রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক পুলিশ ম্যাম (২য় খণ্ড) – ভালোবাসার গোপন কথা

রোমান্টিক পুলিশ ম্যাম (২য় খণ্ড) – ভালোবাসার গোপন কথা: আমি ভাবতে পারিনি লোপা এমন একটা কাজ করে বসবে। আমার ভালো লাগছিল না এমন নয়! কিন্তু আমার নিজের ভিতরে এক ধরনের অপরাধবোদ কাজ করছিল।


পর্ব ৮

{সকালবেলা}

লোপার ডাকে ঘুম ভাঙলো। ঘরিতে তাকিয়ে দেখলাম ৯টা বাজে।
উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গেলাম। লোপাকে দেখে আবারো ক্রাশ খাইলাম। মানে লোপার প্রতি আমি সবসময় ক্রাশিত।

খাবার টেবিলে এসে দেখলাম লোপা রেডি হয়ে টেবিলে বসে আছে। সাধারনত লোপা যখন কোথাও ঘুরতে যায়! তখনই এভাবে তৈরি হয়। কিন্তু আজ কোথায় যাবে?
খাওয়ার শেষে।

  • লোপা তুমি না বলেছিলে একটা সুসংবাদ দিবে! কি সেটা? (আমি)
  • বলবো! (লোপা)
  • আর বেশি কথা বলিশ না। বলে ফেল! (আন্টি)
  • আমি
  • হ্যাঁ তুমি!
  • পুলিশে জয়েন করছি!
  • কি! এটাতো দারুন খুশির সংবাদ! (আমি)
  • হুম। এই নাও মিষ্টি খাও! (লোপা টেবিলে থাকা মিষ্টির পেকেট থেকে একটা মিষ্টি আমার মুখের সামনে ধরে)

আমি সেটা তার হাত থেকেই খেয়ে নিলাম। মিষ্টিতো এমনিতেই মিষ্টি, তার মাঝে সেটা যদি ক্রাশের হাতে খাওয়া যায় তাহলেতো আর কোনো কথায় নাই। আন্টিও রান্নাঘরে চলে গেল।

  • কিন্তু তুমি এখন কোথায় যাচ্ছো? (আমি)
  • কেন? থানায়! (লোপা)
  • তাহলে এই পোশাকে কেন? পুলিশের ড্রেস কোথাই? (আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম)
  • কারন পুলিশের ড্রেস পরলে তুমি ঠিক থাকতে পারবে না, তাই। (লোপা আমার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলছিল)
  • মমানে কি?

জবাবে কিছুই বলল না। শুধু একটা চোখ টিপ মারলো। আর তা দেখে আমার পরান যায় যায়

  • এই লোপা তুই কি এখনি বেরিয়ে পরছিস? (হঠাৎ আন্টি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল। আর এইদিকে লোপা তারাতারি করে দূরে সরে গেল)
  • হ্যাঁ মা! কেন?
  • কিন্তু তোর ড্রেস কোথায়? (আন্টি)
  • ব্যাগে। থানায় গিয়ে চেঞ্জ করে নেব। (লোপা)
  • আর হ্যাঁ! অভিকেও সাথে নিয়ে যাস! বেচারা বাড়িতে একা একা আর কত বসে থাকবে? কিছুদিন তোর সাথে ঘুরে আসুক(আন্টি)
  • হুমতুমি ঠিক বলেছো। আমিও এটাই ভাবছিলাম। অভি! তুমি তৈরি হয়ে এসো! আমি এখানেই অপেক্ষা করছি। (লোপা)
  • কিছুদিন মানে? কতদিন? (আমি)
  • সপ্তাহখানেক! (লোপা)
  • না লোপা। আমার ভালো লাগছে না। আমি বরং অন্য একদিন যাবো।
  • কোন অজুহাত শুনবো না। তুমি এখনি রেডি হবে ব্যাস। (বলেই লোপা একটা সোফায় বসে পরলো)

অনেক চেষ্টার পরেও লোপার জেদের সাথে হার মানতে হলো। অবশেষে তৈরি হয়ে নিতে হলো।
আন্টির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লোপার সাথে বেড়িয়ে এলাম। লোপা আর আমি একটা গাড়ি করে যাচ্ছিলাম। লোপাকে দেখলাম অনেকটা খুশি খুশি লাগছে।

  • হঠাৎ এত খুশি কেন জানতে পারি? (আমি)
  • আজ প্রথম তোমার সাথে লংড্রাইভে যাচ্ছি তো! তাই। (লোপা মুচকি হেসে উত্তর দিল)
  • ও, এখানে এত খুশি হওয়ার কি আছে?
  • তুমি বুজবা না।
  • আচ্ছা আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?
  • কলেজে।
  • কেন? আমাদের তো এখন থানায় যাওয়ার কথা তাই না!
  • হুমকিন্তু কলেজফ্রেন্ডদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে না?
  • আচ্ছা সবার কাছ থেকেই তো বিদায় নিচ্ছো! তুমি কোন থানায় জয়েন করছো সেটা তো বলছো না! (আমি)
  • সেটা গেলেই দেখতে পারবে! (লোপা)

তারপর আর কিছুক্ষন গিয়েই লোপা গাড়িটাকে দার করিয়ে ফেলল।
চারদিক লক্ষ করে বুঝতে পারলাম যে এটা লোপাদের কলেজ। আমি কিছু বলার আগেই লোপা বলতে লাগল

  • চুপচাপ এখানে বসে থাক। আমি আসার আগ পর্যন্ত এখান থেকে কোথাও যাবে না। ঠিক আছে? (লোপা)
  • হুম। কিন্তু তুমি কোথায় যাচ্ছো?
  • ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করে আসার জন্য।
  • তাহলে আমিও আসি!
  • এহহ! লুচু কোথাকার! খুব সখ মেয়ে দেখার তাই না? (লোপা মুখ ভেংছি কেটে বলল)
  • হুম। আমার খুব ইচ্ছে একটা সত্যিকারের সুন্দরী মেয়ে দেখব। জ্ঞ্যান ফিরার পর থেকে শুধু একটা ময়দা সুন্দরি দেখতে দেখতে আর ভাল্লাগে না। (লোপাকে রাগানোর জন্য বললাম)
  • চুপচাপ বসে থাক! আর একটা কথা বললে তালা লাগিয়ে দিয়ে চলে যাবো। (লোপা দাতে দাত চেপে)
  • (চুপ করে বসে আছি)

লোপা গাড়ি থেকে বেড়িয়ে বাইরে চলে গেল। যাওয়ার সময় ভুলবসত ফোনটা ফেলে রেখে চলে গেছে।
ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম লক করা। পাশেই একটা হেডফোন পরেছিল। ফোন লক করা থাকলেও হেডফোন দিয়ে গান শুনা যায়। ওইটা কানে লাগিয়ে গান শুনতে লাগলাম।
প্রায় ১০ মিনিট পর দেখলাম লোপা তার তিনজন বান্ধবী নিয়ে এদিকেই আসছে।
গাড়ির কাছে এসে

  • এই রিমি! তোরা তিনজন পিছনে গিয়ে বস। (লোপা)
  • হুম, কিন্তু ছেলেটি কে? (তাদের মাঝে একজন মেয়ে বলে উঠলো)
  • সেটা জেনে তোরা কি করবি? (লোপা)
  • না কিছু না। এমন একটা ছেলেকে সাথে নিয়ে ঘুরছিস! এটা লোকে জানলে ছেলেটাকে মেয়েরা কবেই কিডন্যাপ করতো! (সবকটা হেসে দিল, শুধু লোপা ছারা)
  • তোরা উঠবি নাকি আমি চলে যাবো? (লোপা)
  • উঠব না মানে? এমন সুযোগ কি হাতছারা করা যায়।

সবাই গাড়িতে উঠে বসলো। আমি বসে আছি লোপার পাশে, মানে ড্রাইভিং সিটের পাশে। লোপাকে দেখে মনে হচ্ছে প্রচুর রেগে আছে। কিন্তু লোপা এই মেয়েগুলো আর আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে? আর এই মেয়েগুলোই কিসের সুযোগ এর কথা বলছিল? ৪ জনে মিলে আমাকে জবাই করবে নাতো আবার!
গাড়ি চলছে আপন গতিতে। কারো মাঝে কোন কথা নাই। শুধু পিছনের মেয়েগুলো ফিসফিস করে কথা বলছিল।

