ছোট গল্প

চাঁদে বাসর – মজাদার প্রেমের গল্প

চাঁদে বাসর – মজাদার প্রেমের গল্প: আজ অয়ন আর লাবণ্যকে নিয়ে আমেরিকা সরকার রাষ্ট্রীয় ভাবে একটা প্রোগ্রাম করে। যেখানে ট্রাম্প সহ আরো অনেক বড় বড় মানুষ আছে। আর প্রধান অতিথি হিসেবে অয়ন আর লাবণ্য। সারা বিশ্ব পাগলামি দেখছে।


মুলগল্প

অয়নঃ আই লাভ ইউ।
লাবণ্যঃ ডং!
অয়নঃ সত্যিই আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি।

লাবণ্যঃ আমায় ভালোবেসে কি করতে পারবে?

অয়নঃ তোমায় ভালোবেসে হয়তো ওই চাঁদটা এনে দিতে পারবো না।
কিন্তু আমি তোমায় নিয়ে চাঁদে বাসর করতে যাবো।

শুধু একবার বলো ভালোবাসি। এই মৃদু সমীর সাক্ষী রেখে বলছি।

আমায় একটু ভালোবাসা দাও। আমি তোমায় নিয়ে চাঁদে যাবো হানিমুন করতে।
লাবণ্যঃ পাগল! স্বপ্ন খুব ভালোই দেখেছো।

ডায়লগ অন্য কারো কাছে দাও।
অয়নঃ এই যাও তোমার মাথায় হাত রেখে বলতেছি।
তুমি আমায় ভালোবাসো। তাহলে সত্যিই চাঁদে বাসর করতে যাবো তোমায় নিয়ে।
লাবণ্যঃ সিরিয়াসলি?

অয়নঃ হ্যাঁ, তুমি চাইলে আমি পাথারের নিচে বাসর সাজাবো।
লাবণ্যঃ পাথারের পানিতে আমার এলার্জি আছে।
বিধুতেই বাসর বেটার হবে।

কথাটা বলেই লাবণ্য অয়নের হাতে হাত রাখে।
লাবণ্য ভেবেছে অয়ন হয়তো মজা করেছে।

তাই লাবণ্যও এমন করলো।
আর লাবণ্য অনেক আগেই অয়নকে ভালোবেসেছে।
বলতে পারেনি শুধু লজ্জায়।

অয়ন বাসায় আসলো।
অয়ন আজ খুব খুশি।

সে লাবণ্যকে তার ভালোবাসার কথা বলতে পেরেছে।
লাবণ্যও হ্যাঁ বলেছে।

অয়ন তার ফ্যামিলির সাথে সব শেয়ার করে।
অয়নের কথা শুনে সবাই হাসে।

অয়ন সিরিয়াস হয়ে বললো।
অয়নঃ আব্বু!
আব্বুঃ কি?

অয়নঃ তুমি জানো তো আমি এক কথার মানুষ।
যা বলি তাই করি।

আব্বুঃ তো? এখন কি সত্যি সত্যি চাঁদে নিয়ে যাবি আমার বউ মা কে?
কথাটা বলে মুচকি হাসলেন তিনি।

অয়ন বললো।
অয়নঃ আমি যদি হ্যাঁ বলি!

আব্বুঃ আমরা সবাই হাত তালি দিবো।
সবাই অট্টহাসিতে মেতে উঠে।

ওদের কথায় অয়ন মুচকি হাসে। আর পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে। আর কাকে যেন ফোন দেয়।
ওপাশ থেকে ফোন রিসিব হয়।

(আমি এই গল্পে সব কিছু বাংলায় লিখবো)

হ্যালনঃ কেমন আছো অয়ন?

(হ্যালন হলো আমেরিকানি বিজ্ঞানী। যিনি নাশায় কর্মরত আছেন। )
অয়নঃ ভালোই আছি।

কি খবর তোমার?

হ্যালনঃ চলছে একরকম।
হঠাৎ কি ভেবে ফোন দিয়েছো?

