হঠাৎ বিয়ের গল্প – ভাবি যখন বউ হয়ে দেবরের বাসর ঘরে

হঠাৎ বিয়ের গল্প: ভাবি যখন বউ হয়ে দেবরের বাসর ঘরে তখন কি বিশ্রী অবস্থা হতে পারে তা ভেবেছেন নিশ্চয়ই। পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছুই জোর করে করতে বাধ্য করে। এই বাধ্য পরিস্থিতি অনেক সময় সুখের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। আজকের অনাকাঙ্ক্ষিত হতাৎ বিয়ে কি কোন সুখের মুহুর্ত উপহার দেবে? চলুন তা জানার চেষ্টা করি।

হঠাৎ বিয়ের গল্প দৃশ্যপট

স্বামীর জায়গায় নিজের দেবরকে স্বামী হিসেবে দেখতে পেয়ে ভীষণ অবাক হল মিতু। বিয়ে হয়েছে একজনের সাথে অথচ বাসর ঘরে ভিন্ন কেউ। অভি কে বরের সাজে দেখে মিতু প্রথম প্রথম নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলনা।

মিতুঃ কি ব্যাপার অভি, তুমি বরের সাজে? তোমার ভাইয়া কোথায়?

অভি বিছানার উপর বসে মাথা নিচু করে বলল – ভাইয়াকে সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না ভাবী!

মিতু হাসলো। রীতিমতো হাসলো।

মিতুঃ বাসর রাতে মজা হয় জানতাম। কিন্তু সেটা তো ভাবী বা ননদেরা মিলে করে! তোমাকে সাজে না।

অভিঃ আমি মজা করছিনা ভাবী!

মিতুঃ ও, তাই। তো আমি কার সাথে বিয়ে করেছি, কার সাথে এসেছি এখানে? ভুতের সাথে?

অভিঃ না ভাবী। বিয়েটা ভাইয়ার সাথে না হয়ে আমার সাথে হয়েছে। আসলে পরিস্থিতিটা-

অভির কথা আঁটকে দিয়ে মিতু বলল- থাক অনেক মজা হয়েছে অভি। এখন তোমার ভাইয়াকে আসতে বল।

অভিঃ ভাবী, মজা করছি না ভাবী।

মিতুঃ অভি অনেক হয়েছে, কি বলছ এসব?

মিতুর ধমকে অনেকটা ঘাবড়ে গেলো অভি। বলল, আসলে ভাবী পরিস্থিতিটা এমন হয়েছে যে, না চেয়েও আপনাকে আমার বিয়ে করতে হয়েছে ভাবী।

ভাবী বউকে বোঝানো

এর পরপরই মাথায় যেন বাজ পড়লো মিতুর। একটা মেয়ে এসব কখনো কল্পনাও করতে পারে না। মিতু খুবই সহজ সরল মেয়ে। সে প্রাথমিক অবস্থায় ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। কি করবে তার কোনো কুল কিনারা খুজে পাচ্ছিলনা মিতু। ভয়ে সে চিৎকার দিয়ে উঠে।

অভিঃ প্লিজ ভাবী চিল্লাচিল্লি করবেন না। আমি জানি আপনি এটার জন্য প্রস্তুত নন। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো উপায় ছিল না। আপনি চুপ করেন আমি আপনাকে সব বুঝিয়ে দিচ্ছি।

অত্যন্ত বিনম্র ভাবে মিতুর দেবর অভি মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করল। কিন্তু এমতাবস্থায় যেকোনো নারীকে বোঝানোটা প্রায় অসম্ভব। মিতুর চিৎকার শুনে তার শ্বশুর শাশুড়ী দৌড়ে এসে রুমের দরজার কড়া নাড়তে লাগলেন। অভি কে দরজা খোলার জন্য বললেন।

শাশুড়িঃ অভি কি হয়েছে? বউমা চিৎকার দিল কেন?

অভিঃ জানোই তো মা ভাবীর জন্য এটা স্বাভাবিক নয়। ভাবীকে আমি বুঝিয়ে বলছি, তোমরা যাও।

শাশুড়িঃ সব বুঝিয়ে বল ওকে। আর যেন চিৎকার না করে।

অভিঃ হুম, যাও তোমরা।

অভি তার বাবা মাকে বলে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিল তাদের রুমে। কিন্তু মিতু এদিকে ভয়ে কাঁপছে। সে ঘটনার আগাগোড়া কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি এখনো। অভি মিতুর চেহারার হাবভাব দেখে মিতুর ভয়ের পরিমাণ আঁচ করতে পারছিল। সে মিতুর কাছে এসে বসতে বসতে বলল-

