স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

ধোকা – ভালোবাসার গোপন সম্পর্ক

ধোকা – ভালোবাসার গোপন সম্পর্ক: মাইশাকে ভেজা চূলে দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই সুয়ে আর না থেকে পিছনে থেকে জরীয়ে ধরলাম। আর তার চূলের থেকে কি সুন্দর মাতাল করা সুগন্ধ আসতেছে তাই আমি তার চূলের ভিতরে আমার নাক ডুবিয়ে দিলাম।


পর্ব ১

আজকে আমি এমন একটা জিনিস চোখে দেখবো এটা কখনো ভাবতেই পাড়ি নি। এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমার স্ত্রী অন‍্য কারো সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবে। কিভাবে সম্ভব আমার বিশ্বাসে হচ্ছে না। যদি কেউ বলতো যে ঈমান তোর স্ত্রী পরোকিয়ায় লিপ্ত হয়েছে আমি কখনো বিশ্বাস করতাম না, যদি আজকে নিজের চোখে না দেখতাম। আমি তাকে কি দেই নি? যখন যা চেয়েছে তখন তা দিয়েছি।

তাও কেনো এমন খারাপ কাজে লিপ্ত হবে। আমি কি তাকে কখনো ভালোবাসায় কমতি দেখিয়েছি, সব সময় মন প্রান উজার করে ভালো বেসেশি। আমার ভালো বাসার প্রতিদান কি এটায় ছিলো। এটা আমার ভাবতে লজ্জা লাগতেছে, এই কি আমার স্ত্রী? কেউ কখনো চাইবে না যে তার স্ত্রী পরোকিয়ায় লিপ্ত হোক। আচ্ছা স্ত্রীকে মন প্রান দিয়ে ভালো বাসলে, কি এই ভাবে ধোকা খেতে হয়?

চোখের সামনে মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়া আমার সামনে ঘুরতেছে। স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে আমি যে এতো বড় সারপ্রাইজ পাবো কখনো ভাবতেই পাড়ি নি? এখন আমি কাকে বিশ্বাস করবো। কাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবো যে আমাকে রেখে অন‍্য কারো সাথে শারীরিক চাহিদা মেটাতে ব‍্যস্ত। আমি আর ঘড়ের মধ‍্যে থাকতে পারলাম না এদের কাজ দেখে। তাই আমি রূম থেকে বাহির হয়ে নিচে নামতেছি। আজকে নিজেকে খুবে একা লাগতেছে।

কি ঈমান ভাই আপনি না কিছুক্ষন আগে উপরে গেলেন এখন আবার নিচে নামতেছে। ভাবী কি রূমের ভিতরে ঢুকতে দেয় না কি? দেড়ি করে আফিস থেকে আসছেন, না ঝগড়া করছেন কোনটা ভাই।

আরে না ভাই ঝগড়া কেনো হবে। একটু কাজের কথা মনে পড়লো তো তাই নিচে নামতেছি।
সত‍্যি তো বলতেছো। আমার মনে হচ্ছে আপনি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছেন মনে হয়।
আপনার কাছে কি লুকাবো বলেন। (আপনাকে কি আর বলবো যে আমি উপরে গিয়ে দেখলাম আমার স্ত্রী পরোকিয়া করতেছে)
কি হলো ভাই, কি ভাবতেছে?

কিছু না, আচ্ছা আমি গেলাম আমার দেড়ি হচ্ছে।
ওকে যান। রাত হয়েছে দেখে শুনে চলা ফেড়া করবেন। এখন কার মানুষ ভালো না।
ওকে ভাই। ও এবার আমার পরিচয়টা দেই। আমি ঈমান হক। আমি একটা ছোট খাটো চাকরি করি। আর আমার স্ত্রীর নাম হচ্ছে নূরে জান্নাতুন।

কেনো যেনো বুকের বাম পা টা চিন চিন করতেছে। কেনো করতে বুঝতে পারতেছি না। এটা কি স্ত্রীকে হারানো জন‍্য বুকে বাম পাশে চিন চিন করতেছে নাকি, স্ত্রীর ওন‍্য জনের সাথে পরোকিয়া করা দেখে চিন চিন করতেছে আমি বুঝতে পারতেছি না। কিন্তু এটা মনে হচ্ছে যে কিছু একটা কারনে চিন চিন ব‍্যথা করতেছে। এগুলো ভাবতে ভাবতে বাসা থেকে রাস্তায় এসে

দাড়ালাম। বন্ধুদের থেকে শুনেছি যে, সিগারেট খেলে নাকি কষ্ট একটু কম হয়। সিগারেটের ধোয়ার সাথে নাকি ভিতরে কষ্ট গুলো ধোয়ার মতো আকাশে উড়িয়ে যায়। পারবে কি আমার এই কষ্ট মুচে দিতে সিগারেটের ধোয়া?

রাতে আকাশটা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। কতো গুলো তারার মাঝে একটা কতো সুন্দর বড় চাঁদ যা পুরো আকাশটাকে আলোকিত করতেছে আবার এই চাঁদের কারনে আকাটা অনেক সুন্দর লাগতেছে। এই চাঁদের মতো যদি আমার জীবনটা হতো যে জীবনে কাউকে প্রয়োজন নেই, কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেছে দুইজন দুইজনার সাথে সাড়া জীবন কাটাতে হবে। মৃত‍্যুর আগ পযর্ন্ত।

রাস্তা দিয়ে কতো না মানুষ হাটা হাটি করতেছে। কেউ তার স্ত্রীকে নিয়ে কেউ বা সারা দিন কাজ করে বাসায় যারা তাকদ‍্যা। এদের হাটা দেখে আর আমি দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না তাই আমিও হাটা শুরু করলাম। এক কাপ চা আর একটা সিগারেট খেলে ভালো হতো। হাটতে হাটতে সামনে দেখি একটা চায়ের দোকান। এটা দেখে একটু মনের ভীতরে আনন্দ পেলাম। তাই দেড়ি না করে তাড়াতাড়ি চায়ের দোকানে গেলাম।
মামা এক কাপ চা আর একটা সিগারেট দেন তো।
ওকে মামা দিচ্ছি!

আচ্ছা একটু তাড়াতাড়ি দেন মামা। আমি এক কথা বলে দোকানটা একটু ভালো করে দেখলাম যে বেশি বড় না দোকানটা। কিন্তু এখানে আমার মতো অনেকে এসেছে চা খেতে।
মামা আপনার চা আর সিগারেট নেন।
ওকে দেন মামা। তারপর আমাকে চা আর সিগারেট দিলো। মামা লাইটারটা দেন।
এই নে মামা লাইটার।

আমি লাইটা দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে নিয়ে পাশে একটা চিয়ার এর গিয়ে বসলাম। চা আর সিগারেট এক সাথে খেয়ে অনেক ভালো লাগতেছে। বন্ধুরা আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারে যদি কখনো কষ্টো পেয়ে থাকে। আবার মেয়েদের বলি নি, কখনো আপনারা চেষ্টা করিয়েন না।

চা খেতে হঠাৎ মনে পড়ে গেলো সেই দিনের কথা যেদিন মার সাথে মেয়ে দেখতে গিয়ে নূরে জান্নাতুন কে দেখেছিলাম। তাকে প্রথম দেখায় অনেক ভালো লেগেছিলো যা বলে আপনাদের বুঝাতে পারবো না। জান্নাতুন এর সাথে আমার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছিলো। আমার বিয়েতে অনেক মজা করেছিলাম প্রথম দেখায় ভালো লেগে যাওয়ার মেয়ের সাথে বিয়ে বলে কথা। আমি কখনো ভাবতেই পাড়ি নাই যে কখনো এতো সুন্দর একটা মেয়ে আমার বউ হবে। এটা বলা আমার ঠিক না সব মানুষের জন্ম, মৃত্যু, আর বিয়ে আল্লাহ্ হুকুমে হয়ে থাকে। তাই আমার সাথে মনে হয় ওর সাথে বিয়ের হুকুম ছিলো ।