  • এইযে শুনছেন! (পিছনের মেয়েগুলোর মধ্যে একজন আমাকে উদ্দ্যেশ্য করে বলল)
  • জ্বি শুনছি বলেন!
  • আপনার নামটা জানতে পারি? (একজন)
  • অভি(আমি)
  • বাহ্, খুব সুন্দর নামতো! কে রেখেছে এই নামটা? আন্টি নিশ্চয়? (অন্য একজন)
  • আন্টি মানে? (আমিতো অবাক! আন্টি ডাকে কাকে? )
  • মানে আপনার আম্মুর কথা বলতেছি আর কি! (একজন মেয়ে বলল, আর লোপা ঐদিকে রাগে ফুসছে)
  • না। (লোপার দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বললাম)
  • তো!
  • হলোপা রাখছে। (লোপার থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম)
  • কিহ্? (সবাই একসাথে)
  • কেন শুনতে পাসনি? তোদের আন্টি রাখছে। লোপা আন্টি। আর এই ছেলে তোদের আঙ্কেল হয় বুঝলি? (লোপার কথা শুনে সবাই হা হয়ে গেল। সাথে আমিও)
  • (কেও কোনো কথা বলছে না। সবাই চুপ)

তারপর গাড়িটি গিয়ে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে থামল। লোপা তার সকল বান্দবীদের নিয় রেস্টুরেন্টের ভেতরে ডুকে গেল। আর আমি পালিয়ে যাবো এই ভয়ে আমাকে গাড়ির ভিতরে রেখে দরজা চাবি দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে গেছে লোপা।
অনেক্ষন বসে থাকার পর লোপাকে বাইরে আসতে দেখা গেল। লোপা একা একা গাড়ির কাছে আসছিলো, লোপা গাড়ির কাছে আসতেই একটি ছেলে লোপার পথ আটকে দারায়

  • কে আপনি? আমার পথ কেন আটকে দিছেন? সরেন বলছি! (লোপা)
  • সিমি তুমি এসব কি বলছো? তুমি এখানে কি করে? তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? (ছেলেটি)
  • নাতো! আমি আপনাকে কি করে চিনবো? আর আমি “সিমি” না, “লোপা”। (লোপা)
  • সিমি তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? আমি হিরন।

পর্ব ৯

আমি হিরন! তোমার(কিছু বলতে না দিয়ে লোপা আটকে দিল)

  • দেখেন আপনি কে আমি চিনিনা। আপনার নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে। আমি লোপা। আমি আপনাকে বা সিমি নামের কাওকেই চিনিনা। (লোপা)
  • সিমি তুমি(লোপা লোকটিকে আর কিছু বলতে দিল না)
  • সরেন তো! আমার তারা আছে। (লোপা লোকটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে গাড়ির কাছে চলে আসল)

লোপা গাড়ির দরজা খুলেই গাড়িতে ডুকে পরলো। তাই ছেলেটি আমাকে, কিংবা আমি ছেলেটাকে, কেও কাওকে দেখতে পারলাম না। লোপাই গাড়ি ড্রাইভ করছিল।

  • ছেলেটি কে ছিল? (আমি)
  • চিনিনাহ, সিমি সিমি বলে আমার মাথা খেয়ে নিচ্ছিল।
  • ওহ্, ছেলেটি হয়ত পাগল তাই না?
  • হয়তো! নাহলে আমাকে সিমি বলতে যাবে কেন?
  • হুমআচ্ছা তোমার বান্ধবীরা কোথায়?
  • কেন? মিস করছো তাদেরকে?
  • আরে তা না, ওরা হঠাৎ তোমার সাথে কেন এল? আর ওই রেস্টুরেন্টে কেন থেকে গেল? এটাই জানতে চাইছিলাম আরকি।
  • ওও! আসলে আমি যে পুলিশে জয়েন করেছি এটা ওদেরকে বলার পর ওরা বলল যে ওদেরকে ট্রিট দিতে হবে। তাই সাথে করে নিয়ে এলাম।
  • ও তাই বলো।
  • হুমম।
  • আচ্ছা আমাদের গন্তব্যে যেতে কতক্ষন লাগবে?
  • ৩- ৪ ঘন্টা! (লোপা)
  • ও আচ্ছা।
  • তুমি গাড়ি চালাতে পারো? (লোপা আমাকে জিজ্ঞাস করলো)
  • জানিনা। মনে হয় পারবো না। (আমি)
  • আমি আবার শিখাইলেও পারবা না?
  • জানিনাহ।
  • জানো কি তুমি? এদিকে এসো! আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। (লোপা গাড়িটাকে থামিয়ে আমাকে ড্রাইভিং সিটে বসিয়ে দিয়ে সে পাশের সিটে বসে গেল)
  • লোপা আমি পারবো না তো!
  • চুপ! আমি যেভাবে বলছি সেভাবে চালাও।
  • হুমম।

লোপা আমাকে কিছুক্ষনের মধ্যে পাকা ড্রাইভার বানিয়ে ফেলল। আমি ভাবতেও পারিনি এত তারাতারি শিখে ফেলবো।

  • লোপা, আমিতো রাস্তা চিনিনা! কোনদিক দিয়ে যাবো? (আমি)
  • দারাও আমি ব্যবস্তা করছি।
    লোপা তার ফোন বের করে লোকেশন অন করে একটা জায়গার লোকেশন দেখিয়ে বলল
  • এইখানে যাবে। (লোপা ফোনটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল)
  • হুমম।

আমি ওই লোকেশন দেখেই ড্রাইভ করছিলাম। আর লোপা এইদিকে সিটবেল্ট না লাগিয়ে আমার কাদে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। ঘুমন্ত অবস্তায় লোপাকে খুব মায়াবী লাগছিল। তাই আর ঘুমের মাঝে বিরক্ত করিনি।
প্রায় ২ ঘন্টা পর
লোকেশনে দেখাচ্ছে আমরা কাছেই চলে এসেছি। তাই লোপাকে ডাকতে লাগলাম

  • লোপা!
  • হুম বলো!
  • একবার ডাক দিতেই উঠে পরলে! তুমি ঘুমাও নি!
  • নাতো!
  • তাহলে এতক্ষন ওভাবে শুয়েছিলে কীভাবে? ঘুম পায়নি?
  • তোমার কাদে মাথা রেখেতো আমি ঘন্টার পর ঘন্টা না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি। (লোপা মুচকি হেসে বলল)
  • তাই?
  • হুম!
  • আমরাতো প্রায় এসে পরেছি! তোমার ফোনের লোকেশন বলতেছে।
  • হুমম, গাড়ি থামাও।
  • কেন? (আমি)
  • এমনি। থামাও!
  • ওক্কে! (রাস্তার একপাশে গাড়িটাকে দার করিয়ে ফেললাম)
  • বাইরে যাওতো একটু! (লোপা)
  • কিন্তু কেন?
  • এই ড্রেসে যাওয়া যাবে না। পুলিশের পোশাক পরতে হবে। তাই ড্রেস চেঞ্জ করবো।
  • তাই বলে গাড়িতে? (অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম)
  • হুম! আচ্ছা তুমি বাইরে না গেলেও সমস্যা নাই। আমি এভাবেই চেঞ্জ করছি। (লোপা একটু হাসি দিয়ে বলল)
  • না না থাক! আমি বাইরে যাচ্ছি। (বাইরে যাবো এমনসময় লোপা আমার হাত ধরে টান দিয়ে আবার ভিতরে নিয়ে আসলো)
  • কি করছো কি? ছারো!
  • নাহ্, এখন আর চারাছারি নাই। (লোপা দুষ্টুমির হাসি দিয়ে)
  • কেন?
  • I love u ovi!
  • (আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই লোপা আমার ঠোঁটে তার ঠোঁট বসিয়ে দিল।

আমি ভাবতে পারিনি লোপা এমন একটা কাজ করে বসবে। আমার ভালো লাগছিল না এমন নয়! কিন্তু আমার নিজের ভিতরে এক ধরনের অপরাধবোদ কাজ করছিল।
লোপার থেকে নিজেকে চারিয়ে নিয়ে আমি গাড়ির ভেতর থেকে বেড়িয়ে এলাম। লোপাও হয়ত এমনটা আশা করে নি।
আমার পিছু পিছু লোপাও গাড়ি থেকে নেমে এল। এসে আমার একটি হাত ধরে দারিয়ে রইল।

