কষ্টের প্রেমের গল্প

পবিত্র প্রেমের গল্প – সত্যিকারের ভালোবাসার জয় | Real Love

পবিত্র প্রেমের গল্প

পবিত্র প্রেমের গল্প – সত্যিকারের ভালোবাসার জয়: জীবন সুখের হলেও আশেপাশের মানুষ সেই সুখের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। অপমান, অপবাদ আর লাঞ্চনা দিতে মানুষ পিছপা হয় না। তবু সত্যিকারে ভালোবাসা হার মানে না, শত বাঁধা আর কষ্ট পেরিয়ে জয় করে নেয় দুজন দুজনাকে। চলুন এরকম সিনেমাটিক প্রেমের গল্প শুনি।

প্রথম দেখায় প্রেম – পর্বঃ ১

আমিঃ এই যে একটু দাড়ান না?

শেফা না শোনার ভান করে চলে যেতে লাগলো।

আমিঃ এইযে দাড়ান বলছি।

শেফাঃ কিছু বলবেন?

আমিঃ বলার জন্যইতো ডেকেছি।

শেফাঃ কি বলবেন বলুন?

আমিঃ কেন হাতে সময় নেই নাকি? থাক তাহলে কালবে বলবো বাই। (এই কথা বলেই হাটতে শুরু করলাম। )

শেফাঃ এইযে কি বলবেন বলে যান।

আমিঃ কালকে বলবো বাই।

শেফাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে।

তারপর আমি আমার বাসায় চলে আশি।

“পরের দিন সকাল বেলা কলেজে”

কলেজে গেইটের সামনে দেখলাম একটা পিচ্চি ছেলে কান্না করছে। ছেলেটির কাছে গেলাম।

আমিঃ কান্না করছো কেন?

ছেলেটিঃ খুব ক্ষুদা ভাই। পকেটে একটা টাকাও নাই।

আমিঃ আচ্ছা চলো আমি তোমাকে পেট ভরে খাওয়াবো।

ছেলেটিঃ সত্যি বলছেন?

আমিঃ হ্যা সত্যি। তোমার নাম কি?

ছেলেটিঃ আমার নাম আশিক।

তারপর আশিক কে নিয়ে একটা রেষ্টুরেন্টে গেলাম।

তারপর আশিক কে পেট ভরে খাইয়ে দিলাম।

আশিকঃ আপনি না থাকলে হয়তো আজকে আমি ক্ষুদার জ্বালায় মরে যেতাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আমিঃ তোমার যখন ক্ষুদা লাগবে তখন আমাদের কলেজের সামনে চলে আসবে। আর এই নাও ৫০০টা।

আশিকঃ আজ থেকে আপনি আমার ভাই।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর আশিককে বিদায় দিয়ে কলেজের দিকে হাটা ধরলাম।

শেফাঃ এই যে মিস্টার?

আমিঃ কিছু বলবেন?

শেফাঃ কালকে কি বলবেন যেন বলছিলেন না?

আমিঃ ওহ হ্যা মনে পরেছে।

শেফাঃ তাহলে বলুন।

আমিঃ এখন না পরে বলবো বাই।

শেফাঃ ধ্যাত কি বলবেন বলেন না শুধু বলেন কালকে বলবো। আপনাকে আর বলতে হবেনা বাই।

আমিঃ আরে রাগ করছো কেন?

শেফাঃ তাহলে কি করবো শুনি?

আমিঃ কথাটি হচ্ছে আমি তোমাকে ভালবাসি। এই কথাটি অনেক দিন ধরেই বলতে চাচ্ছি কিন্তু বলতে পারছিনা। খুব ভয় হচ্ছিল। তোমাকে যেই ছেলে ভালবাসার কথা বলেছে সেই ছেলে তোমার হাতে চর থাপ্পড় খেয়েছে। তাই ভুলেউ বলতে চাইছিলাম না। তাছাড়া তুমি একটা গুন্ডার বোন।

শেফা কথা গুলো শুনে চুপ করে রইলো। তাই আমি আর কিছু না বলে ওইখান থেকে চলে এলাম।

“পরেরদিন কলেজে গিয়ে”

আমিঃ শেফা আমার দিকে অমন ভাবে আসছে কেন? কালকে হয়তো একটু বেশিই বলে ফেলেছি। (নিজে নিজে)

চলবে…

ভালোবাসার লজ্জা ও ভয় – পর্বঃ ২

শেফাঃ এইযে মিস্টার ভিতুর ডিম।

আমিতো ভয়ে ভয়ে আছি। এই মেয়ে যে কি ডাইনী। আমাকে না আবার মেরে বসে।

শেফাঃ এই যে শুনছেন?

