বাসর রাত

ঝরা ফুলের বাসর (১ম খণ্ড)- রোমান্টিক রাতের গল্প

ঝরা ফুলের বাসর – রোমান্টিক রাতের গল্প: একদম ছুবি না আমাকে। আর কি বলছিলি ওকে কেন মেরেছি? ওকে মেরেছি কারণ ও আমার আপন। তুই কে যে তোকে মারবো? হৃদকে কথাটা বলে খালাম্মা ঘুরে আমার কাছে আসে।


পর্ব ১

আহ্ শরীরটা আর চলছে না। মাথাটা ঘুরছে। এই বুঝি পরে যাবো। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা লাগছে। ক্লান্ত শরীরে চলার শক্তিটুকুও নেই। সারাদিনে কিছু খাওয়া হয় নি তাই হয়তো এমন লাগছে। এমন সময় পরে যেতে নিলে কেউ একজন ধরে বসে। তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন চোখ মেললাম সামনে চেয়ে হৃদ সাহেবকে দেখতে পেলাম।

আজ যদি তোকে আমি না ধরতাম তাহলে সিঁড়ি থেকে ধড়াম দিয়ে গড়িয়ে পরেতি। একটু নিজের যত্ন নিতে শেখ ফুল নয়তো অমন শরীরে তৃপ্তি মিলবে না। কথাটা বলে একটা পৈচাশিক হাসি দেয় হৃদ সাহেব। আমি উনার হাসির কারণটা বুঝতে পারি।

আমার অনেক কাজ আছে। যেতে হবে সাহেব। কোনো রকমে কথাটা বলে সেখান থেকে উঠে আসতে লাগি এমন সময় খেয়াল করি পিছনের থেকে উনি আমার হাতটা ধরে বসেছে। আমি আমার হাতটা উনার থেকে ছাড়াবার চেস্টা করি। আর উনি রেগে আমাকে বিছানায় ছুড়ে মারে।

তারপর বাজে ভাবে আমার শরীরে স্পর্শ করতে থাকে। আমার অস্বস্তি লাগে। উনার ছোঁয়া প্রতিটা স্পর্শে আমার ঘৃণা হয়। আমি উনাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে যায়। উনি এতে আরও বেশি রেগে যায়। আর উঠে আমার গলা চেপে ধরে। দাঁত কটমট করে বলে, খুব সখ না তোর বাড়ির কাজের মেয়ে হয়ে থাকার?

তাই থাক। তোকে শুধু ব্যবহারই করা যায়। এই হৃদ চৌধুরীর বউ হবার কোনো যোগ্যতাই তোর নেই। কথাটা বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে উনি রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
হ্যাঁ যান যান। কে বলেছে আপনাকে আমায় বউ মানতে? আমার কোনো সখ নেই আপনার মতো দুশ্চরিত্র পুরুষের বউ হবার। জোড় করে বিয়ে করেছেন আপনি আমায়। শুধু এটা বোঝাতে যে বৈধ ভাবে ব্যবহার করছেন। ঘৃণা করি আপনাকে আমি। আপনার প্রতিটা স্পর্শে আর আপনার ব্যবহারকে। কথাগুলো নিজে নিজে বলে কাঁদতে থাকি।

এমন সময় হৃদ সাহেবের মা এসে পিছনের থেকে আমার চুলের মুঠি ধরে টেনে উঠালো। তারপর আমাকে টানতে টানতে কিচেনে নিয়ে ধাক্কা মেরে এঁতো থালাবাসনের উপরে ফেলে দিলো।

এই ছোটলোকের বাচ্চা, মা’টাকে তো খেয়েছিস এবার আমাদের ঘাড়ে চেপে না বসে একটু গদরটা খাটিয়ে খাঁ।
খালাম্মা!
চুপপপপ! একদম খালাম্মা বলবি না। ম্যাডাম বল! বল ম্যাডাম!
ম্যাডাম আমার চুলের মুঠি ধরে মুখটা এঁটো বাসনের ভেতরে নিয়ে চেপে ধরে।

বড় সাহেব মানে হৃদ সাহেবের বাবা কিচেনে শব্দ শুনে ছুটে আসে। আর আমাকে এমন অবস্থায় দেখে ম্যাডামের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনে।
কি করছো কি? মেয়েটাকে মারছো কেন?

মারছি কেন সেটা আবার জিজ্ঞাসা করছো? দেখছো না দুপুর হতে চললো এখনো বাড়ির এঁটো বাসনগুলো পরে আছে। আর এই ছোটলোকের বাচ্চা নিজের রুমে আরামচে বসে আছে। এগুলো কে করবে শুনি?

ওহহ এই ব্যাপার? তাহলে আমাকেই ডাকতে আমি করে দিতাম।
মানে? কি বলতে চাও তুমি?

এটাই যে মেয়েটার সাথে একটু ভালো ব্যবহার করো। তাছাড়া মেয়েটার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেয়। ওকে আর শাস্তি দিও না বকুল। অনেক হয়েছে এবার ক্ষমা করো।

ক্ষমা করবো ওকে আমি? ওর জন্য আমি আমার বোনকে হারিয়েছি। একটা নস্টা মেয়ে মানুষ কোথাকার। ওকে যে এবাড়িতে আস্রয় দিয়েছি সেটা শুধু তোমার কথায়। না হলে ওকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এবাড়ি থেকে আমি বের করে দিতে পারলে শান্তি পেতাম। কথাগুলো বলে ম্যাডাম চলে যায়। আর বড় সাহেব আমার মাথায় হাত রেখে বলে, তোর খালাম্মার কথায় কিছু মনে করিস না ফুল।

ও তোর মাকে বড্ড ভালোবাসতো। যখন তোর বাবা গর্ভবতী অবস্থায় মেরে তোর মাকে তারিয়ে দেয় তখন তোর খালাম্মাই তোর মাকে এবাড়িতে নিয়ে আসে। খুব যত্ন করে আর তুই হবার পর তো তোকেও খুব যত্ন নিত। তোকে গোসল করিয়ে দেওয়া, খাইয়ে দেওয়া সব তোর খালাম্মা করতো। তোকে এতোটা ভালোবাসতো যে তুই যাতে এবাড়ি ছেড়ে না যেতে পারিস এজন্য তোর বিয়ে হৃদ…
এটুকু বলে বড় সাহেব থেমে যায়।

আর কিছু বলে না। আমার পাশ কেটে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে চলে যায়। আর আমি সেথায় দাড়িয়ে রই। কি বলতে চাচ্ছিলো বড় সাহেব? ভাবতে ভাবতে এঁতো থালাবাসনগুলো উঠিয়ে বেসিনের উপরে রাখি। আর ওমনি এঁটো বাসনে গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। বমি বমি লাগে।

আর পারি না মুখ আটকে রাখতে। বমি করে দিই। বমির শেষে বেসিনের উপরের আয়নায় চেয়ে দেখি পিছনে হৃদ সাহেব দাড়ানো।
উনি আমার কাছে এসে দাঁড়ালে আমার মনে পরে যায় মায়ের মৃত মুখটা। আমার গর্ভের এই সন্তানটার কথা। যা মনে পরলে ঘৃণা হয় উনাকে আমার।


পর্ব ২

ঝড় বৃষ্টির রাত ছিলো। দমকা বাতাস। নির্জ্জলতার আভাস। টিনের চালের টুপটাপ শব্দ। আর হঠাৎ মেঘের গর্জণে ভয় পেয়ে কেঁপে উঠে আমি ভেজা শরীরে সাদ থেকে নেমে আসছিলাম। পড়নের সাদা কামিজে শরীরটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। ঠিক ভাবে ওরনাটাও বুকে প্যাঁচাতে ভুলে গেছি। বাড়ির সকলেই যে এসময়ে ঘুম থাকে। তাই অতো খেয়াল করি নি। সাদে এসেছিলাম বৃস্টিতে ভিজতে। বৃস্টি হলেই যে আমার মন ছুটে আসে এই সাদে। সিঁড়ি থেকে যখন নামছিলাম হৃদের সাথে ধাক্কা। ধাক্কার তাল সামলাতে না পেরে হৃদকে আমি ধরে বসি।

