keep your mouth shut
~ ছাড়ুন,
~ যেদিন দেখেছিলাম সেইদিনই শপথ নিয়েছিলাম ছাড়বো না তোমাকে, শেষ করে রেখে দিবো

এইসব বলে তনুকে বিশ্রী ভাবে টাচ করছে সে। তনুর পেটে বার বার টাচ করছে সে, বুকেও হাত দিতে চাইছে সে। তনুর ঘিন লাগছে অনেক, তনু তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তাকে ধাক্কা মারে। তারপর বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে

~ আমি আগেও আপনাকে ঘেন্যা করেছি আমি এখনও আপনাকে ঘেন্যা করি। i hate you, i just hate you
~ এত দেমাগ তোমার, তোমার এই দেমাগ কোথায় থাকে আমিও দেখে নিব
~ hate you, hate you, hate you

তনু বের হয়ে যায় রুম থেকে। নিজেকে সামলে নিয়ে তাওহীদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায় তনু।

~ সব ঠিকঠাক আছে তো?
~ হু
~ ok
~ আরে এইখানে আসেন আপনার সাথে আরেকটু পরিচয় করাই আমার স্ত্রীর

তনু দেখে সে আবার আসছে। এইবার তনুর ভয় টা আরো বেড়ে যায়। যদি সব টা জানিয়ে দেয় সে।

~ চিনেছো তুমি তাকে তনুশা?
~ মনে হয় চিনে না তোর বউ

~ হা হা, আরে রাফাত। the new MD of tonima industry আর আমাদের রিসিপশনে তো দেখেছোই ওকে
~ হা হা হা, তোর বউ ঘাবড়ে গেছে
~ সরি দোস্ত, কিন্তু রাগ ও হচ্ছি অনেক
~ কেন রে

~ ভালো লাগে না, এত কাছের দোস্ত তাও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আসা। আর কথাও বলতে হয়েছে কত ফর্মাল হয়ে
~ প্রতিদ্বন্দ্বী কি শুধু বিজনেসেই হয়, অন্য কত জিনিস আছে যা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা যায়

কথা টা যে তনুকে উদ্দেশ্য করে বলেছে তা তনু বুঝে গেছে। কলিজায় কাপুনি ধরে গেছে তনুর। এ কোন ঘুর্নিঝড় তার দিকে তেড়ে আসছে। যে ঝড় সব কিছু ওলটপালট করে দিবে। পার্টি খুব জোড়ে সোড়ে শুরু হয়ে গেছে। তাওহীদ অন্যদের সাথে ব্যস্ত। অবশ্য এতে তার দোষ টা ছিল না। যেমন সমাজ তেমন তার রীতি। ব্যাপার টা তনু বুঝে, তাই চুপচাপ আছে। কিছু ফরেনার মেয়ে ছিল তাদের সাথে কথা বলে নিজেকে শান্তু রাখার চেষ্টা করছে তনু। কিন্ত অশান্ত মন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। ফরেনার মেয়ে গুলা সাইডে চলে যাওয়ার সাথে সাথে সেখানে রাফাত উপস্থিত হয়।

সে খুব কৌশলমাফিক তনুর সাইডে যায়। তনুর ব্যাক~সাইডে হাত রেখে হাত টা উপরের দিকে তুলে তনুর পিঠে চলে যায়,
পরিস্থিতির জন্য কিছু বলতে পারে নি তনু শুধু চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি পড়ে যায়।
তখন রাফাত তনুকে একটা কথা বলে যা তনুকে ভেতর থেকে নড়িয়ে দেয়। রাফাত তনুর কানের কাছে এসে বলে,

~ তোমার সো কলড হাজবেন্ড তোমার এই সুন্দর শরীর টা কতবার টাচ করেছে তা তো আমার জানা নেই। তবে এই সুন্দর শরীর টা এক রাতের জন্য আমার চাই, দিবা?

রাফাতের কথা শুনে চোখ বড় বড় করে রাফাতের দিকে তাকায় তনু। রাফাত আবারও সেম কথা টা বলে,

~ প্লিজ যাষ্ট এক রাত। টাকার জন্য বড়লোক ছেলেকে বিয়ে করেছো। আমিও তোমাকে টাকা দিব, trust me একদিকে আমার বিছানায় যাবে অন্যদিকে একাউন্টে টাকা চলে যাবে।

~ how dare you
~ হা হা, বাংলাদেশ গিয়ে এড্রেস ম্যাসেজ করে দিব, নাম্বার তো আছেই, কেমন?

এইটা বলে রাফাত চলে যায়। আর তনুর চোখে অবিরাম পানি। তাওহীদ এর দিকে তাকিয়ে থাকে তনু। মানুষ টাকে দেখে অনেক মায়া লাগছে তনুর। আর থাকতে পারছে না সে এখানে। মাথা ঝিমিয়ে আসছে, গা গুলাচ্ছে, সাথে ভেতর থেকে সব বেরিয়ে আসছে মনে হচ্ছে তনুর।
কোন উপায় না পেয়ে জাহিদের কাছে যায় তনু।

~ জাহিদ ভাই,
~ জ্বি ভাবি
~ ব্যস্ত আছেন ভাই?
~ নাহ ভাবি, পার্টি হচ্ছে বসেই আছি, কোন প্রয়োজন ভাবি?

~ আমাকে একটু হোটেলে দিয়ে আসতে পারবেন ভাই?
~ কি বলেন ভাবি, এত সুন্দর পার্টি হচ্ছে আর আপনি বলছেন চলে যাবেন?
~ প্লিজ ভাই আমার যেতে হবে

~ আচ্ছা আমি স্যার কে বলে আসি
~ নাহ থাক ও পার্টি করুক। আমি একটু বিশ্রাম নিতে চাই, তাই হোটেলে যাবো, প্লিজ ভাই দিয়ে আসবেন একটু।
~ আচ্ছা ভাবি চলেন

জাহিদের সাথে সোজা হোটেলে চলে আসে তনু। রুমে এসে দরজা লক করে বিছানায় এসে পড়ে তনু। বালিশ চাপা দিয়ে চিৎকার করে কান্না করে তনু।
পুরনো স্মৃতি গুলো মনে পরে যায় তনুর।

এক বছর আগের থেকে তনু আর রাফাত এর চেনাজানা। তনু কলেজে যাওয়ার সময় রাফাত ওকে দেখে। সেখানেই রাফাতের নজরে পড়ে তনু। তনুকে কয়েকভাবে রাজি করানোর চেষ্টা করে রাফাত। কিন্তু পারে নি, কারন তনু জানতো রাফাত নেশাখোর। তাই রিলেশনশিপে পা বাড়ায় নি তনু তার উপরে পরিবারের টেনশন। তারপরে কয়েকমাস যোগাযোগ করে নি রাফাত আর সেই সময়তেই তাওহীদের সাথে তনুর বিয়ে টা হয়ে যায়। অবশ্য বিয়ে হওয়ার আগ পর্যন্ত রাফাত অষ্ট্রেলিয়ায় ছিল।

যেদিন বিয়ে হয় সেইদিন সকালেই রাফাত দেশে ফিরে। তার আগেও কয়েকবার তনুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে রাফাত। কিন্তু তনু কোন রেসপন্স করে নি।
এরই মাঝে রাফাত খবর পায় তাওহীদ বিয়ে করেছে। তারপর রিসিপশনে গিয়েই দেখে তাওহীদের বউ আর অন্য কেউ নয়। তনুশা ই তাওহীদের বউ। আর তখন থেকেই সে তনুকে রেগুলার কল ম্যাসেজ করা শুরু করে দেয়।

বলতে গেলে বলা যায় যে, রাফাত এক রকম পৈশাচিক আনন্দ পায় তনুকে স্ট্রেজের উপরে রাখতে।

তনুর কলিজা ফেটে যাচ্ছে রাফাতের ওই বিশ্রী টাচ গুলোতে। গা ঘিন ঘিন করছে তনুর। ইচ্ছে করছে যেই যেই জায়গায় রাফাত টাচ করছে সেই সেই জায়গা গুলো ছিলে লবন মরিচ দিয়ে দিতে। মেয়েটা কাদছে আর বিড়বিড় করছে।

~ তাওহীদ তুমি কই? তোমায় আমার প্রয়োজন তাওহীদ। প্লিজ বাচিয়ে নাও আমায়। রাফাত আমায় শেষ করে দেবে। তাওহীদ প্লিজ আমায় আপন করে নাও। তাওহীদ আমায় তোমার মাঝে ধারন করে নাও। আমি তোমাকে ভালোবাসি তাওহীদ, ভালোবাসি তোমাকে। এই কয়েকটা দিনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমায় একটু কাছে টেনে নাও তুমি। আমি মরে যাবো, আমার সহ্য শক্তি টা কমে আসছে, আর না হয় আমায় মেরে ফেল প্লিজ।

হ্যাঁ আল্লাহ আমার সাথেই কেন? আল্লাহ তুমি তো জানো আমার মনে কোন পাপ নেই। শুধু নিজের পরিবারের জন্য এমন একজনকে বিয়ে করেছিলাম, আমি তাকে ভালো পথে আনতে পেরেছি আল্লাহ, তাহলে আমার সাথেই কেন এমন করছো আল্লাহ। তাওহীদ এইসব শুনলে আমায় মেরে দেবে। কিন্তু ও তো আমাকে ভুল বুঝবে আল্লাহ। আল্লাহ রক্ষা করো আমার সহায় হও আল্লাহ, আমার সহায় হও।

তনু প্রলাপ বকেই যাচ্ছে তো বকেই যাচ্ছে
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে তবুও কেদেই যাচ্ছে তো কেদেই যাচ্ছে।

অপরদিকে,
তাওহীদের নজর শুধুই তনুকে খুজছে। পার্টিতে সবাইকে দেখা যাচ্ছে শুধু তনু ই মিসিং। কেমন যেন লাগছে ওর কাছে। বার বার এদিক সেদিক তাকাচ্ছে তাওহীদ কিন্তু তনুর পাত্তা নেই। অবশেষে জাহিদ কে দেখতে পায় তাওহীদ।

~ জাহিদ, শুনো তো
~ জ্বি স্যার
~ তনুকে দেখছি না, কোথায় গেছে জানো কিছু?

~ স্যার, ম্যাডাম তো হোটেলে চলে গেছে
~ whattttttttttt
~ জ্বি স্যার আধা ঘন্টার উপরে হয়েছে ম্যাডাম কে আমি পৌঁছে দিয়ে আসছি
~ আমায় বলো নি কেন জাহিদ
~ স্যার আমি বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু উনি বললো আপনি এঞ্জয় করছেন যাতে ডিস্টার্ব না করি

~ what rubbish
~ স্যার আমি কিন্তু বলতে চেয়েছিলাম
~ আচ্ছা ঠিক আছে, আর শুনো এই দিক টা তুমি সামলে নাও, আমি হোটেলে ফিরছি

~ ওকে স্যার
~ রাফাত কে বলে দিও আমি চলে গেছি কেমন
~ ওকে স্যার

সারা রাস্তা এক রকম টেনশন এর মধ্য দিয়ে গাড়ি টা ড্রাইভ করছে তাওহীদ। কোন রকম হোটেলে এসে দৌড়ে lift এ উঠে পড়ে তাওহীদ। তারাতারি রুমের কাছে দৌড়ে যায় তাওহীদ।

রুমে তখনও তনু প্রলাপ বকছে


পর্ব ১৭

~ i love you tawhid, i love you, please love me please

তখনই তাওহীদ দরজায় নক দেয়,

~ তনুশা, দরজা খুলো, তনুশায়ায়া, open the door, তনুশায়ায়ায়ায়ায়া
~ তাওহীদ
~ তনুশায়ায়ায়ায়ায়া,

তনু দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। তাওহীদ তনুর দিকে তাকিয়ে আছে আর তনুও তাওহীদের দিকে। তনুকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। তাওহীদের বুকটাও অশান্ত হয়ে আছে। বার বার নজর টা তনুর ঠোঁটের দিকে চলে যাচ্ছে। ঠোঁট টা অসম্ভব কাপছে তনুর। তাওহীদ চাইলেও নজর টা সরাতে পারছে না।

রুমে ঢুকে দরজা টা লাগিয়ে পিছনে তাকায় তাওহীদ। তনুর হাত পা অসার হয়ে আসছে। তাওহীদ একভাবে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে।

~ কি হয়েছে তনুশা, চলে এলে যে। শরীর খারাপ লাগছে, আমায় বলো নি কেন? কি হয়েছে

অবশেষে তাওহীদের কথায় তনুর হুশ আসে। আরো কিছুক্ষন চেয়ে থেকে
তাওহীদ বলে ঝাপিয়ে পড়ে তাওহীদের বুকে।

~ তনুশায়ায়ায়ায়ায়া
~ তাওহীদ,
~ তনুশা, কি হয়েছে, কাদছো কেন
~

~ তনুশা, চুপ করো আর কেদো না, কি হয়েছে বলো

তনু তাওহীদ কে খামচে ধরে নিচে বসে পড়ে। তাওহীদ বেশ অবাক, তনুর হয়েছে টাকি, এইভাবে পার্টি থেকে চলে আসা, এইভাবে পাগলের মত কান্না করা, তাওহীদ হিসাব মেলাতে পারছে না।
তাওহীদ তনুকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসায় তারপর পানি খাবিয়ে দেয়।

তনু পানি খেয়ে চুপ করে পড়ে থাকে। তাওহীদ কয়েকবার তনুশা তনুশা করে ডাকে কিন্তু তনু সাড়া দেয় না। তাই সেও উঠে গিয়ে ব্লেজার টা খুলে সোফায় রেখে দেয়। আর জানালার পাশে দাঁড়িয়ে স্মোকিং শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিট পরে তনু উঠে বসে। তাওহীদকে দেখছে সে, তাওহীদ উল্টো দিক করে জানালার দিকে মুখ করে তাকিয়ে থেকে সিগারেট টানছে। আজ তাওহীদকে অনেক এট্রাকটিভ লাগছে তনুর কাছে। তনু বিছানার চাদরে নিজের হাত টা খামছে ধরে।

চোখ বন্ধ করে ফেলে সে কিন্তু পরক্ষনেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাফাতের সেই বিশ্রী স্পর্শ গুলো। চোখ টা তারাতারি খুলে ফেলে সে চোখ দিয়ে টিপ টিপ করে পানি পড়ে যায় তার।

উঠে দাঁড়ায় তনু। আস্তে আস্তে তাওহীদের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। তাওহীদকে দেখছে তনু। পিছন থেকে তাওহীদ দারুন লাগছিল। একে তো লম্বা তার উপরে সাদা শার্ট ব্ল্যাক জিন্স, এক হাত জানালার সাইডে ধরে রেখে অন্য হাতে স্মোকিং করছে তাওহীদ। তনু কেমন জানি তাওহীদের দিকে চলে যাচ্ছে।

সাহস করে তাওহীদ কে ডাক দিয়ে বসে তনু।

~ শ,শু, শু, শুনছেন

তনুর মুখে শুনছেন ডাক টা শুনে পিছন ফিরে তাকায় তাওহীদ। তাকিয়ে দেখে তনু দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। অবুঝ মুখ টা কি যেন চেয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। বড্ড মায়াবী লাগছে তনুকে। এক পা দু পা করে এগিয়ে তাওহীদের কাছে আসে তনু। তাওহীদের হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে নেয় তনু। হাত থেকে সিগারেট টা সরিয়ে নেয়ায় অনেক অবাক হয় তাওহীদ। তনু তাওহীদের একদম কাছে চলে আসে। একদম কাছে বলতে একদম কাছে।

