ভুতের গল্প

আলপিন – bangla voyonkor bhuter golpo

আলপিন – bangla voyonkor bhuter golpo: হুজুরের নির্দেশ অনুসারে আলপিনগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়। কেউ মারা গেলে তার ব্যবহৃত সামগ্রী অথবা তার কোনপ্রকার মৃত চিহ্ন রেখে দেয়া উচিত নয়। তবে কারিন জ্বীনদের উপদ্রব এর ভয় থাকে।


পর্ব ১

কিছুদিন ধরে আমার মুখ থেকে অদ্ভুতভাবে ছোট ছোট আলপিন বের হচ্ছে!
পেটটা সারাক্ষন ব্যথা ব্যথা করে। কি হচ্ছে ভেতরে কিছুই বুঝতে পারি না!
বিকেলে বাসার বেলকনিতে বসে ছিলাম।

পেটটা হঠাৎ গুলিয়ে উঠলো। ভীষণ বমি বমি ভাব হচ্ছে।
আর দেরি না করে দৌড়ে বেসিনের দিকে ছুটে যাই।

  • হায় খোদা! এটা কী দেখছি আমি। আমার পেটের ভেতরে এতো আলপিন আসলো কোথা থেকে।

ভাবতেই পারছি না এই ধারালো আলপিনগুলো আমার পেটের ভিতর ছিল। যা এই মাত্র মুখ থেকে বেড়িয়ে এসেছে।
যা ধারালো আলপিনগুলো! এতক্ষনে আমার গলা কেটে ফালা ফালা হয়ে যাবার কথা।

অদ্ভুত ব্যাপার, সেরকম কিছুই হলো না। ব্যথা যন্ত্রণা তো দুরের কথা, আমি চোখে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না এই তীঘ্ন আলপিনগুলো পেট থেকে বের হয়েছে!
তবে পেটের ভিতর একটা চিনচিন ব্যথাটা অনেক আগে থেকেই অনুভব করেছি।
আলপিন গুলো একেবারে নতুন, চকচক করছে!

আমার ঠিক যতটা কষ্ট হচ্ছে তার থেকে বেশী অবাক হচ্ছি।
এই আজব ব্যাপার টা ঘটল কিকরে?

না আর দেরি করলে চলবে না। এক্ষুনি আরমান সাহেবের কাছে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলতে হবে।
আরমান সাহেব আমার স্বামী হন। আমাদের বিয়ে হয়েছে তিন বছর। উনি নিশ্চয়ই তার রুমে আছেন। না আর দেরি করা চলবে না।

হঠাৎ আমার হাতের দিকে চোখ পড়ে। ভয়ে চোখ জোড়া কপালে উঠলো আমার।
হাতের গভীরে অগনিত আলপিন, যা চামড়ার ওপর থেকে অনেকটাই স্পষ্টভাবে ফুলে উঠেছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি।
আমি ভয়ে ভয়ে আঙ্গুল দিয়ে আলপিনগুলো টিপে টিপে দেখতে থাকি।

হ্যাঁ, সত্যিই তো! আলপিনগুলো আমার হাতের রক্ত মাংসের সাথে মিশে আছে! যা আমি ওপর থেকে স্পর্শ করতেই বুঝতে পারছি!


পর্ব ২

ধীরে ধীরে আমার সারা দেহের ভিতর আলপিনে ছেয়ে যাচ্ছে।
ভয়ে সারা দেহ ধরধর করে কাঁপতে লাগলো আমার।
এমন আজব আর ভয়ানক ব্যাপার জীবনে দেখিনি আমি।
আরমান সাহেবের রুমে যাবো তারও উপায় নেই।

শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অসম্ভব যন্ত্রনা অনুভব করছি আমি। আমার গোঙ্গানির আওয়াজ গলা ভেদ করে মুখ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসলো।
আরমান সাহেব হয়ত আওয়াজ টা শুনতে পেয়েছেন। উনি এক দৌড়ে ঘরের ভিতর ছুটে এলেন।

  • মাহিরা, মাহিরা কী হয়েছে তোমার?

