ভুতের গল্প

আমি ফুলি – সত্যিকার ভৌতিক রহস্য গল্প

আমি ফুলি – ভৌতিক রহস্য গল্প: আমার রূপ সৌন্দর্য দেখে কালু নিজেকে ঠিক রাখতে পারে নি। তার মনে কামনার ঝড় বয়ে গেলো। সে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।


পর্ব ১

ছোটবেলায় থেকেই আমার খুব শখ ছিলো জ্বিন দেখার। ছোট বেলা দাদুর কাছে অনেক জ্বিন ভূতের গল্প শুনেছি তবে আমি কখনো এদের বাস্তব অস্তিত্ব দেখতে পাইনি।

তাই কৌতুহল বশত জ্বীন, ভূত দেখার জন্য আমার এবারের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া।
২০০৬ সাল। আমি সবেমাত্র এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়েছি। দীর্ঘ দিন ছুটি কাটাতে আমি দাদু বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হলাম।
আমার দাদুর বাড়িটা হচ্ছে বেগমগঞ্জ উপজেলার একটা ছোট্ট গ্রামে।

সবুজ শ্যামলে গাছপালা বেষ্টিত আমাদের গ্রাম। গ্রামের মানুষ গুলোও বেশ সহজ সরল। কৃষিকাজ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। রাস্তাঘাট এখনো কাঁচা।
আমার দাদুর বাড়ি ছিলো দোতলা পাকা দালান। এমন বাড়ি পুরো গ্রামে একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

গ্রামে রয়েছে বেশ কিছু জমিদার বাড়ি।
কিছু অভিশপ্ত জঙ্গল। একটা নদী ও বেশ কিছু অলৌকিক দিঘী।
আমার ছোট বেলার বন্ধু ছিলো কালু শেখ।

এখন বেশ বড় হয়ে গেছে সে। বাড়ি পৌঁছে ফ্রেস হয়ে লম্বা একটা ঘুম দিলাম। বিকালে কালুর সাথে ঘুরতে বের হলাম। কালুর সাথে ছোটবেলার গল্পে মেতে উঠলাম আমি।
আমি কালুকে আমার জ্বিন, ভূত দেখার ইচ্ছেটা জানালাম। সে বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দিলো। কালু এ যুগে এসে এসবে বিশ্বাসী নয়।
তার কথায় আমিও সাঁই দিলাম।
কালু আমাদের গ্রামের কিছু ভৌতিক জায়গায় নিয়ে গেলো আমায়। প্রথম গেলাম ইচ্ছে দিঘীর পাড়ে। এই দিঘীর নাম ইচ্ছে দিঘী রাখা হলো কেনো?

এ প্রসঙ্গে কালুকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে;
এই দিঘিটা ৪০০ বছর আগে কোনো এক জমিদার খনন করেন। এই দিঘীটার বিশেষত্ব হচ্ছে, কেউ যদি সৎ উদ্দেশ্য মন থেকে সাহায্য চাই তাহলে এই দিঘী তার সে ইচ্ছেটা পূরণ করে। কারো কোনো জিনিস প্রয়োজন হলে এখানে এসে দিঘীর কাছে চাইলে সেটা পরেরদিন পাওয়া যেতো এবং প্রয়োজন শেষে সেটা ফেরৎ দিতে হতো। কেউ যদি সেটা চুরি কিংবা ফেরৎ না দেই তাহলে সে ধ্বংস হয়ে যায়। এই দিঘী সবার ইচ্ছে পূরণ করতো। তাই এই দিঘীর নাম দেওয়া ইচ্ছে দিঘী।

একদিন একটা যুবক এই দিঘীতে মাছ চুরি করতে আসে। পরেরদিন ঐ যুবককে দিঘীর পানিতে মৃত অবস্থায় ভেসে থাকতে দেখা যায়। তারপর থেকে এই দিঘী কারো ইচ্ছে পূরণ করে না। কালের বিবর্তনে মানুষের ব্যবহারের ফলে এই দিঘীর অলৌকিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

কালুর কথা শুনে আমার একটু মন খারাপ হলো। তারপর আমরা গেলাম একটা পুরাতন জমিদার বাড়িতে। তখন প্রায় সন্ধ্যা হতে লাগল। একটা সময় এই জমিদার বাড়িটা বেশ জাঁকজমক ছিলো। কিন্তু আজ আর কিছুই নেই এখানে। এই বাড়িটা নাকি অভিশপ্ত।

তাই এখানে কেউ থাকে না। কেনো থাকে না কালুকে জিজ্ঞেস করলে বলে:
প্রায় অনেক বছর আগের ঘটনা। তখন এই গ্রামে জমিদার শাসন চলতো। জমিদার বাড়িতে কাজ করতো এই গ্রামের ই একটা মেয়ে নাম ফুলি। ফুলি দেখতে যেমন সুন্দরী তেমনি অপরূপা। তার এই সৌন্দর্যের মোহে পড়ে যায় জমিদারের একমাত্র ছেলে প্রদীপ।
ফুলিকে প্রেমের প্রস্তাব দেই প্রদীপ। ফুলি রাজি হয় না। কারণ সে জানে, রাজার সাথে প্রজার প্রেম ভালোবাসা মানাই না। তাছাড়া প্রদীপ ছেলেটার চরিত্রও অতোটা ভালো না।

