কষ্টের প্রেমের গল্প

তোর আসক্ত – সিজন ৩ । খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প

কষ্টের ভালোবাসার গল্প

তোর আসক্ত – খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প: এখনো রেগে আছো রুপ। আমি যা ভাবতাম সবটাই মিথ্যে ছিলো, ভুল ছিলো। সবাই কে এক মনে করাটা নিতান্তই বোকামি। না হলে কি আমার এমন ভালো বউ টাকে কষ্ট দিতাম বলো!

পর্ব – ১২

অন্তর ধমক শুনে রুহি কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তারাতারি করে অন্তর জন্য একটা চেয়ার টেনে নিজে অপর একটা চেয়ারে বসে যায়। বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নেয়।
অন্তরঃ ঔষধ খেয়েছিলে?

রুহিঃ হ্যা।

অন্তরঃ ওকে রাতের টা খেয়ে নিও। জ্বর আর আসেনি তো?

রুহিঃ না।

অন্তরঃ আচ্ছা রুমে চলো।

রুহি অন্তর সাথে রুমে এসে আড়চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। অন্তর বিষয় টা খেয়াল করে।

অন্তরঃ কী খুজছো?

রুহিঃ না কিছুনা। (অসভ্য লোক বেশি কিছু তো চেয়েছিলাম না শুধু চকলেট আর আইসক্রিম। দুইটা না পারলেও আইসক্রিম টা তো আনতে পারতো অন্তত। এতো কিপ্টুস হুহহহহ!)

অন্তরঃ খেয়াল করছো রুহি কিছুটা রেগে আছে আর মনে মনে কিছু বলছে। অন্তর ভালো মতোই আন্দাজ করতে পারছে বিষয় টা।

অন্তরঃ তুমি ঔষধ গুলো খেয়ে শুয়ে থাকো। আমি আসছি।

রুহি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ১০ টার কাছাকাছি প্রায়। এতো রাতে আবার কোথায় যাবে। তাও বেচারির আইসক্রিম আর চকলেটের শোকে এতো টা গুরুত্ব দেয়নি। শুধু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়।

অন্তরঃ বেরিয়ে পরে। রুহি ঔষধ গুলো খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। কিন্তু ঘুম আর আসছে না। বার বার মনে হচ্ছে এতো রাতে অন্তর কোথায় গেলো?

রুহি শোয়া থেকে উঠে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পরই অন্তর চলে আসে। রুহি অন্তরকে আসতে দেখে যতোটা না খুশি হয়েছে তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে অন্তর হাতে চকলেট আর আইসক্রিম গুলো দেখে।

এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে অন্তর কাছে যায়।

রুহিঃ আপনি মনে রেখেছেন! আমিও ভাবলাম আপনি হয়তো ভুলেই গেলেন জানেন আমার কতো কষ্ট হচ্ছিলো (ঢং করে)

অন্তরঃ হোয়াট! আইসক্রিম আর চকলেটের জন্য তোমার কষ্ট হচ্ছিলো!

রুহিঃ হ্যা তো!

অন্তরঃ তুমি পারো ও বটে! বাই দ্যা ওয়ে… অফিসে অনেক কাজের চাপ ছিলো তাই বাড়ি ফেরার সময় মনে ছিলো না। তখন তুমি রুমে এসে খুজা খুজি করছিলে দেখে মনে পড়লো তুমি হয়তো তোমার চকলেট আইসক্রিম খুজে যাচ্ছো। ভেবেছিলাম কাল আনবো। কিন্তু তুমি মনে মনে যে গালি দিলে!

রুহি অন্তর কথা শুনে হা হয়ে অন্তর দিকে তাকায়!

রুহিঃ আচ্ছা আপনি কি মনোবিজ্ঞানী?

অন্তরঃ মানে!

রুহিঃ না আসলে আমি যে আপনাকে বকা দিচ্ছিলাম আপনি বুঝলেন কী করে?

অন্তরঃ তার মানে তুমি সত্যি সত্যি আমাকে বকছিলে?

রুহিঃ না না… বেশি বকা তো দিই নি। শুধু কিপ্টুস বলেছিলাম।

অন্তরঃ হোয়াটটট! কিপ্টুস?

রুহিঃ ঐযে…কিপ্টে!

অন্তরঃ তোমার কি মনে হই আমি কিপ্টেমি করে আইসক্রিম আর চকলেট আনি নি? (দাঁতে দাঁত চেপে)

রুহিঃ হ্যা… না মানে… না

অন্তরঃ কিপ্টে যখন বলেই দিলে তখন তো মার আর এই সব খেতে হবে না ডাফার!

রুহিঃ স… সরি তো আর বলবো না।

অন্তরঃ ফ্রিজে রেখে আসো কাল খেয়ো। এখন ঘুমাউ।

রুহিঃ না। আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। আমি খেয়েই ঘুমাবো।

অন্তরঃ ওকে এজ ইউর উইশ। এ কথা বলেই শুয়ে পড়ে।

রুহিঃ বলছিলাম যে… আমি কোথায় ঘুমাবো?

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে রুহির দিকে ফিরে তাকায়…

অন্তর কেনো? আমার কোলে ঘুমাবে… আসো… কোলে আসো..!

রুহিঃ মানে? (অবাক হয়ে)

অন্তরঃ মানে বিছানায় আমার পাশেই ঘুমাবে ডেমেট! (রেগে)

রুহিঃ তো তখন কোলে বললেন যে?

অন্তরঃ রুপপপ…..চুপচাপ ঘুমাতে এসো বেশি বক বক করবা খবর আছে।

রুহিঃ কয়টার খবর? (দাঁত কেলিয়ে)

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে রেগে শোয়া থেকে উঠে বসতেই রুহি এক দৌড়ে বেলকনিতে চলে যায়।

অন্তরঃ বিরক্ত হয়ে আবার শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর রুহি ও বিছানায় পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।

সকালে…

চোখ মেলে তাকাতেই রুহির চোখ দু’টো রসগোল্লার মতো হয়ে যায়। সকাল ১১ টা বাজে!

এতোখন পড়ে পড়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। পাশ ফিরে তাকিয়ে অন্তরঃকেও দেখতে পায় না। হয়তো অফিসে চলে গেছে। রুহি তারাতারি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে।
নিচে নামতেই দেখে অন্তরের মা।

অন্তরের মাঃ রুহি… এখন কেমন আছিস? জ্বর আর আসে নি তো?

রুহিঃ না মা। ভালো আছি এখন। মা আমাকে উনি ডাকে নি। ঘুম থেকে উঠতে অনেকটা লেট হয়ে গেছে আজ।

অন্তরের মাঃ আমিই অন্তরকে বারন করেছিলাম ডাকতে। তোর এমনিতেই শরীর টা ভালো না ঘুমালে মাথা টাও হালকা হবে। এখন বস.. খেয়ে নে।

রুহিঃ ব্রেকফাস্ট করে রুমে চলে যায়। ফোন টা হাতে নিতেই দেখে তার মায়ের মিসডকল। রুহি ফোন টা ব্যাক করতেই ওপাশ থেকে সাথী রিসিভ করে…

সাথীঃ হ্যালো… আপু…

রুহিঃ হ্যা সাথী… কেমন আছিস।

সাথীঃ ভালো আছি আপু। তুমি ভালো আছো তো?

রুহিঃ হ্যা ভালো। পড়াশোনা করছিস তো ঠিক মতো?

সাথীঃ হুম। আপু মার সাথে কথা বলো আগে। তোমার সাথে কথা বলতে সেই ভোর থেকেই অপেক্ষা করছে। আমি বুঝিয়েছি আপু হয়তো ঘুম থেকে উঠেনি।

রুহিঃ এ কেমন কথা! উঠিনি কি আবার? তুই তো ফোন দিতে পারতি।

সাথীঃ আচ্ছা এখন কথা বলো তো।

সাথী ফোনটা তার মায়ের কাছে দেয়….

রুহির মাঃ হ্যালো…

রুহিঃ মা কেমন আছো?

রুহির মাঃ ভালো আছি রে। তুই কেমন আছিস মা?

রুহিঃ আমিও ভালো আছি। বাবা কেমন আছে মা?

রুহির মাঃ তোর বাবা ও ভালো আছে। রুহি তোর কোনো অসুবিধে হয় না তো ঐ বাড়িতে?

