কষ্টের প্রেমের গল্প

অবহেলা – new sad love story bangla

অবহেলা – new sad love story bangla: কয়েকদিন পরে সুমাইয়াকে আদালতে পাঠানো হলো। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো। খুশি হবো নাকি কাঁদবো সেটাই বুঝছি না।


পর্ব ০১

আমার গার্লফ্রেন্ড যখন মেডিকলে চান্স পায় তখন থেকেই আমার মনে একটা ভয় ঢুকে যায়। যদিও সে অনেক এক্সাইটেড ছিলো। এতোই এক্সাইটেড ছিলো যে আবেগে আমাকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে।

তার জীবনের বিশাল সফলতা। কিন্তু তার এই সফলতায় আমি মোটেও খুশি হই নি। বরং আমার মনে তখন একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সুমাইয়া কি আগের মতো থাকবে নাকি সেখানে নতুন কাওকে পেয়ে ভুলে যাবে?

সুমাইয়া এক রকম দৌড় দিয়েই বাসাত চলে যায়। খুব খুশি সে। আমি কলেজের সামনেই দাঁড়িয়ে রইলাম।
সে চলে যাওয়ার পর আমিও বাসার দিকে রওনা দিলাম।
চলেন বাসায় যেতে যেতে আপনাদের পরিচয় টা দিয়ে দিই। আমি জুয়েল, আপাতত স্টুডেন্ট। যার কথা এখন বললাম সে আমার ভালোবাসা। আমাদের ২ বছরের রিলেশন। দুজনেই একই ক্লাসে পড়ি।

পড়ালেখায় সে আমার থেকে খুব ভালো স্টুডেন্ট। আমিও ভালো ছিলাম, কিন্তু আমার ফাইনাল পরীক্ষার কিছু দিন আগে বাবা মারা যায়। যার জন্য ফ্যামিলির দায়িত্ব আমার কাধে চলে আসে।
বাবার মৃত্যু, পরিবারের খরচ, ছোট বোনের পড়ালেখা, আমার পড়ালেখা সব কিছু মিলিয়ে আমি ডিপ্রেশনে চলে যাই৷ যার কারনে শুরুটা ভালো হলেও শেষ টা ভালো হয়নি।
আমার পরীক্ষার প্রিপারেশন একদম খারাপ ছিলো। প্রথমে ভাবছিলাম পাশই করবো না।

আল্লাহর রহমত, কোনোমতে পাশ করলাম। কিন্তু অতটা ভালো না। তাই পাবলিকেও চান্স পেলাম না। অবশেষে ন্যাশনাল এ এডমিশন নিলাম।
যাইহোক গল্পে আসা যাক।

বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম। সুমাইয়াকে কল দিলাম নাম্বার ওয়েটিং। হয়তো সবাইকে এই সংবাদ দিচ্ছে।
বিকালে বের হলাম। সানিকে কল দিলাম আসার জন্য সে আসছে।
সানিঃ কিরে কি অবস্থা?

আমিঃ এইতো আছি৷ তোর কি খবর? সারাদিন কোনো খবর নাই যে?
সানিঃ আব্বুর সাথে বাইরে গেছিলাম। শুনলাম সুমাইয়া নাকি মেডিকেলে চান্স পাইছে?
আমিঃ হুম।
সানিঃ শালা মিষ্টি কই? আগে মিষ্টি খাওয়া।

আমিঃ আমি তো টেনশনে আছি।
সানিঃ এতো খুশির মধ্যে আবার টেনশন কিসের? তোর বউ ডাক্তার হবে, আমাদেরও ফ্রিতে চিকিৎসা করবে।
আমিঃ ফাইজলামি করিস না। আচ্ছা ওখানে যদি সুমাইয়া অন্য কারো সাথে সম্পর্ক করে?
সানিঃ আরে মাথা খারাপ নাকি? করবে না সিউর থাক।

আমিঃ তারপরেও, আমি ফেনীতে আর ও ঢাকাতে কেমন হয়ে যায় না ব্যাপার টা। যেখানে আমরা প্রতিদিনই দেখা করতাম সেখানে বছরেও পারবো না।
সানিঃ দেখ ভাই, ভালো কিছু পেতে হলে কিছু না কিছু ছাড় দিতে হবে। ও ওখানে পড়ালেখা করুক, তোর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করবে, চ্যাট করবে। ছুটি পেলে আবার আসবে। সমস্যা কি?
আমিঃ তারপরেও।

সানিঃ আরে ধুর বাদ দে, চল চা খাবো।
তারপর আমরা চা খেতে চলে যাই৷ সেদিন রাতেও সুমাইয়ার সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। আমার মবে যে একটা ধারণা ছিলো সেটা বোধ হয় ভুল।
এর কিছুদিন পরেই সে ঢাকা চলে যায়৷ আমার সাথে এই কয়েকদিনে খুব বেশি একটা কথা হয়নি। যাওয়ার আগে একবার দেখা করতে বলেছিলাম ওর হাতে সময় নাই।
আমিও বোকা মনে হ্যা বলে বিদায় দিলাম। যদিও হ্যা বলছি কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমার অবস্থা খুবই খারাপ।

সুমাইয়া চলে যাওয়ার পর আমি ওর কল বা টেক্সট এর অপেক্ষায় বসে থাকতাম। আমি নিজে থেকে দিতাম না। কারন মেডিকেলে পড়ে। আমার থেকে পড়ার চাপ হাজার গুন বেশি।

ও যখন ফ্রি হবে তখন নিজে থেকেই দিবে। সে মাঝেমধ্যে কল দিতো। যখন কল দিতো নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হতো।
ইদানিং খেয়াল করলাম সুমাইয়া আমার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করছে না। আমি মাঝেমধ্যে কল দিই নাম্বার ওয়েটিং থাকে। যখনই কল দি নাম্বার ওয়েটিং।
আমার বুকের মধ্যে একটা অন্য রকম ব্যথা অনুভব হতে শুরু করলো।

সারাদিন অনলাইনে থাকে কিন্তু আমি মেসেজ দিলে সিনও করে না। যদিও করে ১ ঘন্টা পর পর রিপ্লাই দেয়৷
আমার বুঝতে বাকি রইলো না সে অন্য পথে হাটা শুরু করেছে। দেখতে দেখতে ৪ মাস কেটে গেলো৷ গত একমাসে ওর সাথে আমার মাত্র একবার কথা হয়েছে তাও ২ মিনিট৷
একদিন রাস্তা দিয়ে হাটছি এমন সময় ওর চাচাতো ভাইয়ের সাথে দেখা। কিছুক্ষণ কথা বলার পর সে বললো সুমাইয়া নাকি বাড়িতে এসেছিলো। ৩ ছিলো আবার চলে গেছে। ওর কথা শুনে আবারও বিশাল আকারের একটা শকট খেলাম।

বাড়িতে আসলো অথচ একবার দেখাও করলো না। যে নাকি একদিন কলেজে দেখা না করলে আমার সাথে রাগ করে দুই দিন কথা বলতো না।
সেদিন রাতে আমি ওরে মেসেজ দিই।
আমিঃ কি ব্যাপার বাড়িতে আসছো অথচ একবারও বলো নি।

সুমাইয়াঃ মনে ছিলো না। আর আমি খুব একটা সময় নিয়ে যাই নি।

আমিঃ ৩ দিন ছিলে তারমধ্যে ৩ মিনিটও তোমার সময় ছিলো না?
সুমাইয়াঃ থাকলে কি আর তোমার সাথে মিথ্যা বলছি নাকি?

