স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক

তুমি হলেই চলবে (১ম খণ্ড) – ভালোবাসার কথা sms

তুমি হলেই চলবে – ভালোবাসার কথা sms: আমি বিছানায় বসে আছি। রাগে আমার মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমার পাশে, সামনে মিলিয়ে তিনজন মহান ব্যক্তি দাঁড়িয়ে, বসে আছে। এদের মধ্যে এজনের উপড় প্রচণ্ড বিরক্তি লাগছে।


পর্ব ১

ঠাসসসসসসস্ করে চেপে ধরাতে প্রচণ্ড ব্যথা লাগছে। আমি শুধু উম্ উম্ সাউন্ড করেই চলেছি। ভার্সিটির প্রথম দিনই সট টাইম কিডন্যাপিং এর মত মারাত্মক ব্যাপার ঘটেছে আমার সাথে। অবাক লাগার ব্যাপার নয় কি? আজ সকাল থেকেই আজগুবি জিনিস হচ্ছে। বুঝে উঠতে পারছি না কি হচ্ছে আমার সাথে আমি আয়ানা হায়াত। একটা রুমের সামনে দিয়ে যেতেই কেউ আমার মুখ চেপে ধরে হাতগুলো নিজের মুঠোয় আবদ্ধ করে ঠাসস করে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে আছে। কি ভয়ংকর ব্যাপার! ভাবা যায়?

ঘুটঘুটে অন্ধকার রুম কেমন যেন গা শিউরে উঠা টাইপ অবস্থা। অন্ধকারে কিডন্যাপারের মুখও দেখা যাচ্ছে না। হায় আল্লাহ আমার এখন কি হবে? মন চাচ্ছে কিডন্যাপারের হাতে কামড় দি কিন্তু তাও দিতে পারছি না। আচ্ছা কিডন্যাপার ছেলে না কি মেয়ে? এই মহান ব্যাপারটা আমার মাথায় এত সময় পরে এল? হাতগুলো যেভাবে ধরে রেখেছে এতে করে সন্দেহ নেই যে এটা একটা ছেলের হাত। কিন্তু আমার সাথে এর কি শত্রুতা থাকতে পারে? আল্লাহ মালুম। এ জীবনে আমার তো একটাই ছেলে শত্রু যে কিনা বিগত ৩ বছর থেকে গায়েব। সো এটা কে হতে পারে। ইশশশশ মাথার ভিতরে সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু একটাও বেস্ট আনছার আসছে না? এখন লোকটা আমাকে কি করবে? বাংলা সিনেমার মত রেপ করবে না তো? আল্লাহ। না কি তুলে নিয়ে বিয়ে করবে? কিন্তু বিয়ে করার হলে বাপ মারে বল? এভাবে সট টাইম কিডন্যাপিং এর মানে কি? শুধু শুধু বাচ্চা হার্ড টারে কষ্ট দেওয়া। সামনের ব্যক্তির ঘন নিঃশ্বাস আমার চোখে মুখে আছড়ে পরছে। কেমন যেন অসস্থি কর ব্যাপার। ছিই তার মুখটা একদম আমার মুখের সামনে। কিন্তু আমি একদম চিন্তে পারছি না।

হঠাৎ কিছুসময় পরে সে আমার দেওয়ালে আটকে থাকা হাত গুলো সামনে এনে একটা হাত ছেড়ে অন্য হাতটা ধরে রাখে। একটা হাত ছাড়া পেতেই আমি প্রানপন চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি মুখের হাতটা সরাতে কিন্তু হাতটা এত শক্ত ভাবে আমার মুখ আকড়ে ধরেছে আমি বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে। একদম হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। সামনের ব্যক্তি আমার মনের কথা বুঝতে পরেই হয় তো আমার ডান হাতটা প্রচণ্ড রুডলি কামড়ে ধরে আছে। আমি প্রাণপণ ইচ্ছা পৌষন করছি চিৎকার করার কিন্তু পারছিনা। আমি চিৎকার করতে না পারলেও আমার চোখগুলো আমার ব্যথার আতর্নাদ পানির মাধ্যমে প্রকাশ করছে। চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে।

সামনের হার্ড লেস টাইপের লোকটা এখনও ছাড়ছে না। আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। বাবা মায়ের একমাএ মেয়ে হিসেবে কেউ কখন আমাকে এভাবে ব্যথা দেয়নি। তাই এই ব্যথাটা প্রচণ্ড তীব্র ভাবে অনুভব হচ্ছে।

এই হাত দিয়েই ত ফুল ছুঁয়ে ছিলে তাই না?

আর কিছু বুঝার বাকি নেই। আমি মনে মনেই আওড়াতে লাগলাম। আযমান ভাই, হুম ঠিক ধরেছ। আমিই। তুমি কি মনে করেছ তিন বছর ছাড় দিয়েছি মানে সব সময় দিব নাকি? অনেক হয়েছে। আর না। শুধু ফুল ছুঁয়েছ বলেই হাতের এই অবস্থা যদি নিতে তবে কি হত? আসা করি বুঝে গেছ।

কথাগুলো বলেই গটগট করে আমার সামনে থেকে চলে গেলেন। আর আমি নিচে বসে হাতের ব্যথায় কান্না করেই চলেছি। আজ সকালটাই খারাপ ছিল। ভার্সিটির প্রথম দিন তাই আমি আর দিল মানে আমার বেস্টু একসাথে ভার্সিটিতে ডুকেছি। হঠাৎ একটা ছেলের সাথে বেসামাল ভাবে ধাক্কা লেগে যায়। আমি সরি বলেই সরে আসতে যাবো তার আগেই ওই পোলা আমার দিকে হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে উঠে, পাচঁ মিনিট দাঁড়াবে প্লিজ।

কেমন লাগে তখন? মেজাজটাই বিগড়ে গেল। কেনো গো আমাকে কি এানের বস্তা দিবেন। একবার চেয়েছি বলতে কিন্তু তা আর বলা হয়ে উঠে নি তার আগেই সেই ব্যক্তি বেক করে এসে আমার সামনে হাটুগেড়ে বসে প্রপোজ করে দিল। হায় আল্লাহমন তো চাই ছিল ঠাটাইয়া একটা দিয়ে কানের বাশি পাটায় দিতে কিন্তু তাও করলাম না।

হাতে একগুচ্ছ গোলাপ দেখে একটু গোলাপ গুলো ছুঁয়ে দিয়ে ছিলাম। ছোটো থেকেই ফুলের প্রতি এক প্রকার মাদকতা বিরাজ করে আমার মনে কেমন যেন টানে আমাকে ফুলেরা আর তাই ফুলগুলো ছুঁয়ে দিয়ে ছিলাম। আমি কি জানতাম এটা আমার কাল হবে। যাই হোক ওনাকে আম জাম বুঝিয়েই দিলের হাত ধরে নাচতে নাচতে ক্লাসে যাচ্ছিলাম। প্রথম দিন ভার্সিটি সেই একটা ফিলিংস। দিলের এক বড় আপু এই ভার্সিটিতেই পরে তার ডাক পড়ায় সে আমাকে একটা রুমের সামনে দাড়া করিয়ে চলে যায়। আমি কি জানতাম নাকি ওনি এখানে আছে তবে তো জীবনেও দাড়াতাম না। বাকিটা সবারই জানা।

আযমান ভাই যাকে বলে আমার জম। শালা সেই ছোট থেকে জীবনটা কয়লা কয়লা করে ফেলেছে। কিন্তু ভাগ্য ক্রমে তিনি বিগত তিন বছর গায়েব ছিল। এবার সে জমের পরিচয় তো দি। আযমান ভাই বাবার ওয়ান এন্ড অনলি জানের জিগারের পোলা। মানে বাবার বন্ধুর ছেলে।

বাবার বন্ধু একজন সচিব সাথে দেশের নাম করা বিজনেসম্যান। কবে থেকে তাদের বন্ধুত্ব আমার জানা নেই তবে জন্ম থেকেই তাদের একমাএ কলিজার টুকটা পোলা আমার জীবন টুকরা টুকরা করে দিয়েছে। সে এক ভয়ঙ্কর ইতিহাস। কিন্তু আমার মাথায় এটা আসছে না। ওনি বুয়েটের স্টুডেন্ট হয়ে আইবিএতে কি করে। আমার মাথা নষ্ট করাই ওনার কাজ।

আমি আর দিল বিখাত বেস্টু যাকে বলে স্কুল কলেজ কাঁপানো। চার বছরের বন্ধুত্বে আমরা স্কুল কলেজে খুবই জনপ্রিয় ছিলাম। কপাল ভালো একই ভার্সিটিতে চান্স পাইয়া একসাথে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেছি। আমি আর দিল ক্লাসের এক কোনে গুটিসুটি মেরে বসে আছি। প্রথম ক্লাসের যে ফিলিংস নিয়ে সকালে ভার্সিটিতে প্রবেশ করেছিলাম তা এখন শূন্যের কোঠায়।

একই টেবিলে বসে আছি দুজন তবে এক দম লাস্ট টেবিলে। আমরা বিগত বছর গুলতেও সুপারগ্লুর মত একসাথে লেগেই বসে ছিলাম। দিলকে এখন আমার প্রচণ্ড রাগ লাগছে। কচুর মাইয়া সে কখন থেকে আমার হাত নিয়া নাড়াচাড়া করেই চলেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে পৃথিবীর সেরা গবেষক। আর সে পৃথিবীর সেরা জিনিস আমার হাত নিয়ে গবেষণা করেই চলেছে। তার কারনও আছে যুক্তি যুক্ত। দিল আমার হাতের রক্ত আর কামড়ের দাগ নিয়ে গবেষনা করছে। তার মনে হাজারো প্রশ্ন।

প্রথম প্রশ্নই হলআমার মত এত বড় মেয়েকে কিভাবে একটা বাচ্চা কামড়ে চলে গেলআর ২য় প্রশ্ন ভার্সিটিতে বাচ্চা কোথা থেকে এল? কিন্তু তাকে যে কিভাবে বলি বাচ্চা না জম এসেছে জীবন ডারে তেজপাতা বানায়তে। দিল প্রচণ্ড টেনশনও আছে। সাথে আমিও কিন্তু দুজনের টেনশনের কারন ভিন্ন।

দিলের টেনশনের কারন হল আমার হাতে না জানি ইনফেকশন হয়ে যায় কি না আর আমার টেনশন হচ্ছে আযমান ভাই যদি কাবির সিং এর মত টেরেরেং রেং রেং করে হঠাৎ ক্লাসে ডুকে পরে। আর তাকে দেখে যদি সবাই দাড়িয়ে যায়। আর ওনি যদি চোখ লাল লাল করে আমার সামনে এসে টেবিলে হাত দিয়ে ডাশ ডাশ করে বারি দিয়ে বলে উঠে,

হেই ইউ স্ট্রের্ন্ডাপ।

আমিও কাচুমাচু করে দাড়িয়ে পড়লে ওনি আবার বলে উঠবে,

আমার পিছনে পিছনে আস।

শেষ আমি তো শেষ। কাবির সিং না জানি তার নায়িকা কি যেন নাম দূর কচু প্রয়োজনের সময় সব ভুলে যাই যাই হুক ওই নায়িকার নাম মনে নেইনায়িকাকে তার সাথে নিয়ে যেত পড়াতে আর প্রেম টেম করতে। কিন্তু আযমান ভাই তো আমার বারোটা আর তেরোটা ছাড়া কিছুই পারেনা বাজাতে। নিশ্চুই আমাকে শায়েস্তা করতেই নিয়ে যাবে। আল্লাহ আমি তোমার অধম বান্ধা আমাকে বাচাও

আল্লাহ সত্যিই এই যাএরায় বাচিয়ে দিয়েছে। আযমান ভাইকে আমি আর দেখলাম না। ক্লাস শেষ। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য একটা ক্লাসেও আমরা মনযোগ দিতে পারলাম না। যদিও আমরা ফিন্যান্স ক্লাস বাদে অত মনযোগ দিয়ে কোনো ক্লাস এ জীবনে করেছি বলে তেমন মনে হয় না। তবুও আজকে কত শখ ছিল মনযোগ ডেলে দিয়ে ফার্স্ট ক্লাস করব। কিন্তু ফলাফল শূন্যে। যাই হো আল্লাহ ভালোয় ভালোয় বাসায় পৌছে দিলেই বাচি।

আমি আর দিল কথা বলতে বলতে গেটের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ মাঠের অপর প্রান্তে একরা বিশাল বটগাছকে ঘিড়ে সবাই দাড়িয়ে আছে। একপ্রকার জটলা পাকিয়ে। কি এমন হচ্ছে যা এত আগ্রহ নিয়ে দেখতে হচ্ছে। আমাদেরও প্রবল আগ্রহ জাগছে। আর তাই এগিয়ে গিয়ে ভিড় ডেলে ভিতরে ডুকতে আমি তো শিহরিত আল্লাহ এটা কি দেখছি। মাথাটা ঘুরপাক খাচ্ছে। একদম ৩৬০ ডিগ্রী এঙ্গেলে। যা আমাকে বার বার ৮ নাম্বার বিপদ সংকেত দিচ্ছে। যে আমি যে কোনো সময় দাপাসসস করে সেন্সলেস হয়ে পরে যেতে পারি। দিল বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

দোস্ত এটা ওই আহাম্মক না যে কিনা ভার্সিটির ভিতরে পা রাখতে না রাখতে তোকে প্রপোজ করে দিলল! কিন্তু এইডারে এভাবে ঝুলিয়ে কে রাখছে।

আমি শুধু চোখ ফাটা ফাটা করে তাকিয়ে আছি। সত্যিত কে ঝুলালো? তাও এত মর্মান্তিক ভাবে গাছের মধ্যে পা বেধে মাথা সহ শরীর নিচের দিকে ঝুলিয়ে। আল্লাহ। এটা কি দেখলাম। আচ্ছা এটা আযমান ভাইয়ের কৃত্তি নয় ত? হতেই পারে এই লোক পারে না এমন কিছু নেই বললে চলে। ছেলেটা মাথা হাত ঝুলানো অবস্থায় করুন সুরে বলে উঠে,

ভাই মাফ করে দেনআমি জানতাম না ওই মেয়ে আপনার gf জানলে জীবনেও ওমন কিছু করতাম নাআমি কসম করে বলছি আর জীবনেও কোনো মেয়েকে প্রপোজ করমু নাআপনি বললে তো আমি বিয়াও করমু না প্লিজ ছেড়ে দেন।

gf তার মানে এটা আমাকে নিয়ে হয় নাই। এই পোলা কার না কার প্রেমিকারে প্রপোজ করছে বলেই এমন শাস্তিভালোই হইছে মর শালামেয়ে দেখলেই হুমরি খাইয়া পরতে হয় বুঝি? কিন্তু কার gf আর কেইবা এমন করে ঝুলালো আল্লাহ যানে। ছেলেটা আবার বলে উঠে,

ভাই এইবারের মত মাফ করে দেন। আমি সত্যিই জানতাম না ওই মেয়েটা আপনার gf জানলে কখনো এমটা করতাম না। আর মেয়েটাকে প্রথম দেখায় ভালো লেগেছে। তাই গেটেই প্রপোজাল দিয়েছি কিন্তু সে এক্সেপ্ট করে নাই। মাফ করে দেন আমি যদি আগে জানতাম ওনি আপনার gf.

তার পাশে দাড়িয়ে থাকা অনেক ছেলেদের মাঝে একজন বলে উঠে,

এই কি কখন থেকে gf gf করছ। ভাই শুনলে এখন তো ঝুলিয়েছে তখন কুচি কুচি করবে। বল ভাবিকি বলতে বললাম,

ভাবি ভাবি প্লিজজজ এবার ছেড়ে দেন।

সারফারাজ ভাই আপনিই বলেন কি করা যায়। ভাই তো এখেনে এখনো আসে নাই বলে উঠে,

আসতে দে।

আমি তো এবার ভয়ে শেষ। আল্লাহ এই মি ঝুলন্ত পেঁচা তো আমাকেই গেইটে প্রপোজ করেছে। আল্লাহ আযমান ভাই আসার আগে আগে ভাগি তা না হলে হতে পারে ওই আসাবা আমার বারোটা বাজাবে নিশ্চিত। আসাবার মানে নাহয় আর একদিন বলবোজীবন বাচাঁনো ফরজ তা না হলে কিন্তু মিঝুলন্ত পেঁচাকে আমি বাঁচাতে একটু হলেও কষ্ট করতামআমি দিলের হাত ধরে হাটা শুরু করি। আসলে শুধু হাটা না এক কথায় দৌড়আমি মনে মনে ভাবছি আগের আযমার ভাই ভয়ঙ্কর ছিলল কিন্তু এবার ত মনে হয় ভয়ঙ্করের বাপ


পর্ব ২

আমি বিছানায় বসে আছি। রাগে আমার মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমার পাশে, সামনে মিলিয়ে তিনজন মহান ব্যক্তি দাঁড়িয়ে, বসে আছে। এদের মধ্যে এজনের উপড় প্রচণ্ড বিরক্তি লাগছে। আর সে হচ্ছে আমার জানের জান পরানের পরান আম্মু। কারন একটাই বিগত ঘন্টা খানেক থেকে তিনি কেঁদেই চলেছেন। তার কান্নার একমাএ কারন আমি। আমার হাতের কামড়ের দাগ আর রক্ত দেখেই তিনি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেই চলেছে। তার কান্না দেখে আমার মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।

তাই তিনি পৃথিবী কাঁপিয়ে একমাএ কন্যার জন্যে বিলাপ করছে। আশ্চর্য তো আমি তো ঠিক আছি। তবুও কান্নার দরকার কিআমার সামনে বসে আছে আব্বু তিনি অতি মনযোগ দিয়ে আমার হাতে স্যাভলন লাগাছে আর গম্ভীর মুখ করে বসে আছে।

পাশেই ভাইয়া ব্যান্ডেজ নিয়ে দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে দাড়িয়ে আছে। ইশশশ কি ভালোবাসা সবারভাইয়ার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তিনি এবার ব্যাংকিং ছেড়ে ডাক্তারিতে নাম লেখাবেন। আমার সব রাগ শুধু আযমান ভাইয়াকে নিয়েকিন্তু বাসায় ওনার নামে কিছু বলা মনে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারাওনার নামে কিছু বললে তো এই ভালোবাসা গুলো আমার রুমের পশ্চিমের জানালা দিয়ে পালাবেআমার আব্বু এবার নিজে গম্ভীর ভাব নামিয়ে করুন ভাব করে আদুরে গলায় বলে উঠে,

আমার আম্মুকে কে এভাবে কামড়ে দিয়েছে? একবার বল? তাকে আব্বু ভালো করে শায়েস্তা করবো।

আব্বু এমন আদুরে গলার কথা শুনে আমার চোখ বেহায়ার মত পানি ফেলা শুরু করে। আর গলাটাও ভ্যাঁ ভ্যাঁ শব্দ করে উঠেআমি এখন আম্মুর মতই বিলাপ দিয়ে কাদঁছি আমাকে দেখে মনে হবে কেউ আমার গর্দান নিতে এসেছে তাই আমি এভাবে কাদঁছিআমার কান্না দেখে ভাইয়া করুন সুরে বলে উঠে,

এই হায়াত এভাবে বাচ্চাদের মত কান্নার কি আছেএত বড় হয়েছিসস এখনো কান্নার নিয়ম বদলালি নাসে ছোটবেলার মতই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্নাজুড়ে দিয়েছিসসভার্সিটিতে তো টিকে গেলি সাথে এই কান্নাকেও টিকিয়ে রাখলি।

আমি যানি ভাইয়া আমাকে চেতাতেই এমন আজাইরা প্রলেপ বকছে যাতে আমি রেগে গিয়ে কান্না অপ করে দিকিন্তু এবার আমি এমন কিছুই করলাম না শুধু কান্নাজড়িত কন্ঠে

আব্বু। (বলে এক চিৎকার করে উঠলাম)

আব্বু ভাইয়াকে ধমক দিয়ে বলে উঠে, আজিম চুপ করবি

আব্বু আমাকে আবারো বলে উঠে, বল আম্মু কিভাবে এই কামড়টা খেলে? কোন বাচ্চা কি তোমাকে কামড়ে দিয়েছে?

আমি এবার নিজের মাথাটা খরগোশের মত বের করে যেই বলতে যাব ওমনি পিছন থেকে একটা কন্ঠ ভেসে আসে

আঙ্কেল তোমার খুকি দেখি এখনো বড় হল না বিড়াল ছানার মত এখনো কাদেঁ শুধু তফাত ওরা ম্যাউ ম্যাউ করে আর আয়ু ভ্যাঁ ভ্যাঁ

রাগে আমি তড়াত করে পিছনে তাকাতেই থ হয়ে গেছিআযমান ভাইকে আজ তিন বছর পরে দিখছি ইশশশ কি সুন্দর হয়ে গেছে ওনিআগে ছিল সাদা বান্দর সাথে এখন লাল টাও যোগ হলখয়েরী রং এর শার্টাতে কি মারাত্মক লাগছেসাথে কালো পেন্ট পরেছে টাকনির উপড়েগালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি তুর্কি নায়কদের মত চুলওনি দরোজার সাথে ঠেসস দিয়ে বুকে হাত ভাজঁ করে দাঁড়িয়ে আছেলাল লাল ঠোঁটজোড়ায় হালকা হাসি ঝুলে আছে ভালো করে না দেখলে মনে হবে তিনি হাসছেই নাছিই কি ভাবছি এগুলো যতই সুন্দর হক আমার বাপের কি?

নিশ্চুই আমার বারোটা বাজাতে এসেছে। ওনি হঠাৎ সটাং করে দাড়িয়ে হাটতে হাটতে আম্মুর কাছে এসে মাথাটা উচু করে পা ধরে সালাম করলেনব্যাপারটা একটু অবাক হওয়ার ওনি মনে হয় আব্বুর কাছ থেকেই এই নিয়ম শিখেছেএবার আব্বু একজন বৃদ্ধাকে এভাবে সালাম করেছিলেন আমি তাকে জিগ্যেস করায় বলে ছিলেন

ওরা আগে কার দিনের মানুষ। পা ধরে সালাম করলে নিজেদেরকে অধিক সম্মানিত মনে করেআর মাথা উঁচু করার মানে আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত না করা

আম্মুর বিলাপ এখন বন্ধ। সাথে ভাইয়ার পকপকানি আর আব্বুর গম্ভীরতা। যাই হক ওনি সবার সাথেই কত হেসে হেসেঁ কথা বলে আমার বেলায় যত সবএকি সবাই আমাকে বাঘের খাঁচায় রেখে চলে গেল? আল্লাহতাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে নতুন জামাইকে মেয়ের ঘরে রেখে যাচ্ছে আযমান ভাই এবার আমার বিছানায় বসে পরেআমিও উঠতে যাব ওনি আমার হাত ধরে বসিয়ে দিলেনআমার কামড়ান হাত তার কোলে রেখে খুব যত্নের সাথে পাশে থাকা টিসু দিয়ে আমার হাতে লাগান আব্বুর স্যাভলন গুলো মুছতে শুরু করে। আশ্চর্য আমার একটুও ব্যথা লাগছে না।

প্রতিবারের মত এবারো তার চোখ নিচের দিকে। তিনি খুব মনযোগ দিয়ে কাজটা করছে। দেখে মনে হচ্ছে এটার চাইতে মহা মূল্যবান কাজ তার জিবনে আর একটাও নেই। সে নরমালি আমার দিকে তাকায় না যে দিন তাকিয়ে ছিলল তারপর থেকেই ওনি গায়েব

আমি তখন দশম শ্রেণির স্টুডেন্ট ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল আমি শাওয়ার নিয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে চুল শুকাছিলামহঠাৎ বৃষ্টি থেমে গেল আবার রোদও উঠে গেল। রোদের সোনালি কিরন বারান্দা দিয়ে আমার গায়ে পরা শুরু করে ইশশশ কি সুন্দর প্রকৃতির খেলা। হঠাৎ পিছনে কে ডেকে উঠে আয়ু।

আমি আমার ভিজাঁ চুলগুলো ঠাসস করে পিছনে মেলা দিয়ে তার দিকে ফিরে তাকাতে অবাক হলাম ওনি ভিঁজে প্রায় হাবড়ু জাবরু হয়ে আছেতার চুলগুলো ভিজেঁ একাকার অবস্থা সাথে টপটপ করে পানিও পরছেকিন্তু আমাকে দেখে তার হাসি হাসি মুখ হঠাৎই কেমন যেন হয়ে গেল আমি আজও এর মানে খুজে পেলাম না তার চোখগুলোর রংও পালটে গেলওনি ধীর পায়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন নিজের কাপাঁ কাপাঁ হাতে আমার গালের এক পাশে এসে পড়া ভিজাঁ চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিললতার ভাব দেখে মনে হয়েছে তিনি এই মুহূর্তে এক আশ্চর্য জনক জিনিসস আবিষ্কার করেছে।

যা দেখে নিজেই হতবাক হয়ে গেছেতার চোখে কেমন যানি নেশা ছিললতা আমি তখনও বুঝলাম না আর এখনো বুঝি না কিন্তু কিসের সেই নেশা তা আমি আজও যানি নাতারপরে ওনি ওনার ডান হাতটা আমার বাম গালে রেখে তার তাকানো অব্বাহত রেখে ছিলেনহাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল দিয়ে ক্রমাগত আমার গালে স্লাইড করেই চলেছেনকিন্তু কেনতা যানা নেইওনি যখনই ওনার কাপাঁ কাপাঁ বাম হাত আমার কোমরে রাখতে যাবে সাথে সাথে ওনি চোখ জোড়া বুঝে হুরহুর করে যে দিক দিয়ে এসেছিলেন।

সে দিকে হাটা ধরলেনআমি শুধু হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে ছিলামআমি স্পষ্ট দেখে ছিলাম সেদিনের তার ঘামে একাকার হাওয়া কপাল আর লাল হওয়া গাল টা ওটা যে বৃষ্টির পানি না তা আমার জানা ছিললসেদিনের পর থেকেই আযমান ভাইয়া গায়েব হয়ে গেছে

কি আশ্চর্য ব্যাপার আমার চোখ কে বাধল? কাল্পনিক দুনিয়া থেকে এসেই আমি বুঝতে পারলাম কেউ আমার চোখে কাপড় দিয়ে বেধে দিয়েছেআমি আরো অবাক হচ্ছি এটা ভেবে কেউ আমার ব্যথার হাতটা তার গালে ঘোঁষছেএটা যে আযমান ভাইয়া তা আমি বেশ বুঝতে পারছিতার খোঁচা খোঁচা দাড়ি আমার হাতে লাগছেব্যান্ডেজও করে দিয়েছে এই খানিক সময়ে বুঝা যাচ্ছে কারন তার খোঁচা খোঁচা দাড়ি আমার হাতের কিছু অংশে লাগছে না। কিন্তু আমার চোখ কেন বেধে রেখেছে? আমি যেই কিছু বলতে যাব তখনই হাতের বাহুতে পিন ডুকার ব্যথা অনুভব হলআমি তো আউচুচচচচচু করে চিৎকার করে উঠলাম।

সাথে সাথে কানে কিছু হাসির শব্দ এলআমি তাড়াতাড়ি নিজের চোখের কাপড় সরাতেই দেখলাম আম্মু আব্বু আর ভাইয়া মিটমিট করে হাসছেএবার আমার প্রচণ্ড রাগ লাগছেআযমান ভাইয়া ভালো করেই যানে আমি ইনজেকশন দিতে ভয় পাই তাই এই কান্ড আমি রাগি চোখে আযমান ভাইয়ার দিকে তাকাতেই দেখি ওনি ইনজেকশনটা যে পেকেট থেকে নিয়েছিলেন সেখানে রাখছে আর মিটমিট করে হাসছেরাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছেওনি যে ডাক্তারের মত ইনজেকশন দিতে পারে তা আমার বহু আগেই জানা আছেওনি এবার আমার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে চিৎকার করে ময়না মনে কাজের মেয়েটাকে ডেকে উঠেময়নাও হাজিরএবার ওনি ঘুড়ে বলে উঠে,

ময়না কেমন আছিসস?