তো বিয়ে হওয়ার তিন মাস ভালো চলতেছে আমাদের সংসার। যেখানে কোন দুঃখ নাই অনেক হ‍্যপি ছিলাম। প্রতিদিন অফিস থেকে আসলে ওর আমার সামনে এসে তার শাড়ির আচল দিয়ে কপালের ঘাম মুচে দিতো আর একটা কপালে চুমু দিতো আমার যে কতো ভালো লাগতো। আমরা দুইজন দুইনকে অনেক ভালো বাসি।
আমাদের বাড়ি থেকে অফিস অনেক দূর হয় দেখে আমি আর আমার স্ত্রী আলা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি।

কিন্তু আজকে আমি যে সামনাসামনি এমন কিছু দেখবো সেটা আশা করি নি। আজকে নূরে জান্নাতুন এর জন্মদিন ছিলো তাই আমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি নিয়ে তাকে সারপ্রাইজ দিবো দেখে বাড়িতে আসলাম এস্টারা চাবি দিয়ে রূমে ঢুকে দেখি আমার স্ত্রী বিছানায় অন‍্য কারো সাথে শারীরিক চাহিদা মেটাতে ব‍্যস্ত। সারপ‍্রাইজ দিতে গিয়ে আমি অনেক বড় সারপ‍্রাইজ পাইলাম।

এগুলো দেখে মরে যেতে ইচ্ছা করতেছিলো। কিন্তূ পড়ে ভাবলাম আমি কেনো তার জন‍্য মরবো যে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
মামা উঠেন দশটা বেজে গেছে আমি এখন দোকান বন্ধ করবো।
চূপ করে আছি। কি বলতেছে আমার হুম নাই?
কি হলো মামা উঠেন?

ও হে মামা বলেন। আমার শরীলে হাত দেওয়ার কারনে আমার ধেন ভাগলো।
মামা আপনি কাঁদতেছেন কেনো আপনার চোখে পানি।
মনে হয় চোখে কিছু পড়েছে, তাই চোখ দিয়ে পানি বাহির হয়েছে। ( ওর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখের পানি বাহির হয়েছে বুঝতে পাড়ি নাই? )

মামা বাড়িতে যাবেন না?
আজকে আর বাড়িতে যাইতে মন করতেছে না।
কি বলেন এখন তো আমি দোকান বন্ধ করবো। তারপর কই যাবেন?

আজকে সারা রাত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো আর রাতের সুন্দয‍‍্য উপভোগ করবো।
কি আজব ভাই আপনি? আজব আজব কথা বলতেছেন।
মামা আপনাকে বুঝতে হবে না। এবার বলেন আপনি কয়টা পাবেন।

দশটা দিলেয় হবে।
ওকে এই নাও দশ টাকা।


পর্ব ২

কি আজব ভাই আপনি? আজব আজব কথা বলতেছেন।
মামা আপনাকে বুঝতে হবে না। এবার বলেন আপনি কয় টাকা পাবেন।
দশ টাকা দিলেয় হবে।

ওকে এই নাও দশ টাকা। দোকানদারকে টাকা দিয়ে আমি রাস্তা দিয়ে হাটতেছি অনেক ভালো লাগা কাজ করতেছে। রাস্তা দিয়ে হাটতেছি আর চারপাশে দেখতেছি সব কিছু কেমন জেনো চুপ চাপ কোন শব্দ হচ্ছে না। মাঝে মাঝে রাস্তা দিয়ে দুই একটা গাড়ি শা শা করে জোড়ে

যাচ্ছে। হাটতে হাটতে দেখতেছি অনেক দুরে চলে এসেছি আর হাটার ইচ্ছা কেনো যেনো মন করতেছে না তাই ভাবতেছি একটু বসার জায়গা পেলে ভালো হতো। হঠ‍াৎ দেখতে পেলাম সামনে একটা লেমপোস্টে তার নিচে মনে হচ্ছে একটু বসার জায়গা দেখতে পেলাম। তাই আর দেড়ি না করে তাড়াতারি ওখানে গিয়ে বসলাম।

একটু বস্তে পেয়ে মনে অনেক শান্তী পেলাম। পকেট থেকে ফোনটা বাহির করে দেখি প্রায় এগারোটা বাচতে চলেছে। বাড়ি যাইতে একটুও মন করতেছে না কেনো যেনো। গরম কাল তো একটু হাটতেই ঘেমে গেছি তাই সার্ট এর উপরে দুইটা বোতাম খুলে দিলাম।

মাঝে মাঝে হাল্কা বাতাসে মনকে শিতল করে দিয়ে যাচ্ছে। গরমের সময় একটু চাঁদকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। চারিদিকে জোসনা তাই অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারতেছি। এই সুন্দয‍‍্য উপভোগ করতেছি বসে বসে। অনেক ভালো লাগতেছে। রাতে প্রকৃতি এতো সুন্দর লাগে আগে জানতাম না।

প‍্যান্টের পকেটে ফোনটা বাজতেছে ফোনটা ধরার কোন ইচ্ছাই করতেছে না। তাই বাহির করলাম না। কিন্তু আবার ফোনটা বাজতেছে তাই বিরক্ত হয়ে ফোনটা পকেট থেকে বাহির করে দেখি যে আমার স্ত্রী ফোন দিয়েছি। আমি ফোন না ধরায় বারবার ফোন দিতেছি। তাই বিরক্ত হয়ে ফোনটা রিচির করলাম।
তুমি কই এখনো বাসায় আসতেছো না কেনো? এতো দেরি করে তো তুমি বাড়িতে আসো না আজকে এতোদেড়ি হচ্ছে কেনো। আমার না খুবেই চিন্তা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি এসো আমার খুবেই ভয় করতেছে।

আমি চুপ করে আছি ফোনটা রিচিপ করে কারন তার সাথে কথা বলতেই রূচি উঠতেছে না। কথা বলতেই ঘৃণা হচ্ছে।
কি হলো চূপ করে আছো কেনো? কথা বলো প্লিজ একা থাকতে খুব ভয় করতেছে। তুমি তো জানো আমি রাতে একা থাকতে পাড়ি না।

ভাই মেয়েরা ভালো পাড়ে অভিনয় করতে। তাড়া তাদের চোখে জল দিয়ে আপনাকে তার মায়ায় আটকে ফেলতে একটুও টাইম লাগবে না। অন‍্য পুরুষের সাথে শরীলের চাহিদা মিটিয়ে এখন বলতেছে আমি এখন কই। একা নাকি থাকতে পাড়ে না তখন তো আমাকে সরন করো নাই যখন পর পুরুষের সাথে নিজের চাহিদায় লিপ্ত ছিলে। (এগুলো ভাবতেছি ফোনটা কানে নিয়ে )
আবার ফোনের ওপাশ থেকে বলতেছে।
তুমি কি আজকে বাসায় আসবে না?