সাধারণ গ্রাম্য একটা মেয়ে ফুলি। ভালো মন্দ অতো কিছু বুঝতো না।
অভাবের কারণে জমিদার বাড়িতে কাজ করতো সে। কিন্তু জমিদারের দুশ্চরিতের ছেলেটি একদিন রাতে তার বন্ধুদের নিয়ে ফুলিকে রাতভর ধর্ষণ করে মেরে ফেলে।
পরে সেটা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।
তারপরেই এই বাড়িটা অভিশপ্ত হয়ে যায়।

পরে ফুলির মৃত আত্মা এই বাড়িতে আসে এবং জমিদার বাড়ির সকলকে নির্মম ভাবে হত্যা করে তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়। এই বাড়িতে নাকি তার আত্না এখনো ঘুরাঘুরি করে। অনেক মানুষ নাকি মাঝে মাঝে তাকে এই বাড়ির ছাদে নাচতে দেখে। আবার কেউ যদি মাঝরাতে এই বাড়ির আশেপাশে দিয়ে যায়,
তাহলে তারা একটা মেয়েলী কণ্ঠের গান শুনতে পাই। হয়তো এইটা ফুলির অতৃপ্ত আত্মা যা মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে।

তবে এসবে আমি বিশ্বাসী নয়। এসব ঘটনা আমার দাদু থেকে শোনা। তিনিও নাকি তার দাদু থেকে এসব শুনেছেন। কালের বিবর্তনে এসব মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়।

আর সবশেষে আমরা গেলাম একটা বাগানে। অবশ্য বাগান না বলে জঙ্গল বললেও ভুল হবে না। চারপাশে ঘন গাছপালা বেষ্টিত। এই জঙ্গলটা নিয়েও নাকি অনেক ঘটনা ঘটেছে এই গ্রামে। তখন প্রায় রাত হয়ে গেছে। আমি আর কালু জঙ্গলের পথ ধরে হাঁটছি।

জঙ্গলটা ঠিক জমিদার বাড়ির পিছন থেকে নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। কালু বলল: এই জঙ্গলটার দিকে মানুষ সচরাচর আসে না।
তবে আমি মাঝে মাঝেই আসি। এই জঙ্গলটা নাকি ভালো না। এখানে যদি কেউ দিনের বেলায় গৃহপালিত পশু গরু, ছাগল এসব বেঁধে রেখে যেতো সেগুলা আর খুঁজে পাওয়া যেতো না। পেলেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যেতো।

একবারের ঘটনা, তখন গ্রামে অতো রাস্তাঘাট ছিলো না। নদী পথে মানুষ চলাচল করতো। আর জঙ্গলের পথ দিয়েই মানুষকে নদীর ধারে যেতে হতো। সেদিন এক নবদম্পতি বিয়ে করে রাত্রি বেলা এই পথ ধরে বাড়ি যাচ্ছিল। রাত্রি তখন অনেক গভীর। এই জঙ্গলটা পার হয়ে যখন বর ও বর যাত্রী নৌকা দিয়ে উপারে যাচ্ছিলো তখন নৌকাটা নদীর মাঝে খানে ডুবে যায়।

অনেক খুঁজাখুজি করেও তাদের লাশটাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাছাড়া যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতো তারাও মাঝ রাতে গঞ্জে থেকে এই জঙ্গলের পথ দিয়েই বাড়ি ফিরতো। আমার দাদু একবার রাত্র বেলা জঙ্গলের পথ দিয়ে ফিরছিলেন। এক হাতে ছিলো বেশ কিছু মাছ এবং অন্য হাতে ছিলো লণ্ঠন বা কুপিবাতি। কিন্তু আমার দাদুর এতো দিনের পরিচয় হওয়া সত্বেও মাঝপথে এসে তিনি জঙ্গলের পথটা হারিয়ে ফেললেন।
পেছন থেকে কেউ যেনো উনাকে ডাকছেন।

কিন্তু তিনি পেছন ফিরে না তাকিয়ে সোজা পথে হাঁটতে লাগলেন। হঠাৎ উনার সামনে এসে দাঁড়ায় একটা ভয়ংকর ও অদ্ভুত আকৃতির পেত্নী। যার শরীরে কোনো মাথা নেই। কাটা স্থান থেকে টকবগিয়ে রক্ত পড়ছে।
আমার দাদু ছিলেন যথেষ্ঠ সাহসী লোক।