ভালো ভাইয়া।

যা তোর আপুমনির জন্যে এক মগ গরম কফি নিয়ে আশিস সাথে কিছু ফলআর এইগুলো ফেলে দিসস। (হাতের ইনজেকশনের পেকেটা দেখিয়ে)

আমি প্রচণ্ড ভাবে আশ্চর্য হয়ে আছি। এই লোক করতে কি চাচ্ছে। ময়না সব এনে হাজির করে। বাসার সবাই অতি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেআমার তো মন চাচ্ছে সবাইকে ঝাড়ি দিয়ে রুম থেকে বের করে দিএকটা বাহিরের ছেলে নিজেদের মেয়ের উপড় জোড় খাটাছে আর তারা কিনা আরামছে তা দেখছেঅসজ্জকরআযমান ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে একটা একটা করে ফলের টুকরো মুখে পুরেই চলেছে আমি বেচারি কিছুই বলতে পারছি না আম্মু আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছেতার চোখের ভাষা আমি বুঝতে পারছিসে বলতে চাচ্ছে না খেলে মাইর খাবিকি আর করার আমি ফল গিলেই চলেছিমনে হচ্ছে আমি গরু আর ওনি আমাকে ঘাসস খাওয়াচ্ছে।

ফালতুআমি এবার নিজের সব দৃষ্টি আযমান ভাইয়ার দিকে ডেলে দিলাম। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে একটা বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে। তাও এক কি দুই বছরের বাচ্চাকে পান থেকে চুন ঘঁষলেই বাচ্চাটা ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এত যত্ন কোথেকে আসছে আর এত আদুরে ভাবই কোথায় পেল আল্লাহ যানে। কি আদুরে ভাবে আপেলের টুকরোটা মুখে পুরে দিচ্ছে। ইশশশশ আমি তো মনে হয় ক্রাশ খামু। কিন্তু না এটা হতে পারে নাআমি আর ক্রাশ ইম্পসিবল

আয়ু কফি খেয়ে নেওও

আমি যত ওনাকে দেখছি তত অবাক হচ্ছি। আগের ওনার সাথে এখনকার ওনার কোনো মিল নেইএখনকার আযমান এত যত্নবান কি করে হলআমি বাদ্ধ মেয়ের মত কফির মগে চুমুক দিচ্ছি আর ওনি মগের দিকে তাকিয়ে আছেঅদ্ভুতকফি শেষ করতেই ওনি আমার দিকে কতগুলো ঔষুধ বাড়িয়ে দিলেন। আমার তো দেখেই বমি বমি পাচ্ছে। আমি নাক মুখ খিঁচে বলে উঠলাম,

ছিইআমি খাবো না।

এই এভাবে মুখ খিঁচবেনা। টুপ করে চুমু দিয়ে দিলে পরে আমার দোষ নেই

আমি হতভম্ভ এটা কি শুনলাম আযমান ভাইয়ের মুখে এমন আজগোবি কথা শুনতে হবে জীবনেও ভাবি নিভাগ্যিস বাসার সবাই রুম থেকে আগেই চলে গেছেতা না হলে এগুলো শুনেই টাশকি খেতআমি বড় বড় চোখ করে আযমান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। আর ওনি ভাবলেশহীন ভাবে হাতের ঔষুধ নাড়াচাড়া করছে। তাকে দেখে এখন একদম সাধু বাবা মনে হচ্ছে যে কিনা ভাজা মাছও উল্টে খেতে পারে নাআমার এমন চেহারা দেখেই ওনি বলে উঠে,

এই তিন বছরে তুমি খুব সুন্দর হয়ে গেছ আয়ু।

আর আবাক হতে পারছিনা। আল্লাহ দোড়ি দেও আমি আর এখানে থাকতে চাইনা কি বলছে ওনিতার এবারের কথা শুনে আমার মুখ হা হয়ে গেছেআর এই সুযোগেরও ওনি সৎ ব্যবহার করে গালগুলো চেপে ঔষুধ ডুকিয়ে দেয়সাথে সাথে আবার পানিও মুখে ধরেঔষুধ গিলতে বহুত কষ্ট হয়েছে। ঔষুধ গিলে আমি চোখবুজেই আছি। কি ভয়ঙ্কর একটা জিনিসসছিইওয়াকককহঠাৎ ঠোঁটে কার স্পর্শেই আমি চমকে তাকাতেই দেখি তিন বছর আগের সেই নেশা ভরা চোখ দুটো। আযমান ভাইয়া কেমন যেন করে তাকিয়ে আছে আর তার বৃদ্ধা আঙ্গুলটা আমার ঠোঁটের উপড় আঙ্গুল নাড়াতেই আমি কেঁপে কেঁপে উঠছিকি ভয়ঙ্কর ফিলিংস হচ্ছেআল্লাহহহহ্

পর্ব ৩

কাল সারা রাত আমার আর ঘুম হল নাকিভাবে হবে এত ভয়ঙ্কর জিনিসস দেখে তার উপড় ভয়ঙ্কর কথাবার্তা। সকালে ফজর নামাজ পরেই আল্লাহর রহমতে একটু ঘুম আসছিলকিন্তু শালি দিলের বাচ্চা দিলবারকল করে ঘুমটা ভাঙ্গেয়ে দিয়েছেমন তো চায় দিলবার গান দিয়ে এরে নাচাই ফাউলল মাইয়াকল রিসিভ করতেই বলে উঠে,

ওই তুই রেডি হয়েছিসস? আজ কি ওই ভাইয়ার ভয়ে যাবি না।

কে বলেছে যাব না? আবশ্যই যাবএইত আমি রেডি। (আসলে আমি এখনো বিছানায় গড়াগড়ি করছি😜😜বহু বছরের অভ্যাস আমি প্রতিবারই ওকে এমন বলে বলে আগে দাড় করিয়ে রাখি)

তোকে ভালো করে চিনি আমি নিশ্চিত তুই এখনো ঘুমাসসহারামি উঠ আর তাড়াতাড়ি আয় আমি অপেক্ষা করছি

আমি জানতাম ধরা খামু এটা প্রায়াই হয় কিন্তু একটা কথা আছে মানুষ বদলালেও অভ্যাস বদলায় না। আমি রেডি হয়ে প্রচণ্ড দ্রুত না খেয়েই দৌড় দিছি। ভাগ্যিস আম্মু রান্নাঘরে ছিল তা না হতে ডিবাইয়া ডিবাইয়া খাওয়াতো। আমি আসতেই দিলকে বাসার গেটের কাছে দাড়িয়ে থাকতে দেখি। রিকশা আগে থেকেই রেডি করে রেখেছেমেয়েটা ভারি ইন্টেলিজেন্ট
আমি আর দিলল ভার্সিটির গেটের সামনে এসেই অবাক হলাম ভার্সিটির গেটে দুইজন ভাইয়া দাবাং সিনেমার মত বেল্ট নিয়ে তা ক্রমাগত ঘুড়াছে

। কি ভয়ঙ্কর দৃষ্ট কিন্তু কেনআমাদেরকে মারবে নাকি কিছনে ঘুড়তেই দেখলাম কিছু ছেলে দৌড়ে পালাছে। এবার বুঝতে পাড়লামওই ছেলেগুলো নিশ্চুই মেয়েদের ডিস্ট্রেব করে তাই এরা এমন করছিললআমরা হাসি হাসি মুখে কথা বলতে বলতে সামনে এগিয়ে যেতেই ছেলেগুলোর একসাথে বলে উঠে,

ভাই আসসালামু আলাইকুম।

ওয়ালাইকুম আসসালামকিন্তু ভা মানে কি ভাইয়ারা?

তা যানতে হবে না ভাআপনি ক্লাসে যান আশি।

আল্লাহ কি হচ্ছে এগুলো এখন এই ভা এর মানে কিদিল বলে উঠে,

অত ভেবে কাজ নেই চলত এই সব আজাইরা পাবলি।

আমি আর দিল ভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুড়েঘুড়ে দেখছি। কি সুন্দর ক্যাম্পাস। যাকে বলে চোখ ধাঁদা নো টাইপের। কত গাছ পালা আছে। প্রকৃতির প্রেম প্রেম খেলা চলছে মনে হয়। আশেপাশে প্রেমিক প্রেমিকার ভিড় কেউ মাঠে বসে প্রেম করছে তো কেউ দেয়াল ঘেঁষে প্রিয়সির সাথে প্রেম আলাপ করছে কলেজে থাকা কালিন স্যারা বলতপ্রেম করার হলে ভার্সিটিতে গিয়ে করিসসকিন্তু এমন কপাল প্রেম নামের বস্তুটা কিছুতেই আমার ভিতর থেকে আসেনা।

শুধু যে আমার ব্যাপারটা ভুল বলেছি দিলও এই সাবজেক্টে ফেলএত এত প্রপোজাল পাইছি জীবনে বলার বাহিরে কিন্তু সব গুলোই প্রপোজ করে গায়েব। মনে হয় কেউ কঠিন ভাবে প্রতিজ্ঞা করেছে আমাকে প্রেম করতে দিবে না। আহহহু কি কষ্ট!

সকাল সকাল কেন্টিনে বসে থাকার কোন ইচ্ছেই আমার ছিল না কিন্তু কি আর করার কপাল সবই কপালএকটা ভাইয়া বলেছে কেউ অতি গুরুত্বের সাথে আমাকে এখানে আসতে বলেছে কিন্তু আসল কথা হল আমি তো নতুন তবে কে এভাবে আমাকে ইনভাইট করে কেন্টিনে আসতে বলবেঅসজ্জকর আমি আর দিল একটা টেবিলে বসে আছি হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় গতিতে একটা ছেলে এসে টেবিলের কোনার চেয়ারে বসে পরে। হাপাতে হাপাতে বলে উঠে,

সরি ভাএকটু দেরি হয়ে গেছেভাইকে বলবেন না। তা না হলে কপালে শনি আছেআর আমার নাম নিলয়আপনি শর্ট করে নীলও ডাকতে পারেনএগুলো আপনার খাবার আর এগুলো ঔষুধ সাথে পানির বৌতল বৌতলটা কিন্তু ভাইয়ের ওনি বাসা থেকে নিয়ে এসেছেআপনাকে বলেছে বাহিরের পানি পান না করতেআর আর ওওও কি যেন বলেছেদাড়ান ভা মনে করে নিওওও মনে পড়েছে ভাই বলেছে এগুলো কিছু যদি নষ্ট করেন বা ফেলে দেন তবে আপনার কপালে নাকি ঘূর্ণায়মান গতিতে ঘূর্ণিঝড় আছে। সো ভা ভালোয় ভালোয় খেয়ে নিন আশি।

আমি তো হাবার মত তাকিয়ে আছি। ছেলেটা যে দিক দিয়ে এসেছে সে দিক দিয়েই এক বিশাল দৌড়কি হলআমি এখন এই বিচ্ছিড়িঔষুধ খাবো না ওয়াকককনা কিছু তেই খাবো না। নিজেই কামড়ে অসুস্থ করেছে এখন ঔষুধ খাওয়াতে আসছে। যে দোষ করেছে তাকেইত শাস্তি পেতে হয় তবে আমার বেলাই কেন উল্টা।

ভাই দিলল এই আযমান ভাইয়া এখানে কেন এবং কিভাবে এসেছে একটু বলবি।। (আমি চিৎকার করে বলে উঠি)

দেখ আযমান ভাইয়ার বাবা কিন্তু দেশের সেরা বিজন্যাস ম্যান সো ওনিও কিন্তু বিজন্যাস করবে তাহলে তো ওনাকে এগুলো সম্পর্কে জানতে হবে তাই মনে হয় আইবিএতে কোর্স করতে এসেছে আর ওনি তো সচিবের ছেলে তাই ভর্তি হওয়া কোনো বড় ব্যাপার না। এই সামান্য ব্যাপারটা তোর মাথায় কেন ডুকছেনা।

ওনি যে একটা গাধা এটার প্রমান হচ্ছে এটাআরে যদি বিজন্যাস ম্যানই হওয়ার থাকে তবে কে বলেছে বুয়েটে পড়তেকচু আগে জানলে এখানে ভর্তি হতাম না। এখন এই ঔষুধের কি হবে

আমার প্রচুর কান্না পাচ্ছে যা আমার পছন্দ না তাই কেন আমার সাথে হয় খাবার গুলো প্রচণ্ড বিদঘুটে ফলমূল, কেক, জুস, স্যান্ডুইচ, এত এত পুষ্টি আমি কোই রাখিখাব না দেখি কি হয়আমি পেকেট গুলো সরিয়ে রাখতেই একটা ছোট ছেলে এসে হাজির হয়ছেলেটা ক্যান্টিনে কাজ করে।

ছেলেটার হাতে একটা ট্রে তার উপড়ে খুব সুন্দর একটা সাদা গোলাপ সাথে একটা কাগজ ভাজঁ করাছিলেটা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ট্রেটা রেখে চলে যায়। আমি আর দিল নিজেদের দিকে কিছুক্ষণ চাওয়া চায়ি করে কাগজটা ভাজ থেকে খুলতে শুরু করি তারপর পড়া ধরি

আয়ু যদি টেবিলের খাবার পেকেট প্লাসস ঔষুধের পেকেট খালি না হয় তবে তোমার কপালে কি আছে আই ডোন্ট নোবট আই আল সো নো দেট ইউ নো দেট বেটার ফর মিআন্টিকে ধোকা দিয়ে বাসা থেকে চোরের মত বেরিয়ে এসেছ আর আমার দেওয়া খাবারও খাও নি যদি ওনাকে এটা বলি তবে কি হবে? ইউ নো দেট বেটারআর আইসক্রিম আছে তোমার জন্যে ওটা গিফট এবার বিড়াল ছানার মত কাচুমাচু না করে খাও

এই লোকটাকে ত আমি খুন করমুকচু এখন যদি না খাই নিশ্চিত আম্মুর কাছে বলে দিবে আর বিনিময়ে আমি কিছু ঝাড়ি খাবআমি খাওয়া শুরু করলাম বাট বেশির ভাগ দিলের মুখে ডুকিয়ে দিলাম। কিন্তু ঔষুধটা খেতে বারোটা বেজে গেছে। একদম গলায় বেজে গেছে। ইশশশ কি যে ব্যথা গলাটাসব ওই আসাবার জন্যে হইছেদিলের অনেক দিনের ইচ্ছে আসাবার মানে যানবে আজকে এই শর্তের বিনিময়ে ও আমাকে খাবার খেতে স্পেশাল ভাবে সাহায্য করেছেআজকে তাকে বলতেই হবে যে কোন মুল্যে

বল আসাবার মনে? সব খাওয়া শেষএবার বলার পালাবল

দাড়া। (আমি উকি ঝুঁকি দিয়ে চারিপাশ দেখে বলে উঠে)আযমান সাদা বান্দরহি! হি!

দিল হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সে ভাবতেও পারে নি আমি এমন একটা কথা বলব। কিন্তু কি আর করার আছে ওনার জন্যে এটাই বেস্ট নামআবুল একটাএই নামে ত আমি ওনার সামনেই ওনারে বকি বাট বেচারা বুঝতে পারে না! হি! হি! কেউ একজন বলেছে একজন পুুরুষ কেম তা যানতে হলে তার বউকে জিগ্যেস করতে কারন বউ এর চাইতে নাকি ভালোভাবে আর কেউ সঠিক ইনফরমেশন দিতে পারবে না। কিন্তু আমি বলবআযমান ভাইয়ার সম্পর্কে জানতে হলে আমাকে জিগ্যেস করেনওনি যে কি তা আমার চাইতে ভালো ওনার বউও যানবে নাফাজিললল ছেলে একটা

ক্লাস শেষ আজকে তেমন ক্লাসস হয় নি। নবীন বরন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু দিন পরেই নবীন বরন। মাঠে সবাই গোল হয়ে কারো গান শুনছে। দূর থেকে গায়কের গলা চিনা যাচ্ছে না। কিন্তু কি আর করার আমরা একটু এগিয়ে গিয়ে শুনতেই বুঝতে পেরেছি আযমার ভাইয়ার গলা। ওনার বেস্ট কিছু গুনের মধ্যে এটা অন্যতম ওনার গলার ভয়েস সেই লেভেলের সুন্দর।

গানটাও সুন্দর হাম সাফারশুনেই মনে হচ্ছে প্রিয়তমার জন্যে মন উজাড় করে গাইছে। তার গান বেশিক্ষণ শুনতে পারলাম না তার আগেই কিছু আপু টানতে টানতে আমাদেরকে একদম খোলামেলা জায়গায় নিয়ে এসেছে। আমি তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছিআপু গুলোর মধ্যে একজন বলে উঠ

তুমি কি আযমান ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড

আশ্চর্য আমি কেন তার গার্লফ্রেন্ড হবআমি তকে বলে উঠি আমি ওনার গার্লফ্রেন্ড না আপু

না হলেই ভালো ও সুধু আমার

এই তার মানে কি? ও আমার। (পাশের একজন বলে উঠে)

এই ওকি তোদেরকে বলেছে তোদের ও তো আমার

আমি তো তোদের কারোকেই ওকে দি নি তবে তোদের কি করে হলল

আল্লাহ এই মেয়েগুলো পাগল নাকিআমি চোখ বড় বড় করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দিলের হাত ধরে এক দৌড়। মেয়েগুলো একজনের সাথে আর একজন চুল ছিঁড়াছিঁড়ি টাইপের অবস্থা।

একজনের জন্যে এত এত মেয়ে পাগল। ভাবা যায়? কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। ওনার জন্যে শুধু ভার্সিটি কেন স্কুল কলেজের মেয়েরাও পাগল ছিল। আমাকে একদিন আমার স্কুলে দিয়ে এসেছিল কম করে হলেও ২০~ ২৫টা মেয়ে আমাকে লাভ লেটার ধরিয়ে দিয়েছে। ওনাকে দেওয়ার জন্যে। আমি যখন ওনার হাতে চিঠি গুলো দিলাম। ওনি সব একসাথে আগুনে পুরিয়ে দিয়ে বলেছিলেনতার বউ থাকতে অন্যের লাভ লেটার সে পরবে না।

তার বউ যখন বড় হবে তখন নাকি তাকে লাভ লেটার লিখবে আর তা ওনি মনের মাধুড়ি মিশিয়ে পড়বে। যত সব। ওই বউ আর আমার চোখে পরলো না। না ভুল বললাম ওনার বউ তো সামনে ওনাকে জাপ্টে আছে। এই মেয়ে এখানেও হাজিরআল্লাহ মাফ করো। এই যে কি ভয়ঙ্কর বস্তু না শুনলে যানা যাবে না। এই মেয়ে আযমান ভাইয়া বলতে অজ্ঞান। আমার সামনে দাড়িয়ে আছে আযমান ভাই। আর তাকে জাপ্টে ধরে আছে ঝুলন্ত ডোঙ্গিমানে মালিহা। এই মেয়েটা আযমান ভাইয়ের ফুপাতো বোন। আযমান ভাইয়া যেখানে এই মেয়েও সেখানে। তবে ও আগে থেকেই এখানে পড়ে শুনেছি।

বয়সে আমার চার বছরের বড়। কিন্তু কোন এক ভয়ঙ্কর কারনে সে আমাকে প্রচণ্ড ভাবে অপছন্দ করেএক কথায় সি হেটস্ মিছোট থেকেই সে আমাকে অপছন্দ করেএকবার আমাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়ে মাথা পাটিয়ে দিয়ে ছিলল। আমি তখন ছয় বছরের শিশু। তার বিনিময়ে আযমান ভাইয়াও ওকে ধাক্কা মেরে মাথা পাটিয়ে ছিলেন। হি! হি!। আযমান ভাইয়া যখনই এই ঝুলন্ত ডোঙ্গিরে শায়েস্তা করত তখন আমার ওনাকে সেই লাগত। এই ঝুলন্ত ডোঙ্গি যখনই আমাকে ব্যথা দিত আযমান ভাইয়াও ওকে ব্যথা দিয়ে তা শোধবোধ করে দিতওই একটা কারনে ওনি মাঝে মাঝে আমার প্রিয় জায়গা গুলোতে থাকে।

আযমান ভাইয়া মালিহা আপুকে এক টানে সরিয়ে দিলেন। কি অদ্ভুত কান্ড ভাবা যায়। ওনি এক পা এক পা করে আমার দিকে কেন আগাচ্ছে ভয়ে ত আমার গলাটা শুকিয়ে যায় যায়। আল্লাহ বাচাও। থাপ্পড় দিবে না তো। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে আছি মাঠের মাঝ খানে।

ওনি মুচকি হাসছে। এত হাসি পাচ্ছে কেন? কে যানে। কিন্তু আমার এখন ভয়ে দৌড়ে পালাতে ইচ্ছে করছে। আচ্ছা ওনিকি দেখেছে আমি যে দিলকে খাবার গুলো খাইয়েছি? নাকি ওনাকে দেওয়া সেই নাম শুনে ফেলেছে? এমন কিছু হলে আমার রেহায় নেইওনি এবার আমার সামনে বরাবর এসে আমাকে বলে উঠে,

খাবার খেতে এত চালাকি এপ্লাই করা কে শিখিয়েছে তোমায় আয়ুকিভাবে পার? তুমি যে কি তা আমি জানিচল বাসায় দিয়ে আসিতুমি অসুস্থ এখন ভার্সিটি না আসলেও চলবেএভাবে তাকিয়ে থাকার মানে কি? আমি কি বান্দর না কি যে খামছে দিব? (ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠে)

আমি বেচারি ভালো ভাবে ফেসে গেছি ওনি সব শুনে ফেলেছে এখন কি হবে আল্লাহ

ওই আযমান এই তোর সেই পরী?

কথাটা পিছন থেকে এসেছে। আমি তড়াত করে তাকাতেই শিহরিত ভাইয়া এখানে কেন? আর কি যাতা বলছেআমি প্রচণ্ড বিস্মিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে ভাইয়া এবার আমাদের সামনে এসে বলে উঠে,

তুমি তো সত্যিই পরীর মতলিটেল পরীতো কিউটি কেমন আছআযমান ঠিকিই বলেছে। তুমি কিন্তু হুর পরীর মত গল্মুসস টাইপের

ভাইয়া এগুলো কেমন কথা। তুমি এভাবে কথা বলছ কেন? আর আমাকে তুমি কেন বলছ? আশ্চর্য ত। (রাগি চোখে তাকিয়ে বলে উঠে)

আয়ু ওর নাম সারফারাজ আমার বন্ধু। দেখতে আজিম ভাইয়ের মতপৃথিবীতে এক রকমের সাত জন মানুষ হয় এটা তুমি জানো না? এটাই তার প্রমাম
আমি এখনও তাকিয়ে আছিবিশ্বাসই হচ্ছে না এটা আজিম ভাইয়া না। কত মিল দুজনের চেহারায়। এতটা বুঝি মিলে? না এমন ত হওয়ার কথা নাআমি বুঝতে পারচ্ছি ওনি আনইজি ফিল করছে। কিন্তু আমার তো চোখই সরছে না। আযমান ভাইয়ার দিকে না তাকিয়েই বুঝতে পারছি ওনি প্রচণ্ড বিরক্ত আমার এমন পালক বিহিন তাকানতে। কিন্তু আমি কি করব এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না ওনি আমার ভাই আজিম নাপৃথিবীর সব অদ্ভুত কান্ড আমার সাথেই হতে হয় নাকিআজিব

পর্ব ৪

আমি উষ্ণতার জোয়াড়ে ভাসছিহ্যাঁ এমনটাই মনে হচ্ছে আমার মনে হচ্ছে কেউ তার উষ্ণ হৃদয়ে আমাকে জায়গা দিয়েছেসাথে তার ধাকধাক সাউন্ড শুনার একমাএ অধিকারকিন্তু কেচোখ খুলতে ইচ্ছে করছে না।

ভালোই লাগছেঅন্যরকম এক ফিলিংস আমার যত দূর মনে আছেআমি ভার্সিটির গেট দিয়ে বের হতেই আযমান ভাইয়া আমাকে টেনে তার গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে ছিলতারপর আর কিছু মনে নেইখুব ঘুম পাছিললবাকিটা জানা নেইকিন্তু এখন মনে হচ্ছে কোন নিরাপদ স্থানেই আছিচোখ না খুলে বুঝব কি ভাবে? কিন্তু চোখ খুলতেও ইচ্ছে করছে না। আমি মিটিমিটি করে চোখ খুলতেই একটি সাদা গলা দেখতে পাচ্ছিবিস্মিত ভাব নিয়ে একটু উপড়ে তাকাতেই আবাক আযমান ভাইয়া মনের সুখে সিটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে।

আর আমি তার বুকের সাথে লেগে আছি। তার একটা হাত আমার মাথা চেপে আছে তার বুকের সাথে লাগিয়ে আর একটা আমার কোমড় জড়িয়েকি ভয়ঙ্কর দৃশ্য ভাবা যায়? আমি তাকিয়ে আছি আযমান ভাইয়ার ঘুমন্ত মুখের দিকেকি আরামছে ঘুমাচ্ছে গাড়ির সিটে বসে এমন আরামের ঘুম আসা মোটেও সহজ কথা না। আমাকে ওনি একদম নাদুস নুদুস বাচ্চার মত জড়িয়ে আছে। পৃথিবীতে বাবা আর ভাইয়া বাদে এই একটা লোক আমাকে এভাবে ধরলেও আমার খারাপ লাগে না। কিন্তু কেন তা যানা নেই।

মনে হয় তার সাথে আমার সম্পর্কটা জন্ম থেকে যা অতিব মাএায় পবিএ। আসলে আমাদের কি সম্পর্ক একের সাথে অপরের আমার জানা নেইতবে তা বহু গভীরআমি তো কখনই সে সম্পর্কের সম্পর্কে জানার জন্যে অনুসন্ধান করিনিআসলে কি করা প্রয়োজন? জানি না।

আমি গভীর মনযোগ দিয়ে ওনাকে দেখছিতার এই ঘুমন্ত মুখ আমাকে প্রচণ্ড ভাবে মুগ্ধ করছেকি সুন্দর করে সে ঘুমাচ্ছে আর তার লাল লাল ঠোঁট জোড়া হালকা প্রশারিত হয়ে আছে। গাল গুলো লাল হয়ে আছেএমনটা আমারও হয় যখন রোদে যাই, লজ্জা পাই বা অনেক ভয় পাইকিন্তু আযমান ভাইয়ার কেন এমন হচ্ছে? সে ত এখন এই তিনটার একটাও ফিল করছে না।

ঘুমের মানুষই প্রকৃত সুন্দর শুনেছিআসলেই কি তাই? এখন ত মনে হচ্ছে তাই। আমি এক দৃষ্টিতে এই সুন্দর পুুরুষকে পর্যবেক্ষন করছি। আমার কি এটা করা উচিত? না ত। এটা তো একান্ত তার বউয়ের অধিকার। তবে কেন সে এই বুকে আমাকে জায়গা দিয়েছে? জানি না। পৃথিবী বড়ই বিচিএ। এর বেশির ভাগ জিনিসই অজানা। আমি এবার তার থেকে চোখ সরিয়ে আবার তার বুক ঘেঁষে মাথাটা এলিয়ে দিতেই একটা কন্ঠ ভেসে আসে কানে

এত তাড়াতাড়ি পর্যবেক্ষণ শেষ? আমি তো ভেবেছি আজ তুমি আমাকে নিয়ে একটা বই নিশ্চিত লিখবে। কিন্তু তুমি এত অল্প সময় আমাকে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে যে? তবে তো তুমি লিখতে পারবে না। আমি যে বড় রহস্য মই। (ঠোঁটের কোনে রহস্য হাসি দিয়ে)সে যাই হক আসল কথা হল তুমি আমার এমন কোমল বুকে আরামের ঘুম দিতে চাও তাই ত?

