স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

পিচ্চি বউয়ের গল্প – রাগী বউ এর মিষ্টি ভালোবাসা

রাগী বউ গল্প

পিচ্চি বউয়ের গল্প – রাগী বউ এর মিষ্টি ভালোবাসা: মিন্নি রুমটাতে প্রবেশ করতেই সেই চিরচেনা ঘ্রাণ। কি যেন আছে এই ঘ্রাণে। মাতাল করে দেওয়া এক ঘ্রাণ। রুমটাতে ঢুকলেই কেমন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

রুমটা আমার বড় খালার ছেলে সিয়াম ভাইয়ার। সিয়াম…ফয়সাল পলাশ সিয়াম। আমার বড় খালার একমাত্র ছেলে। আর্মিতে লেফটেন্যান্ট অফিসার। ভীষণ মেধাবি আর গম্ভির। দেখতে উজ্জ্বল শ্যামলা, লম্বা, সুঠাম দেহ, আকর্ষণীয়। বিশেষত তার চোখগুলো কেমন অন্যরকম মায়াবি। প্রেমে পড়ার মতো।

তার পরিচয় দেওয়ার আগে নিজের টা দিয়ে নিই। আমি রেহনুমা জামান মিন্নি। জন্মের সময় অতিরিক্ত ফরসা দেখেই বড় আব্বু নাম দিয়েছিলেন মিন্নি। এবার এইচ এস সি দিয়েছি। এডমিশন কোচিং করতেই ঢাকায় বড় খালার বাসায় আসা। খালার নাম মোহনা পলাশ আর খালুর নাম শাহ পলাশ। ঢাকায় নাম করা শিল্পপতি। নিজের দুতলা বাড়ি। আমরা দুই বোন। আমি আর আমার সূচনা আপু। চট্টগ্রামে আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি। আপু পড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আম্মু গৃহিণী আর আব্বু সরকারি কর্মজীবি।

সিয়ামঃ ছুটিতে বাসায় আসলাম কেউকে জানিয়েই। সারপ্রাইজ। আম্মু অনেক খুশি। লং জার্নি করে অনেক টায়ার্ড ছিলাম। তাই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হবো ভাবলাম। রুম অন্ধকার। ব্যাগ রেখে সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিলাম। বের হয়ে শুয়ে পড়লাম বিছানায়। পাশে কোল বালিশ জড়িয়ে ধরে মুখ ডুবিয়ে দিলাম। এ কেমন ঘ্রাণ। খেয়াল করে দেখলাম এটা তো কোল বালিশ না। আস্ত একটা মেয়ে।

দিলাম এক চিত্কার!

মেয়েটাও চিত্কার।

সাথে সাথে আম্মু রুমে এসে লাইট অন করল।

মোহনাঃ কিরে কি হলো!

সিয়ামঃ লাইট অন হতেই দেখি মিন্নি। পিচ্চি তুমি!

মোহনাঃ হ্যাঁ ও আজকেই চিটাগং থেকে এসেছে। তোর বোন জান্নাতর সেমিস্টার ফাইনাল। ওর রুম অফ করে পড়ার অভ্যাস তো জানিস। তাই মিন্নিকে বলেছিলাম এই রুমে রেস্ট নিতে। ও যে এই রুমে ভুলেই গিয়েছিলাম। তাই তোকেও বলা হয়নি।

সিয়ামঃ মা তুমিও যা করো না!

মিন্নিঃ লজ্জায় তো মাথা কাটা যাচ্ছে। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

ভাইয়া এসে যেভাবে জড়িয়ে ধরলেন। কি শক্ত শরীর। আর্মি অফিসার বলে কথা। কি বলব বুঝতেসিলাম না। উঠে গিয়ে খালামনিকে বললাম চলো না ছাদে যায়। গল্প করব।

মোহনাঃ আচ্ছা চল। সারভেন্টদেরকে বলছি ছাদে কফি পাঠাতে।

সিয়ামঃ কেমন ম্যানারলেস মেয়ে। বড় ভাইকে দেখলে যে সালাম দিতে হয় এই কার্টিসিও জানে না।

মিন্নিঃ খালামনির সাথে অনেক গল্প করলাম। তারপর জান্নাত আপুর রুমে এসে পড়তে বসলাম।

জান্নাতঃ কিরে আজকে এসে আজকেই পড়াশোনা?

মিন্নিঃ কি করব। আমি তো আর তোমাদের মতো ব্রিলিয়েন্ট না যে একবার পড়লেই সব মনে থাকবে।

জান্নাতঃ হ্যাঁ এজন্যই তো সারাদিন পড়া লাগতেসে।

সিয়ামঃ ঘুম দিয়ে নিচে গেলাম। আম্মু টেবিলে ডিনার দিচ্ছিল।

মোহনাঃ উঠছিস? আয় খেতে বস।

সিয়ামঃ জান্নাত আর আব্বু কই?

মোহনাঃ জান্নাত আর মিন্নি খেয়ে পড়তে চলে গেছে। তোর আব্বুর আজকে আসতে লেট হবে।

সিয়ামঃ আচ্ছা মিন্নি মেয়েটা কেন আসছে?

কনেতাঃ এডমিশন কোচিং এর জন্য এখানে হোস্টেলে থাকবে বলছিল। আমিই জোর করে আনলাম। ছোট একটা মেয়ে। তাছাড়া এই শহরটা তো আর চিটাগং এর মতো না। চিটাগং এর মানুষ যেমন কনজারভেটিভ এখানকার মানুষ তো তেমন না। আমি তো আরো তোর আয়েশা খালাকে বলে রেখেছি যে তুই ছুটিতে আসবি। ওকে পড়া দেখিয়ে দিবি।

সিয়ামঃ হোয়াট! ঐ গাধারাম মেয়েটাকে আমি পড়াব! নো ওয়ে!

পর্ব ২

মোহনাঃ এটা কেমন কথা। এস এস সি তে এ প্লাস ছিল ওর। মোটামোটি ভালো ছাত্রীই তো ও।

সিয়ামঃ আরে তোমার মনে নাই ক্লাস এইটে ও ম্যাথে কত পাইসিলো। ৩৪! পুরো ফ্যামিলিতে কেউ আর এত খারাপ রেজাল্ট করেছে?

মোহনাঃ সিয়াম তুই কিসব…

মিন্নিঃ খালামনি?

জান্নাত আপু আর আমি এক রুমে পড়তে বসাতে পড়া কম আর গল্প বেশি হচ্ছিল। তাই আমিই ডিসাইড করলাম ছাদে গিয়ে পড়ব। সারভেন্টরা জানাল চাবি খালামনির কাছে। তাই চাবি খুঁজতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে সিয়াম ভাইয়ার কথাগুলো শুনে খুব খারাপ লাগল। কথাগুলো নতুন না। প্রায়ই শুনতে হয় আমার ক্লাস এইটের বীরত্বের গল্প। তাও সিয়াম ভাইয়ার মুখে শুনে কেন জানি মনে হচ্ছিল কেউ মনের উপর বুলডোজার চালাচ্ছে। চোখের পানি টলমল করছিল। কোনোরকম সামলে ” খালামনি… ছাদের চাবি টা লাগবে। ওখানে পড়ব”

সিয়ামঃ কি বললাম না বললাম সব শুনে ফেলল? যাক ভালোই হল শুনেছে। (মনে মনে)

মোহনাঃ কি করব ভেবে কুল পাচ্ছি না। মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে। চাবি টা দিলাম “মন দিয়ে পড়। কফি পাঠিয়ে দিচ্ছি আমি। ” সিয়ামের দিকে তাকিয়ে ” কিছু মানুষকে দেখায় দে তুই কোন মাপের জিনিস। “

মিন্নি চলে গেল।

মোহনাঃ তুই পড়াশোনায় শার্প বলে সবাইকে হেয় করবি এটা তো ঠিক না। তোর কাছ থেকে তো এটা এক্সপেক্ট করিনি। তুইও তোর বাবার মতো অহংকারী রূপ ধারণ করলি?

সিয়ামঃ কথাগুলো বলেই মা চলে গেল। কিন্তু আমার মনের কথা কেউকে বোঝাতেও পারি না। আমার পিচ্চি মিন্নিটাকে আমি কত ভালোবাসি। কিন্তু আমার এই অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গে আমি ওকে জড়াতে চায়না। আমি একজন আর্মি অফিসার। আমার নিজের জীবনের কোনো ভবিষ্যত নেই। ওকে সেইফটি দেওয়ার কথা ভাবব কি করে। তাই ওর কাছ থেকে সবসময়ই দূরে থাকার চেষ্টা করি।

মিন্নিঃ এই প্রথম মা বাবার কাছ থেকে দূরে থাকছি। সেখানে এসে এইসব শুনতে হচ্ছে। চোখের কোণার পানি চেপে পড়ার চেষ্টা করছি। আমার মতো স্ট্রং মেয়ের চোখে পানি মানায় নাহ। এসব ভেবে টেবে মন দিয়ে পড়তে লাগলাম। খালামনিদের বাড়িটার সামনে বাগান। পেছনে একটা গেস্ট হাউজ। ছাদে বড় এক সুইমিং পুল। পাড়ে দোলনা। তাই পুরো বাড়িতে ছাদটাই বেশি পছন্দের আমার। আর রাতের বেলা এত লাইট জ্বলে যে দিন কি রাত বোঝা মুশকিল। দোলনায় বসে পড়ছিলাম। পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

সিয়ামঃ ঘুম আসছিল না। ভাবলাম সুইম দিয়ে আসি। তাই ছাদে গেলাম। গিয়ে দেখি পিচ্চিটা ওখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে। কোনো ডিসিপ্লিন নাই মেয়েটার। এতক্ষনে হলে তো ওকে আর্মি থেকে কোর্ট মার্শিয়ালই করে দিতো।

কিছু না ভেবেই কোলে তুলে নিলাম। ওর চুলগুলো মুখে এসে পড়ছে। ওর নেশায় ডুবে যাচ্ছি। নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করলাম আর ওকে জান্নাতর পাশে শুইয়ে দিলাম। জান্নাত ঘুম। তাই আলতো করে ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে গেলাম।

সকালে

মিন্নিঃ উঠে দেখি আমি জান্নাত আপুর রুমে। রাতে তো ছাদে পড়তেসিলাম। এখানে স্লিপ ওয়াক করে আসলাম নাকি।

ঘড়ির দিকে তাকালাম। ৯ টা বাজে। ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গেলাম। খালুকে দেখতে পেয়ে সালাম দিলাম।

পলাশ সাহেবঃ ওয়ালাইকুমুসসালাম। (ইডিয়ট মিডল ক্লাসেস)

সার্ভেন্টঃ মিন্নি আপ, ম্যাডাম এন জি ওর কাজে একটু বাইরে গেসেন। আর জান্নাত আপুও পরীক্ষা দিতে চলে গেসে। আপনি উঠলে আপনাকে নাস্তা দিতে বলে গেসেন। বসেন আপনাকে নাস্তা দি।

পলাশঃ হোয়াট! এটাও শুনতে হচ্ছে! আমার ঘরে ৭ টার পরে নাস্তা? মানে তুমি এতক্ষনে ঘুম থেকে উঠেছ? তোমরা মিডল ক্লাসরা এজন্যই হোল লাইফ মিডল ক্লাস থেকে যাও। লাইফের প্রতি সিরিয়াসনেস নাই। পকেটে নাই আট আানা আয়েশ করতে চাও ষোল আনা। ডিসগাস্টিং পিপল! নিজের বাপের কোনো আত্তা পাত্তা নাই। চাচাকে বাবা বানিয়ে বসে আছে। মোহনাও এন জি ও চালাতে চালাতে ঘরটাকে আশ্রম বানিয়ে ফেলেছে।

সিয়ামঃ বাবা! .. নিচে এসে বাবার কথাগুলো শুনে মাথা আর ঠিক থাকল না ” কি যা তা বলছ তুমি। “

