রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

বেষ্ট ফ্রেন্ড যখন বউ (সিজন 2) – Bonyo premer golpo

বেষ্ট ফ্রেন্ড যখন বউ (সিজন 2) – Bonyo premer golpo: আমাকে আর ঠেকায় কে? আমি জান্নাতকে শুরশুরি দিলাম অমনি জান্নাত আমাকে মারতে গেলে আমি দৌড়ে পালাতে গেলাম আর একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে গেল। মেয়েটি পড়ে গেল।


পর্ব: 1

এভাবে দেখতে দেখতে আমার বিয়ের দিন চলে আসলো। এমনকি বিয়েও হয়ে গেছে। আমি এখন বাসর ঘরে ঢুকে দেখি জান্নাত খাটের উপর বসে মাথার আঁচল ফেলে হাত পাখা দিয়ে বাতাস খাচ্ছে।

আমি তো বড় ধরনের একটা ঝটকা খেলাম। জান্নাত এখানে কেন? আমার বিয়া হয়েছে তো জান্নাতুল মাওয়া এর সাথে। ওরে সিট জান্নাতুল মাওয়া তো জান্নাতের পূর্ণ নাম।

এসব ভাবছিলাম হঠাৎ পায়ে কারো ছোঁয়া পেয়ে বাস্তবে ফিরলাম। আমি এক ঝটকায় সরে আসলাম।
আমি: তুই এখানে কেন?

জান্নাত: আমি এখন তোমার স্ত্রী সো তুই তুকারি না বলাই বেটার হবে মনে হচ্ছে।
আমি: আমি তোর থেকে জ্ঞান চাচ্ছি না। আর হ্যা কিসের বউ, আমি তো কোন ভাবেই মেনে নিতে পারবো না।
জান্নাত: কেন মানতে পারবে না?

আমি: কেননা আমি তোর জন্য আমার জীবন থেকে একটা বছর পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকেছি।
জান্নাত: আসলে আমি……….
আমি: সাট আপ, আমি তোর থেকে কোন কৈফিয়ত চাচ্ছি না। আর হ্যা অতিসত্বর আমি তোকে ডিভোর্স দেবো।
জান্নাত: কিহ?

আমি: হ্যা তাই।
এই কথা বলে আমি ওয়াস রুমে চলে গেলাম। ফ্রেস হয়ে এসে দেখি জান্নাত খাটের উপর বসে বসে কাঁদছে। আমি দেখেও না দেখার ভান করে বললাম।
আমি: আমি যেহুতু তোকে বউ হিসাবে মানি না। সুতরাং তুই এক সাথে খাটে ঘুমাতে পারবি না।
জান্নাত: আমি কোথায় ঘুমাবো? এখানে সোফাও তো নেই।

আমি: তুই কোথায় ঘুমাবি এটা তোর বিষয় আমার না।
জান্নাত: আমি খাটেই ঘুমাবো অন্য কোথাও ঘুমাতে পারবো না।
এই কথা বলে শুয়ে পড়লো। আমার দিকে মুখ করে। আমার তো রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। আমি উঠে রুমের বাইরে চলে আসছিলাম এমন সময় পিছন থেকে জান্নাত হাত টেনে ধরলো।

জান্নাত: কোথায় যাচ্ছো?
আমি: তুই আমার হাত ছাড়।
জান্নাত: আগে বলো কোথায় যাচ্ছো?

আমি: আমি হাত ছাড়তে বলেছি। না ছাড়লে এমন কিছু করে ফেলবো যা তুই কল্পনাও করিসনি।
জান্নাত: তুমি যায় করো আমি ছাড়ছি না। (আরো শক্ত করে ধরে)
আমি এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নিয়ে ঠাস ঠাস করে ২ টা চড় দিলাম। জান্নাত অবাক দৃষ্টিতে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সাথে সাথে চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করলো।

আমি জান্নাতের দিকে তাকিয়ে থাকলে ওর থেকে বেশি কষ্ট পাবো তাই সোজা সাদে চলে আসলাম। আর ভাবতে লাগলাম আগের দিন গুলো কতই না ভালো ছিল।

জান্নাত: নাসিম চল। আজ আর ক্লাস করবো না।
আমি: আমি তো অন্য দিনও করি না। আজও করবো না একা কোন ব্যাপার না। কিন্তু তুই ক্লাস করবি না কেন?
জান্নাত: ভালো লাগছে না তাই।

আমি: তা কোথায় যাবি শুনি?
জান্নাত: ……. পার্কে চল।
আমি: ওকে চল। তুই হাট আমি বাইক নিয়ে আসি।

জান্নাত: না। আমার ভালো লাগে না। তুই কাজে অকাজে ব্রেক কষবি।
আমি: তুই এমন কোন পার্সোন না যে, আমার ব্রেক করতে হবে।

জান্নাত: হুম জানি আমি তো তোর কেউ নেই। (অভিমান করে)
আর বাইক নিলাম না। আমি আর জান্নাত কলেজের গেট দিয়ে বের হয়ে একটা রিকশার সামনে গেলাম।
আমি: মামা …. পার্কে যাবেন?

রিক্সা ওয়ালা: হ মামা যামু। আমনে উইডা পরেন।
জান্নাত কোন কথা না বলে নাক টানছে আর চোখ মুচছে। হয়তোবা আমি বেশি বলে ফেলেছি।
রিক্সায় করে পার্কে চল আসলাম কিন্তু জান্নাত একটা কথাও বললো না। রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে হাঁটতে লাগলাম।

আমি: জান্নাত সরি। আমি কথাটা তেমনটা মিন করে বলিনি।
জান্নাত: না তেমন কিছু না।
আমি: তাহলে তুই কথা বলছিস না কেন?