তার এমন কথা শুনে আমি প্রচুর লজ্জা নিয়ে চট করে পাশের সিটে চলে যাই। ওনি হাসে। তারপর গাড়ি থেকে নেমে আমার পাশের দরজাটাও খুলে আমাকে বেড়িয়ে আসতে বলে। আমিও আশি। ওনি রাস্তার পাশে গাড়ি দাড় করিয়ে রেখে ছিলল। আমি অবাক হয়ে আশপাশ দেখছি। দুপাশে সবুজ গাছ পালা। সামনে কিছু দোকান। আর তেমন কিছু নেই।

হালকা হালকা বৃষ্টি পরছে। আকাশে মেঘের খেলা তারা আগাম জানাচ্ছে এখনই ঝুম বৃষ্টি নামবে। পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে। আর এই পরিবেশে ওনি গাড়ি কেন থামিয়েছে কে জানে। ওনি আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলে উঠে,

নিজের জিনিসস কেউ নিজে চুরি করে না। ডোন্ট ওয়ারি চা খাবে। ওও তুমি ত চা খাও না। আমি বরং খাবো। তুমি দেখবে

আমরা কি চা খেতে এসেছি?

না গল্প করতে। একটু ঘুড়তেএকটু অনুভতি আদানপ্রদান করতেআর একটুথাক পরে বলবভয় নেই নিজের জিনিসস কেউ চুরি করে না। যানো ত? এভাবে তাকাবেনাকেমন কেমন যানি লাগেযেমন আদর আদরহা! হা! দাড়াও চা নিয়ে আসি

আপনি ত কখনো আমার সাথে গল্প করতেন না। তবে আজ কেন? (ভ্রু কুচকে বলে উঠি)

তখন ত ছোট ছিলে আমার গল্প তোমাকে ভাবাত না। কিন্তু এখন আমার গল্পগুলো তোমার মনে অনুভুতি জাগাবে। যে অনুভুতি শুধু আমাকে ঘিড়ে হবেশুধুই আমি

চলে গেলআজিব সব কাজ কারবার। ওনার প্রতি আমার অনুভুতি দিয়ে কি করবে ওনি? কি সুন্দর কথা বলে ওনিআগেত এমন বলতনা। সব সময় কেমন যেন রাগিরাগি থাকত। আর ধমক দিত। কিন্তু এখন কেমন যানি করে বলে। কেমন মাতালতা তার ভাষায়। আমি তো কখনো মদ খাইনি তবে মনে হয় মদের মাদকতা এটার চাইতেও কম। কথা দিয়ে ঘায়েল করছে নাকি? আমি কি তার প্রেমে পড়ছি? কিন্তু এমনটা হওয়া উচিত না।

প্রেম বড্ড আজব রোগ আমি শুনেছি হলে নাকি খাওয়া দাওয়া, এমনকি কিছুই করতে ইচ্ছে করেনা। এমন ভয়ঙ্কর রোগে না পড়াই ভালো। তার উপড় এই ব্যক্তির মত সুন্দর মানুষের প্রেমেত পড়ারই প্রয়োজন নেই। সুন্দর মানুষে ঘাপলা থাকেসুন্দর মানুষ ভয়ঙ্কর যন্ত্রনার হয়। এদের ভালোবাসা মানে কষ্ট আর কষ্ট। হায়াত ভুলবি না চাঁদেও দাগ থাকে

তাই না কি? কিন্তু সব ত এক না।

চা নিয়ে কখন এলেন?

যখন তুমি ভাবনায় বিভোর ছিলেতুমি যান কৃষ্ণচূড়াও কিন্তু সুন্দর তার সৌন্দর্যে কিন্তু ঘাপলা নেইদেখ সে কত ভালোবাসে তার রংকেসে কিন্তু নিজের সাথে বা নিজের গাছের সাথে প্রতারণা করে না। এমন কি জমিনের সাথেও করে না। সে বাকি ফুলের থেকে বহু গুন আলাদা। সে তার রং ধরে রেখে নিজেকে সাজায় সাথে আবার গাছকেও আর জমিন যে কিনা তার জন্ম স্থান তাকেও কিন্তু সে ভুলে না। আপন রং দিয়ে সে সবাইকে সাজায়।

এর জন্যেইত এই ফুল তোমার সবচাইতে প্রিয় তাই না? আর চাদঁ সে কিন্তু নিজের দাগ নিয়ে মোটেও ভাবে না। তার মন কিন্তু বিশাল। তাইত তোমাকে আমাকে সারা পৃথিবীকে নিজের রূপ, আলো, রং দিয়ে সজ্জিত করে। এটাই তার সৌন্দর্য। এখানে কিন্তু বিন্দু মাএ দাগ নেই। তাই এটা ভুল ধারনা যে সৌন্দর্যে ঘাপলা বা দাগ থাকে।

আপনি কি মনের কথা শুনতে পান নাকি? (অবাক হয়ে)

সবার না। যাকে দিয়েছি তার শুধু

মানে

একজন নিজের মনকে আর একজনের কাছে দিয়ে দিয়েছে। এখন দুটি মন একসাথে থাকে। তাহলে এক মন যদি কিছু ভাবে তবে আর এক মন তা শুনবে এটাই সাভাবিক নয় কি? এত ভাবতে হবে না। এটা নেও আর চল। (হাতের আইসক্রিম গুলো বাড়িয়ে দিয়ে)

একটা হলেই ত চলত দুইটা কেন? আর আমরা কথায় যাব?

তুমি খুব সেল্ফিস তা না হলে শুধু নিজের কথা কেন ভাব? আমি আছি দেখছ না। একটা তোমার আর একটা আমার। বৃষ্টিতে ভিজেঁ আইসক্রিম খেতে মজা তুমিইত বলেছিলে মনে নেই? ওটাই আজ এপ্লাই করবআর আমরা এখন প্রেম করব?

হোয়াট

এই একদম এমন চিৎকার করবে না। আমি তো এমনেই বলছিলাম। চল। আজ তিন বছর পরে আমরা একসাথে কাটাবো। সো হাটঁ

আমি হাবার মত তাকিয়ে আছি। আচ্ছা ওনি কি আমার কৃষ্ণচূড়ার সিক্রেটও জানে? আল্লাহ না জানাই ভালো। ওনার হাতে একটা মাটির চায়ের কাপ। আর গায়ে জ্যাকেট। এই গরমেও ওনি জ্যাকেট পরে। জ্যাকেট ওনার খুব প্রিয়। আন্টি বলেছে তার দুই আলমারিতে শুধু জ্যাকেট আর জ্যাকেট। পৃথিবী যেমন অদ্ভুত তার মানুষগুলো আরো অদ্ভুত। ওনি হাটঁছে। তার দৃষ্টি শূন্যে ভাসছে। বাম হাতে আমার ডান হাতটা আবদ্ধ করে রেখেছে।

একবার চায়ের কাপে চুমুক দেয় তো একবার সামনে তাকায়। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার এতে ওনার কোন নড়চড় নেই। রাস্তায় তেমন মানুষ ছিল না। যা একটু ছিল তারাও ছুটাছুটি করছে। মুহূর্তে পিছঢালা রাস্তাটার রংটাও বদলে গেছে। চারপাশ বৃষ্টির ঝাপটানিতে ঝাপসা হয়ে গেছে। রিনিরিনি বাতাস হচ্ছে। আমার ওড়নাটা উড়াউড়ি করছে। হেজাবও বাতাসে দুলছে। ওড়নাটা ওনার মুখের উপড়ে পরছে। আমি বারবার তা টেনে আনছি আর ওনি হাসছেআশ্চর্য ধূসর রং এর জামাটা ভিজেঁ একাকার অবস্থা।

বৃষ্টি নিজের আপন রংএ আমাদের রাঙাচ্ছে। আমরাও রঙ্গিন হচ্ছি। দুজনেই ভিজেঁ একাকার। কিন্তু এতেও তার আই ডোন্ট ক্যায়ার টাইপের ভাব। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এটা তার জিবনের সেরা সময় চলছে। আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে। বৃষ্টির ফোটাগুলো তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। চুলগুলোতে মনে হচ্ছে শিশির কণা আটকা পরে আছে। তারা আপ্রাণ ছুটছে মুক্তির জন্যে।

মাঝে মাঝে কেউ লাফিয়ে পরছে তার চোখ বেয়ে। হাতের চা টা এখনও সে খাচ্ছে। চায়ের কাপে বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দু আলিঙ্গন করছে। আর ওনি বেশ আয়েশে কাপে চুমুক দিয়ে তাদের সাগতম জানাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে বৃষ্টির পানিতে চায়ের রংও খানিকটা পরিবর্ত হয়েছে। তবুও সে চাটা খাচ্ছে। ইশশশ কি সুন্দর লাগছে তাকে। ভার্সিটির মেয়েরা ওনাকে এভাবে দেখলে আজ পাগলই হয়ে যেত

আমি কাউকে পাগল করতে চাইনা শুধু একজনকে নিজের করে চাই। সে হলেই চলবেআর কিছু লাগবে না

ওনি নিজের প্রিয় জ্যাকেটা আমার গায়ে জড়াতে জড়াতে বলে উঠে, কত যত্নে আমার গায়ে ওনি জ্যাকেটা জড়িয়েছে ইশশশশকেমন কেমন জানি লাগছেএ এক বলতে না পারা ফিলিংস ওপসসআচ্ছা ওনি কি কারো প্রেমে পরেছে? হতেই পারে তবে কার? ভার্সিটির কোন সুন্দরী মেয়ের নাকি ওই মালিহার? জিগ্যেস করি? যেই ভাবা সেই কাজ

আপনি কি কারো প্রেমে পরেছেন?

আমার কথায় ওনি তড়াত করে আমার দিকে তাকায়। তারপর আবার সামনে তাকিয়ে হালকা হেসেঁ বলে উঠে,

হুম পরেছিত।

কার?

সে এক পরীসাদা তোয়ালে পেচিয়ে লাল টুকটুকে পরীইশশ প্রথম দেখাই শেষ হয়েছি

ছিই আপনি তোয়ালে পড়া মেয়েদেরকে দেখেছেন

আমার কথায় ওনি হুহা করে হেসে উঠে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ওনি কিন্তু কখনো এমন হু হা করে হাসে না। তবে আজ ওনার কি হয়েছে। সব অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ করছে। আমি চোখ ফালাফালা করে তাকিয়ে আছি। এই দৃশ্য মিস করা উচিত না। মোবাইল গাড়িতে রেখে এসেছি তা না হলে সবাইকে আমার দেখা অষ্টম আবিষ্কার দেখাতাম। ছেলেদের হাসলে কি এতটাই সুন্দর লাগে? কই ভাইয়াকে ত এত সুন্দর লাগে না। উল্টা ওর ভয়ঙ্কর হাসিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিন্তু ভাইয়ার হাসি ও সুন্দর। তবে এত না। আমাকে এভাবে হা করে থাকতে দেখে বলে উঠে,

হ্যাঁ দেখেছি। তাকে দেখার সম্পূর্ন অধিকার আছে। তাই দেখেছি। যানো ও দেখতে লাল টুকটুকে ছিল। মনে হচ্ছিল সাদার মাঝে এক লাল কৃষ্ণচূড়া। যে নিজের সাথে সাথে আমাকে রাঙ্গাতে এসেছে। ও যখন ওর ডান হাতের তিনটা আঙ্গুল মুখে পুরে দিয়েছিলল কি মায়াবিনী লাগছিলল আমি তা এ জন্মে বুঝাতে পারব না। মৃত্যুর পরে যদি জান্নাত পাই তবে আল্লাহকে বলব।

আবার একবার সরাসরি দেখাতে। আবার একবার তার মায়ায় নিজেকে হারাতে। সে বারবার মুখে হাত দিচ্ছিল আর হামি তুলছিল। ইশশশ কি কিউট লাগছিল। পুরাই কিউটের ডিব্বা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে তখন একবারও নিজের গহিন কালো চোখে লাকালো না। শুধু ঘন পাপড়ি গুলো কুঁচকে চোখ বুঝে ছিললল।

আহারে খুব কষ্ট লেগেছিল বুঝি।

খুব।

এটা একদম ভালো করেনি সে। মোটেও না।

ভুল করেছে তাই না? হুম করেছে তো তাকে শাস্তি দেওয়া উচিতত খুব বেশিতাই না।

আপনি কি তাকে ভালোবাসেন?

কত ক্ষানি বলতে পারবো না। কিন্তু বড্ড বেশি। খুবব খুববব বেশি। (ওনি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে কথাগুলো বলছে। আমার অবুঝ মনের মনে হচ্ছে আমাকেই বলছেইশশশ কত লাকি সে যাকে ওনি এত ভালোবাসে)

ভালোবাসলে তাকে শাস্তি কিভাবে দিবেন? ভালোবাসায় শাস্তির জায়গা নেইআছে শুধু ভালোবাসারতাকে শাস্তি দিলেত আপনার হৃদয়ে ভাঙ্গাচুর হবেব্যাপারটা কি ঠিক হবে?

আমার কথা শুনে ওনি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার চোখ জোড়া চকচক করছে। ওনি হয়ত ভাবতেই পারে নি আমি এমন কিছু বলবসে তার চোখ জোড়া সরিয়ে আবার হেসেঁ উঠে আমার হাতটা আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিজের কাছে টেনে নেয়। আর বলে উঠে,

কখনো কষ্ট দেব না প্রমিসসসসতুমি বড় হয়ে গেছ। খুব বড়

আমি ওনাকে দেখে দেখে হাটঁছি। তার ভালোবাসার কথা শুনে আমার নিজেকে ওই মেয়ের জায়গায় ভাবতে ইচ্ছে করছে। কি অনুভতি নিয়েই না সে বলেছে ওই মেয়ের কথা। তার চোখমুখ কেমন চকচক করছিলল মনে হচ্ছে মেয়েটা তার সামনেই আছেকেন যেন আমার চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। মন বারবার বলছে কেন তুই হলি না ওর জায়গায়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমারটা তো নতুন অনুভতি যা কিছুদিন পরেই গায়েব হয়ে যাবে। কিন্তু তারটা মনে হয় খুব গভীর।

তাই ত এভাবে বলেছে। কিছু অনুভুতি তুষারের মত হয় এদের ধরতে গেলেই পানিতে পরিনত হয়। আমারটা না হয় তেমনই। আমি আবার হাঁটায় মনযোগ দিলাম। একটা বাচ্চা মেয়ে ভিজেঁ চুপচুপ হয়ে কলাপাতা নিয়ে আসছে। কালো বর্নের মেয়ে। কি মায়া তার চোখে। গায়ে ছিঁড়া জামা। কারো হাজার জামা হয় আর কারো একটাও থাকে না। কি কষ্ট না? হুম আল্লাহ সবাইকে কেন সমান সম্পদশালী করলেন না?

তিনিই ভালো যানে। কালো মেয়েদের আমার দাড়ুন লাগে। এদের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে একদম সাদা গোলাপের মত। এদের চোখে থাকে এক মায়ার পৃথিবী চুলগুলো হয় সীমাহীন সুন্দর। এদের গহনা পরালেও আবার সুন্দর লাগে। তবে সবার চোখে না। এদের সৌন্দর্য দেখতে হলে স্পেশাল চোখ লাগে তা হল অন্তরের চোখ। আমার নেই তবুও ভালো লাগে। সাদারা শুধু গা সুন্দর খালাত বোন টাইপের হয়।

যেমন ইংরেজ বান্দর গুলো। মানুষ জাতি কিন্তু আবুল। তা না হলে মনের সৌন্দর্য ছেড়ে চেহারার টা কেন খুঁজে কে যানে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজের গায়ের জ্যাকেটা তাকে পরিয়ে দিলায়। সাথে টুপিটাও মাথায় দিয়ে দিলাম। ওর কপাল ভালো আযমান ভাইয়া আজকে টুপি যুক্ত জ্যাকেট পরেছে ওনি কিন্তু নরমালি এমন পরে না।

মেয়েটা এক বিশাল হাসি দেয়। ইশশশ আল্লাহ কি সুন্দর সে হাসি। সত্যিই আজ ওর হাসিতে হৃদয়ে ভাঙচুর হচ্ছে। আমি ওর গাল টেনে নিজেও হাসলাম। তার চোখ আইসক্রিমের দিকে একবার গেয়েছে। কিন্তু ২য় বার আর সে তার চোখে সে দিকে দিল না। আমি একটা আইসক্রিম দিয়ে দিলাম। মেয়েটা খুশিতে আইসক্রিম নিয়ে জ্যাকেটার ভিতরে ডুকিয়ে নিল। যাতে না ভিজেঁ। আমি আবার হাসলাম। তারপর উঠে দাড়ালাম। বাচ্চাটা টাটা দিয়ে চলে গেছে।

আমি এবার আযমান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ঢোক গিললাম। আমি তাকে না বলে তার জ্যাকেট দিয়ে দিলাম। এখন কি হবে। ওনার দিকে তাকাতে ওনি এক অদ্ভুত হাসি হাসল। যাতে রহস্য রয়েছে। ওনি নিজের হাতের কাপটা এক সাইডে ছুড়ে দিল। তারপর নিজের পকেট থেকে একটা সাদা রুমাল বের করে আমার মাথা চাপিয়ে ধরে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ওনি বলে উঠে,

ঠান্ডা লাগবে মাথায় পানি পরলে। যদিও হালকা পাতলা পানি ডুকেছে তবুও একটু হলেও রুমাল পানি শুষে নিবে। ভালো মানের রুমাল শোষণ ক্ষমতা বেশি। আর জ্যাকেট দিয়েছ তো কি হয়েছে আমরা আমরাইতআমি তুমি মিলে আমরাআইসক্রিম তোমার খাও। (হেসেঁ হেসেঁ)

আমি তাকিয়ে আছি। এত যত্ন কি সে তার ভালোবাসাকে করে। জানি না? জানার দরকারও নেই। এমনেইত ভালো আছিআমি আইসক্রিম খাচ্ছি ওনার একহাত আমার মাথায় আর একহাতে আমার একটা হাত আবদ্ধ করে রেখেছে। নিজেকে কেমন যেন ওনার প্রেমিকা প্রেমিকা লাগছে। ছিইকি সব ভাবছি

আমার প্রেমিকা হওয়ার অধিকার কারো নেই। কারন আমি প্রেমিকায় নয় প্রিয়সিতে বিশ্বাসী বুঝলেআর সে প্রিয়সি আমার আছে। (ওনি হেসেঁ হেসেঁ বলে উঠে, আচ্ছা ওনি সব কথাই কি শুনতে পায়? না ততবে মাঝে মাঝে পায় এখন থেকে মনে মনেও চিন্তা করবো না। অন্যের জামাই নিয়ে এত চিন্তার কি আছে। ওনি আজকে থেকে আমার ভাইয়া শুধু ভাইয়া)

পর্.৫

ঘুমের মাঝেই মনে ইচ্ছে কেউ অতি মনযোগ দিয়ে আমাকে দেখছে। এমনটা মনে হওয়ার কারন আছে কারন রুমের লাইটা জ্বালানো। রাতে ত তেমন ঘুম হল না ওই আযমান বান্দরের কথা ভাবতে ভাবতে আর যা একটু এসেছে তাও এই কান্ড। বুঝিনা বাপু আমি কার ক্ষতি করেছি যে এতটা বিরক্ত করতে হয়। আহহহহ্ আমি ঘুমঘুম চোখে উঠে বসিচোখ না খুলেই বলে উঠি

ভাইয়া আমি জানি তুমিকেন বিরক্ত করছ? আমি ঘুমাবো যাও তুমি

যেতে ত আসি নি সেহেরি খেতে এসেছিআর তুমি কি রোযা রাখবে না? সময় বেশি নেই উঠ

হঠাৎ এমন কথা শুনে আমি ঠাসস করে নিজের চোখগুলো খুলে সামনে তাকাতেই চেয়ারে হেলান দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা আযমান ভাইয়াকে দেখতে পাই। আমি কি স্বপ্নে দেখছি নাকি? উনি এখানে কেন? আর এমন সাদা পান্জাবি কেন পরেছে? আমি কাঁথাটা আরো টেনে উঠে বসিভালো করে দিখতে চাচ্ছি আসলেই উনি এসেছে কি না। হুমম উনিইত কিন্তু এখানে কেন?

তুমি কি আজকে রোযা না রাখার ধান্ধা করেছ না কি?

আমি বিছানা থেকে নেমে পড়লাম। উনি অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। কিন্তু কেন? আমি নিজের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলাম। তিন বছর আগেও আমি লং টিশার্ট আর ডিলা প্লাজু পড়তাম। এখনও পরি কিন্তু অল্পএখন বেশি লং স্কার্ট আর ফতুয়া পড়ি। আজকে আমার পড়নে কালো স্কার্ট আর লাল ফতুয়া। উনি বোদ হয় এটা দেখেই অবাক হল।

আমি সোজা তার সামনে দিয়ে ওয়াসরুম চলে গেলাম। আমি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি আযমান ভাইয়া আজ তিন বছর পরে আমাদের বাসায় সেহেরি খেতে এসেছে। এটা আমাদের পরিবারের নিয়মের মত আসলে আমাদের আত্নিয় বলতেই তারা আছে তাও আসল না। কিন্তু তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কটা এমনই। এই যেমন রমজানের ১৫ দিন তারা আমাদের বাসায় সেহেরি আর ইফতার করে আর বাকি ১৫ দিন আমরা তাদের বাসায়। তারা মাএ তিন জন তাই একাএকা করতে ভালো লাগে না তাই এই নিয়ম।

কিন্তু এই তিন বছরে এই নিয়ম পাল্টে গেছিল। তারাও আসলনা সাথে আমরাও গেলাম না। আম্মুকে কারন জিগ্যেস করেছিলাম। সে বলেছে জানে না। কিন্তু আমার মনে হয় তারা জানে শুধু আমি বাদে। আজ থেকে আবার সব বদলে যাবে আগের মত হয়ে যাবে। ভালোইকিন্তু ওনাকে এত সামনে থেকে দেখে যদি আমার সুপ্ত অনুভতি জেগে উঠে তবেতার কথা শুনে মনে হয় সে আমাকেই বলছে কিন্তু সে ত সাদা তোয়ালে পরা মেয়েকে বলেছে আচ্ছা আমি কি তার সামনে তোয়ালে পরে গিয়েছিলাম? ছিই না ত

আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছি। ভালোই লাগে এখানে দাড়াতে। কেমন যেন মনে হয় এখানে আমি একা না দুজন আছে। সে অবিকল আমার মতই দেখতে। কিন্তু সে কথা বলতে পারেনা। বললেও আওয়াজ আসে না। নবনীও এমন করেই আয়না দেখতহি! হি!

বাবা মা ও এসেছে বাবা আয়েশ করে সোফায় বসে আছে আর মা আম্মুর সাথে রান্নাঘরে। ও বলাই হয় নাই আমি তাদের ছোট থেকেই বাবা মা ডাকিআমাকে আসতে দেখে বাবা এগিয়ে এসে জোড়িয়ে ধরলেন। ওনার সাথে তো আমার দুদিন পরপরই দেখা হয়। তবুও ওনার হাবভাব দেখে মনে হবে বহু বছর পরে দেখা হয়েছে। 🤣এত বড় লোক এরা কেউ বলবে? না। মা ত এখনো তাতেঁর শাড়ি পরে আর বাবা আব্বুর দেওয়া শার্ট বা পান্জাবি আব্বুও সেম তাদের মাঝে এত আন্ডারস্ট্যান্ডিং বলার বাহিরে। ভাইয়া আযমান ভাইয়ার দুই বছরের বড়। আযমান ভাইয়া তাকে দেখলে কেমন যানি লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে কথা বলে। ব্যাপারটা হাস্যকর মা বাবা তো আমাকে মনের মাধুড়ি মিশিয়ে চুমু খাওয়াল এখন সেহেরি খাওয়ার জায়গাও নাই পেটে🤣

আমি ছাদের সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নামাজ পরেই উনি বলে উঠে, ছাদে যাবেআমার তো প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে আর এই অবস্থায় উনি ছাদে যাবে। আরে বাপু যান না। আমারে নিয়ে কেন টানাটানি করেন। সিঁড়ির দিকে তাকাতেই কষ্ট লাগছে ইসসসস এটা বেয়ে বেয়ে উঠতে হবে এখন কি যে কষ্টআমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে একটা সিঁড়িতে পা রাখতে যাব হঠাৎ আমি উপড়ে ভাসতে শুরু করলাম। আমি তো ভয়ে চোখবুজে নিয়েছিউনি কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠে,

আমি থাকতে তোমার কিসের এত কষ্ট আয়ু? আমিই না হয় তোমার হয়ে সব পাড়িদিবতুমি শুধু পাশে থেক এভাবে। (আরও শক্ত করে জড়িয়ে)

আমি সটাং করে চোখ জোড়া খুলে তাকিয়ে অবাক হয়ে দেখছি উনি হালকা হাসছে আর মাথা সরু করে সিঁড়ি দিয়ে উঠছেউনি আবার বলে উঠে,

গলাটা জড়িয়ে ধরলে কি ভয়ঙ্কর কিছু হবে?