অয়নঃ বিয়ে করবো সামনে।
আর আমায় একটা সাহায্য করতে হবে।

হ্যালনঃ এটা তো ভালো, তো কি সাহায্য?
অয়নঃ আমি চাঁদে বাসর করবো।

মানে আমার বউকে নিয়ে চাঁদে হানিমুনে যাবো।
অয়নের কথা শুনে হ্যালন অট্টহাসি দিয়ে বলে।

হ্যালনঃ এটা কিভাবে সম্ভব?

অয়নঃ আমি যে কথা দিয়েছি।

হ্যালনঃ জানো, শেষ ১৯৭২ সালে নাশা চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছে।
আর কখনো নাশা মানুষ চাঁদে পাঠায় নি।

আর তুমি নাকি চাঁদে বাসর করবা।

হ্যালন আবারো হাসলো।

অয়নঃ আমি শুনেছি, তোমরা এবার মানুষ পাঠাবে চাঁদে। তাহলে আমাকেই পাঠাও। আমি বিশ্ব রেকর্ড করবো।
হ্যালন কিছু একটা ভেবে বললো।

হ্যালনঃ আচ্ছা, আজ রাতে আমরা নাশার সব
বিজ্ঞানী বসবো। সিদ্ধান্ত নেই আমরা।

আর তোমার প্রস্তাব রাখবো আমি।
অয়নঃ অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।

তুমিই আমার প্রকৃত বন্ধু।
হ্যালন মুচকি হাসে।

অয়ন ফোন কেটে দেয়।
অয়ন কার সাথে এতক্ষণ কথা বললো। এটা জানার জন্য তার ফ্যামিলির সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছে।
অয়ন সবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

অয়নের মা বললেন।

আম্মুঃ অয়ন বাবা তুই সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছিস।
আর কার সাথে কথা বললি?

অয়নঃ এইতো নাশার বিজ্ঞানীর সাথে কথা বললাম।
আব্বুঃ কিহ?

তুই সিরিয়াসলি?
অয়নঃ হ্যাঁ।

অবাক হচ্ছো কেন।

সেদিন নিউইয়র্কে একটাকাজে গিয়েছিলাম, তখন হ্যালনের সাথে পরিচয় হয়।
তখন পরিচয় হয়ে ভালোই হয়েছিলো।

আব্বুঃ পাগল!

আম্মুঃ কিছু বলার ভাষা পাচ্ছিনা।
অয়নের ভাইয়া বললো।

নাবিলঃ তুই পাগল হয়েছিস, জানিস এমন কাজের জন্য সবাই তোকে পাগল বলবে?
অয়নঃ আমি যদি বলি, এমন কাজের জন্য সবাই আমাদের চিনবে?

সবাই অয়নের কথার উপরে আর কিছুই বলে নি।

অয়ন আর লাবণ্য আমেরিকার বড় একটা ভার্সিটিতে পড়ে। সেই সুবাদে ওদের পরিচয়। আর আস্তে আস্তে ভালোবাসা।

অয়ন তার রুমে বসে আছে। আর ভাবছে চাঁদে গেলে কি কি করবে।
তখনি লাবণ্য ফোন দেয়।

লাবণ্যঃ কি করছো?
অয়নঃ চাঁদে যাবার জন্য কি কি করবো সব ঠিক করছি।
লাবণ্যঃ চাঁদে কি তোমার শশুড় বাড়ি?

যে এসব ভাবছো।

অয়নঃ নাশার বিজ্ঞানীদের সাথে আমার কথা হয়েছে। আজ রাতেই ওরা মিটিংয়ে বসবে। আমার চাঁদে যাওয়ার বিষয় নিয়ে।

লাবণ্যঃ কিহহ?

অয়নের কথা শুনে লাবণ্য যেন আকাশ থেকে পড়লো।
অয়ন কি সত্যিই কোনো পাগলামী করবে।

অয়নঃ সত্যিই, আমি যা বলি তাই করি।

সো, তুমি তৈরি থাকো।
অয়নের কথা শুনে লাবণ্য ফোন রেখে দেয় রাগে।

লাবণ্য অয়নকে বাঙালি কিছু বকা দিতে শুরু করে।
আর অয়ন কল্পনায় আঁকছে নিজের বাসরের প্রতিচ্ছবি।