পলাশঃ ঠিকটাই বলেছি। এখন তুই তোর মায়ের মতো শুরু করিস না। দিনটাই খারাপ করে দিল আমার! ( বলেই হন হন করে অফিসের জন্য বেরিয়ে গেলাম)
মিন্নি ততক্ষনে কান্না করতে করতে দৌড়ে ছাদে চলে গেছে।

সিয়ামঃ না! আর পারছি না। হোক অনিশ্চিত ভবিষ্যত। তাও ওকে আমার করেই ওর প্রাপ্য সম্মানটা দিব। প্রেমের জন্য রেডি হও পিচ্চি।

মিন্নিঃ আর পারিনি চোখের পানি আটকাতে। কারণ এবার কথা আমার ফ্যামিলিকে নিয়ে হচ্ছিল। সুইমিং পুলের পাড়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছিলাম। হঠাৎ টের পেলাম পিছন থেকে কেউ একজন আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার চুলে মুখ গুজেছে। সিয়াম ভাইয়া! পিছনে ফিরে ”ভাইয়া কি কর…”

সিয়ামঃ এই! আরেকবার ভাইয়া বলবা তো এমনভাবে জড়িয়ে ধরব যাতে শরীরের হাড্ডি সব গুঁড়ি হয়ে যায়।

মিন্নিঃ কি বলছেন এইসব আপনি…

সিয়ামঃ “চুপপপ”….ওকে এক হাতে আরো কাছে টেনে আনলাম। অন্য হাত ওর চুলের মাঝে দিয়ে ওর গালের সাথে আমার নাক লাগিয়ে বলতে লাগলাম ” ভলোবাসি তো পিচ্চি। এতদিন নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে তোমাকে দূরে রেখেছি। কিন্তু আর না। আর কখনও যদি ভাইয়া ডেকেছ তো দেখবে কি করি। সিয়াম। শুধু এই পিচ্চির সিয়াম”.. কথাগুলো বলেই ওর চোখের পানি মুছে দিলাম আর ওর দুই চোখের পাতার উপর কিস করলাম।

মিন্নিঃ কেউ দেখলে ঝমেলা হবে। সরেন না।

সিয়ামঃ বাড়িতে তো কেউ নেই। আর ছাদে আসতে তো ছদের দরজা বন্ধ করে এসেছি। ( দুষ্টুমির হাসি দিয়ে)

মিন্নিঃ উনির মতলব তো ঠিক দেখছি না। উনিকে ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরাতে গিয়ে উল্টে পেছনে সুইমিং পুলে পড়ে গেলাম।

সিয়ামঃ সিটট! ও তো সাঁতার পারে না!

পর্ব ৩

সিয়ামঃ ও সাঁতার পারে না। তাই সাথে সাথে লাফ দিলাম। ওকে টেনে তুলে বুকের সাথে জড়ালাম। ও ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল বাচ্চাদের মতো। হাঁপাতে থাকল। ” ঠিক আছো তো? “

মিন্নিঃ হুম..

সিয়ামঃ ওর ভেজা মুখ..ভেজা চুল…সব আমাকে যেন উম্মাদ করে দিচ্ছে। আরো কাছে টানছে ওর। আচমকা আমার ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম ওর গালে।

মিন্নিঃ হঠাৎ আমার গালে উনির ঠোঁটের ছোঁয়াতে কেঁপে উঠলাম আমি।

সিয়ামঃ ধীরে ধীরে ওর চুল বাম কাঁধে সরিয়ে দিয়ে এক হাত ওর কোমরে দিয়ে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলাম। তারপর আমার মুখ বাড়ালাম ওর ডান কাঁধে। মুখ ডুবিয়ে দিলাম। তৃষ্ণার্তের মতো ভালোবেসে যাচ্ছিলাম। এত বছর নিজের মধ্যে আগলে রাখা ভালোবাসা আজ কোনো বাঁধা মানতে চাইছে না।

মিন্নিঃ উনির এমন ব্যবহারে আমার হার্ট যেন দশ গুণ বেশি বিট করছে। উনিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছি। আর না পেরে কান্নাই করে দিলাম।

সিয়ামঃ সুইমিং পুলের ঠান্ডা পানিতে যখন দুজনে ভিজে একাকার হঠাৎ আমার কাঁধে উষ্ণ কিছু টের পেলাম আমি। ওর গলা থেকে মাথা তুলে দেখলাম ও কাঁধছে। আর ঐ উষ্ণ পরশ ওর চোখের পানিরই। ওকে কোলে নিয়ে পুল থেকে তুললাম। ওর দুই গালে হাত দিয়ে ” সরি সরি। প্লিজ কান্না থামাও।

মিন্নিঃ

সিয়ামঃ আর করব না এমন। সরি তো পিচ্চি।

মিন্নিঃ আমি পিচ্চি না।

সিয়ামঃ আমার জন্য তো পিচ্চিই। আমার ৬ বছরের ছোট তুমি।

মিন্নিঃ হু। পিচ্চি বলে বলে এভাবে কিস করেন।

সিয়ামঃ ইচ্ছা করে তো আর করিনি। কন্ট্রোল হয় নাই আর কি।

মিন্নিঃ কাঁথা পুড়ি আপনার কন্ট্রোলের। ফইন্নি ছেলে

সিয়ামঃ আচ্ছা বাবা আর করব না কিস। প্রমিস।

মিন্নিঃ কান্না থামালাম।

সিয়ামঃ বাট হাত ধরব আর হাগও করব কথাগুলো বলেই ওখান থেকে চলে আসলাম।

মিন্নিঃ বজ্জাত কোথাকার।

সিয়ামঃ শাওয়ার নিয়ে চেন্জ করে শুয়ে পড়লাম। আজকে নিজের উপরই অবাক হচ্ছি। আমার মতো গম্ভীর ছেলে এমনভাবে রোমান্স করতে পারে কখনো কেউ চিন্তাও করবে না। স্কুল কলেজে কোনো মেয়ের সাথে কথা পর্যন্ত বলিনি প্রয়োজন ছাড়া। আর আজ আমার এই দশা।

মোহনা আসতে একসাথে জান্নাতকেও পিক করে সাথে আনল। সবাই দুপুরে খেতে বসল।

মিন্নিঃ খালামনিরা চলে এসেছে। ওদেরকে বলে আজই বেরিয়ে পড়তে হবে। বাপ কথা শোনায় আর সিয়াম ভাইয়া। আজ যা বলল আর করল। চলে যাওয়ার কথা বলতে যাব ঠিক তখনই।

মোহনাঃ মিন্নি মা, তোর খালু আজ তোকে যে কথাগুলো বলেছে ওগুলোর জন্য কষ্ট নিস না। আমার কথা ভেবে হলেও কথাগুলো হজম করে নে।

মিন্নিঃ ইট ইজ ওকে। ( কি বলতে কি বললাম। আর সকালের ঘটনা জানল কি করে। নিশ্চয়ই বজ্জাতটার কাজ তারপর দিলাম এক হাঁচি)

খালামনিঃ কিরে তোর ঠান্ডা লাগল কেমনে?

মিন্নিঃ সুইমি…

সিয়ামঃ আরে আম্মু তোমারও বুদ্ধি গেল নাকি। কালকেই তো এত লম্বা জার্নি করে আসল। ঠান্ডা লাগতেই পারে। মেয়েটার এমনেও খাওয়া দাওয়া কোনোকিছুর ডিসিপ্লিন নেই। সমস্যা নাই। এখন তো আমি পড়াব। ডেইলি ৬টার মধ্যেই উঠবে ও। আম্মু ওকে বলো খাওয়া শেষে বই খাতা নিয়ে আমার রুমে আসতে।

মিন্নিঃ কথাগুলো বলেই চলে গেল। দাঁড়ালও না। কি ভাব নিয়ে বলল যেন আমাকে পাত্তাই দেয় না।

মোহনাঃ আলহামদুলিল্লাহ! ফাইনালি ছাগলটার বুদ্ধি উদয় হলো। মিন্নি মা যা।

মিন্নিঃ খালামনি আমি নিজেই পড়তে পার…

মোহনাঃ আমি তোর খালা নাকি তুই আমার খালা।

জান্নাতঃ যা যা। এখন বুঝবি ভাইয়ার কাছে পড়ার প্যাড়া।

মোহনাঃ এই বেশি কথা বলিস তুই।

মিন্নিঃ উঠে বই খাতা নিয়ে গেলাম বজ্জাতটার রুমে।

ঢুকে বই খাতা টেবিলে রাখলাম। পেছন থেকে এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরে পেটে হাত বোলাতে লাগল।

“কি করছেন কি! ছাা..আআআআআআআ
আচ্চি! “

সিয়ামঃ হাহাহাহাহা…তোমার হাঁচিও পিচ্চিদের মতো। পিচ্চি আমার।

মিন্নিঃ অনেক তো ডিসিপ্লিন ডিসিপ্লিন করেন। নিচে যে কত্ত বড় মিথ্যা বললেন। আমার ঠান্ডা ঐজন্য লেগেছে?

কথাগুলো বলতেই আমাকে ছেড়ে দিল আর টেবিলের সামনে চেয়ার টেনে বসল।

সিয়ামঃ বসো। বই বের করো আর কোচিং শিডিউল দেখাও।

মিন্নিঃ দেখালাম।

সিয়ামঃ কালকে তো ম্যাথ টেস্ট। আমি নিয়মগুলো দেখিয়ে দিচ্ছি। তুমি ঐ নিয়মগুলোর ৩০০টা এম সি কিউ সন্ধ্যার মধ্যে সলভ করে দেখাবা।

মিন্নিঃ এত্তগুলা কেমনে!

সিয়ামঃ অনেক কম দিয়েছি বলো। সবগুলো যদি কমপ্লিট করতে না পারো যতটা করতে পারবা না তার সাথে স্কোয়ার করে ততটা কিস দিব

মিন্নিঃ

সিয়ামঃ গো ফাস্ট

পর্ব ৪

জান্নাত আপুর রুমে গিয়ে বসলাম। মাথাতাই খারাপ হয়ে গেল। এত্তগুলা ম্যাথ করা কি সম্ভব! তাও এত ফাস্ট!

জান্নাতঃ কি হইসে। এত ফুলা ফুলা কেন?

মিন্নিঃ হ্যা। মজা নাও। ভাল। তোমাদেরই তো সময়। তোমার বজ্জাত ভাইটা কতগুলো ম্যাথ দিয়েছে দেখো। তুমিই বলো এত কম সময়ে এতগুলো ম্যাথ করা কেমনে পসিবল

জান্নাতঃ এজন্যই তো অর কাছে কখনো পড়া বুঝিয়ে নিতে যায় না আমি। সবাইকে নিজের মতো এক্সট্রাঅর্ডিনারি ট্যালন্ট মনে করে যে

মিন্নিঃ আপু প্লিজ আমাকে পথ দেখাও। নাহয় অই হিটলার আমাকে….

জান্নাতঃ হিটলার তোকে…কী?

মিন্নিঃ না না। কিছু না। মানে ঝারি দিবে অনেক। এই আর কি…

জান্নাতঃ হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক। আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে।

মিন্নিঃ কি আইডিয়া

জান্নাতঃ ১৫০টা তুই কর আর ১৫০টা আমি করি। ওকে?

মিন্নিঃ ইউ আর দা বেস্ট

জান্নাতঃ হিহিহি… আই নো। চলো লেগে পড়ি

মিন্নিঃ ইয়ো ইয়ো

সন্ধ্যায়

সিয়ামঃ পিচ্চি কাজ কম্পলিট?

মিন্নিঃ জি

সিয়ামঃ কি?