আমিঃ সারাদিন অনলাইনে থাকো। কিন্তু আমি মেসেজ দিলে আন্স দাও না। কারণ কি?
সুমাইয়াঃ আমরা অনলাইনে গ্রুপ স্টাডি করি। পড়ার অনেক চাপ। তুমি তো ন্যাশনালে পড়ো। তুমি এগুলো বুঝবে না।

বোকা মনে এই কথা গুলোও বিশ্বাস করলাম। সেদিন আমাদের আর কথা হয়নি।
তার কয়েকদিন পরে সে তার অনেক গুলো ফ্রেন্ডের সাথে ছবি আপলোড করেছে। যেখানে সে জিন্সের প্যান্ট পড়া ছিলো। আর ৩ জন মেয়ে ৫ জন ছেলে।

ওর এই কর্মকাণ্ড দেখে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো। কিছু বলতে গিয়েও বলিনি৷ কারন যতোই হোক ভালোবাসি তো। সাথে সাথে আমি ফেসবুক থেকে বের হয়ে গেলাম।

সে আমাকে কথা দিয়েছিলো কখনো নিজের রিয়েল পিক আপলোড করবে না। অন্য কোনো ছেলের সাথে রিলেশন তো দূরে থাক ফ্রেন্ডশিপও করবে না। আমিও ওরে ওয়াদা দিয়েছিলাম৷ আমিও কোনো মেয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবো না। আমার ফ্রেন্ডও সে, গার্লফ্রেন্ডও সে, বউও সে। আমার সব কিছু জুড়েই সে আছে।

এর মাঝে আমি ওরে অনেক গভীর রাতে অনলাইনে দেখার পর নাম্বারে কল দিলাম। নাম্বার ওয়েটিং। বেশ কয়েকবার দিলাম। বার বার ওয়েটিং।
১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ট্রাই করলাম নাম্বার ওয়েটিং। তারপর একটা টেক্সট করলাম। “একটু কথা বলবো তোমার সাথে “

১ ঘন্টা পর রিপ্লাই দিলো সে নাকি পড়তেছে। আমিও আর ২য় বার টেক্সট করিনি।
এর কয়েকদিন পর সে আবার অনেক গুলো ছবি আপলোড করলো৷ যেখানে একটা ছেলের সাথে খুব কাছাকাছি অবস্থায় আছে। ছেলেটাও ওর কাঁধে ভয় দিয়ে বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তুলতেছে। ৪-৫ টা ছেলের মাঝে সে একাই একটা মেয়ে।

ছবি গুলো দেখে আমার শরীর কাঁপতে শুরু করলো। সাথে সাথে ওরে কল দিলাম। নাম্বার ওয়েটিং। আমিও বার বার দিতে লাগলাম৷
কয়েকবার দেওয়ার পর সে কল ব্যাক দিলো। তারপরেই…


পর্ব ০২

সাথে সাথে ওরে কল দিলাম। নাম্বার ওয়েটিং। আমিও বার বার দিতে লাগলাম৷
কয়েকবার দেওয়ার পর সে কল ব্যাক দিলো। কল দিয়েই আমার সাথে গরম….
সুমাইয়াঃ কি ব্যাপার তোমার প্রবলেম কি? এতো বার কল কেন দিচ্ছো?
আমিঃ তুমি এগুলা কি শুরু করছো?

সুমাইয়াঃ কি করছি আমি?
আমিঃ তোমাকে না বলেছি ওই ছেলে গুলার সাথে মিশবে না। পর্দায় থাকবে। কিন্তু তুমি জিন্স প্যান্ট পড়ে ওদের সাথে কি করো? ছেলেটার সাথে তোমার কি সম্পর্ক যে তোমার গায়ে পর্যন্ত হাত দেয়?
সুমাইয়াঃ আমার লাইফ আমি যা ইচ্ছে তাই করবো! তাতে তোমার কি?

আমিঃ আমার কি মানে? দেখো সুমাইয়া যেগুলো আমি লাইক করি না ওগুলা করবে না। বার বার বল….
পুরো কথা শেষ করার আগেই কল কেটে দিলো।
আবার কল দিলাম, কিন্তু নাম্বার বিজি। আমাকে ব্লক দিয়ে দিছে। আমার পুরো শরীর কাঁপতেছে।

সাথে সাথে সানি আর আয়মানকে কল দিলাম। ওদেরকে আমার সাথে দেখা করতে বললাম।
কিছুক্ষণ পর ওরা আসলো।
সানিঃ কিরে কি হইছে? হঠাৎ এতো জুরুরি ভাবে আসতে বললি?
আয়মানঃ কি হইছে বল।

আমি পুরো বিষয় টা ওদেরকে বললাম।
সানিঃ হয়তো ফ্রেন্ড হবে, এখানে এতো রিয়েক্ট করার কি আছে।
আমিঃ তোর মোবাইলে দেখ ওর ছবি গুলো তাহলে ক্লিয়ার হয়ে যাবি। আর ফ্রেন্ড হলে সেই বিষয় টা আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারতো। এভাবে ব্লক কেন দিবে?

আয়মানঃ আচ্ছা ছেলেটার সাথে আবার রিলেশনে জড়িয়ে যায় নি তো?
আমিঃ দেখ এগুলো বলিস না। আমার মাথা ঠিক থাকবে না।
সানিঃ একটা কাজ কর।
আমিঃ কি?

সানিঃ চল আমরা ঢাকা যাই।
আয়মানঃ আমরা ওখানে যেয়ে কি করবো?
সানিঃ সুমাইয়া কি করে নিজের চোখে দেখে আসবো। ওরে হাতেনাতে গিয়ে ধরবো। তাহলেই সব ক্লিয়ার। ওখানে সে আর আমাদের সাথে চালাকি করতে পারবে না।
আমিঃ যাওয়া কি ঠিক হবে?