আমি আবার নিজের হাত দিয়ে ওনার গলা জড়িয়ে ধরেছিওনাকে ইদানীং খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয় উনিওনার এই খোঁচা খোঁচা দাড়ি, টকটকে লাল ঠোঁট, সরু নাক আর অদ্ভুত মায়ার চোখইশশশ কি সুন্দর এই ছেলে। সাদা পান্জাবিতে তাকে ভায়াবহ টাইপের সুন্দর লাগে। যাকে বলে চোখ ধাঁদা নো। সে হাটঁছে তবে ধির গতিবেগে।

তাকে দেখে মনে হয় একটা সিঁড়ি সে দুই ঘন্টা লাগাচ্ছে উঠতে। আশ্চর্য এত ধিরে উঠার কি আছে। তার হৃদপিন্ড প্রচণ্ড দ্রুত ধাকধাক করছে। আমি গভীর ভাবে তা শুনছিআমারটাও করছে। এটা কি সে শুনছে? জানি না। আমি তো মুগ্ধতার সাথে শুনছিকিছু জিনিস অনেকের কাছে সাধারন মনে হলেও কারো কারো কাছে তা অসাধারণ কথাটা ব্যাপক ভাবে আমাকে ভাবাচ্ছে। নিজের বেলায় হচ্ছে তাই

আযমান ভাইয়া ছাদের দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে আর আমি রেলিং ধরে আকাশ দেখছিআকাশটা এখন অন্ধকারে ডাকা। সূর্য মামা নিজের আলো এখনও পৃথিবীতে ফেলে নি। হয়ত তৈরি হচ্ছে। এখনই ফেলবে ফেলবে ভাব। পাখির কিচকিচ শব্দে মনে হচ্ছে গান বাজছে। পাখিরা উড় চিঠির মত উড়ছেকৃষ্ণচূড়া গাছে পাখিরা আনাগোনা করছে। এক মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির আলাপআলোচনা চলছে। হালকা শীতল হওয়া নিজের শীতলতা দিয়ে শরীরকে ঘায়েল করছে। চারপাশে ফুলের ঘ্রাণের ছড়াছড়ি

তোমার ছাদেত সাদা গোলাপের মহল করে তুলেছ দেখছি

উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আগে কিন্তু এমন অদ্ভুত কান্ড তিনি করত না। কিন্তু এখন উনি এত কি দেখে আমার মাঝে? দেয়ালের সাথে ঘেঁষে বুকে হাত গুঁজে আছে। দৃষ্টি তার আমাকে ঘিড়েপান্জাবির হাতাটা ভাজঁ করা। ধবধবে সাদা হাতে কালো কালো পশমগুলো খুব মানিয়েছেছেলেটা এত সুন্দর কেন কে জানেএকটু ছুঁয়ে দিলে কেমন হয়? ভয়ঙ্কর কিছু হবে কি? আকাশও কিন্তু সুন্দর তাকেও ত ছোঁয়া যায় না। কিন্তু তাকে নিয়ে কত লেখালেখি কত বলাবলিআমি না হয় ওনাকে নিয়ে একটু ভাবা ভাবি করি! ক্ষতি কি

চল তোমাকে আজ দারুন একটা সিক্রেটসস বলি। তোমার আব্বু আম্মু আর বাবা মা প্রেম করে বিয়ে করেছে যান?

এই ছেলে কি পাগল হল নাকি? কি আজগোবি কথা বলছে? মাথা ঠিক আছে ত? আমি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছি। আমি নিশ্চিত উনি মজা করে বলছে। আব্বু আম্মু তো আমাকে বা ভাইয়াকে কাউকেই প্রেম করতে কাটকাট নিষেধ করে দিয়েছে। সেই বাচ্চা আমলে। তার চাইতেও ভয়ঙ্কর ব্যাপর আম্মু প্রতি ভ্যালেন্টাইন ডেতে আমাকে আর ভাইয়াকে গিফট দেয়। শর্ত একটাই কোন মেয়ে বা ছেলের কাছ থেকে গিফট নিতে পারবে না। তার এই শর্ত পুরন করতে গিয়ে আমি আর ভাইয়া হাজারো গিফট বলি দিয়েছিতারা কি করে এমন ভায়াবহ কাজ করতে পারে। এটা অসম্ভব। হতেই পারে না। উনি ফাউলল কেন বকছে কে জানে? আমার এমন বিস্মিত চাহনি দেখে উনি বলে উঠে,

বিশ্বাস হচ্ছে না? না হওয়ারই কথা। কিন্তু কিছুই করার নেই তারা সত্যিই এই অসাধারণ কাজটা করেছে। আরো একটা ইন্টেরেস্টিং কথা আছে শুনবে?

আমি জবাব দিলাম না শুধু তাকিয়ে ছিলাম উনি নিজে নিজেই আবার বলে উঠে,

আঙ্কেল আর আন্টি কিন্তু ফুফাত মামাত ভাই বোনডেন্জারাস না? হুম আর আমার বাবাই আর আঙ্কেল বাচ্চা কালের বন্ধু দুজনেই প্রেম করেছে দুই বান্ধুবির সাথে। বুঝলে কি ড্যায়ারিং ব্যাপার। আমি ত আগে জানতাম না ওনারা এমন কিছু করেছে তাইত বলি এত তাড়াতাড়ি কি ভাবে আমার প্রথম দেখায় এক চিলতি ভালোবাসা তারা সাধরে মেনে নিয়েছে। তার উপর আরো ডেন্জারাস কাজ করেছে জানি শুনলে বিশ্বাস করবে না আমিও করতে পারিনি।

কিন্তু সত্য এটাই যে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছে। তোমার নানাজান প্রচণ্ড টেড়া আঙ্কেলকে ওনি মেয়ে নিল না। আন্টিকে তারই আর এক চাচাত ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছে। উপায় না পেয়ে তাদের সাথে সাথে আমার বাবাইও মাম্মাম কে নিয়ে পালিয়েছে। হা হা হাআমি কিছু দিন আগেই এই ভয়ঙ্কর ভালোবাসার গল্প শুনেছি
কার কাছে?

বাবাই আর কে। উনিই বলেছে। যাই হক দেখ কত সুন্দর সূর্য উঠছে

আমি তাকিয়ে আছি সূর্যের দিকে আর উনি অবাক নয়নে আমাকে দেখছে। এত দেখার কি আছে? আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মনটা খারাপ হয়ে গেছে। ইশশশ ভালোবাসার জন্যে তারা পরিবার ছেড়ে চলে কেন এসেছে
কিছু কিছু কভালো রাখা যায় না। তোমার আম্মুর না হয় অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যেত কিন্তু সেখানে ভালোবাসা থাকত না। এখন তার কাছে তার পরিবার নেই পরিবারের ভালোবাসা নেই কিন্তু তোমার আব্বুর ভালোবাসা আছে। ভালোবাসাই ভালোবাসাকে ভালো রাখতে পারে

আমি এবার তার দিকে তাকিয়ে আছি সূর্যের প্রথম লাল কিরণ তাকে লাল করে তুলেছে

আমি হতভম্ভ নজরে তাকিয়ে আছি সামনের দিকে। কি ভয়ঙ্কর একটা কান্ড আমার সামনে হচ্ছে। দিলের উপড়ে সারফারাজ নামের ভাইয়ার কারবনকপি আরামছে পরে আছে। ভয়ে আমার হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সবাই ভাবে আমি ভয় পাচ্ছি ছেলেটার জন্যে ব্যাপারটা মোটেও সেটা না আমি ভয় পাচ্ছি দিলের উপরে রোজ দিল আফরোজকে। ও নিশ্চিত আজকে ওর স্টাইলে এই কারবনকপিকে ধুয়ে দিবে।

দোয়া টোয়া পরা উচিত ভাইয়াটার কিন্তু সে ত জানে না এই মেয়েত মেয়ে না ভয়ঙ্কর কিছু। আল্লাহ এই নিরিহ সারফারাজকে বাঁচান। ভার্সিটির ওয়াসরুমের পাশের খালি জায়গাটাতে ওকে দাড়াতে বলেছিলাম। আমি ওয়াসরুম থেকে বেড়িয়ে এসেই এই ভয়ঙ্কর কান্ড দেখতে পাই। ভাগ্যিস আশেপাশে কেউ নেই ক্লাস টাইম চলছে তাই। কিন্তু এই সারফারাজ ভাইয়া এখনো নড়ছে না কেন? আজব বিগত অনেক সময় থেকেই এভাবে পরে আছে। দিল তো কাচুমাচু করেই চলেছে। কিন্তু যতই হক এই পোলার সাথে ও পারবে না। যাই হেল্প করি

আমি বহু কষ্টে ওনার নজর নিজের দিকে আকর্ষণ করাতে পেরেছি এবং দিলকেও দাড় করাতে পেরেছি। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার ও কিছুই করল না। উল্টা কাচুমাচু হয়ে আমার পিছনে দাড়াল। আজাইরা মাইয়া। কিন্তু এই ভাইয়া উল্টা হেসেঁ হেসেঁ বলে উঠে,

লিটেল পরী তোমার জন কোথাই?

মানে?

মানে নিজের জনকে রেখে কাবা মে হাড্ডি হওয়া কি খুব প্রয়োজন? (আবার মাথা ঝুঁকিয়ে হাঁসল। অবিকল ভাইয়ার মতআচ্ছা ওনি কি আমার জমজ ভাইয়া নাকি? ওই আসাবার জন্যে আম্মুকে ও বলা হল না এর কথা।

কিন্তু এটা কিভাবে হবে। একে দেখে ত ভাইয়ার থেকে দুই বছরের ছোট মনে হয় যেহেতু আযমান ভাইয়ার বন্ধু প্লাসস ক্লাস মিটআজকেই আম্মুকে বলতে হবে)
দিলবার আমাকে টানতে টানতে নিয়ে এল। কেন কে জানে। তবে ভাইয়াটা সুন্দর আমার ভাইয়ের মত বলে কথা। যাই হক আগে বাসাই যাই তবেই এর একটা ব্যবস্থা হবে

বাসায় ডুকতেই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরেছে। আমার রুমে যে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় হানা এনেছে এটা বেশ ব্যাপক ভাবে আমি অনুধাবন করতে পারছি। আর এই কান্ডটা আমার এক মাএ মাতা জি করেছে। কিন্তু বিস্মিত হওয়ার বিষয় এটা যে আম্মুর মত এত গোছালো মানুষ এমন কেন করছে। তাও আমার আলমারির সাথে কেন? হোয়াই? তার সাথে আবার চোখের জলে ভাসিয়ে দিলাম মনের ঠিকানা টাইপেরও ব্যাপার করছেকিছু হলেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করার মেয়ে তিনি না। শুধু আমার কিছু হলেই এই কাজটা সে করে কিন্তু আজ কেন?

পর্ব ৬

আমি এক সুন্দর সত্যের সামনে দাড়িয়ে আছিভাবতেও পারি নি এত সুন্দর একটা পরিবার আছে আমাদেরআমি দাড়িয়ে আছি আম্মু ত ভ্যাঁ ভ্যাঁ বিলাপ করছে আসলে আজ বহু বছর পরে নিজের ভাই আর দুই বোনকে পেয়েছে ফিলিংসটা কান্না ছাড়া বুঝানো মশকিল। আমি আব্বুর সাথে দাড়িয়ে আছি আর আমার সামনে একজন মধ্য বয়স্ক লোক। তাকে দেখে আমার মনে হচ্ছে ভাইয়া ৩০ বছর পেরিয়ে বৃদ্ধা হয়ে গেছে। আহারেকিন্তু আসলেই এটা ভাইয়া না। আমার এবং ভাইয়ার একমাএ মামা। ভাইয়া যে মামার কারবনকপি হয়েছে এটা আর বলে বুঝানো যাবে না। আমার শুধু মামা না খালামনি এবং এক আন্টিও আছে। মানে আম্মুরা চার ভাই বোন। আমি আমার আম্মুর বহু বছর আগের একটা সাদা জামা পরে আছি। হাস্যকর হলেও আমার বেশ ভালো লাগছে। এটা পরার ইচ্ছা বহু দিনের। জামাটা এত এত সুন্দর যে এখন কার সবচাইতে মডেল ড্রেসটাও এটার কাছে হার মানবে। আজ ভার্সিটি থেকে এসে আমি যে ঘূর্ণিঝড় দেখেছি তা হল এই জামাটা খুঁজার জন্যে। আম্মু এই জামা আমার এই ছোট জীবনে একবারও পরতে দেয় নি।

কিন্তু আজকে দিয়েছে। আর তার কারন আমার সামনে। আমাদের হারানো পুরনো পরিবার নতুন করে পাওয়া। সবার সাথে সবার আলাপ হল কিন্তু আমার সাথে কেউ আলাপই করল না। ব্যাপারটায় আমার কান্না পাচ্ছে আব্বুর হাত ধরে কাঁদো কাঁদো চোখে তাকিয়ে আছি। আচ্ছা এরাকি আমার সাথে কথা বলবে না? নাকি মেয়ে বলে পাত্তা দিচ্ছে না? ভাইয়ার সাথে ত সবাই হেসেঁ হেসেঁ কথা বলছেআর আমি যে আম্মুর আর একটা বাচ্চা এটাত আম্মুই ভুলে গেছে

আমার আম্মুর বোদ হয় আমার প্রতি এবার দয়া হলসে অশ্রুসিক্ত চোখে আমার আর আব্বুর সামনে এসে দাড়ায়সবাই তার পিছু পিছু এসে হাজির। অবাক করা ব্যাপার এখানে ওই সারফারাজ ভাইয়াও আছে সাথে আরো তিনজন ছেলেসবাই আমার দিকে প্রচণ্ড উঁচ্ছুক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি একটু বিস্মিত হলামআম্মু এবার আমার হাত ধরে সামনে এনে বলে উঠে,

ও আমার মেয়ে আয়ানা হায়াতআমরা হায়াতই ডাকি

মামা আমার দিকে একবার তাকিয়ে পিছনের চার ছেলেকে উদ্যেশে করে বলে উঠে, তোদের বোন

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ছেলেগুলোর চেহারা কেমন চকচক করছে। তারা একপ্রকার দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে বলে উঠে,

তুমি আমাদের বোন আল্লাহ এটা ত বিশ্বাসই হচ্ছে না। আমরা তো খুশিতে পাগল হয়ে যাবো। কত বছরের সখ একটা বোনের। আর আল্লাহ তা এভাবে পুরোন করবে ভাবতেও পারিনি উই আর সো এক্সাইটেড তুমি দেখতে একদম গোলুমোলু আর পরীর মত সুন্দর ইসসস

আমি হতভম্ভ হয়ে দাড়িয়ে আছি। আর তারা একজন এক এক কথা বলছে। আমি এটা ত বুঝতে পারছি বোনের জন্যে এরা পাগল কিন্তু এদের কি বোন নেই। আমি তো কিছুই বুঝলাম না। এবার একজন সুন্দর মহিলা সম্পর্কে আমার মামি হবে সে এগিয়ে এসে আমাকে ছাড়িয়ে বলে উঠে,

এই তোরা ওকে কি আজই আলুর ভর্তা বানাবি নাকি? আর তুমি কিছু মনে করিও না আসলে এই বাড়ির ছেলেদের বড় একটা সখ ওদের বোন হবে কিন্তু দুঃখ জনক হলেও এটা সত্য ওদের বোন নেইআর তুমি একমাএ বোন যদিও খালাত বা ফুফাত বোন বোনত বোনইআচ্ছা পরিচয় করিয়ে দি ও রেদোয়ান তোমার খালামনির বড় ছেলে ওই মুলত বোনের জন্যে বেশি পাগল তা না হয় পরেই বুঝতে পারবে। আর ও সারফারাজ তোমার মামাত ভাইমামার বড় ছেলে আর ও তায়েফ তোমার ছোট আন্টির একমাএ ছেলে। আর বাকি দুই জনের মধ্যে ও হাসান তোমার খালামনির ছোট ছেলে আর বাকি একজন আমার মানে তোমার মামার ছোট ছেলে জাহেদ

আমি হা করে দেখছি পাচঁ পাচঁটা ভাইয়ের একটা বোনও নেই আহারে তবে ভালোই হয়েছে ওরা যেভাবে হুমরি খেয়ে জড়িয়ে ধরেছে ইসসস কি যে ভালো লাগছে কি বলবোআমার এখন ছয় ভাই ইসস আর এক ভাই হলেই সাত ভাই চম্পা।

আজ এখানে ইফতারের বিরাট আয়োজন হচ্ছে এই প্রথম নিজের পরিবারের সাথে ইফতার করবো ব্যাপারটা ভাবতেই ভালো লাগছেকিন্তু নানাজান আর নানুজান থাকলেও ভালো হত তারা নাকি গ্রামে থাকে তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে দুই সাপ্তাহ পরে আমরা সবাই গ্রামে যাবো তাদের আনতেআমি কখনো গ্রামে যায় নি তাই সবার থেকে একটু বেশিই এক্সাইটেড ভাইয়াত নানা জায়গায় বন্ধুদের নিয়ে ঘুড়তে যায় কিন্তু আমি তো বাসায় থাকি তেমন একটা ঘুড়তে যাওয়াও হয় না। মাঝে মাঝে দিলের সাথে একটু বের হোই

আমি বসে আছি ছয় ভাইয়ের সাথে তাদের মধ্যে রেদোয়ান ভাইয়ার আসলেই আমার প্রতি বেশি কেয়ারি ভাবওনি তো বকবক করেই চলেছে। তার ছোট ভাই হওয়ার আগে তিনি ভেবেছেন সে বোন হবে।

উনি নাকি আলাদা রুমও রেডি করেছিল তার জন্যে তবে শেষে সেও ছেলে হলহা! হা! আমি ভাইয়ার পাশে বসেছি আর একপাশে রেদোয়ান ভাইয়াহঠাৎ ঝড়ের গতিতে কেউ হাত টেনে দাড় করি দেয়আকর্ষিক এমন ঘটনায় রেদোয়ান ভাইয়াও রেগে দাড়িয়ে পরে। আমি ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখি আযমান ভাইয়া। উনি এখানে কি করে? হত সারফারাজ ভাইয়া আসতে বলেছেরেদোয়ান ভাইয়া রাগি গলায় বলে উঠে,

আযমান এগুলো কোন ধরনের ব্যবহার? ওকে এভাবে টানার মনে কি?

ওকে আপনার পাশে বসানোর মানে কি? বড় দেখে আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলবো নাআর আপনি ওকে এক হাতে জড়িয়ে ধরার মানে কি? আপনি ত এমন ছেলে না জানতাম। আর আজিম ভাই এটা কি আপনিও দেখছেন আয়ু একটা চেনানেই জানা নেই ছেলের সাথে এভাবে বসে আছে? আর তুমিতোমাকে ত পরে দেখব

আমি ঢোক গিলে নিচের দিকে তাকাললাম। ওনার মুখ সাদা থেকে লাল হয়ে গেছেকপালের রগ নীল হয়ে ফুটে উঠেছেচোখমুখ শক্ত করে এক হাত মুঠ করে দাড়িয়ে আছে সে। তাকে দেখে আমারই ভয় করছে কিছু কি বলব

ওই শালা তুই যে মাইন্ডে বলছিসস সেটা ঠিক না। রেদোয়ান ভাইয়া কিন্তু অন্য ভাবে ওকে জড়িয়ে ধরেছিল। (সারফারাজ ভাইয়া বলে উঠে)

মানে

আরে হায়াত আমাদের বোন যাকে বলে আপন ফুফাত বোন আর ওর খালাত বোনযানোস ত ভাই কত পাগল বোনের জন্যে আর এবার তো রহমতের মাসে তাকে তা দিয়ে দিচ্ছে আল্লাহতাই একটু আদর করে বোনকে জড়িয়ে ধরেছেআর ভাইয়া আযমান কিন্তু এখন আর বন্ধু না অন্য কিছু হয়

সরি ভাই আমি আসলে বুঝতে পারি নি। আর তুমি হাবার মত দাড়িয়ে ছিলে কিছু বললেনা কেন?

আশ্চর্য আপনি বলার সুযোগ কই দিলেন এসেই নিজের হিরপান্তি দেখানো শুরু

কি বললে আমি হীরপান্তি করি? এগুলো কেমন ধরনের কথা? তুমি বেশি বলছ না?

মোটেও না আপনি বেশি করছেন। আপনি কি একটু মানুষের মত এন্ট্রি নিতে পারেন না?। তবেইত আমরাও পিপারেশন নিতে পারিঘূর্ণিঝড় আসার আগেও পাচঁ, ছয়, বিপদ সংকেত দেয় আর আপনি তো তাও দেন না। কিভাবে বুঝব আপনি আসছেন

আমি বিপদ? কি উল্টা পালটা বকছ? তোমার মুখে এত খোই কথা থেকে আসছে?

ওটা আসছে হবে না ফুটছে হবে

ওই হল আর কিতুমি কবে থেকে এত ঝগড়াটে হয়ে গেছ আয়ু

এই এখন থেকে এই মুহূর্ত থেকে আমি কারনে অকারণে ঝগড়া করবো হল

আমি হাটা দিলাম আম্মুর কাছে। এই লোকের এত এত বকবক ভালো লাগে না। এই সব ওনার ওই তোয়ালে পড়া প্রেমিকাকেই দেখাক। সব জোড় খাটাবে আমার উপর আর ভালোবাসি ভালোবাসি বলে বেড়াবে তোয়ালে আলিকে যতসব। বুঝলাম না আমি হঠাৎ এত রেগে গেলাম কেন? কে যানে। না তাকিয়েও বুঝতে পারছি আযমান ভাইয়া বিস্ময়ের চরম সিমায় আছে।

আমার কি। এখন থেকে ওনার সাথে এমনই করবো। দূরে দূরে থাকবো। ওনাকে ত আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না। প্রেম একজনের সাথে আর টর্চার আর একজনকে না এটা হতে দিবনা। আম্মুর কাছে এসে বসলাম। অদ্ভুত আম্মুর ভাব এমন যে সে আমাকে চিনেই না। খালামনির সাথে আর আন্টির সাথে তার সে কি কথা। জনমের কথা এক দিনেই শেষ করবে মনে হয়। না এখানে বসা মানে নিজের প্রতি অন্যায় করা। আমি আবার হাটা দিলাম। বাড়ির ভিতরে ডুকার আগে খুব সুন্দর বাগান দেখেছি ওই দিকেই যাই

আমি দাড়িয়ে আছি প্রকাণ্ড বাগানের মাঝে। কি সুন্দর বাগান। গোধূলি বেলা চলছে। সূর্য নিজের হলুদ রশ্মি দিয়ে বাগানটাকে আলোকিত করে রেখেছে। মৃদূ বাতাস হচ্ছে। আমি ঘুড়ে ঘুড়ে বাগান দেখছিপ্রকৃতি বড়ই সুন্দর বাগানে অনেক ফুলগাছ ফলগাছ আছেআর একটা বেতের চেয়ার টেবিলের সেটমামা, খালামনি, আন্টি সবাই একসাথে থাকে আম্মুকেও থাকতে বলেছে কিন্তু আমাদের ত আলাদা বাসা আছে। ভাঙ্গা হলেও নিজের মহল হলেও নিজেরআমি আলত হাতে ফুল গুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছিসুন্দর ফুলল

আপনি কি ফুল নিয়ে গবেষণা করছেন?

আমি পিছনে ঘুড়ে তাকালাম অপরিচিত ছেলে এমন অপরিচিত ছেলেদের সাথে আমি সচরাচর কথা বলি না। এবারও বলবো না বলেই সামনে পা বাড়ালাম সে আবার বলে উঠে,

আমি ইফত্তিরেদোয়ানের চাচাত ভাইআপনি?

হায়াত ভাইয়ার খালাত বোন।

আমার এমন বিরক্তি ভঙ্গিতে কথা শুনেও সে হেবলার মত দাতঁ কেলিয়ে বলে উঠে,

খুব সুন্দর নাম আপনার মতইতো কিসে পরেন? মানে কোন ক্লাসে?

ক্লাস ১৩ তে পড়ি।
লোকটা আবার হাসলহাসা ছাড়া কি কাজ নেই নাকিআমার মনে হল যাওয়া উচিতআবার পা বারাতে যাবো সে বলে উঠে,

চল চেয়ারে বসে কথা বলি। চেয়ার গুলো সুন্দর না? ও এখানের কাজের মেয়ে রাহেলাকে বলি চা দিতে

আমি চা খাইনাআর আমি রোজাও রেখেছি আপনি রাখেন নি?

ওও সরি মিস্টেক তুমি কিছু মনে কর না। এমনেই ভুল হয়ে গেছে। আমিও রোজা রেখেছি।

আশ্চর্য জনক লোক আপনি থেকে বলা নেই কওয়া নেই ডিরেক্ট তুমিআমারও ত বলতে ইচ্ছে করছে আমি চা খাইনা তুই খা তোর চাআজিব লোক তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে যেন আমার এই বিরক্তি মুখ তার দারুন লাগছে।

বসোনা প্লিজজএকটুত পরিচিত হতেই পারি? দুজনেই আত্নিয় সো বস।

আমি অতিব মাএায় বিরক্তি নিয়ে বেতের একটা চেয়ারে বসে পরলাম। উনি আমার পাশের টাতেই বসতে যাচ্ছিল কিন্তু কোথা থেকে আযমান ভাই টপকে পরছে কে জানে। উনি মোবাইল টিপতে টিপতে সোজা আমার পাশ ঘেঁষে বসে পরে ইফত্তি নামের ভদ্র লোকের মুখটা দেখার মত উনি কাঁদো কাঁদো ভঙিতে বলে উঠে,

আপনি এটাতে বসেন?

কেন? এনি প্রবলেম?

নো
ইফত্তি নামের লোকটা কাচুমাচু করে বসে পরেছে সামনের চেয়ারে আমি ভ্রু কুঁচকে সন্দেহ সন্দেহ চোখে আযমান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। ওনার সে দিকে বিন্দু মাএ ইন্টেরেস্ট নাই বলেই চলে

তো তোমার নামটা যেন কি বলে ছিলে?

আয়ানা। (মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে)

কিন্তু ও ত বলেছে হায়াত

মনে যখন আছে আবার জিগ্যেস কেন করলেন?

