কষ্টের প্রেমের গল্প

অসমাপ্ত ভালবাসা – ব্যর্থ প্রেমের গল্প (সিজন ১)

অসমাপ্ত ভালবাসা – ব্যর্থ প্রেমের গল্প: আর এক মুহুর্ত দেরি না করে সোজা চলে গেলাম বিয়েতে। শিমুল সেখানেই মুর্তির মতো দারিয়ে রইলো। আর বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই ও বাড়ি ফিরে গেলো। ওর পক্ষে সম্ভব হলো না দারিয়ে আমার বিয়ে দেখার।


মূলগল্প

আমি দিবা, বাবা মার একমাত্র আদরের মেয়ে। সবাই বলে আমি নাকি আদরে আদরে বাদর হয়েছি। কিন্তু আমি বলি আমি আমার মা আর বাবা ছারা সবাই বাদর হি হি হি।
আজ আমার খুব আনন্দের দিন। যদিও বেশ কিছুদিন হলো মনটা খারাপ ছিলো কিন্তু আজ খুব আনন্দ লাগছে।

কিছুদিন মন খারাপ থাকারো একটা কারণ আছে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। কেবল মাত্র ১৫ বছর বয়স আমার এত কম বয়সে কেউ কি বিয়ে করে নাকি। কিন্তু কি আর করার ছেলে পক্ষ আমায় খুব পছন্দ করেছে। তাই বাবা মাও রাজি হয়ে গেছে আমায় বিয়ে দিতে। ছেলেরা নাকি অনেক বড় বাড়ির লোক তাই মা বাবা আর মানা করতে পারেনি। আর আমার মা বাবা যেখানে খুশি আছেন আমি সেখানে খুশি না হয়ে কি পারি। আমি আমার মা বাবাকে অনেক ভালবাসি। তাদের জন্য আমি সব করতে পারি।

আজ আমি এতো খুশি তারও একটা কারণ আছে। আসুলে আমি আর মা কালকে আমার দাদার বাড়ি চট্টগ্রামে ঘুরতে যাবো। এর আগে কখনো যাইনি এমনকি মাও কখনো যায় নি। আসুলে আমার বাবা রংপুর আসছিলো একটা কাজে আর এই কাজে এসে মাকে দেখেই ফান্দে পরে যায় মানে প্রেমে পরে যায় আরকি। তারপর আমার দাদা এসে তাদের বিয়ে দিয়ে চলে যায়। আর বাবাও রংপুরেই থেকে যায়। মজার ব্যাপার হলো বাবা মার বিয়ে হইছে প্রায় ২০ বছর অথচ মা এখনো আমার দাদা বাড়ি দেখেনি।তাই এতো বছর পর আমি আর মা যাচ্ছি চট্টগ্রামে দাদার বাড়ি। দাদা মারা গেছেন আমার জন্মের আগেই। ওখানে এখন আমার চাচা আর ফুফুরা আছেন।

ইসস আমার আজকের দিনটা যেনো আর ফুরোচ্ছেনা। কখন যে সকাল হবে আর আমরা চট্টগ্রাম যাবো এই আনন্দেই আজকের দিনটা যেনো ৭ দিনের সমান হয়ে গেছে। অবশ্য আমার এত আনন্দ হওয়ার আরও একটা কারণও আছে। আর সেই কারণটা হলো আমার চাচাতো বান্দর মার্কা ভাই শিমুল।

শিমুল ভাই ৩ মাস আগে আমাদের এখানে একবার বেরাতে এসেছিলো। তখনি আমাদের প্রথম পরিচয়। তবে ও একদিন থেকেছিলো আমাদের বাসায়। আগের দিন এসে পরের দিন চলে গেছে। আর এই একদিনেই আমায় অনেক জালাতন করছে। আমার চুল ধরে টানছে। আমায় নাকি পেচির মতো দেখতে আমার নাক নাকি কেউ ঘুসি দিয়ে চ্যাপ্টা করে দিছে এগুলা বলে আমায় অনেক জালাইছে। ঐ বান্দরটা জানে না ও কার পিছনে লেগেছে। আমি ওকে হারে হারে মজা টের পাওয়াবো।আগে চট্টগ্রাম তো যেয়েনিই।আমার নামও দিবা আমি ওকে ছারছি না। বাছাধন রেডি থাকো তোমার জম হয়ে আমি আসতেছি।

সারারাত আর ঘুম হলো না ভাল করে। সকালে উঠেই রেডি হলাম যাওয়ার জন্য। সকাল ৮ টার গাড়িতে যাবো।
মা আর আমি বাসে উঠে পরলাম। বাবা আমাদের এগিয়ে দিয়ে গেলো। বাবার অফিসে অনেক কাজ আছে তাই যেতে পারলো না আমাদের সাথে। একদিক দিয়ে ভালই হলো বাবা থাকলে ঐ বান্দর টাকে মজা দেখাতে পারতাম না। বাবাকে খুব ভয় পাই আমি।

অবশেষে অপেক্ষা শেষ করে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছাতে পারলাম। ঠিকানাটা ভালো করে জেনেই এসেছিলাম তাই কোনো অসুবিধা হলো না। আর বাসিস্পট থেকে ঐ বান্দর পোলাটাই আমাদের নিয়ে গেলো। আমি এখনো কিছু বলছি না ওকে। আগেতো বাড়ি পৌঁছে নি তারপর যা করার করবো।
বাড়িতে চলে এলাম। আমাদের নিয়ে এসেই ঐ বান্দর টা চাচিকে বললো,
_ মা তারাতারি একগ্লাস পানি দাও তো খুব তেস্টা পেয়েছে।

_ একটু দারা আমি তোদের সবাই কে সরবোত বানিয়ে দিচ্ছি। (চাচি বললো)

_ দারাও বাছাধন তোমায় সরবোত খাওয়াচ্ছি। (আমি মনে মনে বললাম)
_মা একটু পানি দাওতো খুব তেস্টা পেয়েছে। (শিমুল)

_ একটু বস আমি তোদের সবার জন্য সরবত করে আনছি। (চাচি)
_ দারাও বাছাধন তোমায় আমি সরবত খাওয়াচ্ছি। (মনে মনে বললাম)

_ এই যে বুবু আগে তুমি খাও, দিবা মা তুমিও নাও সরবত খাও অনেক রাস্তা যান্নি করে এসেছো। (চাচি)
_ আমারটা কই আমি আগে চাই লাম, বললাম আমার খুব তেস্টা পেয়েছে আর তুমি আমায় না দিয়ে আগে ঐ বান্দরনি রে দিতাছো। (শিমুল)
_ ঐ তুই আমাকে কি বললি আমি বান্দরনি। তোর এত্ত বড় সাহস তুই আমারে বান্দরনি কস।এখন থেকে বুজবি বান্দরনি কাকে বলে। (আমি)

_ এই শিমুল তুই এমন কোরছিস কেনো রে ওরা অনেক দুর থেকে যান্নি করে আসছে ওরা আগে খাক তারপর তোকে দেবো।দিবা মা তুমি কিছু মনে করোনাতো ও এমনি। (চাচি)
মনে মনে রাগনিয়েও মুখে মুচকি হাসি দিলাম।

আমাদের সরবত খাওয়া হয়ে গেছে এবার চাচি ঐ বান্দরটাকে সরবত দিতে যাবে তখনি আমি চাচির হাত থেকে গ্লাস টা নিয়ে ঢকঢক করে সরবত টুকু খেয়ে নিলাম। হি হি হি
_ ঐ বান্দর এখন যা পেট ভরে পানি খা। তোর কপালে সরবত নাই। হিহিহিহি।

_ ঐ তোর সাহস তো কম না তুই আমার সরবত খেয়ে নিলি। তবেরে তোর খবর আছে।তোকে আমি দেখে নেবো। (শিমুল রাগি কন্ঠে বললো)
_ এই শিমুল তুই থাম তো মেয়েটা কতো দুর থেকে আসেছে তাই হয়তো খুব পিপাসা লেগেছিলো, নাহয় তোর একটু সরবত খাইছে তাই এমন করতে হয়।চল তোকে আমি আবার সরবত বানিয়ে দেই। (চাচি)

_ না থাক আমি আর সরবত খাবো না পানি খেয়ে নিচ্ছি। তুমি তোমার ঐ আদরের বান্দরনিকেই খাওয়াও বেশি করে। (শিমুল)
আমি ঘরে গিয়ে জামা কাপর চেঞ্জ করে নিলাম। তরপর একটু ফ্রেস হয়ে টেবিলে খেতে চলে এলাম।মাও সাথে এলো।

_ মা তারাতারি খেতে দাওতো খুব খুধা লেগেছে। এতক্ষণ না খেয়ে থাকা যায়। (শিমুল)
_ কেনো তুমি এতক্ষণ না খেয়ে ছিলে কেনো বাবা। বেলাতো অনেক হয়ে গেছে। (মা)

_ আর বইলোনা বুবু তোমরা আসবে যেনে ও না খেয়ে আছে। আমি খেতে বললে বলছে তোমরা এলে একসাথে খাবে। (চাচি)

_ আসলেতো ব্যাপারটা তা নয় চাচি। আসুলে তোমার ছেলে ডায়েট করছে। ঢ়ে মোটার মোটারে বাবা পুরাই একটা জলহস্তী’র মতো।হি হি হি হি (আমি)
_ এই দিবা তুই থামবি আসার পর থেকেই দেখছি তুই ছেলেটার পিছে পরে আছিস। আর ও কোথায় মোটা, এতো সুন্দর ছেলেকে কেউ মোটা বলে। (মা)
_ হয়েছে হয়েছে এবার সবাই খাওয়া শুরু করোতো। অনেক বেলা হয়ে গেছে। (চাচি)

