ভালোবাসার গল্প

তুমি আমার ভালবাসা (১ম খণ্ড) – কলেজের প্রেমের গল্প

তুমি আমার ভালবাসা (১ম খণ্ড) – কলেজের প্রেমের গল্প: শুভ আমার ঠোটে ওর ঠোট ছুইয়ে আমাকে কোলে তুলে নিলো। রুমে এনে বিছানায় নামিয়ে দিলো। আমি চোখ বন্ধ করে আছি। শুভ আমার গলায় মুখে গুজে দিলো। আর পাঁচটা হাজবেন্ড, ওয়াইফের মতো আমাদের সম্পর্ক ও পূর্নতা পেলো!


পর্ব ১

ভার্সিটির একগাদা লোকের সামনে কষিয়ে চর মেরেছি। একটা ছেলেকে চর মারার আগে পর্যন্ত জানতাম না। এই ছেলে কে? এখন যখন জেনেছি তখন ভীষন ভয় করছে। আল্লাহ মালুম, এই শয়তান ছেলে কি করে? আমার মতো মাসুম বাচ্চার সাথে…….. ছেলেটার চোখমুখ লাল হয়ে গিয়েছে! যেন চোখ দিয়ে ধ্বংশ করবে আমাকে। কিন্তু আমি ভয় পেলেও মুখে সেটা স্বীকার করছি না। এমন ভাব করছি যেন আমি ভয় পাইনি। ছেলেটা হুংকার দিয়ে বলে উঠলো,

~ হাউ ডেয়ার ইউ? তোমার সাহস কি করে হয়? আমাকে শুভ কে থাপ্পর মারার?
আমিও গলা খেকিয়ে বললাম,
~ আপনার সাহস কি করে হয়? আমার কোমরে হাত দেয়ার?

যখন আমি ভার্সিটি তে ঢুকলাম। তখন দেখি এই ছেলেটা আর এরসাথে আরো কয়েকটা ছেলে মেয়ে মিলে ভার্সিটির কিছু ছেলে মেয়েকে র‍্যাগিং করছে। আমি আবার এসব ভয় পাই তাই এসব দেখেও না। দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে আসছিলাম। ঠিক তখন ওদের দলের এক চামচা আমাকে ডাক দেয়। এতেও আমি দাড়াইনি আর তখন এই ছেলেটা ওখান থেকে এসেই আমার কোমর ধরে আমাকে ওর দিকে ঘোরায়। সত্যি বলতে আমি একে দেখেই বড়সর ক্রাশ খাই। কিন্তু ওইযে আমার কোমরে হাত দিয়েছে এতে করে মেজাজ বিগরে যায়। কোনোকিছু চিন্তা না করেই ঠাস করে এক থাপ্পর বসিয়ে দেই!

ছেলেটা চিৎকার করে বললো,
~ ডু ইউ নো? হু এ্যাম আই?
~ আপনি নিজেই তো জানেন না, আপনি কে? আমি কি করে জানবো?

আমার কথা শুনে সবাই হেসে দিলো এতে ছেলেটা আরো রেগে গিয়ে বললো,
~ আমি চাইলে এক্ষুনি তোমাকে এই ভার্সিটি থেকে বের করে দিতে পারি। তোমার মত একটা মিডল ক্লাস মেয়ে আমাকে, শুভ চৌধুরী কে থাপ্পর মেরেছো। এটা তো আমি মানবো না। তোমাকে তো আমি!

বলেই আমাকে থাপ্পর মারতে গেলো। হু আমি কি কম নাকি? একে তো নিজে দোষ করেছে। তাই আমি থাপ্পর মেরেছি ভুল কি করেছি? আমাকে মিডল ক্লাস বললো, শালা তুই জানিস? আমি মিডল ক্লাস কি না? আবার আমাকে থাপ্পর মারতে এসেছে। খপ করে বাংলা মুভির মতো শয়তানটার হাত ধরে ফেললাম।

~ শুনুন মিস্টার শুভ নাকি অশুভ? ওয়াট এভার আই হ্যাব নো ইন্টারেস্ট ইউআর নেম এনিওয়ে আপনি ভুল করেছেন। তাই আমি আপনাকে থাপ্পর মেরেছি। আর তাই আমার মনে হয়না। আমি ভুল করেছি যার যা প্রাপ্য আমি অলওয়েজ তাকে ঠিক সেটাই দিয়ে থাকি। যেমন একটু আগে আপনার প্রাপ্যটা সুন্দর করে আপনাকে দিয়েছি। এতে আপনি যাই করুন না কেন আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার। আর আপনি আমাকে তার জন্য থাপ্পর মারতে পারেন না। ইউ হ্যাব নো রাইট, গট ইট?

কথাগুলো বলে আমি চলে এলাম। আহ এখন ভাল লাগছে। কিন্তু শুভ এসব হজম করতে পারেনি ও অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে আমাকে দেখছে। হাহ তাতে আমার কি? আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে চলে এলাম। এর মাঝে আমার প্রানপ্রিয় বেষ্টু রুপ হাপাতে হাপাতে আমার কাছে এলো ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ কি রে তোর এই অবস্থা? আজ তো আমরা একসাথে আসিনি তোকে কি কুকুর তাড়া করেছে?
রুপ চোখ গরম করে বললো,
~ তুই এটা কি করলি তিশা?

~ কেন কি করেছি আমি?
আমার কথায় রুপ চেচিয়ে বললো,
~ শুভ ভাইয়া কে কেন চর মারলি?

এতক্ষণে বুঝলাম কেন এমন করছে।
~ শোন রুপ উনি ভুল করেছে। তাই আমি ওনাকে থাপ্পর মেরেছি। আর আমি যা করেছি একদম ঠিক করিছি। ওই লুচু পোলার সাহস কি করে হলো? আমার কোমরে হাত দেয়ার? আর তুই ওর হয়ে কথা বলছিস? নেকা কান্না করে বললাম, রুপ বেচারী হা করে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,
~ আসলে আমি ওনার হয়ে কথা বলিনি। তুই জানিস। না ওই শুভ ভাইয়া এই ভার্সিটির ভিপি। আর তাছাড়া এই ভার্সিটির মালিক ওনার বাবা উনি যদি এখন তোকে বের করে দেয় তখন কি করবি?

রুপে’র কথা শুনে বিরক্ত লাগছে হোক ওই ছেলে যা ইচ্ছে তাই হোক তাতে আমার কি? রুপে’র কথায় মনে হচ্ছে এই সারা দুনিয়াতে এই একটাই ভার্সিটি বিরক্তির ডিব্বা এই মেয়েটা বেশ চেচিয়ে বললাম,
~ কেন রে বের করলে কি হবে? এই দুনিয়ায় ভার্সিটি কি একটা? সবসময় এমন ভীতু হয়ে থাকিস কেন তুই? ভীতুর ডিম একটা।
~ আর তুমি বুঝি ভয় পাওনা?

কারো কথা শুনে আমি আর রুপ দুজনেই পিছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম শুভ আর ওর চামচাগুলো দাত কেলিয়ে দাড়িয়ে আছে। এই দাত কেলানো দেখে বুঝলাম এরা এখানে আমাদের টাইট দিতে এসেছে। রুপ তো রীতিমত আমার পেছনে লুকিয়ে গেলো। ইচ্ছে করছে। এই মেয়েকে লাথি মারি জোড়ে। আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,
~ এখানে কি চাই? কেন এসেছেন? আরেক গালে থাপ্পর খেতে? তাহলে দুরে দাড়িয়ে আছে।ন কেন? কাছে আসুন থাপ্পর খান আর চলে যান।
শুভ’র সাথে থাকা ছেলে মেয়েগুলো ওরা মনে হয় আমার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লো। আর শুভ দাতে দাত চেপে বললো,

~ তোমার আমাকে ভয় লাগছে না? আমি তোমার কি করতে পারি তুমি জানো?
~ কি করবেন আপনি? শুধু তো বলেই যাচ্ছেন
বলতে বলতে শুভ আমার হাত ধরে হ্যাচকা টানে। ঠাস করে আমাকে নিচে ফেলে দিলো। নিচে ইটের টুকরো ছিলো। যার কারনে হাতে অনেক ব্যথা পেলাম। হাত জ্বালা করছে। খুব তাকিয়ে দেখলাম হাত ছিলে রক্ত বের হচ্ছে। আমি রেগে গিয়ে বললাম,
~ এটা কি করলেন আপনি?

শুভ একটু নিচু হয়ে বললো,
~ সবে তো শুরু এরপর দেখো তোমার সাথে আর কি কি হয়? তুমি আমাকে থাপ্পর মেরেছো আই উইল নট স্পেয়ার ইউ মাইন্ড ইট!

শুভ ওর চামচাদের নিয়ে চলে গেলো। আর রুপ এসে আমাকে তুললো। আমি শুধু ভাবছি এই ছেলেটা দেখতে যতটা সুন্দর মনটা ততটাই খারাপ শালার এর উপড় ক্রাশ খাওয়া ভুল। কিন্তু আমার কি দোষ? এই ছেলেটা মানে শুভ লম্বা ৬২” হবে চোখগুলো মায়াবী এমন চোখ মেয়েদের হয় বেশীরভাগ সিল্কি চুলগুলো কপাল ছুয়ে আছে। ফর্সা ডার্ক রেড ঠোট আর ঠোটের নিচের ওই কালো তিল ইস যে কেউ ক্রাশ খেতে বাধ্য। আমিও ইচ্ছে করে ক্রাশ খাইনি। বাধ্য হয়েই ক্রাশ খেয়েছি। হু হু নাহলে আমার বয়েই গিয়েছে। ইতিমধ্যে বাড়ি চলে এসেছি। বাড়ি এসেই রুমে এলাম। আজ।

আজ আর কারো সাথে কথা বলিনি। অবশ্য বাবা এখন অফিসে মা রান্নাঘরে। আর আমার গুনধর ভাইয়া সে তো গিলতে আর টিভি দেখতে ব্যস্ত। আমি রুমে এসে শাওয়ার নিয়ে নিলাম। উফ হাতে জ্বালা করছিলো। শয়তানটার গুষ্টি উদ্ধার করে দিয়েছি। শাওয়ার নিয়ে চুলগুলো শুকিয়ে নিচে নেমে এলাম। ভাইয়া এখনো টিভি দেখছে। রিমোট নিয়েই হানি বানি তে দিলাম। আমার অনেক পছন্দের কার্টুন। ভাইয়া চোখ গরম দিয়ে বললো,

~ রিমোট দে বলছি এগুলো কি দেখিস?
~ তুই তো সারাদিন টিভি দেখিস তখন কি আমি কিছু বলি? এখন যা নিজের রুমে গিয়ে টিভি দেখ।
আমার কথায় ভাইয়া তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো আর চেচিয়ে বললো,
~ তুই জানিস না? আমার রুমের টিভি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
~ তো আমি কি করবো?

আমাদের কথায় রান্নাঘর থেকে মা চলে এলো এসে মা রেগে বললো,
~ আবির, তিশা এসব কি? তোরা কি বাচ্চা আছিস? এভাবে এখনো রিমোট নিয়ে ঝগড়া করিস।
আমি ইনোসেন্ট ফেস করে বললাম,
~ মা আমি তো বাচ্চাই তাইনা?
~ হ্যা ১৮ বছরের বাচ্চা।

বলেই ভাইয়া হু হা করে হাসতে লাগলো। আর আমি মুখ ভেংচি কেটে চলে এলাম। আসলে আমার ঘুম পাচ্ছে। তাই ঘুমাতে চলে এলাম। বিছানায় ঠাস করে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালাম!
সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙলো এত ঘুম পাগলি আমি কি বলবো?

যাইহোক সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙার পর ওযু করে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলাম। তারপর ভার্সিটির পড়া পড়লাম। এরমাঝে শুভ’র কথা মনে পড়েনি হঠাৎ মনে পড়ে গেলো। কাল ভার্সিটিতে গেলে যদি আবার কিছু করে শুনেছি শুভ খুবই খারাপ একটা ছেলে যাকে বলে ক্যারেক্টারলেস সারাদিন নাকি মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করে বেরায় আর হাজারটা গার্লফ্রেন্ড বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া ছেলে তাতে আমার কিছুনা আমার টেনশন আমি তো থাপ্পর মেরেছি এখন আমার সাথে যদি উল্টা পাল্টা করে তখন আমি কি করবো?

এদিকে শুভ ও ভাবছে কি করে আমাকে শাস্তি দেয়া যায়। শুভ শয়তানি হেসে বললো,
~ তোমাকে আমি ছাড়বো না চরের শাস্তি ঠিক কি হতে পারে সেটা তুমি হারে হারে টের পাবে এই ২৩ বছরের জীবনে কেউ আমার সাথে চোখ তুলে কথা বলেনি শুধু মাম্মা, পাপা ছাড়া আর তুমি? এমন শিক্ষা দেবো সারাজীবন মনে রাখবে। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ আই উইল টিচ ইউ এ গুড লেসন এখন শুধু কালকের অপেক্ষা কাল থেকেই তোমার খারাপ সময় শুরু!

অতঃপর সকাল হলো। আমি রেডি হয়ে নিলাম। ভার্সিটি যাওয়ার জন্য একটা আকাশী কালার চুরিদার পড়েছি কানে আকাশী কালার ঝুমকো চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছি। ঠোটে হালকা লিপস্টিক আমি আবার অত সুন্দরী নই যে বলবো অপ্সরী লাগছে আমাকে তবে আমার একটা স্বপ্ন আছে। আমি যাকে বিয়ে করবো। সে আমাকে তার অপ্সরী ভাবলেই হবে বাবা- মা- ভাইয়া কে বলে রুপ কে নিয়ে ভার্সিটি তে চলে এলাম।

গেইট দিয়ে ভেতরে যেতেই দুরুম করে আমি নিচে পড়লাম। আর কিছুতে লেগে আমার জামা পিঠের দিকে শব্দ হলো। আমি বুঝতে পারছি জামার চেইন ছিড়ে গিয়েছে। পাশ থেকে হাসির শব্দ পেলাম। তাকিয়ে দেখি শুভ হাসছে বুঝতে পারলাম কাজটা শুভ’র কিন্তু এখন আমার কান্না পাচ্ছে পিঠের দিকে জামা ছিড়ে গিয়েছে। আর আমার ওরনাটাও পাতলা এখন আমি কি করবো? তখনই কেউ একজন এসে আমার গায়ে তার শার্ট খুলে দিলো তাকিয়ে তাকে দেখে তো আমি অবাক রুপও ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। বুঝলাম আমার মতো রুপও অবাক হয়েছে!


পর্ব ২

আমি সামনের ব্যক্তি কে দেখে অবাক হলাম। রুপ ও বেশ অবাক হলো। আমার সামনে অভি ভাইয়া দাড়িয়ে আছে। হয়তো ভাবছেন অবাক হওয়ার কি আছে।? কারন গতকাল দুপুরেও আমি অভি ভাইয়ার সাথে কথা বলেছি ভাইয়া তখনও বলেনি যে আজ আসবে অভি ভাইয়া আমেরিকা থাকে আমি উত্তেজিত হয়েই বললাম,
~ অভি ভাইয়া তুমি?

অভি ভাইয়া একবার রুপে’র দিকে তাকালো। রুপ নিজের চোখ ফিরিয়ে নিলো এরপর ভাইয়া আমার হাত ধরে আমাকে উঠিয়ে দাড় করিয়ে শুভ’র সামনে গিয়ে দারালো শুভ’র পা থেকে মাথা অবদি দেখছে। আমি আর রুপ বুঝতে পারছি না ভাইয়া একচুয়েলি কি করতে চাইছে ব্যাপারটাতে শুভ যে বেশ বিরক্ত বোঝা যাচ্ছে অতঃপর শুভ বলেই ফেললো!
~ হে ইউ কি করছে।ন আপনি?

অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ শুভ চৌধুরী রাইট? এই ভার্সিটির ভিপি এবং এই ভার্সিটির মালিকের ছেলে তা তুমি কি জানোনা? ভিপিদের কি কাজ?
শুভ রাগী ভাবে বললো, মানে?
অভি ভাইয়াও এবার ঝাঝালো গলায় বললো,
~ আমি কি বলতে চাইছি আই হোপ তুমি বুঝতে পারছো ভার্সিটির ভিপিদের কাজ হচ্ছে ভার্সিটিতে কেউ ভুল করলে কেউ অন্যায় করলে সেটার সমাধান করা কিন্তু তুমি ভার্সিটির ভিপি হয়েও তুমি নিজেই একটা ভুলের দোকান লজ্জা করলো না তোমার? একটা মেয়ের সাথে এমন করতে? শুনেছি ছেলে মেয়েদের র‍্যাগিং করো তা ভিপি কি তোমাকে এর জন্য বানিয়েছে?

শুভ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো,
~ যখন জানেন আমি কে? তাহলে আমার সাথে এভাবে কথা বলতে আপনার ভয় লাগছে না? আপনি জানেন? আমি আপনার কি হাল করতে পারি আর আমি ওই মেয়েটার সাথে যা করেছি একদম ঠিক করেছি ওর সাহস কি করে হয়? সবার সামনে আমাকে থাপ্পর মারার? যার সাথে কেউ চোখ তুলে কথা বলেনা সেই শুভ কে ওইটুকু একটা মেয়ে কি না সবার সামনে থাপ্পর মারলো?

আমার মেজাজ গরম হয়ে গেলো। এই শয়তান ছেলে কে আমি কি এমনি থাপ্পর মেরেছি? ও ভুল করেছে বলেই তো মেরেছি আমিও পাশ থেকে বললাম,
~ আমিও একদম ঠিক করেছি আপনি যা করেছেন। তার জন্য থাপ্পর আপনার প্রাপ্য আগেও বলেছি এখনও বলছি!

এবার শুভও হেসে বললো,
~ ও রিয়েলি? তা আমিও দেখবো এই তেজ কি করে থাকে।
অভি ভাইয়া এবার রেগে গেলো।
~ তোমার সাহস তো কম না আমার সামনে দাড়িয়ে তুমি আমার বোন কে থ্রেট করছো। তুমি যে কোন টাইপের ছেলে বুঝতে বাকি নেই। খবরদার যদি আমার বোন কে কিছু করো। তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবেনা।
~ তাই নাকি কি করবেন আপনি?

ভাইয়া আমাকে নিয়ে চলে আসতে গিয়েছিলো শুভ’র কথা শুনে পেছনে তাকালো। এরপর সাইনগ্লাসটা পড়ে নিয়ে আবার সামনে তাকিয়েই বললো,
~ বেশী কিছু করবো। না আজই আমেরিকা থেকে এসেছি এখন থেকে বাংলাদেশেই থাকবো তুমি আমার বোনের সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করেছো যদি শুনি তৃশে’র আরেক ভাইয়া আবির কি করবে আমি সেটা জানিনা কিন্তু আমি তোমাকে জেলে ঢুকিয়ে দেবো এখন ভেবোনা আমি পুলিশে কেস করবো। আর ওরা তোমার বাবার ভয়তে তোমাকে শুরশুর করে ছেড়ে দেবে। আই এম ইন্সপেকটর অভি আহমেদ যা করার আমি করবো। গট ইট? ভাইয়া আমার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে পাশে রুপও আছে। আমি আর রুপ দুজনই অবাক হলাম। ভাইয়ার কথা শুনে ভাইয়া ইন্সপেকটর কবে হলো? আর এখানে কি করে এলো? যাইহোক রুপ বাড়ি চলে গেলো। এরপর আমরাও আমাদের বাড়ি চলে এলাম। আর শুভ? সে তো রাগে ফোস ফোস করছে।

~ ছাড়বো না আমি এই মেয়ে কে ওর এমন হাল করবো। দেখবো এই অভি আমার কি করে? এত সাহস হয় কি করে? আমাদের ভার্সিটিতে এসে আমাকে ভয় দেখায়?
শুভ’র কথা শুনে ওর ফ্রেন্ড রানা বললো,
~ ভয় দেখায় মানে? তুই কি ভয় পাচ্ছিস নাকি? মাই গড শুভ তুই ভয় পাচ্ছিস?
রানা’র কথায় শুভ অগ্নিদৃষ্টি তে তাকালো। ভয় পেয়ে রানা চুপ হয়ে গেলো। শুভ ফোস ফোস করতে করতেই বললো,
~ জাস্ট সাট আপ রানা তুই কি করে ভাবলি? আমি ওই ছেলের কথায় ভয় পাবো তুই তোরা সবাই শুধু দেখে যা ওই মেয়েটা কি নাম? হুম তিশা ওর আমি কি করি। শয়তানি হাসি দিয়ে বললো, শুভ

বাড়িতে এসে আগে আমি চেন্জ করে নিলাম। তারপর অভি ভাইয়ার কাছে এসে জিগ্যেস করলাম!
~ অভি ভাইয়া ভার্সিটিতে কি করে গেলে? আর তুমি এলে কখন?
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ কাল রাতের ফ্লাইটে এসেছি আসতে আসতে সকাল হয়ে গিয়েছে। তারপর এখানে এসে জানলাম তুই ভার্সিটিতে তোকে চমকে দেবো ভেবেছিলাম। গিয়ে তো আমিই!
আমি আর বলতে না দিয়ে আবার জিগ্যেস করলাম
~ অভি ভাইয়া তুমি পুলিশ কবে থেকে?

অভি ভাইয়া এমন ভাব করলো যেন আকাশ থেকে পড়লো। পাশেই আমার গুনধর ভাইয়া তার মুখেরও একই হাল অভি ভাইয়া করুন গলায় বললো,
~ তৃশ তুই জানিস না?
অভি ভাইয়া ছোট থেকেই আমাকে তৃশ বলে ডাকে আগে রেগে যেতাম কিন্তু রেগে কোনো লাভ হয়নি উল্টো আমার এনার্জি নষ্ট হয়েছে তাই আমি রাগা বাদ দিয়ে দিয়েছি। আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ আমি কি করে জানবো? আমাকে তে কেউ বলেনি আমি আজই জানলাম তুমি বললে তাই জানলাম নাহলে তো আজও জানতে পারতাম না আর এই গুনধরের কথা শুনে মনে হচ্ছে পুরো ব্যাপারটা ও জানতো আমি কেন জানলাম না?

ঠোট উল্টে মুখ ফুলিয়ে বললাম, ততক্ষণে বাবা, মা ও চলে এসেছে। বাবা মুচকি হেসে বললো,
~ অভি তো ১ বছর আগে থেকেই পুলিশের চাকরী করে
সবাই কে বাদ দিয়ে এবার আমিই আকাশ থেকে পড়লাম। মানে আমার খালামনির ছেলে আমার এত আদরের ভাইজান ১ বছর আগে থেকে এই লাইনে আছে। আর আমি তার বোন হয়ে জানিনা এটা তো মেনে নেয়া যায়না। কিছুতেই মানা যায়না। নো আমিও মানবো না গলা খেকিয়ে বললাম,
~ মানে টা কি হ্যা? তোমরা সবাই জানো আর আমি একা জানিনা কেন? আর অভি ভাইয়া তুমিও বললে না?

পাশেই মা বসা এবার মা বললো,
~ তুই কি জানিস? তোর খালামনিও জানেনা?
মা জননীর কথায় আরেকবার শকড হলাম। হা করেই বলে উঠলাম,
~ এগুলো কি বলো আম্মু?

আম্মু একটু হেসে দিয়ে বললো,
~ তুই তো জানিস। অভি তোর খালামনির একমাএ ছেলে তোর আঙ্কেল চেয়েছিলো অভি ওদের ব্যবসা দেখুক ওদের অফিসে ওর বাবার পরে ও বসুক কিন্তু অভি’র স্বপ্ন পুলিশ হওয়া কিন্তু তোর খালামনি ভয় পায় পুলিশ হলে তো অনেক বড় বড় ক্রিমিনাল ধরতে হয় তখন যদি কিছু হয়? এর জন্য অভি কাউকে না জানিয়ে নিজে একা একা সব করেছে আর অনেক কায়দা করে আমেরিকা গিয়েছিলো এতদিন ওখানেই নিজের কাজ করেছে কিন্তু এখন সবাই কে বলতে চায় আর আমাদের ও কিছুদিন আগে বলেছে এবার বল তোকে কি করে বলতো?

এবার আমি বুঝলাম সত্যিই তো যেখানে কেউ জানেনা এমনকি খালামনি আঙ্কেলও জানেনা সেখানে আমি কি করে জানবো? আর সত্যি বলতে আমাকে বললে আমি খালামনি কে বলে দিতাম কারন এসব আমারও ভয় লাগে কখন কি হয় আল্লাহ মালুম আমি সবসময় চাই আমার ফিউচার স্বামী আর যাইহোক যেন আর্মি, পুলিশ ইনফ্যাক্ট এই লাইনের কেউ না হয় অভি ভাইয়া ভাবছে আমি এখনো মেবি রেগে আছি আস্তে করে বললো,

~ সরি তৃশ আর এমন হবে না আমি ভেবেছিলাম। তুই জানিস।
অভি ভাইয়ার কথায় ফিক করে হেসে দিলাম তারপর ভাইয়ার গাল টেনে বললাম,
~ আমি আর রেগে নেই ভাইয়া তুমি তো ইচ্ছে করে লুকিয়ে রাখোনি আমি তো জানতাম না তাই রেগে ছিলাম। এখন তো জানি তাই রেগে নেই কিন্তু হ্যা আমার একটা শর্ত আছে। যদি না মানো তাহলে রেগে যাবো!
ভাইয়া পাশ থেকে ফোরন কেটে বললো,
~ দেখো ভাইয়া এই সুযোগে এই পেত্নী কি হাতিয়ে নেয়
ভাইয়ার কথায় রেগে বললাম, তোর মতো নাকি?

~ আচ্ছা ওকে তৃশ তুই বল কি শর্ত?
অভি ভাইয়ার কথায় মুচকি হেসে বললাম,
~ রাতে আমি তুমি আর এই গুনধর আমরা আইসক্রিম খেতে যাবো
অভি ভাইয়াও মুচকি হেসে বললো,
~ অবশ্যই যাবো তবে আবির কে কেন নিবি? ও তো তোকে জ্বালায়

আমি ভাইয়ার কান ধরে বললাম,
~ ও জ্বালায় বলেই তো ওকে নেবো।
~ তোরা দুই ভাই, বোনই পাগল
অভি ভাইয়ার কথায় দাত কেলিয়ে আমি আর ভাইয়া বললাম,।
~ ঠিক তোমার মতো

অভি ভাইয়া মুখ ফুলিয়ে নিজের রুমে গেলো। আমিও নিজের রুমে চলে এলাম। কখন রাত হবে সেই অপেক্ষা রাতে রাস্তার পাশে হেটে আইসক্রিম খাওয়ার মজাটাই একদম আলাদা আমরা সব কাজিনরা একসাথে হলেই রাতে আইসক্রিম খেতে বেরিয়ে পড়ি এটা বেশী ইন্জয় করি নানু বাড়িতে গেলে যাইহোক রুমে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লাম। একটা গান শুনতে লাগলাম অনেক পছন্দের একটা গান তবে কেউ যদি জানে এটা আমার ভাল লাগে তাহলে ভাববে নির্ঘাত আমি ছ্যাকা খেয়েছি আপনারাও শুনে থাকবেন এপয়েনমেন্ট লেটার নাটকের গান ফেরাতে পারিনি আমি, পারিনি তোমার হতে
~ কি রে পেত্নী ছ্যাকা খেয়েছিস?

ভাইয়ার কথায় গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে জানতাম এমন বলবে তার নমুনা এই হাদাটা আমি রাগী গলায় বললাম,
~ শোন ভাইয়া সুন্দরী না হতে পারি তাই বলে প্রেম করে ছ্যাকা খাবোনা যার সাথে প্রেম করবো। তাকেই বিয়ে করবো। বিয়ে করে তোকে দেখিয়ে দেবো এখন তুই বল তো তুই এখানে কেন এলি? কি চাই তোর?

ভাইয়া ৩২ দাত বের করে বললো,
~ প্রানের বোন তোর এই সুন্দর ল্যাপটপ আমার চাই!
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ তোর ল্যাপটপ কি করেছিস? টিভির সাথে ল্যাপটপ ও খেয়ে ফেললি নাকি?

ভাইয়া সাথে সাথে মুখটা অসহায় করে ফেললো বুঝলাম ল্যাপটপ ও খেয়ে ফেলেছে এই ছেলে যে হবু ডাক্তার এটা ভাবলে আমি নিজেই অবাক হই। ওর কর্মের কথা যদি ওর পেশেন্টরা জানে তারা তো মনে হয় হার্ট এ্যাটাক করবে ভাইয়ার ওমন ইনোসেন্ট ফেস দেখে ল্যাপটপ দিয়ে দিলাম তবে একেবারে দেইনি হু বলেছি কাজ শেষ হলে চুপচাপ দিয়ে যেতে!

