রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

জোরপূর্বক ভালোবাসা – সুন্দর প্রেমের গল্প

সুন্দর প্রেমের গল্প

জোরপূর্বক ভালোবাসা – সুন্দর প্রেমের গল্প: অসহ্য বিরক্তিকর মানুষটি কখন যে মনের ভিতর জায়গা করে নেয় তা বলা মুশকিল। তবে ভালোবাসা যে হয় তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। চলুন আজ এরকম একটি সিনেমাটিক প্রেমের গল্প পড়ি।


পর্ব ১

আশিক এগিয়ে যেতে লাগল, মোস্তারিনার দিকে। মোস্তারিনা ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে আশিক একদম কাছে এসে ওর গায়ে থেকে ওড়না নিয়ে ছুড়ে মারল। তারপর ধাক্কা দিয়ে মোস্তারিনা কে খাটে ফেলে দিল। নিজএর ভর ও মোস্তারিনার উপর ছেড়ে দিলো। আচমকা মোস্তারিনার ঠোঁট নিজএর ঠোঁটএর ভাজে নিয়ে কিস করতে লাগল।

মোস্তারিনা নিজএর সব শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু আশিক এর সাথে পএরে উঠছে না। চোখ দিয়ে অধরে পানি পরে যাচ্ছে। কি করে আশিক এর রাগ কমাবে, এখন তো আশিক নিজএর মধ্যে নেয়।

রেগে গেলে কি থেকে কি করে বসে নিজেই বুঝে না। এখন নিজেকে কি করে রক্ষা করবো আশিক কে থামাতে হবে। শত ধাক্কিয়ে ও এক চুল ও সরাতে পারছে না মোস্তারিনা। নিজএর ভুলএর জন্য নিজকে বকছে। এদিকে আশিক আজ হিংস্র হয়ে উঠেছে। এমন ভাবে কিস করছে আমার ঠোঁট জলে যাচ্ছে। শুধু ব্যথা দিচ্ছে এটা ভালোবাসা না রাগ সব ঠোঁটএর উপর দিয়ে যাচ্ছে। ধম ও বন্ধ হয়ে আসছে অথচ আশিক সরছে না।

হঠাৎ ঠোঁট ছেড়ে গলায় কিস করতে লাগল, ওফ বাচলাম আর একটু হলে আমি এখানে ধম বন্ধ হয়ে মারা যেতাম।

মোস্তারিনাঃ আশিক প্লিজ ছারুন আমাকে এসব ঠিক না, আপনি এখন ঠিক নেয় মাথাটা ঠান্ডা করেন প্লিজ!

আমার কথা শুনে আশিক আমার দিকে তাকালো মাথা উচু করে চোখ গুলো লাল টকটকে হয়ে গেছে। আশিক ওর হাত আমার মুখএর কাছে আনলো তারপর কাটা চুল গুলো কানএর গুজে দিল। মায়া ভরা দৃষ্টি দিয়ে বলতে লাগল,

আশিকঃ কেন আমার কথা শুনিস না তুই ? আমার ভালোবাসা কেন মানিস না বল।

মোস্তারিনাঃ (চুপ করে আছি কারণ আমি কি বলবো এখন বুঝে উঠছি না। আমি জানি আশিক আমাকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু আমি কি বাসি আর বাসলে ও বলতে পারি না)

আশিকঃ কি হলো বল না ভালোবাসিস আমাকে। ওই ছেলএর সাথে তোকে ঘুরতে মানা করেছিলাম না তাও কেন তুই তার সাথে ঘুরলি হাসাহাসি করলি। তুই জানিস না তোর সাথে অন্য কাউকে দেখলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়। অন্য কেউকে দেখলে আমি সহ্য করতে পারি না।

মোস্তারিনাঃ ও আমার ফ্রেন্ড সেটা আপনি জানেন তবুও কেন এমন করলেন বুঝলাম না।

আশিকঃ আমি এতো কিছু জানি না বুঝি না। তুই আমি ছাড়া আর কোন ছেলএর সাথে মিশতে পারবি না।

মোস্তারিনাঃ এই জন্য আমি আপনাকে সহ্য করতে পারি না।

আশিকঃ না করতে পারলি ভালোবাসা দিলে হবে।

মোস্তারিনাঃ আমি বাড়ি যাব। অনেক সময় পএরিয়ে গেছে সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাড়িতে চিন্তা করছে সবাই।

আশিক আমাকে ছেড়ে দিয়ে কিছু চুপ করে রইল। তারপর আমাকে জরিয়ে ধরল।

আশিকঃ প্লিজ একটু ভালোবাস না। আমি অনেক করে চাই তোমার ভালোবাসা।

আমি কিছু বললাম না চুপ করে রইলাম। আশিক কিছু ক্ষণ ওইভাবে রইল তারপর আমাকে ছেড়ে উঠে দাড়াল। আমি ও উঠে ওড়না খুজে পরে নিলাম। আশিক আমাকে বাইরে নিয়ে এলো এখানে ও তার চামচা দুজন নিয়ে এসেছে।
রাহাত আর সায়েদ দুজন আশিক এর বর্ডিগাড সব সময় আশিক এর সাথে থাকে। আশিক এর বাবা এখানকার এমপি। ওদএর শএু অনেক তাই সব সময় দুজন সঙ্গে থাকে।

আমাকে নিয়ে বাইকএর কাছে এলো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কারণ আশিক এর বাইক ছিলো না। সব সময় মাইকো গাড়ি নিয়ে চলাফএরা করে। কালে আমি আশিক কে বলেছিলাম যে আমার বাইক ভালো লাগে কারণ সব সময় আশিক আমাকে ভার্সিটিতে নিয়ে আসে দিয়ে আসে পা করলে শুনে না। তাই বলেছিলাম কথাটা। আমার এককথায় বাইক কিনে ফেলবে ভাবি নি। খথা গুলো ভাবছিলাম আশিক এর কথায় বাস্তবে ফিরলাম,

আশিকঃ কি হলো এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি উঠবে। তোমার না বলে দএরি হচ্ছে এখন তো মনে হচ্ছে যেতে চাইছো না।

মোস্তারিনাঃ একদম তা না আপনি বাইক কবে কিনলেন।

আশিকঃ আজ কিনলাম কেন তোমার পছন্দ হয় নি।

মোস্তারিনাঃ জানি না। আপনাকে বাইক কিনতে বলেছে কে?

আশিকঃ কেউ না আমার আপন একজনএর পছন্দ তার জন্য কিনেছি এবার উঠু। যদি যেতে চাও নয়তো বলো এখানে থেকে যাই দুজন আমার কিন্তু সমস্যা নেয়।

মোস্তারিনাঃ তার দরকার নেই। চলুন তো দএরি হচ্ছে আমার !(বলেই বাইকে উঠলাম)

আশিকঃ এভাবে বসলে পরে যাবে তো। আমাকে ধরো ভালো করে।

মোস্তারিনাঃ পরবো না চলুন?

আশিক বাইক চালাতে লাগল। এতো জুড়ে চালাচ্ছে যে মনে হচ্ছে পড়ে যাবো।

মোস্তারিনাঃ একটু আসতে চালান তো এভাবে কেউ চালায়।

কিন্তু আশিক থামাচ্ছেই না আমি কোন উপায় না পেয়ে পেছনে থেকে জরিয়ে ধরলাম। আমি জরিয়ে ধরার সাথে সাথে গাড়ি আস্তে চালাতে লাগল। আমি এবার বুঝলাম এতোক্ষণ ইচ্ছা করে এমন করেছে। আশিক আমার কাছে এলেই কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভৃতি হয়। আজ যখন আশিক আমার কাছে এসেছি এখন ও আশিক এর শরীর থেকে মাতাল করা গন্ধ পাচ্ছি। যা আমার অনেক ভালো লাগছে কিন্তু প্রকাশ করি নি।

আশিকঃ কি হলো নামো নাকি যেতে মন চাচ্ছে না।

আমি আশিক এর শরীরএর মাতাল করা গন্ধে হারিয়ে গিয়েছিলাম কখন যে এসে পএরেছি টএরই পাই নি আমি তারাতারি করে নেমেই দৌড়ে দেবো কিন্তু তা আর হলো না পেছনে থেকে কেউ আটকে দিলো।


পর্ব ২

পেছনে থেকে আশিক আমার হাত টেনে ধরেছে। এই ছেলএর হাত থেকে যে কবে রেহাই পাবো। কিন্তু কিছু বলতে ও পারছি না আমি জানি একে কিছু বলা আর না বলা সমান তার কথা না শুনলে আজ যে অবস্থা করতে যাচ্ছিল আবার না জানি করে। ভয়ে ভয়ে তাকালাম,

মোস্তারিনাঃ আবার কি হয়েছে আমার দএরি হচ্ছে এবার যেতে দিন। (অসহায় ভঙ্গিতে)

আশিকঃ আহ জানেমন তুমি আমাকে এতো ভয় কেন পাও বল তো ! তোমার চোখে আমি আমার জন্য ভয় নয় ভালোবাসা দেখতে চাই।

মোস্তারিনাঃ কি জন্য আটকালে তারাতারি বলেন?

আশিকঃ এতোক্ষণ তো খুব আমাকে জরিয়ে ধরে শান্তিতে এলে যাওয়ার কথা মনে ছিলো না আর এখন যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। (কথা গুলো বলে একটান দিয়ে একদম নিজএর কাছে নিয়ে গেল)

মোস্তারিনাঃ সব সময় এমন ভালো লাগে না এটা আমার বাড়ি এখানে যদি কেউ আমাদএর এক সাথে দেখে কি হবে ভাবতে পারছেন। আপনার জন্য আর কতো অশান্তিতে থাকবো বলেন তো?

আশিকঃ কেউ কিছু বলার সাহস পাবে না জানেমন। আমি আশিক চৌধুরীর আর তুমি তার ভালোবাসা তোমাকে কিছু বলার সাহস হবে না কারো!

আশিক আমাকে নিজএর সাথে জরিয়ে আছে। এক হাত আমার কোমরে আরেক হাত দিয়ে আমার একগালে দিয়ে রেখেছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে একটা কিস করল আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজএর থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম।

মোস্তারিনাঃ রাস্তায় ও এসব অসহ্য,(বলেই দৌড়ে চলে গেলাম বাড়ির ভেতরে)

আর আশিক যতক্ষণ মোস্তারিনাকে দেখা যায় সেখানে দাড়িয়ে তাকিয়ে আছে তার মায়াবতীর দিকে। হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবে ফিরল,আশিক

তাকিয়ে দেখে রাহাত আর সায়েদ এসে গেছে ওরা আশিক এর পেছনে পেছনে আসছিল।

সায়েদঃ ভাই ভাবি তো চলে গেছে অনেক ক্ষণ আপনি এখন ও ওইদিকে কি দেখছেন (চিন্তা করা ভঙ্গিতে)

রাহাতঃ আরে ভাই আমাদএর ভাবির মাঝে নিজেকে হারিয়ে তাকিয়ে আছে। কখন চলে গেছে টএরই পায়নি। (বলেই হাসতে লাগল)

আশিকঃ তোরা চুপ করবি রাহাত তুই বাইক নিয়ে আয় আর সায়েদ আমার সাথে গাড়িতে চল। (বলেই গাড়িতে উঠে বসলো)

গাড়িতে….

আশিকঃ সায়েদ কি আছে মোস্তারিনার মাঝে বলতো আমি ওকে এক মূহুর্ত ও না দেখে থাকতে পারি না সব সময় শুধু দুচোখ ওর ওই মায়া ভরা চোখে হারিয়ে যেতে চায়।

সায়েদঃ ভাই এটাকেই ভালোবাসা বলে। আমার ও তো শুধু সুলতানাকে দেখতে মন চায়। হারিয়ে যেতে (আর কিছু বলতে পারল না কান মলা খেতে হচ্ছে কারণ আশিক ও কান টেনে ধরেছে)

আশিকঃ কি বললি তুই সুলতানাকে দেখতে মন চায়। এই সুলতানা আবার কে আমাকে না জানিয়ে প্রেম করা হচ্ছে তাই না!

সায়েদঃ ভাই না আমি প্রেম কোথায় করলাম। এখন পযর্ন্ত তো বলতেই পারি নাই। যেয়ে বললে আমায় আস্ত রাখবে নাকি।

আশিকঃ তুই এতো ভিতু হলি কবে থেকে একটা মেয়েকে ভয় পাচ্ছিস। (কানে থেকে হাত সরিয়ে)

সায়েদঃ ওর কাছে গেলেই আমার ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যায় ভাই।

আশিকঃ এই সুলতানা নাম টা কোথায় যেন শুনেছি?

সায়েদঃ ভাই ভাবির বান্ধবী তো।

আশিকঃ ও হুম ওই মেয়েটা বাবা রে বাবা কি চাপা প্রথম যেদিন তোর ভাবির সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম কেমন করছিল মনে আছে তোর আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমার টা তাও ঠান্ডা আছে। তুই টেনশন নিস না তোদএর মিল আমি করিয়ে দেব আগে তোদএর ভাবি কে পটিয়ে নেয়।

এদিকে

মোস্তারিনা ভয়ে ভয়ে বাড়িতে ঢুকছে কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না আম্মু এসে দাড়ালো সামনে।

আম্মুঃ এতো দএরি হলো কেন,

মোস্তারিনাঃ একটি সুলতানাদএর বাড়িতে গিয়েছিলাম। ও অনেক জোর করেছিল তাই আর না করি নি।

আম্মুঃ তাই বলে রাত করবি। আর কখনো গেলে জানিয়ে যাবি। আমি যে চিন্তা করে শেষ হয়েছি।

মোস্তারিনাঃ আচ্ছা।

পরদিন..

