কষ্টের প্রেমের গল্প

একবার বলো ভালবাসি – সিজন ২ । ভালবাসার অপমৃত্যু

ভালবাসার অপমৃত্যু

একবার বলো ভালবাসি – ভালবাসার অপমৃত্যু: মিলনে’র রাগে শরীর জ্বলছে। ঠিক তেমন কষ্টও হচ্ছে। রোহিনী আজও কাদের’র সাথে কথা বলছে। তবে আজ হেসে কথা বলছে। মাঝে মাঝে কাদের। রোহিনী’র হাত ধরছে। গত সিজনে দেখেছেন কি রোমান্টিক ভালোবাসা! আর এই সিজনে আপনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না।

পর্ব ৮

রুবেল ওখান থেকে চলে যায়। আর মিলন ফ্লোরে বসে আছে!

মিলনঃ কেন আমি আগে বুঝলাম না? কেন সত্যিটা বুঝতে। এতটা দেরী করলাম? কি করবো এখন? রোহিনী তো আমাকে ক্ষমা করেনি। আচ্ছা আমি গিয়ে রোহিনী কে বলবো। যে আমিও ওকে ভালবাসি। রোহিনী তো আমাকে ভালবাসে। ও পারবে না আর আমাকে Ignore করতে। হ্যা বলতে হবে পারবো না। পারবো না ওকে হারাতে।

রোহিনী বিছানায় শুয়ে। এপাশ ওপাশ করছে। ঘুম আসছে না কিছুতেই। কি করে আসবে? যতই ও মিলন কে Ignore করুক। মন থেকে তো ভালবাসে। ভালবাসা কি চাইলেই ভোলা যায়? উহুম ভালবাসা ভোলা যায়না। আমরা যাকে সত্যি ভালবাসি। তাকে কখনো ভুলতে পারবো না। হয়তো ভুলে থাকার। অভিনয় করতে পারবো। দিনের আলো তে সবাই কে বোঝাবো। দেখো আমি ভুলে গিয়েছি। যাকে ভালবাসতাম।

আজ তাকে ভুলে গিয়েছি। কিন্তু দিন শেষে যখন রাত হবে। তখন বুকের ভিতরটা। চিনচিন করে ব্যথা করবে। আর বেরিয়ে আসবে। একটা দ্বীর্ঘশ্বাস আর সেই সাথে। পাল্লা দিয়ে ভিজবে। মাথার নিচে থাকা বালিশটা। রোহিনী’র সাথেও তাই হচ্ছে। নিজেকে যতই Strong দেখাক। সবাই কে যতই বোঝাক। ও মিলন কে ভুলে গিয়েছে। কিন্তু আসলে তো ভুলতে পারেনি!

রোহিনীঃ তোমাকে যেমন ভুলতে পারছি না। ঠিক তেমনিই ক্ষমাও করতে পারছি না। পারবো না ক্ষমা করতে।

একটা সময় রোহিনী ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে রোহিনী সবার সাথে। Breakfast করছে!

রোহিনী’র মাঃ রোহিনী আজ College এ যাবি?
রোহিনীঃ হ্যা কেন?

রোহিনী’র মাঃ আজ যেতে হবেনা। আমরা তোর ফুপ্পির বাসায় যাবো। তুইও চল আমাদের সাথে,,,,
রোহিনীঃ না মা আমি যাবোনা।

সবাই অবাক হলো। যে মেয়ে ফুপ্পির বাসায় যাওয়ার জন্য। এতটা পাগল ছিলো। আর সে বলছে যাবোনা!
রোহিনী’র বাবাঃ কেন যাবেনা মামনি?

রোহিনীঃ বাবা আমার ইচ্ছে নেই।
আরমানঃ আগে তো যাওয়ার জন্য নাচতি। আজ কি হলো?

রোহিনীঃ এত কথা বলতে পারছি না। যাবোনা বলেছি তো যাবোনা।

রোহিনী খাওয়া শেষ করে College চলে যায়। College এ গিয়েই মিলন কে দেখে। মিলন কে পাশ কাটিয়ে। চলে আসতে গেলেই। মিলন রোহিনী’র হাত ধরে!
রোহিনীঃ আরে হাত ধরলে কেন?

মিলনঃ আমার তোমার সাথে কথা আছে।
মিলনে’র মুখে তুমি শুনে। রোহিনী অনেক অবাক হয়। কিন্তু সেটা বুঝতে দেয়না!

রোহিনীঃ মিলন ভাইয়া হাত ছাড়ো।
মিলনঃ বলছি তো কথা আছে। আর এভাবে আমাকে। Ignore কেন করছো? ওইদিন ভুল করেছি আমি জানি। আর সেটা স্বীকার ও করেছি। আমি তো ক্ষমাও চেয়েছি। তাহলে কেন এড়িয়ে যাচ্ছো?

রোহিনীঃ বাবা তুই থেকে আমি। তুমি কবে হয়ে গেলাম?
মিলনঃ যখন থেকে বুঝেছি। আমিও তোমাকে ভালবাসি। ঠিক যতটা ভালবাসো। তুমি আমাকে!

রোহিনী হা করে আছে। বিশ্বাস করতে পারছে না। মিলনও ওকে ভালবাসে ওর মতো। কিন্তু আগের কথা মনে পড়লো। রোহিনী এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো।
রোহিনীঃ আমি কি ভুল শুনলাম?

মিলনঃ না রোহিনী সত্যি বলছি। আমি তোমাকে ভালবাসি। এই কয়েকদিনে আমি বুঝে গিয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও!
রোহিনী হু হা করে হেসে দিলো।

রোহিনীঃ Wow what a jokes? মিলন চৌধুরী আমাকে ভালবাসে। তো আমি কি করতে পারি? আর আপনাকে কে বললো? যে আমি এখনো আপনাকে ভালবাসি? আমি আর আপনাকে ভালবাসি না।

মিলনে’র বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো!
মিলনঃ রোহিনী। [করুন সুরে]

রোহিনীঃ কি রোহিনী হ্যা? আমি আপনাকে ভুলে গিয়েছি। ওইদিনই আপনাকে ভুলে গিয়েছি। আমি আপনাকে ভালবাসি না। আপনার এখন আমার কাছে। একটাই পরিচয় আপনি আমার। ফুপ্পির ছেলে আর কিছু না। আর কখনো এসব বলতে আসবেন না।

রোহিনী ওখান থেকে চলে যায়। আর মিলন ছলছল চোখে। একভাবে তাকিয়ে আছে। রুবেল এসে মিলনে’ কাধে হাত রাখে!
রুবেলঃ ও তোকে এখনো ভালবাসে।

মিলনঃ ও যে বললো?
রুবেলঃ তুই না ওকে ভালবাসিস? ওর চোখের ভাষা বুঝিস না? তুই এতদিন যা করেছিস ওর সাথে। বিশেষ করে সেইদিন। এটা ও মেনে নিতে পারেনি। তাই ও অভিমান করে আছে। তুই পারোমান না? ওর অভিমান ভেঙে। আবার ওর মনে তোর প্রতি। আগের ভালবাসা জাগিয়ে তুলতে?

মিলনঃ পারবো আমাকে পারতেই হবে। আমি ঠিক রোহিনী কে মানিয়ে নেবো।
রোমানঃ সেগুরে বালি।

রোমান’র কথায় মিলন তাকালো।
রোমানঃ ওই দেখ তোর রোহিনী কে!

সামনের দিকে তাকিয়ে। মিলনে’র রাগে শরীর জ্বলছে। ঠিক তেমন কষ্টও হচ্ছে। রোহিনী আজও কাদের’র সাথে কথা বলছে। তবে আজ হেসে কথা বলছে। মাঝে মাঝে কাদের। রোহিনী’র হাত ধরছে। আবার গাল টেনে দিচ্ছে।

মিলনঃ এটা কি করছে রোহিনী?
রোমানঃ মনে হয় রোহিনী এখন। কাদের কে ভালবাসে!

মিলনঃ Impossible এটা হতে পারেনা।
রোমানঃ কেন হতে পারেনা?

মিলনঃ রোহিনী কে আমি ভালবাসি। আর রোহিনীও আমাকে ভালবাসে!
এই কয়েকদিনে কাদের আর রোহিনী। ভাল Friend হয়ে গিয়েছে। Friend হিসেবেই কথা বলছে ওরা।

কাদেরঃ তোমার গালে কিছু ছিলো!
রোহিনীঃ সেটা তো বললেন হি হি।

কাদেরঃ তুমি কি জানো?
রোহিনীঃ কি জানবো?

কাদেরঃ যে তুমি একটা শয়তান মেয়ে।
রোহিনীঃ কি আমি শয়তান? আপনাকে তো আমি।

কাদের কে আর কে পায়? কাদের তো দৌড়। রোহিনীও পিছু ছুটলো। মিলন সবটা দেখছে। কাদের দৌড়াতে দৌড়াতে। মিলন’দের সামনে চলে এলো। এমন সময় রোহিনী পড়ে যেতে নিলো!

কাদেরঃ রোহিনী।
মিলনঃ রোহিনী।

দুজনই দৌড়ে গেলো। কিন্তু মিলনে’র আগে কাদের। গিয়ে রোহিনী কে ধরলো। আর মিলন দাড়িয়ে গেলো।
কাদেরঃ তুমি ঠিক আছো?

রোহিনীঃ হ্যা ঠিক আছি।

কাদেরঃ দেখলে তো? এক্ষুণি পড়ে যেতে।
রোহিনীঃ না পড়তাম না!

কাদেরঃ কি করে পড়তে না?
রোহিনীঃ ধরার জন্য আপনি আছেন তো।

কাদেরঃ সত্যিই পাগলি।
রোহিনীঃ এখন চলুন তো।

মিলন কে শুনিয়ে বললো রোহিনী। মিলনে’র আজ মনে হচ্ছে। কেউ ওর বুকে ছুড়ি চালিয়ে দিয়েছে। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। তবে কেউ দেখার আগে মুছে নিলো। পাশ থেকে কয়েকটা মেয়ে বলাবলি করছে!

_ দেখলি? কাউকে ভুলতে দেরী লাগেনা।
_ হ্যা কিভাবে ভুলে গেল।

_ ভোলাই উচিত।
ওইদিনটা ওভাবেই চলে গেল!

পরেরদিন রোহিনী’র বাবা-মা আরমান। মিলন’দের বাড়ি এলো। মিলন দৌড়ে নিচে নেমে এলো। ও ভেবেছে হয়তো রোহিনীও আসবে। কিন্তু নিচে নেমে দেখলো রোহিনী নেই।
মিলনঃ মামনি রোহিনী আসেনি?

রোহিনী’র মাঃ না বাবা ওর নাকি ভাল লাগেনা।
আরমানঃ বলেছিলাম অনেকবার এলোনা।

মিলনঃ ওহ!
সবাই কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

মিলনঃ আমি যাবো রোহিনী কে আনতে। আমার ওকে বুঝিয়ে বলতে হবে। আমি আর পারছি না থাকতে। বাঁচতে পারবো না ওকে ছাড়া। মরে যাবো এভাবে। [মনে মনে]
মিলন গাড়ি নিয়ে সোজা। রোহিনী’দের বাড়ি চলে আসে। এসে কলিংবেল বাজায়। কাজের মেয়েটা দরজা খুলে দেয়।
মিলনঃ রোহিনী কোথায়?

_ আফা তো হের রুমে।

মিলন উপড়ে রোহিনী’র রুমে চলে আসে।
রোহিনীঃ আপনি?

মিলনঃ একদম আমাকে আপনি বলবে না।
রোহিনীঃ আপনি এখানে কেন এসেছেন?

মিলনঃ তোমাকে নিতে এসেছি।
রোহিনীঃ কিন্তু আমি তো যাবোনা!

