কষ্টের প্রেমের গল্প

তোর আসক্ত – সিজন ২ । অভীমানি ভালোবাসা

অভীমানি ভালোবাসা

তোর আসক্ত – অভীমানি ভালোবাসা: অনেক খন ধরেই অন্তর খেয়াল করছে রুহি বেলকনিতে। অন্তর কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না রুহি এতোখন যাবৎ বেলকনিতে কী করছে। অন্তর ফোন টা হাতের পাশে টেবিলে রেখে বেলকনিতে উঁকি দিতেই দেখে রুহি গ্রিল ধরে আনমনে বাহিরের দিক তাকিয়ে আছে। এদের খুনশুটিগুলো সত্যিই বেশ মজার। পড়ুন আর মজা নিন।

পর্ব – ৫

রুহি গলায় হাত দিয়ে কাশতে থাকে। অন্তরকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এতে অন্তর আরও রেগে যায়।

রুহি নিচে এসে দেখে তার শাশুড়ি মা কিচেনে। রুহি ও যায়।

রুহিঃ মা আমাকে ডাকলেন। না কেনো আমিই তো করে দিতে পারতাম।

অন্তরের মাঃ কয়েকটা দিন পার হলে সকালের চা কফির দায়িত্ব টা না হয় তোমার কাছেই দিয়ে দিবো কেমন? (মুচকি হেসে)

উত্তরে রুহিও মুচকি হাসে। অন্তরের মা চা বানিয়ে রুহি কে জিগ্যেস করে…

অন্তরের মাঃ কিছু বলবে মা?

রুহিঃ মা সত্যি করে একটা কথা বলবেন? আমি জানিনা আপনাকে জিগ্যেস করাটা ঠিক হবে কিনা। যদি অন্যায় হয়ে থাকে মাফ করবেন।

অন্তরের মা রুহির কথায় বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। কী এমন কথা বলবে ও?

অন্তরের মাঃ হ্যা বলো…

রুহিঃ মা উনি কী কাউকে ভালোবাসেন? উনি আমার সাথে এমন ব্যবহার কেনো করেন মা? যদি কাউকে ভালোই বাসেন তাহলে আমার সাথেই বা কেনো বিয়েতে রাজি হয়েছেন?

অন্তরের মা রুহির কথা শুন স্তব্ধ হয়ে যায়। চোখ বেয়ে দুফোটা পানিও চলে আসে। রুহি খেয়াল করে দেখে অন্তরের মা কাঁদছে।

রুহিঃ কী হলো মা? আমি কি কিছু ভুল করে ফেললাম?

অন্তরের মাঃ নারে মা। তোর সব কথার উত্তর দিবো আমি আজই। আগে ওদের ব্রেকফাস্ট করতে দিই। অনেক খন ধরে ওয়েট করছে খাবার টেবিলে।

রুহিঃ ঠিক আছে মা আমি আপনাকে হেল্প করছি। (মুচকি হেসে)

সবার ব্রেকফাস্ট হয়ে গেলে রুহি নিজের রুমে চলে যায়। গিয়ে দেখে অন্তর খাটে আধশোয়া হয়ে ফোন টিপছে।

কিছুক্ষন আগের কথা মনে হতেই রুহির খুব রাগ হয় বলতে গেলে অভিমানও। রুহি কিছু না বলে বেলকনিতে চলে যায়।

অনেক খন ধরেই অন্তর খেয়াল করছে রুহি বেলকনিতে। অন্তর কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না রুহি এতোখন যাবৎ বেলকনিতে কী করছে। অন্তর ফোন টা হাতের পাশে টেবিলে রেখে বেলকনিতে উঁকি দিতেই দেখে রুহি গ্রিল ধরে আনমনে বাহিরের দিক তাকিয়ে আছে।

  • বেলকনিতে দাড়িয়ে কাকে দেখার জন্য ওয়েট করে আছো?

হটাৎ কারো এমন কথায় ধ্যান আসে রুহির পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে অন্তর!

রুহিঃ কী বলছেন এসব?

অন্তরঃ কিছু ভুল বললাম কী?

রুহি জানে অন্তর সাথে অযথা তর্ক করে লাভ নেই তাই সে চুপচাপ সেখান থেকে চলে আসে।

অন্তরের মা রুমে একা একা বসে আছে। রুহির ও ভালো লাগছিলো না তাই তার শাশুড়ি মার রুমে আসে গল্প করার জন্য।

রুহিঃ মা আসবো?

অন্তরের মাঃ শুনো মেয়ের কথা! নিজের মার রুমে আসতে কিসের পারমিশন শুনি?

রুহি মুচকি হেসে রুমে ঢুকে।

রুহিঃ একা একা বসে আছেন কেনো? শরীর খারাপ লাগছে আপনার?

অন্তরের মাঃ নারে মা। ঠিক আছি। আচ্ছা আমি যে তোকে তুই করে বলি তুই কী এখনো আমাকে আপনি করেই বলবি? তুমি করে বলা যায় না? আমি একদিনে তোকে আপন করে নিতে পারলেও তুই পারিস নি তাই না।

রুহিঃ এ কেমন কথা মা? তোমাকে আপন করে নিতে না পারার কোনো কারন আছে? দেখাও তো!

তুমি জানো মা তোমার ছেলেটা অনেক রাগি। খালি রাগ দেখায় আমার সাথে আর তুমি কতো ভালো! কত্তো ভালোবাসো আমায়।

অন্তরের মাঃ নারে আমার ছেলেটা অতোটাও রাগি না। ওর রাগের কারন টা জানতে হয়তো তুইও অবাক না হয়ে পারবি না।

রুহিঃ মা বলো না উনি এমন করেন কেনো আমায়?

অন্তরের মাঃ জানিস আমার ছেলে অন্তর বড় ভাই অনিক সবার অনেক আদরের ছিলো। অন্তরকে যে আমরা ভালোবাসি না তা না। অনিক আর অন্তর দুজনই আমদের কলিজার টুকরা ছিলো। অনিক বছর দুয়েক আগে একটা মেয়েকে ভালোবাসে। মেয়েটা সুন্দরী। তাছাড়া ওর ফেমেলিও ভালো তাই আমরা অনিকের সাথে ওর বিয়ে দিই। বিয়ের দের মাস পরে অনিক জানতে পারে ঐ মেয়ের অন্য কারো সাথে সম্পর্ক ছিলো। এতো কিছুর পরেও অনিক মেয়েটাকে ছাড়ে নি।

চেয়েছিলো তাকে বুঝিয়ে হয়তো সব ঠিক করে নিবে। কিন্তু না! ঐ মেয়েটা আমার অনিক কে ভালোবাসে নি রে। ও শুধুই অনিকের টাকা চেয়েছিলো। ওর অনেক চাহিদা ছিলো অনিক ওকে কোনো কিছুতে অভাব দেয়নি। সব চাহিদা পূরণ করতো। যখন অনিক ওর চরিত্র সম্পর্কে সবটা জেনে যায় ওকে অনেক বার বারন করে।

কিন্তু ও শুনেনি। শেষে ও অনিককে ছেড়ে চলে গেছে। জানিস ঐ মেয়েটাকে আমার অনিক এতোটাই ভালোবাসতো যে ও নিজের জীবন টাই দিয়ে দিলো। ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ঐ মেয়েটার ভালোবাসায়। ও আমাদের কারো কথা ভাবেনি। ও একটা বারও অন্তর কথা ভাবেনি। অন্তর যে ওকে পাগলের মতো ভালোবাসতো ওর একবারও অন্তর জন্য নিজেকে বাঁচাতে মন চায়নি। ঐ দিনের পর থেকে অন্তর নিজের মধ্যে নেই রে।

ওর ভাইটার কথা ও কোনো দিনও ভুলতে পারবে না। খুব ভালোবাসতো যে অনিককে।

তাই অন্তর কোনো মেয়ের দিকে তাকায়ও নি। ওকে আমরা বারবার বুঝাতে চাই যে সব মেয়েরাই এক না। যেমন খারাপ আছে তেমন অনেক ভালো মেয়েও আছে। কিন্তু আমরা বারবারই ব্যার্থ হই রে মা। (বলেই কেঁদে দেয়)

রুহির চোখে ও পানি চলে আসে। কি হয়ে গেলো অন্তর ভাইয়ের সাথে! সত্যিই তো অন্তর অন্তর বাবা মা যে অনেক ভালোবাসতেন কিভাবে ভুলবেন?

রুহি অন্তরের মার মুখটা দু’হাত ধরে চোখের পানি গুলো মুছে দেয়।

রুহিঃ কেদো না মা।

অন্তরের মাঃ রুহি জানিস তোর উপর আমার পুরো ভরসা আছে। যেদিন তোকে দেখতে গিয়েছিলাম সেদিনই বুঝেছি আমার অন্তরকে তুই কখনো কষ্ট দিবিনা।
তুই আমার ছেলেটাকে কষ্ট দিস না। ও যেনো বিশ্বাস করে সব মেয়েরাই এক নয়।

রুহিঃ আমি মরার আগ পর্যন্ত উনার পাশে থাকবো মা। উনার সব সুখ দুঃখের পাশে থাকবো।

অন্তরের মা রুহির কপালে একটা চুমু দেয়।

অন্তরের মাঃ যা গিয়ে দেখ অন্তর টার কিছু লাগবে কিনা। ও হয়তো এতোখনে তোকে মনে মনে খুঁজছে।

রুহিঃ হুম যাচ্ছি মা। তোমার কিছু দরকার হলে আমাকে ডেকো কেমন।

অন্তরের মাঃ হ্যা রে হ্যা ডাকবো। তুই যা।

রুহি চলে আসে রুমে। এসে দেখে অন্তর পকেটে হাত গুজেঁ বেলকনিতে দাড়িয়ে আছে।

রুহিঃ (আমিও কি ভাবছিলাম উনার সম্পর্কে! ছিঃ ছিঃ, এতোটা কষ্ট পেয়েছেন উনি!)

রুহি ধীর পায়ে অন্তর পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়।

রুহিঃ ওভাবে দাড়িয়ে আছেন যে?

অন্তরঃ পেছন ফিরে তাকায়, মুখে তার বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট!

অন্তরঃ তবে কি নাচবো? (রাগি কন্ঠে)

রুহিঃ হ্যা চাইলে নাচতেই পারেন। তবে একা একা হবেনা। আমাকে নিয়েই নাচতে হবে বুঝলেন! (মুচকি হেসে)

অন্তরঃ রেগে রুহির দিকে তেড়ে আসতেই রুহি চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে দাড়িয়ে পরে। ভেবেছিলো দৌড় দিবে কিন্তু দেয়নি!

অন্তরঃ রুহির কাছে এসে একহাতে রুহির কোমড় ধরে এক টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। রুহি টাল সামনাতে না পেরে অন্তর বুকে পড়ে যায়। অন্তর শার্ট খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে আছে। বেচারির অনেকটা ভয়ও লাগছে না জানি অন্তর আবার কি শাস্তি দেয় কে জানে!

অন্তর অনেক খন যাবৎ রুহির দিকে তাকিয়ে আছে। সত্যিই যে কেউ ওর মায়ায় পড়ে যাবে। টানাটানা চোখ, গোলাপের পাঁপড়ির মতো ঠোঁট দেখলেই ছুঁয়ে দিয়ে ইচ্ছে করে।

রুহি অন্তর কাছ থেকে একটু সরে যেতে চাইলেই অন্তরঃ আরও চেঁপে ধরে নিজের সাথে। একহাতে কোমড় চেঁপে ধরে আরেকহাতে চুলের ভাঁজে হাত গুঁজে দেয়।

রুহি যেনো প্রচন্ড রকমের শক খায়। শরীরটা ক্রমশ অবস হয়ে আসছে তার। ঠোঁট দু’টো কাঁপছে। অন্তর রুহির কাঁপা কাঁপা ঠোঁট দু’টো নিজের দখলে নিয়ে নেয়।

মূহুর্তেই রুহির চোখ দু’টো বড় বড় হয়ে গেছে! কী হলো অন্তর!

রুহি অন্তর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করেই যাচ্ছে। অনেকখন পর অন্তর রুহিকে ছেড়ে দেয়। রুহিকে এতোটা কাছে দেখে অন্তর নিজের উপরই রাগ হচ্ছে। কী করে ভুল করতে পারে ও! অন্তর ধাক্কা মেরে রুহিকে দূরে সরিয়ে দেয়। রুহি ও টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় পড়ে যায়। ধাক্কা টা এতোটাই জোরে দিয়েছে যে যদি বিছানায় না পড়তো তবে বোধহয় অনেক বড় ব্যাথা পেতো!

রুহি অন্তর উপর প্রচন্ড রেগে যায়। কী পেয়েছেন টা কী উনি?

যখন ইচ্ছে হবে কাছে আসবে আবার ভালো না লাগলে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবে! রুহি রেগে অন্তর কাছে যায়। অন্তরকে কিছু বুঝতে না দিয়েই ওর পিঠে অনেক জোরে কামড় বসিয়ে দেয়।

অন্তরঃ মোটেও এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলো না! রুহি এমন কিছু করবে ভাবতেই তার চোখ গুলো লাল বর্ণ ধারন করে। যেনো মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে আগুন ঝরবে যা রুহিকে জ্বালিয়ে দিতে চাইছে!

রুহি বেচারি রাগের মাথায় এমন একটা কান্ড করলো ঠিকই কিন্তু এখন তো অন্তর রাগী ফেস টা দেখে ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে! ভয়ে কেঁদে দেবে অবস্থা!

অন্তরঃ হাউ ডেয়ার ইউ! আমাকে কামড় দিয়েছো তুমি? মাথায় চড়ে বসেছো তাইনা? কি ভেবেছো তোমাকে আমি মেনে নিয়েছি? নেভার! তোমার থেকে হাজার গুন ভালো মেয়ে আমার পিছন ঘুরঘুর করেছে তাও কাউকে পাত্তা দিই নি। কারন আমি পার্মানেন্টলি কাউকে চাইনা। সো ভুলেও আমার ধারে কাছে আসার চেষ্টা করো না। যদি পারো তো একেবারে চলে যাও বুঝলে? (দাঁতে দাঁত চেঁপে)

রুহি একদৃষ্টিতে অন্তর দিকে তাকিয়ে অন্তর বলা কথা গুলো হজম করেছে। বেচারির রাগ, দুঃখ, অভিমান হলেও কিছুই প্রকাশ করতে পারেনি। কারন সে ভালো মতোই জানে অন্তরকে রাগালে কোনো সমস্যার সমাধান করা যাবেনা বরং ভালোবেসে তার সব ভুল ধারনা ভাঙতে হবে।

দুপুরে রুহি শাওয়ার নিয়ে এসেই তার শাশুড়ি মার সাথে গল্প করতে চলে গেছে কারন এঘরে থেকে এই গম্ভীর ব্যাটার ঝাড়ি খাওয়া থেকে শাশুড়ি মার আদর খাওয়া অনেক ভালো!