রেডি হয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বএর হলাম না আজ আশিক এর গাড়ি আসে নি। আল্লাহ বাচা গেল। আবার যদি আসে ভেবে তারাতারি গাড়িতে উঠে পরলাম আজ তারাতারিই গাড়ি পেয়েছি।

কলেজে…

সুলতানাঃ কি ব্যাপার আজ বাসে এলি যে তোর আশিকি গাড়ি নিয়ে যায় নি।

মোস্তারিনাঃ কিসএর আশিকি হ্যা? আজ যায় নি বলেই তো আমি কতো খুশি দেখছিস না সেই যে জালাতন শুরু করেছে আজ কতো দিন পর শান্তি মতো এসেছি।

সুলতানাঃ হুম কিন্তু এই শান্তি কতোক্ষণ থাকবে কে জানে।

মোস্তারিনাঃ এই পাগলএর হাত থেকে কবে যে ছাড়া পাবো।

সাদিয়াঃ আর ছাড়া পাওয়া হলো না ওই যে দেখো তোমার আশিক এসে গেছে।

হাত উঠেয়ে আশিক কে দেখিয়ে মোস্তারিনা আশিক কে দেখেই ব্যাগ নিয়ে পেছনএর দরজার দিকে যেতে লাগল,

সাদিয়াঃ ব্যাগ নিয়ে কই যাছ?

মোস্তারিনাঃ আশিক যদি জিগ্গেস করে আমি এসেছি নাকি তোরা বলে দেবি আমি আজ আসব না কেমন।

বলেই পেছনে দৌড় দিবো কিন্তু ঠাস করে করো সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে গেলাম।

এদিকে,
আশিক আজ ঘুম থেকে উঠতে দএরি করেছে তাই আজ মোস্তারিনাকে আনতে যেতে পারে নি। ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠেছে কোন রকম ফ্রেশ হয়ে না খেয়েই চলে এসেছে
কলেজে…..
মোস্তারিনা আসিফএর সাথে ধাক্কা খেয়েছে।

মোস্তারিনাঃ ওফ আসিফ দেখে চলতে পারো না। এভাবে কেউ ধাক্কা দেয়।
আসিফঃ মোস্তারিনা তোমাকে কাল ছুটির পর কতো খুজলাম কোথায় ছিলে!

মোস্তারিনাঃ আমি এখন ব্যস্ত আছি।

বলেই আসিফএর কথার উওর না দিয়ে বএরিয়ে আরেক দফা শক খেলো কারণ সামনে আশিক দাড়িয়ে আছে। তাহলে কি আসিফএর সাথে কথা বলতে দেখেছে। আল্লাহ না দেখে যেন দেখলে কি যে করবো এই ছেলে……

পর্ব ৩

  • কোথায় যাচ্ছ জান? (আশিক)
    ভয়ে ভয়ে একবার পেছনে তাকালাম নাহ আসিফ নেয়। মনে হয় দেখে নি।
  • কি হলো পেছনে কি দেখছো, আর ব্যাগ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলে? (আশিক)
  • ক ই কি দেখ বো কিছু না তো (ভয়ে তুতলিয়ে)
  • ভালো আচ্ছা আজ তোমাকে আনতে যেতে পারি নি তার জন্য রাগ করেছো (ইনোসেন্ট মুখ করে)

রাগ করবো কে আমি তো খুশি হয়েছি? আজ নিজএর ইচ্ছে মতো আসতে পএরে। প্রতিদিনে যদি একটা একটা করে দেখতাম আপনি আমার পেছনে আর পরে নেয় সেদিনএর মতো আমার থেকে খুশি আর কেউ হতো না। (মনে মনে এগুলো কি সামনে বলার সাহস আছে নাকি আমার)

  • নাহ তো রাগ করবো কেন! (মোস্তারিনা)
  • এই জন্য তোমাকে আমি এতো ভালোবাসি জান। তুমি কখনো রাগ করো না। আচ্ছা কিছু খেয়েছো আমার খিদে পেয়েছে তোমার চিন্তায় না খেয়েই চলে এসেছি চলো খেয়ে আসি। (বলেই হাত ধরে কানটিনএর দিকে যেতে লাগল)
  • আমি খেয়ে এসেছি আপনি গিয়ে খান। আমি খাব না হাত ছারুন? (হাত ছারানোর চেষ্টা করে)
  • ওফ আমি একা খেতে পারি তোমাকে ছাড়া তুমি ও আমার সাথেই খাবে।
  • আমি তো খেয়ে এসেছি আমি আর খেতে পারবো না সত্যি?
  • তুমি খেয়ে আস নি আমি জানি। সকালে কে রান্না করবে তোমার জন্য?

হুম আশিক ঠিকই বলেছে আমি খেয়ে আসি নি। আম্মুর আমাকে রান্না করে দেবার মতো পরিস্থিতি নেয়। চলাফএরা করতে কষ্ট কাজ যা আমাকেই করতে হয়। ছোট্ট একটা বোন আছে ও করে কিন্তু আমি করতে দেয় না বেশি।

  • ওফ এতো জরাজরি আর সহ্য হয় না। আমার কথা কেন বিশ্বাস হয় না আপনার বলেন তো। আমি খাবো না বলছি তো খাবো না এতো জুড় করার কি আছে। সব সময় এমন ভালো লাগে না। (একটু রেগেই বললাম)
  • আমার ইচ্ছে মতো চললে তো আর জোর করতাম না। তুমি তো আমার কোন কথাই শুনো না খালি না আর না কর।

আর কিছু বললাম না কলেজএর সবাই অদ্ভুত নজরে আড়চোখে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এটা আজ নতুন কি এক মাস ধরেই দেখে যাচ্ছে। আশিক এর এমন করাতে কেউ আমার সাথে কথা বলে না এরিয়ে চলে। একমাত্র সাদিয়া আর সুলতানা ছাড়া।

  • জান কি খাবে বলো?
  • বললাম তো কিছু খাবো না!
  • ওকে না খেলে আমি খাই (বলে খাবার অর্ডার দিল)

নূপুর মেয়েটা নতুন ভর্তি হয়েছে। তিন দিন আগে সেদিন আশিক এসেছিল না কলেজে। প্রথম দিনই সুলতানার সাথে ঝগড়া লেগেছিল মেয়েটা মনে হ য় ধনী হবে অনেক কথা বলার সময় টাকার গরম দেখায় খালি।

আমাদএর দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। স্যার রা কলেজএর কোন ছেলে মেয়ে আমাদএর দিকে তাকানোর সাহস করে না। সবাই আশিক কে অনেক ভয় পায়। কারণ আশিক এর বাবা অনেক নাম ডাক।

আশিক না থাকলে অনেকেই আমার সাথে বাজে বিহেব করে আমার কিছু বলতে পারি না শুধু চুপ করে শুনি কিন্তু সাথে সুলতানা থাকলে সেই ঝগড়া লাগে। আমাকে কেউ কিছু বললে সুলতানা তাকে ইচ্ছা মতো কথা শুনিয়ে দেয়।

কারো ডাকে বাস্তবে ফিরলাম, আর কে ডাকবে আশিক ডাকছে।

  • কি হলো চিল্লাচিল্লি করছেন কেন?
  • আমার সাথে বসে আছে অথচ একবার ও আমার দিকে তাকালে না কথা বলছো না সব সময় এতো কি ভাবো তুমি।
  • কিছু না।
  • আচ্ছা হা করো তো(হাতে খাবার নিয়ে আমার দিকে ধরে)
  • কেন হা করবো আর খাবার আমার দিকে না ধরে নিজে খান।
  • আমি তো খাবোই তোমাকে ও আমার সাথে খেতে হবে।
  • আমি খাবো না।
  • ওফ রাগ উঠিয়ো না তো খাও
  • না
  • তুমি হা করবে নাকি আমি সবার সামনে কিছু করে বসবো। তুমি কিন্তু জানো আমার আবার লজ্জা কম।

সব সময় ভয় দেখানো কি আর করবো খেয়ে নি। নিজে আর কি আমাকেই সব খাইয়ে ছাড়লো।

এদিকে
নূপুরঃ কে রে এই হ্যান্ডসাম ছেলেটা? (নূপুর ফ্রেন্ড নিরব কে বলছে)

নিরবঃ আশিক চৌধুরী এখানকার নেতা বলতে পারিছ।
নূপুরঃ ওই মেয়ে সেই না যার বান্ধবীর সাথে ঝগড়া করেছিলাম প্রথম দিন। (হাত দিয়ে দেখিয়ে)

নিরবঃ হুম
নূপুরঃ ছেলেটাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। এর সাথে আমি প্রেম করবো কিন্তু ওই মেয়এর সাথে এমন করছে কেন।

নিরবঃ কি বলিস তুই। আশিক ভাইয়এর সাথে প্রেম করবি এটা কল্পনা তে ও আনিস না।
নূপুরঃ কেন আনবো না আমার আশিক কে পছন্দ হয়েছে। অনেক ছেলেই আমাকে প্রপোজ করেছে কাউকে ভালো লাগেনি কিন্তু আশিক কে প্রথম দেখেই অনেক ভালো লেগেছে। কি না দেখতে যেমন ইসমাট তেমনি সুন্দর। কতো হ্যান্ডসাম দেখতো আমার সাথে এমন একজন কেই মানায়।

নিরবঃ কিন্তু বৃথা সপ্ন দেখে লাভ নাই। আশিক অলরেডি একজনএর প্রেমে পাগল হয়ে আছে।
নূপুরঃ কি বলছিস তুই কার!

নিরবঃ মোস্তারিনা (হাত উঠিয়ে দেখিয়ে) ওই যে দেখছিস না খাইয়ে দিচ্ছে কতো কাহিনী না করলো এই মেয়এর জন্য। সব মেয়ে ক্রাশ ছিলো আশিক কিন্তু আশিক সবাই কে ছেড়ে এই মেয়এর পেছনে পরে আছে।

নূপুরঃ আমার এই প্রথম কাউকে ভালো লেগেছে তাকে তো এতো সহজে ছারবো না(রেগে)

সুলতানা দেখেছে আশিক মোস্তারিনাকে টেনে কানটিনে নিয়ে যাচ্ছে। তাই এখন কানটির দিকে যাচ্ছে কারণ কলাসএর টাইম হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ ঝরএর গতীতে সায়েদ সামনে এসে দাড়াল। এই ছেলেটাকে দেখলে ঠাসিয়ে চর মএরে বলতে মন চায়, জন্মমএর হাসি আমার কাছে এসেই কেন দেস রে। সব সময় আমাকে দেখলেই একটা লজ্জা মিশ্রিত হাসি দেবে যা দেখলে আমার মনে হয় তার শাশুড়ি ইডিয়েট একটা। এখন বলবে ” সুলতানা ভালো আছ তোমাকে কেমন রাগী দেখাচ্ছে কারো সাথে ঝগড়া করেছো “

সায়েদঃ সুলতানা ভালো আছ? তোমাকে কেমন জানি রাগী দেখাচ্ছে কারো সাথে ঝগড়া করেছো!
ওই যে আবার বলবে ” তোমাকে রাগলে না অনেক সুন্দর দেখায় বেবি ডলএর মতো,

সায়েদঃ তোমাকে না রাগলে অনেক সুন্দর দেখায় একদম বেবি ডলএর মতো। কি হলো কিছু বলো?
কিছু না বলে হাত উঠাছে তার মানে চর মারার ইচ্ছে না আর এখানে থাকা যাবে না। যদি থাপ্পড় দিয়ে বসে মান সম্মান সব যাবে এই কলেজে ভেবে পেছনে ঘুরে দৌড় সায়েদ।
আর সুলতানা তো হাসতে হাসতে শেষ। আমি জানি সায়েদ এটাই করবে যখনই কথা বলে তখনই দৌড় মারে।

মোস্তারিনাঃ এতো হাসছিস কেন সায়েদ ভাইকেও দেখলাম দৌড়াচ্ছে!

সুলতানাঃ ভেবেছি আমি চর মারবো তাই সম্মান বাচাতে পালিয়েছে।
বলেই হেসে দিলাম সাথে মোস্তারিনা ও।

সুলতানাঃ ছারল তাহলে আমি তো ভাবছি আর ছারবে না।

ছুটির পর,
গেটএর দিকে যাচ্ছি হঠাৎ আসিফ আমার কাছে দৌড়ে এলো। আমি একটু সরে দাড়ালাম নয়লে আমার উপরে পরতো।

মোস্তারিনা- কি হয়েছে এভাবে দৌড়ালে কেন?
আসিফ- কাল তুমি কোথায় ছিলে আর আজ আমার সাথে একটু ও কথা বললেনা যে। কি হয়েছে তোমার !

মোস্তারিনা- কিছু না আমার সাথে আর কথা বলতে এসো না তুমি আমার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে।
আসিফঃ কেন আমরা তো ভালো ফ্রেন্ড ছিলাম তাহলে হঠাৎ এমন করার কারণ আমি কিছু ভুল করেছি।

মোস্তারিনাঃ নাহ কিন্তু আমি কথা বলতে পারবো না।

বলেই চলে এলাম তারাতারি আসিফ অনেক ভালো আমাকে লেখা পড়ায় সাহায্য করেছে। আমি কয়েক দিন ইচ্ছে করে ওর সাথে বেশি মিশেছি যাতে আশিক আমার পেছন ছারে কিন্তু আমার এই ডিসিশনএর জন্য যে খারাপ টা হতে যাচ্ছিল। তারপর আর আমি সেই ভুল করতে পারিনা।
গেটএর বাইরে এসেই দেখে আশিক গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাল না বাইক দেখলাম আজ বাইক আনে নি।

আশিকঃ কি হলো দাঁড়িয়ে পরলে কেন উঠো গাড়িতে। কাল রাহাত বাইকে এক্মিডেন্ট করেছে ওকে রাতে চালিয়ে আসতে বলছি ও যে বাইক ভালো চালাতে পারে না বলে ও নি।
আমার সত্যি অনেক খারাপ লাগছে রাহাত ভাইয়এর জন্য লোকটা অনেক ভালো আমাকে বোন বলে তাই তো আজ তাকে দেখি নি একবার ও।

মোস্তারিনাঃ এখন কেমন আছে(চিন্তিত হয়ে) বেশি ক্ষতি হয়েছে নাকি তার।
আশিকঃ ভালো এক্মিডেন্টই হয়েছে কি এখন অনেকটাই ভালো। এতো চিন্তা করা দরকার নাই এখন সুস্থ আছে।

মোস্তারিনাঃ ওহ।


পর্ব ৪

সায়েদঃ ভাই আপনি আর ভাবি চলে যান। আমি এখানে আছি যাওয়ার সময় একসাথে যাবো।

আশিকঃ আচ্ছা তোমার না যাওয়ার কারণ আমি বুঝেছি। তুমি তোমার হিরোইনএর পেছনে যাবে তাই না।

সায়েদঃ ভাই (একটু লজ্জা পাওয়া মতো করে বলল)

আশিকঃ থাক ভাই তুই আর মেয়ে গো মতো লজ্জা পাস না। আমার কেমন জানি লাগে (সায়েদর পিঠে চাপর দিতে দিতে) আচ্ছা যা!