মিলনঃ রোহিনী কেন এমন করছো? আমি সত্যিই তোমাকে ভালবাসি। আমি আর পারছি না। আমার অনেক কষ্ট হয়। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।

রোহিনীঃ ওহ তো এর জন্য এসেছেন? আপনার কষ্ট হচ্ছে। আপনি আর পারছেন না। তাহলে ভাবুন তো। আমি কি করে সহ্য করেছি? আজ আপনার মনে হচ্ছে। আপনি আমাকে ছাড়া বাঁচবেন না। তাই আমার কাছে এসেছেন। ঠিক একইভাবে কাল। যদি আপনার মনে হয় যে। আপনি আমাকে ছাড়া বাঁচবেন। তখন তো আমাকে ছুড়ে ফেলবেন। আর তার থেকেও বেশী। আপনার যদি মনে হতো। আপনি আমাকে ছাড়া বাঁচবেন। তাহলে কি এখানে আসতেন?

মিলন মাথা নিচু করে আছে।

রোহিনীঃ নেই আপনার কাছে জবাব। তাই বলছি চলে যান এখান থেকে!

মিলন রোহিনী’র হাত ধরলো।

মিলনঃ আমি এতকিছু জানিনা। শুধু জানি তোমাকে ভালবাসি। তুমিও আমাকে ভালবাসো আমি জানি। এই সব তোমার অভিমান!
রোহিনীঃ হাতটা ছাড়ুন আমার।

মিলন আরো শক্ত করে হাত ধরলো। রোহিনী’র প্রচুর রাগ লাগছে। রোহিনী আর না পেরে ঠাস করে। মিলনে’র গালে থাপ্পর মারলো। মিলন করুন দৃষ্টিতে তাকালো!


পর্ব ৯

মিলন গালে হাত দিয়ে। করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মিলন ভাবতে পারেনি। রোহিনী ওকে থাপ্পর মারতে পারে। রোহিনী অন্যদিকে ঘুরে বললো!
_ আমি আসলে। চলে যান এখান থেকে।

মিলনঃ আমি কিছু মনে করিনি। Actually এই থাপ্পরটা। আমার প্রাপ্য ছিলো কারণ। তোমাকে তো কম থাপ্পর মারিনি। ভালই করেছো থাপ্পর মেরে। নাহলে বুঝতেই পারতাম না। ভালবাসার মানুষ আঘাত করলে। কতটা কষ্ট হয়!

রোহিনীঃ আপনি এখান থেকে যান।
মিলনঃ না আমি তোমাকে নিয়ে যাবো।

রোহিনীঃ বলছি তো আমি যাবোনা!
মিলনঃ তুমি যাবে চলো।

বলেই মিলন রোহিনী’র হাত ধরলো।
রোহিনীঃ মিলন ভাইয়া হাত ছাড়ুন বলছি।

মিলনঃ রোহিনী ভুল আমি করেছি। আমার বাড়ির লোক না। তাহলে কেন যাবেনা?
রোহিনীঃ আমার ভাল লাগছে না। আপনি এখন যান। নাহলে আমি কি করবো। আমি নিজেও জানিনা। তবে খুব খারাপ হয়ে যাবে!

মিলন বুঝলো যে ও। হাজার চেষ্টা করেও। রোহিনী কে নিতে পারবে না।
মিলনঃ আচ্ছা আমি যাচ্ছি। কিন্তু আমি এটা বলে যাচ্ছি। তোমার মনে অভিমানের। পাহাড়ের নিচে আমার জন্য। যেই ভালবাসাটা চাপা পড়ে গিয়েছে। সেই ভালবাসা কে আমি আবার। জাগিয়ে তুলবো তুলবোই।

মিলন রোহিনী’দের বাড়ি থেকে চলে আসে। রোহিনী এতক্ষণ হাত মুঠ করে ছিলো!
রোহিনীঃ এটা কি করলাম আমি? মিলনে’র গায়ে হাত তুললাম? কি করে পারলাম আমি? কেন করলাম এটা?

রোহিনী নিজের হাত দেয়ালে আঘাত করলো। সাথে সাথে হাত কেটে। তাজা রক্ত পড়তে লাগলো। সেদিকে রোহিনী’র খেয়াল নেই।

রোহিনীঃ কি করবো আমি? এ কোন গোলক ধাধায় আটকে পড়লাম? না পারছি ছাড়তে। আর না পারছি ধরতে। আল্লাহ তুমি বলো আমি কি করবো? যেই ভালবাসা পাওয়ার জন্য। ২বছর অপেক্ষা করলাম। যার ভালবাসার জন্য কাঙাল ছিলাম। আজ তার ভালবাসা পেয়েও। গ্রহন করতে পারছি না। এমন রাস্তায় কেন দার করালে আমাকে? আমি যে আটকা পড়ে গিয়েছি।

রোহিনী কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লো। এটা রোহিনী’র ছোটবেলার অভ্যাস!
মিলন মন খারাপ করে বাড়ি এলো।

মিলনে’র মাঃ কোথায় গিয়েছিলি?
মিলনঃ আমার কাজ ছিলো একটু।

আরমানঃ শালা আমরা এলেই কি তোর। রাজ্যের সব কাজ মনে পড়ে?
মিলনঃ আরে সেটা হবে কেন?

রোহিনী’র বাবাঃ ও তো ঠিকই বলেছে।
মিলনঃ না মামা সত্যি কাজ ছিলো।

রোহিনী’র মাঃ আচ্ছা হয়েছে চুপ করো!

মিলনে’র বাবাঃ মিলন তোকে এমন লাগছে কেন? কিছু কি হয়েছে?
আসলে মিলন ওখান থেকে এসে। অনেক কাঁদে তার জন্য। চোখ মুখ ফুলে গিয়েছে। চুলগুলো উস্কো খুস্কো হয়ে আছে।

মিলনঃ না বাবা কিছু হয়নি।
রুবেলঃ কিন্তু তোর চোখ মুখ তো। অন্য কথা বলছে ভাইয়া!

মিলনঃ বেশী বুঝতে কে বলেছে?

রুবেল মুখ ভেংচি দিলো। আর মিলন রুমে চলে এলো। বিকেলে আরমান’রা চলে এলো। কারণ রোহিনী একা আছে। কাজের লোক আছে কিন্তু। পরিবারের কেউ তো নেই। তাই ওনারা চলে এলো। এসেই আরমান রোহিনী’র রুমে গেলো। উদ্দেশ্য রোহিনী কে জ্বালানো। কিন্তু রোহিনী’র রুমে গিয়ে। আরমান আতকে উঠলো। রোহিনী’র চোখ মুখ ফোলা। চোখের কোনে পানি। এখনো চিকচিক করছে। মুখের মধ্যে চোখের পানি। শুকিয়ে আছে রীতিমত। হাতে রক্ত শুকিয়ে আছে। আরমান তাড়াতাড়ি রোহিনী’র কাছে এলো। এরপর ওর মা-বাবা কে ডাকলো। ওনারা এসেও আদরের মেয়ে কে। এভাবে দেখে আতকে উঠলো। রোহিনী’র মা তো কান্না শুরু করে দিলো। কান্নার আর কথার শব্দে। রোহিনী জেগে গেলো। জেগে সবাই কে দেখে অবাক হলো!

রোহিনীঃ তোমরা কখন এলে?
আরমানঃ তার আগে বল তোর হাত। এভাবে কাটলো কি করে?

রোহিনী কি বলবে বুঝতে পারছে না।

রোহিনীঃ কি বলবো এখন? [মনে মনে]
রোহিনী’র মাঃ কি রে বল।

রোহিনীঃ আহ মা তুমি কান্না করছো কেন?
রোহিনী’র বাবাঃ তুমি কেন কাঁদছিলে?

রোহিনীঃ একা ভাল লাগছিলো না তাই।
আরমানঃ তুই এই জন্য কেঁদেছিস?

রোহিনীঃ হুম তো।
ঠোট উল্টে বাচ্চাদের মতে বললো। আরমান রোহিনী কে জড়িয়ে ধরলো।

আরমানঃ আমরা তোকে রেখে। আর কখনো একা যাবোনা। এবার বসতো আমি। তোর হাত ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি।
আরমান বোনের হাত। পরম যত্নে ব্যান্ডেজ করে দিলো। রোহিনী কে অনেক ভালবাসে। বাবা-মা ভাইয়ার বড় আদরের!

রোহিনী’র মাঃ আমরা তো তোকে যেতে বলেছিলাম। তখন কেন গেলি না?
রোহিনীঃ কেন যাবো? আমার মন চায়নি যাইনি।

আরমানঃ তুই তো ঘুমিয়ে ছিলি। তারমানে কিছু খাসনি তাইনা?
রোহিনী মাথা নাড়লো মানে না।

আরমানঃ তুই Fresh হয়ে আয়। আমি তোকে খাইয়ে দেবো!
রোহিনীঃ সত্যি?

আরমানঃ হ্যা পিচ্চি সত্যি।
রোহিনী দৌড়ে Washroom এ গেলো।

আরমানঃ রোহিনী আসতে।
কে শোনে কার কথা। ওনারা আবার নিচে নেমে এলো। আরমান একটা প্লেটে। ভাত মেখে নিলো। একটু পরই রোহিনী এলো। রোহিনী ফোনে গেমস খেলছে। আর আরমান খাইয়ে দিচ্ছে। রোহিনী’র বাবা-মা তৃপ্তির হাসি দিলো।

রোহিনী’র বাবাঃ আরমান টা রোহিনী কে। বড্ড ভালবাসে বুঝলে?
রোহিনী’র মাঃ হ্যা আজকাল তো। এমন ভাই-বোন পাওয়াই যায়না।

রোহিনী’র বাবাঃ আমাদের চিন্তা নেই।
রোহিনীঃ কি নিয়ে কথা বলছো?

রোহিনী’র মাঃ বলছি আরমান তোকে। কতটা ভালবাসে।
আরমানঃ একটা বোন আমার। ওকে ভালবাসবো না তো কাকে ভালবাসবো?

রোহিনীঃ You know what ভাইয়া? You are the best। Brother in the world।
আরমানঃ You know what sister? You are the best। Sister in the world।

আরমানে’র কথায় রোহিনী খিলখিল করে হেসে দিলো। আরমান রোহিনী’র মুখ ধুয়ে, মুছে। রোহিনী কে রুমে পাঠিয়ে দিলো। রোহিনী রুমে এসে শুয়ে পড়লো। স্নেহা ফোনে কথা বললো। অন্তরা’র সাথে। বেশ কিছুদিন College এ যায়নি। সেটা নিয়েই কথা হলো!

স্নেহাঃ কাল College এ যেতে হবে। অনেকদিন তো হলো। College এ যাইনা। জীবনটা কেন এমন হলো? আজ যদি রিদ আমাকে না ঠকাতো। তাহলে আমার জীবনটা। এভাবে পাল্টে যেতোনা। আমরাও ভাল থাকতাম। আচ্ছা মিলন কি রোহিনী কে। মানিয়ে নিতে পেরেছে? আর তো কথা হলোনা। একবার ফোন দেই!

স্নেহা মিলন কে ফোন দিলো। একটুপর মিলন ফোন ধরলো।
মিলনঃ হ্যা স্নেহা বলো।

স্নেহাঃ কেমন আছো?
মিলনঃ হুম আছি, তুমি?

স্নেহাঃ ওই আছি তারপর বলো। তোমার খবর কি? মানে রোহিনী কে মানাতে পারলে?
মিলনঃ না এখনো পারিনি।

স্নেহাঃ আসলে মেয়েটা অভিমান করে আছে। এমনিতে নাকি তুমি বাজে ব্যবহার করতে। আবার ওইদিন ওরকম করলে। তাই ওর মানতে কষ্ট হচ্ছে।
মিলনঃ বুঝতে পেরেছি আমি। আমি চেষ্টা করছি তো। হাল ছাড়বো না আমি জানি। রোহিনী এখনো আমাকে ভালবাসে।

স্নেহাঃ Good আর আমিও জানি। তুমি ঠিক পারবে।
মিলনঃ তো তোমার খবর কি? রিদ কে ভুলতে পেরেছো?