আয়মানঃ আরে চল। আমার আন্টির বাসা আছে। আমরা একদিন আগে যাবো। রাত ওখানে থেকে পরেরদিন সুমাইয়াদের ক্যাম্পাসে যাবো।
সানিঃ ওর ঠিকানা জানিস তুই?
আমিঃ না।

আয়মানঃ তাহলে কেমনে কি করবি?
সানিঃ সুমাইয়ার একটা বোন আছে না? সামিয়া, ওর থেকে নিয়ে নে৷
আয়মানঃ সে কি দিবে?

আমিঃ হুম দিবে। আমাদের রিলেশন এর ব্যাপারে ও সব জানে। আমার সাথে মাঝেমধ্যে কথা বলতো।।
সানিঃ তাহলে তো হয়েই গেলো। তুই ঠিকানা ব্যবস্থা কর, বাকিটা আমরা দেখতেছি।
এরপর আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ওরা চলে গেলো।

রাতের বেলা সুমাইয়াদের বাসার নাম্বারে আমি কল দিলাম। আমি টেনশনে ছিলাম কল যেন আন্টি না ধরে। সামিয়া কল ধরলে ভালো হতো।
কিছুক্ষণ পর সামিয়া কল ধরলো। আমি ওর সাথে কথা বললাম। অনেকক্ষণ শুভেচ্ছা বিনিময় করে ওর বোনের সব কথা জানালাম। সামিয়াও আপসেট হয়্র গেছে।

আমি সামিয়ার থেকে ঠিকানা নিলাম। এবং এটাও বললাম যাতে সুমাইয়াকে না বলে।
রাতের বেলা আমি সামি আর আয়মানকে কল করে বললাম। সানি বলছে পরের দিন যাওয়ার জন্য। আমিও ঘুরে আম্মুকে ইনিয়েবিনিয়ে বুঝিয়ে সব ঠিকঠাক করলাম।

পরেরদিন সকালে আমি সানি আর আয়মান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাস চলতে শুরু করলো। পথ যে শেষ হচ্ছে না।
৪ ঘন্টা পর আমরা ওখানে পৌঁছালাম৷ সেদিন আয়মানের আন্টির বাসায় আমরা থেকে গেলাম। পরের দিন সকালে আমরা রেডি হয়ে সুমাইয়াদের ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

একটা রিক্সা নিলাম। কিছুক্ষন পর ওখানে গিয়ে পৌঁছালাম। আমি ভাবছি হয়তো আমাদের ক্যাম্পাসের মতো সবাই ভিতরে যেতে পারবে। কিন্তু দারোয়ান আমাদের যেতে দিলো না। বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। একেক করে কেউ আসছে কেউ যাচ্ছে কিন্তু সুমাইয়ার কোনো ছায়াও নাই।

আমরা বাইরের একটা ক্যান্টিনে গিয়ে বসে রইলাম। বসতে বসতে প্রায় দুপুর হয়ে গেছে। আমি বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি মনে হচ্ছে কিছুতেই সময় যাচ্ছে না।
প্রায় দুইটার সময় স্টুডেন্ট গুলো আবার বাহির হতে শুরু করলো। আমরা ৩ জনই খুজতেছি।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম সুমাইয়া আসতেছে। সাদা এপ্রোন পড়া।

আমি তাড়াতাড়ি ওর দিকে যাবো এমন সময় সানি আমার হাত ধরে ফেলে।
সানিঃ আগে দেখ ও কি করে। তারপর যাবি।
আমরা ওদের পিছু নিলাম। সুমাইয়া আর সাথে দুইটা মেয়ে বাকি ৫ জন ছেলে।

ওরা বাইরের একটা রেস্টুরেন্টে গেলো। আমরা বাহির থেকে নজর রাখলাম। দেখলাম সুমাইয়া ওয়াশরুমে গিয়ে ড্রেস চেইঞ্জ করে ফেলেছে। গায়ে একটা গেঞ্জি এর উপর শার্ট গায়ে দেয়া। মাঝাখানের থেকে উপরের দিকে কয়েকটা বোতাম খোলা। ইচ্ছে করছে থাপ্পড় দিয়ে সব কয়টা দাঁত ফেলে দিই।

ওরা খাওয়ার এর অর্ডার করলো। দেখলাম সুমাইয়া আর ওই ছেলেটা একটা ড্রিংক এর মধ্যে দুইজনে খাচ্ছে। ওদের এই অবস্থা দেখে আমি আর স্থির থাকতে পারি নি।
সোজা ভিতরে চলে গেলাম। গিয়েই ঠাসস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম ছেলেটার গালে। সানি আর আয়মান দৌড়ে আমাকে গিয়ে ধরলো।

সুমাইয়া অগ্নি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। সাথে সাথে সেও আমাকে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
আমিঃ তুমি এই কাজ করতে পারলে?

সুমাইয়াঃ ওই কুত্তা তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত তোলার। তোর কোনো যোগ্যতা আছে, হুম?
আমিঃ আমার সাথে এতো দিন রিলেশন করে এতো স্বপ্ন দেখিয়ে অন্য একটা ছেলের সাথে এগুলো করতে লজ্জা করে না তোমার?

সুমাইয়াঃ তোর সাথে কিসের রিলেশন করবো? তোর যোগ্যতা আছে আমার মতো মেয়ের সাথে রিলেশন করার। যা নিজের মতো কাওকে খুজে নে। নিজেকে কখনো আয়নায় দেখেছিস?
সানিঃ দেখো সুমাইয়া এটা কিন্তু….

সুমাইয়াঃ তুই চুপ কর চামচা কোথাকার৷
আমিঃ রিলেশন রাখবে না এটা বললেই পারতে। এতো নাটক করার কি আছে?