ঐ বান্দরটার দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ দুটো বড় বড় রসগোল্লার মতো করে আমার দিকে রাগে তাকিয়ে আছে, মনে হয় এখুনি চোখ দিয়ে গিলে খাবে।
আমার মাথায়ও একটা বদ বুদ্ধি এলো। টেবিলের নিচে থেকে দিলাম পায়ে জোরে করে একটা চিমটি। আর ওমনি চিৎকার করে উঠলো বান্দরটা।
_ কিরে কি হয়েছে এতো জোরে চিৎকার দিলি কেনো। (চাচি আর মা)

_ কি আবার হবে পাগলের চিৎকার দিতে আবার কোনো কারণ লাগে নাকি। তোমার ছেলেতো বদ্ধ পাগল তাই চিৎকার দিছে হয়তো। হিহি হি হি। (আমি)

_ এই দিবা তুই থামতো সব কিছুতে শয়তানি না করলে ভাললাগেনা না।এই জন্যেই সবাই বলে আদরে আদরে বাদর হইছিস।কি হইছে বাবা তোমার ওমন করে চিৎকার দিলা কেনো? (মা)
_ কিছু না চাচি মনে হয় কোনো বিশ মান্জুল কামর দিছে।এখন ঠিক আছে। (আমার দিকে রাগি নজরে চেয়ে বলল শিমুল)

_ কিছু না চাচি মনে হয় কোনো বিষ মান্জুল কামর দেছিলো, এখন ঠিক আছে। (আমার দিকে রাগি নজরে চেয়ে বললো শিমুল)

_ কি আমি বিষ মান্জুল বান্দরটার সাহস তো দেখছি বেরেই যাচ্ছে তার ওপর আবার আমার মাও ওর পক্ষ নিয়ে কথা বললো। তোমারে আমি খাইছি মিস্টার চান্দুমিয়া। (মনে মনে বললাম)
খাওয়া দাওয়া শেষ করে উঠে পরলাম সবাই। তারপর রুমে গিয়ে টিভি ওয়ান করে গান শুনছি (পাগল তোর জন্যে রে পাগল এ মন পাগল) ওমনি ঐ বান্দরটা ঘরে ঢুকলো তারপর রিমোর্টটা নিয়ে খেলার চ্যানেলে দিয়ে খেলা দেখা শুরু করলো।

_ ঐ ঐ ঐ ঐ তুই চ্যানেল চেঞ্জ করলি কেন হুম? (রাগি গলায় বললাম)

ঐ ঐ ঐ ঐ তাতে তোর কি হুম, আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে দিয়ে টিভি দেখবো তোকে বলতে হবে বান্দরনি, বিষ মান্জুল। হা হা হা(শিমুল) ঐ তুই আমাকে কি বললি। ওমা ওচাচি গো আমি আর এখানে থাকবো না কালকেই চলে যাবো বাড়িতে। (এমনি এমনি বান্দরটাকে ভয় দেখানোর জন্য বললাম)হিহিহিহি
_ কি হইছে মা দিবা চেচামেচি করছো কেনো(চাচি)

_ দেখনা চাচি আমার এখানে তো কথা বলার মতো কেউ নেই তাই একটু গান শুনছিলাম। আর তোমার ঐ বান্দর ছেলেটা এসে খেলা দিয়ে দেখছে। আবার আমায় খোটা দিয়ে বলল যে এটা আমার বাড়ি তুই চলে যা আমার বাড়ি থেকে। আর আমার টিভি আমি যা খুশি দেখবো তাতে তোর কি। হু হু হু হু আমি আর এই বাড়িতে থাকবো না। এতবড় অপমান এই দিবা কে। (মিথ্যা বানিয়ে বানিয়ে বললাম কারণ আমি যানি শিমুল চাচিকে খুব ভয় পায়। এবার দেখবা মজা মিস্টার হনুমান মশাই। হিহিহি)
_ ঐ আমি এগুলা কখন বললাম তোকে হুম মিথ্যা কথা বলিশ কেন? (শিমুল)

_ দেখেছো চাচি এখন কেমন নিজের দোষ ঢাকার জন্য আমায় মিথ্যা বাদি বলছে। (আমি)
_ ঐ তুই আমার এমন সুন্দর লক্ষি দিবা মার সাথে এমন কথা কেনো বললি হম। (চাচি)

ইসস মা লাগছে ছারো ছারো কানটা ছিরে গেলো যে। (শিমুল) দিবা মা তুই আর রাগ করিস না। তোর যা ইচ্ছা তাই দেখ শিমুল আর তোকে কিছু বলবে না। আর এই শিমুল এমনিতে তো সারাদিন গান শুনিস তুই তো খেলা দিখিস না। আজ আবার এমন করলি কেনো? (চাচি)

বান্দরটা আর কোনো কথা বললো না। চুপ করে বসে রইলো। আমিও আবর গানের চ্যানেল দিয়ে বসে পরলাম। আর হা হা হা করে হাসতে লাগলাম।
এমন সময় টিভিতে গান দিলো(এ গামবাড চল দুর হাট কখন থেকে বাজি বকছিস। এ কাটপিস যা চেপে যা পাংগা নিয়ে ভুল করছিস)
মনে হচ্ছে যেনো টিভিতে আমাদের মনের কথা রাগগুলো বুঝেই এমন গান দিছে। হি হি হি।

দুজনেই চুপ করে বসে আছি কেউ কিছু বলছি না। কিন্তু আমারতো ওকে শিক্ষা না দিলে ভালো লাগছে না তাই একটা দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় এলো।
_ হ্যালো হ্যাঁ কে বলছেন। ও সরি আপনি ভুল নাম্বারে কল করছেন। এখানে শিমুল নামে কেউ থাকে না হ্যা তবে একটা বান্দর ছেলে আছে তার নামও হয়তো শিমুল, আপনি কি সেই বান্দরটার কথা বলছেন? (আমি)

_ ঐ আমার ফোন তুই নিছিস কেনো। আর তোর সাহস তো কম না তুই কাকে আমার সম্পর্কে এমন বললি। (রাগ নিয়ে শিমুল বললো)

_ ওহো এটা তোর ফোন তাই জন্যেই বলি ফোনটা এতো বান্দর বান্দর গন্ধ কেন? এ্যা এটা আমার কাছে কখন দিলি ছি ছি এই নে তোর পঁচা ফোন। হি হি হি হি। (আমি)
_ তোর মতো মেয়ে ওফ মেয়ে বললে ভুল হবে তোর মতো শয়তান বান্দরনি মান্জুল মার্কা মেয়ে আমি আগে কখনো দেখিনি।

তোর মতো মেয়ে ওফ মেয়ে বললে ভুল হবে, তোর মতো শয়তান, বান্দর, মান্জুল মার্কা মেয়ে আমি জীবনেও দেখিনি। (শিমুল) ওহো আমার কি সৌভাগ্য পৃথিবীতে আমি তাহলে একজন ভিন্ন রকম সুন্দরী মেয়ে। জাকে সবাই দেখতে চায়। হি হি হি হি(আমি)
_আরে ঐ সপ্নের জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আয়। তোর মতো পেত্নী কে কেদেখতে চায় রে। (শিমুল)

_ কেনো তুই তো কেবল বললি যে আমার মতো মেয়ে তুই জীবনেও দেখিশ নি। ওওওওও এক মিনিট একমিনিট সেই জন্যেইতো বলি আমি এখানে আসার পর থেকে তুই আমার পিছু পরে আছিস কেনো। আমায় বার বার দেখবি বলে তাই না? অবশ্য তোরই বা দোষ কি আমার মতো এতো সন্দরী মেয়েকে দেখলেতো সব ছেলেরাই পাগলের মতো আমার পিছু পরে থাকবে। হি হি হি হি(আমি)

_ এএএএএএএ আইছেরে আমার সুন্দরী মাইয়া। আরে তোরে দেখলেতো ছাগলেও বমি করতে করতে মারা যাবে। তোকে তো পুরাই একটা শাকচুন্নির মতন দেখতে। আর তোর পিছে কে পরে আছেরে। আমার খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ কাম নাই যে আমি একটা বান্দরকে দেখে সময় নষ্ট করবো। (শিমুল)
আমি কিছু বলতে যাবো তখনি একজন আমার চেয়ে একটু বড় মেয়ে এসে বললো,

_ তুমিই দিবা? তোমায়তো অনেক সুন্দর দেখতে। পুরো সিনেমার নায়িকার মতো। আমি তোমার ফুফুর মেয়ে লামিয়া।
_ ওও আপু হ্যা আমিই দিবা যাক বাবা অবশেষে একটা কথা বলার মতো বোন পেলাম। তা লামিয়া আপু তুমি কি করো আর ফুফু কোথায় ওনাকে দেখছি না? (আমি)
আমাদের কথা শুনে শিমুল ভাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।

_ হ্যা মা এসেছে তো বাইরে মামির সাথে কথা বলছে। চলো আমরাও যাই। (লামিয়া আপু)
_ হুম চলো। (আমি)

_ আসসালামু আলাইকুম ফুফু কেমন আছো তুমি? আমি কিন্তু আপনি বলে কথা বলতে পারবো না হুম। আপনি বলে পর মানুষকে। আর তুমিতো আমার আপন মানুষ আমার ফুফু তাই তোমায় আমি তুমি করেই বলবো। (আমি)

_ ওয়ালাইকুমুসসালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তোমার যা ইচ্ছা তুমি আামায় তাই বলে ডেকো দিবা মা। ভাবি আমাদের দিবা মাকে দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দরী হয়েছে। (ফুফু)
_ আচ্ছা তোমরা কথা বলো আমি আর লামিয়া আপু গেলাম তোমাদের সাথে কথা বলতে বসলে নিজেকে বুড়ি মনে হবে। বলেই জ্বিহবায় কামর দিলাম।হিহিহিহি(আমি)
_ শয়তান মেয়েটাকে আর মানুষ করতে পারলাম না এতো দুষ্টু হয়েছেনা কি বলবো। (মা)

_ ও তো ঠিকি বলেছে আমাদের মধ্যে বসে থাকলে তো আসুলেই ওদের ভালো লাগবে না। তুমি যাও মা লামিয়াকে নিয়ে ঘুরে আসো। (ফুফু ও চাচি)
আমি আর লামিয়া আপু রাস্তা দিয়ে হাটছি আর গল্প করছি।
_ আচ্ছা আপু তোমাদের এখানে কোনো বেরানোর জায়গা নেই?