সায়েদ চলে গেল। ওদএর কথা বার্তা মোস্তারিনা কিছুই বুঝতে পারলো না, বুঝার চেষ্টা করেছে কিন্তু বুঝেনি। সায়েদ ভাই ওমন অদ্ভুত ভাবে হাসলো কে আবার লজ্জা ও পেল। সায়েদ একটু সাদা সিধে টাইপএর মানুষ বোঝে কম। একটু গাইয়া টাইপএর আর অনেক রসিক মনটা অনেক ভালো।

আশিকঃ ওফ জান তুমি এতো কি চিন্তা করো বল তো একবার চিন্তার জগতে গেলে আমি এতো ডেকে ও তোমাকে বাস্তবে আনতে পারি না। (আশিক দুহাত আমার কাধে রেখে ঝাকুনি দিয়ে)

মোস্তারিনাঃ (সায়েদ ভাইকে নিয়ে ভাবছিলাম হঠাৎ আশিক এর কথায় সম্মতি পেলাম) হুম সায়েদ ভাই কে কি বললেন? মনে হলো প্রেমে পরেছে !

আশিকঃ তোমার মাথা কতো বুদ্ধি গো কথা শুনেই বুঝে ফেললে! (আমার মাথায় ঢোকা দিয়ে)

মোস্তারিনাঃ ওফ মাথায় ঢোকা দেন কেন? আর এখানে বুদ্ধির কি আছে আপনাদএর কথা যে কেউ শুনলেই বুঝে যেত। (নিজএর থেকে সরিয়ে)

আশিকঃ তবুও তোমার মাথায় একটু বেশি আছে!

মোস্তারিনাঃ বললেন না তো সায়েদ ভাই কি সত্যি !

আশিকঃ হুম কিন্তু বেচারার অনেক প্রএরা গো মেয়েটার যে চাপাঁ আর রাগ ও তো কথায় বলতে পারে না ভয়ে দৌড় পারে। (ইনোসেন্ট মুখ করে)

মোস্তারিনাঃ চাপাঁ, রাগ কার এতো মেয়এর বাড়ির কই নাম কি?(কৌতূহল হয়ে)

আশিকঃ তোমাকে বললে তাকে বলে দেবে তোমাকে জানানো যাবে না চলো গাড়িতে উঠো প্রশন কম করো?

বলেই জোর করে আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিলো। আমি জিগ্গেস করেই যাচ্ছি কিন্তু বলছে না। আশিক ও গাড়িতে উঠে বসল তারপর আমার সিট বেল লাগিয়ে দিল।

মোস্তারিনাঃ প্লিজ বলেন না মেয়েটা কে?

আশিকঃ নাহ

মোস্তারিনাঃ ধুর (রেগে অন্য দিকে তাকালাম)

আশিক একবার মোস্তারিনার দিকে তাকিয়ে দেখলো মুখটা বেজার করে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। এতে আশিক এর মনটা খারাপ হয়ে গেল কারণ আশিক মোস্তারিনার মুখটা মলিন কিছু তেই দেখতে পাচ্ছে না। তাই ডিসাইড করলে বলেই দেবে কিন্তু একটু অন্য ভাবে।

আশিকঃ আচ্ছা বলবো কিন্তু একটা শর্তে !

মোস্তারিনাঃ (খুশি হয়ে আশিক এর দিকে তাকাচ্ছিল হঠাৎ শর্তএর কথা শুনে খারাপ হয়ে গেল মনটা) কি শর্ত!

আশিকঃ আগে বলো তুমি রাজি নাকি তারপর বলবো?

মোস্তারিনাঃ এটা চিটিং করা আগে বলেন !

আশিকঃ থাক তাহলে বলবো না। (বলেই গাড়ি চালাতে লাগল)

মোস্তারিনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর রাজি হয়ে গেল। আশিক তো রাজি হওয়াতে অবাকএর চরম সীমায় পৌঁছে গেল। কারণ সত্যি ভাবে নি এই কথার জন্য শর্ত শুনতে রাজি হবে। আমি তো রাজি না হলেও একটু পর এমনি তে বলে দিতাম।

আশিকঃ এতো সহজে রাজি হয়ে গেলে এখন যদি অন্য রকম কিছু চাই কি করবে। (দুষ্টু হাসি দিয়ে)

মোস্তারিনাঃ মানে (একটু ভয় পেয়ে)

আশিকঃ আচ্ছা আমাকে একটা কিস দাও তো। (ঠোট দেখিয়ে)

মোস্তারিনাঃ কিহ (চিল্লিয়ে)

আশিকঃ এতো চিল্লাচিল্লি করছো কেন মনে হয় আজ প্রথম। সব সময় আমি জোর করে নেয় আজ তুমি নিজে থেকে দাও।

মোস্তারিনাঃ অসম্ভব আমার সায়েদ ভাইয়এর গালফ্রেন্ডকে চিনা লাগবে না থাক!

আশিকঃ তা বললে হবে না শর্তে যেহেতু রাজি হয়েছো পূরণ তো করতেই হবে নয়লে আরও বেশি কিছু করবো।

মোস্তারিনাঃ (কেন যে রাজি হতে গেলাম) মনে মনে

আশিকঃ কি হলো তারাতারি করো (মুখটা আমার দিকে বাড়িয়ে)

মোস্তারিনাঃ আচ্ছা আপনি চোখ বন্ধ করেন?

আশিকঃ না তাহলে দেখবো কি করে।

মোস্তারিনাঃ তাহলে দেবো না?

আশিকঃ আচ্ছা করছি করছি (বলেই চোখ বন্ধ করল)

আমি আশিক এর গালে কিস করেছি। আশিক তো রেগে ফট করে তাকিয়ে গেছে,

আশিকঃ এটা কি হলো আমি অন্য টা বলেছিলাম।

এভাবে এদএর খুনশুটি চলে গেল। আশিক বলে দিয়েছে সুলতানা সেই মেয়ে সুলতানা কে এতো বলেছে রাগী চাপাঁ তা নি বকাবকি ও হয়েছে।

এদিকে

সুলতানা বাসএর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরম পরেছে আজ গেমে একাকার। হঠাৎ ছাতা ধরলো কেউ মাথায় তাকিয়ে দেখে এ আর কেউ না বিটকেল হাসি হাসি মুখ করে সায়েদ মিয়া আমার দিকে লজ্জা পেয়ে তাকিয়ে আছে।

কিছু বুঝি না আমাকে দেখলে এই বেটা এতো লজ্জা পায় কেন। মনে হচ্ছে এনি নতুন বউ। অসহ্য আমি রক্ত লাল করা চোখ দিয়ে ওর অদ্ভুত হাসি দেখছি মন চাইছে একটা ঘুসি মএরে বলি বেঢা এতো হাসিস কেন রে।

সুলতানাঃ এমন বিটকেল র্মাকা হাসি না হাসলে কি তোর হয় না রে(রেগে)

সায়েদঃ আসলে আমার না তোমারে দেখলেই হাসি আসে (আমতা আমতা করে)

সুলতানাঃ কেন রে আমি কি জোকার যে তোর আমাকে দেখলে হাসি আসে। (রেগে চিল্লিয়ে)

সায়েদঃ না না তা হবে কেনে? (মুখে হাত দিয়ে)

সুলতানাঃ কি আমি তোর নানা।

সায়েদঃ ওহো না খালি খালি ভুল বুঝছো।

সুলতানাঃ তুই এখানে কি করছিস তোর বন্ধ আশিক কই?

সায়েদঃ ভাই তো ভাবির সাথে। আমি তো তোমাকে

সুলতানাঃ তুই আমাকে কি বল

সায়েদঃ কই কিছু না তো আমি এমনি আইছি এইদিকে। (ভয়ে ভয়ে)

সুলতানাঃ সত্যি তো নাকি কিছু আছে। ভালো করে বল? আমার মাথায় ছাতা ধরছোস কেন? তোর মতলবটা কি আমার পিছে পরছোত কেন (রেগে)

সায়েদঃ (সঙ্গে সঙ্গে ছাতা সরিয়ে নিল) আচ্ছা আমি যাই

বলে আর এক মিনিট ও দাড়াল না চলে এলে।

আশিক মোস্তারিনাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এলো সায়েদকে নিয়ে বাড়িতে।

পরদিন,

মোস্তারিনা আর সুলতানা লাইব্রএরিতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ কেউ জোর ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দিল। আমি তো পা ধরে নি চে বসে পরেছি সুলতানা কাউকে বকছে।

সুলতানাঃ ওই ভাবুটি দেখে চলতে পারিস না দেখ তো কি করলি।

আমি উপরে তাকিয়ে দেখি নূপুর আমি তো সাইট দিয়েই যাচ্ছি লাম বাজলো কি করে ও কি ইচ্ছে করে এমন।

নূপুরঃ দেখে না চললে এমনি হয়। আর তুমি আমাকে কথা শুনাচ্ছো কেন আমি ধাক্কা দেয় নাই নিজেই পরে গেছে। হাটতে পারে না গাইয়া ভূত একটা।

সুলতানাঃ এই কি বললি তুই গাইয়া। তোর মতো আটা মেখে ইসমাট হতে চাই না রে। প্রেন্তী কোথাকার !

নূপুরঃ ইউ রাস্কেল তুই আমায় প্রেন্তী বললি। তুই কি বাচালঁ?

এরা তো ঝগড়া লেগে গেছে সুলতানা তো আমার কথা ভুলেই গেছে আমি যে নিচে পরে আছি। আমি ও উঠতে পারছি না পা পুরো ব্যাথা হয়ে গেছে।

হঠাৎ সুলতানা হাতএর পানির বতল থেকে পানি নিয়ে নূপুরর মুখে মারলো। স্যার কে দেখে নূপুরকে ওর ফ্রেন্ড ক্লাসে নিয়ে গেল। আর সুলতানা বকবক করতে করতে আমাকে ও ক্লাসে নিয়ে গেল কিন্তু বেশি ব্যাথা হওয়ায় বাড়ি চলে এলাম।

আশিক সকালে কলেজে দিয়ে চলে যায় আর ছুটির সময় নিতে আসে। আমি তো তার আগেই চলে এসেছি বাড়ি।

রাতে,

ঘুমএর গুরে মনে হচ্ছে কেউ আমার কপালে কিস করছে খুব গভীর ভাবে দেখছে ভয়ে আমার আত্মা শেষ তাকানোর সাহস ও হচ্ছে না। তাও সাহস করে তাকাল আর একজন কে দেখে আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল আমি সব চাইতে বেশি যে জিনিস ভয় পায় তাই।


পর্ব ৫

তাকিয়ে চিৎকার করতে যাবো ভূত বলে। কিন্তু ভূতটা আমার মুখ চেপে ধরেছে আমি তো শেষ ভূতএর ভয় সেই ছোট্ট বেলা থেকে আমার এখন ভূত আমার মুখ চেপে ধরেছে। ভয়ে ভয়ে নিজএর হাত উঠিয়ে মুখ থেকে সরানোর চেষ্টা করছি। এটা তো মানুষএর হাত ছটফট করছি ছুটার জন্য হঠাৎ কথার শব্দ পেলাম। আর নিজেই বোকা বনে গেলাম এটা তো আশিক এর কণ্ঠ তাহলে এটা আশিক আর আমি ভূত ভেবে কি ভয়টায় না পেলাম।
অন্ধকারএর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

আশিকঃ ওফ জান তুমি এতো ছটফট করো কেন। এখনই তো চিৎকার করে সবাইকে জাগিয়ে দিয়েছিলে আমার অবশ্য প্রবলেম নেয় সবাই জানলে।

মোস্তারিনাঃ একদম রাগ উঠায়বেন না বলে দিচ্ছি। আপনি এখানে কেন এই সময়? (রেগে)

আশিকঃ তুমি আমাকে ছাড়া চলে এসেছো কেন? কতোক্ষণ ওয়েট করেছি জানো পরে সুলতানাকে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম তুমি পায়ে ব্যাথা পেয়েছো। আজ তোমাকে ফোন দিয়ে যাবো কোনো বাহানা শুনবো না।

মোস্তারিনাঃ আমি ফোন নিতে পারবো না একবার বাড়িতে কেউ জানলে প্রবলেম হবে।

আশিকঃ কিছু হবে না, জানতে পারলে বিয়ে করে নিয়ে যাবো। (বলে আমার পায়এর কাছে গিয়ে ফোনএর আলো জালাল তারপর মলম বএর করে লাগাতে লাগল)

মোস্তারিনাঃ কি করছেন আমি লাগাতে পারি আপনার লাগাতে হবে না। (পা সরিয়ে নিতে গেলে)

আশিকঃ একদম পাকনামো করবে না! আমি নিজএর হাতে লাগিয়ে দেবো চুপচাপ বসে থাকো। (একটু সিরিয়াস হয়ে) মেয়েটা নাম কি?

মোস্তারিনাঃ কোন মেয়ে(অবাক হয়ে)

আশিকঃ যার জন্য আমার জান কষ্ট পেয়েছে! (পায়ে মলম লাগিয়ে আমার কাছে এসে বসলো আমার হাত নিজএর হাতএর মাঝে নিয়ে) কি হলো বলো মেয়েটা কে?

মোস্তারিনাঃ মেয়েটার দোষ নেয় আমি ই অসাবধানতায় হেঁটে যাচ্ছি লাম। তাই ধাক্কাটা লেগেছে!