মিন্নিঃ জি মানে ইয়ো..ইয়ো মানে ইয়েস

সিয়ামঃ দেখি তো

মিন্নিঃ সি

সিয়ামঃ ম্যাথে তো বেশ ভালোই হয়ে গেছ দেখছি

মিন্নিঃ লিসেন, আমি ম্যাথ এ কখনো খারাপ ছিলাম না। ওকে? ক্লাস এইটে আমার অনেক বড় একটা প্রব্লেম হয়েছিল। ওটার কারণে আমার ম্যাথে অমন রেজাল্ট হয়েছিল। হুহ!

সিয়ামঃ কেমন প্রব্লেম?

মিন্নিঃ আপনাকে কেন বলব?

সিয়ামঃ আমাকে কেন বলবে যে?

মিন্নিঃ না মানে। বলব তো। বলছি তো

সিয়ামঃ হুম বল

মিন্নিঃ ক্লাস এইটের ম্যাথ স্যার যেটা ছিল উনি অনেক ডিস্টার্ব করতেন। উনির ক্লাসও করতাম না এই জ্বালায়। ম্যাথ বই দেখলেই ভয় লাগত এইজন্য। পরে উনিকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

সিয়ামঃ কেমন বাজে লোক। ছোট একটা মেয়ের দিকে এই নজরে তাকায়।

মিন্নিঃ আপনিও তো তাকান।

সিয়ামঃ পিচ্চিইইইইইইইইইইই….

মিন্নিঃ এক দৌড়ে জান্নাত আপুর রুমে চলে আসলাম।

সিয়ামঃ আজকে বাঁচি গেলা।

খাওয়ার টেবিলে

আজকে পলাশ সাহেব, মোহনা পলাশ, ছেলেমেয়ে সবাই একসাথে বসেছে।

মিন্নিঃ মনের সুখেই খাচ্ছিলাম। হঠাত পায়ে কার যেন স্পর্শ টের পেলাম। ভয়ে চিতকার দিয়ে উঠলাম। আআআআআ…..

মোহনাঃ কিরে কিরে কি হল।

মিন্নিঃ পায়ে যেন কি লাগল।

সিয়ামঃ আরে ককরোচ হবে আর কি…

পলাশ সাহেবঃ সিয়াম, তোমারও দেখছি মাথাটা গেছে। আমার ঘরে ককরোচ থাকবে? লাইক সিরিয়াসলি? জীবনেও না।

সিয়ামঃ আচ্ছা খাও সবাই।

মিন্নিঃ আবার পায়ে স্পর্শ পেলাম। এটা তো আস্ত একটা মানুষের পা। সামনে তাকাতেই দেখলাম বজ্জাতটা আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।

সিয়ামঃ আরে মিন্নি দেখি কিছুই খাচ্ছ না। প্লেট দাও আমি দিচ্ছি তোমাকে।

মিন্নিঃ প্লেট নেওয়ার সময় আমার হাতে চেপে ধরল। ফইন্নি ছেলে কোথাকার! তারপর আবার পায়ের স্পর্শ। এত লম্বা কেমনে হয়! পা পিছিয়ে নিচ্ছি তাও ঐ প্রান্ত থেকে আমার পায়ের উপর পা বুলিয়েই যাচ্ছে। কখনো পায়ের দুই আঙ্গুল দিয়ে আমার পায়ের লোম টানছে। আর আমি শব্দও করতে পারছি না।

সিয়ামঃ মা কাল থেকে তো মিন্নির কোচিং। ও কিভাবে যাবে। আমি ওকে ড্রপ আর পিক করতে পারি। আমি তো ফ্রিই আছি। (ওর পায়ে পা বোলাতে বোলাতেই কথাগুলো বলছি যাতে ওর মাথা বেশি কাজ না করে)

মিন্নিঃ আরে না খালামনি। ভাইয়া এত কষ্ট করবে কেন…

মোহনাঃ তুই চুপ কর তো। এতদিনে বুদ্ধিমানের কথা বলেছে আমার ছেলেটা।

পলাশ সাহেবঃ ইউ মিন আমার ছেলে ড্রাইভারের কাজ করবে একটা মিডল ক্লা…

মোহনাঃ যৌবনে এই মিডল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়েকে পটানোর জন্য কি কি করেছিলে সেগুলো আর তোমার ছেলেমেয়ের সামনে না-ই বললাম।

পলাশ সাহেবঃ …

খাওয়া শেষে সবাই যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

মিন্নিঃ জান্নাত আপুর পাশে ঘুমাচ্ছিলাম। কে যেন হঠাত টান দিয়ে শোয়া থেকে টেনে তুলল। তাকিয়ে দেখি সিয়াম ভাইয়া। টেনে সোজা তার রুমের ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে নিল “কি হল আবার।”

সিয়ামঃ টাইম দেখেছ? কয়টা বাজে?

মিন্নিঃ কি জানি!

সিয়ামঃ ৫.৫০!

মিন্নিঃ এখনো তো সকালই হইনি।

সিয়ামঃ ওর মুখে পানি দিলাম। ” এখন থেকে ৫.৩০ এর মধ্যে বিছানা ছারবা” বলেই অর দাত ব্রাশ করে দিতে লাগলাম।

মিন্নিঃ দাত ব্রাশ করাচ্ছে ওখানেও কোমড় ধরে রাখতে হয়। এই ছেলে এত গায়ে পড়া স্বভাবের হবে কল্পনাও করিনি।

সিয়ামঃ এক হাত ওর কোমড়ে দিয়ে অন্য হাত দিয়ে ব্রাশ করাচ্ছি। ও ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। একদম বাচ্চাদের মতো লাগছে। ওকে কুলি করিয়ে দিয়ে রুমে বসালাম। সারভেন্টদেরকে আগেই বলেছি ব্ল্যাক কফি দিয়ে যেতে। সেটা ও চলে এসেছে। এক কাপ আমি নিলাম। অন্য কাপ দিলাম মিন্নিকে।

মিন্নিঃ কফি মুখে দিতেই “ছিইইইইইইইইইইইই

…..ওয়াক থু! এটা কফি নাকি কি!”

সিয়ামঃ কেন ভালই তো হয়েছে।

মিন্নিঃ দুধ নাই চিনি নাই এটা কি কফি।

সিয়ামঃ এটা ব্ল্যাক কফি। ভালো।

মিন্নিঃ কেমনে খাই মানুষ এটা।

সিয়ামঃ আমি যেমনে খাচ্ছি।

মিন্নিঃ আমি খাইতে পারব না।

সিয়ামঃ না খেলে কিস করে দিবে। এখন সবাই ঘুম। ভালো করে করা যাবে।

মিন্নিঃ না না খাচ্ছি খাচ্ছি। এক ঢোকে খেয়ে ফেললাম। সাথে সাথেই বমি আসল। ট্রাই করলাম আটকাতে। তাও বের হয়ে গেল আর সব পড়ল সিয়াম ভাইয়ার গায়ে।

সিয়ামঃ …

পর্ব ৫

মিন্নিঃ এ মা! কি করলাম। বজ্জাত তো আজকে আমাকে গিলে খাবে (মনে মনে)

সিয়ামঃ কিছু না বলে ওকে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলাম। তারপর ওয়েট টিস্যু দিয়ে ওর মুখ ভালো করে মুছে ওকে বললাম রুমে গিয়ে বসতে। তারপর শাওয়ার নিয়ে চেন্জ করে নিলাম।

মিন্নিঃ এত্ত আনেক্সপেক্টেড একটা রিঅ্যাকশন!

উনির জায়গায় আমার উপর যদি কেউ এইভাবে বমি করত আমি তো তার খুনই করতাম। এত সহনশীল। এত ভালোবাসা…

সিয়ামঃ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখলাম পিচ্চিটা বসে আছে। হঠাত আবার ওয়াক ওয়াক করা শুরু করল। টেলিফোন দিয়ে সারভেন্টদের বললাম লেবু কেটে আনতে। লেবু আনার পর তা পিচ্চি কে দিলাম। “সরি”

মিন্নিঃ কেন?

সিয়ামঃ জোর করে ব্লেক কফি খাওয়ালাম।

মিন্নিঃ লাগবে না সরি। হুহ!

সিয়ামঃ দেখো আমি জীবনে কখনো কেউকে সরি বলিনি। কারণ আমার নিজের কোনো কাজ নিয়ে আমার কখনো আফসোস হয়নি। আজ প্রথম বললাম। তাও তুমি এত পার্ট নিচ্ছ।

মিন্নিঃ তাও মুখ বাকিয়ে বসে থাকলাম

সিয়ামঃ ওকে জড়িয়ে ধরলাম “সরি সরি। অনেক সরি। এভাবে রাগ করে থাকিও না। তুমি চুপ করে থাকলে অনেক খারাপ লাগে। ভালোবাসি তো। ”

মিন্নিঃ আহ! ছারেন না। কি শুরু করলেন।

সিয়ামঃ আগে বল মাফ করেছ।

মিন্নিঃ আচ্ছা আচ্ছা করেছি। এবার তো ছারেন।

সিয়ামঃ একটু রিভিশন দিয়ে নাও। তারপর নাস্তা করে বের হবো ক্লাসের জন্য।

মিন্নিঃ ওকে।

নাস্তা করে মিন্নিকে নিয়ে সিয়াম বেরিয়ে পড়ল কোচিং এর উদ্দেশ্যে।

সিয়ামঃ ড্রাইভ করার সময় এক হাত স্টিয়ারিং এ রেখে অন্য হাত ওর কোলের উপর রেখে ওর হাত ধরে আছি।

মিন্নিঃ হাত ছারেন না। এক হাতে কেমনে গাড়ি চালায়। পরে আবার এক্সিডেন্ট করে বসবেন। ( বেহায়া, ইতর, বজ্জাত কোথাকার! )

সিয়ামঃ আমার ড্রাইভিং স্কিলস নিয়ে তুমি ডাউট করছ?

মিন্নিঃ না না কিছু করছি না। আপনি গাড়ি চালান।

সিয়ামঃ আর শুনো, আজকে তোমার কোচিং এর অফিসে আমি কথা বলে আসব। তোমার ডেইলি টেস্টগুলোর মার্কস যাতে আমার মোবাইলে পাঠায়।

মিন্নিঃ (খাইসে রে। মিন্নি বাচ্চা তু তো গায়ি কাম সে)

কোচিং এ মিন্নির দেখা হলো ওর দুই বেস্ট ফ্রেন্ড ইতি আর রাকিব এর সাথে। ওরাও মিন্নির সাথে চিটাগং এই থাকে। এডমিশন কোচিং করতে ঢাকায় আসা।

মিন্নিঃ বান্ধবি কতদিন পর দেখা।

ইতিঃ ২দিন ই তো হল।

রাকিবঃ দেখসস তরে ও একদম মিস করে নাই।

মিন্নিঃ জানি তো। হুহ। নিউ হোস্টেল মেট পায় আমাকে কি আর মনে থাকবে।

ইতিঃ তুই তো তোর খালার বাসায় গিয়েছিলি। তাইলে আমাদের মতো হতভাগাদের এত মিস করলি কেমনে?

মিন্নিঃ বেহেন এই ২ দিনে আমার সাথে যে তুফান হইসে। শেয়ার করার মতোও পাচ্ছিলাম না কেউরে। তোদেরকে পাইলাম আজ।

রাকিবঃ কি হইসে এমন।

মিন্নিঃ সব খুলে বললাম।

ইতিঃ সিয়াম ভাইয়া এত রোমান্টিক!

রাকিবঃ আর বড় কথা হলো ছেলেটা তোকে আসলেই ভালোবাসে।

মিন্নিঃ কচু।

রাকিবঃ আরে লজিকালি থিংক কর না। আমিও একজন ছেলে। আজকে সকালে যা করলি। উনির জায়গায় আমি হলে তো ঐ মেয়েকে ধরে থাপ্পর লাগিয়ে দিতাম। সবকিছু এক সাইড। বাট গায়ের উপর বমি করা।

মিন্নিঃ হু।

ইতিঃ এক্সাম স্টার্ট হবে। বক বক অফ কর।

মিন্নিঃ এক্সাম ভালই হল। এত ফাস্ট অনেকগুলো এম সি কিউ আনসার করে ফেলসি।

বের হয়ে দেখি বজ্জাতটা আগে থেকে এসেই দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিঃ এই মিন্নি, এটা কি সিয়াম ভাইয়া?