  • কি হয়েছে অভি? (লোপা)
  • আমারোতো একই প্রশ্ন! কি হয়েছে তোমার?
  • কেন?
  • দেখো লোপা! তুমি বা আমি, আমরা কেওই জানিনা আমার পরিচয় কি? হয়তো আমি কোন ভালো ছেলে না! তাই আজ পর্যন্ত আমার কোন আত্মীয়ই আমার খোঁজ নেই।
  • আগে তুমি কেমন ছিলে সেটা জেনে আমি কি করব? এখন তো তুমি ভালো! (লোপা)
  • হুম, কিন্তু ভালো শুধু সিমীত সময়ের জন্য। যখন আমার সৃতি ফিরে আসবে তখন আমি ভালো না’ও থাকতে পারি!
  • (কোন কথা বলছে না)
  • আর তাছারা আমার বিষয়ে তো আমি নিজেও জানিনা! আমি হিন্দু নাকি মুসলিম। বিবাহিত নাকি অবিবাহিত। এমনও তো হতে পারে আমার স্ত্রী- সন্তান আছে। তুমি কিসের ওপর ভরসা রেখে আমায় ভালোবাসবে?
  • জানিনা, আমি কিচ্ছু শুনতে পারবো না। শুধু এটুকুই জানি যে তুমি আমার। তোমাকে হারাবার কথা ভাবতেও পারি না আমি। যদি কোনদিন তোমার অধিকার চেয়ে কেও ফিরে আসে! তাহলে হয় আমি তাকে শেষ করে দিব! নাহয় আমিই শেষ হয়ে যাব। (জরিয়ে ধরে কাঁদতে কাদঁতে বলল লোপা)
  • দেখ লোপা! পাগলামো করো না। এসব নিয়ে পরে ভাবা যাবে। এখন চলো।
  • না, এখনি ভাববো। তুমি বলো আমাকে ভালোবাসো কিনা?
  • প্লিজ লোপা! আগে ভাবতে দাও! পরে বলবো। এখন ছারো।
  • না, আমার এখনি উত্তর চাই। বলো আমাকে চেরে কোথাও চলে যাবে নাতো! (ছোটদের মতো মুখ করে)
  • আচ্ছা, আমি তোমাকে চেরে কোথাও যাবো না। এবার হলো!
  • সত্যি! (মুখে খানিকটা হাসি এনে)
  • হুম সত্যি। এখন আমাকে চেরে যাওতো! ড্রেস চেঞ্জ করে এসো।
  • আচ্ছা, তুমি এখানেই দারাও, আমি এক্ষুনি তোমাকে ডেকে নিব। (আমাকে চেরে দিয়ে)
  • হুম।

অনেক্ষন ধরে দারিয়ে রইলাম। কিন্তু ডাকার কোন নামগন্ধই নেই। কি করছে এতক্ষন গাড়ির ভিতর কে জানে।
প্রায় আধঘন্টা পর লোপার ডাক শুনতে পেলাম।

  • অভি দেখো তো পুলিশের সাজে কেমন লাগছে আমাকে! (পিছন থেকে লোপা ডাক দিল)

পিচনে ফিরে লোপাকে দেখা মাত্রই আমার চোখ মুক অন্ধকার হয়ে আসছে। আমার মনে হচ্ছে লোপাকে এই সাজে আমি আগে কোথাও দেখেছি। কিন্তু লোপা তো এই পোশাক প্রথম পরলো। তাহলে এমন কেন মনে হচ্ছে আমার?
এসব ভাবতে ভাবতে কখন মাটিতে পরে গেছি মনে নেই।

  • হিমু! এই হিমু! খুঁজে বের কর আমায়! এখানে আমি একা, খুব কষ্ট হচ্ছে
  • আমি এখানে একা, খুব কষ্ট হচ্ছে আমার! (লোপা রাস্তার একপাশে দাড়িয়ে)
  • (বুঝতে পারছি না, আমি মুখ দিয়ে কথা কেন বলতে পারছি না? হাটতেও তো পারছি না)
  • হিমু আমাকে বাচিয়ে নাও! আমি তোমার হয়ে বাচতে চাই! (লোপা এক হাত আমার দিকে বারিয়ে)
  • (কিন্তু আমিতো কোন কথাই বলতে পারছি না)

এমনকি আমি এই জায়গা থেকে নরতেও পারছি না যে লোপার হাতটুকু গিয়ে ধরবো।
অন্যদিকে একটা ট্রাক লোপার দিকেই আসছে। লোপা ঐদিকে না তাকিয়ে আমার দিকেই হাত বারিয়ে দারিয়ে আছে।
আমি শত চেষ্টা করেও লোপাকে সরে যেতে বলতে পারছি না। এমনকি হাত দিয়ে ইশারা পর্যন্ত করতে পারছি না।
অন্যদিকে ট্রাকটা লোপার কাছেই চলে এসেছে। লোপাকে ট্রাকটা ধাক্কা দিয়ে চিটকে ফেলে দিয়েছে।

  • হিমলোপা! (বুঝতেই পারিনি যে আমি এতক্ষন হাসপাতালের বিচানায় শুয়ে ছিলাম)

সারা শরীরে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরছে। আশেপাশে কাওকেই দেখতে পারছি না।

  • “আমি কি সত্যিই সপ্ন দেখছিলাম? লোপা ঠিক আছে তো!
    না, আমাকে লোপার কাছে যেতেই হবে। কিন্তু লোপা কোথায়? “
    কেবিনে কেও নেই, আমি কেবিন থেকে বেরিয়ে লোপাকে খুজতে লাগলাম। খুজতে খুজতে ICU পেরিয়ে গেলাম, কিন্তু লোপার দেখা পেলাম না।
    হঠাৎ মনে হলো আমি ICU তে লোপাকে দেখলাম। আবার ভালো করে দেখার জন্য যেই পিছনে যাবো! তখনি
  • অভি! তুমি এখানে কি করছো? তুমিতো অসুস্ত! (আন্টি সামনে থেকে বলে উঠলো)
  • না মানে এমনি। আচ্ছা আন্টি, লোপা কোথায়? (আমি)
  • তুমি তাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে। তাই সে তোমার সামনে আসতে চাইছে না।
  • লোপা এখন কোথায়?
  • ও বাইরে দারিয়ে আছে। তুমি যাও! আমি তোমার ছুটি নিয়ে আসছি।
  • আচ্ছা।

তারপর আর পিছনে না গিয়ে চলে গেলাম বাইরে। দেখলাম লোপা গাড়িতে হেলান দিয়ে দারিয়ে আছে। অন্য দিকে তাকিয়েছিল বলে আমাকে দেখতে পায়নি। এখনো সেই পুলিশের ড্রেস পরেই আছে।
আমি পেছন থেকে গিয়ে তার কাদে হাত দিলাম।

  • লোপা! (লোপা চমকে গিয়ে আমার দিকে তাকাল। আমি ওর চোখে স্পষ্ট পানি দেখতে পেলাম)
  • একি! তোমার চোখে পানি কেন? (লোপার চোখের পানি মুচতে মুচতে বললাম)
  • (কিছু না বলে আমাকে জরিয়ে ধরে আছে। আর কেদেই যাচ্ছে)
  • এই লোপা! কি হয়েছে তোমার? (আমি)
  • আমার কিছুই হয়নি, তোমার কি হয়েছে সেটা বলো। আমাকে পুলিশের ড্রেসে তুমি দেখতে কেন পারনা? (লোপা এখনো জরিয়ে ধরে কেদেই যাচ্ছে)
  • আসলে আমি নিজেই জানিনা মাঝে মাঝে আমার কি হয়! আমার বারবার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে আগেও এই পোশাকে দেখেছি। কিন্তু কোথায় যে দেখেছি সেটাই মনে করতে পারছি না। (আমি)
  • কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? আমিতো আজ প্রথম পুলিশের ড্রেস পরলাম। তাহলে তুমি আমাকে আগে কি করে দেখে তাকবে? (লোপা মাথা ওপরে তুলে)
  • আমি জানিনা, কিচ্ছু মনে করতে পারছি না আমি। (এক পা পিছনে গিয়ে বললাম)
  • অভি! আমার খুব ভয় করছে। আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলব। (লোপা)
  • (আমি কোন কথা বলতে পারছি না। কারন এর কোন উত্তর আমার জানা নেই। হয়ত লোপা ঠিকই বলছে)
  • সিমি! মা তুই এখানে? আজ কতদিন ধরে তোকে আমরা সবাই খুঁজে চলেছি। (হঠাৎ একজন মধ্যবয়স্ক লোক এসে লোপাকে সিমি বলে ডাকতে শুরু করল)
  • কি বলছেন এগুলো? কে সিমি? আর আপনিই বা কে? আপনারা আমাকে কেনই বা খুঁজবেন? (লোপা)
  • সিমি মা তুই আমাকে চিনতে পারছিস না? আমি তোর বাবা। আমাকে তুই কি করে ভুলে যেতে পারিস? (লোকটি)
  • দেখেন! আপনার নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে। আমি সিমি না লোপা। (আমি শুধু দেখেই যাচ্ছি। কি বলবো কিছু বুঝতে পারছি না)
  • হিরন যখন বলেছিল! তখন আমি বিশ্বাস করিনি। এখন তো নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমারি মেয়ে আমাকেই চিনতে পারছে না। (লোকটি কাদতে কাদতে বলছিল)
  • আজব তো! এখন আবার ন্যাকা(লোপাকে আর বলতে দিলাম না)
  • লোপা, এই কান্না ন্যাকা নয়। নিশ্চয় লোকটির কোন মেয়ে হারিয়েছে। তাই তোমাকে লোপা থেকে সিমি বলছে। (লোকটির প্রতি মায়া হলো, তাই বললাম)
  • কে আপনি? (পেছন থেকে আন্টি বলে উঠল। তাই লোকটিও পিছনে ফিরল)
  • তুমি? (আন্টি অবাক হয়ে বলে উঠল)
  • রিরিহিতা তুমি? (লোকটিও আন্টিকে দেখে বলে উঠলো)
  • লোপা গাড়িতে ওঠ। (আন্টি বলেই গাড়িতে উঠে বসলো)
  • রিহিতা প্লিজ একটু শুনো! রিহিতা। (লোকটি গাড়ির কাছে যেতে চাইল। লোপা লোকটির পথ আটকে দাড়ায়)
  • দেখেন! অভদ্রতার একটা সীমা আছে। আমার আম্মুকে নাম ধরে ডাকার সাহস আপনি কোথায় পেলেন? (লোপা)
  • লোপা! বললামনা অভিকে নিয়ে চলে আসতে! (আন্টি লোপাকে রাগ দেখিয়ে বলল)