আমিঃ (চুপ)

শেফাঃ কি হলো কথা বলছেন না কেন?

আমিঃ না এমনি।

শেফাঃ কালকে পালালেন কেন?

আমিঃ ভয় পেয়েছিলামযদি তুমি আমাকে চর মারো।

শেফাঃ ওহ।

আমিঃ হুম। আমার উত্তর কই।

শেফাঃ কিসের উত্তর?

আমিঃ কালকে যেই জন্য পলাইলাম।

শেফাঃ যান ভাগেন। প্রেম করতে এসে যে ভয় পায় তার সাথে আমি প্রেম করতে চাইনা।

আমিঃ মানে? তাহলে এখন আমার কি হবে?

শেফাঃ কি আর হবে?

আমি আর কোনো কথা না বলে হাটা দরলাম।

শেফাঃ এই যে মিস্টার কই যাও?

আমিঃ কোথায় আর নিজের রাস্তা মাফতেছি।

শেফাঃ আমাকে ভালবাসবে না?

আমিঃ হুম। কিন্তু তুমিতো বাসনা।

শেফাঃ জানো আকাশ কালকে রাতে তোমাকে নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি।

কালকে যখন তুমি ওই ছেলেটাকে খাবার কিনে দিলেএবং তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে দিলে। তখন থেকে একটা জিনিসি ভাবছি। তুমি অচেনা একটা ছেলে কে যদি এমন ভাবে ভালবাসতে পারোতাহলে তুমি তোমার কাছের মানুষ কে কতো ভালবাসতে পারো।

আমিঃ আমি আর কি করতে পারলাম ছেলেটার জন্য।

শেফাঃ তোমার ফোন নাম্বারটা দাওতো।

আমিঃ কেন?

শেফাঃ ভয় পাচ্ছো নাকি? আমাকে না ভালোবাসো! তাহলে নাম্বার না দিলে রাতে জালাতন করবো কিভাবে?

আমিঃ তার মানে তুমি আমাকে ভালবাসো?

শেফাঃ হুম। আচ্ছা চলো এখন ক্লাসে যাবো। তারপর ক্লাস ছুটির পর ঘুরতে যাবো।

আমিঃ আচ্ছা চলো।

তারপর ক্লাস শেষ করে শেফার সাথে ঘুরতে বের হলাম।

“একইভাবে কয়েকদিন পর”

মান্নান সালা তুই আসলেই একটা জিনিস। কিভাবে যে শেফাকে পটায় ফেললি?

আমিঃ কি মামা তাহলে তোমাদের বাজিতে আমি জিতে গেলাম।

পলাশ হ্যা। কিন্তু?

আমিঃ কিন্তু কি?

পলাশ কিন্তুটা হচ্ছে শেফা যখন জানতে পারবে। তুই ওর সাথে ভালবাসা নামে খেলা করেছিস তখন কি হবে?

আমিঃ কিছুই হবেনা। কতো মেয়েকেই তো ঠকাইলাম তারা কিছুই করলো।

পলাশএকবার ভেবে দেখ?

আমিঃ ভাবার দরকার নেই। তাছাড়া তোদের কথায় আমি এমনটা করছি।

পলাশআচ্ছা ঠিক আছে।

“আরো কিছুদিন পর”

আস্তে আস্তে….

আমি শেফার প্রতি খুব দুর্বল হয়ে পরতেছি। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা। শেফার সাথেতো আমার ভালবাসা শুধু বাজি ধরে হয়েছে।
আমি কালকেই শেফাকে বলে দেবো আমি ওকে ভালবাসিনা।

কিন্তু কিভাবে বলবো? শেফার সম্মুখীন আমি হতে পারবো না।

তার চেয়ে বরং শেফাকে একটা চিঠি লিখে দেই। চিঠি লিখলে হবেনা। শেফার সামনে গিয়েই বলতে হবে।

না এটা ভালো হবে কালকে কলেজ গিয়ে বলে দিবো।

“পরের দিন কলেজ গিয়ে”

আমিঃ তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো শেফা?

শেফাঃ কি কথা বলো?

আমিঃ কথাটা তোমাকে কি করে বলবো বুঝতে পারছিনা। না বলেও থাকতে পারছিনা। আমি তোমাকে ভালবাসেছি শুধু বন্ধুদের বাজির জন্য। ভালবাসার বাজিতে আমি জিতে গিয়ে তোমার ভালবাসার কাছে আমিই হেরে গেলাম। যদি পারো ক্ষমা করে দিও।

শেফাঃ তুমি কি বলছো এইসব?