সুমাইয়াঃ তোরে আমি অনেক ভাবেই বুঝিয়েছি, তোরে বোঝানোর জন্য আমি fb তে ছবি দিই, তোর কল ধরি না। তোর মেসেজ সিন করি না। এর পরও যদি না বুঝিস তোর থেকে গর্দভ আর কেউ নাই।

আমিঃ হুম ঠিক বলেছো আমি আসলেই গর্দভ, আসলেই বোকা। সেজন্য তোমাকে এতো ভালোবেসেছিলাম।
সুমাইয়াঃ দেখ তোর এই ন্যাকামো দেখার টাইম নাই। এখান থেকে যা নাহলে ওদের কে দেখতেছিস? ওদেরকে দিয়ে এমন মারা মারবো এখান থেকে আর বেঁচে ফিরে যেতে পারবি না।

আয়মান আমাকে একটা টান দিয়ে ওখান থেকে বাইরে নিয়ে আসে৷ তখন মনে হয়েছিলো আমার পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই।

মনে মনে ঠিক করলাম সুইসাইড করে ফেলবো। এই জীবন রাখার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
সেদিন আমরা আবার ফেনীতে চলে আসি। বার বার সুমাইয়ার কথা গুলো কানে বাজতে লাগলো। কিভাবে পারলো সে এই কাজ করতে। অথচ আমাকে স্পর্শ করে কসম খেয়ে বলেছিলো সেদিন। কখনো ছেড়ে যাবে না।

আমার মতিগতি দেখে সানি আয়মান বুঝে গেছে হয়তো আমি খারাপ কিছু করে বসবো। রাতের বেলা ওরা দুইজন আমার বাসায় আসে৷ তারপর আমাকে বাইরে নিয়ে যায়।
সানিঃ দেখ তোর সাথে যেটা হয়েছে সেটার শান্তনা দেওয়ার মতো ভাষা আমাদের নাই। কিন্তু এমন কিছু করিস না যাতে পুরো লাইফ শেষ হয়ে যায়।

আয়মানঃ তোর ফ্যামিলি এখন তোর উপর নির্ভরশীল। ছোট ভাই আছে, ওর পড়ালেখার খরচ, ফ্যামিলির খরচ। তোর মা আছে, এমন কিছু করবি না যাতে করে ওদেরকেও কাঁদতে হয়। একটা মেয়ের জন্য কখনো লাইফ থেমে থাকবে না। অন্তত পরিবারের কথা ভেবে হলেও তুই স্ট্রং থাক।

সানিঃ শোন, সুমাইয়া আর কখনো তোর হবে না এটা সিউর থাক। তুই এমন কিছু কর যাতে ওর বোনকে তুই বিয়ে করতে পারিস। ওর প্রতিশোধ ওর বোনকে বিয়ে করেই নিবি।
আমিঃ না এটা পসিবল না। সামিয়া আমাকে ভাইয়ের মতো জানে।
সানিঃ জানুক সমস্যা নাই।

আমিঃ দেখ এগুলো বলিস না। ওদের কাওকে চাই না। বাদ দে তো ভালো লাগছে না।
আয়মানঃ আমাদের ওয়াদা কর কোনো খারাপ কিছু করবি না।
আমিঃ আমি আবার কি করবো।

সানিঃ কি করবি জানি না। তবে কোনো খারাপ কিছু যাতে না শুনি। আমরা আমাদের কোনো বেস্টফ্রেন্ডকে হারাতে চাই না।
ওরা আরো কিছুক্ষণ থেকে চলে গেলো। আমিও বাসায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুতেই সুমাইয়ার কথা ভুলতে পারছি না। রাতের বেলা একটা ফেক আইডি দিয়ে ওর প্রোফাইলে গেলাম। একটা পোস্ট করেছে, পোস্ট দেখেই…..


পর্ব ০৩

পোস্ট দেখেই আমি অবাক কারণ পোস্ট টা ছিলো “আজ থেকে আপদটা বিদায় হইছে।”
পোস্ট টা যে আমাকে মিন করে লিখেছে সেটা আর বুঝতে বাকি রইলো না। চোখের সামনে এতো কিছু হয়ে গেছে অথচ বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

কিভাবে পারলো সে এই কাজটা করতে? এতো তাড়াতাড়ি সব কিছু ওলটপালট হয়ে যাবে কখনো কল্পনাই করিনি।
যে সুমাইয়া আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না আজ সেই আমাকে বলছে আমি আপদ!
কত স্বপ্ন ছিলো, একসাথে বাকি জীবন টা কাটিয়ে দিবো কিন্তু ভাগ্য এতোই খারাপ যে এর ধারে পান্তেও আমি যেতে পারিনি৷

আসলেই সত্যিকারের ভালোবাসার কোনো দাম নেই এই পৃথিবীতে। যদি অন্যদের মতো ইউজ করে ছেড়ে দিতাম তাহলে হয়তো ভালো হতো।

সানি আয়মান সুমাইয়ার বোন সামিয়াকে সব কিছু বলেছে। সুমাইয়ার এমন আচরণ তার বোনও মেনে নিতে পারেনি।
সেদিন সামিয়া আমাকে কল দিয়ে তার বোনের হয়ে সরি বলছে। যদিও মেয়েটা ছোট কিন্তু সব কিছুই খুব সুন্দর ভাবে মেনটেইন করতে পারে।

আমাকে মাঝেমধ্যে মেসেজ দিতো। কথা হতো৷ এভাবে আমার দিন যাচ্ছিলো। সুমাইয়ার ছবি গুলো প্রতিদিনই দেখতাম। পুরোনো মেসেজ গুলো পড়তাম। ওর পছন্দের জায়গায় গিয়ে বসে থাকতাম। যদিও সে আমার কথা আর মনে রাখেনি৷ কিন্তু আমি তাকে ভুলতে পারিনি।

এতো কিছুর পরও ওর জন্য সামান্য ঘৃণা আমার মনে আসেনি৷ আগের মতোই ভালোবাসি ওরে৷
প্রায় ৬ মাস পর সুমাইয়া বাড়িতে এসেছে। আসার আগের দিন রাতে সামিয়া আমাকে কল দিয়ে বলেছে যে কালকে ওর বোন আসবে। এটাও বলেছে আমাকে যেতে সব কিছু আবার আগের মতো করবে। আমি কিছু বলিনি। সানিকে কল দিলাম।

আমিঃ কই তুই?
সানিঃ টিউশনিতে আছি।
আমিঃ আচ্ছা শেষ করে, দিঘির পাড়ে আয়।
সানিঃ ওকে, আয়মান তোর সাথে আছে?
আমিঃ না।

সানিঃ আচ্ছা কল দে ওরে।
আমিঃ হুম দিচ্ছি।
এরপর আয়মানকে কল দিলাম। সে আসলো, এর কিছুক্ষণ পর সানিও আসলো।
সানিঃ কিরে কি হইছে?