সকালে উঠে অয়ন তার ফ্যামিলির সাথে নাশতার টেবিলে বসে আছে।
তখনি অয়নের ফোন বেজে উঠে।

ফোনের স্কিনে হ্যালন এর নাম দেখে অয়ন ভাবছে কি কথা বলবে হ্যালন।
কিছু না ভেবেই ফোনটা রিসিভ করে সে।

অয়নঃ কেমন আছো?
হ্যালনঃ ভাল। তোমার হাতে ৪৫ দিন আছে। তৈরি হয়ে নাও।
দুইদিন পর তুমি আর তোমার বউ আমাদের নাশায় আসবে।

হ্যালন এর কথা শুনে। অয়ন খুশিতে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
অয়নের ফ্যামিলি ভয় পেয়ে যায়।

অয়নঃ সত্যিইইইই!
হ্যালনঃ হুম।

এখন রাখি। প্রচুর কাজ।
তোমাদের জন্য নতুন যান ( এ্যাপল ৯৩) বানাতে হবে।
অয়নঃ হুম।

অয়ন ফোন রেখে দেয়। আর বসা থেকে উঠে, নাচতে শুরু করে।
অয়নের নাচ দেখে সবাই অবাক।

আব্বুঃ কি হয়েছে অয়ন? সবার সামনে এভাবে ডান্স দিচ্ছো কেন?
অয়নঃ আব্বু আর মাত্র ৪৫ দিন।

আম্মুঃ তারপর কি?

অয়নঃ চাঁদে যাবো আমরা।

কথাটা বলে আবারো নাচতে শুরু করে অয়ন।

ওরা সবাই: কিহহহহ?
অয়নঃ অবাক না হয়ে, আমার সাথে ডান্স করো, সময়টা এনজয় করো।
আব্বুঃ সবাই পাগল হয়েছে। ওই নাশার বিজ্ঞানী তোকে তাদের বলির পাঠা বানাছে।

অয়নঃ কচু মে কুচ কুচ।
আব্বুঃ নাশার বিজ্ঞানী গুলো সময়ের ব্যবহার করছে তোকে।

অয়নঃ এতো কিছু জানি না।
আমি বিশ্ব রেকর্ড করবো।

কাল আমি লাবণ্যকে বিয়ে করবো।

তোমরা আয়োজন করো।
অয়ন নাচতে নাচতে নিজের রুমে আসে। আর লাবণ্যকে ফোন দেয়।
অয়নঃ হ্যালো! একটা গুড নিউজ আছে।

লাবণ্যঃ কি?
অয়নঃ কাল তোমাকে আমি বিয়ে করবো।
এতক্ষণে হয়তো আব্বু তোমার পরিবারের সাথে কথা বলে নিয়েছেন।
লাবণ্যঃ এতো তাড়াতাড়ি?

অবাক হয়ে বললো লাবণ্য।
অয়নঃ হ্যাঁ!

হাতে আমার আর তোমার দুজনেরি সময় নাই।
লাবণ্যঃ কেন?

অয়নঃ ৪৫ দিন পর আমরা চাঁদে যাবো বাসর করতে।
লাবণ্যঃ মজা করছো?

অয়নঃ সত্য কথা বলছি।
লাবণ্য আবারো ফোন কেটে দেয়।

সে কি অয়নকে ভালোবেসে কোনো ভুল করলো।
আজ অয়ন আর লাবণ্যর বিয়ে।

ভালোয় ভালোয় বিয়েটা হয়ে যায়।
দুই ফ্যামিলি আর নাশার বিজ্ঞানী ছাড়া কেউ জানেনা অয়ন এর আবদারের কথা।

অয়ন ভাবছে সারাবিশ্ব যখন জানবে এসব, তখন সবাই কি বলবে। নিশ্চয় অবাক হবে।
অয়ন আর লাবণ্য তাদের বাসর ঘরে বসে আছে।

বিয়েটা হঠাৎ করেও হলে, খুব এনজয় করেছে সবাই।
লাবণ্য ওয়াশ রুম থেকে আসে। অয়ন বাসার বাগানে গিয়েছে।

তাই লাবণ্য রুমে পায়চারি করছে। আর ভাবছে। অয়ন কি করবে। সে তো এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলো না।
কিন্তু হঠাৎ করে সব হয়ে গেলো।