আশিকঃ সুলতানা আমাকে বলেছে সব তাই কারো দোষ ঢাকতে যেও না।

মোস্তারিনাঃ বললাম তো আমি কারো দোষ ঢাকতে যাচ্ছি না এটাই ঠিক!

আশিক আর কিছু বললো না আমার দিকে মায়া ভরা চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে। চোখএর পলক ও ফেলছে না হঠাৎ আমি নিজএর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলাম, আশিক আমার মুখ চেপে ধরেছে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আববুর ডাক কানে এলো। আববু নিশ্চিত জেগে গেছে আশিক এর দিকে তাকিয়ে দেখে রেগে তাকিয়ে আছে।

  • কি হলো এভাবে চেচালে কেন? (ফিসফিসিয়ে রেগে)

আমি উম উম করছি কারণ আশিক এখন ও আমার মুখ চেপে ধরে আছে। মাথা নারিয়ে যাচ্ছি আববু এদিকে ডেকেই যাচ্ছে অবশেষে বুঝলো আর মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল।

আববুঃ মোস্তারিনা কি হয়েছে চিৎকার করছিস কেন দরজা খোল? (দরজায় ধাক্কা দিয়ে)

মোস্তারিনাঃ আববু সপ্ন দেখে কিছু হয় নাই তুমি শুয়ে পর।

আববুঃ আচ্ছা।

আববু চলে গেল আমি আশিক এর দিকে তাকিয়ে বললাম,এখন চলে যান আববু কিন্তু জেগে আছে ধরা পরলে র্সবনাশ হবে।

বলেই আমি তারাতারি ওড়না পলে পরে নিলাম। এতো ক্ষণ ওড়না ছাড়া ছিলাম বুঝতে পএরেই চিৎকার করেছিলাম।

আশিকঃ ভালো করে তো তোমাকে দেখলাম ই না এখনই চলে যাব নাহ।

মোস্তারিনাঃ দেখেননি মানে এতোক্ষন তো দেখলিনই আর কতো দেখবেন যান না। (বলে খাটে থেকে ধাক্কা দিতে লাগলাম আমি তো উঠতে পারছি না পায়ে ব্যাথায়)

আশিকঃ নাহ আজ এখানে থেকে যাব ভেবেছি?

বলেই আমার পাশে থেকে উঠে গিয়ে অপরপাশে শুয়ে পরলো; কোন জালায় পরলাম একে এখন পাঠানো যাবে কি করে।

মোস্তারিনাঃ জান না প্লিজ? (অসহায় মুখ করে)

আশিক আমার কোন কথা না শুনে জোড় করে খাটে শুয়িয়ে দিল। আমি যেতে বলছি অথচ সে কোন কথায় শুনছে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরলো। আমি ধাক্কিয়ে যাচ্ছি সে আমার কথা কানে ও তুলছে নাহ।

আশিক আচমকা বলে উঠল, মোস্তারিনা প্লিজ ভালোবাসি বলো না আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না! একবার বলো না ভালোবাস আমি জানি তুমি ও আমাকে ভালোবাস কিন্তু মুখে শিকার করো না। আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই প্লিজ বলোনা।

খুব মায়া হচ্ছে আশিক এই ভাবে অসহায় মুখে ভালোবাসা চাওয়া। এই মুখ বলে দিচ্ছে ও আমায় কতো ভালোবাসে আমি ও তো ভালোবেসে ফেলেছি এই লোকটাকে কিন্তু বলতে পারি না শিকার করতে পারি না ভয় হয় যদি হারিয়ে ফেলি তখন কি নিয়ে বাচবো। কিন্তু এখন এই ভালোবাসার কাতর হয়ে যে চাই ছে তাকে কি করে ফিরিয়ে দেব আমি।
চোখ দিয়ে নোনা জল পরছে আমার আশিক ও কাদছে। আশিক আমার চোখে পানি মুছে দিল তারপর আমার কপালে কিস করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে উওরএর আসায়।

পরদিন,

আজ আশিক এর জন্য সবচেয়ে খুশির দিন কারণ কাল রাতে মোস্তারিনা ওকে হ্যাঁ বলেছে খুশি তে কি থেকে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।

রাহাতঃ ভাই আপনি তো আজ অনেক খুশি দেখা যাচ্ছে !

সায়েদঃ খুশি তো থাকবেই অবশেষে ভাবি ভাইয়াকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু ভাই আমাগো এখন মিলাইয়া দেন আপনার টা তো সেটিং হয়ে গেল।

আশিকঃ তোর টাও হবে চিন্তা করিস না। আমি ভেবেছি বেড়াতে যাবো কোথাও কিন্তু তোদএর ভাবিকে নেব কি ভাবে ও তো কিছু তেই রাজি হবে না।

সায়েদঃ কোথায় যেতে চান ভাই!

আশিকঃ কক্সবাজার

সায়েদঃ তাহলে বিয়ে করে নিয়ে যান এছাড়া উপায় নাই এতো দূর যাবে না।

আশিকঃ বিয়ে তো করতে চাইরে সে তো এখন বিয়ে করবে না। মোস্তারিনার কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে তাই যেতে চাইছি।

রাহাতঃ ভাই একটা পথ আছে যাওয়ার।

আশিকঃ কি বল তারাতারি?

রাহাতঃ ভাই পিকনিক হলে যেতে পারে।

আশিকঃ পিকনিক হলে তো কলেজএর সবাই যাবে?

রাহাতঃ সমস্যা কি সবাই তো আপনাদএর ব্যাপারে জানেই। স্যারদএর বলবেন খরচ আপনার কিন্তু কলেজে যেন বলে সরকার থেকে ফ্রি তে শিক্ষাসফর তাহলে আর ভাবি মানা করবে না।

আশিকঃ ঠিক রাহাত তোর মাথায় ও তো ভালো বুদ্ধি।

তিনদিন পর কলেজে এলো মোস্তারিনা আশিক এর সাথেই এসেছে। সুলতানার কাছে থেকে জানতে পারলো শিক্ষাসফরে যাওয়ার কথা।
ক্লাসে বসে কথা বলছি লো হঠাৎ নূপুর সামনে এসে দাড়ালো,


পর্ব ৬

আমি, সুলতানা আর সাদিয়া বসে গল্প করতে ছিলাম পিকনিক নিয়ে। হঠাৎ নূপুর হাসি মুখ করে আমাদএর সামনে এসে দাড়ালো ওর সাথে ওর ফ্রেন্ড ও এসেছে।

সুলতানাঃ আবার কি নিয়ে ঝগড়া করতে এসেছিস তোর? (একটু রেগে জিগ্গেস করলো)

নূপুর; আই আম সরি মোস্তারিনা সেদিন তোমাকে ধাক্কা দেওয়াটা উচিত হয়নি। আমার জন্য তুমি তিন দিন কলেজে আসতে পরলে না। আমি সত্যি ইচ্ছে করে তোমাকে ধাক্কা দেয় নি। (মুখটা অসহায় করে বলল কথা গুলো)

আমি তো অবাক নয়নে তাকিয়ে আছি নূপুরর দিকে। একবার সুলতানার দিকে তাকিয়ে দেখি আগুন চোখে তাকিয়ে আবার অবাক ও হচ্ছে। আমরা তিন জন ই শক হয়ে তাকিয়ে আছি কারণ নূপুরকে যেমন রাগী অহংকারী দেখিছি। সেই মেয়ে যে কাউকে সরি বলবে সেটা মেনে নিতে পারছি না।

নূপুরঃ (আমার হাত নিজএর হাতএর মধ্যে নিয়ে) আমি সত্যি অনেক সরি মোস্তারিনা আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার তো ফ্রেন্ড এর তাইনা বলো আমাদএর যতবার দেখা হয়েছে শুধু ঝগড়াই হয়েছে এজন্য আমি চাই তোমাদএর ফ্রেন্ড হতে ঝগড়া বিবাদ ভুলে যেতে।

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। সত্যি হয়তো ফ্রেন্ড হতে চাইছে আর এটা ও সত্যি আমাদএর যত বার কাছে এসেছি খালি একটা না একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া করেছি। হঠাৎ সুলতানা বলে উঠলো,

সুলতানাঃ একদম না তোকে আমার একদম সুবিধায় ঠেকছে না। কোন তো মতলব আছে বল কি মতলবে ফ্রেন্ড করতে এসেছিস আবার সরি বলছিস তুই তো এতো সহজে সরি বলার মেয়ে না।

সাদিয়াঃ হুম সুলতানা ঠিক বলেছে? তোমার মতলব টা কি বলতো আমাদএর সাথে বন্ধু তো করতে আসলে যে আগে তো খালি ঝগড়ায় লেগে থাকতে।

নিরবঃ দেখছিস নূপুর তুই ভালো ভেবে এলি ওদএর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে আর ওরা এখন তোকে কি ভাবছে। (নূপুরর ফ্রেন্ড)

নূপুরঃ কি হলো মোস্তারিনা কিছু বলো আমি সত্যি তোমাদএর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে চাই!

এতো করে বলাতে আমি আর না করতে পারলাম না। সব মিটমাট করে নিলাম। কিন্তু এতে সুলতানা আমাকে অনেক না করেছে কিন্তু আমি শুনিনি সত্যি যদি সে তার ভুল বুঝে তাকে ক্ষমা করা উচিত ফ্রেন্ড ই হতে চাই করলে প্রবলেম কি?

সুলতানাদএর বললাম আমি পিকনিক যাব না। কারণ পিকনিকে গেলে আশিক এর সাথে দেখা হবে না। কক্সবাজারে যাওয়ায় অনেক ইচ্ছে আমার বলতৃ গেলে সপ্ন কিন্তু আশিক ে থেকে বেশি না।

আর একটা ক্লাস আছে হঠাৎ আসিফ আমার পাশে এসে বসলো। আশিক এর সেই ব্যবহারএর পর আর আসিফএর সাথে কথা বলি নি!

আসিফঃ কেমন আছ মোস্তারিনা?(একটা হাসি দিয়ে)

মোস্তারিনাঃ এইতো ভাল, তুমি এখানে বসলে যে !

আসিফঃ কেন তোমার পাশে কি বসতে পারি না নাকি !

মোস্তারিনাঃ তা পারবে না কেন কিন্তু তুমি তো সামনে ছিলে। সেখানে থেকে পেছনে এসে বসলে যে তাই?

আসিফঃ এমনি তুমি তো আমায় ভুলেই গেছো ফ্রেন্ড মনেই করো না। নাহলে কি আর এক এই কয়দিন এই ভাবে এরিয়ে চলতে পারতে?

মোস্তারিনাঃ (সত্যি এই কয়দিন এক দম কথা বলা হয় নাই) আসলে

আসিফ: আমি সব জানি আমাকে কিছু বলতে হবে না।

মোস্তারিনাঃ মানে !

আসিফঃ আমাকে নিয়ে আশিক জামেলা করছে এইজন্য তুমি আমার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছো। কিন্তু তুমি ওই ছেলেটাকে কিছু বলো না কেন বুঝলাম না। এখন থেকে আমার সাথে কথা বলবে ঘুরবে ও যদি কিছু বলে তোমাকে তাহলে আমাকে বলবে আমি ওই রাসকেল কে দেখে নেবো।

মোস্তারিনাঃ দেখে নেবে মানে?

আসিফঃ ওর এমন অবস্থা করবো যে তোমার দিকে তাকাতে পারবে না।

মোস্তারিনাঃ তুমি আশিক কে কিছু বলবে না বুঝছো?

আসিফঃ কেন বলবো না ওর জন্য তোমার সাথে আমি সময় কাটাতে পারি না।

আসিফএর সাথে কথা বলছিলাম হঠাৎ স্যার আসায় আর কিছু বলতে পারলাম না। ছুটির পর আমি আর নূপুর কথা বলতে বলতে যাচ্ছি। সুলতানা রেগে চলে গেছে কিন্তু একজন সরি বলেলে তো তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু সে কেন যে মানসে না। গেটএর বাইরে এসেই দেখি আশিক আর রাহাত ভাই দাড়িয়ে আছে।

আজ আমি ভালো করে খেয়াল করলাম আশিক কে একদম হিরোর মতো এটিডিউট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা শার্ট, কালো পান্ট, চোখে সানগ্লাস , হাতে ঘড়ি, গালে খোচা খোচা দাড়ি, গায়এর রং একদম ফর্সা। এতো সুন্দর লাগছে আমার চোখই সরছে না। এর আগে অনেক বার দেখেছি কিন্তু কখনো এতো ভালো করে দেখেনি আজ কেন জানি নিজএর একজন ভেবে দেখতে ভালো লাগছে।
আমাকে দেখেই চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে হাতে নিয়ে আমাকে হাই জানালো হাত উচু করে। আমি লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিলাম।

নূপুর আমার থেকে আশিক এর ব্যাপার জিগ্গেস করছে। আমি কিছু বলেছি কিছু বলিনি।

আশিকঃ এতো লেট হলো কেন কখন থেকে ওয়েট করছি জানো। সুলতানা কে জিগ্গেস করলাম সে কিছু না বলেই চলে গেল মনে হলো রেগে আছে!

আমিঃ এই যে আমার নতুন ফ্রেন্ড নূপুর ওর সাথে কথা বলছিলাম তাই একটু দএরি হয়েছে। (নূপুরকে দেখিয়ে)

আশিকঃ (নূপুর না শুনে একটু অবাক হয়েই তাকিয়ে আছে। কারণ ওইদিন সুলতানার থেকে জানতে পএরেছে যার জন্য মোস্তারিনা পায়ে ব্যাথা পেয়ে ছে তার না নূপুর) ওহ এ তোমার ফ্রেন্ড হলো কবে?