অবশেষে রাতে আমরা আইসক্রিম খেতে বের হলাম। আমি দুটো কোন আইসক্রিম নিয়েছি আর ভাইয়া আর অভি ভাইয়া ওরা একটা করেই নিয়েছে আমাদের বাড়ি থেকে এই রাস্তাটা বেশ খানিকটা দুরে তাতে আমার কি? আমি তো আইসক্রিম খেতে আসবো।ই আমি আইসক্রিম খেতে খেতে রাস্তার পাশ দিয়েই হাটছিলাম। বিকেল বেলা বৃষ্টি হয়েছে যার কারনে পানি জমে গিয়েছে। এরমাঝে হঠাৎ একটা গাড়ি আমাকে ক্রস করে গেলো। আমার ড্রেস নোংরা হয়ে গিয়েছে। রেগে পাশ থেকে একটা ইট নিয়ে সোজা গাড়িতে লাগালাম।

আর ইটটা সুন্দর করে গাড়িতে লেগে গাড়ির পিছনের কাচ ধপাস করে ভেঙে পড়লো। ভাইয়া আর অভি ভাইয়া আমার কাছে চলে এলো গাড়িটা ব্রেক করে পিছনে এলো গাড়ির ভেতরে দেখে আমি অবাক সাথে ঘৃনাও লাগছে এই ছেলেটা এত খারাপ কেন? গাড়ির ভেতরে শুভ সাথে ৩টা মেয়ে গাড়ির কাচ নামানোতে বুঝলাম মেয়েগুলো ছোট ছোট পোশাক পড়া এরা ৪জনই যে ক্লাব থেকে ড্রিংক করে মাতাল হয়ে এসেছে। সেটা বুঝতে বাকী রইলো না শুভ আমাকে দেখে রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে এলো এসেই ধমক দিয়ে বললো,
~ ইউ স্টুপিড তোমার সাহস কি করে হয়? আমার গাড়ির কাচ ভাঙার।

আমি জাস্ট অবাক এই শয়তান ছেলে কখনো নিজে ভুল করে সেটা স্বীকার করেনা আমি ও পাল্টা ধমক দিয়ে বললাম,
~ চোখ কি পকেটে রেখে গাড়ি চালান নাকি? আপনি দেখেননি? যে রাস্তার পাশে একটা মেয়ে আছে। আপনার তো উচিত ছিলো ঠিকমত গাড়ি চালানো অবশ্য ড্রিংক করে গাড়ি ড্রাইভ করলে তো এমন অঘটন ঘটবেই!
শুভ তেড়ে এসে বললো,
~ ইউ চিপ গার্ল ডোন্ট ক্রস ইউআর লিমিট আমি কি করবো। সেটা আমি বুঝবো

এবার ভাইয়া রেগে গেলো। রেগে গিয়ে আমাকে সরিয়ে শুভ’র সামনে গিয়ে বললো,
~ মেয়েদের সাথে কি করে কথা বলতে হয় সেই শিক্ষা কি তোমার নেই? তুমি জানোনা? মেয়েদের সাথে কি করে কথা বলতে হয়? দোষ তোমার গলাবাজি ও তুমি করছো।
অভি ভাইয়া শুভ কে চেনে আর সকালে তো ভাল করেই চিনেছে অভি ভাইয়া সব বললো, ভাইয়া কে ভাইয়া রেগে শুভ কে বললো,
~ আমার বোনের থেকে দুরে থাকবে নাহলে আমি তোমাকে ছাড়বো না তোমার এত সাহস তুমি আমার বোন কে অসম্মান করো?
শুভ ও রেগে গেলো। এরকম চলতে থাকলে খারাপ কিছু হবে তাই ভাইয়া কে শান্ত হতে বললাম, আমি চাইনা কোনো ঝামেলা হোক গাড়ির ভেতর থেকে এক নেকা নেকামী করে বললো,

~ শুভ বেবী কাম হেয়ার
আমি হো হো করে হেসে দিয়ে বললাম,
~ যান আপনি বেবী মানুষ এতরাতে বাইরে থাকা ঠিক না
শুভ কিছু বলতে চাইলো কিন্তু বলার সুযোগ না দিয়ে আমরা ওখান থেকে চলে এলাম। শুভ ও গাড়িতে বসে গাড়ি ড্রাইভ করছে। আর ভাবছে আমাকে কি করে ছোট করবে?

~ মিস তিশা তুমি ঠিক করলে না এই নিয়ে ৩বার আমাকে ইনসাল্ট করলে এবার আমি তোমার এমন হাল করবো। সমাজে তুমি মুখ দেখাতে পারবে না। তারপর আমিও দেখবো তোমার ওই দুই ভাই আমার কি করে
কথাগুলো মনেমনে বলে শুভ শয়তানি হাসি দিলো আর আমি হাটছি আর ভাবছি একটা ছেলে এত খারাপ কি করে হয়? এই ছেলের বউ যে হবে তার কপালে খুব দুঃখ আছে। আল্লাহ মালুম কোন মেয়ে হবে!


পর্ব ৩

শুভ কে নিয়ে ভাবা বাদ দিলাম ওই শয়তান কে নিয়ে আমার ইন্টারেস্ট নেই আমি আমার লাইফে ওমন ছেলে দেখিনি আমরা হাটতে হাটতে বাড়ি চলে এলাম। তারপর আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। তবে একটু ভয় লাগছে শুভ কি এমনি এমনি আমাকে ছাড়বে? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। হু এখন শান্তির ঘুম কেন নষ্ট করবো?

এদিকে শুভ ঢলতে ঢলতে বাড়ি ঢুকলো শুভ’র বাবা,মা দুজনই ড্রয়িংরুমে বসে ছিলো শুভ কে এই অবস্থায় দেখে শুভ’র বাবা রেগে গেলো। শুভ’র মা চুপ করে আছে। শুভ’র বাবা রেগে বললো,
~ এসব কি শুভ?
~ কোন সব পাপা?

ঢুলতে ঢুলতেই শুভ বললো, শুভ’র কথা শুনে ওর বাবা আরো রেগে গেলো। একদম সামনে এসে বললো,
~ তুমি ড্রিংক করেছো?
শুভ হেসে দিলো যেন কোনো জোকস শুনেছে হাসি থামিয়ে বললো,

~ পাপা এটা কি নতুন নাকি? ইউ নো না পাপা? তোমার ছেলে কেমন? আই লাভ দিস লাইফ সো প্লিজ ডোন্ট স্টপ মি ওপস ডোন্ট ট্রাই টু স্টপ মি বিকস ইউ কান্ট পাপ্পা বাই মাম্মা, বাই পাপা গুড নাইট এন্ড সুইট ড্রিম

শুভ হেলেদুলে নিজের রুমে গিয়ে ঠাস করে ওই অবস্থাতেই বিছানায় শুয়ে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালো শুভ’র বাবা সোফায় বসে পড়লো। শুভ’র মা পাশে এসে বসলো শুভ’র বাবা করুন ভাবে বললো,
~ ছেলেটা এত খারাপ কেন হলো? কোনো বাবা তার নিজের ছেলে কে খারাপ বলবে না কিন্তু আমি বলছি কারন আমার ছেলে সত্যিই খারাপ হয়ে গিয়েছে।

শুভ’র মা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
~ ছোট থেকে ওকে শাসন করলে আজ ও এমন তৈরী হতো না আমরা ওকে শাসন না করে বেশী আদর দিয়ে এমন করে ফেলেছি কিন্তু আমরা কি করতাম? আমাদের এক ছেলে কে হারিয়ে আমরা বেশী উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। এসবের চক্করে আমরা শুভ কে শাসন করার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। আল্লাহ জানে আমার ছেলে কবে ঠিক পথে আসবে

দুজনেই মন খারাপ করে বসে রইলো শুভ’র বাবা শুভ’র মা কে বুঝিয়ে রুমে নিয়ে গেলো। উনি তো মা ওনার এসব ভাবলে কষ্ট হয় দুজনই যদি ভেঙে পড়ে তাহলে কি করে হবে? এসব ভেবেই শুভ’র বাবা নিজেকে নিজেই শান্ত করলো

সকাল ৮টায় আমার ঘুম ভাঙলো আগে ফজরের সময় উঠে নামাজ পড়ে নিয়েছি কিছুক্ষণ কোরান শরীফ পড়ে পড়ে আবার ঘুমিয়েছি যদি বেশী ঘুম পায় সেদিন ঘুমিয়ে থাকি আবার আর যদি ঘুম না পায় তাহলে একটু হাটাহাটি করি ছাদে যাই নাহলে বাগানে যাইহোক ৮টায় ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বিছানার পাশে এক বক্স চকলেট আর তার পাশে বক্সের আইসক্রিম আহা
মনটা খুশিতে নেচে উঠলো নিশ্চই অভি ভাইয়া রেখেছে ছোট থেকে চকলেট, আইসক্রিম আমার খুব খুব প্রিয় আর অভি ভাইয়াও যখন আসে আমার জন্য নিয়ে আসে নাহলে আমি ঘুমানোর পর চুপিচুপি আমার বিছানার পাশে রেখে যায় দৌড়ে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে কয়েকটা চকলেট খেয়ে নিলাম। এরপর কিছুটা আইসক্রিম খেয়ে আমার রুমের ছোট ফ্রিজে রেখে দিয়ে চেন্জ করে নিচে নেমে এলাম। বাহ সবাই ব্রেকফাস্ট করতে বসে পড়েছে আমি মুখ ফুলিয়ে বললাম,
~ বলি আমাকে কেউ চেনো?

সবাই একসাথে বললো, না
কেমন লাগে মেজাজ গরম করে দিলো যা খাবোই না ধাপধুপ রুমে চলে এলাম। একটু পর দেখি ভাইয়া আর অভি ভাইয়া এসেছে। ভাইয়ার হাতে প্লেট প্লেটে ভাত আর অভি ভাইয়ার হাতে পানির গ্লাস

আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। দুজন আমার দুপাশে বসলো আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ কি চাই এখানে? তোমরা কি আমাকে চেনো?
দুজনই একসাথে হেসে দিলো অভি ভাইয়া বললো,
~ না তোকে তো চিনিনা আমরা আমাদের সুইট গুলুমুল পিচ্চি বোন কে চিনি!

তবুও কোনো রিয়েক্ট করলাম না এরপর ভাইয়া বলে উঠলো
~ অভি ভাইয়া ভাবছি বিকেলে ঘুরতে যাবো তো কেউ যদি যেতে যায় তাহলে আমাদের সাথে যেতে পারে
আহ ঘুরতে যাবে শুনে মনটা খুশিতে বাকুম বাকুম করে উঠলো ঘুরতে যাওয়া আমার দূর্বলতা কিন্তু রাগও তো করেছি ধুর রাগ ভার মে যায় খুশিতে গদগদ হয়ে বললাম,
~ এই ভাইয়া আমাকে নিবি?

ভাইয়া মুখ ঘুরিয়ে বললো, না আমিও রেগে বললাম, কেন নিবিনা? অভি ভাইয়া আমার সামনে বসে আমার মুখের সামনে এক লোকমা ভাত ধরে বললো,
~ খাবার ফিনিশ কর তাহলে নেবো।
ঘুরতে যাবো বলে খেয়ে নিলাম। খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তা থেকে টুপ করে রুপ কে তুলে নিলাম। তারপর দুজনে একসাথে চলে এলাম।

শুভ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চেন্জ করে গাড়ির চাবি হাত দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে নিচে নামছিলো ওর মায়ের রুমের কাছে এসে দাড়িয়ে গেলো। সাথে সাথে ওর মায়ের রুমে ঢুকলো
~ এসব ড্রামা রোজ না করলে কি হয়?

শুভ’র রাগী কন্ঠ আর কথা শুনে শুভ’র মা, আর বাবাও রেগে গেলো। শুভ’র মা সহজে রাগে না কিন্তু শুভ যখন ওনার হারিয়ে যাওয়া ছেলে কে নিয়ে আজে বাজে কিছু বলে তখন রেগে যায় আর এখনও উনি ওনার হারিয়ে যাওয়া ৬ মাসের ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্না করছিলো হ্যা শুভ’র আগে ওনাদের একটা ছেলে হয়েছিলো কিন্তু যখন সেই ছেলের বয়স ৬ মাস তখন কোনো ভাবে হারিয়ে যায় সেটা পরে বলবো আর শুভ এই ছেলে কে নিয়ে ভাল কিছু সহ্য করতে পারেনা শুভ’র মা ধমক দিয়ে বললো,
~ এসব কথার মানে কি শুভ? আর ড্রামা মানে?

শুভ সামনে এসে ওর মায়ের থেকে ছবিটা টান দিয়ে নিয়ে বললো,
~ ড্রামা নয়তো কি মাম্মা? সেই বাচ্চা বয়সে এই ছেলেটা হারিয়েছে

শুভ’র বাবা ঝাঝালো গলায় বললো,
~ এই ছেলেটা মানে কি? ও তোমার বড় ভাই শুভ রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলো
শুভ হু হা করে হেসে দিয়ে বলে উঠলো
~ লাইক রিয়েলি পাপা? হি ইজ মাই ব্রাদার?

আই থিংক তোমাদের ভুল হচ্ছে এই ছেলে কে আমি ভাই বলে মানিনা আমার তো মনে হয় হি ইজ মাই এনেমি ইনফ্যাক্ট এ বিগ এনিমি এর জন্য তোমরা আমাকে বকো মাঝে মাঝেই আর আমার তো মনে হয় তোমাদের এই সো কল্ড ছেলে এতদিনে মরে ভুত হয়ে গিয়েছে।
শুভ’র রোজ রোজ এই কথা শুনতে শুনতে শুভ’র বাবা বিষিয়ে গিয়েছে। আজ আর সহ্য হলো।না শুভ কে ঠাস করে এক থাপ্পর মারলো আবার মারতে গেলেই শুভ’র মা ধরে ফেললো
~ কি করছো তুমি?

শুভ’র মায়ের প্রশ্ন শুনে উনি আরো রেগে বললো,
~ তোমার এই ছেলে দিনের দিন খারাপ হয়েই যাচ্ছে আজ যেটা করলাম সেটা আমার আগেই করা উচিত ছিলো তাহলে ও আমার বড় ছেলে কে নিয়ে এসব বলার সাহস করতো না
শুভ তো রেগে বোম হুংকার ছেড়ে বললো,
~ এই মরে যাওয়া ভুতের জন্য তুমি আমাকে মারলে তো?

আর তোমরা আমাকে বকো তাইনা? এ যদি বেঁচে থাকে আর তোমরা যদি ওকে পাও তাহলে তো তোমরা আমাকে চিনবেই না শুভ বলে কেউ তোমাদের ছেলে তোমরা দুজনেই সেটা ভুলে যাবে সো আউ উইশ তোমরা যেন কোনদিন ইয়েস মাম্মা ইয়েস পাপা আই সেইড আই উইশ কোনদিনও তোমরা ওকে খুজে না পাও
বলে শুভ হনহন করে নিচে নেমে এলো শুভ’র মা ওখানেই কান্না করতে লাগলো। আর শুভ’র বাবা সামলাচ্ছে শুভ নিচে আসতেই ওদের ড্রাইভার এলো

~ ছোট স্যার চলুন আমি দিয়ে আসি
শুভ এমনিই রেগে আছে। ড্রাইভারের কথায় আরো রেগে বললো,
~ ইউ ইডিয়ট আমি কি বলেছি? আমাকে দিয়ে আসতে? আমার সাথে হাত, পা আছে। আমি নিজেই যেতে পারি এসব ঢং আমার সাথে করবি না গেট লস্ট ডিজগাস্টিং পাবলিক
ড্রাইভার কষ্ট পেলো কিন্তু তাতে শুভ’র কি? শুভ গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। শুভ’র বাবা সব দেখছিলো উনি নিচে এসে ড্রাইভার কে সরি বললো,

আমি আর রুপ আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম শুভ ঢুকছে না দেখার ভান করে রইলাম একে দেখলেও রাগ লাগে শুভ আড়চোখে আমাকে দেখে ওর ফ্রেন্ডদের কাছে এলো আমি আর রুপ সোজা ক্লাসে চলে এলাম। ক্লাস শেষে আমি আর রুপ মাঠের দিকে এলাম। শুভ কোথা থেকে এসেই আমার ওরনা টান দিলো ছিঃ এই ছেলেটা এত নোংরা কি করে? মাঠের সবাই তাকিয়ে আছে। আমি আর কি?

আগেরদিনের মতো আজও থাপ্পর মারলাম শুভ আমার ওরনা ছেড়ে দিলো কিন্তু রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। আমি চেচিয়ে বললাম,
~ আপনি এত খারাপ কেন হ্যা? ছিঃ লজ্জা সরম আছে। বলে তো মনে হয়না সবাই কে কি তেমন মনে করেন? নাকি আপনার রাতের আড়ালের ওই চিপ মেন্টালিটির গার্লফ্রেন্ড গুলোর মতো মনে করেন? আপনার সাহস কি করে হয়? আমার ওরনা ধরার হ্যা ক্যারেক্টারলেস ছেলে একটা
আমার শেষের কথা শুনে শুভ’র মাথায় মনে হয় আগুন ধরে গেলো। শুভ আমার দু বাহু চেপে ধরলো আমি ভয় পেয়ে গেলাম শুভ দাতে দাত চেপে বললো,
~ না জেনে না বুঝে আজ যেটা করলে ঠিক করলে না আমি ক্যারেক্টারলেস তাইনা?

আমি ধাক্কা দিয়ে শুভ কে সরিয়ে বললাম,
~ হ্যা হ্যা আপনি একটা ক্যারেক্টারলেস!
শুভ এবার শয়তানি হাসি দিয়ে বললো,
~ এবার আমিও দেখবো এই ক্যারেক্টারলেসের থেকে তুই কি করে বাঁচিস যদি পারিস তাহলে নিজের সম্মান বাঁচিয়ে রাখিস!
বলে শুভ চলে গেলো। এদিকে আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম কি করতে চাইছে শুভ? ভাবতে ভাবতে বাড়ি চলে এলাম। বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিলো ভাল লাগছে না কিছু তাই আর ঘুরতে গেলাম না সন্ধ্যায় একটু বাড়ির বাইরে এলাম। এটা আমার প্রতিদিনের অভ্যাস কিন্তু আমি কি আর জানতাম?

ভার্সিটিতে শুভ কে ক্যারেক্টারলেস বলা আর আমার সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে আসা অভ্যাস আমার কাল হয়ে দাড়াবে অন্যমনস্ক হয়ে হাটতে হাটতে খানিকটা দুরে চলে এলাম। পেছনে ঘুরে বুঝলাম আমি অনেক দুরে চলে এসেছি যেই আবার ঘুরে আসতে যাবো ওমনি কেউ আমাকে টান দিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে চোখ বেধে দিলো আমি তো ভয়ে মরে যাচ্ছি কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে কে হতে পারে? বারবার বলছি কে? কিন্তু কোনো কথা বলছে। না কেউ আল্লাহ কে ডাকছি বারবার অনেকক্ষণ পর গাড়ি থামলো লোকটা আমাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পেলাম। লোকটা আমাকে ছুড়ে ফেলে দিলো সাথে সাথে আমি চোখের কাপড় খুলে ফেললাম। আর সামনে তাকিয়ে আমি অবাক সাথে ঘৃনা লাগছে আর ভয়তো আছে।ই কাঁপা গলায় বললাম,
~ শু শুভ আ আপনি?

শুভ বাঁকা হেসে দরজা আটকে দিলো এবার আমি ভয়ে কাঁপছি শুভ হেলেদুলে এগিয়ে আসছে ও যে ড্রিংক করেছে আজও বুঝতে বাকি রইলো না কিন্তু আমি ভাবছি আমাকে কেন এনেছে? ওর হাবভাব ভাল লাগছে না তাও বলে উঠলাম!
~ আমাকে কেন এনেছেন?
শুভ আমার দিকে এগিয়ে আসছে আর বলছে।
~ মনে আছে। ভার্সিটিতে কি বলেছিলাম? পারলে নিজের সম্মান বাঁচিয়ে নিতে কিন্তু তুমি তো পারলে না এবার তো সম্মান হারাতে হবে আর একটা কথা আমি তো এতদিন খেয়ালই করিনি ইউআর লুকিং সো হট
আমার আত্মা বেরিয়ে যাচ্ছে এসব শুনে শুভ এগিয়ে আসছে আমি বিছানা থেকে নেমে দৌড় দিতে গেলাম শুভ খপ করে আমার হাত ধরে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে একটানে আমার ওরনা নিয়ে ফেলে দিলো শুভ রেগে ফোস ফোস করে বললো,

~ জাস্ট ওরনা ধরেছিলাম। তাই ক্যারেক্টারলেস বলেছিলি তাইনা? এখন তো ওরনা নিয়ে ফেলেও দিলাম এবার বল কি বলবি
আমি আকুতি মিনতি করছি আমাকে ছেড়ে দিতে শুভ হুট করে আমার ঠোটে ওর ঠোট চেপে ধরলো আমি কিল ঘুষি দিয়েই যাচ্ছি শুভ ঠোট ছেড়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো হাজার চেষ্টা করেও কিছু করতে পারছি না চোখ দিয়ে পানি পড়ছে এবার একটা ভাবনা তাহলে কি কাল আমারও সুইসাইড করতে হবে? আমি যে বাঁচতে পারবো না। সেটা বুঝে গিয়েছি কাল নিশ্চই পএিকায় বড় করে লেখা থাকবে আমার নাম আর তারপাশে থাকবে ধর্ষিতা আর এসব সহ্য করতে না পেরে আমাকে ও সবার মতো সুইসাইড করতে হবে আর এই শুভ চৌধুরী সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরাবে সত্যিই কি তাই? সত্যিই কি আমি শুভ চৌধুরী কে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরাতে দেবো?
এসব হাজার ভাবনা ভাবতে ভাবতে মাথাটা ঘুরে উঠলো সেন্সলেস হয়ে গেলাম এক সময় আর কিছু মনে নেই!

পর্ব ৪

সেন্সলেস হয়ে যাবার পর আমার আর কিছু মনে নেই যখন সেন্স এলো আস্তে আস্তে চারপাশে চোখ বুলাচ্ছি সামনে তাকিয়ে যা দেখলাম আমার দুনিয়াটা থমকে গেলো। তাহলে আমার ভাবনা সত্যি হবে? সত্যি আজ পএিকায় বড় করে হেডলাইন হবে আমার কথা আমার সামনে প্রেস, মিডিয়া আরো অনেক মানুষ ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম এটা কালকের সেই রুম না এটা তো বাইরে কিন্তু এখানে ওহ এবার বুঝলাম শুভ এখানে রেখে চলে গিয়েছে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার ওরনা টা পাশে খপ করে ওরনা পড়ে নিলাম। এরা একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। হায়রে মানুষ একটা মেয়ের এই অবস্থা কেউ এসে একটু শান্তনা দিচ্ছেনা এরা তো নিজেরা নিউস করে নিজেদের প্রমোশন বাড়াতে ব্যস্ত আমি আস্তে উঠে দাড়ালাম ভাষাহীন হয়ে গিয়েছি গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছেনা উঠে সামনের দিকে পা বাড়ালাম কোনো রকম নিজেকে ঢাকলাম জামা হাতার কাছ দিয়ে ছেড়া আল্লাহ বারবার ভাবছি কেন হলো। এটা?

আমার সাথে শুভ কেন করলো এমন? হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখলাম অভি ভাইয়া তাকিয়ে আছে। হয়তো টিভি তে দেখে এসেছে। অভি ভাইয়া কে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না একরকম দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিলাম অভি ভাইয়াও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে কাঁদতে কাঁদতে আবার সেন্স হারালাম এরপর আর কিছু মনে নেই সেন্স আসার পর দেখলাম আমার পাশে মা, বাবা ভাইয়া, অভি ভাইয়া নিজেকে কেমন একটা লাগছে কোনো রকম ওদের বললাম,
~ তোমরা একটু যাবে প্লিজ?

মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো,
~ মা তোর কাছে আমি থাকি
ওদের দিকে তাকিয়ে ভীষন কান্না পাচ্ছে সবার চোখ মুখ ফুলে আছে। আর আমি নিজেও অবাক হলাম। আমি এতক্ষণ সেন্সলেস ছিলাম? এবার বলেই ফেললাম।
~ আমি এতক্ষণ সেন্সলেস ছিলাম?

অভি ভাইয়া আর ভাইয়া ঝাঝালো কন্ঠে বললো,
~ এসব কে করেছে?

আমি আবারও হাউ মাউ করে কেঁদে দিলাম এবার চিৎকার করে কাঁদছি কি করবো। আমি এখন? আমার সব তো শেষ হয়ে গেলো। এই আমি গতকাল কত ভাল ছিলাম। আর আজ আমার নামও ধর্ষিতার লিস্টে ইস ভাবলেই মরে যেতে ইচ্ছে করছে। এরপর তো বাইরে গেলেও সবাই বলবে তখন কি করবো? কি করে সহ্য করবো? সবাই কে জোড় করে বাইরে পাঠিয়ে দিলাম মরে যাবো আমি এসব মানতে পারবো না। কেন হলো। এমন?

দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে পড়লাম। আয়নাতে নিজেকে দেখে আতকে উঠলাম বিছানার তোশকের নিচ থেকে ধারালো নতুন ব্লেড হাতে নিয়ে হাতের শিরা বরাবর ধরে যেই না টান দিতে যাবো ওমনি ভাবলাম আমি তো দূর্বল নই আমার কি দোষ? আমি কেন সুইসাইড করবো? আমাকে ধর্ষন করেছে তাই আজ আমি ধর্ষিতা ইচ্ছে করে তো আমি ধর্ষিতা হইনি। আমি কেন শাস্তি পাবো? শাস্তি যদি কেউ পায় তাহলে পাবে ওই শুভ চৌধুরী ইয়েস ছাড়বো না আমি ওকে এসব ভেবে ব্লেডটা জানালা দিয়ে নিচে ছুড়ে ফেলে দিলাম ওরা বাইরে থেকে ডাকছে আমি একটু চুপ থেকে বললাম,
~ তোমরা যাও আমি ঘুমাবো আর কাল সকালে সব বলবো

তারপর বিছানায় শুয়ে পড়লাম। আর ভেবে নিলাম। এবার আমার কি করতে হবে এদিকে আমাকে নিয়ে নিউস শুভও টিভিতে দেখলো দেখেই ড্রয়িংরুম থেকে ছাদে চলে গেলো। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো,
~ ধর্ষিতাদের বদনাম হয়, দোষ হয় ধর্ষকদের। না তাই তো আমি নির্দোষ। আমি খারাপ খুব খারাপ। তোমার উচিত হয়নি তিশা একদম উচিত হয়নি আমার সাথে টক্কর নেয়া তাই তো দেখো আজ তোমার কি অবস্থা হাহ এবার তুমি কি করবে? মরে যাবে? হ্যা ওটাই করতে হবে কারন শুভ চৌধুরী’র কিছু হবেনা তুমি কিছু করতে পারবে না।
শুভ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো এরপর সাথে করে নিয়ে আসা ওয়াইনের বোতল খুলে সেটা খেতে শুরু করলো কিছু একটা ভাবছে আর হাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে নিজের চোখের জ্বল মুছছে শুভ প্রায় ৩ ঘন্টা ছাদে থেকে নিচে নেমে এলো এরপর রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।

আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই কে সবটা বলে দিলাম যে কে এটা করেছে? এসব শুনে ভাইয়া তো পারেনা শুভ কে পেলে খুন করতে আমি জানি এবার অভি ভাইয়া কি করবে হ্যা অভি ভাইয়া সেটাই বললো, যেটা আমি চেয়েছিলাম।
~ ওর এত বড় সাহস ও তোর সাথে এটা করলো ওকে তো আমি ছাড়বো না ওকে আমি জেলে ঢোকাবো
অভি ভাইয়া কথাগুলো বলে রেগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। অভি ভাইয়া এখন এখানকার থানার ইন্সপেক্টর আমিও আম্মু কে বুঝিয়ে বাড়ি থেকে চলে এলাম। পথে অনেক কথা শুনেছি সেসবে পাত্তা দেইনি কারন এরপর আর বলার সুযোগ পাবেনা সোজা কোর্টে চলে এলাম। প্রয়োজনীয় পেপারস নিয়ে চলে এলাম।

অভি ভাইয়া নিজের ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়ে থানা থেকে এরেস্ট ওয়ারেন্ট বানিয়ে সোজা শুভ’র বাসায় চলে গেলো। গিয়ে ঝাঝালো কন্ঠে শুভ কে ডাকতে লাগলো। অভি ভাইয়ার কন্ঠ শুনে শুভ না এলেও শুভ’র বাবা, মা ড্রয়িংরুম চলে এলো আর এসে পুলিশ থেকে অবাক হলো। আবার অভি ভাইয়া কে দেখেই যাচ্ছে অভি ভাইয়াও তাকিয়ে আছে। এরপর বেশ রাগী ভাবে বললো,
~ হয়ার ইজ শুভ? আপনাদের ছেলে কোথায়?

ওনারা একটু অবাক হয়ে বললো,
~ কেন শুভ কে দিয়ে কি করবেন?
অভি ভাইয়া শান্ত ভাবে বললো,

~ প্লিজ ওকে ডেকে দিন
শুভ এবার নিচে নেমে এলো অভি ভাইয়া কে দেখে রেগে বললো,
~ হে ইউ এখানে কি চাই? তোমার ডিউটি কি এখানে?

অভি ভাইয়া এবার হেসে বললো,
~ অফ কোরস এখানে তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি থানায় নিয়ে জামাই আদর করতে
শুভ’র বাবা, মা এবার চেচিয়ে বললো,
~ ওকে নিতে এসেছে।ন মানে? কি করেছে ও?

অভি ভাইয়া দাতে দাত চেপে বললো,
~ ধর্ষন আপনার এই ছেলে আমার বোন কে কাল রাতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করেছে আর তাই আমি এসেছি ওকে এরেস্ট করতে আর ওকে নিয়েই আমি যাবো
ওনাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। শুভ’র বাবা, মা বলে উঠলো
~ শেষে কি না ধর্ষন?

শুভ এগিয়ে এসে ওর মা কে বললো,
~ মাম্মা লিসেন টু মি ওই মেয়েটা খুব খারাপ আর তাই আমি ওকে শিক্ষা দিতে
ওনারা এতটুকু শুনেই বুঝে গেলো। অভি ভাইয়া যা বলেছে সব সত্যি শুভ’র মা ঠাস করে এক থাপ্পর মারলো কেঁদে কেঁদে বললো,

~ ছিঃ ছিঃ এর জন্যই অত সকালে যখন তুই এলি তখন তোর ঠোটে লিপস্টিক ছিঃ আল্লাহ এই দিনও দেখতে হলো?
অভি ভাইয়া একটানে শুভ কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে শার্টের বোতাম খুলে পিঠের দিকে শার্ট নামিয়ে দিলো এরপর বললো,
~ আর পিঠের এই দাগ এই ছেলেটা এতটাই অমানুষ আমার বোন বারবার বলার পরেও ওকে ছাড়েনি আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি
শুভ এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে বললো,

~ তোমার সাহস তো কম না তুমি আমাকে এরেস্ট করতে চাও? পাপা তুমি কিছু বলছো না কেন?
শুভ’র বাবা ধমক দিয়ে বললো,
~ তুই যেটা করেছিস এটাই তোর প্রাপ্য আদর দিয়ে বিগড়ে দিয়েছি। আমি আর কি বলবো?