অন্তরঃ শাওয়ার নিতে যায়। পিঠে পানি পড়তেই যেনো কিছু একটা কামড়ে ধরেছে মনে হলো।

তখন রুহি তার দাঁতগুলো যেভাবে বসিয়েছে তাতে জ্বালা করাটাই স্বাভাবিক। পানি পড়তেই জ্বালা টা যেনো আরও বেড়ে গেছে! এই মুহুর্তে অন্তর ইচ্ছে করছে রুহিকে তুলে একটা আছাড় মাড়তে। অন্তর শাওয়ার নিয়ে৷ এসে ফাস্টএইড বক্স থেকে অয়েনমেন্ট নিয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাড়ায়। যেহেতু দাঁত গুলো পিঠে বসিয়েছে তাই নিজের হাতে অয়েনমেন্ট লাগানো না অনেক কষ্ট কর।

অন্তরঃ অনেকক্ষণ যাবৎ চেষ্টা করছে লাগাতে কিন্তু পাড়ছে না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে তার মাকে ডাক দেয়।

অন্তরের মাঃ ঐ যে অন্তর মনে হই ডাকছে। বোধহয় কিছু লাগবে ওর। তুই যা কী লাগবে দেখ। যদি আমার কথা জিগ্যেস করে তাহলে বলবি আমি ঘুমিয়ে আছি কেমন?

রুহিঃ কিন্তু মা উনি তো আমাকে উনার সামনে দেখলেই রেগে যায়।

অন্তরের মাঃ আরে বোকা মেয়ে রাগ করুক না তাতে কী? কতো দিনই বা রাগ করে থাকতে পারবে বল তো? ও যেনো তোর উপর আর রাগ করতে না পারে তোকে মেনে নিতে পারে তার জন্য তে তোকে চেষ্টা করতেই হবে, তাইনা?

রুহিঃ হুম (মাথা নিচু করে)

অন্তরের মাঃ যা এখন গিয়ে দেখ কেনো ডাকলো?

রুহিঃ ঠিক আছে মা।

রুহি রুমে এসে দেখে অন্তর হাতে অয়েনমেন্ট নিয়ে পিঠে লাগানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য!

রুহি ভয়ে ভয়ে অন্তর পিছনে যায়। কারন সেই তো অন্তর পিঠে দাঁত বসিয়েছে। ইশশশ! বেচারার কী কষ্ট টাই না হচ্ছে এখন। ক্ষত টা অনেকখানি গভীর দেখা যাচ্ছে। রুহির নিজেরই অনেক খারাপ লাগছে। কেনো যে এমন ছেলেমানুষী করতে গেলো!

রুহিঃ আ আমাকে অয়েনমেন্ট টা দিন। আমি লাগিয়ে দিই… (ভয়ে ভয়ে)

অন্তরঃ রেগে রুহির দিকে ফিরে তাকায়।

অন্তরঃ তুমি নিশ্চয় তোমাকে ডেকেছিলাম না?

রুহিঃ আ আসলে মা ঘুমাচ্ছিলো তো, তাই।

অন্তরঃ মা ঘুমাচ্ছে তো? তোমাকে আসতে বলেছি একবারও?

রুহি মাথা নাড়িয়ে না বলে….

অন্তরঃ আর কোনো দিন যদি আমার সামনে এসে ঘুরঘুর করো তো তোমার কপালে শনি আছে মনে রেখো। ফাজিল মেয়ে।

রুহি কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। অন্তর অয়েনমেন্ট টা টেবিলে রেখে আলমারির কাছে যায় কাপড় আনতে। রুহি চট করে অয়েনমেন্ট টা হাতে নিয়ে অন্তর কাছে যায়। অন্তর কাপড় খুজায় ব্যাস্ত এই সুযোগে রুহি অন্তর পিঠে যত্নসহকারে অয়েনমেন্ট টা লাগিয়ে দেয়। অন্তর ঘুরে দাড়ায়। রাগি লুক নিয়ে রুহির দিকে তাকায় রুহি কোনো কিছু না ভেবেই এক দৌড়ে রুম ত্যাগ করে। কারন এখন অন্তর কাছে থাকাটা বিপদজনক!

রাতে…

খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই যার যার রুমে চলে যায়। রুহি রুমে এসে দেখে অন্তর খাটে শুয়ে আছে। রুহি কিছুতেই বুঝতে পারছে না কোথায় শুবে?

কাল রাতের মতো আজও কি তাকে বেলকনিতেই শুতে হবে? ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে! কাল কী ভয় টাই না লাগছিলো সারা টা রাত৷

রুহি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ভাবছে কী করা যায়। অন্তর রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে রুহি অসহায়ের মতো তার দিকে তাকিয়ে আছে।

অন্তরঃ উঠে বসে রুহির দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।

রুহিঃ আ আসলে ক কোথায় শুবো ব বুঝতে পারছিনা। (ভয়ে ভয়ে)

অন্তরঃ আমার মাথায় শোও। অলরেডি আমার মাথায় ত চড়ে বসেই আছো এখন শুয়েও থাকতে পারো সমস্যা নেই৷ (দাঁতে দাঁত চেপে)

রুহি অন্তর কথায় ভয় পেয়ে যায় কারন অন্তর যে ক্ষেপে আছে তা বুঝার বাকি নেই রুহির।


পর্ব – ৬

রুহি অন্তর কথায় ভয় পেয়ে যায় কারন অন্তর যে ক্ষেপে আছে তা বুঝার বাকি নেই তার।

অন্তরঃ সোজা বেলকনিতে গিয়ে ঘুমাউ।

রুহিঃ আ আমার ভয় ক করে ঐখানে (কেঁদে দেবে অবস্থা)

অন্তরঃ গুড তাহলে চলে যাও। ডিভোর্স দিয়ে দাও আমায়। তখন না হয় তুমি তোমার নিজের বাড়িতে নিজের রুমে আরাম করে ঘুমিও।

অন্তর মুখে ডিভোর্স দেয়ার কথাটা শুনে রুহির চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে। ভেতরটায় কেমন যেনো ব্যাথা অনুভব করছে।

রুহিঃ ঠিক আছে আমি বেলকনিতে গিয়ে ঘুমাচ্ছি। আপনি শুয়ে পরুন। আর কিছু লাগলে আমায় ডাকবেন।

অন্তরঃ রুহির কথার কোনো জবাব না দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পরে। রুহি হাতে বালিশ আর চাদর টা নিয়ে বেলকনিতে চলে যায়।

সকালে…

অন্তর আগেই রুহির ঘুম ভাঙে। উঠে দেখে বেলকনির দরজা খুলাই আছে। আগের দিন তো অন্তর দরজা টা ভেতর থেকে আটকে দিয়েছিলো তাহলে আজ আটকালো না কেনো?

ভাবতেই রুহির মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠে।

রুহি রুমে এসে দেখে অন্তর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। পিঠে কামড়ের দাগ টা স্পষ্ট! রুহির এখন আরও খারাপ লাগছে। রাগও হচ্ছে বটে। ইচ্ছে করছে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিড়ে ফেলতে। কত বড় ব্যাথাটাই না দিলো তার কিউট বর টাকে।

রুহি ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসে। এসে কাউকে দেখতে পায় না। তার মানে মা এখনো উঠেনি। আর সালমা খালা (অন্তরদের বাসার কাজের মহিলা) ও উঠেনি। কি হলো? এতোখন ঘুমাচ্ছে সবাই?

রুহি ভাবতে ভাবতেই ড্রয়িং রুমে থাকা ঘড়িটার দিকে নজর দেয়। দেখে সকাল সারে ছয়টা বাজে!

রুহিঃ যাহহহ বাবা! এতো সকালে তো মনে হই এই বাড়ির মুরগী টাও উঠে না! ধুররর মুরগী আসলো কোথা থেকে?

আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হই? সবাই যেহেতু ঘুমে তাই আমিই ব্রেকফাস্ট বানিয়ে ফেলি আজ। মা তো সব সময়ই করে আজ আমিই করে ফেলি। – ভাবতে ভাবতেই রুহি কিচেনে চলে যায়। একাই সবার ব্রেকফাস্ট বানাতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই তার শাশুড়ি মা আসে। রুহিকে কিচেনে রান্না করতে দেখে চমকে উঠে…

অন্তরের মাঃ একি রুহি… তুই কিচেনে কি করছিস এতো সকালে?

রুহিঃ ইয়ে মানে মা.. সবার ব্রেকফাস্ট টা…

অন্তরের মাঃ আরে বোকা মেয়ে এর জন্য তো আমিই আছি। আসলে আজ ফজরের নামাজ পড়ার পর অনেক ঘুম পাচ্ছিলো তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। উঠতেও অনেকটা দেরি হয়ে গেলো।

রুহিঃ না মা সমস্যা নেই। আপনি ঘুমান গিয়ে। আমি সব করে নিতে পারবো চিন্তা করবেন না।

অন্তরের মাঃ তাই বললে কি হয়? আচ্ছা কাল তো এতো তারাতারি উঠিস নি তাহলে আজ কিভাবে উঠলি? অন্তর ডেকে দিয়েছে বুঝি?

রুহিঃ না না মা। উনি তো এখনো ঘুমাচ্ছেন। আমিই উঠে এসেছি৷

অন্তরের মাঃ আচ্ছা আমি সামলে নিবো। তুই যা অন্তরকে ডেকে আয়। আর জানিস তো আজ আমাদের বাসায় একজন আসছে। তোকে আগেই বলে দিতে চাইছিলাম তার কথা। কিন্তু সে বললো তোকে জেনো কিছু না জানাই এমনকি অন্তরকে ও যেনো কিছু না জানাই। কারন তোদের নাকি সারপ্রাইজ দিবে!

রুহিঃ উনি কে মা?

অন্তরের মাঃ ও মা বলে দিলে তো সারপ্রাইজ টাই হবে না। (রুহির থুতনি ঝাঁকিয়ে)

রুহিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তাহলে যাই উনাকে নিয়ে আসি।

অন্তরের মাঃ হুম যা।

রুহি চলে আসে। ধীরে ধীরে রুমে ঢুকে এই বুঝি বাঘের মুখে পড়লো!

অন্তরের মাথার পাশে বসে মাথায় হাত রাখে রুহি। অন্তর ঘুমে তাই কিছুই বুঝতে পারছে না।

রুহি যত্নসহকারে অন্তর চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরই অন্তর নড়েচড়ে উঠায় রুহি দ্রুত দাড়িয়ে পড়ে। অন্তর চোখ খুলে রুহি কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিরক্তি নিয়ে বলে…

অন্তরঃ কি হয়েছে দাড়িয়ে আছো কেনো এখানে?

রুহিঃ ক কিছু না তো। আসলে মা ডাকছিলো উঠে ফ্রেশ হয়ে নিবেন তাই।

অন্তরঃ সেটা তোমাকে বলতে হবে না। আমিই ঠিক টাইমে উঠতে পারি। ইডিয়ট কোথাকার!

অন্তরঃ রেগে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়ে। রুহি ও নিচে নেমে আসে।

অন্তরঃ কিছুক্ষন পর ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে।

অন্তরের মাঃ অন্তর তুই কি কোথাও বেরুবি?

অন্তরঃ হ্যা মা। অফিস যাবো।

অন্তর বাবা – এ আবার কেমন কথা তুই কেনো যাবি এখন। তোর না ছুটি।

অন্তরঃ তাতে কী? তাছাড়া বাসায় বসে থেকেই বা কী করবো? বোর লাগছে আমার।

অন্তর বাবা – বোর লাগলে রুহি কে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যা। ভালো লাগবে।

অন্তরের মাঃ হ্যা অন্তর তোর বাবা কিন্তু একদম ঠিক বলেছে।

অন্তরঃ মা বাবা অলওয়েজ ঠিকি বলে সেটা আমিও জানি কিন্তু আমি ঘুরতে যেতে পারবো না। নেভার!

অন্তর বাবা – দেখো অন্তর বড় রা কিছু বললে শুনতে হই সে শিক্ষা আমরা তোমাকে দিয়েছি নিশ্চয়?

অন্তরঃ কিন্তু বাবা…

অন্তর বাবা – আর কোনো কিন্তু নয়। তুমি রুহি কে নিয়ে ঘুরতে যাবে ব্যাস। বিকেলে যেও। আর কাল রুহিদের বাড়ি যেতে হবে তোমার আর রুহির যদি কোনো কেনাকাটা থাকে করে নিও কেমন।

অন্তরঃ তার বাবার মুখের উপর না করতে পারে না তাই চুপ করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। অন্তর আড়চোখে রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে রুহির ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি যা পাগল করার মতো হলেও এই মূহুর্তে অন্তর রাগের কারন!

ব্রেকফাস্ট করে অন্তর নিজের রুমে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর রুহিও আসে। অন্তর রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে আবারও রুহির মুখে হাসি। অন্তর বুঝতে পারছে এই সব হয়তো রুহির প্লান করা!

অন্তরঃ রেগে রুহির কাছে আসে। রুহি ভয়ে দৌড়ে পালাতে নিলেই অন্তর রুহির হাতটা খপ করে ধরে দেয়ালের সাথে আটকে ধরে।

রুহি ভয়ে ঢোক গিয়ে অন্তর দিকে অসহায় ভাবে তাকায়।

অন্তরঃ এই সব কিছুই তোর প্লান করা ছিলো তাইনা? কী ভেবেছিলি আমি কিছুই বুঝতে পারবো না? মা বাবার মাথায় ঘুরতে যাওয়ার আইডিয়া ঢুকিয়ে দিবি আর আমিও তোকে নিয়ে ঢেং ঢেং করে চলে যাবো তাই তো?

