ভালোবাসার গল্প

স্যার যখন বর – নতুন ভালোবাসার গল্প | Sir Love Story

স্যার যখন বর

স্যার যখন বর – নতুন ভালোবাসার গল্প: স্যারের সাথে প্রেম বা বিয়ে একটি কমন বিষয়। আজকে এমনি এক ভালোবাসার গল্প বলব যা আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

পর্ব – ১

কলেজ মাঠে বসা কিছু ফাঁকিবাজ পোলাপানগুলোর মধ্যে কথোপকথন।

নাসিমাঃ কি রে জরিনা এই ক্লাস টাও মিস দিবি?

জরিনাঃ ঐ নাসিমা আমরা কলেজে কি ক্লাস করতে আসি?

রিপনঃ ঠিকই বলেছিস, আমারা তো শুধু কলেজে আসি আড্ডা দিতে আর নিয়মিত ক্রাস খেতে।

রিপনের কথা শুনে সবাই হি হি করে হেসে দিল।

মায়াঃ একটু পরেই Romantic drama ক্লাস শুরু হবে। শুনলাম ফরিদ স্যার নাকি বদলি হয়েছে আর replacement এ নাকি কোন এক নতুন স্যার কলেজে আজ জয়েন্ট করেছে। স্যার টা নাকি সেই handsome।

সেই প্রথম দেখেছে সেই নাকি ক্রাস খেয়েছে। আর হ্যা স্যার টা কিন্তু আনম্যারিড।

জরিনাঃ বলিস কি রে? যাহ ঐ বেটাকেউ আমি আমার পিছনে লাট্টুর মতো ঘুরাবো।

রিপনঃ তাহলে বাজি হয়ে যাক। জরিনা তুই জিতলে আমি সবাই কে ট্রিট দেব আর তুই হারলে তুই আমাদের সবাই কে ট্রিট দিবি + শপিং করিয়ে দিবি।

জরিনাঃ একটু বেশিই বলে ফেল্লিনা?

মায়াঃ কেন রে ভয় পাচ্ছিস নাকি?

নাসিমাঃ জরিনা কখনো ভয় পায়না। তাই না রে জরিনা?

জরিনাঃ হুম। যাহ ডান। রিপন খাওয়ানোর জন্য টাকা জমাতে থাক।

রিপনঃ হ্যা হ্যা দেখা যাক।

নাসিমাঃ এই ক্লাসের সময় কিন্তু হয়ে গেছে। চল চল ক্লাসে যাই।

বলে সবাই একসাথে ওদের ডিপার্টমেন্টের দিকে গেল।

ওরা সবাই ক্লাসে বসে আছে কিন্তু লেখা পড়ার জন্য না শুধু স্যার কে দেখার জন্য।

রিপনঃ ঐ দেখ দেখ প্রিন্সিপালের সাথে নতুন স্যার টি আসছে।

মায়াঃ সত্যিই কি হ্যান্ডসাম রে বাবা। আর দেখেই বোঝা যাচ্ছে ড্যাসিং পারসনালিটি সম্পন্ন মানুষ। প্রথম দেখাতেই তো প্রেমে পড়ে গেলাম রে।

নাসিমাঃ হা করে তাকিয়ে থেকেই বললো আমিও।

রিপনঃ কি রে জরিনা তোর মুখ এরকম বাংলার পাঁচের মতো লাগছে কেন? কি হয়েছে রে স্যার দেখে মনে হচ্ছে তুই ই লাট্টু হয়ে গেছিস?

আদি কে দেখে জরিনার চোখ তো একেবারে চড়াকগাছ। ও ভাবছে কি কুলক্ষণে যে এই বাজিটা ধরতে গিয়েছিলাম। জীবনে এই প্রথম কোন বাজিতে হারবো।

ধুর…ভাল্লাগে না।

চলবে…

পর্ব – ২

এই হারামীরা যদি জানতে পারে আদির সাথে আমার কি সম্পর্ক তাহলে তো হয়ে গেল। এখন আমি কি করবো? হে আল্লাহ তুমিই একমাত্র পারো আমাকে রক্ষা করতে। please God save me।

নাসিমাঃ কি রে জরিনা তোর কি হল? তোর মুখ যে এক্কেবারে বন্ধই হয়ে গেল কাহিনী কি?