মিন্নিঃ হু।

রাকিবঃ কি স্মার্ট! বেটা আগা থেকে গোড়া তো ফুল ব্র্যান্ডেড।

ইতিঃ হ্যাঁ রে। আর কি ড্যাশিং…।

রাকিবঃ মিন্নি তোর তো কপাল খুলে গেল।

মিন্নিঃ বাল খুলসে।

সিয়ামঃ দূর থেকে দেখছি একটা ছেলে ওর সাথে সমানেই হেসে হেসে কথা বলে বের হচ্ছে।

ও আসার পর দুইজন গাড়িতে উঠে পড়লাম। ঐ কিছু বললাম না। সারা রাস্তা কোনো কথা না বলেই সোজা বাসায় চলে গেলাম।

মিন্নিঃ আজ বজ্জাতের মুখে দেখি ঠাডা পড়সে। সারা রাস্তা কোনো কথাই বলল না।

বিকালে

মিন্নিঃ আপুর রুমে বসে পড়ছিলাম। হঠাত সিয়াম ভাইয়া মিন্নি বলে চিৎকার করতে করতে রুমে আসল আর এমন রাগি লুকে তাকাল যেন আমাকে আস্ত গিলে খাবে।

সিয়ামঃ ম্যাথ টেস্টে এগুলো কি মার্কস এসেছে তোমার?

মিন্নিঃ এক্সাম তো ভালই দিসিলাম।

সিয়ামঃ দেখ কি মারক্স পেয়েছ নিজের চোখে দেখ।

মিন্নিঃ ফার্স্ট পজিশন তো।

সিয়ামঃ পজিশন দেখতে বলসি? কত পেয়েছ সেটা দেখো। ৩০ এ ২৫! বাকি ৫টা পারো নাই কেন?

মিন্নিঃ ১৫ মিনিটে ৩০টা ম্যাথ করে এম সি কিউ দাগানো কি সম্ভব?

সিয়ামঃ তো কালকে ২ ঘন্টায় ৩০০টা করেছিলে কেমনে?

মিন্নিঃ আরে ওটা তো বাসায়। কোচিং-এ কমফোর্ট ফিল হয়না।

সিয়ামঃ কিছু না বলে চলে আসলাম। (বুঝতে পেরেছি। কিছু একটা তো ঘাপলা আছে। আর সেটা আমাকেই বের করতে হবে। )

এভাবে কিছুদিন চলতে থাকল। প্রতিদিন সিয়ামের মিন্নিকে ঘুম থেকে তুলে দিয়ে ব্রাশ করিয়ে দেওয়া। পড়ানোর। আর পড়ানোর সময় হাত ধরে রাখা। মিন্নিও সিয়ামকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু তা কখনো প্রকাশ করে না। তারপর অবশেষে সিয়াম এক সারভেন্টের কাছ থেকে জানতে পারল মিন্নি আর জান্নাতর মিলিত মিথ্যার কথা। তখন মিন্নির কোচিং-এর ছুটির টাইম হচ্ছিল। তাও সে রাগ করে আনতে যায়নি। ওর ছুটির সময়ের ১ঘন্টা হয়ে গেল। বাইরে তুমুল বৃষ্টি। ও ঘরে না আসাতে মোহনা সিয়ামের কাছে গেলেন।

মোহনাঃ কিরে তুই মিন্নিকে আনতে যাসনি?

সিয়ামঃ কেন ও কি একা আসতে পারে না?

মোহনাঃ আসলে এতক্ষণে চলে আসত। ১ঘন্টা হয়ে আসল। এখনও আসেনি মেয়েটা।

সিয়ামঃ কি বলো! বলতে বলতেই গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পাগলের মতো ছুটছি। আজ যদি আমার জন্য আমার পিচ্চির কিছু হয় আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারব না। ওর কোচিং-এর সামনে গিয়ে দেখলাম ও প্রতিদিন যেখানে দাঁড়ায় ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে। যেন ও জানত যে আমি আসব। ও বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। আবার সেই মাতাল করে দেওয়া ভেজা মুখ। ভেজা চুল। ওকে গাড়িতে তুলে জোরে গাড়ি চালাতে লাগলাম। কোথায় যাচ্ছি নিজেও জানিনা।

পর্ব ৬

মিন্নিঃ উনি অনেক স্পিডে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই খুব ঠান্ডা লাগছিল। এক পর্যায়ে কাঁপতে শুরু করলাম।

সিয়ামঃ ওকে কাঁপতে দেখে আমি গাড়ি থামালাম। খুব রাগ হচ্ছে ওর উপর!

মিন্নিঃ বাসায় কি যাব না?

সিয়ামঃ পকেট থেকে মোবাইল বের করে আম্মুকে কল দিলাম। ” আম্মু মিন্নি আমার সাথেই আছে। আমি আর মিন্নি আজকে একটু ঢাকা শহরটা ঘুরব। বাইরেই খাব। আমাদের আসতে একটু দেরি হবে। তোমরা খেয়ে নিয়ো। ” বলেই কল কেটে দিলাম।

মিন্নিঃ অবাক হয়েই উনির দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই বৃষ্টির মধ্যে আমাকে নিয়ে কোথায় ঘুরতে যাবে লোকটা…

সিয়ামঃ ওখানে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলে কেন? যখন দেখছিলে যে নিতে আসিনি রিকশা একটা নিয়ে বাসায় চলে গেলেই তো হতো।

মিন্নিঃ উনি আমাকে ইচ্ছা করে নিতে আসেনি শুনে কেমন আঘাত লাগল মনে। চোখের পানি আটকাতে পারলাম না। “আমি জানতাম না আপনি ইচ্ছা করে নিতে আসেননি। ভেবেছিলাম আসতে গিয়ে আটকে পড়েছেন কোথাও। আপনি ইচ্ছা করে নিতে আসেননি জানলে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। কখনো না” এত অভিমান আামার মধ্যে আমি নিজেই জানতাম না। আজ কান্নাও আটকাতে পারিনি।

সিয়ামঃ কিছু না বলেই ওর কোমর ধরে ওকে সিট থেকে উঠিয়ে আমার দিকে আনতে গেলাম। আজ ও ও কোনো বাধা দিচ্ছে না। উল্টো এগিয়ে আসছে। গত কয়েক দিনে বুঝতে পেরেছি ও আমাকে মেনে নিয়েছে। ওকে আমার সিটের দিকে টেনে এনে আমার কোলে বসালাম। ওর দুই গালে হাত দিয়ে নাকের সাথে নাক ঘষতে লাগলাম। ওর চোখ বন্ধ। আঙ্গুল দিয়ে ওর চোখের পানি মুছতে মুছতে “তুমি জান্নাতকে দিয়ে ম্যাথ করাও এটা জেনে অনেক খারাপ লাগছিল। আমার ভালোবাসার স্পর্শ এতই যখন খারাপ লাগে তা আগে বলতে? আমি ওতোগুলো ম্যাথ করতে বলতাম না তোমাকে”

মিন্নিঃ আমি ইচ্ছে করে করিনি। আইডিয়াটা জান্নাত আপুর ছিল। সরি আপনাকে হার্ট করার জন্য।

কথাগুলো বলেই আমার দুই হাত উনির দুইপাশে জ্যাকেটে ঢুকিয়ে উনিকে জোরে জড়িয়ে ধরলাম আর আমার মুখ গুঁজে দিলাম উনির কাঁধে।

সিয়ামঃ জান্নাতকে তো বাসায় গিয়ে দেখে নিব।

মিন্নিঃ না প্লিজ আপুকে কিছু বলবেন না। উনি তো আমার হেল্প করার জন্যই কাজটা করল।

সিয়ামঃ কিছু বলব না। তার বদলে তোমাকে কিছু দিতে হবে।

মিন্নিঃ কি?

সিয়ামঃ জান্নাতকে দিয়ে তো মনে হয় এখন পর্যন্ত ৫০০টার মতো ম্যাথ করিয়েছ। তার মানে তোমার গালের ৫০০টা কিস পাওনা জমেছে।

মিন্নিঃ ৫০০টা কিস কেমনে দেওয়া সম্ভব!

সিয়ামঃ জানি সম্ভব না। তাই তোমাকে এমনকিছু করতে হবে যাতে গালের কিসের কথা ভুলে যাই।

মিন্নিঃ উনির ঠোঁটে আলতো করে চুমু দিয়ে ” লিপ কিস দিলাম। আর গালের কিস এর কথা মনে থাকবে না”

সিয়ামঃ এটা লিপ কিস?

মিন্নিঃ হ্যাঁ তো আর কি।

সিয়ামঃ সারাজীবন পিচ্চিই থাকবা…

মিন্নিঃ কথাটা বলতে বলতেই আমার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের মাঝে টেনে নিলেন। কিস করেই যাচ্ছেন। আমি আমার হাতে উনির চুল মুষ্টিবদ্ধ করে চোখ বন্ধ করে আছি। আজ কোনো বাধা দিচ্ছি না। উনির দুই হাত আমার সম্পূর্ণ শরীর জুড়ে বিরাজ করছে। কখনো পিঠে কখনো গালে। উনি হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন আর আমার ঠোঁটে কিস করে যাচ্ছেন। মাঝে একটু থেমে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন “এইভাবে করে কিস” তারপর আবার আমার ঠোঁট টেনে নিলেন। আমাকে হাত দিয়ে নিজের বুকের সাথে এমনভাবে চেপে রেখেছেন যে দুজনের মাঝে বাতাস চলাচল করার ফাঁকটুকুও নেই। এভাবে কতক্ষণ ছিলাম জানিনা। এর মাঝে আমি জরে কামড় বসিয়ে দিলাম উনির ঠোঁটে।

সিয়ামঃ আআআউউউচচচ! কি করলা এটা!

মিন্নিঃ তো কি করব। আপনি ছাড়ছিলেন না। আর ক্ষুধায় পেট চো চো করছে আমার। আপনার ক্ষুধা লাগেনি?

সিয়ামঃ এতক্ষণ তো খেলাম।

মিন্নিঃ উফফফ!

সিয়ামঃ আচ্ছা চলো কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাঞ্চ করে নি।

মিন্নিঃ এমা! আপনার ঠোঁটে তো কামড়ের দাগ বসে গেছে। কি হবে এখন?

সিয়ামঃ আরে কিছু হবে না। ভালোই হলো আয়নায় তোমার ভালোবাসার পরশ দেখতে পাব।

মিন্নিঃ আমার সিটে গিয়ে বসলাম ” চলেন”

সিয়াম আর মিন্নি শহর থেকে দূরেই চলে এসেছিল। তাই ওখানের একটা টুরিস্ট স্পটের রেস্টুরেন্টে খেতে বসল। মিন্নি জানালা দিয়ে রেস্টুরেন্টের ভিউ দেখছে। সিয়াম অর্ডার দিয়ে এসে মিন্নির ডান পাশে বসল আর ওর কোমর জড়িয়ে ধরল।

সিয়ামঃ অনেক সুন্দর না জান?

মিন্নিঃ বাইরের দিকে তাকিয়েই “হুম। আপনি আগে এসেচেন? “

সিয়ামঃ অনেকবার।

মিন্নিঃ ভ্রূ কুঁচকে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে “কার সাথে? “

সিয়ামঃ মৃদু হেসে “একা আর কি। ভালোই লাগে জায়গাটা। এখানকার সব ওয়েটার আমাকে চিনে। একা আসার রেকর্ডের জন্য। কারনএখানে বেশিরভাগ কাপলই আসে। তাও ফরেইনার”

মিন্নিঃ ” ওউ” বলে উনির কাঁধে মাথা রাখলাম। উনি তখনও আমার কোমর জড়িয়ে আছেন আর আমার পেটে হাত বোলাচ্ছেন আর আমি বাইরের দৃশ্য আবার মনোযোগ দিয়ে দেখছি। এর মাঝে একজন ওয়েটার আসল।

ওয়েটারঃ ভাইয়া এটা কি ভাবি?