হ‍্যা যাচ্ছি আর একটু ওয়েট করো। আজকে একটু অফিসে জরুরি কাজ ছিলো তাই দেড়ি হয়েছে।
ওকে তাড়াতাড়ি আসো বাড়িতে। আমি তোমার জন‍্য ওয়েট করতেছি।

ওকে। ইচ্ছা না থাকার পড়েও বাড়িতে যাচ্ছি। ভাবতেছি বাড়িতে গিয়ে কেমন করে এক বিছানায় থাকবো যে আমাকে ধোকা দিচ্ছে। আবার কষ্ট গুলো মনের ভিতরে নাড়া দিয়ে উঠলো। আর বসে না থেকে বাড়ির দিকে হাটা ধরলাম।
জান শুনো অনেক আদর করেছো এখন তুমি যাও আমার স্বামী আসতেছে।

আর একটু আদর করি না সোনা। তোমাকে চেড়ে যাইতেই মন করতেছে না। (আবার জরিয়ে ধরে বলতেছি )
হয়েছে আর পাম দিতে হবে না। কালকে আবার আদর করিয়ে মন ভরে। সন্ধ‍্যা থেকে আদর করতেছো তাও মন ভরতেছে না। যাও এখন আমার স্বামী তোমাকে দেখলে তুমি আর আমি আর বেচে থাকতে পারবো না।

আরে তুমি এতো ভয় পাচ্ছো কেনো। যদি আমাদের সম্পর্কে তোমার স্বামী জানতে পাড়ে তখন আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার করবো।
এ আইচে আমাকে পালিয়ে নিয় গিয়ে বিয়ে করবে। বেকার তুমি আমাকে বিয়ে করে খাওয়াবে কি?
আমি যা খাবো তাই ভাবে তুমি।

হয়েছে তুমি এখন যাও আবার কালকে দেখা হবে।
আচ্ছা যাচ্ছি কিন্তু।

আবার কিন্তু কি?
না মানে একটা কিচ দিবে।

এখন কোন কিচ হবে না তুমি যাও। কখন যে আমার স্বামী এসে পড়ে।
ওকে যাচ্ছি বায় জানু।
ওকে বায়।
পাগলটাকে নিয়ে আর পাড়ি না। একটু ফ্রেস হয়ে নেই খারাপ লাগতেছে।

আমি হাটতে হাটতে বাসার সামনে চলে আসলাম। দেখতেছি বাড়ির গেট দিয়ে একটা অচেনা ছেলে বাহির হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে এই ছেলেটায় হবে। ছেলেটাকে দেখে আরো মন খারাপ হয়ে গেলো।
আর দেড়ি না করে বাড়ির ভিতরে টুকলাম। আমরা দুই তালায় থাকি। যে বাড়িতে আমরা থাকি সেই বাড়িটা তিন তালা। নিচ তালা আর দুই তালায় ভাড়াটিয়ারা থাকে আর তিন তালায় বাড়ির মালিক তার পড়িবার নিয়ে থাকে।

আমি সিড়ি দিয়ে দুইতালায় উঠলাম। উঠে গিয়ে বাড়ির গেটে সামনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজিয়ে দিলাম। একে একে তিনবার বাজালাম কিন্তু জান্নাতুন দরজা খুলতেছে না। তাই আমি ডুবলিকেট চাবি দিয়ে তালা খুলে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখি আশে পাশে জান্নাতুনকে দেখতে পাচ্ছি না। কই গেলো আবার ও?
খুজতে খুজতে রূমের ভিতরে গেলাম। মনে হচ্ছে জান্নাতুন বাতরূমে আছে ভিতর থেকে পানির শব্দ আসতেছে।

তাই আমি বিছানায় সুয়ে পড়লাম। আজকে অনেক ক্লান্ত লাগতেছে। মনে হচ্ছে গোসল করতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। (এগুলো ভাবতেছি )
হঠাৎ বাতরূমের দরজার খুলে জান্নাতুন তার চূল ঝারতে ঝারতে আসতেছে। আমি তো দেখে পায়ের রক্ত মাথায় উঠতেছে। পর পুরুষের সাথে রং তামাশা করে রাত বারোটার দিকে গোসল করতেছে।


পর্ব ৩

আসসালামুলাইকুম, সবাই কেমন আছে?

তাই আমি বিছানায় সুয়ে পড়লাম। আজকে অনেক ক্লান্ত লাগতেছে। মনে হচ্ছে গোসল করতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। (এগুলো ভাবতেছি )
হঠাৎ বাতরূমের দরজার খুলে জান্নাতুন তার চূল ঝারতে ঝারতে আসতেছে। আমি তো দেখে পায়ের রক্ত মাথায় উঠতেছে। পর পুরুষের সাথে রং তামাশা করে রাত বারোটার দিকে গোসল করতেছে।

কি বেপার এতো রাতে যে গোসল করলে?
আর বলিও না যে গরম পড়েছে আর খুবেই ক্লান্ত লাগছিলো তাই গোসল করলাম।
তাই বলে এতো রাতে গোসল করবে।

এমনে করে কথা বলতেছো কেনো হে। আমি কি গোসল করে খুবেই অপরাধ করেছি নাকি।
অপরাধ তো করেছোই। কথায় আছে না চোড়ের মায়ের বড় গলা সেটাই দেখতেছি। (মনে মনে ভাবতেছি)
কি হলো যাও? কি ভাবতেছো আর ফ্রেস হয়ে আসো বিছানায় বসে থাকবে নাকি।

কিছু না। আমি আর বিছানায় থাকলাম না বসে তাই ফ্রেস হতে বাথরুমে চলে গেলাম। বাথরূমে গিয়ে ভাবতেছি কি অভিনয় টা না করতে পাড়ে। ধোকা দিচ্ছে আমাকে আবার ঝাড়িও দিচ্ছে আমাকে। আমাকে ধোকা দিচ্ছো তো ঠিক এক দিন বুঝবে সেদিন আমাকে খুজবে কিন্তু পাবে না।

আর একটা কথা আমাকে কেউ মেসেজ করলে বেশির ভাগ হায় /হেলো দেয় আর আমি উত্তরে প্রথম সালাম দেই কিন্তূ দেখি মেসেজ সিন করে আর সালামের উত্তর দেয় না। ভাই আমরা মুসলিম জাতি। সালামটা না দিতে পাড়ি কিন্তু কেউ সালাম দিলে সালামের উত্তর দিতে তো পাড়ি কিন্তু আমরা এটাও করি না কেনো। তাই সবাই বেশি বেশি করে সালাম দিবো।

আমি বাথরুম থেকে ফ্রেস হয়ে এসে দেখি। জান্নাতুন আয়নায় সামনে বসে কি যেনো করতেছে। একে দেখে আমার ঘৃনা হচ্ছে। কথা বলা তো দূরের কথা।
আগে আমি অফিস থেকে বাড়িতে আসলে বেগটা রূমের মধ‍্যে রেখে ফ্রেস হতে যেতাম। ফ্রেস হয়ে যদি দেখি যে জান্নাতুন আয়নার সামনে বসে থাকে তাহলে আমি সোজা গিয়ে পিছন থেকে জরিয়ে ধরতাম। কিন্তু আজকে সেই ইচ্ছাটা কাজ করতেছে না।
আমি সোজা গিয়ে বিছানায় সুয়ে পড়লাম।

কি হলো ফ্রেস হয়ে এসে সুয়ে পড়লে যে খাবার খাবে না?
না তুমি গিয়ে খাও আমার খিদে নাই।

আচ্ছা ঠীক আছে তুমি সুয়ে থাকো। সারা দিন অনেক কাজ করেছো।
মানুষ এক দিনে কতোই না বদলে যায়। আমি যদি কখনো রাতে না খেয়ে সুয়ে পড়তাম তাহলে সে আমাকে জোড় করে খাওয়াত কিন্তু আজকে কোন জোড় করলো না। ভাবতেই আমার অবাগ লাগতেছে।

আচ্ছা কোন কোন সম্পর্ক যদি আবেগ দিয়ে শুরু হয় তাহলে আবেগ কেটে গেলে নাকি সম্পর্ক বেশি দিন টিকে না। তাহলে কি আমাদের সম্পর্কটাও কি আবেগ দিয়ে শুরু হয়েছিলো। আমার মাথায় কোন কিছু ঢুকতেছে না, কি করা উচিত এখন আমার?