জরিনা মনে মনে ভাবছে এখন কোন কথা না বলে চুপ করে থাকাটাই ভালো হবে।

জরিনাঃ চুপ যা না সবাই। শুননা স্যার কি বলে।

প্রিন্সিপাল স্যার আজরিনাত কে নতুন lecturer হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে এবং ক্লাসের দ্বায়িত্ব টা দিয়ে রুম থেকে বিদায় নিল।

আজরিনাত নিজের পরিচয়টা আরেকটু হালকা ভাবে দিয়ে, ক্লাসে স্টুডেন্ট কম থাকায় প্রতিটি স্টুডেন্ট কে এক এক করে দাঁড় করিয়ে সবার নাম ও নামের অর্থ জিজ্ঞেস করলো।

জরিনা যখন দাড়িয়ে নিজের নাম টা বলতে যাবে। ঠিক তখনই আজরিনাত বললো, তোমাকে দাড়াতে হবে না তুমি বস। তোমার নাম তো আমি জানিই আর জরিনা নামের অর্থ মেবি আমরা সবাই জানি।কি বলো তোমরা?

স্যারের কথা শুনে জরিনার ফ্রেন্ড রা তো পুরাই অবাক। তারা ভাবছে স্যার কিভাবে চেনে জরিনা কে? স্যার কে দেখেও তো জরিনা কিছু বললো না। বাইরে গিয়ে ওকে ধরতে হবে।
সবাই আজরিনাতের কথায় মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।

প্রথম দিন সবার সাথে টুকিটাকি গল্প করে, কোন লেখা পড়ায় না গিয়েই ক্লাস টা শেষ করে দিল।

ক্লাসের বাইরে এসে জরিনার ফ্রেন্ড রা তো জরিনাকে মৌ মাছির মতো করে ধরলো। আজতো জরিনা সত্যি কথা না বললে ওর নিস্তার ই নাই।কিন্তু ও কিভাবে বলবে যে আজরিনাত ওর কি হয়? আজরিনাত তো দঃসপ্নের মতো জরিনার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে।

জরিনা ভাবছে আদি আমার কি হওয়ার কথা ছিল আর কি হয়ে গেল?এই লজ্জা আর অপমানের কথা আমি কি করে সবাইকে বলবো?

কিন্তু আদি কেন এই কলেজেই জয়েন্ট করলো?ও কি জানে না যে আমি এই কলেজে পড়ি? কলেজে আসলেই তো কেবল কিছুটা ভুলে থাকতে পারতাম।

কিন্তু এখন?

মায়াঃ কি ব্যাপার চুপ করে আছিস কেনো বল? আমরা সবাই শুনতে চাই।

রিপন ও নাসিমা একসাথে বলে উঠলো কি হলো বল?

জরিনা কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ ওর নাম ধরে ডাকলো। ডাক শুনে সবাই পিছনের দিকে তাকাতেই দেখে আজরিনাত সার ওদের দিকে তাকিয়ে আসছে।

আদিঃ জরিনা তোমার কি আর কোনো ক্লাস আছে?

জরিনাঃ কেন?

মায়াঃ না, স্যার আমাদের আর কোনো ক্লাস নেই।

আদিঃ তোমরা তো সবাই জরিনার ফেন্ড তাই না?

মায়া, রিপন, নাসিমা সবাই একসাথে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।

আদি তাহলে ক্যান্টিনে চলো। তোমাদের সবাইকে আজ আমি খাওয়াবো।

অবাক হচ্ছ মনে হচ্ছে সবাই? ওহ সরি, জরিনা তো মেবি আমার পরিচয়টা সবাইকে দেয় নাই? দাড়াও আমিই বলছি আমি জরিনার,

চলবে…

পর্ব – ৩

সারা রাস্তা কেউ কারো সাথে কোন কথা বলল না। বাসায় পৌঁছে আদি জরিনা কে বলল,

ভিতরে যাও। আর একদম কান্না কাটি করবে না। আর আমার বাসায় ফিরতে একটু রাত হবে।

জরিনা কোন কথা না বলে সোজা বাসার ভিতরের দিকে চলে যাচ্ছে। হঠাৎই আদির ডাকে জরিনা থমকে দাঁড়ালো ও মনে মনে ভাবছে।

না জানি সাইকো টা এখন কি বলবে। ও ভিতরে ভিতরে ভীষণ ভয় পাচ্ছে কিন্তু বাইরে প্রকাশ করছে না।

এই অভদ্র মেয়ে। তুমি হাসি হাসি মুখ করে আমাকে বাই না বলে ভিতরে চলে যাচ্ছো কেন? তোমার কি কোন কমন সেন্স ই নেই?

