ভালোবাসার গল্প

এ কেমন ভালবাসা (সিজন ২) – Bangla love story facebook

এ কেমন ভালবাসা (সিজন ২) – Bangla love story facebook: হাসান যেনো বরফের মতো জমে গেছে। আচমকা সোনালীর এমন আচরনে। একটু পর হাসান অনুভব করতে পারলো ওর বুকের কাছের পান্জাবী ভিজে যাচ্ছে। তখন হাসান ভালো করে খেয়াল,করে দেখে সোনালী কাঁদছে ওর বুকে মুখ লুকিয়ে।


পর্ব ১

বাসর ঘরে ঢুকেই সদ্য বিয়ে করে নিয়ে আসা বউ এর কান্ড দেখে একদম হা হয়ে গেলো হাসান।
কারন হাসানের সদ্য বিবাহিত বউ বাসর ঘর সাজানো ফুলগুলো সব ছিরে বিছানায় ছরিয়ে তার ওপর পায়ের ওপর পা তুলে বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে।

তাকে দেখে কেউ বলবেই না যে তার কেবলই বিয়ে হয়েছে আর এটা তার শশুড়বাড়ি।
হাসান তার রুমের এমন অবস্থা দেখে তো রাগে ফোসতে লাগলো। তারওপর আবার তার প্রিয় আইসক্রিমও খেয়ে শেষ করে ফেলছে ঐ শাকচুন্নি টা। হ্যা হাসান ওর বউকে শাকচুন্নি বলে ডাকে।

(চলুন আপনাদের প্রথম থেকে ওদের পরিচয়টা দিয়ে দেই)
বিশিষ্ট শিল্পপতি কাসেম চৌধুরীর একমাত্র ছেলে হলেন আমাদের নায়ক হাসান চৌধুরী। হাসানকে দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই তার রাগ। হাসানের জীবনের একমাত্র শত্রু হলো সোনালী আক্তার চাঁদনী।

আব্দুর রহমান খানের একমাত্র আদরের মেয়ে হলো সোনালী। সোনালীর একজন জমজ ভাইও আছে কিন্তু সে অনেক ছোট থাকতেই পড়াশোনার জন্যে বিদেশ গেছে। তাকে সোনালীর পরিবারের লোক ছারা কেউ চেনে না।

সোনালীকে দেখতে যেমন সুন্দরী ঠিক তেমনই সে দুষ্টুমিতে সেরা। আর সোনালীর একমাত্র দুর্বলতা হলো আইসক্রিম। সোনালী আইসক্রিম বলতেই অজ্ঞান।

হাসান লম্বায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, গায়ের রঙ ফর্সা, এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ দেখতে। যে কোনো মেয়ে এক নজর দেখলেই হয়তো প্রেমে পরে যাবে।

আর সোনালী লম্বায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, গায়ের রঙ দুধে আলতা, হাসলে গালে ও থুতনিতে টোল পরে। এককথায় বলতে গেলে অসাধারণ সুন্দরী সে। যে কোনো ছেলেই তার প্রেমে পরতে বাদ্ধ।

কাসেম চৌধুরী আর আব্দুর রহমান সেই ছোট বেলা থেকেই একে অপরের প্রানের বন্ধু সেই সুবাদে হাসান আর সোনালীর যখন ১০~ ৭ বছর তখন তাদের বিয়ে দিয়ে দেয় দুই বন্ধু মিলে। তখন তো হাসান আর সোনালী খেলার ছলে বিয়ে করে নেয় ঠিকি কিন্তু ওদের দুজনের মাঝে ইঁদুর বিড়ালের সম্পর্ক সব সময়।

হাসানের রাগ বেশি তাই ও একটুতেই রেগে যায়। আর সোনালী দুষ্টু বেশি তাই সব সময় হাসানকে কি ভাবে রাগানো যায় সেই চিন্তায় থাকে।
আর মজার ব্যাপার হলো সবাই সব সময় সোনালীর দিকেই টেনে কথা বলে। বেচারা হাসানের পক্ষে কেউ কথা বলেনা।

হাসান আর সোনালীদের বাসা খুব একটা দুরে নয় ১০~ ১৫ মিনিটের রাস্তা। আর হাসানের আম্মু মনিরা বেগম সোনালীকে একটু বেশিই ভালবাসেন বলা চলে নিজের মেয়ের মতন ভালো বাসেন। আর সোনালীও মনিরা আন্টি বলতেই পাগল। তাই যখন খুশি হাসানদের বাসায় চলে আসে সোনালী।

সোনালী এবার স্কুলের গন্ডি শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। আর মজার ব্যাপার হলো সেই একই কলেজে এবার স্যার হয়ে এসেছে হাসান।
সোনালীতো মনে মনে সেই খুশি হাসানকে স্যার হিসাবে পাবে বলে। আরো বেশি বেশি জ্বালাতে পারবে ভেবেই আনন্দে পাগল হয়ে যাচ্ছে।

সোনালীর স্কুল শেষ হতেই কাসেম চৌধুরী আর আব্দুর রহমান মিলে ঠিক করেন আগে হাসান আর সোনালীকে আবার বিয়ে দিবেন তারপর পড়াশোনা।

এই কথা শুনে তো হাসান আর সোনালী কেউ রাজি নয় বিয়ে করতে। কিন্তু কাসেম চৌধুরী আর আব্দুর রহমানও ছেরে দেওয়ার পাত্র নয়। তাই হাসানকে একটু জোর করেই রাজি করানো হয় বিয়ের জন্যে। আর সোনালী কে শুধু বলা হয় ও যদি বিয়েতে রাজি হয় তাহলে প্রতিদিন ওকে অনেক অনেক আইসক্রিম কিনে দেবে।

আইসক্রিমের কথা শুনেই সোনালী এক কথায় রাজি হয়ে যায়।
এবার ফিরে আসি বর্তামানে।
হাসান নিজের রুমের এমন অবস্থা দেখেই চিৎকার করে বলে

~ সোনালীইইইইইইই এগুলো কি করেছিস তুই আমার রুম হুমম। বের হ আমার রুম থেকে। তোর সাহস কি করে হলো আমার রুমের এমন অবস্থা করার আমার আইসক্রিম খাওয়ার (প্রচন্ড রেগে বললো,)
হাসানের এমন রাগ দেখে সোনালী চিৎকার করে বলতে লাগলো।

~ ওরে আমার আন্টি গো দেখে যাও গো তোমার এই রাক্ষস ছেলেটা আমায় মেরে ফেললো গো। বাচাও গো। (হাসানকে ফাসাতে ঢং করে কেঁদে বললো,)
সোনালীর চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে মনিরা বেগম আর কাসেম চৌধুরী দৌড়ে এলেন। তারপর মনিরা বেগম বললেন,

~ কি হয়েছেরে সোনালী মা আমার তুই এভাবে কাঁদছিস কেনো? আর রুমটার এ অবস্থা কেনো?
হাসান কিছু বলতে যাবে তার আগেই সোনালী বলে উঠলো

~ আন্টি গো আমি এই বাড়িতে থাকমু না। তোমরা আমায় এই রুমে রেখে গেছো আর ঐ রাক্ষস টা এসে দেখো ঘরের কি অবস্থা করছে। আমি ফুল ভালবাসি বলে ও সব ফুল ছিরে ফেলেছে। আবার তোমরা বলেছিলে আমায় অনেক আইসক্রিম দিবা তাই আমি বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম।

কিন্তু দেখো ঐ রাক্ষসটা সব আইসক্রিম খেয়ে ফেলছে আমারে একটাও দেয়নি। এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা ( হাসানকে ফাসাতে সব মিথ্যে বানিয়ে বললো, সোনালী যাকা কান্না কেঁদে)
সোনালীর কথা শুনে কাসেম চৌধুরী বললেন,

~ হাসান তোমার কাছে থেকে আমি এমনটা আসা করিনি। খবরদার আমার সোনালী মামনিকে যদি আর কিছু বলবা তাহলে তোমার একদিন কি আমার একদিন। আর সোনালী মা আমার তুমি আর কেদনাতো মা আমি এক্ষুনি তোমার জন্যে অনেক আইসক্রিম পাঠিয়ে দিচ্ছি ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবে একটাও দিবে না।

আর হাসান যদি আর তোমার সাথে খারাপ আচরণ করে তাহলে আমায় ডাকবে কেমন৷ এভাকে চিৎকার করবে না বাসায় কত মেহমান আছে তারা খারাপ বলবে যে। (কাসেম চৌধুরী)

~ আর হ্যা সোনালী মা এই রুমটা এখন হাসানের আর একার নয় এটা এখন তোরও রুম তাই নিজের রুমে নিজে যা খুশি করবি। আমরা এখন যাই তোরা ঘুমিয়ে পর কেমন। আর আইসক্রিম পাঠিয়ে দিচ্ছি তবে এখন খাস না অনেক রাত হয়েছে এখন আইসক্রিম খেলে ঠান্ডা লাগতে পারে। (মনিরা বেগম)

হাসান এতক্ষণ দারিয়ে দারিয়ে সব শুনছিলো আর রাগে আগুনের মতো জলছিলো। কিন্তু বাবা মাকে কিছু বলেনি হাসান। কারন হাসান ভালো করেই জানে যে ওর বাবা মা সোবালীর কথাই বিশ্বাস করবে ওর কথা নয়।

কাসেম চৌধুরী আর মনিরা বেগম চলে যেতেই সোনালী হা হা করে হাসতে লাগলো। তারপর হাসতে হাসতে ফ্রিজ খুলে আরেকটা আইসক্রিম বের করলো। তারপর মনে শুখে আইসক্রিম খেতে লাগলো।

হাসান আর এতো রাতে কোনো কিছু না বলে গিয়ে ফ্রিজ খুললো। ফ্রিজ খুলেই তো হাসানের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরলো।
কারন হাসানের ফ্রিজে প্রায় ১২~ ১৫ টা আইসক্রিম ছিলো অথচ এখন আর একটাও নেই।

হাসান আইসক্রিম পছন্দ করে বলে ওর রুমে এক্সট্রা একটা ফ্রিজ রাখা হয়েছে যেরাতে সব সময়ই আইসক্রিম থাকে। আর আজকেও প্রায় ১৫ টার মতো আইসক্রিম ছিলো অথচ এখন একটাও নেই

হাসান আইসক্রিম না পেয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে সোনালীর দিকে তাকালো। কিন্তু সোনালীর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই সে আইসক্রিম খেতেই ব্যাস্ত।
তারপর হাসান ওর রুমের এক কোনায় তাকিয়ে দেখে সেখানে অনেক গুলো আইসক্রিমের খালি প্যাকেট পরে আছে।

হাসানের আর বুঝতে বাকি রইলো না এটা কার কাজ। হাসানের এতটাই রাগ হতে লাগলো যে মন চাইছে সোনালীকে কাচা চিবিয়ে খেতে। কিন্তু বাসায় ভর্তি মেহমানে তাই হাসান রাগ কন্ট্রোল করে কিছু না বলে বাথরুমে চলে গেলো ড্রেস চেঞ্জ করতে।

কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে তো আরেক দফা রাগ হতে লাগলো হাসানের।


পর্ব ২

কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে তো আরেক দফা রাগ হতে লাগলো হাসানের।
পুরো বিছানা জুরে ফুল ছিরে রেখেছে সোনালী আর সেই ফুলের ওপর মস্ত বড় একটা টেডি বিয়ার নিয়ে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে।

বিছানায় আর কোনো জায়গাই নেই।
হাসান আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না। দ্রুত বিছানার কাছে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
~ ঐ শাকচুন্নি এগুলা হচ্ছে কি হুমম। বিছানার এ অবস্থা কেনো? আর তুই তোর এই ভাল্লুক টাকে নিয়ে আমার বিছানায় শোয়ার সাহস পেলি কোথা থেকে?

সোনালী হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসানের চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে রাগে। এখন উল্টাপাল্টা কি বললে কপালে দুঃখ আছে।

তাই সোনালী আর দুষ্টুমি না করে বুদ্ধি করে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে হাসানকে বলতে লাগে
~ আসলে হয়েছে কি যানো হাসান ভাইয়া আমি না ফুল খুব ভালবাসি। তাই এই ফুলগুলো দেখে আর লোভ সামলাতে পারিনি।

আমার অনেক দিনের শখ ছিলো ফুলের বিছানায় ঘুমোনোর তাই এমন করেছি আরকি।
আর আমার না রাতে একা একা ঘুমোতে খুব ভয় করে যদি কোনো রাক্ষস এসে আমায় খেয়ে ফেলে তাই। তাই এই টেডি বিয়ারটা আমার সাথে ঘুমায়। ও অনেক ভালো সারারাত আমায় পাহারা দিয়ে রাখে।

কথা গুলো বলেই আবারো মিষ্টি একটা হাসি দেয় সোনালী। আর ওমনি সোনালীর গালে ও থুতনিতে টোল পরে এতোটা সুন্দর ও মায়াবি দেখতে লাগে যে কেউ আর রাগ করে থাকতেই পারবে না।

হাসান সোনালীর কথা গুলো শুনে হাসবে না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তারপর হাসান সোনালীকে বলে
~ তোকে রাক্ষস এসে খেয়ে ফেলবে মানে। এই ঘরে কি তুই একা নাকি আমি তো আছি। আর তাছারা বিছানায় তো কোনো জায়গাই নেই আমি ঘুমোবো কোথায়? (হাসান)

~ ইইইই বাবা তুই আছিস মানে কি তুই নিজেই তো একটা বড় রাক্ষস। এই কথাটা বলেই সোনালী জিব্বায় কামড় দেয়। তারপর তুতলিয়ে তুতলিয়ে বলে

~ না মানে আসলে আমি বলতে চাইছিলাম কি তুই গিয়ে ঐ সোফায় ঘুমা যা এখন থেকে খাটে আমি আর আমার টেডি ঘুমাবো। আর শোন রাত অনেক হয়েছে আমার খুব ঘুম পাচ্ছে তাই বেশি যদি কথা বলবি তাহলে আমি চিৎকার করে সবাই কে ডেকে বলবো যে তুই আমায় মেরেছিস।

বাসা ভর্তি মেহমানে বুঝতেই পারছিস কেমন হবে ব্যাপার টা। তাই যাহ ভাগ তো আমি ঘুমোবো। হিহিহিহি(সোনালী)

হাসান সোনালীর কথা গুলো শুনে রাগে শরীরে যেনো আগুন ধরছে কিন্তু হাসান ভালো করেই জানে যে এই মেয়ে সত্যিই এমন কিছু করে ফেলবে। আর হাসানের মান সম্মানেরও ফালুদা বানাই ফেলবে। তাই আর কোনো উপায় না পেয়ে চুপচাপ সোফায় গিয়ে শুয়ে পরলো।

এদিকে হাসানকে জব্দ করতে পেরে সোনালী তো সেই খুশি। ইচ্ছা করছে হেব্বি ডান্স দিতে। কিন্তু সোনালীর কেনো জানিনা প্রচন্ড গলা ব্যাথা হচ্ছে।
সোনালী আর গলা ব্যাথার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।

অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠলো হাসান। ঘুম ভেঙে বাথরুমে যাওয়ার সময় সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে কেমন গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা। কি নিষ্পাপ চেহারা কেউ দেখলে বলবেই না যে এই মেয়ে এতটা দুষ্টু। কিন্তু হাসান ভালো করে খেয়াল করে দেখে সোনালী থরথর করে কাপছে।

হাসান সোনালীর কাছে এগিয়ে গিয়ে কপালে হাত রেখে দেখে সোনালীর অনেক জ্বর হয়েছে। একদম গা যেনো পুড়ে যাচ্ছে।
হাসানের কেনো জানেনা খুব কষ্ট হতে লাগে সোনালীকে এই অবস্থায় দেখে।

হাসান তারাতারি সোনালীর গায়ে চাদর জরিয়ে দেয় তারপর মনিরা বেগম কে ডাক দেয়।
মনিরা বেগম সোনালী জ্বর এর কথা শুনে দৌড়ে সোনালীর কাছে আসে। আর কাসেম চৌধুরী তারাতারি ডাক্তার কে ফোন করে ডাকেন।

হাসান ওজু করে মসজিদে চলে যায়। নামাজ শেষ করে মোনাজাতে সোনালীর জন্যে অনেক দোয়া করেন। হাসান কেনো জানেনা সোনালীর জন্যে ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু হাসান তো সোনালীকে সহ্যই করতে পারেনা।

ডাক্তার এসে সোনালীকে চেকাপ করে বলেন অতিরিক্ত ঠান্ডা খাওয়ার ফলে সোনালীর ঐ অবস্থা। ওর আর ঠান্ডা খাওয়া যাবে না। তারপর ডাক্তার ঔষধ লিখে দিয়ে চলে যায়। (ডাক্তার সোহেল আক্তার কাসেম চৌধুরীদের পারিবারিক ডাক্তার উনি আর কাসেম চৌধুরীর খুব ভালো বন্ধুও হন)

ডাক্তার চলে গেলে সোনালীর হুশ ফেরে। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন সোনালী কথা বলতে চায়।
সোনালীর গলা একদম বসে গেছে। গলা দিয়ে যেনো কথাই বের হচ্ছে না। সোনালীর এমন অবস্থা দেখে মনিরা বেগম খুবই চিন্তায় পরে যায়।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো সোনালীকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে ওর গলা বসে যাওয়ায় আর জ্বর আসায় কিছু হয়েছে। কারন সোনালী একটু করে কথা বলার চেষ্টা করে আর হাহাহা করে পাগলের মতো হাসে।
সবাই ওর এমন দেখে হাসবে না কাদবে বুঝে উঠতে পারেনা। মনিরা বেগম সোনালীর এমন হাসি দেখে জিগ্যেস করে

~ এই পাগলি তুই এমন করে হাসছিস কেনো হুমম। এমন জ্বর আর গলা বসা নিয়ে তুই হাসছিস কি করে?
সোনালী মনিরা বেগমের কথা শুনে হাসতে হাসতে টেবিলের ওপর থেকে কাগজ কলম নিয়ে তাতে লেখে মনিরা বেগমের হাতে ধরিয়ে দেয়। মনিরা বেগম লেখা পড়ে কি বলবে বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সোনালীর সাথে মনিরা বেগমও হাসতে শুরু করে।

এদিকে হাসান এসে বৌ শাশুড়ির এমন হাসাহাসি দেখে অবাক হয়ে জিগ্যেস করে
~ আম্মু তোমরা এভাবে হাসছো কেনো? আর সোনালীর তো জ্বর ছিলো ও জ্বর নিয়ে এমন করে কেনো হাসছে? তোমরা কি পাগল হলে নাকি?

হাসানের কথা শুনে মনিরা বেগম হাসতে হাসতে বলে
~ তোর জন্যে তো একটা পাগলি নিয়ে এসেছি। যার পাগলামো দেখে না হেসে পারা যায় না। সোনালীর গলা বসে গেছে আর ও হাসছে। কেনো হাসছে জিগ্যেস করায় দেখ ও কি লিখে দিয়েছে। (কাগজটা এগিয়ে দিয়ে হাসানের দিকে)

এবার কাগজের লেখা টা পড়ে হাসানও আর হাসি ধরে রাখতে পারলো না হাসানও হাসতে লাগলো। আর বললো,
~ তোমরা কি দেখে যে এই পাগল ছাগলটাকে আমার জন্যে নিয়ে এলে আল্লাহই জানে। এটা কি লিখেছে ও? এটা কোনো মজার বিষয় হলো?

( কাগজে লেখা~ ও মোর আন্টি শাশুড়ি আম্মু আমার গলা বসে গেলে আমার অনেক মজা লাগে। যখন জোরে কথা বললেও কথা বের হয় না তখন আমার অন্নেক আনন্দ লাগে আর হাসি পায়। আমার গলা বসে যাওয়ায় ইচ্ছা করছে একটু নাচি। তাই এভাবে হাসছি বিঝছো আমার আন্টি শাশুড়ি আম্মু)

তারপর মনিরা বেগম চলে গেলেন সকালের নাস্তা বানাতে। কাসেম চৌধুরী সেই যে ডাক্তারের সাথে গেছেন এখনো আসেন নি। একবারে ঔষধ নিয়েই ফিরবেন তাই।

মনিরা বেগম চলে যেতেই সোনালী বিছনা থেকে উঠতে চাইলো আর মাথা ঘুরে পরে যাওয়ার আগেই হাসান গিয়ে সোনালীকে ধরে ফেললো। তারপর হাসান বললো,
~ ঐ শাকচুন্নি তোর কি একটুও চুপ করে থাকতে ইচ্ছা করে না হুমম। আর একটু হলেই তো পরে যেতি তখন দোষ হতো আমার।

হাসানের কথা শুনে সোনালী কিছু বলছে কিন্তু হাসান কিছুই বুঝতে পারছে না কারন সোনালীর গলা বসে যাওয়ার কারনে কিছু শোনাই যাচ্ছে না।

সোনালী যখন দেখলো ওর কথা বোঝা যাচ্ছে না তখন আবারও হা হা করে হাসতে লাগলো। ওর এমন হাসি দেখে হাসান নিজের কপালে নিজে হাত দিয়ে বললো,
~ হায় আল্লাহ এ কোন পাগলি জুটলো আমার কপালে। এর তো পাবনার মেন্টাল হাসপাতালে থাকা উচিত

সোনালী হাসানের কথা শুনে হাসানকে একটা চিমটি কেটে বাথরুমে ঢুকে পরলো। আর হাসান ওর কান্ড দেখে হাসতে লাগলো।

কিছুক্ষন পর সোনালী হাত মুখ ধুয়ে কাপড় চেঞ্জ করে বাইরে বের হলো। সোনালী পরেছে কালো রঙের একটি গাউন জামা চুল গুলো ছেরে রেখেছে সাথে মুখে সেই অসাধারন হাসি। হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে আর যেনো চোখ ফেরাতে পারছে না। হা করে তাকিয়ে আছে

হাসানের এমন তাকিয়ে থাকা দেখে সোনালীর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। সোনালী ধিরে ধিরে হেটে হাসানের কাছে গিয়ে জোরে একটা ভো করে চিৎকার করতে চাইলো।

কিন্তু সোনালীর গলা দিয়ে তো আওয়াজই বের হচ্ছে না। তাই সোনালী নিজেই বোকা হয়ে গেলো। আর সোনালীর এমন অবস্থা দেখে হাসান অনেক মজা পেয়ে হাসতে লাগলো।

সোনালী মেয়েটা বরই অদ্ভুত। ওর মুখে যেনো কখনোই হাসি ছারা থাকেই না। নিজে সব সময় হাসি খুশি থাকে সাথে সবাইকে হাসি খুশি রাখে। কিন্তু খুবই দুষ্টু আর বাচ্চা সভাবের মেয়েটা। হাসান এসব ভাবছে আর নিজেই অবাক হচ্ছে যে কেনো সে সোনালীর ব্যাপারে এতো ভাবছে? তবেকি সোনালীকে ও ভালবেসে ফেলেছে?


পর্ব ৩

সোনালী মেয়েটা বরই অদ্ভুত। ওর মুখে যেনো কখনোই হাসি ছারা থাকেই না। নিজেও সব সময় হাসি খুশি থাকে সাথে সবাইকে হাসি খুশি রাখে। কিন্তু খুবই দুষ্টু আর বাচ্চা সভাবের মেয়েটা। হাসান এসব ভাবছে আর নিজেই অবাক হচ্ছে যে কেনো সে সোনালীর ব্যাপারে এতো ভাবছে? তবেকি সোনালীকে ও ভালবেসে ফেলেছে?

হাসানের ভাবনায় ছেদ পরলো মনিরা বেগমের ডাকে।
~ এই হাসান কতো বেলা হয়েছে দেখেছিস এভাবে বসে থাকলে চলবে নাকি। যা তো এই রুম থেকে বের হ। সোনালীদের বাসার লোকজন আসার আগে রুম টা পরিস্কার করতে হবে।

~ আম্মু সোনালী কোথায়? একটু আগে গো রুমেই ছিলো এখন কোথায় তুমি কি জানো?
হাসানের কথা শুনে মনিরা বেগম হাহা করে হেসে দিয়ে বললেন,

~ ও বাবা আমার ছেলেটা দেখি বৌকে চোখে হারাচ্ছে। একদিনেই এতো ভালবাসা ভাবা যায়। এবার যা তো এখান থেকে। তোর বৌ তুই খুজে বের কর আমি জানিনা সোনালী কোথায়। কথা গুলো বলেই আবারও হাসতে শুরু করলেন মনিরা বেগম।

হাসান মনিরা বেগমের কথা শুনে ভিষন লজ্জা পেলো। তাই তারাতারি রুম থেকে বের হতে যাচ্ছিল আর ওমনি সোনালীও আসছিলো। দুজনে মাথার সাথে খেলো জোরে একটা ধাক্কা।
ধাক্কা খেয়ে হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে সোনালী মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে কি যেনো বলছে। কিন্তু ওর কথা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তখন হাসান বললো,

~ ঐ তুই কি বলছিস রে এভাবে কিছুই বুঝিনা। আর চোখে কি কম দেখিস নাকি যে এভাবে আমার মাথায় গুতো দিলি।

হাসানের কথা শুনে সোনালী হাসানকে ধাক্কা দিয়ে রুমে ঢুকে মনিরা বেগম কে কি যেনো বলতে লাগলো। কিন্তু মনিরা বেগমও কিছু বুঝতে পারছে না। তাই মনিরা বেগম সোনালীর মাথায় হাত দিয়ে দেখে জ্বর নাই। মনিরা বেগম বলেন

~ এই সোনালী পাগল হলি নাকি কি বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
মনিরা বেগমের কথা শুনে সোনালী দৌড়ে গিয়ে খাতা কলম নিয়ে তাতে কি যেনো লিখে এনে একটা পৃষ্ঠা হাসানকে আর একটা পৃষ্ঠা মনিরা বেগমের হাতে ধরিয়ে দিলো।

হাসানের পৃষ্ঠায় লেখা
~ ঐ গন্ডার, কুমির, জলহস্তী, ইন্দুর, বাদুর, লেজ কাটা টিকটিকি, নাক বোচা হনুমান, কুমড়োপটাশের ডিব্বা, আফ্রিকার হাতি আমি চোখে ঠিকি দেখি আর আমি তোকে গুতা দেইনি তুই আমায় গুতো দিছিস কানা বাদুর। এখন আমার মাথায় শিং গজালে কি হবে।

আমায় কেউ বিয়ে করবে নাগো। আমার ভবিষ্যত জামাই আর বাচ্চা কাচ্চার কি হবে গো। আমি আমার ভবিষ্যত নাতি নাতিনদের নিয়া কি আর খেলতে পারমু না গো। ঐ রাক্ষস তোর কোনো দিনো বিয়া হইবো না মিলিয়ে নিস আমার কথা জীবনেও বৌ পাবিনা তোরে আমি বদ দুয়া দিলাম। এখন ভালোয় ভালোয় মাথাটা একটু নিচু কর দেখি একটা গুতো দিবো

সোবালীর লেখাগুলো পড়ে হাসান একদম হা করে তাকিয়ে রইলো সোনালীর দিকে। আর সোনালী আর দেরি না করে হাসানের মাথায় দিলো আরেকটা গুতা তারপর হাসতে হাসতে বিছানার ওপর পরে গেলো আর পাগলের মতো হাসতে লাগলো। বেচারা হাসান সোনালীর গুতো খেয়ে ইয়া বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে দারিয়ে রইলো।

এদিকে মনিরা বেগম তার হাতের পৃষ্ঠা টা খুলে পড়তে লাগলো
মনিরা বেগমের পৃষ্ঠায় লেখা

~ ও আন্টি শাশুড়ি আম্মু গো তুমি তোমার বজ্জাত ছেলের বিচার করো। আমি এই রুমটা গোছাতে এই রুমে আসছিলাম আর তোমার ঐ হুতুমদুমা কানা বাদুর ছেলেটা আমার মাথায় গুতো দিছে। এখন আমার মাথায় শিং গজালে কে আমায় বিয়ে করবে গো। আমার ভবিষ্যত জামাই ছেলে মেয়ে নাতি নাতনির কি হবে গো।

মনিরা বেগম পৃষ্ঠার লেখাটা পড়ে তারপর হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসান হা করে তাকিয়ে আছে কিছু বলছে না। তখন মনিরা বেগম গিয়ে হাসানের হাতের পৃষ্ঠা টা নিয়ে পড়ে নেয়।

তারপর মনিরা বেগম হাসতে হাসতে শেষ। মনিরা বেগমও হাসতে হাসতে সোনালীর সাথে বিছানায় গিয়ে বসে পরে। আর এদিকে বেচারা হাসান বৌ শাশুড়ির কান্ড দেখে বোকা হয়ে যায়।
তারপর কিছু সময় পর হাসি থামিয়ে সোনালী হাসান আর মনিরা বেগম কে রুম থেকে বের করে দিয়ে পুরা রুম গোছাতে শুরু করে।

অনেক সুন্দর করে রুমটা পরিস্কার করে গুছিয়ে তারপর গোসল করে মনিরা বেগমের দেওয়া একটা অনেক সুন্দর হাতের কাজ করা গোল্ডেন কালারের ল্যাহেঙ্গা পড়ে হালকা সাজে বাইরে বের হয়।

আর এই হালকা সাজেই সোনালীকে একদম পরীর মতো লাগছে। যে কেউ দেখলে আর চোখ ফেরাতে পারবে না।

সোনালী রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। নিচে এসে দেখে মেহমানে বাসা পুরো হয়ে গেছে। তবে কোনো ছেলে মানুষ নেই। ছেলেদের আলাদা বসার আয়োজন করা হয়েছে। সোনালীরা বড় লোক হলেও যতটা সম্ভব পর্দা করেন। আর নামাজ কোরআনও নিয়মিত পড়েন।

সবাই সোনালীকে দেখে একদম হা করে তাকিয়ে আছে। যেনো সত্যিই কোনো পরী দেখছে তারা।
সোনালী সোজা মনিরা বেগম এর কাছে চলে যায়। আর মনিরা বেগম সোনালীকে দেখে বুকে জরিয়ে ধরে কপালে একটা চুমু একে দেয় তারপর বলে

~ আল্লাহ দেখো আমার চাঁদনীর যেনো নজর না লাগে কারো। আজ যেমন লাগছে যে কারো নজর লেগে যেতে পারে।
মনিরা বেগমের কথা শুনে সোনালী লজ্জা পেলো আর মুচকি একটা হাসি দিলো। ওমনি সোনালীর গালে ও থুতনিতে টোল পরলো যেনো আকাশের চাদ।

মনিরা বেগম সোনালীকে নিয়ে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। সবাই তো সোনালীকে দেখে সেই পছন্দ করলো। সবাই অনেক সুনাম করলো সোনালীর। কিন্তু সোনালী কারো সাথে কথা বলতে পারলো না গলা বসে গেছে তাই।

হঠাৎ সকল মহিলার মধ্যে থেকে একজন মহিলা বলে উঠলো
~ গলা তো বসে যাবেই আর ঠান্ডাও লাগবেই। এত্ত সুন্দরী বৌ পেলে কি আর ঠান্ডা না লেগে থাকে নাকি। তোমার ছেলের ভাগ্য বটে মনিরা এত্ত সুন্দরী হুর পরীর মতোন একটা বৌ পেয়েছে।

মনিরা বেগম কিছু বললেন, না শুধু একটু হাসলেন। আর সোনালীকে ওর নিজের রুমে যেতে বললেন,।
সোনালী নিজের রুমে এসে চুপ করে শুয়ে ঘুমিয়ে পরলো। সোনালী ঘুমোনোর কিছুক্ষণ পরেই হাসান রুমে আসলো গোসল করে রেডি হতে।

রুমে ঢুকেই থমকে দারালো হাসান। হাসানের চোখ যেনো আর সরছেই না। এর আগে তো অনেকবার দেখেছে সোনালীকে কিন্তু কখনো তো এতটা ভাল লাগেনি ওকে। আজ যেনো মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব চাইতে সুন্দরী মেয়ে তার ঘরে।

গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে বিছানায়। কি অপরুপ দেখতে লাগছে যেনো আসমান থেকে পরী নেমে এসেছে।
হঠাৎ হাসানের সোনালীর সেই লেখার কথা মনে পরে গেলো। আর হাসান একা একাই হাসতে লাগলো। কথাগুলো ভেবে। একদম পাগলি একটা বৌ পেয়েছে ভেবে। কিন্তু হাসান বুঝতে পেরেছে যে সোনালীকে সে ভালবেসে ফেলেছে।

হাসান ধির পায়ে সোনালীর কাছে এগিয়ে গিয়ে মাথার কাছে হাটু গেরে বসলো। তারপর সোনালীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
~ পাগলি বৌ আমার তোকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি রে। সোনা বৌ আমার। এই কথা গুলো আস্তে আস্তে বললো, হাসান। তারপর সোনালীর কপালে একটা ভালবাসার পরস একে দিয়ে বাথরুমে ফ্রেস হতে চলে গেলো।


পর্ব ৪

বাথরুম থেকে বেরিয়ে হাসান দেখলো সোনালী রুমে নেই। হাসান ভাবলো হয়তো নিচে গেছে সোনালী তাই হাসান তারাতারি রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো।
হাসান পরেছে গোল্ডেন কালারের একটা শেরোয়ানী, হাতে ঘড়ি মুখে খোচা খোচা দাড়ি। এককথায় অসাধারন লাগছে হাসানকে।

নিচে এসে হাসান সোনালীকে খুজতে লাগলো কিন্তু সোনালীকে কোথাও দেখছে না হাসান। হাসানের বুকের ভিতরটা যেনো ধরফর শুরু করে দিলো সোনালীকে না পেয়ে।

হাসান সোনালীকে কোথাও না পেয়ে মায়ের কাছে গেলো। গিয়ে আমতা আমতা করে জিগ্যেস করলো
~ আম্মু কি করছো তুমি?
~ দেখছিস না সকলে কাজ ঠিক মতো করছে কিনা সেদিকে নজর রাখছি? এই দারা দারা আমার ছেলেটাকে তো আমি দেখিইনি। কি সুন্দর লাগছে আমার ছেলেটাকে যেনো কোনো রাজপুত্র। কারো নজর না লেগে যায়।

মায়ের কথার দিকে হাসানের কোনো মন নেই হাসানের দুচোখ আর মন শুধু সোনালীকে খুজছে। হাসান ওর মায়ের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে বললো,
~ আম্মু সোনালী কোথায় ওকে কোথাও দেখছিনা কেনো? আমি যখন রেডি হতে বাথরুমে গেলাম তখন তো বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলো কিন্তু এখন কোথাও পাচ্ছি না। সোনালী কোথায় গেছে তুমি কি যানো?

