কষ্টের প্রেমের গল্প

আবারো – ভালোবাসার কষ্টের নতুন গল্প

আবারো – ভালোবাসার কষ্টের নতুন গল্প: সাত মাস পর তার চোখে পরলো বিবাহিত স্ত্রীকে, যাকে না গ্রহন আর না নিয়েছে তার দায়িত্ব। এতো অপসারী তার দিবাও ছিলো। দিবা সোহানার মধ্যে….


পর্ব ১

সাধারণ সালোয়ার কামিজ পরে, হাতে বাচ্চা নিয়ে শাশুড়ীর দিকে তাকিয়ে আছে সোহানা। জানতো লোকটার বউ মারা গেছে সে জানতো কিন্তু বাচ্চাও আছে জানতো না, অবশ্য জেনেও কি হবে সে নিজেও তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে।

“সংসার আর বাচ্চা সামলাও বউমা, এখন থেকে এইসবকিছু তোমাকে দেখতে হবে” মিলির উত্তর (সোহানার শাশুরি)

সোহানা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো, আসলে তার ও কিছু বলার নাই। যেখানে নিজের বাবা মায়ের কাছে বোঝা হয়ে আছে সেখানে পরের বাড়ি অর্থাৎ এই শ্বশুরবাড়ির নামক লোকের কাছে কি বা আশা রাখে।

মিলি সোহানার দুই হাতে চুড়ি পরিয়ে দিলো, জানালো যে খাবার পাঠাচ্ছে রুমের ভিতর খেয়ে বাবু নিয়ে ঘুমিয়ে যেতে।

সোহানা একধ্যানের বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আছে। তিন মাসের বাচ্চা আর কতবড় হবে। সোহানার কোলে কি সুন্দর ঘুমিয়ে আছে। মায়াভরা চোখ তার। আর গায়ের রঙ দুধে আলতা মনে হচ্ছে টোকা দিলে রক্ত বের হবে। সোহানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাচ্চার কপালে চুমু দিলো।

পুরো নাম সিদরাতুল মাওয়া সোহানা। ক্লাস নাইনে যখন ছিলো তখন বাবা মায়ের জোর জবস্তি করে তার থেকে দ্বিগুন বয়সের লোকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। সোহানা পা ধরে বলেছিলো যে বিয়ে না দিতে কিন্তু কেও তার কথা শুনে নি, তার বাবা জানায় সে যদি বিয়ে না করে তার মাকে তার বাবা তালাক দিবে।

এইটা শুনে সোহানা স্বব্ধ হয়ে যায়। নিজের বাবা মায়ের সংসার বাচাঁনোর জন্য নিজেকে বলি দিয়ে দেয়। সোহানার আকদ হওয়াতে সে বাবার বাসায় থাকতো কিন্তু সোহানার স্বামী(জুবায়ের) সে আসা যাওয়া করতো। জুবায়ের ফাইভ পাশ ও ছিলো না, মাথায় তার চুল ছিল না। একটা ছিল সেইটা ধনী।

একদিন রাতে বিয়ের ঠিক তিনদিন পর জুবায়ের এসে সোহানার বাসায় থাকে কিন্তু সোহানা ওর সাথে থাকতে চায় না। ছোট মানুষ মাথায় অতশত বুদ্ধি নেয় তার। কিন্তু তার চাচাতো বোন নিপা জোর করে পাঠায় ওর ঘরে। পাঠালো ঠিকই, ওইদিন সোহানার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জুবায়ের তার শরীর খুবলে খেয়েছিলো, সকালে সে উঠে দাড়ানোর শক্তি পর্যন্ত ছিলো না।

সোহানার এই বিয়েটা এনেছিলো তার চাচাতো বোন আর তার স্বামী। জুবায়ের ছিলো তার দুলাভাইয়ের বন্ধু। এইভাবে কেটে যেতে লাগলো দিন, সোহানার সম্মতি ছাড়াই শারীরিকভাবে এটাচ হতো জুবায়ের। সোহানা যখন তার শ্বশুরবাড়ি যেতো, বেড়ানোর নাম করে নিয়ে যেতো জুবায়ের আর তার চাচাতো বোন। সোহানা যখন যেতো তার শাশুড়ি তাকে দিয়ে পুরো বাড়ির কাজ করাতো।