হঠাৎ কখন যে ঘুমায় গেছি বুঝতেই পাড়ি নাই। খুবেই পানির পিপাসার কারনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। তাই পানি খাওয়ার জন‍্য বিছানা থেকে উঠে দেখি বিছানায় আমার স্ত্রী নাই। ভাবতেছি এতো রাতে গেলো কই? প্রথমে বাথরুমে গিয়ে দেখি বাথরুমে নাই গেলো কই এখানে তো নাই। আগে পানিটা খেয়ে নেই খুবেই পিপাসা লেগেছে। তাই আমি পানি খেয়ে রূমে বাহিরে এসেছি দেখি জান্নাতুন ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলতেছে।

আমি অবাক হয়ে গেলাম এতো রাতে সে কার সাথে কথা বলতেছে । কার সাথে কথা বলতেছে সেটা দেখার জন‍্য আর একটু সামনে গেলাম। এখনো আমাকে ও দেখে নাই। একটা কথা শুনে মেজাসটায় গরম হয়ে গেলো মনে হচ্ছে এখনে গিয়ে খুন করে ফেলি কিন্তু ভাবলা ওকে ধিরে ধিরে মারবো।
তো ওদের কথা এই রকম চলতেছে
আচ্ছা সোনা আমরা বিয়ে কবে করবো।

ফোনের ওপাশে থেকে কি বলতেছে আমি শুনতে পারতেছি না শুধু আমি জান্নাতুন এর কথা শুনতে পারতেছি। না এখানে থেকে ওদের কথা শুনে লাভ নাই তাই আমি জান্নাতুনকে ডাক দিয়ে বলতেছি,

রূমের বাহিরে দারিয়ে এতো রাতে ফোনে কার সাথে কথা বলো।
হঠাৎ ঈমান আমাকে এই কথা বলবে আমি ভাবতেই পাড়ি না। আমি তো ভয় পেয়ে গেছি। ও তো ঘুমাই ছিলো। ও কি আমাদের কথা সব শুনে ফেলেছে নাকি।
কি হলো চুপ করে আছো কেনো?
হে বলো।

বলো মানে আমি যে প্রশ্ন করলাম এটার উত্তর দেও।
কিসের প্রশ্নের উত্তর দিবো আমি। আমি রূমে গেলাম আমার খুবেই ঘুম ধরেছে।
এখান থেকে এক পা যেনো না নড়তে দেখি। আমি বললাম যে এতোক্ষন ফোনে কার সাথে কথা বললে। (ঠান্ডা মাথায় জিগ্যেস করতেছি। রাগ করলে সব আর এর সমাধান হবে না। )
আমি ফোনে কারো সাথে কথা বলি নাই।

মিথ‍্যা বলতেছো কেনো। তাহলে এখানে এতো রাতে দারিয়ে কি করো শুনি। আর কাকে যেনো বিয়ার কথা বলতেছো।
ঈমান কি তাহলে আমাদের সব কথা শুনে ফেলেছে। কি হবে এখন আমার? তাই আমি চূপ করে আছি।
চূপ করে থেকে কোন লাভ নাই। আমি তোমার কথা সব শুনেছি। এখন বলো কে ছিলো ওটা। না হলে তোমার ফোনটা দাও আমাকে।
আমি তোকে আমার ফোন দিবো না।

কেনো দিবি না রে। তুই পর পুরুষের সাথে রাতে আন্দারে কথা বলবি আর আমি কিছুই বলবো না। (আর রাগকে চেক দিতে পারলাম না? )
কি রে চূপ করে আছিস কেনো কথা বল আমার সাথে?

আমি কিছু বলবো না তোমাকে।
কেনো বলবি না রে হে। আমি তোর স্বামী হই।
না, আমি কিছু বলবো না?

ভাই মেজাজটায় গরম হয়ে গেলো। তাই গায়ের যতো শক্তি ছিলো তা দিয়ে চটিয়ে একটা ঠাসস করে থাপ্পর মেরে দিলাম।
তুমি আমাকে থাপ্পর মারলে। গালে হাত দিয়ে কান্না করতেছে।

এখন তো শুধু একটা থাপ্পর মেরেছি। যদি না বলো কার সাথে ফোনে কথা বললে তাহলে তোকে আজকে মারতে মারতে অধামরা করবো।
আমাকে মেরে ফেললেও বলবো না। কার সাথে কথা বলেছি।
কোন ধাতু দিয়ে যে তৈরি এরা রে ভাই। ভয় দেখেও লাভ নাই। মনে হচ্ছে আজকে বউ পিটানো স্বপ্নটা পূরন হবে।
আর না ভেবে ধিপ ধাপ করে বউকে পিটাতে শুরু করলাম।


পর্ব ৪

আসসালামুলাইকুম, সবাই কেমন আছে?
এখন তো শুধু একটা থাপ্পর মেরেছি। যদি না বলো কার সাথে ফোনে কথা বললে তাহলে তোকে আজকে মারতে মারতে অধামরা করবো।
আমাকে মেরে ফেললেও বলবো না। কার সাথে কথা বলেছি।

কোন ধাতু দিয়ে যে তৈরি এরা রে ভাই। ভয় দেখেও লাভ নাই। মনে হচ্ছে আজকে বউ পিটানো স্বপ্নটা পূরন হবে।
আর না ভেবে ধিপ ধাপ করে বউকে পিটাতে শুরু করলাম।

তুমি আমাকে এই সামান্ন ফোনের জন‍্য মারতে পারলে। (কান্না করতে বলতেছে)
তো তোকে কি করবো বল? তোকে যে ভালো ভাবে জিগ্যেস করতেছি তুই কেনো উত্তর দিলি না। এখন মার খেয়ে মুখ দিয়ে কথা বাহির হচ্ছে।
আমি আর থাকবো না, তোমার বাসায় চলে যাবো বাপের বাড়িতে।
যা না রে কাকে ভয় দেখাচ্ছি।

আমি বাবাকে ফোন করে বলে দিবো তুমি আমাকে সামান্ন ফোনে কথা বলার জন‍্য মেরেছো।
তোর বাবাকে আমি কি ভয় পাই নাকি। দেরি করতেছিস কেনো এখনে ফোন কর তোর বাবাকে বল তো কি কাহিনী?
হে বলবো তো আর কালকে সকালেই আমি বাবার বাড়িতে চলে যাবো। থাকবো বো না তোমার সাথে আর। (এই কথা বলে রূমের ভিতরে চলে গেলো )

সালার বউকে পিটাতে কতো যে মজা আজকে না পিটালে মজাটা বুঝতেই পারলাম না। আবার ভাবতেছি মেরে কি ঠিক করলাম পরে ভাবলাম না ঠিক করছি।
আর একটা কথা ভাই যদি কোন কিছু কারনে বউকে পিটান তাহলে দেখবেন বউ মার খেয়ে বলবে তোর ভাত খাম না রে জারুয়া। ভাই কেউ রাগ করিয়েন না এখানে একটু গ্রামের ভাষা দিলাম আপনাদের মজার জন‍্য।

আহা কি শান্তী না লাগতেছে। বউকে পিটাইছি আজকে। আর দেরি না করে আমিও রূমে চলে গেলাম। রূমে গিয়ে দেখি বিছানায় বসে কান্না করতেছে। আমি আর এর সোহাগের কান্না না দেখে বিছানার এক সাইটে সুয়ে পড়লাম।

তাও কান্না করতেছে। এর কান্নার জন‍্য তো আমার ঘুম ধরতেছে না। রাগ তো আবার উঠে গেলো?
এ তোর এই সোহাগে কান্না বন্ধ করবি নাকি আবার মার খাবি বল।
আমি কান্না করতেছি তো তোমার কি হে?