হাসানের কথা শুনে হাসানের মা মনিরা বেগম হাহা করে হেসে দিয়ে বললেন,
~ ও তাহলে এই ব্যাপার! আমি ভাবলাম আমার ছেলেটা হয়তো আমার খবর নিতে এসেছে। কিন্তু আমি তো ভুলেই গেছিলাম আমি যে আমার রাজপুত্রের জন্যে একটা রাজকন্যা এনেছি আমার ছেলে তাকে খুজছে।

মনিরা বেগমের কথা শুনে হাসান অনেক লজ্জা পেলো। লজ্জায় আর কিছু বলতেই পারছে না। হাসানের রাগের সাথে ছেলে মানুষ হিসাবে লজ্জাটাও একটু বেশিই।
হাসানকে লজ্জা পেতে দেখে হাসানের মা বললেন,

~ হয়েছে হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না নিজের রুমে যা সোনালীকে ওখানেই পাবি এতক্ষণ আমার কাছেই ছিলো। এখন কি যেনো কাজ আছে বললো, তাই রুমে গেছে যা।
হাসান আর দেরি না করে এক প্রকার দৌড়েই চলে গেলো রুমে। রুমে ঢুকেই তো হাসানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।

সোনালী অনেক সুন্দর করে এই অল্প সময়ের মাঝে রুমটাকে সাজিয়ে ফেলেছে। খুব সুন্দর লাগছে রুমটা। খাটের মাথার কাছের টেবিলে খুব সুন্দর কয়েক রকমের ফুল দিয়ে ফুলদানিতে সাজিয়েছে।
সোনালীকে যেমন দেখতে ওর হাতের কাজও ঠিক তেমনই সুন্দর।

হাসান দেখে সোনালী ফ্রিজের কাছে যেনো কি করছে কিন্তু দুর থেকে ভসল করে বোঝা যাচ্ছে না। তাই হাসান সোনালীর কাছে গিয়ে দেখে ফ্রিজের মধ্যে অনেক গুলি আইসক্রিম রেখে সেগুলো গুনে গুনে রাখছে সোনালী।
হাসান সোনালীকে সরিয়ে চট করে ফ্রিজে তালা দিয়ে দেয়। তারপর বলে

~ সোনালী তুই ভুলেও একটা আইসক্রিমও খেতে পারবি না ডাক্তারের নিষেধ আছে। তাই ফ্রিজে তালা দিয়ে চাবিটা আমার কাছে রাখলাম নইলে তোকে দিয়ে বিশ্বাস নাই যে আইসক্রিম পাগলি তুই সব গুলি সাবার করে ফেলবি পেটুক একটা।

সোনালী ফ্রিজে তালা দিতে দেখে রেগে যেনো আগুন হয়ে গেলো। সোনালীর গলা এখন অনেকটাই ভালো হয়ে গেছে তবে পুরোপুরি সারে নি কিন্তু কথা বোঝা যায়। সোনালী রেগে গিয়ে হাসানকে বলতে লাগলো

~ ঐ বট গাছের টেকো ভুত, ব্যাঙের দাদা, খ্যাক শিয়াল, বান্দর, জ্যান্দর, কুত্তা, বিলাই, কুমির, ভালো চাসতো আমার চাবি দে বলছি। তুই আমার ফ্রিজে তালা ক্যান দিলি হারামি। আমার চাবি দে জলদি, আমার একটা আইসক্রিম যদি তুই খাবি তাই তোর একদিন কি আমার যত দিন লাগে লাগবো।

সোনালীকে খেপিয়ে হাসানের অনেক মজা লাগছে আর সোনালীর গালি গুলোও যেনো হাসানের কাছে মিষ্টি লাগছে। তাই হাসান সোনালীকে আরো রাগাতে খুব দ্রুত ফ্রিজ খুলে একটা আইসক্রিম বের করে খেতে লাগলো আর ফ্রিজটা আবার তালা দিয়ে দিলো।

হাসান আইসক্রিম খাচ্ছে আর সোনালীকে রাগাতে আইসক্রিমের সুনাম করছে।
এদিকে সোনালী তো রাগে একদম লাল হয়ে গেছে। সোনালীর ইচ্ছা করছে হাসানকে জ্যান্ত চিবিয়ে খেতে। কিন্তু সেটা করতে না পেরে রাগে গজগজ করতে করতে সোনালী বললো,

~ তুই আমার আইসক্রিম খেলি তো এর মজা হারে হারে টের পাবি নাক বোচা হনুমান লেজ কাটা টিকটিকি। আমি তোকে দেখে নিবো হুমম। বলেই হাসানকে সজোরে একটা চিমটি দিয়ে সোনালী দৌড়ে পালালো।

হাসান সোনালীর চিমটি দেওয়ার জায়গায় হাত বুলিয়ে হাসতে লাগলো। আর মনে মনে বললো, পাগলি বৌ আমার। তারপর সেই চিমটির জায়গায় একটা চুমো খেলো।

তারপর দুপুর বেলা সোনালীদের বাসা থেকে সবাই এলো সারাদিন অনেক ব্যাস্ততার মাঝে কেটে গেলো সবার। সন্ধ্যায় হাসান আর সোনালীকে নিয়ে সবাই চলে এলো সোনালীদের বাসায়। সোনালী এখন প্রায় সুস্থই হয়ে গেছে।
সোনালীদের বাসায় আসার পর সবাই যেনো হাসানকে নিয়েই ব্যাস্ত এমনটা মনে হচ্ছে সোনালীর।

সোনালী মনে মনে হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে। রাগে গজগজ করছে। সোনালীর মনে হচ্ছে ওর জায়গাটা হাসান নিয়ে নিছে।
সোনালী কিছু বলছে না শুধু কি যেনো ভেবে মুচকি মুচকি হাসছে। সোনালীকে হাসতে দেখে সোনালীর মা মিসেস হামিদা বেগম সোনালীকে জিগ্যেস করলেন

~ এই সোনালী তুই এভাবে হাসছিস কেনো পাগলের মতো। আমার কিন্তু কেমন খটকা লাগছে আমি তো তোর মা আর আমি জানি তুই কখন এমন করিস। সত্যি করে বলতো তুই কি দুষ্টু বুদ্ধি আটছিস মনে মনে?
মায়ের কথার উত্তরে সোনালী কিছু না বলে শুধু বললো,

~ আমার অনেক টায়ার্ড লাগছে আমি ঘুমোতে গেলাম। Good Night.
তারপর আর কাওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সোনালী রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে জামা কাপড় চেঞ্জ করে পুরা বিছানায় টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।

একটু পর হাসান ঘুমোতে এসে দেখে ওর শোয়ার কোনো জায়গা নাই বিছানায়। সোনালী পুরোটা একাই দখল করে নিয়েছে।

হাসান দেখে কি সুন্দর করে ঘুমিয়ে আছে সোনালী কি মায়াবি লাগছে ওকে দেখতে। হাসানের আর ইচ্ছা হয়না সোনালীকে ডাকার তাই হাসান সোফায় গিয়ে শুয়ে পরে আর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পরে।

সকালে খুব ভোরে ঘুম ভেঙে দেখে সোনালী নামাজ পড়ে আস্তে আস্তে কোরআন পড়ছে কি মধুর সে শুর। হাসান চুপ করে কিছুক্ষণ কোরআন পড়া শোনে তারপর ওজু করার জন্যে বাথরুমে যাওয়ার জন্যে যখনি পা বারায় ওমনি সোনালী কোরআন বন্ধ করে হাসানকে বলে

~ হাসান ভাইয়া এই বাথরুম টায় না একটু সমস্যা হয়েছে। বাথরুমে পানি আসছে না ঠিক মতো তুমি বরং বাইরের রুমের বাথরুমে যাও প্লিজ। হাসান খেয়াল করে দেখে সত্যিই বাথরুমে পানি আসছে না ঠিক মতো। তাই হাসান বাইরের বাথরুমে যায়।

রুম থেকে বেরিয়ে হাসান দেখলো সোনালীর আব্বু বসে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন। তাই হাসান তাকে সালাম দিয়ে বললো,
~ আসসালামু আলাইকুম। আংকেল কেমন আছেন? Good morning.

হাসানের ডাক শুনে সোনালীর আব্বু হাসানের দিকে তাকাতে তাকাতে সালামের উত্তর নেয়। তারপর হাসানের দিকে ভালো করে দেখেই সোনালীর আব্বু হাসতে হাসতে শেষ। হাসতে হাসতে সোনালীর আব্বু বলে
~ এই সোনালীর আম্মু কই তুমি এদিকে আসো শিগ্গির দেখো কান্ড।

সোনালীর আব্বুর ডাক শুনে সোনালীর আম্মু এসে হাসানকে দেখে সেও হাসতে হাসতে শেষ।
হাসান তাদের হাসার কোনো কারনই খুজে পাচ্ছে না। তাই হা করে তাকিয়ে শশুড় শাশুড়ির হাসি দেখছে।
সোনালীর আম্মু হাসতে হাসতে বলছে

~ এই টা নিশ্চয়ই আমার ফাজিল মেয়েটার কান্ড আমার কাল রাতেই সন্দেহ হয়েছিলো পাজি টা কিছু একটা করবে। তাই হলো।
হাসান বাবা তুমি রাগ করোনা প্লিজ আসলে আমরা হাসিটা ধরে রাখতে পারিনি। যাও বাবা যাও তুমি বাথরুমে গিয়ে হাত মুখ ভালো করে ধুয়ে আসো নইলে আর কারো চোখে পরলে অনেক খেপাবে তোমায়।

হাসান শাশুড়ির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না তাই সোজা গিয়ে বাথরুমে ঢুকে পরলো। তারপর বাথরুমের আয়নার সামনে যেতেই বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলো নিজেকে আয়নায় দেখে……


পর্ব ৫

হাসান শাশুড়ির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না তাই সোজা গিয়ে বাথরুমে ঢুকে পরলো। তারপর বাথরুমের আয়নার সামনে যেতেই বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলো নিজেকে আয়নায় দেখে।

হাসানের মুখটা পুরোপুরি একজন জোকারের মতো লাগছে। লিপস্টিক, কালি, স্নো, মেকাপ আরো অনেক কিছু দিয়ে মুখটা একদম জোকার হয়ে আছে। হাসানের আর বুঝতে বাকি রইলো না এটা কার কাজ। প্রচন্ড রাগ নিয়ে হাসান ভালো করে মুখ পরিস্কার করে সোনালীকে শাস্তি দিতে রুমে গেলো।

রুমে গিয়ে দেখে সোনালী নামাজ কোরআন পড়া শেষ করে আবার শুয়ে ঘুমিয়েছে। সোনালীকে ঘুমোতে দেখে হাসানের মাথায় একটা আইডিয়া আসলো যে সোনালীকেও ও জোকার সাজিয়ে দিবে।

হাসান তারাতারি ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে সব নিয়ে সোনালীর কাছে গেলো ওকে জোকার সাজাতে। কিন্তু যখনি হাসান সোনালীর মুখে কিছু লাগাতে যাবে তখনি সোনালী ঘুমের মধ্যে মিষ্টি করে হেসে দিলো।

সোনালীর ঐ টোল পরা হাসি মাখা মুখ দেখে হাসান যেনো কোথায় হারিয়ে গেলো। সোনালীকে সাজাবে তো দুর হাসান সোনালীর থেকে চোখই সরাতে পারছে না।

তারপর কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হাসানের মন চাইলো না সোনালীকে জোকার সাজাতে তাই হাসান সোনালীর কপালে একটা ভালবাসার পরস দিয়ে সরে গেলো। তারপর সাজগোজের জিনিস গুলো যেটা যেখানে ছিলো সেখানে রেখে ছাদে চলে গেলো।

ছাদে আসার আধ ঘন্টা পর সোনালী আসলো হাসানকে ডাকতে।
~ হাসান ভাইয়া ঐ হাসান ভাইয়া নিচে চলো তোমায় আম্মু ডাকছে। হিহিহিহিহি
হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে সোনালী একা একাই হাসছে। তাই হাসান সোনালীকে বললো,
~ ঐ পেত্নী এ ভাবে হাসছিস কেনো তুই হুমম?

~ না মানে ইয়ে মানে সকালে তোমার মুখটা দারুন লাগছিলো না? আমি তোমার ছবি তুলে রাখছি বাসায় গিয়ে আন্টি শাশুড়ি আম্মু আর আংকেল শশুড় আব্বু কে দেখামু। কথা গুলো বলেই সোনালী দৌড় দিলো। 🏃🏃
আর হাসান ওকে ধরতে ওর পিছু পিছু দৌড় দিলো।

তারপর দুজন একসাথে আগে পরে হয়ে নিচে ডাইনিং রুমে আসলো। হাসান মনে মনে অসম্ভব রেগে আছে ঐ বজ্জাত পেত্নী বলে কিনা ওর জোকার সাজের ছবি বাসায় নিয়ে আব্বু আম্মু কে দেখাবে? শশুড়বাড়িতে মান সম্মান শেষ করে হয়নি আবার বাড়িতে গিয়ে আব্বু আম্মুর সামনে শেষ করবে। একা একবার পেয়ে নেই তারপর দেখাবো মজা। (মনে মনে বললো, হাসান)

তারপর সোনালীর আম্মু মিসেস হামিদা বেগম হাসান আর সোনালীকে খেতে দিলো। সোনালী খাচ্ছে আর আরচোখে হাসান কি খায় তা দেখছে। তারপর হাসানের আগে সোনালী খাওয়া শেষ করে উঠে পরে তারপর হামিদা বেগম কে বলে

~ আম্মু আমি ওপরে গেলাম। একটু কাজ আছে।
সোনালীর কথার উত্তরে সোনালীর মা বলেন
~ সোনালী ও বাড়ি থেকে তোর শাশুড়ি ফোন করে ছিলেন ওরা বিকেলে তোদের নিতে আসবেন। কাল থেকে তো তোদের কলেজ শুরু তাই।

সোনালী ওর আম্মুর কথা শুনে খুশিতে নেচে উঠে বললো,
~ ইয়াহুউউউউউ কাল থেকে কলেজ যাবো কি মজা কি মজা। আম্মু তুমি এখনি আমার আন্টি শাশুড়ি আম্মু কে ফোন করে বলো এখনি চলে আসতে আমি এখনি যাবো ঐ বাসায়।

সোনালীর কথার উত্তরে সোনালীর আম্মু বললেন,
~ ঐ সোনালী আন্টি শাশুড়ি আম্মু এটা কেমন ডাক হুমম। সে আগে তোর আন্টি ছিলো এখন মনিরা তোর শাশুড়ি আর শাশুড়ি কে আম্মু বলে ডাকতে হয় শুধু আম্মু। আর শশুড়কে আব্বু বলতে হয়। এখন থেকে ওনাদের শুধু আম্মু আব্বু ডাকবি মনে থাকবে?

~ আচ্ছা তাই ডাকবো। এখন তুমি ফোন করো তো তারাতারি। আম্মুকে তারাতারি এসে আমায় নিয়ে যেতে বলো।
~ হায় আল্লাহ এ কেমন মেয়ে পেটে রাখছিলাম আমি। বাবার বাড়ি থেকে শশুড়বাড়ি যাওয়ার জন্যে পাগল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে আমরা ওর কিছুই না।

ঐ সোনালী যা তুই ওপরে যা বিকালে তোর শাশুড়ি আসলে তখন যাস শশুড়বাড়ি আমি আটকাবো না। এখন ওপরে যা।
হাসান এতক্ষণ চুপ করে সব কথা শুনছিলো আর খাচ্ছিল। কিছু বলছিলো না তবে সোনালীর কথা শুনে বড্ড হাসি পাচ্ছিল হাসানের।

সোনালী তার মায়ের কথার উত্তরে আর কিছু না বলে উপরে চলে গেলো। আর সোনালীর আম্মু হাসানকে বলতে লাগলো

~ বাবা হাসান দেখছো তো আমার মেয়েটা এখনো একটা বাচ্চার মতই বুদ্ধি। ও হাতে পায়ে বড় হয়েছে ঠিকি কিন্তু ওর বুদ্ধি এখনো ছোট বাচ্চার মতো। তবে মেয়েটা আমার বড্ডো সরল ও ভালো। ওকে তুমি দেখে রেখো বাবা। কখনো কোনো ভুল করলে সুধরে দিও।

কিন্তু কখনো ওকে ছেরোনা। তোমার সাথে ওর বিয়ে হয়েছে ও তোমার স্ত্রী একটু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করো বাবা। আমার একটাই কলিজার টুকরা মেয়ে সোনালী ওকে কখনো কষ্ট দিও না এটুকুই চাই তোমার কাছে। ( সোনালীর মা)

~ আম্মু আপনি চিন্তা করবেন না সোনালীকে আমি কখনোই কোনো কষ্ট দিবো না। ওকে আমি অনেক সুখে রাখবো। কখনো কোনো কষ্ট ওর কাছে ঘেসতেও দিবো না। আমি ওকে অনেক ভালবাসবো আম্মু আপনারা চিন্তা করবেন না। ওর সব দ্বায়িত্ব আমার। (হাসান)

~ তুমি আমায় চিন্তা মুক্ত করলে বাবা। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তোমরা অনেক সুখি হও। পৃথিবীর সব সুখ যেনো আল্লাহ তোমাদের দেন। (সোনালীর আম্মু)

তারপর হাসান খাওয়া দাওয়া শেষ করে ওপরে চলে যায়। রুমে ঢুকে দেখে সোনালী যেনো জানালার কাছে দারিয়ে কি দেখছে আর হাসছে। হাসান চুপি চুপি ধিরো পায়ে এগিয়ে যায় দেখার জন্যে যে সোনালী কি দেখে হাসছে।

হাসান সোনালীর পিছনে দারিয়ে তাকিয়ে দেখে সোনালী ওর ফোনে হাসানের জোকার সাজের ঘুমন্ত ছবি দেখছে আর একা একাই হাসছে।
হাসান ছো মেরে সোনালীর হাত থেকে ফোনটা কেরে নেয়। তারপর সোনালীর এক হাত ধরে বলে

~ ঐ শাকচুন্নি পেত্নী বট গাছের ভুত্নী কুটনি এগুলা কি তুলছিস তুই হুমম। এখানে আমার মান ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে হয়নি আবার ছবি তুলে রাখছিস আম্মু আব্বু কে দেখাবি বলে।

হাসানের কথা শুনে সোনালী ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে
~ না মানে আসলে তোমাকে না ভাইয়া জোকার সাজে অনেক সুন্দর লাগছিলো। খুব মানিয়েছিলো সাজটা তোমার সাথে তাই ছবি তুলে রাখছি আরকি

~ কি কি বললি তুই? তবেরে দারা আজ তোর একদিন কি
হাসানের পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই সোনালী হাত ছারিয়ে দৌড় দিতে দিতে বললো,
~ হিহিহি তোর যে কদিন লাগে তাই না।

সোনালীর পালিয়ে যাওয়া দেখে হাসান হাহা করে হাসতে লাগলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো
~ এই পাগলিটাকি কখনো একটু সিরিয়াস হবে না। একে আমি পাগলি থেকে মানুষ করবো কি করে। একটুও বুদ্ধি নেই শুধু আছে দুষ্টুমির বুদ্ধি। পাগলি একটা।

কিন্তু আমার জানও বটে। অসম্ভব ভালবাসি তোকে পাগলি বৌ আমার। তোর মনেও আমার জন্যে ভালবাসা আমি তৈরি করবোই করবো। এটা সোনালী পাগলির পাগলের প্রমিজ। I love u সোনালী জান আমার।
তারপর সারাদিন হাসান আর সোনালীর খুনসুটিতে কেটে গেলো বিকেলে হাসানের আম্মু মনিরা বেগম আসলেন সোনালী আর হাসানকে নিয়ে যেতে।

সোনালীকে সোনালীর আম্মু একটা প্যাকেট দিয়ে বললো, ওর মধ্যেকার ড্রেসটা পরে রেডি হয়ে আসতে।
সোনালী রুমে গিয়ে দেখে হাসান শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাটছে। সোনালী হাসানকে বললো,
~ হাসান ভাইয়া তোমার আম্মু এসেছে তোমায় ডাকছে জলদি যাও। আমি রেডি হয়ে আসছি।

সোনালীর কথা শুনে হাসান বললো,
~ রেডি হয়ে নাও এক সাথে যাই।
~ ইইইইই আমি কি তোর সামনে রেডি হবো নাকি? গন্ডার কুমির লেজ কাটা টিকটিকি ভূত বের হ আমার রুম থেকে।

~ আমার সামনে রেডি হতে সমস্যা কি হুমম আমি তো তোর স্বামী হই তাইনা। তুই চাস তো আমি না হয় রেডি করে দেই তোকে।
~ তু তু তুই রেডি ক করে দিবি মা মানে। আমি এখনি চিৎকার করে সবাই কে ডাকবো দারা। ওওও আম্মু গো তোমউউউউউউউ। ( হাসান মুখ চেপে ধরে সোনালীর তারপর বলে)

~ ইসসস যাচ্ছি যাচ্ছি এতো চেচাঁমেচির কি আছে একটু মজাও করতে দিবিনা নাকি বৌ এর সাথে। সর আমি যাচ্ছি তুই তারাতারি রেডি হয়ে নিচে আয়।

তারপর হাসান সোনালীকে ছেরে দিয়ে হাসতে হাসতে নিচে চলে যায়।
সোনালী ওর মায়ের দেওয়া প্যাকেটটা খুলে দেখে খুব সুন্দর একটি নীল রংয়ের গাউন জামা তার মধ্যে সাদা পাথরের কাজ করা। সাথে নীল পাথর বসানো সর্নের জুয়েলারি ম্যাচিং করা।

সোনালী এগুলো পেয়ে আনন্দে নেচে ওঠে। আর তারাতারি ওগুলো পড়ে নেয়। গলায় নেকলেস কানে দুল হাতে বেসলেট। সব মিলিয়ে দারুন লাগছে। তারপর সোনালী রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে।

নিচে সবাই বসে আলাপ করছিলো। হাসান নুডুলস খাচ্ছে আর কথা বলছে। এমন সময় সোনালী সিরি দিয়ে নামছে সবাই সোনালীকে দেখে একদম হা করে তাকিয়ে আছে।

আর হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে হাতের নুডুলস এর প্রিজ ফেলে দেয় সেদিকে ওর খেয়ালই নেই৷ সোনালীকে এই নীল ড্রেসটাতে একদম নীল পরীর মতো লাগছে। ওর দিক থেকে চোখ ফেরানো দায়।
হাসানের অবস্থা দেখে সবাই হাসাহাসি শুরু করেছে সেদিকে হাসানের কোনো খেয়ালই নাই। হাসান সোনালীকে দেখতেই ব্যাস্ত।

তারপর সোনালী সাবার সামনে এসে সবার সাথে কথা বলতে বলতে হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসান হা করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আর এটা দেখে সবাই হাসাহাসি করছে।

সোনালীর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসে হাসানের এমন অবস্থা দেখে। সোনালী চট করে একটা কাচামরিচ নিয়ে হাসানের মুখে পুরে দেয়। আর হাসান খেয়াল না করেই মরিচটা চিবোতে থাকে।

একটু পর যখন মুখের মধ্যে আগুন লাগার মতো ঝাল ধরে তখন হাসানের হুশ হয়। আর হাসান চিৎকার করতে করতে ব্রসিনের কাছে দৌড় দেয়। এদিকে সবাই ওদের কান্ড দেখে হাসতে হাসতে শেষ।


পর্ব ৬

সন্ধ্যার আগে সকলের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে হাসান সোনালীকে নিয়ে হাসানদের বাসায় ফিরে আসেন মনিরা বেগম।
বাসায় এসেই সোনালী দৌড়ে ওর নিজের রুমে চলে যায়। তারপর বোরখা খুলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নিজেকে দেখে আর ভাবে হাসান কেনো তখন ও ভাবে তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে।

তারপর সোনালী নিজেকে আয়নায় দেখে নিজেই অনেক লজ্জা পেয়ে যায়। নীল রঙের ড্রেস টাতে সত্যিই ওকে অপুর্ব লাগছে।
সোনালী খুশির ঠেলায় ওর টেডি বিয়ার টা নিয়ে নাচতে শুরু করে। একবার মেঝেতে একবার বিছানায় এভাবে নাচতে থাকে সোনালী।

এটিকে হাসান ফ্রেশ হওয়ার জন্যে রুমে এসে দরজায় দারিয়ে দেখে সোনালী একা একাই নাচানাচি করছে পাগলের মতো। এই প্রথম হাসান সোনালীকে নাচতে দেখলো।
হাসান দরজায় দারিয়ে চুপটি করে সোনালীর নাচ দেখছে। আর মুচকি মুচকি হাসছে। এদিকে সোনালী নাচতে নাচতে খাটের ওপর থেকে নিচে পরে যেতে নেয় আর ওমনি হাসান এসে ওকে ধরে ফেলে।

( আপনারা কি ভাবছেন এখন সিনেমার মতো ওরা হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকবে? আরে ধুর সোনালীর এতো সময় আছে নাকি দেখেন কি করে। )

হাসান সোনালীকে ধরার সাথে সাথে সোনালী চোখ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। তারপর যখন দেখে ওকে কেউ পরে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলেছে তখন এক চোখ খোলে।

এক চোখ খুলে দেখে ও হাসানের কোলে পরে আছে। ওমনি জোরে একটা চিৎকার দেয়। আর হাসান ওর চিৎকার শুনে কানে তালা লাগার অবস্থা তাই সোনালীকে ছেরে দেয় আর ওমনি সোনালী থপাত করে নিচে পরে যায়।
সোনালী নিচে পরেই হাসানকে ইচ্ছা মতো বকা দিতে শুরু করে

~ ঐ রাক্ষস, হাতি, জলহস্তী, বাট্টা ইঁদুর, গন্ডার, আফ্রিকার বন মানুষ, কান কাটা বাদুর, লেজ কাটা টিকটিকি তুই আমারে ফেলে দিলি ক্যান ক শিগগিরই, নইলে আজকে তোর একদিন কি আমার যে কদিন লাগে।
হাসান সোনালীর কথা শুনে রেগে গিয়ে বলে

~ ঐ পেত্নী, শাকাচুন্নি, বান্দরনি, ছাগলি এখন যদি তোকে আমি না ধরতাম তুই তো এতক্ষণ পটল তুলতি। আর তোকে আমি বাচালাম আর তুই চিৎকার করে আমার কানের বারোটা বাজাইয়া দিলি। কুত্তি মাইকও ফেল করবে তোর কাছে। ইশশ আমার কানটা শেষ।

~ ঐ ঐ ঐ কি বললি তুই আমায় এসব? ও আমার শাশুড়ি আম্মু গো তুমি কই গো দেইখা যাও তোমার এই বজ্জাত পোলা আমার মতো একটা অবলা পিচ্চি মাইয়ার নামে কি সব কইতাছে গো। ও আমার শাশুড়ি মাদারা থুক্কু শাশুড়ি আম্মু গো। (ন্যাকা কান্না কেঁদে )

সোনালীর এসব কথা শুনে হাসান আর হাসি ধরে রাখতে পারলো না। হাসতে হাসতে সোফায় বসে পরলো।
এদিকে সোনালীর চিৎকার শুনে হাসানের মা মনিরা বেগম ছুটে এলেন। তারপর জিগ্যেশ করলেন কি হয়েছে। তখন সোনালী বলতে শুরু করলো

~ কি হয় নাই তাই বলো গো শাশুড়ি মাদার থুরি শাশুড়ি আম্মু। তোমার ঐ বজ্জাত খাটাস পঁচা আন্ডা পোলা আমারে ওপর থেকে ফেলে দিছে গো আমার মাজার হাড্ডি বুঝি আর একটাও আস্ত নাই।

এখন আমার ভবিষ্যত জামাই আর ছেলেপুলের কি হবে গো। আমার নাতি নাতনি রে নিয়া আমি কেমনে খেলমু গো। ঐ শাশুড়ি আম্মু তুমি তারাতারি ঐ রাক্ষস টার বিচার করো নইলে আমি কি করমু আমি নিজেও জানি না।
সোনালীর কথা শুনে হাসান আর মনিরা বেগম হা করে তাকিয়ে আছে সোনালী কি বললো, এসব।

সোনালী মনিরা বেগমের হা করে তাকিয়ে থাকা দেখে আবার বলতে শুরু করলো
~ ঐ আম্মু তুমি এমন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছো ক্যান হুমম। জানি আজকে আমায় একটু বেশি সুন্দরী লাগছে তাই বলে এভাবে তাকিয়ে থাকবা নাকি আমার বুঝি লজ্জা করে না।

এবার আর মনিরা বেগম হাসি আটকে রাখতে পারলো না হোহো করে হেসে দিলো। সাথে হাসানও হাসতে লাগলো। তারপর কিছুক্ষণ এভাবে হাসার পর হাসানের মা মনিরা বেগম বলতে লাগলো

~ এই যে আমার পাগলি মেয়েটা তুই কি জানিস এই কদিন তুই ছিলিনা বলে আমার বাড়িটা কেমন মরুভূমি হয়ে গেছিলো। আজ তুই আসতে না আসতেই বাড়িটা আবার যেনো ভরে উঠেছে। আর কি যেনো বলছিলি?

