কষ্টের প্রেমের গল্প

প্রেমের কষ্টের গল্প – এক্সের উপর চরম প্রতিশোধ – প্রেমে ছ্যাকা

প্রেমের কষ্টের গল্প

প্রেমের কষ্টের গল্প – এক্সের উপর চরম প্রতিশোধ – প্রেমে ছ্যাকা: নিয়মিত ভাত খাওয়ার মত প্রেমে ছ্যাকা খাওয়াটা সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে। যে যার ইচ্ছা প্রেম ভালবাসা জাহির করছে, যে যার মত পটে যাচ্ছে আবার যে যার মত ব্রেকাপ করছে। এই ব্রেকাপ এক জনের জন্য খুশির হলেও আরেক জনের জন্য চরম ছেকা খাওয়া কষ্টের জীবন। এমনি এক ছেকা খাওয়া ছেলের প্রতিশোধের গল্প আজ আমরা শুনব। চলুন তবে শুরু করা যাক।

ছ্যাকা খেয়ে বেঁকা

মারিয়ার দেওয়া ছ্যাঁকার লোড সহ্য করতে না পেরে আজ তিনমাস যাবত চোখে পেঁয়াজ দিয়ে কান্না করি। মাঝরাতে বিচ্ছেদ গান শুনে উড়াধুরা নাচি। ফেসবুকে মানুষের পোস্টে প্রচুর হাহা দেই। যার ফলে এখন নিজেকে একটু হালকা লাগছে।

আমিঃ অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না। তাই ভাবলাম, কোথাও যাওয়া দরকার। আর তার জন্য টাকা দরকার।

তাই একপা দু’পা করে রান্না ঘরে আম্মার কাছে গেলাম। আম্মা রান্না করতেছে। নিজেকে প্রস্তুত করে ভাদাইম্মা স্টাইলে দাঁড়িয়ে ভেংচি মেরে বললাম,

আমিঃ ও আম্মাআআগোওওওও।

আমার আচমকা এমন ডাক শুনে আম্মাজান থতমত খেয়ে ঘুরান্টি দিয়ে পিছনে তাকালেন। মুখটা বাকিয়ে বললেন,

আম্মাঃ ও হৃদয়য়া আআআ গো বলোগোওওওও।

বুঝলাম, আম্মা আমার ডাকের প্রতিশোধ নিচ্ছে। তাই বললাম,

আমিঃ সরি, আম্মা।

আম্মাঃ কিউ আব্বাজান?

আমিঃ মশকরা করো আমার লগে?

আম্মাঃ মোটেও না, আমি রান্না করছি।

আমিঃ তাহলে এভাবে বলছো কেনো?

আম্মাঃ ভাল্লাগে, খুশির ঠেলায়, ঘোরতে তোরে খেপাইতে।

আমিঃ মানে?

আম্মাঃ কুচ নেহিহে বেটা।

আমিঃ দেখো আমার সাথে ইয়ার্কি করবা না, এমনিতেই ছ্যাঁকা খেয়ে প্রচুর ডিপ্রেশনে আছি।

আম্মাঃ কি বললি?

আমিঃ মারিয়া ছ্যাঁকা দিছে।

আম্মাঃ মারিয়া কে?

আমিঃ তোমার প্রাক্তন বৌমা।

আম্মাঃ মজা লস?

আমিঃ মোটেওনা, টেকা দাও?

অতঃপর আম্মাজান রান্নাঘর থেকে দুইটা আলু দিয়ে বললেন, “এগুলো বিক্রি করে টাকা নি।”

প্রেম Vs ইঁদুর

কি আর করার কাঁচা আলু চিবুতে চিবুতে রুমে আসলাম। ভাবতেছি, কিভাবে টাকা আদায় করা যায়। তখনই আব্বাজানের কথা মনে হলো। দৌড়ে রুমে চলে গেলাম, দেখি আব্বাজান নেই। ছোটভাই সাইফকে দেখেই চক্ষু চড়কগাছ। সাইফ টেবিলের উপর বালতি রেখে তারমধ্যে হাত ওঠানামা করছে। আমি বললাম,

আমিঃ কিরে কি করস?

সাইফঃ ইঁন্দুর চুবাই।

আমিঃ মানে?

সাইফঃ বালতিতে পানি দিয়েছি, তার মধ্যে ইঁন্দুর চুবাচ্ছি।

আমিঃ ফাইজলামি করস?

অমনি ছোট ভাই বালতির ভিতর থেকে হাত উঠালো। সাইফের হাতে ইঁন্দুর মারা ফাঁদ। সেখানে দুইটা ইন্দুর। তার মানে সাইফ বালতিতে ইঁন্দুর চুবাচ্ছে। কিন্তু সাইফতো যথেষ্ট ভালো। ও কেনো ইঁন্দর চুবাচ্ছে? ব্যাপারটা কেমন জানি রহস্যময় মনে হলো। বললাম,

আমিঃ ইঁন্দুর চুবাচ্ছিস কেনো?

