মনের জগতে মনোবিজ্ঞান

এক্স ফাইভ (শেষ খণ্ড) – Bangla Super Human Story

এক্স ফাইভ – Bangla Super Human Story: সাব্বির মামলা করার পর পুলিশ সহ সেই বাড়িতে সবাই যায়। প্রথমে বাড়ি ছাড়ার কথা বললে তারা পুলিশকে সাব্বিরের বিরুদ্ধে বলে। কিন্তু পুলিশ তো সব জানে।


১২তম পর্ব

রাত ১টা ৫০ মিনিট
ল্যাব থেকে কিছু শব্দ আসছে। নিজের রুমের দরজা খুলে বের হয় সাজিয়া। কিচেনে গিয়ে এক মগ কফি বানায়। তারপর সেটি নিয়ে যায় ল্যাবের দিকে। ল্যাবে গিয়ে সাব্বিরের টেবিলের উপর মগটা রাখে সাজিয়া।

~ আরে সাজিয়া তুমি? এখনও জেগে আছ? আর কফি তোমাকে কে আনতে বললো? (সাব্বির)
~ ঘুম আসছিল না। ল্যাব থেকেও শব্দ আসছিল তখন বুঝলাম তুমি এখনও ঘুমও নি। কাজ করছ। তাই কফি নিয়ে এলাম। (সাজিয়া)
~ তার কোনো দরকার ছিল না। দাড়িয়ে আছ কেন? বসো।
~ হ্যাঁ। তো কি করছ এটা?

~ একটা ব্যাচ বানাচ্ছি। যেটার সাহায্যে আমাদের সুট্য রেডি হবে। কখনও কোথাও কোনো সমস্যা হলে এই ব্যাচ শরীরে লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে সুট্য এসে আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলবে। তখন কেউ আমাদের চিনতে পারবে না।

~ ওয়াও। এটা কি নির্দিষ্ট একটা সুট্য থাকবে?
~ হ্যাঁ। তোমার পড়নে যেকোনো ড্রেসই থাকুক না কেন তুমি যদি এই ব্যাচটি লাগাও তাহলে তোমার ড্রেস আপনা আপনি পরিবর্তন হয়ে যাবে। এই দেখ। এই ব্যাচটা আমি পড়ছি।

বলেই টেবিলের উপর থেকে একটা ব্যাচ নিয়ে সাব্বির তার বুকে লাগায়। সঙ্গে সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটা আলো বেরিয়ে আসে আবার চলেও যায়। আলো চলে যেতেই দেখা যায় সাব্বিরের পড়নে আর আগের ড্রেস নেই। তার থ্রি কোয়াটারের বদলে কালো ফুল প্যান্ট। গায়ে গেন্জির বদলে কালো এক অন্য রকম শার্ট আর বুকে সাদা ঝিকঝেক। আর তাতে কালো রং দিয়ে ডিজাইন করা একটা ব্রেইনের ছবি।

কোমরে সাদা বেল্ট আর বেল্টের কালো কবলেসের মধ্যে সাদা ব্রেইন এর ছবি। পায়ে হাটুর নিচে লম্বা সাদা জুতা। এ জুতাও তার আগের আবিষ্কার করা জুতার মতো পাওয়ার ফুল।
হাতে তার রাবারের গ্লাপ্সের বদলে অন্য রকম মজবুত সাদা গ্লাপ্স। মাথায় কালো হেলমেটের সাদা গ্লাস।

~ কি সাজিয়া? চেনা যায় আমাকে?
~ অসাধারণ! তোমার আবিষ্কারের জবাব নেই। তুমি এই কয়েক ঘন্টার ভেতর এমন এক জিনিস আবিষ্কার করছ আসলেই কল্পনা করা যায় না।
~ Thank you thank you

বুক থেকে ব্যাচটা খুলে ফেলে সাব্বির। সঙ্গে সঙ্গে আবারও তার কাপড় আগের মতো হয়ে যায়। হাতে রাবারের গ্লাপ্স, থ্রি কোয়াটার প্যান্ট আর গেন্জি। ব্যাচটা টেবিলের উপর রেখে চেয়ারে বসে সাব্বির। কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে ব্যাচের মধ্যে কিসব করতে লাগলো।

~ কি করছ এটাতে?

~ কিছু কাজ বাকি আছে এখনও।
~ কি কাজ? সব তো ঠিক আছে।
~ ব্যাচ গুলোতে নম্বর দিতে হবে। যাতে চেনা যায় কার কোন ব্যাচ। যদি কারো থেকে ব্যাচটা দুর্ঘটনা বসতো হারিয়ে যায় তাহলে আমরা তা দেখলেই বুঝতে পারবো এটা কার ব্যাচ।
~ ওয়াওওও।

~ অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। তুমি ঘুমোতে যাও। রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে। আর দরকার মতো সাহায্যও করতে পারবে না।
~ ওকে গুড নাইট। তুমিও ঘুমিয়ে যেও। বাই।
~ বাই।

সাজিয়া নিজের রুমে চলে গেল। আর সাব্বির তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আজ রাতের ভেতর সে সব কাজ শেষ করে আগামীকাল থেকে কাজ শুরু করতে চায়।

পরদিন সকাল ৭টা ৪৬মিনিট
ঘুম থেকে উঠে জিসান। দাতঁ মাজতে মাজতে বারান্দায় এসে দাড়ায়। বারান্দায় দাড়াতেই তার চোখ পড়ে ল্যাবের রুমের দিকে। রুমে লাইট জ্বলছে। ল্যাবের দিকে এগিয়ে যায় জিসান। ল্যাবের ভেতরে ঢুকে। দরজার কাছে দাড়িয়ে ভেতরের চার পাশ দেখে। কেউ নেই।

তাহলে লাইট কেন জ্বালানো? লাইট বন্ধ করতে ভেতরের দিকে যায় জিসান। ভেতরে যেতেই দেখে টেবিলের মধ্যে মাথা রেখে সাব্বির ঘুমাচ্ছে। তার ডান হাতে স্ক্রো ড্রাইভার। টেবিলের উপর ৫টা ব্যাচ। সাব্বিরকে ডাকতে তার কাধে হাত দিবে তখনই খেয়াল হয় তার নিজের হাতের ব্রাশের দিকে। সে তো দাতঁ মাঝছিল। সাব্বিরকে না ডেকে আগে নিজে মুখ ধুতে যায়। মুখ ধুয়ে এসে সাব্বিরকে ডাকে।

~ সাব্বির! সাব্বির!

~ হুউউউউ (ঘুমের ঘোরে বলে)
~ উঠো এখানে ঘুমাচ্ছ কেন? রুমে গিয়ে ঘুমাও।
~ রুমেই তো আছিইইই (ঘুমের ঘোরে আবারও জবাব দেয়)
~ তুমি ল্যাবে ঘুমাচ্ছ। তোমার রুমে যাও।
~ উফ মিম। ঘুমাতে দাও না একটু। (ঘুমের ঘোরে)
~ মিম! মিমকে? সাব্বির!

~ হ্যাঁ। ওহ জিসান। সরি ভাই রাতে কাজ করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়ালই করি নি।
~ যাও রুমে গিয়ে ঘুমাও।

~ হুম যাচ্ছি।

সাব্বির ল্যাব থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে যায়। ঘুমের ঘোরে সে কি বলেছে কিচ্ছুই তার মনে নেই।

সকাল ৮টা ৩০ মিনিট

সকালের নাস্তা খেতে বসেছে সবাই। যে যার পাউরুটিতে জেলি লাগাচ্ছে। সাব্বির তার পাউরুটিতে জেলি লাগিয়ে মুখে দিতেই জিসান সাব্বিরকে প্রশ্ন করে

মিম কে?

জিসানের এমন প্রশ্নে হতবাক হয়ে যায় সাব্বির। পাউরুটির টুকরো তার গলায় আটকে যায়। কাশতে কাশতে গ্লাসে পানি ঢেলে খেয়ে নেয়। তারপর বলে,

~ কোন মিম? তুমি কোন মিমের কথা বলছ?
~ সাব্বির তুমি ভালো করেই বুঝতে পারছ আমি কোন মিমের কথা জিজ্ঞাসা করেছি। (জিসান)
~ এক মিনিট এক মিনিট। কেউ কি আমাকে বলবে এসব কি হচ্ছে? (পিউ)

~ আজ সকালে যখন আমি ল্যাবে সাব্বিরকে ডাকছিলাম তখন সাব্বির আমাকে মিম বলে সম্মোধন করে। কে এই মিম? (জিসান)

সাব্বির কোনো কথা না বলে চুপ করে থাকে।

~ আমরা তো তোমার কাছে কোনো কিছু লুকাই নি। তাহলে তুমি কেন আমাদের সব বলো না? আমাদের কি তুমি এখনও বিশ্বাস করতে পারো নি? (জিসান)
~ এরকম কথা না জিসান।

আমি তোমাদের অনেক বিশ্বাস করি। এই কয়েক মাসে আমি তোমাদের আমার নিজের একটা অংশ ভাবতে শুরু করেছি। হ্যাঁ এটা ঠিক আমি সব বলি নি তোমাদের। কিন্তু তোমাদের খুব ভালোবাসি আমি। (সাব্বির)

~ সাব্বির কষ্ট তুমি যতই নিজের মধ্যে রাখবে ততই কষ্ট বাড়বে। তুমি বলতে পারো আমাদের। (সাজিয়া)
~ মিম আমার স্ত্রীর নাম। (সাব্বির)
~ স্ত্রী? (ফারাবী)

~ হ্যাঁ। আমার স্ত্রী। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম আমরা। অনেক ভালোবাসতাম আমি তাকে। শুরু শুরুতে সেও খুব ভালোবাসতো। কিন্তু বিয়ের এক বছর পর দেখি সে অন্য রকম হয়ে গেল। আমার থেকে বেশি সময় কাটাতো আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে। এ নিয়ে বাবা মাও অনেক কথা বলেছিলেন মিমের সাথে।

কিন্তু সে আরও উল্টো তাদের অপমান করেছে। ওর দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারতাম সে আমাকে তার প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। সে আমাকে আর ভালোবাসে না। এখন তার শুধু আমার সম্পত্তি দরকার। বাবা আমাকে ছাদে একা বসে কাদতে দেখে বলেছিলেন ডিভোর্স দিয়ে দিতে। আমিও তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু পারিনি। সে আমাকে ছাড়তে নারাজ। একদিন বাইরে থেকে এসে দেখি আমারই বিছানায় তাকে আমার চাচাতো ভাইয়ের বুকে ঘুমাতে। হয়তো এটা তারা ইচ্ছা করেই করেছিল আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি এখনও তাকেই ভালোবাসি। তাই হয়তো ঘুমের ঘোরে তার নাম নিয়ে ফেলেছিলাম। (সাব্বির)

~ তাহলে আমি যাকে তোমার রুমে দেখেছিলাম সেই (ফারাবী)
~ হ্যাঁ। সেই মিম। আমি তোমাদের কাছ থেকে লুকিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও।

বলেই চোখ মুছতে মুছতে নিজের রুমে চলে যায় সাব্বির। কিছুক্ষন পর জিসান সাব্বিরের রুমে যায়। গিয়ে দেখে জানালায় হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে সাব্বির। জিসান গিয়ে সাব্বিরের কাধে হাত রাখে। দ্রুত নিজের চোখ মুছে জিসানের দিকে ফিরে সাব্বির।

~ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। (জিসান)

~ আরে না। আমারও লুকানো উচিত হয় নি। (সাব্বির)
~ যে তোমার ভালোবাসাকে টাকা দিয়ে হিসেব করে তাকে ভেবে কেন কষ্ট পাচ্ছো? ভুলে যাও সব।
~ কি করে ভুলবো? যাই হোক প্রথম ভালোবাসা কি কেউ কখনও ভুলতে পারে? (জিসানকে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে বলে সাব্বির)
~ কেদো না। নিজেকে শক্ত করো। চোখ মুছ

জিসানকে ছেড়ে নিজের চোখ মুছে স্বাভাবিক হয় সাব্বির। তারপর বাইরে ঘুরতে যায়।

রাত ১২টা ১মিনিট
ল্যাবে দাড়িয়ে আছে সবাই। সাব্বির ড্রয়ার থেকে তার আবিষ্কার করা ব্যাচ গুলো বের করে সবার হাতে দেয়। জিসানের ব্যাচে 1, পিউর ব্যাচে 2, ফারাবীর ব্যাচে 3, সাজিয়ার ব্যাচে 4 আর সাব্বিরের ব্যাচে 5 লেখা। সবাই সবার ব্যাচ লাগিয়ে নেয়। সবার শরীর কয়েক সেকেন্ডের জন্য আলোকিত হয়। আলো নিভে যেতেই তাদের কাপড় পাল্টে যায়।

জিসানের নীল ফুল প্যান্ট, নীল অন্য রকম শার্টের বুকে সাদা ঝিকঝেক। আর তাতে ঠিক মাঝখানে ঘূর্ণির ছবি। কোমরে সাদা বেল্ট আর বেল্টের কালো বকসেলের মধ্যে সাদা ঘূর্ণির ছবি। হাতে মজবুত সাদা গ্লাপ্স, মাথায় নীল হেলমেট কালো গ্লাস। পায়ে হাটুর নিচে লম্বা সাদা জুতা।

পিউ এর হলুদ ফুল প্যান্ট, হলুদ অন্যরকম শার্টের বুকে সাদা ঝিকঝেক। তার ঠিক মাঝখানে আগুনের মাঝে চোখের ছবি। কোমরে সাদা বেল্ট বেল্টের কালো বকলেসে সাদা চোখ। হাতে সাদা মজবুত গ্লাপ্স। মাথায় হলুদ হেলমেটের কালো গ্লাস। পায়ে হাটুর নিচে লম্বা সাদা জুতা। পিউর জুতাও সাব্বিরের জুতার মতো পাওয়ার ফুল।

ফারাবীর লাল ফুল প্যান্ট। লাল অন্য রকম এর শার্টের বুকে সাদা ঝিকঝেক। আর তার ঠিক মাঝখানে নীল আর লাল মিশ্রিত মাকড়শার ছবি। কোমরে সাদা বেল্টের বকলেসে মাকড়শার ছবি। হাতে মজবুত সাদা গ্লাপ্স। মাথায় লাল হেলমেটের কালো গ্লাস। পায়ে হাটুর নিচে লম্বা সাদা জুতা।

সাজিয়ার গোলাপী ফুল প্যান্ট। গোলাপী অন্য রকম এক শার্টের বুকে সাদা ঝিকঝেক। আর তার ঠিক মাঝখানে গোলাপী রং এর S লেখা। কোমরে সাদা বেল্টের বকলেসে S লেখা। হাতে মজবুত গ্লাপ্স। মাথায় গোলাপী হেলমেটের কালো গ্লাস। পায়ে হাটুর নিচে লম্বা সাদা জুতা।

সবাই প্রস্তুত বেরুবার জন্য। একই রকম ভিন্ন ভিন্ন রং এর পাচঁ পোষাক পড়ে বের হয় তারা তাদের মিশনে।


১৩তম পর্ব

রাত ১টা ১৫মিনিট
রাতের শহরে ঘুরে বেরাচ্ছে এক্স ফাইভ। হ্যাঁ এটা তাদের টিমের নাম। জিসানের দেওয়া নাম এক্স ফাইভ। সুপার হিরোদের মতো এখন তাদেরও নির্দিষ্ট একটি সুট্য আছে। এখন তারাও রিয়েল সুপার হিরো।

আলাদা আলাদা ভাবে শহরে ঘুরছে তারা পাচঁজন। তাদের উদ্দেশ্য সেই ভয়ঙ্কর বিজ্ঞানীকে খুজেঁ বের করা। তার সঙ্গীদের খুজেঁ বের করা।

ঘুরতে ঘুরতে পিউ এসে বসলো এক বিল্ডিং এর ছাদে। ছাদের কিনারায় বসে চারপাশটা দেখছে পিউ। হঠাৎই পিউর চোখ পড়ে একটি ব্যাংকের দিকে। কিছু মুখশধারী লোক ব্যাংকের সিকিউরিটিকে গুলি করে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকছে। ছাদের উপর থেকে জুতার সাহায্যে উড়ে নিচে সিকিউরিটির কাছে যায় পিউ। লোকটির শ্বাস চেক করে দেখে শ্বাস পড়ছে না।

লোকটি মারা গিয়েছে। লোকটির কাছ থেকে উঠে ব্যাংকের ভেতর যায় পিউ। ভেতরে ঢুকে দেখে ব্যাংকের সকল লকার ভেঙ্গে টাকা বের করে ব্যাগে ভরে নিচ্ছে কিছু লোক। পিউ এগিয়ে যায় লোক গুলোর দিকে। পিউর জুতার কট কট শব্দ শুনে টাকা ভরা বন্ধ করে লোক গুলো পিউর দিকে তাকিয়ে থাকে।

~ কিছু টাকার জন্য একটা নিরীহ মানুষকে তোমরা কেন মারলে?
~ কে তুই?

~ আমি যেই হই সেটা তোমাদের জানা দরকার না। এই মুহুর্তে তোমরা থানায় স্যালেন্ডার কর গিয়ে।
~ যদি না করি?

