রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ৯

রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ৯: গত পর্বে কাব্যের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাওয়া দেখিছি আমরা। দুই দুইটা মেয়ে তাকে ভালবাসে আবার নতুন অফিসে আগেরটা চেয়ে দ্বিগুণ বেতনের চাকুরী। কষ্টের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে এই হতভাগা ছেলেটির। দেখি কি হয় তারপর?

নতুন অফিসে আমি

কাব্যঃ ঠিক বুঝলাম না, ম্যাম। আপনি কিভাবে আমার সম্পর্ক জানেন। আমিতো আজকেই প্রথম..।

(ম্যাম একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো)

ম্যামঃ আমার অফিসে যাকে আমি কাজে রাখবো। তার সম্পর্কে একটু হলেও তো খোঁজ রাখতে হবে। বলাতো যায় না কখন..। যাই হোক, আপনাকে যে জন্য আজ ডেকেছি তা হলো আপনার কাজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। সেই জন্য আমরা আপনাকে আমাদের কোম্পানিতে কাজ করার জন্য নিয়েছি। আশা করি, আপনি আগের কোম্পানিতে যেমন কাজ করতেন আমাদের এখানেও ঠিক তেমনি কাজ করবেন। আর কাজের প্রতি যেন কোন অবহেলা না দেখি।

কাব্যঃ ঠিক আছে, ম্যাম। (মাথা নিচু করে বললাম )

ম্যামঃ আপনি এখন আসতে পারেন। আমি করিম চাচাকে বলে দিচ্ছি আপনার কেবিন দেখিয়ে দেওয়ার জন্যে।

কাব্যঃ জ্বী, ম্যাম।

তারপর করিম চাচা আমাকে আমার নতুন কেবিনে রেখে যায়। আমি আমার কেবিনে আসার পর অনেকেই আমার সাথে কথা বলতেছে। অবশ্য আমিও ভদ্রতার সাথে তাদের সাথে কথা বলছি। আর তাদের সাথে কথা বলে আমার খুব ভালোই লাগলো।

যাই হোক, তারপর যে যার যার মত কাজের যায়গায় চলে যায়। আর আমিও আমার কাজ করতে থাকি। কাজ শেষে যখন আমি আমার ফাইলটা ম্যাডামকে দেখাই। তা দেখে তিনি খুব খুশি হন। আর এটাও বলেন এভাবে কাজ করতে থাকলে আমার জন্যে ভবিষ্যতে ভালো কিছু অপেক্ষা করবে। ম্যাডামের কাছে নিজের প্রশংসা শুনে খুব ভালোই লাগলো।

তারপর ম্যাডামের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। আর বাড়িতে এসে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে গোসল করতে চলে যাই। তারপর গোসল করে বের হতেই দেখলাম আমার টেবিলের উপর খাবার রাখা। আমি ভাবলাম হয়তো বাড়িওয়ালী আন্টি রেখে গেছেন। মাঝে মধ্যেই তিনি আমার জন্যে খাবার রেখে যান।

(ওহ্ আপনাদের একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি বাড়িওয়ার ছেলেকে আমি এখন আর পড়াই না)

তারপর আমি খাবার খেয়ে পড়তে বসি।

তারপর পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারি নাই।

স্বর্ণার মিনতি

পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কলেজে চলে যাই। কলেজে যাওয়ার সাথে সাথেই দেখলাম স্বর্না কোথা থেকে যেন আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি ওকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে ধরলাম। কিন্তু ও আবার আমার সামানে দাঁড়িয়ে যায়। তাই বিরক্ত হয়ে বললাম,

কাব্যঃ কি ব্যাপার, আপনার সমস্যাটা কি? এভাবে আমার রাস্তা আটকাচ্ছেন কেন? আর একটু সরে যান রাস্তা ক্লিয়ার করেন আমাকে ক্লাসে যেতে হবে।

স্বর্নাঃ আমার কোন সমস্যা নেই। তবে আমি একটা কথা জানতে চাই তুমি আমার সাথে গতকাল এমন ভাবে কথা বললে কেন? জান, গতকাল সারারাত আমি একটুও ঘুমাতে পারি নাই।

কাব্যঃ আপনি ঘুমাতে পারেন নাই কেন তা আমি করে জানবো? আর একটা কথা আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলে অভ্যস্ত নই।
তাই আশা করি, আজকের পর আপনি আমাকে বিরক্ত করবেন না।