শুভ চেচিয়ে বললো,
~ ওয়াট? পাপা ওয়াট আর ইউ সেয়িং?
অভি ভাইয়া টানতে টানতে শুভ কে নিয়ে এলো থানায় এনে এক ধাক্কায় লকাবে ঢুকিয়ে দিলো শুভ রাগে ফোস ফোস করে বললো,
~ আই উইল নট স্পেয়ার ইউ লিভ মি, আই সেইড লিভ মি, ড্যাম ইট

অভি ভাইয়া জাস্ট অবাক হয়ে যাচ্ছে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
~ তোমার কি লজ্জা সরম নেই?
শুভ হু হা করে হেসে দিয়ে বললো,
~ লজ্জা? ওয়াট ইস দিস লজ্জা? লজ্জার “ল”ও নেই আমার আমি ভাল ভাবে বলছি আমাকে যেতে দাও
অভি ভাইয়ার রাগ আর কন্ট্রোল হলো। না নিজে ভেতরে ঢুকে ঠাস করে শুভ কে থাপ্পর মারলো আরেক থাপ্পর দিতে যাবে এমন সময় শুভ’র বাবা,মা এলো শুভ তো ওর বাবা,মা কে দেখে খুশিতে গদগদ কিন্তু ওনাদের সাথে আমাকে কে দেখে মুখের হাসি উড়ে গেলো। নিজে বিরবির করে বললো,
~ এই মেয়েটা এখানে?

শুভ আমার ভাবনা বাদ দিয়ে ওর বাবা,মা কে বললো,
~ মাম্মা,পাপা আমাকে বের করো
আমি সামনে এসে হাসি দিয়ে বললাম,
~ ওনারা না তোমাকে একমাএ আমি বের করতে পারি
শুভ আমার মুখে তুমি শুনে অবাক হলো। কিন্তু শেষের কথা শুনে রেগে বললো,
~ কি বলতে চাও তুমি?

আমি সেই পেপারস দেখিয়ে বললাম,
~ এটা তে সাইন করে দাও তাহলে এখান থেকে বের হতে পারবে
অভি ভাইয়া আমার কথা শুনে অবাক হলো। শুভ পেপারস দেখে বললো,
~ কিসের পেপারস এটা? আর আমি কেন সাইন করবো?

শুভ’র মা পাশ থেকে বললো,
~ সাইন করতে তুই বাধ্য এই পেপারসে সাইন করলেই তুই এখান থেকে যেতে পারবি
শুভ বাইরে বের হতে বললো,
~ ওকে ফাইন আমি সাইন করবো।

আমি মুচকি হেসে অভি ভাইয়া কে বললাম,
~ অভি ভাইয়া ওকে বের করো!
অভি ভাইয়া শুভ কে বের করলো আমি পেপারস সামনে দিয়ে বললাম,
~ এটাতে সাইন করো আর হ্যা সাইন করার পর জানবে। এটা কি
শুভ রেগে গিয়ে বলে উঠলো
~ মানে কি হ্যা? আমি কি না দেখে সাইন করবো?

আমি শুভ’র মায়ের দিকে তাকালাম উনি সামনে এসে শুভ’র হাত ধরে নিজের মাথায় রেখে বললো,
~ এটাতে চুপচাপ সাইন কর নাহলে আমার মরা মুখ দেখবি
শুভ’র বাবাও বললো,
~ শুধু তোর মাম্মার না আমারও!

শুভ হাত নামিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে সাইন করে দিলো আমি অবাক এতেই কাজ হলো? তাতে আমার কি? শুভ’র সাইন করার পর আমি একটানে পেপারস নিয়ে জোড়ে হেসে দিলাম শুভ আর অভি ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আমি হাসি থামিয়ে বললাম,
~ সো মিস্টার হাজবেন্ড এখন বাড়ি চলে যাও এইযে শ্বশুর মশাই আর শাশুড়ী আম্মু আপনাদের এই বখাটে ছেলে নিয়ে বাড়ি যান
শুভ কিছু না বুঝে বললো,
~ হাজবেন্ড মানে? আর কিসের শ্বশুর শাশুড়ি?

আমি মুচকি হেসে বললাম,
~ তুমি আমার হাজবেন্ড আর তোমার বাবা, মা শ্বশুর শাশুড়ি
শুভ হো হো করে হেসে বললো,
~ পাগল নাকি? আমি কেন তোমার হাজবেন্ড হবো?

আমিও বাঁকা হেসে বললাম,
~ পেপারসে সাইন করলে যে ওটা বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারস
মুহূর্তেই শুভ’র মুখের হাসি উড়ে গেলো। ঝাঝালো কন্ঠে বললো,
~ ওয়াট দা হেল আর ইউ সেয়িং? মাম্মা কি বলছে। ও?

শুভ’র মা আর বাবা একসাথে বললো,
~ ও ঠিকই বলেছে
অভি ভাইয়া মনে হয় ঘোরে ছিলো হঠাৎ বলে উঠলো
~ তৃশ এসব কি? কি বলছিস তুই?
আমি অভি ভাইয়া কে পেপারস দিলাম ভাইয়া দেখে বললো,
~ তুই এই লম্পট কে কেন বিয়ে করলি?

ও তো তোর সম্মান
আমি ভাইয়া কে থামিয়ে বললাম,
~ আমার সম্মান ও নষ্ট করেছে ওর জন্য যেমন আমার সম্মান হারিয়েছে ঠিক তেমন ৩দিনের মধ্যে এই শুভ’ই আমার সম্মান ফিরিয়ে দেবে।
শুভ চেচিয়ে বললো,
~ কখনো না এই বিয়ে আমি মানিনা আর তোর সম্মান? হা হা কোনদিন ফিরে পাবিনা
শুভ’র বাবা রেগে বললো,

~ ফিরিয়ে দিতে তুই বাধ্য তুই মানতেও বাধ্য যখন আজেবাজে কাজ করলি তখন মাথায় আসেনি ওর কি হবে? তুই ওর সম্মান নষ্ট করেছিস এখন তুই ওর হাজবেন্ড খবরদার শুভ এ নিয়ে আর কোনো কথা হবেনা আমি যা বলবো তুই সেটা করতে বাধ্য
আমি শুভ’র বাবার সামনে গিয়ে বললাম,
~ উহুম ভুল বললেন ও ঠিক সেটা করবে যেটা আমি চাই এন্ড ইউ বেশী বাড়াবাড়ি করলে সারাজীবন এই লকাবে পচে মরতে হবে সো মিস্টার হাজবেন্ড ৩দিন পর বর সেজে চলে এসো ওকে?

শুভ রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলো। শুভ’র বাবা,মা আমার কাছে ক্ষমা চাইলো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ওনারাও চলে গেলো। অভি ভাইয়া আর আমি বাড়ি এসে সবাই কে সবটা বুঝিয়ে বললাম, শুভ’র বাবা আমার বাবা’র সাথে কথা বলে ৩দিন পর আমার আর শুভ’র বিয়ে ঠিক করলো সেখানে প্রেস, মিডিয়াও থাকবে সবাই কি ভাবছেন? কেন বিয়েটা করছি? শুভ চৌধুরী’র জীবন নরক করতে সবার সাথে কথা বলে রুমে এসে ওয়ারড্রবে রেজিস্ট্রি পেপারস রেখে বিছানায় বসে জয়ের হাসি দিলাম আর প্রমিস করলাম শুভ চৌধুরী’র ঘুম হারাম করে দেবো আমার সাথে যেটা করেছে তার শাস্তি ওকে পেতে হবে সবসময় মেয়েরা একা কেন সব সহ্য করবে? ওর লাইফটা আমি জাস্ট হেল করে দেবো ইয়েস ইটস মাই প্রমিস!

পর্ব ৫

পরেরদিন থেকে সবাই বিজি যেহেতু ৩দিন পর বিয়ে তাই হাতে সময় নেই আমি আমার বাবা, মায়ের একমাএ মেয়ে তাই তারা কোনোকিছু কমতি রাখবে না। গায়ে হলুদের আয়োজন করেছে আগামীকাল। গায়ে হলুদ সব রিলেটিভ চলে এসেছে। বাবা, মা, ভাইয়া আমাকে সাপোর্ট করেছে এতে আমি খুশি এবার যা করার আমি করবো। বিয়ের শপিং করার জন্য শুভ’র মা মানে এখন তো আমার শাশুড়ি ফোন দিয়ে যেতে বলেছে ভাল লাগছে না এসব কিন্তু যেতে তো হবেই নাহলে আমি কি করে আমার টার্গেট পুরন করবো। তাই চলে গেলাম শুভ ও আছে। কেউ কারো সাথে কথা বলছি না শুভ রাগী দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে বারবার আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আছি এতে শুভ’র রাগ আরো বাড়ছে বিয়ের শপিং শেষ করে বাড়িতে চলে এলাম। ক্লান্ত লাগছে খুব তাই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম শুভ’রা ও বাড়ি চলে গিয়েছে। শুভ মানতে পারছে না এখনো যে আমি এভাবে ওকে জব্দ করবো। শুভ রাগে ফোস ফোস করে বলছে,

~ ওই মেয়েটা আমার বউ? লাইক সিরিয়াসলি? নো ওয়ে এই বিয়ে আমি মানবো না আমাকে বিয়ে করার ফল তোমার ভুগতে হবে মিস তিশা ওহ এখন তো মিসেস তিশা চৌধুরী মিসেস তিশা চৌধুরী হওয়ার খুব শখ না? ওকে ফাইন আমি তোমার এই শখ ঘুচিয়ে দেবো
ঘুমের মাঝে টের পাচ্ছি কেউ আমার কানে সুরসুরি দিচ্ছে আর এটাও বুঝতে পারছি ইনি আর কেউ না ইনি হচ্ছে আমার বেষ্টু লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম শয়তান মেয়ে দাত কেলিয়ে আছে। এক বস্তা বিরক্তি নিয়ে বললাম,
~ ওই আমার এত স্বাধের ঘুমটা তুই এভাবে নষ্ট করলি কেন?

রুপ দাত কেলিয়েই বলে উঠলো
~ পরশু তোর বিয়ে আর তুই এখন এভাবে ঘুমাচ্ছিস?
আজিব ওর কথা শুনে মনে হচ্ছে বিয়ের আগে ঘুমাতে নেই মুখ খিচে বললাম,
~ তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে বিয়ের আগে ঘুমাতে নেই ড্যাং ড্যাং করে লাফাতে হয় শোন ঘুম পেয়েছে ঘুমিয়েছি তোর যদি আমার ঘুম সহ্য না হয় তাহলে এক কাজ কর তুইও আমার পাশে ঘুমিয়ে পড়
আমার কথায় রুপ আহম্মক বনে গেলো। ওর মুখের রিয়েকশন দেখে আমি হু হা করে হেসে ফেললাম। রুপ এবার ধমক দিয়ে বললো,
~ যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে আন্টি তোকে ডাকছে!

আল্লাহ আম্মু ডেকেছিলো আমি দৌড়ে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলাম। এরপর নিচে নেমে এলাম। আম্মুর পাশে গিয়ে বসে জিগ্যেস করলাম
~ আম্মু তুমি আমাকে ডেকেছো?
আম্মু আমার হাতে একটা বক্স তুলে দিলো বোঝা যাচ্ছেনা কিসের বক্স তাই আবার আম্মু কে বললাম,
~ আম্মু এটা কিসের বক্স?
আম্মু মুচকি হাসি দিয়ে বললো, খুলে দেখ!

বক্সটা খুলে দেখলাম অনেকগুলো গয়না গলার নেকলেস কানের ঝুমকো, টিকলি আংটি, হাতের মোটা বালা সবগুলো দেখতে খুব সুন্দর এগুলো আগে তো দেখিনি
~ আম্মু এগুলো কার?
আম্মু আমার কথা শুনে হাসলো হেসে হেসেই বললো,
~ তোর হাতে দিয়েছি তাহলে কি অন্যকারো? আর আমাদের কি আরেকটা মেয়ে আছে।? এইসব গয়না তোর তোর বিয়েতে দেবো বলে বানিয়েছিলাম।

আমি গয়নাগুলো ভাল করে দেখে আম্মুর কাছে দিলাম এখন এগুলো দিয়ে কি করবো? ভাইয়া আমার পাশে বসে এটা ওটা বলছে। এতক্ষণে খেয়াল করলাম অভি ভাইয়া নেই থানা থেকে আসার পর অভি ভাইয়া কে একবারও দেখিনি ভাইয়া কে জিগ্যেস করলাম!
~ ভাইয়া অভি ভাইয়া কোথায়?

ভাইয়া ফোনে গেমস খেলতে খেলতে বললো,
~ অভি ভাইয়া ছাদে আছে।
কেমন একটা লাগছে অভি ভাইয়া তো সেকেন্ডে সেকেন্ডে এক হিসেবে আমার রুমে আসে রোজ চকলেট, আইসক্রিম দেয় আজ একবারও এলোনা আর আমাকে চকলেট, আইসক্রিমও দিলোনা আমি পা টিপে টিপে ছাদে গেলাম একপাশে এখনো রোদ আছে। তাই অন্যপাশে দাড়ানো আমি পিছন থেকে অভি ভাইয়ার কাধে হাত রাখলাম ভাইয়া চট করে পিছনে তাকালো। অভি ভাইয়া কে দেখে অবাক হলাম। চোখ মুখ ফুলে আছে। মুখটা মলিন চুলগুলো উস্কো খুস্কো অভি ভাইয়া আমাকে দেখে ঠোটের কোনায় হাসি ঝুলিয়ে রাখলো এটা যে জোড় পূর্বক হাসি আমার সেটা বুঝতে বাকি নেই কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অভি ভাইয়ার কি হয়েছে।? প্রশ্ন নিজের মনে চেপে রাখতে পারলাম না তাই প্রশ্ন করেই ফেললাম।
~ অভি ভাইয়া কি হয়েছে। তোমার?

অভি ভাইয়া স্লান হাসলো এরপর শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে বললো,
~ কই আমার কি হবে? কিছু হয়নি তো
আমি বিশ্বাস করতে পারলাম না কি করে বিশ্বাস করবো? স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তাই বললাম,
~ তাহলে তোমার চোখ মুখ ফোলা কেন?

অভি ভাইয়া আবারও স্লান হেসেই বললো,
~ আসলে কি হয়েছে। বল তো? তোর বিয়ে নিয়ে বেশী এক্সাইটেড আর এক্সাইটেড এর জন্য রাতে ঠিক করে ঘুম হয়নি এখন গিয়ে একটা কড়া ঘুম দিতে হবে নাহলে তোর বিয়ের দিন তো আমাকে আর দেখা যাবেনা আমার দিকে কেউ ফিরেও তাকাবে না
আমি এবার মুখ ফুলিয়ে বললাম,
~ আজ আমাকে চকলেট, আইসক্রিম দিলেনা কেন?

~ এখন তো তোর বিয়ে হয়েছে। তোর স্বামী তোকে দেবে। এখন এমন করলে তোর স্বামী সন্দেহ করবে
অভি ভাইয়া কথাটা বলেই হু হা করে হাসি দিলো এরপর ছাদ থেকে চলে গেলো। তবুও আমার কেমন একটা লাগছে ধুর এত চাপ আর ভাল লাগেনা আমিও ছাদ থেকে নেমে চলে এলাম।
এদিকে রাতে শুভ ক্লাবে ইচ্ছেমত ড্রিংক করছে। পাশে ওর কামিনা ফ্রেন্ডরা তার মধ্যে থেকে তুলি নেকামী করে বললো,
~ বেবী ওয়াট হ্যাপেন্ড?

শুভ যেন সবটা মানতে পারছে না রেগে বললো,
~ তুমি জানোনা কি হয়েছে।? আরে ওই মেয়েটার সাথে আমার বিয়ে আমি জাস্ট নিতে পারছি না এসব
~ তাহলে বিয়ে করছিস কেন?

রানা’র প্রশ্ন শুনে শুভ অগ্নিদৃষ্টি তে তাকিয়ে বললো,
~ বিয়ে কি আর স্বাধে করছি? বিয়ে তো হয়েই গিয়েছে। আমার মাম্মা, পাপা কে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাকে দিয়ে তো আগেই বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারস সাইন করিয়ে নিয়েছে

তুলি শয়তানি হাসি দিয়ে বললো,
~ বেবী বিয়ে যেমন আছে। তেমন ডিভোর্স ও কিন্তু আছে।
শুভ এবার খুশি হয়ে বললো, ইয়াহ ইউআর রাইট

~ বিয়ের পর ওই মেয়েটার জীবন বিষিয়ে দাও এমন ভাবে বিষিয়ে দেবে। মেয়েটা বাধ্য হয়ে নিজে থেকেই তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে।
তুলি’র কথায় শুভ বাঁকা হাসি দিলো এরপর ক্লাব থেকে গাড়ি নিয়ে বাড়ি চলে এলো শুভ’র বাবা, মা অবাক হলো। কারন শুভ এত তাড়াতাড়ি কখনোই বাড়ি ফেরেনা শুভ নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
আজ আমার গায়ে হলুদ সকাল থেকেই সবাই বিজি কাউকে হাতের কাছে পাচ্ছিনা রাগ লাগছে রুপ দুহাতে সুন্দর করে মেহেদী পড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার খুব বিরক্ত লাগছে এভাবে কতক্ষণ বসে থাকা যায়?

বিছানা থেকে নেমে গুটিগুটি পায়ে দরজা পর্যন্ত গেলাম তখনই কোথা থেকে রুপ ঝড়ের গতিতে রুমে এলো আমি একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললাম,
~ এভাবে আমাকে বসিয়ে রেখে তুই কোথায় চলে গিয়েছিলি?
রুপ আমাকে নিয়ে আবার বিছানায় বসিয়ে দিলো এবার আমার বিরক্তি রাগে পরিনত হলো। দিলাম এক ধমক বেচারী এভাবে হঠাৎ ধমক দেয়ায় কিছুটা ভরকে গেলো। তাতে আমার কি? আমি রেগে কটকট করে বললাম,

~ তুই এখান থেকে যাবিনা যদি এক পা নড়েছিস তাহলে তোর পা ভেঙে দেবো
রুপ টুপ করে আমার পাশে বসে পড়লো। গল্প করতে করতে মেহেদী শুকিয়ে গেলো। মেহেদী উঠিয়ে নিচে নেমে গেলাম এভাবে বসে থাকতে বোরিং লাগে সবার সাথে কথা বলে চলে এলাম। রাতে আমাকে সাজানো হচ্ছে হলুদ একটা লেহেঙ্গা পড়িয়ে দিয়েছে। কাচা ফুলের গয়না সব আমাকে সাজিয়ে স্টেজে যেখানে হলুদ দেবে। সেখানে নিয়ে এসেছে। স্টেজে চোখ বুলিয়ে নিলাম। সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। আমাকে নিয়ে স্টেজে বসিয়ে দিলো এরপর এক এক করে সবাই হলুদ দিলো একেবারে হলুদ ভুত বানিয়ে ফেলেছে!

ওদিকে শুভ’দের বাড়িতেও গায়ে হলুদের রিচুয়েলস চলছে। শুভ কে ও গায়ে হলুদ দিচ্ছে শুভ শুধু ফোস ফোস করছে। কিছু বলতেও পারছে না!
গায়ে হলুদ শেষে রুমে এসে শাওয়ার নিয়ে শুয়ে পড়লাম। আজ আর চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছেনা খুব কান্না পাচ্ছে কাল এই বাড়ি এই ঘর এসব ছেড়ে অন্য বাড়িতে যেতে হবে এটা ভেবেই কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে কাল থেকে আর ভাইয়ার সাথে ঝগড়া হাসি মজা করতে পারবো না। আম্মুর কোলে মাথা দিয়ে আম্মুর শৈশব শুনতে পারবো না। বাবা অফিস থেকে আসার পর মুখ ফুলিয়ে গিয়ে বলতে পারবো না। বাবা আমার চকলেট দাও বাবাও আর আমাকে রাগানোর জন্য বলবে না চকলেট তো আনিনি প্রিন্সেস এসব ভেবে দম বন্ধ হয়ে আসছে এগুলো ছেড়ে কি করে থাকবো? না আর ভাবতে পারছি না এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে ভাইয়া কে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম আমার কান্না শুনে বাবা, আম্মু ও চলে এসেছে। হয়তো বুঝেছে কেন কান্না করছি কিন্তু নিজেদের স্ট্রং রেখে আমাকে শান্ত করে রুমে পাঠিয়ে দিলো সারারাত বিছানায় এপাশ ওপাশ করে শেষ রাতের দিকে ঘুম পেয়ে গেলো।

ভারী লেহেঙ্গা গা ভর্তি গয়না পড়ে বিছানায় বসে আছি আজ আমার বিয়ে লালের মধ্যে গোল্ডেন স্টোনের লেহেঙ্গা মেকআপ করতে চাইনি বিয়েতে নাকি এভাবে সাজে আমাকে সাজিয়ে বসিয়ে দিয়েছে। শুভ’রা চলে এসেছে। এবার আমাকে নিচে নিয়ে এলো আমাকে শুভ’র পাশে নিয়ে এসেছে। একবার শয়তানটা কে দেখে নিলাম। মাশা আল্লাহ দেখতে কিন্তু মনটা তো নাউজুবিল্লা আমি সকলের সামনেই বললাম,

~ বিয়ে পড়ানোর আগে আমি শুভ’র সাথে কথা বলবো
বিয়ের কনে যদি বিয়ের দিন এমন কিছু বলে তাহলে সবাই অবাক হবে এখানেও অবাক হলো।
অনেক বলে শুভ কে নিয়ে আমার রুমে এলাম। শুভ রাগে গজগজ করে বললো,
~ কি বলবে হ্যা?

আমি বাঁকা হেসে বললাম,
~ মিস্টার হাজবেন্ড এখন তুমি নিচে গিয়ে প্রেস মিডিয়ার সামনে ঠিক সেটাই বলবে যেটা এখন আমি তোমাকে বলতে বলবো
শুভ চেচিয়ে বললো,

~ ওয়াট? আর ইউ লস্ট ইউআর মাইন্ড? আমি কিছু বলবো না
আমি পেপারসটা বের করলাম এরপর হাতে নিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বললাম,
~ তাহলে কি জেলে যাবে? এই পেপারসে লেখা আছে। আমি যা বলবো তুমি সেটা করবে
শুভ একটানে পেপারস নিয়ে পড়লো। যখন দেখলো সত্যি তখন পেপারস ছিড়ে ফেললো আমি জোড়ে হেসে দিলাম শুভ ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আমি হাসতে হাসতে বললাম,

~ আমি জানতাম তুমি এমন করবে তাই গতকাল এমন আরো ১০টা পেপারস কপি করে রেখেছি আর ওটাও কপি সো টাইম ওয়েস্ট না করে আমি যা শিখিয়ে দিচ্ছি নিচে গিয়ে সেটাই বলবে তুমি নিশ্চই চাওনা তোমার বাবা, মা তোমার জন্য মরে যাক মানে কাল তো কসম দিলো

শুভ রেগে বোম হয়ে বললো,
~ কি বলতে হবে?
আমি জয়ের হাসি দিয়ে বললাম,
~ তুমি নিচে গিয়ে মিডিয়া কে বলবে সেদিন রাতে তুমি আমার সাথে কিছু করোনি তুমি ড্রিংক করে ছিলে আর তোমার নিজের উপড় কন্ট্রোল ছিলোনা তাই তুমি আমাকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিলে

শুভ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
~ এসব বললেও সত্যিটা তো বদলে যাবেনা তুমি একজন ধর্ষিতা
আমি রেগে বললাম,

~ তোমাকে যেটা বলতে বলেছি সেটা গিয়ে বলবে চলো
এরপর আমি আর শুভ নিচে নেমে এলাম। কাজী আবার আমাদের বিয়ে পড়ালো এবার শুভ মিডিয়া কে সেটাই বললো, যেটা আমি বলতে বলেছি এসব শুনে মিডিয়া প্রশ্ন করলো!
~ তারমানে আপনি সেই ছেলে?

এটা নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ পড়ে গেলো। আমাকে রেখে সবাই শুভ কে নিয়ে পড়লো। আমি বাঁকা হেসে শুভ’র দিকে তাকালাম এটাই তো চেয়েছিলাম। আমি আরেকটু রাগ বাড়িয়ে দিতে বললাম,
~ হ্যা শুভ চৌধুরী সেই ছেলে আসলে ওর নিজের উপড় কন্ট্রোল ছিলোনা তাই আমাকে তুলে নিয়েছিলো আর ভার্সিটির রাগ ঝাড়তে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিলো

সবাই শুভ কে কথা শোনাচ্ছে বাবা আর শুভ’র বাবা শান্ত করলো এবার চলে এলো আমার বিদায়ের পালা বুক ফেটে যাচ্ছে সবাই কে ধরে কান্না করছি চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে। বাবা, আম্মু, ভাইয়া আমি তোমাদের ছেড়ে যাবোনা কিন্তু গলা দিয়ে কোনো কথা যেন আজ বের হচ্ছেনা গলাতেই কথাগুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে আমাকে গাড়িতে ওঠানো হলো। সারা পথ কান্না করে এসেছি সব নিয়ম সেরে আমাকে একটা রুমে বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো বাসর ঘর হয়তো ভেবেই তাচ্ছিল্যের হাসি দিলাম একটু পর শুভ এলো শুভ এসেই দরজা ধপাস করে বন্ধ করলো আমি বিছানা থেকে নেমে সালাম করতে গেলাম ততক্ষণাক শুভ পিছনে সরে গেলো। ঝাঝালো গলায় বললো,

~ আমার থেকে দুরে থাকবে
আমি আবার বিছানায় চলে এলাম। শুভ আমার হাত ধরে নামিয়ে একটা বালিশ ছুড়ে মারলো এরপর রেগেই বললো,
~ এই বিছানা আমার এখানে আমি থাকবো একদম আমার বউ হবার চেষ্টা করবে না তোমাকে আমি মানিনা তাই এটা ভেবোনা এখানে তোমার আর আমার বাসর হবে।
আমি হনহন করে গিয়ে শুভ’র কলার ধরে দাড় করালাম শুভ দাতে দাত চেপে বলে উঠলো,
~ কলার ছাড়ো বলছি
আমি আরো শক্ত করে ধরে বললাম,
~ নিজেকে কি মনে করো?

তুমি কি ভেবেছো? আমি এখানে তোমার সাথে এই বিছানায় বাসর করার জন্য বিয়ে করেছি? লিসেন আমার জাস্ট এসবে ইন্টারেস্ট নেই ইয়েস মিস্টার শুভ চৌধুরী আই হ্যাব নো ইন্টারেস্ট ইউ এন্ড ইউআর লো এটিটিউড
শুভ কলার ছাড়িয়ে আমাকে থাপ্পর মারতে হাত ওঠালো আমি ওর হাত ধরে পিছনে মুছড়ে ধরলাম খুব রাগ লাগছে শুভ বারবার হাত ছাড়তে বলছে,
~ আমার হাত ছাড়ো বলছি
পাশে চোখ গেলো। ওমা ছুড়িও আছে। দেখছি শুভ কে বিছানায় ফেলে ছুড়িটা হাতে নিয়ে ওর গলায় ধরলাম শুভ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো,
~ এটা কি করছো তুমি? এটা সরাও এটা ধারালো অনেক
আমি হাসি দিয়ে বললাম,
~ মরতে এত ভয় পাও?

~ মরতে সবাই ভয় পায় এটা সরাও
শুভ’র কথা শুনে ছুড়ি দিয়ে নিজের হাতে একটা টান দিলাম শুভ অবাক হয়ে বললো,
~ ওয়াট আর ইউ ডুয়িং? পাগল নাকি?
আমি রাগী ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,
~ নিজের হাতে যদি টান দিতে পারি তাহলে তোমার গলায়ও টান দিতে পারি যে বালিশ আমাকে দিয়েছো ওটা নিয়ে হয় ফ্লোরে নাহলে সোফায় শুয়ে পড়ো তোমার বাবা, মা কে ডাকতে বাধ্য করো না
শুভ রাগে ফুসতে ফুসতে গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো। আমিও চেন্জ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। আর নিজেই ভাবছি এবার দেখো কেমন লাগে এটাতো সবে শুরু!

পর্ব ৬

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। একটা লাল রঙের শাড়ি পড়েছি বিয়ের পর নাকি শাড়ি পড়তে হয় আয়নার সামনে গিয়ে চুল আচরাচ্ছিলাম। চোখ গেলো। সোফায় শুভ এখনো ঘুমিয়ে আছে। ওর ঘুম আমার সহ্য হলো।না কিছু করতে হবে যেই ভাবা সেই কাজ ওয়াসরুমে গিয়ে এক বালতি পানি এনে শুভ’র উপড় ঢেলে দিলাম ওমনি শুভ হুড়মুড় করে উঠলো আমার হাতে বালতি দেখে রাগী ভাবে বললো,
~ এটা কি করলে তুমি?