আর চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি ওর চোখদুটো একদম আমার শরীরের উপর। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন এখনই খেয়ে ফেলবে। আমি চলে আসতে নিলেই আমার হাতটা টেনে ধরে রাখে। আর আমি কিছু বলতে যাবো তখন আমার মুখটা চেপে ধরে আর বলে, একটা কথাও বলবি না। আমাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে আসে তারপর ভেতর থেকে দরজাটা দিয়ে খুব বাজে ভাবে আমাকে স্পর্শ করে। আমি কিছু বলতে গেলে তার ঠোঁট জোড়া আমার ঠোঁটে বসিয়ে দেয়।

প্রায় বিশ মিনিট পর ঠোঁট জোড়া ছাড়ে। আর হাঁপাতে হাঁপাতে আমাকে বলে, আজকের রাতটা এখানে থেকে যা। আমি উঠে দাড়ায় আর কিছু না বলেই চলে আসতে লাগি হৃদ আমার হাতটা আবার ধরে বসে। আমি চিৎকার দিতে যাবো ও আমায় টেনে বিছানায় ফেলে দেয় আর আমার মুখটা খুব শক্ত করে চেপে ধরে রাখে। তারপর আমার পরনের কামিজের পেছনের চেনটা ধরে একটানে খুলে ফেলে সামনে থেকে কামিজটা টেনে কোমড় পর্যন্ত নিয়ে আসে।

এবার আমি লজ্জায় চিৎকারও করতে পারছি না। তবে ধাক্কাধাক্কি, চিমটি, নখের আচড়, কিল গুতা যেভাবেই পারছি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি ব্যর্থ। হৃদ আমার হাতদুটো শক্ত করে বিছানার সাথে চেপে ধরে রেখেছে। নিজের শরীরের সবটুকু ভার ছেড়ে দিয়েছে আমার উপর। সেই সাথে আমার গলায় আর বুকে আলতো করে ঠোঁটের কামড় দিয়ে যাচ্ছে। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। চিৎকারও করতে পারছি না। হৃদ আজ এমন কেন করছে?

কিছুক্ষণ পর,
বিছানার চাদরটা বুকে জড়িয়ে বসে আমি কাঁদতে থাকি। হৃদ আমার পাশে এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে। এই কি সেই হৃদ যে ছোটবেলায় আমার সাথে খেলতো। আমার জন্য গাছে উঠে আম পেরে দিতো। নাহ নাহ এই হৃদ সেই হৃদ না। সেই হৃদ তো বারো বছর আগেই মরে গেছে। বিদেশে লেখাপড়া করতে গিয়ে যে হৃদ এতোটা দুশ্চরিত্র আর নারী দেহ ভোগী হয়েছে তা আমার কল্পনার বাইরে ছিলো।

আমি আস্তে করে হৃদের বিছানা থেকে উঠে কামিজটা গায়ে জড়িয়ে নিজের রুমে আসি। আর দরজাটা লাগিয়ে কাঁদতে থাকি। কাঁদতে কাঁদতে বলি হৃদকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না।

সেই দিনটার পরে হৃদকে আর কখনো আমি দেখতাম না। আর ভুলেও যদি কখনো দেখা হয়ে যেতো তখনো ঠিক একইভাবে জোড় করে নিজের লালোশা মিটিয়ে নিতো। কয়েক মাস পর যখন আমি অসুস্থ হয়ে পরি। মা, খালাম্মা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার দেখে বললো আমি প্রেগনেন্ট। কথাটা শুনে মা অনেক বড়সড় একটা ধাক্কা খাই। মা, খালাম্মা সবাই আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে বাচ্চাটা কার?

আমি বলেছি বলতে পারবো না। আর এই কারণেই মা লজ্জায়, ঘৃণায় বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করে নেয়। মায়ের মৃত্যুর পর বাচ্চাটা নস্ট করে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে হৃদ আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে গোপনে বিয়ে করে। এমনকি রোজ মাঝরাতে এই বিয়ের দোহাই দিয়ে নিজের লালোশা মেটাতে আমার কাছে আসে।

মায়ের মৃত্যুর পর খালাম্মা আর আমাকে আগের মতোন ভালোবাসে না। সে ভাবে আমি মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। খালুর অনেক মিনতি করার পর খালাম্মা আমাকে এখানে থাকতে দিয়েছে তবে আগের মতোন মেয়ে হয়ে নয়। এই বাড়ির কাজের লোক হয়ে।
তার কিছু শর্ত আছে, তাকে কখনো খালাম্মা বলে ডাকা যাবে না। খালুকে বড় সাহেব বলে ডাকতে হবে আর হৃদকে হৃদ সাহেব বলে ডাকতে হবে। ঠিক যেমন ভাবে বাড়ির অন্য কাজের মেয়েরা ডাকতো।

মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে খালাম্মা বাড়ির সবকটা কাজের মেয়েকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। এখন বাড়ির সব কাজ শুধু আমাকেই করতে হয়। আর তাই করে চলেছি। এবাড়িতে পরে আছি শুধু এই সন্তানটার জন্য।

বর্তমান,
আনমনা হয়ে মায়ের কথা ভাবছি। এই সন্তানটার কথা ভাবছি। হৃদ সাহেব এসে আমার চোখের সামনে একটা কাচের গ্লাস ধরে ছেড়ে দেয়। আর গ্লাসটা নিচে পরে ভেঙে গুরোগুরো হয়ে যায়। গ্লাস ভাঙার শব্দে আমার ধ্যান ফেরে।

চেয়ে দেখি হৃদ সাহেব কাচের একটা টুকরো উঠিয়ে নিজের হাতের মুঠোয় বন্দী করে রেখেছে। হাত থেকে ফোঁট ফোঁট রক্ত মেঝেতে ঝড়ে পরছে। যেটা দেখে আমার একটুও মায়া হচ্ছে না। কারণ এই মানুষটাকে দেখলে আমার প্রচন্ড ঘৃণা হয়। আমি ঝাড়ু এনে কাচের টুকরোগুলো উঠিয়ে ডাস্টবিনে ফেলি। এতে হৃদ সাহেব খুব রেগে যায়। তার হাত থেকে রক্ত ঝরছে দেখেও আমি কোনো রেসপন্স না করাই সে হয়তো অপমান বোধ করেছে।

রেগে গিয়ে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরেছে আর তার রক্তাক্ত হাতটা দিয়ে আমার মুখটা খুব জোড়ে চেপে ধরে আছে। কিছুক্ষণ পর আমাকে ছেড়ে দিয়ে ধাক্কা মেরে বেসিনের উপরে মুখটা চেপে ধরে কল ছেড়ে দেয়। আর কলের পানিতে আমার মুখটা ডুবিয়ে রাখে। কিছু সময় পর মুখ টেনে নেয়। আমি নিঃশ্বাস ছাড়তেই মুখটা সেই পানির সাথে আবার ডুবিয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর আমায় ছেড়ে দিলে আমি জোড়ে জোড়ে নিঃস্বাস নিতে থাকি। গালটা চেপে ধরে সামনে তাকিয়ে বলতে শুনি, কি ভেবেছিলি তুই ফুল? আমরা তোকে মাথায় করে রাখব? মা ঠিকই বলে তুই একটা নস্টা মেয়ে। তোর জায়গা শুধু এই কিচেনেই হয়। যাহ গিয়ে কাজ কর। কথাটা বলে একটা ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
আর আমি উনার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছি। ভাবছি একটা মানুষ এতোটা খারাপ হয় কিভাবে?