লাবণ্যের মনে এখন আবার হঠাৎ করে রোমান্টিকতার হাওয়া লাগে।

ভাবলো সে, অয়ন রুমে ঢুকলেই, অয়নকে জড়িয়ে ধরে কিস করবো।

অয়ন বাগানে বসে বসে চাঁদ দেখছিলো।

কিছুদিন পর সে ওই চাঁদে যাবে।
তার মনের আশা পূরণ হবে।

বিশ্বের মানুষ চিনবে থাকে।
যদি চাঁদে যাবার আগেই কোনো অঘটন ঘটে যায়।

অয়ন আবার ভাবলো। খারাপ চিন্তা না করাই ভালো।
অয়ন এসে তার রুমে ঢুকে।

লাবণ্য অয়নকে জড়িয়ে ধরে। আর একের পর এক কিস করেই যাচ্ছে।
কিন্তু অয়ন কোনো রেসপন্স দিচ্ছে না।

লাবণ্য লজ্জা পায়।

সে ভাবে, অয়নকে এমন করলে৷ অয়নো আকৃষ্ট হবে তার প্রতি।
কিন্তু অয়ন কিছুই করলো না।

অয়নঃ তুমি চাইলে প্রতিদিন এভাবে আমায় আদর করতে পারো।
আমি ঠিক চাঁদে যাবার পর তোমায় আদর করবো।

অয়নের কথা শুনে লাবণ্যের রাগ হয়।
অয়ন এমন কেন?

লাবণ্য এসে পালঙ্কে বসে।
অয়নো তার পাশে বসে।

অয়নঃ তুমি কি হেপি না?
লাবণ্যঃ তুমি কি সত্যিই চাঁদে যাবে আমায় নিয়ে?
অয়নঃ হ্যাঁ।

ভাবতেই আমার কেমন ভালো লাগা কাজ করছে।
লাবণ্যঃ পাগল হয়েছো?

অয়নঃ হুম,
এখন ঘুমাও।

ঘুমাও শব্দটা শুনে লাবণ্যের রক্ত মাথায় উঠে যায়।
লাবণ্যঃ আজ আমাদের বাসর রাত?

অয়নঃ তো?
লাবণ্যঃ তো মানে?

তোমার কিছু ইচ্ছা করছে না?

অয়নঃ ইচ্ছা তো অনেক কিছুই করছে। কিন্তু সব হবে চাঁদে।
লাবণ্যঃ এই চাঁদ চাঁদ করো না তো।

সবাই প্রপোজ করার সময় এমন কথা বলে। তা কি কখনো সত্য হয়?
অয়নঃ না,

কিন্তু আমি সত্য করবো।

লাবণ্যঃ তোমার সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট করা।
অয়নঃ তো ঘুমাও।

লাবণ্য অয়নকে ভেংচি কেটে শুয়ে পরে।
সকালেই অয়নের ফোন বেজে উঠে।

সে আর লাবণ্য এক সাথেই গোসল করেছে। খুব কষ্টে নিজেকে সামলিয়েছে।
গোসলের সময় লাবণ্যকে বলেছিলো।

— তোমাকে এমন অবস্থায় দেখে, নিজেকে কিভাবে যে সংযত রাখছি! আমি নিজেই জানি না।
মনে হচ্ছে আমি পারবো আটলান্টিক মহাসাগর সাঁতার দিয়ে পাড়াতে পারবো।

যেখানে তোমায় এই অবস্থায় দেখে আমি পারছি নিজেকে ঠিক রাখতে। সেখানে আটলান্টিক তো তুচ্ছ।
অয়ন ফোনের স্কিনে হ্যালন এর নাম দেখে।
ফোন রিসিভ করে।

অয়নঃ হ্যালো!
হ্যালনঃ টিভি অন করো মিস্টার অয়ন?
অয়ন হ্যালনের কথা শুনে।

আর বলে।
অয়নঃ লাবণ্য টিভিটা অন করো তো?