তাওহীদ ভেবে পাচ্ছে না তনু কি করতে যাচ্ছে। তনুর চোখ দুটো বড়ই মায়াবী লাগছিল। যা তাওহীদকে বড় টানছে। নিজের অজান্তে তনুর দিকে ঝুঁকে পড়ে তাওহীদ। তনু দু হাত দিয়ে তাওহীদের ঘাড়ে ধরে সোজা তাওহীদের ঠোঁটে নিজের ঠোঁটে ডুবিয়ে দেয়। তাওহীদ কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তনু। একে তো বাহিরে অনেক ঠান্ডা। আর ভেতরে এক জোড়া নরম উষ্ণ ঠোঁটের মিষ্টি স্পর্শ। তাওহীদ কে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। তাওহীদ তনুর কোমড় পিছন থেকে চেপে ধরে। প্রায় ৫ মিনিট পর তনু ছাড়ে তাওহীদকে। কিন্তু তাওহীদ ছাড়ে নি তনুকে।

কিছুক্ষন পরেই তনুকে কোলে নিয়ে বিছানায় যায় তাওহীদ। আস্তে করে তনুকে শুইয়ে দেয়। এইটুকু সময়ের মাঝে কেউ কারো দিক থেকে নজর সরায় নি। তাকিয়ে আছে তো তাকিয়েই আছে তনুর তো পলক ও পড়ে নি। তনুকে উ

শুইয়ে তাওহীদ উঠতে ধরে আর তখনই তনু তাওহীদের শার্ট টা খামচে ধরে রাখে।
তাওহীদ তনুর দিকে তাকিয়েই বলে,

~ চেঞ্জ করে আসি
~ উহু
~ যাষ্ট ২ মিনিট লাগবে
~ উহু

তাওহীদ দেখে তনুর চোখের কোন থেকে পানি বেয়ে পড়ছে। খুব মায়া হয় তনুর জন্য তার, তাই আর উঠে যায় নি সে। তাওহীদ নিজেকে তনুর উপরে ছেড়ে দেয়। তনু দুই হাত দিয়ে তাওহীদকে আগলিয়ে ধরে। রুমের লাইট অফ, বাহিরে প্রচুর snow পড়ছে। রুমের ভেতর টা উষ্ণতার আঁচলে মোড়ানো। কাপা কাপা ঠোঁট দিয়ে কাপা কাপা কন্ঠে তাওহীদের কানের কাছে মুখ এনে তনু আস্তে করে বলেই ফেলে I love you

তাওহীদ তো আরো অবাক হয়ে যায় এই কথা শুনে। তাওহীদ আরো গভীর ভাবে আঁকড়ে ধরে তনুকে। তনুর শাড়ির আঁচল টা আস্তে করে বুক থেকে সরিয়ে ফেলে তাওহীদ। তনুর ঘাড়ে মুখ গুজে দেয় তাওহীদ। হাত টা উপর থেকে নিচে তনুর পেটের দিকে চলে যায় শাড়ির কুচি গুলো খুলে দেয় তাওহীদ।

তনু আরো শক্ত করে তাওহীদ কে ধরে রাখে। এক হাত দিয়ে তাওহীদের শার্টের বোতাম গুলো খুলতে থাকে তনু। তাওহীদ যেন আরো পাগল হয়ে যাচ্ছে।
তাওহীদের হাত টা আবার তনুর বুকে চলে যায়। তনুর ব্লাউজের বোতামে হাত দেয় তাওহীদ। তনুর চোখ বেয়ে অবিরাম অশ্রু কণা বেয়ে পড়তে থাকে। তনুর চোখে পানি দেখে তাওহীদ বলে

~ আমি কি খুব বেশি এগিয়ে যাচ্ছি তনুশা
~ উহু
~ তাহলে কাদছো কেন

~ আজ আমায় একটু বেশি করে ভালোবাসবেন?
~ তনুশায়ায়ায়ায়া

বলে তাওহীদ তনুর মাঝে ডুব দেয়। আর তনু দুই হাত দিয়ে তাওহীদ কে জড়িয়ে নেয় নিজের মাঝে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তনুর মুখে খুশির হাসি, আর মনে একটাই কথা,

~ রাফাত আপনার আগে আমার শরীর আমার স্বামীই পেল। আর আমার মরনের আগ পর্যন্ত আমার শরীর আমার স্বামীই পাবে।

রাতের গভীরতার সাথে দুটো মানুষের আত্নার মিলন ঘটে। তনুকে নিজের করে নেয় তাওহীদ। পুরো রুমে শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে সাথে আরো কিছু শব্দ যা তাদের দুজনকে মাদকতার শ্রেষ্ঠ চূড়ায় নিয়ে ফেলছে।
তনুর হাত জোড়াকে তাওহীদের হাত জোড়া আবদ্ধ করে রাখে। বেডশীট টা পা দিয়ে খামচে ধরে তনু। পাগল প্রায় দুটো মানুষ আজ ভেসে যাচ্ছে ভালোবাসার সাগরে।

অবশেষে দুটো শরীরের সাথে দুটো মনের মিলন ঘটে। রাফাতের ঝামেলার আগেই তনু তাওহীদ কে জানান দে তার সতীত্বের কথা। এইবার রাফাত কি করবে তা তনু দেখবে।



পর্ব ১৮

সকাল টা হয় তনুর তাওহীদের বুকে। ঘুম টা ভেঙে যায় তাওহীদের। তনু তার বুকে ঘুমিয়ে আছে। আজ বিয়ের প্রায় ২/২৫ মাস পর তারা এই প্রথম গতকাল দিবা~গত রাতে তাদের মিলন ঘটে। তনু ঘুমিয়ে আছে তাওহীদের বুকে। তাওহীদ তনুকে আরেকটু নিবিড় ভাবে আঁকড়ে ধরে। উষ্ণতার কবলে পড়ে তনুও আরেকটু শক্ত করেই ধরে রাখে তাওহীদ কে। তাওহীদ এক নাগারে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে আর তনুর চুল গুলো দিয়ে খেলা করছে। ভালোবাসা গুলো মনে হয় এমনই হয়। কে জানে কার মনে কখন কি বিরাজ করে?

হঠাৎ করেই তনুর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে দেখে তাওহীদ তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর সে যে তাওহীদকে জড়িয়ে আছে তাও অবলোপন করতে পারছে সে। ভেতরে দুটো শরীর আর উপরে একটা কম্বল। আর জামা কাপড় গুলো সাইডে পড়ে আছে। এক পলকেই কাল রাতের কথা মনে পড়ে যায় তনুর।

কি হয়েছিল কাল রাতের অন্ধকারে। তনুও তাকিয়ে আছে তাওহীদের দিকে। তাওহীদ দেখছে তার চোখের সামনে কোন এক হুর পরী স্নিগ্ধ রজনীর মত চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে যার চোখ অনেক কথা বলে। তাওহীদকে কাছে টানে ওই চোখ গুলো।
হাদি দিয়ে তনুর থুতনিতে হাত দিয়ে তাওহীদের বক্তব্য,

~ মর্নিং মিসেস তাওহীদ
~ মর্নিং
~ উঠলে কেন? আরেকটু ঘুমাও
~ আপনি উঠলেন কেন?

~ জানি না কিন্তু ঘুম টা ভেঙে গেছে
~ ওহ, হ,হ,হ
~ হাই তুলতেছো, ঘুম আসে নাকি?
~ উহু ততটা না

~ আবার পানি পড়তেছে চোখ দিয়ে
~ হাই তুললে চোখ দিয়ে এমনি পানি পড়ে
~ তাই
~ হুম তাই
~ দেখি তো পড়ে কিনা এখন

~ এ, এ, এ,কি করেন, ছাড়েন,
~ এখন পানি পড়ে না?
~ কুতুকুতু দিয়েন না, হি হি, ছাড়ুন হি হি

বিছানায় শুয়ে শুয়ে তারা খুনসুঁটি তে মেতে ওঠে। খানিক্ষণ বাদে তাওহীদ আস্তে করে উপুর হয়ে তনুর গায়ের উপরে উঠে যায়। তনুর হাসিমাখা মুখ টা মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়ে যায়। তাওহীদের চোখে ডুবে যাচ্ছে তনু। তাওহীদ তনুর চুল গুলো ঠিক করে তনুর দিকে ঝুঁকে যায়, ঠোঁট জোড়া বড় আকৃষ্ট করছে তাওহীদকে। ঠোঁট জোড়া কে নিজের করতে এগিয়ে যাচ্ছে তাওহীদ। তনু তাওহীদের ঠোঁটকে বাধা দিয়ে বলে,

~ এখন না
~ হুসসসসসস
~ প্লি

আর সময় দেয়নি তাওহীদ তনুকে। তার আগেই ঠোঁট জোড়ায় আধিপত্য বিস্তার করে দেয় নিজের ঠোঁটের। এক হাত দিয়ে তনুর এক হাত কে আবদ্ধ করে দেয় সে। কম্বলের নিচে দু জোড়া পা মিলে আছে। ভালোবাসার মধ্যে ডুব দেয় তনু। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে তাওহীদকে আঁকড়ে ধরে তনু। দুজন মানুষ আবার মিলনের সন্ধিক্ষণে পা রাখে। সময় টা থেমে যাক, ভালোবাসা গুলো আরো বেড়ে যাক।

দুপুরের একটু আগে ঘুম ভাঙে তনুর। আস্তে করে তাওহীদের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় তনু। ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয় সে। এসে তাওহীদকে তুলে দেয়। আজ তাদের আরেক স্টেট Davos এ যাওয়ার কথা। তাওহীদ ফ্রেশ হয়ে এসে তনুকে নিয়ে নিচে যায় লাঞ্চ করতে। এইদিকে জাহিদও দেশে ফিরবে আজ। লাঞ্চ শেষে জাহিদকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিয়ে তনু আর তাওহীদ।

তারপর রওনা হয় Davos এর দিকে। ওইখানে তাওহীদ আগে থেকেই সব রেডি করে রেখেছিল। বরফের মাঝে ছোট দুই রুমের সিরির উপরে একটা বাংলো বুক করা ছিল তাওহীদ আর তনুর জন্য। গাড়ি নিয়ে সোজা সেখানেই চলে যায় তাওহীদ তনুকে নিয়ে। তনু চারপাশের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। শুধু বরফ আর বরফ।

চারপাশ টা শুধু সাদা আর সাদা। গাছ গুলো সব বরফে ঢেকে কাছে। তনু গাড়ি থেকে নেমেই দৌড় দেয় গাছ গুলোর দিকে। গাছের ডালপালা গুলো ধরে নাড়ছে সে। নাড়া দেয়ার সাথে সাথে বরফ গুলো কাচের মত আওয়াজ করে নিচে পড়ে যাচ্ছে। টুংটাং শব্দ গুলো বেশ ভালো লাগছে তনুর। তাওহীদ এই সুযোগে অনেকগুলো ছবি তুলে নিয়েছে তনুর। তাওহীদকে হাতে ইশারা করে তনু

~ তাওওওওহীইইইইদ, আসুন না প্লিজ, দেখেন কি সুন্দর
~ তুমি খেলো আমি দেখি
~ নাহ আসুন আপনি

তনু খুব করে বরফ গুলার সাথে খেলা করছে আর তাওহীদ ছবি তুলছে। তনু তাওহীদকে টেনে নিয়ে বরফের উপরে ফালায়। তারপর খিল খিল করে হেসে উঠে। সেই হাসি পুরোপুরি ভাবে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে। তনু হেসে খেলে তার ভয় টা কাটাতে চাইছে।

ভেবেছে তাওহীদকে সময় করে সব বলে দেবে সে। বাংলাদেশে ফিরেই সব খুলে বলবে তনু তাওহীদকে। এই দুটো দিন সে তাওহীদের সাথে জীবন এর কিছু বিশেষ মুহুর্ত উপভোগ করতে চায়। তাওহীদের সাথে কাটানো সময় গুলা তনুর খুব ভালো লাগে। সময় গুলো সে এইসব কথা বলে নষ্ট করতে চায় না।

রাতে তাওহীদ তনুর জন্য একটা সারপ্রাইজ এর ব্যবস্থা করে। একান্ত কিছু মুহুর্তের জন্যে। তনু ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে বিছানায় একটা প্যাকেট রাখে। তনু প্যাকেটে হাত দিয়ে দেখে একটা চিরকুট রাখা আছে তাতে। তাতে লিখা আছে
রেডি হয়ে পিছনের দরজা খুলে চলে আসো ”

তনু তারাতারি প্যাকেট থেকে কিছু একটা বের করে। দেখে লাল টকটকে রঙের একটা গাউন আর একটা পারফিউম।
গাউন টা পড়ে নিজেকে সাজিয়ে নেয় তনু
পারফিউম টার স্মেল টা অনেক দারুন। ঘ্রাণ নিলেই পাগল করা অনুভূতি। তনু রেডি হয়ে পিছনের দরজা খুলে দাঁড়ায়। বিস্তৃত বরফে ঢাকা মাঠের উপরে খোদাই করে লিখা

Tonusha
I
Love
You
তনু নিজের চোখ কেও বিশ্বাস করতে পারছে না। সিড়ি দিয়ে তারাতারি নেমে লিখা গুলোর কাছে যায় তনু। এত সুন্দর করে লিখা ছিল যা বলে বুঝানো যাবে না। তনু চিৎকার দিয়ে তাওহীদকে ডাকতে থাকে।

~ তাওহীদ, আপনি কোথায়?
~ তাওহীদ,
~ তাওওওওহীদদদদ, কোথায় আপনি

দূর থেকে শব্দ ভেসে আসে।

~ সোজা হেটে ওই ছাউনির নিচে আসো

শব্দটা শুনার সাথে সাথে তনু সামনে তাকায়। তখন দেখে আসলেই একটু দূরে ছাউনির মত একটা ঘর আর তাএ চারপাশ টায় fairly laight জ্বলছে। তনু দৌড়ে সেখানে যায়। গিয়ে দেখে সেখানে ছোট একটা টেবিল দু পাশে দুটো চেয়ার, মাঝখানে লাল গোলাপের তোড়া। আর ওই জায়গাটা পুরোটা গোলাপের পাঁপড়ি দিয়ে ঢাকা। অসাধারণ একটা পরিবেশ

~ তাওহীদ এবার তো সামনে আসুন

Tere saamne aa jaane se
Yeh dil mera dhadka hai
Yeh galti nahi hai teri
Kasur nazar ka hain

Jis baat ka tujhko darr hai
Woh karke dikha dunga
Aise na mujhe tum dekho

Seene se laga lunga
Tumko main chura lunga tumse
Dil mein chupa lunga

এই গানটি গাইতে হাইতে তাওহীদ তনুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। তনু অবাক তাওহীদ গানও গায় তাও এই টাইপ গান। গানটি গাইতে গাইতে তনুকে নানারকম ভাবে স্পর্শ করে তাওহীদ। তার সাথে পকেট থেকে একটা বক্স বের করে। তাতে ছোট একটা লকেট সিস্টেম চেইন। ডায়মন্ডের লাভ সিস্টেম লকেট সহ চেইন টা তাওহীদ তনুর গলায় পড়িয়ে দেয়। তনু আরো অবাক হয়ে যায়। তাওহীদ তনুকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছে। তারপর নিজেও বসে। দুটো গ্লাস আর একটা red wine এত বোতল রাখা আছে। তাওহীদ গ্লাসে wine ঢেলে দিচ্ছে