তার কাছে মাছ চেয়েছিলো তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এবং ঐ ভয়ংকর পেত্নীটার সাথে দাদুর ধস্তাধস্তি চলে অনেকক্ষণ। এক পর্যায়ে দাদু বাধ্য হয়ে মাছ দিয়ে দেই। পরেরদিন সকালে দাদুকে নদীর ঘাটে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়।

জানি না কিভাবে তিনি বেঁচে গেলেন আজও সে রহস্য অজানা। তবে আমার দাদু ছিলেন একজন ঈমাণদার ও সৎ লোক। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন।
এজন্য হয়তো পেত্নী টা দাদার কোনো ক্ষতি করতে পারে নি।

কালুর সাথে কথা বলতে বলতে আমরা প্রায়
মাঝ জঙ্গলে চলে এসেছি। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বেশ ঠান্ডাও পড়ছে। সোয়েটার টা নিয়ে আসলে বোধহয় ভালো হতো। পায়ের নিছে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছে না।
জায়গা আসলেই ভৌতিক। গাঁ ছমছম করার মতো পরিবেশ।

হঠাৎ কালু বলল,
তার নাকি চাপ পেয়েছে। তাই সে একটা গাছের আড়ালে গিয়ে কাজ সারছে। আমি দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। অনেকক্ষণ হওয়ার পরেও যখন কালু আসছে না তখন আমি তাকে ডাকতে লাগলাম। কালু কালু বলে বেশ কয়েকবার ডাকলাম। কোনো সাড়া শব্দ নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমিই এগিয়ে গেলাম। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেখানে কালুকে খুঁজে পাচ্ছি না।

সামনে তাকাতেই দেখি দূরে একটা মেয়ে খিলখিল করে হাসছে। দূর থেকে বুঝা যায় মেয়েটা যথেষ্ঠ সুন্দরী। কিন্তু এই জঙ্গলে এতো রাতে মেয়ে আসলো কৈত্থেকে। ভয়ে আমার হৃদপিন্ড কেঁপে উঠল।

হঠাৎ কাঁদের উপর একটা শীতল হাতের স্পর্শ পেলাম। মূহুর্তেই আমার শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি কেউ নেই।
চিৎকার দিয়ে বললাম কে আপনি?
অপর প্রান্ত থেকে একটা সুরেলা কণ্ঠে আওয়াজ আসলো- আমি ফুলি!


পর্ব ২

চিৎকার দিয়ে বললাম কে আপনি?
অপর প্রান্ত থেকে একটা সুরেলা কণ্ঠে আওয়াজ আসলো- আমি ফুলি!
আমি বললাম: কোন ফুলি?
জবাব আসলো: জমিদার বাড়ির ফুলি।

ভয়ে আমার শরীরে কম্পন সৃষ্টি হলো। প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আমি ঘেমে একাকার। তবে আমি সাহস হারালাম না। কারণ অদৃশ্য জাতিকে ভয় পেলে তারা সেই সুযোগে মানুষের ক্ষতি করে বসে। স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিলাম:
আপনি এখানে কিভাবে আসলেন?

আর আমি আপনাকে দেখতেন পাচ্ছি না কেনো?

সে বলল: আমাকে তো সাধারণ মানুষ দেখতে পাই না। যদি আমি নিজ থেকে তাদের সামনে না আসি।
আমি বললাম: আপনি দয়া করে আমার সামনে আসেন। আপনাকে দেখার আমার খুব ইচ্ছে।
পিছন থেকে মেয়েটি আমায় ডাক দিলো। আমি পিছন ঘুরে তাকালাম?

একটা টগবগে সুন্দরী যুবতী মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে।
মেয়েটিকে দেখার পর অনেকটা ভয় দূর হলো আমার। এটাই তাহলে সেই ফুলি। যার কথা কালু আমাকে বলেছিলো।
কিন্তু কালু বদমাইশ টা গেলো কই?

ফুলি আমায় বলল: আপনি এতো রাতে জঙ্গলে একা একা কি করছেন?
জানেন না, এই জঙ্গলটা ভালো না।
আমি জবাব দিলাম: আমি একা না, আমার সাথে আমার বন্ধু কালু আছে।

ফুলি: আমি তো আপনাকে ছাড়া আর কাউকে দেখছি না।
আমি: আরে আমি আর আমার বন্ধু কালু একসাথে এই জঙ্গলে ঘুরতে আসছিলাম।

কিন্তু কিছুক্ষণ যাবৎ তাকে খুঁজে পাচ্ছি না।
ফুলি বলল: তাকে আর খুঁজে পাবেন না।
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম: কেনো?

ফুলি: এই জঙ্গলে যারা হারিয়ে যায় তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
ফুলির কথা শুনে একটু ভয় পেলাম কিন্তু সেটা প্রকাশ করছি না। আমি বুঝতে পারছি কালুর কি হয়েছে।
আমি তাকে প্রশ্ন করলাম: আপনিই কি সেই ফুলি, যাকে জমিদারের ছেলে ও তার বন্ধুরা ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে।

ফুলি বলল: হুম, কিন্তু এটা আপনি কেমনে জানেন?
আমি: এটা তো সবাই জানে! কিন্তু ফুলিকে যদি মেরে ফেলা হয় তাহলে আপনি কে?

