মিষ্টি প্রেমের গল্প

মিষ্টি প্রেমের গল্প – পর্ব ৬ | স্যারের সাথে প্রেম | Love Story Bangla

মিষ্টি প্রেমের গল্প ৬

মিষ্টি প্রেমের গল্প – পর্ব ৬ | স্যারের সাথে প্রেম: গত পর্বে আমরা একটা আত্মীয়ের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছি রোদ ও মিষ্টির মাঝে। কিন্তু তার এটা জানে না। দুজনেই বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। দেখা যাক তারা কেমন অবাক হয় এবং পরবর্তিতে কি ঘটে?

বিয়ে বাড়িতে দুজনের সিনেমাটিক দেখা

এদিকে রোদেরাও রওনা দিয়ে দেয়। ওখানে পৌছে রোদের পরিবার তিশার বাবা-মায়ের সাথে কিছু কথা বলে নেয়। রোদকে তিয়াষ এর রুমে থাকতে দেওয়া হয়।

(তিয়াষ রোদের ফুফাতো ভাই ও তিশার বড় ভাই)

পরেরদিন তিশার গায়ে হলুদ। জার্নি করে আসায় তাই সকলেই বিশ্রাম নিয়ে নেই।

গায়ে হলুদের দিন- আমি আর মুন তিশাকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিই। তারপর মুন আর আমি সাজতে শুরু করে দিই। আমরা সবাই শাড়ি পরেছি। আমি গোলাপি পাড় হলুদ শাড়ি পরেছি। চুলগুলো খোপা করে ফুল দিয়ে সুন্দর করে সেজেছি। চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক, দুই হাতে দুই মুঠো চুড়ি, কানের দুল আর ছোট একটা টিপ।

মুন আর তিশা আগেই নিচে চলে গেছে। আর আমি তখনও রেডি হচ্ছিলাম। তাই আমি ওদের সাথে যেতে পারিনি।

আজকে রোদ, তিয়াষ আরো সকল ছেলেরা ম্যাচিং করে হলুদ পাঞ্জাবি পরেছে। সবাইকে খুব সুন্দর লাগছে।

আমি নিচের দিকে তাকিয়ে শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে দরজার সামনে যেতেই কারো সাথে ধাক্কা খাই।

মিষ্টিঃ কেরে? কোন খাটাশরে? আমারে ধাক্কা দিলি?(বলে উপরে তাকিয়ে আমি হা হয়ে যাই। )

তারপর উপরে তাকাতেই দেখি খাম্বায় আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।

(তিয়াষ আর তিশার রুম একেবারে সামনাসামনি তাই বের হতেই ধাক্কা লেগে যায়)

মিষ্টিঃ আপনি এখানেও।

রোদঃ তুমি! তুমি এখানে কি করো?

স্যারের সাথে মিষ্টির ঝগড়া

মিষ্টি চোখ লাল করে বলে- আমি এখানে কি করি মানে? আপনি সবসময় আমার পিছনে পইড়া আছেন আবার বলেন আমি এখানে কি করি। তাছাড়া আপনার কি আমায় ধাক্কা না দিলে শান্তি লাগে না। সবসময় আপনি আমার পিছন পিছন থাকেন কেনো বলেনতো?

রোদঃ আমি তোমায় ধাক্কা দেইনি। বরং তুমি আমায় ধাক্কা দিয়েছো।

মিষ্টিঃ মোটেই না। আপনিই আমায় ধাক্কা দিয়েছেন। এখন আবার আপনি মিথ্যা বলছেন?

রোদঃ নিচের দিকে তাকিয়ে কে হাটছিলো শুনি? আমি না তুমি? হ্যা!

মিষ্টিঃ সেটা আমি কিভাবে বলবো। আপনিই ভালো যানেন। কিন্তু আমি একদম শিওর আপনি আমায় ইচ্ছা করে ধাক্কাটা দিছেন।

রোদঃ কিইইই আমি তোমাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিছি।

মিষ্টিঃ তা নয়তো কি হ্যাঁ। বাই দ্যা ওয়ে আপনি এখানে কি করেন বলেনতো। আপনি এখানেও আমার পিছন পিছন চলে আসছেন। আমি যেখানেই যাই আপনি ঠিক সেখানেই আমার পিছন পিছন চলে আসেন কেমনে হ্যাঁ?