~ পরে কিন্তু আফসোস করবে।
~ হাহাহা এই মেয়ে বলে কি? কে রে তুই?
~ এক্স ফাইভ টিমের এক্স টু।
~ হাহাহা এক্স ফাইভ টিমের এক্স টু! এটা আবার কি? হাহাহা
~ কি সেটা এখনই বুঝতে পারবে।

এই বলে পিউ তার হাতের শক্তি ব্যবহার করে সেই লোক গুলোর পায়ের কাছে মেঝেতে আগুনের গোলা ছুড়ে মারে। পায়ের সামনে আগুনের গোলা পরতেই ভয়ে লাফিয়ে পেছনে পড়ে লোক গুলি। এবার চোখের শক্তি ব্যবহার করে লোক গুলোকে লকার রুমে আটকে রেখে সেখান থেকে পিউ চলে যায়।

অপর দিকে জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই চোখে পড়ে দুটো সাংবাদিকদের মারধর করছে কিছু লোক। হয়তো তাদের গোপন কিছু ধরা পড়েছে তাদের ক্যামেরায়।

একজন ছুরি বের করে সাংবাদিকদের মারার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে জিসান বাতাসের মতো ছুটে গিয়ে ছুরি ছিনিয়ে নেয়। হঠাৎই ছুরি হাত থেকে চলে যাওয়ায় অবাক হয়ে যায় তারা। তখনই তারা সামনে দেখতে পায় জিসান কে।

~ শুধু শুধু দুটো মানুষের প্রাণ নেওয়ার কি কোনো দরকার আছে?
~ তুই কে?
~ এক্স ফাইভ টিমের এক্স ওয়ান।
~ মরতে না চাইলে যা এখান থেকে।
~ যাবো তবে তোদের ব্যবস্থা করে।

এই বলে বাতাসের গতিতে এক এক জনকে আধ মরা করে পুলিশ ষ্টেশনের সামনে ফেলে চলে গেল।

আর সাজিয়া, ফারাবী, সাব্বির কোনো ঝামেলা দেখতে না পেয়ে তারা একটা মাঠে এসে দাড়ালো। কিছুক্ষন পর পিউ আর জিসানও এলো। মাঠের মাঝে দাড়িয়ে তারা কথা বলছে শহরের অবস্থা সম্পর্কে। পিউ তার কথা আর জিসান তার কথা জানালো। সাজিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী রাতে তারা সেই বিজ্ঞানীর সঙ্গী খুজার সঙ্গে সঙ্গে শহরের অপরাধও কমাতে পারবে।

এদিকে জিসান যে দুই সাংবাদিকদের বাচিয়ে ছিল তারা জিসানের যাওয়ার রাস্তা ধরে এসে সেই মাঠটা দেখতে পায়। আসলে এই মাঠটাও সেই জায়গা থেকে খুব একটা দূরে না। মাঠের পাশে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সাংবাদিক গুলো। সেখান থেকে তাদের ক্যামেরায় ছবি তুলতে থাকে। এক্স ফাইভের সবাই কথা বলছে।

কিন্তু কি কথা বলছে তা শুনতে পাচ্ছে না সাংবাদিকরা। জুম করে এক এক জনের ছবি তুলায় তাদের ব্যাচে লাগালো নম্বর গুলোও তাতে ধরা পরে। জিসানের ব্যাচে ওয়ান লেখা দেখে তাদের মনে পরে সে তার পরিচয় দিয়েছিল এক্স ফাইভ টিমের এক্স ওয়ান। তার মানে এই পাচঁজন হলো এক্স ফাইভ।

হঠাৎই ফারাবীর কানে ক্যামেরা ক্লিক করার শব্দ আসে। ফারাবী সবাঈকে চুপ করতে বলে। আবারও সেই শব্দ সে শুনতে পায়।

~ কেউ আমাদের ছবি তুলছে? (ফারাবী)
~ কি? কে তুলবে? এখানে তো কেউ নেই! (সাজিয়া)
~ আছে ওই গাছের আড়ালে। ঐ দেখ। (সাব্বির)
~ মাই গড! এরা তো সেই সাংবাদিক যাদের আমি একটু আগে বাচিয়েছিলাম। চল দ্রুত বাসায় চল সবাই। (জিসান)

সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের মতো ছুটে সেখান থেকে চলে যায় জিসান। পিউ আর সাব্বির তাদের জুতার শক্তি ব্যবহার করে আগের চেয়ে অনের দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ফারাবী গাছে, বিল্ডিং এ জাল ছুড়ে ছুড়ে চলে যায়। সাজিয়া খুব দ্রুত উড়ে চলে যায় সেখান থেকে। ফাকা মাঠে দাড়িয়ে থাকে সেই দুই সাংবাদিক।

পরদিন সকালে

দরজার নিচ দিয়ে পেপার দিয়ে যায় পেপারওয়ালা। সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমরের ঘাড়ের ও হাতের হাড় মট মট করে ফুটিয়ে দরজার কাছ থেকে পেপার তুলে ফারাবী। পেপার তুলেই এক চিৎকার। তার চিৎকারে সবাই ঘুম থেকে উঠে যায়। ছুটে আসে তার কাছে,

~ ফারাবী কি হয়েছে? (জিসান)
~ এ হলো চুপ করে আছ কেন? কি হয়েছে? (সাজিয়া)
~ দেখি পেপারটা।

এই বলে পেপারটা সাব্বির হাতে নেয়। বড় করে লাল কালী দিয়ে প্রথম পৃষ্ঠারে লেখা,

শহরের নতুন রক্ষক এক্স ফাইভ

নিচে বড় করে তাদের পাচঁজনের কাল রাতের মাঠে দাড়ানোর ছবি। সেখান থেকে যাওয়ার ছবি। নিচে আর্টিকেলে লেখা হয়েছে,

গত দুবার যে ভয়ঙ্কর প্রাণীদের হাত থেকে যারা আমাদের বাচিয়েছিলেন তাদের আজ নাম জানা গিয়েছে। তারা হলেন এক্স ফাইভ টিমের সদস্য। আর এই হলো সেই ফাইভ সুপার হিউম্যান। গতকাল রাতে এক্স ফাইভ টিমের এক্স ওয়ান ডেইলি স্টার নিউজ পেপারের দুজন সাংবাদিকদের বাচিয়েছেন আর তারাই এই পাঁচজনকে খুজে বের করেন।

~ এটা কি হলো? এখন কি আমরা আর খুজে পাবো সেই বিজ্ঞানীর সঙ্গীদের? (ফারাবী)
~ পাবো। যেহেতু প্রথম প্রাণীটিকে মারার পরও সব জেনে দ্বিতীয়বার আবারও প্রাণী এসেছিল তাই এবারও তারা আসবে। (সাব্বির)

~ আমার সেই সাংবাদিকদের বাচানোই উচিত হয়নি। (রাগ করে বলে জিসান)
~ এবার পিউও রাগ করবে। টিভিটা দেখ। (সাজিয়া)

গতকাল রাতে ব্যাংক লুটপাটের সময় এক মেয়ে যে কিনা নিজের পরিচয় এক্স ফাইভ টিমের এক্স টু বলে দিয়েছিল সে এই ব্যাংক লুটপাট কারীদের লকার রুমে বন্ধি করে যায়। ফলে ব্যাংকের সব টাকা সুরক্ষিত থাকে। ব্যাংকের বাইরের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় মেয়েটি সামনের বিল্ডিং এর উপর থেকে নেমে এসে সিকিউরিটি লোকটির শ্বাস চেক করে ভেতরে ঢুকে সেই

লুটপাটকারীদের প্রথমে আগুনের গোলা ছুড়ে ভয় দেখায় তারপর অলৌকিক ভাবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই তাদের লকার রুমে বন্ধি করে যায়। এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই যে পাচঁজন আমাদের সেই দুই ভয়ঙ্কর প্রাণীদের থেকে রক্ষা করে ছিল এ সেই পাচঁজনের একজন।

~ এটাই স্বাভাবিক। আমাদের খবর আজ বা কাল এমনিতেই সবাই জানতো। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। আমরা কোন জায়গায় থাকলে সেই বিজ্ঞানীর সঙ্গীদের খুজেঁ পাবো? (পিউ)
~ এমন কোনো জায়গা যেখানে রাতের বেলা নির্জন আর দিনের বেলা ভীরভার। (সাব্বির)

এমন সময় কলিংবেলে শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গে দরজায়ও ধুমাধুম থাপ্পর। দ্রুত গিয়ে দরজা খুলে জিসান। দরজা খুলতেই মুখ থুবড়ে পড়ে তূর্য। সমস্ত শরীরে রক্ত। বা হাতের একটা আঙ্গুল কাটা। অনর্গল রক্ত ঝরছে আঙ্গুল থেকে। মেঝেতে পড়েই অজ্ঞান হয়ে যায় তূর্য।

সাব্বির আর জিসান তূর্যকে ধরে সাব্বিরের রুমে বিছানায় শুইয়ে দেয়। ফারাবী কাটা আঙ্গুলের রক্ত বন্ধ করে ব্যান্ডেজ করে দেয়।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপানোর দাগ। শরীরের অন্যান্য কাটা জায়গায় স্যাভলন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। তূর্যের এমন অবস্থা কি করে হলো কে করেছে কিছুই বুঝতে পারছে না তারা। ডাক্তার ডাকবে নাকি ডাক্তার ডাকলে পুলিশ রিপোর্ট লাগবে। এসব ভাবতে ভাবতেই দেখে তূর্যের চোখের পাতা হালকা নড়ছে।

সাব্বির তা দেখে তূর্যের ব্রেইন পড়তে চেষ্টা করে। তূর্য কিছু বলার আগেই যেন সে সব জানতে পারে তাই সাব্বির মনোযোগ দিয়ে তাকায় তূর্যের দিকে। সাব্বির বেইন পড়ছে এমন সময় চোখ খুলে তাকায় তূর্য। সাব্বির যা পড়েছে তা কিছু না জানিয়েই তূর্যরের পাশে বসে। তূর্যের পাশে বসতেই তূর্য উঠে সাব্বির দু হাতে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে। তূর্যের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সাব্বির তাকে শান্তনা দিয়ে বলে,

~ শান্ত হো। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা কর। আমরা আছি তো? (সাব্বির)

~ তূর্য শান্ত হও। কি হয়েছে খুলে বলো। তোমার এ অবস্থা কি করে হলো? (জিসান)
~ আমার বাবা

~ তোমার বাবা! কি?কি হয়েছে? (পিউ)
~ আমার বাবা সেই বিজ্ঞানীর একজন সহকারী। আমাকে গল্পে গল্পে বলেছিল সেই প্রথম প্রাণীর সম্পর্কে। সেটির দুর্বলতা সম্পর্কে।

এর পরের প্রাণীটির দুর্বলতা যখন তোমরা খুজে সেটিকে মেরে ফেললে তখন আমার বাবা আমার রুমে এসে দেখেন সেই ক্যামিকেল গুলো নেই। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন সেদিন ফরেনসিক ল্যাব থেকে প্রাণীটির লাশের টুকরো কেউ কেটে নিয়েছে। আমি জানি কিনা।

আমি বললাম আমি টিভিতে দেখেছি। তিনি বললেন যদি নাই জানি তাহলে যে ক্যামিকেল গুলো দিয়ে সেই প্রাণীটিকে মৃত রাখা যায় সেই ক্যামিকেল গুলো কোথায় গেল। আমি বার বার অস্বীকার করায় তিনি কিছু না বলে চলে যান। তোমাদের কারো কথা যেন জানতে না পারে তাই আমি আমার ফোন থেকে সাব্বিরের নম্বর ডিলেট করে দিই। কাল রাতে আমার বাসায় কিছু লোক আসে।

তারা বাবাকে তোমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বাবা আমাকে দেখিয়ে বলে আমি সব জানি। আমি ভাবতেও পারিনি আমার বাবা এমন করবে আমার সাথে। ছেলের থেকেও টাকা বড় হয়ে গেল উনার কাছে। ওরা আমাকে অনেক জিজ্ঞাসা করে তোমাদের সম্পর্কে।

কিন্তু আমি কিছুই বলি নি। উত্তর না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চাপাতি দিয়ে এলো পাথারি কোপাতে থাকে। বাবার সামনে তারা আমাকে কোপাচ্ছে অথচ আমার বাবা একটুকও কাপলেন না। আমি রাগে বলি বাবা তোমাদের আবিষ্কার করেছে।

সেই সব প্রাণীদের ধ্বংস করতে। এটা শুনে বাবা রেগে একজনের হাত থেকে চাপাতি কেড়ে নিয়ে আমার হাতের আঙ্গুল কেটে দেন। আমি কোনো রকমে পালিয়ে এসেছি। ওরা হয়তো আমার পিছু নিয়ে এখানে এসে যাবে। তোমরা পালাও। ওদের আমি সামনে নেবো। তোমাদের ওরা খুজছে এটা বলতেই আমি

তূর্য তার কথা শেষ করার আগেই দরজায় ধুমাধুম মারতে লাগলো কেউ। দরজার শব্দে সম্পূর্ণ ঘর কেপে উঠছে। তূর্য সাব্বিরের হাত ধরে বলে,
~ ওদের আমি আটকাবো। প্লিজ তুই সবাইকে নিয়ে চলে যা। (তূর্য)

~ কেউ কোথাও যাবে না। তুমি নিজের জীবন বাজি রেখেও আমাদের পরিচয় দাও নি। আর আমরা তোমাকে বিপদে রেখে পালাবো? আর ওরা এখানে এসে ভালোই করেছে। আমাদের রাত জেগে তাদের খুজতে হলোনা। সবাই সবার ব্যাচ পড়ে নাও। পিউ চোখের সাহায্যে দরজা খুলো। (জিসান)


১৪তম পর্ব

জিসানের কথায় ব্যাচ লাগিয়ে নেয়। তারপর পিউ চোখের শক্তি ব্যবহার করে দরজার লক খুলে।

দরজাটা খুলে যেতেই চার পাচঁজন লোক আর তূর্যের বাবা দ্রুত এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে ভেতরে ঢুকে। তাদের হাতে চাপাতি, রাম দা। দরজা বরাবর সাব্বিরের রুমের দিকে চোখ পড়ে তাদের। ভয়ার্ত চোখে তূর্যকে বিছানায় বসা দেখে তার দিকে ছুটে যায় সবাই।

রুমে ঢুকতেই তাদের হাতের চাপাতি রাম দা তাদের হাত থেকে বেরিয়ে শূণ্যে ভাসতে থাকে। এটা দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। বুঝতে পারে তারা এক্স ফাইভের আস্থানায় এসে পৌছেঁ গিয়েছে। রুম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেই কত গুলো জাল তাদের আষ্ঠে পিষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।

এবার রুমের দেওয়াল মাকড়শার মতো বেয়ে নিচে নেমে আসে ফারাবী। রুমের বেলকুনি থেকে বেরিয়ে আসে পিউ। বাতাসের মতো রুমে প্রবেশ করে জিসান। তারপর সাব্বির আর সাজিয়া। তাদের দেখে ভয়ে কাপতে থাকে তূর্যের বাবা আর তার সঙ্গীরাও। তূর্যের পাশে বসে সাব্বির। তারপর তাদের জেরা করা শুরু হয়,

~ তূর্যকে মারতে এলে কেন? লজ্জা করে না নিজের ছেলেকে খুন করতে? (সাব্বির)
~ তূর্যকে না মারলে আমাকে মেরে ফেলবে। (তূর্যের বাবা)
~ কে? কার কথায় তোমরা তূর্যকে মারতে এসেছ? (ধমকের স্বরে বলে জিসান)

~ ড রবিনের কথায়। যে বা যারা তার সম্পর্কে যেনে যায় তাকে সে খুন করায়। তূর্যকে আমি গল্পের মধ্যে মুখ ফসকে বলে দিয়েছিলাম প্রথম প্রাণীটি সম্পর্কে। আর সেটা ডরবিন জেনে যায় আর আমাকে বলে তার থেকে তোমাদের খুজ নিতে। (তূর্যের বাবা)
~ ডরবিনের পরের আবিষ্কার কি? সেটার দুর্বলতা কি? (সাজিয়া)

~ আমরা সে সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে এটুকু জানি এবার সে অনের বড় কিছু করবে। (ডরবিনের একজন সঙ্গী)

~ কোথায় পাওয়া যাবে ডরবিনকে? (পিউ)
~ সোয়াট ল্যাকের পেছনে যে জঙ্গল আছে তার ভেতর এক পোড়া বাড়ি আছে। সেখানেই সে তার ল্যাব বানিয়েছে। সেখানে অনেক বিজ্ঞানীদের সে আটকে রেখেছে তাকে সহযোগীতা করার জন্য। আর কেউ কেউ টাকার কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে। (তূর্যের বাবা)
~ সেই বিক্রির দলে তুমিও যোগ হলে।

ছিঃ আমার ভাবতেও ঘৃণা করে তুমি আমার বাবা। (তূর্য)
~ আমাকে ক্ষমা করে দে তূর্য। (তূর্যের বাবা)
~ তোমাদের যেখানে যাওয়ার তোমরা এখন সেখানেই যাবে। তূর্য তোর কিছু সাহায্য লাগবে। (সাব্বির)
~ বল কি সাহায্য চাস। (তূর্য)

~ মামলা করতে পারবি তোর বাবা আর তার চেলা পেলাদের বিরোদ্ধে? (সা

কোনো জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে থাকে তূর্য। চোখ থেকে ঝর ঝর করে পানি ঝরছে তার। ডান হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে মাথা তুলে বলে,
~ পারবো। (তূর্য)

~ না। তুই এরকম করিস না। (তূর্যের বাবা)
~ সাব্বির পুলিশে খবর দে। (তূর্য)
~ সাব্বির! (তূর্যের বাবা)

সাব্বিরের নাম শুনে অবাক হয়ে যায় তূর্যের বাবা। এতক্ষন যে সাব্বিরই তাদের সাথে কথা বলছে আর এক্স ফাইভের সদস্য যে সাব্বিরও তা তারা জানতো না। সাব্বির তার ব্যাচ খুলে ফেলে।

সঙ্গে সঙ্গে আগের পোষাকে ফিরে আসে সে। জিসান মেঝে থেকে দুটা চাপাতি তুলে নিয়ে মেইন দরজার বাইরে গিয়ে দরজায় এলোপাথারি কোপাতে থাকে। সমস্ত দরজায় কোপের দাগ করে দিয়ে সে আগের জায়গায় রেখে দেয় চাপাতি গুলো। এবার সাজিয়া দরজার বাইরে যেতেই পিউ ভেতর থেকে চোখের শক্তি ব্যবহার করে দরজা বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙ্গে মেঝেতে পড়ে।

সাজিয়া লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে দরজাটি। এসব দেখে তূর্যের বাবা আর তার সঙ্গীরা ভয়ে কাপ থাকে। তূর্যের কাছে এসে সবাই ব্যাচ খুলে নেয়। তাদের আসল চেহারা দেখে ঘাবড়ে যায় সবাই। জিসান বেরিয়ে যায় পুলিশ আনতে।

কিছুক্ষন পর পুলিশ নিয়ে বাসায় ফিরে জিসান।
~ আসুন অফিসার। দেখুন আমাদের ঘরের দরজা ভেঙ্গে তারা আমাদের ঘরে ঢুকে আমাদের বন্ধুকে মারতে। (জিসান)
~ আরে আপনি মিঃ তৌফিকের ছেলে। তাইনা? (অফিসার)
~ জ্বী। আমিই উনার ছেলে সাব্বির। (সাব্বির)
~ আপনার বাবার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক নয়। আপনি যদি মামলা করতেন তাহলে আমরা আসল খুনির কাছে পৌছাতে পারতাম। কিন্তু আপনি তো (অফিসার)
~ অফিসার এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।

আগে দেখুন আমার বন্ধুর অবস্থা। কি করেছে এরা। প্রাণে মারতে চেয়েছিল তাকে। কোনো রকম পালিয়ে এখানে আসে আর তারা তার পিছু নিয়ে এখানে আসে তাকে মারতে। ভাগ্য ভালো ঠিক সময় মতো এক্স ভাইভ চলে আসে। নয় তো আজ তূর্যের সাথে আমাদেরও প্রাণ যেত।
~ কি? এক্স ফাইভ!