লোপা আর কিছু না বলে আমাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। লোকটি’ও আর কিছু বলল না। হয়তো লোপার কথায় লোকটি অনেক আঘাত পেয়েছে।
লোপা গাড়ি ড্রাইভ করছিল।
আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছি না। “এখানে হচ্ছেটা কি? লোপাকে সিমি উপাধী দেওয়া। আমাকে বারবার একই সপ্নে রাজ উপাধি দেওয়া। কিন্তু আসলে কে এই রাজ আর সিমি? ওদের সাথে কি আমার আর লোপার কোন সম্পর্ক আছে? আমার নাহয় সৃতি হারিয়েছে, কিন্তু লোপাতো ঠিক আছে। তাহলে ও কেন এসবের কিছু বুঝতে পারছে না? “
এসব হাজারো প্রশ্ন খুজতে খুজতে প্রায় ২ ঘন্টা পর লোপাদের বাসায় গিয়ে পৌছালাম। (লোপার যে থানায় চাকরি হয়েছিল তার পাশে গিয়ে অজ্ঞান হয়েছিলাম বলে পাশেই একটা হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করা হয়। তাই ফিরতে ২ ঘন্টা লেগেছে)

বাড়িতে আসার পরও দেখলাম আন্টির মন খারাপ। কে ওই লোকটি? আন্টিকে নাম ধরে ডাকছিল কেন লোকটি? তারা কি একে এপরকে চিনে?
লোপাকেও দেখলাম চিন্তিত। হয়তো লোপাও আমার মতোই এসব ভাবছে।
আমরা যে যার ঘরে চলে গেলাম। একটু পর কলিংবেল এর আওয়াজ শুনলাম। কেও এসেছে হয়তো।
কে এসেছে এটা দেখার জন্য আমি আর সিমি গেলাম। গিয়ে দেখলাম আমাদের আগেই আন্টি দরজা খুলে দিয়েছে।

  • আরে এতো সেই লোকটি! (লোপা)
  • দারাও, আগে দেখি কি হয়! ( লোপা লোকটির কাছে যেতে চেয়েছিল, আমার কথায় দারিয়ে যায়)
  • কেন এসেছো এখানে? (আন্টি)
  • সিমির খোঁজে। (লোকটি)
  • সিমি! কোথায় সিমি

পর্ব ১০

সিমি! কোথায় সিমি? (আন্টি)

  • দেখ রিহিতা! আমাদের মাঝে যা হয়েছে তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। (সেই লোকটি)
  • (আন্টি কোনো কথা বলছে না। শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে আছে)
  • তুমি যেদিন(লোপা আমাকে পুরো কথাটা শুনতে না দিয়েই বলতে লাগল)
  • অভি! তুমি একটু ভেতরে যাবে! (আমরা একটু দূরে থাকায় লোপার কথা শুধু আমি ছারা আর কেও শুনতে পায়নি)
  • কেন? (আমি)
  • প্লিজ অভি! (লোপা আমাকে মিনতির শুরে বলল)
  • আচ্ছা। (আমি সেখান থেকে চলে এলাম)

আমি ঘরে এসে মনে মনে ভাবতে লাগলাম, “লোপা আমাকে কথাগুলো শুনতে দিল না কেন? লোপা এমন কিছু বুঝতে পেরেছে? যা আমি বুঝতে পারিনি! যা আমি বুঝতে পারলে লোপার কোন ক্ষতি হয়ে যেত! তাই আমি পুরোটা বুঝে উঠার আগেই লোপা আমাকে সেখান থেকে তারিয়ে দিয়েছে। “
এসব ভাবতে ভাবতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর লোপা আমার ঘরে এল, দেখেই বুঝতে পারছি লোপার মন খারাপ। কিন্তু কেন এটা বুঝতে পারছি না।

  • কি হলো লোপা? তোমার মুখ এমন দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে একবার বলো! (লোপা আমার দিকে একবার তাকালো)
  • অভি আমার একটা কথা রাখবে?
  • হুম বলো কি কথা? ওই লোকটা কি এমন কথা বলল যে তোমার মন খারাপ? (আমি)
  • ওইটা লোক নয়, আমার জন্মদাতা বাবা। (লোপা)
  • কি? তাহলে তোমার নাম কি বলো! লোপা নাকি সিমি? নিশ্চয় সিমি, আর তাই তোমার বাবা তখন তোমাকে সিমি বলে ডেকেছিল। (আমি)
  • না, আমি লোপা। আর ওনি যে আমার বাবা সেটা আমি এইমাত্র জানতে পারলাম।
  • তাহলে তোমার বাবা তোমাকে সিমি বলে ডাকছিল কেন? কে এই সিমি?
  • ওর ব্যাপারে তোমাকে আমি পরে সব বলবো। এখন আমার কথাটা একটু শুনো প্লিজ! (লোপা)
  • হুমম বলো।
  • আমার খুব ভয় করছে। তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়! আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। (লোপা একদমে কথাগুলো বলে ফেলল)
  • লোপা কি বলছো ভেবে বলছো তো! আমার এখন আমার অতীতের কিছু মনে নেই। এ অবস্তায় তুমি আমাকে বিয়ে করার কথা বলছো কি করে?
  • তুমি আমাকে ভালোবাস না? (লোপা কঠিন হয়ে জিজ্ঞাস করল)
  • দেখ(আমাকে কিছু বলতে না দিয়েই)
  • “হ্যাঁ” নাকি “না”? (লোপা)
  • হ্যাঁ, কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না। প্লিজ লোপা বোঝার চেস্টা করো। (আমি)
  • আমি কিচ্ছু বুঝতে চাই না, আমি তোমাকে আজ, এখনি কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করব। চলো! (লোপা আমার হাত ধরে টানতে বাইরে নিয়ে যেতে লাগল)
  • লোপা প্লিজ ছারো। এমন করো না।

কিন্তু কে শুনে কার কথা! লোপা আমাকে টানতে টানতে বাইরে নিয়েই যাচ্ছে। আমি ইচ্ছা করলেই নিজেকে চারিয়ে নিতে পারি, কিন্তু লোপা তখন কি থেকে কি করে বসবে সে নিজেও জানেনা। আঙ্কেল আন্টি যে কোথায় আছেন কে জানে! ওনারা থাকলে হয়তো লোপাকে একটু বুঝাতে পারতেন।
এদিকে লোপা আমাকে জোর করে গাড়িতে তুলে দিল। তারপর সে নিজেও গাড়িতে উঠে বসল। এইদিকে বিকেল হয়ে আসছে। লোপার এরকম আচরন আমি কখনো আশা করিনি।

  • একবার মাথা ঠান্ডা করে ভেবে দেখ প্লিজ! (আমি)
  • আমি কিছু ভাবতে পারবো না। আমরাতো একজন আরেকজনকে ভালোবাসি তাই ন! তাহলে তুমি বিয়ে করতে চাইছো না কেন? (লোপা গাড়ি ড্রাইব করছিল)
  • হ্যাঁ আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভালোবাসি সৃতিহীন অবস্তায়।
  • তাতে কি? তুমি এভাবেই থাকবে সারাজীবন।
  • উফফ, তোমাকে আমি বোঝাতে পারছি না কেন!
  • (লোপা আর কিছু না বলে গাড়িটা থামিয়ে ফেলল)

আমি ভাবলাম লোপা হয়তো একটু হলেও বুজতে পেরেছে। চারদিকে তাকিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে আমরা কোথায় আছি! চারদিকটা লক্ষ করে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আরে এটাতো সেই রেস্টুরেন্ট! যেখানে সেদিন লোপা তার বান্ধবীদের রেখে গিয়েছিল। কিন্তু আজ এখানে কেন এসেছে লোপা!