রুহি অন্তর কথার কিছুই বুঝতে পারছে না। সে কখন তার শশুর শাশুড়ি কে ঘুরতে যাওয়ার প্লান বললো? তার কি লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই নাকি? আজিব!

অন্তরঃ কী হলো কথা বলছিস না কেনো? তুই কি ভেবেই নিয়েছিস আমার পিছু ছাড়বি না?

রুহিঃ আ আমি তো ব বাবা মাকে কিছু ব বলি নি।

অন্তরঃ চুপ… একদম চুপ। অসভ্য মেয়ে। মিথ্যা বলা শিখে গেছিস তাইনা। কত সহজে মিথ্যা বলে দিচ্ছিস। তুই না বললে মা বাবা আমাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা কেনো বললো? হোয়াই?

রুহিঃ আ আমি জানিনা।

অন্তরঃ জানিস না? তুই ইচ্ছে করেই এই সব করছিস৷ বার বার আমার কাছে আসার চেষ্টা করছিস। বাট ইউ নউ না… তোর মতো মেয়েকে কোনো দিনও কাছে টেনে নিবো না আমি। কখনো না। অনেক সুন্দরী মেয়েরা আমার পিছন পড়ে থাকে জানিস। তাদের সাথেই আমি অলটাইম আড্ডা দিই চুমুও দি…….

আর কিছু বলার আগেই রুহি অন্তর মুখটা চেঁপে ধরে। রুহির চোখ দু’টো ভিজে যাচ্ছে যা অন্তর স্পষ্ট বুঝতে পারছে।

রুহিঃ আপনি কী হ্যা…? নিজের বউ এর সামনে কেউ এই সব বলে?

অন্তরঃ এক ঝটকায় নিজের মুখ থেকে রুহির হাত টা সরিয়ে ফেলে।

অন্তরঃ বউ মাই ফুট। কিসের বউ রে কিসের বউ? আমি কি তোকে বউ বলে মেনেছি নাকি মানতে পারবো? আর হ্যা কেউ না বলুক আমি ঠিকই তোর সামনে এই সব বলবো। যত দিন থাকবি সহ্য করতেই হবে। যদি না পারিস তোর জন্যই ভালো চলে যা।

রুহির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে…

রুহিঃ যাবো না আমি। ছেড়ে যাওয়ার জন্য তো আসিনি।

অন্তরঃ হুহ তোদের মতো মেয়েদের খুব ভালো করেই চিনি।

বাই দ্য ওয়ে… মা বাবা যখন বলছিলো তুইও তখন রাজি হয়ে ছিলি কেনো? না করতে পারলি না। বলতে পারলি না তোর সমস্যা আছে তুই যেতে পারবি না আমার সাথে।
রুহিঃ নিজেও তো না করতে পারতেন।

অন্তরঃ আমি না করলে শুনবে না তাছাড়া আমি বাবা মার মুখের উপর না করতেও পারিনা।

রুহিঃ তাহলে যা হবার তাই হবে।

অন্তরঃ মানে?

রুহিঃ মানে আবার কী? আমরা বিকেলে যাবোই যাবো।

অন্তরঃ তোর সাহস আছে বটে!

রুহিঃ থাকবেই তো। এখন ছাড়ুন আমায় কাজ আছে অনেক।

অন্তরঃ রেগে রুহিকে ছেড়ে দেয়।

বিকেলে….

অন্তরঃ রুমে এসে দেখে রুহি ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে গান গুনগুন করে গান গাইছপ আর চোখে কাজল দিচ্ছে।

অন্তরঃ রুহির দিকে কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। তার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না এতো সেজে মেয়েটা যাচ্ছে কোথায়? বাপের বাড়ি নয় তো? তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ!
রুহিঃ আপনি এসেছেন? রেডি হয়ে নিন তারাতারি।

অন্তরঃ হোয়াট?

রুহিঃ সব সময় এতো হোয়াট হোয়াট করেন কেনো বলুন তো? আমরা ঘুরতে যাবো তাই বলছি তারা তারি রেডি হয়ে নিন। এর মধ্যেই ভুলে গেলেন নাকি?

অন্তরঃ তার মানে তুমি ঠিক করে রেখেছো তুমি যাবেই।

রুহিঃ জ্বী। (দাঁত কেলিয়ে)

অন্তরঃ রেগে ওয়াশরুমে চলে যায়। এখন যেতে হবেই আর কোনো উপায় দেখছে না সে। কারন তার বাবা মাকে না করার মতো সাহস থাকলেও কোনো দিনও পারবে না তাদের মুখের উপর না করতে।

অন্তরঃ রেডি হয়ে এসে দেখে রুহি আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। রুহি আর কালো কালার জামদানি শাড়ি পড়েছে, চুল গুলো এলোমেলো ভাবে খোঁপা করা, ঠোঁটে ঘাঢ় লাল রং এর লিপস্টিক, চোখে কাজল, গলায় আর কানে হালকা জুয়েলারি রুহিকে দেখতে তো মাশআল্লাহ!

অন্তরঃ ও কালো শার্ট পড়েছে হাতা ফোল্ড করা, কালো জিন্স কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার দুজনের ড্রেসের রং মিলে গেলো কি করে?

অন্তরঃ তো রুহির ড্রেস টা প্রথমে ভালো করে খেয়াল করে নি সে কি রং এর ড্রেস পড়েছে তাও তো খেয়াল করেনি। অন্তর নিজ থেকেই আনমনে কালো রং এর ড্রেস পড়ে এসেছে।

রুহিঃ আরেহ বাহ! আমরা দু’জন দেখি একি রং এর ড্রেস পড়লাম! কী মিল আমাদের, তাইনা? (মুচকি হেসে)

এই মূহুর্তে অন্তর ইচ্ছে করছে এক্ষুনি গিয়ে চেঞ্জ করে আসতে। কিন্তু সেটা কেমন দেখায় না। তাই দাঁতে দাঁত চেঁপে রুহির বলা কথা গুলো হজম করছে।
রুহিঃ কী হলো চলুন। যাবো না আমরা?

অন্তরঃ কিছু না বলে হনহন করে বেরিয়ে পড়ে রুহি ও অন্তর পেছন পেছন ছুটে।

অন্তরঃ গাড়িতে গিয়ে বসে পাশের সীটে রুহি। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিছুদূর যেতেই রুহি ঝুঁকে পড়ে যেতে নেয়।

অন্তরঃ ইউ ননসেন্স! সীটবেল্ট টা বাঁধো নি কেনো? আর এভাবে ঝুঁকে গেলে কেনো হটাৎ করে?

রুহিঃ কী জানি!

অন্তরঃ হোয়াটএভার সীটবেল্ট টা বাধোঁ কুইক।

রুহিঃ আসলে আমি তো বাঁধতে পারি না। (খাটি মিথ্যা কথা)

অন্তরঃ হোয়াট? তুমি সীটবেল্ট টাও বাঁধতে পারো না? তুমি কি এখন বাচ্চা শিশু যে বাঁধা শিখাতে হবে।

উত্তরে রুহি কিছুই বলে না শুধু অসহায় মুখ করে অন্তর দিকে তাকায়।

অন্তরঃ না পেরে রুহির কাছে গিয়ে সীটবেল্ট টা লাগিয়ে দেয়। অন্তর রুহির দিকে তাকাতেই রুহির মুখের হাসিটা দেখতে পায়।

রুহিঃ আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি? না মানে এভাবে গাড়িতে করে কী ঘুরা হই? তার চেয়ে বরং রিকশা দিয়েই ঘুরতে পারতাম। অনেক ভালো লাগতো। অনেক মজা ও পে……

বলতে বলতেই অন্তর দিকে তাকিয়ে দেখে অন্তর রাগি চোখে রুহির দিকে তাকিয়েছে যা দেখার সাথে সাথেই রুহির মুখটা ভয়ে চুপসে যায়।

অন্তরঃ যেভাবে নিয়ে যাচ্ছি চুপচাপ চলো। নয়তো এখানেই ফেলে রেখে যাবো… যত্তসব..

রুহি অন্তর ধমক শুনে চুপ করে যায়।

অন্তরঃ একটা শপিংমলের সামনে এনে গাড়ি পার্ক করে। রুহি কে বের হতে বলে।

রুহি কিছুই বুঝতে পারছে না তাদের তো ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিলো ঘুরাঘুরি হয়ে গেলে শপিং এখন তো দেখছি কিছুই হবেনা। ধুররর…. এই অসভ্য লোকটার জন্য আনন্দটাই মাটি হয়ে গেলো। ভেবেছিলো ফুচকা আইসক্রিম কতো কিছু খাবে সব শেষ!

রুহি মনে মনে অন্তরকে হাজার টা বকা দিলেও মুখে কিছুই বলেনি কারন একটু আগে যা বললো যদি সত্যিই তাকে এখানে ফেলে রেখে যায় তখন কী হবে… ভাভাগো ভাভা!


পর্ব – ৭

অন্তরঃ রুহিকে নিয়ে শপিংমলে ঢুকে। রুহি মনে মনে ঠিক করে কালকে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য সুন্দর একটা শাড়ি কিনবে।

অন্তরঃ রুহিকে একটা শপে নিয়ে যেতেই রুহি শাড়ি দেখা শুরু করে। রুহি কয়েকটা শাড়ি দেখে যাচ্ছে আর বার বার অন্তরকে জিগ্যেস করছে কোনটা বেশি সুন্দর। অন্তর বেচারা তো মহা বিরক্ত। তাও মুখে হাসির রেখা টেনে বলেই যাচ্ছে…. সুন্দর, সুন্দর – যার মানে সব গুলা শাড়িই সুন্দর। রুহি বেচারি তো পড়লো মহা বিপদে। কোনটা নিবে ভেবেই পাচ্ছে না।

হটাৎ অন্তর খেয়াল করলো দোকানের ছেলেটা বার বার রুহির দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে। অন্তর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা রুহির শাড়ির ফাকে একটু পেট দেখা যাচ্ছে সেখানেই তাকিয়ে আছে।

এটা দেখা মাত্রই অন্তর রাগ টা সীমা ছাড়িয়ে যায়। ইচ্ছে করছে ছেলেটাকে মেরে তার দোকানেই পুঁতে ফেলতে। কিন্তু তা পারছে না কোনো প্রকার ঝামেলা হোক তা সে চাইছে না।

অন্তরঃ একহাতে রুহির কোমড় জড়িয়ে ধরে। আচমকা কোমড়ে হাতের স্পর্শ পেয়ে রুহি যেনো চমকে উঠে। অবাক হয়ে অন্তর দিকে তাকাই কারন।

অন্তরঃ রাগি চোখে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে। রুহি কিছুই বুঝতে পারছে না হচ্ছে টা কী? অন্তর শাড়িটা একটু টেনে রুহির পেট টা ঢেকে দেয়। তারপর অগ্নিদৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকায়। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো চোখ দিয়েই গিলে খাবে।

রুহিও বুঝতে পারে হয়তো তার কাপড় ঠিক ছিলো না। তারাতারি অন্তর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সব ঠিক ঠাক কয়ে নেয়।

ছেলেটাও অন্তর চোখ দেখে অনেক ভয় পেয়ে যায়। বেচারার আত্না যেনো শুকিয়ে গেছে।

রুহি একটা শাড়ি কিনে বেরিয়ে পড়ে। আর কোনো কিছু কেনার সুযোগ না দিয়েই রুহিকে একপ্রকার টেনে গাড়িতে উঠিয়ে দেয় অন্তর। নিজেও ড্রাইভিং সীটে বসে পড়ে।
রুহি বুঝতে পারছে অন্তর প্রচন্ড রেগে আছে। কিন্তু এতে রুহিরই বা দোষ কোথায়? সে তো ইচ্ছে করে কিছু করে নি, তাইনা?

অন্তরঃ গাড়ি স্টার্ট দেয়। সারা রাস্তায় একটা কথাও বলেনি রুহির সাথে। রুহিও বেশ ভয়ে ভয়ে আছে। বাড়িতে আসতেই অন্তরের মা অবাক হয়ে যায়….

অন্তরের মাঃ কিরে এতো তারাতারি ফিরে এলি? ঘুরতে গিয়ে এতো তারাতারি আসে কেউ?

অন্তরঃ এমনি মা ভালো লাগছিলো না তাই চলে আসলাম। এ কথা বলেই হনহন করে নিজের রুমে চলে যায়।

রুহি ও পেছন পেছন ছুটে। বেচারির ভয়ে প্রাণ যায় যায় অবস্থা!

রুহি ঘরে ঢুকে দেখে অন্তর বিছানায় শুয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে রুহি ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে অন্তর ঠিক আগের মতোই বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।

রুহি ভাবে অন্তর হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু না! রুহিকে অবাক করিয়ে দিয়ে অন্তর এক লাফে শুয়া থেকে উঠে বসে। চোখ দু’টো লাল হয়ে আছে। রেগে কটমট করে রুহির দিকে তাকায়।

অন্তরঃ বাহিরের লোকজন কে নিজের শরীর দেখানোর খুব ইচ্ছে তোমার তাইনা? (দাঁতে দাঁত চেঁপে)

অন্তর কথায় রুহি কিছুটা রেগে যায়। কেউ কি ইচ্ছে করে এমন কাজ করবে? রুহিও তো করেনি। মিসটেক হয়ে গেছে মাত্র!

অন্তরঃ কী হলো কথা বলছো না যে? কি মনে করো নিজেকে? বিউটি কুইন? তাই নিজের শরীর দেখানোর জন্য শাড়ি পড়ে গিয়েছিলে?