না নেই, বলে পিছনের দিকে আর না তাকিয়ে দৌড়ে সোজা বাসার ভিতরে চলে গেল।

আজ সাত দিন হয় জরিনা এই বাসায় আজরিনাতের সাথে উঠেছে। আদির মাবাবা, ভাইবোন কেউ নেই। আদি বাবা মার একমাত্র সন্তান ছিল। মা অনেক ছোট বেলায় আর বাবা দুই বছর আগে মারা গেছেন।

জরিনার আদির জন্য অনেক মায়া আর সহানুভূতি আছে যা ও আদির সামনে কখনো প্রকাশ করে না।

জরিনা মনে মনে সব সময়ই ভাবে আদির জীবনে ভালবাসার বড্ড অভাব তার জন্যই হয়তো আমার সাথে ওমন তারছিড়ার মতো ব্যবহার করে।

তাতে কি ঐ হারামী টাকে নিশ্চয়ই একদিন মানুষ বানিয়ে ছাড়বো।

জরিনা গোসল করে সাদা একটা সুতি থ্রিপিছ পরেছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে ভেজা চুল টা মুছে, চোখে হালকা কাজল দিল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিল।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জরিনা নিজেই নিজেকে বলছে। বাহ জরিনা বাহ। তুই এত সুন্দর ? তোকে দেখে তো চোখ ই ফেরানো যায় না।

বাসায় দু চারটা কাজের লোক ছাড়া আর কোন মানুষ নেই। টিভি দেখতেও জরিনার তেমন ভালো লাগে না। বাসায় কাটানো সময় টা সত্যিই ওর বোরিং লাগে।

যেহেতু বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে তাই জরিনা ভাবছে।

হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাই। আর হতচ্ছাড়া টাও বাসায় নাই। নিশ্চিত হয়ে লম্বা একটা ঘুম দেওয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ।

আদি বাসায় ফিরে দেখে জরিনা খাটের সাইডে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। কানে হেড ফোন লাগানো আর খোলা কালো চুল মেঝে স্পর্শ করে আছে। ঘুমন্ত জরিনার মুখ টা এতই মায়াবী লাগছে যে আদির কাছে মনে হচ্ছে জরিনা যেন রূপকথার সেই ঘুমন্ত রাজকন্যা।

আদি নিজের মনে মনেই ভাবছেএই নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখ টা তো আমায় প্রেমে পরতে বাধ্য করছে। না আমাকে ওর আকর্ষণে পড়া যাবে না।

একটা দুষ্টুমি হাসি দিয়ে আদি মনে মনে ভাবছে। দাড়াও সোনা তোমার আরামের ঘুম টা আমি এখুনি হারাম করে দিচ্ছি।

(অনেক জোরে চেঁচিয়ে) এই জরিনা?

জরিনা তো জোরে ডাক শুনে ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠেছে। উঠে দেখে আদি বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

কি হল? বাসায় কি ডাকাত পরেছে নাকি? অমন করে ষাড়ের মতো চেঁচাচ্ছেন কেন?

কি আমি ষাড় তাইনা? বলেই জরিনাকে এক ছো মেরে কোলে তুলে নিয়ে খাটের উপর আছাড় মারলো।

ও মাগো আমার কোমর টা ভেঙে গেল গো।

এই চুপ একদম কথা বলবে না। আমার খিদে পেয়েছে যাও এখুনি আমার জন্য চাওমিন বানিয়ে নিয়ে এসো।

আমি পারবো না।

যদি আমার কথা না শুন তবে তোমার সাথে এখনও অনেক কিছুই কিন্তু করি নাই। আমাকে রাগালে আমি এখন আর কি কি করতে পারি তোমার কিন্তু ধারনাও নাই। সো কি চাও তুমি বল?

চাওমিন। বানাচ্ছি চাওমিন।

good girl

চলবে…

পর্ব – ৪

আদি বসে বসে মজা করে জরিনার হাতে বানানো চাওমিন খাচ্ছে। ওর মুখের এক্সপ্রেশন দেখেই বোঝা যাচ্ছে চাওমিন টা অনেক মজা হয়েছে। কিন্তু আজরিনাত মুখে কিছু না বলে শুধু খাচ্ছেই।

ওদিকে জরিনার তো আর তর সইছে না জানার জন্য যে, চাওমিন টা কেমন হয়েছে। কিন্তু আজরিনাত তো কিছুই বলছে না। জরিনা মনে মনে ভাবছে।

ভাল হয়েছে বলেই কিচ্ছু বলছে না। খারাপ হলে ঠিকই বলতো যে এটা কোন খাবার হয়েছে? খাওয়ার অযোগ্য ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। জরিনার ও নিজের প্রশংসা শুনতে ইচ্ছে করছে তাই আদি কে জিজ্ঞেস করেই ফেলল।

চাওমিন টা কেমন হয়েছে?