কলিং বেলের আওয়াজে গিয়ে দরজা খুললাম। দেখি ইয়া বড় এক পেটি আম নিয়ে বড় সাহেব বাড়িতে এসেছে। ভেতরে আসলে প্রতি বারের মতোন এবারও আমের পেটির সামনে বসে পরি। একটা একটা করে পনেরটার মতোন আম খাওয়া হয়ে গেছে। আটিগুলো যে পাশেই ছুড়ে ছুড়ে মেরেছি খাওয়ার সময় সেই খেয়াল নেই।
যখন খেয়াল পরলো আটিগুলোর দিকে তখন পেছনের থেকে কেউ এসে চুলের মুঠি ধরে টেনে উঠায়।

পর্ব ৩

এই ওঠ ওঠ এভাবে আটি ছড়িয়ে কেন আম খাচ্ছিস? কথাটা বলেই আমাকে চুল ধরে উঠিয়ে কষিয়ে গালে একটা থাপ্পড় মেরে বসে খালাম্মা। আমি ছিটকে গিয়ে হৃদের বুকের উপর হুমড়ি খেয়ে পরি। আমার মুখের আমের দাগগুলি হৃদের সাদা শার্টে স্পষ্ট লেগে আছে। তাকিয়ে দেখি হৃদ খুব সেজেগুজেই বের হয়েছে। হয়তো কোথাও যাচ্ছে। হৃদ একটানে শার্টটা খুলে আমার মুখের উপর ছুড়ে মারে। আর বলে এটা পরিষ্কার করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমার রুমে সরবত নিয়ে আয়! খালাম্মার মুখের দিকে তাকালে সে বলে হৃদ যা বলছে তাই কর।

কথা মতোন আমি পাঁচ মিনিট পর সরবতটা নিয়ে হৃদের রুমে আসি। আমি আসতেই হৃদ রুমের ভেতর থেকে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। তারপর নেশা ভরা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি বুঝতে পারি ও এখন কি করতে চাইছে। ভয়ে আমার পা দুটি থরথর করে কাঁপছে। হাতের গ্লাসটা কাঁপতে কাঁপতে পরে যাওয়ার উপক্রম। হৃদ আমার হাত থেকে সরবতের গ্লাসটা নিয়ে ডগমগ করে পুরো সরবতটা খেয়ে নেয়। তারপর আমার হাতটা ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে।

আম খেয়েছিস ভালো কথা, মুখ কেন পরিষ্কার করিস নি? তোর মুখে এখনো আমের এঁটো লেগে আছে। দাড়া আমি মুছে দিচ্ছি, কথাটা বলে হৃদ মুখ দিয়ে আমার মুখে লেগে থাকা আমের এঁটো চুষে নেই। তারপর আমার হাতে সরবতের গ্লাসটা ধরিয়ে দিয়ে বলে যা এবার এখান থেকে।

আমি ছুটে ওয়াশরুমে আসি। বারবার আমার নিজের মুখটা ঘষে সাবান দিতে থাকি। আর আনমনে নিজেই নিজেকে বলি, কেন যাকে এতোটা ঘৃণা করি সে বারবার কাছে আসে? তার স্পর্শ গুলোতে আমার যে ঘৃণা হয়।

রাতে সকলের খাওয়া দাওয়া শেষে সারাদিনের এঁটো সব থালাবাসন পরিষ্কার করে শোবার জন্য রুমে আসি। দেখি আমার আগে হৃদ এসে আমার বিছানায় শুয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে পরেছে।

এখন শব্দ করলেই বিপদ। আমি পা টিপে আস্তে করে এসে কম্বলটা টেনে মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরি। কিছুক্ষণ পর অনুভব করি হৃদের হাত আমার পেটের উপরে। আমি ভাবি ঘুমের ঘোড়ে হৃদের হাতটা আমার পেটের উপরে চলে এসেছে হয়তো। তাই আস্তে করে হৃদের হাতটা ধরে আমি সরিয়ে দিতে চাই। আর তখন হৃদ আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে।
আজ এতো দেরি হলো কেন আসতে?

আজ আমাকে ছেড়ে দিন হৃদ সাহেব আমার শরীরটা খুব ক্লান্ত।
হৃদ আমার পেটে হাত বুলিয়ে বলে, বাচ্চাটাকে মেরে ফেলি? তারপর একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বালিশের নিচ থেকে ফল কাটা ছুড়িটা বের করে আমার পেটের উপরে আলগা করে ধরে বলে, কি বলিশ? মেরে ফেলবো?

ভয়ে আমার পেট কাঁপছে। বুক ধুকপুক করছে। আমি নরতেও পারছি না। একটু নরলেই ছুড়িটা আমার পেটে ঢুকে যাবে। তাই আমি ইশারায় মাথা নারিয়ে বলি বাচ্চাটাকে না মারতে।

হৃদ খুশি হয়ে ছুড়িটা ফেলে দিয়ে আমার পেটে একটা চুমু খায়। তারপর আমার হাতদুটো শক্ত করে চেপে ধরে বালিশের সাথে। হৃদ তার পুরো শরীরের ভারটুকু আমার উপরে ছেড়ে দেয়। আমার গলাতে ওর নাকের ডগা ঘেঁষতে থাকে। আমি অস্বস্তি বোধ করি। কিন্তু চাইলেও হৃদকে দূরে সরাতে পারি না। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করি হৃদ আমার হাত দুটো ছেড়ে দিয়েছে। আমি ভাবি এবার হয়তো ও ঘুমিয়ে গিয়েছে। ওকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে গেলে পারি না। কারণ ও নিজের মাথাটা আমার বুকের উপরে রেখে আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে।

সকালে,
সারারাত জেগে ছিলাম। হৃদ কাল রাতে একটুও আমাকে ঘুমাতে দেই নি। সকালেও সেই একই অবস্থা। আমার জামার ভেতরে হাতটা ঢুকিয়ে ও আমার দিকে চেয়ে আছে।

অনেক সকাল হয়েছে হৃদ সাহেব খালাম্মা এক্ষুনি আমাকে ডাকতে চলে আসতে পারে। তারপর আমার রুমে আপনি আছেন জানতে পেলে সমস্যা হয়ে যাবে।
হৃদ হাতটা বের করে আমার দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে রাগি দৃস্টিতে তাকিয়ে দাঁত কটমট করে আমাকে বলে, এতো ভয় পাস কেন ফুল? মা জানলেও বা কি?

আমার কান্না চলে আসে। আমি কাঁদতে থাকি, হৃদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিই না। কারণ ওর প্রতি আমার ঘৃণা ছাড়া কিছুই নেই। ওর জন্য আমার মা আত্নহত্যা করেছে। ও আমার মায়ের খুনি।

হৃদ উঠে বসে আর বলে, সেদিন মাঝরাতে তোকে ওই অবস্থায় দেখে আমার মাথার ঠিক ছিলো না তাই অমনটা করেছিলাম। কিন্তু পরে তো তোকে আমি বিয়ে করেছি ফুল। তাহলে আজ কেন এমন করছিস?

আমি কাঁদতে কাঁদতে শুয়ে থেকেই উত্তর দিয়, একবার না আপনি বারবার ওই একই ভুল করেছেন আমার সাথে। যখন সুযোগ পেয়েছেন নিজের লালোশা মিটিয়েছেন। আর আমাকে কি আপনার পাগল মনে হয়? বিয়ের দোহাই দিয়ে আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করবেন আর আমি বুঝবো না। আমি বুঝি এই বিয়েটা যে আপনার কাছে মজা ছাড়া কিছুই না। নইলে নিজের সন্তানকে মেরে ফেলার ভয় দেখাতেন না। আমার কাছে আপনি একটা দুশ্চরিত্র, নোংরা মানুষ। সেদিনও ছিলেন আর আজও আছেন। আমি কখনো আপনাকে ক্ষমা করবো না। কখনো না।

কথাগুলো শুনে হৃদ রাগি দৃস্টিতে আমার দিকে তাকায়। আর বলে, তোকে বোঝানোটাই বোকামির কাজ। তুই যা ভাবিস তাই। তোকে শুধু আমার ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন। তুই একটা নস্টা মেয়ে তাই বিয়ের আগেই নিজেকে প্রেগনেন্ট করেছিস। আর আমার বউ হবার তো দূরের কথা এই বাড়ির কাজের মেয়ে হবার যোগ্যও তুই না। তোকে তো মা দয়া করে বাড়ির কাজের মেয়ে করে রেখেছে। আমি যদি পারতাম পতিতালয়ে দিয়ে আসতাম।

কথাগুলো বলে হৃদ নিজের শার্টটা উঠিয়ে দরজাটা গিয়ে খুলে দেয় আর সামনে তাকিয়ে দেখে খালাম্মা দাড়িয়ে আছে। বড় বড় চোখ করে রাগির দৃস্টিতে হৃদের মুখের দিকে চেয়ে। একটু এগিয়ে খালাম্মা আমার রুমে ঢুকে দেখে বিছানায় এলোমেলো ভাবে আমি শুয়ে আছি। আর কাঁদছি। হৃদ খালাম্মাকে কিছু বোঝাতে গেলে খালাম্মা ঠাসসসস! করে কষিয়ে একটা থাপ্পড় হৃদের গালে বসিয়ে দেয়।

পর্ব ৪

ঠাসসস! ছিই হৃদ ছিই এতোটা নিচে নেমে গেছিস তুই? আমার ভাবতেও ঘৃণা হচ্ছে যে তুই আমার ছেলে। তুই শেষ পর্যন্ত এমন কাজ করবি আমি কখনো ভাবতে পারি নি।

খালাম্মাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনে আমি ঝটপট করে উঠে বসি। তারপর নিজের কাপড়টা ঠিক করে নিয়। খালাম্মা আমার দিকে তাকায়। আস্তে আস্তে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ভয়ে আমার হাত পা থরথর করে কাঁপছে। না জানি আমাকে আজ কি শাস্তি দেবে?
একি! খালাম্মা কাছে এসেই আমাকে জোড়িয়ে ধরেছে। আমার মুখে চুমু খাচ্ছে। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। তাহলে কি আমাদের মধ্যের সব কথা শুনে নিলো খালাম্মা?