স্বর্নাঃ কিহ্ আমি তোমাকে বিরক্ত করি। এটা তুমি বলতে পারলে কাব্য। যে তুমি আমার সাথে একদিন কথা না বলে থাকতে পারতে না। সব সময় আমার ছোট ছোট ইচ্ছা গুলো তুমি পুরণ না করতে পারলে মন খারাপ করতে সেই তুমি আজ আমার সাথে কথা বলতে বিরক্ত বোধ করছো। (করুণ ভাবে কথাগুলো বললো স্বর্না)

আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম কথাগুলো বলার সময় স্বর্নার চোখে পানি। আর ওর চোখে পানি দেখে মনে হচ্ছে যে কেউ আমার কলিজায় সুচ ফুরছে)

তারপরেও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,

কাব্যঃ দেখুন, আপনার মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে। আর মাথায় সমস্যাও আছে। ভালো কোন ডাক্তারকে দেখান। আসি, খোদা হাফেছ।

তারপর ওকে পাশ কাটিয়ে কলেজের পিছনে আসি। এসে দেখি, মিরা মন খারাপ করে বসে আছে। তবে মিরার চোখ দুটো দেখে আবার মনে হচ্ছে।
মিরা কারো প্রতি চরম রেগে আছে। কিন্তু কার প্রতি? তা জানি না। যাইহোক, ওর কাছে এসে বললাম।

মিরার অনুভূতি

কাব্যঃ কিরে তোর আবার কি হল যে আজ এভাবে এখানে বসে আছিস? তাও আবার একা।

তারপর মিরা একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

মিরাঃ আচ্ছা কাব্য, আমি কি খুব খারাপ? (উদাস হয়ে বললো মিরা)

কাব্যঃ আরে কে বললো তুই খারাপ? তুই অনেক ভালো রে বান্ধবী। আর তোর মনটা তোর চেয়ে আরো ভালো ও কোমল। হয়তো যখন তুই রেগে যাস তখন ব্যাপারটা আলাদা।
যাইহোক, কিন্তু তুই আজ এ প্রশ্ন কেন করলি?

মিরাঃ এমনি করলাম। কেন জানি না হঠাৎ জানতে ইচ্ছা করলো। আচ্ছা কাব্য সত্যি করে একটা কথা বলবি তুই কি স্বর্নাকে আগে থেকেই চিনিস।

হঠাৎ মিরার এমন কথার কি উওর দিবো তা আমার জানা নেই। তারপরেও অনেক কষ্টে বললাম,

কাব্যঃ না, ওনাকে আমি চিনি না। আর ওনার নাম যে স্বর্না তা এখনি তোর কাছ থেকে জানলাম।

মিরাঃ তুই সত্যি বলছিস তো কাব্য? (কিছুটাহ খুশী হয়ে) আচ্ছা তোকে একটা কথা বলবো কিছু মনে করবি না তো।

কাব্যঃ হুম বল। কি বলবি?

মিরাঃ আসলে কাব্য কথাটা যে তোকে কিভাবে বলি?

কাব্যঃ আরে বোন কি বলবি বলে ফেল? এত সংকোচ করছিস কেন? যদি না বলতে চাস তাহলে বলিস না।

আমি মিরাকে বোন বলে ডাকায় ও রেগে গিয়ে বলল, ঐ আমি তোর কোন জন্মের আপু লাগিরে। আজকে তোরে আমি খাইছি। বলেই আসে পাশে কি যেন খুঁজতেছে। মিরার রাগ দেখে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না। তবে ওর রাগি মুখটা দেখতে খুব ভালো লাগছিলো। তাই ভাবলাম, ওকে আর একটু রাগিয়ে দেই। তাই ওকে বললাম,

কাব্যঃ ঠিক আছে, আজ থেকে তোকে আর বোন বলে ডাকবো না। বউ বলে ডাকবো। বলেই ওখান থেকে পগার পার হয়ে যাই। জানি না পাগলিটা আমাকে ধরতে পারলে কি করতো? যদি ধরতে পারে তাহলে আমি আর আপনাদের মাঝে থাকুম না। হি হি হি।

মিরাঃ আর এদিকে মিরা মন খারাপ করে ভাবছে, যদি ওকে বলে দিতাম তাহলে হঠাৎ করেই ও আপন মনে হাসতে থাকে মিরা। আর মনে মনে বলে, আচ্ছা ও কি আমাকে ভালোবাসে। হয়তো বাসে তা না হলে কেন বললো ও এখন থেকে আমাকে বউ বলে ডাকবে? কিন্তু ওর মুখে বউ ডাকটা আবার শুনতে ইচ্ছা করছে। তবে একটু লজ্জাও লাগছে। আচ্ছা দেখি পাগলটা কোথায় গেল?