জান্নাত: ভালো লাগছে না।
আমি: ওকে আমি সেই শুরশুরি দিয়ে মন ভালো করে দেই।

জান্নাত: না ভাই তোর পায়ে ধরি তুই আমাকে শুরশুরি দিবি না।
আমাকে আর ঠেকায় কে? আমি জান্নাতকে শুরশুরি দিলাম অমনি জান্নাত আমাকে মারতে গেলে আমি দৌড়ে পালাতে গেলাম আর একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে গেল। মেয়েটি পড়ে গেল।

আমি: সরি সরি আপু। আমি খিয়াল করিনি।
মেয়ে: তোর এতবড় সাহস তুই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিস? (উঠে দাঁড়িয়ে)
আমি: দেখুন আমি ইচ্ছে করে এমনটা করিনি।

মেয়েটি ঠাস করে একটা চড় দিলো আমার গালে। আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। সরি বলার পরেও আমাকে মারলো।
হঠাৎ জান্নাত মেয়েটিকে মারতে শুরু করলো। চড়ের উপর চড় মারতে লাগলো। মেয়েটি শুয়ে পড়েছে তাও মারতে লাগলো। অবস্থা বেগতিক দেখে জান্নাতকে সরিয়ে আনতে গেলাম।

আমি: কিরে তুই আবার কি শুরু করলি?
জান্নাত: আমি তো ওকে মেরেই ফেলবো। ও তোর গায়ে হাত দিয়েছে। (মেয়েটির চুল টানতে টানতে)
আমি: ছেড়ে দে মেয়েটাকে।

(জোর করে ছাড়িয়ে নিলাম)
জান্নাত: তুই আমাকে ছাড় ওকে তো আজ মেরেই ফেলবো।
আমি: আপু আপনি এখান থেকে যান। জান্নাতের মাথা ঠিক নেই।

মেয়েটি কোনরকম উঠে দৌড়ে চলে গেল। আমি জান্নাতকে একটা বেঞ্চের উপর বসালাম।
আমি ; এখানে বস। আগে মাথা ঠান্ডা কর।

জান্নাত: তুই ঐ সাকচুন্নিকে কিছু বললি না কেন? (আমার কলার ধরে)
আমি: তুই কি এখন আমাকে মারা শুরু করবি?

জান্নাত: দরকার হলে তাই করবো।
এসব ভাবছিলাম হঠাৎ পিছন থেকে কারো পায়ের আওয়াজে আমার ধ্যান ভেঙ্গে গেল। আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি, আম্মু আর জান্নাত দাড়িয়ে কেন?
আমার তো গলা শুকিয়ে গেল। আম্মুকে আমি অনেক ভয় পাই। না জানি আম্মু আবার কি শুরু করে?


পর্ব: 2

আমার তো গলা শুকিয়ে গেল। আম্মুকে আমি অনেক ভয় পাই। না জানি আম্মু আবার কি শুরু করে?
আম্মু: কিরে তুই এই সময়ে এখানে কেন?

আমি: আ আম আম্মু খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে বাতাস খাচ্ছিলাম। (মিথ্যা বললাম)
আম্মু: খোলা আকাশের নিচে বাতাস খাচ্ছিস ভালো কথা। কিন্তু তুই এমন তুতলাচ্ছিস কেন?
আমি: কই?

আম্মু: আচ্ছা যা তোর রুমে।
আমি: হুম।

তারপর আর কোন কথা না বাড়িয়ে আমার রুমে চলে আসলাম। কিছুক্ষণ পর জান্নাতও আসলো।
আমি: তুই এখানে কেন?

জান্নাত: আমি আমার বরের রুমে আসবো না তো কোথায় আসবো?
আমি: আমি আগেও বলেছি যে আমি তোকে কখনই মেনে নেবো না। তারপরেও তুই ছেচড়ার মতো এখানে আসছিস কেন?
জান্নাত: ওকে ঠিক আছে আমি নিচেই ঘুমাচ্ছি এবার খুশি তো?

আমি: আমি তো সেদিনই সব চেয়ে বড় খুশি হবো, যেদিন তুই একেবারেই আমার থেকে দূরে সরে যাবি।
জান্নাত আর কোন কথা না বাড়িয়ে খাটের উপর থেকে একটা বালিশ আর একটা কাঁথা নিয়ে নিচে শুয়ে পড়ল।
আমিও আর কোন কথা না বাড়িয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকাল বেলা…..

চোখে পানি পড়াতে ধরফর করে উঠে পড়লাম। সামনে তাকিয়ে দেখি জান্নাত মুচকি মুচকি হাসছে। আমার তো রাগে শরীর 100তে 100 হয়ে গেছে।
আমি: আমার চোখে পানি দিলি কেন?

জান্নাত: তোমার শখ পূরণ করলাম।
ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর দিলাম।
আমি: তুই আজ সকালেই রেডি হয়ে থাকবি।

জান্নাত: কেন? (কান্না করে দিয়ে)
আমি: আজ লয়ারের কাছে যাবো। তোকে আজকেই আমি ডিভোর্স দেবো।
জান্নাত: প্লিজ তুমি এমনটা করো না। আমি তাহলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবো।

আমি: আমি আগে তালাক দিয়ে দেই তারপর তোর যা ইচ্ছে তাই করতে পারিস।
জান্নাত কাঁদতে কাঁদতে ওয়াস রুমে চলে গেল। জান্নাত ঝর্ণা ছেড়ে দিয়ে ভিজতে লাগলো আর বলতে লাগলো।

জান্নাত: নাসিম আমি তোমাকে সেই বুঝতে শেখার পর থেকে ভালোবাসি। আমি বিভিন্ন সময় তোমার শখ আললাদ জেনে নিতাম যাতে আমি নিজেকে তোমার মত করে সাজিয়ে নিতে পারি।

তুমি বলেছিলে যে, তুমি অনেক বার ডাকার পরেও না উঠলে তোমার বউ তোমার মুখে চুলের পানি দিতেই উঠে পড়বে। আমি ঠিক তোমার শখ পূরণ করতে এমনটা করেছি।

আর তুমি আমাকে ভুল বুঝলে, এমনকি আজ আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বললে যেটা আমি কখনো কল্পনাও করিনি।
নাসিম সত্যি সত্যিই আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। তুমি যদি আজ আমাকে ডিভোর্স দেও তাহলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।

এদিকে……..
আমি একটা ঘুম দিলাম। সকাল হলে ঘুম থেকে উঠে আমি (নাসিম)ফ্রেস হতে যাবো কিন্তু জান্নাতের বের হওয়ার কোন নাম গন্ধ নেই। কি করি কিছুই ভালো লাগছে না। জান্নাত আবার ঢুকেছে নাকি সেই ঢুকেছে আর বের হয়নি।

আমি আর অপেক্ষা না করে দরজায় টোকা দিলাম। কিন্তু ভিতরে শুধু পানি পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম তা ছাড়া আর কোন শব্দ শুনতে পাচ্ছি না।
আমি: জান্নাত।

জান্নাত:…………

আমি: জান্নাত, ঐ জান্নাত তুই আমার কথা শুনতে পারছিস?