~ আমি তো ড্রিঙ্ক করি না?
~ এটা খেতেই পারো, নেশা/মাতাল হবে না
~ ওহ

সেই রাতে তাওহীদ তনু ভালোবাসার সপ্তম আকাশে পৌঁছে যায়। তনু এইভাবেই তাওহীদকে চেয়েছিল। একদম কাছ থেকে কাছে। যেখানে সীমান্ত প্রায় শেষের দিকে। ভালোবাসার সুবিশাল আকাশে যেন তাদের দুজনেরই রাজত্ব। সেইদিন তনু নিজেকে সব থেকে ভাগ্যবতী ভেবে নিয়েছে। সে নিজেকে তাওহীদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়েছে।

~ তনুশা
~ হুম
~ i love you
~ ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি
~ তাই
~ হুম
~ কতটা ভালোবাসো

~ যতটা ভালোবাসলে এই ব্রেনে নেশা গিয়ে তার অস্তিত্বের জানান দেয় ঠিক ততটা
~ তাহলে একটু কাছে আসো
~ এইযে এসেছি কাছে, একদম কাছে

Davos এ তখন ~10 বাহিরে কনকনে ঠান্ডা। ভেতরে রুম হিটার তার নিজস্ব তাপমাত্রা ছড়াচ্ছে। তাওহীদ তনুকে শক্ত করে ধরে আছে। বিছানার নিচে থাকা ফ্লোরে এক এক করে ড্রেস গুলো পড়ছিল আর সাথে রাতের অন্ধকার টাও গভীরতা খুজে পাচ্ছিলো। তাওহীদের দু হাত তনুর দু হাতকে বেধে দিয়েছে। দুটো পা তনুর দুটো পা কে আবদ্ধ করে নিয়েছে। অন্ধকারে দুটি দেহ মিলিত হয়েছে সাথে দুটি মন ও।

Davos এ দুইদিন থেকে যথারীতি ১৫ তারিখ তাওহীদ তনু বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিদেশে পা রেখেছিল এক জোড়া বিচ্ছিন্ন দম্পতী আর ফিরে যাচ্ছে এক জোড়া ভালোবাসায় সম্পূর্না দম্পতী। যাদের ভালোবাসা গুলো তাদের একত্রিত করেছে এক বাধনে

তনু অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ পৌঁছে তাওহীদকে সবটা বলার। কিভাবে বলবে? তাওহীদ সব টা শুনবে কিনা? কি থেকে কি হবে? তা নিয়ে প্লেনে মাথা হ্যাং অনু।
দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ট্রাভেল করার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্লেন ল্যান্ড করে।

কিন্তু কে জেনেছিল, সামনে ঝড় অপেক্ষা করছে তাওহীদ তনুর জীবনে। যেই ঝড় তাওহীদ তনুর জীবনকে নাড়া~চাড়া করে রাখবে।



পর্ব ১৯


বাসায় ফিরে এসেছে তাওহীদ তনু। মাহবুব সাহেব, রাবেয়া বেগম, মাইশা সবাই খুব খুশি। তনুকে হাসি~খুশি দেখে ভালো লাগছে মাহবুব সাহেব আর রাবেয়া বেগম।

~ আসসালামু আলাইকুম মা
আসসালামু আলাইকুম বাবা
কেমন আছেন আপনারা?

~ আলহামদুলিল্লাহ মা, তুই কেমন আছিস
~ আমি ভালো আছি বাবা, শরীর টা কেমন এখন
~ ভালো রে মা
~ মাইশা কেমন আছো আপু
~ ভালো আছি ভাবি, আমার জিনিস গুলো আনছো

~ হুম, সব এনেছি
~ ওয়াও, চল দেখাও আমাকে
~ এই দাড়া, ওদের ফ্রেশ হতে দিবি না নাকি, পরে দেখিস, তাওহীদ বাবা যা ফ্রেশ হয়ে আয়, বউমা তুমিও যাও

তাওহীদ তনু উপরে যায়। তনু খুব টায়ার্ড, রুমে এসে ল্যান্ড~লাইন থেকে বাসায় কল করে সবার সাথে কথা বলে নেয় তনু। তাওহীদ বেডে শুয়ে আছে। তনু কথা শেষ করে বেডে তাওহীদের পাশে শুয়ে পড়ে।

শরীর টা বিছানায় ছেড়ে দিয়ে রিলেক্স হওয়ার চেষ্টা করছে দুজনেই। তনুর মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। তাওহীদকে রাফাতের কথা বলতে হবে। তাওহীদকে এখনি বললে কেমন হয়?

~ নানা থাক মাত্রই তো এসেছে, এখন বললে রিয়েকশন উল্টো হবে, কাল বলবো আস্তে ধীরে

ফ্রেশ রাতে গল্পতে মেতে ওঠে তনু তার শ্বাশুড়ি আর ননদের সাথে, আর তাওহীদ ব্যস্ত তার বাবার সাথে বিজনেস এর ব্যাপারে।

তারপর রাতে ঘুমিয়ে যায় তাওহীদ। নতুন টেন্ডার এর কাজ শুরু কাল থেকে। তাওহীদ সেখানেই ব্যস্ত। তনু সেখান থেকে সরে গিয়ে বারান্দায় চলে যায়। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে ঘড়িতে এখন ১ টা ৩৫ বাজে। এখন আফরোজ কে কল দেয়া কি ঠিক হবে? অবশ্য আফরোজকে যখনই কল দেয় সে রিসিভ করে। সেই জায়গায় তনুর কল আরো আগে রিসিভ করবে। এই ভেবে কল দেয় আফরোজকে

~ হ্যালো
~ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম আপু
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম তনু কেমন আছিস বাবু
~ আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি আমি আপু

~ তাই?
~ হ্যাঁ আপু তাওহীদ আর আমার মাঝে সব ঠিক হয়ে গেছে আপু।
~ যাক আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো
~ আপু তুমি কেমন আছো গো, ভাইয়া কেমন আছে

~ আমি আছি কোন রকম, শরীর টা ভালো নাই আরকি, আর তোর ভাইয়াও ভালো আছে, শুয়ে শুয়ে মোবাইল গুতাচ্ছে
~ হি হি
~ তা দেশে ফিরলি কবে?
~ আজ বিকাল ৪ টার পরে
~ ওহ, অফিসে তো সবাই স্যারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

~ হ্যাঁ আপু, আমি পেরেছি আপু, আমি পেরেছি আমার স্বামীকে বদলে দিতে
~ আমি জানতাম তুই পারবি
~ আপু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। বলি?
~ হ্যাঁ বল না
~ আপু জানো সুইজারল্যান্ডে কাকে দেখেছি?
~ কাকে?

~ রাফাতকে
~ whatttttttttttttt
~ হ্যাঁ আপু, আর জানো সে কে?
~ কে?
~ তনিমা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির MD
~ কিহহহহহ
~ হ্যাঁ, আর আপু টেন্ডারে এই রাফাতই তাওহীদের বিপরীত দলে ছিল

~ তাই, তা তোকে দেখছে সে
~ দেখছে আর
~ আর, আর কি

তারপর পার্টি তে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলে তনু আফরোজকে।

~ হারামজাদার সাহস হয় কি করে
~ এই রাত বিরাতে কাকে গালাগাল করো
~ চুপ করবা ওয়াসিম, নিজের কাজ করো, মোবাইল গুতাও
~ যাহ বাবা, আমি আবার কি করলাম

~ ওয়ায়ায়ায়ায়াসিম
~ আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে রে ভাই
~ হ্যাঁ তনু বল

~ এই হলো কাহিনী আপু
~ এক কাজ কর তাওহীদ স্যারকে ঠান্ডা মাথায় সব বলে দে
~ হ্যাঁ কাল ভাবছি বলবো সব
~ হুম

~ আচ্ছা আপু তুমি ঘুমাও, শুধু শুধু ডিস্টার্ব করলাম
~ আরে নাহ কিসের ডিস্টার্ব, সমস্যা নাই
~ আচ্ছা রাখি আপু

~ রাখ, ভালো থাক আর ওইটা বলে দে স্যারকে
~ হুম আপু, আসসালামু আলাইকুম
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম

তনু ফ্রেশ মাইন্ডে ঘুমাতে চলে যায়।
পরদিন সকাল ১১ টায় ঘুম ভাঙে তনুর। লাফ দিয়ে উঠে দেখে ১১ টা বেজে গেছে। তারাতারি ফ্রেশ হয়ে নিচে নেম্ব যায় তনু
নিচে নেমে দেখে মাইশা টিভি দেখে আর তার শ্বাশুড়ি রান্নার লিষ্ট দিচ্ছে কাজের লোক কে। তনুকে দেখে হাসিমুখে বললেন,

~ আয় মা আয়
~ আল্লাহ, মা এতক্ষন ঘুমিয়েছি আমি
~ তো কি হইছে
~ তারপর ও মা, আর উনিও জাগায় নাই আমায়

~ কি হইছে তাতে, এত টেনশন করিস কেন, একদিন না হয় একটু দেরি হলে কিছু হবে না
~ হ্যাঁ ভাবি আসো তো বসো,
~ এই, বউমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসো তো রুমি
~ নাহ মা আমি এখন খাবো না

~ কিহহহ, এক মাইর খাবা, খাও

শ্বাশুড়ির বকা খেয়ে নাস্তা খেতে বসে তনু। নাস্তা খেয়ে বসে বসে টিভি দেখে তনু। হঠাৎ করেই তনুর ফোনে ফোন আসে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে তাওহীদ কল দিছে। ফোন রিসিভ করে সোফা থেকে সোজা উপরে চলে যায় তনু,

~ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম ম্যাডাম
~ আমাকে না জাগিয়ে চলে গেলেন কেন

~ তুমি ঘুমাচ্ছিলে, আর জাগাতে ইচ্ছা করে নি, তাই জাগাই নি
~ নাস্তা করে গেছিলেন?
~ হ্যাঁ, তুমি খেয়েছো?
~ হ্যাঁ
~ আচ্ছা, কি করছিলে এখন?
~ মাইশার সাথে বসে টিভি দেখতেছিলাম
~ ওহ

~ আচ্ছা রুমেল অফিসে গেছে?
~ হ্যাঁ, এখন মে বি ফ্যাক্টরি তে
~ ওহ
~ আচ্ছা রাখি
~ আচ্ছা বাই
~ বাই

তাওহীদের সাথে কথা শেষ করার পর পরই তনুর ফোনে আরেকটা ফোন আসে। এখন ফোন টা তার বাবার বাসার থেকে আসে। তনুকে বাসায় যাওয়ার জন্য যেতে বলে তার মা।
তনুর ও বাসায় যাওয়া দরকার। কিছু জিনিসপত্র এনেছিলো সুইজারল্যান্ড থেকে। সেইগুলাও দিতে হতো।
তাই শ্বাশুড়ির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাওহীদকে ফোন দেয় তনু। ৫ বার রিং হওয়ার পরে তাওহীদ কল রিসিভ করে।

~ হ্যালো
~ হ্যালো, ব্যস্ত?
~ নাহ বলো, কিছু বলবা?
~ হ্যাঁ
~ আচ্ছা বলো

~ মা কল দিছিল, বাসায় যেতে বলেছে, যাই?
~ যাও, ঘুরে আসো
~ আচ্ছা


পর্ব ২০

তনু সেইদিন দুপুরে নিজের বাবার বাসায় আসে। মেয়েকে হাসি~খুশি প্রানবন্ত দেখে দুজনেই দারুন খুশি। এই তো কয়েকদিন আগেও এই পরিবার টা ছিল অনিশ্চয়তার বেড়াজালে। আজ সেখানে একটু হলেও শান্তি আছে।

~ কেমন আছিস রে মা
~ আমি ভালো আছি মা, ও বাবা তুমি কেমন আছো?

তনুর বাবা ইশারায় বলেন তিনি ভালো আছেন। ভাই বোনের সাথে দেখা করে তাদের জিনিসপত্র দেয় তনু। মা বাবার জন্য আনা টুকিটাকি জিনিস গুলো দেয় তনু। গল্পে আড্ডায় সারাদিন পার হয় তনুর। এর মাঝে তাওহীদ কয়েকবার কল দিয়েছে, তনুর মোবাইলের দিকে খেয়াল নেই। সে মা বাবা ভাই বোন দের নিয়ে ব্যস্ত। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে,

তনু ভাবছে এখন চলে যাবে। রুমেলের অপেক্ষায় সে। ভাইটাকে এক নজর দেখে যেতে চেয়েছিল। তাই আরেকটু অপেক্ষা করছে সে।
হঠাৎ করেই রুমেল চলে আসে। রুমেলের সাথে দেখা করে গল্পে মেতে ওঠে তনু। প্রায় ৯ টা ছুই ছুই। সেই সময়ে তনুদের বাসার কলিংবেলটা বেজে ওঠে। তনু গিয়ে দরজা খুলে। দরজা খুলে পুরাই বেকুব হয়ে যায়। দরজার সামনে তাওহীদ দাঁড়িয়ে আছে। তনুর অবাক হওয়া দেখে তাওহীদ মুচকি হেসে চোখ টিপ মারে।

~ আ, আ, আপ,আপনি
~ তু,ত, তু,তুমি
~ কি
~ কল রিসিভ করো না কেন?

~ কল? কল দিয়েছিলেন
~ মনে তো হয়, মোবাইল কোথায়?
~ মোবাইল তো
~ আচ্ছা থাক লাগবে না, এখন কি ভেতরেও আসতে দিবে না

~ এ,হ্যাঁ আসুন
~ কে আসছে রাতের বেলায় রে তনু?
~ ওই তো মা, তায়ায়ায়া
~ আসসালামু আলাইকুম আন্টি, কেমন আছেন
~ আরে জামাই বাবা, কেমন আছো বাবা

~ জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনারা কেমন আছেন?
~ এই তো ভালো আছি বাবা, বসো তুমি বাবা
~ নাহ আসলে তনুকে নিতে এলাম আরকি

~ সমস্যা নাই খাওয়া দাওয়া করে একেবারে যেও
~ নাহ নাহ, এত ঝামেলা করতে হবে না
~ নাহ বাবা কিসের ঝামেলা, বসো আমি রান্নার ব্যবস্থা করি

তাওহীদ তনুর বাবার সাথে দেখা করে। কিছুক্ষন কথা বলে ড্রইং রুমে চলে আসে সে। তনয়া, রুবেল, রুলেমের সাথে আড্ডায় বসে যায় তাওহীদ। তনু খুব করে দেখছে তাওহীদ এ কি সেই তাওহীদ যে আড়াই মাস আগেও এক অন্ধকার জীবনে ছিল।

গল্প শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে তনু তাওহীদ রওনা করে বাসার দিকে। রাত ১১ টার মত বাজে তখন। তাওহীদ ড্রাইভ করছিল আর তনু পাশের সীটে বসা।
ভাবছে তাওহীদকে এখন সব টা বলে দিলে কেমন হয়? হ্যাঁ এখুনি সব বলে দিবে তনু। নিজেকে তৈরি করে নিয়েছে তনু।

~ তাওহীদ,
~ হু, বলো
~ একটা কথা ছিল, বলি?

