মিষ্টি প্রেমের গল্প

ইচ্ছেটা তোমারই – একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প (১ম খণ্ড)

ইচ্ছেটা তোমারই – একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প: বাসর ঘরে বসে আছে আখি। একটু আগে কয়েকটা মেয়ে এসে সাজিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ছোট্ট একটা কাশি দিলো আকাশ।


পর্ব ১

বিয়েতে কবুল না বলায় ঠাস করে একটা চর পরে যায় আখির গালে। গালে হাত দিয়ে ডুকরে কেদে উঠে সে। আসে পাসে থাকা সাক্ষি গুলো খিটখিটিয়ে হেসে উঠতেই, আকাশ রাগি লুক নিয়ে ঠোট জোড়ায় আঙুল দিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে।

নিজেকে আজ খুবই অসহায় মনে হচ্ছে আখির। বাবা মা কে বন্ধি করে রেখেই তাকে জোর করে বিয়ে করছে আকাশ চৌধুরি। মাথাটা নিচু করে চোখের জল বিশর্জন দিচ্ছে আখি। কাজি অফিসে সকলের সামনে এভাবে থাপ্পর খাওয়া আর তাকে নিয়ে সকলে এভাবে হেসে উঠায়, ঘৃনা ও লজ্জা দুটুর ছাপই আখির মুখে স্পস্ট পুটে উঠেছে।

মায়ের কথা ভেবে হলেও কাপা কাপা হাতে সাইন করে দিলো আখি। সাইন করেই শব্দ করে কেদে উঠে সে। আাকাশের ধমকেই কান্না স্তব্দ হয়ে যায় আখির।
এবার কান্না করছে কিন্তু আর আওয়াজ নেই। ভিতর ভিতর বুকটা ফেটে যাচ্ছে আখির।
আখিকে গাড়িতে উঠিয়ে আকাশ সোজা বাড়ি নিয়ে বাবার সামনে দাড়ায়।

  • বাবা আমি বিয়ে করে ফেলেছি, তোমার পছন্দ করা মেয়েকেই। তোমাকে না জানিয়ে অন্যায় করে ফেলেছি যানি। প্লিজ বাবা ক্ষমা করে দাও।
    আসিফ সাহেব মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে বলে।
    -বিয়ে কি জোর করে করেছিস নাকি তোদের দুজনের ইচ্ছেতে?
  • কি বলো বাবা, আমাদের দুজনের ইচ্ছেতেই বিয়েটা হয়েছে।
  • ওহ্ তাহলে ঠিক আছে। আয় ভেতরে আয়।

মাথা নিচু করে দাড়িয়ে সব কিছু সুনে যাচ্ছে আখি। তাদের ইচ্ছেতেই বিয়েটা হয়েছে এটা ভাবতেই চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে সত্যিটা। কিন্তু বলতে পারছেনা, কারণ তার মা এখনো আকাশের হাতে বন্ধি।

ঘরে প্রবেশ করতেই সাগর দেখে ঘরটা ফুলে ফুলে শুসাজ্জিত।

  • কি হলো বাবা? বাড়িটা এমন করে সাজিয়েছো, যেনো তুমি যানতে আমি আজ বিয়ে করছি?
  • হুম, ফাহিম আমাকে আগেই বলেছে। তোরা দুজন বিয়ে করতে যাচ্ছিস। তাই বাড়িটা হালকা সাজিয়ে নিলাম। আমার একমাত্র ছেলে বলে কথা।
    আকাশ ফাহিমকে এক পাসে ডেকে বলে,
  • তুই আবার সত্যিটা বলে দিসনি তো?
  • আরে না ভাইয়া, চাচাকে কি আমি এসব বলতে যাবো? বলেছি তুমি আর ভাবি বিয়ে করতে যাচ্ছো ব্যাস।
  • ভালো করেছিস, আর শুন বাবা যেনো এই ব্যাপারে কিছুই যানতে না পারে।

বাসর ঘরে বসে আছে আখি। একটু আগে কয়েকটা মেয়ে এসে সাজিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ছোট্ট একটা কাশি দিলো আকাশ।
মাথাটা নিচু করা অবস্থায় সান্ত ভাবে আখি বলে উঠলো,

  • আপনার কাজ শেষ?
  • বলতে পারো।
  • আম্মুকে কি ছেরেছেন নাকি এখনো আটকে রেখেছেন?
  • তাকে কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ছেরে দিয়েছি। শাশুরি বলে কথা।
  • খবরদার আপনার ওই মুখে, আম্মুকে শাশুরি দাবি করবেন না।
  • তুমি আমার বিয়ে করা স্ত্রী, তো সেও আমার শাশুরিই হয় তাই না?
  • আমি আপনার স্ত্রী নই কারণ আমি আপনাকে স্বামি হিসেবে মানিনা। আর হ্যা একধম অধিকার ফলাতে আসবেন না। আপনি জদি জোর করেন তাহলে……..
  • তাহলে কি? দেহ পাবো মন পাবোনা তাই তো। আমি তোমাকে দেহের জন্য বিয়ে করিনি। বাবার কারণেই বিয়ে করেছি তোমাকে। তোমাকে আমার বাবাই পছন্দ করেছে। বাবাকে খুশি করতেই বিয়েটা করেছি আমি। কারণ বাবা একজন মৃত্যুর পথ যাত্রি।