তারপর মিরা কলেজের ভিতরে এসে কাব্যকে মনে মনে খুঁজতে থাকে।

তারপর মিরা আর আমাকে খুজে পায় না দেখে নিজেই নিজের মাথায় হালকা করে চড় দিয়ে বলে কেন যে ওকে ভয় দেখাতে গেলাম? বেচারা এমন ভয় পেয়েছে যে কলেজ থেকে পালিয়েছে। তবে পালিয়ে যাবে কোথায়? চাঁদ তুমি যেখানেই যাবে তোমার ছায়া হয়ে আমিও সেখানেই যাবো। তোমার আর আমার মধ্যে কাউকে আসতে দিবো না। সে যেই হোক না কেন?

মীরা ও স্বর্ণাকে নিয়ে ভাবনা

এভাবে আরো কিছু দিন চলে গেলো।

আর এই কয়েক দিনের মধ্যে একটা দিনও বাদ যায় নি। যে স্বর্না আমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসেনি।

কিন্তু এখন আবার কিছু দিন থেকে লক্ষ করছি মিরাও আমাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। ও যখনি কিছু বলতে যাবে তখনি কিছু না কিছু একটা হয়ে যায়, কিছু একটা ঘটনা তো ঘটবেই।

যাইহোক, এভাবে যতই দিন যাচ্ছে ততই স্বর্না তার অধিকার আমার উপর খাটাতে চাইছে। ওকে যতই অপমান করি না কেন, স্বর্না সব সহ্য করছে? আর এখন আমার মনেও স্বর্নার প্রতি পুরানো ভালোবাসা জেগে উঠছে।

এদিকে আবার হঠাৎ আমার অফিসে এক উটকো ঝামেলা শুরু হয়েছে।

প্রথম প্রথম ম্যাম আমার সাথে খুব ভালো ব্যবহার করলেও কিন্তু কিছু দিন হলো ম্যাম আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করছে। তবে তা কাজের জন্যে নয় বরং অফিসে কলিগদের সাথে কথা বলার জন্যে। বিশেষ করে মেয়েদের সাথে আমাকে কথা বলতে দেখলেই রাগারাগি করে।

এইতো আজ বলবে এর সাথে কথা বলতে পারবেন না। কাল বলবে ওর সাথে কথা বলবেনা। আমার সাথে কি হচ্ছে এসব কিছুই বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে, আমি পাগল হয়ে যাবো।

কি করবো,‌ কি করবো না? এরকম হাজারো চিন্তা মাথায় ঘুরছে আমার।

তারপর অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্তটা হলো স্বর্নার কারণে যেহেতু আমার জীবনের সব রং হারিয়ে গেছে। তাই আর না। স্বর্নাকে আমার জীবন থেকে সরাতে হবে। আর এদিকে যতদিন না আমি আমার লেখা পড়া শেষ করছি তত দিন যত কষ্টই হোক এখানে চাকরি করবো। আজ থেকে কোন মেয়েদের সাথে কথা না বললেই ম্যাম আর আমাকে কিছু বলবে না।

কিন্তু স্বর্না?

ও যেভাবে আমার পিছনে আঠার মতো লেগে আছে। ওকে কিভাবে আমার পিছন থেকে সরাবো?

এমনিতেও স্বর্নাকে আমি আমার কাছ থেকে যতই দূরে রাখতে চাচ্ছি ততই সে আমার কাছে আসছে। তাই এখন আমাকে এমন কিছইু করতে হবে যাতে স্বর্না নিজে থেকেই আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু কি করা যায়?

আচ্ছা ও যদি এবার আমাকে সত্যিই ভালোবেসে থাকে তাহলে নিশ্চয় ও আমার সাথে কোন মেয়েকে দেখতে পারবে না। আর ও তো মিরাকেও আমার পাশে দেখতে পারেনা।
হ্যাঁ মিরাকে দিয়ে যদি কিছু দিনের জন্যে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করানো যায়। তাহলে হয়তো স্বর্না নিজ থেকেই আমার জীবন থেকে চলে যাবে।

কিন্তু মিরা কি রাজি হবে?

কি করা যায়, কি করা যায়? ঠিক তখনি মনে পড়ে আমার সাথে বন্ধুত্ব করার আগে মিরা আমার সাথে প্রেমের বাজি ধরে ছিলো।

আচ্ছা, যদি রিয়া আর নীলাদের বলে মিরাকে আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে বলি?