জান্নাত: …………… ‌

কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। জান্নাত আবার কিছু করে বসেনি তো? আমার তো মাথায় কিছুই আসছে না।

আর ভাবাভাবি করে লাভ নেই। দরজাটা ভেজ্ঞে ফেলতে হবে। তাই একটু দূরে সরে দৌড়ে এসে একটা লাত্থি দিতেই দরজার লক খুলে গেল।
ভিতরে ঢুকে দেখি জান্নাত পড়ে আছে আর এদিকে ঝর্ণা চলছে তো চলছেই। আমি কাছে গিয়ে ডাক দিলাম।

আমি: জান্নাত তোর কি হয়েছে?
জান্নাত ….(জান্নাত কোন কথা বলছে না। )

আমি বুঝতে পারলাম যে, জান্নাত অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে জান্নাতকে কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
এখন তো জান্নাতের পোশাক পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু আমি কিভাবে করবো? আর আমমুকে ডাকি তাহলে তো আম্মু আবার অনেক প্রশ্ন করবে। কি হয়েছে, কিভাবে হলো, কখন হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এসব ভাবছিলাম হঠাৎ করেই জান্নাত নড়ে উঠলো। যাক ভালো হলো জান্নাতের জ্ঞান ফিরেছে। জান্নাত টিপটিপ করে চোখ খুলে তাকালো। আমি জান্নাতের দিকে তাকিয়ে আছি।

জান্নাত: আমি এখানে কেন? আমার কি হয়েছিল?
আমি: কি হয়েছে তা তো জানি না। তবে তুই ওয়াস রুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলি।

তারপর জান্নাতের সব মনে পড়ে গেল যে, জান্নাত কাঁদতে কাঁদতে হয়তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো।
তারপর জান্নাত আস্তে আস্তে উঠে ফ্রেস হতে গেল। ফেস হয়ে আসলে আমি ফ্রেস হতে গেলাম। ফ্রেস হয়ে এসে দেখি জান্নাত খাটের উপর বসে আছে।
জান্নাত: চলো সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। নাস্তা করতে হবে না?

আমি: হু।
হঠাৎ করেই মোবাইল বেজে উঠল। আমি মোবাইল পিক করে কানে ধরলাম।
আমি: হ্যালো।

মেজর: নাসিম তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পে চলে আসো।
আমি: স্যার কোন সমস্যা?

মেজর: হ্যা অনেক সমস্যা। তুমি দ্রুত চলে আসো।
আমি: ওকে স্যার।


পর্ব: 3

মেজর: হ্যা অনেক সমস্যা। তুমি দ্রুত চলে আসো।

আমি: ওকে স্যার।
জান্নাত আগেই নাস্তার টেবিলে চলে গেল। আমি নিচে নেমে আসলাম। নাস্তা করতে বসলাম।
আমি: তোকে খুব প্রেশান দেখা যাচ্ছে কোন সমস্যা?

আমি: না।
আব্বু: তাহলে তোকে এমন লাগছে কেন?
আমি: তেমন কোন ব্যাপার না।

জান্নাত বসে বসে শুধু খাবার নাড়ছে কিন্তু মুখে কিছুই দিচ্ছে না আর আমি যত দ্রুত সম্ভব নাস্তা শেষ করার চেষ্টা করছি।
আব্বু: এত দ্রুত খাচ্ছিস কেন?

আমি: একটা খুব ইম্পর্টেন্ট কাজ আছে। তাই একটু তাড়া আছে।
আব্বু: খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করতে নেই। তুই ধীরে ধীরে খাবার খা।

আমি: আমার খাওয়া শেষ। (যারা এখনো আমার পেজে লাইক করেননি তারা দ্রুত লাইক দিয়ে রাখুন। যাতে আমার আইডি নষ্ট হলেও আমার গল্প পড়তে পারেন। লিংক প্রফাইলে দেওয়া হয়েছে। )

আর কোন কথা না বলে সোজা আমার রুমে চলে আসলাম। এসে বাহিরে যাওয়ার ড্রেস পড়ে নিলাম। এমন‌ সময় জান্নাতও উপস্থিত হলো।
জান্নাত: প্লিজ আর একবার ভেবে নিলে হয় না?

আমি: মানে? (জান্নাত কোন বিষয়ে কথা বলছে নাসিম বুঝতে পারছে না)
জান্নাত: আমি তোমার সব কথা মেনে চলবো। কখনো তোমার কাথার বিপরীত করবো না। তাও প্লিজ আমাকে ডিভোর্স দিয়ো না।
আমি: ……(ও তাহলে এই ব্যাপার। আমি আরো মনে করছি ও আমার জবের ব্যাপারে কিছু জেনে গেল নাকি?)
জান্নাত: কি হলো কথা বলছো না কেন?

আমি: আমি ভেবে দেখি।
এই কথাটা বলেই আমি রুম থেকে বের হয়ে বাইক নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় চলে আসলাম। তারপর আমাদের অফিসের গেট দিয়ে মাস্ক ব্যবহার করে ঢুকলাম।
তারপর যখন কর্ফারেন্স রুমে যাবে। একজন আমার ব্যাজ চেক করে ঢুকাতে দিলো। রুমে এসে দেখি নাফি আগে থেকেই উপস্থিত আছে।
আমি: কিরে নাফি তুই কখন আসলি?

নাফি: এই তো কিছুক্ষণ আগে আসলাম।
আমি: তা কি জন্য এত জরুরী তলব করা হচ্ছে তুই জানিস?