সিয়ামঃ হ্যাঁ।

ওয়েটারঃ মাশাল্লাহ! ভাবি তো অনেক সুন্দর।

সিয়ামঃ নজর লাগাবি আমার পিচ্চিটাকে। তাড়াতাড়ি খাবার রেডি করতে বল। তোর ভাবির ক্ষুধা পেয়েছে।

মিন্নিঃ আমি তো লজ্জায় শেষ। প্রথম কারো মুখে “ভাবি” ডাক শোনা। আসলে সবকিছুরই তো প্রথমবার থাকে। খাবার দেওয়া হলো। উনির কাঁধ থেকে মাথা তুললাম। উনি আমার ডান হাত ধরে বসে আছেন। “হাত ছাড়েন। কেমনে খাব? “

সিয়ামঃ আমি খাইয়ে দিব।

পর্ব ৭

মিন্নিঃ পাগল নাকি? সবার সামনে বলে খাইয়ে দিবেন।

সিয়ামঃ আশেপাশে একটু তাকিয়ে দেখ কারো আমাদেরকে নিয়ে মাথা ব্যাথা আছে কিনা। সবাই যে যার মত প্রেম করছে। দেখি হা করো।

মিন্নিঃ বজ্জাত টা ডান হাত ধরেছে তো ধরেছে উল্টা হাতে আঙ্গুল বুলিয়েই যাচ্ছে। আর এদিকে আমার হার্ট বীটের অবস্থা

সিয়ামঃ কি হলো। হা করতে বলেছি তো।

মিন্নিঃ উনির ঝাঁকুনিতে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল। হা করলাম। ও মুখে খাবার ঢুকিয়ে দিল। খেতে খেতে খেয়াল করলাম প্লেট শুধু একটাই “এক প্লেট কেন? “

সিয়ামঃ ক্ষুধা লাগলে আরেক প্লেট নিয়ো। আগে এটা শেষ করি। এরপর ওকে খাইয়ে দিতে লাগলাম। আমিও খেলাম। খাওয়া শেষে নদীর পাড়ে গিয়ে বসলাম দুজন। এক আইসক্রিমওয়ালাকে যেতে দেখে ডাক দিলাম “এই মামা! একটা আইসক্রিম দেন। “

মিন্নিঃ আবার একটা করে?

সিয়ামঃ সারাজীবন একটা করেই খাব।

মিন্নিঃ (কি বলে এই ছেলে। সারাজীবন তার এসব সহ্য করব )

সিয়ামঃ জায়াগাটা খুব শান্ত। হালকা বাতাসে ওর চুল উড়ে আমার মুখে এসে পড়ছে। আর ও…

মনের সুখে আইসক্রিম খাচ্ছে। ওর কোমর জড়িয়ে বসলাম আবার। আর ওর আইসক্রিমে মুখ দিলাম।

মিন্নিঃ ( আস্ত বজ্জাত একটা! )

সিয়ামঃ গালিগুলো মুখেও দিতে পারো। সমস্যা নাই।

মিন্নিঃ ক…ক..কি বললেন? আমি কই গালি দিলাম!

সিয়ামঃ ওর কাঁধে হাত দিয়ে ওর গালে জোরে একটা কিস দিয়ে “কিচ্ছু বলো নাই জান। “

মিন্নিঃ আমি লজ্জায় মাথা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

সিয়ামঃ আর লজ্জা পেতে হবে না। চলো আইসক্রিম টা শেষ করি।

মিন্নিঃ আইসক্রিম শেষ করে আবার উনির কাঁধে মাথা রাখলাম। আমার হাত উনির হাতে। উনি আর্মি ক্যাম্পের হাজারো গল্প করে যাচ্ছেন আর আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি। ইচ্ছে করছে সারাজীবন এইভাবেই উনি কাঁধে মাথা রেখে কাটিয়ে দিই।

সিয়ামঃ সময় তো অনেক গড়িয়ে গেল। চলো এবার উঠা যাক। নয়তো বাসায় টেনশন করবে।

মিন্নিঃ কথাটা শুনে কেমন খারাপ লাগল। কি ভেবে উনিকে জড়িয়ে ধরলাম।

সিয়ামঃ জানি তো পিচ্চিটার এখানে অনেক ভালো লাগছে। কিছু তো করার নেই। কথাগুলো বলেই ওর কপালে চুমু দিলাম।

মিন্নিঃ দুজনে উঠে দাঁড়িয়ে গাড়ির দিকে এগুলাম।

রাতে সবাই খেতে বসেছে। জান্নাত আজকে মিন্নির পাশে বসেনি। তাই সিয়াম গিয়ে বসল মিন্নির পাশে। সবাই খাচ্ছে আর সিয়াম আজকেও সেই প্রতিদিনকার মতো পায়ে পায়ে রোম্যান্স চালিয়ে যাচ্ছে।

সিয়ামঃ মিন্নি আজকে তো ঘোরাঘুরির কারণে সারাদিন পোড়াশোনা হয়নি। খাওয়া শেষে বই নিয়ে ছাদে এসো।

মিন্নিঃ আচ্ছা ভা…

পলাশ সাহেবঃ তুমি তো দেখছি লিটারেলি ওর টিচার, ড্রাইভার, ট্যুরিস্ট গাইড সবকিছুর দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছ।

মোহনাঃ ভালো হইসে আমার ছেলে অলরাউন্ডার তো তাই। আপনার মতো না। হুহ!

সবাই খাওয়া শেষে উঠে পড়ল। মিন্নি বই নিয়ে ছাদে গেল।

পর্ব ৮

মিন্নিঃ ছাদে গিয়ে দেখলাম উনি তখনও আসেননি। সুইমিং পুলের পাড়ে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে দিলাম। নিয়ন আলোয় পুলের পানিতে নিজেকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষটিকেই যেন দেখছি। তারপর পিছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরল। তাও আমি সেই পানির দিকেই তাকিয়ে আছি।

কারণ আমার পাওয়া সবচাইতে বড় প্রাপ্তি আমাকে জড়িয়ে আমার ঘাড়ে মুখ গুঁজে আছে। দেখে মনে হচ্ছে এতক্ষণ পানিতে যে সুখি মানুষকে দেখলাম সিয়াম ভাইয়ার আসার পর তার সৌন্দর্য আর সুখ আরো কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। উপ্স! যাকে মনে মনে বর বানানোর স্বপ্ন বুনছি তাকে ভাইয়া বলছি। ভাবতে ভাবতেই খেয়াল হলো বজ্জাতটা আমার ঘাড় অর্ধেক শেষই করে দিয়েছে চুমু দিতে দিতে “উহ! ছাড়েন না”।

সিয়ামঃ ওর ঘাড় থেকে মাথা তুলে ওর দিকে তাকিয়ে “যদি কোনো পরিসংখ্যান করা হতো যে কে কোন লাইনটা বেশি ইউজ করে ওখানে তোমার বেলায় কোন লাইনটা আসত জানো? “

মিন্নিঃ কোন লাইন?

সিয়ামঃ “ছাড়েন না। “

মিন্নিঃ আর আপনার উপর পরিসংখ্যানটা করলে আপনার সবচাইতে ইউজ করা লাইন হতো “পিচ্চি আমার”

হিহিহি…..

সিয়ামঃ হাসি দিয়ে খুন করবা দেখছি।

মিন্নিঃ খেজুরে আলাপ করার জন্য ছাদে ডেকেছেন? পড়াবেন না?

সিয়ামঃ ওলে আমার সিনসিয়ার স্টুডেন্ট লে।

মিন্নিঃ জি। আমি অনেক সিনসিয়ার। হুহ!

সিয়ামঃ হ্যাঁ হ্যাঁ দেখসি। জান্নাতকে দিয়ে ম্যাথ করাও।

মিন্নিঃ বেয়াদব।

সিয়ামঃ মনে রেখো। ৫০০টা কিস। আর লিপ কিস যে করতে চাইসিলা তাও করতে জানো নাই।

মিন্নিঃ আপনি পড়াবেন?

সিয়ামঃ পড়াব তো। তার আগে একটা কাজ করে নি।

মিন্নিঃ কি কাজ?

সিয়ামঃ আমার পেছন থেকে চুড়ি বের করলাম।

মিন্নিঃ নীল কাচের চুড়ি?

আপনি কেমনে জানলেন এটা আমার ফেভারিট?

নেবেলঃ তুমি একবার জান্নাতকে বলছিলে। তখন শুনেছিলাম।

মিন্নিঃ এত আগের কথা আপনার মনে আছে?

সিয়ামঃ হুম। বলতে বলতে ওর হাতে চুড়িগুলো পড়িয়ে ওর হাতে কিস দিলাম আর ও চোখ বন্ধ করল। ” চলো পড়া শুরু করা যাক।”

মিন্নিঃ আচ্ছা।

এরপর সিয়াম কম সময়েই মিন্নিকে মোটামোটি সব টপিক দেখিয়ে দিল। কারণ সারাদিন বাইরে থাকায় দুজনেই বেশ টায়ার্ড। পড়া শেষে দুজনে উঠে পড়ল। জান্নাতর রুমের কাছাকাছি এসে সিয়াম মিন্নির হাত ধরল।

সিয়ামঃ কি ম্যাডাম, গুড নাইট কিস নিবেন না?

মিন্নিঃ লজ্জায় নিচের দিকে তাকালাম।

সিয়ামঃ ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওর কপালে কিস করলাম। ওর কানে ফিসফিস করে বললাম ” love u jan…have a sweet dream with me”

মিন্নিঃ উনির কথা শুনে আমি মুচকি হেসে জান্নাত আপুর রুমের দিকে পা বাড়ালাম। গিয়ে দেখি আপুর রুম ভেতর থেকে বন্ধ। কয়েকবার নক করেও দরজা খুলছে না।

সিয়ামঃ কিরে কি হলো?

মিন্নিঃ আপু দরজা খুলছে না।

সিয়ামঃ দাঁড়াও কল দিয়ে দেখি। কয়েকবার কল দিলাম। ধরল না। পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো।

মিন্নিঃ আচ্ছা আমি তাইলে গেস্ট হাউজে গিয়ে ঘুমাই।

সিয়ামঃ পাগল নাকি। আমি তোমাকে ওভাবে একা ঘরে থাকতে দিতে পারব না। চলো আমার সাথে বলেই ওর হাত ধরে হাঁটতে লাগলাম।

মিন্নিঃ আপনার রুমে থাকতাম?

সিয়ামঃ হ্যাঁ। সমস্যা?

মিন্নিঃ ন..ন..না…

সিয়াম মিন্নিকে নিয়ে ওর রুমে গেল। এরপর দরজা লাগিয়ে দিল।

সিয়ামঃ ভয় পেয়ো না। কেউ যাতে না দেখে এইজন্য দরজা লাগালাম। তুমি বিছানায় শুয়ে পড়। আমি সোফায় শুচ্ছি।

মিন্নিঃ কথাগুলো বলতে বলতেই উনি সোফায় শুয়ে পড়লেন। ব্যাপারটা অনেক ভালো লাগল। আমি শোয়ার পরও বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকলাম। একে তো বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সর্দি। তার উপর বিছানায় কোনো কোল বালিশ নেই। এত রাতে কোলবালিশ কই পাব। আর না পেরে ” ভাইয়া…”

সিয়ামঃ চুপ।

মিন্নিঃ ভাইয়া ঘুমিয়ে পড়েছেন? … কোনো শব্দ নেই। উনির সামনে গিয়ে উনিকে ডাকতে লাগলাম।

সিয়ামঃ চোখ লেগে এসেছিল। ওর ডাকে ঘুম ভাঙল। “কিরে পিচ্চি, এখনও ঘুমাওনি? “

মিন্নিঃ আপনার এখানে কোলবালিশ নেই?