অভিঃ প্লিজ ভাবী আপনি ভয় পাবেন না। আমি আপনাকে সব বলছি। আপনি একটু শান্ত হোন, প্লিজ।

মিতুঃ তুমি দূরে গিয়ে বসো। আর তোমার ভাইয়া কোথায়? সত্যিটা বল আমাকে।

অভি পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বলল- ভাবী আপনি পানি পান করেন, আমি বলছি।

হবু ভাবীকে বিয়ের কারণ বর্ণনা

মিতু পানি খেল। অভি বলতে শুরু করলো-

অভিঃ ভাবী, আপনার বিয়ে আমার সাথে হয়েছে। আসলে আমার ভাইয়া মদ, গাঁজা ইত্যাদির নেশা করে। নেশা করে সে কোথায় পড়ে থাকে তার ঠিক নেই। আজও ভাই নেশা করে কোথাও পড়ে রয়েছে। কিন্তু তাকে খুঁজে পাই নি আমরা। তাই বাধ্য হয়ে ভাইয়ার জায়গায় আমাকে এই বিয়েটা করতে হয়েছে।

মিতুঃ তোমরা সবাই আমার সাথে প্রতারণা করতে পারলে! আমার বাবাকে এক্ষুনি ফোন দাও। উনি এসে আমাকে নিয়ে যাবেন।

অভিঃ আপনার বাবা মা এই বিষয়ে জানেন। উনাকে জানিয়েই বিয়েটা হয়েছে।

এখন মিতু আরও অবাক হলো। তার বাবা মা কিভাবে এতে রাজি হয়ে গেলেন! মিতু কথাটা বিশ্বাস করতে পারছিলনা।

মিতুঃ মিথ্যা বলছ তুমি। এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। আমার মা বাবা এটা করতে পারেন না! বাবা মা আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আমার জন্য উনারা জীবন দিতে পারেন। তুমি কিভাবে বললে- তাঁরা এভাবে করবে আমার সাথে!

যখন মানসম্মানের কথা আসে ভাবী তখন একটা মানুষ অসহায় হয়ে যায়। হয়তো তখন সে মরে গিয়েও তাঁর মানসম্মান রক্ষার পথটাই বেছে নেবে। আপনার বাবাও মানসম্মান রক্ষার্থে মনে পাথর রেখে এসব করেছেন। আমি মিথ্যে বলছিনা ভাবী। আপনি ফোন করে কথা বলে দেখতে পারেন আপনার বাবার সাথে।

ভাবী বউয়ের রাগ

মিতু তার বাবার নাম্বারে ফোন করলো। দুয়েকবার ফোন দেয়ার পরও ওপর পাশ থেকে কেউ রিসিভ করল না। তার কিছুক্ষণ পর থেকে ফোন অফ দেখাচ্ছে। মিতু ভীষণ ভেঙে পড়লো। অসহ্য মনের দুঃখে কাঁদতে লাগলো সে। অভি আবারো মিতুর ব্যথিত মনের হালত আঁচ করে নিল।

অভিঃ কান্না করিয়েন না ভাবী। জানি, আপনি ভাবছেন যে আপনার জন্মদাতা মা-বাবা কিভাবে এটা করতে পারেন। কিন্তু সত্য এটাই। আমিও চাইনি এভাবে আপনাকে বিয়ে করে নিতে। কিন্তু আমার বাবা মা বলল যে এতে দুটি পরিবারের ইজ্জত-সম্মান রক্ষা পাবে। তাই আমি না করতে পারিনি, ভাবী।

মিতু নিজেকে ভীষণ অসহায় খুঁজে পেল পানিবিহীন মাছের মতো। নিজের জীবনের এতো উথাল-পাতাল হতে দেখে অজান্তেই গাল বেয়ে অশ্রুসজল বিন্দু বিন্দু আকারে মেঝেতে পড়তে লাগলো। অভিও মিতুর চোখের জলটুকু দেখে ভীষণ আহত হলো। মিতুকে কিভাবে, কি করে স্বান্তনা দিবে অভি বুঝতে পারছিল না।

অভিঃ ভাবী বুঝতে পারছি আপনার ব্যথা। কিন্তু সত্যি তখন আমার কাছে যা ভালো লেগেছে তাই করেছি।

মিতু কাঁদতে কাঁদতে বললো-
মিতুঃ তুমি বুঝতে পারবেনা অভি। যদি বুঝতে তাহলে এভাবে করতেনা আমার সাথে। আমার জীবন নিয়ে এভাবে খেলতে না।