~ হ্যাঁ, একটা কেন হাজার টা বলো
~ আ, আ,আ,আস, আসলে

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

~ একমিনিট তনুশা, দেখি কে কল দিল এত রাতে,
~ হুম
~ হ্যালো, কে?
~ কিরে, ভুলে গেছিস নাকি

~ আরে দোস্ত তুই, কবে ফিরলি
~ আজকেই
~ ওহ
~ চল ক্লাবে চল
~ নাহ রে বাসায় যাচ্ছি
~ সাথে কেউ আছে নাকি

~ হ্যাঁ, তনুশা আছে সাথে
~ ওহহহহ হো, আচ্ছা কাল কথা বলি তাহলে?
~ ওকে
~ বাই
~ বাই

তনু বুঝে উঠতে পারে নি কে কল দিয়েছে। সন্দেহ এড়াতে নিজেই প্রশ্ন করে উঠে,

~ কে কল করছে?
~ ওহহহহহ, রাফাত, রাফাত কল করছে

রাফাতের কথা শুনে কলিজায় এক মোচড় দেয় তনুর। শয়তানের নাম নিতে নিতেই শয়তান হাজির। তনুর গলায় মনে হয়েছে কথা আটকে গেছে।

~ হ্যাঁ তনুশা, কি যেনো বলবে বলছিলে
~ হেএ, নাহ, কিছু না
~ আচ্ছা

কেটে যায় এক সপ্তাহ। এর মাঝে কয়েকবার তাওহীদকে বলতে গিয়েছিল তনু, কিন্তু প্রতিবারই কিছু না কিছু হয়েছে। যার কারনে বলে হয়ে ওঠা হয়নি তনুর।
তবে তনু কম চেষ্টা করেনি তাওহীদকে বলতে।

একদিন রাতে কাজ সেড়ে তনু রুমে আসে তাওহীদ তখন ল্যাপটপে কাজ করছে। তনুকে দেখে তাওহীদ বলে উঠে,
~ তনুশা কাল রেডি থেকো
~ কেন?
~ কাল একটা পার্টি আছে

~ ওহ
~ রেডি থেকো প্লিজ
~ আচ্ছা
~ ওকে
~ আপনাকে একটা কথা বলার ছিল
~ হ্যাঁ বলো

~ আসলে তাওহীদ রা,

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

~ এক মিনিট তনু, সাকিল কল দিয়েছে
~ হু

তাওহীদ মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে গেছে। তনু প্রায় ১০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করে ঘুমিয়ে গেছে।
ঠিক এই জিনিস গুলাই হয়ে আসছে কয়েক দিন ধরে। তনু বলতে গেলেই কিছু না কিছু হয়। আর তাওহীদ ও নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু তনুর ভয় একটাই কখন রাফাত কখন জানি ঝামেলা পাকিয়ে দেয়।

পরদিন ভোর ভোরই তনুর ঘুম ভেঙে যায়। নামাজের জায়নামাজে দাঁড়িয়ে ফজরের সালাত আদায় করে তনু। সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত ধরে চোখের পানি ছেড়ে দেয় তনু।

~ আল্লাহ আজকে যাতে সব টা বলে দিতে পারি তাওহীদকে ৷ আমি আর এই বোঝা নিয়ে চলতে পারছি না। আল্লাহ আমার সহায় হোন


পর্ব ২১

সেইদিন সন্ধ্যায় তনুশা আর তাওহীদ পার্টিতে যায়। তনুশা আজ বলেই দিবে তাওহীদকে। কারন তনুশা নিজের কাছে পরিষ্কার। সে রাফাত কে চায় নি রাফাত তাকে চেয়েছে। রাফাতের কুনজর ছিল তার প্রতি। তা সে আজ বলেই দিবে তাওহীদকে। শুধু পার্টি টা শেষ হোক। তারপর বাসায় এসে সবটা বলবে সে।

তনুকে আজ দারুন লাগছে তাওহীদের নজর এক বিন্দুও সড়ে নি তনুর উপর থেকে। তনুর প্রতি তার দুর্বলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর তনুর ইদানীং কাটানো সময়গুলো তার জীবনের বেষ্ট সময় ছিল। স্বামীর প্রতিনিয়ত ভালোবাসা, শ্বশুরবাড়ির সবার ভালোবাসার মাঝে তনুর মনেই হয় নি যে কোথাও কমতি আছে।

তনু ও তাওহীদ পার্টির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পার্টি ভেন্যু তে গিয়ে তনু অবাক হয়ে যায়, সেখানে রাফাত ছিল। আর এই পার্টি টা রাফাতই রেখেছে। তনুর পুরো শরীর জ্বালা করে ওঠে রাফাতকে দেখে। তবুও তনু তাওহীদের মুখ চেয়ে সব টা মেনে নেয়। পার্টিতে তাওহীদের সব ফ্রেন্ড রা ছিল শুধু সাকিল ছাড়া। সবাই যে যার মত কথা বলছে।

তনুর এইসব ভালো লাগছে না তাই সে খুজে খুজে ছাদে চলে যায়। আর ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষন দাড়ানোর পর তনু টের পায় কে যেন পিছন থেকে দুটো হাত দিয়ে তনুর পেট টা জড়িয়ে আছে আর তনুর কাধে তার থুতনি টা লাগিয়ে রেখেছে। তনু প্রথমে ভেবেছে তাওহীদ। তাই নিজের হাত দিয়ে সেই হাত দুটো কে স্পর্শ করার পর বুঝতে পারে এ তার তাওহীদ নয়। কলিজায় কামড় দিয়ে ওঠে তনুর। ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয় সেই মানুষ টাকে। পিছন ঘুরে দেখে, এ তো রাফাত। তনু তার রাগকে আর কন্ট্রোল করতে পারে নি। কাছে গিয়ে কষে এক থাপ্পড় মেরে দেয় রাফাতকে।

~ how dare you, how dare youuu
আমাকে স্পর্শ করার সাহস কিভাবে হয়
আপনার
~ রাগ করো কেন সোনা, ধরতেই পারি এটা কোন ব্যাপার না

~ আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার, এইসব করার জন্য পার্টি রাখেন নাকি, জানোয়ার কোথাকার
~ থাপ্পড় ও দিলা আবার জানোয়ারও বললা, এইবার জানোয়ারের রূপ দেখবা
~ খবরদার আমার আশেপাশে আসার চেষ্টা করবি তো খবর আছে তোর, জানোয়ার কোথাকার,

এই বলে তনু নিচে চলে যায়। রাফাত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।

~ মিস তনুশা যাও যাও, বরের কাছে যাও, তোমার আর তোমার বরের জন্য আমি কাটপিস রেডি করে রেখেছি

তনু তাওহীদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। তনুকে দেখে তাওহীদ হেসে দেয়। রাত প্রায় ১০ টা। পার্টিতে সবাই আনন্দ করছে আর তনু সময়ের অপেক্ষাতে আছে কখন তাওহীদ ফ্রী হবে আর ওই অজাতের কথা বলবে।

ঘড়িতে তখন সাড়ে ১০ টা। তখন পার্টিতে অবস্থিত তাওহীদের ফ্রেন্ড প্রত্যেকের মোবাইলে একটা একটা করে ম্যাসেজ যায়। সবাই মোবাইল হাতে নিয়ে চেক করে আর সবাই তনুর দিকে তাকাচ্ছে সাথে তাওহীদের দিকেও।

তনুও অবাক সাথে তাওহীদও। সবাই এইভাবে তাকানোর মানে কি। কিছুক্ষন পরে আরেকটা ম্যাসেজ আসে তাওহীদের মোবাইলে।
তাওহীদ পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ম্যাসেজ টা অন করে তাওহীদ আর মনে হচ্ছে তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাবে এমন অবস্থা। তাওহীদের চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। এটা কি দেখছে সে, তনু তাওহীদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওহীদকে দেখে তনুও ঘাবড়ে যায়।

~ কি হয়েছে, কি দেখছেন, কি এটা?
~
~ কি হলো দেখি কি এটা?

তনু তাওহীদের হাত থেকে মোবাইল টা নিয়ে স্ক্রীনে তাকায়। সাথে সাথে মনে হয়েছে আল্লাহর আসমান তনুর মাথায় ভেঙে পড়েছে।
ছবি টা ছিল তনু আর রাফাতের। কিছুক্ষন আগেই ছাদে কৌশলে রাফাত তনুর সাথে যা করেছে তারই ছবি আর তাতেই তনু তাওহীদ ভেবে রাফাতের সাথে হাসি~মাখা মুখ টাও।

দুচোখ বেয়ে পানি ঝরছে তনুর

~ তা, তা,তাওহীদ, মিথ্যা, এইসব কিন্তু মিথ্যা তাওহীদ
~
~ তাওহীদ বলবো আপনাকে সব, তাওহীদ শুনেন না প্লিজ, আমি সব বলবো আপনাকে
~
~ কিরে তাওহীদ, বউ তোর রাফাতকেও সার্ভিস দেয় নাকি?

~
~ বাহ তাওহীদ দুই একদিন আমাদের কাছেও তো দিতে পারিস
~
~ তাওহীদ প্লিজ চলুন এখান থেকে আমি সব টা বলবো আপনাকে
~ তাওহীদ রাফাতের যা আছে আমাদেরও তো আছে, বউকে একটা রাত আমাদের কাছেও দিতি

~
~ তাওহীদ দোহাই আল্লাহর চলেন এখান থেকে
~ তাওহীদ শুন না, একদিন না হয় সবাই মিলে একসাথে থাকতাম আর বউকে নিয়ে আসতি, সবাইকে এক সাথে সার্ভিস দিত সাথে তোকেও, হা হা হা
~ হা হা হা হা
~ হা হা হা হা
~ হা হা হা হা

তাওহীদ আর সহ্য করতে পারে নি। সোজা উঠে চলে যায়, তনুও পেছন পেছন দৌড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাওহীদকে ধরতে পারে নি। তাওহীদ গাড়িতে করে চলে গেছে।

~ তাওহীদ, আমাকে নিয়ে যান, প্লিজ, তাওহীদ আমাকে নিয়ে যান

তাওহীদ বাসায় চলে আসে। সোজা এসে নিজের দরজা লাগিয়ে ফালায়।

আর ওইদিকে তনু সারা রাস্তা কেদে কেদে অস্থির। কোন রকম একটা সি এন জি নিয়ে বাসায় আসে। কেদে কেটে এক সাড় মেয়েটা। ওকে এইভাবে দেখে মাইশা আর রাবেয়া বেগম ভড়কে যায়।

তনু দৌড়ে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে। দরজা আটকানো, চিৎকার করে ডাকছে তাওহীদকে। তাও দরজা খুলে নি তাওহীদ। রাবেয়া বেগম আর মাইশা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তনু এমন করছে কেন?

~ তাওহীদ, তাওহীদ, প্লিজ দরজা খুলেন, দোহাই লাগে একটু দরজা খুলেন
~ কি হয়েছে তনু, এমন করছিস কেন
~ মা ওনাকে বলেন না দরজা খুলতে

~ কি হয়েছে? তাওহীদ একা আসলো কেন? আর তুই কাদছিস কেন এভাবে?
~ তাওহীদ দরজা টা খুলেন না প্লিজ

~ আচ্ছা উঠ তুই, একটু শান্ত হ, কি হয়েছে আমাকে বল? ঝগড়া করছিস দুইজনে
~ এই তাওহীদ, আমি সব টা বলবো, একটু দরজা খুলেন না প্লিজ তাওহীদ প্লিজ

বার বার কড়া নাড়ছে তনু। তবু খুলছেনা তাওহীদ। হাত ফেটে রক্ত চলে আসছে তনুর। আর সাথে বুক ফাটা আর্তনাদ।
অপরদিকে তাওহীদ,

বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে আছে তাওহীদ। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। এটা কি দেখলো সে। তনুকে তো কম ভালোবাসে নি সে। তাহলে সেই তনু কি করে তারই বন্ধুর সাথে এমন করলো? ভালোবাসায় কি কোন কমতি ছিলো?

এইসব ভাবছে আর চোখের পানিতে সাগর হচ্ছে তাওহীদের। দরজার ওপারে তনু কাদছে আর এপারে তাওহীদ।
এমন সময় তাওহীদের মোবাইলে কল আসে। না দেখেই কল রিসিভ করে তাওহীদ

~ হ্যালো
~ তাওহীদ শুন, আমি আগেই বলে দিতাম তোকে, কিন্তু সুখের জন্যে বলতে চাই নি
~ কি বলবি বলে ফেল

~ দোস্ত তনুর সাথে আমার রিলেশন এক বছরের উপরে, আমি যখন প্যারিস ছিলাম এর মাঝেই ও বিয়ে করে ফেলছে আমি জানতামও না যে তনু তোর বউ, রিসিপশনে এসে দেখলাম, আর পরে সুইজারল্যান্ডে
~
~ তনু মেয়েটা মধ্যবিত্ত বলেই লোভী বেশি। ও সব সময় চেয়েছে একজন বড়লোক কাউকে বিয়ে করবে, আমিও কম বড়লোক না বা আমারও টাকা পয়সার কমতি নেই, কিন্তু আমার সাথে যখন রিলেশন ছিল আমি অনেক দিয়েছি ওকে

কিন্তু ও বেইমানের মত ফিরে গেছে। তুই বিশ্বাস কর দোস্ত আজ ও আমাকে নিজেই ইশারায় ছাদে ডেকেছে, আমিও আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি। চলে যাই ওর কাছে। পরে ও যখন বললো আমাদের সম্পর্ক টা এখানেই শেষ করে দিতে হবে তখন আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই
~ রাখি পরে কথা বলবো

~ দোস্ত প্লিজ রাগ করিস না, তোকে এখন একটা কথা বলি, হয়তো তোর বিশ্বাস হবে না, তনু কিন্তু তোকে ভালোবেসে বিয়ে করে নি। বিয়ে করেছে ওর স্বার্থের জন্য। তোর বাবা বলেছে ওর ফ্যামিলির দ্বায়িত্ব নেবে ওর ভাইকে জব দেবে তাই ও তোকে বিয়ে করছে।
~ আমি রাখছি, আর ফোন করিস না

লাইন কেটে রাফাত হাসিতে ফেটে পড়ে। রাফাত জানে তাওহীদ এখন কোন পর্যায়ে আছে তাই এখন ও সত্য কি মিথ্যা কি যাচাই করবে না। ও এখন যা শুনবে তাই বিশ্বাস করবে।

~ তনু, বলেছিলাম না শেষ করে দিব। শেষ করে দিলাম। এখন দেখি কোথায় যাও তুমি? কি করে তোমার বরের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমানিত করতে পারো? আমিও দেখবো। তনু তুমি আমার না তো কারো না

অনেকটা সাইকোর মত হাসছে রাফাত। ওকে এখন মেন্টালি সিক এর মত লাগছে

অন্যদিকে তাওহীদ তনুর আর্তনাদে বিরক্ত হয়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। এক নজরে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে। তনুও তাওহীদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে তাওহীদ কেদেছে। তাওহীদকে দেখে জড়িয়ে ধরে তনু তাওহীদকে।

~ বিশ্বাস করেন আমি কিছু জানি না, এইসব মিথ্যা সব মিথ্যা
~
~ আমি এতদিন আপনাকে সব টা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলতে পারি নি, সব মিথ্যা তাওহীদ
~
~ প্লিজ কথা বলেন, প্লিজ চুপ করে থাকিয়েন না কথা বলেন

মাহবুব সাহেব, রাবেয়া বেগম আর মাইশা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না তারা। কি এমন হয়েছে যার জন্য তনু তাওহীদকে এইসব বলছে


পর্ব ২২

~ তাওহীদ, বিশ্বাস করেন আমায়, প্লিজ
~ বিশ্বাস আর তোমাকে? হাসালে তনু আমায় তুমি হাসালে

তনু তাওহীদের এমন কথা শুনে তাওহীদকে ছেড়ে দেয়। দু কদম পিছিয়ে যায় তনু। চোখ দুটো দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছে তনুর।
তার মানে তাওহীদ শেষ মেষ ভুল টা বুঝেই ফেললো তনুকে?