খালাম্মা কাঁদতে কাঁদতে আমার সামনে দু’হাত জোড় করে বলে, আমাকে ক্ষমা করে দিস ফুল আমি তোর প্রতি অনেক অন্যায় করে ফেলেছি।
আমি খালাম্মার হাতটা নিচে নামিয়ে দিই। তারপর বলি, নাহ নাহ তুমি কেন ক্ষমা চাইছো? তোমারতো কোনো দোষ না। সব দোষ শুধুই হৃদের।
হৃদ বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকায়। এগিয়ে এসে কিছু বলতে গেলে খালাম্মা হৃদকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আর হৃদ আমার মুখের দিকে সেই একইভাবে চেয়ে থাকে।

কি হলো শুনতে পাস নি? এই মুহূর্তে এই বাড়ি থেকে তুই বের হয়ে যা হৃদ। উচ্চ কন্ঠস্বরে খালাম্মা কথাটা বলে হৃদকে।
হৃদ কেঁপে উঠে একটু নরেচরে উত্তর দেয় ফুলকে আমি বিয়ে করেছি মা। আমি গেলে ওকেও সাথে করে নিয়ে যাবো।
কথাটা বললে খালাম্মা ঠাসসসস! করে হৃদের গালে আরেকটা থাপ্পড় মারে। তারপর হৃদকে হাত ধরে টেনে ওর রুমে নিয়ে গিয়ে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে ওর হাতে লাগেজটা ধরিয়ে দেয়। আর বলে, শেষবারের মতো তোকে বলছি এই বাড়ি থেকে তুই বেরিয়ে যা। তোর জন্য আমার বোন আত্নহত্যা করেছে। তোর মতোন খুনীর আমার বাড়িতে কোনো জায়গা নেই।

হৃদ লাগেজটা নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এসে আমার হাত ধরে বলে, আমি গেলে ফুলকে সাথে করেই নিয়ে যাবো।
আমি আমার হাতটা হৃদের থেকে ছাড়াতে চেস্টা করি। এমন সময় খালু এসে হৃদকে জিজ্ঞাসা করে এভাবে আমার হাত কেন ধরেছে? হৃদ বলে আমার গর্ভের সন্তানটা ওর আর ও আমাকে বিয়ে করেছে। তাই ও যেখানেই যাবে আমাকে নিয়ে যাবে।

কথাটা শুনে খালু রেগে যায়। আর হৃদকে মারে। মারতে মারতে হৃদের অবস্থা কাহিল করে দেয়। হৃদ আর উঠে দাড়াতেও পারে না। খালু সেখান থেকে রেগে মেগে চলে যায়। আর হৃদ আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমার একটুও মায়া হয় না এই অবস্থায় ওকে দেখে। ও মরে গেলেও আমার কস্ট হবে না। খালাম্মা আমাকে ধরে আমার রুমে নিয়ে আসে আর বলে এখন থেকে বাড়ির কোনো কাজ না করতে। আর সারাদিন রেস্ট নিতে।
খালাম্মা আমার যত্ন নেই। আমাকে এসে খাইয়ে দিয়ে যায়। তখন হৃদকে খালু মারার পর সেই যে রুমে এসেছি আর বের হই নি।

দুপুরে রুম থেকে বের হয়ে ওইখানটাই আসি যেখানে হৃদ খালুর মাইর খেয়ে পরে ছিলো। কিন্তু হৃদ সেখানে নেই। মনে মনে আমি খুব খুশি হলাম। আমি ভাবলাম সত্যি সত্যি হয়তো হৃদ বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে গেছে। খুশীতে আমি সেই আগের মতোন সারা বাড়িতে ঘুরঘুর করছি। এখন না আমার কোনো কাজ করতে হচ্ছে আর না খালাম্মার দূঃব্যবহার সহ্য করতে হচ্ছে। সত্যিটা জানার পর খালাম্মা ঠিক আগের মতোন আমাকে ভালোবাসছে।

সারাদিন পর আমি রাতে আমার রুমে আসলে রুমটা একদম অন্ধকার দেখতে পেলাম। আমার একদম মনে আছে রুমের বাতি জ্বালিয়ে আমি বাইরে গিয়েছিলাম তাহলে এতো অন্ধকার কিভাবে হলো? আমি অতোসতো না ভেবে রুমের ভেতরে গিয়ে বাতিটা জ্বালাতে যাবো এমন সময় পেছনের থেকে দরজা বন্ধের শব্দ শুনতে পাই। আমি ঘুরে দাঁড়াতেই কেউ এসে আমার মুখটা চেপে ধরে। আমি চিৎকারও করতে পারি না। তারপর আমার চোখের সামনে ফোনের ফ্ল্যাস লাইটটা জ্বালিয়ে ধরলে মুখটা দেখতে পেলাম। এ আর কেউ না হৃদ। তাহলে হৃদ এখনো বাড়ি থেকে যায় নি?

কি ভেবেছিলি ফুল তোকে ফেলে রেখে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো? কখনো না! কোথায়ও গেলে তোকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবো। আর এবাড়িতে থাকলেও তোর সাথেই থাকবো। অনেক রাত হয়েছে শুতে আয়!

আমি ধাক্কা দিয়ে হৃদকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আলোটা জ্বালিয়ে বলি, কক্ষনো না। আমি আর কখনো আপনার সাথে শুবো না। কথাটা বলে চোখ তুলে চেয়ে দেখি হৃদের মুখে আর বুকে খালুর মাইরের দাগগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
হৃদ ঘুরে পাশের টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি খাই। তখন ওর পিঠের দাগগুলোও দেখা যায়।

কি চাস তুই ফুল? তোর জন্য আমি আজ বাবার কাছে এতোটা মাইর খেলাম। মায়ের কাছেও পর হয়ে গেলাম। এরপরও আমাকে ঘৃণা করবি?
হ্যাঁ করবো। কারণ আপনি আজ আপনার নিজের দোষে খালুর কাছে মাইর খেয়েছেন। খালাম্মার কাছে পর হয়েছেন। এক্ষুনি আমার রুম থেকে আপনি বের হবেন নইতো আমি চিৎকার দিয়ে খালু, খালাম্মাকে ডাকবো।

হৃদ টেনে আমাকে বিছানায় ফেলে বলে, তোর যা ইচ্ছা তুই তাই কর। তবুও আমি কোথাও যাবো না। তোর রুমেই ঘুমোবো। কারণ তোকে ছাড়া আমার ঘুম হয় না। কথাটা বলে আমার হাতদুটো বিছানার সাথে চেপে ধরে। আমি চিৎকার দিতে যাবো তার আগেই আমার ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয়। আমার ঘৃণা হয় হৃদের স্পর্শে।

আজ আমি না পেরে হৃদের ঠোঁটে জোড়ে কামড় বসিয়ে দিয়। তারপর চিৎকার করে খালু, খালাম্মাকে ডাকি। তারা এসে দরজায় কড়া নাড়াতে আমি ধাক্কা দিয়ে হৃদকে সরিয়ে উঠে পরে দরজাটা গিয়ে খুলে দিয়। আর খালাম্মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। খালু রুমের ভেতরে গিয়ে দেখে হৃদ আমার রুমে। যা দেখে রেগে গিয়ে খালু হৃদকে টেনে বাইরে নিয়ে আসে আর মারতে থাকে। হৃদকে মারতে মারতে খালু বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

