ভালোবাসার চিঠি

৫টি সেরা ভালোবাসার রোমান্টিক চিঠি – Bangla Love Letter

প্রেম পত্র

৫টি সেরা ভালোবাসার রোমান্টিক চিঠি ( Bangla Love Letter ) : প্রিয়তমাকে নিয়ে কত স্মৃতি আর কল্পনা লুকিয়ে থাকে যা চিঠি বা পত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। চলুন এরকম ৫টি সেরা ভালোবাসার পত্র পড়ি।

প্রিয়াত্না চিঠি (সোলমেট)


শান্তনু,

প্রথম সম্ভাষণ শিরোনামে অনেক কথাই লিখেছিলাম। বারবার কাটাকুটি করে কলম বন্ধ করে বসে থাকলাম। কোনো শব্দকেই সম্পূর্ণ মন হয়নি আমার। প্রিয়তম, প্রিয়বরেষু, ভালবাসা, প্রিয়, আমার তুমি…. কতভাবেই ডাকলাম। হলো না কিচ্ছু হলো না।
এতগুলো বছর আমি একটা শব্দ খুঁজেছি, তোমাকে সম্ভাষণ করবার জন্য।
চিঠি লিখবো অথচ তোমকে ডাকার উপযুক্ত শব্দের অভাবে কতদিন আমি গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে। সামনাসামনি কতভাবেই তো ডাকা যায়! কিন্তু লিখতে গেলেই বিড়ম্বনার শেষ নেই।

জানো, এতগুলো সময় আমরা ফেলে এসেছি অতীতের কোলে। আমাদের দিনের ছায়ার সাথে আমাদেরই পাল্লা চলে।
আজো তোমার কথা ভেবে এই উত্তর পঞ্চাশ ষোড়শী হতে চায় মন। বালখিল্য লুকোতে হিমশিম খায়। কোনো কথা তোমাকে না বললে আমার পেট ভরে না। কিচ্ছু হজম হয় না!সবকিছু তোমাকে বলা চাই-ই। এ কেমন আব্দার বলো তো!

আগে ডায়েরী লিখতাম। মনে আছে তোমার? একবার আমার ডায়েরি পড়ার জন্য তুমি কতই না চেষ্টা করেছিলে! আমিও নাছোরবান্দা! দেইনি তোমায়। আসলে আমার ভীষণ লজ্জা করছিল। ওখানে যে শুধুই তুমি! পাছে ধরা পড়ে যাই সেই ভয়ে দৌড়ে পালিয়েছিলাম।
আজো আমি প্রতিদিনই তোমার সাথে কথা বলি। সারাদিনের সব কথা…. কখন মন খারাপ হলো? কখন কান্না পেলো? কখন তুমি ভীষন টেলিপ্যাথি করেছো? কখন নিজেকে একা লেগেছে? অফিসের পিওনটার ছেলে মারা গেলো। ট্রাষ্ট বাসের জন্য কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি? ছাতিম ফুল ফুটেছে। কোন সকালে শিউলি কুড়িয়ে এলাম। সব কথা বলার একমাত্র মানুষ তুমি আমার।
আজ কদিন বিছানায় পড়ে আছি। হয়তো সময় ফুরিয়ে আসছে আমার! হয়তো গন্তব্যের খুব কাছাকাছি আমি! তোমাকে জানানো হয়নি আমার অসুখের কথা। আর জানবেই বা কেমন করে? আমরাতো নিজেরাই রুখে দিয়েছি সব পথ। ব্যারিকেড বসিয়েছি নিজের ভেতর! এখন আমি হাসপাতালের বেডে। আজ কদিন রোদের দেখা নেই। জাঁকিয়ে বসেছে শীত। আজো কাশির সাথে গলগল করে রক্ত গেলো। শ্বাসটা ঘন হয়ে আসে। অক্সিজেন, নেবুলাইজার, কেমোথেরাপি…. আরো কত কি এখন আমার বেঁচে থাকার অনুষজ্ঞ। লিখতে গিয়ে হাত কাঁপছে।