_ নেই মানে, অনেক আছে তোমায় একদিন কক্সবাজার সাগর কিনারায় বেরাতে নিয়ে যাবো। (লামিয়া)
_ তাহলে চলো কালকেই যাই। তুমি আর আমি মিলে অনেক মজা করবো সেখানে। (আমি)

থাকবেনা কেনো এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর ঘোরার জায়গা আছে। তোমায় একদিন কক্সবাজারে ঘুরতে নিয়ে যাব। এখন চলো বাসায় ফেরা যাক সন্ধ্যা হয়ে আসছে। (লামিয়া আপু) হ্যা চলো আপু, আমারও খুব টায়ার্ড লাগছে। (আমি)

বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে একটু সবার সাথে আড্ডা দিয়ে শুয়ে পরলাম।
_এর মধ্যে আর ঐ বান্দর শিমুল ভাই কে কোথাও দেখলাম না। হয়তো কোথাও গেছে। ইসস কখন থেকে একটু বেচারাকে খ্যাপাই না। সকালে বুঝবে চান্দু মজাটা কি। হি হি হি(মনে মনে বলে একা একাই হাসতে লাগলাম)

_ কিরে দিবা পাগল হলি নাকি এভাবে একা একাই হাসছিস কেনো?

_ এই রে, না মা কিছু না একটা মজার সপ্ন দেখেছি তাই হাসছি। (আমি)
_ আচ্ছা আচ্ছা এবার ঘুমিয়ে পরতো। (মা)

সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোওয়ার জন্য বাথরুমে যাবো তখনই দেখি শিমুল ভাই বাথরুমের দরজায় বসে দাত ব্রাশ করছে।
_ ঐ বান্দর তুই কি বসার আর জায়গা পাইলি না। যা সর আমি হাত মুখ ধোবো। (আমি)

আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে গরুটা বাথরুমে ঢুকে দরজাটা ঠাস করে বন্ধ করে দিলো। আমি আর কি করবো রাগে দুঃখে ঘরে এসে বসে পরলাম। সারা শরীরে যেনো রাগের চটে আগুন জলছে।
_ কিরে এখানে এভাবে বসে আছিস কেনো হাত মুখ ধুবি না। (মা)

_ কোথায় হাত মুখ ধুবো তোমাদের ঐ শিমুল গরুটাতো বাথরুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে। (রাগি গলাম আমি)
_ ঐ বান্দরনি আমি তো সেই কখন বাথরুম থেকে বেরিয়েছি। তুই কি চোখে কম দেখস নাকি হুম। (শিমুল)

_ এই মেয়েটাকে কি যে বলবো। রাতে একা একাই হাসে আবার বাথরুমে কেউ না থাকতেও বলে বাথরুম বন্ধ। আমাদেরই ভুল বেশি আদর দিয়ে দিয়ে এমন অবস্থা ওর। (মা)
_ হুম চাচি এই বান্দরনিটা মনে হয় পাগল হয়ে গেছে ওকে পাবনায় পাঠিয়ে দিন।আর কখনো নিয়ে আসবেন না। হা হা হা (শিমুল)

আমি বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছি মা ইচ্ছা করে ঐ বান্দরটার সাথে আৃায় নিয়ে মজা করছে। তাই ওদের মজাটা করতে না দিয়ে সরাসরি বাথরুমে চলে এসে রাগ করে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলাম। হাত মুখ ধুচ্ছি আর রাগে জ্বলছি। তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে সবার সাথে খেতে বসলাম।

_ এই দিবা আমি তোর চাচির সাথে শিমুলের খালার বাড়ি যাবো একটু পর,আসতে আসতে সন্ধ্যায় আসবো। তুই কি যাবি আমাদের সাথে? (মা)
_ না আমি লামিয়া আপুর সাথে এখানেই থাকবো, তোমরা যাও, আর তারাতারি ফিরে আসো। বলতে বলতে উউউ করে চিৎকার করে উঠলাম। (আমি)

_ কিরে কি হলো এমন চিৎকার করলি কেনো। যাবি না ভালো কথা আমরা কি তোকে জোর করে নিয়ে যাবো না কি তাই বলে এমন চিৎকার করতে হয়। (মা)
_ আমি সেই জন্যে চিৎকার করি নি। আমার পায়ে মনে হয় কোনো শয়তান বিষ মান্জুল কামর দিছে তাই চিৎকার করেছি। (আমি)

_ কি ব্যাপার এখানে এতো বিষ মান্জুল এলো কোথা থেকে, কালকে শিমুল কে কামরালো এখন আবার তোকে কামরালো। ঐ খানটা ভালো করে পরিস্কার করতে হবে। (চাচি)
আমার পায়ে আসলে ঐ শয়তান বান্দরটা চিমটি দিছে। আমিও ওকে ছারবো না। আগে মা আর চাচি খালার বাড়ি চলে যাক তারপর দেখাবো মজা কাকে বলে। আমার নামও দিবা। (মনে মনে বললাম)
মা আর চাচি আমাদের জন্য সব রান্না করে রেখে চলে গেলো আর লামিয়া আপুকে রেখে গেলো আমার কাছে সাথে ঐ শয়তান টাও আছে।

ওরা চলে যাওয়ার পর আমি আর লামিয়া আপু এসে টিভিতে গান শুনছি। আর তখনি ঐ বান্দরটা এসে আমার কাছ থেকে রিমোর্টটা কেরে নিলো তারপর বললো_
_ ঐ এবার তোকে কি করমু বল। এখন তো বাড়িতে কেউ নেই যে তোর হয়ে আমাকে বকা দিবে। কাল থেকে আমায় অনেক জ্বালাইছোস। এবার বুঝবি এই শিমুলের পিছু লাগার মজাটা কি বান্দরনি। (শিমুল)

_ ঐ ঐ ঐ ঐ তুই কি ভেবেছিস কেউ নাই বলে তুই আমায় জালাবি আর আমি বসে বসে আঙুল চুসবো। আমিও তোর খবর নিবো বলেই ইচ্ছা করে মার সাথে যাই নি গন্ডার। (আমি)
_এই তোরা কি শুরু করলি বলতো। তোরাতো দেখছি টম আর জেরির মতো করছিস। তবে আমার বেশ মজা লাগছে তোদের ঝগড়া দেখে। তোরা ঝগড়া কর আমি দেখি আর মজা নেই। হি হি হি(লামিয়া আপু)

_ঐ গন্ডারনি ওখান থেকে সর আমি ওখানে শুয়ে থেকে টিভি দেখবো। (শিমুল)

_ এএএএএ আইছেরে আমার জমিদার মশাই। যা যা এখান থেকে আমি এক চুলও নোরবো না দেখি তুই কি করে এখানে শুতে পারিশ। আমার নামও দিবা হুম(আমি)
_ আমি এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুনবো এর মধ্যে যদি তুই ওখান থেকে না সোরিস তবে আমি তোর গায়ের ওপর পানি ঢেলে দেবো বলে দিলাম হুম। (শিমুল)

_ আমি ১ থেকে ৫ পর্যন্ত গুনবো এর আগে যদি তুই এখান থেকে না উঠিস তাহলে আমি তোর গায়ে পানি ঢেলে দেবো। (শিমুল)
_ এএএএ তোকে দেখে কি আমি ভয় পাই নাকি যা যা অন্য কাউকে গিয়ে ভয় দেখা এই দিবা কে না। (আমি)
_ তবেরে দারা আমি আসতেছি বাইরে থেকে। (শিমুল)

ঐ গরুটাও বাইরে গেলো আর ওমনি কারেন্ট চলে গেলো।আর কি করার আমি আর লামিয়া আপুও বাইরে চলে এলাম।তারপর শিমুল ভাই কে বললাম
_ যা যা তোর জায়গা ছেরে দিয়েছি এখন বেশি করে শুয়ে শুরে টিভি দেখগে।হা হা হা (আমি)
শিমুল ভাই কিছু বলার আগেই আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম।

_ ওয়াও কি সুন্দর মেঘ ধরেছে আকাশে মনে হয় দিবা হবে আমি ভিজবো। কত দিন হলো দিবাতে ভিজি না। লামিয়া আপু তুমি ভিজবে দিবাতে আমার সাথে? (আমি)
_ নারে দিবা আমি কিছুক্ষণ আগেই গোসল করে এসেছি, এখন আর দিবাতে ভিজবো না। তুমি একাই ভেজো। কিন্তু চাচি আবার কিছু বলবে নাতো? (লামিয়া আপু)
_ আরে না মা আবার কি বলবে আর তাছারা তো মা এখানে নেইও যে দেখবে আমি দিবাতে ভিজছি। (আমি)