খুব জোরে চার মাস সময় দিয়েছে ডাক্তার। এর ভেতরে বাবার সকল আবদার পুরন করে, ইচ্ছা অনিচ্ছাকে প্রাধান্ন দিয়ে বাবাকে সবসময় খুশি রাখবো আমি। তাই বাবাকে খুশি করতেই তোমাকে বিয়েটা করেছি আমি। যদিও তোমাদের বাড়িতে সেদিন বাবা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলো, তুমার মা মুখের উপর না বলে দিয়েছিলো। সেই দিন বাবাকে বলেছিলাম যে, আমি বিয়ে করলে তোমাকেই করবো। বাবা বলেছিলো, মেয়েটার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করতে যাস না। আমি চেস্টা করেছি, কিন্তু পারিনি তোমাকে রাজি করাতে তাই বাধ্য হয়েই……..

  • আপনি যানেন বাবা কেনো আপনাদের মুখের উপর নিশেদ করেছিলো? কারণ, অন্য একজনের সাথে আমার বিয়ের কথা বার্তা একেবারে পাকা ছিলো। আমিও তাকে ভালোবাসি সে আমাকে ভালোবাসে। তাকে ছারা আমি নিজের জায়গায় কাওকে কল্পনাও করতে পারিনা।
  • সমস্যা নাই, আমি নিজেই তোমাকে তার কাছে পৌছে দিবো। এখন থেকে এই বাড়িতে সব কিছু তোমার ইচ্ছেতেই হবে। কিন্তু….
  • কিন্তু কি?
  • বাবা যেই কয়দিন বেচে আছে, তুমি তাকে বুঝতে দিওনা আমাদের মাঝে দুরুত্বটা। বাবা যেনো বুঝে আমরা দুজনই খুব সুখে আছি। প্লিজ সুধু এই চারটা মাস।
    বিছানায় চুপ করে বসে আছে আখি। আকাশের কথায় কি উত্তর দেবে ভেবে পাচ্ছেনা। বাবা নামটার প্রতি যে সে ছোটবেলা থেকেই দুর্বল। জম্মের আগেই বাবাকে হারায় সে। মাথার উপর বাবা নামক কোনো ছায়াই ছিলোনা কোনো দিন।
  • কি হলো চুপ করে আছো যে?
  • আমি ভেবে নিই।
  • যত ইচ্ছে ভাবতে পারো। কিন্তু প্লিজ আমার মৃত্যুর পথ যাত্রী বাবার মনে আঘাত দিওনে। বাবার কাছে আমাকে খারাপ করোনা। তোমার কাছে নাহয় আমি আজিবনই খারাপ থাকবো। প্লিজ।
  • ওকে আমি ভেবে দেখবো। এখন আমার ঘুম পাচ্ছে। আপনি সোফায় গিয়ে ঘুমান।
    আকাশ আর কিছু না বলেই, একটা বালিশ নিয়ে সোফায় গিয়ে সুয়ে পরে।
    শাড়িটা চেন্জ করে একটা টি-শার্ট গায়ে শুয়ে পরলো আখি।

দুচোখ লেগে আসছেনা কিছুতেই। মনে আসছে নানান চিন্তা। কি করবে সে? মৃত্যুর পথযাত্রী একটা বাবার মনে আঘাত দিবে, নাকি আকাশের নকল বৌ হয়েই অভিনয় করে যেতে হবে তাকে। কিন্তু ওদিকে রাফিন? সেওতো আমায় খুব ভালোবাসে। একজন বাবাকে খুশি রাখতে গিয়ে তার সাথে প্রতারনা করে ফেলবো নাতো? তাকে বিষয়টা খুলে বললে কি সে বুঝবে? নাকি আমার আকাশের বাবার মনে কষ্ট দিয়ে দিয়ে তাকে ছেরে চলে যেতে হবে?


পর্ব ২

বিয়েটা আখির ইচ্ছায় না হলেও আকাশের বাবার কথা ভেবে আকাশের সাথে চার মাস থাকতে রাজি হয় সে। কারণ একজন মৃত্যুর পথযাত্রী বাবার মনে কষ্ট দেওয়াটা ঠিক হবেনা এটা ভেবে। আখি ছোট বেলা থেকেই বাবার আদর পায়নি বলে বাবা শব্দটার প্রতি একটা দুর্বলতা আছে তার। হয়তো সেই দুর্বলতাটাই তাকে এখন এভাবে ধরে রেখেছে।
সকালের সকল নাস্তাই তৈরি করা হয়ে গেছে আর তা সাজিয়ে রাখা আছে টেবিলে। আকাশই তৈরি করেছে এইসব। রান্না যে তার নিজেকেই করতে হয়, কারণ বাবা বলেছিলো কোনো কাজের মেয়ে রাখা হবেনা এই বাসায়। যত দিন বিয়ে না করবি ততোদিনই এভাবে রান্না করতে হবে।