লোকটার অবস্থা এখন বেশ করুন থমথমে মুখে বসে আছে আর আমাকে দেখছেআমি এবার উনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠি

আযমান ভাইয়া আপনি এখানে কি করছেন?

তোমাকে বলতে হবে?

আযমান তুমি বুঝতে পারছনা ওর সাথে আমার একটু পার্সোনাল কথা আছে তুমি যদি একটু ও দিকে যেতে। (লোকটি বলে উঠে)

ওর সব পার্সোনাল কথা আমার সাথে ছাড়া আর কারো সাথে নেই সো আমার সামনেই বলেন কি বলবেন ইফত্তি ভাই

মানে।

মানে সিম্পল ও আমার একমাএ পার্সোনাল সম্পদ তাই ওকে কিছু বলতে হলে ত আমার সামনেই বলতে হবে নাকি? আর যাই হোক আয়ু ইফতারের সময় হয়েছে চলআমার মনে হয় না ইফতারের চাইতে আপনার কথা বেশি ইম্পরট্যান্ট। কি বলেন ভাই?

উনি কিছু বললেন না। কিন্তু আযমান ভাইয়া সটাং হয়ে দাড়িয়ে মোবাইলটা পকেটে ডুকিয়ে আমার হাত ধরে হাটা দিলেন। আর জনাব ইফত্তি আমাদের দিকে হাবার মত তাকিয়ে আছে। আমি তাকিয়ে আছি আযমান ভাইয়ার দিকে তিনি হেঁটেই চলেছে। মনে হচ্ছে তার গন্তব্য আমাতে শুরু আমাতে শেষ

পর্ব ৭

টেরেসের উপড় এভাবে দাড়িয়ে থাকতে আমার যে কি পরিমান ভয় লাগছে বলে বুঝানো মশকিল আমি শুধু যে দাড়িয়ে আছি তা কিন্তু নয় হাত মুখটাও বেধে দেওয়া হয়েছে। কেমন নির্দয় আযমান বেটা আল্লাহ আমি ভেবে ছিলাম ওই পোলা ভালো হয়ে গেছে ভালো ত দুর এখন দেখি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে গেছে। আশ্চর্য সামান্য একটা কথার জন্যে এভাবে ঝুলাবে মানে কি?

আমি কি সখে বলেছি নাকি? উনিইত প্রেম করবে একজনের সাথে আর শাসন করবে আমাকে যতসব। নিশ্চিত আমাকে আজ এই ভয়ঙ্কর জায়গা থেকে ফেলে দিবে এই আযমানের বাচ্চানিচের দিকে তাকাতেই ভয়ে হাত পা কাপঁছে কি এমন বলে ছিলাম শুধুত আযমান ভাইয়া আমার হাত টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাব দেখে মনে হয় কত অধিকারারে অধিকারি সে। কিসের এত আলগা পিরিত? সব পিরিতিত ওই মালিহার জন্যেতার সাথেত জনাবের বিয়েও ঠিক আর আমার সাথে টানাটানি করতে আসছে সে সে দিন ভার্সিটি শেষে মালিহা আপু জরুলি ভাবে তলব করে আমাকে কেন্টিনে যেতে বলেছে। আমিও আবুলের আবুল নাচতে নাচতে গিয়ে হাজির সে গম্ভীর ভাবে তার শর্ট স্কার্ট পড়া আবস্থায় পা দুলাছে। পা দুলানি দেখেত আর বুঝা যায় না কার মনে কি চলছে। আমি ও ওনার সামনে গিয়ে বসতেই সে সরু গলায় বলে উঠে,

কেমন আছ আয়ানা হায়াত?

ভালো।

আজ অনেক বছর পরে দেখা বড় হয়ে গেছ দেখছি?

অনেক বছর যেহেতু পার হয়েছে বড় হওয়া কি সাভাবিক নয়?

অবশ্যই। কিন্তু অন্যের জিনিসে হাত দেওয়া সাভাবিক না

মানে।

খুব সহজ কথা আযমান আগেও আমার ছিল এখনও আছে। তুমিই বার বার উড়ে এসে জুড়ে বসছ। মানে ভার্সিটিতে এসেই ওর পিছনে পরা শুরু করে দিয়েছ। কেন বলত? ছেলের কি ভাবাব পরছে নাকি? বল খুজে দিব।

আপু বয়সে বড় বলে আপনি যা নয় তাই বলতে পারেন না। আমি কিন্তু আযমান ভাইয়ের পিছনে মোটেও পরি নি।

তাই না কি। তবে আযমান আমাকে সরিয়ে তোমার কাছে কেন যাচ্ছে। তার উপড় ও তোমাকে গাড়ি করে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়।

এগুলো আপনি তাকে জিগ্যেস করেন শুধু শুধু আমার সাথে এভাবে কথা বলার মনে কি?

আমি তোমার সাথে কথা বলতে মোটেও ইচ্ছুক নয়। যাই হক ওর সাথে আমার রিলেশন আছে। আর আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো। সো দূরে থাকবে।

কথাগুলো শুনেই মাথা খারাপ। তারপর থেকেই এই রাগ ওনার উপড় ছাড়ার অনেক ইচ্ছা আমার এবার ছাড়মু তাই হাত ঝেড়ে বলে উঠি

সমস্য কি? এভাবে কথায় কথায় হাত ধরেন কেন? আর এখনো অনেক সময় আছে ইফতারের আমি ওনার সাথে কথা বলতে চাই

তুমি চাইলেই হবে না কি?

অবশ্যই। যেহেতু আমি কথা বলবো তবে আমি চাওয়াই ইম্পরট্যান্ট।

তাই না কি? তা আর কি কি চাও শুনি?

আপাতত ওনার সাথে একটু গল্প করতে চাই। আপনি বরং মালিহা আপুর সাথে গল্প করেন। কেমন? আমি যাই

আয়ু ভালো হচ্ছে না। ফাইজলামি বন্ধ কর।। (আবার হাত ধরে)

এই কথায় কথায় হাত কেন ধরেন যতসব। এভাবে অন্যের বউ এর হাত ধরা ঠিক না।

অন্যের বউ মানে?

অবশ্যই আমি অন্যের বউ। আপনি বরং নিজের বউ এর হাত ধরেন। শুধু শুধু অন্যের জিনিসে অধিকার ফলানো ভালো না। যতসব

ব্যাসস আর কি ইফতারের পরেই উনি হাত বেধে মুখে কস্টেব মেরে আমাকে এই বিশাল টেরেসের উপড়ে এনে রেখে চলে গেলেন। কি অন্ধকার এই টেরেসটা আল্লাহ। আমি এবার বসে পরলাম। এত সময় হয়েছে এখনো উনি এলেন না। ভয়ে আমি ঘামছি।

আমি প্রায় ঘুমিয়ে পরেছিলাম। হঠাৎ লাইটের আলো চোখে পড়ায় সামনে তাকিয়ে অবাক হলাম। এই জায়গাটা এত সুন্দর লাইটিং কে করেছে আর কখন বা করেছে। আমি এলোমেলো ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। আযমান ভাইয়া এক কোনায় দাড়িয়ে আছে।

তার হাত পিছনের দিকে। সাদা শার্টে সুন্দর লাগছে। উনি ধির পায়ে আমার কাছে এসে মুখের কস্টেব আর হাতের বাঁধন খুলে দিলেন। আমি অবাক হয়ে তাকে দেখছি। এবার আমার সামনে হাটুগেড়ে বসে বলে উঠে,

অধিকারের কথা বলে ছিলে না? তুমি কি যানো তোমার প্রতি সবচাইতে বেশি আমারই অধিকার?

আমি মাথা ঝাকিয়ে না বুঝালাম

আমি তোমাকে কবে থেকে চিনি জানো?

আবার না বুঝিয়ে মাথা ঝাঁকালাম

উনি এবার পা মেলে আমার সামনে বসে পরে। তার হাতে কিছু কৃষ্ণচূড়া ফুল দোল গাচ্ছে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিসারা জায়গায় ফেইড়ি লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। একটা ছোটো টেবিলও রাখা হয়েছে। তাতে কিছু ফুল আছে। উনি এবার আমার দিকে কৃষ্ণচূড়া ফুল এগিয়ে দিয়ে বলে উঠে,

ঘুমের মাঝে এক সুন্দর স্বপ্ন দেখে ছিলাম। একটা মেয়ে সাদা জামা পরে আমার সামনে কোমড়ে হাত দিয়ে দুলে দুলে অঙ্গুল নাচাতে শুরু করে। হঠাৎ বাবাই আমাকে ডেকে তুলে স্বপ্ন সেখানেই শেষ কিন্তু কিছু জিনিসস শেষ হয়েও শুরু হয়। আমার জিবনেও তাই হয়েছে।

বাবাই আমি আর মাম্মাম হাসপাতালে এসেছিলাম। আঙ্কেল আন্টির নতুন বেবী হয়েছে দেখার জন্যে। আমরা যেতেই শুনতে পাই আন্টির মেয়ে বেবি হয়েছে। আমি সবার আগে অতি আগ্রহ নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম বেবিকে আর সবার আগেই কোলে নিয়েছিলাম। ছোট্ট লাল টুকটুকে তোয়ালে পেছানো পরীকে।

ঠিক তখন থেকে আমার ভালোবাসা শুরু আমি তখনই তোমার মায়ায় আটকা পরেছি। আমি তোমার জন্যেই তোমাদের বাসায় থাকতাম। তোমার সাথে খেলতাম। আরো কত কি। কিন্তু একদিন পাশের বাসার রাসেল নামের এক ছেলে তোমাকে কোলে নিয়েছে। তখন তোমার বয়স দুই বছরসেটা আমার মোটেও পছন্দ হল না। সবাইকে বলে দিয়েছি ও আমার বউ কেউ যেন না ছোঁয় ওকে। বাবাই বলে উঠে,

তোমার বউ কিভাবে হল তুমি ত ওকে বিয়েই করলে না।

বউ বানাতে বুঝি বিয়ে করতে হয়?

হুম

ব্যাসস আর কি লাগে আমি তখন থেকেই সবার মাথা নষ্ট করে দিয়েছি তোমাকে বিয়ে করবো। কিন্তু কেউ রাজি হচ্ছিলনা আসলে ছোটো ত তাই। আমি তাই সুইসাইডের হুমকি দি। আমার বয়স মাএ আট। আর এই বয়সেই এমন কাজ মাথায় এল কি ভাবে বুঝে উঠতে পারছি না। তবে তখন মনে হয়েছে তোমাকে চাই আমার এটাই শেষ কথা।

আমার জীদের কাছে হার মেনে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। দুজন একসাথে বড় হই। আমি সবসময় তোমাকে শাসনে রাখতাম যাতে তুমি আমার প্রতি অবেগ দিয়ে দুর্বল না হও। আমি তো চাই তুমি আমাকে ভালোবাস। তাই সব সয়ম একটা দূরত্ব বজায় রাখতাম। কিন্তু তুমি যত বড় হচ্ছিলে আমার তোমাকে ততত নিজের কাছে রাখার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা আমার ছিল। কিন্তু সেদিন যখন তোমাকে স্নিগ্ধ আলোতে ভিজাঁ চুলে দেখে ছিলাম। তখন তোমাকে ছুয়ে দেখার প্রবল আগ্রহ জাগে যা উচিত নয়। তুমি তখনো ছোট্ট ছিলে।

তাই তোমার থেকে দূরে যাওয়াই ঠিক মনে হয়েছে। তোমার থেকে দূরে ত ছিলাম। কিন্তু তোমাকে একা রাখিনি। জীবনে অনেক মেয়েই আমার মনে জায়গা করতে চেয়েছে। কিন্তু তুমি তো আমার প্রথম দেখার স্নিগ্ধ পরী যাকে আমি স্বপ্নের দুনিয়া থেকে বাস্তবে পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্য কেউ আমার জীবেন কেন আসবে বল? আমারত শুধু#তুমি~হলেই~চলবে নিজের জীবনে যেমন কাউকে আসতে দিনি। ঠিক একুই ভাবে তোমার জীবনেও আমি কারো জায়গা করতে দিনি। দূরে থেকেই সবাইকে সরিয়েছি।

সরি জান ওই দিন তোমার হাতটা কামড়ে দিয়েছিলাম। মাথা গরম ছিল। তোমাকে কত দিন পরে এত কাছে দেখলাম তাও ওই ছেলের ফুল ছোঁয়া আবস্থায় তাই আমি কন্ট্রোল করতে পারিনি। সরিতুমি কেন বলনি মালিহা তোমাকে ওই কথাগুলো বলেছেনিলয় না বলেত যানতেই পারতাম না শুধু শুধু তোমার উপড় রাগ করেছিলাম।

কিন্তু এখন সঠিক সময় এসে গেছে আমি তোমাকে নিজের মনের কথা বলতে পারি
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি পিচ্ছি বউতুমি যানো আজ আমাদের ১৭তম বিবাহ বার্ষিকী জানো না। তুমি কিছুই জানো না। আচ্ছা জানো না বুঝলাম কিন্তু বুঝনা কেন আমি তোমাকে কত করে চাই কত ভালোবাসি। এতটা বোকা কেন তুমি

আমি এখনো স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি উনার দিকে। এতটা ভালোবাসেন উনি আমাকে আর আমি বোকা তাকে ভাইয়া বানাবো বলে ঠিক করেছি। ইসসস কি কান্ড ছিইতার উপড় উনি আমার নিজের জামাইভাবতেই অবাক লাগে সংসার না করতেই আমার ১৭তম বিবাহিত জীবন পার হয়েগেছে। উনি আবার বলে উঠে,

তুমি কি তোমার বাকি জীবন আমার সাথে পারি দিতে চাও?

আমি এবারও জবাব দিলাম না। আমি এতটাই শক্ট যে কি বলবো বুঝতে পারছি না। উনি এবার আমার দিকে কৃষ্ণচূড়াগুলো এগিয়ে বলে উঠে,

হে প্রিয় আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। একদম কৃষ্ণচূড়ার মত। কৃষ্ণচূড়া যেমন তার রংকে ভালোবাসে আমি ঠিক একুই ভাবে তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাতে রঙিন হতে চাই। ধরবে আমার হাত আমার জীবন রাঙাতে পা রাখবে আমার এমন রং বিহিন দুনিয়াতে

আমি কাদঁতে মোটেও চাচ্ছি না। কিন্তু চোখের পানি আপনা আপনি বেয়ে বেয়ে পড়ছে। এটা কষ্টের না সুখের অশ্রু। আমি ভাবতেও পারি নি উনি আমাকে এতটা ভালোবাসে। তার ভালোবাসা সত্যেই কৃষ্ণচূড়ার মত। সত্যেই সে তার রং পাল্টেনি। ছোটো বয়সের ভালোবাসার কোন পরিবর্তই হল না। এটাই ভালোবাসা। যা কখনো রং পাল্টায় না। উনি এবার বিরক্তি ভঙ্গিতে বলে উঠে,

তুমি কাদঁছ কেন আয়ু? তোমার কি আমাকে পছন্দ না? পছন্দ না হলে সমস্যা নেই। তুমিও সিঙ্গেল থাকবে আমিও। সারা জীবন এভাবেই থাকতে হবে। বুঝলে কত কষ্ট। তোমার জন্যে সব কষ্ট নিতে রাজি। কিন্তু হ্যাঁ তুমি ভেবনা আমাকে পছন্দ না বলে অন্য কাউকে জীবনে এন্ট্রি দিতে পারবে। তোমার সব জুড়ে শুধু আমিএবার ভাব এভাবেই জীবন কাটাবে নাকি আমার সাথে থাকবেচয়েজ ইজ ইউর

না না আমি আপনার সাথেই থাকবো।

সত্যি

হুমমম

উনি এবার হু হা করে হেসে আমাকে জড়িয়ে নেয় নিজের বাহুতে। আমি কচ্ছপের মত মাথা বের করে বলে উঠি

মালিহা আপু আপনাকে অনেক ভালোবাসে

সবাই আমাকে ভালোবাসলে তো আমি সবাইকে বাসতে পারবো না। আর এই জীবনে আমি শুধু একজনকেই ভালোবেসেছি। সে হল তোয়ালে পরীআমার তো এই তোয়ালে পরা পরীহলেই চলবে

আমি আবেশে তার বাহুতে মাথা রেখে আছিকৃষ্ণচূড়া গুলো আমার হাতেভালোবাসা সত্যিই এক অদ্ভুত জিনিস। তা না হলে ত উনি এতগুলো বছর আমার জন্যে অপেক্ষা করত না। আসলেই ভালোবাসার মানুষের জন্যে অপেক্ষা করতেও হয়ত আনন্দ আছে। আমারো শুধু এমন একজন ভালোবাসার মানুষ হলেই হবেশুধু আপনি হলেই চলবেমিআযমান ভাইয়া

পর্ব ৮

চোখের উপড় মিষ্টি রোদের অনাগোনা। রোদের প্রথম উজ্জ্বল হলুদ আভাটা মুখে পড়তেই আমার চোখ নড়েচড়ে উঠেবিরক্তি নিয়ে আমি কিন্চিত চোখমুখ খিঁচে আধোআধো চোখে তাকিয়ে পরিবেশ বুঝার চেষ্টা করছি। ঝিমঝিম চোখে তাকাতেই বুঝতে পারছি আমি আমার নিজের একমাএ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত রুমে আছি। যদিও প্রতিষ্ঠাতা আমি না।

চোখ কচলাতে কচলাতে আমি উঠে বসলাম। হঠাৎ মনে পড়ে যায় এটাত আমার রুম কিন্তু আমি ত এখানে থাকার কথা না। আযমান ভাইয়ার কথা মনে পরতেই আশেপাশে চোখ বুলাতে শুরু করলাম। আমিত তার সাথে টেরেসের উপড় ছিলাম। কিন্তু এখানে কিভাবে এলাম। তাহলে কি আমি স্বপ্নে দেখেছি? কিন্তু আমার তো তা মনে হয় না। ডুলডুল পায়ে উঠে দাড়িয়ে ওয়াসরুমের দিকে পা বারাতেই বেড টেবিলে আমার কালকের সেই কৃষ্ণচূড়া গুলো চোখে পড়ল। এগুলো এখানে তার মানে স্বপ্ন না কিছুই ইশশ্ ভাবতেই এক অদ্ভুত অনুভুতি মনে কড়া নাড়ছে।

আমি ধীর পায়ে হেঁটে ফুলগুলো ছুঁয়ে দিতেই তার নিচে নীল কাগজ দেখতে পেলাম। হাতে নিয়ে ভাজঁ খুলতেই কালো কালিতে খুব সুন্দর হাতের লেখা ভেসে উঠেছে। যে ব্যক্তির এই লেখা সে আসলেই পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর হাতের লেখার অধিকারি। সুন্দর হাতের লেখার জন্যে ছোটবেলায় স্যারেরা যে পাচঁ নাম্বারের লোভ দেখাত তা এই লেখক অনায়াশেই নিজের করতে সক্ষমআমি এবার পড়তে শুরু করলাম

প্রিয়সি এটা মোটেও ঠিক করলেনা। জীবনে প্রথম প্রেম ব্যক্ত করেই মানুষ লিপ কিসস করে আর আমি হালকা ঝুঁকেই দেখলাম আমার প্রেমলতা ঘুমে অচ্ছন্ন। ইটস্ নট গুড বেইবি কোথায় ভেবেছি একসাথে কেক কাটব খাওয়া দাওয়া করব আর একটা দুইটা টুপুস টাপুসস চুমুও খাব আর তুমি সব কিছুতে একগুচ্ছ আবেগি ঘুম ডেলে দিলে। বল কিভাবে পারলে? একটুও মায়া হল না আমার উপড়? তুমি বড্ড হার্টলেসস্ আয়ুএকটুত মায়া দয়াকে কাজে লাগাতে পারতে। কালকে কত প্লানিং ছিলল জানো? এটা ঠিক করলে নাএকদম বুকের বা পাশে চুবেছেকিন্তু সব কিছুর উর্দে যা দিলে তাতে আমি ফিদাতোমার ওই ঘুমন্ত মুখইশশ্ বারবার ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করেছে।

কিন্তু ছুঁই নি যদি তোমার মিষ্টি ঘুম আমার দুষ্টু আবেগে ভেঙে যায়! তখনত আরো কষ্ট লাগবে বুঝলেহৃদয়ে ভাঙচুর হবে।
তুমিত আমার আঠারোর আবেগ নও গো প্রানলতা
তুমি আমার ছয়ের কোটায় জাগিয়েছ ব্যথা
যা ক্রমশ বারিয়ে করছ ঝাঝড়া
হৃয়ের ফটক তোমাতেই বন্ধি
তোমাতেই আমি কৃষ্ণচূড়ার সাথে করিয়াছি ভালোবাসার সন্ধি
বুঝলে ওও তুমি সবই দেড়িতে বুঝযেমন আমাকে বুঝেছ ১৯ শের কোটায় এসেহা! হা! তুমি এক ভয়ঙ্কর আবেগ যাতে নিজেকে জড়িয়ে এখন আমি সব হারা। এবারত বুঝলে?

নাকি এখন কনফিউশন কনফিউশন ফিলিংস হচ্ছে? যে ফিলিংসই হোক তাড়াতাড়ি ভার্সিটি এসোআমার হৃদয়ত বহু আগেই ছিন্ন ভিন্ন করেছ এখনত দেখছি বেচারা বই খাতাকেও ছিন্নভিন্ন করার প্লান আছে। ওই সব বাদরেডি হও আর চলে আসআর সরি দেখা না করেই চলে এসেছি। আসলে তুমি যে ঘুম দেয়েছ কি বলব টেরেস থেকে কোলে করে নামানোর সময়ও তুমি একটুও নড়াচড়া করলে না। কত আবেশে আমার শার্ট খামছে ঘুমাচ্ছিলেইশশশ্ আমিত জীবন পাড় করতে পাড়তাম এভাবে।

এত এত কিউট আবেগ জড়িত ঘুম হিটলাররো ভাঙতে পারবেনা আর আমিত এ ঘুমের সদ্ধ হওয়া নতুন প্রেমিকএটাত আমার জন্যে অসম্ভব ছিলল সব শেষে একটাই বলার আছেভালোবাসি বোকা পিচ্চি বউকে আবার বোকা বলেছি বলে গাল ফুলাবে না প্লিজজবাই

আমি এখনো চিঠির দিকে তাকিয়ে আছি। একবার নাকের সামনে নিয়ে জোড়ে নিশ্বাস নিয়ে দেখছি তার ছোঁয়ার ঘ্রাণ পাওয়া যায় কি না? সত্যিই পাওয়া যাচ্ছে। এজেনো এক অজানা অনুভুতিতে আমি সিক্ত যা ক্রমশ বাড়িয়ে দিচ্ছে এ মনের ধুকপু
আমি ভার্সিটির মাঠের এক সাইডের বট গাছটার উপড় পা ঝুলিয়ে বসে আছি। হালকা হালকা বাতাস হচ্ছে। আসলে ঋতুটাই এমন। বাতাস হবে বৃষ্টি হবে সাভাবিক। কিন্তু আমার পাশের ব্যক্তি অসাভাবিক কান্ড করে বেড়াচ্ছে। যা প্রচণ্ড ভাবে আমাকে ভাবাচ্ছে।

সে মহান কার্যকরী ব্যক্তি দিলতার আমার ভাবনায় কোন কিছু যায় আসেনা। সে তো সটাং হয়ে বসে বসে মোবাইল গুতাচ্ছে। আরে বলি হারি প্রেম টেমত করছনা। কিন্তু মোবাইল নিয়ে কিসের এত লুতুর ফুতুর যতসবএবার কিছুটা রাগ নিয়েই বলে উঠলাম,

ওই হারামি বলবি সারফারাজ ভাইকে তুই এত এত কেন ভয় পাশশ

ভয় পাই কে বলল। (মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে)

অবশ্যই তুই ভয় পাশ। তা না হলে এত কাচুরমাচুর করতি না। তাড়াতাড়ি বলবি নাকি আন্টিরে বলে দিমু তুই প্রেম করস

কিককককিআমি প্রেম করি মানে?

হুম করছ আমার তো তাই মনে হয়তুই বলবি না কি আন্টিকে বলমু? আন্টি এমন কথা শুনে নিশ্চুই তোকে চুমু খাবে না? সোজা আঙ্কেল বুঝ তুমি কি হতে পারে? (দলি তার বাপরে বাঘের মত ভয় পায়। এটা দিয়ে এই ভয়ঙ্কর মাইয়ারে জব্দ করা যায়। হিহি)

আরে তাদের কি বলবি তারাইত জীবন পুরা তেজ পাতা করে দিছে। ওই বাঘের সাথে বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আর ওই পলাজে কত নাম্বার কি তা আমি ভালোই জানি

আমি হতভম্ভ নয়নে তাকিয়ে আছি এই মেয়ে তোলে তোলে রিকশা চালায় আর আমি বললেই হরতালশালি তোর হাজারটা জমজ বাচ্চা হবে আভিশাপ দিলাম। এত কিছু করে এখন আমার ভাইটারে এভাবে বলা হচ্ছে দাড়া

খবরদার দিলবার আমার ভাইকে নিয়ে নো উল্টাপাল্টা কথা। আমার ভাইয়ের চরিএ ফুলের মত পবিএ বুঝলি। তুই তো লাকিরে ও তোর জামাই ওয়াওও তুমি হবি আমার ভাবি ইশশশ্ কি মজা। দেখ সব ভাবির মত কুটনামি করবি না। তা না হলে তোরে আমি তুলে আছাড় দিমু বুঝলিআয় এদিকে আয়

কেন?

আরে হাগ করমু তুই এখন থেকে আমার দিলবার ভাবিদিলবার দিলবারটিংনিং নিং নিং

দিলের মুখ দেখার মত। ওর মত ডেন্জারাস মেয়েকে এমন সিচুয়েশনে ফেলতে পারাই বড় বেপার। আমার ভাইটার কপালে যে কি আছে আল্লাহ মালুম। এই মেয়ে তাকে মারতে মারতেই বেচারার হাড্ডি টাড্ডি ভেঙে গুড়িয়ে দিবেআহারেরেররের্

আমি আবার পা ঝুলানোতে মনযোগ দিলাম। কিন্তু বেশিক্ষণ পারলাম না। হঠাৎ ঝড়ের গতিতে ওই দিনের ইফত্তি নামের সেই ব্যক্তি হাজির। আমিত অবাক হয়ে দাড়িয়ে পরেছিসে খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠে,

আরে হায়াত কেমন আছ?

ভালো। কিন্তু আপনি এখানে?

তোমার জন্যেই আশা। (বিড়বিড় করে বলে উঠে)

কি বললেন?