ফুলি মুখ গোমড়া করে জবাব দিলো: কাল সন্ধ্যার পরে জমিদার বাড়িতে আসবেন। সব বলবো আপনাকে! কিন্তু আপনি একা আসবেন।
একথা বলেই মেয়েটি চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেলো। কি সব বলে গেলো কিছুই মাথায় ডুকলো না। মনে হচ্ছে আমি অন্যকোনো জগতে হারিয়ে গেছি। মেয়েটি যাওয়ার পরে পেছন থেকে কালু আমাকে জোরে জোরে ডাকছে। কালুর কণ্ঠ শুনে আমি এক মূহুর্তের জন্য ভড়কে গেলাম।

কি হচ্ছে এসব আমার সাথে। কালু হাঁপাতে হাঁপাতে আমার সামনে এসে বলল, কিরে মিরাজ তোকে কতোক্ষণ ধরে খুঁজছি! কোথায় হারিয়ে গেলি তুই।
আমি বললাম: তুই কোথায় গিয়েছিলি, তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমি হয়রান।
কালু বলল: আরে কাজ সারতে একটু নদীর ঘাটে গিয়েছিলাম।

আমি: তুই একা একা নদীর ঘাটে গিয়েছিলি,
তোর ভয় করে নি।

কালু: আরে ভয় করবে কেনো?
আমি এসবে ভয় পাই না।
কালুর কথা শুনে আমার কিছুটা খটকা লাগলো। চোখ গুলো তার কেমন ঘোলাটে দেখাচ্ছে। আর এই মেয়েটাই বা কে?

সে তো বললো কালুকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাহলে এখন সে আসলো কৈত্থকে?
মেয়েটিকে আমায় মিথ্যে বললো, নাকি আমি হেলুসেলোশন এ ভুগছিলাম।
ঘোর ভাঙ্গল কালুর ডাকে?

আমি বললাম: চল কালু বাড়ি যাই, এতো রাতে এখানে থাকা ঠিক হবে না।
বাড়ি ফিরার পথে কালু আমার সাথে আর একটা কথাও বললো না। বাচাল ছেলেটা কেমন চুপচাপ হয়ে গেলো।
সকালে ঘুম ভাঙ্গল গ্রামে একটা হৈ চৈ শুনে।

গতকাল রাত থেকে নাকি কালুকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। তাই তাকে খুঁজতে খুঁজতে সবাই ঐ জঙ্গলে দিকে যায়,
তখন নদীর ঘাটে কালুর ক্ষত বিক্ষত লাশটা পাওয়া যায়।

ঘটনা শুনে আমি ছুটে গেলাম সেখানে। কালুর ক্ষত বিক্ষত লাশটা দেখে আমার চোখ দিয়ে দুফোঁটা গরম জল গড়িয়ে পড়ল। শরীরটা একেবারে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। শরীরের হাড়ের সাথে অল্প ক’খানা মাংস লেগে আছে। পুরো শরীরে বিন্দু মাত্র রক্ত নেই। মাথাটা খুঁজে পায় জঙ্গলের মাঝখানে। ভয়ে কেউ তার সামনে যাচ্ছে না।

সবাই বলাবলি করছে, তাকে নাকি জ্বিনে মারছে। তাই বলে এতো নির্মম ভাবে।
আমার শরীরে কাঁপুনি দিয়ে আমি সেখানেই জ্ঞান হারাই। কেউ হয়তো জানে না, গতকাল রাতে কালু আমার সাথে এই জঙ্গলেই ছিলো।
একটা জিনিস কিছুতেই বুঝলাম না,
কালু যদি মারা যায় তাহলে কাল রাতে আমার সাথে বাড়ি ফিরল কে?

তাহলে কি ফুলির কথায় সত্যি নাকি ফুলিই কালুকে মেরেছে।
আরেকটা বিষয়, ফুলিকে তো জমিদারের ছেলে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে, তাহলে গতকাল রাতের মেয়েটা কে?

রহস্য যেন আমার মাথায় গিজগিজ করছে।
সে আরো বলেছে- আজকে সন্ধ্যার পরে জমিদার বাড়িতে যেতে তাও আবার একা।

সেকি আমাকেও মারার ফাঁদ পেঁতেছে।
তার এই সুন্দর রূপের আড়ালে কি অন্য কেউ আছে। এই রহস্য আমাকে জানতেই হবে।
গ্রামের মানুষ একেবারে সহজ সরল।

তারউপর কালুর এমন মৃত্যুতে সবাই ভয়ে চুপসে গেছে।
এখন কি সন্ধ্যার পরে ঐ জমিদার বাড়িতে যাওয়া আমার উচিৎ হবে। নিজের সংশয় দূর করতে আমাদের মসজিদের ঈমাম সাহেবের (হাফেজ) সাথে গতকাল রাতের ঘটনা শেয়ার করলাম।

ঈমাম সাহেব একটু ঘাবড়ে গেলেন এবং আমার দিকে ঢ্যাবঢ্যাব নয়নে তাকিয়ে আছে। শান্ত গলায় বললেন: আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করো, কাল রাতে তুমি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছো।

আমি বললাম: কি হয়েছিলো আমার।
আর ঐ মেয়েটি কে? কালু মারা গেলো কেমনে আর আমার সাথে রাতে বাড়ি ফিরলো যে সেই ছেলেটি কে?