আমিঃ তুমি যেটা শুনেছ সেটাই বলেছি। আমি আশি আর যদি পারো ক্ষমা করে দিও।

চলবে…

সত্যিকারের প্রেমের জয় – শেষপর্ব

আমার কিছুই করার নাই। শুধু বন্ধুদের কারনে শেফাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলাম। এরকম আরও অনেক মেয়ের সাথে করেছি কিন্তু শেফার সাথে করে যেন কেমন লাগছে।

“এর কিছুদিন পর”

এর মধ্যে কয়েকদিন কেটে গেছে তবুও শেফাকে যেন ভুলতে পারছিনা। তাহলে কি আমি শেফাকে সত্যি সত্যি ভালবেসে ফেললাম? না না আমি এসব কি ভাবছি।

পরেরদিন কলেজে গেলাম।

পলাশ কিরে এতোদিন কই ছিলি? ফোন দিলাম ফোনও ধরলিনা।

আমিঃ ওই একটু ব্যস্ত ছিলাম। আচ্ছা শেফা কইরে?

পলাশআমাদের এটা করা ঠিক হয় নাইরে। মেয়েটা সত্যি তোকে অনেক ভালবাসে। তুই যেদিন সব কথা শেফাকে খুলে বললি সেই দিন শেফা কান্না করতে করতে কলেজ থেকে বাসায় চলে যায়। সেই যে গেলো আর আসেনি। মেয়েটার কিছু হয়ে গেলো নাতো?

আমিঃ জানি নারে। তবে শেফার সাথে আর একবার দেখা করে সরি বলতে হবে।

পলাশ কিভাবে দেখা করবি? শেফার বাসার ঠিকানাটাতো আমরা যানিনা।

আমিঃ দেখি ওর ফোন খোলা নাকি? একবার কল করে দেখি।

পলাশতাই ভালো।

শেফাকে অনেকবার ফোন করলাম কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে।

শেফা রাগের বসে কিছু করে না বসে। ওর আগে অনেক মেয়েকেই এইভাবে ঠকিয়েছি কিন্তু ওই মেয়ে গুলা একবারও ফোন বন্ধ রাখে নাই। আর শেফার বেলায় দেখছি সব উল্টো।

আমিঃ শেফা কোনো বান্ধবীর কাজ থেকে শেফার বাসার ঠিকানা নিতে হবে।

পলাশকেন? ফোন কি বন্ধ?

আমিঃ হুম। কিন্তু এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। শেফার কোন বান্ধবীর কাছ থেকে ঠিকানা নিতে হবে।

পলাশ হুম চল।

তারপর গেলাম দীপ্তির কাছে।

আমিঃ দীপ্তি তোর কাছে শেফার বাসার ঠিকানা আছে?

দীপ্তি কেন মেয়েটিকে ঠকিয়ে সাধ মেটেনি? আবার কি করতে চাস?

আমিঃ থাকলে দেনা প্লিজ। জরুরী দরকার আছে।

দীপ্তি, আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর দীপ্তির কাছ থেকে শেফার বাসার ঠিকানা নিলাম।

পলাশএখন শেফার বাসায় যাবো কি করে? ওর ভাইয়াতো এখানকার মাস্তান।

আমিঃ সেটা যানিনা। তবে শেফার সাথে দেখা করতেই হবে। কেন যানি মনে হচ্ছে শেফাকে আমি হারিয়ে ফেলছি।

পলাশ আচ্ছা চল দেখি কি করা যায়। তবে সাবধানে কাজ সারতে হবে।

তারপর আমি আর পলাশ দুজনে মিলে শেফাদের বাসার সামনে গেলাম।

আমিঃ আচ্ছা ভাইয়া এইটা কি শেফাদের বাসা?

শেফাদের বাসার দারওয়ান হ্যা। কিন্তু আপনারা কারা?

আমিঃ আমরা শেফার বন্ধু। শেফা কি বাসায় আছে? একটা কাজ ছিল শেফার সাথে।

দারওয়ান আপামনি অসুস্থ।

আমিঃ কেন কি হয়েছে?

দারওয়ান কোন এক কারনে কয়েকদিন আগে আপামনি বিষ খেয়ে ছিল। কিন্তু তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেঁচে যায়।

আমিঃ ওহ আচ্ছা। আমরা কি এখন শেফার সাথে দেখা করতে পারবো?