নূপুর : (হাত বারিয়ে হাই বলল) হাই,

আমিঃ আজকেই

আশিক একবারে জন্য ও নূপুরর দিকে তাকায় নি। শুধু মোস্তারিনার দিকে তাকিয়ে কথাবলে যাচ্ছে। নূপুর যে হাই বলেছে তাও দেখে নি দেখার চেষ্টা ও করে নি। নূপুর তো রেগে তাকিয়ে আছে আশিক আর মোস্তারিনার দিকে।

নূপুর, আমাকে অবহেলা করা এর শাস্তি তো দুজনেই পাবে (মনে মনে)
হঠাৎ কেউ কথা বলল, তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে।

  • হাই আমি রাহাত!(হাত বারিয়ে)
  • তো আমি কি করবো আমি রাহাত না ফাজু(রেগে)
  • না মানে আপনার সাথে একটু পরিচিত হতে এসেছিলাম। আপনার নামটা অনেক সুন্দর?
  • আমি জানি। মোস্তারিনা(জোরে চিৎকার করে)

আশিক এর সাথে নূপুরকে নিয়ে কথা বলছিলাম। আশিক ও আমাকে নূপুরর সাথে থাকতে মানা করছে আমি তাই নি তর্ক করছিলাম হঠাৎ চিৎকার শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি নূপুর ডাকছে। ও যে এখন ও দাঁড়িয়ে আছে আমি বুঝতেই পারিনি কারণ ওর গাড়ি আছে আমি ভাবছি হয়তো চলে গেছে কিন্তু।

আমি আশিক এর কাছে থেকে ওর কাছে যাচ্ছে আশিক আমার হাত ধরে ফেলল, কি হলো হাত ধরছেন কেন? নূপুর ডাকছে শুনে আসি।

আশিকঃ ওকে চলে যেতে বলো ওর সাথে মিশো না আমার কেন জানি ওই মেয়েকে ভালো লাগছে না। (আমার হাত ধরে নিজএর দিকে ঘুরিয়ে)

মোস্তারিনাঃ ওফ আবার সবার মাঝেই ধরে রেখেছেন ছারেন সবাই কি ভাবছে আর নূপুর ও কি ভাববে বলেন তো? (ছুটানোর চেষ্টা করে)

আশিকঃ যা খুশি ভাবুক আমার তাতে কিছু আসে যায় না।

আমি জোর করে ছারাতে চাইলে কি ছাড়াতে পারি। পারলাম না আশিক কে টেনেই নূপুরর কাছে এসে দাড়ালাম। এখন ও আমার হাত ধরেই রেখেছে কি অসভ্য নূপুর কি ভাবছে কে জানে লজ্জায় শেষ।

আমিঃ সরি নূপুর আমি ভেবেছি তুমি হয়তো চলে গেছো তাই।

নূপুরঃ (মিথ্যা হাসি দিয়ে) ও না আসলে আমি আজ তোমার সাথে যেতে চেয়েছিলাম। আমার গাড়ি আজ আসে নাই?

আমি একবার আশিক এর দিকে তাকালাম সে রেগে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মাথা দিয়ে না করতে বলছে আমি কি করবো আশিক আমাকে নিয়ে যায় কখনো কাউকে সাথে নেয় না। সুলতানা, সাদিয়া ওরা নিজএরাই চলে যায় আমাদএর সাথে যেতে বললে হয়তো আশিক না করতো না কিন্তু ওরাই যায় না। আর রাহাত ভাইয়া, সায়েদ ভাইয়া কে তো নেয়ই না।

আমি এখন কি করে নূপুর কে না করবো যতোই হোক ফ্রেন্ড তো। আশিক কে একটু বুঝাতে হবে।

রাতে
ফোনে
আশিকঃ ওই মেয়েটা তো প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে যায় আজ তাহলে নিলো না কেন। ইচ্ছে করে আমাদএর সাথে এসেছে।

আমিঃ এতো রেগে আছেন কেন একদিনই তো প্রতিদিন কি এমন করবে নাকি।

আশিকঃ করলে আমি কিছু বলবো না ভেবো না।

আমিঃ ওফ আচ্ছা।


পর্ব ৭

আশিক কে বললাম যে আমি পিকনিকে যাবো কিন্তু সে আমার সাথে উল্টো বলল যাও। যাবে না কেন এতো বড় সুযোগ হাত ছাড়া করো না। আমি ভেবেছিলাম সে খুশি হবে আমি যাব না বলে কিন্তু সে যাবো না বলেছি বলে রাগ করলো । তাই রাজি হয়ে গেলাম রেগেই এক প্রকার।

সুলতানাকে ফোন দিয়ে জানাতে হবে নয় আবার বলবে তখন এতো করে যেতে বললাম যাবি পা বললি এখন না বলেই এসেছিস।

_হ্যালো সুলতানা;

_ এই সময় তুই আমি তো ঘুমিয়ে পরেছিলাম। (ঘুমঘুম কণ্ঠে)

_ তোকে একটা কথা বলার জন্য ফোন দিছি।

_ কি কথা বলবি যে এতোরাতে ফোন দিতে হলো। সকালে ও তো বলতে পারতি।

_ তা পারতাম কিন্তু ডিসিশন এখন নিয়েছি তো তাই এখনই বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। কাল আমি ও তোদএর সাথে পিকনিকে যাবো আমার জন্য ওয়েট করিস।

_ কি তুই যাবি (অবাক হয়ে) কলেজে না বললি যাবি না এখন বলসিস যাবি।

_ হুম এখন যাবো এখন রাখছি কাল কথা হবে।

পরদিন

_ আপু আমার জন্য কিন্তু অনেক জিনিস আনবে!(মোস্তারিনার ছোট্ট বোন আলো)

_ আচ্ছা আনবো এখন যেতে দে।

_ আচ্ছা যাও! আর সাবধানে যেও একদম চিন্তা করো না আমি সব করতে পারবো।

আমি আম্মুর সাথে দেখা করে এলাম এখন একটু সুস্থ আম্মু। আমার জন্য এই তিনদিন আলোর কষ্ট করতে হবে। আলো নাইনে পরে। আম্মুকে ভালো করে বলে বএরিয়ে পরলাম।

বাসে উঠে দেখি সবাই উঠে পরেছে পরেছে। সবাই এসে পরেছে আমার আগেই কোথায় বসবো সিট খুজছি সুলতানা কে খুজছি ওকে তো বলেছিলাম আমি যাবো ও নিশ্চয়ই আমার জন্য সিট রেখেছে। কিন্তু আমার সব আশায় জল ঠেলে দিয়ে দেখা দিল সুলতানা কিন্তু সুলতানা আর সাদিয়া বসেছে। একটা সিট ও খালি নাই শেষএর দিকে একটা সিট খালি দেখা যাচ্ছে একটা ছেলে বসে আছে মুখ ঢাকা। ছেলে দেখে বসতে ও মন চাইছে না কিন্তু দাড়িয়ে কিভাবে যাবো।

তাই আর কিছু না ভেবে বসে পরলাম। রুমাল দিয়ে মুখ ডেকে রেখেছে হাতে ফোন কিছু দেখছে আর একটু পর পর জানালা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছে। আমি বসার সময় একটু বেশি ওইদিকে গিয়ে পরেছিলাম তার শরীরএর সাথে একটু ধাক্কা লাগল সে সঙ্গে সঙ্গে আরও চেপে বসলো একটু লজ্জা লাগছে সে নিশ্চয়ই একা বসার জন্য সিট নিয়েছে একটা বিরক্ত হয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি তার চোখ দেখে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে । সেসব বাদ দিয়ে

আমিঃ সরি আসলে গাড়ি চলছে তো তাই ধাক্কা লেগে আপনার সাথে লেগেছে। (ইনোসেন্ট হয়ে)

কিন্তু লোকটা কিছু না বলে স্বাভাবিক ভাবে চোখ ফিরিয়ে নিলো আবার ফোন টাপতে লাগল। আমি ও কিছু বললাম না আর কিন্তু আমার তো ভালো লাগছে না এখানে জানালায় পাশে বসলে ভালো লাগে কিন্তু এই ছেলে যে আমাকে কখনো জানালায় পাশে বসতে দেবে না। ব্যর্থ চোখে একবার তাকালাম প্রথম থেকেই চ। ছেলেটাকে চেনাচেনা লাগছে কোথায় দেখেছি।

আমার পাশে থেকে কেউ ডাক দিলো তাকিয়ে দেখি নূপুর আমার পাশে র সিটে ও একাই আছে। কিছুক্ষণ আগে তো দেখলাম না নূপুরকে তখন তো বাস ভরা ছিলো এখন নূপুরর পাশে খালি হলো কিভাবে।

নূপুরঃ মোস্তারিনা

আমিঃ হুম নূপুর তোমাকে এতোক্ষণ তো দেখলাম না এখানে।

নূপুরঃ আমি দেখেছি তুমি আমাকে খেয়াল করো নি।

আমিঃ না আমি ভালো করেই দেখেছি তোমাকে দেখি নি দেখলে তো তোমার পাশেই বসতে পারতাম।

নূপুরঃ এখন আস।

আমিঃ এখন

নূপুরঃ হুম আস। একসাথে বসে গল্প করতে করতে যাই।

আমিঃ ওকে আসছি।

কথা বলেই উঠতে যাবো কিন্তু উঠতে পারছি না কেউ শক্ত করে ধরে আছে। তাকিয়ে দেখি ওই ছেলেটা এখন রাগ উঠছে কি অসভ্য ছেলে এতোক্ষণ কতো ভালো সেজে ছিল আর এখন গায়ে হাত দিচ্ছে। আশিক যদি থাকতো এর হাত আজ ভেঙে দিতো (রেগে তাকিয়ে)

আমিঃ কি ব্যাপার আপনি আমাকে এভাবে ধরে আছেন কেন ছারেন। এটা কেমন অসভ্যতামী মেয়েদএর গায়ে হিয় দিচ্ছেন কেন। (হাত সরানোর চেষ্টা করছি কিন্তু ছারছে তো নাই উল্টো আরও কাছে টেনে নিল।

আমিঃ কথা বলছেন না কেন ছারুন বলছি।

হঠাৎ ছেলেটা মুখ থেকে রুমাল টা খুলে ফেলল আর আমি ৪৪০ ভোল্টেজএর শক খেলাম। সত্যি কল্পনা ও করি নি এই মানুষটা এখানে থাকবে। হা করে তাকিয়ে আছি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

আশিকঃ কি হলো ম্যডাম আপনি হা করে আছেন কেন খুব বেশি শক খেলেন নাকি। (আমার হা করা মুখ জুবিয়ে দিয়ে)

আমিঃ আপনি এখানে কেন?

আশিকঃ কেন তুমি খুশি হও নি আমাকে দেখে।

আমিঃ আমার প্রশ্নএর উওর দেন!

আশিকঃ কি উওর দেবো বলোতো। তুমি যেখানে আমি ও তো সেখানেই যাবো তাই না। তোমাকে কি একা ছারতে পারি বলো। (কথা গুলো আমার গালে হাত দিয়ে বলছিল)

আমিঃ (আমি ঠাস করে হাত সরিয়ে দিলাম) একদম টাচ করবেন না। কাল আমাকে বললেন না কেন আপনি ও যাবেন।

আশিকঃ সারপ্রাইজ দেবো বলে জান এখন এতো রাগ করো না তো এই সময় টা ইনজর করো। (বলেই আমাকে জরিয়ে ধরলো)

আমিঃ ছালুন বলছি ছারুন কোন ইনজয় করব না। আপনি এতো ক্ষণ এখানে ছিলেন তবুও অচেনা দএর মতো করে কি ভাব ফোন টিপে ছোয়া লাগলে বিরক্ত হয়। আর এখন সে জরিয়ে ধরে আছে ছারুন আমাকে। আমি নূপুর র সাথে বসবো।

আশিকঃ চুপচাপ বসে থাকে নয়লে কিন্তু সবার সামনেই চুমু দেব।

আমিঃ অসভ্য, ইডিয়েট এই সব বলতে লজ্জা করে না।

আশিকঃ নাহ আমার লজ্জা বলতে কিছু নেয় তুমি ভালো করে যান তাই ওই সব বলে লাভ নাই চুপচাপ এখানে বসে থাক।

আমিঃ সব সময় জোর না করলে হয় না আপনার তাই না।

আশিকঃ জোর না করলে তুমি কথা শুনার মেয়ে নাকি। সব সময় তো খালি না না করতে থাক।

কি আর করবো এখন যে আর এখানে থেকে সরতে পারবো না জানি তাই নূপুরকে না করে দিলাম। আশিক আমার সিটে বসে পরলো আর আর জানালার পাশে বসলাম। এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে আশিক আমার দিকে সব সময় এতো কি দেখে কে জানে। হঠাৎ আমার চুলএর কাটা খুলে দিলো আমি প্রশ্ন বোধক চোখে তাকালাম।

আমিঃ কি হলো চুল খুললেন কেন?