আমাদের যুগল সময়টা স্বপ্নের মত মনে হয়। সমাজ আর সামাজিকতা নিয়ে নিজেদের ভুলেছিলাম অনায়াসে। তারপর তুমি তোমার পথে,আমি আমার পথে। কেন এত অভিমান হয়েছিল, আজ মনেও করতে পারি না। তবে তুমি বলেই বোধ করি অভিমানের গাঢ়তম রূপে লিখেছিলাম রূপকথা।
জানো শান্তনু,

আজ আমি মাত্র খুঁজে পেলাম কাঙ্খিত সেই শব্দটা….. বন্ধু, বন্ধু,।
আমরা সোলমেট। এই সত্যটা যখন জেনেই গেলাম, তখন আমার শব্দরা সব হারিয়েছে। আমার গলার আওয়াজটা বিভৎস।
তোমাকে সোল মেট জানার পর খুব শান্তি লাগছে। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে আমার। তোমার এখনকার ঠিকানা জানি না। এই চিঠিও তোমার কাছে হয়তো কখনো পৌঁছাবে না।
আর আমার এ ঘুমও হয়তো আর ভাঙবে না।
ভাল থেকো বলার অধিকার তো নিজেরাই হারিয়েছি। শামুক খোলসে আবৃত করেছি যাবতীয়… কখনো তুমি,কখনো আমি। ঝিনুকের বুকে মুক্তা ফলানোর মত কান্না যে আমাদেরও বুকে।

তবুও আমরা কাঁদতে পারি না সবার মত…. ভেতরটা শুধু ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়।
এই ঘুম যদি আর না ভাঙে?
যদি আর কোনোদিন না জাগি আমি?
তুমি হয়তো লোকমুখে খবর পাবে! কিন্তু তোমাকে তো আর কান্না মানাবে না! তুমি কান্নার মতো লুকানো ক্ষত নিয়ে ক্ষরণহীন হবে।
আর তুমি খুব করে টেলিপ্যাথি করছো…. আমায় জ্বালাবে ভেবে।
খুঁজছো আমায় খবরটা বলার জন্য!
মৃত মানুষের সাথে টেলিপ্যাথি হয় কিনা জানা নেই আমার! তবে টের পেলেও তো আর বলতে পারবো না!
আমি চলে যাওয়ার পর তুমি বন্ধু শূণ্য হবে।
তোমার সোল মেট, তোমার বন্ধু…. পৃথিবীর হাহাকারে থাকেনি জেনো।
প্রেম,ভালবাসা, বিয়ে, সংসার….. সব মিথ্যে, সব মিথ্যে। শুধু সত্য আমরা সোল মেট।
আমরা ভালবেসেছিলাম বন্ধুর মত….. তাই তো কাগজের সম্পর্কে বাঁধিনি ভালবাসা।

ইতি….
সোলমেট
২৬/১২/২০১৯

লেখা- ফারহানা নীলা

শুভকামনার চিঠি


নীলমেঘ,
সময়ের দৈর্ঘ্যে কুড়ি দিন কোনো মহাকাল নয় বটে! তবে, খুব বড় কিছু বিপত্তি ঘটানোর জন্যে কুড়ি সেকেন্ডই ঢের যথেষ্ট! এই কুড়ি দিনে বড় কোনো যজ্ঞ না হলেও বদলে দিয়েছে কারও কারও পৃথিবী; সে তুমি মানো আর না মানো। কুড়ি দিনে সূর্যও ওঠেনি উঠোন পরে, চাঁদও দ্বিধায় ছিল আলো বিলোতে। এমনই অন্ধকার এসে গ্রাস করেছিল অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে।

তবু আমি অপেক্ষায় ছিলাম। কী নিদারুণ উৎসাহ নিয়ে যন্ত্রণাময় সেই প্রতীক্ষা উদযাপন করেছি! আবার নিজেকে প্রশ্নও করেছি বার বার কার জন্য অপেক্ষা করি আমি? কেউ কি আমায় বেঁধেছে অলক্ষ্যের রঙে? কুড়ি দিনে মনের এই বহুধায় কত কুড়ি যোজন যোজন দূর সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে অচেনা গাঙের তরী, তার হিসেব কেউ না কেউ হয়তো রেখেছে! কারণ, তারই যে কেবল দায়!

একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস স্থবির হয়ে পড়ে রইল বুকের ভেতর, ঘাটের মরার মতো। ঘড়ির কাঁটায় চেপে রইল জগদ্দল পাথর। ঘুমের ঘোরেও টের পাই, সময়েরা আর হাঁটছে না সময়ের ধারাপাত ডিঙিয়ে! সবকিছুই উথাল-পাতাল, ছড়ানো-ছেটানো, এলোমেলো। ঠিক টর্নেডোর পরের অবস্থা!

আজকাল চোখও হয়েছে খরায় পোড়া। কাঁদবো যে শান্তি করে তারও জো নেই। কারও জন্যে নয়, নিজের জন্যই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, বাথরুমে খুব নীরবে, কিংবা আরও একলা কোণে কখনও কখনও কাঁদতে হয়।

এ জগতে কে ই বা কার! মানুষ নিজেও কি জানে সে নিজের কতটুকু? সময়ের খন্ডিত স্রোতে তাঁকে অভিনয় করে যেতে যেতে খোলস বদলাতে হয়, রঙ পাল্টে পোশাকের আড়ালে ভিন্ন ভিন্ন মুখোশ পরেই তো এক জীবনের নানা চরিত্রে অভিনয় করে যেতে হয়। যখন জীবনটাই একটা রঙ্গমঞ্চ! আমরা কেবল পাত্র-পাত্রী, আমরা কেবল চাবি দেওয়া কলের পুতুল! এর বেশি কিছু কি!

তবুও পুরোটা ফাঁকি জেনেও সময় সময় কোনো একজনকে বড় বেশি আপনার করে পেতে ইচ্ছে করে, বড় বেশি মন কাঁদে, অধিকারে নিয়ে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লোভ হয় বড়। সেই আকাঙ্ক্ষায় আবেগ আছে, মোহ আছে, হয়তো ভালোবাসাও, তবে দায় নেই কোনো। নিঃশর্ত এমন বাসনার কোনো নাম আছে কি না আমাদের বেঁধে দেওয়া নিয়মের সমাজে জানা নেই। তবে, এ কলঙ্কও যদি বা হয়, সত্যের অপলাপও যদি বলো একে, এ প্রলাপ নয় কোনোমতেই।
দিনশেষে আবারও প্রশ্ন করি দিবসের শেষ সূর্যকে কে আমি? মেলেনি উত্তর। তুমিও কি জানো কে তুমি আমার?
“কে তুমি আমারে ডাকো অলখে লুকিয়ে থাকো, ফিরে ফিরে চাই…দেখিতে না পাই।” নাই বা দেখা দিলে…তবু
অলক্ষ্যে রঙ ছড়িয়ে যেও আগুনরঙা আকাশটায়, একদিন যার পুরোটাই দিয়েছিলাম তোমায়!
ভালো থেকো অনেক, ভালোবাসায় থেকো।

ইতি
তোমার সন্ধ্যাতারা

না বলা ভালোবাসার চিঠি


অনিন্দ্য
(দ্বিতীয় মৃত্যু)

গ্রীষ্মের লম্বা ছুটি কাটাতে আমি তখন গ্রামের বাড়িতে। সেবার তোমার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা পেছালো। হঠাত করেই শিবিরের চর দখলের মতো হল দখলের যুদ্ধ। ফলাফল হল ভ্যাকান্ট। বাড়ি ফেরা উচিত কি অনুচিত সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছো। হঠাতই সিন্ডিকেট মিটিং কল করে পরীক্ষার তারিখ পূনর্ঘোষণা! জানা গেলো এই তৃতীয়বারের মতো পেছানো তারিখেই পরীক্ষা হবে। অতএব, তুমি মহাশয় ক্যাম্পাস ছাড়ছো না মর্মেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।