স্নেহাঃ কি করে ভুলবো?
মিলনঃ স্নেহা তোমার কোথাও। ভুল হচ্ছেনা তো? মানে যাচাই করা উচিত ছিলো।

স্নেহাঃ নিজের চোখে দেখা ভুল না।
মিলনঃ অনেক সময় আমরা যেটা দেখি। সেটা সত্যি হয়না। আমাদের দেখার বাইরে। হাজারও সত্যি লুকিয়ে থাকে।

স্নেহা চমকে উঠলো।
মিলনঃ পরে কথা বলছি বাবা ডাকছে।

স্নেহাঃ Ok।
স্নেহা আর মিলন এখন। ভাল Friend হয়ে গিয়েছে। স্নেহা মিলনে’র বলা। কথাগুলো গভীর ভাবে ভাবছে!
স্নেহাঃ আমি কি ভুল করেছি? রিদ তো বলেছিলো। আমি ভুল ভাবছি।

পরেরদিন স্নেহা শপিং মলে এসেছে। অনেক শপিং করলো। হাতে ব্যাগ নিয়ে হাটছে। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলো।
স্নেহাঃ চোখে দেখেন না? [রেগে না দেখে]

_ স্নেহা তুমি?
কন্ঠ শুনে আর সামনে তাকিয়ে। স্নেহা অবাক হলো!

স্নেহাঃ তুমি?
লোকটাঃ তুমি এখানে?

স্নেহা নিজেকে সামলে বললো,

স্নেহাঃ Well মিস্টার কাদের আহমেদ রিদ। শপিং মলে সবাই আসতে পারে।

[I am sorry বড় করার কথা ছিলো। বড় পার্ট দিতে পারলাম না। আন্তরিক ভাবে আমি দুঃখিত। আসলে প্রচুর নেটে সমস্যা হচ্ছে।


পর্ব ১০

স্নেহাঃ Well মিস্টার কাদের আহমেদ রিদ। শপিং মলে সবাই আসতে পারে।
কাদেরঃআমি বলিনি যে সবাই। আসতে পারেনা।

স্নেহাঃ তাহলে এত চমকে যাচ্ছো কেন?
কাদেরঃ অনেকদিন পর দেখলাম তাই।

স্নেহাঃ না দেখলে খুশি হতে বুঝি?
কাদেরঃ এটা কখন বললাম?

স্নেহাঃ সব বলতে হয়না।
কাদেরঃ হ্যা সেটাই তুমি তো সবই বোঝো।

স্নেহাঃ হ্যা বুঝি বলেই না। তোমার আসল রুবেল চিনেছি।

কাদেরঃ দেখো আমি আগেও বলেছি। আর এখনো বলছি। তুমি আমাকে ভুল বুঝছো!
স্নেহাঃ থাক আর বলতে হবেনা।

কাদেরঃ তোমাকে বোঝানোই ভুল।

কাদের ওখান থেকে চলে আসে। হ্যা কাদের’ই রিদ। ওর পুরো নাম কাদের আহমেদ রিদ!

স্নেহা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে। স্নেহাও চলে আসে!

মিলন তো রোহিনী’র পেছনে পড়ে আছে। রোহিনী যেখানে যাচ্ছে। মিলনও সেখানে যাচ্ছে।

রোহিনীঃ কি সমস্যা আপনার?
মিলনঃ কি সমস্যা আবার? আমার সমস্যা তো তুমি।

রোহিনীঃ কি আমি সমস্যা? [রেগে]
মিলনঃ এইরে কি বলে ফেললাম? [বিরোমানর করে]

রোহিনীঃ এই শুনুন একদম দুরে থাকবেন। আমার থেকে দুরে বুঝেছেন?
মিলনঃ না গো বুঝিনি।

রোহিনীঃ আপনি কিন্তু বেশী বাড়াবাড়ি করছেন!
মিলনঃ তুমি বেশী করছো আমি না। তুমি না আমাকে ভালবাসো? জানোনা ভুল করে কেউ। নিজের ভুল বুঝলে। তাকে ক্ষমা করে দিতে হয়। আমি তো ক্ষমা চেয়েছি রোহিনী। তাহলে তুমি কেন ক্ষমা করছো না?

রোহিনীঃ আমি পারবো না বুঝেছেন? পারবো না আপনাকে ক্ষমা করতে। আপনি আসবেন না আমার সামনে।
রোহিনী ক্লাসে চলে যায়। মিলন অসহায়ের মতো দাড়িয়ে থাকে!

কাদের বাড়িতে এসেই। অস্থির হয়ে পড়েছে!
কাদেরঃ স্নেহা কোনদিন আমাকে বুঝবে না। ওর ভুল হয়তো কখনো ভাঙবে না। যে ভুল আমি করিনি। তার শাস্তি ও আমাকে দিচ্ছে, কেন?

স্নেহা’র একটা ছবি নিয়ে। এসব বলছিল তখন রশিদ এলো। আর এসে ছবিও দেখলো। আর কাদের’র কথাও শুনলো।
রশিদঃ রিদ। [রশিদও রিদ বলে]

কাদেরঃ রশিদ তুই?
রশিদঃ এই মেয়েটা কে?

কাদেরঃ ওই স্নেহা যাকে আমি ভালবাসি।
রশিদঃ What?

কাদেরঃ কি হলো?
রশিদঃ এই মেয়েটা কি তোকে ভালবাসে?

কাদেরঃ জানিনা।
রশিদঃ ভালবাসে না তোকে।

কাদেরঃ তুই কি করে জানলি?
রশিদঃ কারণ এই মেয়েটা। আমার Birthday তে আমার। Best friend মিলন কে। নিজে Propose করেছে!

কাদের’র মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। চোখগুলো পানিতে জমে গিয়েছে।
কাদেরঃ তুই ঠিক বলছিস?

রশিদঃ তোর কি মনে হয়? আমি ভুল বলবো তোকে?
কাদেরঃ ও আমাকে ভুলে গিয়েছে?

রশিদঃ তবুও আমার মনে হয়। তোর ওর সাথে কথা বলা উচিত।
কাদেরঃ হুম।

রশিদ কাদের কে শান্ত করলো। কাদেরও ভেবে নিয়েছে। শেষবারের মতো স্নেহা কে বোঝাবে। তারপর না বুঝলে নেই। জোড় করে তো কিছু হয়না। কাউকে বোঝানোও যায়না। রাতে স্নেহা’র ভাল লাগছে না। বারবার মনে হচ্ছে ভুল করছে!

স্নেহাঃ সত্যিই কি ভুল দেখেছিলাম? উফ পাগল হয়ে যাবো মনে হচ্ছে। কি করবো এখন? এটাও ঠিক আমি এখনো। শুধু রিদ কে ভালবাসি।

এরমাঝে কাদের ফোন দিলো। অনেকদিন পর ফোন দিলো কাদের। স্নেহা প্রথমে ফোন ধরলো না। কাদের ফোন দিয়েই যাচ্ছে। অনেকবার ফোন দেয়ার পর। স্নেহা ফোন ধরলো!

স্নেহাঃ কেন ফোন দিচ্ছো?

কাদেরঃ তোমার সাথে শেষবারের মতো। কথা বলতে চাই স্নেহা।
শেষবার শুনে স্নেহা’র বুক ধক করে উঠলো।

স্নেহাঃ শেষবার মানে?
কাদেরঃ কালকে আমার সাথে দেখা করো। আর কখনো বলবো না। কিছু বোঝাতেও চাইবো না। শুধু কালকে দেখা করো Please।

স্নেহা না করতে পারলো না। তাই রাজী হয়ে গেলো!
স্নেহাঃ Ok দেখা করবো।

কাদেরঃ Thank you।
কাদের ফোন রেখে দিলো। স্নেহা সাতপাঁচ ভাবছে।

স্নেহাঃ শেষবার কেন বললো কাদের?

রোহিনী মিলন কে নিয়ে ভাবছে।

রোহিনীঃ ক্ষমা করবো মিলন কে? মিলন ও তো আমাকে ভালবাসে। এটাই তো চেয়েছিলাম আমি। মিলন ও আমাকে ভালবাসবে। আজ যখন ও আমাকে ভালবাসে। তাহলে কেন মেনে নিতে পারছি না? কিসের বাধা আমার? ওইদিন তো মিলন। ভুল বুঝে আমাকে অপমান করেছে। ও তো জানতো না ওটা অভি ভাইয়া। তাহলে কেন পারছি না?

রোহিনী গিয়ে ব্যালকনিতে দাড়ালো। এই মুহূর্তে কবিতা মনে পড়ছে রোহিনী’র!

আমি ভীষন একলা থাকা মানুষ,
আমি ভীষন আমার ভেতর থাকি।
যত্ন করে খুব খেয়ালে রোজ,
‘আমি’টাকে’ আমার ভেতর রাখি।
আমি ভীষন অভিমানের মেঘ,
আমি ভীষন ক্লান্ত একা ভোর।
কষ্টগুলো রোজ জমিয়ে ভাবি,
সুখগুলো সব থাকুক না হয় তোর।
আমি ভীষন মন খারাপের দিন,
আমি ভীষন কান্না মাখা রোদ।
অশ্রুগুলো বর্ষা জলে ভাসাই,
ঋনগুলো সব না হয় হলো শোধ।
আমি ভীষন স্মৃতির খেরোখাতা,
মলাট জুরে হাজার আকিবুকি।
আমি ভীষন একলা থাকা মানুষ,
‘আমি’টাকে আমার ভেতর রুখি।
_ সাদাত হোসাইন!

হ্যা সত্যিই রোহিনী এখন একা। যাকে ভালবাসে সেও ওকে ভালবাসে। কিন্তু আজ চেয়েও তাকে মানতে পারছে না। হ্যা রোহিনী চায় মিলন সুখি হোক। আগে রোহিনী যে পাগলামি করতো। সেগুলো আজ স্মৃতি হয়ে ধরা দেয়!

পরেরদিন কাদের আর স্নেহা বসে আছে।

স্নেহাঃ কি বলবে?
কাদেরঃ স্নেহা তুমি কি চাও?

স্নেহা কিছুটা ভরকে গেলো এই প্রশ্নে।

স্নেহাঃ মানে কি? কি চাইবো আমি?
কাদেরঃ তুমি সত্যি আমাকে আর ভালবাসো না? সত্যিই আমাকে আর চাওনা? ভুলে গিয়েছো আমাকে?

স্নেহা চমকে উঠলো।

স্নেহাঃ আজ হঠাৎ এসব বলছো কেন?
কাদেরঃ কারণ আমি আজ ক্লান্ত। তোমাকে বোঝাতে গিয়ে ক্লান্ত। আমি অনেকবার বলেছি তোমাকে। তুমি যেটা দেখেছো। সেটা ঠিক না ভুল। সেদিন অফিসে রিশা আমাকে!

স্নেহাঃ আমি জানতে চাইনা।
কাদেরঃ চাইবে কেন? এখন তো মিলন আছে।

স্নেহা অবাক চোখে তাকালো!
স্নেহাঃ তুমি কি করে জানো?

কাদেরঃ জানি তবে শুনে রাখো। তুমি যদি আমাকে ভুলতে পারো। আমিও পারবো আমি রোহিনী কে বিয়ে করবো।
স্নেহাঃ What? কোন রোহিনী?

কাদেরঃ মিলনে’র বোন রোহিনী আসছি।

কাদের রেগে বেরিয়ে যায়। এদিকে স্নেহা মিলন কে ফোন দেয়। কারণ মিলন কে জানানো উচিত। স্নেহা’র ফোন পেয়ে মিলন চলে আসে। College এ ছিলো তাই Late হয়নি!

মিলনঃ বলো স্নেহা কি বলবে?
স্নেহা মিলন কে সব বলে।

মিলনঃ What?
স্নেহাঃ হ্যা এখন কি হবে?

মিলনঃ আচ্ছা আমাকে বলো তো। তুমি সেদিন কি দেখেছিলে? মানে বুঝিয়ে বলো।

স্নেহাঃ সেদিন আমি অফিসে গিয়েছিলাম। রিদে’র Birthday ছিলো।

অতিত …..

স্নেহা খুশিমনে অফিসে আসে।

ম্যানেজারঃ ম্যাম আপনি যেতে পারবেন না।
স্নেহাঃ কেন?

