ভালোবাসার গল্প

তোমাকে আমার চাই – বর্তমান প্রেমের গল্প

তোমাকে আমার চাই – বর্তমান প্রেমের গল্প: অণু যত চিৎকার করছে ছায়াটা তত পাশে আসছে। অণুর সামনে এসে অণুর মুখ চেপে ধরলো। ছায়া দেখে বুঝা গেল ছায়াটা একটা লোকের।


পর্ব ১

অণুকে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো ১২টা। অনিক ১ঘন্টা ধরে অণুকে ভোগ করে চলছে। অণু চিৎকার করছে কিন্তু অনিক অণুর মুখ চেপে ধরেছে। ধর্ষণের পর অনিক এদিক ওদিক দেখে বাসা থেকে চলে গেল। অণু মুখ ভোজে কান্না করছে। তার যেন সব ধ্বংস হয়ে গেছে।

অণু এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে, অণুর মা- বাবা দুইজনই প্রফেসর।
অনিক মাস্টার্স কমপ্লিট করছে। অনিকের বাবা শহরের বড় ব্যবসায়ী।

গল্প শুরু হয় যখন অনিকের বন্ধু অমর অনুর বন্ধু কে লেটার দেয় আর সে দোষে অনিক কে অণু থাপ্পড় মারে রাস্তায় সবার সামনে। সেদিন থেকে অনিক মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিল অণু সে এক রাতের জন্য করে ছাড়বে। আজ সে অণু থেকে বদলা নিয়ে ছাড়লো।

অণু পরেরদিন তার জন্য যেন শরীর ভারি লাগছিল উঠারও শক্তি খোজে পাচ্ছিল না। অণু পুরো রাত কেঁদেছে। অনিক সকালে সিগারেটের সুখ টান দিচ্ছে। আব্বু আসার সাথে সাথে অনিক সিগারেট নিচে ফেলে দিল।

আব্বুঃ আমাকে দেখে তুই সিগারেট ফেলে দেস জানি!
অনিকঃ আব্বু কই না তো!
আব্বুঃ এসব নাটক করার লাগবে না! কাল রাত তুই কোথায় ছিলি!
অনিকঃ লেইট হয়ে গেছিল তাই একটা বন্ধুর বাসায় থেকে গেছিলাম!
আব্বুঃ নাস্তা করছোস?

অনিকঃ না মাত্র এলাম!
আব্বুঃ হাত- মুখ ধুয়ে নেয়!
অনিক গিয়ে হাত- মুখ ধুতে গেল। অণু অনেক বেড থেকে উঠে বাথরুমে গেল। অণু আয়নার দিকে তার মুখ দেখছে তার যেন ঘৃণা হচ্ছে তার। অনিক মুখে পানি মেরে আয়নায় থাকালো মুখ নকের আছড়ের দাগ যা কাল অনুর সাথে জোরাজোরিতে অণু নকের আছড় মেরেছে।

অনিক আছড়ে একটু হাত বুলিয়ে বার বার দেখছে। অনিক মুখটা দেখে একটা ঘুষা আয়নায় মারলো আয়না সঙ্গে ভেঙে গেলে কিন্তু অনিকের হাতটা কেটে রক্ত বের হচ্ছে। অনিকের সেদিকে খেয়াল নাই।
অণু বাথরুমে ফুটে ফুটে কান্না করছে। অনিকের হাতে নকশা ব্যান্ডেজ করছে নকশা তাদের ঘরে কাজ করে। অনিকের ছোট বোন নিলু তাকে খাইয়ে দিচ্ছে।

নিলুঃ ভাইয়া তোমার হাত কাটলো কেমনে?
অনিকঃ তোকে বলতে হবে!
অনিক রাগে ভরা গলা শুনে নিলু চুপ হয়ে গেল।

অনিকের ব্যান্ডেজ করে নকশা প্লেট নিয়ে গেল। অনিক বেডে শুয়ে মোবাইল টিপছে।
অণু বিছানায় ছুয়ে আছে আব্বা- আম্মা জানলে অণুকে ঘর থেকে বের করে দিবে। অণু যেন নিজের ভিতর মারা যাচ্ছিল।

অনিক মোবাইলে কথা বলছে অশ্লীল গলায় আর সিগারটের মুখে দিচ্ছে। তার যেন আজ শান্তি লাগছিল। অণু যেদিন তাকে থাপ্পড় মেরেছিল সে দিন রাতে অনিক জেগে জেগে প্লেন করেছিল। অনিক হিংস্র হাসি দিয়ে বলল “শালী কিন্তু টোটালি মাল”
অণু পুরো দিন বেডে কান্না করেছে। অণুর মা- বাবা নানুরবাড়ি গেছে কাল এসে যাবে।
সন্ধ্যায় অনিক চায়ের দোকানে অমরের সাথে কথা বলছ।

অনিকঃ ভাই বুঝলি অনেক ঝাপটাঝাপটি করছিল কিন্তু চেপে ধরে মজা নিছি!
অমরঃ অনিক এটা তুই ঠিক করলি না!
অনিকঃ কি ঠিক করিনি?

অমরঃ মেয়েটা ভবিষ্যৎ তুই নষ্ট করে দিছোস নিজ হাতে। আল্লাহ কখনো তোকে মাফ করবে না। মেয়েটার অভিশাপ সারাটা জীবন বহন করবি তুই!

অনিকঃ এই ভাষণ দিস না যতসব! এগুলো বুঝতে হবে না আমার!
অনিক কথাগুলো চলে এল আর নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল। অণু আর সহ্য করতে পারছে না। এ জীবনটা নিয়ে সে বাঁচতে পারবে না। অনিক সিগারেট মুখে নিয়ে ভাবছে সত্যি কি সে জানোয়ার হয়ে গেছে একটা জীবন সে নষ্ট করেছে। অনিক ভাবছে আর এদিক ওদিক পাইচারি করছে।

না মেয়েটা ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দিবে না। সে পথ পাড়ি দিল অণুর ঘরের উদ্দেশ্য। অণু নিজের হাতের রক কেটে ফ্লোরে কাতরাচ্ছে। ১৫মিনিটে না নিয়ে গেলে অণুর মৃত্যু হবে।


পর্ব ২

অনিক দরজায় বেল বাজালো কিন্তু কেউ এল না দ্বিতীয় বার বেল বাজালো কেউ এলোনা। নিজের রাগ কমিয়ে তৃতীয় বার বেল বাজালো তবুও কেউ এল। অনিক রাগ বেল ঘুষা মারলো বেল ভেঙ্গে গেছে। অনিকের হাতে দুইটা আঙুল ভেঙে রক্ত বের হচ্ছে।
অনিক রাগে মুখে চলে যাচ্ছিল কিন্তু কিছু পড়ার আওয়াজ শুনে কাল যে জানালা দিয়ে চোরের মত ঢুকেছিল সে জানালায় দিয়ে ঢুকলো। অণুর রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অণু ভিতর থেকে আটকা পড়েছে।

অণু ফ্লোরে গড়াগড়ি করছে তার যেন নিশ্বাস শেষ হয়ে আসছিল। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছিল। অণুর কাছে তার মা- বাবার সাথে সবচেয়ে সেরা দিন গুলো মনে করছিল। অনিক হাতের বাহু দিয়ে দরজার লকটা ভাঙলো।
অনিক নিচে রক্ত তাতে অণু গড়াগড়ি করছে। অনিকের চোখে সামান্য জল। অণুকে অনিল নিজের কাধে সাহায্যে দরজা পর্যন্ত নিয়ে গেল।

অণুর পুরো শরীর রক্তে ভরা। অনিকের ভিতরে যেন চিন চিন করছিল। অনিল বাইকে অণুকে নিজের পিঠে বেধে রেখেছে।
১০মিনিটে অনিক অণুকে হসপিটাল পৌছালো। অনিক বাইরে থেকে টেনশন করছে যদি মেয়েটা আজ মারা যায় তাহলে সে নিজেকে কখনো মাফ করবে না।