দূর কি ভাবছি এসব! রিয়া, নীলাদের বললে ওরা তো মিরাকে সব সত্যি বলে দিবে। আর তাছারা বাজিতে তো ওরাই ঠকবে।

মিরার সাথে ফোনে কথা

তাই আমাকে এমন কিছুই করতে হবে যাতে সাপও মরবে আর লাঠিও ঠিক থাকবে। ঠিক তখনি আমার মোবাইলে একটা কল আসে। মোবাইলের দিখে তাকিয়ে দেখি মিরা কল দিয়েছে। তাই কলটা রিসিভ করি।

কাব্যঃ হ্যালো মিরা, বল!

মিরাঃ কিরে, কি করছিস এখন?

কাব্যঃ কি আর করবো? শুয়ে শুয়ে স্বপ্নের ভিতর ভবিষ্যৎত বউয়ের সাথে রোমান্স করি। (ফাজলামি করে বললাম)

মিরাঃ হি হি হি! তাই নাকি তো মেয়েটা কে রে? (মিরাও হাসতে হাসতে বললো)

কাব্যঃ এত হাসিস না, জানিস মেয়েটা কে ছিলো?

মিরাঃ জানি না বলেই তো তোকে জিজ্ঞাসা করলাম কোন মেয়ে তোর জীবনটা ত্যাছপাতা করতে তোর স্বপ্নে আসলো। খুব কষ্ট হচ্ছে মেয়েটা জন্য। হি হি হি!

কাব্যঃ আচ্ছা যত পারিস হেসে নে। যখন মেয়েটার নাম শুনবি তখন তোর সব কয়টা দাঁত পড়ে যাবে।

মিরাঃ আচ্ছা, তাই নাকি! তাহলে তো মেয়েটার নাম শুনতে ইচ্ছা করছে প্রচুর।

কাব্যঃ মেয়েটার নাম হলো, মেয়েটার নাম হলো….?

মিরাঃ ঐ মেয়েটার নাম হলো নাম হলো, বলছিস কেন? তাড়াতাড়ি বল মেয়েটা কে?

কাব্যঃ এত তারা কেনো রে বান্ধবী? আর আমার মতো লিজেন্ড ছেলের স্বপ্নে আসা মেয়েটা তো খুব স্পেশালিষ্ট হবে, তাই না। আর তার নামটাও স্পেশাল। তাই তার নামটা ফোনে বলে অপমান করতে চাই না।

মিরাঃ আচ্ছা বলবি নাতো ঠিক আছে বলিস না। আর আমি জানতেও চাই না। আচ্ছা শুন, আগামিকাল ঠিক সকাল ১০টায় আমার সাথে পার্কে দেখা করবি। যদি এক মিনিটও লেট করিস তাহলে তোর প্যান্ট খুলে তোকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখবো। হু।

কাব্যঃ আরে আরে রাগ করছিস কেন? শোন তো..টু টু টু।

যাহ ফোনটা কেটে দিলো।

মিরার সাথে কথা বলে মনটা এখন একটু ভালো হলো। কিন্তু পরক্ষণেই আবার সব টেনশন মাথায় ভর করলো।

তারপরেও সব কিছু ভুলে ঘুমিয়ে যাই।

মিরার সাথে খুনসুটি

পরের দিন সকালবেলা মিরার ফোনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আর আমি মোবাইলের তাকিয়ে দেখি ১০টা ১০বাজে। হে আল্লাহ আর এ দশ মিনিটের ভিতরে মিরা তিরিশটা কল দিয়েছে। যা দেখে আমার মাথা গেছে। এখন ওর কাছে গেলেও বিপদ না গেলে আরো বেশি বিপদ।

যাইহোক, তাড়াহুড়ো করে কোন রকমে ফ্রেস হয়ে পার্কে যাই মিরার সাথে দেখা করতে। আমি দূর থেকে মিরাকে দেখেই বুঝতে পারছি ও আমার উপর কতটা রেগে আছে। আর শুধুই বারবার আমাকে কল দিতেছে। কিন্তু আমি তো ভয়েই ওর কল রিসিভ করি নাই। ওর রাগ দেখে খুব ভয় হচ্ছে। না জানি, আমাকে কাছে পেলে কি করবে? তবুও মনে মনে আয়াতুল কুরছি পড়ে বুকে ফু দিয়ে সামনে এগোতে থাকি।

(আমি মিরার কাছে যাচ্ছি বন্ধুরা যদি বেঁচে থাকি তাহলে আপনাদের সাথে আবারো দেখা হবে)।

আমি ওর কাছে যেতেই ও আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে। যেন আমাকে এক্ষুণি খেয়ে ফেলবে।ওর রাগ দেখে খুব ভয় লাগছে। মুখ থেকে যেন কোন কথা বের হচ্ছে না আমার। তবুও সাহস করে বলেই ফেললাম।

কাব্যঃ কিরে, তুই কখন আসলি মিরা?