ম্যানেজারঃ স্যার এখন Busy আছে!
স্নেহাঃ আপনি জানেন আমি কে? আমি রিদে’র Girlfriend আমি যাবো।

বলেই স্নেহা চলে আসে। কেবিনে ঢুকে স্নেহা যা দেখে। স্নেহা’র হাত থেকে ফুলের বুকি নিচে পড়ে যায়। স্নেহা’র চোখদুটো ভিজে আসছে। কাদের দাড়িয়ে আছে। আর ওর সামনে একটা মেয়ে। এমন ভাবে দাড়ানো। দেখে মনে হচ্ছে লিপ কিস করছে। আওয়াজ পেয়ে কাদের আর রিশা তাকায়!

কাদেরঃ স্নেহা তুমি?
স্নেহাঃ কেন? এসে বিরক্ত করলাম?

কাদেরঃ আরে বিরক্ত করবে কেন? পরিচয় করিয়ে দেই ও রিশা আমার।
স্নেহাঃ 2nd girlfriend।

কাদেরঃ স্নেহা কি বলছো তুমি?
স্নেহাঃ আমি ভাবতে পারছি না। তুমি এভাবে আমাকে ঠকালে।

স্নেহা কাদের কে কিছু বলতে না দিয়ে চলে আসে।

বর্তমান…..

স্নেহাঃ এখন বলো আমি কি করবো? [কেঁদে]
মিলনঃ তুমি তো শুধু দাড়ানো দেখেছিলে। তুমি নিজের চোখে কি দেখেছিলে? যে কাদের মেয়েটা কে কিস করছে?

স্নেহাঃ না দেখিনি।
মিলনঃ তাহলে আমিও বলবো। তুমি ভুল করছো স্নেহা।

মিলন অনেক বোঝায় স্নেহা কে। এখন স্নেহা’র ও মনে হচ্ছে। ওর কাদের’র থেকে সব শোনা উচিত!

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “ভালবাসার অপমৃত্যু” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

মিলন রোহিনী কে বুঝিয়ে যাচ্ছে। রোহিনী কিছুতেই বুঝতে চায়না। এভাবে প্রায় ১মাস চলে যায়। আজ রুবেলে’র জন্মদিন। রোহিনী’দের বাড়ির সবাই এসেছে। আরমান আসতে চায়নি। রোহিনী জোর করে পাঠিয়েছে। কিন্তু রোহিনী আজও আসেনি। মিলনে’র মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। মিলন কাউকে না বলে। রোহিনী’র বাড়ি চলে এলো। আজ রোহিনী’ই দরজা খুললো।

রোহিনীঃ আপনি কেন এসেছেন?
মিলন দরজা বন্ধ করে। রোহিনী কে নিয়ে রুমে গেলো। রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো!

রোহিনীঃ আরে কি হয়েছে?
মিলনঃ আর কতবার ক্ষমা চাইতে হবে? এবার কি পা ধরবো? যদি পা ধরতে হয় তাহলে বলো। বিশ্বাস করো আমি সেটাও করবো। কিন্তু আর আমি এভাবে থাকতে পারবো না। আমার মনে তোমার প্রতি। ভালবাসা জাগিয়ে এখন। তুমি কেন দুরে আছো? হয় তুমি আজ আমাকে মেনে নেবে। নয়তো আমি নিজেকে শেষ করে দেবো।

রোহিনীঃ পাগল নাকি?
মিলনঃ I am serious রোহিনী।

রোহিনীঃ এই আপনি যান তো!

মিলন দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো। রোহিনী বিছানায় বসে পড়লো। একটু পর মিলন একটা ছুড়ি নিয়ে। আবার রোহিনী’র রুমে এলো। মিলন নিচে গিয়ে ফল কাটার ছুড়ি এনেছে। রোহিনী ভয় পেয়ে গেলো।

রোহিনীঃ এটা দিয়ে কি করবেন?
মিলনঃ হাত কাটবো।

রোহিনীঃ দেখুন এসব নাটক বন্ধ করুন।
মিলন সত্যি সত্যি হাতে টান দিলো। সাথে সাথে হাত কেটে। ঝরঝর করে রক্ত পড়তে লাগলো!

রোহিনীঃ আরে কি করছেন?
মিলন আবারও টান দিলো।

মিলনঃ বলো তুমি আমাকে ভালবাসো। নাহলে আমি সত্যি নিজেকে এখানেই। তোমার সামনে শেষ করে ফেলবো!

রোহিনী মিলনে’র কাছে গিয়ে। ঠাস করে এক থাপ্পর মারলো।

রোহিনীঃ তোমার কি আমাকে মানুষ মনে হয়না? কেন বোঝোনা? ভালবাসি আমি তোমাকে।

মিলন একটান দিয়ে। রোহিনী কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। যেন ছেড়ে দিলে হারিয়ে যাবে!


পর্ব ১১

মিলন রোহিনী কে শক্ত করে জড়িয়ে আছে। রোহিনী পরম শান্তিতে। মিলনে’র বুকে মুখ লুকিয়ে আছে। এই জায়গাটা যেন কত নিরাপদ। দুজনই কান্না করছে!

মিলনঃ I am sorry রোহিনী। আমি আর কখনো তোমাকে কষ্ট দেবোনা। আমি বুঝতে পারিনি। কখন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।
রোহিনীঃ কে বলেছে? আমাকে ছাড়া বাঁচতে। আমরা একসাথেই বাঁচবো।

মিলনঃ হ্যা সারাজীবন।
রোহিনীঃ এরকম কেউ করে?

মিলনঃ আর করবো না।
রোহিনী মিলনে’র হাত। সুন্দর করে ব্যান্ডেজ করে দিলো।

মিলনঃ এবার চলো।
রোহিনীঃ না গেলে হয়না?

মিলনঃ No আমি কোনো কথা শুনবো না। ১০ মিনিট সময় দিচ্ছি। Ready হয়ে নিচে এসো। আমি অপেক্ষা করছি।

রোহিনী অসহায় হয়ে তাকালো।

রোহিনীঃ ১০ মিনিটে হয়? [ঠোট উল্টে]
মিলন ফিক করে হেসে দিলো।

মিলনঃ Ok যত সময় লাগে নাও। কিন্তু যেতে হবেই।

মিলন নিচে চলে যাওয়ার পর। রোহিনী Ready হয়ে নেয়। একটা মেরুন কালার লেহেঙ্গা পড়েছে। কানে মেরুন কালার ঝুমকো। ঠোটে লাল লিপস্টিক। রোহিনী মেকআপ পছন্দ করেনা। তাই মেকআপ করেনি। চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে। ব্যাস এতটুকুই সাজ। রোহিনী Ready হয়ে নিচে গেলো। মিলন তাকিয়ে আছে!

রোহিনীঃ কি হলো? চলো।
মিলনঃ তোমাকে সুন্দর লাগছে। একদম কিউট পুতুল।

রোহিনীঃ হয়েছে এবার চলুন।

রোহিনী গিয়ে গাড়িতে বসলো। এরপর মিলন গাড়ি স্টার্ট দিয়ে। ওদের বাড়ি পৌছে গেলো কিছুক্ষণ পর। সবাই রোহিনী কে দেখে খুশি হলো। রুবেল আর রোহিনী’র Friend রা। সবাই গল্প জুড়ে দিলো। মিলনে’র মা খুব খুশি হলো!

মিলনে’র মাঃ তুই রোহিনী কে এনে ভাল করেছিস। দেখলি তো? ও আসতে না আসতে। বাড়িটার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।
মিলনঃ হ্যা মা আমি বুঝেছি। আমি এতদিন ঠিক করিনি। আমি আর ওকে কষ্ট দেবোনা।

মিলনে’র মাঃ এখন যা তুইও গিয়ে। Ready হয়ে নে।

মিলন Ready হয়ে নিলো। মেরুন কালার শার্ট পড়েছে। মূলত রোহিনী’র ড্রেসের সাথে মিল রেখে। কালো জিন্স প্যান্ট। হাতে কালো ব্রান্ডের ঘড়ি। চুলগুলো স্পাইক করা। ডার্ক রেড ঠোট। একেবারে Crush look। মিলন নিচে নেমে এলো। রোহিনী আরেকদফা Crush খেলো। স্নেহা ও এসেছে মিলন। স্নেহা’র সাথে কথা বলছে। রোহিনী রাগে ফোস ফোস করছে!

রুবেলঃ হিংসে হচ্ছে?
রোহিনীঃ বয়েই গিয়েছে আমার।

লিয়াঃ কিন্তু আমরা তো বুঝতে পারছি।
নুরিঃ শুধু কি তাই? আমি তো পোড়া গন্ধও পাচ্ছি।

রোহিনীঃ ওই তোরা চুপ কর!
রুবেলঃ শোন স্নেহা আপু ভাইয়া’র Friend। ভাইয়া কখনোই স্নেহা আপু কে ভালবাসেনি।

রোহিনীঃ তাহলে Relation?
রুবেলঃ তোকে দেখানোর জন্য।

লিয়াঃ যাকে বলে Jealous
রোহিনীঃ কিইইই?

নুরিঃ জ্বী।
রোহিনীঃ দাড়া ওর একদিন কি। আমার যে কয়দিন লাগে। আমি কত কষ্ট পেয়েছি।

লিয়াঃ আচ্ছা এসব বাদ দে।
মিলনঃ রুবেল কেক কাটবি আয়।

সবাই কেক কাটার ওখানে গেলো। কেক কাটা শেষে সবাই মজা করলো। রাত ১১টায় পার্টি শেষ হলো। রোহিনী’রা থেকে গেলো। রোহিনী Fresh হয়ে শুয়ে পড়লো। এরমাঝে মিলন ফোন দিলো। রোহিনী খানিকটা অবাক হলো। এরপর ফোন ধরলো!

রোহিনীঃ কি হলো?
মিলনঃ ছাদে এসো Please।

রোহিনীঃ পাগল নাকি?
মিলনঃ তুমি না এলে কিন্তু। আমি তোমার রুমে চলে আসবো।

রোহিনীঃ এতরাতে কেউ দেখলে?
মিলনঃ কেউ দেখবে না তুমি এসো।

রোহিনীঃ না আসবো না!
মিলনঃ ৫ মিনিটে না এলে। ৬ মিনিট পর আমি চলে আসবো।

রোহিনীঃ এই না আমি আসছি।
রোহিনী ফোন রেখে। পা টিপে টিপে ছাদে গেলো। মিলন ছাদের রেলিং ধরে দাড়ানো।

রোহিনীঃ আসতে বললে কেন?
মিলন টান মেরে রোহিনী কে। সামনে এনে পেছন থেকে। জড়িয়ে ঘাড়ে থুতনি রাখলো। রোহিনী হঠাৎ এমন হওয়াতে। আহম্মদ বনে গেলো। ঘটনা বুঝতে পেরেই। ছুটাছুটি করতে লাগলো!

মিলনঃ চুপ করে দাড়াও।
রোহিনীঃ মিলন কি করছো?

মিলনঃ কিছু করলে তো দেখতে।
রোহিনীঃ আরে ছাড়ো আমাকে।

মিলনঃ ছাড়বো বলে তো ধরিনি।
রোহিনীঃ কেউ দেখে ফেললে?

মিলনঃ আমাদেরই ভাল হবে!
রোহিনীঃ মানে কি করে?

মিলনঃ আমাদের বিয়ে দিয়ে দেবে।
রোহিনীঃ সত্যি পাগল তুমি।

মিলনঃ হলে ক্ষতি কি?
মিলন রোহিনী কে সামনে দাড় করালো। এরপর রোহিনী’র কপালে। ছোট্ট করে চুমু খেলো। রোহিনী চোখ বন্ধ করে নিলো!

_ কি হচ্ছে?

রোহিনী আর মিলন হচকচিয়ে গেলো।

মিলনঃ তুই?
রুবেলঃ হ্যা আমি না এলে মিস করতাম।

মিলনঃ কি মিস করতি?
রোহিনীঃ তুই ঘুমাসনি?

রুবেলঃ তুই ঘুমাসনি কেন রে?
রোহিনী লজ্জা পেয়ে গেলো।

রুবেলঃ থাক আর লজ্জা পেতে হবেনা।
মিলনঃ তুই এখানে কেন এসেছিস?