রুহিঃ আ… আমি তো জ জানতাম না।

অন্তরঃ রুহির দিকে এগিয়ে যায়। রুহি ভয় পেয়ে চলে যেতে নিলেই অন্তর রুহির কোমড় চেঁপে ধরে একটানে কাছে নিয়ে আসে। এতোটাই চেঁপে ধরেছে যে বেচারির মনে হচ্ছে কোমড়ের হাড় বুঝি ভেঙেই গেলো! রুহি অসহায় ভাবে অন্তর দিকে তাকায়।

অন্তরঃ ইচ্ছে করছে তোমার পেট এ সিগারেটের ছ্যাকা লাগিয়ে দিই। খুব শখ না? নিজের ফর্সা পেট ছেলেদের দেখানোর।

রুহিঃ এসব কী বলছেন আপনি? আমি তো ইচ্ছে করে দেখাই নি। ভুলবশত শাড়িটা সরে গিয়েছিলো। আসলে বিয়ের আগে কোনো দিন শাড়ি পড়ি নি তাই এতো টা ভালো করে পড়তেও পারিনা। যেটুকু পেরেছিলাম সব তো ঠিকই ছিলো কিন্তু কখন যেনো পেট থেকে সরে গিয়েছে বুঝতে পারিনি। (করুন দৃষ্টিতে)

অন্তরঃ শাড়ি পড়তে পারো না ভালো কথা। মার কাছ থেকে শিখে নিতে পারলে না? আর যখন শাড়ি পড়ে ঠিক রাখতে পারো না শাড়ি তাহলে পড়তে গেলে কেনো?
রুহিঃ ভ ভুল হয়ে গ গেছে। স সরি!

অন্তরঃ এক ধাক্কায় রুহিকে সরিয়ে দেয়। রুহিও এক মূহুর্ত দেরি না করে সেখান থেকে নিচে চলে আসে।

হটাৎ দরজায় বেল বাজতেই রুহি গিয়ে দরজা খুলে।

দরজা খুলতেই রুহি একটা ছেলেকে দেখতে পায়। দেখতে তো মাশআল্লাহ অনেক কিউট! ব্লু কালার শার্ট, ব্ল্যাক জিন্স, হাতে দামী ঘড়ি, চোখে কালো সানগ্লাস, মুখে মুচকি হাসি! এক কথায় অসাধারন দেখতে!

হাতে তো লাগেজ ও দেখা যায়। আবার কিসের একটা প্যাকেট ও। কিন্তু উনি কে?

রুহি কিছু বুঝে উঠার আগেই ছেলেটা ভেতরে আসে….

  • মাই সুইট ভাবি! কী ঠিক বললাম তো?

ছেলেটার মুখে ভাবি ডাকটা শুনে রুহি চমকে যায়! ভাবি? কিন্তু অন্তর তো কোনো ভাই নেই। একজন ছিলো তিনি তো মারা গেছেন।

রুহি তাকিয়ে দেখে পেছন থেকে অন্তর বাবা ও দাড়িয়ে আছে। সবটাই জেনো রুহির মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।

রুহিঃ বাবা উনি?

অন্তর বাবা – ও হলো তোমার ছোট ভাই। (মুচকি হেসে)

এতোখনে অন্তরের মা ও চলে আসে। অন্তরের মা আসতেই ছেলেটা অন্তরের মাকে জড়িয়ে ধরে।

অন্তরের মাঃ কেমন আছিস বাবা?

  • ভালো মা। আর এখন তো আরও ভালো থাকবো তোমাদের কাছে পেয়ে।

অন্তরের মা ছেলেটার কপালে চুমু দেয়।

অন্তরের মাঃ রুহি ও অন্তর ছোট ভাই আমান।

রুহিঃ কিন্তু মা আপনি যে বললেন উনারা দুই ভাই। অনিক ভাইয়া আর উনি? (অবাক হয়ে)

অন্তরের মাঃ ঐযে বলেছিলাম না সারপ্রাইজ!

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “অভীমানি ভালোবাসা” র গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আমান বলেছিলো ও যে আসছে কাউকে যেনো না জানাই তাই তোমাকে বলি নি।

রুহিঃ ওহহ আচ্ছা।

আমানঃ মা ভাইয়া কোথায়?

অন্তরের মাঃ তোর ভাইয়া রুমেই আছে। যা গিয়ে দেখ।

আমান একদৌড়ে উপরে চলে যায় গিয়ে দেখে অন্তর ল্যাপটপে গভীর মনযোগ সহকারে কিছু একটা করছে। আমান ধীরে ধীরে অন্তর কাছে গিয়ে পেছন ধরে চোখ ধরে।
অন্তর ভাবে এবারও রুহি তার সাথে দুষ্টুমি করছে। অন্তর প্রচন্ড রেগে যায়। অন্তর কোনো রকমে ল্যাপটপ টা পাশে রেখে উঠে দাড়ায়।

অন্তরঃ ইউ স্টুপিড গার্ল… কত বার বলবো এরকম ফাজলামো করবে না? তোমার সাহস হয় কী করে বার বার আমাকে টাচ করার। বেয়াদব কোথাকার। সোজা কথা বুঝতে পারো না তাইনা? বার বার যে বলছি আমার ধারে কাছেও আসবে না কথা কানে যায় না? (প্রচন্ড রেগে)

অন্তরঃ আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার চোখ টা ছেড়ে দেয়। অন্তর রেগে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে আমান!

অন্তরঃ যেনো কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তার আদরের ছোট ভাইটাকে চোখের সামনে দেখছে!

অবশ্য তার আদরের বললে ভুল হবে আমান কে অনিক ও অনেক ভালোবাসতো। লেখাপড়ার জন্য আমান দেশের বাহিরে চলে গিয়েছিলো। অনিকের মৃত্যুর কথা শুনে অবশ্য একবার এসেছিলো পরে আবার চলে যায়।

অন্তরঃ আ আমান! – বলেই আমানকে জড়িয়ে ধরে। আমানও জড়িয়ে ধরে।

আমানঃ কেমন আছো ভাইয়া?

অন্তরঃ ভালো। তুই কবে আসলি? তুই জানাস নি কেনো আমাকে আসবি যে? তোর নিশ্চয় আসতে অনেক সমস্যা হয়েছে রাস্তায়? একা একা আসতে গেলি কেনো বল তো? (এক দমে কথা গুলো বলে)

আমানঃ আরেহ ভাইয়া এতো ব্যাস্ত হইও না তো। আমাকে তো বাবা আনতে গিয়েছিলো বুঝলে। তাছাড়া বাবা গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলো ড্রাইভার আংকেল ও ছিলো তাই কোনো প্রবলেম হয়নি।

অন্তরঃ যাক। এটা নিশ্চয় তোর সারপ্রাইজ প্লান?

আমানঃ একদম! কেমন লাগলো ভাইয়া?

অন্তরঃ ফাজিল কোথাকার। তুই বলবি তো নাকি। যদি পথে কোনো সমস্যা হতো তখন?

আমানঃ আচ্ছা বাদ দাও। ভাইয়া একটা কথা বলো তো তুমি ভাবির সাথে কি এইরকম বিহেভ করো?

অন্তরঃ কি বলবে বুঝতে পারছে না। তখন আমান কে রুহি ভেবে তো অনেক কথাই বলে দিলো। এবার কী বলবে?

আমানঃ কী হলো ভাইয়া বলো। চুপ করে আছো যে?

অন্তরঃ না এমনিই।

আমানঃ কারন টা কী জানতে পারিনা?

অন্তরঃ দেখ আমি কোনো মেয়ের প্রতি আসক্ত হতে চাইনা। মা বাবাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।

আমানঃ ভাইয়া তুমি কি অনিক ভাইয়ার কথা ভুলতে পারোনি?

অন্তরঃ এটা তো ভুলার মতো না।

আমানঃ দেখো ভাইয়া এতোটুকু বুঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই তোমার আছে। ভাবি ঐ মেয়েটার মতো নিচু মানসিকতার নাও হতে পারে। মাও আমাকে বলেছে তুমি নাকি ভাবিকে মেনে নিতে পারছো না। কিন্তু কেনো ভাইয়া? ভাবি কী করেছিলো? সবাই তো এক না তাইনা? তাহলে তাকে বিশ্বাস করতে ক্ষতিটা কী বলবে প্লিজ?

অন্তরঃ আমান তুই সবে এসেছিস এখন যা ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে।

আমান ভালো করেই বুঝতে পারে অন্তর তার কথাটা এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই আমান আর কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে আসে।

অন্তরঃ খাটে বসে পড়ে। কিছুতেই পারছে না রুহিকে মেনে নিতে। কিন্তু এটা তো সত্যিই রুহির কোনো দোষ নেই। সে তো ঐ মেয়েটার মতো খারাপ না। কিন্তু মানুষের মন বদলাতে আর কতক্ষনই বা লাগে?

রাতে…

সবাই একসাথে বসে ডিনার করছে। শুধু অন্তরের মা আর রুহি বসেনি। অন্তরের মা বার বার রুহিকে জোর করলেও সে খেতে বসেনি। তার একটাই কথা সব সময় সবার খাওয়া শেষ হলে সে তার শাশুড়ি মার সাথে বসে খাবে। অন্তরের মাও রুহির এই ভালোবাসা নামক জেদের কাছে হার মানে।

অন্তর বাবা – অন্তর কাল তো তুমি আর রুহি রুহিদের বাড়িতে যাবে। তো সব গুছিয়ে নিও কেমন?

আমানঃ বাহহহ আমার যেতে মানা আছে বুঝি?

রুহিঃ এ মা তা কেনো হবে তুমিও আমাদের সাথে যাবে ভাই। কোনো মানা নেই।

আমানঃ এইতো পারমিশন পেয়ে গেলাম তাহলে।

অন্তরের মাঃ দেখিস ঐ খানে আবার কোনো গন্ডগোল বাধিয়ে বসিস না যেনো তুই তো আবার ঝামেলা বাড়ানোর জন্য ওস্তাদ! (আমান কে উদ্দেশ্য করে)

আমানঃ ওহো মা! আমি কি এখনো ছোট আছি বলো? এখন তো গন্ডগোল বাঁধানোর প্রশ্নই আসে না।

অন্তরের মাঃ হ্যা তাই যেনো হই।

সবার খাওয়া শেষ হলে যার যার রুমে চলে যায়। রুহি আর অন্তরের মাও খেয়ে রুমে চলে আসে। রুহি রুমে এসে দেখে অন্তর ফোন টিপছে।

রুহিঃ বলছিলাম যে আপনার কী কী গুছিয়ে রাখতে হবে বলুন আমি রেখে দিচ্ছি।

অন্তরঃ বিরক্তি নিয়ে রুহির দিকে তাকায়। এই মেয়ে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেনো ফরজ এর নামাজের পরই বেরিয়ে যাবে।

অন্তরঃ আমরা কাল কখন যাবো? আই মিন কয়টার সময় বের হবো?

রুহিঃ এই ধরুন দুপুরের দিকে।

অন্তরঃ তাহলে সকাল থেকে বসে বসে কী করবে তুমি? আমার মাথার চুল ছিড়বে?

রুহি অন্তর কথায় বেকুব হয়ে যায়। কিছুই বুঝতে পারছে না অন্তর এমন কথা বলার কারন টা কী?

রুহিঃ আ আপনার ম মাথার চুল ক কেনো ছিড়বো?

অন্তরঃ তাহলে এখন গুছানোর কথা বলছো কেনো? সকালে পারবে না গুছাতে?

রুহিঃ হ্যা (মাথা নাড়িয়ে)


পর্ব – ৮

অন্তরঃ তাহলে এখন গুছানোর কথা বলছো কেনো? সকালে পারবে না গুছাতে?

রুহিঃ হ্যা। (মাথা নাড়িয়ে)

অন্তরঃ আর কিছু বলে না রুহিও চুপচাপ থাকে। অন্তর কথা অনুযায়ী কাল সকালেই গুছাবে বলে ঠিক করে।

সকালে…

রুহি উঠে ফ্রেশ হয়ে কিচেনে চলে আসে। আগের দিনের মতো আজও রুহি সবার আগেই উঠে।

সবার জন্য ব্রেকফাস্ট বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখে।

কিছুক্ষন পরই অন্তর, আমান সহ সবাই চলে আসে।

অন্তর বাবা – মা (রুহিকে) সব গুছিয়ে রেখেছো তো?

রুহি অন্তর বাবার কথা শুনে অসহায় ভাবে অন্তর দিকে তাকায়। মিথ্যা বলতে তার মন সাই দিচ্ছে না। তাই সত্যি টাই বলে দেয়।

রুহিঃ না বাবা এখনো হয়নি। তবে করে নিবো।

অন্তর বাবা – হ্যা এখনি করে নিও। নয়তো পরে কিছু ফেলে যাবে ভুলে।

রুহিঃ ঠিক আছে বাবা।

আমানঃ ভাবি তোমার বাসার এডড্রেস টা দাও তো।

আমানের কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে আমানের দিকে তাকায়।

অন্তরের মাঃ কিরে তুই তো বললি আজ ওদের সাথে যাবি। তাহলে এডড্রেস নিয়ে আবার কি করবি শুনি? আজ গেলেই তো দেখতে পারবি, তাইনা?

আমানঃ ওহো না মা আসলে হয়েছে কি জানো আমি ভাইয়ার বাইক টা নিয়ে আগে চলে যাবো। তারপর না হয় ভাইয়া আর ভাবি এক সাথে গাড়িতে করে যাবে।

অন্তর কেনো? তুই আমাদের সাথে গেলে প্রবলেম টা কোথায় সেটাই তো বুঝতে পারছি না।

আমানঃ (আছে মেরি ব্রাদার আছে! আমি তোমাদের সাথে গিয়ে তোমাদের প্রাইভেসি টা নষ্ট করবো নাকি হুহহহ….মনে মনে)

না ভাইয়া এমনিই আমার গাড়িতে করে সমস্যা হই।

অন্তরঃ কী সমস্যা শুনি?

আমানঃ ও তুমি বুঝবে না। থাক বাদ দাও৷ ভাবি তুমি আমাকে এডড্রেস টা দিও কিন্তু কেমন?

রুহিঃ আচ্ছা ভাই দিবো।

ব্রেকফাস্ট শেষ করে রুহি রুমে গিয়ে গুছিয়ে নেয়।

দুপুরের দিকে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়। রুহি গতকালের কেনা শাড়িটা পড়েছে। তবে তার উপরে অবশ্য বোরখা ও পড়েছে। কারন সে চায় না অন্তর কোনো ভাবে তাকে খারাপ ভাবুক। সে সব সময়ই অন্তর কাছে ভালো হয়ে থাকতে চায়।অন্তর পছন্দ মতোই চলতে চায়।

অন্তরঃ রুমে এসে দেখে রুহি নিকাব বাঁধছে। অন্তর কিছুটা অবাক হয়ে যায়। হয়েছে টা কী এই মেয়েটার। কোথাও বের হলে একদিন শাড়ি পড়ে তো একদিন বোরখা!
রুহিঃ আপনি রেডি তো?