যখনি গেছে তাই গেছে, কখনো বাথরুম পরিষ্কার করিয়ে গোসল না করেই ওই কাপড়ে বিকাল চারটায় ভাত খেয়েছে। এইদিকে জুবাইয়ের ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো, কখনো গলা টিপে ধরতো কখনো সোহানার বাবা মায়ের কাছে মিথ্যা বলে সোহানাকে মার খাওয়াতো।

১৫ বছরের সোহানা এতোকিছু বুঝতে পারতো না, শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতো আর মারতো। একদিন সোহানাকে প্রেগন্যান্ট করানোর উঠে পরে মরিয়ে হয়ে গেছিলো আর জুবায়েরে চেয়েছিলো আর পড়াশোনা না করুক সোহানা।

একদিন সোহানার ডায়রিয়া হয়েছে, ওই সময় জুবায়ের এসে ফিজিক্যালি এটাচ হতে চায়, ঘরে টানতে টানতে চায় কিন্তু সোহানার চিৎকার দেয়াতে সবার হাজির হয়ে গেছিলো, জুবায়ের সবার সামনে সোহানাকে টেনে থাপ্পড় মেরে ছিলো। জুবায়ের সেদিন বাড়ি থেকে চলে যেয়ে, সোহানার মাকে অকথ্যা ভাষায় ফোন দিয়ে গালিগালাজ করেছিলো। সোহানার বংশের লোকদের জুবায়ের মিথ্যা কথা বলে তাদের বিরোধী করে ছিলো।

যখন ডিভোর্স দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তখন জুবায়ের শর্ত দিলো, “সে যদি তার বাবা মাকে সারাজীবনের মতো দাফন দিয়ে আসতে পারে, আর পড়াশোনা একেবারে ছাড়তে পারে তাহলে তাকে নিবে”, এইটা শুনে সোহানার বাবা রেগে যেয়ে ডিভোর্স ফাইল করে বসলো। ক্লাস নাইনে বিবাহিত সোহানা, এস.এস.সি র পর ডিভোর্স পদ পেয়ে গেলো, নিজের জীবন পুড়ে গেলো।

সোহানার চাচাতো বোন আর তার স্বামী তাদের কে নানান কথা শুনিয়ে, সোহানার প্রাক্তন স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখলো শুধু তারা না, সোহানার চাচা আর চাচীরাও। তারা সোহানাদের সাথে চলাচল বন্ধ করে দিলেও, জুবায়েরদের বাড়ির লোকের সাথে ঠিকই চলাচল শুরু করলো।

এইভাবে সোহানার জীবনের ৫বছর কেটে গেলো, সংসার জীবনে তার পা দিতে ভয় লাগে। ১৬ বছরে ডিভোর্স হয়ে ২১ বছরের আবারো বিয়েতে অবদ্ধ হলো। আজকে দেখতে এসে বিয়ে হয়ে গেছে পরনে ছিলো তার লাল থ্রি পিস। বাবা মায়ের কাছ থেকে বোঝা দূর হলো। বিয়ে না করলে সমাজ জীবন থেকে তার নানান রকম খোটা শুনতে হতো। বিয়েটা সম্ভবত আগে থেকে ঠিক হয়েছিলো নইত দেখতে এসে একদিনে বিয়ে হয়ে যায় কি?

সোহানার ধ্যান ভাঙলো বাচ্চার কান্নার আওয়াজে। ধড়ফড়িয়ে সামলাতে যেয়ে, বাচ্চাটার ঘাড় উল্টিয়ে যাচ্ছিলো আসলে সে কখনো ত বাচ্চা মানুষ করে নাই। ওই মূহূর্তে অনেক জোরে সোহানার গালে কেও থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আর বাচ্চাটাকে কেড়ে নিলো, সোহানা ছিটকে পরেছে। চোখে জল চিক চিক করছে।

“আমার বাচ্চাটা মেরে ফেলতি তুই”লোকটা বলে বাচ্চাটাকে নিয়ে চলে গেলো।

মিলি হন্তদন্ত হয়ে ঘরে আসলো, উনি এসে দেখলো সোহানা নিচে পরে আছে। যা আশংকা ছিল তাই হলো। নিহিলের ফর্সা গালে পাঁচ আঙ্গুলের দাগ বসে গেছে, মিলি দ্রুত সোহানার কাছে গেলো।