রুহিঃ না মা একদম না।

রুহির মাঃ হ্যা মা। সবার সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছিস এটাই অনেক।

রুহিঃ হুম। উনারা সবাই অনেক ভালো মা। আমাকে অনেক ভালোবাসে।

রুহির মাঃ অন্তর সাথে রাগারাগি করিস না কখনো। ওর মনের মতো হয়ে চলতে চেস্টা করিস।

রুহিঃ হ্যা মা। আর শোনো মা… এখন থেকে তোমার যখন ইচ্ছে হবে সাথে সাথে ফোন দিবা বুঝছো যতোই রাত হোক বা যতো ভোরই হোক কোনো সমস্যা নেই।

রুহির মাঃ আচ্ছা মা তুই সবধানে থাকিস। শোন না… সাথী বলছে তোর শশুড়বাড়ি যাবে কয়েক দিন থাকতে। আমি এতো করে বারন করছি শুনছে না আমার কথা। তুই একটু ওকে বুঝা না।

রুহিঃ বারন করছো কেনো মা? আমার ওত একা একা থাকতে ভালো লাগে না সাথী আসলে তো দুইজন আবার একসাথে কয়েকটা দিন কাটাতে পারবো। তুমি রাজি হয়ে যাও প্লিজ।

রুহির মাঃ আরে বোকা মেয়ে। আমার রাজি হওয়ার কি আছে। আমি তো ভাবছি অন্তর তোর শশুর শাশুড়ি কি ভাববে তাই…

রুহিঃ মা তুমি উনাদের চেনোই। উনারা আরও বেশি খুশি হবে সাথী আসলে দেখো তুমি।

রুহির মাঃ আচ্ছা। এই নে সাথীর সাথে কথা বল…

সাথীঃ আপু… মা কে একটু বুঝা না প্লিজ। তোর সাথে কয়েকটা দিন থাকবো কোথাও ঘুরতে বের হবো! মা রাজিই হচ্ছে না।

রুহিঃ আরে তুই কোনো চিন্তা করিস না। মা রাজি হবে। আমি বলেছি মাকে।

সাথীঃ ওকে আপু… তোকে এত্তো গুলা থ্যাংক্স।

রুহিঃ হয়েছে পাগলী মেয়ে। রাখছি এখন।

সাথীঃ ওকে আপু। খোদা হাফেজ।

রুহিঃ খোদা হাফেজ।

রুহি ফোন টা রেখে তার শাশুড়ি মায়ের কাছে যায়।

রুহিঃ মা..

অন্তরের মাঃ হ্যা… আয় ঘরে আয়।

রুহিঃ মা একটা কথা বলার ছিলো…

অন্তরের মাঃ হ্যা বল না।

রুহিঃ মা আসলে আমার ছোট বোন টা আসতে চাইছে। আমার সাথে কয়েকটা দিন থাকতে চাইছে।

অন্তরের মাঃ তো ওকে নিয়ে আয়। আমাকে বলতে হবে নাকি হ্যা?

রুহিঃ না মা তাও আপনাকে না জানিয়ে তো আনতে পারি না।

অন্তরের মাঃ শুধু মুখে মুখেই মা বলে ডাকিস তাইনা। ভাবলি কি করে আমি মেয়েটাকে আসতে দিতে রাজি হবো না।

এখন বাদ দে এসব। ওকে আনতে যাবে কে? তুই তো একা একা যেতে পারবি না। তাছাড়া তোর শরীর টাও ভালো না।

এক কাজ কর অন্তরকে ফোন দে। ওকে বল গিয়ে নিয়ে আসতে।

রুহিঃ ওকে মা এখনি দিচ্ছি।

রুহি অন্তর নাম্বারে ফোন দেয়। কয়েক বার রিং হওয়ার পর রিসিভ করে…

অন্তরঃ হ্যা বলো…

রুহিঃ আসলে একটা কথা ছিলো।

অন্তরঃ তো বলো..

রুহিঃ সাথী বলছিলো এখানে আসবে। ও তো একা আসতে পারবে না আর আমিও গিয়ে নিয়ে আসতে পারবো না। তাই মা বলছিলো আপনি যদি একটু কষ্ট করে নিয়ে আসতেন…

অন্তরঃ কিছুক্ষণ আগে বললে না কেনো? একটু পরে তো মিটিং আছে। কিছুক্ষন আগে বললে ক্যান্সেল করে দিতাম। এখন তো সেটা সম্ভব না। তুমিও না সব কিছুতে লেট!
আচ্ছা শুনো… আমান তো তোমাদের বাসা চিনেই। ওকে পাঠাই?

রুহিঃ হ্যা সেটাই ভালো হয়। আপনার কাজের ও সমস্যা হবে না তাছাড়া ভাই তো ফ্রিই আছে।

অন্তরঃ ওকে আমি বলে দিচ্ছি।

রুহিঃ আচ্ছা।

অন্তরের মাঃ কিরে কি বললো?

রুহিঃ আসলে মা উনার মিটিং আছে আজ। তাই আমান ভাইয়াকে বলছিলো।

অন্তরের মাঃ হ্যা তাও ভালো হয়।

অন্তরঃ আমানকে ফোন দেয়। কয়েকবার ফোন দেয়ার পরও আমান ফোন রিসিভ করে নি। কিছুক্ষণ পর আমান নিজেই অন্তরকে ফোন দেয়।

অন্তরঃ হ্যালো..

আমানঃ ভাইয়া সরি আসলে ফোন সাইলেন্ট করা ছিলো তাই ফোন তুলতে পারি নি। এখন হাতে নিয়ে দেখলাম তোমার ফোন।

অন্তরঃ আচ্ছা শোন তুই কোথায় এখন?

আমানঃ আমি তো বাসার কাছেই। ফ্রেন্ডদের সাথেই বসে আছি। কেনো ভাইয়া?

অন্তরঃ একটা কাজ করতে হবে তোর। রুহিদের বাড়ি যেতে হবে আজ একবার।

আমানঃ কিন্তু কেনো?

অন্তরঃ আরে সাথী আসতে চাইছে রুহির ছোট বোন। এখন তো রুহির যাওয়া পসিবল না। আর আমিও মিটিং এ আটকে গেছি তাই তোকে বলতে হলো। বাই দ্য ওয়ে… এডড্রেস টা মনে আছে তো?

আমানঃ হ্যা ভাইয়া মনে আছে।

অন্তরঃ তাহলে তুই চলে যাস ওকে। যেতে প্রবলেম হলে গাড়ি নিয়ে চলে যাস। ড্রাইভার চাচাকে আমি বলে রাখছি।

আমানঃ ওকে ভাইয়া।

অন্তরঃ ওকে রাখছি বাই।

অন্তরঃ ফোন কেটে দিলে সাথে সাথেই আমান বাড়ি চলে আসে।

রুহি আমান কে দেখেই বলে..

রুহিঃ ভাই উনি তোমাকে বলেছে?

আমানঃ উনি টা কে? (ভাব ধরে)

রুহিঃ আরেহহ তোমার ভাই!

আমানঃ এমন ভাবে উনি উনি করছো যেনো তোমার কতো বছরের পর। হ্যা বলেছে তোমার ঐ গুন্ডি বোন কে নিয়ে আসতে।

ঐ দিন তো গিয়েছিলাম বলে কি খুটা টাই না দিলো! আজ না জানি কি বলে অপমান করে আল্লাহ মালুম!

রুহিঃ আমার বোন টা মোটেও এমন না বুঝলে। ওর মন টা অনেক ভালো কিন্তু জেদ বেশি। নিশ্চয় তুমি ওকে খুচা দিয়েছো তাই রেগে গিয়েছিলো।

আমানঃ তা তো একটু আকটু দিতেই হবে। তোমার বোন বলে কথা। আমার বেয়ানজী! (দাঁত কেলিয়ে)


পর্ব – ১৩

আমানঃ একটু আকটু তো দিতেই হয়। তোমার বোন বলে কথা। আমার বেয়ানজী! (দাঁত কেলিয়ে)

রুহিঃ আচ্ছা হয়েছে এবার যাও।

আমানঃ হুম যাচ্ছি রেডি হয়ে আসছি ওকে।

রুহিঃ ওকে।

আমান রেডি হয়ে রুহিদের বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়।

সাথী সাজুগুজু করে রেডি হয়ে বসে আছে। কিন্তু একটা কথা কিছুতেই তার মাথায় ঢুকছে না তাকে নিয়ে যাবে কে?

আপু? নাহ। আপু তো একা আসবে না। তাহলে হয়তো বাড়ির ড্রাইভার কে পাঠাবে।

ধুরর যাকেই পাঠাক আমার দেখার বিষয় না। আমার আপুর কাছে যেতে পারলেই হলো ব্যাস।

সাথী বসে ওয়েট করছে এমন সময় দরজায় কেউ বেল বাজায়।

রুহির মাঃ সাথী… দেখ তো কে এসেছে।

সাথীঃ কে আবার হবে মা। নিশ্চয় আপু ওদের ড্রাইভার কে পাঠিয়েছে আমাকে নিয়ে যেতে।

রুহির মাঃ আচ্ছা আগে গিয়ে দেখবি তো নাকি।

সাথীঃ ওকে ওকে যাচ্ছি।

সাথী পরিপাটি হয়ে গিয়ে দরজা টা খুলতেই চমকে উঠে!

সাথীঃ আপনি?

আমানঃ তো? অন্য কারোর আসার কথা ছিলো নাকি?

সাথীঃ আপনি আবার ফালতু কথা শুরু করে দিয়েছেন। ঐ দিনও আপনার জন্য আমার মায়ের কাছে বকা শুনতে হলো। আজও যদি শুনি তো আপনাকে আমি….