অন্তরঃ হ্যা। তুমি কি এই ভাবেই যাবে নাকি?

রুহিঃ কেনো কোনো সমস্যা?

অন্তরঃ না সমস্যা হতে যাবে কেনো। ইট’স ওকে।

রুহিঃ হুম চলুন। ভাই বোধহয় এতোখনে বেড়িয়ে পড়েছে। আমরাও এগোই।

রুহি আর অন্তর তার দুজনই অন্তর বাবা মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।

অন্তরঃ ড্রইভিং সীটে বসে, পাশের সীটে রুহি।

অবাক হওয়ার মতো কান্ঠ…. রুহি আজ সীটে বসেই কত সুন্দর করে সীটবেল্ট টা বেঁধে নিলো। এটা কীভাবে সম্ভব? কাল তো রুহি বলেছিলো সে সীটবেল্ট বাঁধতে পারে না৷ আর আমি যখন লাগিয়ে দিয়েছিলাম তখন ত ও খেয়াল ও করেনি! তাহলে আজ কিভাবে বাধলো?

অন্তরঃ কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে রুহির দিকে তাকিয়ে থাকে। রুহি অন্তর দিকে তাকিয়ে ইশারায় প্রশ্ন করে কী হয়েছে। অন্তর মাথা নাড়িয়ে কিছুনা বুঝায়৷ তারপর গাড়ি স্টার্ট দেয়।

কিছুদূর অতিক্রম হওয়ার পরই অন্তর রুহিকে প্রশ্ন করে…

অন্তরঃ একটা কথা বলো তো…. আজ এই পোষাকে বের হলে তো কাল শাড়ি পড়ে কেনো গিয়েছিলে শপিংমলে? নিজের বাড়িতে যাচ্ছো এতো সুন্দর করে আর শপিংমলে এতো এতো মানুষ তুমি শাড়ি পড়ে কেনো গেলে? (কিছুটা রেগে)

রুহিঃ আজকেও তো শাড়ি পড়েই আসতাম। কিন্তু আপনি যেহেতু পছন্দ করেন না তাই আরকি। (মুচকি হেসে)

অন্তরঃ (বাহহ আমার পছন্দ ও গুরুত্ব দেয় দেখছি! এই সব জানা আছে। কয়েক দিন গেলেই সব গুরুত্ব শেষ!….. মনে মনে)

রুহিঃ কী হলো চুপ যে?

অন্তরঃ না এমনিই।

অন্তরঃ চুপ করে যায় সাথে রুহিও বাকি পথ টা আর কেউই কোনো কথা বলে না।

হটাৎ দরজায় বেল বাজার শব্দ শুনে রুহির মা বলে…..

রুহির মাঃ সাথী দেখ তো কে এসেছে।

(সাথী রুহির ছোট বোন।)

সাথীঃ আর কে মা নিশ্চয় আপুরা চলে এসেছে। (খুশি হয়ে)

সাথী দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে শকড খায়….

দরজার সামনে একটা ছেলে দাড়ানো। ফর্সা গায়ের রং তার মধ্যে আবার এ্যাশ কালার শার্ট, ব্ল্যাক কালার জিন্স, কালো সানগ্লাস টা বুকে আটকে রেখেছে। চুল গুলো সিল্কি!
কিন্তু এই সুদর্শন পুরুষ টা কে সেটাই মনে মনে ভাবছে সাথী।

হটাৎ ছেলেটার হাতের তুরিতে ধ্যান আসে সাথীর।

সাথীঃ কাকে চাই?

ছেলেটা – আপাতত তোমাকে!

ছেলেটার কথা শুনে সাথীর চোখ দু’টো বড় বড় হয়ে যায়। অবাক করা চোখে ছেলেটার দিকে তাকায় সে। মুখে তার বিরক্তির ছাপ পাশাপাশি রাগও আছে। ইচ্ছে করে ওরাধুরা ধুলাই করতে ছেলেটাকে।

সাথীঃ ফাইজলামি করছেন কেনো আপনি? কে আপনি? কোথথেকে এসেছেন বলুন?

ছেলেটা – আরেহহ আপনি কি সামান্য আপ্যায়ন টুকুও জানেন না নাকি? কখন থেকে বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি ভেতরে আসতেও বলছেন না বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেই প্রশ্ন করা শুরু করে দিলেন।

এর মধ্যের রুহির মা চলে আসে।

রুহির মাঃ কিরে সাথী তুই কার সাথে ঝগড়া করছিস? তোর এই একটা স্বভাব জানিস তো! যেখানেই যাবি ঝগড়া না বাঁধিয়ে তোর শান্তি নেই।

সাথীঃ ওফ মা আমি কী করলাম। দেখো না এই লোক টা কোথ থেকে এসে কী না কী বলেই যাচ্ছে।

রুহির মা দরজার সামনে আসতেই ছেলেটা রুহির মাকে সালাম দেয়।

ছেলেটা – আসসালামু আলাইকুম আন্টি।

রুহির মাঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি কে বাবা?

ছেলেটা – আন্টি আমি অন্তর বড় ভাই। আই মিন রুহি ভাবির দেবর।

রুহির মাঃ ওওও মা দেখেছো! আসলে তুমি বিয়েতে বোধহয় আসোনি তাই চিনতে পারছিলাম না। ভেতরে আসো বাবা।

সাথী আমানের কথা শুনে টাস্কি!

রুহির মাঃ সাথী তুইও না। এভাবে ছেলেটাকে বাহিরে দাড় করিয়ে রাখলি কেনো?

সাথীঃ তো কী করবো? চিনি না জানিনা উনাকে কি মাথায় নিয়ে নাচবো? আগে বললেই হতো আপুর দেবর।

রুহির মাঃ তুই যা তো। উর জন্য আগে শরবত বানিয়ে আন যা।

সাথীঃ যাচ্ছি।

রুহির মাঃ বাবা তুমি একা আসলে যে? রুহি আর অন্তর বাবা তো…..

আমানঃ আন্টি আমি আসলে ভাবির কাছ থেকে আপনাদের বাসার ঠিকানা নিয়ে বাইকে করে চলে এসেছি একাই। ভাইয়া আর ভাবি আসছে বোধহয়।

রুহির মাঃ ওওও ঠিক আছে ঠিক আছে তুমি বসো তাহলে।

সাথী কিচেনে এসে আমানের জন্য শরবত বানাচ্ছে আর মনে মনে আমান কে হাজার টা অদ্ভুত বকা দিয়েই যাচ্ছে।

সাথীঃ ইচ্ছে করছে এই ব্যাটার শরবতে ১০০ চামচ মরিচ মিশিয়ে দিই। অসভ্য ফাজিল লোক কোথাকার! এসে পরিচয় না দিলে চিনবো কি করে? এতে কী আমার দোষ?
এই ব্যাটার জন্য মায়ের কাছ থেকে বকা শুনতে হইছে হুহহহ।

সাথী শরবত বানিয়ে নিজেই আমানের কাছে নিয়ে যায়। গিয়ে দেখে তার মা নেই।

সাথীঃ ও বাবা…! মা কই গেলো? এখানেই তো ছিলো। তাহলে? এই ব্যাটার সামনে গেলেই রাগ উঠবে আবার ভয়ও করছে। কি করি ধুররর!

সাথী শরবত টা আমানের সামনে রাখে আমান একটা মুচকি হাসি দিয়ে শরবত টা হাতে নেয়। এক চুমুক খেয়েই বলে উঠে….

আমানঃ শরবত টা কিন্তু তোমার মতোই মিষ্টি! (বাঁকা হেসে)

আমানের কথা শুনে সাথী তেলেভাজা বেগুন হয়ে যায়। ইচ্ছে করছে এই ছেলেটারে দিয়ে ফুটবল খেলতে। শরবত তো মিষ্টিই হবে। এটা আবার বলার কী আছে শুনি।
ওফফফ…. মরিচ দিলেই ভালো হতো ঝাল শরবত খেতে চেয়েছিলো বোধহয় যত্তসব! (মনে মনে)

সাথী কিছু না বলেই ভেংচি কেটে চলে আসে সেখান থেকে। আমান সাথীর ভেংচি কাটা দেখে হেসে দেয়।

কিছুক্ষণ পরই রুহি আর অন্তর ও চলে আসে। সাথী তো মহা খুশি তার বোন কে পেয়ে।

সাথীঃ ওফফ! আপু তুমি এসেছো। জানো আমার পেটের ভেতর কত কথা ঘুর ঘুর করছে?তোমাকে না বলা অব্দি শান্তিই পাবো না গো।

রুহিঃ আচ্ছা বাবা শুনবো সব কথাই শুনবো!

সবাই ফ্রেশ হয়ে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়। রুহি বেচারি অনেক ক্লান্ত। খেয়েই নিজের রুমে গিয়ে ধপাস করে শুয়ে ঘুম দেয়।

অন্তরঃ কিছুক্ষণ নিচে থেকে তারপর রুমে আসে।

রুমে এসে অন্তর পুরো রুমটা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে।

খুব সাজানো গুছানো রুমটা। দেখেই বোঝা যায় রুহি এলোমেলো কিছু পছন্দ করে না।

অন্তরঃ আরও অবাক হয় রুহিকে দেখে। কিরকম বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়েছে! চুল গুলোও চোখে মুখে পড়ে আছে। অন্তর আচমকাই রুহির মাথার কাছে বসে হাত দিয়ে রুহির এলোমেলো চুল গুলো ঠিক করে দেয়৷

রুহি একটু নড়েচড়ে উঠলেই অন্তর সেখান থেকে উঠে বেলকনিতে চলে আসে।

বেলকনি টাও অনেক সুন্দর। বিশেষ করে নানান রংয়ের ফুল গুলো সুন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাতে….

সবাই একসাথে ডিনার করতে বসে। রুহি ডিনার শেষে সোজা সাথীর রুমে চলে আসে।

সাথীঃ আপু আজ কিন্তু আমার ঘরেই থাকবে কেমন? অনেক কথা জমে আছে তোমার জন্য।

রুহিঃ আচ্ছা থাকবো। এখন এদিকে এসে বস।

সাথী এসে রুহির পাশে বসে।

সাথীঃ জানো আপু তোমার দেবর টা না একটা বাদর।

রুহিঃ মানে? (ভ্রু কুঁচকে)

সাথীঃ মানে ঐ ছেলে টা আস্ত একটা বেয়াদব। জানো, ও এসেই মার কাছ থেকে আমাকে কত্তো গুলো বকা খাইয়েছে! (অভিমান করে)

রুহিঃ কি করেছে ও?

সাথী রুহিকে সবটা বলে। রুহি শুনে তো হাসতে হাসতে গরাগরি খাওয়ার অবস্থা।

সাথীঃ তুমি হাসছো হুহহ। ঐ বাদর টাকে কে বলেছে আমাদের বাড়ি আসতে?

রুহিঃ আহহ সাথী। ও আমাদের গেস্ট। তুই এরকম করে কথা বলছিস কেনো?

সাথী অসহায় মুখ করে রুহির দিকে তাকায়।


পর্ব – ৯

সাথী অসহায় মুখ করে রুহির দিকে তাকায়।

সাথীঃ আমিই বা কী করবো বলো। ঐ ছেলেটা এসেই যদি বলে দিতো তোমার দেবর হয় তাহলে কি আমি ওকে এতোখন বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখতাম?

রুহিঃ আচ্ছা বাবা হয়েছে। এবার বল পড়াশোনা ঠিকঠাক মতো করছিস তো? নাকি আমি নেই বলে সব কিছুতে অবহেলা শুরু হয়ে গিয়েছে?

সাথীঃ না আপু সব ঠিক আছে।

রুহি আর সাথী অনেকক্ষন যাবৎ গল্প করে। একসময় সাথী ঘুমিয়ে পড়ে। আর রুহি ও নিজের রুমে চলে আসে।

হটাৎ মাঝরাতে সাথীর পানির পিপাসা লাগলে টেবিলে রাখা গ্লাস টায় দেখে এক ফুটাও পানি নেই। বের হতে ইচ্ছে বা থাকা স্বত্তেও পানির পিপাসায় বের হতেই হলো।

পানি নিয়ে নিজের রুমের পাশে আসতেই কেউ সাথীর হাত চেঁপে ধরে…

সাথী প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে হাত পা কাঁপছে তার। এত রাতে কে তাকে ধরতে যাবে আবার। রুহি ত সেই কখন চলে গেছে। তাহলে?

সাথী ভয়ে ভয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়..

সাথীঃ আ আপনি?

আমানঃ ঐ সময় ভাবির সাথে কী বলছিলে?

সাথীঃ ক কী বললাম? (এইরে এই ব্যাটা কী আমাদের কথা শুনে নিলো নাকি? কিন্তু ঘরে ত আমি আর আপু ছাড়া কেউই ছিলো না তাহলে? নিশ্চয় আড় পেতেছিলো। ফাজিল পোলা!…. মনে মনে)

আমানঃ কথা বলছো না কেনো? (কিছুটা ধমক দিয়ে)

সাথীঃ আ আসলে….

আমানঃ এতোই যদি তোমার প্রবলেম তাহলে যখন দরজা খুলে আমাকে দেখেছিলে তখনই বলতে পারতে আমি চলে যেতাম। ভাবির কাছে আমার সম্পর্কে যা নয় তা বলেছো?
সাথীঃ আমি তো এমনি ব বলেছিলাম।

আমানঃ ওকে আমি কাল সকাল সকালই চলে যাবো ইভেন কেউ ঘুম থেকে উঠার আগেই চলে যাবো। নাউ হ্যাপি? – বলেই আমান হনহন করে নিজের রুমে চলে যায়।
( আসলে রুহি আর সাথী যখন কথা বলছিলো আমান ও চেয়েছিলো তাদের সাথে বসে আড্ডা দিতে ভেবেছিলো অন্তর ও হয়তো এখানেই আছে। কিন্তু আমান রুমে ঢুকার আগেই সাথীর কথা গুলো শুনতে পায় তারপর সেখান থেকেই নিজের রুমে ফিরে যায়)

সাথীর এখন নিজের উপরই অনেক রাগ হচ্ছে। কেনো যে এইসব বলতে গেলো। এখন ত মার কাছেও বকা শুনবে আপুর কাছেও বকা শুনবে আর উনি? উনি তো ভুল বুঝবেই!
সাথী এক বালতি কষ্ট নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে। এক বালতি কষ্ট পেয়ে বেচারির পানির পিপাসা টা চলে গেছে!