আমার কোলবালিশ ছাড়া ঘুম আসে না।

সিয়ামঃ ওর হাত ধরে টান দিয়ে আমার উপর ফেলে দিলাম। “আমাকে জড়িয়ে ঘুমাও। ঘুম আসবে। “

মিন্নিঃ সোফাতে?

সিয়ামঃ বিছানায় তো অনেক জায়গা। তুমি দূরে সরতে পারবে। সোফায় তো তা পারবে না।

মিন্নিঃ (পাগল নি কোনো)

সিয়ামঃ ওর মাথাকে শক্ত করে আমার বুকে জড়ালাম। বলতে লাগলাম “বিয়ের পরও কিন্তু আমরা সফা তে ঘুমাব। তারপর…” তাকিয়ে দেখি পিচ্চি আমার উপর হাত পা তুলে ঘুম। এত তারাতারি ঘুমিয়ে পরল? তারপর আমিও ঘুম….

সকালে

মিন্নিঃ ঘুম ভাংতেই নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলাম।

পর্ব ৯

মিন্নিঃ রাতে তো সোফায় ছিলাম। এখানে এলাম কিভাবে?

সময় দেখার জন্য মোবাইল নিয়ে দেখলাম ১০টা বেজে গেছে। খালু তো আজকে আমাকে খুনই করবে। ভাবতে ভাবতেই খেয়াল করলাম মোবাইলে ম্যাসেজ। ঢুকে দেখি সিয়াম ভাইয়ার নম্বর থেকে।

“আলো হতেই আমি গেস্ট হাউজে চলে গেলাম। যাতে সবাইকে বলতে পারি যে জান্নাত দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছিল তাই তোমাকে আমার রুমে রেখেছি আর আমি গেস্ট হাউজে থেকেছি। সোফায় একা থাকলে তুমি নিচে পড়ে যেতে। সারা রাত তো আমি আঁকড়ে রেখেছিলাম। তাই পড়োনি। আমি যাওয়ার পর কে ধরে রাখবে। তাই তোমাকে কোলে করে বিছানাতেই রেখে গেলাম। আর তোমার বমি, নাকের পানি এসব আমাকে গিলানোর দায়িত্ব নিয়েছ নাকি? সর্দি নিয়ে সারারাত আমার বুকে লেপ্টালেপ্টি করে নাকের পানি দিয়ে আমার টি শার্ট ভিজানো। জ্বরও এসেছে তোমার। তাই আজকে ডেকে তুলিনি। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে টেলিফোনে সারভেন্টদেরকে কল দিলেই হবে। ওরা নাস্তা দিয়ে যাবে। বাবা দেখলে আবার ঝামেলা করবে। তাই। আর সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট কথা…আই লাভ ইউ “

ম্যাসেজটা পড়ে আনমনে মুখে হাসি ফুটে উঠল। এরপর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেয়ে নিচে গেলাম।

জান্নাতঃ আসছেন ম্যাডাম? ঘুম হয়েছে ঠিকমতো?

মিন্নিঃ জি গো আপু। তুমি দরজা বন্ধ করে ঘুমালে যা হবে আর কি।

জান্নাতঃ হা হা হা…সব তো লাব বার্ডদের সুযোগ করিয়ে দেওয়ার ধান্ধা।

মিন্নিঃ মানে?

জান্নাতঃ কী মনে করো তুমি? আমি কিছু বুঝি না?

মিন্নিঃ

জান্নাতঃ আমি অনেক আগে থেকেই জানতান সিয়াম ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে। তোমারটা সিওর ছিলাম না। বাট কালকে ভুলবশত তোমাদের গুড নাইট কিস এর সিনটা দেখে ফেললাম। তাই ভাবলাম তোমাদের প্রেম করার আরেকটু সুযোগ করে দিই।

মিন্নিঃ ।..

সিয়ামঃ কি গল্প করছ দুজন মিলে?

মিন্নিঃ আসছে বজ্জাতটা। যার জন্য আপুর সামনে এত লজ্জা পেতে হলো। (মনে মনে)

জান্নাতঃ মানে আর কি। তোমাদের প্রেম কাহিনি নিয়ে কথা হচ্ছে। এটাই তো বর্তমানে আমাদের ফ্যামিলিতে ট্রেন্ডিং নিউজ।

সিয়ামঃ প্রেম কাহিনি….ফ্যামিলিতে…

জান্নাতঃ ফ্যামিলিতে আপাতত আমিই বুঝতে পেরেছি। আর তোমরা যেভাবে রোম্যান্স করে বেড়াচ্ছ শিঘ্রই সম্পূর্ণ ফ্যামিলি জানবে।

সিয়ামঃ জানলে জানুক। বিয়ে তো এমনেই করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি জানবে তত তাড়াতাড়ি বিয়ে হবে।

জান্নাতঃ ওবাবা বিয়েতেও চলে গেলা।

সিয়ামঃ তো কি। বিয়ের বয়স হয়েছে তো।

মিন্নিঃ উনির দিকে রাগি চোখে তাকালাম।

সিয়ামঃ না মানে আরো কয়েক বছর পর আর কি। যখন আমার পিচ্চি বউটার পড়াশোনা কমপ্লিট হবে।

জান্নাতঃ পড়াশোনা তো বিয়ের পরও কমপ্লিট করা যায়। আমার তো ইচ্ছা করছে এখনই এটাকে আমার ভাইয়ার বউ করে আনতে। বলেই মিন্নির গাল টেনে দিলাম।

মিন্নিঃ (আমাকেই পাইলা বালি কা বাকরা বানাতে)

জান্নাতঃ আচ্ছা চলো উঠা যাক।

রাতে পড়া শেষ করে এসে মিন্নি আর সিয়াম দেখল ঠিক আগের দিনের ঘটনা। জান্নাত ইচ্ছে করে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।

সিয়ামঃ চলো তোমার ভবিষ্যৎ রুমে।

মিন্নিঃ চলেন।

রুমে গিয়ে আগের দিনের মতোই সিয়াম মিন্নিকে নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ল। মিন্নি সিয়ামকে জড়িয়ে ধরে ঘুম। আর সিয়াম মিন্নির কপালে একটা কিস দিয়ে ঘুমিয়ে গেল।

সকালে

মিন্নিঃ সকালে উনির টান দেওয়াতে ঘুম ভাঙল। প্রতিদিনকার মতো টানতে টানতে আমাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলেন। আজকে এত যে ঘুম পাচ্ছে। চোখ মেলে তাকাতে পারছি না। উনি ব্রাশ করিয়ে দিচ্ছেন আর আমার বারবার চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সিয়ামঃ এত চেষ্টা করেও ওর আলসি ভাঙাতে পরছি না। মাথা এমন খারাপ হলো ওকে ধরে নিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিলাম। তারপর ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওর ঠোঁটে আমার ঠোঁট মিশিয়ে দিলাম আর কিস করতেই থাকলাম। ওর ভেজা অস্তিত্ব যে আমাকে সব ভুলিয়ে দেয়…সেদিনের মতো ওর পিঠে হাত বুলিয়ে যাচ্ছি। ওর মাঝে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম যে কখন ওর কামিজের ভেতর আমার হাত চলে গেল আমার খেয়ালই হলো না। ও সাথে সাথে এক ধাক্কায় আমাকে দূরে সরিয়ে দিল আর কান্না করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

পর্ব ১০

সিয়ামঃ এটা আমি কি করলাম! এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। আমি তো ওকে ভালোবাসি। তাহলে এমন কেন করলাম। কেন যে ওর সামনে নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। নাহ। আর না। আমি ওর সামনে আর যাবই না। কালকেই ক্যাম্পে ফিরে যাব।

মোহনাঃ কি বলছিস এইসব তুই? কালকেই ফিরে যাবি মানে? তোর তো অনেকদিনের ছুটি ছিল। তাই না?

সিয়ামঃ হ্যাঁ মা। কালকেই হ্যাডকোয়ার্টার্।

স থেকে খবর এসেছে। বর্ডারের দিকে নাকি সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েছে।

মোহনাঃ তোর এই প্রফেশনটার থেকে মনটাই উঠে যাচ্ছে আমার। তোর ছুটি আছে দেখে তোর আয়েশা খালাকেও বলেছিলাম মিন্নির আপু সূচনার এনগেইজমেন্ট টা এই মাস পর্যন্ত পেছাতে। ৫দিন পরেই এনগেইজমেন্ট। আর তোর এই কথা। ভালো স্টুডেন্ট ছিলি। বুয়েটে সহজেই চান্স পেয়ে যেতি। তোরও একটা স্বাভাবিক জীবন হতো। আমরাও নিশ্চিন্তে থাকতে পারতাম।

সিয়ামঃ উফ মা! তুমিও এবার বাবার মতো কথা বলা শুরু করে দিয়েছ দেখছি। সত্যি আনেক্সপেক্টেড ছিল এটা তোমার কাছ থেকে। আমি যখন আর্মিতে জয়েন করার ডিসিশন নিয়েছিলাম একমাত্র তুমিই আমাকে সাপোর্ট করেছিলে। আর আজ তুমিই এমন বলছ!

মোহনাঃ কোনোরকম চোখের পানির ফোঁটাটা মুছে সেখান থেকে চলে এলাম।

রাতে,

ছাদে সবাই বার-বি-কিউ করছে। প্রত্যেকবার সিয়াম যাওয়ার আগের রাতেই যা হয়।

জান্নাতঃ ভাইয়া এই নাও তোমার গিটার। প্রত্যেকবারের মতো আজকেও তুমি আমাদের গান শুনাচ্ছ। তবে আজকে মিন্নি যেহেতু নতুন..তোমাকে ওর প্রিয় গায়ক আই মিন মিনার রহমান এর গান গাইতে হবে।

সিয়ামঃ আমার গান গাওয়ার একদম মুড নেই।

জান্নাতঃ প্লিজ ভাইয়া…এমন করো কেন!

পলাশ সাহেবঃ ও গাইতে না চাইলে জোর করছিস কেন?

মোহনাঃ আহা তুমি চুপ করো তো। এই সিয়াম, সবাই রিকুয়েস্ট করছে আর তুই না করছিস কেন। আমি তো তোকে এই শিক্ষা দিইনি…

সিয়ামঃ খেয়াল করলাম মিন্নি একমনে সুইমিং পুলের পানির দিকে একমনে তাকিয়ে আছে। ওর দিকে তাকিয়েই ওর প্রিয় গায়কের একটা গানের সুর গিটারে তুললাম। সাথে সাথেই ও আমার দিকে তাকাল। আর আমি গাইতে শুরু করলাম…

“তুমি কি আমার হাসি মুখের আবার কারণ হবে…

তুমি কি আমার শত ভুলের আবার বারণ হবে…

দেবো না জল আসতে চোখে কোনোদিনও আর আরেকটিবার দাও যদি জল মোছার অধিকার…

আমি তোমার নতুন ভোরের সূর্য হতে চাই…

আমি আবার আশার আলোর প্রদীপ হতে চাই…

দেবো না জল আসতে চোখে কোনোদিনও আর আরেকটিবার দাও যদি জল মোছার অধিকার।”

সবাই জোরে হাত তালি বাজাতে থাকল। মিন্নি কাজের নাম করে নিচে চলে যায়। আজ ওকে চোখের জল আটকাতেই হবে। নিচে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পলাশ সাহেব আসলেন।

পলাশ সাহেবঃ তোমাদের আচার-আচরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে তোমাদের মাঝে কিছু একটা চলছে।

মিন্নিঃ মানে? কী বলতে চাইছেন আপনি?