লাবণ্যঃ হুম।
লাবণ্য টিভি অন করে। হ্যালন ফোন রেখে দেয়।

টিভি অন করতেই, প্রতিটা চ্যানেলে, অয়ন আর লাবণ্য ময়।
লাবণ্য এসব দেখে অয়নের দিকে তাকায়।

টিভিতে এটাই বলছিলো।
১৯৭২ এর পর আবারো চাঁদে মানুষ পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করছে নাশা।

আর এবার যারা চাঁদে যাবেন। তারা কোনো বিজ্ঞানী নয়। ওরা হলেন, বাঙালি দম্পতি।
আর এরা যাচ্ছেন #চাঁদে বাসর করার জন্য।

এটাই বিশ্ব কাঁপানো খবর।
খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশি দম্পতি চাঁদে পাড়ি দেবে।

নাশার এমন পদক্ষেপ দেখে রাশিয়া, চীন, উত্তর কুরিয়া ইত্যাদি দেশ গুলো হাসছে।
কারণ এটা নাকি সম্ভব না।

এরকম আরো অনেক খবর।

লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরে অয়ন।
অয়নঃ দেখছো লাবণ্য?

আজ আমাদের টিভিতে দেখাচ্ছে।
কাল সারা বিশ্ব আমাদের চিনবে।

আর ভয় পেয়ো না তো।

দেখবা ঠিক আমরা চাঁদে বাসর করে বিশ্ব রেকর্ড করবো।
অয়নের কথা শুনে লাবণ্যের কেমন অনুভূতি জন্মালো।

সত্যিই তো।
যাই হোক না কেন। আমি অয়নের সাথে চাঁদে বাসর করবোই।

পরের দিন অয়ন আর লাবণ্য নাশায় যায়।

শুরু হয় তাদের কঠিন পরীক্ষা। কঠিন টিউটোরিয়াল।

সব কিছুই অয়ন আর লাবণ্য খুব মন দিয়ে দেখছে।
আর খুব তাড়াতাড়ি শিখছে সব।

এই দিকে বাংলাদেশের প্রতিটা চ্যানেলেও অয়ন আর লাবণ্য ময়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন। ওরাই আমাদের বাংলাদেশের অহংকার।
এইদিকে বাংলাদেশের ফেসবুক ইউজাররা এটাকে ট্রল বলে চালাচ্ছে।

দুই জায়গায় কঠিন মারামারি হয়ে যায়।
এক দল বলছে এটা ট্রল। আর অন্য দল বলছে এটা সত্য।

এসব দেখে বাংলাদেশ সরকার কঠিন আইন ফাস করলো।
এটাকে যে ট্রল বলবে তাদের ১বছরের জেল।

ট্রাম্প সম্মান জানান অয়ন আর লাবণ্যকে।

আর মনে মনে বলে। যাও কাপল যাও যাও।
চাঁদে এই জন্য ১৯৭২ এর পরে কাউকে পাঠানো হয় নি।

কারণ চাঁদে এলিয়েন আছে, এর জন্য নাকি আর চাঁদে মানুষ পাঠায় নি।
ট্রাম্প হাসলো।

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাগল বলছে।
চীন এর সরকার বলছে

আমরাও এমন চিন্তা করেছিলাম।
কিন্তু মানুষ পাগল বলবে তাই আর কিছুই করিনি।

ট্রাম্প শালা পাগল, তাই এসব করছে।

কঠিন ভাবে অয়ন আর লাবণ্যকে তৈরি করা হয়।
অয়ন আর লাবণ্যে সাথে আর কোনো নাশার বিজ্ঞানী যাবে না।
নাশাও ভাবছে, এরা পাগলামি করছে, করুক।

মাঝেমধ্যে পাগলের পিছনেও টাকা খরচ করতে হয়।
অয়ন আর লাবণ্য আর তিনদিন দেশে আছে।

আজ অয়ন আর লাবণ্যকে নিয়ে আমেরিকা সরকার রাষ্ট্রীয় ভাবে একটা প্রোগ্রাম করে। যেখানে ট্রাম্প সহ আরো অনেক বড় বড় মানুষ আছে। আর প্রধান অতিথি হিসেবে অয়ন আর লাবণ্য।
সারা বিশ্ব পাগলামি দেখছে।