মিরাঃ কুত্তা, বাঁদর আমি কখন আসছি তা তোকে জানতে হবে না। আগে এটা বল তোর মোবাইল কোথায়? আর এত গুলো কল দিলাম তা ধরলি না কেন? কোন মাইয়ার সাথে টাংকি মারলি এত সময় ধরে। (আল্লাহ মিরা রাগি ভাবে বললো একসাথে এতগুলো কথা)

কাব্যঃ না মানে নানা মানে না মানে…।

মিরাঃ কি না মানে, না মানে শুরু করেছিস হ্যাভলা। গতকাল রাতে তোকে কি বলেছিলাম তোর মনে নাই। আজকে তোকে তো আমি খাইছি। কিন্তু আগে এটা বল কোথায় ছিলি এতক্ষণ? আমি নিশ্চিত তুই তোর স্বপ্নে দেখা মেয়েটার সাথে দেখা করতে গেছিলি তাই না।

আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,

কাব্যঃ মিরা তুই এত রাগ করছিস কেন? আমি বলছি তো কি হয়েছে, আসলে হয়েছে কি গতকাল রাতে অফিসের কিছু কাগজ দেখতে দেখতে অনেক রাত হয়ে গেছিলো। তাই ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে। (মিথ্যা বললাম)

মিরাঃ এই শয়তান, একদম মিথ্যা বলবি না। আমি খুব ভালো করেই জানি তুই অফিস থেকে কোন কাগজ বাদায় আনিস নাই। (অগের থেকেও দ্বিগুন রেগে বলল)

কাব্যিক প্রেমে কাব্য

এবার আমি অবাক হয়ে বললাম,

কাব্যঃ মিরা তুই কি করে জানলি যে আমি অফিস থেকে কোন কাগজ নিয়ে আসি না।

মিরাঃ আ আ আমি কি করে জানবো? আমিতো এমনিই বললাম। (তোতলাতে তোতলাতে) আর তুই একে তো দেরি করলি। আর এসেই আমার সাথে ঝগরা শুরু করলি কাব্য।

কাব্যঃ যা বাবা আমি আবার কখন তোর সাথে ঝগরা করতে গেলাম। তুইতো আগে…

মিরাঃ আমি কি, হ্যাঁ আমি কি? আমি তোর সাথে কোন দুঃখে ঝগড়া করতে যাবো। আমি তো তোকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে ডাকলাম আর তুই এখানে আসতেই আমার সাথে ঝগড়া শুরু করলি।

কাব্যঃ কি মেয়েরে বাবা নিজের দোস ধরলো না উল্টে আমায় দোশারফ করলো। দেখিস তোর কোন দিন বিয়ে হবে না। (মনে মনে বললাম)

মিরাঃ ঐ কাব্যর বাচ্চা কি ভাবছিস এত? আর যদি আমাকে মনে মনে গালি দিস তাহলে তোর ভবিষ্যত খারাপ আছ।

কাব্যঃ আরে আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে আমি তোকে গালি দিবো? তা তুই আমাকে কি যেন বলবি বলছিলি?

মিরাঃ তোর সাথে ঝগড়া করতে গিয়ে ভুলেই গিয়েছিলাম। যাইহোক, বলতো আজকে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে?

তারপর আমি মিরার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে যেন হঠাৎ কোন এক স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছি।

মিরা আজ একটা কালো সিল্কের শাড়ি পরে আসছে, হাতে ম্যাচিং করা কালো চুড়ি, কপালে ছোট একটা কালো টিপ, আর ঠোঁটের ছোট ঐ তিল।

এ যেন পরীর রাজ্য থেকে আমার সামনে কোন এক পরী দাঁড়িয়ে আছে।

আর সে রাজ্যের সমস্ত সৌন্দর্য যেন এই পরীর কাছে তুচ্ছ। মিরাকে কালো এই শাড়িটাতে যা লাগছে না, আমি মিরাকে যতই দেখছি ততই যেন ওর প্রেম..চলবে…

পরের পর্ব- রোমান্টিক প্রেমের গল্প – বান্ধবী যখন বউ – পর্ব ১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!