আরে আমি এই ভার্সিটির নতুন টিচার। আসলে আমি আগেই জয়েনিং লেটার পেয়েছি কিন্তু ভেবে ছিলাম চাকরিটা করবো না। আমি এখানকার পুরাতন স্টুডেন্ট তো তাই সবাই বলেছে করতে তাই করবো বলে এসেছি আজকেই প্রথম দিন আমার সাবজেক্ট হিসাববিজ্ঞান

আল্লাহ এই আহাম্মকে আযমান ভাইয়া দেখলে চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে। শালা পৃথিবীতে কি ভার্সিটির অভাব পরেছে নাকি যে এখানেই আসতে হলশালা গরু চোরহাদারাম। (মনে মনে)ওও তাই তাহলে ত আপনি আমাদের স্যার হবেন তাই না। তো স্যার এখন আসি। কালকে নবীন বরণ ত তাই কাজ আছে।

দিলের হাত ধরে দিলাম এক ছুট। শালা যে কি পরিমান প্যারা দিয়েছে কালকে কি বলবো। আল্লাহ বাচ্চাও। ইফতার টেবিলেও কি পরিমান ডিস্টার্বইনা করেছে। হায়াত এটা নিবে, ওটা খাবে, এটা দিব্লা ব্লাআজাইরা পাবলিক শুধু আমারেই পায়।

আমি সারা ভার্সিটি উঁকিঝুঁকি দিয়ে আযমান ভাইয়াকে খুজে পেলাম। সে অডিটোরিয়ামে গিটার নিয়ে বিজে। ধীর পায়ে তার পাশে দাড়াঁতেই। সারফারাজ ভাইয়া এসে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে,

লিটেল পরী কেমন আছ?

ভালো

শুনো আজ থেকেই প্যাকিং শুরু করো কিছু দিন পরেই আমরা চাদঁপুর যাবো।

চাঁদপুর কেন ভাইয়া?

আরে নানু বাড়ি চাঁদপুর।

ওওলঞ্চে করে যেতে হয় বুঝি? শুনেছিতাই জিগ্যেস করছি।

হুমবসো আমি একটু আশি

আমি তার কথা শুনে পিছনে তাকাতেই দেখি দিল গায়েব। এবার বুঝতে পারচ্ছি ভাইয়া কথায় গেছে। হিহিআমি এবার অডিটোরিয়ামের দিকে চোখ বুলাতে লাগলাম। আযমান ভাইয়া নিজের গিটার নিয়ে টুংটাং সাউন্ড করছে। তার আশে পাশে মেয়েদের আনাগোনা।

দেখে মনে হচ্ছে মিষ্টির আশেপাশে পিঁপড়া উনি একবার ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকায়। আবার তার নিজের মত কাজ করছে। আশ্চর্য একটু পাত্তাও দিচ্ছে না। আমি মন খারাপ করে আবার বাহিরে যাওয়ার জন্যে পিছন ঘুড়তেই নিলয় নামের ওই দিনের ছেলেটা এগিয়ে এসে বলে উঠে,

ভাবি এখানে বসেন

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। ওই দিনত ভা ভা করে মাথা খাচ্ছিল আর আজকে ডিরেক্ট ভাবি। ওওও এইটাই ছিলল ভাভার মানে। কিন্তু তখন কেন ভাভা করেছে কে যানে। আমি ওনাকে সরু গলায় বলে উঠলাম,

ভাইয়া আপনার কি ভাই আছে?

হ্যাঁ আছে তো কেন ভাবি?

একটু কল করে আসতে বলবেন প্লিজজ

অবশ্যই। (মোবাইল পকেট থেকে বাহিরে এনে ডায়েল করতে করতে বলে উঠে)কিন্তু কেন ভাবি তা ত বলেন?

ওওও আসলে উনিত আমার জামাই তাকে একটু দেখবো সাথে এখনোই বিয়ে করে আপনার লিগাল ভাবি হবআইডিয়াটা কেমন নীল ভাইয়া?

নিলয় ভাইয়া এবার নিজের মোবাইল আবার পকেটে পুরে নেয় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকেদুই তিনটা শুকনো ঢোকও গিলেতারপর বলে উঠে,

কি যে বলেন ভাবি। আপনার ভাইয়া না মনে আপনার জামাই ত এখানে আছে। আমি বরং যাই পরে দেখা হবে ভাবিআল্লাহ হাফেজজজ

নিলয় ভাই তো গেয়া আমার খুব হাসি পাচ্ছে। আসলে এত এত দুঃখের মাঝে উনিই একটু হাসাতে পেরেছে। আহারে আমি বেচারি। দলিরে বাচ্চাটাও ধোকা দিল। কিভাবে পারল নিজের বিয়ার কথাটা গিলে যেতে? হুআমি আবার পা বাড়ালাম এখানে থেকে কি হবে জনাব তো পাত্তাই দেয় না। আমি হাঁটা দিতে গিয়েই বুঝতে পাড়লাম কেউ আমার ওড়না ধরে রেখেছে। চট করে পিছনে তাকাতেই বুঝতে পাড়লাম আযমান ভাইয়া।

আমি ওড়না ছাড়াতে টানাটানি করছি। উনি আমার হাত ধরে এক টানে তার পাশে বসিয়ে দিল। আমার তো রাগ লাগছে। সবাই অতি আগ্রহ নিয়ে আমাদের দেখছে। আশ্চর্য এভাবে দেখার কি আছেআমি আবার কাচুমাচু করে নিজেকে ছাড়াতে শুরু করি উনি এবার আমার কানের কাছে এসে সামনে তাকানো অবস্থায় ফিসফিসিয়ে বলে উঠে,

বিয়ে করার কি খুব সখ হয়েছে? আমাকে ত একবার করেই শেষ করেছ। কত কত দুঃখ বুঝলে না? তার আগেই উল্টাপাল্টা কথা না। দাড়াও দেখাবো আগেরটার শাস্তি আগে পরেরটা পরে

আমি হা করে তাকিয়ে আছি। উনি টুংটুং করে গিটার বাজিয়ে উঠেএটা কি হল আমি আবার আগে কিছু করেছি নাকি? আমি এবার ভয়ে কাচুমাচু করছিউনি আবার বলে উঠে,

গিটার বাজাবে

আমিত পাড়িনা

পাড়িনা বলতে কিছু নেই আয়ু আমি শিখিয়ে দিবতোমার না খুব সখ ছিলল?

হুম। (আমি খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠি)

উনি নিজের বাহু থেকে গিটার খুলে আমাকে পড়িয়ে দিল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। এটা কোন নরমাল গিটার না এটা আযমান ভাইয়ার সবচাইতে প্রিয় গিটার। উনার দাদার দেওয়া শেষ গিফট। এটা উনি কাউকেই ধরতে দেয় না। আমি তো ভয়েই কখনো ধরতাম না। একবার উনার এক বন্ধু ধরেছে বলে উনি তাকে সেই লেভেলের মার দিয়ে ছিল।

আমি তো ভয়ে তারপর থেকে এই গিটারের আশেপাশেই আসি না। উনাকে ত বাবা দামি দামি গিটার কিনে দেয় কিন্তু এটা তার সবচাইতে প্রিয়। আর এটা উনি আমাকে পড়িয়ে দিল। আমি হতবাগউনি আমার ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে গিটারের মাঝের তার আর বাম হাত দিয়ে গিটারের উপড়ে পিনগুলোতে রেখে দিয়ে বাজাতে শুরু করে আমি এখনো অবাক। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হাত দিয়ে বাজাতে ব্যথা লাগছে তাইনা? আমি বাজাই তুমি উপরের পিনগুলো বাজাও মানে বুঝতে পারছ

আমি মাথা ঝাঁকালাম। উনি আমার সব ব্যথা নিজের কেন করতে চায়? ভালোবাসা মানেই কি এটা? আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে কোথাথেকে মালিহা আপু এসে চেঁচিয়ে বলে উঠে,

আযমান তুমি এই গিটার ওকে ধরতে দিলে? কিভাবে?
আমি ধরে ছিলাম দেখেত তুমি অনেক ঝাড়ি দিয়েছ। আর এখন ওকে বাজাতে দিচ্ছ। যদি ছিঁড়ে ফেলে বা ভেঙে ফেলে

ফেললে ফেলবে আমার জিনিসস ও ভাঙলে ভাঙবে কার কি।

আযমান ভাইয়া ভাবলেশহীন ভাবে কথাটা বললেও মালিহা আপুর তা মোটেও পছন্দ হল না আমি তো তার লাল লাল মুখ দেখে ভয় পাচ্ছি। সব মেয়েরা এবার নিজেদের আগ্রহ আরো দুই ধাপ বাড়িয়ে দিলো এদিকে। এখানের সব ভাইয়া আপুরা সিনিয়ারসবারই চোখ এখন আমাদের দিকে তারা হয়ত এটা বুঝতে চাচ্ছে আযমান ভাইয়া আমাকে কেন তার এত মূল্যবান বস্তু ধরতে দিয়েছেআমি এবার আযমান ভাইয়ার দিকে তাকালাম উনি তো আমার আঙ্গুল নিয়ে খেলতে বিজিআমি হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছি তার দিকে এবার উনি বলে উঠে,

তোমার আঙ্গুল গুলো খুব সুন্দর আয়ুআগে কেন খেয়াল করলাম না চিকন চিকন গোলাপি গোলাপি আঙ্গুলইশশ্ কত কিউট

আমি আর কি বলবো সবার আতঙ্কিত মুখ দেখতে থাকি আর উনি দেখুক আমার আঙ্গুল জনমের মত

পর্ব ৯

সবার আতঙ্ক থেকে বেচেঁ ফিরলেও আমি আর এক আতঙ্কিত অবস্থার মুখে পড়লাম। আল্লাহ এইডা কি চলেআমার দিলবারকে ভাইয়া অতিব ভালোবাসায় দেয়ালের সাথে চেপে ধরে তার সামনে দাড়িয়ে আছে। দিলের অবস্থা শোচনীয় বেচারি হাত মোচড়াতে মোচড়াতেই অবস্থা খারাপ। আর ভাইয়া! সে তো হেসেঁ কুটাকাটাআমি আগ্রহের মাএা দুই ডিগ্রী বাড়িয়ে দিয়ে তাকিয়ে আছি। তাদের কথা শুনা যাচ্ছে দিলের একটাই কথা

এই এই হাত ছাড়েন ভালো হবে না বলেদিচ্ছিআমি কিন্তু ক্যারাটে চেম্পিয়ান মেরে মাথা ফাটিয়ে দিব

তার কথা শুনে ভাইয়া হেসেঁ হেসেঁ বলে উঠে,

অবশ্যই ফাটাও কেন নয়তুমি আমার এক মাএ বউআর একমাএ বউ পিটাবে এটা সাভাবিক

আমিত আশ্চর্য চোখে দেখছি আর মনে মনে বলছিআব তেরা কেয়া হোগা দিলবারদিল এমন একটা চিজজ কি বলবছেলেরা প্রপোজাল দিতে আসলেই ধাড়াম ধাড়াম পিটাওহহহহ্ কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার।

শুধু যে ছেলে গুলারে পিটে তা নয় যে তাকে ডেকে নিয়ে যাবে তাকেও মেরে অবস্থা খারাপ করে দেয়। আমিও একবার খাই ছিলামহি হি হিসেই মেয়ের এমন ভায়াবহ অবস্থা হবে ভাবা যায়? দিল এবার চুপসে গেছে ইশশশ্ কিন্তু বিরক্তি কর ব্যাপার কেউ অতি বিরক্তি নিয়ে বার বার আমার পিঠে হাত দিয়ে ডাকছে।

আমি বার বার হাত সরিয়ে দিচ্ছি। আর সে বার বার দিচ্ছে। আশ্চর্য যখন ইন্টেরেস্টিং জিনিসস এত মন দিয়ে দেখছি আর তখনোই এই বিরক্ত কোথা থেকে এসে হাজিরআমি আবার বিরক্তি নিয়ে হাত সরাতেই কেউ কানের কাছে ফিসফিসস করে বলে উঠে,

ছিই আয়ু নিজের ভাইয়ের পার্সোনাল ব্যাপার এভাবে দেখতে নেই

আমি তড়াত করে তাকিয়ে দেখি আযমান ভাইয়াআমি তো চিৎকার দিব বলে মুখ হা করতেই আযমান ভাইয়া মুখ চেপে পাশের খালি রুমে নিয়ে গেলেন আর বলে উঠলেন,

ডোন্ট শাউটবেবসসস

আমি উম্ম্ উম্ম্ করে মুখ ছাড়তে বলছি। ওনি মুখ ছেড়ে বলে উঠে,

ওপসস সরি

এভাবে মুখ চেপে ধরার মানে কি? আর বিরক্ত করছেন কেন? কি ইন্টেরেস্টিং পার্ট চলছে ইশশ্ আপনার জন্যে মিসসস্

আবার এসব ছিই আয়ু ব্যাপারটা খুবই বাজেনিজের ভাইয়ের রোম্যান্টিক সিন দেখার কি দরকার?

দরকার আছেওটা শুধু ভাইয়ার রোম্যান্টিক সিন না ওটা দিলেরও ব্যাপারআপনি ভাবতে পাড়বেন না ওও তোলে তোলে কি কি করে? শালিআমি

আবার উল্টাপাল্টা কথাএমন কিছুই না সারফারাজ ওকে পছন্দ করে তাই ডিরেক্ট বিয়েতে চলে গেছে।

আপনি জানেন? উনি কোথায় দেখেছে ওকে মানে পরিচয় কি ভাবে?

একদিন তোমাকে দেখতে গিয়েছিলাম তখন সারফারাজও ছিলল তখন তোমার সাথে ওকে দেখেই সারফারাজের পছন্দ হয়ে গেছে ব্যশশ্ শালা আমার জন্যে মেয়ে পাইছে বলে কিনা আমি যদি জানতাম তুই আমার বোনের পিছনে ঘুড়ছ তবে কিন্তু তোকে পিটাইয়া বারোটা বাজাতামশালা বন্ধু মানেই হারামি

আযমান ভাইয়া হাসছেক্লাসের জানালা দিয়ে রোদের আলো ডুকছে যা ওনার মুখে বারি খেয়ে এক অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করছে উনাকে খুব সুন্দর লাগছে যেন রোদের আলোয় চিক চিক করা বালু কণা। ইশশশ্আযমান ভাইয়া এবার নিজের হাসা বাদ দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আশে। আমিত অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। আর একটু এগিয়ে আসতেই আমার প্রান উড়ে যায় যায়।

ভায়ের রোম্যান্টিক সিন দেখার চাইতে নিজে ক্রিয়েট করলে কেমন হয়?

মানে

খুব ইজিতুমি আর আমি মিলে আমরা। (আমাকে চোখ মেরে বলে উঠে)

আমি দেয়ালের সাথে ঘেঁষে দাড়িয়ে আছি। আর উনি আমার দুই পাশে হাত দিয়ে রেখেছেআমি ভয়ে আরো দুই কদম পিছাতে গিয়েই বুঝতে পারছি জায়গা নাই

আছে এখানে অনেক বেশিই আছে। (বুকে হাত দিয়ে)

আমি হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছিউনি এবার আরো এক কদম এগিয়ে এসে দাড়িয়েছে। ভয়েত এবার আমার হাত পা কাপঁছে। কান গুলো দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। গাল নাক জলে যাচ্ছে টেনশনে নিশ্চুই লাল হয়ে গেছে। আমার গলা শুকিয়ে আসছে। উনি এবার তার মুখ আমার মুখের একদম কাছে নিয়ে আসতেই আমি চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিয়েছিঘাম গুলো হেজাবের কোনা বেয়ে গাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ছেহাত পা কাঁপাকাঁপি করছে। আচ্ছা উনিকি সাঙ্ঘাতিক কিছু করবে? করতেও পারে। উনিত আযমান ভাইয়া। তার দাড়া সবই হয়

অনেক সময় হয়েগেছে কিন্তু কিছুই হচ্ছে নাইয়ে মানে আমি একটু উল্টাপাল্টাই ভেবে বসেছিআচ্ছা উনিকি চলে গেছে? কই আমি ত উনার নিশ্বাসের গতি মাফতে পারছিআমি হঠাৎ ঠাসসস্ করে নিজের চোখজোড়া খুলে তাকালামউনি আগের মতই দাড়িয়ে আছে। তার সাদা আবরণে আবৃত চোখের মাঝের কালো মনি খুবই আকর্ষণীয় লাগছে।

দেখে মনে হচ্ছে সাদা আকাশে কালো চাদঁ ইশশশ্ কি মায়ার চোখ তার তার চাহনি নেশা ধরানোর মতআমি তাকিয়েই আছিএ চোখে হারাতে কোন মেয়েরই বেশি সময় লাগার কথা না। আমি তাকিয়ে আছিত আছিএবার মনে হচ্ছে কোমড়ে কেউ হাত দিয়েছে। ভালো করে তাকিনোর আগেই আযমান ভাইয়া খুব জোড়ে আমার কোমড় জড়িয়ে আমাকে তার আরো একটু কাছে নিয়ে আশে। এবার আমি ভয়ে আবার চোখ কুঁচকে নিয়েছি। হঠাৎ ছোট একটা শব্দ কানে ভেসে আসে। সাথে সাথে আমার কপালে নরম কিছুর অনুভব হয়। আমি তাকিয়েই বুঝতে পারি উনি আমার কপালে চুমু খেয়েছেউনি কিছুটা শরে এসে হু হা করে হেসেঁ উঠেচোখ বুজে হাসছে সে

তুমি কি ভেবে ছিলে বেবি? (ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠে)

আমি লজ্জায় মাথা নিচে নামিয়ে ফেললাম। আসলেই আগে উল্টাপাল্টা ভাবা উচিত হয় নি। আমি এমনই আগেই মানুষকে না চিনেই মন্তব্য করিডাফার একটা

এতটা ভয় দেখানোর মানে কি?

এটাতো ট্রেইলার ছিললওই ইফত্তি না কি টিফত্তির সাথে আর যদি দাতঁ কেলিয়ে হেসেঁ হেসেঁ কথা বলতে দেখি তবে আর কি কি করতে পারি ভাবো জানেমান ইশশশ্ ভয়েত তুমি লাল হয়ে গেছএকদম আগের তোয়ালে পিচ্চির মতহি! হি!

উনি আবার হেসেঁ উঠললআশ্চর্য এত হাসার কি আছে? উনি নিজেইত ভয় দেখিয়ে জান যায় যায় টাইপের অবস্থা করেছেহুউনি হাসি থামিয়ে বলে উঠে,

আরো কি রোম্যান্টিক সিন দেখার আছেনাকি যাবে

আমি আযমান ভাইয়ার গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছি। এটাই বলা হয়েছে করতে। মানে দাড়িয়ে থাকতেআযমান ভাইয়া সানগ্লাস হাতে নিতে নিতে এগিয়ে এসে বলে উঠে,

দাড়িয়ে আছ কেন চল

আপনিইত বলেছেন দাড়িয়ে থাকতে

উনি হেসেঁ গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে বলে উঠে, বোকা পিচ্চি বউ আমার

এই কথায় কথায় বোকা পিচ্চি বলবেন না আমি কি পিচ্চি নাকি? ১৮+ বুঝেন কত বড়

হুম বুঝি বুঝি। (আবার হেসেঁ বলে উঠে)

আমি সিটে বসতেই উনি পিছনের সিট থেকে একটা ঝুঁড়ি হাতে ধরিয়ে দিলতারপর পাশের সিটে বসে বলে উঠে,

খোলো

আমি অতি আগ্রহ নিয়ে খুলতেই এক ঝুঁড়ি চুড়ি দেখতে পাচ্ছি। সব কাঁচের ইশশশ্ কি সুন্দর

আপনার মনে আছে আমার কাঁচের চুড়ি প্রিয়?

তোমার সাথে যুক্ত কিছু ভুলা অসম্ভব এটা তোমার 17wedding anniversary giftআরো একটা জিনিস আছে

বলে পকেট থেকে একটা বক্স বের করে তা থেকে সবুজ পাথরের একটা আংটি হাতে নিয়ে বলে উঠে,

এই সব আমার নিজের টাকা দিয়ে কিনাবাবাইয়ের অফিসে আমি কাজ করিআর্কিটেক্ট হিসেবেযদিও আমি মাএ এক মাস কাজ করেছি কিন্তু ডুবাইয়ে বাবাইয়ের কিছু বিল্ডিং এর ডিজাইন করেছি যা তার অতি মাএায় পছন্দ হয়েছে তাই ত টাকাও বেশি দিয়েছে আর তোমার জন্যেও এটা নিতে পেরেছিসুন্দর না

অনেক অনেক সুন্দর। তবে চুড়ি গুলো বেশি সুন্দর আমিতো প্রতিদিন পড়ে পড়ে ঘুড়বো একদিন এক ঝাঁকইশশশ্ কত কত কিউট

উনি হাতে আংটি নিয়ে আশ্চর্য ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হয় আমি ভয়ঙ্কর কিছু বলেছিআমি একটু নিচু গলায় বলে উঠি

কিছু কি ভুল বলেছি

উনি হেসেঁ উঠে আমার হাতটা টেনে নিয়ে সবুজ পাথরের আংটিটা পরিয়ে দিয়ে বলে উঠে,

নাকিন্তু তুমি কি যানো এটা কি পাথরের তৈরি। (রং দেখিয়ে)

না

পৃথিবীর কিছু অতি দামি ডাইমন্ড হয় যেমন কালো ডাইমন্ড এমনই একটা পাথর পান্না যাই হোক তোমাকে অত বুঝতে হবে না তুমি কিন্তু আংটিটা নিজের হাতেই পরে থাকবেযানো প্রথম বছর মানে বিবাহের প্রথম বছর আমি তোমাকে নিজের ব্যাট কিনার টাকা দিয়ে পুতুল কিনে দিয়েছিলাম তুমি তা কামড়ে কামড়ে ছিড়ে ফেলেছিলেব্যাপারটায় আমার প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল বাবাই তখন বুঝিয়েছে যতদিন তুমি বড় না হবে তোমার গিফট আমি কিনে কিনে রাখতাম। যখন বড় হবা আমি সব এক সাথে দিয়ে দিবো। আমার কাছে কিন্তু এখনো ১৬টা গিফট আছে তোমার

আমি হতবম্ভ হয়ে বলে উঠি

আপনি তখন কিভাবে জানতেন wedding anniversary তে গিফটও দিতে হয়?

বাবাই থেকে শিখেছিমাম্মামকে দিতে দেখেছি। আরসে বলেছে বউকে গিফট দিতে হয়। আমাদের নবীও দিত এতে বউয়েরা খুশি হয়। আর বউদের খুশি রাখা আমাদের কাজ মানে স্বামীদের কাজ

আল্লাহ আপনি এই নয় বছর বয়সে এত কিছু জানতেন আর বুঝতেন! আমিত শিহরিত আপনার কথা শুনে আল্লাহ দড়ি দেও এই পৃথিবী বড়ই ভয়ঙ্কর আমার মত নাদুসনুদুস বাচ্চার জন্য উপযুক্ত নহে

তুমি কি ভেবেছ আমিও নিজের পিচ্চি বউয়ের মত বোকা নাকিহা! হা!

উনি আবার হাসিতে ফেটে পরে। আর আমার মাথা ৩৬০ ডিগ্রী এঙ্গেলে ঘুড় পাক খাচ্ছে। এই পোলা যে কত কত সাঙ্ঘাতিক আল্লাহ মালুম

পর্ব ১০

বাসায় এসেই আর এক পাগলের পাল্লায় আমি। বুঝলাম না এই মেয়ে আমার বাসায় কখন বা কি ভাবে এসে হাজির হয়েছে। আমি জুতা খুলে ভিতরে ডুকে দেখি আম্মু মহারাণীর মাথায় আইসব্যাগ দিয়ে ঠান্ডা করার অপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছে। অজিব মাইরি। এই মেয়ের শেষ গতি কি কে জানে। আমি ধির পায়ে দিলের পাশে সোফায় বসতেই দিল চেঁচিয়ে বলে উঠে,

দেখেছেন আন্টি কেমন বেয়াদোপ মেয়ে। এসেই পাশে বসে পরেছে। আরে বলি হয়রি একটা দুইটা কথাত বলবি তা না নিজের মন মত হুআমার যে এত এত খারাপ অবস্থা সেদিকে তোর একটুও চিন্তা আছে?

এত চিন্তা করে কি করবো। তুইও করিস না। শালি বিয়া ঠিক। এখন বিয়া সাদি করবি তারপর বাচ্চা কাচ্চা তারপর নাতি নাতনি তারপর

থাক থাক আর তারপর তারপর করতে হবে না। তারপরের গুলো আমি ভেবে নিবো। এবার বল আমি পালামু কেমনে?

আমি রিমটে টিপ দিতে গিয়েই থেমে গেলাম। আমি দিলের দিকে ভুত দেখার মত করে তাকিয়ে আছিকি কয় মাইয়া বিয়া থেকে পালাবে নাকি?