এদিকে রুহি রুমে এসে দেখে অন্তর সোফায় শুয়ে আছে।

রুহি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে অন্তরকে দেখে। তারপর আস্তে করে অন্তরকে ডাকতে থাকে….

রুহিঃ এইযে ….. উঠুন। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ুন আমি বরং সাথীর রুমেই চলে যাই। এখানে আপনি ঘুমাতে পারবেন না। উঠুন না….

অনেকক্ষন ডাকার পরও অন্তর কোনো সাড়া দেয় নি। কে জানে রুহির ডাক কী তার কানে পৌঁছায় নি? নাকি ইচ্ছে করেই রুহিকে ইগনোর করছে।

রুহি উপায় না পেয়ে বিছানার এক কোণে গিয়ে শুয়ে পড়ে।

সকালে….

জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা রোদের স্পর্শে ঘুম ভাঙে রুহির। ঘুম ঘুম চোখে উঠে বসে। বিছানার পাশে তাকিয়ে অন্তরকে দেখতে না পেয়ে সোফায় তাকায়।
অন্তর এখনো ঘুমাচ্ছে। তার মানে কাল রাতে অন্তর সোফাতেই শুয়ে ঘুমিয়েছে। বিছানায় আর আসেই নি?

সোফায় ও কি ঘুমানো যায়? আমিও তো একদিন শুয়েছিলাম সোফায় সারা রাত ঘুমাবো কিভাবে ঘন্টাখানেক পরেই তো ধপাস করে ফ্লোরে! আহা কোমড় টায় যে কি ব্যাথাটাই না পেলাম!

আচ্ছা উনিও কি রাতে পড়ে গিয়েছিলো? কি জানি বাবা! ছেলে মানুষ তো সব কিছুই পারে হুহহ।

ইশশ উনি যদিও পড়ে গিয়ে থাকেন তাহলে তো আমাকে বলবেই না লজ্জায়। আমিও তো পড়ে যখন কোমড়ে ব্যাথা পেয়েছিলাম মাকে বলছিলাম না। তখন মা আমায় কি জেরা টাই না করলো! হ্যা… আইডিয়া! উনার কাছ থেকেও জোর করেই সব জানতে হবে। যতোই হোক আমি তো উনার বিয়ে করা বউ!

যেই ভাবা সেই কাজ….

রুহি ঝড়ের গতিতে অন্তর কাছে গিয়ে অন্তরকে ধাক্কাতে শুরু করে।

রুহিঃ এইযে…. শুনছেন? উঠুন না…

অন্তরঃ রুহির চিৎকারে আর ধাক্কায় উঠে বসে পড়ে। চোখে মুখে তার বিরক্তির ছাপ!

অন্তরঃ এভাবে চেঁচাচ্ছো কেনো? ইডিয়ট কোথাকার!

রুহিঃ চেঁচাবো না তো কি করবো শুনি? আগে আপনি বলুন কোথায় ব্যাথা পেয়েছেন? বলুন জলদি….

অন্তরঃ হোয়াট?

রুহিঃ আপনি রাতে সোফায় ঘুমিয়েছিলেন তো?

অন্তরঃ হ্যা তো?

রুহিঃ তো মানে? আমিও একদিন সোফায় শুয়েছিলাম। জানেন, কিছুক্ষন পরই ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে গিয়ে কী ব্যাথাটাই না পেয়েছিলাম মাগো….

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে রেগে যায়। এতো বড় মেয়ে কী রকম অদ্ভুত টাইপ আচরণ করে দেখো ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে চর বসিয়ে দিই…যত্তোসব!

রুহিঃ বলুন কোথায় ব্যাথা পেয়েছেন?

অন্তরঃ সবাই তোমার মতো ইডিয়ট না বুঝলে? এ কথা বলেই হনহন করে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে।

রুহিঃ যাহ বাবা! উপকার করতে আসলেও দোষ! হুহহহহ

এদিকে….

সাথী সকালে উঠেই আমানের রুমে উঁকি মারে…

একি! রুম তো খালি! তার মানে ব্যাটা সত্যিই চলে গিয়েছে? হুহহ যাক যাক আমার তাতে কী?

রুহি আর অন্তর একসাথে নিচে নামে ব্রেকফাস্ট করতে। খাবার টেবিলে আমান কে দেখতে না পেয়ে রুহি বলে…

রুহিঃ ভাই কোথায়?

সাথীঃ তোর মাথাটা কি গেলো নাকি? ভাই আসবে কোথা থেকে আমরা শুধু দুই বোন ভুলে গেলি নাকি?

রুহিঃ চুপ কর। যতো আজাইরা কথা। আমি আমান ভাইয়ের কথা বলছি।

সাথী আমানের কথা শুনেই চুপ মেরে যায়।

রুহি টেবিল ছেড়ে উঠে আমানের রুমে গিয়ে দেখে আমান নেই।

রুহিঃ গেলো কই?

অন্তরঃ ফোন হাতে নেয় আমান কে ফোন দেয়ার জন্য। তার আগেই দেখে আমানের ম্যাসেজ…..

” ভাইয়া আমি বাড়িতে চলে আসছি। আসলে অনেক দিন পর দেশে এসেছি তো তাই সবার সাথে দেখা করতে হবে। অনেক কাজ ও আছে। তোমাদের সাথে তো একদিন কাটালাম। তাই চলে আসছি আজ। “

অন্তরঃ ম্যাসেজ টা দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে….

রুহিঃ আমান ভাই তো নেই রুমে।

অন্তরঃ আমানের নাকি কিছু কাজ আছে তাই ও চলে গেছে।

রুহিঃ ওহহ। কিন্তু খাওয়া দাওয়া করেও তো যেতে পারতো।

অন্তরঃ কাজ পড়ে গেছে।

রুহি আর কথা না বাড়িয়ে খেতে বসে।

২ দিন পর…

অন্তরঃ আর রুহি বাড়ি চলে আসে। সারা বেলা রুহি তার শাশুড়ি মায়ের সাথে গল্প করেই কাটিয়ে দেয়। বিকেলের দিকে ছাদে যায়।

রুহি ছাদের এক কোণে গ্রীল ধরে দাড়িয়ে থাকে। আবহাওয়া টাও কেমন হয়ে আছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি বৃষ্টি নামবে।

রুহির ধারনা টাই ঠিক কিছুক্ষণ পরই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। রুহি রুমের দিকে পা বাড়িয়ে ও যায় না।

এই মূহুর্তে তার যেতে ইচ্ছে করছে না। বৃষ্টি তে ভিজতে মন চাইছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।

রুহির খুশি আর দেখে কে!

দু হাত ছড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করছে সে! কতো দিন ধরে যে এতো আনন্দ করে বৃষ্টিতে ভেজ উপভোগ করতে পারে না তার কোনো হিসেব নেই। আজও হয়তো পারতো না যদি তার মার কাছে থাকতো।

বৃষ্টিতে ভেজার নাম নিলেই সেই একি কথা…. রুহি একদম বৃষ্টিতে ভিজতে যাবি না। ঠান্ডা লেগে যাবে তো!

কিছুদিন আগেও এমন শাসনে ছিলো সে কিন্তু আজ মার কাছ থেকে দূরে!

ভাবতেই কষ্ট অনুভব করছে রুহি। বৃষ্টির আনন্দও পারেনি তার চোখের কোণে আসা পানি টা আটকাতে!

অনেকক্ষন ধরেই অন্তর রুহিকে খুঁজে যাচ্ছে। কেনো খুঁজছে তার জানা নেই। অন্তর রুম থেকে বের হয়ে নিচে আসে। নিচেও রুহিকে পায় না।

তারপর তার মায়ের রুমে যায়। কিন্তু সেখানেও রুহি নেই। অন্তর এবার একটু চিন্তায় পরে যায়। হটাৎ তার মাথায় এলো ছাদের কথা। হ্যা…. রুহি নিশ্চয় ছাঁদে আছে হইতো। অন্তর দ্রুত পায়ে ছাঁদে পৌঁছে যায়। তার ভাবনাটাই ঠিক।

রুহি চোখ বন্ধ করে বৃষ্টি তে ভিজছে। পড়নের পাতলা তাঁতের শাড়ি টা ভিজে পুরো লেপ্টে গেছে তার ফর্সা শরীর টার সাথে!

অন্তর কেমন যেনো ঘোর লেগে যাচ্ছে। এই প্রথম কোনো মেয়ে কে বৃষ্টি তে ভিজতে দেখছে। অন্তর ধীর পায়ে রুহির দিকে এগিয়ে যায়।

কোমড়ে কারো হাতের স্পর্শ আর ঘাড়ে কারো ঠোঁটের পরশ পেয়ে চমকে উঠে রুহি!

সাথে সাথেই ছিটকে সরে যেতে চাইলে কেউ তাকে আরও চেঁপে ধরে। বেচারির তো ভয়ে দম যায় যায় অবস্থা। কে এলো এখানে। এভাবে কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরে নাকি। বোধহয় নিজের বউ ভেবে জড়িয়ে ধরেছে! আজকাল মানুষের চোখ যে কোথায় রাখে কে জানে।

রুহি একটু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলেই লোকটা বলে….

  • এতো নাড়াচাড়া করছো কেনো? (ঘোর লাগা কন্ঠে)

রুহি যেনো স্তব্ধ হয়ে যায়। এ তো অন্তর! অন্তর তার এতো টা কাছাকাছি! ভাবতেই সে পুরো ফ্রিজড হয়ে যাচ্ছে। রুহির হার্টবিট টাও যেনো অনেক ফাস্ট হয়ে যায়।

অন্তরঃ রুহির ঘাড়ে হালকা একটা চুমু দিতেই রুহি কেঁপে উঠে। দু হাত দিয়ে নিজের শাড়িটা খামচে ধরে রাখে। মুখ দিয়ে যেনো কোনো কথাই নের হচ্ছে না।

হটাৎ অন্তর ঘোর কাটে। এক ধাক্কায় রুহিকে দূরে সরিয়ে দেয়। রুহি ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে যায়। অন্তর নিজের উপর এখন প্রচন্ড রকমের রাগ হচ্ছে। নিজের চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছে করছে। এসব কি করছিলো সে!

রুহি ছলছল চোখে অন্তর দিকে তাকায়। অন্তর সেদিকে পাত্তা না দিয়ে রুহিকে ছাদে রেখেই নিচে নেমে আসে।

রুহির চোখের পানি যেনো বাঁধ মানছে না। অনেক কষ্ট হচ্ছে তার। অন্তর কাছে এসেও দূরে ঠেলে দিচ্ছে। একবারও বুঝতে পারছে না আমি অন্তরকে কতো টা ভালোবেসে ফেলেছি!

রুহি আরও অনেকক্ষন বৃষ্টিতে ভিজে চোখের পানি ফেলে।

অন্তরঃ রুমে এসে ওয়াশরুমে চলে যায়। তারপর চেঞ্জ করে এসে ধপ করে খাটে বসে পড়ে।

বার বার রুহির সাথে কাটানো ঐ মূহুর্ত টাই অন্তর চোখে ভাসছে।

অন্তরঃ এই মেয়েটা আমাকে পাগল করে দিবে। আমি আর ওকে সহ্য করতে পারছিনা। আমি কি ওর আসক্ত হয়ে গেলাম?

না না, তা কখনো সম্ভব না। ভালোবাসতে পারবো না কখনো। শুধু কষ্টই দিয়ে যাবো। তাহলেই ও আমাকে মুক্তি দিয়ে দিবে।

প্রায় অনেকক্ষন পর রুহি রুমে আসে। ঠান্ডায় পুরো জমে গেছে মেয়েটা। রুমে এসে দেখে অন্তর খাটে উল্টো দিক হয়ে শুয়ে আছে। ঘুমিয়ে আছে কিনা বুঝতে পারছে না রুহি।

আলমারি থেকে নিজের কাপড় গুলো নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে রুহি। অনেকক্ষন পর বের হয়ে আসে। চোখ দু’টো লাল হয়ে ফুলে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেকক্ষন কান্না করেছে হইতো। রুমে এসেই বেলকনিতে চলে যায়। কেনো জানি অনেক বার বার শুধু কান্না পাচ্ছে তার।

অন্তরঃ কি কোনো দিনই তাকে বুঝবে না?

রাতে…

সবাই ডিনার করে রুমে চলে আসে। রুহি খেতে চাইছিলো না কিন্তু তার শাশুরি মা জোর করে খাইয়ে দিয়েছে। রুমে এসে দেখে অন্তর খাটে বসে আছে। রুহির দিকে একবার শান্ত চোখে তাকায়।

রুহি চাদর টা আর বালিশ টা নিয়ে বেলকনিতে চলে যায়। আজ আর অন্তরকে জিগ্যেস করে নি সে কোথায় ঘুমাবে!

অন্তরঃ বেশ অবাক হয়। যে মেয়ে দুইদিন আগেও বেলকনিতে ঘুমাতে যেতে চাইতো না ভয় পেতো সে আজ নিজে নিজেই চলে গেলো!

অবশ্য তাতে অন্তর কিছুই যায় আসে না। অন্তর বিছানায় শুয়ে পড়ে।

রুহি বেলকনির গ্রীলের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। মাথা টা প্রচন্ড রকমের ব্যাথা করছে। অনেক শীত শীত ও লাগছে। কিন্তু চাদর তো একটাই এনেছে। যেটা ফ্লোরে বিছিয়ে ঘুমাবে।

রুহি কিছুক্ষন বসে থেকে বালিশ টা নিয়ে শুয়ে পড়ে। মাথা ব্যাথা আর এরকম শীতে তার ঘুম আসবে কিনা সেও বুঝতে পারছে না।


পর্ব – ১০

রুহি কিছুক্ষন বসে থেকে বালিশ টা নিয়ে শুয়ে পড়ে। এরকম মাথা ব্যাথা আর এতো শীতে ঘুম আসবে কি না সেও বুঝতে পারছে না।

সকালে…

মাথা টা ভার ভার লাগছে উঠতে চেষ্টা করলেও পারছে না। কিন্তু রুহি অনুভব করতে পারছে সে নরম কিছু একটার উপর শুয়ে আছে!