জরিনা আদির কাছেই দাঁড়িয়ে ঐ কথাটা জিজ্ঞেস করছিল। আদি জরিনার কথা টা শুনে জরিনার দিকে তাকালো। যদিও কিছুটা শান্ত ভাবেই তাকালো তবুও জরিনা ভয় পেয়ে গেল। ও ভাবছে।

শুধু শুধু জিজ্ঞেস করতে গেলাম। না জানি কি বলে এখন।

কিন্তু আদি কিছু না বলে এক টানে জরিনাকে নিজের কোলে বসিয়ে দিল। নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”

আর জরিনা তো ভয় পেয়ে গেল। ও ভাবছে, এবার না বুঝি দুমদাম করে দু একটা দিয়ে দেয়।

কিন্তু আদি কিছু না বলে কোন প্রকার এক্সপ্রেশন না দেখিয়ে নির্লিপ্ত ভাবে জরিনার গালে একটা দিয়ে ওকে আবার নিজের কোল থেকে উঠিয়ে দিয়ে কোন কথা না বলে মন দিয়ে আবার খেতে লাগলো।

জরিনা তো পুরাই থ। জরিনার মুখের এক্সপ্রেশন দেখে আদি মিটিমিটি করে দুষ্টু হাসি দিল। কিন্তু জরিনা ওর দিকে তাকাতেই আবার গাম্ভীর্য ভাব চেহারাতে আনলো।
জরিনা রাগ করে ওখান থেকে চলে গেল।

রাত প্রায় ২ টা বাজে। হঠাত করে জরিনার ঘুম টা ভেঙে গেল বাইরের ঝড়ে শব্দে। ও বিছানা ছেড়ে উঠে খোলা থাকা জানালা টা বন্ধ করে বিছানায় এসে আবার শুয়ে পড়লো। বাইরে ভীষণ ঝড় শুরু হয়েছে। বিদ্যুতও চমকাচ্ছে মাঝে মাঝে।

জরিনা আর আদি পাশাপাশি দু’টি আলাদা রুমে শোয়। আদি ঝড় ভীষণ ভয় পায়। তাই ঝড় উঠাতে ও দিশেহারা হয়ে গেল। ও কোন ভাবনা চিন্তা না করেই সোজা জরিনার রুমে ঢুকে, বিছানায় গিয়ে জরিনা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

একে অন্ধকার রুম তার উপর কেউ ওকে জড়িয়ে ধরেছে এই অনুভব করে জরিনা জোরে চিৎকার করে ওঠতেই আদি জরিনার মুখ চেপে ধরে বলল
আমি। ঝড়ের মধ্যে ভয় পাবে বলে এই রুমে চলে এসেছি।

জরিনা নিজের মুখ থেকে জরিনার হাত টা সরিয়ে দিয়ে বলল,

আমি মোটেও ঝড় ভয় পাই না। আপনি ঐ রুমে চলে যান।

কেন আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছি এটা তোমার ভালো লাগছে না?

না অসহ্য লাগছে।

তাহলে আমি যা করলে তুমি কষ্ট পাও আমি তো তাই করবো। তুমি জানো না আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই।

হেই ওয়েট ওয়েট ওয়েট…আমি এখন বুঝতে পেরেছি আসলে আপনি ঝড় ভয় পান বলে এই রুমে এসেছেন। ভীতুর ডিম কোথাকার।

কি আমি ভীতুর ডিম না?

এই বলে এক টানে জরিনা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ফেল্ল।

তারপর জরিনাকে এক্কেবারে নিজের কাছে টেনে আনলো।

এতই কাছে যে একে অপরের নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছে।

দুইজন ই কিছু ক্ষণ স্তব্ধ হয়ে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই।

তারপর আদি জরিনার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললোএখন বলো কে ভীতুর ডিম?

চলবে…

পর্ব – ৫

সকাল সাত টার দিকে আদির ঘুম টা ভেঙে গেল। ও ঘুম থেকে উঠে জরিনা কে রুমে দেখতে পেল না। তার মানে জরিনা হয়তো অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠে গেছে।
কথাটা ভাবতে ভাবতেই আদি গোসল করতে গেল। গোসল সেরে টাওয়াল পরে যেই আদি রুমে ঢুকেছে আর সাথে সাথেই জরিনার সাথে ওর চোখা চোখি হল।

জরিনা এই প্রথম আদিকে এই ভাবে দেখলো। জরিনা আদির দিক তাকিয়েই মনে মনে ভাবছে।

ওয়াও আজ তো হারামী টাকে জোস লাগছে।

এই মেয়ে, এমন হা করে একটি নিরীহ ছেলের উপর বদ নজর দিচ্ছ তোমার লজ্জা করে না?

নিজের ভ্যাবা চ্যাকা ভাব টা কিছুটা লুকিয়ে জরিনা বলল,

হ্যা যে ছেলে ঝড় দেখে ভয় পেয়ে মেয়ে মানুষের পিছনে গিয়ে লুকায় সে নিরীহ ই বটে।

আর এটা কিন্তু আমার রুম আর আমার বাথরুম। ঝড় তো শেষ আপনি এখনো এখানে কি করছেন?