আমানঃ আমাকে আপনি কী? (বাঁকা হেসে)

সাথীঃ গুলি করে দেবো। (রাগে কটমট করে)

আমান সাথীর কথা শুনে হো হো করে হেসে দেয়।

আমানঃ গুলি করলে তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে কে শুনি?

সাথীঃ এতো কিছু জানিনা। আর আমি কি আপনার সাথে যাবো নাকি!

আমানঃ ইয়েস ম্যাম। আপনাকে নিতেই আমি এসেছি। বাই দ্য ওয়ে…. আপনি রেডি তো? না হলে ঝটপট রেডি হয়ে নিন। আমি বেশিক্ষণ ওয়েট করতে পারবো না।
সাথীঃ আমি যাবো না আপনার সাথে ব্যাস।

আমানঃ ওকে ফাইন। তাহলে আমি গেলাম। টাটা।

সাথী বেচারির রাগে দুঃখে কান্না আসছে। এতো আশা করে আছে বোনের সাথে আড্ডা মারবে, দু’জন একসাথে ঘুরতে যাবে। শেষে কিনা সব শেষ হয়ে গেলো! তাও এই ছেলেটার জন্য। ওফফ আপু যে কি!

দেশে আর মানুষ পেলো না। উনাকে ছাড়া।

সাথীঃ শুনুন…

আমানঃ কী হলো? (ভ্রু কুঁচকে)

সাথীঃ আপনি বসুন আমি আসছি।

আমান মুচকি হেসে ভেতরে এসে বসে।

রুহির মা আমানের জন্য কফি করে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ বসে কথা বলার পর সাথী আসে।

সাথীঃ আমি রেডি।

আমানঃ আন্টি (রুহির মাকে) আসি তাহলে।

রুহির মাঃ হ্যা বাবা সাবধানে যেও। আর সাথী শোন… কোনো অশান্তি করিস না ওখানে গিয়ে।

সাথীঃ ওকে মা। বাবার খেয়াল রেখো আর সাবধানে থেকো।

সাথী তার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে।

আমান গাড়ির সামনে গিয়ে সাথী কে ইশারা করে গাড়িতে উঠতে বলে তারপর নিজে ড্রাইভিং সীটে বসে পড়ে।

সাথী পেছনের সীটে বসলে আমান রাগে গজগজ করে সাথীর দিকে তাকায়…

আমানঃ আমাকে কি তোমার ড্রাইভার পেয়েছো?

সাথীঃ না তো! কেনো?

আমানঃ তাহলে ভাব দেখিয়ে পেছনের সীটে বসলে কেনো?

সাথীঃ আমার ইচ্ছে, তাই।

আমানঃ তোমার ইচ্ছে তোমার ব্যাগে রাখো। আর সামনের সীটে এসে বসো। কুইক….

সাথীঃ ওফফফ…. এতো কাহিনী করার কী আছে বলুন তো।

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আমান হটাৎ গাড়ি থামিয়ে সাথীর দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকায়। সাথী ভয় পেয়ে ভদ্র মেয়ের মতো সামনের সীটে এসে বসে।

বাকি পথ আর কেউ কোনো কথা বলেনি। অবশ্য আমান দুই এক বার বকবক করেছে সাথী শুধু ইশারায় হ্যাঁ, হুম, না এই সবই উত্তর দিয়ে গেছে।

বাসায় এসে সাথী গাড়ি থেকে মেমে লাগেজ টা হাতে নিতেই আমান বলে…

আমানঃ আমি আছি কী করতে? (শান্ত সুরে)

সাথী আমানের কথার কিছুই বুঝতে পারে নি। শুধু ভ্রু কুঁচকে আমানের দিকে তাকিয়ে ভেতরে চলে যায়।

রুহি কে দেখতেই দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে…

সাথীঃ আপুনি….

রুহিঃ কেমন আছিস?

সাথীঃ ভালো আছি তুমি কেমন আছো আপু?

রুহিঃ ভালো আছি।

অন্তরের মা ও রুহির সাথেই বসা ছিলো। সাথী অন্তরের মার কাছে যায়।

সাথীঃ আন্টি কেমন আছো?

অন্তরের মাঃ ভালো আছি মা তুই কেমন আছিস?

সাথীঃ আমিও ভালো আর এখন তো আরও ভালো থাকবো আপুর সাথে কতো আড্ডা দিতে পারবো।

অন্তরের মাঃ বুঝেছি। আমরা বুঝি বুড়ি হয়ে গেছি? তাই আমাদের সাথে আড্ডা দেয়ার কথা বলিস নি, তাই না?

সাথীঃ এ মা আন্টি তা কি করে হয় বলো। তুমি ছাড়া তো জমবেই না। (হেঁসে)

রুহিঃ সাথী… কি করছিস। মা কি ভাববে বল তো। (সাথীর কানে ফিসফিসিয়ে)

সাথীঃ সরি আপু।

অন্তরের মাঃ কী হয়েছে রুহি?

রুহিঃ আসলে মা আপনি ওর কথায় কিছু মনে করবেন না। ও এমনি। সবাইকে জ্বালিয়ে মারে। আবার খুব সহজে আপন ও করে নেয়।

অন্তরের মাঃ হ্যাঁ হ্যাঁ এই জন্যই তো সাথীর সাথে আড্ডা দিতে চাই।

অন্তরের মার কথায় রুহি সাথী দু’জনই হেঁসে দেয়।

রুহিঃ সাথী ফ্রেশ হয়ে আয় তুই।

সাথীঃ ওকে আপু।

রুহি রূইসা কে নিয়ে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে এসে সাথী লাগেজ টা খুঁজতে থাকে।

সাথীঃ আমার লাগেজ কই গেলো?

রুহিঃ আরে আমান বোধহয় কোথাও রেখেছে দাড়া আমি জিগ্যেস করে আসি।

রুহি আমানকে জিগ্যেস করতেই আমান বলে…

আমানঃ পাশের গেস্ট রুমে রেখে আসছি। ও তো ওখানেই থাকবে।

রুহিঃ হ্যা ভালো করেছো। আমিই রাখতাম।

আমানঃ হুম।

রুহি সাথী কে নিয়ে গেস্ট রুমে দিয়ে আসে।

রুহিঃ কিছু লাগলে ডাকিস কেমন। আমি পাশের রুমেই আছি। তুই বরং বিশ্রাম কর। রাতে গল্প করতে পারবো সমস্যা নেই।

সাথীঃ ওকে আপু।

জার্নি করে আসায় অনেক টা ক্লান্ত লাগছে। দরজা টা চাপিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় সাথী। চোখ বন্ধ করে থাকে কিছুক্ষণ।

সাথীর রুমের পাশেই রুহির রুম তার সাথে আমানের।

কিছুক্ষণ ল্যাপটপ নিয়ে ঘাটাঘাটি করে আমান ল্যাপটপ টা বন্ধ করে রাখে।

আমান টি শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বের হয় উদ্দেশ্য এখন সে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবে।

সাথীর রুমের পাশ দিতে যেতেই খেয়াল করলো দরজা টা একটু ফাঁকা। হয়তো ভেতর থেকে লক করা নেই, তাই।

আমান ভাবলো একবার উঁকি দিয়ে দেখবে ওকে?

নাহ… কারো রুমে এভাবে উঁকি মারা টা নিতান্তই অভদ্রতা। কিন্তু মনকে কি আর মানানো যায়। ইচ্ছে তো করছে একটু দেখতে।

আমান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতে যাবে এমন সময় আবার কিছু একটা ভেবে সরে আসে।

না। কারো রুমে নক না করে যাওয়া টা ঠিক না। পরে না হয় এক সময় দেখে নিবো রাগি কুইন কে।

আমান বের হয়ে যায়।

সাথী সন্ধার দিকে ঘুম থেকে উঠে। এতো টুকু রাস্তা জার্নি করে এসেই এই দশা! আর যদি দূরের কোথায় যায় তাহলে হয়তো তাকে খুজেই পাওয়া যাবে না।
সাথী উঠে চোখে মুখে পানি দিয়ে রুম থেকে বের হয়।

রুহির রুমে আসে…

সাথীঃ আপু…

রুহিঃ তুই উঠে গেছিস। আয় বস। আমি বরং কফি বানিয়ে আনি তোর জন্য কেমন?

সাথীঃ ওকে আপু।

রুহি কফি বানাতে চলে যায়। আর সাথী ঘুরে ঘুরে রুহির রুম টা দেখতে। তারপর বেলকনির দিকে যায়।

বাহ! বেলকনিটা তো অসাধারন! সাইডে কি সুন্দর ফুল গাছ লাগানো। কতো টা পরিপাটি দেখাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর রুহি দুইটা কফি নিয়ে আসে।

রুহিঃ সাথী কোথায় গেলি?

সাথী বেলকনি থেকে জবাব দেয়…

  • তোমার বেলকনিতে।

রুহি মুচকি হেসে কফি দু’টো নিয়ে বেলকনিতে যায়। একটা সাথীর হাতে দিয়ে অপরটা নিজে রাখে।

দু’জনই গল্প করতে করতে কফিটা শেষ করে।

সাথীঃ আপু ভাইয়া কখন আসে।

রুহিঃ উনার কোনে ঠিক নেই। কাল তো ৯ টার দিকপ আসছে আজ না জানি কোন সময় আসে।

সাথীঃ আপু আজ তুমি আমার সাথে থাকবে প্লিজ।

রুহিঃ আচ্ছা বাবা থাকবো।

সাথীঃ ভাইয়া কিছু বলবে না তো?