নাফি: না। তবে জানতে পারলাম যে, কোন একটা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
(জঙ্গি সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে অনেকের অনেক অভিমত পাওয়া যায়।

আসলে বর্তমান জঙ্গি বলতে একমাত্র মুসলমানদের কেই বুঝানো হচ্ছে অথচ বিষয়টা এমন না। বর্তমানে সবচেয়ে বড় জঙ্গি ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলো।

আপনি কারো পক্ষপাতিত্ব করা ছাড়া একটু চিন্তা করে দেখুন ফলাফল পেয়ে যাবেন। আর হ্যা এটা মানতেই হবে যে, কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে অনেক জনসাধারণের হয়রানি করে যেটাকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।

মোদ্দা কথা হচ্ছে অনেকেই অভিযোগ করে যে, ইসলামে জিহাদের বিষয়ে কি বলবেন? আমি বলি কি যদি আপনার কিছু জানতে মনে চায় তাহলে ইনবক্সে নক করবেন আমি আপনাকে ইসলামী জিহাদের বিষয়ে সব কিছু বুঝিয়ে বলব।

এতটুকু বলতে পারি যে, ইসলাম অন্যায় ভাবে একটা মশা মাছি মারার অনুমতি দেয়নি। )
আমি: ওওও
নাফি: তা আমার খালাতো বোন ‌জান্নাতের খবর কি?

আর আমি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হলাম যে, তুই কয়েকদিন আগেও জান্নাতের কথা শুনতে চাচ্ছিলি না। অথচ কয়েকদিন পর জান্নাতকে বিয়ে করলি?
আমি: আসলে আমি জান্নাতের সাথে চ্যালেন্জ করে অন্য একজনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।

আর সেই জন্যই আম্মুর দেখা মেয়েকেই বিয়ে করি। আর আম্মু মেয়ে পছন্দ করার কথা বলেছিল আমি আম্মুকে বলেছিলাম যে, আম্মু তোমার পছন্দ আমার পছন্দ। পরে বিয়ে করার পরে দেখতে পেলাম যে, আমি জান্নাতকে বিয়ে করেছি।

নাফি: …….
আমি: কিরে তুই এতো দাঁত কেলিয়ে হাসছিস কেন?
নাফি: তোকে বোকা বানিয়ে বিয়ের যে, প্লান ছিল সেটা আমিই করেছিলাম।

আমি: ………(তা করেছিস ভালো করেছিস। আমি জেদে বসে যদি অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ফেলতাম তাহলে আমি সারা জীবনেও খুশি হতে পারতাম না। কেননা আমিও তো জান্নাতকে অনেক ভালোবাসি। )

নাফি: কিরে তুই কি এমন ভাবছিস?
আমি: কিছু না।
সবাই কর্পোরেশন রুমে চলে এসেছে। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মেজর: আপনারা হয়তো বেশিরভাগ মানুষই জানেন না, আজ আমরা কি জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছি।
সবাই: জ্বি স্যার।

তারপর অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আসল যে বিষয়ে কথা বার্তা হয়েছে তা হলো আমাদের এখানে একটা জঙ্গি সংগঠন তৈরি হয়েছে।

আর এই সংগঠনের মাস্টার মাইন্ড হলো রেজাউল চৌধুরী। আর সে হলো এই এলাকার এমপি + সন্ত্রাস। এখন আমাদের এই বিষয়ে অনেক তথ্য যোগাড় করতে হবে। সাথে সাথে তার লোকজন কখন কোথায় যায়, কি করে, এসব বিষয়ে জানতে হবে।


পর্ব: 4

(আবার নতুন করে গল্প দেওয়া শুরু করলাম। গল্পের আগা গোড়া বুঝতে হলে আমার আগের পর্ব গুলো পড়তে পারেন। আর হ্যা এখন থেকে নিয়মিত গল্প পড়তে পারবেন। )

আর এই সংগঠনের মাস্টার মাইন্ড হলো রেজাউল চৌধুরী। আর সে হলো এই এলাকার এমপি + সন্ত্রাস। এখন আমাদের এই বিষয়ে অনেক তথ্য যোগাড় করতে হবে। সাথে সাথে তার লোকজন কখন কোথায় যায়, কি করে, এসব বিষয়ে জানতে হবে।

এসব নিয়ে আরো অনেকক্ষণ কথা বার্তা বলে বাসায় চলে আসলাম। এসে দেখি আব্বু আম্মু চিন্তিত হয়ে বসে আছে। সাথে জান্নাত,মিম ও রুপাও আছে। আর সবাই আমাকে দেখে ভূত দেখার মত তাকিয়ে আছে।

আমি ঘরে ঢুকা মাত্রই আব্বু বললো।
আব্বু: তুই কোথায় গিয়েছিলি?

আমি: এই তো একটু কাজ ছিল তাই বাইরে গিয়েছিলাম।
আব্বু: সেই সকালে বের হয়েছিস আর এখন বাসায় আসার সময় হল? আর বলছিস একটু কাজ ছিল?

আমি: এখন তো বিকেল সাড়ে চারটা বাজে। আর আমি তো রাত করে আসিনি। তোমারা সবাই এমন রিয়াক্ট করেছো কেন?
আম্মু: আচ্ছা তুই তোর ঘরে যা।

আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলাম। আমি শুয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর জান্নাত রুমে চলে আসলো।
জান্নাত: তুমি কি আন্ডার গ্রাউন্ড পুলিশ অফিসার হয়েছো?

আমি তো জান্নাতের কথায় একটা ঝটকা খেলাম।
আমি: কিহ তুই এসব জানিস কিভাবে?

জান্নাত: আমিই তো নাফিকে তোমার সাথে পাঠিয়েছি আর মামাকে তোমার কথা বলেছি।
আমি: ও তাহলে এই ব্যাপার?

জান্নাত: হু। তা তোমার কি জব হয়েছে?
আমি:…………….. (তার মানে আমার যে, জব হয়েছে। এখনো জান্নাত জানে না। যাক ভালো হলো এটা জান্নাতের অজানা থাকুক। )
যারা এখনো আমার ফ্রেন্ড হননি তারা দ্রুত ফ্রেন্ড হয়ে যান। কেননা আমি আমার আইডি লক করবো।

জান্নাত: আমার জব হলে তো তুই জানতেই পারতিস।
জান্নাত: হুম। আমি নাফিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিন্তু ও বললো যে, তোমার জব হয়নি।
আমি: যখন জানিস তাহলে জিজ্ঞেস করছিস কেন?

জান্নাত: তুমি আমার সাথে এমন আচরন করছো কেন?
আমি: তুই আমার সাথে যেটা করেছিলি সেটা ঠিক ছিল?