তোর ভবিষ্যত জামাই আর ছেলেপুলের কি হবে তাই না? আর জামাইয়ের ব্যাবস্থা তো আমারা করেই দিছি আমার এই খাটাস ছেলেটা এখন বাকি রইলো ছেলেপুলের সেটার ব্যাবস্থা বরং তোরাই কর। আমারো তো অনেক বয়স হলো একটু নাতি নাতনি নিয়ে খেলা ধুলা করতে চাই।

সোনালী ওর শাশুড়ি মনিরা বেগমের কথা শুনে বললো,
~ তাই তো তোমরা তো এই খাটাস ছেলেটাকে আমার গলায় ঝুলিয়েই দিছো। আমার জীবনটা তেজপাতা করার লাইগা। আমার তো মনেই ছিলো না আমি বিয়া করছি। কিন্তু এখন ছেলেপুলে কই পামু। হেইডাও তোমরাই ব্যাবস্থা করো শাশুড়ি আম্মু।

সোনালীর এমন উত্তর শুনে হাসান আর মনিরা বেগম একদম হা হয়ে গেলো কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। শেষে মনিরা বেগম বললো,
~ আমার অনেক কাজ আছে আমি নিচে যাচ্ছি তুই বরং হাসানকে প্রশ্ন কর। ( কথা গুলো বলেই মনিরা বেগম তারাতারি নিচে নেমে গেলো সোনালীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই)

মনিরা বেগমের চলে যাওয়া দেখে সোনালী বার বার ডাকতে লাগলো কিন্তু মনিরা বেগম ফিরেও তাকালোনা। তারাতারি নিচে নেমে গেলো। তখন সোনালী মন খারাপ করে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে হাসান মিচকি মুচকি হাসছে মুখ চেপে। হাসানের হাসি দেখেই তো সোনালীর প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো তাই রেগে গিয়ে বলতে লাগলো

~ ঐ আফ্রিকার হাতি এমন কুমড়োপটাশের মতো বসে বসে প্যাঁচার মতো হাসছিস ক্যান হুমম। আমার আমার শাশুড়ি আম্মু টা এভাবে চলে গেলো ক্যান মনে হলো উনি পালিয়ে গেলো আমার থেকে।
সোনালীর কথা শুনে হাসান হাসি থামিয়ে বলতে লাগলো

~ তো পালিয়ে যাবে না তো কি করবে বসে বসে তোর পাগলের মতো প্রশ্নের উত্তর দিবে গাধী একটা। আরে এত বড় হয়েছিস এখনো বুঝিসনা কাকে কি প্রশ্ন করা যাবে কি যাবে না। তুই আম্মু কে কি বলছিলি ওসব। পাগলী একটা।
হাসানের কথা শুনে সোনালী বললো,

~ আমি আবার কি বললাম আম্মু কে যে আম্মুর এভাবে পালিয়ে যেতে হলো?
~ এখনো প্রশ্ন করছিস কি করলি। হয় আল্লাহ আমারে তুলে নেও এ কোন পাগলীরে বিয়া করলাম আমি কিছুই বোঝেনা।

~ ঐ এতো ফালতু প্যাচাল না পাইরা আমারে বুঝাইয়া কইলেই তো পারিস কি কইছি আমি যে আম্মু পালালো।
সোনালীর কথা শুনে হাসান সোনালীর দিকে এগুতে লাগলো আর সোনালী পিছতে লাগলো। সোনালীর পিছানো দেখে হাসান হাহা করে হাসতে হাসতে বিছানায় পরে গেলো। তারপর বললো,

~ বাব বাহ সোবালী আক্তার চাঁদনী আবার ভয়ও পায়? আগে তো জানতাম না।
এবার সোনালী রেগে গিয়ে বললো,
~ এমন হাতির মতো শরীর নিয়ে রাক্ষসের মতো এগিয়ে আসলে কে ভয় পাবে না হুমম।

~ কি বললি তুই শাকচুন্নি আমি রাক্ষস? তবেরে দারা বলছি দারা। এই বলেই সোনালীকে ধরতে যাবে হাসান। আর সোনালী দৌড়ে নিচে নেমে গেলো।
কিছুক্ষণ পর হাসানও ফ্রেশ হয়ে নিচে এলো। তারপর সবাই খাওয়া দাওয়া করে যার যার রুমে ঘুমুতে চলে গেলো।


পর্ব ৭

হাসান খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে ঘুমোতে এসে দেখে সোনালী একা একা বসে কি যেনো বক বক করছে। হাসানকে আসতে দেখেই সোনালী লাফ দিয়ে হাসানের সামনে গিয়ে হাসানের হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে হাসানকে খাটের ওপর বসায় তারপর নিজেও হাসানের কাছে বসে হাসানকে বলতে লাগে

~ ঐ হাসান ভাইয়া আমার যেমন ফিলিংস হচ্ছে তোরো কি তেমন ফিলিংস হচ্ছে? (সোনালী)
সোনালীর কথা শুনে হাসান বড় বড় করে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে
~ ফিলিংস হচ্ছে মা মানে কিসের ফিলিংস? (হাসান)

~ আরে ধুর তুই না সত্যিই একটা ইডিয়েট রে হাসান ভাইয়া কিছুই বুঝিস না। আরে আমার যে এখন কেমন ফিলিংস হচ্ছে তোকে কি করে বোঝাই। আমার তো আজ সারারাত ঘুমোতেই ইচ্ছা করছে না।

এবার সোনালীর কথা শুনে হাসানের গলা শুকিয়ে গেলো কি বলছে এসব পাগলিটা। সারারাত না ঘুমিয়ে কি করবে ও। আর কিসের ফিলিংস এর কথা বলছে। (মনে মনে বললো, হাসান)
তারপর হাসান বললো,

~ এ এই তু তুই সারারাত ঘুমোবিনা মানে কি করবি তবে সারারাত? আর আমায় খাটে বসতে দিলি যে তোর ভাল্লুকটা কোথায় থাকবে তাহলে?
~ আরে ধুর তোর সাথে কথা বলাই বৃথা আমার সব ফিলিংস নষ্ট করে দিচ্ছিস। তুই সত্যিই একটা খাটাস। আমি বরং শাশুড়ি আম্মু কে নিয়ে এসে আমার ফিলিংস এর কথা গুলো বলি আম্মু ঠিকি বুঝবে।

~ আরে ঐ শাকচুন্নি পেত্নী তোর মাথাটা কি এবার সত্যিই গেছে তুই আম্মুকে এই সব বলবি?
~ হ্যা বলবোই তো তুই তো আমার মধ্যের ফিলিংসটা বুঝছিস না তাই আম্মু কেই বলবো।
~ আরে এসব কথা আম্মু কে বলতে নেই রে গাধি তুই দেখি আমার মান সম্মান সব জলে ডোবাবি।

~ আরে আমরা কালকে প্রথম কলেজে যাবো সেই আনন্দের ফিলিংসে আজ ঘুম আসছে না তাই সারারাত জেগে গল্প করতে চাচ্ছি কলেজের ব্যাপারে। এখানে তোর মান সম্মান যাবে কেনো রে বুঝলাম না।
হাসান সোনালীর কথা শুনে একদম হা হয়ে গেলো। তারপর জিগ্যেস করলো

~ তুই এতক্ষণ কালকে কলেজে যাওয়ার ফিলিংস এর কথা বলছিলি? (হাসান)
~ হ্যা আমি তো তোকে সেই কখন থেকে এটাই বলছি। কেনো তুই কি ভেবেছিলি?
সোনালীর কথা শুনে হাসান সোনালীকে বললো,

~ ইয়ে মানে তুই থাক আমি এখনি আসছি একটু বাথরুম থেকে। বলেই হাসান এক প্রকার দৌড়েই বাথরুমে ঢুকে গেলো।
তারপর একা একাই হাসতে লাগলো হাসান। সোনালী কি বললো, আর ও কি না কি ভেবে বসে আছে।

হাসানের বড্ড হাসি পাচ্ছে নিজের ওপর। ও সত্যিই একটা গাধা খাটাস। সোনালী যদি একটুও বুঝতো তাহলে কি ভাবতো।
তারপর এভাবে ৩০ মিনিটের মতো বাথরুমে একা একাই নিজেকে গালাগালি দিলো হাসান হাসলোও অনেক। তারপর বাইরে বেরিয়ে এলো।

বাইরে এসে সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে সোনালী ঘুমিয়ে পরেছে উল্টো দিকে হয়ে।
তখন হাসান মুচকি হাসে আর মনে মনে বলে
~ পাগলিটা আমার, ও নাকি সারারাত গল্প করবে আর এই টুকু সময়ের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেছে। হাও কি উল্টো হয়ে ঘুমিয়ে আছে পাগলিটা।

তারপর হাসান সোনালীকে কোলে নিয়ে ঠিক করে শুইয়ে দেয়। আর সোনালীর পাসে ওর টেডি বিয়ার টাকে রাখে। তারপর সোনালীর মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে একটা ভালবাসার পরস একে দিয়ে নিজে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরে।

সকালে ফজরের সময় হাসান আর সোনালী দুজনেই উঠে। হাসান মসজিদে যায় নামাজ পড়তে আর সোনালী বাসাতেই নামাজ পড়ে নেয়।

হাসান মসজিদ থেকে এসে দেখে সোনালী কোরআন পড়ছে। হাসান সোনালীর পাশে এসে বসে কোরআন পড়া শুনতে। কিন্তু সোনালী ওমনি কোরআন পড়া শেষ করে তুলে রেখে দেয়। তারপর দুজনে একসাথে সকালের নাস্তা শেষ করে কলেজের জন্যে রেডি হয়।

সোনালী একটা কালো রঙের ঢিলেঢালা বোরখা পরে মুখ ঢেকে। আর হাসান পরে কালো রঙের পান্জাবী সুন্দর কাজ করা। হাসানকে এই পান্জাবীতে দারুন মানিয়েছে। সোনালী হাসানকে বলে
~ আরে হাসান ভাইয়া তোকে না এই পান্জাবীতে দারুন মানিয়েছে। হেব্বি দেখতে লাগছে। দেখিস তোর ছাত্রীরা যেনো আবার তোর প্রেমে না পড়ে যায়।

সোনালীর কথার উত্তরে হাসান বলে
~ সত্যিই বলছিস আমার ভাল লাগছে এটাতে?
~ হুমম রে সত্যিই বলছি তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।

~ তাহলে কেউ যদি আমায় দেখে আজ প্রেমে পরে তাহলে আমিও প্রেম করবো বল?
~ হ্যা অবশ্যই করবি কেনো করবি না বল। আর তারাতারি বিয়েও করে ফেলবি। কতদিন হলো কারো বিয়ে খাইনা। ইসস ভাবতেই ভাললাগছে। তারাতারি প্রেম করে বিয়ে করে ফেল ভাইয়া।

সোনালীর কথা শুনে হাসান মনে মনে বললো,
~ আরে আমিও হয়েছি একটা গাধাই বটে। কাকে যে কি বলি। ভেবেছিলাম অন্য কারো সাথে প্রেম করার কথা বললে ও খেপে যাবে। তা নয় উনি তো বিয়ে খাওয়ার আনন্দে মসগুল। কপালে জুটেছেও একটা। ওফ এই মেয়েটা যে কবে একটু বুঝবে আমার ফিলিংসটা।

তারপর হাসান সোনালীকে নিয়ে কলেজের উদ্যেশে রওনা দিলো।
রাস্তায় সোনালী হাসানকে বললো,
~ আচ্ছা ঐ হাসান ভাইয়া কলেজে তুই আমার স্যার তাই না?

~ হুমম আর তুই আমার ছাত্রী।
~ আচ্ছা তহলে কেউ যদি জিগ্যেস করে তুই তোর ছাত্রীকে কেনো নিজের গাড়িতে করে কলেজে নিয়ে আসিস তাহলে কি বলবি বা আমি কি বলবো?
~ ক্যান কি বলবি মানে তুই সবাইকে বলবি যে তুই আমার বউ আমার আমি তোর স্বামী হই।

~ এএএএ পাগল নাকি আমি যদি সবাই কে বলি যে আমি তোর বৌ তাহলে কেউ তো তোর প্রেমেই পরবে না। আর আমার বিয়েও খাওয়া হবে না। তার চাইতে আমি সবাইকে বলবো তুই আমার চাচাতো ভাই হোস কেমন?

~ বিশ্বাস কর সোনালী আমি না জীবনে তোর মতো মেয়ে একটাও দেখিনি যে স্বামীর বিয়ে খাবে বলে কারো কাছে তার পরিচয় দিবে না।
~ হিহিহি জীবনে দেখিসনি তো এখন দেখে নে। আমি তো তোর বিয়ে খাবই হুমম। তারপর আমি একটা রাজপুত্রের মতো ছেলেকে বিয়ে করে সুখে সংসার করবো।

সোনালীর কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে হাসান খুব জোরে ব্রেক কোসে গাড়ি থামায় আর সোনালী ভয় পেয়ে গিয়ে বলে
~ ও মাগো। এটা কি হলো এভাবে কেউ ব্রেক করে নাকি? এখন আমি যদি জোরে গুতো খেয়ে নাক বোচা হয়ে যেতাম তাহলে আমার ভবিষ্যত জামাই এর কি হতো? তাকে তো সবাই বুচির জামাই কইতো।

হাসান সোনালীর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে দাতে দাঁত চেপে বললো,
~ কলেজ এসে গেছে এখন আপনি নামতে পারেন। আর শুনেন এখানে আমি আপনাকে চিনি না আর আপনিও আমাকে চেনেন না। আমি জাস্ট আপনার স্যার আর আপনি আমার ছাত্রি সো ছাত্রির মতই থাকবেন।

সোনালী হাসানের এমন রেগে যাওয়ার কারন কিছুই বুঝলো না। তবে হাসানের রাগ দেখে কিছু বলার সাহস আর হলো না। তাই চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে সোজা কলেজে ঢুকে পরলো।

আর হাসানও গাড়ি পার্ক করে অফিস রুমে চলে গেলো।
সোনালী ওর ক্লাস রুমে ঢুকে দেখে অনেক নতুন চেহারার ছেলে মেয়ে দিয়ে ভর্তি। সোনালী চুপ করে দরজায় দারিয়ে সবাইকে দেখছে এমন সময় তিনজন মেয়ে এসে সোনালীকে জিগ্যেস করে
~ এই মেয়ে কে তুমি? নাম কি তোমার? তুমি কি এই কলেজে নতুন? আগেতো দেখিনি তোমায়?

মেয়েগুলোর এত্ত গুলা প্রশ্ন শুনে সোনালী বলে উঠলো
~ ওরে বাবারে বাবা তোমরা এক সাথে এতগুলো প্রশ্ন ছুরে দিলে আমি উত্তর দিবো কি করে?
সোনালীর এমন উত্তর শুনে মেয়ে তিনটা হেসে দিয়ে বললো,

~ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে বাবা তুমি ধিরে ধিরেই উত্তর দাও কেমন? নামকি তোমার?
~ আমার নাম সোনালী আক্তার চাঁদনী। সবাই আমায় সোনালী বলে ডাকে। আর তোমরা?
তিনজনের মধ্যে থেকে একজন মেয়ে বললো,

~ আমি আফরোজা ও মার্জিয়া আর ও হচ্ছে আফসিয়া। আমরা তিনজন খুব ভালো বন্ধু তুমি চাইলে তুমিও হতে পারো আমাদের বন্ধু।
~ হ্যা অবশ্যই হবো আমারো কোনো বন্ধু নেই আমিও তোমাদের বন্ধু হতে চাই। আমরা অনেক দুষ্টুমি করবো মজা করবো কেমন।

~ হাহাহা তুমি মনে হচ্ছে খুবই দুষ্টু আর সরলও বটে। কিন্তু খুবই চনচল। এখন চলো ক্লাস শুরু হওয়ার সময় হয়ে গেছে। ( আফরোজা)
~ হুমম চলো। (সোনালী)
তারপর সবাই ক্লাসে একটা ব্রেন্চে গিয়ে বসে পরলো।


পর্ব ৮

তারপর আমরা সবাই গিয়ে একটা ব্রেন্চে বসে পরলাম। তখন আমাদের মধ্যে থেকে আফসিয়া বলে উঠলো
~ এই তোরা জানিস আজ নাকি কলেজে নতুন স্যার আসবে। শুনেছি ঐ স্যার নাকি খুব রাগি?
~ হ্যা রে আমিও তো তাই শুনেছি দেখি কে আসে। ( মার্জিয়া)

~ আরে রাগি না ছাই। তোমরা শুধু শুধুই ভয় পাচ্ছো ঐ কুমড়োপটাশ টাকে নিয়ে। ওকে তো আমি হাতের তালুতে ঘুরাই। (সোনালী)

~ ঐ তুই কি বলছিস এসব তোর মাথা ঠিক আছে তো? আচ্ছা এটা বল তুই এমন করে কথা গুলো বললি যেনো তুই আমাদের নতুন স্যার কে চিনিস। ব্যাপার কি বলতো? (আফরোজা)
সোনালী আফরোজার কথার উত্তরে কিছু বলবে তার আগেই ক্লাসে প্রিন্সিপাল স্যার হাসানকে সাথে নিয়ে ঢুকে পরলো। আর সকলে উঠে দারিয়ে তাদের সালাম দিলো। তারপর প্রিন্সিপাল স্যার বলতে লাগলো

~ ছাত্র ছাত্রীরা ইনি হলেন তোমাদের নতুন ক্লাস টিচার মিস্টার হাসান চৌধুরী। আজ থেকে তোমাদের ইংলিশ ক্লাস নিবেন উনি। সবাই মন দিয়ে লেখা পড়া করবে। ওকে তোমরা সবাই পরিচিত হয়ে নাও আমি চলি। (প্রিন্সিপাল)

প্রিন্সিপাল স্যার চলে যাওয়ার পর হাসান সকলের সাথে পরিচিত হতে লাগলো। কিন্তু সোনালীর দিকে ফিরেও তাকালো না যেনো সোনালীকে ও চেনেই না।
সোনালী আসেপাশে তাকিয়ে দেখে সব মেয়ে গুলো হা করে তাকিয়ে আছে হাসানের দিকে। যেনো কখনো এত সুন্দর ছেলে দেখেনি।

তারপর সোনালী নিজের পাশে তাকিয়ে দেখে আফরোজা, মার্জিয়া আর আফসিয়ারও একি অবস্থা। হা করে তাকিয়ে আছে হাসানের দিকে। সোনালী ওদের কিছু বলবে তার আগেই আফরোজা বলে উঠলো।
~ দোস্তরা আমায় ধর রে আমি তো পড়ে গেছি। (আফরোজা)

~ ঐ তুমি কই পরছো তুমি তো এখানেই বোসে আছো কি হয়েছে বলোতো। (সোনালী)
~ আমি স্যারের প্রেমে পরে গেছি গো সোনালী। ইসস কি সুন্দর কি কিউট আমাদের স্যার গো। আমি স্যারের সাথে প্রেম করবো গো। (আফরোজা)

~ আমিও পরেছি দোস্ত তোর মতোই নতুন স্যারের প্রেমে। (মার্জিয়া)
~ আমিও পরেছি রে এখন কি হবে বলতো। আমার তো মনে হচ্ছে ক্লাসের সবাই পরেছে আমারদের মতো নতুন স্যারের প্রেমে। আসেপাশে তাকিয়ে দেখ? (আফসিয়া)

সোনালী ওদের কথা শুনে আসেপাশে তাকিয়ে দেখে সত্যিই সব মেয়েগুলো কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে হাসানের দিকে। কেনো জানেনা সোনালীর মনে মনে খুব রাগ হতে লাগলো। কিন্তু নিজেকে শান্ত করে বললো,
~ আমি পরিনি আর পরবোও না। আরে ঐ হনুমানটার প্রেমে পরতে যাবো কোন দুঃখে। ওর প্রেমে পরার চেয়ে আমি আছার পরবো তবুও ভালো। (সোনালী)

~ ঐ সোনালী ঐ তুই হনুমান বলছিস কাকে হুমম। খবরদার আমার হাসানকে যদি কেও কিছু বলবি হাতে তার খবর আছে বলে দিলাম। (আফরোজা)
মার্জিয়া আর আফসিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই হাসান আফরোজাকে জিগ্যেস করলো

~ এই মেয়ে ওঠো দারাও আর নিজের পরিচয় দাও। আজকে ক্লাস নিবো না সকলের সাথে পরিচিত হবো। কাল থেকে ক্লাস শুরু করবো ইনশাআল্লাহ। (হাসান)
হাসানের কথা শুনে আফরোজা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো তারপর বললো,

~ স্যার আমি আফরোজা সুলতানা নাজনিন। সবাই আমায় আফরোজ বলে ডাকে। (আফরোজ)
~ হুমম ঠিক আছে তুমি বসো। এই তুমি দারাও আর নিজের পরিচয় দাও। (হাসান বললো, মার্জিয়াকে উদ্যেশ্য করে)

~ স্যার আমার নাম মার্জিয়া আফরিন। সবাই আমায় মার্জিয়া বলে ডাকে। আপনি আমায় আফরিন বলে ডাকিয়েন স্যার আপনার মুখে আফরিন শুনতেই ভালো লাগবে আমার। (মার্জিয়া)
~ যতটুকু জিগ্যেস করেছি শুধু ততটুকু বলবা, বারতি কথা বলা আমি পছন্দ করি না বসো তুমি। আর তুমি ওঠো পরিচয় দাও। ( হাসান আফসিয়াকে বললো,)

বেচারি মার্জিয়া স্যারের ধমক খেয়ে চুপসে গেলো আর মন খারাপ করে বসে রইলো।
তারপর আফসিয়া দারিয়ে বললো,
~ স্যার আমি আফসিয়া সুলতানা। সবাই আমায় আফসিয়া বলেই ডাকে। ( আফসিয়া)
তারপর হাসান সোনালীকে বললো,

~ এই মেয়ে এবার তুমি দারিয়ে নিজের পরিচয় দাও।
কিন্তু সোনালীর সেদিকে কোনো খেয়ালই নাই। সোনালী খাতায় আকিবুকি করতে ব্যাস্ত।
হাসান আবারও বললো, পরিচয় দিতে কিন্তু সোনালীর কোনো খেয়ালই নেই সেদিকে।

এবার হাসান কিছুটা রেগে গিয়ে লাঠি হাতে সোনালীর সামনে গিয়ে ব্রেন্চে একটা বারি মেরে বললো,
~ এই মেয়ে তোমার কানে কি কথা যায় না? কখন থেকে থাকছি তোমায়। আর ক্লাসের মধ্যে বসে এসব কি করছো হুমম। এখানে কি কাগজ কলম নিয়ে খেলতে এসেছো নাকি। ওঠো দারাও আর নিজের পরিচয় দাও। (হাসান)

সোনালী ভয় পেয়ে দারিয়ে গেলো। তারপর মনে মনে হাসানের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে নিজের পরিচয় দিতে লাগলো
~ আমি সোনালী আক্তার চাঁদনী। সবাই আমায় সোনালী বলে ডাকে। বলেই ধপাং করে বসে পরলো। 😏😏😠
সোনালীকে বসতে দেখে হাসান বললো,

~ এই যে সোনালী নাকি নোয়াখালী তুমি বসলে কেনো আমি কি তোমায় বসতে বলেছি? দারাও আর কান ধরে দারিয়ে থাকো এটাই তোমার শাস্তি। যতক্ষণ আমার ক্লাস চলবে ততক্ষণ তুমি কান ধরে দারিয়ে থাকবে মিস নোয়াখালী। (হাসান)

~ আমার নাম সোনালী, নাথিং নোয়াখালী।
~ ওই হলো সোনালী আর নোয়াখালী একি শোনা যায়। এখন কান ধরে চুপচাপ দারিয়ে থাকো নইলে কলেজের মাঠের মাঝখানে দার করিয়ে রাখবো।

সোনালী আর কি করবে ও খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে হাসান ইচ্ছা করে ওর সাথে এমন করছে। আর এখানে ও কিছু করতেও পারবে না। তাই মনে মনে হাসানকে গালাগালি দিতে থাকলো আর কান ধরে দারালো।
হাসান এদিকে মনে মনে খুব মজা পাচ্ছে সোনালীকে এই অবস্থায় ফেলে। ওকে ছেরে অন্য কোনো রাজকুমারকে বিয়ে করতে চাওয়ার শাস্তি।

পুরোটা ক্লাস এভাবেই কান ধরে দারিয়ে থাকলো সোনালী। আর মনে মনে বলতে লাগলো
~ বজ্জাত বন কচু,হনুমান, জলহস্তী, কুমড়োপটাশ শালা লেজ কাটা টিকটিকি, ভূত, প্রেত কানা বাদুর, আফ্রিকান হাতি আমাকে কান ধরে দার করিয়ে রাখা। শালা তোর কখনোই বিয়া হইবো না আমি তোরে বদ দুয়া দিলাম। জীবনে বউ পাবিনা খাটাস।

ওমাগো আমার পা টা কি ব্যাথা করছে গো। আমি যদি আর হাটতে না পারি তাহলে আমার ভবিষ্যত জামাই এর কি হবে গো। ওগো তুমি কোথায় গো আমার ভবিষ্যত জামাই। দেখে যাও গো তোমার নাদান বৌটাকে ঐ গন্ডারটা কি কষ্ট দিচ্ছে গো।

হাসান ক্লাস শেষ করে সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সোনালীকে বসতে বললো,। তারপর চলে গেলো। মনে মনে হাসান তো সেই খুশি সোনালীকে জব্দ করতে পেরে।
হাসান চলে যেতেই সোনালী ধপাত করে বসে পরলো। তারপর হাসানকে জোরে জোরে গালাগাল দিতে লাগলো। সোনালীর গালাগাল শুনে আফরোজা বললো,

~ ঐ সোনালী তুই একদম আমার হাসানকে গালাগাল দিবি না বলে দিলাম। তুই দোষ করেছিলি বলে তোকে শাস্তি দিছে তাই বলে আমার হাসানকে গালাগাল দিবি। আমি কিন্তু সইবো না হুমম(আফরোজা)

সোনালী আফরোজার কথা শুনে আরো রেগে মেগে শেষ মনে মনে। কিন্তু মুখে কিছু বললো, না আজ প্রথম দিন বলে কারো সাথে ঝগড়া করতে চায়না ও। তাই আফরোজার কথার উত্তরে বললো,
~ আচ্ছা আমার ভুল হয়েছে তোর হাসানের সম্পর্কে আমি আর কিছুই কমু না। তুই তারাতারি ঐ বজ্জাত থুরি ঐ স্যারের গলায় ঝুলে পর তাহলে অন্তত আমি বাচি।

~ এই তুই কি বলছিস এসব? আমি হাসানের গলায় ঝুললে তুই বাচবি মানে? এমন করে বলছিস যেনো তুই হাসানের প্রেমিকা বা বৌ?
~ এএএএ আমার বয়েই গেছে ঐ বজ্জাত রাক্ষস খোক্কসের প্রেমিকা হতে। আমি তো আমার সপ্নে দেখা রাজকুমারের প্রেমিকা হবো

~ এখানে কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? জানতে পারি? (হাসান)
~ তু তু তুই থুক্কু আ আপনি স্যার কখন এলেন আমাদের পি পিছনে? (সোনালী)
~ যখন আপনি আমায় সুন্দর সুন্দর নামে গালাগালি দিচ্ছিলেন তখন এসেছি। মিস সোনালী ৫ মিনিটের মধ্যে আমার অফিস রুমে আসুন জলদি(হাসান)

কথা গুলো বলেই হাসান চলে গেলো। আর এদিকে সোনালীর গলা শুকিয়ে শেষ ভয়ে।
~ ওরে সোনালী আজ তো তুই গেলিরে বইন। প্রথম দিনেই যদি তোর এই অবস্থা হয় তাহলে আগামিতে কি হবে তোর। (মার্জিয়া আর আফসিয়া এক সাথে বললো,)
সোনালী আর কিছু না বলে হাসানের অফিস রুমের দিকে হাটা দিলো………


পর্ব ৯

সোনালী আর কোনো কথা না বলে হাসানের অফিস রুমের দিকে হাটা দিলো।
এদিকে হাসান সোনালীর কথাগুলো শুনে অফিস রুমে গিয়ে রাগে আগুন হয়ে আছে আর মনে মনে বলছে
~ কত্ত বড় সাহস ঐ পেত্নীটার ও আফরোজাকে বলে কিনা আমার গলায় ঝুলে পরতে আর ও কোনো রাজকুমার কে বিয়ে করবে। আসুক একবার ওর রাজকুমার এর সাধ আমি মেটাচ্ছি।

সোনালী সোজা এসে হাসানের সামনে গিয়ে চেয়ার টেনে বসে পরলো। তারপর বললো,
~ ঐ আমায় এখানে ডাকলি কেনো রে হুলো বিড়াল?
হাসান লাফ দিয়ে উঠে সোনালীর কাছে এসে বললো,

~ এই মেয়ে এই তোমার সাহস তো কম না। বেয়াদব মেয়ে একটা স্যারের সাথে এটা কোন ধরনের কথা বলার স্টাইল। আর তুমি অনুমতি না নিয়ে অফিস রুমে ঢুকে চেয়ারে বসার সাহস পেলে কি করে হুমম? যাও বাইরে যাও আর অনুমতি নিয়ে আবার আসো। জলদি

রাগে হাসানের গাল মুখ চোখ সব লাল হয়ে গেছে। সোনালী হাসানের এমন আচরণে অনেক ভয় পেয়ে গেলো। তাই হাসান বাইরে যাওয়ার কথা বলার সাথে সাথে দৌড়ে বাইরে চলে গেলো। কিন্তু ভেতরে আসার আর খবর নেই। বাদ্ধ হয়ে হাসান আবার খুজতে বেরোলো সোনালীকে কিন্তু কোথাও নেই। শেষে গিয়ে দেখা মিললো ওয়াশরুমের কাছে তখন হাসান সোনালীকে জিগ্যেস করলো

~ কোথায় ছিলে এতক্ষণ?
~ ওয়াশরুমে গেছিলাম। ভয় পেলে আমি ওয়াশরুমে গিয়ে বসে থাকি এটা আমার ছোট বেলার অভ্যাস।
হাসান সোনালীর কথা শুনে আর রাগ করে থাকতে পারলো না বড্ড হাসি পাচ্ছিল হাসানের এটা ভেবে যে এত্ত বড় একটা মেয়ে নাকি ভয় পেয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে বসে থাকে।

হাসান হাসি লুকিয়ে রাগের অভিনয় করে সোনালীকে বললো,
ঠিক আছে এখন জলদি আমার অফিস রুমে আসো হারিয়াপ। হাসানের কথায় সোনালী হাসানের পেছন পেছন অফিস রুমে আসলো কিন্তু ভিতরে না ঢুকে বাইরে দারিয়ে রইলো কাচুমাচু হয়ে। হাসান ওকে বাইরে দারিয়ে থাকতে দেখে বললো,

~ কি হলো ভিতরে আসছো না কেনো ভিতরে আসো।
~ ভিতরে আসতে পারি স্যার?