~ মানে?
~ মানে, হা হা হা, মানে, তুমি মানে জিজ্ঞাসা করছো তনুশা
~
~ বাবা, একে আমার বউ করে আনলে?
তাও কিসের জন্যে? আমায় ঠিক করার জন্যে, যার নিজের চরিত্রেরই ঠিক নেই
~ তাওহীদ

~ আস্তেএএএএএএএ, আস্তে তনুশা আস্তে
~ তাওহীদ কি হয়েছে বলবি তো, তনু এমন কি করেছে যে তুই ওকে এইসব বলছিস?
~ কি করেছে, মা তুমি দেখবা কি করছে সে

~ হ্যাঁ কি করেছে বউমা?
~ মাহবুব সাহেব, আপনি বরাবরই আমায় পছন্দ করতেন না, আমার চলা~ফেরা আপনার ভালো লাগে নি বলে আপনি এমন মেয়েকে আমার বউ করে এনেছেন তাই না?
~ তাওহীদ আমার কথা টা শুনেন প্লিজ
~ ওই চুপ, একদম চুপ, তোর মুখে আমার নাম টা উচ্চারণও করবি না,

~ তাওহীদ
~ চুপ, আবার তাওহীদ বলে,
~ তাওহীদ বলবি তো কি হয়েছে?

তারপর মোবাইল টা বের করে সেই ছবি টা তার বাবা মাকে দেখায় তাওহীদ। তাওহীদের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে সাথে তনুরও।
অন্যদিকে মাহবুব সাহেব ও রাবেয়া বেগম অবাক চোখে তাকিয়ে আছে তনুর দিকে।

~ তুমি এইসবও করে বেড়াও
~ মা বিশ্বাস করেন এটা রাফাতের প্ল্যান আমি জানতামও না মা

~ এটা প্ল্যান? এটা কেমন প্ল্যান
~ মা বিশ্বাস করেন একটু

রাত ১২ টা ৫৫ মিনিট, আর এই সময় মাহবুব ম্যানসনে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তনুর কথা কেউই শুনছে না এমনকি মাহবুব সাহেবও না।
সবার এক কথা কেন কিছু আগে বলে নি আর এফ্যায়ার থাকলে তাওহীদকে কেন বিয়ে করেছে সে।

~ তোমার পরিবারকে আমি নিজ হাতে উঠিয়ে দিলাম তনু আর তুমি সেই আমার পিছনেই ছুড়ির আঘাত করলে?
~ বাবা বিশ্বাস করন সব মিথ্যা, আমি ওটা তাওহীদ ভেবেছিলাম, কিন্তু পরে যখন বুঝলাম ওটা রাফাত তখন
~ তখন, তখন কি, আরো বেশি করে জড়িয়ে ধরেছিলি তাই না

~ না না না, আমি এইসব কিচ্ছু করি নাই তাওহীদ, বিশ্বাস করেন
~ তুই এইসব কিছুই করস নাই, তাহলে নিচে এসে আমায় বললি না কেন?
~ আরে আল্লাহ, আমি বলতেই আসছিলাম কিন্তু দেখলাম আপনি আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলছিলেন আর আমি আজকেই সব বলতাম আপনাকে
~ হা হা হা হা, আমার হাসি আমি কই রাখি
~ আমার ছেলেকে এইভাবে ঠকালি তুই?

~ মা গো বিশ্বাস করেন একটু, সব মিথ্যা মা সব মিথ্যা
~ সুইজারল্যান্ডে তুই রাফতের সাথে দেখাও করছিস তাই না?
~ না না, কখনোই না, আমি রুম থেকে বেরই হই নাই।

~ ভাইয়ের চাকরি, বাবার অসুস্থতার ভালো বাহানা করে আমার গলায় ঝুলে তো পড়ছিলি, কি ভাবছিলি সারাজীবন রাজার হালে চলবি? কিন্তু তা তো হলো না
~ তাওহীদ আপনি এইসব কি বলতেছেন
~ আর কোন কথা না, সোজা বের হয়ে যাবি, এক্ষুনি এই মুহুর্তে

~ তাওহীদ, এত রাতে আমি কোথায় যাবো
~ জাহান্নামে যা, তবু এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যা

তাওহীদ এখন আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে গেছে। মুখ দিয়ে উলটাপালটা কথা বের হচ্ছে তার। মাহবুব সাহেব ও রাবেয়া বেগম লজ্জায় তাকাতে পারছে না ছেলের দিকে কারন তারাই তনুকে তাওহীদের জন্য এনেছিল।
তাওহীদ তার বাবা মাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,

~ মা বাবা মাইশা নিচে যাও
~ কিন্তু
~ বললাম না মা নিচে যাও
~ তাওহীদ শুনো আমার কথা টা
~ বাবা নিচে যাও

তাওহীদকে অনেকটা হিংস্র পশুর মত লাগছে। মনে হচ্ছে এখনি সব তছনছ করে ছাড়বে।
মাহবুব সাহেব, রাবেয়া বেগম, মাইশা চলে যাবার পর তাওহীদ দরজা আটকে দেয়। তনু তাওহীদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাওহীদ এখন কি করবে?

~ হ্যাঁ এইবার বল, কি বলবি তুই বল
~ তা,তা,তাও,
~ কি তা তা তা করছিস, বল না কি বলবি বল, তুই না কি বলবি, বল
~ তাওহীদ সব মিথ্যা, শুধু একবার বিশ্বাস করেন

~ তোর মত মেয়েরা না কারো বউ হতে পারে না, তোদের কে শুধু বিছানাতেই মানায় তাও এক রাতের জন্যে
~ তাওহীদ
~ শুনলি না পার্টিতে সবাই কি বললো ঠিক তেমন
~ ভুল বুঝতেছেন আমাকে আপনি

~ চুপ, একদম চুপ, তুই তুই একটা বেশ
~ তাওহীদ, আল্লাহর দোহাই লাগে, এইসব ভাষা বের করিয়েন না, দোহাই লাগে, আমি আপনার দুইটা পায়ে পড়ি প্লিজ
~ ছাড় আমাকে ছাড়
~ প্লিজ তাওহীদ প্লিজ

~ একটা উপকার কর আমার, একটা উপকার কর
~ বলুন
~ বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা, তোর এই মুখটা আমি দেখতে চাই না বেরিয়ে যা

শেষ হয়ে গেলো, সব শেষ হয়ে গেলো। তনুর সাজানো সংসার টা শেষ হয়ে গেলো যেই তাওহীদের বুকে শান্তিতে ঘুম হতো আজ সেই তাওহীদ বেশ্যা বলে। তাওহীদ কি একটুও বুঝতে পারলো না যে তনু অসতী ছিল না। নাকি রাগের বসে সব ভুলে গেছে সে। তনুর সামনে গভীর গর্ত যার তল কারো জানা নেই। তনুর বাচার আশা শেষ।
তাওহীদ চায় সে বের হয়ে যাক। তনু তাই ই করবে। বের হয়ে যাবে সে। ঘড়িতে ২ টা বাজে এত রাতে কোথায় যাবে সে।

কিন্তু বের তো তাকে হতেই হবে। এইসব কথা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে সে।

~ আমি বের হচ্ছি ফিরে এসে যাতে তোকে না দেখি
~ তাওহীদ, তাওহীদ, শুনেন প্লিজ শুনেন

তাওহীদ সোজা বের হয়ে গেলো। তনুর দিকে একটু ফিরেও তাকালো না সে। নিচে মাহবুব সাহেব রাবেয়া বেগম আর মাইশা ও ছিলেন। তনু এক কাপরে নিচে নেমে এলো। চোখে তার অবিরাম বৃষ্টি।

~ কাল নাগিনী, এত ভালোবাসার পরেও বিশ্বাস নিয়ে খেললি তুই। তোর সব অসুবিধা আমরা দেখলাম আর সেই তুই আমার ছেলের সাথে বেইমানী করলি। আর কি করবিরে তুই?
~ মা

~ চুপ, বেরিয়ে যা এখনি আমার ঘর থেকে
~ বাবা, আপনি অন্তত আমায় বিশ্বাস করতে পারতেন?
~ যা দেখেছি তারপর বিশ্বাস করা যায় না তুমি চলে যাও, এখন মনে হচ্ছে নিজ হাতে আমার ছেলেটাকে কষ্ট দিয়ে ফেললাম, চলে যাও তুমি

সুতির কাপর টা পড়ে এক কাপড়ে বের হয়ে গেল তনু। বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর তার মধ্যে তনুর অস্তিত্ব টা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গেলো।

~ আব্বু আম্মু এত রাতে মেয়েটাকে এইভাবে না বের করলেও পারতে
~ মাইশা মামুনি তুমি রুমে যাও

এই রাত দুটো বাজেই মাহবুব সাহেব জাহিদকে কল দেয়।

~ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম স্যার
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম জাহিদ

~ স্যার এত রাতে হঠাৎ কল করলেন এনিথিং রং স্যার
~ রুমেল কে চাকরি থেকে আউট করে দাও
~ কিহহহহ স্যার

~ হ্যাঁ, বের করে দাও
~ কিন্তু স্যার
~ কোন কিন্তু নয়, বের করে দেবে কাল থেকে তাকে অফিসে যাতে না দেখি আমি
~ ওকে স্যার

কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেল তনু কোথায় গেছে? কার কাছে গেছে?

পরদিন সকাল ১০ টা,
তাওহীদ বাড়ি ফেরে। চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে তার দেখেই বুঝা যায় প্রচুর কেদেছে। এসেই বাবা মায়ের সাথে বসে সে।

~ বাবা আমি সুইডেন shift হতে চাই
~ কিন্তু
~ প্লিজ বাবা, ওইখানে আমাদের যেই বিজনেস টা আছে সেটা আমি দেখবো
~ আমাদের ছেড়ে চলে যাবি বাবা?

~ কথা তো হবেই মা, আর প্লিজ আটকিও না আমায়
~ আচ্ছা আমি তাহলে তোমার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি
~ হ্যাঁ বাবা

~ তাওহীদ আমায় ক্ষমা করে দিও
~ হ্যাঁ রে বাবা আমাদেএ ক্ষমা করে দিস
~ মা বাবা কি বলছো এসব, বাদ দাও
আর আমি একটু ফ্রেশ হবো

সেই মুহূর্তে মাইশা দৌড়ে আসে উপর থেকে,

~ আম্মু আব্বু দেখো ফেসবুকে কি নিউজ আসছে
~ কি?

~ উত্তরার দিকে নাকি একজন মাঝ~বয়সী মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে, পড়নে কালো কাপড়, মা কাল কে তো ভা
~ মরে গেলে সব থেকে বেশি খুশি আমি হবো
~ ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া

~ মাইশা রুমে যাও
~ কিন্ত বাবা
~ মামুনি রুমে যাও

মাইশা রুমে চলে যায়। তাওহীদও উপরে চলে যায়। পুরো বাড়ি থমকে গেছে।

~ ওই বাড়িতে কি একটা ফোন দিব?
~ নাহ দরকার নাই
~ কিন্তু রাবেয়া
~ বলছি না, না মানে না

দুইদিন পর,
আজ তাওহীদের ফ্লাইট। তাওহীদ চলে যাবে সুইডেনে। রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে সুইডেনের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে তাওহীদ।
আর আজ ৪/৫ দিন তনুর খোঁজ খবর নাই। তাওহীদের পরিবারের কেউও তনুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখে নি আর তনুর পরিবারও রাখে নি। রুমেল কে সাসপেন্ট লেটার দেয়ার পর তাকেও আর দেখা যায় নি।

এভাবেই সব শেষ হয়ে গেলো। রাফাত যা চেয়েছিল তাই হলো।
তনুর বোকামি এত সময় পেয়েও তাওহীদকে কিছুই বললো না আর যখন বললো অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাওহীদের বোকামি তনুকে দেখেও চিনতে পারলো না। মাহবুব সাহেব এবং রাবেয়া বেগমের বোকামি যাকে মেয়ে বলে আপন করে নিলো আজ তার কথা টাই বিশ্বাস করলো না।

বিশ্বাস ভরসা একটা সম্পর্কে ততটাই দরকার যতটা একটা বাড়ি বানাতে গেলে আগে মাটির নিচে তার ভীত টা শক্ত করা হয়। মাটির নিচে ভীত টা যেমন শক্ত না হলে বাড়ি ধসে পড়ার সম্ভাবনা থাকে তেমনি সম্পর্কে বিশ্বাস না থাকলে সম্পর্ক টাও টিকে থাকে না।

সম্পর্ক করা তো সহজ আবার ভেঙে ফেলা তার থেকেও সহজ কিন্তু সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা ততটাই কঠিন। ভালোবাসার বন্ধনকে অটুট রাখার সব দেখে বড় উপাদানটাই হলো বিশ্বাস। যা তাওহীদ কিংবা তার পরিবারের ছিল না তনুর উপরে।
তাই তো সব কিছু এইভাবে শেষ হয়ে গেলো। দুটো মানুষ দু’দিকে চলে গেলো।
সুন্দর সাজানো সংসার টা শেষ হয়ে গেলো।


পর্ব ২৩

৫ বছর পর,

ক্রিং ক্রিং,

~ হ্যালো জাহিদ স্পিকিং
~ জাহিদ আমার কেবিনে আসো
~ জ্বি স্যার

~ may i come in
~ yes come
~ স্যার ডেকেছিলেন?
~ জাহিদ কতবার বলছি না স্যার স্যার করো না
~ শত হোক এখন তো আপনি মানে তুমিই দেখছো কোম্পানি টা

~ বন্ধুকে দেয়া ওয়াদা আর বাবার সমতুল্য আংকেল এর কথা রাখতেই বস হয়ে আসা এই অফিসে
~ তাহলে আরকি, অফিসে বস আর বাহিরে অন্য সম্পর্ক

~ হ্যাঁ
~ তাওহীদ স্যার কবে ফিরছেন?
~ এই তো কাল

~ যাক তাহলে দীর্ঘ ৫ বছর পর দেশে ফিরছেন স্যার
~ হ্যাঁ তাও আংকেলের অসুস্থতার কথা শুনে
~ হ্যাঁ

~ স্যার আসবো?
~ হ্যাঁ আসো, কি ব্যাপার রহিম চাচা, কিছু বলবা
~ ম্যাডাম আসছিল
~ অফিসে?
~ হ্যাঁ

~ আচ্ছা কেবিনে আসতে বলো
~ জ্বি আচ্ছা

~ তোমার বউ হাজির, আমি পরেই আসি
~ হা হা, আচ্ছা শুনো এই ফাইল টা চেক করতে হবে, নিয়ে যাও
~ ওকে বস

~ may i come in
~ yes madam
~ ঢং

~ বসো, হঠাৎ অফিসে
~ মা পাঠালো খাবার নিয়ে
~ ওহ, তা আংকেল কি করে?
~ আসার সময় দেখে এলাম গার্ডেনে বসে আছে
~ ওহ আচ্ছা

~ ৫ টা বছর, ৫ টা বছর পেরিয়ে গেল, অনেক কিছু বদলে গেছে তাই না সাকিল?
~ হ্যাঁ মাইশা, অনেক কিছু চেঞ্জ হয়ে গেছে, তাওহীদটাও চলে গেলো, আংকেল অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
~ আর বন্ধত্বের খাতিরে আমাদের পাশে এগিয়ে আসা তোমার, আমায় বিয়ে করা থেকে শুরু করে অফিস নিজের হাতে নেয়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে নিজেকে বিলিয়ে দিলে সাকিল