জান্নাত: আমি তো…..
রুপা: আসতে পারি ভাবি?
জান্নাত: ওহ রুপা আয়। দেখনা তোর ভাই এখনো আমার উপরে রাগ করে আছে।
রুপা: আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি খালা ডাকছে তুমি নিচে যাও।

জান্নাত: ঐ আমি তোকে বলিনি তুই আমাকে তুই তুকারি করে বলবি। আর আমরা তো ফ্রেন্ড।
রুপা: ওকে তুই এখন এখান থেকে যা তো আমি নাসিমের সাথে একটু কথা বলবো।
জান্নাত: ওকে।

জান্নাত চলে গেল। আমি বসে আছি। রুপা একটা চেয়ার টেনে বসল।
আমি: কি বলবি রে?
রুপা: তুই এখনো‌ জান্নাতকে মেনে নিচ্ছিস না কেন?

আমি: তুই ভালো করেই জানিস কেন আমি মেনে নিচ্ছি না। আবার বলছিস আমি কেন মেনে নিচ্ছি না?
রুপা: মেয়েটা অনেক ভালো + ও তোকে অনেক বেশিই ভালোবাসে।
আমি: তুই কিভাবে বুঝলি?

রুপা: তুই যখন টিসি নিয়ে ঢাকায় চলে গেলি, তখন আমি একা একাই কলেজে যাওয়া আসা করতে লাগলাম।
ফ্লাস ব্যাক………………..
জান্নাত: আপনার bf কোথায়?

রুপা: আমাকে বলছেন? (পাশে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে)
জান্নাত: জি আমি আপনাকেই বলছি।

রুপা: সরি আমার কোন bf নেই।
জান্নাত: হাউ ফানি, তাহলে নাসিম আরাফাত আপনার কি হয়?
রুপা আর কোন কথা না বলে চুপ করে ক্লাসে চলে গেল।

মারিয়া: দেখছিস মেয়েটার দেমাগ কত?
ইভান: তাই তো দেখছি।
জান্নাত: মারিয়া যা তো ঐ মেয়েটাকে নিয়ে আয়।

মারিয়া: ওকে।
কিছুক্ষণ পর মারিয়া রুপাকে নিয়ে আসলো।
জান্নাত: কিরে তোর তো খুব ভাব বেড়ে গেছে। আমি তোকে প্রশ্ন করেছি বাট তুই আমার প্রেশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে গেলি কেন?
রুপা: আপনি না নাসিমকে ভালোবাসেন?

জান্নাত: হুম বাসতাম বাট এখন‌ আর না। আর এখন ওর ছায়াও দেখচে চাই না।
রুপা: দেখতে চাইলেও আর দেখতে পারবেন না।
জান্নাত: মানে?

রুপা: ও এখান থেকে টিসি নিয়ে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। এখানে আর পড়াশোনা করবে না। আর হ্যা আপনাকে একটা কথা বলি, আমি নাসিমের কাজিন। তা ছাড়া নাসিমের সাথে আমার অন্য কোন সম্পর্ক নেই।

জান্নাত: কিহ? তাহলে সে দিন যেটা দেখেছি সেটা কি ভুল ছিল?
রুপা: জি ভুল ছিল।

জান্নাত আর কোন কথা না বলে সোজা নাসিমের বাসায় চলে আসে। এসে দেখে নাসিম অলরেডি চলে গেছে। জান্নাত কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো। জান্নাত নাফিকে ফোন করলো। আর সব খুলে বলল। আর এটাও বলল,
জান্নাত: নাফি ভাই আমার একটা উপকার করবি?

নাফি: কি উপকার বলে ফেল।
জান্নাত: তুই তো ঢাকায় যাবি তাই না?
নাফি: হুম যাবো তো?

জান্নাত: তুই যত দ্রুত সম্ভব তোর সব কিছুপ্যাক করে নে। তারপর আমি একটা বাসের টিকিট এর পিক ইমেইল করে দিচ্ছি, তুই তার পাশের সিটে বসে তুই তোর ম্যাচে নিয়ে যাবি।

নাফি: কিন্তু?
জান্নাত: দেখ তোর পায়ে ধরি তুই প্লিজ আমার এই উপকারটা একটু কর।
নাফি: ওকে।

বর্তমান……..
আমি: তাহলে নাফি জান্নাতের কথা মতো আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করেছে?
রুপা: হু। আর জানিস জান্নাত সব সময় তোর কথা বলতো। আর তোর নাকি পলিশ হওয়ার খুব শখ, সেই জন্যই তোর কথা ওর মামাকে বলেছে। কিন্তু তোর তো আর জবটা হলো না।

আমি: তা তো বুঝলাম কিন্তু জান্নাতের সাথে তোর ফ্রেন্ডশীপ হলো কিভাবে?
রুপা: দেখতে দেখতে হয়ে গেছে। আর তোকে একটা রিকোয়েস্ট করছি প্লিজ তুই জান্নাতকে মেনে নে।
আমি: দেখা যাক।

রুপা: না দেখা যাক বললে হবে না। তুই আমাকে কথা দে যে, তুই জান্নাতকে মেনে নিচ্ছিস।
আমি: ওকে মেনে নেবো। তবে এটা জান্নাতকে বলবি না। আমি ওকে সারপ্রাইজ দিতে চাই।
রুপা: ওকে।

রুপা চলে গেল। আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম, সত্যিই তো জান্নাতের জায়গায় আমি তো এটাই করতাম কিন্তু জান্নাতকে আমি মেনে নেবো ঠিক তবে একটু বাজিয়ে দেখি।


পর্ব: 5

রুপা চলে গেল। আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম, সত্যিই তো জান্নাতের জায়গায় আমি তো এটাই করতাম কিন্তু জান্নাতকে আমি মেনে নেবো ঠিক তবে একটু বাজিয়ে দেখি।

কিছুক্ষণ পর জান্নাত আসলো। আমি শুয়ে আছি।
জান্নাত: রুপার সাথে কি এত কথা বললে?

আমি: কেন রুপা কিছু বলেনি?
জান্নাত: ঐ পেতনি বলল ” তুই যা। আমি বলতে পারবো না। “
আমি: ওহ তাহলে জানা লাগবে না।

হঠাৎ করে আমার মোবাইল বেজে উঠল। আমি মোবাইল পিক করে
আমি: হ্যালো?
অপরিচিত: স্যার কেমন আছেন?