এবার কিন্তু আছাড় মেরে বেডে ফেলবো না এক্কেবারে ফ্লোরে ফেলে দিব।

বলে রাগি রাগি লুক নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল আদি।

সারা রাস্তা দুই জন এক সাথে গেলেও কেউ কারো সাথে কোন কথা বলল না।

জরিনা নিজের ফ্রেন্ডদের কাছে চলে গেল। ওরা সবাই মাঠে বসে জরিনার জন্যই অপেক্ষা করছিল। কেননা জরিনা ছাড়া ওদের আড্ডা একেবারেই জমে না।

ওদিকে আদি যখন মাঠের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো তখনি মিষ্টি ম্যাডাম আদি কে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে ওর দিকেই এগিয়ে আসতেছিল।

তার আগে বলে নিই মিষ্টি ম্যাডাম এর বয়স ৩৫/৩৬ হবে কিন্তু সমস্যা হল ওনার বিয়ে হয় না। তার জন্যই আনম্যারিড কোন স্যার দেখলে ওনি চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেন না তাই প্রথম দিন থেকেই আদির পিছনে পড়ে আছে।

আজরিনাত স্যার আমি কখন থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। আর আপনি এখনি এলেন?

ম্যামের কি কোন কাজ ছিল আমার সাথে?

হ্যা খুব ই important কাজ আছে আপনার সাথে। আজ আপনি আমার সাথে আমার বাসায় যাবেন। আমি আমার বাসায় একা থাকি।

(oh God please save me from this lady) আজ আমার বাসায় একটা important কাজ আছে আরেক দিন যাব। আর আমাকে এখুনি প্রিন্সিপাল স্যার ডাকছেন আমি একটু আসছি বলে কোন রকমে সেখান থেকে পালালো।

আর ওদিকে জরিনা ঐ কাহিনী দেখেতো রাগে পুরাই ফোস ফোস করতেছে।

নাসিমাঃ কি রে জরিনা কি হল?

জরিনাঃ কিছু না। আজকের টপিক বল।

আজ আদির জরিনাদের কোন ক্লাস নেই। মিষ্টি ম্যাডাম এর কথা ভেবে জরিনা জন্যও দেরি না করে নিজে অটোতে বাসায় চলে গেছে জরিনার জন্য গাড়ি আর ড্রাইভার কে রেখে।

জরিনাও বাসায় চলে এসে দেখলো আদি ড্রইংরুমে বসে বসে চা খাচ্ছে। জরিনা মেজাজ খারাপ করে ওর রুমে এসে ফ্রেশ হতে হতে ভাবছে খেয়ে একটা ঘুম দেবে।

ঠিক এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল।

আদি ভাবছে এসময় কে এলো? ভাবতে ভাবতেই সোজা দরজা না খুলে লুকিং গ্লাসে চোখ রাখলো। বাইরে দেখে আদি তো পুরাই থ। ও দেখলো মিষ্টি ম্যাডাম দরজার সামনে।
আদি মনে মনে ভাবছে,

জরিনা কে আমার বাসায় ম্যাম দেখে ফেললে তো পুরাই কেলেঙ্কারি ব্যপার হবে।

আদি লুকিং গ্লাসে মিষ্টি ম্যাডাম কে দেখে দৌড়ে উপরে উঠে গেল। উপরে গিয়ে জরিনা কে বলল,

কিছুক্ষণ তুমি বাথরুমে গিয়ে বসে থাকো। তাড়াতাড়ি তাড়াতাড়ি। কি হল হা করে তাকিয়ে না থেকে আমি যা বলছি তাই তাড়াতাড়ি করো।

মানেটা কি? আমি আপনার কথায় বাথরুমে গিয়ে বসে থাকবো কেন?

আর কলিং বেলের আওয়াজ শুনলাম কে এসেছে যে আমাকে বাথরুমে গিয়ে বসে থাকতে হবে।

কারো সামনে আমাকে ওয়াইফ বলে পরিচয় দিতে যদি আপনার লজ্জাই করে তাহলে আপনি আমাকে বিয়ে করেছিলেন কেন?

আজব তো। এত কথা বলার টাইম নাই। যাও বললাম এক্ষুনি।

যাব না। বললাম তো যাব না।

ok…তাহলে চলো মিষ্টি ম্যাডামের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দেই আমার বউ হিসেবে।

impossible…আর আপনি মিষ্টি ম্যাডাম কে এ বাসায় আনলেন কেন?