ঈমাম সাহেব বলতে লাগলেন:
তুমি কাল যে মেয়েটিকে দেখেছো সে ঘৌল নামক এক ধরনের দুষ্টু জ্বিন। সে সবসময় মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। যারা যাদু মন্ত্র সাধনা করে তারা এই জ্বিনকে মন্ত্র পড়ে বশ করে তাদের সিদ্ধি হাসিল করে।

মানে বশ করা ব্যক্তি এই জ্বীনকে নিজের কাজে লাগাই। জ্বীনদের মধ্যে এই প্রজাতির জ্বীন গুলো সবচেয়ে খারাপ ও শক্তিশালী।
এরা মানুষকে মেরে শরীরের রক্ত মাংস খেয়ে ফেলে।

তাছাড়া এটা মাঝে মাঝে কবর থেকে মৃত মানুষের লাশ তুলে রক্ত মাংস খেয়ে থাকে।
আর যারা এই জ্বীনকে বশ করে তারা কঠিন সাধনা করতে হয়। মূলত শত্রুদের ধ্বংস করতেই এই জ্বীনকে মন্ত্র পড়ে ডাকা হয়।

শুধু তাই নয়, এই জ্বীন যে ব্যক্তিকে মেরে ফেলে, সে ব্যক্তির রূপ ধরে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে থাকে। যার কারণে কেউ তাদের অস্তিত্ব ধরতে পারে না।
ফুলি নামের যে মেয়েটিকে জমিদার বাড়িতে মারা হয়, সে নিশ্চয় কোনো উপায়ে এই জ্বিনকে বশ করে ফেলছে। এবং তার শত্রুদের মারার নির্দেশ দিয়ে গেছে। যার কারণে ফুলি মারা যাওয়ার পরেও ঐ জ্বিনটি এখনো ফুলির রূপ ধরে ঐ পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে পড়ে আছে। হয়তো তার কোনো শত্রুকে এখনো মারার বাকি আছে এজন্য।

তবে ঘৌল নামক জ্বীনটা এমনিতে কারো কোনো ক্ষতি করে না। যদি কেউ তাকে সচোক্ষে দেখে ফেলে কিংবা কেউ তার সমস্যার কারণ হয় তাহলে সে তাকে মেরে ফেলে।
আর এজন্যই কালুর মৃত্যু হয়। তুমি বেঁচে গেছো কেমনে সেটা বলতে পারি না। তবে তোমার সাথে রাতে বাড়ি ফেরা ঐ ছেলেটা কালু না। কালুর রূপ ধরে থাকা ঘৌল জ্বিন।

তবে তুমি এখন থেকে সাবধানে থাকবা।
যেকোনো সময় তোমার উপর বিপদ আসতে পারে। তোমাকে একটা রক্ষা কবজ দিচ্ছি যেটা তোমাকে বিপদে সাহায্য করবে।
তাবিজ নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম আমি। মনে মনে আল্লাহ অনেক ধন্যবাদ দিলাম।
বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি আমি।

সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশটা মেঘলা হয়ে আছে। রাতে মনে হয় বৃষ্টি নামবে। একটু পর অনেক ঝড় উঠল। হঠাৎ পরিবেশ শান্ত হয়ে গেলো। মাঝরাতে কারো ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার। কণ্ঠটা বেশ পরিচিত মনে হচ্ছে। ঘুমের ঘোরে দরজা খুলে দেখি,
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালু!!


পর্ব ৩ (অন্তিম)

সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশটা মেঘলা হয়ে আছে। রাতে মনে হয় বৃষ্টি নামবে। একটু পর অনেক ঝড় উঠল। হঠাৎ পরিবেশ শান্ত হয়ে গেলো। মাঝরাতে কারো ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার। কণ্ঠটা বেশ পরিচিত মনে হচ্ছে। ঘুমের ঘোরে দরজা খুলে দেখি,
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালু!!
আমার সামনে হঠাৎ কালুকে দেখে আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। আমি কি ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছি , চোখ কচলে তাকালাম না তো ঠিকই দেখছি, এটা তো সত্ত্যিই কালু।

আমি কিঞ্চিত ভয়ার্ত কণ্ঠে বললাম, কালু তুই এখানে আসলি কেমনে?
কালু বলল: তুই না বলছিলি, তুই জ্বিন দেখতে যাবি। চল আমার সাথে জমিদার বাড়িতে আজকে দুজন মিলে জ্বিন দেখবো।