  • তুমি এইখানেই থেকো, আমি 2 মিনিটের ভিতরে আসছি। (লোপা)
  • আরে আরে! কোথায় যাচ্ছো? আমি এখানে একা একা থাকবো না। সন্ধে হয়ে আসছে। আমিও যাবো তোমার সাথে। (আমি)
  • (লোপা আর কিছু না বলে গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে দরজাগুলো চাবি দিয়ে আটকে দেয়)বললাম না এখানে বসে থাকতে! চুপচাপ বসে থাক। আমি এখনি আসছি। (কি জেদি মেয়েরে বাবা, এই মেয়েকে বিয়ে করবো কিভাবে? )

লোপা সেখান থেকে চলে গেল। কি করতে রেস্টুরেন্টে ডুকলো আল্লাহই ভালো জানেন। অনেক্ষন ধরে গাড়িতে একা একা বসে আছি। সন্ধে হয়ে গেছে, চারপাশটা একটু একটু দেখা যাচ্ছে। ভয় করছে প্রচুর। হঠাৎ দেখলাম রেস্টুরেন্ট থেকে লোপা বেরিয়ে আসছে। লোপাকে দেখে মনের মাঝে অনেকটা সাহস সঞ্ঝয় হলো।
কিন্তু একি! লোপাতো একটা মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে! কোথায় যাচ্ছে লোপা? আর ওই লোকটাই বা কে? ইনিতো লোপার বাবা নন!

  • লোপা! (গাড়ির ভিতর থেকে ডাক দিলাম)
  • (কিন্তু লোপার শুনার কোন নাম গন্ধও নেই)
  • লোপা এদিকে শুনো! (আবার ডাক দিলাম)
  • (কিন্তু লোপা আমার ডাক শুনতে পায় নি)

লোপা ওই লোকটার সাথে একটা গাড়িতে উঠে বসলো। আমি যে গিয়ে লোপাকে আটকাবো সেই উপায়ও নেই।
এখন আমার ভয় আরো দ্বিগুন বেরে গেল। লোপা আমার ডাক শুনতে পেল না কেন?
গাড়ির ভিতর মাথা নিচু করে বসে আছি। রেস্টুরেন্টে মানুষের আসাযাওয়া আছে ঠিকই, কিন্তু লোপা রেস্টুরেন্টের এক সাইডে গারি পার্ক করেছে বিধায় এদিকে মানুষ তেমন আসে না।
হঠাৎ দরজা খুলে আমার পাশে কেও একজন বসলো মনে হলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম।

  • তোমার 2 মিনিট এত তারাতারি শেষ হয়ে গেল? (আমি)
  • I m sorry! আসলে হইছে কি! ভিতরে ম্যানাজারের সাথে একটু ঝামেলা হইছিল। তাই একটু দেরি হয়ে গেল। (লোপাকে দেখে এখন অন্যরকম লাগছে। এখন সে সাভাবিক আছে)
  • কি নিয়ে ঝামেলা হইছিল?
  • আর বলো না, ম্যানাজারের বাচ্ছা বলছিল যে আমি নাকি আজকে সারা বিকেল এই রেস্টোরেন্টেই ছিলাম। (লোপা)
  • ওও! ওই হালা ম্যানাজার মনে হয় সন্ধাবেলা গাঞ্জা খাইছে।
  • হুমম এইটা হতে পারে।
  • আচ্ছা ওইটা বাদ দাও, কিছুক্ষন আগে তুমি একটা মধ্যবয়সি লোকের সাথে কোথায় গিয়েছিলে? (আমি বলা মাত্রই লোপা একবার আমার দিকে তাকাইল)
  • এই! গাঞ্জা তুমি কয় গ্লাস খাইছো?
  • মমানে? (লোপার কথায় ভ্যাবচ্যকা খেয়ে গেলাম)
  • এইযে বলছো আমি কোথায় গিয়েছিলাম! ভিতরে ম্যানাজারও তো এই কথাই বলল। কিন্তু আমি তো এইমাত্র রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়িয়ে এলাম! (লোপা)
  • কিন্তু আমিতো স্পষ্ট দেখলাম! (আমি)
  • ঘোড়ার ডিম দেখছো তুমি, সন্ধাবেলায় কাকে না কাকে দেখছো! আর ওকেই আমি মনে করছো।
  • কিন্তু(আমাকে পুরোটা বলতে না দিয়েই)
  • চুপ করো! নাহলে এখন আবার বিয়ে করতে নিয়ে যাব! (লোপা গাড়ি চালাতে চালাতে হুমকি দিয়ে বলল)
  • তারমানে আমরা এখন বিয়ে করতে যাচ্ছি না! (খুশি হয়ে আনন্দের সাথে জিজ্ঞেস করলাম)
  • পাগল! এই রাতের বেলায় কাজি অফিসে যাবো তোমাকে বিয়ে করতে?
  • যাক বাবা! বাচাঁ গেল। (বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম)
  • জ্বি নাহ্, বিয়ে আমি তোমাকেই করবো মিঅভি! কিন্তু আজ না, কালকে। (ভিলেন স্টাইলে হাসি দিয়ে)
  • তাহলে এখন করলে না কেন? হঠাৎ করে মত পরিবর্তন করার কারনটা কি জানতে পারি?
  • বারে! ঐখন আমরা বিয়ে করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যাবে না! তাহলে আমরা বাসর করবো কখন? (আবার সেই ভিলেনের মতো হাসি দিয়ে)
  • কিহ? বববাসর? তারমানে তোমার আর আমার বাসর হবে?
  • তো বিয়ে করে কি জামাই বউ বসে বসে লুডু খেলবো? (লোপা হঠাৎ করে গাড়িটাকে দার করিয়ে ফেলল)
  • ককি হলো? গাড়ি দার করালে কেন?
  • আরে এত ভয় পাচ্ছো কেন? এখন কিছু করবো না তো! (হাসতে হাসতে বলল লোপা)
  • তাহলে গাড়ি দার করালে কেন?
  • সেই সকালে যে খেয়ে বের হইছিলা! তার পরে তো আর কিছু খাও নি তাই না?
  • হুমম, পেটে বারবার গর্জন করতেছে।
  • হুম আমারও, ওয়েট(লোপা পিছনের সিট থেতে কিছু একটার পেকেট হাতে নিল)
  • কি এইটা? (আমি)
  • ওইযে বললা না পেটে গর্জন করতেছে! এইটাই পারে তোমার পেটের গর্জন কমাতে। (লোপা)
  • এই খাবার তুমি কখন আনলে?
  • আমি যখন গাড়িতে এসে বসেছিলাম তখন। তুমি তো ভয়ে মাথা নিচু করে ছিলে, তাই দেখতে পাও নাই। (লোপা খাবারগুলো বের করে)
  • ওও
  • হুমম, হা করো! (লোপা তার হাত দিয়ে আমার মুখের সামনে খাবার ধরে)
  • আমি খেতে পারবো তো!
  • হ্যাঁ সেটা আমিও জানি। চুপচাপ হা করো, নাহলে কিন্তু!
  • কি?
  • জোর করে খাওয়াবো, হা কর বলছি! (তুই করে বলছে+জোর করে মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে)
  • ওকে ওকে, হা করছি।
    অতএব হা করে নিলাম। লোপা আমাকে একটু খাইয়ে দিয়ে নিজে মন খারাপ করে বসে আছে। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না লোপার মন খারাপের কারন। তাই আমিও ওই খাবারের প্যাকেট থেকে খাবার নিয়ে লোপার মুখের সামনে ধরলাম।
  • নাও! এবার তুমি হা করো!
  • লাগবে না, তুমি খেয়ে নাও। (মন খারাপের শুরে)
  • ওকে! আমিই খেয়ে নিচ্ছি! (বলেই যেই আমি নিজেই খেয়ে ফেলতে যাব, তখনি লোপা আমার হাত ধরে ফেলল)
  • তুই নিজের হাতে একটা খাবার নিজের মুখে দিলে তোর মুখ ভেঙে ফেলব। রাক্ষস কোথাকার! (লোপা আমার হাতের খাবারগুলো নিজের মুখে নিয়ে নিল)
  • এইতো ভালো মেয়ে।

হঠাৎ আমি ঝাঁল অনুভব করলাম। এতক্ষন ঝাঁল না লাগলেও এখন ঝাঁলটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। (বিদ্র:- রাজ আগে থেকেই অতিরিক্ত ঝাঁল খেতে পারতো না)আমার ঝাঁল লেগেছে এটা হয়ত লোপা বুঝতে পেরেছে। তাই আমার দিকে পানির বোতলটা এগিয়ে দিল।
কিন্তু পানি খাওয়ার পর যেন আমার ঝাঁল আরও দ্বীগুন বেড়ে গেল।