আশিকঃ ওই ভাবে ভালো লাগছিলো না এখন ভালো লাগছে। (বলেই চুল ছরিয়ে দিল)

আমিঃ ওফ আমার চুল খোলা রাখলে অসহ্য লাগে।


পর্ব ৮

রাজ কি আর মোস্তারিনা কথা কানে নেয়। ও নিজএর মতো চুল নিয়ে খেলা করতে লাগলো। আমি রেগে চুল বাধঁতে গেলে আশিক আমার হাতে আটকে দেয়।

আমি – হাত ধরছেন কেন ছারুন আমার অসহ্য লাগছে;
আশিকঃ আচ্ছা আর ডিসটার্ব করবো না তবুও চুল বেধ না প্লিজ ! (ইনোসেন্ট মুখ করে)

কি আর করবো এতো রিকোয়েস্ট করলে কি না মেনে পারা যায়। আর চুল বাধলাম না জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। একটু পর পর চুল গুলো মুখে উড়ে আসছে আর আমার রাগ হচ্ছে এজন্য আমি কখনো চুল ছেড়ে রাখি না।
বিরক্ত হয়ে চুল সরাতে যাবে তার আগে কেউ সরিয়ে দিল। আশিক আমার চুলে সরিয়ে দিচ্ছে। এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

আমিঃ এতো তাকিয়ে কি দেখছেন বলেন তো?
আশিকঃ আমার জান কে!
আমিঃ এতো দেখার কি আছে এমন ভাবে তাকিয়ে আছেন মনে হচ্ছে আজই প্রথম দেখছেন।
আশিকঃ প্রথম ই তো দেখছি মনে হচ্ছে যত দেখি দেখার তৃষ্ণা মেটে না।

কথা বলতে বলতে হঠাৎ আশিক খেয়াল করলো মোস্তারিনা ঘুমিয়ে পরেছে। কথার মাঝে যে কেউ ঘুমাতে পারে একে না দেখলে বুঝতে না। আশিক মোস্তারিনার মাথাটা টেনে নিজএর বুকএর উপর এনে রাখলো। সব চুল মুখএর উপর এসে পরেছে আশিক মুচকি একটা হাসি দিয়ে চুল গুলো সরিয়ে জরিয়ে ধরে রইল।

এদিকে নূপুর আশিক দর পাশে সিটে বসে ছিলো। এতোক্ষন যা যা হয়েছে সব দেখেছে আর রাগে ফুলছে।
নূপুরঃ আমি ছারবো না এই মেয়েকে?(রেগে)

নিরবঃ নূপুর কি করবি তুই দেখছিস না ওরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে আর আশিক যে ডেন্জারাস ছেলে কিছু তেই তোকে মেনে নেবে না ও মোস্তারিনাকে অনেক ভালোবাসে যা ওর পাগলামো দেখেই বুঝা যায়।

নূপুরঃ আমি কিছু শুনতে চাই না আশিক কে তো আমার চাইই চাই। মোস্তারিনাকে আমি ওর জীবন থেকে সরিয়েই ছারবো।

নিরব: যা কিছু হয়ে যাক আশিক মোস্তারিনাকে ছারবেই না। আমার মনে হয় আগে তো মোস্তারিনা আশিক কে দেখতে পারতো না তখন কি কি না করেছে আশিক আর এখন তো মিলেই গেছে?
নূপুরঃ আশিক না ছারুক মোস্তারিনা তো ছারতে পারে তাই না;

নিরবঃ মানে
নূপুরঃ এতো মানে তোর জানতে হবে না। সময় হলেই জানতে পারবি দেখতে ও পারবি! (বলেই একটা শয়তানি হাসি দিয়ে তাকালো আশিক এর দিকে আশিক ে মোস্তারিনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে)

নূপুর নিরবএর সাথে গল্পে মেতে উঠলো। একজন যে হা করে তাকিয়ে আছে খেয়াল ও করে নি।
সায়েদ উঠে এসে সুলতানা পাশে দাড়ালো সুলতানা কারো উপস্থিতি টএর পেয়ে উপরে তাকিয়ে দেখে হাবলাকানত দাড়িয়ে আছে।
সুলতানাঃ কি

সায়েদঃ (একটা হাসি দিয়ে) তোমরা কি করছো?
সুলতানাঃ কি করছি? (একটু রেগে) দেখসিস না কি করছি এটা জিগ্গেস করতে আসছিস!

সায়েদঃ না আসলে হুম? (কি বলবে বুঝে উঠছে না কারণ সায়েদর খুব কথা বলতে মন চাইছিল তাই চলে এসেছে। এই রক্ত গরম মেয়েকে কি তা বলা যাবে বললে তো আমাকে এখানেই মএরে তকতা বানিয়ে দিবে)
সুলতানাঃ আবার তুই কথা বাদ দিয়ে ভাবতে লাগছিস?

সায়েদঃ সাদিয়া (সুলতানার পাশে সাদিয়া ছিলো সাদিয়াকে উদ্দেশ্য করে)
সুলতানাঃ আবার সাদিয়াকে ডাকসিস কেন?(ভ্র কোচকে)
সায়েদঃ তুমি একটু আমার সিটে বসবে আমি এখানে বসতাম।

সুলতানাঃ তুই এখানে বসবি কেন?
সাদিয়াঃ আচ্ছা
সাদিয়া উঠে যেতে লাগলে সুলতানা আটকে ধরে কিন্তু আটকে রাখতে পারে না কারণ সায়েদ অনেক করে বলে যার জন্য যেতেই হয়। সুলতানা তো নানা কথা বলে বকেই যাচ্ছে।

রাত নয়টার দিকে রিসোর্সে এসে পৌঁছায় সবাই। মোস্তারিনা এখন ও ঘুমিয়ে আছে আশিক কয়েকবার ডাকলো কিন্তু উঠে না তাই আর উপায় না পেয়ে কোলে করে নিয়ে রুমে শুয়ে দিয়ে এলো।


পর্ব ৯

কারো ডাকে ঘুম থেকে ধরফরিয়ে উঠলাম। তাকিয়ে দেখি একটা সুলতানা দাড়িয়ে আছে আমার সামনে। চারপাশে তাকিয়ে দেখি দেখি এটা একটা রুম। আমি রুমে এলাম কিভাবে, আমি তো বাসে ছিলাম। এখানে কখন এলাম একবার চোখ বন্ধ করছি তো আবার খুলছি। আমি কি সপ্ন দেখছি নাকি এতোক্ষণ দেখলাম।

সুলতানাঃ আল্লাহ এই মেয়ে কি পাগল টাগল হয়ে গেল নাকি ! (মোস্তারিনার দিকে তাকিয়ে)
আমি সুলতানার কথার শব্দএর ওর দিকে তাকালাম রেগে। কারণ পাগলটা যে আমাকে বলেছে সেটা বুঝতে পএরেছি।
আমিঃ কি বললি? রেগে

সুলতানাঃ কই কিছু না তো! (না জানার ভাব করে)
আমিঃ আমি এখানে এলাম কি করে আমি তো বাসে ছিলাম। আর আমার পাশে তো আশিক ছিলো ও কই (আশে পাশে খুজার চেষ্টা করে)

সুলতানাঃ তিনি এখানে নেই খুজে লাভ নাই? আর বাসে কি থাকবো নাকি কখন আমার এসে পএরেছি আপনি তো নাক ডেকে তখন ঘুমাচ্ছিলেন!
আমিঃ কিহ আমি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলাম। অসম্ভব আমি নাক ডাকি না বুঝছত?
সুলতানাঃ ভালো এখন উঠে ফ্রেশ হয়ে আয় সবাই খেতে গেছে?

আমিঃ এখানে কিভাবে এলাম আমি?
সুলতানাঃ কিভাবে আর আসবেন ঘুমে তো আর চোখ মেললেন না তাই আমাদএর নায়ক তার নায়কাকে কোলে করে নিয়ে এলো? এবার তারাতারি কর!
আমি: মানে

সুলতানা; তোর আর মানে টানে বুঝতে হবে না তো যা।
আর কিছু বলতে পারলাম না জোর করে বাথরুমে ঢুকিয়ে দিল সুলতানা। কিন্তু আমার তো প্রশ্ন মন থেকে যাচ্ছে না। আশিক আমাকে কোলে করে এনেছে ছি ছি ছি সবার সামনে দিয়ে। কি লজ্জার ব্যাপার, কি ভাবে ঘুমিয়ে পরলাম এখন সবার সামনে কি ভাবে যাব।

নানা কথা ভাবছি বাইরে থেকে সুলতানার আওয়াজ পেয়ে ভাবা বাদ দিয়ে হাত, মুখ ধুয়ে বএরিয়ে এলাম।

আশিক সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে মোস্তারিনার কিন্তু এখন পযর্ন্ত মেয়েটা এসে পৌঁছালো না। আর বসে না থেকে উঠে দাড়ালো এক কদম এগাবে ওমনি সামনে চোখ আটকে গেল।

মোস্তারিনা আসছে সুতি সাদা জামা, নীল পায়জামা নীল ওড়না দিয়ে মাথা ডেকে আসছে। মুখে কোনো সাজ নেয় তবুও অপূর্ব লাগছে দেখতে আশিক হা করে তাকিয়ে আছে মোস্তারিনার দিকে।

মোস্তারিনা একবার তাকিয়ে দেখেছে আশিক এক দৃষ্টিতে তাকে আছে একটু লজ্জা পেয়ে অন্য দিকে তাকালো।
খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই গল্প করতে বসলো।

আশিক জোর করে আশায়াকে ওর পাশে বসিয়েছে। মোস্তারিনা সবার মাঝে বসতে চাইছিল না কিন্তু আশিক কি কথা শুনার মানুষ। সে তো কাউকে কেয়ার করে না।

সবাই কি বলছে কি করছে কোন খেয়াল নেই আশিক এর সে তো আছে মোস্তারিনাকে জালাতে।
একবার চুল এলোমেলো করছে। একবার গালে চুমু দিচ্ছে, হাতে আর মোস্তারিনা কিছু বলতে গেলেই ঠোট দেখাচ্ছে ভয়ে আর মোস্তারিনা কিছু বলছে না।

হঠাৎ কারো ডাক কানে এলো ফিসফিসিয়ে কথা বলছে। গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে চিৎকার করবো কেউ মুখে হাত দিয়ে আটকে ধরলো,
আশিকঃ এতো ভয় পাও কেন আমি। উঠো তারাতারি?

আমিঃ এখন উঠবো কেন আর আপনি এখানে কেন?
আশিকঃ কথা বাদ দিয়ে উঠোতো?

আমিঃ না আমি এখন ঘুমাবো আপনি যান ঘুমান। (বলে ধাক্কা দিলাম যাওয়ার জন্য)
আশিকঃ কিসএর ঘুম সারা রাস্তা না ঘুমিয়ে এলে। এখন উঠো চুপচাপ?

আমিঃ না সুলতানা, সাদিয়া কিন্তু উঠে যাবে এখন যদি ওরা আপনাকে এখানে দেখে কি ভাববে বুঝতে পারছেন। আপনি আসলে কা করে দরজা তো বন্ধ ছিলো।
আশিকঃ আসার কথা পরে বলি এখন উঠো। আর ওরা জাগলে জাগবে আমার কি।
আমি কিছুতেই উঠতে রাজি না শুয়েই আছি। হঠাৎ আমাকে কোলে উঠিয়ে নিলো। আমি তো নামার জন্য ছটফট করছি কিন্তু সে কি নামানোর কিছু তেই কিছু করছে। আমি ও হাল ছারছি না।

আশিকঃ আছাড় দেবো কিন্তু আর একটু নরলে
আমি ভয়ে আর নরলাম না। ছাদে এনে আমাকে দোলনায় বসিয়ে নিজেও বসে পরলো। আমি রেগে অন্য দিকে তাকিয়ে আছি। আশিক আমার মুখটা ধরে নিজএর দিকে ঘুরালো,

আশিকঃ রাগলে কিন্তু তোমাকে আর ও বেশি কিউট লাগে।
আমি আবার অন্য দিকে তাকালাম আশিক আমার মুখটা আবার নিজএর দিকে ঘুরিয়ে আমার কপালে চুমু দিয়ে বসলো। আমি আগুন চোখে তাকিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম।
আশিকঃ ওফ ব্যথা পেলাম;
আমিঃ ভালোই হয়েছে?

আশিক ; কি বললা
বলেই আমার কাছে এসে বসে নিজএর সাথে জরিয়ে ধরলো। তারপর উপরএর দিকে মুখটা উচু করে ধরলো। আর আমি আশিক এর দিকে মুগ্ধ হয়ে গেলাম এতো সুন্দর একটা চাদঁ উঠেছে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। ঠান্ডা বাতাস এসে ছুয়ে যাচ্ছে আশিক পেছনে থেকে আমাকে জরিয়ে ধরে আছে মুহূর্তটা আমার জীবনএর চেষ্ট সময় লাগছে এতোভ ভালো লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না।


পর্ব ১০

আশিকঃ আমার অনেক দিনএর ইচ্ছে ছিলো যাকে ভালোবাসি তার সাথে রাতএর সৌন্দর্য অনুভব করবো। আজ আমার সেই আশা টা সত্যি হলো মোস্তারিনা।

বলেই আশিক আমার গালে চুমু দিয়ে বসলো। আমি চাঁদ দেখা বাদ দিয়ে রেগে আশিক এর দিকে তাকালাম।
আশিকঃ কি হলো আবার এভাবে তাকাও কেন জান?

আমিঃ আপনি আসলেই (কথা কএরে নিয়ে)
আশিকঃ থাক জান আর বলা লাগবো না। এতো রাগ করো কেন খালি আমি তো তোমার আদর করি তুমি তো নিজে থেকে করোই না আমি করলেও রেগে থাকো।

আমিঃ আমার এতো আদর ভালোবাসার দরকার নেই। আপনি দূরত্ব রাখলে ভালো হয়।
আশিকঃ তুমি আসলেই আনরোমান্টিক!

আমিঃ আমার এতো রোমান্টিক হয়ে কাজ নাই। এখন আমি রুমে যাব আর আটকাবেন না।
আশিকঃ কেন তোমার কি এখানে আমার সাথে ভালো লাগছে না।

আমিঃ লাগছে কিন্তু এখন আমি সময় টা উপভোগ করতে চাই না।
আশিকঃ কেন

আমিঃ এতো কেনর উওর দিতে পারবো না। আপনি ও শুয়ে পরেন যান।
আশিক কে আর কিছু বলতে না দিয়ে সিরির দিকে যেতে লাগলাম। আশিক ও দৌড়ে আসলে আমার পাশে হাটতে লাগল।

পরদিন সকালে,

সুলতানা বাইরে এসে দাড়াল হঠাত ঝড়এর গতিতে পাশে এসে দাড়ালো সায়েদ। সায়েদ এসেই জামা কাপড় ঠিক করছে আজ অনেক অন্য রকম লাগছে সায়েদ কে ড্রেস আপ ভালো পরেছে বএরাতে এসেছে দেখে মপে হয়।
সায়েদ একটু অবাক হয়েছে সব সময় সুলতানা তো তাকে ধারএর কাছে দেখলে ও বকতে থাকে কিন্তু আজ কিছু বললো না স্বাভাবিক ভাবে তাকিয়ে থেকে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলো।

সায়েদঃ কি ব্যাপার তোমার কি মন খারাপ?
সুলতানাঃ (ভ্র কোচকে তাকিয়ে) কেন?
সায়েদঃ না মানে কিছু বললে না যে সব সময় তো ঝগড়া করো?
সুলতানাঃ কি আমি ঝগড়া করি (রেগে)

সায়েদঃ না মানে ঐ আর কি
সুলতানাঃ তোর সাহস হলো কি করে আমাকে ঝগড়াটে বলছিস। তোকে তো আমি আজ (বলেই মারতে আসে)
সায়েদ বেচারা কি বলতে কি বললো এখন আবার ঝগড়া দৌড়ে আশিক এর সামনে এসে হাপাচ্ছে।
আশিকঃ কি রে এভাবে দৌড়াচ্ছিস কেন?(ভ্র কুচকে)

সায়েদঃ ভাই কি ডেন্জরেস মেয়ে এ আমাকে কখনো মানবে না। কথা বললেই খালি তএরে আসে? (অসহায় মুখ করে)
আশিকঃ মেয়এরা এমন ই চিন্তা করিস না ঠিক মানবে তার আগে প্রপোজ তো কর?