ডাক্তার বলে দিয়েছে অণুর বাঁচার চান্স ৫০/৫০। অনিক প্রথমবার আল্লাহর দরবারে কেঁদে অণুর জান ভিক্ষা চাইলো। তাকে কোনো কিছুর জন্য জীবনে কাদতে হয়নি যা চেয়েছে তা আব্বা চোখের পলকে দিয়েছে।
১ঘন্টা পর ডাক্তার অপারেশন হল থেকে একটা মুছকি হাসি নিয়ে বের হল। অনিক জোরে নিশ্বাস ফেলল এতক্ষণ যেন তার দম বন্ধ ছিল।

ডাক্তারঃ আল্লাহ রক্ষা করেছেন শেষ মিনিটে যদি না আনতে তাহলে মারা যেত!
অনিকঃ আল্লাহর কাছে অনেক শোকর! চোকর আলহামদুলিল্লাহ!
ডাক্তারঃ কিন্তু মেয়েটা নিজের রক কেন কাটতে গেছিল!
অনিকঃ নিশ্চুপ!
ডাক্তারঃ প্রেসেন্ট কে একটু রেস্ট নিলে নিয়ে যেতে পারেন! আর হ্যা হাতের ভারি কাজ গুলো যেন না করে! রেস্ট, ওষুধ আর খাবার খেলে জলদি ঠিক হয়ে যাবে!

অনিকঃ আচ্ছা ডাক্তার!
সকাল ৫টা বাজে….
অনিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা আর অণুর জন্য দোয়া চাইতে গেল। নামায পড়ে অনিক কিছু ফল আর ওষুধ কিনে নিল।
অনিক জানে অণু কখনো তার হাত থেকে ফল আর ওষুধ খাবে না তাই নার্স কে দিয়ে দিল খাওয়াতে।
অনিক বাইরে বসে আছে।

অণু জ্ঞান ফিরে এল। কিছুক্ষণ আগে যা হয়ছে তা তা সব মনে আছে কিন্তু কে তাকে নিয়ে এসেছে সেটা জানে নাঅণি নরম গলায় নার্স কে জিজ্ঞেস করলো,
অণুঃ আমাকে কে এনেছে?

নার্সঃ তোমাকে একটা ছেলে নিজের ভাঙ্গা হাতে কাধে করে আনছে ভাঘ্য ভালো তোমার লাস্ট মিনিটে এনেছে না হলে তুমি এ দুনিয়া থাকতে না! নাও আপেলটা খেয়ে ওষুধ গুলো খাইয়ে নাও!
অণুঃ ছেলেটা একটু ডাকবে!
নার্সঃ দাড়াও

অনিক বাইরে দাড়িয়ে আছে নার্স তাকে ভিতরে ডাকতে অনিক কে অণু দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল। মুখটা যেন লাল হয়ে আছে। জল ঝড়ে পড়লো।
নার্সঃ এ ছেলে বা থাকলে আজ তুমি থাকতে না!
অনিক মুখ নিচু করে আছে। অণু ভাবছে এ ছেলেই আমার জীবন ধ্বংস করছে। আমার মত মেয়ে আত্মহত্যার মত জঘন্য রাস্তা বেছে নিয়েছে।

আসলেই হয়তো সমাজের ভয়ে মেয়েরা তাদের মা- বাবা কে বলতে পারে না। এ বুঝে যে মা- বাবার সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। মা- বাবাকে তার ছেলে- মেয়েদের বুঝা উচিত।

অনিক বুঝতে পেরেছে অণু তাকে দেখতে চাই না তাই সে নিজেই বের হয়ে গেল। হসপিটালের সামনে একটা টংঙের দোকান। সেখান থেকে অনিক একটা সিগারেট কিনলো।
বাতাসে সিগারেটের ধোয়া উড়িয়ে অনিকের ব্রেন কাজ করে। এরকম সিগারেটের নেশা হয়ে গেছে অনিকের।

অনিক হসপিটালে ঢুকতে তার থেকে সিগারেট বাজে গন্ধ বের হচ্ছে। অনিকের মুখে সেন্টার ফ্রুট। অনিক দরজা হালকা খুলে দেখে অণু ঘুমাচ্ছে।
অনিক বাইরে বসে রইলো। মোবাইল টিপছে, হঠাৎ আব্বুর ফোন এল,
আব্বুঃ অনিক তুই কই?

অনিকঃ আব্বু একটা বন্ধু হসপিটালে তাকে দেখতে আসছি!
আব্বুঃ আচ্ছা সাবধানে থাকিস!
অনিকের ঘড়িতে ১২টা বাজলো। ক্ষিধায় অনিকের পেটে ছু ছু করছে। হসপিটালের একটু দূরে রহমান হোটেল সেখানে অনিক প্রবেশ করলো। সব একটা থেকো একটা পেটুক হোটেলে। হোটেলে বসার জায়গা তেমন ঠিক না। হোটেলের অবস্থা দেখে বুঝা যায় হোটেলের খাবার কেমন?

হোটেল থেকে বের হয়ে এল অনিক। রাস্তার পাশে ফুচকা বিক্রি করছিল। অনিক ফুচকার দোকানের টোলে এক পাশে বসলো। অনিক ছাড়া কোনো কাস্টোমাট নেই।
ফুচকাওয়ালার মুখে পান ছিল। পানের পিছকারি ফেলে জিজ্ঞেস করলো,
ফুচকাওয়ালা- কি খাবেন?

অনিক – ফুসকা!
ফুচকাওয়ালা- কত টাকা? ২০টাকা/৪০ টাকা /৫০টাকা?
অনিকঃ ৫০টাকার দাও!
অনিক ফুচকার অপেক্ষায় রৌদ্রে মাখা বিকেলে বসে আছে।


পর্ব ৩

অনিক ফুসকা কয়েকটা খেয়ে যেন তার জাল লাগতে শুরু করলো। চোখ মুখ লাল হয়ে গেল অনিকের। কিছু প্যাক করিয়ে টাকা মিটিয়ে হসপিটালে আসছিল।
রুমে ঢুকতেই অণুকে রুমে পাওয়া গেল না। অনিক হসপিটালে চারিদিকে খুজলো কিন্তু কোথায়ও পেল না। না পেয়ে শেষে অনিক বুঝতে পারে অণু হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় চলে গেছে।

ফুসকা গুলো একটা ছোট বাচ্চা কে দিয়ে হসপিটালের ক্যাস কাউন্টারে গেল।
অণুর হসপিটালের বিল দিয়ে অনিক নিজ বাসার দিকে রওনা দিল। অনিক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। নকশা দৌড়ে গিয়ে পানি এনে দিল অনিক কে।

অনিক এক নিমিষেই পানি শেষ করে ঘাম ভরা শরীর সোফায় এলিয়ে দিল। নিলু আসলে তাকে জিজ্ঞেস করে,
অনিকঃ আব্বু কোথায়?
নিলুঃ আব্বুকে দরকারে মিটিং এ যেতে হয়ছে!

অনিক নিজের রুমের ওয়াশরুমে সাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে তার খারাপ অতীতের কথা ভাবছে। কিছুক্ষণ পর অনিক বেডে শুয়ে রইলো কিন্তু ঘুম যেন আসলো না। অপরাধ করলে নিজেকে অপরাধী লাগে। তেমনি অনিক নিজেকে ভাবছে।
নিলু দরজায় টুকা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো খাবার খাবে নাকি?