রুবেলঃ ঘুম আসছিলো না। তাই রোহিনী’র রুমে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম মহারাণী নেই। আর যেহেতু মহারাজ আছে এখন। তাই বুঝলাম এখানেই থাকবে। সাতপাঁচ না ভেবে চলে এলাম।

মিলনঃ খুব ভাল কাবাব মে হাড্ডি!
রুবেলঃ তাইনা?

মিলনঃ হ্যা তাই যা ভাগ।
রোহিনীঃ না ও থাকবে।

রুবেলঃ এই না হলো ভাবি।
রোহিনীঃ উম আমি ভাবি না। আমাকে রোহিনী বলবি বুঝলি?

মিলনঃ কেন? ও তো ঠিকই বলেছে।
রোহিনীঃ তুমি চুপ করো।

রুবেলঃ অবেশেষে ভাইয়া রোহিনী কে বুঝলি।
মিলনঃ না বুঝে উপায় ছিলো?

ওরা অনেকক্ষণ গল্প করে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো। পরেরদিন রোহিনী’রা চলে গেলো। স্নেহা কাদের কে দেখা করতে বলেছে। তাই কাদের দেখা করতে এসেছে। তবে আজ কোনো রেস্টুরেন্টে আসেনি। এসেছে শহর থেকে দুরে। কোলাহল মুক্ত বিলের পাড়ে!

কাদেরঃ বলো কি বলবে?
স্নেহাঃ রিদ আমি জানতে চাই।

কাদের অবাক হলো কিছুটা। তবুও না জানার ভান করে বললো,

_ কি জানতে চাও?

স্নেহাঃ সেদিন কি হয়েছিলো?
কাদেরঃ কি ব্যাপার বলো তো? কাল অবদি বললে জানতে চাওনা। তখন আমি নিজে বলতে চেয়েছিলাম। যখন আমি হাল ছেড়ে দিলাম। তখন নিজে জানতে চাইছো।

স্নেহাঃ Please বলো আমাকে।
কাদেরঃ তাহলে শোনো সেদিন। আমি একটা ফাইল দেখছিলাম। হঠাৎ আমার চোখে একটা পোকা চলে যায়। আমার চোখ জ্বালা করছিলো। তাই রিশা আমার চোখে। ফু দিচ্ছিলো আর তখনই। তুমি কেবিনে চলে আসো। আর আমাকে ভুল বোঝো। আর যেই রিশা কে নিয়ে। তুমি আমাকে ভুল বুঝেছো। ও একজন বিবাহিতা মেয়ে। In face she is pregnant!

স্নেহা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ভাবতে পারছে না শুধু শুধু। এতদিন কাদের কে ভুল বুঝে। দুরে সরিয়ে রেখেছিলো। এতে তো দুজনই কষ্ট পেয়েছে।

স্নেহাঃ রিদ আমি আসলে।
কাদেরঃ কি বলবে তুমি বুঝতে পারছো না, তাইতো?

স্নেহা মাথা নিচু করে আছে। সত্যিই তো কি বলবে ও? ও তো এতদিন ভুল করেছে। ভুল বুঝেছে কাদের কে। কাদের বোঝাতে চেয়েছে ও বোঝেনি। তবুও স্নেহা বললো!

_ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি বুঝতে পারিনি রিদ।

কাদের ওখান থেকে চলে এলো। স্নেহা ওখানে বসেই কাঁদতে লাগলো!

স্নেহাঃ এটা কি করলাম আমি? যাকে ভালবাসলাম তাকে। বিশ্বাস করতে পারলাম না? কেন আমি বুঝলাম না? কেন রিদে’র কথা শুনলাম না। আমি কি রিদ কে হারিয়ে ফেলবো? তাহলে আমি কি করে বাঁচবো?

স্নেহা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। হঠাৎ কেউ ওর কাধে হাত রাখলো। স্নেহা পিছনে তাকালো।

স্নেহাঃ তুমি?

বিকেল ৩টা মিলন ওর বাবা’র রুমে এলো।

মিলনে’র বাবাঃ কিছু বলবি?

মিলনঃ হ্যা বাবা।
মিলনে’র বাবাঃ কি বলবে?

মিলনঃ বাবা আমি কাল থেকে অফিসে যাবো।

মিলনে’র বাবা অবাক হলো। যেই ছেলে কে জোড় করে। উনি অফিসে বসাতে পারেনি। সে নিজে থেকে। অফিসে যেতে চাইছে। তবে খুশিও হলেন খুব!

মিলনে’র বাবাঃ সত্যি বলছিস?
মিলনঃ হ্যা বাবা সত্যি।

মিলনে’র বাবাঃ আলহামদুলিল্লাহ।

পরেরদিন থেকে মিলন। অফিসে যাওয়া শুরু করলো। College এ ও যায় অফিসেও যায়। মিলনে’র বাবা প্রচুর Support করে। আর সময় পেলেই। মিলন রোহিনী কে নিয়ে ঘুরতে যায়। এভাবে কেটে যায় ২০দিন!

আজও রোহিনী আর মিলন ঘুরতে এসেছে। একটা পার্কে এসেছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো। এটা শিশু পার্ক। মিলন আসতে চায়নি। রোহিনী জোড় করে নিয়ে এসেছে।

মিলনঃ আচ্ছা রোহিনী।
রোহিনীঃ হুম বলো।

মিলনঃ আমরা এখানে কেন এসেছি?
রোহিনীঃ ঘুরতে!

মিলনঃ আমরা কি বাচ্চা নাকি?
রোহিনীঃ হুু হুু ইচ্ছে হলো এলাম। বাচ্চা হতে হবে নাকি?

এরমাঝে রোহিনী বেলুন দেখলো। আর বেলুন কিনবে বলে। লাফালাফি শুরু করে দিলো। মিলন গিয়ে সবগুলো কিনে এনে। হাতে ধরিয়ে দিয়ে টেনে নিয়ে চলে এলো।

রোহিনীঃ চলে এলে কেন?

মিলনঃ তোমাদের বাড়ি যাবো।
রোহিনীঃ কেন?

মিলনঃ চলো গেলেই দেখতে পাবে।

রোহিনী মুখ ফুলিয়ে বসে রইলো। ১ ঘন্টা পর এসে পৌছালো। বাড়ির ভেতর গিয়ে রোহিনী অবাক হলো। কারণ সোফায় রোহিনী’র বাবা-মা আরমান বসা। আরেক পাশে মিলনে’র বাবা-মা রুবেল। আর তারপাশে কাদের, স্নেহা। আরো ২জন পুরুষ ২জন মহিলা।

রোহিনীঃ এনারা?
মিলনঃ স্নেহা আর কাদের’র বাবা-মা।

রোহিনীঃ এখানে কেন?
রুবেলঃ বিয়ের কথা বলতে এসেছে?

রোহিনী লজ্জা পেলো।
রোহিনীঃ মানে কাদের ভাইয়া আর স্নেহা আপু। আর আমার আর মিলনে’র?

মিলনঃ এটা কে বললো?
রোহিনীঃ তাহলে?

মিলনঃ তোমার আর কাদের’র। আর আমার আর স্নেহা’র।
মিলনে’র কথা শুনে। রোহিনী’র মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো!


পর্ব ১২

মিলনে’র কথা শুনে। রোহিনী’র মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো!

রোহিনীঃ মা মানে?
রুবেলঃ হ্যা তো ভাইয়া ঠিক বলেছে।

রোহিনীঃ তোরা মজা করছিস, তাইনা?
মিলনঃ আরে মজা করবো কেন?

রোহিনীঃ এসবের মানে কি?
একটু জোড়ে বললো রোহিনী। সবাই তাকিয়ে পড়লো।

আরমানঃ আরে রোহিনী আয় এখানে।
রুবেল রোহিনী কে সামনে নিয়ে এলো।

স্নেহাঃ রোহিনী তুমি খুশি হওনি?
রোহিনী’র মাঃ রোহিনী আমাদের আগে বলিসনি কেন?

রোহিনীঃ কি বলবো?
রোহিনী’র মাঃ দেখো দেখি।

মিলনে’র মাঃ লজ্জা পাচ্ছে, মিলন তুইও আয়। এসে স্নেহা’র পাশে বয়। আর রুবেল রোহিনী কে নিয়ে। কাদের’র পাশে বসা!
ওদের কথা শুনে রোহিনী অবাক। রোহিনী’র হাত, পা কাঁপছে।

রোহিনীঃ মা এসব কি হচ্ছে?
রোহিনী’র মাঃ তোর কাদের’র মিলন আর স্নেহা’র বিয়ে।

রোহিনীঃ কিইইই? [বসা থেকে দাড়িয়ে]
মিলনঃ আরে রোহিনী কি হলো?

রোহিনীঃ এসব কি মিলন?
কাদেরঃ তুমি এমন করছো কেন?

স্নেহাঃ Anything wrong রোহিনী?
রোহিনীঃ Just not anything, Everything is wrong।

আরমানঃ কেন?
রোহিনীঃ আমি মিলন ভাইয়া’র সাথে কথা বলবো।

মিলনঃ হ্যা বলো।
রোহিনীঃ এখানে না আলাদা।
স্নেহাঃ হ্যা বলবে আগে বিয়ে ঠিক হোক!

রোহিনীঃ মানে কি?
রোহিনী’র মাঃ তোদের বিয়ের তারিখ। আজই ঠিক হবে।

রোহিনী কি করবে বুঝতে পারছে না। তবুও সাহস করে বলে দিলো।
_ এই বিয়ে আমি করবো না।

রোহিনী ভেবেছে সবাই অবাক হবে। হাজার প্রশ্ন করবে। কিন্তু না কারো কোনো হেলদোল নেই। সবাই নিজেদের কাজে Busy। অতঃপর ৫দিন পর বিয়ে ঠিক হলো। রোহিনী রোবট হয়ে দাড়িয়ে আছে। সবার মুখেই হাসি এমনকি মিলনও হাসছে। ওর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে ও কত খুশি। রোহিনী’র মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে। তাহলে কি মিলন আমাকে ভালবাসেনি?

আরমানঃ তাহলে আজ বুধবার। শনিবারে গায়ে হলদু রোমানবারে বিয়ে!
মিলনঃ হ্যা এটাই ভাল।

রুবেলঃ ভাইয়া তোর বিয়ে। একটু তো লজ্জা পা!
মিলনঃ হাহ লজ্জা পাবো কেন? যাকে ভালবাসি তাকেই তো বিয়ে করছি।

রোহিনী আর নিতে পারছে না। দৌড়ে উপড়ে চলে গেলো। সবাই হেসে দিলো।
কাদেরঃ এটা কি ঠিক হচ্ছে?

মিলনঃ আরে কিছু হবেনা।
স্নেহাঃ বেচারী কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে।

রুবেলঃ কিন্তু ও Surprise পেতে ভালবাসে। আর এটা তো Best হবে।
আরমানঃ কিন্তু কষ্ট তো পাচ্ছে।

রুবেলঃ হ্যা কিন্তু যখন জানবে। ওর বিয়ে ভাইয়া’র সাথে হয়েছে। তখন তো খুশি হবে। মামা, মামী তোমরা ওকে রাজি করাও। আর হ্যা এখনি বলবে না। যে ওর বিয়ে ভাইয়া’র সাথে হবে!

কাদেরঃ বলবে আমার সাথে।
স্নেহাঃ সত্যিই তোমরা না?

কাদেরঃ ধোয়া তুলসি পাতা।
রুবেলঃ তো তোমাদের মান অভিমান। কি করে শেষ হলো?

কাদেরঃ ম্যাডাম সেদিন কাঁদছিলো।

অতীত …

স্নেহা প্রচুর কাঁদতে থাকে। তখনই কাদের এসে স্নেহা’র কাধে হাত রাখে!

স্নেহাঃ তুমি?
কাদের পাশে বসে।

কাদেরঃ কাঁদছো কেন?
স্নেহাঃ ক্ষমা করে দাওনা রিদ।

কাদেরঃ না পারবো না ক্ষমা করতে।

স্নেহা ফুপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে!