~ হ্যাঁ অফিসার। তারা যদি আজ না আসতো তাহলে কি যে হতো।
~ ওরা মিথ্যা বলছে? এই দরজা তারাই ভেঙ্গেছে। এরাই এক্স ফাইভ। (তূর্যের বাবা)

~ চুপ। এতো বড় অপরাধ করার পরও বড় বড় কথা। আপনারা মিঃ তূর্যকে হাসপাতালে নিয়ে যান। উনার অবস্থা খারাপ। আর এদের আমরা দেখছি।

এই বলে পুলিশ তূর্যের বাবা আর তার সঙ্গীদের নিয়ে যায়। আর বলে যায় তূর্য যেন মামলা করে। এদিকে তূর্যকে হাসপাতালে নিয়ে যায় সাব্বির আর ফারাবী। জিসান মিস্ত্রী এনে নতুন দরজা লাগিয়ে নেয়।

বিকেল ৫টা ২০মিনিট
তূর্যকে হাসপাতালে রেখে বাসায় আসে সাব্বির আর ফারাবী। তূর্যের কথা মনে হলেই কষ্ট হয় তাদের।

~ তূর্যের জন্য কষ্ট হচ্ছে। এতো কষ্ট সহ্য করেও আমাদের কথা বলেনি তাদের। (সাজিয়া)
~ হুম। তার কষ্টটা তখনই স্বার্থক হবে যখন ডরবিন শেষ হবে। (সাব্বির)

~ সোয়াট ল্যাক তো অনেক অনেক দূরে। (ফারাবী)
~ এক লম্বা সফরে বেরুতে হবে। (পিউ)
~ এতো দূর আমরা না দৌড়ে যেতে পারবো না উড়ে যেতে পারবো। এর জন্য দরকার এক গাড়ি। (সাজিয়া)
~ বানাতে কতক্ষন! (সাব্বির)

~ তুমি গাড়ি বানাতে পারো? (ফারাবী)
~ কখনও বানাইনি। তবে এবার করবো।
~ যদি মাঝ রাস্তায় ভেঙ্গে যায়! (জিসান)
~ জিসান তুমিইইইইইইইইই।

পরদিন সকালে নাস্তা করার পর সাব্বির সবাইকে নিয়ে গ্যারেজে যায়। গ্যারেজে পৌছে সবাই দেখে বড় কিছু একটা সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

~ এতো বড় লাশ! (জিসান)
~ জিসান তুমি কি জন্মগত রগ তেড়া? (রাগ করে বলে সাব্বির)

~ সেটা তো জানি না ভাই। জানলে হয়তো উত্তর দিতে পারতাম। তবে এই দুষ্টু জিসানের জন্ম হয়েছে তোমাদের পাওয়ার পর থেকে। দুঃখিত ভাই। আমার দুষ্টুমি হয়তো তোমাকে কষ্ট দেয়।

জিসানের কথা শুনে জিসানকে জড়িয়ে ধরে সাব্বির।
~ তুমি দুষ্টুমি কর বলেই তো আমরা কষ্ট ভুলে থাকতে পারি। (সাব্বির)
~ আচ্ছা এটার নিচে কি? (জিসান)
~ এখনই দেখাচ্ছি।

এই বলে সাদা চাদরটি সড়ায় সাব্বির। চাদরের নিচ থেকে বেরিয়ে আসে এক অসাধারন মডেলের গাড়ি। দেখতে অনেক সুন্দর।

~ এই গাড়ি? (জিসান)
~ আমি বানালাম। (সাব্বির)
~ কাল রাতে! (পিউ)

~ হ্যাঁ কাল রাতেই। কেমন হলো?
~ অসাধারন। তোমার তো জবাব নেই। (ফারাবী)
~ থ্যাঙ্ক ইউ থ্যাঙ্ক ইউ।
~ ডিজেল ছাড়া চলবে কি করে? (জিসান)
~ এটা ডিজেল বা প্রেক্টোলে চলবে না। এটার জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।
~ সেটা কি? (পিউ)

~ এটা সূর্যের আলোতে ব্যাটারী চার্জ হবে। যেমনটা সৌরো বিদ্যুতে ব্যবহৃত হয়। যতক্ষন সূর্যের আলো এটার উপর পরবে ততক্ষন এটা অটোমেটিক চার্জ হবে। আর এটা যদি দিনের বেলা রোদের মধ্যে চালানো হয় তাহলে এটার চার্জ কমবে না।

আর এটা সম্পূর্ণ একদিন সূর্যের আলো পেলে এক সপ্তাহ চার্জ ছাড়া চলবে।
~ কি জিনিস বানালে ভাই। কিন্তু এটা চলবে তো? (জিসান)
~ না না এটা হাওয়ায় ভাসবে।

~ হাহাহাহা। (জিসান)
~ তো আমরা কখন বেরুচ্ছি? (সাজিয়া)
~ আজ সারাদিন চার্জ হোক। কাল সকালে বেরুলেই ভালো।
~ তাহলে আমি নাস্তা বানাই। (সাজিয়া)
~ নাস্তা! কিন্তু এখনই তো নাস্তা করে উঠলাম। (ফারাবী)

~ আরে তোমাদের জন্য না। তূর্যের জন্য। হাসপাতালে রেখে এলেই কি হলো? খুজ খবর নিতে হবে তো। খেয়াল রাখতে হবে। (সাজিয়া)

~ হ্যাঁ সাজিয়ার খেয়াল একটু বেশিই তূর্যের দিকে। (জিসান)
~ ব্যাপার কি সাজিয়া? কুচ কুচ হোতা হেই? (সাব্বির)

লজ্জা পেয়ে নিজের রুমে থেকে চলে আসে সাজিয়া। দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাড়ায়। তূর্যের কথা মনে হতেই কেমন জেন লাগছে। তাহলে কি সত্যি সাজিয়া তূর্যকে ভালোবেসে ফেলেছে? কিন্তু তূর্য? সে কি ভালোবাসবে সাজিয়াকে?

সকাল ১০টা ২০মিনিট
হাসপাতালে তূর্যকে দেখতে আসে সবাই। রাতে ঘুমের ঔষধ দেওয়ায় তখনও ঘুমিয়ে ছিল তূর্য। বুকের উপর বা হাত দিয়ে ঘুমাচ্ছে সে। বা হাতের মধ্যমা আঙ্গুলটি নেই তার। ডান হাতে স্যালাইন চলছে।

টেবিলের উপর টিফিন বক্সটি রেখে তূর্যের কপালে হাত রাখে সাব্বির। হালকা গরম লাগছে কপালটি। হয়তো রাতে জ্বর এসেছিল। সাব্বিরের হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গে তূর্যের। চোখ খুলে দেখে সবাই এসেছে তাকে দেখতে। উঠে বসতে চাইলে সাব্বির ধরে বসিয়ে পিঠের নিচে বালিশ দেয়।

~ এখন কেমন লাগছে? (সাব্বির)
~ ভালো। তোরা আবার কষ্ট করে কেন এলি। (তূর্য)
~ মাইর খেলে বুঝবি কেন এসেছি। একটা খবর আছে।
~ কি?

~ আমরা কাল সকালে সোয়াট ল্যাক যাচ্ছি।
~ অনেক বিপদ কিন্তু। সাবধানে যাস।
~ হ্যাঁ।

সাজিয়ার দিকে তাকিয়ে সাব্বির বুঝতে পারে সাজিয়া কি ভাবছে। বাকিদের ইশারা দিয়ে সাব্বির বলে,
~ তূর্য আমাদের কিছু কাজ আছে। কাল যেতে হবে বুঝতেই পারছিস। তুই নাস্তা গুলো খেয়ে নে। সাজিয়া তুমি তূর্যকে খাবার গুলো দাও। বাকিরা চল অনেক কিছু রেডি করতে হবে।

~ তূর্য দেখিও নাস্তা খেতে গিয়ে অন্য কিছু খেয়ে নিও না। (জিসান)
~ অন্য কিছু মানে? (তূর্য)
~ আরে কিছু না। এটার মাথার তার একটা ছেড়াঁ আছ তাই এসব বলে। গেলাম আমরা। (জিসানের মুখ চেপে ধরে বলে সাব্বির)

সবাই কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতেই সাজিয়া টিফিন বক্সটা খুলে প্ল্যাটের মধ্যে স্যাইন্ডুজ আর আলুর পরোটা বের করে তূর্যের দিকে প্ল্যাট দুটো দেয়। তূর্য প্ল্যাটের দিকে তাকিয়ে বলে,

~ ক্ষুদা লেগেছে কিন্তু খাওয়া সম্ভব না।
~ কেন?

~ এক হাতে স্যানাইল অন্য হাতের এক আঙ্গুল কাটা। খাওয়া যাবে এভাবে? সাব্বিরটাও এখনই যাওয়ার ছিল।
~ ওহ। এখন?

~ কিছু মনে না করলে তুমিই খাইয়ে দাও। যদি তোমার সমস্যা না থাকে।
~ ঠিক আছে।

~ দাড়িয়ে খাওয়াবে নাকি? বিছানায় বসো।
~ ওহ হ্যাঁ।

সাজিয়া খাইয়ে দেয় তূর্যকে। তূর্য চুপ করে খেয়েই যাচ্ছে কোনো কথা বলছে না। সে তাকিয়ে আছে সাজিয়ার চোখের দিকে। সাজিয়ার চোখের কাজলটা একদম তার মন মতো দেওয়া। যেমনটা সে তার আকাঁ ছবি গুলোতে কাজল দিতো। তূর্যকে খাইয়ে দিয়ে উঠতেই সাজিয়ার হাত ধরে তূর্য।

~ সাবধানে যেও কাল। জায়গাটা অনেক বিপদজনক। নিজের ব্যাচ সব সময় সঙ্গে রেখ।
~ হ্যাঁ।

রাত ২টা ১৫ মিনিট

ঘুম নেই সাজিয়া আর তূর্যের চোখে। চোখ বন্ধ করলেই সাজিয়া চোখে ভেসে উঠে তূর্যের মুখ। আর তূর্যের চোখে ভেসে উঠে সাজিয়ার মায়াবী কাজল কালো চোখ।

পরদিন সকাল ৭টা

যাবার জন্য প্রস্তুত তারা সবাই। গাড়ির কাছে সবাই দাড়িয়ে কিন্তু সাব্বিরেক খবর নেই। কিছুক্ষন পর সাব্বির গাড়ির চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে বেরিয়ে এলো।

~ দাও। (জিসান)

~ কি দেব? (সাব্বির, )
~ ন্যাকামো। বুঝতে পারছ না?
~ গাড়িতো আমিই ড্রাইভ করবো।
~ জেদ ধরছো?
~ ভেবে দেখ। নয় তো
~ নয় তো গ্যারেজ থেকে সোজা ভাঙ্গাচুড়ার দোকানে পৌছে যাবে।


১৫তম পর্ব

জিসানের সঙ্গে আর কথা না বাড়িয়ে চাবিটা সাব্বির জিসানকে দিয়ে দেয়। গাড়িতে সবাই উঠবে তখনই সাজিয়া বলে,
~ তূর্য কি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের বাসায় যাবে?

~ হ্যাঁ তূর্যকে বলেছিলাম এখানে আসতে। কিন্তু সে বললো সে তার বাসাতেই থাকবে। আর বাসায় তো বাবা আর তূর্য থাকতো। এখন তূর্য একাই থাকবে। তাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না তোমাকে।

এই বলে মিটি মিটি হাসে সাব্বির। জিসান গাড়ি স্টার্ট করে। রাস্তা দিয়ে হাওয়ার মতো চলছে গাড়ি। ভাঙ্গাচুরা রাস্তাতেও একটুও ঝাকোনি হচ্ছে না এই গাড়িতে। এসির বাতাসে একদম ঠান্ডা হয়ে আছে গাড়ি। সিট গুলোও খুবই আরাম দায়ক।

~ অনেক মজা লাগছে ড্রাইভ করতে। (জিসান)
~ থ্যাঙ্ক ইউ। (সাব্বির)

বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিট
সোয়াট ল্যাক এলাকায় পৌছে তারা। নির্জন একটা এলাকা। কোনো রকম পরিচর্চা ছাড়াই অপরূপ ভাবে প্রাকৃতিক ছোয়ায় ভরে আছে চারপাশ। ল্যাকের ধারে ছোট ছোট গাছ আর সুন্দর সুন্দর ফুল।

ফুর ফুরে ঠান্ডা বাতাসে যেন প্রাণ জুড়ে যায়। জিসান গাড়িটা লোক চুক্ষের আড়ালে পার্ক করে রেখে দেয়। তারপর একটা ছোট হোটেলে সবাই যায় কিছু খাওয়ার জন্য।

হোটেলটি দেখতে ছোট। কিন্তু কাস্টমারদের অভাব নেই। তারা যেতেই তাদের একটি টেবিলের কাছে নিয়ে যায়। তারা হালকা নাস্তা আনতে বলে তাদের জন্য।

আশপাশের মানুষদের দেখে বুঝা যাচ্ছে তারা বেড়াতে এসেছে। এতো মানুষ। কিন্তু ল্যাকের এলাকাটা এতো নির্জন কেন? এর মধ্যে একটি ছেলে তাদের খাবার নিয়ে আসে। ছেলেটির বয়স বেশি নয়। ১৪ কি ১৫ বছর হবে। ছেলেটি তাদের টেবিলে খাবার রাখতেই জিসান ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করে,
~ তোমার নাম কি? (জিসান)
~ আমার নাম অনিক।

~ আচ্ছা অনিক এই হোটেলে তুমি কত দিন হলো কাজ করবো?
~ ৪/৫ বছর তো হবেই।
~ তাহলে তো তুমি এ এলাকা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানো।
~ হ্যাঁ জানি তো।

~ তাহলে আমাদের বলতো ল্যাকের পাড়ে কোনো মানুষ নাই কেন?

~ কেন সাহেব? কি হইছে?
~ তেমন কিছু না। ঘুরতে এসেছিলাম আমরা কিন্তু ঐ দিকটা নির্জন থাকায় ভয় লাগছিল তাই চলে এলাম। ঐদিকে কি কেউ ঘুরতে যায় না?

~ যায় তো। কিন্তু বিকেল ৪টার পর আর কেউ থাকে না।
~ কেন?

~ ভূতের ভয়ে সাহেব। ঐদিকে বিকেল ৪টার পর কেউ গেলে আর ফেরত আসে না। আর রাতে তো ঐ জঙ্গল থেকে অনেক রকম শব্দ আসে।
~ দিনের বেলা কোনো শব্দ পাওয়া যায় না?

~ কি যে বলেন সাহেব। দিনের বেলা কি ভূত থাকে নাকি। আমার মালিক বলেছে ঐ জঙ্গলে নাকি একটা বাড়ি আছে। ঐ বাড়িতে আগে যারা থাকতো তাদের কারা যেন খুন করে জঙ্গলে ফেলে গিয়েছিল। তখন থেকেই রাতে শব্দ শুনা যায়। কেউ ল্যাকের পাড়ে বিকেলে গেলে ফিরে আসে না। আর দিনের বেলা জঙ্গলে গেলেও ফিরে আসে না।

~ ঠিক আছে তুমি যাও।
~ আচ্ছা সাহেব।
~ শুনো।

~ জ্বী?
~ এটা নাও। (১০০০টাকার নোট দিয়ে)
~ আপনাদের খাবার বিল আপনারা যাবার সময় মালিকের কাছে দিবেন। আর আপনাদের বিল তো এতো টাকা না।

~ এটা বিল না। তোমাকে আমাদের পছন্দ হয়েছে। এটা তোমাকে গিফট করলাম। নাও।

খুশি হয়ে টাকাটা নিয়ে চলে গেল অনিক। অনিক চলে যেতেই সাব্বির বলে,

~ ভালোই ফন্দি করেছে মানুষদের দূরে সরানোর জন্য। (সাব্বির)
~ ছেলেটির কথা অনুযায়ী রাতে জঙ্গল থেকে শব্দ আসে। এর মানে আমরা আমাদের শিকার রাতেই খুজেঁ পাবো। একে খুজতে আমাদের রাতেই বের হতে হবে। (ফারাবী)

~ সন্ধ্যা হতে বেশি দেরি নেই। একটু পরই অন্ধকার হয়ে যাবে। (পিউ)

~ জঙ্গলে গিয়ে গাছে বসে থাকলে কেমন হয়? (সাব্বির)
~ বান্দর (জিসান)
~ জিসান তুমি আবারও শুরু করেছ। মার খাবে কিন্তু। (সাব্বির)

~ এখন আলুর পরোটা খাচ্ছি। তোমার মার অন্য একদিন খাবো। যেদিন খাওয়ার কিছু থাকবে না। (জিসান)
~ উফফফফ

চেয়ারে হেলান দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে সাব্বির। জিসান আরও কিছু বলতে যাবে তখনই আশ পাশ ভালো করে দেখে চট করে কিছু জাল ছুড়ে মারে জিসানের ঠোটেঁর দিকে। জাল গুলো টেপের মতো লেগে যায় জিসানের ঠোটেঁ।

ঠোটঁ গুলো লেগে যাওয়ায় আর কোনো কথা বলতে পারে না জিসান। এসব দেখে হাসতে থাকে বাকিরা। এমন সময় সাব্বিরের ফোন বেজে উঠে। পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে তূর্য ফোন করেছে। ফোন রিসিভ করে সাব্বির

~ হ্যালো তূর্য। কি খবর?