~ ভালোবাসতাম তোমাকে মাইশা, হ্যাঁ কখনও বলি নি তবে ভালোবাসতাম, আর তাওহীদ এর আমি ছাড়া কে ছিল যার উপরে সে চোখ বুঝে বিশ্বাস করতে পারে
~ আচ্ছা সাকিল খোঁজ খবর নিয়েছিলে আর?
~ নিলাম তো মাইশা, সব জায়গাতেই নিলাম, কিন্তু কোথাও পেলাম না

~ আর ওই বাসা টা?
~ মাইশা আমি সেখানে যাওয়ার ১৫ দিন আগেই তারা নাকি বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে, আর তাও সেটা ৫ বছর আগে
~ ওহ
~ তুমি শুধু এইসবই চিন্তা করো
~ জানো সাকিল, সেইরাতে মেয়েটা এক কাপড়ে চলে গেছিল, আর উত্তরার সেই মেয়েটা যে মারা গেল সে

~ আরে না মাইশা, যদি মারা যেতো অবশ্যই খবর পেতাম, পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরা বলেছে তারা চলে গেছে, কিন্তু কোথায় গেছে বলে নি
~ ইসসসসসস সাকিল আমি যদি তোমায় সেইদিনই বলতাম
~ আমার মনে এই ভয়টাই ছিল, রাফাত একটা আস্ত জানোয়ার, কিন্তু আফসোস তোমার বাবা~মা এমন কি তাওহীদও বিশ্বাস করলো না
~ আর আমায় কথাও বলতে দেয় নি

~ আগুন লাগিয়ে দিয়ে এখন সেও উধাও
~ শুনেছিলাম সে নাকি কানাডা shift হয়েছে
~ আচ্ছা বাদ দাও, খুব ক্ষুধা লেগেছে, কি এনেছো বের করো, খাবো

হ্যাঁ, সাকিলই সেই ব্যক্তি যে কিনা তাওহীদের কথায় মাইশাকে বিয়ে করেছে তাওহীদের অবর্তমানে পুরো অফিস ব্যবসা সামলিয়েছে। সর্বপরি একজন আদর্শ বন্ধুর পরিচয় দিয়েছে সাকিল। আর মাইশা সেই কবে থেকে তনুকে খুজে বেড়ায় কিন্তু পায় না।
৫ বছর আগে এক ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে তনুকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তনু সেই রাতে আর নিজেকে এক্সপ্লেইন করে নি। চলে গেছিলো একেবারে এক কাপড়ে।

পরদিন সকাল বেলা,

~ সাকিল শুনছো
~ হ্যাঁ বলো
~ ফ্লাইট কয়টায় ল্যান্ড হবে?

~ সকাল ১১ টা ৩০ এ, তারপর সোজা অফিস, sun Group of industry সাথে মিটিং শেষ করে তাদের সাথে লাঞ্চ করে বিকালে তাওহীদকে নিয়ে বাসায় আসবো
~ ভাইয়া ডিরেক্ট অফিসেই চলে যাবে?
~ তাই তো বললো
~ ওহ

~ সাকিল, বাবা আসবো?
~ জ্বি আন্টি আসুন না, আপনার বাড়ি আপনার সব আর আপনি অনুমতি নিচ্ছেন?
~ শত হলেও এখন তো মেয়ের জামাই তাই না?

~ জামাই ই রয়ে গেলাম ছেলে আর হতে পারলাম না?
~ না না কি যে বলো বাবা
~ কিছু বলবা নাকি আম্মু?

~ হ্যাঁ সাকিলের সাথে দুইটা কথা ছিল
~ বলেন আন্টি
~ বাবা ৫ টা বছর তো কেটেই গেলো, তাওহীদ এইবার আসলে ওকে বিয়ের কথা টা বলিও
~ আন্টি এই নিয়ে ৫০০ বার বলা হয়ে গেছে সে করতে চায় না

~ আম্মু, তুমি এইসব কি বলো, ভাইয়ার এখনো ডির্ভোস ও হয় নি
~ কিসের ডির্ভোস, কিছু লাগবে না, আমি চাই আমার ছেলে ভালো থাকুক
~ তাই বলে এভাবে
~ আহহহহ মাইশা চুপ করো তো? যা হবার তাই হবে, আর আন্টি আপনি যখন বলেছেন আমি আরেকবার তাওহীদের সাথে কথা বলবো
~ আচ্ছা বাবা

১১ টা ৩০,

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধরে প্লেন ল্যান্ড করে। সাকিল, জাহিদ এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছে। তাওহীদের আসার পথে তাকিয়ে আছে তারা। আজ বছর পরে তাওহীদকে দেখবে তারা।

১১ টা ৪৫ মিনিটে ইমিগ্রেশন ক্রস করে তাওহীদ। অবশেষে দেখা পাওয়া তাওহীদের ৷ সাকিল আর জাহিদ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাওহীদের দিকে। ৫ বছর আগের তাওহীদ আর এখনকার তাওহীদের মাঝে অনেক তফাৎ। আগের তাওহীদ ছিল প্রানবন্ত আর এখনকার তাওহীদ গম্ভীর। তার গম্ভীরতা তার চেহারায় স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে।
স্টাইলিস দাড়ি, চোখে চশমা, পড়নে ফরমাল একদম অন্যরকম একজন মানুষ সে।

তাওহীদকে দেখে হাসি মুখে জড়িয়ে ধরে সাকিল। জাহিদ ও হেসে উঠে,

~ দোস্ত কত দিন পরে দেখলাম তোকে, কেমন আছিস বল?
~ ভালো, sun group of industry র সাথে মিটিং কয়টায় জাহিদ?

তাওহীদের এমন কথায় পুরাই অবাক হয়ে যায় সাকিল এবং জাহিদ। প্রশ্ন করলো কি আর কি উত্তর দিলো সে। এতেই সাকিল বুঝে যায়, আগের তাওহীদ হারিয়ে গেছে। এখনকার মানুষ টা একদম অন্যরকম, যার ভেতরে কোন ফিলিংস নেই, নেই কোন ভালোবাসার আবেগ।

তাওহীদ আর কোন কথা বলে নাই। সোজা গাড়িতে করে অফিসে চলে যায় তাওহীদ। রাস্তায় কারো সাথে কথা বলেনি তাওহীদ। শুধু মিটিং সম্পর্কিত কথা বলেছে সাকিলের সাথে। জাহিদ এক নজরে তাকিয়ে আছে তাওহীদের দিকে। এ কি আসলেই তাওহীদ নাকি অন্য কেউ? একদম অন্য রকম লাগছে একে

~ জাহিদ
~ জ,জ্ব,জ্বি স্যার
~ লুকিং গ্লাসে আমায় না দেখে ফাইল গুলো চেক করো, আমি সব কিছু পারফ্যাক্ট চাই

তাওহীদের কথায় অনেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেন জাহিদ। জাহিদ যে তাকে লুকিং গ্লাসে দেখছে সে ধরে ফেলেছে। সাকিলও অনেক অবাক তাওহীদের এমন কথায়।

গাড়ি থেকে নেমে সোজা অফিসে ঢুকে যায় তাওহীদ। সবাই দাঁড়িয়ে স্বাগতম জানায়। এই ৫ বছরে অনেক নতুন স্টাফ এসেছে আবার অনেক পুরাতন স্টাফ ছাটাই হয়েছে। যারা পুরাতন তারা সবাই হা হয়ে আছে তাওহীদকে দেখে আবার অনেক নতুন স্টাফও হা হয়ে আছে।

~ জাহিদ কেবিনে আসো
~ জ্বি স্যার

জাহিদের পেটে কামড় দিয়ে উঠে। আবার কি বলবে তাওহীদ

~ স্যার আসবো?

~ আসো
~ জ্বি স্যার বলেন
~ বসো, আমার জানা মতে প্রেজেন্টেশন মিস আফরোজ করতেন, তা আজকের প্রেজেন্টেশন কি উনিই করবেন?
~ স্যার আসলে,
~ আসলে? হোয়াট আসলে?
~ স্যার উনি তো এই অফিসে আর নেই
~ নেই মানে?

~ জ্বি স্যার, চার বছর আগে উনিও রেজিগনেশন লেটার দিয়ে চলে গেছে
~ আচ্ছা, উনি মে বি প্রেগন্যান্ট ছিল
~ জ্বি স্যার একটা ছেলে হয়েছে

~ ওহ, তাহলে প্রেজেন্টেশন টা আমিই করবো
~ ওকে স্যার
~ ওকে মিটিং এর ব্যবস্থা করো
~ জ্বি স্যার

জাহিদ চলে যায় রুম থেকে। তাওহীদ বসে আছে। আফরোজ হঠাৎ চলে গেলো কিন্তু কেন?

দুপুর ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত মিটিং করে তাওহীদ। মিটিং শেষ করে ডিল সাইন করে তারা।
কিন্তু ঝামেলা লাগে অন্য ব্যাপারে। কাজের জন্য তাওহীদকে কালকেই সিলেট যেতে হবে।

ওখানের ফ্যাক্টরিতে প্রবলেম হয়ে গেছে। কর্মচারীরা ঝামেলা শুরু করে দিয়েছে সেখানে। তাওহীদকে যেতেই হবে। মাহবুব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেখানে মাত্র একবার যাওয়া হয়েছে আর তাও সাকিল গিয়েছে। তাই এবার যেতেই হবে। সব কিছু ঠিকঠাক করতেই হবে কারন ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যা হয়ে যাবে।
গাড়িতে এইসব কিছু ডিসকাস করছে তাওহীদ আর সাকিল

~ সাকিল কালকেই সিলেট যেতে চাচ্ছি আমি
~ আজই তো এলি, দুইদিন রেষ্ট কর
~ নাহ, কাজ পেন্ডিং রাখতে চাই না, ব্যবস্থা কর সব কিছুর কালকেই যাবো
~ আচ্ছা

গাড়ি মাহবুব মেনসন এর সামনে দাঁড়ায়। বাড়ির ভেতরে ঢুকে সবার সাথে দেখা করে তাওহীদ। মাহবুব সাহেব এর শরীর ততটা ভালো না। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন তিনি।
রাবেয়া বেগম ছেলেকে এত বছর পরে দেখে কেদেই ফেললেন। মাইশাও ভাইকে দেখে চোখের পানি আটকে রাখতে পারে নি। তারপর তাওহীদ ফ্রেশ হতে রুমে চলে আসে।
এই সেই রুম টা যা ৫ বছর আগেও সুন্দর সাজানো ছিল। আজ সবই শূন্য হয়ে আছে। অবশ্য রুমের প্রতিটা জিনিস চেঞ্জ করা। খাট থেকে শুরু করে ড্রেসিং টেবিল টা অবদি সব চেঞ্জ করানো হয়েছে যা তাওহীদ নিজেই করতে বলেছে।

রাতে খাবার টেবিলে সবাই বসেছে। বিভিন্ন আইটেমের অনেক খাবার রাখা আছে তাতে। স্পেশালি সব তাওহীদের জন্য বানানো হয়েছে। খাবার টেবিলে তাওহীদকে উদ্দেশ্য করে রাবেয়া বেগম বলে,

~ তাওহীদ
~ হ্যাঁ বলো
~ বলছিলাম কি বাবা
~ হ্যাঁ কি বলবে বলো

~ মানে বলছিলাম কি বাবা, অনেক বছর তো হলো, এইবার একটা বিয়ে শাদী করে সংসারী হ বাবা
~ মা তুমি আর টাইম পেলে না এইসব বলার, মুড নষ্ট করে ফেললা
~ না বাবা আসলে আরকি

~ সাকিল আমি উপরে যাচ্ছি কাল ৯ টায় রওনা দিব
~ খেয়ে যা
~ নাহ পেট ভরে গেছে, ঘুমাতে চাই আর হ্যাঁ মা এক বিয়েতে আমার সাধ মিটে গেছে। আর করতে চাই না আর কোন বন্ধনে জড়াতে চাই না। আর হ্যাঁ আমায় বিরক্ত করবে না উপরে গেলাম।


পর্ব ২৪

পরদিন তাওহীদ আর সাকিল মিলে সিলেট রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছে ফ্যাক্টরির সমস্ত কর্মচারীদের সাথে বসে কথা বলে সব কিছু তাওহীদ। সবার সেলারি দ্বিগুণ করে দেয় তাওহীদ। যাতে কর্মীরা তাদের সব থেকে স্পেশাল জিনিস মানে তাদের শ্রম খাটিয়ে ভালোভাবে কাজ টা করতে সক্ষম হয়।
তাওহীদ এই ৫ বছরে কোন দিন না~বোধক শব্দ শুনে নি। সে সব সময় একটা জিনিসই দেখেছে তা হচ্ছে টাকা। সে ভাবে টাকা দিয়েই সব

তাওহীদ সব কাজ সেড়ে অফিসে গিয়ে বসে। রিলেক্স হওয়ার জন্য কফি অর্ডার করে। পিওন অর্ডার মোতাবেক ব্ল্যাক কফি নিয়ে আসে।
কফি খেতে খেতে চট্টগ্রামের ফাইল টা চেক করতে বসেছে তাওহীদ। ফাইল চেক করতে গিয়ে চোখ কপালে তাওহীদের। ফাইলে প্রচুর পরিমাণ ভুল, ১৫ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকার ঘাটতি। এই পর্যন্ত ২৫৫ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে আর ২৭৫ জন কাজ ছেড়ে গেছে। এইসব কিভাবে সম্ভব। সাথে সাথে কল দেয় জাহিদকে,

~ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম
~ হ্যালো জাহিদ
~ জ্বি স্যার
~ চট্টগ্রামের ফ্যাক্টরির এই অবস্থা কেন?