পলাশঃ দেখো সুন্দর করেই বলছি। শোন।

সিয়াম আমার একমাত্র ছেলে। দেখতে সুদর্শন। বুদ্ধিমান। আমার এই অগাধ সম্পত্তির মালিক ও। ওর জন্য ডেইলি একটা করে বিয়ের প্রপোজাল আসে। অনেক ভালো ফ্যামিলি থেকে বলা যায়। কিন্তু ওর সুতো তোমার মধ্যেই আটকে আছে। আমার এত বড় বিজনেস। সব হাই লেভেলের মানুষের উঠা-বসা। সো তোমাকে যদি আমি আমার ছেলের বউ করে আনি আমি কাউকেই মুখ দেখাতে পারব না। কারণ তোমার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডই নাই। তোমার আপন বাবা তোমাদের জন্ম দিয়ে কোথায় চলে গেছে কেউ জানে না। এরপর তোমার মা সংসার করেছে তোমার চাচা শওকতুজ্জামানের সাথে যাকে তুমি নিজের বাবা বলে বেড়াও। এগুলো আমি মানুষের কাছ থেকে কিভাবে লুকাবো।

মিন্নিঃ (কান্না আর আটকাতে পারছিলাম না) খালু প্লিজ থামেন। এসব মনে করিয়ে দিতে হবে না আপনাকে। সিয়াম ভাইয়া থেকে আমি নিজেই দূরে থাকব।

পলাশঃ প্রমিস?

মিন্নিঃ হুম। প্রমিস। কথাগুলো বলেই আবার ছাদে চলে গেলাম।

পর্ব ১১

মিন্নিঃ ছাদে গিয়ে খালামনি আর জান্নাত আপুর সাথে গল্প করতে লাগলাম। আমাকে দেখে কে বুঝবে যে আমার ভেতরটা জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে …জান্নাত আপুর সাথে সেলফি তুলছি। হাসছি, কথা বলছি..

সিয়ামঃ ও খুবই নরমাল বিহেভ করছে। ব্যাপারটা কেমন ঘাপলা ঘাপলা। আমার চলে যাওয়াতে বুঝি ওর একটুও কষ্ট হবে না? ও কেমনে পারবে আমাকে ছাড়া থাকতে।

মিন্নিঃ উফ খালামনি! তোমার হাতের রাশিয়ান সালাদটা না যা! তোমার তো হাতে চুমু দিতে ইচ্ছে করছে। এটা খাইয়ে বুঝি খালুকে পটিয়েছিলে।

মোহনাঃ তোর খালুকে পটানোর জন্য আমার নূরানী চেহরাটাই যথেষ্ট ছিল।

জান্নাতঃ আব্বুকে পটানোর কী আছে..আব্বু যা বোরিং। আম্মু রাজি কেমনে হয়েছিল আল্লাহ মালুম।

মোহনাঃ নিজের বাবাকে নিয়ে কেউ এমন বলে?

মিন্নিঃ কি ভালোবাসা গো… নিজে বলতে পারে। আবার অন্য কেউ বললে সইতেও পারে না।

সবাই মিলে গল্প করেই যাচ্ছে। আর সিয়াম যে একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছে সেদিকে কারো খেয়াল নেই। এক বসাতে ৭টা সিগারেট। সিয়াম কখনো সিগারেট খায়নি। কিন্তু আজ..ওর নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছে। ওর মোটেও এটা করা ঠিক হয়নি।

খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই নিচে চলে গেল। মিন্নি সব পরিষ্কা করছে। মোহনা থেকে জোর করেই কাজটা করার অনুমতি নিয়েছে। পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখল ছাদের এক কোনায় অনেকগুলো সিগারেট। যেখানে সিয়াম বসেছিল। “আমি খেয়েছি সিগারেটগুলো”…মিন্নি পেছনে তাকিয়ে দেখল সিয়াম দাঁড়িয়ে।

মিন্নিঃ ওহ।

সিয়ামঃ জানতেও চাইবে না কেন খেয়েছি।

মিন্নিঃ কাজ করতে করতে “নাহ”…

সিয়ামঃ মিন্নি কেন এমন করছ আমার সাথে? আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না? প্রমিস বিয়ের আগে কখনো পারমিশন ছাড়া টাচ ও করব না তোমাকে। তুমি জাস্ট একবার নরমাল হও। প্লিজ…

মিন্নিঃ আজব ব্যাপার। নরমালই তো আছি…আর কেমনটা এক্সপেক্ট করেন? আমি আপনার খালাতো বোন।

আপনি আমার খালাতো ভাই। আপনার সাথে যতটুকু কথা হওয়া দরকার ততটুকুই বলছি আর যেমন ব্যবহার করা দরকার তেমনটাই করছি।

সিয়ামঃ কি বলছ এসব তুমি? শুধুই খালাতো ভাই বোন? এর বেশি কিছু নেই আমাদের মধ্যে?

মিন্নিঃ এর বেশি আর কী হবে?

সিয়ামঃ আমরা একে অপরকে ভালোবাসি…

মিন্নিঃ হোয়াট! আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা আপনাকে কে বলল?

সিয়ামঃ কে বলল মানে?

মিন্নিঃ মানে আপনাকে কি আমি কখনও বলেছি যে আমি আপনাকে ভালোবাসি? একবারও?

সিয়ামঃ ………

মিন্নিঃ কী হলো। বলুন না…

সিয়ামঃ তাহলে ঐদিনের জড়িয়ে ধরা…কিস…

মিন্নিঃ জড়িয়ে ধরা… কিস কী?

সিয়ামঃ তুমি বাধা দিতে না কেন। আমাকে নিজে থেকে জড়িয়ে ধরা। কাঁধে মাথা রেখে স্বপ্ন বোনা…এসব করতে তো আমি তোমাকে জোর করিনি কখনো…

মিন্নিঃ ঐসবের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। আসলে ওটা ভুল ছিল। আমিও আবেগ সামলাতে পারিনি। বাট ওটা তো ভালোবাসা ছিল না…শুধু আবেগ। আমি তো আমার বন্ধু রাকিবকে সেই ছোটবেলা থেকে ভালোবাসি। ও ও আমাকে ভালোবাসে। আর সূচনা আপুর বিয়ে তো ওর বড় ভাইয়ের সাথেই হচ্ছে। সো আম্মু আব্বুরও প্রব্লেম হবে না। আগে এডমিশনের প্যাড়াটা যাক। তারপর আমরাও ফ্যামিলিতে জানাবো…

সিয়ামঃ প্লিজ স্টপ মিন্নি! তোমাদের স্বপ্ন ভালোবাসা আমাকে বোঝাতে হবে না। ভালো থেকো। কথাগুলো বলে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালাম না। চলে এলাম ওখান থেকে।

মিন্নিঃ আমি বললাম আর আপনি বিশ্বাসও করলেন…আমার ভালোবাসাটাও বুঝলেন না।

থাক। না বোঝাটাই ভালো। মিডল ক্লাস আর হাই ক্লাসের মাঝেই একদিন এই ভালোবাসা দেবে যাবে…

পরেরদিন সকালেই সিয়াম বেরিয়ে গেল। মিন্নির সামনেও গেল না যাওয়ার আগে। মিন্নিরাও পরের দিন চট্টগ্রামের জন্য রওনা দিল। আর তিন দিন পরই তো এনগেইজমেন্ট…

পর্ব ১২

সিয়ামঃ বাসা থেকে বেরিয়ে তো এলাম কিন্তু ক্যাম্পে যাইনি। কারন ছুটি শেষ হওয়ার আগে গেলে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। যেখানে সবাই ছুটির জন্য পাগলপ্রায়। সেখানে কারো ছুটি থাকার পরও সম্পূর্ন ছুটি কাটিয়ে না আসা…সত্যি অস্বাভাবিকই ঠেকে। তাই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড অর্ক এর বাসায় চলে আসলাম।

অর্কঃ কিরে দোস্ত তুই এখানে।

সিয়ামঃ বলছি। সব খুলে বললাম ওকে।

অর্কঃ এতকিছু! আচ্ছা বাদ দে। পরে এই ব্যাপারে কথা হবে। তুই একটু রেস্ট নে।

সিয়ামঃ আচ্ছা।

এভাবে চারদিন কেটে গেল। একাকিত্বের একমাত্র ঔষধ বন্ধু। সিয়াম তার বন্ধু অর্কের সাথে থাকতে থাকতে ওর কষ্ট লাঘব হয়ে আসছিল। এর মধ্যে চতুর্থ দিন মোহনার কল এলো সিয়ামের মোবাইলে।

মোহনাঃ সিয়াম…..

সিয়ামঃ কী হলো মা? কসঁদছ কেন?

মোহনাঃ সিয়াম তোর নানু।

সিয়ামঃ নানু… নানুর কী হয়েছে মা?

মোহনাঃ তোর নানুর অবস্থা অনেক খারাপ। ডাক্তাররা বলছে আশা ছেড়ে দিতে। তুই প্লিজ তাড়াতাড়ি চট্টগ্রাম চলে আয়।

সিয়ামঃ আচ্ছা আচ্ছা আমি সন্ধ্যার মধ্যে আসছি। তুমি টেনশন করো না। কই তোমরা এখন?

মোহনাঃ তোর আয়েশা খালাদের বাসায়।

সিয়ামঃ আচ্ছা আমি আসছি। বলেই কলটা কেটে দিলাম।

অর্কঃ কিরে কী হলো?

সিয়ামঃ দোস্ত নানু অনেক অসুস্থ আমার এখনি চট্টগ্রাম যেতে হবে।

অর্কঃ দাঁড়া। আমি গাড়ির চাবি নিয়ে আসছি। এখনই তো আর ট্রেনের টিকেট পাবি না। আমি ড্রাইভ করে যাব। চল।

সিয়াম আর অর্ক বেরিয়ে পড়ল। সারাটা রাস্তা সিয়াম অনেক টেনশনে। পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যার পর হয়ে গেল। গাড়ি থেকে নেমেই মিন্নিদের বাসায় ঢুকে পড়লাম।

সিয়ামঃ ঢুকে দেখছি এখানে তো সম্পূর্ণ অন্যরকম পরিবেশ। একদম বিয়ের আমেজ। কিছুই বুঝলাম না। হচ্ছেটা কী এখানে। দারোয়ান জানাল সবাই নাকি ছাদে। ছাদে গিয়ে দেখলাম সবাই সেজেগুজে কলকলানি। কিছুি বুঝতে পারছি না। আমার পেছনে অর্ক উঠে আসল।

অর্কঃ দোস্ত কাহিনি কী?