~ এইতো ভালো। তোরা পৌছেঁ গিয়েছিস?
~ হ্যাঁ কিছুক্ষন আগেই পৌছালাম। পেশার কুকারের শব্দ আসছে। তুই কোথায়?
~ বাসায় চলে এসেছি। রান্না করছি।
~ বাসায় গিয়েছিস? কখন?

~ সকালেই। সুস্থ হয়ে গেলাম তো থেকে কি করবো হাসপাতালে। তাই জোর করেই চলে এলাম। থানায় গিয়ে মামলাও করে এলাম।
~ কি বলিস?

~ হ্যাঁ রে। কষ্ট হলেও করতে হলো। বাসায় এসে বাবার রুমে গিয়েছিলাম। একটা ম্যাপ পেলাম টুকরো টুকরো করা। আমি সেগুলো জোড়ে দেখলাম। সোয়াট ল্যাকের পেছনের জঙ্গলের ম্যাপ এটা। একটা জায়গায় মার্ক করা আছে। আর সেটার নিচের দিকেও মার্ক করা। বুঝতে পারছি না আর কি বুঝাচ্ছে এটাতে। আমি তোকে এমএমএস করছি। তুই দেখে নে।

~ অনেক কাজের একটা জিনিস পেয়েছিস। থ্যাঙ্ক ইউ।
~ ওয়েলকাম। আর শুন। তোরা সবাই ভালো আছিস তো?
~ হ্যাঁ হ্যাঁ। সবাই ভালো আছে। সাজিয়াও ভালো আছে।
~ এই! আমি কখন সাজিয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলাম?
~ না বললেও বুঝি।
~ হ্যাঁ তুই তো বেশি বুঝিস। আমি এমএমএস পাঠাচ্ছি। দেখে নে। বাই।
~ ওকে বাই।

ফোন রাখার কিছুক্ষন পর সাব্বিরের ফোনে এমএমএস আসে। অন করে দেখে একটা ম্যাপের ছবি। ম্যাপ দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে টেপ দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে।

ম্যাপটির মাঝে যে জায়গায় মার্ক করা সেটি হলো পোড়া বাড়ি। আর নিচের দিকে যে মার্ক তা হলো বাড়িটির নিচের দিক। তার মানে বাড়িটির মাটির নিচে কোনো এমন জিনিস আছে যার অনেক মূল্যবান। সেজন্য মার্ক করা হয়েছে সেই জায়গাটিতে।

মাগরিবের আজান পড়লো। আশপাশ তাকিয়ে দেখে হোটেলটির সব কাস্টোমার চলে গিয়েছে। সেই ছোট্ট অনিক এগিয়ে আসে তাদের দিকে।

~ আপনারা কি এখন চলে যাবেন?
~ কেন? (ফারাবী)
~ মালিক হোটেল বন্ধ করবে।
~ আচ্ছা তুমি যাও। (সাব্বির)

ক্যাশে টাকা দিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। হোটেল থেকে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে মোবাইলের সেই ম্যাপটি দেখছে তারা। হঠাৎই কিছু একটা গর্জন করে উঠে। গর্জনে কেপেঁ উঠে চারপাশ। ছোট ছেলেটি দৌড়ে এসে হোটেলের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়।

আশপাশে ভালো করে তাকায় তারা। কোনো কাক পক্ষীও নেই। পকেট থেকে ব্যাচ গুলো বের করে যে যার ব্যাচ পড়ে নেয়। তারপর ছুটে যায় জঙ্গলের দিকে। জিসান কিছু দূর দৌড়ে দাড়িয়ে আশপাশ দেখে আবার দৌড়ে আরও ভেতরে যায়।

পিউ আর সাব্বির তাদের জুতার সাহায্যে গাছের ফাকে ফাকে উড়ে যাচ্ছে। সাজিয়াও তার শক্তি ব্যবহার করে উড়ে যাচ্ছে। ফারাবী গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে জাল ছেড়ে সামনে এগুচ্ছে। এক গাছ থেকে অন্য গাছে জাল ছুড়ে যাওয়ার সময় কিছু একটার মধ্যে পা আটকে মাটিতে পড়ে যায় ফারাবী। ফারাবী পড়ে যেতেই সবাই ছুটে আসে তার কাছে।

~ ফারাবী ঠিক আছ? (জিসান)
~ হ্যাঁ ঠিক আছি। ওই দিকটায় কিছু আছে। আমার পায়ে আটকে আমি পড়ে গিয়েছি।
~ আমি দেখছি। (পিউ)

পিউ জুতার সাহাযে সেখানে উড়ে যায়। ভালো করে তাকিয়ে দেখে কিছু তার গাছের মধ্যে পেচিয়ে আছে। বাকিদের ডেকে সেই তার গুলো পিউ দেখায়। আরও ভালো করে দেখে তারা।

এই তার সমস্ত জঙ্গলেই ছড়ানো আছে। গাছে মধ্যে যে তার গুলো আছে সেগুলো গাছের উপর দিকে যাচ্ছে। গাছে পেচানো তার গুলো অনুসরন করে উপরে উঠতেই তারা দেখে গাছের উপরের ডাল গুলোতে মাইক লাগানো। আর সেই মাইক থেকেই আসছে ভয়ঙ্কর শব্দ গুলো।

এবার তারা গাছের উপর লাগানো মাইক গুলোর তার অনুসরন করে নিচের দিকে নামতে লাগলো। গাছের চিপাচাপা ঝোপ ঝাড় পেরিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই তারা। যত যাচ্ছে ততই তারের সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে সমস্ত জঙ্গল জুড়ে মাইক লাগানো হয়েছে আর সেই সকল মাইক কন্ট্রোল হচ্ছে এক জায়গা থেকে। যেতে যেতে অনেক ভেতরে চলে এসেছে তারা।

কিন্তু তাদের সঙ্গে জিসান নেই। সে হয়তো আগেই এসে পৌছে গিয়েছে। আর একটু সামনে যেতেই দেখে জিসান একটা গাছের আড়ালে দাড়িয়ে আছে। জিসানের কাছে গিয়ে দাড়ায় সবাই।

~ সামনে একটা টিনের ঘর। মনে হয় এখান থেকেই সব মাইক কন্ট্রোল হচ্ছে। (জিসান)
~ এটাই কি সেই পোড়া বাড়ি?

(পিউ)
~ না। এটা বেশি পুরনো লাগছে না। আর এটা সেই জায়গা না যেটা ম্যাপে মার্ক করা ছিল। (সাব্বির)

হঠাৎই ফারাবী উপরে এদিক সেদিক কিছু জাল ছুড়ে মারতে লাগলো ফারাবী। বাকিরা লক্ষ্য করে দেখে ফারাবী ক্যামেরা গুলোতে জাল ছেড়ে ঢেকে দিয়েছে।

~ এই পাশেই শুধু ক্যামেরা লাগানো আছে। এর মানে কি? (সাজিয়া)

~ এখানে যাদের সাউন্ড কন্ট্রোলের কাজ দেওয়া হয়েছে তারা যেন পালিয়ে না যায় তাই তাদের উপর নজর রাখতে এই ক্যামেরা। এই ক্যামেরা মনে হয় যেখানে ডরবিন রয়েছে সেখানের সাথে যুক্ত। (সাব্বির)

~ চল ভেতরে যাওয়া যাক। (সাজিয়া)
~ খুব সাবধানে যেতে হবে। এখানে আসা যাওয়ার পথ এত সহজ হবে বলে মনে হয় না।

(পিউ)
~ আচ্ছা তোমরা দাড়াও আমি এক চুটকিতে এই জায়গা পার হয়ে দেখে আসছি কোনো কোনো সমস্যা আছে কি না।

এই বলে জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে দৌড়ে সেই ঘরটির কাছে যেতে চায়। কিছুটুকু যেতেই ছিটকে দূরের এক গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে জিসান।


১৬তম পর্ব

মাটিতে পড়ে আছে জিসান। সবাই ছুটে যায় জিসানের কাছে। ফারাবী জিসানের মাথা থেকে হেলমেট খুলে দেয়। পিউ আর সাব্বির ধরে বসায় তাকে। নিজের মাথায় হাত রেখে ঝাড়া দেয় জিসান।

~ কি হয়েছে জিসান? তুমি এভাবে ছিটকে পড়লে কেন? (সাজিয়া)

~ ওখানে কারেন্ট আছে। এই ঘরটা বাওন্ডোরি দেওয়া হয়েছে কারেন্ট দিয়ে। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না। (জিসান)

~ তাহলে তো এখন একটাই উপায় আছে। (পিউ)
~ হ্যাঁ। আমাদের জঙ্গলের উপর দিয়ে এই কারেন্টের সীমান্ত পার করে ভেতরে যেতে হবে। (সাব্বির)
~ কিন্তু আমি কিভাবে যাবো? (জিসান)
~ তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাবো। (সাব্বির)
~ ছিঃ ছিঃ বলে কি? (জিসান)

~ কথা কম কাজ বেশি। হেলমেটটা পড় আর আমার জুতার উপর দাড়িয়ে আমারে ধরো। (সাব্বির)
~ এই মাত্র বললে কোলে করে নিয়ে যাবে। এখন বলো তোমার পায়ের উপর দাড়াতে। (জিসান)
~ উফ জিসান। এই সিরিয়াস সময়েও তুমি দুষ্টুমি করছ? (পিউ)
~ ওকে ওকে আর করবো না।

ফারাবীর হাত থেকে হেলমেটটা নিয়ে পড়ে নেয় জিসান। তারপর মাটি থেকে উঠে সাব্বিরের পায়ের উপর উঠে দাড়িয়ে তাকে শক্ত করে ধরে। চোখ বন্ধ করে নেয় জিসান। অন্যের উপর নির্ভর করে শূণ্যে উড়তে আসলেই ভয় করে। যদি সামান্য এদিক সেদিক হয় তাহলে একদম নিচে পড়ে হাড়গুড় শেষ।

আস্তে আস্তে উপরে উঠতে থাকে সাব্বির আর জিসান। উপরে উঠে জঙ্গলের গাছের উপর উঠে যায় তারা দুজন। এরপর পিউ আর সাজিয়া উড়ে এসে তাদের পাশে শূণ্যে দাড়ায়।

ফারাবী নিচ থেকে গাছের চূড়ায় জাল ছুড়ে এক লাফে উপরে উঠে কয়েক হাত দূরে গিয়ে মাটিতে নামে। ফারাবীর এই কান্ড দেখে তারা সেদিকে গিয়ে দেখে ফারাবী সেই কারেন্টের বাওন্ডোরি পেরিয়ে ভেতরে দাড়িয়ে আছে। উপরে তাকিয়ে তাদের দেখে হাত দিয়ে ইশারায় নিচে নামতে বলে ফারাবী। ফারাবীর কথায় বাকিরাও নিচে নেমে আসে।

মাটিতে নামতেই জিসান সাব্বিরের জুতার উপর থেকে নিচে নেমে দাড়ায়। জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে দৌড় দিয়ে টিনের ঘরটির জানালার নিচে গিয়ে বসে। আস্তে করে জানালার ভেতরে তাকায় জিসান। ভেতরে ১৫/১৬ জন লোক বসে আছে। কেউ কেউ মিউজিক প্লেয়ারের মধ্যে এক একটা সিডি ঢুকাচ্ছে আর বাইরের মাইকগুলোতে ভয়ঙ্কর শব্দ হচ্ছে। আর কয়েকজনের হাতে বন্দুক।

জিসান সেখান থেকে ফিরে আসার সময় একটা খালি ক্যান তার পায়ে লেগে ছিটকে পড়ে পাথরের উপর। পাথরের গায়ে ক্যানের বাড়ি লাগতেই শব্দ হলো।

এতক্ষনে জিসান সাব্বিরদের কাছে ফিরে এসেছে। তাদের সব জানাতেই দেখে ক্যানের শব্দ পেয়ে ঘরটি থেকে পাচঁ ছয় জন বন্দুক হাতে বেরিয়ে আসে। জিসানদের দেখেই লোক গুলো বন্দুক তাক করে তাদের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে ফারাবী জাল ছেড়ে তাদের হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেয়।

ফারাবীর এই কান্ড দেখে লোক গুলো ভয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এবার সোজা ভেতরে গিয়ে ঢুকে জিসানরা। ভেতরে ঢুকতেই তাদের দিকে বন্দুক তাক করে বাকিরা। একই ভাবে ফারাবী আর পিউ তার চোখের শক্তি ব্যবহাক করে তাদের হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেয়। এবার লোক গুলো তাদের উপর খালি হাতেই ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় তুমুল ফাইট।

এক্স ফাইভ তাদের শক্তির কোনো রকম ব্যবহার না করেই তারা সাধারন ভাবেই ক্যারাটে চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায় ফারাবী জাল ছাড়ে সেই লোক গুলোর পায়ের দিকে। তারপর হেচকা টানে মাটিতে ফেলে দেয় তারপর জাল দিয়ে তাদের আষ্ঠে পিষ্ঠে বেধেঁ ফেলে।

এদিকে ক্যামেরায় কিছু দেখতে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে আরও কিছু লোক বন্দুক হাতে এগিয়ে আসতে থাকে সেই টিনের ঘরের জায়গায়। তারা আসার আগেই ফারাবী শুকনো পাতা মাড়ানোর মচ মচ শব্দ শুনতে পায়।

~ কয়েকজন এদিকেই আসছে। (ফারাবী)
~ কারা হতে পারে? (সাজিয়া)
~ এই জঙ্গলে ডরবিনের চেলা পেলা ছাড়া আর কারাই বা ঘুরে বেরাবে বল? (জিসান)

এবার বাকিরাও সেই মচ মচ শব্দ শুনতে পায়। তারা খুব কাছাকাছি এসেছে। এক্স ফাইভের সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আড়ালে লুকিয়ে যায়। হঠাৎ দেখা যায় ৬/৭ জন লোক দৌড়ে দৌড়ে আসছে হাতে বন্দুক নিয়ে। কিন্তু এ কি! তারা সেই কারেন্টের বাওন্ডোরি অনায়াসেই পার করে সেই অজ্ঞান লোক গুলোর কাছে চলে আসে। এবার এক্স ফাইভ তাদের শক্তি ব্যবহার করে সএই
লোকগুলোকে ঘিরে ফেলে।

~ এই তোমরা কারা?

~ আমরা এক্স ফাইভ। ডরবিন কোথায়? (জিসান)
~ এখানে আসা নিষেধ তোমরা কি জানো না?
~ আমাদের জন্য কোনো নিষেধ নেই। ভালোয় ভালোয় বলো ডরবিন কোথায়। নয় তো (ফারাবী)
~ নয় তো কি?