দারওয়ান আচ্ছা চলুন আমি আপনাদের আপা মনির রুম দেখিয়ে দেই।

তারপরে দারওয়ান আমাদের শেফার রুমে নিয়ে গেলো।গিয়ে দেখি শেফা বসে বসে বই পড়ছে।

দারওয়ান আপামনি আপনার সংগে এরা দেখা করতে এসেছে।

শেফা আমাকে দেখে পুরাই অবাক।

শেফাঃ ওদের কে চলে যেতে বল।

আমিঃ শেফা তোমার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে।

শেফাঃ আপনার সাথে আমার কোন কথা নেই। যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।

আমিঃ শেফা আমাকে কি আর একটা সুযোগ দেয়া যায়মা? (শেফার হাতটা ধরে বললাম)

শেফাঃ সুযোগ!! তাও আবার তোমাকে!!?

আমিঃ প্লিজ আমাকে এই একবার বিশ্বাস করে দেখো।

শেফাঃ আমি আর কাউকে বিশ্বাস করতে চাইনা। দয়া করে আপনি এইখান থেকে যান।

আমিঃ আর যদি না যাই?

শেফাঃ আমি নিজেকে শেষ করে ফেলবো।

আমি আমি থাকতে সেটা কখনো সম্ভব নয়। (শেফাকে জড়িয়ে ধরে)

এতক্ষনে দাড়ওয়ান চলে গেছে। তাই শেফাকে জড়িয়ে ধরলাম।

শেফাঃ আমাকে ছাড়ুন বলছি। নইলে খুব খারাপ হয়ে যাবে বলছি। আর আমার ভাইয়া যদি একবার দেখে ফেলে তাহলে আপনাকে মেরে ফেলবে।

আমিঃ আমি মরলে তোমার কি?

শেফাঃ আপনি মরলে আমার আবার কি? আমার কিছুই হবেনা।

আমিঃ সত্যি?

শেফাঃ হুম।

আমি শেফাকে ছেড়ে দিলাম। আমার কাছে সব সময়ই একটা ছুরি থাকে। সেই ছুরিটা পকেট থেকে বের করে হাতের শীরা কেটে ফেললাম।
তারপরে কি হয়েছে মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরলো নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।

পলাশ শুধু শুধু মরতে যাচ্ছিলি কেন হ্যা?

আমিঃ জীবনে যাকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসলাম সেই যদি না থাকে তাহলে আমার বেঁচে থেকে কি হবে?

পলাশ তুই জানিস তোকে বাঁচানোর জন্য রক্ত লাগতো। কিন্তু তোর রক্ত কারও সাথে ম্যাচ করছিলনা। শুধু শেফার রক্ত তোর রক্তে ম্যাচ করেছিল। তখন শেফার তোকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে।

আমিঃ শেফা কই?

পলাশ শেফা (চিৎকার করে ডাক দিল)

শেফা মাথা নিচু করে আমার সামনে এসে দাড়ালো। আমি শেফাকে বসতে বললাম। শেফা আমার পাশে এসে বসল।

শেফাঃ ওই ভাবে মরতে গিয়েছিলে কেন?

আমিঃ তাহলে কি করবো? তুমি যেহেতু আমাকে ভালবাসো না তাই নিজের জীবন কে তুচ্ছ মনে হচ্ছিল।

শেফাঃ কে বলেছে আমি তোমাকে ভালবাসিনা? আমিতো ওই কথা গুলো অভিমানের কারনে বলেছিলাম। তাই বলে ওই ভাবে কেউ মরতে যায়?

শেফার আমার বুকে মাথা রেখে অঝোরে কান্না করতে থাকে। আমি শেফাকে থামালাম না। কারন এই কান্নাই ওর শেষ কান্না। শেফাকে আর কখনই কান্না করতে দেবো।

তারপর শেফাকে নিজের বুকে টেনে নিলাম।

সত্যিকারের ভালবাসা কখনো হারায় না। কিছুদিন পর নতুন গল্প নিয়ে হাজির হবো। ততদিন সুস্থ থাকুন ভাল থাকুন।

সমাপ্ত

গুন্ডার বোন
লেখকঃ আবির হাসান হৃদয়

আরো পড়ুন – কালো মেয়ের ভালোবাসার গল্প

Related posts

তোর আসক্ত – সিজন ১ । অভীমানি ভালোবাসার গল্প

valobasargolpo

কমিশনারের মেয়ের সাথে প্রেম – প্রেমের উপন্যাস

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!