আমার কি মানে আমার ঘূমের ডেস্টাব হচ্ছে। আর সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে আর তুই ধরছিস কানের গোড়ে ঘেন ঘেন।
তাও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতেছে।

ধেত বাল তুই কান্না কর তো। আমি আর ওর সাথে কথা না বলে ঘুমাই গেলাম কখন যে ঘুমাই গেছি নিজেই জানি না।
দেখি তো ঈমান ঘুমাই গেছে নাকি এখনো জেগে আছে। না ঘুমাই গেছে। এইটাই সুযোগ শাকিল এর সাথে কথা বলি একটু। তাই দেরি না করে ফোন দিলাম শাকিলকে। ফোন দেওয়ার সাথে রিচিপ করলো।

জানু তখন কথা বলতে বলতে ফোন কেটে দিলে কেনো?
আর বলো না তখন আমার স্বামী ঈমান এসেছিলো তাই ফোন কেটে দিয়েছিলাম।
ও কি বুঝতে পারছে আমাদের বেপারে?

মনে হয় আমাদের কথা শুনতে পেয়েছে তাই আজকে ঈমান আমাকে মেরেছে।
কি বলো জানু তোমাকে মেরেছে ওই সালা ঈমান।
হুম খুব মেরেছে।
খুব লেগেছে না জানু।

হুম। ও আমাকে অনেক বার বলেছে যে কার সাথে এতো রাতে ফোনে কথা বলতেছিলাম। কিন্তু আমি বলি নাই এই জন‍্য মেরেছে আমাকে।
বলো নাই ঠিক করেছো জানু, আই লাভ ইউ জানু এই জন‍্য তো তোমাকে এতো ভালো বাসি।
আই লাভ ইউ টু। আর শুনো আমি না একটা প্লান করেছি দুই জনে এক হওয়ার।
কি বলো জানু কি প্লান শুনি?

ও তো আজকে আমাকে মেরেছে তাই বাবাকে ওর নামে বানায় বানায় অনেক কিছু বলবো আবার আমাকে মেরেছে এটাও বলবো। তারপর বাবাকে বলবো যে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যেথে। তারপর আর এখানে আসবো না, ওকে একবারে ডিভোর্স দিয়ে তুমি আর আমি এক হয়ে যাবো।
সত‍্যি বলতেছো আমার এক হবো তো। আর তোমার প্লানটা অনেক সুন্দর হয়েছে।

হুম এই প্লান অনুযায়ী কাজ করলে তুমি আর আমি এক হতে পারবো। আজকে ঈমান আমাকে মেরে তো আরো আমাদের এক হওয়ার রাস্তা সহজ করে দিয়েছে।
হুম সোনা। আচ্ছা শুনো না, আমার না খুবেই ঘুম ধরেছে তাই তুমিও ঘুমাও আমিও ঘুমাই।

ওকে গুট নাই।
বন্ধুরা গল্পটা কি আরো বড় করবো? যদি বলো বড় করো তাহলে নতুন মোর আনবো না হলে পরের পর্বে শেষ করে দিবো।


পর্ব ৫

অনেক সুন্দর হয়েছে।
হুম এই প্লান অনুযায়ী কাজ করলে তুমি আর আমি এক হতে পারবো। আজকে ঈমান আমাকে মেরে তো আরো আমাদের এক হওয়ার রাস্তা সহজ করে দিয়েছে।
হুম সোনা। আচ্ছা শুনো না, আমার না খুবেই ঘুম ধরেছে তাই তুমিও ঘুমাও আমিও ঘুমাই।
ওকে গুট নাই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জান্নাতুন রূমে নাই। সকাল সকাল আবার কই গেলো। বিছানায় আর সুয়ে না থেকে রূম থেকে বাহিরে এসে আমি তো অবাক,
কারন বাহিরে এসে দেখি আমার শশুর সোফায় বসে আছে। এতো সকালে আমার শশুর আমাদের বাড়িতে। এই কথা ভাবতেই মনে পড়ে গেলো কালকে রাতের কথা। কালকে জান্নাতুন কি তাহলে বাবাকে বলে দিয়েছে। সেইজন‍্য মনে হয় এসেছে,

আমি আর দেরী না করে প্রথমেই সালাম দিলাম,
আসসালামু লাইকুম বাবা, আর কেমন আছেন?
ওলাইকুম আসসালাম, আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি তুমি?

আমিও ভালো আছি বাবা। তো আপনি এতো সকালে আমাদের বাড়িতে?
এই কথা বলতেই জান্নাতুন কোথায় থেকে জেনো ব‍্যগ নিয়ে চলে আসলো। এতোক্ষন এখানে ছিলো না। আমি তো অবাক কারন ও ব‍্যগ নিয়ে বাহিরে চলে আসলো কেনো।
কি হলো তুমি ব‍্যগ নিয়ে চলে কেনো এতো সকাল সকাল কোথাও যাবে নাকি?
জান্নাতুন আমার সাথে যাবে (বাবা)

যাবে ঠিক আছে কিন্তু এতো সকালে। আর আজকে থাক না দুইদিন পরে আমরা দুই জনে চলে যাবো বেড়াতে।
আমি আর তোমার সাথে মোটেও না। আমি আজকে বাবার সাথে চলে যাবো। আর এখানে আসবো না।
কেনো আসবে না, আমার দোষটা কি শুনি?

তোমার দোষ হলো তুমি আমাকে প্রতি রাতে মদ খেয়ে এসে মারো। তাই আমি তোমার সাথে আর কোন সংসার করবো না। আমি বাড়িতে গিয়ে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবো তুমি শই করে দিও।
কি বলো আমি তো কখনো মদ কি জিনিস চোখেয় দেখি নাঈ আর বলতেছো আমি প্রতিদিন মদ খেয়ে এসে তোমাকে মারি ।

বাবা আপনি ভালো করে জানেন আমি ওগুলো কিছু খাই না। আর আপনি আপনার মেয়ে যা বলতেছে আর আপনি বসে বসে শুনতেছেন।
জান্নাতুন তো আর মিথ‍্যা বলবে না। তাই আমি আর তোমার কাছে আমার মেয়েকে রাখবো না।
বাবা প্লিজ আপনি অন্তত আমাকে বিশ্বাস করেন। আপনার মেয়ে মিথ‍্যা বলতেছে।
ও কেনো মিথ‍্যা বলবে তুমি যদি ওকে না মারো।

বাবা কালকে একটু সমস‍্যার কারনে আমি একটু মেরেছিলাম। কিন্তু প্রতিদিন তো আর মারি না। সংসার করতে হলে তো মাঝে মাঝে একটু ঝগড়া হতেই পারে তাই বলে কি আপনার মেয়ে আমাকে ডিভোর্স দিবে।

জান্নাতুন যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিভোর্স দিবে তোমাকে তাহলে আমিও চাই তোমার সাথে ডিভোর্স হোক তুমি প্রতি রাতে এসে মারবে আর আমি আমার মেয়েকে তোমার কাছে রেখে যাবো মোটেও না। চল মা জান্নাতুন।
ওকে বাবা চলো।

আচ্ছা শুনো জান্নাতুন। তোমাকে কিছু প্রশ্ন করি সেটা হচ্ছে,
কালকে যে তোমাকে মারলাম কেনো মেরেছি সেটা একটু বলবে আমার সামনে তোমার বাবার কাছে।
মাথা নিচ করে আছে।

কি হলো বলো? তোমার অপরাধ এখন বলবে না। কালকে অপরাধ ছিলো তোমার তাই আমি মেরেছিলাম তমাকে। উল্টে এখন সব দোষ আমাকে দিলে। ঠিক আছে যাও আমার কোন অভিযোগ নাই একটা কাথা কি জানো আজকে যার জন‍্য আমাকে ছেড়ে যাচ্ছো ঠিক একদিন বুঝবে আমি কি ছিলাম। সেদিন কিন্তু আমাকে পাবে না। আমি তোর সব অপরাধ জানি কার সাথে কি করো আমি সব মুখ বুঝে সর্য‍্য করেছি কারন আমি ভেবেছিলাম এখন সবমময় বুঝবে কিন্তু আজকে আমাকেয় মদ খোর বানালে।
ঠিক আছে যাও?