পর্ব ৫

এই কলকলে শীতে, এতো রাতে হৃদ যাবে কোথায়? এতোটা পাষাণ মনের মানুষ আমি নই। খালাম্মাকে বোঝালাম, খালুকে বোঝালাম। আজকের রাতটা অন্তত্য হৃদকে থাকতে দিও। আমি বোঝানোর পরে খালাম্মা, খালু রাজি হয়ে যায় আর দরজাটা খুলে দেয়। হৃদকে বলে, আজকের রাতটুকু থেকে যেতে। আর হৃদ থেকে যায়। ও নিজের রুমে গিয়ে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। আমরাও আমাদের যার যার রুমে এসে শুয়ে পরি।

রাত তিনটা বাজে। আমার চোখে ঘুম নেয়। অন্য দিন এই সময়ে হৃদ আমাকে প্রচুর বিরক্ত করতো। যদি পারতো সারাটা রাত জাগিয়ে রাখতো। আর সকাল হতেই সকলে ঘুম থেকে উঠার আগে আমার রুম থেকে বেড়িয়ে যেত। কিন্তু আজ যেন বিছানাটা শূন্য শূন্য লাগছে। তবে ভালো হয়েছে ও চলে গিয়েছে। শরীর ছাড়া তো ও আর কিছুর টানে আমার কাছে আসতো না। যদি তাই না হতো তাহলে সেদিন ওভাবে আমার সম্মান নস্ট করতে পারতো না।

হৃদের কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ শুনতে পায় দরজায় কড়াঘাত। আমি বুঝতে পারি এটা হৃদই হবে। হোক হৃদ! আজ কিছুতে দরজা খোলা যাবে না। কিন্তু নাহ! দরজার কড়াঘাত ক্রমশ বেড়ে চলেছে। খালু, খালাম্মা শুনতে পেলে আবার এসে ওকে মারবে। আমি চাই না ও আর মাইর খাক। তাই না চাইতেও গিয়ে দরজাটা খুলে দিই।

আমি দরজা খোলা মাত্র হৃদ আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমি এক ধাক্কা দিয়ে ওকে দূরে সরিয়ে দিই।
লজ্জা করে না আপনার? এতোকিছুর পরেও সেই আমার কাছে এসেছেন? কেন? এই শরীরটার জন্য?

আমার কথাটা শেষ হওয়ার সাথেই হৃদ আমার গালে একটা কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। তারপর আমাকে টেনে রুমের মধ্যে নিয়ে এসে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে আমাকে বলে, আজ তুই আমায় অনেক অপমান করেছিস। অনেক কস্ট দিয়েছিস ফুল। আর ভেতরটায় যে ব্যাথা অনুভব করছি সেটি কি তুই বুঝতে পারছিস না? খুব যন্ত্রণা হচ্ছে আমার।
নাটক বন্ধ করুন। একদম মন ভোলানো কথা বলার চেস্টা করবেন না। আপনার মতোন মানুষের আবার কস্ট, যন্ত্রণা। কিভাবে পারেন এসব নিখুঁত অভিনয় করতে আপনি?

ফুল…বলে হৃদ নিজের হাতটা উঠায়। আমাকে মারতে গিয়েও থেমে যায়। তারপর বলে, তোকে আমি অনেকবার বলেছি সত্যিটা বাবা-মাকে বলে দিতে। কিন্তু তুই চাস নি। কেন? আমাকে ঘৃণা করিস তাই। আর আজ আমার সব দোষ?

হ্যাঁ, আপনার সব দোষ। আপনার জন্য আমার মা আত্নহত্যা করেছে। আমি চাইলেও আপনাকে কখনো মেনে নেবো না। দরকার পরলে এবাড়িতে কাজের মেয়ে হয়ে সারাটা জীবন পরে থাকবো। যতো অপমানিত হওয়ার হবো তবুও আপনাকে কখনো আমি মেনে নিতে পারবো না।

ঠিক এই জেদটাই ধরেছিলি তুই। আমি তোকে বলেছিলাম বাচ্চাটার একটা পরিচয় লাগবে। তুই একা ওকে নিয়ে পারবি না সমাজের চোখে মাথা উঁচু করে বাঁচতে। কিন্তু তুই শুনিস নি। তাই আমি ভয় দেখিয়ে তোকে বিয়ে করেছি। আর তুই কি করলি? বিয়ের কথাটাও না নিজে কাউকে বললি আর না আমাকে বলতে দিলি। এখন সব দোষ আমার?

বন্ধ করুন তো আপনার নাটক। আজ রাতটাই তো আছেন। এই একটাদিন একটু শান্তিতে থাকুন। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আপনার এসব নাটক দেখতে আমার আর ইচ্ছে করছে না। যান নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন। আর আমাকেও এবার একটু ঘুমোতে দিন। কথাটা বলে দরজাটা খুলে বাইরের দিকে ইশারা করলাম।
হৃদ এসে আমাকে টেনে হাত ঘুরিয়ে পিছনে নিয়ে শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, কোথাও যাবো না আমি। আর যদিও যাই তোকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবো।

দরজাটা দিয়ে আমাকে নিয়ে বিছানায় ফেলে বলে, ঘুম আসছে না তোর? যা ঘুমিয়ে পর। তারপর বিছানার অন্য পাশটায় উল্টো ঘুরে শুয়ে থাকে হৃদ।

সকালে, রাতে আর আমার ঘুম হয় নি। আমার উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে এখনো শুয়ে আছে হৃদ। সারাটা রাত কক কন্ঠস্বরে হালকা কান্নার আচ পেয়েছি হৃদের দিক থেকে। হৃদ কি সত্যি কেঁদেছে? কাঁদলে কাঁদুক, তাতে আমার কি? ওকে শুধুই ঘৃণা করি আমি।
খালাম্মা এসে বাইরে থেকে ডাকছে। ফুল হৃদ কি আবার তোর রুমে এসেছে? ওতো নিজের রুমে নেই। দরজাটাও বাইরে থেকে খোলা। কথা বল মা। তুই ঠিক আছিস তো?
খালাম্মার কথা শুনে আমি উঠে বসি। কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না। হাত দিয়ে হৃদের পিঠে খোঁচা দিয়ে বলি উঠতে। আর পিঠের কাটা জায়গায় খোঁচা খেয়ে হৃদ ব্যাথা পেয়ে চিৎকার দিতে যায় আমি ওর মুখটা চেপে ধরি। আর ফিসফিসিয়ে বলি, উসসসস!

একটুও শব্দ করবেন না। আপনি এখানে আছেন জানতে পেলে আপনাকে আবার মারবে। হৃদ আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমি হৃদের মাথার বালিশটার দিকে তাকিয়ে দেখি ভিজে চুপচুপ করছে। হয়তো কাল রাতে খুব কেঁদেছে। আমি হৃদের বুকে মাথা রেখে শুয়ে খালাম্মাকে বলি, নাহ খালাম্মা হৃদতো এখানে আসে নি। হয়তো সকাল হয়েছে তাই চলে যেছে।
সত্যি কি হৃদ চলে গেছে ফুল?

হ্যাঁ। কালতো সেই কথায় হয়েছিলো। সকাল হলেই ও চলে যাবে।
আচ্ছা, তুই ঘুমো তাহলে। এতো সকালে উঠার দরকার নেই। আরেকটু বেলা হোক তাই উঠিস। কথাটা বলে খালাম্মা চলে যায়।

খালাম্মা যেতেই হৃদের বুকে ধাক্কা দিয়ে আমি উঠে আসি। হৃদ অনেকটা অবাক হয় আমার এমন আচারণে।
কি হলো ফুল এইভাবে উঠে গেলি কেন?

আমি খালাম্মাকে বলে দিয়েছি আপনি চলে গেছেন। তাই এখন চুপিচুপি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। নইতো আপনি আছেন দেখলে আবার মারবে আপনাকে।
ওহহ এইজন্য? তাই ভাবি তুইতো আমার কাছে আসার মানুষ না। যাই হোক, আমি এবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছি না।
মানে?