এর মধ্যেই অনেক জোরে দিবা শুরু হলো আমি আর কিছু না ভেবেই দিবার মধ্যে নেমে পরলাম। কারণ দিবাতে ভেজা আমার হবি। কিন্তু ৫ মিনিট দিবাতে ভিজলেই আমার ঠান্ডা লেগে যায় তাই মা ভিজতে দেয় না। তবে আজ তো মা নেই তাই ইচ্ছা মতো ভিজবো।মনে মনে বললাম,

ইসস কি ভালোই যে লাগছে দিবাতে ভিজতে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। হঠাৎ শিমুল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি ও অপলক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যেনো এলিয়েন দেখছে আমার মধ্যে।
_ ঐ গরু আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো? জীবনে আমার মতো সুন্দরী মেয়ে আর দেখিসনি নাকি? আমি জানি আমি খুব সুন্দরী, খবরদার নজর দিবি না হুম। (আমি)
আমার কথায় যেনো ঘোর কাটলো শিমুল ভাইয়ের। আর একটু লজ্জাও পেলো। তারপর বললো,

_ এএএ সুন্দরী না ছাই। এমনিতেই তো পেত্নির মতো দেখতে। তার ওপর আবার দিবা তে ভিজে পুরাই শাকচুন্নির মতো লাগছে। (শিমুল)
_ হ্যা জানি তো, তাই জন্যই তো ওমন অপলক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলি। বান্দর ছেলে কোথাকার। (আমি)
শিমুল ভাই কিছু বলতে যাবে তখনি লামিয়া আপু বলে উঠলো। চাচি ফোন করছে তোমার ফোনে দিবা।

_ এই রে, মা মনে হয় আমার দিবাতে ভেজা সম্পর্কে কিছু বলবে। তাতো হতে দেওয়া যাবে না। লামিয়া আপু ফোন রিসিভ করো না। আমি পরে কথা বলে নেবো। (আমি)
এর মধ্যেই আমায় ফোনে না পেয়ে মা শিমুল ভাই এর ফোনে কল দিছে।শিমুল ভাই কল রিসিভ করে বললো,

_ আসসালামু আলাইকুম, হ্যা চাচি বলেন কেনো ফোন করছেন। (শিমুল)

_ ওয়ালাইকুমুসসালাম, শিমুল বাবা দিবা কোথায়? ও আমার ফোন রিসিভ করলো না কেনো? ও আবার দিবাতে ভিজছে নাতো? (মা)
_ হ্যা চাচি আপনার বান্দরনি দিবা এখন দিবাতে ভিজছে। কেনো চাচি কি হয়েছে? (শিমুল)

বাবা ওকে তারাতারি দিবা থেকে উঠতে বলো। ও দিবাতে ভিজলে ওর জ্বর ও ঠান্ডা লাগে। আজ আমি নেই সেই সুজগে দিবাতে নেমে গেছে। ওকে কান ধরে দিবা থেকে নিয়ে আসো। (মা) আচ্ছা চাচি আপনি ফোন রাখেন আমি ওকে কান ধরে দিবা থেকে তুলে আলছি। আল্লাহ হাফেজ। (শিমুল)

এই কথা গুলো বলেই বান্দর টা ফোন রেখে ছাতা নিয়ে নেমে এসে আমার কান ধরে বললো,

_ ঐ বান্দরনি তারাতারি বাথরুমে গিয়ে গোসল কর যা। চাচি আমায় বলছে তোকে কান ধরে নিয়ে আসতে। ওঠ শিগ্গির দিবা থেকে। (শিমুল)
_ ঐ ঐ ঐ ঐ তোর সাহস তো কম না তুই আমার কান ধরছিস। শালা তারাতারি কান ছার। দারা তোকে দেখাচ্ছি মজা। বলেই ছাতাটা হাত থেকে নিয়ে দুরে ছুরে ফেলে দিলাম। তারপর ওর কান ধরলাম। এবার সোধ হয়েছে যা। (শিমুল)

এদিকে শিমুল আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি যে ওর ছাতা ফেলে দিয়ে ওর কান ধরছি সেটা ওর মনেই নেই। আর আমাদের এমন অবস্থা দেখে লামিয়া আপু বারান্দায় বসে বসে হাসছে আর দেখছে। তারপর আমি আর কিছু না বলে সোজা বাথরুমে চলে গেলাম গোসল করতে। তখন ঐ গরুটা ঘোর কাটিয়ে বলে উঠলো
_ এই আমার ছাতা কই আমি এভাবে ভিজলাম কখন? (শিমুল)

_ হা হা হা হা হা শিমুল ভাই জান আপনি যে ভাবে দিবা কে দেখছিলেন যেনো কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। এখন আর সব মনে থাকবে কি। জান গিয়ে কাপর চেঞ্জ করেন। (লামিয়া আপু)
শিমুল ভাই লামিয়া আপুর কথায় একটু লজ্জা পেয়ে কিছু না বলে ওর রুমে চলে গেলো কাপর চেঞ্জ করতে। তারপর আমি গোসল করে বের হলাম।আর হাচ্চি দেওয়া শুরু করলাম। খুব ঠান্ডা লেগে গেছে আমার। তাই ঘরে গিয়ে শুয়ে পরলাম। লামিয়া আপুও আমার পাসে এসে শুয়ে পরলো। তারপর আর আমার কিছু মনে নেই ঘুমিয়ে পরলাম।

ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি মা আর চাচি আমার সামনে বসে আছে আর মা বকা দিচ্ছে আমায়। বুজতে পারছিনা বকা কেনো দিচ্ছে। তাই উঠে বসতে চাইলাম কিন্তু তখনি অনুভব করলাম আমার শরীরে অনেক জ্বর এসেছে আর সেই জন্যেই মা বকছে দিবাতে ভিজেছি বলে।

তারপর কোনো মতে উঠে গিয়ে খাওয়া শেষ করে ঔষধ খেলাম। এতক্ষণ ধরে শিমুল ভাই কে কোথাও দেখলাম না। কেনো জানি না ঐ বান্দরটাকে খুব মিস করছি। বারবার ওর সাথে ঝগড়া করতে মন চাচ্ছে।

ওর কথা ভাবতে ভাবতেই ও এসে হাজির।তারপর আমার দিকে কেমন যেনো এক মায়াবি দৃষ্টিতে তাকালো।তারপর সোজা ঘরে চলে গেলো।আমিও আর কিছু বললাম না ঘরে এসে শুয়ে পরলাম। কখন ঘুমিয়ে পরলাম জানি না।

এক ঘুমে সকালে উঠলাম। তারপর দেখি সব জ্বর চলে গেছে কিন্তু হালকা হালকা কাশি আছে। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে টিভির রুমে ঢুকে টিভিতে গান দিয়ে বসলাম। গান হচ্ছে বলনা বলনা বলনা তুমি আমার। ভালোই লাগছে।তখনি শিমুল ভাই ঘরে ঢুলো তারপর আমার পাসের সোফায় বসলো কিন্তু কিছু বলছে না। আমার খুব রাগ হচ্ছে মনে মনে কেনো ও আমায় কিছু বলছে না আবার কেনই বা রিমোর্ট কেরে নিচ্ছে না তাই।

_ ঐ গরু তোর ব্যপার কিরে হঠাৎ এতো ভালো হয়ে গেলি কি করে? (আমি)

তুই কালকে দিবাতে ভিজলি কেনো। যখন জান্তিস যে তোর দিবাতে ভিজলে জ্বর ঠান্ডা লাগে তবুও কেনো ভিজলি দিবা তে? (দুঃখ ভরা কন্ঠে বললো শিমুল) ওমা তাতে তোর কি তোর তো ভালোই হইছে যতদিন অসুখ থাকবে তোকে জালাতে পারবো না(আমি)

_ কোনো কথা না বলে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।

আমি কিছুই বুজলাম না।হঠাৎ কি হলো ওর ঝগড়া কেনো করছে না আমার সাথে? ধুর ভাল্লাগেনা।গানটা বন্ধ করে বাইরে এসে মার কাছে জানতে চাই লাম।

_ মা শিমুল ভাই এর কি হয়েছে। আমার সাথে ঝগড়া করলো না আবার আমি দিবাতে ভিজেছি বলে রাগ করে চলে গেলো কেনো তুমি কিছু জানো মা(আমি)

_ কাল কে আমি আর তোর চাচি বাসায় ফিরে দেখি তুই জ্বরে কাপছিস আর শিমুল তোকে জলপট্টি করছে মাথায়। আমি ওকে বললাম তোর কি হয়েছে আর লামিয়া কোথায়? তখন শিমুল বলল তুই দিবা তে ভিজেছিস।আর তোর জ্বর চলে এসেছে। ওদিকে লামিয়ার মা লামিয়াকে ডেকেছিল তাই ও চলে গেছে।

শিমুল কি করবে বুঝতে না পেরে তোর মাথায় জলপট্টি করছিলো।ও খুব মন খারাপ করেছিলো। (মা)
_ আজব তো আমার অসুখ দেখে ওর তো খুশি হওয়ার কথা।কারণ আমি তো আর ওর সাথে ঝগড়া করতে পারতাম না। তা নাকরে ও আমার সেবা করলো আবার মনটাও খারাপ দেখলাম পাগল নাকি? (বলেই মাকে আর কিছু বলার সুজগ না দিয়ে ওখান থেকে চলে আসলাম)