এই বিয়া টিয়া থেকে পালানোর প্লান আছে নাকি? (ভ্রু কুঁচকে)

অবশ্যই নাইলে কি ওই লুচু টাইপ পোলারে আমি বিয়া করমু না কি নো নেভার

আসতাগফিরুল্লা আমার ভাই লুচু? হারামি তুই এইটা বলতে পারলি তোর জমজের কারখানা হবে দেখিস

মানে

মানে তোর জমজ পোলা পাইনের কারখানা হবে। বুঝলি

আয়ানা

দিল হঠাৎ চিৎকার করেই চুপ হয়ে গেছে। আমি একটু অবাক হয়ে যেই না টিভির দিকে তাকাতে যামু তার আগেই ভাইয়া মাথায় গাড্ডা মেড়ে বলে উঠে,

হায়াত অসভ্যতারও লিমিট আছে। এসব কি দিয়ে রেখেছিসস টিভিতে। আম্মু পাশে বসে আছে দেখছিস না। ফাউলল মাইয়ারিমট দিয়া যা ভাগগ

আমি এবার টিভির দিকে তাকিয়ে হতবাগ। টিভিতে চুমাচুমির এক বিস্তর সিন চলছে। আর আমার অপর প্রান্তে আম্মু নাক ফুলাতে শুরু করেছে। ভাইয়া তো রেগে মেগে ফায়ার। ঝাঁড়ি মেড়ে আমার হাত থেকে রিমট নিয়ে আমার আর দিলের মাঝের পাকা জায়গায় বসে পড়ে আর বলে উঠে,

দিনে দিনে বড় হস আর বুদ্ধি গুলো গায়েব করছ। আবুল মাইয়া। যা আমার জন্যে লেবু শরবত নিয়া আয়। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডাটা আনবিএবার মুখের দিকে না তাকিয়ে যায়।
আমি উঠে পড়লাম। আম্মু তার ভাঙা রেকর্ডিং যে কোন সময় চালু করে দিতে পারে। ভালো হবে তার থেকে দুরে থাকা। এখন একটাই উপায় এই হিটলার ভাইয়ের আদেশ শিরোধার্য করে পালন করা। এখনকার টিভি চ্যানেলে কি কি যে দেয়। হুট করে ভুলে এমন জায়গায় গিয়ে থামল তার উপড় আম্মু ভাইয়ার সামনে ছিইইইই কি বিচ্ছড়ি ব্যাপার।

লেবুর শরবত ভাইয়াকে দিয়ে আমি তার পাশে বসলাম। দিলবার নিজের চুলের খাজে খাজে বরফ দিচ্ছে। মাথা ঠান্ডা রাখা তার এখন অতিব জরুরী। মাথা ঠান্ডা না রাখলে চলবে না। পালাতেত হবে। কিন্তু চান্দু সোনা আমি তো তা হতে দিব না আমি তো তোরে সারফারাজ ভাইয়ের গলায় ঝুলামু। দিলের হঠাৎ কি হল সে উঠে দাড়িয়ে পড়ল। সাথে আমার একমাএ রক্তের ভাইয়ের কলার ধরে তাকেও দাড় করিয়ে দিল। ঘটনার আকর্ষীকতায় ভাইয়া হতবম্ভ নয়নে তাকিয়ে আছে। সাথে আমিও। দিল এবার চেঁচিয়ে বলে উঠে,

শালা উখান্ডা তুই এখানেও হাজিরতোরে তো আজ আমি নিজ হাতে আলুর ভড়তা বানামু। খুব জ্বালাই ছস। এই দিল কি এবার বুঝবি। (বলে ঘুষি উঠায়)

আমি দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে বলে উঠিভাই ভাই ওকে ছাড়। ও তো আমার একমাএ রক্তের ভাই। (দিল ভ্রু কুচঁকে তাকাতেই আবার বলে উঠলাম)রক্তের মানে নিজের ভাইওপসস সরি সারফারাজ ভাই ও ত নিজে না মনে এটা আজিম ভাইয়া আমার মায়ের পেটের একমাএ ভাই।

যদিও এরে মারার বহুত ইচ্ছা আছে তবে সেটা আমি নিজেই মেরে দিতে পারবো। কিন্তু তুই ডাইনি ওরে মারিস না। ওর কিছু হলে আমার তোর বিয়ার দায়িত্ব কে নিবে বল ওরেইত চাকরের মত খাটামু। আর গিফটও তো ওর থেকেই নি বল ওরে ছাড় মা

দিল হু হা করে হেসেঁ ছেড়ে দিল। আমি আবুল এবার বুঝতে পারলাম হালি মজা করছে। কিন্তু আমিত উত্তেজনার বসে ভাইয়ারে কি কি বলে দিলাম এবার ভাইয়া আমার বারোটা বাজাবে নিশ্চিত। আমি ভয়ে ভয়ে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আবাক হলাম। সে নিজেও হাসতে হাসতে বলে উঠে,

হায়াত তোর যে বিয়ের জন্যে মন আকুপাকু করতাছে বুঝতাম পারছি। আব্বু আসুক আজকে বলে পাএ ডাকতে বলমু আর তোরে কান ধরে দরজা দিয়া বেইরে ফালাই দিয়া আসমু মানে তোর জামাইয়ের ঘাড়ে দিয়া দিমু।

আমি ভাইয়ার দিকে রাগি লুকে তাকিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালাম

ছাদের এক সাইডে রেলিং দেওয়া হয় নাই। আমিই আব্বুকে নিষেধ করেছি। ছাদের চারপাশ বন্ধ হলে ব্যাপারটা কেমন দম বন্ধ দম বন্ধ লাগে। তাই আব্বুকে বলেছি ছাঁদের দক্ষিণের সাইড খোলা রাখতে। মাঝে মাঝেই আমি পা ঝুলিয়ে বসে বাতাস খাই। ভালোই লাগে। মন খারাপ হলেই আমি এখানে বসি ব্যাপারটা তেমন না মন ভালো থাকলেও বসি। বই পরার জন্যে একটা অসাধারণ জায়গার প্রয়োজন। আসলেই ব্যাপারটা সত্য।

আমি ছাঁদে এই সাইডে বসেই বই পড়ি দিনে বা রাতে যখন মন আকুপাকু করে বইয়ের সাথে প্রেম করতে তখনই। আব্বু ছাদে বিশেষ লাইটের ব্যবস্থা করেছে যাতে আমার রাতে পড়তে কষ্ট না হয়। তবে আমি বোড বই পড়িনা ভালো লাগেনা। গল্পের বই ভালো লাগে। নতুন জীবন, নতুন লেখা, নতুনত্বের ঘ্রাণ পাওয়া যায় বইয়ে। আমি এখনো একটা বই নিয়ে পা ঝুলিয়ে বসে বসে পড়ছি। রাস্তার আলো গুলো রাস্তার সাথে সাথে আমাদের ছাদেও পরছে। ঝিঝি পোকা পিনপিনে শব্দ করছে।

আমি আরাম করে বসে বইয়ের এক এক পাতা উল্টাচ্ছি আমার অপর পাশে দিল মনের সুখে পা দুলাচ্ছে। কিন্তু আসলেই যে তার মনে সুখ আছে ব্যাপারটা সত্য নহে। তার মনে এখন বিরক্তি আর বিরক্তির বসবাস। বেচারির জান ফোনটাও অফ করে রেখেছে। সারফারাজ ভাইয়া কল দিতে দিতে ওর মাথা খারাপ করে ফেলেছে। আজ সে আমাদের বাসায় থাকবে বলে ব্যাগ ট্যাগ নিয়ে হাজির।

এই তোর মনে হয় না আমার সত্যিই পালিয়ে যাওয়া উচিত

না মনে হয় না। তুই বল আমার কিউট ভাইটার মাঝে কিসের কম আছে যে তোর এত এত ভয় করে ওনারে

আমি মোটেও ওই ফারফারাজকে ভয় পাইনা। কিন্তু কেমন কেমন জানি লাগে তার সামনে গেলে

কেমন কেমন মানে? (ভ্রু কুঁচকে)

এই যেমন হার্টবিড ফার্স্ট হয়ে যায়নিশ্বাস আটকে আসেহাতপা ক্রমশ কাপাঁ কাপিঁ করে, আর মাঝে মাঝেত চোখ গুলোও প্রবলেম করে

কেমন প্রবলেম?

আরে কেমন কেমন যানিঅত সত বুঝিনা। পালামু কেমনেক

আচ্ছা যদি থাকতে থাকতে বা উনারে দেখতে দেখতেই প্রেমে পড়ে যাচ তখন তো পস্তাইবি। আহারে কেন যে পালাইতে গেছিব্লা ব্লাতার চাইতে বিয়া কইরা হালাআমিও ভাইয়ারে জিজু বানাইয়া হেব্বি শপিং করমুহু হা হা

আমি মনের খুশিতে হাসছি দিল বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমি ওর ফোন অন করে ওর পাশে রাখতেই তা কিং কিং করে বেজে উঠেও আমার দিকে রাগি লুক দিতেই আমি বইটা মুখে গুঁজে নিপড়ার ভান করে আরাম করে পা তুলে ছাদের দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়িবান্ধু নামের এই বস্তু গুলার বিয়া খাওয়ার মজাই আলাদা। ওওপসস বিয়াত খাওয়া যায় না দাওয়াত খাওয়া যায়হি! হি! মজাই মজা ইয়াহু

রাত কয়টা বাজে জানিনা কিন্তু আমি প্রচণ্ড বিরক্ত নিজের কোচুর ফোনের উপড়শালারে বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে ছিলাম কিন্তু এত এত সাউন্ড করছে সাস্ট অসজ্জকর ঘুমের মত প্রান প্রিয় জিনিসের সাথে কম্পোমাইজ করা মানে যে কলিজার সাথে কম্পোমাইজ করা এটা কেন অপর পাশের শয়তান ব্যক্তি বুঝতে পারেনা কে যানে।

আমি কয়েকবার কেটেঁ দেওয়ার পরেও বান্দা আমার কষ্ট বুঝতে নারাজআজবআমি এবার এক রাশ বিরক্তি নিয়ে ফোন কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে কেউ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠে,

আয়ু ফোন কাটাঁর মানে কি? তুমি যানো আমি কত টেনশনে ছিলামআর এত রাতে তুমি জেগে আছ কেন? না ঘুমিয়ে কি কর? ফোন টিপ না?

মোটেও না আপনি এমন একটা টাইমে কল দেওয়ার মানে কি? আশ্চর্য মানুষত আপনি নিজে দিয়ে নিজেই কথা শুনাচ্ছেন। আমি কত সুন্দর ঘুম দিয়ে ছিলাম আর আপনি তা কত অনায়াসেই ভেঙে দিলেন। কেন বলেন ত?

সরি জানপাখি একটু কথা বলতে ইচ্ছে করছেএকটুই বলবোপ্লিজজজ

মানে কি? আপনি কি রাতের একটা বাজে আমাকে কল করেছেন প্রেম আলাপ করতে?

অবশ্যই না। নিজের বউয়ের সাথে প্রেম আলাপ করার মানে হয়? আমি ত ভালোবাসার আলাপ করতে কল করেছিএকটু বারান্দায় আসবে প্লিজজজজ

না পারবো না আমার ঘুম আসছে ঘুমাই প্লিজজ

ঘুমাবে ঘুমাওআমি তাইলে চলে যাই

চলে যাই মানে আপনি কোথায়? (অবাক হয়ে)

নিচে

কোন নিচে তোমাদের বাসার নিচে

আমি এবার ফোন কানে রেখে এক প্রকার দৌড়ে ব্যালকুনিতে গিয়ে দেখি উনি গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছেতাকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগছে মনে হয়। আমাকে দেখেই ঠোঁটে এক বিশাল হাসি টেনে হাত নাড়িয়ে বলে উঠে,

আমার না খুব মন খারাপ আজতোমাকে না দেখলে ঘুম আসবে না তাই চলে এসেছি সরি বউঘুম ভাঙাতে চায়নি তোমার রুমের লাইট জ্বালানো দেখে মনে করেছি তুমি জেগে আছআমি আগে জানলে নিজেই ব্যালকুনি বেয়ে উঠে তোমাকে দেখে যেতাম এত কষ্ট কখনো দিতাম না

আপনার মন কেন খারাপ? আর এত ক্লান্ত কেন আপনি? কিছু কি হয়েছে?

ক্লান্ত কারন আমি অফিসস থেকে এসে আর ফ্রেশ হয়নিতাই এমন লাগছেঅনেক বড় কিছু হয়েছেআমাদের কাজের মেয়েটা আছে না রূপা

হুম কি হয়েছে ওর

ওর কিছু হয় নি কিন্তু ও আমার অনেক কিছু করেছেও তোমার একটা ছবি ভেঙে ফেলেছে। ওটা আমার খুব প্রিয় একটা ছবি ছিলল তাই মনটা খারাপ। যদিও ঘুম আসবে না তবুও শান্তি লাগছে তোমাকে দেখে। এবার রুমে গিয়ে ঘুমাও ওও আর একটা কথা কাল কি তুমি শাড়ি পড়বে

জানি না কিন্তু কেন?

এ মনেতেইচাঁদের আলোয় তোমায় খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে মুক্তা ঝড়ছেবড্ড শীতল তোমার চাহনিমন চায় ছুটে এসে একটু জড়িয়ে নিআচ্ছা এখন আসলে কি তোমার বাবা কিছু বলবে?

এই কি বলছেন আপনি এত রাতে বাসায় আসবেন মানে কি তার চেয়ে আমি বরং আসি

এই না না। তুমি এখানেই থাকো। আরো একটু দেখে চলে যাবো

আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে ক্লান্ত চোখে দেখছে আমাকে। সামান্য ছবি ভেঙেছে বলে সে এত রাতে এখানে ছুটে চলে এলোএতটা পাগলের মত ভালোবাসার মানে কি। অদ্ভুত ভালোবাসা।

হুম বড্ড অদ্ভুত কিন্তু কি করবো বল তুমিইত এটার জন্যে দায়ি। তোমাতে আমি আসক্ত বড্ড বাজে ভাবে আসক্ত। কিন্তু এই আসক্তি আমি কাটাতে চাইনা। সারা জীবন আমি তোমার এই আসক্তিতে ডুবে থাকতে চাই।
আমি তোমার প্রেমে পড়েছি
এই প্রেম ভয়ঙ্কর
যা মনের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত নিজ দখলে নিয়েছে।
যা কমার নয় শুধুই ক্রমশ বাড়ছে
তোমার বিরহ আমার মনকে দহন যন্ত্রনায় কাতর করছে
হ্যাঁ আমি পুড়ছি

খুব করে পুড়ছি
জঘন্য ভাবে পুড়ছি
তুমি হীনা আমি পুড়ে ছাই
তুমি হীনা আমি এক ডানা বিহিন প্রজাপতি
তুমি হীনা জীবন আমার রং বিহিন কৃষ্ণচূড়া
আমি তোমাতেই ডুবি সূর্যের দীপ্তির মত
তুমিই আমার ওই চাঁদের আলো
তুমি হীনা নিঃশ্ব আমি

পথ হারা পথিক যেমন
তুমি রবে যতনে এ মনের কোটারে
যেমন বন্ধি আমি তোমার কোমল হৃদয়ে
আমি তোমার সুপ্ত প্রেমেই থাকতে চাই

লুকিয়ে যতনে রাখবে আমায় মনের জানালা বিহিন ঘরে
আমি বরং তোমায় উড়ালচন্ডীর মত ভালোবাসবো
আমার সমুদ্রের মত হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে শুধু তুমিই থাকবে
ভালোবাসিগো প্রিয়সি
তোমার মলিন মুখ আমার আঁখি তে যেন কখনো না দেখি
তোমার খিলখিল হাসি
হৃদয় জুড়ে শুধু আসে ভালোবাসি

পর্ব ১১

লাল শাড়িলাল চুড়িলাল টিপে মেয়েদের অপ্সরী লাগেব্যাপারটা কতটা সত্য জানা নেইকিন্তু কেন যেন আজ লালে নিজেকে রাঙাতে ইচ্ছেরা ডানা ঝাপটা দিয়েছেআজ নবীন বরনআমিও নবীন ব্যাপারটা ভালোএটা একটা বিশেষ দিন। কিন্তু আমার কাছে এটা অন্য কারনে বিশেষ এক বিশেষ মানুষের সামনে নিজেকে বিশেষ ভাবে তুলে ধরতে কে না চায়। আমার অবস্থাও একই আজ লাল শাড়ি পড়েছি হাত ভর্তি তার দেওয়া লাল কাঁচের চুড়িখোঁপা করেছি তাতে নিজের সাদা গোলাপ গাছের তিনটে ফুলকে জায়গা করে দিয়েছি।

মাথার দুই ভ্রুর মাঝে খালি জায়গায় একটা ছোট কালো টিপ দিয়েছি। কালো টিপটাই ভালো লাগে কিন্তু কখনো পড়া হয় না। আজ দিলের ফারাফারিতে পরতে হয়েছে। চোখে কাজল দিতে আমার কেন জেন মোটেও ভালো লাগেনা। কিন্তু আম্মুর খুব ইচ্ছে আমি চোখ ভর্তি কাজল দিব তাই একটু কাজলও দিয়েছি। সাজ শেষে দিলের দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম। মেয়েটা খুবই সুন্দর কিন্তু কেমন যেন ছেলে ছেলে জামা কাপড় পরে।

মন চায় দুই তিনটা থাপ্পড় দিয়ে সোজা করে দিতে কিন্তু এই মেয়েকে থাপ্পড় দিলে আমাকেও ফ্রিতে লাথি প্লাস হাত পা ভাঙতে হবে। আজ দিল নীল রং এর শাড়ি পরেছে। সুন্দর লাগছে খুব। মেয়েলি মেয়েলি সাজলে ওকে দারুন লাগে। সারফারাজ ভাইয়া আজ শেষ। আচ্ছা আযমান ভাইয়া কি রং পড়বে? যদিও থিম লাল আর নীল তবুও উনি নিশ্চুই নীল পড়বে। এই রংটা ছেলেদের আন লিমিটেড প্রিয়। কিন্তু আমি চাই আজ সে লালে সাজুক

ভাই দেখ না কেমন ডা জানি লাগে আমারে

অবশ্যই সুন্দর লাগছে। আর কেমন ডা মানে কি হুমতোকে শাড়িতে সেই লাগে এবার চল

ইউনিভার্সিটি আজ লাল নীলে সজ্জিততবে আমি অবাক হচ্ছি ছেলেরা সব নীল পড়েছে মেয়েরাও সুধু কিছু কিছু মেয়ে লাল পড়েছে। ইশশ্ আমাকে আসলেই এখানে মানাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি মন খারাপ করে ভার্সিটির মাঠে ঘুড়পাক খাচ্ছি। দিলবার কে সারফারাজ ভাইয়া কোথায় যেন নিয়ে গেছে।

সারফারাজ ভাইয়াও আজ নীল পড়েছে। তবে ছেলেদের মধ্য সবাই নীল পড়েছে। আমি হাটঁছি আর দেখছি পরিবেশটা সত্যিই সুন্দর করে সাজানো হয়েছেহঠাৎ গেটের দিকে চোখ পড়তে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। শুধু যে আমি তা কিন্তু না ভার্সিটির সবাই মোটামুটি তাকিয়ে আছে।

তার কারণ আযমান ভাইয়াই একমাএ ব্যক্তি যে কি না লাল রং এর পান্জাবি পড়ে এসেছে। উনি হাতা ভাজঁ করতে করতে ভিতরে ডুকছে। এত এত মানুষ যে তাকিয়ে দেখছে এটা সে নিজেই খেয়াল করছে না। কেমন ভাবলেশহীন ভাবে সে হেঁটে হেঁটে আসছে। চমৎকার সৌন্দর্যে সে মণ্ডিত আমি তো হাবার মত তাকিয়েই আছিএত সুন্দর কেন কে যানে। এত সুন্দর না হলেও পারতেন। এখন তো মেয়েদের নজড় থেকে বাচাতে বাচাতেই আমি বুড়ি হয়ে যামু আহারে বেচারি আমি

আশ্চর্য আযমান ভাইয়ার জন্মই কি আমাকে আশ্চর্য করার জন্যে কে জানে ভার্সিটিতে পা রেখেই আমার দিকে একবার তাকিয়ে নীল ভাইয়ার হাতে চিরকুট ধড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এসে ভাবি ভাবি করতে করতেই তার জীবন অর্ধেক ফালাফালা চিকুরটে কালো কালিতে গোটাগোটা অক্ষরে লেখা
দুই মিনিট সময় দিলাম সাস্ট দুই মিনিটএর মাঝেই তোমাকে অডিটোরিয়ামের চ্যান্জিং রুমে দেখতে চাইফার্স্ট

আমাকে দুই মিনিটে এনে বসিয়ে রেখে নিজে ২০মিনিট থেকে গায়েবআশ্চর্য জনক একজন লোক। কখন থেকে এখানে বসে আছি কিন্তু তার কোন আনাগোনা নেই। আমি এবার বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খুলে বাইরে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াতেই কারো বুকের সাথে ধাড়াম করে বারি খেয়ে আমি ছিটকে পরতে যাবো তখনই কারো নরম কোমল হাত আমার কোমড় জড়িয়ে তার বুকের সাথে চেপে ধরে।

তার শরীরের মাতাল করা পারফিউমের ঘ্রাণে সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। আমি বিড়াল ছানার মত কাচুমাচু করে মাথা তুলে তাকিয়েই আযমান ভাইয়াকে দেখতে পাই। উনি আমাকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় ভিতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পায়ের সাথে লাগিয়ে চেয়ার টেনে গম্ভীর গলায় বলে উঠে,

এখানে বসো

আমিও বাদ্ধ মেয়ের মত চেয়ারে গুটিশুটি দিয়ে বসে পড়ি। কিন্তু উনি করতে কি চায় তাই বুঝতে পারছি না। আমি এবার উনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠি

কি হল আপনি আমাকে এখানে বসিয়ে রাখতে ডেকে পাঠিয়েছেন না কি? আপনি যানেন কখন থেকে বসে আছি? আজিব ইন্সান আপনি। কখন কি করেন নিজেই জানেনা মনে হয়। বলবেন প্লিজজ কেন এখানে এভাবে বসিয়ে রেখেছেন। আর এত গম্ভীর ভাব নিয়েছেন কেন?

তুমি বড্ড বেশি কথা বলআর এই ভাবে ভূত সেজে কাকে দেখাতে এসেছ? আর টিপ কেন পড়েছ? হেজাব কোই? এগুলো কি? তুমি কি মডেলিংয়ে নাম দিয়েছ? এত এত সাজার কি আছে?

এই এই আপনি কি বলতে চান? আমি কই এত সেজেছি? সামান্য একটুইত কাজল দিয়েছি। কোথায় একটু তারিফ করবেন তা না কি সব বলছেন

তুমি কি শুধু আমার তারিফ শুনতেই এত এত সেজেছ নাকি সম্পূর্ন ইউনিভার্সিটির ছেলেদের পাগল করতে? হুমছেলেদেরকে দেখানোর খুব ইচ্ছে না? তুমি কত সুন্দর সেটাই দেখাতে চাও না?

আপনি কিন্তু শুধু শুধু আমাকে অপমান করছেন।

হ্যাঁ আমি বললেই অপমান কিন্তু সিনিয়ার ভাইয়ারা ওয়াওও বিউটিফুল কিউটএগুলো বললে আর তোমার অপমানে লাগেনা তাইত

মেজেজ এবার চড়কগাছ উনি ইচ্ছা মত কথা শুনাচ্ছেন। সামান্য একদিনইত একটু হেজাব ছাড়া এসেছি, তাই বলে উনি এমন করে কথা বলতে পারে না। উনার জন্যেইত সেজেছিকই সবাইত আরো আটা ময়দা মেখে এসেছে তাদের তো উনি কিছু বলছে না। সব সময় আমার সাথেই এমন করতে হয়?

হ্যাঁ হয়ভার্সিটি সব মেয়ে আমার বউ না। শুধু তুমি আমার বউ তাই আমি শুধু তোমাকেই বলবো এটা তো স্বাভাবিক

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই কেউ দরজায় কড়া নাড়েআযমান ভাইয়া আমার দিকে একবার তাকিয়ে দরজা খুলে একটা পেকেট নিয়ে ভিতরে ডুকে আসলেন কে দিল তাকে আর দেখতে পেলাম না। বাহিরে থেকে দিয়েই সে গায়েব। আমি একটু উঁকিঝুঁকি দিচ্ছি দেখার জন্যে কি আছে এতে একটু দেখবো কিন্তু তার সুযোগ নেই।

আযমান ভাইয়া পেকেটা একটা চেয়ারে রেখে আমার পিছনে এসে দাঁড়ালেন আমি তো অবাক পিছনে ঘুড়তে গেলেই উনি মাথা আয়না বরাবর সজা থাকতে বলে ইশারা করলেন। আমি এখনো অবাক কি করতে চাচ্ছে উনি। মেরে টেরে ফেলবে না ত। উনি খুব আস্থে আমার খোঁপা থেকে সাদা গোলাপ গুলো খুলে সামনের টেবিলে রাখলেন। আমি রাগ নিয়ে দাড়িয়ে বলে উঠি

এই আপনি আমার গোলাপ গুলো খুললেন কেন? কত কষ্ট করে লাগিয়েছি জানেনআম্মু না লাগিয়ে দিলেত আর লাগাতেই পারতাম না। আর আপনি এত সহজেই খুলে দিলেন আপনি এমন কেন করছেন বলেন ত?

তুমি চুপচাপ দেখ এত কথা বলতে হবে না

আযমান ভাইয়া আমায় পিছন থেকে জড়িয়ে কথাটা বলে উঠে, আয়নায় আমাদের দুজনের প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছেউনি আমার ঘাড়ে নাক ঘোঁষতেই আমার সবগুলো লোম কাটাঁ দিয়ে উঠেছে। আমি ফ্রিজড হয়ে দাড়িয়ে আছিনিশ্বাস আটকে আসছেবুকের ধুকপুকুনি তীব্র গতিতে ডোল পিটাচ্ছে, গলায় কথা আটকে আসছে আমি আটকে আসা গলায় বলে উঠলাম,

ক ক কি ককরছেনন? দুরে যান প্লিজজজজ দম আটকে আআআসছে

উনি একবার মাথা উঁচু করে বাকা হেসেঁ বলে উঠে,

এখনই দম আটকে আসলে বাসর ঘরে ত তুমি সেন্সলেস হয়ে যাবে বেবি। (চোখ টিপ দিয়ে)

ছিইইইইইএগুলো কেমন কথা অসভ্যের মত

আমি অসভ্য?

অবশ্যই ছাড়েন

উনি এবার আবার ঘাড়ে নাক ঘোঁষে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে কিছুটা দুরে সরে গেলতার এমন কাজ আমার সারা শরীরে এক বিশেষ কম্পোনের সৃষ্টি করেছেঘাম বেয়ে কপাল থেকে পড়ছেহায়্ আল্লাহ এই লোক যে কত নাম্বারের লুচু কি বলবউনি এবার আমার সামনে এসে দাড়িয়ে ঘাড়ে নিজের ডান হাত রেখে বলে উঠে,

এগুলো দেখার অধিকার একমাএ আমার বুঝলে এটা শাস্তি হেজাব ছাড়া ভার্সিটিতে আসার জন্যেআর এই টিপ বেটা আমার চুমুর জায়গায় বসল কেমনে বল? তুমিই বসিয়েছ? সাহস তো কম না। (বলেই টিপটা খুলে ছুড়ে দিল)

এই জায়গার ছোঁয়া শুধু দুটো জিনস পাবে এক জায়নামাজ আর দুই আমার ঠোঁটতোমার কপালে শুধু সেজদা আর আমার চুমু খাওয়ার জন্যেই তৈরি বুঝলে জানপাখি

উনি এবার আমার মাথার পিছনে হাত দিয়ে আমার দিকে হালকা ঝুঁকে একটা শব্দ করে চুমু খেল আর হেসেঁ উঠে বলে

এই জায়গায় আর কখনো টিপ পড়বে না। জানি প্রিয় তবুও পড়বে না। সরি আমি আমার জায়গা কোনো জিনিসকে ভাগ বসাতে দিতে নারাজআর তুমি কিনা আল্লাহর সেজদার জায়গায় ওই টিপ দিয়ে দিলেএটা মোটেও ঠিক করোনিএবার বস

আমি চরম অবাকতা নিয়ে আবার বাসে পরলাম। উনি কত নিখুঁত ভাবে সব ভাবে। আমি নিজে ওত এত বড় ভুল করলাম। কিভাবে পারলাম। হেজাব ছাড়া বাহিরে আসতে আল্লাহ আমাকে মাফ করিয়েনউনি এবার ওই পেকেট থেকে খুব সুন্দর একটা হেজাব বেড় করে আমার সামনে দাঁড়ালেন আমি এবার হতভম্ভ হয়ে বলে উঠি

আপনি হেজাব নিয়ে এলেন কখন?