অভিঃ ভাবী আমি এতদূরের চিন্তা ভাবনা করিনি। আমার ভুল এটাই। আপনি আজ রাতটা কাটান কাল সকাল হতেই আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যে, আপনার বাবার বাড়িতে আমি নিজে নিয়ে যাবো।

মিতু চুপচাপ। অভি একটা বালিশ নিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লো। কিন্তু ঘুম উড়ে গেল মিতুর। নির্ঘুম মিতু আহত মনে এটাই ভাবছে যে, সবকিছু জেনেও তার বাবা মা কিভাবে এটা করলো! আমার বাবা-মা তো আমাকে খুব ভালোবাসতো। তাহলে নিজের মেয়ের জীবনটা ধ্বংস করতে একটুও বাঁধলো না তাদের!

ভাবী বউয়ের অভিমান

গরিব ঘরের মেয়েদের মধ্যে একটা মিল আছে। তারা স্বপ্ন দেখে। মনের মধ্যে অনেক অনেক স্বপ্ন আঁকে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে। বিয়ে হবে, সংসার হবে, ছেলেমেয়ে হবে। স্বামীর আদর-ভালোবাসা পাবে। নিয়তি তাদের সাথে খুব কঠিন খেলা খেলে। বুঝিয়ে দেয় স্বপ্ন দেখতে নেই। স্বপ্ন দেখাটা যে বড় ধরনের অপরাধ। এইসব ভেবে সারারাত মিতু ঘুমোতে পারেনি। চোখ বন্ধ করে ঘুমোনোর চেষ্টা করলে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা তার চোখের সামনে ভেসে উঠে।

সে ভেবেছিল বিয়ের পরের জীবনটা সুখের হবে। চেয়েছিল নিজের একটা ছোট্ট সংসার হবে। কিন্তু তার স্বপ্ন এখন একটা দুঃস্বপ্নতে পরিণত হয়ে গেছে। অভি ভেবেছিল মিতু একটা নারী, তার কষ্ট গুছিয়ে দেবে। কিন্তু পুরুষ পারেনা একটা নারীর কষ্ট পরিমাণ করতে। মিতু শুধু আঁধার দেখতে পাচ্ছে। চারিদিকে এখন শুধু জনশূন্য মরুভূমি।

সকাল হতেই অভি তার বাবা মা আর মিতুকে নিয়ে তার বাবা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। অভি আর মিতুকে দেখে ভীষণ অবাক হলেন মিতুর বাবা মা। না জানিয়ে হুট করে এভাবে মিতু চলে আসাতে একপ্রকার দ্বিধায় পড়ে গেলেন উনারা। এখন মেয়েকে কি জবাব দিবেন? কিভাবে মেয়েকে মুখ দেখাবেন? মিতুকে না জানিয়ে এতকিছু করা মোটেও ঠিক হয়নি।

ভাবি বউয়ের অভিযোগ

মিতু তার মা বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মিতুর বাবা মা মেয়ের চোখে চোখ রাখতে পারছেননা।

মিতুঃ মা, তোমরা কি জানতে আমার সাথে অভির বিয়ে হচ্ছে?

মা বাবা দুজনেই চুপচাপ। বলার ভাষা তাঁদের কাছে নেই।

মিতুঃ জানবেন না কেন, তোমাদেরকে তো সব জানিয়েই করা হয়েছে। কিন্তু তোমরা একবারও আমার কথা ভাবলেনা! আমার যে জীবনটা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলো সেটার কি?

মিতুর মা কেঁদে ফেললেন। আঁচলে মুখ লুকানোর চেষ্টা করলেন। মিতুর বাবা বললেন-

বাবাঃ জানি মা তোর মনের ব্যথা। কিন্তু নিরুপায় ছিলাম মা। আমিও তো একজন বাবা। তোর একটা ছোটো বোন আছে। তারও তো বিয়ে করাতে হবে। কাল যদি বরযাত্রা ফিরিয়ে দিতাম তাহলে এই গরীবের মেয়েকে কে বিয়ে করতো বল! মানসম্মান কি থাকতো আমাদের?

মিতুঃ কিন্তু বাবা, আমার জীবন নষ্ট করে দিবে তুমি?

বাবাঃ ক্ষমা করে দে মা! আমার কাছে আর পথ ছিলনা রে!