সিয়ামঃ সব বুঝতে পেরেছি। আম্মু মিথ্যে বলে আমাকে আনিয়েছে। হঠাত স্টেজে গান বাজতে শুরু করল। তাকিয়ে দেখলাম রাকিব আর ইতি। রাকিব আর ইতি নাচতে শুরু করল।

Ho avi gayi raat, an bhulo badhi baat…
Prem nee aa mausam che…
Ab ao mere paas, reh jao mere saath..
Prem nee aa mausam che..
Mil jaye, mujhko agar saath tera…
Toh bhoolu main saara jahaan…
Chogada tara…chabila tara…ora rangeela tara..
Rang beri chuve thaari vaat re…

সিয়ামঃ কী ছেলে। যার সাথে প্রেম করে তার বান্ধবির সাথে এত ক্লোজ হয়ে নাচছে। আমার কি। আমি শুধু আম্মুকে বের করতে পারলেই হয়। আজ উনির কপালে অনেক দুঃ খ আছে। কি অভিনয় রে বাবা। এরপর আবার গান বাজতে শুরু হলো….মিন্নি! এত্ত বেশি সুন্দর লাগছে ওকে! হালকা নীল আর অফ ওয়াইট কালারের লেহেঙ্গা, খোলা চুল। এই মেয়ে বুঝি আমাকে পাগল করে ছাড়বে। ওর সাথে রাকিব নাচছে আর একটু পর যা দেখলাম, যে মহান ব্যক্তির নাম দিয়ে আমাকে আনা হয়েছে তিনি। নানু। মাঝখানে রাকিব।

“dil chori sadda ho gaya oye ki kariye ki kariye…
O madam teri chaal, tere silky silky baal…
Ab mein isse zyadaa kyaa kahoon…”

সিয়ামঃ মিন্নির চাইতে নানু বেশি কোমর দোলাচ্ছে। আর ৬ঘন্টা আগে আমি এই মহিলার মৃতপ্রায় হওয়ার কথা এক কথায় বিশ্বাস করে পাগলের মতো ছুটে এসেছি। এরই মধ্যে আম্মুকে দেখলাম। সাথে সাথে আম্মুর কাছে গেলাম। ততক্ষণে মিন্নিদের পারফরম্যান্স শেষ আর নানু মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে। “আম্মু”

মোহনাঃ চুপ চুপ। তোর নানু কিছু বলতে যাচ্ছে। শোন।

নানুঃ ladies and gentlemen…may i have ur attention plzz…আমি আজকে একটা announcement করতেই আপনাদের মাঝে উপস্থিত। আমার মৃত স্বামীর শেষ ইচ্ছে ছিল আমার বড় মেয়ে মোহনার ছেলের সাথে ছোট মেয়ে আয়েশার মেয়ের বিয়ে হবে। যাতে দুই বোনের ভালোবাসা না কমে। আয়েশার বড় মেয়ে সূচনার তো এনগেইজমেন্ট তো হয়ে গেল। আজকে আক্দও হওয়ার কথা ছিল। সো আমি চাচ্ছি আজকে ওদের সাথে সিয়াম আর মিন্নিরও আক্দ পড়িয়ে ফেলা হোক। plzz congratulate the new couple…

সিয়ামঃ আম্মু এইসব কী? মাথা ঠিক আছে? মিন্নি জানে?

মোহনাঃ ওকে কালকেই জানানো হয়েছে এবং ও না রাজি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সিয়ামঃ কিন্তু মা আমি…

মোহনাঃ আর কোনো কথা না। শোন সিয়াম, তোর লাইফের সব ডিসিশনে আমি তোকে সাপোর্ট দিয়েছি। আজ এই একটা ডিসিশন আমাকে নিতে দে? মিন্নি অনেক ভালো মেয়ে। আমার বাবার শেষ ইচ্ছাটা পূরন করতে দে প্লিজ। মায়েরও স্বাস্থ ঠিক থাকে না।

তাই উনি বেঁচে তাকতেই উনির মৃত স্বামীর ইচ্ছেটা পূরণ হতে দেখতে চান।

সিয়ামঃ উনির স্বাস্থ কেমন যাচ্ছে সেটা তো ড্যান্স ফ্লোরে দেখেই বুঝলাম।

মোহনাঃ কী বললি?

সিয়ামঃ তোমরা যে এত খিচুড়ি পাকাচ্ছ আব্বু কিছু জানে?

মোহনাঃ বিয়ে করে ঘরে নিয়ে গেলে তখন জানবে।

সিয়ামঃ মানে আব্বুর পারমিশন ছাড়াই তোমরা আমাকে?

মোহনাঃ এই আর একটা কথা বাড়াবি তো দেখবি কী করি!

সিয়ামঃ …

মোহনাঃ যা। নীল কালারের একটা পাঞ্জাবি আনিয়ে রেখেছি। গোসল করে ওটা পড়ে নে। আক্দ পড়াতে হবে।

সিয়ামঃ রেডি হয়ে চলে আসলাম। মিন্নি হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

মিন্নিঃ বজ্জাতটাকে এত্ত মারাত্মক যে লাগছে নীল পাঞ্জাবিতে।

নেবেলঃ ওর কাছ থেকে চোখ ফিরিয়ে কাজী সাহেবের কাছে বসলাম। বিয়েটা আমাদের হয়েই গেল। কবুল নামক পবিত্র শব্দটা পড়ে। ভাবতেই অবাক লাগছে যে পিচ্চিটা এখন আমার বউ…আমার পিচ্চি বউ।

কিন্তু সে যে রাকিবকে ভালোবাসে…

মিন্নিঃ বিয়ে পড়ানো শেষ। এরপর স্টেজে ফটো সেশন চলছে। উনি আমার পাশে। সবার ঠেলাঠেলিতে আমার সাথে চেপে বসে আছেন। ফটোগ্রাফারের জোরাজুরিতে কখনো আমার হাত ধরছেন। কখনো আমার কাঁধে হাত রাখছেন। আর আমি চুপচাপ সমস্ত কিছু অনুভব করছি। আমার ভালোবাসা আজ আমার হয়ে গেছে। কিন্তু খালু মানবেন তো?

পর্ব ১৩ (শেষ পর্ব)

মোহনাঃ আরে তোমাদের ফটো তোলা হয়েছে? আমাদের আজকেই রওনা দিতে হবে। আমার ছেলে বউ-এর কোচিং যাতে মিস না যায়।

আয়েশাঃ আর কয়েকটা দিন থাকলে কী হয়? মেয়েটাকে আজকেই বিদায় দিয়ে দিব?

শওকতঃ জি আপা। আর কয়েকটা দিন থাকলে কী হয়?

মোহনাঃ কিছু যে করার নেই। একে তো মিন্নির কোচিং। তার উপর পরশু জান্নাতর পরীক্ষাও।

এরপর সবাই কাপড় চোপড় গুছিয়ে এয়ারপোর্টের জন্য বেরিয়ে পড়ল। এয়ারপোর্টে মিন্নিদের কান্না থামছিলই না। অবশেষে মিন্নিকে ওর মা বাবার কাছ থেকে কোনোরকম ছাড়িয়ে নিয়ে এয়ারপোর্টে ঢুকিয়ে নিল। প্লেনে বসেও মিন্নি কান্না করছিল। সিয়াম মিন্নির পাশে। কিন্তু প্লেন যখন টেক অফ করল মিন্নি ভয়ে সিয়ামের হাত চেপে ধরল আর ওর বুকে মুখ গুঁজল।

সিয়ামঃ ও আমার বুকে মুখ গুঁজল। আমিও ওর হাত অন্য হাতে চেপে ধরলাম। ” ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটু পর আমরা মেঘের উপর ভাসব। এই দেখ আমরা মেঘের উপর। “

মিন্নিঃ উনির বুক থেকে মাথা তুলে জানালার বাইরে চোখ রাখলাম। কী অসম্ভব সুন্দর। এভাবে সময় কেটে গেল। প্লেন ল্যান্ড করার সময় আবার উনিকে চেপে ধরলাম।

ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর সবাই ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ঘরের সামনে এসে সবাই অবাক। পুরো বাড়ি বিয়ের সাজে সাজানো। পলাশ সাহেব সবাইকে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে ছুটে আসলেন।

সবচাইতে বেশি অবাক মিন্নি। যে মানুষ মাত্র কয়েকটা দিন আগে ওকে অপমান করতে এইটুকুও ছাড় দেয়নি সেই মানুষটি আজ বৌ মা বলে বলে মিন্নিকে ঘরে ঢুকাচ্ছে। এর মাঝে জান্নাত বলা শুরু করল।

জান্নাতঃ আমি জানি সবাই খুব অবাক হচ্ছো আব্বুর এই রিঅ্যাকশনে। আসলে ক্রেডিটটা আমারই।

মোহনাঃ মানে?

জান্নাতঃ মানে এটা যে তোমার ছেলে আর তোমার বোনের মেয়ে একে অপরকে আগে থেকেই ভালোবাসত। তোমার ছেলে যদিও অনেকবার বলেছে। কিন্তু তোমার বোনের মেয়েটা আব্বুর বাঁশ খেয়ে চুপ করে উল্টা বানানো কাহিনি শুনিয়ে দিয়েছে ভাইয়াকে।

সিয়ামঃ বানানো কাহিনি?

জান্নাতঃ জি। তুমি চলে যাওয়ার আগের দিন আব্বু মিন্নিকে অনেক অপমান করে আর তোমার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলে। কথাগুলো আমি শুনে ফেলি। আর এরপর মিন্নিও তোমাকে রাকিবের মিথ্যে কাহিনি বুঝিয়ে দেয়। তুমি চলে যাওয়ার পর আব্বুকে আমিই বুঝালাম যে মানুষ কী বলবে তা না দেখে নিজের ছেলের সুখের কথা ভাবতে। কারণ একসময় আব্বু নিজেও তো আম্মুকে বউ করে এই ঘরে এনেছিল। তাই তোমাদেরকে এক করার জন্য আমি আর আব্বু নানুর সাথে মিলে এই প্ল্যান করলাম। বিয়েতে আব্বুরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু লাস্ট মোমেন্টে কাজে আটকে পড়ে আব্বু যেতে পরেননি।

মোহনাঃ এত কিছু হয়ে গেল আর আমিই জানলাম না।

জান্নাতঃ তুমি তো আগে থেকেই অমন টিউবলাইট। বুঝবা কী করে।

পলাশ সাহেবঃ কী বললি?

জান্নাতঃ স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা জেগে উঠেছে। বাসায় আমিই একমাত্র সিঙ্গেল মানুষ আছি বাসায়। বাঁচানোর কেউ নেই। সো কেটে পড়ি। বলেই দৌঁড়…

সবাই একসাথে হেসে উঠল। রাতে সবাই খেয়েদেয়ে ঘুমানোর জন্য যে যার রুমে চলে গেল। মিন্নিও জান্নাতর পেছন পেছন ওর রুমের দিকে পা বাড়াল।

জান্নাতঃ এক্সকিউজ মি ম্যাডাম। আপনি হয়তোবা ভুলে গেছেন। আজকে থেকে আপনি এখানে না সিয়াম ভাইয়ার রুমে থাকবেন।

মিন্নিঃ কী বলো আপু।

জান্নাতঃ কিছু না বলে ওকে ঠেলে সিয়াম ভাইয়ার রুমের বিছানায় বসিয়ে দিয়ে চলে আসলাম।

সিয়ামঃ বিয়ের পর কেউ ননদের রুমে থাকতে শুনেছো?

মিন্নিঃ সরি। আসলে বুঝতে পারছিলাম না। এখনও তো রিসেপশন হয়নি…তাই…

সিয়ামঃ আচ্ছে হয়েছে। সোফায় শুতে শুতে “ওখানেই বসে থাকবে নাকি সোফায় আসবে শুতে? “

মিন্নিঃ সোফায়?

সিয়ামঃ জি। কেন? কোনো সমস্যা?

মিন্নিঃ আর কথা না বাড়িয়ে গিয়ে উনির বুকে মাথা রাখলাম।

সিয়ামঃ তুমি ঐটা বলোনি এখনো আমাকে…

মিন্নিঃ কোনটা?

সিয়ামঃ যেটা তোমার মনের মধ্যে আছে কিন্তু স্বীকার করো না তুমি।

মিন্নিঃ ভালোবাসি তো। বলা লাগে?

সিয়ামঃ বললে ভালো লাগে। বলেই ওর কপালে চুমু দিলাম।

মিন্নিঃ আবার উনির বুকে মাথা রাখলাম আর উনির গায়ের উপর হাত পা তুলে দিলাম।

সিয়ামঃ তো পিচ্চি বউ আমার তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো। সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে আবার। ডিসিপ্লিন যাতে ব্রেক না হয়।

মিন্নিঃ আচ্ছা

সমাপ্ত

আরো পড়ুন – সমবয়সী বউ

Related posts

নতুন বিয়ের গল্প – স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – পর্ব ৫

valobasargolpo

বউয়ের ভালোবাসা – স্বামীর বিয়ে – পর্ব ৩ | Bouer Valobasha

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!