“উঠো! আসলে তিতাস বাচ্চা নিয়ে খুব চিন্তিত ত, তাই এরকম করলো। তুমি চিন্তা করো না”মিলি বললো আমতা আমতা করে।

সোহানা এতোক্ষনে এটা বুঝে গেছে তার স্বামী নামক মানুষটার নাম তিতাস, আর তার যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে হয়েছে এটাও বুঝে নিলো।

“শুনো! পুরুষ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে সময় লাগে না বউদের। তুমিও চেষ্টা করো পারবে, তার বিয়েতে মত ছিলো না আমি জোর করে রাজি করিয়েছি। একদিন দেখো তোমাকে আমার ছেলে খুব ভালোবাসবে”মিলি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেলো।

সোহানা ওইভাবে মেঝেতে বসে থাকলো, চিৎকার করে কাদঁতে পারছে না। তার মতো অভাগীর কপালে কি একটু সুখ জুটাতে পারলো না আল্লাহ।


সমাপ্তি পর্ব

পেরিয়ে গেছে সাতটা মাস। তিন মাসের তিশরা এখন দশমাস হয়ে গেছে। এখন সে হামাগুড়ি দেয়, ছোট ছোট কেমন আউড়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে কথা বলার চেষ্টা করে কথা বলার জন্য, মনে হয় কত কথা তার মুখের ভিতরে জমে আছে তার ছোট্ট মুখে। আর দেখতে? পরীর মতো সুন্দর হয়েছে।

সোহানা তিশরাকে যেইভাবে আগলে রাখে মনে হয় না তিশরা ওর সন্তান না, তিশরাকে নিজের জীবন ভাবে সোহানা।

তিশরাকে ছাড়া সোহানা আর কিছু ভাবতে পারে না, তাকে গোসল করানো থেকে মাথাই তেল দেয়া, বাথরুম করানো সব সোহানা করে। আর তিশরা সোহানা ছাড়া কিছু বুঝে না, কারো কোলে যেতেও চায় না। এমনকি তিতাস নিলেও কিছুক্ষন থেকে কান্নাকাটি আরম্ভ করে দেয়, তখন বাধ্য হয়ে মিলি তিশরাকে নিয়ে সোহানার কাছে দিয়ে আসে।

সেদিনের ঘটনার পর থেকে সোহানা আর তিতাসের সামনে যায় নি, তিতাসের মনে জায়গা করার চেষ্টা টুকুও করে নি। তাকে তার মতো থাকতে দিয়েছে আর সে নিজেকে নিজের মতো থাকতে দিয়েছে। কি হবে মায়া বাড়িয়ে যেখানে তিতাসের মনে অন্য কারো অবস্থান। বেশ ত আছে তিশরা কে নিয়ে সে। তিতাস মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে সকালে যায় বিকালে আসে।

তিতাসের সামনে সোহানা সবসময় না পরার চেষ্টায় থাকে কিন্তু তিশরার আর মিলির জন্য মাঝেমধ্যে বাধ্য হয়ে তাকে যেতে হয় তবে কখনো মাসে দুই একবার দেখা হয়ে যায়। এক বাড়ির এক ছাদের নিচে থাকে দুইজন দুই রুমে কিন্তু কেও কারো মনের খবর রাখে না।

তিতাস দেখতে যথেষ্ট সুন্দর, শ্যামলা গায়ের রঙ কিন্তু শ্যামলা রঙের পুরুষ দেখতেও যে এতো সুন্দর হয় তিতাসকে না দেখলে বুঝা যায় না। ভালোবেসে দিবাকে বিয়ে করেছিলো তিতাস, খুব সুন্দর সংসার চলছিলো। তিশরা যখন দিবার পেটে আসে তখন দিবার শরীর মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল থাকতো, ডাক্তার বেবি নিতেও না করেছিলো কিন্তু দিবা তিতাসকে না জানিয়ে বেবি নেয়।

ডেলিভারির সময় ডাক্তারকে বলেছিলো আগে তার বাচ্চা যেন দুনিয়ার মুখ দেখে। তিশরা ত দুনিয়াতে আসলো কিমতু দিবা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ওপারে পারি জমালো। অতিরিক্ত ব্লিডিং কারনে দিবাকে বাচানো হয় নি।