আমাকে এই অবস্থায় দেখে উনি অনেকটা ঘাবড়ে গেলেন।

  • আরে কী হয়েছে। কিছু তো বল!
  • আলপিন! আলপিন। আহ! কী যন্ত্রণা। আর সহ্য করতে পারছি না আমি।
  • আলপিন?কোথায় আলপিন। কিসের আলপিন?
  • আমার গায়ে?
  • কী পাগলের মতো বকবক করছো। কোথাও কোন পিনফিন নেই।
  • আমার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখুন। বিশ্বাস না হলে ধরে দেখুন আপনি।
  • মাহিরা পাগল তুমি হয়েছো। আমি না। বুঝলে। এইসব ছেলেমানুষী বন্ধ করো দয়া করে।
  • ঠিক আছে। আপনি এদিকে আসুন। এই বেসিনের ওপর দেখুন। দেখুন এখানে,
    আরমান সাহেব বেসিনের দিকে এগিয়ে গেলেন।
    আমিও পেছনে ছুটে যাই।
  • কৈ, কোথায় কি?এখানে তো কোনো আলপিন নেই?
  • আলপিনগুলো এতো তাড়াতাড়ি উধাও হয়ে কোথায় যেতে পারে?
  • কোনোকিছু থাকলে তো উধাও হবে। এবার চলো আমার সাথে। রুমে চলো।
    কথাটা শেষ হতে না হতেই আমার মাথার ভেতরে যন্ত্রণাটা রিপ্লেস হয়ে গেলো। এতক্ষণের সমস্ত যাতনা আমার মাথায় এসে জড়ো হয়েছে।

মনে হচ্ছে কেউ লক্ষ লক্ষ আলপিন দিয়ে আমার মগজটা এফোঁড় ওফোড় করে দিচ্ছে।
কোন মানুষের পক্ষে এতটা যন্ত্রণা হজম করা অসম্ভব। চোখ দুটো বুঝে আসে আমার। তারপর আর কী হলো মনে নেই।

আমার জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে বিছানার ওপরে শায়িত অবস্থায় দেখতে পাই।
আরমান সাহেব আমার মাথায় হাত রেখে বসে আছেন।
আমি চোখ খুলতেই ওনার মুখে হাসি আর স্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে।
আমাকে স্বাভাবিক দেখে অনেকটাই নিশ্চিন্ত তিনি।

  • এখন কেমন লাগছে?
  • অনেকটাই বেটার!
  • আচ্ছা কী হয়েছিল তোমার। জান তো টেনশন হয় আমার।
    ওনার কথাটা শুনে আমার হঠাৎ একটু আগের ভয়ংকর স্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেল।

একটা লোক আমায় দড়ি দিয়ে বেধে রেখেছে। তারপর উনি চারটা বড় সাইজের মোটা লোহা নিয়ে আসেন। দুটো লোহা আমার দু পায়, দুটো আমার হাতের ওপর হাতুড়ী দিয়ে মারতে লাগলেন উনি।
যন্ত্রণায় ছটফট করছি আমি।

লোকটা আমায় অর্ধ উলঙ্গ করে দিলেন। তারপর একটা জলন্ত লোহা আমার নাভি বরাবর রেখে হাতুড়ী দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করছেন।
লোকটা তারপর একটা বড় আকৃতির লোহার রড আমার গলার ভেতরে জোরপূর্বক ঢোকাতে শুরু করে দিলেন।

সে এক নিষ্ঠুরতর আর পৈচাশিক দৃশ্য। এটা মনে পড়তেই আমার শরীর ভয়ে কাটা দিয়ে উঠছে।
তবে এখন আর আগের সেই অসহ্য যন্ত্রণাটা একেবারেই নেই। এটা ভেবে একটু ভালো লাগছে।

  • কি হলো, কি ভাবছো?
  • কিছু না।
  • আমি তোমার জন্য মেডিসিন নিয়ে আসি। তুমি বাসায় বসে ততক্ষণ পর্যন্ত রেস্ট নাও।
    আরমান সাহেব আমায় রেখে বাইরে বেরিয়ে গেলেন।

অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। এতোক্ষণে তো ওনার ফিরে আসার কথা। কেন যে আসছেন না কিছুই বুঝতে পারছি না।
নাহ!এভাবে আর শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না।
আমি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম।

একটা কাজ করি বরং,
আরমান সাহেবের বুকসেলফে অনেক ধরনের বই রাখা আছে। আমি সচরাচর হাত দেই না ওখানে।
এখন দু একটা বই নেড়েচেড়ে দেখতেই পারি। সময় কাটবে আর ভালোও লাগবে।
বুকসেলফের ভেতর থেকে অনেক বেছে একটা হাদিস শরীফ বের করলাম। বইটা তুলে আনতেই একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়লো!

একটা সাদা কাপড়ের ছোট্ট পুটলি বইয়ের পেছনে।

  • আরমান সাহেব এই পুটলিটা কেন রেখেছেন এখানে? আর কি আছে এতে?
    আমি কাপড়টা খুলতেই দেখি এর ভেতরে কতগুলো ছোট ছোট আলপিন!

হুবহু একই রকমের আলপিন আজ আমার পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল!
কিন্তু আমার স্বামীর এই আলপিন দিয়ে কি কাজ? আর উনি এগুলো এভাবে লুকিয়ে রেখেছেন কেন?
একটা অজানা ভয় আর বিস্ময়ে বুকটা কেঁপে ওঠে আমার!


পর্ব ৩ (অন্তিম পর্ব)

অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। এতোক্ষণে তো ওনার ফিরে আসার কথা। কেন যে আসছেন না কিছুই বুঝতে পারছি না।
নাহ!এভাবে আর শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না।
আমি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম।
একটা কাজ করি বরং,

আরমান সাহেবের বুকসেলফে অনেক ধরনের বই রাখা আছে। আমি সচরাচর হাত দেই না ওখানে।
এখন দু একটা বই নেড়েচেড়ে দেখতেই পারি। সময় কাটবে আর ভালোও লাগবে।
বুকসেলফের ভেতর থেকে অনেক বেছে একটা হাদিস শরীফ বের করলাম। বইটা তুলে আনতেই একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়লো!
একটা সাদা কাপড়ের ছোট্ট পুটলি।

  • আরমান সাহেব এই পুটলিটা কেন রেখেছেন এখানে? আর কি আছে এতে?
    আমি কাপড়টা খুলতেই দেখি এর ভেতরে কতগুলো ছোট ছোট আলপিন!
    হুবহু একই রকমের আলপিন আজ আমার পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল!

কিন্তু আমার স্বামীর এই আলপিন দিয়ে কি কাজ? আর উনি এগুলো এভাবে লুকিয়ে রেখেছেন কেন?
আমি অনেক দিন আগে এই পিনগুলো হারিয়ে ফেলেছিলাম।
এগুলো সেই পিনগুলোই নয় তো?

আজ থেকে তিন বছর আগের ঘটনা, .তখন আমার বয়স বাইশ এর কোঠায়।
এক রাতে আমার আব্বুর অফিসের ড্রাইভারের সাথে জিপযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। ঐদিন প্রচন্ড বৃষ্টি ছিল।
বৃষ্টির কারণে বাইরের কোনোকিছুই স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিলো না।

বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে জীপটা অফ করতে হলো।
আমি কি করবো সেই মুহুর্তে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
নেটওয়ার্ক সমস্যার কারনে বাসায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

গাড়ির ড্রাইভার আমার থেকে দুই তিন বছরের ছোট ছিলো। ওর নাম তাসরিফ।
আমি বার বার আড়চোখে তার দিকে তাকাচ্ছিলাম।