অনেক অসহ্যকর গলায় অনিক উত্তর দিল খাওয়ার মোডে নাই।

অনিক তড়িঘড়ি করে বাসায় থেকে আবার বের হয়ে গেল। এখন গন্তব্য মসজিদে, আসরের নামাজ পড়ে অনিক একটা কবরের পাশে গিয়ে অনেকক্ষণ কান্না করলো। কবর থেকে সোজা বের হয়ে অণুর বাড়িতে।

অণু বেড রেস্ট করছে। অণু ভেবেই নিয়েছে জীবনে সে কখনো বিয়ে করবে না। ভাঙ্গা কলিন বেলে বেল না দিয়ে চোরের মত ঘরে ঢুকলো অনিক। অণু বেড রেস্ট নিচ্ছে দেখে অনিক কিচেনে গেল গরম স্যুপ বানাবে বলে।
অনিক উপরে উঠতেই দেখে হঠাৎ দরজায় কে যেন টুকা দিল। অনিক দরজা ছেদ দিয়ে দেখে অণুর মা- বাবা। ধরা খেলে অনিক কে আস্ত রাখবে! পালানোই বেটার!

অনিক তাড়াতাড়ি স্যুপের বাটি অণুর পাশে রেখে জানালা দিয়ে পালালো। অণু তার অসুস্থ শরীর নিয়ে দরজা খুলতে গেল। জ্বরে অণুর শরীর গরম হয়ে আছে। দরজা খুলে অণু সোজা তার মায়ের বাহুর উপর গিয়ে পড়ে গেল।
অণুর আর কিছু মনে নাই!

অনিক হাঁপাতে হাঁপাতে সিএনজিতে উঠে বসলো। সিএনজি ওয়ালা দয়া বান হয়ে পানির বোতল এগিয়ে দিল অনিক কে। অনিকের খালি পেটে অনেক জ্বালা করছে
ফুচকার জন্য আরও অনেক জ্বালা করছে।

অণু চোখ খুলতে দেখে আম্মু তার পাশে জল পট্টি করছে। জ্বরে অণু নরম গলায় মা কে জিজ্ঞেস করলো,
অণুঃ তোমরা কবে এলে?
আম্মুঃ এটা তোকে জানতে হবে না! তুই শুয়ে থাক!
অণু নিরব হয়ে শুয়ে রইলো। এখন কথা বলতে হবে সেটা অণু জরুরি মনে করে না।

অনিক চায়ের দোকানে বসলো। আকাশে কালো মেঘে আবসা হয়ে আছে। চায়ের সাথে একটা বন অর্ডার করলো অনিক।
অনিক বন মুখে পুড়বে তখন পাশে দেখলো একটা ছোট বাচ্চা। পেটটা জ্বীর্ণ শীর্ণ হয়ে আছে। পরণে শুধু একটা ফাটা প্যান্ট। তার মা তার ছোট ভাইয়কে চুপ করাচ্ছে। হয়তো মা খাবার পাইনি তাই ছোট বাচ্চা টা দুধ পাচ্ছে না।

অনিক বাচ্চা টাকে বনটা এগিয়ে দিল। প্রথমে বাচ্চা টা নিতে না চাইলেও পরে অনিকের হাসি ভরা মুখ দেখে নিয়ে নিল। বাচ্চাটা দৌড়ে গিয়ে তার মা কে দিয়ে দিল। মহিলাটা দূর থেকে তার জন্য দোয়া করলো। অনিক বাচ্চা টাকে ডাক দিল। বাচ্চা টা আরেকটা দিবে আশা করে অনিকের কাছে দৌড় দিল।
অনিকঃ তোর নাম কি?

বাচ্চাঃ জামাল!
অনিকঃ কোন ক্লাসে পড়িস!
জামালঃ মুই রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষে করি।
অনিকঃ আর তোর মা!

জামালঃ মাও ভিক্ষে করে!
অনিকঃ আজ থেকে তুই পড়বি তোর পড়ার খরচ আমি দিব!
জামালঃ মুই পড় মো না!
অনিকঃ কেন?

জামালঃ পড়লে মোর মা কি ভাবে থাকবো মা ছাড়া মুই থাকতে পারি না!
অনিকঃ তুই তোর মা এর সাথে থাইকা পড়বি!
অনিকঃ সত্যি প্রতিদিন ডাব রুটি(বন)পাবো?
অনিকঃ হুমম শুধু বন না এ চেয়ে ভালো খাবার খাবি! কিন্তু!
জামালঃ কিন্তু কি?

অনিকঃ তোকে পড়তে হবে!
জামালঃ আচ্ছা ভাইয়া!
জামাল অনিককে হাত ধরে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেল। অনিক জামালের মাকে সব বলে। জামালের মা সংকোচ করলেও অনিকের মুখ দেখে না করতে পারলো না।

পর্ব ৪

অণুর যেন অসুখ কমলেও দূর্বলতা রয়েই গেছে। আম্মু অণুর পাশে বসে বসে জিমাচ্ছে। অণুর উঠার আবাস পেয়ে আম্মু বলে উঠলো,
আম্মুঃ ওয়াশরুমে যাবি?
অণুঃ না!
আম্মুঃ কিছু লাগবে?

অণুঃ না আমি ওয়াশরুমে যাব, না আমার কিছু লাগবে, আমার শুধু শান্তি লাগবে!
আম্মুঃ এত রাতে শান্তি কোথায় পাবো! এখন তো সব দোকান বন্ধ! কাল তোর আব্বুকে বলবো এক কেজি তাজা শান্তি আনতে!
অণুঃ আম্মু মজা কর না তো!

আম্মুঃ মজা তো তুই করছিস! তোর অসুখ হয়েছে তোর যত্ন না নিয়ে আমি ঘুমাবো না! আর আমার ঘুমও হবে না!
অণুঃ আম্মু তোমরা না কাল আসতে ছিলে?
আম্মুঃ তোর আব্বু তোকে দেখার জন্য মরে যাচ্ছিল। যত দিন ছিলাম ততদিন শুধু তোর কথা সবার কাছে নিয়েছে!
অণু হালকা হাসলো। যে মেয়ে প্রতি সেকেন্ডে হাসতো সে মেয়ে এখন হাসে না বললে চলেই।

আম্মুঃ তুই বস তোর জন্য গরম কফি আনি মন আর শরীর দুইটাই ঠিক হয়ে যাবে। আম্মু কিচেন রুমে গেল। অণু গতকাল রাতের কথা ভাবছে। যে বেহায়া, জানোয়ারের জন্য সে জান দিতে গেছিল সেই জানোয়ার আবার তাকে বাচিয়ে কষ্ট দিচ্ছে। সে কি আমাকে কষ্ট দিয়ে মারবে? আমি তার কি ক্ষতি করেছি।

অণুর চোখ মুখ লাল হয়ে চোখ দিয়ে আলতো জল গড়ে পরলো। আম্মু আসতেই অণু চোখের জল বাহু দিয়ে মুছে ফেলল। দুইটা জান অণুর জানের ওপর নির্ভর, একটা তার মায়ের আরেকটা তার বাবার।
অনিক বাসায় ঢুকতেই আব্বু জিজ্ঞেস করলো,

আব্বুঃ কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
অনিকঃ আব্বু যে বন্ধুর এক্সিডেন্টে হয়ছিল না তার মা কে আমরা দেখতে গেছিলাম!
আব্বুঃ ধর তোর বন্ধু দেখতে গেলে কিছু ফল নিয়ে গেলে টাকা! কিন্তু এগুলো দিয়ে সিগারেট খাবি না!
অনিক – আচ্ছা বাবা!