আমিঃ আজকে সুমাইয়া আসছে।
আয়মানঃ কখন?
আমিঃ সকালে।
সানিঃ তোরে কে বলেছে?
আমিঃ কালকে রাতে সামিয়া কল দিয়েছিলো। সে বলেছে। আবার এটাও বলেছে আমাকে যেতে। সব ঠিকঠাক করে দিবে।

সানিঃ তোর মাথা ঠিক আছে? এটা জীবনেও পসিবল না।
আয়মানঃ দেখ সে তোকে যেই পরিমাণ অপমান করেছে তার উপর অন্য ছেলের সাথে রিলেশন। এতোদিনে হয়তো তারা আরো গভীরে চলে গেছে। তোর যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না।

আমিঃ হয়তো সেদিন রেগে গিয়ে এগুলো বলেছে। মন থেকে নাও তো বলতে পারে।
সানিঃ দেখ ভাই, তুই এখনো ভুলতে পারিস নাই তাই এগুলো বলতেছিস৷ কিন্তু আসল কথা হচ্ছে সে তোকে চায় না। এখন তুই ওর সামনে গেলে নিজেকে আরো ছোট মনে হবে। ওর প্রতি আবারও দূর্বলতা কাজ করবে। নিজে নিজের মতো থাক। এই কাজ আর করিস না।

এভাবে আরো কিছুক্ষণ ওরা আমাকে বিভিন্ন যুক্তি দিলো। কিন্তু আমার মন কিছুতেই মানছে না।
পরে চিন্তা করলাম দূর থেকে একবার দেখে নিই। সামনে যাবো না। ভাবছিলাম সেদিন রাতে ওদের বাড়ির সামনে যাবো ওখান গিয়ে হয়তো দেখবো। কিন্তু সেটা আর হলো না।
বিকাল বেলা আমি আম্মুর জন্য মেডিসিন নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি এমন সময় দেখলাম সুমাইয়া আর ওর বোন, কয়েকটা কাজিন মিলে রাস্তায় হাটছে আর ছবি তুলছে।

দুজনেই মুখোমুখি হয়ে গেলাম। প্রথমে ভাবছি ও হয়তো কিছু বলবে। কিন্তু না কিছু বলেনি। বোনের হাত ধরে চলে গেলো। আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

মানুষ কিভাবে এতোটা পাষাণ হতে পারে? তাও ভালোবাসার মানুষের সাথে? সামিয়া কয়েকবার আমার দিকে তাকাইছিলো। হয়তো সেও ভাবেনি সুমাইয়া এমন কিছু করবে। আগে থেকে অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আরো সুন্দর, স্মার্ট হয়ে গেছে।

সে সত্যি বলেছে আমার কোনো যোগ্যতা নাই ওর সাথে রিলেশন করার।
তারপর থেকে ২-৩ দিন আর বাড়ি থেকে বের হইনি। কারণ হয়তো তার সাথে আবার দেখা হয়ে যেতে পারে৷ ওর সাথে আবার দেখা হলে আমার মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অপশন থাকবে না।

ফেক আইডি দিয়ে ওর প্রোফাইলে গেলাম, দেখলাম প্রায় প্রতিদিনই ছবি আপলোড সহ সব রকমের পোস্ট সে আপলোড করছে। অথচ আগে ইসলামি পোস্ট ছাড়া কিছুই দিতো না।

সুমাইয়া কিছুদিন বাড়িতে থেকে আবার চলে যায়। সব কিছুই আগের মতো চলতেছে কিন্তু আমি ওরে ভুলতে পারিনি।
এভাবে দিনে গিয়ে রাত আসে, ১ মাস ২ মাস করে প্রায় বছর হয়ে গেলো। তার সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। সব কিছু ঠিক থাকলেও এক সেকেন্ড এর জন্য আমি ওরে ভুলতে পারিনি।

এর কিছু দিন পর সুমাইয়ার বাবাকে তার কোন আত্নীয় ফোন করে সুমাইয়ার ব্যাপারে সব বলে দেয়। সে সারাদিন আড্ডা নিয়ে, বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ানো পড়ালেখার নাম করে ছেলেদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া আব কিছুই ওর বাবাকে বলে দেয়।

ওর বাবা ওর জন্য ছেলে খুজতে শুরু করে। আমি ভাবছিলাম প্রথমে ওর বাবাকে ওর বিয়ের ব্যাপারে প্রস্তাব দিবো। কিন্তু সেই সাহস আমার ছিলো না।

কারণ প্রথমত আমার বাবা ছিলো না। টিউশনির টাকায় সংসার চলে। তখন মাত্র অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম। এখনো অনেক কিছুই করার বাকি রয়েছে৷ তাছাড়া ওদের ফ্যামিলি ছিলো আমাদের থেকে অনেক ধনি। তার বাবা জীবনেও রাজি হবে না। আর হলেও সে আমাকে চাইবে না।

এর কিছু দিন পরেই সুমাইয়ার বিয়ে ঠিক করে ফেললো ওর বাবা। আমার পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করলো। চোখের সামনে প্রিয় মানুষ টার বিয়ে দেখবো, তাও অন্য কারো সাথে। ব্যাপার টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ওর বিয়ে হয়ে যাওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে চলে যাবো।

তাকে এক প্রকার জোর করা হচ্ছে বিয়ের জন্য। সে কিছুতেই রাজি না। ওর বাবা এতোই রেগে গিয়েছে যে ওর পড়ালেখা অফ করে দিয়েছে।
গায়ে হলুদের দিন আমি আমার আন্টিদের বাড়িতে চলে গেলাম। যদি সে রাজি থাকতো হয়তো তারে নিয়ে চলে যাইতাম কিন্তু সেতো আমার কথাই শুনতে পারে না। আমি আমার আন্টিদের বাড়িতে চলে গেলাম।

এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠান চলতেছে। আমি অনেক গুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে উঠে দেখি সানি আয়মান অনেক কল দিয়েছে। আমি কল ব্যাক দিলাম।

আমিঃ কিরে এতো কল দিলি কিছু হইছে?
সানিঃ সুমাইয়া কি তোর সাথে?
আমিঃ আজব আমার সাথে হবে কেন? ওর না বিয়ে?
সানিঃ ও বাড়ি থেকে পালিয়েছে৷ সবাই ভাবছে তুই নিয়ে গেছিস ওরে।

আমিঃ পালিয়েছে মানে?
সানিঃ হুম গতকাল রাতে পালিয়ে গেছে। তুই তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়, নইলে ওর বাবা তোর ফ্যামিলিকে আক্রমণ করে বসে থাকবে।
আমার পৃথিবী টা ঘুরতেছে৷ তাড়াতাড়ি করে আবার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। যাওয়ার পর দেখি…..