অয়নঃ সবাই হয়তো আমায় আর আমার স্ত্রীকে পাগল ভাবছেন।
কারণ সত্যিই আমরা পাগলামি করতেছি।

কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমরা সফল হবো।
এটা আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশিরা এভারেস্ট জয় করেছে।
তাহলে কেন আমরা পাড়বো না চাঁদে বাসর করতে।
শুধু এটাই বলবো। আজ পাগল বলছেন আমাদের।

যখন আবার পৃথিবীতে আসবো। সেদিন সারা বিশ্ব বাহ! বাহ! দিবে।
অয়নের কথা শুনে ট্রাম্প সহ সবাই হাত তালি দেয়।

বাংলাদেশের সব মানুষ আজ টিভির সামনে বসে বসে এসব দেখছে।
যারা বলছিলো ট্রল, তারা আজ বিশ্বাস করেছে।

দেশে থাকা অয়ন আর লাবণ্যের রিলেটিভরা আজ গর্ব করছে। তাদেত আপনজন চাঁদে যাচ্ছে।
অয়ন আর লাবণ্যের প্রিয় খাবার গুলো রান্না করা হয়েছে।

কাল সকালে চলে যাবে তারা নাশার কাছে।
সেখানে একদিন থাকবে।

আর পরের দিন সন্ধ্যার সময় ওরা চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।
অয়ন আর লাবণ্যের ফ্যামিলি এখনো তাদের

বোঝাচ্ছে, এটা পাগলামো।
ঠাণ্ডা মাথায় একবার ভাব তোরা।
দেখ তোদের মনে কি আসে।

এরকম হাজারো কথা বলছে।

কিন্তু কেউ ওদের পিছপা করতে পারেনি।
সকালেই অয়ন আর লাবণ্যকে সবাই বিদায় দেয়।

সারা রাস্তায় মানুষ ছিলো।

অয়নের গাড়ির সামনে পিছনে অনেক পুলিশের গাড়ি।
রাস্তার মানুষ স্লোগান দিচ্ছে।

এর আগেও অনেক বার মানুষ চাঁদে গিয়েছে। কিন্তু এতো উৎসাহ পায়নি ওরা। যেভাবে পাচ্ছে অয়ন আর লাবণ্য। এর একটাই কারণ।
সেটা হলো, চাঁদে বাসর।

এই দুই শব্দের জন্য পৃথিবী আজ ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।
একদিন কেটে যায়।
এ্যাপল ৯৩ যান টি ২১ দিনে তৈরি করা হয়েছে।

খুব স্পেশাল ভাবে তৈরি করা হয়েছে যান টি।
অয়ন আর লাবণ্যকে তৈরি করা হচ্ছে।

এই দিকে আজ সন্ধ্যার পরেই বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদ এর ম্যাচ ছিলো। সেটার টাইম একদিন পিছানো হয়েছে।

শুধু অয়ন আর লাবণ্যের পৃথিবী ত্যাগ করাটা লাইভ দেখার জন্য।

মেসি,রোনালদো, নেইমার সহ বড় বড় তারকার, একথায় বিশ্বের বড় বড় তারকারা টিভির সামনে বসে আছে লাইভ অনুষ্ঠান দেখার জন্য।

ভারত পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি খেলাটাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অয়ন আর লাবণ্যকে তৈরি করে আনা হয়।

দু’জনকে এ্যাপল ৯৩ যানে বসানো হয়।

ঠিক সন্ধ্যার পর অয়ন আর লাবণ্য পৃথিবী থেকে চাঁদে যাবার জন্য রওনা দেয়।
এই অনুষ্ঠানটা সবাই লাইভ দেখছিলো।

বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে।
চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ইত্যাদি দেশ গুলো অবাক হয়েছে।
সত্যিই কি ওরা সফল হয়ে যাবে।

অয়ন আর লাবণ্যের ফ্যামিলি আজ হতাশ হয়ে বসে আছে। আর কি কখনো ফিরে আসবে তাদের সন্তানরা।
নাশা সব সময় খবর নিচ্ছে অয়ন আর লাবণ্যের।