আমি কালুর কথা শুনে বুঝতে পারলাম,
এটা কালু না, কালুর রূপ ধরা সেই ঘৌল জ্বিন। কালু তো গত রাতেই মারা গেছে।

আজ আমার জমিদার বাড়িতে যাওয়ার কথা। আমি যায় নি তাই হয়তো কালুর রূপ ধরে আমাকে ডাকতে এসেছে।

কিন্তু এখন আমি কি করি। এখন কি কালুর
সাথে আমার জমিদার বাড়িতে যাওয়া উচিৎ হবে। যদি এই খারাপ জ্বিনটা আমার কোনো ক্ষতি করে বসে। আবার মনে হলো, সে যদি আমার ক্ষতি করার ইচ্ছে থাকতো তাহলে তো গতকাল রাতেই আমার ক্ষতি করতে পারতো। যাবো কি যাবো না দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে গেলাম। এরই মধ্যে কালুর ডাক, কিরে যাবি না। রাত তো প্রায় শেষ হয়ে আসলো।

আমি কালক্ষেপণ না করে চললাম কালুর সাথে। যা হবার হবে, সাথে করে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইমাম সাহেবের দেওয়া রক্ষা কবজটা নিলাম। আর একটা টর্চ লাইট। উদ্দেশ্য জমিদার বাড়িতে গিয়ে ফুলির আসল রহস্য বের করা।

আমি কালুর সাথে স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ করলাম। সে যদি বুঝতে পারে, আমি তাকে ভয় পাচ্ছি তাহলে বিপদ আমারই হবে।
ঝড়ের কারণে রাস্তা ঘাট হালকা ভিজে গেছে। গাছ থেকে ঝরে পাতা পড়ে আছে সব জায়গায়। জমিদার বাড়িটা আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে মানে ইচ্ছে দিঘীর পরেই।

ঘুটঘুটে অন্ধকার। কালুর সাথে টুকটাক কথা হচ্ছে। গতকাল রাতের কথা বলতেই কালু কেমন যেন চুপসে গেলো। চোখ গুলো কেমন গোলাটে থেকে হালকা নীল বর্ণ ধারণ করেছে। আমি আর কথা বাড়ালাম না।

চুপচাপ হাঁটতে লাগলাম। দিঘীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করলাম, দিঘীর উপর একটা যুবক ছেলের লাশ ভাসছে। হালকা চাঁদের আলোতে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি দিঘীর উপর কি যেন ভাসছে। ভয়ে আমি রীতিমত কাঁপতে শুরু করছি। কালুর দিকে তাকাতেই দেখি সে আমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
একটু আগে দেখলাম তার চোখ গুলো নীল আর এখন টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে।

মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে সে আমাকে গিলে ফেলবে। ভাগ্যিস আমার সাথে রক্ষা কবজ টা ছিলো। কালু আমার থেকে যথেষ্ঠ দূরে দূরে অবস্থান করছে। আমি পুকুরের দিকে টর্চ মারতেই দেখি সেখানে কেউ নেই।
হঠাৎ লাশটা কোথায় গায়েব হয়ে গেলো সেটাই ভাবছি আমি।

সামনে একটা বাঁশ বাগান। এর পরেই জমিদার বাড়ি। বিশাল বাঁশ ঝাড়। অনেকদিন বোধহয় এখান থেকে কেউ বাঁশ কাটে না। বাঁশ ঝাড়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাঁশ গুলো একটার সাথে আরেকটা সজোরে আঘাত করছে। আর জঙ্গল থেকে জোর গলায় হুতুম পেঁচার ডাক শোনা যাচ্ছে।
দাদুর কাছে শুনেছি, রাতের বেলায় নাকি পেঁচার ডাক শোনা ভালো না। না জানি ভাগ্যে কি ঘটে তা ভেবেই আমার নাজেহাল অবস্থা।

জমিদার বাড়িতে ডুকতেই কিছু বাদুর মাথার উপর দিয়ে উড়ে চলে গেলো। আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। পুরনো জমিদার বাড়ি। দেয়াল গুলো খসে পড়েছে। চারিদিকে মাকড়শারজাল। না জানি কতো বছর মানুষ এই বাড়িতে আসে না। ফুলির রহস্য জানতে যখন এতোটুকু এসেছি, তখন ভাবলাম পুরো জমিদার বাড়িটা একটু ঘুরে দেখি।

দোতালা সিস্টেমের বিশাল দালান। রুম গুলো বেশ বড় বড়। হাঁটতে হাঁটতে আমি বাড়ির ভিতরে চলে গেলাম। কিন্তু পেছনে তাকাতেই দেখি কালু নেই। দূর্ঘটনায় যদি মানুষের একটা হাত, পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন মানুষ যতটা ভয়ে পেয়ে কাঁপতে থাকে, আমিও ঠিক ততটাই ভয় পেয়ে কাঁপতে লাগলাম।