মিতুর শ্বশুর শাশুড়ী দীর্ঘক্ষণ মিতুর কথা শুনছিলেন। মিতুর শাশুড়ী এগিয়ে এসে মিতুকে বললেন-

শাশুড়ীঃ দেখ বউমা, তোমার বাবা মায়ের মানসম্মানের কথা ভেবেই কিন্তু আমরা এই সিদ্ধান্ত টা নিয়েছি। নইলে আমরা পারতাম বিয়ে টা না করতে। কিন্তু এতে তোমার বাবা মায়ের মানসম্মান থাকতো না। আর তোমার বিয়ে আমার ছোট ছেলে অভির সাথে হয়েছে সেটা কি আদৌও আমাদের ছাড়া অন্য কেউ জানে? সবাই জানে আমার বড় ছেলে বিশালের সাথে হয়েছে। তাই বিশাল ফিরুক সব ঠিক হয়ে যাবে।

ভাবি বউয়ের প্রতিবাদ

মিতু গরম মেজাজে বলল-

মিতুঃ আপনার মদখোর ছেলের জন্য একটা ভালো সুশীল মেয়ে পেয়েছেন। উপর থেকে ভালো যৌতুকও পেয়েছেন। বিয়েতে আপনারা রাজি হবেন না কেন? আর আপনার বড় ছেলে ফিরুক তার মানে কি? আমার বিয়ে তো তার সাথে হয়নি!

মিতুর মুখে এমন কথা আশা করে নি অভির মা। অভিও জানে মিতু ভুল বলেনি। তার ভাই মদখোর যার দরুন কেউ তাকে বিয়ে করতে চাইতো না। উপর থেকে মিতুর বাবা মা যৌতুকও দিয়েছে ভালো। তাই বিয়েটা যেভাবেই হোক করাতে চেয়েছে তার বাবা মা। অভির মা একটু রেগে গিয়ে মিতুকে বললেন, তোমার বিয়ে বিশালের সাথে হয়নি তাতে কি? আমার বড় ছেলের জন্য যেহেতু তোমাকে পছন্দ করা হয়েছে তাহলে তার সাথেই তো তোমাকে সংসার করতে হবে।

মিতু চোখে চোখ রেখে বলল, না! এটা আমার দ্বারা অসম্ভব।

অভির মা এবার মিতুর বাবাকে বললেন, সুজন বাবু, আপনার মেয়ে কিন্তু অনেক বড় বড় কথা বলছে। আমরা কিন্তু আপনাদের সাথে এটাই ঠিক করেছিলাম যে বিয়েটা আমার ছোট ছেলে করুক। কিন্তু মিতু আমার বড় ছেলেরই বউ হবে।

শেষ পরিণতি

মিতুর বাবা মিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। মা, সবাই জানে বিশাল তোর স্বামী। তাহলে কেন এমনটা করছিস মা?

মিতু সোজাসাপ্টা বলল,

মিতুঃ বাবা সবাই যেটা জানে সেটা তো সত্য না! আল্লাহ তো জানেন যে বিয়েটা আমার অভির সাথে হয়েছে। আমি কিভাবে তার সাথে সংসার করবো যার সাথে আমার বিয়ে হয়নি?

মিতুর বাবা কিছু বলতে যাবেন তখনই অভির মা বলে উঠলেন, দেখেন সুজন বাবু, আপনার মেয়ে যদি স্বামী হিসেবে আমার বড় ছেলেকে না মানে তাহলে তাকে বউ করে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে পারবোনা আমি।

মিতুর বাবা মিতুকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন কিন্তু মিতুকে বোঝানো অসম্ভব। সে একটা নারী। আর একটা নারীর পক্ষে যে পুরুষের সাথে বিয়ে হয়নি তাকে স্বামী মেনে নেওয়া কোনো ক্রমেই সম্ভব না। আমি অভিকেই মনের কোণে ঠাই দিতে শুরু করেছি, ওকেই আমার স্বামী মানি এখন। সংসার করলে অভির সাথেই করব, নইলে সারাজীবন একাই থাকব। এটাই আমার সাফ কথা।

তারপর কিছুদিন একটু গন্ডগোলে কেটেছে ঠিকি কিন্তু অভির সাথে মিতুর একটু একটু করে ভালবাসা একটা সুখের সংসারের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছিল। পরিবারও বিষয়টা মেনে নিয়েছিল। হঠাৎ বিয়ের গল্প এর মাধ্যমে অভি মিতুর মত একটা মিষ্টি মেয়ে বউ হিসেবে পেয়েছে। মিতু অভির মত ছেলে পেয়ে ভীষণ খুশি, আর অভিও মিতুকে পেয়ে খুশি। দুজনে বেশ সুখে শান্তিতে সংসার করতে লাগল।

আরো পড়ুন: অভিশপ্ত ফাঁদে প্রেমের ধোঁকা

আরোপড়ুন- আদর্শ বাসর রাত এর ৫টি গোপন সূত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published.