ছোট থেকে সিগারেটের সাথে মিথ্যা বলার অভ্যাস অনিক করে রেখেছে যার জন্য আব্বুর কাছে তার মিথ্যা বল সহজ হয়ে পড়েছে।
অনিক নিজের রুমে ভাবছে অণুর জীবন যেরকম সে নষ্ট করেছে তেমনি অণুর স্বপ্ন পূরণে সে সাহায্য করবে।
অনিক যখন এসব ভাবছিল অণু যেন অনিক কে দুনিয়ার নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে ভেবে নিয়েছে।

সকালে অণু ঘুম থেকে উঠলো। শরীর একটু ঠিক আছে। মা- বাবা দুইজন অণু থেকে জিজ্ঞেস করেছে হাতের পট্টি টা কিসের। অণু মিথ্যা কথা বলে কাটিয়েছে।
অণুর বান্ধবী অানিকা তাকে দেখতে আসছে।

আনিকাকে সব কথা শেয়ার করলেও গতকালের ঘটনা একদমই অানিকা কে বলা যাবে না।
অণু সবার কাছে মত হয়ে আসতে চেষ্টা করছে। কিন্তু খারাপ অতীত টা বার বার বাধা দিচ্ছে। আনিকা অণু বিদায় দিয়ে রুমে একলা বসে আছে।
কিন্তু তার এখন দরকার কাউকে কাছে পাওয়া। তাকে সব বলে নিজের মনেট ভার কমানো।

পর্ব ৫

আম্মু এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে,
আম্মুঃ কিরে তোর সাথে খারাপ কিছু হয়ছে?
অণু হকচকিয়ে বলল,
অণুঃ কই না তো!

আম্মুঃ তো মন মরা থাকছ কেন? কোন জগৎ এ থাকস! আগে তো তোকে জোর করেও চুপ করা যেত না! এখন বাক প্রতিবন্ধী হয়ে থাকছ।
অণুঃ বললাম না! কিছু হয়নি!
আম্মু অণুর কথা শুনে মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিল। অণুর নিজেরও একটু খারাপ লাগলো।
অণুঃ দরজা আটকিয়ে যাইও!
অণুর যেন অন্ধকারটা ভালো লাগে। দরজা- জানালা সব বন্ধ থাকে। রাতে খারাপ কিছু স্বপ্ন প্রতিরাতে তাকে আঘাত করে ঘুমাতে দেয় না।

অণু যখন বাসায় কারাবাসে অনিক বাইরে যেন তার পাপের জন্য তিলে তিলে মরছিল। দিনে যেখানে ১টা সিগারেট দিয়ে চলতো সেখানে ২টা সিগারেট না হলে তার মাথা খারাপ হয়ে যায়।
এমনকি অনিক তার প্রিয় মোবাইল, ঘড়ি বিক্রি করে দিয়েছে সামান্য সিগারেটের আশায়। রাতের অন্ধকারে সামান্য লাইট জ্বলে ওঠলো অণুর রুমে।
অণু বলে উঠলো কে ওখানে? আম্মু! আব্বু!

অণু যত চিৎকার করছে ছায়াটা তত পাশে আসছে। অণুর সামনে এসে অণুর মুখ চেপে ধরলো। ছায়া দেখে বুঝা গেল ছায়াটা একটা লোকের। লোকটার স্প্রে অণুর চিনা কিন্তু তার মনে পড়ছে না।
অণুর মুখ চেপে ধরার কারণে অণুর দম বন্ধ হয়ে আসছিল তাই অণু সর্ব শক্তি দিয়ে লোকটাকে ধাক্কা মারলো।
লোকটা সোজা ফ্লোরে পড়ে গেল আর লাইট জ্বলে ওঠলো। আরে মুরাদ ভাইয়া!
মুরাদঃ জোর ধাক্কা দিলি কেন?

অণুঃ বাহ তুমি আমার মুখ চেপে ধরবে আর আমি দেখে থাকবো!
আব্বুঃ তোরা ছোট থেকে এরকম!
আম্মুঃ দুইজন দুইজন কে সহ্য করতে পারিস না!
মুরাদঃ অনেক বছর পর অণুর সাথে দেখা তাই বুঝলাম তাকে সারপ্রাইজ দি!
আম্মুঃ মুরাদ তাই ফ্রেশ হয়ে আয় তোর সাথে কত গল্প করার ছিল!

মুরাদ অণুর চাচাতো ভাই আর অণুর ছোট বেলার ক্রাস। প্রোপোজ করেছিল অণু কিন্তু মুরাদ পড়ালেখার চাপে নাখোশ করে দেয়। তাই আজ মুরাদ সাইকোলজিস্ট।
মুরাদ কে দেখে অণু হালকা নিজের হাসি খুজে পেল। অণুর অন্ধকার ছন্ন দুনিয়া যখন আলো খুজে পাচ্ছিল। এদিকে অনিক যেন নেশায় মগ্ন।

অনিকের বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনিক কে তিনি তার কোম্পানি ম্যানেজার বানালে হয়তো অনিক দায়িত্ব বান হয়ে উঠবে। এসব নেশা দায়িত্বের নিচে চাপা পড়বে।
অনিক নিজের রুমের বিছানায় বসে আছে। জানালা দিয়ে পূর্ণিমার আলো ভালো বুঝা যাচ্ছে। আব্বু আসার শব্দ শুনার পরও অনিক সিগারেট নামালো না। ছেলেটার দিন দিন সাহস বেড়ে চলছিল।

আব্বা মাথা ঠান্ডা করে বলল,
আব্বুঃ তোর সাথে কিছু কথা বলার ছিল!
অনিকঃ কি বলবে বল!
আব্বু – তুই কালকে থেকে আমার অফিসের ম্যানেজারে যোগ দিবি! কিছু হলেও শিখবি আমার মরার পর কোম্পানির একটা আর্দশ মালিক লাগবে যেটা তোকে হয়ে দেখাতে হবে!
অনিকঃ কিন্তু বাবা আমি রেডি না আমার পড়ালেখার জীবন শেষ হয়নি!

আব্বুঃ এটা আমার শেষ কথা তুই কালকে থেকে অফিস জয়েন করবি না হলে আমার মরা মুখ দেখবি।
একরাতে দুইটা mystery হল। দুইজনের জীবন অন্যদিকে মোর নিল।
৯.
অনিক তার আব্বুর কথা শুনা পর্যন্ত সিগারেট টা হাতের মুটিতে ছিল যার কারণে হাত আধা জ্বলে গেছে। অনিকের এসবের খবর নেই।

রাত ১২টা অণুর মা- বাবা, অণু, মুরাদ হাসি মজা করছে পুরনো দিনের কথা মনে করে!
অণুঃ তুমাকে দাদা দাদার পয়সার ব্যাংক ভাঙার দোষে কি যে পিটুনি খেতে হয়ে ছিল পরে সবাই জানতে পারে ব্যাংকটা আমি ভাঙছি!
আব্বুঃ তোর দাদা যাকে মারে তার চামড়া আর চামড়া থাকতো না।

মুরাদঃ যা বলেছেন চাচ্চু!
এদিকে নিলু ভাত নিয়ে অনিকের রুমে ঢুকলো ভয়ে ভয়ে।
নিলুঃ ভাইয়া ভাত আনছি!