  • কি হলো ঝাঁল কমেনি এখনো তোমার! (লোপা)
  • (আমিতো এইদিকে কথাই বলতে পারছি না)
  • (লোপাও আর কিছু না বলে ওর ঠোঁট গুলো আমার ঠোঁটে মিশিয়ে দিল)

লোপার ঠোঁটের স্পর্শে যেন আমার ঝাঁল উধাও হয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু সাথে সাথেই আমার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। আমার বারবার মনে হচ্ছিল যে এইরকমভাবে আমার ঝাঁল আগেও দূর করা হয়েছে। এইরকম মিষ্টি ঠোঁটের স্পর্শ আমি আগেই পেয়েছি, কিন্তু এটা কি করে সম্ভব?
এসব ভাবতে ভাবতেই মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে।

লোপাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম। মাথাব্যাথাটা ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে।
দুই হাত দিয়ে মাথাটাকে চেপে ধরলাম। কিন্তু মাথাব্যথা বেড়েই যাচ্ছে।

  • অভি! এই অভি! কি হইছে তোমার? এমন করছো কেন? অভি তুমি ঠিক আছো তো! (লোপা)
  • (চোখ দুটি বন্ধ হয়ে এল)

চোখ খুলার পর মনে হলো আমি হাসপাতালের কোন এক বিচানায় শুয়ে আছি। আমি এখানে কি করে এলাম সেটাই ভাবছি।
হঠাৎ মনে পরে গেল আমার এক্সিডেন্ট এর কথা। নিজের আপু আমার সাথে বেঈমানি করেছে, নিজের ভালোবাসার মানুষ টি আমাকে ঠকিয়েছে, মোবাইলটা পানিতে ছুরে মেরেছিলাম। তারপর এক্সিডেন্ট, তারপরেই আমি এখানে, হাসপাতালের বিছানায়।
পাশেই তাকিয়ে দেখলাম সিমি ম্যাম আমার মাথার কাছে বসে আছে।

  • আপনি! কেন এখানে এসেছেন এখানে? কি চাই? (আমি লোপাকে সিমি ম্যাম মনে করে বলছি)
  • অভি! কি বলছো তুমি এসব? আমি থাকবো না তো কে থাকবে? আর তুমি আমাকে আপনি করে কেন বলছো? (সিমি ম্যাম(লোপা) প্রায় কান্না করে দিচ্ছিলেন)
  • দেখেন ম্যাম! আমার এখন আপনার অভিনয় দেখার সময় নাই। কে অভি! অভি নামের কাওকে আমি চিনি না। আপনি এখন আসতে পারেন।
  • অভি তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? তুমি কি সব ভুলে গেলে? আমাদের ভালোবাসার কথা? আমি লোপা, তোমার লোপা, চিনতে পারছো না তুমি আমাকে?
    (লোপা কান্না করে আমাকে জরিয়ে ধরল)
  • হলোপা! (মাথায় আবার ঝিম ধরে গেছে)

অনেক্ষন চিন্তা করার পর আমার সব মনে পরে গেল।
তার মানে হলো এক্সিডেন্টের পরই আমি এখানে আসি নি! মাঝখানে আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় 6- 7 মাস।

  • অভি তুমি আমাকে চিনতে পারোনি? (লোপা আমার বুক থেকে মাথা উঠিয়ে)
  • চিনতে পেরেছি লোপা! এখন সব মনে পরে গেছে আমার। (আমার কথা শুনে লোপা অনেকটা খুশি হল)
  • প্রথমে তুমি আমাকে কাকে ভেবেছিলে?
  • সিমিকে।
  • কিহ? কিন্তু তুমি আপুকে কি করে চিন?
  • সে অনেক কাহিনী, আগে তুমি বলো। ঐদিন তুমি কি বলেছিলে যে সিমির ব্যাপারে পরে বলবে! এখন বলো। কে সিমি? কি হয়েছে তার? তোমার বাবা তাকে কেন খুঁজছে? সিমিরতো তোমার বাবার কাছেই থাকার কথা তাই না? তাহলে এখন কোথায় সে?
  • ওইসব তোমাকে পরে বলি! হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে! (লোপা)
  • না, এখনি বলো! খুব জরুরি।
  • সিমি আপু হলো আমার ২৫ বছরের বড়বোন। ছোট্ট একটা ভূলের কারনে সে।

পর্ব ১১ (শেষ পর্ব)

ছোট্ট একটা ভুলের কারনে সিমি আপু আজ নিখোঁজ। (বলেই লোপা কাদতে লাগল)

  • কিহ? সিমি ম্যাম নিখোঁজ! কি ভুল করেছিল? যে আজ সিমি ম্যাম নিখোঁজ? (অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম)
  • তাহলে পুরোটা শুনো, অনেকবছর আগে, আপুর বয়স যখন ১৫ বছর! তখন আমি ছিলাম মায়ের গর্ভে। তখন বাবা আর মায়ের মধ্যে একটু ভুল বুঝাবুঝির কারনে ঝগড়া লেগে যায়। আর সেই ঝগড়ার কারনে মা বাবাকে চেরে চলে আসে। সিমি আপুকে বাবা মা’য়ের সাথে আসতে দেয় নি। তাই আপু থাকে বাবার কাছে। আর আমার জন্মের পর থেকে আমি মায়ের কাছে থেকেই বড় হয়েছি। এভাবেই আমরা আলাদা হয়ে যাই। (লোপা)
  • আর সিমি ম্যামের ভুলের ব্যাপারটা! (আমি)
  • কয়েকমাস আগের কথা। আমি বাবার কাছ থেকে শুনেছি। সিমি আপু একটা ছেলেকে খুব খুব ভালোবাসতো। ছেলেটার নাম ছিল রাজ। (লোপা একটু থেমে যায়)
  • হুম তারপর! (আমি এখনো আমার পরিচয় দেই নি)
  • রাজ ছিল আপুর থেকে ১/১৫ বছরের জুনিয়র। হিমুর একটা বড় বোন আছে, আপুর বান্ধবী। রাজও আপুকে অনেক ভালোবাসতো। আপু রাজকে ছেরে একা একা থাকতে পারছিল না। তাই আপু রাজকে না জানিয়েই রাজদের বাড়ি গিয়ে তাদের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল। বিয়ের দিন তারিখ’ও ঠিক করে ফেলা হয়েছিল। (লোপা বলছিল আর মাঝে থেমে যাচ্ছিল)
  • (আমি কোন কথা বলছি না, শুধু অবাক হয়ে কথাগুলো শুনছি)
  • বিশ্বাস করো অভি! আপু ছেলেটিকে একটুও কষ্ট দিতে চায় নি। এমন হয়ে যাবে জানলে আপু কোনদিন ওই কাজটা করতো না। (লোপা)
  • কি হয়েছিল? (স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞাস করলাম)
  • সিমি আপু আর ওই ছেলেটির বোন মিলে একটু মজা করতে চেয়েছিল। রাজের বোন রাজি ছিল না, তার ভাই কষ্ট পাবে এই জন্য। কিন্তু সিমি আপু তার বোনকে রাজি করিয়ে নিয়েছিল।
  • কেমন মজা ছিল ওইটা?
  • রাজ জানতো না যে ওইদিন তাদের বিয়ে ছিল। আর সিমি আপু এইটা স্পষ্ট জানতো যে রাজ প্রতিদিন একবার হলেও তার কাছে যাবে। আর রাজ গেলেই তার সাথে ড্রামা করবে। তারপর রাজ অনেক কষ্ট নিয়ে যখন বাড়ি ফিরবে, তখন তার বিয়ে দেখে সে চমকে উঠবে। আর এ কাছে সাহায্য করবে রাজর হবু দুলাভাই হিরন।
  • কিহ? হিরন রাজের হবু দুলাভাই? (আমি আরও অবাক হয়ে)
  • হুম, আসলে হিরন আর রাজের বোন দুজন দুজনকে ভালোবাসতো, কিন্তু এই কথাটা কেও জানতো না। এমনকি রাজও না। আর হিরন এর আর একটা পরিচয় আছে, হিরন সিমি আপুর চাচাতো ভাই। আর আমি এসব কালকেই জানতে পারলাম।
    (লোপা)
  • আর তাদের মজার ব্যাপারটার কি হলো?
  • তারা তাদের প্লানমতোই মজা করছিল। শুধু একটা জায়গা তাদের প্লানের সাথে মিলে নি। (লোপা আবার থেমে গেল)
  • কি সেটা?
  • রাজ ওইদিন আর বাড়ি ফিরেনি। শুধু ওইদিন কেন! ওইদিনের পরে রাজ আজ পর্যন্ত বাড়ি ফিরেনি। আপু ওইদিন থেকেই বধুসাজেই তার ভালোবাসার মানুষকে খুজতে বেরিয়েছে। আজ পর্যন্ত আপুরও কোন খবর নেই। সিমি আপু আর রাজ, ওইদিন থেকেই নিখোঁজ। তারা বেঁচে আছে কিনা সেটাও কেও জানেনা। অনেক খোঁজার পর’ও তাদের খুজে পাওয়া যায় নি। (লোপা কান্না করতে লাগল)

হয়তো বোন হারানোর দুঃখে কাদছে। আমি লোপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি কি এটা বলবো যে আমিই সেই পাশান রাজ। যে কিনা তার ভালোবাসার মানুষটির একটু মজা বুঝতে পারে নি! কত্ত ভালোবাসতো মেয়েটি আমাকে। আর আজ আমার জন্যই সিমি নিখোঁজ। কে জানে কোথায় আছে আমার সিমি!