সকল কিছু শেষ করে আকাশ চলে যা আখিকে ঘুম থেকে ডাকতে।
ওদিকে ফ্রেস হয়ে রুমে বসে আছে আখি। আকাশ রুমে প্রবেশ করে আখির দিকে চোখ পরতেই একটু থমকে যায়। কাল রাতের চাইতেও আখির চেহারায় দ্বিগুন সোন্দর্য ফুটে উঠেছে। অদ্ভুদ এক মায়া কাছ করছে তার ওই গভির চাহোনিতে। সব চাইতে বেশি সুন্দর্য ফুটে উঠেছে আখির ওই ঠোট জোড়ায়, ইচ্ছে করছে কাছে গিয়ে হাত দিয়ে আলতো করে ঠোটজোড়া ছুয়ে দিতে। কিন্তু সেটা যে সে পারবেনা। কারণ সকলের কাছে এটা রিয়েল ম্যারিজ মনে হলেও, তাদের দুজনার কাছে এটা কন্টেক্ট ম্যারিজ। যার মেয়াদ হয়তো খুব জোরে চার থেকে পাচ মাস।

  • কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?
    আখির কথায় ধ্যান ভাঙে আকাশের। আখির থেকে চোখ সরিয়ে বলে উঠে,
  • টেবিলে নাস্তা রেডি করা আছে ফ্রেস হয়ে নাও।
  • আমি ফ্রেস হয়েই নিয়েছি, চলুন।
  • আখি।
  • আমি বুঝেছি আপনি কি বলবেন। আপনার বাবা কিছুই বুঝতে পারবেনা। আমি রাজি আছি আপনার বাবাকে হাসি খুশি রাখতে। আমার বাবার প্রতি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছেন আপনি। আপনি সব সময় আমার কাছ থেকে দুরে থাকবেন আর রাফিনের বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
  • বলছিনা সব কিছু তোমার ইচ্ছেতেই হবে।
  • ওকে চলুন।

টেবিলে বসে নাস্তা করছে তিন জন মিলে। তার মাঝেই আসিফ সাহেব বলে উঠে,

  • বৌমা, তুমি এই বাড়িতে এসেছো মানে এই বাড়িটা সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব এখন তোমার। ইনফ্যাক্ট এই পুরু বাড়িটাই এখন থেকে তোমার। আসিফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দেয় আখি। আকাশ চুপ চাপ খেয়ে যাচ্ছে।
  • আর হ্যা এখন থেকে আমি আর আকাশের হাতের রান্না খাবোনা। তোমার হাতের রান্নাই এখন থেকে আমার একমাত্র আহার।

এবার আকাশের দিকে একটু ভ্রু কুচকে তাকায় আখি। রান্না করবে আর সে? রান্নার “র” টাই সে ঠিক বুঝেনা আর সে রান্না করবে।

  • দেখেন মি. আকাশ আমি কোনো রান্না বান্না করতে পারবোনা।
  • তুমি না বাবাকে হাসি খুশি রাখবে বলেছো।
  • প্রথমতো, আমি এই খানে থাকতে রাজি হয়েছি শুধু আপনার বাবাকে একটু সঙ্গ দিতে। দ্বিতীয়ত আমি কোনো রান্নাবান্না পারিনা।
  • তহলেতো দেখছি তুমি একেবারেই ঢেড়স। মেয়ে হয়ে রন্না বান্না পারোনা এটা ভাবা যায়?
  • একেবারেই পারিনা তা না। আমার কিছু কিছি স্পেসাল রেসিপি আছে।
  • কি কি?
  • ডিম অমলেট, ডিম সেদ্ধ, আর চা।
  • খুব স্পেসাল তোমার রেসিপিগুলা। রাফিনের বাসায় গিয়ে তার বাবা মা কে সারা জীবন এগুলোই খাইয়ে রাখবে নাকি?
  • সেটা পরে দেখা যাবে শিখে নিবো।
  • তুমি চাইলে এই চার মাসে আমার কাছ থেকে সকল প্রকার রান্না শিখতে পারো। আর বাবার চাহিদা এটাই তোমার হাতের রান্না খাবে সে। আর তার সাথে বসে একটু গল্প করবে। যানো আমার বাবার অনেক আশা ছিলো তার একটা মেয়ে হবে। তার আাশা পুরণও হয়েছিলো। আমার বয়স তখন মাত্র আট কি নয় হবে। একটা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায় মা ও আমার সাত মাসের ছোট বোন। আমি তখন স্কুলে ছিলাম। বাবারও ক্ষতি হয়েছিলো সেই দিন। কয়েক দিন বাবার সাথে হসপিটালে ছিলাম আমি। মা ও আমার বোনটাকে বাচানো গেলোনা। তার পর থেকে আমি আর বাবা। খুব আদরে বড় করেছে আমায় মায়ের অভাবটা বুঝতে দেয়নি কিছুতেই।
  • থাক বেশি ইমোশনাল হওয়ার দরকার নেই। আমি শিখে নিবো আপনার কাছ থেকে রান্না। আর হ্যা বিকেলে আমি আমি রাফিনের সাথে দেখা করতে যাবো। ও নিশ্চই এখনো আমায় ভুল বুঝে আছে।
  • বিয়েটা হয়েছে গত কাল। আজকে গেলে বাবা বিষয়টা ভালোভাবে নিবেনা। আগামি কাল যেও।
  • কোনটাকে আপনি বিয়ে বলছেন ওটা বিয়ে? নাকি চার পাঁচ মাস আপনার বাবার খেদমত করতে বাধ্য করা। আর আমি আজই যাবো রাফিনের সাথে দেখা করতে।
  • প্লিজ বুঝার চেষ্টা করো। কালকে তোমার সাথে আমিও যাবো আমি নিজে রাফিনকে সব বুঝিয়ে বলবো।