আগে নকশা ভাত আনতো কিন্তু যখন থেকে অনিকের স্বভাব বদলেছে তখন থেকে নিলু ভাত আনে।
অনিক – টেবিলে রেখে দেয়!
ভাত ১২টা বাজে আনলেও অনিক ভাত খাই রাত ৩টা বাজে। সারারাত জেগে থাকে। কিন্তু কেন যেন আজ অনিক ১২টা বাজে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

পর্ব ৬

মুরাদ কে সকালে কোথাও না দেখে অণুর মন খচকে উঠলো। পাগলের মত খোজছে তাকে। আম্মুঃ আব্বু অনেক আগে কাজে চলে গেছে।
.
অণুর মাথা বলছে সে চলে গেছে কিন্তু মন বলছে সে এখনও যায়নি। অবশেষে কোথাও না পেয়ে অণু বিছানায় শুয়ে পড়লো।
.
হঠাৎ নাক ডাকার শব্দ শুনে অণু সর্তক হয়ে গেল। শব্দটা বিছানার নিচ থেকে আসছে। অণু ঝাড়ু নিয়ে বিছানার নিচে উুখি মারলো।
.
আর মুরাদ যে!
.
মুরাদ বেবি মুখটা দেখে অণু যেন গলে গেল। মুগ্ধ হয়ে দেখে আছে। পরক্ষণে তার মনে পড়লো মুরাদ বিছানার নিচে ঘুমোচ্ছে কেন?
.
মুরাদ কে খাটের নিচ থেকে টেনে অণু তাকে জাগালো। অণুর অনেকক্ষণ ডাকার পরও মুরাদ যেন উঠছেই না। সোজা এট্যাক কানে।
.
অণুর চিৎকারে মুরাদের কানের পর্দা ফেটে গেল। মুরাদ ৩সেকেন্ড কিছু শুনেনি।
মুরাদঃ চিৎকার করছিস কেন? কান টা ফেটে গেছে!
অণুঃ তুমি উঠছিলেই না তাই এ উপায়টাই আমার উত্তম লাগলো!
মুরাদঃ তো একটু আদর করে ডাকবি!

অণুঃ আমি কি তোমার বউ নাকি যে আদর করে ডাকবো!
মুরাদঃ তুই চাইলে পারিস!
অণুঃ কি?
মুরাদঃ কিছু না!
.
মুরাদ কি বললো তা অণু বুঝলোই না।
.
সকাল ৮টা বাজে অনিক অফিসের যাওয়ার জন্য উঠে গেছে। হয়তো কাল আব্বুর কথা কাজ করেছে। অনিক থেকে তার বাবা বাইকটা নিয়ে নিয়েছে। এখন থেকে সে বাস করে যাবে।
.
বাসে কষ্ট করে গেলে বুঝবে টাকা কত কষ্ট করে আসে। যখন কষ্টের টাকা দিয়ে একটা চকলেট খেলেও গর্ব হবে।
.
অনিক প্রথম দিন বাসে দাঁড়িয়ে আছে। এসব জীবন সে কখনোই করেনি। কিন্তু অভ্যাস হয়ে যাবে যে।
.
সকাল ৯টা বেজে গেছে। অলরেডি ৩০মিনিট লেইট হয়ে গেছে
অনিক আরাম করে অফিসে যাচ্ছে। বাপের অফিস বলে কথা।
.
আব্বু রাগে ফুলতাছে নিজের ছেলেই একটা লেইটলতিফ। আজ শাস্তি না দিলে অনিক শুধরাবে না।
.
অনিক বাবার অফিসে এসে বলল,
অনিকঃ আব্বু আসতে পারি?
আব্বুঃ এখানে আমি তোমার আব্বু না, এখানে আমি তোমার বস! ইউ আর আন্ডার স্ট্যান্ড!
অনিকঃ জ্বি আব্…..বস!
আব্বুঃ আজকে ৩০মিনিট লেইট কেন?

অনিকঃ আব্……বস আজকে আমার বোনের জন্য লেইট হয়ছে!
আব্বুঃ কেন?
অনিকঃ নাস্তা দিতে লেইট করছে!
আব্বুঃ কাল থেকে নাস্তা কর বা না কর চাকরিতে সঠিক টাইমে আসবে, না হলে ৫০০টাকা কাটবো বেতন থেকে!
.
অপমানিত হয়ে অনিক নিজের ক্যাবিনে বসে থাকলো।
.
মুরাদের সাথে টিভিতে গেম খেলছে অণু।
.
মুরাদঃ অণু তোকে হারাতে আমার ২মিনিটও লাগে না!
অণুঃ যাহ! আমি তো তোকে জিততে দিয়! হারার পর কাদবি বলে!
মুরাদঃ আবে চাল! লোজার!
অণুঃ আমি লোজার না!
মুরাদঃ লোজার! লোজার! লোজার
.
অণু মুরাদের পেছনে দৌড়াচ্ছে। হঠাৎ পা পিছলে অণু মুরাদের গায়ে গিয়ে পড়লো। দুইজনের হালকার জন্য লাগেনি।
.
হঠাৎ অণু লজ্জায় লাল হয়ে অন্য রুমে চলে গেল। মুরাদ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। তার যেন মাথা ঘুরে উঠলো। অণু মুখে পানি মেরে ছাদে চলে গেল।
.
অনিক ঘাম ঝরিয়ে বিকেলে লান্জ ব্রেকে বসে আছে। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে অনিক টিফিন আনতেই ভুলে গেছে। খালি পেটে বসে আছে।
.
পকেটে লাস্ট ৫টাকা ছিল সেটা দিয়ে একটা আচার কিনে চাবাচ্ছে। একটা সেন্টার ফ্রুট রাখছে সন্ধ্যা খাবে বলে।
.
অণু ছাদে দাড়িয়ে সূর্যের আলোর খেলা দেখছে। পিছনে মুরাদের গলা শুনে পিছনে তাকালো।
.
মুরাদঃ কিরে সূর্য দেখছিস যে?
অণুঃ কতদিন ছাদে আসিনি! আমি আসি না বলে ছাদ তালা বদ্ধ থাকে! আব্বুঃ আম্মুও কাজে ব্যস্ত থাকে!
মুরাদঃ অনেক ধুলা জমেছে দেখছি!
অণুঃ হুমম কেউ আসলেই তো পরিষ্কার করবে!

মুরাদঃ আমরা দুইজন পরিষ্কার করলে কেমন হয়?
অণুঃ কিন্তু!
মুরাদঃ কোনো কিন্তু না মনে আছে গ্রামে একদিন তুই আর আমি দুইজন মিলে দাদুকে জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতে কত কষ্ট করেছি!
অণুঃ হুমম মনে আছে! দাদুর ৭১ তম জন্মদিন ছিল।
.
সূর্যের আলো ঘনিয়ে এসেছে। আকাশ কালো অন্ধকারে ঘুটঘুটে হয়ে আসছে। অনিককে আব্বু অনেক কাজ দিয়েছে যে। একবারও ঠিক মত শ্বাস নেয়নি।
.
মুরাদ আর অণু দুইজন একত্রে ছাদটা ওয়াশ করছে।
.
২০ মিনিট পর…..
.
মুরাদঃ দেখছোস পুরা সাফ হয়ে গেছে না!
অণুঃ হুমম সোনার মত চমকাচ্ছে!
.
অণু আর মুরাদ দুইজন কফি মুখে দিতে দিতে সূর্য ঢুবার দৃশ্য দেখছে।
.
রাত ৮টা অনিক ডকুমেন্টস গুলো প্রিন্ট আউট করে আব্বুর কেবিনে রেখে দিল।
আর অফিস থেকে বের হয়ে গেল।
.
অফিসের সবাই চলে গেছে। অনিক অফিসের লাইট অফ করে বের হল। ঘরে ঢুকতেই আব্বু বলে উঠলো,
আব্বুঃ গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নেয় আমরা একসাথে খাবো!
নিলুঃ কিন্তু ভাইয়া তো নিজ রুমে খাই!
আব্বুঃ শুনেসনি অনিক আমাদের সাথে খাবে!
.
অনিক নিজের ঢুকে ব্যাগটা বিছানায় রেখে ওয়াশরুমে মুখ ধুতে গেল। আয়নায় দেখে সারাদিনের কাজে রোদে অনিকের মুখটা ঘামে ভরে আছে।
.
মুখটা ধুয়ে অনিক বের হল।

পর্ব ৭

নিলু অনিকের রুমে এসে অনিক বললো,
নিলুঃ ভাইয়া তোমাকে আব্বু ডাকতেছে!
অনিকঃ তুই যা আমি আসছি!

