কষ্টের প্রেমের গল্প

মেঘের পালক – একটি কষ্টের প্রেমের গল্প

মেঘের পালক – একটি কষ্টের প্রেমের গল্প: মেঘ আহত দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে এলো। রায়ান মেঘকে এটা ওটা, নানা কথা বলেই চলেছে। কিন্তু মেঘ কোনো কথা বলছে না।


পর্ব ১

সারা রাস্তা রক্তে ভেসে যাচ্ছে; পরনের লাল বেনারসীটাও রক্তে জবজবে হয়ে গেছে। মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি আমি। মাথাটা অসম্ভব যন্ত্রণা করছে, এ কেমন নরক যন্ত্রণা! সহ্য হচ্ছে না আর। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছি।

নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, গলা দিয়ে একটা কথাও বের হচ্ছে না। মরে যাবো নাকি? চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে, মেলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছি অনবরত। না, আর পারলাম না! চোখ দুটো লেগে গেল, তারপর আর কিছু মনে নেই।

সকাল বেলা, বাবার ডাকে ঘুম ভেঙে যায় মেঘের।
~ “হতচ্ছাড়া ছেলে, প্রতি মাসে ত্রিশ দিনে ছত্রিশটা চাকরির ইন্টারভিউ দেন! অথচ একটা চাকরি জোটাতে পারে না। আবার রোজ রোজ নাকে তেল দিয়ে ঘুমায় আর বেলা করে ওঠে। কোনো চিন্তা আছে ওর? আজও না একটা জায়গায় ইন্টারভিউ আছে?”

মালিহা (মেঘের মা) আহ্লাদী গলায় বললো,
~ “আহা, আস্তে চেচাও না। ছেলেটা আমার আরাম করে ঘুমাচ্ছে! আর তুমি? নিজের একমাত্র ছেলের সাথে কেউ এমন করে?”

~ “এই তোমার জন্য ছেলেটা বদের হাড্ডি হয়েছে। তুমি ওকে আদরে আদরে বাঁদর বানিয়েছ। যা ইচ্ছে হয়, করো তোমরা। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আটটা বেজে গেছে, সাড়ে আটাটায় ক্লাস আছে। আমি গেলাম। যত্তসব।

মেঘ তার পাশের বালিশটা হাতে নিয়ে মুখে চেপে ধরে উঠে বসলো। মালিহা ছেলের পাশে গিয়ে বসলো, আর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
~ “ঘুম ভেঙেছে? যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।”

মেঘ ওর মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বললো,
~ “আমার লাইফের ভিলেনটা কি বাড়ি থেকে বিদায় হয়েছে? বাড়িটা অনেক নীরব লাগছে তো, তাই। ওনি বাড়িতে থাকলে তো সারাক্ষণ ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো বাজতেই থাকে।”
মালিহা হেসে বললো,

~ “তা যা বলেছিস! স্কুলের বাচ্চা গুলো কীভাবে তোর বাবার ক্লাস করে আল্লাহ জানে।”
মেঘ নিজের ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,
~ “দেখো গিয়ে সেখানের বাচ্চাগুলোকে নিয়ে মাথায় তুলে নাচে। তার যত শত্রুতা তো শুধু আমার সাথে। আগের জন্মে নিশ্চয়ই এই মেহরাব আহসান (মেঘের বাবা) আমার ঘোর শত্রু ছিলো, যার রেষ এজন্মেও বিদ্যমান।”

বলেই নিজের টাওয়েল হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। মালিহা এই বাপ~ বেটার যুদ্ধ দেখে হাসতে হাসতে কিচেনে চলে গেল।

বাসা থেকে খেয়েদেয়ে রেডি হয়ে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছে মেঘ।পরনে স্কাই ব্লু শার্ট, হোয়াইট ডেনিম প্যান্ট আর টাই। হাতে একটা ফাইল।
এবার মেঘের পরিচয় সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক।

মেঘের পুরো নাম মিহির আহসান মেঘ। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম হলেও মাথা পুরোটা ফাঁকা। তিন বছর আগে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছে ঠিকই, রেজাল্ট এভারেজ। তাই কোনো জায়গায় চাকরি হচ্ছে না, কতশত জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে ও চাকরি আর হাতে ধরা দেয় না।

এজন্য মেহরাব আহসান এর মুখে বকা ঝোকা শোনাটা তিনবেলায় খাবার খাওয়ার মতো রোজকার রুটিনে পরিণত হয়েছে।

রাস্তার একসাইড দিয়ে হেটেই হেটেই গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছে মেঘ। রিকশা বা অটোতে চড়ে কীভাবে যাবে বেচারা? মেহরাবের কাছ থেকে গতকাল একশো টাকা নিয়েছিল মালিহাকে বলে, ওটা দিয়ে গতকাল, আজ আর কাল চলতে হবে। বেকার হলে যা হয় আর কি!