পর্ব ০৪

যাওয়ার পর দেখি সুমাইয়ার বাবা আমার ছোট ভাইকে বসিয়ে রেখেছে। যতক্ষণ আমি যাবো না ওকে ছেড়ে দিবে না। আমি উনার সামনে গেলাম।

সাথে সাথেই উনি আমার কলার চেপে ধরলেন। সানি আর আয়মান এক রকম ধাক্কা দিয়েই উনারে ফেলে দিলো।
আমি পুরো বিষয় টা উনাদের বুঝিয়ে বললাম কিন্তু উনারা মনে করছে আমি সুমাইয়াকে কোথাও নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখছি।

সামিয়া বুদ্ধি করে সুমাইয়ার ঢাকার একটা ফ্রেন্ডকে কল দিলো। তারপর জানতে পারলো ওই ছেলেটার সাথে পালিয়ে গেছে। এখন ঢাকাতেই আছে৷ কথাটা শুনে আমার বুকের মধ্যে একটা ব্যথা অনুভব হলো। এতো ভালোবাসলাম আর সে অন্য কারো সাথে চলে গেছে। একবারও আমার কথা ভাবলো না।

সেদিন ছেলে পক্ষের লোকজন এসে সুমাইয়ার বাবাকে অনেক অপমান করলো৷ এলাকার লোকজন বলতে লাগলো “আরো পড়াও মেয়েকে ঢাকাতে, ডাক্তার বানাবে। আমার মাথা বানাবে। দিলো তো এখন মুখের মধ্যে চুনকালি মাখিয়ে। “
এভাবে একেকজন একেকটা কথা বলতে লাগলো। সুমাইয়ার বাবা রোবট এর মতো দাঁড়িয়ে সবার সব কথা হজম করলেন।

আমার নিজের কাছেও কথা গুলো শুনতে খারাপ লাগছে, আমি আমার ভাইকে নিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম।
বাড়িতে যাওয়ার পর দেখি আম্মু আগে থেকে পায়চারি করছে। আমাদের দেখে দৌড়ে আসলেন। রাতের বেলা খাওয়ার সময় আম্মু বললো।

আম্মুঃ তোর সাথে আমার কথা আছে।
আমিঃ কি কথা বলো।
আম্মুঃ তুই আমার মাথা ছুয়ে ওয়াদা কর।

আমিঃ আরে কি হইছে সেটা তো বলো৷
আম্মুঃ আজ থেকে তুই ওই মেয়ের কথা আর মনে রাখবি না। যদিও সে আসে কখনো ফিরিয়ে নিবি না। ওই মেয়ের জন্য আজ তোর মৃত বাবাকে গালি শুনতে হয়েছে।

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। খাওয়া ছেড়ে উঠে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ বাইরে থেকে বাড়িতে চলে আসলাম। সকালবেলা মানুষের চিল্লাচিল্লিতে ঘুম ভাঙ্গলো।
বাইরে গিয়ে আসলাম ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে উনি যেটা বলেছে সেটা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

সুমাইয়ার বাবা নাকি মারা গেছে। ঘুমের মধ্যেই মারা গেছে৷ তাড়াতাড়ি ওদের বাড়ির দিকে দৌড় দিলাম। গিয়ে দেখি আসলেই ওর বাবা মারা গিয়েছে।
ওর মা আর বোনের কান্না কাটিতে বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। চারপাশ থেকে লোকজন আসতে শুরু করলো। ওর বাবা প্রভাবশালী ছিলো। অনেক পরিচিত লোকজন ছিলো।

একেক করে আত্নীয় স্বজন সবাই আসলো। দুপুরের নামাজের পরেই উনার কাফন সম্পূর্ণ হলো। মাটি দিয়ে যে যার মতো চলে গেলো৷
আমরাও চলে আসলাম। একটা মানুষ কতটা খারাপ হলে এই কাজ করে। আমার কথা বাদই দিলাম। আমার সাথে তো রিলেশন ছিলো। কিন্তু যে বাপ মা এতো কষ্ট করে বড় করেছে, মানুষ করেছে, পড়ালেখা করিয়েছে তাদের কথা একবারও চিন্তা করলো না। স্বার্থপরের মতো এভাবে চলে গেলো?

ওর প্রতি এখন ভালোবাসা না ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে।
এভাবে কিছু দিনে গেলো। সুমাইয়ার আর কোনো খবর নাই, কিন্তু ওরে এখনো ভুলতে পারিনি। যখন একা থাকি ওর কথাই মনে হতো।

এভাবে দিন গিয়ে বছর। সামিয়ার সাথে মাঝেমধ্যে আমার কথা হতো। সুমাইয়ার মাও নাকি অসুস্থ। ওর বাবার কথা চিন্তা করে কান্না করে। আমি মাঝেমধ্যে ওদের বাড়িতে যাইতাম।

প্রায় ৪ বছর পর….

আমি থানায় বসে বসে কয়েকটা ফাইল দেখছি। ওহ আপনাদের তো বলাই হয়নি। আমি অনার্স কমপ্লিট করার পর পুলিশে জয়েন করি। এস আই হিসেবে ভালো একটা শুনামও পাই।

এর মাঝে অনেক কিছুই হয়ে যায়। আমার ছোট ভাই স্কলারশিপ পেয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যায়। আম্মু আমাদের ছেড়ে চলে যায় এই পৃথিবী ছেড়ে। সব কিছুই আছে আজকে আমাদের শুধু সুখটা দেখানোর জন্য আম্মু আর আব্বু নাই।
আমি সামিয়াকে বিয়ে করি। মানে সুমাইয়ার ছোট বোনকে।

ওর মায়ের ইচ্ছেতেই সামিয়াকে বিয়ে করি। চাকরির সুবাদে আমি আর সামিয়া ঢাকাতেই থাকি। ছোট একটা ফ্যামিলি। সামিয়ার আম্মু মানে আমার শাশুড়ী উনিও আমাদের সাথে থাকতেন কিন্তু উনিও চলে যান আমাদের ছেড়ে। ক্যান্সারের কাছে হার মেনে নেয়।

যাইহোক আসল কথায় আসি। আমি অফিসে বসে বসে একটা ফাইল দেখতেছি এমন সময় আসিফ একটা ফাইল নিয়ে আসে।
আসিফঃ স্যার জুরুরি একটা কেস আছে।
আমিঃ কি?