সাইফঃ আমার নতুন লুঙ্গি কেটেছে।

আমিঃ তাই বলে ইঁন্দুর চুবাতে হবে?

সাইফঃ তাইলে টেকা দেও।

আমিঃ আমি টেকা পামু কই? আব্বার কাছে চাইতে পারস না?

সাইফঃ সকালে আব্বায় কম্বল মুরি দিয়ে শুয়ে ছিলো। টেকা চাইছিলাম দেয় নাই, পরে কম্বলের নিচে ইঁন্দুর ছেরে দিছিলাম।

আমিঃ কস কি, আব্বায় কই গেছে?

সাইফঃ জানিনা, সকাল সকাল দৌড়ানি খাইছে বেচারা।

আমিঃ তুই আব্বার লগে বেয়াদবি করছস কেনো?

সাইফঃ বেশি কথা কইলে তোমারেও ইঁন্দুর দিমু।

আমিঃ থাক ভাই, লাগতনা।

প্রেমে প্রতিশোধের আগুন

ফাঁকা হাতে আব্বাজানের রুম থেকে চলে আসলাম। নিজেকে এতিম মনে হচ্ছে। রুমে এসে সব জায়গায় সার্চ করলাম মাগার একটা টাকাও পাইলাম না। মন খারাপ করে বসে রইলাম। ডাটা অন করে ফেবুতে গেলাম। নিউজফিড ঘাঁটতেই মারিয়ার পোস্ট চোখে পরলো। সেখানে লেখা “১৪ ই ফেব্রুয়ারি, আমার নিউ বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে যাব।” পোস্ট দেখে চান্দি গরম হয়ে গেলো। কমেন্টে ২০০+ প্লাস ব্যাঙের ইমুজি দিলাম। সাথে কিছু উগান্ডার ওয়াজ করে মেসেজ ব্লক দিয়ে বিচ্ছেদ গান ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ উড়াধুরা বেলি ড্যান্স দিলাম। নিজেকে স্বার্থক ছ্যাঁকা খোর মনে হচ্ছে। ফেইক আইডি দিয়ে মারিয়াকে মেসেজ দিলাম,

আমিঃ নানী, আপনারা কোন পার্কে যাবেন?

মারিয়াঃ হোয়াট?

আমিঃ আরে আপনার বয়ফ্রেন্ড সহ কোন পার্কে যাবেন বলুন। আসলে আমিও আমার জিএফকে নিয়ে যাবতো তাই।

মারিয়াঃ আমাকে নানি বললেন কোন সাহসে?

আমিঃ চ্যাতেন ক্যান?

মারিয়াঃ আর ইউ রাবিশ?

আমিঃ তুই ফকিন্নি রাবিশ, উলালা।

মারিয়াঃ হোয়াট উলালা?

আমিঃ উলালা মেনিংস হারামজাদি।

টুট টুট টুট

you can’t reply to this conversation

অতঃপর ব্লকলিস্ট নামক ভিআইপি সোফায় আমার জায়গা হলো। মারিয়ার এক ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে জানলাম ওরা কোন পার্কে যাবে। পার্কের নাম শুনলাম। মনে মনে বললাম,

মারিয়া, আমারে ছ্যাঁকা দেওয়ার মজা কালকে বুঝবো। আমি রিফাতকে (আমার ফ্রেন্ড) ফোনে সব খুলে বললাম।

আব্বার রুমে গিয়ে সাইফকে বললাম,

আমিঃ কালকে কোথাও যাবি?

সাইফঃ না, আমি ইন্দুর চুবাবো।

আমিঃ হারামি থাপ্পড় খাবি, এভাবে কেউ ইন্দুর চুবায়? ছেরে দে, মারা যাবেতো।

সাইফঃ তাইলে আমারে লুঙ্গি কিনে দাও?

আমিঃ কালকে কিনে দিব।

সাইফঃ তাহলে আজকে সারাদিন ইন্দুর চুবিয়ে কালকে ছেরে দিব।

বুঝলাম, সাইফের সাথে কথা বলে লাভ নেই। বেচারা, হেব্বি ক্ষেপছে ইঁন্দুরের উপরে। যাই হোক, সেটা ইঁন্দুরের দুর্ভাগ্য। কোন দুঃখে যে ইন্দুর সাইফের লুঙ্গি কেটেছিলো। ভাগ্যিস সাইফের প্যান্ট কাটেনি। তাইলে নির্ঘাত সাইফ ইন্দুরের নুনু কেটে দিতো।

এক্সের উপর মজার প্রতিশোধ

আজকে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি। ফেসুবক ভালোবাসাময়। কিন্তু আমার মন প্রতিশোধ ময়। সাইফের রুমে গেলাম, দেখি ইঁন্দুরের সামনে খাবার রেখে খাবার খাওয়াচ্ছে। আমি সাইফের এমন কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে গেলাম। বললাম কিরে, কালকে ইন্দুর চুবালি আবার আজকে খাবার খাওয়াচ্ছিস। কাহিনী কি?

সাইফঃ খাইয়ে মোটা করতেছি।

আমিঃ কেনো?