হাসান সোনালীর অবস্থা দেখে অন্য দিকে ঘুরে একটু হাসলো তারপর আবার সাভাবিক হয়ে ভিতরে আসতে বললো,। সোনালী ভিতরে এসে হাসানকে জিগ্যেস করলো
~ আ আমায় ডেকেছেন কেনো স্যার?

~ তুমি তোমার বান্ধবীদের কাছে আমার নামে কি বলছিলে তখন? আমি বজ্জাত রাক্ষস খোক্কস গন্ডার আরো কতোকি তাই না? এর শাস্তি তো তোমায় পেতেই হবে।
~ আমি sorry স্যার আর জীবনেও বলবো না এই কান ধরছি স্যার এবারের মত মাফ করে দিন।

~ হুমম মাফ করে দিবো এদিকে আসো আর আমার হাত ঘার সব ব্যাথা করছে টিপে দাও।
~ আআআআ আমি তোর হাত টিপে দিবো।
~ ঐ কি বললে তুমি স্যারের সাথে তুই তুকারি করো
~ সরি সরি সরি স্যার মিসটেক হয়ে গেছে আমি এখনি টিপে দিচ্ছি।

~ হুমম জলদি করো আমার অনেক কাজ আছে কাজ গুলো শেষ হওয়া না পর্যন্ত তুমি আমার হাত ঘার টিপবা।

সোনালীর আর কি উপায় বেচারি গিয়ে হাসানের ঘার হাত টিপতে শুরু করলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো
~ শালা জলহস্তী বান্দর কুমির কলকাতার হুলো বিড়াল ইন্ডিয়ার গেছো ইঁদুর আফ্রিকান হাতি আমাকে দিয়া হাত টিপাস তুই। ইচ্ছা তো করছে তোর গলা টিপে দেই বজ্জাত বেডা।

~ ঐ মনে মনে কি বলছো তুমি হুমম আমি কিন্তু সব শুনতে পাচ্ছি। আমার গলা টেপার খুব সখ তোমার তাইনা? শাস্তি কি আরো বারিয়ে দিমু?
~ ও আল্লাহ আমি সব মনে মনে কইলাম এই খাডাস বেডা শুনলো কি করে? (মনে মনে বললো,)

~ যে রকম জোরে জোরে চিৎকার করে বলছে তোমার মন আমি সবই শুনতে পাচ্ছি। এখন মন দিয়ে কাজ করো মনটাকে চুপ রেখে নইলে কিন্তু আরো বারিয়ে দিমু কাজ?

বেচারি সোনালী আর কিছু না বলে কাজে মন দিলো নিরুপায় হয়ে। অনেক্ষণ এভাবে দাড়িয়ে থেকে হাসানের হাত ও ঘার টিপলো সোনালী। বেচারির পা দাড়িয়ে থাকতে থাকতে প্রায় অবস হয়ে গেছে কিন্তু ভয়ে কিছু বলতেও পারছে না।
তারপর হাসানের কাজ শেষ হলে হাসান বললো,

~ হুমম হয়েছে হয়েছে অনেক সেবা করেছেন এবার চলুন বাসায় যাওয়া যাক।
~ ইয়ে মানে আমি বলছিলাম কি স্যার একটু পরে বাসায় গেলে হয়না?

~ কেনো, একটু পরে কোনো এখন কেনো বাসায় যাবে না। নাকি আমার হাত টিপতে তোর ভালো লাগছে হুমম
~ তোর গলা টিপলে আমার ভাল লাগতো রে রাক্ষস। দারিয়ে থাকতে থাকতে আমার পায়ের বারোটা বেজে গেছে। আমি পা নারাতেও পারছি না।

হাসান এবার আর সোনালীর কথা শুনে রাগ করলো না। বরং হাসানের কষ্ট হতে লাগলো সোনালীর জন্যে। সত্যিই খুব বারাবারি হয়ে গেছে। এতক্ষণ দার করিয়ে রাখা ঠিক হয়নি ওকে। ইসস কতইনা কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা।

~ ঠিকাছে তুমি এখানে একটু বসো আমি দেখছি কি হয়েছে। (হাসান)
~ না আমি ওখানে বোসবো না ওটা আপনার চেয়ার স্যার আপনিই বসেন আমি আর কোনো ব্যায়াদবি করতে চাই না।

হাসান বুঝতে পারলো সোনালীর অনেক অভিমান হয়েছে। তাই হাসান আর কথা না বারিয়ে সোনালীকে কোলে তুলে নিলো। তারপর গাড়িতে নিয়ে বসালো।
(কলেজ অনেক আগেই ছুটি হয়ে গেছে বলে কলেজে কেউ ছিলো না তাই কেউ দেখলোও না)

সোনালী হাসানের কোলে উঠে অনেক গুলো কিলঘুসি মারলো হাসানের বুকে কিন্তু হাসানের যেনো কিছুই হচ্ছে না।
তারপর হাসান গাড়ি চালিয়ে সোনালীকে নিয়ে বাসায় ফিরে এলো। রাস্তায় সোনালী কোনো কথা বলেনি হাসানের সাথে। সব সময় মুখ গোমরা করে বসে ছিলো। হাসানের কেনো জানি খুব কষ্ট হচ্ছে সোনালী ওকে বকা দিচ্ছে না ভেবে।

বাসার সামনে এসে গাড়ি থামতেই সোনালী গাড়ি থেকে নেমে নেংরিয়ে নেংরিয়ে বাসার মধ্যে ঢুকে গেলো। হাসান অনেক ডাকলো কিন্তু ও ফিরেও তাকালো না।

সোনালী বাসায় ঢুকে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো তারপর ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিলো। তারপর বিছানায় শুয়ে কান্না করতে শুরু করলো।
ব্যাপারটা সোনালীর শাশুড়ি মনিরা বেগম লক্ষ করলো। তাই হাসান বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই জিগ্যেস করলো

~ হাসান সোনালীর কি হয়েছে রে? সকালে মেয়েটা কতো আনন্দ করে তোর সাথে কলেজে গেলো কিন্তু এখন মন খারাপ করে ফিরে এলো কেনো? আর কলেজ তো ছুটি হয়েছে অনেক্ষণ হলো এতো দেরি হলো কেনো তোদের ফিরতে? (মনিরা বেগম)

হাসান ওর মা মনিরা বেগম কে সব কথা খুলে বললো,। মনিরা বেগম হাসানের মুখে সব শুনে প্রথম দিকে হাসলেও শেষ টা শুনে হাসানকে অনেক বকা দিলো। তারপর সোনালীর রুমের সামনে গিয়ে দেখে সোনালীর রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। তখন জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখে সোনালী কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে।

এটা দেখে হাসানের অনেক মায়া ও কষ্ট হয় সোনালীর জন্যে। তাই হাসান ওর মা মনিরা বেগম কে নিচে চলে যেতে বলে ও পিছনের দরজা দিয়ে রুমে ঢোকে। ঐ দরজার চাবি শুধু হাসানের কাছেই আছে আর কেউ খুলতে বা লাগাতে পারবে না।

হাসান রুমের ভিতর ঢুকে সোনালীকে কোলে তুলে ঠিক করে শুইয়ে দেয় তারপর নিজে ফ্রেস হয়ে নিচে চলে আসে। আর দরজা সেই আগের মতো করেই রেখে আসে যাতে সোনালী বুঝতে না পারে।

হাসান নিচে আসার কিছুক্ষণ পরেই সোনালীর ঘুম ভাঙে। সোনালী দেখে ও ঠিক ঠাক ভাবে বিছানায় শুয়ে আছে কিন্তু সোনালী তো উল্টো হয়ে শুয়ে ছিলো তাহলে ঠিক করে ওকে শুইয়ে দিলো কে? রুমের দরজাও তো আগের মতই লাগানো ভিতর থেকে তাহলে ওকে কে শুইয়ে দিলো?

সোনালী ভুত দেখে খুব ভয় পায় এমন কি ভুতের নাম শুনলেই ও ভয়ে শেষ। সোনালীর মনে হয় নিশ্চয়ই রুমে ভুত আছে আর সেই ওকে ঠিক করে শুইয়ে দিয়েছে। তাই সোনালী তারাতারি দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে আসে।
তারপর……


পর্ব ১০

সোনালী ভুত দেখে খুব ভয় পায় এমন কি ভুতের নাম শুনলেই ও ভয়ে শেষ। সোনালীর মনে হয় নিশ্চয়ই রুমে ভুত আছে আর সেই ওকে ঠিক করে শুইয়ে দিয়েছে। তাই সোনালী তারাতারি দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে আসে।

তারপর ভুত ভুত বলতে বলতে দৌড়ে গিয়ে ওর শাশুড়ি মনিরা বেগমকে জরিয়ে ধরে। তারপর চিৎকার করতে থাকে।
মনিরা বেগম সোনালীর কান্ড দেখে সোনালীকে জিগ্যেস করে

~ এই সোনালী কি হয়েছে মা তোর এভাবে আমায় জরিয়ে ধরে চিৎকার করছিস কেনো?
~ আম্মু আ আম্মু আমার রুমে ভুত আছে। ওরে বাবা গো আমি এখন কই যাই।

~ ঐ কি আবল তাবল বলছিস এসব তোর রুমে কিসের ভুত আছে হুমম? কি হয়েছে আগে সেটা বল আমায়। তোর কেনো মনে হচ্ছে তোর রুমে ভুত আছে?

~ ও আম্মু গো আমি যখন ঘুমিয়ে পরছিলাম তখন আমি এলোমেলো হয়ে উল্টো দিকে শুয়ে ছিলাম। কিন্তু যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন দেখি আমি একদম পছন্দ করে শুয়ে আছি। আর দরজাটাও আগের মতো ভেতর থেকে লাগানো ছিলো। আমায় নিশ্চয়ই কোনো ভুত ঠিক করে শুইয়ে দিয়েছে। ওরে বাবারে।

~ হাহাহাহা আরে পাগলি ওটা তো তখন হাসা…..( আর কিছু বলতে পারলো না মনিরা বেগম হাসান তার আগেই ইশারা করে বলতে নিষেধ করলো তাই)
~ ও আম্মু আমি আর ঐ রুমে থাকবো না গো আমি তোমার সাথে ঘুমাবো আজ থেকে। নইলে ঐ ভুত আমায় খেয়ে ফেলবে। এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা এ্যা আমি তোমার কাছেই থাকবো যাবো না আর ঐ রুমে

সোনালীর কথা এতক্ষণ শুনছিলো আর মনে মনে হাসছিলো হাসান। তারপর হাসান বললো,
~ তুই আম্মু রুমে শুবি মানে। তুই কি জানিস ঐ ভুতটা আসলে আমার রুম ছারা এই বাসার সব রুমেই আছে বিশেষ করে আম্মুর রুমে।

~ এএএ আম্মুর রুমে থাকলে তাহলে ও তোর মানে আমারও রুমে আসলো কি করে?

~ আরে পেত্নী আমি রুমে ছিলাম না আর তুই দরজা লাগিয়ে শুয়ে ছিলি তাই আমাদের রুমে ঐ ভুতটা আসার সাহস পেয়েছে। আমি থাকলে ও কখনোই আসতো না।

মনিরা বেগম ওদের কথা শুনে বুঝতে পারলো হাসান কেনো এমন ভয় দেখাচ্ছে সোনালীকে। তাই সে বললো,
~ আচ্ছা তোরা কথা বল আমি তোদের জন্যে খাবার রেডি করি অনেক বেলা হলো খাবি আয়। ( এগুলো বলেই চলে গেলেন মনিরা বেগম)

তারপর সোনালী হাসানের একদম কাছে গিয়ে সোফায় বসলো তারপর হাসানকে জিগ্যেস করলো
~ হাসান ভাইয়া তুই কি ঐ ভুতটাকে দেখেছিস? আর ও তুই থাকলে তোর রুমে যায় না কেনো?

~ আরে গাধী একবার ঐ ভুতটা আমার রুমে এসে আমায় ভয় দেখাতে চেয়েছিল। তখন আমিই ওকে উল্টাপাল্টা মেরে তারপর জামালগোটা খাইয়ে দিয়েছিলাম। তখন বেচারা ভুতের তো ওয়াশরুমে যেতে যেতে অবস্থা খারাপ। সেই থেকে ও আমায় ভয় পায়।

~ ও বাবা তুই তো অনেক সাহসী হাসান ভাইয়া। কিন্তু একটা কথা বুঝলাম না ভুতদেরও আবার ওয়াশরুমে যেতে হয়

সোনালীর এই প্রশ্ন টা শুনে হাসান আর হাসি ধরে রাখতে পারলো না হাহাহা করে হেসে দিলো। আর মনে মনে বললো,
~ হায়রে আমার পাগলী বৌ রে তুই বড্ড সরল আর ভিতু। আগে জানলে কবেই তোকে ভয় দেখিয়ে কাছে আনতাম। যাই হোক এখন থেকে এটাই তোকে আমায় ভালবাসতে বাদ্ধ করবে।
তারপর হাসি থামিয়ে হাসান বললো,

~ আরে ওদের ওয়াশরুমে যেতে হয় মানে ওরা কি খায় না নাকি। ভুতেরা যেমন খায় তেমন ওয়াশরুমেও যায় বুঝলি শাকচুন্নি। এখন আর প্রশ্ন করে আমার মাথা না খেয়ে চল ভাত খেয়ে আসি খুধা লাগছে।

সোনালী আর কি বলবে হাসানের সাথে সাথে ভাত খেতে গেলো। তারপর একদম হাসানের সাথে ঘেসে বসে খেতে লাগলো। এদিকে হাসান তো মনে মনে যেমন খুশি তেমন হাসছে এটা দেখে। আর মনিরা বেগমও সব বুঝতে পেরে মুখ চেপে হাসছে।

তারপর এভাবেই কেটে গেলো সারাদিন হাসি মজা আর দুষ্টুমিতে। রাতে সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমুতে চলে গেলো যার যার রুমে। আর সোনালীতো তখন থেকে হাসানের থেকে দুরেও যাচ্ছে না ভয়ে।

হাসান আর সোনালীও ঘুমোতে আসলো। এদিকে সোনালীর ওয়াশরুমে যেতে হবে। কিন্তু সোনালী একটুও সাহস পাচ্ছে না ওয়াশরুমে যেতে। তাই হাসানকে বললো,
~ এই হাসান ভাইয়া একটা কথা ছিলো।

~ হুমম কি কথা বল?
~ না মানে ইয়ে মানে আমি না একটু ওয়াশরুমে যেতে চাই।
~ তো যা ওয়াশরুমে যাবি এটা আবার আমায় বলতে হবে নাকি।

~ না মানে আসলে তুই একটু চলনা আমার সাথে। আমার খুব ভয় করছে ঐ ভুতটা যদি ওখানে আসে।
~ ঐ পাগলি তোর মাথাটাকি একে বারেই গেছে? আমি আর তুই এক সাথে ওয়াশরুমে যাবো? আচ্ছা দারা তোর ভয় আমি ঠিক করে দিচ্ছি।

এই বলে এমনি এমনি মুখ নারিয়ে হাসান সোনালীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ফু দিলো। তারপর বললো,
~ যা এখন আর কোনো ভয় নেই আমি তোকে দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিয়েছি। এখন আর ভুত যাবে না ওখানে।

~ সত্যিই আসবে না তো ভুত?
হ্যারে বাবা হ্যা আর আসবে না এখন যা তো।
তারপর সোনালী ওয়াশরুমে গেলো তবুও ভয়ে ভয়ে। সোনালী ওয়াশরুমে যেতেই হাসান খুশিতে নাচতে শুরু করলো।

তারপর সোনালী ওয়াশরুম থেকে এসে দেখে হাসান সোফায় শুয়ে আছে। তখন সোনালী হাসানকে বলে
~ হাসান ভাইয়া তুমি বিছানায় শোবে আজ থেকে কেমন!

~ কেনো আমি তো প্রতিদিন এখানেই ঘুমাই তুই তোর টেডি বিয়ার নিয়ে বিছানায় ঘুমোস। আমি বিছানায় ঘুমোলে তুই আর তোর টেডি বিয়ার ঘুমোবি কোথায়?

~ আমিও তোমার সাথে বিছানাতেই ঘুমোবো। আর টেডি বিয়ার আজ থেকে সোফায় ঘুমোবে। আসলে অনেক গরম পরেছেতো তোমার সোফায় ঘুমোতে অনেক কষ্ট হবে তাই বিছানায় ঘুমোতে বললাম।

~ আহারে আমার বউটার আমার জন্যে কত মায়া গো আমার গরম লাগবে তাই বিছানায় শুতে বলছে। আরে তোর মায়া না ছাই। আমি জানি তুই এখন ভুতের ভয়ে আমায় তোর কাছে শুতে বলছিস ভিতু একটা।
~ তো জানিসি যখন তখন এতো নাটক করছিস কেনো রে হুলো বিড়াল।

~ ঐ তোর সাহসতো কম না তুই আমায় রাগ দেখাচ্ছিস। থাক তুই একা আমি নিচে গিয়ে ঘুমাবো।
~ এই না না না এই কান ধরছি মাফ করে দে আর কখনো রাগ করবো না। সোনা ভাইয়া আমার প্লিজ আমার সাথে বিছানায় শো না আমার খুব ভয় করছে।

~ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে চল অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবো।
~ হুমম চল।
তারপর হাসান একপাশে আর সোনালী আরেক পাশে শুয়ে পরলো। সোনালী হাসানের একটি হাত শক্ত করে ধরে শুলো। তারপর কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পরলো।

সোনালী ঘুমোলে হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে রইলো কতক্ষণ তা ও নিজেই জানে না। এই প্রথম এতটা কাছ থেকে দেখছে ও সোনালীকে। বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছে ও সোনালীকে। সব সমশ যেনো চোখে হাসায় ওকে।
অনেকক্ষণ সোবালীকে দেখারপর হাসান উঠে সোনালীর গায়ে চাদর টেনে দেয়। আর কপালে একটা ভালবাসার পরস দিয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পরে।

সকালে প্রথমে ঘুম ভাঙে সোনালীর। ঘুম ভেঙে তাকিয়ে দেখে হাসান ওর হাত নিজের দুহাত দিয়ে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। অনেক মায়াবি লাগছে দেখতে ওকে। এই প্রথম সোনালীর মনে হাসানের জন্যে একটা অন্য রকম ভাললাগা কাজ করছে। সোনালী কিছুক্ষণ হাসানকে দেখলো। তারপর হাসানকে ডাকতে লাগলো

~ এই হাসান ভাইয়া হাসান ভাইয়া আরে ওঠ না নামাজের সময় হয়েছে তো। আমার একা একা উঠতে ভয় করছে। ওঠনা প্লিজ।
হাসান সোনালীর ডাকে তাকিয়ে দেখে ও সোনালীর হাত জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে আর সোনালী ওর অনেক কাছে। হাসান সোনালীর হাস ছেরে দিয়ে তারাতারি উঠে পরে। তারপর দুজনে ওজু করে নামাজ পড়ে নেয়।

সকালে দুজনে একসাথে খেয়ে দেয়ে রেডি হয়ে কলেজের জন্যে বেরিয়ে পরে। কলেজে পৌঁছেই হাসান অফিস রুমে চলে যায় আর সোনালী ক্লাসে। ক্লাসে যাওয়ার পর সোনালী দেখে সবাই যেনো কার কথা আলোচনা করছে। তাই সোনালী মার্জিয়া আফসিয়া আর আফরোজ কে জিগ্যেস করে
~ এই কি হয়েছে রে সবাই কি আলোচনা করছে এতো?

সোনালীর কথার উত্তরে আফসিয়া বলে
~ আরে আমাদের কলেজে নাকি হাসান স্যারের মতো সুন্দর দেখতে একটি ছেলে এডমিশন নিয়েছে। আমরা দেখিনি এখনো। শুনেছি ছেলেটার নাম নাকি শ্রাবন। দেখতে নাকি অনেক সুন্দর আর গালে ও থুতনিতে টোল পরে।

আফসিয়ার মুখে শ্রাবন নামটা শুনে সোনালীর বুকের মাঝে কেপে উঠলো। তবে কি এ সেই শ্রাবন? ওর ও তো গালে ও থুতনিতে টোল পরতো সোনালী মতই।


পর্ব ১১

আফসিয়ার মুখে শ্রাবন নামটা শুনে সোনালীর বুকের মাঝে কেপে উঠলো। তবে কি এ সেই শ্রাবন? ওর ও তো গালে ও থুতনিতে টোল পরতো সোনালী মতই।

সোনালীর মনটা পাগলের মতো হয়ে গেলো এটা জানতে যে ওটা সেই শ্রাবন কি না। সোনালীর মনটা যেনো কিছুতেই মন বসছে না। তাই সোনালী কাউকে কিছু না বলে বাসায় চলে এলো তারপর ওর শাশুড়ি মনিরা বেগমকে বলে নিজের বাবার বাড়ি চলে গেলো।

এদিকে হাসান কলেজে কোথাও সোনালীকে খুজে না পেয়ে পাগলের মতো হয়ে গেলো। হাসান সবাইকে সোনালীর ব্যাপারে জিগ্যেস করলো। তখন আফসিয়া বললো,

~ স্যার সোনালীকে আমি একটি ছেলের কথা বলি। ওই যে আমাদের কলেজে নতুন এডমিশন নিয়েছে না শ্রাবন নামের ছেলেটা ওর কথা বলে ছিলাম। আর সোনালী ওর কথা শুনে কেমন পাগলের মতো করে কলেজ থেকে চলে গেলো।

হাসান আফসিয়ার কাছে কথা গুলো শুনে তারাতারি বাসায় ওর আম্মুর কাছে ফোন দিলো
~ আসসালামু আলাইকুম।
~ ওয়ালাইকুমুসসালাম।

~ আম্মু সোনালী কি বাসায় গেছে?
~ হ্যা এসেছিলো তো কেনো তোকে বলে আসেনি?
~ এসেছিল মানে এখন ও কোথায়?আমায় কিছু বলেনি। ও কোথায় এখন?

~ সোনালী কলেজ থেকে কেমন পাগলের মতো এলো তারপর আমায় বললো, বাবার বাসায় যাবে। আমি জিগ্যেস করলাম কেনো যাবে কিন্তু ও কিছু বললো, না শুধু বললো, খুব দরকার। তারপর আমার থেকে অনুমতি নিয়ে গাড়ি করে চলে গেলো।

~ আচ্ছা ঠিক আছে রাখি আম্মু আমি একটু পরেই বাসায় আসছি।

তারপর ফোন কেটে দিলো হাসান। আর নানা রকমের চিন্তা এসে ঘিরে ধরলো ওর মাথায়। সোনালী কেনো এভাবে চলে গেলো আবার ওর বাবার বাড়ি কেনো গেলো সব চিন্তায় প্রায় পাগলের মতো অবস্থা ওর। কোনো মতে ক্লাস শেষ করে বেরিয়ে পরলো হাসান বাসার উদ্যেশে।

বাসায় এসে দেখে এখনো সোনালী বাসায় ফেরেনি। তাই হাসানও আর দেরি না করে বেরিয়ে পরে শশুড়বাড়ির উদ্যেশে। হাসান গেটের কাছে আসতেই দেখে সোনালী চলে আসছে গাড়ি নিয়ে।

সোনালীকে দেখে যেনো প্রান ফিরে পায় হাসান। হাসান লক্ষ করে দেখে সোনালীকে অনেক খুশি খুশি লাগছে আর সোনালীর হাতে অনেক গুলো আইস্ক্রিম আর একটা ফুলেরতোড়া আর তিনটা টেডি বিয়ার।

হাসান এগুলো দেখে একটু অবাক হয়। সোনালীকে ওগুলোর ব্যাপারে কিছু জিগ্যেস করতে যাবে তার আগেই সোনালী ওকে পাশ কাটিয়ে বাসার মধ্যে চলে যায়।

সোনালী চলে গেলে হাসান ড্রাইভার কে বলে
~ ড্রাইভার সোনালী কোথায় গিয়েছিলো তোমায় নিয়ে?
~ স্যার ম্যাডাম তো ওনার বাবার বাসায় গেছিলেন কিন্তু,,,,,,

~ কিন্তু কি বলো আমায় কিছু লুকাবে না আমার থেকে। বলো কিন্তু কি?

~ আসলে স্যার ম্যাডাম কলেজ থেকে এসেই একটু পর আমায় বললো, ওনার বাবার বাসায় নিয়ে যেতে। আমি সেখানে নিয়ে যাই। একটু পর ম্যাডাম আমায় রেখে কোথায় যেনো যায়। কিন্তু যখন ফিরে আসে তখন একটা সুন্দর দেখতে ছেলেও ম্যাডামের সাথে ছিলো। আর ঐ ফুল আইস্ক্রিম টেডি বিয়ার গুলোও ঐ ছেলেটাই দিয়েছে ম্যাডামকে।

হাসান ড্রাইভারের কথা শুনে রাগে হাতের মুঠো শক্ত করলো তারপর ড্রাইভার কে চলে যেতে বলে নিজেও বাসায় ঢুকলো।

হাসানের মাথায় নানা রকমের প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে কে ঐ ছেলেটা যার সাথে সোনালী কোথাও গিয়েছিল?
হাসান বাসায় ঢুকে দেখে সোনালী নিচে কোথাও নেই। তাই হাসান তারাতারি নিজের রুমে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে সোনালী বোরখা খুলেছে। সোনালীর গলায় অনেক দামি ও সুন্দর একটা গোল্ডের নেকলেস।

হাসানকে দেখেই সোনালী তারাতারি নেকলেসটা খুলে আলমারিতে লুকিয়ে রাখে। হাসান সোনালীকে কিছু জিগ্যেস করতে চেয়েও কিছু বলে না।

হাসান ওদের রুমের বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে বিছানায় সেই টেডি বিয়ার তিনটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আর বিছানার পাসেই টেবিলে সেই ফুলের তোড়া টা সাজানো। হাসানের খুব রাগ হতে থাকে। হাসান কেনো জানি সোনালীকে কিছু বলতে চেয়েও না বলে নিচে চলে আসে।

সারাদিন কোনো ভাবে পার হয়ে যায়। রাতে হাসানের আগেই সোনালী খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে চলে যায়। তারপর হাসান খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে দেখে সোনালী ঐ টেডি বিয়ার গুলো নিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। বিছানায় শোয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই। হাসান অবাক হয় এটা ভেবে যে কালকে সোনালী ভুতের ভয়ে হাসানের হাত জরিয়ে ঘুমিয়েছিল। আজ এমন কি হলো যে সব ভয় চলে গেলো ওর?