তারপর আমি সোজা শিমুল ভাই এর রুমে এসে ডায়েরি টা খুজতে শুরু করলাম। কিন্তু অনেক্ষণ খুজার পরেও লাভ হলো না, ডায়েরি টা কোথাও খুজে পেলাম না। তাই মন খারাপ করে বসে রইলাম। আর তখনি মনের মাঝে একটা কথা জেগে উঠলো যে আমি কেনো এতো পাগল হচ্ছি ওই ডায়েরি টার জন্য আর কেনই বা মিথিলার চিঠি পেয়ে এতো খারাপ লাগছিলো। কিন্তু শত শত বার ভেবেও ভাবনার কোনো কুল কিনারা পেলাম না।তাই চুপচাপ নিজের রুমে চলে এসে শুয়ে পরলাম আর ঘুমিয়ে গেলাম।

হঠাৎ শিমুল ভাইয়ের ডাকে ঘুম ভাংলো আমার।
_ঐ বান্দরনি ওঠ আর কতো ঘুমাবি সারাদিন ঘুমিয়ে আর খেয়ে শুধু আটার বস্তা হচ্ছিস দিন দিন। ওঠ তারাতারি আর এই ঔষধ গুলো খেয়ে নে। (শিমুল)

আমার অনেক আনন্দ হচ্ছে শিমুল ভাইয়ের ঝগড়া করার মতো কথা শুনে। কিন্তু তা আমি বুজতে দিলাম না।তারপর আমি বললাম_

_ ঐ ঐ ঐ ঐ তুই আমারে কি কইলি আমি বান্দরনি আমি আটার বস্তা তোরে আমি এহন কি করমু ক। শয়তান, বান্দর, কুত্তা, শিয়াল, ইঁদুর আর কি কমু খুইজা পাই না কেন ও মনে পরছে আস্ত একটা জলহস্তী আর ভুসির বস্তা। হিহিহিহিহিহি(আমি)

আমি এই ভাবে ঐ বান্দরটাকে গালি দিচ্ছি আর ও মিটি মিটি হাসছে আর এক নজরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর বললো
_ ঐ শোন তুই যেগুলা এখন বললি না ওগুলা সব তোর বরের নাম বুজলি বান্দরনি। (শিমুল)

_ না না ওগুলা সব তোর নাম আমার বরের নাম না। (আমি)
_ হ ওগুলা তোর বরের নাম মানে আমার নাম। (শিমুল)

এই গুলা বলেই আমার হাতে ঔষধ গুলো দিয়ে রুম থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো শিমুল। তখন আমি ভাবতে লাগলাম ও এভাবে পালালো কেনো। ওকি আমাকে দেখে ভয় পায় নাকি অন্য কিছু। তারপর ঔষধ গুলো খেয়ে নিলাম। ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার সব অসুখ ভালো হয়ে গেছে আর কোনো সমস্যা নাই। তারপর হাত মুখ ধুয়ে রুমে আসছি তখনি শিমুল ভাই আমার সামনে ওর পা এগিয়ে দিলো আর আমি ওর পায়ের সাথে লেগে পরে যেতে নইলাম। তখনি ও আমার হাত ধরে টেনে তুলতে তুলতে বললো,

_ ঐ ছেমরি তুই কি দিন কানা হইছিস নাকি। সোজা রাস্তা দিয়ে যেতেও আছার পরবার নস। (মুচকি হেসে শিমুল)
_ ঐ ঐ ঐ ছেমরা আমি কানা হমু কোন দুঃখে হুম। তুই তো আমায় ফেলে দেওয়ার জন্য তোর পা আমার সামনে এগিয়ে দিলি শয়তান পোলা। (আমি রেগে গিয়ে)

_ ঐ বান্দরনি তোকে তো এমনিতেই এক্কেবারে পঁচা দেখতে তার ওপর আবার এতো রাগ দেখিয়ে কথা বলছিস এখন তো পুরা একটা শাকচুন্নি পেত্নির মতো লাগছে তোকে। রাক্ষস নি আমার পিছে লাগিস না পরে আর পিছু ছারবিনা। (শিমুল)

_ এএএএএএএএ আমার বয়েই গেছে তোর পিছু পরতে। আরে এই দিবার পিছে সব সময় তোর মতো হাজারটা বান্দর ঘুর ঘুর করে। কিন্তু আমি কাউকে পাত্তাও দেই না।

ভাবতে ভাবতে কখন যে শিমুল ভাই এর কলেজের সমনে চলে এসেছি খেয়ালি করি নি। কলেজের ভিতরে ঢুকে তো আমি প্রায় খুশিতে পাগলের মতোই হয়ে গেলাম কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দিলাম না। কলেজের গেটের মধ্যে ঢুকতেই দেখলাম গেটের দুই পাসে সারি সারি নানান রকমের ফুল গাছে ফুল ফুটে আছে।আর চারিদিকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে কলেজটা। ঠিক যেনো আমার মনের মতো।
কিছুদুর যেতেই আমার ঘোর কাটলো শিমুল ভাই এর বন্ধু দের ডাকে।

_ এই শিমুল এতো দেরি করে এলি কেনো। আর তোর সাথে এই মেয়েটা কে? সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে যেনো কোনো এলিয়েন দেখছে।

_ ও আমার চাচাতো বোন দিবা। আমাদের বাসায় বেরাতে এসেছে। সব সময় বাসার মধ্যে থাকে তাই এই অনুষ্ঠানে নিয়ে এলাম। (শিমুল)
_ হাই দিবা, হ্যালো দিবা কেমন আছো? , শিমুলের সাথে এসে অনেক ভাল করেছো চলো একটু পর অনুষ্ঠান শুরু হবে। (বন্ধুরা)

_ জি চলুন। সব গুলা আমার দিক থেকে চোখই সরাচ্ছে না। মনে হচ্ছে সবগুলার চোখের মধ্যে শুকনা মরিচের গুলা ঢেলে দেই। মনে মনে বলছি আমি।
কলেজের ভিতরে যেতেই লক্ষ করলাম আশে পাশের সব মেয়েরা হা করে শিমুল ভাই এর দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমার দিকে মাঝে মাঝে রাগি চোখে তাকাচ্ছে। কিছুই বুজলাম না। হয়তো আমার মনের কথা গুলা শিমুল ভাই শুনতে পেলো তাই ও আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল,

_ ঘাবরাস না ওরা সবাই আমার জন্য পাগল সব সময় আমার পিছে লাইন দিয়ে থাকে আমায় পটাবার জন্য। তাই তোকে আমার সাথে দেখে হিংসা করছে। (শিমুল)
_ সে ঠিক আছে কিন্তু আমায় কেনো হিংসা করছে বুজলাম না তো? (আমি)

_ তোর ওতো বুঝে কাজ নেই চলতো অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে।শিমুল)
তারপর আমরা অনুষ্ঠান দেখতে বসলাম।

আমি শিমুল ভাই কে বললাম,

_ ঐ আমার জন্যে আইসক্রিম নিয়ে আয় আমি আইসক্রিম খাবো। (আমি)
_ এএএএএএএ ছোট খুকি হইছে আইসক্রিম খাইবো যা ফোট। আস্তে করে বললো শিমুল ভাই।
_ ঠিক আছে আমি গেলাম তুই দেখ তোর অনুষ্ঠান।

মন খারাপ করে আমি বললাম,
ঐ দারা বস এখানে চুপ করে আমি আইসক্রিম আনছি কোথাও জাবিনা কিন্তু। (শিমুল) এই তো সোনা ভাই টি আমার যাও না যাও তারাতারি আমার জন্যে আইসক্রিম নিয়ে আসো।

শিমুল ভাই একটা প্রেমে পরার মতো হাসি দিয়ে আইসক্রিম আনতে চলে গেলো। আর আমি একা একা বসে রইলাম। এমন সময় শিমুল ভাই এর বন্ধু রা এসে আমার সাথে খাজুরে প্যাচাল শুরু করলো। উফ বিরক্ত কর।

_ দিবা তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? তোমাদের বাড়ি কোথায়? তোমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে? আমার সাথে বন্ধু হবে? আরো এতো এতো প্রশ্ন উফ মাথাটা খেয়ে ফেললো বজ্জাত ছেলে গুলো।
আমি কোনো কথার উত্তর না দিয়ে বললাম,

_ আসলে আমার একটা হবি আছে আমি আমার ভাই রা ছারা সব ছেলেদের আব্বু বলে ডাকি। আর আমায় আম্মু বলে ডাকতে বলি। তাই আপনারা সবাই আমার আব্বু আর আমি আপনাদের আম্মু। এবার বোঝো ঠেলা কাকে বলে। হিহিহিহি(আমি)

আমার কথা সুনে সবগুলার হাওয়া বেরিয়ে গেলো। সবাই হা হয়ে যার যার জায়গায় গিয়ে বসলো। আমি তো মনে মনে হাসতে হাসতে শেষ। ছেলেগুলো চলে যাওয়ার সাথে সাথে বজ্জাত মেয়েগুলোর আমদানি হলো আমার সামনে।
_ এই মেয়ে তোমার নাম কি? শিমুলের সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক। কি হও তুমি শিমুলের? (বান্দরনি মাইয়া গুলা)

আমার মাথায় একটা বদ বুদ্ধি আসলো সব গুলারে জাত করার জন্য। তাই বললাম,

_ আমি দিবা শিমুলের দিবা। আমাদের ৫ বছরের প্রেম। ও আমার হবু স্বামি। চিন্তা করো নাগো তোমরা। আমাদের বিয়েতে তোমরা সবাই দাওয়াত পাবে।কথা গুলো বলেই মনে মনে প্রচন্ড হাসতে লাগলাম। আর নিজেকে নিজে বলতে লাগলাম তুই কি দুষ্টু টে দিবা বেচারি গুলোর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না হা হা হা।