তোমার স্বভাবসুলভ রাজনীতির চর্চা তখন পুরোই তুঙ্গে। আনন্দেই দিন কাটছে, ক্লাশ নেই, অনেকটাই ফাঁকা ক্যাম্পাসে মতিহারের সবুজে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছো।
বাবাকে জানালে, বাড়তি টাকা পাঠাতে, খরচাপাতি অনেক। সামনে পরীক্ষা! দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছে এক সিগারেটের পুচ্ছ তিনজনে ফুঁকে, রাজনীতির ময়দানের বড় বড় সংস্কারের বুলি কপচিয়ে, আর বন্ধুদের আড্ডার শিরোমণি হয়ে পুরো আসর জমিয়ে।

হঠাতই মনে হল, কতদিন তুমি আমায় খোঁজ না। আমিও তোমাকে খুঁজি না বহুদিন। যেই মনে হওয়া সেই মামার ট্রেনে চড়ে বসা। ভাড়া দিতে হয় না ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ভাগ্নেদের। ইচ্ছে হলেই থামিয়ে দেয়া যায় হলে ফেলে আসা মানিব্যাগ নিয়ে আসতে, প্রাকৃতিক কার্যক্রম সারতে, প্রিয় বন্ধুর ঠোঁটের সিগ্রেটে সুখটান দিতে, কিংবা প্রেয়সীর চোখের ক্রমাগত নড়তে থাকা শেষ পলকটি গুণতে। অবশেষে একটানা ১৩ ঘন্টার লম্বা ভ্রমণ শেষে মামার ট্রেন তোমায় নিয়ে এলো কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

সেদিন বেশ বেলা করেই গোসল সেরেছি, মা অসুস্থ, ঘরের কাজের সাহায্যকারী নিজগৃহে গিয়ে আর ফেরেনি। একহাতে সব গুছিয়ে নিয়ে নাওয়া-খাওয়া সারতেই পড়ন্ত বিকেল। পরনে মায়ের লালপেড়ে গরদ। সদ্যস্নাত অলোকচূর্ণ ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি নিয়ে ঝরছে মেঠোপথ আর বনবনানী পাড়ি দিয়ে। সিঁথি আর ললাট লাজরাঙা লালে ছুঁয়েছিল গোলানো সিঁদুর। বিকেলের মিঠে রোদে শ্রান্ত শরীর এলিয়ে সবে বাইরের ঘরের সিঁড়িতে বসেছিলাম।আচমকা পেছন ফিরে দেখি সদর দরোজায় তুমি দাঁড়িয়ে।

অনেকক্ষণ থেকেই আমাকে লক্ষ্য করছো চুপিসারে। সে এক অন্য তুমি, দীর্ঘ অদেখায় ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত। খানিকটা বিব্রত কি? না কি শঙ্কিত বোঝা গেলো না। নিনির্মেষ চেয়ে রইলে অনন্তের সূধা পানে। চার চোখের দৃষ্টি বিনিময় হতেই সরিয়ে নিলে চোখ…চোখের গভীরে কী খুঁজছিলে অমন নিবিষ্টতায়? কাজলের রেখা? খানিক বাদে মুচকি হেসে বললে, “তোকে কিন্তু অপরূপ লাগছে। যার উদ্দেশ্যে এই সজ্জা সেই ভদ্রলোকটি কে শুনি?” এবার উল্টো জিজ্ঞাসা চিহ্ন এঁকে মুখে আমিও কিছুক্ষণ রইলাম চেয়ে তোমার সে মুখের দিকে। সে ভাষা অতি সহজ… ভাষাহীনে প্রাণ এনে সগতোক্তি করলাম- আমার জীবন রাঙাতে অন্য কোনো ভদ্রলোক থাকার কথা ছিল বুঝি?

ইচ্ছে করেই না শোনার ভান করে, আবার বললে- কোনোদিন যদি এমন করে সামনে এসে দাঁড়াতে পারিস সত্যিই খু-উ-ব খুশী হবো আমি। জানব, তোর সাহস আছে সীমানা পেরোনোর।

সেদিন মনের দূরন্ত দুর্নিবার ইচ্ছেরা বাঁধ ভেঙে আকাশের রুপোলি তারার মেলায় ভীড় করেছিল। মূহুর্তেই নক্ষত্রগুলো ম্লান হয়ে গিয়েছিল। হাজারো সাইক্লোন, টর্নেডো, কিংবা সুনামী এসে স্বপ্নের দালান উপরে ফেলতে পারে এমন ভাবনাই ছিল না সেদিন। তখন জয়ের আনন্দ আমায় ভাসিয়ে নিয়ে গেলো কল্পলোকে। নিমেষেই আমি হয়ে উঠলাম সর্বজয়া, স্বয়ংসিদ্ধা!