হাসান সোফায় গিয়ে শুয়ে পরলো কিন্তু কিছুতেই হাসানের ঘুম আসছে না। নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়।

হাসান কি মনে করে উঠে গিয়ে যেনো ফ্রিজ খুললো। সেখানে অনেক গুলো দামি দামি আইস্ক্রিম রাখা যত্ন করে। একটা আইস্ক্রিম এর বক্সে চোখ আটকে গেলো হাসানের। আইস্ক্রিম এর বক্সের গায়ে লেখা (লাভ উইথ সোনালী)

এটা দেখে হাসানের চোখের ঘুম যেনো আরো উরে গেলো। হাসান সব গুলো আইস্ক্রিম এর বক্স ভালো করে দেখতে লাগলো। তারপর আরেকটা বক্সে লেখা দেখলো ( S💖S)।

তারপর হাসান আইস্ক্রিম গুলো আগের মতো গুছিয়ে রেখে সোফায় এসে শুয়ে পরলো। হাসানের যেমন করেই হোক জানতেই হবে ঐ ছেলেটা কে ছিলো। আর আইস্ক্রিমের বক্সে ঐ লেখা গুলোর মানে কি? সারারাত আর হাসানের একটুও ঘুম হলো না। কিছু সন্দেহ বাসা বাধলো হাসানের মনে।

সকালে সোনালী ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নিলো তারপর হাসানকে ডেকে উঠতে বললো, আর তারাতারি কলেজে যাওয়ার তারা দিলো।

হাসান কিছু বলছে না ঠিকই কিন্তু সোনালীর এই আচরনে যেমন অবাক তেমনই সন্দেহ ও রাগ হচ্ছে সোনালীর ওপর।

সকালে খাওয়া দাওয়া করে খুব তারা হুরো করে রেডি হলো সোনালী কলেজের জন্য। আর হাসানকেও বার বার তারা দিতে লাগলো। সোনালীর এই পরিবর্তনে হাসান চুপচাপ হয়ে আছে খুবই কম কথা বলছে কিন্তু সেদিকে সোনালীর কোনো খেয়ালী নেই।

  • সোনালীকে নিয়ে কলেজের গেটে গাড়ি থামাতেই সোনালী গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে চলে গেলো ক্লাসে।

পর্ব ১২

সোনালীকে নিয়ে কলেজের গেটে গাড়ি থামাতেই সোনালী গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে ক্লাসে চলে গেলো। এদিকে সোনালীর এভাবে চলে যাওয়া দেখে হাসানের মনে কেমন যেনো কু ডাকা শুরু করলো। তারপর হাসানও আর দেরি না করে তারাতারি গাড়ি থেকে নেমে কলেজে ঢুকলো।

আজকে আর হাসান ক্লাসে যেতে দেরি করলো না বরং সময়ের আগেই ক্লাসে ঢুকে পরলো। হাসান ক্লাসে ঢুকেই একটা বড়সড় ধাক্কা খেলো এটা দেখে যে। সোনালী একটা ছেলের পাশে বসে হেসে হেসে কথা বলছে। আর ছেলেটার একটা কথা হাসানের বুকে গিয়ে বিধলো। ছেলেটা সোনালীকে বলছে

~ আমি তো শুধু তোমার জন্যেই এই কলেজে এডমিশন নিয়েছি তাছারা আমার কলেজে পড়ার কোনো দরকার ছিলো না। (ছেলেটা)
~ হুমম জানিতো সেটা আমার চেয়ে ভালো আর কে জানবে বলো। (সোনালী)

এই কথাগুলো যখন বলছিলো তখন হাসান যে ক্লাসে ঢুকেছে সেটা কেউ খেয়ালই করেনি। যখন দেখলো হাসান ক্লাসে এসেছে তখন সোনালীর পাশে থেকে উঠে ছেলেটা তারাতারি অন্য সিটে গিয়ে বসলো। কিন্তু হাসান তার আগেই ওদের দেখে ফেলেছে আর কথা গুলোও শুনেছে।

হাসানের মনে মনে বড্ড রাগ হতে লাগলো। কিন্তু সেটা প্রকাস করলো না। তবে ঐ ছেলেটিকে বললো,
~ এই ছেলে নাম কি তোমার?
~ স্যার আমার নাম শ্রাবন। আমি এই কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছি।

~ ওহ আচ্ছা। তোমার বাসা কোথায়?
ছেলেটা হাসানের কথার উত্তরে সোনালীর বাবার বাসার ওখানের ঠিকানা বললো,। হাসান একটু অবাক হলো আর সন্দেহ টা আরো বেরে গেলো। কালকের ঐ ছেলেটা কি তবে এই ছেলেটা নাকি? আইস্ক্রিমের সাথেও তো লেখা ছিলো (S💖S) আর S তে সোনালী আর শ্রাবন দুটাই হয়।

হাসান ওসব চিন্তা দুরে রেখে সবাই কে পড়াতে শুরু করলো। এদিকে সোনালীর পাশে আফরোজা তো হাসানের জন্যে প্রায় পাগল পারা অবস্থা। আফরোজা হাসানকে ভালবেসে ফেলেছে। এটা ক্লাসের প্রায় সবাই জানে শুধু সোনালী ছারা। আফরোজা সোনালীকে বলে

~ এই সোনালী তুই আমার একটা কাজ করে দিতে পারবি প্লিজ?
~ হুমম বল কি কাজ চেষ্টা করবো করে দেওয়ার।
~ আমি না আমাদের হাসান স্যারের প্রেমে পরেছি। আমি ওনাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি। তুই কিছু একটা করে ওনাকে একটু বোঝানা প্লিজ।

আফরোজার কথা শুনে সোনালীর মনে মনে অসম্ভব রাগ হতে লাগলো সাথে হিংসাও। কিন্তু সোনালী তা আফরোজাকে বুঝতে দিলো না। আর সোনালীও কি যেনো ভেবে হাসলো তারপর আফরোজাকে বললো,
~ আচ্ছা ঠিক আছে আমি ট্রাই করবো স্যারকে বলার।

এভাবেই দিনের পর দিন যেতে থাকলো হাসান সোনালীকে সন্দেহ করে শ্রাবনকে নিয়ে কিন্তু কখনো কিছু বলে না। সব সময় নরমাল ভাবেই কথা বলে। আবার সোনালীও আফরোজা আর হাসানকে নিয়ে হিংসা করে কিন্তু তা কখনোই বুঝতে দেয় না।

এভাবেই কেটে গেলো ১টি মাস।
আজকে সকালে সোনালী খুব তারাহুরো করে ওর শাশুড়ি মাকে বলে হাসান ওঠার আগেই বাবার বাসায় চলে যায়। শাশুড়ি কে বলে

~ আম্মু আমি একটু বাবার বাসায় যাচ্ছি। আর তুমি হাসানকে বলে দিও আমি বাবার বাসা থেকেই কলেজে চলে যাবো চিন্তা না করতে।

~ আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যা। আর কলেজে সময় মতো পৌছে যাস কেমন। আর হ্যা আজকে তোর শশুড় আসবে। তাই তারাতারি বাসায় ফিরিস। সেইযে তোকে অসুস্থ দেখে গেছিলো কাজের জন্যে। আর তো আসেনি তাই তোর কথা বার বার বলছে আমায়।

~ ঠিক আছে আমার কিউটি শাশুমা এখন তাহলে আমি যাই। আর তারাতারি ফিরে আসবো। আল্লহ হাফেজ।
তারপর সোনালী হাসানকে কিছু না বলেই চলে যায় ওর বাবার বাসায়।
এদিকে হাসান সোনালীকে ওপরে না পেয়ে নিচে নেমে আসে। নিচেও কোথাও সোনালীকে না দেখে হাসান ওর আম্মু কে বলে

~ আম্মু সোনালী কোথায় ওকে দেখছিনা যে?
~ সোনালী তো ওর বাবার বাসায় গেছে। আমার অনুমতি নিয়েই গেছে। বললো, ওখান থেকেই কলেজে চলে যাবে। তুই চিন্তা করিস না।

হাসান ওর আম্মুর কথা শুনে কিছু বললো, না ঠিকি কিন্তু ওর মনের মাঝে একটা খটকা লাগলোই। তাই হাসান দেরি না করে সময় হওয়ার আগেই কলেজে পৌছে গেলো। তারপর অফিস রুমে বসে গেটের দিকে তাকিয়ে রইলো সোনালীর অপেক্ষায়। কোনো কাজে মন নাই হাসানের।

অনেক্ষন পর হাসান দেখলো সোনালী শ্রাবনের বাইকে করে এসে গেটের কাছে নামলো। তারপর শ্রাবনের হাত ধরে বাইক থেকে নেমে দুজন একসাথে ক্লাসে গেলো। হাসান নিজের চোখে এগুলো দেখে রাগে একদম গজগজ করতে লাগলো। সোনালী ওকে এভাবে ঠকালো? ওর বিয়ে করা বউ হয়ে অন্য একটা ছেলের সাথে এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছিঃ ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে হাসানের।

হাসান রাগে চোখ মুখ লাল করে নিয়ে ক্লাসে গেলো। তারপর এমন ভাব করলো যেনো ও কিছুই দেখেনি। হাসান আফরোজার সাথেও অনেক হাসি মজা করতে শুরু করলো সোনালীকে দেখিয়ে। কিন্তু সোনালীর তাতে কিছু যায় আসে না। ও নরমালি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কলেজ শেষে সোনালী হাসানের সাথে বাসায় ফিরে এলো। আসার পথে সোনালী হাসানকে বললো,
~ ঐ হাসান ভাইয়া তোর কাছে একটা আবদার আছে রাখবি আমার আবদারটা?
~ কি আবদার রে শাঁকচুন্নি?

~ আমার না একটু দুরে কোথাও নদীর কুলে ঘুরতে যেতে মন চাইছে নিয়ে যাবি আমায় প্লিজ।

সোনালীর আবদার শুনে হাসানের মনটা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। আর হাসান বললো,
~ ঠিক আছে কাল তো শুক্রবার আমি তোকে কালকেই ঘুরতে নিয়ে যাবো কেমন?

~ সত্যি ওহ হাসান হুলো বিড়াল রে তোরে একটা চুমো দিতে মন চাইতাছে। কথাটা বলেই সোনালী হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলো। আর অনেক লজ্জাও পেলো।
হাসান সোনালীর এই কথাটা শুনে সব রাগ অভিমান ভুলে গেলো আর সোনালীর লজ্জা পাওয়া দেখে হা হা করে হাসতে লাগলো।

সেদিন সারাটা দিন আনন্দে আর মজায় কাটলো ওদের সব কিছু ভুলে। রাতে হাসানের আব্বু বাসায় ফিরলেন।
হাসানের আব্বু কাসেম চৌধুরী আসার সময় সোনালীর জন্যে অনেক কিছু নিয়ে এলেন। সাথে অনেক আইস্ক্রিমও। সোনালীতো অনেক খুশি সেগুলো পেয়ে। রাতে সবাই অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে ঘুমোতে গেলেন।

সোনালী রুমে এসে হাসানকে বললো,
~ ঐ ইন্ডিয়ান হুলো বিড়াল আমায় একটা গল্প শোনা তো। খুব গল্প শুনতে ইচ্ছা করছে।
~ এএএ এত্ত বড় একটা ঢিংগি মেয়ে নাকি গল্প শুনবে যা ভাগ পারবো না গল্প বলতে।
~ সোনা শুয়ামি আমার একটা গল্প বলো না প্লিজ।

~ এই তুই কি বলে ডাকলি আমায়?বল বল আবার বল কি বলে ডাকলি আমায়?
~ ক কই কিছু না তো। তুই হয়তো ভুল শুনেছিস।
~ আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে গল্পও বলবো না এই আমি ঘুমোতে গেলাম।
~ এই না না সোনা শোয়ামি আমার একটা গল্প বলো না প্লিজ।

তারপর হাসান সোনালীকে গল্প শোনাতে থাকে আর সোনালী গল্প শুনতে শুনতে হাসানের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরে।

হাসান যখন দেখে সোনালী ঘুমিয়ে পরছে। তখন হাসান গল্প বলা বন্ধ করে সোনালীকে দুচোখ ভরে দেখে। আজ অনেক দিন পর হাসান সোনালীকে এতো কাছ থেকে দেখছে। হাসান এভাবে কতক্ষণ সোনালীর দিকে তাকিয়ে ছিলো ও নিজেই জানে না।

তারপর হাসান সোনালিকে পরম যত্নে পাশে শুইয়ে দিয়ে সোফায় ঘুমুতে যাওয়ার জন্যে যখনি পা বারায় তখন দেখে সোনালী ওর শার্ট ধরে ঘুমিয়ে আছে। তখন হাসান একটা মুচকি হেসে সোনালীকে বুকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরে। আজ প্রথম হাসান আর সোনালী এতটা কাছে।

সকালে সোনালীর আগে ঘুম ভেঙে যায়। সোনালী তাকিয়ে দেখে ও হাসানের বুকে শুয়ে আছে। হাসানকে দেখতে কতটা মায়াবি লাগছে। সোনালী অনেক্ষন হাসানের দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর কি যেনো ভেবে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে হাসানের বুকে খুব জোরে একটা চিমটি দেয়।

ঘুমের মাঝে চিমটি খেয়ে হাসান চিৎকার করে ওঠে আর ওমনি সোনালী হাসানের মুখ চেপে ধরে বলে
~ ঐ কুমড়োপটাশ খবরদার ষাড়ের মতো চেচাবি না। তুই আমারে জরাইয়া ধরে শুইছিস কেনো রে হুলো বিড়াল। আমার ভবিষ্যৎ জামাই জানলে আমারে আর বিয়া করবে। এ্যা এ্যা আমার ভবিষ্যৎ নাতি নাতনির কি হবে গো। ঐ ভেড়া তুই আমায় জরাই ধরে কেনো শুলি বল। কে হই আমি তোর হুমম।

~ ঐ পেত্নী শাঁকচুন্নি রাক্ষসী কোনো দিন কারো গোস্ত খাসনি। ওরে বাবারে আমার বুকে চিমটি দিয়ে গোস্ত খেয়ে ফেলছে এই ডাইনিটা। রাতে তুইই আমায় তোকে বুকে জরিয়ে ধরে ঘুমোতে বাদ্ধ করেছিস বুঝলি। আমি তো তোকে এখানে রেখে সোফায় ঘুমাতে যাচ্ছিলাম কিন্তু তুই তো আমার শার্ট ধরে ঘুমিয়ে ছিলি তাই বাদ্ধ হয়ে এভাবে ঘুমোতে হয়েছে আমার পেত্নী।

হাসানের কথা গুলো শুনে সোনালী আর কিছু বললো, না। শুধু বললো, নামাজ পড়তে। তারপর সোনালী উঠে গিয়ে ওয়াশরুমে ওজু করতে ঢুকলো।
এদিকে হাসান কিছু বুঝতে পারলো না যে সোনালী ওর কথাগুলো শুনে কোনো রিয়েক্ট না করে চলে গেলো কেনো?

কিছুক্ষণ পর সোনালী ওয়াশরুম থেকে বেরোলো হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে সোনালীকে যেনো কেমন দেখতে লাগছে। হাসান কিছু বলতে গিয়েও বলে না। ওয়াশরুমে চলে যায়।

হাসান ওয়াশরুমে গেলে সোনালী নামাজ পড়ে নিচে চলে যায়। তারপর হাসানও নামাজ পড়ে নিচে যায়। সবাই মিলে সকালের নাস্তা করে। সারাদিন বেস ভালো ভাবেই কাটে ওদের কিন্তু সোনালী হাসানের সাথে কোনো কথা বলে না চুপচাপ থাকে।

বিকেলে হাসান সোনালীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। ওরা খুব সুন্দর একটা পার্কে ঘুরতে যায়। চারি দিকে নানা রকম ফুল গাছ ফল গাছ। আর এক পাশে নদী।

ওরা নদীর ধারে একটা গাছের নিচে গিয়ে বসে। কিন্তু সোনালী কোনো কথা বলছে না হাসানের সাথে। হঠাৎ হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে দেখে সোনালী একদিকে তাকিয়ে কেমন হাসছে। মনে হচ্ছে যেনো চোখে চোখে কথা বলছে কারো সাথে। হাসান ঐ দিকে তাকিয়ে দেখে শ্রাবন দারিয়ে আছে আর সোনালীর সাথেই চোখে চোখে কথা বলছে…….


পর্ব ১৩

হাসান শ্রাবনকে দেখে যেমন রাগ হয় তেমনি হয় অবাক। শ্রাবন এখানে এলো কি ভাবে তবে কি সোনালী ওকে ডেকেছে? এমন হাজারটা প্রশ্নে হাসানের মাথা প্রায় পাগল করে দেয়।
তারপর হাসান কি যেনো একটা ভাবে। তারপর সোনালীকে বলে
~ সোনালী এই সোনালী!

~ হুমম বল হাসান ভাইয়া।
~ তুই এখানে একটু থাক আমি তোর আর আমার জন্যে আইস্ক্রিম কিনে আনি। থাকতে পারবি তো ভয় পাবি নাতো?
~ হ্যা পারবো ভয় পাবো না। তুই যা আর আইস্ক্রিম নিয়ে ধিরে সুস্থে ফিরে আয়।

তারপর হাসান চলে গেলো আইস্ক্রিম আনতে। হাসান চলে যেতেই শ্রাবন সোনালীর কাছে এলো। হাসান আসলে আইস্ক্রিম আনার নাম করে দেখতে চেয়েছিলো সোনালী হাসানের অনুপস্থিতিতে কি করে। তাই হাসান একটা গাছের আরাল থেকে দেখতে লাগলো ওরা কি করে।

হাসান চলে যেতেই শ্রাবন সোনালীর কাছে আসলো আর সোনালী শ্রাবনকে দেখে উঠে দারালো। তারপর ওরা কিসের যেনো কথা বললো, কিছুক্ষণ।

হাসান কথাগুলো কিছুই বুঝলো না। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো।
কথা বলার এক পর্যায়ে সোনালী শ্রাবনের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে লাগলো। আর শ্রাবন ওকে জরিয়ে ধরে কি যেনো বলতে লাগলো। হাসান দুর থেকে এই দৃশ্য দেখে যেনো ওর মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো।

সোনালী এটা কি করে পারলো? হাসানের বিয়ে করা বউ হয়ে ও অন্য একজন পুরুষের বুকে কি করে জরিয়ে থাকতে পারে। কই কখনো তো হাসানকে এভাবে জরিয়ে ধরেনি? বরং,কাল রাতে একটু জরিয়ে ধরে শুয়েছিলো বলে সোনালী হাসানকে চিমটি দিয়ে কতইনা গালি দিলো। আর আজ এটা কি করলো ও চেনা না জানা না এমন একটা ছেলেকে ও জরিয়ে ধরতে পারলো কি করে।

হাসানের ভেতরটা যেনো ভেঙে গুরিয়ে যেতে লাগলো। হাসান কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না এই দৃশ্য।

হাসানের ইচ্ছা করছে সোনালী আর শ্রাবনকে খুন করে ফেলতে। কিন্তু না এভাবে ও সোনালীকে কখনোই মারবে না। সোনালী ওকে যেমন কষ্ট দিয়েছে তার চাইতে হাজার গুন বেশি কষ্ট দিয়ে ও সোনালীকে মারবে।
হাসান আর কিছু না ভেবে আইস্ক্রিম নিয়ে এলো। আইস্ক্রিম এনে দেখে সোনালী একা একা বসে আছে শ্রাবন হয়তো হাসানকে আসতে দেখেই চলে গেছে।

মনের মধ্যে রাগ ও কষ্ট নিয়ে মুখে হাসি এনে সোনালীকে আইস্ক্রিম খেতে দিলো হাসান তারপর বললো,
~ আমি চলে গেলে তোর একা একা ভয় করছিলো নারে সোনালী?
~ নাহ ভয় কেনো পাবো আমি কি ছোট মানুষ নাকি?

~ হুমম সেটাই। দাতে দাত কিটমিটিয়ে বললো, হাসান। হাসানের ইচ্ছা করছে সামনের এই নদীতে ফেলেই সোনালীকে মেরে ফেলতে। কিন্তু না হাসান সোনালীকে তিলে তিলে মারবে। হাসান যেমন ভালবাসার আগুনে পুরে মরছে ঠিক একি ভাবে হাসান সোনালীকেও পোরাবে ভালবাসার আগুনে।

তারপর ওরা একটু ঘুরে ফিরে বাসায় চলে আসে। বাসায় আসার পর দেখে সোনালীর শশুড় কাসেম চৌধুরী ব্যাবসার কাজে আবার চলে যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে উনি সোনালীকে একটা ফোন কিনে দিয়ে যায় আর বলে
~ সোনালী মামনি এই ফোনটা তোমার জন্যে কখন কার কি প্রয়যোন হয় বলাতো যায় না। তাই এটা রাখো। এটা অনেক উপকারি। আমিও এটার মাদ্ধমে আমার মামনির সাথে মাঝে মাঝে কথা বলতে পারবো।

~ শুকরিয়া আব্বু। কিন্তু এসবের আবার কি দরকার ছিলো আব্বু। আমার ফোন না হলেও চলতো।

~ উমমম কোনো কথা শুনতে চাই না আমি। তুমি এটা শুধু আমার সাথে কথা বলার জন্যে হলেও রাখো। আচ্ছা মা আমার অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি এখন আসি। ভালো থাকিস তোরা।
~ আচ্ছা আব্বু আল্লহ হাফেজ।

কাসেম চৌধুরী চলে যেতেই হাসান ওপরে চলে যায় আর সোনালীর শাশুড়ি মনিরা বেগম সোনালীকে বলে
~ সোনালী তোর শশুড় তোর কাছে একটা কথা বলতে বলে গেছে আমায়। সে নিজে তো বলতে পারবে না তাই আমায় দ্বায়ীত্ব দিয়ে গেছেন তোকে বলার। কথাটা শুধু ওনার নয় আমারো।

~ কি এমন কথা আম্মু যা আব্বু আমায় বলতে পারবে না। তাই তোমায় বলেছে?
~ তোর শশুড়ের দাদু হওয়ার শখ হয়েছে রে সোনালী আর আমার দাদীমা হওয়ার শখ। তোদের বিয়ে হয়েছে তো অনেক দিনই হলো এখন একটা বাচ্চা কাচ্চা উপহার দে এই বুড়ো বুড়ি কে।

সোনালী ওর শাশুড়ির কথা শুনে অনেক লজ্জা পেলো সাথে কি যেনো ভেবে আবার মনও খারাপ করলো। তারপর কোনো উত্তর না দিয়ে ওপরে চলে গেলো সোনালী।

ওর শাশুড়ি ভাবলো লজ্জা পেয়েছে তাই পালিয়ে গেলো।
ওপরে গিয়ে সোনালী দেখে হাসান কেমন গম্ভির হয়ে সোফায় বোসে আছে। সোনালী হাসানের কাছে গিয়ে বসে বললো,
~ এই হাসান ভাইয়া আজকেও একটা গল্প বলনা শুনে। আমার ঘুম আসছে না গল্প শুনতে মন চাচ্ছে। একটা গল্প বলনা প্লিজ

~ সর তো এখান থেকে। আমার এতো ন্যাকামো ভালো লাগে না। আর এখন আমার ঘুম ধরছে যা এখান থেকে কোনো গল্পই শোনাতে পারবো না।

সোনালী হাসানেের কথার উত্তরে কিছু বললো, না শুধু মন খারাপ করে গিয়ে শুয়ে পরলো। কিছুক্ষণ পর সোনালী কারো কথার শব্দে পিছনে ফিরে তাকালো। সোনালি দেখলো হাসান কারো সাথে অনেক হেসে হেসে কথা বলছে। সোনালী ভালো করে বোঝার চেস্টা করলো কার সাথে কথা বলছে হাসান। তখন দেখলো হাসান আফরোজার নাম নিচ্ছে। সোনালীর আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না।

সোনালী সেদিকে কান না দিয়ে ঘুমিয়ে পরলো। অনেক সকালে ঘুম ভাঙলো সোনালীর। ঘুম থেকে উঠে ওজু করে নামাজ পড়ে নিলো সোনালী। হাসানকে একবার ডাকতে গিয়েও কি ভেবে যেনো ডাকলো না।

তারপর নিচে চলে গেলো। আজ সোনালী ওর শাশুড়ি আম্মুর সাথে কাজে হেল্প করলো। তারপর প্রায় আধঘন্টা পর হাসান নিচে নেমে এলো তারপর খাওয়া দাওয়া করে সোনালীকে নিয়ে কলেজের জন্যে বের হলো। হাসান বা সোনালী কেউ কারো সাথে কথা বলছে না তেমন।

কলেজের গেটে গাড়ি থামতেই সোনালী গাড়ি থেকে নেমে ক্লাসে চলে গেলো। আর হাসান অফিস রুমে। ক্লাসের সময় হলে হাসান ক্লাসে এসে দেখে ক্লাসে শ্রাবন বা সোনালী কেউ নেই। তখন হাসান আফসিয়াকে জিগ্যেস করে
~ আফসিয়া তোমার বান্ধবী সোনালী কোথায় ক্লাসে দেখছি না যে?

~ স্যার সোনালী তো ক্লাসে এসেই শ্রাবনের সাথে কোথায় যেনো গেলো। এখনো আসেনি। আমার মনে হয় শ্রাবনের সাথে সোনালীর প্রেম চলছে স্যার। হিহিহি(আফসিয়া)

~ যতটুকু জিগ্যেস করেছি শুধু ততটুকুর উত্তর দিবা এর বেশি কিছু বলতে বলিনি। বসো চুপ করে। ( অনেকটা রাগ নিয়ে কথাটা বললো, হাসান)
~ স্যার আসতে পারি আমরা? (শ্রাবন)

~ এতক্ষণ কোথায় ছিলে তোমরা? তোমরা কি এখানে কলেজ করতে আসো নাকি অন্যকিছু? ক্লাসের সময় কখন হয়েছে সে খেয়াল আছে তোমাদের? ( রাগে গজগজ করে কথা গুলো বললো, হাসান)

~ সরি স্যার আসলে আমরা একটু পাসেই গেছিলাম আর সোনালীর মনটা খারাপ ছিলো আমার ভালো লাগছিলো না। তাই ওকে আইস্ক্রিম খাওয়াতে নিয়ে গিয়ে ছিলাম। আর আপনি তো আমার,
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই হাসান অনেক রেগে একটা ধমক দিলো শ্রাবনকে। ক্লাসের সবাই হাসানের ধমকে কুকিয়ে উঠলো। তারপর হাসান বলতে লাগলো

~ ছিঃ এসব কথা বলতে লজ্জা লাগছে না তোমাদের। কলেজে এসব করতে আসো? বেরিয়ে যাও তোমরা আমার ক্লাস থেকে। নইলে কলেজ থেকেই বের করে দিবো তোমাদের আমি।

শ্রাবন হাসানের কথায় অনেক রেগে গিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সোনালী শ্রাবনকে চুপ করিয়ে দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে ক্লাশ থেকে বেরিয়ে গেলো।
হাসানের এটা দেখে আরো বেশি রাগ হতে লাগলো।

তারপর ওরা চলে যাওয়ার পর হাসান কোনো মতে ক্লাস শেষ করে বের হওয়ার সময় দেখলো কলেজের এক কোনায় শ্রাবনের বুকে মাথা দিয়ে বসে আছে সোনালী। হাসান আর এক মুহুর্ত ওখানে না দারিয়ে অফিস রুমে চলে গেলো।


পর্ব ১৪

হাসান আর সোনালীর জন্যে অপেক্ষা করলো না বা সোনালী কোথায় সে খোজও নিলো না। হাসান একাই বাসায় চলে এলো। হাসান বাসায় এলে ওর মা মনিরা বেগম বললেন,

~ হাসান বাবা তুই একা এলি যে সোনালী কই?
~ সোনালীর কলেজে একটু কাজ ছিলো একটু পরেই চলে আসবে। (মিথ্যে বললো, হাসান)

তারপর হাসান সোজা নিজের রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে নিচে বাইকের শব্দ শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেইলো সোনালী শ্রাবনের বাইকে করে এসে গেটে নামলো। তারপর সোনালী শ্রাবনকে যেনো কি বললো, আর শ্রাবন সোনালীর গালে হাস রেখে কি যেনো বলে চলে গেলো।

হাসান নিজের চোখে এসব দেখে রাখে হাতের কাছের পানির গ্লাস আছার দিয়ে ভেঙে ফেললো। গ্লাসের টুকটা গুলো পুরা রুমে ছরিয়ে ছিটিয়ে পরলো।

সোনালী রুমে এসে খেয়াল না করে একটা কাচের টুকরায় পা দিতেই চিৎকার করে উঠলো। হাসান না চাওয়া সত্যেও ভালবাসার টানে দৌড়ে এসে সোনালীকে ধরে বললো,
~ একটু দেখে চলতে পারিস না। ইস কতখানি কেটে গেলো।

তারপর হাসান সোনালীকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার ওপর বসিয়ে দিলো। আর সোনালীর পায়ের কাচের টুকরো বের করে ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো।
সোনালী শুধু এক নজরে হাসানের কান্ড দেখছে কোনো কথা বলছে না। যেনো কোনো ঘোরের মধ্যে আছে সোনালী।
ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেলে সোনালী হাসানকে বললো,

~ হাসান ভাইয়া আমার তোর সাথে কিছু কথা আছে। শ্রাবন আর আমার ব্যাপারে।
সোনালীর মুখে শ্রাবন নামটা শুনতেই হাসান রাগে গজগজ করে উঠলো। তারপর বললো,

~ তোদের ব্যাপারে কোনো কথা শুনতে চাই না আমি। কলেজে নষ্টামি করে শান্তি হয়নি এখন বাসায়ও ওর নাম নিতে হবে। ( কথা গুলো বলেই রুম থেকে হনহন করে বেরিয়ে যায় হাসান) সোনালী আর কিছু বলার সুযোগও পায় না।

সারাদিন আর তেমন একটা কথা বলে না কেউই। রাতে খাওয়া দাওয়া নামাজ শেষ করে সোনালী গিয়ে শুয়ে পরে। আর হাসান সোনালীকে শুনিয়ে শুনিয়ে আফরোজার সাথে কথা বলতে থাকে।

হাসান কথা বলার এক পর্যায়ে আফরোজাকে বিয়ের কথা বলে। সোনালীকে ছেরে দিয়ে আফরোজাকে বিয়ে করবে। সোনালী ওর সব কথা শোনে কিন্তু কিছু বলে না।
সকালে সবাই খাওয়া দাওয়া করছে এমন সময় সোনালীর হঠাৎ বোমি বোমি পায়। সোনালী দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে বোমি করতে থাকে।

সোনালীর বোমি করা দেখে সোনালীর শাশুড়ি মনিরা বেগম খুশি হয়ে হাসানকে বলে
~ হাসান মনে হয় মিষ্টি আনতে হবেরে বাবা ঘরে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।

হাসান ওর মায়ের কথা কিছুই বুঝতে পারে না। তাই হাসান বলে
~ কে আসবে আম্মু বাসায় যে মিষ্টি আনবো?

~ আরে গাধা ছেলে আমার, আমার মনে হয় আমি দাদি হতে চলেছি আর তুই আব্বু সোনালী আম্মু হবে।
মায়ের মুখে এই কথা গুলো শুনে হাসানের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরে। হাসান যেনো নিজের কান কেও বিশ্বাস করতে পারছে না।

হাসান আর কোনো কথা না বলে সোজা ওপরে চলে যায়। হাসান ওপরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সোনালীও ওপরে যায় কলেজের জন্যে রেডি হতে। সোনালী এখনো ওর শাশুড়ির কোনো কথা শোনেনি। সোনালী ওপরে এলে হাসান সোনালীকে কিছু বলে না শুধু চুপচাপ রেডি হয়ে সোনালীকে নিয়ে বের হয়।

সোনালী ভাবে ওরা হয়তো কলেজে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু রাস্তা যাওয়ার পর সোনালী দেখে ওরা কলেজের রাস্তায় না গিয়ে অন্য রাস্তায় যাচ্ছে।
সোনালী অবাক হয়ে হাসানকে জিগ্যেস করে

~ হাসান ভাইয়া আমাদের কলেজের রাস্তা তো ওদিকে তুই এদিকে কোথায় যাচ্ছিস?
সোনালীর কথার উত্তরে হাসান কিছুই বলে না। সোজা গাড়ি চালাতে থাকে। তারপর পুরোটা রাস্তায় সোনালী অনেক বার জিগ্যেস করে কিন্তু হাসান একবারও উত্তর দেয় না।

গাড়ি নিয়ে সোজা একটা ক্লিনিকের সামনে থামে হাসান। সোনালী ক্লিনিকের সামনে থামতে দেখে হাসানকে বলে

~ এই পাগল ছেলে সকালে একটু কি বমি করেছি আর পায়ে হালকা একটু কাচ ঢুকেছিলো বলে ক্লিনিকে আসতে হবে। আরে আমি ঠিক আছি তো আমার কিছু হয়নি। এই দেখ আমি একদম সুস্থ। 😍😍(সোনালী মনে মনে অনেক খুশি যে হাসান ওর জন্যে এতটা ভাবছে)

সোনালীর কথার কোনো উত্তর দিলো না হাসান সোজা সোনালীর হাত ধরে ক্লিনিকের মধ্যে নিয়ে গেলো। তারপর সোনালীকে বসিয়ে রেখে হাসান আলাদা ভাবে ডাক্তারকে বললো,
~ ডাক্তার ও আমার ওয়াইফ সোনালী। সকালে অনেক বমি করছিলো। একটু চেক করে বলেন প্লিজ আমি কি বাবা হতে যাচ্ছি নাকি?