তোমাকে যখন বসিয়ে রেখেছিলাম তখনআসলে তোমাকে এভাবে দেখে তো আমার নিজেরই সেন্সলেস হওয়ার উপক্রম হয়েছে ভাবো একবার আমি যে সবসময় তোমাকে দেখি এমনকি হেজাব ছাড়াও দেখি সে আমার এই অবস্থা আর যারা তোমাকে দেখেই না আর যাও দেখে হেজাব পড়া অবস্থায় তাদের কি হবে তোমার

এমন অপ্সরী রূপ দেখেত তাদের মরে যাই টাইপের অবস্থা হবেতাই বেশি কেউ দেখার আগেই আমি আমার চাদঁকে মেঘের আড়ালে লুকাতে চাইবুঝলে আয়ুসোনা তাই তোমাকে এখানে রেখে নিলয়কে আর আকাশকে পাঠিয়েছি হিজাব, পিন, আনতে। তাই একটু দেরি হয়েগেছে এবার চুপচাপ করে বসে থাকো নড়বেনা তাহলে পিনের গুতা খাবে সো নো মুভমেন্ট ওকে

আপনি নিজে হেজাব বেধে দিবেন? (ভ্রু কুঁচকে বলে উঠি)

অফ কোর্স যার ২৫বছর বয়সে বিয়েরই ১৭ বছর বয়স হয় তাকে অবশ্যই এগুলো জানতে হয় বুঝলে

আমি এবার হাবার মত তাকিয়ে আছিআর উনি খুব যত্নে হেজাব বেধে দিচ্ছে কি পারফেক্ট করে হিজাব বাধছেআমিত দেখেই শিহরিত আজ কালকার ইউটিউব ছেলেদের কত কিছু শিখিয়ে দিচ্ছে ভেবে আমি হতবাগ উনি কালো হেজাব মাথায় বেধে দিয়ে পেকেট থেকে একটি লাল টকটকে কৃষ্ণচূড়া বেড় করে বলে উঠে,

ভার্সিটির গাছের। সুন্দর না?

হুম

এবার উনি কৃষ্ণচূড়াটা আমার ডান সাইডের হেজাবের পাশে পিন দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে আমাকে দাড় করিয়ে আয়নার সামনে নিয়ে নিজে পিছন থেকে কোমড় জড়িয়ে বলে উঠে,

এবার দেখ কত সুন্দর লাগছেমেয়েদের পর্দায় বেশি সুন্দর লাগে আল্লাহ সকল বস্তুতে আবরণ কেন দিয়েছে জানো? খারাপ পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্যেযেমনফলপ্রতিটি ফলেই আবরণ রয়েছেবুঝলেঠিক একুই ভাবে পর্দা দ্বারা তোমাদের মত দামি বস্তু আবরণেই সজ্জিত থাকলেই তার মূল্য আরো বেড়ে যায়। সো মাই ডিয়ার ওয়াইফিবল কেমন মানিয়েছে আমাদের?

আমি তাকিয়ে আছি আয়নায় দুজনের পরনেই লালসে লাল পান্জাবিতে হাতা ভাজঁ করা অবস্থায় আছে আর আমি লাল শাড়ি, কালো হেজাব, আর সাথে ভালোবাসার কৃষ্ণচূড়াআসলেই আজ আমাদের কৃষ্ণচূড়ার মতই সুন্দর লাগছে মনে হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া নিজ রংয়ে আমাদের সাজিয়েছে

রুম থেকে বাহিরে আসতেই দিলবার কেঙ্গারুর মত এক লাফে আমার হাত ধরে এক সাইডে নিয়ে বলে উঠে,

তুই যে তলে তলে রিক্স চালাস আমাকে কেন বললি না?

রিক্স কেন চালাতে যাবো। (কনফিউজড হয়ে)

তুই আযমান ভাইয়ার সাথে জোমিয়ে প্রেম করচ আর আমাকে না বলে ঘুড়পাক খাসসআজিব মাইরি

আজিবের কি আছে আর আমি কোন প্রেম টেম করি নাউনিত আমার নিজের জামই। (একটা দাঁত কেলানো হাসি দিয়ে)

ভাই কম বয়সে মারতে চাস নাকি? এটা কবে হলতুই কবে উনাকে বিয়ে করলি? হায় আল্লাহ তুই আন্টি আঙ্কেলকে বলেছিসস?

এত এত প্রশ্ন কিসের চল সব বলি আবুল মাইয়া। (আমি দিলকে জড়িয়ে বলে উঠি)

আযমান ভাইয়া এস্টেজে উঠতেই মেয়েদের হুল্লুর চিৎকার শুরু হয়। আমি বুঝিনা এরা এত চিৎকার দেওয়ার কি আছে। তবে এই চিৎকার দেখেই বুঝা যায় আযমান ভাইয়া কত জনপ্রিয় একজন মানুষ ভার্সিটিতে।

সবাই তাকে অনেক বেশি পছন্দ করে। এত কম সময়ে এত জনপ্রিয়তার কারন কি আমি তাও বুঝতে পাড়লাম না। উনি এস্টেজে উঠার এক মাএ কারন তার সুরেলা কন্ঠে সকলকে মহনীয় করাউনি চেয়ারে বসে গিটার হাতে একটু বাজিয়ে দেখতে যে টুংটুং সাউন্ড করেছে তাতেই সবাই ওওওও করে চিৎকার করে উঠেউনি তার শীতল সৃষ্টি আমার দিকে নিক্ষেপ করতেই আমার মনে এক আজানা শিহরন বয়ে গেল সে তার দৃষ্টি আগের মত রেখে গলায় গান ধড়লো আর আমি এক মাতাল করা সুরের নেশায় ডুবতে লাগলাম

পর্ব ১২

প্রোগ্রাম শেষআমি আর দিল হাঁটতে হাঁটতে অডিটোরিয়াম থেকে বাহিরে আসছিদিলের একটাই কথা তোকে তো হেজাব ছাড়া দেখেছি, আর তোর টিপ কই, হেজাবই বা পেলি কইআমি জবাবে আযমান ভাইয়া দিয়েছে বলাতে সে ইচ্ছা মত বকবক করছে আর মজা নিচ্ছে ভার্সিটির ডান সাইডে এসে দাড়াতেই দিল হাতের মাঝে বার বার বারি দিচ্ছেআর বলছে

দেখ আয়ু আযমান ভাইয়া

ওর ইশারা মত পাশে তাকিয়েই আমি দু কদম পিছিয়ে গেলামআযমান ভাইয়ার সামনে নাবিলা আপু হাটুগেড়ে বসে আছে তার হাতে একগুচ্ছ গোলাপ আযমান ভাইয়া হাসি মুখে ফুলগুলো নিচ্ছেব্যাপারটায় আমি একটু সরে এলামপৃথিবীর কোন প্রানিই নিজের প্রিয় জিনিসের ভাগ দিতে চায় না।

আমিও তেমনই চোখ থেকে দুফোটা পানি অনায়াসে গড়িয়ে পড়লআযমান ভাইয়া ফুলগুলো নিয়ে নিলকিন্তু কেন? উনি কি নবিলা আপুকেও পছন্দ করে? আমি ঘুড়ে দাঁড়ালাম এখানে ভালো লাগছে না। এমন একটা পরিস্থিতিতে পরতে হবে জানা ছিল নাআমি হাটাঁ দিলাম কিন্তু বেশি দূর যাওয়ার আগেই কেউ যেন হাত ধরে নিলআমি একটু বিরক্তি নিয়ে দিল ভেবে বলে উঠলাম,

এই এভাবে হাত ধরার মানে কি? ছাড়আমি এখন বাসায় যাবো

বাসায় তো তুমি যাবে আর আমিই দিয়ে আসবোআগে নিবালাকে তো বুঝাই তুমি আমার কে

আযমান ভাইয়ার গলা শুনেই পিছনে ঘুড়ে দেখি উনি ফুল সহ নাবিলা আপুকে নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেআমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই হাটুগেড়ে বসে বলে উঠে,

তুমিই আমার জীবনের একমাএ বউআর সব সময় থাকবেতুমি আমার ফুল পাওয়ার, আমার ভালোবাসা পাওয়া, আমার শাসন, রাগ, অভিমানের, একমাএ সঙ্গী তো বউ ফুলগুলো নেও

আমি হা করে তাকিয়ে থেকে ডান হাতে ফুলগুলো নিতেই উনি দাড়িয়ে নাবিলা আপুকে বলে উঠে,

সো এবার আমার বোন হতে সমস্য আছে?

নাবিলা আপু কাচুমাচু করে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে, না

ওকে এবার যাও আর যখন তখন ছেলেদের সামনে হাটুগেড়ে বসে এভাবে প্রপোজাল দিবে না? হতে পারে তারও আমার মত ১৭ বছরের বউ আছে। বুঝলে?

নাবিলা আপু আবার মাথা নাড়িয়ে মন খারাপ করে সেখান থেকে কেটেঁ পড়ে। আমি এখনো তাকিয়ে আছি কি হচ্ছে ঘটনা কি? কিছুই মাথায় ডুকছেনা

তুমি অল্পতেই এত কাঁদুনি এটা আমি জানতাম

আপনি তাহলে ওই ফুল নিলেন কেন?

আরে ও অনেক আগে থেকে মাথা খেয়ে ফেলেছেফেইচবুক হোয়াটসআপ, মেসেন্জারে ডিস্টার্ব করে করে জীবন ফলাফলা করে দিয়েছেব্লক মারলেও আবার অইডি থেকে মেসেজ দেয়।

ওকে বহু বার বলা হয়েগেছে আমি বিবাহিত আমার একটা পিচ্চি আছেকিন্তু এই মেয়ে নাচর বান্ধা সে আমাকে প্রপোজ করবে নবীন বরণের দিনে মানা করার পরেও তার সেম কথা। তাই ওকে বুঝিয়ে দিলাম আমার আসলেই পিচ্চি কাঁদুনি বুড়ি বউ আছে। তাই ফুলগুলো নিয়ে তাকে বোন বানিয়ে ফেললাম। ভালোনা ব্যাপারটা?

আমি আর দিল এবার হু হা করে হেসে দিলাম। এত এত পেট ফেটে হাসি পাচ্ছে কি আর বলবো। দিল হাসতে হাসতেই বলে উঠে,

লাইক সিরিয়াস? ভাইয়া আপনি ওই নাবিলার চেহারার কি অবস্থাইনা করলেনযাওয়ার সময় চেহারাটা দেখার মত আর আর যখন বোন বললেন আহারেকি কষ্ট যে লাগছে তার লাইগা কি আর বলমুআপনি যে এমন কিছুও করতে পারেন যানা ছিল না

শালিকা সাহেবা এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনি এবং আপনার কাঁদুনি বান্ধুবি যানে না। দেখ কেমন চোখ ফালাফলা করে কাদঁছে কাজটাও লেপটে গেছেতোমাকে কাজল পরলে সত্যই অসাধারন সুন্দর লাগেকেমন কাজল টানা চোখ তোমার। (লেপটে যাওয়া কাজল আঙ্গুল দিয়ে মুছে দিতে দিতে)

ভাই সামান্য লাজলজ্জা টুকুও নাই তোর বুঝলি? (সারফারাজ ভাইয়া)

কেন?

শালিকা আর মেয়ের ভাইয়ের সামনে তুই কাজল মুছতে বেস্ত শালা একটুত ভয় কর আমি ওর ভাই

তো।

তো মানে কি? আমার বোনকে এভাবে তুই পাবলিক প্লেসে দাড় করিয়ে রোম্যান্টিক ভাবে কাজল মুছে দিবি আর ভাই হয়ে ব্যাপারটা আমি আরাম করে দেখমু এত ভালো ভাই আমি না যা ভাগ আমার গুলুমুলু বোনের সামনে থেকে

ওই শালা তোর বোন হওয়ার বহু আগেই ও আমার এক মাএ তোয়ালে বউতুই ভাগ তোর হেতিরে নিয়া আমি বরং বউয়ের সাথে একটু আকটু প্রেম করি

না না আজ তোদের প্রেমে আমি ভিলেন হয়ে দাড়ামু চল আজ একসাথে ঘুড়ি আমার হবু বউরে নিয়াও একটু প্রেম করমু যে ধানিলঙ্কা আল্লাহ শুধু ত তোকেই একটু ভয় পায় বুঝলি

আমকে ভয় পায়? লাইক সিরিয়াসলি হাসি পাচ্ছেরে আমার শালিকা সাহেবা আমাকে ভয় পায় ভালো ভালো বউও কিন্তু আমাকে ভয় পায় তাই না পিচ্ছি বউ

মোটেও না আমি কেন আপনাকে ভয় পেতে যাবো আপনি বাঘ নাকি ভাল্লুক হুম। (মুখে ভেংচি কেটেঁ বলে উঠি)

তাই নাকি। (একটা ভ্রু কুঁচকে)

হুম

ভাই এবং বোন এবার চুপ যাও আর চল আমরা ঘুড়বো

কোথায় যাবো

ফুচকা, ঝালমুড়ি, আইসক্রিম যা খাইতে চাইবি তাই খাওয়াবো হ্যাপিএবার চল

আমি আর আযমান ভাইয়া রাস্তা দিয়ে হাটঁছি আর সামনেই দিল আর সারফারাজ ভাইয়াভাইয়া দিলের হাত ধরতে গেলেই ও হাত কাচুমাচু করা শুরু করে আবার মাঝে মাঝে রাগি লুক দিয়ে তাকায়। আমার খুব হাসি পাচ্ছে। আজ যেখানেই ঘুড়েছি দিল এমন রাগি রাগি লুকে ছিল।

আর সারফারাজ ভাইয়া বেশ মজা নিয়েছে তার। আযমান ভাইয়া আমাকে একগুচ্ছ কাঁচের চুড়ি কিনে দিয়েছে, সাথে একটা সাদা গোলাপ, তিনটা মাটির ঝুলানোর টব, আমি বাদাম খাচ্ছি আর আযমান ভাইয়া তা খোসা ছাড়িয়ে আমার হাতে দিচ্ছে। আযমান ভাইয়ার মতে এখন টিএসি মোড়ে দাড়িয়ে আমরা প্রেমিক প্রেমিকার মত প্রেম করে বেড়াচ্ছি। এখানকার প্রেমিকরা তাদের প্রেমিকাকে এগুলোই কিনে দেয় যা আজ উনি কিনে দিয়েছে

তা আপনার খবর কি বলেন

আমি আশ্চর্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছিউনি এমন ভাবে বাদামের খোশা ছাড়াতে ছাড়াতে কথাগুলো বলছে মনে হয় আমাকে নতুন দেখছেআমি একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আবার বলে উঠে,

এই যে লাল শাড়ি পড়া মিসসআপনাকে বলছিকিছু কি শুনতে পাননানাম টা তো বলেন? একটু পরিচিত হই।

আমি এবার গম্ভীর ভাব নিয়ে বলে উঠিআয়ানা হায়াত।

ওও তা কোন নামে ডাকলে খুশি হবেন হায়াত নাকি আয়ানা।

আয়ানা

এত বড় নাম বলতে কষ্ট হয় বুঝলেন মিসস আমি বরং আয়ু বলে ডাকি কি বলেন মিসস আয়ানা হায়াত।

না ওই নামে ডাকতে পারবেন না। ওটা বিশেষ নাম বিশেষ ব্যক্তির মুখেই মানায় আপনি বরং হায়াত বলেই ডাকেন মিস্টার কি জানি।

আযমান শেখআপনি আযমান বলেই ডাকতে পারেনকিন্তু আমি আয়ু বলে ডাকবো ওটাই বেশি পছন্দ হয়েছেতা প্রেম টেম করেন মিসস আয়ু।

না করি না। কেউ প্রেম করতেই আসেনা

ও মাই গডআপনার মত এতএত কিউটির সাথে কেউ প্রেম করতে আসেনাকথাটা শুনে বুকের বা পাশে ধাক করে উঠেছে বুঝলেন? সবার চোখে কি ছানি পড়েছে নাকি? তবে চিন্তা নেই লুক এট মি। (নিজের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে)আমাকে কেমন লাগছে? মানে আপনার সাথে কেমন মানাবে?

কেন বলেন ত? (ভ্রু কুঁচকে)

আরে প্রেমিক হিসেবে আমি কিন্তু পারফেক্ট লোকেত মিস্টার পারফেক্টও বলে। তাই বলছি আপনি যদি চান আমি আপনার সাথে প্রেম করতে পারি। মানে আমরা প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে হাত ধরে হাটতে পারি। কি বলেন রাজি?

কখনোই না। আমার জামাই থাকতে আপনার সাথে এত কিসের প্রেম। আর আমার জামাই আপনার চাইতেই গুড লু্কিং একদম শ্লিপ খাওয়া টাইপেরযাকে দেখলেই মেয়েরা দুই তিন বার শ্লিপ খেয়ে পড়ে যাবে টাইপের অবস্থা হয়। আর আমাকে তার ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখে।

কত কত ভালোবাসা কি আর বলব বলেন১৭বছরের না করা সংসার আমাদেরএবার আপনিই বলেন এত এত কিউট জামাই রেখে আপনার মত উখান্ডার সাথে প্রেম করার কোন মানে হয়?

। (উনি রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে আর বাদামটা ঠাস করে খোশা ছাড়াচ্ছে। বেশ মজাই লাগছে। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা টাইপের অবস্থা হা হা)এভাবে তাকাচ্ছেন কেন? আপনিই বলেন জামাই যদি বেস্ট হয় বাকি সব ছেলেইত আবুল তাইনা

ওওওও তাই বুঝি? (বলেই আমাকে মাঝ রাস্তায় কোলে তুলে নিয়ে হাটতে হাটতে বলে উঠে,।

তা আপনার জামাই না হয় আপনাকে এত এত ভালোবাসে। আপনি কি তাকে একটুও ভালোবাসেন?

কথাটা শুনেই গাল গুলো লাল হয়ে উঠেছে। উনাকে ত আমি একবারও বলতে পারলাম না আমি তাকে একটু না অনেক টুকুই ভালোবাসিউনি গাড়ির দরজা খুলতে বলে উঠে, আমি দরজা খুলতেই আমাকে বসিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠে,।

ওই সারফারাজ শালা বউরে নিয়াত মনে হয় হাটঁতে হাটঁতেই মঙ্গলে চলে যাবি।

বউ সাথে থাকলে মঙ্গলে না শুধু আরো বহু দূর হেঁটে হেঁটেই যাওয়া যাবে। তা তোর কি হল গাড়িতে উঠে পরলি কা। আর হাটবি না নাকি তোর পিচ্চি বউ আর তোর মত বুড়ার লগে হাটতে চায় না?

শালা আমি বুড়া হলে তুই কি কচি খোকা নাকি? আবুল সাবুল একটা যা তোকে আজকে টাইম দিলাম তুই ঘুড় তোর বউ নিয়া আমি বরং আমার বউ নিয়া যাই শ্বশুর বাড়ি

যা যা ভাগ।

উনি ভিতরে বসেই আমার দিকে কেমন কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। আমিও একটু ভাব নিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি হঠাৎ উনি আমার দিকে ঝুঁকে যেতেই আমি বলে উঠি

এই আপনার সমস্যা কি বলেন তো মেয়ে দেখলেই চিপকুর মত শুধু চিপকাইতেই চানলুচু ছেলে একটা।

কি করবো বল তোমাকে দেখলেই আমার নিজের পিওর পবিএ কেরেক্টার কেমন যেন লুচু টাইপের হয়ে যায়। কেমন সারা দিন চিপকাইতেই মন চায়আমার কি দোষ বল। (অসহায় ভাব নিয়ে)

দুরে যান চিপকালি

হোয়াটচিপকালি?

ইয়েসস চিপকালি।

উনি এবার রেগে আমার দিকে আরো ঝুঁকতেই আমি চোখমুখ খিঁচে চোখ বুজে নিলাম। কিছুক্ষণ পরেই উনার হু হা হাসির শব্দ কানে এসে বাজতে লাগল। আমি চোখ খুলে দেখি উনি সিটবেল্ট লাগাতে বেস্ত আর আমাকে দেখে হাসছে

মেয়ে দেখতে এসেছিব্যাপারটা ইন্টেরেস্টিং না? হুম বেশ ইন্টেরেস্টিং আমি আম্মু বড় খালামনি, ছোট আন্টি, মামনি, সাথে ছেলে সদস্য আর দিলও আছে। ওকে স্পেশাল ভাবে মামনি আমার সাথে আসতে বলেছে। আমরা সামনের রুমে বসে আছিওও বউ দেখতে এসেছি রেদোয়ান ভাইয়ার জন্যে।

বিয়ের বয়স হয়েছে বলে কথা। তার একটাই কথা আমি মেয়ে পছন্দ করলেই সে বিয়ে করবে। ইশশ্ কত ভালোবাসে আমাকে। ভাবতেই খুশি খুশি লাগে। মেয়েকে এখনো দেখা হল না। কিন্তু মেয়ের ভাই হাদারাম আসছি থেকেই এটা নিবেন, এটা নেন না প্লিজজজ, আপনার নাম কি? এত এত প্রশ্ন করে মাথা ব্যথা করে দিয়েছে। অসজ্জকর একটা যন্ত্রনা। শুধু আড়চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসবে।

আরে আবাল এত কেবলাকান্তের মত হাসার কি আছে। এবার তো আমার পাশেই এসে বসেছে। যদিও দূরত্ব রয়েছে। কিন্তু সে এখানে আসতে পরেই সেই লেভেলের খুশিতে মুখ চকচক করছেমেয়েকে নিয়ে আসা হয়েছে। মেয়েটা খুবই মিষ্টি দেখতে। গোলাপি শাড়িতে অপূর্ব লাগছে। সাজ বলতে একটু লিপস্টিক আর একটু কাজল দিয়েছে। আম্মুই প্রথমে প্রশ্নের ভাণ্ডার নিয়ে বলে উঠে,

নাম কি মা?

মিতালি আক্তার মৌ

আম্মুর এমন প্রশ্ন শুনে আমার সেই লেভেলের হাসি পাচ্ছে। তবে আম্মু তাকে কমন প্রশ্নই করেছে। তাকে কিন্তু আগের যুগের মানুষর মত দাড়ও, হাটো ত একটু, চুল দেখি, কান দেখি, দাতঁ দেখি ব্লা ব্লা জিগ্যেস করেনি। কিন্তু আমার কেন যেন ওই ব্যাপার গুলো ভালো লাগে। কেমন যেন ইন্টেরেস্টিং টাইপের ব্যাপার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাকেত আর দেখতে আসবে না কেউবিয়ে হয়েগেছে বলে কথাআমার নাকি বিয়ে হয়েছে।

এটা আমার মোটেও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমিত আগের মতই বিন্দাস আছিজামাই কই আমি কই, শ্বশুর বাড়ি কই, সংসার কই কোন আতা পাতা নাইআল্লাহ যানে কিযে হবে আহারে আমার বেচারি। তাদের সবারই মোটামুটি পছন্দ হয়েছে। এই মোটামোটি শব্দটার সাথে আমার এলার্জি আছে। এটা কেমন শব্দ মোটামুটি হয় ভালো না হয় খারাপ। হয় বেশনয় শেষএই মহিলা বাসির আজাইরা কাজ কারবারআমার তো অসাধারণ লেগেছে এবার ভাইয়াকে জিগ্যেস করলেই হয়। ভাইয়ার একটু কাছ ঘেঁষে বসে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠি

ভাইয়া কেমন দেখলে? না আসলে তুমি ওত মেয়ে দেখতে এসেছবল কেমন লেগেছে।

তোর কেমন লেগেছে বল?

এই আমি বিয়ে করবো নাকি তুমি হুম? আর নিজের বউ নিজে পছন্দ করাই অতি উত্তম। তোমার কোইশান করার ভাব দেখে মনে হয় আমাকে নিয়েই বাসর ঘড়ে ডুকবেনেকা তাড়াতাড়ি বলআমি তো ভাবির সাথেও কথা বলবো বল?

তুই যেহেতু আগেই ভাবি বানিয়ে পেলেছিস তবে আমি ও বউ বানিয়ে ফেলেছি। মেয়েটা কিন্তু খুব সুন্দর। কথা বলার সময় আমরা এই কথাটা বলে বিপরিতে থেংক্স নিয়ে আসবি?

কেন কেন তুমি কথা বলবে না পার্সোনাল ভাবে?

আরে না একদিনের দেখায় অত পার্সোনাল ভাবে কথা বলার কিছু নেই। উল্টা মেয়েটাই লজ্জা পাবে দেখস না কেমন লজ্জা পাচ্ছে?

আমি মনে মনে হেসেঁ উঠলাম। ভাইয়া যে তাকে মন ভরে দেখছে এটা আর জানার কিছু নেই।

বিয়ে প্রায় ঠিক দুইদলেরই পছন্দ হয়েছে। আমারো খুশি খুশি লাগছে। কাল আবার আমরা চাঁদপুর যাবো। ইয়াহুহুহুহু আমি বেশি এক্সাইটেড জীবনে প্রথম যাবো বলে কথাসবাই গল্প করছে। কিছুক্ষণ পরেই চলে যাব। সারফারাজ ভাইয়া আর রেদোয়ান ভাইয়া বাদে বাকি ভাইয়ারা আসেনি। তাদের এত ভালো লাগে না এসব। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠেছেএকটা মেয়ে দরজা খুলতেই হুরমুড়িয়ে ডুকে পড়ে আযমান ভাইয়া। তাকে দেখে সবার সাথে সাথে আমিও ভিষণ ভাবে অবাক হচ্ছি উনি এখানে কেন সবাই একপ্রকার দাড়িয়ে পড়েছে।

আযমান ভাইয়াকেও বেশ ক্লান্ত লাগছে। কিন্তু আবাক করা বিষয় তার হাত পা ছিড়ে গেছে। কপালও কেটেঁ গেছে যা থেকে চুয়েচুয়ে রক্ত পরছে। চুলগুলো এলোমেলো। পেন্টের হাটুর সাইডে ছিঁড়ে রক্তের ছড়াছড়ি আমি বিস্মত চোখে তাকিয়ে আছি। আর উনি লাল লাল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরেআমি এবার এস্টেচুর মত থ হয়ে দাড়িয়ে আছি। কি হয়েছে কিছু মাথায় আসছে না কি হয়েছে উনার সবার মুখ হা হয়ে গেছেচোখ ফাটাফাটা করে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে আমি তো এখনো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি।

লেখা – হাফসা আলম

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তুমি হলেই চলবে – ভালোবাসার কথা sms” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তুমি হলেই চলবে (শেষ খণ্ড) – ভালোবাসার কথা sms

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button