অনিক ক্লান্ত হয়ে টেবিলে বসলো। নকশা খাবার সাজিয়ে নিলুর পাশে দাড়ালো।
আব্বুঃ তোকো যে ডকুমেন্টস বানাতে বলছি বানাইছোস?
অনিকঃ হুমম তোমার টেবিলে রাখছি!

অনিক আধা খাবার খেয়ে উঠে গেল। কাল রবিবার ছুটির দিন ভালো করে ঘুমোতে পারবে অনিক।
পরক্ষণেই ভাবলো কাল সে অণুর সাথে দেখা করতে যাবে। চুইংগাম চাবাতে চাবাতে অনিক বেলকনিতে বসে আছে।
অণু নিজের রুমে বসে আছে। মুরাদ হঠাৎ দরজায় টুকা দিল।
মুরাদঃ আসবো?

অণুঃ কখনো আসতে মানা করেছি!
মুরাদঃ মন খারাপ কেন?
অণুঃ না কই কিছু না তো!
মুরাদঃ তুই কি ভুলে গেছস আমি কিন্তু সাইকোলজিস্ট!
অণুঃ হুমম জানি তো কি হয়ছে!

মুরাদঃ মানুষ কখন কি ভাবে তা আমার জানা আছে! তো বল তোর সাথে এমন কি খারাপ হয়ছে!
অণুঃ এসব নাটক আব্বুর সাথে কর আমার সাথে না!
মুরাদঃ আচ্ছা কাল নাকি এদিকে মেলা হবে!
অণুঃ আমি যাবো না!

মুরাদঃ তাহলে চুরি কাকে কিনে দিব!
অণুঃ চুরি না চুড়ি! সত্যি কিনে দিবে? চুড়ি কিনে দিলে কানের দুল ও কিনে দিতে হবে!
অণুঃ আচ্ছা ঠিক আছে!
১০.
সকাল ১০টা….
অনিক রেডি হয়ে বের হল। অমরকে কাল রাত বলে রেখেছে আজ অণুর সাথে দেখা করবে!
অমর কে নিয়ে অণুর বাসার দিকে রওনা দিল।

মুরাদ আর অণু ঘর থেকে বের হতে দেখে। অনিক আর অমর চোরের মত ঝোপে লুকে পড়লো।
অনিকঃ ছেলেটা অণুর কি হবে?
অমরঃ ভাই হবে হয়তো!
অনিকঃ চল দেখে আছি!

অনিক আর অমর তাদের পিছু নিলো। মুরাদ অণু কথায় ব্যস্ত যে তারা পেছনে লক্ষ্য করলো না।
মুরাদঃ তোর পছন্দ মত চুড়ি নেয়!
অণুর- হুমম আগে দেখতে দাও!
অণুর- ভাইয়া ওই নীল আর হলুদ রঙের চুড়ি গুলো দেখান!
মুরাদঃ ছোট কালের পছন্দ নীল আর হলুদ!

অণুঃ কার পছন্দ বলে কথা! হুমম এগুলো পছন্দ হয়ছে! পড়িয়ে দেয়!
মুরাদঃ কি! নিজ থেকে পড়ে নেয়!
অণুঃ এসব আমি বুঝি না!
মুরাদঃ জিদ করা ছাড়া মানবি না?
অণুঃ না!

অনিক আর অমর দূর থেকে সব দেখছিল।
অনিকঃ আমার থেকে এখন আর সহ্য হচ্ছে না!
অমরঃ অনিক শান্ত হও রাগ করবি না একদম!
অনিকঃ আমি কিন্তু ছেলেটা কে এখন কি করবো বুঝতে পারছি না!

অনিক দৌড়ে গিয়ে মুরাদের ওপর আঘাত করতে গেল। অমর অনিকের পিছনে দৌড় দিল।
মুরাদ খেয়াল করেনি।
হঠাৎ মুরাদের ওপর আঘাত হলে সে ফিরে তাকালো। অনিক তাকে মেরে যাচ্ছে পিছন থেকে অমর তাকে ধরে রাখছে তবুও আটকানো যাচ্ছে না।

অণুর চোখে মুখে জল এসে গেল। সে মুরাদকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। আশেপাশের সব মানুষ তাদের দেখে আছে।
অনিকঃ তুই ওর সাথে কি করতেছোস! তুই শুধু আমার!
অণুঃ কখনো না! তোর মত জানোয়ারের আমি হবো না!
অনিকঃ কেমনে হবি না দেখবো!

অণু অনিকের গালে একটা জোরে থাপ্পড় মারলো যে গালে পাঁচটা আঙুলের লেগে আছে। অনিক গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
অণুঃ আমার সব তো কেড়ে নিয়েছো এখন কি চাই তোমার!
অমর অনিক কে ধরে রেখেছে। একটা জানোয়ারের শক্তি এসে গিয়েছিল অনিকের মধ্যে।
অণু মুরাদকে কাধে করে নিয়ে গেল। মুরাদের মুখে অনেক জায়গায় ছিড়ে রক্ত পড়ছে। অনিককে অমর চায়ের দোকানের বেন্ঞ্চে বসালো।

অমরঃ ওই এদিকে দুইটা চা দেয়!
অণু মুরাদ কে একটা ডিসপেনসারিতে নিয়ে গেল। মুরাদকে ব্যান্ডেজ করে বাসায় নিয়ে গেল।
মুরাদঃ ছেলেটা কে যে তার জন্য তুই কাদছিলি আর বলছিলি যে সে তোর থেকে সব কেড়ে নিয়েছে!
অণুঃ আগে ওয়াদা কর মেলায় যা হয়েছে তা আব্বুকে বলবা না!
মুরাদঃ তা না হয় করলাম কিন্তু ছেলেটা…..
অণুঃ আগে ওয়াদা কর!

মুরাদঃ আচ্ছা ওয়াদা! এখন বল!
অণুঃ বাসায় আরামে বলবো!
অনিক চুপ করে বেন্ঞ্চে বসে আছে।

অমরঃ এটা তুই কি করলি অণুর জীবনটা ধ্বংস করলি এখন সে একটু হাসি- খুশি আছে সেটাও কেন কেড়ে নিচ্ছিস!
অনিকঃ আমি কি করবো তাকে খুশি করতে! আমি কি চাইছিলাম এরকম সিন ক্রেট করতে!
অমরঃ এরকম করলে তুই কখনো অণুকে খুশি করতে পারবি না বরং অণুর ঘৃণা তোর প্রতি আরও বেড়ে যাবে! আর রাগ কন্ট্রোল করতে শিখ!

অনিকঃ (নিশ্চুপ)
মুরাদ আর অণু ঘরে ঢুকতেই আম্মু পানি নিয়ে আসলো।
আম্মুঃ কিরে মুরাদের মুখে এত ব্যান্ডেজ কেন? কোথায় ব্যাথা পেয়েছিস!
মুরাদঃ আসলে মেলায় পড়ে গেছিলাম তাই একটু ব্যাথা পাইছি!
অণুঃ আম্মু এগুলো বাদ দাও! আমাদেরকে খাবার দাও!
মুরাদঃ দিচ্ছি! একটু সাবধানে চলা ফেরা করতে পারিস না!

অণু আর মুরাদ রুমে ঢুকে ফ্যানের নিচে বসলো।
মুরাদঃ এবার বল!
অণু – একটু নিশ্বাস নিতে দাও!
অণু ঠান্ডা পানি গুলো গুটগুট করে খেয়ে ফেললো।
মুরাদঃ আমি খেলাম কই?
অণুঃ ও হ্যাঁ তুমি তো খাওনি!

একটা মুছকি হাসি দিয়ে মুখ অন্যদিকে
করে ফেলল অণু।
মুরাদঃ তুই কিন্তু এখনও আমাকে ওই কথাটা বললি না!