রোদঃ এক্সকিউজমি! আমি আমার ফুপ্পির বাড়ি আসছি। তোমার পিছন পিছন না। ওকে। বরং তুমি আমার পিছনে পিছনে আসছো।

মিষ্টিঃ একদমই না। আমি ও আমার মামার বাড়ি আসছি। তিশার বিয়ের জন্য। দূর কই ভাবলাম কয়টা দিন আমি একটু আরামে থাকবো না আবার সেই আপনি অসহ্য (রেগে)।

রোদঃ শোনো আমিও না তোমার মতো পেত্নীর থেকে বাচার জন্য এখানে আসছিলাম কিন্তু পেত্নী কি আর সহজে ঘাড় থেকে নামে। পেত্নী ঠিক সামনে হাজির।

মিষ্টিঃ কিহ্! আমি পেত্নী? আমাকে আপনি পেত্নী বলতে পারলেন? আমাকে আপনার কোন দিক দিয়ে পেত্নী মনে হয়, হ্যা।

রোদঃ সব দিক দিয়েই তোমায় পেত্নী লাগে।

মিষ্টিঃ আমি পেত্নী হইলে আপনি বান্দর, ইদুর, বিলাই, টিকটিক আরো যা যা আছে সব।

রোদঃ তুমি!

স্যারকে নতুন ভাবে আবিষ্কার

তিয়াষঃ আরে তোমরা এখানে কি করো? তাড়াতাড়ি চলো নিচে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবেতো। রোদ ভাই চল। মিষ্টি তোমাকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে। একদম হলুদ পরী লাগছে।

মিষ্টিঃ থ্যাংক ইউ। (লজ্জা আর মিষ্টি হাসি দিয়ে)। তোমাকেও খুব সুন্দর লাগছে তিয়াষ।

তিয়াষঃ তোমাকেও থ্যাংকস। (মুচকি হেসে)

আর এদিকে রোদতো তা দেখে রাগে লাল হয়ে যাচ্ছে।

রোদঃ তিয়াষ তুই না বললি অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে। তাহলে এখন লেট করছিস কেনো? চল আমরা নিচে যাই।

তিয়াষঃ তুই যা। আমি মিষ্টিকে নিয়ে আসছি। মিষ্টি চলো।

মিষ্টিঃ হুম।

তারপর আমি আর তিয়াষ একসাথে চলে যাই।

(তিয়াষ আমাকে ছোট থেকে পছন্দ করে। সেটা আমি বুঝে ও না বুঝে থাকি। আর রোদতো আমাকে আর তিয়াষকে একসাথে দেখে জ্বলছে আর ফুলছে)।

রোদঃ এহ্! কি ভাব দুইজনের। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে তিয়াষ (রাগ নিয়ে)। আমার সংগে সাড়াদিন ঝগড়া করবে আর সবার সাথে মিষ্টি করে কথা বলবে। আমাকেও তো সুন্দর লাগছে কই আমাকেতো বললো না একবারো। আবার দুইজন একসাথে গেলো। আমি ও যে ছিলাম কারো চোখেই পড়লো না। আচ্ছা, আমি এতো রেগে যাচ্ছি কেনো? যার যা ইচ্ছা সে তাই করুক। তাতে আমার কি আমি আমার মতো করেই থাকবো।

তারপর রোদ ও নিচে চলে যায়। নিচে গিয়ে দেখে আমি, তিয়াষ, মুন, রোদেলা সবাই একসাথে গল্প করছি। অন্যদিকে আমাদের কোন খেয়াল নেই। রোদ দূর থেকে সব দেখছে কিন্তু এমনভাব দেখাচ্ছে যেন ফোনে টিপছে বলে মনে হয়। হঠাৎ আমার চোখ যায় রোদের দিকে। হলুদ পাঞ্জাবি, চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা, হাতে ঘড়ি আর এমন ভাব করছে যেন মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে দেখতে অসাধারণ লাগছে।

আমি এই প্রথম স্যারকে একটু ভালো করে দেখলাম। এতোদিনতো শুধু ঝগড়াই করে গেছি। স্যারকে তেমন ভাবে দেখিনি। আজকে দেখে সত্যি মনে হচ্ছে আসলেই সুন্দর খাম্বাটা। শুধু সুন্দর না একটু বেশিই সুন্দর।

তারপর সকলে…চলবে…

পরের পর্ব: মিষ্টি প্রেমের গল্প – পর্ব ৭ | স্যারের সাথে প্রেম

সকল গল্পের ধারাবাহিক সব পর্ব এখানে গিয়ে খুঁজুন – ধারাবাহিক পর্বের গল্প

Related posts

সিনিয়র প্রেম – ডাক্তার মাইয়া যখন বউ – পর্ব ৬ | Senior Bou

valobasargolpo

মিষ্টি প্রেমের গল্প – পর্ব ১৯ | স্যারের সাথে প্রেম | Love Story Bangla

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!