প্রেম করতে এনেছি। কি করবো আমার বউ তো আমাকে ভালবাসে না। তার জন্য,

ওদিকে তো কলিং বেল বেজে বেজে বেল টাই মেবি হাপিয়ে উঠেছে।

এবার আদি কোন কথা না বলে জরিনাকে কোলে তোলে নিয়ে সোজা বাথরুমে নিয়ে রেখে আসলো।

কোন আওয়াজ করো না। যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি মিষ্টি ম্যাডাম কে বিদায় করে আসছি।

আমি কিন্তু খাইনি।

আদি দরজা টা খুলে দিল। মিষ্টি ম্যাডামের চেহারাতে কিছু টা অভিমানের ছাপ।

এত দেরি হল কেন দরজা খুলতে? আমি কখন থেকে বেল বাজিয়ে যাচ্ছি।

আসলে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

জানেন আমি কত কষ্ট করে প্রিন্সিপালের কাছে থেকে আপনার ঠিকানাটা নিয়ে এখানে এসেছি।

আসুন বসুন। কি যেন বলবেন প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি বলুন। আসলে আমার একটু আজকে কাজ আছে।

আচ্ছা বলবো আপনার বাসাটা আমাকে একটু ঘুরিয়ে দেখান।

আদি বাধ্য হয়েই পুরো বাসাটা মিষ্টি ম্যাডাম কে ঘুরিয়ে দেখালো।

অবশেষে 2 ঘন্টা পর আদি অনেক কষ্টে মিষ্টি ম্যাডাম কে বাসা থেকে বিদায় করতে সক্ষম হল।

আদি মিষ্টি ম্যাডাম কে বিদায় করে টিভি ছেড়ে দিয়ে সোফাতে আধসোয়া হয়ে মোবাইলে গেমস খেলতেছে। প্রায় এক ঘন্টা পর হঠাত আদির মনে পড়লো জরিনার কথা। জরিনা কে যে বাথরুমে আটকে রেখে এসেছে সেই কথা কেবল আদির মনে পড়লো।

আদি দৌড়ে বাথরুমে গেল। বাথরুমের দরজা খুলে তো আদি পুরাই থ।

জরিনা এক পা ধরে দেয়ালে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে। আর ওর দুই চোখ বেয়ে অনর্গল পানি পরছে।

চোখ দুটো লাল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছে।

আদি কোন কথা না বলে জরিনাকে কোলে তোলে নিয়ে এসে খাটে শুইয়ে দিল। তারপর ডাক্তার কে ফোন করলো।

ডাক্তার আধঘন্টার মধ্যে বাসায় এসে জরিনার পা পরীক্ষা করে দেখলো পা টা মচকে গেছে।

তারপর কিছু মেডিসিন দিয়ে ডাক্তার চলে গেল।

জরিনার মুখে রাগের ছাপ স্পষ্ট। আদি জরিনা কে জোর করে খাইয়ে দিয়ে শেষে ঔষধ খাইয়ে দিল।আর পায়ে মলম লাগিয়ে দিল।

আদির মনে মনে ভীষণ কষ্ট লাগছে জরিনার জন্য। আর নিজেকে আজ তার বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে।

আমি আজ এই রুমেই শোব।

কেন আজ তো বাইরে ঝড় নেই।

আছে

জরিনা আর কোন কথা বলল না শুধু কিছুটা অবাক হল।

চলবে…

পর্ব – ৬ (শেষ পর্ব)

তিন মাস পর…..

দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটিতে এই ভাবেই কেটে গেল তিন মাস।

কাল ওদের কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এক বিরাট অনুষ্ঠান।

সারা কলেজেই যেন উত্সবের ধুম লেগে গেছে। রিহার্সাল রুমে চলছে নাচ, গান, আবৃত্তির রিহার্সাল।

সারা কলেজ টাও সাজানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত আদি আর জরিনার বিয়ের কথা কলেজের কেউ জানে না।

জরিনা ওর ফ্রেন্ডদের সাথে আলোচনা করছে কাল কি কি করবে সবাই। কি রকম করে সাজবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এমন সময় পুরো কলেজের সবচেয়ে handsome & topper ছেলেটি নাম দিগন্ত। প্রায় সব মেয়ের ই ক্রাস ও। দিগন্ত জরিনাদের সিনিয়র ভাইয়া। ওদের কাছে গিয়ে বলল,

জরিনা একটু আমার সাথে আসবে। তোমার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা ছিল। প্লিজ একটু আসো।

জরিনা কিছুক্ষণ ভেবে বলল আচ্ছা চলুন।

ওরা ওখান থেকে চলে যাবার পর,

নাসিমাঃ এবার বুঝি দিগন্ত ভাইয়া জরিনা কে প্রপোজ টা করেই দেবে।

রিপনঃ মানে কি বলছিস এসব?

মায়াঃ হ্যা রে বেশ কিছু দিন ধরেই ভাইয়াটা জরিনার পিছনে ঘুরঘুর করছিল। কিন্তু জরিনা তো একটা পাক্কা গাধী।

নাসিমাঃ কেন যে আমায় চোখে দেখলো না!

নাসিমার কথা শুনে সবাই হি হি করে হেসে দিল।

একটু নিরিবিলি সাইটে নিয়ে গিয়ে দিগন্ত জরিনার হাত টা নিজের হাতে নিয়ে প্রপোজ করে দিল।

আর ঠিক সেই মুহূর্তে আদি সেটা দেখে ফেললো।

জরিনা কিছু বলার আগেই আদি সেখানে গিয়ে টানতে টানতে জরিনা কে একটা ফাকা ক্লাস রুমে নিয়ে গেল।

জরিনাকে আদি একেবারে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ওর চোখে চোখ রেখে বলল,

এই মেয়ে তুমি কি আমার সাথে থাকতে চাও না?