কিছু দূর এগিয়ে যেতে দেখলো অনেক মানুষের ভীর জমে গিয়েছে, আর একে অপরকে নানা কথা বলছে। তাই এ জায়গাটায় মানুষের প্যানপ্যানানি আকাশ-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। মেঘ মনে মনে ভাবতে লাগলো, কী এমন হয়েছে? এখানে এতো ভীড় কেন?

দেখার জন্য সে ভীড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখলো, একটা মেয়ে বধূ বেশে রাস্তায় পড়ে আছে আর চারপাশে রক্ত দিয়ে রাস্তা লাল হয়ে গেছে। মেঘ এটা দেখে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো। হঠাৎ পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,

~ “এতোই যখন ভয়, তখন মাতব্বরি করে দেখতে এসেছিস কেন?”
মেঘ পাশে তাকিয়ে দেখলো, ওর বন্ধু রায়ান দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ অবাক হয়ে বললো,
~ “তুই এখানে! কখন এলি?”

~ “যখন তুমি ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছিলে তখন তোমার পিছু পিছু। তোর এসবে ফোবিয়া আছে না? কেন এসেছিস?”
মেঘ আমতা আমতা করে বললো,
~ “কিসের ফোবিয়া? আমি এসবে ভয় টয় পাই না, হুম। কিন্তু মেয়েটা এভাবে এক্সিডেন্ট হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। ওকে তো হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।”
~ “পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে, কখন আসবে কে জানে?”

~ “মেয়েটা এতোক্ষণ ধরে পড়ে আছে, পুলিশ আসার আগে মারা না যায়! সো এখনি নিয়ে যাওয়া উচিত।”
~ “তোর এতে শখ হলে তুই নিয়ে যা। আমার এতো সাহস নেই, বাবা!”
মেঘ ভেংচি কেটে মেয়ে টার দিকে এগিয়ে গেল। মেয়েটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, তাই টেনে এনে নিজের কোলে মাথা রাখলো।

মেঘ মেয়েটার রক্ত মাখা মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রায়ান মেঘের কোনো নড়চড় না দেখে ওর কাছে গিয়ে বসলো। মেঘ আনমনে বলে উঠলো,
~ “ক্রাশড!”
রায়ান চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে বললো,
~ “হোয়াটটটট!”

মেঘ রায়ানের চিৎকার শুনে হকচকিয়ে উঠে বললো,
~ “চল, ওকে আমাদের বাচাতেই হবে। এখনো বেঁচে আছে। কাম ফাস্ট!”
বলেই মেয়েটাকে পাঁজা কোল করে তুলে নিয়ে হাটতে লাগলো।

রায়ান ওর কথা শুনে ওদের পিছনে পিছনে যেতে লাগলো। কী আর করবে? জানে মেঘের কাছে টাকা নেই। হসপিটাল পৌছানোর ভাড়া তো তাকেই দিতে হবে!

হসপিটালে,
মেঘ ব্যস্ত হয়ে ডক্টরকে বললো,
~ “প্লিজ, ডক্টর; যে করেই হোক মেয়েটাকে বাঁচান। প্লিজ!”
~ “দেখুন, মেয়েটার শরীর থেকে অনেক ব্লাড চলে গেছে। তাই তাকে ইমিডিয়েটলি ব্লাড দিতে হবে। কিন্তু আমাদের স্টকে এখন AB~ ব্লাড নেই।”

মেঘ বলে উঠলো,
~ “আমার ব্লাড গ্রুপ AB~ । আমি ওকে রক্ত দেব।”
~ “ঠিক আছে, চলুন। কিন্তু ওনার মাথায় অনেক আঘাত পেয়েছেন। সো, ওনি সুস্থ হয়ে উঠলেও স্মৃতি শক্তি নাও থাকতে পারে। আবার থাকতেও পারে। শিয়র বলতে পারছি না।”
মেঘ ডক্টরকে বললো,

~ “ওর স্মৃতি শক্তি না ফিরলেই আমি খুশি হবো।”
ডক্টর ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ “মানে?”
মেঘ জোর পূর্বক হেসে বললো,
~ “না, না, তেমন কিছু না। আপনি তাড়াতাড়ি চলুন। ওকে যত তাড়াতাড়ি ব্লাড দেওয়া যাবে, ততই মঙ্গল।”