এই বলেই তাদের দিকে বন্দুক তাক করে লোক গুলো। সঙ্গে সঙ্গে পিউ হাতের শক্তিতে আগুনের গোলা ছুড়ে মারে তাদের দিকে। সাজিয়া দুজন লোককে ঘাড়ে ধরে শূণ্যে উঠে যায়। আর লোক দুজন ভয়ে চিৎকার করতে থাকে।

~ ডরবিন কোথায়? (সাজিয়া)
~ আমরা জানি না। আমরা জানি না কিছু।
~ শেষ বার জিজ্ঞাসা করছি। এখনও যদি উত্তর একই থাকে তাহলে এখান থেকে সোজা নিচে ফেলে দেবো।

নিচে পড়লে কি হবে বুঝতে পারছ নিশ্চই। (সাজিয়া)
~ বলছি বলছি। ডরবিন জঙ্গলের উত্তর দিকে যে পোড়া বাড়ি আছে সেখানেই তিনি আবিষ্কার গুলো রেখেছেন এবং সেখানেই নতুন নতুন আবিষ্কার করা হচ্ছে। তবে তিনি কোথায় থাকেন দেখতে কেমন কিছু জানি না আমরা। সত্যি বলছি।

~ যার জন্য কাজ করিস তাকেই তোরা চিনিস না? আমাদের বোকা বানাচ্ছিস? ছেড়ে দেবো নিচে এখন? (সাজিয়া)

~ না না আমরা সত্যি কখন দেখি নি ডরবিনকে।
~ সাজিয়া নিচে নেমে এসো। ওরা সত্যি বলছে। (সাব্বির)

সাব্বিরের কথায় সাজিয়া দুজনকে নিয়ে নিচে নেমে আসে।

~ তোমরা ডরবিনকে দেখ নি। তার আস্থানায়ও যাওনি কখনও। শুধু শুনেছ সে কোথায় আবিষ্কারের আস্থানা বানিয়েছে। তাই তো?(সাব্বির)
~ হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক তাই।

~ তোমরা যেখান থেকে এসেছ সেখানে আমাদের নিয়ে চল। (সাব্বির)
~ ঠিক আছে। নিয়ে যাচ্ছি।

এক্স ফাইভকে সঙ্গে নিয়ে সেই লোক গুলো তাদের আস্থানার দিকে যায়। কিছু দূর যেতেই দেখা যায় আগের ঘরের মতো আরো একটি টিনের ঘর। সেই ৬/৭জন লোককে সাজিয়ার কাছে রেখে সেই ঘরে ঢুকে বাকিরা।

ঘরে ঢুকেই সমস্ত ঘর বাতাসের গতিতে লন্ড ভন্ড করে দেয় জিসান। ঘরের ভেতর থাকা ৫জন লোক ভয় পেয়ে যায়। বেরুতে গেলেই তাদের ধরে ফেলে পিউ আর সাব্বির। তারপর তাদের ঘরের বাইরে সাজিয়ার কাছে বন্দি রাখা লোকগুলোর কাছে নিয়ে যায়।

~ এই জঙ্গলে কেউ এলে সে আর ফেরত যায় না। কেন? (ফারাবী)
~ ভূতে খেয়ে নেয় তাদের।
~ সেই ভূতটা কে? (জিসান)
~ জানি না।

পিউ তার হাতের শক্তি ব্যবহার করে ডান হাতে আগুনের গোলা নিয়ে তাদের মাথার উপর ধরে। আগুনের তাপে তাদের চুল পোড়তে শুরু করে।

~ এখনও কি মনে হয় নি কে সেই ভূত? (পিউ)
~ আমরা খুন করতাম তাদের। ডরবিন বলেছিল যে বা যারা এই জঙ্গলে আসবে তাদের খুন করে মাটিতে পুতে ফেলতে। যাতে ভয়ে আর কেউ জঙ্গলে না আসে।
~ ছিঃছিঃ কত নিরীহ মানুষকে তোমরা খুন করেছ। (সাজিয়া)

~ কাদের কি বলছ সাজিয়া। এদের হাত থেকে তো ৭ বছরের বাচ্চাও রেহাই পায় নি। (সাব্বির)
~ তোদের তো এখানেই পুড়িয়ে মারা উচিত। (পিউ)
~ ডরবিনের সাথে তোমাদের দেখা না হলে ডরবিন তোমাদের সেই অর্ডার দিল কি করে? (সাব্বির)
~ ডরবিনের এসিস্টেন্ট বলেছিল।

~ এই ম্যাপটা কিসের? (পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখায় সাব্বির)

~ এটা পোড়া বাড়ির ম্যাপ। আর নিচের লাল দাগ গুলো হলো সেই বাড়ির নিচের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার নকশা।
~ বাড়ির নিচ দিয়ে কেন? (পিউ)
~ এই রাস্তা দিয়ে শহরে নিয়ে যাওয়া হয় সকল অদ্ভুত প্রাণীদের।

~ ওহ, এই কারনেই কেউ বলতে পারে না এই অদ্ভুত প্রাণী গুলো কিভাবে শহরের মধ্যে আসে।
~ আজ একটা প্রাণী এই নিচের রাস্তা দিয়ে যাবে। আমাদের বলা হয়েছে তারা ফোন করে না জানানো পর্যন্ত কোনো প্রকার শব্দ যেন আমরা না করি। আর মাটিতে চলাফেরা না করি।

~ এখন তো এখানে হাটা চলা করছিস তোরা। (ফারাবী)
~ তারা যখন প্রাণীটাকে রাস্তাটাতে ছাড়বে তখন ফোন করে বলবে চলাফেরা আর কোনো রকম জোড়ে শব্দ যেন না করি আমরা।

~ তার মানে এই প্রাণীটির দুর্বলতা হলো উচ্চ শব্দ। ফোন কখন আসবে বলেছিল? (সাব্বির)
~ রাত ২টার দিকে।

~ এখন বাজে ১টা। চল ততক্ষন তোদের ভেতরে নিয়ে একটু খাতির যত্ন করা যাক।

এই বলে এক্স ফাইভ সবাইকে নিয়ে যায় সেই ঘরের মধ্যে। জিসানের ছিড়ে ফেলা টেলিফোন লাইন সাব্বির বসে বসে ঠিক করছে আর জিসানকে বকা দিচ্ছে।

~ জিসান তোমাকে কে বলল এভাবে ঘরটা লন্ড ভন্ড করতে? (সাব্বির)

~ কেন তোমার কি এখানে থাকতে ইচ্ছা হচ্ছে? (জিসান)
~ তোমার জন্য এখন আমাকে এই টেলিফোন ঠিক করতে হচ্ছে।

~ তুমি তো বিশ্ব ইঞ্জিনিয়ার। ইয়ে তো তোমারা বায় হাতকা খেইল হে।
~ আর তুমি হলে বিশ্ব শয়তান।

~ এই ডরবিনের চামচিকা। রাত ২টা বাজে যদি ফোন না আসে তাহলে এই মাকড়িকে দেখছিস তো। মাকড়ি মানে বুঝিস? মাকড়শা। মাকড়শা কিন্তু তেলাপোকার সম্পূর্ণ ভেতর খেয়ে বাইরের খোলসটা ফেলে দেয়। এই মাকড়শাও কিন্তু তোদের খেয়ে বাইরের চামড়া দিয়ে জুতা বানাবে। (জিসান)
~ মাকড়শাআআআ!

~ এত্তবড় একটা মাকড়শা তোদের সামনে বসে আছে চোখে দেখছিস না? চামচিকা তো রাতেই চোখে দেখে। (জিসান)
~ জিসান এখানের কাজটা আগে শেষ হোক। মাকড়শা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি সব তোমাকে বুঝিয়ে দেবো। (রাগ করে বলে ফারাবী)

জিসান ফারাবীকে কিছু বলতে যাবে তখনই টেলিফোনটা বেজে উঠে

~ এই সবাই চুপ করো। ফোন এসেছে। (সাব্বির)
~ এই চামচিকারা। ভালো করে ফোনে কথা বল। নয়তো জানিসই কি হবে। (জিসান)
~ আচ্ছা।

ফোন ধরে সেই লোকের মধ্যে একজন। ফোন লাউডে দিয়ে দেয় সাব্বির।
~ হ্যালো?

~ কি রে এতক্ষন কোথায় ছিলি। বলেছিলাম না ২টা বাজে ফোন দেবো? (ওপাশ থেকে)
~ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমরা একটু।

~ কিইইই তোদের পালা হচ্ছে কি ঘুমানোর জন্য? আজ স্যার তোদের রক্ত দিয়ে গোসল করবেন। শুন। এখন স্যারের নতুন আবিষ্কার মাটির নিচের রাস্তা দিয়ে যাবে। তোরা এখন একটুও শব্দ করবি না। কোনো স্টিলের জিনিসেও শব্দ করবি না। বলে দিলাম।
~ আচ্ছা স্যার। আচ্ছা।

ফোন রেখে দেয় লোকটি। ফোন রাখতেই ফারাবীকে সাব্বির বলে, এই চেলা পেলাদের একটা ব্যবস্থা কর ফারাবী। বলতেই ফারাবী ফস ফস করে জাল ছুড়ে সেই লোক গুলোকে পা থেকে গলা পর্যন্ত বেধে ফেলে। ঘর থেকে দুটো স্টিলের পাইপ হাতে নিয়ে একটা ওপরটার সঙ্গে বাড়ি দিতে দিতে ঘর থেকে বের হলো জিসান।

১৭তম পর্ব

স্টিলের পাইপ গুলোতে শব্দ করে খুব সুন্দর গানের সুর তুলেছে জিসান। সেই সুরের তালে তালে মাটিতে শব্দ করে মাইকেল জ্যাকসনের মতো ডান্স দিচ্ছে ফারাবী। শব্দ করে বেশ কিছু দূর চলে এলো তারা। হঠাৎই মাটি কেমন যেন কেপে উঠলো। দাঁড়িয়ে গেল সবাই। জিসানও তার পাইপের বাজনা বন্ধ করলো।

কিছুক্ষন পর মাটি কাপা বন্ধ হয়ে গেল। আচমকা জিসান হাতের পাইপ দুটোকে একে অপরের সাথে খুব জোরে আঘাত করলো। সঙ্গে সঙ্গে মাটি ফেটে বেরিয়ে এলো এক বিশাল আকৃতির সাপ। এটির শরীর আফ্রিকান হাতির মতো বড় আর লম্বা প্রায় ১৫ ফুট। সাপটির মুখের লালা পড়ে ঘাস, গাছ জ্বলে যাচ্ছে।

~ কি সাংঘাতিক! (সাজিয়া)
~ ওর নাচ দেখ এবার। (জিসান)

জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে সাপটির চারপাশে দৌড়ে দৌড়ে পাইপ দুটি দিয়ে জোরে জোরে শব্দ করতে লাগলো। সেই শব্দে সাপটি বিকট ভাবে গর্জন করতে লাগলো আর ছটফট করতে লাগলো।

কোনো সাধারন সাপ এভাবে গর্জন করে না। কিন্তু এই সাপের গর্জনে কেপে উঠছে চারিদিক। এই সাপকে জবদ করার এই একটাই উপায়। স্টিলের শব্দ। হাজারো আঘাত এই প্রাণীটিকে শেষ করতে পারবে না।

জিসান বিভিন্ন তালে পাইপ দুটো দিয়ে বাজনা বাজাচ্ছে। অন্যদিকে ফারাবী আর সাব্বির কোথ থেকে স্টিলের মেন হোলের পুরনো ঢাকনা এনে সেই পাইপের তালে তালে ড্রামের মতো বাজাতে লাগলো।

এদিকে এতো শব্দে সাপটির প্রাণ যায় যায়। ছটফট করতে করতে গাছের উপর হেলে দুলে পড়তে লাগলো। আর গাছ গুলো মড় মড় করে ভাঙ্গতে লাগলো।

তখনই পিউ হাতের শক্তি ব্যবহার করে আগুনের গোলা ছুড়ে মারে সাপটির দিকে। কিন্তু কিছুই হয় না এতে। হঠাৎই জিসান তার হাতে থাকা পাইপ দুটোর একটি পিউর দিকে অপরটি সাজিয়ার দিকে ছুড়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে পাইপ দুটি তারা ধরে ফেলে তারপর সাপনির মুখের কাছে নিয়ে সজোড়ে আঘাত করে পাইপ দুটিতে। এতো কাছ থেকে শব্দটি সহ্য করতে পারে না সাপটি।

চোখ আর মুখ দিয়ে রক্ত চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় সাপটি। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও কয়েক বার শব্দ করে তারা। কিন্তু কোনো নড়াচড়া করে না সাপটি। এবার সবাই মিলে সাপটিকে ধরে কিছুটা ফাকা জায়গায় রেখে সেই জায়গায় যায় যেখান থেকে মাটি ফাটিয়ে বেরিয়ে এসেছিল এই সাপটি।

~ এই জায়গা দিয়ে বেরিয়ে ছিল সাপটি। এই নিচেই ছিল। (সাজিয়া)

~ চল ফাটলের ভেতরে গিয়ে দেখি। (পিউ)

সবাই এক এক করে ফাটলের ভেতর গিয়ে দাড়ায়। ঘুট ঘুটে অন্ধকার ভেতরে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

হেলমেটের ডান পাশে গ্লাসের উপরে একটা বাটোন আছে। ওটা ক্লীক করো। তাহলে অন্ধকারেও দেখতে পাবে।

সাব্বিরের কথায় সবাই ডান পাশের বাটোনটি ক্লীক করে। সঙ্গে সঙ্গে তারা আশপাশের সব আলোকিত দেখে। ফাটলের ভেতর বেশ চওড়া রাস্তা। একটি রাস্তা জঙ্গলের ভেতরের দিকে যায়। আর ফাটলটাও সেই রাস্তার মাঝ বরাবর। তার মানে সাপটি ভেতরের রাস্তা দিয়েই এসেছে। ভেতরের রাস্তা ধরে হাটতে থাকে তারা।

বেশ কিছু দূর যেতেই তারা মানুষের হইচই শুনতে পায়। হয়তো সেই সাপের গর্জনে তারা বুঝতে পেরেছে সাপটি জায়গা মতো পৌছানোর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। নিজের থেকেই শেষ হয়নি বরং কেউ শেষ করেছে এটিকে। আরও একটু সামনে এগুতেই তারা দেখে রাস্তা শেষ।

সামনে আর যাবার রাস্তা নেই। তাহলে এই রাস্তায় প্রাণী গুলো যায় কি করে? উপর দিকে তাকিয়ে দেখে মেন হোলের ঢাকনার মতো কিন্তু সাইজে বিশাল এক ঢাকনা। তার উপর দিয়ে যে মানুষ চলাচল করছে তা স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে। জিসান সাজিয়াকে ইশারা করতেই সাজিয়া নিচ থেকে এক ঘুষি মেরে ঢাকনা ভেঙ্গে উপরে উঠে আসে।

ঢাকনা ভাঙ্গতেই বাকিরাও উপরে উঠে আসে। তাদের দেখে উপরের মানুষ গুলো ঘাবড়ে যায়। তাদের সকলের পড়নে সাদা এপ্রোন। মাটির নিচের রাস্তা যে জায়গার উপর সেটি একটি বড় ল্যাব। অনেক ধরনের মেশিন, কম্পিউটার, ক্যামিকেল সেখানে রয়েছে।

সাব্বির তার শক্তি ব্যবহার করে সকলের মন পড়তে চেষ্টা করে।

~ ফারাবী ঐ পনেরো জনকে একটু ব্যবস্থা করো বাকিদের মতো। (সাব্বির)

সাব্বিরের কথায় ফারাবী চিহ্নিত করে দেওয়া সেই পনেরো জনকে জাল ছুড়ে বন্দি করে নেয়।

এটা দেখে বাকিরা খুব ভয় পেয়ে যায়। সাব্বির সবাইকে অভয় দিয়ে বলে,
~ আপনারা নির্দোষ আমরা জানি। যারা টাকার কাছে নিজেদের বিক্রি করেছে তাদের বন্দি করলাম। (সাব্বির)
~ আমাদের বাচানঁ আমরা নিরুপায় হয়ে এখানে কাজ করছি।
~ আমরা জানি। আপনারা কি জানেন ডরবিনকে কোথায় পাওয়া যাবে? (জিসান)

~ ডরবিন উনার সিক্রেট রুমে হবে।
~ সেটা কোন দিকে? (সাজিয়া)

~ উপরের তলায় একটা আলমারি আছে সেটির ভেতর একটা লক আছে সেটা ঘুরালে দেওয়ালের মাঝে একটা দরজা বেরুবে। সেটাই হলো সিক্রেট রুমের দরজা।
~ ঠিক আছে তবে আগে এটা বলুন এই মেশিন গুলোর ভেতর কি ঘুরছে এগুলো? (পিউ)

~ নতুন প্রাণী বানানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। আজ যে প্রাণী ছাড়া হয়েছে সেই প্রাণী জঙ্গলেই হয়তো মারা গিয়েছে। তাই ডরবিনের পার্টনার ডফয়সাল আমাদের আদেশ দিয়েছেন নতুন প্রাণী বানাতে।

~ এখনও একটা ইন্দুরকেই খুজে পেলাম না উপর থেকে নতুন আরেক ইন্দুর আসলো। কোথায় এই ডফয়সাল এখন? (জিসান)

~ ডরবিন উনাকে ডেকেছিলেন এর পর থেকে আর দেখিনি আমরা উনাকে।

~ আচ্ছা আমরাই খুজে নেব ডফয়সালকে। এখন আগে এই ল্যাবটা শেষ করি। (ফারাবী)

ফারাবী সেলফে রাখা ক্যামিকেলের বোতল গুলো জাল ছুড়ে টেনে টেনে মাটিতে ফেলে ভাঙ্গতে শুরু করে। জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে দৌড়ে গিয়ে এক একটা মেশিন ধাক্কা মেরে ফেলতে লাগলো।

পিউ তার হাতের শক্তি ব্যবহার করে আগুলের গোলা ছুড়ে মেশিন গুলো নষ্ট করতে লাগলো। সাব্বির আর সাজিয়া কম্পিউটার গুলোকে ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো করছে। এসব দেখে সেই রুমে উপস্থিত সবাই ভয় পেয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটেই সুন্দর ল্যাবটি ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে যায়। এবার তারা উপরে যায় ডরবিন ও তার পার্টনার ডফয়সালকে খুজতে। তারা তাদের শক্তি ব্যবহার করে উপরে উঠছে তখনই এক অদ্ভুত শব্দ তাদের কানে আসে।

বিষয়টি বুঝতে তারা দাড়িয়ে যায় মাধ পথেই। হঠাৎই তারের মতো কিছু একটা এসে পেচিয়ে ধরে তাদের গলায়। হেচকা টানে শূণ্যের মধ্যে গলায় ফাসি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের। সাব্বির আর পিউ তাদের জুতার সাহায্যে শূণ্যে ভাসতে থাকে যার ফলে শ্বাস নিতে তাদের কোনো সমস্যা হয় না।

সাজিয়াও তার শক্তি ব্যবহার করে শূণ্যে ভাসতে থাকে। কিন্তু বিপদ হলো ফারাবী আর জিসানের জন্য। জিসানের শক্তি দৌড়ানোতে আর ফারাবীর শক্তি জাল ছুড়তে। তাদের পক্ষে শূণ্যে ভেসে শ্বাস প্রশ্বাস ঠিক রাখা অসম্ভব। তারপরও শত চেষ্টা করে ফারাবী তার শক্তি ব্যবহার করে জালের সাহায্যে কিছুটা শূণ্যে উঠে শ্বাস নিতে পারছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো জিসানের ক্ষেত্রে।