কাদেরঃ আর ভুল বুঝবে?
স্নেহাঃ কখনো না।

কাদেরঃ আমার কথা শুনবে?
স্নেহাঃ তোমার সব কথা শুনবো।

কাদের স্নেহা’র চোখের পানি মুছে দেয়। স্নেহা কাদের কে জড়িয়ে ধরে।

কাদেরঃ পাগলি এখন কাঁদছো কেন?
স্নেহাঃ আমি খুব খারাপ, তাইনা?

কাদেরঃ চুপ কে বললো তুমি খারাপ? তুমি সবথেকে ভালো।
স্নেহাঃ তুমি কেন বললে? রোহিনী কে বিয়ে করবে।

কাদেরঃ রেগে বলেছিলাম।
স্নেহাঃ আর বলবে না কিন্তু।

বর্তমান…..

রুবেলঃ What a love?
কাদেরঃ এরপর স্নেহা’র কথা। বাবা-মা কে বলি স্নেহাও বলে। আর স্নেহা মিলনে’র কাছে বলে। যে আমাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। আমরা বিয়ে করছি আর তখন। মিলন সবাইকে ওর আর রোহিনী’র কথা জানায়। আর এই প্লানটা করে। রোহিনী কে বিয়ের দিন Surprise দিতে!

রুবেলঃ এবার মামী রোহিনী’র কাছে যাও।

রোহিনী’র মা আর বাবা। রোহিনী’র কাছে আসে এসে দেখে। রোহিনী বিছানায় চুপ করে বসে আছে।

রোহিনী’র মাঃ রোহিনী।

রোহিনী মুখ তুলে তাকালো। চোখগুলো ফোলা।

রোহিনীঃ কিছু বলবে?
রোহিনী’র মাঃ বিয়েতে রাজী হয়ে যা মা।

রোহিনীঃ মা আমি পারবো না।
রোহিনী’র বাবাঃ আমার কথা রাখবি না? কোনদিন তোকে কিছুতে জোড় করিনি। যা চেয়েছিস তাই দিয়েছি। আজ তোর বাবা কিছু চায়। তুই দিতে পারোমান না?
রোহিনী হতবাক হয়ে গিয়েছে।

রোহিনীঃ বাবা আমি।
রোহিনী’র বাবাঃ আমার কসম রোহিনী। তুই রাজি হয়ে যা ভাল থাকবি অনেক। তুইও তো ওকে ভালবাসিস!

রোহিনীঃ বাবা কি বলছে? আমি কাদের কে ভালবাসি? কিন্তু এখন আমি কি করবো? এখন তো রাজি হতেই হবে। [মনে মনে]
রোহিনী’র মাঃ বল রোহিনী।

রোহিনীঃ আমি রাজি আছি।

রোহিনী’র বাবা আর মা খুশি হয়ে নিচে নেমে আসে।

মিলনঃ কি বলেছে?
রোহিনী’র বাবাঃ কসম দিয়ে রাজি করিয়েছি।

রোহিনী’র মাঃ দেখ এটা ঠিক হচ্ছেনা।
মিলনে’র মাঃ আসলেই মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে!

মিলনে’র বাবাঃ চলো গিয়ে বলে দেই।
মিলনঃ No বাবা।

এরমাঝে মিলনে’র ফোন বেজে উঠলো। হাতে নিয়ে দেখলো রোহিনী।

মিলনঃ আমি একটু আসছি।

মিলন রোহিনী’র রুমে গেলো। রোহিনী দৌড়ে মিলন কে জড়িয়ে ধরলো।

মিলনঃ কি করছো?
রোহিনীঃ মিলন এসব কি হচ্ছে?

মিলনঃ বিয়ে হচ্ছে।
রোহিনীঃ তুমি কেন করছো এমন? কেন স্নেহা কে বিয়ে করছো? আর আমার বিয়ে কাদের’র সাথে কেন হচ্ছে?

মিলনঃ তাতে কি?
রোহিনীঃ তুমি না আমাকে ভালবাসো?

মিলনঃ হ্যা কিন্তু বোন হিসেবে।
রোহিনী পিছনে সরে গেলো।

রোহিনীঃ মানে?
মিলনঃ মানে আমি যদি তোমাকে। না বলতাম যে আমিও। তোমার মতো তোমাকে ভালবাসি তাহলে। তুমি আমাকে ক্ষমা করতে না। তাই তো বলেছিলাম হাত কেটেছিলাম!

রোহিনী ধপ করে বসে পড়লো।

রোহিনীঃ তারমানে মিথ্যে ছিল সব?
মিলনঃ Sorry রোহিনী।

মিলনঃ আমি এখন আসছি।

মিলন রুম থেকে বেরিয়ে চলে আসে। রোহিনী উঠে চোখের পানি মুছে নেয়।

রোহিনীঃ ঠিকাছে আমিও আর কাঁদবো না।

রোহিনী সিরি দিয়ে নামছে। মুখে হাসি হেলেদুলে নামছে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। কারণ একটু আগে যে কাঁদলো। এখন সে হাসছে এরপর সবাই। বড় ধরনের শকড হলো। রোহিনী গিয়ে স্নেহা কে উঠিয়ে। কাদের’র পাশে বসে পড়লো। স্নেহা আর মিলন হা করে তাকিয়ে আছে!

রোহিনীঃ স্নেহা আপু এভাবে যখন তখন। যেখানে সেখানে আমার বরে’র কাছে বসবে না।

কাদের বিষম খেলো। আর মিলন তো কাশতে কাশতে। যক্ষারোগী পদবি ছিনিয়ে নেবে মনে হচ্ছে।

রোহিনীঃ স্নেহা আপু Sorry ভাবী। মিলন ভাইয়া কে পানি দাও। আমার Husband কে আমি দিচ্ছি।

মিলন আর স্নেহা অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে।

কাদেরঃ তি রোহিনী আমার পানি লাগবে না।
রোহিনীঃ তুমি চুপ করো।

ওইদিন ওভাবেই গেলো। পরেরদিন সবাই কমিউনিটি সেন্টারে গেলো। যেহেতু দুটো বিয়ে একসাথে। তাই কমিউনিটি সেন্টারই Best। রোহিনী কাদের’র সাথে চিপকে আছে। মিলন কে রাগানোর জন্য। মিলন সহ্য করে নিচ্ছে আর নিজেই বলছে। বিয়ে হোক মজা দেখাবো। সবাই চলে এসেছে অভিও এসেছে। অভি কে আগেই প্লানের কথা বলেছে!

মিলন, স্নেহা, কাদের কথা বলছিলো। সাথে রুবেল, আরমান, অভিও আছে। তখন রোহিনী দরজার কাছে গেলো।

স্নেহাঃ মিলন আমার স্বামী।

সবাই হেসে দিলো। রোহিনী ওখান থেকে চলে এলো!

কাদেরঃ হু আমি তোমার স্বামী।
স্নেহাঃ আরে হ্যা আমি তো রোহিনী’র কথা বলছি। রোহিনী তো ভাবছে মিলন আমার স্বামী হবে। আর তুমি ওর।

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “ভালবাসার অপমৃত্যু” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

রাতে ছাদে সবাই আড্ডা দিচ্ছে। মিলনে’র হাতে একটা পেপারস। ওরা ড্রিংকের আয়োজনও করেছে। স্নেহা আর মিলন হেসে কথা বলছে। যা দেখে রোহিনী’র রাগ লাগছে। রোহিনী ড্রিংক এক বোতল নিয়ে। ঢকঢক করে খেয়ে ফেললো। সবার চোখ মনে হচ্ছে বেরিয়ে আসবে। এটা দেখে মিলন বাঁকা হাসলো।

মিলনঃ আমার কাজ সহজ হলো!

মিলন গিয়ে রোহিনী’র পাশে বসলো। রোহিনী’র মাথা ঘুরছে। Already মাতলামি শুরু করে দিয়েছে। মিলন কে দেখে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো। সবাই ড্রিংক করেছে শুধু মিলন করেনি।

মিলনঃ কাঁদছো কেন?
রোহিনীঃ তুমি আমাকে বিয়ে করবে না?

মিলনঃ করবো তো।
রোহিনীঃ সত্যি? [খুশি হয়ে]

মিলনঃ হ্যা যদি এটাতে সাইন করো।
পেপারস আর কলম এগিয়ে বললো।

রোহিনীঃ কি এটা?
মিলনঃ সাইন করো তাহলে বিয়ে করবো।

রোহিনীঃ সত্যি তো?
মিলনঃ হ্যা।

রোহিনী পেপারস পড়তে গেলো।
মিলনঃ আগে সাইন করো। নাহলে কিন্তু তোমাকে বিয়ে করবো না!

রোহিনী ভয় পেয়ে না দেখেই সাইন করে দিলো। এরপর Senseless হয়ে গেলো। মিলন কোলে নিয়ে রোহিনী কে। রুমে শুইয়ে দিয়ে চলে এলো।
মিলনঃ আমার কাজ শেষ। [বাঁকা হেসে]


শেষ পর্ব

মিলন বাঁকা হেসে রুমে চলে যায়!

মিলনঃ যদি তুমি রাগ করো। তাহলে এটা তোমাকে দেখাবো। তখন আর রাগ করে থাকতে পারবে না।

মিলন পেপারস টা রেখে শুয়ে পড়ে। সকালে সবার ঘুম ভাঙে। রোহিনী নিজেকে বিছানায় দেখে অবাক হয়। আর বাকীরা ছাদে পড়ে আছে।

স্নেহাঃ আমরা এখানে ছিলাম রাতে?
আরমানঃ তাই তো মনে হচ্ছে।

কাদেরঃ মিলন আর রোহিনী কোথায়?
রুবেলঃ আসলেই ওরা কই?

অভিঃ ওইতো মিলন।
মিলন কে আসতে দেখে অভি বললো। সবাই তাকিয়ে দেখলো। মিলন কিছু একটা ভাবছে। মুখটা শুকনো লাগছে।

কাদেরঃ মিলন Are you ok?
মিলন চুপ করে আছে।

আরমানঃ মিলন তুই ঠিক আছিস?
এবারও মিলন কিছু বললো না।

রুবেলঃ ভাইয়ায়ায়ায়ায়া!
মিলনঃ হ্যা কি কি হলো?

কাদেরঃ ঠিক আছো তুমি?
মিলনঃ আমি রোহিনী কে সত্যিটা বলে দেবো।

হঠাৎ এভাবে বলায়। সবাই বেশ অবাক হলো। এই প্লান মিলনে’রই ছিলো। আর এখন নিজেই বলে দিতে চাইছে!

কাদেরঃ কেন?
মিলনঃ আমার ভাল লাগছে না। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। আমি যদি রোহিনী কে হারিয়ে ফেলি? আমি বলে দেবো সব।

সবার মাঝে নিরবতা কাজ করছে। হঠাৎ সবাই হুহা করে হেসে দিলো। মিলন আহম্মক বনে গেলো।

মিলনঃ কি হলো?
রুবেলঃ তোর কি মনে হচ্ছে? কাদের ভাইয়া রোহিনী কে বিয়ে করবে? আর তুই ওকে হারিয়ে ফেলবি?

কাদেরঃ Really মিলন এমন মনে হচ্ছে?
মিলনঃ আমি স্বপ্ন দেখেছি। রোহিনী আমার হাত ছেড়ে। দুরে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। আমি বলে দেবো ওকে। এটাও বলে দেবো আমাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে!
সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লো।

সবাইঃ কিইইই? বিয়ে হয়েছে মানে?
মিলনঃ হ্যা কাল রাতেই। আমি রোহিনী কে রেজিস্ট্রি পেপারসে। I mean আমাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারসে। সাইন করিয়েছি আমিও করেছি।

হ্যা মিলন কাল রাতে। রোহিনী কে দিয়ে যেই পেপারস সাইন করিয়েছে। ওটা ওদের বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারস ছিলো। রোহিনী এখন আইনত মিলনে’র বউ!