পৃথিবীর সব ভর যোগ করে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আমায় ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন কেন্দ্রাভিমূখে। একদিন সীমানাও পার হলেম সত্যি, কিন্তু পথের শেষে সে পথ মিলিয়ে গেছে অসীমে …!

অপরাজিতা
পশ্চিম রাজাবাজার, ঢাকা
আগস্ট, ১৯৯৭

কষ্টের প্রেম পত্র


প্রিয় কাজল,

মাত্র অফিসে বসতে বসতে তোমার ফোন, প্রাণবন্ত হাসি দিয়ে তোমার আন্তরিক আলাপন। যতই সময় যায় আমাকে অবাক করে দিচ্ছিল।
এর ঠিক একদিন আগেই তোমার সাথে ফেইসবুকে বন্ধু হওয়া।
সাধারণত নতুন কারো সাথে পরিচয় হলে আপনি আপনি করতে করতে বেশ সময় চলে যায়। তোমার বেলায় সেটি হয়নি।

প্রথমদিনেই তোমার ফেবুর নাড়িনক্ষত্র খুটে খুটে দেখলাম। নিজের যোগ্যতায় বাংলার একটি গ্রাম থেকে একটু একটু করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছ দেশ থেকে বিদেশ । এমন যোগ্যতা যে সাধারণ আর দশটি মানুষের যোগ্যতার থেকে ভিন্ন সেটি বুঝতে পারি। বুঝতে পারি সে রবীন্দ্রনাথ শোনে , শব্দের শিল্পতা আছে ভেতরে, ছবি আঁকার বেদনা আছে। সে পোড় খাওয়া কষ্ট মানুষ, সে অসাধারণ।

সে পারে অচেনা অজানা কাউকে মুহূর্তেই বন্ধু করে নিতে, আপন ভাবতে। আমার কাছে মনে হয়েছিল – মুক্ত স্বাধীন একটি মানুষ। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম তাঁর সেকল আরও দৃঢ় । এখনো সে পদে পদে বাঁধা। জীবন যুদ্ধের নিতান্ত একজন সৈনিক। সময়ের ব্যবধানের সময় টুকু ছারা একটা অস্থিরতা তৈরি হল, প্রতিদিন কথায় কথায় সময়েরা চলে যেত। বন্ধুআলাপনে সাহিত্য বিষয়ক আলোচনাই বেশি হতো। কবিতা, গান, নতুন লেখা। তুমি ঘুমিয়ে পরলে তোমার জন্যে খুঁজে খুঁজে শব্দ গুলো এক করতাম। আমার ভালো লেখা গুলো আবৃতি রেকর্ড করে ইনবক্স করে রেখে দিতাম। তোমার স্কুলের টিফিনের সময়, তোমার একান্ত অবসরে শুনবে বলে –

সাঁঝের সাথে সপ্তরঙ এর দেখা হল,
অদ্ভুত যাদু -মায়ার বাঁশি নিয়ে হাজির হতে হতেই।
আমি লুকিয়ে পরলাম তোমার অস্তিনে,
মুহূর্ত কে দীর্ঘ করে ফিরে চললে দিগন্তের পানে।
এতো অল্প সময়ে –
কখন কাশ ফুলের সাথে মিতালী,
কখন মধুমতীর পারে ক্লান্তির খুনসুটি,
তুমি বৃষ্টি নামাবে বলেছিলে,
তোমার বৃষ্টির কানে কানে কথা বাকি রেখেছিলে।
এমন ব্যস্ততায় কি বৃষ্টি মৈথুনে হয় !
তারপর সপ্তরঙ বলল যাই !
সাঁঝের অন্ধকারে পথিক অপেক্ষায় রইলো
নতুন কোন সাঁঝ বিকেলের।