বিকেলে বেলকনিতে বসে আছে আসিফ চৌধুরি হাতে দু, কাপ চা নিয়ে আসিফ চৌধুরির পাসে গিয়ে দাড়ায় আখি।

  • আরে আখি মা তুমি? ভালোই করেছো এসে। একা একা ভালো লাগছিলোনা।
  • এই নিন আপনার জন্য চা নিয়ে এসেছি।
  • হ্যা এই সময়টাই আমার চা খুব ভালো লাগে। আর মেয়ের হাতের চা তো কোনো কথাই নেই। কিন্তু তোমাকে আমি এখনো মেয়ে মনে করতে পারছিনা। কারণ, আসার পর থেকে তুমি আমায় একবারও বাবা ডাকোনি।

বাবা, বিষয়টা আবারও ভাবিয়ে তোলে আখিকে। সত্যিই কি এই লোকটাকে সে বাবা ডাকবে? যে কিনা আমাকে নিজের মেয়ের মতো মনে করে, আমার মাঝে নিজের মেয়েকে খুজে পায়। হুম তাকে বাবাই ডাকবো, কিন্তু আকাশের সম্পর্কে নয়। অন্য একটা সম্পর্কে। কিন্তু এই সম্পর্কটার নাম কি হবে? যাই হোক।

  • এই নিন বাবা। এবার চা টা নিন।
  • হ্যা, এবার ঠিক আছে। তোমাকে আমি সত্যি সত্যিই নিজের মেয়ের মতোই ভাবি।
    বাবা মেয়ে মিলে অনেক্ষন আড্ডা দিলো সেখানে।

রাতে খেয়ে ঘুমানোর সময় আধ শোয়া হয়ে ভেবে যাচ্ছে আখি। এতোদিন পর সে সত্যিই একটা বাবাকে খুজে পেয়েছে। সারাটা দিনই খুব ভালো লেগেছে বাবার সাথে সময় কাটিয়ে। কিন্তু এই খুশিটা যে দির্ঘ সময়ের জন্য নয়।

আকাশ তখন সোফায় গভির ঘুমে। আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দির্ঘ শ্বাস নিয়ে ঘুমিয়ে পরে আখিও। কি হচ্ছে তার জীবনটা নিয়ে? কাল রাফিনের সাথে দেখা করতে যাবে আখি। রাফিন কি বলবে তখন। রাফিনের সামনে দাড়ানোর সাহসটা যে নেই আখির। তবুও তাকে দাড়াতেই হবে। রাফিনকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে হবে। নিশ্চই সে বুঝবে, কারণ সে তো আমায় কখনো অবিশ্বাস করেনি।

পরদিন সকালে নাস্তা শেষে আকাশকে বলে আখি,

  • আপনার নিশ্চই মনে আছে, আজ আমার রাফিনের সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা।
  • হুম জানি, আমি রাফিনকে বলেছি আসতে।
  • এখানে?
  • না, তোমাদের নাকি একটা পছন্দের জায়গা আছে সেখানে।
  • আচ্ছে সে আমাকে ভুল বুঝবেনা তো।
    — মনে হয়না ভুল বুঝবে, আর ভুল বুঝলেও আমি বুঝিয়ে বলবো।

বিকেলে বাবাকে বলে রওনা দিলো আকাশ আখিকে নিয়ে। রাফিন হয়তো সেখানে অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।
ড্রাইবিং সিটে বসে ড্রাইবিং করে যাচ্ছে আকাশ। আর বার বার আড় চোখে তাকাচ্ছে আখির দিকে। রাফিনের সাথে দেখা করতে যাবে, মুখ ভর্তি খুশির আলো ফুটে উঠেছে তার। হালকা সাজে তার উপর মুখে পুরুপুরি খুশির ছাপ হালকা হাসিতে যেনো কোনো এক পরীকেও হার মানাবে।


পর্ব ৩

নিজের স্বামীর সাথে আখি দেখা করতে যাচ্ছে তার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে। আখি আকাশের স্ত্রী হলেও কিছু বলার অধিকারটা নেই আকাশের। চুপচাপ ড্রাইবিং করছে সে। কারণ বিয়েটা যে কন্টাক্টে।

কাচটা নামিয়ে মাথাটা বাইরে বের করলো আখি। চলন্ত গাড়িতে বাইরের হাওয়াটা আখির মুখটা যেনো ছুয়ে দিয়ে যাচ্ছে। খোলা চুল গুলো উড়ে এসে পরছে মুখের উপর। আকাশ বারবার আড় চোখে তাকাচ্ছে তার দিকে। ইচ্ছে করছে হাত দিয়ে চুল গুলো আলতো করে সরিয়ে দিতে আখির মুখ থেকে। কিন্তু সে যে চাইলেও পারবেনা। সব ইচ্ছেতো আর পুরণ হওয়ার মতো নয়।

হটাৎ গাড়ি ব্রেক চাপতেই সামনের দিকে হেলে পরে আখি। ভাবনার সাগর থেকে উঠে আসে সে।
একটু অবাক হয়ে তাকায় আকাশের দিকে।