রাতে তো ফ্লোরে শুয়েছিলো তাও আবার শুধু একটা চাদর বিছিয়ে। ভালো করে দেখার চেষ্টা করলো সে কোথায় শুয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখে অন্তর!

রুহি খাটে শুয়ে আছে আর অন্তর তার মাথার কাছে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছে। অন্তর এভাবে কেনো বসে আছে? আর রুহি রুমেই বা কি করে এলো? হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তার। কোনো রকমে উঠে বসতেই অন্তর চোখ মেলে তাকায়।

রুহি এক দৃষ্টিতে অন্তর দিকে তাকিয়ে আছে।

অন্তরঃ এখন কেমন আছো? (শান্ত গলায়)

রুহি অন্তর কথায় কিছু বুঝতে পারছে না। সব যেনো তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। কি হয়েছিলো তার!

রুহিঃ আমার কি কিছু হয়েছিলো।

রুহির এমন কথায় অন্তর চোখ বড়বড় করে তাকায়। এই মেয়ে তো দেখি সত্যিই একটা বাচ্চা! না হলে কেউ এই ভাবে জিগ্যেস করে? জ্বর এসেছে অথচ তার কোনো খবর নেই।

অন্তরঃ তোমার জ্বর এসেছিলো। কে বলেছিলো কাল ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে?

রুহিঃ আচ্ছা আপনি কি বৃষ্টিতে ভেজা ও পছন্দ করেন না?

অন্তরঃ যদি বলি না…

রুহিঃ তাহলে আমি আর কোনো দিন ভিজবো না (হালকা হেসে)

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “অভীমানি ভালোবাসা” র গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

অন্তরঃ (সত্যিই ও অন্য রকম! কেমন আমার পছন্দ টাকে গুরুত্ব দেয়। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো এতোটা গুরুত্ব দিতো না। ওর কাছে আমার অনেক গুরুত্ব আছে বলেই হয়তো আমার সব রকম অত্যাচার সহ্য করছে…মনে মনে)

রুহিঃ আমি তো বেলকনিতে শুয়েছিলাম তাহলে এখানে আসলাম কি করে?

অন্তরঃ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ভাবে….

(কাল রাতে অন্তর কিছু বলার আগেই রুহি যখন বেলকনিতে চলে গিয়েছিলো তখন অন্তর বুঝতে পারে রুহির হয়তো কিছু হয়েছে। না হলে প্রতিদিনের মতো তাকে জ্বালাতন করলো না কেনো?

অন্তর প্রথম ব্যাপার টা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও রাতে ঘুম ভাঙে গেলে উঠে একবার রুহিকে দেখে আসবে ভাবে। অন্তর ধীরে ধীরে বেলকনির দরজা টা খুলে দেখে রুহি ঠান্ডায় কাঁপছে।

অন্তরঃ এখন তো এতোটাও শীত না। তাহলে ও এভাবে কাঁপছে কেনো? ঠিক আছে তো?

অন্তর ঝটপট করে রুহির মাথার কাছে বসে রুহির কপালে হাত দিয়েই চমকে উঠে।

এতো অনেক জ্বর। এতো জর নিয়েও ও এভাবে শুয়ে আছে!

অন্তর কিছু না ভেবে রুহিকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে আসে। তারপর বিছানায় আস্তে করে শুইয়ে দেয়।

এই মূহুর্তে কোনো ডাক্তার কে ডাকাও সম্ভব না। কাল সকাল অব্দি তো অপেক্ষা করতেই হবে। অন্তর ভাবে তার মাকে জানাবে?

মা হয়তো চিন্তা করবে তাই আর ডাকে নি। নিজেই কিছুক্ষণ রুহির মাথার কাছে বসে জলপট্টি দেয়। তারপর রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে আর বুঝতেই পারেনি)

রুহিঃ কী হলো? চুপ করে আছেন যে?

অন্তরঃ আ আমি নিয়ে এসেছিলাম।

অন্তর কথা শুনে রুহির মুখে হাসি ফুটে উঠে। চোখ দু’টো ভিজে আসছে। তাহলে কি সত্যিই অন্তর মনে রুহি জায়গা করে নিতে পেরেছে?

অন্তরঃ তুমি ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করো। আমি ডাক্তার কে ফোন করে বলে দিচ্ছি উনি এসে দেখে যাবে তোমাকে। বাই দ্যা ওয়ে তুমি উঠতে পারবে তো? মাথা ব্যাথা কমেছে?
রুহিঃ হ্যা পারবো। (মুখে হাসি নিয়ে)

অন্তরঃ ঠিক আছে উঠে এসো।

রুহি উঠার চেষ্টা করলেও অনেক কষ্ট হচ্ছে তার। জ্বর টা যে কমে নি। মাথা টাও ভার হয়ে আছে। কোনো রকমে খাটের কোণে ধরে উঠার চেষ্টা করছে।

অন্তর দেখেই বুঝতে পারছে এই মূহুর্তে রুহির উঠে আসা সম্ভব হবে বলে মনে হইনা। অন্তর এগিয়ে এসে রুহিকে ধরে দাড় করায়। আস্তে আস্তে ওয়াশরুমের কাছে নিয়ে যায়।

রুহিঃ আমি যেতে পারবো আপনি যান। (মুচকি হেসে)

অন্তরঃ ওকে তুমি আসো। আমি রুমেই আছি।

রুহিঃ ঠিক আছে।

রুহি ওয়াশ রুমে চলে গেলে অন্তর খাটে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পরই রুহি বের হয়ে আসে।

অন্তরঃ আবার রুপাকে ধরে ধরে নিয়ে খাটে বসায়।

অন্তরঃ রুহির পিঠের দিকে একটা বালিশ দিয়ে আধশোয়া করে বসিয়ে দেয়।

অন্তরঃ তুমি একটু বসো। আমি আসছি। একদম উঠবে না কেমন?

রুহি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।

অন্তরঃ দ্রুত নিচে আসে। অন্তরের মা টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখছে আর আমান বসে ফোন টিপছে।

অন্তরের মাঃ কিরে রুহি কোথায়?ও উঠে নি?

অন্তরঃ হ্যা মা উঠেছে।

অন্তরের মাঃ তাহলে ও আজ নিচে আসলো না যে?

অন্তরঃ ভাবে তার মাকে সবটা বলে দিলেই ভালো হয়।

অন্তরঃ আসলে মা ওর জ্বর এসেছে।

অন্তরের মাঃ কী বলছিস! কখন? তুই আমাকে আগে বলিস নি কেনো? এই জন্যই তো আজ মেয়েটাকে দেখছি না।

অন্তরঃ মা তুমি ব্যাস্ত হয়ো না। আমি রাতে ওর মাথায় জলপট্টি দিয়েছি।

আমানঃ শুধু জলপট্টি দিলেই তো সারবে না ভাইয়া। ডাক্তার কে ফোন করি দাঁড়াও।

অন্তরঃ আমি ফোন করেছি। উনি আসবেন কিছুক্ষণের মধ্যে।

আমানঃ আচ্ছা। তুমি ভাবির খেয়াল রেখো কিন্তু।

অন্তরঃ হ্যা। বলছি যে মা ওর ব্রেকফাস্ট টা রুমে নিয়ে যাই। আসলে ও ভালো করে উঠে দাড়াতেও পারছে না তাই…

অন্তরের মা অন্তর কথা শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। এই কি সেই অন্তর যে কিনা রুহিকে সহ্যই করতে পারতো না!

অন্তরের মা তারাতারি করে রুহির জন্য খাবার রেডি করে দেয়।

অন্তরের মাঃ এই নে যা বাবা মেয়েটা তো এখানে এসে খেতেও পারবে না তার চেয়ে ভালো তুই ওকে রুমেই খাইয়ে দিয়ে আয়।

অন্তরঃ আচ্ছা মা। – অন্তর খাবার টা নিয়ে চলে যায়।

খুশিতে অন্তরের মার চোখে পানি চলে এসেছে।

আমানঃ মা আমার কি মনে হই জানো? ভাবির প্রতি ভাইয়ার মায়া জন্মেছে। তুমি দেখো ভাইয়া ঠিক ভাবিকে মেনে নিবে।

অন্তরের মাঃ হ্যা বাবা তাই যেনো হয়। মেয়েটাকে যেনো আর কষ্ট পেতে না হয়।

অন্তরঃ রুমে এসে দেখে রুহি ঠিক আগের মতোই বসে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে মেয়েটার বসে থাকতে বোধহয় কষ্ট হচ্ছে।

অন্তরঃ খাবার টা নিয়ে রুপাসার পাশে বসে নিজের হাতে রুহির মুখের সামনে খাবার টা ধরে।

অন্তরঃ নাও… খেয়ে নাও। ডাক্তার বোধহয় চলে আসছে।

রুহি জেনো নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না। অন্তর তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে!

রুহি হাসিমুখে খাবার নিয়ে নেয়।

অন্তরঃ রুহিকে খাইয়ে দিয়ে পানি খাওয়ায় তারপর নিজের পকেট থেকে রুমাল বের করে রুহির মুখ টা মুছে দেয়।

অন্তরঃ নাও এবার শুয়ে পড়ো। ডাক্তার আসুক।

রুহি ও বাধ্য মেয়ের মতো অন্তর কথায় শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর রুহির শশুর শাশুড়ি আসে সাথে আমান ও আসে।

তাদের দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক টেনশন এ আছে।

অন্তরের মাঃ এখন কেমন আছিস মা?

রুহিঃ ভালো মা।

অন্তর বাবা – কোনো ঔষধ খাওনি। ঠিক মতো উঠে দাড়াতেও পারছো না কি করে বলছো ভালো আছো? তুমি মিথ্যে বললেই বুঝি আমরা মেনে নিবো?
রুহিঃ না বাবা সত্যিই এখন একটু ভালো আছি। আপনারা শুধু শুধু চিন্তা করছেন।

আমানঃ ভাইয়া (অন্তরকে উদ্দেশ্য করে)

ডাক্তার আসছে তো।

অন্তরঃ হ্যা। আসলে অনেক সকালেই তো ফোন দিয়েছিলাম বোধহয় ঘুম থেকে উঠেন নি। এতোখনে চলে আসছে হয়তো।

অন্তরের মা রুহির মাথার কাছে বসে…

অন্তরের মাঃ রুহি তুমি এখন রেস্ট করো। আর হ্যা কিছু লাগলে অন্তরকে বলো কিন্তু কেমন?

রুহিঃ ঠিক আছে মা।

কিছুক্ষণ পর ডাক্তার আসে রুহিকে দেখে কিছু ঔষধ লিখে যায়। অন্তর আমান কে পাঠায় ঔষধ আনতে কারন সে রুহিকে একা ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না।

অন্তর একগ্লাস গরম দুধ আনে। দুধের গ্লাস টা বিছানার পাশের টেবিল টাতে রেখে রুহিকে ডাকে…

অন্তরঃ রুহি…. একটু উঠো।

রুহিঃ কেনো?

অন্তরঃ দুধ টা খেয়ে নিবে উঠো।

রুহি দুধের কথা শুনতেই কেমন বমি চলে আসে। বেচারির এই একটা মহা সমস্যা! দুধ খেতে পারে না। খাবে কী দেখলেই তো দৌড়ের উপর থাকে।

রুহিঃ এ এখন তো ক্ষিদে ন নেই।

অন্তরঃ না থাকলেও খেতে হবে। চুপচাপ উঠে বসো ফাস্ট।

রুহির এই মূহুর্তে কেঁদে দিতে ইচ্ছে করছে। এখন কী বলবে অন্তর কে? কি বলে ম্যানেজ করবে। সে তো কোনো ভাবেই দুধ মুখে দিবে না।

রুহিঃ আমি দুধ খেতে পারি না। ব বমি আসে… (ভয়ে ভয়ে)

রুহির কথা শুনে অন্তর রেগে রুহির দিকে তাকায়৷

অন্তরঃ এই মেয়ে এমনিতেই এতো দূর্বল হয়ে গেছো উঠে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছো না আবার বলছো বমি আসে? (ধমক দিয়ে)

অন্তর ধমকে রুহি খনিকটা কেঁপে উঠে। ভয়ে কেঁদেই দিয়েছে। কিন্তু অন্তর নাছোড়বান্দা! না খাইয়ে যাবে না।

অন্তরঃ এক প্রকার টেনে রুহিকে শোয়া থেকে উঠায়। তারপর রুহির মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেঁপে ধরে দুধের গ্লাস না রুহির মুখের সামনে আনে।

রুহিঃ বমি আসে। প্লিজ জোর করবেন না।

অন্তরঃ আর একটা কথা বললে থাপ্পড় মেরে গাল ফাটিয়ে দিবো। খাও বলছি।

রুহি অন্তর ধমকানিতে কিছুটা দুধ খেয়ে নেয়।

অন্তরঃ করেছো বমি? (দাঁতে দাঁত চেপে)

রুহি অসহায় ভাবে মাথা নাড়িয়ে না করে।

অন্তরঃ বাকিটা শেষ করো। কুইক!


পর্ব – ১১

অন্তরঃ বাকি টা শেষ করো কুইক…

রুহি অন্তর কথায় অনিচ্ছা স্বত্তেও বাকি দুধ টুকুও খেয়ে নেয়।

অন্তরঃ আজ অফিসে যাওয়ার কথা থাকলেও যায় নি। সারা দিন রুহির সাথে সাথেই থেকেছে। এক মূহুর্তের জন্যও বাহিরে যায় নি।
রাতে…

রুহিকে সকালের মতোই অন্তর ঘরে খাবার এনে খাইয়ে দেয়। রুহিও বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নেয়।

এখন এতো টা খারাপ না লাগলেও এই অবস্থায় দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে রুহির। তাও কি আর করার! তাকে তো তার জায়গায় যেতেই হবে।

রুহি ধীরে ধীরে চাদর টা আর বালিশ টা হাতে নেয়।

অন্তরঃ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে রুহি বেলকনির দিকে যাচ্ছে।

অন্তরঃ কোথায় যাচ্ছো?

রুহিঃ ঘুম পাচ্ছে, তাই।

অন্তরঃ হ্যা তো?