আরমানঃ কিন্তু তুই এটা কেন করলি?
অভিঃ মানে তোর সাথেই তো। রোহিনী’র বিয়ে হচ্ছে তাহলে?

মিলনঃ আমি ভেবেছিলাম রোহিনী। তো অনেক রাগী যদি। আমার কথা বিয়ের পর না মানে। এসব যে প্লান ওকে Surprise দেয়ার জন্য। যদি বিশ্বাস না করে। যদি বেশী রেগে যায়। তাহলে ওকে বিয়ের পর দেখাবো। তাই কাল পেপারস টা এনেছি। আর ইচ্ছে করে ড্রিংকের আয়োজন করেছি। যাতে করে সবটা সহজ হয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বলে দেয়া ভাল। আমি যাচ্ছি ওকে বলতে!

মিলন যেতে গেলেই। সবাই পথ আটকালো!

মিলনঃ কি হলো?
রশিদঃ শালা এতকিছু করলি। আর আমরাও নাটক করলাম। আর এখন সব বলে দিবি?

নুরিঃ আসলেই জিজু এটা ঠিক না।
মিলনঃ কিন্তু আমার মন মানছে না।

রুবেলঃ আচ্ছা শোন তোর যখন বলতে ইচ্ছে করছে। তাহলে তুই বলবি!
লিয়াঃ মানে কি?

মিলনঃ Ok আমি যাচ্ছি।
রুবেলঃ না তবে এখন না!

মিলনঃ তাহলে কখন?
রুবেলঃ আজ তো আমরা শপিং করতে যাবো। কাল তোদের গায়ে হলুদ। তুই বরং কাল গায়ে হলুদে বলে দিস।

স্নেহাঃ না না বিয়ের দিন বলতে হবে।
মিলনঃ আজই বলবো আমি।

লিয়াঃ ভাইয়া এটা ঠিক না।
স্নেহাঃ একদম বিয়ের আগ পর্যন্ত। রোহিনী জানবে মিলন আমার হবু স্বামী!

_ কি হচ্ছে এখানে?
রোহিনী’র কথায় সবাই তাকালো।

রুবেলঃ তুই কখন এলি?
রোহিনীঃ মাএ এলাম আর স্নেহা আপু। মিলন ভাইয়া তোমারই স্বামী। তোমাকে কেউ বলেনি অন্যকারো।

আজও রোহিনী শেষেরটুকু শুনেছে।
রোহিনীঃ Anyway শপিং করতে যাবেনা?

মিলনঃ আমি কারো কথা শুনবো না। রোহিনী কে আজই বলে দেবো। তবে শপিং করে এসে বলবো। [মনে মনে]
কাদেরঃ হ্যা সবাই গিয়ে Fresh হয়ে নাও।

রোহিনীঃ আমি তো যাচ্ছি কে যাবে না যাবে। সেটা একান্ত তার ব্যাপার।
রোহিনী নিচে এসে Fresh হয়ে নিলো। এরপর রোহিনী ওর মায়ের কাছে গেলো!

রোহিনী’র মাঃ রোহিনী আয় মা।
রোহিনী গিয়ে ওর মায়ের কাছে বসে কোলে মাথা রাখলো।

রোহিনীঃ মা ঠিকমত খাবার খাবে। ঔষুধ ঠিকমত খাবে। একদম অনিয়ম করবে না। আমি তো আর থাকবো না!
রোহিনী’র মা রোহিনী কে ওঠালো।

রোহিনী’র বাবাঃ এসব কি কথা রোহিনী?

রোহিনীঃ মা তুমি কি ভুলে গিয়েছো? কাল আমার গায়ে হলুদ। পরশুদিন আমার বিয়ে। বিয়ের পর তো ওখানেই থাকবো।
রোহিনী’র মাঃ তাই বলে এভাবে বলবি? [কেঁদে]

রোহিনী’র বাবা আর আরমানও চলে এলো।

আরমানঃ একি মা কাঁদছো কেন?
রোহিনীঃ আমি বলেছি আমি আর থাকবো না। তাই মা এভাবে কাঁদছে।

আরমানঃ থাকবি না মানে?
রোহিনীঃ ভাইয়া তুইও?

রোহিনী’র বাবাঃ এটা কেন বললে?
রোহিনীঃ উফ বাবা পরশুদিন আমার বিয়ে। এরপর তো আমি শ্বশুরবাড়ি থাকবো। তাই বলেছি আমি আর থাকবো না।

আরমানঃ আরে এভাবে বলে?
রোহিনীঃ শোন তুই কিন্তু মা-বাবা’র খেয়াল রাখবি।

রোহিনী রুম থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর মিলনে’র মায়ের কাছে আসে।
মিলনে’র মাঃ আরে রোহিনী মা তুই?

রোহিনীঃ কেন ফুপ্পি আসতে পারিনা?
মিলনে’র মাঃ দেখো পাগলি কি বলে? আসতে পারোমান না কেন? আয় এসে বয় তো।

রোহিনীঃ ফুপ্পি নিজের খেয়াল রাখবে। একদম নিজের অযত্ন করবে না। মিলন ভাইয়া কে বলবে যেন। ওহ এখন তো স্নেহা ভাবী আছে। তোমাদের জন্য মিলন ভাইয়া’র জন্য!
সবাই Ready হয়ে রোহিনী কে ডাকছে। রোহিনী নিচে চলে গেলো!

মিলনঃ রোহিনী চলো।
রোহিনীঃ মিলন ভাইয়া আমি একটু বাড়ি যাবো।

আরমানঃ কেন?
রোহিনীঃ আমার Important কিছু আছে। ওটা আনতে যাবো। তোমাদের যেতে হবেনা আমার বর। আমার সাথে যাবে, তাইনা?

মিলনঃ No কিছুতেই না।
রোহিনীঃ কেন?

স্নেহাঃ আমরা সবাই যাবো।
রোহিনীঃ এ্যা।

মিলনঃ এ্যা নয় হ্যা চলো!
অতঃপর সবাই মিলেই এলো।

রোহিনীঃ তোমরা থাকো আমি নিয়ে আসছি।
মিলনঃ আমি আসছি।

রোহিনীঃ No need!
রুবেলঃ ও আমাদের বাড়ি যেতে চাইবে না তো?

লিয়াঃ গেলে কি হবে?
রুবেলঃ ভাইয়া ওর রুমে রোহিনী’র। ইয়া বড় ছবি টাঙিয়েছে। ওটা দেখে নিলে বুঝে যাবে।

নুরিঃ আসলেই কথা ঠিক।
আরমানঃ এখানে তো নাকি ওর কাজ আছে তাই এসেছে। তোদের বাড়ি কেন যাবে?

কাদেরঃ হ্যা সেটাই তো।

রোহিনী একা একাই ভেতরে গেলো। সম্পূর্ণ বাড়ি ঘুরে দেখলো। আর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। কেউ যাতে না বোঝে তাই মুখে পানি দিয়ে এলো।

রুবেলঃ মুখ ভেজা কেন?
রোহিনীঃ বাবা রে যেই গরম। তাই পানি দিয়েছি এবার চলো।

সারা রাস্তা রোহিনী মজা করতে করতেই গেলো। এতে করে কেউ বুঝলো না। রোহিনী’র এই হাসি আর এই মজা। এসবের আাড়ালে লুকিয়ে আছে। বুকফাটা চিৎকার, কান্না। আর লুকিয়ে আছে কি জানতে পারবেন!

গাড়ি থেকে নেমে সবাই ভিতরে গেলো।

রোহিনীঃ আমি আগে কিনবো।
মিলনঃ একসাথেই কেনা হবে।

মিলন সবার জন্যই কিনছে। রোহিনী একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মিলন কে মন ভরে দেখছে!

রোহিনীঃ অনেক স্বপ্ন ছিলো মিলন। আর ছিলো একবুক আশা, ভালবাসা। আমি বলবো না তুমি আমাকে। ভালবাসা দাওনি দিয়েছো। মিথ্যে করে হলেও দিয়েছো। তোমার সাথে সারাজীবন থাকা। হয়তো আল্লাহ আমার কপালে লেখেনি। কিন্তু যেই কটা দিন। তুমি আমার সাথে ছিলে। আমাকে ভালবাসার অভিনয় করেছিলে। ওগুলো আমার কাছে অনেক। তুমি তো আমাকে সংসারের স্বপ্ন দেখিয়েছিলে। তোমার সাথে আমার সংসার। পরশুদিন থেকে আমার স্বপ্নের সংসার। তোমার আর স্নেহা আপুর হবে। কিন্তু তুমি কি জানো?

তোমার দেখানো সেই স্বপ্নের সংসার। আমি রোজ রাতে সাজিয়েছি। কিন্তু তুমি তো আমাকে। বালির ঘর বালির সংসারের স্বপ্ন দেখিয়েছো। তাইতো আমার চোখের পানিতে। সেই সংসার সেই ঘর ভেঙে গিয়েছে। আমি চাই তুমি সুখী হও। স্নেহা আপুর সাথে অনেক অনেক সুখী হও। আমার সাথে অভিনয় করার পরও চাই। কেন জানো? ভালবাসি তোমাকে অনেক। তাই ক্ষতিটা তো চাইতে পারলাম না। রোহিনী নামের কেউ আর কোনদিন। তোমাকে বলবে না ভালবাসি। মিলন বলোনা ভালবাসি। [মনে মনে]

রুবেল দেখলো রোহিনী মিলন কে দেখছে। রুবেল মুচকি হেসে বললো।

রুবেলঃ অন্যর বর কে দেখিস কেন?
রোহিনীঃ তুইও আমাকে বুঝলি না রুবেল। তোদের সবাই কে। অনেক জ্বালাতাম তাইনা? খুব বেশী জ্বালাই। আজকের পর আর জ্বালাবো না কাউকে। [মনে মনে]

রোহিনী দৌড়ে গিয়ে কারো পরোয়া না করে। সবার সামনে মিলন কে জড়িয়ে ধরলো। সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। মিলন নিজেও অবাক হলো।

স্নেহাঃ হায় কি রোমান্টিক সিন।
লিয়াঃ আপু তুমি তোমার অভিনয় শুরু করো।

স্নেহাঃ ওহ হ্যা, রোহিনী তুমি কি করছো?
রোহিনী’র মনে হলো কি করছে ও? তাই মিলন কে ছেড়ে দিলো।

রোহিনীঃ এটা কি করছি আমি? মিলন এখন স্নেহা’র। [মনে মনে]
অভিঃ কি করছিস তুই?

রোহিনী করুন চোখে অভি’র দিকে তাকালো।
রোহিনীঃ তুমি তো সব জানতে ভাইয়া। মিলন কে আমি কত ভালবাসি। তুমিও আমার কথা ভাবলে না? [মনে মনে]

রোহিনী’র এই চাহনি তে অভি’র কষ্ট হচ্ছে।
অভিঃ ধুর মিলন কি বলবে? আমিই আজ বলে দেবো রোহিনী কে। [মনে মনে]

মিলনঃ কি হলো রোহিনী?
রোহিনীঃ Sorry মিলন ভাইয়া।

সবাই আবার শপিং করতে লাগলো। রোহিনী আস্তে করে বেরিয়ে এলো। রোহিনী বেরিয়ে এসে সোজা মেইন রোডের পাশে চলে এলো। গাড়ি আসছে আর যাচ্ছে। থামার কোন নাম নেই। একটা যাচ্ছে তো আরেকটা আসছে। রোহিনী ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মিলন খেয়াল করলো রোহিনী নেই!

মিলনঃ রোহিনী কোথায়?

সবাই এগিয়ে এলো।

স্নেহাঃ এখানেই তো ছিলো।
মিলনঃ কিন্তু কোথায় গেলো?

কাদের জানালার কাছে ছিলো। কাদের উপড় থেকে দেখলো। রোহিনী মেইন রোডে উঠছে!

কাদেরঃ Ohhh no মিলন তাড়াতাড়ি নিচে চলো।
রুবেলঃ কেন?