  • এভাবে কেও গাড়ি থামায় নাকি।
    আকাশ ঠোটে একটা হাসি ফুটিয়ে বলে উঠে,
  • ওই যে রাফিন।

রাফিনকে দেখেই আখির রাগি চেহারাটা হাস্যজ্জলে ভেসে উঠে। মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে নেমে পরে গাড়ি থেকে। আখিকে দেখেই উঠে দাড়ায় রাফিন। হাত দুটু সামনের দিকে বাড়াতেই আখি দৌড়ে গিয়ে ঝাপতে ধরে রাফিনকে। জড়িয়ে ধরে আছে একে অপরকে।

আকাশ গাড়িতেই বসা। আখি হাতের ইশারায় ডাকে তাকে। নিজের স্ত্রীকে অন্যের সাথে এভাবে সহ্য করতে না পারলেও মুখে জোর পূর্বক একটা হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে যায় আকাশ।

গোল টেবিলে তিনজন তিন চেয়ারে বসা। এর মাঝে আখি ও রাফিন একে অপরের কাছা কাছি। আকাশ একটু দুরে বসা।

তাদের একে অপরের ঘসাঘসি দেখে একটু বিরক্তি নিয়ে বসা থেকে দাড়িয়ে যায় আকাশ।

  • একি কোথায় যাচ্ছেন আপনি?(আকাশের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে উঠে আখি)
  • তোমরা কথা বলো আমি এইতো সামনেই আছি।
  • আচ্ছা ঠিক আছে।

আকাশ সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর রাফিনের কাছ থেকে একটু সরে বসে আখি।

  • কি হলো এভাবে দুরে চলে যাচ্ছো কেনো?
  • দেখো রাফিন আকাশ বেচারার গায়ে একটু হিট লেগেছে।
  • ও তার মানে আকাশকে দেখানোর জন্য এতোক্ষন এভাবে ঘসে বসেছিলে?
  • হ্যা, তুমি ঠিক বুঝতে পেরেছো। বাইদা ওয়ে, তুমি আমাকে অবিশ্যাস করছোনা তো?
  • না, অবিশ্যাস করবো কেনো? তার সাথে দুরাত থেকেছো সেটা কোনো ব্যপার না।
  • মানে?
  • আরে আমার সোনাটা রাগ করোনা, একটু মজা করলাম আরকি?
  • ওপ রাফিন তুমিও না?
    প্রায় সন্ধে অব্দি গাড়িতে বসে আছে আকাশ। রাফিন আর আখি সেই কখন রেস্টুরেন্টে ঢুকলো তার কোনো হিসেব নেই।

রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়িয়ে এসেছে দুজন। রাফিনের হাতটা জড়িয়ে ধরে আছে আখি।
গাড়িতে এসে বসলো আখি। রাফিন হালকা ঝুকে বললো, সাবধানে যেও। আর এইযে ভাই গাড়ি একটু সাবধানে চালাবেন ওকে?

  • হ্যা ভাই খুব সাবধানে নিয়ে যাবো ঠিক আছে? আমিতো ওর ড্রাইভার তাইনা?

এটা বলেই গাড়ি স্টার্ট দিলো আকাশ। গাড়ি চলছে আলো অন্ধকার মিশ্রিত একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে।

  • রাফিন তোমাকে খুব স্পেশাল একটা সময় উপহার দিয়েছে তাইনা?
  • হ্যা, রাফিনের সাথে কাটানো আমার প্রতিটা সময়ই স্পেশাল।
  • রাফিনের সম্পর্কে আমি যেমনটা ভেবেছিলাম রাফিন কিন্তু তার চাইতে অনেক ব্যতিক্রম।
  • যেমন?
  • ভেবেছিলাম, রাফিন তোমার সাথে রাগারাগি করবে অথবা অভিমান করবে, আর আমি নিজে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলবো। কিন্তু কোনো কথাবার্তা ছারাই সে তোমাকে মেনে নিলো ব্যাপারটা হজম হচ্ছেনা আমার।
  • হজম না হওয়ার কি আছে, আমি জানতাম রাফিন আমাকে অবিশ্বাস করবেনা। সে অনেক ভালোবাসে আমায়।
  • অতি জিনিসটা খুবই ভয়ংকর।
  • মানে?

আর কোনো কথা না বলেই গাড়ি আপন গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে রাফিন। দুজনার মাঝেই ফিনফিনে নিরবতা। মনে হচ্ছে একটা স্তব্দ গাড়ি চলছে রাস্তার মাঝে।

বাড়িতে এসে ভেতরে প্রবেশ করতেই আসিফ সাহেব বলে উঠে,

  • তোদের না সন্ধার আগে বাসায় ফিরার কথা।
  • পাস থেকে আখি বলে উঠে, আর বলবেন না বাবা, আমি কতো করে আপনার ছেলেকে বললাম, বাড়ি চলো বাড়ি চলো বাবা একা। আপনার ছেলেতো শুনলোইনা। তার জন্যইতো এতো দেরি হলো।
  • দেখলি আকাশ, বাবার জন্য তোর কোনো চিন্তা না থাকলেও আমার মেয়েটার কতো চিন্তা আমার জন্য।
  • হ্যা, এখন আমার থেকে সে বেশি আপন হয়ে গেলো তাইনা?
  • অবশ্যই, তুই কে? তোকে আমি চিনিও না। আমার মেয়েটা আমার কাছে থাকলেই হবে।
  • আচ্ছা, তোমরা থাকো বাপ মেয়ে মিলে, আমি গেলাম।
    আসিফ চৌধুরির হাসিতে হেসে উঠে আখিও।