রুহি অন্তর দিকে তাকায়।

অন্তরঃ এই অবস্থায় তোমাকে বেলকনিতে থাকতে দিবো এতো টাও অমানুষ আমি না।

রুহিঃ (ওহহ শুধু মনুষত্ববোধ দেখানোর জন্যই এতো কিছু! ভালোবাসা নেই… মনে মনে)

রুহিঃ থাক। আপনার দয়া না করলেও চলবে। আমি বেলকনিতেই থাকতে পারবো কোনো সমস্যা হবে না।

অন্তরঃ জাস্ট সাট আপ রুপ! আর একটা কথা বললে তোমার অবস্থা আমি কি করি দেখতে পারবে। চুপচাপ বিছানায় এসে শুয়ে পড়ো।

রুহি অন্তর ডাকে চমকে যায়! এই প্রথম তাকে কেউ আদুরে ডাক দিলো! আচমকাই রুহির মুখ থেকে বেরিয়ে আসে…

রুহিঃ রুপ…!

অন্তরঃ স সরি। আই মিন রুহি। (অন্য দিকে তাকিয়ে)

রুহি মুখে কিছু না বললেও আর অন্তর কিছু স্বীকার না করলেও অন্তর মনে যে রুহির প্রতি ভালোবাসা আছে তা বুঝতে বাকি নেই রুহির।

রুহি মুচকি হেসে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরে।

অন্তরঃ একটা বালিশ নিয়ে সোফায় চলে যায়। রুহি মাথা তুলে দেখে অন্তর সোফায় শোয়ার ব্যাবস্থা করছে।

রুহিঃ আপনি ওখানে কী করছেন?

অন্তরঃ দেখতে পারছো না?

রুহিঃ আমি কি এতোই মোটি যে পুরো বিছানা একা দখল করে ঘুমাবো! আপনি তো আমার পাশেই ঘুমাতে পারেন তাই না। আমি বরং একেবারে ঐ পাশটাতে শুয়ে থাকবো। (অসহায় মুখ করে)

অন্তরঃ কিছু বলতে গিয়ে বলে না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বালিশ টা নিয়ে বিছানায় ফেলে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ে।

রুহি ও মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে চোখ বন্ধ করে।

অন্তর চোখে এখনো ঘুম নেই। রুহিকে প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগলেও এখন সহ্য করতে পারছে। তাছাড়া আজ দু’জন একসাথে! কখনো ভাবতে পারে নি রুহির এতো কাছাকাছি আসবে! কিভাবে রুহিকে দূরে ঠেলে দেয়া যায় সে তো সর্বদা এই ভাবনায় থাকতো।

হটাৎ হাতে গরম কিছুর স্পর্শ পেয়ে অন্তর ধ্যান ফিরে। পাশে তাকাতেই দেখে রুহি অন্তর হাত ধরে আছে।

রুহিঃ আমি কি আপনার হাত টা জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারি? (করুন ভাবে)

অন্তরঃ তুমি ঘুমাউ নি?

রুহিঃ না। আপনাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে ইচ্ছে করছিলো সেটা তো পারবো না আপনি যা রাগি! তাই আপনার হাত টা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।

অন্তরঃ রুহির কিছুটা কাছে এসে কপালে হাত রাখতেই বুঝতে পারে জ্বরের মাত্রা টা বেড়েছে।

অন্তরঃ রাতে খাওয়ার পর তো ঔষধ গুলো খাইয়েছিলাম, তাহলে? এখনো জ্বর টা কমে নি বরং আরও বাড়ছে মনে হচ্ছে।

অন্তর কোনো উত্তর না পেয়ে রুহি অন্তর হাতটা নিজের কাছে নিয়ে চোখ বন্ধ করে।

অন্তরঃ রুপ তোমার জ্বর টা প্রচন্ড বেড়েছে। তুমি একটু থাকো আমি এখনি যাবো আর আসবো।

রুহিঃ কোথায় যাবেন আপনি?

অন্তরঃ জলপট্টি নিয়ে আসি তুমি থাকো। জ্বর না কমলে তো কষ্ট হবে। আর ঘুমও আসবে না।

রুহিঃ তাতে আপনার কী?

অন্তরঃ চুপ মেরে যায়। সত্যিই তো আমার কী? এতো মায়া দেখানোরই বা কী আছে৷ ও চলে গেলেই তো আমি মুক্তি।

অন্তরঃ তুমি থাকো। আমি আসছি এক্ষুনি।

রুহিঃ না।

অন্তরঃ না মানে?

রুহিঃ এখন কোথাও যেতে হবে না। এমনি কমে যাবে জ্বর। আপনি থাকুন।

অন্তরঃ ২ মিনিট লাগবে রে বাবা কেনো জেদ করছো বলো তো।

রুহিঃ আমি কিচ্ছু জানিনা। এখন যেতে হবে না ব্যাস। বললাম না জ্বর এমনি তেই কমে যাবে।

অন্তরঃ কিছু না বলে রুহিকে টেনে নিজের কাছে এনে জড়িয়ে ধরে। জ্বরে মেয়েটার গা পুড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।

রুহিও অন্তরকে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণ পর অন্তর রুহির মুখ দেখার চেষ্টা করে। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে পড়েছে।

সকালে…

রুহির ঘুম ভঙ্গলে চোখ মেলে তাকাতেই বেচারির চোখ বড় বড় হয়ে আসে।

অন্তর বুকে ঘুমিয়ে ছিলো সে! ভাবতেই পারছে না। তার পর হটাৎ রাতের কথা মনে পড়তেই হতাশ হয়ে যায়। ধুরর কি ভেবেছিলো আর কি হয়ে গেলো। কাল রাতে তো সেই প্রথম অন্তর হাত জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চেয়েছিলো। অন্তর নিজে থেকে তো আসে নি।

মন খারাপ করে আস্তে আস্তে উঠে বসতেই অন্তর ঘুম ভেঙে যায়।

রুহিকে উঠতে থেকে অন্তর শোয়া থেকে উঠে বসে…

অন্তরঃ জ্বর কমেছে তোমার? (বলতে বলতেই কপালে হাত রাখে রুহির)

রুহিঃ হ্যা এখন কমেছে বোধহয়। মাথাটাও ভার লাগছে না।

অন্তরঃ আচ্ছা ঠিক আছে। ফ্রেশ হয়ে নিও। আমি ফ্রেশ হয়ে তোমার খাবার রেডি করছি। পরে আবার ঔষধ খেতে হবে।

রুহিঃ আমি নিচে গিয়েই খেতে পারবো। সমস্যা নেই কোনো।

অন্তরঃ শিওর?

রুহিঃ হ্যা।

অন্তরঃ ওকে তাহলে যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।

অন্তরের মা রুহির জন্য খাবার রেডি করে টেবিলে রাখে।

অন্তরের মাঃ এতো বেলা হয়ে গেলো মেয়েটাকে খাওয়ানো হয়নি এখনো। ছেলেটার কথা যে কি বলবো! কোনো দায়িত্ববোধ নেই।

কিছুক্ষণ পরই দেখে অন্তর আর রুহি আসছে। অন্তর এক হাতে রুহির হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছে।

অন্তরের মাঃ কিরে ওকে নিয়ে নামতে গেলি কেনো। ঘরেই ত খাওয়াতে পারতিস।

অন্তরঃ ও নিজেই বললো সবার সাথে ব্রেকফাস্ট করবে। তো আমি কি করবো?

অন্তরের মাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। এখন কেমন আছিস রুহি।

রুহিঃ ভালো মা।

অন্তরের মাঃ জ্বর টা কমেছে তো?

রুহিঃ হ্যা।

অন্তরঃ রুহিকে একটা চেয়ারে বসিয়ে নিজেও আরেকটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে।

অন্তরঃ মা আমান আর বাবা কোথাই?

অন্তরের মাঃ আসছে বোধহয়। ডেকে আসছি কিছুক্ষণ আগে।

কিছুক্ষণ পরই অন্তর বাবা আসে…

অন্তর বাবা – রুহি… তোমার জ্বর টা কমেছে?

রুহিঃ হ্যা বাবা।

অন্তর বাবা – আচ্ছা ঠিক আছে। আমি ডাক্তার কে বিকেলে আরেক বার বলবো নি এসে দেখে যেতে।

অন্তরঃ হ্যা তাই করো। আমিও ভাবছিলাম।

খাওয়া শেষ হলে অন্তর অফিসের জন্য রেডি হয়।

রুহিঃ কোথায় যাচ্ছেন?

অন্তরঃ অফিস যেতে হবে আজ।

রুহিঃ ওহ।

অন্তরঃ সাবধানে থেকো আর রেস্ট নিও। নয়তো জ্বর আবার আসতে পারে।

রুহিঃ ঠিক আছে। একটা কথা বলি..

অন্তরঃ বলো..

রুহিঃ আপনি বাড়ি ফেরার সময় আমার জন্য আইসক্রিম বা চকলেট নিয়ে আসবেন প্লিজ অবশ্য দুইটা একসাথে হলেও সমস্যা নেই।

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এমন বাচ্চাদের মতো বায়না করছে! জ্বরে কি পাগল টাগল হয়ে গেলো নাকি!

অন্তরঃ ওকে ঠিক আছে।

অন্তরঃ চলে গেলে রুহি কিছুক্ষণ তার শাশুড়ি মায়ের সাথে গল্প করে কাটায় তো কিছুক্ষণ টিভি দেখে!

রাতে…

অন্তর অফিসের কাজ শেষ করতে অনেক টা লেট হয়ে গেছে। কাজের চাপে সারা দিন বাড়িতে ফোনও দিতে পারে নি।

অন্তরের মাঃ কিরে এতো দেরি হলো?

অন্তরঃ মা আজ একটু ব্যাস্ত ছিলাম বেশি তাই। তোমরা খেয়েছো তো?

অন্তরঃ আমি তো সেই সন্ধার পর পরই ঘুমিয়ে ছিলাম শরীর টা ভালো লাগছিলো। ওরা নিজেই বোধহয় খেয়ে নিয়েছে খাবার তো রুহি টেবিলে রেখেই ছিলো।

অন্তরঃ তোমার কী হলো?

অন্তরের মাঃ এমনি মাথা টা একটু ধরেছিলো। এখন ঠিক আছি।

অন্তরঃ রুহি রান্না করেছে?

অন্তরের মাঃ হ্যা। কাজের মহিলা আজ আসে নি। ফোন ও দিতে পারিনি। আমি রুহিকে অনেক বার বারন ও করলাম রান্না করতে হবে না আজ। বাহিরে থেকে অর্ডার করে নিবে নি। শুনলো না।

অন্তরঃ আচ্ছা তুমি খেয়ে নিয়ে। গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক রাত হয়ে গেলো।

অন্তরের মাঃ বিকেলে খেয়েছিলাম তাই আর ক্ষুদা নেই। তুই ফ্রেশ হয়ে আয় রুহি কেও নিয়ে আসিস মেয়েটা বোধহয় খায়নি।

অন্তরঃ না মা তুমি ঘুমাউ গিয়ে। আমরা খেয়ে নিবো।এত রাত জাগতে হবে না যাও তুমি।

অন্তরের মাঃ আচ্ছা। রুহি কেও নিয়ে আসিস কিন্তু। ও বোধহয় খায়নি।

অন্তরঃ আচ্ছা।

অন্তরের মা রুমে চলে গেলে অন্তর ও নিজের রুমে যায়।

গিয়ে দেখে রুহি খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। অন্তরকে এক পলক দেখে উঠে আসে।

রুহিঃ ফ্রেশ হয়ে নিন… ডিনার করবেন।

অন্তর তুমি খেয়েছো?

রুহি অন্তর মুখের দিকে তাকায়। চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে, টাই টাও ঠিক নেই। শার্টের ইন টাও কিছুটা এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক ক্লান্ত।

রুহিঃ হ্যা।

অন্তরঃ মিথ্যে বলছো না তো?

রুহিঃ না।

অন্তরঃ মা যে বললো তুমি খাও নি।

রুহি অন্তর কথা শুনে আর কিছু বলেনি। কারন সে তো সত্যিই না খেয়ে আছে। কিন্তু তার শাশুরি জানলো কি ভাবে? আশ্চর্য!

রুহিঃ আসলে ক্ষিদে ছিলো না, তাই।

অন্তরঃ দেখো আমি মিথ্যে একদম সহ্য করতে পারি না। সো নেক্সট টাইম এ যেনো আর কখনো তোমার মুখে মিথ্যে না শুনি। (ধমক দিয়ে)

রুহিঃ নেক্সট টাইমে তো আপনি আমাকেই আশা করেন না আবার আমার সত্যি কথা! (তাচ্ছিল্যের সুরে)

অন্তরঃ রুহির কথা শুনে মাথা নিচু করে আছে। এই মূহুর্তে তার নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। একটু বেশিই ভাবছে এই মেয়েটাকে নিয়ে। কেনো? কিসের জন্য? কোনো মানে নেই তো ওকে নিয়ে ভাবার। ও কথায় কথায় খুটা দিতে অলওয়েজ প্রস্তুত!

অন্তর চুপ থাকতে দেখে রুহি বলে…

রুহিঃ যান… ফ্রেশ হয়ে আসুন আমি খাবার রেডি করছি।

অন্তরঃ কিছু না বলে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। রুহি নিচে গিয়ে অন্তর খাবার রেডি করে।

কিছুক্ষণ পর অন্তরঃ এসে দেখে শুধু একটা প্লেটেই খাবার রেডি করা।

অন্তরঃ তোমার প্লেট?

রুহিঃ ক্ষিদে নেই।

অন্তরঃ রুপপপ…..(ধমক দিয়ে)

রুহি অন্তর ধমক শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তারপর তারাতারি করে অন্তর জন্য একটা চেয়ার টেনে অপর একটা চেয়ারে নিজেও বসে পড়ে।
বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নেয়।

চলবে

তোর আসক্ত
লেখিকাঃ শিফা আফরিন মিম

আরো পড়ুনঃ তোর আসক্ত – সিজন ১ । অভীমানি ভালোবাসার গল্প

তোর আসক্ত – সিজন ৩ । শীঘ্রই আসিতেছে

Related posts

হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প – বেলা শেষে পর্ব ৯ | Love Story

valobasargolpo

হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প – বেলা শেষে পর্ব ৬ | Love Story

valobasargolpo

2 comments

Eshita Prachi September 21, 2020 at 2:49 pm

Wow

Reply
valobasargolpo September 27, 2020 at 12:59 am

thanks

Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!