অণুঃ তুমি জেনে কি করবে?
মুরাদঃ কেউ যদি তোকে জ্বালাতন করে অবশ্যই আমি জানতে চাইবো ছেলেটা তোর থেকে কি চাই আর কেন তোকে এভাবে জ্বালাতন করছে!

পর্ব ৮

মুরাদঃ তুই কিন্তু এখনও আমাকে ওই কথাটা বললি না!
অণুঃ তুমি জেনে কি করবে?
মুরাদঃ কেউ যদি তোকে জ্বালাতন করে অবশ্যই আমি জানতে চাইবো ছেলেটা তোর থেকে কি চাই আর কেন তোকে এভাবে জ্বালাতন করছে!

অণু লজ্জাবোধ দেখে মুরাদ চলে গেল। অণু অনিকের আজকের পশুত্ব দেখে প্রায় ভয় পেয়ে গেছিল।

অনিক না চাইতেও সিগারেটের প্যাকেট কিনেছে। সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে সোজা ছাদে চলে গেল।

বাতাসে নিকোটিনের আসক্ত অনিক চুপ হয়ে বসে আছে। হঠাৎ ভাইয়া শুনে পিছনে দেখতে পেল নিলু খাবার নিয়ে এসেছে।

অনিকের এখন সব বিরক্ত লাগছিল। চোখগুলো লাল হয়ে আছে। নিলু অনিকের চোখ লাল হওয়া অনেক বার দেখেছে। যখন ভাইয়ার রাগ হয় তখন সব রক্ত মাথায় উঠে আসে আর ভাইয়া কি করে বসে জানে না।

নিলু বুঝতে পেরে চলে গেল। অনিক কে যত একা থাকতে দেওয়া তত ভালো। অণু আর মুরাদ দুইজনে খাবার খাচ্ছে।

অণুর এখনও অনিকের দানবের মত মুখটা মাথায় ভাসছে। মুরাদের একটু স্পর্শে অণু নড়ে উঠলো।
মুরাদঃ কিরে কোন খেয়ালে!
অণুঃ না কিছু না!

মুরাদ নিজের রুমে বসে মোবাইল টিপছে। অণু হঠাৎ দরজায় টুকা দিলে মুরাদ উঠে বসলো।

অণুঃ অসময়ে বিরক্ত করেছি!
মুরাদঃ আরে বিরক্ত কেন হবো! কি হয়ছে!
অণুঃ আমার একটু বিরক্ত লাগছিল তাই তোমার সাথে কথা বলতে এলাম! কি করছিলে?
মুরাদঃ বসে বসে মোবাইলে অনেককে ডিপ্রেশনে থাকলে তাকে এডবাইস দিচ্ছি!
অণুঃ আচ্ছা একটা কথা বলবো!

মুরাদঃ কি!
অণুঃ আমার বন্ধুও একটা ডিপ্রেশনে আছে! তাকে কি করতে হবে?
মুরাদঃ আমার কাছে নিয়ে আসিস!
অণুঃ এটাইতো মেন প্রবলেম ও এখানে থাকে না!
মুরাদঃ তো কোথায় থাকে?
অণুঃ লন্ডন!
মুরাদঃ সেখানে সাইকোলজিস্টের কমতি আছে?

অণুঃ সেখানে অনেক ডাক্তার দেখাইছে! তবুও যায়নি! বন্ধু হিসেবে সাহায্য করছি আর কি!
মুরাদঃ আমার সাথে কথা তো বলতে পারবে?
অণুঃ ও অপরিচিত কোনো পুরুষের সাথে কথা বলে না!
মুরাদঃ তাহলে আমার দ্বারা কিছু হবে না! প্রসেন্টের সাথে আমাকে নিজে কথা বললে বুঝতে পারবো ও ডিপ্রেশনে কেন আছে!

অণু মুখ ছোট করে রুমে চলে আসলো। মেঘ কালো দেখে অণু ছাদে গেল। বৃষ্টির আবাস দিচ্ছে এ ঘন ঘন বাতাস! শরীরে ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে শরীর যেন নাচে উঠছে।

হঠাৎ বৃষ্টির কণা অণুর ঠোঁটে পড়লো। অণু আকাশের দিকে মুখটা তুলে ধরলো। হালকা বৃষ্টির কণা অণুর মুখে এসে জমাট বাধছে।

আস্তে আস্তে যত বাতাস দিচ্ছে বৃষ্টিও তার গতি আর দিক বদলাচ্ছে।
এ বৃষ্টিতে অনিক ছাদের কোণায় বিনা কোনো নড়া ছড়া ছাড়া বসে আছে।

অণু বৃষ্টিতে ময়ূরীর মত পাখা মেলে নাচছে। অনিকের নাক দিয়ে টপটপ রক্ত বের হচ্ছে। অনিকের এসব খবর নেই পানির কারণে রক্ত গুলো টি- শার্টে লেগে গেল।

অনিক হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর অণু ছাদ থেকে নামতেই হোচট খেয়ে সিড়ি থেকে ৩৬০° এঙ্গেল এ পড়লো আর সোজা কবর……………….

নই কি সব যাতা বলছেন? হসপিটালের বেডে।
চোখ খুলতে আম্মুকে পাশে পেল। আব্বু আর মুরাদ দাড়িয়ে আছে। আব্বুঃ আম্মু যেভাবে মুখ ফুলিয়ে রাগি নজরে দেখে ছিল কিছুক্ষণের জন্য ভেবে নিয়েছিল অনিকের আত্মা হয়তো তাদের ভেতর ঢুকে গেছে।

আম্মুকে বলে উঠলো,

আম্মুঃ কে বলছিল ছাদে উঠতে আর উঠলেও একা কেন গেছিলি?
অণুঃ ছাদে কি কাউকে নিয়ে যেতে হবে নাকি! আর আমি আর ছোট না যে কাউকে নিয়ে যেতে হবে!
আম্মুঃ তোকে নিয়ে পারা যায় না!

অণু এতক্ষণ পাশে তাকাই নি। কিন্তু এতক্ষণ পর তাকালো!
অনিক তার বেডের পাশে শুয়ে আছে। জানোয়ারটাকে কে আমার পাশে কেন রাখছো আল্লাহ! আমি যাকে সহ্য করতে পারি না তাকেই আল্লাহ তুমি আমার আশেপাশে রাখ কেন?

অণুঃ আম্মু আমার বেড পাল্টানো যাবে না!
আম্মুঃ এক দমই না, অনেক কষ্ট তোর আব্বু এ সিটটা পাইছে!

অণুর মুখটা শুকিয়ে গেল শুকনো কাঠের মত। আম্মু বলে উঠলো,
আম্মুঃ এতক্ষণ তো পাকনা পাকনা কথা বলছিলেন এখন কি হলো?
অণুঃ ক্ষুধা!
আম্মুঃ তুই বস আমি খাবার আনি!

অণু পাশে তাকালো অনিকের চোখ বন্ধ মানে ঘুমাচ্ছে কিন্তু তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক কেন?
অনিকের পাশে তার বোন বসে আছে। অণু মুখটা যত innocent হোক না কেন? সে একটা শকুন! রাতের অন্ধকারে মানুষের সর্বনাশ করে। অণু একটু হাসলো কারণ আল্লাহ যেন অনিককে শাস্তি দিচ্ছে।

অণু অনিকের দিকে তাকাতে দেখলো কিছু নার্স অনিকের বেডকে টেনে অপারেশন হলে নিয়ে গেল।

ভালোই শাস্তি দিচ্ছে বেটাকে! আর কোনো মেয়ের যেন কুকুরটা সর্বনাশ করতে না পারে।

পর্ব ৯

ভালোই শাস্তি দিচ্ছে বেটাকে! আর কোনো মেয়ের যেন কুকুরটা সর্বনাশ করতে না পারে।
হঠাৎ অণুর জানতে ইচ্ছে হল অনিকের কি হয়ছে? অনিকের বোনকে অণু ডাক দিলো,
নিলুঃ জ্বি কিছু বলবেন?