মাথা নিচ করে আছে।
আয় মা জান্নাতুন এখানে আর থাকা যাবে না।
বাবা তুমি যাও আমি যাচ্ছি।

ঠিক আছে মা তাড়াতাড়ি আয়।
ওকে। কি মিস্টার ঈমান কেমন দিলাম? আর ভালো থেকো বায়।

শুনো তুমি যে আজকে এমন ভাবে ধোকা দিবে কখনো ভাবতেই পাড়ি নি। আজকে থেকে ভাববো আমি একটা কাল সাপ কে ভালোবেসেছিলাম। যা তুই একদিন ঠিক বুঝবি।
সেদিন কখনো আসবে না। বায় ভালো থেকে।
ধোকা দিয়ে এখন বলতেছো ভালো থেকে।


পর্ব ৬

কি মিস্টার ঈমান কেমন দিলাম? আর ভালো থেকো বায়।
শুনো তুমি যে আজকে এমন ভাবে ধোকা দিবে কখনো ভাবতেই পাড়ি নি। আজকে থেকে ভাববো আমি একটা কাল সাপ কে ভালোবেসেছিলাম। যা তুই একদিন ঠিক বুঝবি।
সেদিন কখনো আসবে না। বায় ভালো থেকো।

ধোকা দিয়ে এখন বলতেছো ভালো থেকো। সেদিন ও আমাকে ফেলে চলে যায়। ও চলে যাওয়ার কিছুদিন পরে ডিভোর্স পেপার পাটিয়ে দেয় আমার বাড়িতে। ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়ে দেখতেছি জান্নাতুন সাইন করে দিয়েছে তাই মিথ‍্যা মায়া না করে আমিও সই করে দিলাম। কারন যে যাওয়ার সে তো চলে যাবেন তাকে কখনো আটকানো যায় না। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কিছু দিনের মায়ার জন‍্য কাছে আসে আবার চলে যায়।

জান্নাতুন ছেড়ে যাওর প্রায় এক মাস হয়ে গেছে। কোন দিন ও আর আমার খবর নেয় না কেমন আছি। যতো ভূলতে চাই কিন্তু তাকে ভূলতে পাড়ি না। পোড়া মন বুঝতে চায় না। কখনো ভাবি এ জীবন আর রাখবো না, কিন্তু আত্মহত্যা তো মহা পাপ। আবার আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে বাবা মা বাঁচবে কাকে নিয়ে।

না আমাকে কঠিন হতে হবে। যে আমাকে ধোকা দিয়েছে তাকে দেখিয়ে দিতে হবে আমি তাকে ছাড়া ভালো আছি। তাই এখন আমি আমাকে অফিসের কাজে সব সময় ব‍্যস্ত রাখি। তাই আর বেশি ধোকাবাচ এর কথা মনে পড়ে না। কিন্তু দিন শেষে রাতে ঠিক ওর কথা মনে পড়ে যায়। মন থেকে ভালো বেসেছিলাম তো তাই ধোক বাচকে একটু ভূলতে টাইম লাগবে।

হঠাৎ একদিন জান্নাতুন আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি অফিস এ ছিলাম। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি জান্নাতুন ফোন দিয়েছে। এতো দিন পরে কি মনে করে ও আমাকে ফোন দিচ্ছে। এগুলো ভাবতেই ফোনটা কেটে গেলো। তাই ফোনটা পকেটে রাখতে যাবো তাতেয় আবার ফোনটা বেজে উঠলো তাই এবার ফোনটা ধরলাম
হেলো কে বলছেন? চিনেও না চেনার ভান করতেছি।
কি বেপার এতো তাড়াতাড়ি ভূলে গেলে আমাকে?

আমার বেশি দিনের কথা মনে থাকে না। তাই পরিচয়টা দিলে ভালো হয় না হলে কেটে দিলাম আমার অনেক কাজ আছে।
আমি জান্নাতুন তোমার প‍্রাক্তন স্ত্রী। তো কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি,, আপনি?

এতো তাড়াতাড়ি আপনি হয়ে গেলাম। আচ্ছা যাই হোক আমার সামনে বিয়ে তাই তোমার দাওয়াত রইলো আসিও কিন্তু।
ও তাই আচ্ছা যাবো আপনার বিয়েতে। কিন্তু একটা কথা আমাকে কষ্ট দিয়ে কখনো আপনি সুখি হতে পারবে না।
আচ্ছা দেখা যাবে কে সুখি হয় আর না হয়। বায় ভালো থেকো।

ওকে। সালার মানুষ রে সুখের জন‍্য সব কিছু করে কিন্তু আমার কপালে সুখ আর বেশি দিন ঠিকলো না।
দেখতে দেখতে দুইটি বছর পার হয়ে গেলো। যে শহর আমাকে ধোকা দিয়েছে সেখানে আর থাকি নি। সেখান থেকে অনেক দূরে মা বাবাকে নিয়ে চলে এসেছি। মা বাবা কেমন করে যেনো জানতে পারে যে জান্নাতুন আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। দুইটি বছর পার হয়ে গেলো কিন্তু কখনো মা বাবা আমাকে বলে নাই কেনো আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে।
হঠাৎ একদিন মা বাবা বলতেছে,

বাবা অনেক তো হলো এবার একটা বিয়ে কর। আমার বয়স হয়েছে। যে চলে গেছে সেতো আর ফিরে আসবে না, তাই বলি কি আর বিয়ে করবি না (মা)
মা এখন আর কোন মেয়েকে বিশ্বাস হয় না। আবার ভয় করে আবার যদি আমাকে ফেলে চলে যাই।
বাবা পৃথিবীর সব মানুষ এক না। পৃথিবীতে ভালো খারাপ সব মানুষ আছে। আর এবার দেখ অনেক ভালো লক্ষী একটা মেয়েকে দেখে বিয়ে দিবো তোকে।
ঠিক আছে তোমরা যা ভালো মনে করো তাই করো।

তাহলে চল আজকে একটা মেয়েকে দেখে আসি। তোর বাবা আর আমি মেয়েটাকে দেখে এসেছি আমাদের পছন্দ হয়েছে। এখন তুই দেখলেয় হবে।
মা তোমাদের পছন্দ হলেয় হবে। আমার দেখার দরকার নাই।
তাও বাবা একবার,

ঠিক আছে যাবো। কখন যাবে সেটা বলো।
বিকালের দিকে যাবো।

আমি আর কথা না বলে আমার রূমে চলে আসলাম। একটু মাথা ব‍্যথা করতেছে তাই রূমে এসে বিছানায় সুয়ে পড়লাম কখন যে ঘুমায় গেছি জানি না,
মার ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম
বাবা উঠ বিকাল হয়েছে কখন যাবো মেয়ে দেখতে। তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নিচে আয়।