সবাই মন খারাপ করে চলে গেলো। আর আমি একা একাই হাসতে লাগলাম। শিমুল ভাই এসে আমায় হাসতে দেখে আইসক্রিম হাতে দিয়ে বললো
_ ঐ পাগল হলি নাকি একা একাই পাগলের মতো হাসছিস কেনো? (শিমুল)

_ হা হা হা তা জেনে তোর কাজ নাই আমি তোর সব বিপদ কাটিয়ে দিছি ঐ মাইয়া গুলা আর তোর পিছে ঘুরবে না। আর কোনো প্রশ্ন করবি না আমি এখন আইসক্রিম খাবো। সো ডোন্ট ডিস্টার্ব। (আমি)
তারপর অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। আমরা বাড়ির দিকে রওনা হলাম। অন্ধকারে আমি খুব ভয় পাই কিন্তু শিমুল ভাই কে বলছি না। বললে আমায় খেপিয়ে মারবে তাই।

আমরা পাশাপাশি হেটে যাচ্ছি রাস্তা দিয়ে কোনো রিক্সা পাচ্ছি না তাই। হঠাৎ রাস্তার পাস থেকে কি যেনো একটা লাফ দিয়ে চলে গেলো। আমি একটা চিৎকার করে শিমুল ভাইয়ের হাতটা শক্ত করে ধরলাম। তখনি শিমুল ভাই আমার দিকে মায়াবি নজরে তাকিয়ে বললো,
_ কি হয়েছে ভয় পেয়েছো নাকি(শিমুল)

_ আমি ওর মুখে তুমি কথাটা শুনে আশ্চর্য না হয়ে বললাম না মানে ভয় না আসলে আমি অন্ধকার সহ্য করতে পারি না তাই। সরি। বলেই ওর হাত ছেরে দিয়ে একটু দুরে সরে দারালাম।
আমি সরি বলে শিমুল ভাই এর হাত ছেরে দুরে সরে এলাম।

_ জানো দিবা এই জায়গাটা না খুব ভয়ানক এখানে রাতের বেলায় ভুত পেত্নি ঘুরে বেরায়। দেখছো না চারো পাসে কোথাও কোনো মানুষ নেই কেমন নিরিবিলি। (মুচকি মুচকি হেসে শিমুল)
_ মা মাম মানে। এখানে সত্যিই ভু ভুত আছে নাকি। (আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে)
_হ্যা সত্যিই আছে তবে আমি এখনো দেখিনি। (শিমুল)

এমন সময় রাস্তার পিলারের লাইট গুলো নিভে গেলো। কারেন্ট চলে গেল। আমি আচমকা কারেন্ট যাওয়ায় খুব ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে শিমুল ভাই কে জরিয়ে ধরলাম।আর কান্না করতে শুরু করলাম।
_ হু হু হু আমি বাড়ি যাবো ওমাগো আমি বাড়ি যাবো। আল্লাহ বাচাও। (আমি)

_ ঐ পাগলি কিসের এতো ভয় রে তোর আমিতো আছি তোর সাথে। আমি থাকতে তোর কখনো কিছু হতে দিবো না(আমায় শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো শিমুল)
আমি এতোটাই ভয় পেলাম যে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে গেলাম। তারপর আর আমার কিছু মনে নাই।

যখন হুঁশ ফিরলো তখন দেখলাম আমি আমার রুমে বিছানায় শুয়ে আছি আর আমার চারিদিকে সবাই ভির করে দারিয়ে আছে।

_ এই দিবা কি হয়েছিলো তোর এমন ঙ্গান হারিয়েছিলি কেনো? জানিস আমরা সবাই কি ভয় পেয়েছিলাম(কান্না জরিতো কন্ঠে মা)
_ দিবা মা এখন কেমন লাগছে তোর? তুই এতো ভিতু যে অন্ধকার দেখে একদম বেহুঁশ হয়ে গেলি মা(চাচি)

আমি ওদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে শিমুল ভাই এর দিকে তাকালাম। দেখি শিমুল ভুই এর চোখে পানি লাল হয়ে গেছে চোখ মনে হয় অনেক কান্না করেছে। আমি শিমুল ভাই এর দিকে তাকাতেই ও চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। আমার একটু অবাক লাগলো ওর কান্না দেখে।

_ এই দিবা কথা বলছিস না কেনো মা। বলনা তোর এখন কেমন লাগছে।কি হয়েছিলো তোর এভাবে বেহুঁশ কেনো হইছিলি। জানিস তুই বেহুঁশ হওয়ার পর শিমুল তোকে বাসায় নিয়ে এসে কতো কান্নাকাটি করেছে। ও শুধু বলছে ওর জন্যে নাকি তুই বেহুঁশ হইছিস। (মা)

_ না মা আমি শিমুল ভাই এর জন্য বেহুঁশ হইনি আসলে হঠাৎ করে কারেন্ট চলে যাওয়ায় খুব ভয় পেয়ে বেহুঁশ হইছি হয়তো।আর তুমি তো জানোই আমি অন্ধকার ভয় পাই। (আমি)
_আচ্ছা আচ্ছা অনেক কথা হইছে এবার কিছু খেয়ে নাও মা তারপর ঔষধ খাও। (চাচি)

তারপর খেয়ে দেয়ে শাড়ি চেঞ্জ করে শুয়ে পরলাম। এক ঘুমে সকালে উঠলাম।

সকালে ওঠার পর শিমুল ভাই এর সাথে বেশ কয়েক বার দেখা হলো কিন্তু ও কোনো কথা বললো না আমার সাথে। শুধু অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে রাখলো।আমার ব্যাপারটা খুব বিরক্ত লাগলো তাই আমি ওর রুমে ওর সামনে গিয়ে বললাম_

_ ঐ তুই আমার সাথে কথা কেন বলছিস না হুম। আর এমন মাথা নিচু করে আছিস কেন?

আমায় তো একবারো জিগ্যেস করলি না এখন কেমন আছি। (আমি)আমার হাতটা ওর দুই হাতে চেপে ধরে বললো,
_ তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও দিবা। আমি বুঝতে পারিনি তুমি এতটা ভয় পেয়ে যাবে। আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না। আমার জন্যে তুমি কষ্ট পেয়েছো এর চাইতে কষ্টের কিছু আমার জীবনে হয় নি। (কান্না করতে করতে শিমুল)

_ এই এই এই কি হলো তোর এভাবে মেয়েদের মতো কান্না করছিস কেনো রে।আর ক্ষমাই বা চাইছিস কেনো? তুই তো কিছু করিস নি আমিতো ভয় পেয়ে বেহুঁশ হইছিলাম। (আমি)

_ আমার জন্যেই তুমি ভয় পেয়ে ছিলে। আমি মজা করার জন্য তোমায় মিথ্যে করে ভুতের গল্প বানিয়ে বলছিলাম। আমি বুঝতে পারিনি তুমি… এটুকু বলেই ফেল ফেল করে কেঁদে দিলো শিমুল ভাই। ওর কান্না দেখে আমার খুব মন খারাপ লাগছিলো কেনো জানিনা।

_ আচ্ছা তোকে আমি ক্ষমা করতে পারি কিন্তু একটা শর্তে। (আমি)

_ কি শর্ত বল তুই যা বলবি আমি তাই করবো।দরকার হলে পানিতে আগুনে যেখানে বলবি ঝাপ দিবো। বল কি শর্ত? (চোখ মুসতে মুসতে শিমুল)

পানিতে বা আগুনে কোথাও ঝাপ দিতে হবে না। আমায় কক্সবাজার বেরাতে নিয়ে যেতে হবে আর অনেক গুলো আইসক্রিম খাওয়াতে হবে। তবেই ক্ষমা করবো হুম। (আমি) কালকেই নিয়ে যাবো তোমায় কক্সবাজারে। আর যতো খুশি আইসক্রিম খাওয়াবো কথা দিলাম। (চোখে মুখে খুশির ঝলক নিয়ে শিমুল ভাই বললো)

_ ঐ দারা দারা একমিনিট একমিনিট তুই কাল থেকে আমার সাথে বার বার তুমি তুমি করে কথা বলছিস কেনো রে হুম মতলব কি তোমার বাছাধন। (আমি)

_ ক ক কই কখন আবার তুমি করে কথা বললাম তোর সাথে যা যা আমার বয়েই গেছে তোকে তুমি করে বলতে। আর হ্যা তুই আমার কলেজের মেয়েদের কি বলছিস হুম তুই আমার বৌ? (শিমুল)
_ এই রে। ঐ আমায় কি পাগলা কুত্তায় কামরায়ছে নাকি যে আমি তোর বৌ হতে জাবো। আরে আমি বর তো হবে একটা রাজপুত্র তোর মতো ইদুর না হুম(আমি)
_ তাহলেতো একটা পাগলা কুত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। (শিমুল)

_ কেন কেন কুকুর দিয়ে কি করবি? (আমি)

_ কেনো আবার তুই তো বললি পাগলা কুকুর কামরালে আমায় বিয়ে করবি তাই। (মুচকি হেসে শিমুল)
_ তবেরে তোরে আমি খাইছি দারা শয়তান। বলেই দিলাম তারা বেচারা দৌড়ে গিয়ে মার পিছনে লুকিয়ে হাসছে।