~ স্যার ওখানের বেহাল অবস্থা
~ আমাকে আগে বলা উচিত ছিল জাহিদ
~ সরি স্যার

~ যেই বাজে অবস্থা, ১ মাস লাগবে সব কন্ট্রোলে আনতে
~ জ্বি স্যার
~ ওকে, তাহলে সাকিল কাল চলে যাবে আর আমিও কাল চট্টগ্রাম যাবো, ফ্ল্যাট ক্লিন করতে বলো, বুয়া রেডি করতে বলো
~ ওকে স্যার

পরদিন যথারীতি তাওহীদ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। আর সাকিল ঢাকার উদ্দেশ্যে।
চট্টগ্রাম পৌঁছে সবার আগে ফ্যাক্টরিতে যায় তাওহীদ। সবার সাথে দেখা করে মিটিং ফিক্সড করে। তাদের দাবি দাওয়া সব কিছু নিয়ে কথা বলবে বলে আশ্বাস দেয় সবাইকে।

টানা ১০ দিন লাগাতার কাজ করে সব কিছু আয়ত্ত্বে আনে তাওহীদ।

~ স্যারররর, আমি এসে গেছিইইইইইইইই
~ এ কি মোকলেস তুই এইদিকে
~ স্যার যেখানে চ্যালাও সেখানে
~ সুধরালি না আর তুই

~ স্যারররররর, আমার আপনাকে ছাড়া থাকতে ভালো লাগে না
~ সুইডেনে অনেক জ্বালাইছিস, এখন বাংলাদেশেও চলে আসছিস
~ স্যারররররর আই মিস ইউউউউউউউ

মোকলেস হচ্ছে তাওহীদের বডিগার্ড, সুইডেনে তাওহীদের সব কাজ সে করতো ভারি মজার আর রসিক টাইপ মানুষ সে। তাওহীদও যথেষ্ট ভালোবাসে মোকলেস কে। তাওহীদ বাংলাদেশে চলে আসার সময় মোকলেস এর অনেক মন খারাপ ছিল। তাই সেও চলে আসছে বাংলাদেশে

~ তুই জানলি কিভাবে আমি এইখানে আছি?
~ ওহহহহ স্যাররররর, প্রথমত আপনার বাসায় গেলাম তারপর সাকিল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো আর উনিই বললো আপনি এখানে আছেন, তাই আমিও কামিং
~ এই তোকে না বলেছি এইভাবে টান দিয়ে কথা না বলতে

~ ওকেএএএএএএ স্যারররররর
~ আবারো
~ স্যাররর আমি কোথায় থাকবো?
~ ফ্ল্যাটে
~ ওকে স্যাররর, স্যাররররর ইউ আর গ্রেট

যাক মোকলেসের আসাটা ভালোই ছিল। তাওহীদের এন্টারটেইনমেন্ট হবে। অনেকটা ভাইয়ের মতই দেখে তাওহীদ মোকলেস কে। যখন প্রয়োজন শাসন করে আবার যখন প্রয়োজন ভালোবেসে কাছে টানে।

সারাদিন কাজ সেড়ে তাওহীদ রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসেছে। আজ মন টা বড় উতলা। আজকের তারিখ টা বড্ড বেশি মনে পড়ছে তাওহীদের। আজ ২২ তারিখ তাওহীদ তনুর ৫ম বিবাহ বার্ষিকী। কিন্তু তাও যাতে তারিখ টা মনে না আসে সেই ব্যবস্থা করার জন্য রেস্টুরেন্টে এসে বসেছে।

একটা ব্ল্যাক কফি অর্ডার করেছে সে। কফিতে চুমুক দিতে দিতে তাওহীদ ফাইলে মুখ গুজে আছে। ঠিক তখনই এক বল এসে তাওহীদের সামনে থাকা ফাইল এর উপরে পড়ে। তাওহীদের মেজাজ টা মুহুর্তের মধ্যেই গরম হয়ে যায়

~ কি ব্যাপার কি এটা কি বল খেলার জায়গা নাকি, যত্তসব ইডিয়েটের মত কাজ কারবার

রেগে মেগে এদিক সেদিক তাকায় তাওহীদ। কাউকে দেখতে পায় না। কিন্তু তার চোখ পড়ে সামনে থাকা টেবিলের চেয়ারের নিচে। কেউ একজন সেখানে লুকিয়ে আছে, আর উঁকি দিয়ে মিটিমিটি চোখে তাকে দেখছে। তাওহীদ ভালো মত তাকিয়ে আছে তার দিকে।

তাওহীদও তাকায় আর সেও লুকায় আবার তাওহীদ অন্যদিকে তাকায় সে তাওহীদের দিকে তাকায়। তাওহীদ আবার চেয়ারের নিচে তাকায় আর সে আবার লুকিয়ে যায়।
এমন করে কিছুক্ষন লুকোচুরির পরে তাওহীদ এইবার ডাক দিয়ে বসে,

~ এইযে পিচ্চি বেরিয়ে আসো, আমি কিন্তু তোমাকে দেখে ফেলেছি
~
~ হ্যালো, এইযে বেরিয়ে আসো বলছি
~ আপনি বতা(বকা) দিবেল(দিবেন)
~ নাহ বকা দিব না, আসো
~ চত্যি(সত্যি) তো

~ হ্যাঁ সত্যি
~ কয় চত্যি(সত্যি)
~ তিন সত্যি
~ উহু আলো(আরো) লাতবে(লাগবে)

~ আচ্ছা বলো কয় সত্যি হলে বের হবে
~ একতো(একশো)
~ আচ্ছা ঠিক আছে একশো সত্যি বকা দিব না, এইবার বের হও তো
~ তকে(ওকে)

তারপর চেয়ারের নিচ থেকে এক পরী বের হয়ে আসে। বছর চারেক হবে বাচ্চা টার। চোখ গুলো টানা টানা, পাপড়ি গুলো মাশা~আল্লাহ অনেক বড় বড়। ফর্সা লাল সুন্দর বর্নের গড়ন। চুল গুলো এই বয়সেই পিঠের মাঝ~বরাবর পড়ে, দুইপাশে দুইটা ঝুটি করা আছে। দুই কাধে ছোট একটা পুতুল ব্যাগ বাধা হাতে একটা বাচ্চা ট্যাডিবিয়ার জড়ানো। ঠোঁট তাওহীদেরগুলো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তাকিয়ে প্প দিকে।

প দেখেই তাওহীদের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। মনের মাঝে এক রকম শান্ত হাওয়া বয়ে যাচ্ছে তার। বাচ্চাটাকে হাতে ইশারা দিয়ে কাছে ডাকে তাওহীদ।
ইশারা পেয়ে বাচ্চা টা এগিয়ে যায় তাওহীদের কাছে।
কোলে নেয়ার লোভ টা কিছুতেই সামলাতে পারে নি তাওহীদ। চট করেই কোলে তুলে নেয় বাচ্চা টাকে।

~ নাম কি তোমার?
~ মাম্মাম পাকি(পাখি)
~ এইটা কেমন নাম?

~ আমাল(আমার) লাম(নাম) আমি জানি না, কিন্তু আমার মাম্মা আমায় মাম্মাম পাকি(পাখি) ডাকে
~ ওহ আচ্ছা তাই বুঝি
~ হ্যাঁ তাই

~ এখানে একা একা কি করো তুমি
~ আমি তো লোজ(রোজ)আসি একানে(এখানে)
~ তাই
~ হ্যাঁ
~ কার সাথে আসো
~ পতিদিন(প্রতিদিন) আসি মিমি আর মনির সাতে(সাথে) আজকে আসচি মামা সোনা আর মিমির সাতে(সাথে)
~ তারা কোথায়

~ মামা সোনা তার কেলাইন্ট(ক্লাইন্ট) এর সাতে(কথা) বলে আর মিমি ওলাসরুমে(ওয়াসরুমে)
~ আচ্ছা, কি খাবে বলো

~ অপলিচিত(অপরিচিত) কালো(কারো) কথা বলা বা তাল(তার) কাছ থেকে কিছু খাওয়া তিক(ঠিক) না, আমাল(আমার) মাম্মাম বলেতে(বলেছে)
~ বাব্বাহ এত কিছু জানো
~ হ্যাঁ আমি তব(সব)জানি এখন আমাল(আমার) বল তা(টা) দাও তো

~ আচ্ছা এই নেও
~ তকে(ওকে) তা তা (টা টা) বাই বাই

বাচ্চাটা বল টা নিয়ে দৌড়ে ভিতরে চলে যায়। বড্ড আছে বাচ্চাটার মাঝে। তাওহীদ কিছুক্ষন বাচ্চাটার যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকে।
তারপর রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায় তাওহীদ ড্রাইভ তো করছে কিন্তু তার চোখের সামনে বাচ্চা মেয়েটা ভাসছে। কার এত কিউট বাচ্চা কে জানে।

ফ্ল্যাটে এসেই দারুন খাবারের ঘ্রান নাকে আসে তাওহীদের। ভেবেছে বুয়া হয়তো ভালো মন্দ রান্না করছে। কিন্তু তার ভুল ভেঙে দিয়ে মোকলেস এপ্রন পড়া অবস্থায় হাতে খুন্তি নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

~ স্যাররররররর, আপনি এসেছেন
~ তুই রান্না ঘরে কি করিস

~ রান্নায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
~ স্যার দেখেন না এই মোকলেস ভাই আমারে রানতে দেয় না
~ মোকলেস কিন্তু ভালো রান্না করে রহিমার মা
~ কচু পারে, হরেন আমি যাইগা

~ রহিমার মা খেয়ে যেও
~ না স্যার বাইত মাইয়া ডায় একলা
~ আচ্ছা যাও সাবধানে যেও

রাতে খাবার শেষ করে ফাইল নিয়ে বসে তাওহীদ। সিচুয়েশন এখনো কন্ট্রোলে আসে নি। আরো কিছু কাজ বাকি। ফাইল চেক দিয়ে ঘুমিয়ে যায় সে।

পরদিন অফিস করে পার্কের দিকে রওনা হয় সে। পার্কটা বরাবরই ভালো লাগে সেই থেকে যখন থেকে তাওহীদ সুইডেন ছিল। এই ৫ টা বছরে অনেক পালটে গেছে তাওহীদ। মদ কি জিনিস ভুলে গেছে সে। কোকিন, ড্রাগস সব ভুলে গেছে। তার সঙ্গী এখন শুধুমাত্র সিগারেট। তার মতানুসারে তনুর ধোঁকা টা এত কঠিন ছিল যে তাওহীদকেই কঠিন বানিয়ে দিয়েছে। কর্ম ব্যস্ততায় নিজেকে অনেক জড়িয়ে নিয়েছে সে। যাতে তনুকে তার মনে না আসে।

পার্কে বসে বসে বাচ্চাদের খেলাধুলা দেখছে সে আর সিগারেট টানছে। এমন সময় চোখে পড়ে সেই বাচ্চা মেয়েটা। অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলা~ধুলা করছে সে। পিংক কালারের একটা ফ্লাফি ফ্রক পড়ে আছে ঝুটি করেছে তাও পিংক কালারের রুরার দিয়ে। খিল খিল করে হাসছে আর খেলছে। বাচ্চা টাকে দেখে ডাক দিতে নেয় তাওহীদ,

কিন্তু কি নামে ডাকবে নামই তো জানে না সে, চট করে মনে পড়ে যায় কাল রেস্টুরেন্টে বলেছিলো সে আমাল(আমার) লাম(নাম) আমি জানি না কিন্তু আমাল(আমার) মাম্মাম আমায় মাম্মাম পাকি(পাখি) ডাকে
তাওহীদ সেই নাম টা ধরে ডাকে তাকে।

~ এই যে মাম্মাম পাখিইইইইই
~
~ এই,এই যে বাবুউউউউ, এই মাম্মাম পাখি
~ উফফফফফফ কে ডাতে(ডাকে)

~ এই যে, হাই
~ হাই, তুমি এইকানে(এইখানে) তি(কি) তরো(করো)
~ আমি তো ঘুরতে আসছি, তুমি কি করো

~ দেকছো না আমি তেলা (খেলা) তরছি(করছি)
~ ওহ আচ্ছা, বুড়ি খেলা করে

~ ওই ওই বুলি(বুড়ি) বলো তেনো(কেনো) আমাল(আমার) লাম(নাম) আছে
~ ওহ আচ্ছা, কিন্তু আমার তো মনে হয় তুমি বুড়ি
~ আমাল(আমার) বাচ্চা আছে
~ তাই

~ হ্যাঁ
~ কয়টা বাচ্চা তোমার
~ দুইতা(দুইটা) ছেলে তিন তা(টা) মেয়ে
~ ওরে বাবা এতো বাচ্চা
~ হুম

~ এখানে কার সাথে এসেছো
~ ওইযে ওই মিসের সাতে(সাথে), আমি এইখানেও আসি
~ তাই বুঝি

~ হু, আমার মিস ঘন্টা বাজায় তা তা (টা টা)
~ এই দাড়াও তো মাম্মাম পাখি
~ তি(কি) হলো আবাল(আবার)

তাওহীদের নজর পড়ে বাচ্চা টার গলার দিকে। ফ্রকের ভেতর দিয়ে চেইন টা চিক চিক করছে। কিন্তু ফ্রকের গলার নিচে চেইন টা ঢুকানো। তাই এদিক সেদিক তাকিয়ে তাওহীদ বাচ্চাটার ফ্রকের গলার মধ্য থেকে চেইন টা বের করে আনে। চেইনটার সাথে থাকা লকেট টা দেখেই কলিজায় কামড় দেয় তাওহীদের। এইতো সেই চেইন আর লকেট টা যা ৫ বছর আগে তাওহীদ তনুর গলায় সুইজারল্যান্ডে বরফের মাঝে পড়িয়ে দিয়েছিল। বাচ্চাটার দিকে ভালো ভাবে তাকিয়ে আছে তাওহীদ।

~ মাম্মাম পাখি তোমার বাসায় কে কে আছে
~ আমাল(আমার) পাচ তা(টা) বাচ্চা আর আমাল(আমার) নানুমনি
~ তোমার মাম্মামের নাম কি জানো

~ ভুলে গেতি(গেছি)
~ তো,তোমার মামা সোনার নাম টা কি
~ মামা সোনার লাম(নাম) ভুলে গেতি(গেছি), তকে(ওকে) তলে(চলে) তাই(যাই)

এই বলে বাচ্চাটা দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে বসে যায়। তাওহীদ গিয়ে দৌড়ে ওর মিসের সাথে দেখা করে,

~ এক্সকিউজ মি ম্যাম
~ জ্বি
~ আচ্ছা ওই বাচ্চাটার নাম কি
~ কোন বাচ্চা টার?
~ ওই যে পিংক কালারের ফ্রক পড়া বাচ্চাটা

~ ওহ আচ্ছা, পাকনি টার
~ হ্যাঁ হ্যাঁ ওর
~ তাহুরা বিনতে রুবাইয়া
~ ওহ, এখানেই থাকে ওর মায়ের সাথে

~ ওর বাবা?
~ আসলে এখানে ওর নানির বাড়িতে থাকে, আর এছাড়া কিছু জানি না, ওর মা এখানকার এক কলেজে জব করে
~ ওহ আচ্ছা ধন্যবাদ
~ ওর বাসা টা কোথায়?

ঠিকানা নিয়ে তাওহীদ সোজা সেইখানে চলে যায়। বাসার সামনে গিয়ে গাড়ি থামায় তাওহীদ। চার~তলা বাড়ি টার সামনে গিয়ে বাচ্চাদের গাড়িটা থামে।
গাড়ি থেকে নেমে তাহুরা যেইনা গেটের ভিতরে যাবে তখনই দেখে ফেলে তাওহীদকে।

~ তুমি এইকানে(এইখানে) তি(কি) তরো(করো)
~ তোমাকে দেখতে এলাম বুড়ি

~ আমাল(আমার) বাসা চিনলা তিভাবে(কিভাবে)
~ এমনি এমনি, ম্যাজিক
~ হি হি

হাসি ঠাট্টার ফাঁকে তাওহীদ বার বার চেইন টা আর লকেট টা ধরে ধরে দেখছে। এই চেইন টা ওর গলায় কিভাবে, বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে তাওহীদের মাথায়। অবশেষে কেউ একজন পিছন থেকে ডেকে ওঠে,

~ মাম্মাম পাখিইইইইই, এই মাম্মাম পাখি
~ মাম্মামমমমমমমমমম

তাওহীদ, তাহুরার পিছন থেকে তাকিয়ে দেখে অবাক হয়ে যায়, আকাশ থেকে পড়ার মত অবাক হয়ে যায় তাওহীদ।

~ তনুউউউউউউউউউউউ (আস্তে আস্তে)

এ তো তনু, তনু~ই কি তাহলে তাহুরার মাম্মাম? তাহুরা~ই কি তনুর মেয়ে?
তনুও ভূত দেখার মত চমকে যায় তাওহীদকে দেখে।

~ তাওহীদ (আস্তে আস্তে)

তাহুরা এক দৌড়ে তনুর কাছে চলে যায়,

~ মাম্মাম জানো এই আংকেল তার(টার) সাতে(সাথে) তালকে(কালকে) দেকা(দেখা) হয়েতে(হয়েছে)

তনুর মুখ থেকে কোন কথা বের হয় নি। শুধু চোখ দিয়ে গর গর করে পানি বের হয়ে যায়।
তাহলে এই কি ছিল নিয়তি? ৫ বছর পর এখানেই কি দেখা হওয়া ভাগ্যে লিখা ছিল?