আমি: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনাকে তো চিনতে পারলাম না।
অপরিচিত: স্যার আমি নাহিদ। আমাকে আপনি চিনবেন না। মেজর সাহেব আমাকে আপনার সাথে কাজ করতে বলেছে।
আমি: ওহ তাহলে তো তোমার সাথে একটু আলোচনা করার দরকার।

নাহিদ: তাহলে স্যার আপনি …… রেস্টুরেন্টে চলে আসেন আমিও ওখানে চলে আসবো।
আমি: এক্ষণি?
নাহিদ: জি স্যার।

আমি: ওকে আমি আসছি।
কল কেটে দিলাম। জান্নাত আমার দিকে রাগী মুডে তাকিয়ে আছে। আমি চোখ দ্বারা ইশারা করলাম কি হয়েছে?
জান্নাত: কোথায় যাবে?

আমি: আমার একটা কাজ পড়ে গেছে তাই এক্ষণি আমাকে বের হতে হবে।
জান্নাত: না এখন কোথাও যাওয়া হবে না।

আমি আর কোন কথা না বলে সোজা ফ্রেস হতে চলে গেলাম। ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম। গিয়ে দেখি আব্বু আম্মু ও বাকি সবাই দাঁড়িয়ে আছে।
আমি: কি হলো তোমরা সবাই এই ভাবে দাড়িয়ে আছো কেন?

আব্বু: তুই এখন কোথায় যাচ্ছিস?
আমি: আমার একটু কাজ আছে।
আব্বু: তোর কি কাজ?

আমি: বলা যাবে না।
আব্বু: কি এমন কাজ যে, তুই আমাদের পরিবারের কারো সাথে শিয়ার‌করতে পারছিস না?

আমি: কাজটা সিক্রেট। আর হ্যা আমি এমন কোন কাজ করবো না যে, তোমাদের মাথা হেঁট হয়ে যাবে।
আমি আর কোন কথা না বলে সোজা বাসার বাইরে বের হয়ে আসলাম। এসে নাফিকে রেস্টুরেন্টের ঠিকানা অনুযায়ী আসতে বললাম।
তারপর আমি রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখলাম একজন বসে আছে তার সাথে নাফিও বসে আছে।

আমি: হাই
নাহিদ+ নাফি: হ্যালো?
আমি: ভাই আপনি কি নাহিদ?

নাহিদ: জি ভাই।
আমার মনে হচ্ছে একে কোথাও না কোথাও দেখেছি কিন্তু কিছুই মনে করতে পারছি না। এভাবে আরো অনেকক্ষণ কথা বলে আমি আর নাফি আমাদের বাসায় চলে আসছি।

কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি মারিয়াকে কয়েক জন ছেলে টিজ করছে আর ইভান ও রাকিব ওদেরকে বাধা দিচ্ছে। আর ছেলেগুলো ইভান ও রাকিবকে মারছে।

আমি আর নাফি ওখানে গেলাম। গিয়ে দেখি পলাশ ও তার দলবল ওদের মারছে আর মারিয়ার সাথে অসভ্যতমো করছে।
আমি: ঐ তোরা থাম।

পলাশ: ঐ তোরা থাম। হিরোগিরি দেখাতে আমাদের হিরো চলে এসেছে।
আমি: আমি কোন হিরোগিরি দেখাতে আসিনি। শুধু মাত্র জানতে এসেছি তুই ওদেরকে মারছিস কেন? (আশে পাশে তাকিয়ে নিলাম। হাতের কাছে কিছু পাই কিনা?)

পলাশ: আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দে। তুই এখান থেকে ভাগ। নয়তো তোর আগের মত হাল করবো।

আমি হাতের কাছে কিছুই পেলাম না তাই একটু সরে আসছিলাম। এমন সময় মারিয়া বলো উঠলো।
মারিয়া: ভাই তুই আমাকে বাঁচা নয়তো আমার সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে।

আমি কিছুটা দূরে এসে একটা পড়ে থাকতে দেখলাম। তুলে নিয়ে ওদের কাছে গেলাম।
আমি: পলাশ তুই যদি নিজের ভালো চাস তো এখান থেকে ভাগ।

পলাশ: কি করবি তুই আমার? (আমাকে ধাক্কা দিয়ে)
আর কথা না বাড়িয়ে আমার হাতে থাকা রড দিয়ে পিটাতে লাগলাম। আমার দেখাদেখি ইভান রাকিব ও নাফি সবাই ওদের পিটাতে লাগল। একে একে সবাইকে পিটিয়ে আধমরা করে রেখে দিলাম।

আমি: আর কখনো যদি লাগতে আসিস তাহলে একেবারে জানে মেরে ফেলবো।
পলাশ: এবারের মত মাফ করে দে। আর কখনো তোদের বিরক্ত করবো না।
আমি: যাহ। (এক লাত্থি দিয়ে)

ইভান: প্লিজ দোস্ত আমাদেরকে মাফ করে দে।
আমি: নাফি চল। (ওদের পাশ কাটিয়ে)
মারিয়া: প্লিজ একবারের জন্য ক্ষমা কর। আর কখনো তোর সাথে এমন আচরন করবো না।

নাফি: নাসিম আমি বলি কি তুই এবারের মত ওদেরকে মাফ করে দে।
আমি: নাফি তুই জানিস না আমি…..
নাফি: আমি সব জানি। তুই ওদের মাফ করে দিচ্ছিস এটাই ফাইনাল।

আমি: ওকে যা তোদের মাফ করে দিলাম।
রাকিব: মাফ না হয় করলি কিন্তু তুই যে, বিয়ে করলি আমাদের তো ট্রিট দিলি না।
আমি: ওমা তোদের মাফ করে তো আমি এখন ফেঁসে গেলাম।

নাফি: কিছু করার নেই ভাই।

আমি:…..
কি আর করার ওদেরকে আমার ট্রিট দিতে হলো। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ হলে আমি বাসার দিকে রওনা দিলাম। নাফিকে অনেক বার আসতে বললাম কিন্তু ও আসলোই না।

বাসায় আসতে আসতে রাত ১২ টা বেজে গেছে। দরজার কলিংবেল বাজালাম। কিছুক্ষণ পর দেখি মিমি দরজা খুলে দিল। আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। মিমি এখনো জেগে আছে কেন?