আর বলছে,

_ চাচি বাচাও আমায় তোমার এই বান্দরনি মেয়ের হাত থেকে। দেখো কেমন রাক্ষস এর মতো আমার মতো ছোট ছেলেটার দিকে তেরে আসছে যেনো এখনি গিলে খাবে। (হাসতে হাসতে শিমুল)
_ হা হা হা এই দারা দারা বলতো তোদের ব্যপার কি। এভাবে দৌড়া দৌড়ি করছিস কেনো হুম। আর এই দিবা শিমুল তোর বড় ভাই না ওকে মারছিস কেন। (মা)
আমি আর কিছু না বলে আমার রুমে রাগ করে চলে এলাম। এভাবেই দুষ্টু মিষ্টি ভাবে কেটে গেলো সারাদিন।

পরদিন সকালে উঠে রেডি হয়ে আমি শিমুল ভাই আর লামিয়া আপু কক্সবাজারের দিকে রওনা হলাম। সারাদিন অনেক খুরলাম আইসক্রিম ফুচকা চকলেট এগুলো খেলাম। তারপর বিকালে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হলাম। কিন্তু বাসের কাছে পৌঁছে দেখি সব বাস ছেরে চলে গেছে আর মাত্র একটি বাস আছে গন্তব্যে যাওয়ার।

কিন্তু বাসে কোনো সিট খালি নাই শুধু ড্রাইভারের কাছের ইন্জিনের ওপরের সিট গুলো খালি। আর বাস পাওয়া যাবে না তাই বাদ্ধ হয়ে আমরা ঐ বাসেই উঠলাম।আমি আর লামিয়া আপু পাশাপাশি বসলাম আর শিমুল ভাই আমার সামনের সিটে বসলো। অনেক টা পথ আসার পর হঠাৎ বাসটা একটা জোরে নোরে উঠলো হয়তো চাকার নিচে পাথর পরেছিলো তাই। আমি নরে ওঠাটা সামাল দিতে না পেরে আমার হাত গিয়ে পরলো শিমুল ভাই এর হাটুর ওপর। তারপর আমি সরি বলে হাত সরিয়ে নিলাম। ও কিছুই বললো না।

অনেক্ষন পরে লামিয়া আপু কে খুব হাসতে দেখে কারণ জিগ্যেস করলাম। তখন লামিয়া আপু শিমুল ভাই এর দিকে ইশারা করে তাকাতে বললো আমায়। আমি তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। শিমুল ভাই অপলক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের পলক পর্যন্ত ফেলছে না। আমি কয়েক বার ডাকলাম। কিন্তু ও যেনো কোথাও হারিয়ে গেছে আমার কোনো কথাই যেনো ওর কানে পৌছাচ্ছে না। তাই ধাক্কা দিলাম। ও একটু লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে চাইলো।

তারপর আমরা বাড়ি চলে এলাম। সবাই ফ্রেশ হয়ে খেতে এলাম।তখন মা বললো_
_ দিবা আমরা পরশু সকালে বাড়ি ফিরে যাবো। বাড়িতে অনেক কাজ পরে আছে তোর বিয়ের সব কেনাকাটা করা আরও কতো কি। (মা)
_ বিয়ে কার বিয়ে চাচি। (চমকে গিয়ে শিমুল)

_ কেনো শিমুল বাবা তুমি জানো না আমাদের দিবার তো বিয়ে ঠিক হয়ে আছে একমাস পর ওর বিয়ে। ওর ইচ্ছা ছিলো এখানে বেরাতে আসার তাই ওকে বেরিয়ে নেওয়া আর তোমাদের দাওয়াত করার জন্যই তো এখানে আসা আমাদের। তোমার মা আর বাবা তো সব জানে তুমি জানো না? (মা)

শিমুল ভাই কোনো কথা বললো না কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ওর রুমে চলে গেলো।আমি খেয়াল করলাম ব্যপারটা। কিন্তু আর কেউ খেয়াল করেনি সবাই বিয়ের কথায় ব্যস্ত।

আমি খাওয়া শেষ করে শিমুল ভাই এর রুমের কাছে গিয়ে ভিতরে চুপ করে উকি দিলাম। দেখলাম শিমুল ভাই চোখ মুছলো আর একটা ডায়েরিতে কি যেনো লিখে একটা ডয়ারে তালা দিয়ে রাখলো।তারপর তালার চাবিটা নিয়ে ওর বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখলো।

তারপর আমি ওখান থেকে আমার রুমে এসে ভাবতে লাগলাম ও কেনো কাদছিলো। আর ওটাই কি সেই ডায়েরিটা যেটার কথা লামিয়া আপু আমায় বলেছিলো।হ্যা ওটাই সেই ডায়েরি হবে। আর ওটাতেই আমার সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। আমি ওটা যেভাবেই হক নিয়েই ছারবো। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে একটু দেরিতে উঠে দেখি শিমুল ভাই ওর জামা কাপর গোছাচ্ছে। হয়তো কোথাও যাবে আর টিভিতে গান শুনছে।
চোখের জলে ভাসিয়ে দিলাম মনের ঠিকানা খেয়াল স্রোতে চাইলে তুমি অন্য মোহনা।

তবু তোমার জন্য ব্যথার জোয়ার এবুকে ডাকবো। আমি তোমারি থাকবো আমি তোমারি থাকবো।

আমি কিছু না বলে দারিয়ে গান শুনছি। যখনি গানের মাঝে বললো_

দেবো না দোষ ছলনায় ভুলে যাও যদি আমায় এভাবেই বাসবো ভালো চিরদিন আমি তোমায়।

আজো এই সপ্ন আশা পেতে চায় ভালবাসা

তবু হায় তোমায় হারালাম।

এই কথাটা শিমুল ভাই আমার সামনে এসে ইশারায় আমায় বললো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও চোখে পানি নিয়ে আমার সামনে থেকে চলে গেলো। আমি কিচ্ছু বুজতে পারলাম না। কিন্তু তখনি মনে পরলো সেই ডায়েরির কথা তাই সময় নষ্ট না করে ডায়রিটা বের করে লুকিয়ে আমার ব্যাগে এনে রাখলাম।

কিছুক্ষন পর শিমুল ভাই কোথায় যেনো চলে গেলো ব্যাগ ভোর্তি কাপর নিয়ে। সবাই কে বললো কিন্তু আমায় কিছু বললো না। শুধু একবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখে হালকা পানি নিয়ে দ্রুত চলে গেলো।

শিমুল ভাই কথায় গেলো কেনো গেলো কিছু বুঝতে পরলাম না শুধু ওর চলে যাওয়াতে একটা শুন্যতার অনুভব করতে পারছি। কেনো জানিনা ওর সেই মায়াবি চাহনি বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে আমার। বড্ড বেশি মিস করছি ওকে।শিমুল ভাই কেনো চলে গেলো সেটা জানার জন্য মাকে জিগ্যেস করলাম,

_ মা মা আচ্ছা শিমুল ভাই কোথায় গেলো। আর কেনোই বা গেলো। আমরা তো কাল চলেই যাবো আজকের দিনটা থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো ওর। (অভিমানী কন্ঠে আমি)
_ তোমরা কাল চলে যাবে বলেই তো শিমুল আজই চলে গেলো।কারণ ও তোমাদের চলে যাওয়াটা দেখতে পারবে না তাই। ওর খুব মায়া সবার প্রতি তাই তোমাদের ফিরে যাওয়া সহ্য করতে পারবে না তাই চলে গেছে। (পিছন থেকে লামিয়া আপু বললো)

আর কেউ কিছু বলার আগেই আমি আমার রুমে চলে এলাম।কেনো জানি না কিচ্ছু ভাললাগছে না। সব কেমন ফাকা ফাকা লাগছে। সারাদিন এভাবেই কেটে গেলো।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সব কিছু গুছিয়ে নিলাম খুব সকালেই বাড়ির পথে রওনা দিতে হবে, তাই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রেডি হলাম। তারপর সকলের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম বাড়ি ফেরার জন্য। আসার সময় সবাই অনেক কান্নাকাটি করলাম।লামিয়া আপুও আমায় জরিয়ে ধরে অনেক কান্না করলো।

বিকেলের মধ্যে বাসায় পৌঁছে গেলাম। বাবা আমাকে পেয়ে যেনো হারানো মানিক খুজে পেলো। বুকে জরিয়ে অনেক আদর করলো আমায়। তারপর রুমে এসে শুয়ে পরলাম ও ঘুমিয়ে গেলাম। অনেকটা পথ যান্নি করছি তাই একটু ক্লান্ত লাগছিলো।

ঘুম ভাংলো মার ডাকে।

_ এই দিবা ওঠ ওঠ শুধু কি ঘুমাবিই নাকি কিছু খেতেও হবে হুম। (মা)

আমি লক্ষি মেয়ের মতো উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে।ঘরে এসে শুয়ে পরবো ঠিক তখনি ডায়েরিটার কথা মনে পরে গেলো।তাই দ্রুত ডায়েরিটা বের করলাম ব্যাগ থেকে। তারপর পড়তে শুরু করলাম_

প্রথম পাতায়_ আজ আমার জীবনে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হলো।আজ আমি আমার সপ্নের পরিকে খুজে পেলাম। আজ আমি সেই পরি দের বাড়ি থেকে ফিরলাম। ওর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো যখন তখনি ওর প্রেমে পরে যাই। তারপর থেকে ওর সাথে অনেক মজা করে ঝগড়া করে আরও বেশি প্রেমে পরি ওর।ওখান থেকে ফেরার সময় মনটা খুব খারাপ লাগছিলো তবুও ফিরতেই হলো।

২য় পাতায়_ অনেক দিন হলো আমায় মিথিলা নামের একটি মেয়ে খুব ডিস্টার্ব করে। আমি সবাই কে বলেছি যে আমি অন্য এক পরিকে ভালবাসি। তবুও মিথিলা কিছুতেই বুঝতে পারছে না। যাই হোক ওকে আমি অনেক গালি দিয়ে বুঝিয়েছি যে আমি আমার পরি ছারা আর কাউকে ভালবাসতে পারবো না।