আমার কাছে থেকে মুক্তি পেলেই কি তুমি খুশি হবে?

আমি তো আবার তোমাকে বিয়ে করে তোমার জীবন টা ধ্বংস করে দিয়েছি, শেষ করে দিয়েছি তাই না?

আদির জরিনার মুখের দিকে তাকিয়ে রাগ টা একটু পড়লো। জরিনা একদম ভয় পেয়ে কান্না করে দিয়েছে।

জরিনার চোখে পানি দেখে আদি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেল।

মিষ্টি ম্যাডাম সব দেখলেন আড়াল থেকে। আর মনে মনে বললেন,

আমাকে insult করা, আমাকে avoid করা তাই না?

কাল সবার সামনে তোমাদের এত ছোট করবো যে তোমরা তা ভাবতেও পারবে না।

যদিও দুইজন একসাথেই বাসায় ফিরলো তবুও কেউ কারো সাথে কোন কথা বলল না।

আদি গিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লো, রাতে কিছু খেলোও না।

জরিনারও আদির উপর রাগ হয়েছে, কেন ওনি আমার সাথে এমন করলো? আমি কি ভাইয়ার প্রপোজ টা একসেপ্ট করেছি নাকি? আমিও খাব না আর খেতেও ডাকবো না কাউকে।
জরিনার মন খারাপ তাই হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে।

প্রায় ২ ঘন্টা পর ওর নজর ওর পড়ার টেবিলের দিকে গেল। দেখলো সেখানে একটি চিঠি ভাজ করা আছে।

ও গিয়ে চিঠি টা খুলে পড়তে লাগলো….

জরিনা কিছু দিন ধরেই আমি কিছু কথা তোমাকে বলতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বলি বলি করেও কেমন যেন বলা হয়ে উঠছিলো না। সরাসরি বলার চেয়ে চিঠিতে লেখা বা বলা অনেক সহজ তাই চিঠিই লিখলাম।

কিছুদিন আগে তোমার আপু হঠাত আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলে। মনে অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্ব নিয়েও ওর সাথে দেখা করেই ফেললাম। পার্কে দেখা করেছিলাম।
তোমার আপুর সাথে তার হাজবেন্ডও এসেছিল।

আমাকে সব কথা ওরা খুলে বললো।

হিয়া বললো

আদি তুমি আমায় ক্ষমা করে দিও। তোমার সাথে বিয়ে হওয়ার দুই দিন আগে বাসা থেকে পালিয়ে আমি শিমুল কে বিয়ে করেছি। আমার বাবা মা, তোমাকে অনেক ছোট করেছি সবার সামনে।

জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য তবুও প্লিজ চেষ্টা করো।

সেদিন আমার কোন উপায় ছিল না। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ টি যখন আমার জন্য সুইসাইড করতে গিয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছিল তখন আমি আর সবার সম্মানের দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকতে পারিনি।

আর আমাদের বিয়ে টাও তো একে অপরকে ভালবেসে হচ্ছিল না। নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”

আমার বাবা আর তোমার বাবার মধ্যে কথা দেওয়া ছিল অনেক আগে তাই তুমি ওনার মৃত্যুর পরেও ওনার কথা রাখতে আমায় বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলে।

আর তুমিও কিন্তু পুরোপুরি ঠকোনি। জরিনা কিন্তু তোমায় অনেক পছন্দ করে। আমাদের তিন জনের একসাথে কাটানো অনেক ভালো সময় ছিল। জরিনা কিন্তু সারা দিন শুধু আদি ভাইয়া আদি ভাইয়া করতো।

তোমার প্রশংসা সারাদিনই করতো।

আর বলতোইস আমার বর টাও যদি আদি ভাইয়ার মতো এমন ভালো হতো।

আমি পালিয়ে আসার সময় যদিও ও আমার হেল্প করেছিল তবুও অনেক কেদেছিল। বলেছিলো আদি ভাইয়া কষ্ট পাবে আপি।

সত্যিই ওদের দুজনের মধ্যে অনেক ভালবাসা দেখলাম।

তাই মন থেকে ওদের ক্ষমা করে দিলাম।

আমি যতই বলতাম তোমার উপর প্রতিশোধ নেব। কিন্তু কোন খারাপ ব্যবহার তোমার সাথে করতে পারতাম না। এক সাথে থাকতে থাকতে তোমায় অনেক বেশি ভালবেসে ফেলেছি জরিনা।

জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সবই আল্লাহর হাতে।

আমি যার যোগ্য তার থেকে বেশিই প্রভূ আমায় দিয়ে দিয়েছেন। তোমায় দিয়েছেন।

আমরা কি আমাদের জীবন টা নতুন করে, আরো সুন্দর করে সাজাতে পারি না?