রাতের খাবার আখির তৈরি করার কথা থাকলেও, আকাশ চুপি চুপি রান্না করে দিয়ে আসলো আখিকে। কিচ্ছু করার নেই আখি যে রান্নায় একেবারে ঢেড়স।
খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে সবাই। আসিফ চৌধুরি বলে ওঠে,

  • ও খাবারটা দারুন তো। বৌমার হাতে যাদু আছে মানতে হবে।
    ওদিকে আকাশ বিড় বিড় করে বলে যাচ্ছে,
  • জীবনে যতদিন রান্না করলাম একদিনও আমার রান্নার প্রশংসা করতে শুনি নি। আর আজ? যাই হোক, খাবারের প্রশংসাতো হলো। হোক না সেটা অন্য কারো নামে।

খাবার শেষে রাতে ছাদের কর্নিশ ধরে দাড়িয়ে তারা ভরা আকাশটার দিকে তাকিয়ে আছে সে। তার ভালোবাসা নামক তারাটা যেনো ওই হাজারো তারার মাঝে হারিয়ে গেছে। ছোট বেলা থেকেই কোনো প্রেম করেনি আকাশ। কারণ বিয়ের পর তার স্ত্রীকে সকল ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে এই ভেবে। কিন্তু নিয়তি তাকে আজ এনে দার করিয়েছে এন ভিন্ন জায়গায়।

পেছন থেকে আসিফ চৌধুরি কাধে হাত রাখতেই পেছনে ঘুরে দাড়ায় আকাশ।

  • বাবা তুমি? কিছু বলবে?
  • না, ভাবলাম তোর সাথে একটু ছাদে হাটাহাটি করি তাই এলাম। তোর কোনো প্রব্লেম নেইতো?
  • আরে না বাবা, আমার আবার কিশের প্রব্লেম থাকবে?
    ছাদে হাটাহাটি করছে বাপ ছেলে দুজন। আকাশের মনে জেগে উঠছে নানান চিন্তা। হয়তো আর বেশি দিন এভাবে বাবার সাথে সময় কাটাতে পারবেনা সে।
  • আকাশ।
  • হ্যা বাবা বলো।
  • তোদের সাথে আমার সময়টা খুব ভালোই কাটছে রে। না জানি করদিন এই সুখ আমার কপালে সইবে। আর হ্যা, ডাক্তার সেদিন কি বলেছিলো? তুই তো আমাকে বলবি বলে আর বলিস নি। আমি কি আরো অনেক দিন বেচে থাকতে পারবো তোদের মাঝে?
  • হ্যা বাবা, তুমি আরো অনেক দিন বেচে থাকবে আমাদের মাঝে। ডাক্তার বলেছে তোমার রিপোর্ট নরমাল।

কথাটা বলেই একটু আড়ালে চোখের পানি মুছে নিলো আকাশ। সে যে তাকে তার কঠিন রোগের কথা জানাতে চায় না।

  • আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে তুই আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছিস। আমি মনে হয় আর বেশি দিন বাচবোনা। মাঝে মাঝে কেনো জানি মনে হয়, আমি এক্ষুনি মারা যাবো।
  • এমন করে বলোনা বাবা। তুমি আরো বুহু বছর বেচে থাকবে আমাদের মাঝে।

রুমে এসে দেখে আখি বসে বসে ফোন টিপছে। মুখে একরাশ হাসি জড়িয়ে আছে। বুঝতে বাকি নেই, হয়তো রাফিনের সাথেই চ্যাটিং করছে। সোফায় গিয়ে সুয়ে পরলো আকাশ।
আধা ঘন্টা পর,
ফোনটা বেজে উঠলো আখির। রাফিন ফোন দিয়েছে।

  • কি হলো ফোন দিয়েছো কেনো?
  • কেনো কি হয়েছে?
  • ঘুমাবো এখন।
  • আমারতো একধমই ঘুম আসছেনা। ঘুম পারিয়ে দাওনা।
  • তুমি কি শিশু নাকি যে তোমাকে এখন আমি ঘুম পাড়ানোর গান শুনাবো?
  • তোমার ওই আকাশ ভিলেন টা কোথায়?
  • সে ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই।
  • শুনো না।
  • কি কলবে তারাতারি বলো। ভিষন ঘুম পাচ্ছে। এটা বলে মুখে হাত দিয়ে লম্বা একটা হাই তুলে নিলো আখি।
  • তোমার একটা নুড ভিডিও দাও না। প্লিজ না করো না।
  • কি!
  • আচ্ছা ভিডিও লাগবেনা। আপাততো একটা নুড পিক দাও। যদি আমায় ভালোবাসো তাহলে এবার নিশ্চই না বলবে না।