টর্চ জ্বালাতে যাবো এমন সময় দেখি টর্চ জ্বলছে না। হঠাৎ দোতালা থেকে একটা সুলেরা কণ্ঠে মেয়ের গান শোনা যাচ্ছে। এই গানের সুর আমাকে তার দিকে চম্বুকের ন্যায় আকর্ষণ করছে। দোতালায় চলে গেলাম আমি। একটি রুমে আলো জ্বলছে। আর সেই রুম থেকে গানের সুর শোনা যাচ্ছে।

সাথে মেয়েটি নাচ্ছেও। তার নূপুরের ঝঙ্কার আমার মনের ভিতর একটা উত্তাল মহাপ্রলয় সৃষ্টি করছে। আমি তার রুমে উঁকি দিতেই সে আমাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিলো।

ঠিক গতকাল রাতের মতোই মেয়েটির হাসি দেখে আমার সকল ভয়ভীতি দূর হয়ে গেলো। এটাতো গতকাল রাতের সেই ফুলি মেয়েটা। সে আমাকে ডাক দিয়ে বলল:
ভয় পেও না। ভিতরে এসে বসো। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। শুধু তোমার কাছে আমি একটু সাহায্য চাই বন্ধু।
ফুলির আচরনে আমি বেশ পুলকিত হলাম।

তার উপর আবার বন্ধু বলে ডাকছে।
নাকি এসব তার ছলচাতুরী। আমাকে মেরে ফেলার ফাঁদ।

আমি ভিতরে গিয়ে বসে বললাম: বলো কি সাহায্য লাগবে তোমার?
ফুলি বলতে লাগল: আগে তোমাকে পুরো ঘটনা বলি। ভয় পেও না। আমি ফুলি নয়।

ফুলিকে তো অনেক আগেই জমিদার ও তার বন্ধুরা ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে। আমি ফুলির একমাত্র গোলাম। আমি একটা মানুষ রূপী জ্বিন। আমার নাম ইসফাত। মালিকের হুকুম পালন করাই আমার কাজ। ফুলি আমাকে তার মন্ত্র জালে আটকে বশ করে রেখেছে। মৃত্যুর আগে সে আমাকে হুকুম দিয়ে গেছে, জমিদারের বংশকে
ধ্বংস করে দিতে। কিন্তু জমিদারের বংশের সবাইকে তো আমি মেরে ফেলেছি তবুও কেনো আমার মুক্তি হচ্ছে না। তুমি আমাকে এই বন্দী দশা থেকে মুক্ত করো বন্ধু।
দাদুর মুখে শুনেছি জ্বিনদের কখনো বিশ্বাস করতে নেই। তবে তার কথা শুনে মনে হচ্ছে সে খুব বিপদে আছে। তার কথা আমার বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হলো।

আমি বললাম: ফুলি তোমাকে কিভাবে বশ করলো আর আমি তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
ইসফাত জ্বীন জবাব দিলো: ফুলির বাবা তন্ত্র, মন্ত্র সাধনা করতো। মানুষদের জ্বীন বা খারাপ কিছু গ্রাস করলে তিনি কবিরাজি চিকিৎসা করাতেন।সেখান থেকে ফুলি এসব শিখেছে।

আর জমিদারের ছেলে যখন তাকে ধর্ষন করে বিধ্বস্ত অবস্থায় ফেলে বাহিরে যায় ফুলি সে সময়ে নিজের হাত কেটে রক্ত দিয়ে মন্ত্র পড়ে আমাকে ডাকে। নিজের বশে এনে আমাকে জমিদারের বংশের সকলকে মেরে তার ওপর করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে হুকুম দিয়ে যায়। পরেরদিন জমিদারের ছেলে প্রদীপ ফুলিকে মেরে ঐ জঙ্গলে পুঁতে ফেলে। সে থেকে ঐ জঙ্গলে কেউ একা একা গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, জমিদারের বংশের কেউ না কেউ এখনো বেঁচে আছে। তোমার কাজ হচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা। তাদের মেরেই আমার চির মুক্তি।
আমি বললাম: কিন্তু আমি তাদের খুঁজে পাবো কোথায়?

জবাবে সে বলল: তুমি যে করেই হোক তাদের খুঁজে বের করবে। না হলে তুমি সহ গ্রামের সকলের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলবো।
আমি তার কথায় রাজি হলাম। এছাড়া আমার কোনো উপায় নেই। তাকে প্রশ্ন করলাম: আচ্ছা গতকাল রাতে আমার বন্ধু কালুকে হত্যা করলো কে?
জবাবে সে বলল: কালু আমার হাতেই মারা গেছে।
আমি: কিন্তু কেনো তাকে মারলে?