ওকে মা তুমি যাও আমি যাচ্ছি। তারপর আমি ফ্রেস হয়ে নিচে এসে মা বাবার সাথে মেয়ে দেখতে যাই। মেয়েকে দেখে আমারো পছন্দ হয়েছে। বেশি সুন্দরী না সেম করে দেখতে। মেয়েটার মুখে কেমন যেনো মায়া কাজ করতেছে।
বাবা তোর মেয়েকে পছন্দ হয়েছে।

মা তোমাকে তো বললাম যে তোমার পছন্দ মানে আমার পছন্দ।
তাহলে আমাদের ছেলের পছন্দ হয়েছে বিয়ায় সাহেব আপনার মেয়েকে।
তাহলে ছেলে মেয়ে দুইজনে একটু আলাদা ভাবে কথা বলুক।

ঠিক বলেছেন বিয়ান। মা মাইসা ঈমান বাবাকে তোর রূমে নিয়ে যা।
মেয়েটার নাম তাহলে মাইসা অনেক সুন্দর তো। আমি খালি সবার কথা মাথা নিচ করে শুনতেছি।
যা বাবা মাইসার সাথে ওর রূমে।

মার জন‍্য আর ওখানে বসে থাকতে পারলাম না। তাই আমি মেয়েটার পিছনে পিছনে একটা রূমে গেলাম। রূমটা দেখতে অনেক সুন্দর ভাবে গোছানো।
আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে রূমের চার পাশে দেখতেছি।

কি মিস্টার ওখানে কি দাড়িয়ে থাকবেন নাকি এখানে বসবে।
মেয়েটার কথা শুনে একটু লজ্জা পেলাম তাই আর দেড়ি না করে গিয়ে মেয়েটার পাশে একটু দূরে বসলাম।
তো কেমন আছেন ঈমান সাহেব।
আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আপনি?

আমি আপনার ছোট তাই আপনি করে বলতে হবে না। কিছু দিন পরে তো আপনার বউ হবো। (মনে মনে বললাম )
কিছু বললেন।
না কিছু না ছো আমাকে পছন্দ হয়েছে।
আমি মাথা নেড়ে হ‍্যা বুঝালাম।

যদি আপনি বলতেন একবার আমাকে পছন্দ হয় নাই তাহলে এখনে আপনাকে মেরে ফেলতাম।
আমি তো এই মেয়ের কথা শুনে ভয়ে শেষ। কি ডেন্জার মেয়েরে বাবা।
আমার আপনাকে পছন্দ হয়েছে। আর আমি আপনার সব জানি।
কি সব জানেন আমার সম্পর্কে?

সব কিছু জানি এই যে আপনি আমার আগে আর একটা বিয়ে করেছেন। সেই মেয়ে আপনাকে ধোকা দিয়ে চলে যায়। আর এখন মেয়েদের দুই চোখে দেখতে পারেন না। আমি আপনার ভূল ধারোনা ভেঙ্গে দিবো সব মেয়ে এক না। কিছু কিছু মেয়ে আছে যে স্বামী মারা যাওয়ার দুইদিন না যেতেয় বিয়ে করে আবার কোন মেয়ে আছে মৃত স্বামীর সৃতি নিয়ে বেচে থাকে কখনো তাড়া অন‍্য পুরুষের কথা ভাবে না। তাই সব মেয়েকে এক দৃষ্টিতে দেখবে না।

অনেক কথা আমাকে বললেন এখন চলেন নিচে যাই। অনেক্ষন হচ্ছে এখানে আসা অন‍্য কিছু ভাবতে পারে।
আচ্ছা চলেন তাহলে।

আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন ছিলো?
কি প্রশ্ন আছে বলেন?
আপনার?
আবার আপনি

ছরি তোমার নামটা কি? আমি তো জানি না।
কি বলেন আমাকে দেখতে আসছেন আর নাম জানেন না।
জানি না দেখে তো বললাম ।

আমার নাম হচ্ছে মাইসা ইসলাম নীলা।
অনেক সুন্দর নাম তোমার।
ধন‍্যবাদ এবার নিচে যায়।

হুম চলো। তারপর আমি আর মাইসা নিচে এসে দেখি সবাই আমাদের দেখে হাসতেছে,
ওদের হাসি দেখে আমাদের দুইজনে লজ্জা লাগতেছে।
তোমাদের দুইজনের কথা হলো। (সবাই বলতেছে )
হুম হয়েছে (মাইসা)

এই দেখো দুইজনে লজ্জা পাচ্ছে। সবাই এক সাথে বলে হাসতেছে।
তোমরা দুইজনে এক সাথে বসো।
আমরা দুই জনে এক সোফায় বসলাম।

ঈমান তোকে একটা কথা না বলে বিয়ার তারিখ ঠিক করে ফেলেছি।
ভালো কথা তো মা কতো তারিখে।
আজকে এখনে তোকে বিয়ে করতে হবে।

কি বলো মা কিভাবে?
বিয়ার যা যা করার সব আমি করতেছি (বাবা বলতেছে)
(কালকে গল্পটা শেষ করে দিবো জান্নাতুন এর কঠিন শাস্তি দিয়ে। )


পর্ব ৭

দুই জনে এক সোফায় বসলাম।

ঈমান তোকে না বলে বিয়ার তারিখ ঠিক করে ফেলেছি।
ভালো কথা তো মা কতো তারিখে।

আজকে, এখনে তোকে বিয়ে করতে হবে।
কি বলো মা কিভাবে?
বিয়ার যা যা করার সব আমি করতেছি (বাবা বলতেছে)

তারপর আমিও রাজি হয়ে গেলাম। সেদিনে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। আমি দেখেছি যে বিয়ের বিদায়ের সময় মেয়েরা কান্না করে কিন্তু এ তো দেখি কান্না কি জিনিস বুঝেই না মনে হচ্ছে।

মাইসাকে নিয়ে আমাদের বাসায় নিয়ে আসি। মা মাইসাকে আমার রূমে রেখে চলে গেলো। আমার কেমন যেনো লাগতেছে তাই ছাদে একটু আসলাম।

ভাবতেছি আল্লাহ্ কার কপালে কি রেখেছে সে একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। হঠাৎ কেমন করে আমার জীবন টা আজকে চেন্জ হয়ে গেলো। আবার মন বুঝতে চায় না, যদি জান্নাতুন এ মতো ধোকা দেয়। মানুষের জীবন নদীর স্রোতের মতো কখন কই থেমে যাবে কেউ জানে না। এগুলো ভাবতেই কখন যে দশটা বেজে গেলো বুঝতে পারি নাই। তাই আর দেড়ি না করে রূমে যাচ্ছি নিচে নামতেই দেখতেছি মা এদিকে আসতেছে,

বাবা তুই এখনো রূমে যাস নাই তাড়াতাড়ি যা একায় মেয়েটা কি যে করতেছে।
হুম মা যাচ্ছি।
পাগল ছেলে একটা তাড়াতাড়ি যা বউ মা তোর জন‍্য অপেক্ষা করতেছে।

আমি আর দেড়ি না করে রূমের ভিতরে ঢুকে দরজায় আটকে দিলাম। দরজা আটকে দিয়ে পিছনে ঘুরে দেখি মাইসা আমার সামনে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম, কিনতু একটু পরে দেখলাম ও আমার পা ছুয়ে সালাম করতেছে। তাই আমি ওকে বললাম,,

হয়েছে সালাম করতে হবে না। তোমার স্তান আমার পায়ে না তোমার স্হান আমার বুকে। তাই আমার পা থেকে মাইশাকে তুলে বুকে জড়িয়ে নিলাম। ওকে বুকে জরিয়ে ধরাতে একটু লজ্জা পেয়েছে মনে হয়।
কি হলো লজ্জা পেলে নাকি গো বউ?
লজ্জা পাবো না তুমি যে রোমান্টিক কথা বললে আমার লজ্জা লাগবে না।