রুহিঃ আরে ধুরর কি বলবে আবার।

সাথীঃ ওকে। জমিয়ে আড্ডা মারবো আজ।

ঘন্টাখানেক পর অন্তর আসে।

রুহি গিয়ে অন্তর জন্য শরবত বানিয়ে আনে।

অন্তরঃ ফ্রেশ হয়ে আসলে রুহি শরবত টা অন্তর কাছে নিয়ে যায়।

অন্তরঃ কী এটা?

রুহিঃ শরবত। খেয়ে নিন?

অন্তরঃ আমি তোমাকে বলেছি? (ভ্রু কুঁচকে)

রুহিঃ আপনি কেনো বলবেন? আমিই বানিয়ে আনলাম। কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নিন।

রুহি একপ্রকার জোর করে অন্তর হাতে গ্লাস টা ধরিয়ে দেয়।

রেস্ট করুন আপনি। আমি আসছি।

অন্তরঃ কিছু না বলে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।

রাতে…

রুহিঃ সাথী….

সাথীঃ হ্যাঁ আপু আসো।

রুহিঃ খেতে চল।

সাথীঃ ওকে আপু আসছি তুমি যাও।

রুহিঃ তারাতারি আয়।

সাথীঃ আচ্ছা।

রুহি চলে যায়। সাথী খাবার টেবিলে গিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়ে।

সাথীর ঠিক অপর পাশেই আমান। সাথী আমানের দিকে তাকাতেই আমান চোখ মেরে দেয়।

সাথী রাগে কটমট করতে থাকে।

সাথীঃ (কী বেয়াদব বে বাবা! ইচ্ছে করছে চোখ দু’টো দিয়ে মার্বেল খেলি… যত্তসব!)

সাথী খেতে বসেও মারাত্মক অস্বস্তিতে পড়েছে। আমানের দিকে চোখ গেলেই আমান হয় মুচকি হাসছে না হয় চোখ মারছে। সাথীর রাগ এবার চরম পর্যায়ে! এখন তো ইচ্ছে করছে তার নিজের চোখ দুটু দিয়ে মার্বেল খেলতে কেনো যে বার বার এই অসভ্য ছেলেটার দিকে চোখ যাচ্ছে!

সাথী কোনো রকম খাওয়া শেষ করে উঠে পরে।

অন্তরের মাঃ কিরে উঠে পড়লি যে?

সাথীঃ আন্টি আমার খাওয়া শেষ। তোমরা খাও আমি রুমে যাই।

অন্তরের মাঃ দেখো কান্ড! দুইটা বোন একি রকম। খাবার নিয়ে এতো অবহেলা!

রুহিঃ আসলে মা ও এমনি।

অন্তরের মাঃ হ্যাঁ ও এমনি। আর তুই তো খেতে খেতে মোটি হয়ে যাচ্ছিস, তাই না?

অন্তর বাবা – এখন কার দিনের মেয়েরা এমনই বুঝলে।

অন্তরের মাঃ হ্যাঁ তুমিও ওদের কে সাই দাও। যাতে এক্কেবারে না খেয়েই দিন পার করে দেয়।

সাথীঃ আন্টি আমি যাই কাল থেকে বেশি বেশি খাবো। পাক্কা…

অন্তরের মাঃ শুনো মেয়ের কথা! (বলেই হেঁসে দেয়)

সাথী নিজের রুমে গিয়ে বিছানায় শোয়ে ফোন টা হাতে নেয়।

সারা দিনে একবার এফবিতে ঢুকে নি। তাই আইডিটা লগইন করে।


পর্ব – ১৪

সাথী রুমে এসে শোয়ে ফোন টা হাতে নেয়। সারা দিন একবারও এফবিতে আসেনি তাই আইডিটা লগইন করে।

অন্তরঃ সাথী কী রাগ করে আছে কোনো কারনে?

অন্তরের মাঃ কই না তো।

রুহিঃ ওর খাওয়া হয়ে গেছে তাই হয়তো উঠে চলে গেলো।

অন্তরঃ আমার তো মনে হচ্ছে রাগ করে আছে কোনো কারনে আমার সাথেও কথা বললো না।

অন্তরের মাঃ তুই ওতো কথা বলিস নি। কেমন দুলাভাই তুই?

অন্তরঃ ওকে ওকে কাল আসার সময় আমার শালিকার জন্য চকলেট নিয়ে আসবো নি। মেয়েদের তো এই একটা জিনিস প্রাণের চেয়েও প্রিয় (রুহির দিকে তাকিয়ে)
রুহি অন্তর কথায় মুচকি হাসে।

এদিকে সাথী নিজের রুমে একা একা থাকতে থাকতে বোরিং ফিল করছে। ভেবেছিলো রুহির সাথে আড্ডা দিবে তা আর হলো কই।

বেচারির অপক্ষার অবসান ঘটিয়ে কিছুক্ষণ পর রুহি আসে।

রুহিঃ কিরে ঘুমাস নি?

সাথীঃ আমি এতো জলদি ঘুমাই না তুমি জানো না? নাকি বিয়ে হয়েছে বলে আমার সবই ভুলে গেলে। (অভিমানী সুরে)

রুহিঃ এ মা! এ আবার কেমন কথা?

সাথীঃ এমন কথাই হুহহহ।

  • আমিও কি জয়েন হতে পারি আপনাদেট আড্ডায়?

রুহি পেছন ফিরে অন্তরকে দেখে মুচকি হাসে।

রুহিঃ হ্যাঁ। আসুন না।

সাথীঃ দুলাভাইয়ের সাথে তো আড়ি।

অন্তরঃ সে কি! কেনো শালিকা?

সাথীঃ আপনি আমার সাথে এক বারও কথা বলেন নি। (মুখ ঘুরিয়ে)

অন্তরঃ সেই জন্যই তো এখন আড্ডা দিতে আসলাম।

সাথীঃ ভাইয়া কাল আপুকে আর আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবেন প্লিজ।

অন্তরঃ একবার নিজের চারপাশ টা দেখে নেয়।

অন্তরঃ ভাইয়া টা কে? (ভ্রু কুঁচকে)

সাথীঃ আরেহহ আপনাকেই তো বললাম।

অন্তরঃ ও ওকে। বাট শালিকা কাল তো অফিসে অনেকটা চাপে থাকতে হবে। মনে হয় তোমাদের নিয়ে যেতে পারবো না।
তবে তোমরা যদি বলো উপায় বের করতেই পারি।

সাথীঃ কী উপায়?

অন্তরঃ আমান নিয়ে যাক। যদি তোমাদের কোনো প্রবলেম না থাকে।

সাথীঃ নাআআআ! ঐ ফাজিল টার স….

সাথী কিছু বলার আগেই রুহি সাথীর মুখ চেঁপে ধরে….

অন্তরঃ ভ্রু কুঁচকে দু’জনের দিকে তাকায়।

অন্তরঃ কী হলো?

রুহিঃ ক কই কিছু না তো!

অন্তরঃ ওকে না বলতে চাইলে বলো না।

আচ্ছা শালিকা এখন ঘুমাউ অনেক রাত হলো। কাল না হয় একটা উপায় বের করা যাবে তোমার ঘুরাঘুরি নিয়ে। কেমন?

সাথীঃ ওকে৷ কিন্তু আমি তো চাইছিলাম আজকে আপুর সাথে থাকতে। (অসহায় ভাবে)

অন্তরঃ কি বলবে বুঝতে পারছে না।

অন্তরঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

সাথী অন্তর কথা শুনে তার মুখের দিকে তাকায়। বেচারার মুখটা দেখার মতো হয়ছে।

সাথীঃ না না থাক। আমি আবার কারো সাথে বেড শেয়ার করতে পারিনা। আমার ঘুমই হয়না।

অন্তরঃ সাথীর কথা শুনে হাসি দেয়। সাথী বুঝতে পারে অন্তর খুশি হওয়ার কারন।

রুহি চলে আসে। রুমে আসতেই অন্তর বলে…

অন্তরঃ রুপ…সাথী ঐ সময় কী বলতে চাইছিলো?

রুহিঃ ক কই… কিছুনা তো। আপনিও ওর কথায় কান দিলেন। ও তো এমনিই কতো কথা বলে।

অন্তরঃ নাহ। আমি বুঝতে পেরেছি কিছু একটা হয়েছে। তার জন্যই হয়তো সাথী ডিনারের সময় না খেয়েই চলে গেলো।

রুহিঃ আরেহহ ছাড়ুন না ওসব।

অন্তরঃ রুহির দুই বাহু ধরে নিজের দিকে ফিরায়…

অন্তরঃ বলো…

রুহি উপায় না পেয়ে অন্তরকে সব বলে দেয়… রুহির কথা শুনে অন্তর হাসতে হাসতে শেষ।

অন্তরঃ আমার কি মনে হই বলো তো… আমান বোধহয় আমার শালিকার প্রেমে পড়েছে।

রুহিঃ কিহহ!