সে কোনো ভাবেই নিজেকে সামলে নিয়ে শ্বাস নিতে পারছে না। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। মাথা থেকে টান দিয়ে হেলমেট খুলে ফেলে দিল জিসান। মুখ ঘামে ভিজে গিয়েছে। চোখ লাল হয়ে গিয়েছে তার। চুল গুলো ঘামে এমন ভাবে ভিজে আছে যেন এই মাত্র গোসল করে এসেছে সে। পিউ তার চোখের শক্তি ব্যবহার করে জিসানের পায়ের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকায়।

আস্তে আস্তে জিসানের পা গুলোর নিচে অদৃশ্য কোনো কিছু এসে তার পা গুলো নিজের উপর নিয়েছে মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে দাড়াতে পারছে জিসান। স্বাভাবিক ভাবে দাড়াতে পেরে জিসান গলার তার খুলতে যাবে তখনই সাজিয়াকে কিছু একটা আচমকা টান দিয়ে পানি ভর্তি বাথটবের ভেতর ফেলে দেয়। বাথটবটি যেমন উচু তেমন বিশাল।

বাথটবের ভেতরে পানি থই থই করছে। কিন্তু সাজিয়া উঠতে পারছে না।

হয়তো কিছু একটা সাজিয়াকে আটকে ফেলেছে। সাজিয়া পড়ে যেতেই পিউর দৃষ্টি জিসানের উপর থেকে সরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে জিসানের পায়ের নিচের সেই অদৃশ্য বস্তুটি সরে যায়। আবারও জিসান ঝুলে যায় তারের মধ্যে।

ফারাবী এক হাত দিয়ে নিজেকে বাচানোর জন্য জাল ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আছে আর অপর হাত দিয়ে বাথটবের ভেতর জাল ছুড়ে সাজিয়াকে তোলার চেষ্টা করছে।

কিন্তু বার বার ফারাবীর জাল ছিড়ে যাচ্ছে। কথায় আছে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। তাই সাব্বিরের মাথা এতক্ষন কাজ করছিল না। হঠাৎই তার মনে পরে একটা কথা। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে সাজিয়াকে বলে,

সাজিয়া তোমার হেলমেটের উপরের বাটোনে ক্লীক করো তাড়াতাড়ি।

কোনো রকমে কষ্ট করে সাজিয়া সেই বাটোনে ক্লীক করে। সঙ্গে সঙ্গে হেলমেটের ভেতর পানি ঢুকা বন্ধ হয়ে যায় আর ভেতরে অক্সিজেন আসতে শুরু করে। এবার যেন প্রাণ ফিরে আসে সাজিয়ার। কিন্ত সে এখনও উঠতে পারে না পানির ভেতর থেকে।

এদিকে পিউ আর সাব্বিরের জুতার মধ্যে হাজারো চুম্বক এসে তাদের নিচের দিকে টানতে শুরু করে। জিসানের দম বন্ধ হয়ে আসছে গলায় ফাস লেগে। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জিসান গলায় পেচিয়ে থাকা তার টেনে ছেড়ার চেষ্টা করে।

১৮তম পর্ব

তারের ঘর্ষনে আস্তে আস্তে জিসানের গলার চামড়া কাটতে শুরু করে। দু হাত দিয়ে গলা থেকে ছাড়াতে চেষ্টা করছে জিসান।

এদিকে পিউ আর সাব্বিরের পায়ের জুতায় লেগে থাকা হাজারো চম্বুকের শক্তিকে আশপাশের সকল স্টিল, লোহার জিনিস পত্র উড়ে এসে তাদের পায়ের সঙ্গে আটকাতে শুরু করে। আর তার ভারে নিচের দিকে টানতে থাকে তাদের শরীর। এই যাত্রায় তাদের মৃত্যু নিশ্চিত। যতই নড়াচড়া করছে অক্সিজেন ততই কমছে শরীর থেকে।

হঠাৎই বিকট শব্দ করে বাথটবটা ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে যায়। সাজিয়া তার শরীরের সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে বাথটবটি ভেঙ্গে ফেলে। বাথটব ভেঙ্গে যেতেই যে জিনিসটি সাজিয়াকে পানিতে আটকে রেখেছিল সেটিও ভেঙ্গে যায়। সাজিয়া উড়ে এসে চেষ্টা করে তাদের গলা থেকে তার গুলো খুলতে।

কিন্তু ব্যর্থ হয়। তার গুলো কিসের মধ্যে আটকে আছে সেটা দেখতে উপর দিকে তাকায়। পাইপের মতো লম্বা একটি দন্ডের সাথে ঝুলে আছে সেই তার গুলে। সাজিয়া সেই পাইপে হাত দিয়ে ধরে। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পাইপটা উপর থেকে ভেঙ্গে নিচে আনার চেষ্টা করছে।

এদিকে দম বন্ধ হয়ে বাকিরা মরার পথে। সাথীদের বাচাতে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পাইপ ভাঙ্গতে চেষ্টা করছে সাজিয়া। হঠাৎই পাইপ ছুটে যায়। পাইপটিকে কষ্ট করে ধরে সাবধানে নিচে নামিয়ে আনে সাজিয়া। সবার গলা থেকে তার খুলে দেয়। জিসানের গলার তার খুলতেই দেখে গলায় পেচিয়ে থাকা তার টুকু রক্তে লাল হয়ে আছে।

তার গলার বেশ কিছু খানি কেটে গিয়েছে তারে। এমনটা হয়েছে হেলমেট খুলে ফেলার কারনে। যদি হেলমেট না খুলতো তাহলে তার গলার চামড়ায় তারটি স্পর্শ করতে পারতো না। পিউ আর সাব্বির তাদের জুতায় লেগে থাকা চম্বুক গুলো খুলে ছুড়ে ফেলে দূরে। মাটি থেকে হেলমেট তুলে পড়ে নেয় জিসান। এবার সবাই উঠে সামনের দিকে পা বাড়ায়।

কিছু দূর যেতেই একটা করিডোর দেখতে পায় তারা। অতি সাবধানে সেই করিডোর পার করে সামনে যেতেই দেখে এক সারিতে ২০টি দরজা। এগুলো কি আসল দরজা নাকি তাদের জন্য রাখা কোনো ফাদঁ!

! জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে চোখের পলকেই ২০টি দরজাই খুলে ফেলে। দরজা খুলতেই তারা চমকে যায়। একই রকম করে সাজানো ২০টি রুম। কোনো প্রকার পার্থক্য নেই। প্রতিটা রুমের একই রকম আলমারি, একই রকম খাট, একই রকম ড্রেসিং টেবিল।

~ এগুলোর মধ্যে সেই রুমটি কোনটা যেটির মাঝে সিক্রেট রুমে যাওয়ার রাস্তা আছে? (পিউ)
~ এক এক করে সব গুলো রুম চেক করতে হবে। এমনিতে বুঝা যাচ্ছে না। ভেতরে না গেলে বুঝাই যাবে না কোনটা সেই আলমারি। (ফারাবী)
~ একটা জিনিস লক্ষ্য করেছ? (জিসান)
~ কি? (সাজিয়া)

~ সব গুলো রুম একই রকম সাজানো হলেও ১৫ নম্বর রুমের দেওয়ালে এই বিশাল ওয়াল মেটের মতো আর কোনো রুমে সেটি নেই। (জিসান)
~ তার মানে তুমি বলতে চাইছ এই ওয়ালমেটের কাছেই কোনো ক্লু পাওয়া যাবে? (সাব্বির)
~ হ্যাঁ। চল সেখানে গিয়ে দেখি।

সবাই ১৫ নম্বর রুমে গিয়ে ঢুকে। ওয়াল মেটের কাছে গিয়ে ফারাবী ওয়ালমেটটা সরায় দেওয়াল থেকে। একি! একটা

দরজা! তাহলে কি এটাই সিক্রেট রুমের দরজা! কিন্তু তাদের তো বলা হয়েছিল আলমারির ভেতর রাখা বাটোনে চাপ দিলে দরজা পাওয়া যাবে সিক্রেট রুমের। তারা কি মিথ্যা বলল?

দরজাটা খুলে সাব্বির। দরজা খুলতেই দেখে মাকড়শার জালে ভরা ধুলো জমানো একটা রুম। রুমে একটাও জিনিস নেই। শুধু এক কোনে পড়ে আছে একটা আলমারি। মাকড়শার জাল গুলো টেনে টেনে ছিড়ে সেই আলমারির কাছে যেতে লাগলো তারা।

আলমারির কাছে যেতেই জিসান আলমারিটা খুলে। আলমারির ভেতর একটা লাল বাটোন দেখতে পায় তারা। জিসান সেই বাটনটা চাপ দেয়।

সঙ্গে সঙ্গে খস খসে এক প্রকার শব্দ হতে শুরু করলো। আশপাশ তাকিয়ে তারা খুজতে শুরু করে সেই শব্দটি কোথ থেকে আসছে। হঠাৎই তাদের চোখ পড়ে রুমের এক পাশের দেওয়াল কেমন যেন ফাক হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সেই দেওয়ালের কাছে যায় তারা। সাজিয়া এক এক ঘুষি মেরে দেওয়াল গুড়ো গুড়ো করে ফেলে।

দেওয়াল গুড়ো গুড়ো হতেই তারা সামনে অনেক গুলো সিড়ি দেখতে পায়। সিড়ি বেয়ে নিচে নামতেই তারা একটা ছোট রুম দেখতে পায়। দরজা খুলে রুমে ঢুকতেই দেখে একটা লোক চেয়ারে বসে টেবিলে কাগজ পত্রে কি যেন লিখছে। তাদের দেখেই লোকটি ড্রয়ার থেকে পিস্তল বের করে তাদের দিকে তাক করে তাদের প্রশ্ন করে,
~ কে তোমরা?
~ এক্স ফাইভ। আপনাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছি। (ফারাবী, )

বলেই ফারাবী জাল ছুড়ে সেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেয়।

~ ডরবিন। অনেক তো খেলা হলো। এবার কি আরও খেলতে চান? (সাব্বির)
~ তোমরা কি চাও বল। কত টাকা চাও। (ডরবিন)
~ কি চাই জানতে চান? বললে কিন্তু দিতে হবে সেটি। (ফারাবী)

~ হ্যাঁ দিব। বল কি চাও।
~ আপনাকে ফাসিঁতে ঝুলতে দেখতে চাই। ড আঙ্কেল আমাদের মতো ছোট বাচ্চাদের ইচ্ছা পূরণ করবেন না? (জিসান)

~ দেখ এই নাও আমার চেক বুক। তোমরা তোমাদের ইচ্ছা মতো টাকার অংক বসিয়ে নাও। কিন্তু আমাকে ছেড়ে দাও।

~ এই সাব্বির এই ড আঙ্কেল তো বাংলা ছবির ডায়লগ দিতে শুরু করলেন। কি করি বলতো? (জিসান)
~ সেটাই ভাবছি ভাই। আচ্ছা এই দায়িত্বটা আমি ফারাবীর উপর দিলাম। ফারাবী তুমিই ঠিক করো কি করা যায়। (সাব্বির)

~ কি আর করা যাবে উনাকে সাদা জালের ব্যান্ডেজে মুড়ানো যাবে আর কি।

বলেই ফারাবী জাল ছুড়ে বন্ধি করে নেয় ডরবিনকে।
~ – ডকাকু টাকলু কাকু আপনার পার্টনার ডফয়সাল কোথায়? (জিসান)

~ আমি জানি না। আমি তাকে অনেক্ষন ধরে দেখি নি।
~ পাখি উড়াল দিল না কি রে? (জিসান)
~ আমারও তাই মনে হচ্ছে। সাজিয়া পিউ তোমরা একটু দেখ ডফয়সাল কোথায় আছে। (সাব্বির)
~ ঠিক আছে।

আশপাশটা তন্ন তন্ন করে খুজে পিউ আর সাজিয়া। কিন্তু কোথাও ডফয়সালকে পাওয়া যায় না। তার মানে পালিয়েছে। বাকিদের কাছে ফিরে আসে পিউ আর সাজিয়া।

~ পালিয়েছে। (পিউ)
~ হওয়ারই ছিল। বিপদ দেখে পিঠ বাচিয়ে পালিয়েছে। (সাব্বির)
~ এবার কি করবো? (সাজিয়া)
~ কি আর করবো। এই ড কাকুকে নিয়ে উনার সকল চেলা পেলার সাথে আটকিয়ে পুলিশ আনবো। চল। (জিসান)

ড রবিনকে নিয়ে নিচে গিয়ে ল্যাবে যাদের ফারাবী বন্ধি করে ছিল তাদের কাছে নিয়ে
বেধে ফেলল ফারাবী। অন্যান্য মাকড়শার জাল সহজেই ছেড়া গেলেও এই হিউম্যান স্পাইডারের জাল দড়ির থেকেও শক্ত ভাবে তাদের পেচিয়ে ধরেছে।

~ এই চিংনুকে মিংনু তোদের মাটির নিচে দিয়ে ইদুরের রাস্তা ছাড়া আর কোনো রাস্তা আছে বাইরে যাওয়ার? এই বাড়ির আসল দরজা কোথায়? (জিসান)
~ ঐ সেলফের পেছনে। (ডরবিন)
~ কত সুন্দর দরজাকে কি বানিয়েছে শয়তান গুলা। (জিসান)

জিসান সেলফটা সরিয়ে দরজাটা খুলার চেষ্টা করে। অনেক দিন ব্যবহার না করায় জাম হয়ে গিয়েছে এটি। কিছুক্ষন চেষ্টা করতেই দরজাটা খুলে গেল। কিন্তু অনেক গাছ আর ঘাসের কারনে এই জায়গাটা কেমন যেন হয়ে আছে। তবে এই রাস্তা দিয়ে যদি কেউ বের হয় তাহলে সে সহজেই সম্পুর্ণ জঙ্গল দেখতে পারবে। এখানে দাড়িয়েই সেই সাপকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

~ সাজিয়া চল আমার সাথে। পুলিশ নিয়ে আসি। আর আপনারা চিন্তা করবেন না। আপনাদেরকে পুলিশ আপনাদের পরিবারের কাছে পৌছে দিবে। (জিসান)

জিসান সাজিয়াকে নিয়ে তাদের শক্তি ব্যবহার করে পুলিশের কাছে যেতে বেরুলো। এদিকে এখন ফক ফকা দিনের আলো জঙ্গলে ঢুকছে। জঙ্গলের শেষ সীমানার কাছা কাছি যেতেই তারা লোকজনের কথা শুনতে পেল। তারমানে অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে। ল্যাকের পাড়ে মানুষ বেড়াতে চলে এসেছে।

হঠাৎই জঙ্গলের গাছ আর ঘাস নড়ে উঠতেই সবাই চমকে উঠলো। সু করে জঙ্গলের ভেতর থেকে উড়ে বাইরে বেরিয়ে এলো সাজিয়া। আর জিসান তো বাতাসের মতো ছুটে যাচ্ছে। তাকে কেউ দেখতে় পেল না। ল্যাকের পাড়ে ঘুরতে আসা সবাই অবাক হয়ে দেখে সাজিয়াকে উড়ে যেতে। তারা ভাবে জঙ্গলের ভুতের কথা তাহলে সত্যি।

কিছুক্ষন পর পুলিশ ষ্টেশনে এসে ঢুকে সাজিয়া আর জিসান। পুলিশদের সব কথা বলতেই তারা প্রস্তুত হয় সেই জঙ্গলে যেতে। অথচ কয়েকদিন আগেও তারা সেই জঙ্গলের নাম শুনে ভয়ে কাপতো। কিন্তু এতো দূরের সেই জঙ্গলে গাড়ি চালিয়ে যেতেই তো দুপুর গড়িয়ে যাবে। তাই সাজিয়া তাদের একটি বড় গাড়িতে উঠতে বলে। সবাই এক গাড়িতে উঠে বসতেই সাজিয়া গাড়িটি দু হাতে মাথায় তুলে সু করে উড়তে শুরু করে আকাশে।

কিছুক্ষন পর পুলিশের গাড়ি মাথায় করে উড়ে নিয়ে এসে সেই ল্যাকের পারে নামিয়ে দেয় সাজিয়া। সাধারন মানুষ অবাক দৃষ্টিতে শুধুই দেখে। গাড়ি থেকে পুলিশ নেমে এলে তাদের নিয়ে জঙ্গলের ভেতর যায় তারা। যারা ডরবিনের কাছে বন্দি ছিল তাদের ল্যাকের পাড়ে নিয়ে আসে এক্স ফাইভ। আসামীদের পুলিশ গাড়িতে তুলেন। তারপর এক্স ফাইভ সেই বিশাল সাপটিকে ধরে ল্যাকের পাড়ে রাখে।

১৯তম পর্ব

সাপটি দিনের আলোতে ভালো করে দেখা যাচ্ছে। রাতে তেমন ভালো করে কেমন দেখতে তা বুঝা যায় নি। সাপটির শরীরে বাঘের মতো ডোরা কাটা। কিন্তু রংটি বাঘের ডোরা কাটার মতো নয়। এই সাপটি চকচকে রুপালী রঙ্গের মধ্যে সোনালী ডোরা কাটা। মাথার উপর ছোট ছোট সাপের ডিজাইন করে ফুল আকাঁ। চোখের চারপাশের চামরায় প্রজাপতির পাখার মতো লাগানো।

এতো বড় সাপ দেখে ল্যাকের পাড়ে উপস্থিত সবাই ছবি তুলতে শুরু করে। সাংবাদিকরাও উপস্থিত হয় তাদের ক্যামেরা নিয়ে। শুরু হলো সারাদেশে লাইভ টেলিকাস্ট। পুলিশকে সহযোগিতা করতে গতরাতে এক্স ফাইভ যেখানে যেখানে ডরবিনের লোকদের বন্ধি করেছিল সবাইকে এনে পুলিশের কাছে।