আমি কোন কথা না বলে সোজা ভিতরে ঢুকে তো ১০০০ পাওয়ার ভল্টের ঝটকা খেলাম।


পর্ব: 6

আমি কোন কথা না বলে সোজা ভিতরে ঢুকে তো ১০০০ পাওয়ার ভল্টের ঝটকা খেলাম।
ঘরে ঢুকে দেখি আব্বু আম্মু ও বাকি সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আমি এখন কি করি কিছুই বুঝতে পারছি না।

আব্বু: কিরে নাসিম তুই…………….(আমার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে)
আমি: কি দেখছো আব্বু?
আব্বু: তোর হাতে কি হয়েছে, রক্ত বের হচ্ছে তো।

আমি হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি, আসলেই তো আমার হাত থেকে রক্ত বের হচ্ছে। আম্মু এসে আমার হাত ধরে টানতে টানতে আম্মুর রুমে নিয়ে গেল। তারপর স্যাভলোন দিয়ে পরিস্কার করে হাতে ব্যান্ডিজ করে দিল।

তারপর আব্বু অনেক বার জিজ্ঞেস করল আমার হাত কাটলো কিভাবে? বলে দিলাম হচট খেয়ে পড়ে গেছিলাম। সত্যি বললে রাগ করতো।
আব্বু: আর বেশি রাত করে বাসায় ফিরবি না।
আমি: জি আব্বু।

আমি আমার রুমে চলে আসছিলাম এমন সময় মিমি ফিসফিস করে বলল।
মিমি: আজ অনেক বাঁচা বেঁচে গেলি। আমরা তো অনেক ভয়ে ছিলাম। আব্বু খুব রেগে ছিলেন।

আমি: এটা আমার ক্যালমা। বুঝছস? (চুল টান দিয়ে)
মিমি: দাঁড়া তোকে তো আজ আমি মেরেই ফেলবো।
আমি: পারলে ধরে দেখা।

এই বলে দিলাম এক দৌড়। এক দৌড়ে আমার রুমে চলে আসলাম। যাক বাবা অনেক বাঁচা বেঁচে গেছি। নয়তো আব্বু আজ ভালো মতো ক্যালাতো।
আমি সোজা ফ্রেস হতে ওয়াসরুমে চলে গেলাম। তারপর ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম। খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম।

কিছুক্ষণ পর জান্নাত আসলো। জান্নাত একটা কথাও বলছে না। কেমন যেন গম্ভীর হয়ে আছে।
আমি: কিরে তোর আবার কি হলো? (খাটে বসে)
জান্নাত: কোথায় ছিলি?

কি ব্যাপার জান্নাত তো আমাদের বিয়ের পর কখনো আমাকে তুই করে বলেনি। তাহলে আজ আবার কি হলো? দরকার নেই আমি আমার মত শুয়ে পড়ি নয়তো এখন ঝড় শুরু হবে।

আমি যেই শুইতে যাবো এমন সময় জান্নাত এসে আমার কলার ধরে বলতে লাগলো।
জান্নাত: তুই কথা বলছিস না কেন (জান্নাতের চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে)
আমি: আমি এখন ঘুমাবো।

জান্নাত ঠাস করে আমাকে ২ টা চড় দিলো। আমি তো গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে জান্নাতের দিকে তাকিয়ে আছি। এ তো সেই জান্নাত যে, আমাকে মারা তো দূরের কথা কেউ আমাকে গরম দিলে তাকে ধরে থাপ্পড় দিতো। আর সেই জান্নাত আমাকে মারল।

জান্নাত: জানিস আমরা কতো টেনশনে ছিলাম?
আমি:….
জান্নাত: কি হলো তুই কথা বলছিস না কেন?

আমি: কি বলবো?
জান্নাত: তোর যদি একটা কিছু হয়ে যায়। তাহলে আমি কি নিয়ে বাচবো? আমি তোকে সেই ছোট্ট বেলা থেকেই অনেক ভালোবাসি। কিন্তু তুই তো বুঝতেই চাসনি। আমার কথা না হয় তোর বাবার টাইম নেই, আব্বু আম্মুর কথা তো একবার ভাবতে পারিস। (কেঁদে দিলো)

আমি: ……..
জান্নাত: তুই তো চাস যে, আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেই। ওকে যা আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো। আর কখনো তোকে জালাবো না।
জান্নাতের কথা শুনে তো আমার মাথা ঘুরতে লাগলো। জান্নাত আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিলে তো আমার কি হবে? আমি যে, জান্নাতকে অনেক ভালোবাসি। আমার তো জান্নাতকে চাই চাই।

আমি: কি বলছিস তোর মাথা ঠিক আছে তো?
জান্নাত: হুম আমার মাথা ঠিক আছে।

এটা বলে জান্নাত খাট থেকে বালিস আর কাঁথা নিতে আসলো। আমি জান্নাতের হাত ধরে ফেললাম।
জান্নাত: আমার হাত ছাড়।

আমি: ওটা আমার ইচ্ছা। আমার মনে চাইলে ছাড়বো আর না চাইলে ছাড়বো না।
জান্নাত: আমি কিন্তু তোকে ছাড়তে বলেছি।

আমি আর জান্নাতের কথায় কান না দিয়ে জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম। জান্নাত তো ছাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি তো জান্নাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।

জান্নাত দেখালো জোর খাটিয়ে লাভ নেই তাই আর জোর না খাটিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকলো। কিছুক্ষণ পর জান্নাত বললো।
জান্নাত: আমার ঘুম চাপছে আমি ঘুমাবো (ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে)
আমি: ঘুমাবি ভালো কথা কিন্তু এভাবে কান্না করছিস কেন?

জান্নাত: আমি তোর সাথে সারাজীবন এভাবে থাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার ভাগ্য খারাপ। তুই তো আমাকে বউ হিসাবে এখনো মেনেই নিচ্ছিস না। তুই কখনো আমাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছিস?

আমি:…….
জান্নাত: জানিস আমার খুব শখ ছিল আমি প্রত্যেক রাতে তোর বুকে মাথা রেখে মনের কথা গুলো বলবো কিন্তু তুই তো আমাকে কখনো খাটেই জায়গা দিসনি।
আমি: তাহলে এখন তোর মনের কথা গুলো বলতে পারিস।

জান্নাত: আমার কি আর সেই অধিকার আছে?
আমি: আচ্ছা ঠিক আছে কাল বলিস আজ তোকে অধিকার দিতে হবে না?