এদিকে রায়ান নীরব দর্শকের মতো মেঘের কান্ড দেখছে। আর ভাবছে, এই ছেলের হলোটা কী? অচেনা অজানা একটা মেয়ের জন্য কতো কি করছে! পাগল টাগল হয়ে গেল নাকি?
মেঘ মেয়েটার বেডের পাশের একটা বেডে শুয়ে আছে আর তার শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে একটা প্লাস্টিক ব্যাগে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। মেঘ বারবার মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে আবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এভাবে নিজের সাথে যুদ্ধ করে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে উঠে দাঁড়াল এবং ডক্টরকে জিজ্ঞেস করল,
~ “আচ্ছা, ওর জ্ঞান কখন ফিরবে?”
~ “বারো ঘন্টা পর ফিরতে পারে। না ফিরলে আমাদের কিছু করার নেই।”

মেঘ আহত দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে এলো। রায়ান মেঘকে এটা ওটা, নানা কথা বলেই চলেছে। কিন্তু মেঘ কোনো কথা বলছে না। শুধু হু হা উত্তর দিচ্ছে।

রায়ান ব্যাপারটা বেশ ভালো ভাবেই খেয়াল করেছে। কিন্তু কিছু বললো না, সিদ্ধান্ত নিলো যে পরে সুযোগ বুঝে জিজ্ঞেস করবে, যখন মেঘ তাকে নিশ্চিত সব খুলে বলবে। এখন জিজ্ঞেস করলে মেঘ বিষয়টা এড়িয়ে যাবে, তা রায়ান বেশ ভালো ভাবেই জানে।

রাত নয়টায়,
একটা নার্স মেঘকে বললো,
~ “আপনাদের পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে।”

মেঘ একথা শুনে দৌড়ে কেবিনে ঢুকে পড়লো। এদিকে রায়ান মেঘকে সারাদিন বলেও কিছু খাওয়াতে পারেনি, তাই নিজেও খায়নি। রায়ান ধীরে ধীরে মেঘের পিছু পিছু গেল।

এদিকে আমি চোখ খুলে নিজেকে একটা হাসপাতালের কেবিনে আবিষ্কার করলাম। ডক্টর আমায় চোখ খুলতে দেখে হেসে দিলেন। কিছুক্ষন পর একটা ছেলে এসে আমার পাশে বসলো। ছেলেটার মুখ খুশিতে চিকচিক করছে। কিন্তু আমি তো কখনো ওনাকে দেখিনি। ডক্টরকে জিজ্ঞেস করল,

~ “ওর কি সব কিছু মনে আছে?”
ডক্টর আমার দিকে তাকিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করল,
~ “তোমার নাম কী? কী করো তুমি? কোথায় থাকো?”
আমি কাপা কাপা গলায় বলল,

~ “আমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আমার নাম পালক। সামায়রা আহমেদ পালক।”


পর্ব ২ (অন্তিম)

মেঘ চোখ দুটো ইয়া বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার! ভাবা যায়? আর ও? অপদার্থ একটা! ভাবতেই নিজের মাথার চুলগুলো টেনে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে মেঘের।
ডক্টর একটা তৃপ্তির হাসি দিয়ে বললো,

~ ” যাক, তোমার আগের সব স্মৃতি মনে আছে। আমি সকালে এসে আরেকবার চেকাপ করে যাবো তোমায়।”
বলেই ডক্টর চলে গেলেন।

রায়ান মেঘের পাশে এসে দাড়ালো। মেঘ আমার বেডে আমার পাশে বসে আছে। আমার বড্ড অস্বস্তি লাগছে, কিন্তু কিছু বলতেও পারছি না। আমি ওনাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
~ “আপনারা কারা? এখানে আমায় কে এনেছে?”
মেঘ আমার পাশ থেকে উঠে একটা চেয়ারে বসে বললো,

~ “আমি মেঘ। আপনি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, তাই আপনাকে আমরা এনে হসপিটালে এডমিট করেছি। আপনি বধূ সাজে রাস্তায় কেনো এসেছিলেন?”
গতরাতের কথা মনে পড়তেই আমি হু হু করে কেঁদে দিলাম। মেঘ আর রায়ান আমার কান্না দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। মেঘ ব্যস্ত হয়ে বললো,

~ “কী হয়েছে? আপনি কাদছেন কেন?”
আমি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললাম,
~ “আমি একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করি আর লেডিস হোস্টেলে থাকি। আমার বাড়ি সিলেটে, আমি এখানে থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করেছি। বেশ কয়েকদিন যাবৎ একটা ছেলে আমায় ডিস্টার্ব করছিল।

দু’দিন আগে, ছেলেটা আমায় টিজ করেছিল বলে আমি ওকে চড় মেরেছিলাম। তাই কাল আমি যখন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরছিলাম, তখন ঐ ছেলেটা আমায় রাস্তা থেকে একটা গাড়িতে তুলে নেয়।

তার পর একটা বাসায় নিয়ে গিয়ে আমায় কয়েকটা মেয়েকে দিয়ে বউ সাজায় আর আমায় বিয়ে করতে চায়। যখন হাজার চেষ্টা করেও আমায় বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করাতে পারনি, তখন বলে আজ রাত ভেবে দেখতে। যদি আমি বিয়েতে রাজী না হই তাহলে নাকি আমায় পতিতালয়ে বেঁচে দিবে।”