আসিফঃ স্যার একটা খুন হয়েছে আমাদের এখনিই যেতে হবে।
আমিঃ কোথায়? কিভাবে?
আসিফঃ স্যার মিরপুর৭ এ।

তাড়াতাড়ি করে গাড়ি বের করে ওখানে গেলাম। আগে থেকেই কয়েকজন পুলিশ ওখানে তল্লাশি চালাচ্ছে। আমি যাওয়ার পর একজন এসে আমাকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলো।
“সংসারে অশান্তিকে কেন্দ্র করে বউয়ের হাতে জামাই খুন। ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে তারপর গলা কেটে দেয়। “

শুনেই আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। এই রকম বউও হয় নাকি।
আমিঃ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে?
কন্সটেবলঃ জ্বি স্যার। জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেহেতু আপনার এরিয়ায় এই ঘটনা হয়েছে, সব জোগজিজ্ঞেস আপনি করতে পারেন।

আমি সেখানে আরো কিছুক্ষণ ঘুরে ফিরে দেখলাম। ছেলেটাকে কেমন চেনা জানা মনে হচ্ছে। মনে হয় কোথাও দেখেছি তবে মনে করতে পারছি না।
যাইহোক আমি থানায় চলে গেলাম। ভিতরে গেলাম। দেখলাম মেয়েটা উল্টো দিকে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। কাপড়ের মধ্যে রক্ত লেগে লাল হয়ে আছে।

আমি যাওয়ার পর কাশি দিলাম। কিন্তু ফিরলো না। তারপর ডাক দিলাম। উনি পিছনে তাকালো। আর তাকাতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।
কারন মেয়েটা আর কেউ নয়, সুমাইয়া। ও এই কাজ করবে আমি ভাবতেও পারিনি। ওরে দেখে আমার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। কি বলবো সেটাই বুঝছি না। তারপর…

সুমাইয়াঃ “জুয়েল তু তুমি?”
আমিঃ এক্সকিউজ মি! নাম ডাকার অধিকার কে দিয়েছে? কল মি স্যার।
সুমাইয়া দৌড় দিয়ে এসে আমার পা ধরে ফেললো।

“জুয়েল আমাকে বাঁচাও৷ আমি এই কাজ করিনি। প্লিজ আমাকে বাঁচাও। সে নিজেই এই কাজ করছে।
আমিঃ আজব নিজে নিজে কেউ গলা কাটতে পারে নাকি?

সুমাইয়াঃ ওর অনেক গার্লফ্রেন্ড ছিলো ওদের মধ্যে কেউ একজন এই কাজ করেছে। প্লিজ তুমি আমাক্র বাঁচাও।
আমিঃ দেখেন এইসব বলে লাভ হবে না। আপনি যদি সত্যিটা বলেন তাহলে আপনার শাস্তি কমানোর জন্য আমি সুপারিশ করতে পারবো। কেন মেরেছেন?
সুমাইয়াঃ শান্তির জন্য!

আমিঃ মানে? এই শান্তির জন্য ভালোবাসাকে ছেড়ে দিলেন, নিজের বাবা মাকে ছেড়ে দিলেন। বাবা মারা গেলো একবার খবরও নিলেন না। মা মারা গেলো তাও খবর নিলেন না। সব শান্তি তো আপনার লাইফে ছিলো। টাকা পয়সা, ধন দৌলত সব কিছুই তো ছিলো তাহলে ছেড়ে দিলেন কেন?

সুমাইয়াঃ ভালোবাসা। সব ছিলো কিন্তু ভালোবাসা ছিলো না। যে ভালোবাসা আমি তোমার কাছে পেয়েছি সেটা ও আমাকে দিতে পারেনি৷ সে শারীরিক ভাবেও দূর্বল ছিলো। আজকে এতো বছর আমাদের কোনো সন্তানও হয়নি। পরে জানতে পারলাম আমার বাইরেও সে অনেক গুলো মেয়ের সাথে খারাপ কাজ করে বেড়াতো৷ অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু সে বুঝতে চায় নি। দিনের পর দিন আমাকে ইগনোর করেই গেছে।

আমিঃ তারজন্য আইন ছিলো। এই কাজ করার কি দরকার?
সুমাইয়াঃ আইন তো আর ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
আমিঃ কি?

সুমাইয়াঃ আমি আবার তোমার লাইফে ফিরতে চাই।
আমিঃ হা হা হা। আপনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। আগে আপনার ডাক্তার দেখানো হবে তারপর আপনাকে কোর্টে চালান করা হবে।

আমি এ কথা বলে চলে আসলাম। বাইরে থেকে আসিফ সব শুনলো। যদিও আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। আমি ওরে দিয়ে সুমাইয়াকে কোর্টে পাঠানোর জন্য সব ব্যবস্থা করলাম। ৷
পরেরদিন সকালে….


পর্ব ০৫ (শেষ )

পরেরদিন সকালে সুমাইয়াকে আদালতে পাঠানো হলো। প্রথম দিন যোগ জিজ্ঞেস করলো। সব কিছুতেই সে অপরাধী প্রমাণিত হলো। শরীর খারাপ থাকায় সেদিন কোর্ট স্থগিত করা হলো।
রাতের বেলা আমি বাসায় গেলাম। প্রথমে ভাবছিলাম সামিয়াকে কিছু শুনাবো না। পরে ওরে সব কিছু বললাম। কিছু সময়ের জন্য সে স্তব্ধ হয়ে যায়।

হওয়ারই কথা, যতোই হোক বোন তো। কিছু না বলে চুপচাপ সে রান্না ঘরে চলে যায়। খাওয়ার সময় আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।
আমিঃ কিছু বলবে?
সামিয়াঃ আপু এখন কেমন আছে?

আমিঃ আছে। তবে বেশি ভালো না। তার ব্যাবহার সাইকো প্রকৃতির হয়ে গেছে। শরীরও ভেঙ্গে গেছে।
সামিয়াঃ আমার একটা অনুরোধ রাখবেন?
আমিঃ কি?

সামিয়াঃ যতদিন আপুকে শাস্তি দিচ্ছে না ততদিন আমাদের বাসায় নিয়ে আসুক। আজকে কত বছর দেখি না।
আমিঃ এটা পসিবল না। সে এখন থানায় থাকবে।
সামিয়াঃ দেখেন না কোনো একটা বাহানা দিয়ে নিয়ে আসা যায় কিনা।
আমিঃ আচ্ছা দেখি।

সামিয়াঃ আপুকে নির্দোষ প্রমাণ করা যায় না?
আমিঃ তুমি পাগল হইছো, সবাই জানে সে এই কাজ করেছে। নির্দোষ জীবনেও সম্ভব না।
সামিয়া কিছু না বলে চলে গেলো। চোখের সামনে ওর আগের ঘটনা গুলো ভাসতে শুরু করলো। কি থেকে কি হয়ে গেলো।

পরেরদিন আমি অফিসে যাই। স্যারের সাথে কথা বলে সুমাইয়াকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। প্রথমে স্যার রাজি হয়নি। পরে ওর শারীরিক অবস্থা দেখে হ্যা করলো।
আমি সুমাইয়াকে কয়েকজন মহিলা কনস্টেবল দিয়ে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিই।

বাসা থেকে এসে সুমাইয়া ওর মামলার হাজিরা দিয়ে যায়। আমি খুব একটা বাসায় যাই না এখন। কারন সুমাইয়ার সাথে এক ছাদের নিচে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে।
সুমাইয়া প্রায় আমাকে বলতো ” তুমি যখন আমার হওনি, অন্য কাওকেও হতে দিবো না। “