অণুঃ আচ্ছা আপনার ভাইয়ের কি হয়ছে!
নিলুঃ আপনি কেমনে জানলেন ও আমার ভাই?
অণুঃ একটু অনুমান লাগালাম!
নিলুঃ (কান্না করতে করতে)আমার ব্ল্যাড ক্যান্সার হয়ছে!

অণুর বুকে একটু চিন চিন করে উঠলো।
অণুঃ ব্ল্যাড ক্যান্সার এ বয়সে!
নিলুঃ হুমম! প্রথমে বুঝতে পারিনি আমরা কিন্তু হঠাৎ খাবার টেবিলে যখন প্রথমে নাক দিয়ে রক্ত বের হয় তখন এ হসপিটালের ডাঃলিখন কে দেখাই! উনি রির্পোট দিলে বুঝতে পারি ভাইয়ার ব্ল্যাড ক্যান্সার হয়ছে!
অণুঃ তোমার ভাইয়ার বিয়ে হয় নাই?

নিলুঃ আসলে ভাইয়া একটু রাগি টাইপের কিন্তু এতই রাগ যে রাগের ভসে তিনি কি করে ফেলেন তিনি নিজেই জানেন না। ১০ টা বিয়ের প্রস্তাব আসে সবগুলোতে ভাইয়া গোলমাল করে বিয়ে পন্ড করেছেন! একটাই বাজে অভ্যাস সিগারেট!
অণুঃ তোমার ভাইয়ের ক্যান্সার আর তোমার ভাই সিগারেট আসক্ত!
নিলুঃ হুমমম! আচ্ছা আমার এখন ডাঃলিখনের সাথে কিছু কথা আছে আমি যায়!
অণুঃ আচ্ছা!

অণুর একটু খারাপ লাগছিল। কিন্তু দুনিয়ায় কোনো পাপ করলে তার অর্ধেক শাস্তি দুনিয়ায় পেতে হয়। প্রকৃতির এটাই নিয়ম। প্রকৃতি নিজের কাজ করেই যাবে।
কিছুক্ষণ পর আম্মু টিফিন নিয়ে খাবার আনলো।
অণুঃ আচ্ছা আম্মু কেউ তোমার সাথে অন্যায় করলে তখন তুমি কি করবে!
আম্মুঃ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবি! সিম্পল!
অণুঃ যদি অন্যায় করে সে লজ্জিত! তোমার কাছে ক্ষমা চাই তাহলে!

আম্মুঃ যদি মন থেকে ক্ষমা চাই আর সে সত্যিই লজ্জিত তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত!
অণুঃ আর সে যদি মৃত্যু সজ্জায় থাকে?
আম্মুঃ তাহলে ক্ষমা টা তার শেষ ইচ্ছে মনে করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত!
কিন্তু এখন এ কথাগুলো জিজ্ঞেস করছিস কেন?

অণুঃ মনে হল তাই জিজ্ঞেস করলাম!
আম্মুঃ তোকে নিয়ে আর পারা যায় না!
অণু তার দাঁত বত্রিশ টা খিলিয়ে একটা হাসি দিল। অণু বেডে শুয়ে আছে। অপারেশন হলের দিকে চোখ রাঙিয়ে দেখে আছে অণু!
অণু তার চশমা খোলে তার চোখের জল মুছলো!
~ তার পর আম্মু কি হল! তুমি কি আব্বু কে দেখলে?

~ আগে বল কাদছিস কেন?
~ আমার কথা ভেবো না তুমি গল্প চালিয়ে যাও!
অণু পাশের বেডে একটা বুড়ো ছিল। বুড়োটার সাথে কথা বলতে বলতে বিকেল হয়ে গেল। অপারেশন হলে এখনও অপারেশন চলছে।
নিলুকেও কোথায় দেখতে পারছে না অণু। পা প্লাস্টারের জন্য অণু উঠতেও পারছে না। আম্মুঃ আব্বু দুইজন বসে বসে গল্প করছে।

পর্ব ১০

নিলুকেও কোথায় দেখতে পারছে না অণু। পা প্লাস্টারের জন্য অণু উঠতেও পারছে না। আম্মুঃ আব্বু দুইজন বসে বসে গল্প করছে।
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা। কাকেরা কাউ কাউ করছে। আকাশে সূর্যের হালকা কিরণ আছে।
অণুর যেন ধৈর্যের সীমা পার হয়ে আসছিল। হঠাৎ একটা স্ট্রেচার সাদা কাপড়ে মোডা হয়তো লাশ নিয়ে যাচ্ছিল।
অণু যেন ভয়ে কাপঁছিল হয়তো এটাই অনিকের লাশ। অণু যেন সেন্স হারিয়ে পড়ে গেল।

~ তাহলে কি আব্বু কে তুমি আর দেখতে পাওনি!
~ নাহ ওইটাই ছিল আমার শেষ দেখা!
~ তারপর কি হল?

অণু তার দুই দিন পর অমর থেকে খবর পাই অনিক আর বেচে নেই। অণু না চাইতেও কান্না করেছিল। হয়তো কোনো একটা টানে।
ঠিক তার ৭মাস পর অণুর প্রেগনেন্ট হওয়ার রিপোর্ট তার মা- বাবার কাছে যায়। মা- বাবা অনেক বললেও অণু abortion করেনি কারণ অণু চাইনি অনিকের পাপের শাস্তি যেন তার বাচ্চা না পাই।
ঠিক কিছু মাস পর অণু সাহিলকে জনম দেয়। সাহিল অর্ধেক অনিকের মত। অণু ভেবে নিয়েছে তার জীবনটা সাহিলকে দেখেই পার করে দিবে।

~ তো মুরাদ মামু!
~ তোর মুরাদ মামু তো আমার বন্ধু অানিকার ওপর ক্রাস খেয়ে তাকে বিয়ে করে ফেলে!
~ তাদের গল্প টাও বল না!
~ কাল ওরা আসলে ওদের মুখেই শুনে নিস!
~ কিন্ত গল্পের জামিলের কি হল?

~ আজ যে যাকে তোরা JM কোম্পানির মালিক দেখছিস সেই জামাল!
~ কিন্তু একটা কথা বুঝা আসছে না! জামাল এত টাকা পেল কই?
~ তোর বাবা তার সম্পদের একটা অংশ জামালের নামে! আর একটা অংশ অামার নামে করে যায়!
~ তো নিলু ফুফি!
~ নিলু ফুফী সুইজারল্যান্ড চলে গেছে। পড়ালেখা করতে!
~ তো আব্বুর কবর দেখনি?

~ হুমম তোর দাদু কবরের পাশে তোর আব্বুকে কবর দেয়!
~ আমার না কবর গুলো দেখতে ইচ্ছে করছে!
~ যেদিন তোর দাদা কে দেখতে যাবো সেদিন না হয় তুই তোর দাদীর আর আব্বুর কবরের জিয়ারত করবি!

  • আচ্ছা!
    ~ এখন ঘুমিয়ে পড়!

অণু লাইট অফ করে চলে গেল। অণুর মোবাইলে একটা কল আসলো,
~ অণুর বাচ্চা কে মিথ্যা বলতে একটুও লজ্জা করে না!
~ তোর কি চাই?

কল কেটে দিল। এত রাতে কল আসলো আর অণু নামক সকল রচিত খেলা এ কেমনে জানে?

লেখা – সায়েদ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তোমাকে আমার চাই – বর্তমান প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – এলিয়েন – ভিনগ্রহের প্রাণীর গল্প বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button