~ আসলে তোমার ঘুম আমার সহ্য হচ্ছিলো না তাই এত সুন্দর করে তোমাকে জাগালাম
ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললাম, শুভ হুট করেই আমার গলা চেপে ধরলো
~ খুব ভুল করছো তুমি আমি শুধু মাএ মাম্মা, পাপার জন্য চুপ আছি নাহলে তোমাকে কি করে শায়েস্তা করতে হয় আমার ভাল ভাবে জানা আছে। সো ইউ জাস্ট স্টে ইন ইউআর লিমিট

ওর কথাশুনে রাগ লাগছে তার উপড় এভাবে গলা চেপে ধরায় রীতিমত আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে কিন্তু শুভ ধরেই রেখেছে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা মারলাম এতে শুভ পিছিয়ে গেলো। ঠাস করে এক থাপ্পর বসিয়ে দিলাম এটা ভেবেই রাগ লাগছে ও কি মানুষ? শুভ আমার দিকে রাগী দৃষ্টি তে তাকালো। আমিও রাগী ভাবেই বললাম,
~ তুমি যে কোনদিন চেন্জ হবেনা এটা বোঝা হয়ে গিয়েছে। অবশ্য কি করে হবে? দেখতে হবে তো ধর্ষক বলে কথা অমানুষ একটা নাহলে কি আর? রাতের আধারে একটা মেয়ে কে

আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে শুভ বলে উঠলো
~ হ্যা করেছি আমি ধর্ষন হ্যা আমি ধর্ষক তোমাকে ধর্ষন করেছি আমাকে ক্যারেক্টারলেস বলেছিলে না? ক্যারেক্টারলেস রা তো এটাই করে সো কি করবে তুমি?
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি একটা মানুষ এতটা নিচ কি করে হয়? ছিঃ আবার বড় গলায় বলছে। আবার এ কি না আমার স্বামী সব কিছুর উপযুক্ত শাস্তি আমি একে দেবো তারপর এখানে থাকলে থাকবো না থাকলে নেই চলে যাবো হঠাৎ দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ হলো। আমি গিয়ে দরজা খুলে দিলাম একটা মেয়ে দাড়ানো দেখে আমার থেকে বড় মনে হচ্ছে কিন্তু আমি তো চিনিনা তাই বললাম,

~ আপনি কে?
মেয়েটা মুচকি হেসে বললো,
~ আমি তোমার ননদ গো ভাবী
শুভ মেয়েটা কে দেখে এগিয়ে এলো আরোহী বলে জড়িয়ে ধরলো বুঝলাম মেয়েটার নাম আরোহী কিন্তু শুভ’র তো বোন নেই কিছু বুঝতে পারছি না মেয়েটাই বললো,
~ বুঝতে পারছো না তো? ওকে আমি বলছি আমি আরোহী শুভ ভাইয়ার ফুপির মেয়ে রাতেই এসেছি এতদিন মুম্বাই তে ছিলাম।
আমি মুচকি হেসে বললাম,

~ আপু এখানে বসুন না!
~ তুমি আমাকে আপু বলবে না আমি তোমাকে ভাবী বলবো তুমি নাম ধরেই বলো
আরোহীর কথা শুনে বুঝলাম মেয়েটা ভাল অনেক গল্প করলাম আমাকে নিচে নিয়ে যেতে বলছে। আরোহী আমাকে নিচে নিয়ে এলো শুভ’র মা সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সবাই কে সালাম করলাম সবাই এতে খুশি হলো। আরোহীর মা আমাকে ওনার পাশে বসিয়ে আমার গলায় একটা চেইন পড়িয়ে দিলো মুচকি হেসে বললো,

~ বাহ ভারী মিষ্টি মেয়ে তুমি সবাই কে কি সুন্দর সালাম করলে আজকাল তো এমন মেয়ে হাজারে ২জন
এমন সময় শুভ নেমে এলো একটা কালো জিন্স প্যান্ট আর লাল শার্ট গায়ে চুলগুলো ভেজা টপটপ করে পানি পড়ছে আমি হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম চোখ পড়লো। ওর ডান হাতে হাতে গাড়ির চাবি শুভ নিচে এসে ফুপির সাথে কথা বলে বাড়ি থেকে বের হবে তখন ওর মা বললো,
~ শুভ কোথায় যাচ্চিস?
শুভ প্রশ্ন শুনে পিছনে তাকালো। চোখে মুখে বিরক্তি ফুটে উঠেছে বিরক্তি নিয়ে বললো,
~ এরকম স্টুপিড কোশ্চেনের মানে কি?

আমি জাস্ট হতভম্ব মায়ের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে আমার জানা ছিলোনা কিন্তু নিজেই ভাবলাম কথা যখন শুভ চৌধুরী’র তাহলে এবরিথিং ইজ পসিবল!
শুভ’র মা রাগী গলায় বললো,
~ তুই এখন কোথাও যাবিনা কাল তোর বিয়ে হয়েছে আজ কোথাও যাওয়া চলবে না
~ মাম্মা তুমি খুব ভাল করে জানো আমি তোমার কথা শুনবো না তাহলে নিজের টাইম কেন ওয়েস্ট করছো?

~ শুনতে তুমি বাধ্য
আর সহ্য হলো।না তাই শুভ কে বললাম, শুভ আমার কথা শুনে কটকট করে তাকালো। ওর সামনে গিয়ে আবার বললাম,
~ উনি তোমার মা তাই তোমার উচিত ওনার সব কথা শোনা আর তুমি শুনবে বুঝেছো?
শুভ দাতে দাত চেপে বললো,
~ তুমি কি আমাকে অর্ডার করছো?

তোমার কি মনে হচ্ছেনা? তুমি বেশী বাড়াবাড়ি করছো
আমি হাসি দিয়ে বললাম,
~ না আমার মোটেও মনে হচ্ছেনা তুমি ওনার ছেলে আর উনি তোমার মা উনি তোমাকে ভালবাসে শুভ সেই হিসেবে তো ওনার কথা শুনতে পারো
আমার কথা শুনে শুভ পাগলের মতো হাসতে লাগলো। হঠাৎ এভাবে কেন হাসলো বুঝলাম না হ্যা এই হাসির মানে আমি বুঝলাম না তবে এতটুকু খেয়াল করলাম হাসার মাঝেই শুভ’র চোখের কোনে পানি জমে আছে। শুভ সেটা আড়াল করে বলে উঠলো
~ আমি বাইরে যাচ্ছি আমাকে আটকাবে না
শুভ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। আমিও আর কিছু বুঝতে পারলাম না সবার সাথে কথা বলে রুমে চলে এলাম। বারবার ভাবছি শুভ’র চোখে পানি কেন ছিলো?

এসব ভাবছিলাম। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো হাতে নিয়ে দেখলাম ভাইয়া চট করে ফোন রিসিব করলাম
~ ভাইয়া কেমন আছিস?
~ ভাল আছি তোকে মিস করছি রে
ভাইয়ার কথায় খুব খারাপ লাগছে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কাঁদো কাঁদো ভাবে বললাম,
~ আমিও মিস করছি ভাইয়া তোদের সবাই কে মিস করছি আচ্ছা অভি ভাইয়া কোথায়?
ভাইয়া কে জিগ্যেস করলাম
~ এইতো এখানেই আছে।

ভাইয়ার কথায় মুখে হাসি ফুটে উঠলো ভাইয়া কে বললাম, অভি ভাইয়া কে দিতে ভাইয়া অভি ভাইয়া কে দিলো আমি রেগে বললাম,
~ অভি ভাইয়া তুমি একটুও ভাল না তুমি আসলেই পচা তুমি গতকাল কোথায় ছিলে? তুমি নাকি আমার বিয়ে নিয়ে এক্সাইটেড? তাহলে তোমাকে দেখলাম না কেন? তুমি আমাকে একটুও ভালবাসো না
বুঝলাম না কি হলো। অভি ভাইয়া ফোনটা ভাইয়া কে দিয়ে দিলো খুব খারাপ লাগছে অভি ভাইয়া কেন এমন করছে।? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না হঠাৎ করে কি হলো?

ওদিকে অভি ভাইয়া ছাদে চলে গেলো। ছাদে গিয়ে দেখলো রুপ অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ তুমি এখানে?
রুপ অভি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে স্লান হাসলো এরপর অন্যদিকে ঘুরে বললো,
~ হ্যা কাল চলে যেতে চেয়েছিলাম। আন্টি যেতে দেয়নি আগামীকাল তো তিশা’র রিসেপশন তারপর চলে যাবো

অভি ভাইয়া ছাদের রেলিং ঘেসে দাড়ালো
~ এখনো কি আমাকে মানা যায়না?
রুপে’র প্রশ্নে অভি ভাইয়া ঘুরে দাড়ালো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। রুপে’র দিকে
~ অবাক হওয়ার কিছু নেই ভালবাসি তো তোমাকে তাই ভুলতে পারিনি
অভি ভাইয়া গম্ভীর ভাবে বললো,

~ ১ বছর আগেও বলেছিলাম। এখনো বলছি ভুলে যাও আমাকে কারন আমি তোমাকে ভালবাসি না
~ জানি তিশা কে ভালবাসো কিন্তু ওর তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,

~ বিয়ে হয়েছে তাতে কি? আমার ভালবাসা একি আছে। ভালবাসলেই যে পেতে হবে এমন কোনো চুক্তি নেই শুধু মাএ ভালবেসে এই পৃথিবীতে হাজারও মানুষ এখনো বেঁচে আছে।
কথা বলতে বলতে অভি ভাইয়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। অভি ভাইয়া চুপ করে দাড়িয়ে রইলো!
~ তুমি কি সারাজীবন একা থাকবে?

রুপে’র কথায় অভি ভাইয়া আবার বললো,
~ হয়তো একা থাকবো যেই তিশা কে আগলে রাখলাম আমার ধারা কোনদিন কষ্ট পেতে দেইনি সে তো অন্যকারো হলো। দোষ আমার ভালবাসি এটা বলতে পারিনি তাই তো হারিয়ে ফেললাম। হ্যা একাই থাকবো
রুপ মাথা নিচু করে ফেললো অভি ভাইয়া তাচ্ছিল্য হাসলো!

বিছানায় বসে আছি আরোহী ডাকলো শুভ’র মা নাকি ওনার রুমে যেতে বলেছে মাথায় ঘোমটা টেনে গেলাম
~ আসবো। আন্টি?
আমার কথা শুনে উনি মুখটা কালো করে বললো,
~ না আসবি না
আমি অবাক হলাম। কিছুটা উনি মুচকি হেসে বললো,
~ আন্টি কেন বললি? আমি তো তোরও মা আর মা’র রুমে মেয়ে আসবে এতে পারমিশন নেবে কেন?

আমি ওনার পাশে গিয়ে বসলাম
~ ওকে আমি আপনাকে আম্মু বলবো
~ তুমি করে বলতে হবে!
শুভ’র বাবা বললো, এরপর আমার হাতে একটা পেপারস দিলো আমি বুঝলাম না কিসের? আমাকে দেখতে বললো, দেখে তো আমি শকড আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ বাবা এটা তো প্রপার্টি পেপারস
~ হ্যা যেগুলো আমি তোর নামে লিখে দিয়েছি।
শ্বশুর বাবা’র কথায় তো আমি থ আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম,
~ এগুলো আমার নামে কেন দিয়েছেন?

শাশুড়ি আম্মু কেঁদে দিলো কেঁদে কেঁদেই বললো,
~ মা রে আমার শুভ খারাপ হয়ে গিয়েছে। ওকে একমাএ তুই ঠিক করতে পারিস তোর ভেতরে আমি সেটা খুজে পেয়েছি কিন্তু শুভ যেমন ও যে কোন সময় তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইবে তাই আমি আর তোর বাবা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন ও চাইলেও তোকে এ বাড়ি থেকে বের করতে পারবে না।
আমার ইতস্তত লাগছে আমি এটা কি করে নেবো? আমি বলেই ফেললাম।
~ আম্মু আমি এটা নিতে পারবো না। এটা তোমাদের কাছেই থাক।
বাবা উঠে আরেকটা পেপারস আনলো এনে আমার হাতে দিয়ে বললো,

~ তাহলে এটা রাখ
আমি জিগ্যেস করলাম, এটা কি?
~ এটা এই পেপারসের কপি শুভ তোকে বাড়ি থেকে বের করতে চাইলে তুই তখন এটা দেখাবি
বাবার কথায় কিছু একটা ভাবলাম এরপর কপি পেপারস নিয়ে রুমে চলে এলাম। শুভ কে শাস্তি দেয়ার হাতিয়ার পেয়ে গেলাম এবার উঠতে বসতে ওকে জ্বালাবো!
রাতে ব্যালকনি তে দাড়িয়ে আছি হঠাৎ দরজা আটকানোর শব্দ পেলাম। বুঝলাম শুভ এসেছে। রুমে চলে এলাম। আমাকে দেখেই শুভ রেগে বললো,
~ এতক্ষণ তো রুমে ছিলেনা আমাকে দেখেই আসতে হলো?

আমি বিছানায় পা তুলে বসে বললাম,
~ এতরাত করে বাড়ি ফেরা চলবে না এখন থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসবে
শুভ ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ তুমি এটা কি করে এক্সপেক্ট করো? যে আমি তোমার কথা শুনবো?

কিছু বললাম, না শুধু হাসলাম বিছানায় শুয়ে মনে মনে বললাম, কাল তো রিসেপশন এরপর ওই বাড়ি যাবো ওখান থেকে এসে তোমাকে আমি ঠিক করবো। যদি না পারি আমিও তিশা না
শাড়ি গয়না পড়ে বসে আছি পাশে শুভ নানান ধরনের মানুষের আমদানি কারন আজ আমাদের রিসেপশন আমি ওয়েট করছি বাবা, মা কখন আসবে হঠাৎ ওদের দেখে দৌড়ে গেলাম গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম সবার সাথে কথা বললাম, এরমাঝে অভি ভাইয়া এলো অভি ভাইয়া কে দেখে রাগ লাগছে কেন এমন করছে।? ওমা আজও কথা বললো, না সবাই আমার শ্বশুর, শাশুড়ির সাথে কথা বলছে। একটা জিনিষ আমি খেয়াল করেছি আমার শ্বশুর,শাশুড়ি অভি ভাইয়া কে দেখলেই তাকিয়ে থাকে এই তাকানো তে শুধু মায়া কিন্তু কেন?

অতঃপর আমরা আমাদের বাড়ি এলাম। শুভ আসতে চায়নি ওকে জোড় করে পাঠিয়েছে আর আমি তো আছিই আমার বাড়ির লোক শুভ’র সাথে এমন বিহেব করছে। যেন এই ছেলেটা কত ভাল শুভ নিজেও অবাক হচ্ছে রুমে এসে চেন্জ করে নিলাম। বিছানায় ঠাস করে শুয়ে পড়লাম। সেম টাইমে শুভ ও ঠাস করে শুয়ে পড়লো। হঠাৎ এমন হওয়ায় আমরা দুজন দুজনের দিকে চোখ বড় বড় তাকালাম!

পর্ব ৭

আমরা দুজন দুজনার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি আমি চোখ ছোট ছোট করে বললাম,
~ এভাবে কেউ শোয়?
~ সেম কোশ্চেন আমিও করতে পারি
শুভ’র কথা শুনে লাফ দিয়ে উঠে বসে বললাম,
~ আমার বাড়ি আমার বিছানা আমি যেভাবে ইচ্ছে শুতে পারি তাই বলে তুমি পারবো না। ওকে?
শুভ ও ধপ করে উঠে রাগী ভাবে বললো,
~ ও রিয়েলি? তুমি যখন আমার বাড়িতে আমার পুরো বেড দখল করেছিলে তখন?

~ আমি করতেই পারি তুমি পারোনা
শুভ আমার কথায় দাতে দাত চেপে বললো,
~ লিসেন আই এম সো মাচ টায়ার্ড সো প্লিজ ডোন্ট ডিস্টার্ব মি আমার ঘুমানো দরকার
আমি ভেংচি দিয়ে চলে এলাম। অভি ভাইয়ার সাথে কথা বলা দরকার এমন কেন করছে। জানতে হবে সোজা অভি ভাইয়ার রুমে চলে এলাম। কপালে এক হাত দিয়ে শুয়ে আছে। কোমরে হাত দিয়ে বললাম,
~ অভি ভাইয়া কি হয়েছে। তোমার?

অভি ভাইয়া কপাল থেকে হাত সরিয়ে এক পলক আমাকে দেখলো এরপর আবার আগের মতো রইলো আমি ফ্লোরে বসে অভি ভাইয়ার শার্ট টেনে ধরলাম আসলে এটা ছোটবেলায় করতাম যখন অভি ভাইয়া রেগে যেত আর কথা না বলতো তখনই এটা করতাম এবার অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো। ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছে। হয়তো কারন তখন ছোট ছিলাম। এখন তো ১৮ রানিং আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে। অভি ভাইয়া শোয়া থেকে উঠে বসলো!
~ এমন কেন করছো অভি ভাইয়া?

ঠোট উল্টে বললাম, অভি ভাইয়া ফিক করে হেসে দিয়ে বললো,
~ তুই কি আর বাচ্চা আছিস? এমন বাচ্চাদের মতো কেন করছিস?

~ এখন তো আমি পর হয়ে গিয়েছি এখন তো আমি বড় হয়ে গিয়েছি ভাল আর কথা বলতে হবেনা তোমার এতটা পর হয়ে গিয়েছি আমার সাথে কথাই বলা যায়না
অভি ভাইয়া আমার কথা শুনে আমার কান টেনে উঠিয়ে বসালো কতক্ষণ হেসে তারপর বললো,
~ তৃশ বেবী তুই তো বিজি ছিলি আর দেখ তুই আমার পর না আর কোনদিন হবিও না যদি হোস তো আপন হবি আর এসব বলবি না ওকে?

আমি ভেংচি কেটে বললাম,
~ হু আর এমন করলে কখনোই তোমার সাথে কথা বলবো না
~ ওকে বলিস না!

আমার গাল টেনে অভি ভাইয়া বললো, এদিকে শুভ আমাদের দেখছিলো আর নিজে নিজেই বলছে,
~ এত ঢং কিসের ভাই, বোনের? বাই দা ওয়ে এই অভি কি তিশা’র আপন ভাই?
হঠাৎ শুভ আমার আম্মু কে দেখলো শুভ আম্মু কে গিয়ে জিগ্যেস করলো
~ আন্টি এই অভি মানে অভি ভাইয়া কি আপনার ছেলে?

আম্মু মুচকি হেসে বললো,
~ তিশা আর আবিরে’র থেকে অভি কে আমি আলাদা চোখে দেখিনি ও আমার বোনের ছেলে কেন বলো তো?
শুভ ইতস্তত হয়ে বললো, না তেমন কিছুনা

শুভ আবার রুমে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর আমিও চলে এলাম। শুভ আমি রুমে আসতেই বলে উঠলো!
~ কাজিনের সাথে এত ঢলাঢলি কিসের হ্যা?
আমি বুঝতে পারলাম না তাই বললাম,
~ এক্সকিউজ মি, ওয়াট ডু ইউ মিন বাই ঢলাঢলি ওটা তোমার হ্যাবিট নিজেরটা অন্য কারো ঘাড়ে কেন চাপাচ্ছো? আর তুমি একচুয়েলি কি মিন করছো?

শুভ চোখ মুখ শক্ত করে বললো,
~ একদম নেকামো করবে না আমি যে কি মিন করছি সেটা তুমি খুব ভাল করে বুঝতে পারছো অভি তো তোমার কাজিন তাহলে ওর সাথে তোমার এত কি হ্যা?
আমি জাস্ট অবাক সাথে রাগও লাগছে অভি ভাইয়া কে নিয়ে এসব বলছে। রাগী গলায় বললাম,
~ অভি ভাইয়া কে নিয়ে একটাও খারাপ কথা বলবে না আর এসব বলার তুমি কে হ্যা?

শুভ কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেলো।
~ কেউনা আমি তোমার কেউনা আর তুমিও আমার কেউনা তবে একটা পরিচয় আমার আছে।
শুভ’র কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম
~ আমি তোমার রেপিস্ট
এটা বলে শুভ বের হয়ে গেলো। রাগে আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে রেপ করেছে সেটা বারবার বলার কি আছে।? এরমত নিচ আমি সত্যিই দুটো দেখিনি

বসে একটা ম্যাগাজিন পরছিলাম। তখন আম্মু এলো আম্মু কে দেখে ম্যাগাজিন রেখে দিয়ে আম্মু কে বললাম,
~ আম্মু কিছু বলবে?
~ হ্যা রে শুভ কোথায়?

আম্মুর কথায় ভাবলাম আসলে সেই যে সন্ধ্যায় বের হলো। রাত এখন ১১টা এখনো তো এলোনা কিন্তু আম্মু কে কি বলবো? সেটা ভাবছি আম্মু আবার জিগ্যেস করলো
~ আম্মু শোনো ও একটা কাজে গিয়েছে। আমাকে বলে গিয়েছে। তোমার ভাবতে হবেনা তুমি যাও আমি আছি তো!
আম্মু কে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিলাম বিরক্ত লাগছে আমার এখন কতক্ষণ ওয়েট করলাম এখানে থাকলে তো বুঝবো না তাই ড্রয়িংরুমে এসে সোফায় বসে আছি শুভ’র কোনো খবর নেই চোখটা লেগে এলো আমার তখন কলিংবেল বেজে উঠলো গিয়ে দরজা খুলে দেখি শুভ আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। ইচ্ছে তো করছে। মাথা ফাটিয়ে দেই আমিও রুমে চলে এলাম। ওমা এ দেখি আমার বিছানায় শুয়েছে আমি কোমরে হাত দিয়ে বললাম,
~ আমার বিছানায় শুয়েছো কেন?

তোমার তো সোফায় শোয়ার কথা
~ শোনো আমার মাথা গরম আছে। তাই একদম বাড়াবাড়ি করবে না তোমার যদি বিছানায় শুতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি আমার পাশে শুয়ে পড়ো আমি কিন্তু তোমাকে কোলবালিশ বানাবো নাহলে নিজে সোফায় শুয়ে পড়ো, গুড নাইট!
এই ছেলে বলে কি? আমি নাকি এরসাথে ঘুমাবো আবার আমাকে কোলবালিশ বানাতে চায় রাগে গজগজ করতে করতে সোফায় শুয়ে পড়লাম। কারন এ ছেলের বিশ্বাস নেই!

ফজরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নিলাম। একটু হাটাহাটি করলাম আস্তে আস্তে সূর্য মামা উকি দিলো আম্মু রান্না করছে। আমি হেল্প করছি রান্না শেষে সবাই খাবার টেবিলে আছে। কিন্তু শুভ নেই থাকবে কি করে? নবাবজাদা তো ঘুমে বিজি দাড়া বের করছি তোর ঘুম আগের বারের থেরাপী দিতে হবে রুমে এসে দেখি শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।
আমি ঠিকমত খেয়াল করলাম আস্তে শুভ’র মাথার পাশে বসলাম কি নিষ্পাপ লাগছে জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে শুভ’র চুলগুলো হালকা উড়ছে কেন জানিনা নিজের মন কে নিজেই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে। এই নিষ্পাপ মুখের অধিকারী ছেলেটা সত্যিই কি রেপ করতে পারে?

হঠাৎ শুভ’র করা সব কথা মনে পড়লো। সাথে সাথে নিজেকে সামলে এক বালতী পানি এনে ঢেলে দিলাম শুভ আগের মতোই লাফ দিয়ে উঠলো আমি শক্ত ভাবে বললাম,
~ সবাই ব্রেকফাস্ট করছে। ফ্রেশ হয়ে নিচে চলো
শুভ রাগে কটকট করতে করতে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। ফিরে এসে ড্রেস নিয়ে আবার গেলো। কতক্ষণ পর বেরিয়ে এলো ব্লাক টি শার্ট ব্লাক পেন্ট পড়েছে আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম এরপর একসাথে নিচে নেমে এলাম। সবাই শুভ’র সাথে মিশে গিয়েছে। কিন্তু অভি ভাইয়া ছাড়া এরা মনে হচ্ছে সাপ, নেউল যদিও

তেমন কামড়াকামড়ি করছে। না বাট এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে!
আজই চলে যেতে হবে তাই রেডি হয়ে নিলাম। একটা রেড কালার চুরিদার পড়েছি শুভ আগেই সবার সাথে কথা বলে গাড়িতে গিয়ে বসে আছে। আমিও সবাই কে বিদায় দিয়ে চলে এলাম। শুভ তাকিয়ে আছে। কেমন একটা লাগছে তাই টুপ করে গাড়িতে বসে পড়লাম।
~ আমাকে কি তোমার ড্রাইভার মনে হয়?

শুভ’র কথায় চোখ ছোট ছোট করে তাকালাম
~ পেছনে বসেছো কেন? সামনে এসে বসো নাহলে রেখে চলে যাবো
শুভ’র কথা বলার ধরন দেখে সামনে এসে বসলাম যদি সত্যি রেখে চলে যায় শুভ গাড়ি স্টার্ট দিলো সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছি ৩ ঘন্টার মধ্যে চলে এলাম। গাড়ি থেকে নেমে সবার সাথে কথা বলে রুমে চলে এলাম। টায়ার্ড লাগছে আর কি? ঠাস করে শুয়ে পড়লাম।

পরেরদিন ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমি, আরোহী, ফুপ্পি মানে শুভ’র ফুপ্পি আম্মু আর বাবাও আছে। শুভ নেমে এলো বাবা’র কাছে গিয়ে একটা চেক ধরলো
~ কি করবো?
বাবার প্রশ্ন শুনে শুভ রেগে বললো,
~ ওয়াটস রং উইথ ইউ পাপা? তুমি জানোনা কি করতে হবে? এটাতে সাইন করো আমার টাকা লাগবে
~ কিন্তুু এখন তো আমি সাইন করলে হবেনা
বাবার কথায় শুভ অবাক হয়ে বললো, মানে কি?

বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
~ তিশা সাইন করলেই তুমি টাকা পাবে
~ ওয়াট? ও সাইন করলে পাবো মানে?

~ কারন আমি আমার সব প্রপার্টি তিশা’র নামে করে দিয়েছি!
এবার যেন শুভ’র রাগ মাথায় উঠে গেলো। চেচিয়ে বললো,
~ এসব কি বলছো পাপা? মাম্মা পাপা কি বলছে?

আম্মুও হ্যা বললো, আমি চুপ করে বসে আছি এখন শুভ রেগে বাবা, আম্মু কে কথা শোনাবে তাই আমি শুভ’র কাছে গিয়ে বললাম,
~ শুভ তুমি চেঁচামেচি করো না আমাকে দাও আমি সাইন করে দিচ্ছি

~ না লাগবে না আর তোমরা আমার সো কল্ড মাম্মা, পাপা তোমাদের আর কি বলবো? তোমরা তো কোনদিন আমাকে শান্তিতে থাক।তে দাওনি আর দেবে।ও না লাগবে না আমার টাকা ইউ গাইস জাস্ট গো টু হেল!
শুভ রেগে বেরিয়ে গেলো। আমি হা হয়ে আছি ওর কথায় বাবা, আম্মু ওকে কোনদিন শান্তি দেয়নি মানে? শুভ কে মাঝে মাঝে অন্যরকম লাগে ৩দিন আগে ও কথা বলতে বলতে ওর চোখে পানি দেখেছিলাম। আর আজ এটা বললো, কেন জানি মনে হয় শুভ’র মনে কোনো চাপা কষ্ট আছে। যেটা থেকে শুভ আজ এত খারাপ এসব ভাবতে ভাবতে রুমে চলে এলাম।

রাতে শুয়ে আছি তখন শুভ এলো হেলেদুলে রুমে ঢুকলো বুঝলাম ড্রিংক করেছে কিছু একটা বিরবির করছে। কি বলছে। শুনতে কাছে গেলাম আমাকে দেখেই শুভ রেগে গেলো। চোখগুলো রক্তের মতো লাল হয়ে গিয়েছে। আমি আমতা আমতা করে বললাম,
~ শুভ আম আমার কথা শোনো
ওমনি শুভ ঠাস করে আমাকে থাপ্পর মারলো আমি বুঝলাম না আমি কি করেছি?

~ তোর জন্য সব হয়েছে। আজ আমার মাম্মা, পাপা কে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাদের সব প্রপার্টি নিজের করেছিস তোকে মেরেই ফেলবো!
বলে শুভ আবার থাপ্পর মারতে হাত ওঠালো এবার হাত ধরে নিজে ওর গালে থাপ্পর বসিয়ে দিলাম মিথ্যে সহ্য হয়না ওর বাবা, মা নিজেই তো দিয়েছে। ভেবেছিলাম। আজ জানতে চাইবো ও ওসব কেন বললো,? ওসব কথা শুনে মনে হয় কোনো কষ্ট আছে। ওর এখন রাগ লাগছে থাক। কষ্ট তাতে আমার কি?

পর্ব ৮

শুভ ওইভাবেই শুয়ে পড়লো। আমিও আর রাগে কিছু বললাম, না রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে শয়তান ছেলে একটা!
কয়েকদিন পর।

সকালে ব্রেকফাস্ট করছি সবাই ভাবছি আজকে ভার্সিটি যাবো তাই আম্মু কে বললাম,
~ আম্মু আমি ভার্সিটি যাবো
আম্মু মুচকি হেসে বললো,
~ আচ্ছা যা সাবধানে যাবি আর গাড়ি নিয়ে যাবি!