পর্ব ৪

  • হোয়াট! এসব কি বলছো তুমি রাফিন? নুড পিক মানে? তোমার মাথা ঠিক আছেতো? তুমিতো এমন ছিলেনা রাফিন তাহলে?
  • আরে আরে সব বিষয় এতো সিরিয়াস ভাবে নাও কেনো? আমিতো একটু ফান করেছিলাম।
  • ফানের ক্ষেত্রেও একটা লিমিট থাকা দরকার রাফিন।
  • আরে আরে বেবি রেগে যাচ্ছো কেনো? সরি সরি সরি। আর কক্ষনো এমন মজা করবোনা। এবার খুশি?
  • হুম, তুমি এমনিতেও আগের থেকে অনেক ফাজিল হয়ে গেছো রাফিন।
  • আরে বাবা বললামতো সরি। এক সরি, দুই সরি, তিন সরি। এবার হলো নাকি তোমাকে ওখানে এসে সরি বলতে হবে?
  • না থাক আর বলতে হবেনা। আমি এখন ঘুমাবো, রাখছি।
  • আরে আরে হ্যালো হ্যালো,
    ফোনটা কেটে দিয়ে অফ করে সুয়ে পরে আখি। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে সে গভির ঘুমে।

সকালে ঘুমু ঘুমু চোখে বিছানা থেকে নেমে ওয়াস রুমের দিকে হাটা ধরলো আখি। ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে আকাশকে খুজতে থাকে সে। হয়তো কিচেনে আছে। কিচেনর সামনে গিয়ে দেখে আকাশ সকালের নাস্তা তৈরি করছে। আখি দেখেই একটা মুচকি হাসি দিলো সে।
দরজায় হেলান দিয়ে বলে উঠে আখি,

  • বাহ্, আপনার কপালে যেই থাকুকনা কেনো সে কিন্তু এক দিক দিয়ে বেশ হ্যাপি থাকবে।
  • কি করে বুঝলে?
  • বরের হাতের রান্না খাওয়া কয়জনের ভাগ্যেইবা জুটে?
  • স্বামীর হাতের রান্না খাওয়াটাককে ভাগ্য বলেনা, নিজ হাতে সংসারটা ঘুচিয়ে সবকিছু নিজে সামলিয়ে রাখাই ভাগ্যবতি মেয়ের প্রধান বৈশিষ্ট।
  • তা বুঝলাম কিন্তু….
  • পরিস্থিতি সামলাতে সব কিছুই করতে হয়। তোমার মতো ঢেড়স হলে কি আর চলবে?
  • আচ্ছা ছেলেদের সম্পর্কে আপনার ধারনাটা কেমন?
  • মোটামুটি।
  • রাফিনের সম্পর্কে আপনার ধারনাটা কেমন?
  • সেটা আমি তোমাকে কালই বলেছি।
  • কিন্তু……
  • আর সেটা আমার থেকে তুমিই ভালো জানবে। নাস্তা সব রেডি। আমি যাচ্ছি তুমি এগুলো টেবিলে নিয়ে এসো বাবা যেনো বুঝে সব তুমিই করেছো।

সকালের নাস্তা শেষে ছাদে যায় আখি। বেশ সুন্দর ছাদটা। সূর্যের মিঠিমিঠি মিষ্টি রোধ চোখে এসে পরতেই তা হাত দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছে আখি। বেশ সুন্দর প্রকৃতির সাজটা। সূর্যের হলুদ মিষ্টি রোদটা যেখানেই পরছে সেখানেই এক অদ্ভুদ সুন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে। সাজিয়ে তুলছে প্রকৃতিকে। কিন্তু এই প্রকৃতির সুন্দর্যটা যদি ছোয়া যেতো তা হয়তো আখি আকড়ে ধরে মিশিয়ে নিতো নিজের সাথে। যেনো সে নিজেও প্রকৃতির মতো সুন্দর্যে ভরে উঠবে।

বেশ ভালোই লাগছে তার এই সুন্দর মনোরম পরিবেশটা।

সকালে অফিসে চলে গেলো আকাশ। আসিফ চৌধুরি সোফায় বসে দৈনিক পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছে। এক হাতে চশমাটা ঠিক করে পত্রিকাটা উচু করে ধরতেই আখি এসে বলে উঠে বাবা এই নাও চা।
একটা হাসি দিয়ে আসিফ সাহেব বলে উঠে ধন্যবাদ মা।

  • বাবা কি করছেন।
  • এই যে পত্রিকা পরছি। তুমি কি এখন খুব ব্যস্ত?
  • না বাবা,
  • তাহলে পত্রিকাটা একটু পড়তো মা, চোখে আগের মতো আর পরিস্কার দেখতে পাইনা। একটা সময় ছিলো যখন চশমা ছারাই পরিস্কার দেখতাম।
    সন্ধায় আসিফ সাহেব ও আখি দুজন মিলে জমিয়েছে এক দাবা খেলার আসর। আসিফ সাহেব দাবার একজন ভালো খেলোয়ার। আখিও কিন্তু কমনা। বেশ জমে উঠেছে খেলাটা।
    আকাশ ভেতরে প্রবেশ করেই দেখে দুজন খুব মনোজোগ দিয়ে দাবা খেলায় মগ্ন।

আকাশ আসিফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,

  • বাবা,
  • ডিস্টাব করো না এখানে যাও গিয়ে নিজের কাজে মন দাও।
    আকাশ সোজা রুমে চলে গেলো, বাবাকে ডাকলেও এখন আর কোনো লাভ হবেনা। কারণ, একটা মেয়ে পেয়ে গেছে তাই এখন আমি নিজেই তুচ্ছ।