মানেটা তোকে আমি আগেও বলেছি ফুল। গেলে তোকে নিয়েই যাবো।
অসম্ভব আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না।
তাহলে এখানে থাকতে দে। তোর কাছে লুকিয়ে রাখ আমায়। যতোদিন না মা-বাবা আমাকে ক্ষমা করছে।

পর্ব ৬

হৃদের কোনো কথার উত্তর না দিয়ে আমি ছুটে ওয়াশরুমে চলে এলাম। কি বলবো ওকে আমি? ও যা অন্যায় করেছে তার যে ক্ষমা হয় না। তাহলে আজ কেন ওর জন্য আমার এতো কস্ট হচ্ছে? আমি তো ওকে ভালোবাসি না।
হৃদ ওয়াশরুমের দরজাটার কাছে এসে দাড়ায়। আর আমাকে ডাকে, ফুল আমার কথার উত্তর দে। বাইরে আয় প্লিজ! আমাকে আর কস্ট দিস না। তুই ছাড়া যে আমি একেবারে নিঃস্ব।

আমি চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে ওয়াশরুমের দরজাটা খুলে দিলাম। হৃদ এসে আমাকে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল, তুই কি সত্যিই চাস আমি চলে যায়?
আমি হৃদকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলি, হ্যাঁ চায়! কারণ আমি ঘৃণা করি আপনাকে। চলে যান আপনি এবাড়ি থেকে।

এমন সময়ে খালাম্মা আবার আসে। দরজার কাছে এসে বলে, ফুল তুই কি উঠে পড়েছিস? দরজাটা খোল না। ভাবছি আজ তোকে নিয়ে একটু হসপিটালে যাবো।
খালাম্মার কন্ঠ শুনে আমি হৃদের দিকে তাকায়। হৃদ তো আমার রুমে। এটা খালাম্মা জানলে তো হৃদকে আবার মারবে। খালাম্মা ডেকে যাচ্ছে আমাকে আর হৃদ সেখানেই দাড়িয়ে আছে।

আমি হৃদকে ঠেলে ওয়াশরুমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিই। আর বলি খালাম্মা না যাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে বের হবেন না। তারপর আমি ওয়াশরুমের দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে রুমের দরজাটা খুলে দিয়। খালাম্মা রুমের ভেতরে আসে। আলমারি থেকে একটা কাপড় বের করে আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। তারপর বলে, গোসল করে রেডি হয়ে নিতে। হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে বাইরে লাঞ্চ করে তাই বাড়িতে ফিরবো আমরা।

খালাম্মা আমার রুমেই বসে থাকে। আর ওয়াশরুমে হৃদ। আমি না চাইতেও ওয়াশরুমের ভেতরে যায়। গিয়ে দরজাটা আটকিয়ে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখি হৃদ দাড়ানো।

আমার কিছু বলার আগে হৃদ এগিয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো।
বাইরে খালাম্মা আছে। আমাকে এখানেই চেঞ্জ করতে হবে।
আচ্ছা কর। গোসল করবি তো?

আমার হাত থেকে কাপড় ও তোয়ালেটা নিয়ে পাশে রাখলো। তারপর আমায় নিয়ে পানির কাছে গিয়ে পানি ছেড়ে দিলো।
কি করছেন কি? আমাকে একদম ভিজিয়ে দিয়েছেন!
তো কি হয়েছে? মা তো তোকে গোসল করতেই বললো।

আমি এই শীতে গোসল করবো? আমি কাপড়টা চেঞ্জ করেই চলে যাবো।
কি? তুই গোসল করবি না। সারাদিন বাইরে থাকবি আর রাতে এসে সেই আমার সাথে ঘুমোবি। তোর গায়ের থেকে তো ঘামের গন্ধ বের হবে। আমি কি রাতে তোর ঘামের গন্ধ শুকবো?

আপনার সাথে ঘুমোবো মানে? আপনি আমরা বেরিয়ে যাবার পরপরই এবাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন।
নাহ!
হ্যাঁ।

না গেলে কি করবি? বাবা-মাকে বলবি আমি তোর কাছে আছি? ঠিক আছে যা। গিয়ে বল!
আমাকে ধাক্কা দিয়ে হৃদ ইশারা করে বাইরের দিকে।
নাহ! আমি সেটা বলতে পারবো না। আপনি নিজের থেকেই চলে যাবেন।

আমার কথাটা শুনে হৃদ খুশি হয়। হৃদ আমার কাছে এসে আমার মুখটা ধরে বলে, আমি কখনো তোকে ছেড়ে যাবো নারে। এবার যাতো গোসল করে নে মা বাইরে অপেক্ষা করছে।
আমি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকি। সেটা দেখে হৃদ আমার পড়নের জামাটা টেনে বলে, এখোনো দাড়িয়ে আছিস কেন?

তো কি করবো? আপনার সামনে আমি..
আমি আর কিছু বলার আগেই হৃদ আমার জামার পিছনের চেইনটা খুলে ফেলে। আর বলে, নাটক বন্ধ কর। আমার সামনে অনেক খুলেছিস কাপড়।

কথাটা বলে হৃদ আমার জামাটা খুলতে যায়। আমি হৃদের হাতদুটো ধরে বসি। আর বলি, প্লিজ এমন করবেন না। আমাকে নিজে করতে দিন।
আমি করলে তোর সমস্যা কোথায়?
না আপনি পারবেন না।

পারবো।
হৃদ জোড় করে আমার গলায়, মুখে আর পিঠে সাবান লাগিয়ে দেয়।
আমার খুব শীত করছে।
জামাটা খোল ফুল।

নাহ। জামা কেন খোলা লাগবে?
না খুললে তোর গায়ে ভালো ভাবে সাবান লাগানো যাবে না।

আপনার আর কিছু করা লাগবে না। আমি নিজেই করছি সরুন। বলে সাবানটা হৃদের কাছ থেকে টেনে নিয়ে নিলাম। আর হৃদকে ধাক্কা দিয়ে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিলাম।
তাকিয়ে দেখি হৃদের মুখটা কালো হয়ে গেছে। আমাকে ছেড়ে দিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে কিছুটা দূরে গিয়ে দাড়িয়ে আছে।

আর আমার খুব শীত করছে। না চাইতেও আজ হৃদের পাল্লায় পরে গোসল করতে হচ্ছে।
আমি জামাটা খুলে বুকের উপরে দিয়ে গায়ে সাবান লাগাচ্ছি আর কাঁপছি। বাইরে থেকে খালাম্মা ডেকে চলেছে। কি হলো ফুল এখনো হলো না?

হ্যাঁ, খালাম্মা। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে আসছি। কথাটা বলে সাবানটা পাশে রাখতে যাবো আমার হাত থেকে পরে যায় সাবান। আমি উঠাতে গেলে শব্দ পেয়ে হৃদ পেছনের দিকে ঘুরে তাকায়। আর আমি সাবানটা না উঠিয়েই বুকের উপর থেকে নিজের জামাটা ঠিক করে দিতে থাকি। হৃদ এই অবস্থায় আমাকে দেখলে যে কি করবে তা আমি খুব ভালো করেই যানি। তাকিয়ে দেখি হৃদের চোখদুটো একদম আমার দিকে। ও আমাকে ভেজা শরীরে এভাবে দেখলে যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।

ওদিক থেকে একপা দুপা করে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে হৃদ। আর এদিকে আমি ভয়ে চুপসে যায়। হৃদ একদম আমার কাছে চলে এসেছে। ও আমার কাছে এসে আমাকে ছুতে যাবে অমনি আমি উল্টো দিকে ঘুরে যায়। হৃদ আমার পিঠের উপর থেকে ভেজা চুলগুলো সড়িয়ে দেয়। আর আমার পিঠে অসংখ্য চুমু খাই। তারপর আমাকে টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। আমার গালটা শক্ত করে ধরে আর আমার ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটে বসিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর আমার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ছরি বলে আমার থেকে দূরে সরে যায় হৃদ।

আমি জানতাম হৃদ এমন কিছুই করবে। বাইরে খালাম্মা আছে ওকে কিছু বলতেও পারছি না। আমি আস্তে করে কাপড়টা নিয়ে ভেজা শরীরে ওয়াশরুম থেকে বাইরে চলে আসি। আর ওয়াশরুমের দরজাটা বাইরে থেকে লক করে দিই।
একি ফুল ভেজা শরীরে রুমে কেন আসলি? খালাম্মা বসা ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে জানতে চায় আমার কাছে।

আমি কিছু একটা ভেবে বলি, ওয়াশরুমে অনেকগুলো ইঁদুর দেখেছি খালাম্মা। আর আমি ইঁদুরকে খুব ভয় পাই। তাই বাইরে চলে এসেছি। এখানেই চেঞ্জ করবো।
খালাম্মা বলে, ঠিক আছে তুই চেঞ্জ করে বাইরে আয়! তারপর আমরা বের হবো। আর রাতে আসার সময় ইঁদুর মারা ওষুধও কিনে আনবো।