আমরা ব্রেকফাস্ট করছি কিন্তু এখানে শুভ নেই আর আম্মু বা বাবা কেউই একবারও জিগ্যেস করছে। না ব্যাপারটা ভাল লাগলো। না এমন সময় দেখি শুভ ঝড়ের গতিতে সিরি দিয়ে নেমে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। এত তাড়াতাড়ি কোথায় গেলো।? আমার ও সময় নেই আমিও ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেরিয়ে এলাম। ১ ঘন্টা পরই ভার্সিটি চলে এলাম। গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে গিয়ে আমার চোখ ছানাবড়া শুভ একটা ছেলে কে ইচ্ছেমতো মারছে আর সবাই হা করে দেখছে। বুঝতে পারছি না কিছু কিন্তু এভাবে আর কিছুক্ষণ মারলে ছেলেটা নির্ঘাত মারা যাবে তাই আমি দৌড়ে কাছে গেলাম কাছে গিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছি!
~ শুভ কি করছো? ছাড়ো ওকে

কে শোনে কার কথা শুভ মেরেই যাচ্ছে আমি ওর ফ্রেন্ডদের বললাম,
~ তোমরা দাড়িয়ে দেখছো? ওকে আটকাও প্লিজ আরে ছেলেটা তো মরে যাবে
~ মরুক তাতে আমরা কি করবো?

তুলি নামের মেয়েটার কথা শুনে রাগ উঠে গেলো। চেচিয়েই বললাম,
~ তোমরা না ওর ফ্রেন্ড? আমার তো মনে হয় তোমরা সবাই শুভ’র নামের ফ্রেন্ড
~ তোমরা এত লাগছে কেন?

শুভ’র ফ্রেন্ড রনি বললো, শান্ত ভাবে বললাম,
~ শুভ আমার হাজবেন্ড তাই আমার লাগবে এটাই স্বাভাবিক কারন ছেলেটা মরলে শুভ’র ক্ষতি হবে
এদের সাথে ফালতু কথা বলে লাভ নেই তাই শুভ কে আটকানোর চেষ্টা করছি না পেরে পেছন থেকে টেনে ধরলাম শুভ ছেলেটা কে ছেড়ে দিয়ে আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,
~ আমাকে আটকালে কেন?
~ শুভ ও মরে যাবে

আমার কথায় ওর রাগ যেন আরো বেড়ে গেলো। দাতে দাত চেপে বলে উঠলো!
~ মরলেই ভাল হতো ওর সাহস হয় কি করে? তোমাকে
তোমাকে বলে শুভ থেমে গেলো। আর আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম শুভ কিছু না বলে মুখ ফিরিয়ে নিলো আমি বুঝতে পারছি শুভ কিছু বলতে চাইছে তাই জিগ্যেস করলাম
~ আমাকে কি?

~ কিছুনা ক্লাসে যাও আর ক্লাস করে সোজা বাড়ি যাবে
বলে হনহন করে চলে গেলো। আমি আহম্মকের মতো দাড়িয়ে আছি তখন আমার বেষ্টু রুপ এলো রুপ ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ কি রে ক্লাসে যাবিনা?

আমি একবার তাকিয়ে বললাম, চল যাই
ক্লাস করে বাইরে এসে আমি আর রুপ গল্প করছি যদিও শুভ চলে যেতে বলেছে আমার বয়েই গিয়েছে। ওর কথা শুনতে ক্লাস শেষ হয়েছে অনেকক্ষণ রুপে’র সাথে এখন তেমন দেখা হয়না আগে আমাদের বাড়ি যেতো তখন দেখা হয়ে যেতো এখন তো আমি শ্বশুর বাড়ি থাকি তাই দেখা হয়না ভার্সিটি তেও কম আসা হয় এই তো বিয়ের পর আজই এলাম। যাইহোক কথা বলছিলাম। হুট করে কোথা থেকে শুভ এলো তাকিয়ে দেখলাম রাগী ভাবে তাকিয়ে আছে। আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,
~ কি হয়েছে?

~ তোমাকে না চলে যেতে বলেছিলাম।
মেজাজ গরম লাগে না কার গলা খাকারী দিয়ে বললাম,
~ দেখছো না? রুপে’র সাথে কথা বলছি
~ রুপ আমাদের বাড়ি গিয়ে গল্প করবে এখন আমার সাথে চলো!
বলেই আমার হাত ধরলো এরপর একপ্রকার টানতে টানতে এনে গাড়িতে বসিয়ে নিজে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো ভাল লাগছে না বিরক্তি নিয়ে বললাম,

~ এমন করছো কেন?
~ কি করেছি?
এই ছেলে কে বলে লাভ নেই কিছু তাই চুপ করে আছি তবে ভাবছি আজ এর হলো। কি? এত ঢং করছে। কেন? ছিটে মাথা হেলিয়ে দিলাম এসব ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এভাবে বাড়ি চলে এলাম। আমি আর শুভ দুজন আমাদের রুমে যাচ্ছিলাম। এমন সময় শুভ দাড়িয়ে গেলো। আর দাড়ালো আম্মুর মানে শাশুড়ির রুমের সামনে কেমন একটা রাগী ভাব চেহারায় শুভ আম্মুর রুমে ঢুকে গেলো। ব্যাপারটা কি দেখতে আমিও গেলাম শুভ ভেতরে গিয়ে চেচিয়ে বললো,
~ আবার এই ছবি নিয়ে কাঁদছো?

খেয়াল করে দেখলাম আম্মুর হাতে একটা বাচ্চা ছেলের ছবি ভাবতে লাগলাম এটা কে? আর শুভ রেগে গেলো। কেন?
~ হ্যা কাঁদবো যতদিন না ওকে পাবো ও আমার প্রথম সন্তান আমার বড় ছেলে তোর ভাই!
আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ তোমার ছেলে?

~ হ্যা রে মা আমার বড় ছেলে জানিস। ওকে হারিয়ে ফেলেছি সেই ৬ মাস বয়সে আল্লাহ আর কতদিন ওকে দুরে রাখবে?
আম্মু কাঁদতে কাঁদতে বললো, আম্মুর কথায় শুভ তাচ্ছিল্য হেসে বললো,

~ আমি আগেই বলেছি তোমার এই বড় ছেলে ও আগেই মরে ভুত হয়ে গিয়েছে। নাহলে এতদিনে তো ফিরে পেতে
শুভ’র কথা শুনে কিছুটা রাগ লাগলো। ওরই তো ভাই তাই রেগে বললাম,
~ এভাবে বলছো কেন? ও তোমার নিজের ভাই
শুভ চেচিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে বললো,
~ ভাই না এনিমি যে হারিয়ে গিয়েও আমাকে শান্তি দেয়নি আর আমার কি মনে হয় জানো? ও যদি বেঁচে থাকে আর যদি ফিরেও আসে তাহলে আমার থেকে সব কেড়ে নেবে

বলে শুভ আম্মুর হাত থেকে ছবিটা নিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিলো কাচের ফ্রেম হওয়ায় কাচ ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো। আম্মু রেগে শুভ কে থাপ্পর মারতে গেলে শুভ খপ করে হাত ধরে বলে উঠলো
~ নো মাম্মা আজ না ইনফ্যাক্ট আর কখনোই এই ছেলেটার জন্য তুমি বা পাপা আমাকে কিছু বলবে না আমি তো তোমাদের সামনে আছি আমাকে নিয়ে হ্যাপি থাক।তে পারোনা? দুজন কে একসাথে কেন চাও? যে কি না তোমাদের কাছে নেই মাম্মা এমন যেন না হয় ওকে ফিরে পেয়ে আমাকে হারিয়ে ফেললে

কথা বলার সময় শুভ’র চোখ ছলছল করছিলো কে জানিনা ওর শেষের কথায় আমার বুকটা ধক করে উঠলো আম্মু কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু শুভ বলতে না দিয়ে চলে গেলো। আম্মু কে শান্ত করে আমিও চলে এলাম। রুমে এসে দেখি শুভ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। কিছু বললাম, না চুপচাপ বসে রইলাম এভাবে আরো কিছুদিন কেটে গেলো। শুভ এখন আর আগের মতো আমার সাথে বাজে বিহেব করেনা তবে যখন ওর কোনো কিছু নিয়ে ইন্টারফেয়ার করি তখন প্রচুর রেগে যায়

আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে থাকি এতে শুভ আরো রেগে যায় একদিন সকালে আমাদের বাড়ি যাবো তাই আয়নার সামনে দাড়িয়ে রেডি হচ্ছি অলমোষ্ট রেডি কানে ঝুমকো পড়া শেষ তখন রুমে শুভ এলো এসে আমাকে পা থেকে মাথা অবদি দেখছে। ব্যাপারটা আমার জন্য চরম আকারে অসস্তিকর ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ আজব এভাবে দেখছো কেন?
~ এরকম পেত্নী সেজে কোথায় যাচ্ছো?

মুহূর্তে মেজাজ বিগরে গেলো। এই ছেলে এমন কেন? আমাকে সাজতে দেখলেই পেত্নী বলে বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে দিলাম এক বারি শুভ চোখ বড় করে ফেললো আমি ফোস ফোস করে বললাম,
~ তুই পেত্নী, আস্ত একটা হনুমান
শুভ হা করে বললো,
~ তুমি আমাকে তুই করে বলছো? আবার হনুমান বলছো?

বলে শুভ একটা বালিশ তুলে নিলো দুজন ইচ্ছেমতে একজন আরেকজন কে মারতে শুরু করলাম মারতে মারতে বিছানায় উঠে বসে মনের সুখে মারামারি করছি এদিকে একটা সময় দুজনের বালিশ ছিড়ে তুলো দিয়ে রুম ছড়াছড়ি হয়ে গেলো। শুভ আমার দিকে আর আমি শুভ’র দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছি রুমে এই মুহূর্তে নিরবতা বিরাজ করছে। হঠাৎ একসাথে দুজন হু হা করে হেসে উঠলাম

আমাদের হাসির আওয়াজে সবাই চলে এলো এসে হা করে তাকিয়ে আছে। আরোহী হাসতে হাসতে বললো,
~ একি ভাবী এটা কে করলো?
শুভ আমাকে দেখিয়ে দিলো আমি কি কম নাকি? আমি শুভ কে দোষ দিলাম একজন আরেকজন কে দোষ দিতে ব্যস্ত তখন আম্মু বললো,
~ বুঝেছি দুজনই করেছিস
~ তোরা কি বাচ্চা আছিস?

ফুপ্পির কথায় শুভ বললো,
~ আরে ফুপ্পি কি বলো? ২দিন পর বাচ্চার বাবা, মা হয়ে যাবো
শুভ’র কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম। আম্মুর দিকে তাকিয়ে বুঝলাম কথাটা শুনে আম্মুও অবাক হয়েছে
~ আচ্ছা সারভেন্ট কে বলছি এগুলো পরিষ্কার করে দিতে
বলে আম্মু চলে গেলো। ফুপ্পি আর আরোহীও চলে গেলো। এবার আমি শুভ কে বললাম,
~ বাচ্চার বাবা, মা হবো মানে?

~ কিছুনা
শুভ মুখ দিয়ে সিটি বাজাতে বাজাতে বেরিয়ে গেলো। আমিও আমাদের বাড়ি চলে এলাম। সবার সাথে কথা বলে আমার রুমে চলে এলাম। ইস কতদিন পর এলাম। অভি ভাইয়া বাড়ি চলে গিয়েছে। বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম শুভ কে না বলেই এসেছি অবশ্য বললেই কি হতো? একদিন ভালই কাটলো পরেরদিন বিকেলে আবার চলে এলাম। কিছুটা সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। শুভ কে দেখলাম না হয়তো বাড়ি নেই আরোহীর রুমে গেলাম
~ আরে ভাবী এসো!
~ কি করছিলে?

বলতে বলতে আরোহীর পাশে বসলাম
~ গেমস খেলছিলাম।
~ তাহলে তো ডিস্টার্ব করলাম!
আমার কথায় আরোহী ফোন রেখে বললো,
~ কি যে বলো তুমি

আরোহীর সাথে অনেকক্ষণ গল্প করে রুমে চলে এলাম। দেখলাম শুভ বসে আছে। আমি আস্তে আস্তে কাছে গেলাম দু-হাতে মাথা চেপে ধরে বসে আছে। তাই জিগ্যেস করলাম!
~ তোমার কি মাথা ব্যথা করছে।?
আমার কথা শুনে শুভ মুখ তুলে তাকালো। শুভ কে এভাবে দেখে ভয় পেয়ে গেলাম চোখগুলো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। ঢোক গিলে বললাম,
~ কি হয়েছে শুভ?

ওমনি শুভ বসা থেকে উঠে আমার গালে ঠাস করে থাপ্পর মারলো মনে হয় শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মেরেছে ঠোট কেটে রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। আমি তো কিছু করিনি তাহলে? শুভ আবারও হাত ওঠালো আমি চেচিয়ে বললাম,
~ স্টপ ইট, হাউ ডেয়ার ইউ শুভ? তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে থাপ্পর মারার?
~ কোথায় গিয়েছিলে তুমি?

আমি অবাক হলাম। এরজন্য মারলো মেজাজ গরম হয়ে গেলো। চিৎকার করে বললাম,
~ আমি যেখানে ইচ্ছে যাই তাতে তোমার কি? তুমি বলার কে? না আমি তোমাকে হাজবেন্ড বলে মানি আর না তুমি আমাকে নিজের ওয়াইফ বলে মানো? তাহলে এমন কেন করছো? লিসেন তুমি একদম নিজের লিমিটে থাকবে আমি কিন্তু ভুলিনি তুমি একজন রেপিষ্ট তুমি একটা অমানুষ বুঝেছো তুমি একটা অমানুষ ঘৃনা করি আমি তোমাকে

শুভ মুচকি হাসলো এরপর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আমি অবাক হলাম। এতকিছু বললাম, আর কিছু বললো, না তাতে আমার কি? ঠোট জ্বালা করছে। ওভাবেই বসে রইলাম একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। কোনো কিছুর আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো। উঠে বসলাম খেয়াল করলাম শুভ নেই ছাদ থেকে আওয়াজ এসেছে। তাই রুম থেকে বেরিয়ে ছাদে চলে এলাম। ছাদে এসে যা দেখলাম আর যা শুনলাম আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।

পর্ব ৯

ছাদে এসে যা শুনলাম আর যা দেখলাম আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাড়িয়ে রইলাম এরপর আমি এক দৌড়ে শুভ’র কাছে চলে এলাম। হাত থেকে কাচের বোতলের অংশ একটানে ফেল দিয়ে বললাম,
~ আর ইউ ক্রেজি? এটা কি করছো তুমি? আর এক্ষুণি কি বলছিলে?
শুভ ঢুলতে ঢুলতে বললো,
~ আমি কিছু বলিনি

আমার প্রচন্ড রাগ লাগছে এতগুলো দিন এভাবে কেন মিথ্যে বললো,? শুভ’র শার্টের কলার ধরে বললাম,
~ কেন শুভ? কেন মিথ্যে বললে? কেন এতগুলো দিন নিজেকে ধর্ষক বলতে? যেখানে তুমি আমাকে ধর্ষন করোনি আর আমাকেই বা কেন ধর্ষিতা বলতে?
হ্যা একটু আগে যখন আমি ছাদে আসি তখন দেখি শুভ’র হাতে ড্রিংক এর বোতল কিন্তু ভাঙা আর ভাঙা বোতলের টুকরোটা বাম হাতে ধরে সেটা দিয়ে ডান হাতে অনবরত আঘাত করছে। আর বলছে,

~ আমি ধর্ষক না আমি তোমাকে সেই রাতে ধর্ষন করিনি হ্যা আমি খারাপ বাট আমি সেই রাতে অতটা খারাপ হতে পারিনি যে কি না একটা মেয়ের সবচেয়ে দামী তার সম্মান কেড়ে নেবো। কিন্তু আমি তোমাকে বলবো না
শুভ কে টেনে রুমে নিয়ে এসে হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলাম শুভ মাথা নিচু করে আছে। আমি শান্ত ভাবে জিগ্যেস করলাম
~ এবার আমাকে বলো সেই রাতে কি হয়েছিলো? আর এতদিন মিথ্যে কেন বললে?
শুভ আগের মতো বসে আছে। রাগটা এবার মাথায় চড়ে বসলো কিন্তু তবুও কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছি শুভ কে আবার জিগ্যেস করলাম এবারও শুভ আগের মতো বসে আছে। এবার চেচিয়ে বললাম,

~ কি হলো। হ্যা? এভাবে চুপ করে আছো কেন? আজ আমাকে সব বলবে তুমি এতদিন মিথ্যে কেন বললে? আর তোমার মনে এত কিসের কষ্ট?
শুভ এবার মাথা তুলে তাকালো। ওর চোখগুলো ছলছল করছে। আবার মাথা নিচু করে বললো,
~ আমার কোনো কষ্ট নেই

ইচ্ছে করছে। ওর মাথা ফাটিয়ে দেই একটা প্রশ্ন কতবার করা যায়? এবার চিৎকার করে বললাম,
~ তুমি কিছু বলবে না তাইতো? ওকে ফাইন বলো না আমি এই রাতে এক্ষুণি আমাদের বাড়ি চলে যাবো জানি তাতে তোমার কিছু যাবে আসবে না কিন্তু এখানে থাকবো না
বলে দরজা পর্যন্ত চলে এলাম। শুভ’র কথায় দাড়িয়ে পড়লাম।
~ তোমার সত্যিই মনে হয় তিশা? যে আমার কিছু যায় আসেনা!

পিছনে তাকালাম দেখলাম ওভাবেই বসা শুভ উঠে এসে আমার হাত ধরে বিছানায় বসিয়ে বলতে শুরু করলো
~ ভার্সিটি তে সেদিন যখন তুমি আমাকে থাপ্পর মেরেছিলে রাগের সাথে সাথে আমি মুগ্ধও হয়েছিলাম। যেখানে ভার্সিটির কেউ আমার সাথে চোখ তুলে কথা বলার সাহস পায়না সেখানে তোমার মত পিচ্চি মেয়ে আমাকে থাপ্পর মারলো এটা ভেবে নিজের মুগ্ধতা

কে সাইডে রেখে নিজের রাগটা কে প্রিয়োরিটি দেই তাই তোমার সাথে ওমন করি আর ওইদিন যে তোমার ওরনা ধরে টান দিয়েছিলাম। তুমি হয়তো খেয়াল করোনি তোমার ওরনা মাটি ঘেষে গিয়েছিলো আর মাটিতে জলন্ত সিগারেট ছিলো জানিনা কে ফেলছিলো তাও ভার্সিটিতে তাকে পেলে মেরে ফেলতাম তোমার ওরনা তো জর্জেট ছিলো তাই আগুন ধরতে টাইম লাগতো না আর তুমি না জেনেই আমাকে থাপ্পর দাও আর ক্যারেক্টারলেস ও বলো!
আমি হা করে শুভ’র কথা শুনছি তবে এটা ভেবে খারাপ লাগছে সেদিন বিনা কারনে শুভ কে থাপ্পর মেরেছিলাম। শুভ আবার বলতে শুরু করলো

~ এরপর আমার মাথায় রাগ চড়ে যায় আর ভাবী তোমাকে শাস্তি দেবো আমাকে বারবার ইনসাল্ট করার রাতে তোমাকে রাস্তায় দেখি তখন আমি ড্রাংক ছিলাম। তোমাকে দেখেই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাই এরপর তোমাকে কিস করার পর তুমি সেন্সলেস হয়ে যাও আর আমি তোমাকে ছেড়ে দেই আমি আমার কাছে রাখা ক্লিপ দিয়ে তোমার শরীরে আঘাত করি আর তোমার ড্রেস ছিড়ে ফেলি এরপর তোমাকে নিয়ে রাস্তায় শুইয়ে দেই তোমার শরীরে আঘাত ঠোটের আঘাত আর ড্রেস ছেড়া থাকায় সবাই ভাবে তুমি ধর্ষনের স্বীকার যেটা আমি চেয়েছিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিলো প্রতিশোধ নেয়া আর প্রেস, মিডিয়ার লোক ওনাদের আমি ফোন করে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ওনারা জানতো না আমি কিন্তু এরপরের চালটা তুমি চালো!
আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ তাহলে আমাকে ধর্ষিতা কেন বলতে? আর নিজেকে ধর্ষক কেন বলতে?

শুভ স্লান হেসে বললো,
~ তোমাকে ধর্ষিতা বলতাম কষ্ট দিতে বিকজ আই নো একটা মেয়ের কাছে নিজেকে ধর্ষিতা ভাবা কষ্টের আর আমি তো খারাপই তাই ধর্ষক তকমা পেলে কি হবে?
শেষের কথাটা বলার সময় শুভ’র গলা ধরে আসছিলো এটা আমি বুঝতে পারছিলাম। এটা ভেবে শান্তি লাগছে সেদিন মিডিয়া কে শুভ কে দিয়ে যেটা বলিয়েছিলাম। সেটা সত্যি আমি ধর্ষিতা নই তবে শুভ’র কেন এত কষ্ট? এটা জানতে শুভ’র হাত ধরে বললাম,
~ শুভ প্লিজ আমাকে বলো আমি জানি তোমার মধ্যে অনেক চাপা কষ্ট আছে। তুমি সবার কাছে নিজেকে যতটা খারাপ দেখাও ততটা খারাপ তুমি না নাহলে তো তুমি আমাকে সত্যিই ধর্ষন করতে

শুভ করুন চোখে আমার দিকে তাকালো। কেন জানিনা খুব কষ্ট হচ্ছে শুভ করুন ভাবেই বললো,
~ আমি তোমার কোলে মাথা রাখি?
শুভ’র এভাবে বলাতে আমি না করতে পারলাম না বিছানায় হেলান দিয়ে বসে পা দুটো সটান করে দিলাম শুভ তাড়াতাড়ি আমার কোলে মাথা রাখলো এরপর আবার বলতে শুরু করলো!

~ রাজ হারিয়ে যাওয়ার ২ বছর পর আমি জন্মাই। আমার নাম রাখে শুভ। এরপর আস্তে আস্তে আমি বড় হই। আমার মাঝে মাম্মা, পাপা সবসময় রাজ কে খুজতো যখন আমি একটু বুঝতে শিখি মাম্মা, পাপা একবার আমাকে শুভ তো একবার রাজ বলে ডাকতো একবার বলতো আমি ওদের বড় ছেলে তো একবার বলতো ছোট ছেলে তাই আমি একদিন জিগ্যেস করি রাজ কে? সেদিন জানতে পারি রাজ আমার বড় ভাই কিন্তু সে হারিয়ে গিয়েছে। আমি বড় হতে থাকি কিন্তু এই একবার রাজ একবার শুভ বড় ছেলে, ছোট ছেলে এসবের জন্য নিজের অস্তিত্ব যেন হারাতে বসেছিলাম। আমি নিজেই ভাবতাম আমি আসলে কে? রাজ নাকি শুভ? বাড়িতে কেউ এলে ওদের কাছে যদি কেউ জিগ্যেস করতো আমার নাম কি?

ওরা না ভেবে বলে দিতো রাজ আমার বড় ছেলে অথচ এই আমাকেই আরেকজনের কাছে বলতো শুভ আমার ছোট ছেলে আমার খুব খারাপ লাগতো এসব ওরা কখনো ভাবেনি এতে আমি কতটা কষ্ট পাবো আমার ব্রেইনে কি এফেক্ট পড়বে। কিন্তু এসব আমি সহ্য করেছি কলেজ লাইফ পর্যন্ত সব জায়গায় নাম শুভ চৌধুরী ওরা আমাকে বলতো রাজ চৌধুরী জাস্ট বিষিয়ে গিয়েছিলাম। তাই একদিন বলে দেই আমি আর ২টা ক্যারেক্টারে রোল প্লে করতে পারবো না। সেদিন থেকে ওই ছবি নিয়ে কাঁদে ওরা আর আমি ওদের থেকে দুরে সরে যাই রাজ হয়ে যতক্ষণ থাক।তাম ততক্ষণ ওরা আমার কাছে থাক।তো যেদিন থেকে আমি শুধু শুভ ঠিক সেদিন থেকে আমি দুরে সরে গেলাম আমি ওদের সামনে আছি কিন্তু ওরা আমার থেকে ওই হারিয়ে যাওয়া ছেলেটা কে বেশী প্রিয়োরিটি দেয় বেশী ভালবাসে আমাকে না করতো শাসন আর না করতো ততটা কেয়ার আস্তে আস্তে খারাপ হয়ে যাই ক্লাব, ড্রিংক মারামারি এসব হয়ে যায় নিত্যদিনের পেশা এবার বলো আমি কি করবো? তুমি সেদিন বলেছিলে ওরা আমাকে ভালবাসে না ওরা আমাকে ভালবাসে না মাঝে মাঝে মনে হয় আমি কেন জন্মেছি? আর যখন জন্মেছি তাহলে মরে কেন যাইনা?

আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে সত্যিই তো এটা কতটা কষ্টের এবার ভাবছি আম্মু, বাবা এটা কি করে করলো? এতে শুভ’র কি দোষ? ওর তো দোষ নেই না ওর জন্য রাজ ভাইয়া হারিয়েছে মানছি ওনাদের বড় ছেলে হারিয়েছে তাই ওনারা ড্রিপেশনে ছিলেন তাই বলে ওই টুকু বাচ্চার উপর এসব চাপিয়েছে? খুব খারাপ লাগছে একটা ছেলে ঠিক কতটা কষ্ট বাবা, মা’র থেকে পেলে সে বলে কেন জন্মেছি? কেন মরে যাইনা? শুভ কতটা কষ্ট পেয়েছে কতটা মানসিক যর্ন্তনা সহ্য করেছে কখনো রাজ তো কখনো শুভ শুভ আমার কান্নার আওয়াজ পেয়ে উঠে বসলো শুভ ও কাঁদছে আমি ফুপিয়ে কাঁদছি শুভ আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,

~ তিশা তুমি কাঁদছো কেন? আমার কথায় কষ্ট পেয়েছো? তাহলে সরি প্লিজ কেঁদোনা আমি তোমাকে আর কষ্ট দিতে চাইনা কিন্তু আমি তো খারাপ ঠিক কোনো না কোনো ভাবে তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি
আমি শুভ হুট করে জড়িয়ে ধরলাম শুভ হয়তো অবাক হয়েছে। শুভ ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি ফুপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছি কেন জানি আজ খুব কান্না পাচ্ছে এতদিন শুভ কে জ্বালিয়েছি কত খারাপ ভেবেছি কতকিছু বলেছি এসব ভেবে কান্না করতে করতেই বললাম,
~ আই এম সরি শুভ আই এম রিয়েলি সরি প্লিজ ফরগিভ মি আমি না জেনে তোমাকে কত খারাপ ভেবেছি কত খারাপ কথা বলেছি আমাকে ক্ষমা করে দাও
শুভ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে বললো,

~ সরি তো আমার বলা উচিত আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি একচুয়েলি আমি না পারিনা পারিনা কারো সাথে ঠিকমত কথা বলতে ঠিক তাকে হার্ট করে ফেলি আমি তোমাকেও কষ্ট দিতে চাইনা জানো ভার্সিটিতে ওই ছেলে কে মেরেছিলাম। কারন আমি যখন ভার্সিটিতে ঢুকি তখন শুনতে পাই ও তোমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলছে। সহ্য হয়নি আমার তাই ওকে ইচ্ছেমতো মেরেছি কারন ও তোমাকে নিয়ে বলেছে আমি কি করে সহ্য করবো?

কারন আমি তোমাকে
শুভ’র এসব কথা আমার কানে এলোনা কারন আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছি সকালে নিজেকে আবিষ্কার করলাম শুভ’র বুকে কি লজ্জাজনক ব্যাপার আজও শুভ কে দেখছি চোখ মুখ এখনো কিছুটা ফোলা কোনোমতে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। শুভ কে না বলে ভার্সিটি চলে এসেছি ভার্সটিতে ক্লাস শেষ করে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় অভি ভাইয়া কে দেখে গাড়ি থামিয়ে অভি ভাইয়া’র কাছে গিয়ে গলায় ঝুলে গেলাম অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ কি রে পেত্নী এভাবে বানরের মতো ঝুলে পড়লি কেন?

আমি ভেংচি কেটে বললাম,
~ চকলেট, আইসক্রিম কিনে দাও বাড়ি যেতে হবে তাড়াতাড়ি
একবার বলাতে অভি ভাইয়া কিনে এনে দিয়ে বললো,
~ আচ্ছা যা মেবি আবির তোর শ্বশুর বাড়ি যেতে পারে
আমি খুশি হয়ে বললাম, তুমিও চলে এসো!

অভি ভাইয়া মুচকি হাসলো আমি আবার গাড়িতে উঠে বাড়ি চলে এলাম। ভাবতে খুশি লাগছে এখন রুমে বসে মনের সুখে চকলেট, আইসক্রিম খাবো রুমে এসে আমি থ রুমের এই অবস্থা কেন সেটা ভাবছি রুমের জিনিষ পএ ভাঙা একুরিয়াম টা ভেঙে কাচ ছড়িয়ে আছে। কিছু কাচ সোজা হয়ে আছে। এর উপর পড়লে নির্ঘাত পেটে ঢুকে যাবে পাশে দেখলাম শুভ দাড়ানো শুভ কে দেখে তো আমার জান যায় যায় অবস্থা শুভ’র চোখগুলো রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। হাত মুঠো করে রেখেছে বুঝলাম এখানে থাকলে আমার কপালে দুঃখ আছে। কাল না বলে গিয়েছিলাম। বলে মেরে ঠোট কেটে ফেলেছে আজ যে কেন না বলে গেলাম এটা ভেবে চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে। আজ নিশ্চই আরো মারবে ভেবে পালাবো বলে দরজা পর্যন্ত এলাম। ওমনি শুভ হ্যাচকা টান মেরে বিছানায় ফেলে দিলো হাতে ব্যথা পেয়ে বললাম,
~ শুভ কি কি হ হয়েছে।?