রাতে রাফিনের ফোন আসায় খুশিতে গদ গদ করে উটে আখি।

  • হ্যা রাফিন বলো, আশা করি কালকের মতো ফাজলামুটা করবেনা।
  • আরে না, শুন একটা কথা আছে।
  • কি?
  • কালকে আমাদের তোমাকে ফিরে পাওয়ার খুশিতে একটা পার্টি দিচ্ছি।
  • কি বলো কখন?
  • কালকে সন্ধায়। তুমি তার আগেই রেডি হয়ে চলে এসো।
  • হুম, কাল সন্ধার আগেই দেখবে আমি তোমার কাছে এসে হাজির।
    ফোনটা কেটে দিয়ে খুশিতে নেচে উঠে আখি। পার্টি আবার তাকে উদ্দেশ্য করে। বাড়িতে থাকলেতো মা যেতেই দিতোনা। কিন্তু এখানে কোনো বাধা নেই।
  • কে ফোন করেছিলো?
  • রাফিন, কাল নাকি পার্টি দিচ্ছে। সন্ধার আগেই যেতে বলছে আমায়।
  • আমি কি যাবো তোমার সাথে। হ্যা যেতে পারো কোনো সমস্যা নেই।
    আকাশ একটু বির বির করে বলে উঠে, সমস্যা থাকলেও যে আমায় যেতে হবে।

পরদিন বিকেলে গাড়ি নিয়ে রওনা দিলো দুজন। সন্ধের আগেই দুজন গিয়ে পৌছে যায় সেখানে।
কিছুক্ষন পর পার্টি শুরু হয়ে গেছে। রাফিন সকলের সামনে পরিচয় করিয়ে দিলো আখিকে। আকাশ সকলের ভিরের মাঝেই মিশে গেছে।

পার্টিতে আখি ও রাফিন একে অপরের ঘেষাঘেসি দেখে সেখান থেকে বাইরে চলে গেলো আকাশ। একটা অক্ট হাসিতে মেতে উঠে দুজন।

বেশ কিছুক্ষন বাইরে থেকে আবার ভেতরে চলে গেলো আকাশ। দেখে রাফিন আখিকে কি বিষয় নিয়ে যেনো জোর করছে। একটু সামনে গিয়ে দেখে রাফিন আখিকে ড্রিংস করানোর চেস্টা করছে আর আখি তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

আকাশ দ্রুত পায়ে সেখানে হেটে গিয়ে আখির হাতটা ধরে রাফিনের দিকে চেয়ে বলে উঠলো,

  • কাওকে জোর পুর্বক কিছু খাওয়ানো ঠিক না।
    আখির হাতটা ধরে টেনে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায় আকাশ। আখি হা করে চেয়ে আছে আকাশের দিকে। রাফিনের একহুঙ্কারে স্তব্দ হয়ে যায় সবাই।
    গাড়ি ড্রাইবিং করেছে আকাশ। পাসেই আখি বসে লুচির মতো করে ফুলছে।
  • এটা কি হলো?
  • কোনটা?
  • এভাবে সকলের সামনে দিয়ে টেনে নিয়ে আশার মানেটা কি?
  • এনেছি কারণ আছে?
  • কি কারণ? আর সেখানে আপনার সমস্যাটা কি? আমার যা ইচ্ছে তাই করবো। আপনার কি প্রবলেম?
  • দেখো আখি তুমি একজনের স্ত্রী হয়ে অপর একটা ছেলের সাথে যা খুশি তা করতে পারোনা। যদি এসব করা খুব বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে, আমার থেকে যখন আলাদা হয়ে যাবে তখন করো ওকে।
  • আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করে ফেলছেন। রাফিন মোটেও এমন ছেলেনা। কোনো আজে বাজে কথা বলবেন না তাকে নিয়ে। আমার মাথায় কিন্তু রক্ত উঠে যাচ্ছে।
    আর কিছু না বলেই ড্রাইবিং করে যাচ্ছে আকাশ। কারণ কথা বললে কথা বারবে এটাই সাভাবিক।
    লেখাঃ মেহেদী হাসার রিয়াদ কয়েক দিন পর,
  • দেখো আখি আমি আবার পার্টির আয়োজন করার উদ্দেশ্য এটাই, আগের পার্টিতে এমন হওয়ার কারণে। আমি চাইনা এবারও তুমি আকাশকে নিয়ে এসে আমাদের সুন্দর মুহুর্তটা নষ্ট করো।
  • আরে রাফিন তুমি একধম চিন্তা করোনা। এমন ভাবে বলেছি ওর আর লজ্জা থাকলে আমার সাথে কোথাও যাবেনা।
  • হুম বেবি আমিতো ওটাই চাই।
  • কি বলছো বির বির করে?
  • বলছিলাম, কালকের পার্টিটা একটু স্পেসাল হতে চলছে। তুমি আকাশকে না বলেই চলে এসো। খুব সুন্দর একটা সময় উপহার দিবো তোমাকে।

লেখা – মেহেদী হাসান রিয়াদ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ইচ্ছেটা তোমারই – একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প”গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – ইচ্ছেটা তোমারই – একটি নতুন প্রেমের গল্প (২য় খণ্ড)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!