দেয়। সমস্ত জঙ্গল পুলিশ ভালো করে তল্লাশি করে। কিন্তু কোথাও ডফয়সালকে পাওয়া যায় না। হয়তো এতক্ষনে জায়গা মতো পৌছে গিয়েছে ড ফয়সাল।

সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে এক্স ফাইভকে। নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখীন করে তাদের

~ আপনারা আসলে কারা?
~ আমরা এক্স ফাইভ টিমের মেম্বার। (জিসান)
~ আপনাদের আসল পরিচয় কি?
~ আমাদের একটাই পরিচয় আমরা মানুষ।
~ আপনারা কি করে জানলেন যে এখানেই ড রবিন আছেন?
~ ডরবিনের এক সহকর্মীর কাছ থেকে।

সাংবাদিকদের আর কোনো প্রশেন করতে না দিয়েই সু করে উড়ে চলে যায় এক্স ফাইভ। সরি এক্স ফোর। জিসান তো ভেনিস হয়ে যায়। তার দৌড়ের কারনে। আসল জিসান যদি এভাবে দৌড়াতে পারতো তাহলে টাকা খরচ করে ভ্রমনে বেরুতো না। এক দিনেই সারা পৃথিবী ঘুরে আসতো। যাই হোক এবার গল্পে ফেরা যাক।

এক্স ফাইভ সেখান থেকে চলে যেতেই পুলিশ সাংবাদিক সাধারন মানুষে একদম গেন্জাম হয়ে যায়। সবার মুখে একটাই কথা, এতো দিন এই জঙ্গলকে অভিশপ্ত প্রচার করায় কেউ এই ল্যাকের পাড়ে দুপুরের পর আসতো না। আর যারা আসতো তাদের খুন করতো ওই শয়তান গুলো।

জঙ্গলের কাছ থেকে সরে সেই হোটেলের পেছনে গিয়ে দাড়ায় এক্স ফাইভ। হোটেলে কেউ নেই এখন। সবাই ল্যাকের পাড়ে। এই সুযোগে তারা তাদের ব্যাচ খুলে নেয়। এক্স ফাইভের পোষাক পরিবর্তন হয়ে তাদের শরীরে চলে আসে সাধারন পোষাক।

সকলের গলায় তার পেচিয়ে লাল দাগ হয়ে গিয়েছে। শুধু জিসানের গলায় দাগের পাশাপাশি রক্তও বেরিয়ে আছে। সবার আড়ালে রাখা গাড়িতে গিয়ে চুপচাপ উঠে পড়ে সবাই। এবার ড্রাইভিং সিটে আগেই উঠে যায় সাব্বির।

~ এটা কি হলো? (জিসান)
~ কি হলো? (সাব্বির)
~ তুমি ড্রাইভিং সিটে কেন? গাড়ি তো আমার ড্রাইভ করার কথা।

~ এমন কি কোনো চুক্তি হয়েছিল তোমার সাথে?
~ বের হও। আমি ড্রাইভ করবো।
~ বেশি না চিল্লাই আগে গাড়িতে উঠো। কেউ দেখার আগে এখান থেকে বেরুতে হবে।

কোনো কথা না বলে গাড়িতে গিয়ে উঠে জিসান। বাকিরা উঠতেই সাব্বির দ্রুত সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়। কিছু দূর গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি দাড় করায়।

~ কি হলো? গাড়ি থামালে কেন? (সাজিয়া)
~ গাড়িতে ফাস্ট এইড বক্স আছে কিনা দেখতো। (সাব্বির)

~ হ্যাঁ আছে তো। কেন? (পিউ)
~ সাব্বিরের স্যাভলন খেয়ে সুইসাইড করতে ইচ্ছে হয়েছে তাই চাইছে। দিয়ে দাও। (জিসান)
~ পিউ বক্সটা দাও তো। (সাব্বির)
~ নাও।

সাব্বির বক্সটা নিয়ে স্যাভলন আর তুলো বের করে। তুলোর মধ্যে স্যাভলন নিয়ে জিসানের দিকে তাকিয়ে দেখে সে গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে আছে। সাব্বির কোনো শব্দ না করে স্যাভলন ভেজানো তুলোর বল জিসানের গলায় লাগাতেই জিসান চিৎকার করে উঠে।

~ – আআআউউউউউউ

~ – চুপ। মেয়েদের মতো চিৎকার করো কেন? (সাব্বির)
~ মেয়েদের মতো মানে? (সাজিয়া)
~ তোমাদের কিছু বলি নি। জিসান একদম চুপ করে থাকো। (সাব্বির)

~ আআআউউউউউ তুমি বার বার আমাকে তুলোর ছেকা দিবে আর আমি চুপ করে থাকবো? সরো সরো।
~ ফারাবী এই ছাগলের হাত বাধোঁ।

সাব্বিরের কথায় ফারাবী জিসানের হাত সিটের পেছন দিকে নিয়ে জাল দিয়ে বেধে ফেলে।

এবার সাব্বির জিসানের মুখ চেপে ধরে তার গলায় স্যাভলন লাগিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে। রক্ত পরিষ্কার হয়ে যেতেই মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বক্স থেকে ব্যান্ডেজ বের করে। ব্যান্ডেজ দেখে আবারও পক পক শুরু করে জিসান।

~ এখন এই ব্যান্ডজ দিয়ে কি করবে?
~ তোমার গলায় বাধবো।

~ – কিইইইইইইইইইইই? তুমি এখন আমাকে ফাস লাগিয়ে মারতে চাওওওও?
~ এই একদম চুপ ছাগল।
~ আমি ছাগল না।

~ মুখ বন্ধ। না হলে আবারও তুলোর ছেকা দিব।

জিসান অনবরত বক বক পক পক করেই যাচ্ছে। তাতে সাব্বির কোনো কান না দিয়েই জিসানের গলায় সুন্দর করে ব্যান্ডেজ করে দেয়। এরপর ফারাবী জিসানের হাত খুলে দেয়। এরপর আবারও ড্রাইভ করতে থাকে সাব্বির।

বিকেল ৪টা ১০মিনিট

আসরের আজান শুনা যাচ্ছে। নির্জন রাস্তা, রাস্তার দুপাশে গাছ। ফাকা রাস্তা তাই বাতাসের মতো গাড়ি চালাচ্ছে সাব্বির। কিছুক্ষন পর জিসান সাব্বিরের পিঠে চিমটি দেয়।

~ এই জিসান? কি করছ এগুলা? এক্সিডেন্ট হবে তো। (সাব্বির)

~ ক্ষুধা লেগেছে। গাড়ি থামাও।
~ এখানে তুমি কোথায় খাবে? শহরে পৌছাতে হবে তো। না হলে রেস্টুরেন্ট পাবে কোথায়?

~ সামনে দেখ। একটা ছোট হোটেল।
~ ওহ তাই তো। আমি তো খেয়ালই করি নি।
~ চোখ থাকলে তো দেখবে। সে জন্যই বলেছিলাম আমি ড্রাইভ করবো।

~ এক মিনিট এক মিনিট এই গাড়িটা খুব পরিচিত লাগছে না?

~ আমি আগে দেখিনি এই গাড়ি। আমার কাছে অপরিচিত এই গাড়ি।
~ রগ তেড়া কোথাকার।

হোটেলের সামনে গাড়ি থামায় সাব্বির। গাড়ি থেকে নামতেই অবাক হয়ে যায় সবাই। তূর্য! তূর্য এলো কোথা থেকে? গাড়ি থেকে তাদের নামতে দেখে তূর্য হোটেলের ভেতর থেকে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে সাব্বিরকে।

~ তূর্য তুই এখানে কি করছিস?
~ তোদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি জানতাম তোরা এই রাস্তা দিয়েই ফিরবি।
~ কিন্তু তুমি এতো তাড়াতাড়ি এখানে পৌছালে কি করে? (ফারাবী)

~ ফেসবুকে যখন ভিডিও দেখলাম সাজিয়া পুলিশের গাড়ি নিয়ে ল্যাকের সামনে রেখেছে তখনই বুঝতে পেরেছিলাম তোমাদের কাজ শেষ। এবার তোমরা ফিরবে। সাথে সাথেই বেরিয়ো গেলাম।

~ আর গাড়ি একদম ফুল স্পীডে চালিয়ে আপনি এখানে আমাদের অপেক্ষা করছিলেন তাই তো? (সাব্বির)
~ জ্বী। চল তোদের নিশ্চই পেটে ইদুরঁ দৌড়াচ্ছে এখন। কিছু খেয়ে নে আয়।
~ হ্যাঁ চল চল।

সবাইকে নিয়ে তূর্য হোটেলে ঢুকে। চেয়ারে বসেই সাজিয়ার গলার দিকে তাকিয়ে তূর্য বলে,
~ তোমার গলায় কি হয়েছে?

~ কিছু না। তারে ফাস লেগে সামান্য দাগ হয়ে গিয়েছে।
~ কি? এটা সামান্য? কতটা দাগ হয়েছে দেখেছ?

~ এই যে ভাই আমার গলা দেখ। (জিসান)
~ তোমারও?

~ এটা কেমন কথা? সাজিয়াকে কত কেয়ার করে জিজ্ঞাসা করছো এত্ত বড় দাগ, সামান্য না কি অবস্থা হয়েছে। আর আমার যে কেটে গিয়ে তোমার বন্ধু গলায় ব্যান্ডেজ দিয়ে ফাস লাগিয়ে দিল সেটা চোখে লাগছে না? (জিসান)

~ আমি আসলে বলতে চেয়েছিলাম তোমারও তো কেটেছে।
~ হয়েছে হয়েছে দুই দিন না দেখা হয়েছে আর পিরীতি শুরু। হুহ। (জিসান)

~ ওয়েটার দশটা পরোটা লাগবে। পাচঁটা সবজি পরোটা আর পাচঁটা আলুর পরোটা। এই দশটা আলাদা করে এনে এই ব্যান্ডজ ওয়ালা ভাইকে দিও। বেশি ক্ষুদা লাগায় মাথার তার সব গুলো ছিড়েঁ গিয়েছে। (সাব্বির)

~ এখানে একা জিসানের দোষ দেওয়া যায় না। আমরা সবাই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম অথচ তূর্য শুধু সাজিয়াকেই জিজ্ঞাসা করলো। (ফারাবী)

~ আচ্ছা ভাই সরি সরি। এই কান ধরলাম। আমার ভুল হয়েছে। (তূর্য)

খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই বাসার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ৮টার দিকে এসে পৌছায় সবাই জিসানের বাসায়।

~ তোরা এখন বিশ্রাম কর। আমি আসি। (তূর্য)
~ কোথায় যাচ্ছিস? (সাব্বির)

~ বাসায় যাচ্ছি। তোরা অনেক ক্লান্ত। এখন ঘুমা।
~ চল ভেতরে। বাইরে থেকেই নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে। (জিসান)
~ আসতো তো। এখন জিসান একটা লম্বা ঘুম দিবে। তোমার পেছনে লাগবে না। (ফারাবী)

সবার অনুরোধে রাতে তূর্য তাদের সাথেই থেকে যায়। সাব্বির তূর্যকে তার সাথে থাকতে বলে।

তূর্য সাব্বিরকে সাজিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করে। সাজিয়ার জীবনের গল্প তূর্যকে বলে সাব্বির। তূর্য আগে এসব কিছুই জানতো না। তবুও নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে সাজিয়াকে। কিন্তু সাজিয়ার মনে তার জায়গা কতটুকু তা সে জানে না।

পরদিন সকালে
নাস্তা খেতে বসেছে সবাই। আজ স্পেশাল নাস্তা জিসান বানিয়েছে। নুডলুসের পাকোড়া আর বাটি ভর্তি ভর্তি নুডলুস।

নাস্তা বানানোর ক্ষেত্রে এক প্রকার কেকাপ্পা বলা যায় জিসানকে। নুডলুস ছাড়া আর কিছুই চোখে দেখেনা সে। নুডলুস হলেও স্বাধে কিন্তু বড় বড় রেস্টুরেন্টকেও ছাড়িয়ে যাবে। খাবার সময় সবাই গল্প করছে। তখন তূর্য সাব্বিরকে বললো,

~ সাব্বির কিছু মনে করিস না। তুই একবার থানায় যা। আঙ্কেল আন্টির মার্ডার এর জন্য ক্যাস কর।
~ আমি কার উপর করবো বল? কোনো প্রমান ছাড়া কি কাউকে দোষী বলা যাবে?

~ তুই একবার করে তো দেখ। সন্দেহ বাচকদের নামে কর। প্রমান পুলিশ নিজেই খুজে নিবে। আর তাছাড়া সেদিন যে পুলিশকে তোরা এনেছিলি তারাও তো তোকে ভালো করে চেনে।

~ আর তাছাড়া মামলা চালাতে প্রচুর টাকা দরকার। আমি একদম নিঃস্ব। আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আর যাদের উপর মামলা করবো তারা তো টাকার পাহাড়ে ঘুমোচ্ছে।

~ আমি তোকে সাহায্য করবো। তুই মামলা কর।
~ এক মিনিট সাব্বিরের বাড়ির লোক যা ভোগ করছে সব তো সাব্বিরেরই প্রাপ্য তাই না?

তাহলে আইনের সাহায্যে গেলেই তো সাব্বির তার সব কিছু পেয়ে যায় আর তারাও টাকার পাহাড় থেকে নেমে আসে। (জিসান)
~ সেটা সম্ভব না। আর এসব কিছু আমার প্রাপ্যও না। কারন আমি পালক ছেলে।

যদি পালক না হতাম তাহলে আমি সেই সম্পত্তির মালিক হতাম আইনি ভাবেই। যদি বাবা মা নিজের ইচ্ছায় আমাকে লিখে দিতেন তাহলে সেই অংশ আমি পেতাম। বাবা মা আমাকে কখনও পালক ভাবেন নি। নিজের ছেলের মতোই বড় করেছেন।

কিন্তু আমি উনাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। না পারলাম উনাদের বাচাতে। আর না পারলাম উনাদের খুনিদের শাস্তি দিতে। উল্টো স্বার্থপরের মতো নিজের জীবন বাচাতে পালিয়ে এসেছি।

~ সাব্বির হার মানিস না। একবার করে তো দেখ। (তূর্য)
~ তুই বুঝতে পারছিস না। আমি যদি মামলা করিও তবুও এই মামলা বেশি দূর যেতে পারবে না। কারন আমি পালক। আমার থেকে চাচাদের কথা আদালত বেশি শুনবে। সবাই এটাই বলবে আমি সম্পত্তির জন্য বাবা মাকে খুন করেছি।

কথা গুলো বলে অঝরো কাদতে থাকে সাব্বির। হতে পারে সে একজন সুপার হিউম্যান। কিন্তু সে ভাবে তার সুপার হিউম্যান হওয়া সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কারন সে তার বাবা মায়ের জন্য কিছুই করতে পারছে না।

২০তম ও শেষ পর্ব

বিকেল ৪টা ৩০মিনিট
সাব্বির নিজের রুমে শুয়ে আছে। মনটা ভালো নেই। যারা তাকে এতো ভালোবেসেছে তাদের জন্য কিছুই করতে পারছে না সে। দুপুরেও কিছু খায় নি।

আজ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে তার। যখন মন খারাপ করে না খেয়ে রুমে বসে থাকতো তখন মা তাকে খাইয়ে দিতেন। তার মন ভালো করার জন্য গল্প করতেন। কিন্তু আজ সেই মায়ের খুনি তার সামনে ঘুরছে স্বাধীনভাবে। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। রুমে আসে তূর্য।

~ কি রে শরীর খারাপ? (তূর্য)
~ না রে। ভালো লাগছিল না তাই শুয়ে ছিলাম। বস।
~ আঙ্কেল কি তোর জন্য কিছুই রেখে যান নি যার উপর ভিত্তি করে তুই কিছু করতে পারিস?

~ জানিনা। কোনো দিন এই বিষয়ে কিছু ভাবিনি।
~ আঙ্কেলের উকিলের সাথে একবার দেখা কর। হতে পারে কোনো পথ পাওয়া যাবে? দেখ আঙ্কেল আন্টি তোকে সব সময় নিজেদের ছেলেই ভেবেছিলেন। এখন তুই যদি চেষ্টা না করে হাল ছেড়ে দিস উনাদের আত্মা কিন্তু কষ্ট পাবে।

~ উকিল আঙ্কেলের বাসায় যাবো?
~ তুই চিনিস উনার বাসা?
~ একবার বাবার সাথে গিয়েছিলাম। বাবা আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন উকিল আঙ্কেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।

~ তাহলে তো ভালোই হলো। উনিও তোকে চিনেন। একটা না একটা ব্যবস্থা নিশ্চই হবে। তুই এখনই যা।
~ তুইও চল না আমার সাথে। একা যেতে কেমন যেন লাগছে।
~ আচ্ছা চল।
~ জিসান কোথায়?

