ছোট গল্প

সুখের প্রেমাধ্যায় – শিক্ষণীয় ছোট গল্প

সুখের প্রেমাধ্যায় – শিক্ষণীয় ছোট গল্প অভাব হলেও তার ছোট্ট সংসারে ভালবাসার কোন কমতি নেই। সাহেদের দুই মেয়ে যেন তার দুই চোখের মণি।


মূলগল্প

দুপুরবেলা গোসল করে বের হওয়া মাএই এক অদ্ভুত কথা শুনল শান্তা। “তাকে নাকি দেখতে এসেছে”।

বলা নাই কওয়া নাই দেখতে এসেছে মানে কি ? তার ভাবনার মাঝেই রোকসানা আপা তাড়া দিতে লাগল,

~ অই শান্তা, তারাতারি মাথাডা মুছ। চুলটা শুখাইয়া জলদি হেগোর সামনে যা। কতক্ষন ধইরা বইসা রইছে পোলাডা।

~ কে আইসে খালা?

~ দেখোতো মাইয়া কত কথা কয়। তরে দেখতে আইসে বিয়ার লেগা। তারাতারি কর দেখি।

বলেই দ্রুতপায়ে ঘরের ভীতরে চলে গেল খালা। ভীতর থেকে পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আসছে।

আর কিছু না ভেবে, কোনোভাবে চুলটা মুছে মাথায় ওড়না দিয়ে ধীরপায়ে ঘরে ঢুকল শান্তা।

ঘরে ঢুকতেই শান্তার মা ব্যস্তভাবে মেয়েকে ধরলেন।
~ এই যে, আমার শান্তা।

শান্তা লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকলেও সে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে সামনের পুরুষ দুটি তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

শান্তা সচেতনভাবে আড়চোখে তাদের দিকে তাকাল। দুইজন পুরুষ বসে আছে। তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে বাম পাশেরজন তাকে দেখতে আসছে আর ডান পাশেরজন তারই বন্ধু

বয়স একটু বেশি বোঝা গেলেও দেখতে সুন্দরই বলা যায়। শান্তার বিশেষ পছন্দ না হলেও খারাপ লাগেনি।

দুইদিন পর খবর এলো শান্তাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। কিন্তু বাঁধসাধল শান্তার কাকারা। তারা এই ছেলের সাথে শান্তার বিয়ে দিবেনা। ছেলের বয়স নাকি অনেক বেশি।

সদ্য ১৮ তে পা দেওয়া শান্তার সাথে তার দিগুন বয়সের একটা ছেলের সাথে কিভাবে তার বিয়ে ঠি ক করতে পারে তার মা বাবা, তাও তাদের না জানিয়ে? এই নিয়ে বেশ ভালো একটা ঝগড়া লেগে গেলো বাড়ির মধ্যে।

একদিকে শান্তার মা রোকেয়া বেগম বলছে~ ছেলে শহরে থাকে। ভালো ব্যবসা করে। টাকাপয়সা আছে।

ওখানে বিয়ে দিলে রানির মতো থাকবে শান্তা। আর তাদেরকে না জানানোর কথা যদি আসে তাহলে সে কি ইচ্ছা করে জানায়নি নাকি? হুট করেইতো দেখতে আসছে। জানানোর সময় পাবে কই? এখনতো জানিয়েছে।

অপরদিকে শান্তার কাকারা বলছে~ তাদের একটাই কথা এই বয়স্ক ছেলের সাথে শান্তার বিয়ে দেয়া হবে না।

রোকেয়া বেগম নাকি ছেলের টাকা পয়সার লোভে পরে বিয়ে দিতে চাচ্ছে।

তারপর বেশ কাঠখঁড় পুড়িয়ে কোন এক শুভক্ষণে শান্তার সাথে সাহেদ এর বিয়ে হয়ে গেল। গ্রামের সহজসরল, দুরন্ত শান্তা শহরে এসে সংসার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পরল। বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও

তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বেশ ভাল। যুবতী শান্তা যেন কয়েকদিনের মধ্যেই ঘর~ সংসারে পারদর্শী হয়ে উঠল।

বিয়ের একবছরের মাথায় শান্তার কোলজুড়ে এল ফুটফুটে কন্যা সন্তান। সেদিন মনেহয় সাহেদের চেয়ে সুখী মানুষ এই পৃথিবীতে ছিলনা। স্বামী~ সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিলো শান্তার জীবন।

সেই উনিশ বছর বয়স থেকেই সংসার ও বাচ্চা সমানতালে সামলাচ্ছিল শান্তা। স্বামীও কখনো তার অযত্ন করেনি।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর শান্তা জন্ম দেয় তার ২য় কন্যাসন্তানের। মাঝে সাহেদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলেও শান্তা কখনোই তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেনি।

অভাব হলেও তার ছোট্ট সংসারে ভালবাসার কোন কমতি নেই। সাহেদের দুই মেয়ে যেন তার দুই চোখের মণি।

ভালবাসা বয়স মানেনা। কোথাকার কোন গ্রামের শান্তা আজ এই ব্যস্ত শহরে নিজের সংসার গড়েছে। বিধাতা কার জীবনে কি রেখেছে তা কেও জানেনা। যার ভাগ্যে যা আছে তা সঠিক সময়ে তার কাছে পৌছে যাবে।

এতটুকু বলে থামলো শান্তার নানী জোবায়দা বেগম। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে শান্তার জীবনকাহিনী শোনাচ্ছিল সে। দুইদিকে দুই নাতনি মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছিলো।

থামার পরেও উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তারা। খাটের পাশের চেয়ারটায় নিরব হয়ে বসে আছে শান্তা। বারবার ২০ বছর আগের কথাগুলো স্বৃতিচাঁড়া দিয়ে উঠছে। আসলেই তো আব্বা-আম্মাকে ছেড়ে কোথা থেকে আজ কোথায় চলে এসেছে সে।

জোবায়দা বেগম এবার নাতনিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শখ মিটেছে তোদের মা-বাবার বিয়ের কাহিনী শোনার? রাত অনেক হয়েছে। ঘুমাতে যা এবার।

আমাদের মাঝে এরকম অনেক শান্তা আছে যারা অল্পের মধ্যেও নিজের সুখটা বেঁছে নিতে পারে।

তাদের ভালবাসার জীবন্ত গল্পগুলো হাজারো ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে যায়। পড়ে থাকে মনের গহীনে কোনো এক কোঁণে।

লেখিকা – মালিহা খান

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সুখের প্রেমাধ্যায় – শিক্ষণীয় ছোট গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মেয়েদের জীবন – মেয়েদের কিছু কথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!