আচ্ছা আর লজ্জা পেতে হবে না। শুনো আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো কথা দাও।
কথা দিলাম আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবো না। তোমাকে দেখিয়ে দিবো সব মেয়ে ধোকাবাচ হয় না। আমি তোমাকে একজন আদর্শ স্ত্রী হয়ে দেখাবো।
আমার খুবেই ভয় হয় জানো যদি আবার ধোকা দেও তুমি।

শুনো আমার সাথে এসো।
আমাকে মাইসা বিছানায় বসায় দিলো এবং ও আমার কোলে মাথা রেখে সুয়ে পড়লো। আমি ভাবতেছি এর আবার কি হলো।

আমি চাই যে জান্নাতুন আপুকে যেমন করে ভালো বেসেছো তেমনি করে আমাকে ভালো বাসবে। আমি চাই এই তোমার বুকে শুধু আমি থাকবো। তুমি শুধু আমাকে ভালোবেসে দেখো তাহলে তোমার সব দুঃখ ভূলে দিবো আমার ভালোবাসা দিয়ে। আমি চাই আমাদের একটা সুন্দর সংসার হোক যেখানে থাকবে খুনশুটি ভালোবাসা আর থাকবে রাগ অভীমান। আমাদের একটা সন্তান হবে তুমি তার সাথে সয়তানি করবে আর তোমাদের উপরে রাগ করবো আমার কথা না শুনলে।

মাইশার কথা শুনে আমার চোখের পানি বাহির হয়ে গেলো। কারন মাইশাকে দেখে বুঝলাম সব মেয়েরা ধোকা বাচ হয় না। মনে হচ্ছে মাইশাকে পেয়ে জীবনটা ধন‍্য হয়ে গেলো। এগুলো ভাবতেছি।
ওই তুমি কান্না করতেছো কেনো।

কই এটা দুঃখের কান্না না রে পাগলী এটা হচ্ছে সুখের কান্না।
তাই আচ্ছা শুনো না আজকে আমাদের বাসর রাত না। আমার বহু দিনের স্বপ্ন এই বাসর রাত নিয়ে। চলো আমরা বাসর রাতের কাজ শুরু করে দেই।
চলো ঘুমাই আজকে অনেক রাত হয়ে গেছে। আজকে বাসর করবো না যাও অন‍্য একদিন। অনেক রাত হয়েছে তাই চলো ঘুমাই।
এই পাগল হলে নাকি। বাসর রাতে কেউ ঘুমায়।
তাহলে কি করে শুনি,
কি করে মানে তুমি আর আমি সারা রাত রোমান্স করবো চলো না,
ধূর এতো রাতে আমার রোমান্স করার ইচ্ছা নাই। আমি ঘুমাতে গেলাম। আমি এই কথা বলে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। আমি দেখি কি করি মাইশা তাই আমি বিছানার সুয়ে পড়লাম।
তুমি একটুও রোমান্টিক না। তুমি রোমান্টিক কি সেটায় বুঝ না।

এই কথা বলে দেখতেছি মাইশা বিছানায় এসে আমার উল্টে দিক হয়ে সুয়ে পড়লো। মনে হয় আমার উপরে ক্ষেপে গেছে পাগলীটা,
মেয়ে মানুষ মানে হচ্ছে একটুতে অভিমানী। তারা শুধু একটূ ভালোবাসা চায় এর চেয়ে বেশি কিছুই চায় না।
আমি এবার মাইশার দিকে ঘুরে ওকে বলতেছি,

এই মাইশা শুনো না (পিছন থেকে মাইশাকে জরীয়ে ধরে বলতেছি )
তুমি আমার সাথে কথা বলবে না যাও আমি তোমার কেউ না। এখন আসছো কেনো আমাকে জরীয়ে ধরতে তুমি ঘুমাও যাও।
আরে তুমি আমার পাগলী বউ বুঝলে।

আমি কারো বউ না।
তোমাকে কারো বউ হতে হবে না। শুধু আমার বউ হলেই হবে। আমি মাইশাকে আমার দিকে ঘুড়ে দেখি কান্না করতেছে।
আরে আমার পাগলী বউ কান্না করে কেনো।
কিছু বলতেছে না।

তাই আমি মাইশার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলতেছি তখন কি বললে আমি নাকি অনরোমান্টিক তাঈ এবার দেখাচ্ছী কে রোমান্টিক না।
না তুমি একটা রোমান্টিক মানুষষষষ

মাইশাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে ওকে কিচ করতে শুরু করলাম। এর পরে আমরা দুই জনে গভীর ভালোবাসায় অবদ্ধ‍্য হয়ে গেলাম। আর সবাই তো জানেন তাই সবাই যেটা জানেন মনে মনে রেখে দেন।

সকালে ঘুম ভাঙ্গলো পানি ফোটার কারনে। হঠাৎ কোথায় থেকে যেনো আমার মুখে পানির ফোটা পড়তেছে। চোখ খুলে দেখি মাইশা গোসল করে এসে মাথার চুল ঝারতেছে। তার চূলের পানির ছিটা আমার মুখে এসে পড়তেছিলো।

মাইশাকে ভেজা চূলে দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই সুয়ে আর না থেকে পিছনে থেকে জরীয়ে ধরলাম। আর তার চূলের থেকে কি সুন্দর মাতাল করা সুগন্ধ আসতেছে তাই আমি তার চূলের ভিতরে আমার নাক ডুবিয়ে দিলাম।

কি হলো এই ভর সকালে তোমাকে রোমান্টিক হতে হবে না। এমনিতে রাতে একটুও ঘুমাতে দেও নাই। এখন আসছো আবার রোমান্টিক কতা দেখাতে। এমনিতে দেড়ি হয়েছে তাই তুমি গিয়ে গোসল করে এসো।

ওই পাগল হলে নাকি এতো সকালে গোসল আমার দারায় হবে না। আরো যে ঠান্ডা এমনিতে আমি ঠান্ডার সময় তিন দিন পর পর একবার গোসল করে আর এতো ঠান্ডায় গোসল করতে পারবো না।

বললেই হলো, তোমাকে গোসল করতে হবে যাও। জোড় করে আমাকে বাথরুমে পাঠায় দিলো কিন্তু আমার যাওয়ার একটুও ইচ্ছা নাই।
কি পাগল স্বামী আমার গোসল করতে চায় না। ও গোসল করুক এর ফাকে একটু মাকে সাহায্য করে আসি।

ভাই আপনাদের একটা কথা বলি ঠান্ডায় কখনো বিয়ে করবেন না। সকালে উঠে আপনার বউ বলবে গোসল করতে। দেখতেছে না আমার দুঃখটা ঠান্ডায় গোসল করতে পাঠিয়েছে। মনে হচ্ছে ঠান্ডার জমে যাবো ই কি যে ঠান্ডা আল্লাহ্।

ভয় ভয় করে গোসল করেই ফেললাম। গোসল করে রূমে এসে দেখি আমার বউ নাই। আমার বউ গেলো কই, আমার নতুন বউ। ওগো বউ তুমি কই গেলে আমি তোমাকে ছাড়া হার্টফেল করতেছি।
আপনারা আবার বউ পাগল বলীয়েন না, ওকে। আমি কিন্তু বউ পাগল না।

গল্পটা একটু বড় করলাম কিছু মনে করিয়েন না।

লেখক – IH Iman Haque

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ধোকা – ভালোবাসার গোপন সম্পর্ক” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – ডাকপিয়ন – Short sad love story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!