শুভ দাতে দাত চেপে বললো,
~ অভি’র সাথে এত ঢলাঢলি কিসের?
এবার অবাক হলাম। আমি তো ভেবেছিলাম। না বলে ভার্সিটিতে গিয়েছি তাই এত রেগে আছে। তারমানে শুভ অভি ভাইয়ার সাথে আমাকে দেখেছিলো আমি শুভ’র সামনে গিয়ে বললাম,

~ শুভ এভাবে কেন বলছো? উনি আমার ভাইয়া
শুভ এতে যেন আরো রেগে গেলো। ঠাস করে আমাকে থাপ্পর মারলো আমি এবার টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে গেলাম আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো, আহহ!
জানিনা শুভ শুনলো কি না শুভ থাপ্পর মেরে রুম থেকে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলো আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে শুভ হয়তো ভাবেনি আমাকে এভাবে দেখবে কানে ভেসে এলো শুভ’র তিশা বলে চিৎকার এরপর কি হলো। জানিনা!

পর্ব ১০

আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে শুভ’র তিশা বলে চিৎকার আমার কানে ভেসে এলো এরপর কিছু জানিনা কিছুক্ষণের জন্য সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু শুভ’র আমাকে ধরে ঝাকুনির জন্য আবার সেন্স এলো শুভ’র দিকে তাকিয়ে দেখি শুভ’র চোখ দিয়ে পানি পড়ছে শুভ পাগলের মতো করছে। আর বলছে,
~ তিশা তোমার কিছু হবেনা এটা কি করলাম আমি? তুমি চোখ বন্ধ করবে না ওকে? আমি এটা করতে চাইনি আমি তোমার কিছু হতে দেবোনা তুমি চোখ বন্ধ করবে না আমাকে ছেড়ে যাবেনা প্লিজ

আমি কিছু বলতে পারছি না অসহ্য যর্ন্তনা হচ্ছে পেটে যখন শুভ আমাকে থাপ্পর মারে আর আমি টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে যাই তখন ফ্লোরে পড়ে থাকা একুরিয়ামের লম্বা একটা কাচ আমার পেটে ঢুকে যায় এখনো পেটে বিধে আছে। শুভ কান্না করে যাচ্ছে বাড়ির সবাই চলে এসেছে। তারাও ভাবেনি আমাকে এভাবে দেখবে শুভ কথা বলতে বলতে আমার পেট থেকে একটানে কাচটা বের করলো আমার কলিজা যেন কেউ বের করে নিলো মনে হলো। শুভ’র শার্ট চেপে ধরে জোড়ে চিৎকার করলাম এরমাঝে ভাইয়া রুমে এলো ভাইয়া তো আমাকে এভাবে দেখে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।
~ তিশা এটা কিভাবে হলো?

ভাইয়ার প্রশ্নে একবার শুভ’র দিকে তাকালাম এরপর কোনোভাবে বললাম,
~ আমি এখানে পড়ে গিয়েছিলাম।

পেটের ব্যথাটা বাড়ছে এবার চোখ খুলে রাখতে পারলাম না শুভ’র শার্ট ছেড়ে দিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে নিলাম। জানিনা কতক্ষণ পর? বা কতদিন পর সেন্স এলো সেন্স আসার পর দেখি আম্মু, বাবা, ভাইয়া, রুপ এখানে সবাই আছে। কিন্তু শুভ নেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। অজান্তে আমার সেন্স আসার পরই সবাই জিগ্যেস করছে। কেমন লাগছে? কিন্তু আমার চোখ শুভ কে খুজছে আমার ভাবনা তখন তো শুভ আমার জন্য পাগলের মতো করলো তাহলে এখন এখানে নেই কেন আমি সবাই কে বাইরে যেতে বললাম, সবাই গেলেও রুপ থেকে গেলো। সবাই যেতেই রুপ বললো,
~ জিজু কে খুজছিস?

আমি কিছু বললাম, না রুপ’ই আবার বললো,
~ ৪দিন পর তোর সেন্স এলো
এবার আমি চোখ বড় বড় করে তাকালাম মানে আমি ৪দিন সেন্সলেস ছিলাম। রুপে’র দিকে তাকালাম রুপ আবার বলে উঠলো
~ আবির ভাইয়া বলার পরই আমরা চলে আসি আমি তখন তোদের বাড়ি ছিলাম। আবির ভাইয়া ফোন করে বললো, তোকে সিটি হসপিটালে নিয়ে আসছে আমরা তাড়াতাড়ি চলে আসি আর তখনই জিজু তোকে কোলে করে হসপিটালে ঢোকে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। জিজু পাগলের মতো করছিলো বারবার বলছিলো তোকে ঠিক করে দিতে তোর যেন কিছু না হয় জিজুর গায়ের শার্ট তোর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিলো ডক্টর তোকে নিয়ে যখন ওটিতে যায় তখন জিজুর একটাই কথা জিজুও তোর সাথে যাবে ডক্টর যদি তোকে ব্যথা দেয় অনেক কষ্টে জিজু কে ধরে রেখেছে জিজু চিৎকার করে কান্না করছিলো আমরা সবাই অবাক হয়েছি তোর জন্য এতটা পাগলামি করেছে
আমি নিজেই অবাক শুভ আমার জন্য এমন করেছে? তাহলে শুভ কোথায়? রুপ কে জিগ্যেস করলাম
~ শুভ কোথায়?

রুপ করুন ভাবে বললো,
~ পাশের কেবিনে
শুভ পাশের কেবিনে শুনে বুকটা ধক করে উঠলো
~ মানে?

~ আরে শোন তেমন কিছু হয়নি জিজুর তোর তো ৪ দিন পর সেন্স এলো তোর পাগলা স্বামী খুব পাগলামী করেছে ওটি থেকে বের করে তোকে যখন কেবিনে দিলো তখন সব ঠিকই ছিলো ডক্টর বলেছিলো তোর সেন্স চলে আসবে জিজুর চোখে মুখে তখন খুশি দেখেছি কিন্তু তোর সেন্স আসেনা তখন জিজু আবার পাগলামী করে তোর সেন্স কেন আসছে না তুই জিজুর সাথে কথা কেন বলছিস না ডক্টর তখন বলে যে তুই ছোট তাই তুই আঘাতটা নিতে পারিসনি টেনশন না করতে তোর সেন্স চলে আসবে এভাবে ৩ দিন কেটে যায় জিজু এক মুহূর্তের জন্য তোর পাশ থেকে সরেনি তোর হাত ধরে বসেছিলো কাল যখন তুই ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছিলি ব্যস জিজু আবার পাগলামি শুরু করে যেমন তেমন পাগলামি না ডক্টর কে ধরে মেরেছে তাই বাধ্য হয়ে জিজু কে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে পাশের কেবিনে রেখেছে সত্যি তিশা জিজু তোকে অনেক ভালবাসে যাকে বলে পাগলামি টাইপ ভালবাসা হাউ লাকি ইউআর

আমি হা হয়ে বসে আছি শুভ ডক্টর কে মেরেছে? ইস বেচারা ডক্টর তবে শুভ আমার জন্য এমন করেছে এসব ভেবে আমার অনুভূতি গুলো মনের ভেতর যেন খেলা করছে। একটা ভাললাগা কাজ করছে। কিন্তু শুভ’র জন্য এমন হয়েছে। এটা ভেবে মন খারাপ হয়ে গেলো। তখন কেবিনে ঝড়ের গতিতে কেউ প্রবেশ করলো তাকিয়ে দেখি শুভ চোখ মুখ ফুলে আছে। শুভ রুপে’র সামনেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো শুভ’র এভাবে জড়িয়ে ধরাতে হাতে স্যালাইন দেয়া তাতে টান লাগলো। আমি শব্দ করে উঠলাম শুভ আমাকে ছেড়ে বললো,
~ আই এম সরি খেয়াল করিনি তুমি ঠিক আছো? পেটে ব্যথা নেই তো?

ওয়েট আমি ডক্টর কে ডাকি
বলে শুভ উঠতে গেলো। আমি হাত টেনে বসিয়ে দিয়ে বললাম,
~ আমি ঠিক আছি আমার ব্যথা নেই তুমি ডক্টর কে কেন মেরেছো?
শুভ চোয়াল করে শক্ত করে বললো,
~ বেশ করেছি মেরেছি ওরা কি ট্রিটমেন্ট করছিলো? যে তোমার সেন্সই আসছিলো না

আমি মুচকি হেসে বললাম,
~ আমি তো এখন সুস্থ আমি এখানে আর থাকবো না আমি আজই বাড়ি যাবো
তখন কেবিনে ডক্টর এলো সাথে সবাই এলো শুভ’র মা আমার পাশে বসে বললো, ডক্টর হাতের স্যালাইন খুলে দিলো
~ এখন কেমন লাগছে মা?

আমি হেসে বললাম,
~ আম্মু আমি এখন ঠিক আছি আমি আজই বাড়ি যাবো
~ কিন্তুু আপনি তো আজ যেতে পারবেন না আপনি এখনো অসুস্থ তাই আপনাকে থাক।তে হবে
ডক্টরের কথায় শুভ চোখ রাঙিয়ে তাকালো। বেচারা ডক্টর মনে হলো। ভয় পেলো তাই চুপ হয়ে গেলো। অভি ভাইয়া আমার সামনে এসে বললো,
~ সত্যি করে বল তৃশ তোর পেটে কাচ কি করে ঢুকলো?

আমি চুপ করে আছি শুভ’ই বলে উঠলো
~ আমার জন্য আমি ওকে চর মেরেছিলাম। আর ও গিয়ে ফ্লোরে পড়ে আর ওর পেটে কাচ ঢুকে যায়
আমার বাড়ির লোক এবার রেগে যায় বাবা চেচিয়ে বললো,
~ তোমার সাহস তো কম না তুমি এটা কি করে করলে?

শুভ মাথা নিচু করে বললো,
~ আমি জানি আমি ঠিক করিনি কিন্তু আমি এটা করতে চাইনি
অভি ভাইয়া রেগে বলে উঠলো
~ আবির তো বললো, তোমার রুমে ফ্লোরে কাচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো তোমার তো বোঝা উচিত ছিলো নিচে পড়লে ওর ক্ষতি হতে পারে

সবাই শুভ কে কথা শোনাচ্ছে শুভ মাথানিচু করে রেখেছে আমার খুব খারাপ লাগছে চুপ করতে বলেছি সবাই কে কিন্তু কেউ শুনছে না এবার তো আমাকে বাবা, আম্মু নিয়ে যেতে চাইছে শুভ’র সাথে রাখবে না বলছে। শুভ আর চুপ করে থাক।লো না শুভ আমার ডান হাত ধরে বললো,
~ তিশা আমার ওয়াইফ আর আমি আমার ওয়াইফ কে কোথাও যেতে দেবোনা ও আমার সাথে আমার বাড়ি যাবে এখনি

বলেই শুভ আমাকে কোলে তুলে নিলো আমি আহম্মকের মতো তাকিয়ে আছি শুধু আমি না সবাই শুধু রুপ ছাড়া রুপ মুচকি মুচকি হাসছে ইচ্ছে করছে। মাথা ফাটিয়ে দিতে কি লজ্জাজনক পরিস্থিতি শুভ আমাকে কোলে নিয়ে হনহন করে হাটছে হসপিটালের সবাই তাকিয়ে আছে। আমি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছি শুভ আমাকে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো কিছুক্ষণ পর বাড়ি চলে এলাম। শুভ আবার আমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি ঢুকলো রুমে এসে আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিলো ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটলো যে আমি আবালের মতো তাকিয়ে আছি শুভ ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

আমি রাগী ফেস করে বললাম,
~ এটা কি হলো? এভাবে নিয়ে এলে কেন? ইস কি লজ্জাজনক ব্যাপার
~ আমার বউ আমি নিয়ে এসেছি কার কি?

শুভ’র কথায় মুখ ভেংচি কেটে শুয়ে পড়লাম। শুভ আমার পাশে বসে আমার হাত ধরলো আমি মাথা তুলে তাকালাম শুভ করুন ভাবে বললো,
~ আই এম সরি তিশা আমি বুঝতে পারিনি এরকম কিছু হয়ে যাবে আমি যদি জানতাম এমন করতাম না তখন এতটা রেগে ছিলাম। তোমাকে কোনো ছেলের সাথে সহ্য হয়না তুমি অভি’র গলায় ঝুলে ছিলে আমার রাগ লাগছিলো রাগটা কন্ট্রোল করতে পারিনা আমি আর কখনো এমন করবো। না তোমার গায়ে হাত তুলবো না প্লিজ ক্ষমা করে দাও

আমি মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে মুচকি হাসি দিলাম এরপর মুখটা গম্ভীর করে বললাম,
~ শুভ আমাকে একা থাক।তে দাও
শুভ অসহায়ের মতো তাকালো। কিন্তু এই মুহূর্তে ওকে বোঝাতে হবে আমি খুব রেগে আছি তাই তেমন ব্যবহার তো করতে হবে কিন্তু এরমাঝে হুরমুর করে সবাই রুমে এলো এসেই আমাকে নিয়ে যেতে চাইছে শাশুড়ি আম্মু বলছে। আমি যেন না যাই মনে মনে ভাবছি আমি তো এমনিই যাবোনা তাই বাবা, আম্মু কে বললাম,
~ আমি এখন যেতে পারবো না। শুভ ইচ্ছে করে ওমন করেনি দোষ আমারই ছিলো তাই আমাকে নিতে চেয়োনা আমি যেতে পারবো না। সুস্থ হই। বেরাতে যাবো
বাবা, আম্মু, ভাইয়া বোঝালো কিন্তু আমি তো যাবোনা তাই ওরা চলে গেলো। শাশুড়ি আম্মুও কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো। শুভ খুশি হয়ে এসে আমার হাত ধরে বললো,
~ তারমানে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছো?

আমি হাত ছাড়িয়ে বললাম,
~ মোটেও না আমি আম্মুর জন্য রয়ে গেলাম তুমি এটা ভেবোনা আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি ওকে? আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারবো না।
বলে শুয়ে পড়লাম। বুঝলাম শুভ কষ্ট পেয়েছে হু তাতে কি? একটু কষ্ট পাও তারপর ক্ষমা করবো। সবাই আমার খেয়াল রাখে শুভ কে চেয়েও দুরে রাখতে পারিনা শুভ আমার সম্পূর্ণ যত্ন নেয়। পেটে ব্যথা তো আছে। যতই বলি ব্যথা নেই একা হাটতে পারিনা যেখানে যাই শুভ কোলে নিয়ে যায় ফ্রেশ হওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু শুভ করে দেয় ব্রাশও শুভ করিয়ে দেয় এতটা অচল নই কিন্তু ওর জেদের জন্য বাধ্য হয়ে কিছু বলতে পারিনা ওয়াসরুমের দরজা পর্যন্ত কোলে নিয়ে যায় আবার নিয়ে আসে ড্রয়িংরুমে যেতে চাইলেও কোলে নিয়েই যায় পুরো সুস্থ হতে ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। এই ১৫ দিন শুভ আমার এমনভাবে খেয়াল রেখেছে মনে হয়েছে।

আমি কোনো বাচ্চা এটা সেটা বলে ঔষুধ খাইয়েছে কারন আমি ঔষুধ খেতে চাইনি শুভ’ই আমাকে খাইয়ে দিয়েছে। বলতে গেলে শুভ’র প্রতি ডিপেনডেন্ট হয়ে গিয়েছি কিন্তু আমি সবসময় মুখ ফুলিয়ে থেকেছি শুভ অনেক কথা বলেছে আমি চুপ করে থেকেছি বেচারা আমার জামাই অসহায় হয়ে চেয়ে থাকে ওর এভাবে তাকানো দেখলে হাসি পায় এ কদিনে বুঝে গিয়েছি আমি শুভ কে ভালবেসে ফেলেছি হ্যা ভালবাসি আমি শুভ কে এখন আমি একদম সুস্থ প্রায় অনেক রাতে ড্রয়িংরুমে সবার সাথে গল্প করে রুমে এসে দেখি বিছানায় ২টা শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে খুলে দেখি নীল শাড়ি, নীল কাচের চুরি, নীল ঝুমকো, নীল নেকলেস!

বুঝলাম শুভ রেখেছে পাশে একটা চিরকুট তাতে লেখা এগুলো পড়ে ছাদে চলে এসো প্লিজ মনটা খুশিতে নেচে উঠলো আজ নিশ্চই শুভ আমাকে বলবে আমার মতো শুভ ও আমাকে ভালবাসে চট করে শাড়িটা পড়ে নিলাম। চোখে কাজল দিয়েছি ঠোটে হালকা লাল লিপস্টিক আর শুভ’র দেয়া জুয়েলারি আয়নায় একবার নিজেকে দেখে পা বাড়ালাম ছাদের দিকে যত এগিয়ে যাচ্ছি তত বুক ধুকধুক করছে। অবশেষে ছাদে চলে এলাম। ছাদে

এসে আমি থ পুরো ছাদ সাজানো আর চারপাশে মোমবাতি প্রদীপ বেলুন দিয়ে ভরপুর ছাদের ঠিক মাঝে একটা টেবিল দুপাশে দুটো চেয়ার টেবিলে একটা কেক আর ফুলের বুকি এবার চোখ গেলো। শুভ’র দিকে শুভ কে দেখে হা করে তাকিয়ে আছি নীল একটা পান্জাবী গায়ে কালো জিন্স প্যান্ট পান্জাবীর দুটো বোতাম খোলা চুলগুলো স্পাইক করা কিছু অবাধ্য সিল্কি চুল কপালে এসে পড়েছে হাতে ব্যান্ডের নীল বেল্টের ঘড়ি ডার্ক রেড ঠোটের কোনে হাসিটা ঝুলিয়ে রেখেছে আমি রীতিমত ক্রাশ খেলাম শুভ আমাকে দেখে এগিয়ে এলো বুকের বাম পাশে হাত রাখলো আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম
~ হায় মিষ্টিপাখি ইউআর লুকিং সো হট
বলে শুভ চোখ টিপ মারলো আমি চোখ বড় বড় করে তাকালাম তারপর ভ্রু নাচিয়ে বললাম,
~ এই মিষ্টিপাখি কে?

শুভ আমার হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে বললো,
~ এখানে তো তুমিই আছো তুমিই মিষ্টিপাখি
~ আজ কি কারো জন্মদিন?

আমার কথায় শুভ হু হা করে হাসলো ঠিক তখনি ঘড়িতে ১২টা বাজলো সাথে সাথে শুভ বলে উঠলো
~ হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার মিষ্টিপাখি মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস অফ দ্যা ডে
আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম আজ আমার জন্মদিন আর আমি ভুলে গিয়েছি শুভ মুচকি হেসে বললো,
~ আর লজ্জা পেতে হবেনা ১৮ শেষ ১৯ এ পা দিলে এখন থেকে নো বাচ্চামী এখন কেক কাটো

কেক কেটে শুভ কে খাইয়ে দিলাম শুভ ও আমাকে খাইয়ে দিলো ধুর এবার রাগ লাগছে মনটাও খারাপ হয়ে গেলো। ভেবেছিলাম। শুভ বলবে আমাকে ভালবাসে গাল ফুলিয়ে বললাম,
~ তুমি তো আমাকে ভালবাসো না তাহলে এসব কেন করলে?
~ আরে ভালবাসি না তাতে কি? তুমি আমার একমাএ পিচ্চি বউ এটুকু তো করতেই পারি

শুভ’র কথা শুনে কান্না পাচ্ছে একেবারে হাত, পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। মনে মনে ভাবছি তারমানে শুভ আমাকে ভালবাসে না থাকবো না এখানে তাই হাটা দিলাম তখনই শুভ বলে উঠলো
~ আই লাভ ইউ মিষ্টিপাখি
ওমনি আমি দাড়িয়ে গেলাম শুভ হেটে আমার সামনে এসে ফুলের বুকি আর রিং নিয়ে হাটু গেরে আমার সামনে বসে আবার বলে উঠলো
~ আই রিয়েলি লাভ ইউ আই কান্ট লিভ ইউ মিষ্টিপাখিআই কান্ট লিভ উইথআউট ইউ আই লাভ ইউ মিষ্টিপাখি আই উইল শেয়ার অল ইউআর সররউস এন্ড পেইন ইফ উই ফেস এনি প্রবলেমআই’ল ডেল উইথ ইট ইউআর মাই এব্রিথিং ইউআর এ লাইট অফ মাই লাইফ আই লাভ ইউ সো মাচ উইল ইউ বি মাই লাইফ লাইন প্লিজ?

আমার চোখ দিয়ে দুফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো। তবে এটা কষ্টের না আনন্দের আমি শুভ’র হাত থেকে ফুলের বুকি নিয়ে হাত বারিয়ে দিলাম শুভ খুশি হয়ে আমার আঙুলে রিং পড়িয়ে উঠে দাড়ালো আমি শুভ কে জড়িয়ে ধরে বললাম,
~ আই লাভ ইউ টু শুভ ইয়েস আই’ল উইল বি ইউআর লাইফ লাইন এন্ড আই কান্ট লিভ ইউ
শুভ শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি শুভ’র বুকের সাথে মিশে আছি কিছুক্ষন পর শুভ বলে উঠলো
~ মিষ্টিপাখি আমি কি তোমাকে সম্পূর্ণ আমার করে নিতে পারি? আমি কি স্বামীর অধিকার পেতে পারি?
আমার বুক ঢিপঢিপ করছে। আমিও চাই শুভ কে আমি শুভ’র পান্জাবী চেপে ধরলাম শুভ আবার বলে উঠলো
~ মে আই মিষ্টিপাখি?

শুভ’র দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। শুভ আমার ঠোটে ওর ঠোট ছুইয়ে আমাকে কোলে তুলে নিলো। রুমে এনে বিছানায় নামিয়ে দিলো। আমি চোখ বন্ধ করে আছি। শুভ আমার গলায় মুখে গুজে দিলো। আর পাঁচটা হাজবেন্ড, ওয়াইফের মতো আমাদের সম্পর্ক ও পূর্নতা পেলো!

সকালের মিষ্টি রোদ জানালা দিয়ে চোখে পড়তেই আমার ঘুম ভেঙে গেলো। নিজেকে আবিষ্কার করলাম শুভ’র বুকে শুভ শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। আজ নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে যাকে সহ্য করতে পারতাম না আজ মনে হচ্ছে তাকে ছাড়া বাঁচবো না আর সেও তাই আল্লাহ চাইলে সব হয় কবুল বলার জোড়ে সব সম্ভব হলো। মেবি!

পর্ব ১১

শুভ’র মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শুভ’র কপালে চুমু একে দিলাম। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৯টা বাজে। আমার তো চোখ কপালে এত বেলা করে উঠেছি। আজ তাড়াতাড়ি উঠতে গেলাম। কিন্তু পারছি না শুভ আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে। অনেক চেষ্টা করেও উঠতে পারছি না তাই শুভ কে ডাকতে শুরু করলাম!
~ শুভ ওঠো, ছাড়ো আমাকে
শুভ আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো এবার মনে হচ্ছে হাড্ডি, মাংস পাউডার হয়ে যাবে জোড়ে ডাক দিলাম
~ শুভ ছাড়ো আমাকে
~ উম ডিস্টার্ব করো না ঘুমাতে দাও
শুভ’র কথা শুনে রাগ লাগলো। দিলাম জোড়ে এক চিমটি ওমা এতেও তো কিছু হলো। না শুভ মুচকি হাসতে হাসতে বললো,
~ ওয়েল তিশা তোমার কি আরো রোমান্স করতে ইচ্ছে করছে।?

আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললাম,
~ মানে? আমার কেন রোমান্স করতে মন চাইবে?
~ এইযে আমি ঘুমিয়ে আছি এই সুযোগে তুমি আমাকে কিস করছো
আমতা আমতা করতে করতে বললাম,
~ তারমানে তুমি জেগে ছিলে?

~ জেগে না থাকলে তো জানতামই না আমার বউ আমার ঘুমের সুযোগ নেয় আচ্ছা চলো আরেকটু রোমান্স করি
শুভ আমার গলায় মুখ গুজে দিলো আমি জোড়ে চিমটি কাটলাম শুভ আমাকে ছেড়ে ভেংচি কেটে বললো,
~ যখন আমার ঘুমের সুযোগ নাও?

ইচ্ছে করছে। চুল ছিড়তে শুভ কে ছাড়িয়ে উঠে গেলাম আমি ওয়াসরুমে ঢুকতে যাবো ওমনি শুভ আমাকে চুমু দিয়েই ড্রেস নিয়ে এক দৌড়ে ওয়াসরুমে ঢুকলো আমি বেক্কলের মতো বসে আছি ঠিক বুঝতে পারছি না এত তাড়াহুড়ো করে কেন গেলো।? যাইহোক বিছানায় বসে আছি শুভ রোজ যত টাইম নেয় আজ তারথেকে বেশী টাইম নিয়ে শাওয়ার নিচ্ছে ইচ্ছে করে করছে। বুঝতে পারছি
~ শুভ বের হও বলছি তুমি ইচ্ছে করে লেট করছো
~ ও বেবী আর ১০ মিনিট লাগবে

ওর কথায় মেজাজ গরম হয়ে গেলো।
~ ১ মিনিটের মধ্যে বের হও নাহলে আমি কিন্তু নিচে চলে যাবো
ওমনি শুভ বেরিয়ে এলো গায়ে একটা ব্লু টি শার্ট আর কালো থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পায়ের পশম গুলো লেপ্টে আছে। চুল থেকে পানি পড়ছে খোচা খোচা দাড়িতেও পানি ঠোট কামড়ে ধরে রেখেছে আমি হা করে তাকিয়ে আছি ধ্যান এলো শুভ’র কথায়
~ এই নো মিষ্টিপাখি তুমি আজকে রুম থেকে বের হবেনা
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম,
~ রুম থেকে বের হবোনা কেন?

~ যেটা বলছি সেটা করো আর যাও ঝটপট শাওয়ার নিয়ে নাও আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি
~ আমি শাওয়ার নিয়ে নেই এরপর নিচে গিয়ে খাবো
মুচকি হেসে বললাম, শুভ রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে এলাম। এসে ওর গুষ্টি উদ্ধার করছি বকবক করতে করতে শাওয়ার নিয়ে বের হলাম। দেখি শুভ সোফায় ভাত নিয়ে বসে আছে।
~ তিশা কাম ফাস্ট আমার কাজ আছে। তোমাকে খাইয়ে বের হতে হবে
চোখ ছোট ছোট করে বললাম,
~ কি এমন মহান কাজ আছে।? আর কোথায় যাবে?

শুভ এবার ধমক দিয়ে বললো,
~ এত প্রশ্ন করো কেন? এখানে আসতে বলেছি না? ১ সেকেন্ডে এসো
ভেংচি কেটে শুভ’র পাশে বসলাম শুভ আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে
~ তুমি খেয়েছো?

শুভ কে জিগ্যেস করলাম শুভ মুচকি হেসে বললো,
~ আমি নিচে গিয়ে খেয়ে নেবো।
~ না এখান থেকে খাও

শুভ নিচে গিয়ে আর খাবেনা জানি তাই খেতে বলছি ও বারবার বলছে। নিচে গিয়ে খাবে আমার জোড়াজুড়ি তে খেলো একা খায়নি আমি খাইয়ে দিয়েছি। শুভ খাওয়া শেষ করে আমার মুখ মুছে দিলো!
বিছানায় পা দুলিয়ে গাল ফুলিয়ে বসে আছি সেই সকাল থেকে আর এখন প্রায় সন্ধ্যা দুপুরেও শুভ খাইয়ে দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু রুম থেকে বের হতে দেয়নি কেন বের হতে দিচ্ছেনা জানিনা বসে আছি তো আছি এমন সময় আরোহী এলো রুমে হাতে কয়েকটা শপিং ব্যাগ আর আরোহীও সেজে আছে। আরোহী আমার সামনে ব্যাগগুলো রাখলো আমি জানিনা এতে কি তাই হেসে বললাম,
~ আরোহী এতে কি আছে।?

~ ভাবী এতে তোমার ড্রেস আছে। তোমাকে এখন প্রিন্সেস সাজাবো
বলেই আরোহী ব্যাগ থেকে একটা গাউন বের করলো গাউনটা সম্পূর্ণ সাদা তারমাঝে সাদা স্টোন বসানো যেগুলো চিকচিক করছে। অনেক ঘের আর ফোলা অসম্ভব সুন্দর লাগছে আমি তো গাউন দেখেই ফিদা তাই কোনো প্রশ্ন না করে পড়ে এলাম। আরোহী আমাকে আয়নার সামনে বসালো এরপর বাকী ব্যাগ থেকে জুয়েলারি বের করলো ডায়মন্ড ঝুমকো কানে পড়িয়ে দিলো ডায়মন্ড নেকলেস, হাতে চিকন ডায়মন্ড চুরি এরপর চোখে মোটা করে কাজল

আর লিপস্টিক পড়িয়ে সবশেষে মাথায় ক্রাউন পড়িয়ে দিলো নিজেকে আয়নায় দেখছিলাম। তখন কেউ দরজায় নক করলো আরোহী গিয়ে দরজা খুলে দিলো শুভ রুমে এলো আমি অপলক তাকিয়ে দেখছি শুভ কে শুভ সাদা শার্ট পড়েছে সাদা প্যান্ট শার্টের উপরে সুট চুলগুলো স্পাইক করা হাতে ব্যান্ডের ঘড়ি ঠোটের কোনায় চিরচেনা সেই হাসি শুভ আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বললো,

~ মিষ্টিপাখি ইউআর লুকিং সো হট
চোড় গরম দিয়ে বললাম,
~ তোমার মুখে কি এটা ছাড়া আর কিছু আসেনা?
~ অনেক কিছু আসে সোনা আরোহী না থাকলে এপ্লাই করতাম তবুও যখন চাইছো বলছি
আমি হাত দিয়ে শুভ’র মুখ চেপে বললাম,
~ থাক। আর কিছু বলতে হবেনা

শুভ হাত ছাড়িয়ে আমাকে নিয়ে এলো সিরির কাছে এসে আমি অবাক পুরো বাড়িটা অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো আর অনেক মানুষজন এবার চোখ গেলো। কেকের দিকে মিনি টেবিলটা সাজানো আর তার উপর বড় একটা কেক এবার বুঝলাম শুভ আমার জন্মদিন তাই পার্টি রেখেছে আমি আর শুভ নিচে নেমে এলাম। আমার বাড়ির লোকও আছে। রুপ ও এসেছে। সবার সাথে কথা বলছি সবাই আমাকে উইশ করছে। শুভ আমাকে কেক কাটার জন্য নিয়ে গেলো। কেক কেটে সবাই কে খাইয়ে দিলাম!