  • কিন্তু তুমি কি করে আপুকে জানো! (রাজ স্বাভাবিক গলায় হঠাৎ করে বলে উঠল)
  • (আমি কোন কথা বলতে পারছি না, মনে হচ্ছে স্তব্দ হয়ে গিয়েছি)
  • কি হলো? বলছো না যে! (সিমি আবার বলে উঠল)
  • আআমিই সেই রাজ, জাহিদ হাসান জিহান(রাজ)।
  • (আমার কথা শুনামাত্রই লোপা আমার থেকে দূরে সরে গেল)ততুমিই সসেই রাজ!
  • হুমম, (মাথা নিচু করে বললাম)
  • তাহলে তুমি এখানে কি করে! (লোপা)
  • সিমির সেই মজাগুলোকে আমি বুঝতে পারি নি। তাই থানা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে আপুকে ফোন দেই। কিন্তু আমি আপুর মজাটাও বুঝতে পারি নি, তাই ফোনটা ওইখানেই ফেলে দেই। আর মন খারাপ থাকার কারনে তোমার গাড়ির হর্ণ শুনতে পাই নি। অতঃপর আমি আজ এখানে। (আমি)
  • বুঝতে পেরেছি সব আমার জন্যই হয়েছে। আমি ওইদিন ওইখানে না থাকলে এইসবের কিছুই হতো না। (লোপা কান্না করেই যাচ্ছে)
  • লোপা তুমি কেন নিজেকে দোষ দিচ্ছো! সবতো আমার জন্যই হয়েছে। আমি আমার ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারি নি।
  • থাক, এসব ভেবে এখন আর কি হবে! এখন তোমার কেমন লাগছে তাই বলো। (লোপা চোখের পানি মুচতে মুচতে বলল)
  • হুম ভালো।
  • বাবা আর মাকে খবর দিয়েছি। একটু অপেক্ষা করো, ওনারা আসছেন। তারপর আমরা চলে যাবো।
  • হুমম,

তারপর কিছুক্ষন অর্ধশুয়া আবস্তায় রইলাম। আর লোপা আমার পাশে বসে রইল। কিছুক্ষন পর আঙ্কেল আর আন্টি আসলো।

  • এখন কেমন আছো বাবা? (আন্টি)
  • জ্বি আন্টি ভালো। (আমি)
  • আম্মু জানো! অভির এখন সব কিছু মনে পরে গেছে। (পাশ থেকে লোপা বলে উঠল)
  • তাই নাকি? এটা তো খুশির সংবাদ! তা তোমার নাম কি বাবা? (আন্ট
  • রাজ। (আমার নাম শুনে আঙ্কেল একটু চমকে উঠল)
  • তোমার বাসা কোথায়! (আঙ্কেল)
  • (ঠিকানা বললাম। আমার ঠিকানা শুনে আঙ্কেল কেদে দিলেন)
  • আমার সিমি কোথায় বাবা! একমাত্র তুমিই পারবে সিমিকে খুজে বের করতে। (আঙ্কেল আমার হাতে ধরে কাদতে লাগলেন)
  • জ্বি আঙ্কেল! সিমি যেখানেই থাকুক না কেন! আমি সিমিকে খুঁজে বের করবোই। (আমি)
  • আমি জানি বাবা, একমাত্র তুমিই পারবে সিমিকে খুজে আনতে। (আঙ্কেল)
  • বাবা, অভিকে এখন বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাক! (লোপা)
  • হুম, তোমরা যাও। আমি আর তোমার আম্মু ডা এর সাথে দেখা করে আসছি। (আঙ্কেল)
  • হুমম। (লোপা)

তারপর আমি আর লোপা বাড়ি চলে আসলাম। রাস্তায় লোপা কোন কথা বলে নি। মনে হয় কোন কিছু নিয়ে ভাবছে।
বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পরলাম, আর ভাবতে লাগলাম কোথায় পাওয়া যাবে সিমিকে। অনেক্ষন ভাবার পর একটা কথা।
কিছুক্ষন আগে যখন আমি রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়িতে বসে ছিলাম! তখন লোপাকে দেখেছিলাম একটা মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে একটা গাড়িতে উঠতে। কিন্তু লোপাতো বলেছিল ওইটা লোপা ছিল না, তবে কি ওইটা সিমি ছিল?

হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত যে ওইটাই সিমি।
এখন আমাকে শুয়ে থাকলে চলবে না। যত তারাতারি সম্ভব আমাকে ওই রেস্টুরেন্টের সামনে যেতে হবে।
তাই শুয়ে না থেকে চলে গেলাম লোপার ঘরের সামনে। লোপাকে ডাকতেই লোপা বেড়িয়ে এল।

  • কি হলো অভি? (লোপা আমাকে এখনো অভি নামেই ডাকে)এত রাতে ডাকছো কেন? আর তোমাকে এত নার্বাস লাগছে কেন? (লোপা)
  • আমাদের এখনি ওই রেস্টুরেন্টের সামনে যেতে হবে। (আমি)
  • এত রাতে ওইখানে গিয়ে কি করবো?
  • ওইটা তোমাকে যেতে যেতে বলবো। আগে তুমি বলো ওই রেস্টুরেন্ট কি রাতেও খোলা থাকে?
  • হুম, 24 ঘন্টায় খোলা থাকে।
  • তাহলে চলো।

তারপর লোপা ঘরে গিয়ে চাবিটা নিয়ে আসলো। আর আমি বাইরে দারিয়ে রইলাম। কিছুক্ষন পর লোপা চাবি নিয়ে বাইরে আসলো। আমি লোপার কাছ থেকে চাবিটা নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে লোপাকে সাথে বসিয়ে ড্রাইভ করতে লাগলাম।

  • অভি! আমরা এত রাতে ওইখানে কেন যাচ্ছি?
  • (লোপাকে আমি সব বুঝিয়ে বললাম)
  • তাহলে তারাতারি চলো। ওই রেস্টুরেন্ট থেকেই আমরা কিছু তথ্য পেতে পারি। (হিমু)
  • হুম।

আমরা কিছুক্ষনের মধ্যে চলে এলাম রেস্টুরেন্টের সামনে। যেখান থেকে সিমি গাড়িতে উঠেছিল সেখানেই দারিয়ে আছি লোপা আর আমি।
কিন্তু আশেপাশে তেমন কাওকে দেখতে পেলাম না। হঠাৎ দারোয়ানের দিকে চোখ গেল। দারোয়ান তো এখানে সারাক্ষনই থাকে। তাহলে ওনার কাছেই জিজ্ঞাস করি।
কিন্তু সমস্যা হলো এর ভেতরে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ আনাগোনা করে। ওনি চিনবেন তো!