সে: আমি এমনি এমনি কাউকে মারি না। কালু ছেলেটার চরিত্র ভালো না। আমি প্রায় রাতেই নদীর ঘাটে ঘুরতে যায়। কালকেও গেলাম। হঠাৎ কালু নামের ছেলেটাকে দেখলাম আমার দিকে এগিয়ে আসতে।

আমার রূপ সৌন্দর্য দেখে কালু নিজেকে ঠিক রাখতে পারে নি। তার মনে কামনার ঝড় বয়ে গেলো। সে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
আর কালুর এই দুশ্চরিত্রের কারনেই তার মৃত্যু হয়।

আমি: তাই বলে এতো নির্মম ভাবে!
প্রত্যুত্তরে সে চুপ করে রইলো।

আমি তোমার আসল রূপ দেখতে চাই।
সে: আমার আসল রূপ দেখলে তুমি ভয় পাবে?

আমি: না ভয় পাবে না, ভয় পেলে কি আমি এতো রাতে এখানে আসতাম না।
সে: তাহলে তোমার শরীরে ঐ তাবিজটা খুলে ফেলো। না হলে আমি তোমার সামনে আসতে পারবো না।

তার কথা মতো আমি তাবিজ খুলে বাহিরে ফেলে দিলাম।
আর মূহুর্তের মধ্যেই ফুলি নিজের রূপ চেঞ্জ করে আসল রূপে রূপান্তরিত হলো।
তার চেহেরা দেখে আমি ভয়ে আঁতকে উঠি।

স্বাভাবিক মানুষ থেকে বেশ লম্বা। সুঠাম দেহ ও কুৎসিত চেহেরা। চোখ দুটো টকটকে লাল বর্ণের। হাতের নখ গুলো প্রসস্থ। মুখে সরু সুচালো দুটি দাঁত। চুল গুলো সাদা। সবকিছু প্রায় মানুষের মতো। তবে আকৃতি একটু ভিন্ন। জ্বীনটা বেশ ফুলে ফেঁসে ফোস ফোস করতে করতে একটা গর্জন ছাড়ল। ধীরে ধীরে সে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।

পরেরদিন সকালে আমাকে জমিদার বাড়ির সামনে থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হলো।
শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসলো। পুরো শরীরে অসংখ্য আঁচরের দাগ। প্রায় এক সপ্তাহ আমি অসুস্থ ছিলাম। পরবর্তীতে ইমাম সাহেবকে ডেকে আমাকে আরেকটা তাবিজ দেওয়া হয়। ভয়ের কারণে আমার জবান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইমাম সাহেব ঝাঁড় ফুক করে স্বাভাবিক ও সুস্থ করে তোলে।

সবাই আমাকে অনেক বকাবকি করলো;
আমি কেনো রাত্রের বেলা জমিদার বাড়িতে গেলাম। ঐ বাড়িটা তো ভালো না।

সেদিন রাতে কি হয়েছিলো সব আমি ইমাম সাহেব কে খুলে বললাম। শেষে ফজরের আযান পড়ার কারণে জ্বিনটা আমাকে মারতে পারে নি। কিন্তু যাওয়ার সময় আমাকে দোতালা থেকে নিছে ফেলে দেয়। যার ফলে আমার কোমরের হাড়ে ভীষণ আঘাত প্রাপ্ত হয়।

এতোদিন সবাই জমিদার বাড়ির বিষয়টা কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিতো। কিন্তু এর পর থেকে ঐ দুষ্ঠু জ্বীনের উৎপাত গ্রামে অনেক বেড়ে যায়। গ্রামের মানুষ ভয় দেখানো সহ অনেক ক্ষতি করতে শুরু করে।

কিন্তু অনেক খোঁজ করেও জমিদারের বংশের কেউ বেঁচে আছে কিনা তা জানা যায় নি। শতবছর আগের ইতিহাস তো কারো মনে থাকার কথা না।
পরিশিষ্ট: এই দুষ্টু জ্বীনটা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, বিভিন্ন রূপ ধরে ছলচাতুরী করে মানুষকে তাঁর ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে।
যে তার ফাঁদে না বুঝে পা দিতো সে তার হাতে মারা পড়তো। তাই গ্রামের সকল মানুষ মিলে ঐ জমিদার বাড়িতে যায়। এবং ইমাম সাহেব ঐ দুষ্টু জ্বীনটাকে বোতলে বন্দী করে মেরে ফেলে।

মৃত্যুর সময় জ্বীনটা অনেক কান্না ও আকুতি মিনতি করছিলো তাকে বাঁচানোর জন্য।
যেটা কেবল আমি আর ইমাম সাহেব ছাড়া কেউ দেখে নি।

আর এখনে শেষ হলো ফুলির মৃত্যুর রহস্য।
অবশেষ জ্বিন দেখার এক অবিভূত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম আমি।

লেখা – মিরাজ খন্দকার

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “আমি ফুলি – ভৌতিক রহস্য গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – গোধূলী বেলায় তুমি – Amar valobasar moyna pakhi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!