অন্তরঃ এতো অবাক হওয়ার কী আছে শুনি? আমার ভাইটা কি দেখতে কোনো দিক দিয়ে কম নাকি হ্যাঁ?

রুহিঃ ধুর! কি সব বলছেন।

অন্তরঃ আমার কিন্তু কোনো আপত্তি নেই।

রুহিঃ কিসে? (ভ্রু কুঁচকে)

অন্তরঃ আমার শালিকা কে ভাইয়ের বউ বানাতে। (চোখ মেরে)

রুহিঃ আমার ইতো ঠিক নেই কোনো। যেকোনো সময় এ বাড়ি ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে হবে আবার আমার বোন!

রুহির কথার মানে অন্তর বুঝতে পারে। রুহি চলে যেতে নিলে অন্তর রুহির হাত টা চেঁপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে।

অন্তরঃ আগের কথা কি ভুলা যায় না?

রুহি অন্তর কথায় অবাক হয়ে অন্তর দিকে তাকায়…

রুহিঃ ম মানে?

অন্তরঃ মানে আমার বাবা মা আমার জন্য বেস্ট কাউকেই বেছে নিয়েছিলো। আমিই হয়তো চিনতে পারি নি। কিন্তু এখন আর কোনো দু টানা নেই।

ভুল মানুষ কে আমার জীবনসঙ্গী করি নি। এটা ঠিক… সবাই এক না।

অন্তর কথা শুনে রুহির চোখে পানি চলে আসে। একদৃষ্টিতে অন্তর দিকে তাকিয়ে আছে।

অন্তরঃ রুহির দু গালে হাত রেখে কপালে চুমু দেয়।

অন্তরঃ চলো ঘুমাবে।

অন্তরঃ রুহিকে ছাড়তে চাইলেই রুহি আচমকা অন্তরকে জড়িয়ে ধরে।

অন্তরঃ ও মুচকি হেসে রুহিকে জড়িয়ে ধরে।

সকালে…

অন্তর অফিসের জন্য রেডি হয়ে আমানের রুমে যায়…

অন্তরঃ আমান… ঘুমাচ্ছিস?

আমানঃ না ভাইয়া আসো।

অন্তরঃ আজ ফ্রি আছিস।

আমানঃ হ্যাঁ। আমি তো অলটাইম ফ্রি। কেনো কোনো কাজ আছে?

অন্তরঃ না তেমন কিছু না। আসলে আমি অফিসে কিছুদিন যাবৎ চাপে আছি। কাল সাথী বললো ও আর রুহিকে নিয়ে ঘুরতে যে….

আমানঃ ভাইয়া আমিও যাবো প্লিজ….

অন্তরঃ বাকিটা বলার আগেই আমান হুট করে বলে বসে।

অন্তরঃ ভ্রু কুঁচকে আমানের দিকে তাকায়৷ আমান কিছুটা আমতা আমতা করে বলে…

আমানঃ ইয়ে মানে… অনেকদিন তো কোথাও যাওয়া হয়নি তাই আরকি।

অন্তরঃ হ্যাঁ যাবি। ইভেন তোকেই নিয়ে যেতে হবে। আমি পারবো না অফিসে কাজ আছে।

অন্তর কথা শুনে আমান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। এ তো মেঘ না চাইতেই জল!

আমানঃ ওকে ভাইয়া আমি রাজি!

অন্তরঃ মুচকি হেসে চলে যায়।

বিকেলে…

সাথী একা একাই ছাঁদে চলে আসছে। অন্তরঃদের ছাঁদ টাও বেশ সুন্দর। সাথী ছাদের একপাশে গিয়ে গ্রীল ধরে দাড়িয়ে আছে…

  • এখানে দাঁড়িয়ে আছো যে? যাবে না নাকি?

হটাৎ কারো কন্ঠ শুনে সাথী পেছন ফিরে তাকায়…

সাথীঃ আপনি?

আমানঃ জ্বী ম্যাম।

সাথীঃ আপনি কী আমাকে ফলো করা শুরু করলেন নাকি? আপনি কিভাবে জানলেন আমি ছাঁদে?

আমানঃ বলতে পারে ফলো করি। এবার যাও রেডি হয়ে যাও।

সাথীঃ কেন?

আমানঃ ঘুরতে যাবে না?

সাথীঃ হ্যাঁ। ভাইয়ার সাথে যাবো। আপনার সাথে না হুহহ।

আমানঃ ভাইয়ার কাজ আছে বুঝলেন তাই আমার সাথেই চলুন।

সাথীঃ কখনো না।

আমানঃ বেশি কথা না বলে গিয়ে রেডি হয়ে নাও। (কিছুটা রেগে)

আমান চলে যায়। সাথী তখনো দাড়িয়ে থেকে আমানের বলা কথা গুলো ভাবছে। আচমকাই সাথীর মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠে।

নিচে গিয়ে সাথী রেডি হয়ে রুহির রুমে আসে।

সাথীঃ আপু…. তুমি রেডি তো?

রুহিঃ হ্যা। আয়।

সাথীঃ ওকে তাহলে চলো।

রুহিঃ হুম।

আমান ওরা দুইবোন কে নিয়ে ঘুরাঘুরি করে একেবারে ডিনার করে ফিরবে বলে ঠিক করে রেখেছে।

আমান বার বার মুচকি হেসে সাথীর দিকে তাকায় যা রুহির চোখ এড়ায়নি।

আমানঃ রেস্টুরেন্ট থেকে ডিনার করে যাবো। আমি বরং ভাইয়াকে ফোন করে বলি চলে আসতে কি বলো ভাবি?

রুহিঃ ঠিক আছে দেখো উনার কাজ হলো কিনা?

আমানঃ হুম ফোন করছি।

আমান অন্তরকে ফোন করে অন্তর কিছুক্ষন পর আসবে বলে। রুহি, সাথী আর আমান রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে বসে।

আমানঃ ম্যাম.. কি অর্ডার করবেন? (সাথী কে উদ্দেশ্য করে)

রুহি আমানের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়…

রুহিঃ আমরা কি ভেসে ভেসে আসলাম?

সাথী এমন অবস্থায় পরে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করে। আমান কিছু না বলে নিচে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

এর মধ্যেই অন্তর চলে আসে।

অন্তরঃ সরি ফর লেট। তোমাদের অনেক অপেক্ষা করতে হলো।

আমানঃ এইতো ভাইয়া চলে আসছে। লেট না ভাইয়া মাত্রই তো এলাম।

অন্তরঃ তো অর্ডার করো নি কিছু?

আমানঃ না ভাইয়া। তুমি করো।

সাথীঃ আমি কিছুই খাবো না। শুধু আইসক্রিম।

আমানঃ হোয়াট? ডিনারে কেউ আইসক্রিম খায়?

সাথীঃ সব সময় খাইনা। আজই শুধু।

আমানঃ এ কেমন কথা?

অন্তরঃ বাবাহ! তোর তো দেখছি অনেক চিন্তা।

আমান অন্তর কথা শুনে চুপ করে যায়।

ভাইয়া কি ভাববে এখন ইশশশ!

ডিনার শেষে সবাই একসাথে বাড়ি ফিরে।

অন্তরের মাঃ এই আসার সময় হলো তোদের?

অন্তরঃ থাক না মা একদিন ই তো। আর ডিনার করে ফিরেছি তাই লেট হলো।

অন্তরের মাঃ আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে নে।

অন্তরঃ ওকে মা। তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।

অন্তরের মাঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা তোরা।

অন্তরঃ রুহি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ে।

সকালে…

সবাই ফ্রেশ হয়ে এসে ব্রেকফাস্ট করতে বসে। আমান ও আসে।

অন্তরঃ খেয়াল করে আমানের কিছু একটা হয়েছে। কেমন চুপ মেরে আছে বেচারা।

অন্তরঃ আমান… কিছু হয়েছে কি? মন খারাপ তোর।

আমানঃ ভাইয়া আসলে আমার আবার চলে যেতে হবে। একটা কোর্স বাকি আছে ৬ মাসের।

অন্তরঃ তুই তো আগে বলিস নি।

আমানঃ আসলে ভাইয়া কাল রাতে আমার সাথের একজন ইনর্ফম করলো, তাই।

অন্তরঃ কখন যেতে হবে?

আমানঃ সামনের সপ্তাহে।

অন্তরঃ আর কিছু বলে না। তবে আমান মনমরা হয়ে আছে সেটা বুঝার বাকি নেই অন্তর।

আমান একবার সাথীর দিকে তাকায়। আমানের খবর টায় সাথী ও যে খুশি হয়নি তা তার মুখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে!


পর্ব – ১৫

অন্তরঃ আমানের রুমে এসে দেখে আমান চুপচাপ বসে আছে।

অন্তরঃ আমান..

আমানঃ হ্যাঁ ভাইয়া।

অন্তরঃ তুই কি কোনো কারনে আপসেট?