বলেই ফুফিয়ে কেদে উঠলাম আমি।
মেঘ কাঁপা কাঁপা হাতে আমার মাথায় হাত দিতে গিয়েও দিলো না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
~ “তাই আপনি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন?”
আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম,

~ “হ্যাঁ, ওরা সারারাত আমায় অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল। তাই আমি রাতের বেলা কিছু করতে পারিনি। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই আমি বারান্দা দিয়ে পালাই। আমি আশেপাশে কিছু চিনতে পারছিলাম না। আবারও আমি কিছু বখাটে এর পাল্লায় পড়ে যাই। তারা আমার পিছনে ধাওয়া করে। আমিও প্রাণপণ চেষ্টা করে ছুটতে থাকি। হাইওয়েতে চলে আসতেই সামনে থেকে একটা গাড়ি আমায় চাপা দেয় আর আমি দূরে ছিটকে পড়ি। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।”

রায়ান বললো,
~ “তোমার কি নিজের ঠিকানা মনে আছে বা কারো নাম্বার মনে আছে?”
আমি মাথা উপরে নিচে নাড়িয়ে বললাম,
~ “আমায় একটা ফোন দিবেন প্লিজ।”
আমার বলার সাথে সাথেই মেঘ আমার হাতে ওর ফোন ধরিয়ে বললো,
~ “এই নিন।’

আমি রূপাকে ফোন দিয়ে বললাম,
~ “হ্যালো, রূপা। আমি পালক।”
~ “পালক, কোথায় তুই? কাল থেকে তোর কোনো খবর নেই। তোর ফোনও বন্ধ। কতো টেনশনে ছিলাম আমি তুই জানিস?”

~ “আমি তোকে পরে সব বলবো, আগে তুই হসপিটালে আয়। আর সাথে আমার ডেবিট কার্ডটা নিয়ে আসিস, আমার কাবার্ডেই আছে, ড্রয়ারে। হসপিটালের বিল পে করতে হবে।”
বলেই ফোন কেটে দিলাম।

মেঘ আমায় বললো,
~ “আরে আপনার বিল নিয়ে টেমশন করতে হবে না। আমরা,”
আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,
~ “আমার বিল আপনারা কেন দিবেন? আমিই দিতে পারবো।”
মেঘ আর রায়ান বাইরে চলে গেল।

~ “এ্যাহহহহ, বড়োলোকটা আইসে গো। আপনাকে বিল নিয়ে টেনশন করতে হবে না (মুখ ভেংগিয়ে)। বলি তোর পকেটে দশ টাকা আছে কিনা সন্দেহ আর এই হাজার টাকার বিল তুই কোথা থেকে দিতি? যত্তসব।

রায়ানের কথা শুনে মেঘ রেগে ওর পিঠে ধুম করে এক কিল বসিয়ে দিলো।
কিছু ক্ষণ পর, রূপা এসেছে আমার কাছে। আমি ওকে বলেছি সব বিল পে করে দিতে। আমি আজই হসপিটাল থেকে চলে যাবো। ডক্টর, নার্স সবাই বলছে একসপ্তাহের আগে না যেতে, কারণ আমি অনেক অসুস্থ। কিন্তু আমি কারো কথা শুনছি না। এই হসপিটালে থাকলে যদি ঐ ছেলেটা কোনো ভাবে জানতে পারে আমার আর রক্ষা নেই।

আমি হসপিটাল থেকে বের হওয়ার আগে মেঘের কাছে গিয়ে বললাম,
~ ‘জানি না আপনার সাথে আমার আর কখনো দেখা হবে কি না? তবে দেখা হলে আর সুযোগ পেলে আপনার এই ঋণ শোধ করবোই করবো। আর আমি চান, আমাদের আবার দেখা হোক।”

বলেই হেটে চলে এলাম। রুপা আমার সাথেই আছে।
এদিকে মেঘ পালকের যাওয়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যদি আটকাতে পারতো! রায়ান মেঘের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ওকে বললো,

~ “তুই যা ভাবছিস তা আদৌ কখনো সম্ভব নয়। কথাটা শুনতে কষ্ট দায়ক হলেও এটাই সত্যি যে ও তোর থেকে ভালো কাউকে ডিজার্ভ করে।”

একমাস হয়ে গেছে,
মেঘ একদিন হন্যে হয়ে পালককে খুঁজেছে। কিন্তু কোথাও পায়নি। কে জানে কবে তাদের আবার দেখা হবে?

লেখা – লোকমান হাকিম

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “মেঘের পালক – একটি কষ্টের প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মানুষ দেখতে যেমন – শর্ট লাভ স্টোরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!