~ আপনি কোনো চিন্তা করবেন না মিস্টার হাসান আমি দেখছি তারপর বলছি আপনাকে।
(উনি একজন গাইনি মহীলা ডাক্তার রুকাইয়া)

তারপর ডাক্তার রুকাইয়া সোনালীকে নিয়ে ভেতরে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর সোনালীকে নিয়ে বেরিয়ে আসে হাসি মুখে। তারপর কেবিনে বসে বলে
~ মিস্টার হাসান গুড নিউজ। আপনি বাবা হতে চলেছেন। মিস সোনালী অন্তসত্বা।

ডাক্তারের মুখে এই কথা শুনে হাসান এবং সোনালী দুজনের মাথায়ই যেনো আকাশ ভেঙে পরে।
হাসান মুখে হাসি এনে ডাক্তার কে বলে
~ অনেক ধন্যবাদ ডাক্তার রুকাইয়া আপনাকে। আপনি নিজেও জানেন না আজকে আপনি আমার কি উপকার করলেন।

তারপর আর কোনো কথা না বলে ডাক্তারের বিল মিটিয়ে হাসান সোনালীর হাত ধরে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তারপর গাড়িতে করে সোজা কোথায় যেনো যেতে থাকে। একদম অচেনা একটা রাস্তা যে রাস্তায় সোনালী কখনো আসেনি আগে। সোনালী যেনো স্তব্ধ হয়ে গেছে কোনো কথা বলছে না ও।

হাসান প্রচন্ড স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে আর রাগে গজগজ করছে ও। তারপর গাড়ি নিয়ে একটা বাড়ির সামনে গিয়ে থামে হাসান। সোনালীর হাত ধরে টানতে টানতে সেই বাড়িতে ঢোকে ও। বাড়িটা একদম নির্জন একটা জায়গায়। সোনালীর অনেক ভয় হতে থাকে। না জানি হাসান কি করে বসে।
হাসান সোনালীকে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ছুরে ফেলে দেয় তারপর দরজা লাগিয়ে বলে

~ চিন্তা করিস না এখনে কেউ থাকে না। তাই তোকে যদি আমি এখানে খুনও করি কেউ টেরও পাবে না।
হাসান দৌড়ে এসে সোনালীর বোরখা টেনে খুলে ফেলে তারপর চুলের মুঠি ধরে বলে

~ তোকে অনেক ভালবেসে ছিলাম। কিন্তু তখনো বুঝিনি তুই একটা নষ্টা মেয়ে যে কিনা বিয়ের পরেও পর পুরুষের সাথে,, ছিঃ আমার ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে তোকে আমি কখনো ভালবেসে ছিলাম।

তোকে আমি খুন করে ফেলবো তোর বাচার কোনো অধিকার নাই। তোর মতো খারাপ মেয়ের এ দুনিয়ায় বাচার কোনো অধিকার নাই। তুই বোরখা পরিস তাইনা। আরে বোরখার মর্যাদা কি তুই জানিস হারাম,,,,,,।
তারপর হাসান সোনালীকে বেস কয়েকটা চড় ও লাথি মারলো। আর একটা ছুরি এনে বললো,

~ তোকে আমি বাচতে দিবো না। তুই যেমন আমার ভালবাসা নিয়ে খেলছিস তোর বাচার কোনো অধিকার নাই। তোকে আজ আমি খুন করে ফেলবো। তারপর হাসান সোনালীকে খুন করার জন্যে ছুরি হাতে এগিয়ে আসে। চোখের সামনে এমন মৃত্যু দেখে সোনালী আর ঠিক থাকতে পারে না জ্ঞান হারিয়ে পরে যায়।

তারপর যখন জ্ঞান ফেরে তখন তাকিয়ে দেখে ও ফ্লোরে পরে আছে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করা। আর বিকেল হয়ে গেছে। ওর শরীরে একটুও শক্তি নেই। সোনালী আসে পাশে তাকিয়ে নিজের ফোনটাকে খুজতে থাকে।

তারপর ফোনটা দেখে অনেক দুরে পরে আছে। ফোনটা ওর বোরখার পকেটে ছিলো হাসান বোরখা খুলার সময় ছিটকে দুরে পরে গেছে। সোনালী কোনো মতে ফোনের কাছে গিয়ে শ্রাবনের নাম্বারে ফোন করে
~ হ্যালো সোনালী ঐ কই তুমি সেই সকাল থেকে তোমার কোনো খোজ নেই। কলেজেও আসলেনা। একটু আগে হাসান স্যারকে দেখলাম আফরোজার সাথে। তুমি কই হুমম
সোনালী শ্রাবনের কথা শুনে অনেক কষ্টে বললো,

~ শ্রাবন আমায় বাচাও আমি মরে যাচ্ছি। আমি বাচতে চাই সুন্দর করে জীবন কাটাতে চাই তুমি আমায় বাচাও। আমি একটা পুরানো বাড়িতে আছি। তুমি তারাতারি এখানে চলে আসো। তারপর সোনালী সব ঠিকানা বলে

শ্রাবনকে। শ্রাবন সোনালীর কাছে সব শুনে পাগলের মতো ছুটে আসে সোনালীর বলা ঠিকানায়। তারপর সেই বাড়িটায় ঢুকে দেখে সোনালী আবার জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে। শ্রাবন একদম পাগলের মতো হয়ে যায়। চিৎকার করে কাদতে থাকে সোনালীর জন্যে তারপর ওকে কোলে তুলে নিয়ে একটা গাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে যায়।


পর্ব ১৫

~ শ্রাবন আমায় বাচাও আমি মরে যাচ্ছি। আমি বাচতে চাই সুন্দর করে জীবন কাটাতে চাই তুমি আমায় বাচাও। আমি একটা পুরানো বাড়িতে আছি। তুমি তারাতারি এখানে চলে আসো। তারপর সোনালী সব ঠিকানা বলে শ্রাবনকে।

শ্রাবন সোনালীর কাছে সব শুনে পাগলের মতো ছুটে আসে সোনালীর বলা ঠিকানায়। তারপর সেই বাড়িটায় ঢুকে দেখে সোনালী আবার জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে। শ্রাবন একদম পাগলের মতো হয়ে যায়। চিৎকার করে কাদতে থাকে সোনালীর জন্যে তারপর ওকে কোলে তুলে নিয়ে একটা গাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে যায়।

আজ ৭ দিন হলো সোনালীকে ঐ বাড়িটায় অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে এসেছে হাসান। এক বারের জন্যেও খোজ নেয়নি সোনালী বেচে আছে নাকি মারা গেছে? সোনালীর কোনো কিছুতে আর হাসানের কিছু যায় আসে না। হাসান এখন মন থেকে না হলেও আফরোজাকে নিয়ে ব্যাস্ত।

এই সাত দিনে হাসানের মা মনিরা বেগম হাসানের কাছে অনেক বার জানতে চেয়েছে সোনালীর কথা। হাসান বার বার কথা পাল্টিয়ে বলছে সোনালী বাবার বাড়ি গেছে কয়েকদিন পর ফিরবে। মনিরা বেগম সোনালীকেও অনেক বার কল করেছে। কিন্তু সোনালীর নাম্বার বন্ধ। হাসানের কারনে মনিরা বেগম সোনালীদের বাসাতেও যেতে পারেনি।

সাত দিনের দিন সকাল বেলা হাসান রেডি হচ্ছে কলেজে যাওয়ার জন্যে। এখন সময় ডোর বেলের শব্দ। হাসান দরজা খুলে দেখে একটা বড় প্যাকেটে পার্সেল এসেছে ওর নামে। হাসান পার্সেলটা কানেক্ট করে ওপরে লেখা দেখে সোহান খান শ্রাবন নাম লেখা। নামটা পড়েই হাসানের কেমন যেনো বুকের মাঝে কেপে ওঠে। কারন নামটা ওর পরিচিত।

হাসান আর দেরি না করে পার্সেলটা নিয়ে সোজা নিজের রুমে নিয়ে যায়।
তারপর দরজা লাগিয়ে পার্সেলটা খুলে তার মধ্যে একটা বড় চিঠি আর একটা ফুলের তোড়া আর একটি বক্সে খুব সুন্দর একটা দামি আংটি আর কিছু মেডিকেল সার্টিফিকেট পায়। হাসান আর দেরি না করে চিঠিটা পড়তে শুরু করে। চিঠিতে লেখা
প্রিয় স্বামী হাসান,

ক্ষমা করবেন আপনাকে স্বামী বলে ডাকার জন্যে। আর পার্সেলের ওপরে আমার নাম না দিয়ে আমার জমজ ভাই সোহান খান শ্রাবন, অরফে শ্রাবনের নাম দেওয়ার জন্যে। আমার নাম দেখলে হয়তো আপনি পার্সেলটা নিতেন না বা চিঠিটাও পরতেন না তাই শ্রাবনের নামটা দিলাম।

কারন আপনাকে কিছু কথা না বললেই নয়। তবে ভাববেন না আমি আর কখনোই আপনার সামনে আসবো না। আপনার জন্যে সোনালী মারা গেছে। আপনি নিজে হাতে খুন করেছেন তাকে। আপনার ভুল গুলো ধরিয়ে দিতেই আমার এই চিঠি।

সেদিন আপনি আমায় মারার সময় বলেছিলেন না যে আপনি আমায় অনেক ভালবেসে ছিলেন। আরে ভালবাসা কাকে বলে সেটা কি আপনি জানেন? জানি সঠিক উত্তর আপনি কখনোই দিতে পারবেন না। কারন আপনি কখনো কাওকে ভালই বাসেননি।

ভালবাসার অপর নাম বিশ্বাস ভরসা। কাওকে ভালবাসলে তাকে খুন করতে চাওয়া তো দুরের কথা তার গায়ে কখনো একটু আঘাত করাও সম্ভব নয়। আর আপনি তো আমায় শুধু আঘাত নয় বরং আমায় একটা নষ্টা মেয়ে বলেছেন। আরে যে ভালবাসায় বিশ্বাসই নাই সেটাকে ভালবাসা কিভাবে বলা যায়।

সেদিন আমি যখন বাবার বাড়ি যাই আর সেখান থেকে আইস্ক্রিম ফুল আর নেকলেস নিয়ে ফিরি তখন আপনার প্রথম সন্দেহ শুরু হয় তাই না? আপনি যদি আমায় ভালবাসতেন তাহলে সেদিনই আমার কাছে জানতে চাইতেন সেগুলো আমি কোথায় পেলাম। কিন্তু না আপনি সেদিন আমায় সন্দেহ করতেই ব্যস্ত ছিলেন।

আপনি কি জানেন আমি আপনাকে সেই ছোট বেলা থেকে ভালবাসি যখন আমাদের বিয়ে হয়েছিলো খেলার ছলে তখন থেকে। কথায় আছে মেয়েদের বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফোটে না। আমি আপনাকে বলতে পারিনি আমার ভালবাসার কথা।

হ্যা আমার কিছু ভুল ছিলো। আমি ভুল করেছিলাম এটা ভেবে যে আপনি আমায় ভালবাসেন। তাই আমায় অন্য কোনো ছেলের সাথে দেখলে আপনার হিংসা হবে আর আপনি আপনার ভালবাসার কথা আমায় বলবেন।

কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। আপনার মাঝে তো আমার জন্যে ভালবাসা ছিলই না তাহলে আমায় বলতেন কি করে?
শ্রাবন প্রথম দিনেই আপনাকে সব বলতে চেয়েছিলো যে ও বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে আর ও আপনার সেই
ছোট বেলার বন্ধু সোহান খান শ্রাবন।

কিন্তু আপনি যখন ওকে চিনতে পারলেন না তখন আমিই ওকে বলে ছিলাম পরিচয় না দিতে। কারন আমি চেয়েছিলাম আপনার ওকে আমার সাথে দেখে হিংসা হোক আর আপনি আমায় ভালবাসার কথাটা বলে দিন।

আপনার কি মনে আছে যেদিন সারারাত আমি আপনার বুকের মাঝে ছিলাম। সকালে আপনাকে আমি কথার ছলে জিগ্যেস করে ছিলাম আমি আপনার কি হই? সেদিন খুব ভালবাসা আর আগ্রহ নিয়ে কথাটা জানতে চেয়েছিলাম আপনার কাছে। কিন্তু আফসোস আপনি আমায় তখনো সন্দেহই করছিলেন।

আমি আপনার আর আমার সব কথা শ্রাবনকে বলতাম। ও আমায় অনেক বোঝাতো। সেদিন পার্কে আপনি গাছের আরাল থেকে আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ছিলেন না। সেদিন আমি শ্রাবনের বুকে মুখ গুজে অনেক কেঁদেছিলাম। ভালবাসা না পাওয়ার কান্না।

সেদিন কলেজে সবার সামনে আপনি আমাদের ভাই বোনের সম্পর্কটাকে নিয়ে কি বাজে একটা কথা বললেন,। তখনো শ্রাবন নিজের পরিচয় দিতে চেয়েছিলো আপনাকে। কিন্তু আপনি শোনেননি।

তারপর সেদিন রাতে আমি আপনাকে বলে ছিলাম যে শ্রাবন আর আমার ব্যাপারে আপনাকে কিছু বলার আছে। আপনি তখন খুবই বাজে একটা কথা বলেছিলেন আমায়। সেদিন সারারাত আমি কেঁদেছিলাম। আমি বার বার আপনাকে বোঝাতে চেয়েছি আমার ভালবাসার কথা। কিন্তু আপনি বোঝার চেষ্টাও করেন নি।

আরে এতই যদি সন্দেহ ছিলো আমার ওপর তহলে আপনি চাইলে কি একবারও আমায় শ্রাবনের ব্যাপারে জিগ্যেস করতে পারতেন না? আমি কি আপনাকে উত্তর দিতাম না? একবার জিগ্যেস করেই দেখতেন।

আপনি যদি কখনো আমায় এতটুকুও ভালবাসতেন তাহলে অবশ্যই জানার চেষ্টা করতেন কে এই শ্রাবন। আপনি তো আমার বাবার বাড়িতেও খোজ নিতে পারতেন। বা শ্রাবনকেও আলাদা করে জিগ্যেস করতে পারতেন। কিন্তু না আপনি তা করেন নি কারন আপনার মনে আমার জন্যে সন্দেহ ছারা কিছু ছিলো না।

পার্সেলের মাঝে কিছু মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া আছে। ওগুলো ভালো করে দেখেনিন। আমি কখনোই অন্তসত্তা ছিলাম না। আমার পেটে বড় একটা টিউমর বাসা বেধে ছিলো। যে টিউমর টাকে সেদিন গাইনি ডাক্তার রোকাইয়া বাচ্চা ভেবে ভুল করেছিলেন।

আপনি শুধু আমার ভালবাসার বিশ্বাস টা ভাঙেননি সেই সাথে ভেঙেছেন ভাই বোনের পবিত্র সম্পর্কও। আপনি ভাই বোনের পবিত্র সম্পর্ককে নষ্ট চোখে দেখেছেন সব সময়।

সেদিন আমায় একদম খুন করলে ভালো করতেন আপনি। তবে আল্লাহ যা করেন মানুষের মঙ্গলের জন্যেই করেন। তাই হয়তো আল্লাহ আমায় বাচিয়ে রেখেছে আপনার ভুল গুলো ধরিয়ে দিতে।

ভালবাসা কাকে বলে জানেন? দিনের পর দিন চোখের সামনে আপনি আফরোজার সাথে ভালবাসার কথা বলে গেছেন। রাতে আমার সামনে ওর সাথে বিয়ের কথা পর্যন্ত বলেছেন।

তবুও আমি কিন্তু একবারের জন্যেও
আপনাকে সন্দেহ করিনি বা ভুল বুঝিনি। কারন আমার বিশ্বাস ছিলো আমার ভালবাসার প্রতি। যেটা আপনার ছিলো না। আপনি কি কখনো দেখেছিলেন যে আমি শ্রাবনের সাথে কখনো প্রেম ভালবাসার কথা বলছি?

সন্দেহের চোখে মানুষ ভালো কিছু দেখলেও সেটাকে খারাপ মনে হয়। আপনার বেলাও সেটাই হয়েছে।
অনেক কথা বলে ফেললাম। আর কিছু বলতে চাই না। আর আল্লহর কাছে একটাই পার্থনা করি আপনার সাথে যেনো আমার আর কখনো দেখা না হয়। আপনি আফরোজাকে বিয়ে করে সুখে থাকুন।

শুধু একটাই অনুরোধ আপনার কাছে। দয়া করে এর পর কাওকে সন্দেহ করার আগে ভালকরে সব জেনে নিবেন। তারপর সন্দেহ করবেন। আর কাওকে সত্যিকারের ভালবাসলে তাকে মন থেকে বিশ্বাস করবেন। বিশ্বাস ছারা পৃথিবীর কোনো সম্পর্কই টেকে না।

আমি চলে যাচ্ছি অনেক অনেক দুর যেখান থেকে আমায় আর কখনোই খুজে পাবেন না আপনি। আমি আমার ভাইয়ের সাথেই যাচ্ছি। কারন আমি আপনাকে ভালবাসি অসম্ভব ভালবাসি।

কখনোই আপনাকে আমি ঘৃনা করতে পারবো না। কিন্তু ঘৃনা হয় নিজের ওপর আপনার মতো একটা নিচু মনের মানুষকে ভালবাসার জন্যে।
ভালো থাকবেন আশা করি। আমায় কোথাও খোজার চেষ্টা করবেন না। আমি আপনার মুখও দেখতে চাইনা। আলবিদা মিস্টার হাসান চৌধুরী।

ইতি
আপনার সন্দেহের ঘৃনার পাত্রি
সোনালী।

চিঠিটা পরেই হাসানের হাত পা কাপতে শুরু করলো। দুচোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি ঝরতে লাগলো। কি করলো ও এটা। নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে হাসানের। হাসান চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো আর বলতে লাগলো

~ সোনালী প্লিজ ফিরে আসো সোনালী। আমায় একটি বার তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ টুকু দাও। আমার ভুলগুলো সুধরে নেওয়ার সুযোগ টুকু দাও। সোনালী আমি তোমাকে ছারা বাচবো না সোনালী। প্লিজ ফিরে আসো সোনালী। তোমার হাসানের বুকে ফিরে আসো।

হাসান পাগলের মতো ছুটে গেলো ওর মা মনিরা বেগমের কাছে। তারপর বলতে লাগলো
~ আম্মু সোনালীকে এনে দাও আম্মু। আমি ওর সাথে মস্ত বড় অন্যায় করে ফেলেছি। আমি সোনালীকে ছারা বাচতে পারবো না আম্মু সোনালীকে এনে দাও আম্মু। (পাগলের মতো কান্না করছে হাসান)

হাসানের মা ছেলের এমন অবস্থা দেখে কিছুই বুঝতে পারছেন না। তখন হাসানের হাতে ঐ চিঠিটা দেখে মনিরা বেগম চিঠিটা নিয়ে পড়তে শুরু করেন। পুরো চিঠি পড়ে ওনার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরে।
মনিরা বেগম হাসানের গালে সজোরে একটা চর মেরে বলেন

~ ছিঃ হাসান ছিঃ। আমার ভাবতেও ঘৃন্না হচ্ছে যে তোর মতো নিচু মনের ছেলেকে আমি আমার পেটে ধরেছি। তুই সোনালীর মতো মেয়েকে এতটা সন্দেহ,করলি কি করে। তুই তো অনেক ছোট বেলা থেকে ওকে চিনিস। ও কখনো তুই ছারা কোনো ছেলের সাথে কথা বলেছে এমন কখনো দেখেছিস?

সব সময় পর্দা করে চলতো। ইসলামের সব কিছু মেনে চলতো। এমন একটা মেয়েকে তুই এতটা খারাপ ভাবলি কি করে? আর তুই তো জানতি যে ওর জমজ ভাই বিদেশ পড়াশোনার জন্যে গেছে। আর ওদের চেহারার অনেক মিলও আছে। তবুও তুই সেই ভাইকে দিয়ে ওকে এতটা খারাপ সন্দেহ করলি কি করে।

তুই কি একবারো জানার চেষ্টা করতে পারতি না শ্রাবনের বিষয়ে?তোর এতটাই সন্দেহ হয়েছিলো যে তুই সোনালীকে খুন করতে নিয়ে গেছিলি। ছিঃ ছিঃ এতটা নিচু মনের তুই। তোকে ছেলে বলে পরিচয় দিতেই আমার ঘৃনা করছে হাসান।

~ আম্মু তুমি আমায় মারো কাটো যা খুশি করো কিন্তু তার আগে আমায় সোনালীকে এনে দাও আম্মু। আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি ওর সাথে। আমি ওর পায়ে পরে ক্ষমা চাইবো। ওকে এনে দাও আম্মু আমি সোনালীকে ছারা আর থাকতে পারবো না। মরে যাবো আমি। আমার সোনালীকে চাই আগের মতো করে। এনে দাও আম্মু।

পাগলের মতো কাঁদছে হাসান। কান্না যেনো আজ বাধ মানছে না ওর। নিজের ভুলে অনুতপ্ত ও। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে ভুল গুলোকে বুঝতে। এখন আর কোনো কিছুই আগের মতো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

হাসানের মা মনিরা বেগম হাসানকে হাত ধরে তুলে বললো,

~ চুপ কর, চুপ কর হাসান। তুই যদি আমার ছেলে হয়ে থাকিস। তাহলে আমায় কথা দে যে তুই যেখান থেকে পারিস যে ভাবে পারিস আমার সোনালী মাকে ফিরিয়ে আনবি আবার আমার ঘরে। ও ছারা এই,বাড়িটা যে একদম ফাকা ফাকা লাগে। কথা দে আমায় তুই ওকে যেভাবেই হোক ফিরিয়ে আনবি?

~ হ্যা আম্মু আমি কথা দিলাম তোমায়। আমি ফিরিয়ে আববো আমার ভালবাসা কে। আমার পাগলিটাকে। আমার সোনালীকে। আমার মনের সব টুকু ভালবাসা দিয়ে ওকে আমি ফিরিয়ে আনবো। ও পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুকনা কেনো ওকে আমি ফিরিয়ে আনবোই।


পর্ব ১৬

তারপর হাসান আর এক মুহুর্ত দেরি না করে বেরিয়ে পরলো সোনালীদের বাাসার উদ্যেশে। রাস্তা যেনো আজ শেষই হতে চায়ছে না। হাসানের মন পাগল হয়ে খুজছে তার সোনালীকে।

হাসান খুব দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সোনালীদের বাসার সামনে এসে দারালো। তারপর তারাতারি গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে বাসার মধ্যে গিয়ে সোনালীকে ডাকতে লাগলো
~ সোনালী সোনালী তুমি কোথায় সোনালী। একবার সামনে এসো প্লিজ সোনালী।

হাসানের চিৎকার শুনে সোনালির মা বেরিয়ে এলেন। তারপর হাসানকে দেখে বললেন,
~ হাসান বাবা তুমি এসেছো? আমি সবই জানি। কিন্তু এখন আর এত কথা বলার সময় নাই তুমি তারাতারি যাও সোনালীকে ফিরিয়ে আনো। ও আজকে চিটাগাং চলে যাচ্ছে। সেখানেই থাকবে,আর ফিরবে না কখনো বলে গেছে।

হাসান আর দেরি না করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো সোনালীকে ফিরানোর জন্যে।
(হাসান আর সোনালীদের বাড়ি রাজশাহীতে)

হাসান দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সোনালীকে খুজতে লাগলো। এমন সময় হঠাৎ হাসানের ফোনে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলো। হাসান প্রথম দুবার কল কেটে গেলো কিন্তু রিসিভ করলো না।

তৃতীয় বার আবার কল আসলে হাসান গাড়ি চালানো অবস্থায় কল রিসিভ করলো। কল,রিসিভ করার পর ঐপাসের লোকটির কিছু কথা শুনে হাসান গাড়ি থামালো। তারপর তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে হাসানের মুখে হাসি ফুটলো। আর হাসান নিশ্চিন্ত মনে গাড়ি ঘুরিয়ে নিজের বাসায় চলে এলো।

(পাঠকদের জন্যে প্রশ্ন ~ হাসানের কাছে কার কল এসেছিলো? সর্বচ্চো সঠিক উত্তর দাতা আমার পক্ষ থেকে খুব সুন্দর একটি কবিতা পুরস্কার পাবে। টাকা দিতে পারবো না কারন আমার হাতে টাকা হলেই আমি আইস্ক্রিম খেয়ে শেষ করে ফেলি)

তারপর হাসান বাসায় এসে হাসানের মা মনিরা বেগমের সাথে অনেক কথা বললো, আর যে লোকটি কল দিছিলো তার কথাও বললো,। সব কথা শুনে মনিরা বেগম অনেক খুশি হলেন।

এর মাঝেই কেটে গেলো ১ টি মাস। সোনালী চিটাগাং এর একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছে। শ্রাবনও একই কলেজে আছে। এই এক মাসে হাসানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ হয়নি সোনালীর। সোনালী

সারাদিন হাসি খুশি থাকলেও রাতে তার চোখের পানিতে বালিশ ভেজে। সোনালী ভাবে হয়তো হাসান সত্যিই ওকে কখনো ভালবাসে নি তাই একবারও ওর খবর নেওয়ার চেষ্টা করেনি। বড্ড অভিমান জমে আছে সোনালির মনে।

আজ সকালে কলেজে আসার পর সোনালী সকলের কাছে শুনতে পেলো যে কলেজে নাকি নতুন একজন টিচার আসবে কাল। আর সেই টিচার নাকি প্রচন্ড রাগি সভাবের। কথাটা শুনেই সোনালীর বুকের ভিতরটা কেমন ধুক করে,উঠলো। ওর কেনো জানিনা মনে হচ্ছে হাসান আসবে ওর টিচার হয়ে।

সোনালীর আজকে আর কোনো পড়ায় মন বসলো না। ওর শুধু মাথার মধ্যে একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে যে কে আসতে চলেছে টিচার হয়ে।

সোনালী শ্রাবনকে কথার ছলে জিগ্যেস করলো
~ এই শ্রাবন তুমি কি জানো কালকে আমাদের কলেজের নতুন টিচার আসবে তার নাম কি?

~ কই নাতো কেনো কে আসবে টিচার হয়ে? হাসান স্যার আসবে নাকি তুমি এতো ছটফট করছো যে?

~ ঐ গন্ডার গরু গাধা যদি কলেজের টিচার হয়ে আসে না তাহলে আমি এই কলেজ থেকেই চলে যাবো। আর ঐ গাধাটার কথা শুনে আমি ছটফট করবো কোন দুঃখে রে।

এই কথাগুলো বলেই সোনালী মুখ বেকিয়ে রুমে গিয়ে সুয়ে পরলো। আর শ্রাবন যেনো কি ভেবে মুচকি মুচকি হাসলো।

পরদিন সকালে সোনালী আর শ্রাবন রেডি হয়ে কলেজে চলে এলো। কলেজে আসার পর থেকেই সোনালীর মনটা কেনো যেনো ছটফট করতে লাগলো। ওর বার বার মনে হতে লাগলো হাসান আসবে ওর জন্যে এই কলেজের টিচার হয়ে। সোনালীর দুচোখ যেনো হাসানকেই খুজছে। কিন্তু মনের মাঝে জমে আছে হাজারো অভিমান।

সোনালীদের ক্লাস শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু এখনো নতুন স্যারের কোনো দেখা নাই। এদিকে সোনালীর মনও বসছে না কিছুতে। শ্রাবন সোনালীর এমন ছটফট করতে দেখে বললো,
~ এই সোনালী কি হয়েছে তোমার। এমন ছটফট করছো কেনো সোনা আপুনি?, তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে বাসায় যাবে?

~ না রে শ্রাবন তেমন কিছু না আমি ঠিক আছি।

তারপর প্রায় ১ ঘন্টা পর সোনালীদের ক্লাসে কলেজের প্রিন্সিপাল ঢুকলো। তারপর সকলকে উদ্যেশ্য করে বললো,
~ ছাত্র ও ছাত্রী না তোমরা হয়তো সকলেই জানো আজকে তোমাদের নতুন একজন টিচার আসার কথা ছিলো। আজ থেকে মিস্টার হাসান চৌধুরী তোমাদের নতুন ইংলিশ টিচার। কই মিস্টার হাসান চৌধুরী ভেতরে আসুন।

হাসানের নামটা শুনতেই সোনালীর হার্টবিট যেনো দিগুন গতিতে চলতে লাগলো। তারপর যখন হাসান ক্লাসে ঢুকলো তখন সোনালী হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসানকে আগের থেকেও বেশি সুন্দর দেখতে লাগছে।
সোনালী যেনো চোখই সরাতে পারছে না হাসানের থেকে। ওর মনের সব রাগ অভিমান যেনো কোথায় মিলিয়ে গেছে।


পর্ব ১৭

হাসান ক্লাসরুমে ঢোকার সাথে সাথেই সোনালীর পাশে বসা কিছু মেয়ে আস্তে করে বলে উঠলো “ওয়াও”। সোনালী ঐ মেয়েদের এমন করে ওয়াও বলা দেখে শরীরে যেনো আগুন ধরে গেলো রাগে। আর মনে মনে বলতে লাগলো

~ ঐ রাক্ষসী ডাইনির দলগুলা তোদের সাহস তো কম না। তোরা আমার সামনে আমার ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র বরের দিকে এমন করে তাকিয়ে আবার ওয়াও বলছিস। ইচ্ছা করছে সব গুলারে ধরে গোবর পানিতে চুবাই।
সোনালী মনে মনে ওদের বকা দিতে ব্যাস্ত এদিকে হাসান আর শ্রাবন সোনালীর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।

তারপর প্রিন্সিপাল হাসানকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলো। এদিকে কয়েকটা মেয়ে এমন করে হাসানের দিকে তাকিয়ে আছে যেনো এখনি ধরে বিয়ে করে নিবে।

সোনালীর রাগে শরীর জলে যাচ্ছে এসব দেখে। হাসান একে একে সকলের সাথে পরিচিত হতে লাগলো। তারপর এলো সোনালীর পালা। হাসান সোনালীকে বললো,
~ এই যে মিস বোরখাওয়ালি আপনার পরিচয় দেন?

সোনালীর হঠাৎ এর আগের বারের কান ধরে দারিয়ে থাকার কথা মনে পরে গেলো। আর সাথে সাথে লাফিয়ে উঠে বলতে শুরু করলো
~ বলছি বলছি সব বলছি প্লিজ আমায় কান ধরে দারিয়ে থাকতে বলবেন না স্যার।

সোনালীর এমন কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে সোনালীর দিকে তাকালো। আর হাসানেরও সেই আগের বারের কথা মনে পরে গেলো। ওমনি হাসান হাহা করে হেসে দিলো। হাসানের হাসি দেখে ক্লাসের সবাইও সোনালীর দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো।

সোনালী সকলের হাসাহাসি দেখে খুব লজ্জা পেলো আর ভিষন রাগও হতে লাগলো। তারপর হাসান সোনালীকে বললো,
~ এই মেয়ে আমি তোমায় পরিচয় দিতে বললাম আর তুমি কিনা কান ধরে দারিয়ে থাকার কথা বলছো। কান ধরে দারিয়ে থাকতে খুব ভালো লাগে বুঝি তোমার?