পর্ব ২৫ (অন্তিম)

তনুর মুখ থেকে কোন কথা বের হয় নি। শুধু চোখ দিয়ে গর গর করে পানি বের হয়ে যায়।

~ মাম্মাম ও মাম্মাম কতা(কথা) বল না তেনো(কেনো)
~
~ মাম্মাম তলো(চলো) আমাল(আমার) ক্ষুধা পেয়েতে(পেয়েছে)

মেয়ের ডাকে ধ্যান ভাঙে তনুর,

~হ,হ, হ্যাঁ চলো মাম্মাম পাখি
~ বাই বাই ততমা(চশমা) আংতেল(আংকেল)

তাওহীদকে তাহুরা এই দুইদিন চশমা পড়া অবস্থাতেই দেখেছে তাই চশমা আংকেল বলে ডাকে। তনু তাহুরা কে নিয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়। এইদিকে তাওহীদের মাথা খারাপ হয়ে যায়।

~ রাফাতের সাথে ভালোই সংসার গড়ে নিয়েছে, বাচ্চাও হয়ে গেছে। বাহ তনু বাহ ভালোই এগিয়ে গেলি, নষ্টা নারী কোথাকার।

তাওহীদ রেগে মেগে চলে যায়। বাসায় গিয়ে সব ভাঙচুর করে ফেলে। কাপড় চোপড় সব গুছিয়ে নেয় সে। এক্ষুনি ব্যাক করবে সে। হঠাৎ তখনই কল আসে

~ হ্যালো কে
~ স্যার আসাদ বলছিলাম
~ হ্যাঁ কি হয়েছে?
~ স্যার কাল বিকালবেলা মিটিং ফিক্সড হয়েছে

~ পন্ডিতি করতে কে বলেছে, আমি বলছিলাম মিটিং ফিক্সড করতে?
~ স্যার গতকাল তো আপনিই বলেছিলেন যাতে ২৪ তারিখ বিকালবেলা মিটিং রাখা হয়

পরক্ষণেই সব মনে পড়ে তার। সে নিজেই বলেছিল মিটিং টার কথা, আর এখন সে নিজেই ভুলে গেলো। ইসসসস একজনের রাগ আরেকজনের উপরে ঝাড়ে।

~ আচ্ছা, ঠিক আছে
~ ওকে স্যার
~ হুম

কেন দেখা হলো তার সাথে তনুর? কেনোই বা হলো? না হলেও পারতো? অসহ্য লাগছে সব কিছু তাওহীদের কাছে৷ ক্লান্তি নিয়ে সোফায় শরীরটা এলিয়ে দেয় তাওহীদ। তাহুরার চেহারাটা বার বার চোখের সামনে ভাসছে তাওহীদের। বার বার তাকেই দেখছে সে।
এখন তার সামনে কয়েকটা কঠিন প্রশ্ন।

তনু কি আবার বিয়ে করেছে? বিয়ে করলে কাকে করেছে? তাহুরা কার সন্তান? তাহুরার বাবা কে? নাকি তাহুরা রাফাত আর তনুর অংশ? যদি রাফাত আর তনুর অংশ তাহুরা হয় তাহলে তাহুরার গলায় ওই চেইন দেয়ার মানে কি?
সব প্রশ্ন গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তাওহীদের মাথায়। কিন্তু উত্তর মেলে না। হয়তো আর মিলবেও না ভেবে চুপ করে পড়ে থাকে তাওহীদ। কারন তাওহীদের চোখে তনু এখন একজন নষ্টা ছাড়া আর কিছুই না।

অফিসের কাজ সেড়ে তাওহীদ বাসায় যাচ্ছিলো। গাড়ি ড্রাইভ করার একজন নারীকে দেখতে পায় তাওহীদ। সাদা শাড়ি পড়া ছিল সে। হাতে তিন চারটা ফাইল কাধে ব্ল্যাক কালারের ব্যাগ। রাস্তার সাইড দিয়ে হেটে যাচ্ছিল সে। মুখের দিকে নজর করে দেখে নারীটি আর অন্য কেউ না তার বউ তনু।

গত পরশুদিন যখন দেখেছে তখনও সাদা শাড়ি পড়া ছিল আর আজও সাদা শাড়ি পড়া। তনুকে দেখে রাগ টা কন্ট্রোল করতে পারে নি তাওহীদ। তাই ইচ্ছে করে গাড়িটা একদম তনুর পায়ের কাছে এনে ব্রেক করে তাওহীদ। আরেকটু হলে চাকা গায়ের উপরে উঠে যেতো।

~ হ্যালো মিস তনুশা

হঠাৎ করে সামনে এইভাবে গাড়ি চলে আসায় অনেকটা ভয় পেয়ে যায় তনু। তার উপর গ্লাস নামিয়ে তনুশা নামে ডাক দেয়ায় অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তনু।
তবুও কথা বলে নি তনু। চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল সে। গাড়ির দরজা খুলে নামতে নামতে তাওহীদ বলে ওঠে,

~ এখন কি নামে ডাকা যায় আপনাকে? মিস নাকি মিসেস নাকি মিসেস থেকে মিসেস নাকে মিসেস থেকে মিস
~
~ তো নিয়তি এইবার দেখা টা করিয়েই দিল কি বলেন?
~
~ ঢাকার পার্ট চুকিয়ে এখন চট্টগ্রামের পার্ট সাথে আবার বাচ্চা,
~
~ সংসার পাতি ভালোই চলছে বলুন?
~
~ রাফাত কেমন আছে? শুনেছি বাহিরে থাকে এখন, তা বছরে কয়বার আসে
~ আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমায় যেতে দিন
~ আ,আ, দাড়ান, চলে যাচ্ছেন কেন? ভয় নেই আপনার প্রেমিক দেখবে না আপনাকে আর আমাকে
~ বাসায় আমার মেয়েটা আছে যেতে দিন আমায়

~ মেয়ে, হা হা হা, মেয়ে তা মেয়ের বাবা কে? রাফাত নাকি অন্য কেউ
~ মুখ সামলে কথা বলবেন, আমায় যা বলার বলুন আমার সন্তানকে কিছু বলার অধিকার আমি আপনাকে দেই নি

~ এত তেজ, তেজ এখনো কমে না? নষ্টামি তো ভালোই করেছেন ৫ বছর আগে ভুলে গেছেন?
~ রাস্তা ছাড়ুন আমার
~ আরে যাবেন যাবেন এত তারা কিসের? নাকি রাফাত বাহিরে বলে আরেকজনকে রেখে দিয়েছেন, as a bed partner

তনু আর নিজেকে বেধে রাখতে পারে নি।
ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয় তাওহীদের গালে। ভরা রাস্তায় এভাবে চড় খাবে ভাবে নি তাওহীদ।

~ how dare you
~ ভবিষ্যতে কথা বার্তা বলার আগে বুঝে শুনে বলবেন
~ একটা বেশ্যা চিনাবে আমাকে আমি কিভাবে কথা বলবো, যে বিয়ের পর স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্বামীর বন্ধুর সাথে বাজে সম্পর্কে লিপ্ত থাকে। ঘর থেকে বের হয়ে অবৈধ বাচ্চা পয়দা করে ফেলে, সে দিচ্ছে আমায় ভালো মন্দের জ্ঞান।

তাওহীদের এই কথা গুলো তনু ঠিক মেনে নিতে পারে নি।

~ চুপ করুন দয়া করে চুপ করুন, যখন চলেই এসেছি তখন খোচাচ্ছেন কেন? আমার সন্তান অবৈধ না। আমার সন্তান ফুলের মত পবিত্র। ও কারো সন্তান না ও আমার সন্তান শুধু আমার।

এই বলে তনু কাদতে কাদতে চলে যায় সেখান থেকে। আর তাওহীদ জিদের বসে এক ঘুষি মারে গাড়িতে।
এদিকে তনু বাসায় এসে তাহুরাকে জড়িয়ে সে কি কান্না। বিলাপ করে কাদছে তনু। তনুর কান্না দেখে তনুর মা, তনয়া(তাহুরার খালামনি/মনি) আর রাত্রি(রুমেলের স্ত্রী আর তাহুরার মিমি)

দৌড়ে চলে আসে ড্রইং রুমে।
মেয়ের এমন বিলাপ দেখে ভয় পেয়ে যায় সুরিয়া বেগম। এমন কি হয়েছে যার জন্য এভাবে কাদছে তনু। রুমেলের স্ত্রী রাত্রি বুদ্ধি করে তাহুরা কে নিয়ে অন্য রুমে যায়

~ কিরে তনু, কি হয়েছে রে মা
~ ও মা, ও মা, মা গো

তনুর বিলাপে তনয়া আর রাত্রিও কেদে দেয়। চোখের পানি মুছে ফেলে রাত্রি বলে

~ আপু, কি হয়েছে তোমার?
~ হ্যাঁ রে তনু, বল না মা কি হয়েছে

~ আমি তো চলেই এসেছিলাম মা, সব ছেড়ে, মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে তো রাতের অন্ধকারে বিলীন হয়ে গেছিলাম তাহলে আবার কেন সে সামনে এলো মা
~ কে সামনে আসছে? কার কথা বলতেছিস
~ আমার সন্তান অবৈধ না রে ছুটকি

~ এই দিদি কি বলতেছিস এইসব, ভাবি পানি আনো তো?

রাত্রি পানি নিয়ে দৌড়ে তনুর কাছে এসে বসে। তারপর পানি খাইয়ে দেয় তনুকে।

~ কি হয়েছে গো আপু? কে এসেছে? কার কথা বললা তুমি
~ হ্যাঁ দিদি কে এসেছে?

~ তনু তুই কাকে দেখছিস, রাফাত আসছে?
~ নায়ায়ায়ায়া, মা প্লিজ, ওই নাম টা নিও না, ওই নাম টাই আমার জীবনকে শেষ করে দিয়েছে
~ তাহলে কে আসছে?
~ তাওহীদ
~ কিহহহহহ

~ তাওহীদ আসছে
~ হ্যাঁ মা তাওহীদ আসছে

তারপর এক এক করে সব বলে তনু। তনুর মা, তনয়া আর রাত্রি সব টা শুনে

~ দিদি তুই বলিস নি তাহুরা আসলে তারই
~ নাহহহ, বলি নি, ৫ বছর আগে যখন এক্সপ্লেনেশন চায় নাই, ৫ বছর পরে আমিও দিতে বাধ্য নই।
~ কিন্তু আপু, তাহুরা তো তারই সন্তান, তাকে বলবে না?

~ রাত্রি তার তো নিজেরই মনে নেই যে তাহুরা তারও সন্তান হতে পারে। সে আমায় বেশ্যা বলে গালি দিছে আরো দিলে কষ্ট লাগতো না যখন বলল আমার তাহুরা অবৈধ তখন যদি আল্লাহর আরশ টা ভেঙে আমার মাথায় পড়তো তাহলে বোধহয় আমি বেশি খুশি হতাম
~ তনুউউউউউ, কি বলতেছিস এইসব

~ আপু এইসব কি বলো
~ আর কি বলতাম রে আমি, আর কি বলতাম, নিজের মত করে বলে গেল, সহ্য করতে পারি নি তাই চলে আসছি
~ তাই বলে
~ কত গুলা বাজে কথা শুনিয়ে দিল, তার কাছে এখনো আমি অপরাধী, একবারে জন্যেও বুঝলো না আমাকে সে

এইসব বলে বলে কেদে বুক ভাসায় তনু। আর ৫ বছর আগের সেই রাতের কথার সাথে এই ৫ টা বছরের সব কিছু একবার রিভাইন করে নেয়।
তনু সেই রাতে কাদতে কাদতে বাসায় চলে যায়।

সব কিছু বলে সবাইকে। পুরো পরিবারের উপরে মনে হয় একটা ঘুর্নিঝড় বয়ে যায়। ঘুর্নিঝড়টা আরো প্রবল হয় সকালবেলা যখন পিওন এসে রুমেলকে সাসপেন্ট লেটার টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে যায়।

আফরোজকে সব জানাতে চাইলে তনু নিষেধ করে। কারন তখন আফরোজ এর শারীরিক পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। এই সময়ে ওকে এইসব জানিয়ে আরো অসুস্থ করার মানেই হয় না।

এক সপ্তাহ পর তারা তাদের বাড়ি চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানে গিয়েও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাদেরকে।
পরে অন্ধকারে সূক্ষ্ম আলোর রেখা হয় পাশে দাঁড়ায় রাত্রি। থাকা খাওয়া থেকে শুরু করে সব ব্যবস্থা করে রাত্রি।

নিজের যোগ্যতার বলেই রুমেল চাকরি পায়। সংসার টা টেনেটুনে এক~কূল হতে না হতেই তনুর বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। পরিবারে তখন শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে তনুর তখন ৬ মাস, রুমেলের কাধে অনেক চাপ। স্বস্তির আশ্বাস দেয় রাত্রি। রাত্রির সাথে রুমেলের আগে থেকেই পরিচয়।

তার কয়েকমাস পরই তাহুরা এই পৃথিবীতে আসে। তারপর রুমেল আর রাত্রির বিয়ে হয়। তারপর আস্তে আস্তে সংসার এর হাল ধরে সবাই। রাত্রি আর রুমেল এক কোম্পানিতে জব করে। রুবেল একটা ইন্সটিটিউটে আইসিটি ক্লাস নেয়। তনয়া চট্টগ্রামেরই একটা রেডিও তে জব করে RJ হিসেবে।

তাহুরা জন্মানোর দুই বছর পর্যন্ত তনু বাসাতেই ছিল। কিন্তু যখন দেখছে ভাই বোন এর টাকায় তাকে আর তার বাচ্চাকে চলতে হচ্ছে তখন সেও জব খুজে। অবশ্য ভাই ভাইয়ের বউ বোন কখনো তাকে কিছু বলে নি বরং তাদের সকলের নয়নের মনি তাহুরা। সবার মাঝে হাসি খেলায় বেড়ে উঠেছে সে। সংসারে সবার কন্ট্রিবিউটে সংসার ভালোই চলে তাদের।

এই ৫ বছরে অনেকটা সামলে নিয়েছে নিজেকে তনু। সবাই সবার মত করে ভালো আছে। কিন্তু তনুর প্রতি রাত কাটে চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে। কষ্টের রাত গুলো পার করে করে ৫ টা বছর অতিবাহিত করে তনু।

তাওহীদের বাড়ি ছাড়ার পর তনু আর কখনো অন্য কোন রঙ গায়ে তুলে নি। সব সময় আজ অবদি সাদা রঙ টাই গায়ে নিয়েছে। সাদা শাড়ি, সাদা কাপড়, সাদা থ্রি পিছ সব সাদা। জীবনের সব রঙ ৫ বছর আগের সেই অন্ধকার রাতে বির্সজন দিয়ে এসেছে তনু।

রাত ১২ টা,

ভাত কয়টা মুখে দিয়ে নিজের রুমে আসে তনু। তাহুরা তখন টেডি টা জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। খাটে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দেয় তনু। এখন অপেক্ষা শুধু আরেকটি নতুন ভোরের।

লেখিক: আফরোজা

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তোমায় আমার প্রয়োজন (শেষ খণ্ড) – Bangla Romantic Valobashar Golpo” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তোমায় আমার প্রয়োজন (১ম খণ্ড) – Bangla Romantic Bhalobashar Golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!