দিবা যে নেই তিতাস মানতে পারে না, পাগলের মতো জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেদেছিলো। সদ্য জন্ম নেয়া কন্যার দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলে দিবাকে কবর দিয়ে এসেছিলো বুকে পাথর রেখে। তিশরাকে বুকে ধরে সেদিন সারারাত কান্না করেছে তিতাস। দিবাকে সে কতটা ভালোবাসে সেটা হয়তো কেও দেখছিলো উপরে বসে, তিতাসের দুঃখ কষ্ট কমানোর জন্য সোহানা জীবনে এলেও।

সোহানাকে না গ্রহন করেছে না তার কোন দায়িত্ব নিয়েছে। সোহানা শুধু তিশরার মা হয়ে এই বাড়িতে আছে, তিতাসের স্ত্রী নামক ট্যাগ টা তার কপালে আর নেয়। কিন্তু ওই যে আরোশে বসে ছড়ি ঘুরাচ্ছে একজন যে সোহানা আর তিতাসের মিলন ঘটনার প্ল্যান করছে।

শনিবার,

সোহানার ডিপার্টমেন্টের আজকে এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। তার শাশুড়ী তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেছে, সে কেন থেমে থাকবে? তিনিও অনেক চেষ্টা করেছে তিতাস আর সোহানার সম্পর্কে একটু উন্নতি আনার কিন্তু ফলাফল কি? সবসময়ের মতো শুন্য। আজকে সোহানা হালকা নীল কালারের পারের শাড়ি পরেছে যেহেতু প্রেজেন্টেশন দিতে হবে একটু গুড লুকে না গেলে মার্কস দিবে না।

হাতে ঘড়ি, চোখে কাজল মোটা করে। টিপ পছন্দ না তাই পরে নাই। চুল খোপা করে কাঠি দিয়ে দিলো, সোহানার চুল ত আবার বেশ লম্বা আর একটু লালচে কালার। সেফটিপিন দিয়ে নিজের কাধের আচলটা আটকে ব্যাগ আর জিনিসপত্র নিয়ে নিচে গেলো, সে চিন্তায় আছে তিশরাকে কারন সে কারো কাছে থাকে না।

তাই ভাবছে ওকে সাথে করে ভার্সিটি নিয়ে যাবে, যেহেতু গাড়ি করে যাবে সাথে মিলিও যাবে প্রব হবে না। নিজের সবকিছু নিচে নামলো যখন লাল টুকটুকে জামাতে তিশরা ফোকলা দাঁত বের করে হাসছে আর সোহানাকে কাছে ডাকছে, মাথায় লাল ব্যান্ড। চুল নেয় তবুও মিলি অনেক শৌখিন থাকার কারনে পরিয়ে দিয়েছে। সোহানা মুচকি হেসে এগিয়ে নিলো নিজের কোলে তিশরাকে।

তিশরাও হাত বাড়িয়ে কোলে উঠে সোহানার থুতনীতে মাড়ি দিয়ে চাপ দিচ্ছে, এটা তার সবসময়ের অভ্যাস। মিলি সোহানাকে দেখে মাশাল্লাহ বলে পরী বললো। সোহানা, তিশরা আর মিলি যখন বের হলো গাড়িতে উঠার জন্য তখন তিতাসকে ড্রাইভিং সিটে দেখা গেলো, সোহানা দেখে উল্টা পথ ধরলে।

মিলি চেপে সাথে নিয়ে বসায়। গাড়িতে বসে আছে ওরা চারজন, মিলি অনেক চেষ্টা করেও সোহানাকে সামনে বসাতে পারে নি। সোহানার এমন রুপ দেখে তিতাস প্রথমে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকলেও পরে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলো, লুকিংগ্লাস দিয়ে ঠিকই দেখছে এক ধ্যানে সোহানাকে। সোহানার নার্ভাস +ভয় দুটোই লাগছে কারন তিতাসের সামনে কোনভাবে আসতে চায় না, সেদিনের মার খেয়ে তার ভিতরে অনেক ভয় ঢুকে গেছে।