৩য় পাতায়_ আজ আমার পরি আমাদের বাড়িতে বেরাতে আসছে। আমি যেনো খুশি রাখার জায়গা পাচ্ছি না। একটু পরে আমি ওদের আনতে যাবো।আর আমার পরিটাকে মন ভরে দেখবো।

৪র্থ পাতায়_ আজকে আমার পরি পাগলিটার সাথে অনেক দুষ্টুমি করলাম। পাগলিটা অনেক দুষ্টু ঠিক আমার মনের মতো। যত দিন যাচ্ছে আমি আরও বেশি ভালবেসে ফেলছি ওকে।

৫ম পাতায় _ আজ ও যখন দিবাতে ভিজছিলো তখন যেনো মনে হচ্ছিল আমি ওকে বুকের মাঝে জরিয়ে নিয়ে শক্ত করে ধরে রাখি।ওর ওই মায়াবি চোখের চাহনি যেনো প্রতি মুহুর্তে আমায় ঘায়েল করে। কিন্তু হঠাৎ ওর দিবাতে ভিজে প্রচন্ড জ্বর হলো।আমি ওর অসুস্থ মুখ দেখে সহ্য করতে পারছিনা। বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছি যে আমার পরি টাকে। (এই পাতাটায় কয়েক ফোটা নোনতা পানির ছাপ মনপ হয় কান্না করছিলো)

৬ষ্ঠ পাতায়_ আজ আমার পরিটাকে নিয়ে আমার কলেজে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলা। ও আমার পছন্দের কালো শাড়ি পরেছিলো। ওকে শাড়ি পরে এতটাই সুন্দর লাগছিলো যে মনে হচ্ছিল আমি পাগল হয়ে যাবো ওর রুপে। তার ওপর আবার রাতে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওকে একটু মজা করে ভয় দেখিয়ে ছিলাম আর ওই পাগলি পরিটা ভয় পেয়ে আমায় জরিয়ে ধরে বেহুঁশ হয়ে গেলো।

ও যখন আমায় জরিয়ে ধরেছিলো আমার মনে হয়েছিলো আমি যেনো পৃথিবীর সব চাই তে বড় সুখ আমার বুকের মাঝে অনুভব করেছিলাম। কিন্তু যখন ও বেহুঁশ হয়ে গেলো আমি পাগলের মতো হয়ে গেলাম। নিজেকে গালি দিতে লাগলাম কেনো ওকে ভয় দেখাতে গেলাম আমি।আমার জন্য ও কষ্ট পেলো। (এখানেও চোখের পানির ছাপ)

৭ম পাতায়_ আজ আমার পরিটাকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলাম। সারাদিন ওকে মন ভরে দেখেছি। তারপর বিকালে বাড়ি ফেরার সময় বাসে ওর হাতটা আমার হাটুর ওপরে যখন পরলো তখন মনের মধ্যে একটা অজানা সুখ অনুভব হলো। ইচ্ছা করছিলো ওকে বুকে জরিয়ে কপালে আলতো করে ছুয়ে দেই। তারপর সারাটা রাস্তা ওকে আমি মন ভরে দেখেছি।

৮ম পাতায়_ আজ আমি আমার জীবনের সব চাইতে কষ্টের শব্দ টা শুনলাম। আমার পরিটার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, ওর আর মাত্র ১ মাস পর বিয়ে। কথাটা শোনার পর আমার মাথা ঘুরে গিয়েছিলো আমি কিছু তেই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার পরিটা আমার হবে না ভাবতেই বুকের বাম পাসটা কেপে ওঠে। চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরছে। (এই পাতাটার লেখা খুব আকাবাকা লাগছে আর মনে হচ্ছে লেখার সময় হাত কেপেছিলো। এই পাতায় অনেক ফোটা পানির দাগ লেগে আছে)

৯ম পাতায়_ আমি শত চেষ্টা করেও বলতে পারলাম না আমার পরিটাকে যে আমি তোমাকে ভালবাসিদিবা শুধু একটা কথাই গানের সুরে। ওকে বললাম সেটা হলো তবু হায় তোমায় হারালাম।

জানিনা আমার দিবা আমার কথা বুঝলো কি না। বা দিবা আমাকে ভালবাসবে কি না। তবে আমার জীবনের প্রথম ভালবাসা হলো দিবা ওকে আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। ওর চলে যাওয়াটা আমি মেনে নিতে পাটবো না। তাই আজই চলে যাচ্ছি ঢাকা কাজিনের কাছে।

তারপরের পাতা গুলো সব ফাকা।

এই কথা গুলো পড়ার পর আমি নিজের দিকে লক্ষ করলাম আমার চোখ দিয়ে পানির বন্যা বইছে। আর বুকের ভিতরটা কষ্টে যেনো ফেটে যাইতে চাই ছে। আমিও যে ওকে ভালবেসে ফেলেছি।হ্যা আমিও আমার পাগল শিমুল কে ভালবাসি। কিন্তু কিছু করার নাই শুধু কষ্ট পাওয়া ছারা কারণ আমরা কখনোই এক হতে পারবো না। আমার বিয়ের আর মাত্র কিছু দিন বাকি। আর আমি আমার মা বাবাকে কখনোই কষ্ট দিতে পারবো না।তাই না চাইলেও আমাকে এই বিয়ে করতেই হবে।

তারপর আমি ডায়েরিটাতে লিখলাম
_ যেতে নাহি দেবো হায় তবু যেতে দিতে হয়।

এতো ভালবেসো না আমায় বিনিময়ে আমি কিছুই দিতে পারবো না তোমায়।

_ পারলে আমায় ক্ষমা করো শিমুল। আমিও তোমায় ভালবেসে ফেলেছি কিন্তু তোমার হতে আমি পারবো না। আমি যে আমার মা বাবাকে কখনো কষ্ট দিতে পারবো না। আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা কোরো। আর তুমিও খুব তারাতারি একটা বিয়ে করে নিও। আমি তোমাকে সুখি দেখতে চাই আমার এই চাওয়াটা পুরন কোরো প্লিজ। তোমার ভালবাসাটা আমার কাছে সারাজীবন থাকবে সৃতি হয়ে। তুমিও আমায় সৃতি করে রেখো তোমার মনে। আমি তোমাকে আমার স্বামীর মাঝে খুজে নেবো। তুমিও বিয়ে করে বৌএর মাঝে আমায় খুজে নিও।
আমায় ক্ষমা করে দিও শিমুল।

তারপর এভাবেই কেটে গেলো দিন গুলো। আজ আমার বিয়ে। পুরো বাড়ি ভরতি লোকজন দিয়ে। অনেক আয়জোন করা হয়েছে। সব আত্মীয় স্বজন বন্ধু সবাই এসেছে আমার বিয়েতে। শিমুল ভাইও এসেছে শুনলাম। কিন্তু ও একবারো আমার সাথে দেখা করেনি।

আমি মা কে ডেকে বললাম শিমুল ভাই কে ডেকে দিতে। আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই। মা আমায় কিছু জিগ্যেস না করেই শিমুল ভাই কে পাঠিয়ে দিলো আমার কাছে আর রুমের সবাই কে নিয়ে চলে গেলো মা। আমি একটু অবাক হলাম মার এমন আচরনে কিন্তু এটা নিয়ে ভাবার সময় আমার নেই।

শিমুল ভাই আমার সামনে এসে আমাকে হা করে তাকিয়ে দেখছে। ওর চোখ দুটো ছলছল করছে, পানিতে ভরে উঠেছে। ওর মুখে কোনো কথা নাই ও যেনো বোবা হয়ে গেছে।

_ কিরে কিছু বলবি না? আমায় কেমন লাগছে বৌ এর সাজে? কিরে কথা বলছিস না কেন? ঐ আমার সাথে ঝগড়া করবি না শেষ বারের মতো? (কান্না জরিতো কন্ঠে বললাম আমি)

_ কি বলবো বল তুই তো স্বার্থ পরের মতো আমায় ছেরে চলে যাচ্ছিস।একবারো আমার কথা ভাবলি না। আমি কি নিয়ে বাচবো তোকে ছারা। তুুই যে আমার জান পাখি তোকে ছারা বেচে থাকাযে সম্ভব না আমার। (কান্না করতে করতে শিমুল)

আমি আর কিছু বললাম না নিজেকে সামলে নিয়ে ওর হাতে ডায়েরিটা তুলে দিয়ে বললাম_

_ এটার মধ্যে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর আছে। পারলে আমার ক্ষমা কোরো। আর আমার ইচ্ছা টা পুরোন কোরো। আমার ইচ্ছার কথা এই টাতে আছে আশা করি তুমি পুরণ করবে। (কান্না করে বললাম আমি)

তারপর আর এক মুহুর্ত দেরি না করে সোজা চলে গেলাম বিয়েতে। শিমুল সেখানেই মুর্তির মতো দারিয়ে রইলো। আর বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই ও বাড়ি ফিরে গেলো। ওর পক্ষে সম্ভব হলো না দারিয়ে আমার বিয়ে দেখার।

আমার বিয়ে হয়ে গেলো। শশুড়বাড়ি চলে এলাম আমি।

গল্পে এখনো বাকি রইলো অনেক প্রশ্নের উত্তর। যদি কখনো এই গল্প টু আসে তখন মিলবে সব উত্তর।

লেখিকা: সোনালী

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “”গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ুন – অসমাপ্ত ভালোবাসা – অবশেষে তাকে পাওয়া (সিজন ২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!