ঠিক ৭দিন পর ওরা দু’জন চাঁদে পা রাখে।
ওরা দু’জন শুধু নাশাকে এটাই মেসেজ দেয়।

তাদের অভিযান সফল হয়েছে।
নাশা কথাটা মিডিয়াকে জানিয়ে দেয়।

আর মিডিয়াও সেই খবরটা বন্যা বা দাবালন এর মতো চড়িয়ে দেয় বিশ্বকে।
চাঁদের মাটিতে অয়ন আর লাবণ্য পা রেখেই দু’জনে একটা দীর্ঘ লিপ কিস করে।
দিন ছিলো চাঁদে।
তারা রাতের অপেক্ষায় ছিলো।

তারা ভালোভাবে চাঁদে কিছুক্ষণ ঘুরে নেয়।
সুন্দর করে দু’জন মিলে বাসর সাজায়।

অয়নঃ আমি পেরেছি তোমায় দেওয়া আমার কথা রাখতে।
লাবণ্য অয়নকে জড়িয়ে ধরে।

দুজন মিলে একের পর এক পিক তুলেই যাচ্ছে।

ওরা অনেকটা দূরে দেখতে পেলো, তাদের যানের থেকে ভিন্ন ধরণের যান।
অয়ন বুঝতে পারে এরাই এলিয়েন।
কিন্তু সে ভয় পায়নি।

এলিয়েনরা কোনো খারাপ কিছু করবে না তাদের সাথে।
আস্তে আস্তে রাত হয়ে যাচ্ছে।

নাশার সাথে আরো একবার যোগাযোগ করে অয়ন।
রাত গভীর হলো।

চাঁদের রাত অনেক সুন্দর।
এতোদিন ওরা পৃথিবী থেকে চাঁদ দেখেছে।
আজ ওরা চাঁদেই এসেছে।

তাও আবার হানিমুন করতে।
নেশা নেশা চোখে তাকাচ্ছে অয়ন লাবণ্যের দিকে।
লাবণ্যের একবারে কাছে চলে যায় অয়ন।

ফুল গুলো এখনো তাজা আছে।

ফোলে মেডিসিন দিয়ে রাখা ছিলো।
১০ ধরণের ফোল ছিলো।
খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে বাসর।

অয়ন লাবণ্যের আরো কাছে যায়।

অয়ন লাবণ্যের কপালে চুমু দেয়।
লাবণ্য অয়নকে জড়িয়ে ধরে।

তারপর অয়ন লাবণ্যের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁয়।
আস্তে আস্তে দু’জন মিশে যায় তাদের ভালোবাসায়।
পূরণ হয় তাদের চাঁদে বাসর।

বিয়ের পর এই প্রথম দু’জন মিলিত হয়।
দু’জন প্রায় এক ঘন্টা ঘনিষ্ঠ ছিলো।

অয়ন আর লাবণ্য অবাক হয়।
এটা কিভাবে সম্ভব।
এক ঘন্টা?

দু’জন খুব অবাক হয়।
অয়ন বুঝতে পারলো এটা নিশ্চয় চাঁদের পরিবেশের কারসাজি।
চাঁদে আসার পর মনে হয় মানুষের দেহের কিছু নিয়ম পরিবর্তন হয়।
এভাবে দিন কাটতে থাকে।

প্রতি রাতে তারা বাদর করে।
আজ দুই মাস হলো।

লাবণ্য প্রেগন্যান্ট।
এতো তাড়াতাড়ি প্রেগন্যান্ট? অয়ন ভাবলো চাঁদে কি এমন হয় সব।
পৃথিবী থেকে সব আলাদা।

৩ মাস হলো ওরা চাঁদে আছে। প্রায় ১বছরের খাবার এনেছে।
শুকনো খাবারা থেকে সব আছে। তাদের যানে নাশার বিজ্ঞানীরা হিমাগার তৈরি করে দিয়েছে, যেখানে ফলমূল ভালো রয়েছে।

আজ লাবণ্যের এক ছেলে জন্ম নেয়।

অয়ন আর লাবণ্য খুব অবাক হয়।

কিভাবে সম্ভব?
অয়ন এটাও চাঁদের পরিবেশের উপর চাপিয়ে দিলো।
অয়ন আর লাবণ্য ছেলের নাম রাখে চাঁদ।
দুইমাস বয়সেই চাঁদ কথা বলা শিখে গেছে।