গাড়ি এসে থামলো ভার্সিটিতে, সোহানা দ্রুত পদে তিশরাকে নিয়ে নেমে পরলো তারপর গেটের আড়াল হলো যেন তিতাস দেখতে না পায়, এদিকে মিলি খুজে বেড়ায় কই গেলো তারা। অবশেষে সোহানাকে দেখতে পেয়ে তিনি ওখানে গেলেন। সোহানার এমন নার্ভাসনেস, ভয়াতুর চেহারা, আড়াল হওয়া সবকিছু দেখছিলো তিতাস। গেটের আড়াল হলেও সোহানা, কারের গ্লাসেস দিয়ে তাকে দেখছে তিতাস।

সাত মাস পর তার চোখে পরলো বিবাহিত স্ত্রীকে, যাকে না গ্রহন আর না নিয়েছে তার দায়িত্ব। এতো অপসারী তার দিবাও ছিলো। দিবা সোহানার মধ্যে একটা মিল তা হলো চুল, দুইজনের চুল বেশ লম্বা। সোহানার দিকে শুধু তাকিয়ে থাকতে আজ মন চাচ্ছে তিতাসের পরক্ষনে তার মনে হলো বিয়ের প্রথম রাতে তার দেয়া থাপ্পড়ের কথা কি আর করবে। গাড়ি নিয়ে নিজের অফিসে গেলো।

প্রেজেন্টেশন +এসাইনমেন্টে দুটোতে ভালো করছে সোহানা। বাসায় এসে মা মেয়ে গোসল করে খেয়ে ফ্রেশ ঘুম দেয়, মিলিও খেয়ে ঘুমিয়ে যায়। সোহানা আর তিশরা আলাদা ঘুমায়, আজ আবার ঘুমানোর সময় দরজা লাগাতে ভুলে গেছে তারা।

ওই সময় তিতাস মাত্র অফিস থেকে বাড়িতে ঢুকছে, ছেলে আসছে বলে মিলি তাড়াতাড়ি উঠে খাবার রেডি করলো অন্য সময় সোহানা করে কিন্তু আজ সে ক্লান্ত বলে উনি নিজেই করলো। তিতাস ঘরে ঢুকতে যাওয়ার সময় দেখলো তিশরার ঘরের দরজা খুলা, ঢুকবে কিনা এই নিয়া অস্বস্তিতে ভুগছে তাই সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব বাদ দিয়ে ঢুকে দেখলো মা মেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে।

সোহানার বুকের উপর তিশরা ঘুমাচ্ছে হা করে, সোহানাও তাকে দুই হাত জাপটে ধরে ঘাড় কাত করে ঘুমাচ্ছে। তিতাস খেয়াল হলো সোহানা বেডের ধারের কাছে একদম চলে আসছে, পরে যেতে যেকোন সময়। তাই দেরী না করে সোহানার কোমরে হাত দিয়ে ঠেলে দিচ্ছে একটু ভিতরে।

সোহানা কে ছুয়ার সাথে তিতাসের মনে অদ্ভুত শিহরণ জাগলো। মেঝেতে বসে বসে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে এই প্রথমবার সোহানােকে। নাকফুল কেমন মানিয়েছে তা নাকে মনে হচ্ছে তার জন্যই করা, আবার ঠোটটা কি সুন্দর গোলাপী। চোখের নিচে কালি পরছে কিন্তু পাপড়ি গুলা কি বড়বড়।

তিতাসের চোখ আটকে গেলো সোহানার থুতনীতে থাকা তিলকে দেখে, কেমন যেন চুম্বকের মতো টানছে তাকে। নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে একটু ছুয়ে দিলে, সোহানা ঘুমের মাঝেই কেপে উঠলো।

তিতাস নিজেকে সংযত করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু তার চোখে এখনো ভাসছে সোহানার থুতনীর তিলটা। সেই তিল যে তিতাসের মনে ঝড় সৃষ্টি করে মাদকতা কাজ করাচ্ছে যদি সোহানা জাগ্রত অবস্থায় বুঝতো।

সাত দিন পর,

এই সাত দিনে তিতাস বিভিন্ন ছুতোয় সোহানাকে দেখতো কখনো চায়ের জন্য আবার কখনো সার্ভের জন্য। কিন্তু সোহানা সে এইসব তোয়াক্কা করতো না যা চাইতো দিয়ে দিতো যদি সে বুঝতো তিতাস নামে মানুষের মনে সোহানা নামক মাদকটা ঢুকে গেছে যা তার ভেতর আউলাঝাউলা করে দিয়েছে।