আমানঃ ন না তো। (মাথা নিচু করে)

অন্তরঃ মিথ্যে বলছিস কেনো?

আমানঃ আসলে ভাইয়া তোমাদের ছেড়ে এতো দিন থাকবো তো তাই….

অন্তরঃ শুধু কি আমাদের জন্য?

আমানঃ হ হ্যাঁ ভাইয়া। আ আর কি কারন থাকতে পারে বলো।

অন্তরঃ সেটা তো তোর মুখ থেকেই শুনতে চাইছি। এমন কেউ কি আছে যাকে ছেড়ে যেতে তোর মন খারাপ লাগছে?

আমান কি বলবে বুঝতে পারছে না অন্তর কথার ইঙ্গিত যে আমান বুঝতে পারছে না তা না কিন্তু কিছুতেই সাহস করে উঠতে পারছে না বলার।

অন্তরঃ আমাকে বলতে পারিস। সমাধান করতে চেষ্টা করবো প্রমিস।

আমানঃ ন না ভাইয়া ক কিছুনা।

অন্তরঃ সাথী কে পছন্দ করিস?

হটাৎ অন্তর এমন প্রশ্নে অন্তর যেনো ধুম করে জমিনে পড়ে। কি সব বলছে অন্তর!

সাথী কে যে সে পছন্দ করে না এমনটাও নয়। কিন্তু এখন কি বলবে.. হ্যাঁ বলারও সাহস নেই আবার না ও বলতে পারছে না।

আমান কে চুপ থাকতে দেখে অন্তর মুচকি হাসে…

অন্তরঃ বুঝেছি। নিরবতা সম্মতির লক্ষণ।

আমান মুখ তুলে অন্তর দিকে তাকায়।

অন্তরঃ ভয় হচ্ছে তো? যদি ৬ মাস পর এসে সাথী কে হারিয়ে ফেলিস?

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আমান চুপচাপ অন্তর কথা শুনে যাচ্ছে। কি আজব! ভাইয়া কি মনের কথা পড়তে পারে নাকি!

অন্তরঃ নো প্রবলেম আমি কিছু একটা করার চেষ্টা করবো। তুই কোনো চিন্তা করিস না।

অন্তরঃ চলে যায়। আমান যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচে। যাক…. এবার একটু হলেও চিন্তা মুক্ত লাগছে নিজেকে।

রুহি বেলকনিতে গিয়ে দাড়িয়ে আছে। হটাৎ পেছন থেকে পেটে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চমকে উঠে সে।

পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে অন্তর আলতো করে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে।

রুহি পুরাই কারেন্টের শক খাওয়ার মতো অবস্থা।

রুহিঃ আ আপনি?

অন্তর কেনো? অন্য কেউ আসবে নাকি?

রুহিঃ না আ আপনি এভাবে…

অন্তরঃ ছাড়ো ওসব। তোমার সাথে কথা আছে। রুমে চলো…

বলেই রুহির হাত টেনে রুমে নিয়ে আসে। রুহি এখনো সেই আগের মতোই শক!

অন্তরঃ রুহিকে বিছানায় বসিয়ে নিজেও রুহির মুখোমুখি বসে।

অন্তরঃ রুপ তোমার কাছে কিছু চাইবো। দিবে প্লিজ?

রুহি অন্তর কথায় অবাক হয়ে যায়। এমন ভাবে কেনো কথা বলছেন উনি?

রুহিঃ কি হলো আপনার? এভাবে কথা বলছেন কেনো?

অন্তরঃ বলো না দিবে কি?

রুহিঃ হ্যাঁ অবশ্যই চেষ্টা করবো।

অন্তরঃ সাথী আর আমান কে এক করে দাও প্লিজ। আমি জানি তুমি চাইলে তোমার বাবা মাকে বলে বুঝিয়ে ম্যানেজ করতে পারবে। দেখো আমান মনমরা হয়ে আছে। আমি জানি ও সাথী কে ভালোবাসে কিন্তু বলতে পারছে না। কালও রেস্টুরেন্ট এ খেয়াল করলাম সাথীর দিকে বার বার কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ছিলো। ওর আবার চলে যেতে হবে কথাটা শুনে সাথী ও একটু হলেও কষ্ট পেয়েছে৷ তুমি দেখলে না তখন ব্রেকফাস্ট করার সময়। আর আমান ও অনেক আপসেট। ও হয়তো ভাবছে যদি ৬ মাস পর এসে সাথী কে আর না পায়

রুপ..আমি অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো মেনে নিতে পারতাম না কিন্তু সাথী তোমার বোন। আর আমি বিশ্বাস করি ও তোমার মতোই সবার থেকে আলাদা হবে।
রুহিঃ কিন্তু মা বাবা..?

অন্তরঃ এটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। আমি ম্যানেজ করবো। তুমি মা বাবাকে বলে রাজি করিও প্লিজ রুপ। আমার ভাইটা কষ্ট পাক, মন মরা হয়ে থাকুক আমি দেখতে পারবো না।

রুহিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

অন্তরঃ ঠিক আছে বললে তো হবেনা। তুমি তো জানো আমানের কাছে বেশি দিন সময় নেই।

রুহিঃ আচ্ছা আমি তাহলে কালই বাবা মার সাথে কথা বলবো।

অন্তরঃ থ্যাংকস আ লট রুপ।

অন্তরঃ অফিসে চলে যায়। রুহি সাথীর রুমে গিয়ে দেখে সাথী খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।

রুহিঃ সাথী… শরীর খারাপ লাগছে?

সাথীঃ কই না তো আপু।

রুহিঃ আসলে তোর সাথে কিছু কথা ছিলো তাই…

সাথীঃ হ্যাঁ বলো না কি কথা।

রুহিঃ কাল বাড়ি যেতে হবে একবার।

সাথীঃ কেনো? কিছু হয়েছে কি?

রুহিঃ না তেমন কিছু না। একটু কাজ আছে আরকি। তোকেও যেতে হবে আমার সাথে।

সাথীঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

পরের দিন…

আমান রুহি আর সাথী কে ড্রপ করে দেয়।

রুহিঃ আমান ভেতরে আসো।

আমানঃ না ভাবি একটু কাজ আছে আমি যাই।

সাথীঃ সে কি! বাড়ির কাছ থেকে চলে যাবেন?

আমানঃ পরে একদিন আসবো নি। আজ থাক।

সাথীঃ পরে আর আপনার সময় কই?

আমানঃ যাওয়ার আগেই একবার এসে দেখা করে যাবোনি। আজ আসি।

সাথীঃ ওকে।

রুহি আর সাথী ভেতরে আসতেই রুহির মা চমকে যায়।

রুহির মাঃ কিরে তোরা?

রুহিঃ হ্যাঁ মা। একটা কাজ ছিলো তাই…

রুহির মাঃ তাই বলে তো একটা ফোন দিতে পারতি।

রুহিঃ আচ্ছা বাদ দাও। কেমন আছো তোমরা?

রুহির মাঃ আছি ভালো। তুই কেমন আছিস?তোর শশুর শাশুড়ি, অন্তর ভালো আছে তো?

রুহিঃ হ্যা মা সবাই ভালো আছে।

রুহির মাঃ অন্তর এলো না যে?

রুহিঃ আসলে উনার কাজ আছে তো। আর আমিও চলে যাবো বিকেলের দিকে।

রুহির মাঃ সেকি? কি হয়েছে বল তো?

রুহিঃ বলবো মা।

রুহির মাঃ আচ্ছা আগে ফ্রেশ হয়ে নে।

রুহিঃ বাবা কোথায়?

রুহির মাঃ বাহিরে গেছে। এখনি চলে আসবে হয়তো।

রুহিঃ আচ্ছা মা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। সাথী তুইও ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে।

সাথীঃ ঠিক আছে আপু।

রুহি ফ্রেশ হয়ে তার বাবা মার রুমে যায়।

রুহিঃ মা আসি…

রুহির মাঃ ওরে বাবা! অনুমতি নিচ্ছে আমার মেয়ে!

রুহি হেসে রুমে ঢুকে।

রুহিঃ বাবা কেমন আছো?

রুহির বাবাঃ ভালো আছি মা। তুই কেমন আছিস?

রুহিঃ হ্যাঁ ভালো।

রুহির বাবাঃ কিছু বলবি মনপ হচ্ছে। কোনো সমস্যা হয়েছে?

রুহিঃ না বাবা তেমন কিছু না আসলে তোমাদের একটা কথা বলতে চাইছিলাম।

রুহির বাবাঃ হ্যাঁ বল।

রুহিঃ আমান সাথী কে অনেক পছন্দ করে। সাথী ও আমান কে অপছন্দ করে না আমার মনে হই। তাই অন্তরঃ চাইছিলো যে তোমরা যদি রাজি থাকো তাহলে ওরা দু’জনের বিয়ে হতে। আমান ছেলে হিসেবে ভালো। সাথী কে ভালোই রাখবে।

রুহির মা আর বাবা দু’জনই অবাক হয়ে যায়।

রুহির বাবাঃ কিন্তু কেনো? আমানের সাথেই বিয়ে দিতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই।

রুহিঃ বাবা আমি সেটা বলতে চাইনি। আসলে আমান সাথীকে ভালোবাসে। তাই…

রুহির মাঃ হ্যাঁ বুঝলাম। আমান ছেলেটা বেশ ভালো সেটা আমিও জানি। কিন্তু তোর শশুর শাশুড়ি কি মানবে?