তখনি মনে পরলো, লোপাতো সাথেই আছে।
দারোয়ান এর কাছে গেলাম।

  • চাচা আপনিতো এখানে সারাক্ষনই থাকেন তাই না? (আমি)
  • না বাবা! আমার ডিউটিতো বিকেল ৫ টা থেকে। (দারোয়ান)
  • আচ্ছা চাচা, আপনি এই মেয়েটিকে চিনেন! (লোপাকে দেখিয়ে বললাম)
  • না, তবে আজকে সন্ধায় এনাকে প্রথম দেখলাম। একটা মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে টেক্সিতে উঠেছিল।
  • কিন্তু আমি তো দেখলাম প্রাইভেট কারে উঠতে।
  • না বাবা, তুমি নিশ্চয় ভুল দেখেছো। বিশ্বাস না হলে ওনাকেই জিজ্ঞাস করে দেখো! (লোপাকে দেখিয়ে বলল। কারন চাচা মনে করলো লোপাই সেই মেয়ে)
  • না থাক চাচা ঠিক আছে। (আমি লোপাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে এলাম)

লোপাকে নিয়ে গাড়িতে বসে আছি, এখান থেকে কিছুই জানতে পারলাম না। কি করবো এখন কিছুই বুঝতে পারছি না।

  • এখন কি করবে? এখান থেকে তো তেমন কিছুই জানতে পারি নি! (লোপা)
  • আমি কিচ্ছু ভাবতে পারছি না, কি করবো, কোথায় যাবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।
  • আমিও কিছু বুঝতে পারছি না অভি! কি করে খুজবো আপুকে? কোথায় খুজবো? (লোপাও প্রায় কান্না করে দিচ্ছে)
  • লোপা আমার কিছু মনে পরতে চাইছে। কিন্তু কেন যেন মনে করতে পারছি না।
  • মনে করার চেষ্টা করো অভি!
  • তুমি গতকাল পুলিশ হয়ে জয়েন করতে যাওয়ার সময় আমি জ্ঞ্যন হারিয়ে ফেলেছিলাম তাই না!
  • হুম।
  • তারপর আমাকে কোন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলে! সেখানে আবার নিয়ে যেতে পারবে?
  • হুম, কিন্তু সেখানে গিয়ে কি হবে।
  • আগে চলো। তারপর গিয়ে বলছি।
  • হুম।

লোপা আমাকে নিয়ে এই রাতের বেলায় সেই হাসপাতালের উদ্দেশ্য যেতে লাগল।
এটাই আমার কাছে থাকা সিমির সর্বশেষ ঠিকানা। কারন, ওই হাসপাতালে আমার জ্ঞ্যন ফিরার পর ICU তে আমি লোপার মতো কোন একজনকে দেখেছিলাম। (আগের পর্বগুলো ভালোভাবে পরলে বুঝতে পারবেন)
আমি নিশ্চিত আমি ভুল কিছু দেখিনি। ওইটা সিমিই ছিল।

হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সকাল হয়ে গেল।
গাড়ি থেকে নেমে আমি আর লোপা চলে গেলাম সেইICU এর সামনে। কিন্তু গিয়ে কাওকে পেলাম না, একদম ফাঁকা। তাই আমি আর লোপা ড এর কেবিনে ডুকে গেলাম। লোপা এখনো জানেনা আমার এখানে আসার কারন। আমি আর লোপা ড এর রুমে প্রবেশ করার পর ড রাজকে দেখে দারিয়ে গেল। ড এর এমন রিয়েক্ট দেখে আমি আর লোপা রিতীমতো অবাক হলাম।

  • ড সাহেব! আপনি হঠাৎ দারিয়ে গেলেন যে! (লোপা)
  • আআপনি বেঁচে আছেন! এটা কি করে সম্ভব? (ড সাহেব লোপাকে বললেন)
  • মানে? (রাজ)
    ড এর কথা শুনে আমার বুকের বামপাশটা মুচর দিয়ে উঠল। ওনি সিমির কথা বলছেন না তো!
  • কি বলছেন আপনি? ও বেঁচে থাকবে না তো কি থাকবে? (আমি)
  • কিন্তু আমিতো(ওনি পুরোটা না বলে একটা ফাইল খুলে দেখতে লাগলেন)এটা কি করে সম্ভব? ওনাকে তো এইমাত্র মর্গে রেখে আসা হয়েছে!
  • না! সিমি! সিমির কিছু হতে পারে না। সিমি কোথায়! (আমি আর কিছু না বলে বেরিয়ে গেলাম মর্গের খোঁজে)

কিছুক্ষন খোজার পর পেয়েও গেলাম। আমার পিছন পিছন লোপাও চলে এল। দেখলাম একটা লোক একটা লাশের পাশে বসে আছে। লোকটাকে আমার চিনতে বাকি রইল না। এই সেই লোক, যার সাথে আমি সিমিকে গতরাতে দেখেছিলাম। তবে কি ওইটাই সিমির লা
আর কিছু ভাবতে পারলাম না। দৌড়ে গেলাম লাশটার কাছে। গিয়ে লাশের মুখ দেখে আমি স্তব্দ হয়ে গেলাম।

কোন কথা বলতে পারছি না।
“আমি ভাবতেও পারিনি সিমিকে আমি এভাবে খুঁজে পাবো। আমিতো সিমিকে এভাবে চাই নি! সিমিতো আমাকে খুজতে এসেছিল, তাহলে সেই কেন আমাকে ছেরে চলে গেল! কি করে হলো এসব? “
আমার মুখ দিয়ে তখন একটা কথাও বের হচ্ছিল না। ওইদিকে লোপা সিমির কাছে বসে কাঁদছিল।

  • আপনারা কারা? (সিমির কাছে বসে থাকা লোকটি)
  • কি করে হয়েছে এসব? (আমি কোনভাবে জিজ্ঞাস করলাম)
  • আপনি আমার সাথে একটু আসুনতো! (পেছন থেকে একজন ডবলে উঠল)
  • (আমি কিছু না বলে ড এর পিছন পিছন তার কেবিনে গেলাম)
  • আপনি ওনার কি হন? (ড)
  • (আমি ড কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা বললাম)
  • আপনারা এখানে আসতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন। এই মেয়েটি প্রায় ৭ মাস ধরে এই হাসপাতালে আছে।
    ওইখানে ওই লাশের পাশে যে লোকটি বসে আছে! ওনি আসলে আমাদের এখানের ডরাশেদ।
  • (আমি চুপ করে আছি)
  • আজ থেকে ৭ মাস আগে ডরাশেদ গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার সময় এই মেয়েটিকে বধু অবস্তায় অজ্ঞান পরে থাকতে দেখে। ডরাশেদ মেয়ে হারানো এক পিতা হয়ে মেয়েটিকে ওইখানে ফেলে আসতে পারেনি। ওনি মেয়েটিকে এনে নিজের হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়েটির জ্ঞ্যন ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু সব পরিক্ষা নিরিক্ষা করে জানা যায় যে মেয়েটির ব্রেইন টিউমার রয়েছে। তাই মেয়েটিকে এখানে রেখেই চিকিৎসা করান। কিন্তু আমরা সবাই জানতাম যে মেয়েটি বাঁচবে না।

তবুও রাশেদ সাহেব হাল ছারেনি। ভিবিন্ন জায়গায় ড দেখিয়েছেন। তেমনি গতকাল তিনি মেয়েটিকে নিয়ে অন্য একটা বড় হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তায়(ওনি আর কিছু বললেন না)

আমি কিছু না বলে সেখান থেকে উঠে আবার মর্গে গেলাম। “খুব কষ্ঠ হচ্ছে সিমির জন্য। যার জন্য সে বাঁচতে চেয়েছিল! মৃত্যুর আগে একটি বারের জন্যও তাকে দেখতে পেল না।”

১ বছর পর….

পুকুর পাড়ে বসে আছি। এখনো সিমিকে ভুলতে পারিনি। এখনো সিমির সৃতিগুলো খুব মনে পরে। আজ লোপার সাথে আমার বিয়ে। ইচ্ছে না থাকা সত্বেও বাড়ির সবার জোরাজুরিতে লোপাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছি। সিমির বাবা মা’ও এটাই চান যে লোপার সাথে আমার বিয়েটা হোক।

অবশেষে বিয়েটা হয়েই গেল বাসর ঘরের সামনে দারিয়ে আছি। নিজের ঘর থাকা সত্বেও ভিতরে জেতে পারছি না। আপু এসে ঘরে ডুকিয়ে দিয়ে দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়ে চলে গেল। লোপা বিছানা থেকে উঠে এসে পা ধরে সালাম করে আবার বিছানায় গিয়ে উঠে বসলো।
আমিও গিয়ে বিছানায় বসে রইলাম।
আমার মুখ থেকে কিছু শুনার আসায় এখনো কিছু বলছে না।

  • পুরোনো সৃতি মনে রেখে কি হবে অভি! চলোনা আমরা নতুন করে জীবন শুরু করি। (লোপা)
  • (চুপ করে রইলাম)
  • অভি! তুমি তো বলেছিলে আমাকে ভালোবাস! তাহলে এখন কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ? দেখো! একদিন আমিও আপুর মতো ওইভাবে হা(লোপাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দিলাম আমার ঠোঁট দিয়ে। নাউযুবিল্লা)

হারানোর কষ্ট আমি পরেরবার আর পেতে চাই না। এমনকি এভাবে কাওকে হারানোর কথা ভাবতে চাই না।
প্রায় ১ মিনিট পর লোপা নিজেকে ছারিয়ে নিল। সাথে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে জরিয়ে ধরল।

  • love you raj
  • কিহ! হraj! (লোপা­র মুখে রাজ নাম শুনে চমকে উঠলাম)
    এটাকি লোপা! নাকি সিমির আত্মা!

লেখা – জাহিদ হাসান জিহান (রাজ)

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “”গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ুন – রোমান্টিক পুলিশ ম্যাম (১ম খণ্ড) – চুমু অতঃপর গোপন ভালোবাসার গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!