রাতেরবেলা,

তিতাসের মেজাজ গরম হয়ে আছে এতোবেশি যে সামনে থাকা ব্যক্তিটি কে তার মনে হচ্ছে খুন করে ফেলতে ইচ্ছা করছে। এক হাতে সোহানার হাত শক্ত করে আছে, তিশরা ঘুমিয়ে আছে ওকে নিয়ে মিলি ভিতরে রেখে আসছে।

ফ্ল্যাশব্যাক…

তিতাসের বাড়িতে তার ফুফু এসেছে। এসে বিভিন্ন গল্প গুজব করছে তারা তার ওই সময় চোখে যায় সোহানার উপর। তিনি সোহানাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন বাজে কথা বলে, যে ডিভোর্সি মেয়ে বাড়িতে আনছ, অপয়া এইজন্য তিতাস তার দিকে তাকায় না হরেক রকম কথা। সোহানা এইসব শুনে চোখের জল মুছে নিজের রুমে গেলে, তিতাস তার হাত টান মারে তাদের সামনে নিয়ে দাড় করায়। সোহানা অবাক তিতাসের এমন কাজে।

“আমার বউ ডিভোর্সি নয়! তার স্বামী এই যে আশফাক রহমান তিতাস, তিশরা সোহানার মেয়ে। আমার স্ত্রী কোন অপয়া না, আর কখনো এমন বাজে কথা বললে ভুলে যাবো আপনি আমার মরহুম বাবার বোন হোন”তিতাস রাগে বললো।

বর্তমান,

তিতাসের এমন কথা শুনে তার ফুফু চলে যায় সেখান থেকে। .তিতাস সোহানাকে টানতে টানতে নিজের রুমে নিয়ে যায়, এদিকে সোহানার বুক দুরুদুরু করছে তিতাসের এমন রাগী মুখ দেখে। তিতাস সোহানাকে রুমে নিয়ে যেয়ে ছুড়ে মারে বেডে।

“এই মেয়ে মুখ নেই তোমার? নাকি সবসময় এমন বোবা হয়ে থাকো? নাকি বাঁশ খাইতে ভাল্লাগে? হ্যাভ ইউ এনি কাইন্ড অফ সেন্স”তিতাস বলে দরজাতে এক লাথি দিলো, এদিকে সোহানা ভয়ে কুকড়ে যেয়ে বেডের চাদর খামচে ধরলো।

তিতাস নিজের রাগ কোনভাবে কমাতে পারছে না, কপালে বার বার আঙ্গুল দিয়ে ঘষছে। দুই তিনটা লম্বা ঘন নিঃশ্বাস ফেলে সোহানার কাছে গেলো, সোহানা তিতাসের আগানো দেখে সরতে গেলে তিতাস তার দুই হাটুর মাঝে এসে বসে।

“আমি আবারো ভালোবেসে ফেলেছি! আমারো আবারো কারো মাদকাসক্ত হয়েছি! আমি আবারো এই যে সামনে থাকা মেয়েটার মোহে পরেছি! আমি আবারো আমার বেচে থাকার কারন খুজে পেয়েছি! আমি আবারো তোমাকে চাইছি সোহানা? হবে কি আমার আবারো? “তিতাস সোহানার হাটুতে ভর দিয়ে তার হাত ধরে বললো, এদিকে সোহানার চোখ দিয়ে নোনাজলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। সে আবারো তার হতে পেরেছে।

সোহানাা উঠে দাড়িয়ে তিতাসকে জড়িয়ে ধরে চিল্লিয়ে হাউমাউ করে কাদছে আর তিতাস? সে ত আবারো সোহানার মাঝে নিজের অস্তিত্ব টের পেয়েছে। সোহানাকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে আছে। হোক না কান্না হোক একটু সুখের মিলন ক্ষতি কি?

আবারো শুরু হল তাদের দুজনের পথযাত্রা, যেখানে শুধু সুখের মিলনমেলা থাকবে।

লেখা – তৃধা মোহিনী (মৃন্ময়ী)

সমাপ্ত

আরো পড়ূন – তুই – প্রেমের গল্প রোমান্টিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!