কাদেরঃ কথা বলার সময় নেই।

ওরা তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলো। ততক্ষণে রোহিনী রোডে গিয়ে দাড়িয়েছে।

মিলনঃ এখানে এলে কেন? রোহিনী কোথায়?
কাদেরঃ সামনে তাকাও।

সামনে তাকিয়ে মিলন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। শপিং মল থেকে মেইন রোড। বেশ কিছুটা দুরে!

মিলনঃ রোহিনী। [চেচিয়ে]

রোহিনী ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো। সামনে থেকে দ্রুতগতিতে গাড়ি আসছে। মিলন সেটা দেখে দৌড় দিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। মিলন এগিয়ে আসতে আসতে। গাড়িটা সজোরে রোহিনী কে ধাক্কা মেরে চলে গেলো। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে আছে রোহিনী’র নিথর দেহ। সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। চোখগুলো স্থির হয়ে আছে সবার। কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। মিলন সেখানেই দাড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছে। ফিনকি দিয়ে রোহিনী’র মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। সমস্ত শরীর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে। রোহিনী আজ সাদা চুরিদার পড়েছিলো। সাদা ড্রেস সম্পূর্ণ লাল হয়ে গিয়েছে। লোকজনের চেঁচামেচিতে হুশ এলো। মিলন দৌড়ে রোহিনী’র কাছে গেলো। সবাই ছুটে এলো। রোহিনী’র ঠোটগুলো নড়ছে। চোখের কোনা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে!

মিলন রোহিনী’র মাথা নিজের কোলে নিলো।
মিলনঃ রোহিনী এটা কি করলে তুমি?

রোহিনীঃ আমি পারিনি। আমি তোমাকে ভালবাসি। কাদের কে কি করে বিয়ে করতাম? ভেবেছিলাম কাদের’র সাথে ওমন করলে। তুমি আমার কাছে ফিরবে। কিন্তু না তুমি ফিরলে না। চোখের সামনে তোমাকে অন্যকারো হতে। আমি দেখতে পারবো না। তাই আমি চলে যাচ্ছি!

মিলনঃ একটা থাপ্পর মারবো। কোথাও যাবিনা তুই। তুই আমার বউ আমি তোকে যেতে দেবোনা।

রোহিনী প্রশ্নবোধক ভাবে তাকালো!

কাদেরঃ ও ঠিকই বলেছে রোহিনী। কাল তোমার আর ওর বিয়ে হয়েছে। তুমি ড্রিংক করে যেই পেপারসে সাইন করেছো। ওটা তোমার আর মিলনে’র। বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারস ছিলো।
স্নেহাঃ এমনকি তোমার বিয়েও। মিলনে’র সাথেই ঠিক হয়েছে।

রুবেলঃ তোকে Surprise দিতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা ইচ্ছে করে লুকিয়েছি।
আরমানঃ রোহিনী এটা কি করলি?

অভিঃ তোর কিছু হবেনা বোন।
রোহিনী’র চোখ খুশিতে চিকচিক করছে।

রোহিনীঃ এসব সত্যি মিলন?

মিলনঃ হ্যা সব সত্যি তুমি এমন কেন করলে? আমি আজই তোমাকে সব বলতাম। রোহিনী অনেক ভালবাসি তোমাকে। এমন করো না আমার সাথে। আমাকে ছেড়ে যেয়োনা। তুমি তো আমাকে ভালবাসো, তাইনা?
রোহিনীঃ অনেক।

মিলনঃ তাহলে বলো ভালবাসি।
মিলন বাচ্চাদের মতো কান্না করছে।

রোহিনী মিলনে’র শার্টের কলার। শক্ত করে চেপে ধরলো।

রোহিনীঃ আমি তোমার বউ। আমি মিলনে’র বউ মিসেস মিলন চৌধুরী। আমার আর কোনো কষ্ট নেই। আ আ আমি তো তো তোমাকে।

রোহিনী জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। চোখগুলো বুজে আসছে। সবাই কান্নাকাটি করছে। মিলন তো পাগলের মতো করছে!

রোহিনীঃ আ আমি ম মরতে চা চাইনা মিলন।
মিলনঃ তোমার কিছু হবেনা রোহিনী।

রোহিনীঃ তি মিলন ভা ভা ভাল বা আহহহহ!

জোড়ে একবার শ্বাস নিয়ে। রোহিনী মিলনে’র কলার ছেড়ে দিলো। হাতটা ঠাস করে পড়লো। চোখদুটোও বন্ধ করে নিলো। মিলন পাগলের মতো ডাকছে।

মিলনঃ রোহিনী চোখ খোলো।

রাস্তার সবাই বলাবলি করছে বেঁচে নেই।

মিলনঃ না বেঁচে আছে আমার রোহিনী বেঁচে আছে।

মিলন রোহিনী কে কোলে নিয়ে। একটু দুরে একটা হসপিটালে গেলো। অভি সবাই কে জানিয়ে দিয়েছে। সবাই চলে এসেছে হাসি খুশি সব কান্নায় পরিনত হয়েছে। রোহিনী’র মা বারবার বেহুশ হচ্ছে। মিলন ডক্টর কে জোড়ে ডাকছে। ডাক শুনে ডক্টর ছুটে এলো।

ডক্টরঃ কি হয়েছে ওনার?
মিলনঃ ডক্টর ওকে ঠিক করে দিন। ওকে বাঁচিয়ে দিন Please। ও না বাঁচলে আমিও বাঁচবো না।

ডক্টর রোহিনী কে দেখছে। রোহিনী’র হাত ধরে চেক করলো। চেক করে ডক্টর আতকে উঠলো!

আরমানঃ ডক্টর ওর ট্রিটমেন্ট করুন।
অভিঃ ওকে এখানে রেখেছেন কেন?

রুবেলঃ Please ওকে দেখুন।
মিলনঃ ও মাথায় আঘাত পেয়েছে। ওর অপারেশন করতে হবে তাইনা? আপনার যা করার করুন। কিন্তু আমার Wife কে ঠিক করে দিন।

ডক্টরঃ Wife?
মিলনঃ হ্যা ও আমার Wife। কালই আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি মিলন আর ও। আমার Wife মিসেস মিলন চৌধুরী।কিন্তু কেউ জানেনা শুধু আমরা জানি। Please ডক্টর আমার Wife কে বাঁচিয়ে দিন। [কেঁদে]

ডক্টর দুচোখের পানি ছেড়ে দিলো। উনিও সহ্য করতে পারছে না।

ডক্টরঃ I am sorry মিস্টার মিলন।
মিলনঃ মা মা মানে? [কাঁপা গলায়]

ডক্টরঃ She is no more। আপনার Wife ১০মিনিট আগেই মারা গিয়েছে।

আরমান ধপ করে বসে পড়লো। কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। যে মেয়েটা সবাই কে মাতিয়ে রাখতো। সে মেয়েটা আর নেই? সবার চোখে পানি। মিলন চুপ করে আছে। হঠাৎ পাগলের মতো হাসতে লাগলো। সবাই অবাক হয়ে গিয়েছে। আবার ভয়ও পাচ্ছে!

মিলনঃ আসলে ও রাগ করেছে। তাইতো এভাবে চুপ করে আছে। ওকে বলিনি আগে সত্যিটা তাই ও। আমাকে শাস্তি দিতে চাইছে। এই রোহিনী অনেক শাস্তি দিয়েছো। এবার ওঠো আমার সাথে কথা বলো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি আর এমন করবো না। তোমার কাছে কিছু লুকোবো না। এবার ওঠো Please!

রোহিনী’র মাঃ ওকে বোঝা রোহিনী আর নেই। নিজেদের ভুলে মেয়েটা কে হারিয়েছি। [কেঁদে]

কাদেরঃ মিলন ও আর উঠবে না।
মিলনঃ কেন? ওর রাগ কমেনি?

অভিঃ মিলন রোহিনী আর নেই!
মিলনঃ না না রোহিনী আছে। রাগ করে আছে বুঝেছো?

মিলন পাগলের মতো করেই যাচ্ছে। কারো কথা শুনছে না। আরমান গিয়ে ঠাস করে চর মারলো। মিলন ঠোট উল্টে তাকিয়ে আছে।
মিলনঃ মারলে কেন?

আরমানঃ রোহিনী মরে গিয়েছে শুনেছিস? মরে গিয়েছে রোহিনী। ও আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।

মিলন স্থির হয়ে আছে। হঠাৎ রোহিনী বলে চিৎকার করে। নিচে বসে পড়লো হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। হসপিটালের প্রত্যেকটা লোকের চোখে পানি। মিলন কাঁদার মাঝেই আবার হেসে দিলো। একবার কাঁদছে তো একবার হাসছে। এবার সবাই অনেক ভয় পেয়ে গেলো। সবার এখন নিজেদের অপরাধী লাগছে।

কাদেরঃ ডক্টর ও এমন করছে কেন?
ডক্টরঃ My god উনি তো মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে।

স্নেহাঃ What?
ডক্টরঃ ওনার Wife এর মৃত্যু উনি মানতে পারেনি। অনেক শকড থেকে এটা হয়েছে। যাকে আমরা Mental patient বলে থাকি!

এবার মিলনে’র মাও অসুস্থ হয়ে পড়লো। ঠিক যেন মৃত্যুপুরী। মিলন পাগলের মতো করেই যাচ্ছে। রোহিনী’র মৃত দেহ বাড়ি নিয়ে এসেছে। মিলন হাত ছাড়ছেই না। অনেক কষ্টে মিলন কে ধরে রেখেছে। মিলন সমানে রোহিনী রোহিনী বলে চিৎকার করছে। অতঃপর রোহিনী’র দাফন শেষ হলো। মিলন কে রাখতে পারছে না। বারবার রোহিনী’র কবরের কাছে চলে যাচ্ছে। মিলনে’র পাগলামীর জন্য। মিলন কে ওদের বাড়ি নিয়ে এসেছে!

২বছর পর……..

মিলন নিজের রুমে। রোহিনী’র যে ছবিটা টাঙিয়েছিলো। সেই ছবিটার সামনে দাড়িয়ে আছে। চুলগুলো এলোমেলো। কোনো হাল নেই। শার্টের একপাশ ছোট একপাশ বড়। চোখের নিচে কালি পড়ে গিয়েছে। মুখে কোন উজ্জলতা নেই। জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে। আরমান, রুবেল, লিয়া, নুরি, স্নেহা, কাদের, অভি!

স্নেহা আর কাদের বিয়ে করেছে। কারো জন্য তো কারো জীবন থেমে থাকেনা!

মিলনঃ চলে গেলে আমাকে ছেড়ে? আমি এত খারাপ? আমার সাথে থাকা গেলো না?

বলেই মিলন চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। ওদের চোখে পানি। একটুপর আবার হাসতে লাগলো।

মিলনঃ না আমি এসব কি বলছি? আমি জানি তুমি আমাকে ছেড়ে যাওনি। ওরা আমাকে তোমার কাছে যেতে দেয়না। জানো এখানে আটকে রাখে। রোহিনী বলোনা ভালবাসি। তুমি তো আমাকে ভালবাসো। তাহলে কেন বলোনা তুমি?

একবার বলো ভালবাসি!

মিলন আবারও চিৎকার করে কাঁদছে। এটা নতুন কিছুনা। রোহিনী মারা যাওয়ার পর থেকে। রোজ এরকম হয়। মিলন কে বাইরে বের করেনা। একদিন রাতে বের করেছিলো। সেই রাতেই রোহিনী’র কবরের কাছে গিয়ে ওখানেই শুয়ে ছিলো। অনেক কষ্টে এনেছে। এই ২বছরে কারো চোখের পানি শুকায়নি। একটা ভুলে সব শেষ হয়ে গিয়েছে!

সমাপ্ত

একবার বলো ভালবাসি
লেখিকাঃ তিশা ইসলাম নাবিলা

আরো পড়ুনঃ একবার বলো ভালবাসি – সিজন ১ । কষ্টের ভালোবাসার গল্প কাহিনী

Related posts

হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প – বেলা শেষে পর্ব ২৩ | Love Story

valobasargolpo

হারিয়ে খুজবে আমায় – কষ্টের লেখা গল্প

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!