ছেলেটা হয়ত আমার মনের সুপ্ত উদ্দেশ্যে বুঝতে পেরেছিল।
জানিনা ঐ দিন কী হয়েছিল আমার। আমি মোটেও ঐ ধরনের মেয়ে ছিলাম না। একটা বাজে নেশা চেপে ধরে আমায়। আমি যা চাইছি সেটা যেকরে হোক পেতেই হবে।

ছেলেটা ভীষণ ইতস্তত করেছিল আমার ব্যবহারে।
আমি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। তারিফ খুব ভয় পেয়ে যায়। বারবার পেছনে সরে যেতে থাকে সে।

  • কী করছেন এসব ম্যাডাম?
  • আমার যেটা উচিত মনে হচ্ছে তাই করছি।
  • আমি আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করি। আমি কিছুতেই এটা করতে পারবো না আপনার সাথে!
    আমি আর ওকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ওর ঠোঁটের ওপর হাতটা বোলাতে থাকি।
  • আমার কিছুই ভালো লাগছে না ম্যাডাম।
  • ভাল লাগবে। আর একটু পর সব ভালো লাগবে। এবার চুপচাপ আমি যা করছি তাই শোন।
  • আমি এই সব করিনি কোনদিন।
  • তো। আজ করবে! আমি সব শিখিয়ে দেবো তোমায়।
    আমি তাসরিফের শার্টের বোতাম খুলে দেই। ওর সারা গায়ে হাত বোলাতে থাকি। আমার মুখটা ওর বুকের কাছে নিয়ে যাই। তারপর আলতো করে ঠোঁটটা ছোঁয়াই।

তাসরিফ আমার ছোয়া পেয়ে সাপের মতো মোচড়াতে থাকে।
ও আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তারপর পাগলের মতো এলোপাথাড়ি চুমু কাটতে শুরু করে। একপর্যায়ে আমায় ধাক্কা মেরে গাড়ির সিটের ওপর ফেলে দেয়।

  • আপনি যা যা বলবেন আজ আমি তাই করবো ম্যাডাম।
  • আমি জানতাম তুমি আমার কথা ফেলতে পারবে না। আর দেরি করো না প্লিজ। কাছে আসো আমার।
    তাসরিফ আমার কথামত কাজ করে। ওর উত্তেজনাময় গরম নিশ্বাস আমার সারা দেহে অদ্ভুত আলোড়নের সৃষ্টি করছে।
  • প্লিজ, আর এতো কষ্ট দিও না আমায় তারিফ। আমি আরো গভীর ছোয়া পেতে চাই তোমার। প্লিজ।

তারিফ বুঝতে পারে আমি কী চাইছি ওর কাছে।
সযত্নে আমার সকল আবদার পুরন করতে লাগলো সে,

বাইরে মুষল ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পানির প্রবল বেগ যেন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। আর তার মধ্যে রাস্তার পাশে নির্জনে দুজন নরনারী এক পৈচাশিক খেলায় মেতে উঠেছে!
সুখ আর যন্ত্রণার সংমিশ্রণজনিত অনুভুতি আমাকে বাইরের জগৎ ভুলিয়ে দিচ্ছে। আমার মুখ থেকে উচ্চারিত গোঙ্গানির আওয়াজ গাড়ির কাচ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসলো না আর!

তার চার মাসের পরের কথা,
আমি জানতে পারি যে আমি কনসেপ্ট করেছি। আমার শরীরের ভেতরে আরেকটা ক্ষুদ্র শরীর ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।
আমি সিধান্ত নিলাম যে এই বাচ্চাটাকে পৃথিবীতে আনবো!আর সেটা যে কোনো প্রকার এ,
কিন্তু আমার পরিবার বাঁধা হয়ে দাড়ায়।

যে করেই হোক বাচ্চটা নষ্ট করে ফেলতে হবে তাদের।
অতঃপর হসপিটালে গিয়ে বাচ্চাটা abortion করানো হলো।
তার কিছুদিন পর ড্রাইভার ছেলেটার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। ওর সমস্ত শরীরে পেরেক পুতে খুন করা হয়েছিল, আর পুরুষাঙ্গ টা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।

আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলাম যে কাজটা আমার আব্বুর ছাড়া আর কারোর নয়।
উনি আর ওনার লোকজন মিলে এই খুনটা করে।
একটা ভয়ংকর রকমের পাপ আর অনুশোচনা বোধ উপলব্ধি করতে শুরু করি আমি।
আমি জানতাম ছেলেটা নির্দোষ। ঐ দিন যা যা হয়েছে তার মূল কারণ আমি। আমার লালশার দাবানলে একটা সহজ আর সরল ছেলে বলি হলো।

না, নিজের ওপর নিজেরই ঘৃনা ধরে গেলো আমার। আমি জানতাম যে অন্যায় করেছি তার কোন ক্ষমা হয়না।
পোস্টমর্টেমের পর ছেলেটির শরীর থেকে আলপিনগুলো উঠিয়ে ফেলা হয়।
আমি আলপিনগুলো বাসায় নিয়ে আসি। নিজের কাছেই রেখে দেই।
তার কিছুদিন পর আব্বু ঘটনাক্রমে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

আমি আর বিয়ে না করার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বিধবা মায়ের কাছে নতিস্বীকার করতে হলো।
আলপিনের টুকরোগুলো শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসি।
আমি কিছুতেই তাসরিফের কথা ভূলতে পারি নি। ওর আর ঐদিন রাতের স্মৃতি চোখ বুজলেই সামনে ভেসে উঠে।
যার শরীরের একটা অংশ কয়েকটাদিনের জন্য হলেও নিজের মধ্যে লালন পালন করেছি তাকে এতো সহজে ভুলে থাকা যায় না।

আমি বিয়ের পর আরমান সাহেব কে সবকিছু খুলে বলি। উনি আমায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমাকে নিজের মত থাকতে দেবেন।
যতদিন পর্যন্ত আমি তাসরিফকে ভূলতে না পারি, উনি স্পর্শ টুকু করবেন না আমায়।
আসলে, লোকটা ভীষণ ভালো মনের মানুষ। আরমান সাহেবের মত একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার পরম ভাগ্য। হয়ত আমি কোনদিন যোগ্য ছিলাম না তার।

নিশ্চয়ই কাপড়টা কোথায় কুড়িয়ে পেয়ে এখানে রেখে দিয়েছেন।
একটু পর আরমান সাহেব বাসায় ফিরে এলেন। ওনার সাথে একজন হুজুরও এসেছেন।
হুজুর সাহেবের কাছে সেই আলপিনগুলো দেয়া হয়।

উনার ভাষ্যমতে এই কাজটা তাসরিফের সাথে থাকা ক্বারিন জ্বিনের!
তাসরিফের শরীরে কআলপিন ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে সেই প্রভাবটা আমার ওপর পড়ছে। আর এই কাজটা ক্বারিন জ্বীন করছে আমাকে শাস্তি দেবার জন্য।

হুজুরের নির্দেশ অনুসারে আলপিনগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়। কেউ মারা গেলে তার ব্যবহৃত সামগ্রী অথবা তার কোনপ্রকার মৃত চিহ্ন রেখে দেয়া উচিত নয়। তবে কারিন জ্বীনদের উপদ্রব এর ভয় থাকে।

এরপর আর আমার কোন প্রবলেম হয় নি। আজো তাসরিফকে ভূলতে পারি নি আমি। আর এটাও জানি না কবে ভূলতে পারবো। হয়ত কোনদিন পারবো না, আবার ভূলে যেতেও পারি কখনো।

মানুষ বড্ড আজব প্রানী। মানুষের মন পরির্বতন হতে সময় লাগে না। নিজের মনকে, নিজের চাওয়া পাওয়া কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা বহুবিধ অন্যায় করে ফেলি। যার ফল কখনো কখনো অন্যদের ভুগতে হয়।

লেখা – প্রদীপ চন্দ্র

সমাপ্তি

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “আলপিন – bangla voyonkor bhuter golpo” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – আমি ভালোবাসি শুধু তোমাকে – Bangla Romantic Love story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button