রুহিঃ মানবে মা৷ উনি সব ম্যানেজ করবে। তোমরা এসব নিয়ে ভেবো না।

রুহির বাবাঃ না করার মতো কোনো কারন আমিও দেখতে পারছিনা। আমান ও ছেলে হিসেবে ভালো। ঠিক অন্তর মতোই।

তাছাড়া তোরা দু’জন একসাথে থাকলে আমাদের ও ভালোই লাগবে।

রুহির মাঃ হ্যা সেটাই। আমিও ভাবছিলাম। ভালোই হবে এতে।

রুহিঃ কিন্তু মা। একটা সমস্যা হয়েছে।

রুহির বাবাঃ আবার কী? (চিন্তিত হয়ে)

রুহিঃ আসলে আমান কে আবার সামনের সপ্তাহে দেশের বাহিরে চলে যেতে হবে ৬ মাসের জন্য। তো উনি চাইছিলেন যাওয়ার আগেই যদি বিয়েটা হয়ে যেতো তাহলে ভালো হতো…

রুহির মাঃ সামনের সপ্তাহে?

রুহির বাবাঃ এ আবার কেমন কথা! এতো তারাতারি কিভাবে সম্ভব। তাছাড়া প্রস্তুতির ওতো একটা ব্যাপার আছে নাকি।

রুহিঃ বাবা চেষ্টা করলে তো সবই সম্ভব। বড় করে না হয় কোনো অনুষ্ঠান করা গেলো না। তাতে কী? আমান দেশে আসলে ওরে সেসব নিয়ে ভাবা যাবে।

রুহির বাবাঃ সবই তো বুঝলাম কিন্তু সাথী কে জিগ্যেস করেছিস? সে কি রাজি?

রুহিঃ না বাবা জিগ্যেস করিনি। তোমাদের মতামত টা জানা হয়ে গেলো ব্যাস। এবার সাথী কে জিগ্যেস করে নিবো নি। আমার মনে হইনা সাথী না করবে বলে।
রুহির মাঃ হ্যাঁ তাই করিস।

রুহিঃ আচ্ছা মা আমি তাহলে আসি।

রুহির মাঃ কী! পাগল হলি নাকি? কিছু খেয়েছিস ও না এখনি চলে যাবি?

রুহিঃ মা খেতে পারবো পরে এসেও। আজ অনেক কাজ আছে৷ যেতে হবে।

রুহির বাবাঃ তাই বলে একটু বসবি ও না।

রুহিঃ বাবা আরেক দিন আসলে সময় নিয়ে আসবো। আজ আসি। উনাকে জানাতে হবে আবার৷ উনি বোধহয় অপেক্ষা করছেন।


শেষ পর্ব

রুহি একাই বাড়ি চলে আসে। রুমে ঢুকতেই দেখে অন্তরঃ।

রুহিঃ আপনি চলে এসেছেন?

হটাৎ কারো কন্ঠ শুনে পেছনে ফিরে তাকায় অন্তরঃ।

অন্তরঃ হ্যাঁ মাত্রই আসলাম। তুমি কি একা এসেছো নাকি?

রুহিঃ হ্যাঁ।

অন্তরঃ আমান কে বললেই হতো। ও গিয়ে নিয়ে আসতো। তাছাড়া আমাকেও ওতো ফোন দিতে পারতে।

রুহিঃ আরে প্রবলেব নেই।

অন্তরঃ আমান আর সাথীর ব্যাপার টা কী হলো?

রুহিঃ আমি বাবা মাকে বলেছি। উনারা রাজি হয়েছে। এখন শুধু সাথী আর বাবা মা (অন্তর বাবা মা) বাকি।

অন্তরঃ তাহলে তো শুভ কাজে দেরি করে লাভ নেই। (চোখ মেরে)

রুহিঃ মানে? আপনি কি বাবা মাকে না জানিয়েই বিয়ে শুরু করে দিবেন নাকি?

অন্তরঃ কোনো কাজ ফেলে রেখে শান্তি পাইনা বুঝলে। আমি অনেকখন হলো আসলাম এসেই বাবা মাকে সব বলেছি। মা বাবা অমত করেনি।

রুহিঃ সত্যিইই…!

অন্তরঃ হুম।

কিছুক্ষণ পর….

রুহি তার শাশুরির রুমে যায়।

রুহিঃ মা আসবো?

অন্তরের মাঃ হ্যাঁ আয়। কখন এলি?

রুহিঃ এইতো কিছুক্ষণ হলো।

অন্তরের মাঃ অন্তর আমাকে ওদের বিয়ের বিষয়ে বলেছিলো। তুই রাজি তো?

রুহিঃ হ্যাঁ মা। আপনারা যা বলবেন তাই হবে। মা বাবা আপনারা সবাই রাজি ব্যাস আমার তো রাজি না হওয়ার কোনো কারনই নেই।

অন্তরের মাঃ আচ্ছা তাহলে আর দেরি করে লাভ নেই। এমনিতেও তো আমানের বেশি দিন নেই। পরে তে চলে যেতে হবে।

রাতে…

অন্তরঃ অনেকক্ষন যাবৎ ওয়েট করছে এদিকে রুহির আসার কোনো নাম গন্ধ ও নেই।

যেই না অন্তর রুম থেকে বের হতে যাবে অমনি রুহি রুমে ঢুকে।

রুহিঃ কোথাও যাচ্ছিলেন?

অন্তরঃ না। এতোখন কোথায় ছিলে?

রুহিঃ ঐ তো নিচে। কেনো আপনার কিছু লাগবে?

অন্তরঃ না। ঘুমাবে কখন এতো রাত হয়ে গেলো, তাই আরকি।

রুহিঃ ওহহ আচ্ছা। রুহি অন্তর কাছ থেকে গিয়ে নিজের চাদর টা আর বালিশ টা হাতে নেয়। (অন্তরকে রাগানের জন্য)

অন্তরঃ এসব নিয়ে কোথায় যাচ্ছো?

রুহিঃ ও মা কেনো? আমি কি ঘুমাবো না নাকি?

অন্তরঃ তোমাকে কি ঘুমাতে বারন করেছি? (দাঁতে দাঁত চেপে)

রুহিঃ না তো। আমি তো বেলকনিতে থাকি তাই আরকি।

অন্তরঃ ঝড়ের গতিতে রুহির কাছে গিয়ে চাদর টা আর বালিশ টা টান মেরে নিয়ে নেয়।

রুহি মুখ টিপে হাসছে।

অন্তরঃ তোমাকে বলেছি বেলকনিতে গিয়ে থাকতে?

রুহিঃ ও মা! বলেন নি?

অন্তরঃ রুপ…. বেশি বারাবারি করো না বলে দিলাম। (ধমক দিয়ে)

রুহিঃ ঘুমাবেন চলুন।

রুহি চাদর টা আর বালিশ টা নিয়ে এক কোণে শুয়ে পড়ে।

অন্তরঃ ও কিছুক্ষণ পর এসে রুহির পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে…

রুহি আর অন্তর শপিং এ যায় আমান আর সাথীর বিয়ের কেনাকাটা করতে। এখন আমান পুরোটাই পালটে গেছে। এখন আর আগের মতে রুহিকে বের হতে বলে না, রাগ দেখায় না।

দুই দিন পর….

রুহিঃ কোথায় গেলেন…? (কিছুটা জোরে)

অন্তরঃ আরে কি হয়েছে ডাকা ডাকি করছো কেনো?

রুহিঃ কি হয়েছে দেখতে পারছেন না?

অন্তরঃ না। বলো কি হয়েছে।

রুহিঃ (নিজের দু’হাত অন্তর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) দেখুন।

অন্তরঃ বাহহ মেহেদীর ডিজাইন টা তো বেশ! তোমার হাতে মানিয়েছে।

রুহি অন্তর কথা শুনে রাগে ফুসতে থাকে।

রুহিঃ আপনাকে ডিজাইন দেখতে বলিনি। বলেছি মেহেদী পড়েছি তাই আপাতত আমার দুই খানা হাতই বিজি আছে।

অন্তরঃ হ্যাঁ। তো?

রুহিঃ তো মানে? দেখতে পারছেন না চুল গুলো কিরকম বিরক্ত করছে। বেধে দিন।

অন্তরঃ এতো খনে খেয়াল করেনি রুহির কপালের দিকের ছোট ছোট চুল গুলো বার বার নাকে মুখে এসে বারি খাচ্ছে।

অন্তরঃ রুহির কাছে বসে কিছুক্ষণ রুহির দিকে তাকিয়ে থাকে।

রুহিঃ হহা করে তাকিয়ে না থেকে একটু সাহায্য ওতো করতে পারেন, তাইনা?