আম্মু কে জিগ্যেস করলাম
~ আম্মু অভি ভাইয়া এলোনা?
~ না রে তোর শ্বশুর, শাশুড়ি আসতে বলেছিলো কিন্তু অভি এলোনা বললো, ওর নাকি কি কাজ আছে।
আম্মুর কথায় ভাবলাম আমার শ্বশুর, শাশুড়ি অভি ভাইয়া কে নিয়ে একটু বেশীই ভাবছে কিন্তু কেন?

এমন সময় শুভ আমাকে নিয়ে এলো নিয়ে এসে সবাই কে উদ্দেশ্য করে বললো,
~ সো লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান এখন আমাদের গান গেয়ে শোনাবে আজকের বার্থ ডে গার্ল আমার লাভিং ওয়াইফ মিসেস তিশা চৌধুরী
শুভ’র কথায় আকাশ থেকে পড়লাম। এখন আমার গান গাইতে হবে? ইচ্ছে করছে। ওর মাথা ফাটাতে দাত কেলিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমার কাছে এসে চোখ টিপ মেরে বললো,

~ বেবী গান গাও তাড়াতাড়ি
রুপ এসে তাল মেলাচ্ছে সবাই গান গাইতে বলছে। শুভ কে বললাম, ওর গিটার এনে দিতে শুভ ভ্রু কুঁচকে আছে। আরোহী গিয়ে গিটার এনে দিলো একটা চেয়ার নিয়ে বসে গিটারে সুর তুললাম!

🎶বুকের ভেতর নোনা ব্যথা🎶
🎶চোখে আমার ঝড়ে কথা🎶
🎶এপাড় ওপাড় তোলপাড় একা🎶
🎶বুকের ভেতর নোনা ব্যথা🎶
🎶চোখে আমার ঝড়ে কথা🎶

🎶এপাড় ওপাড় তোলপাড় একা🎶
চেয়ার ছেড়ে উঠে আবার গাইতে লাগলাম
🎶যাও পাখি বলো তারে🎶
🎶সে যেন ভোলেনা মোরে🎶
🎶সুখে থেকো ভাল থেকো🎶
🎶মনে রেখো এই আমারে🎶
[বাকীটা নিজ দায়িত্বে শুনবেন💃]

গান গাওয়া শেষে সবাই হাততালি দিলো আহা তারমানে ভাল গান গেয়েছি দেখতে দেখতে পার্টি শেষ হয়ে গেলো। ড্রেস চেন্জ করে ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে বসে চুল বাধছি আর শুভ কে দেখছি শুভ কে দেখে প্রচুর হাসি পাচ্ছে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। শুভ’র সামনে গিয়ে গাল টেনে বললাম,
~ কি হয়েছে সোনা?

শুভ ভেংচি কেটে শুয়ে পড়লো। আসলে শুভ ভেবেছিলো আমি গান গাইতে পারিনা ও আমাকে গান গাইতে বললে আমি ওকে বলবো আমি পারিনা তুমি সবাই কে বলে দাও তখন ও আমাকে শর্ত দেবে। আমি সবাই কে বলতে পারি তোমার নিজে থেকে আমার সাথে রোমান্স করতে হবে ভাবা যায় কি লুচু পোলা? বেচারার এই ইচ্ছে পূরন হলো। না তাই গাল ফুলিয়ে আছে। আমি শুভ’র পাশে শুয়ে শুভ কে জড়িয়ে ধরলাম!

~ ছাড়ো আমাকে
শুভ’র কথায় পেট ফেটে হাসি পাচ্ছে আমি টুপ করে শুভ কে চুমু দিলাম শুভ মুচকি হেসে আমার ঠোটে ঠোট ছোয়ালো!
দেখতে দেখতে ১ মাস কেটে গিয়েছে। ভালভাবেই কাটছে আমাদের দিন শুভ আমাকে অনেক ভালবাসে কিন্তু বেশী কোনো কিছু নাকি ভালো না? এখন আমার তাই মনে হয় শুভ আমাকে একা ছাড়তেই চায়না যেখানে যাই সাথে নিয়ে যায় এখানে যাবেনা, ওখানে যাবেনা এটা করবে না, ওটা করবেনা!
আম্মুর রুমে বসে আছি আম্মু সেই ছবি নিয়ে কাঁদছে আম্মু কে জিগ্যেস করলাম
~ আচ্ছা আম্মু রাজ ভাইয়া যদি আসে তোমাদের সামনে চিনতে পারবে?

~ হ্যা পারবো
আমি কৌতুহল নিয়ে বললাম,
~ বুঝবে কি করে? রাজ ভাইয়া তো এখন বড় হয়ে গিয়েছে।

আম্মু চোখের পানি মুছে বললো,
~ ওর পিঠে স্টার আকাঁ আছে। ওটা দেখেই আমি চিনতে পারবো স্টারটা আমি সখ করে আর্ট করিয়েছিলাম। শুভ’র পিঠেও আছে। সেম স্টার
আম্মু কে বুঝিয়ে রুমে চলে এলাম।
২দিন পর সবাই মিলে প্লান করেছে একটু দুরে কোথাও পিকনিকে যাবে আমার তো সেই খুশি লাগছে ব্যাগ প্যাকিং করছিলাম। শুভ রুম কাঁপিয়ে হাসছে ওর হাসির রিজন খুজে পাচ্ছিনা ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ এত হাসছো কেন?

শুভ হাসতে হাসতে বললো,
~ তুমি পিকনিকে যাবে বলে ব্যাগ প্যাকিং করছো?
রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে
~ আজিব এতে হাসার কি আছে।?

শুভ হাসি থামিয়ে বললো,
~ তিশা আমরা আজ রাতে যাবো কালকে থেকে পরশুদিন চলে আসবো। তোমার ব্যাগ প্যাকিং দেখে মনে হচ্ছে আমরা ১ মাসের জন্য যাচ্ছি
এবার আমি লজ্জা পেলাম। আসলেই আমার তো মনে ছিলোনা শুভ আবার হেসে দিলো ভেংচি কেটে চলে এলাম। রাতে গাড়িতে বসে আছি সামনের গাড়িতে আমি, শুভ ফুপ্পি, আরোহী, শ্বশুর বাবা, শাশুড়ি আম্মু পেছনের গাড়িতে আম্মু, বাবা ভাইয়া, রুপ, অভি ভাইয়া অভি ভাইয়া এখানেও আসতে চায়নি আমি আর ভাইয়া জোড় করে এনেছি যাইহোক দেখতে দেখতে চলে এসেছি।

এটা শুভ’দের অন্য বাসা ১ ঘন্টার রাস্তা তাই তাড়াতাড়ি পৌছে গেলাম রাত বেশী হওয়ায় সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরেরদিন রাতে সবাই ছাদে বসে ট্রুথ অর ডেয়ার খেলছি তবে রাত যে মনে হচ্ছেনা। কারন পুরো ছাদে লাইট দেয়া নিচে বড়রা আছে। বাবূর্চি রান্না করছে। ওনারা দেখিয়ে দিচ্ছে বোতল ঘোরানোর পর বোতল রুপে’র দিকে থামলো আমি জিগ্যেস করলাম ট্রুথ নাকি ডেয়ার? রুপ ট্রুথ নিলো
~ কাউকে ভালবাসিস?

রুপ একবারেই বলে দিলো, হ্যা
আমরা সবাই অবাক চোখে তাকালাম রুপ কাউকে ভালবাসে আর আমি জানিনা? যাইহোক, আবার বোতল ঘুরালো এবার বোতল থামলো। অভি ভাইয়ার দিকে এবারও আমি জিগ্যেস করলাম,
~ ট্রুথ নাকি ডেয়ার?

~ ডেয়ার
আমি জোড়ে বললাম,
~ সত্যি তো? যা বলবো করতে হবে
অভি ভাইয়া হয়তো আনমনে বলেছে এবার যখন বুঝলো তখন ট্রুথ নিতে চেয়েছিলো আমরা চেন্জ করতে দেইনি অভি মুখ ফুলিয়ে বললো,
~ কি করতে হবে?

আমার ভাইয়া ডেয়ার দিলো অভি ভাইয়ার শার্ট খুলে শার্ট মাথায় বেধে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে ডেয়ার শুনে আমি আর রুপ হাসতে হাসতে রীতিমত গড়াগড়ি খাচ্ছি শুভ ও মুখ টিপে হাসছে অভি ভাইয়া অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে। মুখ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ আবির অন্য কোনো ডেয়ার দে এটা ফেসবুকে দিলে আমার মান সম্মানের ফালুদা হয়ে যাবে
আবির ভাইয়া মানলো না বাধ্য হয়ে অভি ভাইয়া শার্ট খুললো অভি ভাইয়ার পিঠ আমার দিকে ছিলো পিঠে চোখ পড়তেই আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি আকাশ থেকে পড়লাম। এটা কি করে সম্ভব?

পর্ব ১২

অভি ভাইয়ার পিঠে চোখ পড়তেই আমি জাস্ট অবাক মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। শুধু ভাবছি এটা কি করে সম্ভব? আম্মুর বলা কথাগুলো কানে বাজছে আমি বসা থেকে উঠেই অভি ভাইয়ার কাছে এসে পিঠে ভাল করে দেখছি না আমি ভুল দেখিনি অভি ভাইয়ার পিঠে সেম স্টার যেটা আমি শুভ’র পিঠে দেখেছি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি শুভ কে টেনে দাড় করিয়ে শার্ট খুলতে বললাম,
~ আমি শার্ট খুলবো কেন?

শুভ কে থামিয়ে আমিই খুলতে গেলাম তাই শুভ নিজেই খুললো অভি ভাইয়ার কাছে দাড় করিয়ে দেখলাম এবার ভাইয়া আর রুপও দেখলো ভাইয়া অবাক হয়ে বললো,
~ ওদের দুজনের পিঠে সেম স্টার? কিন্তু কি করে সম্ভব? তাও একদম সেম জায়গায়?
~ ওয়াট?

বলেই শুভ ঘুরে গিয়ে অভি ভাইয়ার পিঠে তাকালো। অভি ভাইয়াও শুভ’র পিঠ দেখছে। আমি নিচে গিয়ে আম্মু কে ডেকে আনলাম আম্মু কিছুটা ঘেমে গিয়েছে। ঘাম মুছতে মুছতে বললো,
~ কি রে এভাবে আনলি কেন?

আমি শান্তভাবে বললাম,
~ আম্মু অভি ভাইয়ার পিঠে তাকাও
আম্মু চট করে অভি ভাইয়ার পিঠের দিকে তাকালো। আম্মুর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আম্মু দৌড়ে গিয়ে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো অভি ভাইয়া কিছু বুঝতে পারছে না এটা মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে এবার আমার মাথায় ঘুরছে অভি ভাইয়া তো আসলে রাজ তাহলে খালামনি কি করে পেলো?

ততক্ষণে ছাদে সবাই চলে এসেছে। শুভ এক কোনায় দাড়িয়ে আছে। শ্বশুর বাবা শাশুড়ি আম্মু কে বললো,
~ তুমি অভি কে ধরে কাঁদছো কেন?
আম্মু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
~ না ও অভি না ও রাজ আমাদের হারিয়ে যাওয়া ছেলে
এবার অভি ভাইয়া অবাক হয়ে বললো,

~ মানে কে রাজ? আন্টি আপনার ভুল হচ্ছে কোথাও? আমি আপনার ছেলে রাজ না আমি তো অভি আহমেদ।
আম্মু চোখ মুছে বলে উঠলো
~ না তুই রাজ তোর পিঠের এই স্টার এটাই বলে দিচ্ছে তুই রাজ চৌধুরী।
অভি ভাইয়া এবার আরো অবাক হয়ে বললো,
~ স্টার বলে দিচ্ছে মানে?

~ শুভ’র পিঠে স্টার দেখেছিস? এই স্টার আমি সখ করে আর্ট করিয়েছিলাম। তোর যখন ৩ মাস বয়স তখন
অভি ভাইয়া শান্ত কন্ঠে বললো,
~ আমি যদি আপনাদের ছেলে হই। তাহলে আমি হারিয়ে গেলাম কিভাবে?
আম্মু আবারও কেঁদে দিলো

~ তখন তোর ৬ মাস বয়স তোর ঠান্ডা লেগেছিলো খুব শ্বাস নিতে কষ্ট হতো তাই আমি আর তোর বাবা তোকে হসপিটালে নিয়ে যাই হসপিটালে নেয়ার পর তোর বাবার জরুরী মিটিং পড়ে তাই বাধ্য হয়ে অফিসে যায় আর বলে যায় মিটিং শেষ করে আমাদের নিয়ে বাড়ি যাবে তোর বাবা চলে যাওয়ার পর ডক্টর আমার কোল থেকে তোকে নিয়ে ভেতরে চলে যায় আমি যেতে চেয়েছিলাম। বলেছিলো আমি ৫মিনিট পর যেতে পারবো ওটাই ছিলো কাল আমি বাইরে গিয়ে বসতেই ওই কেবিনে একজন গুন্ডা ঢুকে যায় আর গিয়েই ডক্টরের কাছ থেকে তোকে টেনে নিয়ে যায় ওর হাতে বন্ধুক ছিলো ওকে নাকি পুলিশ তাড়া করেছিলো আমি তোকে নিতে গেলেই আমাকে ভয় দেখায় তোকে মেরে ফেলবে আমি হাত জোড় করে বলেছিলাম। তোকে আমার কাছ দিতে দেয়নি নিজেকে বাঁচাতে তোকে নিয়ে বেরিয়ে যায় আমি পিছনে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই শয়তানের দৌড়ের সাথে পারিনি তোকে নিয়ে কোথায় চলে গেলো। আর পেলাম। না কিন্তু আল্লাহর উপর আমার বিশ্বাস ছিলো তোকে আমি একদিন পাবো!

আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি আম্মু কাঁদছে আর কথাগুলো বলছে। এদিকে আমি ভাবতে পারছি না মানুষ এত খারাপ কি করে হয়? বাবা এসে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো অভি ভাইয়া চুপ থেকে বলে উঠলো
~ আমি এসব বিশ্বাস করিনা স্টার আছে। তাতে কি হয়েছে? আমি রাজ না আমি অভি
আম্মু এবার জোড়ে কেঁদে দিলো অভি ভাইয়া আমার আম্মু কে বললো,

~ খালামনি তুমি কিছু বলছো না কেন? তুমি তো জানো তাইনা? আমি তোমার বোনের ছেলে
~ না রে বাবা আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না
আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম,
~ আম্মু তুমি কি বলছো? তোমার তো জানার কথা
পাশ থেকে বাবা বললো,

~ আমার মনে হয় এখন এসব থাক। কাল তো আমরা ফিরছি তারপর বড় আপা (খালামনি) কে আসতে বলবো আর উনি এলেই জানা যাবে
সবাই বাবার কথায় সায় দিলো এরপর আবার নিচে গেলো। আম্মু কে বাবা কে অনেক খুশি লাগছে কিন্তু এসবের ভেতর শুভ একবারও কিছু বললো, না ওই কোনাটা তে দাড়িয়ে আছে। আমি গিয়ে ওর কাধে হাত রাখলাম কারন শুভ উল্টো দিকে ঘুরে দাড়িয়ে আছে। আমার হাত দেয়ায় শুভ ফিরলো ফিরে স্লান হেসে নিচে নেমে গেলো। আমিও শুভ’র পিছনে চলে এলাম। শুভ রুমে এসে বিছানায় শুয়ে কপালে হাত দিয়ে আছে। হয়তো শুভ মানতে পারছে না অভি ভাইয়া ওর বড় ভাই আমিও আর কিছু বললাম, না!

পরেরদিন সবাই চলে এসেছি তবে আমরা আমাদের বাড়ি এসেছি কারন খালামনি সবটা বলতে পারবে খালামনির জন্য ওয়েট করছি শুভ আসতে চায়নি আমার জন্য এসেছে। অতঃপর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খালামনি আর আঙ্কেল এলো খালামনি এসেই অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো খালামনি অভি ভাইয়া কে অনেক ভালবাসে আমার শাশুড়ি আম্মু গিয়ে খালামনি কে বললো,

~ ও আমার ছেলে রাজ আপনি সব জানেন প্লিজ ওকে বলুন তাহলে ও বিশ্বাস করবে
খালামনি সাথে সাথে চমকে গেলো। কাঁপা গলায় বলে উঠলো
~ আপনার ছেলে মানে?

শাশুড়ি আম্মু কেঁদে বললো,
~ আপনি খুব ভাল করে জানেন ও আপনার নিজের ছেলে না ওকে কোথায় আর কিভাবে পেয়েছেন?
~ আ আপনার ভু ভুল হচ্ছে অ অভি আ আমার ছেলে
খালামনির এভাবে কথা বলা শুনে অভি ভাইয়া খালামনির হাত নিজের মাথায় রেখে বললো,
~ মা সত্যি করে বলো আমি কে? আমি কি সত্যিই তোমার ছেলে? তাহলে তুমি এত ভয় পাচ্ছো কেন?

এবার আমার খালামনি কেঁদে দিয়ে বললো,
~ তোকে হয়তো আমি পেটে ধরিনি কিন্তু তুই আমার ছেলে
খালামনির কথায় সবাই চমকে গেলো। আর অভি ভাইয়া পিছিয়ে গেলো। আমার আম্মু অবাক হয়ে বললো,
~ আপা কি বলছিস তুই? এসব আমরা জানিনা কেন? কেন বলিসনি তুই?

~ আমি আর তোর দুলাভাই একটা বিয়েতে গিয়েছিলাম। আসার সময় হঠাৎ দেখি একটা লোক একটা বাচ্চা ছেলে কে রাস্তার পাশে বসিয়ে চলে যাচ্ছে আমরা গাড়ি থামিয়ে কাছে যাই ততক্ষণে লোকটা চলে গিয়েছে। বাচ্চাটা খুব কাঁদছিলো আমরা ওকে কোলে নিয়ে চলে আসি আমাদের কোনো সন্তান ছিলো না তাই ওকে নিজেদের কাছে রেখে দেই আর ওর নাম রাখি অভি আর কেউ যাতে না বোঝে ও বড় হলে ওকে বলতে না পারে যে ও আমাদের পালক ছেলে তাই সেই রাতেই আমরা লন্ডন চলে যাই কোনো সমস্যা হয়নি কারন আমাদের পাসর্পোর্ট করা ছিলো ওর যখন ৬ বছর হয় তখন ফিরে আসি আমার অভি’র যাতে কষ্ট না হয় ওর ভালবাসায় কম না পড়ে তাই আমি আর সন্তান নেইনি!

খালামনির কথায় সবার চোখেই পানি অভি ভাইয়া খালামনি কে জড়িয়ে ধরে বললো,
~ তুমিই আমার মা, তোমরা আমার বাবা, মা
খালামনি অভি ভাইয়া কে ছাড়িয়ে মুখে হাত দিয়ে বললো,
~ আমি তোর মা আর উনি তোকে জন্ম দিয়েছে তুই ওনার ছেলে এতগুলো বছর তো উনি কষ্ট পেয়েছে ওনাকে জড়িয়ে ধরে মা বল
অভি ভাইয়া খালামনি কে ছেড়ে আম্মুর কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো আম্মু নিজের ছেলে কে জড়িয়ে ধরে হাজারও চুমু দিচ্ছে মুখে আমি শুভ কে দেখছি শুভ সোফায় বসে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে অভি ভাইয়া জড়িয়ে বললো,
~ তুমি আমার মাম্মা ওকে?

আম্মু কে ছেড়ে বাবার কাছে গেলো। বাবাও অভি ভাইয়া কে আদর করছে। অভি ভাইয়া এবার বলে উঠলো
~ আমি তোমাদের মা, বাবা বলবো না শুভ তো মাম্মা, পাপা বলে আমিও তাই বলবো আর ওনারা মা, বাবা আর আমি অভি হয়েই থাকবো আমাকে রাজ বলবে না যেই রাজ হারিয়ে গিয়েছে। তো গিয়েছে। আমি মা, বাবার কাছেও থাকবো তোমাদের কাছেও থাকবো
আম্মু, বাবা আপত্তি করলো না কারন খালামনি অভি ভাইয়া কে সেই ছোট থেকে বড় করেছে নিজে সন্তান নেয়নি এমন কয়জন পারে?

অভি ভাইয়া এবার শুভ’র কাছে গেলো। শুভ শান্তভাবে তাকিয়ে আছে। অভি ভাইয়া শুভ কে ধরতে গেলেই শুভ হাত দিয়ে থামিয়ে বললো,
~ ইউ জাস্ট স্টে এওয়ে ফ্রম মি আমি তোমাকে ভাই বলে মানিনা
বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে আমার হাত ধরে বললো,
~ আমি তিশা কে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি তোমাদের ড্রামা শেষ হলে চলে এসো
বলে আমাকে টেনে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে এলো রুমে বসে ছিলাম। নিচে কথা শুনতে পারলাম গিয়ে দেখলাম অভি ভাইয়া এসেছে। অভি ভাইয়া কে আম্মু রুমে নিয়ে গেলো। আমি দেখছিলাম। শুভ আমাকে টেনে আবার নিয়ে এলো এবার শুভ কে বললাম,
~ শুভ এমন কেন করছো? অভি ভাইয়া তোমার ভাই এভাবে দুরে সরিয়ে রাখছো কেন?

শুভ দাতে দাত চেপে বললো,
~ ওর জন্য আমি মাম্মা, পাপার থেকে দুরে তুমি আজ দেখলে না? আজই তো মাম্মা, পাপা আমাকে ভুলে গিয়েছে।
আমি আর কিছু বললাম, না এভাবেই দিন কাটছে শুভ একদম অভি ভাইয়া কে মানতে পারেনা তবে এটা না যে বেয়াদবি করে শুধু দুরে দুরে থাকে তবে এটাও ঠিক আম্মু, বাবা শুভ কে একদম টাইম দেয়না এভাবে ২ মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু ওদের দূরত্ব দুর হয়নি!
আমি আর শুভ ভার্সিটি এসেছি হঠাৎ তুলি বলে মেয়েটা এলো এসেই শুভ কে বললো,
~ শুভ বেবী শেষে তুমি এই মেয়ে কে মেনে নিলে?

মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। আমি কিছু বলবো তার আগে শুভ বললো,
~ সি ইজ মাই ওয়াইফ সো রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলো
~ রেসপেক্ট মাই ফুট এই বেহেনজির কি যোগ্যতা আছে।? যে আমি ওকে
এতটুকু বলতে না বলতে শুভ ঠাস করে তুলি কে থাপ্পর মারলো তুলি গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে। আর আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি শুভ চেচিয়ে বললো,

~ হাউ ডেয়ার ইউ তুলি? তোমার সাহস হয় কি করে? আমার সামনে দাড়িয়ে আমার ওয়াইফ কে বেহেনজি বলো? ও তোমার মতো বেহায়া না
তুলি ন্যাকামি করে বললো,
~ আমি তোমাকে ভালবাসি শুভ
ইচ্ছে করছে। ওর চুল ছিড়তে কিন্তু শুভ আমাকে নিয়ে এলো ক্লাস করা আর হলো। না সন্ধ্যার দিকে ড্রয়িংরুমে বসে আছি অভি ভাইয়া এসে শুভ কে ধরে বললো,
~ তুই আমার সাথে কথা বলিস না কেন শুভ? আমি তো তোর ভাই মাম্মা, পাপার রাগ আমাকে কেন দেখাস?

শুভ ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে বললো,
~ তুই তো ভাল আছিস মাম্মা, পাপা কে নিজের করে নিয়েছিস তারা এখন আমাকে ভুলে গিয়েছে। তাহলে এই ন্যাকামি কেন করিস?
আম্মু শুভ কে চর মেরে দিলো আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি আম্মু রাগী ভাবে বললো,
~ বড় ভাইয়ের সাথে কিভাবে কথা বলে জানিস। না?

শুভ আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
~ বলেছিলাম। না? ও যেদিন ফিরবে মাম্মা, পাপা আমাকে ভুলে যাবে
বলে শুভ বেরিয়ে গেলো। শুভ গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে আমিও অন্য গাড়ি নিয়ে শুভ’র পিছনে এলাম। কারন শুভ কথা বলার সময় ওর চোখ ছলছল করছিলো আমার অনেক খারাপ লেগেছে তাই আমিও চলে এসেছি আমি জানি শুভ এখন কোথায় যাবে গাড়ি নিয়ে শুভ ব্রিজের কাছে থামলো মন খারাপ হলেই শুভ এখানে আসে তবে ব্রিজের নিচে যদি কেউ পড়ে তার বাঁচার সম্ভাবনা কম ব্রিজের নিচে গভীর তলদেশ শুভ ব্রিজের উপড়ে বসেছে আমি ড্রাইভার কে যেতে বলে শুভ’র কাছে এসে শুভ কে নামালাম শুভ ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ তুমি এখানে কেন এসেছো?

আমি শুভ’র গলা জড়িয়ে বললাম,
~ তুমি এসেছো তাই এসেছি
শুভ হাত সরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো
~ প্লিজ চলে যাও আমি একা থাকবো!

মেজাজ গরম হয়ে গেলো। তাই উল্টো দিকে ব্রিজের রেলিং ঘেসে হাটা ধরলাম একটু দুরে আসতেই শুভ ডাকতে লাগলো। আমি ইচ্ছে করে শুনলাম না হঠাৎ শুভ দৌড়ে এসে আমাকে একটানে সরিয়ে দিলো আর একটা গুলি এসে শুভ’র বুকে লাগলো। শুভ ব্যালেন্স রাখতে না পেরে ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে গেলো। আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি সারা দুনিয়া যেন ঘুরছে কথা বলার শক্তিটুকু আমার নেই রাস্তায় গাড়ির শব্দে ধ্যান এলো দৌড়ে গিয়ে শুভ বলে চিৎকার করছি মন বলছে। এভাবে আমার শুভ কে পাবোনা তাই কোনো কিছু না ভেবে লাফ দিতে গেলাম ওমনি কেউ আমাকে ধরে ফেললো তাকিয়ে দেখি অভি ভাইয়া হাউমাউ করে কেঁদে বললাম,
~ আমার শুভ পড়ে গিয়েছে। ওকে বাঁচাতে হবে ছাড়ো আমাকে
~ তৃশ শান্ত হয়ে যা ওর কিছু হবেনা
বারবার মনে পড়ছে ব্রিজের নিচে পড়লে তার বাঁচার সম্ভাবনা কম শুভ বলে একটা চিৎকার দিলাম চোখের সামনে সব ঝাপসা দেখছি এরপর সেন্সলেস হয়ে গেলাম!
৪মাস পর!

পর্ব ১৩

৪ মাস পর!
রেডি হয়ে নিচে নেমে এলাম। ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে। আমি আর আরোহী রেডি হয়ে এসেছি বের হচ্ছিলাম। আম্মু বললো,
~ তিশা কোথায় যাচ্ছিস?
আম্মুর প্রশ্নে শুনে দাড়িয়ে বললাম,
~ আম্মু হসপিটালে যাচ্ছি আজ তো চেকআপ আছে।
~ ওহ তাহলে অভি কে নিয়ে যা
আম্মুর কথা শুনে হেসে বললাম,

~ আম্মু আমি আর আরোহী যাচ্ছি আমরা ঠিক চলে যাবো
~ তিশা তুই হসপিটালে যাচ্ছিস অভি তোর স্বামী আর তোর বাচ্চার বাবা তাই ওকে নিয়ে যা আরোহীও না হয় যাবে
~ কিন্তুু আম্মু অভি তো মাএ অফিস থেকে এলো তাই বলছিলাম। আর কি
আমার কথায় আরোহী বলে উঠলো
~ ভাবী তুমি কি ভুলে গেলে? ভাইয়ার কাছে ওর বাচ্চা আগে বাকী সব কাজ পরে
~ অভি তোর সাথে যাবে ওকে?

আম্মুর কথায় মাথা নেড়ে বললাম,
~ অভি তাহলে চলো
~ তৃশ তুমি গিয়ে গাড়িতে বসো আমি চাবি নিয়ে আসছি
বলে অভি চাবি আনতে গেলো। আমি আর আরোহী গাড়িতে বসলাম একটুপর অভি এসে গাড়ি স্টার্ট দিলো প্রতি সপ্তাহে চেকআপ করি এটা বাড়ির সবাই বলেছে এতে বেবী সুস্থ কি না বোঝা যায় তাই আর না করিনি অভি ড্রাইভ করতে করতে গাড়ি থামিয়ে ফেললো চোখ বন্ধ করে ছিলাম। গাড়ি থামানো তে তাকিয়ে বললাম,
~ গাড়ি থামালে কেন?

~ আরে সামনে তাকিয়ে দেখো এত ভীর কেন ওখানে?
অভি’র কথায় সামনে তাকালাম সত্যিই প্রচুর ভীর জমে আছে। তবে ভীরে মেয়েরা বেশী কিন্তু বুঝলাম না কি হচ্ছে অভি একটা লোক কে ডেকে জিগ্যেস করলো!

~ এখানে এত ভীর কেন?
~ সামনে রবিন খাঁনে’র গাড়ি এসেছে।
লোকটার কথায় আমরা ভ্রু কুঁচকে তাকালাম অভি কিছুটা রেগে গিয়ে বললো,
~ রবিন খাঁন কে?

