পালিয়ে ফিরে এসে বিয়ে – Din ratrir golpo

পালিয়ে ফিরে এসে বিয়ে – Din ratrir golpo: তোমাকে ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দেব। তাই বলেছিলাম আমার বিয়ের কথা। কিন্তু তুমি এই শুনে শোকে কার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেটা দেখই নি।


মূলগল্প

নিজের শাড়ি দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে তুলে দৌড়াচ্ছে মণি। এখন তাকে পালাতেই হবে এই বিয়ে বাড়ি থেকে, তবে পরনে বিয়ের ভারী শাড়ি , দৌড়ানো কঠিন আর এখন না পালালে আর পালাতে পারবে না। মণির পরিচয় দেয়ার আগে ওর বড়বোন মুক্তার কথা বলি। যার কারণে মণির এই অবস্থা।

মণির বড়বোন মুক্তা, মণির থেকে ৪ বছরের বড়। আজ তার বিয়ে। তবে বিয়ের বর আসার পর তাকে ঘর থেকে আনতে গেলে গিয়ে দেখে ঘর ফাঁকা। মণি তখন আরামে বসে চারপাশে চোখ বুলাচ্ছিল। খাবারটা এলো। সে খেতে যাবে কিন্তু খাবারে হাত দেয়ার আগেই তার মা তার হাত ধরে ফেলল আর টানতে টানতে নিয়ে গেল। বরের বাড়ির লোককে গোপনে বিয়ের সব বিষয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা বাড়ির ছোট মেয়ের সাথে নিজের ছোট ছেলের বিয়ে দিতে রাজি। মণিকে শাড়ি পরিয়ে সাজানো হলে ওর মা একটাই কথা বলেছিল,
তোর বোন পালিয়ে গিয়েছে। তাই তোকে বিয়েটা করতে হবে।

ব্যস এইটুকুই। তারপর ওরা সবাই ঘর ফাঁকা করে চলে যায়। মণিও এই ফাকে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। সে দৌড়াচ্ছে আর বলছে,
ধুর ছাতা, এমনিই আমার বিএফ আরেকজনকে বিয়ে করবে আজ, তার উপর বিয়ের দিন বড়বোন চলে গিয়েছে বলে আমাকে বিয়ে দিচ্ছে। ভালো লাগে? এই শালার বোনটাও ভেগে গেল তো গেল, আমাকে নিয়ে ভাগতে পারল না?
বলতে বলতে দৌড়ে অনেকদুর চলে আসলো মণি। কিছু না ভেবেই ট্রেনে উঠে পড়ল। একটা ফাঁকা সিট পেয়ে সেখানে শুয়ে ঘুমিয়ে গেল।

ঘুম ভাঙতেই নিজের মাথা কারো কোলের উপর আবিষ্কার করল। তার মাথায় কেউ হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এই স্পর্শ মণির চেনা। সে বলল,
আরহান, তুমি এখানে?
হ তোমার ঘুম ভেঙে গিয়েছে?
তুমি সত্যিই এখানে আছো নাকি আমি স্বপ্ন দেখছি?
আমি সত্যি এখানে আছি।

আজ না তোমার বিয়ে?
আজ তো তোমারও বিয়ে ছিল মণি।
পালিয়ে এসেছি।
আমিও।
আগে মানা করলেই পারতে।

তুমি পালালে বলেই তো আমাকে পালাতে হল, নাহলে এতক্ষণে আমাদের বিয়ে হয়ে যেত।
কি?
বলেই উঠে পড়ল মণি। সোজা হয়ে বসে বলল,
মানে কি? আমাকে খুলে বল।
এর পিছনে অনেক বড় ইতিহাস আছে।

ভণিতা না করে আগে বল আরহান।
আমি আমার বাবা মাকে নিয়ের কথা জানাতেই আমার বাবা মা রাজি হয়ে যায়। তাড়া তোমার বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে যায়। কিন্তু তোমার সাথে আমার বয়সের পার্থক্য বেশি বলে বাবা মা ভেবেছিল আমি আপুর কথা বলেছি। তাই মুক্তা আপুর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে দেয়।
হুহ সেটা তো হবেই। তুমি তো আপুর থেকে ১ বছরের বড় আর আমার থেকে ৫। আমি আপু বলে ডাকি বলেই তুমি আপু বলে ডাকো।

তোমাকে ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দেব। তাই বলেছিলাম আমার বিয়ের কথা। কিন্তু তুমি এই শুনে শোকে কার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেটা দেখই নি। আমি বিয়ের দিন এখানে মুক্তা আপুকে কোণে সাজে দেখে অবাক হই। পরে আপুর সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলি। আপুকে নাকি জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল। এমনিই মুক্তা আপু আমার বড় ভাই আরহামকে ভালোবাসে। তাই আমি আপুকে বলি পালিয়ে যেতে। যেটা দেখে আপু পালিয়ে যায়। আজ ভাইয়াও এসে আপুকে পালাতে সাহায্য করে। আর ফাইনালি তোমার বাবা তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু সেখান থেকে তুমিই পালিয়ে এলে মণি? কেন?নাহলে এতক্ষণে আমরা বাসরঘরে থাকতাম।