সায়েদঃ আমার তো ভয় লাগে প্রচুর আমি প্রপোজ টপোজ করতে পারুম না ভাই।
আশিক আর কিছু বলতে পারল না সায়েদ দৌড়াচ্ছে কারণ সুলতানা এদিকেই আসছে।

নূপুর আর নিরব বাইরে আসছিল হঠাৎ দেখলো আশিক একা দাড়িয়ে আছে। আশেপাশে দেখলো নাহ মোস্তারিনা নাই এই নিরব কে বলে ই একাই আশিক এর কাছে গিয়ে পরে যাওয়ার মতো করে চিৎকার করলো । কেউ একজন ধরে ফেলেছে নূপুরকে নূপুর তো আশিক ভেবে খুশি যে আশিক ওকে ধরেছে ইচ্ছে করে চোখ বুজে আশিক কে ভালো করে ধরলো গলা। খুশি হয়ে চোখ খুলেই ৪৪০ ভোল্টেজএর শক খেয়ে দিলো এক চিৎকার,

এদিকে সুলতানা, সাদিয়া নিরব সবাই এখানেই ছিলো সব দেখছিলো এমন চিৎকার কেন করছে বুঝতে পারছে না কারণ। কাউকে পরে যাওয়া থেকে র্বচালে সে এতো রাগে কেন এটাই কেউ বুঝছে না নিরব তো সব বুঝেছে কারণ নূপুর তো ইচ্ছে করে পরেছিলো যাতে আশিক ধরে নেয়। কিন্তু এখানে তো আশিক না রাহাত ধরে আছে নূপুর কে আর এটা দেখেই চিৎকার করে উঠেছে নূপুর।

মোস্তারিনা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দেখে সবাই জরো হয়ে আছে। কি হয়েছে দেখার জন্য এগিয়ে আসে সবাই চুপ তাই সুলতানাকে জিগ্গেস করে,

আমিঃ কি হয়েছে রে সুলতানা সবাই এভাবে দাড়িয়ে আছিস কেন?
সুলতানাঃ আমি ও কিছু বুঝতে পারছি না এই মেয়েটার হয় কি মাঝে মাঝে। এই তো পরে যাচ্ছি লো রাহাত তাকে ধরে বাচালো আবার তাকে দেখে চিৎকার করছে। নেকামু সহ্য হয় না আমার এসব।

নূপুর নিরব কে নিয়ে চলে গেল। মনে হয় অনেক রেগে আছে কিন্তু কেন।


পর্ব ১১

বাসর ঘরে বসে আছি এমন কি করবো সত্যি চাইনি। আশিককে মন থেকে ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু ও আমাকে ঠকিয়েছে তাই তো অন্য কাউকে বিয়ে করতে হলো।

এটা করা দরকার ছিলো নয় আশিক আমাকে আর ও ডিসটার্ব করতো। একটা কথা ভেবে পাচ্ছি না ও আমাকে ভালো না বাসলে এই একমাস কেন পেছনে পেছনে ঘুরলো আর ভালোবাসলে কেন ই বা নূপুরর সাথে না না আর ভাবতে পারছি না চোখ দিয়ে অজরে পানি পরছে।

কেন আশিক কেন এমন করলে কেন। তোমার জন্য আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে রাগএর মাথায় বিয়ে টা করেই ফেললাম কিন্তু এখন আমি কি ভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া। কার সাথে বিয়ে হয়েছে তাও জানি না তাকে দেখি ও নি বাবা অনেক বার দেখা করতে বলেছে কিন্তু আমি পা করে দিয়েছে। কারণে আশিক এর জায়গা কাউকে দিতে পারবো না।

আশিক এর ওই ব্যবহার আর নূপুরর সাথে রিলেশনএর কথা শুনে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর নিজেই সরে আসি আশিক ে জীবনে থেকে।

কিন্তু অবাক করা বিষয় আশিক ে আবার আমাকে জালানো শুরূ করলো না। নূপুরকে যেহেতু ভালোবাসে তাহলে আমাকে কেন তাই বাবাকে বিয়এর কথা বলি বাবা আমাকে অনেক বার বলেছে বিয়এর কথা হঠাৎ আমি বলাতে রাজি সাথে খুশি ও ছিলো।

হঠাৎ দরজায় শব্দে ভাবনা বাদ দিয়ে জরোসরো হয়ে বসলাম। বুকএর ভেতরে টিপটিপ করেছে কি করবো এখন আমি অন্য একজনএর সাথে কি করে মানিয়ে নেবো। ভালোবাসি একজনকে আর থাকতে হবে অন্য একজনএর সাথে না আমি কিছু তেই পারবো না।

মাথা নিচু করে কথা গুলো ভাবছিলাম হঠাৎ একটা কণ্ঠ শুনে শক হয়ে উপর তাকালাম,

আশিক আমার সামনে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে কিছু বুঝতে পারছি আশিক এখানে কি করছে। ওর রাগ দেখে তো আমি ভয়ে শেষ। শেষ এই রাগ আমি আসিফএর সাথে মিশেছিলাম বলে দেখিয়েছি আজ আবার সেই রাগী ফেস।

আমিঃ আশিক আপনি এখানে?(ভয়ে ভয়ে)

আশিকঃ কেন কি ভেবেছিলি আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবি। কিন্তু এই আশিক যত দিন বেচে আছে তা কোন দিন পূর্রণ হবে না। তুই শুধু এই আশিক এর আর কারো না।

আমিঃ মানে কি

আশিকঃ মানে খুব সহজ তুই আমাকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চেয়েছিলি কিন্তু তোর আসা পূরণ হয় নাই বিয়ে তো আমার সাথে হয়েছে।

আশিক এর কথায় বুঝতে পারলাম ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে কিন্তু।

আশিকঃ এতো ভেবে লাভ নেই তুই আমাকে বিশ্বাস না করে খুব ভুল করেছি। আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিস তার জন্য তোকে শাস্তি পেতেই হবে।

আমার মাথা কিছু ই ঢুকছে না কিভাবে কি হয়েছে সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। আশিক আর কিছু না বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দিল। নিজে ও ঝাপিয়ে পরল আমার উপর। আমি বারবার বলছি প্লিজ আশিক আমি এসবএর জন্য প্রস্তুত নয় কিন্তু আশিক কোন কথা না শুনে আমার ঠোট নিজএর মাঝে নিয়ে নিলো।

এটা আশিক এর ভালোবাসা না রাগ এতো কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি র সহ্য করতে না পএরে আমি জ্ঞান হারালাম।


পর্ব ১২

রাত দুই টা বাজে আশিক মোস্তারিনার হাত ধরে বসে আছে। মোস্তারিনার জ্ঞান নাই এখন আশিক এর খারাপ লাগছে কিন্তু এটা করা দরকার ছিলো এতো ভালোবাসা দিলাম তবুও সামান্য বিশ্বাস করতে পারলো না ভুল বুঝে চলে যেতে চাইলো কি ভাবে ও কি জানে না আমি ওকে ছাড়া এক মূহুর্তে ও থাকতে পারবো না। আজকএর পর আর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মুখে আনতে পারবে না।

আশিক মোস্তারিনার মুখএর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। কি করে অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হলি তুই। আমার কথা কি একবার ও মনে হয়নি তোর। আশিক এর চোখ দিয়ে ও পানি পরছে। মোস্তারিনাকে দেখে খারাপ লাগছে তাকানো যাচ্ছে আমার জন্য এই অবস্থা কিন্তু আমি কি করবো ও তো আমাকে রাগী য়ে দিয়েছিল।

উঠে গিয়ে ঔষধ এনে কামুরএর জায়গায় দিতে লাগল। তারপর মুখে পানি ছিটা দিতে লাগল, মোস্তারিনা নরে উঠলো।

আশিকঃ তুমি ঠিক আছ জান।

গালে হাত দিয়ে
মোস্তারিনা চোখ খুলে সামনে আশিক কে দেখে ওর সামনে বসে আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আশিক এর কথা শুনে সেই সময়এর কথা মনে পরে আর ঝারি দিয়ে হাত সরিয়ে দএর।

মোস্তারিনা- ডোন্ট টাচ মি?

আশিকঃ মোস্তারিনা এভাবে চিৎকার করছো কেন।

মোস্তারিনা- আমাকে একদম ছুবেন না আপনি। এটাই তো চেয়েছিলেন আপনি আমার শরীর তাই না এখন তো পেয়ে গেছেন আর আমাকে ডিসটার্ব করবেন না। এটাই আপনার ভালোবাসা তাই না (বলেই কান্না করতে লাগল)

আশিকঃ মোস্তারিনা এসব কি বলছো আমি তোমার শরীর, এটা তুমি বলতে পারলে

মোস্তারিনা- হুম পারলাম যা সত্যি তা বলতে সমস্যা কি। আপনি আমাকে ভোগ করার জন্য।

আশিকঃ আর একটা বাজে কথা শুনলে তোকে আমি

মোস্তারিনা- আমাকে কি মএরে ফেলবেন ফেলেন।

মোস্তারিনা আশিক এর হাত নিজএর গলায় নিয়ে। আশিক ে হাত সরিয়ে ঠাস করে গালে চর বসিয়ে দেয়।

আশিকঃকেন তুই আমার ভালোবাসা বুঝছিস না কেন আমি শুধু তোকে ভালোবাসি আর কাউকে না।

বলেই মোস্তারিনাকে জরিয়ে ধরলো। মোস্তারিনা ছুটানোর চেষ্টা করছে পারছে না।

মোস্তারিনা – তাহলে নূপুর

আশিকঃ আবার নূপুর কিসএর নূপুর আমি কেন ওকে ভালোবাসতে যাবো আমি তো শুধু

মোস্তারিনা- থাক আর মিথ্যে বলতে হবে না। আমি সব জানি শুধু মাঝখানে আমার জীবনে টা কেন নষ্ট করে দিলেন।

আশিকঃ তুই আমাকে কেন বিশ্বাস করছিস না।

মোস্তারিনা- যেটা সত্যি সেটা বিশ্বাস আমি করেছি।

আশিকঃ ভুলটা করেছিস সময় মতো ঠিক বুঝবি। এখন ঘুমা কথা বাদ দিয়ে।

বলেই আশিক মোস্তারিনাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো। মোস্তারিনা ছুটার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারে নি।

পরদিন,

দরজায় ধাক্কায় মোস্তারিনার ঘুম ভেঙে যায় ঘরি তে তাকিয়ে দেখে আটটা বাজে তারাতারি উঠেতে গেলে আশিক কে খেয়াল করে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে আছে। আশিক দিকে তাকালাম কতো সপ্ন ছিলো সকালে আগে আমি উঠেওর মুখটা দেখবো কিন্তু আজ কালএর ব্যবহারএর পর আর দেখতে মন সেই ফিলিংস আসছে না।

আশিক নূপুরকেই ভালোবাসলে আমাকে কেন বিয়ে করলো আমি তো ওদএর জীবন থেকে চলে যাওয়ার জন্য ই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম।

না চাইতে ও আশিক এর মুখে আমার হাত চলে গেল। দ্রুত সরিয়ে উঠে দাড়ায়ে বাথরুমে চলে গেলাম। কতো বেলা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই সবাই বলছে নতুন বউ কতো ঘুমায়। ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে আয়নার সামনে দাড়ালাম আর আতকে উঠলাম, এভাবে সবার সামনে যাবো কি করে।

ঠোঁট কেটে গেছে এই জন্যই তো ব্যাথা করছিল গলায় কামরএর দাগ দেখা যাচ্ছে। এভাবে সবার সামনে কি করে যাবো হঠাৎ পেছনে থেকে কেউ জরিয়ে ধরলো,

আশিকঃ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কি ভাবছো জান।

মোস্তারিনা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, বলছি না আমাকে ছুবেন না।

আশিক আবার কাছে এসে, ছুয়ার কি কিছু বাদ রেখেছি যে মানা করছো আর তুমি ভাবলে কি করে আমি তোমার কথা শুনবো।

বলেই আবার মোস্তারিনাকে কোমর জরিয়ে কাছ টেনে নিলো। তারপর ঠোটে হাত দিয়ে বলতে লাগল, এখন ও কি ব্যাথা করছে।

মোস্তারিনা রেগে কথা বলছে না আর বললেই কি শুনবে। আবার দরজায় ঠোকা পরলো মোস্তারিনা আশিক এর থেকে নিজেকে ছারিয়ে দরজা খুলে বএরিয়ে গেল। আর আশিক হা করে তাকিয়ে আছে তার যাওয়া দিকে।


পর্ব ১৩

মোস্তারিনা দৌড়ে বাইরে এসেছে ঠিকই কিন্তু এখন সবার সামনে যাবে কি করে। সবাই তো লজ্জা দেবে শাড়ির আচলঁ দিয়ে মাথা ঢেকে নিলো এখন বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু ঠোঁট তো আর ঢাকা যাবে না কি করব এখন কথা গুলো ভাবছিলাম।

হঠাৎ পেছনে থেকে কেউ ডেকে উঠলো,
তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে কোলে একটা বাচ্চা ও আছে একদম ছোট আমার সামনে এসে হেসে উঠল, আমি তো তাকে চিনি না তাকিয়ে আছি।