~ আরে ভাই রবিন খাঁন কে চেনেন না? নামকরা কন্ঠ শিল্পি এখনকার উনি গত ৫ বছর বিদেশ ছিলো আজই বিদেশ থেকে এসেছে।
রবিন খাঁন নাম আমি শুনেছি কিছুদিন আগে গানও শুনেছি তবে এত মেয়ে দেখে বললাম,
~ এত মেয়ে কেন?

~ রবিন খাঁন সব মেয়ের ক্রাশ ওনার বউ আছে। ৩ বছরের একটা ছেলেও আছে। তবুও মেয়েরা পাগল।
লোকটার কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম অভি বলে উঠলো
~ মাই গড তাকে তো দেখা উচিত
আরোহী হাসতে হাসতে বললো,
~ ভাইয়া তুই অবাক হচ্ছিস কেন? তোর বউ আছে। কয়দিন পর তুইও এক ছেলের বাবা হবি তোর পিছনে ও তো মেয়েরা ঘুরঘুর করে
অভি মুখ ভেংচি কেটে বললো,
~ ছেলের না মেয়ের বাবা হবো বাই দ্যা ওয়ে এই ভীর কখন কমবে?

অনেকক্ষন ওয়েট করলাম ভীর কমার নাম নেই কোনো অভি গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ কে গিয়ে বললো,
~ ওয়াট দ্যা হেল অফিসার? আপনারা থাক।তে পাবলিক প্লেসে এত ভীর কেন? রাস্তায় কত গাড়ি আটকে আছে। এই ভীর কমান আমার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট আমি ওকে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছি এরকম আরো মানুষের প্রবলেম আছে। তাদেরও তাড়া আছে। তাইনা?

~ আপনি বললে কমাবো নাকি? আপনি কে এসব বলার?
পুলিশের কথায় অভি রেগে বললো,
~ হাউ ডেয়ার ইউ? আমি কে হ্যা তাইনা? আই এম অভি চৌধুরী সন অফ বিসনেস টাইকুন আরসাল চৌধুরী আমি নিজেও একজন পুলিশ অফিসার আপনি জানেন? আমি চাইলে এই মুহূর্তে আপনাকে সাসপেন্ড করতে পারি

অভি নিজের কার্ড দেখালো এবার পুলিশটা ভয় পেয়ে বললো,
~ আই এম সরি স্যার আমি বুঝতে পারিনি ক্ষমা করবেন প্লিজ
~ সরি মাই ফুট আপনারা পুলিশ কেন হয়েছেন? এখানে শুধু শুধু বসে আছি আমি আমার ওয়াইফ এন্ড আমার বেবী কে নিয়ে খারাপ কিছু টলারেট করিনা আর এখানে এসব ভীরের জন্য প্রায় ১ ঘন্টা রোদে বসে আছি

বুঝলাম অভি রেগে গিয়েছে। তাই বুঝিয়ে নিয়ে এলাম। পুলিশ এক পাশে ভীর কমিয়ে দিলো আর বললো, বাকী ভীরও কমিয়ে দেবে। আমরা হসপিটালে চলে এলাম। ডক্টর আমার চেকআপ করে অভি কে ডাকলো আমি উঠে চেয়ারে বসলাম এরপর ডক্টর বললো,
~ মিস্টার অভি চৌধুরী আপনার ওয়াইফ এবং বেবী দুজনই একদম ঠিক আছে। ২ মাস পর এসে আলট্রা করে যাবেন
ডক্টর আরো কিছু পরামর্শ দিলো এরপর আমরা বেরিয়ে এলাম। আমরা বেরিয়ে আসার পর কেউ ডক্টরের কেবিনে গেলো। আমরা বাড়ি চলে এলাম। ভাল লাগছে না কিছু
আমি শুভ’র রুমে চলে এলাম। শুভ’র ছবির সামনে দাড়িয়ে আছি চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ৪ মাস আগের ঘটনায় আমার পুরো জীবন বদলে গিয়েছে। শুভ

কে অনেক খোজা হয়েছে। কিন্তু পাওয়া যায়নি শুধু শুভ’র টি শার্ট এর উপরে যে শার্টটা গায়ে ছিলো সেটা পেয়েছিলো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছিলো আমি সবসময় কাঁদতাম হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেলো। কে গুলি করেছে আজও জানিনা এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম
এদিকে কেউ জয়ের হাসি হাসছে আর বলছে।
~ আই এম সাক্সেস নাউ শুভ চৌধুরী তো শেষ কেউ কোনদিন জানবে। না কে খুন করলো শুভ কে আর কেনই বা খুন করলো আমার যা চাওয়া ছিলো আমি তা পেয়ে গিয়েছি হা হা কেউ জানতেই পারলো না এত কাছের মানুষ এভাবে শুভ কে সরিয়ে দিলো অনেক জ্বালিয়েছিলি শুভ তাই মরতে হলো। তোর
বলে রাগে ফোস ফোস করতে লাগলো।

ঘুম থেকে উঠে দেখি রাত ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এলাম। ডিনার করার ইচ্ছে নেই কিন্তু আমার বেবীর জন্য খেতে হবে তাকিয়ে দেখলাম অভি নেই একটু পর নেমে এলো চোখগুলো লাল হয়ে আছে। তাই জিগ্যেস করলাম
~ তোমার চোখ লাল হয়ে আছে। কেন?
অভি কেমন আমতা আমতা করে বললো,
~ আব কই কিছুনা এমনি
~ আরে অনেক লাল তো
~ আহ মাম্মা বলছি তো কিছুনা

কিছুটা রেগে বললো, বুঝলাম না রাগের কি হলো। তবে আমরা কেউ কথা বাড়ালাম না ডিনার শেষ করে আমি আর অভি রুমে চলে এলাম।
সকালে আজ অফিসে মিটিং আছে। যেহেতু বাবা সবকিছু আমার নামে করে দিয়েছে। তাই আমারও যেতে হবে আজ আমি আর অভি যাবো তাই ব্রেকফাস্ট করে চলে এলাম। মিটিং রুমে বসে আছি সবাই এসেছে। শুধু একজন ছাড়া কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বসে আছি তখন সেই লোকটা কেবিনে ঢুকলো আমি আর অভি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি পাশ থেকে একজন বললো,
~ ও মাই গড রবিন খাঁন

পর্ব ১৪

আমি আর অভি ওনাকে দেখে অবাক হলাম। তখন পাশ থেকে একজন বলে উঠলো!
~ ও মাই গড রবিন খাঁন?
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ আপনি কি করে জানলেন? যে উনি রবিন খাঁন? না মানে উনি নিজেকে যেভাবে কাভার করে রেখেছে তাতে বোঝা পসিবল না
আসলে লোকটা রুমাল দিয়ে নিজের মুখ বেধে রেখেছে চোখে কালো চশমা দিয়ে রেখেছে

~ ম্যাম আমি গাড়ি পার্কিং করার সময় ওনাকে দেখেছিলাম। তখন ওনার মুখ ঢাকা ছিলো না
এবার আমি রবিন খাঁন কে দেখলাম যদিও বোঝা যাচ্ছেনা ফেস শুধু কপালে বাম পাশে মিচমিচে কালো একটা তিল দেখা যাচ্ছে তিলটা বেশ বড়
~ মিসেস চৌধুরী আমাকে দেখা শেষ হলে এবার আমরা মিটিং শুরু করতে পারি
ওনার এমন কথায় হচকচিয়ে গেলাম
~ আমার ওয়াইফ আপনাকে কেন দেখবে?

অভি বলে উঠলো অভি কে থামিয়ে মিটিং শুরু করলাম মিটিং শেষে একজন বললো,
~ মিস্টার খাঁন আপনার কপালে এটা কি?

আজব কোশ্চেন বোঝা যাচ্ছে তিল
~ এটা জন্ম তিল
সবাই প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলছিলাম। তখন একজন ক্লায়েন্ট বললো,
~ শিকদার গ্রুপের ফাইলটা কোথায়?

~ ওটা তো কেবিনে আছে। আমি নিয়ে আসছি

বলে আমি উঠলাম তখন অভি থামিয়ে দিলো
~ তুমি বসো আমি নিয়ে আসছি
~ আরে ঠিক আছে। আমি আনছি!
~ আমি যেটা বলেছি সেটাই করো।

বলে অভি ফাইল আনতে গেলো। আর আমি বসে পড়লাম। তখন চোখ গেলো। আরেকটা ফাইলে
~ অভি এটা নিয়ে যাও এটা তো আর লাগবে না এটা রেখে এসো
অভি ফাইলটা নিয়ে গেলো। একটুপর ফাইল নিয়ে ফিরে এলো এরপর মিটিং শেষ করে আমরা বাড়ি চলে এলাম। ওদিকে রবিন ও বাড়ি গেলো।
~ ইয়ে পাপা
~ এইতো আমার ছেলে কি করছিলে?

~ তোমাকে মিস করছিলাম। পাপা
~ রোহান তার পাপা কে মিস করেছে আর পাপা বুঝি মিস করেনি?
~ আই নো পাপা ও মিস করেছে
তখন নিতু এলো
~ রবিন চলে এসেছো?

~ হ্যা মিটিং শেষ!
~ আচ্ছা ফ্রেশ হয়ে নাও আমি খাবার দিয়ে দিচ্ছি
~ আচ্ছা তুমি যাও আমি আর রোহান আসছি!

আমি আর অভি বাড়ি চলে এলাম। আজ আমাদের বাড়ি যাবো বিকেলে যাবো তাই ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নিচ্ছি শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ইদানিং একটু বেশী ঘুম পায় তবে বেশীক্ষণ ঘুমাতে পারলাম না কারন অভি এলো খাবার নিয়ে এলো
~ আগে খাবার শেষ করো এরপর যত পারো ঘুমাও
এখন আমার খেতে ইচ্ছে করছে। না

~ আমি এখন খাবোনা তুমি যাও
কে শোনে কার কথা? নাছোর বান্দা তাই খাইয়ে গেলো। খেয়ে আবার ঘুমিয়ে গেলাম বিকেলে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চেন্জ করে আমাদের বাড়ি চলে এলাম। অনেকদিন আসা হয়নি আম্মু, বাবা, ভাইয়া খুশি হলো। আসতে না আসতে আমার গুনধর ভাইয়ের শয়তানি শুরু হয়ে গেলো। এক নাম্বারের ফাজিল
~ কি রে পেত্নী কেমন আছিস?

মেজাজ গরম হয়ে গেলো।
~ তুই পেত্নী তোর বউ পেত্নী ফাজিল ছেলে একটা আসতে না আসতে শুরু হয়ে গেলি?

~ তুই তো জানিস। তোকে জ্বালাতে আমার সেই লেভেলের ভাল লাগে
~ চুপ বজ্জাত
আম্মু ভাইয়ার কান টেনে বললো,
~ আসলেই তো আবির মেয়েটা মাএ এলো আর তুই ওর পিছনে লাগছিস? একটু রেস্ট নিতে দে
অভি হাসতে হাসতে বললো,

~ খালামনি তুমি তো জানো তোমার ছেলে মেয়ে দুজনেই বাচ্চা এখনো
ভাইয়া কান ছাড়িয়ে বললো,
~ তোমার বউ ২ দিন পর নিজে বাচ্চার মা হয়ে যাবে ওর বাচ্চামী মানায় না
এখানে থাকলে ওর মাথা ফাটাবো তাই রুমে চলে এলাম।

এখানে ৩ দিন থেকে আবার চলে এলাম। আম্মুর রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছি আসলে আজ শুভ’র বলা কথা মনে পড়ছে শুভ বলেছিলো এমন যেন না হয় বড় ছেলে কে পেয়ে আমাকে হারিয়ে ফেললে আজ আম্মুর বড় ছেলে আছে। কিন্তু ছোট ছেলে নেই আগে বড় ছেলের ছবি নিয়ে কাঁদতো আর এখন ছোট ছেলের আম্মুর কাছে গিয়ে কাধে হাত রাখলাম ওমনি আম্মু হাউ মাউ করে কেঁদে বললো,

~ আমার শুভ ঠিক বলেছিলো রে মা ছেলেটা কে আমরা এত কষ্ট দিয়েছি কখনো ওর দিকে খেয়াল করিনি ও কাছে ছিলো তবুও রাজ রাজ করতাম সব দোষ আমার সেই রাতে যদি ওকে চর না মারতাম তাহলে আজ ও আমাদের সাথে থাক।তো এত কষ্ট কেন দিলাম? কেন ওকে বুঝলাম না? আমার ছেলেটা চলে গেলো। একেবারে চলে গেলো। রে মা

আমার চোখ দিয়েও পানি পড়ছে আম্মু কে কোনোরকম বুঝিয়ে চলে এলাম। হ্যা এটা তো ঠিকই সেই রাতে আম্মু যদি শুভ কে চর না মারতো তাহলে ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতো না আর না ওভাবে গুলি লাগতো বিছানায় বসে কাঁদতে শুরু করলাম বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে আমি যে ভুলে যাইনি শুভ কে পরিস্থিতির স্বীকার
৩ দিন পর আবার চেকআপ করতে এসেছি চেকআপ করে গাড়ি নিয়ে বের হলাম। এদিকে আমাদের কেউ দেখছে। আমাদের অজান্তেই বলছে।

~ ওয়াও খুব সুখে আছিস? আমার থেকে সব কেড়ে নিয়ে আমার মাম্মা, পাপা কে কেড়ে নিলি প্রথমে এরপর আমার বউ কে অবশ্য বউ তো দিব্যি আছে। নিজের স্বামীর বড় ভাই কে বিয়ে করে তার বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে ছাড়বো না কাউকে আমার সাথে হওয়া এক একটা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে আমি ফিরে এসেছি অভি চৌধুরী আই নো তুই আমাকে খুন করতে চেয়েছিলি তিশা কে পাওয়ার জন্য কারন তুই তিশা কে ভালবাসিস আর তিশা তুমি কি করলে? এই তোমার ভালবাসা? তোমাদের কাউকে আমি ছাড়বো না শুভ চৌধুরী ইজ ব্যাক এবার দেখবে আমার খারাপ রুপটা জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ!

পর্ব ১৫

আমরা বাড়ি এসে পড়লাম। আম্মু ড্রয়িংরুমে বসে আছে। আমি গিয়ে আম্মুর পাশে বসলাম তখন আম্মু বলে উঠলো
~ মিটিং কেমন হলো?
~ জ্বি আম্মু ভাল
~ ডক্টর কি বললো,? বেবী ঠিক আছে।?

~ হ্যা আম্মু আলহামদুলিল্লাহ বেবী ঠিক আছে।
আম্মু মুচকি হেসে বললো,
~ ভাবা যায়? তোর মতো বাচ্চা মেয়ে কদিন পর বাচ্চার মা হয়ে যাবে
আম্মুর কথায় আমিও হাসলাম
~ একদম ঠিক মাম্মা!

বলতে বলতে অভি ও বসলো
~ তা বেবীর নাম কি রাখবি?
আম্মুর কথায় হালকা হেসে বললাম,
~ আম্মু কি বেবী হয় সেটা দেখে না নাম রাখবো তাই এখনো ঠিক করিনি বাট আমার মনে হয় ছেলে বেবী হবে আমার তো অনেক ইচ্ছে একটা গুলুমুলু ছেলে হবে আমার!

~ নো ওয়ে মেয়ে বেবী হবে আমি আমার মেয়ে কে নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্যুর করবো। আর মেয়ে হলে সুন্দর সুন্দর ড্রেস কিনবো ওয়াও সুপার এক্সাইটেড
অভি’র কথায় ভেংচি কাটলাম আম্মু হেসে দিয়ে বললো,
~ আর যদি টুইন বেবী হয়? তখন কেমন হবে?

আমি তো সেই খুশি টুইন বেবী একটা ছেলে একটা মেয়ে কিন্তু অভি উত্তেজিত হয়ে বললো,
~ নো মাম্মা টুইন দরকার নেই!
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম,
~ কেন দরকার নেই কেন?

~ দেখো তৃশ টুইন বেবী হলে তোমার কষ্ট বেশী হবে এমনিই তো কষ্ট হয় আবার যদি টুইন বেবী হয় তাহলে তো আরো বেশী কষ্ট না লাগবে না ছেলেই হোক একটা বেবী নিয়েই হ্যাপি থাকবো

অভি’র কথা শুনে আরোহী সোফায় বসতে বসতে বললো,
~ ওয়াও কি ভালবাসা বাট ভাইয়া এখন না হয় একটা বেবী নিয়ে হ্যাপি থাক।লি তাই বলে ফিউচারে ও কি বেবী নিবিনা?
আম্মু তাল মিলিয়ে বললো,
~ সেটাই তো অভি
~ মাম্মা ফিউচারেরটা ফিউচারে ভাববো!

~ ইস ভাইয়া তুই তোর বউ কে কত ভালবাসিস রে
আরোহী’র কথায় কিছু বললাম, না ভাল লাগছে না শুভ’র রুমে চলে এলাম। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। ব্যালকনিতে দাড়ালাম এসে গোলাপ ফুল গাছ ধরলাম গাছটাতে ফুল ফুটেছে হঠাৎ মনে পড়লো। ৪ মাস আগের কথা!
৪ মাস আগে!
~ শুভ কি করছো?

~ কাতুকুতু দিচ্ছি বেবী
~ শুভ ছাড়ো খুব সুরসুরি লাগছে
না ছাড়ার কোনো নাম নেই একবার ওকে কাতুকুতু দিয়েছি।লাম তার জন্য গত ৫ মিনিট ধরে আমাকে কাতুকুতু দিয়ে যাচ্ছে আমার তো হাসতে হাসতে হালুয়া টাইট এবার আর না পেরে শুভ কে ধাক্কা দিয়ে ব্যালকনিতে চলে আসি একটুপর শুভ ও এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয় আমি চোখদুটো বন্ধ করে ফেলি কিছুক্ষন পর বলে উঠি!
~ তুমি এখন রাতে বাইরে যাও না যে?

শুভ মুচকি হেসে বললো,
~ তুমি আছো যে তাই যাইনা আর হ্যা যখন আমার বেবী তোমার পেটে আসবে তখন তো একদম যাবোনা আর যখন এই গুড নিউস পাবো তখন তো আমি ৭ দিন এই বাড়ি থেকেই বের হবোনা
শুভ’র এমন পাগলামি কথা শুনে জোড়ে হেসে দিলাম শুভ গাল ফুলিয়ে বললো,
~ কাম অন মিষ্টিপাখি এতে হাসার কি আছে।?

আমি গাল টেনে বললাম,
~ নাথিং মিস্টার হাজবেন্ড!
~ ওয়েট এখানে থাকো
~ কেন? তুমি কোথায় যাবে?
~ জাস্ট যাবো আর আসবো।

~ বলে শুভ বাইরে যায় আমি ব্যালকনিতে দাড়িয়ে এই রাতের শহরটা অনুভব করছি দুর দূরান্ত পর্যন্ত শুধু বিল্ডিং যতদুর চোখ যায় রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলোতে রাস্তাটাকে অন্যরকম লাগছে এরমাঝে শুভ ফিরে এলো হাতে একটা টব তাতে ফুল গাছ ভালভাবে দেখলাম গোলাপ ফুল গাছ শুভ এনে আমার হাতে দিয়ে বললো,
~ মিষ্টিপাখি এই গাছটা তুমি ব্যালকনির যেখানে ইচ্ছে রাখো
আমি ভ্রু নাচিয়ে বললাম,

~ তুমিও তো রাখতে পারো
~ নো তুমি রাখবে। চলো!
এরপর আমি গাছটা নিয়ে ব্যালকনির ডানপাশে আরো গাছ আছে। ওখান থেকে একটু আলাদা রাখি শুভ একটু অবাক হয়ে বললো,
~ আলাদা রাখলে কেন?

আমি শুভ’র গলা জড়িয়ে ধরে বললাম,
~ কারন এটা তুমি আমাকে দিয়েছো আর তুমি আমি একসাথে রেখেছি তুমি আমার সাথে আছো তাই এটা আলাদা রাখলাম আগের গুলো তো তুমি একা রেখেছো
শুভ আমাকে জড়িয়ে ধরলো এরপর আমাকে কোলে তুলে নিলো আমি শুভ’র বুকে মুখ লুকালাম!

হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোতে অতীত থেকে ফিরে এলাম। আকাশে মেঘ জমেছে খুব হয়তো বৃষ্টি নামবে মনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠলো আচ্ছা আকাশেরও কি আজ আমার মত মন খারাপ? আজ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। এরমাঝে আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোটা পড়তে শুরু করলো ফোটাগুলো ক্রমশও বড় হচ্ছে প্রচুর বৃষ্টি শুরু হলো। সেই সাথে আমার চোখের পানি এরপর চিৎকার করে কাঁদলাম কান্নারা যেন আজ থামতে চাইছে না!
~ শুভ কেন চলে গেলে? আমাকে একা রেখে কেন চলে গেলে? তুমি ছাড়া এক একটা দিন আমার কাছে একযুগ মনে হয় আল্লাহ কেন এটা করলো? সময় কেন এত খারাপ যায়? সময়ের ব্যবধানে আজ আমি অন্যকারো বউ কিন্তু আমি তোমাকে ভুলিনি তুমি আমার ভালবাসা শুভ!

এরপর আরো কিছু বললাম, কখন কাঁদতে কাঁদতে চোখ লেগে গেলো। ঘুমিয়ে পড়লাম। ওইভাবেই সকালে দরজায় শব্দ পেয়ে উঠলাম ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ৮টা বাজে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম অভি রাগী ফেস করে দাড়িয়ে আছে। বুঝলাম রাতে ডিনার করিনি তাই অভি ধমক দিয়ে বললো,
~ ওয়াট দ্যা হেল তৃশ? তোমাকে বলেছি না? খাবার ঠিকমত খাবে তুমি রাতে ডিনার না করে ঘুমিয়ে ছিলে কেন?

চুপচাপ দাড়িয়ে আছি!
~ এখন চুপ করে আছো কেন? তৃশ বেবীর কথা ভাববে তো নাকি? এখন ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নেবে যাও
আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে এলাম। আম্মুও রাগারাগি করলো আমি কোনোরকম খেয়ে নিলাম। আজ বাবা অফিসে যাবে অভি একটা সিদ্ধ ডিম খেয়ে থানায় চলে গেলো। আর বাবা খেয়ে অফিসে গেলো। আরোহী ও বাড়িতে নেই আমি আম্মু আর ফুপ্পি অনেকদিন রুপে’র সাথে কথা হয়না তাই ফোনটা নিয়ে ওকে ফোন দিলাম ২ বার রিং হওয়ার পর ধরলো
~ হ্যালো রুপ কেমন আছিস?

~ হুম ভালো তুই?
~ ভালো আমাকে ভুলে গিয়েছিস?
এরমাঝে কল দিয়েছি।লাম ধরেনি তাই বললাম,
~ আরে না ভুলবো কেন? তোর বেবী কেমন আছে।?

~ আলহামদুলিল্লাহ ভালো!
রুপ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
~ আর তোর হাজবেন্ড?
আমি ও চুপ থেকে বললাম,
~ হ্যা ভাল আছে।

রুপ কিছু না বলে ফোন কেটে দিলো রুপ আগের মতো কথা বলেনা না আগের মতো ফান করে আমাকে কেমন এড়িয়ে চলে আমি বুঝতে পারিনা ও কেন এমন করে? আমার সাথে কথা না বলে থাক।তে পারতো না আর এখন কথাই বলেনা ভার্সিটিতে দেখা হলেও কথা বলেনা খুব কষ্ট হয় নিজেই ভাবছি রুপ কি বোঝেনা আমার কষ্ট হয়? সেই ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছি আমি যদি কোনো ভুল করি আমাকে সেটা বললে আমি বুঝবো না বললে কি করে বুঝবো?
এসব ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। অবশ্য আর মন খারাপ ভাল লাগছে না তাই টিভি চালু করলাম তখন টিভি তে দেখাচ্ছে এখন এই সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পি রবিন খাঁনে’র একটা গান শুনে নিন তবে ভাবার বিষয় এইযে উনি এই গানটা যখন করেছে তখন ওনার মুখ ঢাকা ছিলো আমি একটু অবাক হলাম। তবে গান শুনতে লাগলাম উনি গান গাইছে!

🎶ভালবাসা নিয়ে গেছে মৃত্যুর কাছাকাছি🎶
🎶ভালবাসা নিয়ে গেছে মৃত্যুর কাছাকাছি🎶
🎶তবুও আমি তোর কারনে বেঁচে আছি🎶
🎶তোর কারনে বেঁচে আছি🎶

ওনার কন্ঠটা অনেক সুন্দর কিন্তু এরকম গান কেন গাইছে?
🎶ঝড় নেমে এলে জীবনে ভাগ্যটা হয়ে যায় মন্দ🎶
🎶কষ্টের অশ্রু নদীতে দুটি চোখ হয়ে যায় অন্ধ🎶

🎶ঝড় নেমে এলে জীবনে ভাগ্যটা হয়ে যায় মন্দ🎶
🎶কষ্টের অশ্রু নদীতে দুটি চোখ হয়ে যায় অন্ধ🎶
🎶হবে আবার দেখা দুজনার একদিনও বেশী যদি বাঁচি🎶
🎶তবুও আমি তোর কারনে বেঁচে আছি🎶

[বাকিটা নিজ দায়িত্বে শুনবেন]
আমি কিছুটা অবাক হলাম। গানটা উনি মন থেকে গেয়েছে গলা শুনে মনে হলো। ওনার মাঝে সত্যিই কোনো কষ্ট আছে। কেমন ভাঙা গলায় গাইছিলো গানটা আচ্ছা ওনার বউ কি ওনাকে কষ্ট দিয়েছে? তাই কি উনি এই গান গাইলো? নিজে নিজে এসব ভাবছিলাম। হঠাৎ মনে হলো। ওনাকে নিয়ে কেন ভাবছি? এটা ওনার নিজের লাইফ!

বিকেলে বসে আপেল খাচ্ছি বাবা অফিস থেকে এসে বসলো কিছুক্ষণ পর বলে উঠলো!
~ তিশা কাল এই বাড়িতে রবিন খাঁন আসবে সাথে ওনার বউ আর ছেলে
অবাক হয়ে বললাম,
~ হঠাৎ আমাদের বাড়ি তে কেন আসবে?

~ বাড়িটা ওনারও তাই উনি আসবে আর কাল থেকে এখানেই থাকবে আর হ্যা এই নিয়ে কোনো কথা হবেনা
বলে বাবা চলে গেলো। আর আমি বোকার মতো বসে আছি বুঝলাম না বাড়িটা ওনার কি করে হলো?

তাছাড়া এখন বাড়ির মালিক আমি আর আমিতো ওনাকে এই বাড়ি দেইনি রাতে বাবা সবাই কে বলে দিলো আর এটাও বললো, এই বিষয়ে উনি কারো কথা শুনবে না!
সকালে আমরা বসে আছি রবিন খাঁন আসবে তাই অতঃপর রবিন খাঁন এলো সাথে একটা মেয়ে খুব কিউট দেখতে আর একটা ছোট ছেলে ছেলেটা পুরো কিউটের ডিব্বা আজও উনি মুখে রুমাল বাধা আম্মুর থেকে শুনেছি রবিন খাঁন নাকি নিজেকে আড়ালেই রাখে ৩ বছর আগে হঠাৎ শোনা যায় রবিন খাঁন নিখোজ এরপর নাকি আবার হাজির হলো। যাইহোক ওরা বাড়িতে ঢুকলো!

বাড়িটা দেখছে। ঘাড় ঘুড়িয়ে হঠাৎ রবিন শুভ’র ছবির সামনে দাড়িয়ে বলে উঠলো!
~ ও মাই গড হু ইজ হি? এন্ড হাউ ইজ দ্যাট পসিবল?
এরকম কোশ্চেন শুনে অবাক হয়ে বললাম,
~ হোয়াই মিস্টার রবিন? আর কিসের কথা বলছে।ন?

তখনই উনি সাইনগ্লাস খুলে মুখ থেকে রুমাল খুলে ফেললো আমরা সবাই হা করে তাকিয়ে আছি আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছি না চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আম্মু গিয়ে ওনাকে জড়িয়ে ধরলো আমি কেঁদে বললাম,
~ শুভ তুমি?
উনি আম্মু কে সরিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ শুভ কে শুভ?

আমি গিয়ে জড়িয়ে ধরে বললাম,
~ তুমি আমার শুভ!
মুখে বিরক্তি নিয়ে অভি কে বললো,
~ মিস্টার অভি এসব কি? আপনার ওয়াইফ আপনার সামনে বাইরের একটা ছেলে কে জড়িয়ে ধরছে আবার আরেকজন কি শুভ? ওনার নাম নিচ্ছে
অভি আমাকে সরিয়ে বললো,
~ তুই শুভ না?

~ ওয়াট দ্যা এই ছবিটা কি শুভ’র?
আম্মু মাথা নাড়লো মানে হ্যা তখন ও বলে উঠলো
~ আমি নিজেও শকড এনার সাথে আমার ফেস মিল আছে। বাট ওনার তো ঠোটের নিচে তিল আছে। আমার ঠোটের নিচে তিল নেই আর কপালে বড় একটা তিল আছে। তাহলে আমাকে কেন শুভ বলছে।ন?

এবার আরোহী বললো,
~ কন্ঠও মিল নেই আবার বউ, ছেলে আছে।
এরমাঝে ছোট ছেলেটা বললো,
~ পাপা আমি ঘুমাবো
~ আমাদের রুম কোনটা?

বাবা দেখিয়ে দিলো ওরা উপরে চলে গেলো। তখন বাবা বলে উঠলো
~ উনি রবিন খাঁন শুভ না!
আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ এটা কি করে সম্ভব?

লেখা – তিশা ইসলাম নাবিলা

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তুমি আমার ভালবাসা (১ম খণ্ড) – কলেজের প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো। তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তুমি আমার ভালবাসা (শেষ খণ্ড) – কলেজের প্রেমের কাহিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button