হাসানের কথা শুনে সোনালীর প্রচন্ড রাগ হলো। তারপর মনে মনে একটা দুষ্টুমির বুদ্ধি এটে বললো,
~ না মানে আসুলে হয়েছে কি স্যার। আমি এর আগে যে কলেজে পড়তাম সেই কলেজের একটা স্যার ছিলো তার নামও আপনার মতই হাসান।

লোকটা এক নম্বরের খচ্চোর খাটাস আর নিম পাতার মতো তেতো ছিলো। সব সময় মুখটাকে রাম ছাগলের মতো করে রাখতো। তো সেই স্যারের কথার উত্তর দিতে আমার একটু দেরি হয়েছিল তো তাই আমায় ঐ বজ্জাত স্যারটা কান ধরে দার করিয়ে রাখছিলো। তাই এমন বললাম আরকি।
হাসান সোনালীর কথা শুনে বলতে লাগলো

~ এই,মেয়ে তুমি তো দেখি খুব ব্যয়াদব। স্যারের সম্পর্কে কেও এমন বাজে কথা বলে নাকি।
~ এ বাবা আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো স্যার আমি কি আপনার কথা বলেছি নাকি? আমি তো বললাম অন্য কলেজের রাম ছাগল থুক্কু স্যারের কথা।

হাসান বুঝতে পারলো সোনালী রাগ ও অভিমানের কারনে এমন বলছে। তাই আর বেশি কথা না বারিয়ে সোনালীকে বোসতে বললো,। তারপর সকলের উদ্যেশে বলতে লাগলো

~ প্রিয় ছাত্র ছাত্রীরা। আমি তোমাদের সকলের নতুন ইংলিশ টিচার। তোমাদের সকলের সাথে পরিচিত হয়ে আমার অনেক ভালো লাগলো। কাল থেকে সবাই মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। আমি কিন্তু খুব রাগি তাই আমার ক্লাসের পড়া ঠিক মতো না পেলে কিন্তু শাস্তি পেতে হবে। আর কলেজ ছেরেও কেও যেতে পারবানা।

কেউ এই কলেজ ছেরে অন্য কোনো কলেজে চলে যেতে চাইলে। আমি তাকে অন্য কোথাও এডমিশন নিতে দিবো না। আমার সকল কলেজের প্রিন্সিপালদের সাথে ভালো জানা শোনা আছে তাদের এডমিশন দিতে মানা করে দিবো। তাই বিষয়টা সবাই মাথায় রাখবে আশা করি। (কথাগুলো হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে বললো,)

সোনালীর ওপরে অনেক রাগ হলেও মনে মনে অনেক খুশি লাগছে হাসানকে পেয়ে। শত হলেও হাসান ওর ভালবাসা ওর স্বামী। কিন্তু অতিরিক্ত অভিমানের কারনে সোনালী হাসানের সাথে এমন ব্যাবহার করছে যেনো সোনালী হাসানকে চেনেই না। আর হাসানো সোনালীর সাথে অপরিচিতর মতই ব্যাবহার করছে। ☺☺
হাসান মনে মনে বলছে

~ সোনালী আমি এখানে এসেছি শুধু মাত্র তোমার জন্যে। তোমার ভালবাসা জয় করে সব অভিমান ভেঙে তোমায় আবার আমায় বাড়িতে বধু বেসে নিয়ে যাবো বলে।

আর ইনশাআল্লাহ এবার আর আমার কোনো ভুল হবে না। তোমায় ভালবাসা ছারা কখনোই আর কোনো প্রকার সন্দেহ বা কষ্ট দিবো না আমি। আর তোমায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে সর্ব বিষয়ে আমায় সাহায্য করবে আমার একমাত্র সালাবাবু শ্রাবন।

(সেদিন যখন হাসান সোনালীকে খুজতে পাগলের মতো গাড়ি চালিয়ে আসছিলো তখন হাসানের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ঐ প্রান্তের লোক টি ছিলো সোনালীর জমজ ভাই শ্রাবন। শ্রাবন সেদিন ফোন করে হাসানকে বলে

~ আসসালামু আলাইকুম। হাসান স্যার আমি শ্রাবন তোমার সালাবাবু।
~ ওয়ালাইকুমুসসালাম। শ্রাবন তুমি আর সোনালী কোথায়? আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি সোনালীকে ছারা বাচবো না। প্লিজ তুমি বলো তোমরা কোথায়। আমি আমার সোনালীকে ফিরিয়ে আনতে চাই।

~ চিন্তা করোনা মিস্টার দুলাভাই। তোমার এই শালাবাবু থাকতে কোনো চিন্তা নাই। আমার একমাত্র বোন সোনালীকে তুমি অবশ্যই ফিরে পাবে। কিন্তু তার আগে তোমায় ধৈর্য্য ধরে আমার কথা মতো কিছু কাজ করতে হবে। তাহলেই তুমি আগের মতো করে সোনালীকে পাবে।

~ কি কাজ করতে হবে বলো আমায়। সোনালীকে ফিরে পাওয়ার জন্যে আমি সব কিছু করতে রাজি।
তারপর শ্রাবনের কথা মতই এই একমাস হাসান সোনালীর সামনে আসেনি। হাসান আর শ্রাবন প্লান করেই হাসানকে ওদের কলেজের টিচার করে নিয়ে আসছে।

সেদিন হাসান বাসায় ফিরে ওর মা মনিরা বেগমকে সব কিছু জানায়। মনিরা বেগম অনেক খুশি হন সব শুনে আর হাসানকে শ্রাবনের কথা মতো চলতে বলেন মনিরা বেগম।

হাসান তারপর দিন আফরোজাকে সব সত্যি কথা খুলে বলে সোনালীর ব্যাপারে। তারপর আফরোজার কাছে ক্ষমা চায়। আফরোজা সব কিছু জানার পর নিজের ভুল বুঝতে পারে আর কান্না করে হাসান আর সোনালীর এক হওয়ার জন্যে দোয়া করে চলে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই আফরোজার বিয়ে হয়ে গেছে। ও এখন সুখে সংসার করছে)

এদিকে সোনালি মনে মনে ভাবছে
~ তুই যে কারনেই এখানে এসে থাকিস না কেনো হাসান ভাই। আমি কখনই আর তোর কাছে ফিরে যাবো না। কখনোই তোকে ক্ষমা করতে পারবো না আমি।

অনেক বেশি ভালবেসে ছিলাম তোকে আমি। কিন্তু তুই সন্দেহের আরালে কখনোই আমার ভালবাসাটা বুঝিসনি। খুন করতে চেয়েছিলি আমায়। আমি আর কখনোই তোর কাছে ফিরে যাবোনা মিস্টার হাসান চৌধুরী।


পর্ব ১৮

কলেজ শেষ করে যে যার মতো বাসায় চলে গেলো। সোনালী বাসায় যাওয়ার পর ওর যেনো আর কোনো কাজে মন বসছে না। না চাওয়া সত্যেও শুধু হাসানের কথাই মনে পরছে।

সোনালী আর শ্রাবন এক সাথে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ সোনালী বলে ওঠে
~ এই শ্রাবন, হাসান ভাইয়া এখানে কোথায় উঠেছে রে? তুই কি জানিস? (কথাটা বলেই সোনালী হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলো। কি বলে ফেললো ও? ও কখনোই হাসানের ব্যাপারে কিছু জানতে বা শুনতে চায় না। তবুও কেনো বললো, ও হাসানের কথা)

সোনালী আর এক মুহুর্তও দেরি না করে শ্রাবন কিছু বলার আগেই অন্য রুমে দৌড়ে চলে গেলো। আর শ্রাবন সব বুঝতে পেরে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। শ্রাবন মনে মনে বললো,

~ সোনালী আমি জানি তোমার আর হাসানের মাঝে যে দুরত্য সৃষ্টি হয়েছে সেটা ভুল করে হলেও আমার জন্যে। আমি যদি তোমাদের মাঝে এমন অপরিচিত হয়ে ঢুকে না পরতাম তাহলে আজ তোমরা এক সাথে থাকতে। তাই তোমাদের দুজনকে কি ভাবে মেলানো যায় তা আমার দ্বায়ীত্ব।

সোনালী নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে,কান্না করতে লাগলো। খুব কষ্ট হচ্ছে সোনালীর নিজের ভালবাসার মানুষ থেকে দুরে থাকতে। কিন্তু তবুও ও ফিরবে না হাসানের কাছে। যত কষ্টই হোক না কেনো ফিরে যাবে না আর। সেদিন হাসান শুধু ওর শরীরে আঘাত করে নি শরীরের চেয়েও হাজার গুন বেশি মনে আঘাত করেছিলো।

অঝোর ধারায় কাদছে সোনালী যে কান্না চার দেওয়ালের বাইরে যাচ্ছে না। কিন্তু মনটাকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলছে। কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো সোনালী।

এদিকে হাসান কলেজ থেকে ভাড়া বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া না করে সোনালীর কথাই ভাবছে। কি করে সোনালীর মান ভাঙাগানো যায়। কি করে ওকে আবার আগের মতো করে ফিরে পাওয়া যায়? ভাবনার সাগরে যেনো ডুবে আছে হাসান। এমন সময় শ্রাবনের ফোন

~ আসসালামু আলাইকুম শ্রাবন।
~ ওয়ালাইকুমুসসালাম হাসান স্যার। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। তুমি কি একটু সামনের পার্কটায় আসতে পারবে এখন?

~ হুমম আমি এখুনি আসছি ৫ মিনিটের মধ্যে।
তারপর হাসান আর দেরি না করে রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো শ্রাবনের সাথে দেখা করার জন্যে।

হাসান পার্কে এসে দেখে শ্রাবন ওর জন্যে ওয়েট করছে। হাসানকে দেখেই শ্রাবন এগিয়ে আসে হাসানের কাছে। তারপর ওরা একটা ব্রেন্চে বসে। শ্রাবন বলতে লাগে
~ হাসান স্যার তোমায় কিছু কথা বলতে এখানে ডেকেছি আমি।

~ হুমম তা বুঝলাম তার আগে তুমি আমায় এই স্যার স্যার ডাকা বন্ধ করো। আমি কলেজে তোমাদের স্যার এখন না। জাস্ট হাসান বলবে আমায় কেমন মিস্টার শালাবাবু।

~ আচ্ছা তাই হবে মিস্টার দুলাভাই। এখন শোনো যে জন্যে তোমায় এখানে ডেকে আনা।
~ হুমমম বলো কি কথা?

~ হাসান আজ কলেজ থেকে যাওয়ার পর থেকেই সোনালীর মন অনেক খারাপ। শুধু মাত্র আমার জন্যে তোমাদের এতটা কষ্ট পেতে হচ্ছে। আজ দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় ও আমায় তোমার কথা জিগ্যেস

করেছিলো। তারপর দৌড়ে চলে যায়। জানো হাসান সোনালী তোমাকে অসম্ভব ভালবাসে। এই একটা মাস আমি দেখেছি ও কি ভাবে কষ্ট পেতো তোমার জন্যে। এমন একটা রাত নেই যে ও তোমার জন্যে কান্না করেনি।

কথাগুলো এক নাগারে বলে শ্রাবন হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসানের চোখেও এক ফোটা পানি। হাসান ছেলে মানুষ। আর ছেলে মানুষের মন হয় পাথড়ের মত যা সহজে কান্না করতে পারে না। হাসানের চোখে পানি দেখে শ্রাবন বলে

~ হাসান তুমি যে সোনালীকে কতটা ভালবাসো তার প্রমান তোমার চোখের পানিই বলে দিচ্ছে। কাওকে সত্যিকারের ভাল না বাসলে কখনোই চোখে পানি আসবে না। এখন কান্না না করে আমি যে ভাবে বলবো সে ভাবে কাজ করে যাও ইনশাআল্লাহ সব আগের মতো হবেই হবে।

তারপর হাসান আর শ্রাবন অনেক্ষন কথা বললো,। তারপর যে যার বাসায় ফিরে গেলো।
সারারাত আর হাসানের বা সোনালীর কারোরই ঘুম হলো না। হাসান চিন্তা করছে কি করে সে সোনালীর মন জয় করবে। আর সোনালী চিন্তা করছে কি করে হাসানকে দুরে ঠেলে দিবে।

সকাল বেলা তারাতারি রেডি হয়ে সবার আগে কলেজে গেলো হাসান। হাসানের মনটা যেনো সোনালীকে একবার সামনা সামনি বোরখা ছারা দেখতে পাগল পাগল লাগছে। কতগুলো দিন হয়ে গেলো হাসান সোনালীকে দেখেনি বোরখা ছারা।

হাসান সোনালীর অপেক্ষায় তাকিয়ে রইলো গেটের দিকে। কিন্তু সবাই এলো সোনালীর আসার নাম নেই। বাদ্ধ হয়ে হাসান শ্রাবনের কাছে কল দিতে যাবে ঠিক তখনোই শ্রাবনের কল এলো হাসানের ফোনে
~ আসসালামু আলাইকুম। শ্রাবন সোনালী কোথায়? এখনো কলেজে আসলো না যে?
~ ওয়ালাইকুমুসসালাম। হাসান সোনালীকে দেখতে চাইলে তাটাতারি বাইরে আসো,


পর্ব ১৯

হাসান শ্রাবনের ফোন কেটে দিয়ে তারাতারি কলেজ থেকে বাইরে বের হয়। আর বাইরে বেরিয়ে সোনালীর কান্ড দেখে রিতিমতো বড় একটা ধাক্কা খায় হাসান।

সামনে তাকিয়ে দেখে সোনালী একটা আইস্ক্রিমওয়ালাকে দার করিয়ে তার থেকে সব গুলো আইস্ক্রিম বাসায় নিয়ে গেছে কিন্তু এখন আর সব টাকা শোধ করতে পারছে না বলে আইস্ক্রিমওয়ালার সাথে এক প্রকার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে সোনালীর।

হাসান কিছু না বলে শুধু হা করে তাকিয়ে থেকে দেখছে।
হঠাৎ আবার হাসানের ফোন বেজে উঠলো। ফোন আসাতে হাসানের যেনো ধ্যান ভাঙলো
~ হ্যা শ্রাবন বলো।

~ ঐ মিস্টার দুলাভাই তোমারে কি দারিয়ে দারিয়ে তামাসা দেখার জন্যে সোনালীর খবর দিলাম নাকি হুমম। যে হা করে ওদের ঝগড়া শুনছো। তারাতারি যাও আর সোনালীর সব টাকা পরিশোধ করে দাও। তারপর আমি যা বলছি সেই মতো কাজ করো। তারাতারি যাও।
হাসান আর দেরি না করে ফোন কেটে দিয়ে তারাতারি সোনালীর কাছে গেলো। তারপর আইস্ক্রিমওয়ালাকে বললো,

~ এই যে ভাই কি হয়েছে এখানে এতো গ্যানজাম করছেন কেনো?
~ আরে ভাই আর বইলেন না। এই বোরখা পরা আপা টা আমার সব আইস্ক্রিম কিনা নিয়া গেছে। একটাও বাদ দেয় নাই। আর এখন আমায় টাকা দিচ্ছে মাত্র অর্ধেক আইস্ক্রিম এর। বাকি টাকা চাইছি বলে কালকে দিবে।

কিন্তু আমার আজকেই টাকা লাগবে বাকি দিতে পারবো না। তাই বাকি আইস্ক্রিম গুলো ফেরত চাইছি বলে কেমন ঝগড়া করছে দেখেন। ঝোগড়ুটে মাইয়া একটা।
~ সোনালী উনি যা বলছেন তা কি সত্যি? (হাসান)

~ কি হলো উত্তর দিচ্ছো না কেনো। বলো উনি যা বললো, তা কি সত্যি?
~ না মানে ইয়ে মানে আসলে হয়েছি কি স্যার আমার আইস্ক্রিম গুলো ঐ ফাজিল লোকটা অন্যের কাছে বেচতে চায়। কিন্তু আমার আইস্ক্রিম অন্যের হাতে দেখলে তো আমি হার্ট এটাক করমু।

তাই সব গুলা নিয়া নিছি। কিন্তু আমার কাছে ওতো টাকা নাই। আর আমার ফাজিল ভাইটাও যে কই গেছে ফোনটাও ধরছে না। এখন আমি টাকা পাবো কোথায়। তাই ওনাকে বললাম যে কালকে বাকি টাকা দিয়ে দিবো কিন্তু উনিই তো আমার সাথে ঝগড়া শুরু করলো।

হাসান সোনালীর কথা শুনে হাসবে না কাদবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই বললো,
~ আচ্ছা ঠিক আছে তুমি ক্লাসে যাও। আমি আইস্ক্রিম এর বিল দিয়ে দিচ্ছি। তুমি পরে আমায় শোধ করে দিও। ☺☺
~ থ্যাংকু থ্যাংকু স্যার।

তারপর হাসান আইস্ক্রিম ওয়ালার সব টাকা শোধ করে দিয়ে পিছনে ঘুরে দেখে সোনালী এখনো দারিয়ে আছে। তাই হাসান সোনালীকে জিগ্যেস করে

~ কি হলো তুমি এখনো ক্লাসে যাওনি? এখনো এখানে দারিয়ে আছো কেনো?
~ আমি এখন ক্লাস করতে পারবো না স্যার। আপনি ক্লাসে যান আমি বাড়ি যাবো।

~ কেনো ক্লাস করতে পারবে না কেনো? আর এখন বাসায় গিয়ে কি করবে শুনি যে ক্লাস করবে না
~ আমি এখন বাসায় গিয়ে আইস্ক্রিম খাবো। ঐ বজ্জাত ফাজিল আইস্ক্রিমওয়ালার ঝগড়ার জন্যে এখন পর্যন্ত একটাও আইস্ক্রিম খেতে পারিনি। তাই এখন বাসায় গিয়ে আইস্ক্রিম খাবো।

হাসান আর নিজের হাসি ধরে রাখতে পারলো না। হাহা করে হেসে দিলো। আর বললো,
~ ঐ আইস্ক্রিম পাগলি সোনালী তুই কি কোনোদিন বড় হবি না? সারাজীবন কি এমন ছোট্ট মানুষিই করে যাবি নাকি পাগলী একটা।

হাসানের মুখে সেই আগের মতো কথা শুনে সোনালীর বুকের মাঝে ধুক করে উঠলো। সোনালী আর এক মুহুর্তও না দারিয়ে সোজা নিজের বাসার দিকে হাটা দিলো। হাসান ব্যাপারটা বুঝতে পেরে চুপ করে গেলো। তারপর ক্লাসে গিয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করলো।

এদিকে সোনালী বাসায় পৌছে হাসানের কথা ভাবতে ভাবতে আইস্ক্রিম খেতে লাগলো। হাসানের ভাবনায় সোনালী কখন সব গুলো আইস্ক্রিম খেয়ে শেষ করে ফেলেছে ও নিজেই জানে না।

যখন খেয়াল হলো সব আইস্ক্রিম খাওয়া শেষ তখন দেখলো অলরেডি ওর নাক দিয়ে পানি পরা শুরু হয়েছে আর হাচ্চি করা তো আছেই।

কলেজ শেষ করে শ্রাবন আর হাসান অনেক গল্প করলো সোনালীকে কি করে মানানো যায় তা নিয়ে। তারপর যে যার বাসার দিকে হাটা দিলো। শ্রাবন বাসায় এসে অনেক বার ডোরবেল টিপলো কিন্তু সোনালীর কোনো সারা শব্দ নেই।

অনেকবার কলও দিলো সোনালীকে তবুও সোনালী ফোন ধরছে না দেখে শ্রাবন ওর ডুবলিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুললো। তারপর সোনালীর রুমে গেলো কিন্তু সেখানে সোনালী নেই। শ্রাবন ওর নিজের রুমেও সোনালীকে খুজলো কিন্তু সোনালী সেখানেও নেই। এবার শ্রাবনের অনেক টেনশন হতে লাগলো সোনালীর জন্যে সোনালী কোথায় যেতে পারে কিছু না বলে?

তারপর শ্রাবন হাসানকে কল দিলো আর বললো,
~ আসসালামু আলাইকুম। হ্যা শ্রাবন বলো।

~ হাসান তোমার কাছে কি সোনালী গেছে?
~ কই না তো ও কেনো আমার কাছে আসবে? কেনো কি হয়েছে শ্রাবন তোমার কন্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেনো?

~ হাসান আমি বাসায় আসার পর সোনালীকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না। খুব টেনশন হচ্ছে আমার। সোনালী কখনো এভাবে না বলে কোথাও যায় না।

হাসান সোনালীকে পাওয়া যাচ্ছে না এই কথা শুনেই পাগলের মতো ছুটে আসলো শ্রাবনদের বাসায়। যখন দরজার কাছে এসে পৌছালো হাসান তখন বাসার ভিতর থেকে শ্রাবনের গলায় শুনতে পেলো
~ এই সোনালী এই কথা বলছো না কেনো? কি হয়েছে তোমার? এই আপুনি আমার প্লিজ কথা বলো আমার সাথে।

হাসান শ্রাবনের এমন কথা বলা শুনে যেনো আরো বেশি পাগল হয়ে গেলো সোনালীকে হারাবার ভয়ে।
দৌড়ে হাসান শ্রাবনের কাছে গেলো। গিয়ে দেখে সোনালী অজ্ঞান হয়ে পরে আছে শ্রাবনের কোলে।

গায়ে হাত দিয়ে দেখে গা যেনো পুড়ে যাচ্ছে প্রচন্ড জ্বরে। আর পাশেই পরে আছে প্রায় ২৫~ ৩০ টার মতো আইস্ক্রিম এর খালি প্যাকেট। হাসানের আর বুঝতে বাকি রইলো না কি ঘটেছিলো। হাসান সোনালীর মাথা শ্রাবনের কোল থেকে নিজের কোলে নিয়ে সোনালীকে পাগলের মতো বলতে লাগলো

~ ঐ সোনালী ঐ কথা বলনা প্লিজ আমার সাথে। দেখ আমি তোর হাসান। আমায় বকা দিবি না। আমার সাথে ঝগড়া করবিনা সেই আগের মতো। কথা বলনা প্লিজ।

অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো হাসান। হাসানের কান্না দেখে শ্রাবন বললো,
~ হাসান আমাদের এভাবে বসে থাকলে চলবে না। তুমি সোনালীকে ওর রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দাও। আমি ডাক্তার নিয়ে আসছি।

তারপর শ্রাবন চলে গেলো ডাক্তার আনতে। আর হাসান সোনালীকে কোলে তুলে সোনালীর রুমে শুইয়ে দিলো।
সোনালীকে শুইয়ে দেওয়ার পর হাসান ওর জ্ঞান ফেরানোর অনেক চেষ্টা করলো পানি দিয়ে কিন্তু কিছুতেই জ্ঞান ফিরছে না সোনালীর। হাসান প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলো সোনালীকে হারানোর। হাসানের চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো।

শ্রাবন ডাক্তার নিয়ে আসলো সোনালীর কাছে। এসে দেখে এখনো সোনালীর জ্ঞান ফেরেনি। ডাক্তার সোনালীকে দেখে শ্রাবনকে বললো,

~ তারাতারি বালতিতে করে পানি নিয়ে আসুন। ওর মাথায় পানি ঢালতে হবে। জ্বর অনেক বেশি উঠে গেছে। আর আপনারা দুজন ওর কি হন?
~ আমি ওর জমজ ভাই শ্রাবন। আর উনি ওর স্বামী হাসান। (শ্রাবন)

~ তাহলে আপনাকে একটা কাজ করতে হবে মিস্টার হাসান। আমি ওনাকে একটা ইনজেকশন দিয়ে দিচ্ছি। আপনারা ওর মাথায় পানি ঢালুন। তারপর আপনি ওর সারা শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিন। তাহলে জ্বর কমে যাবে। (ডাক্তার)

~ আ আমি ওর শরীর মুছিয়ে দিবো কিভাবে? (হাসান)
ডাক্তার কিছু জিগ্যেস করতে যাবে তার আগেই শ্রাবন বলে ওঠে
~ আচ্ছা ঠিক আছে ডাক্তার আপনি যেমন বললেন, তেমনই হবে। আপনি এখন ওকে ইনজেকশন টা দিয়ে দিন আমি বালতিতে পানি আনছি।

তারপর শ্রাবন পানি আনতে চলে গেলো আর ডাক্তার সোনালীকে একটা ইনজেকশন দিলো। তারপর কিছু ঔষধ এর নাম লিখে একটা প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে হাসানকে বললো,

~ মিস্টার হাসান আপনার স্ত্রীর সারা শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিয়ে তারপর জ্ঞান ফিরলে কিছু খাইয়ে এই ঔষধ গুলো নিয়ম করে খাইয়ে দিয়েন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে উনি। ওহ আরেকটা কথা আপনার স্ত্রীর ঠান্ডা খাওয়া একদম বন্ধ অন্তত ৩ মাস। আমি এখন আসি যা যা বললাম তাই করেন।

তারপর শ্রাবন পানি এনে হাসানের কাছে দিয়ে ডাক্তারের সাথে চলে গেলো। আর হাসানকে বললো, দরজা লাগিয়ে দিতে ওর আসতে দেরি হবে ঔষধগুলো কিনে তারপর ফিরবে।

হাসান দরজা লাগিয়ে দিলো তারপর সোনালীর মাথায় অনেক্ষন পানি ঢাললো। কিন্তু শরীর কি করে মুছে দিবে এটা নিয়ে চিন্তায় পরে গেলো হাসান। এদিকে শরীর না মুছে দিলেও তো সমস্যা।

অনেক চিন্তা ভাবনার পর হাসান ঠিক করলো সোনালীর শরীরের যতটুকু বেরিয়ে আছে শুধু ততটুকুই মুছে দিবে। তাই একটা পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে সোনালীর হাত পা ও গলার নিচে দিয়ে মুছে দিলো। তারপর হালকা একটু পানির ছিটা দিতেই সোনালীর জ্ঞান ফিরলো।

সোনালীর জ্ঞান ফিরলো ঠিকি কিন্তু ওর কোনো খেয়াল নেই। জ্বরের ঘোরে কি বলছে না বলছে কিছুই জানে না। সোনালীর জ্ঞান ফেরার পর হাসানকে বলতে লাগলো

~ এই আপনি কে? এখানে কি করছেন? আমার প্রানের স্বামী হাসান কই? ওকে নিয়ে আসেন আমার সাথে ঝগড়া করবে। (মাতালের মতো করে কথা বলছে সোনালী)

~ আমিই তো তোমার স্বামী হাসান। আমায় চিনতে পারছো না সোনালী? বলো কি বলবে আমায়?
~ ওওওও তুই সেই বজ্জাত রাক্ষস খোক্কোস কুমির আফ্রিকান হাতি কলকাতার হুলো বিড়াল হাসান? হিহিহিহি তোকে বকা দিতে না আমার হেব্বি লাগে। আর তার চাইতে বেশি কি ভালো লাগে জানিস? তুই যখন আমি ঘুমিয়ে আছি ভেবে আমার কপালে চুমো দিস তখন।

হাসান সোনালীর কথা শুনে জিগ্যেস করলো
~ আমি তোর কপালে চুমো দিতাম সেটা তুই কি করে জানলি। তুই তখন ঘুমিয়ে থাকতি না?

~ হিহিহিহি আমি তখন তোর আদর খাবো বলে ঘুমের ভাব ধরে থাকতাম। কিন্তু তুই কি কিপ্টারে আমায় শুধু একটা আদরই দিতি, বেশি কেনো দিশনাই।
আচ্ছা তোর সাথে যে আমি এতো কথা বলছি তুই কেডা রে? আর বর কই, আমি আমার বরের কাছে যাবো অনেক আদর খাবো।

~ আচ্ছা আচ্ছা কান্না করিস না। তুই আগে সুস্থ হ তারপর তোকে তোর বরের কাছে নিয়ে যাবো কেমন।
হাসান বুঝতে পারছে যে সোনালী যা বলছে সবই জ্বরের ঘোরে।

এখন ওর কোনো খেয়াল নেই ও কি বলছে না বলছে। তবে হাসানের ওর কথাগুলো শুনতে খুব ভালো লাগছে। ইচ্ছা করছে সোনালীকে বুকে জরিয়ে নিতে। অনেক ভালবাসা দিতে। কিন্তু হাসান ততদিন সোনালীর কাছে আসবে না যতদিন না সোনালী ওকে মন থেকে ক্ষমা করে ওর কাছে ফিরে যায়।


পর্ব ২০

শ্রাবন ঔষধ নিয়ে আসলো সোনালীর জন্যে। তারপর কোনো মতে সোনালীকে জ্বরের ঘোরেই একটু সুপ করে খাইয়ে দিলো। তারপর ঔষধ খাইয়ে দিতেই সোনালী আবার ঘুমিয়ে পরলো। সোনালী ঘুমোলে হাসান বললো,
~ শ্রাবন আমি কি এখন বাসায় চলে যাবো? তুমি সোনালীর খেয়াল রাখতে পারবে?

~ কি বলছো হাসান। তুমি এখন সোনালীকে এ অবস্থায় রেখে বাসায় গিয়ে ঘুমোতে পারবে? জানি পারবে না। তাই আর লজ্জা না পেয়ে তুমি তোমার সোনালীর কাছেই থাকো আমি বরং নাক ডেকে ঘুমাই গিয়ে।
(শ্রাবন)
তারপর হাসানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে শ্রাবন ওর রুমে গিয়ে শুয়ে পারলো। আর হাসানও সোনালীর কাছে শুয়ে পরলো।

রাত ৩.০০ টা বাজে এমন সময় হাসান হঠাৎ খেয়াল করলো সোনালী ঘুমের ঘোরে কি যেনো বলছে। হাসান সোনালীর কথা গুলো বোঝার জন্যে ভালো করে চোখ ডলে ঘুম ভাঙালো নিজের তারপর মনযোগী হয়ে
সোনালীর কথা শুনতে লাগলো। হাসান শুনলো সোনালী বলছে
~ হাসান ভাইয়া তুই কি আমায় কখনো একটুও ভালবাসিস নি। তুই আমায় এতটা অবিশ্বাস কি করে করতে পারলি বল। জানিস সেদিন আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম।

যেদিন তুই আমার ভাইকে,নিয়ে আমায় বাজে কথা বলেছিলি। আমি তো অনেক ছোট বেলা থেকে ভালবাসি তোকে। তুই আমার সামনে আফরোজার সাথে কত কথা বলেছিস কই আমি তো কখনো তোকে ভুল বুঝিনি। আর তুই কিনা আমায় হত্যা করতে চেয়েছিলি?