আমি হেসে উড়িয়ে দিতাম কারন আমার লাইফে যে আছে সে তারই বোন।
এভাবে কিছুদিন চলে যায়। সেদিন আমার রাতে ডিউটি ছিলো। সকালবেলা একটা কনস্টেবল এসে আমাকে একটা চিঠি দেয়।

প্রিয়…

যখন তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, আমি বুঝতে পারিনি তোমায়। চলে গেছিলাম সুখের ঠিকানায়। ভেবেছিলাম সে তোমার থেকে আমাকে বেশি সুখে রাখবে। কিন্তু না, বরং সে আমাকে ইউজ করেছে। শুধু সে নয়। বিয়ের পর সে তার বন্ধুদের দিয়ে আমাকে ইউজ করাতো। দিনের পর দিন অত্যাচার করতো।

তার অত্যাচারে আমি যখন আবার চলে যাবো ভেবেছিলাম তখন বাড়িতে খবর নিয়ে জানতে পারলাম আমি চলে আসার দিনই বাবা মারা গেছে। তুমি সামিয়াকে বিয়ে করে ফেলছো। যে বুকে আমি থাকার কথা সে বুকে অন্য কেও। ভাবতেও আমার শরীর কাঁপতো।

আম্মুও চলে যায়। মাপ চাওয়ারও সুযোগ পাই নি। তারপর থেকে আমার টার্গেট তুমি। আমি রায়হানকে অনেক আগেই মেরে ফেলতাম। কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন শুনলাম তুমি এই থানায় আছো তখন এই কাজ করে ফেললাম। ওরে হত্যা করলাম কারন আমি জানি তখনিই তোমার সাথে আমার দেখা হবে।

একেক করে যতজন তোমার আর আমার লাইফে আছে সবাইকেই আমি শেষ করে দিবো। তোমার লাইফে অন্য কেউ আমি ভাবতেও পারবো না। সেজন্য আমি আমার বোনকেও ছাড়ছি না। ওরেও আব্বু আম্মুর কাছে পাঠিয়ে দিবো।

চিঠিটা পড়ে আমার হাত পা কাঁপতে লাগলো। আমি বাসার দিকে দৌড় দিলাম। গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। কারণ ওখানে আগে থেকেই পুলিশের গাড়ি আর একটা এম্বুলেন্স আছে।

সাদা একটা কাপড়ে কেউ একজন কে মোড়িয়ে এম্বুলেন্সে ঢুকানো হচ্ছে। বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা সামিয়া।
একটু পর সুমাইয়াকে কয়েকজন মহিলা কনস্টেবল ধরে গাড়িতে তুলতেছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা অট্টহাসি দিলো। আসিফ আমার কাছে আসলো।
আসিফঃ স্যার।

আমিঃ চিঠিটা তুমি আগে পড়েছো?
আসিফঃ না স্যার। আমি সোজা আপনার কাছেই পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমিঃ তাহলে এখানে পুলিশ আর এম্বুলেন্স লাগবে তুমি কেমনে জানো?

আসিফ কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সামিয়ার লাশ হাসপাতাল থেকে কাফন পড়িয়ে নিয়ে আসা হলো। আমি রোবট এর মতোই দাঁড়িয়ে রইলাম। সামিয়াকে কবর দিয়ে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটা আমি।
কয়েকদিন পরে সুমাইয়াকে আদালতে পাঠানো হলো। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো। খুশি হবো নাকি কাঁদবো সেটাই বুঝছি না।

সামিয়ার কবরের পাশে গিয়ে বসে রইলাম। অফিস থেকে আমাকে কিছু দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হলো।
সকালে ফজরের নামাজের পর আসিফ কল দিলো। সুমাইয়া নাকি আত্মহত্যা করেছে। তাড়াতাড়ি করে অফিসে গেলাম। হ্যা আসলেই।

নিজের কাপড় প্যাঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছে। স্থির দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে হচ্ছে একটা অজানা ঝড় এসে পুরো জীবন টা এলোমেলো করে দিলো।

ওরে মর্গে পাঠানো হলো, পোস্টমর্টেম শেষ করার পর স্যারকে বলে ওরে সামিয়ার পাশে দাফন করা হলো।
এখন রাত প্রায় ৯ টা, আমি দাঁড়িয়ে আছি ওদের দুই বোনের কবরের পাশে। জীবনে চেয়েছিলাম খুব সুন্দর ভাবে বাঁচতে। কিন্তু বিধাতা আমাকে কপালে ভালা থাকা লিখে রাখেনি। সুমাইয়ার চলে যাওয়ার পর সামিয়াই আমার সব ছিলো। এতো ভালোবেসে আমায় যেখানে সুমাইয়ার কথা আমার মনেও পড়তো না।

তাকেও চলে যেতে হলো। বাবা চলে যাওয়ার পর মাও একা রেখে চলে গেলো। যাকে ঘিরে বাঁচতে চেয়েছিলাম সেও চলে গেলো।
সুমাইয়াকে করব থেকে তুলে একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে।

গায়ের রং সুন্দর হলে মানুষ সুন্দর হয় না। অনেক টাকা থাকলে মানুষ সুখি হয়না। হয়তো আমি কালো ছিলাম। গরীব ছিলাম। কিন্তু আমারও সুন্দর একটা মন ছিলো। ওর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা সম্মান সবই ছিলো। শুধু সেই ছিলো না। টাকা থাকলেই সব সুখ পাওয়া যায় না। সুখ পেতে হলে মন লাগে। ভালোবাসা লাগে।

জীবনের জন্য একা করে সবাইকে নিয়েই সে চলে গেছে। আসলেই সে ঠিক বলেছে, আমার লাইফে অন্য কাওকে সে কখনো সহ্য করতে পারবে না। সেজন্য নিজের বোনকেও ছাড়েনি।

এই মিথ্যে অভিনয়ের পৃথিবীতে আর কাওকে নিয়ে বাঁচতে চাই না। চাই না কারো লাইফে জড়াতে। বাকিটা জীবন নাহয় একাই কাটিয়ে দিবো ওদের কথা স্বরণ করে। থাকুক না কিছু ভালোবাসা অসমাপ্ত হয়ে। কিছু ভালোবাসা অবহেলিত হয়ে। আমি তো জানি আমি কেমন ভালোবেসেছিলাম। সারাজীবন নাহয় ওভাবেই বেসে যাবো।

লেখা – জুয়েল

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “অবহেলা – new sad love story bangla” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – অদ্ভুত প্রেমানুভূতি – দুই প্রেমিকের এক নাইকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button