নাশার থেকে চাঁদ এর কথা লুকিয়ে রাখে।

চাঁদের দেশে আজ ওদের এক বছর হয়।

চাঁদ এই কয় মাসেই অয়নের মতো লম্বা হয়ে গেছে।
আর খুব জ্ঞানী।

আজ অয়ন আর লাবণ্য পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।
নাশার সাথে সব কথা শেষ। নাশাকে বলে চাঁদ এর জন্মের কথা।
কিন্তু চাঁদ কতো বড় হয়েছে সেটা লুকিয়ে রাখে।

আজ ৬ দিন হলো ওরা তিনজন পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় ওরা শাহারা মরুভূমিতে লেন্ড করবে।

সবাই বিশ্বাস করতে পারছে না।
অয়ন আর লাবণ্য পৃথিবীতে আসবে।

শাহারা মরুভূমিতে লাখ লাখ মানুষ,
ঠিক সন্ধ্যার সময় অয়নদের যানটি ল্যান্ড করে পৃথিবীর মাটিতে।

নাশার বিজ্ঞানীরা ওদের ঠিক ভাবে যান থেকে বের করে।

ওরা চাঁদকে দেখে অনেক বড় ধাক্কা খায়।

অয়ন আর লাবণ্যের মুখ থেকে সব শুনে নাশার বিজ্ঞানীরা বললো,
চাঁদের দেশটা একবারে ভিন্ন। সেখানের পরিবেশ সব আলাদা।

অয়ন আর লাবণ্যকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়।

এমন কাজ করে দেখানোর জন্য।
সারা বিশ্ব আজ অয়ন লাবণ্যকে চিনে।

এবং তাদের ছেলেকেও।
অয়ন আর লাবণ্য দুজনের ফ্যামিলি আজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বাংলাদেশের সব মানুষ দেশে অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছে।

চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ইত্যাদি দেশ গুলো অবাক হয়েছে।
এই দিকে ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেয়।

তার দেশের সব সেনাবাহিনী চাঁদে যাবে।

কারণ সেখানে বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি হয়।
আর সেই বাচ্চাগুলো খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়।

তাই সে সব সেনাবাহিনীদের চাঁদে পাঠাবে, সাথে থাকবে তাদের বউ।
ট্রাম স্বপ্ন দেখতেছে। সারাবিশ্বের রাজা হবে সে।

দুই মাসের মধ্যেই দেশের সব সেনাবাহিনী স্বামীস্ত্রীদের চাঁদে পাঠানো হয়।
ট্রাম্প বিশ্বজয়ের হাসি দিচ্ছে।

এই খবর চীন, রাশিয়া,উত্তর কোরিয়া শুনতে পায়।
তারা তিন দেশ এক হয়।

আর আমেরিকার উপর হামলা চালায়।

বিনা যুদ্ধে তিনদেশ মিলে আমেরিকা দখল করে। ট্রাম্প সহ রাষ্ট্রীয় সবাইকে জেলে দেয়। আর নাশা ধ্বংস করে দেয়।

তিনদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তৃপ্তির হাসি দেয়।
আমেরিকা আজ তাদের দখলে।

ওরাও চাঁদ থেকে কখনো আসতে পারবে না।
আর নাশার সাথেও কোনো যোগাযোগ করতে পারবে না।
ওরা চাঁদেই জনসংখ্যা বাড়াতে থাকুক।

ট্রাম্প জেলে বসে বসে ভাবছে, বউয়ের বুদ্ধিতে চললে এমনি হয়।
অয়ন আর লাবণ্য বাংলাদেশে খুব শান্তিতেই আছে।

আর তাদের ছেলে চাঁদও।

ওরাই একমাত্র মানুষ।

নোবেল প্রাইজ পেয়েছে।
সারা বিশ্ব তাদের চিনে।

অয়ন ভাবে ইচ্ছা থাকলে ঠিক একটা উপায় হয়ে যায়।

লেখক – হানিফ আহমেদ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “চাঁদে বাসর – মজাদার প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – এক রাত্রি – সন্দেহমূলক ভালোবাসার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!