এতটা অবিশ্বাস আমার ওপর তোর। আমি তোকে খুব ভালবাসি রে হাসান ভাইয়া। তুই আমার ভালবাসাটা বুঝলিনা। তুই আমার ভালবাসাটা বুঝলিনা। তুই আমার ভালবাসাটা বুঝলিনা। ( কথাগুলো বলতে বলতে চুপ করে ঘুমিয়ে,পরলো সোনালী)

হাসান সোনালীর কথাগুলো শুনে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলো না। কতটা ভালো বাসে সোনালী ওকে। কিন্তু ও কি করেছে মেয়েটার সাথে। অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছে ও সোনালীকে। হাসান সোনালীর হাত নিজের হাতের মধ্যে শক্ত করে ধরে আস্তে আস্তে বললো,

~ আমায় ক্ষমা করে দে সোনালী। আমি আর কখনো তোকে ভুল বুঝবো না। সারা পৃথিবীর সকল ভালবাসা এনে দেবো তোর জীবন সাজাতে। কখনো কোনো কষ্ট পেতে দেবো না তোকে। আমি আমার জীবন দিয়ে আগলে রাখবো তোকে।

আমার বুকের সব টুকু ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে রাখবো তোকে আমি। কথা দিলাম পাগলি আমার। আমার আইস্ক্রিম পাগলি সোনালী। আমার দুষ্ট মিষ্টি বউ তুই জান আমার। ( কথাগুলো বলেই চোখে পানি নিয়েও মুচকি হাসলো হাসান।

তারপর সোনালীকে জরিয়ে ঘুমিয়ে পরলো। সকালে হাসানের আগে ঘুম ভাঙলো সোনালীর। সোনালীর এখন আর জ্বর নেই। সোনালী এখন একদম সুস্থ। সোনালী ঘুম ভেঙে তাকিয়ে দেখলো ও হাসানের বুকে শুয়ে আছে।
সোনালী ভাবলো ও হয়তো স্বপ্ন দেখছে।

সোনালী এক নজরে হাসানের দিকে তাকিয়ে রইলো। আজ কতদিন পর ও আবার হাসানকে এতটা কাছে থেকে দেখছে। একটু পর সোনালী বুঝতে পারলো এটা স্বপ্ন নয় সত্যি হাসানের বুকে শুয়ে আছে ও। হঠাৎ সোনালীর চোখে ভেসে উঠলো হাসানের সেই সন্দেহর কথা গুলো।

সোনালীকে হত্যা করতে চাওয়ার কথা গুলো। তখনই সোনালীর অসম্ভব রাগ হতে লাগলো। সোনালী হাসনকে ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দিলো। তারপর সোনালী হাসানের থেকে দুরে সরে গিয়ে হাসানকে বলতে লাগলো
~ হাসান স্যার আপনি এখানে কেনো? আপনার সাহস হলো কি করে আমার পাশে শুয়ে থাকার? এক্ষুনি বেরিয়ে যান আমার বাসা থেকে।

সোনালীর কথাগুলো শুনে হাসান বললো,
~ সোনালী তোর শরীর এখন কেমন। তুই তো অসুস্থ এমন করছিস কেনো। আর আমি তো তোর স্বাম……
হাসানের পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই সোনালী বলে উঠলো

~ আপনি আমার কিচ্ছু না। আপনি জাস্ট আমার স্যার আর আমি আপনার ছাত্রী। এছারা কোনো সম্পর্ক নেই আপনার সাথে আমার। আমি আপনাকে স্বামী বলে মানি না। মরে গেছে আমার বউ সোনালী। আপনি নিজে হাতে খুন করেছেন তাকে।

সোনালীর চেঁচামিচি দেখে পাশের রুম থেকে শ্রাবন উঠে এসে বলে
~ সোনালী তুমি কি বলছো এসব। হাসান তোমার স্বাম…
শ্রাবনকেও থামিয়ে দিয়ে সোনালী বললো,

~ হাসান আমার বা তোমার কেউ হয়না। উনি শুধুই আমাদের স্যার। ওনাকে এখান থেকে চলে যেতে বলো শ্রাবন। আমি ওনাকে সহ্য করতে পারছি না। চলে যেতে বলো ওনাকে। ( কথাগুলো বলতে বলতে সোনালী নিচে পরে গেলো জ্ঞান হারিয়ে)

হাসান দৌড়ে গিয়ে সোনালীকে ধরলো। তারপর বিছানায় শুইয়ে দিয়ে শ্রাবনকে ওর খেয়াল রাখতে বলে কান্না করতে করতে চলে গেলো হাসান।

হাসানের অনেক কষ্ট হচ্ছে সোনালীর কথা ভেবে। আজ ওর জন্যে ওর সোনালীর এই অবস্থা।
হাসান চলে গেলে শ্রাবন পানির ছিটা দিয়ে সোনালীর জ্ঞান ফেরালো।

সোনালীর জ্ঞান ফিরতেই সোনালী আশেপাশে তাকিয়ে দেখে হাসান কোথাও নেই। তখন সোনালী অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে পাগলের মতো। আর শ্রাবনকে বলে

~ শ্রাবন আজ আমি হাসানকে নয় নিজেকে কষ্ট দিয়েছি। আমি কি করে পারলাম আমার ভালবাসাকে এভাবে অপমান করে তারিয়ে দিতে। আমি যে ওকে বড্ড বেশি ভালবাসি রে শ্রাবন।

আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। হাসান তুই কেনো ওমন করেছিলি আমার সাথে কেনো কেনো। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তুই কাছে থাকলে যেমন কষ্ট পাই দুরে গেলে যে আরো বেশি কষ্ট হয়।

সোনালী শ্রাবনকে জরিয়ে ধরে কথাগুলো বলছে আর অঝোর ধারায় কান্না করছে। বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে ওর। নিজের ভালবাসার মানুষকে যে কখনো কষ্ট দেওয়া যায় না।

তার চাইতে বেশি কষ্ট নিজেকে পেতে হয়।
তারপর সোনালী অনেক্ষন এভাবে কান্না করলো শ্রাবনের বুকে। শ্রাবনও ওকে বাধা দিলো না। কাদতে দিলো ইচ্ছা মতো। অনেক্ষন এভাবে কাদার পর সোনালী চোখ মুছে কান্না থামিয়ে বললো,

~ না আমি কাদবো না। আমায় দুর্বল হলে চলবে না ওর প্রতি। হাসান আমার সাথে যে কাজটা করেছে তাও আমার আপন ভাইকে জরিয়ে। তারপরও ওকে ক্ষমা করবো না আমি। সে যতই কষ্ট হোক না কেনো। আমি কিছুতেই ওর প্রতি আর দুর্বল হবো না।
তারপর সোনালী আর কলেজে যায়না। এদিকে হাসান প্রতিদিন তাকিয়ে থাকে সোনালীর আসার অপেক্ষায়।

এভাবেই কেটে গেলো ১৫ দিন। এই ১৫ দিনের মাঝে হাসান চুপি চুপি লুকিয়ে শুধু দুর থেকে সোনালীকে দেখেছে। সোনালী তা জানেও না। সোনালীরও মনে মনে খুব কষ্ট হয় হাসানের জন্যে কিন্তু তা প্রকাশ করে না। ১৫ দিন পর আজ কলেজে যাবে বলে সোনালী রেডি হচ্ছে। সোনালী আসবে শুনে হাসান তো অনেক খুশি।

হাসান সকলের আগে কলেজে পৌছে গেলো। আর বসে রইলো ওর সোনালীর অপেক্ষায়। সময় মতো সোনালীও চলে এলো কলেজে। হাসান শুধু দুর থেকে ওকে চুপি চুপি দেখতে লাগলো মন ভরে। হাসানের অনেক ইচ্ছা করছে সোনালীর সাথে একটু কথা বলতে কিন্তু সেদিনের কথা ভেবে সাহস হয়ে ওঠে না।

ক্লাস শুরু হলে হাসান সোনালীদের ক্লাসে ঢুকলো। সোনালী আজ অনেক দিন পর তার হাসানকে দেখছে। হা করে তাকিয়ে আছে হাসানের দিকে ও। হাসান সেটা দেখেও না দেখার ভাব করলো। আর ঠিক মতো ক্লাস নিলো। এভাবেই চলতে থাকলো দিন গুলো।

কাল সোনালীদের কলেজে একটা অনুষ্ঠান হবে। সেখানে অনেকে নাচবে গাইবে। কিন্তু সোনালী কিছুই করবে না। ও শুধু দর্শকের মতো অনুষ্ঠান দেখতে যাবে। শুনেছে হাসান নাকি সেখানে কাল গান গাইবে। সোনালী অনেক দিন হলো হাসানের কন্ঠে কোনো গান শোনেনি। তাই মনে মনে সোনালী অনেক খুশি হাসানের গান শুনতে পাবে বলে।

অনুষ্ঠানের দিন সোনালী রেডি হচ্ছে কলেজে যাবে বলে। এমন সময় সোনালীর ফোন বেজে উঠলো…..


পর্ব ২১

অনুষ্ঠানের দিন সোনালী রেডি হচ্ছে কলেজে যাবে বলে। এমন সময় সোনালীর ফোন বেজে উঠলো। সোনালী ফোন হাতে নিয়ে দেখে সোনালীর শাশুড়ি মনিরা বেগম ফোন করেছে। সোনালী তারাতারি ফোনটা রিসিভ করে বলে

~ আসসালামু আলাইকুম আম্মু। কেমন আছো তুমি?
~ ওয়ালাইকুমুসসালাম মামনি আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস এখন সেটা বল?
~ আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আম্মু। আম্মু কেমন আছেন?

~ তোর শশুড়ও ভালো আছে। এখন বল তুই হাসানের সাথে বাসায় কবে আসবি। কতদিন হলো আমার বাসাটা মরুভুমি হয়ে আছে। কবে আসছিস বল আমায়?
~ আম্মু আমায় ক্ষমা করো আমি যাবো না আর ঐ বাসায়। তোমার ছেলের বৌ হয়ে।

~ দেখ সোনালী আমি তোর সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছু শুনেছি। আর অনেক কষ্টও পেয়েছি। তবে একটা কথা মনে রাখিস মা বিয়ে কোনো খেলা নয়। এটা সারাজীবনের বন্ধন। যেটা আল্লহর পক্ষ হতে একটা বড় নিয়ামত মানুষের জন্যে। আমি মানছি হাসান যা করেছে সেটা অনেক বড় ভুল।

কিন্তু আমি এটাও জানি যে এই ভুলের কারনে তোরা একে অপরের ভালবাসা বুঝতে পেরেছিস। এক বার ভেবে দেখতো মা মানুষ সন্দেহ কাকে করে?
যাকে মানুষ সব চাইতে বেশি ভালবাসে। যাকে কোনো কিছুর বিনিময়ে হারাতে চায় না মানুষ শুধু তাকেই হারানোর ভয়ে সন্দেহ করে।

আমার হাসান তোকে পাগলের মতো ভালবাসে রে মা তুই বুঝিসনি ওর ভালবাসা।
~ কিন্তু আম্মু…….

~ চুপ, আমার কথা এখনো শেষ হয়নি সোনালী। হাসান তোকে ভালবাসে বলেই তুই চলে যাবার পর এমন একটা রাত নেই যে ও তোর ছবি বুকে জরিয়ে কাদেনি। পাগলের মতো আমার হাতে পায়ে ধরেছে ও তোকে ফিরিয়ে এনে দিতে। দিনের পর দিন তোর জন্যে অপেক্ষা করেছে হাসান। কতটা কষ্ট পেয়েছে ও তা শুধু আমি জানি। আমি নিজের চোখে দেখেছি তা।

ও যে ভুল করেছিলো সেই ভুলের মাসুল ও দিয়েছে। তুই আমার ছেলেটাকে আর কষ্ট দিসনা মা। ফিরে আয় আবার আগের মতো করে ফিরে আয় মা। ফিরে আয় তোর সংসারে।
কথা গুলো বলতে কান্না করছিলেন সোনালীর শাশুড়ি মনিরা বেগম। সাথে সোনালীও কাঁদতে শুরু করে। সত্যিই ও অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছে ওর ভালবাসা হাসান কে।

মনিরা বেগম আর কিছু না বলে ফোন কেটে দিলো। আর সোনালী ফোনটা রেখে সোফায় বসে কাঁদতে লাগলো। এমন সময় শ্রাবন এলো। সোনালীকে কান্না করতে দেখে শ্রাবন বলতে লাগলো

~ এখন সময় আছে সোনালী তুমি হাসানকে ক্ষমা করে দাও। ও ওর ভুলের যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে। ওকে আর কষ্ট দিওনা বোন। শত হলেও ও তোমার স্বামী। আর তুমি ওর স্ত্রী। তোমাদের সম্পর্ক আল্লহর পক্ষ থেকে।

তাই হাসানকে ক্ষমা করে ওর লাছে ফিরে যাও সোনালী। ফিরে যাও হাসানের কাছে আগের মতো।
হাসান কতটা কষ্ট করছে আমি জানি সব। তুমি যখন অসুস্থ ছিলে তখন ও তোমার সেবা করেছে। তোমায় আগলে রেখেছে।

যেদিন আমরা এখানে চলে আসি সেদিন ও তোমায় খুজতে পাগলের মতো জায়গায় জায়গায় ঘুরেছে। শুধু মাত্র তোমার জন্যে হাসান ওর বাড়ি ঘর মা বাবা সব ছেরে এখানে টিচার হয়ে এসেছে।
তুমি জানো ও ঐ বাসায় কতটা কষ্টে থাকে। যে ছেলে কখনো একা এক গ্লাস পানিও ভরে খায়নি।

সেই ছেলে নিজে রান্না করে খায়। কখনো হয়তো রান্না করতে না পেরে না খেয়েও থাকে। আর কত কষ্ট দিবে তুমি হাসান কে?
তোমার ভাই হিসাবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ তুমি ফিরে যাও তোমার স্বামী হাসানের কাছে। আর কষ্ট দিও না ওকে।

কথাগুলো বলেই সোনালীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলো শ্রাবন। আর সোনালী কান্নায় ভেঙে পরলো। পুরোনো স্মৃতি গুলো মনে করতে লাগলো
হাসান সত্যিই ওকে ভালবাসে। আর ও নিজেও হাসানকে পাগলের মতো ভালবাসে তবুও কেনো কাঁদাচ্ছে ও হাসানকে আর কেনই বা নিজেও কাঁদছে?

সোনালী অনেক ভেবে ঠিক করলো ও ফিরে যাবে হাসানের কাছে। আর কষ্ট দিবে না ওকে। আগের মতো ভালবাসায় ভরে যাবে ওদের জীবন।

সোনালী ওয়াশরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুরে অনেক সুন্দর করে সাজলো। তারপর বোরখা পরে বেরিয়ে পরলো কলেজের উদ্যেশে।

কলেজে গিয়ে সোনালী হাসানকে খুজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না সোনালী ওর হাসানকে। সোনালীর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। বলতে ইচ্ছা করছে হাসান ফিরে এসো আমার জীবনে। কিন্তু সোনালী সেটাও করতে পারছে না। নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে সোনালীর। তবুও সোনালী হাল না ছেরে কলেজের সব জায়গায় পাগলের মতো খুজতে লাগলো হাসানকে। এমন সময় শ্রাবন এসে সোনালীকে বললো,

~ সোনালী আমি জানি তুমি হাসানকে খুজছো। ওকে খুজতে হবে না। একটু পর ওকে ট্রেজেই দেখতে পাবে। অনুষ্ঠানে গান গাইবে ও। তাই চলো আমরা গিয়ে ওখানে বসি।
শ্রাবনের কথা শুনে সোনালী আর কোনো কথা বললো, না। শ্রাবনের সাথে গিয়ে দুটা চেয়ারে দুজন বসলো। তারপর অনুষ্ঠান শুরু হলো।

একে একে অনেকেই অনেক কিছু করলো। কেউ ভাসন দিলো কেউ গান গাইলো কেউবা নাচলো। কিন্তু কোথাও হাসানের দেখা নাই। সোনালীর সব কিছু কেমন বিরক্ত লাগছে হাসানকে ছারা। যখনি সোনালী ভাবলো ও উঠে চলে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে হাসান ট্রেজে উঠলো। আস সবাই ওয়াও বলে উঠলো।

সোনালী হাসানের দিকে তাকিয়ে দেখে হাসান নীল রঙের একটা পান্জাবী পরেছে। হাসানকে অসাধারণ দেখতে লাগছে। সোনালী যেনো হাসানের দিক থেকে চোখই সরাতে পারছে না। সোনালীর অনেক খুশি খুশি লাগছে হাসানকে দেখে। কিন্তু হাসানের মুখে হাসি নেই। চোখ দুটো হালকা লাল হয়ে আছে হয়তো কেঁদেছে সোনালীর জন্যে।

তারপর হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে গান গাইতে শুরু করলো
“তুই ছারা একেকটা দিন কি যে যন্ত্রনা,
বুকের ভিতর অন্তহীন নীল নীল বেদনা। । ।
ওও দুচোখ পুড়ে কি দহনে তুই তো দেখিস নাআআআ।

তুই ছারা একেকটা দিন কি যে যন্ত্রনা,
বুকের ভিতর অন্তহীন নীল নীল বেদনা।
ওও দুচোখ জুরে বৃষ্টি ঝরে

হৃদয়টা হয় যেনো নদী,
তোর না থাকার একেকটা
ক্ষন ছুয়ে দেখতি যদি। ।

আমায় ছেরে কখনো দুরে যেতি নাআআআ,
ওও তুই ছারা একেকটা দিন কি যে যন্ত্রনা,
বুকের ভিতর অন্তহীন নীল নীল বেদনা। ।

ওও হাজার জনম চাই না তোকে,
একটা জনম শুধু চাবো,
বুকের ভিতর নিশ্বাস জুরে

তোকেই শুধু পাবো। ।
এক জনমের প্রতি ক্ষনে আরাল হবো নাআআআ।
ওও তুই ছারা একেকটা দিন কি যে যন্ত্রনা,

বুকের ভিতর অন্তহীন নীল নীল বেদনা। ।
দুচোখ পুড়ে কি দহনে তুই তো দেখিস নাআআআ।

তুই ছারা একেকটা দিন কি যে যন্ত্রনা বুকের ভিতর অন্তহীন নীল নীল বেদনা। ।
পুরো গানটা হাসান সোনালীর দিকে তাকিয়ে গাইলো। আর সোনালী হাসানের দিকে তাকিয়ে। গানের প্রতিটি কথা যেনো ওদের দুজনের জন্যেই লেখা। দুজনের চোখেই পানি।

গানটা শেষ হতেই সোনালী উঠে চলে গেলো আর যাওয়ার আগে শ্রাবনকে যেনো কি বলে গেলো। শ্রাবনের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সোনালীর চলে যাওয়া দেখে হাসানের মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। হাসান ট্রেজ থেকে নেমে অফিস রুমে চলে গেলো।


পর্ব ২২ (অন্তিম)

গানটা শেষ হতেই সোনালী উঠে চলে গেলো আর যাওয়ার আগে শ্রাবনকে যেনো কি বলে গেলো। শ্রাবনের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সোনালীর চলে যাওয়া দেখে হাসানের মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। হাসান ট্রেজ থেকে নেমে অফিস রুমে চলে গেলো।

শ্রাবন হাসানের পিছু পিছু অফিস রুমে গেলো। অফিস রুমে গিয়ে দেখে হাসান বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। হাসানের কান্না দেখে শ্রাবন হাহা করে হাসতে লাগলো।

তারপর হাসানের কাছে গিয়ে বললো,
ঐ শালার দুলাভাই। ছেলে মানুষের মান সম্মান এক্কেবারে জলে ডোবালে গো। এভাবে মেয়েদের মতো কেউ কাদে? ইচ্চা করছে তোমার কান্না করা ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছরিয়ে দেই।

শ্রাবনের কথা শুনে হাসান চোখ মুছে দৌড়ে এসে শ্রাবনকে জরিয়ে ধরলো। তারপর বলতে লাগলো
শ্রাবন আমি আর পারছি না সোনালীকে ছেরে থাকতে। বড্ড কষ্ট হচ্ছে আমার ওকে ছারা। আমার ভুলের মাসুল আমি আর কতো দিবো বলো। সোনালী কি আমায় ক্ষমা করবে না কখনো? আমি যে আর পারছি না সহ্য করতে এই কষ্ট। ( কথা গুলো বলে আবার কাঁদতে লাগলো হাসান)

~ এই দেখো আবার বাচ্চাদের মতো কাদে? আরে থামো থামো তোমার কষ্টের দিন শেষ। তোমার সুখের দিন শুরু করার খবর নিয়ে এসেছি আমি। সোনালী তোমায় আমাদের বাসায় ডেকেছে। তোমার গান শুনে যাওয়ার সময় বলে গেছে আমায় তোমায় পাঠিয়ে দিতে।

শ্রাবনের কথা শুনে হাসান শ্রাবনকে ছেরে দিয়ে বললো,
~ সত্যি বলছো শ্রাবন তুমি? সত্যিই কি সোনালী আমায় ক্ষমা করেছে? আমায় ডেকেছে ও?

~ হ্যারে বাবা হ্যা। এখন আর কথা না বারিয়ে যাওতো তোমার সোনালীর কাছে। আমার আবার অনেক কাজ করতে হবে সামনে।

~ তোমার আবার কি কাজ এখন?
~ কি কাজ মানে। নতুন করে তোমার আর সোনালীর বিয়ের আয়োজন করতে হবে না বুঝি? প্রথম বিয়ে তো আমাকে ছারাই করেছো। তাইতো এই অবস্থা। এবার সব ব্যাবস্থা আমি করবো। দেখবে তোমরা অনেক সুখি হবে। এখন কথা না বারিয়ে যাও তো।

হাসান অনেক খুশি হয়ে শ্রাবনকে আবার জরিয়ে ধরলো। তারপর গালে একটা চুমো দিয়ে বললো,
~ I love u রে শালাবাবু। I love u so much

~ ইসস করে কি করে কি। হায় হায় রে আমার ভবিষ্যৎ বউ যদি জানে তুমি এভাবে আমায় কিস করলা তাহলে তো তোমার সাথে আমাকেও মেরে ফেলবে গো। ফাজিল দুলাভাই।

~ যেমন বোন তার তেমনই ভাই। শুধু ভবিষ্যতের চিন্তা ফাজিল গুলা। ( কথা গুলো বলেই হাসতে হাসতে দৌড় দিলো হাসান সোনালীর কাছে যাবে বলে।
হাসানের মনের মাঝে ভয় ও আনন্দ দুটই কাজ করছে। সোনালী কি সত্যিই ওকে ক্ষমা করেছে নাকি ক্ষমা করেনি এখনো।

হাসান সোনালীদের বাসার সামনে গিয়ে ফোনের স্কিনে নিজের মুখটা একটু দেখে নিলো ঠিক আছে কি না। তারপর দরজায় করা নারলো। একটু পর খট করে দরজা খুলে গেলো। হাসান খুব ভয়ে ভয়ে ভিতরে ঢুকলো। তারপর দরজা লাগিয়ে পিছনে ঘুরতেই সোনালী দৌড়ে এসে হাসানকে জরিয়ে ধরলো।

হাসান যেনো বরফের মতো জমে গেছে। আচমকা সোনালীর এমন আচরনে। একটু পর হাসান অনুভব করতে পারলো ওর বুকের কাছের পান্জাবী ভিজে যাচ্ছে। তখন হাসান ভালো করে খেয়াল,করে দেখে সোনালী কাঁদছে ওর বুকে মুখ লুকিয়ে।
তারপর হাসান কিছু বলতে যাবে তার আগেই সোনালী বলতে লাগে

~ আমায় ক্ষমা করে দে হাসান ভাইয়া। আমি আর কখনো তোকে অবহেলা করবো না। আমার জন্যে অনেক কষ্ট পেয়েছিস তুই। আমি আর তোকে কোনো কষ্ট দিবো না। একজন ভালো স্ত্রীর মতো থাকবো।
হাসান সোনালীর মাথা ওর বুক থেকে দুহাত দিয়ে তুলে বলে

~ এই পাগলি এভাবে কাঁদছিস কেনো তুই? আমিও তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি না জেনে না বুঝে। আমার এই শাস্তি টুকুর দরকার ছিলো। তুই কাঁদিস না প্লিজ সোনা বউ আমার।

আমি আর কখনো তোকে সন্দেহ করবো না। অনেক অনেক ভালবাসবো তোকে। আমাদের দুজনের মাঝে আর কখনো সন্দেহের কিছু থাকবে না। চল এবার নিজের বাড়ি ফেরা যাক। কতদিন আর এভাবে দুরে দুরে থাকবি বল?
~ হুমম ফিরে যাবো। কিন্তু আমার কিছু শর্ত আছে?
~ আবার কি শর্ত?

~ আমায় আবার নতুন করে বিয়ে করতে হবে। আর বিয়েতে আমায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে পালকি অথবা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আসতে হবে। বাসর ঘর অনেক সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজাতে হবে। আর আমায় প্রতিদিন মন ভরে আইস্ক্রিম খাওয়াতে হবে।

~ ওরে বাবা এত্তগুলো শর্ত? ওকে আমার মহারানী তাই হবে। আপনার ইচ্ছা মতই সব করবো আমি আর আমার শালাবাবু। যাকে ছারা আপনাকে আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব ছিলো না আমার।
~ মানে? শ্রাবন তাহলে তোকে সব বলেছে আমার ব্যাপারে?
~ জ্বি ম্যাডাম শ্রাবন আমায় অনেক হেল্প করেছে তোমায় ফিরে পেতে।

তারপর এভাবেই ওদের মাঝে আরো অনেক কথা হলো। সেদিনই বিকেলে শ্রাবন হাসান আর সোনালী বাড়িতে ফিরে এলো। সবার সাথে কথা বলে সব ঠিক ঠাক হয়ে গেলো আগের মতো।
শ্রাবন খুব তারাতারি আবার হাসান আর সোনালীর বিয়ের ব্যাবস্থা করে ফেললো। আর সোনালীর ইচ্ছা মতোই সব করা হলো বিয়েতে।

বিয়ে মিটে গেলে সোনালীকে বাসর ঘরে বসিয়ে রাখার বদলে সোফায় বসিয়ে রাখা হলো। সোনালীর মনে মনে অনেক কৌতুহল হতে লাগলো কিন্তু মুখে কিছু বললো, না। সোনালীর শশুড় শাশুড়ি অনেক খুশি সোনালী আবার ফিরে আসায়।

রাত প্রায় ১২.০০ বাজে। একে একে সবাই চলে গেছে সোনালীকে একা বসিয়ে রেখে। সোনালীর শাশুড়ি মাও চলে গেছেন।

সোনালীর অসম্ভব বিরক্ত লাগছে। তাই সোনালী একা একাই নিজের রুমে যাওয়ার জন্যে পা বারালো। আর ওমনি পিছন থেকে হাসান এসে সোনালীর চোখ বেধে দিলো। সোনালী চিৎকার করার জন্যে যখনি মুখ খুলতে যাবে হাসান মুখ চেপে ধরে বললো,

~ ঐ পেত্মী! জান আমার, একটু চুপ করে থাকতে পারিস না? আমি তোর কুমড়োপটাশ বর। চুপ করে আমার সাথে চল তোর জন্যে সার্প্রাইজ আছে।
হাসানের কথা শুনে সোনালী বলতে লাগলো

~ ঐ আফ্রিকান হাতি তুই আমায় সার্প্রাইজ এর নাম করে মেরে ফেলবি না তো আবার? ও মাগো আমি মরতে চাই না। আমার ভবিষ্যৎ জামাই থুড়ি ভবিষ্যৎ ছেলে পুলের কি হবে গো।

~ ঐ একটু চুপ করে থাক না প্লিজ। তোর ভবিষ্যৎ ছেলে পুলের জন্যেই এই সার্প্রাইজ।
সোনালী আর কোনো কথা বললো, না চুপ করে হাসানের সাথে যেতে লাগলো। তারপর রুমে ঢুকে হাসান সোনালীর চোখের বাধন খুলে দিলো। তারপর বললো,

~ এখন চোখটা খুলতে পারেন মহারানী
সোনালী চোখ খুলে একদম হা হয়ে গেলো
সোনালীর রুমটা ফুলে ফুলে একদম ফুলের বাগানের মতো লাগছে। এত সুন্দর ঘর সাজানো সোনালী জীবনেও দেখেনি।

সোনালীকে হা করে তাকিয়ে
দেখে হাসান বললো,
~ পছন্দ হয়েছে ঘর সাজানো আমার ভবিষ্যৎ ছেলে মেয়ের আম্মুর?

সোনালী হাসানের কথা উত্তর না দিয়ে দৌড়ে গিয়ে ফুল নিয়ে খেলতে লাগলো যেনো কোনো ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে। আর হাসান মুগ্ধ চোখে সোনালীর দিকে তাকিয়ে রইলো। সোনালীর গালের টোল পরা হাসি যেনো হাসানকে পাগল করে দিচ্ছে।

অনেক্ষন ফুল নিয়ে খেলা করে সোনালী দৌড়ে এলো হাসানের কাছে। তারপর হাসানের হাত ধরে টেনে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে বললো,

~ হুমম সব কিছুই আমার অসাধারণ লেগেছে আমি খুব খুশি হয়েছি। এখন আমার একটা স্বপ্ন আছে এই বাসর রাতকে নিয়ে সেটা করবো কেমন?
~ কি স্বপ্ন বলো আমায় আজকের এই রাত নিয়ে?

~ আচ্ছা বলছি আগে এটা বল যে আমার এখন যা করতে ইচ্ছা করছে তোরও কি তাই ইচ্ছা করছে?
~ হুমম, কিন্তু তোর কি ইচ্ছা করছে রে? আর আজকের রাত নিয়ে কি সপ্ন দেখতি তুই? বলনা আমায়?

~ সব ইচ্ছা পুরোনের আগে আমাদের এই তুই তুকারি করা ছারতে হবে। কোনো ভালো স্বামী স্ত্রীরা কখনো তুই তুকারি করে না।

~ হুমম তুমি আর আমিও আর কখনো তুই তুকারি করবো না এখন থেকে শুধুই তুমি আমি কথা।
এবার বলো তোমার কি যেনো ইচ্ছা করছে বললে?

~ আমার না খুব দারুন একটা উত্তেজনা হচ্ছে ইচ্ছেটা ভেবে। চলো এখনি ইচ্ছেটা পুরোন করে দাও আমার।
~ হুমম পুরোন করবো আগে তো বলো কি ইচ্চা তোমার? (হাসান তো মনে মনে কি না কি ভাবছে আর অনেক খুশি আর আগ্রহ নিয়ে জিগ্যেস করছে সোনালীকে)

~ আমার বাসর রাত নিয়ে স্বপ্ন ও ইচ্ছা টা হলো আমি আমার বাসর রাতে সারারাত জেগে আইস্ক্রিম খাবো আর আমার বর আমায় সারারাত গল্প আর গান শোনাবে।

সোনালীর কথা শুনে হাসানের যেনো ছোট খাটো একটা হার্ট এটাক হলো। হাসান কি না কি ভাবলো আর সোনালী এটা কি বললো,।

~ ঐ বর মশাই ওমন গন্ডারের মতো তাকিয়ে আছো কেনো গো। জানি আমায় আজকে অনেক বেশিই সুন্দর লাগছে তাই বলে এভাবে তাকিয়ে থাকতে হবে। আমার বুঝি লজ্জা করে না।

হাসান সোনালীকে ৫ টা আইস্ক্রিম এনে দিয়ে বললো,
~ এই নাও আমার পিচ্চি বউ তুমি আইস্ক্রিম খাও আমি ঘুমাই।
~ এ্যা এ্যা তুমি ঘুমাবা মানে? তুমি ঘুমাইলে আমায় গল্প শোনাবে কে? তুমি গল্প শোনাও আর আমি আইস্ক্রিম খাই।
হাসান সোনালীর কথা শুনে মনে মনে বললো,

~ এই মেয়েকে দিয়ে এর চাইতে বেশি কিছু আশা করা যায় না। এটা আস্ত একটা পাগলি। তবে এই পাগলিটাই আমার ভালবাসার ছোট্ট মিষ্টি একটা পৃথিবী। অনেক অনেক ভালবাসি তোমায় জান সোনালী। ( মনে মনে বললো,)

~ আচ্ছা সোনালী একটা কথা বলোতো তুমি পৃথিবীতে সব চাইতে বেশি কাকে ভালবাসো? কাকে তোমার প্রতিটা মুহুর্তে মনে পরে মিস করো?

~ সে আমার সব চাইতে প্রিয় ও ভালবাসার #আইস্ক্রিম। হ্যা আমি পৃথিবীতে সব চাইতে বেশি আইস্ক্রিম ভালবাসি।
~ বুঝেছি ঐ আইস্ক্রিমই আমার শতিন। তুমি আমাকে ছারলেও আইস্ক্রিম ছারবানা।
~ হিহিহিহি হুমম ঠিকি বুঝছো গো কুমড়োপটাশ বর মশাই।

তারপর বেচারা হাসান গালে হাত দিয়ে বসে পরলো। আর সোনালী অনেক মজা করে আইস্ক্রিম খেতে লাগলো।
বেচারা হাসানের জীবনে মনে হয় আর ফুলসজ্জা করা হবে নাগো। হাসানের জন্যে সবাই এক বস্তা সমবেদনা জানাই।

লেখা – সোনালী

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “এ কেমন ভালবাসা (সিজন ২) – Bangla love story facebook” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – এ কেমন ভালোবাসা (১ম খণ্ড) – New bangla love story