তারপর আমরা এক সুখের রাজ্যে চলে গেলাম। সকাল হয়ে গেছে। গোসল শেষে নামাজ পড়ে আবার ঘুমিয়ে গেছি। আর জান্নাত নাস্তা বানাচ্ছে।
সকাল ৮ টার সময় জান্নাতের ডাকে ঘুম ভাঙল।

ফ্রেস হয়ে নাস্তার পর্ব শেষ করে আমি আর জান্নাত কলেজের দিকে রওনা হলাম।

কিছুক্ষণ পর কলেজ পৌঁছে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে ফ্রেন্ডদের সাথে আডডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। এসে এক ঘুমে বিকাল হয়ে গেছে।
মোবাইলের রিংটোন এর শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ফোন নিয়ে দেখলাম নাফি ফোন করেছে।
আমি: হ্যালো?

নাফি: তুই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব…… জায়গায় চলে আয়।
আমি: কেন কি হয়েছে?

নাফি: রেজাউল করিম ও তার দলবল নিয়ে সবাই এখানে উপস্থিত আছে।
আমি: কোথায়? তুই দ্রুত ঠিকানা টেক্স কর আমার কাছে।
নাফি: ওকে।


পর্ব: 7 (শেষ)

নাফি: রেজাউল করিম ও তার দলবল নিয়ে সবাই এখানে উপস্থিত আছে।

আমি: কোথায়? তুই দ্রুত ঠিকানা টেক্স কর আমার কাছে।
নাফি: ওকে।

আমি তাড়াতাড়ি শুয়া থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম। ঘর থেকে বের হবো এমন সময় জান্নাত সামনে এসে উপস্থিত।
জান্নাত: তুমি এখন কোথায় যাচ্ছো?

আমি: আমার একটা আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেছে তাই সেখানে যেতে হবে।
জান্নাত: না আমাকে বলে যেতে হবে নয়তো‌ আমি যেতে দেবো না।

আমি: আমার এখন তাড়া আছে। আমি এসে তোমাকে সব খুলে বলবো।
জান্নাত: উ হু।

এই বলে জান্নাত আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি জোর করে ছাড়িয়ে নিতে গেলে জান্নাতের হাতের সাথে টান লেগে আমার সাথে থাকা গানটা পবে গেল।

জান্নাত তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি গানটা তুলে কোমরে গুজে নিলাম। তারপর জান্নাতকে ধরতে গেলে জান্নাত ভয়ে কাঁপতে লাগলো।
জান্নাত: তো তো তোমার কা কাছে অস্ত্র?

আমি: আরে তুমি ভয় পাচ্ছো কেন? আমি এসে তোমাকে সব খুলে বলবো। আমার কাছে এখন টাইম নেই।

এই বলে আমি বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম। তারপর নাফির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী চলে আসলাম। এসে দেখি ওরা সবাই উপস্থিত আছে।

তারপর আমাদের দলবল নিয়ে ওদেরকে ঘিরে চারদিক দিয়ে এট্যাক করলাম। ফলে আমারা তাদেরকে পরাস্ত করতে সক্ষম হলাম। (অনেকেই অভিযোগ করছে যে, গল্প বড় হয়ে যাচ্ছে তাই সংক্ষিপ্ত করছি)

আমরা সবাই বিজয়ীবেসে যার যার বাসায় চলে আসলাম। আমিও আমার বাসায় ফিরে আসলাম। এসে আব্বু আম্মু অনেক প্রশ্ন করল কিন্তু আমি কোন প্রশ্নের উত্তর দিলাম না। শুধু এতটুকু বলে দিলাম যে, তোমাদের জন্য সারপ্রাইজ আছে।

তারপর আমর রুমে চলে আসলাম। এসে দেখি জান্নাত বসে বসে কাঁদছে। আমি কাছে যাওয়া মাত্রই ও অনেক ভয় পেয়ে গেল।
আমি: কি হলো তোমার কি হয়েছে?

জান্নাত: কি কিছু হয়নি।
আমি: আমার কাছে গান দেখে ভয় পেয়েছো?

জান্নাত: হু।
কিছুক্ষণ পর নাফি ফোন করে জানালো যে, আমরা যেই বিজয় লাভ করেছি তা টিভিতে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
আমি জান্নাতের হাত ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে আসলাম। আর আব্বু আম্মুকে ডাকতে লাগলাম।

সবাই উপস্থিত হলে টিভিটা অন‌ করে দিলাম। তারপর আমাদের বিজয়ের খবর দেওয়া হচ্ছে। খবর শেষ হলে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি: কি হলো তোমরা আমার দিকে এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

আব্বু কোন কথা না বলে সোজা আমাকে জড়িয়ে ধরল।
আমি: আমি বাইরে থাকতাম এই কারণে আর তোমারা তো আমাকে কত কথা শুনাতে।

আম্মু: যাক এখন থেকে আমরা বলতে পারবো যে, আমি একজন পুলিশের বাবা মা।
আমি: হুম।

তারপর সবাই এর সাথে অনেক কথা বার্তা বলে রুমে চলে আসলাম। জান্নাত ও রুমে এসে খাটে গম্ভীর হয়ে বসে আছে।
আমি: কি হলো জান্নাত তুমি খুশি হওনি?

জান্নাত: এই তুই আমাকে আগে এই সব বলিসনি কেন? আমি তো ভয় পেয়ে গেছি।
আমি: আচ্ছা তাহলে এখন তো জানতে পেরেছো তো এখন ঘুমাও।

জান্নাত: না এখন ঘুমাবো না।
আমি: তাহলে কি করবা?

জান্নাত: আমাকে ভয় দেখিয়েছো সো এখন আদর করে ভয় কাটাতে হবে।

আমি: পাঠক পাঠিকারা দেখছে যে,
জান্নাত: এই যে, আমি আর নাসিম এখন টিম বানাবো সুতরাং আপনারা সবাই বিদায় হন।

লেখা – আরমান

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “বেষ্ট ফ্রেন্ড যখন বউ (সিজন 2) – Bonyo premer golpo” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ। )

আরো পড়ূন – বেষ্ট ফ্রেন্ড যখন বউ – (সিজন ১) – Arekti premer golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

গল্পটি পড়তে আপনার ব্রাউজারের "Adblock" অপশনটি বন্ধ করুন।