~ টিভি দেখছে। সেই তো আমাকে পাঠালো তোকে আবার বলার জন্য।
~ ছেলেটা দুষ্টু হলেও মন্দ না।

~ ঠিক বলেছিস। কাল হোটেলে যা বোকা বানালো আমাকে।
~ যা ছাগলটাকে বল রেডি হতে। আমাদের সাথে যেতে হবে।
~ আচ্ছা বলছি। তুইও কাপড় পাল্টে নে।

বিকেল ৫টার দিকে গাড়ি নিয়ে সাব্বির, তূর্য আর জিসান বেরুলো। সাব্বির গাড়ি ড্রাইভ করছে। আজ জিসান গাড়ি চালানোর জন্য জেদ করছে না। বরং নিজেই এগিয়ে দিয়েছে সাব্বিরের দিকে গাড়ির চাবি।

সন্ধ্যা ৬টা

সাব্বিরের বাবার উকিলের বাসার সামনে এসে গাড়ি থামায় সাব্বির। গাড়ি থেকে নেমে বাসার দরজায় গিয়ে কলিংবেলে চাপ দেয় সাব্বির। প্রায় তিনবার কলিংবেল চাপতেই দরজা খুলে সাব্বিরের বাবার উকিল। দরজা খুলে সাব্বিরকে দেখে এমন ভাবে চমকে উঠেন তিনি যেন ভুত দেখেছেন।

~ সাব্বির!
~ আসসালামু আলাইকুম উকিল আঙ্কেল।
~ ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি বেচে আছো?
~ জ্বী আঙ্কেল। বেচে আছি।
~ এসো ভেতরে এসো।
~ জ্বী।

~ আমি তো শুনেছিলাম তুমি গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছো।

~ চেষ্টা করা হয়েছিল আমাকে মারার। কিন্তু সফল হয় নি। আমিও নিজের জীবন বাচাতে সেই দিনের পর আর বাড়ি ফিরি নি।

তারপর সাব্বির তাকে কিভাবে গাড়ির ব্রেক ফেইল করিয়ে মারতে চেয়েছিল। তাকে কারা আশ্রয় দিল সব খুলে বলল উকিলকে।

~ উকিল আঙ্কেল বাবা মায়ের মৃত্যুর খবর তো জানেনই। আর উনাদের মৃত্যুও স্বাভাবিক না। আমি যদি মামলা করি তাও পারবো না। কোনো প্রমানও নেই আমার হাতে। আর যদিও মামলা চলে কিন্তু আমি টাকার জন্য তা চালিয়ে নিতে পারবো না। আপনি কি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবেন?

~ তোমার বাড়িতে তুমি কেন ফিরে যাচ্ছো না? ঐ বাড়ি ঐ সম্পত্তির উপর তোমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।
~ আঙ্কেল আমি হয়তো জানেন না। আমি ঐ বাড়ির পালক সন্তান। আমার কোনো কিছুর উপর অধিকার নেই। বাবা মায়ের জন্য আমি কিছু করতে চাই। আমাকে কোনো একটা পথ দেখান আপনি।

~ বাবা আমি সব জানি। তোমার বাবা আমাকে তোমার সম্পর্কে সব বলেছেন। তোমাকে অনেক ভালোবাসতেন উনারা।

~ কিন্তু আমি উনাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না।
~ কাদো না। তোমার বাবা তোমাকে তোমার জন্মদিনে একটা উপহার দিতে চেয়েছিলেন। আর তার আগেই তিনি চলে যান আমাদের ছেড়ে। তোমার উপহারটা আমার কাছে আছে। তুমি একা না। তোমার বাবা মায়ের দোয়া সব সময় তোমার সঙ্গে আছে। তুমি বসো। আমি নিয়ে আসছি।

উকিল উঠে ভেতরে যান। জিসান আর তূর্যের কাছে বসে নিরবে চোখের পানি ফেলে সাব্বির। কিছুক্ষন পর একটা ফাইল নিয়ে আসেন উকিল।

~ এই নাও তোমার বাবার উপহার।
~ কি এটা?
~ খুলে দেখো।
~ উইল!

~ হ্যাঁ। তোমার জন্মদিনে তিনি উনার বিজনেস, বাড়ি সব তোমার হাতে তুলে দিতে চেয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন তোমার হাতে সব তুলে দিয়ে তিনি বিশ্রাম করবেন। কিন্তু কে জানতো তিনি সারা জীবনের জন্য
~ তাহলে এখন আমি মামলা লড়তে পারবো!

~ হ্যাঁ পারবে। তবে তার আগে বাড়িতে যাও। তোমার অধিকার বুঝে নাও।
~ হ্যাঁ আগে বাড়িতে যেতে হবে। নয় তো তাদের মাটি নরম করা যাবে না। (জিসান)
~ থ্যাঙ্ক ইউ উকিল আঙ্কেল।
~ বেষ্ট অফ লাক।

উকিলের বাসা থেকে বেরিয়ে আসে তারা। গাড়িতে উঠে তারা সিদ্ধান্ত নেয় আগামীকাল সকালে তারা সাব্বিরের বাসায় যাবে। তাই তারা জিসানের বাসায় ফিরে আসে।

পরদিন সকালে
সকালে নাস্তা খেয়ে এক্স ফাইভ আর তূর্য বের হয় সাব্বিরের বাসার উদ্দেশে। সাব্বির নিজেই জিসানকে গাড়ি চালাতে বলে। আজ সেই বাড়িতে সে যাচ্ছে যেখানে তার সুখ দুঃখ কষ্ট জাল বেধে আছে।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিট

মেইন গেইটে হর্ন দিচ্ছে জিসান। গেইট থেকে একজন ওয়াচম্যান গাড়ির কাছে এসে পরিচয় জানতে চায়। গাড়ির গ্লাস নামাতেই সাব্বিরকে দেখে চমকে উঠে তারা। সাব্বির তাদের গেইট খুলতে বলে। সাব্বিরের কথার উপর আর কোনো কথা না বলে তাড়াতাড়ি গেইট খুলে দেয় ওয়াচম্যান। গাড়ি বাগানের রাস্তায় রেখে সবাই গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতর যায়।

সাব্বিরের ভেতরে ঝড় শুরু হয়েছে। সে জানে আজ তার দেখা হবে মিমের সাথে। যে তার জীবনের দুর্বলতা। মিমকে দেখে সে হয়তো ঠিক থাকতে পারবে না। তাও নিজেকে সামলিয়ে ভেতরে যায়। হন হন করে হল রুমে ঢুকে পড়ে তারা। তাদের দেখে কাজের মেয়ে চেচামেচি শুরু করে দেয়। কারন এই কাজের মেয়েকে নতুন রাখা হয়েছে। সাব্বিরকে মেয়েটি চিনে না।

মেয়েটিকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেয় সাজিয়া। ডাইনিং এর দিকে গিয়ে দেখে সবাই নাস্তা খেতে বসেছে। মিম খুব হেসে হেসে কথা বলছে আর নাস্তা বেড়ে দিচ্ছে। সাব্বিরকে দেখে মিমের মুখের হাসি মলিন হয়ে যায়। মিমকে চুপ হয়ে যেতে দেখে বাকিরাও পেছন ফিরে দেখে সাব্বির দাড়িয়ে আছে। সঙ্গে আরও কিছু ছেলে মেয়ে। তূর্যকে তো তারা চিনেই। মিমের দিকে এগিয়ে যায় সাব্বির।

~ আমাকে দেখে হাসি বন্ধ করলে কেন? হাসো।
~ তুমি বেচে আছো?
~ কেন? মরে গেলে খুশি হতে?
~ না মানে তোমার গাড়ি তোওওও
~ হ্যাঁ আমার গাড়ি মারা গিয়েছে। কিন্তু আমি মারা যাইনি।

~ ফালতু কথা বন্ধ কর। কেন এসেছিস তুই? আমার ভাই ভাবীকে খেয়েও তোর শান্তি হয় নি? (সাব্বিরের চাচা)
~ তাদের আসলে কে মেরেছে চাচ্চু?

~ কেন এসেছিস তুই? (চাচাতো ভাই)
~ আমার অধিকার বুঝে নিতে এসেছি। আমার সম্পত্তি ভোগ করতে এসেছি। (মিমের দিকে তাকিয়ে বলে সাব্বির)

— কিসের অধিকার? কিসের সম্পত্তি? এই বাড়িতে তোর কোনো অধিকার নেই।
~ অধিকার আছে বলেই এসেছি।

~ তোকে তো রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। তুই কোথা থেকে এসবের মালিক হলি? ভালোয় ভালোয় বিদেয় হ এখান থেকে। নয় তো ঘাড় ধরে বের করবো। (চাচা)

~ বের তো সাব্বির আপনাদের করতে এসেছে। (ফারাবী)
~ তুই কে রে? (বড় চাচি)
~ ও হলো মাকড়শা। কামড় দিয়ে খবর আছে। (জিসান)
~ অর্ক পুলিশে ফোন দে। এরা সহজে মানবে না। (ছোট চাচি)

~ পুলিশে ফোন দিলে আমার জন্যই ভালো হবে। দাও ফোন। (সাব্বির)
~ মিম এভাবে চুপ করে আছ কেন? তুমিও কিছু বলো? (পিউ)

মিম কোনো উত্তর না দিয়ে ভেতরে চলে যায়। কিছুক্ষন পর একটা ফাইল এনে বলে,
~ সাব্বির শুধু শুধু ঝামেলা না করে চলে যাও। এই দেখ তোমার বাবা সব সম্পত্তি তোমার বড় চাচা আর ছোট চাচার নামে দিয়ে গিয়েছেন। (মিম)

প্রিন্ট আছে। আমার বাবা নিশ্চই নিরক্ষর ছিলেন না যে স্বাক্ষর না করে টিপ সই দিবেন? (সাব্বির)

~ তোমাদের কাছে যেটা আছে সেটা সম্পূর্ণ ভুয়া। আসল উইল আমাদের কাছে। এই নাও। পড়ে দেখ। এটা ভেবে নিও না যে এটা আসল কপি। আর এটা ছিড়েঁ ফেললেই সব শেষ। এটা ফটোকপি। তোমাদের হাতে আসল কপি আমরা কখনই দেবো না। (তূর্য)

~ তোমাদের আমি একদিন সময় দিচ্ছি। আজকের ভেতর ভেবে দেখ কোন দিন আমার সব আমাকে ফেরত দিবে। নয়তো আমাকে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। আর মিম তুমিও প্রস্তুত হও। এ বাড়ি ছেড়ে তোমাকেও যেতে হবে। (সাব্বির)

~ আমাকে যেতে হবে কেন? আমার স্বামী যেখানে থাকবে আমিও সেখানেই থাকবো। (মিম)
~ অর্কই তো তোমার স্বামী তাই না?

~ তোমার সাথে আমার ডিভোর্স হয় নি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

~ সেটা তো দেখতেই পেয়েছি কতটা ভালোবাসো। আমার রুমে আমার বিছানায় অর্কের সঙ্গে থেকে আমাকে ভালোবাসো। আমার বিছানায় রাত কাটিয়ে তোমরা আমার মুত্যুর সেলিব্রেশন করো। তোমার থেকে এতোটা ভালোবাসা আমি আশা করিনি।

~ আর যাই বলো আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। তোমার আমার সম্পর্ক বৈধ।

~ তাই তো ডিভোর্স দিচ্ছি। যাতে অর্কের সঙ্গেও সম্পর্কটা বৈধ করতে পারো। কাল সকালে আবার আসবো। রেডি থেকো।

আর কিছু না বলেই চলে যায় সাব্বির। বাড়ি থেকে বেরিয়ে জিসান তার শক্তি ব্যবহার করে সেই ভুয়া উইলের ফাইলটা নিয়ে আসে। তারপর তূর্য আর সাব্বির মিমকে ডিভোর্স দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর বাড়ির লোকেদের বাড়ি ছাড়ার জন্য কোর্টের নোটিশের ব্যবস্থা করে। এই সব একদিনেই সম্ভব করে তূর্যের আর সাব্বিরের বাবার উকিলের সাহায্যে।

এদিকে সাব্বিরের বাড়ির সবাই চিন্তায় পড়ে যায় সাব্বিরের কথায়। তাদের মনে ভয় হয় সাব্বির মনে হয় সব জেনে গিয়েছে। এক দিকে তারা নিশ্চিন্ত যে সাব্বির পালক। তার উপর সহজেই মার্ডারের দোষ দেওয়া যাবে। কিন্তু সাব্বির যে সব ব্যবস্থা করেই মাঠে নেমেছে সেটা তারা জানে না। ইতোমধ্যে সাব্বির পুলিশকে সব জানিয়ে রেখেছে। সময় মতো কাজে নামবে তারা।

অপর দিকে সাব্বিরের কথা গুলো খুব ভাবাচ্ছে মিমকে। সাব্বির বলেছে ডিভোর্স দিবে। কিন্তু মিম তো সাব্বিরের সম্পত্তির জন্য এ বাড়িতে এসেছিল।

এখন যদি অর্ক রাস্তায় নেমে যায় তাহলে তো অর্কের সাথে থাকার কোনো মানে হয় না। সাব্বিরকে যেভাবে হোক আবারও কাছে টেনে এ বাড়ির মালিক হতে হবে মিমকে। এই বিশাল সম্পত্তি, কোটি টাকার বিজনেস, লকার ভর্তি স্বর্ণ সব তাকে ছেড়ে যেতে হবে। না তা কিছুতেই হয় না।

পরদিন সকালে

সাব্বির আবার আসে তার বাড়িতে। এবার শুধু তূর্য আর জিসান তার সাথে এসেছে। সাব্বিরকে দেখেই সবার মুখ চুপসে যায়। আজ বড় চাচা ও তার ছেলে সুজনও আছে। মিমের মুখে হাসি। সাব্বিরকে দেখে জড়িয়ে ধরে তাকে। সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয় সাব্বির।

~ ডোন্ট টাচ মি।

~ রাগ করে আছো এখন? তুমি না বলেছিলে কখনও আমার উপর রাগ করবে না। এখন কেন করছ জান?
~ তোমাকে আমার জীবনে আর প্রয়োজন নেই। আর আপনারা। কি ভাবলেন? বাড়ি কি আজই ছাড়ছেন?
~ কি শুরু করেছিস তুই? কি চাস? টাকার খুব লোভ না তোর? (বড় চাচা)

~ এই ডায়লগ তো আমার দেওয়ার কথা। তোমরা কেন দিচ্ছো? যাক সে কথা। আমার কথা হয়েছিল আজ তোমরা আমাকে সিদ্ধান্ত জানাবে। যেহেতু তোমরা সহজেই মানবে না সেহেতু

কথা শেষ করার আগেই কোর্টের লোক নিয়ে হাজির হয় পিউ, সাজিয়া, ফারাবী আর সাব্বিরের বাবার উকিল। কোর্টের নোটিশ অনুযায়ী সাত দিনের ভেতর এই বাড়ি খালি করতে হবে। সব কিছুর হিসেব মিলিয়ে সাব্বিরকে তার সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে হবে। আরেক জন উকিল এগিয়ে এসে মিমের হাতে ডিভোর্স লেটার দেয়।

তাতে সাব্বির আগেই স্বাক্ষর করে দিয়েছে। কোর্টে গিয়ে এক তরফা ডিভোর্স গিয়েছো সে। ডিভোর্স লেটার দেখে মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে মিমের অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তবে সেটা সাব্বিরকে হারানোর কষ্টে নয়। তার সম্পত্তি হারানোর কষ্টে। মিমের দিকে না তাকিয়ে তার কাজ শেষ করে বেরিয়ে আসে সাব্বির।

সাত দিন পর

আজ সাব্বির পুলিশে মামলা করে তার মা বাবার খুনিদের উপর। সেই খুনের লিষ্টে মিমের নামও দেয় সে। আসলেই মিম খুনি। চারটা জীবন শেষ করেছে মিম। সাব্বিরের বাবা মা, সাব্বিরের মন আর সাব্বিরের সন্তান।

এই চারটা জীবন সে তচনচ করে দিয়েছে। সম্পত্তির লোভে নিজের সন্তানকে পৃথিবীতে আসার আগেই খুন করেছে সে।

সাব্বির মামলা করার পর পুলিশ সহ সেই বাড়িতে সবাই যায়। প্রথমে বাড়ি ছাড়ার কথা বললে তারা পুলিশকে সাব্বিরের বিরুদ্ধে বলে। কিন্তু পুলিশ তো সব জানে।

তাই প্রথমে তাদের বাড়ি থেকে সব সম্পত্তির হিসেব সাব্বিরকে বুঝিয়ে দিয়ে বের করে। তারপর সাব্বিরের বাবা মায়ের খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করে। সাব্বিরকে তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়ে এক্স ফোর আর তূর্য ফিরে আসে।

বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট

টিভির রুমে বসে গল্প করছে এক্স ফোর। সাব্বির নেই তাই তেমন জমছে না তাদের গল্প। হঠাৎই কলিংবেল বেজে উঠে। ফারাবী দরজা খুলে
~ সাব্বির? এসো (ফারাবী)
~ কি করছো সবাই? (সাব্বির)
~ গল্প করছিলাম। কিন্তু তোমাকে ছাড়া জমছিল না। (জিসান)
~ তোমাদের ছাড়া আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না। তাই তোমাদের নিতে এলাম। চল আমার বাসায়।
~ কি বলছ এসব? তোমার বাসায় আমরা কি করে থাকতে পারি? (পিউ)

~ কেন? আমি এতদিন যেভাবে ছিলাম তোমাদের সাথে।
~ এটা খারাপ দেখায় সাব্বির। আমরা তোমার এখানে গেলে সবাই মন্দ ভাববে। (জিসান)
~ কে কি ভাবলো তাতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না। চল তাড়াতাড়ি। তূর্য তোমাদের রুম গুছাচ্ছে একা একা। আর আমরা এক সাথে না থাকলে মানুষের উপকার কি করে করবো?

সাব্বিরের কথায় শেষ মেষ রাজি হয়ে সাব্বিরের বাড়ি গেল তারা। পরদিন সাব্বির তার বাবার অফিসে গেল। সাব্বিরকে দেখে সবাই রিতী মতো ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। উঠারই কথা। তারা জানে সাব্বির মারা গিয়েছে।

অফিসের দেখা শুনার কাজে জিসান আর ফারাবীকে রাখে। বাবার চেয়ারে বসে টেবিলের উপর একটা ছবিতে চোখ পড়ে তার। সুন্দর একটা ছবি। বাবা মায়ের মাঝে দাড়িয়ে সাব্বির। তারা দুজন দু গালে চুমু দিচ্ছে তার। ছবিটা হাতে নিয়ে দেখে সে। চোখ বেয়ে পানি পড়লেও ঠোটেঁ থাকে বিজয়ের হাসি।

লেখা – ফাটেমা আকন পিউ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “এক্স ফাইভ – Bangla Super Human Story” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – এক্স ফাইভ (১ম খণ্ড) – Bangla Super Human Story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!