খুব আফসোস হচ্ছে না? আমাকে আগে বলিস নি কেন? আমাকে জানালে এতো বড় শাড়ি নিয়ে দৌড়াতে হত না। ভালো কথা, তুমি পালাতে গেলে কেন?
তোমার বাবা বড় মেয়ে পালিয়েছে বলে ছোট মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করেছে। এবার ছোট মেয়ে পালিয়েছে বলে নিশ্চয় আরেকজনকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিত। কিন্তু আমি তো তোমাকে ছাড়া কাউকে আমার গলায় ঝুলতে দিব না। তাই পালিয়ে এসেছি। আর একটু বুদ্ধি খাতয়েই বুঝলাম যে তুমি এই ট্রেনে। ভাগ্য ভালো তোমার পালানোর পর আর দেই করি নি। তাই ট্রেনটা পেয়ে গেলাম। আর এসে দেখি মহারানী ঘুম।

এইতো আমার কিউট সুইট বিএফ। ওলেলে
বলেই আরহানের গাল ধরে টেনে দিল মণি।

তখন হঠাৎ সামনের সিটে বসা লোকটি সিগারেট খাচ্ছিল। সিগারেট দেখলেই মণি খেপে যায়। তাই চিৎকার করে বলে উঠল,
ওই মিয়া, পাবলিক প্লেসে সিগারেট খান কেন? নিজের রুমে গিয়ে দরজা লক করে খাবেন।
এদিকে আরহান মণিকে শান্ত করাতে ব্যস্ত। লোকটাও ওখান থেকে চলে যায়। তখন পরিচিত আওয়াজ ওদের কানে আসে,
মণি, আরহান। তোমরা?

আপু ভাইয়া তোমরাও এক ট্রেনে?
ওরা বুজতে পারল যে মণি মুক্তা আরহান আরহাম একই ট্রেনে উঠেছে। ওরা মনিদের বরাবর সামনের সিটে এসে বসল।

এদিকে মণি মুক্তাকে বকতে বকতে হাঁপাচ্ছে। আরহান তার দিকে পানি এগিয়ে দিল।

হঠাৎ ট্রেনটি থেকে গেল। সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হল কিছুক্ষণ পর ট্রেন চলা শুরু করবে। কারণটা বলা হয় নি। তবে এতে মণির কি? ও নিজের ইচ্ছা পূরণ করার সুযোগ পাচ্ছে। মুক্তার হাতে ফোন ধরিয়ে বলল জানালার বিরে ফোন নিয়ে কিছু ছুবি তুলে দিতে। আরহান ও গেল ওর পিছু পিছু।

মণি ট্রেনের দরজা দিয়ে বের হয়ে ঝুলে একটা পোজ দিল সাথে সাথে মিক্তা ওর ছবি তুলে নিল। মণি ওভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ আরহান ওর দিকে ঝুকে ওর কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। সে সুযোগে মুক্তা জলদি একটা ছবি তুলে নিল। আরও ছবি তুলবে কিন্তু তার আগেই আরহান ওকে টেনে ট্রেনে সিটে বসাল।

মণি আর আরহানে ব্যাপারটা মুক্তা জানে। তবে মুক্তা আর আরহামের টা মণি জানে না। তাই গাল ফুলিয়ে বসে আছে। মুক্তা ওকে এ টু জেড সব বলল, যে আরহাম ওখানে থাকে না, শুধু নিজের পরিবারের সাথে দেখা করতে আসে তখনই ওদের দেখা হয় আর আরহামই প্রথমে ওকে প্রপোজ করেছিল।
মণি শুনতে শুনতে আরহানের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। আরহাম জিজ্ঞেস করে,
এবার কি করবে?
আমরা আবার ফিরে যাবো ওখানে। সবাইকে বুঝিয়ে বললে সবাই বুঝবে। এছাড়া আমি সব এখনই ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি। ওখানে যাবো আর দুই ভাই বিয়েটা করে নেব।

মণির যখন ঘুম ভাঙে তখম ও নিজেকে আরহানের কোলে ঝুলে থাকতে দেখে। কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে দেখে যে ওরা নিজের বাড়িতে এসেছে। মণি অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। আরহান ওকে জানান চুপচাপ থাকতে।

সবচেয়ে বেশি অবাক হয় তখন যখন দেখে ওর আর মুক্তার বিয়ে একসাথে হচ্ছে আর কেউ কিছু বলছে না, সবার মুখে হাসি। তখন ও নিজের অজান্তে হেসে ফেলে।

পরে মুক্তার কাছ থেকে সব জানতে পাড়ে যে আরহাম আর আরহান কি করে সব সামলেছে।

আর কি? ওদের বিয়ে হয়ে যায়। সাথে তোলা হয়ে যায় একটা সুন্দর ফ্যামিলি ফটো যেখানে সবাই আছে দুই পরিবারের।

আজও ওদের বিয়ে ওদের পুরো এলাকায় স্মরণীয়। কারণ সবাই এই জানে যে এই সম্পূর্ণ ঘটনা বিয়ের একটা অংশ ছিল, এই বিয়েটাকে স্মরণীয় করে রাখার।

লেখা – রিয়া মনি

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “পালিয়ে ফিরে এসে বিয়ে – Din ratrir golpo” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – নিঝুম বিকেল (১ম খণ্ড) – ভয়ানক ভৌতিক গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published.