আমি মাথাটা ঝাকিয়ে ঠিক আছে বলি।
খালাম্মা বের হয়ে গেলে আমি রেডি হয়ে বাইরে আসি। খালু নিচে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। খালাম্মা গাড়ির পিছনের সিটে বসে আছে। আমি গিয়ে খালাম্মার পাশে বসি।

গাড়ি চলছে, আমি খালাম্মাকে জিজ্ঞাসা করি, আমরা হসপিটালে কেন যাচ্ছি? কারও কি কিছু হয়েছে?
খালাম্মা বলে, বাচ্চাটার জন্য যাচ্ছি। এতোদিন আমাকে দিয়ে বাড়িতে অনেক কাজ করিয়েছে। এর জন্য বাচ্চার শারিরীক গঠনে যেন কোনো কমতি না থাকে। বাচ্চাটা সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে যেন পৃথিবীতে আসে সেজন্য ডাক্তারে কাছ থেকে খাবারের লিস্ট তৈরি করে আনবে। কখন কি খাবার আমাকে খেতে দেয়া হবে সেটা।

পর্ব ৭

হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে রেস্টুরেন্টে খেয়ে, সিনেমা দেখে রাতে বাড়িতে ফিরে এলাম। সারাদিনে অনেক মজা করলাম। তাই বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীরে হাতের ইঁদুর মারা ওষুধটা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে বিছানাতে গিয়ে শুয়ে পরলাম।

হঠাৎ কিছু একটা মনে পরতেই শোয়া ছেড়ে লাফিয়ে উঠে পরি। আর নিজের কপাল চাপড়াতে থাকি। হায়! হায়! হৃদতো ওয়াশরুমের ভেতরে ছিলো। তখন দরজাটা লক করলাম আর তো খোলা হলো না।

আমি ছুটে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজাটা খুলে দিয়। দেখি ওয়াশরুমের ভেতরে এক কোণায় দেয়ালের সাথে চিপকে গুটিশুটি খেয়ে পরে আছে হৃদ। আর কাঁপছে। আমি হৃদের কাছে গিয়ে ওকে ছুঁয়ে দেখি ওর শরীরটা পুরো ভেজা। হয়তো সকালে আমাকে গোসল করানোর সময় ও ভিজে গিয়েছিলো।

হৃদ! এই হৃদ! শুনতে পারছেন আমার কথা?
হৃদ কোনো কথা বলে না। শীতে কাঁপুনি শুরু হয়ে যায়। আমি ওর কপালে হাত রেখে দেখি জ্বরে গা’টা পুরে যাচ্ছে। আমি ওর হাতটা আমার কাঁধে প্যাচিয়ে ওকে ধরে উঠিয়ে আমার রুমে নিয়ে আসি।

ওকে বিছানার উপরে শুইয়ে দিয়ে পড়নের ভেজা প্যান্টটা খুলে দিয়। তারপর ওর ভেজা শরীর মুছিয়ে দিয়ে কম্বলটা টেনে দিয়ে নিচু হয়ে ওর কানের কাছে নিজের মুখটা এগিয়ে এনে বলি, আপনি এখানে শুয়ে থাকুন। আমি আপনার রুম থেকে আপনার কাপড় আর শীতে জ্যাকেট নিয়ে আসি। কথাটা বলে আমি যেতে লাগলে হৃদ আমার হাতটা পেছনের থেকে টেনে ধরে। আর শীতে কাঁপতে কাঁপতে আস্তে করে বলে, কোথাও যাস না ফুল। আমার কাছে থাক।

আমি কি করবো বুঝতে পারি না। পাশের টেবিলে গ্লাস ভর্তি পানি দেখে ওরনাটা গ্লাসে ডুবিয়ে ওর কপালে ছুঁইয়ে দিয়। অনেকক্ষণ ধরে ভেজা ওরনা ছুঁইয়ে দিতে থাকি ওর কপালে। কিন্তু ওর কাঁপুনি আরও বেড়েছে।

এখনো শীত করছে হৃদ? আমি কি গিয়ে আপনার রুম থেকে আরেকটা কম্বল নিয়ে আসবো?
হৃদ এখনো কাঁপছে। আমি উঠতে গেলে আবার আমার হাতটা টেনে ধরে বলে, কোথাও যাস না ফুল আমাকে ছেড়ে।
আচ্ছা ছাড়ুন আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমাকে শুতে দিন।

ওর থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ঘুরে পাশের বালিশে গিয়ে শুয়ে পরি। তাকিয়ে দেখি হৃদের কাঁপুনি এখনো থামে নি।
আমি কম্বলটার ভেতরে ঢুকে যায়। আর হৃদকে বলি, কাছে আসুন। ওকে আমার কাছে টেনে নিয়ে আসি। তারপর খুব জোড়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। আর বলি, এখনো কি খুব শীত করছে?

হুমমমম বলে হৃদ আমাকে ঘুরিয়ে ওর শরীরের উপরে নিয়ে নেয়।
আমার শরীরের সবটুকু ভার ওর উপর। ও আমার পিটটা খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। আর আমিও ওর বুকে শক্ত করে মুখ গুজে ওকে জড়িয়ে শুয়ে আছি যেন ওর শীত না করে। আর এভাবেই রাতে ঘুমিয়ে পরি।

সকালে,
ঘুম ভাঙতেই আমি খেয়াল করি এখনো হৃদের বুকের উপরে শুয়ে আছি। উঠতে গেলেও পারছি না। হৃদ আমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। মুখটা তুলে সামনে চেয়ে দেখি হৃদের চোখদুটো খোলা।
একি আপনি জেগে আছেন? কপালে হাত দিয়ে দেখি হৃদের শরীরে জ্বরটা আর নেই।

এবার আমি নিজেকে হৃদের থেকে ছাড়ানোর চেস্টা করি।
ছাড়ুন! ছাড়ুন আমাকে।
আর হৃদ আমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।

উফফ! এতো নরাচরা করিস না তো। শান্তিতে ঘুমা।
আমি উঠবো ছাড়ুন! উঠতে দিন আমাকে।
এতো সকালে উঠে কোথায় যাবি? বাবা-মা কেউ বোধহয় এখনও উঠেনি। তার চেয়ে বরং আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থাক।

নাহ। আমাকে যেতে হবে ছাড়ুন। আপনার রুম থেকে কাপড় আনতে হবে।
হৃদকে জোড় করে ধাক্কা দিয়ে উঠে আসি আমি। তারপর হৃদের রুম থেকে কাপড় নিয়ে এসে হৃদকে শোয়া থেকে টেনে উঠিয়ে বসায়। হৃদের হাতে কাপড় দিয়ে বলি, এগুলো পরে নিন।

হৃদ হেসে উঠে আমার হাত থেকে কাপড়গুলো নিয়ে পরতে পরতে বলে, আজ তোকে একদম আমার বউ বউ লাগছে ফুল।
মা..মানে? আমি কারও বউ টোও নই। আপনার সাথে আমি ভালোভাবে কথা বলছি বলে ভাববেন না যে আপনাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।

কথাটা শুনে হৃদ আমার দিকে আড় চোখে তাকায়। কিছু না বলে চুপচাপ কাপড় পরতে থাকে। তারপর কাপড় পরা হয়ে গেলে আমার সামনে এসে দাড়ায়। আর আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে বলে, তুই আসলেই একটা জিনিস।
জিনিস মানে কি? ছাড়ুন! কি বলতে চান আপনি?

কি বলছি বুঝতে পারছিস না? ভেজা শরীরে তোকে দেখলে আমি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। আর কাল রাতে তোর কি হয়েছিলো হুমমম? মানলাম আমার জ্বর হয়েছে তাই বলে ভেজা প্যান্ট খুলে দিয়েছিস তারপর আমাকে কাছে টেনে নিয়ে আমার বুকে জড়িয়ে শোবার কি ছিলো?
আমি ভাবলাম আপনার শীত করছে তাই।

হৃদ একটা মুচকি হাসি দেয়, শীত করছে তাই? আচ্ছা এমন একটা মানুষের বুকে নিজেকে জড়িয়ে ঘুমোলি কেন যাকে তুই ঘৃণা করিস?
হৃদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিই না আমি। কি বলবো সেটা ভাবতে থাকি এরই মধ্যে খপ করে হৃদ আমার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট জোড়া বসিয়ে দেয়। আর চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে। আমি ওকে ধাক্কা দিতে যাবো ভেবেও পারি না। ওর এই অনুভুতির শিক্ত প্রশান্তির কাছে আমি হেরে যায়। নিজের চোখদুটো বন্ধ করে নিই। আর ওর ঠোঁটের আলতো পরসে ডুবে যায় আমিও।

কিছুক্ষণ পর খালাম্মার কন্ঠে ধ্যান ফেরে আমার। দরজার কাছে এসে খালাম্মা আমাকে ডাকতে থাকে।
ফুল মা সকাল হয়ে গেছে, উঠেছিস?