মনের বিরুদ্ধে যেও না। মন থেকে আমায় ভালবাসতে পারলে আমার ভালবাসার আহ্বানে সাড়া দাও।

অপেক্ষায় রইলাম,

আদি

চিঠিটা পরে জরিনার দুচোখে জল এলেও ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি দেখা দিল। ও মনে মনে ভাবলো আজ রাতে না একেবারে কাল জবাব টা দিয়ে দেব।

জরিনার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেল। ও ঘুম থেকে উঠে আদিকে বাসায় পেল না। মালি কাকার কাছে শুনলো আদি কলেজে চলে গেছে।

তাই জরিনা গোসল করে লাল সাদার সুন্দর একটা জামদানি পড়ে, হাতে লাল চুড়ি, কপালে একটি লাল টিপ, দু চোখে কাজল একে আর খোপায় বাগানের তাজা বেলি ফুলের কয়েক টা মালা পরলো আর সাথে ম্যাচিং গহনা।

আদি কলেজে গিয়ে আবার জরিনার জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। তাই গাড়িতে করেই জরিনা কলেজে গেল।

কলেজের সবাই কেমন যেন ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। ওর কেমন যেন লজ্জা করতেছিল। আর ওর কাজল কালো দুচোখ যেন সব জায়গায় আদিকেই খোজে বেড়াচ্ছে।
ও ওর ফ্রেন্ডদের সাথে প্রোগ্রাম দেখতে চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ আগেই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর আদিকে মঞ্চে ডাকা হল স্টুডেন্টদের উদ্দেশ্য কিছু বলার জন্য।

ঠিক তখনি মিষ্টি ম্যাডাম এর চামচে লিপি আর রিনা,

মাইকে বললো আমরা আজরিনাত স্যারের সমন্ধে কিছু বলতে চাই।

আজরিনাত স্যার একজন মিথ্যেবাদী। ওনি বিবাহিত। আর জরিনা হচ্ছে ওনার স্ত্রী।

ওদের কথা শুনে সবাই কানাকানি করতে লাগলো।

তখন আদি মাইকের সামনে গিয়ে বলল

হ্যা আমি বিবাহিত। জরিনা আমার স্ত্রী। কিন্তু জরিনা আমায় ইচ্ছে করে বিয়ে করেনি। ও পরিবারের চাপে বাধ্য হয়েই আমায় বিয়ে টা করেছে। ও এখনো ঠিক তোমাদের মতোই আছে নিষ্পাপ, সরল। ও এখনো তোমাদের মতোই handsome কোন ছেলে দেখলে ক্রাস খায়। ওর দুচোখে বড় হওয়ার অনেক স্বপ্ন আছে।

ওর জীবনটা গুছিয়ে নেয়ার আগে তাই আমি আমাদের বিয়ের কথা কাউকে জানাতে চাই নি।

আমি চাইনি কেউ ওকে নিয়ে কোন কটু কথা বলুক।

আর এতে জরিনার কোন দোষ নেই।

বিয়ে, সংসার জিনিস গুলা কি তাই ও ভাল করে বোঝে না।

প্লিজ সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন।

এবার আর জরিনা চুপ করে না থেকে মঞ্চে উঠে গেল।

জরিনা বললো,

ভালবাসা, সংসার, বিয়ে সত্যিই আমি জানতাম না। কিন্তু আপনার সাথে দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া করতে আমার ভালো লাগে। আমি অসুস্থ হলে আপনি যখন সারারাত না ঘুমিয়ে আমার সেবা করেন সেটাও আমার অন্তর কে স্পর্শ করে।

আপনি সব সময়ই সবার খারাপ নজর থেকে আমায় আগলে রেখেছেন।

আমার বাবা মার পরে কেউ যদি আমার ভালো চায় সেটা আপনি।

কাল পর্যন্তও আমার অনুভূতিটা আপনার জন্য ছিল আমার অচেনা। কিন্তু আজ আমি বুঝতে পেরেছি এটা ভালবাসা।

আমি আমার স্বামী কে অনেক ভালবাসি। আর হ্যা আজরিনাত স্যার ই আমার স্বামী। আর এ কথা বলতে আমি মোটেও লজ্জিত না।

সব স্টুডেন্টরা hug hug বলে চিৎকার করতে লাগলো আর সাথে স্যার রাও।

আদি জরিনার কপালে চুমু দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলো আর জনতা হাত তালি দিল।

সমাপ্ত

আরও পড়ুন – ছাত্রী যখন বউ

Related posts

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১০ | Love Story

valobasargolpo

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১১ | Love Story

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!