সাইফঃ মোটা করে চুবাবো।

আমিঃ ভাই এরকম করিস না।

সাইফঃ আমার লুঙ্গি কিনে দাও তাইলে?

আমিঃ আচ্ছা, চল।

সাইফকে সাথে নিয়ে পার্কের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। সাইফ ইঁন্দুর দুটোকে সাথে নিয়েছে। ওর একটাই কথা, যতক্ষণ না লুঙ্গি কিনে দিব ও ইঁন্দুর ছাড়বেনা। সাইফকে পার্কে নিয়ে যাওয়ার একটাই উদ্দেশ্য সেটা হলো ও প্রতিশোধ ভালো নিতে পারে। টপ টু ফাজিল, সি ইজ নাম্বার ওয়ান বান্দর। রিয়ালিটি ইজ হারামজাদা। দিজ ইজ মাই ছোট ভাই।

পার্কে এসে দেখি রিফাত আগেই এসেছে। আমি মারিয়াকে খুজতে লাগলাম। সাইফ একটা কাঠি দিয়ে ইঁন্দুরকে খোঁচা দিচ্ছে। ইঁন্দুরের জন্য আফসোস হচ্ছে। পার্কে শুধু জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে। আমরা তিনজনই সিঙ্গেল। হঠাৎ মারিয়াকে দেখলাম একটা বেঞ্চে একটা ছেলের সাথে বসে আছে। তার মানে ওটা ওর নিউ বিএফ। আমি মারিয়ার কাছে গেলাম, মারিয়া আমাকে দেখে ভ্ররু-কুঁচকে তাকালো। আমি ফকলা হাসি দিয়ে বললাম,

আমিঃ হায় ট্যাঁও ট্যাঁও।

মারিয়াঃ হোয়াট, ট্যাঁও ট্যাঁও কি?

আমিঃ কিছুনা, তাইলে এই বুড়া হারামি তোমার বিএফ।

মারিয়াঃ হৃদয় সাবধানে কথা বলবা। ও আমার বয়ফ্রেন্ড।

আমিঃ তাই! আমার কি?

মারিয়ার বিএফঃ এইযে মিঃ আপনি কে?

আমি প্রশ্নের উত্তর দিতে যাব তখনি সাইফ আচমকা মারিয়ার বিএফের সামনে গিয়ে ইঁন্দুর ধরে বলল,

সাইফঃ কিরে ইন্দুর খাবি?

মারিয়ার বিএফঃ হোয়াট?

সাইফঃ আমি লুঙ্গি কিনুম।

মারিয়াঃ কি হচ্ছে এসব?

আমিঃ সাইফ ইন্দুর খুলে দে, তরে নতুন তিনটা লুঙ্গি কিনে দিব।

প্রেমের মায়রে বাপ

সাইফ সাথে সাথে ফাঁদের মুখ খুলে দিয়ে মারিয়ার বিএফের দিকে ধরলো। দু’টো ইন্দুর ছিলো একটা লাফিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় মারিয়া পায়ের সাথে বারি খেলো। ভয়ে মারিয়া চিৎকার দিয়ে দিলো দৌড়। আরেকটা ইন্দুর মারিয়ার বিএফের শার্টে কলার দিয়ে ভিতরে ঢুকলো। এদিকে মারিয়ার বিএফও চিৎকার করছে আর সমানে লাফাচ্ছে। সে কি লাফ, ইন্দুরের মতই লাফাচ্ছে। সাইফ শিষ বাজাচ্ছে আর বলছে,

“সুপ্রিম দর্শক আপনারা দেখছেন ইন্দুরর খেলা। থুক্কু লাফালাফি। এই বেডার শার্টের নিচে আমি ইন্দুর দিছি, সে এখন লাফাচ্ছে, জানিনা ইন্দুরের কতটা কষ্ট হচ্ছে। একটু পর শুরু হবে।”

কথা শেষ না হতেই মারিয়ার বিএফ লাফাতে লাফাতে দৌঁড়। তার পিছে পিছে সাইফ দৌড়াচ্ছে আর বলছে,

সাইফঃ ভাই, আমার ইন্দুর দেন চুবাবো।

মারিয়ার বিএফঃ ও মাগো, আমারে বাঁচাও।

সাইফঃ ভাই প্লিজ, গিভ মি মাই ইন্দুর। আমি চুবাবো।

কে শোনে কার কথা, মারিয়ার বিএফ আগে আগে দৌড়। তার পিছে সাইফ। আমি শুধু শুধু দৌড়ালাম না। পার্কের একটা বেঞ্চে বসে পরলাম। মাথা দুলিয়ে গুনগুন করে গান গাচ্ছি।

আমিঃ “আজ পাশা খেলবরে সামু চল আআআআআ”

আরো পড়ুন- সাপিয়োসেক্সচুয়াল ভালোবাসা

Related posts

ভালোবাসার কষ্টের গল্প – টিউশন স্যারকে ভালবাসা শেষ পর্ব

valobasargolpo

হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প – বেলা শেষে পর্ব ২৩ | Love Story

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!