এমন করেই চলছিল কিছুদিন। কথার বিনুনিতে কথা, গল্পের পাশে গল্প, ভালবাসার অদৃশ্য প্রলেপ পরতে পরতে।
জীবন প্রবাহ বয়ে চলে নিজস্ব গতিতে। সে গতিতে কখন জোয়ার কখন ভাটা আসে। কখন জোয়ারের তোরে ভেসে যায় সবকিছু। কখন ভাটার রুক্ষতায় চৌচির হয় মন প্রান।
তুমি বন্ধু থেকে কাজল হলে। তোমাকে নিয়ে নতুন শব্দ বাঁধলাম –
কোথাও কি যাওয়ার ছিলো?
আমার অন্তহীন চলার গতি অনিচ্ছেতে নিয়ে যায়,
সে যে অবেলার বাঁধভাঙ্গা স্রোতস্বিনী,
কবিতার শব্দে, মায়াবী কথার তোড়ে আমার আমি হয়ে যাই উথালপাথাল।
অঘোরে ঘুমে কিংবা আধো জাগরণে,
সারাক্ষণ টেনে নিয়ে যায় খরস্রোতা বানের টানে,
তুমি কে গো – মধুমতি, বলেশ্বর, ভাংগ্রা, নাকি, গোঁসাইরখালী,
একদম মদিরাক্ষী । কতটা সময় চলে গেছে খুঁজে পাইনি।
আমারও তো কম ছিল না, কীর্তনখোলা, কালিজিরা, পায়রা, সন্ধ্যা,
অথবা সুগন্ধা, বিষখালী, কাজল – এতো গভীরতা ছিল,
তবে একদণ্ড শীতল খুঁজে পাইনি কোথাও।
কি শান্ত সুশীতল তোমার স্পর্শ, কামিনীফুল বুকে নিয়ে,
জোয়ারভাটায় নিশ্চিন্তে যাপিত জীবন কেটে যায়।
ঠিক পাশেই পিপাসায় অনল গরল ঠিকানা বিহীন রাধাচূড়া,
নিঃসঙ্গ একা হয়ে থাকে বিষাদী বালিয়াড়িতে।
তোমার তো কোন কালেই টান ছিল না সমুদ্র সঙ্গমে,
তারবদলে খুঁজে ফিরতে উজানের কোন নাব্যতা হীন নদ,
অথবা হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরতে যে ভালোবাসায় ওম থাকে,
কিংবা থাকে নিখাদ অভিমান।
কিন্তু কখন যে অচেনা বেভুল স্রোতে টেনে নিয়ে গেছে চোরাবালিতে বুঝতে পারনি,
অবশেষে এই গোধূলি বেলায় পিছনে ফিরে দেখলে,
তোমার নতুন কোন গন্তব্যে নেই বা যাওয়া হবে না।

জীবন তো একটি অসমাপ্ত উপন্যাস। এর কভার পেইজ থাকে, প্রচ্ছদ, সূচীপত্র তারপর এক একটি অধ্যায়। এখন কেউ যদি শুরু থেকে না পড়ে মাঝখান থেকে দু একটি পাতা পড়ে ফেলল। তাহলে কি বলা যাবে বইটি সম্পূর্ণ জেনে ফেলেছি। মানুষও ঠিক তাই ।

মানুষ কে জানতে হয় পূর্ণাঙ্গ ভাবে। শুধু একটি ঘটনা বা একটি বিশেষ মুহূর্ত জেনেই মানুষ কে বোঝা যায় না। ঠিক ঐ বইয়ের মতো। জানতে হয় পূর্ণাঙ্গ ভাবে। জীবন সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের সীমিত সমষ্টি মাত্র। আর এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গুলো কে নিজের মতো করে অনুভব করা। সেই অনুভবে আনন্দ, হাসি, কষ্ট মিলিয়েই আমাদের আয়ুষ্কাল ।

এই ক্ষুদ্র সময় আমরা কতই না কিছু দেখি, সব কিছুই আমাদের অচেনা অজানা। সেই সব অচেনা পথ ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসি আপন নিবাস। যে নিবাস একান্ত আপন। শুনসান , সেখানে শুধুই একাকীত্ব আছে। সেই আমার বন্ধু, স্বজন।
ভালো থেকো কাজল।
ভালো থাকতে হয় নিজের মতো করে, একাকীত্বে, শুনসান নিরবতায়। সেখানেই ভালোবাসার নিঃসরণ হয় প্রতিনিয়ত।