খালাম্মার ডাকে শুনে আমি নিজের ঠোঁট দুটো শক্ত করে নিয়। আর হৃদ থেমে যায়। আমার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আমার মুখের দিকে তাকায়।
কি হলো ফুল? থেমে গেলি কেন? এখন ভালো লাগছে না তোর?

খালাম্মা হৃদের কন্ঠ শুনে ফেলে আর জোড়ে জোড়ে দরজা ঘা দিতে থাকে।
ফুল দরজা খোল দ্রুত। তোর সাথে কে আছে? হৃদ কি তোর রুমে?

খালাম্মার চিৎকার শুনে আমি খুব ভয় পেয়ে যায়। আর শক্ত করে হৃদকে জড়িয়ে ধরি। তারপর কান্না জড়িত কন্ঠে বলি, কথা কেন বললেন আপনি? এখন খালাম্মা এসে আপনাকে এখানে দেখলে আবার কালকের মতোন মারবে।

হৃদ খুব খুশি হয় আমাকে এভাবে ওর জন্য ভাবতে দেখে। হৃদ আমায় ছাড়িয়ে নিজের সামনে এনে মুখটা ধরে বলে, তুই আমায় ভালোবেসে ফেলেছিস ফুল?
জানি না। প্লিজ আপনি কোথাও লুকিয়ে যান।

হৃদ মুচকি হেসে বলে, নাহ! আজ আমি জিতে গেছি। বাবা-মা যদি আমাকে ক্ষমা নাও করে আমি তোকে নিয়ে এবাড়ি ছেড়ে চলে যাবো তবুও আর লুকিয়ে থাকবো না।
কথাটা বলে হৃদ রুমের দরজাটা গিয়ে খুলে দেয় আমি ওকে বাঁধা দেওয়ার সময়টুকুও পাই না।
দরজা খুলতেই খালাম্মা চোখের সামনে হৃদকে দেখে অনেক রেগে যায়। হৃদকে কিছু না বলে ওকে ধাক্কা দিয়ে আমার কাছে আসে। আর আমার গালে ঠাসসস! করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।

হৃদ মা বলে ছুটে এসে আমাকে খালাম্মা সামনে থেকে টেনে ওর পিছনে নেই।
ওকে কেন মারলে মা? তোমার সব রাগ তো আমার উপর মারতে হয় আমাকে মারো মা। মেরে তোমার সব রাগ ঝেড়ে ফেলো। কথাটা বলে হৃদ খালাম্মাকে ছুতে যাবে খালাম্মা হাত উঁচু করে হৃদকে থামিয়ে দেয়।

একদম ছুবি না আমাকে। আর কি বলছিলি ওকে কেন মেরেছি? ওকে মেরেছি কারণ ও আমার আপন। তুই কে যে তোকে মারবো? হৃদকে কথাটা বলে খালাম্মা ঘুরে আমার কাছে আসে। আর আমাকে টেনে ধরে ঝাকিয়ে বলে, ভুলে গেছিস ফুল ও তোর মায়ের খুনী? কি কি অন্যায় করেছে তোর সাথে? মনে কর ওকে কি ক্ষমা করা যায়।

খালাম্মার কথা হৃদ ধরে না। ও নিশ্চিত হয়ে থাকে। কারণ ও ভালো করে জানে আমি এখন খালাম্মার কোনো কথায় আর গলবো না। কারণ আমার চোখে ও আজ নিজের প্রতি ভালোবাসা দেখতে পেয়েছে। হৃদ শুকনো একটা হাসি দিয়ে বললো।
ফুল আমাকে ভালোবাসে মা। ওর মাথায় এখন এসব কথা ঢুকবে না। তোমরা যদি আমার সাথে এমন করো তাহলে ফুলকে নিয়ে আমি এবাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।

হৃদের কথাটা শুনে আমি চোখদুটো বড়বড় করে হৃদের দিকে তাকায় আর নিজের অতীতটা মনে করতে থাকি। মনে মনে ভাবি, খালাম্মা তো ঠিকই বলছে হৃদকে ক্ষমা করা যায় না। আবেগের বসে আমি কেন সব ভুলে যায়?
এমন সময়ে হৃদ এসে আমাকে ধরলে আমার চোখের সামনে নিজের মায়ের মৃত মুখটা ভেসে ওঠে। আর রেগে গিয়ে আমি হৃদকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলি, চলে যান এবাড়ি ছেড়ে।

ফুল এখন আবার কি হলো তোর? দেখ একদম মাকে খুশি করার দরকার নেই। তোর মনে যেটা আছে সেটা বল। কথাটা বলে হৃদ আমাকে ছুতে যাবে আর আমি একটা চিৎকার দিয়ে হৃদকে ধমকের স্বরে থামিয়ে দিয়।

শুনতে পান নি আপনি? আমি চলে যেতে বলেছি আপনাকে। একটা দুশ্চরিত্র, নারী দেহ ভোগী আর খুনীকে কখনোই আমি ক্ষমা করবো না। আপনার ভুলের জন্যই আমার মা আমাকে ভুল বুঝেছে, আত্নহত্যা করেছে। যান! চলে যান আমার সামনে থেকে।

হৃদ আবার আমাকে বোঝাতে চায় সে ভুল করেছে কিন্তু আমি এবার ওর কোনো কথাই শুনি না। ওকে অনেক কিছু বলে অপমান করে বলি, এবাড়ি থেকে চলে যেতে।
আমি বুঝতে পারি হৃদের খুব কস্ট হচ্ছে আমার মুখে এসব কথা শুনতে। কিন্তু কি করবো! ওর ভুলের যে কোনো ক্ষমা হয় না। আমি চোখের পানি আটকিয়ে হৃদকে আবার বলি, আপনার ভুলের কোনো ক্ষমা হয় না। তাই আপনি ক্ষমা পাওয়ার কথা ভাববেনও না।

আমার লাস্ট কথাটা বলতেই হৃদ কষিয়ে আমার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলে, তোর মা আমার জন্য বিষ খেয়েছিলো তাই না ফুল? হৃদ এদিকে ওদিকে তাকিয়ে টেবিলের উপরে ইঁদুর মারা ওষুধের শিশিটা দেখতে পাই। হৃদ গিয়ে শিশির মুখটা খোলে। আর আমাকে বলে, এখন আমি মারা গেলে এর জন্য দায়ী হবি তুই, মা আর বাবা সবাই। আমার একটা ভুলের জন্য আজ তোরা আমাকে এতোটা পর করে দিলি? এতোটা কস্ট দিলি? ক্ষমা করা যায় নারে আমাকে। হ্যাঁ, আমি নিজের ভুলের মাষুল দিবো। তোর মায়ের মতোন আত্নহত্যা করে।

তোকে আমি বলেছিলাম ফুল তুই ছাড়া আমি একটা রাতে ঘুমোতে পারি না। এটা তোর দেহ ভোগ করার জন্য নয় তোকে ভালোবাসি তাই তোকে জড়িয়ে ঘুমায়। আর মা কি যেন শিখাচ্ছিলে ফুলকে তুমি? আমি ওর মায়ের খুনী, আমাকে ক্ষমা করা যায় না। আচ্ছা মা আমি তো তোমারই ছেলে ধর এই বিষটা খাওয়ার পর আমি মারা গেলাম তখন কি আমার মৃত্যুর জন্য তোমার নিজেকে একটুও অপরাধী, খুনী মনে হবে না?

আমি খালাম্মা কেউ কোনো কথা বলছি না। শুধু হৃদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনছি আর ভাবছি হৃদ তো ঠিকই বলছে। আমি কিছু বলতে যাবো এরই মধ্যে হৃদ ডগমগ করে এক শিশি ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে ফেলে।

লেখা – মোছাঃ লিজা

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ঝরা ফুলের বাসর – রোমান্টিক রাতের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – ঝরা ফুলের বাসর (শেষ খণ্ড) – রোমান্টিক রাতের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!