অন্তরঃ মুচকি হেসে চুল গুলো রুহির কানের পিছে গুজে দেয়।

রুহিঃ থ্যাংকস। (ভাব নিয়ে)

অন্তরঃ আহারে আসছে আমায় ধন্যবাদ দিতে!

রুহি অন্তর কথা শুনে হেসে দেয়।

অন্তরঃ রুপ তোমার জন্যই সবটা সম্ভব হলো। তুমি যদি বাবা মাকে বুঝিয়ে না বলতে তাহলে হয়তো আর আমানের বিয়েটা সম্ভব হতো না।

আচ্ছা সাথী কে রাজি করালো কে?

রুহিঃ রাজি করানোর কি আছে! বেচারি তো আগে থেকেই ভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে যাচ্ছে। বাবা মা বলাতে আর না করেনি। মাথা নিচু করে ছিলো। বোধহয় লজ্জায় কিছু বলেনি।

অন্তরঃ হ্যাঁ। তাই হবে। ভাগ্যিস আমার শালিকা রাজি হয়েছিলো!

রুহিঃ আরে রাখেন তো এই সব কথা। আমি তো বড় সর চিন্তায় পড়ে গেলাম!

অন্তরঃ কিসের চিন্তা? (ভ্রু কুঁচকে)

রুহিঃ ঐযে… আমি এখন কোন পক্ষের?

অন্তরঃ মানে?

রুহিঃ আরে বুঝতে পারছেন না? ছেলেপক্ষের ভাবি আবার মেয়ে পক্ষের বড় বোন। এখন কোন পক্ষে যাবো? (অসহায় ভাবে)

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে হেঁসে দেয়।

অন্তরঃ রুপ তুমি পারো ও বটে! দুই পক্ষেই যেও কেমন!

রুহিঃ ধুরর! সেটা আবার হয় নাকি?

অন্তরঃ হয় গো হয়। আচ্ছা এখন মেহেদী তুলে রেডি হয়ে নাও ঝটপট।

রুহিঃ হ্যাঁ শুকিয়ে গেছে। যাচ্ছি।

পরের দিন..

সাথী কে পার্লারের মেয়েরা সাজিয়ে দিয়ে গেছে।

অন্য মেয়ে হলে হয়তো মন খারাপ করে বসে থাকতো কিন্তু সাথীর ক্ষেত্রে উল্টো। কারন সে তার বোনের সাথে থাকতে পারবে ভাবলেই খুশিখুশি লাগছে। আবার মা বাবার জন্য কষ্ট ও হচ্ছে।

বিয়ে শুরু হলে… সাথী কে কবুল বলতে বলা হলে বেচারি চুপ করে থাকে। বার বার বলার পরও মুখ বন্ধ রেখেছে। এদিকে আমান কিছু বলতে না পারলে ভেতর ভেতর রাগে ফুসছে।

আমানঃ ইশশ ঢং দেখো! চুপ করে বসে আছে! আরে তারাতারি কবুল টা বলে দিলে কি হয় শুনি! হুদাই টাইম নষ্ট করতেছে উফফফ! (মনে মনে)

সাথী কবুল বলে। আমান কে বলতে বলা হলে গরগর করে বলে দেয় যেনো সে এটার জন্যই অপেক্ষা করে ছিলো।

বিয়ে শেষ হলে সাথী কে আমান দের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমানের কাজিন রা মিলে সাথী কে আমানের ঘরে নিয়ে যায়।

রুহিঃ ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবেন চলুন। (অন্তরকে উদ্দেশ্য করে)

অন্তরঃ হুম চলো।

রুহি আর অন্তর রুমের দরজা খুলে ভেতরে আসতেই দেখে রুম টা অন্ধকার। রুহি ধীরে ধীরে গিয়ে লাইট টা অন করতেই চমকে উঠে!

রুহিঃ একি! এতো ফুল দিয়ে ঘর সাজালো কে? আজ তো আমান আর সাথীর বাসর রাত। উদের রুম টা সাজানোর কথা ছিলো। ভুলে আবার আমাদের টা সাজিয়ে ফেলে নি তো! হায় কপাল!

অন্তরঃ ওদের রুম তো সাজানোই আছে।

রুহিঃ তাহলে…

হটাৎ অন্তর ফোনে ম্যাসেজ আসে। অন্তর ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে আমানের ম্যাসেজ….

“তোমাদের জন্য আমি আমার ভালোবাসা কে পেলাম। তাই তোমার আর ভাবির জন্য ছোট্ট সারপ্রাইজ!”

অন্তরঃ ওহহ এবার বুঝলাম। ফাজিল টার কাজ এসব!

রুহিঃ কার? (অবাক হয়ে)

অন্তরঃ আমান এর।

রুহিঃ এসব করার কি মানে ছিলো।

অন্তরঃ মানে টা না হয় আমিই বুঝিয়ে দিই। (চোখ মেরে)

রুহিঃ মানে?

অন্তরঃ এমনিতেও তো আমাদের বিয়ের প্রথম রাত টা অনেক ঝগড়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলো তাই আজকের এই সারপ্রাইজ টা মন্দ না। কি বলো?

রুহিঃ ঘুমিয়ে পড়ুন। আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।

রুহি অন্তর কাছ থেকে চলে আসতে নিলেই অন্তর রুহির হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে।

অন্তরঃ এখনো রেগে আছো রুপ। আমি যা ভাবতাম সবটাই মিথ্যে ছিলো, ভুল ছিলো। সবাই কে এক মনে করাটা নিতান্তই বোকামি। না হলে কি আমার এমন ভালো বউ টাকে কষ্ট দিতাম বলো!

রুহি অন্তর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। অজান্তেই তার চোখের কোণে পানি চলে আসে।

অন্তরঃ কখন, কিভাবে, কেনো কিছুই জানিনা আমি শুধু জানি আমি তোর আসক্ত হয়ে গেছি। এক মূহুর্ত ও তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না।

রুহি অন্তর কথা শুনে ফুঁপিয়ে উঠে। অন্তর রুহি কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। রুহি ও অন্তরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়।

অন্তরঃ তুমি কি প্লান করেছো নাকি আজকের রাত টাও ঐ দিনের মতো বরবাদ করে দিবে?

রুহি অন্তর কথা শুনে চোখ মুছে অন্তর দিকে তাকায়।

রুহিঃ আমি বরবাদ করেছি নাকি। আপনিই তো করেছিলেন।

অন্তরঃ তো আমি যখন করেছি আজ তাহলে পূরণ করে দিই কি বলো?(চোখ মেরে)

রুহি অন্তর কথা শুনে লজ্জায় অন্তর দিকে তাকাতে পারে না। মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে…

রুমে কারো আসার শব্দ শুনে সাথী একটু ভয় পেয়ে যায়। মাথাটা হালকা তুলে আড়চোখে দেখে আমান এসেছে।

আমান সাথীর কাছে এসে বসে…

আমানঃ তো মিস ঝগরাটে সালাম করবে না আমায়? (মুচকি হেসে)

সাথী আমানের কথা শুনে ঘোমটা ফেলে আমানের দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকায়।

সাথীঃ আমি ঝগরাটে তাই না?

আমানঃ এ মা! তোমার দেখি লজ্জা ও নেই! মেয়েরা তো ঘোমটা তুলে না লজ্জায়৷ তখন বর এসে ঘোমটা টা তুলে মুখ দেখে। আর তুমি নিজেই ঘোমটা তুলে ফেললে!

আমি ভেবেছিলাম আমিও আমার বউ এর ঘোমটা তুলে তার মুখ টা দেখবো। তা আর হলো না! (অসহায় ভাবে)

আমানের কথা শুনে সাথী আরও রেগে যায়। আমান কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে উঠে চলে যেতে নিলেই আমান সাথীর হাত ধরে টেনে বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর নিজেও দু’হাতে ভর করে সাথীর দিকে ঝুঁকে পড়ে।

আমানঃ এতো সহজে তো পালাতে পারবে না ঝগরাটে বউ। (মুচকি হেসে)

সাথীঃ সরুন তো। আমি ঝগরাটে তাইনা। ওকে বেশ! আমি চলে যা….

আর কিছু বলার আগেই আমান সাথীর ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দেয়।

আমানঃ ঝগরাটে বলেই তো তোমার প্রেমে পড়লাম! (চোখ মেরে)

আমানের কথা শুনে সাথীর রাগ হাওয়া হয়ে যায়। সাথেই সাথেই হেঁসে দেয় সাথী।

সমাপ্ত

তোর আসক্ত
লেখিকাঃ শিফা আফরিন মিম

আরো পড়ুনঃ তোর আসক্ত – সিজন ১ । অভীমানি ভালোবাসার গল্প

তোর আসক্ত – সিজন ২ । অভীমানি ভালোবাসা

Related posts

কষ্টের প্রেমের গল্প – অসমাপ্ত ফেসবুক প্রেম | Sad Love Story

valobasargolpo

প্রেমের গল্প – দুই বোনের এক প্রেমিক – পর্ব ৪ | ত্রিভুজ প্রেম

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!