ইতি
পথিক

শ্রেষ্ঠ প্রেমের চিঠি


প্রিয় সুখপাখি,

তুমি কেমন আছো,আশা করি ভালোই থাকবে,আমিও দোয়া করি যেন সব সময় ভালো থেকো।আমিও আছি যেমন তেমন তুমিহীনা।

তুমি এই শহর থেকে চলে যাবার পর থেকেই আমার কিছুই ভাল লাগছে না।খুব একাকিত্বে শুন্যতায় ভুগছি।চারিদিকে যেন ঘনকালো মেঘের মত।জানো, অনেক দিন হয়ে গেল সুর্যের আলো দেখি না,ভালো লাগে না আলো,তুমিহীনা জীবনটাই তো অন্ধকার।কত দিন কত রাত কেটে গেল চার দেয়ালে ভিতরে এক কোণে বিষণ্ণতায় বসে থেকে।

এখন আর হয় না ফোন আলাপ বেলা-অবেলায় কিংবা নীশি জেগে।হাসি-ঠাট্রা,কখনো বা মান-অভিমানে সময় কিভাবে কেটে যেত বুঝতেই পারতাম না।মাঝে মাঝে তো খাওয়া দাওয়ার কথা মনেই থাকত না পরে থাকতাম তোমার মিষ্টির কথার ফুলঝুড়িতে।

এখন আর ফোনের ব্যালেন্স নিয়ে চিন্তা করতে হয় না,নেটওয়ার্ক ভালো আছে কিনা সেটাও ভাবতে হয় না।তোমার কি মনে আছে ফোন দিলে যখন কাজের ব্যস্ততায় ফোন রিসিভ করতে পারতাম না তখন কতই না অভিমান হতো তোমার, আর সেই অভিমান ভাঙ্গাতে আমার হাজার টা ফোন দিতে হতো।আর এখন মোবাইলটাও অযত্নে এক পাশে পড়ে থাকে।অন্য কারোর সাথে কথা বলতেও একদম ইচ্ছা করে না।
আচ্ছা তোমার ও কি আমার মত করে একাকী?

বিষণ্ণতায় সময় কাটে নাকি কারোর সৃষ্টির সুখের উল্লাসে মেতে উঠে দিন কে রাত রাত কে দিন করে চলেছ। তোমার কি মনে আছে, সেবারের তোমার ২২তম জন্মদিনে প্রিয় ২২ টি গোলাপ নিয়ে তোমার দরজায় উপস্থিতি দেখে খুশিতে আত্নহারা হয়ে আলিঙ্গনে জড়িয়ে বলেছিলে এটাই তোমার জীবনের শ্রেষ্ট উপহার, অথচ ভাগ্যের কি নিমর্ম পরিহাস এবারের আমার জন্মদিনের কথাই ভুলে গেছ।বিশ্বাস কর জন্মদিনের কথা ভুলে যাওয়াতে একটু ও মন খারাপ হয়নি,যেখানে আমাকেই ভুলে গেছো সেখানে জন্মদিনের কথা মনে রেখে কি বা হবে।

তোমাকে দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করে। ফেলা আসা দিনগুলো মিস করি খুব বেশি। আবারো কি দেখা হবে?আবারো কি পড়ন্ত বিকেলে দু’জনে রিক্সা করে পুরো শহর ঘুরতে পারবো।ঘুরতে ঘুরতে বাসায় ফেরার পথে ফুসকা খেয়ে ঝালে কি অস্থির হবে।
আজ এতটুকুই। আবার না হয় আরেক সময় লিখবো। তুমি ভালো থেকো সবসময়, সুস্থ থেকো, নিজের প্রতি খেয়াল রেখ,খুব যে ভালোবাসি তোমায়।

ইতি
তোমার ভালো মানুষটা।

আরো পড়ুন – ব্যর্থ প্রেমের চিঠি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!