  • আমি সোনিয়া আশিক এর ডাবি।

আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি আশিক ে ভাই আছে ও তো বলেছিল ওর ভাই নাই ও একা।

  • এতো অবাক হচ্ছো কেন আমি আশিক এর মামাতো ভাইয়এর বউ। এ তোমার ঠোঁটে কি হয়েছে গো কেটে গেছে দেখছি।

ওনার কথা শুনেই আতকে উঠলাম। ঠোঁটে হাত দাঁড়িয়ে আছিএই ভয় টাই পাচ্ছি লাম এখন কি বলবো।

  • আসলে
  • থাক বুঝেছি আর বলত হবে। ঔষধ দিয়েছো

আমি না জানালাম। ভাবিটা আমাকে নিজএর রুমে থেকে ঔষধ এনে লাগিয়ে দিলো। ভাবির সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম ভাবি অনেক মিশুক আর ভালো।

নিচে বসে আছি আশে পাশে থেকে অনেকে দেখতে এসেছে সবাই নানা কথা বলে যাচ্ছে।

এক ঘন্টার বেশি সময় তাদএর সামনে থাকতে হলো তার পর শাশুড়ি মার সাথে বলে কাজ করতে গেলাম সে কি যেন বুঝে আমাকে আবার ঘরে পাঠিয়ে দিল আমি তো সেই খুশি কারণ আমার প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছিল।

আমি মানা করে ছিলাম কিন্তু জোর করে বলল যেতে আমি ও আর কথা না বারিয়ে রুমে চলে আসি। এসে দেখি আশিক আবার ঘুমিয়ে পরেছে।

খাটএর মাঝ খানে শুয়ে আছে আমি একবার ডাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেন জানি কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না তাই না ডেকেই এক পাশে জরোসরো হয়ে শুয়ে পরলাম। হঠাৎ একজোরা হাত আমার কাছে টানতে লাগল।

আমিঃ আপনি ঘুমাননি

আশিকঃ ঘুমিয়ে ছিলাম তোমার জন্য আবার জেগে গেলাম (বলেই আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে)

আমিঃ ওফ ছারুন

আশিক আর ও শক্ত করে জরিয়ে ধরে মাথা দিয়ে না জানাল।
আমি ছুটার চেষ্টা করে ও ছুটতে পারছি না।

আশিকঃ নরা নরি করলে কি আবার

বলেই নিজএর ঠোঁট আমার দিকে এগিয়ে আনে আমি ওর মতলব বুঝে ঠোঁটে উপর হাত দিয়ে ধরি। আশিক আমার গালে চুমু দেয় তারপর হাত সরিয়ে ঠোঁটে কাছে যেতে গেলেই আমি আমার মাথা আশিক এর বুকএর কাছে নিয়ে জরিয়ে ধরি।

আমিঃ আচ্ছা আর নরবো না।

আশিক নিজএর উদ্দেশ্যে সফল হয়ে মুচকি হেসে নিজে ও জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরে।

পরদিন,

আজ বৌভাতএর অনুষ্ঠান। অনেক আত্মীয় সজন আসছে পার্লার থেকে লোক এসে আমাকে সাজিয়ে দিয়ে গেছে আমি রুমে বসে আছি হঠাৎ আশিক এলো রুমে।

নীল কালারএর শএরোয়ানি পরেছি এমনিতেই ফর্সা তার মধ্যে নীল রং অনেক সুন্দর লাগছে আমি হা করে তাকিয়ে আছে।

আশিকঃ কি দেখছো

আশিক এর আওয়াজ পেয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলাম।

আশিকঃ এই চোখ সরালে কেন দেখো আমি কি দেখতে মানা করছি নাকি।

আমিঃ অন্যএর জিনিস আমি দেখি না।

আশিকঃ আবার সেই কথা।

বলেই রেগে আমার হাত মুচরে ধরে আমি ব্যাথায় আহ করে উঠি।


পর্ব ১৪ (শেষ পর্ব)

আশিক ছারুন আমার লাগছে ছুটাছুটি করে।

আশিকঃ আমার ও লাগছে এইখানে। (হাত দিয়ে বুকএর মাঝে দেখিয়ে)

আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি আশিক এর দিকে ওর কথা গুলো আজ অন্য রকম লাগছে কোন রাগ নেই। স্বাভাবিক ভাবেই বুঝাতে চাইছে। আশিক এর চোখএর দিকে তাকিয়ে আছি না এই চোখ মিথ্যে বলতে পারে না।

ওর চোখ ছলছল করছে। কিন্তু তাহলে ওই ছবি গুলো কিছু মাথায় আসছে না।

আচমকা আশিক আমার ঠোঁট নিজএর ঠোঁটএর মাঝে নিয়ে নিলো আমি আর র্বধা দিলাম না আবেশেই চোখ বন্ধ করে রইলাম। হঠাৎ কারো কথায় দুজনেই দুজনএর থেকে সরে দাড়ালাম। তাকিয়ে দেখি সোনিয়া ভাবি।

ভাবিঃ আমি কি ভুল সময় এসে পরলাম নাকি।

আমিঃ (আমি তো লজ্জা মরে যাচ্ছি ছি ছি ওনি কি ভাবছে)

ভাবিঃ ভুল সময় আসলে ও কিছু করার নেই। এখন রোমান্স না করে নিচে আস তারাতারি।

ভাবি বলেই চলে গেল। আমি উল্টো দিকে ঘুরেই আছি। আশিক পেছনে থেকে আবার জরিয়ে ধরলো আমি সরিয়ে ফিরে তাকালাম।

আমিঃ আবার

আশিকঃ তুমি আমাকে বিশ্বাস করেছো তো। (অসহায় মুখ করে)

আমি কিছু না বলে তাকিয়ে আছে। আশিক কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমার হাত ধরে হাটতে লাগল।

আমরা নামার সাথে সাথে সব লাইট বন্ধ হয়ে গেল। একটা লাইট শুধু আমাদএর দিকে ধরা হলো আশিক আমার হাত ধরেই স্টেজে নিয়ে বসালো এবং নিজেও বসলো।

তবুও হাত ছাড়ে নাই সেই ভাবেই ধরে রেখেছে। সবাই আমাদএর দিকে তাকিয়ে আছে নিশ্চয়ই হাত এভাবে ধরে রাখার জন্য।

আমিঃ আমার হাত ছারুন সবাই তাকিয়ে আছে কিভাববে।

আশিকঃ আই ডোন্ট কেয়ার?

আমিঃ ছারুন প্লিজ

আমি হাত ছুটানোর চেষ্টা করছি আর আশিক আর ও ভালো করে হাত ধরে নিলো রাগী ভাবে আশিক এর দিকে তাকালাম।

আমিঃ সব সময় আপনার জালাতন আমার অসহ্য লাগে। ছারুন আমাকে।

বলে জোর করে ছারিয়ে নিলাম আশিক ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইছিল আমি অন্য দিকে তাকিয়ে যাই। আশিক আমার পাশে থেকে উঠে যায়। আমি দেখি কিন্তু তেমন কিছু ভাবি না।

সব আত্মীয় সজন রা এসে কথা বলছে আর আশিক ে কথা জিগ্গেস করছে। আমাদএর বাড়ি থেকে ও সবাই চলে এসেছে আমার ছোট বোন তো দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে কান্না করা।

সবার সাথে হাসি মুখে কথা বললাম সবাই শুধু আশিক এর কথা জিগ্গেস করছে কোন যন্ত্রণায় পরলাম। অনেক ক্ষণ হয়ে গেছে আশিক ে কোন খবর নেই।

হঠাৎ কাউকে দেখে চমকে গেলাম নূপুর এসেছে এখানে। সোজা আমার কাছে এসে কথা বলতে লাগল

নূপুরঃ হাই মোস্তারিনা কেমন আছ।

আমিঃ ভালো তুমি

নূপুরঃ আমি কি করে ভালো থাকবো মোস্তারিনা আশিক আর আমি দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু আশিক ে পরিবারএর তোমাকে বিয়ে করার জন্য জোর করেছে।

আমি তো আশিক কে একটু বিশ্বাস করতে যাচ্ছিলাম এখন আবার এসব শুনে অবাক হয় নূপুরর দিকে তাকালাম। কি জোর করেছে কিন্তু আশিক এর ব্যবহার তো তা বলছে না ওফ আমি কাকে বিশ্বাস করবো। নূপুর অনেক কথা বলে আমার কাছে থেকে চলে গেল।

আশিক নূপুরকে ভালোবাসলে আমার সাথে তাহলে কেন করলো। কিছুই মাথায় ঢুকছে না পরিবারএর জোর করেছে। স্টেজে থেকে উঠে দাড়ালাম রুমে যাওয়া জন্য আশেপাশে আশিক কে খুজলাম কিন্তু নাই কোথায় গেল। সিরি কাছ এসে কারো কথায় থেমে গেলাম। নূপুর কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। ও যে আমাকে মিথ্যে বলেছে সেগুলোই বলছে।

  • এতো কিছু করে ও মোস্তারিনাকে আশিক ে জীবন থেকে সরাতে পারলাম না। বিয়েটা করে ই ফেলল কিন্তু আমি ওদএর সুখী হতে দেবো না তাই তো মোস্তারিনাকে

আর কিছু বলতে দিলাম রাগী আমি মাথা ফেটে যাচ্ছে সজোরে চর বসিয়ে দিলাম নূপুর গালে।

আমিঃ এভাবে আমাকে ঠকালি কেন কি ক্ষতি করেছি তোর।

নূপুর; তুই আমায় চর দিলি আর কি ক্ষতি কোন ক্ষতি করিস নি কিন্তু আমি আশিক ে কে ভালোবাসি আর ওকে চাই।

আমিঃ কিন্তু আশিক তোকে ভালোবাসে না জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

নূপুরর সাথে ঝগড়া করে এসে রুমে বসে আছি। এখন ছয়টার মতো বাজে আশিক ে কে আর দেখি পি কোথায় গেল রাগ করে চিন্তা হচ্ছে কিন্তু কাউকে বলতে ও পারছি না।

চুপ করে বসে আছি আজ আমাদএর বাড়ি যাওয়া কথা ছিলো আশিক নেই তাই যাওয়া হলো না সবাই অনেক খুজেছে আশিক কে কি পাই নি রাহাত আর সায়েদ ভাইয়া ও যানে না কোথায় আছে তারা খুজতে গেছে।

রাত দশটার দিকে আশিক বাড়িতে আসে এসেই ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পরতে নেই আমার দিকে একবার ও তাকায় নি। অনেক কষ্ট দিয়েছি আমাকেই রাগ ভাঙাতে হবে। আশিক শুতে যাবে আমি ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম ও অবাক হয়ে তাকিয়ে।

আশিকঃ কি হলো সামনে এসে দাড়ালে কেন। তুমি তো চাও আমি যেন তোমাকে টাচ না করি এখন তাহলে এমন করছো কেন।

আমিঃ সরি

আশিকঃ কেন সরি কেন

আমিঃ তোমাকে ভুল বুঝার জন্য।

আশিক (অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে) মানে

আমি সব খুলে বললাম আশিক কে। সব শুনে ও আমাকে সরিয়ে দিলো।

আমিঃ কি হলো সরিয়ে দিলে কেন।

আশিকঃ তো কি করবো এখন বলবে কিছু ছি দেখাবে আর তুমি তা বিশ্বাস করলে কি করে। আমি তোমার জন্য কি কি না করেছি তুমি ভাবলে কি করে আমি ওই মেয়েকে ভালোবাসতে পারি কি করে ভাবলে।

তোমার আমাকে সব জানানো উচিত ছিলো কিন্তু তুমি তো নিজ শুনে বিশ্বাস করে আমাকে ছেড়েচলে যেতে চাইলে। একবার ও কি মনে হয়নি আমি কি করে থাকবো তোমাকে ছাড়া।

আমিঃ সরি আমার ভুল হয়ে গেছে আর এমন ভুল হবে না।

আশিক তবুও মানছে না। রাগ যে ভালোই করেছে বুঝা যাচ্ছে।

আমি ও ছেড়ে দেওয়ার পাএী না আমি জানি কি করে ওর রাগ ভাঙাতে হয়। আশিক সামনে গিয়ে আচমকা ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম।

আশিক এর দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ও যে কল্পনা না করে নি এমন কিছু করবো প্রথমে সারা পা দিলেও পরে আমি ছেড়ে দিতে গেলে নিজেও। সব রাগ এতে মাটি হয়ে যায়। আশিক কে জোর করে ছারিয়ে জরিয়ে ধরি।

আমিঃ সরি মাফ করে দাও প্লিজ।

আশিক আর মাথা বুকে থেকে উঠিয়ে, কি বললে

আমি: কই

আশিকঃ তুমি করে বললে।

আমিঃ হুম বলেছিলাম না বিয়এর পর তুমি করে বলবো।
আশিক এর মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে ও অনেক খুশি হয়েছে আবার আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরলো এতো জোরে চেপে ধরেছে যেন ছেড়ে দিলে পালিয়ে যাব।

আশিকঃ তোকে অনেক ভালোবাসি জান। প্লিজ কখনো ছেড়ে যাস না তাহলে বাচতে পারবো না।

আমি; আমি ও কখনো ছেড়ে যাব না।

আশিকঃ আই লাভ ইউ জান

আমিঃ লাভ ইউ টু

আশিক মোস্তারিনাকে কোলে তুলে নেই। সব রাগ অভিমান শেষ। এখন শুধু ভালোবাসা সুখে থাক মোস্তারিনা আশিক ভালো থাকুন।

সমাপ্ত

জোরপূর্বক ভালোবাসা
লেখিকা – আশিয়া নুর

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই “সুন্দর প্রেমের গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আরো পড়ুন – টিউশন প্রেম – রোমান্টিক লাভ স্টোরি

Related posts

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ১

valobasargolpo

তার শহরে – সিজন ৩ | কষ্ট পাওয়া ভালোবাসার গল্প

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!